(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أخطاء وأوهام في أضخم مشروع تعسفي لهدم السنة القسم: كتب عامة
الكتاب: أخطاء وأوهام في أضخم مشروع تعسفي لهدم السنة
المؤلف: عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني (ت 1429هـ)
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة: الأولى 1419 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 95
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুন্নাহ ধ্বংসের বৃহত্তম স্বেচ্ছাচারী প্রকল্পে ভুল ও বিভ্রান্তি বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: সুন্নাহ ধ্বংসের বৃহত্তম স্বেচ্ছাচারী প্রকল্পে ভুল ও বিভ্রান্তি
লেখক: আব্দুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মুতআনি (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب: أخطاء وأوهام في أضخم مشروع تعسفي لهدم السنة
المؤلف: د. عبد العظيم إبراهيم محمد المطعني
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة الأولى 1419 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 1
تنبيه:
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থ: সুন্নাহ ধ্বংসের সর্ববৃহৎ খামখেয়ালি প্রকল্পের ভুল ও বিভ্রমসমূহ
লেখক: ড. আব্দুল আজিম ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-মুতয়ানি
প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ
প্রথম সংস্করণ ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
আল্লাহ তাআলা এর লেখক এবং যিনি এর রচনার ব্যয়ভার বহন করেছেন, তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمهذا الكتاب الذي بين يديك عبارة عن مقالات نشرت في جريدة "عقيدتي" الأسبوعية التي تصدر عن دار التحرير للطبع والنشر والتوزيع "الجمهورية".
وقد تم نشرها تباعاً فيما بين عامى 1996 - 1997 م وقد أثرنا نشرها في هذا الكتاب في (سلسلة لا بد من دين الله لدنيا الناس) تلبية لرغبة أبداها بعض الغيورين على دينهم، ولتيسير الإطلاع عليها، نظراً لخطورة الموضوع الذي تصدت له، والله خير حافظاً وهو أرحم الراحمين.
القاهرة - الظاهر
1419 هـ - 1998 م
المؤلف
عفا الله عنه
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম (পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)
ভূমিকাআপনার হাতে থাকা এই বইটি মূলত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র "আকিদাতি"-তে প্রকাশিত প্রবন্ধসমূহের একটি সংকলন, যা "দার আল-তাহরির" মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান "আল-জুমহুরিয়া" থেকে প্রকাশিত হয়।
এগুলো ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এবং পাঠকদের জন্য তা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমরা এই প্রবন্ধগুলোকে 'মানুষের দুনিয়ার জন্য আল্লাহর দ্বীন অপরিহার্য' (সিলসিলাতু লা বুদ্দা মিন দ্বীনিল্লাহ লি দুনিয়ান নাস) শীর্ষক সিরিজের অধীনে এই বই আকারে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; বিশেষ করে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ার কারণে। আর আল্লাহই সর্বোত্তম রক্ষাকারী এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
কায়রো - আল-জাহির
১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
লেখক
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
(1) الهجوم على السُّنة قديماً وحديثاًتعرضت السنة النبوية الشريفة؛ وهي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي بعد كتاب الله العزيز، لتهجمات، وانتقاضات منذ زمن بعيد.
وفي العصر الحديث تلقف المبشرون والمستشرقون كرة هذه اللعبة الشيطانية الخبيثة، وطفقوا يقذفونها في كل اتجاه دون إصابة الهدف منها، ثم توقف دورهم بعد طول يأس.
وانتقلت (اللعبة الماكرة) إلى أيدي فريق من المسلمين، واقتحموا (الخطوط الحمراء) ، ورددوا شبهات المبشرين والمستشرقين، منهم من يكتفي بالمقالات السيارة، ومنهم من يؤلف كتباً، يظهرون في (الملعب) واحداً إثر آخر.
وعلى الرغم من زيف أعيرتهم الطائشة في غير وازع من دين أو خلق. وعلى كثرة ما أطلعت عليه من محاولاتهم اليتئسة في هدم السنة، أو التقليل من شأنها، فإنه لم يتفق لي بعد كتاب (أضواء على السنة المحمدية) لأبي رية أن أطلعت على مشروع تعسفي ضخم لهدم السُّنة النبوية والتهجم على علماء الحديث وأئمة الفقه وأصوله وبعض الصحابة من هذا المشروع الذي نتعرض له - هنا - وقد أطلق عليه واضعه اسم (تبصير الأمة بحقيقة السنة) .
(১) অতীতে ও বর্তমানে সুন্নাহর ওপর আক্রমণমহান আল্লাহর সম্মানিত কিতাবের পর ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে পবিত্র সুন্নাহ সুদূর অতীত থেকেই বিভিন্ন আক্রমণ ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়ে আসছে।
আধুনিক যুগে মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদরা এই পৈশাচিক ও বিদ্বেষপূর্ণ খেলার সুযোগটি লুফে নিয়েছে এবং তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে সব দিকে তা নিক্ষেপ করতে শুরু করেছে; অতঃপর দীর্ঘ নিরাশার পর তাদের ভূমিকা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
অতঃপর এই (ধূর্ত খেলাটি) মুসলমানদের একটি দলের হাতে চলে আসে, যারা (সীমা রেখা) অতিক্রম করে এবং মিশনারি ও প্রাচ্যবিদদের উত্থাপিত সংশয়গুলো পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল সাময়িক নিবন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কেউ কেউ বই রচনা করে; তারা একে একে (ময়দানে) আবির্ভূত হচ্ছে।
ধর্মীয় বা নৈতিক কোনো তোয়াক্কা না করে তাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট তীরের অসারতা সত্ত্বেও এবং সুন্নাহকে ধ্বংস করার কিংবা এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার লক্ষে তাদের অসংখ্য হতাশাজনক প্রচেষ্টা যা আমি প্রত্যক্ষ করেছি, তার মধ্যে আবু রাইয়্যাহ-র (আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া) বইটির পর সুন্নাহকে নিশ্চিহ্ন করার এবং হাদিস বিশারদ, ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম ও এর মূলনীতি (أصول) এবং কিছু সাহাবীর (صحابة) ওপর আক্রমণের এমন কোনো জবরদস্তিমূলক বিশাল প্রকল্প আমার নজরে আসেনি যেমনটি এই প্রকল্পটির ক্ষেত্রে হয়েছে যা নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করছি—এর রচয়িতা এর নাম দিয়েছেন (তাবসিরুল উম্মাহ বি হাকিকাতিল সুন্নাহ)।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
هذا المشروع التعسفي الضخم له هدف واحد - وهو: عزل سنة صاحب الدعوة عن الواقع العملي في حياة الأمة. وإبعاد صاحب الدعوة - نفسه - عن أي دور عملي في إطار الرسالة. فهو أشبه ما يكون - في هذا المشروع - بآلة صماء تحمي ما يقال. إنه مجرد "مبلغ" أما أقواله، وأفعاله، وتقريراته، فهي "هوامش" مزورة مفتراة، وتسجيلها في كتب الحديث أول نكبة حلت بالأمة، فضلت بعد هدى، وأنحرفت بعد استقامة، وتفرقت بعد اجتماع، وضعفت بعد قوة.
وصاحب المشروع التعسفي الضخم أوتى قوة هائلة على الجدل التحكمي، والحجاج العضلي، والإسهاب العليل، والإسراف في رمي سلف الأمة الصالح بالجهل والغفلة، والكذب والخيانة، وهذا قوله بالحرف الواحد-:
"إن الأصل في رواية الحديث كان الكذب والخيانة، وأن الاستثناء من ذلك كان الصدق والأمانة"!!
وقال في وصف الحديث النبوي الذي اهتم السلف الصالح بجمعه وحفظه:
"وصار للحديث كيان تفصيلي جديد، وإن كان هشاً، حتى دخل في حياة المسلمين كأنه من أساسيات الدين" وهذا المشروع دعوة إلى أن ترفع الأمة "سنة خاتم النبيين" وتضع مكانها هذا "المشروع التعسفي الضخم". وتحرق كتب الحديث كلها لتذروها الرياح؛ لأنها كتبت بغير إذن من الشرع، ولأن الذين كتبوها غاب عنهم المنهج العلمي الصحيح؛ فكذبوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ واستخفوا عقول الأمة!!
এই বিশাল স্বৈরাচারী প্রকল্পের একটিই লক্ষ্য—আর তা হলো: উম্মাহর বাস্তব জীবন থেকে দাওয়াতের অধিপতির সুন্নাহকে বিচ্ছিন্ন করা। এবং দাওয়াতের অধিপতিকে—নিজে—রিসালাতের কাঠামোর মধ্যে যেকোনো বাস্তব ভূমিকা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এই প্রকল্পের দৃষ্টিতে তিনি যেন একটি শব্দহীন যন্ত্রের মতো, যা কেবল বলা কথাগুলোকে রক্ষা করে। তিনি কেবল একজন "পৌঁছেদানকারী"; অথচ তাঁর বাণীসমূহ, কর্মসমূহ এবং মৌন সম্মতিসমূহ (تقريرات) যেন বানোয়াট ও অলীক "টীকা" মাত্র। আর হাদিস গ্রন্থসমূহে এগুলোর লিপিবদ্ধকরণই ছিল উম্মাহর ওপর নেমে আসা প্রথম মুসিবত, যার ফলে হিদায়াতের পর পথভ্রষ্টতা, সরলপথের পর বিচ্যুতি, ঐক্যের পর বিভাজন এবং শক্তির পর দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
আর এই বিশাল স্বৈরাচারী প্রকল্পের প্রণেতাকে একরোখা বিতর্ক, জবরদস্তিমূলক যুক্তিপ্রদান, রুগ্ন বাগাড়ম্বর এবং উম্মাহর সৎ পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) ওপর অজ্ঞতা ও অসতর্কতা এবং মিথ্যা ও খিয়ানতের অপবাদ আরোপের এক বিশাল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে তার হুবহু বক্তব্য—:
"হাদিস বর্ণনার (رواية الحديث) ক্ষেত্রে মূল ভিত্তিই ছিল মিথ্যা ও খিয়ানত, আর সত্যবাদিতা ও আমানতদারি ছিল কেবল এর ব্যতিক্রম"!!
সালাফে সালেহীন যে নববী হাদিস সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছিলেন, তার বর্ণনায় তিনি বলেন:
"হাদিসের জন্য এক নতুন বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যদিও তা ভঙ্গুর, যা মুসলিমদের জীবনে এমনভাবে প্রবেশ করেছে যেন তা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।" আর এই প্রকল্পটি হলো উম্মাহর প্রতি "খাতামুন নাবিয়্যীনের সুন্নাহকে" বর্জন করে তার স্থলে এই "বিশাল স্বৈরাচারী প্রকল্পকে" গ্রহণ করার এক আহ্বান। এবং সমস্ত হাদিস গ্রন্থ পুড়িয়ে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়ার (আহ্বান); কারণ সেগুলো শরিয়তের অনুমতি ব্যতিরেকেই লেখা হয়েছে এবং যারা সেগুলো লিখেছিলেন তারা সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি; ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করেছেন এবং উম্মাহর বিচারবুদ্ধিকে অবজ্ঞা করেছেন!!
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد آن الأوان بعد أربع عشر قرنا عاشتها الأمة الإسلامية في ضلال أن يبصرها "رجل واحد" اهتدى إلى المنهج العلمي الصحيح؛ الذي غاب طوال هذه المدة عن مليون عالم من المحدثين، والمفسرين، والأصوليين، والفقهاء!!
هذه هي خلاصة ما يدعو إليه صاحب هذا المشروع "العميل"؟.
وقد وصفنا هذا المشروع بأنه "ضخم" لأن الذي بين أيدينا (الجزء الأول) من ثلاثة أجزاء وعد المؤلف بإنجازها. وقد تجاوزت صفحات الجزء الأول ستمائة صفحة من القطع الكبير، أي أن هذا المشروع من المتوقع أن يبلغ ألفى صفحة أو تزيد، وهذا "الكم الهائل" من الصفحات لم يعرف له مثيل في "موضوعه".
* أما أنا "تعسفي" فإن منهج المؤلف فيه منهج عضلي هجومي، قائم على الأخطاء الفاحشة، والأوهاوم الطائشة والأكاذيب الماكرة.
وأكاد أجزم أن كل صفحة لا تخلو من خطأ أو وهم.
وليأذن لي القارئ الكريم في إغفال اسم المؤلف، والإكتفاء بكشف ما في مشروعه من أخطاء وأوهام، وجرأة غير محمودة على تسفيه علماء الأمة، وبخاصة علماء الحديث رضي الله عنهم حيث لم يسلم من تسفيه أحد منهم، لا البخاري، ولا مسلم، ولا غيرهما.
أما "السُّنة النبوية" فهي المقصودة بالهدم الكامل، إلا طائفة من الأحاديث تفضل صاحب المشروع التعسفي بالرضا عنها، والسماح لها بالوجود، ولكنه رضا "زي قلته" - كما يقول المثل العامي المعروف - لأن صاحب المشروع يسمح لها بالوجود لفظاً؛ أما أن يكون لها دور في حياة المسلم فلا؛ بل وألف لا!
চোদ্দশত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ বিভ্রান্তির মধ্যে অতিবাহিত করার পর এখন সময় এসেছে যে, "একজন ব্যক্তি" তাকে সঠিক বৈজ্ঞানিক কর্মপন্থা প্রদর্শন করবেন; যা এই দীর্ঘ সময় ধরে হাদিসের লক্ষ লক্ষ আলেম, মুফাসসির (المفسرين), উসুলবিদ (الأصوليين) এবং ফকিহদের (الفقهاء) নিকট অদৃশ্য ছিল!!
