(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: -)
عقوبة الارتداد عن الدين بين الأدلة الشرعية وشبهات المنكرين (عبد العظيم المطعني)
القسم: كتب عامة
الكتاب: عقوبة الارتداد عن الدين بين الأدلة الشرعية وشبهات المنكرين
المؤلف: عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني (ت 1429هـ)
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة: الأولى 1414 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 98
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ধর্মত্যাগের শাস্তি: শরয়ী দলীলসমূহ ও অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহের পর্যালোচনা (আবদুল আজিম আল-মুতয়ানি)
বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: ধর্মত্যাগের শাস্তি: শরয়ী দলীলসমূহ ও অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহের পর্যালোচনা
লেখক: আবদুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মুতয়ানি (মৃত্যু: ১৪২৯ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবা ওয়াহবা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হি. - ১৯৯৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمالكتاب: عقوبة الارتداد عن الدين بين الأدلة الشرعية وشبهات المنكرينالمؤلف: د. عبد العظيم إبراهيم محمد المطعنيالناشر: مكتبة وهبةالطبعة الأولى 1414 هـ - 1993 معدد الأجزاء: 1تنبيه:[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।গ্রন্থ: শরয়ি দলিল এবং অস্বীকারকারীদের সংশয়ের আলোকে ধর্মত্যাগের দণ্ডলেখক: ড. আব্দুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মাতানিপ্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাপ্রথম সংস্করণ ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দখণ্ড সংখ্যা: ১সতর্কতা:[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]আল্লাহ তাআলা এর লেখক এবং যিনি এর মুদ্রণ ব্যয় বহন করেছেন, তাদেরকে সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيمتقديمفي إطار الحملة المسعورة التي يشنها بعض الكتاب والإعلاميين ضد الإسلام، تثار الأن زوبعة هوجاء حول الردة في الإسلام، فما كاد فضيلة الشيخ / محمد الغزالي، والدكتور / محمد مزروعة يفرغان من تأدية شهادتيهما أمام المحكمة التي تنظر قضية اغتيال فرج فودة، وتنشر الصحف ما قالاه، حتى انبرى فريق من الكتاب والإعلاميين، ونظموا حملة صاخبة ضد الشيخ الغزالي والدكتور مزروعة، ثم سرعان ما حولوا هجومهم ضد الشيخين إلى هجوم على الإسلام نفسه، منكرين ان تكون عقوبة المرتد هي القتل.ثم فتح الباب على مصراعيه لكل من شاء، حتى الذين ينتمون إلى عقائد أهرى غير عقيدة الإسلام، منحوا أنفسهم حق الإفتاء في أمور إسلامية خالصة، لا يحسن القول فيها إلا من درس الإسلام أصولاً وفروعاً منذ نعومة أظفاره.وهذا شيء قد تعودنا في هذا العصر الذي تحترم فيه كل التخصصات، إلا إذا تعلق الأمر بالإسلام فإنك تجد كل الكاتبين ائمة مجتهدين، ينصون أنفسهم قضاة يحاكمون الإسلام نفسه، ويحاكمون فقهاء الإسلام وأصولييه ومفسريه ومحدثيه، ويرمونهم بالقصور والغفلة وعظائم الأمور؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাইসলামের বিরুদ্ধে কিছু লেখক ও সংবাদকর্মীর পরিচালিত উন্মত্ত প্রচারণার অংশ হিসেবে বর্তমানে ইসলামে ধর্মত্যাগ (ردة) নিয়ে এক প্রচণ্ড বিতর্কের ঝড় তোলা হয়েছে। শায়খ মুহাম্মদ আল-গাজালী ও ডক্টর মুহাম্মদ মাজরুআ যখন ফরাজ ফৌদা হত্যা মামলার শুনানিতে আদালতে তাঁদের সাক্ষ্যপ্রদান সম্পন্ন করলেন এবং সংবাদপত্রে তাঁদের বক্তব্য প্রকাশিত হলো, তখনই একদল লেখক ও সংবাদকর্মী তাঁদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠলেন এবং শায়খ গাজালী ও ডক্টর মাজরুআর বিরুদ্ধে এক হট্টগোলপূর্ণ প্রচারণা শুরু করলেন। এরপর দ্রুতই তাঁরা এই দুই শায়খের বিরুদ্ধে আক্রমণকে খোদ ইসলামের ওপর আক্রমণে রূপান্তর করলেন এবং ধর্মত্যাগীর (مرتد) শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড, তা অস্বীকার করতে শুরু করলেন।এরপর যার ইচ্ছা তার জন্যই সুযোগ অবারিত করে দেওয়া হলো। এমনকি যারা ইসলাম বহির্ভূত অন্য আকিদায় বিশ্বাসী, তারাও বিশুদ্ধ ইসলামি বিষয়ে ফতোয়া (إفتاء) দেওয়ার অধিকার নিজেদের হাতে তুলে নিল। অথচ এ সকল বিষয়ে কথা বলার অধিকার কেবল তাঁদেরই সাজে যারা শৈশব থেকেই ইসলামের মৌলিক নীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন।বর্তমান যুগে এটি একটি পরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি বিশেষায়িত বিষয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়; কিন্তু বিষয়টি যখনই ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন দেখা যায় প্রত্যেক লেখকই নিজেকে একজন মুজতাহিদ ইমাম (إمام مجتهد) মনে করেন। তারা নিজেদের বিচারক নিয়োগ করে খোদ ইসলামকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায় এবং ইসলামের ফকিহ (فقهاء), উসুলবিদ (أصوليين), মুফাসসির (مفسرين) ও হাদিস বিশারদদের (محدثين) বিচার করতে শুরু করে। তারা তাঁদের ওপর অপূর্ণতা, অসতর্কতা ও গুরুতর সব বিষয়ের অপবাদ আরোপ করে।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد تابعت طرفاً من هذه الحملة حين وجودي بالخارج، ولكن لم تتح لي فرصة المتابعة لكل ما قالوه في انكارهم لحد الردة في الإسلام، لأن الصحف والمجلات المصرية لا تصل إلينا بانتظام. وبعد عودتي إلى القاهرة تمكنت - والحمد لله - من الحصول على ما يصور وجهة نظرهم تصويراً تاماً. وعرفت أساليبهم في الكر والفر، ومنهجهم في الاستدلال، وتعاملهم مع النصوص وأدلة الأحكام الشرعية، وتمنيت لو تصدى الأزهر الشريف لدعاواهم وأصدر بياناً شافياً حول موضوع النزاع، لإن الأزهر هو الجهة الوحيدة التي تملك - شرعاً وقانوناً - حسم الخلاف في مثل هذه الأمور، ولكن الأزهر لم يفعل شيئاً، وترك المجال يقف فيه الشيخ الغزالي وحده يرد على بعض ما يثار في الموضوع، رداً يخضع إعلامياً للحذف والتبديل، لإن المزاج العام للإعلام الصحفي هو الميل إلى وجهة نظر المعارضين لأسباب لا تخفى على أحد ثم سعدت يوماً حين وقعت عيني على عنوان مقال لفضيلة الأستاذ الدكتور محمد السيد طنطاوي مفتي الجمهورية، وتوقعت أن دار الإفتاء نهضت بما لم ينهض به الأزهر لحسم الخلاف بين طرفى النزاع بكلمة خالصة لوجه الله تعالى، ودار الإفتاء هي "أزهر مصغر" لحمة وسدى.ولكن بعد الفراغ من قراءة مقال فضيلة المفتي "كلمة عن الردة والمرتدين" ذهبت سعادتي ادراج الرياح، لإن المقال لم يتصد لجوهر الخلاف، ولم يضع حداً للتطاول على الإسلام نفسه، ثم على الرعيل
আমি বিদেশে থাকাকালীন এই প্রচারণার একাংশ পর্যবেক্ষণ করেছিলাম, কিন্তু ইসলামে ধর্মত্যাগের নির্ধারিত শাস্তি (حد الردة) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তারা যা বলেছিল তার সবটুকু অনুসরণ করার সুযোগ আমার হয়নি, কারণ মিশরীয় সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো আমাদের কাছে নিয়মিত পৌঁছাত না। কায়রোতে ফেরার পর—সকল প্রশংসা আল্লাহর—আমি এমন কিছু সংগ্রহ করতে সক্ষম হই যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। আমি তাদের আক্রমণ ও পিছুহটার কৌশল, তাদের দলীল পেশ করার (الاستدلال) পদ্ধতি এবং মূল পাঠসমূহ (النصوص) ও শরয়ী বিধানের প্রমাণাদি (أدلة الأحكام الشرعية) ব্যবহারের ধরণ সম্পর্কে জানতে পারি। আমি আশা করেছিলাম যে, আল-আযহার আল-শরীফ তাদের এই দাবিগুলোর মোকাবিলা করবে এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে একটি সন্তোষজনক ও সুস্পষ্ট বিবৃতি প্রদান করবে; কারণ আল-আযহারই একমাত্র কর্তৃপক্ষ যা শরয়ী ও আইনগতভাবে এই ধরণের বিষয়ে মতভেদ নিরসনের ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আল-আযহার কিছুই করেনি এবং ময়দানটি শেখ গাজালীর জন্য একাকী উন্মুক্ত রেখে দিয়েছে যাতে তিনি এই বিষয়ে উত্থাপিত কিছু প্রসঙ্গের জবাব দেন। তবে প্রচারমাধ্যমে তার সেই জবাবগুলো কর্তন ও পরিবর্তনের শিকার হচ্ছিল, কারণ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সাধারণ ঝোঁক ছিল বিরোধীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি, যার কারণসমূহ কারো অজানা নয়। অতঃপর একদিন আমি যখন প্রজাতন্ত্রের মুফতি, শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ সাইয়্যেদ তানতাবীর একটি প্রবন্ধের শিরোনামের ওপর দৃষ্টিপাত করলাম তখন আনন্দিত হলাম। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, আল-আযহার যা করতে পারেনি, দারুল ইফতা বিরোধপূর্ণ দুই পক্ষের মাঝে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি চূড়ান্ত মীমাংসার মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করবে। প্রকৃতপক্ষে দারুল ইফতা হলো এর বুনন ও কাঠামোর দিক থেকে একটি "ক্ষুদ্রাকৃতির আল-আযহার"।কিন্তু শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবের "ধর্মত্যাগ ও ধর্মত্যাগীদের বিষয়ে একটি বক্তব্য" শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়া শেষ করার পর আমার সেই আনন্দ বিলীন হয়ে গেল; কারণ প্রবন্ধটি বিরোধের মূল বিষয়টি মোকাবিলা করেনি এবং স্বয়ং ইসলামের প্রতি, অতঃপর প্রথম প্রজন্মের (الرعيل) প্রতি অবমাননার কোনো সীমা টেনে দেয়নি।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الأول من فقهاء الأمة وعلمائهم الأعلام، ثم تساءلت: إلى متى نؤثر السكوت على الكلام وسهام السوء تنثر صوب الإسلام صباح مساء، وحماه ينتهك، ومحاسنه توأد، وقيمه تنتقص؟!وإلى متى نؤثر الصمت أمام الهجمات الشرسة على الفقه الإسلامي المنبثق من الكتاب والسنة ومقاصد الإسلام وكلياته التشريعية؟وإلى متى نؤثر الصمت أمام الحملات التي تشن على أئمة المذاهب الفقهية والأصوليين والمفسرين ورجال الحديث، وترميهم بالجمود وأنهم لم يفهموا الإسلام كما يفهمه الكارهون لما أنزل الله من الشيوعيين والعلمانيين ومن جرى مجراهم؟إن الإسلام في نظر هؤلاء كلأ مباح لكل سائمة وصيد مستهدف لكل ذي سهم؟إنهم يريدون إسلاماً مصنوعاً على هواهم، وليس إسلاماً كما أنزله الله وبينه رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم؟ يريدون إسلاماً مرقعاً لا إسلاماً خالصاً.ومما دفعنا إلى كتابة هذه المواجهة السريعة لما يقوله منكرو حد الردة أنهم اعتسفوا القول اعتسافاً في إنكارهم لهذا الحد.* اعتدوا على حرمة النصوص الشرعية … ؟* وأساءوا فهم بعض الوقائع التاريخية … ؟* وزوروا على الفقهاء أقوالاهم منها برآ … ؟
উম্মাহর ফকিহ (فقهاء) এবং বরেণ্য আলেমদের মধ্যে তিনি অগ্রগণ্য; এরপর আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম: আমরা আর কতকাল কথা বলার পরিবর্তে নীরব থাকাকেই প্রাধান্য দেব, যেখানে সকাল-সন্ধ্যা ইসলামের দিকে অশুভ বাণ নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, এর পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে, এর সৌন্দর্যসমূহকে বিলীন করা হচ্ছে এবং এর মূল্যবোধকে খাটো করা হচ্ছে?!কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) ও এর বিধিবদ্ধ মূলনীতিসমূহ থেকে উৎসারিত ইসলামি ফিকহের (فقه) ওপর পরিচালিত এই তীব্র আক্রমণের মুখে আমরা আর কতকাল নীরবতা পালন করব?ফিকহি মাযহাবসমূহের ইমাম, উসুলবিদ (أصوليين), মুফাসসির (مفسرين) এবং হাদিসবিদদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অপপ্রচারের সামনে আমরা আর কতকাল চুপ থাকব? যাদের ওপর জড়তার অপবাদ দেওয়া হচ্ছে এবং দাবি করা হচ্ছে যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কমিউনিস্ট, সেক্যুলারিস্ট ও তাদের অনুসারীরা ইসলামকে যেভাবে বুঝেছে, এই মনিষীগণ সেভাবে বুঝতে পারেননি!এদের দৃষ্টিতে ইসলাম যেন এক উন্মুক্ত চারণভূমি, যেখানে যে কেউ বিচরণ করতে পারে; এবং এটি যেন প্রত্যেক শিকারির লক্ষ্যবস্তু!তারা তাদের খেয়াল-খুশি মতো তৈরি করা এক ইসলাম চায়; আল্লাহ যেভাবে ইসলাম অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে তা স্পষ্ট করেছেন, তেমন ইসলাম তারা চায় না। তারা এক জোড়াতালি দেওয়া ইসলাম চায়, খাঁটি ইসলাম নয়।ধর্মত্যাগের দণ্ড (حد الردة) অস্বীকারকারীরা যা বলে, তার বিরুদ্ধে এই সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদলিপি লিখতে যা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—এই দণ্ডটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তারা চরম বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক পন্থার আশ্রয় নিয়েছে।* তারা শরয়ি নসসমূহের (النصوص الشرعية) পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে … ?* তারা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার অপব্যাখ্যা দিয়েছে … ?* তারা ফকিহদের (فقهاء) নামে এমন সব বক্তব্য জালিয়াতি করে চালিয়ে দিয়েছে, যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন … ?
