(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد القسم: العقيدة
الكتاب: الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد
المؤلف: علي بن إبراهيم بن داود بن سلمان بن سليمان، أبو الحسن، علاء الدين ابن العطار (ت 724هـ)
المحقق: الدكتور سعد بن هليل الزويهري
الناشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، قطر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 478
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 رجب 1436
সন্দেহ ও সমালোচনা মুক্ত বিশুদ্ধ আকিদা বিভাগ: আকিদা
কিতাব: সন্দেহ ও সমালোচনা মুক্ত বিশুদ্ধ আকিদা
লেখক: আলী বিন ইবরাহিম বিন দাউদ বিন সালমান বিন সুলাইমান، আবুল হাসান، আলাউদ্দিন ইবনুল আত্তার (মৃত্যু ৭২৪ হিজরি)
গবেষক: ডক্টর সাদ বিন হিলাল আয-যুওয়াইহিরি
প্রকাশক: ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) ও ইসলামি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়، কাতার
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রজব ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد
تأليف
الإمام علاء الدين علي بن إبراهيم المعروف بابن العطار الشافعي (المتوفى: 727 هـ)
تحقيق
الدكتور سعد بن هليل الزويهري
إصدارات
وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية - إدارة الشؤون الإسلامية
دولة قطر
بتمويل
الإدارة العامة للأوقاف
সংশয় ও সমালোচনা থেকে মুক্ত বিশুদ্ধ বিশ্বাস
রচনা
ইমাম আলাউদ্দীন আলী বিন ইব্রাহিম, যিনি ইবনুল আত্তার শাফেয়ী নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৭২৭ হিজরী)
সম্পাদনা ও গবেষণা
ডক্টর সা'দ বিন হুদাইল আল-জুওয়াইহিরি
প্রকাশনা
ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় - ইসলাম বিষয়ক বিভাগ
কাতার রাষ্ট্র
অর্থায়নে
ওয়াকফ সাধারণ প্রশাসন
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد
সন্দেহ ও সমালোচনা হতে মুক্ত বিশুদ্ধ বিশ্বাস
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1432 هـ - 2011 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة
وتشتمل على ما يلي:
أولاً: أهمية الموضوع وأسباب اختياره.
ثانياً: خطة البحث.
ثالثاً: منهج التَّحقيق والتَّعليق.
ভূমিকা
এবং তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণসমূহ।
দ্বিতীয়ত: গবেষণা পরিকল্পনা।
তৃতীয়ত: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المقدمةإنَّ الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. مَنْ يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضللْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريكَ له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] (1).
أما بعد:
فإن هذه المقدمة تشتمل على ما يلي:
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহের কুফল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১] (১)।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
أولاً: أهمية الموضوع، وأسباب اختياره:إنَّ الاهتمام بعلم العقيدة من الثوابت عند المسلمين، والتي لا تقبل الجدل ولا المساومة؛ فلأجل عبادة الله وحده خَلَق اللهُ الخَلْق، وأنزل الكتب، وأرسل الرسل، وشرع الشرائع، وأقام الحسابَ عليها يوم القيامة، فريق في الجنة وفريق في السعير.
فلذلك صار علمُ العقيدة أفضلَ العلوم وأجلَّها على الإطلاق؛ لأنه العلم بالله وأسمائه وصفاته، إذ شرفُ العلم بشرف المعلوم.
وعليه فلا شكَّ أن أهمَّ علم يجب الاعتناءُ به حفظاً، وتعلماً، وتعليماً، وتأليفاً؛ هو علم العقيدة - أعني: عقيدة أهل السنة والجماعة -، ومن الطرق المعينة على ذلك:
الاهتمام بمصنفاتهم، وخاصة الشاملة لأبواب العقيدة، الحاوية على كثير من الأدلة، والداحضة لشبهات المخالفين.
ولقد اهتم سلفُنا بهذا العلم اهتماماً واضحاً، فالمكتبةُ الإِسلاميةُ مليئةٌ بمؤلفاتهم القيمة النافعة.
وهناك مصنفاتٌ لم تر النور بَعْدُ من مصنفات أهل السنة والجماعة، ومنها: كتاب الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد لعلاء الدين أبي الحسن علي بن إبراهيم بن داود الشافعي، المعروف بابن العطار رحمه الله.
وهناك أسباب دعتني لاختيار هذا الموضوع، منها:
1 - أهميةُ علم العقيدة - عقيدة أهل السنة والجماعة - مما يكون لزاماً على المختصين نشر وإحياء تراث أهل السنة والجماعة.
2 - قيمةُ الكتاب العلمية بموضوعه ومباحثه، وذلك لأنه شاملٌ لمسائل الاعتقاد، مدعم بالأدلَّة السَّمعية والعقلية، وآثار الصَّحابة، وأقوال الأئمة.
প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:নিশ্চয়ই আকিদা শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব প্রদান মুসলিমদের নিকট এমন এক অনড় বিষয় যা কোনো বিতর্ক বা আপস গ্রহণ করে না। কারণ, একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্যই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, রসূলদের পাঠিয়েছেন, শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন এবং কিয়ামতের দিন এগুলোর ওপর ভিত্তি করে হিসাব কায়েম করেছেন; যার ফলে একদল জান্নাতে এবং একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে যাবে।
এই কারণেই আকিদা শাস্ত্র সর্বসম্মতিক্রমে শ্রেষ্ঠ ও মহানতম ইলম হিসেবে গণ্য হয়েছে; কারণ এটি আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কিত ইলম। কেননা বিষয়ের মর্যাদাই জ্ঞানের মর্যাদা নির্ধারণ করে।
সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুখস্থকরণ, শিক্ষাগ্রহণ, শিক্ষাদান এবং রচনার মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ইলমের যত্ন নেওয়া আবশ্যক, তা হলো আকিদা শাস্ত্র—অর্থাৎ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা—এবং এই ক্ষেত্রে সহায়ক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তাঁদের রচনাবলির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, বিশেষ করে আকিদার সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্তকারী, প্রচুর দলিলে সমৃদ্ধ এবং বিরোধীদের সংশয় খণ্ডনকারী গ্রন্থসমূহের প্রতি।
আমাদের সালাফগণ এই ইলমের প্রতি সুস্পষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছেন, যার ফলে ইসলামি লাইব্রেরিগুলো তাঁদের মূল্যবান ও উপকারী রচনাবলি দ্বারা পরিপূর্ণ।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের এমন কিছু রচনাও রয়েছে যা এখনও আলোর মুখ দেখেনি, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: ইবনুল আত্তার (রহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহিম ইবনে দাউদ আশ-শাফিয়ি রচিত ‘সন্দেহ ও সমালোচনা মুক্ত বিশুদ্ধ আকিদা’ নামক গ্রন্থটি।
এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - আকিদা শাস্ত্রের গুরুত্ব—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা—যার ফলে বিশেষজ্ঞদের জন্য আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐতিহ্য প্রচার ও পুনর্জীবিত করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
২ - গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও পর্যালোচনার কারণে এর তাত্ত্বিক মূল্য, কারণ এটি আকিদার মাসয়ালাসমূহকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে এবং শ্রবণগত ও যৌক্তিক দলিল, সাহাবিদের বর্ণনা ও ইমামদের বক্তব্য দ্বারা তা শক্তিশালী করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
3 - امتاز هذا الكتابُ في عرضه لمباحث العقيدة بأسلوب التقرير، وابتعد عن أسلوب المناقشة والرَّدِّ، بالإضافة إلى يُسْر الكتاب، وسهولته، وإيجازه.
4 - أن هذا الكتابَ لم يُطبع - كاملاً - من قبلُ، بل لم ير النور بعد، ففي إخراجه وطبعه وتحقيقه إسهامٌ في نَشْر مصنفات أهل السُّنة والجماعة.
5 - مكانةُ المصنف العلمية، وأنه من الحفاظ الإثبات، بل يُعَدُّ من كبار الشافعية في زمنه، فهو من كبار تلاميذ النَّووي رحمه الله، ومن أثبت النَّاس في شيخه، ومن جانب آخر فهو شيخُ الحافظ الذهبي.
6 - أن هذا الكتابَ لم يُحقَّق تحقيقاً علمياً وافياً، على نسخ خطية، يُضبط فيها النص ضبطاً صحيحاً، مع التعليق عليه تعليقاً يزيل إشكالاته، ويحلُّ مبهماته.
لهذه الأسباب وغيرها اخترتُ أن يكون تحقيقُ هذا الكتاب موضوعَ الرسالة.
ثانياً: خطة البحث:المقدمة، وتشتمل على ما يلي:
أولاً: أهمية الموضوع، وأسباب اختياره.
ثانياً: خطة البحث.
ثالثاً: منهجي في التحقيق والتعليق.
وقد جعلتُ البحثَ على قسمين:
القسم الأول: الدراسة.
ويشتمل على فصلين:
الفصل الأول: ترجمة المؤلف.
الفصل الثاني: دراسة الكتاب، وفيه مباحث:
৩ - আকিদার বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি বর্ণনাধর্মী শৈলীর মাধ্যমে স্বকীয়তা লাভ করেছে এবং এটি বিতর্ক ও খণ্ডনের পথ পরিহার করেছে; এর পাশাপাশি গ্রন্থটি সহজবোধ্য, সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত।
৪ - এই গ্রন্থটি ইতিপূর্বে পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়নি, বরং এটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তাই এটি প্রকাশ, মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের গ্রন্থাবলি প্রচারের ক্ষেত্রে এক বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব।
৫ - গ্রন্থকারের ইলমি মর্যাদা এবং এটি যে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ; বরং তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাফেয়ী আলেম হিসেবে গণ্য ছিলেন। তিনি ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম প্রধান ছাত্র এবং তাঁর উস্তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, তিনি হাফেজ জাহাবীরও উস্তাদ ছিলেন।
৬ - এই গ্রন্থটির ইতিপূর্বে পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে পর্যাপ্ত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কোনো সম্পাদনা করা হয়নি, যার মাধ্যমে মূল পাঠটি সঠিকভাবে বিন্যস্ত হতে পারে এবং এমন কোনো টীকা প্রদান করা হয়নি যা এর জটিলতাসমূহ দূর করে এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো সমাধান করে।
এসব এবং আরও অন্যান্য কারণে আমি এই গ্রন্থের সম্পাদনাকে আমার গবেষণাপত্রের বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি।
দ্বিতীয়ত: গবেষণার পরিকল্পনা:ভূমিকা, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণসমূহ।
দ্বিতীয়ত: গবেষণার পরিকল্পনা।
তৃতীয়ত: সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি।
আমি এই গবেষণাকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: গবেষণা ও পর্যালোচনা।
এটি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পর্যালোচনা, এবং এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: عنوان الكتاب، ونسبته لمؤلفه.
