(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: -)
المجاز عند الإمام ابن تيمية وتلاميذه بين الإنكار والإقرار   (عبد العظيم المطعني)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الكتاب: المجاز عند الإمام ابن تيمية وتلاميذه بين الإنكار والإقرار

المؤلف: عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني (ت 1429هـ)

الناشر: مكتبة وهبة

الطبعة: الأولى 1416 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 84

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্রদের নিকট রূপক (المجاز): অস্বীকার ও স্বীকৃতির মাঝে   (আবদুল আজিম আল-মুতআনি)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞানসমূহ ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

বই: ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্রদের নিকট রূপক (المجاز): অস্বীকার ও স্বীকৃতির মাঝে

লেখক: আবদুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মুতআনি (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: المجاز عند الإمام ابن تيمية وتلاميذه بين الإنكار والإقرار

المؤلف: د. عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني

الناشر: مكتبة وهبة

الطبعة الأولى 1416 هـ - 1995 م

عدد الأجزاء: 1

تنبيه:

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

গ্রন্থ: ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর শিষ্যদের নিকট রূপক (المجاز): অস্বীকার ও স্বীকৃতির মাঝে

লেখক: ড. আব্দুল আজিম ইবরাহিম মুহাম্মদ আল-মুতআনি

প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ

প্রথম সংস্করণ ১৪১৬ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ১

দ্রষ্টব্য:

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

আল্লাহ এই গ্রন্থের লেখক এবং যিনি এর অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন, উভয়কে সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌من أقوال الأئمة عن المجاز

"ولو كان المجاز كذباً. وكل فعل ينسب إلى غير الحيوان باطلاً، كان أكثر كلامنا فاسداً؛ لإنَّا نقول: نبت البقل، وطالت الشجرة، وأينعت التمرة، وأقام الجبل، ورحض السعر".

ابن قتيبة

"ومن قدح في المجاز، وهم أن يصفه بغير الصدق فقد خبط خبطاً عظيماً، وتهدَّف لما لا يخفى … كيف وبطالب الدين حاجة ماسة إليه من جهات يطول عدُّها. وللشيطان من جانب الجهل به مداخل خفيه، يأتيهم منها فيسرق منهم دينهم وهم لا يشعرون؟ ويلقيهم في الضلالة من حيث يظنون أنهم مهتدون".

عبد القاهر الجرجاني

"ولو سقط المجاز من القرآن سقط شطر الحسن".

بدر الدين الزركشي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌রূপক (مجاز) সম্পর্কে ইমামগণের কিছু উক্তি

"যদি রূপক (مجاز) মিথ্যা হতো এবং প্রাণহীন বস্তুর প্রতি কোনো কাজকে সম্পৃক্ত করা বাতিল (باطل) হতো, তবে আমাদের অধিকাংশ কথাই ত্রুটিযুক্ত হয়ে যেত; কারণ আমরা বলে থাকি: শাকসবজি জন্মেছে, গাছ লম্বা হয়েছে, ফল পেকেছে, পাহাড় দণ্ডায়মান রয়েছে এবং দাম কমেছে।"

ইবনে কুতাইবা

"যে ব্যক্তি রূপক (مجاز)-এর নিন্দা করে এবং এটিকে সত্যের বিপরীত হিসেবে বর্ণনা করার ইচ্ছা পোষণ করে, সে মূলত এক চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে এবং এমন কিছুর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে যা অস্পষ্ট নয় … কীভাবে এমনটি হতে পারে যখন দ্বীনের অন্বেষণকারীর জন্য অসংখ্য দিক থেকে এর ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে? রূপক (مجاز) সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগে শয়তানের প্রবেশের বহু গোপন পথ রয়েছে, যেখান থেকে এসে সে তাদের অজান্তেই তাদের দ্বীন হরণ করে এবং তাদের পথভ্রষ্টতায় (ضلالة) নিক্ষেপ করে, অথচ তারা ধারণা করে যে তারা সঠিক পথে (مهتدون) রয়েছে।"

আবদুল কাহের আল-জুরজানি

"যদি কুরআন থেকে রূপক (مجاز) বাদ দেওয়া হতো, তবে এর সৌন্দর্যের অর্ধেকই বিলুপ্ত হয়ে যেত।"

বদরুদ্দিন আল-যারকাশি
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول الإمام ابن تيمية

حين يذكر الإمام ابن تيمية بين منكري المجاز فإنه يمثل في هذا المقام قطب الدائرة، لأن من أنكر المجاز قبله لم يتحمسوا للإنكار حماسته، ولم يثوروا ثورته، ولم ينزحوا نزحه، ولو يقلبوا وجوه القول تقليبه، ولم يكن بين أيديهم من دواعي الإنكار ما كان بين يديه.

فقد أدار ابن تيمية رحمه الله المعركة من جديد بسلاح جديد، واستأنف البحث من حيث لم يدر سابقوه، ولم يعتمد الإمام في إنكار المجاز على الأسباب التي أعتمد عليها سابقوه بل اجتهد ما وسعه الإجتهاد في التترس بدروع أخرى، وأخذ يرمي من ورائها سهامه.

وقد أعانه على ذلك إطلاع أتسعت أفاقه، وعقل أحتد ذكاؤه، وقدرة على الجدل والنظر لم تتجمع آلاتها في رجل كما تجمت فيه، إلى سبب اخر نعتبره نحن - كما اعتبره غيرنا - سبب الأسباب وراء تلك الحملة الضاربة التي شنها الإمام ابن تيمية على المجاز ومجوزيه.

ذلك السبب هو دخول المجاز - قبله وفي عصره - في مباحث العقيدة والتوحيد، وتعلقه بصفات الباري عز وجل وأن فريقاً من علماء الكلام أوسعوا دائرة التأويل في النصوص المقدسة من غير ضرورة. وأدعوا أن لألفاظ القرآن الحكيم ظاهراً وباطناً يخالف كل منهما الآخر. وتعسفوا في التأويل - كما قال الإمام عبد القاهر الجرجاني من قبل - وذكر صوراً كثيرة لفوضاهم في التأويل، وعبثهم في استنباط المعاني، مما لا يؤيده نقل ولا يسلم به عقل ولا يقر به ذوق.

ودخول المجاز في هذا المجال الخطير - مجال العقيدة والتوحيد - بعد أن كان قضية بلاغية نقدية، ولغوية جمالية، هو الذي أسعر نار الثورة على المجاز عند الإمام؛ لأنه رأي في مثل تأويل "يد الله" بالقدرة تعطيلاً لصفة من صفات الله،
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ

যখন রূপক (مجاز) অস্বীকারকারীদের মধ্যে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর নাম উল্লেখ করা হয়, তখন তিনি এক্ষেত্রে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য হন। কারণ তাঁর আগে যারা রূপক (مجاز) অস্বীকার করেছিলেন, তারা তাঁর মতো এতটা প্রবল উৎসাহ নিয়ে এটি অস্বীকার করেননি, তাঁর মতো প্রতিবাদী হননি, তাঁর মতো গভীরে প্রবেশ করেননি এবং তাঁর মতো করে বিষয়ের নানা দিক পর্যালোচনা করেননি। এমনকি রূপক অস্বীকার করার পেছনে তাঁর সামনে যে সকল কারণ বিদ্যমান ছিল, তাদের সামনে তেমনটি ছিল না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) নতুন হাতিয়ার নিয়ে এই লড়াই পুনরায় শুরু করেন এবং পূর্বসূরিরা যেখান থেকে আলোচনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে গবেষণা শুরু করেন। রূপক (مجاز) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ইমাম তাঁর পূর্বসূরিদের কারণগুলোর ওপর নির্ভর করেননি, বরং তিনি নতুন ঢালে নিজেকে আবৃত করার জন্য সাধ্যমতো ইজতিহাদ (إجتهاد) করেছেন এবং সেই আড়াল থেকে লক্ষ্যভেদে সচেষ্ট হয়েছেন।

বিশাল জ্ঞানের পরিধি, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং বিতর্ক ও পর্যালোচনার এমন সক্ষমতা—যা অন্য কারো মাঝে সেভাবে একত্রিত হয়নি যেভাবে তাঁর মাঝে হয়েছিল—তা তাঁকে এই কাজে সহায়তা করেছে। এর সাথে আরেকটি কারণ যুক্ত হয়েছে যাকে আমরা ও অন্য অনেকে রূপক (مجاز) এবং রূপকের প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সেই শক্তিশালী অভিযানের মূল কারণ বলে মনে করি।

সেই কারণটি হলো—তাঁর পূর্বে এবং তাঁর সমসাময়িককালে আকীদা (عقيدة) ও তাওহীদ (توحيد)-এর আলোচনায় রূপক (مجاز)-এর অনুপ্রবেশ এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি (صفات)-এর সাথে এর সংশ্লিষ্টতা। ইলমুল কালাম (علم الكلام)-এর একদল আলেম কোনো প্রয়োজন ছাড়াই পবিত্র টেক্সটসমূহের ব্যাখ্যা (تأويل)-এর পরিধিকে অত্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন যে, প্রজ্ঞাময় কুরআনের শব্দাবলির জাহির (ظاهر) বা প্রকাশ্য এবং বাতেন (باطن) বা অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে, যা একে অপরের বিপরীত। ইমাম আব্দুল কাহের আল-জুরজানি যেমনটি আগে বলেছেন, তারা ব্যাখ্যা (تأويل) করার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি তাদের ব্যাখ্যার বিশৃঙ্খলা এবং অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাদের খামখেয়ালিপনার অনেক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন, যা না কোনো বর্ণনা (نقل) দ্বারা সমর্থিত, না কোনো বিবেক (عقل) দ্বারা গ্রহণযোগ্য, আর না কোনো রুচিশীল মানুষ তা স্বীকার করবে।

আগে যা অলঙ্কারশাস্ত্র, সমালোচনা এবং ভাষাগত সৌন্দর্যের বিষয় ছিল, সেই রূপক (مجاز)-এর এই বিপজ্জনক ক্ষেত্রে—অর্থাৎ আকীদা (عقيدة) ও তাওহীদ (توحيد)-এর ক্ষেত্রে—অনুপ্রবেশই ইমামের মাঝে রূপকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। কারণ তিনি মনে করতেন, আল্লাহর "হাত"-কে কুদরত বা শক্তি দ্বারা ব্যাখ্যা (تأويل) করা মানে আল্লাহর গুণাবলি (صفات)-এর মধ্য থেকে একটি গুণকে অকেজো বা অস্বীকার (تعطيل) করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৮)
وليت الأمر وقف عند هذا الحد، ولكن بعض الخلف المتوسعين في التأويل رموا السلف - فيما حكاه الإمام ابن قيم الجوزية - بعدم الفهم، حيث رأوا أن مذهب السلف هو مجرد الإيمان بألفاظ القرآن والحديث من غير فقه ولا فهم لمراد الله ورسوله منها، واعتقدوا أن السلف بمنزلة الأميين الذين قال الله فيهم {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيّ....}

وهذا بلا نزاع تظاول على علماء السلف الأبرار، وطعن للمة في واحدٍ من أخطر مقاتلها، فلمذهب السلف وزنه وتقديره وهم من أهل القرون الأولى التي وصفها الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم بالخيرية.

هذه العوامل هيى التي دعت شيخ الإسلام بن تيمية لإنكار المجاز، وبشدة لم يعرف لها من قبله مثيل.

موطن إنكار المجاز عن شيخ الإسلام: _

وعلى كثرة ما كتب الإمام ابن تيمية فإننا نراه تصدى لإنكار المجاز - بتوسع - في كتابه الموسوم بـ "الإيمان" وكان السبب المباشر لهذا الإنكار هو إبطال مذهب المرجئة والجهمية والكرامية في تحقيق معنى الإيمان.

وكان هؤلاء يقولون: إن الأعمال الصالحة لا تدخل في حقيقة الإيمان، بل الإيمان هو الاعتقاد وأما الأعمال الصالحة فإطلاق الإيمان عليها من باب المجاز.

ولا سبيل الآن لذكر كل ما قاله الإمام في إنكار المجاز، لذلك نكتفي بذكر الدعائم التي بني عليها الإنكار وأفاض في بيانها ما أفاض. تلك الدعائم هي: -
বিষয়টি যদি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকত! কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের কিছু লোক যারা ব্যাখ্যা (تأويل)-এর ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছেন—যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়াহ বর্ণনা করেছেন—তারা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বুঝের অভাবের অপবাদ দিয়েছেন। তারা মনে করেছেন যে, সালাফদের মাযহাব ছিল কুরআন ও হাদিসের শব্দগুলোর ওপর নিছক ঈমান আনা, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের কোনো ফিকহ (فقه) বা বুঝ ছিল না। তারা বিশ্বাস করতেন যে, সালাফরা ছিলেন সেই নিরক্ষরদের স্তরের, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যারা কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না, কেবল মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া....}

এটি নিঃসন্দেহে পুণ্যবান সালাফ আলেমদের প্রতি ধৃষ্টতা এবং উম্মাহর অন্যতম একটি নাজুক স্থানে আঘাত করার শামিল। কেননা, সালাফদের মাযহাবের নিজস্ব ওজন ও মর্যাদা রয়েছে। তারা সেই শ্রেষ্ঠ যুগের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (রাসুল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম (خيرية) হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই কারণগুলোই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে রূপক (مجاز) ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে অস্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার নজির তাঁর আগে আর দেখা যায়নি।

শায়খুল ইসলামের পক্ষ থেকে রূপক (مجاز) অস্বীকারের ক্ষেত্রসমূহ: _

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অসংখ্য রচনার মধ্যে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাঁর "আল-ইমান" নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে রূপক (مجاز) অস্বীকার করেছেন। এই অস্বীকৃতির সরাসরি কারণ ছিল ঈমানের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুরজিয়া, জাহমিয়া এবং কাররামিয়াদের মাযহাবকে বাতিল করা।

তারা বলতেন যে: সৎকর্মসমূহ ঈমানের প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং ঈমান হলো কেবল বিশ্বাস (اعتقاد)। আর নেক আমলের ওপর ঈমান শব্দের প্রয়োগ কেবল রূপক (مجاز) হিসেবে হয়ে থাকে।

রূপক (مجاز) অস্বীকার করার বিষয়ে ইমাম যা কিছু বলেছেন তার সবটুকু এখানে উল্লেখ করার সুযোগ নেই, তাই আমরা কেবল সেই ভিত্তিগুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই অস্বীকৃতি দাঁড়িয়ে আছে এবং যেগুলোর তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ভিত্তিগুলো হলো: -
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৯)
1- إن سلف الأمة لم يقولوا به، ولم يقسموا الكلام صراحة إلى حقيقة ومجاز إلا عبارة وردت عن الإمام أحمد إمام المذهب الحنبلي قال فيها "هذا من مجاز اللغة" توجيهاً لما ورد في القرآن من "إنَّا ونحن" حديثاً عن نفسه، وقد فسرها الإمام ابن تيمية تفسيراً يُبْعِدها عن المجاز.

2- إنكار أن يكون للغة وضع أول تفرع عنه المجاز باستعمال اللفظ في غير ما وضع له أولاً كما يقول المجازيون.

3- إنكار التجريد والإطلاق في التراكيب اللغوية، بل هي دائماً مقيدة بأي نوع من القيود، وهدفه من هذا وأد فكرة المجاز؛ لأن المجازيين يقولون ان التركيب المطلق الخالي من التقييد بالقرائن المجازية حقيقة لغوية، أما المقيد بتلك القرائن فهو مجاز.

4- إن المجاز نشأ وترعرع في بيئات المعتزلة والجهمية ومن وافقهم.

5- مناقشة النصوص التي استدل بها مجوزو المجاز وإخراجها من المجاز.

هذه الدعائم هي التي أدار عليها الإمام الحديث عن نفي المجاز لا في القرآن وحده، ولكن فيه وفي اللغة بوجه عام ومن يقرأ ما كتبه في الإيمان يجزم بأن الإمام ابن تيمية ليس له في المجاز مذهب سوى الإنكار القاطع.

