(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: -)
الشبهات الثلاثون المثارة لإنكار السنة النبوية عرض وتفنيد ونقض   (عبد العظيم المطعني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الشبهات الثلاثون المثارة لإنكار السنة النبوية عرض وتفنيد ونقض

المؤلف: عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني (ت 1429هـ)

الناشر: مكتبة وهبة

الطبعة: الأولى 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 195

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ (السنة) অস্বীকার করার লক্ষ্যে উত্থাপিত ত্রিশটি সংশয়: উপস্থাপন, খণ্ডন এবং নিরসন   (আবদুল আজিম আল-মাতানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: সুন্নাহ (السنة) অস্বীকার করার লক্ষ্যে উত্থাপিত ত্রিশটি সংশয়: উপস্থাপন, খণ্ডন এবং নিরসন

লেখক: আবদুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মাতানি (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা

সংস্করণ: প্রথম ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: الشبهات الثلاثون المثارة لإنكار السنة النبوية عرض وتفنيد ونقض

المؤلف: د. عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني

الناشر: مكتبة وهبة

الطبعة الأولى 1420 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 1

تنبيه:

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

গ্রন্থ: নববী সুন্নাহ (السنة) অস্বীকার করার লক্ষ্যে উত্থাপিত ত্রিশটি সংশয়: উপস্থাপনা, খণ্ডন এবং পর্যালোচনা

লেখক: ড. আব্দুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মাতআনি

প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা

প্রথম সংস্করণ ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

সতর্কতা:

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

আল্লাহ তাআলা এই গ্রন্থের লেখক এবং যিনি এর রচনার ব্যয়ভার বহন করেছেন তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مدخل الدراسة

مع مطلع هذا العام 1999 م اشتد الهجوم على السنة النبوية ونشطت بعض الأقلام في الطعن في الحديث النبوي بشكل عام، ودعوة الناس إلى الإعراض عن السنة الشريفة، وعدم التعويل عليها في علاقة المسلم بربه، ومجتمعه، وأسرته ودنياه وآخرته؟!

زقد راقبنا ما نشر حول هذا الموضوع، فرأيناه يزداد عنتا وضراوة وقبحاً يوماً بعد يوم، ورأينا الذين تولوا كبر هذه الفتنة كلهم - بلا استثناء - دخلاء أعياء على المجال الذي زجَّوا بأنفسهم فيه إذ لا صلة لهم بالدراسات الإسلامية بعامة، ولا بالحديث وأصوله بخاصة، وكل حظهم أن قرأوا بعض كتب التراث، وأخذوا يبحوث عن "العورات" التي ظنوا أنها تفيدهم في تشوية حقائق الإسلام، وعزله عن المسلمين، أو عزل المسلمين عنه، لحاجات في نفوس "اليعاقيب" بدت أفواهم، وما تخفي صدورهم أكبر.

وقد ساعد على ضراوة هذه الحملة المسعورة عندنا في مصر أمور:

أولاً: التوغل اليهودي بعد لاتصالح مع "إسرائيل" وقيام سفارة لها في أرض الكنانة، أصبحت هذه "السفارة" وكراً لنفث السموم ومحاربة الإسلام، على أيدي عملاء لها من بنيجلدتنا ويتحدثون بلساننا، ويتحركون وهم آمنون، لأنهم "مصريون" بل "مسلمون" وهذا هو مكن الخطر.

ثانياً: إسهام الجامعة الإمريكية بالقاهرة في الإستاءات السافرة إلى الإسلام، ففي عام 1998م عثر على كتاب يدرس فيها للكاتب اليهودي (ماكسيم رودنسون) بعنوان (محمد) ويقوم بتدريسه للشباب المصريين أستاذ أمريكي الجنسية. وهذا الكتاب عبارة عن خطة موضوعة لتحقيق غرضين كبيرين:

(أ) - هدم الإسلام أصولاً وفروعاً، وكلمة "هدم" هنا لا نقصد منها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌গবেষণার ভূমিকা

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিক থেকে সুন্নাহর উপর আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে এবং কতিপয় কলমবাজ সাধারণভাবে হাদিসের ওপর অপবাদ আরোপে তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা মানুষকে পবিত্র সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার এবং মুসলিমের সাথে তার রব, সমাজ, পরিবার, ইহকাল ও পরকালের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুন্নাহর ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানাচ্ছে?!

এই বিষয়ে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে আমরা তা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি যে, দিন দিন এর কঠোরতা, তীব্রতা ও কুৎসিত রূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা দেখেছি যে, যারা এই ফিতনার নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা সবাই—ব্যতিক্রমহীনভাবে—অনধিকারপ্রবেশকারী এবং যে বিষয়ে তারা নিজেদের জড়িয়েছে সে বিষয়ে তারা নিতান্তই অক্ষম। ইসলামি গবেষণার সাথে সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে হাদিস ও এর মূলনীতি (أصول)-এর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের দৌড় কেবল এতটুকুই যে তারা ঐতিহ্যের কিছু কিতাব পড়েছে এবং এমন সব "ত্রুটি-বিচ্যুতি" অনুসন্ধান করতে শুরু করেছে যা তারা মনে করেছে যে ইসলামের সত্যকে বিকৃত করতে এবং মুসলিমদের থেকে ইসলামকে অথবা ইসলাম থেকে মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করতে তাদের সাহায্য করবে। এসবই তাদের অন্তরে লালিত বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, যা তাদের মুখে প্রকাশিত হয়েছে, আর যা তাদের অন্তরে লুকায়িত তা আরও ভয়াবহ।

আমাদের মিশরে এই উন্মত্ত অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু বিষয় সহায়তা করেছে:

প্রথমত: "ইসরায়েলের" সাথে সমঝোতা এবং কিনানাহর ভূমিতে তাদের দূতাবাস প্রতিষ্ঠার পর ইহুদিদের অনুপ্রবেশ। এই "দূতাবাসটি" বিষ ছড়ানোর এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি আস্তানায় পরিণত হয়েছে; আর এটি করা হচ্ছে আমাদেরই গোত্রের এবং আমাদের ভাষায় কথা বলা একদল এজেন্টের মাধ্যমে। তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কারণ তারা "মিশরীয়" এমনকি "মুসলিম"। আর এখানেই বিপদের মূল উৎস।

দ্বিতীয়ত: কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে ইসলামের প্রতি নির্লজ্জ অবমাননায় অংশগ্রহণ। ১৯৯৮ সালে সেখানে একটি পাঠ্যবই পাওয়া যায় যা ইহুদি লেখক (ম্যাক্সিম রডিনসন) কর্তৃক রচিত এবং শিরোনাম ছিল (মুহাম্মদ)। এটি মিশরীয় তরুণদের পাঠদান করছিলেন আমেরিকান নাগরিকত্বের একজন অধ্যাপক। এই বইটি মূলত দুটি বড় উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রণীত একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা:

(ক) - ইসলামের মূলনীতি (أصول) ও শাখাগত মাসআলা (فروع) ধ্বংস করা; আর এখানে "ধ্বংস" শব্দ দ্বারা আমরা যা উদ্দেশ্য নিচ্ছি তা হলো
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১০)
معناها "المجازي" بل معناها "الحقيقي" كما يدل على ذلك موضوع الكتاب نفسه لمن اطلع عليه، أو على ملخص له، واكتفينا بعد العثور على هذه الجريمة بمصادرة "الكتاب" ولم نوجه للجامعة الأمريكية بالقاهرة أي "لوم" ولو على سبيل "الهزاز"؟!

وهذا ما شجع هذه الجامعة على العودة إلى الإساءة إلى الإسلام مرة أخرى. حيث عثر على رواية "ما جنة" تدرس بين جدران هذا الوكر الاستعماري، وهي رواية "الخبز الجاف" التي تدعو إلى قتل الأخلاق والفضائل عند أجيال المستقبل وتشجع على "الدعارة" والانتحار الخلقي؟!

وليس بين جامعة الأزهر (راعية الإسلام) وبين الجامعة الأمريكية (عدوة الإسلام) إلا بضعة كيلو مترات تقريباً.

ثالثاً: مركز ابنن خلدون: وهو وكر استعماري جديد، قد تكشفت خفاياه من خلال أعمال مشهورة له، مثل مؤتمر الأقليات، الذي كان مزمعاً عقده في مصر، لكن ولاة الأمر منعوا انعقاده فيها عندما أحسوا بخبث المراد منه، وهو إثارة الفتنة الطائفية في مصر.

ثم تبنى هذه المركز لدعوة تزويج الشباب المصري من فتيات "إسرائيل" وروَّج لهذه الفكرة بما أوتى من وسائل الدعاية ولكن الوعي المصري وأد هذه الفكرة في مهدها والحمد لله، ثم إقحامه نفسه فيما ليس له فيه ناقة ولا جمل، وهو إعداد مناهج للتربية الدينية الإسلامية في المراحل الثلاث: الإبتدائي والإعدادي والثانوي، تضمنت تلك المناهج اعتداءات صارخة على الإسلام، وكان من أشنع ما ورد فيها إنكار السنو النبوية والقول بأن الأحاديث النبوية كلها "مزورة" ولا يصح منها شيء على الإطلاق؟!

وقد تصدت صحيفة "عقيدتي" لهذه المناهج، وكشفت ما فيها من باطل خلال أشهر الشتاء الماضي، ثم تتابعت الحملات في بعض الأخرى، الأمر الذي حمل السيد وزير التربية والتعليم على أن يتصل برئيس تحرير
এর অর্থ "রূপক (مجازي)" নয়, বরং এর "প্রকৃত (حقيقي)" অর্থেই; যেমনটি এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বা এর সারসংক্ষেপ পাঠ করেছেন এমন ব্যক্তিদের কাছে বইটির মূল বিষয়বস্তু থেকেই স্পষ্ট হয়। এই অপরাধটি উদঘাটনের পর আমরা কেবল বইটি "বাজেয়াপ্ত" করেই ক্ষান্ত হয়েছি এবং কায়রোস্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে কোনো প্রকার "তিরস্কার", এমনকি "রসিকতা" হিসেবেও প্রদর্শন করিনি?!

আর এটিই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনরায় ইসলামের অবমাননা করতে উৎসাহিত করেছে। যেখানে এই ঔপনিবেশিক আড্ডার অভ্যন্তরে "অশ্লীল (ماجنة)" ঘরানার একটি উপন্যাস পাঠদান করতে দেখা গেছে; সেটি হলো "খুবজুল জাফ" (শুকনো রুটি) নামক উপন্যাস, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিকতা ও সচ্চরিত্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানায় এবং "অশ্লীলতা" ও নৈতিক আত্মহত্যার প্রতি প্ররোচিত করে?!

অথচ আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামের পৃষ্ঠপোষক) এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (ইসলামের শত্রু)-র মধ্যে ব্যবধান মাত্র কয়েক কিলোমিটার প্রায়।

তৃতীয়ত: ইবনে খালদুন সেন্টার: এটি একটি নতুন ঔপনিবেশিক আস্তানা, যার গোপন রহস্য এর কিছু সুপরিচিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। যেমন ‘সংখ্যালঘু সম্মেলন’, যা মিশরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল; কিন্তু কর্তৃপক্ষ যখন এর অশুভ উদ্দেশ্য অর্থাৎ মিশরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তখন তারা এর আয়োজন নিষিদ্ধ করেন।

এরপর এই কেন্দ্রটি মিশরীয় যুবকদের সাথে "ইসরায়েলি" তরুণীদের বিবাহ দেওয়ার আহ্বানের দায়িত্ব নেয় এবং তাদের লব্ধ সকল প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে এই ধারণার প্রচারণা চালায়। তবে আলহামদুলিল্লাহ, মিশরীয় জনসচেতনতা অঙ্কুরেই এই ধারণাকে নস্যাৎ করে দেয়। এরপর তারা এমন এক বিষয়ে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে যাতে তাদের কোনো ন্যূনতম অধিকার বা সম্পর্ক নেই; আর তা হলো প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক—এই তিন স্তরের জন্য ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা। সেই পাঠ্যক্রমে ইসলামের ওপর চরম আঘাতমূলক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য বিষয় ছিল সুন্নাহ (السنة النبوية) অস্বীকার করা এবং এই দাবি করা যে, সকল নববী হাদিসই "জালিয়াতিপূর্ণ (مزورة)" এবং এর কোনোটিই মোটেও "বিশুদ্ধ (صحيح)" নয়?!

"আকিদাতি" পত্রিকা এই পাঠ্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং গত শীতের মাসগুলোতে এর মধ্যকার বাতিল ও অসার বিষয়গুলো উন্মোচন করেছে। এরপর অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ চলতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীকে উক্ত পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য করে...
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১১)
"عقيدتي" الأستاذ السيد عبد الرءوف، ويعلن براءة الوزارة من أباطيل مركز ابن خلدون.

كما أعلن ذلك في مجلس الشعب أمام لجنة "التعليم" وخمدت تلك الفتنة بسبب الوعي المصري، والحرص على الإسلام عقيدة وشريعة.

رابعاً: النظام العالمي الجديد أو "العولمة" ذلك النظام الذي حدث بعد انهيار النظام السوفيتي الشيوعي، حيث ترك انهياره فراغاً أمام الدول الرأسمالية، وبخاصة الولايات المتحدة الأمريكية، وفرضت أمريكا نفسها - بمعونة بعض حلفائها - أن تتزعم هذا النظام، الذي يصبح فيه العالم كله مثل القرية الواحدة، أو قرية واحدة بدون "مثل" ويستهدف هذا النظام محو الفوارق بين الشعوب، أو محو شخصية العالم الإسلامي، وتجريده من "مقوماته" وفي مقدمتها الدين واللغة العربية، وما يتصل بهما من حضارة، ولذلك فإن أوروبا - كلها - تسعى - الآن - لإسقاط الإسلام بما تملك من وسائل "ساخنة" أو "باردة".

ولا يستطيع "عاقل" أن يبرئ أمريكا وبعض حلفائها مما يعتري العالم الإسلامي - الآن - من عمليات المحو والقرض والجذر وإن كان عملاؤها هم الذين يتحركون، فإن "الوقود" صليبي صهيوني بلا أدنى ريب.

وفي أثناء الهجوم الشرس على السنة النبوية اتصلت بي "شخصية" من العالمين بما وراء الكواليس، وأكدت لي أن إحدى السفارات الأجنبية الغربية تدبر مركزاً لجمع المعلومات الشاذة من التراث العربي الإسلامي، وتود بها أولئك العملاء الذين يناصبون الإسلام العداء في الصحف والمجلات المصرية، وأن أميراً من أسرة المالكة في الدولة التي تتبعها تلك السفارة، هو الذي ينفق على المركز من ماله الخاص.

وصدق الله العظيم القائل:

{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ....} [الأنفال: 36]

خامساً: استثمار آثار العنف، والفتنة التي مرَّت بها البلاد فكدرت الصفو
"আমার আকিদাহ" উস্তাদ সাইয়্যেদ আব্দুর রউফ, এবং তিনি ইবনে খালদুন সেন্টারের মিথ্যাচার থেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দোষিতা ঘোষণা করেন।

যেমনটি তিনি মজলিসে শা’ব (সংসদ)-এ "শিক্ষা" কমিটির সামনে ঘোষণা করেছিলেন এবং মিশরীয় সচেতনতা এবং আকিদাহ ও শরিয়াহ হিসেবে ইসলামের প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে সেই ফিতনা দমিত হয়েছিল।

চতুর্থত: নতুন বিশ্বব্যবস্থা বা "বিশ্বায়ন", এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা সোভিয়েত কমিউনিস্ট ব্যবস্থার পতনের পর তৈরি হয়েছে। এই পতন পুঁজিবাদী দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি শূন্যতা তৈরি করেছিল। আমেরিকা তার কিছু মিত্রের সহায়তায় নিজেকে এই ব্যবস্থার নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত করেছে, যার ফলে পুরো বিশ্ব একটি একক গ্রামের মতো বা কোনো "মতো" ছাড়াই একটি একক গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো জাতিগুলোর মধ্যকার পার্থক্য মুছে ফেলা, অথবা মুসলিম বিশ্বের স্বকীয়তা বিলীন করে দেয়া এবং এর মৌলিক উপাদানগুলো থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা, যার শীর্ষে রয়েছে দ্বীন এবং আরবি ভাষা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সভ্যতা। তাই সমগ্র ইউরোপ এখন তার হাতে থাকা "উষ্ণ" বা "শীতল" সকল উপায়ের মাধ্যমে ইসলামকে পরাভূত করার চেষ্টা করছে।

কোনো "বিবেচনাশীল" ব্যক্তি বর্তমান মুসলিম বিশ্বে বিলোপন ও ক্ষয়িষ্ণুতার যে প্রক্রিয়া চলছে তা থেকে আমেরিকা এবং তার কিছু মিত্রকে নির্দোষ সাব্যস্ত করতে পারেন না। যদিও তাদের এজেন্টরাই মূলত সক্রিয়, কিন্তু এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি বা "জ্বালানি" যে ক্রুসেডার-জায়নবাদী তা নিয়ে কোনো সামান্যতম সন্দেহ নেই।

সুন্নাহর ওপর এই তীব্র আক্রমণের সময়, নেপথ্যের ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত এক "ব্যক্তিত্ব" আমার সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি আমাকে নিশ্চিত করেন যে, একটি বিদেশী পশ্চিমা দূতাবাস আরবি-ইসলামী ঐতিহ্য থেকে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন (شاذة) তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি কেন্দ্র পরিচালনা করছে এবং তারা সেই এজেন্টদের এই তথ্যগুলো সরবরাহ করে যারা মিশরের সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে। তিনি আরও জানান যে, সেই দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট দেশের রাজপরিবারের একজন আমির তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই কেন্দ্রের ব্যয়ভার বহন করছেন।

আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন:

{নিশ্চয়ই যারা কুফরি করে তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ার জন্য...} [আনফাল: ৩৬]

পঞ্চমত: দেশে যে সহিংসতা এবং ফিতনার প্রভাব অতিবাহিত হয়েছে তাকে পুঁজি করা, যা জনজীবনের স্বস্তি বিনষ্ট করেছিল।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১২)
العام والخاص، ثم توقف العنف الذي كانت الدولة قد تصدت له، وخاضت معارك شرسة مع عناصر الفتنة. وكان من المحن أن حوادث الإرهاب نسبت إلى الإسلام، فأراد هؤلاء المشاغبون الجدد أن يطرقوا الحديد وهو ساخن، حيث ظنوا أن الدولة أصبحت في موقف قلق من التمسك بالدين، والدعوة إليه، وأنها تغمض عينها عن كل من يحذر من الحماسة الدينية، في هذا الجو أرخى هؤلاء المشاغبون لأنفسهم العنان، فأداروا ظهورهم للإرهارب وبواعثه، وأخذوا يصوبون "سهامهم" نحو الإسلام نفسه وصوروا كل ما هو إسلامي في صورة التطرف والعنف والإرهاب أو التشدد المتزمت، فصرنا نسمع أو نقرأ لأناس لم يكن لهم ذكر من قبل، ومنهم من وصف علماء الحدثي وشراحه بأنهم إباحيون؟!