المبحث الثاني: مصادر المؤلف في كتابه.
المبحث الثالث: عرض لأهم قضايا الكتاب.
المبحث الرابع: منهج المؤلَّف في كتابه.
المبحث الخامس: وصف النُّسخ الخطية.
المبحث السادس: تقويم الكتاب.
القسم الثاني: التحقيق.
- الخاتمة.
- الفهارس.
ثالثاً: منهجي في التحقيق والتعليق:لقد بذلتُ جهداً - بحمد الله - في خدمة هذا الكتاب، وكان عملي فيه على النحو الآتي:
أولاً: خدمة نصِّ الكتاب:1 - جمعتُ ما أمكنني الحصول عليه من نسخ هذا الكتاب، وبلغت ثلاث نسخ، وجعلتُ إحداها أصلاً، وهي النسخة الظاهرية رقم (2961) ورمزت لها بـ: (ص)، وقابلتها مع النسخ الأخرى: وهي النسخة الظاهرية الثانية رقم (2934)، ورمزت لها بـ: (ظ)، ونسخة مكتبة أثينا بروما، ورمزت لها بـ: (ن).
2 - أثبتُّ نص النسخة الأصلية (ص) في المتن، ووضعت فوارق النسخ الأخرى في الحاشية؛ إلا ما بان خطؤه، أو ترجَّح لي أن ما في (ظ) أو (ن) هو الصواب، فأثبته في المتن بين معقوفتين هكذا [] وأبين ما في (ص) في الحاشية.
3 - الكلمات والجمل المصححة في حاشية النسخ (ص) و (ظ) و (ن) أعدها من أصل هذه النسخ.
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের শিরোনাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের প্রধান আলোচ্য বিষয়াবলির উপস্থাপন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহের বর্ণনা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মূল্যায়ন।
দ্বিতীয় অংশ: তাহকিক (সম্পাদনা)।
- উপসংহার।
- নির্ঘণ্টসমূহ।
তৃতীয়ত: তাহকিক ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি:আল্লাহর প্রশংসায়—আমি এই গ্রন্থের খিদমতে যথেষ্ট প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এতে আমার কাজ ছিল নিম্নরূপ:
প্রথমত: গ্রন্থের মূল পাঠের খিদমত:১ - আমি এই গ্রন্থের যতটুকু সম্ভব পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছি এবং তার সংখ্যা তিনটি। আমি এর একটিকে মূল (আসল) হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যা হলো যাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি নং (২৯৬১) এবং একে (ص) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। অতঃপর আমি অন্য পাণ্ডুলিপিসমূহের সাথে এর তুলনা করেছি: যা হলো দ্বিতীয় যাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি নং (২৯৩৪), যাকে (ظ) প্রতীক দিয়েছি এবং রোমের অ্যাথেন্স লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যাকে (ن) প্রতীক দিয়েছি।
২ - আমি মূল পাণ্ডুলিপির (ص) পাঠকে মূল গ্রন্থে বহাল রেখেছি এবং অন্য পাণ্ডুলিপিসমূহের পাঠভেদসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করেছি; তবে যেটির ভুল স্পষ্ট হয়েছে অথবা আমার নিকট (ظ) বা (ن) এর পাঠ সঠিক বলে অগ্রগণ্য হয়েছে, তা আমি মূল পাঠে থার্ড ব্র্যাকেটের [] মাঝে স্থাপন করেছি এবং (ص) পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
৩ - (ص), (ظ) এবং (ن) পাণ্ডুলিপিসমূহের পার্শ্বটীকায় সংশোধিত শব্দ ও বাক্যসমূহকে আমি উক্ত পাণ্ডুলিপিসমূহের মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
4 - نظراً لأنَّ المؤلَّف رحمه الله يكثر النقل، فإني أقابل بين الكتب التي نقل منها بالنص وبين النسخ الأخرى؛ مبيناً إن كانت هناك فروق في الحاشية، سواء عزا المؤلَّف إلى هذه الكتب أم لم يَعْزُ إليها.
أما الكتب المطبوعة التي اعتمدتها في المقابلة، فهي:
أ - صريح السُّنة، للإمام أبي جعفر محمَّد بن جرير الطبري، تحقيق بدر المعتوق، الطبعة الأولى عام 1405 هـ، نشر دار الخلفاء للكتاب الإِسلامي - الكويت.
ب - متن العقيدة الطحاوية، للإمام أبي جعفر الطحاوي الحنفي، الطبعة الأولى عام 1408 هـ، نشر مكتبة ابن تيمية - القاهرة.
ج - الأسماء والصِّفات، للإمام الحافظ أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي، تحقيق عبد الله الحاشدي، الطبعة الأولى عام 1413 هـ، نشر مكتبة السوادي - جدة، وكذلك طبعة دار الكتب العلمية - بيروت.
د - عقيدة السلف وأصحاب الحديث، للإمام أبي عثمان إسماعيل بن عبد الرحمن الصابوني، دراسة وتحقيق الدكتور ناصر بن عبد الرحمن الجديع، الطبعة الأولى 1415 هـ، نشر دار العاصمة - الرياض.
هـ - الشفا بتعريف حقوق المصطفى، للقاضي أبي الفضل عياض بن موسى اليحصبي، تحقيق علي محمَّد البجاوي، نشر دار الكتاب العربي - بيروت.
و- إكمال المعلم بفوائد صحيح مسلم، للقاضي أبي الفضل عياض بن موسى اليحصبي، تحقيق يحيى إسماعيل، نشر دار الوفاء بمصر، الطبعة الأولى 1419 هـ (1).
--------------------------------------------
৪ - যেহেতু লেখক (রহিমাহুল্লাহ) প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন, তাই তিনি যে সকল গ্রন্থ থেকে আক্ষরিকভাবে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন সেগুলোর সাথে অন্যান্য সংস্করণের তুলনা করেছি; কোনো পার্থক্য থাকলে তা টীকায় স্পষ্ট করে দিয়েছি, লেখক সেই গ্রন্থগুলোর প্রতি উদ্ধৃতিটি সম্বন্ধিত (হাওয়ালা) করুন বা না-ই করুন।
আর তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি যে সকল মুদ্রিত গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলো হলো:
ক - সারীহুস সুন্নাহ, ইমাম আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারীর আত-তাবারী রচিত, বদর আল-মাতুক কর্তৃক সম্পাদিত, প্রথম প্রকাশ ১৪০৫ হিজরী, দারুল খুলাফা লিল কিতাব আল-ইসলামী - কুয়েত কর্তৃক প্রকাশিত।
খ - মাতনুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী আল-হানাফী রচিত, প্রথম প্রকাশ ১৪০৮ হিজরী, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত।
গ - আল-আসমা ওয়াস-সিফাত, হাফেজ ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী রচিত, আব্দুল্লাহ আল-হাশেদী কর্তৃক সম্পাদিত, প্রথম প্রকাশ ১৪১৩ হিজরী, মাকতাবাতুস সাওয়াদী - জেদ্দা, এবং দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত সংস্করণ।
ঘ - আকিদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদিস, ইমাম আবু উসমান ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান আস-সাবুনী রচিত, ডক্টর নাসির বিন আব্দুর রহমান আল-জুদাই কর্তৃক গবেষণা ও সম্পাদিত, প্রথম প্রকাশ ১৪১৫ হিজরী, দারুল আসিমাহ - রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত।
ঙ - আশ-শিফা বিতারিফি হুকুকিল মুস্তফা, কাজী আবু ফজল আয়ায বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি রচিত, আলী মুহাম্মাদ আল-বেজাবি কর্তৃক সম্পাদিত, দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত।
চ - ইকমালুল মুয়াল্লিম বিফাওয়াইদি সহীহ মুসলিম, কাজী আবু ফজল আয়ায বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি রচিত, ইয়াহইয়া ইসমাইল কর্তৃক সম্পাদিত, দারুল ওয়াফা মিশর কর্তৃক প্রকাশিত, প্রথম প্রকাশ ১৪১৯ হিজরী (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
5 - ضبطتُ - ما أمكنني - نصَّ الكتاب بالشكل، مع مزيد من الاهتمام بالمشكل من الأسماء والألفاظ المختلفة.
6 - قمتُ بتحديد بدايات الجمل، والفقرات، ونهاياتها.
7 - لا أعتبر بعضَ الفروق التي لا تأثير لها مثل: عليه السلام ويقابله صلى الله عليه وسلم، و رضي الله عنه ويقابله رحمه الله وغيرها من الجمل الدُّعائية.
8 - قمتُ بتصحيح الأخطاء النحوية في (ص)، وغالباً لا أثبتها في فروق النسخ الأخرى.
9 - قمتُ بحذف الكلمات المكررة والزائدة والخاطئة، التي لا يضيرُ حذفها.
10 - كتبتُ الآيات القرآنية وفق الرسم العثماني.
11 - التزمتُ بعلامات التنصيص المعتبرة في البحث العلمي، حيث جعلتُ أحاديثَ الرسول صلى الله عليه وسلم بين أقواس صغيرة هكذا ""، وما عدا أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم من الآثار والأقوال فإني أجعلُها بين قوسين هكذا ().
وقمتُ بوضع علامات الترقيم المختلفة التي تُيسَّر فَهْمَ النص، من فواصل، ونقاط، وعلامات تنصيص، وعلامات الجمل المعترضة، وعلامات التعجب، والاستفهام، وغيرها.
12 - قمتُ بترقيم فصول الكتاب، وجعلته بين قوسين هكذا: ().
13 - قمتُ بتحديد نهاية كلِّ صفحة في المخطوطة (ص) بوضع هذه العلامة (/) عقب الكلمة الأخيرة مباشرة.
