(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
التمهيد في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: التمهيد في أصول الفقه
المؤلف: محفوظ بن أحمد بن الحسن أَبُو الخطاب الكَلْوَذَاني الحنبلي (432 - 510 هـ)
دراسة وتحقيق: جـ 1، 2 (د مفيد محمد أبو عمشة)، جـ 3، 4 (د محمد بن علي بن إبراهيم)
الناشر: مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي - جامعة أم القرى، دار المدني للطباعة والنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1985 م
عدد الأجزاء: 4
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 محرم 1437
আত-তামহিদ ফি উসুলিল ফিকহ
বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: আত-তামহিদ ফি উসুলিল ফিকহ
লেখক: মাহফুজ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াজানি আল-হাম্বলি (৪৩২ - ৫১০ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: খণ্ড ১، ২ (ড. মুফিদ মুহাম্মদ আবু আমশা)، খণ্ড ৩، ৪ (ড. মুহাম্মদ বিন আলি বিন ইবরাহিম)
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্র - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, দার আল-মাদানি প্রিন্টিং, পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নাসসাখ দল (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টারের) তত্ত্বাবধানে
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ মহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১)
উপক্রমণিকা
উসূলুল ফিকহ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن (يا كريم)
1 - قال الشيخ الإمام العالم (العلامة)، أبو الخطاب، محفوظ بن أحمد الكلوذاني رحمه الله (ورضي عنه):
ينبغي أن يعلم ما الفقه، وما أصوله حتى يتكلم فيه، فإن الإنسان لا يتكلم في شيء حتى يعرفه.
2 - أما الفقه فله معنيان، معنى في الشرع، ومعنى في اللغة.
فأما معناه في اللغة: فهو الفهم والمعرفة، يقال: ((فقهت)) كلامك إذا عرفته وفهمته، ويقال: فقهت الكلام أي عرفته وفهمته وعلمته، كل ذلك بمثابة واحدة، وكذلك قوله تعالى: " وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ ". أي لا تعرفون ولا تفهمون، فهذا معناه في اللغة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন (হে দয়ালু)।
১ - শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম (আল্লামা), আবু আল-খাত্তাব মাহফুজ ইবনে আহমাদ আল-কালওয়াযানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:
ফিকহ কী এবং এর মূলনীতিসমূহ কী তা জানা প্রয়োজন যাতে এ বিষয়ে আলোচনা করা যায়, কেননা মানুষ কোনো বিষয়ে ততক্ষণ কথা বলে না যতক্ষণ না সে তা অবগত হয়।
২ - ফিকহ শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে: একটি শরয়ি অর্থ এবং অন্যটি আভিধানিক অর্থ।
আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে: তা হলো অনুধাবন ও জ্ঞান। বলা হয়: "আমি তোমার কথা ফিকহ করেছি" যখন তুমি তা অবগত হয়েছ এবং বুঝতে পেরেছ। বলা হয়: আমি কথাটি ফিকহ করেছি অর্থাৎ আমি তা চিনেছি, বুঝেছি এবং জেনেছি, এ সবগুলোই একই অর্থবোধক। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করে না, কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা অনুধাবন করতে পারো না।" অর্থাৎ তোমরা জানো না এবং বোঝো না। এটিই হলো এর আভিধানিক অর্থ।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وأما معناه في الشرع: فهو العلم بأحكام أفعال المكلفين الشرعية دون العقلية.
مثل الحلال، والحرام، والحظر، والإباحة، وصحة العقد، وفساده، وما أشبه ذلك.
فأما قولنا: "العلم بأحكام أفعال"، فنريد به ما علمناه بالشرع إما بيقين، أو غالب ظن.
وأما قولنا: "بأحكام أفعال"، فنريد به الأحكام دون الأفعال لأنه لو كانت الأفعال هي الأحكام لما أضيفت لأن الشيء لا يضاف إلى نفسه.
3 - আর শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মসমূহের শরয়ি বিধানাবলির জ্ঞান, আকলি বা বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
যেমন হালাল, হারাম, নিষিদ্ধতা, বৈধতা, চুক্তির শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
আর আমাদের কথা: "কর্মসমূহের বিধানাবলির জ্ঞান" দ্বারা আমরা সেই জ্ঞানকে উদ্দেশ্য নিয়েছি যা আমরা শরিয়তের মাধ্যমে লাভ করেছি, চাই তা নিশ্চিত হোক কিংবা প্রবল ধারণাপ্রসূত।
আর আমাদের কথা: "কর্মসমূহের বিধানাবলির" দ্বারা আমরা বিধানসমূহকে বুঝিয়েছি, কর্মসমূহকে নয়; কারণ কর্মগুলোই যদি বিধান হতো তবে তা সম্বন্ধযুক্ত হতো না, কেননা কোনো বস্তু স্বয়ং নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وأما قولنا: "الشرعية"، فنريد به: ما استفدناه بالشرع إما بإقراره على ما كان عليه قبل الشرع، أو بنقله عن ذلك الأصل إلى غيره، مثل الدية كانت قبل الشرع مائة منا لإبل، فلما جاء الشرع أقرها على ذلك، ومثل الظهار والإيلاء كانا طلاقاً في الجاهلية فنقلهما إلى غيره، أما الظهار فجعله تحريماً، والإيلاء جعله يميناً.
وأما الحلال والحرام والحظر والإباحة وصحة العقد وفساده وما أشبه ذلك فيأتي الكلام فيه إن شاء الله تعالى.
4 - وأما أصول الفقه فله معنيان: معنى في العرف، ومعنى في اللغة.
فأما معناه في اللغة: فهو ما يبنى عليه الفقه وما يتفرع منه.
আর আমাদের বক্তব্য: "শরয়ি", এর দ্বারা আমরা উদ্দেশ্য গ্রহণ করি: যা আমরা শরীয়তের মাধ্যমে লাভ করেছি, হয় তা শরীয়ত আসার পূর্বের অবস্থার ওপর বহাল রাখার মাধ্যমে, অথবা সেই মূল ভিত্তি থেকে অন্য দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ রক্তপণ (দিয়ত), যা শরীয়ত পূর্ববর্তী সময়ে ছিল একশটি উট; যখন শরীয়ত এল, তখন সেটিকে সেই অবস্থাতেই বহাল রাখল। আর যিহার ও ঈলা-র উদাহরণ, যা জাহেলিয়াত যুগে তালাক হিসেবে গণ্য হতো, অতঃপর শরীয়ত এগুলোকে অন্য বিধানে স্থানান্তরিত করল। যিহারকে সে হারাম হিসেবে সাব্যস্ত করল এবং ঈলাকে কসম হিসেবে নির্ধারণ করল।
আর হালাল, হারাম, নিষেধাজ্ঞা, বৈধতা, চুক্তির শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।
৪ - আর উসুলুল ফিকহ-এর দুটি অর্থ রয়েছে: একটি পারিভাষিক অর্থ এবং অপরটি শাব্দিক অর্থ।
শাব্দিক অর্থের ক্ষেত্রে তা হলো: যার ওপর ফিকহ নির্মিত হয় এবং যা থেকে এর শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأما معناه في العرف بين الفقهاء فهو: الأدلة والطرق ومراتبها وكيفية الاستدلال بها.
5 - فصل: أما الأدلة فهي أصل ومعقول أصل واستصحاب حال.
فأما الأصل: فهو الكتاب والسنة والإجماع وقول واحد من الصحابة (في) إحدى الروايتين عن أحمد.
وأما (معقول) أصل فهو: لحن الخطاب وفحوى الخطاب ومعنى الخطاب ودليل الخطاب.
وأما استصحاب حال، فاستصحاب حال العقل واستصحاب حال الإجماع.
আর ফকিহগণের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: দলিলসমূহ, পদ্ধতিসমূহ, সেগুলোর স্তরবিন্যাস এবং সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি।
৫ - পরিচ্ছেদ: আর দলিলসমূহ হলো—মূল, মূলের যুক্তিগ্রাহ্য অর্থ এবং পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা।
আর মূল হলো: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী কোনো একজন সাহাবীর বক্তব্য।
আর মূলের যুক্তিগ্রাহ্য অর্থ হলো: লাহ্নুল খিতাব (কথার ইঙ্গিত), ফাহ্ওয়াল খিতাব (কথার মর্ম), মা’নাল খিতাব (কথার অর্থ) এবং দলীলুল খিতাব (কথার প্রমাণ)।
আর পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা হলো: বিবেকের অবস্থার ধারাবাহিকতা এবং ইজমার অবস্থার ধারাবাহিকতা।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - فصل: فأما الكتاب فدلالته من أربعة أوجه: نص، وظاهر، وعموم، ومجمل.
وأما السنة فدلالتها من ثلاثة أوجه: قول، وفعل، وإقرار عليهما.
وأما الإجماع فعلى ضربين: عام، وخاص.
وأما قول واحد من الصحابة، فإن قلنا إنه حجة، فدلالته دلالة السنة، وإن قلنا إنه ليس بحجة فيسقط.
7 - فصل: فأما النص فصفته أن يكون صريحاً فيما ورد فيه مثل قوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ} فهذا نص في أن الزاني يجب عليه الحد، وليس بنص في صفة الزاني هل يكون بكراً أو ثيباً، ومثل قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ 1 ب/ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} وهذا نص في إيجاب العدة وليس بنص في صفة الأقراء هل هي الحيض أو الأطهار.
وحكم هذا أن يجب المصير إليه ولا يجوز العدول عنه إلا أن يرد ما ينسخه.