ومنهم من اتعم الإمام الشافعي بأنه ابتدع أشنع بدعة في الإسلام بجعله السن مصدراً للتشريع في كتابه المعروف بـ "الرسالة"؟!.

وإذا فتشت عن صلة هؤلاء بالدراسات الإسلامية تجدها "صفر" غير مسبوق بأرقام، ولكنهم قرأوا بعض الكتب فظنوا أنهم صاروا أئمة يشار إليهم بالبنان؟!

سادساً: الصحف الجديدة: في السنوات القليلة، الماضية، انتشرت ظاهرة جديدة، لم يكن لها وجود من قبل، تلك هي ظاهرة الصحف الجديدة، التي تواصل الصدور هذه الأيام.

وتجاوزت هذه الصحف نطاق الحياة الحزبية، فأخذ بعض الأفراد يتسارعون في إصدارها بهدف الكسب المالي واستثمار رءوس أموالهم. ولهم حيل كثيرة في استصدار التراخيص الرسمية، التي تمكنهم من مزاولة المهنة في جو آمن.

انتهى الوقت الذي كانت فيه الأهرام والأخبار والجمهورية نجوم العمل الصحفي في مصر، واصبحت ترى على الأرصفة وفي الأكشاك ومع الباعة حشداً هائلاً من الصحف اليومية والأسبوعية. بالإضافة إلى المجلات العتيقة والحديثة،
সাধারণ ও বিশেষ (العام والخاص), এরপর সেই সহিংসতার অবসান ঘটে যা রাষ্ট্র মোকাবিলা করেছিল এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর সাথে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক বিষয় ছিল যে, সন্ত্রাসবাদী ঘটনাগুলোকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। ফলে এই নতুন বিশৃঙ্খলাকারীরা 'লোহা গরম থাকতেই আঘাত করতে' চাইল; তারা ধারণা করেছিল যে, ধর্মকে আঁকড়ে ধরা এবং এর দাওয়াতের বিষয়ে রাষ্ট্র এখন এক অস্থির অবস্থানে রয়েছে এবং যারা ধর্মীয় উন্মাদনার বিরুদ্ধে সতর্ক করে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি চোখ বুজে থাকবে। এই পরিবেশে সেই বিশৃঙ্খলাকারীরা নিজেদের লাগামহীন করে দিল। তারা সন্ত্রাসবাদ এবং এর কারণগুলোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং ইসলামের দিকেই তাদের 'তীর' নিক্ষেপ করতে শুরু করল। তারা ইসলামি সকল বিষয়কে চরমপন্থা, সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ বা অনুদার কঠোরতা হিসেবে চিত্রিত করল। ফলে আমরা এমন সব লোকের কথা শুনতে বা পড়তে শুরু করলাম যাদের ইতিপূর্বে কোনো পরিচিতি ছিল না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিস বিশারদ এবং এর ব্যাখ্যাকারীদের 'উচ্ছৃঙ্খল ভোগবাদী' হিসেবে বর্ণনা করেছে?!

তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইমাম শাফেয়ীর ওপর এই অপবাদ দিয়েছে যে, তিনি তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'আর-রিসালা'-তে সুন্নাহকে বিধান প্রণয়নের উৎস (مصدراً للتشريع) সাব্যস্ত করে ইসলামের বুকে এক জঘন্যতম বিদআত (بدعة) প্রবর্তন করেছেন?!

যদি আপনি ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বের সাথে তাদের সম্পর্কের অনুসন্ধান করেন, তবে তা শূন্যের কোঠায় পাবেন; কিন্তু তারা কিছু বই পাঠ করেই নিজেদের এমন ইমাম (أئمة) মনে করতে শুরু করেছে যাদের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়?!

ষষ্ঠত: নতুন সংবাদপত্র: গত কয়েক বছরে এমন এক নতুন প্রপঞ্চের বিস্তার ঘটেছে যার অস্তিত্ব আগে ছিল না; আর তা হলো নতুন সংবাদপত্রের ধারা, যা বর্তমানে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

এই সংবাদপত্রগুলো দলীয় রাজনীতির গণ্ডি অতিক্রম করে গেছে; ফলে কিছু ব্যক্তি কেবল আর্থিক মুনাফা অর্জন এবং মূলধন বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এগুলো প্রকাশে তৎপর হয়ে উঠেছে। সরকারি লাইসেন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের নানাবিধ কৌশল রয়েছে, যা তাদের একটি নিরাপদ পরিবেশে এই পেশা পরিচালনার সুযোগ করে দেয়।

মিশরের সাংবাদিকতার জগতে আল-আহরাম, আল-আখবার এবং আল-জুমহুরিয়া সংবাদপত্রের একাধিপত্যের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন ফুটপাতে, সংবাদপত্রের স্টলে এবং হকারদের কাছে দৈনিক ও সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের এক বিশাল সমারোহ দেখা যায়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক সাময়িকীসমূহ।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ربما كان المتوسط اليومي يتراوح بين العشر والثماني صحف تعرض للقراءة صباح كل يوم.

والصحيفة بلا قراء أشبه بـ "السقط" الذي لم يكتمل تكوينه في رحم أمه فكان لابد لهذه الصحف الجديدة من السعي لإيجاد قراء لها.

وأقرب وسيلة، وأقصر طريق هو الكتابة "في الممنوع" و"عن الممنوع" وهذه هي الخطة التي سارت عليها "الصحف الجديدة" واتخذت من الكتابة "في الممنوع"، "وعن الممنوع" في الشئون الدينية الإسلامية معيناً لا ينضب، وبحراً لا تتوقف أمواجه، ولا يجف ماؤه فظفرت باهتمام القراء، ومتابعتها في ما تكتب عن الإسلام،

هنا وجد الموتوروت من الإسلام الفرصة أمامهم، فلم يألوا حهداً في الإساءة إليه والكيد له، والتحامل عليه واستثمروا - مع هذه - كل المغريات المشار إليها من قبل، وركزوا جهودهم على محورين:

* الدعوة إلى إلغاء الفقه الإسلامي؛ لأنه في نظرهم فقه متخلف رجعي، تجاوزه الزمن أو نتاج أموات فكيف يتحكم أهل القبور في سكان القصور، فقه كتب لخدمة الحكام الذين كتب في عصورهم وإن شئت فانظر كتابى: ثقافتنا في مواجهة العصر، وتجديد الفكر العرب وكلاهما للدكتور/ زكي نجيب محمود.

* الدعوة إلى إلغاء السنة النبوية، إما لأنها مزورة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟!.

وإما لأنها - وإن كانت غير مزورة - ليست من الدين في شيء. والإيمان بها والاحتكام إليها أكبر بدعة حدثت في الإسلام، تولى كبرها "الشافعي" ثم تابعه الفقهاء من بعده؟! وأن العمل بالسنة هو سبب تخلف المسلمين؟!

والملاحظ الآن أن الحملة على الفقه بدأت تتراجع، أما الحملة على السُّنة فقد تضاعف حجمها، ورأينا أشخاصاً يكتبون حولها بهم من قبل، وعهد لهم بالكتابة، ولولا وجود الصحف الجديدة ما وجد هؤلاء الأدعياء من
সম্ভবত প্রতিদিন সকালে পাঠের জন্য উপস্থাপিত সংবাদপত্রের দৈনিক গড় সংখ্যা ছিল আট থেকে দশটি।

আর পাঠকহীন সংবাদপত্র যেন সেই 'মৃতবৎ ভ্রূণ' যা মায়ের গর্ভে পূর্ণতা পায়নি; তাই এই নতুন সংবাদপত্রগুলোর জন্য পাঠক খুঁজে পাওয়া অপরিহার্য ছিল।

আর সবচেয়ে কাছের মাধ্যম ও সংক্ষিপ্ততম পথ হলো "নিষিদ্ধ" বিষয়ে এবং "নিষিদ্ধ" বস্তু নিয়ে লেখা। এই পরিকল্পনাই "নতুন সংবাদপত্রগুলো" অনুসরণ করেছিল। তারা ইসলামি ধর্মীয় বিষয়াবলিতে "নিষিদ্ধ" বিষয় নিয়ে লেখাকে একটি অফুরন্ত উৎস এবং এমন এক উত্তাল সমুদ্র হিসেবে গ্রহণ করেছিল যার ঢেউ কখনো থামে না এবং যার পানি কখনো শুকায় না; ফলে তারা পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং ইসলামের ব্যাপারে তাদের লেখাগুলোর প্রতি পাঠকদের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

এখানেই ইসলামের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তিরা তাদের সামনে সুযোগ পেয়ে যায়। তারা ইসলামকে হেয় করতে, এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে এবং পক্ষপাতদুষ্ট আক্রমণ করতে কোনো ত্রুটি করেনি। এর পাশাপাশি তারা পূর্বে উল্লিখিত সমস্ত প্রলোভন কাজে লাগিয়েছিল এবং তাদের প্রচেষ্টাকে দুটি মূল অক্ষের ওপর নিবদ্ধ করেছিল:

* ইসলামি ফিকহ (الفقه الإسلامي) বাতিলের আহ্বান; কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি একটি অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ ফিকহ (فقه), যা সময় অতিক্রম করে গেছে অথবা এটি মৃতদের সৃষ্টি। সুতরাং কবরের বাসিন্দারা কীভাবে প্রাসাদের অধিবাসীদের ওপর হুকুম চালাবে? এটি এমন এক ফিকহ (فقه) যা তৎকালীন শাসকদের সেবার জন্য লেখা হয়েছিল। আপনি চাইলে ডক্টর জাকি নাজিব মাহমুদের 'ছাকাফাতুনা ফি মুওয়াজাহাতিল আসর' এবং 'তাজদিদুল ফিকরিল আরাবি' বই দুটি দেখতে পারেন।

* সুন্নাহ (السنة) বাতিলের আহ্বান, হয় একারণে যে—তাদের দাবি অনুযায়ী—তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে জাল (مزورة)?!

অথবা একারণে যে—তা জাল (مزورة) না হলেও—দ্বীনের কোনো অংশ নয়। সুন্নাহর (السنة) প্রতি ঈমান আনা এবং এর থেকে ফয়সালা গ্রহণ করা হলো ইসলামে উদ্ভূত সবচেয়ে বড় বিদআত (بدعة), যার প্রধান দায়ভার বহন করেছেন "শাফেঈ" এবং পরবর্তীতে ফকিহগণ (الفقهاء) তাঁর অনুসরণ করেছেন?! আর সুন্নাহ (السنة) অনুযায়ী আমল করাই নাকি মুসলিমদের অনগ্রসরতার কারণ?!

বর্তমানে লক্ষণীয় যে, ফিকহ (الفقه)-এর বিরুদ্ধে অভিযান হ্রাস পেতে শুরু করেছে, কিন্তু সুন্নাহর (السنة) বিরুদ্ধে অভিযান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এমন কিছু ব্যক্তিকে সুন্নাহ (السنة) নিয়ে লিখতে দেখছি যাদের সম্পর্কে আগে জানা ছিল না এবং যাদেরকে লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; আর এই নতুন সংবাদপত্রগুলো না থাকলে এই ভণ্ড দাবিদারদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেত না যারা...
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ينشر لهم حرفاً واحداً، ولكن " لكن ساقطة، في الحي لا قطة" كما جاء في المثل الحكيم.

* * * * *

ونسأل: لماذا اشتداد الهجوم على السنة؟ وكأن بين هؤلاء وبينها ثاراً دامياً؟

والإجابة في إيجاز:

قال الأستاذ عباس محمود العقاد في كتابه المعروف: "الإسلام في القرن العشرين" ما خلاصته:

أن أوربا في وضع الخطط لمحاربة الإسلام كلفت خبراءها ومفكريها أن يدرسوا الإسلام، ويحددوا القوة فيه، ليحاربوه وهو به عالمون.

وكانت تلك العناصر - كما أسفر البحث - هي:

القرآن الينة، شخصية النبي، وبدهي أنهم كانوا يحدودن عناصر القوة الرئيسية في الإسلام، وإِلأَ فإن في الإسلام عناصر قوة أخرى، لكنها فروع بالنسبة إلى هذه الأصول الثلاثة.

هذه خلاصة ما نقله المرحوم العقاد عنهم، ذكرناها لأن لها ارتباطاً وثيقاً بما نحن فيه الآن. حيث توضح هذه الخلاصة الإجابة على هذا السؤال الذي طرحناه:

لماذا اشتداد الهجوم على السنة؟

إن المراد بالسنة في تقرير الخبراء الأروبيين المشار إليه هو الجانب النظري من أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، أو أحاديثه المتعمدة عند المسلمين الآن.

أما شخصية النبي فالمراد بها - عندهم - الجانب السوكي العملي الأخلاقي، باعتباره "القدوة الحسنة العليا" لمن آمن وعمل صالحاً.

ثم إن أحاديث الني - السنة - هي الحافظة لسلوكياته وعناصر شخصيته "الفريدة".
তাদের একটি অক্ষরও প্রকাশিত হয় না, তবে প্রাজ্ঞ প্রবাদের ন্যায় "কিন্তু হচ্ছে বিচ্যুত, পাড়ায় কোনো বিড়াল নেই"।

* * * * *

এবং আমরা প্রশ্ন করি: সুন্নাহর ওপর এই আক্রমণের তীব্রতা কেন? যেন তাদের এবং সুন্নাহর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের লড়াই চলছে?

সংক্ষেপে এর উত্তর হলো:

উস্তাদ আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ তাঁর সুপরিচিত গ্রন্থ: "বিংশ শতাব্দীতে ইসলাম"-এ যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:

ইউরোপ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তাদের বিশেষজ্ঞ ও চিন্তাবিদদের ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন করার এবং এর শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিল, যাতে তারা পূর্ণ জ্ঞানসহ এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

সেই উপাদানগুলো ছিল—যেমনটি গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে—কুরআন, সুন্নাহ এবং রাসূলের ব্যক্তিত্ব। এটি স্পষ্ট যে তারা ইসলামের প্রধান শক্তির উৎসগুলো নির্ধারণ করছিল; অন্যথায় ইসলামে আরও শক্তির উৎস রয়েছে, তবে সেগুলো এই তিনটি মূলনীতি (الأصول) এর তুলনায় শাখা স্বরূপ।

এটি ছিল মরহুম আল-আক্কাদ তাদের থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার সারসংক্ষেপ। আমরা এটি উল্লেখ করেছি কারণ আমরা বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তার সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই সারসংক্ষেপটি আমাদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দেয়:

সুন্নাহর ওপর আক্রমণের এই তীব্রতা কেন?

উল্লিখিত ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে সুন্নাহ বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর তাত্ত্বিক দিক বা বর্তমানে মুসলমানদের নিকট নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) হিসেবে বিবেচিত হাদিসগুলোকে বোঝানো হয়েছে।

আর রাসূলের ব্যক্তিত্ব বলতে তাদের নিকট উদ্দেশ্য হলো—ব্যবহারিক ও চারিত্রিক দিক, যিনি ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের জন্য "সর্বোত্তম আদর্শ" হিসেবে বিবেচিত।

অধিকন্তু, নবীর হাদিস—অর্থাৎ সুন্নাহ—হলো তাঁর আচরণ এবং তাঁর "অনন্য" ব্যক্তিত্বের উপাদানসমূহের সংরক্ষণকারী।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
في هذا الإطار - نفهم بوضوح اشتداد الهجوم على السنة النبوية، لأنها تمثل - عندهم - عنصرين من عناصر القوة في الإسلام، وهما:

* الثروة الحديثية النبوية.

* شخصية النبي العملية.

وهذه أولويات وضعها خصوم الإسلام للقضاء عليه، ها دنوا القرآن ليأسهم من النيل منه فهم لا يستطيعون أن يدعو أنه "مزَّور" ويكون لادعائهم هذا رواج.

ولكنهم استسهلوا الهجوم على السنة، واضعين في حسابهم أنهم إذا اسقطوا السنة من حياة المسلمين فقد أسقطوا معها القرآن دون أن يمسوه بقول؛ لأن المسلمين لا يستطيعون أن يقيموا القرآن إلا بإقامة السنة، فهي البيان الذي لا بد منه لما جاء في القرآن.