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
* ونسبوا إليهم مواقف لم ولن تصح عنهم … ؟* وأهدروا صلة السنة النبوية بالكتاب العزيز؟!* وأفتوا - زوراً وبهتاناً - بما ليس في كتاب الله ولا في سنة رسوله الأمين صلى الله عليه وسلم.* وضربوا باتفاق مليون فقيه وعالم عرض الحائط من غير مبالاة ولا خجل.لهذا استخرنا الله - بعد تردد لم يطل - في أن نحرر هذه السطور. احقاقاً للحق خالصاً لوجه الله الكريم.ليس دفاعاً عن أحد ولا تحاملاً على آخر:والذي نسطره - هنا - ليس دفاعاً عن الشيخ الغزالي أو الدكتور مزروعة، وليس دفاعاً عن قتلة فرج فوده ولا إدانة أو تحاملاً عليه، فهذه أمور هاشمية عابرة وإنما هدفنا الأول والآخير هو الدفاع عن حدٍ من حدود الله، اجتمعت عليه المدارس الفقهية ولم يعرف عنهم فيه خلاف. وقامت على وجوده عشرات الأدلة قولاً وعملاً وتقريراً لإنه - أي حد الردة - يتعلق بحماية ضرورة من الضرورات الخمس، التي رعاها التشريع الإسلامي حق الرعاية، وهي:* الحفاظ على المال، وحده قطع يد السارق.* والحفاظ على النسل، وحده رجم الزاني أو جلده.
* এবং তাঁরা তাঁদের দিকে এমন সব অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত করেছেন যা তাঁদের থেকে কখনোই প্রমাণিত (تصح) হয়নি … ?
* এবং তাঁরা মহাগ্রন্থের সাথে সুন্নাহ-র সম্পর্ককে ধূলিসাৎ করেছেন?!
* এবং তাঁরা—মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে—এমন ফতোয়া দিয়েছেন যা আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়।
* এবং তাঁরা কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ বা লজ্জা ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ফকিহ (فقيه) ও আলিমের ঐক্যমত্যকে উপেক্ষা করেছেন।
এ কারণেই আমরা আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর—অল্প সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর—এই পঙক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সত্য প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে।
এটি কারও পক্ষাবলম্বন করার জন্য নয় এবং কারও প্রতি বিদ্বেষবশতও নয়:<
আমরা এখানে যা লিপিবদ্ধ করছি তা শায়খ আল-গাজালি বা ডক্টর মাজরুয়াহ-র পক্ষে কোনো সাফাই নয়, কিংবা এটি ফরাজ ফাউদার হত্যাকারীদের পক্ষে কোনো প্রতিরক্ষা বা তার প্রতি কোনো নিন্দা বা বিদ্বেষও নয়; কারণ এগুলো তুচ্ছ ও সাময়িক বিষয়। বরং আমাদের মূল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধির (حدود) মধ্য থেকে একটি দণ্ডের (حد) সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যার ব্যাপারে সমস্ত ফিকহি মাযহাবগুলো একমত হয়েছে এবং যাতে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ (خلاف) পরিলক্ষিত হয়নি। এর অস্তিত্বের সপক্ষে মৌখিক, ব্যবহারিক ও মৌনসম্মতিমূলক (تقريراً) বহু প্রমাণ বিদ্যমান। কারণ এই দণ্ডটি—অর্থাৎ ধর্মত্যাগের দণ্ড (حد الردة)—ইসলামি শরীয়ত কর্তৃক পূর্ণরূপে সংরক্ষিত পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়ের (الضرورات الخمس) সুরক্ষার সাথে সম্পৃক্ত। বিষয়গুলো হলো:
* সম্পদের হেফাজত করা, যার নির্ধারিত দণ্ড (حد) হলো চোরের হাত কাটা।
* এবং বংশধারার হেফাজত করা, যার নির্ধারিত দণ্ড (حد) হলো ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ (رجم) করা অথবা বেত্রাঘাত (جلد) করা।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
* والحفاظ على العرض والشرف، وحده جلد الرامي للناس في أعراضهم وشرفهم.* والحفاظ على العقل، وحده جلد الشارب.* ثم الحافظ على الدين، وحده قتل المرتد.فهذه خمسة حدود متفق عليها، يضاف إليهما حدان متفق عليهما كذلك وهما:* حد الحرابة لمن يحارب الله ورسوله صلى الله عليه وسلم ويسعى في الأرض فساداً فيعتدي على الأنفس والأموال والأعراض.* ثم حد البغي إذا اعتدت طائفة على أخرى ظلماً وعدواناً.هذه الحدود السبعة شرعها الله ورسوله صلى الله عليه وسلم لجرائم من شأنها إذا لم تردع أن تبدل سعادة الحياة بؤساً. وتحول أمنها قلقاً واضطراباً.ولعظم الحدود في الإسلام فإن العفو لا يجوز فيها إذا رفعت لولي الأمر، إنها حقوق لله ولا يملك أحد حق العفو في حق هو خالص لله.ومن العجيب - حقاً - أن منكري جد الدرة لم يقفوا عند إنكاره هو وحده، بل أنكروا معه ثلاثة حدود أخرى، وهي:* حد الحرابة، وقد ورد في القرآن الكريم.* وحد البغي، وقد ورد كذلك في القرآن الكريم.
* বংশমর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা; আর মানুষের সম্মান ও মর্যাদায় অপবাদ প্রদানকারীর জন্য নির্ধারিত দণ্ড (حد) হলো বেত্রাঘাত।* বুদ্ধিবৃত্তি রক্ষা করা; আর মদ্যপায়ীর জন্য নির্ধারিত দণ্ড (حد) হলো বেত্রাঘাত।* অতঃপর দ্বীন রক্ষা করা; আর ধর্মত্যাগকারীর জন্য নির্ধারিত দণ্ড (حد) হলো মৃত্যুদণ্ড।এগুলো হলো ঐকমত্য পোষণকৃত (متفق عليها) পাঁচটি নির্ধারিত দণ্ড (حدود); এর সাথে আরও দুটি ঐকমত্য পোষণকৃত (متفق عليهما) নির্ধারিত দণ্ড (حدان) যুক্ত করা হয়, আর সেগুলো হলো:* হিরাবাহর (حرابة) নির্ধারিত দণ্ড (حد) তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, ফলে জান, মাল ও সম্মানের ওপর চড়াও হয়।* অতঃপর বিদ্রোহের (بغي) নির্ধারিত দণ্ড (حد); যখন এক দল অন্য দলের ওপর জুলুম ও শত্রুতা বশত চড়াও হয়।এই সাতটি নির্ধারিত দণ্ড (الحدود) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সব অপরাধের জন্য প্রবর্তন করেছেন, যা দমন করা না হলে জীবনের সুখকে দুর্ভোগে পরিণত করবে এবং নিরাপত্তাকে উদ্বেগ ও অস্থিরতায় রূপান্তর করবে।ইসলামে নির্ধারিত দণ্ডগুলোর (الحدود) গুরুত্বের কারণে, বিষয়টি যখন কর্তৃপক্ষের নিকট উত্থাপন করা হয়, তখন তাতে ক্ষমা করা বৈধ নয়। এগুলো আল্লাহর অধিকার এবং আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই।প্রকৃতপক্ষে এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, যারা 'জাদ্দুল দুররাহ' (চাবুকের কঠোরতা) অস্বীকারকারী, তারা কেবল তাতেই থেমে থাকেনি, বরং এর সাথে আরও তিনটি নির্ধারিত দণ্ডকে (حدود) অস্বীকার করেছে, আর সেগুলো হলো:* হিরাবাহর (حرابة) নির্ধারিত দণ্ড (حد), যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।* এবং বিদ্রোহের (بغي) নির্ধারিত দণ্ড (حد), এটিও একইভাবে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
* وحد شرب الخمر، وقد ورد في السنة الطاهرة قولاً وعملاً، وفي السنة العملية للخلفاء الراشدين ولك أن تضحك - أو تبكي إن شئت - حين تقف على طريقة استدلال منكري هذه الحدود، إن مستندهم الوحيد أن هذه الحدود الأربعة التي أنكروها خلا منها كتاب الفقه على المذاهب الأربعة....؟أما الحدود التي أقروا بها فهي:* حد الزنى.* حد القذف.* حد السرقة.قل لهؤلاء المنكرين ماذا تفعلون بقوله تعالى الذي يقرر حد الحرابة:{إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (المائدة 33) .وماذا يصنعون بقوله تعالى الذي يقرر حد البغي:{وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ … } (الحجرات 9) .
