(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: -)
الجمع والفرق = الفروق القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الجمع والفرق (أو كتاب الفروق)
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن يوسف الجويني (ت 438 هـ)
تحقيق ودراسة: عبد الرحمن بن سلامة بن عبد الله المزيني
(الأستاذ المساعد بقسم الفقه، بكلية الشريعة وأصول الدين بالقصيم)
أصل هذا الكتاب رسالتان: الأولى ماجستير والثانية دكتوراه لنفس الباحث
الناشر: دار الجيل للنشر والطباعة والتوزيع - بيروت
رقم الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2004 م
عدد الأجزاء: 3
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 محرم 1437
আল-জাম' ওয়াল ফারক = আল-ফুরুক বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: আল-জাম' ওয়াল ফারক (অথবা কিতাবুল ফুরুক)
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনী (মৃত্যু ৪৩৮ হিজরি)
তাহকীক ও গবেষণা: আবদুর রহমান বিন সালামাহ বিন আবদুল্লাহ আল-মুযাইনী
(সহকারী অধ্যাপক, ফিকহ বিভাগ, শরীয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ, কাসিম)
এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো দুটি অভিসন্দর্ভ: প্রথমটি মাস্টার্স এবং দ্বিতীয়টি একই গবেষকের পিএইচডি থিসিস
প্রকাশক: দারুল জীল প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ - বৈরুত
সংস্করণ সংখ্যা: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতা আন-নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ মহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১)
الجمع والفرق
أبو محمد عبد الله بن يوسف الجويني
المتوفى سنه 438 هـ
تحقيق ودراسة
عبد الرحمن بن سلامة بن عبد الله المزيني
الأستاذ المساعد بقسم الفقه
بكلية الشريعة وأصول الدين بالقصيم
الجزء الأول
كتاب الفروق
هذا الكتاب عبارة عن رسالة علمية نال صاحبها بموجبها مرتبة الشرف الأولي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
دار الجيل
আল-জাম'ু ওয়াল ফারকু
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি
মৃত্যু ৪৩৮ হিজরী
তাহকীক ও গবেষণা
আবদুর রহমান বিন সালামাহ বিন আবদুল্লাহ আল-মুযাইনী
ফিকহ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
শরীয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ, কাসিম
প্রথম খণ্ড
কিতাবুল ফুরুক
এই গ্রন্থটি একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ যার মাধ্যমে এর লেখক প্রথম শ্রেণীর সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেছেন
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
দারুল জীল
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২)
دار الجيل
للنشر والطباعة والتوزيع
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولي
2004 م - 1424 هـ
بيروت: البوشرية - شارع الفردوس - ص. ب: 8737 (11) - برقيا دار جيلاب
هاتف: 689950 - 686651 - 689952/ فاكس: 689953 (009611)
Email: daraljil@inco.com.ib
Website: www.daraljil.com
القاهرة: هاتف: 5865659/ فاكس: 5870852 (00202)
تونس: هاتف: 71922644/ فاكس: 71923634 (00216)
দার আল-জিল
প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪২৪ হিজরি
বৈরুত: আল-বুশরিয়াহ - আল-ফিরদাউস সড়ক - পি.ও. বক্স: ৮৭৩৭ (১১) - টেলিগ্রাফ: দার জিলাব
ফোন: ৬৮৯৯৫০ - ৬৮৬৬৫১ - ৬৮৯৯৫২ / ফ্যাক্স: ৬৮৯৯৫৩ (০০৯৬১১)
ইমেইল: daraljil@inco.com.ib
ওয়েবসাইট: www.daraljil.com
কায়রো: ফোন: ৫৮৬৫৬৫৯ / ফ্যাক্স: ৫৮৭০৮৫২ (০০২০২)
তিউনিসিয়া: ফোন: ৭১৯২২৬৪৪ / ফ্যাক্স: ৭১৯২৩৬৩৪ (০০২১৬)
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৩)
"
الباب الأول"
ترجمة للمؤلف - وفيها مباحث
اسمه ونسبه:
هو الإمام أبو محمد عبد الله بن يوسف بن عبد الله من يوسف بن محمد بن حيويه الطائي السنبسي الجويني عربي الأصل حدث عن نفسه فقال: أنا من سنبس قبيلة من العرب.
ميلاده:
لقد بخلت علينا كتب التراجم في ذكر ميلاده أو الإشارة إليه فلم أعثر علي شي من ذلك فيما اطلعت عليه من الكتب.
بلده:
بلده هي جوين: بضم الجيم وفتح الواو وسكون الياء.
وهي: كورة جليلة نزهة علي طريق القوافل من بسطام إلي نيسابور تسميها أهل خراسان "كويان " فعربت فقيل جوين حدودها متصلة بحدود بيهق من جهة القبلة وبحدود جاجرم من جهة الشمال وهي في أول هذه الكورة من جهة الغرب. وهي تشتمل علي (189) قرية، وجميع قراها متصلة كل واحدة بالأخرى وهي كورة مستطيلة بين جبلين في فضاء رحب، وبينها وبين نيسابور عشرة فراسخ، وسميت جوين بهذا الاسم نسبه إلي أحد أمرائها.
প্রথম অধ্যায়লেখকের জীবনী — এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইমাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন হাইয়াহ আত-তাঈ আস-সিনবাসি আল-জুওয়াইনি। তিনি মূলত আরব বংশোদ্ভূত। তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: “আমি সিনবাস গোত্রের লোক, যা আরবদের একটি গোত্র।”
তাঁর জন্ম:
জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের কাছে তাঁর জন্মের কথা উল্লেখ করতে বা সেদিকে ইঙ্গিত করতে কার্পণ্য করেছে; ফলে আমি যা কিছু গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছি, তাতে এ বিষয়ে কিছুই খুঁজে পাইনি।
তাঁর দেশ:
তাঁর দেশ হলো জুওয়াইন: যা জিম বর্ণে পেশ, ওয়াও বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে সাকিন যোগে উচ্চারিত হয়।
এটি একটি মহান ও মনোরম জনপদ যা বিস্তাম থেকে নিশাপুর অভিমুখী কাফেলাগুলোর যাতায়াতের পথে অবস্থিত। খুরাসানবাসী একে “কুয়ান” বলে ডাকত, অতঃপর একে আরবিকরণ করে “জুওয়াইন” বলা হয়েছে। কিবলার দিক থেকে এর সীমানা বাইহাকের সীমানার সাথে এবং উত্তর দিক থেকে জাজারমের সীমানার সাথে যুক্ত। এটি এই জনপদের পশ্চিম প্রান্তের শুরুতে অবস্থিত। এটি ১৮৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এবং এর প্রতিটি গ্রাম একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এটি একটি প্রশস্ত ময়দানে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি দীর্ঘায়িত জনপদ। নিশাপুর থেকে এর দূরত্ব দশ ফারসাখ। জনৈক আমিরের নামানুসারে জুওয়াইনকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهي بلدة مشهورة بعلمائها الأجلاء وينسب إليها كثير من الأئمة والعلماء غير أبي محمد منهم:
1) أبو عمران موسي بن عباس بن محمد الجويني، أحد الرحالين، ومن أعيان الرحالة في طلب الحديث، مات بجوين سنه (323 هـ).
2) هارون بن محمد بن موسي الجويني، ويكني أبا موسي، كان فقيهاً، أدبياً.
3) قال الحاكم: سمع قبل العشرة والثلاثمائة، وكان إذا ورد نيسابور تهتز مشايخنا لوروده.
4) يوسف بن عبد الله الجويني، والد أبي محمد، الأديب بجوين.
5) أبو الحسن علي بن يوسف الجويني المعروف بشيخ الحجاز، وهو أخو أبي محمد، وسيأتي ذكره، مات سنة (463 هـ).
6) إمام الحرمين أبو المعالي عبد الملك بن أبي محمد عبد الله بن يوسف الجويني وسأفرد له ترجمة عند الكلام علي تلاميذ المؤلف.
بيئته ونشأته:
نشأ الشيخ أبو محمد في بيت علم وأدب، فكان والده أدبياً مرموقاً في جوين فقرأ عليه الأدب حتى صار إماماً فيه.
ومن جانب آخر كان أخوه أبو الحسن علي بن يوسف الجويني المعروف بشيخ الحجاز، كان لطيفاً ظريفاَ فاضلَا مشتغلَا بالعلم والحديث، صنف كتاباَ في علوم الصوفية مرتباً مبوباً سماه " كتاب السلوه " هذا هو البيت الذي نشأ فيه الشيخ أبو
এটি একটি প্রসিদ্ধ শহর যা তার মহান উলামায়ে কেরামের জন্য পরিচিত এবং আবু মুহাম্মাদ ছাড়াও বহু ইমাম ও আলেম এই শহরের সাথে সম্পৃক্ত, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১) আবু ইমরান মুসা বিন আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনি, অন্যতম পর্যটক এবং ইলমে হাদিস অন্বেষণে বিশিষ্ট পরিব্রাজকদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ৩২৩ হিজরিতে জুওয়াইনি-তে মৃত্যুবরণ করেন।
২) হারুন বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা আল-জুওয়াইনি, তাঁর উপনাম আবু মুসা, তিনি ছিলেন একজন ফকিহ ও সাহিত্যিক।
৩) আল-হাকিম বলেন: তিনি ৩১০ হিজরির আগে হাদিস শ্রবণ করেছেন, আর যখন তিনি নিশাপুরে আসতেন, তখন তাঁর আগমনে আমাদের মাশায়েখগণ আলোড়িত হতেন।
৪) ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইনি, আবু মুহাম্মাদের পিতা, জুওয়াইনের প্রথিতযশা সাহিত্যিক।
৫) আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি, যিনি শায়খুল হিজাজ নামে পরিচিত, তিনি আবু মুহাম্মাদের ভাই, সামনে তাঁর আলোচনা আসবে, তিনি ৪৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
৬) ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আব্দুল মালিক বিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি, লেখকের ছাত্রদের বর্ণনার সময় তাঁর জন্য আমি একটি স্বতন্ত্র জীবনী অধ্যায় বরাদ্দ করব।
তাঁর পরিবেশ ও বেড়ে ওঠা:
শায়খ আবু মুহাম্মাদ জ্ঞান ও সাহিত্যের এক পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা জুওয়াইনের একজন প্রথিতযশা সাহিত্যিক ছিলেন, তাই তিনি তাঁর কাছে সাহিত্য পাঠ করেন এবং শেষ পর্যন্ত এই শাস্ত্রে ইমামে পরিণত হন।
অন্যদিকে, তাঁর ভাই আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি, যিনি শায়খুল হিজাজ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি অত্যন্ত অমায়িক, রসিক, বিদগ্ধ এবং ইলম ও হাদিস চর্চায় নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি তাসাউফের ইলম বা সুফিবাদের ওপর একটি সুবিন্যস্ত ও পরিচ্ছেদ অনুযায়ী কিতাব সংকলন করেন, যার নাম দেন "কিতাবুস সালওয়াহ"। এটিই সেই পরিবার যেখানে শায়খ আবু...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৫)
محمد، ومنه خرج ليكب علي دراسة العلوم الدينية حتى كان له المعرفة التامة بالفقه والأصول والتفسير.
الحالة العلمية فيعصره:
مما لاشك فيه أن الإنسان يتأثر ببيئته وبالجو الذي يحبط به، ولما كانت الحالة العلمية في عصر المؤلف أكثر الحالات تأثيراَ في حياته ومنهجه الفكري كان من الواجب أن نتحدث عن الحركة العلمية في هذا العصر، وقد عاش المؤلف رحمه الله في نهاية القرن الرابع وبداية الخامس ويعتبر هذا العصر من أزهي عصور العلم والثقافة وأكثر العصور إنتاجاَ للعلم والعلماء، ففي هذا العصر نبع كثير من العلماء في شتي الفنون وأثروا المكتبات في مختلف العلوم والفنون، وكان خلف هذه النهضة العلمية أسباب نذكر منها:
أولاً: تشجيع الخلفاء والأمراء للعلماء:
لقد برز في هذه الفترة من الخلفاء من يحب العلم وأهله، فالقادر بالله كان من سادات العلماء، تفقه وصنف ومن مصنفاتهم كتاب الأصول، فيه فضل الصحابة رضي الله عنهم وتكفير المعتزلة فكان يقرأ في كل جمعة ويحضره الناس. وكذلك القائم بأمر الله كان عالماً له عناية بالأدب ومعرفة حسنة بالكتابة. "وكان عضد الدولة يحب العلم والعلماء ويجري الرسوم للفقهاء والأدباء والقراء فرغب الناس في العلم وكان يتشاغل بالعلم ويؤثر مجالسة الأدباء علي منادمة الأمراء". فزهت بغداد في عصر هؤلاء وأصبحت منتجعاً للعلماء والأدباء.
মুহাম্মদ; সেখান থেকে তিনি দ্বীনি জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করার জন্য বের হন, যার ফলে ফিকহ, উসুল এবং তাফসির শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জিত হয়।
তাঁর সমসাময়িক ইলমি অবস্থা:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষ তার পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেহেতু লেখকের জীবন ও তাঁর চিন্তা-চেতনার ওপর তাঁর যুগের ইলমি অবস্থা সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ছিল, তাই এই যুগের ইলমি আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ এবং পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে জীবন অতিবাহিত করেছেন। এই যুগকে জ্ঞান ও সংস্কৃতির অন্যতম স্বর্ণযুগ এবং ইলম ও আলেম তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উর্বর সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই যুগে বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু আলেমের উদ্ভব ঘটে এবং তাঁরা বিচিত্র জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাধ্যমে গ্রন্থাগারগুলোকে সমৃদ্ধ করেন। এই জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের পেছনে কিছু কারণ ছিল যা আমরা নিচে উল্লেখ করছি:
প্রথমত: আলেমদের প্রতি খলিফা ও আমিরদের উৎসাহ প্রদান:
এই সময়কালে এমন কিছু খলিফার আবির্ভাব ঘটে যারা ইলম ও আলেমদের ভালোবাসতেন। আল-কাদির বিল্লাহ ছিলেন আলেমদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়; তিনি ফিকহ অর্জন করেছিলেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো 'কিতাবুল উসুল', যাতে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা এবং মুতাযিলাদের কুফরির বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রতি জুমায় পাঠ করা হতো এবং মানুষ সেখানে উপস্থিত হতো। একইভাবে আল-কায়েম বি-আমরিল্লাহ একজন আলেম ছিলেন, সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ এবং লিখনশৈলীতে তাঁর উত্তম দক্ষতা ছিল। "আদুদুদ্দৌলা ইলম ও আলেমদের ভালোবাসতেন এবং ফকিহ, সাহিত্যিক ও কারীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করতেন; ফলে মানুষ ইলমের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তিনি নিজেও জ্ঞানচর্চায় মশগুল থাকতেন এবং আমিরদের সাথে আড্ডা দেওয়ার চেয়ে সাহিত্যিকদের মজলিসে বসাকে প্রাধান্য দিতেন।" ফলে তাঁদের যুগে বাগদাদ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং আলেম ও সাহিত্যিকদের চারণভূমিতে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৬)
وكان الوزير ابن عباد وزير مؤيد الدولة من العلم والفضيلة والإحسان إلي العلماء والفقراء علي جانب عظيم فكان يبعث في كل سنة إلي بغداد بخمسة آلاف دينار لتصرف علي أهل العلم.
فهؤلاء عرفوا قيمة العلم والعلماء فشجعوا العلماء وشاركوهم نشاطاتهم العلمية فكان ذلك سبب ازدهار العلم ونبوغ العلماء.
ثانياً: انتشار المدارس:
لقد أنشئت في هذا العصر المدارس في العراق ونيسابور وغيرها لتقوم بنشر التعليم وإحياء العلوم، ومن أهم هذه المدارس:
1) مدرسة ابن فورك المتوفي سنة (406 هـ) بناها في نيسابور فأحيا الله به أنواعاً من العلوم.