ومع مهادنتهم للقرآن، فإنهم وضعوا بإزائه مقولة هي في الواقع آفه قاتلة:

هذه المقولة هي "القرآن ثابت الأصل متغير المحتوى" يعنون: إبقاء النص القرآني كما هو بلا تخريف في ألفاظه ولا تراكيبه وإنما التحريف المستساغ هو عدم ثبات معناه، فيعترى المعنى بمرور الأزمان، واختلاف المكان، وتباين الأحوال ما يعتريه وعلى هذا فليس ببعيد أن يصبح مفهوم "الربا" الآن هو هو مفهوم "الزكاة" في زمان آت، أو مكان آخر.

يعني أن عناصر القوة الثلاثة قد واجهوها بالحروب الباردة وعن طريق عملائهم منا {وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ} [التوبة: 47] .

ومرت أوقات كان الغرب فيها يزاول هذه المهمات بنفسه. ثم اهتدوا إلى "البديل" وهم العملاء من الداخل. الذين يحملون معاول الهدم الآن، وهي أقلامهم الملعونة، ضد الإسلام، ونبي الإسلام وسنة نبي الإسلام صلى الله عليه وسلم.

وقد تابعت ما كتبوه عن السنة خلالهم الأشهر الماضية من هذا العام
এই প্রেক্ষাপটে—আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি সুন্নাহর ওপর আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ, কেননা তাদের নিকট এটি ইসলামের শক্তির দু’টি উপাদানের প্রতিনিধিত্ব করে, সেগুলো হলো:

* নববী হাদিসের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার।

* মহানবীর ব্যবহারিক জীবন ও আদর্শ।

আর এগুলোই ইসলামের শত্রুদের নির্ধারিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় যাতে তারা ইসলামকে নির্মূল করতে পারে। তারা কুরআনের সাথে একপ্রকার আপস করেছে, কারণ এর কোনো ক্ষতি করার ব্যাপারে তারা হতাশ; তাই তারা এটি দাবি করতে অক্ষম যে কুরআন "জাল (مزور)" এবং তাদের এই দাবির কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।

কিন্তু তারা সুন্নাহর ওপর আক্রমণ করাকে সহজ মনে করেছে। তারা এটি মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছে যে, যদি তারা মুসলমানদের জীবন থেকে সুন্নাহকে বাদ দিয়ে দিতে পারে, তবে তারা সরাসরি কোনো বাক্য ব্যয় না করেই এর সাথে কুরআনকেও বিলুপ্ত করতে সক্ষম হবে; কারণ মুসলমানরা সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণ ছাড়া কুরআনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনে যা এসেছে তার অপরিহার্য ব্যাখ্যা (بيان)।

কুরআনের সাথে তাদের এই আপাত সন্ধি সত্ত্বেও, তারা এর বিপরীতে এমন একটি বক্তব্য দাঁড় করিয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে একটি মারাত্মক ব্যাধি:

এই বক্তব্যটি হলো "কুরআনের মূল উৎস অপরিবর্তনীয় কিন্তু এর বিষয়বস্তু পরিবর্তনশীল"। তাদের উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের মূল পাঠ বা টেক্সট কোনো শব্দগত বা বাক্যগত বিকৃতি (تحريف) ছাড়াই বর্তমান রাখা হবে, তবে তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য বিকৃতি (تحريف) হলো এর অর্থের স্থায়িত্ব বজায় না রাখা। ফলে সময়ের পরিক্রমা, স্থানের ভিন্নতা এবং পরিস্থিতির পার্থক্যের কারণে এর অর্থে পরিবর্তন ঘটবে। এই যুক্তিতে এটি অসম্ভব নয় যে, বর্তমানের "সুদ"-এর ধারণা ভবিষ্যতে কোনো সময় বা অন্য কোনো স্থানে "যাকাত"-এর ধারণায় রূপান্তরিত হবে।

অর্থাৎ, শক্তির এই তিনটি উপাদানকে তারা শীতল যুদ্ধের মাধ্যমে এবং আমাদের মধ্য থেকেই তাদের অনুচরদের দ্বারা মোকাবেলা করছে: {আর তোমাদের মধ্যে তাদের কথা শোনার লোক রয়েছে} [তাওবাহ: ৪৭]।

এমন সময় পার হয়েছে যখন পশ্চিমারা এই কাজগুলো নিজেরাই করত। তারপর তারা "বিকল্প" খুঁজে পায় এবং তারা হলো অভ্যন্তরীণ অনুচর। যারা এখন ধ্বংসের কুঠার হিসেবে তাদের অভিশপ্ত কলমগুলো ইসলাম, ইসলামের নবী এবং মহানবীর সুন্নাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

আমি এই বছরের গত কয়েক মাসে সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের লিখিত বক্তব্যগুলো অনুসরণ করেছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(1999م) فوجدتهم يرددون ثلاثا وثلاثين شبهة كلها موجهة للنيل من السنة الشريفة المطهرة، على صاحبها أفضل صلاة وأزكى تسليم.

كما تابعت الردود السديدة التي كتبها المخلصون من أهل العلم على هؤلاء الزنادقة الموتورين من الإسلام. لكني لحظت على هذه الردود أنها لم تستوعب كل ما أثاره الخصوم من شبهات، ولم تستقص وجوه الرد عليهم، وأنها جاءت مفرقة غير مجموعة.

وهذا ما حملنا على كتابة هذه "المواجهة" التي رصدت كل ما أثاروه من شبهات وأغاليط، فبلغت ثلاثاً وثلاثين شبهة ذكرناها واحدة ولحدة، وعرضناها بكل أمانة وصدق، وبينا الهدف منها عندهم.

ثم أتبعنا كل شبهة بالرد المناسب عليها، وكشفنا عما فيها من جهل وجهالة، وزيف وباطل، وذلك في أسلوب علمي موضوعي نرجو أن يكون مقنعاً ممتعاً بإذن الله.

وأغفلنا أسماء هؤلاء الحاقدين ولم نقم لهم وزناً، لأننا نعلم أنهم يحبون أن تذكر أسماؤهم في مثل هذه الأعمال، لينالوا بها شهرة وبطولة محمومة.

ولأن من ورط نفسه منهم في إنكار السنى يكاد يكون معروفاً عند القراء وقد اثبتنا في عنوان الدراسة الإشارة إلى ثلاثين شبهة، وهي في الواقع ثلاث وثلاثون، لمجرد الإختصار، كما هو الشأن في العنوانات والتراجم.

والشبهات التي تصدينا لها في هذه الدراسة - وإن كان هدفها العام واحد هو محو السنة النبوية - تنقسم ثلاثة أقسام من حيث الأهداف المرادة من كل شبهة:

القسم الأول: شبهات يراد بها مجرد التشكيك في صحة الأحاديث النبوية، وفي نسبة صدورها من النبي صلى الله عليه وسلم، مثل شبهتى: ندرة الصحيح في محفوظ الإمام البخاري رضي الله عنه، وندرة الأحتكام إلى السنة عند الإمام أبي حنيفة"؟!
(১৯৯৯ সাল) আমি তাদের তেত্রিশটি সংশয় পুনরাবৃত্তি করতে দেখলাম, যার সবগুলোই পবিত্র ও মার্জিত সুন্নাহর মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত; যাঁর (রাসূল) ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক।

অনুরূপভাবে আমি ইসলামের প্রতি ক্ষুব্ধ এই ধর্মত্যাগী (زنديق) ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠাবান আলেমদের লেখা সঠিক উত্তরগুলোও অনুসরণ করেছি। কিন্তু আমি এই উত্তরগুলোতে লক্ষ্য করেছি যে, এগুলো বিরোধীদের উত্থাপিত সকল সংশয়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং তাদের খণ্ডন করার সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অন্বেষণ করেনি; বরং সেগুলো ছিল অগোছালো ও বিচ্ছিন্ন।

আর এটিই আমাদের এই "মোকাবেলা" নামক গ্রন্থটি লিখতে উৎসাহিত করেছে, যেখানে তাদের উত্থাপিত সকল সংশয় ও বিভ্রান্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সংখ্যা তেত্রিশটি হয়েছে যা আমরা একে একে উল্লেখ করেছি, অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও সততার সাথে উপস্থাপন করেছি এবং তাদের পক্ষ থেকে এগুলোর পেছনে কী লক্ষ্য ছিল তাও স্পষ্ট করেছি।

অতঃপর আমরা প্রতিটি সংশয়ের পর তার উপযুক্ত উত্তর প্রদান করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অজ্ঞতা, মূর্খতা, অসত্য ও ভ্রান্তি উন্মোচন করেছি। এটি করা হয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ শৈলীতে, যা আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তোষজনক ও উপভোগ্য হবে বলে আমরা আশা করি।

আমরা এই বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের নাম এড়িয়ে গিয়েছি এবং তাদের কোনো গুরুত্ব দেইনি; কারণ আমরা জানি যে তারা এই ধরনের কাজগুলোতে তাদের নাম উল্লেখ করা পছন্দ করে, যাতে তারা এর মাধ্যমে এক প্রকার উন্মাদনাপূর্ণ খ্যাতি ও বীরত্ব অর্জন করতে পারে।

তাছাড়া তাদের মধ্যে যারা সুন্নাহ অস্বীকার করার কাজে লিপ্ত হয়েছে তারা পাঠকদের কাছে প্রায় পরিচিত। আমরা এই গবেষণার শিরোনামে ত্রিশটি সংশয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যদিও বাস্তবে তা তেত্রিশটি; কেবল সংক্ষেপ করার স্বার্থে এটি করা হয়েছে, যেমনটি শিরোনাম এবং জীবনীগ্রন্থ (تراجم) এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আর এই গবেষণায় আমরা যে সংশয়গুলোর মোকাবিলা করেছি—যদিও সেগুলোর সাধারণ উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো নববী সুন্নাহকে বিলুপ্ত করা—সেগুলো প্রতিটি সংশয়ের উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম অংশ: এমন সব সংশয় যার উদ্দেশ্য কেবল নববী হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সেগুলো বর্ণিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা। যেমন দুটি সংশয়: ইমাম বুখারী (রা.)-এর সংরক্ষিত ভাণ্ডারে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের স্বল্পতা, এবং ইমাম আবু হানিফার নিকট সুন্নাহর ভিত্তিতে ফয়সালা করার দৃষ্টান্তের বিরলতা"?!
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
القسم الثاني: وهو شبهات يراد بها محو السنة من الأساس مثل شبهتى: نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن كتابة السنة وإدعاء أن القرآن الحكيم نهى عن الإيمان بالسنة والعمل بها؟!.

أما القسم الثالث: فهو شبهات أرادوا منها عزل السنة عن حياة المسلمين حتى وإن صحت كل الأحاديث المروية فيها، وذلك مثل شبهتى:

القرآن وحده فيه كفاية للأمة عن كل ما سواه؟!.

السنة ليست مصدراً تشريعياً، لا مع القرآن، ولا منفردة، وسيجد القراء الكرام ردوداً مفحمة على هؤلاء الزنادقة الموتورين من الإسلام، حيث لم تصح لهم شبهة واحدة مما أثاروه، وكان الخزى - دائماً - حليفهم.

وهذا هو شأن كل أدعياء الباطل في كل زمان ومكان ونذكر القراء الكرام أننا لم نراع - في الغالب - ترتيباً معينا في ذكر هذه الشبهات وتفنيدها ونقضها، لأن المقصود من هذه الدراسة هو إبطال مدعياتهم، ورد كيدهم في نحورهم، وقدكان والحمد لله ولي الذين آمنوا.

والأملفي الله كبير، أن يكون ما في هذا الكتاب "بيان للناس" ينصر الحق، ويزهق الباطل.

وقبل أن نودع هذا المدخل أحب أن أدعو الله للأستاذين الفاضلين:

وهبة حسن وهبة صاحب ومدير الدار الناشرة لهذه الدراسة على سرعة قيامه بالطبع والنشر انتصاراً لسنة نبي الرحمة على أولياء الشيطان.

ومحمد محمود هاشم، رجل البر والتقوى، لما قدمه من عون يعلمه الله في سبيل نشر هذه الدراسة، فاللهم ضاعف ثوابهما وأعف عنا وارحمنا، أنت مولانا فانصرنا على أعداء الحق والدين.

القاهرة في 10 صفر 1420 هـ

الموافق 5 يوليو 1999م

المؤلف

عفا الله عنه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি এমন কিছু সংশয় (شبهات) সম্পর্কিত যার উদ্দেশ্য হলো ভিত্তি থেকেই সুন্নাহকে মুছে ফেলা। যেমন এই দুটি সংশয় (شبهات): সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা এবং এই দাবি করা যে, মহাগ্রন্থ কুরআন সুন্নাহর প্রতি ঈমান আনা ও তদনুযায়ী আমল করতে নিষেধ করেছে?!.

আর তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি এমন সব সংশয় (شبهات) নিয়ে গঠিত যার মাধ্যমে তারা সুন্নাহকে মুসলিমদের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছে, এমনকি এতে বর্ণিত সকল হাদিস সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও। যেমন এই দুটি সংশয় (شبهات):

উম্মাহর জন্য অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল কুরআনই কি যথেষ্ট?!.

সুন্নাহ কোনো বিধানিক উৎস (مصدر تشريعي) নয়—কুরআনের সাথেও নয়, স্বতন্ত্রভাবেও নয়। সম্মানিত পাঠকরা ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী এই জিন্দিকদের (زنادقة) বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব খুঁজে পাবেন, কারণ তাদের উত্থাপিত একটি সংশয়ও (شبهة) সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি এবং অপমান সর্বদা তাদের সঙ্গী হয়েছে।

আর সব যুগে ও সব স্থানেই বাতিলের প্রবক্তাদের অবস্থা এমনই হয়। আমরা সম্মানিত পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আমরা সাধারণত এই সংশয়গুলো (شبهات) উল্লেখ করা এবং সেগুলোর অসারতা প্রমাণ ও খণ্ডনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রক্ষা করিনি। কারণ এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো তাদের দাবিগুলোকে বাতিল করা এবং তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া। আর প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি মুমিনদের অভিভাবক।

আল্লাহর নিকট প্রবল আশা যে, "বায়ানুন লিন্নাস" নামক এই কিতাবে যা রয়েছে তা সত্যকে বিজয়ী করবে এবং মিথ্যাকে দূরীভূত করবে।

এই ভূমিকা শেষ করার আগে আমি দুজন সম্মানিত উস্তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে চাই:

ওয়াহবা হাসান ওয়াহবা, যিনি এই গবেষণাপত্রটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও পরিচালক, শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে রহমতের নবীর সুন্নাহর বিজয়ের লক্ষ্যে দ্রুত মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করার জন্য।

মুহাম্মদ মাহমুদ হাশেম, যিনি একজন সৎ ও মুত্তাকি (تقوى) ব্যক্তি, এই গবেষণাটি প্রকাশের পথে তিনি যে সহায়তা করেছেন তা আল্লাহ জানেন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি রহম করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং সত্য ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।

কায়রো, ১০ সফর ১৪২০ হিজরি

মোতাবেক ৫ জুলাই ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

লেখক

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন (عفا الله عنه)
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الشبهة الأولى النهي النبوي عن كتابة الحديث

من أبرز الشبهات التي يستند إليها منكرو السنة النبوية، الحديث الذي ورد في النهي عن كتابة الحديث النبوي، وجمعه وتدوينه في صحف خاصة به.

فقد روى مسلم في صحيحه، عن أبي سعيد الخدري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تكتبوا عني شيئاً إلا القرآن، ومن كتب عني شيئاً فليمحه".

ومنكرو السنة النبوية قديماً وحديثاً يرددون ها الحديث كثيراً، وبخاصة في هذه الأيام التي نشطوا فيها نشاطاً واسعاً، لم يكن معهوداً من قبل فهم يقولون إن السنة لو كانت من أصول الدين لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بكتابتها وجمعها في صحف كما كان يصنع مع القرآن حين ينزل، حيث كان يأمر كتبه الوحي بكتابة ما ينزل عليه أولاً فأولاً، أما وأنه قد نهى عن كتابتها، فهذا دليل على أنها ليست من الدين في شيء. ومن المحال أن تكون السنة من الدين وينهى النبي عن كتابتها، بل ويأمر بمحو ما كتب منها.

تفنيد هذه الشبهة ونقضها:

هذه الشبهة التي يستند إليها خصوم السنة أوهى من بيت العنكبوت، وهم يعلمون هذا، ولكن العناد هو المسيطر عليهم، لأن هذا الحديث الذي تمسكوا به لم يكن هو الموقف الوحيد في مسألة كتابة الحديث النبوي وروايته وجمعه وتدوينه. فقد وردت أحاديث أخرى أذن فيها النبي صلى الله عليه وسلم برواية الأحاديث عنه، وتدوينها وكتابتها.

