(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
تحرير علوم الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: تحرير علوم الحديث
المؤلف: عبد الله بن يوسف الجديع
الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 ذو الحجة 1431
হাদিস শাস্ত্রের বিশদ বিশ্লেষণ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: হাদিস শাস্ত্রের বিশদ বিশ্লেষণ
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুদী
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান লি-তিবাআতি ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওযী, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[تحرير علوم الحديث]ـ
المؤلف: عبد الله بن يوسف الجديع
الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[হাদীস শাস্ত্রের বিন্যাস ও সম্পাদনা]
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদী
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وأشْهد أن لا إله إلَاّ الله وحْده لا شريك له وليُّ الصَّالحين، وأشْهد أنَّ محمَّداً عبْده ورسوله النَّبيُّ الصَّادقُ الأمينُ، صلى الله عليه وعلى آله وصحْبه وسلَّم تسليماً كثيراً دائماً إلى يوم الدّين.
أما بعد. .
فإنَّ العلم بهذا الدّين يَقوم على معرفة كتاب الله وسنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، وقد تكفَّل اللهُ تبارك وتعالى للنّاس بحفظ ما تقوم عليهم به الحجَّةُ وتلْزمهُم الشَّرائع، كما قال: {إنّا نحن نزَّلنا الذّكر وإنّا له لحافظون} [الحجر: 9]، فسخَّر لهُ من عِِباده من كانوا أسباباً في حفظه وبَقائه.
وهذا الحفظ حقيقةٌ مُشاهدةٌ في حفظ الكتاب العزيز.
ولمّا نصّ الله عز وجل فيه على أنَّ معرفته لتقوم الحجُّة على العباد موقوفةٌ على بيان رسوله صلى الله عليه وسلم، كما قال: {وأنزلنا إليك الذكر لتُبيّن للنَّاس ما نزّل إليهم} [النّحل: 44]. ولأجله فرض الله طاعته صلى الله عليه وسلم في آيات كثيرة، لزم أن يكون حفظ بيانه ممَّا يندرج ضِمناً تحْت حفظه تعالى للذِّكر.
ومعرفة ما جاء به الرَّسول صلى الله عليه وسلم ممَّا هو بيانُ القرآن، لا طريق إليها إلاّ بمعرفة المنقول عنه، وبالضَّرورة علمنا أنَّ ذلك المنقول لم يَصلنا كَما وصلنا القرآنُ، وإنَّما هيَ الرِّوايةُ الَّتي يغْلب عليها نقْل الفَرْد، أو الأفراد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি নেককারদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সর্বদা অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর...
নিশ্চয়ই এই দ্বীনের জ্ঞান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর পরিচয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মানুষের জন্য সেই সকল বিষয় সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন যার মাধ্যমে তাদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শরীয়াতের বিধানসমূহ তাদের জন্য অপরিহার্য হয়। যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" [আল-হিজর: ৯]। ফলে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিবর্গকে নিয়োজিত করেছেন যারা এই দ্বীন সংরক্ষণ ও স্থায়িত্বের মাধ্যম হয়েছেন।
আর এই সংরক্ষণ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হিফাযতের ক্ষেত্রে এক দৃশ্যমান বাস্তবতা।
আর যেহেতু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট করেছেন যে, বান্দাদের ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কুরআন অনুধাবন করা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" [আন-নাহল: ৪৪]। আর একারণেই আল্লাহ অনেক আয়াতে তাঁর (রাসূলের) আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন। সুতরাং রাসূলের সেই ব্যাখ্যার সংরক্ষণ মহান আল্লাহর যিকর সংরক্ষণের যে প্রতিশ্রুতি তারই অন্তর্ভুক্ত হওয়া অপরিহার্য।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা জানার কোনো পথ নেই তাঁর থেকে বর্ণিত বিষয়সমূহ অবগত হওয়া ব্যতীত। আর আমরা আবশ্যিকভাবে জানি যে, সেই সকল বর্ণিত বিষয় আমাদের নিকট সেভাবে পৌঁছায়নি যেভাবে কুরআন পৌঁছেছে। বরং এটি এমন বর্ণনা বা রেওয়াত যার ওপর একক বা গুটিকয়েক ব্যক্তির বর্ণনার প্রাধান্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
القليلين عن أمثالهم، وما عاد إلى مثل ذلك، جاز عليه ما يجوز أن يقع من غير معْصوم، كالخطأ والوَهْم، بل والكذب.
لذا كان العمَل على تمييز الصَّحيح من السَّقيم فرْضاً على الأمّة، أن توجد من بينها من يُحقِّق لها الكفاية فيه، حيثُ لا سَبيل إلى معرفة بيان الرَّسول صلى الله عليه وسلم إلا بذلك.
ولا شكَّ أنّ السُّنَّة أساسٌ يقوم عليه نظر الفَقيه ويبْني عليه اجتهاده، كالقرآن العظيم، فإن لم بتيَّن له ما يصحُّ أنّه سنَّة مما لا يصحُّ، فعلى أي أساس سيقيم بنيانه؟
من أجل ذلك أدرك الأولون أنَّ تمييز الصحيح من السقيم ضرورة للفقيه، ومقدمة لابد منها، فحرروا وحققوا، واجتهدوا في نخل المنقول، ولم يزل يناظر بعضهم بعضاً ويرد بعضهم على بعض في شأن صحة نقل الدليل، ولم ينظروا إلى هذه المقدمة إلا كجزء من المقدمات الضرورية للاستدلال.
قال الإمام علي بن المديني: التَّفقه في معاني الحديث نصف العلم، ومعرفة الحديث نصف العلم "، أراد بمعرفة الحديث: تمييز صحيحه من سقيمه.
وعد معرفة ما يثبت من الحديث ممّا لا يثبت شرطاً في المجتهد والمفتي، ممّا لا ينبغي أن يُرتاب فيه، فإنّه إن لم يفهم ذلك صار ولا بدّ إلى أن يبني ويفرع على ما لا يثبت به دين من الرّوايات.
قال الإمام عبد الرحمن بن مهدي: " لا يجوز أن يكون الرجل إماماً، حتىّ يعلم ما يصح ممّا لا يصح، وحتى لا يحتج بكل شيء، وحتى يعْلم مخارج العلم ".
যারা তাদের সমকক্ষদের থেকে অল্প বর্ণনা করে এবং যারা পুনরায় এই ধরণের কাজে লিপ্ত হয়, তবে একজন মাসুম বা নিষ্পাপ নয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যা ঘটা সম্ভব, তাদের ক্ষেত্রেও তা ঘটা জায়েয বা স্বাভাবিক; যেমন ভুল, বিভ্রম, এমনকি মিথ্যাও।
তাই সহীহ (শুদ্ধ) ও সাকীম (অশুদ্ধ) এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য কাজ করা উম্মাহর ওপর একটি ফরয দায়িত্ব, যাতে তাদের মধ্যে এমন একদল লোক বিদ্যমান থাকে যারা এই ক্ষেত্রে ফরজে কিফায়া পূর্ণ করবে। কেননা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর ব্যাখ্যা জানার আর কোনো পথ নেই এটি ব্যতীত।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহ হলো এমন এক ভিত্তি যার ওপর একজন ফকীহর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার ওপরই তিনি স্বীয় ইজতিহাদ গড়ে তোলেন, যেমনটি মহান কুরআন। সুতরাং যা সুন্নাহ হিসেবে সহীহ আর যা সহীহ নয়, তা যদি তার কাছে স্পষ্ট না হয়, তবে কিসের ভিত্তিতে তিনি তার ইমারত গড়ে তুলবেন?
এই কারণেই পূর্বসূরিগণ উপলব্ধি করেছিলেন যে, সহীহ ও সাকীমের পার্থক্য করা একজন ফকীহর জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় এবং একটি অনিবার্য ভূমিকা। ফলে তারা বিষয়টিকে সুসংহত ও যাচাই করেছেন এবং বর্ণিত বিষয়সমূহ বাছাই করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দলীল বর্ণনার বিশুদ্ধতার প্রশ্নে তারা একে অপরের সাথে নিরন্তর বিতর্ক ও খণ্ডন করে গেছেন। তারা এই ভূমিকাকে ইস্তিদলাল বা দলীল উপস্থাপনের অন্যতম প্রয়োজনীয় ভূমিকা হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।
ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: "হাদীসের অর্থের গভীর জ্ঞান হলো অর্ধেক ইলম, আর হাদীসের পরিচয় লাভ করা হলো বাকি অর্ধেক ইলম।" হাদীসের পরিচয় বলতে তিনি সহীহ ও সাকীমের মধ্যে পার্থক্য করাকেই বুঝিয়েছেন।
আর হাদীসের মধ্যে কোনটি প্রমাণিত আর কোনটি প্রমাণিত নয়—তা জানাকে মুজতাহিদ এবং মুফতির জন্য একটি শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করা উচিত নয়। কারণ, তিনি যদি এটি না বোঝেন, তবে অনিবার্যভাবে তিনি এমন সব বর্ণনার ওপর ভিত্তি ও শাখা-প্রশাখা নির্মাণ করবেন যা দ্বারা দ্বীন প্রমাণিত হয় না।
ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ইমাম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে সহীহ ও গায়রে সহীহ সম্পর্কে অবগত হয়, এবং যতক্ষণ না সে প্রতিটি বস্তু দিয়ে দলীল পেশ করা বর্জন করে, এবং যতক্ষণ না সে ইলমের উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا يبيّنه الحافظ أبو حاتم بنُ حبّان بقوله: " من لم يحفظ سُنن النّبيّ صلى الله عليه وسلم، ولم يحسن تمييز صحيحها من سقيمها، ولا عرف الثّقات من المحدثين، ولا الضعفاء والمتروكين، ومن يجب قبول أفراد خبره ممن لا يجب قبول زيادة الألفاظ في روايته، ولم يُحسن معاني الأخبار، والجمع بين تضادّها في الظواهر، ولا عرف المفسّر من المجمل، ولا المختصر من المفصّل، ولا النّاسخ من المنسوخ، ولا اللّفظ الخاصّ الذي يراد به العامّ، ولا اللّفظ العامّ الّذي يراد به الخاصّ، ولا الأمر الّذي هو فريضة وإيجاب، ولا الأمر الّذي هو فضيلةٌ وإرشاد، ولا النّهي الّذي هو حتْمٌ لا يجوز ارتكابه، من النّهي الذي هو ندب ٌ يباح استعماله، مع سائر فصول السّنن وأنواع أسباب الأخبار: كيف يستحلّ أن يفتي، أو كيف يسوِّغُ لنفسه تحريم الحلال، أو تحليل الحرام، تقليداً منه لمن يخطئ ويُصيب؟ ".
قلت: وفي هذا منع لطائفتين من النّاس أن تتكلّم في الحلال والحرام ابتداءً:
الأولى: من لهُم بالحديث عناية وتخصّص، في تمييز صحيحه من سقيمه، الموجب للمعرفة برواته من تمييز المقبول والمردود، لكن ليس لهم حظٌ من علوم أصول الفقه، ولا مراس لفروعه، فهؤلاء لا يقدر أحدهم أن يستنبط ويجتهد؛ لفقْده آلةَ النَّظر في الأحكام.
فلتتّق الله طائفة تسلّقت جدار الفقه، حيث لم تأته من بابه، ولا أعطيت الإذْن من بوّابه، فحظُّ مثل هؤلاء فقء العين حتّى لا تنظر إلى ما لا يباح، وفي أهل زماننا من هؤلاء خلق، عافى الله العلم منهم.
والثانية: من لهم اشتغال بالفقه، ومعرفةٌ بطرقه وأصوله، وفهم لدلالات النّصوص ومعانيها، ولكنّهم لا يميّزون بين رواية مقبولة ومردودة،
হাফিজ আবু হাতেম ইবনে হিব্বান তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহ মুখস্থ করেনি, হাদিসের বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখেনি, মুহাদ্দিসগণের মধ্যে নির্ভরযোগ্যদের এবং দুর্বল ও পরিত্যক্তদের চেনে না, এবং কার একক বর্ণনা গ্রহণ করা আবশ্যক আর কার বর্ণনায় অতিরিক্ত শব্দ গ্রহণ করা আবশ্যক নয় তা জানে না, আর যে হাদিসের অর্থসমূহ এবং সেগুলোর বাহ্যিক বৈপরীত্যের মধ্যে সমন্বয় করতে পারদর্শী নয়, আর যে মুফাসসার (সুস্পষ্ট) ও মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুখতাসার (সংক্ষিপ্ত) ও মুফাসসাল (বিস্তারিত), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), এবং এমন বিশেষ শব্দ যার দ্বারা সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, আর এমন সাধারণ শব্দ যার দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে—এসব চেনে না, আর যে আদেশটি ফরজ ও আবশ্যিক এবং যে আদেশটি ফযিলত ও নির্দেশনামূলক, আর যে নিষেধটি অকাট্য এবং যা লঙ্গন করা বৈধ নয় এবং যে নিষেধটি অপছন্দনীয় কিন্তু যা করা বৈধ—এসবের পার্থক্য এবং সুন্নাহর অন্যান্য অধ্যায় ও হাদিসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত নয়: সে কীভাবে ফতোয়া দেওয়াকে বৈধ মনে করে? অথবা ভুল ও সঠিক উভয়েরই সম্ভাবনা রাখে এমন কারোর অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) করে কীভাবে নিজের জন্য হালালকে হারাম করা বা হারামকে হালাল করা বৈধ মনে করে?"।
আমি বলি: এতে দুই শ্রেণির মানুষের জন্য মৌলিকভাবে হালাল ও হারামের বিষয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে:
প্রথম শ্রেণি: যাদের হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্ন ও বিশেষজ্ঞতা রয়েছে—হাদিসের বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধ নিরূপণে এবং রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) পরিচয়ের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বর্ণনার পার্থক্যে; কিন্তু উসূলে ফিকহ বা এর শাখা-প্রশাখা চর্চায় তাদের কোনো অংশ নেই। ফলে বিধানসমূহ পর্যালোচনার যোগ্যতার অভাবে তাদের কেউ মাসআলা উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) ও গবেষণা (ইজতিহাদ) করতে সক্ষম নয়।
অতএব, ওই গোষ্ঠীর আল্লাহকে ভয় করা উচিত যারা ফিকহের প্রাচীর বেয়ে উপরে উঠেছে, অথচ তারা এর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেনি এবং এর দ্বাররক্ষীদের পক্ষ থেকে অনুমতিও পায়নি। এদের প্রাপ্য তো চোখ উপড়ে ফেলা যাতে তারা নিষিদ্ধ জিনিসের দিকে তাকাতে না পারে। আমাদের যুগের মানুষের মধ্যে এমন বহু লোক রয়েছে, আল্লাহ ইলমকে তাদের থেকে রক্ষা করুন।
দ্বিতীয় শ্রেণি: যাদের ফিকহ চর্চা রয়েছে এবং এর পদ্ধতি ও মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান আছে, এবং যারা দলিলের বাচনিক ইঙ্গিত ও অর্থসমূহ বোঝেন; কিন্তু তারা গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
فترى أحدهم يبني الأحكام على ضعيف الأخبار، بل على ما لا أصل له وباطل من الرّوايات؛ لأنّه لا يدري الصّحيح من السّقيم، فهذا حين يفرض على النّاس شيئاً أو يحرّم عليهم، وكان قد بنى على رواية لا تصحُّ، فقد نسب إلى الدّين ما ليس منه، وأورد الحرج على المكلّفين فيما أتاهم به من حُكم بناه على غير أساس، فكم يحمل على كاهله من حرج؟! بل مثل هذا لا يُدرى ممن علمِه في التّحقيق ما بُني على دليل صحيح وما بُني على غيره، وهو نفسه لا يعرف ذلك.