2) مدرسة أبي بكر البستي المتوفي سنة (429 هـ) بناها لأهل العلم علي باب داره ووقف عليها جملة من ماله.
3) أنشأ الوزير نظام الملك المدارس في بغداد ونيسابور وغيرها.
ثالثاً: دور الكتب:
انتشرت في هذا العصر دور الكتب فكانت منتجع العلماء والباحثين ومن أشهرها:
1) دار الكتب في خراسان الذي أنشأها الأمير نوح الساماني صاحب خراسان، وكانت عديمة المثل فيها من كل فن ثم احترقت بعد ذلك.
উজির ইবনে আব্বাদ, যিনি মুয়ায়্যিদুদ্দৌলার উজির ছিলেন, জ্ঞান, মর্যাদা এবং আলেম ও দরিদ্রদের প্রতি অনুগ্রহের ক্ষেত্রে এক মহান স্তরে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি প্রতি বছর বাগদাদে পাঁচ হাজার দিনার পাঠাতেন যাতে তা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ব্যয় করা হয়।
এরা জ্ঞান এবং আলেমদের মূল্য অনুধাবন করেছিলেন, ফলে তারা আলেমদের উৎসাহিত করতেন এবং তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। এটিই ছিল জ্ঞানের সমৃদ্ধি এবং আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের কারণ।
দ্বিতীয়ত: মাদরাসাগুলোর বিস্তার:
এই যুগে ইরাক, নিশাপুর এবং অন্যান্য স্থানে শিক্ষা বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই মাদরাসাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১) ইবনে ফুরাকের মাদরাসা (মৃত্যু ৪০৬ হিজরি): এটি তিনি নিশাপুরে নির্মাণ করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
২) আবু বকর আল-বুস্তির মাদরাসা (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি): তিনি এটি তার গৃহের ফটকে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য নির্মাণ করেন এবং এর জন্য তার সম্পদের একটি অংশ ওয়াকফ করেন।
৩) উজির নিজামুল মুলক বাগদাদ, নিশাপুর এবং অন্যান্য স্থানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
তৃতীয়ত: গ্রন্থাগারসমূহ:
এই যুগে গ্রন্থাগারগুলোর ব্যাপক প্রচার ঘটেছিল, যা ছিল আলেম এবং গবেষকদের আশ্রয়স্থল। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:
১) খোরাসানের গ্রন্থাগার: এটি খোরাসানের অধিপতি আমির নুহ আস-সামানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিটি শাস্ত্রের কিতাব সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগারটি ছিল অতুলনীয়, তবে পরবর্তী সময়ে এটি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৭)
2) دار العلم في بغداد أنشأها سابور بن أزد شير وزير بهاء الدولة وحمل إليها كتب العلم من كل فن وسماها دار العلم وكان فيها أكثر من عشرة آلاف مجلد وبقيت سبعين سنة إلي أن احترقت سنة (450 هـ).
3) دار العلم ودار الحكمة أنشأها جلال الملك بن عمار في طرابلس وجهزها بمائة ألف مجلد فنشرت العلوم والآداب.
رحلاته وطلبه العلم:
أدرك الشيخ أبو محمد أن العلم ليس له موطن فعزم علي الرحيل لطلب العلم فكان مقصده أولاً إلي نيسابور، واجتهد في التفقه علي أبي الطيب الصعلوكي ثم ارتحل إلي مرو قاصداً القفال المروزي فاشتغل عليه بمرو ولازمه واستفاد منه وانتفع به وأتقن عليه المذهب والخلاف وقرأ طريقته وأحكمها، فلما تخرج عاد إلي نيسابور سنه (407 هـ) وقعد للتدريس والفتوى، ومجلس المناظرة.
ثم خرج إلي الحج مع أبي القاسم القشيري والشيخ أحمد البيهقي فسمع معهم الحديث ببغداد، والحجاز، من مشايخ عصره.
صفاته ومنزلته:
كان أبو محمد الجويني علي درجة رفيعة من الأخلاق والصفات الحميدة جعلت له مكانة عالية ومنزلة كبيرة بين العلماء حتى لقب بركن الإسلام.
২) বাগদাদের দারুল ইলম: এটি বাহাউদ্দৌলার উজির সাবুর ইবনে আরদাশির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সেখানে প্রতিটি বিষয়ের ইলমি কিতাবসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'দারুল ইলম'। সেখানে দশ হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপি ছিল এবং এটি ৪৫০ হিজরি সনে ভস্মীভূত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সত্তর বছর টিকে ছিল।
৩) দারুল ইলম ও দারুল হিকমাহ: জালালুল মুলক ইবনে আম্মার এটি ত্রিপোলিতে প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে এক লক্ষ পাণ্ডুলিপি দ্বারা সমৃদ্ধ করেন, যা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের প্রচার ঘটিয়েছিল।
তাঁর সফরসমূহ ও জ্ঞান অন্বেষণ:
শায়খ আবু মুহাম্মদ উপলব্ধি করেছিলেন যে ইলম বা জ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট স্বদেশ নেই, তাই তিনি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সফরের সংকল্প করেন। তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল নিশাপুর। সেখানে তিনি আবু তাইয়িব আস-সালুকির নিকট ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন। অতঃপর তিনি কাফফাল আল-মারওয়াজির সন্ধানে মার্ভে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি তাঁর নিকট জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন, তাঁর দীর্ঘ সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর থেকে প্রভূত উপকার ও জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর নিকট তিনি মাযহাব ও ইখতিলাফ (মতভেদ) শাস্ত্র সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেন এবং তাঁর ইলমি পদ্ধতি অধ্যয়ন ও মজবুতভাবে গ্রহণ করেন। যখন তিনি শিক্ষা সমাপন করলেন, তখন ৪০৭ হিজরি সনে নিশাপুরে প্রত্যাবর্তন করেন এবং অধ্যাপনা, ফতোয়া প্রদান ও মুনাজারার (তাত্ত্বিক বিতর্ক) মজলিসে আসীন হন।
অতঃপর তিনি আবুল কাসিম আল-কুশাইরি এবং শায়খ আহমদ আল-বায়হাকির সাথে হজের উদ্দেশ্যে বের হন। তাঁদের সাথে তিনি বাগদাদ ও হিজাজে তৎকালীন সময়ের শায়খদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।
তাঁর গুণাবলি ও মর্যাদা:
আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি উন্নত চরিত্র ও প্রশংসনীয় গুণাবলির এমন এক সুউচ্চ স্তরে ছিলেন, যা উলামায়ে কেরামের নিকট তাঁকে এক অনন্য উচ্চতা ও মহান মর্যাদা দান করেছিল, এমনকি তাঁকে 'রুকনুল ইসলাম' (ইসলামের স্তম্ভ) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكان لفرط الديانة مهيباً، لا يجري بين يديه إلا الجد والكلام، أما في علم أو زهد وتحريض علي التحصيل.
وكان حريصاً علي طلب العلم شغوفاً به حتى أنه كان يدعو في دعاء القنوت بقوله: اللهم لا تعقنا عن العلم بعائق ولا تمنعنا عنه بمانع.
فاستجاب الله لدعائه حتى صار إمام عصره وأوحد زمانه علماً، وكان رحمه الله يقعد للتدريس والفتوى وتعليم الخاص والعام وكان ماهراً في إلقاء الدروس.
أما زهده وروعه فقد بلغ في ذلك درجة رفيعة.
قال شيخ الإسلام أبو عثمان الصابوني: لو كان الشيخ أبو محمد في بني إسرائيل لنقل إلينا شمائله ولا فتخروا به ومن ورعه أنه ما كان يستند في داره المملوكة له إلي الجدار المشترك بينه وبين جيرانه، ولا يدق فيه وتداً، وأنه كان يحتاط في أداء الزكاة، حتي كان يؤدي في سنة واحده مرتين، حذراً من نسيان النية أو دفعها إلي غير المستحق.
ومن ورعه أيضاً أنه كان حريصاً علي أن يكتسب من عمل يده، وأن لا يأكل ولا يطعم أهله وأولاده ما لا فيه شبهة.
وقد ذكر عنه أنه كان في ابتداء أمره يعمل ناسخاً بالأجرة حتى اجتمع له شي فاشترى جارية صالحة ووطئها فلما وضعت إمام الحرمين وأوصاها أن لا ترضعه من غيرها فأرضعته يوماً مرضعة لجيرانهم، فلما علم بذلك أنكر ذلك، واجتهد في تقييئه حتى تقيأها وقال: هذه الجارية ليست ملكاً لنا، وليس لها أن تتصرف في لبنها، وأصحابها لم يأذنوا في ذلك، فانظر إلي هذا الشخص العجيب الذي يحاسب نفسه علي الصغيرة قبل الكبيرة.
তিনি অত্যধিক ধার্মিকতার কারণে অত্যন্ত গম্ভীর ও প্রভাবশালী ছিলেন। তাঁর সামনে জ্ঞানচর্চা, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ প্রদান সম্পর্কিত গম্ভীর আলোচনা ব্যতীত অন্য কিছুই হতো না।
তিনি ইলম তলবে অত্যন্ত আগ্রহী ও অনুরাগী ছিলেন। এমনকি তিনি দুআয়ে কুনুতে এই বলে দুআ করতেন: "হে আল্লাহ! কোনো বাধার মাধ্যমে আমাদের ইলম থেকে বিমুখ করবেন না এবং কোনো প্রতিবন্ধকের মাধ্যমে আমাদের ইলম থেকে বঞ্চিত করবেন না।"
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করেছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর যুগের ইমাম এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে সমসাময়িক অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি পাঠদান, ফতোয়া প্রদান এবং সর্বসাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাদানে রত থাকতেন এবং দরস প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।
তাঁর যুহদ ও তাকওয়ার কথা বলতে গেলে, তিনি এ ক্ষেত্রে এক সুউচ্চ স্তরে পৌঁছেছিলেন।
শাইখুল ইসলাম আবু উসমান আস-সাবুনী বলেন: "যদি শাইখ আবু মুহাম্মাদ বনী ইসরাঈলের মধ্যে থাকতেন, তবে তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী আমাদের নিকট বর্ণিত হতো এবং তারা তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করত।" তাঁর তাকওয়ার একটি দিক ছিল যে, তিনি তাঁর মালিকানাধীন ঘরে নিজের এবং প্রতিবেশীদের মাঝখানের সাধারণ দেয়ালে কখনও হেলান দিতেন না এবং সেখানে কোনো পেরেকও ঠুকতেন না। তিনি যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে এতটাই সতর্কতা অবলম্বন করতেন যে, নিয়ত ভুলে যাওয়া অথবা অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রদানের আশঙ্কায় কখনও এক বছরে দুই বার যাকাত আদায় করতেন।
তাঁর পরহেজগারির আরও একটি দিক ছিল যে, তিনি নিজ হাতের উপার্জনে সচেষ্ট থাকতেন এবং সন্দেহযুক্ত কোনো খাবার তিনি নিজে খেতেন না এবং তাঁর পরিবার ও সন্তানদেরও খাওয়াতেন না।
তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি কর্মজীবনের শুরুর দিকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কিতাব নকল করার (পাণ্ডুলিপি লেখক) কাজ করতেন। এভাবে কিছু অর্থ সঞ্চিত হলে তিনি এক সৎ দাসী ক্রয় করেন এবং তার সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেন। যখন ইমামুল হারামাইন জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাকে (স্ত্রীকে) অসিয়ত করলেন যেন তিনি ব্যতীত অন্য কোনো নারী তাকে দুধ পান না করায়। কিন্তু একদিন প্রতিবেশীদের এক ধাত্রী তাকে দুধ পান করিয়ে ফেলে। তিনি যখন তা জানতে পারলেন, তখন তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং শিশুটিকে বমি করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেন যতক্ষণ না সে তা বমি করে দিল। তিনি বললেন: "এই ধাত্রী আমাদের মালিকানাধীন নয় এবং তার দুধের ওপর তার নিজের কোনো অধিকার নেই, আর তার মালিকরাও এতে অনুমতি দেয়নি।" সুতরাং, এই বিস্ময়কর ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করুন, যিনি বড় বিষয়ের পূর্বে ছোটখাটো বিষয়ের জন্যও নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ৯)
مشايخه:
لقد استقى الشيخ أبو محمد العلم من فحول العلماء الذين كان لهم مكانة علمية كبيرة في عصره، ولا شك أن لدراسة شيوخه الذين أخذ منهم العلم أهمية بالغة حيث إنها تظهر لنا الينابيع التي أخذ منها وأثرت في تكوين شخصيته العلمية، ولم يقتصر الشيخ أبو محمد علي فن دون فن بل كان يأخذ من علماء الأدب واللغة كما يأخذ من علماء الحديث والفقه والتفسير.
وإليك أشهر مشايخه الذين أخذ عنهم:
أولاً: مشايخه في الأدب:
والده أبو يعقوب يوسف بن عبد الله الجويني، كان أدبيا مرموقاَ بجوين، قرأ عليه الشيخ أبو محمد الأدب. ولم أعثر علي ترجمة وافية لوالد الشيخ أبي محمد رغم البحث والاستقصاء في كتب الأدب والتراجم.
ثانياَ: مشايخه في الحديث:
1) أبو بكر القفال سمع منه الشيخ أبو محمد وعليه تفقه وسأترجم له عند الكلام علي مشايخه في الفقه
2) الشيخ العالم مسند خراسان، أبو نعيم، عبد الملك بن الحسن بن محمد بن إسحق بن الأزهر الأزهري الاسفرايني. حدث عن خال أبيه أبي عوانة بكتابه " المسند الصحيح" سمعه بقراءة والده الحافظ. كان أبو نعيم رجلَا صالحاً ثقة، حضر إلي نيسابور في آخر عمره.
3) أبو بكر أحمد بن محمد بن عبدوس النسوي، محدث مرو، حدث عن علي ابن أبي العقب، وبكير بن الحسن الحداد وطائفة.
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:
শেখ আবু মুহাম্মদ তাঁর সমসাময়িক যুগের ওই সকল প্রথিতযশা আলিমদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন, যাঁদের বিশাল ইলমি মর্যাদা ছিল। নিঃসন্দেহে যে সকল শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি ইলম লাভ করেছেন তাঁদের সম্পর্কে অধ্যয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি আমাদের সামনে সেই উৎসগুলো উন্মোচন করে যেখান থেকে তিনি জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং যা তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। শেখ আবু মুহাম্মদ কেবল নির্দিষ্ট কোনো একটি শাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি সাহিত্য ও ভাষা বিশারদদের কাছ থেকে যেমন জ্ঞান নিয়েছেন, তেমনি হাদীস, ফিকহ ও তাফসীর শাস্ত্রের আলিমদের থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
নিচে তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের বিবরণ দেওয়া হলো যাঁদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন:
প্রথমত: সাহিত্য শাস্ত্রের শিক্ষকবৃন্দ:
তাঁর পিতা আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইনি। তিনি জুওয়াইনের একজন প্রথিতযশা সাহিত্যিক ছিলেন; তাঁর নিকটই শেখ আবু মুহাম্মদ সাহিত্য পাঠ করেন। সাহিত্য ও জীবনী গ্রন্থাবলিতে ব্যাপক অনুসন্ধান ও প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও আমি শেখ আবু মুহাম্মদের পিতার পূর্ণাঙ্গ কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।
দ্বিতীয়ত: হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষকবৃন্দ:
১) আবু বকর আল-কাফফাল; শেখ আবু মুহাম্মদ তাঁর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকটই ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষকদের আলোচনা করার সময় আমি তাঁর জীবনী তুলে ধরব।
২) প্রাজ্ঞ আলিম, মুসনিদে খুরাসান, আবু নুআইম আব্দুল মালিক বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আল-আযহার আল-আযহারী আল-ইসফারায়িনি। তিনি তাঁর পিতার মামা আবু আওয়ানার সূত্রে তাঁর কিতাব "আল-মুসনাদ আস-সহীহ" বর্ণনা করেছেন; তিনি তা তাঁর হাফিয পিতার পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেছেন। আবু নুআইম একজন পুণ্যবান ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে নিশাপুরে আগমন করেছিলেন।
৩) আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস আন-নাসায়ি, মার্ভের মুহাদ্দিস। তিনি আলি ইবনে আবিল আকিব, বুকাইর বিন আল-হাসান আল-হাদ্দাদ এবং একদল রাবীর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১০)
حدث عنه الشيخ أبو محمد، والحسن بن القاسم المروزي، ومحمد بن الحسن الفقيه المروزي. مات بعد الأربعمائة.