* এবং মদ্যপানের দণ্ড (حد شرب الخمر), যা পবিত্র সুন্নাহর কথা ও কর্মে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের ব্যবহারিক সুন্নাহর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। আপনি হাসতে পারেন—অথবা চাইলে কাঁদতেও পারেন—যখন আপনি এই দণ্ডবিধিগুলো (الحدود) অস্বীকারকারীদের দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতির মুখোমুখি হবেন। তাদের একমাত্র অবলম্বন হলো এই যে, তারা যে চারটি দণ্ড (الحدود) অস্বীকার করেছে, সেগুলো 'কিতাবুল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআ' গ্রন্থে পাওয়া যায় না....?আর তারা যেসব দণ্ডকে (الحدود) স্বীকার করেছে সেগুলো হলো:* ব্যভিচারের দণ্ড (حد الزنى)।* অপবাদের দণ্ড (حد القذف)।* চুরির দণ্ড (حد السرقة)।এই অস্বীকারকারীদের বলুন, আপনারা মহান আল্লাহর সেই বাণীর কী করবেন যা অরাজকতা বা ডাকাতির দণ্ড (حد الحرابة) নির্ধারণ করে:{নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি} (আল-মায়িদাহ ৩৩) ।আর মহান আল্লাহর সেই বাণীর ব্যাপারে তারা কী করবে যা বিদ্রোহের দণ্ড (حد البغي) নির্ধারণ করে:{আর যদি মুমিনদের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর বিদ্রোহ (بغت) করে, তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা বিদ্রোহ (تبغي) করছে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে … } (আল-হুজুরাত ৯) ।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم ماذا يصنعون بالأحاديث النبوية الواردة في عقوبة شارب الخمر، والقاضية بقتله إذا شرب مرة رابعة بعد تأديبه في المرات الثلاث السابقة إذا لم يتب ويقلع؟عجيب - والله - أن يتخذوا من خلُو كتاب المذاهب الأربعة من ذكر هذه الحدود - وهو مؤلف حديث - دليلاً على إنكار الحدود التي لن تذكر فيه. وقاضياً على نصوص الشريعة المقدسة من الكتاب والسنة؟وأيا كان الأمر فإننا في مواجهتنا لهذه الدعاوي ذكرنا شبهات منكري حد الردة شبهة تلو أخرى وتناولنا كل شبهة بنقد ونقض موذوعيين - كما سيرى القارئ - دفاعاً عن الحق، وإحقاقاً له؛ لإن الشبهات التي استند إليها منكرو حد الردة قد يكون لها تأثير قوي عند أهل العلم. فالتصدي لهل واجب على كل قادر، وكشف ما في شبهانهم من زيف وتضليل وإغراء على الفساد والإفساد جهاد في سبيل الله لابد من القيام به، تبصيراة وتبصيرة. والذكرى تنفع المؤمنين وهذه المواجهة شطرناها شطرين.* في الشطر الأول منها واجهنا شبهات منكري حد الردة كلها وبينا أنهم ليس لهم أي مستند فيها يؤيد ما ذهبوا إليه.وفي الشطر الثاني ذكرنا "توضيحات لابد منها" وضحنا فيها جوانب مهمة، منها:
অতঃপর তারা মদ্যপানের শাস্তির ব্যাপারে বর্ণিত সেইসব নববীয় হাদিসগুলো নিয়ে কী করবে, যাতে চতুর্থবার মদ্যপানের ক্ষেত্রে—যদি সে তওবা না করে এবং বিরত না থাকে—পূর্ববর্তী তিনবার আদব বা শাসনমূলক শাস্তি প্রদানের পর তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?আল্লাহর কসম, এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, তারা চার মাজহাবের ওপর লিখিত একটি আধুনিক কিতাবে এই হদ (حد) বা নির্ধারিত দণ্ডবিধিগুলোর উল্লেখ না থাকাকেই সেই হদ (حد) গুলো অস্বীকার করার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর একেই কি তারা কুরআন ও সুন্নাহর পবিত্র শারঈ নস (نصوص) বা বিধিবদ্ধ পাঠ্যের ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করবে?যাই হোক না কেন, আমরা এই দাবিগুলোর মোকাবিলায় মুরতাদের হদ (حد الردة) অস্বীকারকারীদের প্রতিটি সংশয় (شبهات) একে একে উল্লেখ করেছি। সত্যের প্রতিরক্ষা ও সত্য প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে প্রতিটি সংশয়কে আমরা বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা ও খণ্ডনের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছি—যেমনটি পাঠক দেখতে পাবেন। কারণ মুরতাদের হদ (حد الردة) অস্বীকারকারীরা যেসব সংশয়ের (شبهات) ওপর নির্ভর করেছে, ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সেগুলোর একটি শক্তিশালী প্রভাব থাকতে পারে। তাই সক্ষম প্রত্যেকের জন্য এগুলো মোকাবিলা করা ওয়াজিব (واجب)। তাদের সংশয়গুলোর (شبهات) মধ্যে যে অসারতা, বিভ্রান্তি এবং ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্ররোচনা রয়েছে তা উন্মোচন করা আল্লাহর রাস্তায় একটি জিহাদ যা অবশ্যই পালন করতে হবে; যাতে সত্য উদ্ভাসিত ও স্পষ্ট হয়। আর উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে। আমরা এই মোকাবিলা বা আলোচনাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি।* এর প্রথম অংশে আমরা মুরতাদের হদ (حد الردة) অস্বীকারকারীদের সকল সংশয় (شبهات) মোকাবিলা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, তাদের দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যা তাদের মতকে সমর্থন করে।আর দ্বিতীয় অংশে আমরা "অপরিহার্য কিছু ব্যাখ্যা" উল্লেখ করেছি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক স্পষ্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
لماذا شرع الإسلام قتل المسلم إن ارتد؟ وهل هذا التشريع ينافي حرية الاعتقاد في الإسلام.والله نسأل أن يجعل عملنا خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع به طلاب الحق وصالحي المؤمنين.عبد العظيم إبراهيم المطعنىالقاهرة - الظاهرالخميس غرة ربيع الأول 1414 هـالموافق 18 / أغسطس 1993 معفا الله عنه
কেন ইসলাম কোনো মুসলিম মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হলে তার মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছে? এবং এই বিধান কি ইসলামের বিশ্বাসের স্বাধীনতার পরিপন্থী?আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কর্মকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সত্যের অন্বেষী ও পুণ্যবান মুমিনদের উপকৃত করেন।আবদুল আজিম ইব্রাহিম আল-মুতয়ানিকায়রো - আজ-জাহিরবৃহস্পতিবার, ১লা রবিউল আউয়াল ১৪১৪ হিজরি১৮ আগস্ট ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দআল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
الشبهة الأولىخطأ الاستدلال بالنصوص القرآنيةوقع منكرو حد الردة في أخطاء عديدة وهم يستدلون على إنكاره بأيات من القرآن الكريم، ويمكن تصنيف أخطائهم في هذا المجال فيما يأتي:الأول: خطأ عام شمل استدلالهم بكل ما ذكروه من آيات حكيمة.الثاني: خطأ يتعلق باستدلالهم ببعض الآيات دون بعضها الأخر.الخطأ العام:من الحقائق المسلمة أن حد الردة، وهو القتل، لم يرد صراحة في الآيات التي تحدثت عن الردة، حيث قصرت تلك الآيات عقوبة المرتد على العذاب الأخروي، ومنكرو حد الردة اتخذوا من خلو القرآن من عقوبة دنيوية محددة دليلاً على إنكار حد الردة الذي ورد في السنة الصحيحة قولاً وعملاً، وفي سنة الراشدين، ووقع الإتفاق عليه بين الفقهاء، وهذا انزلاق خطر، وقصور شنيع في الفهم والاستدلال؛ لإنه يقوم على إهدار دور السنة في التشريع، وهي بإجماع الأصوليين والفقهاء وجميع فرق الأمة، المصدر الثاني في
প্রথম সংশয়কুরআনের দলীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুলধর্মত্যাগের দণ্ড অস্বীকারকারীরা পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে এর অস্বীকৃতির পক্ষে দলীল পেশ করতে গিয়ে বহুবিধ ভুলের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের ভুলগুলোকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে:প্রথমত: একটি সাধারণ ভুল, যা তাদের উপস্থাপিত সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ আয়াতের দলীলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।দ্বিতীয়ত: এমন ভুল যা কেবল কিছু আয়াতের দলীল ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট, অন্যগুলোর সাথে নয়।সাধারণ ভুল:এটি একটি স্বীকৃত ধ্রুব সত্য যে, ধর্মত্যাগের দণ্ড—অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড—সরাসরি সেইসব আয়াতে বর্ণিত হয়নি যেগুলোতে ধর্মত্যাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে; কারণ ওই আয়াতগুলোতে ধর্মত্যাগকারীর শাস্তিকে কেবল পরকালীন আজাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আর ধর্মত্যাগের দণ্ড অস্বীকারকারীরা কুরআনে নির্দিষ্ট কোনো পার্থিব শাস্তির অনুপস্থিতিকে সেই দণ্ডের অস্বীকৃতির দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা সঠিক (صحيحة) সুন্নাহর কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত। এমনকি ফকীহগণের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি বিপজ্জনক বিচ্যুতি এবং বুঝ ও দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে এক জঘন্য ত্রুটি; কারণ এটি শরীয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর ভূমিকাকে অবমূল্যায়ন করার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে। অথচ উসুলবিদ, ফকীহ এবং উম্মাহর সকল দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুন্নাহ হলো শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস...
