(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: -)
الروض الندي شرح كافي المبتدي   (أحمد بن عبد الله البعلي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: الروض الندي شرح كافي المبتدي - في فقه إمام السنة أحمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه

المؤلف: أحمد بن عبد الله بن أحمد البعلي (1108 - 1189 هـ)

أشرف على طبعه وتصحيحه: عبد الرحمن حسن محمود، من علماء الأزهر

الناشر: المؤسسة السعيدية - الرياض

عدد الصفحات: 542

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1437

আর-রাওদুন নাদি শারহু কাফিল মুবতাদি   (আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বালি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: আর-রাওদুন নাদি শারহু কাফিল মুবতাদি - সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফিকহ শাস্ত্রে

লেখক: আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-বালি (১১০৮ - ১১৮৯ হিজরি)

মুদ্রণ ও সংশোধন তত্ত্বাবধান: আব্দুর রহমান হাসান মাহমুদ, আল-আজহারের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত

প্রকাশক: আল-মুয়াসসাসাতুস সাঈদিইয়াহ - রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাযু নুখাবিল ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নাসসাখ দল

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

الحمد لله الذي فقه في الدين من أراد به خيراً عظيماً، وأعلى قدر من وفقه لطاعته فسبقت له السعادة في أزليته قديماً. فسبحانه من إله ستر عيوب من هداه لشرائع الأحكام، وشرح صدره وجعل فضله عليه عميما.

أحمده وأشكره مستزيداً من نعمه مستديماً. وأتوب إليه وأستغفره وأسأله جنة عالية ونعيما.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إله لم يزل منعما كريماً. وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله نبي من تمسك بشريعته فقد فاز فوزاً عظيما.

صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وتابعيه صلاة تعممهم بها تعميما. وسلم تسليما.

أما بعد فإن الاشتغال بالعلم من أفضل الأعمال، خصوصاً علم الحلال والحرام.

فلقد سنح بالبال أن أقصد الكتاب الموسوم بكافي المبتدي تأليف الشيخ الإمام العالم العلامة محمد بن بدر الدين بن عبد القادر بن بلبان الخزرجي القادري الحنبلي رحمه الله تعالى وأسكنه فسيح جنته ببعض مطالعة، فرأيته في غاية الإيجاز، مبرءاً عن وصمة الألغاز، ولغاية إيجازه لم أطلع على معظم معانيه لكون بضاعتي مزجاة. فاستخرت الله تعالى وطلبت منه المعونة أن أضم إليه بعض إيضاح ما وراء الحجاب، مع ضم ما تيسر عقله من قيود يتعين التنبيه عليها للطلاب، مع عجزي وعدم أهليتي لسلوك تلك المسالك. لكن ضرورة كونه لم يشرح فعلت ذلك "طالباً من الله جميل الأجر وجزيل الثواب".

وسميته "الروض الندي، بشرح كافي المبتدي". والله أسأل أن ينفعني ومن اشتغل به فإنه أكرم من أجاب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেছেন তাকে যার জন্য তিনি মহা কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত করেছেন যাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফীক দান করেছেন, ফলে অনাদিকাল থেকেই তার জন্য সৌভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। তিনি পরম পবিত্র সেই ইলাহ, যিনি তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত বান্দাদের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রেখেছেন এবং তাদের বিধি-বিধানের শরীয়তের দিকে পরিচালিত করেছেন, তাদের অন্তরকে উন্মোচিত করেছেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহকে ব্যাপক করেছেন।

আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাঁর নেয়ামতসমূহের ক্রমাগত ও চিরস্থায়ী বৃদ্ধির প্রত্যাশায়। আমি তাঁরই সমীপে তওবা করছি, ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট সুউচ্চ জান্নাত ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভিক্ষা করছি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি এমন এক ইলাহ যিনি সর্বদা অনুগ্রহকারী ও মহানুভব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি এমন এক নবী যাঁর শরীয়তকে যে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে এক মহা সফলতা অর্জন করবে।

আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর—এমন এক দরুদ যা তাঁদের সকলকে পূর্ণরূপে বেষ্টন করে নেয়। এবং তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, ইলম বা জ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করা সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে হালাল ও হারামের জ্ঞান।

আমার অন্তরে এই চিন্তার উদয় হলো যে, আমি শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম মুহাম্মাদ বিন বদরুদ্দীন বিন আব্দুল কাদির বিন বালবান আল-খাযরাজী আল-কাদিরী আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন) কর্তৃক রচিত 'কাফি আল-মুবতাদি' নামক গ্রন্থটি নিয়ে কিছু পর্যালোচনা করি। আমি গ্রন্থটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং দুর্বোধ্যতার ত্রুটি থেকে মুক্ত দেখতে পেলাম। কিন্তু এর অত্যধিক সংক্ষিপ্ততার কারণে এবং আমার জ্ঞান সামান্য হওয়ায় আমি এর অধিকাংশ অর্থ অনুধাবন করতে পারছিলাম না। তাই আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম যেন আমি এই আবরণের অন্তরালে থাকা বিষয়সমূহের কিছু ব্যাখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যা সতর্ক করা জরুরি এমন কিছু সহজবোধ্য শর্তাবলি এতে যোগ করতে পারি; যদিও এই পথে চলার ক্ষেত্রে আমার অক্ষমতা ও অযোগ্যতা অনস্বীকার্য। কিন্তু গ্রন্থটির কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ না থাকার প্রয়োজনীয়তা থেকে আমি এই কাজ করেছি "আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদান ও প্রচুর সওয়াবের আশায়"।

আমি এর নামকরণ করেছি "আর-রাওদুন নাদী, বি শারহি কাফি আল-মুবতাদি"। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং যারা এটি নিয়ে অধ্যয়ন করবে তাদের সকলকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারীদের মধ্যে সর্বাধিক মহানুভব।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي هدانا لمعرفة الحلال والحرام، وأوجب علينا طاعة نبينا محمد سيد الأنام، وندبنا لاتباع شريعته الغراء ومعرفة الأحكام،

ــ

بسم الله الرحمن الرحيم

أي بسم مسمى اللفظ الأعظم الموصوف بكمال الإنعام في الرحمة وبما دون أو بإرادة ذلك أؤلف مستعيناً أو ملابساً على وجه التبرك. وابتدأ كتابه بها تأسياً بالكتاب العزيز، وعملاً بقوله عليه السلام: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر" وفي وراية "بالحمد لله" وجمع بينهما بقوله (الحمد لله) والحمد هو الثناء على الله تعالى بجميل صفاته. وعرفاً فعل ينبيء عن تعظيم المنعم من حيث إنعامه. والشكر لغة هو الحمد عرفاً، واصطلاحاً صرف العبد جميع ما أنعم الله به عليه لما خلق لأجله. وبين الحمد والشكر اللغويين عموم وخصوص وجهي، فعموم الحمد أنه لمبدي النعمة وغيره، وخصوصه أن لا يكون إلا باللسان. وعموم الشكر أنه يكون بغير اللسان، وخصوصه أنه لا يكون إلا لمبدأ النعمة. قال الشاعر:

أفادتكم النعماء مني ثلاثة … يدي ولساني والضمير المحجبا

وقيل هما سواء. وقوله (الذي هدانا) أي دلنا وأرشدنا (لمعرفة الحلال) وهو ما قابل الحرام، فيعم الواجب والمندوب والمكروه والمباح. والمباح يطلق على الثلاثة فيقال للواجب والمندوب والمكروه مباح، ويقال لهذه الثلاثة. والمباح حلال، ولكن إطلاق المباح على ما استوى طرفاه هو الأصل (والحرام) وهو ضد الواجب باعتبار تقسيم أحكام التكليف، وفي الحقيقة ضد الحلال وهو ما ذم فاعله ولو قولا وعمل قلب شرعاً (وأوجب علينا طاعة نبينا محمد) صلى الله عليه وسلم (سيد الأنام).

والواجب لغة الساقط والثابت، وشرعاً ما ذم تاركه قصداً مطلقاً. والطاعة موافقة الأمر، والمعصية مخالفته. وكل قربة طاعة ولا عكس. والنبي بلا همز وعليه الأكثر من النبوة وهي الرفعة لأن النبي مرفوع الرتبة، وبالهمز من النبأ أي الخبر لأنه مخبر عن الله تعالى. ومحمد علم منقول من التحميد مشتق من اسمه تعالى الحميد كأحمد. وأسماؤه عليه السلام كثيرة. قال بعض الصوفية لله عز وجل ألف إسم، وللنبي عليه السلام ألف إسم. والسيد الذي يفوق في الخير قومه، وقيل التقي، وقيل غير ذلك. والأنام الخلق. (وندبنا لاتباع شريعته الغراء ومعرفة الأحكام).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের হালাল ও হারামের পরিচয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন, এবং আমাদের ওপর সৃষ্টিজগতের সর্দার আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন, আর আমাদের তাঁর উজ্জ্বল শরীয়তের অনুসরণ ও বিধানসমূহ জানার প্রতি আহ্বান করেছেন।

—

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

অর্থাৎ, করুণার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিআমতের গুণে গুণান্বিত সেই মহান সত্তার নামে, অথবা তাঁর সেই নিআমত প্রদানের ইচ্ছার মাধ্যমে আমি বরকত অর্জনের উদ্দেশ্যে সাহায্য প্রার্থনা করে অথবা তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কিতাব রচনা করছি। গ্রন্থকার তাঁর কিতাব বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছেন মহান কিতাবের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ওপর আমল করে যে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।" অন্য একটি বর্ণনায় 'আলহামদুলিল্লাহ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) এসেছে। তাই তিনি "আলহামদুলিল্লাহ" বলার মাধ্যমে উভয়টিকে একত্রিত করেছেন। 'হামদ' বা প্রশংসা হলো আল্লাহর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর গুণগান করা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি এমন এক কাজ যা নিআমতদাতার সম্মান প্রদর্শনকে নির্দেশ করে তাঁর নিআমত প্রদানের প্রেক্ষিতে। শাব্দিক অর্থে 'শুকর' (কৃতজ্ঞতা) হলো পারিভাষিক 'হামদ'। আর পারিভাষিক অর্থে 'শুকর' হলো বান্দা আল্লাহ তাকে যা কিছু নিআমত দিয়েছেন তার সবটুকুকে সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা যে উদ্দেশ্যে তা সৃষ্টি করা হয়েছে। শাব্দিক অর্থে হামদ ও শুকরের মধ্যে 'সাধারণ ও বিশেষের' সম্পর্ক বিদ্যমান। হামদ-এর ব্যাপকতা হলো এটি নিআমতদাতা এবং অন্য সবার জন্য হতে পারে, আর এর বিশেষত্ব হলো এটি কেবল জিহ্বা দ্বারা সম্পন্ন হয়। পক্ষান্তরে শুকরের ব্যাপকতা হলো এটি জিহ্বা ছাড়াও অন্য মাধ্যমে (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা) হতে পারে, আর এর বিশেষত্ব হলো এটি কেবল নিআমতদাতার জন্যই হয়ে থাকে। কবি বলেছেন:

তোমাদের নিআমতসমূহ আমার পক্ষ থেকে তিনটি জিনিস লাভ করেছে … আমার হাত, আমার জিহ্বা এবং প্রচ্ছন্ন অন্তঃকরণ।

কেউ কেউ বলেছেন এ দুটি অভিন্ন। গ্রন্থকারের কথা (যিনি আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন) অর্থাৎ যিনি আমাদের দিশা দিয়েছেন ও পরিচালনা করেছেন (হালাল জানার জন্য); আর হালাল হলো হারামের বিপরীত, যা ওয়াজিব (আবশ্যক), মানদুব (পছন্দনীয়), মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং মুবাহকে (অনুমোদিত) অন্তর্ভুক্ত করে। মুবাহ শব্দটি এই তিনটির (ওয়াজিব, মানদুব ও মাকরূহ) ওপরও প্রয়োগ করা হয়। মুবাহ হালালের অন্তর্ভুক্ত, তবে যে কাজের উভয় দিক (করা ও না করা) সমান হওয়াকেই মূলত মুবাহ বলা হয়। (আর হারাম) যা দায়বদ্ধতামূলক বিধানের বিভাজন অনুযায়ী ওয়াজিবের বিপরীত। প্রকৃতপক্ষে এটি হালালের বিপরীত, যার সম্পাদনকারী শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দিত হয়, হোক তা কোনো কথা বা অন্তরের কাজ। (এবং আমাদের ওপর আমাদের নবী মুহাম্মাদের আনুগত্য ওয়াজিব করেছেন) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যিনি সৃষ্টিজগতের সর্দার)।

'ওয়াজিব' শাব্দিক অর্থে পতিত ও সাব্যস্ত হওয়া। আর শরীয়তের পরিভাষায়, যার ত্যাগকারীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ও ঢালাওভাবে নিন্দা করা হয়। আনুগত্য হলো আদেশের অনুবর্তিতা, আর অবাধ্যতা হলো তার বিরোধিতা করা। প্রত্যেক ইবাদত বা নৈকট্যমূলক কাজই আনুগত্য, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়। 'নবী' শব্দটি হামযাহ ব্যতীত হওয়াই অধিক প্রচলিত যা 'নুবুওয়াত' থেকে গৃহীত; এর অর্থ হলো উচ্চতা, কেননা নবীর মর্যাদা সুউচ্চ। আর হামযাহসহ পাঠ করা হলে এটি 'নাবা' (সংবাদ) থেকে গৃহীত, অর্থাৎ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী। 'মুহাম্মাদ' শব্দটি 'তাহমিদ' থেকে রূপান্তরিত একটি বিশেষ্য, যা আল্লাহর নাম 'হামিদ' থেকে উদ্ভূত, যেমন 'আহমদ' নামটি উদ্ভূত। তাঁর (রাসূলের) অনেক নাম রয়েছে। কোনো কোনো সূফী বলেছেন, মহান আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে এবং নবীরও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজার নাম রয়েছে। 'সায়্যিদ' বা সর্দার তিনি, যিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে কল্যাণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন; কেউ বলেছেন তিনি মুত্তাকী, আবার কেউ ভিন্ন মত দিয়েছেন। 'আনাম' অর্থ সৃষ্টিজগত। (এবং আমাদের তাঁর উজ্জ্বল শরীয়তের অনুসরণ ও বিধানসমূহ জানার প্রতি আহ্বান করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأباح لنا النظر إلى وجهه المجيد في دار السلام وكره إلينا الكفر والفسوق والعصيان والآثام.

ــ

المندوب تكليف ومأمور به حقيقة فيكون للفور، ولغة المدعو لهم، من الندب وهو الدعاء لأمر مهم، قال الشاعر:

لا يسألون أخاهم حين يندبهم … في النائبات على ما قال برهانا

وشرعاً ما أثيب فاعله ولو قولاً وعمل قلب ولم يعاقب تاركه مطلقاً. والشريعة الغراء الشريفة.

(فائدة) الأحكام جمع حكم، وهو في اللغة القضاء والحكمة، وفي الإصطلاح مدلول خطاب الشرع، فإن ورد بطلب فعل مع جزم -أي قطع- مقتض للوعيد على الترك فإيجاب نحو (أقيموا الصلاة وآتوا الزكاة) وإن ورد بطلب فعل ليس معه جزم فندب نحو (وأشهدوا إذا تبايعتم) وإن ورد بطلب ترك مع جزم أي قطع مقتض للوعيد على الفعل فتحريم نحو (لا تأكلوا الربا). وإن ورد بطلب ترك ليس معه جزم فكرتهة كقوله عليه السلام (إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامداً إلى المسجد فلا يشبك بين أصابعه فإنه في صلاة). وإن ورد بتخيير بين الفعل والترك فإباحة كقوله عليه السلام حين سئل عن الوضوء من لحوم الغنم "إن شئت فتوضأ وإن شئت فلا تتوضأ" وإن لم يرد خطاب الشرع بشيء من هذه الصيغ الخمس وورد بنحو صحة أو فساد أو نصب الشيء سبباً أو مانعاً أو شرطاً أو كون الفعل أداء أو قضاء أو رخصة أو عزيمة سمي خطاب الوضع، ويسمى الأول خطاب التكليف. ولا تتقيد استفادة الأحكام من صريح الأمر والنهي بل تكون بنص أو إجماع أو قياس. والمشكوك ليس بحكم. والوقف مذهب والله أعلم.

(وأباح لنا النظر إلى وجهه المجيد في دار السلام) والمباح لغة المعلن، وشرعاً ما خلا من مدح وذم لذاته وليس مأموراً به، وتقدم بعض الكلام عليه. والمجيد قيل الشريف وقيل العظيم وقيل المقتدر على الإنعام والفضل. ودار السلام هي الجنة.

(وكره إلينا الكفر والفسوق والعصيان والآثام) والمكروه ضد المندوب ولغة ضد المحبوب، قال الله تعالى (وكره إليكم الكفر والفسوق والعصيان) فأخبر عز وجل أنه بغض إلى المؤمن المعصية فلا يتعمدها ولكن يقع فيها غفلة. والمكروه شرعاً ما مدح تاركه ولم يذم فاعله، وهو تكليف ومنهي عنه حقيقة ومطلق الأمر
এবং তিনি আমাদের জন্য দারুস সালামে (শান্তিনিকেতনে) তাঁর মহিমান্বিত চেহারার দিকে তাকানো বৈধ করেছেন এবং কুফরি, পাপাচার, অবাধ্যতা ও গুনাহসমূহকে আমাদের কাছে অপছন্দনীয় করেছেন।

--

মানদুব (পছন্দনীয় কাজ) হলো একটি বিধান এবং এটি প্রকৃতপক্ষেই আদেশকৃত, তাই এটি তাৎক্ষণিকভাবে পালনীয়। আভিধানিক অর্থে এটি আহুত ব্যক্তি, যা 'নাদব' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ডাকা। কবি বলেছেন:

তারা তাদের ভাইকে প্রশ্ন করে না যখন সে তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডাকে … বিপদ-আপদে তার কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ ছাড়াই।

আর শরিয়তের পরিভাষায়, যা পালনকারী সওয়াব পায়—হোক তা কথা কিংবা অন্তরের আমল—এবং যার বর্জনকারী মোটেও শাস্তিযোগ্য হয় না। আর এটি হলো গৌরবময় সম্মানিত শরিয়ত।

(ফায়দা) আহকাম শব্দটি হুকুম (বিধান)-এর বহুবচন। এটি আভিধানিক অর্থে ফয়সালা ও প্রজ্ঞা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি শরিয়তের সম্বোধনের নির্দেশক। যদি কোনো কাজ করার জন্য অকাট্য নির্দেশ আসে—অর্থাৎ যা অকাট্য—যা বর্জন করলে শাস্তির হুঁশিয়ারি থাকে, তবে তা হলো 'ইজাব' (আবশ্যকতা), যেমন: (তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও)। আর যদি কোনো কাজ করার নির্দেশ আসে কিন্তু তাতে কোনো অকাট্য বাধ্যবাধকতা না থাকে, তবে তা হলো 'নাদব' (পছন্দনীয়), যেমন: (তোমরা যখন কেনাবেচা করো তখন সাক্ষী রেখো)। আর যদি কোনো কাজ বর্জনের জন্য অকাট্য নির্দেশ আসে—অর্থাৎ যা অকাট্য—যা পালনে শাস্তির হুঁশিয়ারি থাকে, তবে তা হলো 'তাহরীম' (হারাম), যেমন: (তোমরা সুদ খেয়ো না)। আর যদি কোনো কাজ বর্জনের নির্দেশ আসে কিন্তু তাতে অকাট্য বাধ্যবাধকতা না থাকে, তবে তা হলো 'কারাহাত' (মাকরূহ), যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (যখন তোমাদের কেউ ওজু করে এবং উত্তমভাবে ওজু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে যেন তার হাতের আঙ্গুলগুলো একে অপরের ভেতর না ঢুকায়, কারণ সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে)। আর যদি করা বা না করার মধ্যে ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দেওয়া হয়, তবে তা হলো 'ইবাহাত' (বৈধতা), যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন ভেড়ার গোশত খেয়ে ওজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি চাইলে ওজু করতে পারো, আর চাইলে ওজু না-ও করতে পারো"। যদি শরিয়তের সম্বোধন এই পাঁচটি রূপের কোনোটিতে না আসে, বরং শুদ্ধ হওয়া বা অশুদ্ধ হওয়া অথবা কোনো কিছুকে কারণ, প্রতিবন্ধক বা শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা, অথবা কোনো কাজ আদায়, কাজা, রুখসাত বা আযিমত হওয়ার ব্যাপারে আসে, তবে তাকে 'খিতাবে ওয়াদে' (নির্ধারণমূলক সম্বোধন) বলা হয়। আর প্রথমোক্ত প্রকারকে 'খিতাবে তাকলীফ' (দায়িত্বারোপকারী সম্বোধন) বলা হয়। আহকাম বা বিধান লাভ করা শুধুমাত্র সরাসরি আদেশ ও নিষেধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা নস (কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বক্তব্য), ইজমা বা কিয়াসের মাধ্যমেও হতে পারে। সন্দেহযুক্ত বিষয় কোনো বিধান নয়। এ ক্ষেত্রে বিরত থাকাই একটি মাযহাব (মত) এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

(এবং তিনি আমাদের জন্য দারুস সালামে তাঁর মহিমান্বিত চেহারার দিকে তাকানো বৈধ করেছেন) 'মুবাহ' আভিধানিক অর্থে প্রকাশ্য বিষয়। আর শরিয়তের পরিভাষায় যা মূলত তার নিজ সত্তার কারণে প্রশংসা ও নিন্দা থেকে মুক্ত এবং যা করার জন্য কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কিছু আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। 'মাজীদ' সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এর অর্থ হলো সম্মানিত, আবার কেউ বলেছেন মহান, আবার কেউ বলেছেন অনুগ্রহ ও করুণা প্রদানে সক্ষম। আর 'দারুস সালাম' হলো জান্নাত।

(এবং কুফরি, পাপাচার, অবাধ্যতা ও গুনাহসমূহকে আমাদের কাছে অপছন্দনীয় করেছেন) 'মাকরূহ' হলো 'মানদুব'-এর বিপরীত এবং আভিধানিক অর্থে তা 'মাহবুব' (পছন্দনীয়)-এর বিপরীত। মহান আল্লাহ বলেন: (আর তিনি তোমাদের নিকট কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করেছেন)। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুমিনের নিকট গুনাহকে অপ্রিয় করে দিয়েছেন, ফলে সে ইচ্ছাকৃতভাবে তাতে লিপ্ত হয় না, বরং অসতর্কতাবশত তাতে পড়ে যায়। আর শরিয়তের পরিভাষায় মাকরূহ হলো তা-ই, যার বর্জনকারী প্রশংসিত হয় কিন্তু সম্পাদনকারী নিন্দিত হয় না। এটিও একটি বিধান এবং প্রকৃতপক্ষে এটি নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সাধারণ আদেশেরই অংশ।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أحمده حمد مقر له بالوحدانية على الدوام، وأشكره شكر عبد أسدل عليه سوابغ الإنعام. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ذو الجلال والإكرام.

وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الداعي للتفقه في الدين الخاص والعام صلى الله عليه وسلم.

ــ

لا يتناوله. (أحمده) سبحانه وتعالى، أي أثني عليه مرة بعد أخرى بجميل صفاته (حمد مقر له) تعالى (بالوحدانية على الدوام) وعبر بالجملة المضارعية بعد الجملة الإسمية اقتداء به عليه السلام، ففي خبر مسلم وغيره "إن الحمد لله نحمده ونستعينه" فالأولى تدل على الدوام والثبوت والثانية تدل على التجدد والحدوث. (وأشكره) تعالى (شكر عبد) مصدر مضاف إلى فاعله (أسدل عليه) مولاه بفضله (سوابغ الإنعام) جمع نعمة، قيل هي بمعنى الرحمة، والإنعام الإعطاء من غير مقابلة. (وأشهد أن لا إله) أي لا معبود بحق في الوجود (إلا الله وحده) أي منفرداً (لا شريك له) في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله، (ذو) أي صاحب (الجلال والإكرام، وأشهد أن) سيدنا (محمداً عبده ورسوله) والعبد القائم بحقوق العبودية، قال أبو علي الدقاق: ليس شيء أشرف ولا أتم للمؤمن بالوصف من العبودية، والرسول من أوحي إليه بشرع وأمر بتبليغه، فهو أخص من النبي (الداعي للتفقه) أي التفهم (في الدين) وهو ما شرعه الله تعالى من الأحكام المتقدمة، فقد دعا عليه لذلك (الخاص والعام) جزاه الله عنا خير ما هو أهله صلى الله عليه وسلم الصلاة من الله الرحمة ومن الملائكة الاستغفار ومن غيرهم تضرع ودعاء، وقيل صلاة الله ثناؤه عليه وإرادة إكرامه برفع ذكره ومنزلته وتقريبه، وأن صلاتنا نحن عليه سؤالنا الله تعالى أن يفعل ذلك به اختاره ابن القيم. والسلام بمعنى التحية أو السلامة من الرذائل والنقائص والأمان.

تتمة: اختلف في وجوب الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم، أما في الصلاة فالصحيح من المذهب أنها ركن، وأما خارج الصلاة فتستحب بتأكد على الصحيح، وتتأكد عند ذكره ويوم الجمعة وليلتها، وقيل تجب كلما ذكر اسمه، اختاره ابن بطة من الحنابلة وقال به المصنف واختاره أيضاً الحليمي من الشافعية والطحاوي من الحنفية واللخمي من المالكية.

فائدة: تجوز الصلاة على غير الأنبياء منفرداً على الصحيح من المذهب، نص عليه.
আমি তাঁর প্রশংসা করি এমন প্রশংসা যা সর্বদা তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয়, এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এমন দাসের কৃতজ্ঞতার মতো যার ওপর তিনি তাঁর অঢেল নেয়ামত বর্ষণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি বিশেষ ও সাধারণ সকল মানুষকে দ্বীনের প্রজ্ঞা অর্জনের দিকে আহ্বানকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

ــ

তা তাকে শামিল করে না। (আমি তাঁর প্রশংসা করি) তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ, অর্থাৎ আমি তাঁর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে বারবার তাঁর গুণগান করি (এমন এক স্বীকৃতিদাতার প্রশংসার মতো) আল্লাহর জন্য (সর্বদা একত্ববাদের মাধ্যমে)। আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে বিশেষ্যমূলক বাক্যের পর ক্রিয়ামূলক বাক্য ব্যবহার করেছেন। কারণ মুসলিম ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, "নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই সাহায্য চাই।" এখানে প্রথম বাক্যটি স্থায়িত্ব ও সাব্যস্ত হওয়া বোঝায় এবং দ্বিতীয়টি নবায়ন ও নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া বোঝায়। (এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি) মহান আল্লাহর (এক দাসের কৃতজ্ঞতার মতো)। এখানে মাসদারটি তার কর্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (যার ওপর বিস্তারিত করেছেন) তার প্রতিপালক তাঁর অনুগ্রহে (অঢেল নেয়ামত)। নেয়ামত-এর বহুবচন; বলা হয়েছে এটি রহমত অর্থে ব্যবহৃত। আর ইনআম অর্থ হলো কোনো বিনিময় ছাড়াই দান করা। (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে কোনো ইলাহ নেই) অর্থাৎ অস্তিত্বের জগতে কোনো সত্য উপাস্য নেই (আল্লাহ ছাড়া, তিনি একক) অর্থাৎ তিনি অদ্বিতীয়। (তাঁর কোনো শরিক নেই) তাঁর সত্তায়, তাঁর গুণাবলি কিংবা তাঁর কার্যাবলিতে। (যুল) অর্থাৎ অধিকারী (মহিমা ও সম্মানের)। (এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে) আমাদের নেতা (মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল)। বান্দা বলতে তিনি যিনি দাসত্বের হকসমূহ যথাযথ পালনকারী। আবু আলী আদ-দাক্কাক বলেন: একজন মুমিনের জন্য গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দাসত্বের চেয়ে অধিক সম্মানিত বা পরিপূর্ণ আর কিছু নেই। আর রাসূল হলেন তিনি যার নিকট শরিয়ত ওহি করা হয়েছে এবং তা প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি নবী শব্দের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট। (তফাককুহ করার দিকে আহ্বানকারী) অর্থাৎ (দ্বীনের) সঠিক বুঝ অর্জনের প্রতি। আর দ্বীন হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রবর্তিত পূর্বোল্লিখিত বিধিবিধানসমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি (বিশেষ ও সাধারণ) সকলকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যার তিনি উপযুক্ত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং অন্যদের পক্ষ থেকে মিনতি ও দোয়া। আবার বলা হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো তাঁর গুণগান করা এবং তাঁর আলোচনা ও মর্যাদা বৃদ্ধি ও নিকটবর্তী করার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করার ইচ্ছা করা। আর আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সালাত হলো আল্লাহর কাছে এই আবেদন করা যেন তিনি তাঁর প্রতি তা করেন; ইবনুল কায়্যিম এই মতটি পছন্দ করেছেন। আর 'সালাম' অর্থ অভিবাদন অথবা দোষত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্তি এবং নিরাপত্তা।

পরিশিষ্ট: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাত পাঠ করা ওয়াজিব হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নামাজের ভেতরে মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি একটি রুকন। আর নামাজের বাইরে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি তাকিদপূর্ণ মুস্তাহাব। তাঁর নাম উল্লেখ করার সময় এবং জুমার দিন ও রাতে এটি আরও গুরুত্ব পায়। কেউ কেউ বলেছেন, যতবার তাঁর নাম নেওয়া হবে ততবারই সালাত পাঠ করা ওয়াজিব। হাম্বলিদের মধ্যে ইবনে বাত্তাহ এই মতটি বেছে নিয়েছেন এবং লেখকও এটিই বলেছেন। এছাড়া শাফেয়িদের মধ্যে হালিমি, হানাফিদের মধ্যে তহাবি এবং মালিকিদের মধ্যে লাখমিও এই মতটি পছন্দ করেছেন।

ফায়দা: মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী স্বতন্ত্রভাবে আম্বিয়া কিরাম ব্যতীত অন্যদের ওপরও সালাত পাঠ করা জায়েজ। এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعلى آله وأصحابه السادة الأعلام.