এই "এজেন্ট" (العميل) প্রজেক্টের উদ্যোক্তা যা আহ্বান করছেন, এটিই তার সারসংক্ষেপ।
আমরা এই প্রজেক্টকে "বিশাল" হিসেবে অভিহিত করেছি কারণ আমাদের সামনে যা আছে তা হলো তিন খণ্ডের প্রথম খণ্ড (الجزء الأول), যা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি লেখক দিয়েছেন। প্রথম খণ্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা বড় আকারের ছয়শ ছাড়িয়ে গেছে, অর্থাৎ এই প্রজেক্ট দুই হাজার বা তার বেশি পৃষ্ঠায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর পৃষ্ঠার এই "বিপুল পরিমাণ" তার "বিষয়ে" নজিরবিহীন।
* আমার মতে যা "স্বেচ্ছাচারী" (تعسفي) তা হলো, লেখকের এই কর্মপন্থা পেশীশক্তিনির্ভর ও আক্রমণাত্মক, যা মারাত্মক ভুল, উদ্ভট বিভ্রম (الأوهام) এবং ধূর্ততাপূর্ণ মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমি প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, প্রতিটি পৃষ্ঠা ভুল অথবা বিভ্রম (وهم) থেকে মুক্ত নয়।
সম্মানিত পাঠক আমাকে লেখকের নাম উল্লেখ না করার অনুমতি দেবেন, এবং তার এই প্রজেক্টে থাকা ভুল ও বিভ্রমসমূহ (الأوهام) উন্মোচন করা এবং উম্মাহর আলেমদের, বিশেষ করে হাদিস বিশারদদের (المحدثين) — আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — তুচ্ছজ্ঞান করার যে অনভিপ্রেত দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা প্রকাশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেবেন; কেননা তাদের মধ্যে কেউই তার অবমাননা থেকে রক্ষা পাননি, না বুখারি, না মুসলিম, আর না অন্য কেউ।
আর "সুন্নাহর" (السنة النبوية) ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হলো একে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা, তবে হাদিসের একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যতীত যেগুলোর প্রতি এই স্বেচ্ছচারী (تعسفي) প্রজেক্টের মালিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং টিকে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এই সন্তুষ্টি "থাকা না থাকা সমান" — যেমনটি প্রচলিত প্রবাদে বলা হয় — কারণ এই প্রজেক্টের মালিক কেবল শব্দগতভাবে সেগুলোকে টিকে থাকার অনুমতি দেন; কিন্তু মুসলিমের জীবনে সেগুলোর কোনো ভূমিকা থাকবে কি না, তার উত্তর হলো: না; বরং সহস্রবার না!
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وتسأله عن السبب في هدم السنة فيجيبك على الفور، ومرات متعددة - ويقول:
"القرآن وحده يكفي!! ولسنا في حاجة إلى أي شيء غيره!! لا في عقائد، ولا في عبادات، ولا في معاملات، ولا في أي شيء كان"!!
ووصفنا هذا العمل بأنه: "مشروع تعسفي ضخم" لأن صاحبه يدعو الأمة إلى العمل به وطرح ما عداه ليكون لها مصدر تشريعي واحد، هو القرآن؟ ويصف "المؤلف" علماء الأمة بالسفة والغفلة، لأنهم كتبوا حديث النبي صلى الله عليه وسلم، وفي ذلك يقول: "لو أنهم التزموا منهاج نبيهم صلى الله عليه وسلم بعدم كتابة الحديث النبوي بأي سبيل". هذا كلامه - بالحرف الواحد - وهو يدل دلالة قاطعة على مراد مؤلف هذا المشروع، وهو:
أولاً: هد السنُّة النبوية من الأساس.
ثانياً: تسفيه علماء الأمة: وفي مقدمتهم علماء الحديث، والفقه "الذين اعتمدوا تلك الصياغة المزيفة" - في نظر صاحب المشروع - واتخذوها مصدراً ثانياً للتشريع، فحدث للأمة - بسببها - ما حدث من نكبات"!!
وبجانب هذا الهدف "الأم" من المشروع فتح المؤلف جبهات متعددة، وأطلق صوبها أعيرة صوتية طائشة.
وقد نبهني بعض الغيورين على الدين إلى وجود هذا المشروع، وأن بعضاً من أئمة المساجد الضعيفي التكوين علمياً، قد تأثروا به؛ وصدقوا ما فيه من ادعاءات. وهذا ما حملنا على مواجهته، وكشف زيفه. تطويقاً للفتنة، مع العلم أننا في هذه المواجهة سنكتفي بما يظهر للناس أوهام هذا المشروع،
আপনি যখন তাকে সুন্নাহ ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন সে তৎক্ষণাৎ এবং বারবার উত্তর দেবে—এবং বলবে:
"কেবল কুরআনই যথেষ্ট!! আমাদের তা ছাড়া অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই!! আকীদা (عقائد), ইবাদাত (عبادات), মুয়ামালাত (معاملات) কিংবা অন্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই নয়"!!
আমরা এই কাজটিকে "একটি বৃহৎ স্বৈরাচারী প্রকল্প" হিসেবে অভিহিত করেছি; কারণ এর প্রণেতা উম্মাহকে কেবল এর ওপর আমল করার এবং এর বাইরে যা আছে তা বর্জন করার আহ্বান জানান, যাতে তাদের জন্য কেবল একটিই বিধানের উৎস থাকে, আর তা হলো কুরআন। "লেখক" উম্মাহর আলেমগণকে নির্বুদ্ধিতা ও গাফিলতির বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন, কারণ তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "তাঁরা যদি তাঁদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনোভাবেই হাদিস লিপিবদ্ধ না করতেন (তবে ভালো হতো)।" এটিই তাঁর হুবহু বক্তব্য—যা এই প্রকল্পের প্রণেতার উদ্দেশ্যের ওপর অকাট্য প্রমাণ বহন করে, আর তা হলো:
প্রথমত: গোড়া থেকেই নববী সুন্নাহকে সমূলে উৎপাটন করা।
দ্বিতীয়ত: উম্মাহর আলেমগণকে নির্বোধ সাব্যস্ত করা: যাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন হাদিস ও ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ—প্রকল্পের প্রণেতার মতে—যাঁরা সেই "জালকৃত রূপরেখার" ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেটিকে বিধানের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যার ফলে উম্মাহর ওপর নেমে এসেছে একের পর এক বিপর্যয়!!
প্রকল্পের এই "প্রধান" উদ্দেশ্যের পাশাপাশি লেখক বিভিন্ন ফ্রন্ট খুলেছেন এবং সেগুলোর দিকে লক্ষ্যহীন শব্দবাণ নিক্ষেপ করেছেন।
দ্বীনের ব্যাপারে হিতৈষী কিছু ব্যক্তি আমাকে এই প্রকল্পের অস্তিত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠনে দুর্বল (ضعيف) কিছু মসজিদের ইমাম এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং এতে থাকা দাবিগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন। এটিই আমাদের এই প্রকল্পের মোকাবিলা করতে এবং এর অসারতা উন্মোচন করতে প্ররোচিত করেছে, যাতে ফিতনা (فتنة) নিরসন করা যায়। তবে আমরা এই মোকাবিলায় কেবল সেই বিষয়গুলো প্রকাশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যা মানুষের সামনে এই প্রকল্পের অলীক ধারণাগুলো ফুটিয়ে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وزيفه، وأباطيله، أما أن نتصدى لكل ما فيه؛ فهذا يحتاج إلى صفحات أضعاف ما كتب هو؛ لأن في كل صفحة من المشروع باطلاً يرد عليه.
وفي المقال الآتي نبدأ بمواجهة أباطيل هذا المشروع - وأولها:
هل كان جمع الحديث النبوي وكتابته بدعة وضلالة لم يأذن بها الدين؟ وهل كان العمل بالحديث هو سبب النكبة عند المسلمين؟
* * *
এবং এর জালিয়াতি ও অসারতা। আর এতে যা কিছু বিদ্যমান তার সবকিছুর মোকাবিলা করার বিষয়টি যদি ধরি, তবে তার জন্য তিনি যা লিখেছেন তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পৃষ্ঠার প্রয়োজন হবে; কারণ এই প্রকল্পের প্রতিটি পৃষ্ঠায় এমন ভিত্তিহীন (باطل) বিষয় রয়েছে যা খণ্ডন করা জরুরি।
পরবর্তী নিবন্ধে আমরা এই প্রকল্পের অসারতাগুলোর মোকাবিলা শুরু করব—যার প্রথমটি হলো:
নববী হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন কি এমন এক বিদআত (بدعة) এবং পথভ্রষ্টতা (ضلالة) ছিল যার অনুমতি ধর্ম দেয়নি? আর হাদিস অনুযায়ী আমল করাই কি মুসলিমদের বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল?
* * *
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
(2) كتابة الحديث النبويأشرنا فيما سبق إلى أن أول خطأ نواجهه في المشروع التعسفي الضخم لهدم السنُّ النبوية، وإقصائها عن المجالات العملية في حياة الأمة، هو إدعاء صاحب المشروع أن كتابة الحديث النبوي وجمعه في كتب الحديث لم يكن مأذوناً فيه شرعاً. بل هو بدعة ضالة حدثت بعد صدر الإسلام الأول (عصر الرسول والخلفاء الراشدين) وأن هذه البدعة هي سبب نكبة المسلمين، وارتدادهم من الهدى إلى الضلال، وأن الأمة لم تكن في حاجة إلى أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ولم يتورع صاحب المشروع من وصف ـأحديث النبي صلى الله عليه وسلم بأنها خرافات! بل قال - بالحرف الواحد -: "وهكذا يتضح لك كم غيبوا عقول الأمة - يقصد علماء الحديث - وحجبوها عن الحق، وطمسوا أعينها عن النور"!!
الخطأ والوهم في هذا الكلام:
هذا الكلام الذي نقلناه عن صاحب المشروع مبنى على خطأ شنيع، ووهم أوهى من بيت العنكبوت، فقد تصور المؤلف أن هناك عداء حاداً بين القرآن وبين السنُّة. القرآن يقول للسنُّة: إما أنا وإما أنت؟ والسنة تقول للقرآن: إما أنا وإما أنتظ فهما عند صاحب هذا المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية نقيضان لا يجتمعان معاً في حياة الأمة وتوجيهها، ولو لم يكن هذا التصور هو عقيدة صاحب المشروع لما ضاق ذرعاً بمجاورة النة للقرآن.
وهذا - كما يدرك القارئ - خطأ شنيع، ووهم بالغ، فالقرآن والسنة خيطان في نسيج واحد.
(২) নববী হাদিস লিখনআমরা পূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, নববী সুন্নাহ (سنة) ধ্বংস করার এবং উম্মাহর জীবনের ব্যবহারিক ক্ষেত্রসমূহ থেকে একে বর্জন করার যে বিশাল ও হীন প্রকল্প, তাতে আমরা প্রথম যে ভুলের সম্মুখীন হই তা হলো—এই প্রকল্পের প্রবক্তার দাবি যে, নববী হাদিস লিখন এবং হাদিসের গ্রন্থসমূহে তা সংকলন করার বিষয়টি শরিয়তসম্মত ছিল না। বরং এটি একটি পথভ্রষ্ট বিদআত (بدعة ضالة) যা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের (রাসূলুল্লাহ ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ) পরে উদ্ভূত হয়েছে। তার মতে এই বিদআতই (بدعة) মুসলিমদের বিপর্যয় এবং হেদায়াত থেকে বিচ্যুত হয়ে ভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত হওয়ার মূল কারণ; এমনকি উম্মাহর জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
এই প্রকল্পের প্রবক্তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে 'অলীক উপকথা' হিসেবে বর্ণনা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি! বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন: "এভাবেই আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, তারা (হাদিস বিশারদগণ) উম্মাহর বিবেককে কতটা আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন এবং সত্য থেকে তাদের বিমুখ করে নূরের দিক থেকে তাদের দৃষ্টিকে অন্ধ করে দিয়েছিলেন"!!
এই বক্তব্যের মাঝে নিহিত ভুল ও বিভ্রম:
প্রকল্পের প্রবক্তার নিকট থেকে আমরা যে কথাগুলো উদ্ধৃত করেছি, তা একটি জঘন্য ভুল এবং মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল এক অলীক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। লেখক কল্পনা করেছেন যে, কুরআন এবং সুন্নাহর (سنة) মধ্যে যেন এক চরম শত্রুতা বিদ্যমান। কুরআন যেন সুন্নাহকে (سنة) বলছে: হয় আমি থাকব, না হয় তুমি? আর সুন্নাহ (سنة) যেন কুরআনকে বলছে: হয় আমি থাকব, না হয় তুমি? নববী সুন্নাহ (سنة) ধ্বংস করার এই হীন প্রকল্পের প্রবক্তার নিকট এই দুটি বিষয় এমন পরস্পরবিরোধী, যা উম্মাহর জীবন ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে একত্রে সহাবস্থান করতে পারে না। যদি এই ধারণাটি প্রকল্পের প্রবক্তার বিশ্বাস না হতো, তবে কুরআনের পাশাপাশি সুন্নাহর (سنة) অবস্থান তাকে এতোটা বিচলিত করত না।
যেমনটি পাঠক উপলব্ধি করতে পারছেন—এটি একটি জঘন্য ভুল এবং চরম বিভ্রম; কারণ কুরআন এবং সুন্নাহ (سنة) একই বুননের দুটি অবিচ্ছেদ্য সুতোর মতো।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالقرآن - مثلاً - أعلن كلمة التوحيد مرات عديدة، وحث على الصلاة؛ والزكاة؛ والصيام؛ والحج في آيات متعددات.