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
التشريع الإسلامي وسنبين هذا في إيجاز ووضوح بعد قليل.الخطأ الخاص باستدلالهم ببعض الاياتأما الخطأ الخاص باستدلالهم بآيات دون أخرى فكان سببه الوقوف عند ظاهر تلك الآيات، دون البحث عن المراد منها. وها نحن نذكر الايات التي استدلوا بها، ونكشف وجوه الخطأ في ذلك الاستدلال:{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ....} المائدة (549{وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} البقرة (217) .هاتان الآيتان عن جريمة الردة وتوعد الله في أولاهما المرتدين بقطع دابرهم والآيتان يقوم آخرين يحبهم ويحبونه وفي الثانية توعدهم بحبوط أعمالهم العاجلة والآجلة، وتخليدهم في النار يوم يقوم الحساب.وفد خلت الآيتان من النص على عقوبة دنيوية محددة وهذا أغرى منكري حد الردة وزعموا أنه حد مزعوم ورموا جميع فقهاء الأمة القائلين بأن عقوبة المرتد هي القتل رموهم بالادعاء الكاذب؟! وورطوا أنفسهم في منكر من القول وزوّر جارين وراء أهواء رخيصة
ইসলামি শরিয়ত প্রণয়ন; আমরা শীঘ্রই এটি সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব।কিছু আয়াত থেকে দলিল পেশ করার (استدلال) ক্ষেত্রে তাদের সুনির্দিষ্ট ভুলঅন্যান্য আয়াত বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু আয়াত দ্বারা তাদের দলিল পেশ করার (استدلال) সুনির্দিষ্ট ভুলটির কারণ ছিল—আয়াতগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুসন্ধান না করে কেবল সেগুলোর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। আমরা এখন সেই আয়াতগুলো উল্লেখ করছি যা তারা দলিল হিসেবে পেশ করেছে এবং সেই দলিল পেশ করার (استدلال) ভুলের দিকগুলো উন্মোচন করছি:{হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, তবে শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক কওম নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে...} আল-মায়েদাহ (৫৪){আর তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।} আল-বাকারা (২১৭)।এই আয়াত দুটি ধর্মত্যাগ (ردة) এর অপরাধ সংক্রান্ত। এর প্রথমটিতে আল্লাহ তাআলা মুরতাদদের মূলোৎপাটন করার অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের পরিবর্তে এমন এক জাতি নিয়ে আসার কথা বলেছেন যাদের তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে। আর দ্বিতীয় আয়াতে তিনি তাদের ইহকালীন ও পরকালীন আমলসমূহ নিষ্ফল হওয়ার এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামে চিরস্থায়ী বসবাসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।এই আয়াত দুটিতে সুনির্দিষ্ট কোনো পার্থিব শাস্তির সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) নেই। আর এটিই ধর্মত্যাগের নির্ধারিত দণ্ড (حد) অস্বীকারকারীদের প্রলুব্ধ করেছে এবং তারা দাবি করেছে যে, এটি একটি বানোয়াট নির্ধারিত দণ্ড (حد)। তারা উম্মতের সকল ফকিহ—যারা মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার প্রবক্তা—তাদেরকে মিথ্যা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। এভাবে তারা তুচ্ছ খেয়াল-খুশির পেছনে পড়ে নিজেদেরকে অত্যন্ত গর্হিত ও বানোয়াট (زور) বক্তব্যে লিপ্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعواطف هوجاء، وقصور في النظر والاستدلال.ثم استدلوا - كذلك - بالآيات الأتية:{كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ....} . آل عمران: (86) .{إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا} النساء (137) .{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الضَّالُّونَ} آل عمران: (90) .{وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} آل عمران: (72) .وجه استدلالهم:استدل منكرو حد الردة بالآيات الثلاث الأولى مما ذكرناه آنفاً على أن هذه الآيات تتحدث عن ردة ظاهرة، وفي بعضها ورد الحديث عن الردة مرتين لقوم مخصوصين {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا … } وفهموا من هذا أن المرتد لو كانت عقوبته القتل لما بقى حياً حتى يرتد مرة أخرى؟ وأنه لم يرد أن النبي صلى الله عليه وسلم عاقب هؤلاء المرتدين بالقتل فكيف يقال أن عقوبة المرتد هي القتل؟
এবং উগ্র আবেগ, আর চিন্তাভাবনা ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা।অতঃপর তারা একইভাবে নিম্নোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:{আল্লাহ কীভাবে সেই জাতিকে হিদায়াত দেবেন যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেওয়ার পর কুফরি করেছে...}। আল-ইমরান: (৮৬)।{নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে, পুনরায় ঈমান এনেছে, আবার কুফরি করেছে এবং অতঃপর তাদের কুফরি বৃদ্ধি পেয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথে পরিচালিত করবেন না}। আন-নিসা: (১৩৭)।{নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে, অতঃপর কুফরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের তাওবা কখনই কবুল করা হবে না এবং তারাই পথভ্রষ্ট}। আল-ইমরান: (৯০)।{এবং আহলে কিতাবের একদল বলল, যারা ঈমান এনেছে তাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে দিনের শুরুতে ঈমান আনো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, যাতে তারা (ইসলাম থেকে) ফিরে যায়}। আল-ইমরান: (৭২)।তাদের দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি:ধর্মত্যাগের দণ্ডবিধি অস্বীকারকারীরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রথম তিনটি আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, এই আয়াতগুলো প্রকাশ্য ধর্মত্যাগ সম্পর্কে আলোচনা করে। এগুলোর কোনো কোনোটিতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দুবার ধর্মত্যাগের বিষয়ে বর্ণনা এসেছে: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে, পুনরায় ঈমান এনেছে, আবার কুফরি করেছে … }। তারা এ থেকে এটিই বুঝেছেন যে, মুরতাদের শাস্তি যদি হত্যাই হতো, তবে সে পুনরায় ধর্মত্যাগী হওয়ার জন্য জীবিত থাকত না। আর এটিও বর্ণিত হয়নি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মুরতাদদের হত্যার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করেছেন; এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে, মুরতাদের শাস্তি হলো হত্যা?
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خطأ هذا الاستدلال:إن منكري حد الردة جانبهم الصواب في استدلالهم بهذه الآيات وإليك البيان:فقوله تعالى {كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ....} يذهب المفسرون فيه مذهبين ليس في أحدهما ولا فيهما أي دليل لمنكري حد الردة.المذهب الأول: أن الآية تتحدث عن جماعة كانوا مسلمين حقاً ثم ارتدوا ولحقوا بالمشركين، وقد راجعوا أنفسهم فأرسلوا بعضاً من الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم هل لهم من توبه فرجعوا إلى الإسلام بعد نزول هذه الاية وحسن إسلامهم.المذهب الثاني: أن الآية تتحدث عن اليهود، لإنهم كانوا قبل الإسلام مؤمنين برسالة النبي الخاتم، وكانوا يطعمون أن يكون منهم فلما بعث من العرب كفروا به.ويرجع هذا المذهب سياق الكلام قبل هذه الآية وبعدها، حيث جاءت هذه الآية في نظم آيات تتحدث عن أهل الكتاب.وعلى كلا المذهبين لا دليل في الآية لمنكري حد الردة - القتل - فعلى
এই দলীল গ্রহণের ত্রুটি (خطأ هذا الاستدلال):নিশ্চয়ই মুরতাদ হওয়ার দণ্ড (حد الردة) অস্বীকারকারীরা এই আয়াতসমূহের মাধ্যমে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। নিচে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেবেন যারা ঈমান আনার পর এবং রাসূল সত্য—এ সাক্ষ্য দেওয়ার পর কুফরি করেছে...} এর ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ (المفسرون) দুটি মত (مذهبين) পোষণ করেছেন, যার কোনোটিতেই মুরতাদ হওয়ার দণ্ড (حد الردة) অস্বীকারকারীদের জন্য কোনো দলীল নেই।প্রথম মত: আয়াতটি এমন এক দল সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ছিল, অতঃপর তারা ধর্মত্যাগী (ارتدوا) হয়ে মুশরিকদের সাথে যোগ দেয়। পরবর্তীতে তারা অনুতপ্ত হয় এবং কিছু লোককে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠায় যে, তাদের জন্য তওবার (توبة) কোনো সুযোগ আছে কি না? অতঃপর এই আয়াত নাযিলের পর তারা ইসলামে ফিরে আসে এবং তাদের ইসলাম গ্রহণ সুন্দর ও সংহত হয়।দ্বিতীয় মত: আয়াতটি ইহুদিদের সম্পর্কে আলোচনা করছে; কারণ তারা ইসলামের আগমনের পূর্বে সর্বশেষ নবীর রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসী ছিল এবং তারা আকাঙ্ক্ষা করত যে নবী যেন তাদের মধ্য থেকেই আবির্ভূত হন। কিন্তু যখন তিনি আরবদের মধ্য থেকে প্রেরিত হলেন, তখন তারা তাকে অস্বীকার করে।এই মতটি আয়াতের পূর্বাপর প্রসঙ্গের (سياق) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেহেতু এই আয়াতটি আহলে কিতাব সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ধারাক্রমের মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছে।উভয় মতানুসারেই আয়াতে মুরতাদ হওয়ার দণ্ড (حد الردة)—অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড—অস্বীকারকারীদের জন্য কোনো দলীল নেই। সুতরাং...
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المذهب الأول لم يعاقب النبي صلى الله عليه وسلم هؤلاء المرتدين، لأنهم فروا هاربين إلى أهل الشرك ساعة ارتدوا. ثم عادوا تائبين.وعلى المذهب الثاني يكون من تحدثت عنهم الآية غير مسلمين أصلاً فهم باقون على أصل كفرهم بالإسلام وليسوا مرتدين، لإن الردة لا تتحقق إلا ممن كان مسلماً حقيقة ثم ارتد.أما قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا} .فقد بين المفسرون المراد من هذه الآية الكريمة، وجلهم يقول إن المراد من الذين آمنوا ثم كفروا "هم المنافقون" والمنافقون قوم كانوا يتظاهرون بالإيمان قولاً وعملاً ويبطنون الكفر، وكثيراً ما تعتريهم ومضات من الإيمان ثم يسيطر عيهم الكفر، وأحكام الإسلام إنما يجرى على الظاهر لا على الباطن، فلم يكن لفتلهم على ردتهم سبيل للأمور الآتية:1- نطقهم بالشهادتين وحضورهم الصلوات في المساجد … إلخ.2- إن الردة التي تحدث عنها القرآن - هنا - ليست ردة ظاهرة وإنما هي أحوال نفسية كانت تعتريهم، واعتقادات قلبية لم يجر بها إنسان.3- إن المنافقين كانوا شديدى الحرص على إخفاء كفرهم والتظاهر
প্রথম মতানুসারে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ধর্মত্যাগীদের (مرتدون) শাস্তি প্রদান করেননি, কারণ তারা ধর্মত্যাগ (ردة) করার পরপরই মুশরিকদের নিকট পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর তারা তওবাকারী হিসেবে প্রত্যাবর্তন করে।আর দ্বিতীয় মতানুসারে, আয়াতে যাদের কথা বলা হয়েছে তারা মূলত মুসলিম ছিলেন না; বরং তারা ইসলামের বিপরীতে তাদের মূল কুফরিতেই অটল ছিলেন এবং তারা ধর্মত্যাগী (مرتدون) ছিলেন না। কেননা ধর্মত্যাগ (ردة) কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় যখন কেউ প্রকৃতপক্ষে মুসলিম হওয়ার পর পুনরায় কুফরিতে লিপ্ত হয়।আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, অতঃপর কুফরি করেছে, পুনরায় ঈমান এনেছে, পুনরায় কুফরি করেছে এবং এরপর তাদের কুফরি বৃদ্ধি পেয়েছে; আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন না।}মুফাসসিরগণ (مفسرون) এই মহিমান্বিত আয়াতের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের অধিকাংশের মতে ‘যারা ঈমান এনেছে অতঃপর কুফরি করেছে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “মুনাফিকগণ (منافقون)”। মুনাফিকগণ (منافقون) এমন এক সম্প্রদায় যারা কথা ও কাজের মাধ্যমে ঈমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটাত এবং অন্তরে কুফরি গোপন রাখত। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঈমানের আলোকচ্ছটা পরিলক্ষিত হতো, কিন্তু পুনরায় কুফরি তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। ইসলামের বিধানসমূহ কেবল বাহ্যিক অবস্থার ওপর কার্যকর হয়, অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর নয়। তাই নিম্নলিখিত কারণে তাদের ধর্মত্যাগের (ردة) অপরাধে দণ্ড প্রদানের কোনো পথ ছিল না:১- তাদের শাহাদাতাইন পাঠ করা এবং মসজিদে সালাতে উপস্থিত হওয়া... ইত্যাদি।২- কুরআন এখানে যে ধর্মত্যাগের (ردة) কথা বলেছে তা কোনো প্রকাশ্য ধর্মত্যাগ (ردة) ছিল না; বরং তা ছিল নিছক কিছু মানসিক অবস্থা এবং হৃদয়ের বিশ্বাস যা তারা প্রকাশ করেনি।৩- মুনাফিকগণ (منافقون) তাদের কুফরি গোপন রাখতে এবং (ঈমানের) বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল...
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بأنهم مسلمون، فحكمهم لله وحده. وقد حكى القرآن عنهم قلقهم وتقلبهم من حال إلى حال فقال تعالى {مُذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَلِكَ لَا إِلَى هَؤُلَاءِ وَلَا إِلَى هَؤُلَاءِ....} النساء: (143) .وقد أساء منكرو الردة فهم هذه الآية فحسبوها تتحدث عن قوم آمنوا ثم أعلنوا الكفر ثم آمنوا ثم أعلنوا الكفر مرة اخرى ثم ازدادوا كفراً عياناً جهاراً ولم يعاقبهم صاحب الدعوة على ردتهم، وهذا ما أوقعهم في الجرأة والتطاول على فقهاء الأمة سلفاً وخلفاً، ثم ملأوا الدنيا ضجيجاً قائلين: أن الردة لا تبيح القتل وأن حدَّ الردة لا وجود له بل هو حدَّ مزعوم، ورموا من يقول به بأهم مضللون. هكذا والله.؟!وأما قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الضَّالُّونَ} آل عمران: (90) .فهي كما قال المفسرون تتحدث عمن ارتد وأوغل في كفره ومات وهو كافر سواء مات حتف أنفه أو قتل كفراً. والذي حمل المفسرين على تخصيص هذه الآية بمن ارتد ومات كافراً أن المرتد مهما عظمت ردته أو تكررت إذا تاب قبل موته توبة نصوحاً ومات على الإيمان قبلت توبته إذن فنفى قبول التوبة - هنا - خاذ بتالمرتد الذي يموت كافراً مصراً على كفره. وهذه الآية لا تعني قوماً منخصوصين بل كل من تحقق فيه هذا الوصف فتوبته لا تقبل.
