(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
سر الاستغفار عقب الصلوات القسم: الفقه العام
الكتاب: سر الاستغفار عقب الصلوات - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (8)
المؤلف: محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق القاسمي (ت 1332 هـ)
تحقيق وتعليق: محمد بن ناصر العجمي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 34
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436
নামাজের পর ইস্তিগফারের রহস্য বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: নামাজের পর ইস্তিগফারের রহস্য - মসজিদুল হারামে শেষ দশদিনের আলোচনার ধারাবাহিক (৮)
লেখক: মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন বিন মুহাম্মাদ সাঈদ বিন কাসিম আল-হাল্লাক আল-কাসিমি (মৃত্যু ১৩৩২ হিজরি)
তাহকিক ও টীকা: মুহাম্মাদ বিন নাসের আল-আজমি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (8 - 9)
سر الاستغفار عقب الصلوات
ويليه
ثمرة التسارع إلى الحب في الله تعالى وترك التقاطع
تأليف
العلامة الشيخ محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي (1283 - 1332 هـ)
تحقيق وتعليق
محمد بن ناصر العجمي
ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের মজলিস (৮ - ৯)
সালাত পরবর্তী ইস্তিগফারের রহস্য
এবং এর সাথে রয়েছে
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসার দিকে ধাবিত হওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করা বর্জনের সুফল
রচনা
আল্লামা শেখ মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসিমী আদ-দিমাশকী (১২৮৩ - ১৩৩২ হি.)
তাহকিক ও টীকা প্রদান
মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী
হারামাইন শরিফাইনের কিছু নেককার ব্যক্তি ও তাঁদের হিতৈষীদের আর্থিক সহযোগিতায় মুদ্রিত
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২)
حُقوُق الطبع محفُوظة
الطبعة الأولى
1421 هـ - 2000 م
دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২১ হি. - ২০০০ খ্রি.
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
টেলিফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
বৈরুত - লেবানন, ডাকবক্স: ১৪ / ৫৯৫৫
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تصدير المجموعة الثانيةالحمد لله وكفى، والصَّلاة والسَّلام على عباده الذين اصطفى، لا سيَّما سيِّدنا المصطفى، وعلى آله وصحبه أهل العدل والإِنصاف والوفا، ومن على إثرهم -إلى يوم الدِّين- اقتفى.
وبعد:
فقد يسَّر الله تعالى وله الفضل في موسم هذا العام (1425 هـ) التقاء الأحبَّة، وتجدَّدت مجالس الخير في رحاب بيت الله الحرام تجاه الكعبة المُشَرَّفة، وقد عَلَتْ هِمَمُ الإِخوة -بحمد الله وتوفيقه- وزاد نشاطُهم فزادت رسائل هذا الموسم، وتضاعفت، وقد تلقَّى أهلُ العلم وطلبته المجموعة الأُولى من رسائل لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام بالقَبول والتِّرحاب والتَّشجيع، وطلب المزيد من ذلك؛ فالحمدُ لله الذي بنعمته تتم الصَّالحات، وتتنزل البركات، وتزداد الخيرات.
وبفضل من الله تعالى وتوفيق منه عزَّ اسمه تمَّ هذا العام قراءة ومعارضة وإعداد الرَّسائل التالية:
1 - سِرُّ الاستغفار عقب الصَّلوات، للعلَّامة جمال الدِّين القاسمي.
