(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الأخصا بفضائل المسجد الأقصى - ت أحمد رمضان القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: إتحاف الأخِصّا بفضائل المسجد الأقصى
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن شهاب الدين أحمد بن علي بن عبد الخالق، المنهاجي، شمس الدين السيوطي (813 - 880 هـ)
المحقق: د أحمد رمضان أحمد
(كلية الآداب - قسم التاريخ، جامعة عين شمس)
الناشر: الهيئة المصرية العامة للكتب
عام النشر: 1982 - 1984 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 صفر 1437
মাসজিদুল আকসার ফযীলত বর্ণনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপহার - তাহকীক: আহমাদ রামাদান বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণ কাহিনী
বই: মাসজিদুল আকসার ফযীলত বর্ণনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপহার
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল খালেক, আল-মিনহাজি, শামসুদ্দিন আস-সুয়ূতী (৮১৩ - ৮৮০ হিজরি)
সম্পাদক: ড. আহমাদ রামাদান আহমাদ
(কলা অনুষদ - ইতিহাস বিভাগ, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশক: মিশরীয় সাধারণ পুস্তক সংস্থা
প্রকাশকাল: ১৯৮২ - ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه الذي جلّت نعماؤه عن الإحصاء وعلت آلاؤه عن أن تعد أو تحد أو تستقصى، وبهرت حكمته وسبقت رحمته. فالسعيد من كان بها مختصا، فمن أجل نعمائه التي عم بها وخص إظهار مظهر الحلال وهو المخصوص مع زيادة الشرف بقضاء فرض الحج وما يتعلق به من المناسك مما به وصى، وإظهار مظهر الجمال المقدس عن دواعي الشوائب وتخصيصه من بين مساجد الإسلام إذ هو أكثرها من صلة بقول اللَّه عز وجل: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ} [الإسراء: 1].
أحمده وأشكره على ما منَّ به من حصول القصد وبلوغ المرام من زيارة بيت اللَّه الحرام، وقبر نبينا عليه أفضل الصلاة وأزكى السلام. والمسجد الأقصى الشريف والصخرة المقدسة وما حولها "المشاهد"
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিআমতসমূহ গণনার অতীত এবং যাঁর অনুগ্রহরাজি সংখ্যাভুক্ত করা, সীমাবদ্ধ করা বা নিঃশেষ করার ঊর্ধ্বে; যাঁর প্রজ্ঞা বিস্ময়কর এবং যাঁর রহমত অগ্রগামী। সুতরাং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যে এগুলোর মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করেছে। তাঁর সেই সকল নিআমতের অন্তর্ভুক্ত—যা তিনি সাধারণ ও বিশেষ করেছেন—তা হলো হালালের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, যা হজের ফরয আদায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানাসিক (আচার-অনুষ্ঠান) পালনের মাধ্যমে অতিরিক্ত মর্যাদা লাভ করেছে, যা তিনি নির্দেশ করেছেন। এবং পঙ্কিলতামুক্ত পবিত্র সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটানো এবং ইসলামের মসজিদগুলোর মধ্যে একে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা, যেহেতু এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে অত্যধিক সম্পৃক্ত: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি" [আল-ইসরা: ১]।
আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি সেই অনুগ্রহের জন্য যা তিনি দান করেছেন উদ্দেশ্য সফল হওয়া এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর যিয়ারত, আমাদের নবী—যাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর রওজা মুবারক যিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে; এবং সম্মানিত মসজিদে আকসা, পবিত্র সাখরা এবং এর চারপাশের পুণ্যময় স্থানসমূহ যিয়ারতের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
والمعاهد المعروفة بإجابة الدعوات وخرق العادات، وهذا واللَّه ما كنت أرجوه قبل هجوم الحمام وأرجو من كرم اللَّه عز وجل إتمام هذا القصد الجميل بحسن الختام والموت على الإسلام. وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له. إله عمت نعمته "فشملت" الداني والقاصي، وتوفرت منته فاستوى في قصد حصولها الطائع والعاصي. وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله الذي من كمال فضله عليه وزيادة شرفه لديه المعراج وإسرائه به ليلًا من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى إلى السموات العلى على ظهر البراق في جنح ليل داج. وقدَّمه على الأنبياء إمامًا فصلى بهم في تلك الليلة عند قبة صخرة بيت المقدس. ومؤذنه وخادمه إذ ذاك جبريل المطوق بالنور الوهاج وأوحى إليه ما أوحى. وأعاده إلى مضجعه بمكة. وسحاب تلك الليلة ما انجاب وظاهر صبح غرتنا الميمون ما هاج. صلى اللَّه عليه وعلى آله وصحبه الذين آمنوا به وعزروه ونصروه وابتغوا النور الذي أنزل معه وعقدوا الخناجر على تمكين مقاعد عزه برفع لوائه وإظهار دينه الذي شرعه وجاهدوا في اللَّه حق جهاده ومازالوا على الوفاء بعهده، إلى أن عادت منارات جوامع
الإسلام مرتفعة ومنابر خطبائها بجواهر التوحيد مرصعة، وعلى أزواجه أمهات المؤمنين وذريته وأهل بيته الطيبين الطاهرين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليمًا كثيرًا.
وبعد فلما راق لى مشرع الحب وصفا، ورق لى ظل الغمام وصفا
এবং সেই সুপরিচিত স্থানসমূহ যেখানে দোয়া কবুল হয় এবং অলৌকিক বিষয়াবলি প্রকাশ পায়। আল্লাহর শপথ, মৃত্যু আসার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এটিই কামনা করতাম। আমি মহান আল্লাহর মেহেরবানি ও করুণার কাছে আশা করি, তিনি এই সুন্দর উদ্দেশ্যকে উত্তম পরিসমাপ্তি এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুর মাধ্যমে পূর্ণতা দান করবেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি এমন এক ইলাহ যাঁর নেয়ামত ব্যাপক, যা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলকেই বেষ্টন করে আছে। তাঁর করুণা এতই অফুরন্ত যে, তা লাভের প্রত্যাশার ক্ষেত্রে অনুগত ও অবাধ্য উভয়ই সমান হয়েছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর প্রতি আল্লাহর পরিপূর্ণ অনুগ্রহ এবং তাঁর কাছে তাঁর সুমহান মর্যাদার নিদর্শন হলো মিরাজ এবং রাতের বেলা মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে উচ্চতর আসমানসমূহে বোরাকের পিঠে চড়ে ঘোর অন্ধকারের মাঝে পরিভ্রমণ। এবং তিনি তাঁকে সকল নবীর ইমাম হিসেবে মনোনীত করেছেন, অতঃপর সেই রাতে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসের কুব্বাতুস সাখরার নিকট তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। তখন তাঁর মুআজ্জিন ও খাদেম ছিলেন জিবরাঈল, যিনি উজ্জ্বল জ্যোতিতে পরিবেষ্টিত ছিলেন। আর তিনি (আল্লাহ) তাঁর কাছে ওহি পাঠালেন যা পাঠানোর ছিল। অতঃপর তিনি তাঁকে মক্কায় তাঁর শয্যায় ফিরিয়ে আনলেন। তখনও সেই রাতের মেঘমালা অপসারিত হয়নি এবং আমাদের বরকতময় ভোরের শুভ্র জ্যোতি তখনও পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হয়নি। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সেইসব সাহাবীদের ওপর যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন, তাঁকে সম্মান করেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করেছেন। তাঁরা তাঁর ঝান্ডা সমুন্নত করার মাধ্যমে তাঁর সম্মানের অবস্থানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর প্রবর্তিত দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। তাঁরা তাঁর সাথে কৃত অঙ্গীকার পালনে সর্বদা অবিচল ছিলেন, যতক্ষণ না ইসলামের জামে মসজিদগুলোর মিনারসমূহ পুনরায়
উচ্চকিত হলো এবং এর খতিবদের মিম্বরসমূহ তাওহিদের রত্নরাজিতে সুশোভিত হলো। আরও দরুদ ও সালাম তাঁর স্ত্রীগণ—যারা মুমিনদের জননী, তাঁর বংশধর ও তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর; আর তিনি তাঁদের ওপর অজস্র শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর, যখন আমার কাছে ভালোবাসার উৎসধারা আনন্দদায়ক ও স্বচ্ছ হলো এবং মেঘের ছায়া আমার জন্য কোমল ও নির্মল হলো—
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
ورد على عزمي الساكن مما حركه إلى أشرف الأماكن، فقلت من الواجب المبادرة، إلى أداء فرض الحج الواجب وعزمت بكلي على مجاهدة كلي، وركبت سفينة نجاة كنت أتمناها وقلت لما استويت عليها. باسم اللَّه مجراها ومرساها وساقني سائق الإنعام، والفضل الذي يحل عني الصفة إلى مكة المشرفة، فدخلتها في الثاني من شهر ربيع الأول سنة ثمان وأربعين وثمانمائة مهلا بعمرة وحللت من ذلك البيت الحرام محلا يتمنى أعظم ملوك الأرض أن لو قضى فيه عمره، واستمريت وللَّه الحمد بقية تلك السنة في ذلك المحل الشريف من العبادة والطواف على حالة حسنة ولما آن أوان الحج حججنا وقمنا من "أداء" الفرض بما يجب على كل حاج حسًّا ومعنى، وحين انقضت أيام مني وقع في العزم فتور في الحركة عن قصد العود إلى الديار المصرية إنشا (إن شاء اللَّه) فنويت المجاورة وقلت مجاورة بيت اللَّه الحرام، أفضل من الرجوع إلى القاهرة.
(وفي أوائل ثمانمائة وتسع وأربعين سنة) من الهجرة النبوية حصل التوجه إلى المدينة الشريفة النبوية وزيارة قبر سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى أبيه آدم ومن بينهما من الأنبياء والمرسلين وسلم وشرف وكرم. وكان هذا القصد المبارك هو قصدي الثاني لما فيه من حصول عوارف الفضل ولطف المعاني، ووجوب الشفاعة لمن زار قبره
আমার স্থির সংকল্পের ওপর এমন এক প্রেরণা আসল যা একে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানের দিকে ধাবিত করল। আমি মনে করলাম, ফরয হজ পালনের জন্য দ্রুত অগ্রসর হওয়া আবশ্যক। আমি আমার সর্বসত্তা দিয়ে নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করার সংকল্প করলাম এবং মুক্তির সেই নৌকায় আরোহণ করলাম যা আমি সর্বদা কামনা করতাম। যখন আমি তাতে উঠলাম, তখন বললাম, আল্লাহর নামেই এর চলা এবং থামা। এরপর অনুগ্রহ ও কৃপার চালক আমাকে সম্মানিত মক্কার দিকে নিয়ে চললেন—সেই কৃপা যা আমাকে জাগতিক বিশেষণের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। আমি আটশত আটচল্লিশ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের দ্বিতীয় তারিখে উমরার ইহরাম গ্রহণ করে সেখানে প্রবেশ করলাম। আমি সেই পবিত্র কাবা শরীফে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অবস্থান গ্রহণ করলাম, যেখানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজন্যবর্গও যদি তাদের পুরো জীবন সেখানে অতিবাহিত করতে পারত, তবে তা কামনা করত। আল্লাহর প্রশংসা যে, সেই বছরের অবশিষ্ট সময় আমি সেই সম্মানিত স্থানে ইবাদত ও তাওয়াফের মাধ্যমে উত্তম অবস্থায় অতিবাহিত করলাম। যখন হজের সময় এল, আমরা হজ পালন করলাম এবং প্রত্যেক হাজীর জন্য আবশ্যক বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী যথাযথভাবে সম্পন্ন করলাম। যখন মিনার দিনগুলো শেষ হলো, তখন (ইনশাআল্লাহ) মিশরের ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার সংকল্পে শিথিলতা দেখা দিল। তখন আমি সেখানে অবস্থানের নিয়ত করলাম এবং বললাম, আল্লাহর পবিত্র ঘরের প্রতিবেশী হওয়া কায়রোতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।
(এবং আটশত উনপঞ্চাশ হিজরি সালের শুরুর দিকে) নবীজির হিজরতের পর পবিত্র মদিনায় গমন এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা যিয়ারতের সৌভাগ্য হলো; তাঁর ওপর এবং তাঁর পিতা আদম ও তাঁদের মধ্যবর্তী সকল নবী ও রাসুলের ওপর শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা বর্ষিত হোক। এই বরকতময় সংকল্পটি ছিল আমার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, কেননা এতে অনুগ্রহের দানসমূহ ও সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক অর্থসমূহ অর্জিত হয় এবং তাঁর রওজা যিয়ারতকারীর জন্য শাফায়াত অবধারিত হওয়ার বিষয়টি নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وانضمامه يوم القيامة إلى لوائه المعقود في المقام المحمود. وما أسعد من أدخله اللَّه -تعالى- في تلك الزمر وإبلاغ السلام إلى الذات الشريفة النبوية المصطفوية شفاها ورده عليه نفسه والتمتع بين قبره ومنبره الشريفين بما يجتنيه الزائر من ثمار العبادة في روضة أنسه المحفوفة من اللَّه عز وجل بالأنوار المشعشعة من أنوار حضرة قدسه.
وتلك علامات الرضا غير أنها من اللَّه لم تحصل لغير موفق وتم هذا القصد المبارك الجميل في تلك السنة بعون اللَّه تعالى وتوفيقه وتيسيره وعدنا إلى مكة المشرفة بقصد الحج ثانيا وكان ذلك مما لا يوافق بواعث النفوس على الانصراف إلى غيره. فحججت وقصدت الرجوع من حيث جئت، والنفس تأبى الموافقة على ما أردت،
فلما رأيتها لا تنقاد ولا تلين، استخرت اللَّه الذي ما خاب من استخاره ولا ندم من استجاره، وأقمت بمن معي من أهلي في بلد اللَّه الأمين متوكلا في طلب الرزق على من هو يرزقنا من (حين) خلقنا وإلى أن يتوفانا ضمين تاليا قول اللَّه عز وجل: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا} [فاطر: 2]. وقوله: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} [سبأ: 39] وحصل الخير ودرت الأرزاق ونودينا من سر الغيب الكامن في مستودع اللطف الخفي ما عندكم ينفد وما عند اللَّه باق.
