(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: -)
مائة من عظماء أمة الإسلام غيروا مجرى التاريخ   (جهاد الترباني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مائة من عظماء أمة الإسلام غيروا مجرى التاريخ

المؤلف: جهاد التُرباني

تقديم: الشيخ محمد بن عبد الملك الزغبي

الناشر: دار التقوى للطبع والنشر والتوزيع، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 460

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1436

ইসলামি উম্মাহর একশজন মহান ব্যক্তি যারা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন   (জিহাদ আল-তুরবানি)

বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণি বিন্যাস


গ্রন্থ: ইসলামি উম্মাহর একশজন মহান ব্যক্তি যারা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন

লেখক: জিহাদ আল-তুরবানি

উপস্থাপনা: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-জুগবি

প্রকাশক: দারুত তাকওয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলহজ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: -)
مائة من عظماء أمة الإسلام غيروا مجرى التاريخ

 

تأليف

جهاد التُرباني

 

تقديم

الشيخ محمد بن عبد الملك الزغبي
ইসলামি উম্মাহর একশত মহান ব্যক্তি যারা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন

 

রচনায়

জিহাদ আত-তুরবানি

 

উপস্থাপনায়

শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আয-যুগবি
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

1431 هـ - 2010 م

 

رقم الإيداع: 16711/ 2010

الترقيم الدولى: 0 - 161 - 429 - 977 - 978

 

دار التقوى

للطبع والنشر والتوزيع

الإدارة: 44715506 - 0101668067

15 ش 15 مايو - شبرا الخيمة

ف/ ت/ 44715506 - م/ 01001592271

5 ش ابن البيطار خلف الجامع الأزهر

ت / 25141704

 

موقعنا على الإنترنت:

www.daraltakoa.com

E-mail:webmaster@daraltakoa.com

 

التوزيع

اليقين - شبرا الخيمة: 44731824

المدينة المنورة - مدينة نصر: 2755304

مكتبة الشامي - الإسكندرية: 034960620
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

 

জমানত নম্বর: ১৬৭১১/ ২০১০

আন্তর্জাতিক মানক পুস্তক সংখ্যা: ৯৭৮ - ৯৭৭ - ৪২৯ - ১৬১ - ০

 

দার আত-তাকওয়া

মুদ্রণ, প্রকাশনা ও পরিবেশনায়

প্রশাসন: ৪৪৭১৫৫০৬ - ০১০১৬৬৮০৬৭

১৫, ১৫ মে সড়ক - শুবরা আল-খায়মাহ

ফ্যাক্স/ফোন: ৪৪৭১৫৫০৬ - মোবাইল: ০১০০১৫৯২২৭১

৫, ইবনে আল-বিতার সড়ক, আল-আজহার মসজিদের পেছনে

ফোন / ২৫১৪১৭০৪

 

আমাদের ওয়েবসাইট:

www.daraltakoa.com

ই-মেইল: webmaster@daraltakoa.com

 

পরিবেশনা

আল-ইয়াকিন - শুবরা আল-খায়মাহ: ৪৪৭৩১৮২৪

আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা - মাদিনাত নাসর: ২৭৫৫৩০৪

মাকতাবাতুশ শামি - আলেকজান্দ্রিয়া: ০৩৪৯৬০৬২০
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تقديم

الحمد للَّه، والصلاة والسلام على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

وبعد:

لقد قام المؤلف الباحث الأستاذ جهاد الترباني بتصنيف هذا المبحث نظرًا لأن أحد أساتذة التاريخ الأمريكان ويدعى البروفيسور مايكل هارت قام بإخراج كتابٍ يذكر فيه 100 شخصية في التاريخ الإنساني، يرى فيها المؤرخ الأمريكي من وجهة نظره أنها أعظم 100 شخصية في التاريخ البشري عبر جميع العصور والأزمنة، حيث وضع على رأس قائمة المائة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم باعتباره أكثر الشخصيات تأثيرًا في تاريخ البشر.

إلا أن الباحث التاريخي جهاد الترباني رأى غير ذلك حيث أن المؤلف الأمريكي لم يميز في الشخصيات التي اختارها بين الصالح والطالح ولا بين العظيم والمجرم.

وأعظم دليل على ذلك أنه وضع مجرمًا مثل جنكيزخان في قائمة المائة الأكثر تأثيرًا في التاريخ.

كما وضع النازي هتلر كأحد أكثر الشخصيات تأثيرًا في التاريخ أيضًا.

إضافة إلى بوذا الذي رأى الكاتب الأمريكي أنه كان يستحق أن يتربع على قائمة المائة وأن يتقدم على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لولا أن أتباعه كانوا قلة على عكس أتباع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الكُثر.

الأمر الذي كان سببًا في أن يحمل الترباني قلمه حتى يهدم ما بناه هذا المؤرخ الأمريكي من مغالطات تاريخية، وليكتب كتابًا بديلًا عن ذلك يذكر فيه تراجم لمائة
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।

অতঃপর:

গবেষক ও লেখক উস্তাদ জিহাদ আল-তুরবানি এই বিষয়টি সংকলন করেছেন। কারণ, জনৈক আমেরিকান ইতিহাসের অধ্যাপক, যার নাম প্রফেসর মাইকেল হার্ট, তিনি এমন একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন যাতে তিনি মানব ইতিহাসের ১০০ জন ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই আমেরিকান ইতিহাসবিদ তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মনে করেছেন যে, তারা সর্বযুগের ও সর্বকালের মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ১০০ জন ব্যক্তিত্ব। সেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সেই একশ জনের তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছেন।

তবে ঐতিহাসিক গবেষক জিহাদ আল-তুরবানি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেননা সেই আমেরিকান লেখক তার নির্বাচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সৎ ও অসৎ কিংবা মহৎ ও অপরাধীর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি।

এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, তিনি চেঙ্গিস খানের মতো একজন অপরাধীকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী একশ জনের তালিকায় স্থান দিয়েছেন।

তেমনিভাবে তিনি নাৎসি হিটলারকেও ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে বুদ্ধের প্রসঙ্গ, যার ব্যাপারে আমেরিকান লেখক মনে করেছেন যে, তিনি এই একশ জনের তালিকার শীর্ষে আরোহণ করার এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার যোগ্য ছিলেন; কেবল তার অনুসারীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

এই বিষয়টিই আল-তুরবানিকে কলম ধরতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে তিনি সেই আমেরিকান ইতিহাসবিদের তৈরি করা ঐতিহাসিক ভ্রান্তিগুলোকে ধূলিসাৎ করতে পারেন এবং এর পরিবর্তে এমন একটি বিকল্প গ্রন্থ রচনা করতে পারেন যেখানে তিনি একশ জনের জীবনী উল্লেখ করবেন...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٦)
عظيم من أبناء الأمة الإسلامية من دون الأنبياء، يستعرض من خلالهم قصة الإسلام على مر العصور.

ولقد أبحر الترباني في تاريخ العظماء من أبناء هذه الأمة بأسلوبٍ شيق وعرض مثير.

وهذا الذي ميز كتابه عن سائر الكتب التي خرجت في هذا الباب.

وأسأل اللَّه عز وجل أن ينفع بالكاتب وبكتابه وأن يجعل عمله خالصًا لوجه اللَّه سبحانه.

إنه نعم المولى ونعم النصير. . .

وكتبه أبو عمر

محمد بن عبد الملك الزغبي

5 - رمضان - 1431 هـ
ইসলামী উম্মাহর নবীগণ ব্যতীত এমন একদল মহান ব্যক্তিত্ব, যাদের মাধ্যমে তিনি যুগ যুগ ধরে ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন।

আর আল-তুরবানি এই উম্মাহর মহান ব্যক্তিদের ইতিহাসে এক আকর্ষণীয় শৈলী ও রোমাঞ্চকর উপস্থাপনার মাধ্যমে অবগাহন করেছেন।

আর এটিই তার বইটিকে এই বিষয়ে রচিত অন্যান্য বই থেকে আলাদা করেছে।

আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি লেখক ও তাঁর বইয়ের মাধ্যমে উপকার করেন এবং তাঁর এই কাজটিকে শুধুমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন।

নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। . .

এটি লিখেছেন আবু ওমর

মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-জুগবি

৫ - রমাদান - ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مدخل

إن الحمد للَّه، نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا، وأشهد أن لا إله إلّا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، ثم أما بعد. . . .

ففي عام 1978 م. . . قام أحد أساتذة التاريخ في أمريكا ويُدعى البروفيسور (مايكل هارت) بتأليف كتابٍ أسماه: "المائة الأكثر تأثيرًا في التاريخ" اختار فيه هذا المؤرخ الأمريكي الشهير مائة شخصية في التاريخ البشري على مستوى العالم ليكونوا أبطالًا لكتابه، العجيب في الأمر أن مايكل هارت لم يكتفِ بذكر أسماء مائة شخصية يرى هو من وجهة نظره البحتة -كأستاذٍ للتاريخ الإنساني- إنها أعظم مائة شخصية أثرت في التاريخ، بل قام أيضًا بإعطاء الحق لنفسه بترتيب أسماء أولئك المائة بمنهاجٍ يراعي تفاوتهم في العظمة. . . أو ما يعتقد هو أنها عظمة!

وللإنصاف التاريخ أرى أن كتاب هذا العالم الأمريكي (اليهودي) يحتوي على قدرٍ كبيرٍ من المعلومات القيمة التي تدل على سعة اطلاعٍ وحيادية تاريخية كبيرة، ولكن الأمر الذي يدعو للاستغراب يكمن في ردة فعل المسلمين على هذا الكتاب، فلقد احتفى المسلمون وأقاموا الدنيا ولم يقعدوها احتفالًا بتكرُّم السيد هارت عليهم بوضع اسم نبيهم محمد صلى الله عليه وسلم على رأس قائمة المائة، وكأننا اكتشفنا اكتشافًا جديدًا لم نكن نعرفه من قبل!. . . أو كأن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كان ينتظر شهادة تقدير من هذا المؤرخ الأمريكي بعد أن شهد له اللَّه -رب البشر- بالعظمة والسُّمو الإنساني!!!

وبعد طول دراسة ومتابعة. . . وجدت أن ذلك الاحتفال الإسلامي بهذا الكتاب إنما يكمن في معاناة المسلمين من نقصٍ معرفيٍ مخيف بتاريخهم الإسلامي بشكل خاص، والتاريخ الإنساني بشكل عام! فلو قام أحد أولئك المحتفلين بقراءة ذلك الكتاب الذي يحتفل به، لوجد أن البروفيسور مايكل هارت وضع رجالًا مجرمين مثل (جنكيز خان) و (هتلر) في قائمة المائة التي يترأسها نبينا المصطفى! بل إن هارت يذكر في كتابه بكل صراحة أن (بوذا) -والذي صُنّف كرابع البشر في العظمة- كان يستحق أن يتربع على
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়াত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর...

১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার ইতিহাসের একজন অধ্যাপক, যাঁর নাম প্রফেসর (মাইকেল হার্ট), একটি বই রচনা করেন যার নাম দেন: "ইতিহাসের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তি"। এই বিখ্যাত আমেরিকান ঐতিহাসিক তাঁর বইয়ের মূল চরিত্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে মানব ইতিহাসের একশত ব্যক্তিত্বকে বেছে নিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাইকেল হার্ট কেবল সেই একশত ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি যাদেরকে তিনি তাঁর একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে—মানব ইতিহাসের একজন অধ্যাপক হিসেবে—ইতিহাসে প্রভাব বিস্তারকারী শ্রেষ্ঠ একশত ব্যক্তিত্ব মনে করেন; বরং তিনি এই একশ জনের নামকে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য অনুযায়ী বিন্যস্ত করার অধিকারও নিজেকে দিয়েছেন... অথবা যাকে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব বলে বিশ্বাস করেন!

ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের খাতিরে আমি মনে করি যে, এই আমেরিকান (ইহুদি) পণ্ডিতের বইটিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান তথ্য রয়েছে যা তাঁর ব্যাপক পড়াশোনা এবং বিশাল ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়। কিন্তু যে বিষয়টি বিস্ময় জাগায় তা হলো এই বইটির প্রতি মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া। মুসলমানরা মিস্টার হার্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্যাপক শোরগোল ও উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল কারণ তিনি তাঁদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামকে একশ জনের তালিকার শীর্ষে স্থান দেওয়ার অনুগ্রহ করেছেন; যেন আমরা নতুন কোনো আবিষ্কার করেছি যা আগে জানতাম না! ...অথবা যেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আমেরিকান ঐতিহাসিকের কাছ থেকে একটি প্রশংসাপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন, অথচ স্বয়ং আল্লাহ—যিনি মানবজাতির রব—তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মানবিক উচ্চমর্যাদার সাক্ষ্য দিয়েছেন!!!

দীর্ঘ অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণের পর আমি দেখতে পেয়েছি যে, এই বইটির প্রতি মুসলিমদের সেই উদযাপনের মূলে রয়েছে বিশেষ করে তাদের নিজস্ব ইসলামি ইতিহাস এবং সাধারণভাবে মানব ইতিহাস সম্পর্কে মুসলমানদের এক ভয়াবহ জ্ঞানগত ঘাটতি! যদি এই উদযাপনকারীদের কেউ সেই বইটি পড়ে দেখতেন যা নিয়ে তারা আনন্দ করছেন, তবে দেখতে পেতেন যে প্রফেসর মাইকেল হার্ট (চেঙ্গিস খান) ও (হিটলার)-এর মতো অপরাধী ব্যক্তিদেরও সেই একশত জনের তালিকায় রেখেছেন যার শীর্ষে রয়েছেন আমাদের মনোনীত নবী! এমনকি হার্ট তাঁর বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, (বুদ্ধ)—যাকে শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে চতুর্থ মানব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে—তিনি আসীন হওয়ার যোগ্য ছিলেন...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٨)
عرش العظماء لو أن أتباعه كانوا بكثرة أتباع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم! ولست واثقًا تمامًا إن كان هذا المؤرخ الأمريكي يعلم وهو يكتب مثل هذا الكلام السخيف أن بوذا مات منتحرًا في غياهب كهوف آسيا بعد أن فقد عقله وأصبح مجنونًا! ولكن الشيء الذي أنا واثقٌ منه تمام الثقة. . . هو أننا كمسلمين نصنف محمد بن عبد اللَّه صلى الله عليه وسلم كأعظم المخلوقات التي خلقها اللَّه في التاريخ.

لذلك. . .

خطر ببالي أن أكتب كتابًا أستعرض فيه تاريخ الإسلام بشكلٍ شاملٍ. . . أضم بين ثناياه جميع الأحداث المهة التي مرت بأمة الإسلام. . . منذ نشأتها. . . وحتى يوم الناس هذا!

ولا أقصد بـ"أمةِ الإسلام" المفهوم الضيق المتعارف عليه بين معظم المسلمين والذي يُقصد به أتباع الرسول العربي محمد صلى الله عليه وسلم، وإنما أقصد بـ"الأمة" المفهومَ الأوسع لها، والذي يشمل كلَّ المسلمين الموحدين عبر جميع مراحل التاريخ البشري!

في هذا الكتاب. . . أصطحب القارئ الكريم في رحلة تاريخية ممتعة، نسافر فيها عبر جميع حقبات التاريخ الإنساني، ونكسر فيها حاجزي الزمان والمكان، لنتنقل سوية إلى بقاعٍ مختلفة في الكرة الأرضية، من اليابان شرقًا، إلى تشيلي غربًا، ومن السويد شمالًا، إلى جنوب أفريقيا جنوبًا، لنسبر أغوار 100 عظيمٍ في أمة الإسلام غيروا مجرى التاريخ!

هؤلاء العظماء المائة -الذين لا أزعم أبدًا أنهم الأعظم- سيكونون على أشكالٍ مختلفة، فالعظيم في هذا الكتاب قد يكون رجلًا، أو امرأة، مجموعة اجتماعية، أو قومية عرقية، قائدًا أو جنديًا، عربيًا كان أو أعجميًا، أو قد يكون ذلك العظيم عالمًا مخترعًا، أو شاعرًا أديبًا، شهيرًا يشار إليه بالبنان، أو مجهولًا ضاع في غياهب النسيان، مرتبًا أسماءهم بمنهاجٍ -أزعم أنه مبتكر- لا يُراعى فيه تفاوتهم في الفضل أو العظمة، فضلًا على أن يُراعى فيه بُعدا الزمان والمكان، ليقصَّ لنا كل عظيمٍ منهم قصة الإسلام في الزمان الذي ظهر فيه، والبلاد التي خرج منها، حتى إذا ما وصلنا إلى العظيم المائة، نكون قد أخذنا صورة شاملة لتاريخ الإسلام. . .
শ্রেষ্ঠদের সিংহাসন, যদি এর অনুসারীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের মতো সংখ্যায় অধিক হতো! আর আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে, এই মার্কিন ঐতিহাসিক যখন এ ধরনের অসার কথা লিখছিলেন, তখন তিনি জানতেন কি না যে, বুদ্ধ এশিয়ার গুহার অন্ধকারে আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছিলেন, যখন তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন! তবে একটি বিষয়ে আমি পূর্ণ নিশ্চিত... তা হলো, আমরা মুসলিম হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর সৃষ্টি করা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করি।

তাই...

আমার মনে একটি বই লেখার চিন্তা এল, যেখানে আমি ইসলামের ইতিহাস ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করব... যার পরতে পরতে আমি মুসলিম উম্মাহর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিকে সন্নিবেশিত করব... এর সূচনা লগ্ন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত!

আর "ইসলামি উম্মাহ" বলতে আমি অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যে প্রচলিত সেই সংকীর্ণ ধারণাটি বোঝাচ্ছি না, যার দ্বারা কেবল আরবীয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের বোঝানো হয়; বরং "উম্মাহ" বলতে আমি এর ব্যাপকতর অর্থটি বোঝাচ্ছি, যা মানব ইতিহাসের সকল পর্যায়ের সমস্ত একত্ববাদী মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করে!

এই বইটিতে... আমি সম্মানিত পাঠককে একটি আনন্দদায়ক ঐতিহাসিক সফরে নিয়ে যাব, যেখানে আমরা মানব ইতিহাসের সমস্ত যুগ পাড়ি দেব এবং সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করব, যাতে আমরা একত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিচরণ করতে পারি—পূর্বে জাপান থেকে পশ্চিমে চিলি পর্যন্ত, আর উত্তরে সুইডেন থেকে দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত, যাতে আমরা ইসলামি উম্মাহর ১০০ জন এমন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জীবনের গভীরতা অনুসন্ধান করতে পারি, যারা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন!