وقد شاع هذا عن هذا الإمام الجليل، وصار مذهباً يتميك به كثيراً من أهل العلم، وإلى عهدٍ قريب كنا ممن يسلم بأن الإمام ينكر المجاو إنكاراً قاطعاً، وأن تلميذه البار العلامة ابن قيم الجوزية ليس له موقف من المجاز إلا موقف شيخه الإمام وأن ما كتبه ابن القيم في كتابه: الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة، هو امتداد لما كتبه الإمام رضي الله عنهما ومقصد الكتابين واحد:

هو إنكار المجاز في اللغة وفي القرآن الكريم. ولا موقف لهما سواه.
1- উম্মতের সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) এটি বলেননি এবং তারা সুস্পষ্টভাবে কথাবার্তাকে হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজ (مجاز)-এ বিভক্ত করেননি। তবে হাম্বলি মাযহাবের ইমাম, ইমাম আহমাদ থেকে একটি বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে যেখানে তিনি কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর নিজের সম্পর্কে "আমরা এবং আমি" শব্দের প্রয়োগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, "এটি ভাষার রূপক প্রয়োগ (مجاز اللغة)"। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা একে মাজাজ (مجاز) থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

2- ভাষার ক্ষেত্রে কোনো প্রাথমিক প্রবর্তন (وضع أول) থাকাকে অস্বীকার করা, যেখান থেকে মাজাজ (مجاز) এর শাখা তৈরি হয়—যেভাবে মাজাজপন্থীরা বলে থাকেন যে, শব্দকে তার প্রাথমিক অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহার করা।

3- ভাষাগত বাক্যগঠনে বিমূর্তায়ন (تجريد) এবং নিরঙ্কুশতাকে (إطلاق) অস্বীকার করা; বরং বাক্য সর্বদা কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা বা প্রেক্ষিত দ্বারা আবদ্ধ। তাঁর এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো মাজাজের ধারণাকে সমূলে বিনাশ করা; কারণ মাজাজপন্থীরা বলে থাকেন যে, প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (قرائن) মুক্ত নিরঙ্কুশ বাক্যগঠন হলো ভাষাগত হাকিকত (حقيقة), আর যা সেই ইঙ্গিতগুলো দ্বারা সীমাবদ্ধ তা হলো মাজাজ (مجاز)।

4- নিশ্চয়ই মাজাজ (مجاز) মুতাযিলা, জাহমিয়্যাহ এবং তাদের অনুসারীদের পরিবেশে সৃষ্টি ও বিকশিত হয়েছে।

5- যারা মাজাজ (مجاز) বৈধ মনে করেন তাদের পেশকৃত দলিলগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং সেগুলোকে মাজাজের গণ্ডি থেকে বের করে আনা।

এই স্তম্ভগুলোর ওপর ভিত্তি করেই ইমাম (ইবনে তাইমিয়্যাহ) শুধু কুরআন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে ভাষা থেকেও মাজাজ (مجاز) অস্বীকার করার বিষয়টি আবর্তিত করেছেন। তাঁর কিতাবুল ইমান-এ যা লিখেছেন তা পাঠ করলে যে কেউ নিশ্চিত হবেন যে, মাজাজের ক্ষেত্রে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাযহাব বা অবস্থান চূড়ান্ত অস্বীকার ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই মহান ইমামের পক্ষ থেকে বিষয়টি বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এটি অনেক আলিমের নিকট একটি অনুসৃত নীতিতে পরিণত হয়েছে। নিকট অতীত পর্যন্ত আমরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা মনে করতেন যে, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মাজাজ (مجاز) চূড়ান্তভাবে অস্বীকার করেন এবং তাঁর সুযোগ্য ছাত্র আল্লামা ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর অবস্থানও তাঁর উস্তাদ ইমামের অবস্থানের অনুরূপ। ইবনুল কায়্যিম তাঁর আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ গ্রন্থে যা লিখেছেন তা মূলত ইমাম (ইবনে তাইমিয়্যাহ) রাদিয়াল্লাহু আনহু যা লিখেছিলেন তারই ধারাবাহিকতা এবং উভয় গ্রন্থের উদ্দেশ্য অভিন্ন:

তা হলো ভাষা ও পবিত্র কুরআনে মাজাজ (مجاز) অস্বীকার করা। এর বাইরে তাঁদের আর কোনো অবস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ولكن: -

ولكن دعتنا بعض المناسبات في البحث العلمي الأكاديمي فأطالنا الاطلاع على مصنفات الشيخين الجليلين في غير الإيمان والصواعق، وقضينا أكثر من ثلاث سنين نواصل الاطلاع على أعمالهما العلمية الأخرى الصحيحة النسبة إليهما، وخرجنا من واقع ما كتباه بأن للإمامين الجليلين مذهباً آخر في المجاز يزاحم مذهب الإنكار، هو مذهب الإقرار مع حمل كثير من النصوص الشرعية عليه، ثم الاحتجاج به في الدفاع عن الأئمة الأعلام من رجال السلف الصالح ومؤسسي المذاهب الفقهية واتباعهم من الفقهاء رضي الله عنه أجمعين.

أدلة هذا المذهب:

وأدلة هذا المذهب غير المشهور عند الإمامين الجليلين كما ظفرنا عليها في أعمالهما العلمية ثلاثة أنواع عند كل منهما.

النوع الأول: تأويلات مجازية نقلاها عن غيرهما من علماء السلف، ثم ارتضياها وسلماً بها.

النوع الثاني: تأويلات مجازية استأنفاها ولم يروياها عن أحد غيرهما.

النوع الثالث: ورود المجاز عندهما لفظاً ومعنى في حر كلامهما. والإحتجاج به في الدفاع عن سلامة الإعتقاد في مواجهة بعض الطاعنين في النصوص الشرعية.

ونبدأ بالإمام ابن تيمية على نفس المنهج الذي ذكرناه وبالله التوفيق:
কিন্তু: -

তবে অ্যাকাডেমিক গবেষণার বিশেষ কিছু প্রেক্ষাপটে আমরা এই দুই মহান শাইখের কিতাবুল ইমান এবং আস-সাওয়ায়িক ব্যতীত অন্যান্য রচনাবলি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছি। তাদের প্রতি সঠিকভাবে নিসবতকৃত অন্যান্য জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজসমূহ আমরা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অধ্যয়ন করেছি। তাদের লেখনীর বাস্তবতা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, রূপক (المجاز) প্রসঙ্গে এই দুই মহান ইমামের এমন এক ভিন্ন মাযহাব বা মত রয়েছে যা তাদের অস্বীকৃতি (الإنكار) বিষয়ক মতের সমান্তরাল। সেটি হলো রূপকের স্বীকৃতি (الإقرار) প্রদান এবং অনেক শরিয়তি নস বা পাঠকে এর ওপর প্রয়োগ করা; অতঃপর নেককার পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) অন্তর্ভুক্ত প্রথিতযশা ইমামগণ, ফিকহি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং তাদের অনুসারী ফকিহদের (আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) পক্ষ সমর্থনে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (الاحتجاج)।

এই মতের প্রমাণসমূহ:

এই দুই মহান ইমামের নিকট এই স্বল্প পরিচিত মতটির প্রমাণসমূহ—যা আমরা তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজে লাভ করেছি—উভয়ের নিকট তিন প্রকারের।

প্রথম প্রকার: রূপকধর্মী ব্যাখ্যা (تأويلات مجازية) যা তারা সালাফ বা পূর্বসূরি আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে তা পছন্দ করেছেন ও তা মেনে নিয়েছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: রূপকধর্মী ব্যাখ্যা (تأويلات مجازية) যা তারা নিজেরাই প্রবর্তন করেছেন এবং অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেননি।

তৃতীয় প্রকার: তাদের নিজস্ব বক্তব্যে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে রূপকের (المجاز) উপস্থিতি এবং শরিয়তি নস বা পাঠের ওপর আক্রমণকারীদের মোকাবিলায় আকিদাহর (الاعتقاد) বিশুদ্ধতা রক্ষার্থে একে দলিল হিসেবে পেশ করা (الاحتجاج)।

আমরা আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাধ্যমে আলোচনা শুরু করছি, আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি:
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌التأويلات التي نقلها ثم ارتضاها

نقل الإمام ابن تيمية عن السلف تأويلات كثيرة، صُرِف فيها اللفظ عن ظاهره ومن ذلك:

معية الله وقربه من خلقه:

حكى الإمام في معية الله وقربه مذاهب، وارتضى منها مذهباً واحداً هو المذهب الرابع، ونسبه إلى سلف الأمة من أئمة الدين والعلم وشيوخ العلم والعباد كما يقول الإمام نفسه: "إنهم أمنوا بجميع ما جاء به الكتاب والسنة من غير تحريف للكلم، وأثبتوا أن الله تعالى فوق سمواته، وأنه على عرشه بائن من خلقه، وهم بائنون منه، وهو أيضاً مع العباد - عموماً - يعلمه، ومع أنبيائه وأوليائه بالنصر والتأييد والكفاية".

وبعد أن أسند هذا التأويل إلى السلف - عموماً - عاد فأسنده إلى الإمام أحمد شيخ المذهب، قال: إن حنبل بن إسحق سأل الإمام أبا عبد الله عن قوله تعالى: {إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا....} فقال: علمه: عالم الغيب والشهادة محيط بكل شيء".

إذن فلفظاً المعية والقرب هنا مصروفان عن ظاهرهما، والسر في هذا الصرف هو نفي المماسة الحسية، وها ما يقوله مجوزو المجاز في مثل هذه المواضع القرب والمعية - وهما عند المجازيين إن لم تُسغْ فيهما الكناية لجواز إرادة المعنى الظاهر فيعل ساغ فيهما المجاز المرسل بكل يسر.

البقرة وآل عمران:

ثم قال الإمام ابن تيمية أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"أقرأوا البقرة وآل عمران فإنهما يجيئان يوم القيامة يحاجان عن أصحابهما" وهذا الحديث في الصحيح.... فلما أمر بقراءتهما وذكر مجيئهما يحاجان عن القارئ علم أنه أراد بذلك … عمله … " فهذا تأويل أخر، وهو عند
‌‌ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات) যা তিনি উদ্ধৃত করেছেন এবং অতঃপর পছন্দ করেছেন

ইমাম ইবনে তাইমিয়া সালাফদের থেকে অনেক ব্যাখ্যা (تأويل) বর্ণনা করেছেন, যেখানে শব্দকে (اللفظ) তার বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে:

আল্লাহর সান্নিধ্য (معية) এবং তাঁর সৃষ্টির নৈকট্য (قرب):

ইমাম আল্লাহর সান্নিধ্য (معية) এবং নৈকট্য (قرب) সম্পর্কে কয়েকটি মত (مذاهب) উল্লেখ করেছেন এবং সেখান থেকে একটি মাত্র মত পছন্দ করেছেন যা হলো চতুর্থ মত। তিনি একে দ্বীন ও ইলমের ইমামগণ এবং ইলম ও ইবাদতের শায়খদের মতো উম্মতের সালাফদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যেমনটি ইমাম নিজেই বলেন: "তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে যা কিছু এসেছে তার সবকিছুর ওপর কোনো শব্দগত বিকৃতি (تحريف) ছাড়াই ঈমান এনেছেন। তাঁরা সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে এবং তিনি তাঁর আরশের ওপর তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক (بائن), আর সৃষ্টিজগতও তাঁর থেকে পৃথক (بائن)। তিনি সাধারণভাবে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে বান্দাদের সাথে (معية) আছেন, আর তাঁর নবী ও বন্ধুদের সাথে সাহায্য, সমর্থন এবং পর্যাপ্ততার মাধ্যমে সাথে আছেন।"

এই ব্যাখ্যাটিকে (تأويل) সাধারণভাবে সালাফদের প্রতি সম্বন্ধ করার পর, তিনি পুনরায় একে মাযহাবের শায়খ ইমাম আহমদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন: হাম্বল ইবনে ইসহাক ইমাম আবু আব্দুল্লাহকে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তাদের সাথেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন....} সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: "এর অর্থ তাঁর ইলম (জ্ঞান); তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাত এবং সবকিছু তাঁর পরিবেষ্টনকারী।"

অতএব, এখানে সান্নিধ্য (معية) এবং নৈকট্য (قرب) শব্দ দুটি তাদের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে বিচ্যুত। আর এই বিচ্যুতির রহস্য হলো বাহ্যিক স্পর্শকে অস্বীকার করা। রূপক (مجاز) প্রয়োগের প্রবক্তারা (مجوزو المجاز) এই জাতীয় ক্ষেত্রে সান্নিধ্য (معية) ও নৈকট্য (قرب) সম্পর্কে যা বলে থাকেন এটি তা-ই—রূপকবাদীদের (المجازيين) নিকট যদি এ ক্ষেত্রে কিনায়াহ (كناية) প্রয়োগ করা সম্ভব না হয় যেহেতু বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব, তবে অত্যন্ত সহজভাবেই এখানে মাজাযে মুরসাল (مجاز مرسل) প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান:

অতঃপর ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"তোমরা সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এ দুটি তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক করতে করতে আসবে।" আর এই হাদিসটি সহিহ গ্রন্থে রয়েছে.... যখন তিনি এ দুটি পাঠ করার নির্দেশ দিলেন এবং পাঠকারীর পক্ষ থেকে এ দুটির বিতর্ক করার জন্য উপস্থিত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন, তখন বোঝা গেল যে তিনি এর দ্বারা... তাঁর আমল... বুঝিয়েছেন।" এটি হলো অন্য একটি ব্যাখ্যা (تأويل), আর এটি...
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১২)
علماء البيان مجاز مرسل علاقته السببية. حيث ذكر فيه السبب، وهو السورتان المقروءتان وأراد المسبب. وهو الثواب.

‌‌ضرر الأصنام ونفعها:

في القرآن آيات كثيرة تقرر أن الأصنام - وكل معبود من دون الله - لا تنفع ولا تضر - وفي سورة الحج وردت آيتان أولاهما تنفي النفع والضرر عن الأصنام، وهي قوله تعالى:

{يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُ وَمَا لَا يَنْفَعُهُ ذَلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ}

والأخرى تثبت للصنام ضراً ونفعاً من حيث الظاهر، وهي قوله تعالى:

{يَدْعُو لَمَنْ ضَرُّهُ أَقْرَبُ مِنْ نَفْعِهِ لَبِئْسَ الْمَوْلَى وَلَبِئْسَ الْعَشِيرُ}

والطاعنون في القرآن قبل عصر الإمام وفي عصره أدَّعَوْا أن في القرآن تناقصاً، وتصدي علماء قبل الإمام للرد عليهم، فلما جاء الإمام تصدي في بصر وبصيرة لوأد هذه الشبهة، فذكر دفوع سابقيه، ومع موافقته عليها قال أنها لم تدفع دعوى التناقص فانبرى لدفعه وأصاب كل الإصابة فماذا قال أثابه الله؟.

دَفْع الإمام ابن تيمية: -

لم يكتف الإمام بما ذكره الثعلبي والبغوي والزمخشري والسُّدي؛ لأن ما ذكروه في الرد على الطاعنين لم يف بالمطلوب، فقال:

المنفي هو فعلهم بقوله: {مَا لَا يَضُرُّهُ وَمَا لَا يَنْفَعُهُ} والمثبت اسم مضاف إليه، فإنه لم يقل: يضر أعظمَ مما ينفع، بل قال: {لَمَنْ ضَرُّهُ أَقْرَبُ مِنْ نَفْعِهِ} والشيء يضاف إلى الشيء بأدنى ملابسة، فلا يجب أن يكون الضر والنفع المضافان من باب إضافة المصدر للفاعل.
আল-বায়ান শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ একে রূপক (مجاز مرسل) হিসেবে গণ্য করেন, যার সম্বন্ধ হলো কারণিকতা (السببية)। এখানে কারণ (السبب) উল্লেখ করা হয়েছে, যা হলো পঠিত দু'টি সূরা, এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার ফলাফল (المسبب) তথা সওয়াব।

‌‌মূর্তিসমূহের ক্ষতি ও উপকার:

কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা প্রতিষ্ঠিত করে যে, মূর্তিসমূহ—এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য—কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। সূরা আল-হাজ্জ-এ দু'টি আয়াত বর্ণিত হয়েছে, যার প্রথমটি মূর্তিদের থেকে উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা নাকচ করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:

{সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তার কোনো উপকারও করতে পারে না; এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা।}

আর দ্বিতীয়টি বাহ্যিক দিক থেকে মূর্তিদের জন্য ক্ষতি ও উপকার সাব্যস্ত করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:

{সে এমন কাউকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকারের চেয়েও নিকটতর; কতই না মন্দ এই অভিভাবক এবং কতই না মন্দ এই সহচর।}

ইমামের যুগের পূর্বে এবং তাঁর সমসাময়িক কালে কুরআন নিয়ে যারা সংশয় ও কটূক্তি করত, তারা দাবি করেছিল যে কুরআনে পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে। ইমামের পূর্ববর্তী উলামাগণ তাদের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অতঃপর যখন ইমাম আসলেন, তখন তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে এই সংশয় (الشبهة) নিরসনে সচেষ্ট হলেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের খণ্ডনসমূহ উল্লেখ করেন, তবে সেগুলোর সাথে একমত পোষণ করা সত্ত্বেও তিনি বলেন যে, সেগুলো বৈপরীত্যের দাবিকে পুরোপুরি নিরসন করতে পারেনি। অতঃপর তিনি নিজে তা খণ্ডন করতে প্রবৃত্ত হন এবং পূর্ণাঙ্গ রূপে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তিনি কী বলেছিলেন?