وبعد: فهذا مختصر في الفقه على مذهب إمام الأئمة ومحيي السنة والصابر في المحنة الزاهد الرباني والصديق الثاني أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني

ــ

(وعلى آله) أي أتباعه على دينه، نص عليه، وعليه أكثر الأصحاب، وقيل أقاربه المؤمنون من بني هاشم والمطلب، وقيل أهله (وأصحابه) وهم الذين اجتمعوا به مؤمنين وماتوا على ذلك، وتبطل صحبته وسائر أعماله بردته إن مات عليها. (السادة) جمع سيد وتقدم الكلام عليه (الأعلام) جمع علم بفتحتين وهو في اللغة العلامة أو الجبل، وإطلاقه على الآدمي من المجاز

(وبعد) يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر استحباباً في الخطب والمكاتبات، لفعله عليه السلام وأمره، (فهذا) إشارة إلى ما تصوره في ذهنه وأقامه مقام الموجود بالعيان من الألفاظ الدالة على المعاني (مختصر) أي موجز، وهو ما قل كلامه وكثرت معانيه، قال علي رضي الله عنه: خير الكلام ما قل ودل ولم يطل فيمل (في الفقه) وهو لغة الفهم، وعرفاً معرفة الأحكام الشرعية الفرعية بالاستدلال بالفعل أو بالقوة القريبة، وقيل الأحكام نفسها. والفقيه من عرف جملة غالبة منها كذلك (على مذهب) مفعل، وهو في الأصل مصدر يصلح لمكان الذهاب وزمانه وللذهاب نفسه، ثم نقل إلى ما قاله الإنسان بدليل ومات قائلا به (إمام الأئمة) أي قدوتهم، (ومحيي) أي ناصر (السنة، والصابر في المحنة، الزاهد الرباني والصديق الثاني أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل) ابن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله بن حيان -بالياء المثناة- بن عبد الله بن أنس بن عوف بن قاسط بن مازن بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب -بكسر الهاء وسكون النون ثم بالموحدة- ابن أفصى بالفاء والصاد المهملة ابن ذهل بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان (الشيباني) رضي الله عنه، نسب لجده شيبان المذكور، حملت به أمه بمرو، وولد ببغداد في ربيع الأول سنة أربع وستين ومائة ونشأ بها وأقام بها إلى أن توفي. ودخل مكة والمدينة والشام واليمن والكوفة والبصرة والجزيرة. قال الحافظ ابن عساكر: كان شيخاً شديد السمرة مخضوباً بالحناء وقيل ربعة. سمع سفيان بن عيينة وإبراهيم ابن سعد ويحيى القطان وهشيماً ووكيعاً وخلائق كثيرين، وروى عنه عبد الرزاق
এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মহান নেতৃস্থানীয় সাহাবীবর্গের ওপর।

অতঃপর: এটি হলো ইমামগণের ইমাম, সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্যধারণকারী, আল্লাহভীরু রব্বানী ও দ্বিতীয় সিদ্দিক, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানী রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ।

ــ

(এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর) অর্থাৎ তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর; ইমাম আহমদ এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অধিকাংশ ফকিহগণ এর ওপরই রয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা হলেন বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মুমিন নিকটাত্মীয়গণ। আবার কেউ বলেছেন, তারা হলেন তাঁর পরিবার। (এবং তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর) তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা মুমিন অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যদি কেউ মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে তার সাহচর্য এবং অন্যান্য সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যায়। (আস-সাদাহ) এটি 'সায়্যিদ' শব্দের বহুবচন এবং এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (আল-আ’লাম) এটি 'আলাম' শব্দের বহুবচন, যা আভিধানিক অর্থে চিহ্ন বা পাহাড়; আর মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ রূপকার্থে হয়ে থাকে।

(অতঃপর/আম্মা বাদ) এটি ভাষণ ও পত্রাবলীতে এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য মুস্তাহাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন। (এটি) এর মাধ্যমে তিনি তাঁর অন্তরে যা কল্পনা করেছেন এবং যা অর্থের ওপর প্রমাণকারী বিদ্যমান শব্দের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, সেটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। (সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ/মুখতাসার) অর্থাৎ সংক্ষেপিত, যা শব্দে অল্প কিন্তু অর্থে ব্যাপক। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সর্বোত্তম কথা তা-ই যা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ এবং দীর্ঘ নয় যা বিরক্তির সৃষ্টি করে। (ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যে) আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো অনুধাবন। আর পারিভাষিক অর্থে, দলিলের মাধ্যমে শরীয়তের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধানাবলি প্রকৃতরূপে বা নিকটবর্তী যোগ্যতার ভিত্তিতে জানা; কেউ কেউ বলেছেন বিধানগুলোই হলো ফিকহ। আর ফকিহ হলেন তিনি যিনি এগুলোর অধিকাংশ বিষয় একইভাবে জানেন।

(মাযহাব অনুযায়ী) এটি 'মাফআল' ওজনে, যা মূলত গমন করার স্থান, সময় বা গমনের মূল কাজকেই বোঝায়। পরবর্তীতে এটি এমন মতাদর্শের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে যা কোনো ব্যক্তি দলিলের ভিত্তিতে বলেছেন এবং সেটির ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইমামগণের ইমাম) অর্থাৎ তাঁদের আদর্শ। (এবং পুনর্জীবনদানকারী) অর্থাৎ সাহায্যকারী (সুন্নাহর, এবং পরীক্ষায় ধৈর্যধারণকারী, আল্লাহভীরু রব্বানী ও দ্বিতীয় সিদ্দিক আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল) ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ ইবনে ইদরিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাইয়ান —ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ— ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস ইবনে আউফ ইবনে কাসিত ইবনে মাযিন ইবনে শাইবানি ইবনে যুহল ইবনে সা’লাবা ইবনে উকাবা ইবনে সা’ব ইবনে আলী ইবনে বকর ইবনে ওয়াইল ইবনে কাসিত ইবনে হিনব —হা বর্ণে কাসরা ও নুন সাকিন এবং এরপর বা বর্ণ— ইবনে আফসা —ফা ও মুহমালা সাদ বর্ণসহ— ইবনে যুহল ইবনে জাদিরা ইবনে আসাদ ইবনে রাবিয়া ইবনে নিযার ইবনে মা’দ ইবনে আদনান। (আশ-শাইবানী) রাদিয়াল্লাহু আনহু, তাঁর উল্লেখিত দাদা শাইবানের দিকে সম্বন্ধ করে এই নিসবত করা হয়েছে। তাঁর মা তাঁকে গর্ভে নিয়ে মার্ভ থেকে এসেছিলেন এবং ১৬৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। তিনি মক্কা, মদিনা, শাম, ইয়ামেন, কুফা, বসরা ও জাযিরা ভ্রমণ করেছেন। হাফেজ ইবনে আসাকির বলেন: তিনি ছিলেন ঘন শ্যামবর্ণের একজন শায়খ, যিনি মেহেদি ব্যবহার করতেন; মতান্তরে তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের। তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, ইব্রাহিম ইবনে সা’দ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, হুশাইম, ওয়াকি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
سقى الله ضريحه صوب الرحمة والغفران، وحشره مع المنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء في دار الأمان،

ــ

ويحيى بن آدم وأبو الوليد والبخاري ومسلم وأبو داود وأبو زرعة الرازي الدمشقي وخلائق كثيرون، وعن الشافعي رضي الله عنه قال: خرجت من بغداد وما خلفت فيها أحداً أورع ولا أتقى ولا أفقه من أحمد بن حنبل. وعن الربيع بن سليمان قال قال لنا الشافعي: أحمد إمام في ثمان خصال، إمام في الحديث، إمام في الفقه، إمام في القرآن، إمام في الفقراء، إمام في الزهد، إمام في الورع، إمام في السنة، وعن عبد الوهاب الوراق قال: ما رأيت مثل أحمد بن حنبل. قالوا له: وأي شيء بان لك من فضله وعمله على سائر من رأيت؟ قال: رجل سئل عن ستين ألف مسألة فأجاب فيها بأن قال حدثنا وأخبرنا، وعن علي بن المديني أنه قال: إن سيدي أحمد بن حنبل أمرني أن لا أحدث إلا من كتاب. وروي عنه أيضاً أنه قال: إن الله عز وجل أعز هذا الدين برجلين ليس لهما ثالث، أبو بكر الصديق يوم الردة وأحمد بن حنبل يوم المحنة. وعن إسحاق بن راهويه أنه قال: أحمد بن حنبل حجة بين الله وبين عبيده في أرضه. وقال أيضاً: لولا أحمد بن حنبل وبذله نفسه لما بذلها له لذهب الإسلام. وعن بشر بن الحارث أنه قيل له حين ضرب أحمد بن حنبل: يا أبا نصر لو أنك خرجت فقلت إني على قول أحمد بن حنبل، فقال بشر: أتريدون أن أقوم مقام الأنبياء؟ إن أحمد بن حنبل قام مقام الأنبياء. وكان أعلم أهل زمانه، وقد صنف في مناقبه من المتقدمين والمتأخرين جماعة كابن منده والبيهقي وشيخ الإسلام الأنصاري وابن الجوزي وابن ناصر وغيرهم، اشتهرت مناقبه وسيادته وبراعته وزهادته، ومجموع محاسنه كالشمس، إلا أنها لا تغرب، (سقى الله ضريحه صوب) أي غيث (الرحمة والغفران، وحشره مع المنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء في دار الأمان). صنف المسند: ثلاثون ألف حديث، والتفسير مائة وخمسون ألفاً، وقال في المطلع: مائة ألف وعشرون ألفاً، والناسخ والمنسوخ، والتاريخ، وحديث شعبة، والمقدم والمؤخر في القرآن، وجوابات القرآن، والمناسك الكبير والصغير وأشياء أخر، وليس هذا بيان مناقبه.

قال القاضي أبو يعلى: إنما اخترنا مذهب أحمد على مذهب غيره من الأئمة - ومنهم من هو أسن منه وأقدم هجرة مثل مالك وسفيان وأبي حنيفة لموافقته الكتاب والسنة والقياس الجلي، فإنه كان إماماً في القرآن وله فيه التفسير العظيم، وجوابات
আল্লাহ তাঁর কবরে রহমত ও ক্ষমার বারিধারা বর্ষণ করুন এবং তাঁকে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের মতো নেয়ামতপ্রাপ্তদের সাথে শান্তির আলয়ে হাশর করান।

ــ

এবং ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আবু ওয়ালিদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু জুরআ আর-রাজি আদ-দিমাশকি এবং আরও অসংখ্য লোক (তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন)। আর শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বাগদাদ ত্যাগ করেছি অথচ সেখানে আহমদ ইবনে হাম্বলের চেয়ে অধিক পরহেযগার, অধিক মুত্তাকী এবং অধিক ফকীহ কাউকে রেখে আসিনি। রাবী ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফেয়ী আমাদের বলেছেন: আহমদ আটটি বিষয়ে ইমাম; হাদীসে ইমাম, ফিকহে ইমাম, কুরআনে ইমাম, ফুকরাদের ইমাম, যুহদে ইমাম, ওয়ারা বা পরহেযগারিতে ইমাম এবং সুন্নাহতে ইমাম। আব্দুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো কাউকে দেখিনি। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি যাদের দেখেছেন তাদের তুলনায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আমল সম্পর্কে আপনার কাছে কী স্পষ্ট হয়েছে? তিনি বললেন: এমন এক ব্যক্তি যাঁকে ষাট হাজার মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং তিনি ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন) এবং ‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) বলার মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন। আলী ইবনুল মাদীনী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমার সায়্যিদ আহমদ ইবনে হাম্বল আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি কিতাব (লিখিত পাণ্ডুলিপি) ছাড়া কোনো হাদীস বর্ণনা না করি। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই দ্বীনকে এমন দুজন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন যাদের তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই—রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের দিনে আবু বকর সিদ্দিক এবং মিহনা বা মহা পরীক্ষার দিনে আহমদ ইবনে হাম্বল। ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর যমীনে আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে আহমদ ইবনে হাম্বল হলেন এক হুজ্জাত বা প্রমাণ। তিনি আরও বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল যদি না হতেন এবং তিনি তাঁর নিজেকে (আল্লাহর পথে) বিলিয়ে না দিতেন যেভাবে তিনি দিয়েছেন, তবে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যেত। বিশর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত যে, যখন আহমদ ইবনে হাম্বলকে প্রহার করা হচ্ছিল তখন তাঁকে বলা হলো: হে আবু নাসর, আপনি যদি বের হয়ে বলতেন যে আমি আহমদ ইবনে হাম্বলের মতের ওপর আছি! তখন বিশর বললেন: তোমরা কি চাও আমি নবীদের মর্যাদায় দাঁড়াই? নিশ্চয়ই আহমদ ইবনে হাম্বল নবীদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের একটি জামাত তাঁর গুণাবলী ও মর্যাদা বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন ইবনে মানদাহ, বাইহাকী, শায়খুল ইসলাম আনসারী, ইবনুল জাওযী, ইবনে নাসের এবং অন্যান্যরা। তাঁর মর্যাদা, নেতৃত্ব, পাণ্ডিত্য ও যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) বিশ্ববিখ্যাত। তাঁর সমস্ত গুণাবলীর সমষ্টি সূর্যের মতো, তবে এমন সূর্য যা কখনও অস্ত যায় না। (আল্লাহ তাঁর কবরে বর্ষণ করুন) অর্থাৎ বৃষ্টির মতো (রহমত ও ক্ষমা, এবং তাঁকে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের মতো নেয়ামতপ্রাপ্তদের সাথে শান্তির আলয়ে হাশর করান)। তিনি ‘মুসনাদ’ রচনা করেছেন যাতে ত্রিশ হাজার হাদীস রয়েছে, ‘আত-তাফসীর’ যাতে দেড় লক্ষ হাদীস রয়েছে, যদিও ‘আল-মাতলা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে এক লক্ষ বিশ হাজার। এছাড়া ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’, ‘আত-তারিখ’, ‘হাদীসে শু'বা’, ‘আল-মুকাদ্দাম ওয়াল মুয়াখখার ফিল কুরআন’, ‘জওয়াবাতুল কুরআন’, ‘আল-মানাসিক আল-কাবীর ওয়া আস-সাগীর’ এবং আরও অনেক কিছু রচনা করেছেন। আর এটি তাঁর গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা নয়।

কাজী আবু ইয়ালা বলেন: আমরা অন্যান্য ইমামদের মাযহাবের পরিবর্তে আহমদের মাযহাবকে বেছে নিয়েছি—যাঁদের মধ্যে অনেকে বয়সে তাঁর চেয়ে বড় এবং হিজরতের দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন যেমন মালিক, সুফিয়ান ও আবু হানিফা—কারণ এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং স্পষ্ট কিয়াসের অধিক অনুগামী। কেননা তিনি ছিলেন কুরআনে ইমাম এবং এতে তাঁর বিশাল তাফসীর ও উত্তরসমূহ রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
اجتهدت في تحريره واختصاره وتهذيبه وإيضاحه، مؤملاً من الله جزيل الثواب، وأن يحشرني في زمرة نبيه محمد سيد الأحباب. واقتصرت فيه على قول واحد، وهو ما اعتمده وصححه معظم الأصحاب، وما عليه الفتوى عند الأئمة المحققين الأنجاب، وسميته "كافي المبتدي من الطلاب"، لأنه بمعونة الملك الوهاب، اشتمل على ما يغني عن التطويل والإطناب. والله أسأل أن ينفع به إنه النافع لمن اتقى وأناب. وما توفيقي إلا بالله

ــ

القرآن، وكتب من علم العربية ما اطلع به على كثير معاني كلام الله عز وجل. وتوفي ببغداد يوم الجمعة لنحو ساعتين من النهار لاثنتي عشرة ليلة خلت من ربيع الأول سنة إحدى وأربعين ومائتين، والمشهور من ربيع الآخر، وله سبع وسبعون سنة، وأسلم يوم موته عشرون ألفاً من اليهود والنصارى والمجوس، وفضائله كثيرة ومناقبه شهيرة.

(اجتهدت) الاجتهاد في الاصطلاح استفراغ الفقيه وسعه لدرك حكم شرعي، أي بذلت وسعي (في) تنقيح هذا المختصر و (تحريره) أي تهذيب مسائله (واختصاره) بعدم تطويله (وتهذيبه) وإيجازه (وإيضاحه. مؤملاً) أي راجيا (من الله) تعالى (جزيل الثواب و) مؤملاً (أن يحشرني) في (زمرة نبيه محمد) صلى الله عليه وسلم (سيد الأحباب. واقتصرت فيه) أي هذا المختصر (على قول واحد) من غير تعرض للخلاف طلباً للاختصار، وكذلك صنعت في شرحه غاية (و) القول الواحد (هو ما اعتمده وصححه) ورجحه (جل) أي معظم (الأصحاب) من أئمة المذهب، منهم العلامة القاضي علاء الدين المرداوي. واقتصرت فيه على قول (و) هو (ما عليه الفتوى عند الأئمة) المقتدى بهم (المحققين الأنجاب. وسميته) أي هذا المختصر (كافي المبتدي من الطلاب) لمسائل الفقه (لأنه) أي هذا المختصر (بمعونة الملك) الذي تنفذ مشيئته في ملكه وتجري فيه الأمور على ما يشاء (الوهاب) العاطي بلا عوض، (اشتمل) هذا المختصر (على ما يغني عن التطويل والإطناب) ضد الاختصار، (والله أسأل) أي لا غيره، لأن تقديم المعمول يفيد الحصر: ومن ذلك قوله تعالى -إياك نعبد وإياك نستعين- أي نخصك بالعبادة والاستعانة، وكذا هنا خصه تعالى وطلب منه (أن ينفع به) أي هذا المختصر طالب الاستعانة (إنه) تعالى (النافع لمن اتقا) هـ (وأناب) إليه.

(وما توفيقي) والتوفيق خلق القدرة على الطاعة في العبد والداعية إليها (إلا بالله
আমি এটি পরিমার্জন, সংক্ষেপণ, সংস্কার ও স্পষ্টীকরণে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, আল্লাহর নিকট থেকে মহা পুরস্কারের আশায় এবং এই কামনায় যেন তিনি আমাকে তাঁর নবী মুহাম্মাদ—যিনি সকল প্রিয়তমদের সরদার—তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করেন। আমি এতে কেবল একটি মতের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, যা মাযহাবের অধিকাংশ ইমামগণ গ্রহণ ও বিশুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন এবং যা মহান ও বিজ্ঞ ফকীহদের নিকট ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি। আমি এর নাম দিয়েছি 'কাফি আল-মুবতাদি মিনাত তুল্লাব' (শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত); কেননা মহান রাজাধিরাজ দানশীল আল্লাহর সাহায্যে এটি এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দীর্ঘায়ন ও বাহুল্য থেকে অমুখাপেক্ষী রাখে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের জন্য উপকারী যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং তাঁর দিকে ফিরে আসে। আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই...

ــ

কুরআন, এবং তিনি আরবী ভাষার জ্ঞান সম্পর্কিত এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যার দ্বারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীর অনেক অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। তিনি বাগদাদে শুক্রবার দিন দিবাভাগে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর ২৪১ হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়াল ইনতিকাল করেন; তবে প্রসিদ্ধ মতে তা ছিল রবিউস সানী মাস। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল সাতাত্তর বছর। তাঁর মৃত্যুর দিন বিশ হাজার ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজক ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তাঁর বহু ফজিলত ও প্রসিদ্ধ গুণাবলি রয়েছে।

(আমি প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি) পারিভাষিক অর্থে 'ইজতিহাদ' হলো—শরয়ী বিধান অনুধাবনের জন্য ফকীহ কর্তৃক তাঁর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যয় করা; অর্থাৎ আমি আমার সক্ষমতা ব্যয় করেছি (এই) সংক্ষিপ্ত সারটির পরিমার্জন এবং (এর পরিমার্জনে) অর্থাৎ এর মাসআলাগুলোর সংস্কারে (এবং এর সংক্ষেপণে) দীর্ঘ না করার মাধ্যমে (এবং এর পরিশোধনে) ও সারসংক্ষেপে (ও এর স্পষ্টীকরণে। এই আশায়) অর্থাৎ আকাঙ্ক্ষা রেখে (আল্লাহ) তাআলার (নিকট থেকে প্রচুর সওয়াবের এবং) আশা রেখে (যেন তিনি আমাকে হাশর করেন) (তাঁর নবী মুহাম্মাদ)-এর (দলে)—আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন—(যিনি প্রিয়তমদের সরদার। আমি এতে সীমাবদ্ধ থেকেছি) অর্থাৎ এই সংক্ষিপ্ত সারটিতে (কেবল একটি মতের ওপর) সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে কোনো মতভেদ উল্লেখ করা ছাড়াই। একইভাবে আমি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'গায়াহ'-তেও করেছি। (এবং) সেই একটি মত (হলো যা গ্রহণ ও বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন) এবং প্রাধান্য দিয়েছেন (অধিকাংশ) অর্থাৎ অধিকাংশ (সাথীগণ/ইমামগণ) মাযহাবের ইমামদের মধ্য থেকে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা কাযী আলাউদ্দীন আল-মারদাবী। আমি এতে একটি মতের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি (যা) এবং সেটিই (হলো যা অনুসৃত) আদর্শস্থানীয় (সুজাত ও বিজ্ঞ ইমামদের নিকট ফতোয়ার ভিত্তি। আর আমি এর নামকরণ করেছি) অর্থাৎ এই সংক্ষিপ্ত সারটির (কাফি আল-মুবতাদি মিনাত তুল্লাব—শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত) ফিকহী মাসআলার জন্য; (কেননা এটি) অর্থাৎ এই সংক্ষিপ্ত সারটি (সেই রাজাধিরাজের সাহায্যে) যাঁর ইচ্ছা তাঁর রাজত্বে কার্যকর হয় এবং সকল বিষয় যাঁর ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয় (যিনি মহান দাতা) কোনো বিনিময় ছাড়াই দানকারী; (এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে) এই সংক্ষিপ্ত সারটি (এমন সব বিষয় যা দীর্ঘায়ন ও বাহুল্য থেকে অমুখাপেক্ষী করে), যা সংক্ষেপণের বিপরীত। (আর আমি আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা করি) অর্থাৎ তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে নয়; কেননা ব্যাকরণগতভাবে 'মাফুল' (কর্ম) আগে আনা সীমাবদ্ধতা বা একনিষ্ঠতা প্রকাশ করে। এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী—"আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য চাই"—অর্থাৎ আমরা ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনার জন্য তোমাকেই নির্দিষ্ট করি। তেমনিভাবে এখানেও লেখক আল্লাহ তাআলাকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁর কাছেই চেয়েছেন (যাতে তিনি এর দ্বারা উপকৃত করেন) অর্থাৎ এই সংক্ষিপ্ত সারটির দ্বারা সাহায্য কামনাকারীকে; (নিশ্চয়ই তিনি) তাআলা (উপকারী তাঁর জন্য যে তাঁকে ভয় করে) এবং (তাঁর দিকে ফিরে আসে)।

(আর আমার তাওফীক নয়) তাওফীক হলো বান্দার মধ্যে আনুগত্যের ক্ষমতা এবং তার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া)।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
عليه توكلت وإليه متاب

 

‌‌كتاب الطهارة

وهي ارتفاع حدث وما في معناه، وزوال خبث، أو ارتفاع حكم ذلك

 

‌‌باب المياه على ثلاثة أقسام: (الأول) طهور يرفع الحدث ويزيل الخبث الطارئ، وهو أربعة أنواع: نوع غير مكروه وهو الباقي على خلقته

ــ

عليه توكلت) أي فوضت أمري إليه تعالى دون ما سواه (وإليه متاب) أي توبتي، وتاب الله عليه وفقه للتوبة.

مقدمة: لم يؤلف الإمام أحمد رحمه الله تعالى في الفقه كتابًا، وإنما أخذ أصحابه مذهبه من أقواله وأفعاله وأجوبته وغير ذلك.

هذا (كتاب) يذكر فيه أحكام (الطهارة) وما في معناها، والكتاب كالكتابة والكتب مصدر كتب بمعنى الجمع، يقال تكتب القوم إذا اجتمعوا، ومنه الكتابة لاجتماع الحروف، والطهارة لغة النظافة والنزاهة عن الأقذار (وهي) شرعًا (ارتفاع الحدث)، وهو وصف حاصل بالحدث مانع من الصلاة والطواف ومس المصحف، وينقسم إلى أصغر وأكبر، فما أوجب الغسل يسمى أكبر، وما أوجب الوضوء يسمى أصغر، (وما في معناه) أي معنى ارتفاع الحدث كالغسل للميت لأنه تعبدي لا عن حدث، وكذا غسل يدي القائم من نوم الليل بماء طهور مباح، (وزوال خبث) به ولو لم يبح أو مع تراب طهور ونحوه أو بنفسه (أو ارتفاع حكم ذلك) بما يقوم مقامه، والخبث النجاسة الطارئة على محل طاهر.

(باب. والمياه على ثلاثة أقسام) لأن الماء إما أن يجوز الوضوء به أولاً، الأول الطهور، والثاني إما أن يجوز شربه أو لا، الأول الطاهر، والثاني النجس.

(الأول) من أقسام الماء (طهور) أي مطهر لغيره بخلاف غيره من المانعات فإنه لا يطهر (يرفع الحدث) أي الوصف كما تقدم، (ويزيل الخبث الطارئ) على محل طاهر قبل طروئه لأن نجس العين لا يطهر، (وهو) أي الماء الطهور (أربعة أنواع): الأول (نوع) طهور (غير مكروه وهو الباقي على خلقته) التي
আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।

 

‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

আর তা হলো হদস (অশুচিতা) ও এর সমার্থবোধক বিষয় দূরীভূত হওয়া এবং খবস (অপবিত্রতা) দূর হওয়া অথবা এগুলোর বিধান দূরীভূত হওয়া।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: পানি তিন প্রকার: (প্রথম প্রকার) তহুর, যা হদস দূরীভূত করে এবং ত্বরী (আকস্মিক) খবস দূর করে। আর তা চার প্রকার: এক প্রকার যা মাকরূহ নয়, আর তা হলো যা তার মূল প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে।

—

(আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি) অর্থাৎ আমি আমার যাবতীয় বিষয় তিনি ব্যতীত অন্য কারো ওপর নয়, বরং মহান আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছি। (এবং তাঁরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন) অর্থাৎ আমার তওবা; আর আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেছেন মানে তাঁকে তওবা করার তৌফিক দিয়েছেন।

ভূমিকা: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) ফিকহ শাস্ত্রের ওপর কোনো কিতাব রচনা করেননি; বরং তাঁর ছাত্র ও অনুসারীগণ তাঁর কথা, কাজ, উত্তর এবং অন্যান্য বিষয় থেকে তাঁর মাজহাব গ্রহণ করেছেন।

এটি একটি (কিতাব) বা গ্রন্থ যাতে (পবিত্রতা) এবং এর সমার্থবোধক বিষয়সমূহের আহকাম বা বিধানাবলী উল্লেখ করা হয়েছে। 'কিতাব' শব্দটি 'কিতাবাত' ও 'কাতব'-এর ন্যায় 'কাতাবা' ক্রিয়ামূলের মাসদার, যার অর্থ হলো একত্রিত করা। বলা হয়ে থাকে 'তাকাত্তাবাল কওমু' যখন তারা একত্রিত হয়। আর এ থেকেই 'কিতাবাত' (লিখন) এসেছে অক্ষরের সমষ্টির কারণে। পবিত্রতা (ত্বহারাত) এর আভিধানিক অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হওয়া। আর (তা) শরিয়তের পরিভাষায় (হদস দূরীভূত হওয়া); আর হদস হলো এমন একটি অবস্থা যা হদস হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং সালাত, তাওয়াফ ও মুসহাফ স্পর্শ করতে বাধা দেয়। এটি দুই প্রকার: আসগর (ছোট) ও আকবর (বড়)। যা গোসল ওয়াজিব করে তাকে আকবর বলা হয়, আর যা ওজু ওয়াজিব করে তাকে আসগর বলা হয়। (এবং যা এর সমার্থবোধক) অর্থাৎ হদস দূরীভূত হওয়ার অর্থের অন্তর্ভুক্ত, যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া; কেননা এটি একটি ইবাদত মূলক কাজ, কোনো হদসের কারণে নয়। তদ্রূপ রাত যাপনের পর ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত পবিত্র ও মুবাহ পানি দ্বারা ধৌত করা। (এবং খবস দূর হওয়া) তার মাধ্যমে যদিও তা মুবাহ না হয়, অথবা পবিত্র মাটি ও অনুরূপ কিছুর সাথে, কিংবা তা আপন আপনিই দূর হওয়া। (অথবা এগুলোর বিধান দূরীভূত হওয়া) যা তার স্থলাভিষিক্ত হয় তার মাধ্যমে। আর খবস হলো পবিত্র স্থানে আপতিত নাজাসাত বা অপবিত্রতা।

(পরিচ্ছেদ: পানি তিন প্রকার) কারণ পানি হয় তার মাধ্যমে ওজু করা জায়েজ হবে অথবা হবে না। প্রথমটি হলো তহুর। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে হয় তা পান করা জায়েজ হবে অথবা হবে না। প্রথমটি হলো তাহির এবং দ্বিতীয়টি হলো নাজিস।

(প্রথম) পানির প্রকারভেদের মধ্যে হলো (তহুর) অর্থাৎ যা অন্যকে পবিত্র করে, অন্যান্য প্রতিবন্ধক বিষয়সমূহের বিপরীত, কেননা সেগুলো অন্যকে পবিত্র করে না। (তা হদস দূরীভূত করে) অর্থাৎ পূর্বে উল্লিখিত সেই অবস্থাকে। (এবং ত্বরী বা আপতিত খবস দূর করে) যা আপতিত হওয়ার পূর্বে পবিত্র স্থানে ছিল, কারণ যা সত্তাগতভাবে অপবিত্র তা পবিত্র হয় না। (আর তা) অর্থাৎ তহুর পানি (চার প্রকার): প্রথমত (এমন প্রকার) তহুর যা (মাকরূহ নয় এবং তা হলো যা তার মূল প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে) যা...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
ومنه متغير بمكثه أو بمجاورة ميتة أو بما يشق صونه عنه ما لم يوضع قصدًا، ومسخن بشمس أو بطاهر، ونوع مكروه بلا حاجة كمتغير بغير ممازج من عود قمارى وغيره أو بدهن أو ملح مائي، وكمسخن بنجس، ويسير مستعمل في نقل طهارة، وماء بئر بمقبرة، وفي خبث ماء زمزم ونوع لا يرفع حدث رجل خنثى ويزيل الخبث وهو يسير خلت به مكلفة لطهارة كاملة عن حدث.