যেহেতু তারা মুসলিম, তাই তাদের ফয়সালা একমাত্র আল্লাহর কাছে। কুরআন তাদের অস্থিরতা এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের কথা বর্ণনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা এর মাঝে দোদুল্যমান, না এদের দিকে, না তাদের দিকে...} (নিসা: ১৪৩)।ধর্মত্যাগ বা রিদ্দাহ (الردة) অস্বীকারকারীরা এই আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তারা ধারণা করেছে যে, এটি এমন এক সম্প্রদায়ের কথা বলছে যারা ঈমান এনেছিল, অতঃপর কুফরি (كفر) প্রকাশ করেছিল, পুনরায় ঈমান এনেছিল এবং পুনরায় প্রকাশ্যে ও দিবালোকে কুফরি (كفر) প্রকাশ করেছিল, অথচ দাওয়াতের অধিপতি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাদের মুরতাদ হওয়ার (ردة) কারণে কোনো শাস্তি প্রদান করেননি। এটাই তাদেরকে উম্মতের সালাফ ও খালাফ ফকিহগণের বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা ও সীমালঙ্ঘন করতে প্ররোচিত করেছে। অতঃপর তারা সোরগোল তুলে বলেছে যে, ধর্মত্যাগ (الردة) হত্যাকে বৈধ করে না এবং রিদ্দাহর কোনো নির্ধারিত দণ্ড বা হদ (حد) বলতে কিছু নেই, বরং এটি একটি কল্পিত দণ্ড মাত্র। আর যারা এই দণ্ডের প্রবক্তা, তাদেরকে তারা পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। আল্লাহর কসম, অবস্থা কি এমনই?!আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরি (كفروا) করেছে, অতঃপর তাদের কুফরি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না এবং তারাই পথভ্রষ্ট (الضالون)} (আলে ইমরান: ৯০)।মুফাসসিরগণের অভিমত অনুযায়ী, এই আয়াতটি তাদের সম্পর্কে যারা মুরতাদ (ارتد) হয়েছে এবং কুফরিতে নিমজ্জিত হয়ে কাফির (كافر) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে; চাই সে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করুক কিংবা কুফরির কারণে তাকে হত্যা করা হোক। মুফাসসিরগণ এই আয়াতকে ওই ব্যক্তির জন্য কেন নির্দিষ্ট করেছেন যে মুরতাদ (ارتد) হয়ে কাফির (كافر) অবস্থায় মারা গেছে? কারণ, কোনো মুরতাদের ধর্মত্যাগ (ردة) যতই প্রকট হোক বা বারবার হোক না কেন, সে যদি মৃত্যুর আগে একনিষ্ঠ তাওবা করে এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে তার তাওবা কবুল করা হয়। সুতরাং এখানে তাওবা কবুল না হওয়ার বিষয়টি সেই মুরতাদ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে স্বীয় কুফরিতে অটল থেকে কাফির (كافر) হিসেবে মারা যায়। এই আয়াত কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টির জন্য নয়, বরং যার মধ্যেই এই গুণাবলি পাওয়া যাবে, তারই তাওবা কবুল হবে না।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والآية التي بعدها تؤكد هذا المعنى وفيها يقول الحق تبارك اسمه:{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ} .والآية الأخيرة التي استشهدوا بها هي قوله تعالى حكاية عن طائفة من اليهود {وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} هذه الآية نزلت في فضح طائفة من اليهود تشاورا فيما بينهم واتفقوا على أن يحدثوا بلبلة في من يستطيعون من المسلمين: فصلوا معهم صلاة الصبح متظاهرين بالإسلام ثم كفروا وعادوا للكفر آخر النهار ليظن المسلمون أنهم اكتشفوا عيباً في الإسلام بعد دخولهم فيه فرجعوا عنه. هذه خلاصة امينة لما ذكره المفسرون في سبب نزول هذه الآية وقد تقدم لنا القول بأن علماء الأمة مجمعون على أن الردة لا تتحقق إلا ممن كان مسلماً حقاً. وهذه الطائفة من اليهود تظاهرت بالإسلام مؤامرة وكيداً فلا ينطبق عليهم وصف الردة لأنهم كانوا تظاهروا بأنهم اسلموا كانوا باقين على كفرهم لذلك لم توقع عليهم عقوبة الردة، وهي القتل. وعلى هذا فلا دليل ابداً لمنكري حد الردة في هذه الآية. وهذا ظاهر.اختلاف الأقوال:ومن الؤسف حقاً أن أحد منكري حد الردة نقل هذه الآية وقال إن ابن كثير - صاحب التفسير المعروف - علق على هذه الآية فقال:
এর পরবর্তী আয়াতটি এই অর্থকে আরও সুদৃঢ় করে, যাতে সত্য মহান আল্লাহ বলছেন:{নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের কারো পক্ষ থেকে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও গ্রহণ করা হবে না, যদিও তা মুক্তিপণ হিসেবে দেওয়া হয়। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।}তারা যে সর্বশেষ আয়াতটি দলিল হিসেবে পেশ করেছে তা হলো ইহুদিদের এক সম্প্রদায়ের অবস্থা বর্ণনা করে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আহলে কিতাবদের এক দল বলল, যারা ঈমান এনেছে তাদের ওপর যা নাজিল হয়েছে তাতে দিনের শুরুতে ঈমান আনো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, যেন তারা (ইসলাম থেকে) ফিরে যায়।} এই আয়াতটি ইহুদিদের এক দলের ষড়যন্ত্র ফাঁস করার উদ্দেশ্যে নাজিল হয়েছে, যারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করেছিল এবং সক্ষম এমন মুসলিমদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়ে একমত হয়েছিল। তারা ইসলামের কৃত্রিম প্রদর্শনী করে তাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, তারপর দিনের শেষভাগে পুনরায় কুফরিতে ফিরে গেল যাতে মুসলিমরা মনে করে যে তারা ইসলামে প্রবেশের পর এতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে এবং এ কারণে তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে। এই আয়াতের শানে নুজুল সম্পর্কে মুফাসসিরগণ যা বর্ণনা করেছেন এটি তার একটি নির্ভরযোগ্য সারসংক্ষেপ। আর আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, উম্মাহর আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন কেউ প্রকৃতপক্ষে মুসলিম থাকে। আর ইহুদিদের এই দলটি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে ইসলামের ভান করেছিল, ফলে তাদের ওপর মুরতাদ হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয় না। কারণ তারা কেবল লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করেছিল অথচ তারা কুফরিতেই অটল ছিল। একারণেই তাদের ওপর মুরতাদ হওয়ার দণ্ড (حد), যা মূলত মৃত্যুদণ্ড, তা কার্যকর করা হয়নি। অতএব, মুরতাদ হওয়ার নির্ধারিত দণ্ড (حد) অস্বীকারকারীদের জন্য এই আয়াতে কোনো দলিল নেই। আর বিষয়টি সুস্পষ্ট।মতপার্থক্যসমূহ:অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মুরতাদ হওয়ার দণ্ড (حد) অস্বীকারকারীদের একজন এই আয়াতটি উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন যে, বিখ্যাত তাফসিরের রচয়িতা ইবনে কাসির এই আয়াতের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
" إنها ردة جماعية ظاهرة عن اليهود في المدينة، ومع هذا لم يعاقب النبي صلى الله عليه وسلم هؤلاء المرتدين الذين يرمون إلى فتنة المؤمنين في دينهم وصدهم عنه".ويعلم الله أننا حين قرأنا هذا الكلام منسوباً إلى الإمام ابن كثير صاحب تفسير القرآن العظيم "ملكتنا الدهشة من نسبة هذا الكلام إليه وهو الإمام السلفى الثقةى فهرعنا إلى تفسيره ووجدناه يخلة تماماً من هذا الكلام الذي نُسب إليه"؟!وأدعو القارئ إلى أن يطمئن بنفسه إلى صدق ما نقول فليقرأ ما قاله الإمام ابن كثير في الجزء الأول من تفسيره صفحة 374 طبعة مكتبة زهران بالأزهر.فهذا القول المنسوب إلى الإمام ابن كثير قول مختلق مكذوب عليه، وهو منه براء … براء.تعقيب:ذكرنا الايات التي استدل بها منكرو حد الردة، وبينا المراج من كل آية منها حسبما أجمع عليه المفسرون وعلماء الأمة الأعلام. وبان لنا خطأ الاستدلال بها على إنكار حد الردة ولو كانت هذه الآيات تفيد إنكار حد الردة من قريب أو من بعيد لكان علماء السلف وفقهاؤه ومفسروه
"এটি মদিনার ইহুদিদের পক্ষ থেকে একটি প্রকাশ্য গণ-ধর্মত্যাগ ছিল। তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ধর্মত্যাগীদের শাস্তি দেননি যারা মুমিনদেরকে তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে এবং তা থেকে বিমুখ করতে চেয়েছিল।"আল্লাহ সাক্ষী যে, যখন আমরা এই কথাগুলো 'তাফসীর আল-কুরআন আল-আজিম'-এর রচয়িতা ইমাম ইবনে কাসীরের প্রতি সম্পৃক্ত হতে দেখেছি, তখন আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়েছি যে কীভাবে তাঁর প্রতি এমন কথা আরোপ করা হলো! অথচ তিনি একজন সালাফী ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) ইমাম। ফলে আমরা দ্রুত তাঁর তাফসীর গ্রন্থটির দিকে ফিরে গেলাম এবং একে সেই বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত পেলাম যা তাঁর দিকে নেসবত করা হয়েছে।আমি পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা আমাদের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিজেরা এটি যাচাই করে নেন। তারা যেন ইমাম ইবনে কাসীরের তাফসীরের প্রথম খণ্ডের ৩৭৪ পৃষ্ঠা (মাকতাবাতু জাহরান, আল-আজহার সংস্করণ) পাঠ করেন।ইমাম ইবনে কাসীরের প্রতি আরোপিত এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ বানোয়াট (مختلق) এবং তাঁর নামে কৃত একটি মিথ্যা (مكذوب) আরোপ; তিনি এটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত … মুক্ত।পর্যালোচনা:আমরা সেই আয়াতগুলো উল্লেখ করেছি যা দ্বারা ধর্মত্যাগের শাস্তির (হাদদে রিদ্দাহ) অস্বীকারকারীরা দলিল পেশ করেছেন, এবং প্রত্যেক আয়াতের নিহিত উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছি যা প্রখ্যাত মুফাসসির ও উম্মাহর বরেণ্য আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী সাব্যস্ত। আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ধর্মত্যাগের শাস্তি অস্বীকার করার স্বপক্ষে এই আয়াতগুলো থেকে দলিল গ্রহণ করা একটি ভ্রান্ত পদ্ধতি। যদি এই আয়াতগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মত্যাগের শাস্তিকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ প্রদান করত, তবে পূর্ববর্তী সালাফ আলেমগণ, ফকিহগণ এবং মুফাসসিরগণ...