أحاديث الإذن:

روى أبو داود والحاكم وغيرهما عن عبد الله بن عمرو بن العاص، قال:
প্রথম সংশয়: হাদিস লিখন সম্পর্কে নববী নিষেধাজ্ঞা

সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা যেসব প্রধান সংশয়ের ওপর নির্ভর করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সেই হাদিসটি যা হাদিস লিখে রাখা এবং তা বিশেষ পাণ্ডুলিপিতে সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين) করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখো না। আর যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।"

প্রাচীন ও বর্তমানকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা এই হাদিসটি প্রচুর পরিমাণে প্রচার করে থাকে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তাদের তৎপরতা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে যা ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। তারা দাবি করে, সুন্নাহ যদি দ্বীনের মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় যেভাবে তা লিখে রাখা ও পাণ্ডুলিপিতে সংগ্রহ করার নির্দেশ দিতেন, এক্ষেত্রেও তাই করতেন। যেখানে তিনি ওহী লেখকগণকে যা অবতীর্ণ হতো তা সাথে সাথে লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন। যেহেতু তিনি হাদিস লিখতে নিষেধ করেছেন, এটিই প্রমাণ করে যে সুন্নাহ দ্বীনের কোনো অংশ নয়। সুন্নাহ দ্বীনের অংশ হবে অথচ নবী তা লিখতে নিষেধ করবেন, বরং যা লেখা হয়েছে তাও মুছে ফেলার আদেশ দেবেন—এটি অসম্ভব।

এই সংশয়ের খণ্ডন ও অপনোদন:

সুন্নাহর বিরোধীরা যে সংশয়ের ওপর নির্ভর করে তা মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল। তারা নিজেরাও এটি জানে, কিন্তু একগুঁয়েমিই তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কারণ, তারা যে হাদিসটি আঁকড়ে ধরেছে, হাদিস লিখন, এর বর্ণনা (رواية), সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين) সংক্রান্ত বিষয়ে সেটিই একমাত্র অবস্থান ছিল না। বরং এমন আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية), সংকলন (تدوين) এবং তা লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছেন।

অনুমতি প্রদানের হাদিসসমূহ:

আবু দাউদ, হাকীম ও অন্যান্যরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
" قلت يا رسول الله: إني أسمع منك الشيء فأكتبه. قال: نعم. قلت: في الغضب والرضا؟ قال: نعم فإني لا أقول فيهما إلا حقاً".

وروى الترمذي عن أبي هريرة، قال: كان رجل من الأنصار يجلس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمع منه الحديث فيعجبه ولا يحفظه - يعني كان سريع النسيان - فقال له النبي: استعن عليه بيمينك، وأومأ بيده إلى الخط"

هذا الرجل شكا إلى النبي ضعف ذكراته عن حفز الأحاديث. فأرشده النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن يكتب ما يسمعه من أحاديثه ليسهل عليه الرجوع إليها إذا نسى شيئاً منها.

وروى البخاري عن أبي هريرة أنه قال:

"لم يكن أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أكثر حديثاً مني، إلا ما كان من عبد الله بن عمرو بن العاص. فإنه كان يكتب، وأنا لا أكتب" ففي كلام أبي هريرة هنا توكيد لما رواه أبو داود والحاكم من اشتغال عبد الله بن عمرو بكتابة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإقرار النبي له على الكتابة.

وروى الشيخان - البخاري ومسلم - أن رجلاً من أهل اليمن، اسمه أبو شاه سمع خطبه النبي بمكى عام الفتح، وكان أمياً لا يقرأ ولا يكتب، فطلب من النبي أن يكتب له شيئاً مما قال. فقال صلى الله عليه وسلم لأصحابه "اكتبوا لأبي شاه".

وروى البخاري في صحيحه أن علي بن أبي طالب رضي الله عنه سُئل بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم: هل عندكم من رسول الله شيء غير القرآن؟ قال: لا والذي فلق الحبة، وبرأ النسمة، إلا أن يعطى الله عبداً فهما في كتابه وما في هذه الصحيفة، قلت: وما في الصحيفة؟ قال: العقل وفكاك الأسير، وأن لا يقتل مسلم بكافر".

وروى ابن عبد البر في كتابه المعروف "جامع بيان العلم وفضله" سبباً
আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে কোনো কিছু শুনি এবং তা লিখে রাখি।’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ (লেখো)।’ আমি বললাম, ‘ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কি?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, কারণ আমি এই উভয় অবস্থায় সত্য বৈ কিছুই বলি না।’

ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের একজন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনতেন। হাদিস তাঁর নিকট অত্যন্ত চমৎকার লাগত কিন্তু তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারতেন না—অর্থাৎ তিনি দ্রুত বিস্মৃত হয়ে যেতেন। তখন নবী (সা.) তাঁকে বললেন: ‘তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও’ এবং তিনি হাত দিয়ে রেখা বা লিখনের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

এই ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট হাদিস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতির দুর্বলতার (ضعف) অভিযোগ করেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁকে যা শুনছেন তা লিখে রাখার দিকনির্দেশনা প্রদান করলেন, যাতে তিনি কোনো কিছু ভুলে গেলে সহজেই সেটির সাহায্য নিতে পারেন।

ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:

‘আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস ব্যতীত আর কারো কাছে আমার চেয়ে বেশি হাদিস ছিল না। কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।’ আবু হুরায়রা (রা.)-এর এই উক্তি আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণিত সেই বর্ণনারই সত্যায়ন করে যেখানে আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.)-এর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর হাদিস লিখনে লিপ্ত থাকার এবং নবী (সা.) কর্তৃক তাঁর সেই লিখনের অনুমোদনের (إقرار) কথা উল্লেখ রয়েছে।

শাইখাইন—বুখারি ও মুসলিম—বর্ণনা করেছেন যে, ইয়েমেনের এক ব্যক্তি, যার নাম ছিল আবু শাহ, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর খুতবা শুনেছিলেন। তিনি নিরক্ষর ছিলেন, পড়তে বা লিখতে জানতেন না। তিনি নবী (সা.)-এর নিকট আবেদন করলেন যেন তাঁর জন্য তাঁর (রাসূলের) বক্তব্যের কিছু অংশ লিখে দেওয়া হয়। তখন নবী (সা.) তাঁর সাহাবীদের বললেন, ‘আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও।’

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘আপনাদের নিকট কি আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু আছে?’ তিনি বললেন: ‘না, সেই সত্তার কসম যিনি শস্যবীজ বিদীর্ণ করেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেন! তবে আল্লাহ যদি কোনো বান্দাকে তাঁর কিতাব সম্পর্কে প্রজ্ঞা দান করেন (সেটি ভিন্ন কথা), আর যা এই সহিফায় (صحيفة) আছে।’ আমি বললাম, ‘সহিফায় কী আছে?’ তিনি বললেন: ‘আকল (রক্তপণের বিধান), বন্দিমুক্তি এবং কোনো মুসলিমকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা না করার বিধান।’

ইবনে আব্দুল বার তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব ‘জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি’-তে একটি কারণ বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২০)
لسؤال عبد الله بن عمرو بن العاص للنبي صلى الله عليه وسلم، الذي تقدم "إني أسمع منك شيئاً فأكتبه".

قال ابن عبد البر ما خلاصته:

إن الصحابة لما رأو عبد الله يكثر من كتابة الحديث عن رسول الله قالوا له:

"إنك تكتب عن رسول الله كل ما يقول، ورسول الله قد يغضب، فيقول ما لا يتخذ شرعاً عاماً فرجع عبد الله بن عمرو إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له:

"اكتب عني، فو الذي نفسي بيده ما خرج من فمي إلا الحق".

ومن المعلوم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرسل إلى رؤساء الشعوب والعشائر كتبا يدعوهم فيها إلى الإسلام، ويختمها بخاتمه، ما تزال هذه الكتب موجودة في وثائق خاصة بها.

وهي بلا نزاع تمثل جانباً عظيماً من سنته القولية الطاهرة.

كما ثبت أنه صلى الله عليه وسلم كان يكتب لولاته وعما له كتبا يبين فيها أحكام الصدقات (الزكاة) والديات والفرائض (المواريث) وبعض السنن، هذه الوقائع والآثار تدل دلالة قاطعة على أن النبي كان قد أذن في كتابة أحاديثه للعمل بها في حياة المسلمين. وليزود عما له وولاته بما يعينهم على أداء مهماتهم في إدارة الأمور على هدى من كتاب الله وسنة رسوله الكريم.

التوفيق بين النهي والإذن:

علماء الأمة رضي الله عنهم، لهم موقف سديد من حديث النهي عن كتابة الحديث النبوي، الذي رواه أبو سعيد الخدري، وأحاديث الإذن بكتابته وروايته، التي رواها عبد الله بن عمر بن العاص وأبو هريرة. وغيرهما.

وخلاصة موقفهم أن النهي كان أولاً، وأن السبب فيه كان خشية اختلاط الحديث بالقرآن، وبخاصة لأن الأمية كانت منتشرة، ولكي تتوفر عناية المسلمين بالقرآن أولاً، لأن الأصل، ولما حصل التمييز الكامل بين أسلوب القرآن وأسلوب
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) কর্তৃক নবী (সা.)-কে করা সেই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমি আপনার নিকট থেকে কিছু শুনি এবং তা লিখে রাখি।"

ইবনুল বার (রহ.) এর সারসংক্ষেপ এভাবে বর্ণনা করেছেন:

সাহাবায়ে কিরাম যখন দেখলেন যে আব্দুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অধিক পরিমাণে লিপিবদ্ধ করছেন, তখন তাঁরা তাঁকে বললেন:

"আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.) যা বলেন তার সবকিছুই লিখে রাখছেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনও রাগান্বিত হন, তখন তিনি এমন কিছু বলেন যা সাধারণ শরীয়ত হিসেবে গণ্য হয় না।" এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফিরে আসলেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তখন তিনি (সা.) তাঁকে বললেন:

"তুমি আমার পক্ষ থেকে লিখে রাখো। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমার মুখ থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না।"

এটি সর্বজনবিদিত যে, নবী (সা.) বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের প্রধানদের নিকট পত্র পাঠাতেন যাতে তিনি তাঁদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন এবং তাতে নিজের মোহর অঙ্কিত করতেন। এই পত্রগুলো এখনও বিশেষ দলিলাদি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

নিঃসন্দেহে এগুলো তাঁর পবিত্র মৌখিক সুন্নাহর (سنة قولية) এক বিশাল অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

একইভাবে এটি প্রমাণিত যে, তিনি (সা.) তাঁর গভর্নর ও প্রতিনিধিদের নিকট পত্র লিখতেন, যাতে তিনি সদকা (যাকাত), রক্তপণ (ديات), এবং উত্তরাধিকার বিধান (فرائض) ও কিছু সুন্নাহর বিধান স্পষ্ট করতেন। এই ঘটনা এবং বর্ণনাগুলো (آثار) অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, নবী (সা.) তাঁর হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করার অনুমতি (إذن) দিয়েছিলেন যাতে মুসলিমদের জীবনে সে অনুযায়ী আমল করা যায়। এছাড়া তাঁর প্রতিনিধি ও গভর্নরদের এমন রসদ সরবরাহ করাও এর উদ্দেশ্য ছিল যা তাঁদেরকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর নির্দেশনায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।

নিষেধ (نهي) ও অনুমতির (إذن) মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান:

উম্মতের আলেমগণ (রা.) নবী (সা.)-এর হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার (نهي) হাদিস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ও আবু হুরায়রা (রা.) প্রমুখ বর্ণিত অনুমতি (إذن) ও বর্ণনার (رواية) হাদিসসমূহের ব্যাপারে এক সঠিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

তাঁদের অবস্থানের সারসংক্ষেপ হলো, নিষেধাজ্ঞা (نهي) ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের। এর কারণ ছিল কুরআনের সাথে হাদিস মিশে যাওয়ার আশঙ্কা, বিশেষ করে যেহেতু তখন নিরক্ষরতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল। আর যাতে মুসলিমদের মনোযোগ প্রথমে কুরআনের প্রতি নিবদ্ধ থাকে, কারণ এটিই মূল উৎস। পরবর্তীতে যখন কুরআনের শৈলী ও অন্য শৈলীর মধ্যে পূর্ণ পার্থক্য সূচিত হলো...
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২১)
الحديث النبوي ارتفع الحظر، فأذن عليه السلام برواية أحاديثه وكتابتها على النحو الذي تقدم ذكره.

ونضيف إلى ما قاله علماؤنا رضي الله عنهم، أن القرآن يجب حفظه وتلاوته على الصورة التي أنزله عليها لفظاً ومعنى وتراكيب، فلا يجوز فيه إبدال حرف بحرف، ولا كلمة بكلمة، ولا الإخلال بنظم تراكيبه مهما كان الأمر، وأنه متعبد يتلاوته كما نزل.

أما الحديث النبوي فيجوز عند الضرورة روايته بالمعنى دون اللفظ نطقاً لا كتابه، كما يجوز للراوي إذا نسى لفظاً، أو اشتبه عليه الأمر، أن يذكر لفظاً آخر يدل على معنى اللفظ الذي نسيه مع التنيه على ذلك. لهذا كان من الضروري كتابة القرآن، والاكتفاء في رواية الحديث بالحفظ.

ويؤيد هذا ما روى عن الضحاك من قوله:

"لا تتخذوا للحديث كراريس ككراريس المصاحف" فأنت ترى علماؤنا أهل الحق يقرون بصحة حديث النهي الذي رواه أبو سعيد الخدري رضي الله عنه، كما يقرون بأحاديث اإذن دون تفرقة، وقد أزالوا التعارض الحاصل بن حديث النهي وأحاديث الإذن بما قد رأيت من توجيه:

النهي كان أولاً، والإذن كان ثانياً، ولهذا نظائر في السنة، فقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن زيارة القبور أولا، ثم عاد فأذن فيها ثانياً للعظة بما كما نهى عن ادخار لحوم الأضاحي أولاً، ثم عاد فأذن بادخارها ثانياً. وكل هذا حدث لحكمة تزيل من النفوس الريبة. وتبعث فيها برد اليقين.

موقف منكري السنة:

أما منكرو السنة فأمرهم عجب. وهم أمام هذه المسألة فريقان.

فريق منهم يذكر حديث النهي وحده، ولا يشير من قريب أو من بعيد إلى أحاديث الإذن؟! وكأنها - عندهم - لم تكن. وهم بهذا يبرهنون على أنهم طلاب باطل لا طلاب حق، وأنهم أبعد ما يكونون عن المنهج العلمي النزيه.
নবিজি (সা.)-এর হাদিসের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, ফলে তিনি (সা.) ইতিপূর্বে উল্লিখিত পন্থায় তাঁর হাদিসসমূহ বর্ণনা করা এবং তা লিপিবদ্ধ করার অনুমতি প্রদান করেন।

আমাদের ওলামায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে আমরা এটি যোগ করতে চাই যে, কুরআনকে হুবহু সেই আদলেই মুখস্থ ও তেলাওয়াত করা আবশ্যক যেভাবে তা শব্দ, অর্থ ও বিন্যাসের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই এর একটি অক্ষরের পরিবর্তে অন্য অক্ষর বা একটি শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ প্রতিস্থাপন করা কিংবা এর বাক্যবিন্যাসে কোনো বিচ্যুতি ঘটানো বৈধ নয়; বরং এটি অবতীর্ণ রূপেই তেলাওয়াতযোগ্য ইবাদত।

পক্ষান্তরে, হাদিসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শব্দগত বর্ণনার পরিবর্তে মৌখিকভাবে অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) করা জায়েজ, তবে তা লিখিত রূপের ক্ষেত্রে নয়। একইভাবে কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ) যদি কোনো শব্দ ভুলে যান অথবা তার নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে মূল শব্দের অর্থের দিকে নির্দেশ করে এমন ভিন্ন কোনো শব্দ উল্লেখ করা জায়েজ, তবে এক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে হবে। এ কারণেই কুরআন লিপিবদ্ধ করা জরুরি ছিল এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তা কেবল মুখস্থ রাখার ওপরই যথেষ্ট করা হয়েছিল।

দাহহাক থেকে বর্ণিত এই উক্তিটি একে সমর্থন করে:

"তোমরা হাদিসের জন্য কুরআনের পাণ্ডুলিপির মতো পাণ্ডুলিপি তৈরি করো না।" আপনি দেখছেন যে, আমাদের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম আবু সাঈদ খুদরি (রা.) কর্তৃক বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) যেমন স্বীকার করেন, তেমনি তারা কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়াই অনুমতির হাদিসসমূহকেও স্বীকার করেন। তারা নিষেধাজ্ঞার হাদিস এবং অনুমতির হাদিসসমূহের মধ্যে পরিলক্ষিত আপাত বৈপরীত্য (تعارض) আপনার দেখা নিম্নোক্ত ব্যাখ্যার (توجيه) মাধ্যমে নিরসন করেছেন:

নিষেধাজ্ঞা ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে এবং অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল পরবর্তী পর্যায়ে। সুন্নাহর মধ্যে এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন নবিজি (সা.) প্রথমে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর উপদেশ গ্রহণের জন্য পরবর্তীতে অনুমতি প্রদান করেন। তদ্রূপ তিনি প্রথমে কোরবানির গোশত জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলেন, পরবর্তীতে তা জমা রাখার অনুমতি প্রদান করেন। এই সবকিছুই এমন কোনো হিকমতের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে যা অন্তর থেকে সংশয় দূর করে এবং সেখানে দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) সঞ্চার করে।

সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের অবস্থান:

তবে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর। এই মাসআলার ক্ষেত্রে তারা দুই দলে বিভক্ত।

তাদের একটি দল কেবল নিষেধাজ্ঞার হাদিসটিই উল্লেখ করে এবং অনুমতির হাদিসসমূহের দিকে সামান্যতম ইঙ্গিতও করে না! তাদের কাছে যেন ঐসব হাদিসের কোনো অস্তিত্বই নেই। এর মাধ্যমে তারা এটিই প্রমাণ করে যে, তারা সত্যের অন্বেষী নয় বরং মিথ্যার অন্বেষী এবং তারা নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি (منهج علمي) থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২২)
أما الفريق الثاني، فيعترفون - وهم كارهون - بأحاديث الإذن. ثم يقفون منها موقفين:

الأول: هو الطعن فيها بعدم الصحة، ودعاة الطعن منهم قلة.