4) الشيخ العالم المسند، أبو عبد الله، محمد بن الفضل بن نظيف المصري الفراء، مسند الديار المصرية، ولد سنة (341 هـ) في صفر.
وسمع من أبي الفوارس أحمد بن محمد السندي الصابوني، والعباس بن محمد ابن نصر الرافقي، وأحمد بن الحسن بن إسحاق بن عتبه الرازي وغيرهم.
وحدث عنه: أبو جعفر أحمد بن محمد كاكو، وأبو القاسم سعد بن علي الزنجاني، وأبو بكر البيهقي وأبو القاسم القشيري وآخرون.
قال في منتخب السياق: وسمع منه الشيخ أبو محمد بمكة. ومات ابن نظيف سنة (431 هـ) وعمره (90) سنة وشهرين.
5) أبو طاهر محمد بن محمد بن محمش بن علي بن داود، الزيادي، كان إمام المحدثين والفقهاء بنيسابور في زمانه، وإماماً في العربية والأدب. ولد سنة (317 هـ).
روي الحديث عن أبي بكر القطان، وأبي عبيد الله الصفار وأبي حامد بن بلال وغيرهم.
وروي عنه أبو القاسم بن عليك، والحاكم أبو عبد الله وأبو بكر البيهقي وغيرهم. وسمع منه الشيخ أبو محمدـ، مات سنة (400 هـ) وقيل سنة (410 هـ).
6) الشيخ العالم المعدل، المسند، أبو الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু মুহাম্মদ, হাসান বিন কাসিম আল-মারওয়াজি এবং মুহাম্মদ বিন হাসান আল-ফকিহ আল-মারওয়াজি। তিনি চারশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।
৪) শায়খ, আলিম, মুসনিদ, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফজল বিন নাযিফ আল-মিসরি আল-ফাররা, মিশরের মুসনিদ; তিনি ৩৪১ হিজরির সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি আবু ফাওয়ারিস আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিন্দি আস-সাবোনি, আব্বাস বিন মুহাম্মদ ইবনে নাসর আর-রাফিকি, আহমদ বিন হাসান বিন ইসহাক বিন উতবা আর-রাজি এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ কাকু, আবু কাসিম সা’দ বিন আলি আজ-জানজানি, আবু বকর আল-বায়হাকি, আবু কাসিম আল-কুশাইরি এবং অন্যান্যরা।
‘মুনতাখাব আস-সিয়াক’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: শায়খ আবু মুহাম্মদ মক্কায় তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। ইবনে নাযিফ ৪৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল ৯০ বছর ২ মাস।
৫) আবু তাহের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমিশ বিন আলি বিন দাউদ আজ-জিয়াদি; তিনি তাঁর সময়ে নিশাপুরের মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের ইমাম এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের ইমাম ছিলেন। তিনি ৩১৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি আবু বকর আল-কাত্তান, আবু উবাইদুল্লাহ আস-সাফফার, আবু হামিদ বিন বিলাল এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম বিন আলাইক, হাকিম আবু আবদুল্লাহ, আবু বকর আল-বায়হাকি এবং অন্যরা। শায়খ আবু মুহাম্মদ তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ৪০০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৪১০ হিজরিতে।
৬) শায়খ, আলিম, মুয়াদ্দিল, মুসনিদ, আবু আল-হুসাইন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১১)
بشران، الأموي البغدادي، ولد سنة (328 هـ)، كان تام المرؤة، ظاهر الديانة، صدوقاً ثابتاً.
سمع من أبي جعفر بن البختري، وعلي بن محمد المصري، وإسماعيل الصفار، وغيرهم. وحدث عنه: البيهقي والحسن بن البناء وأبو الفضل عبد الله بن زكري الدقاق وغيرهم. وسمع منه الشيخ أبو محمد. مات سنة (415 هـ).
7) عدنان بن محمد الضبي.
ثالثاً: شيوخه في الفقه:
1) أبو يعقوب، يوسف بن محمد الأبيوردي، أحد الأئمة ومن صدور أهل خراسان، علماً وتوقد ذكاء. من تلامذة الشيخ أبي طاهر الزيادي/ ومن أقران القفال.
ومن تصانيفه كتاب: "المسائل في الفقه" تفزع إليه الفقهاء وتنافس فيه العلماء. قال السبكي: (توفي في حدود الأربعمائة إن لم يكن بعدها فقبلها بقليل).
وهو أول من تفقه عليه الشيخ أبو محمد بجوين.
2) أبو الطيب سهل بن محمد بن سليمان بن محمد بن سليمان الصعلوكي الحنفي: من بني حنيفة، مفتي نيسابور، وابن مفتيها، كان فقيهاً أدبياً، جمع رئاسة الدين والدنيا، تفقه على والده، وسمع من أبي العباس الأصم، وأبي على الرفاء وغيرهم، وحدث عنه الحاكم وهو أكبر منه، وأبو بكر البيهقي وآخرون.
درس واجتمع إليه الخلق في اليوم الخامس من وفاة أبيه سنة (369 هـ) وتخرج به جماعات من الفقهاء بنيسابور وسائر مدن خراسان وتصدى للفتوى والقضاء والتدريس، مات سنة (404 هـ) وقيل غير ذلك.
বিশরান, আল-উমাবী আল-বাগদাদী। তিনি (৩২৮ হি.) সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দ্বীনদারিতে সুপ্রসিদ্ধ এবং অত্যন্ত সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন।
তিনি আবু জাফর ইবনুল বাখতারি, আলী বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি, ইসমাইল আস-সাফফার এবং অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-বায়হাকী, আল-হাসান ইবনুল বান্না, আবুল ফজল আবদুল্লাহ বিন জাকারি আদ-দাক্কাক এবং অন্যান্যরা। শাইখ আবু মুহাম্মদও তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি (৪১৫ হি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন।
৭) আদনান বিন মুহাম্মদ আদ-দব্বী।
তৃতীয়ত: ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:
১) আবু ইয়াকুব, ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-আবিওয়ার্দি। তিনি অন্যতম ইমাম এবং ইলম ও তীক্ষ্ণ মেধার কারণে খোরাসান অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন। তিনি শাইখ আবু তাহের আল-জিয়াদির অন্যতম ছাত্র এবং আল-কাফফাল-এর সমসাময়িক ছিলেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "আল-মাসাইল ফিল ফিকহ"; ফকিহগণ এর শরণাপন্ন হতেন এবং আলেমরা এটি অর্জনে প্রতিযোগিতা করতেন। আস-সুবকী বলেন: (তিনি চারশত হিজরির কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকাল করেন; যদি এর পরে না হয়, তবে এর সামান্য আগে)।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার নিকট জুইওয়াইনে শাইখ আবু মুহাম্মদ ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
২) আবু তাইয়্যিব সাহল বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আস-সা'লুকি আল-হানাফি: বনু হানিফা গোত্রীয়, নিশাপুরের মুফতি এবং মুফতির সন্তান। তিনি ফকিহ ও সাহিত্যিক ছিলেন; দ্বীন ও দুনিয়ার নেতৃত্ব তাঁর মাঝে একত্রিত হয়েছিল। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং আবুল আব্বাস আল-আসাম, আবু আলী আর-রাফফা ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তাঁর থেকে আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন (যদিও তিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন), এছাড়াও আবু বকর আল-বায়হাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন এবং (৩৬৯ হি.) সালে তাঁর পিতার ইন্তেকালের পঞ্চম দিনে তাঁর নিকট মানুষের সমাগম ঘটে। নিশাপুর এবং খোরাসানের অন্যান্য শহরের ফকিহদের অনেক দল তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা সমাপন করেন। তিনি ফতোয়া প্রদান, বিচারকার্য এবং পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি (৪০৪ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন, তবে ভিন্ন মতও বর্ণিত আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১২)
3) عبد الله بن أحمد بن عبد الله المروزي، أبو بكر المعروف بالقفال شيخ الخراسانيين، كان من أعظم محاسن خراسان، إماماً كبيراً وبحراً عميقاً، عظيم المحل، كبير الشأن، كان في ابتداء أمره يعمل الأقفال، وبرع في صناعتها، فلما أتى عليه ثلاثون سنة اشتغل بالفقه حتى صار وحيد زمانه فقهاً، وحفظاً، تفقه على الشيخ أبي زيد المروزي، سمع منه، ومن الخليل بن أحمد القاضي، وجماعة، وحدث وأملي. ويعتبر القفال المروزي شيخ طريقة خراسان وحامل لوائها وإليه المرجع وعليه المعول، وله من التصانيف شرح "التلخيص" و "الفروع" وله فتاوى معروفة باسمه.
تلاميذه:
كان للمكانة العلمية التي احتلها الشيخ أبو محمد والصفات الحميدة التي اتصف بها أثر كبير في التفاف طلبة العلم حول حلقاته، ولقد أنجبت حلقاته علماء أجلاء نذكر منهم:
1) ابنة إمام الحرمين: أبو المعالي عبد الملك بن عبد الله بن يوسف الجويني، إمام الأئمة في زمانه، وأعجوبة عصره، ولد سنة (419 هـ) وقرأ الفقه على والده، والأصول على أبي القاسم الإسكاف. وسمع الحديث من والده ومن أبي حسان محمد المزكي، وأبي سعد عبد الرحمن بن حمدان النضروي وغيرهم. توفي والده وله نحو عشرين سنة، فأقعده الأئمة في مكانه للتدريس، مات (478 هـ) وله من العمر تسع وخمسون سنة، وكان له أربعة تلميذ. وله من التصانيف "النهاية" في الفقه، لم يصنف في المذهب مثله، و"والشامل" في أصول الدين، و"البرهان" في أصول الفقه وقد طبع، و"الإرشاد" في أصول الدين و "التلخيص" مختصر "التقريب والإرشاد في أصول الفقه" و"الورقات" في أصول الفقه وقد طبع، و"غيات الأمم"، وقد طبع.
৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযী, আবু বকর; যিনি 'আল-কাফফাল' নামে পরিচিত এবং খোরাসানবাসীদের শায়েখ। তিনি ছিলেন খোরাসানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য, একজন মহান ইমাম ও গভীর সমুদ্রের মতো প্রজ্ঞাবান, সুউচ্চ মর্যাদাবান ও সুমহান শানের অধিকারী। তিনি কর্মজীবনের শুরুতে তালা তৈরির কাজ করতেন এবং এই শিল্পে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। যখন তাঁর বয়স ত্রিশ বছর হলো, তখন তিনি ফিকহ চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ফিকহ ও মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে সমকালীন অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি শায়েখ আবু যায়দ আল-মারওয়াযীর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে, কাজী আল-খালীল ইবনে আহমাদ থেকে এবং একদল আলেম থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন ও শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। কাফফাল আল-মারওয়াযীকে খোরাসানি পদ্ধতির শায়েখ ও এর পতাকাবাহী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ফিকহী বিষয়ে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয় ও তাঁর ওপরই নির্ভর করা হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে 'আত-তালখীস' ও 'আল-فুরু' (শাখা)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য এবং তাঁর নামে প্রসিদ্ধ ফতোয়াসমূহ রয়েছে।
তাঁর ছাত্রগণ:
শায়েখ আবু মুহাম্মাদের অর্জিত ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলি তাঁর ইলমী হালকাসমূহে শিক্ষার্থীদের সমবেত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর এই হালকাসমূহ থেকে বহু বিজ্ঞ আলেম জন্ম নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন আমরা উল্লেখ করছি:
১) ইমামুল হারামাইন: আবু আল-মা'আলী আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনী। তিনি ছিলেন তাঁর সমসাময়িক ইমামগণের ইমাম এবং নিজ যুগের এক বিস্ময়। তিনি ৪১৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতার কাছে ফিকহ ও আবু কাসেম আল-ইস্কাফের কাছে উসুল পাঠ করেন। তিনি তাঁর পিতা থেকে, আবু হাসসান মুহাম্মদ আল-মুযাক্কী, আবু সা'দ আব্দুর রহমান ইবনে হামদান আন-নাযরবী এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁর বয়স যখন প্রায় বিশ বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন ইমামগণ তাঁকে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত করে শিক্ষকতার আসনে বসান। তিনি ৪৭৮ হিজরিতে ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর চারজন প্রখ্যাত ছাত্র ছিল। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রের 'আন-নিহায়াহ', যার মতো দ্বিতীয় কোনো গ্রন্থ এই মাযহাবে রচিত হয়নি; উসুলুদ দ্বীন বা ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে 'আশ-শামিল', উসুলুল ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ে 'আল-বুরহান' যা মুদ্রিত হয়েছে, উসুলুদ দ্বীন বিষয়ে 'আল-ইরশাদ', 'তাকরীব ওয়াল ইরশাদ ফী উসুলিল ফিকহ'-এর সংক্ষেপিত রূপ 'আত-তালখীস', উসুলুল ফিকহ বিষয়ে 'আল-ওয়ারাকাত' যা মুদ্রিত হয়েছে এবং 'গিয়াছুল উমাম' যা মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2) محمد بن القاسم بن حبيب بن عبدوس، أبو بكر يعرف بالصفار وهو جد الفقهاء المعروفين في نيسابور بالصفارين، كان إماماً، فاضلاً، ديناً، خيراً، محمود الطريقة مكثراً من الحديث والإملاء استخلفه أبو محمد الجويني في حلقته لما حج، مات سنة (468 هـ).
3) عبد الله بن علي بن محمد بن علي، أبو القاسم البحاثي القاضي من عيون الفقهاء، وأرباب الفتوى، حافظ للمذهب، ومن بيت العلم والحديث بناحية زوزن.
4) القاضي أبو منصور، محمد بن شادان الطوسي، كان إماماً في الأصول والفقه، تولى قضاء ميافارقين وأخذ عنه جماعة منهم، الشاشي صاحب "الحلية".
5) عبد الكريم بن يونس بن محمد بن منصور، أبو الفضل الأزجاهي، نسبة إلى "أزجاه" إحدى قرى خابران، من خراسان، إمام فاضل ورع متقن، حافظ لمذهب الشافعي، متصرف فيه، وسمع الحديث وأملى. مات سنة (486 هـ).
6) إسماعيل بن أحمد النوقاني "وفي السبكي النوكاني" الطريثيثي له شرح "عيون المسائل" للفارسي، علقة عن الشيخ أبن محمد الجويني بنيسابور في مجلدة واحدة.