فإذا جاء في الحديث الذي رواه الشيخان عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان" يكون بين القرآن والسنة عداء ومخالفة؟! فأين العداء والمخالفة بين القرآن والسنة في هذا الحديث والآيات التي تقرر هذه الدعائم الخمس التي هي أركان الإسلام؟
هذا مثال. ومثال ثان:
القرآن يأمر بأداء الأمانات إلى أ÷لها، فيقول في ذلك {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} (النساء: 58)
فهل إذا جاء في الحديث النبوي قوله صلى الله عليه وسلم: "أدَ الأمانة إلى من إئتمنك، ولا تخن من خانك" يقال أن بين القرآن وبين السنة نفاراً شديداً، وأن أحدهما يحل محل الآخر، ومحال أن يجتمعا؟
ومثال ثالث:
ينهى القرآن الحكيم عن الفرار يوم الزحف من مواجهة العدو، فيقول: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ} (الأنفال: آية 10)
যেমন— কুরআন বহুবার তাওহিদের বাণী ঘোষণা করেছে এবং বিভিন্ন আয়াতে (آيات) নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।
সুতরাং শাইখাইন (الشيخان) ইবনে উমর (রা.) থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (روى), তাতে যদি আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন:
"ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা" — তবে কি কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে কোনো বৈরিতা বা বিরোধ সৃষ্টি হবে?! এই হাদিস এবং ইসলামের এই পাঁচটি স্তম্ভ বা রুকন (أركان) নির্ধারণকারী আয়াতগুলোর (آيات) মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর বৈরিতা ও বিরোধ কোথায়?
এটি একটি উদাহরণ। দ্বিতীয় উদাহরণ:
কুরআন আমানত তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিকদের নিকট অর্পণ করো এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করো} (আন-নিসা: ৫৮)
এখন যদি নববী হাদিসে তাঁর (সা.) এই বাণী আসে যে: "তোমার কাছে যে আমানত গচ্ছিত রেখেছে তার আমানত আদায় করো এবং যে তোমার সাথে খিয়ানত করেছে তার সাথে তুমি খিয়ানত করো না" — তবে কি বলা যাবে যে, কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে চরম অনৈক্য বিদ্যমান এবং একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয় আর এ দুটির একত্র হওয়া অসম্ভব?
তৃতীয় উদাহরণ:
মহাগ্রন্থ কুরআন যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা থেকে পলায়ন করতে নিষেধ করেছে। ইরশাদ হয়েছে: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি হবে, তখন তাদের সামনে থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না} (আল-আনফাল: আয়াত ১০)
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وجاءت السنة النبوية وعدت التولى يوم الزحف من الكبائر، فهل يكون بينها وبين القرآن اختلاف أم ائتلاف؟
لقد وهم صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة. فأوقعه وهمه في هذا الخطأ الشنيع. ويقيناً أن هذا عمل عدواني متعمد من صاحب المشروع، ليس منشؤه الجهل بصلة السنة بالكتاب؛ لأننا قد تأكدنا من الإطلاع على الجزء الأول من مشروعه أنه يعلم ما قاله علماء الأمة عن صلة السنة بالكتاب. وهي:
*سنة شارحة لما في الكتاب من إجمال.
*وسنة مقررة مؤكدة لما في الكتاب من أوامر ونواه وغيرهما.
*وسنة مستقلة تقرر أحكاماً، أو تضيف قيداً لما في القرآن.
وهذا النوع قليل جداً، ومأذون فيه للنبي صلى الله عليه وسلم وسيأتي في موضعه - إن شاء الله تعالى.
أقول: مع علم صاحب المشروع بهذه الحقائق فقد أصر مئات المرات على رفض السنة، وعد اعتبارها والعمل بها زيادة في الدين. وأتهم السلف الصالح من علماء الأمة بالجها، والغفلة، والكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم..!!
النهي عن كتابة الحديث النبوي:
ومن الشبهات الني أستند إليها صاحب المشروع التعسفي الضخم لهدم السنة النبوية، ما ذهب إليه من أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى الصحابة عن أن يكتبوا عنه شيئاً غير القرآن، وأن الصحابة التزموا بهذا المنهاج حتى نهاية عصر
সুন্নাহ নববীতে (السنة النبوية) এসেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করাকে কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এমতাবস্থায় সুন্নাহ ও কুরআনের মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য রয়েছে নাকি সামঞ্জস্য?
সুন্নাহ ধ্বংস করার এই হঠকারী প্রকল্পের প্রণেতা মূলত বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন। আর তার এই বিভ্রমই তাকে এই ভয়াবহ ভুলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি নিশ্চিত যে, এটি প্রকল্পের প্রণেতার একটি সুপরিকল্পিত বিদ্বেষমূলক কাজ, যার মূল কারণ কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্কের বিষয়ে অজ্ঞতা নয়; কারণ আমরা তার প্রকল্পের প্রথম খণ্ডটি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছি যে, উম্মাহর আলেমগণ কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক বিষয়ে যা বলেছেন, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। আর তা হলো:
* এমন ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহ (سنة شارحة) যা কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহের (إجمال) ব্যাখ্যা প্রদান করে।
* এমন সুসংহত ও সমর্থনমূলক সুন্নাহ (سنة مقررة مؤكدة) যা কুরআনের আদেশ, নিষেধ ও অন্যান্য বিষয়সমূহকে সুদৃঢ় করে।
* এমন স্বতন্ত্র সুন্নাহ (سنة مستقلة) যা নতুন কোনো বিধান প্রবর্তন করে অথবা কুরআনের কোনো বিধানের সাথে শর্ত বা সীমাবদ্ধতা (قيد) যুক্ত করে।
এই প্রকারটি অত্যন্ত বিরল এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অনুমোদিত ছিল—যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচিত হবে।
আমি বলি: এই বাস্তব সত্যগুলো জানা সত্ত্বেও প্রকল্পের প্রণেতা শত শত বার সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে জেদ ধরেছেন এবং একে গণ্য করা ও এর ওপর আমল করাকে দ্বীনের মধ্যে অতিরঞ্জন হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অধিকন্তু তিনি উম্মাহর আলেমদের মধ্যে যারা সালাফে সালেহীন (السلف الصالح), তাদের প্রতি অজ্ঞতা, অসতর্কতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপের অপবাদ দিয়েছেন..!!
নববী হাদিস লিখে রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা:
সুন্নাহ ধ্বংস করার এই বিশাল ও হঠকারী প্রকল্পের প্রণেতা যেসব সংশয়ের (شبهات) ওপর নির্ভর করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে (الصحابة) কুরআন ব্যতীত তাঁর থেকে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন এবং সাহাবীগণ (الصحابة) এই মানহাজ (منهاج) বা পদ্ধতি ওই যুগের শেষ পর্যন্ত মেনে চলেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الخلفاء الراشدين، وكان ذلك هو سبب قوتهم، ولكن حين ابتدع التابعون وتابعوهم بدعة رواية الحديث وكتابته في صحف ومسانيد؛ حدث التحول الخطير من الهدى إلى الضلال -هذا ملخص ما قال.
دحض هذه الشبهة:
تمسك صاحب المشروع بشبهة ثانية نشأت عن قصور فهمه وفهم أمثاله لما ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تكتبوا عني، ومن كتب عني شيئاً غير القرآن فليمحه، وحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار" رواه مسلم في "صحيحه".
وهذا الحديث لا تنازع في ثبوته، ومع هذا فإنه لا حجة فيه لصاحب المشروع؛ ولا لأمثاله من قبله ومن بعده على أن السنة ليست من الدين، أو أن الأمة ليست بحاجة إليها.
ولو أن صاحب المشروع التعسفي لهدن السنة النبوية تنبه إلى ما ورد في الحديث من الإذن بالتحديث عنه صلى الله عليه وسلم بلا أدنى حرج، ومن التحذير من الكذب عليه في الرواية، لو فطن إلى هذا لما ساغ له أن يقول حرفاً واحداً مما قاله في هدم السنة النبوية.
فالحديث ليس فيه إلا النهي عن الكتابة، أما السماع عنه صلى الله عليه وسلم ثم تبليغ ما قاله فليس هذا بمحظور، وإنما المحظور هو تعمد الكذب عليه صلى الله عليه وسلم.
فكان حرياً بصاحب المشروع أن يفطن إلى هذه "الخصوصية"، ثم يبحث عن علة النهي عن الكتابة، مع الإقرار برواية المكتوب.
وعلماء الحديث الذين رماهم صاحب المشروع بالسفه، والجهل،
খোলাফায়ে রাশেদিন, এবং এটিই ছিল তাঁদের শক্তির মূল কারণ। কিন্তু যখন তাবেঈগণ (التابعون) এবং তাঁদের অনুসারীগণ (تابعوهم) হাদিস বর্ণনা (رواية) করা এবং সহিফা ও মুসনাদসমূহে তা লিপিবদ্ধ করার নতুন প্রথা (بدعة) উদ্ভাবন করলেন, তখন হিদায়াত থেকে গোমরাহির দিকে এক ভয়াবহ রূপান্তর ঘটল—এটিই তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।
এই সংশয়ের খণ্ডন:
এই প্রকল্পের প্রবক্তা একটি দ্বিতীয় সংশয়কে আঁকড়ে ধরেছেন যা তাঁর এবং তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের সেই হাদিসের ভুল উপলব্ধি থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তবে তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে পারো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। তা সত্ত্বেও, এই প্রকল্পের প্রবক্তার জন্য কিংবা তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমমনাদের জন্য এতে এমন কোনো দলিল নেই যে, সুন্নাহ দ্বীনের অংশ নয় কিংবা উম্মাহর এর কোনো প্রয়োজন নেই।
সুন্নাহ ধ্বংসকারী এই অবিবেচক প্রকল্পের প্রবক্তা যদি হাদিসটিতে উল্লেখিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্দ্বিধায় বর্ণনা করার অনুমতি এবং তাঁর ওপর মিথ্যা বর্ণনা (رواية) করার সতর্কবাণীর দিকে লক্ষ্য করতেন, তবে সুন্নাহ ধ্বংসের জন্য তিনি যা বলেছেন তার একটি অক্ষরও উচ্চারণ করা তাঁর জন্য সংগত হতো না।
এই হাদিসে কেবল লেখার ব্যাপারেই নিষেধ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করা এবং যা তিনি বলেছেন তা পৌঁছে দেওয়া মোটেও নিষিদ্ধ নয়। বরং যা নিষিদ্ধ, তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করা।
সুতরাং এই প্রকল্পের প্রবক্তার জন্য এটাই সমীচীন ছিল যে, তিনি এই ‘বৈশিষ্ট্য’ অনুধাবন করতেন এবং এরপর বর্ণিত বিষয়ের বর্ণনার (رواية) স্বীকৃতির পাশাপাশি লেখার নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) অনুসন্ধান করতেন।
আর হাদিস শাস্ত্রের আলেমগণ, যাদেরকে এই প্রকল্পের প্রবক্তা নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতার অপবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والكذب، والخيانة لفت نظرهم النهي عن الكتابة، كما وقفوا على "الخصوصية" الدقيقة التي عجز فهم صاحب المشروع عن الوصول إليها، ثم انتهوا إلى غير ما انتهى هو إليه.
لم يفهموا كما فهم أن السنة "منكر" ليست من الدين، ولكنهم فهموا من النهي عن كتابة الحديث في أول الأمر أنه كان خشية أن يختلط نص الحديث بنصوص القرآن التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بكتابتها فور تلقيها من أمين الوحي جبريل عليه السلام وهذا هو الحق الذي يهدي الله إليه طالبي الحق، كما قال عز وجل: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} .
فالنهي عن كتابة الحديث كان "سياسة مرحلية"، الحكمة فيه ما أشرنا إليه نقلاً عن علمائنا الأتقياء، وليس لأن الحديث ليس من الدين، وأن الأمة ليست في حاجة إليه - كما أدعى صاحب المشروع التعسفي.
ومن أقطع الأطلة على ذلك: أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر في مرحلة تالية لمرحلة النهي، أمر بكتابة الحديث عنه لما زال المانع منها وبانت خصائص القرآن وظهرت سماته المميزة له عن كلام البشر.
