(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: -)
أخذ المال على أعمال القرب   (عادل شاهين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أخذ المال على أعمال القُرَب

المؤلف: عادل بن شاهين بن محمد شاهين

أصل الكتاب: رسالة ماجستير

الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو الحجة 1435

ইবাদত বা নেক আমলের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ   (আদিল শাহীন)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: ইবাদত বা নেক আমলের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

লেখক: আদিল বিন শাহীন বিন মুহাম্মদ শাহীন

বইয়ের উৎস: মাস্টার্স থিসিস

প্রকাশক: দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জিলহজ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১)
الصندوق الخيري لنشر البحوث والرسائل العلمية

(3)

الدراسات الفقهية

(3)

 

أخذ المال على أعمال القُرَب

تَأليف

عَادِل شَاهِيْن محمَّد شَاهِيْن

الجُزْءُ الأَوَّلُ

كُنُوزْ إشْبِيْليَا

للنشر والتوزيع
গবেষণাপত্র ও বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ প্রকাশের জন্য চ্যারিটেবল ফান্ড

(৩)

ফিকহী গবেষণা

(৩)

 

ইবাদত ও নৈকট্যমূলক কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

রচনায়

আদিল শাহীন মুহাম্মদ শাহীন

প্রথম খণ্ড

কুনুজ ইশবিলিয়া

প্রকাশনা ও পরিবেশনায়
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

أصل هذا الكتاب رسالة ماجستير قدمت إلى قسم الفقه بكلية الشّريعة، جامعة الإمام محمّد بن سعود الإسلامية بالرياض، وتكونت لجنة المناقشة من:

فضيلة الدكتور/ أحمد بن يوسف الدريويش … رئيسًا

فضيلة الدكتور/ إبراهيم بن عبد العزيز الغصن … عضوًا

فضيلة الدكتور/ صبري السعداوي مبارك … عضوًا

ونال بها الباحث درجة الماجستير بتقدير ممتاز.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এই বইটির মূল উৎস হলো একটি মাস্টার্স থিসিস যা রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীআহ অনুষদের ফিকহ বিভাগে পেশ করা হয়েছে। এবং এর মূল্যায়ন কমিটি গঠিত হয়েছিল নিম্নোক্তদের নিয়ে:

মাননীয় ডক্টর আহমদ বিন ইউসুফ আদ-দারিউইশ … সভাপতি

মাননীয় ডক্টর ইব্রাহিম বিন আব্দুল আজিজ আল-গুসন … সদস্য

মাননীয় ডক্টর সাবরি আস-সাদাউয়ি মুবারক … সদস্য

এবং এর মাধ্যমে গবেষক ‘মুমতাজ’ (চমৎকার) গ্রেডসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৩)
أخذ المال على أعمال القُرَب
ইবাদতমূলক কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৪)
ح دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، 1424هـ

فهرسة مكتَبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

شاهين، عادل بن شاهين محمّد

أخذ المال على أعمال القرب./ عادل بن شاهين بن محمّد شاهين -

الرياض 1434 هـ

840 ص؛ 17 × 34 سم

ردمك: 9 - 6 - 9461 - 960 (مجموعة)

7 - 7 - 9461 - 960 (ج 1)

1 - المعاملات (فقه إسلامي)

ديوي 253

أ- العنوان

4763/ 1434

رقم الإيداع: 4763/ 1424

رمك:9 - 6 - 9461 - 960 (مجموعة)

7 - 7 - 9461 - 960 (ج 1)

مؤسسة سليمان بن عبد العزيز الراجحى الخيرية

Sulaiman bin Abdul Aziz Al Rajhi ChARITABLE FOUNDATION

جَميْع الحقُوق مَحفُوظَة

الطَّبْعةُ الأولى

1425 هـ -2004 م

دار كُنُوزْ إشْبِيْليَا للنشر والتوزيع

المملكة العربيّة السعودية ص. ب 13371 الرياض 11493

هاتف. 4742458 - 4773959 - 2910704 فاكس: 4787140

E-MAIL:eshbelia@hotmail.com
দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, ১৪২৪ হিজরি

প্রকাশনাকালীন কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরির ক্যাটালগিং

শাহীন, আদিল বিন শাহীন মুহাম্মদ

ইবাদত বা নৈকট্যমূলক কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ। / আদিল বিন শাহীন বিন মুহাম্মদ শাহীন -

রিয়াদ ১৪৩৪ হিজরি

৮৪০ পৃষ্ঠা; ১৭ × ৩৪ সেমি

আইএসবিএন: ৯ - ৬ - ৯৪৬১ - ৯৬০ (সমষ্টি)

৭ - ৭ - ৯৪৬১ - ৯৬০ (খণ্ড ১)

১ - মুআমালাত বা লেনদেন (ইসলামি ফিকহ)

ডিউই ২৫৩

ক- শিরোনাম

৪৭৬৩/ ১৪৩৪

জমাদান নম্বর: ৪৭৬৩/ ১৪২৪

আইএসবিএন: ৯ - ৬ - ৯৪৬১ - ৯৬০ (সমষ্টি)

৭ - ৭ - ৯৪৬১ - ৯৬০ (খণ্ড ১)

সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন

সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র

সৌদি আরব সাম্রাজ্য, পোস্ট বক্স ১৩৩৭১ রিয়াদ ১১৪৯৩

ফোন: ৪৭৪২৪৫৮ - ৪৭৭৩৯৫৯ - ২৯১০৭০৪ ফ্যাক্স: ৪৭৮৭১৪০

ই-মেইল: eshbelia@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدّمَة

إنَّ الحمد لله، نحمَدُهُ ونستعينهُ، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إِلَّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]. {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النِّساء:1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [الأحزاب: 70، 71]

أمّا بعد (1):

فإن أصدق الحديث كلام الله، وخير الهدي هدي محمّد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النّار.

أمّا بعد:

فإنَّ الله تبارك وتعالى قد امتنّ على هذه الأُمَّة بمنن كثيرة وجليلة، أعظم هذه المنن: دين الإسلام، الّذي جعله الله تبارك وتعالى خاتم الأديان، لا يقبل من أحد

--------------------------------------------

(1) هذه خطبة الحاجة الّتي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه، وقد كان السلف رحمهم الله تعالى يقدمونها بين يدي دروسهم وخطبهم وكتبهم: أخرجها أبو داود، كتاب النِّكاح، باب في خِطبة النِّكاح: 2/ 238 (2118)، والنسالْي، كتاب الجمعة، باب كيفية الخُطبة: 3/ 116 (1403)، وهي صحيحة ثابتة، قام بجمع طرقها وتخريجها العلّامة الألباني في رسالته (خطبة الحاجة)، طبع المكتب الإسلامي بيروت سنة 1397 هـ، وقام بشرحها الشّيخ سليم الهلالي في كتابه (شرح خطبة الحاجة) دار الأضحى- عَمان سنة 1409 هـ
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল-ইমরান: ১০২]। {হে মানবসমাজ, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে, আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়াকে এবং তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলোকে সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]

অতঃপর (১):

নিশ্চয়ই সবচাইতে সত্য কথা হলো আল্লাহর বাণী, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা হলো জাহান্নামের আগুনে।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এই উম্মতকে বহু ও মহান অনুগ্রহ দান করেছেন। এই অনুগ্রহসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো: ইসলাম ধর্ম, যাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সর্বশেষ ধর্ম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তিনি কারো পক্ষ থেকে (অন্য কিছু) গ্রহণ করবেন না

--------------------------------------------

(১) এটি হলো ‘খুতবাতুল হাজাহ’ যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ তাআলা) তাঁদের পাঠদান, খুতবা ও কিতাবসমূহের শুরুতে এটি প্রদান করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, বিবাহ অধ্যায়, বিবাহে খুতবা বিষয়ক পরিচ্ছেদ: ২/২৩৮ (২১১৮), এবং নাসায়ী, জুমার কিতাব, খুতবার পদ্ধতি বিষয়ক পরিচ্ছেদ: ৩/১১৬ (১৪০৩)। এটি সহিহ ও প্রমাণিত। আল্লামা আলবানী তাঁর ‘খুতবাতুল হাজাহ’ নামক রিসালায় এর সকল সূত্র একত্রিত করেছেন এবং তাখরিজ করেছেন, যা বৈরুতের মাকতাবুল ইসলামী থেকে ১৩৯৭ হিজরীতে মুদ্রিত। শেখ সালীম আল-হিলালী তাঁর ‘শারহু খুতবাতিল হাজাহ’ নামক কিতাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন, যা আম্মানের দারুল আদহা থেকে ১৪০৯ হিজরীতে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৬)
سواه، قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85].

أرسل به خاتم النببين وأفضلَهم محمدا صلى الله عليه وسلم، فكانت بعثتُهُ مِنَّةً أخرى على المؤمنين، قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164].

جعل الله تعالى اتباعه فرضًا لازمًا، والتأسي به فوزًا وسعادةً في الدارين، قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36].

وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21].

فكان أسعد النَّاس باتباعه والتأسي به هم أهل العلم، من العلماء العاملين، والأئمة الربانيين، الذين اختصهم الله تعالى من بين عباده بخشيته، فقال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28]. ثمّ أمر سائر النَّاس بسؤالهم والرجوع إلى أقوالهم، قال تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43، الأنبياء: 17، وجعل علامة زيغهم وضلالهم ذهاب علمائهم، واتخاذهم الرؤوس من جُهَّالهم، فعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إنَّ الله لايقبضُ العلّمَ انتزاعًا ينتزعُهُ من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتّى إذا لم يُبق عالمًا اتخذ النّاسُ رؤُوسًا جهالًا فسُئِلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا) (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاريّ: كتاب العلم، باب كليف يقبض العلم: 1/ 234 (100) ، ومسلم: كتاب العلم، باب رفع العلم وقبضه: 4/ 2058 (2673).
এছাড়া অন্য কিছু, মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন বা জীবনব্যবস্থা তালাশ করবে, তা কখনোই তার থেকে কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আলে ইমরান: ৮৫]।

এর মাধ্যমে তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন, ফলে তাঁর প্রেরণ ছিল মুমিনদের ওপর আরও একটি বড় অনুগ্রহ। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল} [আলে ইমরান: ১৬৪]।

মহান আল্লাহ তাঁর অনুসরণকে অনিবার্য ফরজ করেছেন এবং তাঁর আদর্শ গ্রহণকে উভয় জগতে সফলতা ও সৌভাগ্যের কারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন নর বা নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো} [আল-আহজাব: ৩৬]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহজাব: ২১]।

সুতরাং তাঁর অনুসরণ ও আদর্শ গ্রহণে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ হলেন ইলমের অধিকারীগণ—অর্থাৎ আমলকারী আলেম ও রব্বানী ইমামগণ, যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর ভীতির (খশিয়াত) জন্য বিশেষিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮]। এরপর তিনি অন্যান্য সকল মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে এবং তাদের বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩, আল-আম্বিয়া: ৭]। আর তিনি তাদের বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার নিদর্শন করেছেন তাদের আলেমদের বিদায় নেওয়াকে এবং মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করাকে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ইলমকে বান্দাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তুলে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের কবজ করার (মৃত্যু দেওয়ার) মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে) (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ইলম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ইলম কীভাবে তুলে নেওয়া হবে: ১/২৩৪ (১০০), এবং মুসলিম: ইলম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ইলম উঠিয়ে নেওয়া ও কবজ করা: ৪/২০৫৮ (২৬৭৩)।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن أجل ذلك كان الفقه في الدِّين من أجل الأعمال وأحبها إلى الله تعالى، ومن وفقه الله إلى التفقه في الدِّين فقد أراد به الخير، كما جاء في حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه قال: سمعت النّبيّ صلى الله عليه وسلم يقول: (من يردّ الله به خيرًا يفقهه في الدِّين) (1).

وإن من أشرفِ العلوم جمعًا، وأعظمِها خيرًا ونفعًا، علمَ الفقه، أو الفقه الإسلامي، فعظمة هذا العلم وشرفه تجل عن الوصف والإحاطة؛ ذلك أنّه أحكام تساير المسلم، وتلازمه في عموم مسالك حياته، سواء أكان ذلك فيما بينه وبين ربه تبارك وتعالى، أم فيما بينه وبين عباد الله تعالى.