7) علي بن الحسن بن علي بن أبي الطيب، أبو الحسن الباخرزي، وباخرز:
২) মুহাম্মাদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে হাবিব ইবনে আবদুস, আবু বকর, আস-সাফফার নামে পরিচিত। তিনি নিশাপুরের সাফফারিন নামে পরিচিত ফকিহদের পিতামহ ছিলেন। তিনি একজন ইমাম, ফাজিল, ধর্মপরায়ণ, নেককার ও প্রশংসিত পদ্ধতির অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা ও শ্রুতিলিখন (ইমলা) করাতেন। আবু মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনি যখন হজে যান, তখন তাকে নিজের হালকায় স্থলাভিষিক্ত করে যান। তিনি ৪৬৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৩) আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী, আবুল কাসিম আল-বাহাসি। তিনি ছিলেন কাজী, শ্রেষ্ঠ ফকিহদের একজন এবং ফতোয়া প্রদানকারীদের অন্যতম। তিনি মাযহাবের হাফেজ এবং যাওজান অঞ্চলের ইলম ও হাদিসের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৪) কাজী আবু মনসুর, মুহাম্মাদ ইবনে শাদান আত-তুসি। তিনি উসুল ও ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন। তিনি মিয়াফারিকিনের কাজীর দায়িত্ব পালন করেন এবং একদল আলেম তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে 'আল-হিলিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক আশ-শাশী অন্যতম।
৫) আবদুল করিম ইবনে ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর, আবুল ফজল আল-আজজাহী। খোরসানের খাবরান অঞ্চলের অন্যতম গ্রাম 'আজজাহ' এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি একজন গুণী ইমাম, আল্লাহভীরু ও দক্ষ আলেম ছিলেন। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের হাফেজ এবং এতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং ইমলা করিয়েছেন। তিনি ৪৮৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৬) ইসমাইল ইবনে আহমদ আন-নওকানি (সুবকির বর্ণনায় আন-নওকানি) আত-তরাইসিশি। আল-ফারসির লেখা 'উয়ুনুল মাসায়িল' গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ তার রয়েছে, যা তিনি নিশাপুরে শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনির নিকট থেকে এক খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
৭) আলী ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তৈয়ব, আবুল হাসান আল-বাখারজি। আর বাখারজ হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ناحية من نواحي نيسابور. كان رأساً في الكتابة والإنشاء والشعر والفضل والحائز القصب في نظمه ونثره، وكان في شبابه مشتغلاً بالفقه، ثم شرع في فن الكتابة فغلب أدبه على فقه فاشتهر بالأدب. وعمل الشعر وصنف كتاب "دمية القصر وعصرة أهل العصر" وهو ذيل على كتاب "يتيمة الدهر" للثعالبي، وتنقلت به الأحوال إلى أن قتل سنة (467 هـ).
8) علي بن محمد بن إسماعيل العراقي، أبو الحسن، طلب الفقه وسمع الحديث بأماكن كثيرة، وأملي مدة طويلة، وتولى القضاء بطوس ومات بها سنة (498 هـ) عن أربع وثمانين سنة.
9) ناصر بن أحمد بن محمد بن العباس، أبو نصر الطوسي، كان فقيهاً، فاضلاً، أدبياً، جمع الكثير من العلوم، سمع وحدث مات سنة (468 هـ).
10) يحيي بن علي بن محمد الحمدوني الكشميهني، أبو القاسم كان فقيهاً، مدرساً، وروعاً متقناً، سمع الحديث من خلائق، كثيرين، في أقاليم متعددة، وحدث، وأملي بمرو عدة مجالس مات سنة (499 هـ)، وكان مولده سنة (398 هـ).
11) محمد بن محمد بن جعفر، الإمام، أبو سعيد الناصحي، والنيسابوري، أحد أعلام الأئمة علماً، وروعاً، سمع الحديث من أبي طاهر الزيادي، وعبد الله ابن يوسف بن ماموية. وكان زاهداً وروعاً. مات كهلاً، سنة (455 هـ).
12) حمد بن محمد بن العباس بن محمد بن موسى، يتصل نسبة بالزبير بن
নিশাপুরের একটি অঞ্চল। তিনি রচনা, শৈলী, কবিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ছিলেন এবং তাঁর কাব্য ও গদ্যে তিনি অগ্রগামিতা অর্জন করেছিলেন। যৌবনকালে তিনি ফিকহ চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন, এরপর তিনি লিখন শিল্প শুরু করেন এবং তাঁর সাহিত্যজ্ঞান ফিকহের ওপর প্রবল হয়ে ওঠে, ফলে তিনি সাহিত্যের মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি কবিতা রচনা করেছেন এবং "দুময়াতুল কাসর ওয়া উসরাতু আহলিল আসর" নামক কিতাব রচনা করেছেন, যা সা'আলিবীর "ইয়াতীমাতুদ দাহর" কিতাবের একটি পরিশিষ্ট। বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ার পর ৪৬৭ হিজরিতে তিনি নিহত হন।
৮) আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ইরাকি, আবুল হাসান। তিনি ফিকহ অন্বেষণ করেছেন এবং বহু স্থানে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি দীর্ঘকাল হাদিস পাঠ (ইমলা) করিয়েছেন এবং তুস নগরীতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সেখানেই ৪৯৮ হিজরিতে চুরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
৯) নাসির বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস, আবু নাসর আত-তুসি। তিনি একজন ফকিহ, বিদগ্ধ ও সাহিত্যমনা ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বহু জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি ৪৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
১০) ইয়াহইয়া বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-হামদুনি আল-কুশমিহানি, আবুল কাসিম। তিনি একজন ফকিহ, শিক্ষক, পরহেজগার ও বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ভূখণ্ডে বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি মার্ভ শহরে বেশ কিছু মজলিসে হাদিস পাঠ করিয়েছেন। তিনি ৪৯৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৩৯৮ হিজরিতে।
১১) মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর, ইমাম, আবু সাঈদ আন-নাসিহি ওয়ান-নিশাপুরি। তিনি ইলম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন। তিনি আবু তাহের আল-জিয়াদি এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মামুওয়াইহ-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ও পরহেজগার। তিনি মধ্যবয়সে ৪৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
১২) হামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন মুসা। তাঁর বংশপরম্পরা জুবায়ের বিন... এর সাথে যুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العوام، أبو عبد الله الزبيري، سمع الحديث الكثير، وسافر في طلبه إلى خراسان، ولقي الأئمة وناظرهم وولي قضاء طبرستان، واسترباذ، وروى عنه أبو القاسم السمرقندي وغيره، مات سنة (474 هـ).
13) سهل بن إبراهيم المسجدي.
14) علي بن أحمد المديني.
مؤلفاته:
يعتبر الشيخ أبو محمد الجويني من المقلين في التأليف، بالرغم من العزارة العلمية التي يتمته بها في الفقه والتفسير واللغة والأدب، وقد قال بعض الخراسانيين (الأئمة بخراسان ثلاثة مكثر محقق، ومقل محقق، ومكثر غير محقق، فأما المكثر المحقق فالشيخ أبو علي السنجي، وأما المقل المحقق فالشيخ أبو محمد الجويني، والمكثر غير المحقق فالفقيه ناصر العمري المروزي).
وإليك ما عثرت عليه من مؤلفاته:
1) "الجمع والفرق" وهو موضوع البحث.
2) "التفسير الكبير" ويشتمل هذا التفسير على عشرة أنواع من العلوم في كل آية.
3) "السلسلة" ذكره المؤلف رحمه الله في هذا الكتاب، وسماه المؤلف بذلك الاسم لأنه يبني فيه مسألة على مسألة ثم يبني المبني عليها على أخرى ويكرر ذلك في بعض المسائل، وقد نقل الرافعي عنه موضعاً مما طال فيه البناء فلما أكمله
আল-আওয়াম, আবু আব্দুল্লাহ আল-জুবাইরি; তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তা অন্বেষণে খোরাসানে সফর করেছেন। তিনি ইমামগণের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের সাথে মুনাজারা (বিতর্ক) করেছেন। তিনি তাবারিস্তান ও আস্তারাবাদের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর থেকে আবু আল-কাসিম আস-সামারকান্দি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি ৪৭৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১৩) সাহল বিন ইব্রাহিম আল-মাসজিদি।
১৪) আলি বিন আহমদ আল-মাদিনি।
তাঁর রচনাবলি:
শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুয়াইনিকে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে স্বল্পপ্রজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও ফিকহ, তাফসির, ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। খোরাসানের কতিপয় আলেম বলেছেন: "খোরাসানের ইমামগণ তিন প্রকার: অধিক রচনাকারী ও সূক্ষ্ম গবেষক, স্বল্প রচনাকারী ও সূক্ষ্ম গবেষক এবং অধিক রচনাকারী কিন্তু সূক্ষ্ম গবেষক নন। অধিক রচনাকারী ও সূক্ষ্ম গবেষক হলেন শেখ আবু আলি আস-সাঞ্জি। স্বল্প রচনাকারী ও সূক্ষ্ম গবেষক হলেন শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুয়াইনি। আর অধিক রচনাকারী কিন্তু সূক্ষ্ম গবেষক নন—এমন ব্যক্তি হলেন ফকিহ নাসির আল-উমারি আল-মারওয়াজি।"
তাঁর যেসকল রচনাবলি আমি খুঁজে পেয়েছি তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
১) "আল-জাম' ওয়াল ফারক"; এটি এই গবেষণার মূল বিষয়।
২) "আত-তাফসির আল-কাবির"; এই তাফসিরটি প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে দশ প্রকারের ইলম (জ্ঞান) অন্তর্ভুক্ত করে।
৩) "আস-সিলসিলা"; লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবে এটির উল্লেখ করেছেন। লেখক কিতাবটির এই নামকরণ করেছেন কারণ এতে তিনি একটি মাসআলার ওপর আরেকটি মাসআলা ভিত্তি করে সাজিয়েছেন, অতঃপর সেটির ওপর ভিত্তি করে আরও একটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন এবং কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি করেছেন। ইমাম রাফেয়ি তাঁর থেকে এমন একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন যেখানে এই বিন্যাস দীর্ঘ হয়েছে, অতঃপর যখন তিনি তা পূর্ণ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تلطف معه في القول فقال وهذه سلسلة طولها الشيخ. وقد اختصره شمس الدين بن القماح المتوفي سنة (741 هـ) والكتاب مخطوط له نسخة في مركز البحث العلمي بجامعة أم القرى بمكة المكرمة برقم (186 ف) ونسخة بمكتبة طوبقبوسراي بتركيا رقم (4287).
4) "التبصرة" وقد ذكره النووي وقال: "أعلم أن للشيخ أبي محمد الجويني رحمه الله كتاب "التبصرة في الوسوسة" وهو كتاب نافع كثير النفائس وسأنقل منه مقاصد إن شاء الله" وهو مجلد لطيف غالبه في العبادات وفي تسهيل أمور قد يحصل منها الوسوسة، والكتاب مخطوط الأصل في مكتبة عارف حكمت بالمدينة رقم (45) فقه شافعي، ولدي منه نسخة.
5) "التذكرة" وهو مصنف في الفقه.
6) "شرح الرسالة" والكتاب شرح لرسالة الشافعي في أصول الفقه.
7) "مختصر المختصر" وهو تلخيص لمختصر المزني، وسماه صاحب هداية العارفين (المعتصر في مختصر المختصر)، تولاه العلماء بالشرح والتعليق، وممن شرحه عثمان بن محمد بن أحمد، أبو عمرو المصعبي المتوفي في حدود (550 هـ) شرحه في مجلدين وقال في خطبته: "أنه نازل عن حد التطويل مترق عن درجة الاختصار والتقليل وسميته شرح مختصر الجويني لأني جريت على ترتيب مختصر الشيخ أبي محمد فصلاً فصلاً وزدت ما لم يستغن الفقيه عن معرفته فمن تأمله عرف صرف همتي إليه، وبذل جهدي فيه".
তিনি তাঁর সাথে নম্র ভাষায় কথা বললেন এবং বললেন, এটি একটি ধারাবাহিকতা যা শাইখ দীর্ঘায়িত করেছেন। শামসুদ্দিন ইবনুল কাম্মাহ (মৃত্যু ৭৪১ হি.) এটি সংক্ষেপ করেছেন। গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে; যার একটি অনুলিপি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে (নম্বর ১৮৬ ফ) এবং অপর একটি অনুলিপি তুরস্কের তোপকাপি প্রাসাদের লাইব্রেরিতে (নম্বর ৪২৮৭) সংরক্ষিত রয়েছে।
৪) "আত-তাবসিরাহ"; ইমাম নববী এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আত-তাবসিরাহ ফিল ওয়াসওয়াসাহ' নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী এবং বহু মূল্যবান তথ্যে সমৃদ্ধ গ্রন্থ। ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই সেখান থেকে মূল উদ্দেশ্যসমূহ উদ্ধৃত করব।" এটি একটি ছোট খণ্ড, যার অধিকাংশ ইবাদত সংক্রান্ত এবং এমন সব বিষয় সহজ করার ব্যাপারে যাতে ওয়াসওয়াসাহ বা সংশয় তৈরি হতে পারে। গ্রন্থটির মূল পাণ্ডুলিপি মদীনার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে শাফিঈ ফিকহ বিভাগে (নম্বর ৪৫) সংরক্ষিত আছে এবং আমার কাছে এর একটি অনুলিপি রয়েছে।
৫) "আত-তাযকিরাহ"; এটি ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংকলন।
৬) "শারহুর রিসালাহ"; গ্রন্থটি উসূলে ফিকহ বিষয়ে ইমাম শাফিঈর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা।
৭) "মুখতাসারুল মুখতাসার"; এটি 'মুখতাসারুল মুযানী'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 'হিদায়াতুল আরিফীন'-এর লেখক এর নাম দিয়েছেন 'আল-মুতাসার ফী মুখতাসারিল মুখতাসার'। ওলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু আমর আল-মুসআবী (মৃত্যু আনুমানিক ৫৫০ হি.) এটি দুই খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর ভূমিকায় বলেছেন: "এটি অতি-দীর্ঘায়নের সীমা থেকে মুক্ত এবং অতি-সংক্ষেপণের পর্যায় থেকে উন্নত। আমি এর নাম দিয়েছি 'শারহু মুখতাসারি জুওয়াইনী', কারণ আমি শাইখ আবু মুহাম্মদের 'মুখতাসার'-এর বিন্যাস অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ধরে ধরে এটি লিখেছি এবং এমন সব বিষয় যোগ করেছি যা একজন ফকীহ-এর জানার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। যে ব্যক্তি এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে বুঝতে পারবে আমি এতে কতটা মনোযোগ নিবদ্ধ করেছি এবং কতটা শ্রম ব্যয় করেছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وممن صنف عليه أيضاً عوض بن أحمد، أبو خلف الشرواني ويقال: الشيرازي، صنف جزءاً ضخماً على المختصر وسماه "المعتبر في تعليل مسائل المختصر" ذكر في آخره أنه فرغ في تصنيفه في ربيع الآخر سنة (544 هـ).
8) "تقرير المختصر" وقد ذكره المؤلف رحمه الله في هذا الكتاب.
9) "الوجيز" وهو مصنف في العبادات ذكره النووي ونقل عنه.
10) "مختصر" في موقف الإمام والمأموم.
11) "شرح عيون المسائل" وقد اشتبه في نسبة هذا الكتاب للمؤلف ذكر ذلك السبكي وقال: (ووقفت على "شرح كتاب" عيون المسائل" التي صنفها أبو بكر الفارسي، ذكر كاتبه، وهو إسماعيل بن أحمد النوكاني الطريثيثي، أنه علقه عن الشيخ أبي محمد الجويني، لكني رأيت الروياني ينقل في "البحر" أشياء جمة عن "شرح عيون المسائل" للقفال، أخذها بألفاظها في هذا الشرح وربما أتت على سطور كثيرة، كما قال في "البحر" في انعقاد النكاح بالمكاتبة، أن القفال قال في "شرح عيون المسائل" فذكر اسطراً كثيرة، هي بعبارتها موجودة في هذا الشرج ومثل هذا كثير، فتحيرت، لأن وجدان هذا الأصل بخط المعلق نفسه يعين أنه كلام الشيخ أبي محمد، ونقل الروياني يقتضي أنه كلام القفال، ولعل الشيخ أبا محمد أملاه عن شيخه القفال ليجتمع هذان الأمران وإلا فكيف السبيل إلى الجمع؟).
وعلى هذا يكون الكتاب للقفال وليس للجويني.