فقد أخرج ابن عبد البر في كتابه "جامع بيان العلم وفضله": أن عبد الله بن عمر بن العاص كان يكتب كل شيء يسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له بعض الصحابة: إنك تكتب كل شيء تسمعه من رسول الله. ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر قد يغضب فيقول ما لا يتخذ شرعاً عاماً. فرجع عبد الله بن عمرو إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وذكر له ذلك فقال له عليه الصلاة والسلام: "
মিথ্যা এবং খিয়ানত তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল লেখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার প্রতি, যেমনটি তারা সেই সূক্ষ্ম "বিশেষত্ব" সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন যা এই প্রকল্পের উদ্যোক্তার বোধগম্যতার বাইরে ছিল, অতঃপর তারা এমন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যা তার সিদ্ধান্তের বিপরীত।
তারা তার মতো এমনটি বোঝেননি যে সুন্নাহ হলো "প্রত্যাখ্যাত (منكر)" যা দ্বীনের অংশ নয়; বরং তারা শুরুর দিকে হাদিস লেখার নিষেধাজ্ঞা থেকে এটি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা ছিল হাদিসের বক্তব্য যেন কুরআনের বক্তব্যের সাথে মিশে না যায় সেই আশঙ্কায়, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর কাছ থেকে পাওয়ার সাথে সাথেই লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন। আর এটিই সেই সত্য যার দিকে আল্লাহ সত্যসন্ধানীদের হেদায়েত দান করেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।"
সুতরাং হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল একটি "সাময়িক কৌশল", যার হেকমত বা রহস্য সম্পর্কে আমরা আমাদের মুত্তাকী আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। এটি এই কারণে ছিল না যে হাদিস দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় কিংবা উম্মতের এর কোনো প্রয়োজন নেই—যেমনটি সেই স্বৈরাচারী প্রকল্পের উদ্যোক্তা দাবি করেছেন।
এর সবচেয়ে অকাট্য প্রমাণগুলোর মধ্যে একটি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর পক্ষ থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যখন সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গিয়েছিল এবং কুরআনের বিশেষত্বসমূহ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং মানুষের কথা থেকে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল।
ইবনে আবদুল বার তাঁর "জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি" কিতাবে বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে যা কিছু শুনতেন তা লিখে রাখতেন। এতে কিছু সাহাবী তাকে বললেন: "আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে যা কিছু শোনেন সবই লিখে রাখেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ; তিনি কখনো রাগান্বিত হতে পারেন এবং তখন এমন কিছু বলতে পারেন যা সাধারণ শরীয়ত হিসেবে গণ্য নয়।" অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে গেলেন এবং বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أكتب عني، فوالذي نفسي بيده ما خرج من فمي إلا الحق".
علماء الحديث لم يرفضوا الحديث الأول الناهي عن الكتابة، وجمعوا بينه وبين حديث الإذن بالكتابة، فقالوا:
إن حديث النهي كان أولاً، وحديث الإذن كان ثانياً. فصار الإذن ناسخاً للنهي. وهذه هي سمة العلماء المخلصين.
أما صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية فقد تمسك بحديث النهي وأنكر حديث الإذن. وليس هنا من شيم البحث العلمي النزية.
* * *
"আমার পক্ষ থেকে লিখে রাখো; কারণ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার মুখ থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছুই বের হয় না।"
হাদিস বিশারদগণ লিখন নিষিদ্ধকারী প্রথম হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং তাঁরা এটি এবং লিখন অনুমোদনের হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। তাঁরা বলেছেন:
নিশ্চয়ই নিষেধজ্ঞাপক হাদিস (حديث النهي) প্রথমে ছিল এবং অনুমতিজ্ঞাপক হাদিস (حديث الإذن) পরবর্তীতে এসেছে। ফলে অনুমোদনের বিষয়টি নিষেধাজ্ঞা রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর এটিই হলো নিষ্ঠাবান আলেমদের বৈশিষ্ট্য।
পক্ষান্তরে, সুন্নাহ (السنة النبوية) ধ্বংস করার হঠকারী পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি কেবল নিষেধজ্ঞাপক হাদিসটিকেই আঁকড়ে ধরেছেন এবং অনুমোদনের হাদিসটিকে অস্বীকার করেছেন। এটি কোনোভাবেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ গবেষণার নীতি হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(3) تحرج الصحابة من كتابة الحديث وروايتهومن الشبهات التي تذرع بها صاحب المشروع أن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا يتحرجون من رواية الحديث وكتابته، وأن الخلفاء الراشدين كانوا ينهون حفاظ الحديث عن التحديث به، بل كانوا يزجرون من يكثر من التحديث عنه صلى الله عليه وسلم. وهذه الشبهه لم ينفرد بها صاحب المشروع بل قال بها غيره.
دحض هذه الشبهة:
لا تنازع في أن كثيراً من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا يتحرجون من رواية الحديث - أي - من ترديده، وأنهم كثيراً ما كانوا يتثبتون حينما يسمعون حديثاً من أحد الرواة، وليس معنى هذا رفضهم للسنة، أو أنها ليست من الدين، بل كانوا يقفون هذا الموقف حتى يتأكدوا من صحة ما يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وهذا ظاهر من رواية ذكرها صاحب المشروع من أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه كان قد جمع أحاديث من غيره في صحيفة، ثم أمر بنته عائشة رضي الله عنها بحرقها. فقالت له: لم تحرقها؟!! فقال لها: خشيت أن أموت وهي عندي فيكون فيها أحاديث عن رجل قد أئتمنته ووثقت به، ولم يكن كما حدثني، فأكون قد نقلت ذلك، وهذا لا يصلح.
هذه الرواية تدل على حرص الصحابة - رضوان الله عليهم - على التدقيق فيما يروى عن صاحب الدعوة صلى الله عليه وسلم، وهذه محمدة لهم تبعث في
(৩) হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের সতর্কতা ও দ্বিধা (تحرج)'প্রকল্পের উদ্যোক্তা' (সাহেব আল-মাশরু) যেসব সংশয়কে (شبهات) অজুহাত হিসেবে পেশ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ (تحرج) করতেন। এছাড়া খুলাফায়ে রাশেদিন হাদিস মুখস্থকারীগণকে (حفاظ الحديث) হাদিস বর্ণনা করা থেকে নিষেধ করতেন, এমনকি যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করতেন, তাদের তারা কঠোরভাবে নিবৃত্ত করতেন। এই সংশয়টি (شبهة) কেবল উক্ত উদ্যোক্তাই এককভাবে উত্থাপন করেননি, বরং তার আগে অন্যরাও এটি বলেছে।
এই সংশয়ের (شبهة) খণ্ডন:
এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবী হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে—অর্থাৎ তা বারবার বলার ক্ষেত্রে—দ্বিধাবোধ (تحرج) করতেন। কোনো বর্ণনাকারীর (راوي) কাছ থেকে যখনই তারা কোনো হাদিস শুনতেন, তখন তারা প্রায়শই তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই (تثبت) করতেন। এর অর্থ এই নয় যে, তারা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করতেন কিংবা সুন্নাহ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে মনে করতেন। বরং তারা এই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন যাতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হচ্ছে তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।
এটি ঐ বর্ণনা (رواية) থেকে স্পষ্ট যা উক্ত উদ্যোক্তা উল্লেখ করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে যে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্যদের থেকে সংগৃহীত হাদিসসমূহ একটি পাণ্ডুলিপিতে জমা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তার কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: কেন আপনি এগুলো পুড়িয়ে ফেলছেন?!! তিনি উত্তর দিলেন: "আমি আশঙ্কা করছি যে, আমি মারা যাব এবং এগুলো আমার কাছে থেকে যাবে। এর মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস থাকতে পারে যাকে আমি বিশ্বস্ত মনে করেছি এবং যার ওপর আমার আস্থা (وثوق) ছিল, কিন্তু বাস্তবে সে তেমনটি ছিল না যেমনটি সে আমার নিকট বর্ণনা করেছে। এমতাবস্থায় আমি সেই অপ্রমাণিত বিষয়টি বর্ণনা করে ফেলব, যা মোটেও সমীচীন নয়।"
এই বর্ণনাটি (رواية) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়ের সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—গভীর আগ্রহের প্রমাণ দেয়। এটি তাঁদের জন্য একটি প্রশংসনীয় গুণ যা...
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قلوبنا الإطمئنان بما ينسب عن الثقات إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أما صاحب المشروع التعسفي لهدم السنُّة النبوية فقد عقل عليها قائلاً:
"وحسب المصنف - يعني (نفسه) أن يرى هذه الرواية. . . ويتأمل فيها ليعلم حقيقة الكارثة التي أصابت الخلق - يعني (علماء الحديث) من هذه الأمة بترك منهاج السلف. . الذين لم يقبلوا - ليلة واحدة - أن يبيت أحدهم - يعني (أبا بكر) وعنده بعض الأحاديث المكتوبة. .".
ثم يقول: "وهل يمكن لأحد أن يجد بعد هذه الرواية مخرجاً لتبرير وجمع وتدوين الحديث".
وغير خاف على القارئ الكريم أن الواقعة في واد وأن ما بناه عليها صاحب المشروع في واد آخر. فأبو بكر أحرق الصحيفة خشية أن يكون فيها حديث لا يصح إسناده إلى الرسول صلى الله عليه وسلم. وصاحب المشروع عزا سبب إحراقها إلى أن بها أحاديث مكتوبة. وهذا ما يدعو إلى العجب من حال رجل يزعم أنه يسير على منهج بحث علمي دقيق. وكأن الشاعر عناه بقوله الحكيم:
سارت مشرقة وسرت مغرباً
شتان بين مشرق ومغرب
أما شبهة نهي الخلفاء عن الإكثار من التحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم التي كانت محفوظة في صدور الرجال، فكان نت الحيطة الاقتصاد في سوقها، وعدم الإسراف في التحديث بها. على أن هناك حقيقة يجب أن نضعها في الاعتبار هي:
নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধিত হয়, সে ব্যাপারে আমাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
তবে নবুওয়াতের সুন্নাহ ধ্বংস করার হঠকারী প্রকল্পের উদ্যোক্তা এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:
"গ্রন্থকারের জন্য—অর্থাৎ নিজের জন্য—এটুকু দেখাই যথেষ্ট যে তিনি এই বর্ণনাটি (رواية) লক্ষ্য করবেন... এবং এতে গভীরভাবে চিন্তা করবেন যাতে তিনি সেই বিপর্যয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন যা সালফে সালেহীনের পথ পরিহার করার কারণে এই উম্মতের সৃষ্টির—অর্থাৎ হাদিস বিশারদদের—ওপর আপতিত হয়েছে... যারা একটি রাতের জন্যও এটি বরদাশত করেননি যে, তাদের কেউ—অর্থাৎ আবু বকর—এমন অবস্থায় রাত কাটাবেন যে তার কাছে কিছু লিখিত হাদিস রয়েছে..."।
অতঃপর তিনি বলেন: "এই বর্ণনার (رواية) পর কি আর কারও পক্ষে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين) করার স্বপক্ষে কোনো অজুহাত বা পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব?"
সম্মানিত পাঠকের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রকৃত ঘটনা এক মেরুতে আর সেই প্রকল্পের উদ্যোক্তা যা তার ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন তা অন্য মেরুতে। আবু বকর (রা.) সেই পান্ডুলিপিটি পুড়িয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যে, তাতে এমন কোনো হাদিস থাকতে পারে যার সনদ (إسناد) রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। পক্ষান্তরে প্রকল্পের উদ্যোক্তা এটি পুড়িয়ে ফেলার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তাতে লিখিত হাদিস বিদ্যমান ছিল। এটি এমন এক ব্যক্তির অবস্থার প্রতি বিস্ময় জাগায়, যিনি দাবি করেন যে তিনি একটি সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। যেন কবি তার এই প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীতে তাকেই উদ্দেশ্য করেছেন:
সে পূর্ব দিকে এগিয়েছে আর আমি চলেছি পশ্চিমে
পূর্ব আর পশ্চিমের মাঝে কতই না বিস্তর ব্যবধান!
আর বর্ণনাকারীদের অন্তরে সংরক্ষিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অধিক পরিমাণে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে খলিফাদের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞার সংশয় উত্থাপন করা হয়, তার কারণ ছিল বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা এবং অধিক বর্ণনায় লিপ্ত না হওয়া। তবে এখানে একটি বাস্তব সত্য আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে, আর তা হলো:
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أن كراهة كثرة التحديث في عصر الخلفاء لم تكن شاملة لكل الأحاديث، بل كانت مقصورة على أحاديث الرخُص خشية أن يركن إليها الناس ويتركوا أحاديث العزائم.
كذلك كانوا يكرهون ذكر الأحاديث التي قد يكون فيها "مشكلات" يصعب فهمها على عامة الناس. وقد اعتنى علماء الحديث من بعد بهذا النوع وعالجوه علاجاً علمياً جيداً، مثل "مشكل الآثار" للطحاوي، و"تأويل مختلف الحديث" لابن قتيبة.
هذا النوعان هما اللذان كانا موضع كراهة الإكثار منهما.
أما أحاديث العمل والأحكام الفقهية وكل ما يتعلق بأعمال المكلفين إيجاباً وحظراً، فهذه لم تكن محظروة ولا منهياً عنها.
وهذا ما غفل عنه، أو تغافل عنه دعاة هدم السنة النبوية ومنهم صاحب هذا المشروع التعسفي.
ثم من أين علم صاحب المشروع أن الخلف انحرفوا عن منهج السلف في رواية الحديث وتدوينه؟ مع أنهم - في حقيقة الأمر - ساروا على المنهج نفسه. ووضعوا ضوابط دقيقة لمن تقبل روايته ولمن ترد روايته. وفحصوا أحوال الرواة فحصاً دقيقاً، وصنفوهم طبقات على حسب سرتهم، ووضعوا درجات لكل طبقة - مثل: "ثقة - صدوق - مقبول - مردود.... إلخ"، وإذا روى الحديث عن ثقات وكان في سلسلة الرواة من ليس "ثقة" حكموا على الحديث بحكم يليق به من الضعف وغيره، وصنفوا الأحاديث أصنافاً ثلاثة: صحيح، وحسن، وضعيف.