এবং কিয়ামত দিবসে মাকামে মাহমুদে আবদ্ধ তাঁর পতাকাতলে সমবেত হওয়া। সেই ব্যক্তি কতই না ভাগ্যবান, যাকে আল্লাহ তাআলা সেই দলভুক্ত করেছেন এবং সরাসরি নবী মুস্তফার পবিত্র সত্তার প্রতি সালাম নিবেদন করার এবং স্বয়ং তাঁর পক্ষ হতে সেই সালামের উত্তর পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন। আর তাঁর সম্মানিত কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে একজন জিয়ারতকারী তাঁর সান্নিধ্যের জান্নাতী বাগানে (রওজা) ইবাদতের যে ফল আহরণ করে, তার মাধ্যমে পরম আনন্দ উপভোগ করা; যা মহান আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর পবিত্র দরবারের উজ্জ্বল আলোকমালায় পরিবেষ্টিত।
এগুলি সন্তুষ্টির লক্ষণ, তবে আল্লাহর পক্ষ হতে তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা লাভ করতে পারে না। আল্লাহর সাহায্য, তাওফিক ও সহজীকরণে সেই বছরে এই বরকতময় ও সুন্দর সংকল্প পূর্ণ হলো এবং আমরা দ্বিতীয়বার হজের উদ্দেশ্যে মক্কার অভিমুখে ফিরে এলাম। আর এটি এমন এক বিষয় ছিল যার জন্য মন অন্য কোনো দিকে ফিরে যেতে রাজি ছিল না। অতঃপর আমি হজ সম্পন্ন করলাম এবং যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানেই ফিরে যাওয়ার সংকল্প করলাম, কিন্তু আমার মন যা চেয়েছিলাম তাতে সম্মত হতে অস্বীকার করল।
যখন দেখলাম যে মন বশীভূত হচ্ছে না এবং নরম হচ্ছে না, তখন আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম—যিনি তাঁর কাছে ইস্তিখারা করে সে কখনো ব্যর্থ হয় না এবং যে তাঁর আশ্রয় নেয় সে কখনো অনুতপ্ত হয় না। আমি আমার পরিবার-পরিজনসহ আল্লাহর নিরাপদ নগরীতে অবস্থান করলাম; রিজিক অন্বেষণে তাঁরই ওপর ভরসা করলাম যিনি আমাদের সৃষ্টির লগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের রিজিক প্রদানের জিম্মাদার। আমি মহান আল্লাহর এই বাণী তেলাওয়াত করছিলাম: “আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই।” [ফাতির: ২]। এবং তাঁর বাণী: “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।” [সাবা: ৩৯]। এতে কল্যাণ অর্জিত হলো এবং রিজিকের ধারা প্রবাহিত হলো। আর অদৃশ্যের গোপন রহস্য এবং প্রচ্ছন্ন করুণার ভাণ্ডার থেকে আমাদের প্রতি ঘোষিত হলো: “তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা চিরস্থায়ী।”
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وصار الرزق علينا وعلى أهلينا ومن معنا في كل وقت يزيد وملبس السعة والسكون والدعة عند البيت العتيق في كل يوم جديد. وحصلت من فوائد عديدة، ومن ملازمة أنواع العبادة على أشياء ليس هذا موضع ذكرها، ولكن بديع الاستطراد أوجب التنبيه على ذكر المقاصد الحسنة بطريق العادة، بعد مضي تسع سنين في أوائل سنة سبع وخمسين عدت إلى القاهرة المحروسة جعلها اللَّه دار الإسلام إلى يوم الدين.
وما رجعت حين رجعت من الحجاز الشريف وحصول ما حصلت عليه من بركته إلا وخاطري مشغول وقلبي متعلق برؤية بيت المقدس وقضاء الوطر من زيارته فلما صرت بالديار المصرية أشغلتني عن ذلك شواغل الخدمة التي من أجلها نقتات وعاقتني عن ذلك عوائق وحالت بيني وبينه من الأقدار الإلهية حالات.
واتفق أن المخدوم الذي كنت في خدمته ولى نيابة حلب، فقلت الحمد للَّه حصل القصد ونجح الطلب وبلغت إن شاء اللَّه تعالى من زيارة المسجد الأقصى والصخرة المقدسة وما جاور من المعاهد والمشاهد التي هي على التقوى والرضوان مؤسسة، غاية الأرب. وفي الطريق حصلت أيضًا عوائق مانعة وتعذر الذهاب إلى ذلك المحل المقدس لأسباب لا يليق معها إلا المتابعة، ثم إني رجعت إلى عقلي وتمسكت من هذه الفاصلة بالسبب الأصلي
রিজিক আমাদের ওপর, আমাদের পরিবারবর্গের ওপর এবং আমাদের সঙ্গীদের ওপর প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকল; আর প্রাচীন গৃহের (কাবা) সান্নিধ্যে প্রতিটি নতুন দিন সচ্ছলতা, প্রশান্তি ও স্বস্তির আবরণে ভূষিত হলো। আমি অজস্র উপকার লাভ করেছি এবং ইবাদতের বিভিন্ন প্রকারে নিরবচ্ছিন্ন নিমগ্নতার মাধ্যমে এমন কিছু প্রাপ্তি ঘটেছে যা এখানে সবিস্তারে বর্ণনা করার অবকাশ নেই। তবে প্রসঙ্গের চমৎকারিত্ব স্বাভাবিকভাবেই এই মহৎ উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাকে আবশ্যক করে তুলেছে। নয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সাতান্ন হিজরি সালের প্রারম্ভে আমি সুরক্ষিত কায়রোতে প্রত্যাবর্তন করি—আল্লাহ একে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে কবুল করুন।
আমি যখন সম্মানিত হিজাজ থেকে ফিরে এলাম এবং সেখানকার বরকত থেকে যা কিছু অর্জনের তা করলাম, তখনো আমার চিত্ত বিচলিত এবং হৃদয় বায়তুল মাকদিস দর্শন ও তা জিয়ারতের অভিলাষ পূর্ণ করার জন্য ব্যাকুল ছিল। কিন্তু যখন আমি মিসর ভূখণ্ডে উপস্থিত হলাম, তখন জীবিকা নির্বাহের নিমিত্তে কর্মব্যস্ততা আমাকে সেই সংকল্প থেকে বিচ্যুত করল এবং বিবিধ প্রতিবন্ধকতা আমাকে বাধা প্রদান করল; তদুপরি মহান আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের বিভিন্ন অবস্থা আমার ও সেই লক্ষ্যের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল।
অতঃপর ঘটনাচক্রে এমন হলো যে, আমি যাঁর অধীনে নিয়োজিত ছিলাম তাঁকে আলেপ্পোর শাসন-প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হলো। তখন আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ, অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা মসজিদে আকসা, পবিত্র সাখরা এবং তাকওয়া ও সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এর পার্শ্ববর্তী ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ ও নিদর্শনসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে পরম আকাঙ্ক্ষায় উপনীত হতে পারব। কিন্তু পথিমধ্যে পুনরায় এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা ও অন্তরায় সৃষ্টি হলো যে কারণে সেই পবিত্র স্থানে গমন করা অসম্ভব হয়ে পড়ল; এমতাবস্থায় সমর্পণ ও অনুগমন করা ছাড়া আর কিছুই সংগত ছিল না। অতঃপর আমি আমার বিচারবুদ্ধির দিকে দৃষ্টি ফেরালাম এবং এই বিচ্ছেদের পর মূল কারণটি অবলম্বন করলাম।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وقلت لو أن صاحب البيت الذي أذن أن يرفع ويذكر فيه اسمه، ليسر الغرض المطلوب ولكن الأمر أمره والحكم حكمه، ثم ثنيت عنان العزم عن قصد الزيارة، وترخيت، ولازمت الدعاء في مواطن الإجابة وتوخيت وشرعت أقول الأمور مرتهنة بأوقاتها.
ومضت على ذلك مدة زمانية والردد كثير من المملكة الشامية إلى الديار المصرية والعزم العزم والشوق الشوق والنية النية، غير أني توهمت من نفسي أن ذلك
حجب وطرد وحرمان، وخفت أن أموت ولم أحصل من الزيارة. على طائل، ثم قلت إن متُّ فلا حول ولا قوة إلا باللَّه العلي العظيم ولا يضر شيء مع الإيمان.
وفي غضون ذلك التوهم الذي حصل جعلت للَّه تعالى على إن دخلت بيت المقدس وقضيت الوطر فيه من الزيارة وبلغت مع الزائرين فيه غاية التمني، واقتفيت فيه من نهج الهدى آثاره، لأؤلفن من فضائل بيت المقدس وعجائبه وما اشتمل عليه من الصفات القديمة والهيائب (الهيئات) التي سارت أحاديثها الحسنة في الآفاق، وهى إلى الآن على عهدها مقيمة. تأليفًا لطيفا أجمع فيه بين الطريف التالد وأقضي به الأرب من خدمة هذا البيت هو في شد الرحال، أحد الثلاثة المساجد، آتي فيه
আমি বললাম, এই ঘরের অধিপতি—যিনি একে সমুন্নত করার এবং এতে তাঁর নাম স্মরণ করার অনুমতি দিয়েছেন—যদি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যটি সহজ করে দিতেন তবে তা সহজ হতো; কিন্তু আদেশ তাঁরই আদেশ এবং ফয়সালা তাঁরই ফয়সালা। এরপর আমি যিয়ারতের সংকল্প থেকে সংকল্পের লাগাম ফিরিয়ে নিলাম এবং শিথিলতা প্রদর্শন করলাম। আমি দুয়া কবুলের স্থানগুলোতে অবিরত প্রার্থনা করতে থাকলাম এবং সেই সুযোগ সন্ধান করতে থাকলাম। আমি বলতে শুরু করলাম যে, প্রতিটি বিষয় তার নির্ধারিত সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
এভাবে বেশ কিছুকাল অতিবাহিত হলো এবং শামী রাজ্য থেকে মিশরীয় জনপদে আমার বহুবার যাতায়াত ঘটল। আমার সংকল্প আগের মতোই অটল, আকাঙ্ক্ষা আগের মতোই তীব্র এবং নিয়তও অপরিবর্তিত ছিল। তবে আমার মনে এই ধারণা জন্মাল যে, এটি
একটি অন্তরায়, বিতাড়ন এবং বঞ্চনা। আমি আশঙ্কা করলাম যে, আমি হয়তো মারা যাব অথচ যিয়ারত থেকে কোনো বিশেষ ফল লাভ করতে পারব না। এরপর আমি বললাম, যদি আমি মারা যাই তবে মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় বা শক্তি নেই; আর ঈমানের সাথে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না।
এই সংশয় ও ধারণার মাঝেই আমি আল্লাহর সমীপে এই মানত করলাম যে, যদি আমি বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করতে পারি এবং সেখানে যিয়ারতের উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে সক্ষম হই, আর যিয়ারতকারীদের সাথে আমার চরম আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে পারি এবং সেখানে হিদায়াতের পথের নিদর্শনসমূহ অনুসরণ করতে পারি—তবে আমি অবশ্যই বায়তুল মাকদিসের ফযীলত, এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি এবং এর সেই প্রাচীন গুণাবলি ও অবয়বসমূহ (আকৃতিসমূহ) নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করব, যেগুলোর সুন্দর কাহিনীসমূহ দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা আজও তার পূর্বাবস্থায় অটুট রয়েছে। এটি হবে একটি সূক্ষ্ম সংকলন যেখানে আমি নতুন ও পুরাতন তথ্যের সমন্বয় ঘটাব এবং এর মাধ্যমে এই ঘরের খিদমতের উদ্দেশ্য পূরণ করব, যা সেই তিনটি মসজিদের অন্যতম যার উদ্দেশে সফর করা হয়; এতে আমি উপস্থাপন করব...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮১)
بما يوفي بالغرض المقصود وأستوفي فيه التليد والطارف، من عجائب الوجود وأشير إلى ما هو مشهور في حرماته العظيمة البركات الطاهرة الكرامات.
رجاء أن أجد ذلك مذخورا عند المولى الكريم الذي يضاعف لعبده الحسنات ويعفو عن السيئات وأنه هو القصد الجميل الذي ما عليه مزيد واللَّه هو الولى الحميد.
فلما كان الثالث من شعبان الذي تنشعب فيه الأنوار، خرجت من الشام المحروسة إلى جهة الأغوار، فزرت من جملة الصحابة، معاذ بن جبل وشرحبيل بن حسنة وأبا عبيدة بن الجراح رضى اللَّه عنهم أجمعين وقد فعل.