12) "المحيط": كان الشيخ أبو محمد قد شرع تأليف هذا الكتاب وعزم على عدم التقيد بالمذهب وأنه يقف على موارد الأحاديث ولا يعدوها ويتجنب جانب العصبية للمذاهب فوقع إلى الحافظ أبي بكر البهيقي منه ثلاثة أجزاء، فانتقد عليه أوهاماً حديثية، وبين أن رغبته عن هذه الأحاديث التي أوردها الشيخ أبو محمد إنما
এবং যারা এর ওপর রচনা করেছেন তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আওয়ায বিন আহমাদ, আবু খালাফ আশ-শিরওয়ানি (যাঁকে আশ-শিরাজি-ও বলা হয়)। তিনি মুখতাসার-এর ওপর একটি বিশাল খণ্ড রচনা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "আল-মুতাবার ফী তায়লীল মাসাইলিল মুখতাসার"। এর শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ৫৪৪ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে তিনি এর রচনা সমাপ্ত করেছেন।
৮) "তাকরীরুল মুখতাসার"; লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন।
৯) "আল-ওয়াজিজ"; এটি ইবাদত সংক্রান্ত একটি রচনা, ইমাম নববী এটি উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
১০) ইমাম ও মুক্তাদির অবস্থান বিষয়ক "মুখতাসার"।
১১) "শারহু উয়ুনিল মাসাইল"; এই কিতাবটি লেখকের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি হয়েছে। সুবকী তা উল্লেখ করে বলেছেন: (আমি আবু বকর আল-ফারিসি রচিত "উয়ুনুল মাসাইল"-এর ব্যাখ্যার দেখা পেয়েছি। এর লেখক ইসমাইল বিন আহমাদ আন-নুউকানি আত-তারাইসিশি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি থেকে শুনে লিপিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু আমি দেখেছি যে, আর-রুয়ানি "আল-বাহর" গ্রন্থে কাফফাল রচিত "শারহু উয়ুনিল মাসাইল" থেকে অনেক বিষয় উদ্ধৃত করেছেন এবং এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে সেগুলো হুবহু শব্দে গ্রহণ করেছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ কয়েক লাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যেমনটি তিনি "আল-বাহর"-এ পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বলেছেন যে, কাফফাল "শারহু উয়ুনিল মাসাইল"-এ বলেছেন—অতঃপর তিনি অনেকগুলো লাইন উল্লেখ করেছেন যা হুবহু এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিদ্যমান। এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। ফলে আমি বিভ্রান্তিতে পড়েছি; কারণ স্বয়ং লিপিকারের হস্তলিপিতে এই মূল পাণ্ডুলিপি পাওয়া নির্দেশ করে যে এটি শায়খ আবু মুহাম্মদের কথা, আর আর-রুয়ানির উদ্ধৃতি দাবি করে যে এটি কাফফালের কথা। সম্ভবত শায়খ আবু মুহাম্মদ এটি তাঁর উস্তাদ কাফফালের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন যাতে এই দুই বিষয়ের মাঝে সমন্বয় ঘটে, অন্যথায় এদের মধ্যে সমন্বয়ের আর কী উপায় আছে?)।
এর ওপর ভিত্তি করে কিতাবটি কাফফালের হওয়া উচিত, জুওয়াইনির নয়।
১২) "আল-মুহিত": শায়খ আবু মুহাম্মদ এই কিতাবটি রচনা করা শুরু করেছিলেন এবং সংকল্প করেছিলেন যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের প্রতি সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং তিনি হাদীসের উৎসের ওপর নির্ভর করবেন এবং তা অতিক্রম করবেন না, আর মাযহাবি গোঁড়ামি পরিহার করবেন। হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকির কাছে এর তিনটি খণ্ড পৌঁছায় এবং তিনি এতে হাদীস সংক্রান্ত কিছু ভ্রমের সমালোচনা করেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, শায়খ আবু মুহাম্মদ যে হাদীসগুলো এখানে এনেছেন সেগুলোর প্রতি তাঁর বিমুখ হওয়ার কারণ মূলত...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هي لعلل فيها، يعرفها من يتقن صناعة المحدثين. كما يحثه على نقل كلام الشافعي باللفظ، وقد ضمن البيهقي الرسالة مواضع من كتاب "المحيط" انتقدها. فلما وصلت الرسالة إلى الشيخ أبي محمد قال: هذا بركة العلم، ودعا للبيهقي، وترك إتمام التصنيف فرضي الله عنهما، لم يكن قصدهما غير الحق والنصيحة للمسلمين.
وقد أورد النووي رحمه الله نقلاً عن هذا الكتاب في كتابه "المجموع"، وكذلك الأسنوي في "التمهيد" في تخريج الفروع على الأصول.
مرضه ووفاته:
مرض الشيخ أبو محمد الجويني سبعة عشر يوماً، ثم أدركته المنية فتوفي بنيسابور - وهو في حد الكهولة - في ذي القعدة سنة (438 هـ) وقيل سنة (434 هـ)، والأول هو الأشهر، واحترقت قلوب أهل السنة عليه.
قال الشيخ أبو صالح المؤذن: مرضي الشيخ أبو محمد الجويني سبعة عشر يوماً، وأوصاني أن أتولى غسله وتجهيزه، فلما توفي غسلته، فلما لففته في الكفن رأيت يده اليمنى إلى الإبط زهراء منيرة من غير سوء، وهي تتلألأ تلألؤ القمر، فتحيرت وقلت في نفسي هذه بركات فتاويه.
قال السبكي: ومن شعره يرثي بعض أصدقائه، ولم أسمع له غيرهما رحمه الله تعالى:
رأيت العلم بكاء حزيناً ونادى الفضل وأحزناً وبوسى
سألتهما بذاك فقيل أودى أبو سهل محمد بن موسى
এটি এতে থাকা কিছু ত্রুটির কারণে, যা হাদিস বিশারদগণের শিল্পে পারদর্শী ব্যক্তিরাই বুঝতে পারেন। একইভাবে তিনি ইমাম শাফেয়ীর বাণী হুবহু শব্দে বর্ণনা করার জন্য তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেন। বায়হাকী সেই পত্রে "আল-মুহিত" গ্রন্থ থেকে কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন যা তিনি সমালোচনা করেছিলেন। যখন সেই পত্রটি শেখ আবু মুহাম্মদের নিকট পৌঁছালো, তিনি বললেন: এটিই ইলমের বরকত; তিনি বায়হাকীর জন্য দোয়া করলেন এবং কিতাবটির সংকলন সম্পন্ন করা পরিত্যাগ করলেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সত্য প্রকাশ এবং মুসলিমদের কল্যাণ কামনা ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আল-মাজমু" কিতাবে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তেমনি আসনাভী তাঁর "আত-তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরু' আলাল উসুল" কিতাবেও তা উল্লেখ করেছেন।
তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যু:
শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুয়ায়নী সতেরো দিন অসুস্থ ছিলেন, অতঃপর তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তিনি নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন—তখন তিনি প্রৌঢ় ছিলেন—যিলকদ মাসে ৪৩৮ হিজরীতে (কেউ বলেন ৪৩৪ হিজরীতে), তবে প্রথমটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তাঁর মৃত্যুতে আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের হৃদয়ে শোকের আগুন জ্বলে উঠেছিল।
শেখ আবু সালেহ আল-মুয়াজ্জিন বলেন: শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুয়ায়নী সতেরো দিন অসুস্থ ছিলেন এবং আমাকে অসিয়ত করেছিলেন যেন আমি তাঁর গোসল ও কাফন-দাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করি। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, আমি তাঁকে গোসল করালাম। অতঃপর যখন তাঁকে কাফনে জড়ালাম, আমি তাঁর ডান হাত বগল পর্যন্ত কোনো ত্রুটি ছাড়াই উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় দেখতে পেলাম, যা চাঁদের মতো ঝিকমিক করছিল। আমি বিস্মিত হলাম এবং মনে মনে বললাম, এটি তাঁর ফতোয়াসমূহের বরকত।
সুবকী বলেন: তাঁর কবিতার মধ্য থেকে যা তিনি তাঁর কোনো বন্ধুর শোকে লিখেছিলেন—আর এ দুটি পংক্তি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো কবিতা আমার কানে পৌঁছেনি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন:
আমি জ্ঞানকে ক্রন্দনরত ও বিষণ্ণ দেখলাম, আর শ্রেষ্ঠত্ব চিৎকার করে আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করছিল।
আমি তাদের কাছে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো, আবু সাহল মুহাম্মদ ইবনে মুসা চিরবিদায় নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"
الباب الثاني"في دراسة الكتاب - وفيه مباحث
تعريف علم الفروق:الفرق لغة ضد الجمع. يقال: فرقت بين الشيء فرقاً: فصلت أبعاضه، وفرقت بين الحق والباطل: فصلت أيضاً.
وفرق بعضهم بين فرق بالتخفيف وفرق بالتشديد قال الفيومي: قال ابن الأعرابي: فرقت بين الكلامين فافترقا مخفف، وفرقت بين العبدين، فتفرقا مثقل، فجعل المخفف في المعاني والمثقل في الأعيان، والذي حكاه غيره أنهما بمعنى التثقيل مبالغة.
واصطلاحاً: هو الفن الذي يبحث في المسائل المشتبه صورة، المختلفة حكماً ودليلاً وعلة.
نشأة علم الفروق:نشأت الفروق مع نشأة كل علم أو فن، والفقه الإسلامي علم مثل بقية العلوم لوحظت الفروق في وضع أحكامه منذ نشأته لأنه العلم الذي يمكن التمييز به بين الفروع المتشابهة تصويراً المختلفة حكماً لمدرك خاص يقتضي ذلك التفريق. وفي قول عمر رضي الله عنه لأبي موسى الأشعري: "أعرف الأمثال والأشباه ثم قس الأمور عندك فاعمد إلى أحبها إلى الله وأشبهها بالحق" إشارة إلى أن من النظائر ما يخالف نظائره في الحكم لمدرك خاص به واختلاف الأئمة المجتهدين في كثير من
দ্বিতীয় অধ্যায়কিতাব পরিচিতি - এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
ইলমুল ফুরুকের সংজ্ঞা:আভিধানিকভাবে 'আল-ফারক' (পার্থক্য) হলো 'আল-জম' (একত্রীকরণ)-এর বিপরীত। বলা হয়: আমি একটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করেছি (ফারাকতু), অর্থাৎ আমি তার অংশগুলোকে পৃথক করেছি। এবং আমি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করেছি, অর্থাৎ এক্ষেত্রেও আমি আলাদা করেছি।
কেউ কেউ তাশদীদহীন (ফারাকতু) এবং তাশদীদযুক্ত (ফাররাকতু)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আল-ফাইয়ুমি বলেন: ইবনুল আরাবি বলেছেন: আমি দুটি কথার মধ্যে পার্থক্য করলাম (ফারাকতু), তখন সেগুলো পৃথক হয়ে গেল—এটি তাশদীদহীন। আর আমি দুই দাসের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটালাম (ফাররাকতু), ফলে তারা আলাদা হয়ে গেল—এটি তাশদীদযুক্ত। সুতরাং তিনি তাশদীদহীন রূপটি অর্থগত ক্ষেত্রে এবং তাশদীদযুক্ত রূপটি দৃশ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন। তবে অন্যান্যরা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো, উভয়ই একই অর্থ প্রকাশ করে, আর তাশদীদ আধিক্য বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
পারিভাষিকভাবে: এটি এমন একটি শাস্ত্র যা সেই সকল মাসআলা নিয়ে আলোচনা করে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ সদৃশ কিন্তু বিধান, দলিল এবং ইল্লতের (কারণের) ক্ষেত্রে ভিন্ন।
ইলমুল ফুরুকের উৎপত্তি:প্রতিটি শাস্ত্র বা কলার উৎপত্তির সাথেই ফুরুক বা পার্থক্যের ধারণাটি জন্ম নিয়েছে। ইসলামী ফিকহ অন্যান্য শাস্ত্রের মতোই একটি বিজ্ঞান, যার বিধান প্রণয়নের শুরু থেকেই পার্থক্যের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কারণ এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে এমন সব সদৃশ শাখা-প্রশাখার (ফুরু) মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়, যেগুলোর চিত্র একই রকম হলেও বিশেষ কোনো দলিলের কারণে সেগুলোর বিধান ভিন্ন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আবু মুসা আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই বাণীতে: "তুমি সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়গুলোকে চিনে নাও, অতঃপর তোমার নিকট বিষয়গুলোকে কিয়াস করো। এরপর আল্লাহর নিকট যা অধিক পছন্দনীয় এবং যা সত্যের অধিক নিকটবর্তী তার দিকে অগ্রসর হও" - এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে এমন কিছু থাকে যা বিশেষ কোনো দলিলের কারণে বিধানের দিক থেকে তার সদৃশ বিষয়গুলো থেকে ভিন্ন হয়। আর অনেক বিষয়ে মুজতাহিদ ইমামদের মতপার্থক্য...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২০)
المسائل أساس ملاحظة الفروق الدقيقة والمعاني المؤثرة التي أدت إلى الحكم الذي وصل إليه المجتهد.
أهم المؤلفات في علم الفروق:كانت الفروق الفقهية في بادئ الأمر تذكر في ثنايا كتب الفروع وقد يطلق وعلى بعض مؤلفات الفروع اسم الفروق كما كتاب (الفروق في فروع الشافعية) لأبي محمد بن علي الحكيم الترمذي، وكتاب (الفروق) لأبي العباس أحمد بن عمر بن سريج وهو يشتمل على أجوبة عن أسئلة متعلقة بمختصر المزني. وللأسنوي "كافي المحتاج إلى شرح المنهاج" أطلق عليه اسم الفروق.
هكذا كانت الفروق في بادئ الأمر ثم بعد ذلك نشطت حركة التأليف في هذا الفن وأخذ الفقهاء يفردونه بالتأليف ويولونه عناية خاصة والبعض منهم يجعل قسماً مستقلاً في كتابه خاصاً في الفروق. وسأذكر هنا أشهر الكتب التي ألفت في هذا الفن والتي استفدت من معظمها في التوثيق وقد رتبتها حسب ترتيب المذاهب الفقهية.
أولاً: المذهب الحنفي:1) الفروق لأبي الفضل محمد بن صالح بن محمد الكرابيسي السمرقندي (ت 322 هـ) مخطوط بدار الكتب المصرية (رقم 1923). فقه حنفي، ومصور في مركز البحث العلمي بجامعة أم القرى بمكة المكرمة برقم (42) فقه عام.
2) الفروق لجمال الدين أبي المظفر أسعد بن محمد الحسين الكرابيسي
মাসআলাসমূহের ভিত্তি হলো সেই সূক্ষ্ম পার্থক্য এবং প্রভাবশালী অর্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, যা একজন মুজতাহিদকে তার নির্ধারিত সিদ্ধান্তে উপনীত করে।
ইলমুল ফুরূক (পার্থক্য শাস্ত্র) বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি:ফিকহি পার্থক্যগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ফুরুউল ফিকহ (শাখা ফিকহ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ভেতরে আলোচিত হতো। এমনকি কিছু ফুরুউ বিষয়ক গ্রন্থের নামও 'ফুরূক' রাখা হতো। যেমন আবু মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাকিম আত-তিরমিযী রচিত ‘আল-ফুরূক ফি ফুরুউইশ শাফিয়্যাহ’ এবং আবুল আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ রচিত ‘আল-ফুরূক’ গ্রন্থটি, যা মুখতাসার আল-মুযানী সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের সংকলন। এছাড়া আল-আসনাবীর ‘কাফি আল-মুহتاج ইলা শারহিল মিনহাজ’ গ্রন্থটির নামও ‘ফুরূক’ রাখা হয়েছে।
সূচনালগ্নে ফুরূক শাস্ত্রের অবস্থা এমনই ছিল। এরপর এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার ধারা গতিশীল হয় এবং ফকিহগণ একে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে গ্রন্থবদ্ধ করতে শুরু করেন এবং একে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের গ্রন্থে 'ফুরূক'-এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অংশ বরাদ্দ করেন। আমি এখানে এই শাস্ত্রে রচিত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করব, যেগুলোর অধিকাংশ থেকে আমি তথ্য যাচাই ও প্রামাণিকীকরণের ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি। আমি এগুলোকে ফিকহি মাজহাবের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।
প্রথমত: হানাফি মাজহাব:১) আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-কারাবিসি আস-সামারকান্দি (মৃত্যু ৩২২ হি.) রচিত ‘আল-ফুরূক’। এটি মিসরীয় দারুল কুতুবে (নম্বর ১৯২৩) পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত। এটি হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ এবং মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে (নম্বর ৪২) সাধারণ ফিকহ বিভাগে এর অনুলিপি সংরক্ষিত আছে।
২) জামালুদ্দীন আবুল মুজাফফর আসআদ বিন মুহাম্মদ আল-হুসাইন আল-কারাবিসি রচিত ‘আল-ফুরূক’।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২১)
النيسابوري (ت 570 هـ)، رتبه مؤلفه على أبواب الفقه وقد يذكر في المسألتين المتشابهتين أكثر من فرق، والكتاب طبع بتحقيق الدكتور/ محمد طموم، وطبعته وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية بالكويت.