--------------------------------------------
৫ - আমি - যথাসম্ভব - গ্রন্থটির পাঠ্য হরকতসহ বিন্যস্ত করেছি এবং দুর্বোধ্য নাম ও বিভিন্ন শব্দের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছি।
৬ - আমি বাক্যের শুরু, অনুচ্ছেদ এবং এগুলোর সমাপ্তি চিহ্নিত করেছি।
৭ - আমি এমন কিছু পার্থক্য আমলে নিইনি যেগুলোর কোনো প্রভাব নেই, যেমন: ‘আলাইহিস সালাম’ এবং এর বিপরীতে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’, অথবা ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ এবং এর বিপরীতে ‘রাহিমাহুল্লাহ’ ও এজাতীয় অন্যান্য দুআসূচক বাক্য।
৮ - আমি (সাদ) পাণ্ডুলিপির ব্যাকরণগত ভুলগুলো সংশোধন করেছি এবং সাধারণত অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠভেদে সেগুলো উল্লেখ করিনি।
৯ - আমি পুনরাবৃত্ত, অতিরিক্ত এবং ভুল শব্দগুলো বাদ দিয়েছি, যা বাদ দিলে কোনো ক্ষতি হয় না।
১০ - আমি কুরআনের আয়াতসমূহ উসমানি লিপির রীতি অনুযায়ী লিখেছি।
১১ - আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্বীকৃত উদ্ধৃতি চিহ্নগুলো অনুসরণ করেছি, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসসমূহকে এমন "" ছোট উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছি, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস ছাড়া অন্যান্য আছার ও বাণীসমূহকে এমন () বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি।
এছাড়া আমি পাঠ্য অনুধাবন সহজ করতে কমা, দাঁড়ি, উদ্ধৃতি চিহ্ন, মধ্যবর্তী বাক্যের চিহ্ন, বিস্ময়সূচক চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্নসহ বিভিন্ন যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছি।
১২ - আমি গ্রন্থের অধ্যায়গুলো ক্রমানুসারে নম্বর দিয়েছি এবং তা এমন () বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি।
১৩ - আমি (সাদ) পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠার সমাপ্তি চিহ্নিত করতে শেষ শব্দের ঠিক পরেই এই (/) চিহ্নটি ব্যবহার করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثانياً: منهجي في التعليق:وأهمُّ ما قمتُ به في تعليقي على النَّصِّ ما يلي:
1 - عزو الآيات الكريمة إلى سُورها، مع ذكر أرقامها.
2 - خرجتُ الأحاديثَ من مصادرها الأصلية كالصِّحاح، والسُّنن، والمسانيد، والمعاجم، والمصنفات، وغيرها.
فإذا كان الحديثُ في الصَّحيحين أو في أحدهما اكتفيتُ بعزوه إليهما أو إلى أحدهما، وإن كان في غيرهما أجتهدُ غالباً في تخريجه من مصادره، مع ذِكْر ما قاله العلماء قديماً وحديثاً في الحكم عليه إن وُجِدَ.
وأذكرُ عند التخريج اسم الكتاب، والجزء، والصفحة، ورقم الحديث، والكتاب، والباب.
3 - قمتُ بتخريج الآثار من مظانها ما أمكن، مع ذكر ما قاله العلماء في الحكم عليها إن وجد، وإيراد نصوص الأحاديث والآثار التي يشيرُ إليها المؤلف.
4 - قمتُ بتوثيق نُقُولِ الكتاب، بإرجاعها إلى مصادرها، إلا إذا تعذَّر ذلك لعدم تيسُّر مصدره، أو عدم الاهتداء إلى مظانه.
5 - ترجمتُ للأعلام الوارد ذِكْرهم في نَصِّ الكتاب؛ سوى الصحابة رضي الله عنهم لشهرتهم.
6 - شرحتُ الألفاظ الغريبة الواردة في نص الكتاب، من خلال كتب اللغة، وغريب الحديث.
7 - عرّفتُ الفِرق والمِلل والنِّحَل والأديان الواردة في النص.
8 - عرَّفتُ الأماكنَ والبلدانَ غير المشهورة والواردة في النص.
9 - عرَّفتُ المصطلحات والألفاظ الكلامية والفلسفية الواردة في النص.
দ্বিতীয়ত: আমার টীকা প্রদানের পদ্ধতি:মূল পাঠের ওপর আমার টীকায় আমি যা করেছি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - কুরআনের আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে সম্বন্ধ করা এবং তাদের নম্বর উল্লেখ করা।
২ - আমি হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎস যেমন সিহাহ, সুনান, মাসানিদ, মা'আজিম, মুসান্নাফাত এবং অন্যান্য উৎস থেকে তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) করেছি।
যদি হাদিসটি সহিহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেগুলোর দিকে সম্বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে সাধারণত আমি তার মূল উৎসগুলো থেকে তা বের করার চেষ্টা করেছি এবং হাদিসটির মান সম্পর্কে প্রাচীন ও বর্তমান আলেমদের বক্তব্য (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি।
তাখরিজের সময় আমি গ্রন্থের নাম, খণ্ড, পৃষ্ঠা, হাদিস নম্বর, কিতাব এবং অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছি।
৩ - আমি আছারসমূহকে (সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি) যথাসম্ভব তাদের উৎসস্থল থেকে বের করেছি এবং সেই সাথে সেগুলোর মান সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি। এছাড়া লেখক যে সকল হাদিস ও আছারের দিকে ইশারা করেছেন, সেগুলোর মূল পাঠও সংযোজন করেছি।
৪ - আমি গ্রন্থের উদ্ধৃতিগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সেগুলোর প্রামাণিকতা যাচাই করেছি; তবে উৎসটি সহজলভ্য না হওয়ার কারণে বা এর অবস্থান খুঁজে না পাওয়ার কারণে সম্ভব না হলে ভিন্ন কথা।
৫ - আমি গ্রন্থের মূল পাঠে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেছি; তবে সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-গণ প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে তাদের জীবনী বাদ রেখেছি।
৬ - আমি অভিধান এবং গারিবুল হাদিসের কিতাবসমূহের সাহায্য নিয়ে গ্রন্থের মূল পাঠে ব্যবহৃত অপরিচিত ও কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছি।
৭ - আমি মূল পাঠে উল্লিখিত বিভিন্ন দল, উপদল, মতবাদ ও ধর্মগুলোর পরিচয় দিয়েছি।
৮ - আমি মূল পাঠে উল্লিখিত অপ্রসিদ্ধ স্থান ও দেশসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি।
৯ - আমি মূল পাঠে আসা ইলমুল কালাম ও দর্শন শাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দ ও সংজ্ঞাসমূহ স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
10 - مناقشة آراء المصنَّف التي تحتاجُ إلى مناقشة وتعليق.
11 - وضعتُ فهارس للكتاب، وتشملُ ما يلي:
أ - فهرس للآيات.
ب - فهرس للأحاديث.
ج - فهرس للآثار.
د - فهرس للأعلام.
هـ - فهرس للفِرق والأديان.
و- فهرس للكلمات الغريبة، والمصطلحات العلمية.
ز - فهرس للأماكن.
ح - فهرس للكتب الواردة في النص.
ط - فهرس المصادر والمراجع.
ي - فهرس الموضوعات (1).
وأخيراً؛ فإني أحمد الله، وأشكره على جميع نعمه وآلائه، ثم أشكر فضيلة الشيخ المشرف: د. عبد العزيز بن محمَّد بن علي العبد اللطيف؛ الذي كان له الفضلُ بعد الله في إنجاز هذه الرسالة على الوجه المطلوب، والذي وهبني الكثير من وقته وجهده أثناء إعدادي لهذه الرسالة، وأسأل الله أن يجعلَ ذلك في موازين حسناته، وأن يعظم له المثوبة والأجر.
وأشكر قبل ذلك والديَّ العزيزين؛ اللذين كانا وراء نجاحي في
--------------------------------------------
১০ - লেখকের মতামতসমূহ নিয়ে আলোচনা যা পর্যালোচনা ও টীকার প্রয়োজন রাখে।
১১ - আমি বইটির জন্য নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
ক - আয়াতের নির্ঘণ্ট।
খ - হাদিসের নির্ঘণ্ট।
গ - আছারের নির্ঘণ্ট।
ঘ - ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
ঙ - দল ও ধর্মসমূহের নির্ঘণ্ট।
চ - কঠিন শব্দাবলি ও বৈজ্ঞানিক পরিভাষাসমূহের নির্ঘণ্ট।
ছ - স্থানসমূহের নির্ঘণ্ট।
জ - পাঠ্যে উল্লেখিত বইসমূহের নির্ঘণ্ট।
ঝ - উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
ঞ - বিষয়সূচি (১)।
পরিশেষে; আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সকল নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি। অতঃপর আমি শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক শায়খ ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-আব্দুল লতিফ-কে ধন্যবাদ জানাই; আল্লাহর অনুগ্রহের পর এই গবেষণাপত্রটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, এবং যিনি এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুতির সময় আমাকে তাঁর অনেক সময় ও শ্রম দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং তাঁর প্রতিদান ও সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।
তার পূর্বে আমি আমার প্রিয় পিতামাতাকে ধন্যবাদ জানাই; যারা সফলতার শিখরে পৌঁছাতে আমার ছায়াসঙ্গী ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذه الرسالة بالنصح والدعاء، طالباً من الله أن يرزقني بِرَّهما، وأن يرحمها، ويُحْسِنَ لهما الختام.
والشكر موصولٌ لجامعة الإِمام محمَّد بن سعود الإِسلامية ممثلة في مديرها، ووكلاء الجامعة، ومنسوبيها؛ إذ للجامعة الفضل بعد الله في فتح أبواب البحث الأكاديمي والعلمي، وتشجيع طلبة العلم لسلوكه.
وكذلك أشكر كلَّ مَنْ أسهم وساعد في إتمام هذه الرسالة؛ بدءاً من عميد الكلية، ورئيس قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة.
كما أشكر كلَّ مَنْ أمدَّني بما أحتاجه من مراجع، ومصادر، ومشورة علمية، فجزاهم الله خير الجزاء.
وفي الختام فهذا جهدُ المقلِّ، فما كان من صواب فمن الله سبحانه وتعالى، وما كان من خطأ فمن نفسي والشيطان. والله أسأل أن يعينني على العمل بما علمت وَفْق مرضاته، وأن يرزقني الإخلاصَ في كلِّ قولٍ وعملٍ، إنه وليُ ذلك، والقادر عليه.