8 - فصل: وأما الظاهر فهو: ما احتمل أمرين هو في أحدهما أظهر من الآخر.
6 - পরিচ্ছেদ: কিতাব বা কুরআনের দালালাত বা প্রমাণ নির্দেশক পদ্ধতি চার প্রকার: নাস (সুস্পষ্ট পাঠ), জহির (প্রকাশ্য অর্থ), উমুম (সাধারণ) এবং মুজমাল (সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট)।
আর সুন্নাহর দালালাত তিন প্রকার: কথা, কাজ এবং এ দুটির ওপর মৌনসম্মতি।
আর ইজমা বা ঐকমত্য দুই প্রকার: সাধারণ এবং বিশেষ।
আর কোনো একজন সাহাবীর উক্তির ব্যাপারে কথা হলো, আমরা যদি তাকে দলিল হিসেবে গণ্য করি, তবে তার দালালাত সুন্নাহর দালালাতের মতো হবে। আর যদি আমরা তাকে দলিল হিসেবে গণ্য না করি, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
7 - পরিচ্ছেদ: ‘নাস’-এর বৈশিষ্ট্য হলো যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে তা সুস্পষ্ট হওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশটি করে বেত্রাঘাত করো}। এটি ব্যভিচারীর ওপর হদ বা দণ্ডবিধি ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে ‘নাস’ বা সুস্পষ্ট পাঠ; তবে ব্যভিচারীর প্রকৃতি—সে অবিবাহিত নাকি বিবাহিত—সে বিষয়ে এটি ‘নাস’ নয়। তদ্রূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ‘কুরু’ পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে}। এটি ইদ্দত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে ‘নাস’ বা সুস্পষ্ট পাঠ; কিন্তু ‘কুরু’-এর প্রকৃতির বর্ণনায়—তা ঋতুস্রাব নাকি পবিত্রতা—সে বিষয়ে এটি ‘নাস’ নয়।
এর বিধান হলো, এর ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং এটি বর্জন করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না এমন কিছু আসে যা একে রহিত করে দেয়।
8 - পরিচ্ছেদ: আর ‘জহির’ হলো যা দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে এবং যার একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর প্রকাশ্য।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهو على ضربين: ظاهر بالوضع، وظاهر بالدليل.
أما الظاهر بالوضع فهو على ضربين: وضع بالشرع ووضع باللغة.
فأما الظاهر بوضع الشرع فهو: مثل الصلاة والصيام فإن الصيام هو إمساك مخصوص في زمان مخصوص، وكذلك الصلاة.
وأما وضع اللغة فهو: يمثل مثل الأمر يحتمل الإيجاب ويحتمل الندب والاستحباب إلا أنه في الإيجاب أظهر، ومثل النهي يحتمل التحريم ويحتمل الكراهة، إلا أنه في التحريم أظهر.
وحكم هذا أن يجب المصير إليه، ولا يجوز العدول عنه إلا بدليل.
وأما الظاهر بالدليل: فمثل قوله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ} ومثل قوله عز اسمه {لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ} فإن هذا ظاهره ظاهر الخبر، غير أنا حملناه على الأمر بدليل أنا لو حملناه على ظاهره لأدى أن يكون خبر الله خلاف مُخبره. لأنا نجد الوالدات يرضعن أولادهن أكثر من حولين وأقل من حولين، ونرى المصحف يمسه الطاهر وغير الطاهر فحملنا قوله: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ} أي يجب على الوالدة أن ترضع الولد. وحملنا قوله: {لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ} أي لا يجوز أن يمسه إلا المطهرون.
আর এটি দুই প্রকার: ব্যবহারের মাধ্যমে যা সুস্পষ্ট এবং প্রমাণের মাধ্যমে যা সুস্পষ্ট।
ব্যবহারের মাধ্যমে যা সুস্পষ্ট তা আবার দুই প্রকার: শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত এবং ভাষা কর্তৃক নির্ধারিত।
শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সুস্পষ্ট বিষয়ের উদাহরণ হলো: যেমন সালাত এবং সিয়াম। কেননা সিয়াম হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বিরত থাকা, আর সালাতও তদ্রূপ।
আর ভাষা কর্তৃক নির্ধারিত সুস্পষ্ট বিষয় হলো: যেমন আদেশ (আমর), যা আবশ্যকতা এবং পছন্দনীয়তা বা মুস্তাহাব হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে আবশ্যকতার ক্ষেত্রেই তা অধিক সুস্পষ্ট। আর যেমন নিষেধ (নাহি), যা হারাম হওয়া এবং অপছন্দনীয় বা মাকরুহ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে হারাম হওয়ার ক্ষেত্রেই তা অধিক সুস্পষ্ট।
এর বিধান হলো, এটি অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া তা বর্জন করা বৈধ নয়।
আর প্রমাণের মাধ্যমে যা সুস্পষ্ট তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে} এবং মহান আল্লাহর বাণী {পবিত্রগণ ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করবে না}। এগুলোর বাহ্যিক রূপ হলো সংবাদের মতো, কিন্তু আমরা একে আদেশের অর্থে গ্রহণ করেছি এই প্রমাণের ভিত্তিতে যে, যদি আমরা একে বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করতাম, তবে আল্লাহর সংবাদ বাস্তব পরিস্থিতির বিপরীত হয়ে যেত। কেননা আমরা দেখি যে, মায়েরা তাদের সন্তানদের দুই বছরের বেশি সময় কিংবা কম সময়ও দুধ পান করিয়ে থাকে, এবং আমরা দেখি যে পবিত্র এবং অপবিত্র উভয় ব্যক্তিই কুরআন স্পর্শ করছে। তাই আমরা তাঁর বাণী: {মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে}-এর অর্থ করেছি যে, মায়ের জন্য সন্তানকে দুধ পান করানো ওয়াজিব। আর তাঁর বাণী: {পবিত্রগণ ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করবে না}-এর অর্থ করেছি যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য তা স্পর্শ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
9 - فصل: وأما العموم فهو: كل ما عم اثنين فصاعداً، وكان الأمر به لكل واحد منهما (أمراً) على الآخر.
وألفاظه أربعة: لفظ الجموع كقولك: المسلمين والمجرمين والمشركين وما أشبه ذلك.
ولفظ الجنس كقولك: الرجال والنساء والبقر والدواب وما أشبه ذلك.
واللفظ الثالث: "من" لمن يعقل، و"ما" لما لا يعقل، و"أين" في المكان، و"متى" في الزمان، و"أي" فيهما.
والرابع: لفظ منفرد إذا دخله الألف واللام كقولك: الزاني والسارق، فإن هذا يستغرق الجميع.
وحكم هذا أن يجب المصير إليه، ويحمل على عمومه إلا أن يرد دليل يخصه.
10 - فصل: وأما المجمل فهو: كل لفظ لا يعرف معناه منه، وقيل: لا يعرف معناه من (لفظه)، والأول أصلح، لأنه يرجع إلى لفظه.
৯ - পরিচ্ছেদ: আর সাধারণ শব্দ (আম্ম) হলো: যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যার মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দেশটি সমানভাবে সাব্যস্ত হয়।
এর শব্দাবলি চারটি: বহুবচনবাচক শব্দ; যেমন আপনার বক্তব্য: মুসলিমগণ, অপরাধীগণ, মুশরিকগণ এবং এ জাতীয় শব্দসমূহ।
আর জাতিবাচক শব্দ; যেমন আপনার বক্তব্য: পুরুষগণ, নারীগণ, গাভীসমূহ, চতুষ্পদ জন্তুসমূহ এবং এ জাতীয় শব্দসমূহ।
তৃতীয় প্রকার শব্দ: বুদ্ধিমান সত্তার ক্ষেত্রে ‘মান’ (যে), নির্বোধ বা জড় পদার্থের ক্ষেত্রে ‘মা’ (যা), স্থানের ক্ষেত্রে ‘আইনা’ (কোথায়), সময়ের ক্ষেত্রে ‘মাতা’ (কখন), এবং উভয় ক্ষেত্রে ‘আইয়্যু’ (কোনটি)।
চতুর্থ: একবচনবাচক শব্দ যখন তাতে 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয়; যেমন আপনার কথা: ব্যভিচারী এবং চোর, কারণ এটি সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এর বিধান হলো এর প্রতি ধাবিত হওয়া ওয়াজিব এবং একে তার ব্যাপক অর্থেই গ্রহণ করা হবে, যতক্ষণ না একে নির্দিষ্ট করার মতো কোনো দলিল উপস্থিত হয়।
১০ - পরিচ্ছেদ: আর অস্পষ্ট শব্দ (মুজমাল) হলো: এমন প্রতিটি শব্দ যার অর্থ তা থেকে সরাসরি বোঝা যায় না। কেউ কেউ বলেছেন: যার অর্থ তার শব্দরূপ থেকে জানা যায় না। তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক, কারণ তা শব্দের সত্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهو على ضربين: لا عرف له في الشرع، ولا في اللغة. وهو مثل قوله عز اسمه: {وَآَتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} فإن هذا الحق ليس له عرف في الشرع ولا في اللغة.
وحكم هذا أن لا يجوز المصير إليه حتى يرد ما يفسره.
ومجمل له عرف في اللغة هو مثل الصلاة والزكاة والحج، فإن الصلاة لها معنى في اللغة وهو الدعاء، والدليل عليه قوله تعالى: {وَآَتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ}. أي ادع لهم.
وكذلك قال الشاعر وهو الأعشى 2/أ:
تقول بنتي وقد قربت مرتحلا
… يا رب جنب أبي الأوصال والوجعا
عليك مثل الذي صليت (فاغتمضي)
… نوماً فإن لجنب المرء مضطجعا
এটি দুই প্রকার: যার শরিয়ত বা ভাষাতে কোনো সুপরিচিত অর্থ নেই। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {আর ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করো}। কারণ এই 'হক'-এর কোনো সুপরিচিত অর্থ শরিয়ত বা ভাষাতে নেই।
আর এর বিধান হলো যে, এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী কোনো বর্ণনা না আসা পর্যন্ত এর ওপর আমল করা বৈধ নয়।
আর এমন মুজমাল (অস্পষ্ট শব্দ) যার আভিধানিক পরিচিতি রয়েছে, তা হলো সালাত, জাকাত এবং হজের মতো। কেননা আভিধানিকভাবে সালাতের একটি অর্থ রয়েছে, আর তা হলো দোয়া। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করো}। অর্থাৎ: তুমি তাদের জন্য দোয়া করো।
অনুরূপভাবে কবি আল-আশা বলেছেন ২/আ:
আমার কন্যা বলছিল যখন আমি আমার প্রস্থানের বাহনটি কাছে আনলাম
এই বলে যে হে আমার প্রতিপালক! আমার পিতাকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রোগ ও ব্যাধি থেকে দূরে রাখুন।
তোমার ওপরও বর্ষিত হোক তেমন দোয়া যেমনটি তুমি করেছ (অতএব চোখ বুজে নাও) ঘুমের আবেশে, কেননা মানুষের পার্শ্বদেশের জন্য রয়েছে বিশ্রামস্থল।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأما الزكاة فمعناها في اللغة: الزيادة والنماء، يقال زكا المال: إذا نما، وكذلك الحج معناه في اللغة: القصد، يقال: أحج إليكم كل عام: أي أقصد.
فحكم هذا أن لا يصار إليه حتى يرد دليل يفسره. وقد اختلف أصحاب الشافعي فمنهم من قال مثل قولنا، ومنهم من قال: هو عام في جميع الأشياء، وقال أحمد رحمه الله في كتاب طاعة الرسول: لا يجوز العدول إلى هذا حتى يرد ما يفسره.
11 - باب السنة: قد بينا أن دلالتها من ثلاثة أوجه: قول وفعل وإقرار عليهما.
فأما القول فعلى ضربين: قول خرج منه ابتداء، وقول خرج منه على سبب.
فأما القول الذي خرج منه ابتداء فدلالته كدلالة الكتاب من أربعة أوجه: نص وظاهر وعموم ومجمل.
আর জাকাতের আভিধানিক অর্থ হলো: বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি। বলা হয় সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে: যখন তা প্রবর্ধিত হয়। তদ্রূপ হজের আভিধানিক অর্থ হলো: সংকল্প করা। বলা হয়: আমি প্রতি বছর তোমাদের নিকট সংকল্প করি, অর্থাৎ আমি ইচ্ছা করি।
এর বিধান হলো যে, এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী কোনো দলিল না আসা পর্যন্ত একে গ্রহণ করা যাবে না। ইমাম শাফেঈর অনুসারীগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের মতের অনুরূপ বলেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ। আর ইমাম আহমাদ (রহ.) 'তাআতুর রাসূল' গ্রন্থে বলেছেন: এর ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এর দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ নয়।
১১ - সুন্নাহর অধ্যায়: আমরা বর্ণনা করেছি যে, এর নির্দেশক হওয়ার পদ্ধতি তিনটি: কথা, কাজ এবং এই দুটির ওপর মৌন সম্মতি।
আর কথা দুই প্রকার: যে কথাটি তাঁর থেকে প্রারম্ভিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে এবং যে কথাটি কোনো কারণবশত তাঁর থেকে প্রকাশ পেয়েছে।
আর যে কথাটি তাঁর থেকে প্রারম্ভিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে, তার নির্দেশনার ধরণ কিতাবুল্লাহর নির্দেশনার মতোই চারটি দিক থেকে হয়ে থাকে: নস, জহির, উমুম এবং মুজমাল।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فأما النص: فصفته أن يكون صريحاً فيما ورد فيه كقوله عليه السلام: "في أربعين شاة شاة"، وكقوله: "في كل خمس ذود شاة". فإن هذا صريح فيما ورد فيه، ولا يجوز العدول عنه إلا بما ينسخه.
وأما الظاهر: فمثل قوله صلى الله عليه وسلم: "صبّوا على بول الأعرابي دلواً من ماء".
فإن الظاهر منها الإيجاب ولا يحمل على غيره إلا بدليل.
وأما العموم: فمثل قوله صلى الله عليه وسلم: "من بدل دينه فاقتلوه" فهذا عام في كل من بدل دينه، وحكمه أنه لا يجوز العدول عنه إلا بدليل يخصه.
وأما المجمل: فمثل قوله صلى الله عليه وسلم: "أُمرت أن أقاتل الناس حتى
নাস (সুস্পষ্ট পাঠ) এর বিবরণ: এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি যা বর্ণিত হয়েছে তাতে সুস্পষ্ট হবে, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "চল্লিশটি ভেড়াতে একটি ভেড়া যাকাত দিতে হবে", এবং তাঁর বাণী: "প্রতি পাঁচটি উটের ক্ষেত্রে একটি ভেড়া"। নিশ্চয় এটি যা বর্ণিত হয়েছে তাতে সুস্পষ্ট, এবং একে বর্জন করা জায়েয নয় যতক্ষণ না তা রহিতকারী কোনো নস দ্বারা রহিত হয়।
আর যাহির (প্রকাশ্য) এর বিবরণ: যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মরুবাসী আরব ব্যক্তির প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও"।
নিশ্চয় এটি থেকে বাহ্যত আবশ্যকতা প্রতীয়মান হয় এবং কোনো দলিল ছাড়া একে অন্য অর্থে গ্রহণ করা যাবে না।
আর আম (সাধারণ) এর বিবরণ: যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন পরিবর্তন করবে তাকে তোমরা হত্যা করো"। এটি এমন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সাধারণ যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, এবং এর বিধান হলো এটি বর্জন করা জায়েয নয় যতক্ষণ না বিশেষায়িত করার মতো কোনো দলিল পাওয়া যায়।
আর মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) এর বিবরণ: যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يقولوا لا إله إلا الله فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها" وحقها لا يعلم ما هو. وحكم هذا أن لا يجوز المصير إليه حتى يرد ما يفسره.
وأما القول الخارج على سبب فهو على ضربين: منه ما السبب شرط فيه (كالعلة) يوجد الحكم بوجودها ويعدم بعدمها، ومنه ما ليس السبب شرطاً فيه.
فأما ما السبب شرط فيه: فمثل ما روي: "أن أعرابياً جاء للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله هلكت وأهلكت، فقال: ما صنعت؟ قال: وقعت على أهلي في شهر رمضان، فقال: أعتق رقبة". فإن هذا سبب لا بد منه.
وأما الذي ليس السبب شرطاً فيه: فمثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أنه سئل هل يجوز التوضئ بماء البحر؟ فقال: هو الطهور ماؤه، الحل ميتته".
فإن هذا ليس بشرط لأنه لو كان ابتداء كان كلاماً مفيداً، وكذلك روي عنه عليه السلام: "أنه سئل عن الماء يكون بأرض فلاة
তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; অতঃপর যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে এর হকের দাবি ব্যতীত। আর সেই হক বা অধিকারটি কী, তা এখানে জানা নেই। এর বিধান হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত এর ব্যাখ্যাকারী কোনো বর্ণনা না আসবে, ততক্ষণ এর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া জায়েজ হবে না।
আর কোনো কারণের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত উক্তি দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যাতে কারণটি শর্ত হিসেবে গণ্য (যেমন ইল্লাত বা কার্যকর কারণ), যার উপস্থিতিতে বিধানটি সাব্যস্ত হয় এবং যার অনুপস্থিতিতে বিধানটি বিলুপ্ত হয়। আর অন্যটি হলো যাতে কারণটি শর্ত নয়।
যে ক্ষেত্রে কারণটি শর্তস্বরূপ, তার উদাহরণ হলো যেমন বর্ণিত হয়েছে: "এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছি। তিনি বললেন: তুমি কী করেছ? সে বলল: আমি রমজান মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তখন তিনি বললেন: একজন দাস মুক্ত করো।" নিশ্চয়ই এটি এমন এক কারণ যা অপরিহার্য।
আর যে ক্ষেত্রে কারণটি শর্ত নয়, তার উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: "তাঁকে সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করার বৈধতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।"
নিশ্চয়ই এটি শর্ত নয়, কারণ যদি এটি কোনো প্রেক্ষাপট ছাড়াই প্রারম্ভিকভাবে বলা হতো, তবেও এটি একটি অর্থবহ বক্তব্য হতো। একইভাবে তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তাঁকে মরু প্রান্তরে অবস্থিত পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল..."
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رابعة رجمك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسكت النبي صلى الله عليه وسلم"، فصار كأنه قال ذلك.
وأما الإقرار على الفعل، فمثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أنه رأى بلالاً يؤذن في منارة ويتبع وجهه هكذا وهكذا فلم ينكر عليه ذلك"، فصار هذا كأنه فعل من النبي صلى الله عليه وسلم.
14 - فصل: وأما الإجماع: فهو إجماع علماء العصر على حكم حادثة، وهو على ضربين، إجماع عام، وإجماع خاص.
فأما الإجماع العام: فهو مثل إجماعهم على الصلاة والزكاة وسائر العبادات والعقود جميعها من البيوع والإجارات والنكاح والمضاربات، فهذا إجماع عام.
وحكم هذا أن يجب المصير إليه، ولا يجوز العدول عنه، فمن خالفه بعد العلم به فقد كفر بذلك.
চতুর্থবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন", ফলে এটি এমন হয়ে গেল যেন তিনি নিজেই তা বলেছেন।
আর কর্মের ওপর সম্মতির বিষয়টি হলো সেই বর্ণনার মতো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি বেলালকে একটি মিনারে আযান দিতে দেখলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে তিনি (বেলাল) তার চেহারা এদিকে ও ওদিকে ঘুরাচ্ছেন, কিন্তু তিনি (নবী) এর কোনো প্রতিবাদ করেননি", ফলে এটি এমন সাব্যস্ত হলো যেন এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই কর্ম।
১৪ - পরিচ্ছেদ: আর ইজমা প্রসঙ্গে: এটি হলো কোনো সমসাময়িক ঘটনার হুকুমের ওপর সেই যুগের আলেমগণের ঐকমত্য হওয়া। এটি দুই প্রকার: সাধারণ ইজমা এবং বিশেষ ইজমা।
সাধারণ ইজমা হলো: যেমন নামায, যাকাত ও অন্যান্য ইবাদত এবং ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, বিবাহ ও মুদারাবাহর মতো সকল চুক্তির ওপর তাদের ঐকমত্য হওয়া। এটিই হলো সাধারণ ইজমা।
এর বিধান হলো এই যে, এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েয নয়। সুতরাং বিষয়টি জানার পর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে এর কারণে কাফির হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما الإجماع الخاص: فهو قول الصحابي إذا انتشر بين الصحابة وأقروه على ذلك، ولم ينكر عليه واحد منهم. وهو مثل ما روي عن عمر رضي الله عنه: "أنه جلد الثلاثة الذين شهدوا على المغيرة" فأقروه على ذلك ولم ينكر عليه أحد منهم. ومثل ما روي عنه أيضاً أنه قتل الثلاثة الذين قتلوا الصنعانية، وقد قيل خمسة، وقيل سبعة فقيل له: (يقتل) جماعة بواحد؟ فقال: والله لو تمالأ عليها أهل صنعاء (لأقدتهم) بها فأقروه،
আর বিশেষ ইজমা (ঐক্যমত) হলো: কোনো সাহাবীর এমন বক্তব্য যা সাহাবীদের মধ্যে প্রচার লাভ করে এবং তাঁরা তা সমর্থন করেন, আর তাঁদের কেউ তার বিরোধিতা বা প্রতিবাদ করেননি। এর উদাহরণ হলো যা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি সেই তিন ব্যক্তিকে দোররা মেরেছিলেন যারা মুগীরা-র বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেছিল।" অতঃপর সাহাবীগণ একে সমর্থন করেছিলেন এবং তাঁদের কেউ এর প্রতিবাদ করেননি। অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সেই তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন যারা একজন সানআনি ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল; আর বর্ণিত আছে যে তারা পাঁচজন ছিল, আবার কেউ বলেন সাতজন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল: একজনের বিনিময়ে কি এক দলকে হত্যা করা হবে? তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর শপথ, যদি সানআ’র সকল অধিবাসী এই হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হতো, তবে আমি তাদের সকলের নিকট থেকেই কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করতাম।" অতঃপর তাঁরা (সাহাবীগণ) এ বিষয়ে মৌন সম্মতি প্রদান করেছিলেন,
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومثل ما روي أن عثمان دخل على عمر وهو يخطب على المنبر فقال: أي ساعة هذه؟ 2 أ/ فقال: سمعت الأذان فما لبثت أن توضأت وجئت. فقال: والوضوء أيضاً؟ وقد أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالغسل، ثم أقره على ترك الغسل، ولم ينكر عليه واحد من الصحابة ذلك، وهذا الإجماع الخاص.
وقد اختلفوا هل يكون سكوتهم عن ذلك، وترك إنكارهم (الإجماع) حجة أم لا؟ وسنبينه فيما بعد إن شاء الله تعالى.
15 - فصل: فأما قول واحد من الصحابة، فإن قلنا إنه حجة. فدلالته كدلالة السنة، يخص به العموم ويقدم على القياس، وإن قلنا إنه ليس بحجة، فلا يخص به عموم، ولا يقدم على القياس، غير أنه يرجح به الأدلة، وسنبين أي الروايتين أصح فيما بعد إن شاء الله تعالى.
16 - فصل: وأما معقول أصل، فقد بينا أنه أربعة أشياء: لحن الخطاب، وفحوى الخطاب، ومعنى الخطاب، ودليل الخطاب.
যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, উসমান (রা.) উমর (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি মিম্বারের ওপর খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: এটি কোন সময়? তিনি বললেন: আমি আযান শুনেছি, এরপর ওযু করা ছাড়া আর কোনো বিলম্ব না করেই চলে এসেছি। তখন তিনি বললেন: শুধু ওযুও? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গোসল করার আদেশ দিয়েছেন। এরপর তিনি তাঁকে গোসল বর্জন করার ওপর বহাল রাখলেন এবং সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজনও এর প্রতিবাদ করলেন না; আর এটিই হলো বিশেষ ইজমা (ঐক্যমত)।
এ বিষয়ে তাঁদের এই নীরবতা এবং তাঁদের প্রতিবাদ না করা (ইজমা) দলিল হিসেবে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে এটি স্পষ্ট করব।
১৫ - পরিচ্ছেদ: কোনো একজন সাহাবীর বক্তব্যের ব্যাপারে কথা হলো, যদি আমরা বলি যে তা দলিল, তবে এর নির্দেশিকা সুন্নাহর নির্দেশিকার মতো হবে; যার মাধ্যমে সাধারণ হুকুমকে সুনির্দিষ্ট (খাস) করা যাবে এবং একে কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর যদি আমরা বলি যে তা দলিল নয়, তবে এর মাধ্যমে সাধারণ হুকুমকে সুনির্দিষ্ট করা যাবে না এবং কিয়াসের ওপরও একে প্রাধান্য দেওয়া হবে না; তবে এর মাধ্যমে দলিলসমূহের একটিকে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে। আমরা পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ তাআলা বর্ণনা করব যে দুই বর্ণনার মধ্যে কোনটি অধিকতর সঠিক।
১৬ - পরিচ্ছেদ: আর মূলনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক দিক (মা'কুল আল-আসল) সম্পর্কে কথা হলো, আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে তা চারটি বিষয়: লাহুন আল-খিতাব (কথার ইঙ্গিত), ফাহওয়া আল-খিতাব (কথার মর্ম), মা'না আল-খিতাব (কথার অর্থ) এবং দলিল আল-খিতাব (কথার প্রমাণ)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فأما لحن الخطاب: فهو على أضرب:
منه ضمير في اللفظ لا يتم اللفظ إلا به مثل قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ}، تقديره: فأفطر فعدة من أيام أُخر، وكذلك قوله تعالى: {فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ}، تقديره: فضرب فانفجرت، فهذا ضمير لا يتم اللفظ إلا به.
ومنه حذف المضاف وإقامة المضاف إليه مقامه، وهو على ضربين: منه ما لا يحتاج إلى دليل ومنه ما يحتاج إلى دليل.
فأما ما لا يحتاج إلى دليل فمثل قوله تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا}.
وكذلك قوله تعالى: {ذَلِكَ عيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ} ((تقدير)) هذا وضميره واسأل أهل القرية، وكذلك عيسى ابن مريم قول الحق، صاحب قول الحق، فهذا لا يحتاج إلى دليل.
وأما ما يحتاج إلى دليل فمثل قوله تعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ} معناه أفعال الحج في أشهر معلومات، فانتقلنا إلى
'লাহনুল খিতাব' বা বক্তব্যের ইঙ্গিত প্রসঙ্গে: এটি কয়েক প্রকারের:
এর মধ্যে শব্দের এমন কিছু উহ্য বিষয় রয়েছে যা ব্যতীত বাক্য পূর্ণ হয় না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করতে হবে।" এর উহ্য রূপ হলো: "সে যদি রোজা ভঙ্গ করে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করতে হবে।" তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি বললাম, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো, ফলে তা হতে ঝর্ণা প্রবাহিত হলো।" এর উহ্য রূপ হলো: "অতঃপর সে আঘাত করল এবং তা হতে ঝর্ণা প্রবাহিত হলো।" এটি এমন এক উহ্য বিষয় যা ব্যতীত বাক্য পূর্ণ হয় না।
এর আরেকটি প্রকার হলো মুদাফ (সম্বন্ধিত পদ) বিলুপ্ত করা এবং মুদাফ ইলাইহিকে (সম্বন্ধ পদ) তার স্থলাভিষিক্ত করা। এটি দুই প্রকার: যার জন্য কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয় না এবং যার জন্য স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
যার জন্য কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয় না, তার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করো যেখানে আমরা ছিলাম।"
তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "ইনিই মারইয়াম-তনয় ঈসা, সত্য কথা।" এর উহ্য রূপ হলো: "জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করো।" একইভাবে "ঈসা ইবনে মারইয়াম সত্য কথা" এর অর্থ হলো "সত্য বা হকের অধিকারী"। এগুলোর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কোনো দলীলের প্রয়োজন হয় না।
আর যা দলীলের মুখাপেক্ষী, তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হজ হলো সুবিদিত মাসসমূহ।" এর অর্থ হলো: "হজের কার্যাবলি সুবিদিত মাসসমূহে সম্পাদিত হয়।" ফলে আমরা স্থানান্তরিত হলাম
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأفعال بدليل وهو قوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ}، وكذلك قوله تعالى: {قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ}، فإن من حمله على أرباب العظام يحتاج إلى دليل.
وقد قيل إن لحن الخطاب هو معرفة الضمير من نفس الكلام بالذكاء ((والفطنة))، والدليل عليه قوله تعالى: {وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ} يعني بالذكاء، وكذلك قول الشاعر:
منطقٌ صائبٌ وتلحن أحياناً
… وخير الكلام ما كان لحنا
17 - فصل: وأما فحوى الخطاب: فهو أنه ينص على شيء ينبه به على غيره، وهو يسمى مفهوم الخطاب، فأما ما ينص على شيء تنبيهاً به على غيره، فمثل قوله تعالى: {فَلَا تَقُلْ لَهُمَا
প্রমাণসহ কার্যাবলি, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: তা মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপ।" অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "সে বলে, হাড়গুলো যখন জীর্ণ হয়ে যাবে তখন সেগুলোতে প্রাণ সঞ্চার করবে কে?" কেননা যে ব্যক্তি একে হাড়ের মালিকদের ওপর প্রয়োগ করে, তার প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
এবং বলা হয়েছে যে, ‘লাহনুল খিতাব’ (কথার ইঙ্গিত) হলো মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে খোদ বক্তব্য থেকেই প্রচ্ছন্ন অর্থ অনুধাবন করা। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "এবং অবশ্যই আপনি কথার ঢঙে তাদের চিনতে পারবেন," অর্থাৎ মেধার সাহায্যে। তদ্রূপ কবির উক্তি:
সঠিক যুক্তিপূর্ণ কথা এবং তিনি মাঝেমধ্যে ইঙ্গিত করেন
এবং শ্রেষ্ঠ কথা তাই যা ইঙ্গিতপূর্ণ।
১৭ - পরিচ্ছেদ: আর ‘ফাহওয়াল খিতাব’ (কথার মর্মার্থ) প্রসঙ্গে: তা হলো এমন কিছু যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে উল্লেখ করে তার মাধ্যমে অন্য বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে। একে ‘মাফহুমুল খিতাব’ (কথার উপলব্ধ অর্থ) বলা হয়। সুতরাং যা অন্য কিছুর প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে কোনো বিষয়কে উল্লেখ করে, তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তুমি তাদের প্রতি বলো না"
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أُفٍّ} فنص على التأفيف (تنبيهاً) بذلك على ما هو أعلى منه، وكذلك قوله تعالى: {وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَامَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَامَنْهُ بِدِينَارٍ لَا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ} فنص على القنطار ونبه به (على) ما هو دونه، ونص على الدينار ونبه (على) ما هو أكثر منه، وقد قيل: إن فحوى الخطاب مأخوذ من الفيح والإظهار يقال: "فاحت القدر" إذا ظهرت رائحتها ويقال: "أَفحَّ قدرك".
وتقول العرب للأبزار "فُحاً" لأن به يفيح القدر.
18 - فصل: وأما دليل الخطاب فهو أن يعلق الحكم على أحد وصفي الشيء، ويستدل على أن ذلك الحكم منفيٌ من غير تلك الصفة وهو على أضرب: منه ما علق على الشرط، ومنه ما علق على الصفة، ومنه ما علق على الاسم، ومنه ما علق على العدد، ومنه ما كان للحصر، ومنه ما دخله الألف واللام فيستغرق الجنس.
উফ্} তাই তিনি 'উফ' বলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এর মাধ্যমে এর চেয়ে গুরুতর বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক আছে যার কাছে যদি তুমি বিপুল পরিমাণ সম্পদ আমানত রাখো, তবে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে; আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যার কাছে যদি তুমি একটি দিনারও আমানত রাখো, তবে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না}। এখানে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে এর চেয়ে কম পরিমাণ সম্পর্কে অবগত করেছেন। আর তিনি দিনারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পর্কে অবগত করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে: 'ফাহওয়াল খিতাব' (বক্তব্যের মর্মার্থ) শব্দটি 'আল-ফাইহ' (ছড়িয়ে পড়া) এবং 'আল-ইযহার' (প্রকাশ পাওয়া) থেকে উদ্ভূত। বলা হয়: "হাঁড়ির সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে" যখন এর ঘ্রাণ প্রকাশ পায়। আর বলা হয়: "তোমার হাঁড়িকে সুগন্ধযুক্ত করো।"
আর আরবরা মশলাপাতিকে 'ফুহান' বলে, কারণ এর মাধ্যমেই হাঁড়ির সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
১৮ - পরিচ্ছেদ: আর 'দালিলুল খিতাব' (বক্তব্যের ইঙ্গিত) হলো কোনো বিষয়ের হুকুমকে তার দুটি গুণের একটির সাথে সংশ্লিষ্ট করা এবং এর দ্বারা এই প্রমাণ গ্রহণ করা যে, সেই গুণটি না থাকলে হুকুমটিও অপসারিত হয়ে যাবে। এটি কয়েক প্রকারের: তার মধ্যে কোনটি শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনটি গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনটি বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনটি সংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনটি সীমাবদ্ধকরণের জন্য, আর কোনটি এমন যাতে 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয়ে পুরো শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فأما ما علق بشرط فمثل قوله تعالى: {وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ}، فمن دليل الخطاب أن غير ذات الحمل لا تجب نفقتها.
وأما ما علق بصفة فمثل قوله عليه السلام: "في سائمة الغنم الزكاة"، فمن دليل الخطاب أن غير السائمة لا يجب فيها الزكاة.
وأما المعلق بالعدد فمثل قوله عليه السلام: "في سائمة الغنم الزكاة"، فمن دليل الخطاب أن غير السائمة لا يجب فيها الزكاة.
وأما المعلق بالعدد فمثل قوله عليه السلام: "في كل أربعين شاة شاة" "وفي كل خمس ذود شاة" فمن دليل الخطاب أن ما دون أربعين من الغنم لا يجب فيها شاة.
فأما ما علق على الاسم فمثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "خذ البر من البر" "وفي ثلاثين من البقر تبيع"، فمن دليل الخطاب أن البر لا يؤخذ من غيره، وأن التبيع لا يؤخذ إلا من البقر.
আর যা শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট, তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তারা যদি গর্ভবতী হয়, তবে তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করো।" বক্তব্যের ইঙ্গিত (দলিলুল খিতাব) থেকে বুঝা যায় যে, গর্ভবতী নয় এমন নারীদের ভরণপোষণ ওয়াজিব নয়।
আর যা গুণের (সিফাত) সাথে সংশ্লিষ্ট, তার উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "চারণভূমিতে বিচরণকারী ছাগলের ওপর জাকাত প্রযোজ্য।" বক্তব্যের ইঙ্গিত থেকে বুঝা যায় যে, বিচরণকারী নয় এমন ছাগলের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়।
আর যা সংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, তার উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "চারণভূমিতে বিচরণকারী ছাগলের ওপর জাকাত প্রযোজ্য।" বক্তব্যের ইঙ্গিত থেকে বুঝা যায় যে, বিচরণকারী নয় এমন ছাগলের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়।
আর যা সংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, তার উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "প্রতি চল্লিশটি ছাগলের জন্য একটি ছাগল" এবং "প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি ছাগল।" বক্তব্যের ইঙ্গিত থেকে বুঝা যায় যে, চল্লিশের কম সংখ্যক ছাগলের ক্ষেত্রে একটি ছাগল জাকাত দেওয়া ওয়াজিব নয়।
আর যা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের (ইসম) ওপর নির্ভরশীল, তার উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বাণী: "গমের বিনিময়ে গম গ্রহণ করো" এবং "প্রতি ত্রিশটি গরুর জাকাত হিসেবে একটি তাবি (এক বছর বয়সী বাছুর) দিতে হবে।" বক্তব্যের ইঙ্গিত থেকে বুঝা যায় যে, গম অন্য কোনো শস্য থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাবি কেবল গরু থেকেই গ্রহণ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأما ما كان للحصر فهو مثل قوله عليه السلام:
"إنما الولاء لمن أعتق"، معناه: لا ولاء إلا لمن أعتق، والدليل عليه قوله تعالى: {إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ} معناه: أن لا إله إلا الله، وكما يقال: "إنما في الدار زيد" ومعناه: لا أحد في الدار إلا زيد.
وأما ما دخله الألف واللام كقوله: "الخلافة في قريش" يعني لا خلافة إلا في قريش، وكقوله صلى الله عليه وسلم: "البينة على المدعي" معناه جميع البينة على المدعي، فهذا يستغرق الجنس، وفي هذا كله خلاف وسنبينه إن شاء الله تعالى.
আর যা সীমাবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তা হলো তাঁর (আলাইহিস সালাম) এই বাণীর মতো:
"আযাদকারী ব্যক্তিই কেবল ওয়ালার (মালিকানার উত্তরাধিকার) অধিকারী", এর অর্থ হলো: আযাদকারী ছাড়া অন্য কারো জন্য ওয়ালা নেই। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ}, এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। এবং যেমন বলা হয়: "ঘরে কেবল জায়েদ রয়েছে", যার অর্থ হলো: ঘরে জায়েদ ছাড়া আর কেউ নেই।
আর যাতে আলিফ ও লাম যুক্ত হয়, যেমন তাঁর বাণী: "খিলাফত কুরাইশদের মধ্যে", অর্থাৎ কুরাইশরা ছাড়া অন্য কারো খিলাফত নেই। এবং যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রমাণ পেশ করার দায় দাবিদারের ওপর", এর অর্থ হলো সমস্ত প্রমাণাদিই দাবিদারের ওপর বর্তাবে। সুতরাং এটি পুরো শ্রেণীকে পরিবেষ্টন করে। আর এই সব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে এবং আমরা শীঘ্রই তা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
19 - فصل: فأما "معنى الخطاب فهو القياس، والقياس: رد فرع إلى أصل بعلة جامعة بينهما. فإن قلنا بمعنى جامع بينهما فإنه يعم قياس العلة، وقياس الشبه، وقياس الدلالة، وإن قلنا بعلة فإنه يختص بقياس العلة حسب.
والقياس هو أربعة أشياء: أصل وفرع وعلة وحكم.
فأما الأصل فهو: ما ثبت بنفسه، أو ما ثبت حكم غيره به.
وأما الفرع فهو: ما ثبت حكمه بغيره.
وأما العلة فهي: ما ثبت الحكم لأجلها.
وأما الحكم فهو: ما جلبته العلة.
فمجموع هذا أن يقال: شراب فيه شدة مطربة فكان حراماً كالخمر، فأما الشراب فهو الفرع المختلف فيه، وأما الشدة المطربة فهي العلة، وأما قولنا حراماً فهو 4 أ/ الحكم، وأما الخمر فهو الأصل.
20 - فصل: وأما القياس فهو ضربان: قياس العلة وقياس الدليل.
১৯ - পরিচ্ছেদ: আর "খিতাব" (সম্বোধন)-এর অর্থ হলো কিয়াস। আর কিয়াস হলো: কোনো একটি শাখাকে (ফার’) একটি মূলের (আসল) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া, উভয়ের মাঝে বিদ্যমান একটি অভিন্ন কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে। যদি আমরা উভয়ের মাঝে "অভিন্ন অর্থ" বলি, তবে তা কারণভিত্তিক কিয়াস (কিয়াসুল ইল্লত), সাদৃশ্যভিত্তিক কিয়াস (কিয়াসুশ শিবহ) এবং প্রমাণভিত্তিক কিয়াস (কিয়াসুদ দালালাহ)-কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি আমরা (শুধুমাত্র) "কারণ" (ইল্লত) বলি, তবে তা কেবল কারণভিত্তিক কিয়াসের সাথেই নির্দিষ্ট হবে।
আর কিয়াস হলো চারটি বিষয়ের সমষ্টি: মূল (আসল), শাখা (ফার’), কারণ (ইল্লত) এবং বিধান (হুকুম)।
মূল (আসল) হলো: যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সাব্যস্ত, অথবা যার মাধ্যমে অন্য কিছুর বিধান সাব্যস্ত হয়।
শাখা (ফার’) হলো: যার বিধান অন্য কিছুর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।
কারণ (ইল্লত) হলো: যার জন্য বিধানটি সাব্যস্ত হয়।
বিধান (হুকুম) হলো: যা কারণটি (ইল্লত) আনয়ন করে।
এই সবকিছুর সমন্বয় এভাবে বলা যায়: এমন একটি পানীয় যাতে মাতাল করার তীব্রতা রয়েছে, তাই তা মদের মতো হারাম। এখানে পানীয়টি হলো সেই শাখা (ফার’) যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; মাতাল করার তীব্রতা হলো কারণ (ইল্লত); আমাদের "হারাম" বলাটি হলো ৪ ক/ বিধান (হুকুম); আর মদ হলো মূল (আসল)।
২০ - পরিচ্ছেদ: আর কিয়াস হলো দুই প্রকার: কারণভিত্তিক কিয়াস (কিয়াসুল ইল্লত) এবং প্রমাণভিত্তিক কিয়াস (কিয়াসুদ দালিল)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فأما قياس العلة فهو: رد فرع إلى أصل بعلة مؤثرة في الحكم، وهو على ثلاثة أضرب: قياس جلي، وقياس واضح، وقياس خفي.
فأما القياس الجلي فهو: أن ينص الشرع على العلة، أو تثبت بالإجماع، فأما (ما) نص الشرع على علته فمثل: قوله تبارك وتعالى: " كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةٌ بَيْنَ الأغْنِيَاءِ مِنْكُمْ "، فإن هذه علة نص عليها الشرع، ومثل قوله عليه السلام: "إنما كنت نهيتكم عن ادخار لحوم الأضاحي لأجل الدافة والحاجة والفقر ألا فادخروها"، فإن هذه علة نص عليها الشرع، وأما إجماع
আর কিয়াসুল ইল্লাহ (কারণ-ভিত্তিক অনুমান) হলো: বিধানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে কোনো শাখাকে (ফর‘) মূলের (আসল) সাথে যুক্ত করা। আর এটি তিন প্রকার: সুস্পষ্ট কিয়াস, পরিষ্কার কিয়াস এবং প্রচ্ছন্ন কিয়াস।
আর সুস্পষ্ট কিয়াস হলো: শরীয়ত কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে কারণটি বর্ণিত হওয়া অথবা ইজমার মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া। শরীয়ত কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত কারণের উদাহরণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার বাণী: "যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার বিত্তবানদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়", কেননা এটি এমন একটি কারণ যা শরীয়ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর এর অপর উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি তোমাদেরকে কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলাম মূলত আগন্তুক অভাবী কাফেলার আগমন ও দারিদ্র্যের কারণে; এখন তোমরা তা জমা করে রাখতে পারো", এটিও এমন একটি কারণ যা শরীয়ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর ইজমার বিষয়টি হলো-
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المسلمين على العلة فمثل قياسهم الضرب على التأفيف، ومثل منعهم من وطء الحائض لأجل الأذى، فهذا القياس الجلي.
وأما القياس الواضح: فهو أن يأخذ العلة من ظاهر قول صاحب الشرع، مثل ما منعناه من بيع الرطب بالتمر، لأنه ينقص في حال الكمال والادخار، وأخذنا هذه العلة من ظاهر قول النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل عن بيع الرطب بالتمر، فقال: "أينقص الرطب إذا يبس؟ فقالوا: نعم. قال: لا إذا". فالظاهر من قوله إنما منعه لأجل أنه ينقص في حال الكمال والادخار، ومثل ما نقول في أن علة الربا هي كونه مكيل جنس أو موزون جنس فأخذنا هذه العلة من ظاهر قوله صلى الله عليه وسلم لما قال: "ما كيل مثل بمثل وكذلك الميزان" فالظاهر من
মুসলমানদের ইল্লত বা কারণের ওপর ভিত্তি করে করা অনুমান; যেমন 'উফ' বলার ওপর ভিত্তি করে প্রহার করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, এবং কষ্টের কারণে ঋতুবতী নারীর সাথে সহবাস নিষিদ্ধ করা। এটি হলো জালি কিয়াস বা সুস্পষ্ট অনুমান।
আর ওয়াদিহ কিয়াস (সুস্পষ্ট অনুমান) হলো: শরিয়ত প্রবর্তকের বাণীর বাহ্যিক অর্থ থেকে ইল্লত বা কারণ গ্রহণ করা। যেমন শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রয় করাকে আমরা নিষেধ করি; কারণ এটি পূর্ণতা এবং সংরক্ষণের অবস্থায় কমে যায়। আমরা এই ইল্লতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর বাহ্যিক দিক থেকে গ্রহণ করেছি, যখন তাঁকে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "তাজা খেজুর কি শুকিয়ে গেলে কমে যায়?" তারা বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "তবে না (অর্থাৎ করা যাবে না)।" সুতরাং তাঁর বাণীর বাহ্যিক দিক এটাই যে, তিনি তা নিষেধ করেছেন কারণ পূর্ণতা ও সংরক্ষণের অবস্থায় এটি কমে যায়। এর উদাহরণ যেমন আমরা বলি যে, রিবাহ বা সুদের ইল্লত হলো এটি পরিমাপযোগ্য সমজাতীয় বস্তু হওয়া অথবা ওজনযোগ্য সমজাতীয় বস্তু হওয়া। আমরা এই ইল্লতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর বাহ্যিক দিক থেকে গ্রহণ করেছি যখন তিনি বলেছিলেন: "যা পরিমাপযোগ্য তা সমান সমান হতে হবে এবং ওজনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ।" সুতরাং বাহ্যিক দিক হলো সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে...
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قوله لأنه مكيل، ومثل ما قلنا في منع الخيار في حق الأمة إذا (أعتقت) تحت حر لأنها كملت تحت كامل، واستفدنا هذه العلة بظاهر قول عائشة وذلك أنها قالت: إن النبي صلى الله عليه وسلم إنما خيّر بريرة لما أعتقت لأنها تحت عبد ولو كانت تحت حر لما خيرها". فأخذنا هذه العلة من ظاهر قولها. فهذا القياس الواضح.
فأما القياس الخفي ((فهو)): ما أخذت علته بالتأثير والاستنباط، مثل ما قلنا في علة تحريم الخمر لأن فيه شدة مطربة، فهذه العلة مؤثرة لأنها إذا وجدت وجد الحكم، وإذا زالت زال الحكم، ولو قدرنا أنها تعود لعاد الحكم.