الثاني: هو القول بأن أحاديث اذن كانت أولاً. ثم جاء حديث النهي ثانياً فنسخ الإذن في كتابه الأحاديث، وصار النهي هو الموقف النهائي لرسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا من أفحش الأخطاء بلا نزاع.

فقد تقدمت الإشارة إلى حديث أبي شاه الذي أمر فيه النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه أن يكتبوا له خطبة رسول الله عام الفتح، أي العام التاسع الهجري.

كما تقدم خبر الصحيفة التي كتب فيها الإمام علي رضي الله عنه بعض أحاديث الأحكام. وهذا بالقطع كان بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، ولو كان حديث النهي عن كتابة الحديث هو الناسخ لأحاديث الإذن ما ساغ للإمام علي رضي الله عنه أن يحتفظ بتلك الصحيفة التي كان يسميها "الصادقة" لأن احتفاظه بها يكون حينئذ معصية لنهي رسول الله. وهذا لا يصح صدوره من أي صحابي غير علي.

فكيف يصح عنه وهو من هو طاعة لله ولرسوله؟!

وللقارئ أن يتبين حجم الضلال وشناعته الذي يغدو فيه منكرو السنة ويروحون؟

فقد تمسكوا بحديث واحد، وأعرضوا عن طائفة من الأحاديث والوقائع، وضربوا بمواقف علماء الحق عرض الحائط، لأن هدفهم هو تحقيق مطامع أعداء الإسلام في الإسلام، فركزوا على محو السنة من حياة المسلمين، والسنة نصف الإسلام فإذا تمكنوا محوها، أو التشكيك فيها تمكنوا في الوقت نفسه - لا قدر الله - من تحنيط القرآن وعزله عن حياة المسلمين. والله لهم بالمرصاد وهو لا يصلح عمل المجرمين.

* * *
আর দ্বিতীয় পক্ষটি হচ্ছে তারা যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনুমতি প্রদানের হাদিসসমূহ স্বীকার করে। এরপর তারা এ ব্যাপারে দুটি অবস্থান গ্রহণ করে:

প্রথমত: এগুলোর শুদ্ধতা (صحة) নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা একে চ্যালেঞ্জ করা। তবে তাদের মধ্যে চ্যালেঞ্জকারীদের সংখ্যা সামান্য।

দ্বিতীয়ত: এই মত পোষণ করা যে, অনুমতির হাদিসগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের ছিল। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার হাদিস আসে এবং হাদিস লেখার অনুমতিকে রহিত (نسخ) করে দেয়। ফলে নিষেধাজ্ঞাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চূড়ান্ত অবস্থানে পরিণত হয়। নিঃসন্দেহে এটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই একটি চরম জঘন্য ভুল।

ইতোপূর্বেই আবু শাহ-এর হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদেরকে মক্কা বিজয়ের বছর অর্থাৎ নবম হিজরি সনে তাঁর খুতবা লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একইভাবে সেই সহিফার সংবাদও পূর্বে গত হয়েছে যাতে ইমাম আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বিধান সংক্রান্ত (أحكام) কিছু হাদিস লিখেছিলেন। এটি নিশ্চিতভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পরের ঘটনা। যদি হাদিস লেখার নিষেধাজ্ঞার হাদিসটিই অনুমতির হাদিসসমূহের রহিতকারী (ناسخ) হতো, তবে ইমাম আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জন্য সেই সহিফাটি সংরক্ষণ করা সংগত হতো না, যেটিকে তিনি "আস-সাদিকাহ" বলতেন। কারণ তখন তা সংরক্ষণ করা রাসুলুল্লাহ-এর নিষেধাজ্ঞার অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হতো। আর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তো দূরের কথা, কোনো সাহাবির পক্ষ থেকেই এমনটি হওয়া সম্ভব নয়।

তবে তাঁর মতো ব্যক্তি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মূর্ত প্রতীক, তাঁর ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব হতে পারে?!

সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা যে পথভ্রষ্টতা ও জঘন্যতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, তার গভীরতা এখন পাঠকের কাছে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

তারা কেবল একটি হাদিসকে আঁকড়ে ধরেছে এবং একগুচ্ছ হাদিস ও বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে। তারা সত্যপন্থী উলামায়ে কেরামের অবস্থানকে ছুড়ে ফেলেছে। কারণ তাদের লক্ষ্য হলো ইসলাম সম্পর্কে ইসলামের শত্রুদের লালিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। তাই তারা মুসলিমদের জীবন থেকে সুন্নাহকে মুছে ফেলার ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে। অথচ সুন্নাহ হলো ইসলামের অর্ধেক। যদি তারা এটিকে মুছে ফেলতে বা এ নিয়ে সংশয় তৈরি করতে সক্ষম হয়, তবে একই সাথে—আল্লাহ না করুন—তারা কুরআনকে স্থবির করে দিতে এবং মুসলিমদের জীবন থেকে একে বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম হবে। মহান আল্লাহ তাদের ওপর নজর রাখছেন এবং তিনি অপরাধীদের কর্ম সফল করেন না।

(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الشبهة الثانية ادِّعاء النهي القرآني عن الإيمان بالسنة والعمل بها؟!

هذه الشبهة (الطريفة الظريفة) من اختراعات زنادقة العصر، وقد رددها شرذمة منهم عندنا في مصر، من خلال الصحف الجديدة، التي تبحث لها عن قراء، ودأبت على السير في الممنوع، أو أقتحام الحواجز بلا وازع من دين أو خلق، وتحت مقولة "قبول الآخر".

وإنما أطلقنا عليها عبارة "الشبهة الطريفة الظريفة" لأنها تثير الضحك من الأعماق على جهل وجهالة من يذيعونها، ويروجون لها. وهم إذ يستخفون بعقول القراء، وإدارات الصحف التي تنشر لهم، يقيمون أقطع الأدلة على أنهم لا عقول لهم، لأن هذه الغرائب لا تصدر على من له مثقال ذرة من عقل.

ولا يوجد على ظهر الأرض مؤمن ولا كافر يقبل هذا الهراء.

فالمؤمن والكافر لا يريان أن بين القرآن وبين سنة من أنزل الله عليه القرآن عداء أو مجافاة.

والعنوان الذي ضغناه لتصوير هذه الشبهة يقتضي أن يكون لهؤلاء الزنادقة، الذين اخترعوا هذه الشبهة أدلة من آيات القرآن يكون معناها: لا تؤمنوا بسنة رسول الله، ولا تتبعوها في حياتكم، لأن الإيمان بها كفر، والعمل بها ضلال؟!

والواقع أن هؤلاء الزنادقة عمدوا إلى آيتين من كتاب الله العزيز، واستدلوا بهما - جهلاً وحماقة - على هذه الشبهة النكراء.

إحدى الآيتين خي قوله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} [الأعراف: 3] .
দ্বিতীয় সংশয়: সুন্নাহর (سنة) প্রতি ঈমান আনা এবং তদনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে কুরআনিক নিষেধাজ্ঞার দাবি؟!

এই (অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ) সংশয়টি বর্তমান যুগের যিনদিকদের (زنادقة) উদ্ভাবন। আমাদের মিশরের একদল লোক নতুন কিছু সংবাদপত্রের মাধ্যমে এটি বারবার প্রচার করেছে, যারা পাঠকদের অন্বেষণ করে এবং ধর্মীয় বা নৈতিক কোনো বাধানিষেধ ছাড়াই নিষিদ্ধ পথে চলতে বা প্রতিবন্ধকতাগুলো লঙ্ঘন করতে অভ্যস্ত, আর এটি তারা করে "অন্যের মত গ্রহণ" করার অজুহাতে।

আমরা একে "অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ সংশয়" শব্দবন্ধে অভিহিত করেছি কারণ এটি যারা প্রচার ও প্রসার করছে তাদের চরম মূর্খতা ও অজ্ঞতার কারণে এটি অন্তরের গভীর থেকে হাসির উদ্রেক করে। তারা পাঠকদের এবং যেসব সংবাদপত্রের কর্তৃপক্ষ তাদের লেখা প্রকাশ করছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই যে বুদ্ধিহীন, তার অকাট্য প্রমাণ দিচ্ছে। কারণ এই ধরণের অদ্ভুত বিষয় যার নূন্যতম বুদ্ধি আছে তার থেকে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়।

পৃথিবীর বুকে এমন কোনো মুমিন বা কাফির নেই যে এই অর্থহীন প্রলাপ গ্রহণ করবে।

কেননা মুমিন এবং কাফির কেউই এটা মনে করে না যে, কুরআন এবং যার ওপর আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন তাঁর সুন্নাহর (سنة) মধ্যে কোনো শত্রুতা বা বৈরিতা আছে।

এই সংশয়টিকে চিত্রিত করার জন্য আমরা যে শিরোনামটি তৈরি করেছি, তা দাবি করে যে, এই সংশয়টি উদ্ভাবনকারী যিনদিকদের (زنادقة) কাছে কুরআনের আয়াতের এমন কোনো দলিল থাকবে যার অর্থ হবে: তোমরা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর (سنة) ওপর ঈমান এনো না এবং তোমাদের জীবনে তা অনুসরণ করো না, কারণ এর প্রতি ঈমান আনা কুফর এবং তদনুযায়ী আমল করা পথভ্রষ্টতা (ضلال)?!

বাস্তবতা হলো, এই যিনদিকরা (زنادقة) আল্লাহর মহান কিতাব থেকে দুটি আয়াতের দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং তাদের মূর্খতা ও বোকামির কারণে এই জঘন্য সংশয়ের সপক্ষে সেগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করেছে।

আয়াত দুটির মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।} [সূরা আল-আরাফ: ৩] ।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والثانية هي: {أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 185]

تفنيد هذه الشبهة ونقضها:

فقد صوَّر لهم جهلهم، أو أرادوا هم أن يصوروا للناس بعنادهم أن محمداً صلى الله عليه وسلم ولي من دون الله؟ وأن هديه وإرشاده وبيانه للقرآن الذي أنزله الله عليه دين آخر غير الدين الذي بعثه الله به، فحذرهم الله من الإيمان بسنته والعمل بها؟!

أرأيت جهلاً أجهل من هذا الجهل؟ أم أرأيت عناداً وحماقة أشنع من هذا العناد، وتلك الحماقة؟ وكيف يكون محمد صلى الله عليه وسلم بهذه المنزلة التي يناصب الله فيها العداء؟ والله يقول له قبل هذه الآية مباشرة:

{كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 2]

أما قوله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ} فهي تثبيت للمؤمنين على ما بعث الله به محمداً صلى الله عليه وسلم، ونهى عن إتباع سبل الباطل وعبادة الأصنام والأوثان، والاعتقاد في غير الله تعالى نافعاًَ ضاراً، خالقاً رازقاً محيياً مميتاً، رافعاً خافضاً، مبدئاً معيداَ … إلخ.

هلا سأل رءوس الجهل والضلال هؤلاء أنفسهم: كيف يبعث الله رسولاً، وينزل عليه وحياً، ثم يتخذ منه منافساً له، ويحذر من أرسله إليهم من اتباعه؟

إنهم - بهذا - يسيئون إلى الله جل شأنه، ويصفونه بما لا يليق بجلاله وحكمته.

رحم الله شاعر النيل حافظ إبراهيم القائل:

وكم ذا بمصر من المضحكات ولكنه ضحك كالبكاء

أما الآية الثانية، فهي حديث صريح عن المكذبين بآيات الله، الذين آثروا الكفر على الإيمان.
এবং দ্বিতীয়টি হলো: {তারা কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করে দেখে না? আর সম্ভবত তাদের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে; সুতরাং এর পর তারা আর কোন হাদিসের ওপর ঈমান আনবে?} [আল-আরাফ: ১৮৫]

এই সংশয় খণ্ডন এবং এর অসারতা প্রতিপাদন:

তাদের অজ্ঞতা তাদের সামনে এমন চিত্র তুলে ধরেছে, অথবা তারা তাদের হঠকারিতার কারণে মানুষের সামনে এমন চিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে যে—মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আল্লাহর বিপরীতে কোনো অভিভাবক? আর তাঁর হিদায়াত, দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ কুরআনের ব্যাখ্যা কি সেই দ্বীন থেকে ভিন্ন কোনো ধর্ম যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন? ফলে আল্লাহ কি তাদের তাঁর সুন্নাহর প্রতি ঈমান আনতে এবং তদনুযায়ী আমল করতে সতর্ক করেছেন?!

আপনি কি এই মূর্খতার চেয়ে বড় কোনো মূর্খতা দেখেছেন? অথবা এই হঠকারিতা ও বোকামির চেয়ে জঘন্য কোনো হঠকারিতা ও বোকামি দেখেছেন? মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে এমন অবস্থানে থাকতে পারেন যেখানে তিনি আল্লাহর সাথে শত্রুতা পোষণ করবেন? অথচ আল্লাহ এই আয়াতের ঠিক পূর্বেই তাঁকে বলেছেন:

{আপনার প্রতি একটি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে; সুতরাং এর কারণে আপনার মনে যেন কোনো সংকোচ না থাকে, যাতে আপনি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন এবং এটি মুমিনদের জন্য উপদেশ।} [আল-আরাফ: ২]

আর মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না}, এটি মূলত মুমিনদের সেই বিষয়ের ওপর সুদৃঢ় রাখার জন্য যা নিয়ে আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। এটি বাতিলের পথ অনুসরণ, মূর্তিপূজা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপকারকারী-ক্ষতিকারক, স্রষ্টা-রিযিকদাতা, জীবনদাতা-মৃত্যুদাতা, উচ্চকারী-নিম্নকারী, আদি-অন্ত ইত্যাদি হিসেবে বিশ্বাস করা থেকে নিষেধ করে … ইত্যাদি।

এই অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার হোতারা কি নিজেদের প্রশ্ন করে দেখেছে: আল্লাহ কীভাবে একজন রসূল প্রেরণ করেন এবং তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ করেন, আর এরপর তাকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করান এবং যাদের কাছে তাঁকে পাঠানো হয়েছে তাদের তাঁর অনুসরণ করতে নিষেধ করেন?

তারা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর শানে বেয়াদবি করছে এবং তাঁকে এমন বিশেষণে বিশেষিত করছে যা তাঁর মহিমা ও প্রজ্ঞার জন্য অনুপযুক্ত।

নীল নদের কবি হাফিজ ইব্রাহিমের প্রতি আল্লাহ রহম করুন, যিনি বলেছিলেন:

মিশরে কতই না হাস্যকর বিষয় রয়েছে, কিন্তু তা কান্নার মতো হাসি।

আর দ্বিতীয় আয়াতটি হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট আলোচনা, যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরকে প্রাধান্য দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد جاءت الآية في هذا السياق القرآني الحكيم {وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ (182) وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ (183) أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا مَا بِصَاحِبِهِمْ مِنْ جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُبِينٌ (184) أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 182 - 185]

إن هذه الآيات جميعاً تنعى على الكافرين كفرهم، وتشير إلى دلائل الإيمان اللائحة امامهم، وتضفى هالة من الثناء على رسوله الكريم، والحديث المذكور في هذه الآية {فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} هو حديث الإيمان في دلائله، ومظاهره العلوية والسفلية، فكيف فهم هؤلاء الأغبياء أن الآية فيها تنظير بين القرآن وبين حديث من أنزل عليه القرآن، وأن الاستفهام الإنكاري ورد في الآية للتحذير من اتباع الحديث النبوي؟ أليس هذا أغرب ما يقع في وهم واهم، أو تخليط محموم؟ لو كان محمد صلى الله عليه وسلم عند الله كما يزعم هؤلاء الأغبياء لما أرسله رحمة للعالمين، وهادياً ومبشراً ونذيراً.

إن سوء النية باد على افواهم، وفيما تطسر أقلامهم وإلا فما الذي أعماهم عن قوله تعالى في السورة نفسها: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (157) قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 157 - 158]
এই প্রজ্ঞাময় কুরআনুল কারীমের প্রেক্ষাপটে আয়াতটি এভাবে এসেছে: {আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে, আমি তাদের এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে তারা জানবেও না (১৮২) আর আমি তাদের সময় দিয়ে থাকি; নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত সুদৃঢ় (১৮৩) তারা কি চিন্তা করে দেখে না যে, তাদের সঙ্গীর (রাসূলের) মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই? তিনি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী (১৮৪) তারা কি আসমান ও জমিনের বিশাল রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে লক্ষ্য করে না? আর এ বিষয়েও কি (চিন্তা করে না) যে, সম্ভবত তাদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে? সুতরাং এরপর আর কোন হাদিসের ওপর তারা ঈমান আনবে?} [আল-আরাফ: ১৮২-১৮৫]

নিশ্চয়ই এই আয়াতগুলোর সবকটিই কাফিরদের কুফরির নিন্দা জানাচ্ছে এবং তাদের সামনে বিদ্যমান ঈমানের প্রমাণসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করছে, আর তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর প্রশংসার এক জ্যোতির্বলয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই আয়াতে উল্লিখিত হাদিস—{সুতরাং এরপর আর কোন হাদিসের ওপর তারা ঈমান আনবে?}—হলো ঈমানের প্রমাণাদি এবং এর ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের নিদর্শনাবলি সংক্রান্ত হাদিস। সুতরাং এই নির্বোধরা কীভাবে বুঝল যে, এই আয়াতে কুরআন এবং যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর হাদিসের মধ্যে কোনো তুলনা করা হয়েছে এবং আয়াতে বর্ণিত এই অস্বীকৃতিজ্ঞাপক প্রশ্নটি নববী হাদিস অনুসরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করার জন্য এসেছে? এটি কি কোনো বিভ্রান্তের কল্পনা অথবা বিকারগ্রস্তের প্রলাপের চেয়েও অদ্ভুত কিছু নয়? যদি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নিকট তেমন হতেন যেমনটি এই নির্বোধরা দাবি করে, তবে আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং হিদায়েতকারী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করতেন না।

নিশ্চয়ই তাদের কুৎসিত উদ্দেশ্য তাদের মুখে এবং তাদের কলম যা প্রসব করছে তাতে স্পষ্ট। অন্যথায়, একই সূরায় মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে কোন বিষয়টি তাদের অন্ধ করে রেখেছে: {যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি নিরক্ষর নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল—যা তাদের ওপর ছিল—তা অপসারণ করেন। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে যে নূর অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। (১৫৭) আপনি বলুন: হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল, যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো, যিনি নিরক্ষর নবী, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৫৭-১৫৮]
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
دقق النظر في نظم الآيتين، تجد التصريح باتباع الرسول الكريم ورد مرتين: مضارعاً وأمراً: "يتبعون" - "اتبعوه".