وصلى الله وسلم على نبينا محمَّد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
এই গবেষণাপত্রটি উপদেশ ও দোয়ার মাধ্যমে পেশ করছি, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার তাওফিক দান করেন, তাঁদের প্রতি দয়া করেন এবং তাঁদের জীবনের সমাপ্তি যেন কল্যাণকর হয়।
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি—এর পরিচালক, উপ-পরিচালকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে; কেননা আল্লাহর অনুগ্রহের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অবদান রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার দ্বার উন্মোচন করার এবং ইলম অন্বেষণকারীদের এই পথে চলতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে।
অনুরূপভাবে আমি তাঁদের সকলকেও ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করতে অবদান রেখেছেন ও সহায়তা করেছেন; বিশেষ করে কলেজের ডিন এবং আকীদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের প্রধান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলে।
আমি তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমাকে প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র, উৎসগ্রন্থ এবং তাত্ত্বিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
পরিশেষে, এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী অর্জিত জ্ঞান মোতাবেক আমল করার তৌফিক দান করেন এবং প্রতিটি কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الأول:
الدَّراسةويشتملُ على فصلين:
الفصلُ الأوَّل: ترجمة للمؤلف.
الفصلُ الثَّاني: دراسة الكتاب، وفيه مباحث:
المبحث الأول: عنوانُ الكتاب، ونسبته لمؤلفه.
المبحث الثَّاني: مصادر المؤلف في كتابه.
المبحث الثَّالث: عَرْض لأهم قضايا الكتاب.
المبحث الرَّابع: منهجُ المؤلف في كتابه.
المبحث الخامس: وصفُ النُّسخ الخطية.
المبحث السَّادس: تقويمُ الكتاب.
প্রথম বিভাগ:
পর্যালোচনাএটি দুটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পর্যালোচনা, এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের শিরোনাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের উপস্থাপনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহের বর্ণনা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মূল্যায়ন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصلُ الأول: ترجمة المؤلفوتشتملُ الترجمةُ على ما يلي:
• تمهيد.
• عصره.
• اسمه، ونسبه.
• أسرته.
• مولده.
• نشأته.
• طلبه للعلم.
• الرَّحلة في طلب العلم.
• شيوخه.
• تلاميذه.
• صفاته، وأخلاقه.
• مكانته العلمية.
• تدريسه.
• فتاواه.
• مؤلفاته، وآثاره.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনীজীবনবৃত্তান্তটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
• ভূমিকা।
• তাঁর যুগ।
• তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
• তাঁর পরিবার।
• তাঁর জন্ম।
• তাঁর বেড়ে ওঠা।
• তাঁর ইলম অর্জন।
• ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর।
• তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
• তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
• তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র।
• তাঁর ইলমি মর্যাদা।
• তাঁর শিক্ষাদান।
• তাঁর ফতোয়াসমূহ।
• তাঁর রচনাবলি ও জ্ঞানগর্ভ নিদর্শনসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ترجمة ابن العطار (1) رحمه الله
•
تمهيد:أُحبُّ أن أشيرَ إلى أن ابن العطار لم يترجمْ له في المصادر التي
--------------------------------------------
ইবনুল আত্তার (১) রাহিমাহুল্লাহর জীবনী
•
ভূমিকা:আমি উল্লেখ করতে চাই যে, ইবনুল আত্তারের জীবনী সেই উৎসগুলোতে বর্ণিত হয়নি যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بين أيدينا ترجمة تليق بمكانته العلمية، والغريب في الأمران معظم مَنْ ترجم له هم من معاصريه، أو من تلاميذه، أو من الطبقة التي بعدهم، وكان بإمكان هؤلاء أن يبينوا كثيراً من محاسن الشيخ ومناقبه وآثاره التي خلّفها لنا، والمدارس التي قامت على أكتافه؛ لأنهم عرفوه عن قرب، ورأوا آثاره العلمية بأعينهم، ثم إن هذا القليل الذي ذكروه عنه في ترجمته مكرر، ذلك أن أول من ترجم له هو تلميذه الذهبي، فقد ترجم له في أكثر كتبه، ولكن بما لا يتجاوز أسطراً.
وكل من جاء بعده اعتمد في ترجمته على ما ذكره الذهبي؛ إلا بعض الزيادات التي ليست من جوهر الترجمة، ولعل عذر الذهبي في عدم التوسع في ترجمته أنه خصَّص معجماً لشيوخ ابن العطار، فلعله ترجم له قبل ذِكْر شيوخه ترجمة موسَّعة للمؤلف، فاكتفى في بقية كتبه بذكر قليلٍ من سيرته؛ اعتماداً على ما في ذلك الكتاب، ولكني لم أقفْ على ذلك الكتاب حتى هذه اللحظة.
•
عصره:اتسم عصرُ ابن العطار رحمه الله بكثرة الأحداث، وتغير الدول، وقيام الفتن بين الفينة والأخرى، وشهد عصرُه فترةً من فترات ضعف المسلمين بعد الإطاحة بالخلافة العباسية على يد المغول، ولقد لعبتِ
--------------------------------------------
আমাদের সামনে রয়েছে এমন এক জীবনী যা তাঁর ইলমি মর্যাদার উপযোগী। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর জীবনী যারা লিখেছেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন তাঁর সমসাময়িক, তাঁর ছাত্র অথবা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের। তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল শাইখের অনেক গুণাবলি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তিনি আমাদের জন্য যেসব নিদর্শন রেখে গেছেন, সেই সঙ্গে তাঁর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা। কারণ তাঁরা তাঁকে খুব কাছ থেকে জানতেন এবং তাঁর ইলমি অবদানসমূহ স্বচক্ষে দেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনীতে তারা যতটুকু উল্লেখ করেছেন তা মূলত পুনরাবৃত্তি মাত্র। এর কারণ হলো, প্রথম যিনি তাঁর জীবনী লিখেছেন তিনি হলেন তাঁর ছাত্র আয-যাহাবি; তিনি তাঁর অধিকাংশ কিতাবেই তাঁর জীবনী এনেছেন, তবে তা কয়েক লাইনের বেশি অতিক্রম করেনি।
তাঁর পরবর্তী যারা এসেছেন, তারা জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আয-যাহাবির বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছেন; কেবল কিছু অতিরিক্ত তথ্য ছাড়া যা জীবনীর মূল অংশের অন্তর্ভুক্ত নয়। জীবনীর ব্যাপ্তি না বাড়ানোর ব্যাপারে আয-যাহাবির ওজর সম্ভবত এই যে, তিনি ইবনুল আত্তারের শিক্ষকদের জন্য একটি পৃথক অভিধান (মুজাম) তৈরি করেছিলেন। সম্ভবত সেখানে তিনি শিক্ষকদের বর্ণনার পূর্বে লেখকের একটি বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছিলেন। তাই তাঁর অন্যান্য কিতাবে সেই কিতাবের ওপর নির্ভর করে তাঁর জীবনীর সামান্য অংশ উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত সেই কিতাবটি খুঁজে পাইনি।
•
তাঁর যুগ:ইবনুল আত্তার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ ছিল বহুবিধ ঘটনা, রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন এবং মাঝেমধ্যে ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। মোঙ্গলদের হাতে আব্বাসীয় খিলাফতের পতনের পর তাঁর যুগ মুসলিমদের দুর্বলতার এক কালখণ্ড প্রত্যক্ষ করেছিল। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفتنُ والأطماعُ الشخصية دورها في زيادة عدم الاستقرار السياسي في البلاد الإِسلامية، الأمر الذي أضعف كيانَ الدولة الإِسلامية وخاصة بعد سقوط بغداد على يد هولاكو، حيث تلا ذلك اضطرابٌ عظيم، وإن كان الأمر تراوح بين نصر وهزيمة من آن لآخر بين التتر والمسلمين، ولعلّي أُلخَّص عصره فيما يلي:
أولاً: أهم الملوك:نظراً لكثرة قيام الدول وزوالها، وسرعة المتغيرات السياسية، فقد أكثر الملوكُ والسلاطين، وسأقتصر على أهمهم في حياة ابن العطار رحمه الله وهم:
1 - المستعصم بالله، وهو آخرُ الخلفاء العباسيين، وهو عبد الله أبو أحمد بن المستنصر أبي جعفر منصور بن محمَّد الطاهر ابن الإِمام الناصر أحمد، كان ضعيفَ الرأي، قد غلب عليه أمراءُ دولته لسوء تدبيره، تولى الخلافةَ بعد موت أبيه المستنصر، سنة أربعين وستمئة، وكانت مدة خلافته 16 سنة تقريباً (1).
2 - الملك الظاهر بيبرس، كان ملكاً جليلاً شجاعاً مهيباً، ملك الديار المصرية والشام وغيرها، وفتح الفتوحات الجليلة، وأصله مملوك قبجاقي الجنس، تولى السلطنة بعد أن قام بقتل الملك المظفر قطز سنة ثمان وخمسين وستمئة، وكانت مدة مملكته سبع عشرة سنة تقريباً، وتوفي سنة ست وسبعين وستمئة (2).
3 - السلطان الملك المنصور قلاوون الصالحي، كان ملكاً مهيباً، حليماً، قليل سفك الدماء، كثير العفو، شجاعاً، فتح الفتوحات العظيمة
--------------------------------------------
ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং ব্যক্তিগত লালসা ইসলামি দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করেছিল, যা ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়, বিশেষ করে হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতনের পর। এর ফলে এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, যদিও তাতার ও মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিজয় ও পরাজয়ের পালাবদল ঘটেছিল। সম্ভবত তাঁর সময়কালকে আমি নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারি:
প্রথমত: প্রধান রাজন্যবর্গ:রাষ্ট্রসমূহের উত্থান-পতন এবং দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজা ও সুলতানদের সংখ্যা অনেক ছিল। আমি ইবনুল আত্তার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনে তাঁদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন তাঁদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব, তাঁরা হলেন:
১ - আল-মুসতাসিম বিল্লাহ: তিনি ছিলেন আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে সর্বশেষ খলিফা। তিনি হলেন আব্দুল্লাহ আবু আহমাদ বিন আল-মুসতানসির আবি জাফর মানসুর বিন মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনুল ইমাম আন-নাসির আহমাদ। তিনি দুর্বল মতামতের অধিকারী ছিলেন এবং অদূরদর্শিতার কারণে তাঁর রাষ্ট্রের আমিরগণ তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। তিনি তাঁর পিতা আল-মুসতানসিরের মৃত্যুর পর ৬৪০ হিজরিতে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল প্রায় ১৬ বছর (১)।
২ - আল-মালিকুজ জাহির বাইবার্স: তিনি ছিলেন একজন মহান, সাহসী ও প্রতাপশালী রাজা। তিনি মিসর, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন এবং মহান বিজয়সমূহ সম্পন্ন করেন। বংশগতভাবে তিনি ছিলেন কিপচাক বংশোদ্ভূত মামলুক। তিনি সুলতান আল-মালিকুল মুজাফফর কুতুজকে হত্যার পর ৬৫৮ হিজরিতে সালতানাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর রাজত্বকাল ছিল প্রায় সতেরো বছর এবং তিনি ৬৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
৩ - সুলতান আল-মালিকুল মানসুর কালাউন আস-সালিহি: তিনি ছিলেন একজন প্রতাপশালী ও সহনশীল রাজা, যিনি রক্তপাত অপছন্দ করতেন, অধিক ক্ষমাশীল ও সাহসী ছিলেন এবং মহান বিজয়সমূহ অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مثل المرقب وطرابلس؛ التي لم يجسر أحد من الملوك مثل صلاح الدين الأيوبي وغيره على فتحهما، وكسر جيش التتر على حمص وكانوا في جمع عظيم، توفي في عام 689 هـ، وكانت مدة توليه الملك نحو إحدى عشرة سنة تقريباً، بداية من عام 678 هـ (1).
4 - السلطان محمَّد الناصر بن قلاوون، والذي تولى الحكم صغيراً بعد مقتل أخيه الأشرف عام ثلاث وتسعين وستمئة، وتوفي ابن العطار رحمه الله عام 724 هـ ولا زال الملك الناصر على كرسيه (2).
ثانياً: أهم الأحداث:- في عام 655 هـ ظهرت نار بالحرة عند مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم، وكان لها بالليل ضوء عظيم يظهر من مسافة بعيدة جداً، ولعلها النارُ التي ذكرها الرسول صلى الله عليه وسلم من علامات الساعة، وأنها تضيء لها أعناق الإبل ببصرى (3).
- في أول سنة 656 هـ قصد هولاكو ملك التتر بغداد، ودخلها في العشرين من المحرم، وقتل الخليفة المستعصم بالله، وسبب ذلك أنَّ وزيرَ الخليفة مؤيد الدين ابن العلقمي كان رافضياً، وكان أهلُ الكرخ أيضاً رافضة، فجرتْ فتنةٌ بين السُّنة والشِّيعة، فأمر أبو بكر ابن الخليفة وركن الدين الدوادار العسكر، فنهبوا الكرخ، وهتكوا النساء، فعظم ذلك على الوزير ابن العلقمي، وكاتب التتر وأطمعهم في ملك بغداد، فساروا قاصدين بغداد في جحفل عظيم، وخرج عسكر الخليفة لقتالهم، فاقتتلوا قتالاً شديداً، فانهزم عسكر الخليفة، ودخل بعضهم بغداد، وسار بعضهم إلى جهة الشام، ونزل هولاكو على بغداد، وقتل الخليفة
--------------------------------------------
যেমন আল-মারকাব এবং ত্রিপোলি; যা সালাহউদ্দিন আইয়ুবি বা অন্য কোনো রাজা জয় করার সাহস করেননি। তিনি হিমসে তাতার বাহিনীকে পরাজিত করেন যখন তারা এক বিশাল সমাবেশে ছিল। তিনি ৬৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার রাজত্বকাল ছিল প্রায় এগারো বছর, যা ৬৭৮ হিজরিতে শুরু হয়েছিল (১)।
৪ - সুলতান মুহাম্মদ আন-নাসির বিন কালাউন, যিনি ৬৯৩ হিজরিতে তার ভাই আল-আশরাফের হত্যার পর অল্প বয়সে শাসনভার গ্রহণ করেন। ইবনুল আত্তার (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ৭২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখনো রাজা আন-নাসির তার সিংহাসনে আসীন ছিলেন (২)।
দ্বিতীয়ত: প্রধান ঘটনাবলি:- ৬৫৫ হিজরিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরের নিকটবর্তী হাররা নামক স্থানে একটি আগুন দেখা দিয়েছিল। রাতে এর আলো অনেক দূর থেকে দেখা যেত। সম্ভবত এটিই সেই আগুন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যার কারণে বসরার উটগুলোর ঘাড় আলোকিত হয়ে উঠবে (৩)।
- ৬৫৬ হিজরির শুরুতে তাতার রাজা হালাকু খান বাগদাদের দিকে যাত্রা করেন এবং বিশে মহররম সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহকে হত্যা করেন। এর কারণ ছিল খলিফার উজির মুয়াইয়িদুদ্দিন ইবনুল আলকামি ছিলেন একজন রাফেজি এবং কারখ এলাকার অধিবাসীরাও ছিল রাফেজি। ফলে সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি হয়। খলিফার পুত্র আবু বকর এবং রুকনুদ্দিন দাওয়াদার সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলে তারা কারখ লুণ্ঠন করে এবং নারীদের অবমাননা করে। এটি উজির ইবনুল আলকামির কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে, তাই তিনি তাতারদের কাছে চিঠি লেখেন এবং বাগদাদের রাজত্বের প্রতি তাদের প্রলুব্ধ করেন। তারা এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বাগদাদের দিকে অগ্রসর হয়। খলিফার বাহিনী তাদের মোকাবিলার জন্য বেরিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। খলিফার বাহিনী পরাজিত হয়, তাদের একাংশ বাগদাদে প্রবেশ করে এবং অন্য অংশ সিরিয়ার দিকে চলে যায়। হালাকু খান বাগদাদে অবতরণ করেন এবং খলিফাকে হত্যা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومعظم كبار الدولة والعلماء ووجوه الناس في كمين بمؤامرة الخائن ابن العلقمي مع هولاكو، وهكذا سقطت الخلافة العباسية التي دامت أكثر من خمسمئة سنة (1).
- في سنة 658 هـ وصل التتر إلى حلب، وملكوها، ووقعت فيها موقعة عين جالوت العظيمة؛ التي انتصر فيها المسلمون على التتار بقيادة الملك المظفر قطز (2).
- في عام 663 هـ سار الملك الظاهر بيبرس من الديار المصرية إلى قيسارية لفتحها في الشام في منتصف جمادى الأولى، ثم سار إلى أرسوف ونازلها وفتحها في جمادى الآخرة، وفي هذه السنة في التاسع عشر من ربيع الآخر هلك قائد المغول وملك التتر هولاكو (3).
- في عام 664 هـ خرج الملك الظاهر بعساكره العظيمة من الديار المصرية إلى الشام، وجهز جيشاً إلى ساحل طرابلس، ففتحوا يافا، ثم فتحوا أنطاكية وحلباً وغيرها من بلاد الشام (4).
- في عام 676 هـ توفي الملك الظاهر بيبرس بدمشق، ومدة مملكته 17 سنة وشهران وعشرة أيام، وكان ملكاً جليلاً، شجاعاً، عاقلاً، مهيباً رحمه الله، واستقر الملك السعيد بركة ابن الملك الظاهر في مملكة مصر والشام في أوائل ربيع الأول من هذه السنة (5).
- في عام 678 هـ خلع العساكر الملك السعيد، وأقاموا مكانه سلامش ابن الملك الظاهر بيبرس، ولقبوه الملك العادل، وعمره إذ
--------------------------------------------
রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ অধিকাংশ কর্মকর্তা, উলামায়ে কেরাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গাদ্দার ইবনুল আলকামীর সাথে হালাকু খানের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। এভাবেই পাঁচশ বছরেরও অধিককাল স্থায়ী আব্বাসীয় খিলাফতের পতন ঘটে (১)।
- ৬৫৮ হিজরীতে তাতারীরা আলেপ্পোতে পৌঁছে তা দখল করে নেয়। সেখানেই আইন জালুতের সেই মহান যুদ্ধ সংঘটিত হয়; যাতে মালিকুল মুযাফফর কুতুযের নেতৃত্বে মুসলমানরা তাতারীদের ওপর বিজয় লাভ করে (২)।
- ৬৬৩ হিজরীতে জুমাদাল উলার মাঝামাঝি সময়ে মালিকুয যাহির বাইবার্স মিশর থেকে সিরিয়ার কায়সারিয়া বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এরপর তিনি আরসুফ অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করে জুমাদাল আখিরায় তা জয় করেন। এই বছরেরই ১৯শে রবিউল আখির মঙ্গোলীয় সেনাপতি ও তাতার সম্রাট হালাকু খান মৃত্যুবরণ করে (৩)।
- ৬৬৪ হিজরীতে মালিকুয যাহির তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে মিশর থেকে সিরিয়ায় রওনা হন এবং ত্রিপোলি উপকূলের দিকে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা ইয়াফা জয় করেন, এরপর তারা আন্তাকিয়া, আলেপ্পোসহ সিরিয়ার অন্যান্য শহর বিজয় করেন (৪)।
- ৬৭৬ হিজরীতে দামেস্কে মালিকুয যাহির বাইবার্স ইন্তেকাল করেন। তার শাসনামল ছিল ১৭ বছর ২ মাস ১০ দিন। তিনি ছিলেন একজন মহান, সাহসী, বুদ্ধিমান ও প্রভাবশালী সম্রাট, আল্লাহ তাকে রহম করুন। এই বছরের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুর দিকে মালিকুয যাহিরের পুত্র মালিকুস সাঈদ বারাকাহ মিশর ও সিরিয়ার রাজত্বে অধিষ্ঠিত হন (৫)।
- ৬৭৮ হিজরীতে সৈন্যরা মালিকুস সাঈদকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার স্থলে মালিকুয যাহির বাইবার্সের পুত্র সালামিশকে স্থলাভিষিক্ত করে। তারা তাকে 'মালিকুল আদিল' উপাধিতে ভূষিত করে, তখন তার বয়স ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذاك سبع سنين، ولكنه أزيل من الحكم في السنة نفسها، وفيها تمت البيعة للملك المنصور قلاوون الصالحين (1).
- في عام 684 هـ فتح قلاوون المرقب، وهو حصن في غاية العلو والحصانة، لم يطمع أحد من الملوك الماضين في فتحه، وفيها أيضاً فتوح صهيون، وكذلك في هذه السنة كانت ولادة الملك ناصر الدنيا والدين محمَّد ابن السلطان الملك المنصور سيف الدنيا والدين (2).
- في عام 693 هـ كان مقتل السلطان الملك الأشرف، وفيها تولى السلطنة الملك الناصر (3).