ومن هناك صممت العزم على المسير، فكانت علامة الإذن التيسير
যা উদ্দীষ্ট উদ্দেশ্য পূর্ণ করবে এবং যাতে আমি অস্তিত্বের বিস্ময়কর নিদর্শনাদির মধ্য থেকে প্রাচীন ও আধুনিক উভয় বিষয়কেই সবিস্তারে বর্ণনা করব; আর আমি সেই সব বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করব যা এর পবিত্র সীমানার মহান বরকত ও পবিত্র অলৌকিকতার জন্য সুপ্রসিদ্ধ।
এই প্রত্যাশায় যে, আমি একে সেই মহানুভব প্রতিপালকের নিকট গচ্ছিত পাব, যিনি তাঁর বান্দার জন্য পুণ্যসমূহ বহুগুণ বৃদ্ধি করেন এবং মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করেন; আর তিনিই হলেন সেই পরম সুন্দর লক্ষ্য যার ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই এবং আল্লাহই হলেন প্রশংসিত অভিভাবক।
অতঃপর যখন শাবান মাসের তিন তারিখ হলো, যে মাসে নূরসমূহ বিচ্ছুরিত হয়, আমি সংরক্ষিত শাম (সিরিয়া) থেকে উপত্যকা অঞ্চলের দিকে বের হলাম। সেখানে আমি সাহাবীদের মধ্যে মুআয ইবনে জাবাল, শুরাহবিল ইবনে হাসানা এবং আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কবর যিয়ারত করলাম এবং তা সম্পন্ন হলো।
সেখান থেকে আমি পথচলার দৃঢ় সংকল্প করলাম, আর সেই যাত্রার সহজসাধ্যতাই ছিল অনুমতির লক্ষণ।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮২)
وربك على كل شيء قدير وكان ممن أجرى اللَّه تعالى به قلم قدرته المحقق إطلاقي من قيد الحرمان المضيق إلى سعة منارة ذلك الفضاء المطلق. فدخلت القدس الشريف في يوم السبت المبارك الثامن والعشرين من شهر رمضان المعظم قدره وحرمته سنة ثمانمائة وأربع وسبعين من الهجرة النبوية. فحصل لى في أول وهلة من بقية العشر الأواخر من شهر رمضان ما حصل لأهل السعادة إن شاء اللَّه -تعالى- من جزيل الفضل ووافر الامتنان وحضرت العيد في ذلك الجمع الذي تفرد بخطيبه ومنبره وتوضح بشر فلاح الفلاح على قوس محرابه، وأوضح غوره وسطح لنا الملك العظيم من مطالع أفقه وحلية طرازه ومسرى سواريه وعضائد السهى.
(هذا وقد أشرقت فيه الصخرة الشريفة على السها) وازدهرت مصابيح أنسها في سماء قدسها والصخرة قائمة بنفسها رفعها اللَّه الذي رفع السماء بغير عمد ترونها
فأنشدت:
بلغ الصدود المنتهى
… والقلب عنكم ما انتهى
وإذا رضيتم حالتي
… فيكم فذاك المشتهى
ها قد حللت بأرضكم
… متفيئا في ظلها
مستمطرا من سحبكم
… أهنئ هواطل وبلها
আর আপনার প্রতিপালক প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর মহান আল্লাহ তাঁর কুদরতের কলম যাদের মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন, আমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যার মাধ্যমে সংকীর্ণ বঞ্চনার শৃঙ্খল থেকে সেই পরম মুক্ত প্রাঙ্গণের আলোকবর্তিকার প্রশস্ততায় আমার মুক্তি সুনিশ্চিত হয়েছে। অতঃপর আমি হিজরী ৮৭৪ সনের মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাসের আটাশ তারিখ মুবারক শনিবারে পবিত্র কুদসে প্রবেশ করলাম। ফলে রমজান মাসের অবশিষ্ট শেষ দশদিনের প্রথম মুহূর্তেই মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সৌভাগ্যবানদের ন্যায় আমার ভাগ্যে বিপুল অনুগ্রহ ও অঢেল নিআমত জুটল। আর আমি সেই সমাবেশে ঈদের জামাতে উপস্থিত হলাম যা তার খতীব ও মিম্বরের বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিল এবং যার মেহরাবের খিলানে সফলতার সুসংবাদ উদ্ভাসিত হয়েছিল। আর মহান রাজাধিরাজ তাঁর দিগন্তের উদয়স্থল, তাঁর কারুকার্যের শোভা, স্তম্ভসমূহের চলনপথ এবং সুহা নক্ষত্রের পার্শ্বদেশসমূহ থেকে আমাদের জন্য এর গভীরতাকে স্পষ্ট করেছেন এবং এর উপরিভাগকে উন্মুক্ত করেছেন।
(সেখানে পবিত্র সাখরাহ বা পাথরটি সুহা নক্ষত্রের ওপর দীপ্তিমান হয়েছিল) এবং তার পবিত্রতার আকাশে তার অন্তরঙ্গতার প্রদীপসমূহ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আর পাথরটি স্তম্ভহীনভাবেই দাঁড়িয়ে আছে; আল্লাহ তাকে উচ্চকিত করেছেন, যিনি আসমানকে কোনো দৃশ্যমান খুঁটি ছাড়াই সমুন্নত করেছেন।
অতঃপর আমি পাঠ করলাম:
বিমুখতা তার শেষ সীমায় পৌঁছেছে
… অথচ আপনাদের প্রতি আমার হৃদয়ের টান শেষ হয়নি।
আপনারা যদি আমার এ অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকেন
… আপনাদের সান্নিধ্যে, তবে সেটিই আমার একমাত্র কামনা।
এই তো আমি আপনাদের ভূমিতে এসে উপনীত হয়েছি
… এর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে।
আপনাদের মেঘমালা থেকে বারিধারা প্রার্থনা করছি
… যা অত্যন্ত সুখকর ও প্রবল বর্ষণ।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
فلئن سمحتم فهو من
… عاداتكم وأجلها
وعوارف الحسنى لكم
… معروفة من أصلها
ثم قلت: الآن تم القصد وحصل المراد وخلت سلمى بسليم فلا راد له عنها ولا صاد ومن ثم بادرت إلى وفاء نذري الذي تقدم (و) نظرت في الكتب الموجودة المتضمنة لما نحن فيه قال الشيخ الإمام العالم شهاب الدين أبو محمود أحمد بن محمد بن إبراهيم بن هلال بن تميم بن سرور المقدسي الشافعي صاحب مثير الغرام إلى زيارة القدس والشام -رحمه اللَّه تعالى- ممن سلك ونظم ونثر في حسن التأليف على المنهج الأقوم.
والشيخ الإمام، العالم، العلّامة الحبر، البحر، الفهامة، سيد الأشراف وواسطة عقد المنتمين بالنسب المنيف إلى بنى عبد مناف شيخ الإسلام علّامة العلماء الأعلام تاج الدين أبو النصر عبد الوهاب الحسيني الشافعي الدمشقي جمل اللَّه الوجود بوجوده وأنار في أفق العلياء كواكب سعوده، صاحب الروض المغرس في فضائل بيت المقدس ممن تمنى وثمر وارتضى وانتقى وصبر واعتبر وأحاط واحتاط وتتبع المقاصد الحسنة من مظانها وصنف ما ألف على صفة لا تحاط بمكانها، ونقل ما نقل من كلام السابقين الأولين بنصه وصاغ في مبادئه وخواتمه، حديث الفضائل بقصة فياللَّه ما أحلى وباللَّه ما أجلى، ولقد أغناني بفوائده التي أهداها عن الافتقار إلى الاطلاع على أهل الصدر الأول فمن بعدهم من الكلام على ما نحن فيه بما يحصل يه كمال الانتفاع، فإنه أخبر في كتابه الكريم المبدئ من فاتحة (كل) كتاب، "بألم" أنه
যদি আপনারা অনুমতি দেন, তবে এটি আপনাদের
… অভ্যাসসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং তা অত্যন্ত মহান
এবং আপনাদের সদয় অনুদানসমূহ
… তার মূল থেকেই সুপরিচিত
অতঃপর আমি বললাম: এখন উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে এবং অভিপ্রায় অর্জিত হয়েছে। সালমা ও সালিম নির্জনে মিলিত হয়েছে, তাকে তার থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার বা বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আর সে কারণেই আমি আমার পূর্ববর্তী মানত পূরণে দ্রুত অগ্রসর হলাম এবং (এবং) আমাদের আলোচ্য বিষয় সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান গ্রন্থসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম। ইমাম, আলিম, শিহাবউদ্দীন আবু মাহমুদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হিলাল ইবনে তামিম ইবনে সুরুর আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যিনি 'মুসিরুল গ্রাম ইলা যিয়ারাতিল কুদস ওয়াশ শাম'-এর রচয়িতা; তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা রচনার সৌন্দর্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় পদ্ধতিতে পথ চলেছেন এবং গদ্য ও পদ্য সংকলন করেছেন।
আর শাইখ, ইমাম, আলিম, মহাজ্ঞানী পণ্ডিত, সমুদ্রতুল্য বিশারদ, অত্যন্ত বিচক্ষণ, আশরাফদের (মর্যাদাবানদের) নেতা, বনু আবদে মানাফের উচ্চমর্যাদাপূর্ণ বংশের সাথে সম্পৃক্তদের গলার হারের মধ্যমণি, শাইখুল ইসলাম, প্রখ্যাত ওলামায়ে কিরামের শ্রেষ্ঠ আলিম, তাজউদ্দীন আবু নসর আবদুল ওয়াহহাব আল-হুসাইনি আশ-শাফিয়ি আদ-দিমাশকি—আল্লাহ তাআলা তাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে জগতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন এবং উচ্চতার দিগন্তে তাঁর সৌভাগ্যের নক্ষত্রকে উজ্জ্বল করুন—যিনি 'আর-রাওদুল মুগরাস ফি ফাদাইলি বাইতিল মাকদিস'-এর রচয়িতা। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা আশা করেছেন, ফল আহরণ করেছেন, পছন্দ করেছেন, বাছাই করেছেন, সবর করেছেন এবং শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি (বিষয়বস্তু) পরিবেষ্টন ও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং উত্তম উদ্দেশ্যসমূহকে তাদের উৎসস্থল থেকে অনুসন্ধান করেছেন। তিনি যা সংকলন করেছেন তা এমন বৈশিষ্ট্যে বিন্যস্ত করেছেন যা স্থানভেদে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি পূর্ববর্তী প্রথম প্রজন্মের কথাগুলো হুবহু উদ্ধৃত করেছেন এবং এর শুরু ও শেষে ফযীলতের হাদিসসমূহকে কাহিনীর ন্যায় বর্ণনা করেছেন। ইয়া আল্লাহ! কতই না মিষ্টি এবং আল্লাহর শপথ! কতই না স্পষ্ট। তিনি তাঁর উপহার স্বরূপ দেওয়া উপকারিতাগুলোর মাধ্যমে আমাকে প্রথম যুগ ও পরবর্তী যুগের লোকদের বক্তব্যের ওপর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা থেকে অভাবমুক্ত করেছেন আমাদের আলোচ্য বিষয়ে, যার মাধ্যমে পূর্ণ উপকার অর্জিত হয়। কেননা তিনি তাঁর এই সম্মানিত কিতাবে—যা প্রতিটি কিতাবের সূচনার ন্যায় শুরু হয়েছে—"আলিফ-লাম-মীম" এর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
وقف على فضائل القدس للشيخ الإمام أبي الفرج عبد الرحمن بن الجوزي رحمه الله، وهو جزء لطيف وأنه وقف على ما حضره من الجامع (المستقصى) -في فضائل المسجد الأقصى للإمام الحافظ
بهاء الدين أبي محمد القاسم ابن الإمام الحافظ شيخ الإسلام أبي القاسم علي بن الحسن بن هبة اللَّه بن عساكر، وهو المجلد الأوسط وعلى بعض كراريس يتلوه فيها الجزء السادس عشر والسابع عشر، والمجلد المذكور مقروء على مؤلفه وهو أجزاء أوله الثاني عشر وطبقة سماع على مؤلفه مؤرخة بتاسع عشر شهر رمضان سنة ست وتسعين وخمسمائة بالمسجد الأقصى وطبقة أخرى على مؤلفه أيضًا مؤرخة بسابع ربيع الأول سنة ثمان وتسعين وخمسمائة وطبقة أيضا على غير مؤلفه وهو الشيخ الإمام العالم تقي الدين أبو محمد إسماعيل التنوخي سمع عليه الإمام
শায়খ ইমাম আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আল-জাওজি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত কুদসের ফজিলত (জেরুজালেমের শ্রেষ্ঠত্ব) গ্রন্থটি পর্যালোচনা করা হয়েছে, যা একটি সংক্ষিপ্ত খণ্ড। এছাড়া ইমাম হাফিজ শায়খুল ইসলাম আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকিরের পুত্র ইমাম হাফিজ
বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম রচিত মসজিদুল আকসার ফজিলত বিষয়ক ‘আল-জামি (আল-মুসতাকসা)’ গ্রন্থ থেকে যা উপস্থিত ছিল তাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এটি মধ্যম খণ্ড এবং এর পরবর্তী কিছু পুস্তিকা রয়েছে যাতে ষোড়শ ও সপ্তদশ খণ্ড বিদ্যমান। উল্লেখিত খণ্ডটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছে; এটি কয়েকটি খণ্ডের সমষ্টি যার প্রারম্ভিক অংশটি হলো দ্বাদশ খণ্ড। লেখকের নিকট শ্রবণের একটি সনদ ৫৯৬ হিজরি সনের ১৯শে রমজান তারিখে মসজিদুল আকসায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। লেখকের নিকট শ্রবণের আরেকটি সনদ ৫৯৮ হিজরি সনের ৭ই রবিউল আউয়াল তারিখে লিপিবদ্ধ। এছাড়া লেখক ব্যতীত অন্য একজনের কাছেও শ্রবণের সনদ রয়েছে, তিনি হলেন শায়খ ইমাম আলিম তাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ ইসমাইল আত-তানুখি, যাঁর নিকট ইমাম শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الحافظ العلامة تاج الدين عبد الرحمن بن ضياء الفزاري، والإمام أبو زكريا يحيى النووي وغيرهما بقراءة الفقيه العالم المحدث شرف الدين أحمد بن ضياء الفزاري وأنه وقف على مجلد أوله الجزء الأول، وآخره أوائل الجزء العاشر من كتاب الأنس في فضائل القدس لابن عم الحافظ شهاب الدين المذكور وهو القاضي الإمام الثقة أمين الدين أحمد بن محمد بن الحسن بن هبة اللَّه الشافعي. والمجلد المذكور مقروء على مؤلفه وعليه طبقات سماع عليه آخرها مؤرخ بيوم الخميس خامس عشر من شهر شوال سنة ثلاث وستمائة بجامع دمشق ومقروء على غيره، ثم قال القاضي أمين الدين أحمد المذكور.