এই একশত জন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব—যাদের সম্পর্কে আমি কখনোই দাবি করি না যে তারা সর্বশ্রেষ্ঠ—হবেন নানা বৈশিষ্ট্যের। এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হতে পারেন একজন পুরুষ কিংবা একজন নারী, কোনো সামাজিক গোষ্ঠী কিংবা কোনো নৃগোষ্ঠী, কোনো সেনাপতি কিংবা কোনো সাধারণ সৈনিক, আরবীয় কিংবা অনারব। আবার সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হতে পারেন একজন বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক, কিংবা কোনো কবি ও সাহিত্যিক; হতে পারেন তিনি অতি পরিচিত কোনো সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তি, অথবা বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া কোনো অজ্ঞাত পরিচয় মানুষ। আমি তাদের নামসমূহ এমন একটি পদ্ধতিতে সাজিয়েছি—যাকে আমি উদ্ভাবনীমূলক বলে দাবি করি—যেখানে তাদের মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য বিবেচনা করা হয়নি, এমনকি সময় ও স্থানের দূরত্বও গ্রাহ্য করা হয়নি। যাতে তাদের প্রত্যেক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আমাদের কাছে ইসলামের ইতিহাস বর্ণনা করতে পারেন সেই সময়ে, যখন তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং সেই জনপদে, যেখান থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন। এভাবে আমরা যখন শততম ব্যক্তিত্বের কাছে পৌঁছাব, তখন আমরা ইসলামের ইতিহাসের একটি সামগ্রিক চিত্র লাভ করব...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٩)
وبالرغم من يقيني الكامل أن هذه الصورة إنما هي صورة مصغرة للتاريخ الإسلامي (الذي اكتشفت بعد انتهائي من كتابة هذا العمل أنه تاريخٌ أوسع بكثيرٍ مما توقعت!)، وبالرغم من إدراكي التام أن عظماء الإسلام لا يمكن حصرهم أبدًا، حاولت مجتهدًا على مدى أكثر من عام من العمل المتواصل أن أختار مائة نموذج إسلامي نستطيع من خلالهم استعراض قصة الإسلام على مرِّ العصور، آخذًا في عين الاعتبار أن يكون عرضي التاريخي لكل عظيم منهم مناسبُا لطبيعة الغرض المصاحب له، فتارة يكون الغرض هو السرد التاريخي البحت، وتارة يكون الغرض هو الدفاع عن صاحب تلك الشخصية، وتارة يكون الغرض منصبًا في الأساس على رد الشبهات الخطيرة التي ألقيت جزافًا على الإسلام، وتارة أخرى يكون غرضي هو الهجوم على أعداء الأمة!

في هذا الكتاب. . . سنحاول الإبحار في تاريخ السيرة النبوية، وحكايات الصحابة، وقصة دول الخلافة المتعاقبة، وقصة الدول المستقلة، وقصة الصليبيين، وقصة التتار، وقصة الاستخراب (الاستعمار) الأوروبي في القرنين الأخيرين، وقصة الفتنة، وقصة الردة، وقصة الفتوحات، وسنحاول جاهدين معرفة سر الشيعة، بدايتهم، خصائصهم السبع، عقيدتهم، خطرهم، مخططاتهم المستقبلية، وسنحاول في هذا الكتاب دراسة قصة الحضارة الإسلامية، مميزاتها، منجزاتها، أهم علمائها، سندرس كيفية بناء الإمم، وكيفية انحدارها، وسنأخذ تاريخ الأندلس كمثالٍ حي على ذلك، سنفصل تاريخ الأندلس بشكل مستفيضٍ إلى حدٍ ما، سندرس قصة الفتح الإسلامي في هذا البلد، وسنعرج على قصة الإمارة الإسلامية هناك، ومن ثم على قصة الخلافة الإسلامية في قرطبة، وقصة ممالك الطوائف، ثم نفصل قليلًا في قصة إمبراطورية المرابطين، فالموحدين، ثم ندرس سقوط الأندلس، أسبابه، ارهاصاته، ثم ندرس حال المسلمين الأندلسيين بعد السقوط، وقصة الانتفاضة الشعبية الكبرى هناك، وأخيرًا نتطرَّق إلى قصة محاكم التفتيش المرعبة في الأندلس، نتسلل من خلالها إلى أقبيتها السرية، وآلات التعذيب المخيفة، ثم نبحر في هذا الكتاب مع الأسطول الإسلامي العملاق، لندرس حكاية "معركة بروزة الخالدة" أكبر معركة بحرية في تاريخ الإسلام، ثم نستمر بالإبحار في هذا الأسطول الإسلامي العثماني، حتى نصل سوية إلى شواطئ الأمريكيتن، لندرس هناك قصة الهنود الحمر، ونذكر أسرارًا خطيرة تكشف لأول مرة عن تاريخهم وعن
যদিও আমার পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাস আছে যে, এই চিত্রটি ইসলামি ইতিহাসের একটি ক্ষুদ্র রূপ মাত্র (যেটি এই রচনাটি সমাপ্ত করার পর আমি উপলব্ধি করেছি যে, ইতিহাসটি আমার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত!), এবং যদিও আমার পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে যে ইসলামের মহান ব্যক্তিদের কখনোই সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়; তথাপি আমি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে একশটি এমন ইসলামি আদর্শ নির্বাচন করার চেষ্টা করেছি, যাদের মাধ্যমে আমরা যুগ যুগ ধরে ইসলামের ইতিহাসের পর্যালোচনা করতে সক্ষম হব। আমি বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি যে, প্রত্যেক মহান ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমার ঐতিহাসিক উপস্থাপনা যেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। তাই কখনও উদ্দেশ্যটি ছিল নিছক ঐতিহাসিক বর্ণনা, কখনও উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের পক্ষ সমর্থন করা, কখনও উদ্দেশ্যটি ছিল মূলত ইসলামের ওপর ভিত্তিহীনভাবে আরোপিত বিভিন্ন বিপজ্জনক সংশয় নিরসন করা, আবার কখনও আমার উদ্দেশ্য ছিল উম্মাহর শত্রুদের ওপর আক্রমণ করা!

এই গ্রন্থে... আমরা সীরাতে নববী, সাহাবায়ে কেরামের উপাখ্যান, একের পর এক আসা খিলাফত রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস, স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কাহিনী, ক্রুসেডারদের ইতিহাস, তাতারদের কাহিনী, গত দুই শতাব্দীতে ইউরোপীয় ধ্বংসাত্মক ঔপনিবেশিকতার ইতিহাস, ফিতনা ও রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) কাহিনী এবং বিজয়াভিযানের ইতিহাসের সমুদ্রে অবগাহন করার চেষ্টা করব। আমরা শিয়াদের রহস্য, তাদের সূচনা, তাদের সাতটি বৈশিষ্ট্য, তাদের আকিদাহ, তাদের বিপদ এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো জানার আপ্রাণ চেষ্টা করব। এই গ্রন্থে আমরা ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস, এর বৈশিষ্ট্য, এর অর্জন এবং এর শ্রেষ্ঠ আলেমদের সম্পর্কে অধ্যয়ন করার চেষ্টা করব। আমরা শিখব কীভাবে জাতিসমূহ গঠিত হয় এবং কীভাবে তাদের পতন ঘটে; আর আমরা তার একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে আন্দালুসের ইতিহাসকে গ্রহণ করব। আমরা আন্দালুসের ইতিহাস নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা সেই দেশে ইসলামি বিজয়ের কাহিনী অধ্যয়ন করব, সেখানকার ইসলামি আমিরাতের ইতিহাস এবং তারপর কর্ডোভার ইসলামি খিলাফত ও 'মুলুকুত তাওয়াইফ'-এর কাহিনীও পর্যলোচনা করব। এরপর আমরা মুরাবিতুন ও মুওয়াহহিদুন সাম্রাজ্যের কাহিনী কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। অতঃপর আন্দালুসের পতন, এর কারণ ও এর প্রেক্ষাপট অধ্যয়ন করব। এরপর আমরা পতনের পরবর্তী আন্দালুসিয়ান মুসলিমদের অবস্থা এবং সেখানে সংঘটিত হওয়া বিশাল গণজাগরণের কাহিনী অধ্যয়ন করব। পরিশেষে আমরা আন্দালুসের লোমহর্ষক ইনকুইজিশন বা ধর্মীয় আদালতের কাহিনী আলোচনা করব এবং এর মাধ্যমে আমরা সেখানকার গোপন প্রকোষ্ঠ ও ভয়ংকর সব নির্যাতন যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করব। এরপর আমরা এই গ্রন্থে বিশাল ইসলামি নৌবহরের সাথে যাত্রা করব, ইসলামের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ নৌযুদ্ধ 'প্রিভেজার চিরস্মরণীয় যুদ্ধ' সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে। তারপর আমরা এই উসমানীয় ইসলামি নৌবহরে করে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব, যতক্ষণ না আমরা সকলে মিলে দুই আমেরিকার উপকূলে উপনীত হই; সেখানে আমরা রেড ইন্ডিয়ানদের ইতিহাস অধ্যয়ন করব এবং তাদের ইতিহাস ও তাদের সম্পর্কে প্রথমবারের মতো উন্মোচিত হওয়া কিছু বিপজ্জনক রহস্য উল্লেখ করব...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٠)
علاقتهم بالإسلام، سندرس في أمريكا الجنوبية قصة الإرهاب الإسباني البرتغالي البشع، وسندرس في أمريكا الشمالية أبشع قصة عرفتها الإنسانية، قصة الاستعباد، ثم ندرس قصة تحرر الأفارقة السود، وعلاقة الإسلام بحركة التحرر تلك، قبل أن نرجع مرة أخرى إلى العالم القديم لندرس حكاية العثمانيين الأتراك بالتفصيل، لنتطرق إلى الأسباب التي أدت إلى قيامهم، والأسباب التي أدت إلى سقوطهم، بعد أن نكون قد درسنا قصة فتوحاتهم، وأهم معاركهم، لنرفق في نهاية هذا الكتاب رسالة سرية بخط يد الخليفة عبد الحميد الثاني يبين فيها علاقة اليهود بعزله، سندرس في هذا الكتاب قصة "يهود الدَّونمة" وعلاقتهم بالدولة التركية الحديثة، سندرس في هذا الكتاب قصة الصعود الإسلامي الجديد لتركيا، تاريخه، أبطاله، أهدافه المستقبلية القادمة، سنفصل في هذا الكتاب قصة الإسلام في الهند، بعد أن نأخذ لمحة تاريخية عن تاريخ الهند الديني والاجتماعي، سندرس في هذا الكتاب تاريخ الفّرس، منذ بداية نشوء الحضارة الفارسية اللآرية وحتى تكون الدولة الخمينية الحديثة، سنحاول أيضًا فهم سر الحقد الدفين ضد العرب بالتحديد، بعد أن نكون قد أخذنا لمحة تاريخية عن تاريخ العرب كأمة حاضنة للإسلام، نشأتهم، قبائلهم، نظامهم السياسي والاجتماعي قبل الإسلام، تاريخهم الديني والثقافي، سندرس في هذا الكتاب سر اللغة العربية، وسر الهجوم المخيف عليها في السنوات الأخيرة، سنذكر في هذا الكتاب أيضًا قصيدة عجيبة لأعظم شاعرٍ في تاريخ الجنس البشري، سندرس في هذا الكتاب حكاية حركات التحرر العربية ضد الاستخراب الأوروبي في القرنين الأخيرين، وسنتطرق إلى أبطال التحرر في المغرب والجزائر وتونس وليبيا ومصر وفلسطين، وسنفصل في هذا الكتاب مفهوم التوحيد بشكلٍ موسع، بعد أن ندرس قصة ثلاثة أبطالٍ للتوحيد ظهروا في نجد والحجاز وموريتانيا، سندرس في هذا الكتاب تاريخ فلسطين، وتاريخ الصراع الإسلامي الصليبي، والصراع الإسلامي المجوسي، سنحاول في هذا الكتاب دراسة الخصائص العامة التي تجمع عظماء الإسلام، والخصائص العامة التي تجمع علماء المسلمين، سنحاول شرح بنود نظرية تاريخية جديدة تحاول شرح مفهوم الغزو التاريخي، سنحاول في هذا الكتاب قطف زهرة من بستان كل زمن في تاريخ المسلمين، أي أننا في نهاية هذا الكتاب سنكون قد أخذنا لمحة لا بأس بها عن قصة الإسلام. . .
ইসলামের সাথে তাদের সম্পর্ক; আমরা দক্ষিণ আমেরিকায় ভয়াবহ স্পেনীয় ও পর্তুগিজ সন্ত্রাসের ইতিহাস অধ্যয়ন করব, এবং উত্তর আমেরিকায় মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য কাহিনী—দাসপ্রথার ইতিহাস অধ্যয়ন করব। তারপর আমরা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের মুক্তির কাহিনী এবং সেই মুক্তি আন্দোলনের সাথে ইসলামের সম্পর্ক অধ্যয়ন করব। এরপর আমরা আবার প্রাচীন বিশ্বে ফিরে যাব অটোমান তুর্কিদের কাহিনী বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করার জন্য; তাদের উত্থানের কারণ এবং তাদের পতনের কারণগুলো আলোচনা করার জন্য। তাদের বিজয়গাথা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলো অধ্যয়নের পর আমরা এই বইয়ের শেষে খলিফা দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের নিজ হাতে লেখা একটি গোপন চিঠি সংযুক্ত করব, যেখানে তিনি তাকে পদচ্যুত করার ক্ষেত্রে ইহুদিদের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট করেছেন। আমরা এই বইয়ে 'দোনমে ইহুদিদের' কাহিনী এবং আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক অধ্যয়ন করব। এই বইয়ে আমরা তুরস্কের নতুন ইসলামী জাগরণের কাহিনী, এর ইতিহাস, এর বীরদের এবং এর অনাগত ভবিষ্যৎ লক্ষ্যসমূহ অধ্যয়ন করব। আমরা এই বইয়ে ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা নেওয়ার পর ভারতে ইসলামের ইতিহাসের বিস্তারিত বর্ণনা দেব। এই বইয়ে আমরা আর্য পারস্য সভ্যতার সূচনা থেকে শুরু করে আধুনিক খোমেনি রাষ্ট্র গঠন পর্যন্ত পারস্যের ইতিহাস অধ্যয়ন করব। আমরা বিশেষভাবে আরবদের বিরুদ্ধে সুপ্ত বিদ্বেষের রহস্য বোঝার চেষ্টা করব, ইসলামের ধারক জাতি হিসেবে আরবদের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নেওয়ার পর—তাদের উৎপত্তি, তাদের গোত্রসমূহ, ইসলামের পূর্ববর্তী তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা এবং তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস জানার পর। এই বইয়ে আমরা আরবি ভাষার রহস্য এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ওপর যে ভয়াবহ আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছে তার রহস্য অধ্যয়ন করব। এই বইয়ে আমরা মানবজাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কবির একটি চমৎকার কবিতাও উল্লেখ করব। এই বইয়ে আমরা গত দুই শতাব্দীতে ইউরোপীয় বিধ্বংসী উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে আরব মুক্তি আন্দোলনের কাহিনী অধ্যয়ন করব এবং মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার বীরদের কথা আলোচনা করব। আমরা এই বইয়ে তাওহীদের ধারণা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব, নজদ, হিজাজ এবং মৌরিতানিয়ায় আবির্ভূত তাওহীদের তিনজন বীরের কাহিনী অধ্যয়নের পর। এই বইয়ে আমরা ফিলিস্তিনের ইতিহাস, ইসলাম ও ক্রুসেডারদের সংঘাতের ইতিহাস এবং ইসলাম ও অগ্নিপূজকদের সংঘাতের ইতিহাস অধ্যয়ন করব। আমরা এই বইয়ে ইসলামের মহান ব্যক্তিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং মুসলিম আলেমদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো অধ্যয়নের চেষ্টা করব। আমরা একটি নতুন ঐতিহাসিক তত্ত্বের ধারাগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব যা 'ঐতিহাসিক আগ্রাসনের' ধারণাটি ব্যাখ্যা করে। আমরা এই বইয়ে মুসলিম ইতিহাসের প্রতিটি যুগের বাগান থেকে একটি করে ফুল আহরণ করার চেষ্টা করব; অর্থাৎ, এই বইয়ের শেষে আমরা ইসলামের ইতিহাসের একটি চমৎকার ধারণা লাভ করব।
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١١)
في هذا الكتاب سنحاول الإجاجة عن هذه الأسئلة:

ما هي بنود نظرية الغزو التاريخي؟ ومن هم غزاة التاريخ؟

من هو الخالد الأول في أمة الإسلام؟ ومن هو العدو الأول لغزاة التاريخ؟

ما قصة الأخوان بربروسا؟ ومن هم الفرسان الثلاثة؟

ومن هو الرجل الغامض آريوس؟ وما قصة مجمع نيقية؟

ما حكاية القادسية؟ ومن هم أسودها؟

ما حكاية معركة الزلاقة؟ ومن هو قائد معركة الأرك الخالدة؟

من هم المرابطون؟ وكيف أسَّسوا أكبر إمبراطورية في تاريخ أفريقيا؟

من هو الداعية الصعيدي الذي فتح اليابان؟ ومن هو الشيخ البربري الذي فتح 20 دولة أفريقية بمفرده؟

من هو المحارب الثالث عشر؟ وما حكاية مغامرته في القطب الشمالي؟

من هم أصحاب الملابس البيضاء؟ ومن هم أصحاب الملابس السوداء؟

من هو نسر تونس العملاق؟ ومن هو إمام الجزائر العظيم؟ وما حكاية أسطورة المغرب الإسلامي؟

كيف انتشر الإسلام في أدغال أفريقيا وفي أحراش الهند وفي سهول أوروبا؟

من هو العالم الإسباني الذي اكتشف أكبر سر موجودٍ في الكتاب المقدس؟ وما هو ذلك السر الخطير الذي يمكنه أن يغير خارطة العالم؟

ما هي حكاية غزوة بدر؟ وما هي أحداث غزوة تبوك؟

من هم أبطال اليمن السعيد؟ وما هي حكاية أهل الشام؟ وكيف أنقذ المصريون الإسلام من أكبر خطرٍ مرَّ على الأمة الإسلامية؟

ما قصة رسالة رسول اللَّه إلى هرقل؟ وكيف كان هرقل قاب قوسين أو أدنى من أن يسلم؟ ولماذا امتنع في اللحظة الأخيرة عن ذلك؟

ما حكاية محاكم التفتيش المرعبة؟ وما قصة العبيد في أمريكا؟

كيف دمَّر المسلمون الإمبراطورية الفارسية إلى الأبد؟ ولماذا سُمِّي الفرس بهذا الاسم؟ وما قصة رسل الإسلام لرَستم قائد جيوش فارس؟
এই বইটিতে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব:

ঐতিহাসিক আক্রমণের তত্ত্বের ধারাগুলো কী কী? আর ইতিহাসের সেই আক্রমণকারীরাই বা কারা?

ইসলামি উম্মাহর মাঝে প্রথম চিরঞ্জীব কে? আর ইতিহাসের আক্রমণকারীদের প্রধান শত্রু কে?

বারবারোসা ভ্রাতৃদ্বয়ের কাহিনী কী? আর সেই তিন অশ্বারোহীই বা কারা?

রহস্যময় ব্যক্তি আরিউস কে? আর নিসিয়া কাউন্সিলের কাহিনীই বা কী?

কাদিসিয়ার উপাখ্যান কী? আর এর সিংহরা কারা ছিলেন?

জাল্লাকার যুদ্ধের কাহিনী কী? আর আল-আরকের অমর যুদ্ধের সেনাপতি কে ছিলেন?

মুরাবিতুনরা কারা? আর তারা কীভাবে আফ্রিকার ইতিহাসে বৃহত্তম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

সেই সাঈদি দাঈ কে যিনি জাপান জয় করেছিলেন? আর সেই বারবারি শায়খ কে যিনি একাই ২০টি আফ্রিকান দেশ জয় করেছিলেন?

ত্রয়োদশ যোদ্ধা কে? আর উত্তর মেরুতে তাঁর দুঃসাহসিক অভিযানের কাহিনী কী?

সাদা পোশাকধারীরা কারা? আর কালো পোশাকধারীরাই বা কারা?

তিউনিসিয়ার সেই বিশাল ঈগল কে? আলজেরিয়ার সেই মহান ইমাম কে? আর ইসলামি মাগরিবের কিংবদন্তির কাহিনী কী?

কীভাবে ইসলাম আফ্রিকার গহীন অরণ্যে, ভারতের জঙ্গলে এবং ইউরোপের সমতল ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ল?