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার খণ্ডন: -

ইমাম (ইবনে তাইমিয়্যাহ) সা'লাবী, বাগাভী, যামাখশারী এবং সুদ্দী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে তৃপ্ত হননি; কারণ সমালোচকদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের বর্ণনাগুলো যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি বললেন:

আল্লাহর বাণী {যা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তার কোনো উপকারও করতে পারে না}-তে যা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো তাদের ক্রিয়া বা কাজ। আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য। কেননা তিনি বলেননি যে, 'সে উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে', বরং তিনি বলেছেন: {যার ক্ষতি তার উপকারের চেয়েও নিকটতর}। আর সামান্যতম সম্পর্কের ভিত্তিতেই এক বস্তুকে অন্য বস্তুর দিকে সম্বন্ধ করা যায়। সুতরাং এটি আবশ্যক নয় যে, এখানে সম্বন্ধকৃত ক্ষতি ও উপকারটি কর্তার প্রতি মাসদারের সম্বন্ধ (إضافة المصدر للفاعل) করার পর্যায়ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৩)
بل قد يضاف المصدر من جهة كونه اسماً كما تضاف سائر الأسماء، وقد يضاف إلى محله وزمانه ومكانه وسبب حدوثه وإن لم يكن فاعلاً، كقوله: {بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} ولا ريب ان بين المعبود من دون الله، وبين ضرر عابديه تعلق يقتضي الإضافة".

هذا التخريج الذي ذكره الإمام هو بعينه الذي يقوله البلاغيون في هذا النص الكريم وفيما ماثله، وكل ما في الأمر أن البلاغيين يسمونه مجازاً اسنادياً أو حكمياً، والإمام يتوقف عن هذه التسمية، والتسمية لا تأثير لها على حقيقة المسمى: سلباً أو إيجاباً وقد فطن الإمام إلى أن النسب الإضافية مثل النسب الوقوعية والنسب الإيقاعية في العلاقات الإسنادية، وهذا موضع اتفاق عند البلاغيين في مبحث المجاز الحكمي.

كما أن الإمام ذكر من علاقات هذا المجاز ثلاثاً: هي المكانية والزمانية والسببسة، وطبق علاقة السببية على الآية الحكيمة فأجاد وأصاب، فالضر الواقع على عابدي الأصنام هو فِعلُ الله وحده. أما اضافته إلى ضمير الصنم فلأن الله أضر المشرك بسبب عبادته لمن دونه.

وصفوة القول: أن الإمام ابن تيمية مقر بالتأويل المجازي وإن لم يسمه مجازاً. وأنه أتخذ منه وسيلة للدفاع عن سلامة العقيدة، وتبرئة ساحة كتاب الله العزيز من المطاعن.

واستشهاده بآية {بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} والتنظير بينها وبين آية {يَدْعُو لَمَنْ ضَرُّهُ} يتسق تماماً مع مجوزي المجاز من بلاغيين وأصوليين ومفسرين.

وقد حلل الإمام نصوصاً شرعية أخرى على هذا المنوال، منها قول الخليل
বরং ক্রিয়ামূল (مصدر) কখনও কখনও বিশেষ্য (اسم) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত হয়, যেমন অন্যান্য বিশেষ্যসমূহ সম্বন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। কখনও এটি তার আধার, সময়, স্থান বা সংঘটিত হওয়ার কারণের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হতে পারে, যদিও সেটি কর্তা (فاعل) না হয়। যেমন আল্লাহর বাণী: {বরং রাত ও দিনের ষড়যন্ত্র}। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ ছাড়া যা কিছুর ইবাদত করা হয় এবং তার উপাসকদের যে ক্ষতি হয়, উভয়ের মাঝে এমন এক সম্পর্ক বিদ্যমান যা এই সম্বন্ধ (إضافة) হওয়াকে আবশ্যক করে।

ইমাম যে ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করেছেন, এটি অবিকল তা-ই যা অলঙ্কারবিদগণ এই পবিত্র পাঠ (نص) এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বলে থাকেন। মূল বিষয়টি হলো অলঙ্কারবিদগণ একে ইসনাদী রূপক (مجاز إسنادي) বা হুকমী রূপক (مجاز حكمي) হিসেবে অভিহিত করেন, আর ইমাম এই পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরত থাকেন। তবে কোনো কিছুর নামকরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাব মূল বিষয়ের হাকিকত বা বাস্তবতার ওপর পড়ে না। ইমাম এটি অনুধাবন করেছিলেন যে, সম্বন্ধসূচক সম্পর্কসমূহ মূলত ইসনাদী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংঘটিত হওয়া বা প্রয়োগ করার মতো সম্বন্ধের মতোই। আর এটি অলঙ্কারবিদদের নিকট হুকমী রূপক (مجاز حكمي) আলোচনার ক্ষেত্রে একটি সর্বসম্মত বিষয়।

তদ্রূপ ইমাম এই রূপকের (مجاز) সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনটি দিক উল্লেখ করেছেন: স্থানিক, সময়কাল সংক্রান্ত এবং কারণগত। তিনি পবিত্র আয়াতের ওপর কারণগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রয়োগ করেছেন এবং অত্যন্ত চমৎকার ও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। কেননা মূর্তিপূজকদের ওপর যে ক্ষতি আপতিত হয়, তা একমাত্র আল্লাহরই কাজ। আর ক্ষতির বিষয়টি মূর্তির সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) করার কারণ হলো, আল্লাহ মুশরিককে তার গাইরুল্লাহর ইবাদত করার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

সারকথা হলো: ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রূপক ব্যাখ্যা (تأويل مجازي) স্বীকার করেছেন, যদিও তিনি একে সরাসরি রূপক (مجاز) নামে অভিহিত করেননি। তিনি একে আকিদাহর বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং আল্লাহর কিতাবকে অপবাদ থেকে মুক্ত রাখার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

{বরং রাত ও দিনের ষড়যন্ত্র} আয়াতটি দ্বারা তাঁর প্রমাণ পেশ করা এবং এর সাথে {সে এমন কাউকে ডাকে যার ক্ষতি...} আয়াতের যে সাদৃশ্য তিনি দেখিয়েছেন, তা রূপক (مجاز) সমর্থনকারী অলঙ্কারবিদ, উসুলবিদ (أصولي) এবং মুফাসসির (مفسر)গণের মতের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইমাম এই একই পদ্ধতিতে আরও অনেক শরয়ী পাঠ (نص) বিশ্লেষণ করেছেন, যার মধ্যে ইব্রাহিম খলীল (আ.)-এর উক্তিও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৪)
عليه السلام: {رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ....} وقوله تعالى: {وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ} .

وقوله صلى الله عليه وسلم "أهلك الناسَ الدرهم والدينار، وأهلك النساء الأحمران: الذهب والحرير".

كل هذه النصوص حللها على أن إسناد الإضلال وزيادة التتبيب، وإهلاك الناس والنساء إلى الأصنام والدرهم والدينار، والذهب والحرير روعي فيها أن هذه المذكورات أسباب أما الفاعل الحقيقي فهو الله عز وجل.

ومجوزو المجاز من البلاغيين يحللونها هذا التحليل بلا نقص ولا زيادة عما قاله الإمام، اللهم إلا إطلاق مصطلح المجاز الحكمي عليها.

فابن تيمية بلاغي مجازي - هنا - بلا نزاع.

وأكاد أجزم أن قضية ضر الأصنام ونفعها التي عالجها الإمام بحكمة واقتدار لم يكن لها من خرج أمامه، ولا أمام أحد من علماء الإسلام سوى هذه السبيل التي نهجها الإمام ابن تيمية، وهي سبيل التخريج على المجاز الإسنادي الحكمي الذي ينبغي الصيرورة إليه إذا دعت ضرورة شرعية أو عقلية.

‌‌التأويل الاستعاري:

وللإمام رضي الله عنه تأويلات أخرى صرَّح فيها بنقل الألفاظ مفردة ومركبة من معانيها الوضعية إلى معان طارئة، وصرح فيها بضرب المثل وتشبيه مضربه بمورده وهذا كله مدرج عند علماء البيان في باب الإستعارة مفردة كانت أو مركبة.

فمما يحمل على الإستعارة المفردة من تأويلاته قوله في قوله تعالى:

{أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ} فقد قال فيه:
আলাইহিস সালাম: {হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই এগুলো (প্রতিমাগুলো) অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে...} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা তাদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করেছিল।}

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "দিরহাম ও দিনার মানুষকে ধ্বংস করেছে, আর দুই লাল বস্তু—সোনা ও রেশম—নারীদের ধ্বংস করেছে।"

এই সকল বক্তব্য তিনি এভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যে, পথভ্রষ্ট করা, ধ্বংস বৃদ্ধি করা এবং মানুষ ও নারীদের বিনাশকে প্রতিমা, দিরহাম, দিনার, সোনা ও রেশমের প্রতি সম্পর্কিতকরণ (إسناد) করার ক্ষেত্রে এই দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে যে এগুলো কেবল বাহ্যিক কারণ, আর প্রকৃত কর্তা (ফায়িল) হলেন মহান আল্লাহ।

অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে যারা রূপকের (মাজায) প্রবক্তা, তাঁরা ইমাম যা বলেছেন ঠিক তা-ই কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই বিশ্লেষণ করেন; কেবল একে রূপক হুকমি (المجاز الحكمي) পরিভাষা দ্বারা অভিহিত করার বিষয়টি ব্যতীত।

সুতরাং ইবনে তাইমিয়্যাহ এখানে নিঃসন্দেহে একজন রূপকপন্থী অলঙ্কারবিদ।

আমি প্রায় নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, প্রতিমার অনিষ্ট ও উপকারের বিষয়টি ইমাম অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও নিপুণতার সাথে যেভাবে সমাধান করেছেন, তাঁর সামনে কিংবা ইসলামের অন্য কোনো আলিমের সামনে ইবনে তাইমিয়্যাহর অনুসৃত এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। আর তা হলো রূপক ইসনাদি হুকমি (المجاز الإسنادي الحكمي)-এর আলোকে ব্যাখ্যা করা, শরয়ী বা যৌক্তিক প্রয়োজনে যার দিকে ফিরে যাওয়া জরুরি।

‌‌রূপকধর্মী ব্যাখ্যা (التأويل الاستعاري):

ইমাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আরও কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে যেখানে তিনি একক শব্দ ও যৌগিক বাক্যকে তাদের মৌলিক আভিধানিক অর্থ থেকে সরিয়ে প্রাসঙ্গিক অন্য অর্থে ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি দৃষ্টান্ত পেশ করা এবং সাদৃশ্য প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট একক বা যৌগিক রূপক (إستعارة) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

একক শব্দের রূপক (إستعارة) সংক্রান্ত তাঁর ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য:

{তারাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত} এ বিষয়ে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৫)
"فالمهتدون لما كانوا على هدى من ربهم ونور، وبينه وبصيرة صار مكانة لهم استقروا عليها".

والبيانيون يتصرفون في هذه الآية مثل تصرف الإمام ومنهم من يجعل الإستعارة فيه مركبة ومنهم من يجعلها مفردة.

وكذلك تأويله لقوله تعالى:

{اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ} قال الإمام معقباً على هذه الآية:

"النور ضد الظلمة ولهذا عقب ذكر النور وأعمال المؤمنين فيها بأعمال الكفار وأهل البدع والضلال" فقال: د

{وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ} إلى قوله: {ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ....} .

وبعد محاولة منه لشرح معنى النور في جانب المؤمنين، ومعنى الظلمات في جانب الكافرين قال:

"يوضح ذلك أن الله ضرب مثل إيمان المؤمنين بالنور ومثل أعمال الكفار بالظلمة".

هذا التحليل الذي ذكره الإمام يتضمن استعارتين: استعارة النور للإيمان، واستعارة الظلمة للكفر، أما الايتعارة التمثيلية التي استلزمها كلامه في مواضع متعددة فمنها المثل الذي ساقه وهو:

"يداك أوكتا، فوك نفخ" إذا قيل لمن جنى جناية ثم انكرها.

وترديد المثل في مضاربه بعد مورده أجمع البيانيون على أنه استعارة تمثيلية أو مجاز مركب.
"পথপ্রাপ্তগণ যখন তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়াত ও নূরের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং স্পষ্ট প্রমাণ ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন, তখন এটি তাদের জন্য এমন এক অবস্থানে পরিণত হয়েছিল যেখানে তারা স্থিরতা লাভ করেছিলেন।"

অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই আয়াতের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসৃত পদ্ধতির ন্যায় আচরণ করেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর রূপককে যৌগিক রূপক (استعارة مركبة) হিসেবে গণ্য করেন, আবার কেউ কেউ একে একক রূপক (استعارة مفردة) হিসেবে গণ্য করেন।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাখ্যা:

{তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তিনি তাঁর রহমত থেকে তোমাদের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন এবং তোমাদের জন্য নূর দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে}। এই আয়াতের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে ইমাম বলেন:

"নূর হলো অন্ধকারের বিপরীত, আর একারণেই তিনি নূরের আলোচনা এবং মুমিনদের আমলের আলোচনার পর কাফেরদের আমল এবং বিদআতপন্থী (أهل البدع) ও পথভ্রষ্টদের আমলের উল্লেখ করেছেন।" অতঃপর তিনি বললেন:

{আর যারা কুফরি করে তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {ঘোর অন্ধকার, যার একটির ওপর আরেকটি...}।

মুমিনদের ক্ষেত্রে নূরের অর্থ এবং কাফেরদের ক্ষেত্রে অন্ধকারের অর্থ ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টার পর তিনি বলেন:

"এটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ মুমিনদের ঈমানকে নূরের সাথে এবং কাফেরদের আমলকে অন্ধকারের সাথে তুলনা করেছেন।"

ইমামের উল্লিখিত এই বিশ্লেষণে দুটি রূপক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ঈমানের জন্য নূরের রূপক এবং কুফরির জন্য অন্ধকারের রূপক। তবে তাঁর আলোচনার বিভিন্ন স্থানে যে উপমামূলক রূপক (استعارة تمثيلية) এর প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে, তার মধ্যে একটি উদাহরণ হলো তিনি যে প্রবাদটি উদ্ধৃত করেছেন:

"তোমার দুই হাত গিঁট বেঁধেছে এবং তোমার মুখ ফুঁ দিয়েছে"—এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে কোনো অপরাধ করে পরে তা অস্বীকার করে।

প্রবাদের মূল প্রয়োগের ক্ষেত্র পেরিয়ে অনুরূপ ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তিকে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ সর্বসম্মতভাবে উপমামূলক রূপক (استعارة تمثيلية) অথবা যৌগিক রূপক (مجاز مركب) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৬)
نكتفي بهذا القدر من التأويلات توضيحاً للمجاز ثم نأتي إلى ما هو أهم وهو:

ورود المجاز في حر كلام الإمام ابن تيمية: -

ورد المجاز في حر كلام الإمام بن تيمية مع التسليم به وتوظيفه في جدله مع الخصوم في الرأي أو العقيدة.

‌‌النزاع بين مجوزي المجاز ومانعيه لفظي: -

هذه العبارة قالها الإمام ابن تيمية، وقد أوردها لحسم نزاع وقع بين بعض الناس حول:

هل ما نسمعه من أوصوات قراء القرآن هو كلام الله نفسه، أم الصوت ليس كلام الله وإنما التراكيب والمعاني.