وقد جمعت هذا الكتاب واعتمدت فيه على كتاب ابن عمي الحافظ أبي محمد القاسم بن الحافظ أبي القاسم رحمه الله يعنى المسمى "بالجامع المستقصى في فضائل المسجد الأقصى" وخرجت في مسموعاتي ورواياتي ما ساويته في إسناده وشاركته في روايته عن مشايخه وأفراده مع ما له من المقدمة والسبق وتفرد به من الحفظ والحذق
হাফেজ আল্লামা তাজউদ্দীন আবদুর রহমান বিন জিয়া আল-ফাজারি, ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আন-নববী এবং অন্যান্যরা ফকিহ, আলেম ও মুহাদ্দিস শরাফউদ্দীন আহমদ বিন জিয়া আল-ফাজারির পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেছেন। তিনি (শরাফউদ্দীন) এমন একটি খণ্ডের সন্ধান পেয়েছিলেন যার শুরুতে প্রথম অংশ এবং শেষে দশম অংশের প্রথমাংশ বিদ্যমান; এটি উল্লিখিত হাফেজ শিহাবউদ্দীনের চাচাতো ভাই, নির্ভরযোগ্য ইমাম ও কাদি আমিনউদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফেয়ি রচিত ‘কিতাবুল উনস ফি ফাদায়িলিল কুদস’ গ্রন্থ। উক্ত খণ্ডটি এর লেখকের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং এর ওপর একাধিক শ্রবণলিপি বিদ্যমান রয়েছে, যার সর্বশেষটি দামেস্কের জামে মসজিদে ৬০৩ হিজরি সনের ১৫ই শাওয়াল, বৃহস্পতিবার তারিখযুক্ত। এটি অন্যান্যদের নিকটও পাঠ করা হয়েছে। অতঃপর উল্লিখিত কাদি আমিনউদ্দীন আহমদ বলেন।
আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি এবং এতে আমার চাচাতো ভাই হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন হাফেজ আবুল কাসিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি, যা ‘আল-জামেউল মুস্তাকসা ফি ফাদায়িলিল মাসজিদিল আকসা’ নামে পরিচিত। আমি আমার শ্রুত বিষয় ও রেওয়ায়েতসমূহ থেকে এমন সব বর্ণনা উদ্ধার করেছি যেগুলোর সনদে আমি তাঁর সমপর্যায়ে রয়েছি এবং তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অংশীদার হয়েছি; যদিও তাঁর রয়েছে অগ্রগামিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং তিনি হেফজ ও দক্ষতায় অনন্য।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
وكونه أعلى الجماعة سنًّا وأحسن في جميع الحديث فنًّا انتهى كلامه. قال السيد صاحب "الروض المغرس في فضائل بيت المقدس" ووقفت أيضا على كتاب "باعث النفوس إلى زيارة القدس المحروس" للشيخ برهان الدين الفزاري وقد قال في ديباجته: إنه منتخب في فضائل بيت المقدس وقبر الخليل عليه الصلاة والسلام من اللَّه الجليل غالبا من كتاب "المستقصى" للحافظ بهاء الدين بن عساكر والقليل من كتاب أبي المعالي المشرف بن المرجا المقدسي وأعزو إليه ما نقلته منه والباقي من المستقصى.
قال وحذفت الأسانيد من ذلك كله لما اقتضته المصلحة في ذلك انتهى كلامه. قال السيد: ووقفت على كتاب "إعلام الساجد بأحكام المساجد" للشيخ بدر الدين الزركشي قال: ووقفت أيضًا على تسهيل المقاصد لزيارة المساجد للشيخ شهاب الدين أحمد بن العماد الأقفهشي الشافعي بخطه قال: ووقفت أيضا على جزء لطيف فيه فضائل الشام ودمشق للشيخ أبي الحسن علي بن محمد
এবং তিনি জামাতের মধ্যে বয়সে প্রবীণতম এবং হাদিসের সকল শিল্পকলায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। ‘আর-রওদুল মাগরিস ফি ফাদায়িলি বাইতিল মাকদিস’ গ্রন্থের রচয়িতা সায়্যিদ বলেন: আমি শেখ বুরহান উদ্দিন আল-ফাজারির ‘বাঈসুল নুফূস ইলা যিয়ারাতিল কুদসিল মাহরুস’ গ্রন্থটিও দেখেছি এবং তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: এটি মূলত হাফেজ বাহাউদ্দিন ইবনে আসাকিরের ‘আল-মুসতাকসা’ গ্রন্থ থেকে বাইতুল মাকদিস এবং মহান আল্লাহর পক্ষ হতে খলিল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কবরের ফযিলত সম্পর্কে নির্বাচিত একটি সংকলন; এবং সামান্য কিছু অংশ আবু আল-মা'আলি আল-মুশাররফ ইবনুল মুরজা আল-মাকদিসির কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে। আমি তাঁর থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তা তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছি এবং অবশিষ্ট অংশ ‘আল-মুসতাকসা’ থেকে সংগৃহীত।
তিনি বলেন: আমি এর সবটুকু থেকেই সনদগুলো বিলুপ্ত করেছি যেহেতু জনকল্যাণ ও মাসলাহাত সেটারই দাবি রাখে—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। সায়্যিদ বলেন: আমি শেখ বদর উদ্দিন আজ-যারকাশির ‘ইলামুস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ’ কিতাবটিও দেখেছি। তিনি আরও বলেন: আমি শেখ শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনুল ইমাদ আল-আকফাহাশী আশ-শাফিয়ির স্বহস্তে লিখিত ‘তাসহীলুল মাকাসিদ লি যিয়ারাতিল মাসাজিদ’ গ্রন্থটিও দেখেছি। তিনি বলেন: আমি শেখ আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদের একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাও দেখেছি যাতে শাম এবং দামেস্কের ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بن شجاع الربعي المالكي وسمع هذا الجزء بدمشق في المسجد الجامع سنة 435 واختصره الشيخ برهان الدين الفزاري بحذف الأسانيد وحذفت ما قام غيره مقامه وسماه "الإعلام بفضائل الشام" قال السيد: ووقفت أيضا على تأليف بالمسجد الخليلي -على ساكنه أفضل الصلاة والسلام- لشخص متأخر عاصرناه يدعى إسحاق بن إبراهيم بن أحمد بن محمد بن كامل التدمري الشافعي الخطيب، والإمام بمقام سيدنا الخليل عليه السلام سماه "مثير الغرام في زيارة الخليل عليه السلام" وحكى فيه عن الشيخين الإسنوي والبلقيني فوائد فقال فيه في مواضع وقال شيخنا عبد الرحيم الإسنوي وأفاد وقال شيخنا سراج الدين البلقيني وأجاد قلت: وهذا الذي وقف عليه السيد المشار إليه واعتمد النقل منه في تأليفه
বিন শুজা আর-রাবঈ আল-মালিকী। তিনি ৪৩৫ হিজরি সনে দামেস্কের জামে মসজিদে এই অংশটি শ্রবণ করেন। শায়খ বুরহানউদ্দিন আল-ফাযারী সনদসমূহ বিলোপ করে এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং আমি অন্য বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলো বাদ দিয়েছি; তিনি এর নাম রেখেছেন "আল-ইলাম বি-ফাদাইলিশ শাম"। সাইয়্যেদ বলেন: আমি মাসজিদুল খলীলীতে—এর অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—আমাদের সমসাময়িক পরবর্তী যুগের জনৈক ব্যক্তির একটি রচনার সন্ধান পেয়েছি, যাঁর নাম ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কামিল আত-তাদমুরী আশ-শাফিঈ আল-খতীব এবং তিনি আমাদের নেতা আল-খলীল আলাইহিস সালাম-এর মাকামের ইমাম ছিলেন। তিনি গ্রন্থটির নাম রেখেছেন "মুসীরুল গ্রাম ফী যিয়ারাতিল খলীল আলাইহিস সালাম" এবং এতে তিনি দুই শায়খ—আল-ইসনাভী ও আল-বুলকিনী থেকে নানাবিধ জ্ঞানগর্ভ বিষয় বর্ণনা করেছেন। ফলে তিনি এতে বিভিন্ন স্থানে বলেছেন, "আমাদের শায়খ আব্দুর রহীম আল-ইসনাভী বলেছেন এবং তিনি মূল্যবান তথ্য প্রদান করেছেন" এবং "আমাদের শায়খ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী বলেছেন এবং তিনি অত্যন্ত নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন"। আমি বলছি: এটিই সেই কিতাব যেটির সন্ধান উল্লিখিত সাইয়্যেদ পেয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর রচনায় এখান থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
المسمى "بالروض المغرس" أصل كبير لا يحتاج معه إلى زيادة نظر في شيء من كتب الفضائل وهو أدام اللَّه النفع به وبعلومه عمدة في الحديث حجة في النقل فيما عزمت عليه من إتمام هذا التأليف الذي قصدته وترتيبه على النحو الذي أردته وقد جعلته مشتملا على سبعة عشر بابا:
الباب الأول: في أسماء المسجد الأقصى وفضائله وفضل زيارته وما ورد في ذلك على العموم والتخصيص والإفراد والاشتراك.
الباب الثاني: مبدأ وضعه وبناء داود إياه وبناء سليمان عليه السلام له على الصورة التي كانت من عجائب الدنيا وذكر دعائه الذي دعا به بعد تمامه لمن دخله ومكان الدعاء.
الباب الثالث: في فضل الصخرة الشريفة والأوصاف التى كانت لها في زمن سيدنا سليمان عليه السلام وارتفاع القبة المبنية عليها يوم ذاك وذكر أنها من الجنة
ذاتها تحول يوم القيامة مرجانة بيضاء وما في معنى ذلك.
الباب الرابع: في فضل الصلاة في بيت المقدس ومضاعفتها فيه وهل المضاعفة في الصلاة تعم الفرض والنفل أم لا وهل المضاعفة تشمل الحسنات والسيئات، وفضل الصدقة والصوم والأذان فيه، والإهلال بالحج والعمرة فيه وفضل إسراجه، وأنه يقوم مقام زيارته عند العجز عن قصده.
الباب الخامس: في ذكر الماء الذي يخرج من أصل الصخرة المشرفة وأنها على نهر من أنهار الجنة وأنها انقطعت في وسط المسجد من كل جهة لا يمسكها إلا الذي يمسك السماء أن تقع على الأرض إلا بإذنه، وفي آداب دخولها وما يستحب أن يدعى به عندها ومن أين يدخلها إذا أراد الدخول إليها وما يكره من الصلاة على ظهرها وذكر السلسلة التي كانت عندها وسبب رفعها وذكر البلاطة السوداء التي على باب الجنة واستحباب الصلاة عليها والدعاء بالدعاء المعين والمعين.
الباب السادس: في ذكر الإسراء بالنبي
"আর-রাওদুল মাগরিস" নামক এই গ্রন্থটি একটি মহান মূল উৎস, যা বিদ্যমান থাকলে ফযীলত সম্পর্কিত অন্য কোনো কিতাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা থাকে না। আল্লাহ এর দ্বারা এবং লেখকের ইলমের দ্বারা উপকারকে চিরস্থায়ী করুন। আমি যে সংকলনটি সম্পন্ন করার সংকল্প করেছি এবং যেভাবে একে বিন্যস্ত করতে চেয়েছি, তার জন্য এটি হাদীসের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দলীল। আমি একে সতেরোটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: মসজিদুল আকসার নামসমূহ, এর ফযীলতসমূহ, এটি যিয়ারত করার ফযীলত এবং এ সংক্রান্ত সাধারণ ও বিশেষ বর্ণনা এবং একক ও যৌথ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এর ভিত্তি স্থাপন, দাউদ আলাইহিস সালাম কর্তৃক এর নির্মাণ এবং সুলাইমান আলাইহিস সালাম কর্তৃক এমন এক মডেলে এর নির্মাণ যা ছিল পৃথিবীর বিস্ময়সমূহের অন্যতম। এছাড়া এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর সেখানে প্রবেশকারীদের জন্য তিনি যে দুআ করেছিলেন তার বর্ণনা এবং দুআ করার স্থানের বর্ণনা।
তৃতীয় অধ্যায়: সম্মানিত সাখরা বা পাথরের ফযীলত, আমাদের নেতা সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর যুগে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, সে সময়ে এর ওপর নির্মিত গম্বুজের উচ্চতা এবং এটি যে জান্নাতের অন্তর্ভুক্ত—সেই সংক্রান্ত বর্ণনা।
কিয়ামতের দিন এটি একটি সাদা প্রবাল পাথরে রূপান্তরিত হবে এবং এই মর্মার্থের অন্যান্য বর্ণনাসমূহ।
চতুর্থ অধ্যায়: বাইতুল মাকদিসে নামায আদায় করার ফযীলত এবং সেখানে নামাযের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে। আর নামাযের এই বৃদ্ধি কি ফরয ও নফল উভয় নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না? এবং এই বৃদ্ধি কি নেকি ও গুনাহ উভয়টির ক্ষেত্রেই কি না? এছাড়া সেখানে দান-সদকাহ, রোযা ও আযানের ফযীলত, সেখান থেকে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধার ফযীলত এবং সেখানে প্রদীপ প্রজ্বলনের গুরুত্ব। আর সেখানে যেতে অক্ষম হলে প্রদীপ প্রজ্বলন যে যিয়ারতের স্থলাভিষিক্ত হয়—সেই সংক্রান্ত আলোচনা।
পঞ্চম অধ্যায়: সম্মানিত সাখরার পাদদেশ থেকে নির্গত পানির বর্ণনা এবং এটি জান্নাতের একটি নহরের ওপর অবস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে। আর এটি মসজিদের মাঝখানে চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যাকে কেবল তিনিই ধরে রেখেছেন যিনি আসমানকে যমীনের ওপর পড়ে যাওয়া থেকে তাঁর অনুমতি ব্যতীত ধরে রাখেন। এতে প্রবেশের আদব, সেখানে যে দুআ করা মুস্তাহাব, সেখানে প্রবেশের পথ, এর উপরিভাগে নামায পড়ার অপছন্দনীয়তা, সেখানে বিদ্যমান শিকল ও তা সরিয়ে ফেলার কারণ এবং জান্নাতের দরজায় অবস্থিত কালো পাথরখণ্ডটির বর্ণনা, তার ওপর নামায পড়া এবং নির্দিষ্ট দুআ পাঠ করার মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইসরা বা নৈশভ্রমণের বর্ণনায়
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
-صلى الله عليه وسلم إلى بيت المقدس ومعراجه إلى السماء منه وذكر فضل الصلوات الخمس وذكر فضل قبة المعراج والدعاء عندها وفي مقام النبي صلى الله عليه وسلم وفضل قبته وصلاته صلى الله عليه وسلم بالأنبياء والملائكة ليلة الإسراء به عندها استحباب الوقوف في موضع العروج به في مقامه صلى الله عليه وسلم والدعاء بالدعاء المعين.