সেই স্প্যানিশ পণ্ডিত কে যিনি বাইবেলের সবচেয়ে বড় রহস্যটি উন্মোচন করেছিলেন? আর সেই ভয়ংকর রহস্যটি কী যা বিশ্বের মানচিত্র বদলে দিতে পারে?

বদরের যুদ্ধের কাহিনী কী? আর তাবুকের যুদ্ধের ঘটনাবলি কী কী?

সুখী ইয়েমেনের বীররা কারা? শামবাসীদের কাহিনী কী? আর মিশরীয়রা কীভাবে ইসলামকে সেই চরম বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল যা ইসলামি উম্মাহর ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছিল?

হিরাক্লিয়াসের কাছে আল্লাহর রাসূলের প্রেরিত পত্রের কাহিনী কী? হিরাক্লিয়াস কীভাবে ইসলাম গ্রহণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন? আর কেনই বা তিনি শেষ মুহূর্তে তা থেকে বিরত রইলেন?

লোমহর্ষক ইনকুইজিশন আদালতের কাহিনী কী? আর আমেরিকায় ক্রীতদাসদের কাহিনী কী?

মুসলিমরা কীভাবে পারস্য সাম্রাজ্যকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন? কেন পারস্যবাসীদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছিল? আর পারস্যের সেনাপতি রুস্তমের কাছে প্রেরিত ইসলামের দূতদের কাহিনী কী?
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٢)
من هم الصفويون؟ كيف جاءوا؟ وكيف اختفوا؟ وكيف عادوا من جديد؟ ومن هم العثمانيون؟ كيف جاءوا؟ وكيف اختفوا؟ وكيف عادوا من جديد؟

من هو الرئيس الأمريكي الذي كان مسلمًا؟ ولماذا أخفى إسلامه؟ وهل كان الهنود الحمر مسلمين قبل أن تأتيهم سفن كولومبس الصليبية؟

من هم التتار؟ من أين جاءوا؟ وكيف انتهت إمبراطوريتهم؟ ومن هم الصليبيون؟ وما هي الأسباب الخفية للحملات الصليبية على الإسلام؟

من هو أعظم شاعر في تاريخ الإنسانية؟ ومن هو الرجل الذي يُبعث أمة وحده يوم القيامة بين محمد وعيسى؟

من أين جاء الأنصار؟ وكيف كان اليهود سببًا في إسلامهم السريع؟

ماذا كتب هارون الرشيد على ظهر رسالة نقفور؟ وماذا كتب المعتمد ابن عباد على ظهر رسالة ألفونسو؟

من هو الأمير الأفريقي المسلم الذي أصبح عبدًا في أمريكا لمدة أربعين عامًا؟ ومن هو (×)؟ وكيف تغيرت حياته بعد زيارته لمكة؟

من هي أقوى امرأة في تاريخ نساء الأرض؟ ومن هي المرأة التي يعني اسمها بالعبرية "العابدة"؟ وما حكاية ماشطة بنت فرعون؟

من هو قائد قوات الكوماندوز المحمدية؟ ومن هو البطل الإسلامي الذي نزل جيش كامل من الملائكة على نفس هيأته؟

من هو صاحب بشارة رسول اللَّه؟ وكم دولة أوروبية فتح؟

ما حكاية حروب الردة؟ وما قصة حديقة الموت؟ ومن هو الخائن الذي كان أشد خطرًا على المسلمين من مسيلمة الكذاب نفسه؟

لماذا يُهاجم تاريخ الإسلام بكل شراسة في السنوات الأخيرة بالذات؟

للإجابة على كل هذه التساؤلات وغيرها من الأحداث المثيرة والشيقة. . . تابعوا معنا أحداث هذا الكتاب!
সফভীয়রা কারা? তারা কীভাবে এসেছিল? কীভাবে তারা বিলুপ্ত হলো? এবং কীভাবে তারা নতুন করে ফিরে এল? আর উসমানীয়রা কারা? তারা কীভাবে এসেছিল? কীভাবে তারা বিলুপ্ত হলো? এবং কীভাবে তারা নতুন করে ফিরে এল?

কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মুসলিম ছিলেন? কেন তিনি তার ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখেছিলেন? আর কলম্বাসের ক্রুসেডার জাহাজগুলো পৌঁছানোর আগে আমেরিকার আদিবাসীরা কি মুসলিম ছিল?

তাতাররা কারা? তারা কোথা থেকে এসেছিল? কীভাবে তাদের সাম্রাজ্যের পতন হলো? আর ক্রুসেডাররা কারা? ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রুসেড অভিযানের গোপন কারণগুলো কী ছিল?

মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কে? আর সেই ব্যক্তিটি কে যিনি কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ ও ঈসার মাঝে এককভাবে একটি জাতি হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন?

আনসাররা কোথা থেকে এসেছিল? আর তাদের দ্রুত ইসলাম গ্রহণের পেছনে ইয়াহুদিরা কীভাবে কারণ হয়েছিল?

হারুনুর রশিদ নিকিফোরাসের চিঠির পিঠে কী লিখেছিলেন? আর মুতামিদ ইবনে আব্বাদ আলফনসোর চিঠির পিঠে কী লিখেছিলেন?

সেই আফ্রিকান মুসলিম রাজপুত্র কে যিনি আমেরিকায় চল্লিশ বছর দাসের জীবন কাটিয়েছিলেন? আর (×) কে? মক্কা সফরের পর তার জীবন কীভাবে বদলে গিয়েছিল?

পৃথিবীর নারীদের ইতিহাসে সবথেকে শক্তিশালী নারী কে? আর সেই নারী কে হিব্রু ভাষায় যার নামের অর্থ হলো "উপাসিকা"? আর ফেরাউনের কন্যার কেশবিন্যাসকারিণীর কাহিনী কী?

মুহাম্মাদী কমান্ডো বাহিনীর সেনাপতি কে? আর সেই ইসলামি বীর কে যার আকৃতি ধারণ করে ফেরেশতাদের একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনী অবতীর্ণ হয়েছিল?

আল্লাহর রাসুলের সুসংবাদের অধিকারী ব্যক্তিটি কে? তিনি ইউরোপের কতটি দেশ জয় করেছিলেন?

রিদ্দার যুদ্ধের কাহিনী কী? আর মৃত্যু উদ্যানের গল্পটি কী? আর সেই বিশ্বাসঘাতক কে যে মুসলমানদের জন্য ভণ্ড নবী মুসায়লিমা কাজ্জাবের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ছিল?

বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন ইসলামের ইতিহাসকে এত প্রচণ্ডভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে?

এই সব প্রশ্ন এবং অন্যান্য রোমাঞ্চকর ও আগ্রহোদ্দীপক ঘটনার উত্তর জানতে... আমাদের সাথে এই বইটির ঘটনাপ্রবাহ অনুসরণ করুন!
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٣)
العظيم الأول في أمة الإسلام (أبو بكر الصديق)

" ويأبى اللَّه والمؤمنون إلا أبا بكر"

(رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم)

لم يكن في نيَّتي أن أرتب أسماء العظماء المائة في أمة الإسلام على حسب فضلهم ومقامهم، فليست هذه هي الغاية من هذا الكتاب على الإطلاق، والواقع أنني قررت أن أسلك مسلكًا في الكتابة لا يراعي فارق الزمان أو فارق المكان فضلًا على أن يراعي فارق العظمة بينهم، فبعد أن استثنيت من هذا الكتاب الأنبياء والرسل الذين هم أعظم الخلق بدون أي منازع، صار الأمر عندي سيّان في ترتيب العظماء بما أراه مناسبًا لإنجاز هذا العمل الأدبي، حتى وإن تأخر ذكر أحد العظماء المائة الذي يفوق من قبله فضلًا ومكانة في الإسلام.

إلّا أن القلم يخجل قبل صاحبه أن يكون على رأس أول كتابٍ من نوعه عن عظماء أمة الإسلام مخلوقٌ غير أبي بكر الصديق رضي الله عنه وأرضاه، وكأني برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في فراشه الأخير وهو يأمر المسلمين أن يكون أبو بكر هو الإمام المقدَّم قائلًا: "ويأبى اللَّه والمؤمنون إلا أبا بكر"، لذلك أصبح لزامًا علي أن أضع استثناءً وحيدًا في ترتيب المائة في هذا الكتاب بحيث يكون أولهم هو أعظمهم في نفس الوقت، بل هو الإنسان الأعظم بعد الأنبياء، فهو أول من سيدخل الجنة من البشر بعد الأنبياء، بعد أن كان أول إنسان حمل شعلة التوحيد التي تركها الأنبياء لينير بها ظلام الدنيا في مشارق الأرض ومغاربها، ليكون هذا الرجل صاحب السبق في تحمل عبء الدعوة التي أوكلت لأول مرة في التاريخ إلى البشر العاديين دون الأنبياء.

وأبو بكر الصديق هو صاحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قبل الإسلام وبعده، والإنسان الوحيد الذي اختاره اللَّه من فوق سبع سماوات ليصحب رسوله في الهجرة، وأبو بكر هو أول
ইসলাম উম্মাহর প্রথম মহান ব্যক্তি (আবু বকর আস-সিদ্দিক)

"আল্লাহ এবং মুমিনগণ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছেন"

(আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

ইসলামি উম্মাহর একশত মহান ব্যক্তির নাম তাঁদের মর্যাদা ও মাকাম অনুযায়ী বিন্যস্ত করার কোনো নিয়ত আমার ছিল না, কারণ এই বইটির উদ্দেশ্য মোটেও তা নয়। প্রকৃতপক্ষে, আমি লেখার ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেখানে কাল বা স্থানের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়নি, এমনকি তাঁদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্যও বিবেচনা করা হয়নি। নবী ও রাসূলগণ, যাঁরা নিঃসন্দেহে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মানুষ, তাঁদেরকে এই বই থেকে বাদ দেওয়ার পর, এই সাহিত্যকর্মটি সম্পন্ন করার জন্য আমি যেভাবে উপযুক্ত মনে করেছি সেভাবেই মহান ব্যক্তিদের বিন্যাস করা আমার কাছে সমান ছিল। এমনকি যদি একশত মহান ব্যক্তির মধ্যে এমন কারো নাম পরে আসে যিনি ফজিলত ও মর্যাদায় তাঁর পূর্ববর্তীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হন, তাতেও কোনো অসুবিধা ছিল না।

কিন্তু ইসলামি উম্মাহর মহান ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের প্রথম কোনো বইয়ের শীর্ষে আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির নাম থাকতে স্বয়ং কলম তার লেখকের আগে লজ্জিত বোধ করছে। যেন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর জীবনের শেষ শয্যায় দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি মুসলিমদের আদেশ দিচ্ছিলেন যেন আবু বকরই অগ্রগণ্য ইমাম হন এবং বলছিলেন: "আল্লাহ এবং মুমিনগণ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছেন"। তাই এই বইয়ের একশত জনের বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটিমাত্র ব্যতিক্রম করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাতে তাঁদের প্রথম জন একই সাথে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠও হন; বরং তিনি নবীগণের পর শ্রেষ্ঠতম মানুষ। তিনি নবীগণের পর মানবজাতির মধ্যে প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নবীগণের রেখে যাওয়া তাওহীদের মশাল বহন করে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমের অন্ধকারকে আলোকিত করেছেন, যাতে এই ব্যক্তিটিই সেই দাওয়াতের ভার বহনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন যা ইতিহাসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নবীগণ ছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল।

আর আবু বকর আস-সিদ্দিক হলেন ইসলাম গ্রহণের আগে এবং পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী। তিনিই একমাত্র মানুষ যাকে আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে তাঁর রাসূলের হিজরতের সাথী হওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। আর আবু বকর হলেন প্রথম মানুষের মধ্যে অন্যতম...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٤)
رجلٍ في التاريخ يؤمن برسالة محمد صلى الله عليه وسلم، وهو أول أعظم عشرة رجال وطأت أقدامهم الأرض بعد الأنبياء، وأبو بكر هو الرجل الذي حمل عبء الدعوة على عاتقه منذ أول يومٍ أسلم فيه ليسلم على يديه خمسة من العشرة المبشرين بالجنة، وأبو بكر هو أبو السيدة عائشة رضي الله عنها وأرضاها، وأبو بكر هو أول خليفة لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

والحقيقة أن عظمة أبي بكر رضي الله عنه وأرضاه وإن كانت قد برزت بعد إسلامه بشكل لافت، إلا أنها لم تكن وليدة اللحظة، فقد كان أبو بكر من خيرة رجال مكة قبل الإسلام، فهو أحد العشرة الذين قُسِّمت بينهم أمور مكة في جاهليتها، وقد عُهد إليه أمرُ الديات والكفالات في قريش، فكان لزامًا على كل من أراد أن يستدين شيئًا في مكة أن يطلب كفالة أبي بكر الصديق أولًا.

ولأن فضل أبي بكر الصديق لا يخفى على أحد من المسلمين، ولأن ذِكرَ جميع مظاهر عظمة هذا الرجل يعتبر من رابع المستحيلات، فقد ارتأيت من باب الإيجاز أن أذكر فضلين اثنين فقط للصِّديق، لو لم يقدم أبو بكر سواهما للإسلام لكفياه لكي يتربع على قمة صرح العظماء إلى يوم يبعثون، ولن أسترسل في ذكر الجانب الديني لهذا الرجل، فقد كتب من هو خير مني عنه وما زالوا يكتبون، ولكني سأحاول أن أذكر سبب عظمة هذا العظيم الإسلامي من جانب إنساني بحت، هو أقرب إلى الحياد التاريخي منه إلى التحيز، وإن كنت لا أزعم أبدًا الحياد التام وأنا اكتب عن صاحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

الفضل الأول لأبي بكر الصديق عليَّ وعليك وعلى سائر المسلمين بل وعلى سائر البشر هو وقوفه حائلًا منيعًا أمام انحدار العنصر البشري إلى ظلمات الجهل والتخلف بعد انقطاع الوحي السماوي وانتهاء زمن الأنبياء والرسل إلى الأبد، فلقد بعث اللَّه الأنبياء بدعوة التوحيد عبر جميع العصور، فآمن بهم من آمن وكفر بهم من كفر، ولكن أغلب أولئك المؤمنين وذريتهم انحرفوا عن جادة الصواب بعد موت أنبيائهم، فحرَّفوا رسالة اللَّه عن قصد أو غير قصد بعد أن ضاعت الكتابات الأصلية لهذه الرسالات، فأشرك معظم العرب بعد موت إبراهيم باللَّه الواحد واتخذوا لأنفسهم أصنامًا ظنًا بهم أنها تقربهم إلى اللَّه، وعبد النصارى عيسى عليه السلام بعد أن رفعه اللَّه، بل إن بني إسرائيل عبدوا العجل لمجرد غياب موسى عنهم لمدة أربعين يومًا فقط! واتخذ قوم نوح أولياء اللَّه
ইতিহাসের এমন এক ব্যক্তি যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর ঈমান এনেছেন, এবং তিনি আম্বিয়ায়ে কেরামের পর জমিনে পা রাখা দশজন সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে প্রথম। আবু বকর সেই ব্যক্তি যিনি ইসলামের দাওয়াতের প্রথম দিন থেকেই এই মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের মধ্যে পাঁচজন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর হলেন সাইয়িদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর পিতা এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম খলিফা।

প্রকৃতপক্ষে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাহাত্ম্য ইসলাম গ্রহণের পর বিশেষভাবে প্রকাশ পেলেও তা কোনো সাময়িক বিষয় ছিল না। বরং ইসলাম পূর্বকালেও আবু বকর মক্কার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি জাহেলি যুগে মক্কার শাসনকার্য পরিচালনার জন্য নির্ধারিত দশজন ব্যক্তির অন্যতম ছিলেন। কুরাইশদের রক্তপণ এবং জামানত সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত ছিল। তাই মক্কায় কেউ কোনো কিছু ঋণ নিতে চাইলে তাকে প্রথমে আবু বকর সিদ্দিকের জামানত গ্রহণ করতে হতো।

যেহেতু আবু বকর সিদ্দিকের শ্রেষ্ঠত্ব কোনো মুসলমানের কাছেই অজানা নয় এবং যেহেতু এই মহান ব্যক্তির মাহাত্ম্যের সকল দিক উল্লেখ করা অসম্ভবপর, তাই আমি সংক্ষেপে সিদ্দিকের মাত্র দুটি শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবু বকর যদি ইসলামকে এই দুটি ছাড়া আর কিছুই না দিতেন, তবে কিয়ামত পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আসীন থাকার জন্য তা-ই তাঁর জন্য যথেষ্ট হতো। আমি এই ব্যক্তির ধর্মীয় দিকগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করব না, কারণ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিরা সে সম্পর্কে লিখেছেন এবং এখনো লিখে চলেছেন। বরং আমি ইতিহাসের এই মহান ব্যক্তির মাহাত্ম্যের কারণটি নিছক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্ণনা করার চেষ্টা করব, যা পক্ষপাতের চেয়ে ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার অধিক নিকটবর্তী; যদিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাথী সম্পর্কে লেখার সময় আমি কখনোই পূর্ণ নিরপেক্ষতার দাবি করছি না।

আমার, আপনার এবং সমস্ত মুসলমান তথা সমগ্র মানবজাতির ওপর আবু বকর সিদ্দিকের প্রথম অনুগ্রহ হলো—আসমানি ওহি বন্ধ হওয়া এবং নবী ও রাসূলদের যুগ চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানবজাতিকে অজ্ঞতা ও অনগ্রসরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবীগণকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাঁদের ওপর কেউ ঈমান এনেছে আবার কেউ কুফরি করেছে। কিন্তু সেই মুমিনদের অধিকাংশ এবং তাদের উত্তরসূরিরা তাঁদের নবীদের ইন্তেকালের পর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। ফলে এই ধর্মগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার পর তারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বাণীকে বিকৃত করে ফেলেছিল। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের পর অধিকাংশ আরব এক আল্লাহর সাথে শিরক শুরু করেছিল এবং এই ধারণায় নিজেদের জন্য মূর্তি নির্মাণ করেছিল যে, এগুলো তাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করবে। খ্রিস্টানরা ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ উপরে উঠিয়ে নেওয়ার পর তাঁর ইবাদত শুরু করেছিল। এমনকি বনী ইসরাঈলরা মুসা আলাইহিস সালামের মাত্র চল্লিশ দিনের অনুপস্থিতিতেই বাছুর পূজা শুরু করে দিয়েছিল! আর নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় আল্লাহর ওলিদের...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٥)
الصالحين أربابًا من دون اللَّه بقصدٍ أو بدون قصد، ظنًا منهم أنهم يتقربون بذلك إلى اللَّه، فصارت المرأة تدعو الأموات دون اللَّه لكي يرزقها بالذرية، وصار الرجل المهموم يذهب للميت لكي يفرج عنه الغم والكرب، بل وصل الشطط ببعض الناس لكي يطوفوا حول قبور أنبيائهم وأولياء اللَّه الصالحين، فصاروا للكفر يومئذٍ أقرب منهم للإيمان!

ولمّا كانت رسالة محمد صلى الله عليه وسلم هي آخر رسالة تبعث للبشر، أصبح ضياع هذه الرسالة أو تحريفها ضياعًا للمستقبل البشري وأسباب كينونته، والحقيقة أن ذلك كاد أن يحدث فعلًا لولا أن سخّر اللَّه لبني الإنسان رجلًا اسمه عبد اللَّه بن عثمان أبي قحافة بن عامر التيمي القرشي، وهو نفسه الرجل الذي عُرِف في التاريخ باسم "أبي بكر الصديق" (لتبكيره في الدخول في الإسلام وتصديقه لحادثة الإسراء والمعراج من أول لحظة!)، فوقف هذا العملاق العظيم بعد موت حبيب روحه ورفيق دربه، ليبين للمسلمين أعظم قاعدة عرفتها البشرية بعد الأنبياء، قاعدة تكتب واللَّه بحروف من ذهب:

"من كان يعبد محمدًا فإن محمدًا قد مات، ومن كان يعبد اللَّه فإن اللَّه حي لا يموت"

الفضل الثاني لأبي بكر يكمن في انتصاره على جيوش الروم والفرس في آن واحد!