3) تلقيح العقول في فروق المنقول لأحمد بن عبد الله المحبوبي، الحنفي (ت 630 هـ) مخطوط بدار الكتب رقم (982) فقه حنفي ونسخة أخرى بالسليمانية رقم (2308) فقه حنفي.
4) الأشباه والنظائر لابن نجيم المصري الحنفي (ت 970 هـ) جعل قسماً من كتابه خاصاً بفن الفروق. والكتاب مطبوع متداول.
ثانياً: المذهب المالكي:1) الفروق لأبي العباس أحمد بن إدريس القرافي (ت 684 هـ) والكتاب يبحث في الفروق بين القواعد الفقيه وقد يفرق أحياناً بين مسألتين متشابهتين. والكتاب مطبوع ومتداول.
2) أصول الأحكام في تمييز الفتاوي عن الأحكام للقرافي أيضاً. والكتاب مطبوع بتحقيق عبد الفتاح أبو غده.
3) النكت والفروق لأبي عبد الحق بن محمد بن هارون القرشي الصقلي، (ت 466 هـ) ومنه نسخة مصورة في مركز البحث العلمي برقم (243).
ثالثاً: المذهب الشافعي:1) الجمع والفرق: لأبي محمد عبد الله بن يوسف الجويني. وهو موضوع التحقيق.
2) المعاياة: لأبي العباس أحمد بن محمد الجرجاني الشافعي (ت 482 هـ)
আন-নাইসাবুরি (মৃত্যু ৫৭০ হিজরি)। লেখক এটি ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। কখনও কখনও তিনি দুটি সদৃশ মাসআলার মধ্যে একাধিক পার্থক্য উল্লেখ করেন। বইটি ড. মুহাম্মদ তামুমের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে এবং কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
৩) আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাহবুবি আল-হানাফি (মৃত্যু ৬৩০ হিজরি) রচিত 'তালকিহুল উকুল ফি ফুরূকিল মানকুল'। এটি দারুল কুতুবে হানাফি ফিকহ বিভাগে (৯৮২) নম্বর পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত এবং সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে (২৩০৮) নম্বরে এর আরেকটি কপি রয়েছে।
৪) ইবনে নুজাইম আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৭০ হিজরি) রচিত 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর'। তিনি তার বইয়ের একটি অংশ বিশেষভাবে 'ফুরূক' বা পার্থক্য শাস্ত্রের জন্য বরাদ্দ করেছেন। বইটি মুদ্রিত ও বর্তমানে প্রচলিত।
দ্বিতীয়ত: মালিকি মাজহাব:১) আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইদ্রিস আল-কারাফি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি) রচিত 'আল-ফুরূক'। বইটি ফিকহি উসূল বা মূলনীতির মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করে এবং কখনও কখনও দুটি সদৃশ মাসআলার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করে। বইটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।
২) আল-কারাফি রচিত 'উসুলুল আহকাম ফি তামিযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম'। বইটি আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
৩) আবু আব্দুল হক বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আল-কুরাশি আস-সিকিল্লি (মৃত্যু ৪৬৬ হিজরি) রচিত 'আন-নুকাওয়াত ওয়াল ফুরূক'। বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে এর একটি অনুলিপি (২৪৩) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
তৃতীয়ত: শাফেয়ি মাজহাব:১) আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি রচিত 'আল-জামউ ওয়াল ফারকু'। এটিই বর্তমান সম্পাদনার মূল বিষয়বস্তু।
২) আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৪৮২ হিজরি) রচিত 'আল-মুয়ায়াত'।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويشتهر الكتاب "بالفروق" رتبة مؤلفه على أبواب الفقه، والكتاب مخطوط بدار الكتب برقم (915) فقه شافعي.
3) مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق، لأبي محمد عبد الرحمن بن الحسن الأسنوي (ت 772 هـ) والكتاب محقق حققه نصر فريد محمد.
4) الليث العابس في صدمات المجالس، لإسماعيل بن معلي المحلي الشافعي، والكتاب مخطوط توجد منه نسخة مصورة في مركز البحث العلمي برقم (101) أصول.
5) الاستغناء في الفرق والاستثناء لأبي بكر محمد بن سليمان البكري والكتاب محقق قام بتحقيقه الشيخ سعود الثبيتي، ونال به درجة الدكتوراه من جامعة أم القرى.
6) الأشباه والنظائر للسيوطي والكتاب في القواعد الفقهية وجعل قسماً منه خاصاً بالفروق وهو مطبوع متداول.
رابعاً: المذهب الحنبلي:1) الفروق: لأبي عبد الله محمد بن عبد الله السامري الحنبلي المعروف بابن سنيية (ت 616 هـ) والكتاب محقق في جامعة الإمام. حققه محمد بن إبراهيم اليحبي.
2) إيضاح الدلائل في الفروق بين المسائل: لأبي محمد عبد الرحمن بن تقي الدين أبو بكر بن عبد الله الزريراني البغدادي، مخطوط توجد له نسخة مصورة في مركز البحث العلمي برقم (344) فقه عام.
3) الفصول في الفروق: لأبي العباس نجم الدين أحمد بن محمد بن خلف بن راجح المقدسي الحنبلي (ت 638 هـ).
مناهج المؤلفين في عرض الفروق:بعد أن ذكرنا الكتب التي ألفت في هذا الفن نجد أن من المناسب ذكر منهجهم في التأليف فالمطلع على كتب الفروق يجد أنها منقسمة إلى قسمين رئيسين:
বইটি 'আল-ফুরুক' নামে প্রসিদ্ধ, এর লেখক এটি ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। বইটি পাণ্ডুলিপি আকারে 'দারুল কুতুব'-এ ৯১৫ নম্বর শাফেয়ী ফিকহ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
৩) মাতালিউদ দাকাইক ফি তাহরিরিল জাওয়ামি ওয়াল ফাওয়ারিক, আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনুল হাসান আল-আসনভী (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি) রচিত। বইটি সম্পাদিত, এটি সম্পাদন করেছেন নাসর ফরীদ মুহাম্মদ।
৪) আল-লাইসুল আবিস ফি সদমাতিল মাজালিস, ইসমাইল ইবনে মুআল্লী আল-মহল্লী আশ-শাফেয়ী রচিত। বইটি পাণ্ডুলিপি আকারে আছে, এর একটি অনুলিপি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে ১০১ নম্বর উসুল বিভাগে বিদ্যমান।
৫) আল-ইস্তিগনা ফিল ফারকি ওয়াল ইসতিসনা, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বাকরি রচিত। বইটি সম্পাদিত, এটি সম্পাদন করেছেন শাইখ সাউদ আস-সুবাইতি এবং এর মাধ্যমে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
৬) সুয়ুতির আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর। বইটি ফিকহি মূলনীতি (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) বিষয়ক এবং এর একটি অংশ তিনি 'ফুরুক' বা আইনি পার্থক্যের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এটি মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত।
চতুর্থত: হাম্বলি মাজহাব:১) আল-ফুরুক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সামারি আল-হাম্বলি রচিত, যিনি ইবনে সুনাইয়াহ (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি) নামে পরিচিত। বইটি ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পাদিত হয়েছে। এটি সম্পাদন করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-ইয়াহবি।
২) ইজাহুদ দালাইল ফিল ফুরুক বাইনাল মাসাইল: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে তাকিউদ্দীন আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জুরারিরাানি আল-বাগদাদি রচিত। এটি পাণ্ডুলিপি আকারে আছে, এর একটি অনুলিপি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে ৩৪৪ নম্বর সাধারণ ফিকহ বিভাগে বিদ্যমান।
৩) আল-ফুসুল ফিল ফুরুক: আবুল আব্বাস নাজমুদ্দীন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে রাজিহ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৩৮ হিজরি) রচিত।
ফুরুক উপস্থাপনায় লেখকদের কর্মপদ্ধতি:এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থাবলি উল্লেখ করার পর আমরা তাদের রচনাশৈলী বা পদ্ধতি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। ফুরুক বিষয়ক গ্রন্থাবলি পর্যালোচনাকারীরা দেখতে পাবেন যে এগুলো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأول: قسم ألف للفرق بين القواعد الفقهية، وعلى هذه الطريقة سار القرافي في كتابه الفروق، حيث يذكر الفرق بين القواعد الفقهية وقد يفرق بين المسائل أحياناً، قال في مقدمة كتاب الفروق (وجعلت مبادئ المباحث في القواعد بذكر الفروق والسؤال عنها بين فرعين أو قاعدتين فإن وقع السؤال عن الفرق بين الفرعين فبيانه بذكر قاعدة أو قاعدتين يحصل بهما الفرق وهما المقصودتان وذكر الفرق وسيلة لتحصيلهما). وعلى هذا المنهج سار في كتابه أصول الأحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام.
القسم الثاني: الكتب المؤلفة للفرق بين المسائل الفقهية الفرعية. ويمكن تقسيمها إلى قسمين:
الأول: الكتب التي تبحث في الفروق بين المسائل الفقهية الفرعية، وفي هذه الكتب يذكر المؤلف في كل بحث مسألتين متشابهتين وأحياناً أكثر من مسألتين. ثم يفرق بينهما وقد يذكر أكثر من فرق، أما ترتيب الكتب فهو على أبواب الفقه فيذكر مثلاً كتاب الطهارة ثم الصلاة وهكذا.
وقد سار على هذا المنهج أبو محمد الجويني والكرابيسي والجرجاني في مؤلفاتهم آنفة الذكر.
الثاني: الكتب التي ذكرت الفروق فيها ضمن فنون أخرى كالذين ألفوا في الأشباه والنظائر فإنهم ضمنوا كتبهم أقساماً خاصة بالفروق، كالسيوطي وابن نجيم فأنهم ألفوا في القواعد الفقهية وضمنوها فروقاً فقهية. وكالذين ألفوا في الاستثناء كالبكري في كتابه الاستغناء في الفرق والاستثناء فإنه بعد ما يذكر القاعدة الفقهية ويتكلم عنها ويستثني منها مسائل يعددها ثم يذكر الفرق إن كان هناك فرق.
اسم الكتاب:لم يذكر المؤلف رحمه الله عنوان كتابه في المقدمة، ولقد وجدت في بعض النسخ
প্রথম: ফিকহী মূলনীতিসমূহের (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) মধ্যে পার্থক্য করার জন্য প্রণীত বিভাগ। আল-কারাফি তাঁর 'আল-ফুরুক' গ্রন্থে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি ফিকহী মূলনীতিসমূহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করেন এবং কখনো কখনো মাসআলাসমূহের মধ্যেও পার্থক্য করেন। তিনি 'আল-ফুরুক' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন, (এবং আমি মূলনীতিসমূহের আলোচনার সূচনা করেছি দুটি শাখা বা দুটি মূলনীতির মধ্যে পার্থক্যের উল্লেখ এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে; সুতরাং যদি দুটি শাখার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসা আসে, তবে তার ব্যাখ্যা এক বা একাধিক মূলনীতি উল্লেখের মাধ্যমে দেওয়া হয় যার দ্বারা পার্থক্য সূচিত হয় এবং এই মূলনীতিগুলোই মূল উদ্দেশ্য, আর পার্থক্যের উল্লেখ হলো সেগুলো অর্জনের একটি মাধ্যম)। আর এই পদ্ধতিই তিনি তাঁর 'উসুলুল আহকাম ফি তাময়িযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম' গ্রন্থে ফাতাওয়া ও আহকামের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন।
দ্বিতীয় বিভাগ: ফিকহের শাখা মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ। এগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে:
প্রথম: ঐ সকল গ্রন্থ যা ফিকহের শাখা মাসআলাসমূহের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করে। এই গ্রন্থগুলোতে লেখক প্রতিটি আলোচনায় দুটি সমজাতীয় মাসআলা এবং কখনো কখনো দুইয়ের অধিক মাসআলা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন এবং কখনো কখনো একাধিক পার্থক্য উল্লেখ করেন। আর গ্রন্থগুলোর বিন্যাস ফিকহের অধ্যায়সমূহের ক্রমানুসারে করা হয়েছে, যেমন তিনি প্রথমে পবিত্রতা অধ্যায়, এরপর সালাত অধ্যায় এবং এভাবে অন্যান্য অধ্যায় উল্লেখ করেন।
আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, আল-কারাবিসি এবং আল-জুরজানি তাঁদের ইতিপূর্বে উল্লিখিত গ্রন্থগুলোতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
দ্বিতীয়: ঐ সকল গ্রন্থ যাতে অন্যান্য শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পার্থক্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন যারা 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁরা তাঁদের গ্রন্থে পার্থক্যের জন্য বিশেষ পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেমন আস-সুয়ূতী এবং ইবনে নুজাইম, তাঁরা ফিকহী মূলনীতি সম্পর্কে লিখেছেন এবং এর মধ্যে ফিকহী পার্থক্যগুলোও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর যেমন যারা 'ব্যতিক্রম' (ইস্তিসনা) বিষয়ে লিখেছেন, যেমন আল-বাকরি তাঁর 'আল-ইস্তিগনা ফিল ফারক ওয়াল ইস্তিসনা' গ্রন্থে করেছেন; তিনি ফিকহী মূলনীতি উল্লেখ করার ও সে সম্পর্কে আলোচনা করার পর তা থেকে কিছু মাসআলা বাদ দেন এবং সেগুলো গণনা করেন, এরপর যদি কোনো পার্থক্য থাকে তবে তা উল্লেখ করেন।
গ্রন্থের নাম:লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এর কোনো শিরোনাম উল্লেখ করেননি, তবে আমি কিছু পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التي عثرت عليها عنواناً للكتاب وهي نسخة (ب)، (ج)، (د) وقد ذكر أن أسمه (الجمع والفرق)، جاء في الورقة الأولى من نسخة (ب) عنوان: (كتاب الجمع والفرق) للإمام أبي محمد عبد الله بن يوسف الجويني المتوفي سنة (438 هـ) وهو والد إمام الحرمين. وقال الناسخ في نهاية نسخة (ج): (تم كتاب الجمع والفرق) وقال في نهاية الجزء الثاني من نسخة (د) تم "الجزء الثاني من الجمع والفرق). وقد ذكرت معظم الكتب التي ترجمت للشيخ أبي محمد أن اسم الكتاب هو (الفروق).
ولقد تحيرت في بادئ الأمر في الصحيح من الاسمين وأيهما الذي أطلقه المؤلف على هذا الكتاب، ولكن رأيت الكتب التي نقلت عن الكتاب تذكره باسم "الفروق" ويعتبر النووي رحمه الله من المكثرين من النقل عن هذا الكتاب في كتابه المجموع فقد ذكره بأكثر من (21)
… موضعاً في كتاب الطهارة فقط، جميعها بلفظ (الفروق) وإليك نماذج من نقولات النووي.
قال في المجموع: 2/ 68 "وأما حمل الصندوق وفيه المصحف فاتفقوا على تحريمه. قال أبو محمد الجويني في الفروق وكذا يحرم تحريكه من مكان إلى مكان"، وقال في 1/ 164: "وقد نقل الشيخ أبو محمد الجويني في كتابه الفروق نص الشافعي رحمه الله على أن الجماعات إذا اغتسلوا في القلتينم لا يصير مستعملاً"، وكذا الزركشي فإنه نقل عن هذا الكتاب أكثر من نقل قال في كتابه المنثور في القواعد 1/ 100، قال الشيخ أبو محمد في الفروق إن المذهب المنصوص في رواية المزني والربيع فيما إذا بقي من الوقت مقدار تكبيرة فيحرم بالصلاة فيها كان له القصر.
وممن نقل أيضاً من هذا الكتاب السيوطي في الأشباه والنظائر/ 116/ قال: (وقال الشيخ أبو محمد، في الفروق: من دخل عليه وقت الصلاة، ومعه ما يكفيه لطهارته، وهناك من يحتاجه للطهارة، لم يجز له الإيثار). وبعد النظر الدقيق فيما سبق، رأيت - فيما اعتقد - أن اسم الكتاب الصحيح هو " الجمع والفرق" وذلك لما هو ثابت بوضوح في نسخ ب، جـ، د. وما حصل عند النووي وغيره أثناء النقل عن الكتاب وإطلاق اسم "الفروق" عليه إنما هو من قبيل تغليب موضوع الكتاب على اسمه، حيث أن موضوع الكتاب كله في الفروق، وقد وقع مثل هذا لبعض
আমি বইটির শিরোনাম হিসেবে যা পেয়েছি তা হলো পাণ্ডুলিপি (খ), (গ), ও (ঘ)। সেখানে বইটির নাম ‘আল-জাম‘ ওয়াল-ফারক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনাম হিসেবে এসেছে: ইমামুল হারামাইনের পিতা ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু ৪৩৮ হিজরি) রচিত ‘কিতাবুল জাম‘ ওয়াল-ফারক’। পাণ্ডুলিপি (গ)-এর শেষে অনুলিপিকার বলেছেন: ‘আল-জাম‘ ওয়াল-ফারক বইটি সমাপ্ত হলো’। পাণ্ডুলিপি (ঘ)-এর দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে তিনি বলেছেন: ‘আল-জাম‘ ওয়াল-ফারক-এর দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত হলো’। শেখ আবু মুহাম্মদের জীবনী সংবলিত অধিকাংশ গ্রন্থে বইটির নাম ‘আল-ফুরুক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুরুতে আমি উভয় নামের মধ্যে কোনটি সঠিক এবং লেখক এই বইটির জন্য কোনটি নির্ধারণ করেছিলেন, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। তবে আমি দেখেছি যে, যেসব কিতাব এই গ্রন্থটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছে, তারা একে ‘আল-ফুরুক’ নামে উল্লেখ করেছে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-মাজমু‘ গ্রন্থে এই কিতাব থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদানকারীদের অন্যতম হিসেবে গণ্য হন। তিনি শুধুমাত্র ‘কিতাবুত তাহারাহ’ (পবিত্রতা অধ্যায়)-এই ২১টিরও বেশি
… স্থানে ‘আল-ফুরুক’ শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন। নিচে ইমাম নববীর উদ্ধৃতিগুলোর কিছু নমুনা দেওয়া হলো।
তিনি ‘আল-মাজমু‘ (২/৬৮) গ্রন্থে বলেন: "আর ভেতরে মুসহাফ (কুরআন) থাকা সিন্দুক বা বাক্স বহন করার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম এটি হারাম হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থে বলেন, অনুরূপভাবে একে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানোও হারাম।" তিনি ১/১৬৪ পৃষ্ঠায় বলেন: "শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি তাঁর ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, একদল লোক যদি ‘কুল্লাতাইন’ (দুই মটকা) সমপরিমাণ পানিতে গোসল করে, তবে সেই পানি ‘মুসতামাল’ (ব্যবহৃত) হয়ে যায় না।" একইভাবে ইমাম যারকাশিও এই কিতাব থেকে একাধিক উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর ‘আল-মানসুর ফিল কাওয়াইদ’ (১/১০০) গ্রন্থে বলেন: "শেখ আবু মুহাম্মদ ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থে বলেছেন যে, আল-মুযানী ও আর-রাবি‘র বর্ণনা অনুযায়ী মাযহাবের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য হলো—যদি নামাজের ওয়াক্ত থেকে মাত্র এক তাকবির পরিমাণ সময় বাকি থাকে এবং সে সময়ে কেউ নামাজের ইহরাম বাঁধে, তবে তার জন্য কসর করা বৈধ হবে।"
এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে ইমাম সুয়ূতীও রয়েছেন। তিনি ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ (১১৬ পৃষ্ঠা)-এ বলেন: (শেখ আবু মুহাম্মদ ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থে বলেছেন: যার ওপর নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেছে এবং তার কাছে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে, কিন্তু সেখানে এমন কেউ আছে যারও পবিত্রতার জন্য পানির প্রয়োজন, তবে তার জন্য অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জায়েজ হবে না)। উপরোক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার পর আমার বিশ্বাস অনুযায়ী বইটির সঠিক নাম হলো ‘আল-জাম‘ ওয়াল-ফারক’। কারণ এটি পাণ্ডুলিপি খ, গ ও ঘ-তে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর ইমাম নববী ও অন্যদের কিতাবটি থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় ‘আল-ফুরুক’ নাম ব্যবহার করার বিষয়টি মূলত কিতাবটির নামের চেয়ে এর বিষয়ের প্রাধান্য হেতু ঘটেছে। যেহেতু বইটির সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুই ‘ফুরুক’ (পার্থক্যসমূহ) সংক্রান্ত, আর এমনটি অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
العلماء السابقين، وعلى سبيل المثال نذكر كتاب "إيضاح المشكل من أحكام الخنثى المشكل" للإمام جمال الدين عبد الرحيم الأسنوي، حيث عرف عند العلماء باسم "أحكام الحنثى"، لاشتماله على أحكام الخنثى. وهذا مما جعلني أقطع - فيما أعلم - بأن اسم الكتاب هو "الجمع والفرق" مع اشتهاره عند العلماء باسم "الفروق" والله أعلم ..
نسبة الكتاب للمؤلف:لعل ما مضى من البحث في اسم الكتاب لا يدع مجالاً للشك في أن هذا الكتاب لأبي الجويني خصوصاً وأن جميع كتب التراجم التي اطلعت عليها نسبته إليه.
سبب تأليف الكتاب:أشار المؤلف رحمه الله إلى الباعث له على تأليف هذا الكتاب فقال - في مقدمة الكتاب-: فإن مسائل الشرع ربما تتشابه صورها، وتختلف أحكامها لعل أوجبت اختلاف الأحكام، ولا يستغنى أهل التحقيق عن الإطلاع على تلك العلل التي أوجبت افتراق ما افترق منها، واجتماع ما اجتمع منها، وكنا رأينا لبعض مشايخنا المتقدمين مجموعاً في هذا الباب غير أنه كان مشتملاً على مسائل معدودة قليلة، ولا يكاد يحصل مقصود هذا الباب بالزيادة على ما جمع المتقدمون.
قيمة الكتاب ومنزلته بين كتب الفروق:
يعتبر كتاب الفروق للجويني أحسن كتاب ألف في هذا الفن قال عنه الزركشي في معرض كلامه عن أنواع الفقه
…"النوع الثاني: معرفة الجمع والفرق ومن أحسن ما صنف فيه كتاب الشيخ أبي محمد الجويني".
পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম, উদাহরণস্বরূপ আমরা ইমাম জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম আল-আসনাবীর "ইদাহুল মুশকাল মিন আহকামিল খুনছাল মুশকাল" কিতাবটির কথা উল্লেখ করতে পারি, যা আলেমদের নিকট "আহকামুল খুনছা" নামে পরিচিত ছিল, কারণ এতে খুনছাদের (উভয়লিঙ্গ ব্যক্তিদের) বিধানাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটিই আমাকে নিশ্চিত করেছে—যতটুকু আমি জানি—যে কিতাবটির নাম হলো "আল-জামউ ওয়াল ফারক", যদিও আলেমদের নিকট এটি "আল-ফুরুক" নামে সমধিক পরিচিত। আর আল্লাহই ভালো জানেন...
লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধকরণ:সম্ভবত কিতাবের নাম নিয়ে ইতিপূর্বে যে গবেষণা করা হয়েছে তা এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, এই কিতাবটি আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনীর; বিশেষ করে আমি যেসব জীবনী গ্রন্থ (তারাজিম) দেখেছি তার সবগুলোতে কিতাবটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
কিতাবটি রচনার কারণ:লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবটি রচনার পেছনে তাঁর মূল প্রেরণার কথা ইঙ্গিত করেছেন। তিনি কিতাবের ভূমিকায় বলেন: শরীয়তের মাসআলাগুলোর বাহ্যিক রূপ কখনও কখনও অভিন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু সেগুলোর কারণের (ইল্লত) পার্থক্যের কারণে বিধানগুলো ভিন্ন হয়। তাই গভীর গবেষক আলেমদের (আহলে তাহকীক) জন্য সেই সব কারণ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা মাসআলাগুলোর পার্থক্য কিংবা মিল নিশ্চিত করে। আমরা আমাদের পূর্ববর্তী কিছু উস্তাদের এই বিষয়ে একটি সংকলন দেখেছিলাম, তবে তাতে খুব সামান্য কিছু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর পূর্ববর্তীরা যা সংগ্রহ করেছেন তার ওপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করা ছাড়া এই শাস্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।
ফুরুক বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে কিতাবটির মূল্য ও মর্যাদা:
জুওয়াইনীর "আল-ফুরুক" কিতাবটি এই শিল্পে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইমাম যারকাশী ফিকহের প্রকারভেদ আলোচনার প্রসঙ্গে এই কিতাবটি সম্পর্কে বলেন
…"দ্বিতীয় প্রকার: আল-জামউ ওয়াল ফারক (একত্রীকরণ ও পৃথকীকরণ) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; আর এই বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনীর কিতাবটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال عنه الأسنوي إنه مجلد ضخم عظيم الفائدة:
وتتجلى قيمة الكتاب وأهميته فيما يلي:
1) شموله لجميع أبواب الفقه.
2) ضمنه مؤلفه عدداً كبيراً من نصوص الشافعي وأقواله الجديدة والقديمة مما جعل لهذا الكتاب أثراً كبيراً في حفظ هذه النصوص.
3) كثرة الفروع الفقهية ودقتها فقد جمع فيه مؤلفه رحمه الله فروعاً كثيرة ودقيقة قد لا توجد في غير هذا الكتاب.
4) يعتبر هذا الكتاب أوفي كتاب في ذكر الفروق فقد ذكر مؤلفه ما يزيد على مائتين وألف فرق.
5) ومما يزيد في قيمة الكتاب وأهميته أن مؤلفه يعتبر من محققي المذهب الشافعي.
مصادر المؤلف:أشار المؤلف رحمه الله في المقدمة إلى المصدر الأساسي الذي اعتمد عليه في تأليف هذا الكتاب وهذا المصدر هو "مختصر المزني" الذي اختصره من علم الشافعي رحمه الله ويعتبر كتاب "مختصر المزني" أحد الكتب الخمسة المشهورة بين الشافعية والتي يتداولونها كثيراً وهي سائرة في كل الأمصار كما ذكره النووي.
ولم يقتصر أبو محمد الجويني على هذا الكتاب بل أخذ ينقل من غيره ويروي عن رواة كتب الشافعي، وعن مشايخه، وعن علماء المذهب، فنقل عن "مختصر المزني الكبير" الذي قال عنه ابن النديم إنه متروك.
ونقل عن الإملاء وهو من كتب الشافعي الجديدة.
আল-আসনাবী এটি সম্পর্কে বলেছেন যে এটি একটি বিশাল খণ্ড এবং অত্যন্ত উপকারী:
গ্রন্থটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:
১) এতে ফিকহশাস্ত্রের সকল অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২) এর লেখক এতে ইমাম শাফেয়ীর প্রচুর সংখ্যক মূল পাঠ এবং তাঁর নতুন ও পুরাতন মতসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা এই পাঠগুলো সংরক্ষণে বইটির এক বিশাল প্রভাব নিশ্চিত করেছে।
৩) ফিকহী শাখা-প্রশাখার আধিক্য ও সূক্ষ্মতা; এর লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এতে এমন অনেক ও সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা সংকলন করেছেন যা অন্য কোনো গ্রন্থে সচরাচর পাওয়া যায় না।
৪) মাসআলাসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনায় এটি একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত; এর লেখক এতে বারো শতেরও বেশি পার্থক্যের বিষয় উল্লেখ করেছেন।
৫) বইটির গুরুত্ব ও মান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো এর লেখক শাফেয়ী মাযহাবের একজন বিশেষজ্ঞ গবেষক হিসেবে গণ্য হন।
লেখকের উৎসসমূহ:লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) গ্রন্থটির ভূমিকায় সেই মূল উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি রচনা করেছেন। সেই উৎসটি হলো ‘মুখতাসারুল মুযানী’, যা ইমাম শাফেয়ীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জ্ঞানভাণ্ডার থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে সংকলিত হয়েছে। ‘মুখতাসারুল মুযানী’ শাফেয়ী আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ পাঁচটি গ্রন্থের একটি, যা তাঁরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন এবং ইমাম নববীর বর্ণনা অনুযায়ী এটি সকল জনপদে সমাদৃত।
আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী কেবল এই গ্রন্থটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি অন্যান্য উৎস থেকেও উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম শাফেয়ীর গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারী, তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও মাযহাবের আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘মুখতাসারুল মুযানী আল-কাবীর’ থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যে সম্পর্কে ইবনে নাদীম বলেছেন যে এটি পরিত্যক্ত।
তিনি ‘আল-ইমলা’ থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা ইমাম শাফেয়ীর নতুন মত সম্বলিত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وروى بكثرة عن الربيع بن سليمان المرادي وبقلة عن البويطي وحرملة وموسى ابن أبي الجارود.
ونقل عن أبي بكر القفال، وابن سريج، وأبي العباس الطبري، صاحب كتاب "التلخيص" وأي وأبي بكر الفارسي مصنف كتاب "عيون المسائل"
… وأبي القاسم الأنماطي، وأبي إسحاق المروزي.
منهج المؤلف في هذا الكتاب:بدأ المؤلف كتابه بمقدمة بين فيها الباعث له على تصنيف هذا الكتاب ثم بين أنواع المسائل التي يلتمس الفرق منها ثم بين صفة الفرق، وبعد ذلك افتتح الكتاب بمسائل وفروق في أصول الفقه، وبعد المقدمة رتب المؤلف كتابه على أبواب الفقه فبدأ بكتاب الطهارة ثم الصلاة
… الخ.
وقد عنون لكل مجموعة من المسائل في كتاب الطهارة والصلاة بالعنوان التي تندرج تحته فذكر كتاب الطهارة ثم ذكر تحت هذا العنوان مسائل في الطهارة ثم ذكر عنوان مسائل نواقض الوضوء، ثم مسائل التيمم، ثم مسائل المريض، ثم مسائل التحري، ثم مسائل المسح على الخفين، ثم مسائل المستحاضة.
ثم أتبع كتاب الطهارة بكتاب الصلاة ثم الزكاة وهكذا .. الخ. فذكر تحت هذا العنوان مسائل خاصة في إدراك الصلاة وحكم القضاء، ثم ذكر عنوان مسائل الآذان، ثم مسائل الاجتهاد في القبلة، ثم مسائل الصلاة، ثم مسائل ستر العورة، ثم مسائل القصر، ثم مسائل الزحام، ثم مسائل صلاة العيدين، ثم مسائل الخسوف، ثم مسائل الجنائز، ثم مسائل اجتماع القرابات.