الباب السابع: في ذكر السور المحيط بالمسجد الأقصى وما في داخله من المعاهد والمشاهد والمحاريب المقصود بالزيارة والصلاة فيها كمحراب داود ومحراب زكريا ومحراب مريم عليهم السلام ومحراب عمر بن الخطاب ومحراب معاوية رضي الله عنهما وما يشرع إليه من الأبواب وعدتها، وذكر الصخور اللاتي في آخر باب المسجد وذكر ذرعه طولا وعرضا وحديث الورقات وذكر وادي جهنم الذي هو خارج السور من جهة الشرق من ذلك المحل.
الباب الثامن: في ذكر عين سلوان والعين التي كانت عندها والبئر المنسوبة لسيدنا أيوب عليه السلام وذكر البرك والعجائب التي كانت ببيت المقدس وما كان به عند قتل علي بن أبي طالب وولده الحسين رضي الله عنهما ومن قال: إنه كالأجمة ورغب عن أهله وذكر طلسم الحياة وذكر طورزيتا والساهرة والجبال
-আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক- তাঁর বায়তুল মাকদিস যাত্রা এবং সেখান থেকে তাঁর আসমানে মিরাজ, এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা এবং মিরাজ গম্বুজের শ্রেষ্ঠত্ব ও তার নিকট দোয়া করার বর্ণনা। এবং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর মাকাম ও তাঁর গম্বুজের শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইসরা-এর রাতে সেখানে আম্বিয়া ও ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর সালাত আদায়ের বর্ণনা। তাঁর আরোহণের স্থানে তাঁর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) মাকামে অবস্থান করা মুস্তাহাব হওয়া এবং সুনির্দিষ্ট দোয়ার মাধ্যমে দোয়া করার বর্ণনা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: মসজিদুল আকসাকে বেষ্টনকারী প্রাচীর এবং এর অভ্যন্তরে অবস্থিত স্মৃতিচিহ্ন, পুণ্যস্থান ও মিহরাবসমূহের বর্ণনা, যা যিয়ারত ও সেখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য; যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম), যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) ও মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর মিহরাব এবং উমর বিন খাত্তাব ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মিহরাব। আর যেসব প্রবেশদ্বার দিয়ে সেখানে প্রবেশ করা বিধিবদ্ধ ও তাদের সংখ্যা, মসজিদের শেষ ফটকে অবস্থিত পাথরসমূহের বর্ণনা, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের পরিমাপ, পত্রপল্লব বিষয়ক হাদিস এবং সেই স্থানের পূর্ব দিকে প্রাচীরের বাইরে অবস্থিত জাহান্নাম উপত্যকার বর্ণনা।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: সিলওয়ান ঝরনা ও তার নিকটবর্তী অন্য ঝরনার বর্ণনা এবং আমাদের নেতা আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সম্পর্কিত কূপের বর্ণনা। আর বায়তুল মাকদিসে বিদ্যমান জলাশয় ও বিস্ময়কর বিষয়াদির বর্ণনা এবং আলী ইবন আবি তালিব ও তাঁর পুত্র হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর শাহাদাতের সময় সেখানে যা ঘটেছিল তার বর্ণনা। এবং যারা বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি একটি ঝোপঝাড়ের মতো এবং যারা এর অধিবাসীদের প্রতি বিমুখতা প্রকাশ করেছেন তাদের বর্ণনা। আর জীবনের রহস্য (তিলস্ম), তুরে যায়তা, আস-সাহিরাহ ও পর্বতসমূহের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯০)
المقدسة وذكر جبل قايسون بخصوصه وما جاء فيه.
الباب التاسع: في ذكر فتح أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه بيت المقدس وما فعله فيه من كشف التراب والرمل عن الصخرة الشريفة، وذكر بناء عبد الملك بن مروان وما صنعه فيه وذكر الدرة اليتيمة التي كانت في وسط الصخرة وقرنا كبش إبراهيم وتاج كسرى وتحويلهم منها إلى الكعبة الشريفة حتى صارت الخلافة لبني هاشم وذكر تغلب الفرنج على بيت المقدس وأخذه من المسلمين بعد الفتح العمري وذكر مدة مقامه في أيديهم وذكر فتح السلطان الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب -رحمه اللَّه تعالى- واستنقاذه من أيدي الفرنج وإزالة آثارهم منه وإعادة المسجد الأقصى إلى ما كان عليه واستمراره على ذلك حتى الآن وإلى يوم القيامة -إن شاء اللَّه تعالى-.
الباب العاشر: في ذكر من دخل من الأنبياء -عليهم الصلاة والسلام- وأعيان الصحابة والتابعين رضوان اللَّه عليهم أجمعين وغيرهم ومن توفي منهم ودفن فيه وإجماع الطوائف كلها على تعظيم بيت المقدس ماخلا السامرة.
الباب الحادي عشر: في فضل سيدنا الخليل عليه السلام وفضل زيارته وذكر مولده، وقصته عند إلقائه في النار وذكر ضيافته وكرمه وذكر معنى الخلة واختصاصه بها، وذكر ختانه وتسروله وشفقته ورأفته بهذه الأمة وأخلاقه الكريمة وسنته المرضية التى لم تكن لأحد قبله، وأنها صارت من الشرائع والآداب لمن بعده، وذكر عمره وقصته عند موته
পবিত্র স্থানসমূহ এবং বিশেষভাবে কাসিউন পাহাড়ের বর্ণনা এবং সেখানে যা যা বর্ণিত হয়েছে।
নবম অধ্যায়: আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাইতুল মাকদিস বিজয় এবং সেখানে সম্মানিত পাথর (সাখরা) থেকে মাটি ও বালু অপসারণে তাঁর কার্যক্রমের বর্ণনা; আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নির্মাণ কাজ ও তথায় তাঁর কার্যাবলীর বর্ণনা; সাখরার মধ্যভাগে অবস্থিত দুর্লভ মুক্তা, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দুম্বার শিং এবং কিসরার মুকুট এবং বনু হাশিমের খেলাফতকাল পর্যন্ত সেগুলো সেখান থেকে সম্মানিত কাবা শরীফে স্থানান্তরের বর্ণনা; উমরি বিজয়ের পর ক্রুসেডারদের বাইতুল মাকদিস জয় ও মুসলিমদের থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়ার বর্ণনা; তাদের শাসনাধীন থাকাকালীন সময়ের বর্ণনা; সুলতান আল-মালিক আন-নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) কর্তৃক তা বিজয়, ক্রুসেডারদের হাত থেকে উদ্ধার, তাদের চিহ্নসমূহ বিলোপ এবং মসজিদে আকসাকে তার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার বর্ণনা, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে অব্যাহত থাকবে।
দশম অধ্যায়: নবীগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম), বিশিষ্ট সাহাবী ও তাবেয়ীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) এবং অন্যান্যদের মধ্যে যারা এখানে প্রবেশ করেছেন এবং যারা এখানে মৃত্যুবরণ করে সমাহিত হয়েছেন তাঁদের বর্ণনা; এবং সামেরীয় সম্প্রদায় ব্যতীত সকল দলের বাইতুল মাকদিসের মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়ে ঐকমত্যের বর্ণনা।
একাদশ অধ্যায়: আমাদের নেতা খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর মাজার যিয়ারতের ফযিলত, তাঁর জন্ম ও তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করার ঘটনার বর্ণনা; তাঁর আতিথেয়তা ও বদান্যতা, ‘খুল্লাত’ (নিবিড় বন্ধুত্ব)-এর অর্থ ও তাঁর সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা; তাঁর খতনা, পায়জামা পরিধান, এই উম্মতের প্রতি তাঁর মমতা ও অনুকম্পা, তাঁর মহান চরিত্র ও পছন্দনীয় সুন্নাত যা তাঁর পূর্বে আর কারও ছিল না এবং পরবর্তীকালের জন্য যা শরীয়ত ও শিষ্টাচার হিসেবে পরিগণিত হয়েছে তার বর্ণনা; এবং তাঁর জীবনকাল ও মৃত্যুপূর্ব ঘটনাবলীর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯১)
وكسوته يوم القيامة.
الباب الثاني عشر: في ذكر ابتلائه صلى الله عليه وسلم بذبح ولده ومن هو الذبيح وعمر إسحاق عليه السلام وكم عمر أبيه وأمه حين ولد، وكرامة سارة والخلاف المذكور في نبوتها ونبوة غيرها من النساء وقصة يعقوب عليه السلام وعمره، وشيء من قصة ولده يوسف عليه السلام وصفته ومدة سنه عند فراقه لأبيه يعقوب ومدة غيبته عنه ومدفنه وذكر ما كان بينه وبين موسى عليه السلام.
الباب الثالث عشر: في ذكر المغارة التي دفن فيها الخليل عليه الصلاة والسلام. هو وأبناؤه الأكرمون وذكر شرائها من ملك ذلك الموضع وهو عفرون وأول من دفن
في تلك المغارة وذكر علامات القبور التي بها وما استدل به على صحتها وكم لبناء الحيز الذي بناه سليمان عليه الصلاة وذكر آداب زيارة القبور المشار إليها وبيان موضع قبر يوسف عليه الصلاة والسلام وتسميته داخله الحيز وجواز دخوله وإثبات أحكام المساجد له وتسميته حرمًا وإقطاع تميم الداري رضي الله عنه الذي أقطعه النبي صلى الله عليه وسلم له ولمن وفد معه من الداريين ونسخه وما كتب به لهم في ذلك.
الباب الرابع عشر: في ذكر مولد إسماعيل عليه السلام ونقله إلى مكة المشرفة، وركوب سيدنا الخليل عليه الصلاة والسلام البراق لزيارته وزيارة أمه هاجر وموتها ومدفنها وعمر إسماعيل ومدفنه وكم بين وفاته ومولد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم واللَّه أعلم.
الباب الخامس عشر: في قصة لوط عليه الصلاة والسلام
এবং কিয়ামতের দিন তাঁর পোশাক।
দ্বাদশ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বীয় সন্তানকে জবেহ করার পরীক্ষার আলোচনা, জবেহকৃত সন্তান আসলে কে ছিলেন, ইসহাক আলাইহিস সালামের বয়স এবং তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন তাঁর পিতা ও মাতার বয়স কত ছিল সেই বিবরণ; সারাহ-এর কারামত এবং তাঁর ও অন্যান্য নারীদের নবুওয়াতের বিষয়ে বর্ণিত মতপার্থক্য; ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কাহিনী ও তাঁর বয়স; তাঁর পুত্র ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাহিনীর কিছু অংশ, তাঁর বৈশিষ্ট্য, পিতা ইয়াকুবের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় তাঁর বয়স, তাঁর অনুপস্থিতির সময়কাল ও তাঁর দাফনস্থল এবং তাঁর ও মুসা আলাইহিস সালামের মধ্যে যা ঘটেছিল তার বর্ণনা।
ত্রয়োদশ অধ্যায়: সেই গুহার বর্ণনা যাতে খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম দাফন হয়েছেন, তিনি এবং তাঁর সম্মানিত সন্তানগণ; সেই স্থানের মালিক ইফরোনের নিকট থেকে সেটি ক্রয় করার বিবরণ এবং সর্বপ্রথম সেই গুহায় যাঁকে দাফন করা হয়েছে তাঁর আলোচনা।
সেই গুহার মধ্যে অবস্থিত কবরসমূহের চিহ্নাবলি এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে উপস্থাপিত দলীলসমূহ; সুলায়মান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম কর্তৃক নির্মিত সীমানা প্রাচীরের বর্ণনা; উল্লিখিত কবরসমূহ জিয়ারতের আদবসমূহ; ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কবরের স্থান সুস্পষ্টকরণ এবং সেই সীমানার ভেতরে তাঁর নাম উল্লেখ করা; সেখানে প্রবেশের বৈধতা এবং তার জন্য মসজিদের বিধানসমূহ সাব্যস্তকরণ ও তাকে 'হারাম' হিসেবে অভিহিত করা; তামীম আদ-দারী রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর সাথে আগত দারী গোত্রের লোকেদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রদত্ত জায়গিরের বিবরণ এবং সেই বিষয়ে তাঁদের জন্য যা লিখে দেওয়া হয়েছিল তার অনুলিপি।
চতুর্দশ অধ্যায়: ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম এবং তাঁকে মক্কা মুকাররমায় স্থানান্তরের বিবরণ; আমাদের সায়্যিদ খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের তাঁকে ও তাঁর মা হাজেরাকে দেখার জন্য বোরাকে আরোহণ করার ঘটনা; হাজেরার মৃত্যু ও দাফনস্থল; ইসমাইলের বয়স ও দাফনস্থল এবং তাঁর ওফাত ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
পঞ্চদশ অধ্যায়: লুত আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাহিনীর বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وموضع قبره وذكر المغارة الغربية التي تحت المسجد العتيق تجاهه وذكر مسجد اليقين والمغارة التي في شرقيه.