فقد حاول رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في حياته أن يصل برسالة التوحيد إلى شعوب العالم بأسره، وفعلًا قام باستخدام الوسائل السلمية في دعوة البشر، فأرسل رسله إلى ملوك الأرض برسائلٍ تدعوهم إلى عبادة رب الناس وترك استعبادهم للناس، إلا أن أولئك الملوك رأوا في الإسلام ما يتناقض مع ظلمهم وجبروتهم على شعوبهم المستضعفة، فقاموا بقتل الرسل، وحجب رسالة الإسلام عن شعوبهم المستضعفة، فأعلنوا الحرب على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فمزق كسرى الفرس المتغطرس (خسرو الثاني) رسالة أعظم إنسان عرفته الأرض، وأوعز إلى عامله في اليمن باعتقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، أما إمبراطور الروم (أغسطس هرقل) فقد حارب الإسلام رغم إيمانه بصدق نبوة محمد صلى الله عليه وسلم (كما سنرى لاحقًا في خضم هذا الكتاب)، لذلك قام أبو بكر الصديق جزاه اللَّه كل خير بعملٍ لم يسبقه إليه أحد في تاريخ الفاتحين، فالمعلوم أن ثمة قاعدة عسكرية ثابتة منذ قديم الزمان ما زالت تدرَّس في الكليات العسكرية الحديثة، ألا وهي "تجنب فتح أكثر من جبهة واحدة في القتال العسكري! "، فلقد انهزم (نابليون بونابرت) عندما فتح جبهة ثانية مع "روسيا القيصرية"،
নেককারদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে জেনে বা না জেনে, এই মনে করে যে এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে। ফলে মহিলারা আল্লাহর পরিবর্তে মৃতদের নিকট দুআ করতে শুরু করে যাতে তিনি তাদের সন্তান দান করেন, এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পুরুষেরা মৃতদের কাছে যেতে শুরু করে যাতে তিনি তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করেন। এমনকি কিছু মানুষের বিচ্যুতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা তাদের নবী ও আল্লাহর নেককার ওলিদের কবরের চারপাশ তওয়াফ করতে শুরু করে, ফলে সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরিরই বেশি নিকটবর্তী হয়ে পড়ে!

আর যেহেতু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাত ছিল মানবজাতির কাছে প্রেরিত শেষ বার্তা, সেহেতু এই বার্তার বিলুপ্তি বা বিকৃতি ছিল মানবজাতির ভবিষ্যৎ ও তার অস্তিত্বের কারণসমূহ ধ্বংস হওয়ার নামান্তর। আর সত্য তো এই যে, এটি প্রায় ঘটেই গিয়েছিল যদি না আল্লাহ মানুষের জন্য এমন এক ব্যক্তিকে নিয়োজিত করতেন যার নাম আবদুল্লাহ ইবনে উসমান আবু কুহাফা বিন আমির আত-তাইমি আল-কুরাশি। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি ইতিহাসে "আবু বকর আস-সিদ্দিক" নামে পরিচিত (ইসলামে প্রবেশে অগ্রণী হওয়ার কারণে এবং প্রথম মুহূর্ত থেকেই ইসরা ও মিরাজের ঘটনা বিশ্বাস করার কারণে!)। এই মহান ব্যক্তি তাঁর প্রাণের প্রিয়তম এবং পথচলার সাথীর ইন্তেকালের পর দাঁড়িয়েছিলেন মুসলিমদের জন্য নবীদের পর মানবজাতির জানা শ্রেষ্ঠ মূলনীতিটি বর্ণনা করতে। আল্লাহর কসম, এই মূলনীতিটি স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো:

"যে মুহাম্মদের ইবাদত করত, তবে নিশ্চয়ই মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যে আল্লাহর ইবাদত করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।"

আবু বকরের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে একই সাথে রোমান ও পারস্য বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর বিজয়ের মধ্যে!

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনে তাওহীদের বাণী সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং সত্যিই তিনি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেছিলেন। তিনি পৃথিবীর রাজাদের কাছে মানবজাতির রবের ইবাদত করার এবং মানুষের দাসত্ব ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বার্তা দিয়ে দূত পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রাজারা ইসলামের মধ্যে তাদের যুলুম ও তাদের দুর্বল প্রজাদের ওপর তাদের অহংকারের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু দেখতে পায়। ফলে তারা দূতদের হত্যা করে এবং তাদের দুর্বল প্রজাদের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছাতে বাধা দেয়। এভাবে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে অহংকারী পারস্য সম্রাট কিসরা (দ্বিতীয় খসরু) পৃথিবীর দেখা শ্রেষ্ঠতম মানুষের প্রেরিত বার্তা ছিঁড়ে ফেলে এবং ইয়ামেনে তার গভর্নরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। আর রোমান সম্রাট (অগাস্টাস হিরাক্লিয়াস) মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতায় বিশ্বাস করা সত্ত্বেও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন (যেমনটি আমরা পরে এই বইয়ের ধারাবাহিকতায় দেখতে পাব)। তাই আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) এমন এক কাজ করেছিলেন যা বিজয়ীদের ইতিহাসে তাঁর আগে কেউ করেনি। এটি জানা কথা যে প্রাচীনকাল থেকেই একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সামরিক নীতি রয়েছে যা আজও আধুনিক সামরিক কলেজগুলোতে পড়ানো হয়, আর তা হলো "সামরিক যুদ্ধে একের অধিক রণাঙ্গন উন্মুক্ত করা এড়িয়ে চলা!"। কেননা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট পরাজিত হয়েছিলেন যখন তিনি "জার শাসিত রাশিয়া"র সাথে দ্বিতীয় একটি রণাঙ্গন খুলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وتمزق جيش (أدولف هتلر) شر ممزق عندما فكر في فتح جبهة "ستالين غراد" الشرقية، ولكن أبا بكر الصديق كان هو الإنسان الأول في تاريخ الأرض الذي كسر هذه القاعدة العسكرية بقتال جيوش أكبر إمبراطوريتين في الأرض في نفس الوقت، فبعد أن رفض أباطرة الفرس والروم السماح لدعاة الإسلام بنقل رسالة التوحيد للشعوب المستضعفة، قام أبو بكر الصديق بتسيير كتائب النور بفرسانٍ جلهم من أن أصحاب محمد بن عبد اللَّه، فدكَّ الصِّديق حصون كسرى على الجبهة الشرقية بجيشٍ تحت قيادة البطل الأسطوري (خالد بن الوليد)، وزلزل أبو بكر ديار الروم على الجبهة الغربية بجيشٍ تحت قيادة العملاق (أبي عبيدة عامر بن الجراح)، وما هي إلا سنيّاتٍ قليلة من إعلان أبي بكر الحرب على أعظم إمبراطوريتين عرفهما التاريخ في وقتٍ متزامن حتى أصبحت دولة الإسلام الدولة الأولى في العالم بأسره.

الجدير بالذكر أن أبا بكر الصدِّيق رضي الله عنه وأرضاه لم يكن آخر من كسر تلك القاعدة العسكرية، فلقد قام قادة آخرون بكسرها بكل نجاح (جميعهم بدون استثناء من أمة الإسلام!) ليقف علماء التاريخ العسكري عاجزين عن حل تلك الأحجية السحرية!

فلقد دارت تلك الأحجية السحرية أيضًا حول رجلٌ ظهر في أقصى بلاد المغرب الإسلامي بعد أكثر من 1300 عام من موت أبي بكر الصديق، فلم يكتف ذلك الرجل بقتال إمبراطوريتين فقط، بل قام بقتال أعظم ثلاث إمبراطوريات في العالم آنذاك!

فمن يكون ذلك الرجل العظيم الذي أنجبته أمة الإسلام والذي أصبح اسمه رمزًا لثوار العالم في الأرض كلها؟ وكيف استلهم منه ثوار آسيا وأفريقيا وأمريكا اللاتينية معنى الكفاح المسلح؟ وكيف اعتبره ثوار فيتنام أستاذًا لهم في معركتهم ضد الإمبريالية العالمية؟ وما حكاية معركة (أنوال) الأسطورية التي كانت وبلا شك يومًا من أيام اللَّه الخالدة؟ وما هو لغز تلك البرقية السرية المشفَّرة التي وصلت إلى الأمين العام لجامعة الدول العربية عام 1947 م من ميناء صنعاء اليمني؟

يتبع. . . . .
অ্যাডলফ হিটলারের সেনাবাহিনী শোচনীয়ভাবে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যখন তিনি পূর্বদিকের 'স্তালিনগ্রাদ' রণাঙ্গন উন্মুক্ত করার চিন্তা করেছিলেন, কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম মানুষ যিনি একই সময়ে পৃথিবীর বৃহত্তম দুই সাম্রাজ্যের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এই সামরিক নীতি ভেঙে দিয়েছিলেন। পারস্য ও রোমান সম্রাটগণ যখন ইসলামের দাওয়াত প্রদানকারীদেরকে দুর্বল ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কাছে তাওহিদের বাণী পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করল, তখন আবু বকর সিদ্দিক নূরের বাহিনীসমূহ প্রেরণ করলেন এমন সব অশ্বারোহীদের নিয়ে যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর সাথী। অতঃপর সিদ্দিক পূর্ব রণাঙ্গনে কিংবদন্তি বীর খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বাহিনীর মাধ্যমে কিসরার দুর্গসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিলেন, এবং আবু বকর পশ্চিম রণাঙ্গনে মহাবীর আবু উবাইদাহ আমির ইবনুল জাররাহ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক বাহিনীর মাধ্যমে রোমানদের আবাসভূমি প্রকম্পিত করে তুললেন। ইতিহাসের পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ দুই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আবু বকরের যুগপৎ যুদ্ধ ঘোষণার মাত্র কয়েক বছর পরই ইসলামি রাষ্ট্র সমগ্র বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রে পরিণত হলো।

উল্লেখ্য যে, আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন) এই সামরিক নীতি ভঙ্গকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন না; বরং আরও অনেক সেনাপতি অত্যন্ত সফলতার সাথে এটি ভঙ্গ করেছেন (যাঁদের সবাই ব্যতিক্রমহীনভাবে উম্মতে মুহাম্মাদীর অন্তর্ভুক্ত!), যার ফলে সামরিক ইতিহাসের পণ্ডিতগণ এই জাদুকরী ধাঁধার সমাধান করতে অক্ষম হয়ে থমকে দাঁড়িয়েছেন!

এই জাদুকরী ধাঁধাটি আবর্তিত হয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেও, যিনি আবু বকর সিদ্দিকের ইন্তেকালের ১৩০০ বছরেরও বেশি সময় পর ইসলামের সুদূর মাগরিব (পশ্চিম অঞ্চল) ভূখণ্ডে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি কেবল দুটি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম তিনটি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন!

তবে কে সেই মহান ব্যক্তি যাঁকে উম্মতে মুহাম্মাদী জন্ম দিয়েছে এবং যাঁর নাম আজ সারা বিশ্বের বিপ্লবীদের নিকট একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে? কীভাবে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিপ্লবীরা তাঁর কাছ থেকে সশস্ত্র সংগ্রামের অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন? কীভাবে ভিয়েতনামের বিপ্লবীরা তাঁকে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের শিক্ষক হিসেবে গণ্য করেছিলেন? আর কিংবদন্তি 'আনওয়াল' যুদ্ধের কাহিনীই বা কী, যা নিঃসন্দেহে ছিল আল্লাহর চিরস্মরণীয় দিনগুলোর একটি? আর ১৯৪৭ সালে ইয়েমেনের সানআ বন্দর থেকে আরব লিগের মহাসচিবের কাছে পৌঁছানো সেই গোপন সাংকেতিক বার্তার রহস্যই বা কী?

চলবে . . . . .
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٧)
" أسطورة المغرب الإسلامي" (الأمير محمد بن عبد الكريم الخطابي)

" أيها الأمير. . . لقد أتيت إلى القاهرة خصيصًا لكي أتعلم منك"

(الثائر الشيوعي تشي جيفارا 1960)

"إن هذا الرجل الذي ينادي باسمه أهل آسيا وأفريقيا والهند، ويتغنون باسمه. . . إن هذا الرجل الذي يقاتل باسم الإسلام ويعيد إمارة المؤمنين والخلافة الإسلامية، هو الخطر القادم على البلاد الأوروبية"

(السير كورتي عضو مجلس العموم البريطاني 1921)

"دخلت على عبد الكريم في خندق أمامي، والطائرات الإسبانية والفرنسية تقذف المنطقة بحمم هائلة فوجدته متبسمًا مرحًا مقبلًا يضرب ببندقيته الطائرات، فتعجبت من هذه الظاهرة البشرية الفريدة! "

(الصحافي الأمريكي فانسن شون 1926)

لم يصدق (عبد الرحمن عزام باشا) أول أمين لجامعة الدول العربية عينيه، وهو يقرأ تلك البرقية السرية التي وصلته من مجموعة من المجاهدين العرب في اليمن في يوم من أيام عام 1947 م: (عاجل وسري للغاية. . . لقد نزلت بميناء عدن اليوم سفينة فرنسية تحمل على متنها شيخًا أسيرًا مكبلًا بالسلاسل، يشتبه أن يكون هو ذلك البطل الإسلامي الأسطوري الذي اختفى منذ عشرين عامًا. . . والسفينة في طريقها الآن إلى فرنسا وستمر غدًا بميناء بورسعيد المصري، لذا وجب التنبيه!) وما أن فرغ عزام باشا من قراءة هذه البرقية حتى طلب على الفور مقابلة مستعجلة مع (الملك فاروق) لمناقشة أمر هذه البرقية الخطيرة التي وصلته للتو من مضيق باب المندب، فدار نقاش سري بين عزام باشا والملك فاروق في قصر إقامته، وما هي إلّا لحظات حتى صدر قرار إلى الضباط
"ইসলামী মাগরিবের কিংবদন্তি" (আমীর মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবী)

"হে আমীর. . . আমি বিশেষভাবে আপনার কাছ থেকে শেখার জন্যই কায়রোতে এসেছি"

(কমিউনিস্ট বিপ্লবী চে গুয়েভারা ১৯৬০)

"নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি, এশিয়া, আফ্রিকা ও ভারতের মানুষ যার নাম ধরে ডাকছে এবং তার নাম নিয়ে সঙ্গীত গাইছে. . . নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি যে ইসলামের নামে যুদ্ধ করছে এবং ইমারাতুল মুমিনীন ও ইসলামী খিলাফতকে পুনরুজ্জীবিত করছে, সে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য এক আসন্ন বিপদ"

(ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সের সদস্য স্যার কার্টি ১৯২১)

"আমি একটি সম্মুখ পরিখায় আব্দুল কারীমের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন স্প্যানিশ ও ফরাসি যুদ্ধবিমানগুলো ওই অঞ্চলে ব্যাপক অগ্নীবর্ষণ করছিল; আমি তাকে হাস্যোজ্জ্বল, প্রফুল্ল ও উদ্যমী অবস্থায় পেলাম, যে তার রাইফেল দিয়ে বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি করছিল। আমি এই অনন্য মানবীয় বিস্ময় দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলাম!"

(আমেরিকান সাংবাদিক ভিনসেন্ট শিন ১৯২৬)

আরব লীগের প্রথম মহাসচিব (আব্দুর রহমান আজ্জাম পাশা) নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, যখন তিনি ১৯৪৭ সালের কোনো একদিন ইয়েমেনের একদল আরব মুজাহিদদের কাছ থেকে আসা সেই গোপন তারবার্তাটি পড়ছিলেন: (অত্যন্ত জরুরি ও গোপনীয়. . . আজ এডেন বন্দরে একটি ফরাসি জাহাজ ভিড়েছে যাতে শিকলবদ্ধ এক বৃদ্ধ বন্দী রয়েছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে যে, তিনি সেই কিংবদন্তি ইসলামী বীর যিনি বিশ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন. . . জাহাজটি এখন ফ্রান্সের পথে রয়েছে এবং আগামীকাল মিশরের পোর্ট সাঈদ বন্দর অতিক্রম করবে, তাই সতর্ক করা জরুরি!) আজ্জাম পাশা এই তারবার্তাটি পড়া শেষ করতে না করতেই তাৎক্ষণিকভাবে (বাদশাহ ফারুকের) সাথে এক জরুরি সাক্ষাতের আবেদন জানালেন, যাতে বাব আল-মান্দাব প্রণালী থেকে আসা এই বিপজ্জনক তারবার্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায়। এরপর আজ্জাম পাশা ও বাদশাহ ফারুকের মধ্যে তাঁর বাসভবনে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই অফিসারদের প্রতি একটি নির্দেশ জারি করা হলো...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٨)
المصريين في قناة السويس باعتراض طريق تلك السفينة الفرنسية وإحضار ذلك الشيخ الكبير إلى القصر الملكي في القاهرة للتأكد من هويته، وبعدها بأقل من أربع وعشرين ساعة أحضر الضباط المصريون إلى الملك شيخًا بلحية بيضاء كالثلج يمشي بخطوات ثابتة رغم بطئها، تبدو من بين قسمات وجهه الغائرة مظاهرٌ للعظمة والسمو لا تخفى على أحد، يلبس لباسًا أبيض غاية في البساطة، وتظهر على يديه وساقيه الهزيلتين علامات لسلاسل وأعلال وكأنها نُحتت في جلده نحتًا، فلمّا أصبح هذا الشيخ بين يدي الملك فاروق سأله ملك مصر عن هويته، فرفع الشيخ الكبير رأسه ونظر نحو الملك بعينين كعيني الصقر الجارح ثم قال بكل شموخ وثقة: (أنا الأمير محمد بن عبد الكريم الخطابي). . .