21 - فصل: وأما قياس الدلالة فهو: على أربعة أضرب: منه ما يستدل (على) تخصيصه من خصائص الحكم عليه، ومنه قياس النظير على النظير، ومنه قياس الاسم الخاص على الاسم الخاص، ومنه قياس ((الشبه)).
তাঁর বক্তব্য: কারণ এটি পরিমাপযোগ্য, আর যেমনটি আমরা বলেছি একজন দাসীর ক্ষেত্রে নির্বাচনের অধিকার রহিত করার বিষয়ে যখন তাকে একজন স্বাধীন ব্যক্তির অধীনে থাকা অবস্থায় মুক্ত করা হয়; কারণ সে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির অধীনে পূর্ণতা লাভ করেছে। আমরা এই কারণটি আয়েশা (রা.)-এর বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ থেকে গ্রহণ করেছি, আর তা হলো তিনি বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বারীরাহ-কে তখনই নির্বাচনের অধিকার দিয়েছিলেন যখন তাকে মুক্ত করা হয়েছিল কারণ সে একজন দাসের অধীনে ছিল, আর যদি সে কোনো স্বাধীন ব্যক্তির অধীনে থাকত তবে তিনি তাকে নির্বাচনের অধিকার দিতেন না।" সুতরাং আমরা তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য থেকেই এই কারণটি গ্রহণ করেছি। এটিই হলো সুস্পষ্ট অনুমান (কিয়াসে ওয়াজিহ)।
আর প্রচ্ছন্ন অনুমান (কিয়াসে খফি) হলো: যার কারণ প্রভাব এবং গবেষণালব্ধ নির্যাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে, যেমনটি আমরা মদের হারামের কারণ সম্পর্কে বলেছি যে, এতে চিত্তবিনোদক তীব্রতা রয়েছে। সুতরাং এই কারণটি প্রভাবশালী, কারণ যখন এটি পাওয়া যায় তখন বিধানও সাব্যস্ত হয়, আর যখন এটি অপসারিত হয় তখন বিধানও রহিত হয়ে যায়; যদি আমরা ধরে নিই যে তা পুনরায় ফিরে এসেছে তবে বিধানটিও ফিরে আসবে।
২১ - পরিচ্ছেদ: আর নির্দেশক অনুমান (কিয়াসুদ দালালাহ) চার প্রকার: তার মধ্যে একটি হলো সেটি, যার বিধানের বৈশিষ্ট্য থেকে তার নির্দিষ্টকরণের প্রমাণ গ্রহণ করা হয়, দ্বিতীয়টি হলো সদৃশ বস্তুকে সদৃশ বস্তুর ওপর কিয়াস করা, তৃতীয়টি হলো বিশেষায়িত নামকে বিশেষায়িত নামের ওপর কিয়াস করা এবং চতুর্থটি হলো সাদৃশ্যমূলক অনুমান (কিয়াসুশ শিবহ)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فأما ما يستدل (على) تخصيصه 4 ب/ من خصائص الحكم عليه فهو مثل قولنا في سجود التلاوة إنه ليس بواجب فقسناه على النافلة، وذلك أنا قلنا سجود يجوز على الراحلة لغير عذر فلم يكن واجباً كصلاة النافلة، وهذا صحيح. وهو أن كل صلاة واجبة لا تجوز على الراحلة، فلما رأينا أن هذه تجوز على الراحلة علمنا أنها ليست واجبة.
وأما قياس النظير على النظير: فهو مثل قولنا: إن الزكاة تجب في مال الصبي، وقسنا ذلك على العشر فقلنا: من وجب العشر في زرعه وجبت الزكاة في ماله. وهذا صحيح لأن العشر زكاة، فإذا وجبت الزكاة في بعض المال، وجب أن تجب في البعض الآخر، ومثل قولنا في تصحيح ظهار الذمي وذلك أنّا قلنا: من صح طلاقه صح ظهاره كالمسلم، وهذا صحيح، وهو أن الطلاق والظهار هما واحد ومعناهما واحد، لأن كل واحد منهما يتعلق بالزوجة وفيه نوع تحريم. ويتعلق بالقول، فإذا صح منه أحدهما صح منه الآخر (ومثل) قولنا إن المسلم لا يقتل بالذمي، وذلك أنّا قلنا من لا ((يحد بقذفه)) مع العفة لا يقتل به كالأب وهذا صحيح، لأن هتك العرض وهتك الدم وهتك المال على حد سواء وهما واحد والدليل عليه ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم
তথা হুকুমের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যা সাব্যস্ত করা হয় তার উদাহরণ হলো তিলাওয়াতের সিজদাহ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য যে, এটি ওয়াজিব নয়। একে আমরা নফল নামাযের সাথে তুলনা করেছি। আমরা বলেছি, এটি এমন একটি সিজদাহ যা কোনো ওজর ছাড়াই বাহনের ওপর আদায় করা বৈধ, সুতরাং এটি নফল নামাযের মতোই ওয়াজিব নয়। আর এটি সঠিক। এর ভিত্তি হলো এই যে, প্রত্যেক ওয়াজিব নামায বাহনের ওপর আদায় করা বৈধ নয়। যখন আমরা দেখলাম যে এটি বাহনের ওপর আদায় করা বৈধ, তখন আমরা নিশ্চিত হলাম যে এটি ওয়াজিব নয়।
আর সমরূপের ওপর সমরূপের কিয়াস (তুলনা) হলো যেমন আমাদের বক্তব্য: শিশুর সম্পদে যাকাত ওয়াজিব। আমরা একে উশরের ওপর কিয়াস করেছি এবং বলেছি: যার ফসলে উশর ওয়াজিব হয়, তার সম্পদে যাকাতও ওয়াজিব হবে। এটি সঠিক কারণ উশরও একটি যাকাত। সুতরাং যখন সম্পদের এক অংশে যাকাত ওয়াজিব হয়, তখন অন্য অংশেও তা ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক। এর আরেকটি উদাহরণ হলো জিম্মি ব্যক্তির জিহার সঠিক হওয়া সংক্রান্ত আমাদের বক্তব্য। আমরা বলেছি: যার তালাক কার্যকর হয়, তার জিহারও কার্যকর হবে, যেমনটি মুসলিমের ক্ষেত্রে হয়। এটি সঠিক, কারণ তালাক ও জিহার উভয়ই এক এবং এদের অর্থও অভিন্ন। কেননা এগুলোর প্রতিটিই স্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এতে এক প্রকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া এগুলো কথার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই যার পক্ষ থেকে একটি কার্যকর হওয়া শুদ্ধ হবে, তার পক্ষ থেকে অন্যটিও শুদ্ধ হবে। (আরেকটি উদাহরণ) আমাদের এই বক্তব্য যে, জিম্মি ব্যক্তির বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না। কারণ আমরা বলেছি, সচ্চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও যাকে অপবাদ দেওয়ার কারণে হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না, তার বিনিময়ে তাকে হত্যাও করা হবে না, যেমন পিতা। এটি সঠিক, কারণ সম্মানহানি, রক্তপাত এবং সম্পদহানি একই পর্যায়ের এবং এগুলো অভিন্ন। এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أنه قال: "إنما دماؤكم وأموالكم وأعراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا". فسوى بينهما ووجدنا أن أحدهما لا يجب في حقه فكذلك الآخر.
وأما قياس الاسم الخاص على الاسم الخاص فمثل قياسنا ((على)) رفع الحدث إزالة النجاسة وذلك أنّا قلنا طهارة شرعية فلم تجز بالخل كرفع الحدث، فسوينا بينهما لأنهما قد اشتركا في الاسم الخاص.
وأما قياس الشبه فهو: أن يقاس الفرع على الأصل بنوع شبه، وهو مثل قياسنا الطهارة على الصلاة، وذلك أنّا قلنا: عبادة تبطل بالحدث فكان فيها ذكر واجب كالصلاة. فقسنا إحداهما على الأخرى لما كان بينهما ضرب شبه وإن كانا قد اختلفا في معان كثيرة من طريق الحكم ومن طريق المشاهدة.
وقد اختلف أصحابنا في قياس الشبه فمنهم من قال ليس بحجة وذهب إلى أنه ليس بمستند إلى كتاب الله ولا إلى سنة رسوله ولا
তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের ওপর হারাম, যেমন হারাম তোমাদের এই মাসের এই দিনের মর্যাদা।" সুতরাং তিনি এগুলোর মধ্যে সমতা বিধান করেছেন এবং আমরা দেখতে পাই যে, যেহেতু তাদের একটির ক্ষেত্রে যা আবশ্যক নয়, অন্যটির ক্ষেত্রেও তা-ই।
আর বিশেষ নামের ওপর বিশেষ নামের কিয়াস হলো—যেমন অপবিত্রতা দূর করার ওপর নাপাকি দূর করার কিয়াস করা। আর তা এই কারণে যে, আমরা বলেছি এটি একটি শরয়ী পবিত্রতা, সুতরাং সিরকা বা ভিনেগার দ্বারা তা বৈধ হবে না যেমনটি অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে বৈধ নয়। ফলে আমরা এই দুইয়ের মাঝে সমতা বিধান করেছি যেহেতু তারা বিশেষ নামের ক্ষেত্রে পরস্পর অংশীদার।
আর সাদৃশ্যমূলক কিয়াস হলো: কোনো এক প্রকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে শাখাকে মূলের ওপর কিয়াস করা। এটি যেমন পবিত্রতাকে নামাজের ওপর আমাদের কিয়াস করা; আর তা এই কারণে যে, আমরা বলেছি: এটি এমন এক ইবাদত যা অপবিত্রতার কারণে বাতিল হয়ে যায়, তাই এতে নামাজের মতো জিকির ওয়াজিব। সুতরাং আমরা একটিকে অন্যটির ওপর কিয়াস করেছি যেহেতু তাদের মাঝে এক প্রকার সাদৃশ্য রয়েছে, যদিও বিধানের দিক থেকে এবং বাহ্যিক রূপের দিক থেকে তাদের মাঝে অনেক বিষয়ে পার্থক্য বিদ্যমান।
আমাদের শাস্ত্রীয় ইমামগণ সাদৃশ্যমূলক কিয়াসের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে না এবং তারা এই মত পোষণ করেছেন যে এটি আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إلى الإجماع، ومثل ذلك لا يحتج به، ولأنه ما من شيء شابه شيئاً إلا وقد فارقه في غير ذلك، وليس إلحاقه بالجمع أولى من إلحاقه بالتفرقة، فاتفقا على حد سواء (أو) يقدم الفرق لأنه أولى بالتقدمة 5 أ/.