الباب السادس عشر: فيما قيل في قبر سيدنا موسى عليه الصلاة والسلام وعمره وفائدة سؤاله الدنو من الأرض المقدسة، رميه بحجر وصلاته بقبره ورأفته بهذه الأمة وشفقته عليهم، وذكر شيء من بعض معجزاته وذكر السبب في تسميته موسى واللَّه أعلم.
الباب السابع عشر: في فضل الشام وما ورد في ذلك من الآثار والأخبار وسبب تسميتها بالشام، وذكر حدودها وما ورد من حث النبي صلى الله عليه وسلم "إسكانها" وما تكفل اللَّه "تعالى" به لها ولأهلها وأنها غير دار المؤمنين وعمود الإسلام بها وأن الشام صفوة اللَّه من بلاده يسكنها من يشاء من عباده ودعاء النبي صلى الله عليه وسلم لها بالبركة وذكر ما بها من المعاهد والمشاهد المقصودة بالزيارة المعروفة بإجابة الدعوات والتنبيه عليها، وفي معنى ذلك مجملا ومفصلا وأضفت إلى هذا التأليف الحسن الأحسن فالأحسن مما انتقيته وانتخبته مما وقفت عليه من كتب المتقدمين والمتأخرين في الفضائل محذوفة الأسانيد وسميته "إتحاف الأخصا بفضائل المسجد الأقصى" واللَّه سبحانه أسأل وهو أجل مسئول أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم موصلا إلى ما لديه من الزلفى والنعيم المقيم وأن ينفع به مؤلفه وكاتبه وقارئه والناظر فيه، إنه قريب مجيب لا إله إلا هو عليه توكلت وإليه أنيب.
এবং তাঁর কবরের স্থান, এবং প্রাচীন মসজিদের নিচে তাঁর সম্মুখস্থ পশ্চিম দিকের গুহা এবং মসজিদ-এ-ইয়াকীন ও এর পূর্ব দিকের গুহার বর্ণনা।
ষোড়শ অধ্যায়: আমাদের নেতা মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কবর, তাঁর বয়স, পবিত্র ভূমির নিকটবর্তী হওয়ার জন্য তাঁর প্রার্থনার কল্যাণকর দিক, এক ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা, তাঁর কবরে তাঁর সালাত আদায়, এই উম্মতের প্রতি তাঁর মমতা ও অনুকম্পা, তাঁর কিছু মুজিযার বর্ণনা এবং তাঁর নাম 'মুসা' রাখার কারণ প্রসঙ্গে; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সপ্তদশ অধ্যায়: শাম অঞ্চলের ফযিলত এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আসার ও হাদীসসমূহ, এর নাম 'শাম' রাখার কারণ, এর সীমানা নির্ধারণ এবং সেখানে বসবাস করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে; আরও বর্ণিত হয়েছে আল্লাহ তাআলা এই ভূখণ্ড ও এর অধিবাসীদের জন্য যা জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন, এটি মুমিনদের আবাসস্থল এবং সেখানে ইসলামের স্তম্ভের অবস্থান, আর শাম হলো আল্লাহর দেশসমূহের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূখণ্ড যেখানে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বসবাস করান, এবং এই অঞ্চলের বরকতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ, সেখানে অবস্থিত যিয়ারতযোগ্য বিভিন্ন নিদর্শন ও স্থানসমূহ যা দুআ কবুলের জন্য প্রসিদ্ধ—সেগুলোর বর্ণনা ও এ বিষয়ে সতর্কীকরণ। সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে আমি এই উত্তম সংকলনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের ফযিলত বিষয়ক কিতাবসমূহ থেকে যা কিছু চয়ন ও নির্বাচন করেছি তা যুক্ত করেছি, যেখানে সনদসমূহ বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি "ইতহাফুল আখাসসা বি-ফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা"। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যিনি প্রার্থিতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ—তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর সান্নিধ্য ও চিরস্থায়ী নিয়ামত লাভের মাধ্যম বানান; আর এর লেখক, লিপিকার, পাঠক ও পর্যবেক্ষককে এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর কাছেই আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الباب الأولفي أسماء المسجد الأقصى وفضائله وفضل زيارته وما ورد في ذلك على العموم والتخصيص والإفراد والاشتراك، اعلم أن كثرة الأسماء تدل على شرف المسمى قال صاحب إعلام الساجد بأحكام المساجد: جمعت في ذلك سبعة عشر اسمًا وهي من النفائس المهمة المسجد الأقصى وسمي الأقصى لأنه أبعد المساجد التي تزار ويبتغى بها الأجر من المسجد الحرام وقيل لأنه ليس وراءه موضع عبادة، وقيل لبعده عن الأقذار والخبائث وروي أن عبد اللَّه بن سلام قال للنبي صلى الله عليه وسلم لما تلا قوله تعالى: {إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى} [الإسراء: 1] ولم سماه الأقصى قال: لأنه وسط الدنيا لا يزيد شيئًا ولا ينقص قال: صدقت ومسجد إيليا بهمزة مكسورة ثم ياء ساكنة ثم لام مكسورة ثم ياء آخر الحروف ثم ألف ممدودة ككبرياء وحكى البكري فيها القصر ومعناه بيت المقدس حكاه الواسطي في فضائله وحكى
প্রথম অধ্যায়মসজিদুল আকসার নামসমূহ, এর ফজিলত, যিয়ারতের মর্যাদা এবং এ সংক্রান্ত সাধারণ, বিশেষ, একক ও যৌথভাবে বর্ণিত তথ্যাবলি প্রসঙ্গে, জেনে রাখুন যে, নামের আধিক্য নামধারীর শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক। ‘ইলামুস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ’ গ্রন্থের লেখক বলেন: আমি এ বিষয়ে সতেরোটি নাম সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান তথ্য। (তন্মধ্যে একটি হলো) মসজিদুল আকসা; এর নামকরণ ‘আকসা’ (দূরতম) করা হয়েছে কারণ, সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে যিয়ারত করা হয় এমন মসজিদগুলোর মধ্যে মসজিদুল হারাম থেকে এটিই সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। কেউ কেউ বলেন, কারণ এর পেছনে আর কোনো ইবাদতগাহ নেই। আবার কেউ বলেন, অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতা থেকে দূরত্বের কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ বিন সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন—যখন তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {মসজিদুল আকসা পর্যন্ত} [ইসরা: ১] পাঠ করলেন—কেন এর নাম ‘আকসা’ রাখা হয়েছে? তিনি বললেন: কারণ এটি পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত, যা থেকে কোনো কিছু বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। (আরেকটি হলো) মসজিদে ইলিয়া; এটি কাসরাযুক্ত হামযাহ, এরপর সুকুনযুক্ত ইয়া, তারপর কাসরাযুক্ত লাম, এরপর ইয়া এবং শেষে আলিফে মামদুদা সহযোগে—যেমন ‘কিবরিয়া’ শব্দ। বাকরি এতে ‘কাসর’ বা হ্রস্ব স্বরের বর্ণনাও দিয়েছেন। এর অর্থ হলো বাইতুল মাকদিস; যেমনটি ওয়াসিতি তাঁর ‘ফাদাইল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আরও বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
صاحب الطوالع فيه لغة ثالثة حذف الياء الأولى وسكون اللام وبالمد وفي مسند أبي يعلى الموصلي عن ابن عباس الياء بألف ولام، واستغربه النووي.
وبيت المقدس بفتح الميم وسكون القاف، أي المكان المطهر من الذنوب، واشتقاقه من القدس، وهي الطهارة والبركة. والقدس: اسم مصدر في معنى الطهارة والتطهير، وروح القدس: جبريل عليه السلام؛ لأنه روح مقدسة، والتقديس: التطهير، ومنه وتقدس لك: أي تنزهك عما لا يليق بك، وفيه قيل للسطل: قدس لأنه يتطهر منه فمعنى بيت المقدس المكان الذي يتطهر فيه من الذنوب، ويقال: المرتفع المنزه
عن الشرك، والبيت المُقَدَّس: بضم الميم وفتح الدال المشددة، أي المطهر وتطهيره إخلاؤه من الأصنام، وبيت المقدس بضم الدال وسكونها لغتان، وسلم لكثره سلام الملائكة فيه.
قال ابن موسى: وأصله شلّم بالمعجمة وتشديد اللام اسم بيت المقدس، ويروى بالمهملة وكسر اللام، كأنه عربه ومعناه بالعبرانية: بيت السلام، "وأرشلم" بضم الهمزة وفتح الشين المعجمة وكسر اللام المخففة قاله أبو عبيدة معمر بن المثنى والأكثرون بفتح الشين واللام وكوره الياء وأرشليم، وبيت آيل وصيهون، وقصرون بصاد مهملة وثاء مثلثة، وبابوش بموحدتين وشين معجمة، وكور شلاه وشليم وأزيزل وصلون.
وقال في مثير الغرام: يقال: بيت المقدس بالتخفيف والتثقيل، والقدس بالسكون والتحريك، والأرض المقدسة والمسجد الأقصى وإليا وإيليا وشلم بالتشديد، وأورشلم أي بيت الرب وصهيون بصاد مهملة مكسورة، ويقال لبيت المقدس: الزيتون، ولا يقال له: الحرم.