ويدفع الإمام هذا الخلاف بأن الفرق كبير بين من يرى الشمس أو القمر بلا واسطة، وبين من يراهما في المرآة أو على سطح الماء. ثم يقول بعد ذلك بالحرف الواحد:

"واللفظ يختلف معناه بالإطلاق والتقييد، فإذا وُصِل بالكلامما يغير معناه كالشرط والاستثناء … كقوله تعالى: "أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا} كان هذا المجموع دالاً على تسعمائة وخمسين سنة بطريق الحقيقة عند جميع المسلمين ومن قال إن هذا مجاز فقد غَلِط، لأن هذا المجموع لم يستعمل في غير موضعه، وما يقترن باللفظ من القرائن الموضوعية هو من تمام الكلام، ولهذا لا يحتمل الكلام معها معنيين ولا يجوز نفي مفهموما. بخلاف استعمال لفظ الأسد في الرجل الشجاع، مع أن قول القائل: هذا اللفظ حقيقة وهذا مجاز نزاع لفظي، وهو مستند من أنكر المجاز في اللغة أو في القرآن".
আমরা রূপকের (المجاز) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আলোচনাতেই ক্ষান্ত হচ্ছি, এরপর আমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে যাব, আর তা হলো:

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর নিজস্ব বক্তব্যের মধ্যে রূপকের (المجاز) ব্যবহার: -

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর নিজস্ব বক্তব্যে রূপকের (المجاز) ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়, যেখানে তিনি একে স্বীকার করেছেন এবং মতাদর্শিক বা আকিদাগত বিরোধীদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করেছেন।

‌‌রূপকের (المجاز) প্রবক্তা ও বিরোধীদের মধ্যকার বিবাদটি শাব্দিক: -

এই উক্তিটি ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ করেছেন এবং তিনি এটি একদল লোকের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদ নিরসনের জন্য উল্লেখ করেছেন, যা মূলত এই বিষয়ে ছিল যে:

আমরা কুরআন পাঠকদের কণ্ঠ থেকে যা শুনি তা কি স্বয়ং আল্লাহর কালাম, নাকি এই কণ্ঠস্বর আল্লাহর কালাম নয় বরং এর বিন্যাস ও অর্থসমূহ আল্লাহর কালাম।

ইমাম এই মতভেদ দূর করতে গিয়ে বলেন যে, যে ব্যক্তি সরাসরি সূর্য বা চাঁদ দেখে এবং যে ব্যক্তি আয়নায় বা পানির উপরিভাগে সেগুলোর প্রতিফলন দেখে—তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এরপর তিনি হুবহু এভাবে বলেন:

"শব্দের অর্থ ব্যাপকতা (الإطلاق) ও সীমাবদ্ধতার (التقييد) প্রেক্ষিতে ভিন্ন হয়। সুতরাং যখন কোনো বাক্যের সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা তার অর্থ পরিবর্তন করে দেয়, যেমন শর্ত (الشرط) ও ব্যতিক্রম (الاستثناء) … যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর', তখন সকল মুসলিমের নিকট এটি প্রকৃত (الحقيقة) অর্থে নয়শত পঞ্চাশ বছরকেই নির্দেশ করে। যারা একে রূপক (المجاز) বলে তারা ভুল করেছে, কারণ এই সমষ্টিটিকে তার মূল ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক আলামতসমূহ (القرائن) হলো মূল বক্তব্যেরই পূর্ণতাদানকারী অংশ, তাই এর মাধ্যমে বাক্যটি দুটি ভিন্ন অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে না এবং এর বোধগম্য অর্থকে অস্বীকার করাও বৈধ নয়। পক্ষান্তরে সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সিংহ' শব্দের ব্যবহার এর ব্যতিক্রম। অবশ্য কোনো বক্তার এই কথা বলা যে 'এই শব্দটি প্রকৃত (الحقيقة) এবং এই শব্দটি রূপক (المجاز)', তা মূলত একটি শাব্দিক বিবাদ; আর যারা ভাষা বা কুরআনে রূপকের (المجاز) অস্তিত্ব অস্বীকার করেন, এটিই তাদের মূল ভিত্তি।"
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৭)
نستخلص من هذا النص طائفة من النتائج المهمة بالنسبة لموضوع الندوة.

أولاً - إقرار الإمام بالوضع اللغوي الأول ثم اقراره بالنقل منه إلى الاستعمال المجازي. د

ثانياً - إقراره بتقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز.

ثالثاً - إقراره بالقرائن المجازية وأثرها في تبيين ما هو مجاز مما هو حقيقة.

رابعاً - ثم إقراره بالمجاز جملة وتقصيلاً وعزوه الخلاف بين مجوزي المجاز ومانعيه في اللغة أو في القرآن إلى الخلاف اللفظي.

وهذه الأمور جميعاً كانت موضع إنكار فيما كتبه في كتاب الإيمان.

ونتساءل: هل يعتبر هذت رجوعاً من الإمام عما كتبه هناك أم ما كتبه هناك رجوع عما كتبه هنا؟ هذا التساؤل كان من الممكن الإجابة عليه لو كنا نعلم السابق واللاحق من تأليفه. مع ملاحظة أن ما سيأتي يرجح الرجوع عما سجله يرجح الرجوع عما سجله في كتاب الإيمان.

والذي يفهم جلياً من هذا النص أن الإمام ابن تيمية من مجوزي المجاز في اللغة وفي القرآن. وأن ما ذكره في آية العنكبوت هو مناقشة في مثال لا في مبدأ.

نص ثان ورود المجاز عند الإمام: -

وقد ورد المجاز في حر كلام الإمام في نص ثان قال فيه بالحرف "ولم ينطق بهذا - يعني المجاز - أحد من السلف والأئمة، ولم يعرف لفظ المجاز في كلام أحد من الأئمة إلا في كلام الإمام أحمد - يعني - شيخ المذاهب - فإنه قال في الرد على الزنادقة والجهمية هذا من مجاز اللغة. وأول من قال ذلك مطلقاً ابو عبيدة في كتابه الذي صنفه في مجاز القرآن. ثم إن هذا كان عند الأوليين مما يجوز في اللغة ويسوغ، فهم مشتق عندهم من الجواز كما يقول الفقهاء عقد لازم وجائز، وكثير من المتأخرين جعله من الجواز الذي هو العبور من معنى الحقيقة إلى معنى المجاز ثم إنه
এই পাঠ্য থেকে আমরা সেমিনারের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আহরণ করতে পারি।

প্রথমত— ইমামের ভাষাতাত্ত্বিক আদি অর্থকে (الوضع اللغوي الأول) স্বীকার করে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তা থেকে রূপক ব্যবহারের (الاستعمال المجازي) দিকে স্থানান্তরের বিষয়টি মেনে নেওয়া। দ

দ্বিতীয়ত— কথা বা বাচনিক প্রকাশকে প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রতি তাঁর স্বীকৃতি।

তৃতীয়ত— রূপক প্রাসঙ্গিক সংকেত (القرائن المجازية) এবং প্রকৃত (حقيقة) বিষয় থেকে কোনটি রূপক (مجاز) তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রভাবকে স্বীকার করে নেওয়া।

চতুর্থত— রূপক (مجاز) বিষয়টি সাধারণভাবে ও সবিস্তারে স্বীকার করা এবং ভাষা বা কুরআনের ক্ষেত্রে রূপকের প্রবক্তা ও বিরোধীদের মধ্যকার মতবিরোধকে শাব্দিক মতবিরোধ (الخلاف اللفظي) হিসেবে অভিহিত করা।

আর এই সকল বিষয়ই তাঁর রচিত কিতাবুল ঈমান গ্রন্থে অস্বীকারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে: এটি কি ইমামের পূর্বোক্ত বক্তব্য থেকে ফিরে আসা বলে গণ্য হবে, নাকি সেখানে যা লিখেছেন তা এখান থেকে ফিরে আসা? যদি তাঁর গ্রন্থ রচনার ধারাবাহিকতা আমাদের জানা থাকত, তবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হতো। তবে লক্ষ্যণীয় যে, পরবর্তী আলোচনাগুলো কিতাবুল ঈমান গ্রন্থে লিপিবদ্ধ বক্তব্য থেকে তাঁর ফিরে আসাকেই প্রবল (يرجح) প্রতিপন্ন করে।

এই পাঠ্য থেকে স্পষ্টভাবে যা বোঝা যায় তা হলো, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ভাষা ও কুরআনে রূপক (مجاز) ব্যবহারের বৈধতাদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর সূরা আনকাবুতের আয়াতের ক্ষেত্রে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা একটি উদাহরণের ব্যবচ্ছেদ মাত্র, মূল নীতির বিরোধিতা নয়।

ইমামের নিকট রূপকের (مجاز) উপস্থিতির বিষয়ে দ্বিতীয় পাঠ্য: -

ইমামের মূল বক্তব্যে রূপক (مجاز) শব্দটি দ্বিতীয় আরেকটি পাঠেও এসেছে, যেখানে তিনি হুবহু বলেছেন: "সালাফ (سلف) ও ইমামগণের মধ্য থেকে কেউ এই শব্দটি—অর্থাৎ রূপক (مجاز)—উচ্চারণ করেননি। ইমাম আহমাদ ছাড়া—যিনি মাযহাবসমূহের শাইখ—অন্য কোনো ইমামের বক্তব্যে রূপক (مجاز) শব্দটি পাওয়া যায় না। তিনি 'আর-রাদ্দু আলায যানাদিকা ওয়াল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: 'এটি ভাষার রূপক (مجاز اللغة) থেকে এসেছে'। আবু উবাইদাহ সর্বপ্রথম তাঁর রচিত মাজাযুল কুরআন গ্রন্থে এটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করেছেন। প্রাথমিক যুগের আলিমদের নিকট এটি ভাষার ক্ষেত্রে বৈধ ও সংগত বিষয় ছিল; তাঁদের নিকট এটি 'জাওয়াজ' (جواز) বা অনুমোদিত হওয়া থেকে উদ্ভূত, যেমনটি ফকিহগণ (فقهاء) বলে থাকেন— 'আবশ্যক ও ঐচ্ছিক (جائز) চুক্তি'। কিন্তু পরবর্তী যুগের অনেক আলিম একে 'জাওয়াজ' বা অতিক্রম করা অর্থে গ্রহণ করেছেন, যা প্রকৃত (حقيقة) অর্থ থেকে রূপক (مجاز) অর্থের দিকে উত্তরণ বোঝায়। এরপর তিনি..."
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৮)
لا ريب أن المجاز قد يشيع ويشتهر حتى يصير حقيقة".

هذا النص يعتبر وصفاً تاريخياً لنشأة المجاز وتطوره والنظر في عباراته يقفنا أمام رجل مقر بالمجاز، وبخاصة قوله رحمه الله.

"ثم إن المجاز قد يشيع ويشتهر حتى يصير حقيقة" وهي عبارة صحيحة.

ومن المجاز المشتهر عند الإمام نفسه تسمية الضيافة نُزُلاً، ونعني بالضيافة ما يقدم للضيف مما يشرب أو يؤكل، وفيها يقول الإمام بالحرف:

"فإن النزل إنما يطلق على ما يؤكل، قال تعالى: {فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ} والضيافة سميت نزلاً؛ لإن العادة أن الضيف يكون راكباً فينزل في مكان يؤتى إليه بضيافة فيه، فسميت الضيافة نزلاً لأجل نزوله".

هذا المجاز المشتهر الذي صار حقيقة هو في الأصل مجاز مرسل عند علماء البيان.

‌‌نص ثالث

ومن ورود المجاز في حر كلام الإمام ولم يعقب عليه بإنكار ما نقله عن أبي عمرو في مذهب السلف في الصفات الآلهية.

فقد سئل أو عمرو: هل السلف يؤولونها تأويلاً مجازياً أو يبقونها على الحقائق اللغوية.

فأجاب أبو عمرو بما رواه عنه الإمام بن تيمية فقال:

"أهل السنة مجمعون على الإقرار بالصفات الواردة في الكتاب والسنة، والإيمان بها، وحملها على الحقيقة لا على المجاز، غير أنهم لا يكيفون".
"নিঃসন্দেহে রূপক (مجاز) কখনো কখনো এতোটা ব্যপক ও প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে যে, তা শেষ পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) পরিণত হয়।"

এই পাঠটি রূপকের (مجاز) উৎপত্তি ও বিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর এই শব্দমালার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমাদের সামনে এমন একজন ব্যক্তিত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে যিনি রূপকের (مجاز) অস্তিত্ব স্বীকার করেন, বিশেষ করে তাঁর এই উক্তিটি (রহিমাহুল্লাহ):

"অতঃপর রূপক (مجاز) কখনো ব্যপক ও প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে, এমনকি তা আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) পরিণত হয়"—যা একটি সঠিক (صحيحة) উক্তি।

স্বয়ং ইমামের নিকট প্রসিদ্ধ রূপকসমূহের (مجاز) একটি উদাহরণ হলো আতিথেয়তাকে 'নুজুল' (নৈবেদ্য) হিসেবে নামকরণ করা। আতিথেয়তা বলতে আমরা মেহমানকে পরিবেশনকৃত পানাহার সামগ্রীকে বুঝি। এ সম্পর্কে ইমাম হুবহু বলেন:

"নিশ্চয়ই 'নুজুল' শব্দটি আহারযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা}। আর আতিথেয়তাকে 'নুজুল' বলা হয়েছে; কারণ মেহমান সাধারণত সওয়ারি হয়ে আসেন এবং কোনো স্থানে অবতরণ করেন যেখানে তাকে আতিথেয়তা প্রদান করা হয়। সুতরাং মেহমানের অবতরণের কারণে আতিথেয়তাকে 'নুজুল' নামকরণ করা হয়েছে।"

এই প্রসিদ্ধ রূপক (مجاز) যা আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) পরিণত হয়েছে, তা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় মূলত রূপক অলঙ্কার (مجاز مرسل)।

‌‌তৃতীয় পাঠ

ইমামের সাবলীল বক্তব্যের মধ্যে রূপকের (مجاز) ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় এবং তিনি এটি অস্বীকার না করে আবু আমর থেকে আল্লাহর গুণাবলী (সিফাত) সংক্রান্ত সালফে সালেহীনদের মাযহাব সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তাও এর প্রমাণ বহন করে।

আবু আমরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: সালফে সালেহীনরা কি এগুলোর রূপক ব্যাখ্যা (تأويل مجازي) করতেন নাকি সেগুলোকে ভাষাগত আক্ষরিক অর্থের (الحقائق اللغوية) ওপর বহাল রাখতেন?

আবু আমর এর উত্তরে যা বলেছিলেন, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ তা বর্ণনা করে বলেন:

"আহলুস সুন্নাত কিতাব ও সুন্নাহে বর্ণিত গুণাবলী (সিফাত) স্বীকার করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ (مجمعون)। তাঁরা এগুলোর ওপর ঈমান আনেন এবং এগুলোকে রূপক (مجاز) হিসেবে নয় বরং আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) গ্রহণ করেন। তবে তাঁরা এগুলোর ধরন বা প্রকৃতি নির্ধারণ করেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا النص على قصره يفيد:

* إن الإمام أرتضى إجابة أبي عمرو، ولم ينكر ذكر المجاز فيها ولا في السؤال الذي أجاب عنه أبو عمرو.

* وإن السلف كانوا يعرفون تقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز ولكنهم لا يؤولون صفات الباري تأويلاً مجازياً، بل هي حقائق عندهم.

وقضية إنكار تأويل الصفات ليس معناها إنكار المجاز رأساً فهما قضيتان منفصلتان.

‌‌نص رابع:

ويقول رضي الله عنه في تفسير الدعاء في قوله تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} وكان قبلاً قد فسر الدعاء تفسيرين:

أحدهما بمعنى العبادة.

والثاني بمعنى الطلب. ثم قال هنا:

فقوله: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي} يتناول نوعي الدعاء: وبكل منهما فُسَّرت الآية:

قيل: أُعطيه إذا سألني. وقيل أُثيبه إذا "عبدني". والقولان متلازمان.

ثم يقول:

"وليس هذا من استعمال اللفظ المشترك في معنييه كليهما. أو استعمال اللفظ في حيقيقته ومجازه. بل هذا استعماله في حقيقته المتضمنة للأمرين جميعاً".