ــ

خلقه الله تعالى عليها، ولو تصاعد ثم قطر كبخار الحمامات، (ومنه) أي الطهور غير مكروه، (متغير) طول (مكثه أو) بالريح (بـ) نحو (مجاورة ميتة) كمحل القاذورات (أو) أي ومن الطهور متغير (بما) أي بشيء (يشق صونه) أي الماء (عنه) أي عن ذلك الشيء كورق الشجر (ما لم يوضع) الذي يشق صونه عنه (قصدًا) فإنه يسلبه الطهورية. (و) من الطهور غير مكروه (مسخن بشمس أو) مسخن (بطاهر. و) الثاني (نوع مكروه بلا حاجة) إلى استعماله (كمتغير بغير ممازج من عود قمارى) بفتح القاف (وغيره) كقطع كافور (أو) متغير (بدهن أو ملح مائي) فهو طهور مكروه لأن المتغير بالملح المائي منعقد من المائي واقتضى ذلك أن الملح لو انعقد من طاهر فحكمه كباقي الطاهرات، وعلم منه أن الماء إن تغير بالملح المعدني سلبه الطهورية. (وكمسخن بنجس) في أشهر الروايتين عن أحمد، علته كون الوقود نجسًا فيكره، وإن كان الماء كثيرًا أو وهم ملاقاتها له فلا يكره إن كان كثيرً أو قليلاً وتحقق عدم وصولها إليه، ومقتضاه الأول حيث أطلق كراهته وكذا مسخن بمغصوب (و) كـ (يسير مستعمل في نقل طهارة) أو استعمل في غسل كافر؛ لأنه لم يرفع حدثًا ولم يزل نجسًا وشمل الذمية التي تغتسل من الحيض والنفاس لحل وطئها لزوجها المسلم (و) كـ (ماء بئر مقبرة)، وكره أيضًا ما اشتد حره أو برده (و) كره (في خبث) فقط (ماء زمزم) على الصحيح من المذهب نص عليه وقيل ماء زمزم في رفع حدث أيضًا. (و) الثالث (نوع لا يرفع حدث رحل وخنثى) ويرفع حدث الأنثى (ويزيل الخبث) الطارئ (وهو) ماء (يسير خلت به) امرأة (مكلفة لطهارة كاملة عن حدث) لا عن خبث ولا عن طهر مستحب، والمراد بالخلوة أن لا يشاهدها مميز سواء كان حرًا أو عبدًا أو مبعضًا أو رجلاً أو امرأة أو مسلمًا أو كافرًا.

تنبيه: علم مما سبق أنه لا أثر لخلواتها بالتراب، ولا في منعها من استعماله، ولا منع امرأة أخرى ولا صبي من الطهارة به ولا بماء في غير رفع الحدث على الصحيح
এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো তা যা দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, অথবা মৃত প্রাণীর সান্নিধ্যের কারণে, অথবা এমন জিনিসের মাধ্যমে যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন, যতক্ষণ না তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানে রাখা হয়। এবং সূর্যের তাপে উত্তপ্ত বা পবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত পানি। এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো প্রয়োজন ব্যতীত মাকরূহ, যেমন এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা পানির সাথে মিশে যায় না—যেমন কুমারী আগর কাঠ বা অন্য কিছু, অথবা তেল কিংবা জলজ লবণ দ্বারা পরিবর্তিত। এবং নাপাক বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি, এবং পবিত্রতা স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত অল্প পানি, এবং কবরস্থানের কূপের পানি। এবং অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে যমযমের পানি মাকরূহ। এবং তৃতীয় প্রকার হলো এমন পানি যা পুরুষ ও হিজড়ার হাদাস দূর করে না, তবে নাপাকি দূর করে; আর তা হলো এমন অল্প পানি যা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী হাদাস থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছে।

—

আল্লাহ তাআলা তাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি যদি তা বাষ্প হয়ে উপরে উঠে পুনরায় ফোঁটা আকারে পড়ে, যেমন গোসলখানার বাষ্প। (এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ অ-মাকরূহ পবিত্রকারী পানির অন্তর্ভুক্ত হলো, যা দীর্ঘকাল (অবস্থানের কারণে পরিবর্তিত), (অথবা) বাতাসের মাধ্যমে (এমনকি তা যদি) দুর্গন্ধময় স্থানের মতো কোনো (মৃত প্রাণীর সান্নিধ্যের কারণে হয়)। (অথবা) অর্থাৎ পবিত্রকারী পানির মধ্যে আরও রয়েছে যা এমন (বস্তুর মাধ্যমে) পরিবর্তিত হয়েছে (যা থেকে) পানিকে (রক্ষা করা কঠিন), যেমন গাছের পাতা; (যতক্ষণ না) তা (উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাখা হয়), কারণ তখন তা পানির পবিত্রকারিতা গুণকে নষ্ট করে দেয়। (এবং) অ-মাকরূহ পবিত্রকারী পানির অন্তর্ভুক্ত হলো (সূর্যের তাপে উত্তপ্ত অথবা পবিত্র বস্তু দ্বারা) উত্তপ্ত পানি। (এবং) দ্বিতীয় প্রকার হলো (প্রয়োজন ব্যতীত মাকরূহ) তা ব্যবহার করা, (যেমন এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা পানির সাথে মিশে যায় না—যেমন কুমারী আগর কাঠ) 'ক্বাফ' অক্ষরে ফাতহাহ যোগে (এবং অন্য কিছু) যেমন কর্পূরের টুকরো, (অথবা তেল কিংবা জলজ লবণ দ্বারা) পরিবর্তিত। সুতরাং তা মাকরূহ পবিত্রকারী পানি, কারণ জলজ লবণ দ্বারা পরিবর্তিত পানি পানি থেকেই জমাট বাঁধে; আর এর দাবি হলো লবণ যদি অন্য কোনো পবিত্র বস্তু থেকে জমাট বাঁধে তবে তার বিধান অন্যান্য পবিত্র বস্তুর মতোই হবে। এ থেকে জানা গেল যে, পানি যদি খনিজ লবণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় তবে তা তার পবিত্রকারিতা গুণ ছিনিয়ে নেয়। (এবং নাপাক বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানির মতো) যা ইমাম আহমাদের দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ। এর কারণ হলো জ্বালানি নাপাক হওয়ার কারণে এটি মাকরূহ হবে। যদি পানি অধিক হয় অথবা নাপাকি মিশে যাওয়ার সংশয় থাকে তবে তা মাকরূহ হবে না যদি তা বেশি বা কম হয় এবং এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে নাপাকি তাতে পৌঁছায়নি। এর দাবি হলো প্রথমটি যেখানে সাধারণভাবে মাকরূহ বলা হয়েছে। একইভাবে যা জোরপূর্বক দখলকৃত বস্তু দিয়ে উত্তপ্ত করা হয়েছে। (এবং) ক- (পবিত্রতা স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত অল্প পানি) অথবা কাফেরের গোসলে ব্যবহৃত পানি; কারণ এটি কোনো হাদাস দূর করেনি এবং কোনো নাপাকিও দূর করেনি। এর অন্তর্ভুক্ত সেই জিম্মি নারীও যে তার মুসলিম স্বামীর সাথে সহবাস হালাল করার জন্য হায়েয ও নিফাস থেকে গোসল করে। (এবং) ক- (কবরস্থানের কূপের পানি), আর যা অত্যন্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা তাও মাকরূহ। (এবং) মাযহাবের সঠিক মতানুসারে কেবল (নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে যমযমের পানি) মাকরূহ, যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যমযমের পানি হাদাস দূর করার ক্ষেত্রেও মাকরূহ। (এবং) তৃতীয় (প্রকার হলো যা পুরুষ ও হিজড়ার হাদাস দূর করে না), তবে নারীর হাদাস দূর করে (এবং) আপতিত (নাপাকি দূর করে); (আর তা হলো এমন অল্প পানি যা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী হাদাস থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছে), নাপাকি দূর করার জন্য নয় এবং মুস্তাহাব পবিত্রতার জন্যও নয়। নির্জনতা বলতে উদ্দেশ্য হলো তাকে যেন কোনো সমঝদার ব্যক্তি না দেখে, সে স্বাধীন হোক বা দাস, আংশিক মুক্ত দাস হোক, পুরুষ হোক বা নারী, মুসলিম হোক বা কাফের।

সতর্কতা: পূর্বের আলোচনা থেকে জানা গেল যে, মাটির মাধ্যমে নারীর নির্জনতার কোনো প্রভাব নেই, তাকে তা ব্যবহারে বাধা দেওয়া হবে না এবং অন্য কোনো নারী বা বালককেও এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনে বাধা দেওয়া হবে না, আর হাদাস দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে এই পানি ব্যবহারে বাধা নেই—এটিই সঠিক মত।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
ونوع لا يرفع الحدث مطلقًا بل يزيل الخبث الطارئ مع تحريمه، وهو المغصوب، وماء آبار ثمود غير بئر الناقة.

(الثاني) طاهر لا يرفع الحدث ولا يزيل الخبث ويستعمل في غيرهما كماء ورد، وطهور تغير كثير من لونه أو طعمه أو ريحه بطاهر أو طبخ أو رفع بقليله حدث أو انفصل عن محل نجس حكم بطهارته غير متغير أو حصل في كل يد مسلم مكلف قائم من نوم ليل ناقض لوضوء بنية أو غيرها، لكن يجب أن يستعمل ذا، وما خلت به أولى منه إن عدم غيرهما، ثم يتيمم.

ــ

من المذهب. (و) الرابع (نوع لا يرفع الحدث مطلقًا) أي سواء وجد غيره أولاً، وسواء كان قليلاً أو كثيرًا وهو الماء المغصوب، وحدث الرجل والخنثى والأنثى في ذلك سواء (بل يزيل الخبث الطارئ مع تحريمه وهو) الماء (المغصوب، وماء آبار ثمود غير بئر الناقة).

فائدة: فياس ما يأتي في الصلاة في المغصوب إذا كان عالمًا ذاكرًا لا إن كان جاهلاً وناسيًا، وكذا الحج بمال مغصوب، بخلاف الوضوء والغسل والصوم ونحوه في مكان مغصوب فيصح كالأذان والبيع ونحوه فيه.

(الثاني) من أقسام المياه (طاهر) غير مطهر (لا يرفع الحدث ولا يزل الخبث ويستعمل في غيرهما) أي غير رفع الحدث وزوال الخبث (كماء ورد و) ك (طهور تغير كثير) لا يسير (من لونه أو طعمه أو ريحه) مخالطة شيء (طاهر أو) بـ (طبخ) فيه كماء الباقلاء أو بغيره كما لو سقط فيه زعفران بقصد أو غيره، ولا يسلبه التغير اليسير من صفة واحدة بخلاف ما لو كان التغير من صفتين أو ثلاث (أو رفع بقليله حدث) فإنه يسلبه الطهورية (أو انفصل عن محل نجس حكم بطهارته) وكان (غير متغير أو حصل في كل يد مسلم مكلف قائم من نوم ليل ناقض لوضوء بنية أو غيرها) أو حصل في بعضها بنية ولو بانت مكتوفة أو بحراب ونحوه قبل غسلها ثلاثًا بنية وتسمية وذلك واجب (لكن يجب أن يستعمل ذا) أي الذي حصل في كل يد إلى آخره إن لم يوجد غيره ثم يتيمم، (وما خلت به) المرأة (أولى منه) بالاستعمال لبقاء طهوريته (إن عدم) طهور (غيرهما) أي غير الماء الذي حصل في كل يد إلى آخره والذي خلت به المرأة فيستعمله (ثم يتيمم) وجوبًا، فإن ترك استعمال أحدهما أو التيمم بلا عذر أعاد ما صلى به
এবং এক প্রকার পানি রয়েছে যা কোনোভাবেই হাদাস (অশুচিতা) দূর করে না, বরং এটি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা দ্বারা আপতিত নাজাসাত দূর হয়। আর তা হলো জবরদখলকৃত পানি এবং সামুদ জাতির কূপের পানি, উটের কূপ ব্যতীত।

(দ্বিতীয় প্রকার) পবিত্র পানি যা হাদাস দূর করে না এবং নাজাসাতও দূর করে না, তবে এ দুটি ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়; যেমন গোলাপ জল। আর এমন পবিত্রকরণক্ষম পানি যার বর্ণ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণের অনেকটা কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে বা তাতে কিছু রান্নার কারণে পরিবর্তন হয়ে গেছে, অথবা যার অল্প পরিমাণ দিয়ে হাদাস দূর করা হয়েছে, অথবা যা কোনো অপবিত্র স্থান থেকে আলাদা হয়েছে অথচ সেই স্থানটি পবিত্র হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে এবং পানিটি অপরিবর্তিত রয়েছে, অথবা যা এমন কোনো সামর্থ্যবান মুসলিমের পূর্ণ হাতের সংস্পর্শে এসেছে যে ওজু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়েছে—নিয়তসহ হোক বা নিয়ত ছাড়া। তবে এটি ব্যবহার করা ওয়াজিব, এবং অন্য পানি না থাকলে এর চেয়ে মহিলার নির্জনে ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা অধিকতর শ্রেয়, এরপর সে তায়াম্মুম করবে।

--

মাযহাব থেকে সংগৃহীত। (এবং) চতুর্থটি হলো (এমন এক প্রকার যা কোনোভাবেই হাদাস দূর করে না) অর্থাৎ অন্য পানি পাওয়া যাক বা না যাক, এবং তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি হোক। আর তা হলো জবরদখলকৃত পানি; এক্ষেত্রে পুরুষ, খুনসা (উভয়লিঙ্গ) এবং মহিলার বিধান সমান। (বরং এটি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা দ্বারা আপতিত নাজাসাত দূর হয়, আর তা হলো) জবরদখলকৃত (পানি এবং সামুদ জাতির কূপের পানি, উটের কূপ ব্যতীত)।

বিশেষ জ্ঞাতব্য: জবরদখলকৃত বস্তুর ব্যাপারে সালাতের যে বিধান সামনে আসবে তা তখনই কার্যকর হবে যখন সে বিষয়টি জানবে এবং স্মরণে রাখবে; কিন্তু সে যদি অজ্ঞ বা বিস্মৃত হয় তবে নয়। তদ্রূপ জবরদখলকৃত সম্পদ দিয়ে হজের বিষয়টিও একই। পক্ষান্তরে জবরদখলকৃত স্থানে ওজু, গোসল, সিয়াম এবং অনুরূপ ইবাদত করলে তা সহিহ হবে, যেমন জবরদখলকৃত স্থানে আজান দেওয়া এবং কেনাবেচা করা সহিহ।

পানির প্রকারভেদের মধ্যে (দ্বিতীয়টি হলো) পবিত্র কিন্তু পবিত্রকরণক্ষম নয় (যা হাদাস দূর করে না এবং নাজাসাতও দূর করে না এবং এ দুটি ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়) অর্থাৎ হাদাস উঠানো এবং নাজাসাত দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে। (যেমন গোলাপ জল এবং) যেমন (এমন পবিত্রকরণক্ষম পানি যার বর্ণ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণের অনেকটা) সামান্য নয় (কোনো পবিত্র বস্তুর) সংমিশ্রণে (অথবা) তাতে কিছু (রান্নার কারণে) পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন শিমের পানি বা অন্য কিছু, অথবা যেমন যদি তাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে জাফরান পড়ে যায়। একটি গুণের সামান্য পরিবর্তন হলে তার পবিত্রকরণ ক্ষমতা অপসারিত হয় না, তবে যদি দুই বা তিনটি গুণের পরিবর্তন হয় তবে ভিন্ন কথা। (অথবা যার অল্প পরিমাণ দিয়ে হাদাস দূর করা হয়েছে) তবে এটি এর পবিত্রকরণ ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। (অথবা যা কোনো অপবিত্র স্থান থেকে আলাদা হয়েছে অথচ সেই স্থানটি পবিত্র হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে) এবং পানিটি (অপরিবর্তিত ছিল। অথবা যা এমন কোনো সামর্থ্যবান মুসলিমের পূর্ণ হাতের সংস্পর্শে এসেছে যে ওজু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়েছে—নিয়তসহ হোক বা নিয়ত ছাড়া)। অথবা যদি নিয়তসহ তার হাতের কিছু অংশে পানি লাগে, যদিও হাতটি বাঁধা থাকে বা জখম থাকে, তিনবার ধৌত করার আগে নিয়ত ও তাসমিয়াহ সহকারে—যা ওয়াজিব। (তবে এটি ব্যবহার করা ওয়াজিব) অর্থাৎ যা পূর্ণ হাতের সংস্পর্শে এসেছে ইত্যাদি, যদি অন্য পানি না পাওয়া যায়, এরপর সে তায়াম্মুম করবে। (এবং মহিলার নির্জনে ব্যবহৃত পানি এর চেয়ে) ব্যবহারের জন্য (অধিকতর শ্রেয়), কারণ এর পবিত্রকরণ ক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে। (যদি অন্য কোনো) পবিত্রকরণক্ষম পানি (না পাওয়া যায়) অর্থাৎ হাতের সংস্পর্শে আসা পানি এবং মহিলার নির্জনে ব্যবহৃত পানি ছাড়া অন্য কিছু, তবে সে তা ব্যবহার করবে (এবং এরপর তায়াম্মুম করবে) ওয়াজিব হিসেবে। যদি সে ওযর ছাড়া এ দুটির কোনো একটির ব্যবহার বা তায়াম্মুম বর্জন করে, তবে সে যা সালাত আদায় করেছে তা পুনরায় আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
(الثالث) نجس يحرم استعماله مطلقًا إلا لضرورة كغصة ونحوها، وهو ما تغير بنجاسة في غير محل تطهير أو لاقاها في غيره، وهو يسير، أو انفصل عن محل نجس لم يطهر، فإن لم يتغير بها الكثير لم ينجس إلا ببول آدمي أو عذرته المائعة ما لم يكن مما يشقى نزحه كمصانع طريق مكة، وحكم جار كراكد.

ــ

فائدة: إن خلط الماء الطهور بتراب لا يسلب الماء الطهورية، فإن صار طينًا منع من التطهير به، فإن صلى جاز التطهير به.

(الثالث): من أقسام المياه (نجس يحرم استعماله مطلقًا) أي في عبادة وغيرها. سواء وجد غيره أو لا، واستثنى من ذلك بقوله (إلا لضرورة كغصة) لقمة (ونحوها) كعطش معصوم من آدمي أو بهيمة تؤكل أولاً أو طفي حريق متلف وليس عنده طهور ولا طاهر، ويجوز بل التراب به ويطين به ما لا يصلى عليه غير المسجد (وهو) أي الماء النجس (ما تغير بنجاسة في غير محل تطهير) وفي محله طهور إن كان واردًا أو لم يتغير منه فطهور إن كان كثيرًا (أو) كان الماء (لاقاها) أي النجاسة (في غيره) أي غير محل التطهير (وهو يسير) ولو جاريًا (أو انفصل عن محل نجس لم يطهر)، فإن كان طهر فهو طاهر إن انفصل غير متغير (فإن لم يتغير بها) أي النجاسة الماء (الكثير لم ينجس إلا ببول آدمي أو عذرته المائعة) أو الرطبة أو اليابسة ذابت عند أكثر المتقدمين والمتوسطين (ما لم يكن) الماء الكثير الذي تنجس بالبول أو العذرة (مما يشق نزحه كمصانع طريق مكة) التي جعلت موردًا للحاج يصدرون عنها ولا تنفذ فلا تنجس إلا بالتغير، فما تنجس بما ذكر ولم يتغير فتطهيره بإضافة ما يشق نزحه أو بنزح يبقى بعده ما يشق نزحه، وإن لم يشق نزحه فبإضافة ما يشق نزحه مع زوال تغيره، وما تنجس بغير م ذكر ولم يتغير فبإضافة كثير أو بنزح يبقى بعده كثير، وإن لم يكن كثيرًا أو كان كثيرًا مجتمعًا من متنجس يسير فبإضافة كثير مع زوال تغيره، والمنزوح طهور إن لم يكن متغيرًا أو تكن عين النجاسة فيه وكان قلتين. (وحكم) ماء (جار كراكد) فإن بلغ مجموعة قلتين دفع النجاسة ما لم يتغير فلا اعتبار بالحرية على الأصح.
(তৃতীয়) নাপাক পানি, যার ব্যবহার সাধারণভাবে হারাম, তবে একান্ত নিরুপায় অবস্থা যেমন গলায় লোকমা আটকে যাওয়া বা অনুরূপ ক্ষেত্রে ব্যতিরেকে। আর এটি হচ্ছে সেই পানি যা নাপাকির সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয়ে গেছে এমন স্থানে যা পবিত্র করার স্থান নয়, অথবা পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও নাপাকির সাথে মিলিত হয়েছে এমতাবস্থায় যে পানির পরিমাণ অল্প, অথবা এমন অপবিত্র স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যা পবিত্র হয়নি। যদি পানি অধিক হয় এবং নাপাকির কারণে তার কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে মানুষের প্রস্রাব বা তার তরল বিষ্ঠা ব্যতিরেকে তা নাপাক হবে না, যতক্ষণ না তা এমন হয় যা নিষ্কাশন করা কঠিন, যেমন মক্কা পথের জলাধারসমূহ। আর প্রবহমান পানির বিধান স্থির পানির মতোই।

--

ফায়েদা: যদি পবিত্র ও পবিত্রকারী (তহুর) পানির সাথে মাটি মিশে যায়, তবে তা পানির পবিত্রতা ও পবিত্রকারী গুণকে নষ্ট করে না। তবে যদি তা কাদায় পরিণত হয়, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা নিষিদ্ধ। তবে যদি তা সালাত আদায়ের উপযোগী পবিত্রতা অর্জনের মতো থাকে, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ।

(তৃতীয়): পানির প্রকারভেদের মধ্যে (নাপাক, যার ব্যবহার সাধারণভাবে হারাম) অর্থাৎ ইবাদত বা অন্য সব ক্ষেত্রে। চাই অন্য পানি পাওয়া যাক বা না যাক। আর তিনি এই বিধান থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন (তবে একান্ত নিরুপায় অবস্থা যেমন গলায় লোকমা আটকে যাওয়া) অর্থাৎ খাবারের লোকমা (এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে) যেমন কোনো জানমাল রক্ষিত মানুষ বা পশুর তৃষ্ণা মেটানো—চাই তা ভক্ষণযোগ্য পশু হোক বা না হোক—অথবা এমন অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ করা যা জানমালের বিনাশ ঘটায়, অথচ তার কাছে কোনো 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) বা 'তাহির' (পবিত্র) পানি নেই। আর নাপাক পানি দিয়ে মাটি ভেজানো এবং তা দিয়ে এমন স্থান লেপা জায়েজ যেখানে সালাত আদায় করা হয় না, তবে তা মসজিদ ব্যতীত। (আর তা) অর্থাৎ নাপাক পানি (হলো সেই পানি যা নাপাকির সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয়ে গেছে এমন স্থানে যা পবিত্র করার স্থান নয়)। আর পবিত্র করার স্থানে থাকাকালীন পানি 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) হিসেবে গণ্য হবে যদি তা নাপাকির ওপর প্রবাহিত হয় অথবা যদি নাপাকির কারণে পরিবর্তিত না হয় এমতাবস্থায় যে পানির পরিমাণ অধিক। (অথবা) পানি (তার সাথে মিলিত হয়েছে) অর্থাৎ নাপাকির সাথে (অন্যত্র) অর্থাৎ পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও (এমতাবস্থায় যে পানির পরিমাণ অল্প) যদিও তা প্রবহমান হয়। (অথবা এমন অপবিত্র স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যা পবিত্র হয়নি)। যদি স্থানটি পবিত্র হয়ে যায়, তবে বিচ্ছিন্ন পানি 'তাহির' (পবিত্র) হিসেবে গণ্য হবে যদি তা অপরিবর্তিত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়। (অতঃপর যদি নাপাকির কারণে তার পরিবর্তন না ঘটে) অর্থাৎ (অধিক) পানির, (তবে তা নাপাক হবে না মানুষের প্রস্রাব বা তার তরল বিষ্ঠা ব্যতিরেকে)। অধিকাংশ পূর্ববর্তী ও মধ্যবর্তী ফকিহদের মতে বিষ্ঠা আর্দ্র হোক বা শুষ্ক যা পানিতে গলে গেছে, তা নাপাককারক (যতক্ষণ না তা হয়) অর্থাৎ প্রস্রাব বা বিষ্ঠার কারণে নাপাক হওয়া সেই অধিক পানি (এমন যা নিষ্কাশন করা কঠিন, যেমন মক্কা পথের জলাধারসমূহ) যা হাজীদের পানি সংগ্রহের উৎস হিসেবে নির্ধারিত, যেখান থেকে তারা পানি গ্রহণ করে কিন্তু তা শেষ হয় না। সুতরাং তা পরিবর্তিত হওয়া ব্যতীত নাপাক হবে না। অতএব যা উল্লিখিত কারণে নাপাক হয়েছে কিন্তু পরিবর্তিত হয়নি, তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো তাতে এমন পরিমাণ পানি বৃদ্ধি করা যা নিষ্কাশন করা কঠিন, অথবা তা থেকে পানি নিষ্কাশন করার পর অবশিষ্ট পানি এমন পরিমাণ থাকা যা নিষ্কাশন করা কঠিন। আর যদি নিষ্কাশন করা কঠিন না হয়, তবে তাতে এমন পরিমাণ পানি যোগ করতে হবে যা নিষ্কাশন করা কঠিন এবং সাথে সাথে তার পরিবর্তন দূর হতে হবে। আর যা উল্লিখিত কারণ ব্যতীত অন্য কারণে নাপাক হয়েছে কিন্তু পরিবর্তিত হয়নি, তবে তা পবিত্র করার উপায় হলো অধিক পানি যোগ করা অথবা পানি নিষ্কাশন করা যাতে অবশিষ্ট পানি 'অধিক' (দুই কুল্লা) থাকে। আর যদি তা অধিক না হয় অথবা যদি অনেকগুলো অল্প নাপাক পানি একত্র হয়ে অধিক পরিমাণ হয়, তবে তাতে অধিক পানি যোগ করতে হবে এবং সাথে সাথে তার পরিবর্তন দূর হতে হবে। আর নিষ্কাশনকৃত পানি 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) যদি তা পরিবর্তিত না হয় অথবা তাতে নাপাকির মূল বস্তু না থাকে এবং তার পরিমাণ দুই কুল্লা হয়। (আর প্রবহমান) পানির (বিধান স্থির পানির মতোই)। সুতরাং যদি তার সমষ্টি দুই কুল্লায় পৌঁছে, তবে তা নাপাকিকে প্রতিহত করবে যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হয়। অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে পানির প্রবাহের গতির কোনো বিশেষ ধর্তব্য নেই।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
والكثير قلتان، واليسير ما دونهما، وهما خمسمائة رطل عراقي تقريبًا، ومائة رطل وسبعة أرطال وسبع رطل بالدمشقي، وأحد وسبعون رطلاً وثلاثة أسباع رطل بالبعلي، ومساحتهما مربعًا ذراع وربع طولاً وعرضًا وعمقًا ومدؤرًا ذراع طولاً وذراعان ونصف عمقًا، فإن زال تغير نجس كثير بنفسه طهر، أو أضيف إليه ماء طهور كثير وزال التغير، أو نزح منه فبقي بعد كثير غير متغير طهر، وغير الماء من المائعات ينجس بأقل نجاسة مطلقًا، ويعمل بيقين في كثرة ماء وقلته وطهارته ونجاسته، ولو اشتبه طهور مباح بمحرم أو نجس تيمم وجوبًا لا تحر