ثم تأمل هذه الجمل:

(يأمرهم - ينهاهم - يحل - يحرم - يضع) تجد الفاعل فيها عائداً على الرسول، فهو الآمر، والناهي والمحلل، والمحرم، والواضع، فما هي دلالة هذا الصنع مع أنه مبلغ عن الله في الأمر، والنهي، والتحليل، والتحريم، وفي وضع الإغلال.

إن دلالة هذا النظم البديع أن لرسول الله دوراً في تأدية الرسالة، وبيان ما أنزل الله عليه في القرآن وما هداه إليه من ير القرآن، مما تضمنته سنته المطهرة، وأحاديثه المشرقة، لأن الله آتاه القرآن ومثله معه".

لم يكن السلاح الذي قاوم محمد به الباطل هو القرآن وحده، بل كان القرآن والسنة معاً.

القرآن ضياء كالشمس، والسنة نور كالقمر، وسنة النبي صلى الله عليه وسلم هي مفاتيح ما في القرآن من كنوز، والأداة التي وصلت الأمة بما في القرآن من قيم ومبادئ وأسرار.

والذي نقوله لمنكري السنة: قد بدت البغضاء من أفواهكم. وما تخفى صدوركم أكبر، فموتوا بغيظكم إن الله عليم بذات الصدور.

* * *
দুই আয়াতের বিন্যাসের প্রতি নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করুন, আপনি দেখতে পাবেন যে সম্মানিত রাসুলকে অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দুইবার বর্ণিত হয়েছে: বর্তমান কাল (مضارع) এবং আদেশ (أمر) হিসেবে: "তারা অনুসরণ করে" - "তোমরা তাঁকে অনুসরণ করো"।

অতঃপর এই বাক্যগুলো নিয়ে চিন্তা করুন:

(তিনি তাদের আদেশ দেন - তিনি তাদের নিষেধ করেন - তিনি হালাল করেন - তিনি হারাম করেন - তিনি মোচন করেন)। এখানে আপনি লক্ষ্য করবেন যে, ক্রিয়ার কর্তা রাসুলের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। সুতরাং তিনিই হলেন আদেশদাতা, নিষেধকারী, হালালকারী, হারামকারী এবং (শৃঙ্খল) মোচনকারী। এই শৈল্পিক বিন্যাসের তাৎপর্য কী, অথচ তিনি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ, নিষেধ, হালাল করা, হারাম করা এবং শৃঙ্খল মোচনের ক্ষেত্রে একজন প্রচারকারী (مبلغ) মাত্র?

এই চমৎকার বিন্যাসের তাৎপর্য হলো, রিসালাত (الرسالة) আদায়ে এবং আল্লাহ কোরআনে যা অবতীর্ণ করেছেন ও কোরআন ছাড়াও আল্লাহ তাঁকে যে হেদায়েত দান করেছেন—তার বর্ণনায় আল্লাহর রাসুলের একটি সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে; যা তাঁর পবিত্র সুন্নাহ (السنة) এবং উজ্জ্বল হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তাঁকে কোরআন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও একটি বস্তু দান করেছেন।

মুহাম্মাদ (সা.) যে অস্ত্র দ্বারা বাতিলের মোকাবিলা করেছিলেন তা কেবল কোরআন ছিল না, বরং তা ছিল কোরআন ও সুন্নাহ (السنة) একত্রে।

কোরআন সূর্যের ন্যায় আলোকচ্ছটা আর সুন্নাহ (السنة) চন্দ্রের ন্যায় আলো। নবি (সা.)-এর সুন্নাহ (السنة) হলো কোরআনে নিহিত ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি এবং এমন এক মাধ্যম যা উম্মতকে কোরআনের মূল্যবোধ, আদর্শ ও রহস্যের সাথে সংযুক্ত করেছে।

আর সুন্নাহ (السنة) অস্বীকারকারীদের প্রতি আমাদের বক্তব্য হলো: তোমাদের মুখ দিয়ে তো বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে গেছে, আর তোমাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও গুরুতর। সুতরাং তোমরা তোমাদের আক্রোশে নিজেরাই দগ্ধ হও; নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের সকল গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

* * *
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الشبهة الثالثة منع الخلفاء رواية الحديث وترديده

الذين يسعون الآن لعزل سنة خاتم النبين عن حياة الأمة يتصيدون الشبهات بغير روية ولا حياء، ولم يتركوا اقوالآً مما عثروا عليه مسْطوراً في الكتب مهما كان وزنها خفيفاً إلا أضفوا عليه ثالة من الترويج، ليشككوا من استطاعوا من العوام في الحديث النبوي.

وقد رأينا عند الحديث عن الشبهة الأولى كيف حرصوا على التمسك بحديث النهي عن كتابة الحديث، وفي الوقت تفسه أعرضوا عن أحاديث الإذن في الكتابة، والوقائع العملية الثابتة، أما في هذه الشبهة فيركزون اهتمامه كل التركيز على مواقف عابرة عرفت عن الشيخين أبي بكر وعمر، بل ويهولون من شأن روايات لم تثبت، لأنها تخدم غرضهم من قريب أو من بعيد.

والمعروف أن خطتى أبي بكر وعمر تهدفان إلى أمرين بالنسبة للقرآن والحديث النبوي.

أما بالنسبة للقرآن فكان الهدف توفير العناية به حفظاً وتأملاً زتلاوة، لأنه أصل الأصول في الدين كله، وبخاصة أنه لم يكن مجموعاً في أول الأمر في صحف خاصة به.

وأما بالنسبة إلى حديث رسول الله فكان الهدف التثبت فيما يروى منه، والإقلال من روايته حتى يتمكن القرآن في القلوب، ويقف المسلمون على معانيه ومقاصده، وهو الأمر نفسه الذي من أجله نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن كتابة حديثه. ثم عاد فاذن بكتابته كما تقدم.

وهذه الحقائق اللائحة لم ترق أعداء السنة فاغمضوا أعينهم عنها، وصوروها في غير صورتها، وروجوا بين الناس أن السنة لو كانت من الدين ما
তৃতীয় সংশয়: খলিফাগণ কর্তৃক হাদিস বর্ণনা (رواية) ও এর পুনরাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণ

বর্তমানে যারা উম্মাহর জীবন থেকে খাতামুন্নাবিয়্যীনের সুন্নাহকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা কোনো বিচার-বিবেচনা বা লজ্জা ছাড়াই বিভিন্ন সংশয় খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারা কিতাবসমূহে যা কিছু লিখিত পেয়েছে, তার গুরুত্ব যত সামান্যই হোক না কেন, তারা সেটাকেই ব্যাপকভাবে প্রচার করে; যাতে সাধারণ মানুষের মনে যতটুকু সম্ভব নববী হাদিস সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করা যায়।

প্রথম সংশয় নিয়ে আলোচনার সময় আমরা দেখেছি যে, তারা হাদিস লিখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার হাদিসটিকে আঁকড়ে ধরতে কতটা সচেষ্ট ছিল, অথচ একই সময়ে তারা হাদিস লিখার অনুমতির হাদিসসমূহ এবং সাব্যস্ত হওয়া বাস্তব ঘটনাসমূহ এড়িয়ে গেছে। আর বর্তমান এই সংশয়ের ক্ষেত্রে তারা শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত কিছু সাময়িক অবস্থানের ওপর তাদের পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে; এমনকি তারা এমন সব বর্ণনাকে (روايات) অতিরঞ্জিত করে পেশ করছে যা প্রমাণিত নয় (لم تثبت), কারণ এগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের হীন উদ্দেশ্য পূরণ করে।

এটি সর্বজনবিদিত যে, কুরআন এবং নববী হাদিসের বিষয়ে আবু বকর ও উমরের কর্মপন্থা দুটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত ছিল।

কুরআনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল এর হিফজ, গভীর চিন্তা ও তিলাওয়াতের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করা; কারণ এটি সমগ্র দ্বীনের মূল ভিত্তি, বিশেষ করে যেহেতু এটি শুরুর দিকে পৃথক কোনো পাণ্ডুলিপিতে সংকলিত ছিল না।

আর রাসূলুল্লাহর হাদিসের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল যা কিছু বর্ণিত হয় সেগুলোর সত্যতা যাচাই (التثبت) করা এবং এর বর্ণনা (رواية) কমিয়ে আনা, যাতে মানুষের অন্তরে কুরআন সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুসলিমগণ এর অর্থ ও উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করতে পারে। এই একই কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুরুতে তাঁর হাদিস লিখতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় তা লিখার অনুমতি প্রদান করেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এই প্রকাশ্য সত্যগুলো সুন্নাহর শত্রুদের নিকট পছন্দনীয় হয়নি, তাই তারা এগুলোর প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে এবং বিষয়গুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা মানুষের মাঝে এই প্রচারণা চালিয়েছে যে, সুন্নাহ যদি দ্বীনের অংশ হতো তবে...
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقف منها الشيخان أبو بكر وعمر رضي الله عنهما هذا الموقف، ولاهتما بها اهتمامهم بالقرآن نفسه.

تفنيد هذه الشبهة ونقضها:

ليس صحيحاً أن الشيخين كانا يكرهان الإكثار من كل الأحاديث المروية عن رسول الله، وإنما كانا يكرهان الإكثار من رواية أحاديث الرخص لئلا يتكل الناس عليها، كما كانا لا يحبان الإكثار من الأحاديث "المشكلة" أو "المتشابهة" لئلا يستعصى فهمها على عامة الناس.

أما أحاديث العزائم، والأحاديث التي تتعلق بأفعال المكلفين في العبادات والمعاملات والأخلاق، فلم يطلب الشيخان الإقلال من ذكرها والتحدث بها.

بل إن المحفوظ عنهما أنهما كانا كثيراً ما يسألان الصحابة عما عندهم من رسول الله إذا عرضت لهما خصومة للفصل فيها، فإذا وجد عند الصحابة شيئاً عن رسول الله من قضاء أو قول عملاً به، واعتبراه الفصل الواجب اتباعه في إصدار الحكم الشرعي.

روى قبيصة بن ذؤيب أن جدة جاءت إلى أبي بكر تطلب إرثاً. فقال أبو بكر: ما أجد لك في كتاب الله شيئاً، ما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر لك - اي للجدة مطلقاً - شيئاً ثم سأل الناس، فقال المغيرة بن شعبة: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيها السدس. قال أبو بكر: هل معك أحد؟ فشهد محمد بن مسلمة الأنصاري بمثل ما قال شعبة. فأنفذه أبو بكر رضي الله عنه. [نيل الأوطار: 6/175 للشوكاني] .

وما روى أن أبا موسى الشعري استأذن على عمر ثلاثاً فلم يأذن له. فرجع، فاستدعاه عمر ولامه، فاعتذر أبو موسى بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا اساذن أحدكم ثلاثاً فلم يؤذن له فليرجع" فقال عمر:

"لتأتيني على هذا (الحديث) ببينة، أو لأوجعن ظهرك. وأجعلك عظة.
শায়খাইন (দুই প্রবীণ সাহাবী) আবু বকর ও উমর (রা.) এ বিষয়ে এমন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং এর প্রতি তাঁরা তেমনি গুরুত্বারোপ করেছিলেন যেমনটি তাঁরা খোদ কুরআনের প্রতি করেছিলেন।

এই সংশয়ের খণ্ডন ও নিরসন:

এটি সঠিক নয় যে শায়খাইন রসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত সকল হাদিস অধিক পরিমাণে বর্ণনা করাকে অপছন্দ করতেন। বরং তাঁরা কেবল অবকাশমূলক বিধান (رخص) সম্বলিত হাদিসগুলো অধিক পরিমাণে বর্ণনা করা অপছন্দ করতেন, যাতে মানুষ কেবল সেগুলোর ওপরই নির্ভর না করে বসে। অনুরূপভাবে তাঁরা জটিল (مشكلة) বা অস্পষ্ট (متشابهة) হাদিসগুলোর আধিক্যও পছন্দ করতেন না, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য তা অনুধাবন করা কঠিন হয়ে না পড়ে।

তবে বাধ্যতামূলক বিধান (عزائم) এবং ইবাদত, লেনদেন ও নৈতিকতা সম্পর্কিত মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ) ব্যক্তিদের কর্ম সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে শায়খাইন সেগুলো কম বর্ণনা করার বা সে বিষয়ে কম আলোচনার দাবি জানাননি।

বরং তাঁদের থেকে এটিই সংরক্ষিত আছে যে, যখনই তাঁদের কাছে কোনো বিরোধ মীমাংসার জন্য আসত, তাঁরা প্রায়শই সাহাবীদের কাছে রসূলুল্লাহ-এর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো সমাধান আছে কি না তা জিজ্ঞাসা করতেন। যদি তাঁরা সাহাবীদের কাছে রসূলুল্লাহ-এর কোনো ফয়সালা বা বাণী পেতেন, তবে তাঁরা সে অনুযায়ী আমল করতেন এবং শরয়ী হুকুম জারির ক্ষেত্রে একেই অনুসরণীয় চূড়ান্ত ফয়সালা হিসেবে গণ্য করতেন।

কাবিদাহ ইবনে জুয়াইব বর্ণনা করেন যে, এক দাদী মিরাসের (উত্তরাধিকার) দাবিতে আবু বকরের কাছে এলেন। তখন আবু বকর বললেন: আমি আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই পাচ্ছি না এবং আমি এটিও জানি না যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য—অর্থাৎ সাধারণভাবে দাদীর জন্য—কোনো কিছুর উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন মুগিরা ইবনে শু’বা বললেন: আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাকে ষষ্ঠাংশ দিতে শুনেছি। আবু বকর বললেন: তোমার সাথে আর কেউ আছে কি? তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা আনসারী মুগিরার কথার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। ফলে আবু বকর (রা.) তা কার্যকর করলেন। [শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার: ৬/১৭৫]।

আর এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, আবু মুসা আশ’আরী উমরের কাছে প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চাইলেন কিন্তু তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো না। ফলে তিনি ফিরে গেলেন। এরপর উমর তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং তিরস্কার করলেন। তখন আবু মুসা ওজর পেশ করে বললেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি তিনবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে সে যেন ফিরে যায়।" তখন উমর বললেন:

"তোমাকে অবশ্যই এই হাদিসের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) পেশ করতে হবে, নতুবা আমি তোমার পিঠ ব্যথিত করব এবং তোমাকে অন্যের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত বানিয়ে ছাড়ব।"
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فشد أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك" فعفا عنه عمر [فتح الباري ج 11 ص 21/23 لابن حجر العسقلانى] .

ولهاتين الواقعتين نظائر عن الشيخين وغيرهما.

فإذا كان هذا موقفهما من السنة القولية والعملية، فكيف يصح عند العقلاء المنصفين أن ابا بكر وعمر كانا ينهيان عن رواية الحديث النبوي باعتبار أن الحديث ليس من الدين، ولا هو مصدر من مصادر التشريع؟! وكيف يفهم عاقل ذلك، وابو بكر حين بدا له أن الجدة لا ترث، لخلو القرآن من ذكرها في بيان الورثة ولم يكن يعلم بسنة رسول الله فيها، ولكنه لم يتعجل في الحكم وسأل الصحابة إن كان عندهم قول من رسول الله في هذه المسألة؟ فلما شهد بذلك شاهدان، وأن الرسول أعطى الجدة السدس - قياساً على الأم - عدل أبو بكر عن رأية الذي أبداه أولاً. ثم ورثها السدس بسنة رسول الله رضي الله عنه. وبهذا يُعلم سقوط هذه الشبهة التي يلغط منها منكرو السنة الأغبياء.