نُغوِّر قليلًا في التاريخ، ونتحول إلى الغرب من القاهرة وبالتحديد إلى بلدة "أغادير" في الريف المغربي الإسلامي في سنة 1301 هـ/ 1883 م، هناك يُرزق شيخ قبيلة من قبائل الأمازيغ البربر يدعى الشيخ "عبد الكريم الخطابي" مولودًا يسميه تبركًا على اسم رسول اللَّه محمد صلى الله عليه وسلم، ليقرر هذا الشيخ تربية ابنه تربية صالحة منذ نعومة أظافره، وفعلًا قام بتعليمه اللغة العربية وتحفيظه القرآن بنفسه، ثم أرسله إلى جامعة "القرويين" في مدينة "فاس" ليتعلم هناك الحديث والفقه الإسلامي، وما هي إلا سنوات حتى أصبح "محمد ابن عبد الكريم الخطابي" قاضي القضاة في مدينة "مليلية" المغربية وهو ما يزال في عمر الشباب. في هذا الوقت كانت ظروف المغرب الإسلامي أصعب من أن يتخيلها إنسان، فلقد أدركت الدول الاستخرابية (الاستعمارية) أن بلاد المغرب الإسلامي تعتبر بمثابة مصنع للأبطال عبر التاريخ، فمنها خرج مجاهدو دولة "المرابطين" إلى الأندلس، ومنها أبحرت قوات دولة "الموحدين" إلى أوروبا، ومنها انطلقت كتائب النور الإسلامية أول مرة إلى أوروبا تحت قيادة (طارق بن زياد) فقررت تلك الدول إنهاء هذا الخطر الإسلامي، فعقدت دول أوروبا مؤتمر "الجزيرة الخضراء" عام 1906 م بمشاركة 12 دولة أوروبية، ولأول مرة في التاريخ يظهر اسم "أمريكا" لتكسر بذلك الولايات المتحدة الأمريكية "مبدأ مونرو" الذي ينص على: "عدم التدخل الأمريكي في السياسة الدولية"، كل هذه الدول اجتمعت من أجل انهاء هذا الكابوس الإسلامي المستمر إلى الأبد، فكان
সুয়েজ খালের মিশরীয়রা সেই ফরাসি জাহাজের পথ অবরোধ করে এবং কায়রোর রাজপ্রাসাদে সেই বৃদ্ধ শেখকে নিয়ে আসে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য। এর চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, মিশরীয় কর্মকর্তারা রাজার কাছে তুষারের মতো সাদা দাড়িওয়ালা এক শেখকে নিয়ে আসেন, যিনি ধীরগতি সত্ত্বেও স্থির পদক্ষেপে হাঁটছিলেন। তাঁর গভীর মুখাবয়বের ভাঁজগুলোর মধ্যে আভিজাত্য ও মহত্ত্বের এমন সব চিহ্ন ফুটে উঠছিল যা কারো নিকট গোপন ছিল না। তিনি অত্যন্ত সাধারণ সাদা পোশাক পরিহিত ছিলেন এবং তাঁর কৃশ হাত ও পায়ে শিকল ও বেড়ির এমন গভীর দাগ দৃশ্যমান ছিল, যেন সেগুলো তাঁর চামড়ার ওপর খোদাই করা হয়েছে। যখন এই শেখ রাজা ফারুকের সামনে উপস্থিত হলেন, মিশরের রাজা তাঁকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। তখন সেই বৃদ্ধ শেখ মাথা তুললেন এবং শিকারি বাজপাখির মতো দুই চোখে রাজার দিকে তাকালেন। তারপর পূর্ণ গৌরব ও আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন: (আমি আমির মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আল-খাত্তাবি)। . .

আমরা ইতিহাসের গভীরে একটু অবগাহন করি এবং কায়রোর পশ্চিমে, সুনির্দিষ্টভাবে মরক্কোর ইসলামী রিফ অঞ্চলের "আগাদির" জনপদে ফিরে যাই ১৩০১ হিজরি/১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে। সেখানে বার্বার আমাজিগ গোত্রসমূহের এক গোত্রপ্রধান, যাঁর নাম শেখ "আব্দুল করিম আল-খাত্তাবি", এক পুত্রসন্তান লাভ করেন। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের বরকতে তিনি তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মদ। এই শেখ তাঁর পুত্রকে শৈশব থেকেই উত্তম আদর্শে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। বাস্তবে তিনি নিজেই তাঁকে আরবি ভাষা শিক্ষা দেন এবং কোরআন মুখস্থ করান। এরপর তিনি তাঁকে ফেজ শহরের "আল-কারাউইন" বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান হাদিস ও ইসলামী ফিকহ শেখার জন্য। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল করিম আল-খাত্তাবি" মরক্কোর "মেলিলা" শহরের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন, তখনও তিনি ছিলেন টগবগে যুবক। এই সময়ে ইসলামী মরক্কোর পরিস্থিতি ছিল মানুষের কল্পনার অতীত কঠিন। উপনিবেশবাদী (ধ্বংসাত্মক) রাষ্ট্রগুলো বুঝতে পেরেছিল যে, ইসলামী মরক্কো ভূখণ্ডটি ইতিহাসের পরিক্রমায় বীরদের কারখানা হিসেবে বিবেচিত। এখান থেকেই "মুরাবিতুন" রাষ্ট্রের মুজাহিদরা আন্দালুসে গিয়েছিলেন, এখান থেকেই "মুওয়াহহিদুন" রাষ্ট্রের বাহিনীগুলো ইউরোপের দিকে পাড়ি জমিয়েছিল এবং এখান থেকেই তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে ইসলামের নূরানি বাহিনীগুলো প্রথমবারের মতো ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা করেছিল। তাই সেই রাষ্ট্রগুলো এই ইসলামী বিপদ নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিল। ফলে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো ১৯০৬ সালে ১২টি ইউরোপীয় দেশের অংশগ্রহণে "আলজাসিরাস" সম্মেলন আহ্বান করল। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো সেখানে "আমেরিকা" নামটি আত্মপ্রকাশ করল, যার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের "মনরো নীতি" ভঙ্গ করল, যাতে বলা হয়েছিল: "আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ না করা"। এই সমস্ত দেশ একত্রিত হয়েছিল এই চিরস্থায়ী ইসলামী দুঃস্বপ্ন নির্মূল করার জন্য, ফলে...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ١٩)
القرار النهائي لهذا المؤتمر: تقسيم بلاد المغرب الإسلامي!

العجيب أن تلك الدول لم تكتفِ بتقسيم مملكة المغرب الإسلامي فحسب، بل قسمتها بطريقة خبيثة لم تعرفها شعوب الأرض من قبل، بحيث تضمن تفككها بشكل نهائي، فأخذت فرنسا القسم الجنوبي من مملكة المغرب "موريتانيا"، ثم أخذت إسبانيا القسم الذي يليه في الشمال "الصحراء الغربية"، ثم مرة أخرى فرنسا إلى الشمال من الصحراء "وسط المغرب الحالي" ثم إسبانيا إلى الشمال أيضًا في الساحل الشمالي للمغرب "الريف المغربي"، وبين هذا وذاك احتلت ألمانيا وبريطانيا مدنًا هنا وأخرى هناك، وظن الجميع أنهم بذلك أنهوا الوجود الإسلامي في بلاد المغرب الأبد، ولكن الشيخ عبد الكريم الخطابي وابنه محمد جزاهما اللَّه كل خير كان لهما رأي آخر، فبدءا بتجميع القبائل المتناحرة على راية الإسلام الواحدة، ومراسلة الخليفة العثماني في عاصمة الخلافة، عندها قتل الإسبان الشيخ المجاهد عبد الكريم الخطابي رحمه الله، وأسروا ابنه الشيخ محمد، ووضعوه في أحد السجون في قمة جبل من جبال المغرب، وبطريقة أسطورية لا توصف، استطاع البطل بن البطل أن يصنع حبلًا من قماش فراشه، ليحرر به نفسه من نافذة السجن، ولكن الحبل ولسوء الحظ لم يكن بالطول الكافي ليصل بالخطابي من قمة الجبل إلى الأرض، ليقفز بطلنا من ارتفاع شاهق على الصخور الصمّاء، لتكسر بذلك ساقيه ويُغمى عليه من شدة الصدمة، قبل أن تكتشف سلطات السجن أمره وتعيده إلى السجن.

وبعد حين من الأسر خرج الأمير محمد بن عبد الكريم الخطابي من السجن ليكوِّن من رجال قبائل الريف المغربي جيشًا من ثلاثة آلاف مقاتل فقط، مبتكرًا بذلك فنًا جديدًا من فنون القتال العسكري كان هو أول من استخدمه في تاريخ الحروب تحت اسم "حرب العصابات"، وقد استخدم كل ثوار العالم بعد ذلك هذا الفن العسكري القائم على فنون المباغتة والكر والفر. ثم ابتكر الأمير محمد نظامًا آخر في المقاومة اعترف الزعيم الفيتنامي (هوشيمنه) أنه اقتبسه من الأمير الخطابي في قتال الفيتناميين للأمريكيين بعد ذلك بسنوات، هذا النظام هو نظام حفر الخنادق الممتدة تحت الأرض حتى ثكنات العدو، وبذلك استطاع هذا البطل الإسلامي تلقين الجيش الإسباني درسًا جديدًا في كل
এই সম্মেলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ইসলামী মাগরিব ভূখণ্ডের বিভাজন!

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, সেই রাষ্ট্রগুলো কেবল ইসলামী মাগরিব সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা একে এমন এক জঘন্য উপায়ে বিভক্ত করেছিল যা পৃথিবীর কোনো জাতি এর আগে দেখেনি, যাতে এর চূড়ান্ত বিলুপ্তি নিশ্চিত হয়। ফলে ফ্রান্স মাগরিব সাম্রাজ্যের দক্ষিণ অংশ "মৌরিতানিয়া" দখল করল, এরপর স্পেন এর পরবর্তী উত্তরের অংশ "পশ্চিম সাহারা" নিল, তারপর পুনরায় ফ্রান্স সাহারার উত্তরে "বর্তমান মরক্কোর মধ্যভাগ" এবং স্পেন আবারও উত্তর দিকে মরক্কোর উত্তর উপকূলে "মরক্কোর রিফ" অঞ্চলটি দখল করল। এর মাঝে জার্মানি ও ব্রিটেন এখানে-সেখানে বিভিন্ন শহর দখল করে নিল। সবাই ধারণা করেছিল যে, তারা এর মাধ্যমে মাগরিবের দেশগুলোতে চিরতরে ইসলামি অস্তিত্বের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু শায়খ আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবি এবং তার পুত্র মুহাম্মদ (আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন) ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন। তারা বিবাদমান গোত্রগুলোকে ইসলামের একক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করতে শুরু করলেন এবং খিলাফতের রাজধানী উসমানীয় খলিফার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করলেন। তখন স্পেনীয়রা মুজাহিদ শায়খ আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-কে শহীদ করল এবং তার পুত্র শায়খ মুহাম্মদকে বন্দী করে মরক্কোর এক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত কারাগারে নিক্ষেপ করল। এক অবর্ণনীয় ও কিংবদন্তিতুল্য উপায়ে, এই বীরের বীর পুত্র তার বিছানার চাদর দিয়ে একটি রশি তৈরি করতে সক্ষম হলেন, যাতে নিজেকে কারাগারের জানালা দিয়ে মুক্ত করতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রশিটি পাহাড়ের চূড়া থেকে খাত্তাবিকে ভূমি পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট দীর্ঘ ছিল না। ফলে আমাদের এই বীর বিশাল উচ্চতা থেকে কঠিন শিলাখণ্ডের ওপর লাফিয়ে পড়লেন, এতে তার দুই পা ভেঙে গেল এবং প্রচণ্ড আঘাতে তিনি জ্ঞান হারালেন। জেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পাওয়ার এবং তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পূর্বেই এটি ঘটেছিল।

বন্দিদশার কিছুকাল পর আমির মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে মরক্কোর রিফ অঞ্চলের গোত্রীয় লোকদের নিয়ে মাত্র তিন হাজার যোদ্ধার একটি বাহিনী গঠন করলেন। এর মাধ্যমে তিনি সামরিক যুদ্ধের এক নতুন কৌশলের উদ্ভাবন করলেন, যুদ্ধের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি "গেরিলা যুদ্ধ" নামে ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীকালে বিশ্বের সমস্ত বিপ্লবীরা অতর্কিত আক্রমণ এবং সম্মুখ যুদ্ধ ও পলায়ন কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সামরিক কৌশলটি ব্যবহার করেছে। এরপর আমির মুহাম্মদ প্রতিরোধের আরেকটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা ভিয়েতনামের নেতা (হো চি মিন) স্বীকার করেছিলেন যে, কয়েক বছর পর আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামিদের যুদ্ধে তিনি আমির খাত্তাবির কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছিলেন। এই পদ্ধতিটি ছিল ভূগর্ভে শত্রু শিবিরের ব্যারাক পর্যন্ত বিস্তৃত সুড়ঙ্গ খনন করা। এভাবেই এই ইসলামি বীর স্পেনীয় বাহিনীকে প্রতিটি ক্ষেত্রে এক নতুন পাঠ দান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يومٍ من أيام القتال. ولما تضاعفت خسائر الإسبان في الريف الإسلامي قام ملك إسبانيا (ألفونسو الثالث) عشر بإرسال جيشٍ كاملٍ من مدريد تحت قيادة صديقه الجنرال (سلفستري)، والتقى الجمعان في معركة "أنوال" الخالدة، جيش إسباني منظم مكون من 60 ألف جندي مع طائراتهم ودباباتهم مقابل 3 آلاف مجاهد مسلم يحملون بنادق بدائية فقط، ولكن هذان خصمان اختصموا في ربهم، فئة تقاتل في سبيل اللَّه، وأخرى تقاتل في سبيل الأرض والصليب، فكان حقًا على اللَّه نصر المؤمنين، وفعلًا انتصر الثلاثة آلاف مجاهد تحت قيادة الأسطورة الخطّابية على جيش كامل من 60 ألف مقاتل صليبي، وقتل المسلمون 18 ألف إسباني، وأسروا عشرات الآلاف من الغزاة، ولم يسلم من الهلاك والأسر إلّا 600 جندي إسباني هربوا إلى إسبانيا كالكلاب الفزعة، ليقصّوا أهوال ما رأوا في الريف المغربي على ملكهم، ليأسس الأمير الخطابي بعد ذلك "إمارة الريف الإسلامية" في شمال المغرب الإسلامي، وخلال 5 أعوام من إمارته قام الخطابي بتعليم الناس الدين الإسلامي الصحيح الخالي من الشعوذة والدروشة، ثم قام بإرسال البعثات العلمية لدول العالم، وتوحيد صفوف القبائل المتناحرة تحت راية الإسلام. . . .

وكما هو متوقع بعد كل صحوة إسلامية. . . . اجتمعت دول الصليب مرة أخرى (وهي التي لا تجتمع إلّا في قتال المسلمين!)، بعد أن أحست بخطر الدولة الإسلامية الوليدة التي لو بقيت لغيرت مسار التاريخ، فكوَّنوا تحالفًا من نصف مليون جندي أوروبي بدباباتهم وطائراتهم وبوارجهم الحربية، ليحاربوا به 20 ألف مجاهد فقط، فكانت المفاجأة الكبرى! لقد انتصر المجاهدون تحت قيادة الأمير المجاهد محمد ابن عبد الكريم الخطابي في جميع الجولات التي خاضوها، فأوقعوا الخسائر تلو الخسائر في صفوف الغزاة، مما اضطر جيوش أوروبا المتحالفة أن تشتري ذمم بعض شيوخ الطرق الصوفية المبتدعة، فقام هؤلاء الخونة بقتال الأمير الخطابي الذي كان يحارب من قبل البدع الصوفية من الرقص والدروشة وإقامة الموالد التي لم ينزل اللَّه بها من سلطان، فأصدروا فتوى تحرم القتال مع الخطابي، قبل أن تقوم طائرات فرنسا وإسبانيا بإلقاء الأسلحة الكيميائية والغازات السامة على المدنيين، في نفس الوقت الذي حاصر فيه الأسطول الإنجليزي سواحل المغرب، فقاتل الخطابي أمم الأرض مجتمعة من خونة
যুদ্ধের দিনগুলোর মধ্যে একটি দিন। যখন ইসলামি রিফে স্প্যানিশদের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে গেল, তখন স্পেনের রাজা (ত্রয়োদশ আলফোনসো) তার বন্ধু জেনারেল (সিলভেস্ট্রে)-এর নেতৃত্বে মাদ্রিদ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী পাঠান। অতঃপর অমর "আনওয়াল" যুদ্ধে দুই দল মুখোমুখি হয়; ৬০ হাজার সৈন্যের একটি সুসংগঠিত স্প্যানিশ বাহিনী তাদের বিমান ও ট্যাংকসহ, বিপরীতে মাত্র ৩ হাজার মুসলিম মুজাহিদ যাদের কাছে ছিল কেবল আদিম বন্দুক। কিন্তু এরা হলো দুটি বিবাদমান পক্ষ যারা তাদের রবের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে; একদল আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর অন্যদল ভূখণ্ড ও ক্রুশের পথে লড়াই করে। ফলে মুমিনদের সাহায্য করা আল্লাহর ওপর অবধারিত ছিল। আর প্রকৃতপক্ষে কিংবদন্তি খাত্তাবীর নেতৃত্বে তিন হাজার মুজাহিদ ৬০ হাজার ক্রুসেডার যোদ্ধার একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। মুসলিমরা ১৮ হাজার স্প্যানিশকে হত্যা করে এবং হাজার হাজার আক্রমণকারীকে বন্দী করে। ধ্বংস ও বন্দী হওয়া থেকে কেবল ৬০০ স্প্যানিশ সৈন্য রক্ষা পায় যারা ভীত-সন্ত্রস্ত কুকুরের মতো স্পেনে পালিয়ে যায়, যাতে তারা মরক্কোর রিফ অঞ্চলে যা দেখেছে সেই ভয়াবহতা তাদের রাজার কাছে বর্ণনা করতে পারে। এরপর আমির খাত্তাবী উত্তর ইসলামি মরক্কোতে "ইসলামি রিফ আমিরাত" প্রতিষ্ঠা করেন। তার আমিরাতের ৫ বছরে খাত্তাবী মানুষকে ভেল্কিবাজি ও দরবেশবাদ মুক্ত সঠিক ইসলামি দ্বীন শিক্ষা দেন। এরপর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধিদল পাঠান এবং ইসলামের পতাকাতলে বিবাদমান গোত্রগুলোর কাতারকে ঐক্যবদ্ধ করেন। . . .

এবং প্রতিটি ইসলামি জাগরণের পর যেমনটি প্রত্যাশিত. . . . ক্রুসেডার রাষ্ট্রগুলো আবারও একত্রিত হলো (যারা কেবল মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই একত্রিত হয়!), যখন তারা এই নবজাতক ইসলামি রাষ্ট্রের বিপদ অনুভব করল, যা টিকে থাকলে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিত। তারা তাদের ট্যাংক, বিমান ও যুদ্ধজাহাজসহ পাঁচ লক্ষ ইউরোপীয় সৈন্যের একটি জোট গঠন করে, যাতে তারা মাত্র ২০ হাজার মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। এরপর ঘটল সেই মহাবিস্ময়! মুজাহিদ আমির মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবীর নেতৃত্বে মুজাহিদিনরা তাদের লড়া প্রতিটি রাউন্ডে বিজয়ী হলেন এবং আক্রমণকারীদের কাতারে একের পর এক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেন। যা ইউরোপীয় মিত্র বাহিনীকে বিদআতি সুফি তরিকার কিছু শায়েখের বিবেক কেনাকাটা করতে বাধ্য করে। ফলে এই বিশ্বাসঘাতকরা আমির খাত্তাবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যিনি আগে থেকেই সুফি বিদআত যেমন নাচ, দরবেশবাদ এবং মিলাদ মাহফিল আয়োজনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা খাত্তাবীর পক্ষে লড়াই করা হারাম বলে ফতোয়া জারি করে। এরপর ফ্রান্স ও স্পেনের বিমানগুলো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ও বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঠিক একই সময়ে ব্রিটিশ নৌবহর মরক্কোর উপকূল অবরোধ করে। ফলে খাত্তাবী বিশ্বাসঘাতক এবং একত্রিত হওয়া বিশ্বের জাতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢١)
وصليبيين، ولم يبقَ معه من المجاهدين إلا 200 مقاتل عاهدوا اللَّه على الشهادة تحت قيادته، فقاتل أولئك النفر كالأسود حتى يأس الصليبيون من هزيمتهم، فلجئوا عندها إلى أسلوب قديم حديث ستجدونه يتكرر كثيرًا في طيّات هذا الكتاب في قصص العظماء المائة في أمة الإسلام، لقد لجأ الصليبيون إلى طلب الصلح مع الأمير محمد مع إعطاء المسلمين الضمانات الموثقة على سلامة كل المجاهدين وإتاحة سبل العيش الكريم لأهل المغرب بكل حرية واستقلال.