- في عام 694 هـ كانت وفاة صاحب اليمن الملك المظفر شمس الدين يوسف ابن الملك المنصور عمر بن علي بن رسول بقلعة تعز، وكانت مدة ملكه نحو 47 سنة، وملك بعده ابنه الأكبر الملك الأشرف عمر بن يوسف (4).
- في عام 698 هـ قتل الملكُ المنصورُ حسامَ الدين لاجين صاحبَ مصر والشام، وفيها كانت وفاة الملك المظفر صاحب حماة (5).
- في عام 699 هـ سقطت دمشق في أيدي التتر، وانهزم المسلمون في الشام (6).
--------------------------------------------
সেই সাত বছর ছিল, কিন্তু তাকে সেই বছরই শাসনক্ষমতা থেকে অপসারিত করা হয় এবং এই বছরেই বাদশাহ আল-মানসুর কালাউন আস-সালিহীর অনুকূলে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) পূর্ণ হয় (১)।
- ৬৮৪ হিজরি সনে কালাউন আল-মারকাব বিজয় করেন, যা ছিল অত্যন্ত উচ্চ ও সুরক্ষিত এক দুর্গ, যার বিজয়ের ব্যাপারে পূর্ববর্তী রাজাদের কেউ আকাঙ্ক্ষাও করেননি। এই বছরেই সহিওন বিজিত হয় এবং এই বছরই সুলতান বাদশাহ আল-মানসুর সাইফুদ দুনিয়া ওয়াদ-দীনের পুত্র বাদশাহ আন-নাসির দুনিয়া ওয়াদ-দীন মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন (২)।
- ৬৯৩ হিজরি সনে সুলতান বাদশাহ আল-আশরাফ নিহত হন এবং এই বছরই বাদশাহ আন-নাসির সালতানাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন (৩)।
- ৬৯৪ হিজরি সনে ইয়েমেনের অধিপতি বাদশাহ আল-মুজাফফর শামসুদ্দীন ইউসুফ ইবনে বাদশাহ আল-মানসুর উমর ইবনে আলী ইবনে রাসূল তায়িজ দুর্গে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রাজত্বকাল ছিল প্রায় ৪৭ বছর এবং তাঁর পরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বাদশাহ আল-আশরাফ উমর ইবনে ইউসুফ রাজত্ব করেন (৪)।
- ৬৯৮ হিজরি সনে মিশর ও শামের অধিপতি বাদশাহ আল-মানসুর হুসামুদ্দীন লাজীনকে হত্যা করা হয় এবং এই বছর হামার অধিপতি বাদশাহ আল-মুজাফফরের মৃত্যু হয় (৫)।
- ৬৯৯ হিজরি সনে দামেস্ক তাতারদের হস্তগত হয় এবং শামে মুসলিমরা পরাজিত হয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
- في عام 700 هـ تدارك الله المسلمين بلطفه، فانتصروا على التتر في الشام، واستعادوا بلادهم مرة أخرى (1).
- في عام 702 هـ دخل التتر مرة أخرى إلى بعض ولايات الشام، ولكنهم ذاقوا الهزيمة مرة أخرى، وانتصر عليهم المسلمون انتصاراً عظيماً في وقعة شقحب (2).
- في عام 709 هـ كان مسير السلطان الملك الناصر إلى ديار مصر، واستقراره في سلطنته، وقبض هناك على بيبرس الجاشنكير الذي كان متولياً على مصر (3).
- في عام 715 هـ كان فتح ملطية على يد سيف الدين تنكز ومن معه من المسلمين ضد النصارى (4).
- في عام 721 هـ كانت وفاة صاحب اليمن الملك المؤيد داود بن المظفر يوسف ابن عمر بن علي بن رسول (5).
•
اسمه ونسبه:هو علاء الدين علي بن إبراهيم بن داود بن سلمان بن سليمان، أبو الحسن الشافعي، المعروف بابن العطَّار.
اتفق المترجمون له على سَرْد نَسَبه إلى داود، واقتصر الجمهور منهم على ذلك؛ لأن ذِكْر هذا القدر من النسب مع الأوصاف الأخرى؛ التي اكتسبها؛ تكفي لتحديد شخصيته، ومجالات تخصصه، ومنهم من
--------------------------------------------
- ৭০০ হিজরি সনে আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়ায় মুসলমানদের সাহায্য করলেন, ফলে তাঁরা শামে তাতারদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করলেন এবং পুনরায় তাঁদের দেশ পুনরুদ্ধার করলেন (১)।
- ৭০২ হিজরি সনে তাতাররা পুনরায় শামের কিছু প্রদেশে প্রবেশ করল, কিন্তু তারা আবারও পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করল এবং শাকহাবের যুদ্ধে মুসলমানরা তাদের বিরুদ্ধে এক মহান বিজয় অর্জন করল (২)।
- ৭০৯ হিজরি সনে সুলতান আল-মালিকুন নাসির মিসর অভিমুখে যাত্রা করেন এবং তাঁর সালতানাতে স্থিতিশীল হন। সেখানে তিনি বাইবার্স আল-জাশনাকিরকে গ্রেপ্তার করেন, যিনি মিসরের দায়িত্বে ছিলেন (৩)।
- ৭১৫ হিজরি সনে সাইফউদ্দীন তানকুজ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা মুসলমানদের হাতে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে মালাতিয়া বিজিত হয় (৪)।
- ৭২১ হিজরি সনে ইয়েমেনের অধিপতি আল-মালিকুল মুয়াইয়্যাদ দাউদ ইবনুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে রাসূল ইন্তেকাল করেন (৫)।
•
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন আলাউদ্দীন আলী বিন ইবরাহীম বিন দাউদ বিন সালমান বিন সুলায়মান, আবুল হাসান আশ-শাফেয়ী, যিনি ইবনুল আত্তার নামে পরিচিত।
জীবনীকারগণ তাঁর বংশপরম্পরা দাউদ পর্যন্ত বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তাঁদের অধিকাংশ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন; কারণ অর্জিত অন্যান্য গুণাবলীর সাথে বংশের এই অংশটুকুর উল্লেখই তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং বিশেষত্বের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট। আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
زاد على ذلك، ولكنهم اختلفوا، فقال فريق منهم الذهبي: (1) داود بن سليمان، وقال آخرون: داود بن سلمان بن سليمان، وعلى رأسهم ابن قاضي شهبة (2).
والذي أميل إليه، وأرجحه، هو ما ذهب إليه الذهبي؛ لأمور كثيرة، منها: ما عرف عن الذهبي من الدقة، وتقدمه على غيره في معرفة الرجال؛ ولأن للذهبي مزيد اختصاص بابن العطار، فالذهبي تلميذ لابن العطار، وفوق ذلك هو أخوه لأمه من الرضاعة (3)، ثم إنه عمل معجماً له في شيوخه، كما سيأتي - إن شاء الله -.
•
أسرته:المصادرُ التي بين أيدينا شحيحةٌ بأخبار أسرته من الوالدين والأقارب، إلا ما ذكره الحافظ ابن حجر من أن أباه كان عطاراً، ويلقب بموفق الدين، وجدّه طبيباً (4)، وأشار إلى ذلك النعيمي في ترجمته، حيث قال: (علاء الدين أبو الحسن بن الموفق العطار ابن الطبيب
…) (5)، وبهذا يظهر أنهم لم يكونوا من أهل العلم، بل ذكر النعيمي أن والده كان يهودياً (6)، ولم أر من ذكر ذلك غيره مع كثرتهم، فإن كان الأمر كما ذكر تكون أسرته من الأسر العربية التي تهودت في جزيرة العرب والشام، وبقيت كذلك في ظل الدولة الإِسلامية؛ كما تدل
--------------------------------------------
তিনি এর চেয়েও বেশি কিছু যোগ করেছেন, কিন্তু তাঁরা মতভেদ করেছেন; তাঁদের একটি দল, যাঁদের মধ্যে আয-যাহাবী রয়েছেন, বলেছেন: (১) দাউদ ইবনে সুলাইমান। অন্যরা বলেছেন: দাউদ ইবনে সালমান ইবনে সুলাইমান, আর তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন ইবনে কাযী শুহবাহ (২)।
আর আমি যে মতটির প্রতি ঝুঁকেছি এবং যাকে প্রাধান্য দিচ্ছি, সেটি হলো আয-যাহাবীর অভিমত; অনেকগুলো কারণে, যার মধ্যে রয়েছে: আয-যাহাবীর যে সূক্ষ্মতা সুবিদিত এবং ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) শাস্ত্রের জ্ঞানে অন্যদের তুলনায় তাঁর অগ্রগামিতা; এবং আয-যাহাবীর সাথে ইবনুল আত্তারের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল, কারণ আয-যাহাবী ছিলেন ইবনুল আত্তারের ছাত্র, তদুপরি তিনি ছিলেন তাঁর মায়ের দিক থেকে দুগ্ধ-ভাই (৩)। এছাড়া তিনি তাঁর শিক্ষকদের একটি অভিধানও সংকলন করেছিলেন, যা সামনে আসবে - ইনশাআল্লাহ -।
•
তাঁর পরিবার:আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলো তাঁর পিতামাতা এবং আত্মীয়স্বজনদের খবরের ক্ষেত্রে খুবই অপ্রতুল, কেবল হাফেজ ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পিতা একজন আতর বিক্রেতা ছিলেন এবং তাঁকে মুয়াফফাকুদ্দীন উপাধিতে ডাকা হতো এবং তাঁর দাদা ছিলেন একজন চিকিৎসক (৪)। নুআইমী তাঁর জীবনীতে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: (আলাউদ্দীন আবুল হাসান ইবনুল মুয়াফফাক আল-আত্তার ইবনুত্ব-ত্বাবীব ...) (৫)। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে তাঁরা আহলে ইলম বা জ্ঞানী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং নুআইমী উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পিতা ইহুদি ছিলেন (৬)। বর্ণনাকারীদের আধিক্য থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে এটি উল্লেখ করতে আমি দেখিনি। যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর পরিবার হবে সেই সব আরব পরিবারের অন্তর্ভুক্ত যারা আরব উপদ্বীপ এবং সিরিয়া অঞ্চলে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং ইসলামী রাষ্ট্রের ছায়াতলে সেভাবেই অবস্থান করেছিল; যেমনটি নির্দেশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عليه سلسلة نسبه من الأسماء العربية الخلص، فيكون أبوه قد أسلم قديماً بدليل أنه كان يُلقَّب بموفق الدين.