2 - ثمرة التَّسارع إلى الحُبِّ في الله تعالى وترك التَّقاطع، للعلَّامة القاسمي، كلاهما بتحقيق دُرَّة الكويت الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
দ্বিতীয় সংকলনের মুখবন্ধসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর, বিশেষত আমাদের নেতা আল-মুস্তফা (সা.)-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর—যারা ন্যায়পরায়ণতা (العدل), ইনসাফ ও বিশ্বস্ততার অধিকারী—এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন।
অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে এই বছরের (১৪২৫ হিজরি) মৌসুমে প্রিয়জনদের মিলনমেলা সহজ করে দিয়েছেন। পবিত্র কাবার সম্মুখে মসজিদে হারামের প্রাঙ্গণে কল্যাণের মজলিসসমূহ পুনরায় প্রাণবন্ত হয়েছে। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে দ্বীনি ভাইদের হিম্মত সুউচ্চ হয়েছে এবং তাঁদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মৌসুমের রিসালা (পুস্তিকা) সমূহের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদে হারামে শেষ দশকের সাক্ষাতের প্রথম সংকলনটি আলেম সমাজ ও ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা ও সমাদর লাভ করেছে এবং তাঁরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা পায়, বরকত অবতীর্ণ হয় এবং কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর তাওফিকে এই বছর নিম্নোক্ত রিসালাসমূহ পাঠ, পাণ্ডুলিপি তুলনা (معارضة) ও সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে:
১ - সিররুল ইস্তিগফার আকিব আস-সালাওয়াত, রচনায় আল্লামা জামালুদ্দিন আল-কাসিমি।
২ - সামারাতুত তাসাউ' ইলাল হুব্বি ফিল্লাহ ওয়া তারকিত তাকাতি', রচনায় আল্লামা আল-কাসিমি। উভয়টি কুয়েতের রত্ন শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমির তাহকিককৃত।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - الفصيحة العجما في الكلام على حديث: "أحبب حبيبك هوْنًا ما"، للشيخ أحمد البربير البيروتي، بعناية الأُستاذ المتفنن الشيخ رمزي بن سعد الدِّين دمشقية.
4 - تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور، للشيخ أحمد بن عمر المحمصاني البيروتي، بعناية الشيخ رمزي دمشقية.
5 - جزءٌ فيه ذكر حال أبي عبد الله عكرمة مولى عبد الله بن عباس وما قيل فيه، للحافظ عبد العظيم بن عبد القوي المنذري، بعناية راقم هذه السُّطور.
6 - عِقْدُ الجُمانِ في بيان شُعبِ الإِيمانِ، للسيِّد محمَّد مرتضى الزَّبيدي، بعناية كاتب هذه الكلمات.
7 - إرشادُ العباد في فضل الجهاد، للعلَّامة المُسْنِد الشيخ حسن بن إبراهيم البيطار الدِّمشقي، بعناية الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي.
8 - العروس المَجْلِيَّةُ في أسانيد الحديث المُسلسل بالأوَّلية، لصفيِّ الدِّين البخاري، بتحقيق الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي.
9 - إيضاح المَدَارك في الإِفصاح عن العواتك، للسيِّد محمَّد مرتضى الزبيدي، بعناية الأستاذ المربي مساعد بن سالم العبد الجادر.
10 - إخلاص الوِدادِ في صِدْقِ الميعادِ، للعلَّامة مرعي الكرمي الحنبلي، بعناية الشيخ الباحث خالد بن العربي مُدْرِك الحَسني.
11 - ما يفعله الأطبَّاء والدَّاعون بدفع شرِّ الطاعون، للعلَّامة مرعي الكرمي، بعناية الشيخ خالد بن العربي مُدرك الحسني المغربي.