وأما فضائله فلا تحصى ولا تحصر ولا تستقصى، والذي يدل على فضله من كتاب اللَّه -تعالى-
'তাওয়ালি'-এর লেখক এতে তৃতীয় একটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো প্রথম 'ইয়া' বিলোপ করা এবং 'লাম'কে সুকুনযুক্ত করে দীর্ঘস্বরে উচ্চারণ করা। মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে 'আলিফ' ও 'লাম' যোগে এটি বর্ণিত হয়েছে, যাকে ইমাম নববী বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন।
আর 'বায়তুল মাকদিস' হলো মীমের উপর ফাতহাহ এবং ক্বাফের উপর সুকুনের সাথে; যার অর্থ হলো গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র হওয়ার স্থান। এর ব্যুৎপত্তি ঘটেছে 'কুদস' শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো পবিত্রতা ও বরকত। 'কুদস' হলো পবিত্রতা ও পবিত্রকরণ অর্থে ব্যবহৃত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। 'রুহুল কুদুস' হলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম); কেননা তিনি একজন পবিত্র রূহ। আর 'তাকদিস' অর্থ হলো পবিত্র করা; এ থেকেই 'আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি' কথাটি এসেছে, যার অর্থ হলো—আপনার জন্য যা শোভনীয় নয় তা থেকে আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি। এই অর্থেই বালতিকে 'কুদস' বলা হয় কারণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। সুতরাং বায়তুল মাকদিস-এর অর্থ হলো এমন স্থান যেখানে গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া যায়। একে এমন সুউচ্চ স্থানও বলা হয় যা
শিরক থেকে মুক্ত। আর 'আল-বাইতুল মুকাদ্দাস' হলো মীমের উপর দম্মাহ এবং দালের উপর তাশদীদযুক্ত ফাতহাহ সহযোগে; যার অর্থ হলো পবিত্রকৃত স্থান। এর পবিত্রকরণ হলো একে মূর্তিমুক্ত করা। 'বায়তুল মাকদিস' শব্দে দালের উপর দম্মাহ বা সুকুন হওয়া দুটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ। এখানে ফেরেশতাদের সালামের আধিক্যের কারণে একে 'সালাম'-ও বলা হয়।
ইবনে মুসা বলেন: এর মূল হলো 'শাল্লাম' (নুকতাযুক্ত শীন এবং লামের তাশদীদসহ), যা বায়তুল মাকদিসের নাম। এটি নুকতাহীন সীন এবং লামের নিচে কাসরা দিয়েও বর্ণিত হয়েছে, যেন একে আরবিকরণ করা হয়েছে; হিব্রু ভাষায় এর অর্থ হলো 'শান্তির গৃহ'। আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না বলেন, এটি হলো 'উরুশালাম' (হামযাহর উপর দম্মাহ, নুকতাযুক্ত শীনের উপর ফাতহাহ এবং হালকা লামের নিচে কাসরা সহযোগে)। তবে অধিকাংশের মতে শীন ও লামের উপর ফাতহাহ হবে এবং ইয়া সহযোগে 'উরুশালীম' হবে। এছাড়াও একে বায়ত আঈল, সাইহুন, ক্বাসরুন (নুকতাহীন সোয়াদ এবং তিন নুকতাযুক্ত ছা সহযোগে), বাবুশ (দুইটি বা এবং নুকতাযুক্ত শীন সহযোগে), কুর শালাহ, শালীম, আযীযাল এবং সালুন বলা হয়।
'মুছীরুল গারাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'বায়তুল মাকদিস' শব্দটি তাখফীফ (হালকা) ও তাছকীল (ভারী) উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়। এছাড়া 'কুদুস' বা 'কুদস' (সুকুন ও হরকতসহ), পবিত্র ভূমি, আল-মাসজিদুল আকসা, ইলিয়া, আইলিয়া এবং শাল্লাম (তাশদীদসহ) নামেও একে ডাকা হয়। উরুশালাম অর্থ হলো রবের গৃহ। আর 'সাইহুন' শব্দটি নুকতাহীন সোয়াদের নিচে কাসরাসহ উচ্চারিত হয়। বায়তুল মাকদিসকে 'আয-যাইতুন'ও বলা হয়, তবে একে 'হারাম' বলা হয় না।
আর এর মর্যাদার কথা তো গণনা করে শেষ করা যাবে না এবং তা সীমাহীন। মহান আল্লাহর কিতাব থেকে যা এর মর্যাদার প্রমাণ দেয় তা হলো—
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
قوله تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الإسراء: 1] فلو لم يكن لبيت المقدس من الفضيلة غير هذه الآية لكانت كافية، وبجميع البركات وافية؛ لأنه إذا بورك حوله فالبركة فيه مضاعفة، ولأن اللَّه -تعالى- لما أراد أن يعرج بنبيه محمد صلى الله عليه وسلم إلى سمائه جعل طريقه عليه تبينا لفضله، وليجعل له فضل البيتين وشرفهما، وإلا فالطريق من البيت الحرام إلى السماء كالطريق من بيت المقدس إليها، وسبحان اللَّه تنزيه عن السوء ومضاه يسبح اللَّه تعالى تسبيحا، والمسجدان المسجد الحرام والمسجد الأقصى، وبهما وقع التصريح في الآية الشريفة، وباركنا حوله: أجرى اللَّه حول بيت المقدس الأنهار وأنبت الثمار وأظهر البركة، والبركة: الثبات يراد به ثبات الخير، ومضى تبارك اللَّه: ثبت الخير عنده أو في خزائنه،
وقيل: علا وتقدس من العظمة والجلال، وقيل: من البقاء والدوام، وقال خالد بن حازم: قدم الزهري بيت المقدس فجعلت
মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার নিদর্শনাদি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আল-ইসরা: ১] বায়তুল মুকাদ্দাসের ফযিলতের জন্য যদি এই আয়াতটি ছাড়া আর কিছু না-ও থাকত, তবুও এটিই যথেষ্ট হতো এবং সমস্ত বরকতের জন্য পূর্ণাঙ্গ হতো; কারণ, যখন তার চারপাশ বরকতময় করা হয়েছে, তখন তার মধ্যখানের বরকত বহুগুণ। এবং একারণে যে, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর আসমানের দিকে আরোহণ করাতে চাইলেন, তখন তাঁর পথ এর ওপর দিয়ে নির্ধারণ করলেন তার শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করার জন্য, এবং যেন তাঁর জন্য উভয় মসজিদের ফযিলত ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়; অন্যথায় মসজিদুল হারাম থেকে আসমানের পথ যেমন, বায়তুল মুকাদ্দাস থেকেও আসমানের পথ তেমনই ছিল। আর 'সুবহানাল্লাহ' হলো মন্দ থেকে পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার যথাযথভাবে পবিত্রতা বর্ণনা করা। আর দুটি মসজিদ হলো মসজিদুল হারাম ও মসজিদুল আকসা, এবং এই সম্মানিত আয়াতে এ দুটিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 'আমি তার চারপাশকে বরকতময় করেছি': আল্লাহ বায়তুল মুকাদ্দাসের চারপাশে নদীসমূহ প্রবাহিত করেছেন, ফলমূল উৎপন্ন করেছেন এবং বরকত প্রকাশ করেছেন। আর বরকত হলো স্থিতি, এর দ্বারা কল্যাণের স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। আর 'তাবারাকাল্লাহ' এর অর্থ হলো: তাঁর কাছে বা তাঁর ভাণ্ডারে কল্যাণ সুসাব্যস্ত রয়েছে।
বলা হয়েছে: মহত্ত্ব ও প্রতাপের কারণে তিনি সমুন্নত ও পবিত্র হয়েছেন। আরও বলা হয়েছে: এটি স্থায়িত্ব ও চিরস্থায়িত্ব থেকে নির্গত। খালিদ বিন হাযেম বলেন: যুহরী বায়তুল মুকাদ্দাসে আসলেন, তখন আমি শুরু করলাম...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
أطوف به في تلك المواضع فيصلي فيها، قال: فقلت له: إن ههنا شيخا يحدث عن الكميت يقال له: عقبة بن أبي زينب، فلو جلسنا إليه، قال: فجلسنا إليه فجعل يحدث عن فضائل بيت المقدس، فلما أكثر قال الزهري: أيها الشيخ إنك لن تنتهى إلى ما انتهى إليه قوله تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ} [الإسراء: 1] ومنها قوله تعالى لبني إسرائيل {ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ} [البقرة: 58] فلم يخص اللَّه تعالى مسجدا سوى بيت المقدس بأن وعدهم أن يغفر لهم خطاياهم بسجدة فيه دون غيره إلا بفضل خصه به، ومنها قوله تعالى لإبراهيم ولوط عليهما السلام: {وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 71] والمراد به بيت المقدس، ومنها قوله تعالى: {وَآوَيْنَاهُمَا إِلَى رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ} [المؤمنون: 50] قال بعض المفسرين: المراد بيت المقدس، ومنها قوله تعالى لبني إسرائيل: {ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ} [المائدة: 21] فسماه اللَّه تعالى مرة مباركا ومرة مقدسا ومنها قوله تعالى: {يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ} [المعارج: 43]
আমি তাঁকে নিয়ে সেই সকল স্থানে ঘুরে বেড়াতাম এবং তিনি সেখানে সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁকে বললাম, এখানে একজন বৃদ্ধ লোক আছেন যিনি কুমাইত সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তাঁকে উকবা বিন আবি যাইনাব বলা হয়; আমরা যদি তাঁর কাছে বসতাম। তিনি বললেন: অতঃপর আমরা তাঁর কাছে বসলাম এবং তিনি বাইতুল মাকদিসের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুরু করলেন। যখন তিনি অনেক বর্ণনা করলেন, তখন যুহরী বললেন: হে শায়খ! মহান আল্লাহর বাণী যে উচ্চ মর্যাদা পর্যন্ত পৌঁছেছে, আপনি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি" [আল-ইসরা: ১]। আর তার মধ্যে রয়েছে বনী ইসরাঈলের প্রতি মহান আল্লাহর এই বাণী: "তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো, অতঃপর সেখানে তোমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো এবং সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো 'ক্ষমা চাই', আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সৎকর্মশীলদের শীঘ্রই বাড়িয়ে দেব" [আল-বাকারা: ৫৮]। মহান আল্লাহ বাইতুল মাকদিস ছাড়া অন্য কোনো মসজিদকে এই বিশেষ মর্যাদা দান করেননি যে, সেখানে একটি সিজদার মাধ্যমেই তাঁদের পাপ ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; এটি কেবলমাত্র সেই ফযীলতের কারণে যা তিনি একে দান করেছেন। আর তার মধ্যে রয়েছে ইবরাহীম ও লূত (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তাঁকে ও লূতকে উদ্ধার করে সেই ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে গেলাম যা আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকতময় করেছি" [আল-অম্বিয়া: ৭১]; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাইতুল মাকদিস। আর তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তাঁদের উভয়কে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক উচ্চ ভূমিতে, যা ছিল সুস্থিত ও প্রবাহিত ঝর্ণাধারাবিশিষ্ট" [আল-মুমিনুন: ৫০]। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাইতুল মাকদিস। আর তার মধ্যে রয়েছে বনী ইসরাঈলের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং পশ্চাৎপসারণ করো না, অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে" [আল-মায়িদা: ২১]। মহান আল্লাহ একে কখনো 'বরকতময়' এবং কখনো 'পবিত্র' বলে অভিহিত করেছেন। আর তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "সেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতবেগে বের হবে, যেন তারা কোনো লক্ষ্যস্থলের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে" [আল-মাআরিজ: ৪৩]।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
قيل: إلى صخرة بيت المقدس، ومنها قوله تعالى: {وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍ} [يونس: 93] قيل: بوأهم الشام وبيت المقدس خاصة، ومنها قوله تعالى: {يَوْمَ يُنَادِ الْمُنَادِ مِنْ مَكَانٍ قَرِيبٍ} [ق: 41] قيل: إنه ينادي من صخرة بيت المقدس، ومنها قوله تعالى: {فَإِذَا هُمْ بِالسَّاهِرَةِ} [النازعات: 14] والساهرة إلى جانب بيت المقدس.
ومنها قوله تعالى: {وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ} [التين: 1] قال عقبة بن عامر التين دمشق والزيتون بيت المقدس، ومنها قوله تعالى: {فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بَابٌ
بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ} [الحديد: 13] هو سور بيت المقدس؛ باطنه أبواب الرحمة وظاهره "واد" جهنم ومما يدل على فضله من السنة ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه يبلغ به قال: "تشد الرحال إلى ثلاثة مساجد:
বলা হয়েছে: বায়তুল মাকদিসের পাথরের দিকে, এবং এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি অবশ্যই বনী ইসরাঈলকে এক উত্তম ও সত্য আবাসস্থলে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম} [ইউনুস: ৯৩]। বলা হয়েছে: তিনি তাদেরকে সিরিয়া এবং বিশেষভাবে বায়তুল মাকদিসে বসবাস করতে দিয়েছিলেন। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন আহবানকারী এক নিকটবর্তী স্থান থেকে আহবান করবে} [ক্বাফ: ৪১]। বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই তিনি বায়তুল মাকদিসের পাথর থেকে আহবান করবেন। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {তখন হঠাৎ তারা এক উন্মুক্ত প্রান্তরে উপনীত হবে} [আন-নাযিআত: ১৪]। আর 'সাহিরাহ' হলো বায়তুল মাকদিসের পার্শ্ববর্তী এলাকা।
এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ তীন ও যায়তুনের} [আত-তীন: ১]। উকবাহ ইবন আমির বলেছেন, তীন হলো দামেস্ক এবং যায়তুন হলো বায়তুল মাকদিস। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের মাঝে একটি প্রাচীর খাড়া করে দেওয়া হবে যাতে একটি দরজা থাকবে,
যার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং যার বাইরে তথা সামনের দিকে থাকবে আযাব} [আল-হাদীদ: ১৩]। এটি হলো বায়তুল মাকদিসের প্রাচীর; যার অভ্যন্তরে রয়েছে রহমতের দরজাসমূহ এবং যার বাইরে রয়েছে জাহান্নামের 'উপত্যকা'। আর সুন্নাহ থেকে এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণস্বরূপ যা আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন এবং তা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বলেছেন: "কেবল তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যেই সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে:
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
المسجد الحرام والمسجد الأقصى ومسجدي هذا" وفي لفظ من رواية أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم "لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام وإلى مسجدي هذا وإلى بيت المقدس، ولا صيام في يومين: يوم الأضحى ويوم الفطر، ولا صلاة في ساعتين: بعد صلاة الغداة إلى طلوع الشمس وبعد صلاة العصر إلى غروب الشمس، ولا تسافر امرأة يومين إلا مع زوج أو ذوي رحم محرم". وفي لفظ آخر من رواية أبي سعيد الخدري وعبد اللَّه بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام والمسجد الأقصى ومسجدي هذا، ولا تسافر امرأة مسيرة يومين إلا مع زوجها أو ذي رحم محرم من أهلها".
মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ।" আবু সাঈদ খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এক শব্দে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফরের জন্য বাহন প্রস্তুত করো না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং বাইতুল মাকদিস। আর দুই দিনে কোনো রোজা নেই: ঈদুল আযহার দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন। আর দুই সময়ে কোনো সালাত নেই: ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আর কোনো নারী যেন স্বামী বা মাহরাম আত্মীয় ব্যতীত দুই দিনের সফর না করে।" আবু সাঈদ খুদরি ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত অন্য এক শব্দে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফরের জন্য বাহন প্রস্তুত করো না: মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ। আর কোনো নারী যেন তার স্বামী বা তার পরিবারের মাহরাম আত্মীয় ব্যতীত দুই দিনের পথ সফর না করে।"
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قلت يا رسول اللَّه أي مسجد وضع في الأرض أولا؟ قال: "المسجد الحرام" قلت: ثم قال: "المسجد الأقصى" قال: قلت: كم بينهما؟ قال: "أربعون سنة" قال: "فأيهما أدركت الصلاة فصل فهو مسجد" وعن عمران (بن حصين) قال: قلت: يا رسول اللَّه ما أحسن المدينة! قال: "كيف لو رأيت بيت المقدس وهو أحسن". فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "وكيف لا يكون وكل من بها يزار ولا يزور، وتهدى إليه الأرواح ولا يهدى روح بيت المقدس إلا إلى اللَّه، أكرم المدينة وطيبها بي وأنا فيها حي، وأنا فيها ميت، ولولا ذلك ما هاجرت من مكة، فإني ما رأيت القمر في بلد قط إلا وهو بمكة أحسن". وقال كعب: "لا تقوم الساعة حتى يزور البيت الحرام
আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে? তিনি বললেন: "মসজিদুল হারাম"। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "মসজিদুল আকসা"। আমি বললাম: এই দুইটির মাঝে ব্যবধান কতটুকু? তিনি বললেন: "চল্লিশ বছর"। তিনি আরও বললেন: "অতঃপর যেখানেই তোমার সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিও, কারণ সেটিই মসজিদ"।
ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মদীনা কতই না সুন্দর! তিনি বললেন: "তুমি যদি বায়তুল মাকদিস দেখতে! সেটি আরও বেশি সুন্দর"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আর কেনই বা হবে না, যেখানে সেখানে অবস্থানকারী প্রত্যেকের কাছে জিয়ারত করতে আসা হয় অথচ তারা কারো কাছে জিয়ারত করতে যায় না; রূহসমূহকে সেখানে হাদিয়া হিসেবে পাঠানো হয় এবং বায়তুল মাকদিসের রূহ কেবল আল্লাহর দিকেই নীত হয়। আমার মাধ্যমেই মদীনাকে সম্মানিত ও পবিত্র করা হয়েছে এবং আমি তাতে জীবিত অবস্থায় আছি এবং সেখানেই মৃত অবস্থায় থাকব। আর যদি তা না হতো, তবে আমি মক্কা থেকে হিজরত করতাম না। কেননা আমি কোনো জনপদেই মক্কার চাঁদের চেয়ে অধিক সুন্দর চাঁদ কখনো দেখিনি"।
কাব বলেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না বায়তুল হারাম (কা'বা) যিয়ারত করবে।"
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০০)
بيت المقدس فيقادان إلى الجنة
جميعا، وفيهما أهلهما والعرض والحساب ببيت المقدس) وقال سليمان: لقد يأتي مسجد اللَّه إلى بيت المقدس يعنى يؤتى بالكعبة إلى بيت المقدس، قال: وأنزل اللَّه بني إسرائيل الأرض المقدسة وكان منهم من الأنبياء داود وسليمان عليهما السلام ملكوا الأرض فسماها اللَّه -تعالى- مرة مباركة ومرة مقدسة.