وكعادتهم. . . . نكص الصليبيون بعهودهم، فقاموا بخطف الأمير الأسطورة المجاهد محمد بن عبد الكريم الخطابي ونفيه إلى جزيرة في مجاهل المحيط الهندي، ليس لسنة أو اثنتين، بل لعشرين سنة متصلة قضاها هذا البطل في أسر دعاة حقوق الإنسان، في أسر من خرجوا للعالم بشعار الثورة الفرنسية: (Fraternite، Libere، Egalite) (حرية، مساواة، إخاء)، فأي حرية تدَّعونها أيها المجرمون في حبس شيخ ضعيف مدة عشرين سنة؟! وأي مساواة تتكلمون عنها وأنتم تقتلون نساء المسلمين وأطفالهم بغازاتكم السامة القذرة؟! وأي إخاء تسخرون به من عقول المغفلين بحضارتكم القائمة على دماء الضعفاء من البشر؟! فإن كان قتلكم للضعفاء من بني البشر حضارةً. . . . فسحقًا إذًا لكم ولحضارتكم تلك!

وبعد. . . . كانت هذه بعض سطورٍ عن ملحمة إسلامية خالدة، هي غاية في البطولة لقائد إسلاميٍ عظيمٍ ضحى بزهرة شبابه لرفع راية لا إله إلا اللَّه - محمد رسول اللَّه، ومما يحزن النفس ويدمي الفؤاد، أن معظم شبابنا ما سمعوا باسمه قَط، على الرغم من أن كثيرًا منهم متيمون بأبطالٍ لم يحاربوا إلا من أجل مصالح دنيوية ومبادئ شيوعية، فلو علم شبابنا ممن يعلقون صور الثائر الشيوعي (تشي جيفارا) أنه أتى للقاهرة ليتعلم من بطل الإسلام الأسطوري محمد بن عبد الكريم الخطابي، لتغير رأي شبابنا في تاريخهم الذي نسوه أو أنسوه (بضم الألف)، فصاحبنا هذا لم يكن صحابيًا، بل لم يكن عربيًا البتة، وبغض النظر عن مدى عظمة هذا البطل المغوار، فإن ذكره في مقدمة الكتاب يأتي ردًا على أولئك المساكين الذين إذا طلبت منهم الاقتداء ببطولات الصحابة وتضحياتهم تحججوا بحجة واهية، ألا وهي أننا لسنا من جيل الصحابةً، فكان ذكر رجل ظهر في
...এবং ক্রুসেডাররা। তাঁর সাথে মাত্র ২০০ জন মুজাহিদ অবশিষ্ট ছিলেন, যারা তাঁর নেতৃত্বে শাহাদাতের ওপর আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই দলটি সিংহের মতো যুদ্ধ করেছিল, এমনকি ক্রুসেডাররা তাদের পরাজিত করার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিল। তখন তারা একটি প্রাচীন ও আধুনিক কৌশলের আশ্রয় নিল, যা আপনারা এই বইয়ের পাতায় ইসলামি উম্মাহর একশজন মহান ব্যক্তির কাহিনীতে বারবার দেখতে পাবেন। ক্রুসেডাররা আমির মুহাম্মাদের সাথে সন্ধির প্রস্তাব দিল এবং সকল মুজাহিদের নিরাপত্তার জন্য নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান করল এবং মাগরিবের অধিবাসীদের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্যের সাথে সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল।

এবং তাদের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী... ক্রুসেডাররা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। তারা কিংবদন্তি আমির মুজাহিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবিকে অপহরণ করল এবং ভারত মহাসাগরের অজানা কোনো দ্বীপে নির্বাসিত করল। এক বা দুই বছরের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ ২০টি বছর এই বীর মানবাধিকারের প্রবক্তাদের হাতে বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন; সেই বন্দিশালায়, যারা ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান: (ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা, সাম্য) নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিল। হে অপরাধীরা! ২০ বছর ধরে একজন দুর্বল বৃদ্ধকে বন্দি করে তোমরা কোন স্বাধীনতার দাবি করো?! আর তোমরা কোন সাম্যের কথা বলো, যখন তোমরা তোমাদের নোংরা বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে মুসলিম নারী ও শিশুদের হত্যা করো?! আর কোন ভ্রাতৃত্বের উপহাস তোমরা নির্বোধদের বুদ্ধি নিয়ে করো, তোমাদের সেই সভ্যতার মাধ্যমে যা দুর্বল মানুষের রক্তে রঞ্জিত?! যদি দুর্বল মানুষদের হত্যা করাই তোমাদের সভ্যতা হয়... তবে তোমাদের ওপর এবং তোমাদের সেই সভ্যতার ওপর ধিক্কার!

অতঃপর... এটি ছিল এক চিরন্তন ইসলামি মহাকাব্যের কিছু পঙক্তি মাত্র, যা একজন মহান ইসলামি নেতার বীরত্বের চরম নিদর্শন। তিনি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল’—এই পতাকা সমুন্নত করার জন্য তাঁর যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় উৎসর্গ করেছিলেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক যে, আমাদের অধিকাংশ যুবক তাঁর নাম পর্যন্ত শোনেনি। অথচ তাদের অনেকেই এমন সব বীরদের প্রতি আসক্ত যারা কেবল পার্থিব স্বার্থ এবং সাম্যবাদী আদর্শের জন্য যুদ্ধ করেছিল। আমাদের যুবকরা যারা সাম্যবাদী বিপ্লবী ‘চে গুয়েভারা’-র ছবি ঝুলিয়ে রাখে, তারা যদি জানত যে সে কায়রোতে এসেছিল ইসলামের এই কিংবদন্তি বীর মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-খাত্তাবির কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে, তবে তাদের নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা বদলে যেত, যা তারা ভুলে গিয়েছে অথবা তাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই সঙ্গী কোনো সাহাবি ছিলেন না, এমনকি তিনি জাতিতে মোটেও আরব ছিলেন না। এই বীর সেনানীর মহত্ব যাই হোক না কেন, বইয়ের ভূমিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো সেই সব হতভাগাদের উত্তর দেওয়া, যাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের বীরত্ব ও ত্যাগের অনুসরণ করতে বললে তারা একটি দুর্বল অজুহাত দাঁড় করায়—তা হলো আমরা সাহাবাদের প্রজন্মের লোক নই। তাই এমন একজন ব্যক্তির উল্লেখ করা হয়েছে যিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
القرن العشرين الميلادي، لهو خير جوابٍ على أولئك الذين لم يقرءوا شيئًا عن تاريخ أمتهم المشرق.

ولكن ما قصة أرض مصر التي احتضنت أبطالًا من كل الأعراق في أمة الإسلام ابتداءً من السلطان الكردي صلاح الدين الأيوبي، إلى الأمير المغربي محمد بن عبد الكريم الخطابي، مرورًا بالملك التركي قطز قاهر التتار؟ ومن هي تلك السيدة المصرية التي كانت أم العرب العدنانيين أجداد نبي الإسلام محمد صلى الله عليه وسلم؟ وما هو الدرس التي علمته هذه السيدة لبني البشر؟ ولماذا أصبحت هذه السيدة العملاقة واحدة من أعظم عظيمات أمة الإسلام؟

يتبع. . . . .
বিংশ শতাব্দী হলো তাদের জন্য সর্বোত্তম জবাব, যারা তাদের উম্মাহর উজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই পড়েনি।

কিন্তু মিশরের মাটির সেই কাহিনী কী, যা ইসলামের উম্মাহর সকল জাতিগোষ্ঠীর বীরদের বুকে আগলে রেখেছিল—কুর্দি সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী থেকে শুরু করে মরক্কোর আমির মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আল-খাত্তাবী, এবং তাতারদের হন্তারক তুর্কি রাজা কুতুজ পর্যন্ত? আর সেই মিশরীয় নারী কে ছিলেন, যিনি ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ আদনানী আরবদের মাতা ছিলেন? এবং সেই মহীয়সী নারী মানবজাতিকে কী শিক্ষা দিয়েছিলেন? কেন এই মহীয়সী নারী ইসলামের উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারীতে পরিণত হয়েছিলেন?

চলবে. . . . .
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
{رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ}

 

(السيدة هاجر)

(آللَّه أمرك بهذا يا إبراهيم؟ فلن يضيعنا اللَّه إذًا)

(السيدة هاجر)

نصيب نساء الإسلام يفوق النصف بين عظماء هذه الأمة، إمّا بأفعالهن أو أفعال أبنائهن الذين تربوا على أيديهن، فلم أقصد أبدًا بكتاب العظماء المائة ذِكرَ عظيمي الإسلام دون عظيماته، وإنما قصدت الجمع بينهم بصيغة الجمع "العظماء"، وهكذا

فعلت العرب عند جمع الذكور والإناث معًا، وهكذا أفعل أنا. . . .

فأمة الإسلام أمة ممتدة لا تعرف حدودًا للعنصر البشري، فضلًا من أن تعرف حدودًا لزمان أو مكان، فالعظماء في هذه الأمة تجمعهم ثلاث صفات أساسية شكلت هويتهم الفريدة وميزتهم عن باقي البشر:

(الوحدانية في العقيدة - والتنوع في العنصر - والسمو في الهدف)

فعلى الرغم من أن السيدة هاجر قد ماتت قبل بعثة محمد صلى الله عليه وسلم بمئات السنين، إلّا أنها تنتمي لنفس العقيدة ونفس الدين، ألا وهو دين الإسلام، الدين الذي دعا إليه آدم ونوح وإبراهيم وإسماعيل وإسحق وإسرائيل ولوط وموسى وعيسى، فالدين عند اللَّه هو الإسلام، أما غير ذلك من أديان فهي أديان ابتكرها البشر لأنفسهم، فسمى البوذيون أنفسهم بهذا الاسم نسبة لفيلسوفهم (غوتاما بوذا)، وأطلق اليهود هذا الاسم على دينهم نسبة إلى (يهوذا بن يعقوب) أحد أسباط بني إسرائيل، والمسيحيون نسبوا أنفسهم إلى الرب الذي يعبدونه (المسيح بن مريم) عليه السلام، أما أتباع محمد بن عبد اللَّه فلم يسموا أنفسهم (المحمديين)، بل لم يكلّفوا أنفسهم عناء البحث عن اسم لهم، فلقد سمّاهم اللَّه من فوق سبع سماوات بـ (المسلمين)، فالمسلم هو كل من يُسلم نفسه للَّه.

وعظيمتنا التي نحن بصدد الحديث عنها تنتمي لهذه الأمة العظيمة، أما عنصرها فهو عنصر رائع كان وما زال يخَرِّج العديد من عظماء أمة الإسلام، إنه العنصر المصري أو
{হে আমাদের পালনকর্তা, আমি আমার সন্তানদের একাংশকে আপনার পবিত্র গৃহের নিকটে এক উদ্ভিদহীন উপত্যকায় বসতি স্থাপন করিয়েছি।}

 

(সায়্যিদাহ হাজেরা)

(হে ইবরাহিম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তবে আল্লাহ কখনোই আমাদের ধ্বংস হতে দেবেন না।)

(সায়্যিদাহ হাজেরা)

এই উম্মতের মহান ব্যক্তিদের মধ্যে ইসলামি নারীগণের অংশ অর্ধেকেরও বেশি, হয় তাদের নিজেদের কর্মের মাধ্যমে অথবা তাদের হাতে গড়ে ওঠা সন্তানদের কর্মের মাধ্যমে। ‘শত মহান ব্যক্তি’ গ্রন্থের মাধ্যমে আমি কখনোই কেবল পুরুষের কথা বোঝাতে চাইনি বরং নারী-পুরুষ উভয়কেই ‘মহান’ শব্দটির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য করেছি। আর আরবরা নারী ও পুরুষের সমষ্টিকে বোঝাতে এভাবেই বহুবচন ব্যবহার করে থাকে, আমিও তেমনি করেছি। . . . .

কেননা ইসলামি উম্মাহ এমন এক বিস্তৃত জাতি যা মানবীয় বংশের কোনো সীমানা চেনে না, এমনকি সময় বা স্থানেরও নয়। এই উম্মতের মহান ব্যক্তিদের মাঝে তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা তাদের এক অনন্য পরিচয় দান করেছে এবং অন্য মানুষদের থেকে পৃথক করেছে:

(আকিদাহ বা বিশ্বাসে একত্ববাদ - বংশগত বৈচিত্র্য - এবং উদ্দেশ্যের উচ্চতা)

যদিও সায়্যিদাহ হাজেরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির শত শত বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন, তবুও তিনি একই আকিদাহ ও একই দ্বীনের অনুসারী ছিলেন; আর তা হলো ইসলাম ধর্ম। আদম, নূহ, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইসরাঈল, লুত, মুসা ও ঈসা যে দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। এ ছাড়া বাকি ধর্মগুলো মানুষ নিজেদের জন্য উদ্ভাবন করেছে। যেমন বৌদ্ধরা তাদের দার্শনিক (গৌতম বুদ্ধ) এর দিকে সম্বোধন করে নিজেদের এই নাম দিয়েছে, ইহুদিরা তাদের এই নাম দিয়েছে বনী ইসরাঈলের অন্যতম সন্তান (ইয়াহুদা ইবনে ইয়াকুব) এর নামানুসারে এবং খ্রিস্টানরা নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করেছে তাদের উপাস্য (ঈসা ইবনে মরিয়ম) আলাইহিস সালাম-এর সাথে। কিন্তু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর অনুসারীরা নিজেদের ‘মুহাম্মাদী’ নামকরণ করেনি, বরং তারা নিজেদের জন্য কোনো নাম খুঁজে বের করার কষ্টও করেনি; স্বয়ং আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে তাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’। আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেয়।

আমাদের সেই মহীয়সী নারী, যাঁকে নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তিনি এই মহান উম্মতেরই অন্তর্ভুক্ত। আর তাঁর জাতিগত পরিচয় অত্যন্ত চমৎকার যা ইসলামি উম্মাহর অসংখ্য মহান ব্যক্তির জন্ম দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে; আর তা হলো মিশরীয় জাতিসত্তা অথবা
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
القبطي، ولفظة القبط تعني سكان وادي النيل، وفي تعريب للكلمة اليونانية أَيْجيْتيوس التي تعني مصري! وليس كما يظن البعض أن القبطي هو المسيحي أو النصراني المصري، فالغالبية العظمى من الأقباط هم أقباط مسلمون! ومن هذه الأرض بالتحديد وُلدت بطلتنا القبطية التي كانت جارية في مصر إبان عهد الهكسوس، قبل أن يتزوجها إبراهيم عليه السلام لتنجب له إسماعيل عليه السلام ليكون فيما بعد أبًا للعرب العدنانيين (العرب المستعربة) الذين خرج منهم أفضل مخلوق خلقه اللَّه في الكون، محمد صلى الله عليه وسلم، فالمصريون إذا هم أخوال العرب!

المهم في القصة أن اللَّه أمر خليله إبراهيم أن يصطحب هاجر ورضيعها إسماعيل من فلسطين إلى وادٍ غير ذي زرع في الحجاز عند جبال فاران، هناك أمر اللَّه نبيه إبراهيم أن يترك امرأته ورضيعها ليقصد هو فلسطين راجعًا، عندها سألت هاجر زوجها وعينيها تملؤها الدهشة من قرار زوجها الغريب، فلم يجب إبراهيم زوجه بشيء، فسألته هاجر: آللَّه أمرك بهذا؟! فهز إبراهيم رأسه بالإيجاب، وهنا يخرج جواب من فيهِ هذه السيدة العظيمة ليكون سببًا في خلودها في ذاكرة الزمان إلى أن يرث اللَّه الأرض ومن عليها فقالت بكل ثقة: فلن يضيعنا اللَّه إذًا!

وسر عظمة هذه المرأة يتمثل بتطبيقها لشرطي النصر: الإيمان والعمل! فهاجر وثقت أولًا باللَّه عز وجل، ثم قامت بعد ذلك بكل ما في استطاعتها من سعي بين الصفا والمروة لإنقاذ ابنها الرضيع الذي كان يئن من ألم الجوع والعطش، حينها علم اللَّه أن هذه المرأة قامت بتنفيذ الشرطين اللازمين للنصر: الإيمان والعمل، وعندها -وعندها فقط- أتى الأمر الإلهي اليسير: كن! حينها خرجت من بين أقدام الطفل الذي أوشك على الهلاك عينُ ماءٍ تحمل في كل قطرة من قطراتها حكاية النصر والبقاء، لتجري هذه العين بشكل إعجازي من بين الصخور الصماء في مكة إلى يومنا هذا، وكأن اللَّه يقول لنا إن ينبوع النصر لا ينضب أبدًا!

وفي زماننا هذا وجب على كل مسلم أن يتخيل نفسه في مكان هاجر عليها السلام، وأن يتخيل أن الأمة الإسلامية الآن هي ذلك الطفل الذي يبكي ويوشك على الهلاك في تلك الصحراء القاحلة التي لا يبدو فيها أي مظهر من مظاهر الحياة، فإذا قام كل واحدٍ
কিবতি শব্দটি মূলত নীল নদ উপত্যকার অধিবাসীদের বোঝায়। এটি গ্রিক শব্দ 'আইজিপটিওস'-এর আরবি রূপান্তর, যার অর্থ হলো মিসরীয়! অনেকে যেমনটি মনে করেন কিবতি মানেই মিসরীয় খ্রিস্টান বা নাসারা, বিষয়টি তেমন নয়; বরং কিবতিদের বিশাল এক অংশ হলো মুসলিম কিবতি! এই মাটি থেকেই আমাদের সেই কিবতি মহীয়সীর জন্ম, যিনি হিক্সোস শাসনামলে মিসরে একজন দাসী ছিলেন। পরবর্তীতে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের কোলজুড়ে ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। তিনি পরবর্তীকালে আদনানি আরবদের (আরব আল-মুসতারিবা) পিতা হন, যাদের বংশ থেকেই বিশ্বজগতের মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবির্ভূত হয়েছেন। সুতরাং মিসরীয়রা হলো আরবদের মামাতো বংশীয় আত্মীয়!

গল্পের মূল বিষয়টি হলো, আল্লাহ তাঁর খলিল ইব্রাহিমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাজেরা ও তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইলকে ফিলিস্তিন থেকে হিজাজের ফারান পাহাড়ের নিকটবর্তী এক বৃক্ষলতাহীন জনমানবহীন উপত্যকায় নিয়ে যেতে। সেখানে আল্লাহ তাঁর নবী ইব্রাহিমকে আদেশ দেন তাঁর স্ত্রী ও শিশুকে রেখে ফিলিস্তিনে ফিরে যেতে। তখন হাজেরা তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর চোখ তখন স্বামীর এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে বিস্ময়ে ভরা ছিল। ইব্রাহিম তাঁর স্ত্রীকে কোনো উত্তর দেননি। তখন হাজেরা জিজ্ঞাসা করলেন: "আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" ইব্রাহিম ইতিবাচকভাবে মাথা নাড়লেন। তখন এই মহীয়সী নারীর মুখ থেকে এমন এক উত্তর বেরিয়ে এল, যা সময়ের স্মৃতিপটে তাঁকে অমর করে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়াল—যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর থাকা সবকিছুর উত্তরাধিকারী থাকবেন। তিনি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন: "তাহলে আল্লাহ আমাদের কখনোই ধ্বংস করবেন না!"