•
مولده:وُلد ابنُ العطار يوم عيد الفطر سنة أربع وخمسين وستمئة، ولم يختلف المترجمون له على سنة ولادته، وكذا يوم ولادته، إلا ما قال ابنُ جابر الوادي آشي - أحد معاصريه -: مولده ليلة الفطر أو قبلها بليلة بالتردد (1).
قلتُ: ولعل الذي ساعد على ضبط تاريخ ولادته كونه ولد في تلك المناسبة العظيمة، وإلا فإن الغالب في تراجم أهل العلم عدم ضبط تاريخ ولادتهم؛ لأنهم يولدون كبقية الأبناء، وليس لهم عند ذلك ما يميزهم، بخلاف حالهم عند الممات، فموتُ أحدهم يكون له وقعٌ أليمٌ في نفوس تلاميذه ومحبيه، فيكون ذلك أدعى لحفظ تاريخ وفاته.
•
نشأته:لم تتحدثِ المصادرُ عن نشأته، ولكن المعهود في طلب العلم البدء بحفظ القرآن الكريم، ثم بمبادئ العلوم في مختصرات المتون، كما هي العادة المتبعة آنذاك في تعليم الأطفال، لا سيما وقد أشار غيرُ واحدٍ من العلماء أنه حفظ القرآن في بداية أمره، هذا من جهة، ومن جهة ثانية أن بلوغَه هذه المنزلة العالية في العلم دليلٌ على اشتغاله في تحصيل العلم في الصِّغر.
ومما يؤكَّد ذلك ما ذكره ابنُ العطار نفسه في ترجمة الإِمام النووي، حيث قال: (وكانت مدةُ صحبتي له مقتصراً عليه دون غيره من أول سنة سبعين وستمئة وقبلها بيسير إلى حين وفاته) (2)، أي: إن أول
--------------------------------------------
তাঁর বংশপরম্পরা বিশুদ্ধ আরবি নামসমূহ নিয়ে গঠিত, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তাঁর পিতা অনেক আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যার প্রমাণ হলো তাঁর ‘মুয়াফফাকুদ্দিন’ উপাধিতে ভূষিত হওয়া।
•
তাঁর জন্ম:ইবনে আল-আত্তার ছয়শত চুয়ান্ন হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের দিন জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর জন্মের বছর এবং এমনকি জন্মদিনের ব্যাপারেও কোনো ভিন্নমত পোষণ করেননি; তবে তাঁর সমসাময়িকদের একজন ইবনে জাবির আল-ওয়াদি আশি বলেছেন: তাঁর জন্ম ঈদুল ফিতরের রাতে অথবা তার আগের রাতে—এ বিষয়ে তিনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন (১)।
আমি বলছি: সম্ভবত তাঁর জন্ম তারিখটি নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত হওয়ার কারণ হলো তাঁর সেই মহান এক উপলক্ষে (ঈদের দিন) জন্মগ্রহণ করা। অন্যথায় আলেমদের জীবনীসমূহে সাধারণত জন্মের তারিখ নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত থাকে না; কারণ তাঁরা অন্যান্য সাধারণ শিশুদের মতোই জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মলগ্নে তাঁদের মাঝে স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না। তবে মৃত্যুর বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; কারণ তাঁদের মৃত্যু তাঁদের ছাত্র এবং ভক্তদের হৃদয়ে এক গভীর ও বেদনাদায়ক প্রভাব ফেলে, যা তাঁদের মৃত্যুর তারিখ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হয়।
•
তাঁর বেড়ে ওঠা:উৎস গ্রন্থগুলোতে তাঁর শৈশবকাল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। তবে ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রথা ছিল পবিত্র কুরআন হিফজ করার মাধ্যমে শুরু করা এবং এরপর সংক্ষিপ্ত মূলপাঠগুলোর (মুতুন) মাধ্যমে বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা, যেমনটি সে যুগে শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুসৃত প্রথা ছিল। বিশেষ করে একাধিক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরুতেই কুরআন হিফজ করেছিলেন। একদিক থেকে এটি যেমন বাস্তব, অন্যদিকে ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর এই সুউচ্চ মাকামে পৌঁছানোই প্রমাণ করে যে, তিনি শৈশব থেকেই ইলম অর্জনে নিমগ্ন ছিলেন।
বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত হয় ইমাম নববীর জীবনীতে ইবনে আল-আত্তারের নিজস্ব বর্ণনা থেকে, যেখানে তিনি বলেছেন: (ছয়শত সত্তর হিজরি সনের শুরু থেকে অথবা তার কিছুটা আগে থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমার সাহচর্য কেবল তাঁর সাথেই সীমাবদ্ধ ছিল, অন্য কারও সাথে নয়) (২)। অর্থাৎ তাঁর প্রথম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لقياه بالنَّووي عندما كان عمره خمسة عشر سنة، وحينها شرع في قراءة كتب الفقه الطوال عليه تصحيحاً وتعليقاً، ومعناه أنه قبل ذلك قد تحصَّل على علوم كثيرة كعلم العربية، والقراءات، وحفظ المتون.
•
طلبه للعلم:قد ذكرنا في بداية نشأته شيئاً من طلبه للعلم على الظن والتخمين، ولكن المراد بهذا العنوان هو معرفة الوقت؛ الذي عرف فيه طلبه للعلم، وبيان حاله في الطلب.
ومما لا شكَّ فيه أنه اشتهر بطلب العلم عند النَّاس، حين اجتمع بالإمام النَّووي، وقرأ عليه معظمَ مصنفاته، وظهرتْ منه في ذلك الوقت المبكر ملامحُ طالب العلم من الجِدَّ والإقبال عليه بكلَّه، مما جعل الإِمام النَّووي يعتني به، ويشفق عليه، ويخصُّه بمزيد اهتمام من بين تلاميذه، وفي ذلك يقول ابنُ العطار: (فقرأت عليه الفقه، تصحيحاً، وعرضاً، وشرحاً، وضبطاً، خاصاً وعاماً، وعلوم الحديث، مختصره وغيره، تصحيحاً، وحفظاً، وشرحاً، وبحثاً، وتعليقاً، خاصاً وعاماً، وكان رحمه الله رفيقاً بي، شفيقاً علي، لا يمكّن أحداً من خدمته غيري، على جهد مني في طلب ذلك منه، مع مراقبته لي رضي الله عنه في حركاتي وسَكَناتي، ولُطْفه بي في جميع ذلك، وتواضعه معي في جميع الحالات، وتأديبه لي في كل شيء حتى الخطوات، وأعجز عن حَصْر ذلك. وقرأتُ عليه كثيراً من تصانيفه ضبطاً، وإتقاناً.
وأذن لي رضي الله عنه في إصلاح ما يقع لي في تصانيفه
… ، وقال لي: (إذا انتقلتُ إلى الله تعالى؛ فاتمم "شرح المهذَّب" من هذه الكتب). فلم يقدَّر لي) (1).
--------------------------------------------
ইমাম নববীর সাথে তাঁর যখন সাক্ষাৎ হয় তখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো বছর। সেই সময়েই তিনি তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্রের দীর্ঘ কিতাবসমূহ সংশোধন ও টীকা সহকারে পাঠ করা শুরু করেন। এর অর্থ হলো, এর পূর্বেই তিনি আরবি ভাষা, কিরাআত এবং ইলমি মতন (মূল পাঠ্য) মুখস্থ করার মতো বহু জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
•
তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:আমরা তাঁর বেড়ে ওঠার শুরুর দিকে তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ সম্পর্কে অনুমানের ভিত্তিতে কিছু আলোচনা করেছি। তবে এই শিরোনামের উদ্দেশ্য হলো সেই সময়টি চেনা যখন তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয় এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর অবস্থার বিবরণ দেওয়া।
নিঃসন্দেহে তিনি মানুষের মাঝে জ্ঞান অন্বেষণকারী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন যখন ইমাম নববীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি তাঁর অধিকাংশ রচনাবলি তাঁর নিকট পাঠ করেন। সেই অল্প বয়সেই তাঁর মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণের একাগ্রতা এবং সর্বতোভাবে নিবেদিত হওয়ার মতো ছাত্রসুলভ গুণাবলি প্রকাশ পায়। ফলে ইমাম নববী তাঁর প্রতি যত্নশীল হন, মমত্ববোধ দেখান এবং তাঁর শিষ্যদের মধ্যে তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। এই প্রসঙ্গে ইবনুল আত্তার বলেন: (আমি তাঁর নিকট ফিকহ পড়েছি সংশোধন, পেশ করা, ব্যাখ্যা এবং নিঁখুতকরণের মাধ্যমে, বিশেষভাবে ও সাধারণভাবে। হাদীস শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ পড়েছি সংশোধন, মুখস্থ, ব্যাখ্যা, গবেষণা ও টীকা সহকারে, বিশেষভাবে ও সাধারণভাবে। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমার প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু ছিলেন। আমি অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর খিদমত করতে দিতেন না। সেই সাথে—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—তিনি আমার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সব কিছুতেই আমার সাথে নম্র ব্যবহার করতেন। সব অবস্থায় তিনি আমার প্রতি বিনয়ী ছিলেন এবং প্রতিটি পদক্ষেপে এমনকি আদব-কায়দাও আমাকে শিখিয়েছেন, যা গুনে শেষ করা সম্ভব নয়। আমি তাঁর নিকট তাঁর অনেক কিতাব অত্যন্ত নির্ভুল ও নিপুণভাবে পাঠ করেছি।
এবং তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর রচনাবলিতে আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া ভুলগুলো সংশোধন করার অনুমতি আমাকে দিয়েছিলেন... এবং আমাকে বলেছিলেন: (যখন আমি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাব, তখন তুমি এই কিতাবগুলো থেকে "শারহুল মুহাযযাব" সম্পন্ন করো)। কিন্তু তা আমার জন্য নির্ধারিত ছিল না) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وطالِبٌ يعطيه الإِمام النَّووي كل هذا الاهتمام، ليس كأي طالب، وإنما ذلك لما ظهر من ابن العطار من مخايل الذكاء، وكمال الفهم، مع قوة العزيمة، والجِدّ في طلب العلم، فرأى الإمامُ النَّووي أن يتعهده بالرعاية والعناية؛ ليشد عضده، ويقوي ساعده؛ علَّه يكون في مصافِّ أهل العلم مستقبلاً.