ــ

فائدة: لا يجب غسل جوانب بئر نزحت. (والكثير قلتان) فصاعدًا (واليسير ما دونهما. وهما) أي القلتان (خمسمائة رطل عراقي تقريبًا) فيعفى عن نقص يسير كرطل أو رطلين. وأربعمائة رطل وستة وأربعون رطلاً وثلاثة أسباع رطل مصري وما وافقه من البلدان، (ومائة رطل وسبعة أرطال وسبع رطل بالدمشقي) وما وافقه، وتسعة وثمانون رطلاً وسبعًا رطل حلبي وما وافقه، وثمانون رطلاً وسبعًا رطل ونصف سبع رطل قدسي وما وافقه، (وأحد وسبعون رطلاً وثلاثة أسباع رطل بالبعلي) وما وافقه، (ومساحتهما مربعًا ذراع وربع طولا و) ذراع وربع (عرضًا و) ذراع وربع (عمقًا. و) حال كونه مدورًا ذراع طولاً وذراعان ونصف عمقًا)، والمراد ذراع اليد من آدمي معتدل وهو أربع وعشرون إصبعًا معترضة معتدلة، والإصبع ست شعيرات بطون بعضها إلى بعض، والشعيرة ست شعرات برذون ويأتي (فإن زال تغير نجس كثير بنفسه طهر، أو أضيف إليه ماء طهور كثير وزال التغير) طهر (أو نزح منه فبقي بعده) (كثير غير متغير طهر) وتقدم مفصلاً. (وغير الماء من المانعات ينجس بأقل نجاسة مطلقًا) أي سواء تغير بها أو لا أدركها طرف أو لا عفى عنها في الصلاة أو لا. (ويعمل بيقين في كثرة ماء وقلته وطهارته ونجاسته) فإن وقعت فيه نجاسة وشك في كثرته فهو نجس عملاً بالأصل، وإن شك في نجاسة عظم أو في روث فطاهر أو في جفاف نجاسة فيحكم بعدم الجفاف أو في ولوغ كلب أدخل رأسه في إناه وبفيه رطوبة فلا ينجس (ولو اشتبه) ماء (طهور مباح) ماء (محرم أو نجس تيمم وجوبًا بلا تحر) والتحري طلب ما هو أحرى في غالب ظنه أي أحق ولو
অধিক পানি হলো দুই কুল্লা এবং তার ঊর্ধ্বে, আর অল্প পানি হলো এর চেয়ে কম। আর তা (দুই কুল্লা) পরিমাপে হলো আনুমানিক পাঁচশত ইরাকি রতল, এবং দামেস্কি মাপে একশত সাত রতল ও এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ। আর বা’লি মাপে একাত্তর রতল ও এক রতলের সাত ভাগের তিন ভাগ। আর বর্গাকার পাত্রে এর পরিমাপ হলো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতায় সোয়া এক হাত। আর গোলাকার পাত্রে এক হাত দৈর্ঘ্য এবং আড়াই হাত গভীর। অতঃপর যদি নাপাক হওয়া অধিক পানির পরিবর্তন নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। অথবা তাতে যদি অধিক পরিমাণে পবিত্রকারী পানি যোগ করা হয় এবং পানির পরিবর্তন দূর হয়ে যায় (তবে তা পবিত্র হবে)। অথবা যদি তা থেকে কিছু পানি তুলে নেওয়া হয় এবং এরপর অবশিষ্ট পানি অধিক পরিমাণে থাকে ও পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থ সামান্য নাপাকি পড়লেই সাধারণভাবে নাপাক হয়ে যায়। পানির আধিক্য, স্বল্পতা, পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর আমল করা হবে। আর যদি পবিত্র ও বৈধ পানি, নিষিদ্ধ বা অপবিত্র পানির সাথে মিশে গিয়ে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে অনুসন্ধান করা ছাড়াই আবশ্যিকভাবে তায়াম্মুম করতে হবে।

ــ

ফায়দা: যে কূপের পানি সেচে ফেলা হয়েছে তার চারপাশ ধোয়া ওয়াজিব নয়। (অধিক পানি হলো দুই কুল্লা) বা তদূর্ধ্ব। (আর অল্প পানি হলো এর চেয়ে কম। আর তা) অর্থাৎ দুই কুল্লা (পরিমাপে হলো আনুমানিক পাঁচশত ইরাকি রতল)। এক্ষেত্রে সামান্য কমতি যেমন এক বা দুই রতল ক্ষমাযোগ্য। আর চারশত ছেচল্লিশ রতল ও এক রতলের সাত ভাগের তিন ভাগ হলো মিসরীয় রতল এবং এর সমমানের দেশগুলোর মাপে। (এবং দামেস্কি মাপে একশত সাত রতল ও এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ) ও এর সমমানের মাপে। আর উননব্বই রতল ও এক রতলের সাত ভাগের দুই ভাগ হলো হালবি মাপে ও এর সমমান। আশি রতল, এক রতলের সাত ভাগের দুই ভাগ এবং সাত ভাগের এক ভাগের অর্ধেক হলো কুদসি (জেরুসালেম) মাপে ও এর সমমান। (এবং বা’লি মাপে একাত্তর রতল ও এক রতলের সাত ভাগের তিন ভাগ) ও এর সমমান। (আর বর্গাকার পাত্রে এর পরিমাপ হলো দৈর্ঘ্য সোয়া এক হাত,) প্রস্থ সোয়া এক হাত (ও গভীরতা সোয়া এক হাত। আর) গোলাকার পাত্র হওয়া অবস্থায় (এক হাত দৈর্ঘ্য এবং আড়াই হাত গভীর)। এখানে হাত বলতে সাধারণ মানুষের হাতের কবজি থেকে মধ্যমা অঙ্গুলি পর্যন্ত হাতকে বোঝানো হয়েছে, যা চওড়ায় পাশাপাশি রাখা সাধারণ চব্বিশটি আঙুলের সমান। প্রতিটি আঙুল হলো পাশাপাশি রাখা ছয়টি যবের সমান, যাদের পেট একে অপরের দিকে লাগানো। আর প্রতিটি যব হলো ঘোড়ার ঘাড়ের ছয়টি লোমের সমান। সামনে আসছে— (অতঃপর যদি নাপাক হওয়া অধিক পানির পরিবর্তন নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। অথবা তাতে যদি অধিক পরিমাণে পবিত্রকারী পানি যোগ করা হয় এবং পরিবর্তন দূর হয়ে যায়) তবে তা পবিত্র হবে। (অথবা যদি তা থেকে কিছু পানি তুলে নেওয়া হয় এবং এরপর অবশিষ্ট থাকে) (অধিক পানি যা পরিবর্তিত নয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে) যা পূর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। (পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থ সামান্য নাপাকি পড়লেই সাধারণভাবে নাপাক হয়ে যায়) অর্থাৎ চাই এর দ্বারা পানির পরিবর্তন হোক বা না হোক, তা দৃষ্টিগোচর হোক বা না হোক, সালাতের ক্ষেত্রে তা ক্ষমাযোগ্য হোক বা না হোক। (পানির আধিক্য, স্বল্পতা, পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর আমল করা হবে)। সুতরাং যদি পানিতে নাপাকি পড়ে এবং পানির আধিক্য সম্পর্কে সন্দেহ হয়, তবে মূল অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তা নাপাক গণ্য হবে। আর যদি কোনো হাড় বা গোবরের নাপাক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হয় তবে তা পবিত্র। অথবা নাপাকি শুকিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হলে তা না শুকানোর হুকুম হবে। অথবা কুকুরের পাত্রে মুখ দেওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হয় যে সে তার মাথা পাত্রে ঢুকিয়েছে এবং তার মুখে আর্দ্রতা ছিল, তবে তা নাপাক হবে না। (আর যদি অস্পষ্ট হয়ে যায়) এমন (বৈধ পবিত্রকারী) পানি যা (নিষিদ্ধ বা অপবিত্র) পানির সাথে মিশে গেছে, (তবে অনুসন্ধান ছাড়াই আবশ্যিকভাবে তায়াম্মুম করতে হবে)। আর অনুসন্ধান হলো প্রবল ধারণার ভিত্তিতে যা অধিকতর সঠিক তা অন্বেষণ করা।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا إعدام، أو بطاهر توضأ مرة من ذا غرفة ومن ذا غرفة، وصلى صلاة واحدة، أو ثياب طاهرة مباحة بنجسة أو محرمة صلى في كل ثوب صلاة بعدد النجسة أو المحرمة وزاد صلاة، ويلزم من علم نجاسة شيء إعلام من أراد استعماله.

 

‌‌(فصل) ويحرم اتخاذ واستعمال إناء ذهب أو فضة ومضبب بهما على ذكر وأنثى مطلقًا، وتصح الطهارة منه، وتباح ضبة يسيرة من فضة لحاجة، وتكره مباشرتها بلا حاجة، وكل إناء طاهر غير ذلك

ــ

زاد عدد المباح الطهور، (و) يتيمم أيضًا بـ (لا إعدام) لهما ووجب عليه الكف عنهما كما لو اشتبهت أخته بأجنبية، لكن إن أمكن تطهير أحدهما بالآخر بأن يكون الطهور قلتين فأكثر وكان عنده إناء يسعهما لزمه الخلط ويلزمه التحري لحاجة شرب وأكل لا غسل فمه (أو) أي وإن اشتبه طهور (بطاهر توضأ مرة من ذا غرفة ومن ذا غرفة وصلى صلاة واحدة، أو) أي اشتبهت (ثياب طاهرة مباحة بـ) ثياب (نجسة أو محرمة صلى في كل ثوب صلاة بعدد) الثياب (النجسة أو المحرمة وزاد صلاة) إن علم عدد نجسة أو محرمة وإلا فحتى يتيقن صحتها. وكذا أمكنه ضيقة، (ويلزم من علم نجاسة شيء إعلام من أراد استعماله)، وظاهره في طهارة غيرها، وسواء كانت إزالتها شرطًا لصلاة أم لا موافقًا له في المذهب أم لا.

(فصل): الفصل الحاجز بين الشيئين، ومنه فصل الربع يحجز بين الشتاء والصيف، وهو في كتب العلم كذلك؛ لأنه حاجز بين المسائل وأنواعها قاله في المطلع.

(ويحرم اتخاذ واستعمال إناء ذهب أو فضة و) إناء (مضبب بهما) أو بأحدهما ومموه ومطلي ومطعم، ومكفت كمصمت، (على ذكر وأنثى) وخنثى (مطلقًا) أي في وضوء وغسل وغيرهما، وكذا إناء مغصوب أو ثمنه المعين حرام، (وتصح الطهارة منه) وبه وفيه وإليه. (ونباح ضبة) بشروط أربعة أشار للأول منها بقوله ضبة احترز عما لو وضع الفضة عليه لغيرهما كالمطعم، والثاني قوله (يسيرة) والثالث قوله (من فضة) والرابع قوله (لحاجة) وهي أن يتعلق بها غرض غير زينة ولو وجد غيرها، (وتكره مباشرتها) أي ضبة الفضة المباحة (بلا حاجة) إلى مباشرتها. (وكل إناء طاهر غير ذلك) المذكور من الذهب والفضة والمضبب
এবং নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। অথবা যদি পবিত্র (তাহির) পানির সাথে মিশে যায়, তবে সে একবার এই পাত্র থেকে এক আজলা নিবে এবং অন্য পাত্র থেকে এক আজলা নিবে, অতঃপর একবার সালাত আদায় করবে। অথবা যদি পবিত্র ও বৈধ কাপড় অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সাথে মিশে যায়, তবে সে অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সংখ্যার সমপরিমাণ সালাত আদায় করবে এবং তার সাথে আরও একটি সালাত বৃদ্ধি করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের অপবিত্রতা সম্পর্কে জানে, তার জন্য আবশ্যক হলো যে ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করতে চায় তাকে তা জানিয়ে দেওয়া।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) পুরুষ ও নারী সবার জন্য সাধারণভাবে সোনা বা রুপার পাত্র এবং সোনা বা রুপার ঝালাই করা পাত্র রাখা ও ব্যবহার করা হারাম, তবে তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা শুদ্ধ হবে। বিশেষ প্রয়োজনে রুপার সামান্য ঝালাই করা বৈধ, কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া তা সরাসরি স্পর্শ করা মাকরুহ। এ ছাড়া অন্য সব পবিত্র পাত্র ব্যবহার করা বৈধ।

ــ

বৈধ ও পবিত্র (তাহুর) বস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। (এবং) সে তায়াম্মুমও করবে সেগুলোকে (নষ্ট না করে) বহাল রেখে এবং তার জন্য উভয়টি থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব, যেমনটি হয় যখন নিজের বোন ও অন্য কোনো অপরিচিত নারীর মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু যদি একটি দিয়ে অন্যটিকে পবিত্র করা সম্ভব হয়—যেমন পবিত্র পানির পরিমাণ দুই কুল্লা বা তার বেশি হয়—এবং তার নিকট এমন পাত্র থাকে যা উভয়কে ধারণ করতে পারে, তবে তা মিশ্রিত করা তার জন্য আবশ্যক। এবং পান করা বা খাওয়ার প্রয়োজনে তাকে অনুসন্ধান (তাহারি) করতে হবে, তবে মুখ ধোয়ার জন্য নয়। (অথবা) অর্থাৎ যদি পবিত্র (তাহুর) পানি পবিত্র (তাহির) পানির সাথে মিশে যায়, তবে সে এই পাত্র থেকে এক আজলা এবং ওই পাত্র থেকে এক আজলা নিয়ে একবার উজু করবে এবং এক ওয়াক্ত সালাত পড়বে। অথবা (অর্থাৎ) যদি পবিত্র ও বৈধ কাপড় অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সাথে মিশে যায়, তবে অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সংখ্যার সমপরিমাণ সালাত আদায় করবে এবং আরও একটি সালাত বৃদ্ধি করবে, যদি সে অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সংখ্যা জানে। আর যদি না জানে, তবে সালাত শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে থাকবে। অনুরূপ হুকুম সংকীর্ণ স্থানের ক্ষেত্রেও। (আর যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের অপবিত্রতা সম্পর্কে জানে, তার জন্য আবশ্যক হলো যে ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করতে চায় তাকে তা জানিয়ে দেওয়া), এর বাহ্যিক অর্থ হলো অন্য সব পবিত্রতার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। তা দূর করা সালাতের জন্য শর্ত হোক বা না হোক, এবং ওই ব্যক্তি তার মাযহাবের অনুসারী হোক বা না হোক।

(পরিচ্ছেদ): 'ফসল' বা পরিচ্ছেদ হলো দুটি জিনিসের মধ্যবর্তী অন্তরায়। যেমন ঋতু পরিবর্তন যা শীত ও গ্রীষ্মের মাঝে পার্থক্য করে। ইলমি কিতাবসমূহেও একে তেমনি ধরা হয়; কারণ এটি বিভিন্ন মাসয়ালা ও তার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে পার্থক্যকারী বা অন্তরায়। এটি 'আল-মুতলি' গ্রন্থে বলা হয়েছে।

(এবং সোনা বা রুপার পাত্র এবং) এমন পাত্র (যা এই দুই ধাতু দ্বারা ঝালাই করা) অথবা দুটির কোনো একটি দ্বারা নির্মিত, প্রলেপ দেওয়া, পালিশ করা, খচিত বা কারুকাজ করা—তা নিরেট বা ফাঁপা যা-ই হোক না কেন, তা রাখা ও ব্যবহার করা হারাম। (পুরুষ ও নারী) এবং হিজড়াদের জন্য (সাধারণভাবে), অর্থাৎ উজু, গোসল এবং এর বাইরেও সব ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে জবরদখল করা পাত্র বা যে নির্দিষ্ট হারাম অর্থ দ্বারা পাত্রটি কেনা হয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই হুকুম। (তবে তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সহিহ হবে), অর্থাৎ তার মাধ্যমে, তাতে এবং তার দিকে পানি নিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা সহিহ। (এবং ঝালাই করা পাত্র বৈধ) চারটি শর্তে। লেখক 'ঝালাই' (যাব্বাহ) শব্দটির মাধ্যমে প্রথম শর্তের দিকে ইশারা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ওই বিষয়কে বাদ দিয়েছেন যেখানে রুপা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে লাগানো হয়, যেমন খচিত কারুকাজ। দ্বিতীয় শর্ত হলো এটি (সামান্য) হতে হবে। তৃতীয় শর্ত হলো এটি (রুপার) হতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো এটি (প্রয়োজনে) হতে হবে। আর প্রয়োজন হলো সাজসজ্জা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, যদিও রুপা ছাড়া অন্য বিকল্প পাওয়া যায়। (এবং তা সরাসরি স্পর্শ করা মাকরুহ) অর্থাৎ বৈধ রুপার ঝালাই করা অংশটি (প্রয়োজন ছাড়া) সরাসরি স্পর্শ করা মাকরুহ। (এবং এ ছাড়া অন্য সব পবিত্র পাত্র) অর্থাৎ সোনা, রুপা এবং ঝালাই করা পাত্র হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত সব পবিত্র পাত্র ব্যবহার করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
مباح ولو ثمينًا إلا جلد آدمي وعظمه وما لم تعلم نجاسته من آنية كفار وثيابهم مباح مطلقًا، وجلد الميتة النجسة نجس ولو دبغ، ويحل استعماله بعده في يابس إذا كان من حيوان طاهر في الحياة، ولبنها وكل أجزائها نجسة غير شعر ونحوه، وبيضها إن صلب قشره طاهر، والمنفصل من حي كميتته.

 

‌‌(فصل) والاستنجاء واجب من كل خارج إلا الريح

ــ

بهما (مباح ولو) كان ثمينًا كجوهر وياقوت وزمرد (إلا جلد آدمي و) إلا (عظمه) حتى الميل ونحوه فإنه يحرم اتخاذه واستعماله (وما) مبتدأ (لم تعلم نجاسته من) نحو (آنية كفار و) ما لم تعلم نجاسته من (ثيابهم مباح) خبر ما، وقوله (مطلقًا) أي سواء وليت عوراتهم كالسروال أو لا كالعمامة. (وجلد الميتة النجسة) بعد الموت (نجس) حتى (ولو دبغ، ويحل استعماله بعده) أي الدبغ (في يابس إذا كان من حيوان طاهر في الحياة، ولبنها) أي الميتة (وكل أجزائها) كالعظم والقرن والظفر ونحوها (نجسة غير شعر ونحوه) كالصوف والريش إذا كان من ميتة طاهرة في الحياة فإنه لا ينجس بالموت، والأصل في ذلك قوله تعالى: {وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا وَأَشْعَارِهَا أَثَاثًا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ} [النحل: 80]، والآية في سياق الامتنان فالظاهر شمولها لحالتي الحياة والموت، والريش مقيس على الثلاثة، (وبيضها) أي الميتة (إن صلب قشره طاهر. والمنفصل من) حيوان (حي) كقرن والية فهو (كميتته)، وعظم سمك ونحوه والجراد والسمك وفأرته ودود القز ودود الطعام ولعاب الأطفال وما سال من فم عند نوم طاهر، ويسن تخمير آنية وإيكاء أسقية.

(فصل): يذكر فيه المؤلف رحمه الله تعالى حكم الاستنجاء وآداب التخلي. (والاستنجاء) إزالة النجو وهو العذرة، وأكثر ما يستعمل في إزالته بالماء وقد يستعمل بالأحجار في إزالته، وقيل أصل الاستنجاء نزع الشيء من موضعه وتخليصه، وقيل من النجو وهو القطع يقال نجوت الشجرة وأنجيتها إذا قطعتها فكأنه قطع الأذى عنه باستعمال الماء، وهو (واجب من كل خارج) من سبيل ولو نادرًا كالدود (إلا الريح) لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من استنجى من الريح فليس منا»
মূল্যবান হলেও তা বৈধ, তবে মানুষের চামড়া ও হাড় ব্যতীত। আর কাফিরদের পাত্র এবং তাদের পোশাকের মধ্যে যার অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তা নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করা বৈধ। অপবিত্র মৃত পশুর চামড়া নাপাক, এমনকি তা দাবাগাত (পরিশোধন) করলেও। আর দাবাগাতের পর তা শুষ্ক কাজে ব্যবহার করা হালাল যদি তা এমন প্রাণীর হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল। মৃত পশুর দুধ এবং এর সকল অংশ নাপাক, তবে চুল এবং অনুরূপ অংশ ব্যতীত। আর মৃত পশুর ডিম যদি তার খোসা শক্ত হয়ে থাকে তবে তা পবিত্র। আর জীবিত প্রাণী থেকে যা বিচ্ছিন্ন হয় তা তার মৃতদেহের অনুরূপ।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ): বায়ু ব্যতীত প্রতিটি নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রেই ইসতিনজা করা ওয়াজিব।

ــ

উভয়টি ব্যবহার করা (বৈধ, যদিও তা) মণি, মুক্তা, ইয়াকুত ও যমরুদের মতো মূল্যবান হয় (তবে মানুষের চামড়া এবং) তার (হাড় ব্যতীত), এমনকি শলাকা বা অনুরূপ কিছু হলেও তা তৈরি করা এবং ব্যবহার করা হারাম। (এবং যা) এটি উদ্দেশ্যপদ (যার অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যেমন- কাফিরদের পাত্র এবং) যার অপবিত্রতা জানা নেই এমন (তাদের পোশাক বৈধ) এটি বিধেয়। তার উক্তি (নিঃশর্তভাবে) অর্থাৎ চাই তা তাদের লজ্জাস্থানের সাথে লেগে থাকুক যেমন- পায়জামা, অথবা না থাকুক যেমন- পাগড়ি। (এবং অপবিত্র মৃত পশুর চামড়া) মৃত্যুর কারণে (নাপাক) এমনকি (তা দাবাগাত বা ট্যানিং করা হলেও। এবং তা ব্যবহারের পর হালাল হয়) অর্থাৎ দাবাগাতের পর (শুষ্ক বস্তুর ক্ষেত্রে, যদি তা এমন প্রাণীর হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল। এবং তার দুধ) অর্থাৎ মৃত পশুর দুধ (এবং এর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) যেমন- হাড়, শিং, নখ ও অনুরূপ বিষয়সমূহ (নাপাক, তবে চুল ও অনুরূপ অংশ ব্যতীত) যেমন- পশম ও পালক। কারণ যদি তা এমন মৃত পশু থেকে হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল, তবে তা মৃত্যুর কারণে নাপাক হয় না। এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের পশম, রোম ও চুল থেকে তিনি তোমাদের জন্য গৃহসামগ্রী ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভোগের উপকরণ তৈরি করেছেন} [আন-নাহল: ৮০]। এই আয়াতটি নিয়ামত বর্ণনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, তাই এর বাহ্যিক অর্থ জীবন ও মৃত্যু উভয় অবস্থাকেই শামিল করে। আর পালককে এই তিনটির ওপর কিয়াস বা অনুমান করা হয়েছে। (এবং তার ডিম) অর্থাৎ মৃত পশুর ডিম (যদি তার খোসা শক্ত হয়ে থাকে তবে তা পবিত্র। এবং জীবিত প্রাণী থেকে যা বিচ্ছিন্ন হয়) যেমন- শিং ও চর্বিযুক্ত লেজ, তা (তার মৃতদেহের অনুরূপ)। আর মাছ ও অনুরূপ প্রাণীর হাড়, পঙ্গপাল, মাছ, কস্তুরী মৃগের নাভি, রেশম পোকা, খাবারের পোকা, শিশুদের লালা এবং ঘুমের সময় মুখ থেকে যা নির্গত হয় তা পবিত্র। আর পাত্র ঢেকে রাখা এবং পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখা সুন্নত।

(পরিচ্ছেদ): এতে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) ইসতিনজার বিধান এবং শৌচকার্যের আদবসমূহ আলোচনা করেছেন। (আর ইসতিনজা) হলো নাজু অর্থাৎ মল বা অপবিত্রতা দূর করা। পানি দিয়ে অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সবথেকে বেশি হয়, তবে পাথর দিয়ে দূর করার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার হয়। বলা হয়ে থাকে যে, ইসতিনজার মূল অর্থ হলো কোনো বস্তুকে তার স্থান থেকে উপড়ে ফেলা ও তা পৃথক করা। আবার বলা হয় যে, এটি 'নাজু' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ বিচ্ছিন্ন করা। বলা হয়- আমি গাছটি কেটেছি বা বিচ্ছিন্ন করেছি, যেন ব্যক্তি পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কষ্টদায়ক বস্তুটিকে নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। আর এটি (ওয়াজিব প্রতিটি নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে) যা রাস্তা দিয়ে বের হয়, এমনকি তা বিরল বস্তু (যেমন- কৃমি) হলেও, (তবে বায়ু ব্যতীত)। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইসতিনজা করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
والطاهر وغير الملوث، وهو من شروط الوضوء والتيمم، وسن عند دخول خلاء قول: «بسم الله، اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث»، وبعد خروجه من: «غفرانك، الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني». وتغطية رأس وانتعال وتقديم الرجل اليسرى دخولاً والاعتماد عليها حال الجلوس، واليمنى خروجًا عكس مسجد ونعل ونحوهما، وبعد في فضاء، وطلب مكان رخو لبول، ومسح الذكر بيد

ــ

وإلا (الطاهر) كالمني (و) إلا (غير الملوث) كالحصى والبعر الناشف، (وهو) أي الاستنجاء (من شروط الوضوء والتيمم. وسن عند دخول خلاء) بالمد وهو المكان الذي أعد لقضاء الحاجة سمي بذلك لكونه يتخلى فيه أي ينفرد، ويقال له أيضًا الكنيف لاستتار فيه، وكل ما ستر من بناء وغيره يقال له كنيف، سن (قول) داخله (بسم الله، اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث) الرجس النجس الشيطان الرجيم، والخبث بضم الخاء والباء كرغيف ورغف وهو الذكر من الشيطان والخبائث وجمع خبيثة وهي الأنثى منهم، وقيل الخبث الكفر والخبائث الشياطين، وقيل الخبث بإسكان الباء الشر والخبائث الشياطين. وقدم التسمية للتبرك، وإنما قدم التعوذ في القراءة على البسملة؛ لأنها من القرآن والاستعاذة من أجل القراءة. (و) سن قوله (بعد خروجه منه) أي الخلاء: (غفرانك) منصوب مفعول به للفعل المحذوف أي أسألك غفرانك أي اغفر لي تقصيري في شكر ما أنعمت به علي من الرزق ولذته والانتفاع به وتسهيل خروجه، وقيل من ترك الذكر مدة التخلي، ويجوز أن يكون منصوبًا على المصدر أي اغفر غفرانك (الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني. و) سن لداخل خلاء (تغطية رأسه) (وانتقال) برجله، (و) سن له (تقديم الرجل اليسرى دخولاً والاعتماد عليها) أي اليسرى (حال الجلوس) وينصب اليمنى، (و) سن تقديم (اليمنى خروجًا عكس مسجد ونعل ونحوهما) كالمنزل والحمام أي إذا أراد دخول محل شريف قدم اليمنى، وإذا أراد دخول محل قذر قدم اليسر. (و) يسن لمريد قضاء الحاجة (بعده) (في فضاء) حتى لا يراه أحد، وسن استتاره. (و) سن له أيضًا (طلب مكان رخو لبول)، ويقصد مكانًا علوًا لينحدر عنه البول، وسن لصق ذكره بصلب ليأمن من رشاش البول، (و) سن (مسح الذكر بيده)
এবং পবিত্র ও দূষণমুক্ত বস্তু; যা অযু এবং তায়াম্মুমের অন্যতম শর্ত। এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় বলা সুন্নাত: "আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ শয়তান ও অপবিত্র নারী শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আর সেখান থেকে বের হওয়ার পর বলবে: "আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।" আরও সুন্নাত হলো মাথা ঢাকা, জুতা পরিধান করা, প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং বসার সময় তার ওপর ভর দেওয়া। আর বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া, যা মসজিদ ও জুতা পরিধান ইত্যাদির বিপরীত। আর উন্মুক্ত স্থানে দূরে যাওয়া, প্রস্রাবের জন্য নরম জায়গা তালাশ করা এবং হাত দিয়ে লিঙ্গ মোছা।

ــ

নতুবা (পবিত্র) যেমন বীর্য (এবং) নতুবা (দূষণমুক্ত) যেমন পাথর ও শুষ্ক গোবর। (এবং এটি) অর্থাৎ ইস্তিনজা (অযু ও তায়াম্মুমের অন্যতম শর্ত। এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় সুন্নাত) যা দীর্ঘ স্বরযোগে উচ্চারিত শব্দ; আর তা হলো হাজত পূর্ণ করার জন্য প্রস্তুতকৃত স্থান। এর এমন নামকরণ করা হয়েছে কারণ সেখানে মানুষ একাকী হয়। একে ‘কানিফ’ও বলা হয় কারণ সেখানে আবৃত থাকা হয়। দেয়াল বা অন্য কিছুর মাধ্যমে যা কিছু আবৃত করা হয় তাকেই কানিফ বলা হয়। সেখানে প্রবেশের সময় (বলা) সুন্নাত: "আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ শয়তান ও অপবিত্র নারী শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"—অর্থাৎ অপবিত্র, নাপাক, বিতাড়িত শয়তান। 'খুবুছ' শব্দটি খ এবং বা বর্ণের পেশ যোগে, যা শয়তানের পুরুষদের বোঝায় এবং 'খাবায়েছ' হলো 'খাবিছাহ' এর বহুবচন যা শয়তানের নারীদের বোঝায়। কেউ কেউ বলেছেন, 'খুবুছ' অর্থ কুফরি এবং 'খাবায়েছ' অর্থ শয়তানসমূহ। আবার কেউ বলেছেন, 'খুবুছ' বা বর্ণের সুকুন যোগে অর্থ হলো অনিষ্ট এবং 'খাবায়েছ' হলো শয়তানসমূহ। বরকতের জন্য শুরুতে বিসমিল্লাহকে আগে আনা হয়েছে। তবে কিরাআতের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহর আগে আউযুবিল্লাহকে রাখা হয়েছে কারণ সেটি কুরআনের অংশ এবং কিরাআতের উদ্দেশ্যে ইস্তিয়াযা বা আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। (এবং) তার (সেখান থেকে বের হওয়ার পর) অর্থাৎ শৌচাগার থেকে বের হওয়ার পর বলা সুন্নাত: (গফরানাকা) যা উহ্য ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে, অর্থাৎ আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি; মানে: আমাকে যে রিযিক, তার স্বাদ, তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং তা সহজে বের হওয়ার নেয়ামত আপনি দান করেছেন, তার শুকরিয়া আদায়ে আমার যে ত্রুটি হয়েছে তা ক্ষমা করুন। কেউ কেউ বলেছেন, শৌচকার্য চলাকালীন যিকর বর্জন করার কারণে ক্ষমা চাওয়া হয়। এটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল হিসেবেও নসব হতে পারে, অর্থাৎ আপনি আপনার ক্ষমা দ্বারা ক্ষমা করুন। (সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন। এবং) শৌচাগারে প্রবেশকারীর জন্য সুন্নাত (মাথা ঢাকা) (এবং জুতা পরিধান করা) পায়ে। (এবং) তার জন্য সুন্নাত (প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং তার ওপর ভর দেওয়া) অর্থাৎ বাম পায়ের ওপর (বসার অবস্থায়) এবং ডান পা খাড়া রাখবে। (এবং) বের হওয়ার সময় (ডান পা আগে দেওয়া সুন্নাত, যা মসজিদ ও জুতা পরিধান ইত্যাদির বিপরীত) যেমন ঘর ও গোসলখানা; অর্থাৎ যখন কোনো সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করতে চাইবে তখন ডান পা আগে দেবে, আর যখন কোনো নোংরা স্থানে প্রবেশ করতে চাইবে তখন বাম পা আগে দেবে। (এবং) হাজত পূর্ণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো (তারপর) (উন্মুক্ত স্থানে) দূরে যাওয়া যাতে তাকে কেউ দেখতে না পায়। এবং তার জন্য পর্দা করা সুন্নাত। (এবং) তার জন্য আরও সুন্নাত হলো (প্রস্রাবের জন্য নরম জায়গা তালাশ করা)। সে উঁচু জায়গা নির্বাচন করবে যাতে প্রস্রাব গড়িয়ে নিচে নেমে যায়। প্রস্রাবের ছিটা থেকে নিরাপদ থাকতে লিঙ্গকে শক্ত স্থানের সাথে লাগানো সুন্নাত। (এবং) সুন্নাত হলো (তার হাত দিয়ে লিঙ্গ মোছা)।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
يسري إذا انقطع البول من أصله إلى رأس ثلاثًا، ونره ثلاثًا، وكره دخول خلاء بما فيه ذكر الله، وكلام فيه لغير حاجة، ورفع ثوب قبل دنو من الأرض، وبول في شق ونحوه، ومس فرجه بيمينه حتى باستنجاء أو استجمار إلا لحاجة،

ــ

ال (يسرى إذا انقطع البول من أصله) أي الذكر فيبدأ من حلقة دبره (إلى رأس) ذكره (ثلاثًا) لينجذب البول، (و) سن (نتره) أي ذكر (ثلاثًا) نصًا لقوله عليه السلام: «إذا بال أحدك فلينتر ذكره ثلاثًا» رواه أحمد وأبو داود، وذكر بعضهم ويتنحنح زاد بعضهم ويمشي خطوات، وقال الشيخ كله بدعة. (وكره دخول خلاء بما) أي بشيء (فيه ذكر) اسم (الله) تعالى لحديث أنس «كان رسول صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء نزع خاتمه» رواه الخمسة إلا أحمد، وتعظيمًا لاسم الله عن موضع القاذورات إذا كان لغير حاجة بأن لم يجد من يحفظه وخاف ضياعه، وجزم بعضهم بتحريمه بمصحف، قال في الإنصاف: لا شك في تحريمه قطعًا من غير حاجة ولا يتوقف في هذا عاقل انتهى، ولا يكره أن يصحب ما فيه دراهم ودنانير فيها اسم الله تعالى لمشقة التحرز. (و) كره (كلام فيه) أي الخلاء (لغير حاجة)، ويجب تحذير نحو ضرير وغافل عن هلكة (و) كره (رفع ثوبه) (قبل دنوه) من الأرض لغير حاجة (و) كره (بوله) (في شق ونحوه) كسرب، وروى أن سعد بن عبادة بال بحجر بالشام ثم استلقى ميتًا، فسمع من بئر بالمدينة:

(نحن قتلنا سيد الخزرج سعد بن عبادة … ورميناه بسهمين فلم نحط فؤاده)

فحفظوا ذلك اليوم فوجدوه اليوم الذي مات فيه سعد، ولئلا تخرج منه دابة فتؤذيه أو ترده عليه فتنجسه، وكره بوله في إناء بلا حاجة نصًا ونار ورماد، (و) كره (مس فرجه بيمينه حتى باستنجاء أو استجمار إلا لحاجة) إلى مسه باليمين، قال في المنتهى وشرحه، فإن كان من غائط أخذ الحجر بيساره فمسح به أو بول أمسك ذكره بيساره فمسحه على الحجر ونحوه، فإن احتاج إلى يمينه كصغر حجر تعذر وضعه بين عقبيه- تثنية عقب ككتف: مؤخر القدم- أو تعذر وضعه بين إصبعيه أي إبهامي رجليه، فيأخذه أي الحجر بها أي بيمينه ويمسح بشماله فتكون
প্রস্রাব বন্ধ হওয়ার পর লিঙ্গের গোড়া থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত তিনবার টানবে এবং তিনবার ঝাড়া দিবে। প্রয়োজন ব্যতীত আল্লাহর যিকির সংবলিত কোনো কিছু নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা, প্রয়োজন ছাড়া সেখানে কথা বলা, মাটির কাছাকাছি হওয়ার আগে কাপড় তোলা, গর্ত বা অনুরূপ স্থানে প্রস্রাব করা এবং প্রয়োজন ছাড়া ডান হাত দিয়ে লজ্জা স্থান স্পর্শ করা মাকরূহ, এমনকি ইস্তিনজা বা ইস্তিজমারের সময়ও।

—

(টানবে যখন প্রস্রাব বন্ধ হবে তার গোড়া থেকে) অর্থাৎ পুরুষাঙ্গের গোড়া থেকে, যা মলদ্বারের পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে শুরু করে (তার অগ্রভাগ পর্যন্ত) অর্থাৎ লিঙ্গের মাথা পর্যন্ত (তিনবার), যাতে প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। (এবং) সুন্নাহ হলো (ঝাড়া দেওয়া) অর্থাৎ লিঙ্গকে (তিনবার), এটি স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে তখন সে যেন তার লিঙ্গ তিনবার ঝেড়ে নেয়।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ গলা খাকারি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং কেউ কেউ কয়েক কদম হাঁটার কথা যোগ করেছেন। তবে শায়খ বলেছেন, এসবই বিদআত। (এবং মাকরূহ হলো এমন কিছু নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা যাতে আল্লাহর যিকির) অর্থাৎ আল্লাহর (নাম) রয়েছে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন।" এটি আহমাদ ব্যতীত পাঁচজন (সুনান গ্রন্থকারগণ) বর্ণনা করেছেন। এবং অপবিত্র স্থান থেকে আল্লাহর নামের সম্মানার্থে এটি মাকরূহ, যদি কোনো প্রয়োজন না থাকে; যেমন সে এমন কাউকে পায়নি যে তা পাহারা দেবে এবং তা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কেউ কেউ মুসহাফ (কুরআন) নিয়ে প্রবেশ করাকে নিশ্চিতভাবে হারাম বলেছেন। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রয়োজন ছাড়া এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কোনো সন্দেহ নেই এবং কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে দ্বিধা করবে না। সমাপ্ত। তবে যে দিরহাম বা দিনারে আল্লাহর নাম রয়েছে তা সাথে রাখা মাকরূহ হবে না, কারণ তা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর। (এবং) মাকরূহ হলো (সেখানে কথা বলা) অর্থাৎ টয়লেটে (প্রয়োজন ব্যতীত)। তবে কোনো অন্ধ ব্যক্তি বা অসতর্ক ব্যক্তিকে ধ্বংস থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। (এবং) মাকরূহ হলো (কাপড় তোলা) (মাটির কাছাকাছি হওয়ার আগে) প্রয়োজন ছাড়া। (এবং) মাকরূহ হলো (তার প্রস্রাব করা) (গর্ত বা অনুরূপ স্থানে) যেমন সুড়ঙ্গ। বর্ণিত আছে যে, সা'দ ইবনে উবাদাহ সিরিয়ায় একটি গর্তে প্রস্রাব করেছিলেন, এরপর তিনি মৃত অবস্থায় ঢলে পড়লেন। তখন মদিনার একটি কূয়া থেকে শোনা গেল:

(আমরা খাযরাজ গোত্রের নেতা সা'দ ইবনে উবাদাহকে হত্যা করেছি … এবং আমরা তাকে দুটি তীর নিক্ষেপ করেছি যা তার হৃদপিণ্ড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি)

তারা সেই দিনটি মনে রাখলেন এবং দেখলেন যে সেটিই ছিল সা'দ এর মৃত্যুর দিন। এছাড়া যেন সেখান থেকে কোনো প্রাণী বেরিয়ে তাকে কষ্ট না দেয় অথবা প্রস্রাব তার দিকে ফিরে এসে তাকে অপবিত্র না করে। এবং প্রয়োজন ছাড়া পাত্রে প্রস্রাব করা স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী মাকরূহ, তেমনিভাবে আগুন ও ছাইয়ের ওপরও। (এবং) মাকরূহ হলো (ডান হাত দিয়ে লজ্জা স্থান স্পর্শ করা এমনকি ইস্তিনজা বা ইস্তিজমারের সময়ও, তবে প্রয়োজন ছাড়া) অর্থাৎ ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করার প্রয়োজন ব্যতীত। আল-মুনতাহা ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি মলত্যাগ হয় তবে বাম হাতে পাথর নিয়ে মুছবে, অথবা প্রস্রাব হলে বাম হাতে লিঙ্গ ধরে পাথরের ওপর বা অনুরূপ কিছুর ওপর মুছবে। তবে যদি ডান হাতের প্রয়োজন হয়, যেমন পাথর ছোট হওয়ার কারণে তা দুই গোড়ালির মাঝে রাখা অসম্ভব হয়—'আকিব' হলো 'কাতিফ' এর ওজনে, যার অর্থ পায়ের পেছনের অংশ—অথবা তা পায়ের দুই বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝে রাখা সম্ভব না হয়, তবে সে তা অর্থাৎ পাথরটি ডান হাতে নেবে এবং বাম হাত দিয়ে মুছবে। এর ফলে...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩০)
واستقبال النيرين، وحرم استقبال قبلة واستدبارها في غير بنيان، ولبثه فوق الحاجة، وبول في طريق مسلوك ونحوه وتحت شجرة مثمرة ثمرًا مقصودًا، وسن استجمار ثم استنجاء بماء وإن اقتصر على أحدهما جاز وعلى الماء أفضل، وبداءة ذكر وبكر بقبل وتخير ثيب، ولا يصح استجمار إلا بطاهر ناشف مباح منق،

ــ

اليسرى هي المتحركة فإن كان أقطع اليسرى أو بها مرض استجمر بيمينه انتهى، وكره بوله في مستحم غير مقير أو مبلط، (و) كره (استقبال النيرين) أي الشمس والقمر في بول وغائط بلا حائل لما فيهما من نور الله تعالى، وكره استقبال مهب الريح، ولا يكره البول قائمًا ولا لغير حاجة إن أمن تلوثًا وناظرًا، ولا التوجه إلى بيت المقدس. (وحرم استقبال قبلة) في غير بنيان (و) حرم (استدبارها) أي القبلة (في غير بنيان) بل في الصحراء لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا أو غربوا» رواه الشيخان، ويجوز في البينان جمعًا بين الأخبار، (و) حرم (لبثه فوق) قدر (الحاجة) لأنه كشف عورة بلا حاجة، وقد قيل إنه يدمي الكبد ويورث الباسور، وحرم تغوطه بماء قليل وبوله وتغوطه بموردة، (و) حرم (بوله) وتغوطه (في طريق مسلوك ونحوه) كالظل النافع لحديث معاذ: «اتقوا الملاعن الثلاث البراز في الموارد، وقارعة الطرق والظل» رواه أبو داود وابن ماجة، ومثل الظل مشمس الناس زمن الشتاء ومتحدثهم. (و) حرم بوله وتغوطه (تحت شجرة مثمرة ثمرًا مقصودًا) يؤكل أو لأنه يفسده وتعافه النفس، وحرم بوله وتغوطه بين قبور المسلمين وعليها، (وسن استجمار) بحجر ونحوه (ثم استنجاء بماء) فإن عكس كره (وإن اقتصر على أحدهما) أي الحجر أو الماء (جاز، و) إن أراد الاقتصار (على) أحدهما، فالماء وحده (أفضل) من الحجر وحده كما أن جمعها أفضل لأن الماء يطهر المحل وأبلغ في التنظيف (و) سن (بداءة ذكر) إذا بال وتغوط في استنجاء بقبل لئلا تتلوث يده إذا بدأ بالدبر؛ لأن ذكره بارز، (و) سن أيضًا بدأة (بكر) كذلك (بقبل) لوجود عذرتها (وتخير ثيب) في البدأة بما شاءت لتساوي القبل والدبر، وسن تحول من يخشى تلوثًا ليستنجي أو يستجمر (ولا يصح استجمار إلا بطاهر ناشف مباح منق) كالحجر والخشب، والإنقاء بأحجار ونحوها أن يبقى
এবং দুই জ্যোতিষ্ক (সূর্য ও চন্দ্র)-এর দিকে মুখ করা মাকরূহ; দালানকোঠা ছাড়া খোলা জায়গায় কিবলার দিকে মুখ করে বসা বা পিঠ দিয়ে বসা হারাম; প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা হারাম; পথচারীদের চলার পথে ও অনুরূপ স্থানে এবং ফলদায়ী বৃক্ষের নিচে যার ফল আহরণ করা হয়, সেখানে প্রস্রাব করা হারাম; এবং সুন্নত হলো পাথর ব্যবহার করা এবং এরপর পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা, আর যদি কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা জায়েজ হবে, তবে পানির ব্যবহার উত্তম; পুরুষ এবং কুমারী নারীর ক্ষেত্রে সামনের দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নত এবং বিবাহিতা নারী যে কোনো দিক দিয়ে শুরু করার এখতিয়ার রাখে; আর পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সহিহ হবে না যদি না তা পবিত্র, শুষ্ক, বৈধ এবং পরিচ্ছন্নকারী হয়।

—

বাম হাতই নাড়াচাড়া করবে, যদি তার বাম হাত কাটা থাকে অথবা তাতে কোনো রোগ থাকে, তবে সে ডান হাত দিয়ে পাথর ব্যবহার করবে। সমাপ্ত। আর পাকা বা ইট বিছানো নয় এমন গোসলখানায় প্রস্রাব করা মাকরূহ। (এবং) প্রস্রাব ও পায়খানার সময় কোনো আড়াল ছাড়া (দুই জ্যোতিষ্ক তথা সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা) মাকরূহ, কারণ এ দুটিতে আল্লাহর নূর রয়েছে; এবং বায়ু প্রবাহের দিকে মুখ করা মাকরূহ; আর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরূহ নয়, এমনকি প্রয়োজন ছাড়াও, যদি শরীর নাপাক হওয়ার ভয় না থাকে এবং কেউ দেখে ফেলার আশঙ্কা না থাকে; এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করা মাকরূহ নয়। (এবং কিবলার দিকে মুখ করা হারাম) দালানকোঠা ছাড়া খোলা জায়গায়; (এবং) কিবলার দিকে (পিঠ দেওয়া) হারাম (দালানকোঠা ছাড়া), বরং মরুভূমিতে বা খোলা ময়দানে; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা পায়খানায় আসো, তখন কিবলার দিকে মুখ করো না এবং তার দিকে পিঠ দিও না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে দালানকোঠার ভেতরে এটি জায়েজ। (এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা হারাম), কারণ এটি প্রয়োজন ছাড়া সতর খুলে রাখা; এবং বলা হয়েছে যে, এটি কলিজায় রক্তক্ষরণ ঘটায় এবং অর্শ রোগের সৃষ্টি করে; আর অল্প পানিতে পায়খানা করা এবং মানুষের পানি সংগ্রহ করার ঘাটে প্রস্রাব বা পায়খানা করা হারাম। (এবং) মানুষের (চলার পথে এবং অনুরূপ স্থানে প্রস্রাব করা) ও পায়খানা করা হারাম, যেমন উপকারী ছায়া; মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে: "তোমরা অভিশপ্ত তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আর ছায়ার মতোই হলো শীতকালে মানুষের রোদ পোহানোর জায়গা এবং তাদের গল্প করার স্থান। (এবং ফলদায়ী বৃক্ষের নিচে যার ফল আহরণ করা হয় সেখানে প্রস্রাব ও পায়খানা করা হারাম), তা ভক্ষণযোগ্য হোক বা না হোক, কারণ এটি ফলকে নষ্ট করে এবং মানুষের মনে ঘৃণার উদ্রেক করে; এবং মুসলিমদের কবরের মাঝে ও কবরের ওপর প্রস্রাব ও পায়খানা করা হারাম। (এবং পাথর ও অনুরূপ বস্তু দিয়ে ইসতিজমার করা এবং এরপর পানি দিয়ে ইসতিনজা করা সুন্নত), তবে এর উল্টো করলে তা মাকরূহ হবে; (আর যদি কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে) অর্থাৎ পাথর বা পানি, (তবে তা জায়েজ হবে); আর যদি কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, তবে শুধু পানি ব্যবহার করা শুধু পাথরের চেয়ে (উত্তম), যেমন উভয়টির একত্রীকরণ সবচেয়ে উত্তম; কারণ পানি স্থানটিকে পবিত্র করে এবং পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। (এবং পুরুষের ক্ষেত্রে সুন্নত হলো প্রস্রাব বা পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জনের সময় সামনের দিক থেকে শুরু করা), যাতে পিছনের দিক থেকে শুরু করলে হাত অপবিত্র না হয়; কারণ তার পুরুষাঙ্গ সামনের দিকে থাকে; (এবং) একইভাবে (কুমারী নারীর ক্ষেত্রেও সামনের দিক থেকে শুরু করা সুন্নত), তার কুমারীত্বের কারণে; (এবং বিবাহিতা নারী এখতিয়ার রাখে) যে কোনো দিক দিয়ে শুরু করার, কারণ তার ক্ষেত্রে সামনের ও পিছনের দিক সমান; আর অপবিত্র হওয়ার ভয় আছে এমন ব্যক্তির জন্য স্থান পরিবর্তন করে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত; (এবং পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সহিহ হবে না যদি না তা পবিত্র, শুষ্ক, বৈধ এবং পরিচ্ছন্নকারী হয়) যেমন পাথর ও কাঠ; আর পাথর ও অনুরূপ বস্তু দিয়ে পরিচ্ছন্ন করার অর্থ হলো এমনভাবে পরিষ্কার করা যেন কেবল এমন দাগ অবশিষ্ট থাকে যা পানি ছাড়া দূর হয় না।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وحرم بروث وعظم وطعام وذي حرمة ومتصل بحيوان، وشرط له عدم تعدي خارج موضع العادة، وثلاث مسحات منقية فأكثر، ومتى جاوز الثلاث سن قطع على وتر.

 

‌‌(فصل) يسن السواك بعود لين رطب منق غير مضر كل وقت إلا لصائم بعد الزوال فيكره، ويتأكد عند صلاة ونحوها وانتباه وتغير فم ونحوه.

ــ

أثر لا يزيله إلا الماء وبما عود خشونة المحل كما كان قبل خروج الخارج، ويواصل صب الماء ويسترخي قليلاً (وحرم) استجمار (بروث وعظم وطعام) مطلقًا (وذي حرمة) ككتب حديث وفقه (ومتصل بحيوان) وجلد سمك (وشرط له) أي الاستجمار (عدم تعدي خارج موضع العادة) فإن استجمر بما نهى عنه الشارع لحرمته أو تعدي خارج موضع العادة لم يجزئه بعد ذلك إلا الماء. (و) شرط الاستجمار بحجر (ثلاث مسحات منقية فأكثر) تعم كل مسحة المحل وهو المسربة والصفحتان لما تقدم، (ومتى جاوز الثلاث) مسحات بأن لم ينق بها زاد حتى ينقى، و (سن قطع على وتر) وإذا أتى بالعدد المعتبر اكتفى من زوال النجاسة بغلبة الظن، وأثر الاستجمار نجس يعفى عن يسيره في محله.

(فصل: يسن السواك) أي التسوك مصدر تسوك إذا دلك فمه بالعود والسواك بمعناه يستاك به (بعود لين) فشمل الحديث واليابس المندى (رطب) أي حديث إن كان (منق) للفم ولا يجرحه (غير مضر) كالريحان (كل وقت) متعلق بيسن أي في كل وقت من الأوقات (إلا لصائم بعد الزوال) أي ميل الشمس عند كبد السماء (فيكره) السواك إذن برطب ويابس لحديث أبي هريرة مرفوعًا: «لخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك» متفق عليه، وهو إنما يظهر غالبًا بعد الزوال، ويباح قبله برطب وبيابس يستحب. (ويتأكد) السواك (عند) كل وضوء و (صلاة ونحوها) كدخول منزل الظاهر أنه يدخل الطواف وسجود الشكر والتلاوة بخلاف ما نقله شيخنا التغلبي عن المبدع فراجعه. (و) يتأكد عند (انتباه) من نوم لحديث أحمد عن عائشة: «كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يرقد من ليل أو نهار فيستيقظ إلا تسوك قبل أن يتوضأ». (و) يتأكد أيضًا عند (تغير) رائحة (فم) بأكل أو غيره (ونحوه) كخلو المعدة، ويتأكد أيضًا عند قراءة ودخول
গোবর, হাড়, খাদ্যদ্রব্য, সম্মানযোগ্য বস্তু এবং প্রাণীর সাথে যুক্ত কোনো কিছু দ্বারা ইস্তিজমার করা হারাম। এর জন্য শর্ত হলো নাপাকি সাধারণ জায়গার বাইরে ছড়িয়ে না যাওয়া এবং তিনটি বা তার অধিক পরিষ্কারকারী মুছনি হওয়া। যখন তিনটির বেশি প্রয়োজন হয়, তখন বিজোড় সংখ্যায় শেষ করা সুন্নত।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) নরম, আর্দ্র, পরিষ্কারকারী এবং ক্ষতিকর নয় এমন কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা সব সময় মিসওয়াক করা সুন্নত; তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর তা মাকরূহ। আর নামাজ ও তার সদৃশ ইবাদতের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তন হলে ও এই জাতীয় ক্ষেত্রে মিসওয়াক করার গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পায়।

ــ

এমন চিহ্ন যা পানি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা দূর হয় না এবং এমন বস্তু দ্বারা যা স্থানটিকে আগের মতো রুক্ষ করে দেয় যেমনটি নির্গমনের পূর্বে ছিল। সে অনবরত পানি ঢালতে থাকবে এবং শরীর কিছুটা শিথিল করবে। (আর হারাম) ইস্তিজমার করা (গোবর, হাড় ও খাদ্যদ্রব্য দ্বারা) সাধারণভাবে (এবং সম্মানযোগ্য বস্তু দ্বারা) যেমন হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহ (এবং প্রাণীর সাথে সংযুক্ত কোনো কিছু দ্বারা) এবং মাছের চামড়া দ্বারা। (আর এর জন্য শর্ত হলো) অর্থাৎ ইস্তিজমারের জন্য (সাধারণ স্থানের বাইরে নাপাকি ছড়িয়ে না যাওয়া)। সুতরাং কেউ যদি এমন বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার করে যা শরিয়ত প্রণেতা তার সম্মানের কারণে নিষিদ্ধ করেছেন, অথবা নাপাকি যদি সাধারণ সীমার বাইরে ছড়িয়ে যায়, তবে এরপর পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। (আর) পাথর দ্বারা ইস্তিজমারের শর্ত হলো (তিনটি বা তার অধিক পরিষ্কারকারী মুছনি) যা প্রতিটি মুছনির ক্ষেত্রে পুরো স্থানকে বেষ্টন করবে, আর তা হলো মলদ্বার ও তার দুই পার্শ্ব—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। (আর যখন তিনটির বেশি হবে) অর্থাৎ তিনবার মোছার দ্বারা যদি পরিষ্কার না হয়, তবে পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত মুছনি বৃদ্ধি করবে। আর (বিজোড় সংখ্যায় শেষ করা সুন্নত)। যখন নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ হবে, তখন নাপাকি দূর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট হবে। আর ইস্তিজমারের পর অবশিষ্ট চিহ্ন অপবিত্র হলেও নিজ স্থানে সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য।

(পরিচ্ছেদ: মিসওয়াক করা সুন্নত) অর্থাৎ মুখ ঘষা; এটি 'তাসাওয়ুক' ক্রিয়ামূল থেকে আগত, যার অর্থ কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে মুখ ঘষা। আর মিসওয়াক তার সমার্থক যা দিয়ে ঘষা হয়। (নরম কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা) এটি নতুন এবং ভেজানো শুকনো কাঠ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। (আর্দ্র) অর্থাৎ তাজা হলে। (পরিষ্কারকারী) যা মুখ পরিষ্কার করে এবং জখম করে না। (ক্ষতিকর নয়) যেমন রায়হান। (সব সময়) এটি 'সুন্নত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে। (তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর) অর্থাৎ যখন সূর্য আকাশের মাঝখান থেকে হেলে পড়ে (তখন মাকরূহ) কাঁচা ও শুকনো সব ধরণের মিসওয়াক করা; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: «রোজা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়» (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। আর এই গন্ধ সাধারণত সূর্য ঢলে পড়ার পরই প্রকাশ পায়। তবে তার আগে কাঁচা ও শুকনো মিসওয়াক করা জায়েজ বরং মুস্তাহাব। (আর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়) মিসওয়াকের (প্রতিটি) ওজু এবং (নামাজ ও তার সদৃশ ইবাদতের সময়) যেমন ঘরে প্রবেশের সময়। স্পষ্টত যে, এর মধ্যে তাওয়াফ, শুকরিয়ার সেজদা এবং তিলাওয়াতের সেজদাও অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও আমাদের শায়খ আত-তাগলাবি 'আল-মুবদি' থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা এর বিপরীত, সেটি দেখে নিতে পারেন। (এবং) গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় (জাগ্রত হওয়ার সময়) ঘুম থেকে; আহমদ বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের কারণে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বা দিনে যখনই ঘুমাতেন এবং এরপর জাগ্রত হতেন, ওজু করার আগে মিসওয়াক করতেন»। (এবং) গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় (মুখের) গন্ধ (পরিবর্তনের সময়) কোনো কিছু খাওয়া বা অন্য কোনো কারণে (এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে) যেমন পাকস্থলী খালি থাকা। এছাড়াও তিলাওয়াতের সময় ও প্রবেশের সময় এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وسن كونه عرضًا بالنسبة إلى الأسنان وبدأة بالأيمن فيه وفي طهوره وشأنه كله، وادهان غبا، واكتحال في كل عين ثلاثًا، ونظر في مرآة، وتطيب، واستحداد، وحف شارب، وتقليم ظفر، ونتف إبط، وتسريح شعر، وإعفاء لحية، وكره قزع، ونتف شيب، وثقب أذن صبي، وتسوك بعود آس ورمان، وزكي الرائحة وطرفاء وقصب ونحوه.

ــ

مسجد وإطالة سكون وصفرة أسنان، (وسن) كونه (عرضًا بالنسبة إلى الأسنان) طولاً بالنسبة إلى الفم وكونه ييسراه على لسانه ولثة وأسنان، (و) سن (بدأة) الجانب (الأيمن) من فم (فيه) أي السواك، (و) بدأة بالأيمن (في طهوره و) في (شأنه كله) كترجل ونحوه. تذنيب: من استاك بغير عود لم يصب السنة. (و) سن (ادهان غبا) أي يومًا ويومًا، (و) سن (اكتحال) بأثمد مطيب كل ليلة (في كل عين ثلاثًا) قبل نوم، (و) سن (نظر في مرآة) وقوله: اللهم كما حسنت خلقي فحسن خلقي وحرم وجهي على النار. (و) سن (تطيب) لرجل بما خفى لونه وظهر ريحه، وللمرأة في غير بيتها بعكسه، (و) سن (استحداد) أي حلق العانة، وله قصه وإزالته بما شاء والتنوير بالنورة وغيرها، (و) سن (حف شارب) وهو المبالغة في قصه، (و) سن (تقليم ظفر) مخالفًا يوم الجمعة قبل الصلاة فيبدأ بخنصره اليمنى ثم الوسطى ثم الإبهام ثم البنصر ثم السبابة ثم إبهام اليسرى ثم وسطاها ثم خنصرها ثم سبابتها ثم بنصرها، (و) سن (نتف إبط) لحديث أبي هريرة: «الفطرة خمس: الختان، والاستحداد، وقص الشارب، وتقليم الأظفار، ونتف الإبط» متفق عليه، (و) سن (تسريح شعر)، ولا يتمشط كل يوم، (و) سن (إعفاء لحية) أي تركها، وحرم حلقها، (وكره قزع) وهو حلق بعض الرأس، وكره حلق رأس المرأة وقصه لغير ضرورة، (و) كره (نتف شيب) لأنه نور الإسلام وكذا تغييره بسواد في غير حرب، (و) كره أيضًا (ثقب أذن صبي) لا جارية نصًا، (و) كره (تسوك بعود آس) وهو الريحان لأنه يحرك عرق الجذام (ورمان) لأنه يضر، (و) كره أيضًا بعود (زكي الرائحة وطرفًا وقصب) فارسي لأنه يجرح (ونحوه) كالذي يتفتت.

تتمة: يكره التخليل بما يكره المتسوك به وبالخوص، ولا يتسوك ولا يتخلل بما
এবং দাঁতের সাপেক্ষে আড়াআড়িভাবে মিসওয়াক করা সুন্নত; এবং মিসওয়াকের ক্ষেত্রে, পবিত্রতা অর্জনে ও তার সকল কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। একদিন অন্তর তেল লাগানো, প্রতি রাতে ঘুমের আগে প্রত্যেক চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো, আয়নায় তাকানো, সুগন্ধি ব্যবহার করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা (ক্ষৌরকর্ম), গোঁফ ছেঁটে ছোট করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, চুল আঁচড়ানো এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়া (লম্বা করা) সুন্নত। মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা (কাজাউ), পাকা চুল উপড়ে ফেলা, বালকের কান ছিদ্র করা, এবং রায়হান (আসা), ডালিম কাঠ, সুগন্ধযুক্ত কাঠ, ঝাউ গাছ ও নলখাগড়া ইত্যাদি দিয়ে মিসওয়াক করা মাকরূহ।

—

মসজিদ, দীর্ঘ সময় নীরব থাকা এবং দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়া। (এবং সুন্নত হলো) মিসওয়াক (দাঁতের সাপেক্ষে আড়াআড়িভাবে করা), আর মুখের সাপেক্ষে লম্বালম্বিভাবে। আর মিসওয়াক করার সময় জিহ্বা, মাড়ি ও দাঁতের ওপর বাম হাত রাখা। (এবং) মিসওয়াকের (ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে) শুরু করা সুন্নত। (এবং) পবিত্রতা অর্জনে (ও তার সকল কাজে) যেমন চুল আঁচড়ানো ও অনুরূপ কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। পার্শ্বটীকা: যে ব্যক্তি কাষ্ঠখণ্ড ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে মিসওয়াক করবে সে সুন্নাত লাভ করবে না। (এবং একদিন অন্তর তেল লাগানো সুন্নত) অর্থাৎ একদিন বাদ দিয়ে একদিন। (এবং) প্রতি রাতে ঘুমের আগে (প্রত্যেক চোখে তিনবার) সুগন্ধিযুক্ত ইসমিদ সুরমা লাগানো সুন্নত। (এবং আয়নায় তাকানো সুন্নত) এবং এই দোয়া বলা: হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমার গঠন সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন এবং আমার চেহারাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিন। (এবং পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত) যার বর্ণ অস্পষ্ট কিন্তু ঘ্রাণ প্রকাশমান; আর নারীর জন্য তার ঘরের বাইরে এর বিপরীত (অর্থাৎ বর্ণ প্রকাশমান কিন্তু ঘ্রাণ অনুজ্জ্বল)। (এবং ইস্তিহদাদ সুন্নত) অর্থাৎ নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করা; তবে এটি কাঁচি দিয়ে ছোট করা বা অন্য কোনো উপায়ে দূর করা এবং লোমনাশক পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার করাও বৈধ। (এবং গোঁফ ছেঁটে ছোট করা সুন্নত) আর তা হলো কাটার ক্ষেত্রে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করা। (এবং নখ কাটা সুন্নত) জুমার দিন নামাজের পূর্বে এর বিপরীত ক্রমে; সেক্ষেত্রে ডান হাতের কনিষ্ঠা থেকে শুরু করবে, এরপর মধ্যমা, এরপর বৃদ্ধাঙ্গুলি, এরপর অনামিকা, এরপর তর্জনী; তারপর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি, এরপর মধ্যমা, এরপর কনিষ্ঠা, এরপর তর্জনী, এরপর অনামিকা। (এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা সুন্নত) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: «ফিতরাত পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা» (বুখারি ও মুসলিম)। (এবং চুল আঁচড়ানো সুন্নত), তবে প্রতিদিন চুল আঁচড়াবে না। (এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়া সুন্নত) অর্থাৎ তা রাখা এবং তা মুণ্ডন করা হারাম। (এবং কাজাউ মাকরূহ) আর তা হলো মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা। তেমনি কোনো প্রয়োজন ছাড়া নারীর মাথার চুল মুণ্ডন করা বা ছোট করা মাকরূহ। (এবং পাকা চুল উপড়ে ফেলা মাকরূহ) কারণ এটি ইসলামের নূর; তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া অন্য অবস্থায় তা কালো রঙ দিয়ে পরিবর্তন করাও মাকরূহ। (এবং বালকের কান ছিদ্র করাও মাকরূহ) তবে বালিকার ক্ষেত্রে নয়—এটিই স্পষ্ট বক্তব্য। (এবং রায়হান কাঠ দিয়ে মিসওয়াক করা মাকরূহ) কারণ এটি কুষ্ঠরোগের শিরাকে উদ্দীপিত করে। (এবং ডালিম কাঠ দিয়ে) কারণ এটি ক্ষতি করে। (এবং) সুগন্ধি কাঠ, (ঝাউ গাছ এবং ফারসি নলখাগড়া দিয়েও মাকরূহ) কারণ এটি জখম করে (এবং অনুরূপ) যা ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়।

তتمة: মিসওয়াক করা মাকরূহ এমন বস্তু দিয়ে এবং খোরমা পাতা দিয়ে দাঁতের খিলাল করা মাকরূহ। আর এমন বস্তু দিয়ে মিসওয়াক বা খিলাল করবে না যা...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ويجب ختان ذكر وأنثى بعيد بلوغ مع أمن الضرر، ويسن قبله، ويكره من الولادة إلى السابع.

 

‌‌(فصل) وفروض الوضوء ستة: غسل الوجه ومنه فم وأنف، واليدين، والرجلين، ومسح الرأس، والترتيب، والموالاة وهي أن لا يؤخر غسل عضو حتى ينشف الذي قبله يليه بزمن معتدل.

ــ

يجهله لئلا يكون من ذلك، ولا بأس أن يتسوك بالعود الواحد اثنان فصاعدًا.

فائدة: السواك باعتدال يطيب الفم، والنكهة، ويجلو الأسنان، ويقويها، ويشد اللثة، ويقطع البلغم، ويجلو البصر، ويمنع الحفر، ويصح المعدة، ويعين على الهضم، ويشهي الطعام، ويغذي الجائع، ويصفي الصوت، ويسهل مجاري الكلام، وينشط ويطرد النوم، ويخفف عن الرأس، ومن أعظم فوائده أنه يذكر الشهادة عند الموت، ويرضي الرب.

(ويجب ختان ذكر) بعيد بلوغ بأخذ جلدة الحشفة أو أكثرها، (و) يجب ختان (أنثى) أيضًا بعيد بلوغ بأخذ جلدة فوق محل الإيلاج تشبه عرف الديك، ويستحب أن لا تؤخذ كلها نصًا، قال في المطلع: ولا يجب على النساء في أصح الروايتين، ويجب ختان قبلي خنثى مشكل احتياطًا (بعيد بلوغ) وأتى بالصغير إشارة إلى أو البلوغ (مع أمن الضرر) متعلق بيجب ويباح إذا خاف على نفسه (ويسن) الختان (قبله) أي البلوغ، (ويكره) الختان (من الولادة إلى السابع) وفيه.

تتمة: يحرم نمص ووشر ووشم ووصل ولو بشعر بهمية أو إذن زوج.

(فصل) يذكر فيه فروض الوضوء وحكم النية وصفته وسننه.

(وفروض الوضوء ستة: غسل الوجه، ومنه فم وأنف. و) غسل (اليدين) مع المرفقين. (و) غسل (الرجلين) مع الكعبين. (ومسح الرأس) كله، ومنه الأذنان، (والترتيب) بين الأعضاء كما ذكر الله تعالى؛ لأنه أدخل ممسوحًا بين مغسولين وقطع النظير عن نظيره وهذه قرينة إرادة الترتيب، (والموالاة، وهي) الموالاة (أن لا يؤخر عسل عضو حتى ينشف الذي قبله) أي (يليه بزمن معتدل) أو قدره من غيره بخلاف الموالاة في الغسل فإنها لا تشترط.
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে নারী ও পুরুষের খতনা করা ওয়াজিব। এর আগে করা সুন্নত, এবং জন্ম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত করা মাকরুহ।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) ওজুর ফরজ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধোয়া, যার অন্তর্ভুক্ত মুখ ও নাক; দুই হাত ধোয়া; দুই পা ধোয়া; মাথা মাসাহ করা; ধারাবাহিকতা (তরতীব) রক্ষা করা; এবং নিরবচ্ছিন্নতা (মুওয়ালাত), আর তা হলো—একটি অঙ্গ ধোয়া ততক্ষণ বিলম্ব না করা যাতে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় তার আগের ধোয়া অঙ্গটি শুকিয়ে যায়।

—

তা সে না জানে যেন এমনটি না হয়; আর একই কাঠি (মিসওয়াক) দিয়ে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মিসওয়াক করাতে কোনো দোষ নেই।

ফায়দা: পরিমিতভাবে মিসওয়াক করা মুখকে সুগন্ধযুক্ত ও নিশ্বাসকে পবিত্র করে, দাঁতকে উজ্জ্বল ও মজবুত করে, মাড়ি শক্ত করে, কফ দূর করে, দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে, দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, পাকস্থলী সুস্থ রাখে, হজমে সাহায্য করে, খাবারের রুচি বাড়ায়, ক্ষুধার্তকে পুষ্টি জোগায়, কণ্ঠ পরিষ্কার করে, কথা বলা সহজ করে, কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করে ও ঘুম দূর করে, মাথার ভার লাঘব করে; আর এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপকারিতা হলো—এটি মৃত্যুর সময় কালিমা শাহাদাত স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রবকে সন্তুষ্ট করে।

(পুরুষের খতনা করা ওয়াজিব) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ঠিক পরেই লিঙ্গাগ্রের চামড়া বা এর অধিকাংশ ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে। (এবং) (নারীর) খতনা করাও ওয়াজিব প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর—যৌন অঙ্গের প্রবেশপথের উপরে মোরগের ঝুঁটির মতো যে চামড়া থাকে তার কিছু অংশ কাটার মাধ্যমে। স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, এটি সম্পূর্ণ না কাটা মুস্তাহাব। 'আল-মুতলি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বিশুদ্ধতম বর্ণনা অনুযায়ী নারীদের ওপর এটি ওয়াজিব নয়। আর সতর্কতাস্বরূপ 'খুনসা মুশকিল' (উভয়লিঙ্গ)-এর উভয় লিঙ্গের খতনা করা ওয়াজিব (প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর)। এখানে ছোটদের কথা বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার শুরুর সময়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে (ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে)—এটি ওয়াজিব হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট; আর যদি নিজের ক্ষতির ভয় থাকে তবে তা বৈধ। আর (সুন্নত) হলো খতনা (এর আগে) অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে করা। (আর মাকরুহ) হলো (জন্ম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত) খতনা করা। এতে রয়েছে...

পরিশিষ্ট: ভ্রু উপড়ানো, দাঁত সরু করা, উল্কি আঁকা এবং চুলে বাড়তি চুল লাগানো হারাম, এমনকি তা যদি পশুর চুল হয় বা স্বামীর অনুমতিতে হয় তবুও।

(পরিচ্ছেদ) এখানে ওজুর ফরজসমূহ, নিয়তের বিধান, ওজুর পদ্ধতি ও এর সুন্নতসমূহ আলোচনা করা হয়েছে।

(ওজুর ফরজ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধোয়া, যার অন্তর্ভুক্ত মুখ ও নাক। এবং) (দুই হাত) কনুইসহ ধোয়া। (এবং) (দুই পা) টাখনুসহ ধোয়া। (এবং মাথা মাসাহ করা) সম্পূর্ণভাবে, যার অন্তর্ভুক্ত দুই কান। (এবং ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা অঙ্গগুলোর মধ্যে, যেভাবে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন; কেননা তিনি ধৌত করার অঙ্গগুলোর মাঝখানে একটি মাসাহ করার অঙ্গ প্রবেশ করিয়েছেন এবং সমজাতীয় বিষয়ের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন, আর এটিই ধারাবাহিকতা উদ্দেশ্য হওয়ার একটি আলামত। (এবং মুওয়ালাত তথা নিরবচ্ছিন্নতা; আর তা হলো) মুওয়ালাত (তথা একটি অঙ্গ ধোয়া ততক্ষণ বিলম্ব না করা যাতে তার আগেরটি শুকিয়ে যায়) অর্থাৎ (স্বাভাবিক আবহাওয়ায় তার পরবর্তী অঙ্গটি ধোয়ার আগে পর্যন্ত)। কিংবা অন্য ক্ষেত্রে তার সমপরিমাণ সময়; তবে গোসলের ক্ষেত্রে মুওয়ালাত বা নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষা করা শর্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والنية شرط لكل طهارة شرعية إلا إزالة خبث وغسل كتابية لحل وطء، وتغتسل مسلمة ممتنعة قهرًا بلا نية، لكن لا تصلي به، ومجنونة من حيض ونفاس وينوى عنها، وقصد رفع الحدث أو استباحة ما تجب له الطهارة، فلو نوى ما تسن له الطهارة كقراءة وأذان أو التجديد إن سن بأن صلى بينهما نسيًا حدثه ارتفع، ومن نوى مسنونًا أو واجبًا أجزأ عن الآخر، والسنة الغسل للواجب ثم المسنون، وإن اجتمعت أحداث توجب الوضوء أو الغسل ونوى أحدها ارتفع الكل، وسن تقدمها على أو مسنون طهارة

ــ

(والنية) محلها القلب، وهي (شرط لكل طهارة شرعية) كالوضوء والغسل (إلا إزالة خبث و) إلا (غسل كتابية لحل وطء) زوج أو سيد مسلم من نحو حيض، (وتغتسل مسلمة ممتنعة قهرًا بلا نية) للعذر كممتنع من إخراج زكاة (لكن لا تصلي) الممتنعة منه (به، و) تغتسل (مجنونة من حيض ونفاس وينوى) الغسل (عنها) أي المجنونة كعن ميت، وقال أبو المعالي في المجنونة: لا نية لعدم تعذرها منها؛ لأنها تفيق بخلاف الميت وأنها تعيد الغسل إذا أفاقت، قاله في شرح المنتهى. (و) هي أي النية هنا (قصد رفع الحدث) بفعل الوضوء أو الغسل لنحو صلاة (أو) قصد (استباحة ما) أي فعل أو قول (تجب له الطهارة) كالصلاة ومس المصحف، وتتعين نية الاستباحة لمن حدثه دائم ولو انتقضت طهارته بطروء حدث غيره (فلوى نوى) بوضوئه (ما) أي قولاً أو فعلاً (تسن له) الطهارة (كقراءة) قرآن أو ذكر (وأذان) وإقامة ونوم ورفع شك وغضب وكلام محرم وجلوس بمسجد (أو) نوى بوضوئه (التجديد إن سن) له التجديد (بأن صلى بينهما) أي الوضوءين حال كونه (ناسيًا حدثه ارتفع) حدثه، فإن نوى التجديد عالمًا حدثه لم يرتفع لتلاعبه، (ومن نوى) غسلاً (مسنونًا) وعليه واجب (أو) نوى غسلاً (واجبًا) في محل مسنون (أجزأ عن الآخر)، وإن نواهما حصلا، (والسنة الغسل) أولاً (للواجب ثم المسنون، وإن اجتمعت أحداث) ولو متفرقة (توجب الوضوء أو) توجب (الغسل ونوى) بوضوئه أو غسله (أحدها) أي الأحداث المجتمعة لا على أن لا يرتفع غيره (ارتفع الكل) لأنها تتداخل لحديث: «وإنما لكل امرئ ما نوى»، (وسن تقديمها) أي النية (على أول مسنون طهارة)
আর নিয়ত প্রতিটি শরয়ি পবিত্রতার জন্য শর্ত, তবে অপবিত্রতা দূর করা এবং সহবাস হালাল করার জন্য কিতাবিয়া নারীর গোসল এর ব্যতিক্রম। আর অবাধ্য মুসলিম নারীকে নিয়ত ছাড়াই জোরপূর্বক গোসল করানো হবে, কিন্তু সে এর মাধ্যমে সালাত আদায় করতে পারবে না। তদ্রূপ ঋতুস্রাব ও নিফাস থেকে পাগলিনীকে গোসল করানো হবে এবং তার পক্ষ থেকে নিয়ত করা হবে। আর (নিয়ত হলো) অপবিত্রতা দূর করার ইচ্ছা পোষণ করা অথবা এমন কাজ বৈধ করার সংকল্প করা যার জন্য পবিত্রতা ওয়াজিব। সুতরাং যদি সে এমন কিছুর নিয়ত করে যার জন্য পবিত্রতা অর্জন সুন্নাত, যেমন তিলাওয়াত ও আযান, অথবা অজু নবায়নের নিয়ত করে—যদি নবায়ন সুন্নাত হয় এভাবে যে সে দুই অজুর মাঝে সালাত আদায় করেছে—এবং সে তার অপবিত্রতার কথা ভুলে গিয়ে থাকে, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি সুন্নাত বা ওয়াজিবের নিয়ত করে, তা অপরটির জন্য যথেষ্ট হবে। আর সুন্নাত হলো প্রথমে ওয়াজিবের জন্য, এরপর সুন্নাতের জন্য গোসল করা। আর যদি একাধিক অপবিত্রতা একত্রিত হয় যা অজু বা গোসল ওয়াজিব করে এবং সে তার কোনো একটির নিয়ত করে, তবে সব অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে। আর পবিত্রতার প্রথম সুন্নাত কার্যের পূর্বে নিয়ত করা সুন্নাত।

ــ

(আর নিয়ত) এর স্থান হলো অন্তর। আর এটি (প্রতিটি শরয়ি পবিত্রতার জন্য শর্ত) যেমন অজু ও গোসল, (তবে অপবিত্রতা দূর করা এবং) (সহবাস হালাল করার জন্য কিতাবিয়া নারীর গোসল ব্যতীত) অর্থাৎ মুসলিম স্বামী বা মুনীবের জন্য ঋতুস্রাব ইত্যাদি থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে। (আর অবাধ্য মুসলিম নারীকে নিয়ত ছাড়াই জোরপূর্বক গোসল করানো হবে) ওজরের কারণে, যেমন যাকাত দিতে অস্বীকারকারীকে বাধ্য করা হয়। (কিন্তু) অবাধ্য নারী (এর মাধ্যমে সালাত আদায় করতে পারবে না)। তদ্রূপ (পাগলিনীকে ঋতুস্রাব ও নিফাস থেকে গোসল করানো হবে এবং তার পক্ষ থেকে) অর্থাৎ পাগলিনীর পক্ষ থেকে (গোসলের নিয়ত করা হবে), যেমন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা হয়। পাগলিনীর বিষয়ে আবুল মাআলি বলেছেন: নিয়তের প্রয়োজন নেই, কারণ তার পক্ষ থেকে এটি অসম্ভব নয়; কেননা সে সুস্থ হতে পারে, যা মৃত ব্যক্তির বিপরীত। আর সে সুস্থ হলে পুনরায় গোসল করবে—একথা ‘শারহুল মুনতাহা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে। (আর এটি) অর্থাৎ এখানে নিয়ত হলো (অজু বা গোসলের মাধ্যমে সালাত ইত্যাদির জন্য অপবিত্রতা দূর করার ইচ্ছা পোষণ করা) (অথবা) এমন কাজ বা কথা (বৈধ করার সংকল্প করা যার জন্য পবিত্রতা ওয়াজিব) যেমন সালাত আদায় ও মুসহাফ স্পর্শ করা। আর যার অপবিত্রতা সর্বদা নির্গত হয়, তার জন্য বৈধতা অর্জনের নিয়ত করা আবশ্যক, যদিও অন্য কোনো কারণে তার পবিত্রতা ভেঙে যায়। (সুতরাং যদি সে) অজুর মাধ্যমে এমন কোনো কথা বা কাজ (নিয়ত করে যার জন্য পবিত্রতা অর্জন সুন্নাত, যেমন) কুরআন (তিলাওয়াত) বা যিকর, (আযান), ইকামাত, ঘুম, সন্দেহ দূর করা, রাগ দমন করা, হারাম কথা বলা থেকে পবিত্র হওয়া এবং মসজিদে অবস্থান করা; (অথবা) অজুর মাধ্যমে (নবায়নের নিয়ত করে যদি) তার জন্য নবায়ন (সুন্নাত হয় এভাবে যে, সে দুই অজুর মাঝে সালাত আদায় করেছে এবং সে তার অপবিত্রতার কথা ভুলে গিয়ে থাকে, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে)। কিন্তু সে যদি অপবিত্রতার কথা জেনেও নবায়নের নিয়ত করে, তবে তার অপবিত্রতা দূর হবে না; কারণ এটি ইবাদত নিয়ে তামাশা করা। (আর যে ব্যক্তি) সুন্নাত (গোসলের নিয়ত করে) অথচ তার ওপর ওয়াজিব গোসল রয়েছে, (অথবা) সুন্নাত গোসলের স্থলে (ওয়াজিব গোসলের নিয়ত করে, তবে তা অপরটির জন্য যথেষ্ট হবে)। আর যদি উভয়ের নিয়ত করে, তবে উভয়ই অর্জিত হবে। (আর সুন্নাত হলো প্রথমে ওয়াজিবের জন্য, এরপর সুন্নাতের জন্য গোসল করা। আর যদি একাধিক অপবিত্রতা একত্রিত হয়)—যদিও তা ভিন্ন ভিন্ন সময়ের হয়—(যা অজু বা গোসল ওয়াজিব করে এবং সে) তার অজু বা গোসলের মাধ্যমে (তার একটির নিয়ত করে), অর্থাৎ একত্রিত অপবিত্রতাগুলোর কোনো একটির নিয়ত করে—এই শর্ত ছাড়া যে অন্যগুলো দূর হবে না—(তবে সব অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে)। কারণ এগুলো একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। হাদীসের কারণে: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে।" (আর নিয়তকে পবিত্রতার প্রথম সুন্নাত আমলের পূর্বে করা সুন্নাত)।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
واستصحاب ذكرها، ويجب استصحاب حكمها وتقديمها بزمن كثير.

وصفته أن ينوي ثم يسمي، وهي واجبة: في وضوء، وغسل، وتيمم، وغسل يدي قائم من نوم ليل ناقض لوضوء، وتسقط سهوًا أو جهلاً، فإن ذكرها في الأثناء سمى وبنى، والاستئناف أفضل، ثم يغسل كفيه ثلاثًا ثم يتمضمض ويستنشق ويغسل وجهه، وحده طولاً من منابت شعر رأس معتاد غالبًا إلى ما طال من اللحيين والذقن، وعرضًا من الأذن إلى الأذن.

ــ

وجد قبل واجب كغسل الكفين ونطق بها سرًا (و) سن (استصحاب ذكرها) بأن يستحضرها في جميع العبادة. (ويجب استصحاب حكمها) أي النية بأن لا ينوي قطعها، فإن عزبت عن خاطره لم يؤثر ذلك في الطهارة ولا في الصلاة. (و) يجب (تقديمها) أي النية (بزمن كثير) كالصلاة.

تتمة: لا يضر سبق لسانه بغير ما نوى كما لو أراد أن يقول نويت أن أصلي الظهر فقال نويت صوم غد، ولا شكه في النية أو في فرض بعد فراغ كل عبادة، وإن شك فيها في الأثناء استأنف.

(وصفته) أي الوضوء الكامل (أن ينوي) الوضوء أو رفع الحدث، (ثم يسمي) أي يقول بسم الله لا يكفيه غيرها، (وهي) أي التسمية (واجبة) في خمسة مواضع: الأول ما أشار إليه بقوله (في وضوء)، والثاني ما أشار إليه بقوله (وغسل)، والثالث ما أشار إليه بقوله (وتيمم)، الرابع ما أشار إليه بقوله (وغسل يدي قائم من نوم ليل) لا نهار (ناقض لوضوء)، والخامس عند غسل المني ويأتي (وتسقط) التسمية (سهوًا أو جهلاً) في الخمسة، (فإن ذكرها) أي التسمية (في الأثناء) أي أثناء الوضوء ونحوه (سمى وبنى، والاستئناف أفضل) قال في المنتهى: لكن إذن ذكرها في بعض ابتدأ (ثم) بعد التسمية (يغسل كفيه ثلاثًا) ندبًا (ثم يتضمض) ثلاثًا (ويستنشق) ثلاثًا وكونهما من غرفة أفضل، قال في المنتهى: ويصح أن يسميا فرضين. (ويغسل وجهه) ثلاثًا، (وحده طولاً من منابت شعر رأس معتاد غالبًا) فلا عبرة بالأفرع بالفاء الذي ينبت شعره في بطن جبهته ولا بالأجلح الذي انحسر شعره عن مقدم رأسه (إلى ما طال من اللحيين والذقن) مع مسترسل اللحية، (و) حد الوجه (عرضًا من الأذن إلى الأذن)، فيدخل فيه
এবং এর স্মরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (মুস্তাহাব), আর এর হুকুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় পূর্বে তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব।

আর এর পদ্ধতি হলো যে, সে নিয়ত করবে অতঃপর বিসমিল্লাহ বলবে; আর এটি ওয়াজিব: অজু, গোসল, তায়াম্মুম এবং ওজু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে। আর ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত তা বাদ পড়লে ক্ষমাযোগ্য। যদি অজুর মাঝখানে তা মনে পড়ে, তবে বিসমিল্লাহ বলবে এবং অবশিষ্ট অংশ সম্পন্ন করবে, তবে পুনরায় শুরু করা উত্তম। অতঃপর সে তার দুই কবজি তিনবার ধৌত করবে, এরপর কুলি করবে ও নাকে পানি দেবে এবং মুখমণ্ডল ধৌত করবে। মুখমণ্ডলের দৈর্ঘ্যের সীমানা হলো সাধারণত মাথার স্বাভাবিক চুল গজানোর স্থান থেকে দুই চোয়াল ও চিবুকের নিচের প্রলম্বিত অংশ পর্যন্ত, আর প্রস্থে এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত।

--

ওয়াজিবের পূর্বে পাওয়া গেলে যেমন দুই কবজি ধৌত করা এবং মনে মনে তা উচ্চারণ করা। (এবং) সুন্নত হলো (এর স্মরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা) অর্থাৎ পুরো ইবাদত জুড়ে নিয়তকে উপস্থিত রাখা। (এবং এর হুকুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়াজিব) অর্থাৎ নিয়ত এমন হওয়া যেন তা ছিন্ন করার সংকল্প না করে। যদি অনিচ্ছাবশত মন থেকে নিয়ত সরে যায়, তবে তা পবিত্রতা বা সালাতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। (এবং) ওয়াজিব হলো (তা অগ্রিম করা) অর্থাৎ নিয়তকে (দীর্ঘ সময় পূর্বে) সম্পন্ন করা, যেমন সালাতের ক্ষেত্রে।

পরিশিষ্ট: নিয়ত যা করেছে তার পরিবর্তে জিহ্বায় অন্য কিছু চলে আসলে তা ক্ষতি করবে না, যেমন কেউ যদি যোহরের সালাতের নিয়ত করতে চায় কিন্তু মুখে বলে ফেলে যে আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করছি। তেমনিভাবে প্রতিটি ইবাদত শেষ করার পর নিয়ত বা কোনো ফরজের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তা ক্ষতিকর নয়। তবে যদি ইবাদত চলাকালীন সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তবে পুনরায় শুরু করতে হবে।

(আর এর পদ্ধতি) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ অজুর পদ্ধতি হলো (নিয়ত করা) অজুর অথবা অপবিত্রতা দূর করার। (অতঃপর বিসমিল্লাহ বলবে) অর্থাৎ 'বিসমিল্লাহ' বলবে, এটি ছাড়া অন্য কিছু তার জন্য যথেষ্ট হবে না। (আর এটি) অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলা (ওয়াজিব) পাঁচটি স্থানে: প্রথমটি যার দিকে তিনি তার এই বাণীর মাধ্যমে ইশারা করেছেন (অজুতে), দ্বিতীয়টি যার দিকে ইশারা করেছেন (গোসলে), তৃতীয়টি যার দিকে ইশারা করেছেন (তায়াম্মুমে), চতুর্থটি যার দিকে ইশারা করেছেন (রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধোয়ার সময়) দিনের ঘুম নয় (যা ওজু ভঙ্গকারী), এবং পঞ্চমটি হলো বীর্য ধোয়ার সময় যা সামনে আসবে। আর এই পাঁচটি ক্ষেত্রে (বাদ পড়ে যায়) বিসমিল্লাহ বলা (ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত)। (অতঃপর যদি সে তা স্মরণ করে) অর্থাৎ বিসমিল্লাহর কথা (কাজের মাঝখানে) অর্থাৎ অজু বা অনুরূপ আমল চলাকালে, (তবে বিসমিল্লাহ বলবে এবং বাকি কাজ সম্পন্ন করবে, তবে পুনরায় শুরু করা উত্তম)। 'আল-মুনতাহা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কিন্তু যদি অজুর কিছু অংশে তা স্মরণ হয় তবে শুরু থেকেই শুরু করবে। (অতঃপর) বিসমিল্লাহ বলার পর (সে তার দুই কবজি তিনবার ধৌত করবে) মুস্তাহাব হিসেবে। (অতঃপর কুলি করবে) তিনবার (এবং নাকে পানি দেবে) তিনবার; আর এক আজলা পানি থেকে উভয়টি সম্পন্ন করা উত্তম। 'আল-মুনতাহা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এ দুটিকে ফরজ হিসেবে গণ্য করাও সঠিক। (এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করবে) তিনবার। (যার দৈর্ঘ্যের সীমা হলো সাধারণত মাথার স্বাভাবিক চুল গজানোর স্থান থেকে) সুতরাং ললাটে চুল গজানো ব্যক্তির বা সামনের দিক থেকে চুল পড়ে যাওয়া টেকো ব্যক্তির চুল পড়ার স্থানের কোনো ধর্তব্য নেই (দুই চোয়াল ও চিবুকের প্রলম্বিত অংশ পর্যন্ত) দাড়ির প্রলম্বিত অংশসহ। (এবং) মুখমণ্ডলের সীমা (প্রস্থে এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত), যার অন্তর্ভুক্ত হলো...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويجب غسل شعر خفيف فيه وما تحته، وظاهر كثيف مع ما استرسل منه، ثم بيديه مع مرفقيه، ثم يمسح كل رأسه مع أذنيه، ثم يغسل رجليه مع كعبيه، والأقطع من مفصل مرفق وكعب يغسل طرف عضد وساق ومن دونها ما بقي من محل فرض.

وسننه استقبال قبلة، وسواك، وغسل يدي غير قائم من نوم ليل ناقض الوضوء، ويجب

ــ

عذار وهو شعر نابت على عظم ناتئ يحاذي صماخ الأذن، وعارض وهو ما تحت العذار إلى الذقن، ولا يدخل فيه صدغ وهو ما فوق العذار يحاذي رأس الأذن وينزل عنه قليلاً، ولا تحذيف وهو الشعر الخارج إلى طرف اللحيين في جانب الوجه بين النزعة ومنتهى العذار، ولا النزعتان وهما ما انحسر عنه الشعر من جانبي الرأس (ويجب غسل) باطن (شعر خفيف فيه) أي الوجه، (و) يجب غسل (ما تحته) أي الشعر الخفيف، (و) يجب غسل (ظاهر) شعر (كثيف) في الوجه (مع) غسل (ما استرسل منه) أي الشعر (ثم) يغسل (بيديه مع) غسل (مرفقيه) مع إصبع زائدة مع يد أصلها بمحل الفرض أو بغيره ولم تتميز ثلاثًا (ثم يمسح كل رأسه مع أذنيه) بالماء، فلو مسح من له شعر البشرة لم يجزه كما لو غسل باطن اللحية دون ظاهرها، والبياض فوق الأذنين منه يمر يديه من مقدمه إلى قفاه ثم يردهما ويدخل سبابتيه في صماخ أذنيه ويمسح بإبهاميه ظاهرهما وكيف مسح كفي ويجزئ المسح بحائل وكذا غسل وإصابة ماء إن مر يده ونحوها، (ثم يغسل رجليه مع) غسل (كعبيه) وتقدم مجملاً أول الفصل (والأقطع من مفصل مرفق و) مفصل (كعب يغسل طرف عضد و) يغسل طرف (ساق) وجوبًا من باب ما لا يتم الواجب إلا به، (و) الأقطع (من دونهما) أي دون مفصل ومرفق وكعب يغسل (ما بقي من محل فرض) لقوله عليه السلام: «إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم».

تنبيه: لا يضر وسخ يسير تحت ظفر ونحوه يمنع وصول الماء، وألحق الشيخ به كل يسير منع حيث كان من البدن كدم وعجين ونحوهما واختاره.

(وسننه) أي الوضوء عشرون: الأول (استقبال) (القبلة، و) الثاني (السواك، و) الثالث (غسل يدي غير قائم من نوم ليل ناقض الوضوء ويجب
এবং চেহারায় থাকা পাতলা পশম এবং তার নিচের অংশ ধৌত করা ওয়াজিব। আর ঘন পশমের উপরিভাগ ও তার ঝুলে থাকা অংশসহ ধৌত করা আবশ্যক। এরপর দুই হাত কনুইসহ ধৌত করতে হবে। অতঃপর কানসহ পুরো মাথা মাসেহ করবে। এরপর দুই পা টাখনুসহ ধৌত করবে। আর যার হাত বা পা কনুই অথবা টাখনুর জোড় থেকে বিচ্ছিন্ন, সে তার বাহু ও নলার অগ্রভাগ ধৌত করবে এবং এর নিচ থেকে কাটা হলে ফরয স্থানের যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তা ধৌত করবে।

এর সুন্নাতসমূহ হলো কিবলামুখী হওয়া, মিসওয়াক করা এবং ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যতীত অন্য অবস্থায় দুই হাত ধৌত করা, আর তা ওয়াজিব হবে...

—

ইযার হলো কানের ছিদ্রের সমান্তরাল উঁচিয়ে থাকা হাড়ের ওপর গজান পশম। আর আরদ হলো ইযার-এর নিচ থেকে থুতনি পর্যন্ত অংশ। এর মধ্যে সদগ অন্তর্ভুক্ত নয়, যা ইযার-এর উপরে কানের উপরিভাগের সমান্তরালে থাকে এবং সামান্য নিচে নেমে আসে। তাহযীফও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যা চিবুকের দুই প্রান্তের বাইরের দিকে চেহারার পার্শ্বে 'নাজআ' এবং ইযার-এর শেষ সীমানার মাঝখানে থাকে। নাজআতান-ও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যা মাথার দুই পাশের চুলহীন অংশ। (এবং ওয়াজিব হলো) চেহারার (পাতলা পশমের) ভেতরের অংশ (ধৌত করা), (এবং) ওয়াজিব হলো সেই পাতলা পশমের (নিচের অংশ) ধৌত করা। (এবং) চেহারার (ঘন) পশমের (উপরিভাগ) ধৌত করা ওয়াজিব, সেই পশমের (ঝুলে থাকা অংশসহ)। (এরপর) তার (দুই হাত কনুইসহ) ধৌত করবে; ফরয অঙ্গের স্থানে বা অন্য কোথাও অতিরিক্ত আঙ্গুল বা হাত থাকলেও, যদি তা ফরযের স্থানে উৎপন্ন হয়ে থাকে এবং পৃথক না করা যায় তবে তিনবার ধৌত করবে। (এরপর পানি দিয়ে কানসহ তার পুরো মাথা মাসেহ করবে)। যদি কারো মাথায় এমন চুল থাকে যার নিচ থেকে চামড়া দেখা যায়, তবে শুধু চুল মাসেহ করা যথেষ্ট হবে না, যেমন দাড়ির উপরিভাগ বাদ দিয়ে শুধু ভেতরের অংশ ধৌত করা যথেষ্ট হয় না। কানের ওপরের সাদা অংশ মাথার অন্তর্ভুক্ত। সে তার হাত মাথার অগ্রভাগ থেকে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে যাবে, এরপর পুনরায় ফিরিয়ে আনবে। আর দুই তর্জনী কানের ছিদ্রে প্রবেশ করাবে এবং দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের পিঠ বা উপরিভাগ মাসেহ করবে। যেভাবে মাসেহ করুক তা যথেষ্ট হবে। কোনো আবরণের ওপর দিয়ে মাসেহ করা বা ধৌত করা এবং পানি পৌঁছানো যথেষ্ট হবে যদি সে হাত বুলিয়ে দেয়। (এরপর দুই পা টাখনুসহ) ধৌত করবে, যা পরিচ্ছেদের শুরুতে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। (আর যার হাত বা পা কনুই ও টাখনুর) জোড় থেকে বিচ্ছিন্ন, সে ওয়াজিব হিসেবে (বাহু ও নলার) অগ্রভাগ ধৌত করবে; কেননা যে কাজ সম্পন্ন করা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা-ও ওয়াজিব। আর (তার নিচে) অর্থাৎ কনুই বা টাখনুর নিচে থেকে কাটা হলে (ফরয স্থানের যতটুকু অবশিষ্ট আছে) তা ধৌত করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের আদেশ দিই, তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো।"

সতর্কবার্তা: নখের নিচে বা অনুরূপ স্থানে সামান্য ময়লা যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় তা কোনো ক্ষতি করবে না। শেখ একে শরীরের যে কোনো স্থানে থাকা সামান্য রক্ত, আটা বা অনুরূপ বস্তু যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং একেই পছন্দ করেছেন।

(ওযুর সুন্নাতসমূহ) অর্থাৎ ওযুর সুন্নাত বিশটি: প্রথমটি হলো (কিবলামুখী হওয়া), দ্বিতীয়টি হলো (মিসওয়াক করা), এবং তৃতীয়টি হলো (ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যতীত অন্য অবস্থায় দুই হাত ধৌত করা), আর তা ওয়াজিব হবে...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
كذلك ثلاثًا تعبدًا، ويسقط سهوًا وجهلاً، ومنها بدأة- قبل غسل وجه- بمضمضة، فاستنشاق، وعدم فصل بينهما، ومبالغة فيها لغير صائم، وفي بقية الأعضاء مطلقًا، وإكثار ماء الوجه، وتخليل لحية كثيفة وكذا سائر شعر وجه كثف، وأخذ ماء جديد لمسح أذن، وكونه بعد رأس، وتخليل الأصابع، ومجاوزة مخل الغرض، والتيامن، والغسلة الثانية والغسلة الثالثة، وكره أكثر، ونفض الماء عن الأعضاء، ويباح تنشيفها والمعونة، وسن بعد فراغ رفع بصره إلى السماء، وقول: «أشهد أن

ــ

كذلك ثلاثًا تعبدًا) وتقدم (ويسقط غسلهما (سهوًا وجهلاً، ومنها بدأة قبل غسل (الوجه بمضمضة فاستنشاق) وهو الرابع، (و) الخامس (عدم الفصل بينهما) أي المضمضة والاستنشاق، (و) السادس (المبالغة فيهما) أي المضمضة والاستنشاق (لغير صائم، و) السابع المبالغة (في بقية الأعضاء مطلقًا) أي لصائم وغيره وهي ذلك ما ينبو عنه الماء وعركه به، (و) الثامن (إكثار ماء الوجه، و) التاسع (تخليل لحية كثيفة) بكف من ماء يضعه من تحتها بأصابعه مشبكة أو يضعه من جانبيها ويعركها، (وكذا) أي يسن تخليل (سائر شعر وجه كثف، و) العاشر (أخذ ماء جديد) أي غير ماء الرأس (لمسح الأذنين)، (و) الحادي عشر (كونه) أي مسح الأذنين (بعد) مسح الرأس، (و) الثاني عشر (تخليل الأصابع) من اليدين والرجلين فتخليل أصابع يديه إحداهما بالأخرى وتخليل أصابع رجليه بخنصر يده اليسرى ويبدأ من الرجل اليمنى بخنصرها واليسرى من إبهامها ليحصل التيامن (و) الثالث عشر (مجاوزة محل الغرض) في الأعضاء الأربع، (و) الرابع عشر (التيامن) أي تقديم اليمنى على اليسرى حتى بين الكفين لقائم من نوم ليل وبين الأذنين، (و) الخامس عشر (الغسلة الثانية و) الغسلة (الثالثة، وكره أكثر، و) كره أيضًا (نفض الماء عن الأعضاء، ويباح تنشيفها، (و) تباح (المعونة)، ويستحب كون المعين عن يساره كإناء وضوئه الضيق الرأس، والسادس عشر استصحاب ذكر النية وتقدم، والسابع عشر الإتيان بها عند غسل الكفين وتقدم أيضًا، والثامن عشر النطق بها سرًا وتقدم أيضًا، والتاسع عشر ما أشار إليه بقوله (وسن بعد فراغه) (رفع بصره إلى السماء وقول أشهد أن
অনুরূপভাবে ইবাদত হিসেবে তিনবার ধোয়া, আর তা ভুলবশত বা না জানার কারণে বাদ পড়লে ক্ষমাযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে চেহারা ধোয়ার পূর্বে কুলি করা দিয়ে শুরু করা, এরপর নাকে পানি দেওয়া এবং উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ না করা। আর রোজাদার না হলে কুলি ও নাকে পানি দেওয়ায় গুরুত্বারোপ করা এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষেত্রেও সাধারণভাবে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা। চেহারার জন্য পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, ঘন দাড়ি খিলাল করা এবং চেহারার অন্যান্য ঘন চুল খিলাল করা। কান মাসহ করার জন্য নতুন পানি গ্রহণ করা এবং তা মাথা মাসহ করার পরে হওয়া। আঙুলসমূহ খিলাল করা, ধোয়ার নির্ধারিত সীমার চেয়ে কিছুটা অতিক্রম করা, ডান দিক থেকে শুরু করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধোয়া। তিনবারের বেশি ধোয়া অপছন্দনীয়, আর অঙ্গসমূহ থেকে পানি ঝেড়ে ফেলাও অপছন্দনীয়। তবে অঙ্গসমূহ মুছে ফেলা এবং অন্যর সাহায্য নেওয়া জায়েজ। ওজু শেষ করার পর আকাশের দিকে দৃষ্টি তোলা এবং এই দোয়া বলা সুন্নাত: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে...'

—

(অনুরূপভাবে ইবাদত হিসেবে তিনবার ধোয়া) এবং পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে (ভুলবশত ও না জানার কারণে সেগুলো ধোয়া ক্ষমাযোগ্য)। এগুলোর মধ্যে রয়েছে (চেহারা ধোয়ার পূর্বে শুরু করা কুলি ও নাকে পানি দিয়ে)। এটি চতুর্থ সুন্নাত। (এবং) পঞ্চম হলো (উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ না করা) অর্থাৎ কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার মধ্যে। (এবং) ষষ্ঠ হলো (উভয়ের মধ্যে গুরুত্বের সাথে পানি পৌঁছানো) অর্থাৎ কুলি ও নাকে পানি দেওয়ায় (রোজাদার ব্যতীত অন্য ব্যক্তির জন্য)। (এবং) সপ্তম হলো গুরুত্বের সাথে পানি পৌঁছানো (অন্যান্য অঙ্গের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে) অর্থাৎ রোজাদার এবং রোজাদার নয় এমন সবার জন্য; আর তা হলো যেসব স্থান যেখানে সহজে পানি পৌঁছাতে চায় না সেখানে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো। (এবং) অষ্টম হলো (চেহারার জন্য পানির আধিক্য)। (এবং) নবম হলো (ঘন দাড়ি খিলাল করা) এক অঞ্জলি পানি নিয়ে যা দাড়ির নিচ থেকে আঙুলসমূহ প্রবিষ্ট করে করা হবে অথবা দাড়ির দুই পাশ থেকে পানি দিয়ে ঘষবে। (এবং অনুরূপভাবে) অর্থাৎ সুন্নাত হলো (চেহারার অন্যান্য ঘন চুল খিলাল করা)। (এবং) দশম হলো (নতুন পানি গ্রহণ করা) অর্থাৎ মাথার পানি ব্যতীত ভিন্ন পানি (কানদ্বয় মাসহ করার জন্য)। (এবং) একাদশ হলো (তা হওয়া) অর্থাৎ কানদ্বয় মাসহ করা (পরে) মাথা মাসহ করার। (এবং) দ্বাদশ হলো (আঙুলসমূহ খিলাল করা) হাত এবং পায়ের। হাতের আঙুলসমূহ খিলাল করবে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে, আর পায়ের আঙুলসমূহ খিলাল করবে বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে। এক্ষেত্রে ডান পায়ের কনিষ্ঠা থেকে শুরু করে বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি পর্যন্ত শেষ করবে যাতে ডান থেকে শুরু করার বিষয়টি অর্জিত হয়। (এবং) ত্রয়োদশ হলো (নির্ধারিত সীমার বাইরে ধোয়া) ওজুর চারটি অঙ্গের ক্ষেত্রে। (এবং) চতুর্দশ হলো (ডান দিক থেকে শুরু করা) অর্থাৎ বামের আগে ডানকে প্রাধান্য দেওয়া, এমনকি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাতের তালু এবং কানদ্বয়ের ক্ষেত্রেও। (এবং) পঞ্চদশ হলো (দ্বিতীয়বার ধোয়া এবং) (তৃতীয়বার) ধোয়া। (আর তিনবারের বেশি ধোয়া অপছন্দনীয়)। (এবং) আরও অপছন্দনীয় হলো (অঙ্গসমূহ থেকে পানি ঝেড়ে ফেলা)। (আর জায়েজ হলো সেগুলো মুছে ফেলা এবং) জায়েজ হলো (অন্যের সাহায্য নেওয়া)। এক্ষেত্রে সাহায্যকারী ব্যক্তি ওজুর পাত্রসহ (যদি পাত্রের মুখ সংকীর্ণ হয়) ওজুকারীর বাম দিকে থাকা মুস্তাহাব। ষোড়শ হলো নিয়তের কথা স্মরণ রাখা যা আগে বর্ণিত হয়েছে। সপ্তদশ হলো দুই হাতের তালু ধোয়ার সময় তা (নিয়ত) উপস্থিত করা যা আগে বর্ণিত হয়েছে। অষ্টাদশ হলো তা (নিয়ত) মনে মনে উচ্চারণ করা যা আগে বর্ণিত হয়েছে। ঊনবিংশ হলো যার প্রতি তিনি তার এই কথা দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যে: (আর সুন্নাত হলো ওজু শেষ করার পর) (আকাশের দিকে দৃষ্টি তোলা এবং বলা: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে...)
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين، سبحانك وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك».

 

‌‌(فصل): يجوز المسح على خف ونحوه، وعمامة ذكر محنكة أو ذات ذؤابة، وخمر نساء مدارة تحت حلوقهن لا قلانس ونحوها، وجبيرة لم تتجاوز قدر الحاجة إلى حلها، وإن جاوزته أو وضعها على غير طهارة لزمه نزعها، فإن خاف الضرر تيمم مع مسح موضوعة على طهارة، ولا يمسح غيرها في الكبرى،

ــ

لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين، سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك)، والعشرون أن يتولى وضوءه بنفسه من غير معاونة.

تنبيه: لو وضأه أو يممه مسلم أو كتابي بإذنه نواه صح، وكره من غير عذر، ولا يصح إن أكره فاعل، وإن أكره المتوضئ ونحوه على وضوء أو عبادة وفعلها فإن كان لداعي الشرع لا لداعي الإكراه صحت وإلا فلا.

(فصل: يجوز المسح على خف ونحوه) كجرموق وجورب (و) كذا على (عمامة) بثلاثة شروط: أحدها كونها على (ذكر)، والثاني كونها (محنكة أو ذات ذؤابة)، والثالث ستر غير ما العادة كشفه. (و) يجوز المسح على (خمر نساء مدارة تحت حلوقهن)، و (لا) يصح المسح على (قلانس) جمع قلنسوة مبطنات تتخذ للنوم لأنه لا يشق نزعها (ونحوها) كلفائف، والمسح على ما تقدم رخصة، (و) يجوز المسح على (جبيرة لم تتجاوز قدر الحاجة) فيمسح عليها (إلى حلها) أو بريها لأنه للضرورة والضرورة تدعو إلى مسحها إلى حلها أو بريها، (وإن جاوزته) أي قدر الحاجة، (أو) كان (وضعها على غير طهارة) وإن لم تتجاوز (لزمه نزعها) وغسل ما تحتها، (فإن خاف) بنزعها (الضرر) وهي متجاوزة محل الحاجة أو كان وضعها على غير طهارة وإن لم تتجاوز (تيمم) لها (مع مسح موضوعة على طهارة) متجاوزة فيغسل الصحيح ويتمم عن المجاوز ويمسح عن الجريح، (ولا يمسح غيرها) أي الجبيرة (في) الطهارة (الكبرى)
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি সুমহান এবং আপনারই সকল প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ): মোজা ও তদনুরূপ বস্তু, পুরুষের চিবুকের নিচে পেঁচানো অথবা লেজবিশিষ্ট পাগড়ি এবং নারীদের গলার নিচ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা ওড়নার ওপর মাসেহ করা জায়েজ; কিন্তু টুপি ও তদনুরূপ বস্তুর ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয়। আর এমন ব্যান্ডেজ বা পট্টির ওপর মাসেহ করা জায়েজ যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করেনি, তা খোলা পর্যন্ত মাসেহ করা যাবে। আর যদি তা প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে অথবা অপবিত্র অবস্থায় তা লাগানো হয়, তবে তা খুলে ফেলা আবশ্যক। যদি তা খুলে ফেললে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তা পবিত্র অবস্থায় লাগানো হলে মাসেহ করার পাশাপাশি তায়াম্মুম করতে হবে। আর বড় নাপাকি বা গোসলের ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ওপর মাসেহ করা যাবে না।

—

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি সুমহান এবং আপনারই সকল প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি। আর বিংশতম আদব হলো, অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজের ওযুর কাজ সম্পন্ন করা।

সতর্কীকরণ: যদি কোনো মুসলিম বা কিতাবী ব্যক্তি কারো অনুমতিক্রমে তাকে ওযু বা তায়াম্মুম করিয়ে দেয় এবং সে ব্যক্তি নিয়ত করে, তবে তা সহীহ হবে; তবে ওযর ছাড়া এমনটা করা মাকরুহ। যদি ওযু সম্পাদনকারীকে বাধ্য করা হয় তবে তা সহীহ হবে না। কিন্তু যদি ওযুকারী বা ইবাদতকারীকে ওযু বা ইবাদত করতে বাধ্য করা হয় এবং সে তা সম্পাদন করে, তবে তা যদি শরীয়তের আহ্বানের কারণে হয় (বাধ্য করার কারণে নয়), তবে তা সহীহ হবে, অন্যথায় নয়।

(পরিচ্ছেদ: মোজা এবং তদনুরূপ জিনিসের ওপর মাসেহ করা জায়েজ) যেমন: চামড়ার মোজা বা সাধারণ মোজা। (এবং) অনুরূপভাবে (পাগড়ির) ওপর মাসেহ করা জায়েজ তিনটি শর্তে: প্রথমটি হলো তা (পুরুষের) হতে হবে, দ্বিতীয়টি হলো সেটি (চিবুকের নিচে পেঁচানো হতে হবে অথবা লেজবিশিষ্ট হতে হবে), এবং তৃতীয়টি হলো যা সাধারণত খোলা রাখা হয় না তা আবৃত থাকতে হবে। (এবং) নারীদের সেই (ওড়নার) ওপর মাসেহ করা জায়েজ যা তাদের গলার নিচ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়। আর (টুপি) বা তদনুরূপ জিনিসের ওপর মাসেহ করা সহীহ হবে না। 'কালানিস' হলো কালানসুওয়াহ-এর বহুবচন, যা ঘুমানোর জন্য ব্যবহৃত আস্তরযুক্ত টুপিকে বোঝায়, কারণ তা খোলা কষ্টকর নয়। (এবং তদনুরূপ) যেমন কাপড়ের পট্টি। আর পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলোর ওপর মাসেহ করা একটি বিশেষ অনুমতি। (এবং) সেই (ব্যান্ডেজ বা পট্টির ওপর মাসেহ করা জায়েজ যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করেনি)। সুতরাং তার ওপর মাসেহ করা যাবে (তা খোলা পর্যন্ত) বা আরোগ্য লাভ পর্যন্ত। কারণ এটি একটি বিশেষ প্রয়োজন, আর প্রয়োজন একে খোলা বা আরোগ্য লাভ পর্যন্ত মাসেহ করার দাবি রাখে। (আর যদি তা অতিক্রম করে) অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করে, (অথবা) যদি (তা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়) যদিও তা সীমা অতিক্রম না করে, (তবে তা খুলে ফেলা আবশ্যক) এবং তার নিচের অংশ ধৌত করা জরুরি। (অতঃপর যদি) তা খোলার মাধ্যমে (ক্ষতির আশঙ্কা থাকে) অথচ তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা জুড়ে আছে অথবা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়েছে (যদিও সীমা অতিক্রম না করে), তবে তার জন্য (তায়াম্মুম করবে) এবং (পবিত্র অবস্থায় লাগানো পট্টির ওপর মাসেহ করবে) যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। সেক্ষেত্রে সুস্থ অংশ ধৌত করবে, অতিরিক্ত অংশের জন্য তায়াম্মুম করবে এবং ক্ষতস্থানের ওপর মাসেহ করবে। (এবং অন্য কিছুর ওপর মাসেহ করা যাবে না) অর্থাৎ ব্যান্ডেজ বা পট্টি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর (বড়) পবিত্রতার (গোসলের) ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ويمسح مقيم وعاص بسفره ومن حدث بعد لبس يومًا وليلة، ومسافر سفر قصر مباحًا ثلاثة بلياليهن، فإن مسح في سفره ثم أقام أو عكس أو شك في ابتدائه فكمقيم، وإن أحدث ثم سافر قبل المسح فكمسافر، وشرط تقدم كمال الطهارة بماء ولو تيمم فيها عن جرح، وستر ممسوح محل فرض وثبوته بنفسه، وإمكان مشى به عرفًا، وطهارته، وإباحته، وإن لبس عليه آخر قبل حدث وكانا صالحين مسح أيهما شاء وبعده التحتاني ويتعين صالح وحده.

ــ

ومسحها عزيمة فيجوز بسفر المعصية. (ويمسح مقيم وعاص بسفره و) مسافر دون مسافة قصر (من) ابتداء (حدث بعد لبس يومًا وليلة، و) يمسح (مسافر سفر قصر) سفرًا (مباحًا) وعاص في سفره (ثلاثة) أيام (بلياليهن، فإن مسح في سفره ثم أقام) قبل مضي مدته أتم مسح مقيم إن بقي منه شيء وإلا خلع في الحال (أو عكس) بأن مسح مقيمًا أقل من مسح مقيم ثم سافر لم يزد على مسح مقيم تغليبًا للحظر (أو شك في ابتدائه) أي المسح هل كان في الإقامة أو السفر فيمسح كمسح مقيم، يعني يومًا وليلة لأنه اليقين، (وإن أحدث) في الحضر (ثم سافر قبل المسح فكمسافر) سفر قصر.

تنبيه: من شك في بقاء المدة مقيمًا كان أو مسافرًا لم يمسح مادام شاكًا، فإن مسح مع الشك فبان بقاء المدة صح وضوؤه دون الصلاة إلا أن يتبين له بقاؤهما قبل الصلاة، (وشرط) لمسح الخفين وما في معناهما ونحوهما ثمانية شروط: أحدها (تقدم كمال الطهارة بماء) قبل لبس (ولو) مسح فيهما على حائل أو (تيمم فيها) أي الطهارة (عن جرح) أو كان حدثه دائمًا، (و) الثاني (ستر ممسوح محل الفرض) ولو بمخرق أو مفتق وينضم بلبسه أو يبدو بعضه لولا شده أو شرجه، (و) الثالث (ثبوته) أي الممسوح (بنفسه) أو بنعلين إلى خلعهما، (و) الرابع (إمكان المشي به) أي الممسوح (عرفًا) ولا يشترط كونه يمنع نفوذ الماء أو معتادًا، (و) الخامس (طهارته) أي الممسوح، (و) السادس (إباحته) مطلقًا، والسابع أن لا يصف البشرة لصفائه أو خفته، والثامن أن لا يكون واسعًا يرى منه بعض محل الفرض، (وإن لبس عليه آخر قبل حدث وكانا) أي الأول والذي لبسه عليه (صالحين) للمسح (مسح أيهما شاء، و) إن لبس عليه آخر (بعده) أي الحدث تعين مسح (التحتاني) وحده (ويتعين صالح) للمسح (وحده)،
একজন মুকীম (আবাসে অবস্থানকারী), নিজ সফরের কারণে পাপাচারী ব্যক্তি এবং পরিধানের পর অজু ভঙ্গের সময় থেকে একদিন একরাত পর্যন্ত মাসেহ করবে। আর বৈধ কসর সফরের মুসাফির দিনসহ তিন রাত পর্যন্ত মাসেহ করবে। যদি কেউ সফরে থাকা অবস্থায় মাসেহ শুরু করে তারপর মুকীম হয়ে যায়, অথবা এর উল্টো হয় (অর্থাৎ মুকীম অবস্থায় শুরু করে সফরে যায়), কিংবা মাসেহ শুরুর সময় নিয়ে সন্দেহ করে, তবে সে মুকীমের ন্যায় মাসেহ করবে। আর যদি কেউ আবাসে থাকাকালীন অজু ভঙ্গ করে কিন্তু মাসেহ করার আগেই সফরে বের হয়ে যায়, তবে সে কসর সফরের মুসাফিরের ন্যায় মাসেহ করবে। আর (মাসেহের) শর্ত হলো—খুফ পরিধানের পূর্বে পানি দ্বারা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করা, যদিও সেই পবিত্রতার মধ্যে জখমের কারণে তায়াম্মুম অন্তর্ভুক্ত থাকে; মাসেহকৃত খুফ দ্বারা অজুর ফরয স্থান (পা) আবৃত থাকা এবং তা অন্য কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে (পায়ে) স্থির থাকা; সাধারণভাবে তা পরিধান করে চলাফেরা করা সম্ভব হওয়া; খুফ পবিত্র হওয়া এবং তার ব্যবহার বৈধ হওয়া। যদি অজু ভঙ্গের আগে একটি খুফের ওপর আরেকটি পরিধান করা হয় এবং উভয়টিই মাসেহের যোগ্য হয়, তবে সে দুটির মধ্যে যেটি ইচ্ছা মাসেহ করতে পারবে। আর অজু ভঙ্গের পর (দ্বিতীয়টি) পরিধান করলে কেবল নিচেরটির ওপর মাসেহ করা নির্ধারিত হয়ে যাবে। আর যদি কেবল একটি মাসেহের জন্য উপযুক্ত হয়, তবে সেটিই নির্ধারিত হবে।

—

আর এই মাসেহ একটি সংকল্পিত বিধান (আযীমত), তাই পাপাচারের সফরেও তা জায়েয। (একজন মুকীম, নিজ সফরের কারণে পাপাচারী ব্যক্তি এবং) কসর দূরত্বের কম পথ অতিক্রমকারী মুসাফির (পরিধানের পর অজু) ভঙ্গের শুরু থেকে (একদিন একরাত মাসেহ করবে। আর কসর দূরত্বের) বৈধ (সফরকারী মুসাফির) এবং যে ব্যক্তি তার সফরের কারণে পাপাচারী হয়েছে সে (তিন দিন) ও তাদের রাতসমূহ (মাসেহ করবে)। (অতঃপর যদি কেউ সফরে মাসেহ করে তারপর মুকীম হয়ে যায়) সময় শেষ হওয়ার আগে, তবে সে মুকীমের মাসেহের সময় যা অবশিষ্ট আছে তা পূর্ণ করবে, অন্যথায় সাথে সাথে তা খুলে ফেলবে। (অথবা এর উল্টো হয়) অর্থাৎ মুকীম অবস্থায় মুকীমের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় মাসেহ করার পর সফরে বের হয়, তবে নিষেধাজ্ঞাকে প্রাধান্য দিয়ে সে মুকীমের মেয়াদের অতিরিক্ত মাসেহ করবে না। (অথবা তার মাসেহ শুরুর ব্যাপারে সন্দেহ করে) অর্থাৎ মাসেহ কি মুকীম অবস্থায় শুরু হয়েছিল নাকি সফরে, এমতাবস্থায় সে মুকীমের ন্যায় মাসেহ করবে, অর্থাৎ একদিন একরাত; কারণ এটিই সুনিশ্চিত। (আর যদি সে আবাসে অজু ভঙ্গ করে তারপর মাসেহ করার আগেই সফরে বের হয়, তবে সে কসর সফরের মুসাফিরের ন্যায় গণ্য হবে)।

সতর্কতা: যার মেয়াদের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়—চাই সে মুকীম হোক বা মুসাফির—যতক্ষণ সন্দেহ থাকবে সে মাসেহ করবে না। যদি সে সন্দেহের সাথেই মাসেহ করে এবং পরে প্রতীয়মান হয় যে মেয়াদ অবশিষ্ট ছিল, তবে তার অজু শুদ্ধ হবে কিন্তু সালাত নয়; তবে সালাতের আগেই যদি তার কাছে মেয়াদের স্থায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় (তবে সালাত শুদ্ধ হবে)। (আর মোজা) এবং এর সমপর্যায়ের বা সদৃশ বস্তুর ওপর মাসেহ করার জন্য (আটটি শর্ত রয়েছে): প্রথমটি হলো (পরিধানের পূর্বে পানি দিয়ে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করা), (যদিও) সেই অবস্থায় কোনো আবরণের ওপর মাসেহ করা হয় অথবা (তাতে তায়াম্মুম করা হয়) অর্থাৎ পবিত্রতা অর্জনে (জখমের কারণে) কিংবা সে যদি স্থায়ীভাবে অজু ভঙ্গের সমস্যায় (দায়েমুল হাদাস) আক্রান্ত হয়। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো (মাসেহকৃত বস্তুর মাধ্যমে অজুর ফরয স্থান আবৃত থাকা), যদিও তা সামান্য ছেঁড়া বা ফাটা হয় যা পরিধান করলে চামড়া ঢেকে যায়, অথবা ফিতা বা সেলাই দিয়ে না বাঁধলে সামান্য অংশ প্রকাশ পাওয়ার মতো হয়। (এবং) তৃতীয়টি হলো (মাসেহকৃত বস্তুটি নিজে নিজেই স্থির থাকা) অথবা জুতার মাধ্যমে তা খুলে ফেলা পর্যন্ত স্থির থাকা। (এবং) চতুর্থটি হলো (তা পরে সাধারণভাবে চলাফেরা করা সম্ভব হওয়া)। এক্ষেত্রে তা পানি প্রবেশ রোধক হওয়া বা সচরাচর ব্যবহৃত হওয়া শর্ত নয়। (এবং) পঞ্চমটি হলো (মাসেহকৃত বস্তুটি পবিত্র হওয়া)। (এবং) ষষ্ঠটি হলো (তা ব্যবহার করা) নিঃশর্তভাবে (বৈধ হওয়া)। সপ্তম শর্ত হলো—তা স্বচ্ছ বা পাতলা হওয়ার কারণে চামড়ার রং ফুটে না ওঠা। অষ্টম শর্ত হলো—তা এত প্রশস্ত না হওয়া যাতে ফরয স্থানের কোনো অংশ দেখা যায়। (আর যদি অজু ভঙ্গের আগে একটির ওপর আরেকটি পরিধান করে এবং উভয়টিই অর্থাৎ প্রথমটি এবং তার ওপর যা পরিধান করা হয়েছে তা মাসেহের যোগ্য হয়), তবে (সে দুটির মধ্যে যেটি ইচ্ছা মাসেহ করতে পারবে)। আর যদি (অজু ভঙ্গের পর) অন্য একটি পরিধান করা হয়, তবে (নিচেরটির) ওপর মাসেহ করা নির্ধারিত হবে। (আর যদি কেবল একটি মাসেহের উপযুক্ত হয়), তবে কেবল সেটিই নির্ধারিত হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৪০)
ويجب مسح أكثر دائر عمامة وأكثر ظاهر قدم خف وجميع جبيرة، وإن ظهر بعض محل فرض أو تمت المدة استأنف الطهارة. إن ظهر بعض محل فرض أو تمت المدة استأنف الطهارة.