খলিফাদের যুগে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করার প্রতি যে অপছন্দনীয়তা ছিল, তা সকল হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছিল না; বরং তা কেবল সহজসাধ্য হুকুম বা ছাড় সংক্রান্ত হাদিসগুলোর (أحاديث الرخص) ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল, যাতে মানুষ কেবল সেগুলোর ওপর নির্ভর না করে এবং কঠোর সংকল্প বা আবশ্যিক আমল সংক্রান্ত হাদিসগুলো (أحاديث العزائم) বর্জন না করে।
অনুরূপভাবে তাঁরা এমন হাদিসগুলো বর্ণনা করা অপছন্দ করতেন যেগুলোতে 'অস্পষ্টতা' (مشكلات) থাকতে পারে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। পরবর্তীকালের হাদিস বিশারদগণ এই প্রকারের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং অত্যন্ত সুন্দর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এর সমাধান করেছেন, যেমন—তহাবীর মুশকিলুল আসার এবং ইবনে কুতায়বার তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস।
এই দুই প্রকারের হাদিসই ছিল সেই বিষয় যেগুলোর আধিক্যের ব্যাপারে অপছন্দ প্রকাশ করা হতো।
পক্ষান্তরে আমল এবং ফিকহী বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের বৈধতা ও অবৈধতা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়গুলো মোটেই নিষিদ্ধ বা বারণ ছিল না।
এটি এমন একটি বিষয় যা সুন্নাহ ধ্বংসের প্রবক্তারা এড়িয়ে গেছেন অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষা করেছেন, আর তাদের মধ্যে এই স্বৈরাচারী প্রকল্পের হোতাও অন্তর্ভুক্ত।
তাছাড়া, এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা কীভাবে জানলেন যে পরবর্তী প্রজন্ম হাদিস বর্ণনা এবং তা সংকলনের ক্ষেত্রে পূর্বসূরি বা সালাফদের মানহাজ থেকে বিচ্যুত হয়েছে? অথচ তারা—প্রকৃতপক্ষে—একই মানহাজ অনুসরণ করেছিলেন। তাঁরা কার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে এবং কার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হবে সে বিষয়ে সূক্ষ্ম নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছিলেন এবং তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছিলেন। তাঁরা প্রতিটি স্তরের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিলেন—যেমন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)", "সত্যবাদী (صدوق)", "গ্রহণযোগ্য (مقبول)", "প্রত্যাখ্যাত (مردود)" ইত্যাদি। আর যদি হাদিসটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের (ثقات) মাধ্যমে বর্ণিত হয় এবং বর্ণনাকারী সিলসিলায় এমন কেউ থাকে যে "নির্ভরযোগ্য" (ثقة) নয়, তবে তাঁরা সেই হাদিসের ওপর তার উপযুক্ত দুর্বলতা (الضعف) বা অনুরূপ হুকুম আরোপ করতেন। তাঁরা হাদিসকে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জঈফ (ضعيف)।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كما وضعوا لسند الحديث ومتنه ضوابط حكيمة من خلالها نستطيع أن نحكم على الحديث بالقبول أو الرد.
وكان جُماع الحديث يشدون الرحال - أحياناً - ويقطعون آلاف الأميال طلباً لسماع حديث واحد من راويه.
ومن العجيب أن صاحب المشروع يعرف ذلك كله، وقد استفاد منه كثيراً في مشروعه، ومع هذا ينكر فضل علماء الحديث، ويرميهم بكل نقيصة، ويتوعدهم بالويل والثبور وعظائم الزمور؟ ولولا جهود علماء الحديث وثروتهم العلمية لضمر الجزء الأول من مشروعه "الوارم" إلى عُشر ما هو علية.
وعلى عكس ما يرمى به صاحب المشروع علماء الحديث من الخلف - بعد عصر الخلفاء الراشدين -، فإننا نقول بكل ثقة.
"إن أحاديث رسوا الله صلى الله عليه وسلم نالت من العناية والاهتمام والتمحيص على أيدي هؤلاء العلماء الأفذاذ ما لم تحظى به في عصر سابق أو لاحق".
وبخاصة حين ظهر الوضع والإفتراء في الحديث بعد عصر الخلفاء، فقيض الله جل وعلا لسنة رسوله صلى الله عليه وسلم جيشاً جراراً من العلماء الأتقياء الأبرار وجمعوا ما صح وما حسن من الأحاديث بسندها ومتنها بمختلف طرقها، ونصوا على أسباب الصحة والحسن فيها.
كما جمعوا الأحاديث الضعيفة وبينوا أسباب ضعفها، ثم جمعوا ما شاع من أحاديث مكذوبة ونصوا على أسباب وضعها.
وفي منهج الإمام البخاري ما يدحض إفتراءات صاحب المشروع على علماء الخلف رضي الله عنهم.
তেমনিভাবে তাঁরা হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متن) এর জন্য প্রাজ্ঞ নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে আমরা হাদিস গ্রহণযোগ্য (مقبول) নাকি বর্জনীয় (مردود) সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
এবং হাদিস সংগ্রহকারীরা কোনো কোনো সময় কেবল একজন বর্ণনাকারীর (راوي) নিকট থেকে একটি হাদিস শোনার উদ্দেশ্যে সফর করতেন এবং হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করতেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রকল্পের প্রণেতা এসবের সবকিছুই জানেন এবং তাঁর প্রকল্পে এগুলো থেকে প্রচুর উপকৃতও হয়েছেন; তবুও তিনি হাদিস বিশারদদের অবদান অস্বীকার করেন, তাঁদেরকে সব ধরণের দোষে অভিযুক্ত করেন এবং তাঁদেরকে চরম ধ্বংস ও কঠিন পরিণতির হুমকি দেন। অথচ হাদিস বিশারদদের প্রচেষ্টা ও তাঁদের ইলমী সম্পদ না থাকলে, তাঁর "স্ফীত" প্রকল্পের প্রথম অংশটি বর্তমানে যা আছে তার দশ ভাগের এক ভাগে সংকুচিত হয়ে যেত।
খোলাফায়ে রাশেদীনের পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদদের প্রতি প্রকল্পের প্রণেতা যে অপবাদ দিয়েছেন, তার বিপরীতে আমরা পূর্ণ আস্থার সাথে বলছি।
"নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ এই অসাধারণ আলেমদের হাতে এমন যত্ন, গুরুত্ব এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই (تمحيص) লাভ করেছে, যা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কোনো যুগে অর্জিত হয়নি।"
বিশেষ করে যখন খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের পর হাদিসের ক্ষেত্রে জালিয়াতি (وضع) ও মিথ্যাচারের (افتراء) উদ্ভব ঘটে, তখন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সংরক্ষণে খোদাভীরু ও নেককার আলেমদের এক বিশাল বাহিনী নিয়োজিত করেন। তাঁরা বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে হাদিসের সনদ (سند) ও মতনসহ (متن) যা সহিহ (صحيح) এবং যা হাসান (حسن) তা সংকলন করেছেন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও হাসান (حسن) হওয়ার কারণসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে তাঁরা দুর্বল (ضعيف) হাদিসগুলোও সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর দুর্বলতার (ضعف) কারণসমূহ স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তাঁরা প্রচলিত মিথ্যা (مكذوب) হাদিসগুলো সংকলন করেছেন এবং সেগুলো জাল (وضع) হওয়ার কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বুখারীর মানহাজ (منهج) বা কর্মপদ্ধতির মধ্যেই পরবর্তী যুগের আলেমদের (رضي الله عنهم) বিরুদ্ধে এই প্রকল্প প্রণেতার অপবাদের খণ্ডন বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقد توخى الإمام البخاري في "جامعه الصحيح" الروية والأناة، حيث صنفه في ستة عشر عاماً وقد جمع فيه تسعة آلاف واثنين وثمانين حديثاً (بالمكرر) وفي ذلك يقول:
"أخرجت هذا الكتاب - يعني (الجامع الصحيح) . . . من نحو ستمائة ألف حديث، وصنفته في ست عشرة سنة، وجعلته بيني وبين الله" وهذا يدل على حرصه الشديد على أنه لا يكتب في "صحيحه" حديثاً إلا بعد التحري عنه والتثبت منه، فكان يدون كل يوم حديثين فقط، وقد عهد على نفسه أن يتوضأ ويصلي ركعتين بنية الإستخارة لكل حديث - يقول:
"ما وضعت في الصحيح حديثاً إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين" فإذا شرح الله صدره للحديث المستخار من أجله كتبه، وإلا فلا، فأين التساهل في النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم عند هؤلاء الأتقياء البررة.
إن من علامات الساعة الصغرى: "أن يسب أخر الأمة أولها".
نبرأ إلى الله - سبجانه وتعالى - من هذا السلوك الطائش.
* * *
ইমাম বুখারি তাঁর 'জামেউস সহিহ' গ্রন্থ সংকলনে চরম ধীরস্থিরতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, যেখানে তিনি এটি দীর্ঘ ষোলো বছরে সংকলন করেছেন এবং এতে তিনি (পুনরাবৃত্তিসহ) নয় হাজার বিরাশিটি হাদিস সংগ্রহ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
"আমি এই কিতাবটি—অর্থাৎ (জামেউস সহিহ)—প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে চয়ন করেছি, এটি ষোলো বছরে সংকলন করেছি এবং এটিকে আমার ও আল্লাহর মাঝে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি।" এটি তাঁর সেই তীব্র একাগ্রতার প্রমাণ দেয় যে, তিনি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে কোনো হাদিসই পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও তা সুনিশ্চিত হওয়া ব্যতীত অন্তর্ভুক্ত করতেন না। তিনি প্রতিদিন মাত্র দুটি করে হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন এবং প্রতিটি হাদিসের জন্য অজু করে ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নিয়ম নিজের ওপর নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন:
"আমি 'সহিহ' গ্রন্থে কোনো হাদিসই স্থাপন করিনি তার পূর্বে গোসল করা এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করা ব্যতীত।" অতঃপর যে হাদিসের জন্য ইস্তিখারা করা হতো, সেটির ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করে দিলে তিনি তা লিখতেন, অন্যথায় নয়। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এই সকল পরহেজগার ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের মাঝে শিথিলতা (تساهل) কোথায়?
নিশ্চয়ই কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহের মধ্যে একটি হলো: "এই উম্মতের পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তীদের গালি দেবে।"
আমরা মহান আল্লাহর নিকট এই হঠকারী আচরণ থেকে বিমুক্তি ঘোষণা করছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
(4) الرواية بالمعنىمن الشبهات التي أثارها صاحب المشروع، متابعاً في إثارتها غيره من خصم السنة - قديماً - والمبشرين والمستشرقين - حديثاً -، مثل المستشرق اليهودي المجري: جولد تسيهر. عدو السنة الألد. ومحمود أبو رية صاحب كتاب: "أضواء على السنة المحمدية". من تلك الشبهات شبهة أن الأصل في رواية الحديث النبوي كانت بالمعنى لا باللفظ، - يعني - أن راوي الحديث كان بعد سماعه الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يردده بألفاظ من عنده لا بالألفاظ التي سمعها. وهي شبهة قديمة - كما تقدم -، وقد تصدى لها علماء الحديث وكشفوا عن زيفها.
يقول صاحب المشروع التعسفي لهدم السٌنة النبوية:
"إن الرواية بالمعنى كانت هي الأصل بالفعل عند السابقين، ولكن علماء الحديث ظلوا يخففون من ثقل هذه الحيقيقة على العقول، حتى لا يفزع الناس من تلقي أحكام تقال في الدين عبر أجيال متلاحقة بطريق الرواية بالمعنى، حتى أن الإمام الشافعي جعل ذلك أصلاً من الأصول الشرعية التي لا ينبغي أن يفزع الناس منها".
وقد رتب صاحب المشروع على هذا الأصل الذي أدعاه؛ وهو رواية الحديث بالمعنى أموراً، منها:
* أن ما اشتملت عليه كتب الحديث من أقوال منسوبة إلى
(৪) অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى)আলোচ্য প্রকল্পের প্রণেতা সুন্নাহর অন্যান্য প্রাচীন বিরোধী এবং আধুনিক মিশনারি ও প্রাচ্যবিদদের অনুকরণে যেসব সংশয় উত্থাপন করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো এটি। যেমন হাঙ্গেরীয় ইহুদি প্রাচ্যবিদ এবং সুন্নাহর ঘোর শত্রু গোল্ডজিহার এবং 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ' গ্রন্থের লেখক মাহমুদ আবু রাইয়াহ। সেসব সংশয়ের মধ্যে একটি হলো—নবীজির হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি ছিল শব্দগত নয় বরং অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى)। অর্থাৎ, হাদিস বর্ণনাকারী (راوي الحديث) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে হাদিস শোনার পর তা হুবহু শোনা শব্দে বর্ণনা না করে নিজের শব্দে বর্ণনা করতেন। এটি একটি প্রাচীন সংশয়—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং হাদিস বিশারদগণ (علماء الحديث) এর মোকাবিলা করেছেন ও এর অসারতা উন্মোচন করেছেন।
সুন্নাহ ধ্বংস করার এই স্বেচ্ছাচারী প্রকল্পের প্রণেতা বলেন:
"প্রকৃতপক্ষে পূর্ববর্তীদের নিকট অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى)-ই ছিল বাস্তব ভিত্তি। কিন্তু হাদিস বিশারদগণ (علماء الحديث) মানুষের বিবেকের ওপর এই সত্যের ভার লাঘব করার চেষ্টা করে গেছেন, যাতে মানুষ অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى) পদ্ধতিতে ধারাবাহিক প্রজন্মের মাধ্যমে প্রাপ্ত ধর্মীয় বিধানগুলো গ্রহণ করতে আতঙ্কিত না হয়। এমনকি ইমাম শাফেঈ একে শরয়ি মূলনীতিগুলোর (الأصول الشرعية) অন্যতম একটি হিসেবে গণ্য করেছেন, যা নিয়ে মানুষের আতঙ্কিত হওয়া অনুচিত।"
প্রকল্পের প্রণেতা তার দাবিকৃত এই মূলনীতি অর্থাৎ হাদিসের অর্থগত বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى)-র ওপর ভিত্তি করে কিছু বিষয় সাজিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
* হাদিস গ্রন্থসমূহে যেসব উক্তি... এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
رسول الله صلى الله عليه وسلم هي ليست أقواله: وإنما هي أقوال رجال يخطئون ويصيبون ولا يوثوق بهم؟!.