3 - আল-ফাসিহা আল-আজমা ফি আল-কালাম আলা হাদিস: "আহবিব হাবিবা-কা হাওনান মা", শায়খ আহমদ আল-বারবির আল-বাইরুতি রচিত, সুনিপুণ উস্তাদ শায়খ রামজি বিন সাদ আদ-দিন দামাশকিয়া-এর তত্ত্বাবধানে।
4 - তাহজিরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতিল জুর, শায়খ আহমদ বিন উমর আল-মাহমাসানি আল-বাইরুতি রচিত, শায়খ রামজি দামাশকিয়া-এর তত্ত্বাবধানে।
5 - একটি ক্ষুদ্র সংকলন (جزء), যাতে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ ইকরিমার অবস্থা এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে, হাফিজ আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কাবি আল-মুনজিরি রচিত, এই পংক্তিগুলোর লেখকের তত্ত্বাবধানে।
6 - ইকদুদ জুমান ফি বায়ানি শুআব আল-ইমান, সাইয়িদ মুহাম্মদ মুরতাজা আজ-জাবিদি রচিত, এই কথাগুলোর লেখকের তত্ত্বাবধানে।
7 - ইরশাদুল ইবাদ ফি ফাদলিল জিহাদ, আল্লামা মুসনিদ (المسند) শায়খ হাসান বিন ইব্রাহিম আল-বাইতার আদ-দামাশকি রচিত, শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি-এর তত্ত্বাবধানে।
8 - আল-আরুস আল-মাজলিয়াহ ফি আসানিদিল (সনদসমূহ - أسانيد) হাদিস আল-মুসালসাল (পর্যায়ক্রমিক - المسلسل) বিল-আউয়ালিয়াহ, সফিউদ্দিন আল-বুখারি রচিত, শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি-এর সম্পাদনা (تحقيق)-সহ।
9 - ইদাহুল মাদারিক ফিল ইফসাহ আনিল আওয়াতিিক, সাইয়িদ মুহাম্মদ মুরতাজা আজ-জাবিদি রচিত, উস্তাদ ও শিক্ষক মুসাআদ বিন সালিম আল-আবদ আল-জাদির-এর তত্ত্বাবধানে।
10 - ইখলাসুল উইদাদ ফি সিদকিল মিআদ, আল্লামা মারয়ি আল-কারমি আল-হাম্বলি রচিত, গবেষক শায়খ খালিদ বিন আল-আরাবি মুদরিক আল-হাসানি-এর তত্ত্বাবধানে।
11 - মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউন বি-দাফয়ি শাররিত তাউন, আল্লামা মারয়ি আল-কারমি রচিত, শায়খ খালিদ বিন আল-আরাবি মুদরিক আল-হাসানি আল-মাগরিবি-এর তত্ত্বাবধানে।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫)
12 - القول المعروف في فضل المعروف، للعلَّامة مرعي الكرمي أيضًا، بعناية الشيخ محمَّد أبو بكر عبد الله باذيب اليماني.
13 - وصية تقي الدين السُّبكي، لولده محمَّد قاضي الرَّكب وناظره، بعناية مسطِّر هذه الكلمات.
13 - مسائل تحليل الحائض من الإحرام، للقاضي الإمام شرف الدين بن البارزي، بعناية كاتب هذه السطور.
نسأل الله المزيد من فضله، والتوفيق لما يحبه ويرضاه.
كما نسأله تعالى أن يجزي كلَّ مَنْ ساهم في هذا المشروع بقلمه ووقته وعلمه وماله خير الجزاء، وأن يكون في موازين حسناتهم يوم القيامة {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إلا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ}.
اللهُمَّ يسِّر لنا العودة لأمثالها سنين مديدة ومرَّات عديدة، في أمن وإيمان، وسلامة وإسلام، وصحَّة وعافية، والحمد لله رب العالمين.
كتبه
الفقير إلى الله تعالى
نظام محمد صالح يعقوبي
الجمعة 23 رمضان المبارك 1420 هـ
تجاه الكعبة المشرَّفة ببيت الله الحرام
১২ - আল-কাওলুল মা'রুফ ফি ফাদলিল মা'রুফ, এটিও আল্লামা মারয়ি আল-কারমি রচিত, শায়খ মুহাম্মদ আবু বকর আব্দুল্লাহ বাজিব আল-ইয়ামানি-এর তত্ত্বাবধানে।
১৩ - তাক্বিউদ্দিন আস-সুবকির অসিয়তনামা, তাঁর পুত্র কাফেলার বিচারক ও তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদের উদ্দেশ্যে; এই শব্দসমূহ লিপিবদ্ধকারীর তত্ত্বাবধানে।
১৩ - ইহরাম থেকে ঋতুবতী নারীর হালাল হওয়ার মাসআলাসমূহ, রচয়িতা আল-কাজী আল-ইমাম শরাফুদ্দীন ইবনুল বারিজি, এই পংক্তিগুলো লেখকের তত্ত্বাবধানে।
আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহের প্রাচুর্য এবং তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন, সেই কাজে তাওফিক কামনা করি।
সেই সাথে আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রকল্পে তাঁর কলম, সময়, ইলম ও সম্পদ দিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং কিয়ামতের দিন এটিকে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন; {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না (৮৮) কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে}।
হে আল্লাহ, আমাদের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে এবং বারবার নিরাপত্তা ও ঈমান, প্রশান্তি ও ইসলাম এবং সুস্বাস্থ্য ও আফিয়াতের সাথে এই ধরণের নেক আমলে ফিরে আসা সহজ করে দিন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী
নিযাম মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবি
শুক্রবার, ২৩ রমাদানুল মুবারক ১৪২০ হিজরি
বাইতুল্লাহিল হারামে সম্মানিত কাবার সম্মুখে
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمُد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتمَّان الأكملان على سيِّد الخلق وحبيب الحق صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم.