يريد الإمام أن يقول: إن دلالة الدعاء على العبادة والطلب دلالة تواطؤ لا دلالة اشتراك ولا مجاز.
এবং এই পাঠটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও যা নির্দেশ করে তা হলো:

* নিশ্চয়ই ইমাম আবু আমরের উত্তরে সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তিনি এই উত্তরে কিংবা আবু আমর যে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাতে রূপক (مجاز) ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেননি।

* এবং পূর্বসূরিগণ (السلف) কথাকে প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) এই দুই ভাগে বিভক্ত করা সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু তারা মহান প্রতিপালকের গুণাবলির রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) করতেন না, বরং সেগুলো তাদের নিকট প্রকৃত (حقائق) বিষয় ছিল।

আর গুণাবলির ব্যাখ্যা (تأويل) অস্বীকার করার বিষয়টি সরাসরি রূপক (مجاز) অস্বীকার করাকে বোঝায় না; বরং এ দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়।

‌চতুর্থ পাঠ:

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) দোয়ার ব্যাখ্যায় (تفسير) মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেন: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে}। তিনি ইতিপূর্বে দোয়ার দুটি ব্যাখ্যা (تفسير) প্রদান করেছিলেন:

তার একটি ইবাদত (عبادة) অর্থে।

আর দ্বিতীয়টি প্রার্থনা (طلب) অর্থে। অতঃপর তিনি এখানে বলেন:

সুতরাং তাঁর এই বাণী: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে} দোয়ার উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং এ দুটির প্রত্যেকটির মাধ্যমেই আয়াতটির ব্যাখ্যা (تفسير) করা হয়েছে:

বলা হয়েছে: আমি তাকে দান করি যখন সে আমার নিকট প্রার্থনা করে। আবার বলা হয়েছে: যখন সে আমার ইবাদত করে তখন আমি তাকে সওয়াব প্রদান করি। আর উভয় বক্তব্যই একটি অন্যটির সাথে অবিচ্ছেদ্য।

অতঃপর তিনি বলেন:

"এটি উভয় অর্থে কোনো সমোচ্চারিত শব্দ (مشترك)-এর ব্যবহার নয়, কিংবা কোনো শব্দের প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহারও নয়; বরং এটি শব্দের এমন প্রকৃত (حقيقة) অর্থে ব্যবহার যা উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।"

ইমাম এখানে বলতে চেয়েছেন যে: ইবাদত ও প্রার্থনার ওপর দোয়ার এই নির্দেশক হওয়া মূলত অভিন্ন অর্থের নির্দেশক (دلالة تواطؤ), এটি সমোচ্চারিত হওয়ার নির্দেশক (دلالة اشتراك) বা রূপক (مجاز) কোনো নির্দেশক নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌نص خامس:

وفي رده على من سوَّى في التفسير بين الأستواءين في قوله تعالى:

{ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا..} . وقوله تعالى {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} وقد فسَّر فريق من العلماء الإستواء إلى السماء بالعمد والقصد إليها لخلقها.

والإمام ابن تيمية يرفض ان يكون الإستواء على العرش مثل الإستواء إلى السماء، ملاحظاً الفرق بين أداة التعدية إلى الفعلين: في الإستواء الأول عُدَّىِ الفعل بـ إلى وفي الإستواء الثاني عدى بـ على. فلا يفشر على العرش بالعمد للفرق بين معنيي الاستواءين. وفي هذا الفرق يقول بالحرف:

"فإذا كان العرش مخلوقاً قبل خلق السموات فكيف يمكون استواؤه عَمْده إلى خلقه له؟ لو كان يعرف في اللغة أن استوى على كذا بمعنى عمد إلى فعله، وهذا لا يعرف قط في اللغة لا حقيقة ولا مجازاً، لا في نظم ولا في نثر".

هذا قوله، وهو صواب بلا نزاع. وشاهدنا فيه أن الإمام رضي الله عنه قد ذكر الحقيقة والمجاز في حر كلامه. ولم يُشم من كلامه - هنا - رائحة إنكار للمجاز.

نص سادس.

وفي نص أخر له يشنَّع رحمه الله على من يجهل الفروق بين دلالات اللغة، ويجهل دلالات الحقيقة والمجاز، ورد هذا النص رداً على من يدعي أن استواء الله على العرش يتناول شيئاً من صفات المخلوقين فقال بالحرف كذلك:

"فمن ظن أن هذا الاستواء إذا كان حقيقة يتناول شيئاً منه مع كون النص قد خصه بالله. كان جاهلاً جداً بدلالات اللغات ومعرفة الحقيقة والمجاز".

هذا كلام الإمام، وهو دليل قاطع على أخذه بالمجاز واعتماده.
‌পঞ্চম পাঠ:

এবং সেই ব্যক্তির খণ্ডনে যিনি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত দুই প্রকার 'ইস্তাওয়া'-এর ব্যাখ্যার মধ্যে সমতা বিধান করেছেন:

{অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যখন তা ছিল ধোঁয়াচ্ছন্ন, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা আসো..}। এবং মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর তিনি আরশের উপর সমাসীন হলেন}। উলামাদের একটি দল আকাশের দিকে 'ইস্তাওয়া'-এর ব্যাখ্যা করেছেন আকাশ সৃষ্টির সংকল্প ও অভিপ্রায় হিসেবে।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরশের উপর 'ইস্তাওয়া'-কে আকাশের দিকে 'ইস্তাওয়া'-এর সমতুল্য মনে করাকে প্রত্যাখ্যান করেন; তিনি উভয় ক্রিয়ার সাথে ব্যবহৃত অব্যয়ের পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন: প্রথম 'ইস্তাওয়া'-এর ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি 'ইলা' দ্বারা এবং দ্বিতীয় 'ইস্তাওয়া'-এর ক্ষেত্রে 'আলা' দ্বারা অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং, দুই প্রকার 'ইস্তাওয়া'-এর অর্থের পার্থক্যের কারণে আরশের বিষয়টিকে 'সংকল্প' দ্বারা ব্যাখ্যা করা যাবে না। এই পার্থক্যের বিষয়ে তিনি হুবহু বলেন:

"যদি আরশ আকাশমন্ডলী সৃষ্টির পূর্বেই সৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে তাঁর ইস্তাওয়া কীভাবে আরশ সৃষ্টির সংকল্প হতে পারে? যদি ভাষায় এটি জানা থাকত যে, অমুক বিষয়ের উপর 'ইস্তাওয়া' মানে 'তা করার সংকল্প করা', তবে কথা ছিল; কিন্তু এটি ভাষাগতভাবে কখনোই বাস্তব অর্থ (حقيقة) বা রূপক অর্থ (مجاز) হিসেবে পরিচিত নয়—না কাব্যে, না গদ্যে।"

এটি তাঁর বক্তব্য এবং এটি নিঃসন্দেহে সঠিক। এখানে আমাদের সাক্ষ্য হলো যে, ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁর আলোচনার ধারায় বাস্তব অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে তাঁর বক্তব্য থেকে রূপক অর্থ (مجاز) অস্বীকার করার কোনো সামান্যতম ঘ্রাণও পাওয়া যায় না।

ষষ্ঠ পাঠ।

তাঁর অন্য একটি উদ্ধৃতিতে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সেই ব্যক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন যে ভাষার তাৎপর্যের পার্থক্য সম্পর্কে অজ্ঞ এবং বাস্তব অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز)-এর তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত নয়। এই উদ্ধৃতিটি সেই ব্যক্তির জবাবে এসেছে যে দাবি করে যে, আল্লাহর আরশের উপর সমাসীন হওয়া সৃষ্টির কোনো বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে; তিনি একইভাবে শব্দে শব্দে বলেন:

"সুতরাং যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই ইস্তাওয়া যদি বাস্তব অর্থ (حقيقة) হয় তবে তা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের কোনো অংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে—অথচ বর্ণনাটি আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের জন্যই সুনির্দিষ্ট করেছেন—তবে সে ভাষার তাৎপর্য এবং বাস্তব অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز) সম্পর্কে চূড়ান্ত পর্যায়ের অজ্ঞ।"

এটি ইমামের বক্তব্য এবং এটি রূপক অর্থ (مجاز) গ্রহণ ও এর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে তাঁর এক অকাট্য প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الدفاع عن الأئمة الأعلام: -

ةفي دفاعه عن الأئمة الأعلام من مؤسسي المذاهب الفقهية وكبار تلاميذهم وتابعيهم من أهل السنة والجماعة رأينا الإمام ابن تيمية رحمه الله يتخذ من المجاز سلاحاً للدفاع عنهم، وكان بعض المبطلين قد طعن فيهم، لأنهم وقفوا من بعض أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم مواقف متباينة: بعضهم يقبل حديثاً وآخر يرده، بعضهم يصحح حديثاً وأخر يضعفه، بعضهم يفهم من حديث معنى، وأخر يخالفه. ولما كث اللغط حول هذه الظاهرة انبرى الإمام ابن تيمية اثابه الله، ووضع رسالة صغيرة الحجم جمة الفوائد اسماها "رفع الملام عن الأئمة الأعلام".

وبر أفيها ساحة الأئمة من مخالفة الرسول صلى الله عليه وسلم وأدار دفاعه عنهم على عشرة أسباب. وفي السببين السادس والثامن ذكر الحقيقة والمجاز والاختلاف بين دلالتيهما ركيزة من ركائز الدفاع عنهم فقال في السبب السادس ما نصه:

" وتارة يكون مشتركاً، أو مجملاً، أو متدداً بين حقيقة ومجاز، فيحمله - أي الفقيه - على الأقرب عنده وإن كان المراد هو الآخر".

وفي السبب الثامن يستهل الحديث بتعارض الدلالات فيقول:

"اعتقاده - يعني الفقيه - أن تلك الدلالة قد عرضها ما دلَّ على أنها غير مراده".

مثل معارضة العام بخاص، أو المطلق بمقيد، أو الأمر المطلق بما ينفي الوجوب، أو الحقيقة بما يدل على المجاز، إلى - أخر - أنواع المعارضات، فإن تعارض دلالات الأقوال، وترجيح بعضها على بعض بحر خضم".
বরেণ্য ইমামগণের প্রতিরক্ষা: -

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ফিকহি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা বরেণ্য ইমামগণ এবং তাঁদের বিশিষ্ট ছাত্র ও অনুসারীদের প্রতিরক্ষায় আমরা ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে রূপক অর্থ (مجاز)-কে একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে দেখি। কিছু বাতিলপন্থী লোক তাঁদের সমালোচনা করেছিল, কারণ তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কিছু হাদিসের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন: তাঁদের কেউ কোনো হাদিস গ্রহণ করেছেন আবার কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, কেউ কোনো হাদিসকে বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন আবার কেউ তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন, কেউ হাদিস থেকে এক ধরনের অর্থ বুঝেছেন আবার অন্যজন তার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যখন এই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল বৃদ্ধি পেল, তখন ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) কলম ধরলেন এবং 'রাফুল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম' নামক একটি ছোট অথচ অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ পুস্তিকা রচনা করেন।

এতে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধাচরণ থেকে ইমামগণের নির্দোষিতা প্রমাণ করেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে দশটি কারণের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা প্রদান করেন। ষষ্ঠ ও অষ্টম কারণে তিনি আক্ষরিক অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز) এবং এই দুইয়ের নির্দেশনার মধ্যকার পার্থক্যকে তাঁদের প্রতিরক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ষষ্ঠ কারণে তিনি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:

"কখনো কোনো শব্দ অনেকার্থক (مشترك), অথবা অস্পষ্ট (مجمل), কিংবা আক্ষরিক (حقيقة) ও রূপক (مجاز) অর্থের মধ্যে দোলায়মান হয়; তখন ফকিহ তাঁর নিকট যেটি অধিকতর নিকটবর্তী মনে হয় সে অর্থটিই গ্রহণ করেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে অপর অর্থটিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।"

অষ্টম কারণে তিনি নির্দেশনার বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনার সূচনা করে বলেন:

"তাঁর—অর্থাৎ ফকিহের—বিশ্বাস হলো যে, উক্ত নির্দেশনাটি (دلالة) এমন বিষয়ের মোকাবিলা করছে যা প্রমাণ করে যে উক্ত অর্থটি উদ্দেশ্য নয়।"

যেমন—সাধারণ (عام)-কে বিশেষ (خاص) দ্বারা মোকাবিলা করা, অথবা শর্তহীন (مطلق)-কে শর্তযুক্ত (مقيد) দ্বারা, অথবা নিঃশর্ত নির্দেশকে এমন কিছু দ্বারা যা আবশ্যকতা (وجوب)-কে নাকচ করে দেয়, কিংবা আক্ষরিক (حقيقة)-কে এমন কিছু দ্বারা যা রূপক (مجاز) অর্থকে নির্দেশ করে—এরূপ আরও অন্যান্য প্রকারের বৈপরীত্য। কেননা, বাচনিক নির্দেশনার পারস্পরিক বৈপরীত্য এবং একটির ওপর অন্যটির প্রাধান্য প্রদান করা এক বিশাল অগাধ সমুদ্রের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২২)
هذا ما تيسر ذكره من أقوال شيخ الإسلام ابن تيمية مما وردج ذكر المجاز صريحاً فيها في حر كلامه، ودلالتها على موقفه العام من المجاز وارتضائه إياه أمر لا يسوغ دفعه، ولا التقليل من شأنه.

وهذا يعتبر رجوعاً منه عما كتبه في الإيمان، فقد أقر في ما نقلناه عنه آنفاً بكل ما أنكره هناك. ومن يتمسك بعد ذلك بأن الإمام ابن تيمية لم يقر بالمجاز في حر كلامه فعليه أن يتصرف في هذه الأقوال القاطعة التي وردت عنه في مواضع متعددة من مؤلفاته، وفي حر كلامه. عليه أن يتصرف فيها إما بإنكار ورودها عنه، وليس إلى ذلك من سبيل، أو بتجريدها مما تدل عليه، وليس إلى ذلك من سبيل كذلك.

فلم يبق إذن إلا التسليم بأن للإمام بن تيمية مذهبين في المجاز هما:

مذهب جدلي نظري أنكر فيه المجاز في اللغة وفي القرآن الكريم، وقد دعاه إلى ذلك فزضى التأويل في عصره وقبل عصره، عملاً بالأصل المعروف لدى علماء أصول الفقه، وهو: سد الذرائع.

ومذهب عملي سلوكي طبقه على آيات من الذكر الحكيم كما تقدم.

ولا عجب ولا تناقض في موقفه من المجاز عند التحقيق فهم إمام جليل واسع المعرفة، ومناضل قدير، وفقيه مبرَّز، ومجتهد واع، ومن كانت هذه صفاته فله أن يتغير اجتهاده كسابقيه من الأئمة الفقهاء الأعلام. والمجاز - عموماً - ليس ركناً من أركان الإسلام فيُكَّفّر منُكره أو عبادةً مبتدعة فَيُفَسَّق مثبتُه، وإنما هو فن من فنون القول التي زخرت بها اللغة العربية التي نزل بها القرآن وكادت الأمة تجمع على اشتمال القرآن عليه لولا أولئك النفر القليلون الذين أنكروه بناء على شبهات لاحت لهم وقد أزال تلك الشبهات مجوزو المجاز بوعي واقتدار.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য থেকে রূপক (مجاز) সম্পর্কে যা উল্লেখ করা সহজ হয়েছে, তা তাঁর সাবলীল বক্তব্যে স্পষ্টভাবে এসেছে। রূপক (مجاز) সম্পর্কে তাঁর সাধারণ অবস্থান এবং এর প্রতি তাঁর স্বীকৃতির প্রমাণ এমন একটি বিষয় যা অস্বীকার করা বা এর গুরুত্ব হ্রাস করা সমীচীন নয়।

এটি 'আল-ইমান' গ্রন্থে তিনি যা লিখেছিলেন তা থেকে তাঁর ফিরে আসা হিসেবে গণ্য হয়। কারণ, আমরা উপরে তাঁর থেকে যা উদ্ধৃত করেছি, তাতে তিনি সেই সব বিষয় স্বীকার করেছেন যা সেখানে তিনি অস্বীকার করেছিলেন। এরপরও যারা এই দাবিতে অটল থাকেন যে, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত বক্তব্যে রূপক (مجاز) স্বীকার করেননি, তাদের উচিত তাঁর রচনাবলির বিভিন্ন স্থানে এবং তাঁর সাবলীল বক্তব্যে বর্ণিত এই অকাট্য উক্তিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা। তাদের হয় এগুলোর সত্যতা অস্বীকার করতে হবে—যা করার কোনো পথ নেই, অথবা এগুলো যে অর্থ বহন করে তা থেকে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে—আর তারও কোনো পথ নেই।

অতএব, রূপক (مجاز) বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দুটি মাজহাব (مذهب) রয়েছে বলে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই, সেগুলো হলো:

একটি হলো তাত্ত্বিক বিতর্কমূলক মাজহাব (مذهب), যেখানে তিনি ভাষা ও পবিত্র কুরআনে রূপক (مجاز) অস্বীকার করেছেন। তাঁর সময়ে এবং তাঁর পূর্ববর্তী সময়ে অপব্যাখ্যা বা তাবিল (تأويل)-এর আধিক্য তাঁকে এই অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছিল। এটি তিনি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর পণ্ডিতদের কাছে পরিচিত একটি মূলনীতি অনুসারে করেছিলেন, যা হলো: অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع)।

আর দ্বিতীয়টি হলো প্রায়োগিক ও আচরণগত মাজহাব (مذهب), যা তিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাব (কুরআন)-এর আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন।

সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে রূপক (مجاز) সম্পর্কে তাঁর অবস্থানে কোনো বিস্ময় বা বৈপরীত্য নেই। কারণ তিনি একজন মহান ইমাম, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, দক্ষ সংগ্রামী, বিশিষ্ট ফকিহ (فقيه) এবং সচেতন মুজতাহিদ (مجتهد)। যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান, পূর্ববর্তী প্রথিতযশা ফকিহ (فقيه) ইমামদের মতো তাঁরও ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তন হতে পারে। মূলত রূপক (مجاز) ইসলামের কোনো রুকন (ركن) নয় যে, এটি অস্বীকারকারীকে কাফির (كافر) বলা হবে; আবার এটি কোনো বিদআতি ইবাদতও নয় যে, এটি সাব্যস্তকারীকে ফাসিক (فاسق) গণ্য করা হবে। বরং এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন একটি শৈলী যা আরবি ভাষায় সমৃদ্ধ, যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। হাতেগোনা কিছু মানুষ যারা সংশয়ের বশবর্তী হয়ে এটি অস্বীকার করেছেন তারা ব্যতীত উম্মত প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেছে যে কুরআনে রূপক (مجاز) বিদ্যমান। আর যারা রূপক (مجاز) জায়েজ বা বৈধ মনে করেন, তারা অত্যন্ত সচেতনতা ও দক্ষতার সাথে সেই সংশয়গুলো দূর করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الثاني الإمام ابن القيم

موقف الإمام ابن قيم الجوزية من المجاز مثل موقف شيخه الإمام ابن تيمية، والتشابه بين موقفيهما يكاد يبلغ حد المماثلة التامة في كل الوجوه.