•
الرحلة في طلب العلم:الرحلةُ في طلب العلم سُنَّة العلماء، خاصة المحدِّثين منهم، ولكن جرتِ العادةُ أن الطالبَ لا يسافر من بلدته إلا بعد أن يأخذَ من شيوخها، ويستوعب ما لديهم، ثم يتوجَّه إلى الأقطار، قاطعاً الفيافي، متحملاً المشاق في سبيل العلم.
وللرحلة مزايا عديدة، أهمها: اللقاء بالمشايخ الكبار في كل فن، ونقل العلوم التي ينفردُ بها أهلُ كل منطقة، والوقوف على طريقة كل قوم في تدريس العلوم، إضافةً إلى معرفة عادات كل قوم، ومسالك حياتهم، وكل ذلك بلا ريبٍ يساعدُ الطالبَ على توسيع مداركه ومعارفه.
وصاحبنا الذي نقومُ بترجمته واحد من هؤلاء، فإنه قد حمل عصا الترحال يجوبُ الآفاق، ويقطع الفيافي؛ إلا أن مترجميه مع كثرتهم لم يعنوا بتتبع رحلاته، ولكن تيسَّر لي - بحمد الله - معرفة معظم الأماكن؛ التي رحل إليها من خلال شيوخه؛ الذين سمع منهم في أماكن متفرقة.
حيث سمع بمكة من أبي اليُمْن بن عساكر، وبالمدينة من أحمد بن محمَّد النصيبي، وبالقدس من قطب الدين الزهري (1)، وبنابلس من
--------------------------------------------
এবং একজন ছাত্র যাকে ইমাম নববী এতখানি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তিনি অন্য কোনো সাধারণ ছাত্রের মতো ছিলেন না। বরং ইবনে আল-আত্তারের মধ্যে যে মেধার স্বাক্ষর, প্রজ্ঞার পূর্ণতা এবং সেই সঙ্গে সুদৃঢ় সংকল্প ও ইলম অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টার প্রকাশ ঘটেছিল, সে কারণেই ইমাম নববী তাকে বিশেষ যত্ন ও মনোযোগের সাথে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন; যাতে তাকে শক্তিশালী ও সহযোগিতা করা যায়; সম্ভবত ভবিষ্যতে তিনি আলেমদের প্রথম কাতারে স্থান করে নিতে পারেন।
•
ইলম অন্বেষণে সফর:ইলম অন্বেষণে সফর করা আলেমদের একটি সুন্নাত বা অনুসৃত পথ, বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণের ক্ষেত্রে। তবে প্রথা এই ছিল যে, একজন ছাত্র তার নিজ শহরের শায়খদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ এবং তাদের কাছে যা আছে তা আয়ত্ত না করা পর্যন্ত সাধারণত অন্য শহরে পাড়ি দিত না। এরপর সে বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত, বিশাল মরুভূমি পাড়ি দিত এবং ইলমের পথে নানাবিধ কষ্ট সহ্য করত।
এই সফরের বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো: প্রতিটি শাস্ত্রের বিজ্ঞ ও প্রবীণ শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করা, প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে সংরক্ষিত বিশেষ জ্ঞানসমূহ অর্জন করা এবং প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ইলম শিক্ষাদানের পদ্ধতির সাথে পরিচিত হওয়া। এর পাশাপাশি প্রতিটি জাতির আচার-আচরণ ও জীবনধারা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। নিঃসন্দেহে এই সবকিছুই একজন ছাত্রের প্রজ্ঞা ও জ্ঞানমণ্ডলকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
আমরা যার জীবনী আলোচনা করছি, তিনি ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি সফরের যষ্টি হাতে দিগদিগন্ত ভ্রমণ করেছেন এবং প্রান্তর পাড়ি দিয়েছেন। তবে তার জীবনীকারগণ সংখ্যায় অধিক হওয়া সত্ত্বেও তারা তার সফরগুলো বিস্তারিত অনুসরণের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে আমার জন্য তার সফরকৃত অধিকাংশ স্থান সম্পর্কে জানা সহজ হয়েছে; যা আমি বিভিন্ন স্থানে তার ঐ সকল শায়খদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যাদের থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন।
যেমন তিনি মক্কায় আবুল ইয়ুমন বিন আসাকির থেকে, মদীনায় আহমদ বিন মুহাম্মদ আন-নাসিবি থেকে, জেরুজালেমে কুতুবুদ্দীন আজ-জুহরি (১) থেকে এবং নাবলুসে... থেকে শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العماد عبد الحافظ (1)، وبالقاهرة من الأبرقوهي (2)، وابن دقيق العيد (3) ((4).
وقد أجملها الحافظ ابن حجر بقوله: (سمع بالحرمين ونابلس والقاهرة من عدة أشياح يزيدون على المئتين) (5).
وبهذا النقل ندركُ أنه قد دخل معظم الحواضر الإِسلامية؛ التي كانت عامرةً بالنشاط العلمي، إضافةً إلى موطنه دمشق.
وبعد ذلك التطواف، استقرَّ به المقامُ في داره بدمشق، وجلس للتدريس والتأليف، فرحل إليه الطلابُ من أقاصي البلاد.
•
شيوخه:إن شيوخَ ابن العطار كثيرون؛ بحيث يصعب على المرء حصرهم، إذ إنه لطول رحلته تلك لقي أعداداً من أهل العلم في كلَّ بلدة، لا سيما والناس في ذلك الزمن كانوا يتفاخرون بكثرة الشيوخ.
--------------------------------------------
আল-ইমাদ আব্দুল হাফিজ (১), কায়রোতে আল-আবরাকুহি (২) থেকে এবং ইবনে দাকিক আল-ঈদ (৩) ((৪)।
হাফিজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলেছেন: (তিনি হারামাইন, নাবলুস এবং কায়রোতে দুইশতেরও অধিক মাশায়েখের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন) (৫)।
এই উদ্ধৃতি থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, তিনি তাঁর নিজ ভূমি দামেস্ক ছাড়াও তৎকালীন ইলমী তৎপরতায় মুখর অধিকাংশ ইসলামী জনপদে ভ্রমণ করেছিলেন।
সেই দীর্ঘ সফরের পর, তিনি দামেস্কে নিজ গৃহে স্থায়ী হন এবং দরস-তাদরিস ও গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট আসতে থাকে।
•
তাঁর উস্তাদগণ:ইবনে আল-আত্তারের উস্তাদগণ সংখ্যায় অনেক; যা গণনা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। কারণ তাঁর সেই দীর্ঘ সফরে তিনি প্রতিটি শহরে অসংখ্য আলেম-ওলামার সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, বিশেষ করে সেই যুগে মানুষ উস্তাদদের আধিক্য নিয়ে গর্ববোধ করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইন্তিকাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومما يدلُّ على كثرة شيوخه أن تلميذه الذهبي خرّج له معجماً لشيوخه في مجلد، ذكر ذلك الذهبي (1)، وهذا المعجمُ الذي ألفه الذهبي في شيوخ ابن العطار لم أقف عليه، ولم أعرف عددَ شيوخ ابن العطار بالتحديد، وإن كان صنيع الذهبي يوحي بكثرتهم؛ لأنه لم يزد على قوله: (خرّجت له معجماً في مجلد).
إلا أنَّ السّبكي أشار إلى عدد شيوخه في معجم الذهبي بقوله: (وخرّج له شيخنا الذهبي معجماً نيّف فيه على ثمانين شيخاً) (2).
وهذا العددُ الذي ذكره الذهبي من شيوخه ليسوا كلَّ شيوخه، بدليل أن الحافظ ابن حجر ذكر أنه سمع من عدة أشياح يزيدون على المئتين (3)، وأما الذين ذكروا أنه سمع من شيوخه في ترجمته، فهم قلة، ذلك أن الذهبي - وهو عمدة من جاء بعده - لم يذكر أحداً من شيوخه غير النَّووي في جميع الكتب التي ترجمه فيها؛ لأنه استوفى شيوخه في المعجم الذي وضعه خصيصاً لشيوخه.
ومن شيوخه: النَّووي (4)، .........................
--------------------------------------------
তাঁর শায়খদের (শিক্ষকগণের) আধিক্যের অন্যতম প্রমাণ হলো তাঁর ছাত্র আয-যাহাবী তাঁর শায়খদের নিয়ে এক খণ্ডে একটি অভিধান সংকলন করেছেন। আয-যাহাবী নিজেই এ কথা উল্লেখ করেছেন (১)। আয-যাহাবী ইবনে আল-আত্তারের শায়খদের বিষয়ে যে অভিধানটি রচনা করেছিলেন তা আমি খুঁজে পাইনি এবং আমি ইবনে আল-আত্তারের শায়খদের সঠিক সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানি না। তবে আয-যাহাবীর এই কাজ তাঁদের আধিক্যেরই ইঙ্গিত দেয়; কেননা তিনি শুধু এইটুকুই বলেছেন: (আমি তাঁর শায়খদের বিষয়ে এক খণ্ডে একটি অভিধান সংকলন করেছি)।
অবশ্য আস-সুবকী আয-যাহাবীর অভিধানে বর্ণিত তাঁর শায়খদের সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: (আমাদের শায়খ আয-যাহাবী তাঁর জন্য একটি অভিধান সংকলন করেছেন যেখানে তিনি আশি জনেরও বেশি শায়খের কথা উল্লেখ করেছেন) (২)।
আয-যাহাবী তাঁর শায়খদের যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন তারা তাঁর সকল শায়খ নন। এর প্রমাণ হলো হাফিয ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দুইশ জনেরও বেশি সংখ্যক শায়খের নিকট থেকে শ্রবণ (হাদিস গ্রহণ) করেছেন (৩)। আর যারা তাঁর জীবনীতে তাঁর শায়খদের নিকট থেকে শ্রবণ করার কথা উল্লেখ করেছেন তারা সংখ্যায় অল্প। এর কারণ হলো আয-যাহাবী—যিনি তাঁর পরবর্তী সকলের জন্য প্রধান নির্ভরযোগ্য সূত্র—তাঁর জীবনী নিয়ে রচিত কোনো গ্রন্থেই ইমাম আন-নববী ছাড়া অন্য কোনো শায়খের নাম উল্লেখ করেননি; কারণ তিনি বিশেষভাবে তাঁর শায়খদের জন্য প্রণীত অভিধানেই তাঁদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছেন।
তাঁর শায়খদের মধ্যে রয়েছেন: আন-নববী (৪), .........................
--------------------------------------------