قال علي بن الحسن بن شقيق المرْوزيّ (وكان ثقة): سمعت عبد الله (يعني ابن المبارك) يقول: " إذا ابْتليتَ بالقضاء، فعليك بالأثر "، قال عليّ: فذكرته لأبي حمزة محمد بن ميمون السّكريّ، فقال: " هل تدري ما الأثر؟ أن أحدّثك بالشّيء فتعمل به، فيقال لك يوم القيامة: من أمرك بهذا؟ فتقول: أبو حمْزة، فيُجاء بي، فيقال: إنّ هذا يزعم أنّك أمرته بكذا وكذا، فإن قلت: نعم، خلّي عنك، ويقال لي: من أين قلت هذا؟ فأقول: قال لي الأعمش، فيُسأل الأعمش، فإذا قال: نعم، خلّي عنّي، ويقال للأعمش: من أين قلت؟ فيقول: قال لي إبراهيم، فيُسأل إبراهيم، فإن قال: نعم، خلّي عن الأعمش، وأخذ إبراهيم، فيقال له: من أين قلت؟ فيقول: قال لي علقمة، فيُسأل علقمة، فإذا قال: نعم، خلّي عن إبراهيم، ويقال له: من أين قلت: فيقول: قال لي عبد الله بن مسعود، فيُسأل عبد الله، فإن قال: نعم، خلّي عن علقمة، ويقال لابن مسعود: من أين قلت؟ قال: فيقول: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيُسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن قال: نعم، خلّي عن ابن مسعود، فيُقال للنبيّ صلى الله عليه وسلم، فيقول: قال لي جبريل، حتى ينتهي إلى الرّبّ تبارك وتعالى، فهذا الأثر، فالأمر جدٌ غير هزل؛ إذْ كان يشفي على جنّة أو نار، ليس بينهما هناك
আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যে তিনি দুর্বল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রদান করেন, বরং ভিত্তিহীন ও বাতিল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেন; কারণ তিনি সহিহ ও দুর্বল বর্ণনার পার্থক্য বোঝেন না। ফলে তিনি যখন মানুষের ওপর কোনো কিছু আবশ্যক করেন বা কোনো কিছু হারাম করেন, অথচ তা এমন এক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যা বিশুদ্ধ নয়, তখন তিনি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করলেন যা দ্বীনের অংশ নয়। পাশাপাশি তিনি ভিত্তিহীন বিধান প্রদানের মাধ্যমে মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর বিধান প্রযোজ্য) ওপর বোঝা চাপিয়ে দিলেন। ফলে তিনি তার কাঁধে কত বড় বোঝা বহন করছেন?! এমনকি এ ধরনের ব্যক্তির ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমেও এটি জানা সম্ভব নয় যে, কোনটি সহিহ দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর কোনটি নয়; স্বয়ং তিনিও তা জানেন না।
আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক আল-মারওয়াযী (যিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী ছিলেন) বলেন: আমি আবদুল্লাহকে (অর্থাৎ ইবনুল মুবারক) বলতে শুনেছি: "যদি তুমি বিচারকার্যের (কাজী হওয়ার) পরীক্ষায় পতিত হও, তবে তোমার ওপর আবশ্যক হলো আছারের (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) অনুসরণ করা।" আলী বলেন: আমি এটি আবু হামযাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাইমুন আস-সুক্কারীর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: "তুমি কি জানো আছার কী? আছার হলো আমি তোমাকে কোনো বিষয়ে বর্ণনা করলাম এবং তুমি সে অনুযায়ী আমল করলে। এরপর কিয়ামতের দিন তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: 'তোমাকে এই আদেশ কে দিয়েছে?' তুমি বলবে: 'আবু হামযাহ'। তখন আমাকে আনা হবে এবং বলা হবে: 'এই ব্যক্তি দাবি করছে যে আপনি তাকে অমুক অমুক আদেশ দিয়েছেন'। আমি যদি বলি: 'হ্যাঁ', তবে তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং আমাকে বলা হবে: 'তুমি এটি কোথা থেকে বললে?' আমি বলব: 'আমাকে আ’মাশ বলেছেন'। তখন আ’মাশকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং আ’মাশকে বলা হবে: 'আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?' তিনি বলবেন: 'আমাকে ইবরাহিম বলেছেন'। তখন ইবরাহিমকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে আ’মাশকে ছেড়ে দিয়ে ইবরাহিমকে ধরা হবে। তাকে বলা হবে: 'আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?' তিনি বলবেন: 'আমাকে আলকামা বলেছেন'। তখন আলকামাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে ইবরাহিমকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং আলকামাকে বলা হবে: 'আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?' তিনি বলবেন: 'আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন'। তখন আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে আলকামাকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং ইবনে মাসউদকে বলা হবে: 'আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?' তিনি বলবেন: 'আমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে ইবনে মাসউদকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি বলবেন: 'আমাকে জিবরাঈল বলেছেন', যতক্ষণ না তা রব তাবারাকা ওয়া তাআলা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। এটাই হলো আছার। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কোনো তামাশা নয়; কেননা এটি জান্নাত অথবা জাহান্নামের কিনারে পৌঁছে দেয়, সেখানে এই দুটির মাঝে আর কিছু নেই।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
منزلٌ، وليعْلم أحدكم أنّه مسؤولٌ عن دينه وعن أخذه حلّه وحرامه ".
نعم، لا حرج أن تستعين الطَّائفتين ببعضهما، فـ"ربَّ حامل فقه غير فقيه، وربَّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه "، لكن أن يستقلَّ كلٌّ بنفسه فيأخذ بالنَّصيبيْن وهو لا يفهم اختصاص الآخر، فهذا من الجِناية على العلم.
والكامل من وفقه الله ليضْرب بنصيب هؤلاء وأولئك، وهو الواجب فيمن يكون للنَّاس إماماً.
وعلوم الحديث علوم آلة تستعمل للكشف عن السُّنن الصَّحيحة المرويَّة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من بين نقْل كثير اختلط فيه الغثُّ بالسَّمين، وألَّف فيه من المؤلفات ما يعْسُرُ عدُّه.
وهذه العلوم بدأت في أول أمرها علوماً تطبيقيّة غير مؤصّلة تأصيلاً نظرياً من أجل تقريبها وفهْمها، وتيسير استعمالها، بل دفعت ضرورة تمييز السُّنن الصّحيحة من غير أئمة الأمة في الصدر الأول إلى الاجتهاد بما هدتْ إليه العقول من أجل التحقق من صحة النقل، حتى نما ذلك مع نموِّ الأسانيد وكثرتها، إذ كلَّما بعُد الزمان عن زمن التّلقيّ وهو عهد النُّبوة، فإن الأسانيد تطول، وطولها موجبٌ الزِّيادة في التحري، فصار هذا العلم إلى التَّقنين؛ تلبيةً لما أوْجبته الحاجةُ، على ما سيأتي بيانه في موضعه.
وجرى النّاس من بعْدُ على صياغة قواعد هذه العلوم كما صنعوا في التأصيل لسائر علوم الآلات، كالعربيّة، وأصول الفقه، واستمرّ عند المحقّقين في هذا العلم التَّحرير والتَّقريب والتَّيسير، إلى زماننا، وأكثر العناية فيه كانت في مُصطلحاته، حتى غلب على هذه العلوم تسمية (مصطلح الحديث).
একটি অবস্থান; আর তোমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত যে, সে তার দ্বীন সম্পর্কে এবং তার হালাল ও হারাম গ্রহণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
হ্যাঁ, দুই দলের একে অপরের থেকে সাহায্য নিতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, "অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ নন এবং অনেক ফিকহ বহনকারী তা এমন একজনের কাছে পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক ফকীহ।" কিন্তু প্রত্যেকের নিজ থেকে স্বতন্ত্র হয়ে যাওয়া এবং অন্যের বিশেষত্ব না বুঝে উভয় অংশ গ্রহণ করা—এটি ইলমের ওপর একটি অপরাধ।
আর সেই ব্যক্তিই পূর্ণাঙ্গ যাকে আল্লাহ এই ও ঐ (উভয়) দলের অংশ থেকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দিয়েছেন। আর যিনি মানুষের জন্য ইমাম হবেন, তার জন্য এটিই আবশ্যক।
আর হাদীস শাস্ত্রসমূহ হলো এমন সহায়ক জ্ঞান যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ সুন্নাহসমূহকে এমন বিপুল বর্ণনার মধ্য থেকে উদ্ঘাটন করতে ব্যবহৃত হয় যেখানে অসার ও সারবস্তু একত্রে মিশে গেছে। আর এ বিষয়ে এত অধিক গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা গণনা করা দুঃসাধ্য।
এই শাস্ত্রসমূহ সূচনালগ্নে ছিল প্রায়োগিক বিদ্যা, যা কেবল সহজবোধ্য করা ও ব্যবহারের সুবিধার্থে কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং উম্মতের প্রথম যুগের ইমামগণকে বিশুদ্ধ সুন্নাহসমূহকে অন্যদের থেকে পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা এবং বর্ণনার সত্যতা যাচাই করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ইজতিহাদের দিকে ধাবিত করেছিল। এরপর সনদ বা বর্ণনাসূত্রের বিস্তৃতি ও সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এটিও বিকশিত হতে থাকে। কারণ, জ্ঞান গ্রহণের সময় অর্থাৎ নবুওয়াতের যুগ থেকে সময় যত অতিবাহিত হয়েছে, সনদ ততই দীর্ঘ হয়েছে; আর দীর্ঘ সনদ অধিকতর অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে এই ইলমটি বিধিবদ্ধ রূপ ধারণ করেছে, যার বিস্তারিত বিবরণ যথাস্থানে আসবে।
পরবর্তীকালে মানুষ এই শাস্ত্রসমূহের মূলনীতিগুলো সেভাবেই বিন্যস্ত করতে শুরু করে যেভাবে তারা অন্যান্য সহায়ক বিদ্যা যেমন—আরবি ভাষা ও উসুলুল ফিকহের মূলনীতি প্রণয়ন করেছিল। এই শাস্ত্রের গবেষকগণের নিকট এর সংস্কার, নিকটবর্তীকরণ ও সহজীকরণের ধারা আমাদের সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এর পরিভাষাগুলোর ওপর, এমনকি এই শাস্ত্রসমূহের ওপর ‘মুসতালাহুল হাদীস’ (হাদীসের পরিভাষা) নামটিই প্রাধান্য লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
وصار لها في الزَّمن المتأخر عند المعْتني بها، ما صارَ لسائر علوم الآلة، كأصول الفقه، أن تدرس كعلوم نظريّة، لا تستعمل في الواقع، إلى أن تجرَّأ طائفة من الطّلبة في هذا الزَّمان فصاروا إلى استعمال تلك المصطلحات للحُكم على الأسانيد المرويَّة، اكتفوا بمصطلحات ظاهرة قصدت عند صياغتها أن يحفظها الصِّبيان في الكُتَّاب، حسِب هؤلاء أنَّ هذا هو منتهى الطَّلب لهذا العلم، إلَاّ نفراً يسيراً أدركوا وعورة الطريق، فسلكوه متأنِّين حذرين، مجتهدين في اتّباع علامته.
وقد رأيت تلك العلامات تحتاج إلى ترميم، ومنها ما يحتاج إلى إعادة بناء، فكما قصدت إلى تقريب (أصول الفقه) الّتي هي علامات المرور في طريق الفقه، فكتبت " تيسير علم أصول الفقه "، وقرّبت ما ينبغي العلم به مُحرّراً للإقبال على كتاب الله عز وجل، فكتبت " المقدمات الأساسيّة في علوم القرآن "، فكذلك وجب إتمام القصْد في علوم الآلة أن آتي على علوم الحديث، فأحرِّرها، لا اكتفاء بتقريب مصطلحاتها، بل بصياغتها بأتمِّ صيغة ممْكنة، مؤصّلة من منْهج أهلها.
وهذا عِلْمٌ لي منذ تلقيته ما يزيد اليوم على ربع قرْن من الزّمان، وأنا أعالجه وأعانيه، وكنت أجد إلحاحاً من داخلي بضرورة أن أصوغه مستوْعب الأبواب وبأسلوب عصْرانيِّ العرْض تيسيراً على الطُّلاب، دون إخلال بشيْء من مراد أهله، مع ما انضمّ إلى ذلك من سؤال من كثير من طلبة هذا العلم الحريصين على تحقيق مسائله وتحريرها، حتى صارت زبْدةُ الأفكار والمقيَّد من المسائل والآثار، إلى هذا الكتاب الذّي بين يديك.
طريقة المتقدّمين، وطريقة المتأخّرين:
شاع بين كثير من طلبة هذا العلم في هذا الزّمان نِزاعٌ بين ما سمّوه (طريقة المتقدّمين) و (طريقة المتأخّرين) في علوم الحديث.
وتحرير محلِّ النّزاع: أن أصحاب التَّفريق رأوا علماء الحديث
পরবর্তী যুগে এই শাস্ত্রের চর্চাকারীদের কাছে এর অবস্থা অন্যান্য সহায়ক শাস্ত্রের (উলুমুল আলা) মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন উসুলুল ফিকহ; যা কেবল তাত্ত্বিক বিদ্যা হিসেবে পঠিত হয়, বাস্তবে যার প্রয়োগ নেই। এমনকি বর্তমান সময়ের একদল ছাত্র বর্ণিত সনদসমূহের ওপর হুকুম লাগাতে এই পরিভাষাগুলো ব্যবহারের দুঃসাহস দেখিয়েছে। তারা কেবল এমন কিছু বাহ্যিক পরিভাষার ওপর নির্ভর করেছে, যা প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল মক্তবের শিশুদের মুখস্থ করানো। তারা মনে করেছে এটাই এই শাস্ত্রের জ্ঞানার্জনের শেষ সীমা। তবে গুটিকয়েক লোক এই পথের বন্ধুরতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন; তাই তারা অত্যন্ত ধীরস্থির ও সতর্কতার সাথে এই পথে চলেছেন এবং এর চিহ্নগুলো অনুসরণে সচেষ্ট হয়েছেন।
আমি দেখেছি যে, সেই চিহ্নগুলোর সংস্কার প্রয়োজন এবং কোনো কোনোটির পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। ফিকহের পথের পথনির্দেশক স্বরূপ 'উসুলুল ফিকহ'-কে সহজবোধ্য করার যে সংকল্প আমি করেছিলাম—যার ফলে আমি 'তয়সিরু ইলমি উসুলিল ফিকহ' লিখেছি—এবং মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি নিবিষ্ট হওয়ার জন্য যা জানা আবশ্যক তা পরিমার্জিতভাবে উপস্থাপন করে 'আল-মুকাদ্দামাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলুমিল কুরআন' লিখেছি; ঠিক তেমনি সহায়ক শাস্ত্রসমূহ পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে হাদীস শাস্ত্রের ওপর কাজ করা এবং একে পরিমার্জিত করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। কেবল এর পরিভাষাগুলোকে সহজবোধ্য করার মাধ্যমেই নয়, বরং এর মূল ধারার বিশেষজ্ঞদের পদ্ধতির আলোকে একে সম্ভাব্য নিখুঁত অবয়বে সংকলিত করার মাধ্যমে।
এটি এমন এক বিদ্যা যা আজ পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমি লাভ করেছি। এরপর থেকে আমি এটি নিয়ে নাড়াচাড়া ও সাধনা করছি। আমি অন্তরে একটি তাগিদ অনুভব করছিলাম যে, একে এমনভাবে সংকলন করা প্রয়োজন যা সকল অধ্যায়কে ধারণ করবে এবং ছাত্রদের সুবিধার্থে যার উপস্থাপনা হবে আধুনিক শৈলীর; কিন্তু এর মূল প্রবক্তাদের উদ্দেশ্যের কোনো বিচ্যুতি না ঘটিয়ে। এর পাশাপাশি এই শাস্ত্রের অনেক শিক্ষার্থীর অনুরোধও ছিল, যারা এর মাসআলাগুলো যাচাই ও পরিমার্জন করতে আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনার নির্যাস এবং সংকলিত মাসআলা ও আছারসমূহ আপনার হাতের এই কিতাবটির রূপ পরিগ্রহ করেছে।
মুতাকাদ্দিমীনদের পদ্ধতি ও মুতাআখখিরীনদের পদ্ধতি:
বর্তমান সময়ে এই শাস্ত্রের অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে একটি বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যাকে তারা হাদীস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে 'মুতাকাদ্দিমীনদের পদ্ধতি' এবং 'মুতাআখখিরীনদের পদ্ধতি' বলে অভিহিত করেছেন।
বিরোধের মূল বিন্দুর বিশ্লেষণ হলো: যারা এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্যের প্রবক্তা তারা মনে করেন হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
المتأخرين صاروا إلى الحكم على الأحاديث على ما تقتضيه ظواهر الأسانيد، والتَّقليد لعبارات بعض متأخري العلماء في الحُكم على الرُّواة، دون مُراجعة لكلام أئمة الجرح والتَّعديل، إذ كثيراً ما يختلفون في الرّاوي، كذلك دون اعتبار للعلل الخفيّة في الرّوايات.
وأيضاً، رأوا للمتأخرين تساهلاً في إطلاق المصْطلحات، والتَّوسُع في قبول الحديث المعلول، بيْنما كان الأوّلون يردُّون مثل تلك الأحاديث.
ومن تساهلهم: تهوين العبارة في الرّواة، كإطلاق وصف (ضعيفٌ)، أو (فيه ضعفٌ) على الرّاوي الواهي السّاقط، مما يُسهِّل أمره، ويجعل حديثه مقبولاً ولو اعتباراً، من أجل خفّة هذا اللّفظ المتأخر في الجرح.
وكذلك يقولون في الحديث: (ضعيفٌ)، وهو في الواقع (موضوعٌ) مثلاً.
وأقول: لا ريْب في صحّة هذا المأخذ، لكن إطلاقه ليس بمحمود، فإنَّ لمتأخّري العلماء تحريراتٍ نافعةً في هذا العلم، كالحُفّاظ: أبي بكر البيهقيّ، والخطيب البغداديّ، وابن عبد البرّ الأنْدلسيّ، فأبي الحجاج المزّيّ، فالذّهبيّ، وابن كثير الدّمشقي، وابن قيّم الجوزيّة، وابن رجب الحنبليّ، فأبي الفضْل العراقيّ، فابن حجر العسقلانيّ، وغيرهم.
وإن كان التّساهل المشارُ إليه يقع من غيرهم، وربّما من بعضهم تارةً، فإنّه لا يصلح أن يقام النِّزاع المورثُ إعراضاً عند بعض النّاس عن تحريرات مثل هؤلاء الأعلام.
وهذا العلم في تحرير من تقدَّم جميعاً مرْجعه إلى طريقة المتقدّمين، فلا غنى لهم عن منهاج أهله، كمالك بن أنس، وشُعبة بن الحجَّاج، وسفيان الثّوريّ، ويحيى بن سعيد القطّان، وعبد الرّحمن بن مهديّ، وأحمد بن حنبل، وعليّ بن المدينيّ، ويحيى بن معين، والبُخاريّ، ومسلم بن الحجّاج، وأبي زُرعة الرّازيّ، وأبي حاتم الرازيّ، وأبي داود السّجستانيّ، والتّرمذي، والنّسائي، وإخوانهم من متقدّمي أئمة هذا الشّأن.
পরবর্তী যুগের আলেমগণ সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের রীতি গ্রহণ করেছেন এবং রাবি বা বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জারহ ও তাদিলের ইমামদের বক্তব্য পর্যালোচনা না করেই পরবর্তী যুগের কিছু আলেমের ব্যবহৃত পরিভাষার অন্ধ অনুসরণ করেছেন; অথচ ইমামগণ প্রায়শই বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে থাকেন। তদ্রূপ তারা বর্ণনার সুক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের (ইল্লাত) কোনো তোয়াক্কা করেন না।
তদুপরি, তারা লক্ষ্য করেছেন যে, পরবর্তী যুগের আলেমগণ পরিভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং ত্রুটিযুক্ত হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন, যেখানে পূর্ববর্তী আলেমগণ এই ধরণের হাদিস প্রত্যাখ্যান করতেন।
তাদের শিথিলতার অন্যতম উদাহরণ হলো: বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে নমনীয় শব্দ ব্যবহার করা, যেমন অত্যন্ত দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে 'দুর্বল' বা 'তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে' এমন শব্দ প্রয়োগ করা। এর ফলে তার বিষয়টি সহজ হয়ে যায় এবং জারহ-এর ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের এই নমনীয় পরিভাষার কারণে তার হাদিসটি অন্তত সমর্থক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে।
অনুরূপভাবে তারা কোনো হাদিসকে 'দুর্বল' বলেন, অথচ বাস্তবে সেটি হয়তো 'জাল'।
আমি বলি: এই আপত্তির যথার্থতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে ঢালাওভাবে একে সবার ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। কেননা পরবর্তী যুগের আলেমদেরও এই শাস্ত্রে অনেক মূল্যবান ও সূক্ষ্ম গবেষণা রয়েছে; যেমন হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকি, খতিব আল-বাগদাদি, ইবনে আবদিল বার আল-আন্দালুসি, আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযি, যাহাবি, ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি, ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ, ইবনে রজব আল-হানবালি, আবুল ফজল আল-ইরাকি, ইবনে হাজার আল-আসকালানি এবং অন্যান্যগণ।
যদিও উল্লেখিত শিথিলতা অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এবং হয়তো মাঝে মাঝে তাদের কারও কারও থেকেও প্রকাশ পায়, তবুও এমন কোনো বিবাদ উসকে দেওয়া উচিত নয় যা মানুষকে এই সকল মহান ইমামদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তসমূহ থেকে বিমুখ করে দেয়।
আর যারা এই শাস্ত্রে সংস্কার করেছেন তাদের সকলেরই মূল ভিত্তি হলো পূর্ববর্তী ইমামদের অনুসৃত পদ্ধতি। তাই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ইমামদের পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই; যেমন মালিক বিন আনাস, শু'বা বিন হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান বিন মাহদি, আহমাদ বিন হাম্বল, আলি বিন আল-মাদিনি, ইয়াহইয়া বিন মায়িন, বুখারি, মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আবু জুরআ আল-রাযি, আবু হাতেম আল-রাযি, আবু দাউদ আল-সিজিস্তানি, তিরমিযি, নাসায়ি এবং এই শাস্ত্রের পূর্ববর্তী অন্যান্য ইমামগণ।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما منهاجي في هذا الكتاب، فقد بنيتُ فيه تحرير أصول هذا العلم على طريق السّلف المتقدمين، واستفدت من تحريرات المتأخرين، وعدلْتُ عن ابتكاراتهم في هذا الفنّ؛ لأنهم جروا على التَّنظير في أكثر ما انفردوا به، خصوصاً أهل الأصول منهم، وهذا العلم مستنده إلى النّقل، وإلى التَّبصُّر في منهج أهله.
فبوْنٌ كبيرٌ مثلاً بين كلام أهل الفنّ في تحرير معنى العدالة والجهالة ومراعاتهم لواقع النّقلة، وبين ما ضمّنه متأخرو الأصوليّين كتبهم في تفسير ذلك، والّذي تأثروا فيه بمعناها عند القضاة وداخلوا بين هذا الباب وذاك، ولم يضربوا له من الأمثال من أحوال النّقلة ما يكشف حقيقته.
واجتهدت وُسْعي في ضرب الأمثال من واقع الحال لا من نسْج الخيال، تقريباً لمسائل هذا العلم.
واستبعدت من مباحث هذا الكتاب من الأبواب: غريب الحديث، وفقه الحديث، ومشكل الحديث، والنّسخ في الحديث.
إذ ما كان منها يرجع إلى تأصيل، فتأصيله فيما حرَّرْته في (أصول الفقه) من القواعد، ومنها ما حرّرْته أيضاً في (علوم القرآن) كالنّسخ، لاشتراك السُّنن فيه مع القرآن.
ومنها ما هو تعريفي محضٌ، كغريب الحديث، إذ المراد به غريب الألفاظ، فهذا له كتُبُه الخاصّة، وليس علماً تأصيلياً.
كما ألغيْتُ ذكر بعض المسائل جرت كتب مصطلح الحديث على ذكرها في وقْت لم تزل فيه الرّواية والإسناد، واليوم قد استغنى النّاس عن التّقنين لها، إذ لم تعدْ تستعمل.
مثل مسألة: (من ينسخ وقْت القراءة والعرْض على الشيخ)، فهذه لا تكادُ ترى لها تأثيراً في الواقع التّطبيقيّ.
এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি হলো, আমি এর মাধ্যমে এই শাস্ত্রের মূলনীতি নির্ধারণের ভিত্তি পূর্ববর্তী সালফে সালেহীনদের পদ্ধতির ওপর রেখেছি এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ থেকেও উপকৃত হয়েছি। তবে এই শাস্ত্রে তাদের করা উদ্ভাবনগুলো থেকে আমি দূরে থেকেছি; কারণ তারা তাদের স্বতন্ত্র মতগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিছক তাত্ত্বিক আলোচনার ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে তাদের মধ্যকার উসূলবিদগণ। অথচ এই শাস্ত্রের ভিত্তি হলো বর্ণনা এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের কর্মপদ্ধতির গভীর পর্যালোচনার ওপর।
উদাহরণস্বরূপ, ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ও অজ্ঞতা (জাহালাত)-এর অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এবং বর্ণনাকারীদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের পারদর্শীগণের বক্তব্যের সাথে পরবর্তী যুগের উসূলবিদগণ তাদের কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন তার মাঝে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে। পরবর্তী উসূলবিদগণ এর ব্যাখ্যায় বিচারকদের নিকট প্রচলিত অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছেন। তারা বর্ণনাকারীদের অবস্থা থেকে এমন কোনো দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেননি যা এর প্রকৃত রূপ উন্মোচন করতে পারে।
আমি এই শাস্ত্রের মাসয়ালাগুলোকে সহজবোধ্য করার জন্য কাল্পনিক কোনো উদাহরণের পরিবর্তে বাস্তব অবস্থা থেকে দৃষ্টান্ত দেওয়ার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।
আর আমি এই কিতাবের আলোচ্য বিষয়সমূহ থেকে গারীবুল হাদীস, ফিকহুল হাদীস, মুশকিলুল হাদীস এবং হাদীসের নাসখ (রহিতকরণ) সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোকে বাদ দিয়েছি।
কারণ এগুলোর মধ্যে যে বিষয়গুলো মূলনীতি নির্ধারণের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলো আমি আমার 'উসূলুল ফিকহ' কিতাবে মূলনীতি হিসেবে বিশ্লেষণ করেছি। আবার এগুলোর মধ্য থেকে কিছু বিষয় যেমন 'নাসখ' আমি 'উলূমুল কুরআন'-এ বিশ্লেষণ করেছি, কারণ সুন্নাহ এ ক্ষেত্রে কুরআনের সাথে অংশীদার।
আবার এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় কেবল সংজ্ঞামূলক, যেমন গারীবুল হাদীস; যেহেতু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অপরিচিত শব্দাবলি। সুতরাং এর জন্য পৃথক কিতাব রয়েছে এবং এটি কোনো মূলনীতি নির্ধারণী শাস্ত্র নয়।
অনুরূপভাবে আমি এমন কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করা বর্জন করেছি যা মুসতালাহুল হাদীসের কিতাবগুলোতে এমন এক সময়ে উল্লেখ করার রীতি ছিল যখন রিওয়ায়াত ও ইসনাদ প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মানুষ এগুলোর নিয়ম নির্ধারণের আবশ্যকতা থেকে মুক্ত হয়ে গেছে, কারণ এগুলোর ব্যবহার এখন আর অবশিষ্ট নেই।
যেমন: 'উস্তাদের কাছে পাঠ করা ও পেশ করার সময় কে তা অনুলিপি করবে'—এই মাসয়ালাটির মতো। বর্তমানে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كذلك الجانب التّنظيري لما انتهت الحاجة إليه، كاعتبار السِّنِّ عند الأداء.
وجريْتُ في جميع ما ذكرتُ على توثيق النَّقل، بإحالة النّصوص إلى أصحابها، مستفادةً من معتمد مصادرها، مع اتّباع قوانين الفنّ في اعتماد ما يثبت نقله عن قائله في جميع مادّة الكتاب.
والله عز وجل أسأل أن ينفع به، وأن يكون قرَّةَ عين لطالب لعلم قلَّ فيه الرّاغب، وأن يغفر لي ما زلّ به الفكر والرّأي والقلم، هو المستعان وعليه التُّكلانُ.
وكتب
أبو محمد عبدُ الله بن يوسُف الجُديع
يوم الجمعة 20 من ذي الحجّة 1423هـ
الموافق 21/ 2 / 2003 م
مدينة ليدز - المملكة المتحدة
একইভাবে তাত্ত্বিক দিকগুলোও বর্জন করা হয়েছে যার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গিয়েছে, যেমন বর্ণনার সময় বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করা।
আর আমি যা কিছু উল্লেখ করেছি তার সবক্ষেত্রেই উদ্ধৃতির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার পথ অবলম্বন করেছি। আমি পাঠ্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সেগুলো তাদের নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ থেকে গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি কিতাবের যাবতীয় বিষয়ে কোনো বক্তব্য তার প্রবক্তার পক্ষ থেকে সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি অনুসরণ করেছি।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন, এবং এটি এমন এক ইলমের অন্বেষীর জন্য চক্ষুশীতলকারী হয় যার প্রতি আগ্রহীর সংখ্যা অতি নগণ্য। আর তিনি যেন আমার চিন্তা, মতামত ও লেখনীর স্খলনগুলো ক্ষমা করে দেন। তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসা।
লিখেছেন
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদি
শুক্রবার, ২০ জিলহজ ১৪২৩ হিজরি
মোতাবেক ২১/ ২/ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
লিডস শহর - যুক্তরাজ্য
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
প্রবেশিকা:পরিচিতিমূলক প্রারম্ভিকা
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول:علم الحديث: تعريفه، تاريخه، أقسامه
1 _ تعريف علم الحديث: العلمُ: معرفة الشيء.
والحديثُ في الأصل يطلق على: الجديد من الأشياء، ويطلق على الخبر. ومنه قوله تعالى {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللهِ حَدِيثاً} [النِّساء: 87]، وقوله: {فَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ} [سَبَأ: 19].
وفي الاصطلاحِ: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قولٍ، أو فعلٍ، أو تقريرٍ، أو صفةٍ.
فالقول: هو الألفاظُ النَّبويَّة.
مثلُ: حديثِ معاوية من أبي سفيان، رضي الله عنه، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول:
" من يرد الله به خيراً يفقه في الدين " (1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:ইলমুল হাদীস: এর সংজ্ঞা, ইতিহাস ও প্রকারভেদ ১. ইলমুল হাদীসের সংজ্ঞা: ইলম: কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা বা জানা।
আর ‘হাদীস’ শব্দটি মূলত নতুন কোনো বিষয় এবং সংবাদ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর চেয়ে সত্যভাষী আর কে আছে?} [আন-নিসা: ৮৭], এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর আমি তাদের কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করলাম} [সাবা: ১৯]।
পারিভাষিক সংজ্ঞায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা, কাজ, মৌনসম্মতি অথবা বৈশিষ্ট্যকে হাদীস বলা হয়।
কথা বলতে বুঝায়: নববী শব্দসমূহ।
যেমন: মুআবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والفعل: هو التصرفات النبوية العملية.
مثل: حديث عبد الله بن عباس، رضي الله عنهما:
أنه توضأ فغسل وجهه، ثم أخذ غرفة من ماء فمضمض بها واستنشق، ثم أخذ غرفة من ماء فجعل بها هكذا، أضافها إلى يده الأخرى فغسل بهما وجهه، ثم أخذ غرفة من ماء فغسل بها يده اليمنى، ثم أخذ غرفة من ماء فغسل بها يده اليسرى، ثم مسح برأسه، ثم أخذ غرفة من ماء فرشَّ على رجله اليمنى حتى غسلها، ثم أخذ غرفة أخرى فغسل بها رجله، يعنى اليسرى، ثم قال: هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضأ (1).
والتقرير: ما يقع من غيره صلى الله عليه وسلم باطِّلاعه أو علمه فلا ينكره.
مثل حديث عائشة، رضي الله عنها، قالت:
لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوماً على باب حجرتي والحبشة يلعبون في المسجد، ورسول الله صلى الله وعليه وسلم يسترني بردائه أنظر إلى لعبهم (2).
والصِّفة: خصائص بشريَّته صلى الله عليه وسلم فيما لا يرجع إلى كسبه وعمله، مثل:
حديث البراء بن عازب، رضي الله عنه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهاً، وأحسنهم خلقاً: ليس بالطويل البائنِ، ولا بالقصير (3).
ولا يدخل في الصفة بهذا التَّفسير ما يحبه أويكرهه صلى الله عليه وسلم من الأفعال والأحوال، وإنما يَنْدرجُ هذا النَّمطُ من الأحاديث تحت (الفعل) باعتبار الصادر عنه صلى الله عليه وسلم على وفق محبته أو كرهِهِِ، مثل:
--------------------------------------------
কর্ম: এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যবহারিক কার্যাবলি।
যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস:
তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ধুইলেন, এরপর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে কুলকুচি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, এরপর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে এভাবে করলেন অর্থাৎ তাঁর অন্য হাতের সাথে মিলিয়ে তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ধুইলেন, এরপর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে তাঁর ডান হাত ধুইলেন, এরপর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে তাঁর বাম হাত ধুইলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর এক আজলা পানি নিয়ে তাঁর ডান পায়ের ওপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধুইলেন, এরপর আরেক আজলা পানি নিয়ে তাঁর পা অর্থাৎ বাম পা ধুইলেন। এরপর বললেন: আমি এভাবেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওযু করতে দেখেছি (১)।
মৌনসম্মতি: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে তাঁর পর্যবেক্ষণ বা অবগতির সাথে সংঘটিত হয় এবং তিনি তা অস্বীকার বা নিষেধ করেননি।
যেমন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:
আমি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি যখন হাবশীরা মসজিদে খেলছিল, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি (২)।
বৈশিষ্ট্য: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই সকল মানবীয় বৈশিষ্ট্য যা তাঁর অর্জন বা কর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন:
বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং সবচেয়ে সুন্দর অবয়বের অধিকারী; তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ ছিলেন না এবং লম্বায় খাটোও ছিলেন না (৩)।
এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি বা অবস্থার মধ্য থেকে যা তিনি পছন্দ বা অপছন্দ করতেন তা ‘বৈশিষ্ট্য’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। বরং এই ধরনের হাদিসসমূহ ‘কর্ম’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু তাঁর পছন্দ বা অপছন্দ অনুযায়ী প্রকাশ পায় তা কর্ম হিসেবেই গণ্য। যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حديث عائشة، رضي الله عنها، قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب التيمن ما استطاع في شأنه كله: في طهوره وترجله وتنعله (1).
هل يدخل في (الحديث) ما أضيف إلى من دونَ النبي صلى الله عليه وسلم؟
ما يضاف إلى صحابيٍّ أو تابعيٍّ أو من بعدهم من الأخبار يسمى (حديثاً) من حيث اللغة، لكن الاصطلاح جرى غالباً على إرادة ما يضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم خاصة، حتى صار يتبادر إلى الذِّهن عند الإطلاق حين يُقال مثلاً: (في المسألة حديثٌ) أنَّه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فدفعاً للإيهام، لا ينبغي إطلاق لفظ (حديثٍ) على غير ماورد عن النبي صلى الله عليه وسلم.
الفرق بين الحديث والسنة:
السنة في المعنى الأُصوليِّ مساويةٌ للحديث بالتعريف المتقدّم عن أهل الحديث، دون قيد (أو صفة)، واستثناء الصفة النبوية من جملة السنن إنما وقع من أجل أن محل الكلام في السنة هو اعتبار كونها من مصادر التشريع، وهذا لا يَنْدرجُ تحته الأوصاف الذَّاتية، وإنما يستفاد من الأقوال والأفعال والتقريرات النبوية.
الأثر:
من (أثَرْتُ الخبرَ) إذا رويته.
ومن العلماء من يخصُّ الأَثر بـ (الموقوف) على الصحابي أو من دونه، كالتَّابعي.
--------------------------------------------
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিটি কাজে—পবিত্রতা অর্জন, চুল আঁচড়ানো এবং জুতা পরিধানের ক্ষেত্রে—যতটুকু সম্ভব ডান দিককে প্রাধান্য দেওয়া পছন্দ করতেন। (১)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়, তা কি (হাদিস) শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে?
সাহাবী, তাবিঈ বা তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সংবাদসমূহকে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে (হাদিস) বলা হয়। তবে পারিভাষিক ক্ষেত্রে সাধারণত এটি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। ফলে সাধারণভাবে যখন বলা হয়, যেমন: (এই বিষয়ে একটি হাদিস রয়েছে), তখন তৎক্ষণাৎ এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস হওয়ার দিকেই মন ধাবিত হয়।
অতএব, অস্পষ্টতা নিরসনের লক্ষ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর (হাদিস) শব্দের প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।
হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য:
উসুলবিদদের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো মুহাদ্দিসগণের দেওয়া পূর্বোক্ত সংজ্ঞার ন্যায় হাদিসের সমার্থক, তবে (গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য)-র শর্তটি ব্যতিরেকে। সুন্নাহর সামগ্রিক আলোচনার মধ্য থেকে নববী গুণাবলিকে বাদ দেওয়ার কারণ হলো, সুন্নাহর আলোচনার ক্ষেত্র মূলত শরয়ি বিধানের উৎস হিসেবে এর উপযোগিতা বিচার করা। আর এর অধীনে নবীজির সত্তাগত গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত হয় না; বরং বিধানসমূহ কেবল তাঁর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি থেকেই আহরিত হয়।
আল-আসার (বর্ণনা):
এটি (আমি সংবাদটি বর্ণনা করেছি) বাক্য থেকে এসেছে যখন কোনো সংবাদ বর্ণনা করা হয়।
কোনো কোনো আলেম 'আসার' শব্দটিকে সাহাবী বা তাঁদের পরবর্তী স্তরের তাবিঈদের ওপর (মওকুফ) বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومنهم من يسمي كلَّ رواية أثراً؛ بغضِّ النظر عمن أضيفت إليه، ومنه قولهم: (التفسير بالمأثور) فإنَّه يد خل فيه الأحاديث النّبوية والمنقول عن الصحابة والتابعين.
وكتبٌ كثيرة ٌُ سمِّيت بـ (الآثار) وفيها الحديث النَّبويُّ وغيره، كـ (الآثار) للإمام محمد بن الحسن الشَّيباني صاحب الإمام أبي حنيفة، بل منهم من سمّى كتابه بذلك ومراده الحديث النّبوي، كما في " شرح مشكل الآثار " و" شرح معاني الآثار "
كلاهما لأبي جعفر الطَّحاوي، و " تهذيب الآثار " لابن جرير الطَّبري.