* * *
অতঃপর উবাই ইবনে কাব দৃঢ়তার সাথে শপথ করলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এটি বলেছেন; তখন ওমর (রা.) তাঁকে অব্যাহতি দিলেন [ইবনে হাজার আল-আসকালানির ফাতহুল বারি, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২১/২৩]।

এই দুটি ঘটনার অনুরূপ আরও অনেক নজির শায়খাইন (الشيخين) এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান।

সুন্নাহর বাণী ও কার্যাবলীর ব্যাপারে যদি তাঁদের অবস্থান এমন হয়ে থাকে, তবে ন্যায়নিষ্ঠ বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিকট এটি কীভাবে সংগত হতে পারে যে, আবু বকর ও ওমর (রা.) নববী হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করতেন এই যুক্তিতে যে, হাদিস দ্বীনের অংশ নয় কিংবা এটি শরিয়তের উৎসসমূহের (مصادر التشريع) অন্যতম নয়?! কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই বা এটি কীভাবে বুঝতে পারেন, অথচ আবু বকরের (রা.) নিকট যখন এটি প্রতীয়মান হলো যে দাদি মিরাস লাভ করেন না—যেহেতু উত্তরাধিকারীদের বর্ণনায় কুরআনে তাঁর উল্লেখ নেই এবং এই বিষয়ে তিনি আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না—কিন্তু তিনি ফয়সালা প্রদানে তাড়াহুড়ো করেননি বরং সাহাবিদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাঁদের নিকট এই মাসআলায় আল্লাহর রাসূলের কোনো বাণী আছে কি না? অতঃপর যখন এ বিষয়ে দুজন সাক্ষী (شاهدان) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূল (সা.) দাদিকে—মায়ের ওপর সাদৃশ্য (قياساً) করে—ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন, তখন আবু বকর (রা.) তাঁর পূর্বে ব্যক্ত করা মত থেকে ফিরে আসলেন। এরপর তিনি আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নাহ অনুযায়ী তাকে ষষ্ঠাংশ মিরাস প্রদান করেন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)। এর মাধ্যমেই সেই সংশয়ের (شبهة) অসারতা প্রমাণিত হয়, যা নিয়ে নির্বোধ সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা (منكرو السنة) শোরগোল করে থাকে।

* * *
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الشبهة الرابعة تشدد الخلفاء في الرواية وحبس المكثرين منها

ما يزال منكرو السنة يتصيدون الشبهات من عصر صدر الإسلام الأول، باعتباره العصر المؤسس لقيام الحضارة الإسلامية الشامخة.

وعلى عادتهم فإن منكري السنة يهولون من شأن هذه الروايات، ويعكسون المقصود منها لتكون النتائج متوافقة مع أهوائهم.

ففي مجال التشدد يتكئون كثيراً على أن الخلفاء. وفي مقدمتهم أبو بكر وعمر ما كانوا يقبلون الحديث إذا سمعوه من راو واحد، حتى يؤيده راو ثان سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم مثلما سمع الراوي الأول.

هذه الظاهرة كانت كثيرة الوقوع في عصر الخلفاء، ونحن نقربها ولا نرفضها، ولكنا لا نفهم منها فهما معوجاً كما يفهم أو يدعي منكرو السنة.

وقد ذكرنا من قبل مثالين لهذا التشدد، واحداً بكرياً والثاني عُمَرِياً، ولدينا مزيد عنهما وعن غيرهمت. وإننا لسُعَداء بهذه الرويات كما سيأتي.

منكرو السنة يرون في هذه التشدد منقصة للسنة، ويقولون لو كانت السنة من الدين لما وقف في طريقها الخلفاء الراشدون؟! ثم يضيفون واقعة تساند هذا التشدد، وهي ما روى عن عمر بن الخطاب أن استشار الصحابة حين أراد أن يجمع السنة في صحف خاصة بها، فوافقة الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، ولكن عمر ظل يستخير الله شهراً كاملاً في كتابة السنة فلم يحبب الله إليه كتابتها فانصرف عنها.

منكرو السنة يوظفون هذه الواقعة - إذا صحت - للحكم على السنة بأنها ليست من الدين.
‌‌চতুর্থ সংশয়: বর্ণনা (رواية) প্রদানের ক্ষেত্রে খলিফাদের কঠোরতা এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের (مكثرين) নিয়ন্ত্রণ করা

সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে সংশয় খুঁজে বেড়ায়, কারণ তারা এই যুগকে সুউচ্চ ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের যুগ হিসেবে গণ্য করে।

নিজেদের চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা এই বর্ণনাগুলোর (رواية) গুরুত্বকে বাড়িয়ে দেখায় এবং এগুলোর উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে যাতে ফলাফল তাদের প্রবৃত্তির অনুকূলে থাকে।

কঠোরতার ক্ষেত্রে তারা খলিফাদের কর্মপদ্ধতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। বিশেষ করে আবু বকর ও ওমর কোনো একক বর্ণনাকারীর (راو واحد) কাছ থেকে হাদিস শুনলে তা গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় একজন বর্ণনাকারী (راو ثان) তা সমর্থন করতেন যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রথম বর্ণনাকারীর মতোই তা শুনেছেন।

খলিফাদের যুগে এই ঘটনাটি প্রায়ই ঘটত; আমরা একে বাস্তবসম্মত মনে করি এবং প্রত্যাখ্যান করি না, তবে সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা যেভাবে বোঝে বা দাবি করে, আমরা এর থেকে তেমন কোনো বিকৃত অর্থ গ্রহণ করি না।

আমরা ইতিপূর্বে এই কঠোরতার দুটি উদাহরণ উল্লেখ করেছি—একটি আবু বকর সংশ্লিষ্ট এবং দ্বিতীয়টি ওমর সংশ্লিষ্ট; আমাদের কাছে তাঁদের এবং অন্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য রয়েছে। আমরা এই বর্ণনাগুলো (رواية) নিয়ে আনন্দিত, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা এই কঠোরতার মধ্যে সুন্নাহর ত্রুটি খুঁজে পায়। তারা বলে, সুন্নাহ যদি দ্বীনের অংশ হতো তবে খুলাফায়ে রাশিদুন কি এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতেন?! এরপর তারা এই কঠোরতার সমর্থনে আরও একটি ঘটনা যোগ করে; সেটি হলো ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সুন্নাহকে বিশেষ সহিফায় সংকলন করতে চাইলেন তখন সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। সাহাবীগণ (রা.) এতে একমত হলেন, কিন্তু ওমর পূর্ণ এক মাস সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্তরে এটি লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি পছন্দনীয় করে দিলেন না, ফলে তিনি তা থেকে বিরত থাকলেন।

সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা এই ঘটনাটি—যদি তা সহিহ (صحيح) হয়ে থাকে—সুন্নাহ দ্বীনের অংশ নয় এই ফয়সালা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করে।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم يذكرون أن علياً رضي الله عنه لم يكن يقبل الحديث من راو واحد، حتى يستحلفه بالله أنه سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

كما يدعون أن عمر بن الخطاب كان يحبس المكثرين من رواية الحديث، فحبس ابن مسعود، وأبا الدرداء، وأبا ذر رضي الله عنهم أجمعين، وربما أضافوا إلى هؤلاء الثلاثة رابعاً.

تفنيد هذه الشبهة ونقضها:

نبدأ بما بدأوا به، وهو رد الحديث من الراوي حتى يشهد معه راو ثان.

إن هذه الخطة لم تكن هي الوحيدة في هذا المجال. وهي بالنسبة لبي بكر لم تتكرر [ينظر الإحكام لابن حزم (1/141) ] ، حيث لم يطلب في غير مسألة ميراث الجدة راوياً ثانياً قط. وأبو بكر رضي الله عنه ففيه قاض، والشهادة في الحقوق المالية أو المدنية بشاهدين عدلين لا بشاهد واحد، فربما كان الحامل لأبي بكر في مسألة ميراث الجدة على طلب راو ثان يؤيد ما شهد به الراوي الأول، هم إكمال الشهادة ليكون الحكم صحيحاً غير مشوب بخطأ أو قصور في إجراءات التقاضي.

ويقوى هذا الفهم - عندنا - قبول أبي بكر الحديث من راو واحد في غير مسألة "الجدة" هذه.

أما عمر بن الخطاب رضي الله عنه، مع تكرار التوثيق منه بالراوي الثاني مرات. فإنه جمع بين هذه الخطة وبين قبول الحديث من راو واحد، والعمل يه. وسيأتي هذا في مبحث "أخبار الآحاد" فلا داعي لذكره هنا خشية الإطالة والتكرار وكذلك الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه، فمع ما عرف عنه من استحلاف الراوي الواحد إذا لم يكن معه ثان، فإنه عرف عنه - كذلك - قبول الحديث من راو واحد دون أن يستحلفه.
অতঃপর তারা উল্লেখ করেন যে, আলী (রা.) কোনো একজন বর্ণনাকারী (راو واحد) থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত হাদিস গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না তাকে আল্লাহর নামে শপথ করাতেন যে তিনি তা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন।

একইভাবে তারা দাবি করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের (المكثرين) বন্দি করে রাখতেন; ফলে তিনি ইবনে মাসউদ, আবু দারদা এবং আবু যার (রা.)-কে বন্দি করেছিলেন এবং সম্ভবত তারা এই তিনজনের সাথে চতুর্থ আরেকজনকেও যুক্ত করে থাকেন।

এই সংশয়ের খণ্ডন ও নিরসন:

তারা যা দিয়ে শুরু করেছে আমরাও তা দিয়েই শুরু করছি, আর তা হলো একজন বর্ণনাকারীর (الراوي) হাদিস প্রত্যাখ্যান করা যতক্ষণ না তার সাথে দ্বিতীয় কোনো বর্ণনাকারী (راو ثان) সাক্ষ্য দেয়।

প্রকৃতপক্ষে এই পদ্ধতিটি এই ক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি ছিল না। আবু বকর (রা.)-এর ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি ঘটেনি [দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজমের আল-ইহকাম (১/১৪১)], কারণ তিনি দাদির মিরাসের (উত্তরাধিকার) মাসআলা ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে কখনোই দ্বিতীয় কোনো বর্ণনাকারী (راوياً ثانياً) দাবি করেননি। আর আবু বকর (রা.) একজন বিচারক ছিলেন; আর্থিক বা দেওয়ানি অধিকারের ক্ষেত্রে সাক্ষ্যদানের জন্য দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) সাক্ষীর প্রয়োজন হয়, একজনের নয়। সুতরাং দাদির মিরাসের মাসআলায় প্রথম বর্ণনাকারীর (الراوي) সাক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য দ্বিতীয় একজন বর্ণনাকারী (راو ثان) চাওয়ার পেছনে আবু বকর (রা.)-এর উদ্দেশ্য সম্ভবত ছিল সাক্ষ্য পূর্ণ করা, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা ত্রুটিমুক্ত থেকে ফয়সালাটি সঠিক (صحيحاً) হয়।

আমাদের নিকট এই উপলব্ধিটি জোরালো হয় দাদির মাসআলা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে আবু বকর (রা.) কর্তৃক একক বর্ণনাকারী (راو واحد) থেকে হাদিস গ্রহণ করার মাধ্যমে।

আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ব্যাপারে কথা হলো, যদিও তিনি কয়েকবার দ্বিতীয় বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (التوثيق) পুনরাবৃত্তি করেছেন, তবুও তিনি এই পদ্ধতি এবং একক বর্ণনাকারী (راو واحد) থেকে হাদিস গ্রহণ ও তদানুযায়ী আমল করার বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। এটি 'একক ব্যক্তির সংবাদ' (أخبار الآحاد) শীর্ষক আলোচনায় আসবে, তাই দীর্ঘায়িত হওয়া ও পুনরাবৃত্তির ভয়ে এখানে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। একইভাবে ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ব্যাপারে যা জানা যায় যে, তিনি একক বর্ণনাকারীকে (الراوي الواحد) শপথ করাতেন যখন তার সাথে দ্বিতীয় কেউ থাকত না; তবে তার থেকে এটিও জানা যায় যে, তিনি শপথ করানো ছাড়াই একক বর্ণনাকারী (راو واحد) থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فقد نقل الرازي أنه قبل رواية المقداد بنن الأسود في حكم "المذى" دون تحليف.

وأياً كان الأمر فإن تشدد الخلفاء في قبول الحديث وروايته كان نبراساً لمن بعدهم، حين نشطت الأمة في عصر عمر بن عبد العزيز في جمع السنة وتدوينها. وهذا أمر كان ينبغي أن يثير الطمأنينة، ويبهج النفوس بالسعادة لحرص الأمة على حفظ سنة الرسول صلى الله عليه وسلم، وأنها لم تجمع جمعاً عشوائياً، بل أحيطت بكل عناية ودراية بداءاً من عصر الخلفاء الراشدين.

تذدد الخلفاء فتشدد علماء الحديث من بعدهم، وكان نتيجة هذا التشدد هو تنفية السنة من الدخيل والعليل وهذه محمدة يسجلها وعي التاريخ.

كان الأولى بمكنري السنة أن يحترموا أنفسهم فلا يرون الأبيض حالك الظلام.

فهل مان يسعدهم لو تساهل الخلفاء في رواية الحديث؟ إن الله لطيف لما يشاء. ولوكان الخلفاء قد تساهلوا في رواية السنة، لكان هذا التساهل مدعاة لتساهل من جاء بعدهم. ولنزعت الثقة عن سنة من أرسله الله رحمة للعالمين.

استخارة عمر:

أما ما ذكروه من مسألة استخارة عمر رضي الله عنه شهراً في كتابة السنة، فلن يأذن االه له، فهذه المسألة الخطب فيها يسير، إن كان فيها خطب. بل هي - في الواقع - حجة على منكري السنة، وليست حجة لهم، لو كانوا يعقلون فأولاً: فقد ظهر ما كان مكنوناً في على الله وقت استخارة عمر رضي الله عنه في كتابة السنة، ثم انصرافه عنها لما لم يشرح الله صدره لكتابتها.

ظهر ما كان مكنوناً في علم الله وقتئذ، فقد قدَّر الله لحكمة هو يعلمها أن ميقات جمع السنة وكتابتها هو عصر عمر الثاني لا عمر الأول:

عمر بن عبد العزيز لا عمر بن الخطاب.
আল-রাজি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (উমর) শপথ গ্রহণ ছাড়াই 'মযি' সংক্রান্ত বিধানে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করেছিলেন।

বিষয়টি যাই হোক না কেন, হাদিস গ্রহণ এবং এর বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে খলিফাদের এই কঠোরতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ ছিল, যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের যুগে উম্মাহ সুন্নাহর সংকলন (جمع) ও লিপিবদ্ধকরণের (تدوين) কাজে সক্রিয় হয়েছিল। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রশান্তি জাগানো উচিত এবং রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণে উম্মাহর একাগ্রতা দেখে হৃদয়কে আনন্দিত করা উচিত যে, এটি এলোমেলোভাবে সংকলন করা হয়নি; বরং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকেই গভীর মনোযোগ ও বিচক্ষণতার সাথে একে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে।

খলিফাদের কঠোরতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী হাদিস বিশারদগণও কঠোরতা অবলম্বন করেন। এই কঠোরতার ফলস্বরূপ সুন্নাহ বাহ্যিক অনুপ্রবেশকারী (دخيل) এবং ত্রুটিযুক্ত (عليل) বিষয়গুলো থেকে পরিচ্ছন্ন হয়েছে। এটি এমন এক প্রশংসনীয় কর্ম যা ইতিহাসের পাতায় সচেতনভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের জন্য এটাই সমীচীন ছিল যে তারা নিজেদের আত্মসম্মান বজায় রাখত, যাতে শ্বেতশুভ্র বিষয়কে নিকষ কালো অন্ধকার হিসেবে না দেখে।

খলিফাগণ যদি হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন, তবে কি তারা আনন্দিত হতেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন। খলিফাগণ যদি সুন্নাহর বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাতেন, তবে এই শিথিলতা পরবর্তীদের শিথিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াত। ফলে যাকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন, তাঁর সুন্নাহর ওপর থেকে নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) বিলুপ্ত হয়ে যেত।

উমরের ইস্তিখারা:

সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে উমর (রা.)-এর এক মাসব্যাপী ইস্তিখারা করার যে প্রসঙ্গটি তারা উল্লেখ করেছেন যে আল্লাহ তাকে অনুমতি দেননি—সে বিষয়টি যদি বিতর্কিত হয়েও থাকে, তবে তার গুরুত্ব অত্যন্ত নগণ্য। বরং এটি বাস্তবে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধেই এক অকাট্য দলিল (حجة), তাদের স্বপক্ষে নয়—যদি তারা তা অনুধাবন করত। প্রথমত, সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে উমর (রা.)-এর ইস্তিখারার সময় আল্লাহর ইলমে যা নিহিত ছিল তা প্রকাশ পেয়েছে; এরপর তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কারণ আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেননি।

সেই সময় আল্লাহর ইলমে যা নিহিত ছিল তা আত্মপ্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাঁর বিশেষ হিকমতে এটি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন যে, সুন্নাহর সংকলন (جمع) এবং লিপিবদ্ধকরণের সঠিক সময় হলো দ্বিতীয় উমরের যুগ, প্রথম উমরের যুগ নয়:

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, উমর ইবনুল খাত্তাব নন।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولو كان الله كان قد قدَّر جمعها وكتابتها في عصر عمر الأول (النصف الأول من القرن الهجري الأول) لشرح صدر ابن الخطاب لجمعها وكتابتها وتدوينها.

ولإن كان عمر قد انصرف عن كتابتها فهو ما انصرف عن تعظيمها والعمل بها مع كتاب الله في الفتيا والقضاء.

فقد كان الشيخان يحتكمان إلى كتاب الله في كل شئون الدولة والأفراد فإن وجد في كتاب الله قضاء أخذا به، ولم يعدلا عنه إلى سواه.

وإن لم يجدا في كتاب الله بغيتهما طلباها في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن ظفرا بها أسرعل إلى إنقاذها ولم يعدلا عنها إلى سواها. هذا هو المحفوظ بالتواتر من سيرة الشيخين رضي الله عنهما ومن ادعى غير ذلك فهو جهول. إذن فسواء عندنا كتب عمر السنة أو لم يكتبها فإن السنة عند عمر روح القرآن ومفتاحه الذي لا غنى عنه بمحال.