أمَّا بعد:
فمواصلةً لرسائل لقاء العشر الأواخر في الرِّحاب الطَّاهرة بمكة المعظَّمة يأتي إخراج هذه الرسالة والتي تليها لعلَّامة الشَّام الشيخ جمال الدِّين القاسمي رحمه الله تعالى.
فالرسالة الأولى: في الاستغفار عقب الصلوات، وهي ردٌّ على من توهَّم أنه لا يجوز الاستغفار بعد الصلوات من غير دليل ولا برهان، وسياق جملة من الأحاديث الواردة في الاستغفار بعد الصلاة، وسرُّ الاستغفار عقب كثير من أعمال الطاعات والعبادات.
وأما الرسالة الثانية: فهي إيراد طائفة من الأحاديث النبوية العطرة والأقوال المصطفوية الشَّريفة في بيان فضل الحب في الله والبغض فيه، وكراهة التقاطع والتَّشاحن والبغضاء بين المؤمنين.
وصف المخطوطات المعتَمَدة في ذلك:
الرسالتان كلاهما بخط المؤلِّف الفارسي الأنيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ এবং সত্যের প্রিয়ভাজন (রাসূল)-এর ওপর বর্ষিত হোক পরিপূর্ণ ও সুনিপুণ দরুদ ও সালাম—তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপরও।
অতঃপর:
মক্কার পবিত্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত 'লিকা আল-আশর আল-আওয়াখির' (রমজানের শেষ দশকের বৈঠক)-এর ধারাবাহিক পত্রাবলির অংশ হিসেবে শাম-এর প্রখ্যাত আল্লামা শায়খ জামালুদ্দীন আল-কাসিমী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই পুস্তিকাটি এবং এর পরবর্তী পুস্তিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে।
প্রথম পুস্তিকাটি হলো: নামাজের পর ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) প্রসঙ্গে। এটি মূলত তাদের প্রতিবাদে রচিত, যারা কোনো দলিল ও প্রমাণ ছাড়াই ধারণা করে যে নামাজের পর ইস্তিগফার করা বৈধ নয়। এতে নামাজের পর ইস্তিগফার সম্পর্কে বর্ণিত একগুচ্ছ হাদিস সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং বহু নেক আমল ও ইবাদতের পর ইস্তিগফার করার গূঢ় রহস্য বর্ণনা করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় পুস্তিকাটি হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসা ও ঘৃণা পোষণ করার ফজিলত এবং মুমিনদের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ, বিবাদ ও বিদ্বেষের নিন্দা বর্ণনায় একগুচ্ছ সুগন্ধিময় নববী হাদিস ও সম্মানিত মুস্তফায়ী বাণীর সংকলন।
এই কাজে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ:
উভয় পুস্তিকাই লেখকের নিজস্ব চমৎকার ফারসি হস্তাক্ষরে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقع الرسالة الأولى "سرّ الاستغفار" في خمس ورقات، وهي مسودة كما هو ظاهر من التشطيب على بعض السطور فيها، وعدد الأسطر فيها 25 سطرًا، ولم يذكر متى انتهى منها.
أما الرسالة الثانية "ثمرة التسارع" فتقع في خمس ورقات أيضًا، وعدد الأسطر فيها 23 سطرًا، وانتهى من هذه الرسالة في 19 شوَّال سنة 1313 هـ (1).
هذا وقد قمتُ بخدمتهما وتخريج ما فيهما من حديث.
اللَّهُمَّ إنَّا نستغفرك ونتوب إليك، ونسألك صلاح أحوال المسلمين، وأن تجعل الأُلفة والمحبَّة بينهم دائمة، والحمد لله ربّ العالمين.
محمد بن ناصر العجمي
--------------------------------------------
প্রথম রিসালাহ (পুস্তিকা) "সিররুল ইস্তিগফার" পাঁচটি পত্র সম্বলিত। এটি একটি খসড়া (مسودة), যা এর কিছু চরণের ওপর কাটাকাটির চিহ্ন থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এতে চরণের সংখ্যা ২৫টি এবং এটি কখন সমাপ্ত হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই।
পক্ষান্তরে দ্বিতীয় রিসালাহ "সামারাতুত তাসা-রু" ও পাঁচটি পত্র সম্বলিত এবং এতে চরণের সংখ্যা ২৩টি। এই রিসালাহটি ১৯ শাওয়াল ১৩১৩ হিজরি সনে সমাপ্ত হয়েছে (১)।
আমি এই উভয় রিসালাহ-এর খিদমত (সম্পাদনা) করেছি এবং এতে বিদ্যমান হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) সম্পন্ন করেছি।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই নিকট তওবা করছি। আমরা আপনার নিকট মুসলিমদের অবস্থার সংশোধন এবং তাদের মধ্যে স্থায়ী হৃদ্যতা ও ভালোবাসা স্থাপনের প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাম্মদ ইবনে নাসের আল-আজমি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৮)
الورقة الأخيرة من "سر الاستغفار" بخط المصنف
গ্রন্থকারের (المصنف) হস্তলিপিতে "সিররুল ইস্তিগফার"-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৯)
السيد جمال الدِّين القَاسِمي(1282 - 1332 هـ)
لمعالي العلَّامة الكبير محمَّد بك كرد علي
وزير معارف سورية السابق ورئيس المجمع العلمي العربي (1)
تَلِدُ الولَّاداتُ كُلَّ يومٍ أولادًا، وتطوي الأرض أُناسًا لا يحصي عددهم غير خالقهم، ولكن من يؤثرون الأَثَرَ فيذكرون في حياتهم وبعد مماتهم أقل من القليل وأقل منهم في أهل هذا الشرق التعس، وفي أهلِ الإِسلام خاصَّةً؛ وذلك لأن العَالَمَ الإِسلامي بعد أن هبت أعاصير الاختلافات في القرون الوسطى، وحاربت حكومات تلكَ الأيام رجالات المعقولات، وأحرارَ الأفكار ضعف مستوى العقول؛ لأنها لم يطلق لها العنان، وتقاصرت الهمم لأنها لم تجد منشطًا فقل جدًّا النَّابِغُونَ النَّابهون.