علوم الحديث:
هي المعارف المتّصلة بالحديث من جهة نقله ومعرفة صحيحه من سقيمه.
والألقاب المتعارف ُ عليها عند أهل هذا الفن بـ (علم مصطلح الحديث) والآتي تفصيلها، هي القاعدة العامّة لهذه العلوم.
2 _ تاريخ علم الحديث: مبدأ ظهور هذا العلم:
الكلام في النقلة فنٌّ قديم من فنون هذا العلم، يعود إلى عصر الصحابة، وقد ورد عنهم في ذلك آثار قليلة، إليك بعضَ أمثلتها:
1_ عَن سعيد بن جبير، قال:
قلت لابن عباس: إن نوفاً البكاليَّ يزعم أن موسى عليه السلام ُصاحب بني إسرائيل ليس هو موسى صاحب الخضر عليه السلام، فقال: كذب عدو الله، سمعت أُبي بن كعب يقول: سمعت رسول
الله صلى الله عليه وسلم
তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিটি বর্ণনাকেই 'আসার' বলে অভিহিত করেন; এটি কার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তা বিবেচনা না করেই। তাদের এই কথাটি এর অন্তর্ভুক্ত: 'আত-তাফসীর বিল মাসুর' (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর), কারণ এর মধ্যে নববী হাদীস এবং সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়।
অনেক কিতাব 'আল-আসার' নামে নামকরণ করা হয়েছে যেগুলোতে নববী হাদীস এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে, যেমন ইমাম আবু হানিফার সহচর ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী-র 'আল-আসার' গ্রন্থ। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের কিতাবকে এই নামে নামকরণ করেছেন অথচ তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল নববী হাদীস, যেমনটি 'শারহু মুশকিলিল আসার' এবং 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে রয়েছে।
এই উভয়টি আবু জাফর আত-তহাবীর এবং ইবনে জারীর আত-তাবারীর 'তাহযীবুল আসার'।
হাদীস শাস্ত্রসমূহ:
এটি হলো হাদীসের বর্ণনা এবং এর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ণয় করার সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ।
এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট 'ইলমু মুসতালাহিল হাদীস' (হাদীস পরিভাষা বিদ্যা) হিসেবে পরিচিত যে পরিভাষাগুলো রয়েছে এবং যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে, তা-ই হলো এই শাস্ত্রসমূহের সাধারণ মূলনীতি।
২ _ হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস: এই শাস্ত্রের আবির্ভাবের সূচনা:
বর্ণনাকারীদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা এই শাস্ত্রের শাখাগুলোর মধ্যে একটি প্রাচীন শিল্প, যা সাহাবীদের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিষয়ে তাঁদের থেকে অল্প কিছু বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, নিচে তার কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
১_ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: নাওফ আল-বিকালি দাবি করে যে, বনী ইসরাঈলের নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং খিজিরের (আলাইহিস সালাম) সাথী মূসা এক ব্যক্তি নন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে, আমি উবাই ইবনে কাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
يقول: " قام موسى عليه السلام خطيباً في بني إسرائيل، فسئل: أي الناس أعلم؟ " فذكر الحديث بقصته مع الخضر (1).
2 _ وعن حُميد بن عبد الرحمن أنه سمع معاوية بن أبي سفيان يُحدِّث رهطاً من قريش بالمدينة وذكر كعب الأحبار، فقال: إن كان من أصدق هؤلاء المحدثين الذين يحدثون عن أهل الكتاب، وإن كنا مع ذلك لَنَبْلو عليه الكذب (2).
فتلاحِظ في هذين المثالين أنَّ الكلام وقع في رجلين من غير الصحابة يعرفان بالرواية عن أهل الكتاب، ولم يكن الصحابة يكذِّب بعضهم بعضاً في النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما خطَّأ بعضهم بعضاً في أحرف يسيرة كما وقع فيما استدركته عائشة أم المؤمنين على بعض الصحابة (3)، وعلّة ذلك أن نقلة الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إنما كانوا العدول ولذلك لم يكن الناس يومئذ يعتنون بالإسناد حتى ظهرت الفتن وتباعد العهد وصار النقل إلى التابعين بعد الصحابة.
فعن مجاهد بن جبر المكي، قال:
جاء بُشير العدوي إلى بن عباس، فجعل يحدث ويقول: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، " فجعل ابن عباس لا يأذن (4) لحديثه ولا ينظر إليه، فقال: يا ابن عباس، مالي لا أراك تسمع لحديثي؟ أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسمع، فقال ابن عباس: إناكنّا مرَّة إذا سمعنا رجلاًََ
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "মূসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী কে?" এরপর তিনি খিদিরের সাথে তাঁর ঘটনার হাদীসটি উল্লেখ করেন (১)।
২ _ এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে মদীনায় কুরাইশদের একটি দলের নিকট কথা বলতে শুনেছেন। সেখানে তিনি কাব আল-আহবার সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন: আহলে কিতাব থেকে যারা বর্ণনা করে, তাদের মধ্যে তিনি অবশ্যই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যদিও আমরা তাঁর বর্ণনায় ভুল বা অসত্যের পরীক্ষা পেতাম (২)।
সুতরাং এই দুটি উদাহরণে আপনি লক্ষ্য করবেন যে, কথাগুলো এমন দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে যারা সাহাবী ছিলেন না এবং আহলে কিতাব থেকে বর্ণনার জন্য পরিচিত ছিলেন। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে একে অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতেন না। তবে তাঁরা একে অপরের ভুল ধরিয়ে দিতেন সামান্য কিছু শব্দে, যেমনটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কিছু সাহাবীর বর্ণনার ওপর সংশোধনী প্রদান করেছিলেন (৩)। এর কারণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনাকারীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। এজন্যই ফিতনা প্রকাশ পাওয়া এবং যুগ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তৎকালীন লোকেরা সনদের প্রতি ততটা ভ্রুক্ষেপ করতেন না, যতক্ষণ না সাহাবীদের পর তাবিঈদের নিকট বর্ণনাগুলো পৌঁছাল।
মুজাহিদ ইবনে জাবর আল-মাক্কী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
বুশাইর আল-আদাভী ইবনে আব্বাসের নিকট এলেন এবং বর্ণনা করতে শুরু করে বলতে লাগলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন," কিন্তু ইবনে আব্বাস তাঁর হাদীসের দিকে কান দিচ্ছিলেন না (৪) এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস, কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদীস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করছি আর আপনি শুনছেন না! তখন ইবনে আব্বাস বললেন: একসময় আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন আমরা কোনো ব্যক্তিকে শুনতে পেতাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقول: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابتدرتْه أبصارنا، وأصْغينا إليه بآذانِنا، فلما ركب الناس الصَّعب والذَّلول لم نأخذ من النّاس إلا ما نعرف (1).
وقال الإمام التابعي محمد بن سيرين: " لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سمّوا لنا رجالكم، فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، ويُنظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم
… (2).
ثم منذ ذلك الوقت بدأ شيوعُ الاعتناء بالأسانيدِ والكلام في النَّقَلة ونقد الراويات، وكلما تأخر العهد زاد ذلك.
فتكلَََََّم طائفةٌ من التابعين بكلام منثور في ذلك، منهم: سعيد بن جبير، وسالم بن عبد الله عمر،
… وعطاء بن أبي رباح، وعروة بن الزبير، والحسن البصري، ومحمد بن سيرين، وعامر الشعبي.
ثم الكلام بعد هؤلاء أكثر كالزهريِّ، وأيوب السختيانيِّ، والأعمش.
حتى جاءت طبقة أتباع التابعين فصار هذا العلم إلى النُّضوج، وعلتُّه ترجع إلى كثرة الكذابين، وطولِ الإسناد الذي يزيد معه الوهم والغلط وتعمُّد الإسقاط من رجاله تخفيفاً، فظهر أمثال شعبة بن الحجَّاج، وسفيان الثوري، ومالك بن أنس، والأوزاعي.
ومن بعد طبقة تلامذتهم كيحي القطَّان، وعبد الرحمن بن مهدي.
ثم تلامذتهم كأحمد بن حنبل، ويحي بن معين، وعلي بن المدينيِّ، وإسحاق بن راهُوَيه، وعمرو بن علي الفلَاّس.
وهذا وقتٌ بدأ يظهر فيه التَّصنيف في علوم الحديث، لكن في أبواب منه مخصوصة، كـ (الجرح والتَّعديل) و (علل الحديث) و (تواريخ النَّقلة).
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কথা বলতেন, তখন আমাদের দৃষ্টি তাঁর দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাঁর দিকে কর্ণপাত করতাম। অতঃপর যখন মানুষ সহজ ও কঠিন সব ধরনের বাহনেই আরোহণ করতে শুরু করল (অর্থাৎ বাছবিচারহীন বর্ণনা শুরু করল), তখন আমরা মানুষের নিকট থেকে কেবল তাই গ্রহণ করতে লাগলাম যা আমরা চিনি (জানি) (১)।
তাবিঈ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন বলেন: "আগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। তখন আহলে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না... (২)।
অতঃপর সেই সময় থেকেই সনদের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও বর্ণনার পর্যালোচনার ব্যাপক প্রচার শুরু হয়। কালক্রমে এর গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তাবিঈদের একদল এ বিষয়ে কিছু বিক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, ... আতা ইবনে আবি রাবাহ, উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের, হাসান বসরী, মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন এবং আমির আশ-শাবি।
অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগে এ সংক্রান্ত আলোচনা আরও অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়, যেমন: যুহরী, আইয়ুব সাখতিয়ানি এবং আমাশের বক্তব্যে।
অবশেষে তাবি-তাবিঈদের যুগ এলে এই শাস্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে। এর কারণ ছিল মিথ্যাবাদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সনদের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া, যার ফলে বিভ্রম ও ভুল বৃদ্ধি পায় এবং সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণনাকারী বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস এবং আওযায়ীর মতো মনীষীদের আবির্ভাব ঘটে।
এবং তাদের পরবর্তী স্তরে তাদের ছাত্রবৃন্দ, যেমন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী।
অতঃপর তাদের ছাত্রবৃন্দ, যেমন: আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস।
এটি এমন এক সময় যখন হাদিস বিজ্ঞানের কিতাব সংকলন শুরু হয়, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেমন: (জারহ ওয়া তা'দীল), (ইলালুল হাদিস) এবং (বর্ণনাকারীদের ইতিহাস)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وتطوَّر وكثر الكلام في تلك العلوم فيمن بعده، لكنَّها بقيت دون أن تخصَّ مصطلحاتها بتصنيف بعد، إلى زمان الإمام أبي محمد الحسن بن عبد الرحمن الرَّامُهرمزيِّ (المتوفى سنة: 360) فصنَّف أول كتاب مفرد في علوم الحديث سمَّاه: " المحدِّث الفاصل بين الرَّاوي والواعي " ثم توالى الناس على التصنيف فيه.
وأنفع المؤلفات فيه كتب الخطيب البغدادي، وأجلها: " الكفاية " ثم مؤلف الإمام أبي عمرو ابن الصَّلاح: " علوم الحديث " المعروف بـ (المقدِّمة).
3 _ تقسيم علوم الحديث: علوم الحديث من حيث الإجمال تنقسم إلى قسمين كلِّيِّين:
القسم: الأول علم رواية.
وموضعه: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو من دونه من صحابي أو تابعي، من جهة العناية بنقل ذلك وضبطه وتحرير ألفاظه.
وبعبارة أخرى: هو العناية بمتن الخبر من جهة نصِّه خاصة:
ويندرج تحته أصناف من علوم الحديث، منها: المرفوع، والموقوف، والمقطوع، وغريب الحديث، ومختلف الحديث.
والقسم الثاني: علم دراية.
وموضعه: من السَّند والمتن من جهة العلم بأحوالهما.
ويندرج تحته: تمييز المقبول من المردود، وعلم الجرح والتَّعديل وتواريخ الرواة، وعلل الحديث، وغيرها.
تعريف السند والمتن:
السند: هو سلسلة الرواة التي حصل بها تلقِّي الخبر.
তাঁর পরবর্তী যুগে এই শাস্ত্রসমূহ আরও বিকশিত হয় এবং এ বিষয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পায়, তবে তখনও এই শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর জন্য স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। অবশেষে ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান আর-রামহুরমুজি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি) উলূমুল হাদীসের ওপর প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম তিনি দেন: "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়াঈ"। এরপর ধারাবাহিকভাবে মানুষ এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করতে থাকেন।
এই শাস্ত্রের সবচেয়ে উপকারী গ্রন্থগুলো হলো খতীব আল-বাগদাদীর কিতাবসমূহ, যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো: "আল-কিফায়া"। এরপর হলো ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর গ্রন্থ: "উলূমুল হাদীস", যা "মুকাদ্দিমা" নামে প্রসিদ্ধ।
৩ _ উলূমুল হাদীসের বিভাজন: সামগ্রিকভাবে উলূমুল হাদীস প্রধানত দুটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত:
প্রথম বিভাগ: ইলমুর রিওয়ায়াত (বর্ণনাসংশ্লিষ্ট জ্ঞান)।
এর আলোচ্য বিষয়: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর পরবর্তী কোনো সাহাবী বা তাবিঈর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—তা বর্ণনা করা, সংরক্ষণ করা এবং এর শব্দাবলী সুবিন্যস্ত করার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের দৃষ্টিকোণ থেকে।
অন্য কথায়: এটি বিশেষভাবে সংবাদের (হাদীসের) মূল পাঠের (মতন) বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
এর অধীনে উলূমুল হাদীসের বিভিন্ন প্রকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে আছে: মারফূ, মাওকূফ, মাকতূ, গারীবুল হাদীস এবং মুখতালিফুল হাদীস।
দ্বিতীয় বিভাগ: ইলমুদ দিরায়াত (তত্ত্বীয় জ্ঞান)।
এর আলোচ্য বিষয়: সনদ (বর্ণনাসূত্র) এবং মতন (মূল পাঠ)—এই উভয়ের অবস্থা সম্পর্কে জানার দৃষ্টিকোণ থেকে।
এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বর্ণনাকে পৃথক করা, জারহ ও তা’দীল শাস্ত্র (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা), বর্ণনাকারীদের ইতিহাস, হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাল) বিষয়ক জ্ঞান এবং অন্যান্য।
সনদ ও মতনের সংজ্ঞা:
সনদ: এটি হলো বর্ণনাকারীদের সেই ধারাবাহিকতা যার মাধ্যমে সংবাদটি বা হাদীসটি প্রাপ্ত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولك أن تسمِّيه: (الإسناد) والفرق بينهما في علم الحديث صوريٌّ.