* أن الأحكام التي تُفْهم من هذه الأقوال إنما هي آراء أولئك الرجال، وليست أحاكاً شرعية؟!.
* أن رجال الحديث خدعوا الأمة طوال أربعة عشر قرناً، وأوهموها بأن الأحاديث هي من كلام رسول الله، وهي ليست من كلامه، ولم يصرحوا للأمة بحقيقة الأمر لئلا تفزع من تلك الحقيقة؟!
* وأن الإمام الشافعي له ضلع في تلك الجرائم، وكذلك أئمة المذاهب الفقهية الأخرى؛ حيث جعلوا تلك الأحاديث المزورة أصلاً ثانياً من أصول التشريع؟!.
هذا ما يسعى إليه صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية؛ حيث يروج في مشروعه الخبيث التشكيك في السنة جملة وتفضيلاً، وهو يزعم أنه حامل مشعل التبصير، ورائد المنهج العلمي الصحيح، الذي جهله أو تجاهله حماة السنة وعلماؤها الأفذاذ؟!.
دحض هذه الافتراءات:
الصواب الذي لا محيد عنه أن الأصل المجمع عليه في رواية الحديث أن روايته كانت بالألفاظ لا بالمعاني؛ كما زعم صاحب المشروع - ناعقاً بما نعق به أمثاله من قبل.
أما رواية الحديث بالمعنى فهو موضع حرج شديد عند الرواة، وهم جميعاً
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (হাদিসসমূহ) তাঁর কথা নয়: বরং এগুলো এমন কিছু মানুষের কথা যারা ভুল করে এবং সঠিকও বলে এবং তাদের ওপর নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) নিশ্চিত করা যায় না?!
* এই কথাগুলো থেকে যে বিধানসমূহ বোঝা যায় তা কেবল ওই ব্যক্তিদের মতামত মাত্র, কোনো শরয়ী বিধান নয়?!
* হাদিসের বর্ণনাকারীরা (رواة) চৌদ্দ শতাব্দী ধরে উম্মাহকে প্রতারিত করেছেন এবং তাদের এই বিভ্রমে ফেলেছেন যে, হাদিসগুলো রাসূলুল্লাহর কথা, অথচ এগুলো তাঁর কথা নয়। আর তারা উম্মাহর কাছে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেননি যাতে তারা সেই সত্য দেখে আতঙ্কিত না হয়?!
* আর ইমাম শাফেঈ এই অপরাধগুলোর সাথে জড়িত ছিলেন, সেই সাথে অন্যান্য ফিকহি মাযহাবের ইমামগণও; যেহেতু তারা এই জাল (مزورة) হাদিসগুলোকে শরিয়তের বিধিবিধানের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন?!
সুন্নাহ ধ্বংসকারী এক স্বৈরাচারী প্রকল্পের উদ্যোক্তা এটাই অন্বেষণ করছেন; যেখানে তিনি তার এই ঘৃণ্য প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণভাবে ও বিস্তারিতভাবে সুন্নাহর প্রতি সংশয় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আর তিনি দাবি করছেন যে, তিনি সচেতনতার মশাল বহনকারী এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অগ্রপথিক, যা সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ও প্রথিতযশা আলেমগণ জানতেন না অথবা উপেক্ষা করেছেন?!
এসব অপবাদের খণ্ডন:
অকাট্য সত্য এই যে, হাদিস বর্ণনার (رواية الحديث) ক্ষেত্রে সর্বসম্মত মূলনীতি হলো—বর্ণনা শব্দে শব্দে (رواية باللفظ) ছিল, অর্থের ভিত্তিতে (رواية بالمعنى) নয়; যেমনটি ওই প্রকল্পের উদ্যোক্তা দাবি করেছেন—তার আগে যারা অনুরূপ ভ্রান্ত কথা ছড়িয়েছে তাদেরই প্রতিধ্বনি করে।
আর অর্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা (رواية بالمعنى) করা বর্ণনাকারীদের (رواة) কাছে অত্যন্ত সংকটের বিষয় ছিল, এবং তারা সকলেই
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم هم وحدهم الذين روَوا ونقلوا ما سمعوه منه، ولم يشاركهم في ذلك أحد.
أما التلبعون فهم الذين سمعوا الحديث من أصحابه، والصحابة مشهود لهم بالعدل والاستقامة بصريح القرآن في قوله تعالى: {لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 117]
وكذلك التابعون في قوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100]
وفي الحديث الصحيح: "خير القرون قرني، ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم".
وعن هؤلاء البررة الكرام وصل إلينا كتاب الله العزيز، وعنهم أخذنا السنة النبوية الطاهرة، فهل يقع في وًهْم واهم - غير صاحب المشروع - أن هؤلاء الصفوة من الأصحاب، ثم التابعين يتهاونون في النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويزورون أحاديثه!!
ومن الذي قاوم ظاهرة وضع الحديث ووقف لها بالمرصاد إلا التابعون الذين رماهم صاحب المشروع بالسفة والكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغرير بالأمة، وخداعهم إياها. والراوية بالمعنى التي استسمن صاحب
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ থেকে; কারণ তাঁরাই একমাত্র সত্তা যারা তাঁর থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করেছেন এবং পৌঁছে দিয়েছেন, আর এ ক্ষেত্রে অন্য কেউ তাঁদের অংশীদার ছিল না।
পক্ষান্তরে তাবিঈগণ হলেন তাঁরাই যারা সাহাবীগণের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী—পবিত্র কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ভাষ্য অনুযায়ী সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও অটল সততার (استقامة) অধিকারী হিসেবে স্বীকৃত: "আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদেরকে, যারা কঠিন সময়ে তাঁর অনুগামী হয়েছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর তিনি তাদের ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি পরম স্নেহশীল, পরম দয়ালু।" [আত-তাওবাহ: ১১৭]
অনুরূপভাবে তাবিঈগণের প্রশংসায় মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।" [আত-তাওবাহ: ১০০]
এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর তাদের যুগ যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর তাদের যুগ যারা তাদের পরবর্তী।"
এই সকল পুণ্যবান মহান ব্যক্তিদের মাধ্যমেই আমাদের নিকট মহান আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব পৌঁছেছে এবং তাঁদের থেকেই আমরা পবিত্র সুন্নাহ গ্রহণ করেছি। তবে কি কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তির মনে এমন ধারণা আসতে পারে—এই প্রকল্পের প্রবক্তা ব্যতীত—যে সাহাবীগণের মধ্য থেকে এই মনোনীত ব্যক্তিবর্গ এবং অতঃপর তাবিঈগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন কিংবা তাঁর হাদিস জাল (وضع) করেছেন!!
আর তাবিঈগণ ব্যতীত আর কে হাদিস জাল (وضع) করার প্রবণতা প্রতিহত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরীর মতো রুখে দাঁড়িয়েছেন? অথচ এই প্রকল্পের প্রবক্তা সেই তাবিঈদের বিরুদ্ধেই নির্বুদ্ধিতা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যাচার (كذب) এবং উম্মতকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার অভিযোগ এনেছেন। আর অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) যাকে এই প্রকল্পের প্রবক্তা অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المشروع ورمها، واتخذ منها وسيلة لهدم السنة، لم تقع بالصورة التي زعم أنها شملت الأحاديق كلها؛ بل إن الثابت أنها كانت ضرورة، أو رخصة في أضيق الحدود إذا اضطر الراوي إليها. وأنها كانت تقع في بعض الألفاظ - أحياناً - مثل وضع كلمة مكان أخرى يؤدي معناها، أو في أداة من أدوات العطف. وأنها لم تقع تعمداً ولا اختياراً، بل إذا نسى الراوي لفظاً في حديث يسوقه للاستشهاد به على أمر. وأنها كانت تقع في الراوية الشفيهة العابرة لا في تدوين الحديث وكتابته، وأن من كان يروى أمراً بالمعنى كان ينبه إلى تلك الراوية حتى لا يفهم السامع أنها من كلام النبي عليه الصلاة والسلام.
وهذا كله كان في القرن الأول قبل تدوين الحديث، فلما أستقر تدوين الحديث بلفظه ومعناه منع العلماء روايته بالمعنى.
قال الماوردي: "إذا نسى اللفظ جاز - يعني (الرواية بالمعنى) - لا سيما أن تركه قد يكون كتماناً للأحكام، فإن لم ينسه لم يجز أن يورده بغيره؛ لأن في كلامه صلى الله عليه وسلم من الفصاحة ما ليس في غيره".
وقال السيوطى عن الصحابة إذا روَوْا بالمعنى:
"وكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا اضطروا إلى الرواية بالمعنى، أو شكوا في اللفظ النبوي، أو في بعضه، أوردوا عقب الحديث لفظاً يفيد التصون والتحوط، وهم أعلم الناس بمعاني الكلام، لعلمهم بما في الرواية بالمعنى من الخطر، - يعني - أن الصحابة - رضوان الله عليهم - كانوا إذا روَوْا شيئاً من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمعنى - اضطراراً لا اختياراً - نبهوا بعد الفراغ من سوق الحديث إلى ما رووه منه بالمعنى. ولهذا التنبيه قائدتان:
এই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এবং একে সুন্নাহ (سنة) ধ্বংস করার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, অথচ এটি সেই রূপ ধারণ করেনি যেমনটি দাবি করা হয়েছিল যে এটি সমস্ত হাদিসকে বেষ্টন করে আছে। বরং এটি প্রমাণিত যে, এটি ছিল একটি অপরিহার্যতা বা অত্যন্ত সংকীর্ণ সীমার মধ্যে একটি অনুমতি (رخصة), যখন বর্ণনাকারী (راوي) এর জন্য বাধ্য হতেন। আর এটি কখনও কখনও কিছু শব্দের ক্ষেত্রে ঘটত—যেমন একটি শব্দের স্থলে অন্য এমন একটি শব্দ ব্যবহার করা যা তার সমার্থক অর্থ প্রদান করে, অথবা কোনো অব্যয়ের ক্ষেত্রে। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে বা স্বেচ্ছায় ঘটত না, বরং বর্ণনাকারী (راوي) যখন কোনো বিষয়ে দলিল পেশ করার জন্য বর্ণিত হাদিসের কোনো শব্দ ভুলে যেতেন তখন এটি ঘটত। এটি কেবল মৌখিক ও ক্ষণস্থায়ী বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, হাদিস সংকলন (تدوين) ও লিখনের ক্ষেত্রে নয়। আর যিনি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করতেন, তিনি সেই বর্ণনা সম্পর্কে সতর্ক করে দিতেন যাতে শ্রোতা এটি মনে না করেন যে এটি হুবহু নবী (সা.)-এর বাণী।
এই সবকিছুই ছিল হাদিস সংকলনের (تدوين) পূর্ববর্তী প্রথম শতাব্দীতে। যখন শব্দ ও অর্থসহ হাদিস সংকলন (تدوين) সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন উলামায়ে কেরাম অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করা নিষিদ্ধ করলেন।
আল-মাওয়ার্দি বলেন: "যদি বর্ণনাকারী শব্দ ভুলে যান তবে তা জায়েজ (جائز)—অর্থাৎ অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى)—বিশেষ করে যেহেতু বর্ণনা পরিত্যাগ করা শরয়ি বিধান গোপন করার নামান্তর হতে পারে। কিন্তু যদি তিনি শব্দগুলো না ভুলে থাকেন, তবে অন্য শব্দে তা বর্ণনা করা জায়েজ (جائز) নয়; কারণ নবী (সা.)-এর বাণীতে যে প্রাঞ্জলতা রয়েছে তা অন্য কারও বাণীতে নেই।"
আল-সুয়ুতি সাহাবী (صحابة)-দের সম্পর্কে বলেন যখন তাঁরা অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করতেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবী (صحابة)-গণ যখন অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করতে বাধ্য হতেন, অথবা নবীর বাণীর শব্দে বা তার কোনো অংশে সন্দেহ পোষণ করতেন, তখন তাঁরা হাদিস বর্ণনার পর এমন শব্দ উল্লেখ করতেন যা সতর্কতা ও সাবধানতা নির্দেশ করত। তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে শব্দের অর্থের ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত, কারণ তাঁরা অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনার (رواية بالمعنى) ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অর্থাৎ সাহাবী (صحابة)-গণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো হাদিস অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করতেন—যা ছিল বাধ্য হয়ে, স্বেচ্ছায় নয়—তখন তাঁরা হাদিস বর্ণনা শেষ করে সেই অর্থের ভিত্তিতে করা বর্ণনার ব্যাপারে সতর্ক করে দিতেন। এই সতর্কীকরণের দুটি উপকারিতা রয়েছে:"
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأولي: دفع اعتقاد السامع أن اللفظ المروي بالمعنى من كلام الرسول صلى الله عليه وسلم.
الثانية: الحث على التثبيت عند تدوين الحديث من اللفظ النبوي الذي عبر عنه بلفظ أخر يؤدي معناه.