ولقد منَّ الله عليّ وهو الكريم المنَّان، حين يسر لي القدوم إلى هذا البلد الكريم، الطيب أهله، وشرفني أعظم تشريف حين يسر لي الانتساب إلى جامعة إسلامية عظيمة، ألَّا وهي جامعة الإمام محمّد بن سعود الإسلامية، الّتي يشرف ويعتز كلّ طالب علم بالانتساب إليها، وقد نهلت من معين هذه الجامعة الّذي لا ينضب حين وفقني الله - عزَّ جلَّ -، للدراسة في كلية الشّريعة بالرياض - قسم الشّريعة -، فأنّهيت المرحلة الجامعية بتقدير (ممتاز)، ثمّ يسر الله عز وجل التحاقي بالدراسات العلّيا، فأنّهيت السنة التمهيدية بتوفيق من الله تعالى، وبادرت البحثَ عن موضوع يصلح للتسجيل في درجة الماجستير في الفقه الإسلامي، فيسر الله سبحانه وتعالى هذا الموضوع، وهو:

 

[أخذ المال على أعمال القُرب]

أمّا أهمية هذا الموضوع وسبب اختياره، والخطة الّتي سرت عليها، والمنهج المتبع في دراسة مسالْل البحث، وما يتبع ذلك، فيتضح في النقاط التالية:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاريّ: كتاب العلم، باب من يردّ الله به خيرًا يفقهه في الدِّين: 1/ 197 (71)، ومسلم: كتاب الزَّكاة، باب النّهي عن المسألة: 2/ 718 (1037).
সেই কারণেই দীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ অর্জন করা মহান আল্লাহর নিকট আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। আল্লাহ যাকে দীনের সঠিক সমঝ অর্জনের তাওফিক দান করেন, তিনি মূলত তার জন্য প্রভূত কল্যাণই কামনা করেন। যেমনটি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দীনের সঠিক সমঝ (ফিকহ) দান করেন।" (১)

নিশ্চয়ই সকল ইলমের মধ্যে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং কল্যাণ ও উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে মহান হলো ফিকহ শাস্ত্র বা ইসলামী ফিকহ। এই ইলমের মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা এবং ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। কারণ, এটি এমন কিছু বিধানের সমষ্টি যা একজন মুসলিমের জীবনকে পরিচালিত করে এবং তার প্রাত্যহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার সহচর হয়ে থাকে; চাই তা তার এবং তার বরকতময় ও মহান রবের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোক, অথবা আল্লাহর বান্দাদের সাথে তার পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রেই হোক।

মহান দয়ালু ও শ্রেষ্ঠ দাতা আল্লাহ আমার প্রতি অশেষ অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি আমার জন্য এই সম্মানিত দেশে আসা সহজ করে দিয়েছেন, যার অধিবাসীগণ অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান। আর তিনি আমাকে একটি মহান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভের সুযোগ দিয়ে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন, যার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের বিষয়। আল্লাহর অনুগ্রহে আমি রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগে অধ্যয়ন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফুরন্ত জ্ঞানের উৎস থেকে সিক্ত হয়েছি এবং স্নাতক পর্যায় 'মুমতাজ' (সর্বোচ্চ মান) নিয়ে সম্পন্ন করেছি। এরপর মহান আল্লাহ আমার জন্য উচ্চতর গবেষণায় ভর্তির পথ সহজ করে দেন এবং আল্লাহর তাওফিকেই আমি প্রাথমিক বছর সফলভাবে শেষ করি। এরপর আমি ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য নিবন্ধনের উপযোগী একটি গবেষণার বিষয় খুঁজতে শুরু করি। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন, যা হলো:

 

[নেক আমল বা ইবাদতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ]

এই বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ, যে কর্মপরিকল্পনা অনুসারে আমি অগ্রসর হয়েছি এবং গবেষণার বিষয়গুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলো:

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন: ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দীনের সমঝ দান করেন: ১/ ১৯৭ (৭১), এবং ইমাম মুসলিম: যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: হাত পাতা বা সাহায্য চাওয়া থেকে নিষেধ: ২/ ৭১৮ (১০৩৭)।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أوَّلًا: أهمية الموضوع:

ترجع أهمية هذا الموضوع لما يأتي:

1 - إنَّ هذا الموضوع يتعلّق بجانب مهم وخطير في حياة المسلم، بل ومن أهم الجوانب في حياته، ألَّا وهو: علاقته بربه في عبادته إياه، وتقربه إليه، بالعبادات العملية، والمعاملات والولايات الشرعية، فكان لابد من دراسة هذا الجانب، وبيانه حتّى يكون المسلم على بصيرة من أمره في تقربه إلى ربه.

2 - إنَّ هذا الموضوع يمسُّ كافة أفراد المجتمع، فهو يتعلّق بعباداتهم، ومعاملاتهم، وأهم ولاياتهم الشرعية، فهو يهم كلّ مسلم، فالحاجة إلى معرفة فقه هذا الموضوع عامة.

3 - كثرة وقوع مسائل هذا الموضوع ودورانها في حياة المسلم، حيث نرى كثيرًا من العبادات والمعاملات والولايات الشرعية يؤخذ عليها الأعواض، فكان لابد من معرفة حكم هذه الأعواض على هذه القُرب.

 

‌‌ثانيًا: أسباب اختيارالموضوع:

يعود اختيار هذا الموضوع في مجمله إلى الأسباب التالية:

1 - أهمية هذا الموضوع، وقد سبق بيأنّها.

2 - أن هذا الموضوع لم يسبق بحثه ولا جمعه على هذه الصورة - فيما أعلم -، وإنّما بحث الفقهاء جزئيات هذا الموضوع بحثًا مجملًا ثمّ بحثت بعض جوانبه من خلال بعض المؤلِّفات والرسائل العلمية، فجاءت هذه الرسالة لتجمع شتات هذا الموضوع في مكان واحد مع التوسع في دراسته، وترتيبه، والتفصيل فيه، وبيان الراجح في مسائله، وهذا ممّا يعود بالفائدة الكبرى على الباحث أوَّلًا، وعلى عموم المسلمين ثانيًا.
প্রথম: বিষয়টির গুরুত্ব:

এই বিষয়টির গুরুত্ব নিম্নোক্ত কারণসমূহের দিকে ফিরে যায়:

১ - এই বিষয়টি একজন মুসলিমের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট, বরং এটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক; আর তা হলো: ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তার রবের সাথে তার সম্পর্ক এবং আমলি ইবাদত, লেনদেন ও শরয়ি দায়িত্বসমূহের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন। সুতরাং এই দিকটি নিয়ে গবেষণা করা ও তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা অপরিহার্য ছিল, যাতে একজন মুসলিম তার রবের নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে।

২ - এই বিষয়টি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ এটি তাদের ইবাদত, লেনদেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি দায়িত্বসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি প্রত্যেক মুসলিমেরই মাথাব্যথার বিষয়, তাই এই বিষয়ের ফিকহ বা বিধান জানার প্রয়োজনীয়তা সর্বজনীন।

৩ - এই বিষয়ের মাসআলাগুলো একজন মুসলিমের জীবনে প্রচুর পরিমাণে সংঘটিত হওয়া এবং বারবার সামনে আসা। কেননা আমরা দেখতে পাই যে, অনেক ইবাদত, লেনদেন ও শরয়ি দায়িত্ব পালনের বিপরীতে বিনিময় গ্রহণ করা হয়। তাই এই নৈকট্যমূলক কাজগুলোর বিনিময়ের বিধান জানা অপরিহার্য ছিল।

 

‌দ্বিতীয়: বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

সার্বিকভাবে এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো নিহিত:

১ - এই বিষয়ের গুরুত্ব, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

২ - আমার জানামতে এই বিষয়টি ইতিপূর্বে এভাবে গবেষণা বা সংকলন করা হয়নি। ফকিহগণ কেবল এই বিষয়ের খুঁটিনাটি দিকগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছেন। অতঃপর কিছু গ্রন্থ ও একাডেমিক থিসিসের মাধ্যমে এর কিছু দিক আলোচিত হয়েছে। তাই এই থিসিসটি বিষয়টির বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে এক স্থানে পুঞ্জীভূত করার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে, সেই সাথে এর বিস্তারিত গবেষণা, বিন্যাস, পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা এবং এর মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মতটি স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি প্রথমত গবেষকের জন্য এবং দ্বিতীয়ত সাধারণ মুসলিমদের জন্য ব্যাপক কল্যাণ বয়ে আনবে।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৯)
3 - أن هذا الموضوع يمتاز بالشمولية، حيث شَمِلَ جُلَّ أبواب الفقه الإسلامي من عبادات ومعاملات وولايات شرعية، ممّا يمكّن الباحث من المرور بمعظم أبواب الفقه، ومسائله، وهذا ممّا يعود عليه بالفائدة الكبرى من حيث التحصيل العلّمي، والوقوف على نظام الفقه الإسلامي الشامخ.

4 - كثرة النوازل الّتي وقعت في هذا العصر، والتي يتوقف معرفة الحكم فيها على معرفة الحكم في مسائل هذا البحث، فهذا البحث يعد تأصيلًا لتلك النوازل، وقاعدة يتبين من خلالها معرفة حكم هذه النوازل، كما هو الحال في غالب أعمال المصارف، أو ما يسمى بالبنوك.

5 - تساهل كثير من المسلمين في هذا الجانب، وعدم مبالاتهم بمعرفة الحكم الشرعي في كثير من القرب من حيث أخذ العوض عليها، وقد يكون ذلك محرمًا، حتّى أضحى هذا الأمر كأنّه مجمع على جوازه لايجوز إنكاره، ولا الخوض فيه، إمّا لطول العهد بذلك، وإما لغلبة الشهوة، وحب المال، والحرص عليه، وجمعه من حلِّه ومن غير حلِّه، ممّا استدعى ذلك بحث كافة هذه القربات من حيث حكم أخذ العوض عليها، فيتضح ما يجوز من ذلك وما لايجوز.

 

‌‌ثالثًا: الدراسات السابقة حول الموضوع:

لقد كتبت حول هذا الموضوع بعض الكتب، والبحوث، تناولت بعض جوانب هذا الموضوع، وقد وقفت عليها، واستفدت من معظمها، فجزى الله تعالى أصحابها خيرًا، فبعض هذه المؤلِّفات وقفت عليها قبل تسجيل الموضوع، وقد ذكرتها في خطة البحث أثناء تسجيل الموضوع، والبعض الآخر وقفت عليه حين شارفت على الانتهاء من كتابة هذا البحث، ومن هذه المؤلِّفات:

1 - إقامة الدّليل والبرهان على تحريم الأجر على تلاوة القرآن: لفضيلة الشّيخ العلّامة محمّد بن عبد العزيز المانع (يرحمه الله تعالى) وهو كتيب صغير. وكما هو
৩ - এই বিষয়টি ব্যাপকতা দ্বারা স্বতন্ত্র, কারণ এটি ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন) এবং শরয়ী কর্তৃত্বসহ ইসলামি ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা গবেষককে ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায় ও মাসআলাগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটি ইলমি অর্জন এবং ইসলামি ফিকহের সুউচ্চ কাঠামোর সাথে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে গবেষকের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

৪ - বর্তমান যুগে উদ্ভূত নতুন সমস্যার (নাওয়াজিল) আধিক্য, যেগুলোর বিধান জানা এই গবেষণার মাসআলাগুলোর বিধান জানার ওপর নির্ভরশীল। তাই এই গবেষণাটি সেই সকল নতুন সমস্যার জন্য একটি মূলভিত্তি এবং নীতিমালা হিসেবে বিবেচিত হবে, যার মাধ্যমে এগুলোর বিধান স্পষ্ট হবে; যেমনটি অধিকাংশ ব্যাংক বা তথাকথিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

৫ - এই ক্ষেত্রে অনেক মুসলমানের শিথিলতা এবং বিভিন্ন ইবাদত বা নেক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের শরয়ী বিধান জানার ব্যাপারে তাদের উদাসীনতা। এমনকি পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, বিষয়টি যেন বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত এবং এটি অস্বীকার করা বা এ নিয়ে আলোচনা করাও যেন সমীচীন নয়। এটি হয়তো দীর্ঘকাল ধরে চলে আসার কারণে, অথবা প্রবৃত্তির তাড়না, অর্থের মোহ এবং হালাল-হারাম বিচার না করেই সম্পদ সংগ্রহের লালসার কারণে হয়েছে। ফলে এই সকল ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যাতে এর মধ্যে কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ তা স্পষ্ট হয়।

 

‌‌তৃতীয়ত: এই বিষয়ে পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:

এই বিষয়ের ওপর কিছু বই ও গবেষণা প্রবন্ধ রচিত হয়েছে, যা এই বিষয়ের কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আমি সেগুলো দেখেছি এবং সেগুলোর অধিকাংশ থেকে উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাআলা তাদের লেখকগণকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এই সকল রচনার কিছু আমি বিষয়টি নিবন্ধনের আগে দেখেছি এবং বিষয় নিবন্ধনের সময় গবেষণার পরিকল্পনায় তা উল্লেখ করেছি। আর কিছু রচনা আমি এই গবেষণাটি সমাপ্ত করার কাছাকাছি সময়ে দেখেছি। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - ইকামাতুদ দালিল ওয়াল বুরহান আলা তাহরিমিল আজরি আলা তিলাওয়াতিল কুরআন (কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হারাম হওয়ার সপক্ষে দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন): শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কর্তৃক রচিত। এটি একটি ছোট পুস্তিকা। যেমনটি এটি...
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১০)
ظاهر من عنوانه، فقد تناول مسألة واحدة، حيث جاء جوابًا على سؤال حول حكم الأجرة على تلاوة القرآن.