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أسرع الناس إلى القول به وإعلانه وهم يستنبطون الأحكام من مصدرها الأول، وهو القرآن العظيم، لكن أولئك العلماء رضي الله عنهم كانوا على بصيرة من آيات الكتاب العزيز، يعرفون عامها وخاصها، مطلقلها ومقيدها، وناسخها ومنسوخها وكانوا على دراية منقطعة النظير بدلالات المفردات ودلالات التراكيب، وقد خدموا كتال الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم خدمة تقصر عنها الهمم وتكل الأبصار فكيف تسول لقول أنفسهم أن يرموا سلفنا العظيم بالغفلة، وأن يستدركوا عليهم هذا الاستدراك الغريب.؟!إنكار مصدرية السنة:من البدية أن مستند منكري حد الردة في استدلالهم بالأيات القرآنية التي استدلوا بها - وقد تقدمت - أن مستندهم الوحيد هو خلو القرآن من النص على عقوبة محددة توقع في الدنيا على المرتدين. وهم بذلك ينزلون أنفسهم منزلة من ينكر مصدرية السنة التي ورد فيها تحديد عقوبة المرتد في الدنيا وهي القتل. ففي الحديث الصحيح قال صلى الله عليه وسلم: "مَنْ بدًل دينه فاقتلوه" وقد جرى العمل بهذا التوجيه النبوي في حياة صاحب الدعوة، وفي حياة خلفائه الراشدين، فتقررت هذه العقوبة - القتل - حداً للمرتد في السنة القولية، وفي السنة العملية، ثم اتفق الفقهاء فيما بعد على شرعية هذه العقوبة، ولم يعرف بينهم مخالف قط.
মানুষের মাঝে তারাই সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন এটি বলতে ও ঘোষণা করতে এবং তারা এর প্রধান উৎস—সুমহান কুরআন—থেকে হুকুম আহকাম আহরণ করতেন। তবে সেই আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মহান কিতাবের আয়াতসমূহ সম্পর্কে অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন; তাঁরা এর সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص), শর্তহীন (مطلق), শর্তযুক্ত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) আয়াতসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। শব্দার্থ এবং বাক্যগঠনের নিগূঢ় তাৎপর্য সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান ছিল অতুলনীয়। তাঁরা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর এমন খিদমত করেছেন যা করতে অন্য যে কারও সংকল্প হার মানবে এবং দৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং মানুষ কীভাবে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আমাদের মহান সালাফদের (পূর্বসূরিদের) গাফিলতির অপবাদ দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখায় এবং তাঁদের ওপর এমন অদ্ভুত আপত্তি উত্থাপন করে?!সুন্নাহর উৎস হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা:এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, মুরতাদের নির্ধারিত শাস্তির (حد الردة) অস্বীকারকারীরা যেসব কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন—যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—তাদের একমাত্র ভিত্তি হলো কুরআনে মুরতাদদের জন্য দুনিয়াতে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি প্রয়োগের বিষয়ে কোনো নস (نص) বা অকাট্য বর্ণনা না থাকা। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সেই স্তরে নামিয়ে আনছে যারা সুন্নাহর উৎস হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে, যেখানে দুনিয়াতে মুরতাদের শাস্তির নির্ধারিত সীমা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের কথা বর্ণিত হয়েছে। সহিহ (صحيح) হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তোমরা তাকে হত্যা করো।" দাওয়াতের অধিপতির (নবীজি) জীবনে এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের আমলে এই নববী নির্দেশনার ওপর আমল জারি ছিল। ফলে বাচনিক সুন্নাহ (السنة القولية) এবং কর্মভিত্তিক সুন্নাহ (السنة العملية) উভয় ক্ষেত্রে মুরতাদের হদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিটি সুনির্ধারিত হয়েছে। পরবর্তীতে ফকিহগণ এই শাস্তির বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত কখনও জানা যায়নি।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
مصدرية السنة وصلتها بالكتاب العزيز:أمر الله المسلمين أن يطيعوا رسوله كما يطيعون الله فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي … } النساء: (59) .وقال: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} الأحزاب: (36) .وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا....} الحشر: (7) فالسنة كالكتاب مصدر من مصادر التشريع، وإنكار مصدرية السنة كفر بواح، فينبغي للمؤمن الحريص على صدق إيمانه وصحته أن ينأى عن التقليل من شأن السنة والانتقاص من قدرها أو الجدال حول شيء منها مما اعتمده الرعيل الأول من العلماء؛ لإن ذلك ذريعة للخوض فيما لا تحمد عقباه.وقد نهى النبي - نفسه - صلى الله عليه وسلم عن هذا السلوك فقال:"لا ألفين أحدكم - أي لا أجدن أحدكم - متكئاً على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما نهيت عنه أو أمرت به، فيقول: لا أدري؟ ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه".
সুন্নাহর (السنة) প্রামাণ্যতা (مصدرية) এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সাথে এর সম্পর্ক:আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে তারা আল্লাহর আনুগত্য করে। তিনি ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল … } আন-নিসা: (৫৯) ।তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের ব্যাপারে অন্য কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হবে, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় পথ হারাবে।} আল-আহজাব: (৩৬) ।তিনি আরও বলেছেন: {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো....} আল-হাশর: (৭)। সুতরাং সুন্নাহ (السنة) কিতাবুল্লাহর মতোই শরয়ি বিধানের উৎসসমূহের (مصادر التشريع) অন্যতম একটি উৎস। সুন্নাহর (السنة) প্রামাণ্যতা (مصدرية) অস্বীকার করা প্রকাশ্য কুফর (كفر بواح)। তাই নিজের ঈমানের সত্যতা ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় সচেষ্ট মুমিনের উচিত সুন্নাহর (السنة) গুরুত্বকে খাটো করা, এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা কিংবা প্রথম প্রজন্মের উলামায়ে কেরাম (الرعيل الأول) সুন্নাহর যে বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে বিতর্ক করা থেকে দূরে থাকা; কেননা এটি এমন পথে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম যার পরিণাম শুভ নয়।স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আচরণ থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন:"আমি যেন তোমাদের কাউকে—অর্থাৎ আমি অবশ্যই যেন কাউকে না পাই—তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকতে, যার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ কিংবা কোনো নিষেধ পৌঁছাবে, তখন সে বলবে: 'আমি জানি না; আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'।"
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وروى الحاكم بسنده أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:"يوشك أن يقعد الرجل منكم على أريكته يُحَدَّثُ بحديثي، فيقول بيني وبينكم كتاب الله. فما وجدنا فيه حلالاً استحللناه، وما وجدنا فيه حراماً حرمناه، وإنما حرَّم رسول الله كما حرَّم الله".فالرسول - هنا - يسوَّى بين الأمرين معاً: ما شرعه الله للناس وما شرعه هو بإذن الله؛ لأنه لا ينطق عن الهوى. إن هو إلا وحي يوحى، وقد جاء في بعض الروايات: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه" وبعد هذه التوجيهات - ومثلها كثير - ينبغي على المسلم أن يُسلم بكل ما صحت روايته وسلم معناه واعتمده رجال الحديث والفقه في أدلة الأحكام. ووما تنبغي الإشارة إليه هنا أن إنكار مصدرية السنة في التشريع هدف أصيل من أهداف المبشرين ضد الإسلام وتلاميذهم المستشرقين وعملائهم الجهلة.صلة السنة بالكتابالإسلامُ ليس هو القرآن وحده، ولكنه القرآن والسنة معاً. ولولا السنة لاستغلق القرآن ولما استطاعت الأمة أن تعرف طريقها إلى الله في كثير من الأمور، ومنها العبادات والمعاملات.والله يقول لرسوله: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ … } النحل (44) .
ইমাম হাকেম তাঁর বর্ণনাসূত্র (سند) সহ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:"শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে, তাকে আমার কোনো হাদিস শোনানো হবে, তখন সে বলবে—আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। তাতে আমরা যা হালাল হিসেবে পাব, তা-ই হালাল গণ্য করব এবং যা হারাম হিসেবে পাব, তা-ই হারাম গণ্য করব। অথচ আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।"এখানে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয় বিষয়কে সমান সাব্যস্ত করেছেন: যা আল্লাহ মানুষের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন এবং যা তিনি স্বয়ং আল্লাহর অনুমতিক্রমে বিধিবদ্ধ করেছেন; কারণ তিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কিছু বলেন না। এটি তো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। কোনো কোনো বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "জেনে রেখো, আমাকে কোরআন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও একটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে।" এই সকল নির্দেশনার পর—এবং এ জাতীয় আরও অনেক নির্দেশনা রয়েছে—একজন মুসলিমের উচিত সেই সকল বিষয়কে নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়া যেগুলোর বর্ণনা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, যার অর্থ ত্রুটিমুক্ত এবং যা হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ বিধানের দলিল (أدلة الأحكام) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এখানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, শরিয়তের উৎস হিসেবে সুন্নাহর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করা ইসলাম-বিদ্বেষী মিশনারি, তাদের অনুসারী প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অজ্ঞ অনুচরদের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।কোরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্কইসলাম কেবল কোরআন নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহর সমন্বিত রূপ। সুন্নাহ না থাকলে কোরআনের বিধানাবলি দুর্বোধ্য হয়ে থাকত এবং উম্মত ইবাদত ও লেনদেনসহ বহু ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশিত সঠিক পথ খুঁজে পেত না।আল্লাহ তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে … } আন-নাহল (৪৪)।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد وضح الإمام الشافعي في كتابه: "جماع العلم" صلة السنة بالكتاب وجعلها أقساماً ثلاثة، ثم تابعه علماء الأصول من بعده، وتلك الأقسام في إيجاز:1- السنة المقررة لما في الكتاب كتحريم الظلم وعقوق الوالدين، وأكل أموال الناس بالباطل وشناعة الزنى، والمعاملات الربوية.2- السنة الشارحة لبعض ما ورد في الكتاب، مثل بيان كيفية الصلوات، وعدد ركعات كل فريضة. وبيان نصاب الزكاة والأنواع التي تجب فيها.... إلخ.3- السنة المشرعة، مثل فرض زكاة الفطر، وتحريم الحمر الأهلية، ونكاح المتعة، ونكاح البنت وعمتها أو خالتها في عصمة واحدة، وتحريم القرابة الرضاعية كتحريم قرابة النسب، وتحريم أن يهجر المسلم أخاه فوق ثلاثة ايام هذا كله موضع اتفاق بين علماء الأمة الذين يعتبر بقولهم ومن السنة المشرعة تحديد عقوبة المرتد، وهي القتا بلا خلاف بين الفقهاء.فالسنة بمنزلة المذكرات التفسيرية لنصوص القوانين الكلية مثلما هو معروف بين رجال القانون الآن مع فارق كبير بين السنة وما تفسره، وبين القوانين ومايوضع لها من شروح وتفسيرات. وإنما قلنا إن السنة بمنزلة المذكرات الشارحة للقوانين قصداً للتوضيح لا المماثلة من كل وجه.