ومن ذهب إلى أنه حجة استدل بما روي عن عمر رضي الله عنه، أنه كتب إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنه وكان بالبصرة: "الفهم الفهم فيما تَلَجْلَجَ في صدرك مما ليس في كتاب الله ولا سنة رسوله فاعرف الأشباه والأمثال والأقيسة، وقس بأشبهها إلى الحق". فأمره بقياس الشبه، ولأن الشيء إذا شابه الشيء فالظاهر أنه مثله.
وقد (أجيب) عن ذلك بأن قيل: أما قول عمر: "وقس بأشبهها إلى الحق" يريد به أن يستنبط المعنى، والحق في كتاب الله وسنة رسول الله ثم يقيس بعد ذلك عليه.
وأما قولهم: إن الشيء إذا شابه الشيء فالظاهر أنه يكون مثله.
قد (أجيب) عنه بأن قيل: الشيء إذا فارق الشيء
ঐক্যমত্যের (ইজমা) দিকে; আর এই ধরনের বিষয়কে দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না। কারণ, এমন কোনো বস্তু নেই যা অন্য কোনো বস্তুর সাদৃশ্য রাখে অথচ অন্য দিক থেকে তার থেকে ভিন্ন নয়। আর একে একীভূত করার বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করা, তাকে পৃথক করার বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করার চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত নয়। সুতরাং উভয় বিষয় সমান পর্যায়ে উপনীত হলো, অথবা পার্থক্যকেই অগ্রগণ্য করা হবে, কারণ অগ্রগণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই অধিক যোগ্য ৫ অ/।
আর যারা একে দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বিষয় দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যে, তিনি বসরার গভর্নর আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লিখেছিলেন: "তোমার অন্তরে যে বিষয়ে খটকা তৈরি হয় অথচ তা আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে নেই, সে বিষয়ে গভীর অনুধাবন করো, অধিক অনুধাবন করো। অতঃপর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়াবলি, দৃষ্টান্তসমূহ এবং কিয়াসসমূহ সম্পর্কে জানো এবং সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী সাদৃশ্যের সাথে কিয়াস করো।" এখানে তিনি তাকে সাদৃশ্যের কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, যখন একটি বস্তু অন্য কোনো বস্তুর সদৃশ হয়, তখন আপাতদৃষ্টিতে তা তারই মতো হয়ে থাকে।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি— "এবং সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী সাদৃশ্যের সাথে কিয়াস করো"—এর মাধ্যমে তিনি মূল অর্থ বা তাৎপর্য উদ্ঘাটন করা বুঝিয়েছেন, আর সত্য হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মাঝে; এরপর তিনি সেই বিষয়ের ওপর কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আর তাদের এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে, একটি বস্তু যখন অন্য বস্তুর সদৃশ হয়, তখন আপাতদৃষ্টিতে তা তারই মতো হয়—
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: কোনো বস্তু যখন অন্য কোনো বস্তু থেকে পৃথক হয়—
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالظاهر أنه لا يكون مثله، وقد بين فيما تقدم أيما شيء شابه شيئاً إلا وقد فارقه في غير ذلك، وليس الجمع بأولى من التفرقة بل التفرقة أولى.
22 - فصل: وأما استصحاب الحال فقد بينا أنه على ضربين: استصحاب حال العقل واستصحاب حال الإجماع.
فأما استصحاب حال العقل فهو: أن الأصل في العقل براءة الذمة من جميع الأشياء، فمن ادعى اشتغالها فعليه الدليل، ومثاله مما نقول: إن صلاة الوتر لست بواجبة فنقول: إن الأصل براءة الذمة من جميع الصلوات، وأجمعنا على اشتغالها بخمس صلوات. فمن ادعى سادسة فعليه الدليل، وكما نقول: إن الحر إذا قذف العبد لا يجب عليه الحد. واستدللنا بأن الأصل براءة ذمة هذا الشخص من الحد، فمن ادعى إيجاب الحد فعليه الدليل.
وأما استصحاب حال الإجماع فهو: أن تجمع الأمة على حكم ثم يحدث بعد ذلك فيه شيء فيختلف فيه. فهل يستدام الإجماع إلى ذلك الوقت أم لا؟ فيه خلاف.
ومثاله: ما نقول في المتيمم إذا رأى الماء وهو في صلاة، فمن قال لا تبطل، قال: اجتمعنا على أنه دخل الصلاة ((بطهارة)) مثله. فمن ادعى أن رؤية الماء لا تجزئه فعليه الدليل.
وضد هذا يقول الخصم: اجتمعنا على إيجاب هذه الصلاة عليه فمن ادعى إسقاطها عنه بهذا التيمم مع القدرة على الماء فعليه الدليل. وفي هذا كله خلاف، سنبينه إن شاء الله تعالى.
সুতরাং এটিই প্রকাশ্য যে, তা এর সদৃশ হবে না। ইতিপূর্বে এটি বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো বস্তু অপর কোনো বস্তুর সাদৃশ্যপূর্ণ হলে তা অন্য কোনো দিক থেকে তার থেকে পৃথকও হয়ে থাকে। অভিন্ন গণ্য করা অপেক্ষা পার্থক্য করাই অধিক যুক্তিযুক্ত, বরং পার্থক্য করাই শ্রেয়।
২২ - পরিচ্ছেদ: আর ‘ইস্তিসহাবুল হাল’ (পূর্বাবস্থা বহাল রাখা) প্রসঙ্গে; আমরা বর্ণনা করেছি যে, এটি দুই প্রকার: বিবেকপ্রসূত ইস্তিসহাব এবং ইজমাভিত্তিক ইস্তিসহাব।
বিবেকপ্রসূত ইস্তিসহাব হলো: বিবেকের বিচারে মূলনীতি হলো সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত থাকা। সুতরাং কেউ যদি কোনো দায়বদ্ধতার দাবি করে, তবে তাকেই প্রমাণ পেশ করতে হবে। আমাদের বক্তব্যের দৃষ্টান্ত হলো: বিতর সালাত ওয়াজিব নয়। আমরা বলি, মূলনীতি হলো সকল সালাত থেকে দায়মুক্ত থাকা, আর আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পালনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছি। সুতরাং কেউ যদি ষষ্ঠ সালাতের দাবি করে, তবে প্রমাণ তাকেই দিতে হবে। যেমন আমরা বলি: কোনো স্বাধীন ব্যক্তি যদি কোনো দাসকে অপবাদ দেয়, তবে তার ওপর হদ (নির্ধারিত দণ্ড) ওয়াজিব হয় না। আমরা দলিল পেশ করি যে, মূলনীতি হলো এই ব্যক্তির হদ থেকে দায়মুক্ত থাকা। অতএব কেউ যদি হদ ওয়াজিব হওয়ার দাবি করে, তবে তাকেই প্রমাণ পেশ করতে হবে।
আর ইজমাভিত্তিক ইস্তিসহাব হলো: উম্মত কোনো একটি বিধানের ওপর একমত হবে, অতঃপর সেখানে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটবে যার ফলে তাতে মতভেদ দেখা দেবে। সেক্ষেত্রে ওই সময় পর্যন্ত সেই ইজমা বা ঐকমত্য অব্যাহত থাকবে কি না? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
এর উদাহরণ হলো: তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় পানি দেখতে পেলে আমরা যা বলে থাকি। যারা বলেন যে সালাত বাতিল হবে না, তারা বলেন: আমরা একমত হয়েছি যে তিনি তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করেই সালাতে প্রবেশ করেছেন। সুতরাং কেউ যদি দাবি করে যে পানি দেখতে পাওয়ার ফলে তার ওই তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে না, তবে তাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে।
এর বিপরীতে প্রতিবাদী পক্ষ বলেন: আমরা এই সালাত তার ওপর ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছি। সুতরাং পানি ব্যবহারে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও এই তায়াম্মুমের মাধ্যমে তার ওপর থেকে সালাত রহিত হয়ে যাওয়ার কেউ দাবি করলে তাকেই প্রমাণ দিতে হবে। এসবের মধ্যেই মতভেদ বিদ্যমান, যা ইনশাআল্লাহ আমরা অচিরেই বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
باب الحدود
23 - (الحد): سبب يتوصل به إلى معرفة الأشياء.
সংজ্ঞা ও দণ্ডবিধি অধ্যায়২৩ - (সংজ্ঞা): এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা বস্তুসমূহের স্বরূপ অবগত হওয়া যায়।