كل هذه الحقائق الثوابت جهلها أو تجاهلها صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية. فهل إذا أساء به الظن قراء مشروعه يكونون قد تجاوزوا الحقيقة؟
إن كلامه الذي نقلنا بعضاً منه دعوة صريحة وملحة إلى التشكيك في كل ما رواه حتى الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكفى بذلك هدماً للسنة النبوية: مع ما لها في حياة المجتمعات الإسلامية من رسوخ؛ وسعة توجيه في عظائم الأمور ودقائقها.
ويضيف إلى هذه الشبهة شبهة أخرى واهية؛ وهي أن علماء اللغة رفضوا الاستشهاد بالأحاديث لشكهم فيها؟!
وهذا غير مسلم على إطلاقه. فالذي تحرج من الاستشهاد بها نقرمنهم، والجمهور على خلافهم، ومن يطلع - ولو عابراً - على كتب النحو، والصرف، ومعاجم اللغة، وفقه اللغة يجد المئات من الأحاديث التي أوردها اللغويون في مصنفاتهم. ولولا خشية الإطالة لذكرنا بعضاً منها.
ولو فرضنا جدلاً أن هذا موقف اللغويين جميعاً - لا سمح الله - فإنه يكون موقفاً شاذاً لا تأثير على سلامه السنة من التزوير، وعلماء الحديث - بلا نزاع - كانوا أكثر ضبطاً، وأحكام مناهج، وأشد احتياطاً من علماء اللغة في تمحيص الرواية، والتمييز بين صحيحها وعليلها.
প্রথমত: শ্রোতার এই ধারণা দূর করা যে, অর্থগতভাবে বর্ণিত (المروي بالمعنى) শব্দগুলোই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী।
দ্বিতীয়ত: হাদিস সংকলনের সময় নবুওয়াতের মূল শব্দের ব্যাপারে অধিক সতর্কতা (التثبيت) অবলম্বনে উৎসাহিত করা, যা মূল অর্থের ভাবপ্রকাশক ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে।
সুন্নাহ ধ্বংসের এই স্বেচ্ছাচারী প্রকল্পের উদ্যোক্তা এই অকাট্য সত্যগুলো সম্পর্কে হয়তো অজ্ঞ, অথবা তিনি এগুলোকে উপেক্ষা করেছেন। এখন তার প্রকল্পের পাঠকরা যদি তার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, তবে কি তারা সত্যের সীমা লঙ্ঘন করবেন?
আমরা তার যে বক্তব্যের কিয়দাংশ উদ্ধৃত করেছি, তা নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তার সবকিছুর প্রতি সন্দেহ পোষণ করার একটি স্পষ্ট ও জোরালো আহ্বান। সুন্নাহ ধ্বংস করার জন্য এটিই যথেষ্ট; অথচ মুসলিম সমাজের জীবনে সুন্নাহর সুগভীর প্রভাব রয়েছে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সকল বিষয়ে এটি দিকনির্দেশনার এক বিশাল উৎস।
তিনি এই সংশয়ের সাথে আরও একটি ভিত্তিহীন সংশয় যোগ করেছেন; আর তা হলো—ভাষাবিদগণ হাদিসের ব্যাপারে সন্দিহান হওয়ার কারণে তা থেকে প্রমাণ গ্রহণ (الاستشهاد) করতে অস্বীকার করেছেন?!
এটি ঢালাওভাবে স্বীকৃত নয়। যারা প্রমাণ হিসেবে হাদিস গ্রহণে ইতস্তত বোধ করেছেন আমরা তাদের কথা স্বীকার করি, তবে জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অবস্থান এর বিপরীত। কেউ যদি নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), অভিধান এবং ভাষাতত্ত্ব (فقه اللغة) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর ওপর সামান্য চোখ বুলান, তবে তিনি ভাষাবিদদের রচিত গ্রন্থসমূহে শত শত হাদিসের উদ্ধৃতি পাবেন। দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমরা তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করতাম।
তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরেও নিই যে এটি সকল ভাষাবিদের অবস্থান ছিল—আল্লাহ না করুন—তবুও তা একটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত হিসেবেই গণ্য হতো, যা জালিয়াতি থেকে সুন্নাহর সুরক্ষার ওপর কোনো প্রভাব ফেলত না। কেননা হাদিস বিশারদগণ—কোনো বিবাদ ছাড়াই—বর্ণনা যাচাই-বাছাই এবং সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (عليل) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে ভাষাবিদদের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁত (ضبطاً), সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণকারী এবং অধিক সতর্ক ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(5) الخروج عن المنهج العلميمن يزعم أن ينتهج المنهج العلمي الصحيح في موضوع ما من موضوعات البحث والدارسة، فإن عليه أولاً: أن يحدد سمات ذلك المنهج، وعليه ثانياً: أن يلتزمه بكل حرص في أثناء العمل، وأن ينحى عواطفه وأهواءه جانباً، وعليه ثالثاً: أن لا يزن بميزانين، ولا يكيل بمعيارين؛ بل يحكم المنهج العلمي الذي ارتضاه بغية الوصول إلى "نتائج" سليمة.
وهذا ما لم نره عند صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية، ولخروجه عن المنهج العلمي الذي يقره العقلاء والعلاماء. ولهذا الخروج عند صاحب المشروع صور عديدة. تعرى مشروعه "العاري" بالطبع عَّرياً بعد عُرى، وهذه "الخروجات" تنسف مشروعه "المنسوف" بطبعه نسفاً بعد نسف.
ولكي يطمئن القارئ إلى صحة ما نقول، نضع بين ناظرية بعض الأمثلة:
"الكتابة" لا..... "الحفظ" نعم! :
تقدم لنا صاحب المشروع رافض كل الرفض لكتابة الحديث النبوي في مصنفات أياً كانت: مسانيد، أو صحاحاً، أو جوامع، أو سننا. وحكم بأن تدوين الأحاديث في كتب بدعة ضالة أحلت الأمة دار البوار. وكم كان طرويا نشوان بالرواية التي ذكرها عن أبي بكر رضي الله عنه حين أمر بإحراق
(৫) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে বিচ্যুতিযে ব্যক্তি গবেষণা ও পর্যালোচনার কোনো বিষয়ে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের দাবি করে, তার জন্য প্রথমত আবশ্যক হলো: সেই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত: কাজ চলাকালীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তা মেনে চলা এবং নিজের আবেগ ও প্রবৃত্তিকে দূরে রাখা। তৃতীয়ত: দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন না করা এবং দুই ধরণের মানদণ্ডে পরিমাপ না করা; বরং সঠিক "ফলাফলে" পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নিজের পছন্দকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকেই বিচারক সাব্যস্ত করা।
কিন্তু সুন্নাহ ধ্বংস করার এই যথেচ্ছ প্রকল্পের প্রবর্তকের মাঝে আমরা এর দেখা পাইনি, কারণ তিনি বুদ্ধিমান ও উলামায়ে কেরামের স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এই প্রবর্তকের এই বিচ্যুতির বহু রূপ রয়েছে। তার "নগ্ন" প্রকল্পটি স্বভাবতই একের পর এক নগ্নতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং এই "বিচ্যুতিসমূহ" তার স্বভাবগতভাবে "বিধ্বস্ত" প্রকল্পটিকে বারবার ধ্বংস করে দেয়।
আমাদের বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে পাঠককে আশ্বস্ত করতে আমরা তার সামনে কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি:
"লিখন" নয়... "মুখস্থকরণ" হ্যাঁ! :
এই প্রকল্পের প্রবর্তক আমাদের সামনে এসে হাদিস লিখে রাখার বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা যে কোনো ধরণের গ্রন্থই হোক না কেন: মুসনাদ, সহীহ, জামি' কিংবা সুনান। তিনি রায় দিয়েছেন যে, কিতাবসমূহে হাদিস সংকলন (تدوين) একটি পথভ্রষ্ট বিদআত (بدعة ضالة), যা উম্মতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে বর্ণনা (رواية) তিনি উল্লেখ করেছেন যখন তিনি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে তিনি কতটা উল্লসিত ও বিভোর ছিলেন!
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صحيفة كان قد كتب فيها بعض أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم. وعلل صاحب المشروع - كما تقدم - إحراقها بأنها كانت بها أحاديث مكتوبة!
هذا موقفه من كتابة الحديث النبوي.
ونريد - الآن - أن نسأل سؤالاً، ثم نجيب عليه نحن معاً - الكاتب والقراء -، ثم ندع الإجابة إلى أن تعود إليها في وقتها.
السؤال: ما المقصود من كتابة أي شيء؟
الجواب: هو الحفظ، والتوثيق ليكون المكتوب موجوداً إذا نسيته الذاكرة هذا ما يقصده العقلاء من كتابة أي شيء، فالكتابة إذن هي: تدويم الحفظ واستمراره.
وقد عرفناه أن صاحب المشروع يقول بالنسبة للحديث النبوي: "الكتابة" لا، أما "الحفظ" عن ظهر قلب أي حفظ الحديث النبوي والتحديث به، فلا مانع منه عند صاحب المشروع.
وأغلب الظن أن صاحب المشروع أررااد أن يملص من مواجهة معارضيه الذين يقرون بكتابة الحديث والتحديث به، ويرووت في ذلك أحاديث عن صاحب الدعوة أمر فيها برواية الحديث عنه وتحديث الناس بها، شريطة أن يتحروا الصدق في تحمل الحديث عنه، وتبليغ الناس به، مثل قوله صلى الله عليه وسلم ".... وحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار".
وقوله صلى الله عليه وسلم: "نضَّر الله أمراً سمع مني شيئاً فبلغه كما سمع، فرب مبلغ أوعى من سامع".
এটি ছিল একটি সহিফা (صحيفة), যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু হাদিস লিপিবদ্ধ ছিল। উক্ত প্রকল্পের প্রবর্তক—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—এটি পুড়িয়ে ফেলার স্বপক্ষে এই কারণ দর্শিয়েছেন যে, এতে লিখিত হাদিসসমূহ বিদ্যমান ছিল!
নবিজির হাদিস লিখে রাখার বিষয়ে এটিই ছিল তাঁর অবস্থান।
এখন আমরা একটি প্রশ্ন করতে চাই, অতঃপর আমরা—লেখক ও পাঠক—সম্মিলিতভাবে এর উত্তর দেব এবং পরে যথাসময়ে সেই উত্তরের দিকে ফিরে আসার জন্য তা স্থগিত রাখব।
প্রশ্ন: কোনো কিছু লিখে রাখার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: তা হলো সংরক্ষণ (الحفظ) ও প্রামাণিকরণ (التوثيق), যাতে স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হলেও লিখিত বিষয়টি বিদ্যমান থাকে। বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ কোনো কিছু লিখে রাখার ক্ষেত্রে এটাই উদ্দেশ্য করে থাকেন। সুতরাং লিখন হলো: সংরক্ষণের স্থায়িত্ব ও তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।
আমরা জেনেছি যে, নবিজির হাদিসের ক্ষেত্রে উক্ত প্রকল্পের প্রবর্তক বলেন: "লিখন" (الكتابة) নয়; তবে মুখস্থ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ (الحفظ) অর্থাৎ নবিজির হাদিস স্মৃতিতে রাখা এবং তা বর্ণনা করার (التحديث) বিষয়ে উক্ত প্রবর্তকের কোনো আপত্তি নেই।
প্রবল ধারণা এই যে, উক্ত প্রকল্পের প্রবর্তক তাঁর বিরোধীদের মোকাবিলা থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন, যারা হাদিস লিখে রাখা এবং তা বর্ণনা করার (التحديث) পক্ষপাতী। তারা এই বিষয়ে ইসলামের দাওয়াত প্রদানকারী (রাসূল সা.) থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যাতে তিনি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং মানুষের কাছে তা ব্যক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন; তবে শর্ত হলো, তারা যেন তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ (تحمل) এবং তা মানুষের নিকট পৌঁছানোর (تبليغ) ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "....আর তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো (حدثوا), এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও সতেজ রাখুন, যে আমার নিকট থেকে কোনো কিছু শুনল, অতঃপর তা হুবহু পৌঁছে দিল (بلغ) যেমন সে শুনেছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقوله صلى الله عليه وسلم: "نضَّر الله أمراً سمع منا حديثاً فحفظه حتى يبلغه، فرب مبلغ أحفظ له من سامع".
هذه الأحاديث ذكرها صاحب المشروع، ثم قصر دلالتها على الحفظ في الصدور، والتبليغ الشفهي لا غير، دون الكتابة، والتدوين، والتوثيق.
ثم أضاف إليها حديثاً أخرجه البخاري في "صحيحه" نصه: "ليبلغ الشاهد الغائب؛ فإن الشاهد عسى أن يبلغ من هو أوعى منه".
ثم يعلق صاحب المشروع على هذه الأحاديث فيقول:
"
… وهذا يوضح تمام الوضوح؛ أن المراد هو الحفظ الذي يصلالناس منه إلى ما يعينهم على فهم الآيات الكريمة، وتعديل الأيام فيه [؟!] فتثبت وتنفى، وترفع وتخفض؛ بحيث لا يبقى بجانب القرآن الكريم إلا ما يصلح بالفعل - بحكم الواقع والمدارسة الواعية - لما يقال من روايات، له أن يبقى معه - أي مع القرآن - دون أدنى تكلف
… "!!
تأمل هذا الكلام تجده ملئياً بالأوهام والدسائس الشنيعة، فمثلاً: من أين فهم صاحب المشروع أن هذه الأحاديث تمنع من كتابة السنة وتدوينها وتوثيقها؟
ثم أليس توثيق كتابة الحديث مثل حفظه ذهنياً؟ بل هو وسيلة ذان شأن عظيم في الإعانة على الحفظ الذهني والتثبت إذا اعترى الذاكرة سهو، أو نسيان، أو شك، أو اختلاط.