فقد أنكر ابن القيم المجاز بشدة في كتابه "الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة" وحشد أكثر من خمسين وجهاً لإنكار المجاز. كما أنكره شيخه الإمام ابن تيمية في كتابه "الإيمان" وبذل جهداً جدلياً نظرياً بالغ المدى في إنكاره كما كتب فصلاً ضافياً في قسم أصول الفقه ردد فيه ما قاله في كتابه "الإيمان".

والإمام الشيخ أقر بالمجاز تأولاً وتصريحاً في مواضع متعددة من مؤلفاته الأخرى كما تقدم.

وكذلك الإمام التلميذ أقر بالمجاز تأويلاً وتصريحاً في مواضع مختلفة من مؤلفاته الأخرى كما سيأتي ومعنى هذا أن لابن القيم مذهبين في المجاز، مذهباً متعارفاً مشهوراً هو الإنكار، ومذهباً غير مشهور وهو الإقرار.

وكانت أدلتنا على إقرار الإمام ابن تيمية بالمجاز ثلاثة:

الأول - تأويلات مجازية نقلها عن بعض السلف ثم ارتضاها مذهباً له في نصوص قرآنية.
‌দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম

রূপক (مجاز) সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর অবস্থান তাঁর উস্তাদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অবস্থানের মতোই, এবং তাঁদের উভয় অবস্থানের মধ্যকার সাদৃশ্য প্রায় সকল দিক থেকে পূর্ণ সামঞ্জস্যের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "আস-সাওয়াইকুল মুরসালা আলাল জাহমিয়্যাতি ওয়াল মুয়াত্তিলা" গ্রন্থে রূপক (مجاز)-কে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং রূপক (مجاز) অস্বীকার করার স্বপক্ষে পঞ্চাশটিরও বেশি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। একইভাবে তাঁর উস্তাদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহও তাঁর "আল-ইমান" গ্রন্থে এটি অস্বীকার করেছেন এবং এর অস্বীকৃতিতে তাত্ত্বিক ও বিতর্কগতভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তদুপরি তিনি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) অধ্যায়ে একটি বিস্তারিত পরিচ্ছেদ লিখেছেন যেখানে তিনি "আল-ইমান" গ্রন্থে যা বলেছিলেন তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন।

ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, উস্তাদ ইমাম তাঁর অন্যান্য রচনার একাধিক স্থানে ব্যাখ্যামূলক (تأولاً) ও স্পষ্টভাবে রূপক (مجاز)-কে স্বীকার করেছেন।

অনুরূপভাবে শিষ্য ইমামও তাঁর অন্যান্য রচনার বিভিন্ন স্থানে ব্যাখ্যামূলক (تأويلاً) ও স্পষ্টভাবে রূপক (مجاز)-কে স্বীকার করেছেন যা সামনে আলোচিত হবে। এর অর্থ হলো রূপক (مجاز) প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিমের দুটি মতাদর্শ রয়েছে; একটি বহুল পরিচিত প্রসিদ্ধ মতাদর্শ যা হলো অস্বীকৃতি, এবং অপরটি অপ্রসিদ্ধ মতাদর্শ যা হলো স্বীকৃতি।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক রূপক (مجاز) স্বীকার করার ব্যাপারে আমাদের প্রমাণসমূহ ছিল তিনটি:

প্রথম - রূপকধর্মী ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات) যা তিনি কতিপয় পূর্বসূরি (سلف)-দের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে কুরআনের আয়াতের ক্ষেত্রে নিজের গৃহীত মতাদর্শ হিসেবে সেগুলোকে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৪)
الثاني: تأويلات مجازية استأنفها هو استثنافاً من عند نفسه.

الثالث: ورود المجاز في حر كلامه مع الرضا به وإعماله في توجيه مشكلات نشأت عن صعوبة الأخذ بظواهر نصوص مقدسة. كما أتخذ من المجاز وسيلة للدفاع عن الأئمة ومواقفهم من الحديث النبوي الشريف. وقد تقدم هذا كله في إيجاز.

‌‌أما الإمام ابن القيم فلنا على مذهب الإقرار بالمجاز عنده دليلان إضافيان لا يتطرق إليهما شك وهما: -

الأول: تأويلات مجازية مستقيضة وردت في كتبه غير الصواعق.

الثاني: ورود المجاز صريحاً في حر كلامه، وهو في هذين الدليلين أطول باعاً، وأكثر لهجاً من شيخه الإمام ابن تيمية رضي الله عنهما وعلى هذا الأساس ندير الجديث.

التأويلات المجازية: -

تتبعنا في التأويلات المجازية عند العلامة ابن القيم وأرجعنا كثيراً منها إلى أصولها البلاغية فوجدناها موزعة على جميع أنواع المجاز، فكان منها:

* تأويلات مجازية من قبيل المجاز العقلي.

* وتأويلات مجازية من قبيل المجاز اللغوي المرسل.

* وتأويلات مجازية من قبيل المجاز اللغوي الإستعاري.

وفي بيان هذا كله نسطر ما يأتي.
দ্বিতীয়: রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية) যা তিনি স্বয়ং নিজের পক্ষ থেকে নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছেন।

তৃতীয়: তাঁর সাবলীল বক্তব্যে রূপকের (المجاز) উপস্থিতি, যেখানে তিনি এর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং পবিত্র নصوص (نصوص) সমূহের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণের জটিলতা থেকে উদ্ভূত সমস্যাবলির সমাধানে একে প্রয়োগ করেছেন। তদ্রূপ তিনি রূপককে (المجاز) ইমামগণ এবং হাদিসের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থানকে সমর্থনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই বিষয়গুলো সংক্ষেপে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

‌‌আর ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের ব্যাপারে রূপককে (المجاز) স্বীকৃতি দেওয়ার মাযহাবের সপক্ষে আমাদের কাছে অতিরিক্ত দুটি দলিল রয়েছে যা সন্দেহের ঊর্ধ্বে, সেগুলো হলো: -

প্রথম: 'আস-সাওয়াইক' ব্যতীত তাঁর অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সুপ্রসিদ্ধ রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية)।

দ্বিতীয়: তাঁর সাবলীল বক্তব্যে স্পষ্টভাবে রূপকের (المجاز) উপস্থিতি। এই দুই দলিলের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর উস্তাদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চেয়ে অধিক পারদর্শী ও মুখর। এই ভিত্তির ওপরই আমরা আলোচনা পরিচালনা করব।

রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية): -

আমরা আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية) অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোর অধিকাংশকে তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি; ফলে আমরা সেগুলোকে রূপকের (المجاز) সকল প্রকারের মধ্যে বিন্যস্ত পেয়েছি। তার মধ্যে ছিল:

* আকলি রূপক (المجاز العقلي) পর্যায়ের রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية)।

* আভিধানিক সাধারণ রূপক (المجاز اللغوي المرسل) পর্যায়ের রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية)।

* আভিধানিক রূপকধর্মী (المجاز اللغوي الإستعاري) পর্যায়ের রূপক ব্যাখ্যাসমূহ (تأويلات مجازية)।

এই সবকিছুর বর্ণনায় আমরা নিম্নে যা আসছে তা লিপিবদ্ধ করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المجاز العقلي

وردت تأويلات محمولة على المجاز العقلي لا تكاد تحصر في كلام العلامة ابن القيم ومن ذلك:

ماء دافق:

لابن القيم وقفة في توجيه قوله تعالى: {خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ} حكى فيها أقوالاً عن غيره، ثم أدلى هو فيها بدلوه فقال:

"والدافق قيل إنه فاعل بمعنى مفعول، كقولهم: سِرٌ كاتم، وعيشة راضية، وقيل هو على النسب، أي ذي دفق".

نقل العلامة هذين القولين، ومع التسليم باًلأصل المقيس عليه "سر كاتم" وهو عند البلاغيين مجاز عقلي علاقته المفعولية، نازع أن تكون الآية: {مَاءٍ دَافِقٍ} من قبيل: سر كاتم، واختار أن يكون "دافق" اسم فاعل على بابه أي دافق هو لا مدفوق. وحمله على قولهم: نهر جار، ورجل ميت. بناء على أن الفاعل هو من فعل الفعل أو قام به، وعنده أن النهر والميت وقع عليها الفعل: الجري والموت، ولم يفعلاه في الواقع بيد أن تسويته بين جريان النهر وموت الميت غير سديد لن الماء في مجرى الحس والمشاهدة فاعل للجريان بخلاف الميت فإن الفعل واقع عليه.

وشاهدنا في هذا الموضوع هو تسليمه بأصل التأويل المجازي العقلي في سر كاتم، وعدم اعتراضه عليه كل ما في الأمر أنه لم يسلم بحمل "ماء دافق" عليه

فاعل التزيين: -

ومن أوضح تأويلاته المفضية - قطعاً - إلى المجاز العقلي حديثه عن فاعل تزيين الأعمال السيئة في نفوس فاعليها ففي القرآن الكريم جاء إسناد هذا التزيين
বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) ভিত্তিক এমন অসংখ্য ব্যাখ্যা (تأويلات) রয়েছে যা গণনা করা প্রায় অসম্ভব। তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

উচ্ছ্বলিত পানি:

আল্লাহ তাআলার বাণী: {خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ} (সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি হতে) এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনুল কায়্যিমের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে অন্যদের থেকে বিভিন্ন মতামত বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি নিজের অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন:

"বলা হয়ে থাকে যে, 'দাফিক' (উচ্ছ্বলিত) শব্দটি এখানে কর্মবাচক (مفعول)-এর অর্থে ব্যবহৃত কর্তৃবাচক (فاعل) শব্দ; যেমনটি আরবরা বলে থাকে: 'গোপনকারী রহস্য' (সিররুন কাতিম), এবং 'সন্তুষ্ট জীবন' (ঈশাতুন রাদিয়াহ)। আবার এ-ও বলা হয় যে, এটি সম্বন্ধ (النسب) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ উচ্ছ্বলতা বিশিষ্ট।"

আল্লামা এই দুটি মতই উল্লেখ করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের (البلاغيين) নিকট 'গোপনকারী রহস্য' (সিররুন কাতিম) বিষয়টি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي), যার সম্বন্ধ হলো কর্মবাচকতা (المفعولية)। এই মূলনীতিটি মেনে নিলেও তিনি আলোচ্য আয়াত: {مَاءٍ دَافِقٍ} কে 'সিররুন কাতিম'-এর পর্যায়ভুক্ত করার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি পছন্দ করেছেন যে, 'দাফিক' (دافق) শব্দটি তার মূল ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل) হিসেবেই থাকবে। অর্থাৎ পানি নিজেই উচ্ছ্বলিত (دافق), একে উচ্ছ্বলিত করা হয়েছে (مدفوق) এমন নয়। তিনি একে আরবে প্রচলিত 'প্রবহমান নদী' এবং 'মৃত ব্যক্তি'—বাক্যদ্বয়ের মতো গণ্য করেছেন। এর ভিত্তি হলো—কর্তা (فاعل) সেই যে নিজে কাজটি করে অথবা যার সাথে কাজটি সংশ্লিষ্ট থাকে। তার মতে, নদী এবং মৃত ব্যক্তির ওপর যথাক্রমে প্রবাহ ও মৃত্যু আপতিত হয়েছে, বাস্তবে তারা তা করেনি। তবে নদীর প্রবাহ এবং মানুষের মৃত্যুকে একই সমান্তরালে রাখা সঠিক নয়; কারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও চাক্ষুষভাবে পানি প্রবাহের কর্তা (فاعل), পক্ষান্তরে মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত্যু তার ওপর আপতিত একটি বিষয় মাত্র।

এই আলোচনায় আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো 'সিররুন কাতিম'-এর ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) ভিত্তিক ব্যাখ্যার মূলনীতিটিকে তার মেনে নেওয়া এবং এর ওপর কোনো আপত্তি উত্থাপন না করা। মূল বিষয় হলো, তিনি কেবল 'দাফিক' (ماء دافق)-কে সেই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হননি।

সুশোভনকারী (فاعل التزيين): -

তার যে সকল ব্যাখ্যা নিশ্চিতভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي)-এর দিকে ধাবিত করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো মন্দ কাজসমূহকে সম্পাদনকারীর নিকট সুশোভন করে তোলার কর্তা সম্পর্কে তার আলোচনা। পবিত্র কুরআনে এই সুশোভন করার বিষয়টি সম্পৃক্ত করা হয়েছে-
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى الله في مواضع، ثم إلى الشيطان في مواضع أخرى، كما أسندت إلى فاعليها من العباد أحيانأً، أو يُبني الفعل للمفعول ويُطوى ذكر فاعله.

فمن الإسناد إلى الله - سبحانه - قوله تعالى في سورة الأنعام آية (108) {كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ} ومن الإسناد إلى الشيطان قوله تعالى في سورة العنكبوت آية (38) {وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ..} ومن الإسناد إلى العبد قوله تعالى في سورة يوسف آية (18) {بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا … } ومن الإسناد إلى المجهول قوله تعالى في سورة فاطر آية (8) {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ … } .

وقد عهرض العلامة ابن القيم لتوجيه اختلاف الإسناد في هذه المواضع فقال:

"فاضاف التزيين إليه - سبحانه - خلقاً ومشيئة ونسبه إلى سببه - يعني الشيطان - ومن أجراه على يديه تارة".

أما الإسناد إلى العبد فلإنه أحب تزيين الشيطان. وردت هذه التأويلات المجازيو لالرد على القدرية الذين يمنعون غسناد ما فيه قبح إلى الله، ويدفع هذا القول بأنها من الشيطان ومن العبد قبيحة. أما من الله فلا قبح لأنه فعله عقاباً فهو منه جميل.

ولا ريب أن إسناد التزيين إلى الله حقيقة إذ هو خالقه ومشيؤه كما يقول العلامة نفسه في الموضع المشار إليه من كتابه: شفاء العليل.

أما الإسناد إلى الشيطان فلإنه سبب داع ومؤثر أما العبد فلإنه مباشر للفعل.