ইমাম শাফিঈ তাঁর 'জিমাউল ইলম' গ্রন্থে কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক স্পষ্ট করেছেন এবং একে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। পরবর্তীকালে উসুলবিদ (علماء الأصول) গণও তাঁর অনুসরণ করেছেন। সংক্ষেপে সেই বিভাগগুলো হলো:১- কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের সমর্থক (المقررة) সুন্নাহ; যেমন: জুলুমের হারাম হওয়া, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা, জিনার ভয়াবহতা এবং সুদি লেনদেনের অবৈধতা।২- কুরআনে বর্ণিত কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী (الشارحة) সুন্নাহ; যেমন: নামাজের পদ্ধতি বর্ণনা করা, প্রতিটি ফরজ নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করা এবং জাকাতের নিসাব ও যে সকল সম্পদে জাকাত ফরজ হয় তা বর্ণনা করা... ইত্যাদি।৩- স্বতন্ত্র বিধান প্রণয়নকারী (المشرعة) সুন্নাহ; যেমন: সদকাতুল ফিতর ফরজ করা, গৃহপালিত গাধা হারাম করা, মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধ করা, কোনো নারীকে তার ফুফু অথবা খালার সাথে একত্রে বিবাহে রাখা হারাম করা, বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কের (القرابة الرضاعية) কারণেও তা হারাম হওয়া এবং কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বলা বন্ধ রাখা হারাম করা। উম্মতের আলেমগণ, যাঁদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, তাঁদের মাঝে এসব বিষয় ঐকমত্যপূর্ণ (اتفاق)। স্বতন্ত্র বিধান প্রণয়নকারী সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো মুরতাদের শাস্তি নির্ধারণ করা; আর তা হলো মৃত্যুদণ্ড, যার ব্যাপারে ফকিহ (الفقهاء) বা আইনবিদগণের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।সুতরাং সুন্নাহ হলো মৌলিক আইনি ভাষ্যের ব্যাখ্যামূলক টীকা স্বরূপ, যেমনটা বর্তমানে আইনজ্ঞদের মাঝে পরিচিত; তবে সুন্নাহ ও তার ব্যাখ্যার মাঝে এবং আইন ও তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাঝে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। সুন্নাহ আইনের ব্যাখ্যামূলক টীকা স্বরূপ—এ কথাটি আমরা কেবল বিষয়টি স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলেছি, সব দিক থেকে সামঞ্জস্য বুঝাতে নয়।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولسنا ندري ايجهل منكرو حد الردة الوارد في السنة الصحيحة هذه الصلة بين الكتاب العزيز وبين السنة الطاهرة أم هم يتجاهلونها عمداً؟هل خلا القرآن تماماً من الإشارة إلى عقوبة المرتد؟جارينا فيما تقدم منكري حد الردة في أن القرآن يخلو تماماً من الإشارة إلى عقوبة المرتد الدنيوية، والتي اتفق الفقهاء على أنها القتل.ونقول هنا إن في القرآن الكريم آية حملها بعض المفسرين على مقاتلة المرتدين ما لم يتوبوا ويسلموا وهذه الآية هي قوله تعالى:{قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُون … } الفتح: (16) .في المراد من "قوم أولى بأس شديد أكثر من أربعة وجوه، منا أنهم بنو حنيفة الذين ارتدوا في أخريات حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهم أهل اليمامة قوم مسيلمة الكذاب.إذن فالقرآن لم يخل تماماً من النص على أن عقوبة المرتد هي المقاتلة والقتل. وبهذا يندفع ما تمسك به منكرو السنة حد الردة من أن القرآن لم يحدد عقوبة دنيوية عاجلة للمرتدين سوى حبوط أعمالهم في الدنيا، مع توعدهم بالمصير الأليم يوم القيامة. نقول هذا لا لنرتب عليه تأسيس
আমরা জানি না যে, সহিহ (صحيحة) সুন্নাহতে বর্ণিত মুরতাদের শাস্তির বিধান এবং মহাগ্রন্থ কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর মধ্যকার এই সম্পর্ক সম্পর্কে মুরতাদের শাস্তির বিধান অস্বীকারকারীরা কি অজ্ঞ, নাকি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি এড়িয়ে যাচ্ছে?
কুরআন কি মুরতাদের শাস্তির ইঙ্গিত থেকে সম্পূর্ণ খালি?
আমরা ইতিপূর্বে মুরতাদের শাস্তির বিধান অস্বীকারকারীদের এই বিষয়ে ছাড় দিয়েছি যে, কুরআন মুরতাদের পার্থিব শাস্তি সম্পর্কে সরাসরি ইঙ্গিত প্রদান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, যে শাস্তির ব্যাপারে ফকিহগণ একমত হয়েছেন যে তা হলো মৃত্যুদণ্ড।
আমরা এখানে বলছি যে, কুরআন মজিদে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা অনেক মুফাসসির মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন যতক্ষণ না তারা তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করে। আর এই আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী:
{পিছনে ফেলে রাখা বেদুইনদের বলে দাও: অচিরেই তোমাদেরকে এক অতি শক্তিশালী যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে আহ্বান জানানো হবে; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে … } আল-ফাতহ: (১৬)।
"অতি শক্তিশালী যোদ্ধা জাতি" বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে চারটিরও বেশি অভিমত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো— তারা বনু হানিফা গোত্র, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের শেষ দিকে ধর্মত্যাগী হয়েছিল। তারা ছিল ইয়ামামার অধিবাসী এবং চরম মিথ্যাবাদী (الكذاب) মুসায়লিমার কওম।
সুতরাং কুরআন মুরতাদের শাস্তি যে যুদ্ধ ও হত্যা—এ সংক্রান্ত বর্ণনা থেকে সম্পূর্ণ খালি নয়। এর মাধ্যমে সুন্নাহ ও মুরতাদের শাস্তির বিধান অস্বীকারকারীদের সেই যুক্তি খণ্ডন হয়ে যায় যেখানে তারা দাবি করে যে, কুরআন মুরতাদদের জন্য ইহকালে তাদের আমলসমূহ নষ্ট হওয়া এবং পরকালে যন্ত্রণাদায়ক পরিণতির হুমকি ছাড়া আর কোনো তাৎক্ষণিক পার্থিব শাস্তি নির্ধারণ করেনি। আমরা এটি কোনো ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে বলছি না...
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حد الردة، إذ يكيفينا تحديدها في السنة القولية والعملية، وإنما نقوله في مواجهة منكري هذا الحد استناداً إلى أن القرآن لم يشر إليه لا من قريب ولا من بعيد.* * *
ধর্মত্যাগের দণ্ডবিধি (حد الردة); কারণ বাচনিক (قولية) ও ব্যবহারিক (عملية) সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে এর নির্ধারণই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা মূলত এই দণ্ডবিধি (حد) অস্বীকারকারীদের মোকাবিলায় কথাটি বলছি, যারা এই যুক্তিতে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, কুরআন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর প্রতি কোনো ইঙ্গিত প্রদান করেনি।* * *
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشبهة الثانية دعوى التناقض بين الكتاب والسنةادعى منكرو حد الردة أن التسليم بأن عقوبة المرتد هي القتل يؤدي إلى وقوع تناقض تناقض شديد بين الكتاب والسنة وأنهم - أي منكري حد الردة - لا يعتمدون إلا ما كان موافقاً للقرآن من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.وبنوا على ذلك أن الحديث: "من بدَّل دينه فاقتلوه" يتناقض مع قوله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} البقرة: (256)ولذلك فإنهم يردون هذا الحديث ولا يقبلونه دفعاً لما توهموه من تناقض بينه وبين القرآن الحكيم.ولو أن منكري حد الردة تريثوا قليلاً وفحصوا الموضوع فحصاً دقيقاً لما جرأوا على القول بالتناقض، ولما ورطوا أنفسهم في هذه المزالق الحرجة، ولكنهم القوا القول على عواهنه فكانوا كحابط ليل لا يميز بين الحطب والثعابين. كان عليهم أن يرجعوا إلى كتب أصول الفقه، ويقفوا على ما أضنى فيه الأصوليون أنفسهم من درس أدلة الأحكام من الكتاب والسنة معاً، وتحديدهم - بكل وعي ودقة - لمعاني المفردات والتراكيب، ودور السنة في تبيين المراد من آيات الأحكام.
দ্বিতীয় সংশয়: কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে বৈপরীত্যের (تناقض) দাবিধর্মত্যাগের শাস্তির (حد الردة) অস্বীকারকারীরা দাবি করেন যে, মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড—এটি মেনে নিলে কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে এক চরম বৈপরীত্য (تناقض) সৃষ্টি হয়। তারা—অর্থাৎ ধর্মত্যাগের শাস্তির অস্বীকারকারীরা—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর মধ্য থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করেন যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এর ওপর ভিত্তি করে তারা মনে করেন যে, "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো" এই হাদিসটি মহান আল্লাহর বাণী: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬)-এর সাথে সাংঘর্ষিক (متناقض)।এই কারণে তারা কুরআনুল কারিমের সাথে এই হাদিসের একটি কল্পিত বৈপরীত্য (تناقض) নিরসনের অজুহাতে হাদিসটি প্রত্যাখ্যান (رد) করেন এবং তা গ্রহণ করেন না।ধর্মত্যাগের শাস্তির (حد الردة) অস্বীকারকারীরা যদি কিছুটা ধৈর্য ধরতেন এবং বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করতেন, তবে তারা বৈপরীত্যের (تناقض) কথা বলার দুঃসাহস দেখাতেন না এবং নিজেদেরকে এমন সংকটময় পিচ্ছিল পথে বিপন্ন করতেন না। কিন্তু তারা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই মন্তব্য করেছেন, ফলে তাদের অবস্থা হয়েছে রাতের আঁধারে লাকড়ি সংগ্রহকারীর মতো, যে জ্বালানি কাঠ আর সাপের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তাদের উচিত ছিল উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির শরণাপন্ন হওয়া এবং উসুলবিদগণ কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের দলিলসমূহ (أدلة الأحكام) পর্যালোচনায় যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন সে সম্পর্কে অবগত হওয়া। সেই সাথে শব্দ ও বাক্যের অর্থ এবং আহকামের আয়াতসমূহের (آيات الأحكام) উদ্দেশ্য বর্ণনায় সুন্নাহর ভূমিকা অত্যন্ত সচেতনতা ও নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করার বিষয়টিও তাদের অনুধাবন করা উচিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فالسنة الشارحة لها وجوه كثيرة في صلتها بآيات الأحكام ومن تلك الوجوه أن يكون النص القرآني مطلقاً فتأتي السنة بتقييده.ومن أمثلة تقييد السنة لمطلق القرآن قوله تعالى في تنفيد وصية الميت: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا} (النساء: 12) فقيدت السنة عموم الوصية هنا تقييدين:أولهما: كونها لا تتعدى ثلث التركة.والثاني: أن لا تكون لوارث.كما قيدت قطع اليد في السرقة بأن يكون من الرسغ، وكان القطع قد جاء عاماً في قوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} (المائدة: 38) .ولولا تحديد السنة للقطع هنا من الرسغ لجاز أن يكون القطع من الذراع أو الكتف.الوجه الثاني: أن يكون النص القرآني مجملاً فتأتي السنة بتفصيله، وهذا كثير، ومنه تفصيل كيفيات الصلاة والزكاة ومناسك الحج. ففي الصلاة قال صلى الله عليه وسلم: "صلوا كما رأيتموني أصلي".وفي الحج قال: "خذوا عني مناسككم".