এই নারীর মহত্ত্বের রহস্য নিহিত ছিল বিজয়ের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের মধ্যে: ঈমান ও আমল! হাজেরা প্রথমে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন, তারপর তিনি তাঁর সাধ্যমতো সবকিছু করেছিলেন—সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন তাঁর দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বাঁচানোর জন্য, যে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। তখন আল্লাহ দেখলেন যে এই নারী বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি শর্তই পূরণ করেছেন: ঈমান ও আমল। আর তখনই—কেবল তখনই—আল্লাহর সেই সহজ নির্দেশ এল: "হও!" তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর মুখে থাকা সেই শিশুর পায়ের নিচ থেকে পানির একটি ঝর্ণা বেরিয়ে এল, যার প্রতিটি ফোঁটায় মিশে ছিল বিজয় ও টিকে থাকার গল্প। সেই ঝর্ণা মক্কার কঠিন পাথর চিরে আজ অবধি অলৌকিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, যেন আল্লাহ আমাদের বলছেন যে বিজয়ের ঝর্ণাধারা কখনো শুকিয়ে যায় না!

আমাদের এই সময়ে প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজেকে হাজেরা আলাইহিস সালামের জায়গায় কল্পনা করা এবং এটি ভাবা যে, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ হলো সেই শিশুটি, যে কাঁদছে এবং সেই ধূসর মরুভূমিতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জীবনের কোনো স্পন্দন দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং যদি প্রত্যেকে...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
منا بتنفيذ الشرطين اللازمين للنصر والبقاء "الإيمان والعمل"، فكنا مؤمنين أولًا بأن أمتنا لا بد لها وأن تنهض، ثم قام كل واحدٍ منا بواجبه لإنقاذ وإحياء هذه الأمة التي هي الرضيع الذي يئن من الألم، فلا شك وقتها أن النصر سيكون حليفنا في النهاية، حتى لو كان ما نقوم به يبدو للآخرين شيئًا من العبث، فقد كانت أمنا هاجر تقوم بنفس هذا "العبث" في بحثها عن أسباب الحياة بين الصفا والمرة لسبع مرات!

من أجل ذلك استحقت السيدة هاجر أن تكون من أعظم عظيمات أمة الإسلام، لتصبح هذه الجارية المصرية أمًا للعرب والمسلمين، فيصبح لزامًا على المسلمين تحرير بلاد أمهم من رجس الشرك أولًا ثم من ظلم الإمبراطورية الرومانية ثانيًا!

فمَن هو ذلك البطل الإسلامي الذي حرَّر أرض أمنا هاجر من الاحتلال الروماني؟ وما هو سر ذلك الهجوم الإعلامي الشرس الذي يتعرض له هذا العظيم الإسلامي بالذات في السنوات الأخيرة؟

يتبع. . . .
আমরা যদি বিজয় ও টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি শর্ত "ঈমান ও আমল" বাস্তবায়ন করি, আমরা যদি প্রথমে বিশ্বাস করি যে আমাদের এই উম্মাহর জেগে ওঠা অপরিহার্য, এরপর আমাদের প্রত্যেকে যদি ব্যথায় আর্তনাদ করা দুগ্ধপোষ্য শিশুর ন্যায় এই উম্মাহর উদ্ধার ও পুনর্জীবনের জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, তবে নিঃসন্দেহে বিজয় শেষ পর্যন্ত আমাদেরই সঙ্গী হবে। এমনকি আমরা যা করছি তা অন্যদের কাছে যদি নিরর্থক কোনো কাজ মনে হয়, তবুও—কেননা আমাদের মাতা হাজেরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার জীবনের উপকরণ সন্ধানে ঠিক এমনই এক "নিরর্থক" কাজ করেছিলেন!

এই কারণেই সাইয়্যিদা হাজেরা ইসলামি উম্মাহর মহান নারীদের মধ্যে অন্যতম হওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন, যার ফলে এই মিশরীয় দাসী আরব ও মুসলিমদের মাতায় পরিণত হন। ফলস্বরূপ, মুসলিমদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে যে, তারা যেন তাদের মাতার ভূমিকে প্রথমে শিরকের পঙ্কিলতা থেকে এবং পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের জুলুম থেকে মুক্ত করে!

তাহলে কে সেই ইসলামি বীর যিনি আমাদের মাতা হাজেরার ভূমিকে রোমান দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন? আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে এই মহান ইসলামি ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সেই তীব্র মিডিয়া আক্রমণের রহস্যই বা কী?

চলবে . . . .
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
" أرطبون العرب" (عمرو بن العاص)

(أَسْلَمَ النَّاسُ وَآمَنَ عَمْرُو بنُ الْعَاص)

(محمد صلى الله عليه وسلم)

(لقد رمينا أرطبون الروم بأرطبون العرب)

(عمر بن الخطاب)

(واللَّه يا مسيلمة إنك تعلم أني أعلم أنك تكذب)

(عمرو بن العاص)

كنت يومها صبيًا يافعًا في الصف التاسع في إحدى مدارس مدينة رفح الفلسطينية، يومها وقفت أمام أستاذي وقلت له والغيظ يملؤني: لماذا نضيع الوقت بدراسة قصة رجل بهذه الصفات؟!

كان قلبي يومها مشبعًا بالغضب وأنا اقرأ قصة ذلك الرجل الذي طفحت كتب المناهج الدراسية بحكايات غدره وخيانته، ففشلت كل محاولات أستاذي لتغيير قناعاتي تلك عن ذلك الرجل، وكَبِرْت، وكبرَ معي طعني بذلك الرجل، غير أنني أحمد اللَّه عز وجل الذي ألهم بصيرتي وأمَّد في عمري حتى جاء اليوم الذي أكفر به عن خطيئتي تلك لأكتب عن رجل من أشرف الناس وأصدق الناس وأعظم الناس:

"لقد جاء الوقت يا ابن العاص كي أطلب منك العفو بهذه الكلمات القليلة، سائلًا المولى عز وجل أن لا يخزني يوم القيامة أمامك يا أبا عبد اللَّه، وأن يجمعني بك في حضرة صاحبك، محمد صلى الله عليه وسلم، إنه ولي ذلك والقادر عليه"

والحقيقة أن ذلك الظن السوء بعمرو بن العاص رضي الله عنه وأرضاه لم يكن نابعًا من فراغ، فلقد كنت وقتها ضحية من ضحايا ما أحب أن أطلق عليه نظرية "الغزو التاريخي" هذا الغزو ليس غزوًا بالدبابات أو الطائرات أو حتى بالأفكار كالغزو الثقافي،
"আরবদের আরতাবুন" (আমর ইবনুল আস)

(লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে আর আমর ইবনুল আস ঈমান এনেছে)

(মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

(আমরা রোমানদের আরতাবুনের মোকাবিলায় আরবদের আরতাবুনকে নিক্ষেপ করেছি)

(উমর ইবনুল খাত্তাব)

(আল্লাহর কসম হে মুসাইলিমা, তুমি অবশ্যই জানো যে আমি জানি যে তুমি মিথ্যা বলছ)

(আমর ইবনুল আস)

আমি তখন ফিলিস্তিনের রাফাহ শহরের একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক কিশোর ছিলাম। সেদিন আমি আমার শিক্ষকের সামনে দাঁড়ালাম এবং চরম ক্ষোভের সাথে তাঁকে বললাম: কেন আমরা এমন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একজন ব্যক্তির জীবনী পড়ে সময় নষ্ট করছি?!

সেদিন আমার হৃদয় ক্ষোভে পূর্ণ ছিল যখন আমি সেই ব্যক্তির কাহিনী পড়ছিলাম, যার বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার কাহিনীতে পাঠ্যপুস্তকগুলো সয়লাব ছিল। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমার ধারণা পরিবর্তনের জন্য আমার শিক্ষকের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। আমি বড় হলাম, আর সেই সাথে ঐ ব্যক্তির প্রতি আমার নিন্দা ও বিষোদ্গারও বৃদ্ধি পেতে থাকল। তবে আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি আমার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিয়েছেন এবং আমার হায়াত দীর্ঘ করেছেন, যাতে আজ আমি আমার সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি এবং মানবজাতির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সত্যবাদী ও মহান এক ব্যক্তি সম্পর্কে লিখতে পারি:

"হে ইবনুল আস! আজ সময় এসেছে এই সামান্য কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার। আমি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি যেন কিয়ামতের দিন তিনি আমাকে আপনার সামনে লজ্জিত না করেন হে আবু আব্দুল্লাহ, এবং তিনি যেন আপনার সাথী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে আমাকে আপনার সাথে একত্রিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।"

প্রকৃতপক্ষে আমর ইবনুল আস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) সম্পর্কে সেই কুধারণাটি অমূলক ছিল না। আমি তখন সেই বিষয়ের শিকার হয়েছিলাম যাকে আমি "ঐতিহাসিক আগ্রাসন" তত্ত্ব বলতে পছন্দ করি। এই আগ্রাসন ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা এমনকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মতো নিছক চিন্তাধারার আক্রমণও নয়,
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
بل هو أخطر من ذلك بكثير، فالغزو التاريخي لا يحارب الواقع فقط، وإنما يحارب الماضي الذي بُني عليه الحاضر، ونظرية الغزو التاريخي تتلخص بأن يدمر الغزاة أسباب وجودنا أصلًا على ساحة التاريخ، وذلك بالتشكيك والطعن برموز الأمة، فينتج عن ذلك بالضرورة تشكيك بالروايات التي نقلها لنا رموزنا أو التي نقلت عنهم بالأساس، قبل أن يقوم الغزاة بتسليط الضوء على مراحل الضعف التي مرت بها الأمة أو حتى اختلاق قصص وهمية تشوه صورة تاريخنا في أعيننا، ليقوم أولئك الخبثاء بتحويل أبطالنا إلى قتلة قذرين وعلمائنا إلى أشخاصٍ مجانين وفي أحسن الأحوال إلى شطبهم جميعًا من ذاكرة التاريخ نهائيًا! في نفس الوقت يقوم نفس الغزاة بتمجيد أبطال وهميين في تاريخهم أو حتى في تاريخنا، فيتحول (عمرو بن العاص) صاحب رسول اللَّه إلى مجرم حرب بينما يتحول المجرم (نابليون بونابرت) إلى فاتح عظيم تخلده كتبنا الدراسية، ويصبح (عباس بن فرناس) مخترع الطيران عالمًا مجنونًا بينما يُمَّجَد (آينشتاين) صاحب مشروع القنبلة النووية التي قتلت مئات الآلاف من الأبرياء، وفي أفضل الحالات يعمل نفس الغزاة بالعمل على محو اسم بطلٍ حقيقي قلّما رأت الأرض مثله كالبطل (أحمد بن فضلان) -الذي سنأتي على ذكره في هذا الكتاب- ليُشطب اسم هذا البطل من ذاكرة بطولاتنا، ويوضع مكانه اسم بطل خرافي مثل (السندباد) أو (علاء الدين) أو حتى (علي بابا)، فلا يتبقى لنا بذلك في تاريخنا الممتد إلّا قادة مجرمين، أو علماء مجانين، أو أبطالًا وهميين لم يصبحوا أبطالًا إلّا بمصابيح سحرية أو بُسطٍ طائرة! وبهذا لا يبقَ لك إذا كنت مسلمًا وأردت أن تصبح بطلًا إلّا أن تشد الرحال إلى قفار الصحراء القاحلة أو غياهب الكهوف المظلمة علّك تجد مصباح علاء الدين الذي من خلاله -ومن خلاله فقط- يمكن لك أن تصبح بطلًا ومسلمًا في آنٍ واحد! وبعد أن يزرع فيك الغزاة هذا الاعتقاد الخطير، فإن مفهوم القدوة يسقط من عينيك من دون أن تحس أنت بذلك، وعندها وبكل سهولة. . . . نسقط أنا وأنت كالثمار العفنة!

وعمرو بن العاص هو أحد الذين شُوِّهت صورتهم بشكل كبير، بل إني أزعم أن هذا الرجل هو ثاني أكثر رجل شُوِّهت صورته من قبل غزاة التاريخ، لم يسبقه بكثرة التشويه إلّا عظيم آخر من عظماء أمة الإسلام سوف أذكره في قلب هذا الكتاب، وسأفرد له
বরং এটি তার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক; কারণ ঐতিহাসিক আগ্রাসন কেবল বর্তমানের সাথেই লড়াই করে না, বরং সেই অতীতের সাথেও লড়াই করে যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান নির্মিত হয়েছে। ঐতিহাসিক আগ্রাসনের তত্ত্বের সারমর্ম হলো, আক্রমণকারীরা ইতিহাসের পাতায় আমাদের অস্তিত্বের মূল কারণগুলোকেই ধ্বংস করে দেয়। আর তা করা হয় জাতির আইকন বা স্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি ও তাদের ওপর আঘাত করার মাধ্যমে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সেই ব্যক্তিত্বরা যেসব বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন অথবা তাদের সম্পর্কে যেসব বর্ণনা মূলত বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর আক্রমণকারীরা জাতির দুর্বলতার পর্যায়গুলোর ওপর আলোকপাত করে অথবা এমনকি আমাদের চোখে আমাদের ইতিহাসের ছবিকে বিকৃত করার জন্য কাল্পনিক গালগল্প উদ্ভাবন করে। এর মাধ্যমে সেই খবিসরা আমাদের বীরদের নোংরা খুনি এবং আমাদের আলেমদের পাগল হিসেবে চিত্রিত করে, আর সবচেয়ে ভালো হলে তাদের সবাইকে ইতিহাসের স্মৃতি থেকে চিরতরে মুছে দেয়! একই সময়ে সেই আক্রমণকারীরা তাদের ইতিহাসে অথবা এমনকি আমাদের ইতিহাসেও কিছু কাল্পনিক বীরের মহিমা প্রচার করে। ফলে আল্লাহর রাসূলের সাথী (আমর ইবনুল আস) একজন যুদ্ধাপরাধীতে পরিণত হন, যেখানে অপরাধী (নেপোলিয়ন বোনাপার্ট) একজন মহান বিজয়ী হিসেবে চিত্রিত হন যাকে আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলো স্মরণীয় করে রাখে। উড়োজাহাজের আবিষ্কারক (আব্বাস ইবনে ফিরনাস) একজন পাগল বৈজ্ঞানিক হয়ে যান, অথচ সেই (আইনস্টাইন) মহিমান্বিত হন যিনি পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের অধিকারী ছিলেন যা লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। আর সবচেয়ে ভালো ক্ষেত্রে, এই আক্রমণকারীরা এমন একজন প্রকৃত বীরের নাম মুছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যার মতো বীর পৃথিবী খুব কমই দেখেছে, যেমন বীর (আহমদ ইবনে ফাদলান) - যার কথা আমরা এই বইয়ে আলোচনা করব। এর মাধ্যমে আমাদের বীরত্বের স্মৃতি থেকে এই বীরের নাম মুছে ফেলা হয় এবং তার স্থানে (সিন্দাবাদ), (আলাদিন) বা এমনকি (আলি বাবা)-র মতো রূপকথার বীরের নাম বসিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আমাদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে কেবল অপরাধী নেতা, পাগল আলেম অথবা এমন কাল্পনিক বীর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না যারা জাদুর চেরাগ বা উড়ন্ত কার্পেট ছাড়া বীর হতে পারেননি! আর এর মাধ্যমে, আপনি যদি একজন মুসলিম হন এবং বীর হতে চান, তবে আপনার কাছে নির্জন ধূ ধূ মরুভূমি বা অন্ধকার গুহার গভীর তলে পাড়ি জমানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, এই আশায় যে আপনি হয়তো আলাদিনের চেরাগ খুঁজে পাবেন—যার মাধ্যমে এবং কেবলমাত্র যার মাধ্যমেই—আপনি একই সাথে একজন বীর এবং একজন মুসলিম হতে পারেন! আক্রমণকারীরা যখন আপনার মধ্যে এই বিপজ্জনক বিশ্বাসটি রোপণ করে দেয়, তখন আপনার অজান্তেই আপনার চোখ থেকে আদর্শ বা রোল মডেলের ধারণাটি ধসে পড়ে। আর তখনই খুব সহজে... আমি এবং আপনি পচা ফলের মতো ঝরে পড়ি!

আর আমর ইবনুল আস হলেন তাদেরই একজন যাদের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে বিকৃত করা হয়েছে। এমনকি আমি দাবি করি যে, ইতিহাসের আক্রমণকারীদের দ্বারা এই ব্যক্তিটি হলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিকৃত ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তি। এই বিকৃতির আধিক্যের দিক থেকে তাঁর আগে রয়েছেন কেবল উম্মতে ইসলামের অন্য একজন মহান ব্যক্তি, যাঁর কথা আমি এই বইয়ের মূল অংশে আলোচনা করব এবং তাঁর জন্য আমি একটি বিশেষ অংশ বরাদ্দ করব।
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
صفحات هي الأكثر على الإطلاق بين قائمة المائة!

أمّا عن سبب اختيار عمرو بن العاص رضي الله عنه وأرضاه بالذات لتكال له كل تلك التهم والشبهات، فيكمن في كون عمرو بن العاص هو الفاتح الفعلي للقدس أهم مدينة عند غزاة التاريخ، قبل أن يضيف إليها أرض مصر، هذا البلد المهم الذي يُكوِّن مع أرض الشام المباركة الدعامتين الأساسيتين للإسلام عبر التاريخ كما قال شيخ الإسلام ابن تيميَّة، هذه الأسباب تبين بشكل لا يدعو للشك هوية المشوهين لتاريخ هذا الرجل، إنهم الصليبيون، وإن كانت الأدوات في الغالب هي بعض المثقفين العرب مدفوعي الأجر، وطبعًا لا ننسى الأداة الرخيصة التي سنراها تتكرر في هذا الكتاب بشكل غريب وعجيب في كل الخيانات القذرة التي تعرضت لها أمة الإسلام من الأندلس إلى الهند. . . الشيعة الروافض!

ولعل رواية التحكيم الشهيرة التي تتكرر في مناهجنا المهترئة، هي من أهم أسباب طعني القديم في هذا البطل الإسلامي العظيم، وتزعم هذه الرواية أن علي بن أبي طالب ومعاوية بن أبي سفيان قد انتدبا أبا موسى الأشعري وعمرو بن العاص ليتباحثا في شأن الصلح، فاتفق الاثنان على خلع علي ومعاوية، فقال أبو موسى أمام الناس إني أخلع عليًا كما أخلع هذا الخاتم، وعندها قام عمرو بن العاص بخيانة أبي موسى وقال إني أثبت معاوية كما ألبس هذا الخاتم في إصبعي، ثم قام الأول بنعت الثاني بالكلب، فقام الثاني بنعت الأول بالحمار. . . انتهت الرواية! أقول أنا: إن هذه الرواية وإن كانت قد وردت بالفعل في أهم كتاب للتاريخ الإسلامي "تاريخ الطبري" إلّا أن هذه الرواية لا تصح سندًا ولا متنًا، والسند هو التسلسل البشري للرواة من الراوي الأول وحتى الراوي الذي كتب الرواية، أما المتن فهو القصة نفسها، والحقيقة أن الطبري رحمه الله أكد في بداية كتابه أنه لم يدون في كتابه الروايات الصحيحة فقط، بل قام بتدوين كل الروايات، الصحيحة منها والمكذوبة، تاركًا مهمة تصحيحها لفرسان التاريخ من بعده، غير أن الطبري جزاه اللَّه كل خير قام بتدوين سند كل رواية بكل دقة، ورواية التحكيم تلك بها راوٍ يُسمى بأبي مخنف لوط بن يحيى، وأبو مخنف هذا شيعي رافضي كذاب طعن به كل الرواة فقال عنه ابن عساكر: رافضي ليس بثقة، وقال عنه ابن حجر: إخباري تالف لا يوثق به، ووصفه ابن
পাতাসমূহ যা একশর তালিকার মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক!