وقوله تعالى: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} [الأنبياء: 105] يقال: أرض الجنة يرثها العالمون بطاعة اللَّه -تعالى- وقيل: الأرض الدنيا، والصالحون أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وقيل: هم بنو إسرائيل، وقيل: الأرض ههنا التي يجتمع عليها أرواح المؤمنين، يعني يكون البعث، ويقال: الأرض المقدسة يرثها محمد صلى الله عليه وسلم.
وقوله تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [البقرة: 114] نزلت في منع الروم المسلمين من بيت المقدس فأذلهم اللَّه وأخزاهم ولا يدخله أحد منهم أبدا إلا وهو خائف متلفع ثوب الخزي والهوان والصغار، قال عبد اللَّه بن عمر رضي الله عنه:
বাইতুল মাকদিস; অতঃপর তাদের উভয়কে একত্রে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, এবং তাদের উভয়ের মাঝে তাদের অধিবাসীগণ থাকবে এবং হাশরের ময়দানে উপস্থিতি ও হিসাব বাইতুল মাকদিসে হবে।
আর সুলাইমান বলেন: অবশ্যই আল্লাহর ঘর বাইতুল মাকদিসে আসবে, অর্থাৎ কাবাকে বাইতুল মাকদিসে আনা হবে। তিনি বলেন: আর আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে পবিত্র ভূমিতে বসবাস করিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালামের মতো নবীগণ ছিলেন যারা পৃথিবীর রাজত্ব করেছিলেন; ফলে আল্লাহ তাআলা একে কখনো বরকতময় এবং কখনো পবিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং অবশ্যই আমি যিকরের পর যাবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে} [আল-আম্বিয়া: ১০৫]। বলা হয়: এটি জান্নাতের যমীন, যার উত্তরাধিকারী হবে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে রত জ্ঞানবান ব্যক্তিগণ। আর বলা হয়েছে: এটি দুনিয়ার যমীন, এবং সৎকর্মশীলরা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। আবার বলা হয়েছে: তারা হলো বনী ইসরাঈল। কেউ বলেন: যমীন বলতে এখানে সেই স্থানকে বোঝানো হয়েছে যেখানে মুমিনদের আত্মাসমূহ সমবেত হবে, অর্থাৎ সেখানে পুনরুত্থান ঘটবে। আর বলা হয়: পবিত্র যমীনের উত্তরাধিকার লাভ করবেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো বিনাশ করার চেষ্টা করে? তাদের জন্য সেখানে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করা সমীচীন ছিল না। তাদের জন্য ইহকালে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে রয়েছে মহাশাস্তি।} [আল-বাকারাহ: ১১৪]। এটি অবতীর্ণ হয়েছে রোমানদের দ্বারা মুসলিমদেরকে বাইতুল মাকদিস থেকে বাধা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছেন; ফলে তাদের কেউ কখনো সেখানে প্রবেশ করে না আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া এবং লাঞ্ছনা ও হীনম্মন্যতার পোশাকে আবৃত হওয়া ছাড়া। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০১)
إن الحرم المحرم في السموات السبع بمقداره في الأرض وإن بيت المقدس لمقدس في السموات السبع بمقداره في الأرض.
وقال كعب: إن اللَّه ينظر إلى بيت المقدس كل يوم مرتين، وقال: باب مفتوح من السماء من أبواب الجنة ينزل منه الحنان والرحمة على بيت المقدس كل صباح حتى تقوم الساعة، وقال: ما مثل بيت المقدس عند اللَّه وسائر الأرضين، وللَّه المثل الأعلى، إلا كمثل رجل له مال كثير وفيه كنز وهو أحب ماله إليه فإذا أصبح لم يطلع على شيء من ماله قبل كنزه ذلك، كذلك رب العالمين في كل صباح لا يطلع في شيء من الأرض قبلها يدر عليها حنانه ورحمته ثم يدرها بعده على سائر الأرضين.
عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "من أراد أن ينظر إلى بقعة من بقع الجنة فلينظر إلى بيت المقدس" قال أنس بن مالك رضي الله عنه: إن الجنة لتحن شوقًا إلى بيت المقدس وبيت المقدس من جنة الفردوس والفردوس الأعلى هو ههنا ربوة في الجنة هي أواسط الجنة وأعلاها وأفضلها. وقال: من أتى البيت الحرام
غفر له ورفع له ثماني درجات،
নিশ্চয়ই সপ্তাকাশে সম্মানিত হারাম তার জমিনের সমপরিমাণে বিদ্যমান এবং বায়তুল মাকদিস সপ্তাকাশে পবিত্র হিসেবে জমিনে তার সমপরিমাণে বিদ্যমান।
কাব বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিদিন দুইবার বায়তুল মাকদিসের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। তিনি আরও বলেন: আসমান থেকে জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য হতে একটি উন্মুক্ত দরজা রয়েছে, যেখান থেকে কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে বায়তুল মাকদিসের ওপর স্নেহ ও রহমত বর্ষিত হয়। তিনি বলেন: আল্লাহর নিকট বায়তুল মাকদিস ও অন্যান্য জমিনের উদাহরণ—আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ—ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যার প্রচুর সম্পদ রয়েছে এবং তার মধ্যে একটি গুপ্তধন আছে, যা তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। যখন সে সকাল করে, তখন তার সেই গুপ্তধনের আগে অন্য কোনো সম্পদের দিকে তাকায় না। অনুরূপভাবে, রব্বুল আলামীন প্রতি সকালে জমিনের অন্য কিছুর আগে এর (বায়তুল মাকদিস) দিকে দৃষ্টিপাত করেন; তিনি এর ওপর তাঁর স্নেহ ও রহমত বর্ষণ করেন, অতঃপর এর পরে অন্যান্য জমিনের ওপর তা বর্ষণ করেন।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি জান্নাতের কোনো ভূখণ্ড দেখতে চায়, সে যেন বায়তুল মাকদিসের দিকে তাকায়।" আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নিশ্চয়ই জান্নাত বায়তুল মাকদিসের প্রতি ব্যাকুলভাবে আকাঙ্ক্ষা করে এবং বায়তুল মাকদিস হলো জান্নাতুল ফিরদাউসের অন্তর্ভুক্ত; আর সর্বোচ্চ ফিরদাউস এখানে জান্নাতের একটি উঁচু ভূমি, যা জান্নাতের মধ্যস্থল, এর সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম অংশ। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বায়তুল হারামে আসবে
তাকে ক্ষমা করা হবে এবং তার জন্য আটটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে,
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০২)
ومن أتى مسجد الرسول غفر له ورفع له ست درجات، ومن أتى بيت المقدس غفر له ورفع له أربع درجات قال: من استعفر للمؤمنين والمؤمنات ببيت المقدس في كل يوم خمسا وعشرين مرة؛ وقاه اللَّه المتالف وأدخله في البدلاء، وعن خالد بن سعدان أن حذو بيت المقدس باب من السماء يهبط اللَّه كل يوم منه سبعين ألف ملك يستغفرون لمن يجدونه يصلي فيه قال صلى الله عليه وسلم: "إن للَّه بابا في سماء الدنيا نحو بيت المقدس ينزل منه كل يوم سبعون ألف ملك يستغفرون اللَّه لمن أتى بيت المقدس فصلى فيه".
وعن وهب بن منبه: أهل بيت المقدس جيران اللَّه تعالى وحق على اللَّه -تعالى- أن لا يعذب جيرانه".
وعن أبي جريج عن عطاء أنه قال: لا تقوم الساعة
আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর মসজিদে আসবে তাকে ক্ষমা করা হবে এবং তার জন্য ছয়টি স্তর বৃদ্ধি করা হবে; আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে আসবে তাকে ক্ষমা করা হবে এবং তার জন্য চারটি স্তর বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে প্রতিদিন পঁচিশ বার মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংসাত্মক বিষয়াদি থেকে রক্ষা করবেন এবং তাকে আবদালদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। খালিদ বিন সা'দান থেকে বর্ণিত যে, বায়তুল মাকদিসের সমান্তরালে আসমানে একটি দরজা রয়েছে যা দিয়ে আল্লাহ প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা অবতরণ করান; তারা সেখানে যাকে সালাত আদায় করতে দেখেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়ার আসমানে বায়তুল মাকদিসের অভিমুখে আল্লাহর একটি দরজা রয়েছে যেখান থেকে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা অবতরণ করেন; তারা বায়তুল মাকদিসে আগত ও সেখানে সালাত আদায়কারীর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।"
ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত: বায়তুল মাকদিসের অধিবাসীগণ মহান আল্লাহর প্রতিবেশী এবং মহান আল্লাহর ওপর এটি হক যে, তিনি তাঁর প্রতিবেশীদের আজাব দেবেন না।
আবু জুরাইজ থেকে আতা হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আখসা বিফাদাইলিল মাসজিদিল আকসা - তাহকীক আহমদ রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
حتى يسوق خيار عباده إلى بيت المقدس فيسكنهم اللَّه إياها. وقال عبد اللَّه بن عمر: بيت المقدس بنته الأنبياء -عليهم الصلاة والسلام- وعمرته، وما فيه موضع شبر إلا وقد سجد عليه ملك أو نبي، فلعل جبهتك أن توافي جبهة ملك أو نبي، وقال مقاتل بن سليمان: ما فيه موضع شبر إلا وقد صلى عليه نبي مرسل، أو قام عليه ملك مقرب.
وذكر أن في كل ليلة ينزل سبعون ألف ملك إلى مسجد بيت المقدس، يهللون اللَّه ويكبرونه ويسبحونه ويحمدونه ويقدسونه ويمجدونه ويعظمونه ولا يعودون إلى أن تقوم الساعة ويروى عن معاذ أنه أتى بيت المقدس فأقام به ثلاثة أيام ولياليها يصوم ويصلي، فلما خرج منه وكان على الشرف ثم أقبل على أصحابه فقال: أما ما مضى من ذنوبكم فقد غفر اللَّه تعالى لكم، فانظروا ما أنتم صانعون ما بقي من أعماركم.
"أقول ولبيت المقدس فضائل جمة نبه على غالبها بطريق العموم والإفراد والاشتراك الحافظ أبو محمد القاسم وذكرها في نسخة معتمدة مقروءة عليه وحكاها عنه في باعث النفوس في الفصل الثاني عشر فقال الحافظ بهاء الدين عن مقاتل وساق ما ذكره من جامع الفضائل وترجم
এমনকি তিনি তাঁর উত্তম বান্দাদের বাইতুল মাকদিসের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবেন এবং আল্লাহ তাদেরকে সেখানে বসবাস করাবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: বাইতুল মাকদিস নবীগণ—তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—নির্মাণ করেছেন এবং একে আবাদ করেছেন। সেখানে এক বিঘত পরিমাণ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা বা নবী সিজদা করেননি। সুতরাং সম্ভবত তোমার কপাল কোনো ফেরেশতা বা নবীর কপালের সাথে মিলিত হবে। মুকাতিল ইবনে সুলাইমান বলেন: সেখানে এক বিঘত পরিমাণ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো প্রেরিত নবী সালাত আদায় করেননি অথবা কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা দণ্ডায়মান হননি।
বর্ণিত আছে যে, প্রতি রাতে সত্তর হাজার ফেরেশতা মসজিদে বাইতুল মাকদিসে অবতরণ করেন, তাঁরা আল্লাহর তাহলীল করেন, তাকবীর পাঠ করেন, তাসবীহ পাঠ করেন, তাহমীদ করেন, তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন, তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করেন। কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আর ফিরে আসেন না। মুয়ায থেকে বর্ণিত যে, তিনি বাইতুল মাকদিসে এসেছিলেন এবং সেখানে তিন দিন ও তিন রাত অবস্থান করে রোজা পালন ও সালাত আদায় করেছিলেন। যখন তিনি সেখান থেকে বের হলেন এবং একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করলেন, তখন তাঁর সঙ্গীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: তোমাদের বিগত গুনাহসমূহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের জীবনের অবশিষ্ট সময়ে তোমরা কী করবে তা ভেবে দেখো।
আমি বলছি, বাইতুল মাকদিসের অসংখ্য ফযীলত রয়েছে, যার অধিকাংশের প্রতি সাধারণ, একক ও সম্মিলিতভাবে হাফিয আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইঙ্গিত করেছেন। তিনি একটি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিতে তা উল্লেখ করেছেন যা তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে। তাঁর থেকে 'বা’ইসুস নুফুস' গ্রন্থের দ্বাদশ পরিচ্ছেদে এটি বর্ণিত হয়েছে। হাফিয বাহাউদ্দিন মুকাতিলের সূত্রে তা উল্লেখ করেছেন এবং 'জামি’উল ফাযায়েল' থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উপস্থাপন করেছেন এবং শিরোনাম প্রদান করেছেন।