المتن: هو الكلام (أو النَّص) الذي انتهى إليه السند.
واعلم أن الإسناد من خصائص هذه الأمة، وقد أخبرت النصوص النبويَّة الثابتة عن وقوعه قبل
… أن يعرفه الناس، كما في حديث عبد الله بن عباس، رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " تسمعون، ويُسمع منكم، ويسمع ممَّن يسمع منكم " (1)
وقال عبد الله بن المبارك، " الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء " (2)
والإسناد هو الطريق الموصل إلى ثبوت المتن ولا خيَر في متن بلا إسناد.
عن يحي بن سعيد القطَّان، قال: لا " تنظروا إلى الحديث، ولكن انظروا إلى الإسناد، فإن صح الإسناد وإلا فلا تغترَّ بالحديث إذا لم يصح الإسناد " (3)
والذي يحتاج إليه من الإسناد قد فرغ منه، حين دوِّنت الكتب في
--------------------------------------------
আপনি একে ‘আল-ইসনাদ’ (সনদ প্রদান) হিসেবেও নামকরণ করতে পারেন; হাদীস বিজ্ঞানে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কেবল আঙ্গিক বা বাহ্যিক মাত্র।
মাতান: এটি হলো সেই বক্তব্য (বা পাঠ), যেখানে গিয়ে সনদ শেষ হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, ইসনাদ হলো এই উম্মতের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য। সুসাব্যস্ত নববী মূলপাঠসমূহ (হাদীস) মানুষের কাছে এটি পরিচিত হওয়ার আগেই এর গুরুত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (আমার থেকে) শুনছ, তোমাদের থেকেও শোনা হবে, এবং যারা তোমাদের থেকে শুনছে তাদের থেকেও শোনা হবে।" (১)
এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: "ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত।" (২)
আর ইসনাদ হলো মাতানের বিশুদ্ধতা পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম, এবং ইসনাদহীন মাতানে কোনো কল্যাণ নেই।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা কেবল হাদীসের (বাহ্যিক পাঠের) দিকে তাকিও না, বরং ইসনাদের দিকে তাকাও। যদি ইসনাদ সহীহ হয় তবেই তা গ্রহণ করো, অন্যথায় ইসনাদ সহীহ না হলে হাদীস দেখে প্রতারিত হয়ো না।" (৩)
আর ইসনাদের মধ্য থেকে যেটির প্রয়োজন ছিল তা সমাপ্ত হয়েছে, যখন কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرواية، وصار مرجع الناس إليها، وبقى اعتبار صحة تلك الكتب إلى من نسبت إليه.
قال ابن الصلاح: " إن الرواية بالأسانيد المتصلة ليس المقصود بها في عصرنا وكثير من الأعصار قبله إثبات ما يروى بها، إذ لا يخلو إسناد منها عن شيخ لا يدري ما يرويه ولا يضبط ما في كتابه ضبطاً يصلح لأن يعتمد عليه في ثبوته، وإنما المقصود منها إبقاء سلسلة الإسناد، والتي خصت بها هذه الأمة (1).
قلت: خصت الأمة بالإسناد، وقد تحقق ذلك، والحمد لله، لا ببقائه للتبرك المحض، حتى صارت طوائف تحتفظ بدفاتر فيها أسماء كتب من الأصول الكبار في الحديث وغيرها، قد أجيز أحدهم بها من شخص ما، فصاحب الدَّفتر يجيزها لمن شاء، وهو في الواقع لم يجز، ولا يجيز، إلا عناوين لتلك الكتب، ما سمعها ولا سمعت منه، ولا قرأها ولا قرئَت عليه، ولو بحثت كاشفاً عن بعض رجال إسناده لتعسر عليك ولم تصل إلى كشفهم، ثم يريد هذا أن يرفع بذلك رأساً، وكأن لسان أحدهم يقول: انقطعت سلسلة الاتصال بالنبي صلى الله عليه وسلم إلا من طريقي.
فليس في الأمة حاجة إلى هذه الأسانيد، وحتى لو كان لها بعض اعتبار يوم ابن الصلاح، فإنه اليوم قد زال، حيث صار منتهى الناس إلى صحة الوجادات من كتب السنة، واصطلاح (الحديث المسند)
عند أهل الحديث، قال الخطيب: " يريدون أن إسناده متصلٌ بين راويه وبين من أسْند عنه، إلا أن أكثر استعمالهم هذه العبارة هو فيما أسند عن النبي صلى الله عليه وسلم واتصال الإسناد فيه أن يكون كل واحد من رواته سمعه ممن فوقه حتى ينتهى ذلك إلى آخره، وإن لم يبين فيه السماع بل اقتصر على العنعنة " (2).
--------------------------------------------
বর্ণনা, আর মানুষের নিকট এর প্রতি নির্ভরতা তৈরি হয়েছে এবং ওইসব কিতাব যাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাদের কাছে সেগুলোর বিশুদ্ধতার গ্রহণযোগ্যতা অবশিষ্ট রয়েছে।
ইবনুল সালাহ বলেন: "আমাদের যুগে এবং এর আগের অনেক যুগেই সংযুক্ত সনদ বা সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এর মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়কে প্রমাণিত করা হবে; কারণ এমন কোনো সনদ পাওয়া দুষ্কর যেখানে এমন কোনো শাইখ নেই যিনি যা বর্ণনা করছেন তা জানেন না অথবা তার কিতাবের বিষয়বস্তুকে এমনভাবে হেফাজত বা সংরক্ষণ করেননি যা তার প্রমাণের ওপর নির্ভর করার মতো উপযুক্ত হয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, যা এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (১)।
আমি বলি: এই উম্মতকে সনদের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে এবং তা অর্জিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এটি কেবল বরকত লাভের জন্য টিকে থাকার মাধ্যমে হয়নি, এমনকি এমন অনেক দল বা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যারা এমন সব খাতা সংরক্ষণ করে যাতে হাদিসের বড় বড় মূল কিতাব ও অন্যান্য কিতাবের নাম থাকে। তাদের কাউকে হয়তো কোনো ব্যক্তি সেগুলোর অনুমতি (ইজাজত) দিয়েছেন, অতঃপর সেই খাতার মালিক যাকে ইচ্ছা তার অনুমতি দিয়ে দেন। অথচ বাস্তবে তিনি সেই কিতাবগুলোর শিরোনাম ছাড়া আর কিছুরই অনুমতি দেননি বা দিচ্ছেন না; তিনি সেগুলো শোনেননি, তার থেকেও কেউ শোনেনি, তিনি সেগুলো পড়েননি এবং তার সামনেও সেগুলো পড়া হয়নি। আপনি যদি তার সনদের কিছু বর্ণনাকারীকে অনুসন্ধান করে বের করতে চান, তবে তা আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে এবং তাদের পরিচয় বের করতে পারবেন না। এরপরও এমন ব্যক্তি এর মাধ্যমে নিজেকে বড় করে দেখাতে চায়, যেন তাদের কারো জবান বলছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সম্পর্কের এই ধারাবাহিকতা আমার পথ ছাড়া অন্য সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সুতরাং এই উম্মতের এই সনদগুলোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। ইবনুল সালাহর যুগে যদি এগুলোর কিছুটা গুরুত্ব থেকেও থাকে, তবে বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে; কারণ বর্তমানে মানুষের শেষ ভরসা হলো সুন্নাহর কিতাবগুলো থেকে প্রাপ্ত লিখিত তথ্যের বিশুদ্ধতার ওপর এবং হাদিস বিশারদদের পরিভাষায় 'সনদযুক্ত হাদিস' (আল-হাদিস আল-মুসনাদ)-এর ওপর।
হাদিস বিশারদদের নিকট আল-খতিব বলেন: "তারা বুঝাতে চান যে, বর্ণনাকারী এবং যার কাছ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার মধ্যকার সনদটি সংযুক্ত, তবে তাদের এই পরিভাষাটির অধিক ব্যবহার হয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত হাদিসের ক্ষেত্রে। আর সনদের ধারাবাহিকতা বা সংযোগের অর্থ হলো এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার ওপরের স্তরের বর্ণনাকারীর কাছ থেকে তা শুনেছেন, এভাবে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে; যদিও তাতে শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত না করে কেবল 'হতে' (আন) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয় (২)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قلت: وبهذا المعنى الذي عند أكثرهم عرَّف الحاكم (المسند) (1).
لكن ابن عبد البرِّ جعله مرادفاً لـ (المرفوع)، فلم يشترط فيه الاتصال. حكاه عن طائفة (2).
وليس وصفه بالاتصال عند من ذكره يعني الصحة، وإنما المراد مجرد الإحالة، وقد يكون ضعيفاًَ.
* * *
--------------------------------------------
আমি বলি: অধিকাংশের নিকট থাকা এই অর্থ অনুযায়ীই আল-হাকিম ‘আল-মুসনাদ’-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন (১)।
তবে ইবনু আবদিল বার একে ‘আল-মারফু’-এর সমার্থক সাব্যস্ত করেছেন, ফলে তিনি এতে সূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়াকে (ইত্তিসাল) শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি। তিনি একটি দলের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
আর যারা একে নিরবচ্ছিন্নতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ এই নয় যে এটি ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ; বরং এর দ্বারা কেবল সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া উদ্দেশ্য, আর এটি অনেক সময় ‘যয়িফ’ বা দুর্বলও হতে পারে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني:ألقاب الحديث من جهة من يضاف إليه
1_ الحديث المرفوع: تعريفه:
قال الخطيب: " ما أخبر فيه الصحابي عن قول الرسول صلى الله عليه وسلم أو فعله " (1).
قلت بل هو أسع من ذلك، والفصل: أنه ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أفعل أو تقرير أوصفة. على نفس ما تقدم لمصطلح (حديث).
وكأنه استفيد من رفعة المقام.
ويعتاض عن اللفظ الصريح بالإضافة إلى النبي صلى الله عليه وسلم بالقول مثلاً: (عن أبي هريرة مرفوعاً) ويساق لفظ الحديث، دون ذكر: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويقع هذا اختصاراً، لكن لا ينبغي فيما أرى استعماله في الأحاديث الصحيحة، من أجل ما يفوت به من ذكر النبي صلى الله عليه وسلم والصلاة والتسليم عليه.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:হাদিসের পরিভাষা যার দিকে হাদিস সম্বন্ধযুক্ত করা হয় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে১. মারফু হাদিস: সংজ্ঞা:
খতিব বলেন: "যেটিতে সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বা কাজ সম্পর্কে সংবাদ দেন" (১)।
আমি বলছি, বরং এটি তার চেয়েও ব্যাপক। এর সারকথা হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, হোক তা কথা, কাজ, অনুমোদন অথবা বৈশিষ্ট্য; যা ইতিপূর্বে 'হাদিস' পরিভাষার আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর সম্ভবত একে (মারফু) নামকরণ করা হয়েছে উচ্চ মর্যাদা থেকে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করার স্পষ্ট শব্দের পরিবর্তে কখনও উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: (আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত), এরপর হাদিসের পাঠ বর্ণনা করা হয়, কিন্তু 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'—এই কথাটি উল্লেখ করা হয় না। এটি সংক্ষেপ করার জন্য করা হয়। কিন্তু আমার মতে, সহিহ হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা অনুচিত, কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার ফজিলাত হাতছাড়া হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مسائل: المسألة الأولى: يقع في: إطلاق السلف من الأئمة لفظ (المسند) يريدون به الحديث المرفوع المتصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، كما بينته في تعريف (المسند).
المسألة الثانية: إذا حدث صحابي بالشيء فوجد فيه من القرينة ما يدل على كونه تلقاه عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهو حديث مسند مرفوع.
وهل من هذا قول التابعي عن الصحابي: (يرفع الحديث) أو (ينميه) أو (يبلغ به) أو ما في معناه، دون ذكر النبي صلى الله عليه وسلم؟.
الجواب: نعم ، هو عن النبي صلى الله عليه وسلم (1)
وذلك مثل:
ما أخرجه أبو يعلى الموصليُّ، قال: حدثنا أبو خيثمة، قال: حدثنا محمد بن عبد الله الأسدي، حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن محمد بن سعد، عن أبيه، ويرفع الحديث:
" لا يحل لأحد أن يهجر أخاه فوق ثلاث " (2).
وقيل لأحمد بن حنبل: إذا قال: (يرفع الحديث) فهو عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: " فأيُّ شيء؟ " (3)
أي: فعمن يكون إن لم يكن عن النبي صلى الله عليه وسلم؟
لكن يجب قصر ذلك على قول الصحابي خاصة، فأما إذا قاله التابعي فمن دونه، فلا ينزَّل منزلة المراسيل فيما أرجحه.