وثانياً: إن هذه الواقعة لو تدبروها لعلموا أنها سلاح ضدهم، قد أصابهم في مقتل لو كانوا يشعرون.

الواقعة الثانية: إن عمر استشار الصحابة في متابة السنة فوافقوه.

أفلا تدل هذه العبارة على إجماع الصحابة الرائع على جواز كتابة السنة، وأن عمر كان اول من فكر في موضوع هذا الإجماع لولا ما كان من أمر الاستخارة.

ونحن أمام حقيقة يجب الإعلان عنها والانتصار لها:

هذه الحقيقية هي أن الصحابة - جميعاً - مجمعون على كتابة السنة ماعدا عمر بعد الاستخارة.

وانصراف عمر عن كتابة السنة لا يؤثر في قوة إجماع من سواه من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم. إنه موقف فردي بحت أمام إجماع جماعي رائع، وإجماع الصحابة حجة لا تنكر.
আল্লাহ যদি উমর (রা.)-এর প্রাথমিক যুগে (প্রথম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে) সুন্নাহ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, তবে তিনি ইবনুল খাত্তাবের অন্তরকে তা সংগ্রহ, লিখন ও বিধিবদ্ধ সংকলনের (تدوين) জন্য উন্মুক্ত করে দিতেন।

উমর (রা.) যদিও তা লিপিবদ্ধ করা থেকে বিরত ছিলেন, তবুও তিনি ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্যে আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি সুন্নাহর মর্যাদা রক্ষা ও তা অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখ হননি।

শাইখাইন রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সকল বিষয়ে আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে ফয়সালা করতেন। যদি তারা আল্লাহর কিতাবে কোনো সমাধান পেতেন, তবে তারা সেটিই গ্রহণ করতেন এবং তা ত্যাগ করে অন্য কিছুর দিকে ফিরে তাকাতেন না।

আর যদি তারা আল্লাহর কিতাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেতেন, তবে তারা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর মধ্যে তা খুঁজতেন। যদি তারা তা পেয়ে যেতেন, তবে দ্রুত তা কার্যকর করতেন এবং তা থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কিছুর দিকে যেতেন না। শাইখাইনের জীবনী থেকে অবিরত বা ধারাবাহিকভাবে (متواتر) এটিই সংরক্ষিত আছে; আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত দাবি করবে সে নিতান্তই মূর্খ। অতএব, উমর (রা.) সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করুন বা না করুন—আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট যে, উমর (রা.)-এর নিকট সুন্নাহ ছিল কুরআনের প্রাণ এবং এর এমন এক চাবিকাঠি যা কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়।

দ্বিতীয়ত: তারা যদি এই ঘটনাটি গভীরভাবে অনুধাবন করত, তবে তারা জানতে পারত যে এটি তাদের বিরুদ্ধেই একটি অস্ত্র, যা তাদের মরণাঘাত করেছে, যদি তারা তা বুঝতে পারত।

দ্বিতীয় ঘটনা: উমর (রা.) সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন এবং তারা তাতে একমত হয়েছিলেন।

এই বর্ণনাটি কি সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বৈধতার (جواز) ওপর সাহাবিদের চমৎকার ঐকমত্যের (إجماع) প্রমাণ দেয় না? আর ইস্তিখারার বিষয়টি না থাকলে উমর (রা.)-ই হতেন সেই ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম এই ঐকমত্যের (إجماع) বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছিলেন।

আমাদের সামনে একটি ধ্রুব সত্য উপস্থিত যা ঘোষণা করা এবং যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া আবশ্যক:

সত্যটি হলো, ইস্তিখারার পরবর্তী উমর (রা.) ব্যতীত সকল সাহাবি সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে একমত (مجمعون) ছিলেন।

উমর (রা.)-এর সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা থেকে বিরত থাকা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অন্যান্য সাহাবিদের ঐকমত্যের (إجماع) শক্তিকে ক্ষুণ্ণ করে না। এটি একটি চমৎকার সামষ্টিক ঐকমত্যের (إجماع) বিপরীতে নিতান্তই ব্যক্তিগত অবস্থান ছিল, আর সাহাবিদের ঐকমত্য (إجماع) এমন এক অকাট্য দলিল (حجة) যা অস্বীকার করার উপায় নেই।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وعمر، وإن كان خليفة ورئيس الدولة، فإن رأيه يُعد مجرد رأي فردي خاص. ولن يرد رأي الفرد - أيا كان - رأي الجماعة وعلماء الأصول مجمعون على أن قول الصحابي لا يُلزم غيره بالإنصياع له، ولن يتعدى اثره صاحبه القائل به إلا إذا ووفق عليه من غيره.

ونحن لا نعلم أن الصحابة غيَّروا موقفهم من جواز كتابة السنة بعد انصراف عمر رضي الله عنه عن كتابتها، فبقى الإجماع على جواز كتابتها، وانفراد عمر بارأي الي ارتآه. فماذا يقول منكرو السنة إذن؟!

ونسألهم: لماذا قبلتهم هذه الرواية عن عمر رضي الله عنه، وفي الوقت نفسه تدعون أن السنة النبوية مزورة وأنتم تعلمون أن نسبة هذه الواقعة إلى عمر، لم تحظ بما حظيت به السنة من عناية الرواة، والتدقيق في صحة روايتها؟ أفتؤمنون ببعض الكتاب وتكفرون ببعض؟!

* * *
উমর (রা.), যদিও তিনি খলিফা এবং রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, তবুও তাঁর অভিমতকে কেবল একটি ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্র অভিমত হিসেবেই গণ্য করা হয়। কোনো ব্যক্তির অভিমত—তিনি যেই হোন না কেন—কখনোই জামাআত বা সমষ্টির অভিমতকে রদ করতে পারে না। মূলনীতি শাস্ত্রের পন্ডিতগণ (علماء الأصول) এ বিষয়ে একমত যে, সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) অন্য কাউকে তা মানতে বাধ্য করে না এবং এর প্রভাব তাঁর ব্যক্তিত্ব অতিক্রম করে অন্যের ওপর বর্তায় না, যদি না অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন।

আমরা জানি না যে, উমর (রা.) সুন্নাহ লিখে রাখার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত হওয়ার পর সাহাবীগণ সুন্নাহ লিখে রাখার বৈধতা (جواز) সংক্রান্ত তাঁদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছিলেন। ফলে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বৈধতার ওপর সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) অটুট থাকে এবং উমর (রা.) তাঁর গৃহীত অভিমতে স্বতন্ত্র থেকে যান। এমতাবস্থায় সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা কী বলবে?!

আমরা তাদের নিকট জানতে চাই: কেন আপনারা উমর (রা.)-এর এই বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করলেন, অথচ একই সাথে দাবি করছেন যে নববী সুন্নাহ বানোয়াট? আপনারা তো ভালো করেই জানেন যে, উমর (রা.)-এর প্রতি এই ঘটনার সম্বন্ধ বর্ণনাকারীগণের (رواة) নিকট সেই পর্যায়ের গুরুত্ব পায়নি এবং এর বর্ণনাটির বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ে তেমন সূক্ষ্মতা অবলম্বন করা হয়নি, যেমনটি সুন্নাহর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো?!

* * *
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الشبهة الخامسة حرق كتب الحديث؟!

رددت الصجف والمجلات في الآونة الأخيرة هذه الشبهة كثيراً، في مقالات لزنادقة العصر، الكارهين لما أنزل الله وما قال رسوله.

كما رددها بعضهم في كتب وضعوها خصيصاً لنسف السنة النبوية من الوجود. ثم أحاطوها بهالة جوفاء من التهويل، حتى ليخيل لقارئ مقالاتهم وكتبهم أن دخان الحرائق التي اشتعلت في كتب الحديث كاد يحجب ضوء الشمس، وأن رائحته ما تزال تزكم الأنوف.

ومبالغة في التهويل ادعوا إشعال هذه الحرائق في ثلاثة أعصر شديدة الحساسية في الإسلام.

* عصر النبي نفسه صلى الله عليه وسلم؟

* عصر الصديق أبي بكر رضي الله عنه؟

* عصر الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه؟

إنهم يريدون أن يوهموا العامة أن التمسك بالسنة والإيمان والعمل بأحاديث ذي الخلق العظيم، إنما هو بدعة وضلالة ليست من الدين في شيء، وإذا كان حرق كتب الحديث قد حدث في عصر النبوة، وعصرى صاحبيه الجليلين أبي بكر وعمر، فمذا تنتظر الأمة - الآن - من بقاء البخاري ومسلم وسائر كتب الحديث إلا خيبة الرجاء؟ إنهم يهيبون بالأمة أن تشعل الحرائق من جديد في ما يعرف بـ "كتب الحديث" لتنجو من الضلال والضياع الذي هي فيه.

بل يرى بعضهم أن إيمان الأمة بالحديث النبوي والعمل به، واعتباره مصدراً للتشريع هو التحول الخطير الذي نُكبت بسببه الأمة، وأن القرآن كان قد تنبأ به وأعلنه في قوله تعالى:
পঞ্চম সংশয় (الشبهة): হাদিস গ্রন্থসমূহ পুড়িয়ে ফেলা؟!

বর্তমান সময়ের ধর্মদ্রোহী (زنادقة), যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন এবং তাঁর রাসুল যা বলেছেন তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের বিভিন্ন প্রবন্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে এই সংশয়টি (الشبهة) বারবার উত্থাপিত হয়েছে।

তেমনিভাবে তাদের কেউ কেউ সুন্নাহকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য বিশেষভাবে রচিত গ্রন্থাবলীতেও এটি বারবার উল্লেখ করেছে। অতঃপর তারা বিষয়টিকে অতিরঞ্জনের এক কৃত্রিম আবহে এমনভাবে ঘিরে ফেলেছে যে, তাদের প্রবন্ধ ও গ্রন্থাবলীর পাঠকদের মনে হতে পারে হাদিস গ্রন্থগুলোতে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল, তার ধোঁয়া যেন সূর্যের আলোকেও আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল এবং তার তীব্র গন্ধ আজও নাকে এসে লাগে।

অতিরঞ্জনের এই বাড়াবাড়িতে তারা দাবি করেছে যে, ইসলামের অত্যন্ত স্পর্শকাতর তিনটি যুগে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল:

* খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগ?

* সিদ্দিক আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ?

* ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ?

তারা সাধারণ মানুষকে এই ধারণা দিতে চায় যে, সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং মহান চরিত্রের অধিকারী রাসুলের হাদিসের ওপর বিশ্বাস ও আমল করা কেবলই একটি নবউদ্ভাবিত প্রথা (بدعة) ও পথভ্রষ্টতা (ضلالة), যার সাথে দ্বীনের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি হাদিস গ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা নবুওয়তের যুগে এবং তাঁর দুই মহান সহচর আবু বকর ও উমরের যুগে ঘটে থাকে, তবে বর্তমান উম্মাহর নিকট বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থ অবশিষ্ট থাকার দ্বারা নিরাশা ছাড়া আর কী প্রত্যাশা করা যায়? তারা উম্মাহকে এই তথাকথিত "হাদিস গ্রন্থগুলোতে" পুনরায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে তারা বর্তমান বিভ্রান্তি ও ধ্বংস থেকে রক্ষা পায়।

এমনকি তাদের কেউ কেউ মনে করে যে, নববী হাদিসের ওপর উম্মাহর বিশ্বাস ও আমল এবং একে শরীয়তের একটি উৎস (مصدر للتشريع) হিসেবে গণ্য করাই হলো সেই ভয়াবহ বিপজ্জনক মোড় যার কারণে উম্মাহ আজ বিপর্যয়ে নিপতিত। আর কুরআন সম্ভবত এ বিষয়েই পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং আল্লাহর এই বাণীতে তা ঘোষণা করেছিল:
(খণ্ড: ১) আশ-শুবহাতুস সালাসুনাল মুসারাহ লি ইনকারিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ আরদুউ ওয়া তাফনীদ ওয়া নাকদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
{وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا} [آل عمران: 144]

تفنيد هذه الشبهة ونقضها:

هذه الشبهة مبالغ فيها من قبل الذين يروجون لها الآن، بل هي أقوال مذكورة على عواهنها لا تثبت أمام النقد.

وأشهرها، بل وأقواها الواقعة المنسوبة إلى أبي بكر الصديق رضي الله عنه.

فقد ذكرها الإمام الذهبي في كتابه [تذكرة الحفاظ: ج 1 ص 5] مع سند طويل لها نقله الحاكم، والقصة بيمامها مع حذف السند، جاء فيها:

"قالت عائشة: جمع أبي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانت خمسمائة حديث، فبات ليلته يتقلب كثيراً، فمعنى فقلت: أتتقلب لشكوى أو لشيء بلغك؟ فلما أصبح قال: أي بنية، هلمي الأحاديث التي عندك فجئته بها، فدعا بنار فأحرقها؟ فقلت: لم أحرقها؟ قال: خشيت أن أموت وهي عندي فيكون فيها أحاديث عنها، رجل أئتمنته ووثقت [فيه] ولم يكن كما حدثني، فأكون قد نقلت ذاك".

هذه هي القصة، والإمام الذهبر من عادته في هذا الكتاب أن يسرد الأقوال دون التعليق عليها، ولكنه علق على هذه الرواية بقوله: "فهذا لا يصح، والله أعلم".

والذهبي إمام لا يشق له غبار في علوم الحديث ونقده وعبارته هذه ذات دلالة قاطعة على شكه في صحة هذه الرواية.

أما نحن فنرى صحتها وعدم صحتها سواء في أنها تخلو من الغرض الذي أراده منها زنادقة العصر، وأعداء سنة صاحب المقام المحمود.

هم يريدون منها أن ابا بكر رضي الله عنه أحرق ما عنده من أحاديث باعتبارها زيادة في الدين لم يأذن الله بها، أو - على الأقل - لعدم الثقة في رواة الأحاديث جميعاً. وما دام أبو بكر - مع صحبته وقرب عهده بالرسول قد
{মুহাম্মদ (সা.) কেবল একজন রসূলই, তাঁর আগে বহু রসূল অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন কিংবা নিহত হন, তবে কি তোমরা তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়, সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।} [আলে ইমরান: ১৪৪]

এই সংশয়ের খণ্ডন ও নিরসন:

বর্তমানে যারা এই সংশয়টি প্রচার করছে তারা এটিকে অতিরঞ্জিত করছে; বরং এগুলো অসংলগ্ন কথা যা সমালোচনার সামনে টিকে থাকতে পারে না।

এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী হলো আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর দিকে নিসবতকৃত ঘটনাটি।

ইমাম যাহাবী তাঁর [তাজকিরাতুল হুফফাজ: ১ম খণ্ড, ৫ পৃষ্ঠা] গ্রন্থে হাকেম কর্তৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ সনদ (سند) সহ এটি উল্লেখ করেছেন। সনদ (سند) বাদ দিয়ে পুরো ঘটনাটি নিম্নরূপ:

"আয়েশা (রা.) বলেন: আমার পিতা রসূলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন এবং তার সংখ্যা ছিল পাঁচশ হাদিস। এক রাতে তিনি বিছানায় খুব ছটফট করছিলেন। আমি বললাম: আপনি কি কোনো অসুস্থতার কারণে নাকি কোনো সংবাদ পেয়েছেন বলে ছটফট করছেন? সকালে তিনি বললেন: হে বৎসা! তোমার কাছে যে হাদিসগুলো আছে সেগুলো নিয়ে এসো। আমি সেগুলো তাঁর কাছে নিয়ে এলাম, তখন তিনি আগুন আনিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে ফেললেন। আমি বললাম: আপনি এগুলো কেন পুড়িয়ে ফেললেন? তিনি বললেন: আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, আমি মারা যাব আর এগুলো আমার কাছে থেকে যাবে, অথচ এর মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস থাকতে পারে যাকে আমি বিশ্বস্ত মনে করেছি এবং যার ওপর আস্থা (وثقت) রেখেছিলাম, কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষে তেমন ছিল না যেমনটি আমার কাছে বর্ণনা করেছিল; ফলে সেই ভুল বর্ণনার দায়ভার আমার ওপর বর্তাতো।"

এই হলো ঘটনাটি। ইমাম যাহাবীর অভ্যাস হলো এই কিতাবে বিভিন্ন বক্তব্য কোনো মন্তব্য ছাড়াই বর্ণনা করা, কিন্তু তিনি এই বর্ণনা (رواية)-টির ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "এটি সহিহ নয় (لا يصح), আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

আর ইমাম যাহাবী হলেন হাদিস বিজ্ঞান ও এর সমালোচনায় এমন এক ইমাম যার সমকক্ষ কেউ নেই। তাঁর এই উক্তিটি এই বর্ণনা (رواية)-টির বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে তাঁর সন্দেহের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ বহন করে।

আমাদের দৃষ্টিতে এর বিশুদ্ধতা (صحة) বা অশুদ্ধতা উভয়ই সমান, কারণ এটি সেই উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত যা বর্তমান যুগের জিন্দিকরা এবং সুন্নাহর শত্রুরা হাসিল করতে চায়।

তারা এর মাধ্যমে বোঝাতে চায় যে, আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে থাকা হাদিসগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এই কারণে যে, এগুলো দ্বীনের মধ্যে অতিরিক্ত বিষয় যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, অথবা অন্ততপক্ষে সকল হাদিস বর্ণনাকারীর (رواة) ওপর আস্থা (الثقة) না থাকার কারণে। যেহেতু আবু বকর (রা.)—রসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্য এবং তাঁর যুগের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও...