(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: -)
كشف المعاني في المتشابه من المثاني القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: كشف المعاني في المتشابه من المثاني
المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكناني الحموي الشافعي، بدر الدين (ت 733 هـ)
تحقيق: الدكتور عبد الجواد خلف
الناشر: دار الوفاء ـ المنصورة
الطبعة: الأولى، 1410 هـ / 1990 م
عدد الصفحات: 389
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাশফুল মাআনি ফি আল-মুতাশাবিহ মিনাল মাছানি বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর
কিতাব: কাশফুল মাআনি ফি আল-মুتاশাবিহ মিনাল মাছানি
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন সা’দুল্লাহ বিন জামাআহ আল-কিনানি আল-হামাউই আশ-শাফিঈ, বদরুদ্দীন (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ডক্টর আব্দুল জাওয়াদ খালাফ
প্রকাশক: দারুল ওয়াফা — মানসুরা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি / ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৯
[কিতাবের নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب: كشف المعانى فى المتشابه من المثانى
المؤلف: شيخ الإسلام / بدر الدين محمد بن إبراهيم بن جماعة الشافعي (المتوفى 733 هـ)
الناشر: دار الوفاء ـ المنصورة
الطبعة الأولى
عام النشر: 1410 هـ / 1990 م
عدد الأجزاء: 1
تحقيق: الدكتور عبد الجواد خلف
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
الكتاب محول عن طريق القارىء الآلى
قام بتحويله الأخ المفضال: أبو عبد الله السنى (جزاه الله خيرا)
وقام الفقير إلى عفو ربه القدير بتصحيحه وتصويبه مع ضيق الوقت
نسأل الله القبول
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থ: কাশফুল মাআনি ফি আল-মুতাশাবিহি মিন আল-মাসানি
লেখক: শাইখুল ইসলাম / বদর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন জামায়া আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল ওয়াফা — মানসুরা
প্রথম সংস্করণ
প্রকাশের বছর: ১৪১০ হিজরি / ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. আব্দুল জাওয়াদ খালাফ
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয় রিডারের মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়েছে
এটি রূপান্তর করেছেন সম্মানিত ভাই: আবু আবদুল্লাহ আস-সুন্নি (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)
এবং সময়ের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও সর্বশক্তিমান রবের ক্ষমার ভিখারি এই অধম এর সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করেছে
আমরা আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়ত প্রার্থনা করছি
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
- ص 27 -
سورة الفاتحة83
بسم الله الرحمن الرحيم
9 - مسألة:
إذا كان المراد بالبسملة الاستعانة به تعالى، فما فائدة إقحام
الاسم بين الباء وبين لفظة الجلالة مع أن الاستعانة به لا بنفس الاسم (1) ؟ .
جوابه:
أن القصد به التعظيم والإجلال لذاته تعالى، ومنه: (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى
و (تبارك اسم ربك) .
لم اختصت البسملة بهذه الأسماء الثلاثة؟
أما الأول: فلأنه اسم المعبود المستحق للعبادة دون غيره،
--------------------------------------------
পৃষ্ঠা ২৭ -
সুরা আল-ফাতিহা৮৩
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
৯ - মাসয়ালা (مسألة):
যদি বিসমিল্লাহ (البسملة) দ্বারা উদ্দেশ্য হয় মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা (الاستعانة) করা, তবে 'বা' এবং মহিমান্বিত শব্দের (لفظ الجلالة) মাঝে
'নাম' (الاسم) শব্দটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সার্থকতা কী? অথচ সাহায্য প্রার্থনা তো তাঁরই সত্তার নিকট করা হয়, খোদ নামের নিকট নয় (১)?
এর উত্তর:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সত্তার মহিমা ও সম্মান প্রদর্শন করা। যেমন: (আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন)
এবং (আপনার রবের নাম বরকতময়)।
বিসমিল্লাহ (البسملة) কেন এই তিনটি নামের সাথে বিশেষিত হলো?
প্রথমটির ক্ষেত্রে: কারণ এটি এমন উপাস্যের (المعبود) নাম যিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
والموجد لعباده. والثاني والثالث: تنبيه على المقتضى لسؤال
الاستعانة به، وهو سعة رحمته لعباده.
3 - مسألة: فما فائدة إعادتها ثانيا بعد الحمد؟
جوابه:
التنبيه على الصفات المقتضية لحمده وشكره وهي: سعة رحمته تعالى لعباده، ولطفه، ورزقه، وأنواع نعمه.
فالأول: توكيد الاستعانة، والثاني: توكيد الشكر.
وهذه الآية
جمعت ما لم يجتمع في آية غيرها، وهو:
أنها آية مستقلة في الفاتحة عند من قال به.
وهي بعض آية في النمل.
وربعها الأول بعض آية في: (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ.
ونصفها الأول بعض آية في هود: (بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا. وربعها الثاني بعض آية فى الرحمن: (الرَّحْمَنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ) ونصفها الثانى آية فى الفاتحة، وبعض آية فى سورة البقرة هو: (الرحمن الرحيم)
এবং তাঁর বান্দাদের অস্তিত্ব দানকারী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় (গুণবাচক নাম) হলো তাঁর নিকট সাহায্য
প্রার্থনা করার যৌক্তিক কারণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, আর তা হলো বান্দাদের প্রতি তাঁর রহমতের প্রশস্ততা।
৩ - মাসআলা: আল-হামদ (প্রশংসা) এর পর দ্বিতীয়বার এটি উল্লেখ করার রহস্য বা উপকারিতা কী?
উত্তর:
আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দাবি রাখে এমন গুণাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা; যা হলো: মহান আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা, তাঁর অনুগ্রহ, রিযিক এবং তাঁর নেয়ামতসমূহের নানাবিধ প্রকার।
অতএব প্রথমটি: সাহায্য প্রার্থনাকে সুদৃঢ়করণ, এবং দ্বিতীয়টি: কৃতজ্ঞতাকে সুদৃঢ়করণ।
আর এই আয়াতটি
এমন সব বিষয় একত্রিত করেছে যা অন্য কোনো আয়াতে একত্রিত হয়নি, তা হলো:
যারা একে স্বতন্ত্র আয়াত মনে করেন, তাদের নিকট এটি সূরা ফাতিহার একটি স্বতন্ত্র আয়াত।
এটি সূরা আন-নামল-এর একটি আয়াতের অংশ।
এর প্রথম চতুর্থাংশ এই আয়াতের একটি অংশ: (পাঠ করুন আপনার রবের নামে...)
এর প্রথম অর্ধাংশ সূরা হুদ-এর একটি আয়াতের অংশ: (আল্লাহর নামেই এর গতি...) এবং এর দ্বিতীয় চতুর্থাংশ সূরা আর-রাহমান-এর একটি আয়াতের অংশ: (পরম করুণাময় (১) তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন) এবং এর দ্বিতীয় অর্ধাংশ সূরা ফাতিহার একটি পূর্ণ আয়াত এবং সূরা আল-বাকারার একটি আয়াতের অংশ, যা হলো: (পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু)।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
5 - مسألة:
(الرحمن الرحيم) ؟
ذكر المفسرون في إيراد الاسمين مع اتحاد المعنى فيهما معاني كثيرة مذكورة في كتب التفسير لم نطل بها هنا.
وأحسن ما يقال مما لم أقف عليه في تفسير: أن (فعلان) صيغة مبالغة في كثرة الشىء وعظمه، والامتلاء منه، ولا يلزم منه الدوام لذلك، كغضبان، وسكران، ونومان. وصيغة (فعيل) لدوام الصفة، ككريم، وظريف.
فكأنه قيل: العظيم الرحمة، الدائمها.
ولذلك: لما تفرد الرب سبحانه بعظم رحمته لم يسم بالرحمن وبالألف واللام) (1) غيره.
ما فائدة تقديم الرحمن على الرحيم؟ .
جوابه:
لما كانت رحمته في الدنيا عامة للمؤمنين والكافرين: قدم
الرحمن) .
وفى الآخرة دائمة لأهل الجنة لا تنقطع قيل: الرحيم ثانيا. ولذلك يقال: رحمن الدنيا، ورحيم الآخرة.
--------------------------------------------
৫ - মাসআলা (مسألة):
(আর-রহমান আর-রাহিম)?
মুফাসসির (مفسر)গণ একই অর্থের অধিকারী এই দুটি নাম একত্রে উল্লেখ করার বিষয়ে অনেক অর্থ বর্ণনা করেছেন যা তাফসীর গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে; আমরা এখানে সেগুলো উল্লেখ করে দীর্ঘ করছি না।
আর আমি ইতিপূর্বে কোনো তাফসীরে পাইনি এমন বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কথা হলো: 'ফালান' (فعلان) ওজনটি কোনো বিষয়ের আধিক্য, বিশালতা এবং তা দ্বারা পরিপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত রূপ (صيغة مبالغة), তবে এটি সেই গুণের স্থায়িত্বকে আবশ্যক করে না; যেমন রাগান্বিত (গদবান - غضبان), মাতাল (সাকরান - سكران) এবং নিদ্রালু (নাওমান - نومان)। পক্ষান্তরে 'ফায়িল' (فعيل) ওজনটি গুণের স্থায়িত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন দয়ালু (কারীম - كريم) এবং সুশ্রী (জারিফ - ظريف)।
যেন বলা হয়েছে: দয়ায় অতি মহান এবং দয়ায় চিরস্থায়ী।
এই কারণেই: যখন প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর দয়ার বিশালতায় অনন্য হলেন, তখন তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে 'আর-রহমান' (আলিফ এবং লাম যুক্ত করে) নামে অভিহিত করা হয়নি।
'আর-রহমান' শব্দটিকে 'আর-রাহিম'-এর আগে আনার উপযোগিতা কী?
এর উত্তর:
যেহেতু দুনিয়াতে তাঁর দয়া মুমিন এবং কাফির সকলের জন্য ব্যাপক, তাই 'আর-রহমান' শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে।
আর পরকালে জান্নাতবাসীদের জন্য তা স্থায়ী হবে এবং কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না, তাই দ্বিতীয়ত 'আর-রাহিম' বলা হয়েছে। এ কারণেই বলা হয়: দুনিয়ার রহমান এবং পরকালের রাহিম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
6 - مسألة:
ما فائدة العدول من الغيبة إلى الخطاب - ص 28 - في قوله تعالى: وإياك نعبد*؟
جوابه: أن الخطاب للحاضر، والاستعانة به أقرب إلى حصول المطلوب من خطاب الغائب والله أعلم.
7 - مسألة:
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ؟ .
جوابه 11) :
كررت إياك المفيدة للحصر إذا تقدمت: للتصريح بتوكيد حصر الإخلاص في العبادة له، وحصر الاستعانة أيضا به تعالى.
8 - مسألة:
كرر لفظ (الصراط) ثانيا؟ .
جوابه 2) :
لبيان وصف سالكيه المنعم عليهم.
فالأول: وصفه بالاستقامة.
والثاني: بوصف سالكيه من السفرة والصديقين.
ولما كان الطريق تقتضي الرفيق نبه تعالى عليه بقوله تعالى:
(وحسن أولئك رفيقا.
6 - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী—"আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি"-তে নামপুরুষ থেকে মধ্যমপুরুষে রূপান্তরের উপকারিতা কী? — পৃষ্ঠা ২৮ —
এর উত্তর: সম্বোধন উপস্থিত সত্তার জন্য হয়; আর উপস্থিতের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা অনুপস্থিতকে সম্বোধন করার চেয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অধিকতর নিকটবর্তী। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
7 - মাসআলা:
আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি?
এর উত্তর ১১) :
সীমাবদ্ধতা নির্দেশক 'ইয়্যাকা' শব্দটি যা বাক্যের শুরুতে এসে সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করে, তা এখানে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে; যাতে ইবাদতে ইখলাস বা একনিষ্ঠতাকে কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করার এবং সাহায্য প্রার্থনাকেও কেবল মহান আল্লাহর জন্য সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তাকিদ বা জোরের সাথে ব্যক্ত হয়।
8 - মাসআলা:
'সিরাত' শব্দটি কি দ্বিতীয়বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে?
এর উত্তর ২) :
এর অনুসারী তথা নিয়ামতপ্রাপ্তদের গুণাবলী বর্ণনা করার জন্য।
প্রথমটি: এর বৈশিষ্ট্য হলো সঠিক ও সরল হওয়া।
দ্বিতীয়টি: এর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা পুণ্যবান বার্তাবাহক ও সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
আর যেহেতু পথের জন্য সঙ্গীর প্রয়োজন হয়, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন:
(আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
9 - مسألة:
(صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ؟ .
جوابه:
تصريح بإضافة النعم إليه دون الغضب، فلذلك لم يقل: غير الذين غضبت عليهم كما قال أنعمت عليهم، وهو من باب الأدب من السائل في حال السؤال ومنه: ببيدك الخير ولم يقل والشر، ونبه على ضده بقوله: إنك على كل شىء قدير*.
سورة البقرة10 - مسألة:
قوله تعالى: لا ريب فيه، وقد أخبر الله بشك الكفار فيه وريبهم في مواضع؟ .
جوابه:
أنه لظهور أدلته ظاهر عند من نظر فيه لا ريب فيه عنده، وريبهم فيه لعدم نظرهم في أدلة صحته وفيه.
9 - মাসআলা:
(তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন?)।
উত্তর:
এখানে অনুগ্রহকে সরাসরি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু ক্রোধকে (গযব) নয়। একারণেই 'যাদের ওপর আপনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন' এরূপ বলা হয়নি, যেভাবে 'যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন' বলা হয়েছে। এটি যাচনা বা প্রার্থনা করার সময় প্রার্থনাকারীর শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। এর একটি উদাহরণ হলো: "আপনার হাতেই সকল কল্যাণ," সেখানে "এবং অকল্যাণ" বলা হয়নি। তবে তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এর বিপরীত বিষয়ের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।"
সূরা আল-বাকারা10 - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "এতে কোনো সন্দেহ নেই," অথচ আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে কাফিরদের এর প্রতি সন্দেহ ও সংশয় পোষণ করার কথা জানিয়েছেন?
উত্তর:
এর উত্তর হলো, এর প্রমাণাদি অত্যন্ত সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে যারা গভীর মনোযোগ সহকারে এটি পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ থাকে না। আর কাফিরদের সন্দেহ মূলত এর সত্যতা (صحة) ও এর মধ্যকার বিষয়াবলির প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ না করার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
11 - مسألة:
قوله تعالى: (يؤمنون بالغيب، وقال تعالى: قل لا يعلم من في السماوات والأرض الغيب إلا الله
(1) ، وما لا يعلم كيف يؤمن به.
جوابه:
أن المراد: الغيب الذي دل البرهان على صحته ووقوعه
كالقيمة مثلا والجنة والنار.
12 - مسألة:
قوله تعالى: (هُدًى لِلْمُتَّقِينَ- الآية؟ وفى لقمان:
هُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُحْسِنِينَ؟ .
جوابه:
لما ذكر هنا مجموع الإيمان، ناسب: (الْمُتَّقِينَ) ، ولما ذكر ثم
الرحمة ناسب: (المحسنين) .
13 - مسألة:
قوله تعالى: سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ وفى يس (وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ)
بواو العطف؟ .
جوابه:
أنه هنا في جملة اسمية، وفى يس جملة مستقلة معطوفة على
جمل فجاءت بواو العطف.
14 - مسألة:
قوله تعالى: خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ -
الآية، وكذلك في جميع القرآن قدم السمع على البصر،
11 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে); আবার আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (বলুন, আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা আল্লাহ ব্যতীত অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না)
(1) , এমতাবস্থায় যা সম্পর্কে জ্ঞান নেই তার প্রতি কীভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা হবে?
এর উত্তর:
নিশ্চয় এখানে উদ্দেশ্য হলো: সেই অদৃশ্য বিষয় (الغيب) যার সত্যতা এবং সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ (البرهان) নির্দেশিত হয়েছে,
যেমন উদাহরণস্বরূপ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম।
12 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক)- আয়াতটি? আবার সূরা লুকমানে রয়েছে:
(সদাচারীদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত)?
এর উত্তর:
যেহেতু এখানে ঈমানের সামগ্রিক রূপ আলোচিত হয়েছে, তাই 'মুত্তাকীন' (المتقين) শব্দটির উল্লেখ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে; আর সেখানে যেহেতু
রহমতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তা 'মুহসিনীন' (المحسنين) শব্দের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়েছে।
13 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: 'তাদের জন্য সমান' এবং সূরা ইয়াসিনে রয়েছে '(আর) তাদের জন্য সমান'
সংযোজক 'ওয়াও' (واو العطف) সহযোগে কেন?
এর উত্তর:
এখানে এটি একটি বিশেষ্যমূলক বাক্যের (جملة اسمية) অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সূরা ইয়াসিনে এটি একটি স্বতন্ত্র বাক্য যা অন্য বাক্যসমূহের ওপর সংযোজিত (معطوفة), তাই সেখানে এটি সংযোজক 'ওয়াও' (واو العطف) সহযোগে এসেছে।
14 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: 'আল্লাহ তাদের অন্তরের ওপর এবং তাদের কানের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন' -
আয়াতটি; অনুরূপভাবে সমগ্র কুরআনে শ্রবণেন্দ্রিয়কে দৃষ্টিশক্তির আগে উল্লেখ করা হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
ما فائدته؟ .
جوابه:
أن السمع أشرف لأن به تثبت النبوات، وأخبار الله تعالى،
وأوامره، ونواهيه، وأدلته، وصفاته تعالى، بخلاف البصر.
وكذلك لم يبعث الله نبيا أصم أصلا، وفى الأنبياء من كان مكفوفا.
15 - مسألة:
قوله تعالى: (مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ)
كرر العامل مع حرف العطف في الإثبات؟ .
جوابه:
أنه حكاية قول المنافق، أنه أكد ذلك نفيا للتهمة عن نفسه
فأكذبهم الله تعالى بقوله: (وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ وأكده بالياء.
16 - مسألة:
كيف طابق قوله تعالى: (وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ وهو نفى الصفة لقوله: (آمَنَّا) وطباقه: وما آمنوا؟ .
جوابه:
أن الفعل المضارع مؤذن بالصفة في قول من يقول، فطابقه
نفي الصفة التي ادعوها بقوله: وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ
17 - مسألة:
قوله تعالى: فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ، ولم يقل خسرت مع أن
এর উপকারিতা কী? .
এর উত্তর:
নিশ্চয়ই শ্রবণেন্দ্রিয় অধিকতর মর্যাদাবান, কারণ এর মাধ্যমেই নবুয়ত, মহান আল্লাহর সংবাদসমূহ,
তাঁর আদেশ, নিষেধ, প্রমাণাদি এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত হয়, যা দর্শনের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
একইভাবে, আল্লাহ তাআলা কখনোই কোনো বধির ব্যক্তিকে নবী হিসেবে পাঠাননি, অথচ নবীদের মধ্যে কেউ কেউ দৃষ্টিহীন ছিলেন।
১৫ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি)
এখানে ইতিবাচক বাক্যে অব্যয়ের সাথে আমলকারী পদের পুনরাবৃত্তি কেন করা হয়েছে? .
এর উত্তর:
এটি মুনাফিকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি; সে নিজের ওপর থেকে অভিযোগ দূর করার জন্য বিষয়টিকে জোরালোভাবে ব্যক্ত করেছে।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন: (অথচ তারা মুমিন নয়) এবং একে জোর প্রদানের মাধ্যমে সুসংহত করেছেন।
১৬ - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (অথচ তারা মুমিন নয়)—যা একটি গুণের নেতিবাচক প্রকাশ, তা কীভাবে তাদের উক্তি (আমরা ঈমান এনেছি)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো? অথচ এর আক্ষরিক বিপরীত তো হওয়া উচিত ছিল: (তারা ঈমান আনেনি)? .
এর উত্তর:
বক্তার উক্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়াটি মূলত গুণেরই জানান দেয়। তাই তারা যে গুণের দাবি করেছিল,
'তারা মুমিন নয়' বাণীর মাধ্যমে সেই গুণের নেতিবাচকতা প্রকাশের দ্বারা তার সাথে সংগতি রক্ষা করা হয়েছে।
১৭ - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি), আর তিনি 'ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে' বলেননি, যদিও...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯০)
الخسران أبلغ في التوبيخ؟ .
جوابه:
أن هم المشترى للتجارة حصول الربح، وسلامة رأس المال،
فبدأ بالأهم فيه وهو نفى الربح، ثم أتى بما يدل على الخسران
بقوله: (وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ * فنفى ما هما المقصودان بالتجارة.
18 - مسألة:
قوله تعالى: كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَشَوْا فِيهِ (1) ، ثم قال:
(ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ) 21) ولم يقل بضيائهم مع ما فيه من بديع المطابقة؟ .
جوابه:
أن الضياء أبلغ من النور ولا يلزم من ذهابه ذهاب النور،
بخلاف عكسه فذهاب النور أبلغ في نفى ذلك.
19 - مسألة:
قوله تعالى: (ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ) جمع الظلمات، وأفرد الرعد والبرق؟ .
جوابه:
أن المقتضى للرعد والبرق واحد وهو: السحاب
والمقتضى للظلمة متعدد وهو: الليل والسحاب والمطر، فجمع لذلك.
20 - مسألة:
قوله تعالى: (فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ، وفى يونس:
ক্ষতি কি তিরস্কারের ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো নয়? .
এর উত্তর:
নিশ্চয়ই ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন এবং মূলধনের নিরাপত্তা,
তাই এতে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা দিয়ে শুরু করা হয়েছে, আর তা হলো মুনাফাকে নাকচ করা; অতঃপর তিনি এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা ক্ষতির দিকটি নির্দেশ করে, যথা তাঁর বাণী:
(এবং তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিল না) * ফলে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে দুটি মূল উদ্দেশ্য থাকে, তিনি তার উভয়টিকেই এখানে নাকচ করে দিয়েছেন।
18 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: “যখনই তা তাদের জন্য আলোকোজ্জ্বল হয়, তারা তাতে চলতে থাকে” (১), অতঃপর তিনি বললেন:
(আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন) ২১) অথচ তিনি তাদের ‘উজ্জ্বলতা’ কেড়ে নেওয়ার কথা বলেননি, যদিও এতে চমৎকার শব্দসামঞ্জস্য বিদ্যমান ছিল? .
এর উত্তর:
নিশ্চয়ই ‘উজ্জ্বলতা’ শব্দটি ‘জ্যোতি’ অপেক্ষা অধিকতর জোরালো এবং উজ্জ্বলতা চলে যাওয়ার দ্বারা জ্যোতি চলে যাওয়া আবশ্যক হয় না,
পক্ষান্তরে এর বিপরীত ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; কারণ জ্যোতি চলে যাওয়ার বিষয়টি অন্ধকার সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো।
19 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (অন্ধকারসমূহ, বজ্র ও বিদ্যুৎ) এখানে ‘অন্ধকার’ শব্দটিকে বহুবচন করা হয়েছে, কিন্তু বজ্র ও বিদ্যুৎ শব্দ দুটিকে একবচন রাখা হয়েছে কেন? .
এর উত্তর:
বজ্র ও বিদ্যুতের কারণ বা উৎস একটিই, আর তা হলো: মেঘমালা
পক্ষান্তরে অন্ধকারের উৎস একাধিক, যথা: রাত, মেঘমালা এবং বৃষ্টি। এই কারণেই অন্ধকার শব্দটিকে বহুবচন করা হয়েছে।
20 - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো), এবং সূরা ইউনুসে:
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯১)
بسورة مثله " وفى هود " بعشر سور مثله "
جوابه:
لما قال هنا: (وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا*
أنه من عند الله فأتوا بسورة من أمى مثله لا يكتب ولا يقرأ.
وفى يونس لما قال: (أم يقولون افتراه قل فأتوا* أنتم
بسورة مثله أي: فأنتم الفصحاء البلغاء فأتوا بسورة مثل القرآن في بلاغته وفصاحته، واقرءوا مثله وبذلك علم الجواب في هود.
21 - مسألة:
قوله تعالى: هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ* وفى النازعات: (ؤالأرض بعد ذلك دحاها (4) ؟
ظاهر آية البقرة، وحم السجدة (5) تقدم خلق الأقوات، وظاهر النازعات تأخره؟ .
جوابه:
أن (ثم) (6) هنا لترتيب الأخبار لا لترتيب الوقوع، ولا يلزم من ترتيب الأخبار ترتيب الوقوع، كقوله تعالى: (ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ.
ولا ريب في تقديم إيتاء موسى الكتاب على وصيته لهذه الأمة.
"তার সদৃশ একটি সূরা" এবং সূরা হুদে "তার সদৃশ দশটি সূরা" প্রসঙ্গে।
এর উত্তর:
যখন তিনি এখানে বলেছেন: (আর যদি তোমরা সে বিষয়ে সন্দেহে থাকো যা আমরা আমাদের বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি*
অর্থাৎ সেটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে—সে বিষয়ে, তবে তার মতো একজন নিরক্ষরের পক্ষ থেকে একটি সূরা নিয়ে আসো, যিনি লিখতে বা পড়তে জানেন না।
আর সূরা ইউনুসে যখন তিনি বলেছেন: (নাকি তারা বলে যে তিনি এটি উদ্ভাবন করেছেন? বলো: তবে তোমরা নিয়ে আসো*
তার সদৃশ একটি সূরা। অর্থাৎ: তোমরা তো অত্যন্ত সাবলীল ও বাগ্মী, তাই অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাবলীলতায় কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং তার ন্যায় পাঠ করো; আর এর মাধ্যমেই সূরা হুদের উত্তরও জানা গেল।
২১ - মাসআলা (مسألة):
আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে তার সব সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং সেগুলোকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন"* আর সূরা আন-নাযিয়াতে: (এবং এর পরে জমিনকে বিস্তৃত করেছেন (৪)?
সূরা বাকারাহ এবং হা-মীম আস-সাজদাহর আয়াতের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) খাদ্য ও জীবনোপকরণ আগে সৃষ্টি হওয়ার কথা নির্দেশ করে, আর সূরা আন-নাযিয়াতের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) তা পরে হওয়ার কথা নির্দেশ করে?
এর উত্তর:
এখানে 'অতঃপর' (ثم) শব্দটি সংবাদের ধারাক্রম (ترتيب الأخبار) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, ঘটনার ধারাক্রম (ترتيب الوقوع) বুঝানোর জন্য নয়। আর সংবাদের ধারাক্রম থেকে ঘটনার বাস্তব ধারাক্রম অপরিহার্য হয় না; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, অতঃপর আমরা মূসাকে কিতাব দান করেছি)।
আর এই উম্মতকে নির্দেশ দেওয়ার অনেক পূর্বেই মূসাকে কিতাব দান করার বিষয়টি সন্দেহাতীত।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯২)
22 - مسألة:
قوله تعالى: " أبى واستكبر وكان من الكافرين " فجاء هنا مجملا وفى بقية السور مفصلا؟ .
جوابه:
لما تقدم التفصيل في السورة المكية أجمله في السورة
المدنية وهي البقرة اكتفاء بما تقدم علمه من التفصيل في
المكيات.
23 - مسألة:
قوله تعالى: وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا وفى الأعراف: (فكلا) بالفاء؟ .
جوابه:
قيل إن السكنى فى البقرة: للإقامة، وفى الأعراف اتخاذ المسكن.
فلما نسب القول إليه تعالى: (وَقُلْنَا يَا آدَمُ) ناسب زيادة الإكرام بالواو الدالة على الجمع بين السكنى والأكل، ولذلك قال فيه: (رغدا) ، وقال: (حَيْثُ شِئْتُمَا) لأنه أعم.
وفى الأعراف: وَيَا آدَمُ، فأتى بالفاء الدالة على ترتيب
22 - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো"—এখানে বিষয়টি সংক্ষেপে (مجملا) এসেছে, আর অবশিষ্ট সূরাগুলোতে বিস্তারিতভাবে (مفصلا) এসেছে কেন? .
উত্তর:
যেহেতু মক্কী সূরাগুলোতে বিস্তারিত বর্ণনা ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে, তাই মাদানী সূরা তথা সূরা আল-বাকারাহতে তা সংক্ষেপে (مجملا) উল্লেখ করা হয়েছে; মক্কী সূরাগুলোতে ইতিপূর্বে যে বিস্তারিত বর্ণনা জানা গেছে, সেটিকে এখানে যথেষ্ট মনে করা হয়েছে।
23 - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তোমরা আহার করো", আর সূরা আল-আরাফে এসেছে: (অতঃপর তোমরা আহার করো) 'ফা' (فاء) যোগে? .
উত্তর:
বলা হয়েছে যে, সূরা আল-বাকারাহতে 'বসবাস' বলতে অবস্থান করা বোঝানো হয়েছে, আর সূরা আল-আরাফে আবাসস্থল গ্রহণ করা বোঝানো হয়েছে।
যখন মহান আল্লাহ বাণীটি নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন: (এবং আমি বললাম হে আদম), তখন 'ওয়াও' (واو) দ্বারা অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, যা বসবাস ও আহারকে একত্রে নির্দেশ করে। এজন্যই সেখানে বলা হয়েছে: (স্বাচ্ছন্দ্যে), এবং বলা হয়েছে: (যেখান থেকে তোমরা চাও); কারণ এটি অধিক ব্যাপক।
আর সূরা আল-আরাফে বলা হয়েছে: "এবং হে আদম", অতঃপর সেখানে 'ফা' (فاء) আনা হয়েছে যা পর্যায়ক্রমিক (ترتيب) নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الأكل على السكنى المأمور باتخاذها، لأن الأكل بعد
الاتخاذ، و (من حَيْثُ) لايعطى عموم معنى (حَيْثُ شِئْتُمَا.
24 - مسألة:
قوله تعالى: فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ (1) ، وفى طه: (فَمَنْ اتبِعَ هُدَايَ) ؟ .
جوابه: يحتمل والله أعلم أن: فعل التي جاء على وزنها: تبع)
لا يلزم منه مخالفة الفعل قبله.
وافتعل التي جاء على وزنها: اتبع) يشعر بتجديد
الفعل.
وبيان قصة آدم هنا لفعله، فجئ ب تَبِعَ هُدَايَ* وفى
طه جاء بعد قوله: (وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا (وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى
فناسب من اتبع، أي: جدد قصد الاتباع.
25 - مسألة:
قوله تعالى: (وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ.
الخطاب ليهود المدينة، وقد قال تعالى لأهل مكة قبلهم " قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ (5) ؟ .
সেই বাসস্থানে আহার করা যাতে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ আহার করা হচ্ছে সেখানে অবস্থানের পরবর্তী বিষয়। আর "যেখান থেকে" (من حيث) শব্দসমষ্টি "যেখান থেকে তোমরা চাও" (حيث شئتما) এর মতো ব্যাপক অর্থ প্রদান করে না।
২৪ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ (تبع) করবে" (১), এবং সূরা ত্ব-হা-তে রয়েছে: "(অতঃপর যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ (اتبع) করবে)"?
এর উত্তর: আল্লাহই ভালো জানেন, সম্ভবত— 'ফাউলা' (فعل) ওজনে আসা 'তাবি'আ' (تبع) ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে
তার পূর্ববর্তী কাজের বিরোধিতা হওয়া আবশ্যক নয়।
আর 'ইফতাআলা' (افتعل) ওজনে আসা 'ইত্তাবা'আ' (اتبع) ক্রিয়াটি কোনো কাজ নতুন করে করার
বোধ জাগ্রত করে।
এখানে আদমের কাহিনী তাঁর কাজের বর্ণনার জন্য এসেছে, তাই "তাবি'আ হুদায়া" (تبع هداي) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আর সূরা
ত্ব-হা-তে এটি এসেছে মহান আল্লাহর এই বাণীর পর: "(এবং আমি তার মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প পাইনি) (আদম তার প্রতিপালকের অবাধ্য হলো, ফলে সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো)"
তাই সেখানে 'ইত্তাবা'আ' (اتبع) শব্দটিই মানানসই হয়েছে, অর্থাৎ: সে অনুসরণের সংকল্প নতুন করে করেছে।
২৫ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী (كافر) হয়ো না।
এই সম্বোধনটি মদিনার ইহুদিদের প্রতি, অথচ মহান আল্লাহ তাদের আগে মক্কাবাসীদের উদ্দেশে বলেছেন "বলুন, হে অস্বীকারকারীগণ (الكافرون)"?
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
جوابه:
أن يكون ضمير [به] راجعا إلى [ما معكم] لأنهم كانوا
يعلمون من كتابهم صفته، وهم أول يهود خوطبوا بالإسلام،
وأول كافر به من أهل الكتاب.
26 - مسألة:
قوله تعالى: (وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا (1)
ما فائدة قليلا، والكثير كذلك؟ .
جوابه:
فيه مزيد الشناعة عليهم لأن من يشترى الخسيس بالنفيس لا معرفة له ولا نظر.
27 - مسألة:
قوله تعالى: (وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ. وقال بعد ذلك: (وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةٌ.
ما فائدة التقديم والتأخير والتعبير بقبول الشفاعة، تارة، والنفع أخرى؟ .
جوابه:
أن الضمير في منها راجع في الأولى إلى (النفس) الأولى،
وفى الثانية راجع إلى (النفس) الثانية. كأنه بين في الآية
এর উত্তর হলো:
তাতে [به] সর্বনামটি (ضمير) [ما معكم] (যা তোমাদের সাথে আছে)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী (راجع); কারণ তারা তাদের কিতাব থেকে তাঁর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানত। তারা ছিল ইয়াহুদীদের মধ্যে প্রথম সম্প্রদায় যাদেরকে ইসলামের দিকে সম্বোধন করা হয়েছিল,
এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে তারা ছিল এতে প্রথম কুফরীকারী (كافر)।
২৬ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ (قليلا) মূল্য গ্রহণ করো না)।
'তুচ্ছ' বলার সার্থকতা কী, যেখানে অধিক মূল্য গ্রহণ করাও নিষিদ্ধ?
এর উত্তর হলো:
এতে তাদের প্রতি অধিকতর নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে; কারণ যে ব্যক্তি মূল্যবান জিনিসের বিনিময়ে নিকৃষ্ট বস্তু ক্রয় করে, তার কোনো বোধশক্তি বা দূরদর্শিতা নেই।
২৭ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার পক্ষ থেকে কোনো কাজে আসবে না এবং তার পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ (شفاعة) গ্রহণ করা হবে না এবং তার থেকে কোনো বিনিময় (عدل) নেওয়া হবে না। পরবর্তীতে অন্য স্থানে বলা হয়েছে: (এবং তার থেকে কোনো বিনিময় (عدل) গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো সুপারিশ (شفاعة) তার উপকারে আসবে না)।
শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ (تقديم وتأخير) করার এবং একবার সুপারিশের 'গ্রহণযোগ্যতা' (قبول) ও অন্যবার 'উপকারিতা' (نفع) শব্দ ব্যবহারের তাৎপর্য কী?
এর উত্তর হলো:
প্রথম আয়াতে 'মিনহা' (منها) এর মধ্যকার সর্বনামটি (ضمير) প্রথম 'সত্তা' (نفس)-এর দিকে ফিরেছে,
আর দ্বিতীয় আয়াতে তা দ্বিতীয় 'সত্তা' (نفس)-এর দিকে ফিরেছে। যেন আয়াতে বিষয়টিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
الأولى أن النفس الشافعة الجازية عن غيرها لا تتقبل منها
شفاعة، ولايؤخذ منها عدل.
ولأن الشافع يقدم الشفاعة على بذل العدل عنها.
ويبين في الآية الثانية أن النفس المطلوبة بجرمها لا يقبل منها
عدل عن نفسها، ولا تنفعها شفاعة شافع فيها، وقد بذل العدل للحاجة إلى الشفاعة عند رده.
فلذلك كله قال في الأولى: لا يقبل منها شفاعة، وفى الثانية: ولا تنفعها شفاعة لأن الشفاعة إنما تقبل من الشافع، وإنما تنفع المشفوع له.
28 - مسألة:
قوله تعالى: (وَإِذْ نَجَّيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ
وفى إبراهيم: (وَيُذَبِّحُونَ بالواو وفى الأعراف: (يقتلون؟ .
جوابه:
أنه جعل (يذبخون - هنا بدلا من يسومونكم، وخص الذبح بالذكر لعظم وقعه عند الأبوين، ولأنه أشد على النفوس. وفى سورة إبراهيم تقدم قوله تعالى: (وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ) فناسب العطف على سوم العذاب للدلالة على أنه نوع آخر، كأنه قال: يعذبونكم ويذبحون، ففيه
প্রথমত, যে সুপারিশকারী (شافعة) সত্তা অন্যের পক্ষ হতে প্রতিদান দিতে চায়, তার পক্ষ হতে কোনো সুপারিশ (شفاعة) কবুল করা হবে না এবং তার নিকট হতে কোনো মুক্তিপণ (عدل) গ্রহণ করা হবে না।
কেননা সুপারিশকারী ব্যক্তি মুক্তিপণ (عدل) প্রদানের চেয়ে সুপারিশকে (شفاعة) অগ্রগণ্য করে থাকে।
দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে সত্তা নিজের অপরাধের জন্য ধৃত, তার নিজের পক্ষ হতে কোনো মুক্তিপণ (عدل) গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ (شفاعة) তার উপকারে আসবে না; যদিও মুক্তিপণ (عدل) প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে সুপারিশের (شفاعة) প্রয়োজন দেখা দিলে সে তা পেশ করেছিল।
এই সকল কারণেই প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: "তার থেকে কোনো সুপারিশ (شفاعة) গ্রহণ করা হবে না", আর দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে: "সুপারিশ (شفاعة) তার কোনো উপকারে আসবে না"। কেননা সুপারিশ (شفاعة) মূলত সুপারিশকারীর পক্ষ হতে কবুল করা হয়, আর যার জন্য সুপারিশ করা হয় সে এর দ্বারা উপকৃত হয়।
২৮ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (আর স্মরণ করো যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের দলবল হতে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট আযাব দিত, তারা জবাই করত...)
আর সূরা ইবরাহিমে 'ওয়াও' সহযোগে (এবং তারা জবাই করত) এবং সূরা আল-আরাফে (তারা হত্যা করত) এসেছে কেন?
এর উত্তর হলো:
এখানে 'জবাই করত' শব্দটিকে 'নিকৃষ্ট আযাব দিত' এর 'বাদাল' (بدل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর জবাইয়ের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পিতা-মাতার হৃদয়ে এর ভয়াবহ প্রভাবের কারণে এবং এটি প্রাণের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হওয়ার কারণে। আর সূরা ইবরাহিমে এর আগে মহান আল্লাহর বাণী: (তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও) বর্ণিত হয়েছে, ফলে সেখানে 'নিকৃষ্ট আযাব' এর ওপর 'আতফ' (عطف) বা সংযোগ করা উপযুক্ত হয়েছে যাতে এটি যে অন্য একটি প্রকারের শাস্তি তা বুঝানো যায়। যেন বলা হয়েছে: তারা তোমাদেরকে আযাব দিত এবং জবাই করত। এতে...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
يعدد أنواع النعم التي. أشير إليها بقوله تعالى: (وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ) .
وقد يقال: آية البقرة والأعراف من كلام الله تعالى لهم فلم
يعدد المحن.
وآية إبراهيم من كلام موسي عليه السلام فعددها.
وقوله تعالى: (يقتلون، هو في تنوع الألفاظ، ويحتمل
أنه لما تعدد هنا ذكر النعم أبدل: (يذتحون) من
(يسومون) ، وفى إبراهيم عطفه ليحصل نوع من تعدد
النعم ليناسب قوله تعالى: اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ.
29 - مسألة:
قوله تعالى: (وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ
وفى الأعراف: (وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ وَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ سَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ.
جوابه:
هي اختلاف ألفاظ الآيتين، وفائدة مناسبتهما مع قصد التنويع في الخطاب.
এখানে ঐ সকল নেয়ামতের প্রকারসমূহ গণনা করা হয়েছে যেগুলোর প্রতি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিন।"
বলা যেতে পারে যে, সূরা আল-বাকারা এবং আল-আরাফ-এর আয়াতসমূহ তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার কালাম (বাণী), তাই তিনি সেখানে
বিপদ-আপদসমূহ (المحن) গণনা করেননি।
আর সূরা ইবরাহিমের আয়াতটি মুসা আলাইহিস সালামের কথা হওয়ার কারণে তিনি তা গণনা করেছেন।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "(তারা) হত্যা করে", এটি মূলত শব্দবৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভাবনা রয়েছে যে, যখন এখানে নেয়ামতের বর্ণনায় বহুত্ব এসেছে, তখন "কষ্ট দেওয়া (يسومون)" এর পরিবর্তে "যবেহ করা (يذبحون)" শব্দটি স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আর সূরা ইবরাহিমে একে সমম্বিত (عطف) করা হয়েছে যাতে নেয়ামতের বহুবিধতা প্রকাশ পায় এবং তা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়: "তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো।"
২৯ - মাসআলা (مسألة):
আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যখন আমি বললাম, তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, আর অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো 'ক্ষমা চাই', আমি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সৎকর্মশীলদের জন্য আমি অবশ্যই বাড়িয়ে দেব।"
আর সূরা আল-আরাফে এসেছে: "আর যখন তাদেরকে বলা হলো, তোমরা এই জনপদে বসবাস করো এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা আহার করো এবং বলো 'ক্ষমা চাই' ও অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ করো, আমি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেব, শীঘ্রই আমি সৎকর্মশীলদের জন্য বাড়িয়ে দেব।"
উত্তর:
এটি মূলত দুই আয়াতের শব্দগত ভিন্নতা, আর এর উপকারিতা হলো সম্বোধনে বৈচিত্র্য আনয়নের সংকল্পের পাশাপাশি উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
أما آية البقرة: فلما افتتح ذكر بنى إسرائيل بذكر نعمه عليهم
بقوله تعالى: يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ
ناسب ذلك نسبة القول إليه، وناسب قوله (رغدا
لأن النعم به أتم.
وناسب تقديم (وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا*، وناسب
(خطاياكم لأنه جمع كثرة، وناسب الواو في (وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ* لدلالتها على الجمع بينهما وناسب الفاء في
(فكلوا) لأن الأكل مترتب على الدخول فناسب مجيئه
بالواو.
وأما آية الأعراف: فافتتحت بما فيه توبيخهم وهو قولهم:
(اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ، ثم اتخاذهم العجل، فناسب
ذلك ة (وإذ قيل لهم*.
وناسب ترك (رغدا* والسكنى بجامع الأكل، فقال: (كلوا*.
وناسب تقديم ذكر مغفرة الخطايا، وترك الواو في (سنريد.
30 - مسألة:
قوله تعالى: (فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا.
وفى الأعراف: فبدل
সুরা আল-বাকারার আয়াতের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো: যখন বনী ইসরাঈলের আলোচনা তাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার সেই নেয়ামতকে স্মরণ করো যা আমি তোমাদের দান করেছি।"
তখন 'বলা' বিষয়টি তাঁর (আল্লাহর) দিকে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁর বাণী "স্বাচ্ছন্দ্যে" (رغدا) উল্লেখ করা সঙ্গত হয়েছে;
কারণ এর মাধ্যমে নেয়ামত পূর্ণতা পায়।
এবং "তোমরা সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ করো" অংশটি আগে উপস্থাপন করা এবং
"তোমাদের পাপসমূহ" (خطاياكم) শব্দটি ব্যবহার করা মানানসই হয়েছে; কারণ এটি আধিক্যবোধক বহুবচন (جمع كثرة)। আর "এবং আমি সৎকর্মশীলদের বাড়িয়ে দেব" অংশে 'ওয়াও' (الواو) ব্যবহার করাও যথাযথ হয়েছে, যাতে তা উভয়ের মধ্যকার একত্রীকরণ (الجمع) নির্দেশ করে। আর
"অতঃপর তোমরা খাও" (فكلوا) অংশে 'ফা' (الفاء) ব্যবহার করা সংগতিপূর্ণ হয়েছে, কারণ আহার করা প্রবেশের পরবর্তী বিষয়, তাই এর আগমন
'ওয়াও' (الواو) সহযোগে হওয়া মানানসই হয়েছে।
আর সুরা আল-আ'রাফের আয়াতের ক্ষেত্রে: এটি তাদের জন্য যা তিরস্কার (توبيخ) স্বরূপ তা দিয়ে শুরু হয়েছে, আর তা হলো তাদের এই উক্তি:
"আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে।" অতঃপর তাদের বাছুর উপাসনা করার বিষয়টি এসেছে। ফলে সেখানে
"আর যখন তাদের বলা হলো" (وإذ قيل لهم) বলা সঙ্গত হয়েছে।
এবং "স্বাচ্ছন্দ্যে" (رغدا) শব্দটি বর্জন করা এবং আহারের সাধারণ প্রসঙ্গে বসবাসের বিষয়টি উল্লেখ করা মানানসই হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন: "তোমরা খাও" (كلوا)।
তদ্রূপ পাপ মার্জনার আলোচনাটি আগে আনা এবং "আমি বাড়িয়ে দেব" অংশে 'ওয়াও' (الواو) বর্জন করাও সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
30 - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর জালিমরা তাদের যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল, তখন আমি সেই জালিমদের ওপর নাজিল করলাম..."
আর সুরা আল-আ'রাফে এসেছে: "অতঃপর পরিবর্তন করল..."
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
الذين ظلموا منهم.
وقال: (فأرسلنا عليهم.
وقال هنا: (يفسقون وفى الأعراف: (يظلمون؟
جوابه:
لما سبق في الأعراف تبعيض الهادين بقوله تعالى: (وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ)
ناسب تبعيض الظالمين منهم
بقوله تعالى: (الذين ظلموا منهم. ولم يتقدم مثله في البقرة.
وقوله: عليهم (1) . ليس فيه تصريح بنجاة غيرهم.
وفى البقرة إشارة إلى سلامة غير (الذين ظلموا) لتصريحه
بالإنزال على المتصفين بالظلم والإرسال أشد وقعا من الإنزال.
فناسب سياق ذكر النعمة ذلك في البقرة.
وختم آية البقرة ب (يفسفون ولا يلزم منه الظلم، والظلم
يلزم منه الفسق، فناسب كل لفظ منهما سياقه.
31 - مسألة:
قوله تعالى: (فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا)
وفى الأعراف: (فانبجست) ؟
جوابه:
قيل إن الانبجاس دون الانفجار، وأن الانفجار أبلغ في كثرة الماء فعلى هذا:
তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছিল।
এবং তিনি বলেছেন: (সুতরাং আমরা তাদের ওপর প্রেরণ করেছি)।
আর এখানে বলা হয়েছে: (তারা পাপাচার করত (يفسقون)) এবং সূরা আল-আ’রাফে বলা হয়েছে: (তারা জুলুম করত (يظلمون))?
এর উত্তর:
যেহেতু সূরা আল-আ’রাফে ইতিপূর্বে আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্যের পথ দেখায়) এর মাধ্যমে পথপ্রদর্শনকারীদের একাংশকে বোঝানো হয়েছে,
তাই তাদের মধ্য থেকে জালেমদেরও একাংশকে উল্লেখ করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে
আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: (তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছিল)। আর সূরা আল-বাকারায় এর আগে এমন কোনো বর্ণনা আসেনি।
এবং তাঁর বাণী: (তাদের ওপর)। এতে অন্যদের নাজাত বা মুক্তির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা নেই।
আর সূরা আল-বাকারায় (যারা জুলুম করেছিল) তারা ব্যতীত অন্যদের নিরাপত্তার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, কারণ সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে
জুলুমের গুণে গুণান্বিতদের ওপর (শাস্তি) নাজিল করা সম্পর্কে। আর প্রেরণ করা (إرسال) শব্দটি নাজিল করা (إنزال) অপেক্ষা অধিক জোরালো প্রভাব রাখে।
ফলে সূরা আল-বাকারায় নিয়ামত বর্ণনার প্রেক্ষাপটের সাথে এটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।
এবং সূরা আল-বাকারার আয়াতটি পাপাচার করত (يفسقون) শব্দ দ্বারা শেষ করা হয়েছে, যা থেকে অবধারিতভাবে জুলুম (ظلم) প্রমাণিত হয় না; কিন্তু জুলুম (ظلم) থেকে
অবধারিতভাবেই পাপাচার (فسق) প্রমাণিত হয়। ফলে প্রতিটি শব্দই নিজ নিজ প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।
31 - মাসআলা (مسألة):
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো (فانفجرت))
এবং সূরা আল-আ’রাফে রয়েছে: (তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ উথলে উঠল (فانبجست))?
এর উত্তর:
বলা হয়েছে যে, উথলে ওঠা (انبجাস) হলো প্রবাহিত হওয়ার (انفجار) তুলনায় কম প্রবাহ, আর পানির আধিক্য বোঝাতে প্রবাহিত হওয়া (انفجار) শব্দটি অধিক অর্থবহ। এর ভিত্তিতে:
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
أن سياق ذكر نعمته اقتضى ذكر الانفجار، ونسبه.
وقيل: هما بمعنى واحد، فيكون من تنويع الألفاظ والفصاحة.
32 - مسألة:
قوله تعالى: (وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ.
وقد قال تعالى: (إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا) ؟
جوابه:
في سورة غافر.
33 - مسألة:
قوله تعالى: (بِغَيْرِ الْحَقِّ) .
وقد قال في آل عمران: (بغير حق)
فعرف هنا ونكر ذلك؟
جوابه:
أن آية البقرة: نزلت في قدماء اليهود بدليل قوله تعالى: ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ.
والمراد " بغير الحق " الموجب للقتل عندهم، بل قتلوهم ظلما وعدوانا.
وآيات آل عمران: في الموجودين زمن النبي صلى الله عليه وسلم.
তাঁর নিয়ামত বর্ণনার প্রেক্ষাপট পানির বিচ্ছুরণ এবং এর আধিক্যের উল্লেখ দাবি করে।
বলা হয়েছে: উভয়টি একই অর্থবোধক, যা মূলত শব্দের বৈচিত্র্য এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (فصاحة) বহিঃপ্রকাশ।
৩২ - মাসআলা (مسألة):
মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তারা নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত।
অথচ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সাহায্য করব)?
এর উত্তর:
সূরা গাফিরে প্রদান করা হয়েছে।
৩৩ - মাসআলা (مسألة):
মহান আল্লাহর বাণী: (অন্যায়ভাবে - নির্দিষ্ট রূপে)।
অথচ সূরা আল ইমরানে বলা হয়েছে: (অন্যায়ভাবে - অনির্দিষ্ট রূপে)
এখানে কেন নির্দিষ্ট (معرفة) এবং সেখানে কেন অনির্দিষ্ট (نكرة) করা হয়েছে?
এর উত্তর:
সূরা বাকারার আয়াতটি প্রাচীন ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "এটি এ কারণে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত।"
আর এখানে "অন্যায়ভাবে" (নির্দিষ্ট রূপে) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তাদের নিকট হত্যার বৈধতা প্রদান করে, অথচ তারা স্রেফ জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে তাদের হত্যা করত।
আর আল ইমরানের আয়াতসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০০)
بدليل قوله تعالى: (فبشرهم بعذاب أليم، وبقوله تعالى: إن الذين يكفرون بآيات الله ويقولون
وبدليل قوله تعالى في الثانية: لن يضروكم إلي أذى -
الآية.
لأنهم كانوا حرصاء على قتل النبى صلى الله عليه وسلم، ولذلك سموه، ولكن الله تعالى. عصمه منهم فجاء منكرا ليكون أعم فتقوى الشناعة عليهم والتوبيخ لهم، لأن قوله تعالى: (بغبر حق) بمعنى قوله ظلما وعدوانا.
وهذا هو جواب من قال: ما فائدة قوله: بغير الحق، أو: بغير حق والأنبياء لايقتلن إلا بغير حق.
34 ـ مسألة:
قوله تعالى: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ (4)
وقال فى المائدة والحج: (والصابئون وَالنَّصَارَى) .
قدم النصارى فى البقرة، وأخرهم فى المائدة والحج
جوابه:
أن التقديم قد يكون بالفضل والشرف، وقد يكون بالزمان.
মহান আল্লাহর বাণীর প্রমাণস্বরূপ: (কাজেই আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন), এবং মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে: (নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে এবং...)
এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীর প্রমাণস্বরূপ: (সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না) -
আয়াত।
কেননা তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যার ব্যাপারে অত্যন্ত উদগ্রীব ছিল এবং এই কারণেই তারা তাঁকে বিষ প্রয়োগ করেছিল, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে তাদের থেকে রক্ষা করেছিলেন। সুতরাং শব্দটি অপরিচিত বা সাধারণ (منكرا) হিসেবে এসেছে যাতে এটি আরও ব্যাপক অর্থবোধক হয় এবং তাদের প্রতি নিন্দা ও তিরস্কার আরও জোরালো হয়। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: 'অন্যায়ভাবে' (بغير حق) কথাটি জুলুম ও শত্রুতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আর এটিই তাদের জন্য উত্তর যারা প্রশ্ন করেন যে: 'ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া' বা 'অন্যায়ভাবে' কথাটির উপযোগিতা কী, যেখানে নবীদেরকে সর্বদা অন্যায়ভাবেই হত্যা করা হয়?
৩৪ — মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, নাসারা এবং সাবিঈনগণ।
এবং তিনি সূরা আল-মায়িদাহ ও সূরা আল-হাজ্জে বলেছেন: (সাবিঈনগণ ও নাসারাগণ)।
সূরা আল-বাকারাহ-তে নাসারাদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সূরা আল-মায়িদাহ ও সূরা আল-হাজ্জে তাদের পরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর উত্তর:
কোনো বিষয় আগে উল্লেখ করা কখনো ফজিলত ও মর্যাদার কারণে হয়, আবার কখনো সময়ের পার্থক্যের কারণে হয়।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০১)
فروعي في البقرة تقديم الشرف بالكتاب، لأن الصابئين لا
كتاب لهم مشهود ولذلك قدم: (الَّذِينَ هَادُوا) في جميع
الآيات. وإن كانت الصابئة متقدمة في الزمان.
وأخر النصارى في بعضها: لأن اليهود موحدون (1)
والنصارى مشركون، ولذلك قرن النصارى فى الحج
بالمجوس والمشركين، فأخرهم لإشراكهم بمن بعدهم في الشرك،
وقدمت الصابئون عليهم في بعض الآيات لتقدم زمانهم
عليهم.
وقول بعض الفقهاء: إن الصابئة فرقة من النصارى باطل لا
أصل له.
35 - مسألة:
ثم قال: مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ.
جوابه:
المراد: من استمر على إيمانه، أو من أظهر منهم الإيمان ولم
يعمل به.
والمراد بمن آمن: من عمل بتكميل إيمانه ومات عليه.
36 - مسألة:
قوله تعالى: (وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ)
সুরা আল-বাকারায় আমার একটি শাখা আলোচনা হলো কিতাব থাকার কারণে শ্রেষ্ঠত্বকে অগ্রাধিকার প্রদান করা, কারণ সাবেরিনদের কোনো
সুপ্রসিদ্ধ কিতাব নেই। এই কারণেই সকল
আয়াতে ‘যারা ইয়াহুদি হয়েছে’ কথাটিকে আগে আনা হয়েছে, যদিও সাবেরিনরা সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী ছিল।
আর কোনো কোনো স্থানে নাসারাদের পরে উল্লেখ করা হয়েছে: কারণ ইয়াহুদিরা ছিল একত্ববাদী (১)
এবং নাসারারা ছিল মুশরিক। এই কারণেই সুরা হজে নাসারাদেরকে মাজুস
ও মুশরিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। শিরকের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে তাদের পরবর্তী মুশরিকদের সাথে বিলম্বিত করা হয়েছে,
আবার কিছু আয়াতে সাবেরিনদের নাসারাদের আগে আনা হয়েছে তাদের সময়ের
প্রাচীনত্বের কারণে।
কোনো কোনো ফকিহর এই উক্তি যে, ‘সাবেরিনরা নাসারাদের একটি দল’—তা বাতিল (باطل) এবং এর কোনো
ভিত্তি নেই (لا أصل له)।
৩৫ - মাসআলা:
তারপর তিনি বলেছেন: ‘যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে’।
উত্তর হলো:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য: যে ব্যক্তি তার ঈমানের ওপর অবিচল ছিল, অথবা তাদের মধ্যে যারা ঈমান প্রকাশ করেছিল কিন্তু সে অনুযায়ী
আমল করেনি।
আর ‘যে ঈমান এনেছে’ বলতে উদ্দেশ্য: যে ব্যক্তি তার ঈমান পূর্ণ করার কাজ করেছে এবং এর ওপরই মৃত্যুবরণ করেছে।
৩৬ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তারা চিন্তিত হবে না)
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০২)
ما فائدة: هم؟
جوابه:
أن العطف على الجملة الاسمية أفصح وأنسب.
37 - مسألة:
قوله تعالى: (وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا)
بعد قوله: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً
والأمر بذبحها بعد القتل، فما فائدة
تقديم الذبح في الذكر؟
جوابه:
أن آيات البقرة سيقت لبيان النعم كما تقدم، فناسب تقدم
ذكر النعمة على ذكر الذنب.
38 - مسألة:
الرب تعالى قادر على إحياء الميت دون البقرة، فما فائدة الأمر بذبحها لذلك؟
جوابه:
قد يكون فائدة الأمر لترتيب الأشياء على أسبابها لما
اقتضته الحكمة القديمة، ولجبر اليتيم صاحب البقرة بما حصل
له من ثمنها.
39 - مسألة:
قوله تعالى: (وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً)
'তারা' সর্বনামটির রহস্য কী?
উত্তর:
বিশেষ্যমূলক বাক্যের ওপর সংযোজন করা অধিকতর প্রাঞ্জল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
37 - মাসয়ালা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং যখন তোমরা একজনকে হত্যা করেছিলে)
তাঁর এই বাণীর পর: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী জবাই করার নির্দেশ দিচ্ছেন"
অথচ জবাইয়ের নির্দেশটি ছিল হত্যার ঘটনার পর। এমতাবস্থায় বর্ণনায় জবাইয়ের প্রসঙ্গটি আগে আনার তাৎপর্য কী?
উত্তর:
সূরা বাকারার আয়াতসমূহ ইতিপূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে, নেয়ামতসমূহ বর্ণনার ধারা অনুযায়ী উপস্থাপিত হয়েছে। তাই অপরাধের বর্ণনার পূর্বে নেয়ামতের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
38 - মাসয়ালা:
মহান প্রতিপালক গাভী ছাড়াই মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম, তবে এই উদ্দেশ্যে সেটি জবাই করার নির্দেশ দেওয়ার রহস্য কী?
উত্তর:
এই নির্দেশের রহস্য হতে পারে কার্যকারণ অনুযায়ী বিষয়াদির বিন্যাস করা—যা চিরন্তন প্রজ্ঞা দাবি করে; এবং গাভীর মালিক এতিম কিশোরটির অভাব পূরণ করা, যা সে উক্ত গাভীর বিক্রয়লব্ধ মূল্যের মাধ্যমে লাভ করেছিল।
39 - মাসয়ালা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তারা বলেছিল: আগুন আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না, কেবল হাতেগোনা কয়েক দিন ছাড়া)
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
وفى آل " عمران:، معدودات.
ومعدودة: جمع كثرة، ومعدودات: جمع قلة؟
جوابه:
أن قائلي ذلك من اليهود فرقتان:
إحداهما قالت: إنما نعذب بالنار سبعة أيام، وهي عدد أيام
. الدنيا.
وقالت فرقة: إنما نعذب أربعين يوما، وهي أيام عبادتهم
العجل.
فآية البقرة يحتمل قصد الفرقة الثانية، وآية آل عمران
يحتمل قصد الفرقة الأولى.
40 - مسألة:
قوله تعالى: (وَلَنْ يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا) ؟
وفى الجمعة: (وَلَا يَتَمَنَّوْنَهُ أَبَدًا)
جوابه:
لما كانت دعواهم أن الدار الآخرة لهم خاصة: أكد نفى ذلك ب [لن] لأنها أبلغ في النفى من [لا] لظهورها في الاستغراق. وفى الجمعة: ادعوا ولاية الله، ولا يلزم من الولاية لله اختصاصهم بثواب الله وجنته فأتى ب [لا] النافية للولاية. وكلاهما مؤكد بالتأبيد، لكن في البقرة أبلغ
এবং সূরা আলে ইমরানে রয়েছে: স্বল্পসংখ্যক (معدودات)।
আর ‘মা‘দুদা’ (معدودة) হলো আধিক্যজ্ঞাপক বহুবচন (جمع كثرة), আর ‘মা‘দুয়াত’ (معدودات) হলো স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন (جمع قلة)?
এর উত্তর:
নিশ্চয়ই ইহুদিদের মধ্যে যারা এটি বলেছিল তারা ছিল দুটি দল:
তাদের একদল বলেছিল: আমাদের কেবল সাত দিন জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেওয়া হবে, যা হলো পৃথিবীর দিনসমূহের মোট সংখ্যার সমান।
আর অন্য দল বলেছিল: আমাদের কেবল চল্লিশ দিন শাস্তি দেওয়া হবে, যা ছিল তাদের গোবৎস পূজার দিনগুলোর সমান।
সুতরাং সূরা বাকারার আয়াতটিতে দ্বিতীয় দলটিকে উদ্দেশ্য করার সম্ভাবনা রয়েছে, আর সূরা আলে ইমরানের আয়াতটিতে প্রথম দলটিকে উদ্দেশ্য করার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪০ - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা কখনোই তা কামনা করবে না)?
এবং সূরা জুমুআতে রয়েছে: (তারা তা কামনা করে না)
এর উত্তর:
যেহেতু তাদের দাবি ছিল যে পরকাল কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট, তাই [لن] যোগে সেই দাবির নেতিবাচকতাকে (نفي) জোরালো করা হয়েছে; কারণ সামগ্রিকতা প্রকাশের ক্ষেত্রে [لا] এর তুলনায় [لن] অধিক শক্তিশালী। আর সূরা জুমুআতে তারা আল্লাহর নৈকট্যের (ولاية) দাবি করেছিল, অথচ আল্লাহর নৈকট্য দাবি করা থেকে আল্লাহর সওয়াব ও জান্নাত কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত হওয়া অপরিহার্য হয় না, তাই সেখানে নৈকট্য অস্বীকারের জন্য নেতিবাচক (النافية) [لا] আনা হয়েছে। যদিও উভয়টিই চিরস্থায়িত্বের (التأبيد) মাধ্যমে জোরালো করা হয়েছে, তবে সূরা বাকারার বর্ণনাটি অধিক জোরালো।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وأيضا: أن آية البقرة وردت بعد ما تقدم منهم من الكفر
والعصيان وقتل الأنبياء: فناسب حرف المبالغة فى النفى
لتمنيهم الموت لما يعلمون ما لهم بعده من العذاب، لأن [لن] أبلغ في النفى عند كثير من أئمة العربية، وآية الجمعة لم
يتقدمها ذلك، جاءت ب [لا] الدالة على مطلق النفى من غير مبالغة.
41 - مسألة:
قوله تعالى: قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى
وفى آل عمران: إِنَّ الهُدَى هُدَى اللَّهِ؟ .
جوابه:
أن المراد بالهدى في البقرة: تحويل القبلة، لأن الآية نزلت
فيه.
والمراد بالهدى في آل عمران: الدين لتقدم قوله تعالى
(لمن تبع دينكم، ومعناه: أن دين الله الإسلام.
42 - مسألة:
قوله تعالى: - وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ
وقال في - القبلة -: مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ
আরও বিষয় হলো: সূরা বাকারার আয়াতটি তাদের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া কুফর
অবাধ্যতা এবং নবীদের হত্যার প্রেক্ষাপটের পরে অবতীর্ণ হয়েছে: তাই নেতিবাচকতার (نفي) ক্ষেত্রে আধিক্য বা জোরালো অর্থবোধক (مبالغة) অব্যয়টি ব্যবহার করা সংগত হয়েছে
তাদের মৃত্যু কামনার বর্ণনায়, যেহেতু তারা জানে মৃত্যুর পরে তাদের জন্য কী আযাব রয়েছে। কারণ আরবি ভাষার অনেক ইমামের নিকট ‘লান’ [لن] নেতিবাচকতার (نفي) ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো; আর সূরা জুমার আয়াতে
পূর্ববর্তী সেই প্রেক্ষাপট নেই, সেখানে আধিক্য (مبالغة) বর্জিত সাধারণ নেতিবাচকতা (نفي) নির্দেশক ‘লা’ [لا] ব্যবহৃত হয়েছে।
৪১ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: “বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর হিদায়াতই হলো প্রকৃত হিদায়াত”
এবং সূরা আলে ইমরানে রয়েছে: “নিশ্চয়ই হিদায়াত হলো আল্লাহর হিদায়াত”?।
এর উত্তর:
সূরা বাকারায় ‘হিদায়াত’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কিবলা পরিবর্তন, কারণ আয়াতটি
এই প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয়েছে।
আর সূরা আলে ইমরানে ‘হিদায়াত’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দীন বা ধর্ম; যেহেতু এর পূর্বে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে:
“(তাদের জন্য) যারা তোমাদের দীন অনুসরণ করে”। এর অর্থ হলো: আল্লাহর মনোনীত দীন হলো ইসলাম।
৪২ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো”
এবং কিবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে বলেছেন: “তোমার নিকট যা এসেছে তার পর”
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
بغير (من) [في الأولى] ؟ .
جوابه:
أن (الذى) أبلغ من (ما) في باب الموصول فى الاستغراق،
فلما تضمنها الآية الأولى اتباع عموم أهوائهم في كل ما كانوا عليه، بدليل: - وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ*
ناسب لفظ (الذى) التي هي أبلغ في بابها من
(ما) .
والآيتان الآخرتان في باب بعض معروف.
أما آية البقرة: ففي اتباعهم في القبلة.
وأما آية الرعد: ففي البعض الذى أنكروه لتقدم قوله: ومن الأحزاب من ينكر بعضه
أي: لئن اتبعت أهواءهم في بعض
* الذي أنكروه.
ودخلت (من) في آية القبلة: لأنه في أمر مؤقت معين
وهو: الصلاة التي نزلت الآية فيها أي: من بعد نسخ القبلة
لأن (من) لابتداء الغاية.
43 - مسألة:
قوله تعالى: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا) .
وفى إبراهيم: (هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا) .
جوابه:
أن البقرة دعي بها عند ترك إسماعيل وهاجر في الوادي قبل
(من) ব্যতীত কেন [প্রথমটিতে]? .
এর উত্তর:
সংযোগকারী বিশেষ্য (اسم الموصول) এর অধ্যায়ে ব্যাপকতা প্রকাশের ক্ষেত্রে 'মা' (ما) এর তুলনায় 'আল্লাজি' (الذي) অধিক প্রাঞ্জল ও অর্থবহ।
যেহেতু প্রথম আয়াতটি তাদের প্রবৃত্তির সামগ্রিক অনুসরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা যে অবস্থার ওপর ছিল তার সবকিছুর ক্ষেত্রে, যার প্রমাণ হলো: - "আর ইহুদি ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন।"*
সেহেতু 'আল্লাজি' (الذي) শব্দটি ব্যবহার করা অধিক সঙ্গত হয়েছে, যা নিজ ক্ষেত্রে 'মা' (ما) এর চেয়ে অধিক অর্থবহ।
আর অপর দুটি আয়াত সুনির্দিষ্ট কিছু অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সূরা বাকারাহর আয়াতটি হলো কিবলার অনুসরণের বিষয়ে।
আর সূরা রা'দ এর আয়াতটি হলো সেই সুনির্দিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে যা তারা অস্বীকার করেছিল, কারণ এর পূর্বে বলা হয়েছে: "এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা এর কিছু অংশ অস্বীকার করে।"
অর্থাৎ: যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির সেই অংশের অনুসরণ করেন
* যা তারা অস্বীকার করেছে।
আর কিবলার আয়াতে (من) শব্দটি যুক্ত হয়েছে কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট ও সাময়িক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,
আর তা হলো সালাত যার প্রেক্ষিতে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ কিবলা রহিত (منسوخ) হওয়ার পর থেকে।
কেননা (من) শব্দটি সীমার প্রারম্ভ (ابتداء الغاية) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪৩ - মাসআলা (مسألة):
মহান আল্লাহর বাণী: (হে আমার রব! আপনি একে একটি নিরাপদ শহর বানান)।
আর সূরা ইবরাহিমে রয়েছে: (এই শহরটিকে নিরাপদ করুন)।
এর উত্তর:
সূরা বাকারাহর এই দোয়াটি করা হয়েছিল যখন ইসমাঈল ও হাজরকে সেই জনমানবহীন উপত্যকায় রেখে আসা হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
بناء مكة وسكنى جرهم فيها.
وآية إبراهيم بعد عوده إليها وبناها (1)
44 - مسألة:
106
قوله تعالى: (رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ) .
وقال في آل عمران والتوبة (من أنفسهم) و (من أنفسكم* (4) ؟ .
جوابه:
أن آية البقرة في سياق دعاء إبراهيم.
وفى آل عمران والتوبة في سياق المنة عليهم، والرحمة
والإشفاق منه عليهم، فناسب ذكر ومن أنفسهم لمزيد
الحنو والمنة، وكذا بالمؤمنين رؤوف رحيم.
45 - مسألة:
قوله تعالى: تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ.
كررها مع قرب العهد بالأولى فما فائدة ذلك؟
মক্কা নির্মাণ এবং সেখানে জুরহুম গোত্রের বসবাস।
এবং ফিরে আসার পর ইব্রাহিম (আ.)-এর নিদর্শন ও সেটি নির্মাণ (১)
৪৪ - মাসআলা:
১০৬
মহান আল্লাহর বাণী: (হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করুন)।
আর সূরা আলে ইমরান ও আত-তাওবায় বলেছেন (তাদের নিজেদের মধ্য থেকে) এবং (তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে)?
এর উত্তর:
সূরা বাকারার আয়াতটি ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়ার প্রেক্ষাপটে এসেছে।
আর সূরা আলে ইমরান ও আত-তাওবায় এটি তাদের প্রতি অনুগ্রহ এবং রহমতের প্রেক্ষাপটে এসেছে,
এবং তাদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের কারণে; তাই অধিকতর মমতা ও অনুগ্রহ প্রকাশের জন্য 'তাদের নিজেদের মধ্য থেকে' উল্লেখ করা সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
তেমনিভাবে বলা হয়েছে, "মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।"
৪৫ - মাসআলা:
মহান আল্লাহর বাণী: "সেটি ছিল এক উম্মত যারা গত হয়ে গেছে।"
প্রথমবার উল্লেখের অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি পুনরায় উল্লেখ করার রহস্য বা ফায়দা কী?
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
جوابه:
أن الأولى: وردت تقريرا لإثبات ما نفوه من دين الإسلام
الذي وصى به إبراهيم ويعقوب، ومعناه أن أولئك أدوا ما
عليهم من التبليغ والوصية فلهم أجر ذلك، ولكم من الوزر
والإثم بما خالفتموهم ما يعود عليكم وباله.
وأما الثانية: فوردت نفيا لما ادعوه من أن إبراهيم ومن ذكر
بعده كانوا هودا أو نصارى.
ومعناه: أن أولئك فازوا بما تدينوا به من دين الإسلام،
وعليكم إثم مخالفتهم، وما اقترفتم عليهم من التهود والتنصر
الذي هم براء منه.
46 - مسألة: -
قوله تعالى: (قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا.
وفى آل عمران: قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا.
جوابه:
لما صدر آية البقرة بقوله: (قُولُوا) وهو خطاب المسلمين ردا على قول أهل الكتاب: (كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى) قال: (إلينا) . ولما صدر آية آل عمران بقوله: قل قال: (علينا) . والفرق بينهما: أن (إلى) ينتهي بها من كل جهة، و (على) لا ينتهى بها إلا من جهة واحدة وهي: العلو.
والقرآن يأتي المسلمين من كل جهة يأتي مبلغه إياهم منها،
তার উত্তর:
প্রথমটি: তারা ইসলাম ধর্মের যে বিষয়গুলো অস্বীকার করেছিল তা সাব্যস্ত করার স্বীকৃতি (تقريرا) স্বরূপ এসেছে
যার অসিয়ত (وصية) ইব্রাহিম ও ইয়াকুব করেছিলেন। এর অর্থ হলো, প্রচার (تبليغ) ও অসিয়ত (وصية)-এর যে দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পিত ছিল তা তাঁরা আঞ্জাম দিয়েছেন, সুতরাং তাঁদের জন্য রয়েছে তার বিনিময়। আর তোমাদের জন্য রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে গুনাহ ও পাপাচার, যার অশুভ পরিণতি তোমাদের ওপরই আপতিত হবে।
আর দ্বিতীয়টি: ইব্রাহিম এবং তাঁর পরবর্তী যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা ইহুদি বা খ্রিস্টান ছিলেন বলে তাদের দাবির খণ্ডন (نفيا) স্বরূপ অবতীর্ণ হয়েছে।
এর অর্থ: তাঁরা ইসলাম ধর্মের যে বিধান পালন করেছিলেন তার মাধ্যমে তাঁরা সফল হয়েছেন,
আর তোমাদের ওপর রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করার পাপ, এবং তাঁদের ওপর ইহুদিবাদ ও খ্রিস্টবাদ আরোপ করার অপবাদ, যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত।
46 - মাসয়ালা (مسألة): -
মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে...)
আর সূরা আলে ইমরানে রয়েছে: (বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে...)
তার উত্তর:
যখন সূরা বাকারার আয়াতটি মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা বলো) দিয়ে শুরু হয়েছে, যা আহলে কিতাবদের (তোমরা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে যাও) এই উক্তির জবাবে মুসলিমদের প্রতি একটি সম্বোধন, তখন 'আমাদের প্রতি' (إلينا) বলা হয়েছে। আর যখন সূরা আলে ইমরানের আয়াতটি 'বলো' শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে, তখন 'আমাদের ওপর' (علينا) বলা হয়েছে। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো: 'অভিমুখে' (إلى) দ্বারা যেকোনো দিক থেকে সমাপ্তি বুঝায়, কিন্তু 'ওপর' (على) দ্বারা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিক থেকেই সমাপ্তি বুঝায় আর তা হলো: উচ্চতা (العلو)।
আর কুরআন মুসলিমদের কাছে প্রতিটি দিক থেকেই পৌঁছে থাকে যেখান থেকে এর প্রচারকারী (مبلغ) তাদের নিকট তা নিয়ে আসেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وإنما أتى النبى صلى الله عليه وسلم من جهة العلو خاصة، فحسن وناسب
قوله: (علينا لقوله: قل مع فضل تنويع الخطاب.
وكذلك أكثرها جاء في جهة النبى صلى الله عليه وسلم ب (على) ، وأكثر ما جاء ق جهة الأمة ب (إلى) .
47 - مسألة:
قوله تعالى. (وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ)
وفى آل عمران: (النَّبِيُّونَ) .
جوابه:
أن آل عمران تقدم فيها: (وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ)
فأغنى عن إعادة إيتائهم ثانيا، ولم يتقدم مثل ذلك فى البقرة، فصرح فيه بإيتائهم ذلك.
48 - مسألة:
قوله تعالى: (فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ)
كرر ذلك مرات. فما فائدته؟
جوابه:
أن الأول: إعلام بنسخ استقبال بيت المقدس له ولأمته. والثانية: لبيان المسبب وهو: اتباع الحق، لقوله تعالى:
এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিশেষ উচ্চমর্যাদার দিক থেকে এসেছে, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও উত্তম হয়েছে।
তাঁর বাণী: 'আমাদের উপর', এটি তাঁর 'বল' বাণীর কারণে, যা সম্বোধনের বৈচিত্র্যময় শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যুক্ত।
তেমনিভাবে, এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধের ক্ষেত্রে 'আলা' অব্যয় যোগে এসেছে এবং উম্মতের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'ইলা' অব্যয় যোগে এসেছে।
৪৭ - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং নবীগণ যা প্রাপ্ত হয়েছেন)
এবং সূরা আল-ইমরানে রয়েছে: (নবীগণ)।
এর উত্তর:
নিশ্চয়ই সূরা আল-ইমরানে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে: (আর যখন আল্লাহ নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি)
ফলে তা দ্বিতীয়বার তাঁদের প্রদানের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে, আর সূরা আল-বাকারায় ইতিপূর্বে এরুপ কোনো বর্ণনা আসেনি, তাই সেখানে স্পষ্টভাবে তাঁদের প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৮ - মাসআলা:
আল্লাহ তাআলার বাণী: (সুতরাং আপনি আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন)
এটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এর উপকারিতা কী?
এর উত্তর:
প্রথমটি হলো: তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য বাইতুল মুকাদ্দাস অভিমুখী হওয়ার বিধান রহিতকরণ (نسخ) সম্পর্কে অবহিত করা। আর দ্বিতীয়টি হলো: কারণ বর্ণনা করা, আর তা হলো সত্যের অনুসরণ; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে:
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
" وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ "
والثالثة: إعلام بالعلة، وهو: (لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ)
وبعموم الحكم في سائر الناس والأقطار والجهات،
وسائر الأزمنة لاحتمال تخيل أن ذلك مخصوص بجهة
المدينة، وما ولاها وهي جهة الجنوب، أو أنه خاص بمن
يشاهد الكعبة، أو قصد بتكراره مزيد التوكيد في استقبال
الكعبة والتمسك به، لأن النسخ في مظان تطرق الشبهة وأبعد على ضعفاء النظر كما قالوا: مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا، فلذلك بالغ في التأكيد بتكرار الأمر.
49 - مسألة:
قوله تعالى: بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا)
وقال: (أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ.
وقال في المائدة: مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا) وقال: (لَا يَعْلَمُونَ) ؟
جوابه:
ما (ألفينا) و (وجدنا) " فمعناهما واحد واختلاف لفظهما للتفنن فى الفصاحة والإعجاز
وأما: (يعقلون) هنا، فلأن سياقه فى اتخاذهم الأصنام والأنداد وعبادتها من دون الله ومحبتها والعقل الصحيح
" এবং নিশ্চয়ই তা সত্য। "
তৃতীয়ত: এটি কারণ (علة) সম্পর্কে অবহিত করা, আর তা হলো: (যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষের কোনো দলিল বা প্রমাণ না থাকে)
এবং অবশিষ্ট সকল মানুষ, ভূখণ্ড ও প্রান্তসমূহের ক্ষেত্রে বিধানের ব্যাপকতা (عموم) বুঝানোর জন্য,
এবং সকল সময়ের জন্য; যেন এই ধারণা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে যে, বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট (مخصوص) দিকের জন্য বিশেষায়িত,
যেমন মদিনা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল যা দক্ষিণ দিক, অথবা এটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট (خاص) যারা সরাসরি
কাবা দেখছে। অথবা এর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কাবার অভিমুখী হওয়া এবং তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব বা তাকিদ (توكيد) প্রদান করা উদ্দেশ্য।
কেননা রহিতকরণ (نسخ) হলো সংশয় (شبهة) সৃষ্টির ক্ষেত্র এবং এটি স্থূলদৃষ্টি সম্পন্নদের বোধগম্য হওয়া সুদূরপরাহত; যেমনটি তারা বলেছিল: 'কিসে তাদের সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল?' এই কারণেই এই নির্দেশের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে গুরুত্বারোপে (تأكيد) আধিক্য আনা হয়েছে।
৪৯ - মাসআলা (مسألة):
আল্লাহ তাআলার বাণী: (বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি)
এবং তিনি বলেছেন: (যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা হেদায়েত (هداية) প্রাপ্তও ছিল না?)
এবং তিনি সূরা আল-মায়িদাহ-তে বলেছেন: (আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যাতে পেয়েছি) এবং সেখানে বলেছেন: (তারা জানত না)?
এর উত্তর:
"আলফাইনা" (ألفينا) এবং "ওয়াজাদনা" (وجدنا) এর অর্থ একই। আর শব্দদ্বয়ের ভিন্নতা অলঙ্কারশাস্ত্রের চমৎকারিত্ব ও অলৌকিকত্বের (إعجاز) জন্য।
আর এখানে "ইউকিলুন" (يعقلون) শব্দটির কারণ হলো—এর প্রেক্ষাপট (سياق) হলো তাদের প্রতিমা ও সমকক্ষ গ্রহণ করা, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত করা এবং তাদের ভালোবাসা। অথচ সঠিক বুদ্ধি (العقل الصحيح)
(খণ্ড: ১)
কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি
(পৃষ্ঠা: ১১০)
يأبى ذلك عند نظره
وأما: (يعلمون) فجاء في سياق التحريم والتحليل بعد ما
افتتح الكلام بقوله تعالى: (لا تحرموا طيبات ما أحل الله
لكم، وفى اتخاذ البحيرة والسائبة والوصيلة والحامى) .
والتحليل والتحريم من باب العلم والنقل.
وأيضا: فلما ختم الآية قبله في المائدة بقوله تعالى:
(ؤأكثرهم لا يعقلون) ختم هذه الآية ب (يعلمون)
وكان الجمع بين نفى العقل والعلم عنهم أبلغ.
50 - مسألة:
قوله تعالي: (وما أهل به لغير الله) .
وفى المائدة والأنعام والنحل: (لغير الله به) ؟
جوابه:
أن آية البقرة وردت في سياق المأكول وحله وحرمته، فكان
تقديم ضميره، وتعلق الفعل به أهم. وآية المائدة وردت بعد
تعظيم شعائر الله وأوامره، والأمر بتقواه، وكذلك آية النحل
গভীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি তা প্রত্যাখ্যান করে।
আর 'তারা জানে' (يعلمون) শব্দটির ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি হারামকরণ (تحريم) ও হালালকরণ (تحليل)-এর প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন আলোচনার সূচনা করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে:
“তোমরা ওইসব পবিত্র বস্তু হারাম করো না যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন
তোমাদের জন্য; আর বাহিরাহ, সায়িবাহ, ওয়াসিলাহ ও হামি গ্রহণের বর্ণনার ক্ষেত্রে।”
আর হালাল ও হারাম সাব্যস্ত করা হলো জ্ঞান ও বর্ণনা (نقل)-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়।
তদুপরি, যখন মহান আল্লাহ সূরা আল-মায়িদার পূর্ববর্তী আয়াতটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ করেছেন:
“তাদের অধিকাংশই অনুধাবন করে না (لا يعقلون)”, তখন এই আয়াতটি ‘তারা জানে’ (يعلمون) শব্দটির মাধ্যমে শেষ করেছেন।
আর তাদের থেকে বুদ্ধি ও জ্ঞান উভয়কে নাকচ করার বিষয়টি একত্রিত করা অধিক প্রাঞ্জল হয়েছে।
৫০ - মাসআলাহ (مسألة):
মহান আল্লাহর বাণী: “এবং যার উপর আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কারো নাম নেওয়া হয়েছে (وما أهل به لغير الله)।”
অথচ সূরা আল-মায়িদা, আল-আনআম ও আন-নাহল-এ এসেছে: “আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যা উৎসর্গ করা হয়েছে (لغير الله به)”?
এর উত্তর হলো:
নিশ্চয়ই সূরা আল-বাকারাহ-এর আয়াতটি ভক্ষ্য বস্তু এবং এর হালাল হওয়া (حل) ও হারাম হওয়ার (حرمة) প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই
এর সর্বনামকে (ضمير) অগ্রবর্তী করা এবং এর সাথে ক্রিয়ার (فعل) সংশ্লিষ্টতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর সূরা আল-মায়িদার আয়াতটি এসেছে
আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মহিমা ও তাঁর নির্দেশাবলি এবং তাকওয়া (تقوى) অবলম্বনের আদেশের পর, অনুরূপভাবে সূরা আন-নাহল-এর আয়াতটিও।