বিধান সম্বলিত আয়াতসমূহের সাথে ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহর সম্পর্কের অনেকগুলো দিক রয়েছে। তন্মধ্যে একটি দিক হলো কুরআনের মূল পাঠ (نص) নিঃশর্ত (مطلق) হওয়া এবং সুন্নাহর মাধ্যমে তা সীমাবদ্ধ করা (تقييد)।কুরআনের নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে সুন্নাহর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার (تقييد) একটি উদাহরণ হলো মৃত ব্যক্তির অসিয়ত কার্যকর করার বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: "সে যা অসিয়ত করে তা প্রদানের পর" (আন-নিসা: ১২)। এখানে সুন্নাহ অসিয়তের ব্যাপকতাকে দুটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ (تقييد) করেছে:প্রথমটি হলো: অসিয়ত মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অধিক হবে না।দ্বিতীয়টি হলো: কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না।অনুরূপভাবে চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটার বিধানকে কবজি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (تقييد) করা হয়েছে, অথচ মহান আল্লাহর বাণী: "চোর ও চোরনী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও" (আল-মায়িদাহ: ৩৮)-এ কাটার বিষয়টি সাধারণ (عام) ভাবে বর্ণিত হয়েছিল।সুন্নাহর মাধ্যমে যদি কবজি পর্যন্ত কাটার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা না হতো, তবে বাহু বা কাঁধ থেকে কাটার অবকাশ থাকত।দ্বিতীয় দিকটি হলো: কুরআনের মূল পাঠ (نص) সংক্ষিপ্ত (مجمل) হওয়া এবং সুন্নাহর মাধ্যমে তার বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل) প্রদান করা। এর উদাহরণ অনেক, যেমন—নামাজ, জাকাত ও হজের নিয়মাবলীর বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل)। নামাজের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখছ।"আর হজের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলী গ্রহণ করো।"
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والوجه الثالث: أن يكون النص القرآني عاماً فتأتي السنة بتخصيصه.ومن ذلك قوله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ....} (النساء: 11) .فالآية عامة في كل أب يموت، وفي كل ولد يكون حياً بعد موت أبيه، فجاءت السنة وخصصت الأب بأن يكون غير نبي في قوله صلى الله عليه وسلم: "نحن معاشر الأنبياء لا نورث، ما تركناه صدقة".وخصصت الولد بأن يكون غير قاتل لمورثه في قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يرث القاتل".وكذلك خصصت السنة قوله تعالى: {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ … } (النساء: 24) بقوله صلى الله عليه وسلم: "يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب".فقد جاء قوله تعالى: {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ} بعد ذكر المحرمات من النساء، ومنهن الأمهات والأخوات من الرضاعة. دون ابنة الأخ من الرضاعة مثلاً، وجاء قوله صلى الله عليه وسلم: "يحرم من الرضاع ما يحرم النسب" مخصصاً للعموم في {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ} وهو يقتضي حلية نكاح كل من لم تذكر في آية المحرمات.كما خصصت السنة هذا العموم مرة أخرى يتحريم الجمع في النكاح
তৃতীয় দিকটি হলো: কুরআনের বক্তব্য ব্যাপক (عام) হওয়া এবং সুন্নাহ কর্তৃক তা সুনির্দিষ্ট (تخصيص) হওয়া।এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান....} (সূরা আন-নিসা: ১১)।এই আয়াতটি প্রত্যেক মৃত পিতা এবং তার মৃত্যুর পর জীবিত প্রত্যেক সন্তানের ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام)। তবে সুন্নাহ এসে পিতাকে নবী না হওয়ার শর্তে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে: "আমরা নবী সম্প্রদায়, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না; আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা।"অনুরূপভাবে, সুন্নাহ সন্তানকে তার উত্তরাধিকার প্রদানকারীর হত্যাকারী না হওয়ার শর্তে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে না।"একইভাবে সুন্নাহ মহান আল্লাহর বাণী—{এতদ্ব্যতীত তোমাদের জন্য অবশিষ্টদের হালাল করা হয়েছে … } (সূরা আন-নিসা: ২৪)—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছে: "বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়।"বস্তুত মহান আল্লাহর বাণী {এতদ্ব্যতীত তোমাদের জন্য অবশিষ্টদের হালাল করা হয়েছে} এসেছে বিবাহে নিষিদ্ধ নারীদের আলোচনার পর, যাদের মধ্যে দুগ্ধমাতা ও দুগ্ধবোন অন্তর্ভুক্ত। সেখানে উদাহরণস্বরূপ দুগ্ধসম্পর্কীয় ভ্রাতুষ্পুত্রীর কথা নেই; এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়"—পূর্বোক্ত বাণীর ব্যাপকতাকে (عموم) সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছে। অন্যথায় আয়াতের দাবি অনুযায়ী নিষিদ্ধ নারীদের তালিকায় যাদের উল্লেখ নেই তাদের সবার সাথে বিবাহ বৈধ হতো।অনুরূপভাবে সুন্নাহ এই ব্যাপকতাকে (عموم) পুনরায় সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছে বিবাহের ক্ষেত্রে (নির্দিষ্ট আত্মীয়দের) একত্রে জমা করাকে হারাম করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بين البنت وعمتها، وبين البنت وخالتها.ومن تخصيص السنة لعام القرآن تخصيص المرتد بإيجاب قتله إذا لم يتب من العموم الوارد في قوله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} فدلالة الآية عامة، وقد خصصتها السنة بغير المرتد.هذا هو فقه هذه المسألة الذي غاب عن منكري جد الردة حيث توهموا أن بين الحديث وبين الآية تناقضاً، وليس بينهما أدنى تناقض كما رأيت. وكان دقة المسلك بين الآية والحديث عَمَّتْ فوقعوا فيما وقعوا فيه.الانسجام التام بين السنة والكتاب:وكل ما أضافته السنة إلى القرآن تفصيلاً وتقييداً، وتخصيصاً قائم على الإنسجام التام بين الكتاب والسنة خذ إليك مثلاً تحريم الجمع في النكاح بين البنت وعمتها أو خالتها. هذا التحريم مستند إلى القياس على ما ورد في القرآن نفسه، وهو قوله تعالى: {وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ} (النساء: 23) .فقد حرَّم القرآن الجمع بين نكاح الأختين في وقت واحد وعلة هذا الحكم هو حدوث العداوة بين الأختين الضرتين كما ورد الحديث
মেয়ে ও তার ফুফু এবং মেয়ে ও তার খালার মধ্যে।কুরআনের সাধারণ (عام) বিধানকে সুন্নাহর মাধ্যমে বিশেষায়িত (تخصيص) করার একটি উদাহরণ হলো মুরতাদের তাওবাহ না করার ক্ষেত্রে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়া, যা মহান আল্লাহর বাণী: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই}-এর সাধারণ (عموم) অর্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই আয়াতের নির্দেশনাটি সাধারণ (عام), তবে সুন্নাহ একে মুরতাদ ব্যতীত অন্যদের জন্য বিশেষায়িত (تخصيص) করেছে।এটিই হলো এই মাসআলার ফিকহ (فقه), যা মুরতাদের হদ (حد) অস্বীকারকারীদের দৃষ্টিগোচর হয়নি; ফলে তারা হাদিস ও আয়াতের মধ্যে বৈপরীত্য (تناقض) রয়েছে বলে ধারণা করেছে। অথচ আপনি যেমনটি দেখলেন, এ দুটির মধ্যে সামান্যতম বৈপরীত্য (تناقض) নেই। মূলত আয়াত ও হাদিসের মধ্যকার সূক্ষ্ম যোগসূত্রটি তাদের দৃষ্টির আড়ালে ছিল বলেই তারা বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে।সুন্নাহ ও কিতাবুল্লাহর মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য:সুন্নাহ কুরআনের সাথে বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل), শর্তারোপ (تقييد) এবং বিশেষায়ন (تخصيص) হিসেবে যা কিছু যোগ করেছে, তা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর মধ্যকার পূর্ণ সামঞ্জস্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। উদাহরণস্বরূপ, বিবাহে কোনো মেয়ে এবং তার ফুফু অথবা খালার মধ্যে একত্র করার হারাম হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করুন। এই হারামের বিধানটি কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس)-এর ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে)} (আন-নিসা: ২৩)।কুরআন একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে একত্র করা হারাম করেছে এবং এই বিধানের ইল্লত বা কারণ (علة) হলো সপত্নী হিসেবে দুই বোনের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হওয়া, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الذي سنذكره. وهذه العلة موجودة بين البنت وعمتها أو خالتها لو جمع بينهما في الزواج رجل واحد، لذلك حرَّم النبي هذا النكاح فقال: "لا تنكح المرأة على عمتها ولا على خالتها ولا على أبنة أخيها، ولا على أبنة أختها؛ فإنكم إن فعلتم قطعتم أرحامكم".وهكذا كل ما اضافته السنة إلى الكتاب، فإن فقهاءنا الأجلاء التمسوا له أسباباً وأصولاً تربطه بكتاب الله العزيز برباط وثيق.والخلاصة فإن منكري حد الردة لا سند لهم في الآية الكريمة {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} لإن السنة حين حددت عقوبة المرتد قتلاً لم تخرج عن صلتها بالقرآن أبداً حتى لو لم يكن في القرآن قوله تعالى: {تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ} وقد مر المفسرين فيه. وأن المراد منهم المرتدون.* * *
যা আমরা উল্লেখ করব। এই কারণ (علة) একজন মেয়ে এবং তার ফুফু অথবা তার খালার মাঝে বিদ্যমান থাকে যদি কোনো পুরুষ বিবাহের মাধ্যমে তাদের উভয়কে একত্র করে। এইজন্য নবী (সা.) এই বিবাহ হারাম করেছেন এবং বলেছেন: "কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা তার খালা, অথবা তার ভাইঝি কিংবা তার ভাগ্নির সাথে একত্রে বিবাহ করো না; কেননা তোমরা যদি তা করো, তবে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন (أرحام) ছিন্ন করলে।"একইভাবে সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর সাথে যা কিছুই অতিরিক্ত যোগ করেছে, আমাদের বিজ্ঞ ফকিহগণ (فقهاء) সেগুলোর জন্য এমন সব কারণ ও মূলনীতি (أصول) অন্বেষণ করেছেন যা সেগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে এক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করে।সারকথা হলো, মুরতাদ হওয়ার শাস্তির (حد الردة) অস্বীকারকারীদের জন্য "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" এই সম্মানিত আয়াতে কোনো ভিত্তি বা সনদ (سند) নেই। কারণ সুন্নাহ যখন মুরতাদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করেছে, তখন তা কুরআনের সাথে তার সম্পর্ক থেকে মোটেও বিচ্যুত হয়নি, এমনকি যদি কুরআনে মহান আল্লাহর এই বাণী: "তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে" নাও থাকত। মুফাসসিরগণ (مفسرين) এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন যে, এখানে তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুরতাদগণ (مرتدون)।* * *
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুল ইরতিদাদি আনিল দ্বীন বাইনাল আদিল্লাতিশ শারইয়্যাহ ওয়া শুবুহাতিল মুনকিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الشبهة الثالثة دعوى عدم صلاحية الحديث النبويحد الردة ثبت عند فقهاء الأمة بأدلة شرعية قولية وعملية بيد أن منكري حد الردة طعنوا في صلاحية تلك الأدلة على تحديد عقوبة المرتد الدنيوية، وهي القتل.ونورد - هنا - طعونهم في الأدلة القولية، وهما حديثان صحيحان أحدهما قوله صلى الله عليه وسلم: "من بدَّل دينه فاقتلوه".والثاني: "لا يحل دم امرئ مسلم إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة".طعونهم في الحديث الأول:وقد طعنوا في الحديث الأول فقالوا:1- إنه حديث آحاد وأحاديث الآحاد لا تثبت بها الحدود.2- إنه يتناقض مع قوله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} .3- إن الحنفية قالوا لا يمكن قبول هذا الحديث على عمومه؛ لإن المرأة إذا ارتدت لا تقتل.
তৃতীয় সংশয়: নববী হাদিসের অযোগ্যতার দাবিধর্মত্যাগের শাস্তি (حد الردة) উম্মাহর ফকিহগণের নিকট বাচনিক ও ব্যবহারিক শরয়ি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। তবে ধর্মত্যাগের শাস্তি (حد الردة) অস্বীকারকারীরা মুরতাদের পার্থিব শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঐ সকল দলিলের যোগ্যতার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন।আমরা এখানে বাচনিক দলিলসমূহের ব্যাপারে তাদের আপত্তিগুলো উল্লেখ করছি; আর তা হলো দুটি সহিহ (صحيح) হাদিস। তার একটি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।"দ্বিতীয়টি হলো: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (প্রাণহানি) তিনটি কারণ ছাড়া বৈধ নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ এবং যে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"প্রথম হাদিসের ব্যাপারে তাদের আপত্তি:তারা প্রথম হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি তুলে বলেছে:১- এটি একটি একক সূত্রীয় (آحاد) হাদিস এবং একক সূত্রীয় (آحاد) হাদিসের মাধ্যমে কোনো শাস্তি (حدود) সাব্যস্ত হয় না।২- এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} এর সাথে সাংঘর্ষিক।৩- হানাফিগণ বলেছেন যে, এই হাদিসটিকে তার ব্যাপক অর্থে (عموم) গ্রহণ করা সম্ভব নয়; কারণ কোনো নারী ধর্মত্যাগ করলে তাকে হত্যা করা হয় না।