 

‌‌(فصل) نواقض الوضوء ثمانية: خارج من سبيل مطلقًا، حتى لو ظهر رأس مصران أو دودة نقض، وخارج من بقية بدن من بول وغائط، وكثير نجس غيرهما، وزوال عقل- إلا نوم النبي عليه السلام واليسير عرفًا من قائم وقاعد لا مع استناد واحتباء واتكاء،

ــ

وظاهره أنه لو لبس على الصحيح مخرقًا لم يجز المسح على الفوقائي المخرق وهي روية، وقال القاضي وأصحابه لا يجوز المسح إلا على التحتاني لأن الفوقاني لا يجوز المسح عليه مفردًا فلم يجز المسح عليه مع غيره كالذي تحته لفافة انتهى، والذي قدم في المغني والفروع أنه يجوز المسح على الفوقاني وقطع به غيرهما وهو ظاهر المنتهى والإقناع، ووجهه أن القدم مستور بما يجوز المسح عليه كما لو كان السفلاني مكشوفًا بخلاف ما إذا كان تحته لفافة، (ويجب مسح أكثر دائر عمامة، و) يجب مسح (أكثر ظاهر قدم خف، و) يجب مسح (جميع جبيرة، وإن ظهر بعض محل فرض) أي متى ظهر بعض قدمه بعد الحدث وقبل انقضاء المدة أو ظهر بعض رأسه وفحش فيه أو انتقض بعض عمامته أو انقطع دم مستحاضة أو زال ضرر من به سلس البول ونحوه (أو تمت المدة) أي مدة المسح ولو متطهرًا أو في صلاة (استأنف الطهارة) وبطلت الصلاة.

(فصل. نواقض الوضوء) النواقض واحدها ناقض وهو اسم فاعل من نقض الشيء إذا أفسده (ثمانية) بالاستقراء: أحدها (الخارج من) (السبيلين) (مطلقًا) أي قليلاً كان أو كثيرًا طاهرًا أو نجسًا نادرًا أو معتادًا (حتى لو ظهر رأس مصران أو) رأس (دودة نقض) الوضوء، (و) الثاني (الخارج من بقية (البدن من بول وغائط) مطلقًا (و) خارج (كثير نجس) إن فحش في نفس كل أحد بحسبه (غيرهما) أي البول والغائط كالدم ونحوه ولو بقطنة أو مص علق أو قراد، ولا ينقض بما خرج بمص بعوض ونحوه، (و) الثالث (زوال) العقل أو تغطيته حتى بنوم (إلا نوم النبي عليه الصلاة والسلام كثيرًا كان أو يسيرًا؛ لأن نومه عليه السلام كان يقع على عينه دون قلبه، وكذا سائر الأنبياء كما نقله في شرح الغاية، (و) إلا النوم (اليسير عرفًا من قائم وقاعد لا) إن كان النوم (مع استناد واحتباء واتكاء) أو مع ركوع أو سجود فينقض مطلقًا كنوم
পাগড়ির অধিকাংশ ঘের, মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ এবং ব্যান্ডেজ বা জবিরাহ পুরোটা মাসাহ করা ওয়াজিব। যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায় অথবা (মাসাহর) সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায় অথবা সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) উযু ভঙ্গের কারণসমূহ আটটি: সাধারণভাবে দুই রাস্তা (মল-মূত্র পথ) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়; এমনকি যদি নাড়ির অগ্রভাগ বা কোনো কৃমি বের হয় তবে উযু নষ্ট হয়ে যাবে। শরীরের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে প্রস্রাব ও পায়খানা বের হওয়া এবং এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু অধিক পরিমাণে নির্গত হওয়া। জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়া—তবে নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ঘুম ব্যতীত এবং দাঁড়িয়ে বা বসা অবস্থায় সাধারণত যা সামান্য ধরা হয় সেই ঘুম ব্যতীত, যতক্ষণ না তা হেলান দিয়ে, পা গুটিয়ে পিঠের ওপর ভর দিয়ে কিংবা কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে হয়।

--

আর এর বাহ্যিক অর্থ হলো, যদি কেউ সহীহ (অক্ষত) মোজার ওপর একটি ছেঁড়া মোজা পরে, তবে উপরের সেই ছেঁড়া মোজাটির ওপর মাসাহ করা জায়েয হবে না এবং এটিই এক বর্ণনা। আল-কাজী এবং তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন, নিচের মোজাটি ছাড়া মাসাহ করা জায়েয নয়; কারণ উপরের মোজাটির ওপর এককভাবে মাসাহ করা জায়েয নয়, তাই অন্যটির সাথেও তার ওপর মাসাহ জায়েয হবে না, যেমন মোজার নিচে কাপড়ের পট্টি থাকলে হয় (শেষ)। আল-মুগনী এবং আল-ফুরূ গ্রন্থে যা অগ্রগণ্য করা হয়েছে তা হলো, উপরের মোজার ওপর মাসাহ করা জায়েয এবং অন্যান্যরা এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আল-মুনতাহা এবং আল-ইকনা গ্রন্থের বাহ্যিক বক্তব্যও এটিই। এর কারণ হলো, পা এমন জিনিসের মাধ্যমে আবৃত রয়েছে যার ওপর মাসাহ করা জায়েয, যেমনটি হতো যদি নিচেরটি উন্মুক্ত থাকত। তবে যদি নিচে কাপড়ের পট্টি থাকত তবে তা ভিন্ন হতো। (এবং পাগড়ির অধিকাংশ ঘের মাসাহ করা ওয়াজিব, এবং) (মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ মাসাহ করা) ওয়াজিব, (এবং সমস্ত ব্যান্ডেজ মাসাহ করা ওয়াজিব। আর যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায়) অর্থাৎ অপবিত্র হওয়ার পর এবং সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি তার পায়ের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায়, অথবা মাথার কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায় এবং তা অধিক হয়, অথবা পাগড়ির কোনো অংশ খুলে যায়, অথবা মুস্তাহাযা নারীর রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, অথবা যার প্রস্রাব ঝরার রোগ বা এই জাতীয় সমস্যা ছিল তার সেই সমস্যা দূর হয়ে যায়, (অথবা সময়সীমা শেষ হয়ে যায়) অর্থাৎ মাসাহর সময়সীমা অতিবাহিত হয়, যদিও সে পবিত্র অবস্থায় থাকে অথবা সালাতের মধ্যে থাকে, (তবে তাকে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করতে হবে) এবং সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

(পরিচ্ছেদ। উযু ভঙ্গের কারণসমূহ) নাওয়াকিয হলো ‘নাকিয’ (ভঙ্গকারী) শব্দের বহুবচন, যা ‘নাক্বাদা’ (নষ্ট করা) ক্রিয়ামূল থেকে ইসমে ফায়েল। (আটটি) যা গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত: তার একটি হলো (দুই রাস্তা দিয়ে যা বের হয়) (নিঃশর্তভাবে), অর্থাৎ তা সামান্য হোক বা বেশি হোক, পবিত্র হোক বা অপবিত্র হোক, বিরল হোক বা স্বাভাবিক হোক। (এমনকি যদি নাড়ির অগ্রভাগ অথবা) কোনো (কৃমির মাথা প্রকাশ পায় তবে উযু নষ্ট হয়ে যাবে)। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো (শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে যা বের হয় (প্রস্রাব ও পায়খানা থেকে)) নিঃশর্তভাবে। (এবং) নির্গত হওয়া (অধিক পরিমাণে অপবিত্র বস্তু) যদি তা প্রত্যেকের নিজের বিবেচনায় অতিরিক্ত মনে হয় (এই দুটি ছাড়া) অর্থাৎ প্রস্রাব ও পায়খানা ব্যতীত যেমন রক্ত ও এই জাতীয় কিছু, চাই তা তুলার মাধ্যমে বের হোক কিংবা জোঁক অথবা পোকার চোষার কারণে হোক। তবে মশা বা এই জাতীয় কিছুর কামড়ে যা বের হয় তার মাধ্যমে উযু নষ্ট হবে না। (এবং) তৃতীয়টি হলো বুদ্ধি বা (জ্ঞান বিলোপ হওয়া) অথবা আচ্ছন্ন হওয়া এমনকি ঘুমের মাধ্যমেও। (তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘুম ব্যতীত), চাই তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত; কারণ তাঁর ঘুম কেবল চোখের ওপর কার্যকর হতো, অন্তরের ওপর নয়। অনুরূপভাবে অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও, যেমনটি শারহুল গায়াহ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (এবং) (সাধারণভাবে যা সামান্য হিসেবে গণ্য সেই ঘুম ব্যতীত, যা দাঁড়িয়ে বা বসা অবস্থায় হয়)। (কিন্তু তা যদি না হয়) অর্থাৎ যদি ঘুম হয় (হেলান দিয়ে, পা গুটিয়ে পিঠের ওপর ভর দিয়ে অথবা কোনো কিছুর ওপর ভর করে) কিংবা রুকু বা সিজদা অবস্থায় হয়, তবে তা নিঃশর্তভাবে উযু নষ্টকারী হবে যেমন ঘুম...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৪১)
ومس فرج آدمي متصل أو حلقة دبره أو قبلى خنثى مشكل بيده، ولمس ذكر أو أنثى الآخر مع شهوة بلا حائل لا لشعر وسن وظفر ولا بها ولا من دون سبع، ورجل لأمرد، ولا ينتقض وضوء ملموس مطلقًا، وغسل ميت، وأكل لحم إبل، والردة، وكل ما أوجب غسلاً غير موت.

 

‌‌(فصل) ومن شك في طهارة أو حدث بنى على يقينه،

ــ

المضطجع، (و) الرابع (مس فرج آدمي متصل) لا منفصل (أو) مس (حلقة دبره) أي الآدمي (أو) مس (قبلى خنثى مشكل بيده) بلا حائل أو مس لشهوة ما للأمس منه ولو بيد زائدة، ولا فرق بين بطن الكف وظهرها وحرفها، (و) الخامس (لمس ذكر أو) لمس (أنثى الآخر) أي لمس ذكر بشرة أنثى أو أنثى بشرة ذكر (مع شهوة بلا حائل) متعلق بلمس ولو بزائد لزائد أو أشل أو لميت أو لمحرم أو هرم، و (لا) ينقض لمس (لشعر و) لا (لسن و) لا (لظفر) مطلقًا، (ولا) ينقض اللمس (بها) أي الشعر والسن والظفر، (ولا) ينقض لمس (من دون سبع) سنين مطلقًا، ولا لمس امرأة لامرأة، (و) لا ينقض لمس (رجل لأمرد)، ولا بانتشار ذكر عن فكر وتكرار نظر، (ولا ينتقض وضوء ملموس مطلقًا) أي سواء وجد شهوة أم لا، (و) السادس (غسل) (الميت) أو بعضه مسلمًا كان أو كافرًا ولو في قميص لا إن يممه، والغاسل من يقلب الميت ويباشره لا من يصب الماء ونحوه، (و) السابع (أكل لحم) (الإبل) علمه أو جهله نيئًا أو مطبوخًا تعبدًا لا نقض ببقية أجزائها ككبد ونحوه، (و) الثامن (الردة) عن الإسلام أعاذنا الله تعالى منها لقوله تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} [الزمر: 56]، قال القاضي: لا معنى لجعلها من النواقض مع وجوب الطهارة الكبرى، يعني إذا عاد إلى الإسلام إذ وجوب الغسل ملازم لوجوب الوضوء، كما ذكره بقوله (وكل ما أوجب غسلاً غير موت) كإسلام وانتقال مني وحيض ونفاس أي أوجب وضوءًا، فهذه النواقض المشتركة، وأما النواقض المخصوصة كبطلان المسح بفراغ مدته وخلع حائله ونقض طهارة المستحاضة ونحوها بخروج الوقت فمذكور في أبوابه.

تنبيه: لا يجب وضوء الميت بل يسن.

(فصل. ومن) تيقن حدثًا و (شك في طهارة) بنى على يقينه (أو) تيقن طهارة وشك في (حدث بني على يقينه) وهو الحدث في الأولى والطهارة في الثانية،
মানুষের শরীরের সাথে সংযুক্ত লজ্জাস্থান স্পর্শ করা, অথবা তার মলদ্বার স্পর্শ করা, অথবা হাত দিয়ে খুনসা মুশকিলের (উভলিঙ্গ ব্যক্তি) সামনের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা; এবং কোনো আবরণ ছাড়াই কামভাবের সাথে পুরুষ কর্তৃক নারীকে অথবা নারী কর্তৃক পুরুষকে স্পর্শ করা—তবে চুল, দাঁত ও নখ স্পর্শ করলে অথবা এগুলোর মাধ্যমে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না, এবং সাত বছরের কম বয়সী কাউকে স্পর্শ করলেও ভঙ্গ হবে না; এবং কোনো পুরুষ কর্তৃক দাড়িহীন কিশোরকে স্পর্শ করলেও অজু ভঙ্গ হবে না। যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার অজু কোনোভাবেই ভঙ্গ হবে না। এবং মৃতদেহ গোসল দেওয়া, উটের গোশত খাওয়া, ইসলাম ত্যাগ করা এবং মৃত্যু ব্যতীত অন্য যা কিছু গোসল ওয়াজিব করে (তাও অজু ভঙ্গ করে)।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) যে ব্যক্তি পবিত্রতা বা অপবিত্রতার বিষয়ে সন্দেহে পতিত হয়, সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করবে।

ــ

শয়নকারী। (এবং) চতুর্থত: (মানুষের শরীরের সাথে সংযুক্ত লজ্জাস্থান স্পর্শ করা), বিচ্ছিন্ন কোনো অংশ নয়। (অথবা) মানুষের (মলদ্বার স্পর্শ করা)। (অথবা হাত দিয়ে) কোনো আবরণ ছাড়াই (খুনসা মুশকিলের সামনের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা), অথবা কামভাবের সাথে স্পর্শ করা—এমনকি যদি অতিরিক্ত হাত দিয়েও স্পর্শ করা হয়। এক্ষেত্রে হাতের তালুর ভেতরের অংশ, পিঠের অংশ বা পার্শ্বদেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (এবং) পঞ্চমত: (পুরুষ কর্তৃক নারীকে অথবা) নারী কর্তৃক (অপর লিঙ্গকে স্পর্শ করা), অর্থাৎ কোনো পুরুষের চামড়া কোনো নারীর চামড়াকে স্পর্শ করা অথবা কোনো নারীর চামড়া কোনো পুরুষের চামড়াকে স্পর্শ করা (কোনো আবরণ ছাড়াই কামভাবের সাথে)। এই স্পর্শের বিধান অতিরিক্ত অঙ্গ দিয়ে অতিরিক্ত অঙ্গকে স্পর্শ করা, অবশ অঙ্গ, মৃত ব্যক্তি, মাহরাম বা অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তিকে স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এবং (চুল), (দাঁত) ও (নখ) স্পর্শ করলে সাধারণভাবে তা অজু (ভঙ্গ করবে না)। এবং এগুলোর (মাধ্যমে) অর্থাৎ চুল, দাঁত ও নখ দিয়ে স্পর্শ করলেও অজু ভঙ্গ হবে না। এবং (সাত বছরের কম বয়সী) কাউকে স্পর্শ করলেও সাধারণভাবে অজু ভঙ্গ হবে না। একজন নারী কর্তৃক অন্য নারীকে স্পর্শ করলেও অজু ভঙ্গ হবে না। (এবং পুরুষ কর্তৃক দাড়িহীন কিশোরকে স্পর্শ করা) অজু ভঙ্গ করবে না। এবং কেবল চিন্তা করা বা বারবার তাকানোর ফলে লিঙ্গোত্থান হলেও অজু ভঙ্গ হবে না। (এবং যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার অজু কোনোভাবেই ভঙ্গ হবে না), অর্থাৎ তার কামভাব জাগ্রত হোক বা না হোক। (এবং) ষষ্ঠত: (মৃতদেহ গোসল দেওয়া) বা তার কোনো অংশ গোসল দেওয়া, চাই সে মুসলিম হোক বা কাফের। এমনকি কামিজ পরিহিত অবস্থায় গোসল দিলেও অজু ভঙ্গ হবে, তবে তায়াম্মুম করালে হবে না। গোসলদানকারী বলতে তাকেই বুঝায় যে মৃতদেহকে ওলটপালট করে এবং সরাসরি স্পর্শ করে, তাকে নয় যে কেবল পানি ঢেলে দেয় বা অনুরূপ কাজ করে। (এবং) সপ্তমত: ইবাদত হিসেবে (উটের গোশত খাওয়া), চাই তা জেনে হোক বা না জেনে, কাঁচা হোক বা রান্না করা। তবে উটের অন্যান্য অঙ্গ যেমন কলিজা বা অনুরূপ কিছু খেলে অজু ভঙ্গ হবে না। (এবং) অষ্টমত: ইসলাম থেকে (ধর্মত্যাগ বা মুরতাদ হওয়া)—আল্লাহ তাআলা আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন—এর কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে।" [যুমার: ৫৬]। কাজী আবু ইয়ালা বলেন: বড় পবিত্রতা (গোসল) যখন ওয়াজিব হয়, তখন একে অজু ভঙ্গকারীর অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ কোনো অর্থ নেই; অর্থাৎ যখন সে ইসলামে ফিরে আসে, তখন গোসল ওয়াজিব হওয়া অজু ওয়াজিব হওয়ারই অনুগামী। যেমনটি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: (এবং মৃত্যু ব্যতীত অন্য যে সকল বিষয় গোসল ওয়াজিব করে) যেমন ইসলাম গ্রহণ, বীর্য স্থানচ্যুতি, হায়েজ ও নিফাস; অর্থাৎ যা অজুও ওয়াজিব করে। এগুলো হলো সাধারণ অজু ভঙ্গকারী বিষয়। আর বিশেষ কিছু অজু ভঙ্গকারী বিষয়, যেমন মসেহর সময়সীমা শেষ হওয়া, মোজা খুলে ফেলা, এস্তেহাজাগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে সময় অতিক্রান্ত হওয়া—সেগুলো সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আলোচিত হবে।

সতর্কবার্তা: মৃত ব্যক্তিকে অজু করানো ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত।

(পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি) অপবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু (পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হয়), সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করবে। (অথবা) পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু (অপবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হয়, সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করবে)। অর্থাৎ প্রথম ক্ষেত্রে সে অপবিত্র এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সে পবিত্র বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৪২)
وإن تيقنهما وجهل أسبقهما فعلى ضد حاله قبلهما، ويحرم على محدث مس مصحف، وصلاة، وطواف، وعلى جنب ونحوه ذلك، وقراءة قرآن، ولبث في مسجد بغير وضوء.

 

‌‌(فصل) موجبات الغسل سبعة: خروج مني من مخرجه، ويعتبر تدفق ولذة

ــ

ولو عارضه ظن أو كان شكه في غير صلاة لحديث عبد الله بن زيد «شكى إلى النبي صلى الله عليه وسلم الرجل يخيل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة فقال عليه السلام: لا ينصرف حتى يسمع صوتًا أو يجد ريحًا» متفق عليه، ولمسلم معناه مرفوعًا من حديث أبي هريرة ولم يذكر فيه وهو في الصلاة (وإن تيقنهما) أي تيقن كونه اتصف بالحدث والطهارة بعد الشروق مثلاً (وجهل أسبقهما) فهو (على ضد حاله قبلهما) فإن جهل حاله قبلهما تطهر، وإن علم حاله قبلهما وتيقن فعلهما رفعًا لحدث ونقضًا لطهارة أو عين وقتًا لا يسعهما فهو على مثلها، فإن جهل حالهما وأسبقهما أو تيقن حدثًا وفعل طهارة فقط فعلى ضد حالة قبلهما، وإن تيقن أن الطهارة عن حدث ولم يدر الحدث عن طهارة أو لا فمتطهر مطلقًا، وعكس هذه بعكسها. (ويحرم على محدث) حدثًا أصغر أو أكبر (مس مصحف) وبعضه ولو من صغير لقوله تعالى: {لّا يَمَسُّهُ إِلَاّ الْمُطَهَّرُونَ} [الواقعة: 79]، إن كان بغير حائل، ولو بغير يد حتى جلده وحواشيه إلا بطهارة كاملة ولو تيممًا (وصلاة) لحديث ابن عمر مرفوعًا: «لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول» وسواء الفرض والنفل وسجود التلاوة والشكر وصلاة الجنازة، ولا يكفر من صلى محدثًا (وطواف) ولو نفلاً؛ لأن الطهارة شرط فيه، (و) يحرم (على جنب ونحوه) كالحائض (ذلك) أي ما تقدم من مس مصحف وغيره (وقراءة قرآن) أيضًا آية فصاعدًا لا بعض آية ولو كرره ما لم يتحيل على قراءة تحرم عليه، وله تهيجه والذكر وقراءة لا تجزئ في الصلاة لإسرارها، وقول ما وافق قرآنًا ولم يقصده، (و) يحرم على جنب ونحوه أيضًا (لبث في مسجد بغير وضوء) ولو مصلى عيد لا جنائز، قال الشيح: وحينئذ فيجوز أن ينام فيه حيث ينام غيره، وإن كان النوم الكثير ينقض الوضوء، فلو تعذر الوضوء واحتيج إليه جاز من غير تيمم نصًا.

(فصل: موجبات الغسل سبعة) أشياء: أحدها (خروج مني) لا دخوله (من مخرجه) المعتاد ولو دمًا، (ويعتبر تدفق ولذة) بخروج المني لوجوب الغسل
আর যদি সে উভয়টি (পবিত্রতা ও অপবিত্রতা) সম্পর্কে নিশ্চিত হয় কিন্তু কোনটি আগে ঘটেছে তা না জানে, তবে সে ঐ দুটির পূর্ববর্তী অবস্থার বিপরীত অবস্থায় আছে বলে গণ্য হবে। আর অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মুসহাফ স্পর্শ করা, সালাত আদায় করা এবং তাওয়াফ করা হারাম। আর জুনুবী (গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি) ও অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য ঐ বিষয়গুলো ছাড়াও কুরআন তিলাওয়াত করা এবং অজু ব্যতীত মসজিদে অবস্থান করা হারাম।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাতটি: তার সাধারণ নির্গমন পথ দিয়ে বীর্য নির্গত হওয়া, এবং (গোসল ওয়াজিব হওয়ার জন্য) বীর্য সজোরে ও তৃপ্তির সাথে নির্গত হওয়া শর্ত।

ــ

যদিও এর বিপরীতে কোনো প্রবল ধারণা সৃষ্টি হয় অথবা যদি তার সন্দেহ সালাতের বাইরে হয়। কেননা আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করা হলো, যার মনে হয় যে সে সালাতের মধ্যে কিছু একটা অনুভব করছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সে যেন সালাত ত্যাগ না করে যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়।" এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত। আর ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে একই অর্থ বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে সালাতে থাকার কথা উল্লেখ নেই। (আর যদি সে উভয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়) অর্থাৎ সে নিশ্চিত হয় যে সে অপবিত্রতা এবং পবিত্রতা—উভয় গুণেরই অধিকারী হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ সূর্যোদয়ের পর; (এবং কোনটি আগে ঘটেছে তা না জানে) তবে সে (ঐ দুটির পূর্ববর্তী অবস্থার বিপরীত অবস্থায় থাকবে)। যদি সে ঐ দুটির আগের অবস্থা না জানে, তবে সে পবিত্রতা অর্জন করবে। আর যদি সে ঐ দুটির পূর্ববর্তী অবস্থা জানে এবং ঐ দুটি কাজ করার বিষয়ে নিশ্চিত হয়—একটি অপবিত্রতা দূর করার জন্য এবং অন্যটি পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার জন্য—অথবা এমন কোনো সময় নির্দিষ্ট করে যখন উভয়টি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না, তবে সে পূর্বের অবস্থার অনুরূপ অবস্থায় থাকবে। আর যদি সে ঐ দুটির অবস্থা এবং কোনটি আগে ঘটেছে তা না জানে অথবা কেবল অপবিত্র হওয়া এবং পবিত্রতা অর্জনের কাজ করার বিষয়ে নিশ্চিত হয়, তবে সে ঐ দুটির আগের অবস্থার বিপরীত অবস্থায় থাকবে। আর যদি সে নিশ্চিত হয় যে তার পবিত্রতা অর্জনটি অপবিত্রতা পরবর্তী ছিল কিন্তু সে জানে না যে অপবিত্রতাটি পবিত্রতা পরবর্তী ছিল কি না, তবে সে নিরঙ্কুশভাবে পবিত্র। আর এর বিপরীতটি হবে এর উল্টো। (আর অপবিত্র ব্যক্তির জন্য হারাম) চাই তা ছোট অপবিত্রতা হোক বা বড়; (মুসহাফ স্পর্শ করা) এবং এর অংশবিশেষও, এমনকি তা ছোট বাচ্চার জন্য হলেও। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করবে না।" [সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯]। এটি তখন প্রযোজ্য যখন কোনো অন্তরায় ছাড়া স্পর্শ করা হয়, এমনকি হাত ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ দিয়ে হলেও। এমনকি এর চামড়া ও মার্জিন স্পর্শ করার জন্য পূর্ণ পবিত্রতা আবশ্যক, যদিও তা তায়াম্মুমের মাধ্যমে হয়। (এবং সালাত) ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের কারণে: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎ করা মাল হতে দান গ্রহণ করেন না।" চাই তা ফরজ হোক বা নফল, তিলাওয়াতের সাজদাহ হোক বা শুকরিয়ার সাজদাহ অথবা জানাজার সালাত। তবে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায়কারী কাফির হয়ে যাবে না। (এবং তাওয়াফ) যদিও তা নফল হয়; কারণ এতে পবিত্রতা শর্ত। (এবং) জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তি (ও অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য) যেমন ঋতুবতী নারী, (তা হারাম) অর্থাৎ পূর্বে উল্লেখিত মুসহাফ স্পর্শ করা ও অন্যান্য বিষয়। (এবং কুরআন তিলাওয়াত করাও) একইভাবে এক আয়াত বা তার বেশি পড়া হারাম। তবে আয়াতের অংশবিশেষ তিলাওয়াত করা যাবে যতক্ষণ না সে এমন কৌশল অবলম্বন করে যা তার জন্য হারাম তিলাওয়াতের নামান্তর হয়। তার জন্য আল্লাহর গুণগান করা, জিকর করা এবং এমন তিলাওয়াত যা অতি নিচু স্বরে হওয়ার কারণে সালাতে যথেষ্ট হয় না—তা বৈধ। এছাড়া কুরআনের সাথে মিলে যায় এমন কথা বলাও বৈধ যদি তা তিলাওয়াতের নিয়তে না হয়। (এবং) জুনুবী ও অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য (অজু ব্যতীত মসজিদে অবস্থান করাও হারাম), এমনকি ঈদের সালাতের স্থানেও, তবে জানাজার সালাতের স্থানে নয়। শায়খ বলেন: এমতাবস্থায় সেখানে ঘুমানো জায়েজ হবে যেখানে অন্যরা ঘুমায়, যদিও অধিক পরিমাণ ঘুম অজু নষ্ট করে। তবে যদি অজু করা অসম্ভব হয় এবং অবস্থানে প্রয়োজন পড়ে, তবে তায়াম্মুম ছাড়াই অবস্থান করা জায়েজ হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

(পরিচ্ছেদ: গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাতটি) বিষয়: তার মধ্যে একটি হলো (বীর্য নির্গত হওয়া), তার প্রবেশ নয়; (তার সাধারণ নির্গমন পথ দিয়ে) যদিও তা রক্তমিশ্রিত হয়। (এবং সজোরে নির্গত হওয়া ও তৃপ্তি পাওয়া শর্ত হিসেবে গণ্য হবে) বীর্য নির্গত হওয়ার কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়ার জন্য।