وطريقته في عرض المسائل أن يذكر مسألتين مختلفتين في الحكم مشتبهتين في الصورة ثم يذكر الفرق بينهما. وقد يكون الفرق بينهما فرق جمع وقد يكون فرق فصل وتباين، وقد يكون فرقاً مستنداً إلى ظاهر كتاب أو ظاهر سنة. وقد يذكر أكثر من فرق وتصل أحياناً إلى ثلاثة فروق، وقد يستخرج بعد ذكر الفرق قاعدة فقهية. ويلاحظ أن المؤلف رحمه الله أحياناً يكرر المسألة في أكثر من موضع عند
তিনি প্রচুর পরিমাণে আল-রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি থেকে এবং স্বল্প পরিমাণে আল-বুওয়াইতি, হারমালা ও মুসা ইবনে আবিল জারুদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি আবু বকর আল-কাফফাল, ইবনে সুরাইজ, 'আত-তালখিস' গ্রন্থের রচয়িতা আবু আব্বাস আত-তাবারী এবং 'উয়ুনুল মাসায়িল' গ্রন্থের লেখক আবু বকর আল-ফারিসি
… এবং আবুল কাসিম আল-আনমাতি ও আবু إسহাক আল-মারওয়াজি থেকে (উক্তি) উদ্ধৃত করেছেন।
এই গ্রন্থে লেখকের কর্মপদ্ধতি:লেখক তার গ্রন্থটি একটি মুখবন্ধ দিয়ে শুরু করেছেন যেখানে তিনি এই গ্রন্থটি সংকলনের পেছনের কারণ স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি সেই সব মাসআলার প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন যেগুলোর পার্থক্য অন্বেষণ করা হয়, অতঃপর পার্থক্যের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। এরপর তিনি উসুলুল ফিকহের মাসআলা ও পার্থক্যসমূহ দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করেন। মুখবন্ধের পর লেখক ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী তার গ্রন্থটি বিন্যস্ত করেছেন, ফলে তিনি পবিত্রতা অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন, অতঃপর নামাজ অধ্যায়
… ইত্যাদি।
তিনি পবিত্রতা ও নামাজ অধ্যায়ের প্রতিটি মাসআলা-সমষ্টির জন্য এমন শিরোনাম দিয়েছেন যার অধীনে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি পবিত্রতা অধ্যায় উল্লেখ করেছেন, অতঃপর এই শিরোনামের অধীনে পবিত্রতা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি ওজু ভঙ্গের মাসআলা, তায়াম্মুমের মাসআলা, অসুস্থ ব্যক্তির মাসআলা, (কিবলা বা অন্য কিছু) অন্বেষণ সংক্রান্ত মাসআলা, মোজার ওপর মাসেহ করার মাসআলা এবং ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর মাসআলাসমূহের শিরোনাম দিয়েছেন।
এরপর তিনি পবিত্রতা অধ্যায়ের পর নামাজ অধ্যায়, তারপর জাকাত অধ্যায়—এভাবে পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করেছেন। তিনি এই শিরোনামের অধীনে নামাজ পাওয়া এবং কাজা আদায়ের বিধান সংক্রান্ত বিশেষ মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আজানের মাসআলা, কিবলার ক্ষেত্রে ইজতিহাদের মাসআলা, নামাজের মাসআলা, সতর ঢাকার মাসআলা, কসর (নামাজ সংক্ষেপ করা) সংক্রান্ত মাসআলা, ভিড়ের মধ্যে নামাজের মাসআলা, দুই ঈদের নামাজের মাসআলা, গ্রহণ (খুসুফ) সংক্রান্ত মাসআলা, জানাজার মাসআলা এবং নিকটাত্মীয়দের একত্রিত হওয়ার মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছেন।
মাসআলা উপস্থাপনে তার পদ্ধতি হলো এই যে, তিনি এমন দুটি মাসআলা উল্লেখ করেন যা বিধানে ভিন্ন কিন্তু বাহ্যিক আঙ্গিকে সদৃশ, তারপর তিনি তাদের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যকার পার্থক্য কখনও সমন্বয়মূলক হতে পারে, আবার কখনও পৃথকীকরণ বা বৈসাদৃশ্যমূলক হতে পারে। আবার কখনও এই পার্থক্য কুরআন বা সুন্নাহর বাহ্যিক দলীলের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। তিনি কখনও একের অধিক পার্থক্য উল্লেখ করেন যা কখনও তিনটি পর্যন্ত পৌঁছায়। পার্থক্য বর্ণনার পর কখনও কখনও তিনি একটি ফিকহি নীতি বের করেন। এটি লক্ষ্যণীয় যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কখনও কখনও মাসআলাটি একাধিক স্থানে পুনরাবৃত্তি করেন যখন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحاجة إلى إيجاد فرق بينها وبين مسألة أخرى. وقد يذكر مسألة من كتاب الصلاة في كتاب الطهارة وقد يعكس.
وكثيراً ما يذكر نصوص الشافعي ويبين الراوي لها فيقول مثلاً: روى الربيع أو روى المزني عن الشافعي، وقد لا يبين الراوي فبعد ما يذكر المسألة يقول والمسألة منصوصة وأحياناً ينص على أن هذا القول جديد وهذا قديم، ونجده كثيراً ما يناقش أقوال المزني ورواياته ويغلطه أحياناً.
أما من جهة الخلاف داخل المذهب فإنه غالباً يذكر الأوجه والطرق وأصحابها ثم يرجح ما يرى أنه الراجح، وأحياناً يقطع القول في المسألة مع أن المسألة فيها خلاف إشارة إلى أن هذا القول هو المختار عنده.
وقد يفترض المؤلف السؤال فيقول: فإن قيل كذا أو فإن قيل ما الفروق؟ فيجيب عليه وهذا الأسلوب فيه إثارة لاهتمام القارئ لما يأتي بعده وإشباع رغبته في السؤال.
وقد أبدع المؤلف ورحمه الله في هذا الكتاب بإيجاد الفرق وجمع الفرع فجمع من الفروق والفروع الدقيقة ما لا نجدها في غير هذا الكتاب وصدق حينما قال في تقديمه للكتاب، "ثم نعطف عليها الفروع على ترتيب مختصر المزني رحمه الله كتاباً بعد كتاب ونلتقط الأهم والأغمض على حسب ما يساعدنا عليه التوفيق".
"
مصطلحات الكتاب الفقهية":
استعمل أبو محمد الجويني في هذا الكتاب المصطلحات الفقهية الخاصة بالمذهب الشافعي كالقديم، والجديد، والنص، كما أنه لم يغفل المصطلحات الدالة على درجة الخلاف كالأصح، والأظهر، والصحيح، والأشبه وغير ذلك.
غير أن المؤلف رحمه الله لم يكن له اصطلاح خاص به كما هو الحال عند بعض المتأخرين، كالنووي - الذي له قصب السبق في هذا المجال كما ذكره الشربيني - وكالبيضاوي الذي شارك النووي في هذا السبق، فإن لكل واحد
অন্য একটি মাসআলার সাথে এর পার্থক্য নিরূপণের প্রয়োজনীয়তা। কখনো তিনি পবিত্রতা অধ্যায়ে সালাত অধ্যায়ের মাসআলা উল্লেখ করেন, আবার কখনো এর বিপরীত করেন।
তিনি প্রায়শই শাফিঈর বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেন এবং তার বর্ণনাকারীকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন: রাবী’ বর্ণনা করেছেন অথবা মুযানী শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। কখনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন না, বরং মাসআলাটি উল্লেখ করার পর বলেন মাসআলাটি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত, আর কখনো কখনো তিনি স্পষ্টভাবে বলে দেন যে এটি নতুন মত (জাদীদ) এবং এটি পুরাতন মত (কাদীম)। আমরা তাকে প্রায়ই মুযানীর মতামত ও বর্ণনাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে এবং কখনো তাকে ভুল সাব্যস্ত করতে দেখি।
মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতভেদের ক্ষেত্রে তিনি সাধারণত বিভিন্ন দিক (আওজুহ), ধারা (তুরুক) এবং সেগুলোর প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করেন, অতঃপর তার নিকট যা অগ্রগণ্য (রাজীহ) মনে হয় তাকে প্রাধান্য দেন। কখনো কখনো মাসআলাটিতে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই মতটিই তার নিকট মনোনীত (মুখতার)।
লেখক কখনো প্রশ্ন অনুমান করে বলেন: যদি এমনটি বলা হয় কিংবা যদি বলা হয় যে পার্থক্যগুলো কী কী? এরপর তিনি তার উত্তর দেন। এই পদ্ধতিটি পরবর্তী আলোচনার প্রতি পাঠকের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রশ্নের প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।
লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবে সূক্ষ্ম পার্থক্য নিরূপণ এবং উপ-শাখাগুলো (ফুরু) একত্রিত করার ক্ষেত্রে এক অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি এমন সব সূক্ষ্ম পার্থক্য ও উপ-শাখা একত্রিত করেছেন যা এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি কিতাবের ভূমিকায় যথার্থই বলেছেন: "অতঃপর আমরা মুখতাসারুল মুযানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিন্যাস অনুযায়ী একের পর এক অধ্যায় অনুসারে উপ-শাখাগুলোকে এর সাথে সংযুক্ত করব এবং তাওফীক অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলো সংগ্রহ করব।"
"
গ্রন্থের ফিকহী পরিভাষাসমূহ":
আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি এই গ্রন্থে শাফিঈ মাযহাবের বিশেষ পরিভাষাসমূহ যেমন: কাদীম, জাদীদ এবং নাস ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি তিনি মতভেদের স্তর নির্দেশক পরিভাষাসমূহ যেমন: আসাহ্, আযহার, সহীহ, আশবাহ ইত্যাদি উল্লেখ করতেও ভুল করেননি।
তবে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিজস্ব কোনো বিশেষ পরিভাষা ছিল না, যেমনটি পরবর্তীকালের কিছু আলিমের ক্ষেত্রে দেখা যায়—যেমন নববী, যিনি এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন (যেমনটি শিরবিনী উল্লেখ করেছেন)—এবং বাইযাভী, যিনি এই অগ্রযাত্রায় নববীর অংশীদার ছিলেন; কারণ প্রত্যেকেরই...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ ওয়াল ফারকু = আল-ফুরূক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منهما اصطلاحاً خاصاً به. فالنووي رحمه الله قد التزام بتخصيص الأصح أو الصحيح للوجه أو الوجوه، والأظهر للقول المختار من أقوال الشافعي.
وعلى العكس منه البيضاوي فإنه التزم بتخصيص الأصح للقول المختار والأظهر للوجه المرجح.
أما المؤلف رحمه الله فلم يخصص لفظاً معيناً للدلالة على الوجه أو القول، فنراه يطلق الأصح على الأوجه وعلى الأقوال، قال في صفحة (65): (وأما المتيمم إذا مسح بعض ساعده بالغبار الذي على كفه، ثم رفع هذا الكف على الساعد، ثم أعادة الكف إلى الساعد فمسح بقيته كان التيمم صحيحاً على أصح الوجهين). وقال في صفحة (468): (ونجاسة الخمر زائلة بعد المبالغة والاستقصاء في غسله وإن بقيت رائحته على أصح القولين في الخمر).
ففي المسألة الأولى أطلق الأصح على الأوجه وفي المسألة الثانية أطلق الأصح على قول الشافعي رحمه الله، ونجده في موضع آخر قد جمع بين الأظهر والأصح، فقال في صفحة (487): (مسألة وهي أن الرجل إذا تيمم للظهر وفرغ منها جاز له أن ينتقل على أثرها، وإذا دخل وقت العصر فأراد أن ينتقل بذلك التيمم جاز له أن يفعل .. وهذا الذي ذكرناه في التيمم أظهر المذهبين وأصحهما).
فأطلق الأصح والأظهر على الوجه. فهذه الأمثلة تدل على أن المؤلف رحمه الله لم يكن له اصطلاح معين في هذا الكتاب. ولما استعمل المؤلف رحمه الله هذه الألفاظ مع ما استعمله من المصطلحات الخاصة في الفقه الشافعي كان من الواجب أن أبي للمطلع المراد منها.
وإليك شرح أهم المصطلحات الفقهية الواردة في الكتاب.
1) الجديد والقديم: كان الشافعي رحمه الله ينشد الحق أينما كان لا يتعصب لقوله بل هدفه الوصول إلى الحق أينما وجد ولهذا صح عنه أنه قال: (إذا وجدتم
তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পরিভাষা রয়েছে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-আসাহ' (অধিক সঠিক) বা 'আস-সহীহ' (সঠিক) শব্দটিকে 'ওয়াজহ' (ইমামের অনুসারীদের অভিমত) বা 'উজূহ'-এর জন্য এবং 'আল-আযহার' (অধিকতর স্পষ্ট) শব্দটিকে ইমাম শাফেয়ীর অভিমতসমূহের মধ্য থেকে মনোনীত অভিমতের জন্য নির্দিষ্ট রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
অন্যদিকে বায়যাভী এর বিপরীতটি অনুসরণ করেছেন; তিনি মনোনীত অভিমতের জন্য 'আল-আসাহ' এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত 'ওয়াজহ'-এর জন্য 'আল-আযহার' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার নীতি গ্রহণ করেছেন।
তবে গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) 'ওয়াজহ' বা 'কাওল' (অভিমত) বোঝানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বরাদ্দ করেননি। আমরা তাকে 'আল-আসাহ' শব্দটি 'উজূহ' এবং 'আকওয়াল'—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে দেখি। তিনি ৬৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (আর যে ব্যক্তি তায়াম্মুমকারী, সে যদি তার হাতের তালুতে থাকা ধুলো দিয়ে বাহুর কিছু অংশ মাসেহ করে, তারপর সেই তালু বাহুর ওপর উঠিয়ে পুনরায় বাহুতে ফিরিয়ে আনে এবং অবশিষ্ট অংশ মাসেহ করে, তবে দুটি 'ওয়াজহ'-এর মধ্যে অধিক সঠিক মতানুসারে তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে)। তিনি ৪৬৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (মদের অপবিত্রতা ধৌত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের পর দূর হয়ে যায়, যদিও মদের ঘ্রাণ অবশিষ্ট থাকে—এটি মদের বিষয়ে দুটি অভিমতের মধ্যে অধিক সঠিক মত)।
সুতরাং প্রথম মাসআলায় তিনি 'আল-আসাহ' শব্দটি 'উজূহ'-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং দ্বিতীয় মাসআলায় 'আল-আসাহ' শব্দটি ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অভিমতের ওপর প্রয়োগ করেছেন। আবার অন্য এক স্থানে আমরা তাকে 'আল-আযহার' ও 'আল-আসাহ' শব্দ দুটিকে একত্রিত করতে দেখি। তিনি ৪৮৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (একটি মাসআলা হলো: যদি কোনো ব্যক্তি যোহরের জন্য তায়াম্মুম করে এবং তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য এর পরপরই স্থান ত্যাগ করা বৈধ। আর যখন আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করে এবং সে সেই তায়াম্মুম দ্বারাই সালাত আদায় করতে চায়, তবে তার জন্য তা করা বৈধ... তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দুই মতের মধ্যে অধিক স্পষ্ট এবং অধিক সঠিক)।
এভাবে তিনি 'ওয়াজহ'-এর ক্ষেত্রে 'আল-আসাহ' এবং 'আল-আযহার' উভয়টিই প্রয়োগ করেছেন। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে, গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই গ্রন্থে কোনো নির্দিষ্ট পরিভাষা ছিল না। গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) যখন শাফেয়ী ফিকহ-এর বিশেষ পরিভাষাগুলোর সাথে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, তখন পাঠকের কাছে এগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
নিচে গ্রন্থে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
১) আল-জাদীদ (নতুন) ও আল-কাদীম (পুরানো): ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) সত্য যেখানেই থাকুক না কেন তা অনুসন্ধান করতেন। তিনি নিজের মতের প্রতি গোঁড়ামি করতেন না, বরং যেখানেই সত্য পাওয়া যায় সেখানে পৌঁছানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এই কারণেই তাঁর থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (যখন তোমরা পাবে...