2 - تيسير العلّيم في أخذ الأجر على القرآن والتعليم: لعصام بن مرعي؛ تعرض فيه مؤلِّفه لمسألة أخذ الأجرة على تعليم القرآن والعلّم الشرعي.

وقد اجتهد مؤلِّفُه في سرد بعض الروايات الحديثية المتعلّقة بالمسألة، واجتهد كذلك في نقل كلام العلماء حولها.

3 - القربات إهداؤها إلى الموتى والاستئجار عليها: للدكتور حسين عبد المجيد حسين أبو العلّا، وهو بحث صغير، كان الغرض من تأليفه بيان ما ينفع الميِّت في قبره، فجاء نصفه في مسألة: (هبة الثّواب)، ثمّ تكلم على بعض مسائل الموت، ثمّ ختم البحث بالكلام على إلاستئجار على بعض القرب على سبيل الإجمال.

4 - أخذ الأجرة على أعمال الطاعات والمعاصي: للدكتور عبد الله بن محمّد الطريقي، وهو كتاب متوسط الحجم، تعرض فيه المؤلِّف لمسألة الإجارة على الطاعات في حوالي (100) صفحة تقريبًا. تكلم فيه عن حكم الإجارة على بعض الطاعات، وبعض الولايات الشرعية، إِلَّا أنّه أجمل القول فيه جدًا، ووصل الحال في بعض المسائل إلى حدّ الإضمار الشديد، والكتاب مفيد في بابه ، فجزى الله مؤلفه خيرًا.

5 - الاستئجار على فعل القربات الشرعية: لمؤلفه/ علي عبد الله حسن أبو يحيى، وهو كتاب مطبوع سنة 1418 هـ، كتب عليه: رسالة ماجستير بإشراف الدكتور/ عمر سليمان الأشقر. جاء الكتاب في حوالى (200) صفحة تقريبًا، هو على صغره، وعدم استيعابه جيد في بابه ، إِلَّا أن مؤلفه لم يتعرض لتأصيل الموضوع، وكذلك لم يتعرض لكثير من المسائل ومن ذلك كلّ مسائل المعاملات الشرعية وتطبيقاته المعاصرة، وكثيرٍ من مسائل العبادات وخاصة مباحث النِّيابة التي
এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট, এতে একটি মাত্র বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, কারণ এটি কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এসেছে।

২ - তায়সীরুল আলিম ফী আখযিল আজরি আলাল কুরআনি ওয়াত তা’লীম: ইসাম বিন মারয়ি কর্তৃক রচিত; এতে লেখক কুরআন শিক্ষা এবং শরয়ি জ্ঞান শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এর লেখক এই বিষয় সংক্রান্ত কিছু হাদিসের বর্ণনা উপস্থাপনে সচেষ্ট হয়েছেন এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রেও প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

৩ - আল-কুরুবাত ইহদাউহা ইলাল মাওতা ওয়াল ইসতি’জারু আলাইহা: ডক্টর হুসাইন আব্দুল মাজিদ হুসাইন আবু আল-আলা কর্তৃক রচিত। এটি একটি ছোট গবেষণা গ্রন্থ, যা রচনার উদ্দেশ্য ছিল কবরে মৃত ব্যক্তির কী উপকারে আসে তা বর্ণনা করা। এর অর্ধেকটা জুড়ে এসেছে 'সওয়াব দান' সংক্রান্ত আলোচনা, এরপর তিনি মৃত্যুর কিছু মাসয়ালা নিয়ে কথা বলেছেন এবং সবশেষে ইবাদতমূলক কাজে পারিশ্রমিক বা ভাড়ার বিষয়টি সংক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছেন।

৪ - আখযুল উজরাতি আলা আমালিত তা’আত ওয়াল মাআসি: ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আত-তারীকি কর্তৃক রচিত। এটি একটি মাঝারি আকারের বই, যেখানে লেখক প্রায় ১০০ পৃষ্ঠাজুড়ে নেক আমলের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। এতে তিনি কিছু নেক আমল এবং কিছু শরয়ি দায়িত্বের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি এতে আলোচনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং কিছু মাসয়ালার ক্ষেত্রে তা চরম সংক্ষিপ্তকরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি বুঝতে বইটি বেশ উপকারী, আল্লাহ এর লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

৫ - আল-ইসতি’জারু আলা ফিয়লিল কুরুবাতিল শারয়িয়্যাহ: লেখক আলী আব্দুল্লাহ হাসান আবু ইয়াহইয়া। বইটি ১৪১৮ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, এটি ডক্টর উমর সুলাইমান আল-আশকার-এর তত্ত্বাবধানে একটি মাস্টার্স থিসিস। বইটি প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার। এটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এবং বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গভাবে না ধরলেও তার নিজ ক্ষেত্রে বেশ ভালো। তবে এর লেখক বিষয়টির তাত্ত্বিক ভিত্তি আলোচনা করেননি এবং অনেক মাসয়ালা এড়িয়ে গেছেন, যার মধ্যে শরয়ি লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় ও এর সমকালীন প্রয়োগ এবং ইবাদত সংক্রান্ত অনেক মাসয়ালা, বিশেষ করে প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আলোচনা যা...
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১১)
ينبني عليها حكم أخذ المال على هذه العبادات، وكذلك كثير من مسائل الولايات الشرعية، وإنّما تناول المسائل المشهورة في بعض الأبواب.

6 - الإجارة على الأعمال الدينية: لمؤلفه/ مصطفى رشاد عزمي عبد الخالق، وهو عبارة عن رسالة ماجستير، من كلية الشّريعة، جامعة الأزهر بالقاهرة، نبهني إليها فضيلة المشرف - حفظه الله - حين قمت بإحضار فهارس الرسائل العلمية من كلية الشّريعة بالأزهر، وعندما يسر الله لي السَّفر إلى القاهرة قمت بالاطلاع عليها، فوجدتها مثل الكتاب الّذي سبق الحديث عنه آنفًا من حيث الكم والكيف إِلَّا أنّها دونه في الجودة. ولعلّ الجديد في بحثي هذا، كما هو ملموس من خلال المقارنة بين مسائله كمًا وكيفًا، وبين ما ذكرته عن الدراسات السابقة في موضوعه يظهر فيما يأتي:

1 - أنّه قدم دراسة متكاملة عن جلّ مسائل القُرب الموجودة في أبواب الفقه الإسلامي، إنَّ لم تكن كلها فيما بلغه ظني.

2 - أنّه انفرد بمسائل كثيرة جدًا لم يتعرض لها أحد في الدراسات السابقة، ومن ذلك على سبيل المثال: الكلام عن المال والقرب بتفصيل واستيعاب، وكذلك ما يتعلّق بالقرب في أبواب المعاملات، وبخاصة عقود الإرفاق والإحسان، وتطبيقاتها المعاصرة في البنوك، أو المصارف، وكذلك بحث مسائل النِّيابة في العبادات بتفصيل، حيث إنها أصل هذا الباب من ناحية جواز أخذ العوض على هذه العبادات، أو عدم الجواز، وغير ذلك من المسائل الّتي تظهر من خلال الاطلاع على مسائل هذا البحث.

3 - التفصيل الدقيق في مسائل كلّ باب - في الغالب -، وبخاصة باب العبادات ومحاولة حصر كلّ المسائل المتعلّقة بكل عبادة من العبادات، وبيان القول فيها.
এর ওপর ভিত্তি করে এসব ইবাদতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের বিধান নির্ধারিত হয়, এবং একইভাবে শরয়ী প্রশাসনিক পদের (উলায়াত) অনেক মাসআলাও এর ওপর নির্ভরশীল। তবে এটি কেবল কিছু অধ্যায়ের প্রসিদ্ধ মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে।

৬ - দ্বীনি কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক: এর লেখক মুস্তফা রাশাদ আজমি আব্দুল খালিক। এটি কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের একটি মাস্টার্স থিসিস। যখন আমি আল-আজহারের শরীয়াহ অনুষদ থেকে গবেষণাপত্রের সূচিপত্র সংগ্রহ করেছিলাম, তখন আমার সম্মানিত সুপারভাইজার—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—আমাকে এই গবেষণাপত্রটি সম্পর্কে অবহিত করেন। অতঃপর আল্লাহ যখন আমার জন্য কায়রো সফরের সুযোগ সহজ করে দিলেন, তখন আমি এটি অধ্যয়ন করি। আমি এটিকে পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পূর্বে উল্লিখিত বইটির মতোই পেয়েছি, তবে মানের দিক থেকে এটি তার চেয়ে কিছুটা নিম্নস্তরের। সম্ভবত আমার এই গবেষণার নতুনত্ব—যা এর মাসআলাগুলোর পরিমাণ ও গুণগত মান এবং এ বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণার বর্ণনার মধ্যকার তুলনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়—তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে উঠেছে:

১ - এটি ইসলামী ফিকহশাস্ত্রের অধ্যায়গুলোতে বিদ্যমান নৈকট্যমূলক কাজের (কুরবাত) প্রায় অধিকাংশ মাসআলা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা উপস্থাপন করেছে, যদি আমার ধারণা অনুযায়ী তা সবটুকু না-ও হয়।

২ - এটি এমন অনেক মাসআলা স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছে যা পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহে কেউ আলোচনা করেননি। উদাহরণস্বরূপ: অর্থ ও নৈকট্যমূলক কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ও সামগ্রিক আলোচনা, সেইসাথে লেনদেন অধ্যায়ে নৈকট্যমূলক কাজ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, বিশেষ করে অনুদান ও পরোপকারমূলক চুক্তি এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেগুলোর সমসাময়িক প্রয়োগ। এছাড়াও ইবাদতে প্রতিনিধিত্বের মাসআলাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, কারণ এই ইবাদতগুলোর বিনিময়ে প্রতিদান বা পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েয হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই মূল ভিত্তি। এছাড়া আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যা এই গবেষণার মাসআলাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

৩ - প্রতিটি অধ্যায়ের মাসআলাগুলোতে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ—সাধারণত—বিশেষ করে ইবাদত অধ্যায়ে এবং প্রতিটি ইবাদত সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা এবং সেগুলোর ব্যাপারে শরয়ী বিধানের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১২)
4 - التّحرِّي الشديد في نسبة الأقوال إلى قائليها، وفي نسبة المذاهب إلى أصحابها، وهذا من أكثر ما اعتنيت به في هذه الرسالة عناية فائقة، وبذلت في ذلك ما استطعته من وسع وطاقة.

وأحسب أنّه إذا أضيف إلى ما ذكر، ما سيأتي، من دراسة في الباب التمهيدي، عن المال المأخوذ على القرب، وكذلك مفهوم القربة وأقسامها، وما تبع ذلك من تأصيل لهذا الموضوع، فإن ذلك قد يعطي دراسة متكاملة، أو تكاد عن القرب، وحكم أخذ المال عليها، ممّا قد يشكل - بمفهوم فقهاء العصر- نظرية متكاملة عن القرب، وما يتعلّق بها من أحكام، أو على أقل الأحوال يمهد الطريق لذلك، والله تعالى أعلم.

 

‌‌رابعًا: خطة البحث:

قمت بتقسيم مادة هذا البحث إلى مقدمة، وتمهيد، وبابين، وخاتمة، وهي إجمالًا على النحو التالي:

 

المقدِّمة

وهي تشتمل على ما يأتي:

أوَّلًا: أهمية الموضوع.

ثانيًا: أسباب اختياره.

ثالثًا: الدراسات السابقة حول الموضوع.

رابعًا: خطة البحث.

خامسًا: المنهج الّذي سرت عليه في هذا البحث.

سادسًا: الصعوبات الّتي عرضت أثناء البحث.

سابعًا: الشكر والتقدير.
৪ - উক্তিগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের প্রতি এবং মাজহাবগুলোকে তাদের ইমামদের প্রতি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা। এই রিসালায় আমি যে বিষয়গুলোর প্রতি সর্বোচ্চ ও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি এটি তার মধ্যে অন্যতম, এবং এ ক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছি।

আমি মনে করি যে, উল্লেখিত বিষয়গুলোর সাথে যখন উপক্রমনিকা অধ্যায়ে ইবাদত বা নৈকট্যমূলক কাজের বিনিময়ে গৃহীত অর্থ সম্পর্কে আগত আলোচনা, অনুরূপভাবে 'কুরবাত' (নৈকট্যমূলক কাজ) এর ধারণা ও তার প্রকারভেদ এবং এ বিষয়ের মৌলিক ভিত্তি স্থাপনের আলোচনাগুলো যুক্ত হবে, তখন এটি নৈকট্যমূলক কাজ এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের বিধান সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অথবা প্রায়-পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ দেবে। যা বর্তমান যুগের ফকিহদের পরিভাষায় নৈকট্যমূলক কাজ এবং এ সংক্রান্ত বিধানাবলি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বে রূপ নিতে পারে, অথবা অন্ততপক্ষে তার পথ প্রশস্ত করবে। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

 

‌‌চতুর্থত: গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি এই গবেষণার বিষয়বস্তুকে ভূমিকা, উপক্রমনিকা, দুইটি মূল অধ্যায় এবং উপসংহারে বিভক্ত করেছি; যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

 

ভূমিকা

এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:

প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব।

দ্বিতীয়ত: বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ।

তৃতীয়ত: এই বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ।

চতুর্থত: গবেষণা পরিকল্পনা।

পঞ্চমত: এই গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

ষষ্ঠত: গবেষণা চলাকালীন যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সপ্তমত: কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৩)
التمهيد في حقيقة المال والقرب وما يتعلّق بهما

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأوّل: حقيقة المال وما يتعلّق به.

المبحث الثّاني: حقيقة القرب وما يتعلّق بها.

 

الباب الأوّل أخذ المال على العبادات

ويشتمل على خمسة فصول:

الفصل الأوّل: أخذ المال على الصّلاة وما يتعلّق بها

وتحته خمسة مباحث:

المبحث الأوّل: أخذ المال على الصّلاة عن الغير.

المبحث الثّاني: أخذ المال على الأذان والإقامة.

المبحث الثّالث: أخذ المال على الإمامة والخطابة.

المبحث الرّابع: أخذ المال على عمارة المساجد وصيانتها.

المبحث الخامس: أخذ المال على الجنازة (تجهيز الميِّت ودفنه).

الفصل الثّاني: أخذ المال على الزَّكاة والصيام

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: أخذ المال على الزَّكاة

المبحث الثّاني: أخذ المال على الصِّيام

وتحته مطلبان:

المطلب الأوّل: أخذ المال على الصِّيام عن العاجز.

المطلب الثّاني: أخذ المال على الصِّيام عن الميِّت.
সম্পদ ও নৈকট্যমূলক ইবাদতের স্বরূপ এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির সূচনা

এটি দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সম্পদের স্বরূপ ও এ সংক্রান্ত বিষয়াবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নৈকট্যমূলক ইবাদতের স্বরূপ ও এ সংক্রান্ত বিষয়াবলি।

 

প্রথম অধ্যায়: ইবাদতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা

এটি পাঁচটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সালাত এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা

এর অধীনে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অন্যের পক্ষ থেকে সালাত আদায়ের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আযান ও ইকামতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামতি ও খুতবা প্রদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জানাযার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা (মৃতদেহ প্রস্তুত ও দাফন করা)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যাকাত ও সিয়ামের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যাকাতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সিয়ামের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা

এর অধীনে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে সিয়াম পালনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সিয়াম পালনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثّالث: أخذ المال على الاعتكاف

وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: أخذ المال على الاعتكاف عن الحي

المطلب الثّاني. أخذ المال على الاعتكاف عن اليت

الفصل الثّالث: أخذ المال على الحجِّ والعمرة

وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأوّل: النِّيابة في الحجِّ والعمرة عن الحي

وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: النِّيابة في الحجِّ الواجب

المطلب الثّاني: النِّيابة في حج التطوع

المبحث الثّاني: النِّيابة في الحجِّ والعمرة عن الميِّت

وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: النِّيابة عن الميِّت في الحجِّ الواجب

المطلب الثّاني: النِّيابة عن الميِّت في حج التطوع

المبحث الثّالث: أنواع المال المأخوذ على الحجِّ والعمرة

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأوّل: النفقة وما في حكمها

المطلب الثّاني: الجعالة

المطلب الثّالث: الإجارة

المبحث الرّابع: أخذ المال على ذبح الهدي والأضاحي ونحوهما

وتحته مطلبان:

المطلب الأوّل: النِّيابة في ذبح الهدي والأضاحي

المطلب الثّاني: أخذ الأجرة على ذبح الهدي والأضاحي
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইতিকাফের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইতিকাফের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইতিকাফের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় অধ্যায়: হজ ও ওমরার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ও ওমরার প্রতিনিধিত্ব

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফরজ হজের প্রতিনিধিত্ব

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নফল হজের প্রতিনিধিত্ব

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ও ওমরার প্রতিনিধিত্ব

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ফরজ হজের প্রতিনিধিত্ব

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নফল হজের প্রতিনিধিত্ব

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হজ ও ওমরার বিনিময়ে গৃহীত অর্থের প্রকারভেদ

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ব্যয়ভার ও এই সংক্রান্ত বিষয়াদি

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জুয়ালাহ (নির্দিষ্ট কাজের বিনিময়ে প্রতিদান)

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইজারা (পারিশ্রমিক)

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদি, উদহিয়া (কুরবানি) ও অনুরূপ পশু জবাইয়ের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: হাদি ও উদহিয়া জবাই করার প্রতিনিধিত্ব

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদি ও উদহিয়া জবাই করার পারিশ্রমিক গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الرّابع: أخذ المال على الجهاد

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: نفقة المجاهدين

وتحته مطلبان:

المطلب الأوّل: أخذ المجاهدين من الزَّكاة

المطلب الثّاني: أخذ المجاهدين من بيت المال

المبحث الثّاني: أخذ المال على القتال

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأوّل: استئجار المسلم للقتال

المطلب الثّاني: أخذ الجعل على القتال

المطلب الثّالث: إعطاء الأجير من الغنيمة

المبحث الثّالث: أخذ المال على متعلّقات الجهاد

وتحته ثلاثة مطالب:

المطلب الأوّل: أخذ المال على المرابطة

المطلب الثّاني: أخذ المال على حفظ الغنيمة

المطلب الثّالث: ما يستحقه المعاون في الجهاد

الفصل الخامس: أخذ المال على القرآن الكريم والعلّوم الشرعية

وفيه مبحثان:

المبحث الأوّل: أخذ المال على القرآن الكريم

وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأوّل: أخذ المال على تعلم القرآن الكريم وتعليمه

المطلب الثّاني: أخذ المال على تلاوة القرآن الكريم

المطلب الثّالث: أخذ المال على كتابة المصحف وطباعته
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জিহাদের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুজাহিদদের ব্যয়ভার

এর অধীনে দুটি শিরোনাম রয়েছে:

প্রথম শিরোনাম: মুজাহিদদের জাকাত থেকে গ্রহণ করা

দ্বিতীয় শিরোনাম: মুজাহিদদের বায়তুল মাল থেকে গ্রহণ করা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যুদ্ধের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে তিনটি শিরোনাম রয়েছে:

প্রথম শিরোনাম: যুদ্ধের জন্য মুসলিমকে ভাড়া করা

দ্বিতীয় শিরোনাম: যুদ্ধের বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় শিরোনাম: ভাড়া করা ব্যক্তিকে গনিমত থেকে প্রদান

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জিহাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এর অধীনে তিনটি শিরোনাম রয়েছে:

প্রথম শিরোনাম: সীমান্ত পাহারার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় শিরোনাম: গনিমত সংরক্ষণের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় শিরোনাম: জিহাদে সহযোগিতাকারীর যা প্রাপ্য

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন ও শরিয়াহ বিজ্ঞানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে চারটি শিরোনাম রয়েছে:

প্রথম শিরোনাম: পবিত্র কুরআন শিক্ষা ও শিক্ষাদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় শিরোনাম: পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় শিরোনাম: মুসহাফ লিখন ও মুদ্রণের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الرّابع: أخذ المال على إجارة المصحف وبيعه

المبحث الثّاني: أخذ المال على العلوم الشرعية

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأوّل: أخذ المال على طلب العلم

المطلب الثّاني: أخذ المال على تعليم العلوم الشرعية

المطلب الثّالث: أخذ المال على كتابة العلم الشرعي

 

الباب الثّاني أخذ المال على المعاملات والولايات الشرعية

وفيه فصلان:

الفصل الأوّل: أخذ المال على المعاملات

وفيه ستة مباحث:

المبحث الأوّل: أخذ المال على القرض

المبحث الثّاني: أخذ المال على الضمان والكفالة

وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: أخذ المال على الضمان

المطلب الثّاني: أخذ المال على الكفالة

المبحث الثّالث: أخذ المال على الصلح

المبحث الرّابع: أخذ المال على الوديعة

المبحث الخامس: أخذ المال على نظارة الوقف

المبحث السّادس: أخذ المال على الوصايا

الفصل الثّاني: أخذ المال على الولايات الشرعية

وفيه أربعة مباحث:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসহাফ ভাড়া দেওয়া এবং বিক্রয় করার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি ইলম বা জ্ঞানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জ্ঞান অন্বেষণের জন্য অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি ইলম শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি ইলম লিপিবদ্ধ করার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: লেনদেন এবং শরয়ি পদের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেনদেনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঋণের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জামানত ও কাফালাতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জামানতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাফালাতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুলহ বা মীমাংসার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আমানত রক্ষার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ওয়াকফ তত্ত্বাবধানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: অসিয়তের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি পদের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأوّل: أخذ المال على الإمامة العظمى (نفقة الإمام)

المبحث الثّاني: أخذ المال على القضاء والشهادة

وتحته مطلبان:

المطلب الأوّل: أخذ المال على القضاء

وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: ما يأخذه القاضي من مال على قضائه

المسألة الثّانية: ما يأخذه أعوان القاضي

المسألة الثّالثة: ما يأخذه المأذون الشرعي على عقود الأنكحة

المسألة الرّابعة: ما يأخذه القسام

المطلب الثّاني: أخذ المال على الشّهادة

المبحث الثّالث: أخذ المال على الإفتاء

المبحث الرّابع: أخذ المال على الحسبة (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)

 

الخاتمة

وقد اشتملت على ملخص للرسالة مع إبراز أهم النتائج الّتي توصل إليها الباحث من خلال هذه الدراسة.

 

الفهارس

وهي عبارة عن:

1 - فهرس المصادر والمراجع

2 - فهرس الموضوعات
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান ইমামত (রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব) পালনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ (ইমামের ভরণপোষণ)

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিচারকাজ এবং সাক্ষ্য প্রদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এবং এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বিচারকাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

এবং এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: বিচারক তার বিচারকাজের বিনিময়ে যে অর্থ গ্রহণ করেন

দ্বিতীয় মাসআলা: বিচারকের সহকারীরা যা গ্রহণ করে

তৃতীয় মাসআলা: বিবাহ সম্পাদনের বিনিময়ে শরয়ি কাজি যা গ্রহণ করেন

চতুর্থ মাসআলা: বণ্টনকারী যা গ্রহণ করে

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাক্ষ্য প্রদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফতোয়া প্রদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হিসবাহ (সদাচারের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ) পালনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ

 

উপসংহার

এতে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপের পাশাপাশি এই গবেষণার মাধ্যমে গবেষক যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলে উপনীত হয়েছেন তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

নির্ঘণ্টসমূহ

যা নিম্নরূপ:

১ - উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট

২ - বিষয়সূচি
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌خامسًا: منهج البحث:

اتبعت في هذا البحث المنهج التالي:

1 - صورت المسألة المراد بحثها تصويرًا دقيقًا، قبل بيان حكمها؛ وذلك ليتضح المقصود من دراستها.

2 - إذا كانت المسألة من مواضع الاتفاق، فقد ذكرت حكمها مقرونًا بدليله، مع توثيق الاتفاق من مظانه المعتبرة مع الإتيان بنصوص الفقهاء الدالة على ذلك عند الحاجة.

3 - إذا كانت المسألة من مسائل الخلاف، فقد اتبعت في دراستها ما يأتي:

أ - تحرير محل الخلاف، إذا كانت بعض صور المسألة محل خلاف وبعضها محل اتفاق.

ب - ذكر الأقوال في المسألة، وبيان من قال بهذه الأقوال من أهل العلم، ويكون عرض الخلاف حسب الاتجاهات الفقهية.

ج - الاقتصار على المذاهب الفقهية المعتبرة، مع العناية بذكر ما تيسر الوقوف عليه، من أقوال السلف الصالح، وإذا لم أقف على المسألة في مذهب ما، فأسلك بها مسلك التخريج، ما استطعت إلى ذلك سبيلًا.

د - توثيق الأقوال من كتب أهل المذهب نفسه مع مراعاة التّرتيب الزمني بين المذاهب ، فأذكر المذهب الحنفي أوَّلًا، ثمّ المالكي، ثمّ الشّافعيّ، ثمّ الحنبلي، ثمّ الظاهري - إنَّ وجد - مع مراعاة التّرتيب الزمني كذلك للمصادر والمراجع داخل كلّ مذهب.

هـ - استقصاء أدلة الأقوال ما أمكن، مع بيان وجه الدلالة، وذكر ما يردّ عليها من مناقشات، وما يجاب به عنها.

و- ذكر الأقوال مرتبة بحسب قوتها؛ فاذكر القول الراجح أوَّلًا، ثمّ الّذي يليه في القوة، وهكذا، إلى أن أنتهي بأضعف الأقوال، وهي الأقوال المرجوحة.
পঞ্চম: গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - কোনো মাসআলার বিধান বর্ণনার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নির্ভুলভাবে চিত্রিত করেছি; যাতে এর অধ্যয়নের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।

২ - মাসআলাটি যদি ঐকমত্যের (ইত্তেফাক) বিষয় হয়ে থাকে, তবে আমি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সেই ঐকমত্যের প্রমাণ উদ্ধৃত করার পাশাপাশি দলিলের সাথে বিধানটি উল্লেখ করেছি এবং প্রয়োজনে ফকিহগণের বক্তব্য তুলে ধরেছি।

৩ - মাসআলাটি যদি মতভেদপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

ক - মতভেদের প্রকৃত স্থান চিহ্নিত করা, যদি মাসআলার কিছু রূপ মতভেদপূর্ণ এবং কিছু রূপ ঐকমত্যপূর্ণ হয়।

খ - মাসআলাটি সম্পর্কে বিদ্যমান মতামতসমূহ উল্লেখ করা এবং বিজ্ঞ আলিমদের মধ্য থেকে কে কোন মত পোষণ করেছেন তা বর্ণনা করা; এক্ষেত্রে মতভেদ উপস্থাপনের বিন্যাস করা হয়েছে ফিকহি মাজহাবগুলোর ধারা অনুযায়ী।

গ - নির্ভরযোগ্য ফিকহি মাজহাবসমূহের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং সালাফে সালেহীনের যে সকল বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। কোনো মাজহাবে সরাসরি মাসআলাটি না পেলে সাধ্যমতো 'তাখরিজ'-এর পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

ঘ - সংশ্লিষ্ট মাজহাবের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকেই মতামতগুলো উদ্ধৃত করা এবং মাজহাবগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তাই আমি প্রথমে হানাফি মাজহাব, এরপর মালিকি, তারপর শাফেয়ি, এরপর হাম্বলি এবং সবশেষে জাহিরি মাজহাব—যদি পাওয়া যায়—উল্লেখ করেছি। একইভাবে প্রতিটি মাজহাবের অভ্যন্তরে উৎস ও তথ্যসূত্রগুলোর ক্ষেত্রেও কালানুক্রমিক বিন্যাস রক্ষা করা হয়েছে।

ঙ - মতামতগুলোর স্বপক্ষে যথাসম্ভব বিস্তারিত দলিল অনুসন্ধান করা এবং দলিল থেকে মাসআলাটি প্রমাণিত হওয়ার পদ্ধতি (ওয়াজহু আদ-দালালাহ) বর্ণনা করা। পাশাপাশি দলিলের উপর উত্থাপিত আপত্তি ও তার উত্তর উল্লেখ করা।

চ - মতামতগুলোকে তাদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়ে উল্লেখ করা; তাই প্রথমে অগ্রগণ্য (রাজিহ) মতটি উল্লেখ করেছি, এরপর ক্রমান্বয়ে পরবর্তী শক্তিশালী মতগুলো বর্ণনা করেছি এবং সবশেষে সবচেয়ে দুর্বল (মারজুহ) মতামতগুলো দিয়ে শেষ করেছি।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ১৯)
و - ذكر الأقوال مرتبة بحسب قوتها ، فأذكر القول الراجح أوَّلًا، ثمّ الّذي يليه في القوة، وهكذا، إلى أن أنتهي بأضعف الأقوال، وهي الأقوال المرجوحة.

ز- عند ذكر أدلة الأقوال، فقد ذكرت أدلة القول الأضعف أوَّلًا، أو المرجوح، ثمّ الّذي يليه في القوة إلى أن أنتهي بأدلة القول الراجح.

ح - ذكر سبب الخلاف، إنَّ وجد.

ط - الترجيح بين الأقوال، مع بيان سببه، وذكر ثمرة الخلاف إنَّ وجدت.

4 - الاعتماد على أمهات المصادر والمراجع الأصيلة عند تحرير الأقوال، وتوثيق المذاهب، وتخريج الأقوال، وذكر الأدلة.

5 - العناية بضرب الأمثلة، وبخاصة الواقعية.

6 - التركيز على موضوع البحث وتجنب الاستطراد ما أمكن.

7 - تجنب ذكر الأقوال الشاذة.

8 - العناية بدراسة، ما جد من القضايا ممّا له صلة واضحة بالبحث.

9 - ترقيم الآيات وبيان أسماء السور.

10 - تخريج الأحاديث النبوية، بذكر من أخرجها من العلماء، مع بيان ما ذكره أهل الشأن في درجتها من حيث الصِّحَّة والضعف ما أمكنني ذلك، إِلَّا أن يكون الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، فأكتفي بذلك.

11 - تخريج الآثار في مصادرها الأصيلة، وذكر الحكم عليها إنَّ وجد.

12 - التعريف بالمصطلحات، وشرح الغريب.

13 - العناية بقواعد اللُّغة العربيّة، والإملاء، وعلامات الترقيم.

14 - ترجمة الأعلام غير المشهورين، سواء أكانوا من الصّحابة، أم من

غيرهم ، وذلك عند ورود العلم لأول مرّة.

15 - جعلت خاتمة للبحث، وهي عبارة عن ملخص للرسالة، تعطي سورة واضحة لما تضمنته الرسالة، مع إبراز أهم النتائج.
উ - মতামতের শক্তির ক্রমানুসারে সেগুলো উল্লেখ করা; তাই আমি অগ্রগণ্য মতটি প্রথমে উল্লেখ করেছি, এরপর শক্তির দিক থেকে তার পরবর্তীটি, এবং এভাবে সবশেষে দুর্বলতম তথা বর্জিত মতামতগুলো উল্লেখ করে শেষ করেছি।

য - মতামতের দলীলসমূহ উল্লেখ করার সময় আমি প্রথমে দুর্বলতম বা বর্জিত মতের দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি, এরপর ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী দলীলগুলো উল্লেখ করে সবশেষে অগ্রগণ্য মতের দলীলসমূহ দিয়ে শেষ করেছি।

হ - মতভেদের কারণ উল্লেখ করা, যদি তা থাকে।

ত - মতামতগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণ করা, এর কারণ বর্ণনা করা এবং মতভেদের ফলাফল যদি থাকে তবে তা উল্লেখ করা।

৪ - মতামতসমূহ বিন্যাস, মাযহাবসমূহের প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ, উক্তিগুলোর উৎস নির্দেশ এবং দলীলসমূহ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে মূল ও নির্ভরযোগ্য আকরগ্রন্থগুলোর ওপর নির্ভর করা।

৫ - উদাহরণ প্রদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, বিশেষ করে বাস্তবধর্মী উদাহরণ।

৬ - গবেষণার বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করা এবং যথাসম্ভব অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা পরিহার করা।

৭ - শায (বিচ্ছিন্ন) মতামত উল্লেখ করা পরিহার করা।

৮ - গবেষণার সাথে স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলো পর্যালোচনার প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া।

৯ - আয়াতের নম্বর প্রদান এবং সূরার নাম উল্লেখ করা।

১০ - হাদীসসমূহের তাখরীজ করা তথা কোন কোন বিশেষজ্ঞ আলিম তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করা; সেই সাথে হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের মতামত যথাসম্ভব বর্ণনা করা। তবে হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

১১ - আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সমূহের মূল উৎস থেকে তাখরীজ করা এবং সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতার মান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য থাকলে তা উল্লেখ করা।

১২ - পারিভাষিক শব্দাবলীর সংজ্ঞা প্রদান এবং দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা করা।

১৩ - আরবী ভাষার ব্যাকরণ, বানানরীতি এবং বিরামচিহ্নের নিয়মের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।

১৪ - স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা, তারা সাহাবী হোন বা অন্য কেউ; যখনই তাদের নাম প্রথমবার এসেছে তখনই তা করা হয়েছে।

১৫ - গবেষণার জন্য একটি উপসংহার তৈরি করেছি, যা মূলত অভিসন্দর্ভের একটি সারসংক্ষেপ; এটি অভিসন্দর্ভে আলোচিত বিষয়াবলীর একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে এবং গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ ফুটিয়ে তোলে।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২০)
16 - ذيلتُ الرسالة بفهارس علمية تقدّم ذكرها.

 

‌‌سادسًا: الصعوبات:

واجهتني بعض الصعوبات أثناء إعداد هذا البحث منها:

1 - طول البحث وسعة عناوينه، حيث شمل جلَّ أبواب الفقه، بدءًا من الأذان، وانتهاء بالشهادات، هذا عدا الباب التمهيدي وما فيه من مسائل كثيرة.

2 - كثرة وتنوع المال المأخوذ على القرب، من رزق، وإجارة، وجعالة، ونفقة، وهدية، وزكاة، وغير ذلك من الأنواع، ممّا يقتضي التنبه لذلك في كلّ مسألة، وبيان ما يجوز منها وما لا يجوز.

3 - تداخل كثير من مسائل البحث وتشابهها، ممّا اقتضى عند الفصل بينها وتحريرها جهدًا كبيرًا ومضنيًا.

4 - كثرة المصادر والمراجع الّتي يلزم الرجوع إليها في كلّ مسألة، وهذا يتطلب كثيرًا من الجهد، والوقت.

5 - تشعب مسائل البحث، وتفرقها في أبواب شتى، وأحيانًا في غير مظنها، ممّا اقتضى الرجوع في كلّ مسألة إلى أبواب كثيرة من أبواب الفقه، وقراءتها بكاملها غالبًا، ممّا اقتضى جهدًا، ووقتًا كبيرين.

شكر وتقدير وعرفان:

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يشكرُ اللهَ من لا يشكرُ الناسَ). وفي رواية: (من لم يشكرِ الناسَ لم يشكرِ اللهَ) (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاريّ في الأدب المفرد: 1/ 310 (218)، وأبو داود، كتاب الأدب، باب شكر المعروف: 4/ 355 (4811)، والترمذي: كتاب البرّ والصلة، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك: 4/ 299 (1955)، وصححه ابن حبّان: 8/ 199 (3408).
১৬ - আমি এই গবেষণাপত্রটি পূর্বে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক সূচিপত্রসমূহ দ্বারা সম্পন্ন করেছি।

 

‌‌ষষ্ঠত: প্রতিকূলতাসমূহ:

এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার সময় আমি কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - গবেষণার দীর্ঘতা এবং এর শিরোনামসমূহের ব্যাপকতা, কেননা এটি আজান থেকে শুরু করে সাক্ষ্যদান পর্যন্ত ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে; আর এটি তো প্রাথমিক অধ্যায় এবং তাতে থাকা বহু মাসআলার অতিরিক্ত।

২ - ইবাদত বা নেক কাজের বিনিময়ে গৃহীত অর্থের আধিক্য ও বৈচিত্র্য, যেমন: সরকারি ভাতা, পারিশ্রমিক, নির্দিষ্ট কাজের বিনিময়ে পুরস্কার, ভরণপোষণ, উপহার, জাকাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রকার। এটি প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং কোনটি জায়েজ আর কোনটি নাজায়েয তা বর্ণনা করার আবশ্যকতা তৈরি করে।

৩ - গবেষণার অনেক মাসআলার একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং সাদৃশ্য থাকা, যার কারণে সেগুলোকে পৃথক করতে এবং সবিস্তারে ব্যাখ্যা করতে অনেক বড় ও ক্লান্তিকর প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়েছে।

৪ - প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে যে সকল মূল উৎস এবং রেফারেন্স গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক ছিল তার আধিক্য, যা প্রচুর শ্রম ও সময়ের দাবি রাখে।

৫ - গবেষণার মাসআলাসমূহের শাখা-প্রশাখা বিস্তার এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে থাকা, এমনকি কখনো কখনো সেগুলোর মূল প্রসঙ্গের বাইরেও থাকা; যার ফলে প্রতিটি মাসআলার জন্য ফিকহের অনেকগুলো অধ্যায়ের শরণাপন্ন হতে হয়েছে এবং প্রায়শই সেগুলো পুরোপুরি পাঠ করতে হয়েছে, যা অনেক শ্রম ও দীর্ঘ সময়ের দাবি রাখে।

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:

আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না" (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে: ১/৩১০ (২১৮), আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, পরিচ্ছেদ: অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: ৪/৩৫৫ (৪৮১১), তিরমিজি: কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, পরিচ্ছেদ: যে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: ৪/২৯৯ (১৯৫৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন: ৮/১৯৯ (৩৪০৮)।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২১)
فإني بهذه المناسبة الكريمة المباركة، أرى لزامًا عليَّ - عملًا بقول النّبيّ صلى الله عليه وسلم، واعترافًا بالجميل، وإحقاقًا للحق - أن أتقدم بالشكر الجزيل، والثناء العاطر، والعرفان، لكل من أعان وساهم؛ حتّى وصلت إلى هذه المرحلة، ولترى هذه الرسالةُ النورَ، وإن أولى النَّاس بالشكر والتقدير، هذه المملكة الحبيبة، المملكة العربيّة السعودية ملكًا وحكومة وشعبًا، على ما قدموه، ويقدمونه للعلّم، وأهله، ليس في داخل المملكة فحسب، وإنّما في العالم أجمع، وما أنا وغيري من طلبة العلم إِلَّا ثمارًا من غراسهم ، فاللهَ أسألُ - بمنه وكرمه - أن يجزي هذه البلادَ الطيبةَ وأهلها خير الجزاء، على ما يقومون به خدمةً للعلّم وأهله، وأخص بالشكر والتقدير والعرفان خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود - حفظه الله - ولي أمر هذه البلاد وراعي نهضتها، سائلًا الله أن يحفظه من كلّ سوء، وأن ينعم عليه بالصحة والعافية.

كلما أخص بالشكر والثناء، جامعة الإمام محمّد بن سعود الإسلامية، تلك الجامعة الفتية، زادها الله رفعة وتقدمًا ممثلة في مديرها، معالي الأستاذ الدكتور/ عبد الله بن يوسف الشبل - حفظه الله - على ما يقوم به من جهد مبارك للارتقاء بهذه الجامعة، حتّى تبلغ الذروة في عطائها والنهوض بأبنائها؛ لبلوغ ذرا المجد والتقدم والازدهار، وعلى ما خصني به من تفضله بقبولي في مرحلة الدراسات العلّيا بهذه الكلية المباركة، وكذا أصحاب الفضيلة وكلاء الجامعة، وكافة القائمين على شؤونها، لهم جميعًا جزيل الشكر والثناء.

كما أرفع أسمى آيات الشكر والتقدير، إلى الكلية الحبيبة إلى نفوسنا جميعًا، إلى كلية الشّريعة بالرياض، ذلك الصرح العلّمي الشامخ، والتي سعدتُ كما سعد غيري بالتشرف بالانتساب إليها والدراسة فيها، ممثلة في فضيلة، أستاذي، الأستاذ الدكتور/ عبد الرّحمن بن محمّد السدحان، عميد الكلية - حفظه الله تعالى، ووكيليها
এই মহিমান্বিত ও বরকতময় উপলক্ষে, আমি আমার ওপর অপরিহার্য মনে করছি — নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ওপর আমল করে, অনুগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে — তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, সুগন্ধি প্রশংসা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে যারা সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন; যার ফলে আমি এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি এবং এই গবেষণাপত্রটি আলোর মুখ দেখতে পেয়েছে। কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সবচেয়ে বেশি হকদার হলো এই প্রিয় দেশ, সৌদি আরব রাজ্য — তার বাদশাহ, সরকার এবং জনগণ — জ্ঞান ও জ্ঞানপিপাসুদের জন্য তারা যা কিছু পেশ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন তার জন্য; যা কেবল রাজ্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে বিস্তৃত। আমি এবং অন্যান্য জ্ঞানপিপাসুরা তাদের রোপিত বৃক্ষের ফল ছাড়া আর কিছুই নই। অতএব আমি আল্লাহর কাছে — তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় — প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই উত্তম ভূখণ্ড ও এর অধিবাসীদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, যা কিছু তারা জ্ঞান ও জ্ঞানপিপাসুদের সেবায় পালন করছেন তার বিনিময়ে। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ — আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন — যিনি এই দেশের অভিভাবক এবং এর জাগরণের পৃষ্ঠপোষক। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করেন।

অনুরূপভাবে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে; সেই প্রাণবন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, আল্লাহ যার মর্যাদা ও উন্নতি আরও বৃদ্ধি করুন। যার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর সম্মানিত রেক্টর, অধ্যাপক ডক্টর আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-শিবল — আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন — এই বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত করার জন্য তিনি যে বরকতময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য; যাতে এটি তার অবদান ও শিক্ষার্থীদের বিকাশে শিখরে পৌঁছাতে পারে এবং গৌরব, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই এই বরকতময় অনুষদে উচ্চশিক্ষা স্তরে আমাকে ভর্তির সুযোগ দিয়ে তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য। অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভিসিগণ এবং এর সকল দায়িত্বশীলদের প্রতিও রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা।

আমি আরও পেশ করছি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ নিদর্শন আমাদের সকলের প্রিয় অনুষদ, রিয়াদ শরীয়াহ অনুষদের প্রতি; সেই সুউচ্চ জ্ঞানীয় মিনার, যেটির সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পেরে এবং সেখানে অধ্যয়ন করতে পেরে অন্যের মতো আমিও সৌভাগ্যবান হয়েছি। যার প্রতিনিধিত্ব করছেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আস-সাদহান — আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাজত করুন — এবং এর সহকারী ডিনবৃন্দ।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২২)
- وفقهما الله تعالى- على ما يقومون به من جهد مبارك تجاه أبنائهم من طلبة العلم في هذه الكلية.

كما أتوجه بالشكر والثناء إلى فضيلة الشّيخ الدكتور رئيس قسم الفقه بالكلية، وكافة أعضاء هيئة التدريس بالقسم من أساتذة ومحاضرين ومعيدين، وكافة الزملاء، لهم جميعًا مني الشكر والثناء.

هذا وأخص بالشكر والثناء العاطر، والمحبة الخالصة، فضيلة الشّيخ الدكتور/ أحمد بن يوسف الدريويش، شيخي، وأستاذي، الّذي تفضل، وتكرم بالإشراف على هذه الرسالة، والذي ما فتئ يتعهدُني بالرعاية والتوجيه والتسديد، والنصح، وفتح لي صدره، وأفسح لي في وقته وجهده، وأولاني بكل عناية ورعاية، وصبر على ما كان مني من أذى، فجزاه الله عني خير الجزاء، وأسأل الله أن يبارك في عمره وعمله، وأهله وماله كما أتوجه بالشكر والتقدير إلى الشيخين الكريمين والأستاذين الفاضلين، فضيلة الشّيخ الدكتور/ إبراهيم بن عبد العزيز الغصن عضو هيئة التدريس بكلية الشّريعة وأصول الدِّين بالقصيم، وفضيلة الشّيخ الدكتور/ صبري السعداوي مبارك عضو هيئة التدريس بكلية الشّريعة بالرياض على تفضلهما بقبول مناقشة هذه الرسالة والحكم عليها، وأرجو الله أن يجزيهما عني خير الجزاء وأن يجعل ذلك في موازين حسناتهما. كما أخص بالشكر والثناء كلّ من كان سببًا في قدومي إلى هذه البلاد الطيبة، والتحاقي بهذه الجامعة المباركة وهم:

- فضيلة الشّيخ العلّامة/ محمّد بن صاع العثيمين، عضو هيئة كبار العلماء رحمه الله.

- فضيلة الأستاذ الدكتور معالي الشّيخ/ عبد الله بن عمر نصيف، نائب رئيس مجلس الشورى، والأمين العام لرابطة العالم الإسلامي سابقًا، حيث كان له الفضل بعد فضل الله الواسع في قدومي إلى هذه المملكة الحبيبة، وقد أولاني بكل أنواع الرعاية والاهتمام فجزاه الله عني خير الجزاء.
-আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে তাওফীক দান করুন- এই অনুষদের ইলম অন্বেষণকারী তাঁদের সন্তানদের প্রতি তাঁরা যে বরকতময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য।

অনুরূপভাবে আমি এই অনুষদের ফিকহ বিভাগের সম্মানিত প্রধান ডক্টর শাইখ, এবং বিভাগের সকল শিক্ষক মণ্ডলী, লেকচারার ও টিউটর এবং সকল সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। তাঁদের সকলের প্রতি আমার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা রইল।

বিশেষভাবে আমি সুগন্ধিময় কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও খাঁটি ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি আমার শাইখ ও উস্তাদ ডক্টর আহমদ বিন ইউসুফ আদ-দুরিওয়াইশ-এর প্রতি, যিনি অনুগ্রহ করে এই গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি সর্বদা আমাকে যত্ন, দিকনির্দেশনা, সঠিক পথ প্রদর্শন ও নসিহত করেছেন। তিনি আমার জন্য তাঁর অন্তরকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, নিজের সময় ও শ্রমকে আমার জন্য অবারিত করেছেন এবং আমাকে পূর্ণ যত্ন ও মনোযোগ প্রদান করেছেন। তিনি আমার পক্ষ থেকে হওয়া বিভিন্ন কষ্ট ও ত্রুটির ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর জীবনে, কর্মে, পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করেন। আমি আরো কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি দুই সম্মানিত শাইখ এবং দুই বিজ্ঞ উস্তাদ— কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও উসুলুদ-দীন অনুষদের শিক্ষক ডক্টর ইব্রাহিম বিন আব্দুল আজিজ আল-গুসন এবং রিয়াদ শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক ডক্টর সাবরি আস-সাদাউয়ি মুবারক-এর প্রতি। তাঁরা এই গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি যেন তাঁদের উভয়কে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং একে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। এছাড়া আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি তাঁদের প্রতি, যাঁরা আমার এই পবিত্র ভূমিতে আসা এবং এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কারণ হয়েছিলেন, তাঁরা হলেন:

- সম্মানিত শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, হাইআতু কিবারিল উলামা-এর সদস্য (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।

- মহাসম্মানিত উস্তাদ ডক্টর শাইখ আব্দুল্লাহ বিন উমর নাসিফ, মজলিসে শূরার প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর প্রাক্তন মহাসচিব। আল্লাহর অসীম অনুগ্রহের পর এই প্রিয় রাজ্যে আমার আসার পেছনে তাঁরই অবদান ছিল। তিনি আমাকে সব ধরণের যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৩)
كما أتوجه بالشكر والتقدير لفضيلة شيخي الشّيخ الأستاذ الدكتور/ عبد الله بن سعد الرشيد على ما أولاني به من رعاية أبوية كريمة ، فجزاه الله عني خير الجزاء، كما أشكر كافة الإخوان الكرام الذين وقفوا يحانبي، حتّى أنجزت هذه الرسالة ، فلهم جميعًا مني أسمى آيات الشكر والتقدير.

وبعد:

فإن هذه الرسالةَ جهدُ المقل، وحيلة العاجز، وهي قبل كلّ شيء عملٌ بشريٌّ يعتريه النقص والخطأ، فما كان فيها من صواب فالفضل فيه لله وحده منةً منه وكرمًا، وما كان فيها من خطأ فمني، ومن الشيطان، وأستغفر الله من ذلك، وأتوب إليه.

وفي الختام أسأل الله أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يدخره لي قربة إليه، كما أساله أن يرزقني العلم النافع، والعمل الصالح، وأن يغفر لي ولوالدي، ولمشايخنا، ولجميع المسلمين الموحدين. وصلّى الله على محمّد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.
আমি আমার সম্মানিত শাইখ, প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ বিন সাদ আল-রশীদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি আমাকে যে পিতৃতুল্য মেহেরবানি ও যত্ন প্রদান করেছেন তার জন্য। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। সেইসাথে আমি সেই সকল সম্মানিত ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করা পর্যন্ত আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন; তাঁদের সকলের প্রতি আমার পক্ষ থেকে রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিশেষ ধন্যবাদ।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই গবেষণাপত্রটি অতি সামান্য সামর্থ্যবানের প্রচেষ্টা এবং অক্ষম ব্যক্তির কৌশলমাত্র। এটি সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটি মানবিক কাজ, যা ত্রুটি ও ভুল-ভ্রান্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তার সকল কৃতিত্ব ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর এবং তা তাঁরই পক্ষ থেকে করুণা। আর এতে যা কিছু ভুল হয়েছে, তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি এ জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করছি।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং একে তাঁর নৈকট্য লাভের উসিলা হিসেবে আমার জন্য সঞ্চিত রাখেন। সেই সাথে আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল নসীব করেন এবং আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমাদের শাইখদেরকে এবং সকল একত্ববাদী মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التمهيد

حقيقة المال والقُرَب ومايتعلّق بهما

ويشتمل على مبحثين:

 

المبحث الأوّل: حقيقة المال وما يتعلّق به

المبحث الثّاني: حقيقة القرب وما يتعلّق بها
প্রারম্ভিকা

সম্পদের স্বরূপ, নৈকট্যমূলক কার্যাবলি এবং এ দুইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

এটি দুইটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: সম্পদের স্বরূপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নৈকট্যের স্বরূপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الأوّل حقيقة المال وما يتعلّق به

‌‌المطلب الأوّل التعريف بالمال

وفيه فرعان:

 

‌‌الفرع الأوّل تعريف المال في اللُّغة

المال في اللُّغة، مأخوذ من مادة (مَوَلَ)، والميم، والواو، واللام كلمة واحدة، تقول: تموَّل الرَّجلُ؛ أي: اتخذ مالًا، ومال: يَمَال: إذا كثر ماله (1)، هذا ما يتعلّق بأصل الكلمة.

وبالرجوع إلى معاجم اللُّغة العربيّة، يتبين أنّه لايوجد تعريف دقيق، ومحدد لهذه الكلمة، وهذا يُعطي دلالة واضحة على أن العرف له مدخل كبير في تحديد مفهوم هذه الكلمة، فكل ما عُدّ مالًا في العرف فهو داخل تحت مفهوم هذه الكلمة.

ومن أجل ذلك قد تفاوتت عبارات أصحاب المعاجم عند تعريفهم للمال ، فمرة يقولون في تعريفه: المال معروف (2)، وأخرى يقولون: المال: ما ملكته من كلّ شيء (3)، أو من جميع الأشياء (4).

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللُّغة لابن فارس: مادة (مول) 5/ 285. دار الجيل - بيروت، بتحقيق/ عبد السلام هارون.

(2) كتاب العين للخليل بن أحمد الفراهيدي: 8/ 344، تحقيق د. مهدي المحزومي وآخرون. دار الحرية بغداد طبعة سنة 1406 هـ مختار الصحاح لأبي بكر الرازي: مادة "مول"، ص: 639، لسان العرب لابن منظور: مادة "مول" 11/ 635 - 636، المصباح المنير للفيومي: مادة "مول"، ص 586.

(3) القاموس المحيط للفيروز آبادي: مادة "مول"، ص:1368. مؤسسة الرسالة.

(4) لسان العرب لابن منظور، مادة: مول، 11/ 635 - 636.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সম্পদের প্রকৃত রূপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

প্রথম দাবি: সম্পদের পরিচয়

এতে দুইটি শাখা রয়েছে:

 

প্রথম শাখা: আভিধানিক অর্থে সম্পদের পরিচয়

অভিধান অনুযায়ী 'মাল' (সম্পদ) শব্দটি (ম-ও-ল) মূলধাতু থেকে গৃহীত। মিম, ওয়াও এবং লাম মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ। বলা হয়ে থাকে: 'তামাউওয়ালা আর-রাজুলু'; অর্থাৎ: লোকটি সম্পদ আহরণ করেছে। আর 'মালা-ইয়ামালু' বলা হয় যখন কারো সম্পদ বৃদ্ধি পায় (১)। এটি শব্দটির মূল ব্যুৎপত্তিগত বিষয়।

আরবি অভিধানসমূহের পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, এই শব্দটির কোনো সূক্ষ্ম ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা সেখানে নেই। এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, এই শব্দের অর্থ ও পরিধি নির্ধারণে লোকপ্রথার (উরফ) ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সুতরাং লোকপ্রথায় যা কিছু সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়, তা-ই এই শব্দের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর এ কারণেই সম্পদ সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে অভিধান রচয়িতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। কখনো তারা এর সংজ্ঞায় বলেন: সম্পদ একটি সুপরিচিত বিষয় (২), আবার কখনো বলেন: সম্পদ হচ্ছে সেই সব কিছু যার মালিকানা তুমি লাভ করেছ (৩), অথবা যাবতীয় বস্তুর মধ্য থেকে যা তোমার অধিকারে রয়েছে (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফারিস রচিত মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ: মূলধাতু (মা-ওয়া-লা) ৫/ ২৮৫। দারুল জিল - বৈরুত, সম্পাদনায়: আবদুস সালাম হারুন।

(২) খলীল বিন আহমদ আল-ফারাহিদী রচিত কিতাবুল আইন: ৮/ ৩৪৪, সম্পাদনায়: ড. মাহদী আল-মাখজুমী ও অন্যান্য। দারুল হুররিয়াহ, বাগদাদ, ১৪০৬ হিজরি সংস্করণ; আবু বকর আল-রাজি রচিত মুখতারুস সিহাহ: মূলধাতু "মা-ওয়া-লা", পৃষ্ঠা: ৬৩৯; ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব: মূলধাতু "মা-ওয়া-লা" ১১/ ৬৩৫ - ৬৩৬; আল-ফাইয়ুমি রচিত আল-মিসবাহুল মুনীর: মূলধাতু "মা-ওয়া-লা", পৃষ্ঠা ৫৮৬।

(৩) ফিরোযাবাদী রচিত আল-কামুস আল-মুহিত: মূলধাতু "মা-ওয়া-লা", পৃষ্ঠা: ১৩৬৮। মুআসসাসাতুর রিসালাহ।

(৪) ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব, মূলধাতু: মা-ওয়া-লা, ১১/ ৬৩৫ - ৬৩৬।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبعضهم يعرّف المال بذكر أنواعه ، قال ابن الأثير (1): "المال في الأصل: ما يُملك من الذهب، والفضة، ثمّ أطلق على كلّ ما يُقتنى، وُيملك من الأعيان، وأكثر ما يطلق المال عند العرب على الإبل ، لأنّها كانت أكثر أموالهم" (2).

وقيل: "المال: كلّ ما يملكه الفرد، أو تملكه جماعة من متاع، أو عروض تجارة، أو عقار، أو نقود، أو حيوان ، وجمعه أموال، وأطلق في الجاهلية على الإبل" (3).

هذا ما ذكره علماء اللُّغة، والذي يظهر أن تحديد مفهوم المال في اللُّغة إنّما هو راجع إلى عرف النَّاس في معاشهم بحسب ما يفهمون، ويألفون، والذي يدلُّ على ذلك ما يأتي؟

أوَّلًا: أن لفظة (مال) من الكلمات القديمة، والمشهورة في لغة العرب، فلا يعقل أن تترك كلّ هذه المدة دون أن يكون لها معنى، أو مفهوم واضح في حياة النَّاس، إذ المال قِوام الجماعة، وعصب حياتها.

ثانيًا: أن لفظة (مال) قد تكررت في الكتاب والسُّنَّة عشرات المرات، ولم يأت من الشارع تحديد مفهوم لها ، فعُلِمَ من ذلك أنّه تركها لعرف النَّاس، وفهمهم،

--------------------------------------------

(1) هو المبارك بن محمّد بن محمّد بن عبد الكريم، أبو السعادات الشيباني مجد الدِّين ابن الأثير الجزري الموصلّي المحدث اللغوي المفسر، عرضت عليه الوزارة فرفضها، وعزف عن الدنيا، وأقبل على العلم، من مؤلفاته: النهاية في غريب الحديث، جامع الأصول في أحاديث الرسول، تجريد أسماء الصّحابة، وغيرها، توفي بالموصل سنة: 606 هـ: طبقات الشّافعيّة الكبرى لابن السبكي: 8/ 366، بغية الوعاة في تراجم النحاة للسيوطي: 2/ 274.

(2) النهاية في غريب الحديث لابن الأثير الجزري: 4/ 373 طبع المكتبة الإسلامية.

(3) المعجم الوسيط لإبراهيم مصطفى وجماعة: ص: 892 دار الدّعوة - تركيا.
তাদের কেউ কেউ সম্পদের প্রকারভেদ উল্লেখ করে সম্পদের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। ইবনুল আসির (১) বলেন: "মূলত সম্পদ হলো যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের মালিকানাধীন থাকে, পরবর্তীতে তা মালিকানায় থাকা বা অর্জিত প্রতিটি বস্তুগত সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। আর আরবদের নিকট 'মাল' (সম্পদ) শব্দটি উটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো, কারণ সেটিই ছিল তাদের অধিকাংশ সম্পদ।" (২)

এবং বলা হয়েছে: "সম্পদ হলো এমন সব কিছু যার মালিক কোনো ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠী হয়—তা আসবাবপত্র হোক, কিংবা ব্যবসায়িক পণ্য, স্থাবর সম্পত্তি, অর্থ বা প্রাণী; এর বহুবচন হলো 'আমওয়াল' (সম্পদরাজি)। জাহেলি যুগে এটি উটের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।" (৩)

এটি ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন। যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, অভিধানে সম্পদের ধারণা নির্ধারণ মূলত মানুষের জীবনযাত্রার প্রচলিত প্রথা (উরফ)-এর ওপর নির্ভরশীল, যা তারা বোঝে এবং যার সাথে তারা অভ্যস্ত। নিচের বিষয়গুলো এর প্রমাণ দেয়:

প্রথমত: 'মাল' শব্দটি আরবি ভাষার একটি প্রাচীন ও সুপরিচিত শব্দ। সুতরাং এটি ভাবা অসম্ভব যে, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের জীবনে এর কোনো স্পষ্ট অর্থ বা ধারণা ছাড়াই এটি প্রচলিত ছিল। কেননা সম্পদ হলো সমাজের ভিত্তি এবং এর জীবনপ্রবাহের মূল চালিকাশক্তি।

দ্বিতীয়ত: 'মাল' শব্দটি কুরআন ও সুন্নাহতে কয়েক ডজন বার এসেছে, অথচ শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় যে, তিনি বিষয়টিকে মানুষের প্রচলিত প্রথা ও উপলব্ধির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল-মুবারক বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম, আবুস সা'দাত আশ-শাইবানি মাজদুদ্দিন ইবনুল আসির আল-জাজারি আল-মাওসিলি। তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ ও মুফাসসির। তাঁকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং দুনিয়াবিমুখ হয়ে ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস', 'জামিওল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল', 'তাজরিদু আসমাইস সাহাবা' ইত্যাদি। তিনি ৬০৬ হিজরি সনে মোসেলে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: ইবনুস সুবকি রচিত 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা': ৮/৩৬৬; সুয়ুতি রচিত 'বুগইয়াতুল উ'আত ফি তারাজিমিন নুহাত': ২/২৭৪।

(২) ইবনুল আসির আল-জাজারি রচিত 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস': ৪/৩৭৩, মাকতাবাতুল ইসলামিয়া সংস্করণ।

(৩) ইব্রাহিম মুস্তাফা ও অন্যান্য সংকলিত 'আল-মু'জামুল ওয়াসিত': পৃষ্ঠা ৮৯২, দারুদ দাওয়াহ - তুরস্ক।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৮)
فكل ما عُدّ مالًا في العرف فهو مال، ولذا قال الفيومي (1) في المصباح المنير: "فقول الفقهاء: ما يتموّل. أي: ما يعدّ مالًا في العرف" (2).

والذي نأخذه من المعاجم اللغوية:

أن المال: هو ما تملّكه الإنسان، وحازه بالفعل من كلّ شيء، وهذا الإطلاق يشمل العين، والمنفعة؛ فالأعيان نحو ما مثلوا به، كالذهب، والفضة، والحيوان، والنبات، وغير ذلك. والمنفعة: نحو الرُّكوب للدابة، واللبس للثوب، والسكنى للدار، وغير ذلك. وأمّا ما لايملكه الإنسان، ولم يدخل في حيازته بالفعل فلا يُعد مالًا في اللُّغة.

 

‌‌الفرع الثّاني المال في الاصطلاح الشرعي

اتّجه الفقهاء، في تعريفهم للمال، إلى اتجاهين مختلفين، وهذا الاختلاف مردّه إلى اختلافهم، في مالية المنافع، وعدم ماليتها.

فأصحاب الاتجاه الأوّل: وهم جمهور الفقهاء، يرون أن المنافع أموال. وبناء على ذلك، فقد اشتملت تعريفاتهم للمال على المنفعة.

وأمّا أصحاب الاتجاه الآخر: وهم الحنفية، فإنهم لايرون أن المنافع تُعد مالًا، وبالتالي لم يدخلوها في تعريفاتهم للمال.

فيتحصل لنا ممّا سبق أنّه يوجد اصطلاحان للمال:

--------------------------------------------

(1) هو أحمد بن محمّد بن علي الفيومي الحموي أبو العباس لغوي فقيه، من أبرز مؤلفاته: المصباح المنير في غريب الشرح الكبير للرافعي، ونثر الجمان في تراجم الأعيان وديوان الخطب، توفي نحو سنة 770 هـ: الدرر الكامنة لابن حجر: 1/ 413، بغية الوعاة في طبقات اللغوبين والنحاة للسيوطي 1/ 389.

(2) المصباح المنير للفيومي: ص: 586.
প্রথাগতভাবে যা কিছু সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই সম্পদ। এই কারণেই আল-ফাইয়ুমি (১) আল-মিসবাহুল মুনীর-এ বলেছেন: "ফকিহদের বক্তব্য: যা সম্পদভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ: প্রথাগতভাবে যা সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়" (২)।

ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলো থেকে আমরা যা পাই তা হলো:

সম্পদ হলো এমন প্রতিটি বস্তু যা মানুষ মালিকানাধীন করে এবং প্রকৃতপক্ষে হস্তগত করে। এই সাধারণ সংজ্ঞাটি বস্তু এবং উপযোগ—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। বস্তু বলতে তাঁরা যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন, যেমন: সোনা, রুপা, পশু, উদ্ভিদ ইত্যাদি। আর উপযোগ বলতে যেমন: পশুতে আরোহণ, কাপড় পরিধান, ঘরে বসবাস ইত্যাদি। আর যা মানুষের মালিকানাধীন নয় এবং প্রকৃতপক্ষে তার হস্তগত হয়নি, তা ভাষাতাত্ত্বিকভাবে সম্পদ হিসেবে গণ্য হয় না।

 

‌‌দ্বিতীয় শাখা: শরয়ি পরিভাষায় সম্পদ

ফকিহগণ সম্পদের সংজ্ঞায় দুটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়েছেন। এই মতভেদের মূল কারণ হলো উপযোগ বা ব্যবহারের অধিকার সম্পদ হওয়া বা না হওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য।

প্রথম ধারার প্রবক্তা: তাঁরা হলেন জুমহুর ফকিহ (অধিকাংশ ফকিহ); তাঁরা মনে করেন যে, উপযোগসমূহও সম্পদ। এর ওপর ভিত্তি করে সম্পদের সংজ্ঞায় তাঁরা উপযোগকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

পক্ষান্তরে দ্বিতীয় ধারার প্রবক্তা: তাঁরা হলেন হানাফিগণ; তাঁরা মনে করেন না যে উপযোগসমূহ সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে, ফলে তাঁরা সম্পদের সংজ্ঞায় এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেননি।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের সামনে এটি স্পষ্ট হয় যে, সম্পদের দুটি পরিভাষা রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-ফাইয়ুমি আল-হামাভি আবুল আব্বাস, একজন ভাষাবিদ ও ফকিহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-রাফিয়ি’র ‘আশ-শারহুল কাবির’-এর দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-মিসবাহুল মুনীর’, ‘নাশরুল জুমান ফি তারাজিমিল আ’ইয়ান’ এবং ‘দিওয়ানুল খুতাব’। তিনি আনুমানিক ৭৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন: ইবনে হাজার কৃত আদ-দুরারুল কামিনাহ: ১/ ৪১৩, সুয়ুয়তি কৃত বুগয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতিল লুগাবিয়্যিন ওয়ান নুহাত ১/ ৩৮৯।

(২) ফাইয়ুমি কৃত আল-মিসবাহুল মুনীর: পৃষ্ঠা: ৫৮৬।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الاصطلاح الأوّل: اصطلاح الجمهور.

الاصطلاح الآخر: اصطلاح الحنفية.

وسوف أذكر أوَّلًا تعريف الحنفية للمال، ثمّ أعقبه بتعريف الجمهور على النحو التالي:

 

‌‌أوَّلًا: تعريف المال اصطلاح الحنفية:

يذكر الحنفية في مؤلفاتهم تعريفات كثيرة للمال، وهم وإن اتفقوا فيما بينهم على فهم حقيقة المال، وتحديد ذلك المفهوم عندهم، إِلَّا أنّهم اختلفوا في التعبير عن ذلك؛ فجاءت عباراتهم متنوعة، وما ذلك إِلَّا طمعًا في الوصول إلى تعريف دقيق لمفهوم المال في الاصطلاح الشرعي.

وأكثر من تعرض لتعريف المال هو ابن نجيم (1)، حيث نقل عدة تعريفات للمال عن كثير من علماء الحنفية المتقدمين.

وسأسوق هذه التعريفات، وغيرها ممّا هو موجود في كتب الحنفية حتّى يتضح من خلالها مفهوم المال عندهم.

فمن تلك التعريفات ما يلي:

 

‌‌التعريف الأوّل:

قالوا في تعريفه: (هو اسم لما هو مخلوق لإقامة مصالحنا به، ولكن باعتبار صفة

--------------------------------------------

(1) هو زين الدِّين بن إبراهيم بن محمّد بن بكر الشهير بابن نجيم، أحد فقهاء الحنفية الكبار، ولد في القاهرة سنة (926 هـ)، وبها توفي سنة (970 هـ)، وخلف مصنفات كثيرة منها: البحر الرائق شرح كنز الدقائق في الفقه، والأشباه والنظائر، وشرح المنار في الأصول، وغيرها. انظر: (التعليقات السنية للكنوي بهامش الفوائد البهية، ص: 134 و 135، شذرات الذهب لابن العماد: 8/ 358، معجم المؤلِّفين 4/ 192.
প্রথম পরিভাষা: জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিম)-গণের পরিভাষা।

অন্য পরিভাষাটি হলো: হানাফীগণের পরিভাষা।

আমি প্রথমে মালের (সম্পদ) হানাফী সংজ্ঞা উল্লেখ করব, অতঃপর নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের সংজ্ঞা প্রদান করব:

 

‌‌প্রথমত: হানাফী পরিভাষায় মালের সংজ্ঞা:

হানাফীগণ তাঁদের রচনাবলীতে মালের অনেক সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। যদিও তাঁরা নিজেদের মধ্যে মালের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে এবং তাঁদের নিকট সেই ধারণাকে সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবুও তাঁরা তা ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা অবলম্বন করেছেন। ফলে তাঁদের ভাষ্যগুলো বৈচিত্র্যময় হয়েছে; আর এটি কেবল শরয়ী পরিভাষায় মালের ধারণার একটি সূক্ষ্ম ও সঠিক সংজ্ঞায় পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষাতেই হয়েছে।

মালের সংজ্ঞার বিষয়ে যিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন তিনি হলেন ইবনে নুজাইম (১), যেখানে তিনি পূর্ববর্তী অনেক হানাফী আলিমের নিকট থেকে মালের বেশ কিছু সংজ্ঞা উদ্ধৃত করেছেন।

আমি এই সংজ্ঞাগুলো এবং হানাফীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান অন্যান্য সংজ্ঞাগুলো এখানে তুলে ধরব, যাতে এগুলোর মাধ্যমে তাঁদের নিকট মালের ধারণাটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

সেই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথম সংজ্ঞা:

তাঁরা এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (এটি এমন এক বস্তুর নাম যা আমাদের কল্যাণ সাধনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তবে একটি গুণের বিবেচনায়...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন জয়নুদ্দীন ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকর, যিনি ইবনে নুজাইম নামে সমধিক প্রসিদ্ধ। তিনি হানাফী মাযহাবের অন্যতম বড় ফকীহ। তিনি ৯২৬ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ৯৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রেখে গেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ফিকহ শাস্ত্রের 'কানযুদ দাকায়িক'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-বাহরুর রায়েক', 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের', উসুল শাস্ত্রের 'আল-মানার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইত্যাদি। দেখুন: লাখনোভীর 'আত-তালিকাতুস সুন্নিয়াহ' যা 'আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ'-এর হাশিয়ায় বিদ্যমান, পৃষ্ঠা: ১৩৪ ও ১৩৫; ইবনুল ইমাদের 'শাযারাতুয যাহাব': ৮/৩৫৮; 'মুজামুল মুআল্লিফীন': ৪/১৯২।
(খণ্ড: ১) আখযুল মাল আলা আমালিল কুরব (পৃষ্ঠা: ৩০)
التمول والإحراز) (1).

 

‌‌التعريف الثّاني:

قالوا: (هو ما من شأنّه أن يدخر للانتفاع به وقت الحاجة) (2).

 

‌‌التعريف الثّالث:

أن المال هو: "كلّ ما يتملكه النَّاس، من نقد، وعروض، وحيوان، وغير ذلك" (3).

وعقب على هذ"لتعريف ابن نجيم بقوله: "إِلَّا أن في عُرفنا يتبادر من اسم المال النقد، والعروض" (4).

 

‌‌التعريف الرّابع:

أن المال هو: "ما يتمول، ويدخر للحاجة"، وسيأتي تعريف التمول.

وعقب عليه ابن نجيم بقوله: "وهو خاص بالأعيان، فخرج تمليك النافع" (5).

 

‌‌التعريف الخامس:

أن المال هو: "ما يميل إليه الطبع، ويمكن ادخاره لوقت الحاجة". وقد عقب صاحب هذا التعريف عليه بقوله: "والمالية إنّما تثبت بتمول النَّاس كافة، أو بتقوم البعض، والتقوم يثبت بها، وبإباحة الانتفاع له شرعًا. فما يكون مباح الانتفاع بدون

--------------------------------------------

(1) المبسوط للسرخسي: 7/ 79.

(2) التلويح على التوضيح للتفتازاني: 1/ 171 دار الكتب العلمية بيروت.

(3) البحر الرائق شرح كنز الدقائق لابن نجيم: 2/ 242. دار الكتاب الإسلامي - القاهرة.

(4) البحر الرئق لابن نجيم: 2/ 242.

(5) البحر الرائق لابن نجيم: 2/ 217.
সম্পদ হিসেবে গণ্য করা এবং আয়ত্তে রাখা) (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় সংজ্ঞা:

তাঁরা বলেছেন: (এটি এমন বস্তু যা স্বভাবগতভাবেই প্রয়োজনের সময় উপকারের জন্য জমা করে রাখার উপযোগী) (২)।

 

‌‌তৃতীয় সংজ্ঞা:

নিশ্চয়ই সম্পদ হলো: "মানুষের মালিকানাধীন প্রতিটি বস্তু—তা নগদ অর্থ হোক, পণ্যদ্রব্য হোক, পশু হোক কিংবা অন্য কিছু" (৩)।

এই সংজ্ঞার ওপর ইবনে নুজাইম এই বলে মন্তব্য করেছেন: "তবে আমাদের প্রচলিত পরিভাষায় সম্পদ শব্দ দ্বারা নগদ অর্থ ও পণ্যদ্রব্যই প্রথমে মনে আসে" (৪)।

 

‌‌চতুর্থ সংজ্ঞা:

নিশ্চয়ই সম্পদ হলো: "যা সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং প্রয়োজনের জন্য জমা রাখা হয়"; সম্পদ হিসেবে গণ্য করার (তামাউয়ুল) সংজ্ঞা সামনে আসবে।

এর ওপর ইবনে নুজাইম মন্তব্য করে বলেছেন: "এটি সত্তাগত বস্তুর (আ’ইয়ান) সাথে নির্দিষ্ট, ফলে উপকারের মালিকানা প্রদান (মানফায়াত) এর বহির্ভূত হয়ে গেছে" (৫)।

 

‌‌পঞ্চম সংজ্ঞা:

নিশ্চয়ই সম্পদ হলো: "যার প্রতি মানুষের স্বভাব আকৃষ্ট হয় এবং যা প্রয়োজনের সময়ের জন্য জমা রাখা সম্ভব"। এই সংজ্ঞার প্রণেতা নিজেই এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "সম্পদ হওয়া (মালিইয়্যাত) মূলত সকল মানুষের সম্পদ হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে অথবা কারো কারো নিকট মূল্যবান সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আর মূল্যবান হওয়া (তাকাউউম) এর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয় এবং শরীয়ত কর্তৃক তা ব্যবহারের অনুমতি থাকার মাধ্যমেও। সুতরাং যা ব্যবহারের অনুমতি ব্যতীত..."

--------------------------------------------

(১) আস-সারাকসী রচিত আল-মাবসুত: ৭/ ৭৯।

(২) আত-তাফতাজানী রচিত আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ: ১/ ১৭১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।

(৩) ইবনে নুজাইম রচিত আল-বাহরুর রাইক শারহু কানযিদ দাকাইক: ২/ ২৪২, দারুল কিতাবিল ইসলামী - কায়রো।

(৪) ইবনে নুজাইম রচিত আল-বাহরুর রাইক: ২/ ২৪২।

(৫) ইবনে নুজাইম রচিত আল-বাহরুর রাইক: ২/ ২১৭।