والإسناد إلى الشيطان والعبد إسناد مجازي عقلي حيث جُعِل غير الفاعل فاعلاً، وهذا هو المجاز العقلي عند علماء البيان، فلم يترك ابن القيم إلا تسمية هذا التأويل مجازاً.
বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর দিকে, আবার অন্য স্থানে শয়তানের দিকে [সম্বন্ধ করা হয়েছে], যেমন কখনও কখনও বান্দাদের মধ্য থেকে এর সম্পাদনকারীদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, অথবা ক্রিয়াটিকে কর্মবাচ্যে (Passive voice) ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর অজ্ঞাত (مجهول) সম্পাদনকারীর উল্লেখ গোপন রাখা হয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাহু-এর দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ হলো সূরা আল-আনআমের ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের কাজকে সুশোভিত করেছি}। শয়তানের দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ হলো সূরা আল-আনকাবুতের ৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দিয়েছিল...}। বান্দার দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ হলো সূরা ইউসুফের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্য একটি বিষয়কে সুশোভিত করেছে … }। আর অজ্ঞাত (مجهول) কর্তার দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ হলো সূরা ফাতিরের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাকে তার মন্দ কাজ সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে … }।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম এই স্থানগুলোতে সম্বন্ধের ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন:

"তিনি 'সুশোভিত করা'-কে সৃষ্টি ও ইচ্ছার নিরিখে নিজের—সুবহানাহু—দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আর কখনও একে এর কারণ অর্থাৎ শয়তানের দিকে এবং যার মাধ্যমে এটি হাতে-কলমে সংঘটিত হয়েছে তার দিকে নিসবত করেছেন।"

আর বান্দার দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো সে শয়তানের এই সুশোভিতকরণকে পছন্দ করেছে। এই রূপক (مجازي) ব্যাখ্যাগুলো কাদারিয়াদের খণ্ডন করার জন্য এসেছে, যারা মন্দ কোনো বিষয়কে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করতে অস্বীকার করে। এই বক্তব্যকে এভাবে খণ্ডন করা হয় যে, শয়তান ও বান্দার পক্ষ থেকে এটি মন্দ বা কদর্য হলেও আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কদর্যতা নেই; কারণ তিনি একে শাস্তি স্বরূপ করেছেন, তাই এটি তাঁর পক্ষ থেকে সুন্দর।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুশোভিত করার বিষয়টি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করাটি বাস্তব (حقيقة); কেননা তিনিই এর স্রষ্টা এবং এর ইচ্ছাকারী। যেমনটি আল্লামা নিজেই তাঁর ‘শিফাউল আলীল’ কিতাবের উল্লিখিত স্থানে বলেছেন।

শয়তানের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো সে আহ্বানকারী ও প্রভাব বিস্তারকারী একটি উপলক্ষ বা মাধ্যম, আর বান্দার দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো সে সরাসরি কাজটি সম্পাদনকারী।

শয়তান ও বান্দার দিকে সম্বন্ধ করা হলো একটি বুদ্ধিগত রূপক (مجازي عقلي) সম্বন্ধ, যেখানে প্রকৃত সম্পাদনকারী ব্যতীত অন্যকে সম্পাদনকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের নিকট এটিই হলো বুদ্ধিগত রূপক (مجاز عقلي)। ইবনুল কাইয়্যিম এই ব্যাখ্যাটিকে কেবল 'রূপক' (مجاز) হিসেবে নামকরণ করা ছাড়া আর কিছুই বাকি রাখেননি।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌عيشة راضية: -

نقل العلامة في إسناد الرضا إلى ضمير العيشة تأويلاً مجازياً ثم رجَّح أن تكون "عيشة" فاعلاً للرضا فعلاً فقال:

"وأما العيشة الراضية فالوصف بها أحسن من الوصف بالمرضية، لأنها اللائقة بهم، فشبُه ذلك برضاها بهم كما رضوا بها، كأنها رضيت بهم ورضوا بها. وهذا ابلغ من مجرد كونها مرضية فقط فتأمله".

وهذا التأويل الذي ارتضاه العلامة يخرج الآية {فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ} من دائرة المجاز العقلي ويدخلها - قطعاً - في دائرة الإستعارة بالكناية فالمجاز لاحق به فيما فرَّ منه وفيما فرَّ إليه. وإجراء الإستعارة بالكناية في صور المجاز العقلي سائغ جداً، لذلك فإن ابا يعقوب السكاكي يجزم بأن كل ما يمكن جمله على المجاز العقلي باعتبار يمكن حمله على الاستعارة المكنية باعتبار آخر، وهذا القول له وزنه، والسكاكي منزلته بين البلاغيين كمنزلة سيبويه بين النحاة.

إختلاف الإسناد في التوفية: -

وذهب الإمام ابن القيم مذهباً مماثلاً في توجيه إختلاف الإسناد في الاماته والتوفيه.

ففي التنزيل الحكيم أسندت إلى الله في قوله تعالى في سورة الزمر آية (42) : {اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا} .

وأسندت إلى ملك الموت في سورة السجدة آية (11) :

{قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ … }

واسندت إلى ملائكته الموت في سورة الأنعام في قوله تعالى آية (61) {تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ} .
তৃপ্তিদায়ক জীবন (عيشة راضية): -

আল্লামা সন্তুষ্টির সম্বন্ধ (إسناد) জীবনের সর্বনামের দিকে হওয়ার বিষয়ে একটি রূপক ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি "জীবন"-কে সন্তুষ্টির প্রকৃত কর্তা (فاعل) হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন:

"আর তৃপ্তিদায়ক জীবনের (عيشة راضية) ক্ষেত্রে, এই বিশেষণটি সন্তুষ্ট (مرضية) হওয়ার বিশেষণের চেয়ে অধিক উত্তম; কারণ এটি তাদের জন্য উপযুক্ত। ফলে বিষয়টিকে তাদের প্রতি জীবনের সন্তুষ্টির সাথে তুলনা করা হয়েছে যেমন তারা জীবনের প্রতি সন্তুষ্ট ছিল। যেন জীবন তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তারা জীবনের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। এটি কেবল সন্তুষ্ট (مرضية) হওয়ার চেয়েও অধিক অলঙ্কারপূর্ণ, সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন।"

আল্লামা যে ব্যাখ্যাটি পছন্দ করেছেন তা {সে থাকবে তৃপ্তিদায়ক জীবনে} আয়াতটিকে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপকের (المجاز العقلي) গণ্ডি থেকে বের করে আনে এবং একে নিশ্চিতভাবে সংকেতনির্ভর রূপকের (الإستعارة بالكناية) অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে রূপকটি তার সাথে লেগে থাকে যা থেকে সে পলায়ন করেছে এবং যার দিকে সে ধাবিত হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক রূপকের কাঠামোর মধ্যে সংকেতনির্ভর রূপক প্রয়োগ করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত, এজন্য আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, যা কিছু এক বিচারে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) হিসেবে গণ্য করা সম্ভব, তা অন্য বিচারে প্রচ্ছন্ন রূপক (الإستعارة المكنية) হিসেবেও গণ্য হতে পারে। এই বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, আর অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে সাক্কাকির মর্যাদা ঠিক তেমনই যেমন ব্যাকরণবিদদের মধ্যে সিবওয়াইহ-এর মর্যাদা।

জান কবজ করার ক্ষেত্রে সম্বন্ধের (إسناد) ভিন্নতা: -

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম মৃত্যু দান ও প্রাণ হরণ করার ক্ষেত্রে সম্বন্ধের (إسناد) ভিন্নতার ব্যাখ্যায় অনুরূপ পথ অবলম্বন করেছেন।

পবিত্র কোরআনে সূরা আয-যুমারের ৪২ নম্বর আয়াতে এটি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়েছে: {আল্লাহই প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়}।

এবং সূরা আস-সাজদাহর ১১ নম্বর আয়াতে এটি মৃত্যুর ফেরেশতার দিকে সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়েছে:

{বলুন, তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে … }

আবার সূরা আল-আন'আমের ৬১ নম্বর আয়াতে এটি মৃত্যুর ফেরেশতাদের দিকে সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়েছে: {আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনো অবহেলা করে না}।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد نهج العلامة ابن القيم منهج المجاز العقلي في توجيهه لهذه الآيات الحيكمات، فقال ما معناه بكل دقة:

الإسناد إلى الله لأنه الخالق المشيء. وإلى ملك الموت لنه الذي ينزع الروح من الجسد، وإلى الملائكة لأن ملك الموت له أعوان.

وهذا كلام هو عين الصواب ومجوزو المجاز في اللغة وفي القرآن الكريم لا يضيفون شيئاً إلى ما قاله العلامة في تقرير المجاز العقلي في هذه الآيات. اللهم إلا أنهم يسمونه مجازاً عقلياً وهو يسكت عن هذه التسمية وسكوته لا ينفي حقيقة المسمى.
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম এই প্রজ্ঞাপূর্ণ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন:

সনদ প্রদান (الإسناد) আল্লাহর প্রতি করা হয়েছে কারণ তিনিই একমাত্র স্রষ্টা ও ইচ্ছাকারী। আর মৃত্যুর ফেরেশতার প্রতি করা হয়েছে কারণ তিনি শরীর থেকে প্রাণ সংহার করেন এবং ফেরেশতাদের প্রতি করা হয়েছে কারণ মৃত্যুর ফেরেশতার অনেক সহযোগী রয়েছে।

এই বক্তব্যটিই হচ্ছে সম্পূর্ণ সঠিক। যারা ভাষা ও পবিত্র কুরআনে রূপক (المجاز) ব্যবহারের বৈধতা দান করেন, তারা এই আয়াতগুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লামা যা বলেছেন, তার অতিরিক্ত কিছু যোগ করেন না। কেবল পার্থক্য হলো তারা একে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (المجاز العقلي) হিসেবে নামকরণ করেন, আর তিনি এই নামকরণের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন; তবে তাঁর এই নীরবতা নামপ্রদত্ত বিষয়ের (المسمى) প্রকৃত বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المجاز المرسل

وللعلامة ابن القيم تأويلات أخرى مفضية إلى المجاز اللغوي المرسل - لا محالة - ومن ذلك:

خروج الإستفهام إلى الإرتكاز: -

الإستفهام موضوع اصلاً لطلب الفهمن يصدر عن متكلم يجهل حقيقة ما يستفهم عنه، تقول لمن لا تعرف اسمه: ما اسمك؟ فيقول؟ فلان.

وفي القرآن الكريم استفهامات مستفيضة صادرة عن الله سبحانه، والله لا يعزب عنه شيء في الأرض ولا في السماء فقد أحاط بكل شيء علماً، ومعنى هذا أن كل استفهام صادر عن الله يجب حمله على غير ظاهره بما يليق بالذات العلية، وهذا ما صنعه الإمام ابن القيم في قوله تعالى:

{فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ} الإنشقاق (20) فقد قال فيه بالحرف:

"إنكاراً على من لم يؤمن بعد ظهور الايات المستلزمة لمدلولها اتم استلزام".

وقوله تعالى: {أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَجْمَعَ عِظَامَهُ} القيامة (3) فقال في توجيهه:

"فأنكر - سبحانه - عليه حسبانه أن الله لا يجمع عظامه.

وقال في قوله تعالى: {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} .

"إن مثل هذا إنما يراد به النفي والاستبعاد، أي لا أحد يرقى من هذه العلة بعد ما وصل صاحبها إلى هذه الحال" يعني حالة حضور الوفاة وما ذكره العلامة في الموضع الأخير يجوز حمله على ظاهره من الاستفهام الحقيقي وهو ما
‌‌অলঙ্কারিক রূপক (المجاز المرسل)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিমের এমন আরও কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে যা অনিবার্যভাবে শাব্দিক রূপক (المجاز اللغوي المرسل)-এর দিকে ধাবিত করে। তন্মধ্যে রয়েছে:

জিজ্ঞাসাসূচক বাক্য (الإستفهام) এর মূল প্রয়োগ হতে সরে গিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ের অর্থে আসা: -

জিজ্ঞাসাসূচক বাক্য (الإستفهام) মূলত কোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা এমন একজন বক্তার পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় যে জিজ্ঞাসিত বিষয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞাত। যেমন, আপনি যার নাম জানেন না তাকে যদি বলেন: তোমার নাম কী? তখন সে বলবে: অমুক।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমাণে জিজ্ঞাসাসূচক বাক্য (استفهامات) এসেছে। অথচ আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর অগোচরে নয়, বরং তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। এর তাৎপর্য হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সকল জিজ্ঞাসাসূচক বাক্যকে (استفهام) অবশ্যই তাঁর মহান সত্তার মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় এমনভাবে বাহ্যিক অর্থের বাইরে কোনো ভিন্ন অর্থে গ্রহণ করতে হবে। ইমাম ইবনুল কায়্যিম মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে অনুরূপ করেছেন:

{فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ} আল-ইনশিকাক (২০)। তিনি এ প্রসঙ্গে হুবহু বলেছেন:

"এটি সেই ব্যক্তির প্রতি অস্বীকৃতি (إنكاراً) স্বরূপ যারা সুস্পষ্ট ও অকাট্য নিদর্শনাবলী প্রকাশিত হওয়ার পরেও ঈমান আনেনি।"

এবং আল্লাহর বাণী: {أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَجْمَعَ عِظَامَهُ} আল-কিয়ামাহ (৩)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন:

"এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের এই ধারণা পোষণ করাকে অস্বীকার (أنكر) করেছেন যে, আল্লাহ তার হাড়গুলো একত্রিত করবেন না।"

এবং তিনি আল্লাহর বাণী: {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} প্রসঙ্গে বলেন:

"এ জাতীয় বাক্যের মাধ্যমে মূলত নেতিবাচকতা (النفي) এবং অসম্ভবতা (الاستبعاد) প্রকাশ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তি যখন এই অবস্থায় পৌঁছে যায়, তখন আর কেউ ঝাড়ফুঁক করে তাকে আরোগ্য দিতে পারে না।" অর্থাৎ মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার অবস্থা। আল্লামা শেষোক্ত যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসার প্রকৃত অর্থের (الإستفهام الحقيقي) বাহ্যিক রূপ হিসেবেও গ্রহণ করা সম্ভব, যা...
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৩০)
يفعله الناس الآن من استدعاء الأطباء للعلاج حتى في لحظات النزع الأخير.

أما الأمثلة الأخرى فقد أجاد فيها وأحسن. والذي نقوله تعقيباً على كلامه: أن خروج الاستفهام إلى النفي أو الإنكار معدود عند علماء البيان من صور المجاز المرسل الذي علاقته الإطلاق والتقييد. اي أطلق الإستفهام من دلالته على طلب الفهم ثم قُيَّد مرة أخرى باستعماله في الإنكار أو النفي أو غيرهما من المعاني المنصوص عليها في مصنفات البيانيين.

وأن الإمام ابن القيم - بهذا - مؤول مجازي خبير بمرامي الكلام ودقائق التراكيب. وكفى بذلك اقراراً بالمجاز وتأصيلاً لوظيفته في البيان.

مجئ الخبر بمعنى الأمر: -

من أفانين القول في اللغة العربية - لغة التنزيل الحكيم - فن معروف في البلاغة العربية يمكن أن نطلق عليه مصطلحاً جديداً يجمع شتاته كله، وهو فن: تبادل الصيغ والأدوات وإحلال بعضها محل بعض ولهذا الفن معان وأسرار دقيقة في الأساليب الرفيعة.

والقرآن الحكيم حافل بصور تبادل الصيغ والأدوات ومن ذلك مجئ الخبر بمعنى الإنشاء، ومنه مجئ الخبر بمعنى الأمر كما جاء في عنوان هذه الفقرة وذلك مثل قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ … } البقرة (228) والتربص: الترقب والانتظار.