--------------------------------------------
মাসআলাসমূহ: প্রথম মাসআলা: সালাফে সালেহীন ইমামগণ যখন 'মুসনাদ' শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তা দিয়ে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছানো 'মারফু' হাদিসই উদ্দেশ্য নেন, যেমনটি আমি 'মুসনাদ'-এর সংজ্ঞায় স্পষ্ট করেছি।
দ্বিতীয় মাসআলা: যখন কোনো সাহাবী কোনো বিষয় বর্ণনা করেন এবং সেখানে এমন কোনো আলামত বা ইংগিত পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে গ্রহণ করেছেন, তবে তা 'মুসনাদ মারফু' হাদিস হিসেবে গণ্য হবে।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম উল্লেখ না করে কোনো তাবিঈ যদি সাহাবীর সূত্রে বলেন: "তিনি হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন" অথবা "তিনি একে পৌঁছে দিয়েছেন" অথবা "তিনি এর মাধ্যমে (নবী পর্যন্ত) পৌঁছেছেন" অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দ ব্যবহার করেন, তবে কি তাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকেই বর্ণিত (১)
উদাহরণস্বরূপ:
ইমাম আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সা’দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আর তিনি হাদিসটিকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেন:
"কারো জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা বৈধ নয়" (২)।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হলো: যখন কেউ বলে: "তিনি হাদিসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন", তবে কি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত? তিনি উত্তরে বললেন: "তবে আর কার পক্ষ থেকে হতে পারে?" (৩)
অর্থাৎ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে না হলে তা আর কার পক্ষ থেকে হবে?
তবে এটি কেবল সাহাবীর বক্তব্যের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক। কিন্তু যখন কোনো তাবিঈ বা তার পরবর্তী স্তরের কেউ এটি বলবেন, তখন আমার নিকট অগ্রাধিকারযোগ্য মতানুসারে তা 'মুরাসাল' হাদিসের পর্যায়ে গণ্য হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وذلك أني وجدتهم يعنون بتلك العبارة: يسنده إلى من فوقه، وذلك أحد رواة الخبر.
مثل: ما حدث به موسى بن مسلم الحِزامي، قال سمعت عكرمة يرفع الحديث فيما أرى إلى ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من ترك الحيَّات مخافة طلبهن فليس منا، ما سالمنا هن منذ حاربناهنَّ " (1).
فإن قلت: إنما تبين أن قوله: (يرفع الحديث) ليس عن النبي صلى الله عليه وسلم، بقرينة ذكر ابن عباس، فإن خلا من القرينة، فينبغي أن يكون له حكم المرسل.
قلت: لما استخدموا العبارة المذكورة في مجرد الارتقاء بإسناد الخبر إلى درجة أعلى في الإسناد، وصحَّ أن تكون تلك الدرجة هي الصحابي هنا، مع عدم وجود تنصيص منهم يُفسر مرادهم ويحصره فيما عرفناه بالاصطلاح في معنى المرفوع، فإن احتمال إرادة كونه عن أي قائل أو غافل فوق الراوي قائل تلك العبارة ودون النبي صلى الله عليه وسلم: احتمال قوي.
إلا أن نقف على ذلك الخبر من وجه معتبر مرفوعاً صراحة من قبل الراوي إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
وليس من هذا قول أهل العلم المتأخرين اختصاراً في نقل الأحاديث من كتب الرواية (مرفوعاً) مثلاً، فإنا قد علمنا أنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في سياقه في مصدره من كتب الحديث المسندة، وإن كان تحاشي ذلك خاصة في الأحاديث الثابتة أولى، كما تقدم التنبيه عليه.
المسألة الثالثة: قول الصحابي: (قال: قال) دون ذكر النبي صلى الله عليه وسلم، هل هو مرفوع؟
هذه صورة نادرة الورود في روايات الحديث.
--------------------------------------------
আর তা এই কারণে যে, আমি তাদের দেখেছি যে তারা এই পরিভাষাটি দিয়ে বুঝাতে চান: তিনি বিষয়টিকে তাঁর উপরের স্তরের কারও দিকে সম্পর্কিত করছেন, আর তিনি হলেন খবরের (হাদিসের) বর্ণনাকারীদের একজন।
উদাহরণস্বরূপ: মুসা ইবনে মুসলিম আল-হিজামি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইকরিমাহকে বলতে শুনেছি, তিনি যতটুকু আমি দেখছি হাদিসটিকে ইবনে আব্বাসের দিকে মারফু (উন্নীত) করছেন, তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাপের প্রতিশোধের ভয়ে সেগুলোকে ছেড়ে দিল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; আমরা যখন থেকে তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করেছি তখন থেকে তাদের সাথে আমাদের কোনো সন্ধি হয়নি।" (১)।
যদি আপনি বলেন: এটি তো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তাঁর উক্তি: (হাদিসটিকে মারফু করছেন)—বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণনা করা বুঝানো হয়নি, কারণ এখানে ইবনে আব্বাসের উল্লেখ করার ইঙ্গিত রয়েছে। যদি এটি সেই ইঙ্গিত থেকে মুক্ত হতো, তবে তা মুরসাল-এর বিধানভুক্ত হওয়া উচিত ছিল।
আমি বলব: যেহেতু তারা উল্লিখিত পরিভাষাটি খবরের সনদকে কেবল সনদের উচ্চতর স্তরে উন্নীত করার অর্থে ব্যবহার করেছেন, এবং এখানে সেই স্তরটি একজন সাহাবী হওয়া সঠিক সাব্যস্ত হয়েছে, অথচ তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই যা তাদের উদ্দেশ্যকে সংজ্ঞায়িত করে এবং আমরা পরিভাষাগত অর্থে 'মারফু' বলতে যা বুঝি তার মধ্যে একে সীমাবদ্ধ করে দেয়, সেহেতু এই পরিভাষা ব্যবহারকারী বর্ণনাকারীর ঊর্ধ্বে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিচে অবস্থিত অন্য কোনো বক্তা বা স্তরের দিকে এটি সম্পৃক্ত করার যে সম্ভাবনা, তা একটি প্রবল সম্ভাবনা।
যদি না আমরা সেই খবরটি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে পাই যেখানে বর্ণনাকারী কর্তৃক স্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
আর পরবর্তী যুগের আলেমগণ রেওয়াতের কিতাবসমূহ থেকে হাদিস উদ্ধৃত করার সময় সংক্ষেপে যে (মারফু) বলে থাকেন, তা এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমরা জানি যে, এটি তার মূল মুসনাদ হাদিস গ্রন্থের প্রেক্ষাপটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণিত। যদিও বিশেষ করে সাব্যস্ত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে এমন সংক্ষিপ্তকরণ পরিহার করা উত্তম, যেমনটি আগে সতর্ক করা হয়েছে।
তৃতীয় মাসআলা: সাহাবীর উক্তি: (তিনি বলেছেন: তিনি বলেছেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ ছাড়া, এটি কি মারফু?
হাদিসের রেওয়াতসমূহে এটি একটি বিরল চিত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مثالها: ما حدث به أسود بن عامر شاذان قال: أخبرنا شعبة، قال: أخبرني إدريس الأوديُّ، عن أبيه، عن أبي هريرة، قال: قال: " لا يصلي أحدكم وهو يجد الخبَث " (1).
فتحرير هذه المسألة: أن هذه الصورة بمجردها لا تفيد رفع الحديث، بل هو موقوف من هذا الوجه، وهذا المثال المذكور مما اختلف فيه على شعبة أصلاً رفعاً ووقفاً، ولا يكاد يوجد لهذه المسألة مثال يسلم من علة، وعليه فيحول ذلك دون القول: إن هذه الصيغة تفيد الرفع.
وما ذكر عن محمد بن سيرين بخصوص ذلك مِن تركه رفع الحديث أحياناً وهو عنده مرفوع، فهو أمر غير مطرد على التحقيق.
وبيانه: أن الحافظ دعلجا السِّجزيَّ، قال: حدثنا موسى بن هارون بحديث حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة، قال: قال: " الملائكة تصلي على أحدكم مادام في مصلاه "، قال موسى: إذا قال حماد بن زيد والبصريون: (قال: قال) فهو مرفوع.
قال الخطيب: قلت للبرقانيَّ: أحسب أن موسى عنى بهذا القول أحاديث ابن سيرين خاصة؟ قال: كذا تحسب. (2).
قلت فهذا المثال لايصلح أن تُبْنى عليه قاعدة، وقول موسى بن هارون الحمَّال غير صحيح الإطْلاق، وما حسبه الخطيب من كون ذلك هناك محصوراً فيما يرويه ابن سيرين خاصة عن أبي هريرة صواب، ما لم تكن هناك قرينة في سياق الخبر تجعله على أصل الوقف.
وواقع الأمر أن ابن سيرين حدث عن أبي هريرة بأحاديث لم يكن يذكر فيها الرفع الصريح إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وهي محفوظة من حديث أبي هريرة
--------------------------------------------
এর উদাহরণ: আসওয়াদ ইবনে আমির শাযান যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বা, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইদরিস আল-আওদী, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেছেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন সালাত না পড়ে যখন সে মলাদি (প্রস্রাব-পায়খানা) চেপে রাখা অবস্থায় থাকে" (১)।
এই মাসআলার নির্যাস হলো: এই রূপটি এককভাবে হাদিসটি মারফু হওয়ার ফায়দা দেয় না, বরং এই দিক থেকে এটি মাওকুফ। আর উল্লিখিত এই উদাহরণটি মূলত শু'বার বর্ণনায় 'রাফ' (রাসূলের দিকে সম্বন্ধ করা) এবং 'ওয়াকফ' (সাহাবীর কথা হিসেবে রাখা) নিয়ে বিদ্যমান মতভেদের অন্তর্ভুক্ত। এই মাসআলায় এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর যা ইল্লাত বা ত্রুটি থেকে মুক্ত। ফলে এটি এই কথা বলার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যে, এই শব্দচয়নটি হাদিসটিকে মারফু হওয়ার ফায়দা প্রদান করে।
আর মুহাম্মদ ইবনে সিরিন সম্পর্কে এ বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কখনো হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা ছেড়ে দিতেন অথচ তা তাঁর নিকট মারফু ছিল—গবেষণার আলোকে এ বিষয়টি সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এর ব্যাখ্যা হলো: হাফেজ দালাজ আস-সিজজি বলেছেন: মূসা ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেছেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: "ফেরেশতারা তোমাদের একজনের জন্য প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে থাকে", মূসা বলেন: যখন হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং বসরীগণ "(তিনি) বলেছেন: (তিনি) বলেছেন" বলেন, তখন সেটি মারফু হিসেবে গণ্য।
খতিব (আল-বাগদাদী) বলেন: আমি বারকানীকে বললাম: আমার মনে হয় মূসা এই কথা দ্বারা বিশেষভাবে ইবনে সিরিনের হাদিসগুলো বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন: তুমি তেমনই মনে করতে পার। (২)।
আমি বলছি: এই উদাহরণটি কোনো নিয়ম বা মূলনীতি গঠনের জন্য উপযুক্ত নয়। মূসা ইবনে হারুন আল-হাম্মালের বক্তব্যটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়। খতিব যা ধারণা করেছেন যে, বিষয়টি বিশেষভাবে ইবনে সিরিন কর্তৃক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেটিই সঠিক; যতক্ষণ না খবরের প্রেক্ষাপটে এমন কোনো আলামত থাকে যা একে মূলগতভাবে মাওকুফ হিসেবে সাব্যস্ত করে।
বাস্তবতা হলো, ইবনে সিরিন আবু হুরায়রা থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি স্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হাদিসটিকে সম্বন্ধ (রাফ) করতেন না, অথচ সেগুলো আবু হুরায়রার হাদিস হিসেবে সংরক্ষিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مرفوعاً، أحياناً يوجد ذلك من رواية ابن سيرين نفسه عن أبي هريرة، يكون حدَّث به عنه لا يذكر الرفع، وتارةً يذكره، كما يكون مرفوعاً من رواية غير ابن سيرين عن أبي هريرة.
وهذا ما جاءت به الطرق للحديث المذكور، فإنه رواه من البصريين: أيوب السخستاني (1)، وهشام بن حسان (2) وعمران بن مسلم القصير (3)، جميعاً عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم به.
واستدل الخطيب لما حسب بقول ابن سيرين: " كل شيء حدثت عن أبي هريرة فهو مرفوع "
… (4).
وصح عن محمد بن سيرين: أنه كان إذا حدث عن أبي هريرة، فقيل له: عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال: " كل حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم " (5).
قال الطَّحاوي: " وإنما كان يفعل ذلك؛ لأن أبا هريرة لم يكن يحدثهم إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم " (6).
وفي هذا عن ابن سيرين فائدة خاصة، وهي أن الخبر إذا جاء عنه عن أبي هريرة مرفوعاً وموقوفاً، فإن ذلك لا يعد من الاختلاف القادح في صحة الرفع، بل الحكم بالرفع متعين.