وعلى أي أساس علمي صحيح فرق صاحب المشروع بين الحفظ الذهني والحفظ التدويني؟
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা (স্মৃতিতে) সংরক্ষণ করল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক সময় যার কাছে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"
এই হাদিসগুলো প্রকল্পের উদ্যোক্তা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি এগুলোর অর্থকে কেবল অন্তরে মুখস্থ রাখা এবং মৌখিক প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন; লিখন, সংকলন ও প্রামাণ্যকরণ (توثيق) বাদ দিয়ে।
এরপর তিনি এর সাথে ইমাম বুখারি তাঁর "সহিহ"-তে বর্ণিত একটি হাদিস যুক্ত করেছেন, যার পাঠ হলো: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (বাণী) পৌঁছে দেয়; কেননা হতে পারে উপস্থিত ব্যক্তি এমন কারো কাছে পৌঁছে দিচ্ছে যে তার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী।"
অতঃপর প্রকল্পের উদ্যোক্তা এই হাদিসগুলোর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:
"
… এবং এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে; (হাদিস) সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো এমন এক সংরক্ষণ যা মানুষকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহ বুঝতে এবং দিনাতিপাত বা সময়ের বিবর্তনের সংস্কার সাধনে [?!] সহায়তা করে। ফলে বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত হবে অথবা নাকচ হবে, মান উন্নত হবে অথবা অবনমিত হবে; যাতে করে কুরআন মাজিদের পাশে এমন কিছুই অবশিষ্ট না থাকে যা প্রকৃতপক্ষে—বাস্তবতা ও সচেতন পর্যালোচনার নিরিখে—বর্ণিত বর্ণনা (روايات) হিসেবে টিকে থাকার যোগ্য না হয়, বরং যা ন্যূনতম অসংলগ্নতা ছাড়াই কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে ... "!!
এই বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করুন, আপনি একে অলীক ধারণা ও জঘন্য ষড়যন্ত্রে পরিপূর্ণ দেখতে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ: প্রকল্পের উদ্যোক্তা কোথা থেকে বুঝলেন যে, এই হাদিসগুলো সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা, সংকলন করা এবং প্রামাণ্যকরণ (توثيق) করতে বাধা দেয়?
তাছাড়া হাদিস লিপিবদ্ধ করে তা প্রামাণ্যকরণ (توثيق) করা কি মানসিকভাবে মুখস্থ রাখার মতোই নয়? বরং স্মৃতিশক্তিতে বিভ্রম (سهو), বিস্মৃতি (نسيان), সন্দেহ (شك) কিংবা বিশৃঙ্খলা (اختلاط) দেখা দিলে এটি মানসিক মুখস্থকরণ ও সঠিকতা নিশ্চিতকরণ (تثبت) প্রক্রিয়ায় সহায়তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
আর কোন সঠিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে প্রকল্পের উদ্যোক্তা মানসিক মুখস্থকরণ এবং লিখনলব্ধ সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য করলেন?
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإذا غضضنا الطرف عن هذه المغالطات؟ فإنا نقف أمام عبارة صاحب المشروع:
"وتُعدل الأيام فيه" يعني - في الحديث الذي أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بحفظه ذهنياً، وتبليغه شفهياً.
"فثبت وتنفى، وترفع وتخفض. . ." هذا هو تعديل الأيام في الحديث المحفوظ.
ولنا أن نتساءل - مع القارئ -: أليس هذا الكلام دعوة صريحة لتحريف السنة المحفوظة؟ تحريف بالإثبات مرة، وبالحذف مرة، وهذا عدوان على "سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم يود صاحب المشروع لو كان قد حدث.
ثم تحريف أخر في نطق الفاظ الحديث نطقاً بغير معناها. لا مناص من هذا الفهم الذي فهمناه، وهذا يفسر لنا لماذا كره صاحب المشروع كتابة الحديث وتدوينه في مجلدات، لأن كتابة الحديث تحميه من التحريف بكل صوره، سواء ان تحريفاً بالنقص، أو تحريفاً بالزيادة، أو تحريفاً باللحن في الضبط النحوي والصرفي.
أما لو ظل الحديث غير مكتوب، فإنه يتعرض لعوامل التعرية والقرض، والمحو، والتغيير، والتبديل.
والكلام الذي نقلناه عن صاحب المشروع - آنفاً - له نظير آخر يقول فيه بالحرف:
"ومنه نرى أن السنة لم يكن لها لتكتب بأي حال من الأحوال
… "
আর আমরা যদি এই বিভ্রান্তিকর যুক্তিগুলোকে উপেক্ষা করি? তবে আমরা প্রকল্পের উদ্যোক্তার এই বক্তব্যের সম্মুখীন হই:
"এবং দিনগুলি এতে পরিবর্তন (تعديل) আনয়ন করে" অর্থাৎ - সেই হাদিসের ক্ষেত্রে যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানসিকভাবে মুখস্থ করতে এবং মৌখিকভাবে প্রচার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
"ফলে তা সাব্যস্ত করে এবং অস্বীকার করে, উন্নীত করে এবং অবনমিত করে..." সংরক্ষিত (محفوظ) হাদিসের ক্ষেত্রে এটিই হলো সময়ের পরিবর্তন (تعديل)।
আর পাঠকদের সাথে আমাদের প্রশ্ন এই যে: এই কথাটি কি সংরক্ষিত সুন্নাহ বিকৃতির (تحريف) একটি সুস্পষ্ট আহ্বান নয়? কখনো সংযোজনের (إثبات) মাধ্যমে বিকৃতি, আবার কখনো বর্জনের (حذف) মাধ্যমে বিকৃতি; আর এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর এমন এক আগ্রাসন যা এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা মনেপ্রাণে কামনা করেন যে তা ঘটুক।
এরপর হাদিসের শব্দসমূহ উচ্চারণের ক্ষেত্রে অন্য এক প্রকার বিকৃতি (تحريف), যেখানে শব্দগুলো তাদের অর্থের বিপরীতভাবে উচ্চারিত হয়। আমরা যা অনুধাবন করেছি তা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই; আর এটিই আমাদের সামনে ব্যাখ্যা করে যে, কেন এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা হাদিস লেখা এবং খণ্ডে খণ্ডে তা সংকলন করাকে অপছন্দ করেছেন। কারণ হাদিস লিপিবদ্ধকরণ একে সব ধরনের বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা করে, চাই তা বিয়োজনের (نقص) মাধ্যমে বিকৃতি হোক, কিংবা সংযোজনের (زيادة) মাধ্যমে বিকৃতি হোক, অথবা ব্যাকরণগত ও রূপমূলতত্ত্বীয় নির্ভুলতার (ضبط) ক্ষেত্রে উচ্চারণ বিভ্রাটের (لحن) মাধ্যমে বিকৃতি হোক।
পক্ষান্তরে, হাদিস যদি অলিখিত থেকে যেত, তবে তা ক্ষয়, হ্রাস, বিলুপ্তি, পরিবর্তন এবং রূপান্তরের শিকার হতো।
আমরা ইতিপূর্বে প্রকল্পের উদ্যোক্তার কাছ থেকে যে বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি, তার অনুরূপ আরেকটি বক্তব্য রয়েছে যেখানে তিনি আক্ষরিকভাবে বলেছেন:
"এবং এর মাধ্যমেই আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহ কোনো অবস্থাতেই লিপিবদ্ধ করার মতো ছিল না
… "
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال أيضاً:
"وبذلك نرى أن كل الأحاديث الواردة في هذا الشأن بصريح اللفظ إنما جاءت بصيغة تدل على كون المراد من رواية الحديث - أصلاً وفرغاً - إنما هو البلاغ الشفهي، الذي يقوم كبيان توضيحي يأخذ منه الناس بقدر ما يحفظون، وتبقى النصوص القرآنية مقدمة كما أنزلت".
صاحب المشروع التعسفي مُصِرٌ كل الإصرار على أن كتابة السنة كانت خطأ ويوضح - هنا - سراً جديداً لم يعرفه أحد من قبل. ذلك السر هو:
أن كتابة أي شيء معناه: التقديس. والتقديس لا يكون لكلام إلا للقرآن وحده، فكان ينبغي عدم كتابة السنة لئلا تنطبق عليها خصائص التقديس بمجرد أن تكتب"؟!
الناس - عامتهم وخاصتهم - يعلمون أن سمات التقديس وخصائصه لها اعتبارات معلومة، وليس منها الكتابة، وأن المقدس مقدس كتب أو لم يكتب، وأن غير المقدسيظل غير مقدس كتب أو لم يكتب. هذا هو ما يعرفه الناس علماء وغير علماء.
ولكن صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية، وهو في الوقت نفسه صاحب المنهاج العلمي الوحيد في تمحيص السنة وعلوم الأولين والآخرين، يفاجئ القراء بمنهج علمي فذ منقطع النظير:
* يفرق بين المتساويين كما فرق بين الحفظ الذهني والحفظ التوثيقي، وكلاهما يعاضد الآخر.
তিনি আরও বলেন:
"এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট শব্দে বর্ণিত সকল হাদিস এমন এক শব্দশৈলীতে এসেছে যা নির্দেশ করে যে—মূলত এবং শাখা হিসেবে (أصلاً وفرعاً)—হাদিস বর্ণনার (رواية) উদ্দেশ্য হলো কেবল মৌখিক প্রচার (البلاغ الشفهي), যা একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি হিসেবে কাজ করে এবং মানুষ তা থেকে তাদের মুখস্থ করার ক্ষমতা অনুযায়ী গ্রহণ করে; আর কোরআনের পাঠসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার রূপেই অগ্রগণ্য হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।"
সুন্নাহর অবমাননাকর এই প্রকল্পের প্রবক্তা অত্যন্ত জেদ ধরেছেন যে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা ছিল একটি ভুল এবং তিনি এখানে এমন এক নতুন গোপন রহস্য উন্মোচন করছেন যা আগে কেউ জানত না। সেই রহস্যটি হলো:
"যেকোনো কিছু লিখে রাখার অর্থ হলো: তাকে পবিত্র জ্ঞান (التقديس) করা। আর পবিত্রতা একমাত্র কোরআনের বাণীর জন্যই নির্ধারিত, তাই সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা উচিত ছিল না, পাছে লিখে রাখার কারণে এর ওপর পবিত্রতার বৈশিষ্ট্যসমূহ আরোপিত হয়ে যায়"?!
সাধারণ এবং বিশেষজ্ঞ—উভয় শ্রেণীর মানুষই জানেন যে, পবিত্রতার লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্যসমূহের সুপরিচিত মাপকাঠি রয়েছে, যার মধ্যে লিখন অন্তর্ভুক্ত নয়। যা পবিত্র তা পবিত্রই থাকে, তা লেখা হোক বা না হোক; আর যা পবিত্র নয় তা পবিত্রতাহীনই থেকে যায়, তা লেখা হোক বা না হোক। আলেম বা সাধারণ মানুষ—সকলেই এ কথা জানেন।
কিন্তু সুন্নাহ ধ্বংসের এই স্বেচ্ছাচারী প্রকল্পের প্রবক্তা, যিনি একই সাথে সুন্নাহর যাচাই-বাছাই এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জ্ঞানসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিজেকে একমাত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অধিকারী বলে দাবি করেন, তিনি পাঠকদের এক অনন্য ও অতুলনীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিস্মিত করেন:
* তিনি সমপর্যায়ের দুটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করেন, যেমনটি তিনি পার্থক্য করেছেন মুখস্থকরণ (الحفظ الذهني) এবং নথিভুক্ত হিফাজতের (الحفظ التوثيقي) মধ্যে, অথচ এই উভয় পদ্ধতিই একে অপরের পরিপূরক।
(খণ্ড: ১)
আখতাউ ওয়া আওহাম ফী আদখামি মাশরুইন তাসাফি লি হাদমিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
* ثم يضيف إلى مصطلحات العلوم والفنون؛ مصطلحاً جديداً مبتكراً لا علم لأحد به:
فالكتابة هي مصدر التقديس، وما لا يكتب لا قدسية له.
وبناءً على هذا المصطلح فإن خمريات امرئ القيس، وأبي نواس نصوص مقدسة. ولماذا؟ لأنها نصوص مكتوبة. هذا هو المنهج العلمي الصحيح الواعي الذي يستخدمه صاحب المشروع التعسفي لهدم السنة النبوية؟!
* * *
* এরপর তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞান ও শিল্পের পারিভাষিক শব্দাবলির (مصطلحات) সাথে এক নতুন ও উদ্ভাবনী পরিভাষা (مصطلح) যুক্ত করেন, যা সম্পর্কে ইতিপূর্বে কারো কোনো ধারণা ছিল না:
লিখনই হলো পবিত্রকরণের উৎস, আর যা লিখিত নয় তার কোনো পবিত্রতা নেই।
এই পরিভাষার (مصطلح) ওপর ভিত্তি করে ইমরুল কায়েস এবং আবু নুওয়াসের মদ্য-বিষয়ক পদ্যগুলোও পবিত্র পাঠ্য (نصوص) হিসেবে গণ্য হবে। কেন? কারণ সেগুলো তো লিখিত পাঠ্য (نصوص)। নবুওয়াতের সুন্নাহ (السنة النبوية) ধ্বংস করার এই খামখেয়ালি প্রজেক্টের হোতা কি এই সঠিক ও সচেতন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই ব্যবহার করছেন?!
* * *