وقوله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ … } البقرة: (233) وقد تعرض العلامة ابن القيم لتوضيح السر البياني لمجئ هذا الخبر: {يُرْضِعْنَ} بدل الأمر: "أرضعن" لأن المقصود من الخبر هنا إنشاء الأمر بالرضاعة وقد أصاب العلامة في توضيحه فقال:
মানুষ এখন চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের তলব করে থাকে, এমনকি মুমূর্ষু অবস্থার শেষ মুহূর্তগুলোতেও।

আর অন্যান্য উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও উৎকর্ষ প্রদর্শন করেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা যা বলছি তা হলো: অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট প্রশ্নবোধক বাক্যের না-বোধক বা অস্বীকৃতিমূলক অর্থে নির্গত হওয়া 'বিচ্ছিন্ন (مرسل)' রূপক অলঙ্কারের প্রকারভেদ হিসেবে গণ্য, যার সম্পর্ক হলো শর্তহীনতা ও শর্তযুক্তকরণ। অর্থাৎ, প্রশ্নবোধক বাক্যকে তার 'বোঝার আকাঙ্ক্ষা'র আভিধানিক অর্থ থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত অস্বীকৃতি, না-বোধক বা অন্যান্য অর্থে ব্যবহারের মাধ্যমে একে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম একজন বিজ্ঞ রূপক ব্যাখ্যাকার হিসেবে সাব্যস্ত হন, যিনি বক্তব্যের লক্ষ্য এবং বাক্যগঠনের সূক্ষ্ম বিষয়াদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ। রূপক অর্থকে স্বীকৃতি প্রদান এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে এর স্বরূপ নির্ধারণের জন্য এটাই যথেষ্ট।

সংবাদমূলক বাক্য আদেশের অর্থে ব্যবহৃত হওয়া: -

আরবি ভাষা—যা প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহীর ভাষা—এর বাচনভঙ্গির প্রকারভেদসমূহের মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রে একটি সুপরিচিত শিল্প রয়েছে যাকে আমরা একটি নতুন পারিভাষিক নাম দিতে পারি যা এর সকল বিক্ষিপ্ত রূপকে একত্রিত করবে; আর তা হলো: শব্দরুপ ও অব্যয়ের পারস্পরিক বিনিময় এবং একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া। উচ্চমার্গের বাচনশৈলীতে এই শিল্পের সূক্ষ্ম অর্থ ও রহস্য বিদ্যমান।

কুরআন মাজীদ শব্দরুপ ও অব্যয়ের বিনিময়ের চিত্রে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদমূলক বাক্য ইনশা (সৃজনীমূলক বাক্য) অর্থে আসা, এবং এই অনুচ্ছেদের শিরোনামের ন্যায় সংবাদমূলক বাক্য আদেশের অর্থে আসা। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রতীক্ষায় রাখবে … } সূরা আল-বাকারাহ (২২৮)। আর 'তারাব্বুস' অর্থ হলো প্রতীক্ষা ও অপেক্ষা করা।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পান করানোর মেয়াদ পূর্ণ করতে চায় … } সূরা আল-বাকারাহ (২৩৩)। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম এই সংবাদ: {তারা দুধ পান করাবে} আদেশের শব্দ: "তোমরা দুধ পান করাও" এর পরিবর্তে আসার অলঙ্কারিক রহস্য স্পষ্ট করেছেন। কারণ এখানে সংবাদের উদ্দেশ্য হলো দুধ পান করানোর নির্দেশ প্রদান করা। আল্লামা তাঁর ব্যাখ্যায় সঠিক বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌تمهيد:

قبل حديثه المباشر عن هذه الآية مهَّد له بقوله: "فقد جاءت أشياء بلفظ الخبر، وهي في معنى الأمر والنهي، منها قول عمر: صلي أمرؤ في كذا وكذا من اللباس، وقولهم أنجز حر ما وعد … وهو كثير، فجاء بلفظ الحاصل تحقيقاً لثبوته، وأنه مما ينغبي ان يكون واقعاً ولابد، فلا يطلب من المخاطب إيجاده، بل يخبر به ليحققه خبراً صرفاً".

مراد المؤلف من قوله هذا أن السر البياني لمجئ الخبر بمعنى الأمر هو المسارعة إلى إمتثال الأمر حتى لكان المطلوب بالأمر حاصل وقت النطق به فيخبر عنه لأنه أمر موجود متصف به المخاطب المأمور. وهذا فهم في غاية الجودة يحمد للعلامة ابن القيم وهو في هذا التوضيح بياني ذواقة مرهف الحس ثم قال:

"وفيه طريقة أخرى، وهي أفقه معنى من هذه وهي أن هذا إخبار محض عن وجوب ذلك واستقرار حسنه فب العقل والشريعة والفطرة وكأنهم يريدون بقولهم: أنجز حرَّ ما وعد، اي ثبت ذلك في المروءة، وأستقر في الفطرة في التوجيه الأول جاء الخبر بمعنى الأمر إشارة إلى وجوب المسارعة والإمتثال.

وفي التوجيه الثاني جاء الخبر بمعنى الأمر إشارة إلى استحسان المأمور به عقلاً وشرعاً وفطرة وأياً كان الأمر فإن الإمام ابن القيم قد أوَّل الكلام تأويلاً مجازياً لغوياً مرسلاً فيما ذهب إليه في الوجه الأول.

ثم يعمد إلى الآية: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ} والآية {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ} فيقول رحمه الله وهذا موضع مجئ المسألة المشهورة، وهي مجئ الخبر بمعنى الأمر في القرآن في نحو قوله: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ} و {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ} ونظائره فمن سلك المسلك الأول - يعني مسلك المسارعة والامتثال - جعله خبراً بمعنى الأمر.
‌‌ভূমিকা:

এই আয়াত সম্পর্কে তাঁর সরাসরি আলোচনার পূর্বে তিনি এই বলে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন: "কিছু বিষয় বর্ণনামূলক বাক্যের (خبر) শব্দে এসেছে, অথচ তা আদেশ (أمر) ও নিষেধের (نهي) অর্থ প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে উমর (রা.)-এর উক্তি: 'কোনো ব্যক্তি অমুক অমুক পোশাকে সালাত আদায় করেছে', এবং তাদের প্রবাদ: 'মুক্ত স্বাধীন ব্যক্তি তার কৃত ওয়াদা পূর্ণ করে' … আর এ জাতীয় উদাহরণ অনেক। এটি ঘটিত বিষয়ের শব্দে এসেছে এর নিশ্চয়তা প্রমাণের জন্য এবং এটি এমন বিষয় যা ঘটা আবশ্যক ও অনিবার্য। তাই সম্বোধিত ব্যক্তির কাছে এটি সম্পাদন করার দাবি জানানো হয় না, বরং এটি সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয় যাতে তিনি এটিকে নিছক একটি বর্ণনা (خبر) হিসেবেই বাস্তবায়ন করেন।"

এই বক্তব্যের মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য হলো, বর্ণনামূলক বাক্য (خبر) আদেশের (أمر) অর্থে আসার অলঙ্কারিক রহস্য হলো আদেশ পালনে দ্রুততা প্রদর্শন করা, যেন আদিষ্ট বিষয়টি উচ্চারণের সময়ই অর্জিত হয়ে গেছে। তাই এটি সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয়, কারণ এটি একটি বিদ্যমান বিষয় যা আদিষ্ট ব্যক্তির গুণ হিসেবে গণ্য। এটি অত্যন্ত উচ্চমার্গের একটি অনুধাবন যার জন্য আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম প্রশংসার দাবিদার। এই বর্ণনামূলক ব্যাখ্যায় তিনি একজন সূক্ষ্ম ও রুচিশীল অলঙ্কারবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন:

"এক্ষেত্রে আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে যা পূর্বোক্তটির চেয়েও অর্থগতভাবে অধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ। তা হলো—এটি সেই কাজের আবশ্যকতা এবং বুদ্ধি, শরিয়ত ও ফিতরাত তথা স্বভাবজাত প্রকৃতিতে তার সৌন্দর্যের সুস্থিতি সম্পর্কে একটি নিছক সংবাদ প্রদান (إخبار)। যেন তারা তাদের এই উক্তির মাধ্যমে: 'মুক্ত স্বাধীন ব্যক্তি তার কৃত ওয়াদা পূর্ণ করে', বোঝাতে চেয়েছেন যে—বিষয়টি মনুষ্যত্বের (مروءة) মধ্যে প্রমাণিত এবং ফিতরাতের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদেশ পালনে দ্রুততার আবশ্যকতা বোঝাতে বর্ণনামূলক বাক্য (خبر) আদেশের (أمر) অর্থে এসেছে।

আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদিষ্ট বিষয়টি বুদ্ধি, শরিয়ত ও ফিতরাতের দৃষ্টিতে উত্তম হওয়া বোঝাতে বর্ণনামূলক বাক্য (خبر) আদেশের (أمر) অর্থে এসেছে। বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর প্রথম মতটিতে বক্তব্যকে একটি সাধারণ বা অবারিত (مرسل) ভাষাগত রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করেছেন।

অতঃপর তিনি এই আয়াতের দিকে অগ্রসর হন: {মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে} এবং এই আয়াত: {তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ প্রতীক্ষা করবে}। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটিই সেই প্রসিদ্ধ মাসআলা আসার ক্ষেত্র, আর তা হলো কুরআনে বর্ণনামূলক বাক্য (خبر) আদেশের (أمر) অর্থে আসা; যেমন আল্লাহর বাণী: {মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে} এবং {তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ প্রতীক্ষা করবে} ও এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত। সুতরাং যারা প্রথম পথ—অর্থাৎ দ্রুততা ও আনুগত্যের পথ অনুসরণ করেছেন—তারা একে আদেশের (أمر) অর্থবোধক বর্ণনা (خبر) হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومن سلك المسلك الثاني قال: بل خبر حقيقة غير مصروف عن جملة الخبرية، ولكن هو خبر عن حكم الله وشرعه ودينه ليس خبراً عن الواقع".

ثم قال: "وكذلك بعض المطلقات يخالفن ولا يتربصن، وهذا الإحتراس - أي مجئ الخبر بمعنى الأمر - في غاية الشرف والبلاغة، فرحم الله العلماء الذين عرفوا لكتاب ربهم حقه فوفوه حسابه".

وصفوة القول: إن استبدال الصيغ والأدوات في الخبر والإنشاء، وإحلال بعضها محل بعض:

الخبر محل الإنشاء، والإنشاء محل الخبر، وخروج بعضها إلى غير معانيها الزضعية على نحو ما رأينا في تخريجات العلامة ابن القيم هو عند البلاغيين من صور المجاز المرسل، الذي علاقته الإطلاق والتقييد.

وعلى هذا تُحمل تخريجات الإمام ابن القيم بلا نزاع.
এবং যারা দ্বিতীয় পথ অবলম্বন করেছেন তারা বলেছেন: "বরং এটি প্রকৃতপক্ষে সংবাদ (خبر), যা বর্ণনামূলক বাক্য থেকে বিচ্যুত নয়; তবে এটি আল্লাহর বিধান, তাঁর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীন সংক্রান্ত সংবাদ, বাস্তব পরিস্থিতি সংক্রান্ত কোনো সংবাদ নয়।"

অতঃপর তিনি বলেন: "অনুরূপভাবে কিছু তালাকপ্রাপ্তা নারী বিধান লঙ্ঘন করেন এবং তারা অপেক্ষা করেন না। এই সতর্কতা—অর্থাৎ আদেশের (أمر) অর্থে সংবাদের (خبر) আসা—চরম মর্যাদা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) নিরিখে অত্যন্ত উচ্চমানের। সুতরাং আল্লাহ সেই আলেমদের প্রতি রহম করুন যারা তাদের প্রতিপালকের কিতাবের যথাযথ মর্যাদা অনুধাবন করেছেন এবং এর পূর্ণ হক আদায় করেছেন।"

সারকথা হলো: সংবাদ (خبر) ও নির্দেশনামূলক (إنشاء) বাক্যের শব্দরূপ ও উপকরণসমূহের পারস্পরিক বিনিময় এবং একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া:

নির্দেশনামূলক বাক্যের স্থলে সংবাদ (خبر) এবং সংবাদের (خبر) স্থলে নির্দেশনামূলক (إنشاء) বাক্য ব্যবহার করা এবং এগুলোর আভিধানিক অর্থ থেকে ভিন্ন অর্থে নির্গত হওয়া—যেভাবে আমরা আল্লামা ইবনুল কায়্যিমের বিশ্লেষণে দেখেছি—তা অলঙ্কারবিদদের নিকট রূপক (مجاز مرسل) এর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত, যার সম্পর্ক হলো ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা (الإطلاق والتقييد)।

আর ইমাম ইবনুল কায়্যিমের ব্যাখ্যাগুলো কোনো বিতর্ক ছাড়াই এর ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাজাযু ইনদাল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া তালামীযিহি বাইনাল ইনকার ওয়াল ইকরার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المجاز اللغوي الاستعاري

بقيت التأويلات المجازية المفضية إلى الاستعارة وهي من المجاز اللغوي، وابن القيم ضارب في هذا المجال بسهم وافر، ومن ذلك.

فلا أقتحم العقبة: -

نقل الإمام في التحليل البلاغي لهذه الآية {فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ} تأويلاً مجازياً رائعاً، يفضي - لا محالة - إلى المجاز اللغوي الإستعاري. قال:

"وقال مقاتل: هذا مثل ضربه الله يريد: أن المعتق رقبة، والمطعم اليتيم والمسكين، يقاحم نفسه وشيطانه - يعني يغالب ويجالد - مثل لأن يتكلف صعود العقبة فشُبَّه المعتق رقبة في شدته عليه بالمتكلف صعود العقبة".

هذا التأويل يُفضى إلى أن هذه الآية مجاز لغوي من قبيل الاستعارة التمثيلية، شُبَّه فيها الهئية الحاصلة من فعل التكاليف الشاقة على النفس ببذل الطعام لمستحقيه وتحرير الرقاب من الرق بالهيئة الحاصلة من المشاق التي يتجشمها رجل يحاول صعود جبلاً مثلاً، وهذا هو المجاز المركب، وقد صرَّح ابن القيم بالمشبه والمشبه به وكأنه يجري الاستعارة كما يجريها البيانيون.

جاء الله من طور سيناء: -

هذه العبارة وردت في فقرة من التوراة. وهذا نصها:

"جاء الله من صور سيناء، واشرق من ساعير، واستعلن من فاران".

وفيها بشارة برسولَيْ الله عيسى ومحمد عليهما السلام وقد ذكر هذه الفقرة العلامة ابن القيم، ثم أوَّل معانيها تأويلاً مجازياً واضحاً فقال:

"فمجيئه من طور سيناء يعثته لموسى بن عمران وبدأ به على حكم الترتيب الواقعي، ثم ثنى بنبوة المسيح، ثم ختمه بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم.
ভাষাগত রূপক অলংকার (المجاز اللغوي الاستعاري)

রূপক ব্যাখ্যার (تأويلاً مجازياً) যে বিষয়গুলো রূপক অলংকারের (الاستعارة) দিকে ধাবিত করে এবং যা ভাষাগত রূপকের (المجاز اللغوي) অন্তর্ভুক্ত, তা এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম এই ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছেন, আর এরই কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

অতঃপর সে বন্ধুর গিরিপথে প্রবেশ করেনি: -

ইমাম (ইবনুল কাইয়্যিম) এই আয়াত {فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ} এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে একটি চমৎকার রূপক ব্যাখ্যা (تأويلاً مجازياً) প্রদান করেছেন, যা অনিবার্যভাবে ভাষাগত রূপক অলংকারের (المجاز اللغوي الإستعاري) দিকে নিয়ে যায়। তিনি বলেছেন:

"মুকাতিল বলেছেন: এটি একটি দৃষ্টান্ত যা আল্লাহ পেশ করেছেন; এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে: যে ব্যক্তি দাস মুক্ত করে এবং এতিম ও মিসকিনকে আহার করায়, সে নিজের নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে—অর্থাৎ সে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করে এবং যুদ্ধ করে। এটি যেমন বন্ধুর পাহাড়ে আরোহণের কষ্টের মতো, তেমনি দাস মুক্ত করাকেও এর কঠিন হওয়ার দিক থেকে বন্ধুর পাহাড়ে আরোহণের কষ্টের সাথে তুলনা করা হয়েছে।"

এই ব্যাখ্যাটি নির্দেশ করে যে, এই আয়াতটি প্রতিনিধিত্বমূলক রূপকের (الاستعارة التمثيلية) ন্যায় একটি ভাষাগত রূপক (مجاز لغوي)। এখানে নফসের ওপর অর্পিত কঠিন দায়িত্বসমূহ পালন করার দ্বারা—যেমন অভাবগ্রস্তকে আহার দান এবং দাসকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে—অর্জিত অবস্থাকে, উদাহরণস্বরূপ পাহাড় আরোহণের চেষ্টাকারী কোনো ব্যক্তির কষ্টের ফলে সৃষ্ট অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর এটিই হলো যৌগিক রূপক (المجاز المركب)। ইবনুল কাইয়্যিম এখানে উপমেয় (المشبه) ও উপমানকে (المشبه به) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেন তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের ন্যায় রূপক অলংকারের প্রয়োগ ঘটাচ্ছেন।

আল্লাহ তূর পাহাড় থেকে এসেছেন: -

এই বাক্যটি তাওরাতের একটি অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। মূল পাঠটি হলো:

"আল্লাহ সীনয় (তূর) পর্বত থেকে এসেছেন, সয়ীর থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং পারান পর্বত থেকে প্রকাশিত হয়েছেন।"

এতে আল্লাহর দুই রাসূল ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাম)-এর আগমনের সুসংবাদ রয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম এই অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর এর অর্থসমূহের একটি স্পষ্ট রূপক ব্যাখ্যা (تأويلاً مجازياً) দিয়ে বলেছেন:

"তূর পাহাড় থেকে তাঁর আসা বলতে মূসা ইবনে ইমরানের কাছে তাঁর প্রত্যাদেশ পাঠানোকে বোঝানো হয়েছে এবং বাস্তব পর্যায়ক্রম অনুযায়ী এর দ্বারা শুরু করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে মসীহ (আ.)-এর নবুওয়ত এবং সবশেষে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়তের মাধ্যমে এর সমাপ্তি টানা হয়েছে।"