--------------------------------------------
মারফূ হিসেবে; কখনও কখনও এটি স্বয়ং ইবনে সীরীনের বর্ণনায় আবু হুরায়রা থেকে পাওয়া যায়, যেখানে তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেন কিন্তু মারফূ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন না, আবার কখনও তা উল্লেখ করেন; যেমনটি ইবনে সীরীন ব্যতীত অন্যদের বর্ণনায় আবু হুরায়রা থেকে মারফূ হিসেবে পাওয়া যায়।
আর উল্লেখিত হাদীসটির বিভিন্ন সূত্রে এটিই এসেছে; কেননা বসরার বর্ণনাকারীদের মধ্যে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানী (১), হিশাম ইবনে হাসসান (২) এবং ইমরান ইবনে মুসলিম আল-কাসীর (৩) সকলেই ইবনে সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি বলেছেন।
আর খতীব (আল-বাগদাদী) তাঁর ধারণার সপক্ষে ইবনে সীরীনের এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আমি আবু হুরায়রা থেকে যা কিছুই বর্ণনা করি না কেন, তা মারফূ (রাসূলুল্লাহর বাণী)।"
… (৪)।
মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি যখন আবু হুরায়রা থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতো: (এটি কি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে? তখন তিনি বলতেন: "আবু হুরায়রার বর্ণিত সকল হাদীসই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে।" (৫)।
ইমাম তহাভী বলেন: "তিনি মূলত এমনটি করতেন; কারণ আবু হুরায়রা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতেন না।" (৬)।
আর ইবনে সীরীনের এই বর্ণনার মধ্যে একটি বিশেষ উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো: যদি তাঁর পক্ষ থেকে আবু হুরায়রার সূত্রে কোনো বর্ণনা মারফূ ও মাওকূফ উভয়ভাবে আসে, তবে মারফূ হওয়ার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে একে ক্ষতিকর মতভেদ হিসেবে গণ্য করা হবে না, বরং একে মারফূ হিসেবেই হুকুম দেওয়া অবধারিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المسألة الرابعة: ما لا يقال مثله بمجرد الاجتهاد، فالأصل أن يكون مرفوعاً حكماً.
وذلك كتحديث الصحابي بما لا سبيل إلا معرفته إلا عن طريق الوحي، مع ضميمةِ أن لا يكون الصحابي يحدث بالإسرائيليَّات فيما يمكن أن يكون من أخبار أهل الكتاب مثل: ما يتصل بأخبار السابقين وبدء الخلق ومستقبل الزمان، ومن أشهر من عرف من الصحابة بالتحديث عن أهل الكتاب: عبد الله بن عمرو بن العاص، وأبو هريرة، وربَّما وقع لغيرهما، خُصوصا من نزل الشام من الصحابة.
ولما كان قد يعسر تبيُّن إن كان الصَّحابي حمل الرواية عن أهل الكتاب، أو كان بتوقيف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، من أجل أنه ليس لدينا ما يقطع في هذا، إنما هو قائم على المظنة، فالتحري يوجب أن يرد في سياق الخبر قرينة غير ما تقدم تدل على ضعف احتمال أن يكون من أخبار أهل الكتاب.
وذلك كقول أبي سعيد الخدريُّ " من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة أضاء الله له من النور ما بينه وبين العتيق " (1).
فأبو سعيد ليس معروفاً بالتحديث بالإسرائيليَّات، وحدث بشيء هو مما اختُصت به هذه الأمة، وهو فضل قراءة سورة الكهف، وهي مما أنزل الله على محمد صلى الله عليه وسلم، وذكر البيت العتيق وليس لأهل الكتاب فيه شأن.
--------------------------------------------
চতুর্থ মাসআলা: এমন বিষয় যা কেবল ইজতিহাদের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়, তার মূলনীতি হলো তা হুকমান মারফু হিসেবে গণ্য হবে।
আর তা হলো সাহাবীর এমন কোনো সংবাদ প্রদান করা যা ওহীর পথ ছাড়া অন্য কোনোভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে এর সাথে শর্ত হলো যে, সাহাবী যেন এমন বিষয়ে ইসরাইলি বর্ণনা (আহলে কিতাবদের থেকে প্রাপ্ত সংবাদ) থেকে বর্ণনা না করেন যা আহলে কিতাবদের সংবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; যেমন: পূর্ববর্তী উম্মতদের সংবাদ, সৃষ্টির সূচনা এবং ভবিষ্যৎ কালের ঘটনাবলী। সাহাবীদের মধ্যে যারা আহলে কিতাবদের থেকে বর্ণনা করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস এবং আবু হুরায়রা। তবে সম্ভবত অন্যদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকতে পারে, বিশেষ করে সেই সব সাহাবীদের ক্ষেত্রে যারা সিরিয়ায় (শাম) বসবাস করেছিলেন।
যেহেতু কোনো সাহাবী বর্ণনাটি আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করেছেন নাকি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত নির্দেশের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন তা নিরূপণ করা কঠিন হতে পারে, কারণ এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং এটি প্রবল ধারণার ওপর নির্ভরশীল। তাই সতর্কতার দাবি হলো, সংবাদের প্রেক্ষাপটে পূর্বোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও এমন কোনো আলামত থাকতে হবে যা নির্দেশ করবে যে এটি আহলে কিতাবদের সংবাদ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
যেমন আবু সাঈদ খুদরীর উক্তি: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য নিজের এবং বাইতুল আতিকের মধ্যবর্তী স্থান নূর দ্বারা আলোকিত করে দেবেন" (১)।
আবু সাঈদ ইসরাইলি বর্ণনা প্রচারের জন্য পরিচিত নন। তাছাড়া তিনি এমন একটি বিষয় বর্ণনা করেছেন যা এই উম্মতের জন্য সুনির্দিষ্ট, আর তা হলো সূরা কাহাফ পাঠের ফযীলত। এটি আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল করেছেন। এছাড়া এতে 'বাইতুল আতিক'-এর উল্লেখ রয়েছে, যার সাথে আহলে কিতাবদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومما يجب أن يحتاط فيه من هذه الصورة.
ما يقوله الصحابي من إثبات تحليل أو تحريم، فمن الناس من يدعي أن له حكم الرفع، وهذا خطأ، فإن الصحابة كانوا يُفتون الناس في الحلال والحرام، وكما وسع من بعدهم من العلماء أن يحلوا ويحرموا باجتهادهم فيما لا نص فيه، فعلماء الصحابة هم سادة المجتهدين لهذه الأمة، وقد سبقوا إلى أن قالوا باجتهادهم فأحلوا وحرموا، واختلفوا في المسائل بسبب ذلك.
المسألة الخامسة: قول الصحابي (أمرنا بكذا .. نهينا عن كذا .. كنا نؤمر بكذا .. كنا ننهى بكذا .. كنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم نفعل كذا .. كنا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم فينا .. من السنة كذا) وشبه ذلك، فهو حديث مسند مرفوع حكما في قول أكثر أهل العلم، وهو الصواب (1).
وذلك بناء على أن حال ما يحكيه الصحابي من ذلك إنما كان لبيان شرائع الدين، والتبليغ عن النبي صلى الله عليه وسلم، خصوصا ولا يكاد يوجد الشيء من ذلك لا شاهد له من النصوص المسندة صراحة إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
قال الخطيب: " والدليل عليه: أن الصحابي إذا قال: أمرنا بكذا، فإنما يقصد الاحتجاج لإثبات شرع وتحليل وتحريم وحكم يجب كونه مشروعا (2).
مثاله: ماحدث به مصعب بن سعد بن أبي وقاص، قال: صليت إلى جنب أبي، فلما ركعت شبكت أصابعي، وجعلتهما بين ركبتي، فضرب يدي، فلما صلى قال: قد كنا نفعل هذا، ثم أمرنا أن نرفع إلى الركب (3).
--------------------------------------------
এই অবস্থার ক্ষেত্রে যে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক তা হলো—
কোনো সাহাবী যখন কোনো কিছু হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করার বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেন, তখন কিছু মানুষ দাবি করেন যে সেটি 'মরফু' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর) সমপর্যায়ের। অথচ এটি একটি ভুল ধারণা; কারণ সাহাবীগণ মানুষকে হালাল ও হারাম বিষয়ে ফতোয়া দিতেন। আর তাঁদের পরবর্তী যুগের আলেমগণ যেমন নস (সুস্পষ্ট দলীল) নেই এমন বিষয়ে নিজ ইজতিহাদের মাধ্যমে হালাল বা হারাম হওয়ার অভিমত দেওয়ার অবকাশ পেয়েছেন, তেমনি সাহাবীগণের মধ্যে যারা আলেম ছিলেন তাঁরাই এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ। তাঁরা ইজতিহাদের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন, ফলে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়কে হালাল বা হারাম বলেছেন এবং এই কারণে বিভিন্ন মাসআলায় তাঁদের মধ্যে মতভেদও হয়েছে।
পঞ্চম মাসআলা: কোনো সাহাবীর এই জাতীয় উক্তি—"আমাদেরকে অমুক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে...", "আমাদেরকে অমুক কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে...", "আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হতো...", "আমাদেরকে নিষেধ করা হতো...", "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমনটি করতাম...", "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে থাকা অবস্থায় এমনটি বলতাম...", "সুন্নাহ হলো অমুক..." এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। অধিকাংশ আলেমদের মতে এই ধরনের বক্তব্য 'হুকমান মরফু' বা পরোক্ষভাবে রাসূলের হাদীস হিসেবে গণ্য এবং এটিই সঠিক অভিমত (১)।
এর ভিত্তি হলো এই যে, সাহাবী যখন এই ধরনের বর্ণনা দেন, তখন সেটি মূলত শরীয়তের বিধান বর্ণনা করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে এ জাতীয় বক্তব্যের অনুকূলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সরাসরি বর্ণিত স্পষ্ট কোনো দলীলের সমর্থন পাওয়া যাবে না—এমনটি সচরাচর ঘটে না।
খতীব বাগদাদী (রহ.) বলেন: "এর প্রমাণ হলো: সাহাবী যখন বলেন 'আমাদেরকে অমুক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে', তখন তিনি মূলত শরীয়তের বিধান, হালাল, হারাম অথবা এমন কোনো হুকুম সাব্যস্ত করার দলিল হিসেবেই তা পেশ করতে চান, যা শরীয়তসম্মত হওয়া আবশ্যক (২)।"
এর উদাহরণ: মুসআব বিন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার পাশে সালাত আদায় করছিলাম। রুকু করার সময় আমি আমার উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো একে অপরের ভেতর ঢুকিয়ে হাঁটুর মাঝখানে রাখলাম। তখন তিনি আমার হাতে আঘাত করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন: আমরা এক সময় এমনটি করতাম, কিন্তু পরে আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা (উভয় হাত) হাঁটুর ওপর রাখি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীরু উলুমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وذهب بعض أهل العلم، كابن حزم، إلى أن هذه الصورة ليست مسنداً مرفوعاً (1).
واعترض بعضهم باحتمال أن يكون الآمر الناهي من بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وهذا ضعيف، فإن الصحابة فيما دل عليه الاستقراء لم يكونوا يستعملون ذلك في أمر أو نهي أوسنة أحد إلا النبي صلى الله عليه وسلم.
قال الشافعي وقد ذكر حديثا عن ابن عباس والضحاك بن قيس فيه: (كذا وكذا سنة): " وابن عباس والضحاك بن قيس رجلان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، لا يقولان: (السنة) إلا لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إن شاء الله " ، وقال: " وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم لا يقولون بالسنة والحق إلا لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إن شاء الله تعالى " (2).
قلت: وقول الشافعي: (إن شاء الله)، من أجل مظنة أن يقول الصحابي الشيء من ذلك بمحض اجتهاده، وليس بمنزلة المرفوع الصحيح.
وأما قصة حنظلة السَّدوسيِّ قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان يؤمر بالسوط فتقطع ثمرته
… (3)، ثم يدق بين حجرين، ثم يضرب به. فقلت لأنس: في زمان من كان هذا؟ قال: في زمان عمر بن الخطاب. فهذا خبر لا يصح رواية، فلا يتعقب بمثله (4).
وإذا حكى الصحابي أمرا شائعا، ونسبه إلى عامة الصحابة، كأن
--------------------------------------------
ইবনু হাযমের মতো কোনো কোনো আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বর্ণনার এই রূপটি 'মুসনাদ মারফূ' নয় (১)।
কেউ কেউ এই সম্ভাবনা ব্যক্ত করে আপত্তি তুলেছেন যে, আদেশদাতা বা নিষেধকারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরবর্তী কেউ হতে পারেন।
এটি একটি দুর্বল অভিমত; কেননা অনুসন্ধানে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো আদেশ, নিষেধ বা সুন্নাহর ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো ব্যবহার করতেন না।
ইমাম শাফিঈ ইবনু আব্বাস এবং যাহহাক ইবনু কায়েস থেকে একটি হাদীস উল্লেখ করে তাতে বলেছেন: (অমুক অমুক হচ্ছে সুন্নাহ): "ইবনু আব্বাস এবং যাহহাক ইবনু কায়েস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুজন সাহাবী। তারা 'সুন্নাহ' শব্দটি ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ যদি চান) একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ক্ষেত্রেই বলতেন।" তিনি আরও বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ 'সুন্নাহ' ও 'হক' বলতে মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকেই বুঝাতেন" (২)।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইমাম শাফিঈর 'ইনশাআল্লাহ' (আল্লাহ যদি চান) বলাটি এই সম্ভাবনা থেকে যে, সাহাবী হয়তো তাঁর নিছক ইজতিহাদের ভিত্তিতে এমনটি বলতে পারেন, যা সহীহ মারফূ হাদীসের সমমর্যাদার নয়।
আর হানজালা আস-সাদূসীর ঘটনার ক্ষেত্রে তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনু মালিককে বলতে শুনেছি: চাবুকের নির্দেশ দেওয়া হতো এবং এর অগ্রভাগ কেটে ফেলা হতো... (৩), এরপর তা দুটি পাথরের মাঝে রেখে পেষা হতো, তারপর তা দিয়ে প্রহার করা হতো। আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম: এটি কার সময়ে ছিল? তিনি বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের সময়ে। এই খবরটি বর্ণনার দিক থেকে বিশুদ্ধ নয়, সুতরাং এর দ্বারা কোনো কিছুর পিছু নেওয়া (বা দলিল খণ্ডন) করা যায় না (৪)।
আর যখন সাহাবী কোনো প্রচলিত বিষয়ের বর্ণনা দেন এবং তা সকল সাহাবীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, যেন
--------------------------------------------