আর কেন বিশেষভাবে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই সমস্ত অভিযোগ ও সন্দেহের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার কারণ হলো— আমর ইবনুল আস হলেন কুদস বা জেরুজালেমের প্রকৃত বিজয়ী, যা ইতিহাসের দখলদারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর; এরপর তিনি এর সাথে মিসর ভূখণ্ডকেও যুক্ত করেছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটি বরকতময় শাম অঞ্চলের সাথে মিলে ইতিহাসের পরিক্রমায় ইসলামের দুটি মৌলিক স্তম্ভ গঠন করে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন। এই কারণগুলো কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে এই ব্যক্তির ইতিহাস কলঙ্কিতকারীদের পরিচয় স্পষ্ট করে দেয়; তারা হলো ক্রুসেডাররা, যদিও তাদের হাতিয়ার ছিল মূলত কতিপয় ভাড়াটে আরব বুদ্ধিজীবী। আর অবশ্যই আমরা সেই সস্তা হাতিয়ারের কথা ভুলব না যা আমরা এই বইয়ে অদ্ভুত ও বিস্ময়করভাবে বারবার দেখতে পাব ইসলামি উম্মাহর সাথে হওয়া আন্দালুস থেকে শুরু করে হিন্দুস্তান পর্যন্ত প্রতিটি নোংরা বিশ্বাসঘাতকতায়... শিয়া রাফেজিরা!

সম্ভবত আমাদের জীর্ণ শিক্ষাক্রমগুলোতে বারবার আসা সালিশি বা তাহকিম সংক্রান্ত সেই বিখ্যাত বর্ণনাটিই এই মহান ইসলামি বীরের প্রতি আমার পূর্ববর্তী সমালোচনার অন্যতম প্রধান কারণ। আর এই বর্ণনাটি দাবি করে যে, আলী ইবনে আবি তালিব এবং মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান যথাক্রমে আবু মুসা আশআরি ও আমর ইবনুল আসকে মীমাংসার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর তারা দুজনেই আলী ও মুআবিয়াকে পদচ্যুত করার ব্যাপারে একমত হলেন। আবু মুসা মানুষের সামনে বললেন, আমি আলীকে সেভাবে পদচ্যুত করছি যেভাবে আমি এই আংটিটি খুলে ফেলছি। তখন আমর ইবনুল আস আবু মুসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন এবং বললেন, আমি মুআবিয়াকে সেভাবে বহাল করছি যেভাবে আমি আমার আঙুলে এই আংটিটি পরিধান করছি। এরপর প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে কুকুরের সাথে তুলনা করলেন এবং দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে গাধার সাথে তুলনা করলেন... বর্ণনাটি এখানেই শেষ! আমি বলি: এই বর্ণনাটি যদিও ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব "তারিখুত তবারি"-তে প্রকৃতপক্ষে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এই বর্ণনাটি সনদ (সূত্র) কিংবা মতন (মূল পাঠ)—কোনো দিক থেকেই সহিহ বা শুদ্ধ নয়। সনদ হলো প্রথম বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে সেই লেখক পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা যিনি বর্ণনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন; আর মতন হলো মূল কাহিনীটি। প্রকৃত সত্য হলো, ইমাম তবারি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের শুরুতেই নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তাঁর কিতাবে কেবল সহিহ বর্ণনাগুলোই লিপিবদ্ধ করেননি, বরং তিনি প্রতিটি বর্ণনাই লিপিবদ্ধ করেছেন—যার মধ্যে সহিহ এবং বানোয়াট উভয়ই রয়েছে; আর এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব তিনি তাঁর পরবর্তী যুগের ইতিহাসের বীরদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তবারি (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে প্রতিটি বর্ণনার সনদ উল্লেখ করেছেন। আর তাহকিম বা সালিশি সংক্রান্ত সেই বর্ণনায় আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছে। এই আবু মিখনাফ হলো একজন শিয়া রাফেজি মিথ্যাবাদী, যার সমালোচনা সমস্ত বর্ণনাকারী করেছেন। ইবনে আসাকির তার সম্পর্কে বলেছেন: "সে একজন রাফেজি, নির্ভরযোগ্য নয়।" ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: "সে একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ইতিহাস বর্ণনাকারী, যার ওপর আস্থা রাখা যায় না।" এবং ইবনে...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
معين بقوله: ليس بشيء كذاب ساقط! إذًا فالرواية لا تصح أبدًا من ناحية السند، أمّا متن الرواية فقد صيغ بطريقة غبية تبين حماقة واضعها، فمعاوية لم يكن خليفة أصلًا لكي يعزله عمرو! بل إن موضوع الخلافة لم يكن في الحسبان أساسًا في صراع علي ومعاوية رضي الله عنهما، وإنما كان الخلاف بينهما على كيفية الثأر لابن عم معاوية عثمان بن عفان رضي الله عنه وأرضاه من المنافقين الذين قتلوه غدرًا، فكان علي يرى أن الوقت لم يكن مناسبًا لقتل أولئك الخونة في الحين واللحظة، بينما كان معاوية يرى أنه يجب القضاء على جيش الخونة في العراق، ثم إن هذه الرواية الحمقاء لا تحتاج لأكثر من إدراك طفل تخرج قريبًا من الحضانة ليعرف أن سبَّ الآخرين ونعتهم بالكلب والحمار لا يصدر إلّا من أطفال قليلي الأدب خرجوا من بيت تنعدم فيه الأخلاق، وأبو موسى الأشعري وعمرو بن العاص صحابيان جليلان خرجا من بيت أعظم مربٍ في التاريخ، خرجا من بيت محمد بن عبد اللَّه صلى الله عليه وسلم.

أما الرواية الكاذبة الأخرى فهي رواية: (متى استعبدتم الناس وقد ولدتهم أمهاتهم أحرارًا). والتي يرددها كثير منّا مفتخرًا بعدل عمر بن الخطاب رضي الله عنه! هذه الرواية رواية باطلة، وأكررها بملء فمي، هذه رواية باطلة سندًا ومتنًا، ليس لأن عمر بن الخطاب كان ظالمًا يستعبد الناس، بل لأن هذه الرواية تقصد الإساءة لعمرو بن العاص أكثر من مدح عمر بن الخطاب، فهذه الرواية تزعم أن ابنًا لعمرو ابن العاص ضرب أحد المصريين، فشكاه ذلك المصري للخليفة عمر بن الخطاب، فقام عمر بمعاقبة عمرو بن العاص وابنه معًا ثم قال لعمرو: متى استعبدتم الناس وقد ولدتهم أمهاتهم أحرارًا؟ انتهت هذه الرواية الخبيثة.

أقول أنا: هذه القصة منقطعة السند وسندها واهٍ، ويظهر هذا الانقطاع في السند حيث ذكرها ابن عبد الحكم في "فتوح مصر" هـ 290 بقوله: (حُدثَنا) بصيغة المبني للمجهول، وهذا ما ينسف هذه الرواية الكاذبة نسفًا، ثم إن متن هذه الرواية لا يقل غباءً عن الرواية السابقة، فمنذ متى كان عمر يأخذ الحق من والد المخطئ وهو يعلم أنه لا تزر وازرة وزر أخرى؟! إذًا هذه رواية باطلة قصُد منها تشويه صورة عمرو بن العاص وأبنائه بالتحديد، وذلك لأن ابنًا من أبناء عمرو يدعى عبد اللَّه بن عمرو بن العاص كان
মাঈন (ইবনে মাঈন) এর উক্তি অনুযায়ী: “সে কিছুই নয়, মিথ্যাবাদী, পরিত্যক্ত!” সুতরাং সূত্র বা সনদের দিক থেকে বর্ণনাটি কখনোই সহীহ নয়। আর বর্ণনার মূল পাঠ (মতন) অত্যন্ত নির্বোধের মতো সাজানো হয়েছে, যা এর রচয়িতার মূর্খতাকেই প্রকাশ করে; কারণ আমরের পক্ষে মুয়াবিয়াকে পদচ্যুত করার প্রশ্নই আসে না, যেহেতু মুয়াবিয়া তখন আদৌ খলিফাই ছিলেন না! বরং আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে খেলাফতের বিষয়টি মূলত কোনো বিবেচ্য বিষয়ই ছিল না। তাঁদের মধ্যকার বিরোধ ছিল কেবল মুয়াবিয়ার চাচাতো ভাই উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারী সেই মুনাফিকদের থেকে কীভাবে প্রতিশোধ নেওয়া হবে—সেই বিষয়ে, যারা তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করেছিল। আলীর অভিমত ছিল যে, সেই মুহূর্তে ঐ বিশ্বাসঘাতকদের হত্যা করার জন্য সময়টি উপযুক্ত ছিল না, পক্ষান্তরে মুয়াবিয়া মনে করতেন যে, ইরাকে অবস্থানরত সেই বিশ্বাসঘাতক বাহিনীকে নির্মূল করা আবশ্যক। তদুপরি, এই নির্বোধ বর্ণনাটি বোঝার জন্য নার্সারি থেকে সদ্য পাস করা কোনো শিশুর বুদ্ধিমত্তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই; কারণ অন্যকে গালি দেওয়া এবং কুকুর বা গাধা বলে সম্বোধন করা কেবল সেই অসভ্য শিশুদের পক্ষেই সম্ভব যারা নৈতিকতাহীন পরিবেশে বড় হয়েছে। অথচ আবু মুসা আল-আশআরী এবং আমর ইবনুল আস হলেন দুই মহান সাহাবী, যারা ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র ঘর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

অন্য আরেকটি মিথ্যা বর্ণনা হলো সেই উক্তি: “কবে থেকে তোমরা মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে?” যা আমাদের মধ্যে অনেকেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ন্যায়বিচারের নিদর্শন হিসেবে গর্বের সাথে বর্ণনা করে থাকেন! এই বর্ণনাটি একটি বাতিল বর্ণনা; আমি পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে বলছি, এটি সনদ ও মতন—উভয় দিক থেকেই বাতিল। এর কারণ এই নয় যে, উমর ইবনুল খাত্তাব জালেম ছিলেন বা মানুষকে দাস বানাতেন; বরং এ কারণে যে, এই বর্ণনার উদ্দেশ্য উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রশংসা করার চেয়ে আমর ইবনুল আসকে হেয় প্রতিপন্ন করা। এই বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে যে, আমর ইবনুল আসের এক পুত্র জনৈক মিসরীয়কে প্রহার করেন, এরপর সেই মিসরীয় ব্যক্তি খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে অভিযোগ করেন। তখন উমর, আমর ইবনুল আস এবং তাঁর পুত্র উভয়কেই শাস্তি দেন এবং আমরকে বলেন: “কবে থেকে তোমরা মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে?”—এই কুরুচিপূর্ণ বর্ণনার ইতি এখানেই।

আমি বলছি: এই কাহিনীর সনদ বিচ্ছিন্ন এবং এর সূত্র অত্যন্ত দুর্বল। সনদের এই বিচ্ছিন্নতা সেখানে স্পষ্ট হয় যেখানে ইবনে আবদিল হাকাম (মৃত্যু ২৯০ হিজরি) তাঁর “ফুতুহ মিসর” গ্রন্থে এটি উল্লেখ করার সময় “আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে” পরিভাষাটি কর্মবাচ্য বা অজ্ঞাতসূচক শব্দে ব্যবহার করেছেন। এটিই এই মিথ্যা বর্ণনাটিকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেয়। অধিকন্তু, এই বর্ণনার মূল পাঠও আগের বর্ণনার চেয়ে কম নির্বোধ নয়। উমর কখন থেকে অপরাধীর পিতার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করলেন, যেখানে তিনি জানতেন যে—কেউই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না? সুতরাং এটি একটি বাতিল বর্ণনা, যার উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্টভাবে আমর ইবনুল আস ও তাঁর সন্তানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা; বিশেষ করে আমরের এক পুত্র, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أول من كتب أحاديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ودوّن سنته، فإذا زرع غزاة التاريخ مثل هذه الروايات عن أبناء عمرو بن العاص، سقطت إذًا السنة وسقط الإسلام بعدها!

ولكن ما الذي جعل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يقول أسلم الناس وآمن عمرو بن العاص؟ وما سر هذا الإيمان العميق الذي امتلأ به قلب بطلنا العظيم من لحظة إسلامه الأولى؟ ومن هو ذلك الرجل الغامض الذي أسلم على يديه عمرو بن العاص؟ وكيف خرج هذا الرجل من أدغال أفريقيا لينسج خيوط علاقة روحانية أشبه بالخيال بينه وبين رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على الرغم من أنهما لم يتقابلا أبدًا وجهًا لوجه؟!

يتبع. . . . .
যিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং তাঁর সুন্নাহ সংকলন করেছিলেন; এমতাবস্থায় ইতিহাসের আক্রমণকারীরা যদি আমর ইবনুল আসের সন্তানদের সম্পর্কে এই ধরণের আখ্যানের বীজ বপন করে, তবে সুন্নাহর ভিত্তি ধসে পড়বে এবং তার সাথে ইসলামেরও পতন ঘটবে!

কিন্তু কোন বিষয়টি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে, "লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে আর আমর ইবনুল আস ঈমান এনেছে"? আর সেই গভীর ঈমানের রহস্যই বা কী ছিল, যা আমাদের এই মহান বীরের হৃদয়কে তাঁর ইসলাম গ্রহণের প্রথম মুহূর্ত থেকেই পরিপূর্ণ করে দিয়েছিল? আর সেই রহস্যময় ব্যক্তিটিই বা কে, যাঁর হাতে আমর ইবনুল আস ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন? এবং কীভাবে সেই ব্যক্তি আফ্রিকার গহীন অরণ্য থেকে বেরিয়ে এসে নিজের এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে রূপকথার ন্যায় এক আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বুনন তৈরি করেছিলেন, যদিও তাঁদের মধ্যে কখনও সরাসরি চাক্ষুষ সাক্ষাৎ ঘটেনি?!

চলবে . . . . .
(খণ্ড: ১) মিআতু মিন উজামাই উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারূ মাজরাত তারীখ (পৃষ্ঠা: ٣١)
(الجندي المجهول في أمة الإسلام) النجاشي (أصحمة بن أبجر)

" اخرجوا فَصَلّوا على أخٍ لكم مات بغير أرضكم"

(رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم)

سيلاحظ القارئ الكريم أنني أستخدم فعل المضارع: "يتبع" في نهاية الحديث عن كل عظيم من عظماء أمة الإسلام المائة الوارد ذكرهم في هذا العمل، وقد يفسر البعض ذلك بمحاولة الكاتب إضفاء جوٍ من التشويق والإثارة في طيات هذا العمل الأدبي، وهذا ما لا أنفيه، إلّا أن السبب الرئيسي لوصل كل عظيم منهم بالعظيم الذي يليه بالفعل المضارع "يتبع" هو إثبات حقيقة تاريخية أصيلة في هذه الأمة، ألا وهي أن أمة الإسلام أمة لا تموت أبدًا ما بقيت الأرض، أمة متصِّلة، متحدة، مترابطة بشكل يدعو إلى العجب في كثير من الأحيان، لدرجة لا يمكن أن يفسرها المرء إلّا بشيء واحد فقط: أنها أمة مختارة من اللَّه الحكيم!

فتأمل معي هذه القصة العجيبة لتفهم قصدي جيدًا، ملك نصراني من ملوك أفريقيا يتبع الكنيسة الإسكندرية بالتحديد، هذا الملك يسلم ويؤمن بنبي عربي لم يره في حياته البتة، فيأتيه رجل عربي كافر من نفس مدينة ذلك النبي ليزوره، وغرضه من تلك الزيارة هو محاربة ذلك النبي وأصحابه، ليسلم ذلك الرجل ليس على يدي النبي الذي كان يراه ليل نهار في مدينته وإنما على يدي ذلك الملك الأفريقي الذي لم يرَ النبي أصلًا!!! ثم يتحول هذا الرجل العربي إلى بطلٍ من أبطال الإسلام، فيقوم بعد ذلك بإدخال الإسلام إلى مدينة الإسكندرية التي كان يتبع كنيستها ذلك الملك نفسه قبل أن يسلم!!! أمّا ذلك النبي فهو محمد صلى الله عليه وسلم، وأمّا ذلك الرجل العربي فهو عمرو بن العاص رضي الله عنه وأرضاه، وأمّا ذلك الملك الأفريقي المسلم فهو أصحمة بن أبجر نجاشي الحبشة جزاه اللَّه كل خير.
(ইসলামি উম্মাহর এক অজ্ঞাত সৈনিক) নাজাশি (আসহামাহ ইবনে আবজার)

"তোমরা বের হও এবং তোমাদের এমন এক ভাইয়ের জানাজা আদায় করো, যে তোমাদের ভূমি ব্যতীত অন্য স্থানে মৃত্যুবরণ করেছে।"

(আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

সম্মানিত পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, এই কর্মে বর্ণিত ইসলামি উম্মাহর একশত জন মহামানবের প্রত্যেকের আলোচনার শেষে আমি বর্তমান কালবাচক ক্রিয়া: "চলবে" ব্যবহার করছি। কেউ হয়তো একে এই সাহিত্যকর্মের পরতে পরতে কৌতূহল ও উত্তেজনা সৃষ্টির একটি লেখকীয় প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যা আমি অস্বীকার করছি না; তবে তাদের প্রত্যেক মহামানবকে তার পরবর্তী মহামানবের সাথে "চলবে" ক্রিয়া দ্বারা সংযুক্ত করার প্রধান কারণ হলো এই উম্মাহর একটি মৌলিক ঐতিহাসিক সত্য প্রমাণ করা। আর তা হলো, ইসলামি উম্মাহ এমন এক জাতি যা এই পৃথিবী টিকে থাকা পর্যন্ত কখনো ধ্বংস হবে না; এটি একটি অবিচ্ছিন্ন, ঐক্যবদ্ধ ও পরস্পর সুসংহত জাতি যা প্রায়শই বিস্ময় জাগিয়ে তোলে—এমন এক পর্যায়ে যে, মানুষ একে কেবল একটি বিষয় দ্বারাই ব্যাখ্যা করতে পারে: আর তা হলো, এটি প্রজ্ঞাময় আল্লাহর মনোনীত এক উম্মাহ!

আমার উদ্দেশ্য ভালোভাবে অনুধাবনের জন্য আমার সাথে এই বিস্ময়কর কাহিনীটি নিয়ে চিন্তা করুন: আফ্রিকার রাজাদের মধ্যে জনৈক খ্রিস্টান রাজা, যিনি বিশেষভাবে আলেকজান্দ্রিয়া গির্জার অনুসারী ছিলেন। এই রাজা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এমন এক আরব নবীর প্রতি ঈমান আনেন যাকে তিনি তাঁর জীবনে কখনো দেখেননি। অতঃপর সেই নবীর শহর থেকেই এক কাফির আরব ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে, যার সফরের উদ্দেশ্য ছিল সেই নবী ও তাঁর সাহাবিদের বিরুদ্ধাচরণ করা। কিন্তু সেই ব্যক্তি সেই নবীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেননি যাকে তিনি নিজ শহরে দিনরাত দেখতেন, বরং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন সেই আফ্রিকান রাজার হাতে যিনি নবীকে কখনো দেখেনইনি!!! পরবর্তীতে এই আরব ব্যক্তিটি ইসলামের অন্যতম এক বীর সেনানীতে পরিণত হন এবং এরপর তিনি সেই আলেকজান্দ্রিয়া শহরে ইসলাম বিজয় সম্পন্ন করেন, যে শহরের গির্জার অনুসারী স্বয়ং সেই রাজা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ছিলেন!!! সেই নবী হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর সেই আরব ব্যক্তিটি হলেন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু, এবং সেই মুসলিম আফ্রিকান রাজা হলেন হাবশার নাজাশি আসহামাহ ইবনে আবজার, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।