وما ننسَ لا نَنْسَ ما وقعَ لشيخِ الإِسلامِ؛ بل عَالِمُ السُّنَّةِ، وإمامِ الأئمةِ، ومجددُ شَبابِ الحنيفيةِ السَّمّحاءِ تقي الدِّين ابن تَيمِيّة فقد عُذِّبَ في القرن الثامن سنينَ كثيرةٍ في سجونِ القاهرة، والإِسكندرية، ودمشق، وناله
--------------------------------------------
সাইয়্যেদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী(১২৮২ - ১৩৩২ হিজরি)
বিশিষ্ট বিজ্ঞ আলেম মুহাম্মাদ বিক কুর্দ আলী-এর লেখনী থেকে
সিরিয়ার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এবং আরব বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি (১)
জননীগণ প্রতিদিন সন্তান প্রসব করছেন এবং পৃথিবী এমন অসংখ্য মানুষকে নিজের ভেতরে সমাহিত করছে যাদের সংখ্যা তাদের স্রষ্টা ব্যতীত আর কেউ জানেন না। কিন্তু যারা কর্মের মাধ্যমে প্রভাব রেখে যান এবং যাদের কথা তাদের জীবনে ও মৃত্যুর পর স্মরণ করা হয়, তারা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। আর এই দুর্ভাগা প্রাচ্যের অধিবাসীদের মধ্যে তাদের সংখ্যা আরও বিরল, বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর মাঝে। এর কারণ হলো, মধ্যযুগে মতভেদের ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ার পর এবং তৎকালীন সরকারগুলো যুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও স্বাধীন চিন্তার অধিকারী মনীষীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে; কেননা মেধা বিকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি এবং উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশের অভাবে মানুষের সংকল্প বা হিম্মত সংকুচিত হয়ে পড়েছিল, ফলে প্রতিভাধর ও সচেতন ব্যক্তিত্বদের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল।
আমরা যা-ই ভুলে যাই না কেন, শায়খুল ইসলাম, বরং সুন্নাহর বিদগ্ধ আলেম, ইমামদের ইমাম এবং উদার দ্বীন-ই-হানিফের প্রাণশক্তির পুনর্জাগরণকারী তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যার সাথে যা ঘটেছিল তা বিস্মৃত হব না। অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে তিনি কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া এবং দামেস্কের কারাগারে দীর্ঘ বছর ধরে নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১০)
من أذى أدعياء العلم في عصره حَسَدًا منهم لمكانته ما يُبْكي تَذكُّرُهُ المُقَلَ ويهون بعده كل اعتداء على العلماء ينالهم من أهل الحشو والجُمود.
ومن قرأ تاريخَ رجالنا في القرون الثلاثَةِ التالية أي في القرن الثامن والتاسع والعاشر أو القرون الثلاثة التي سبقتها أي الخامس والسادس والسابع يعرف أن كثيرين قضوا شهداء أفكارهم، وعُذِّبوا وأوذوا في سبيلها؛ لأنهم رأوا غير ما رآه العلماء الرسميون، ومن مَالأَهم من أرباب الزَّعاماتِ في أيامهم.
ومنذ اضطر مِثْلُ حُجَّةِ الإِسلام أبي حامد الغزالي في القرن الخامس أن يَهْجُرَ العراق تخلصًا من حاسديه الذين لا يعدمون عندما تصبح إرادتهم حُجَّةً للاستعانة بالسلطة الزمنية للنيل مِمَّن أربى عليهم، وإِيقافِ تيار أفكاره إِلى عصر ابن تيمية الذي ناله ما ناله في مصر والشَّام حَتَّى قَضَى في سجنِ دمشق شهيد الإِصلاح، إِلى أن جاء القرن العاشر والذي يليه من القرون، وقد أصبحت العلوم رسميَّة والمدارس صُوريةً، والأوقاف المحبوسة على العلماء مأكولةً مهضومة.
منذ جرى كُلّ هذا والأمة لا تكادُ تفرحُ لها بِعَالمٍ حقيقيٍّ يكسرُ قيودَ التَّقليد، ويقولُ بالأخذ من كُلِّ علمٍ، فَنَدَرَ النُّبوغُ؛ لأَنَّه نَدَرَ أن يلقى العالم ما يُنَشِّطُ عزيمته.
وكان قُصارى من تَسمو به الهمةُ إِلى أخذ نفسه بمذاهب التَّعلم والتعليم أن يقتبسَ من كُتُب الفروع ما لا يخرج به عن مألوف معاصريه.
ومن حكَّم عقله في بعض المسائل كان اتهامه بأمانته من أيسر الأشياء، وطرده من حظيرة الحَظوة لدى العامَّة، ومن سَمّوا أنفسهم بالخاصَّةِ من الأمور المتعارفة.
সমকালীন জ্ঞানপাপীদের পক্ষ থেকে তাঁর মর্যাদার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে যে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তার স্মৃতিচারণ করলে চোখের কোণ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়। এর পরবর্তী সময়ে আলেমদের ওপর হাশবিয়্যা (অসারতা) ও অনমনীয়তায় বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে হওয়া যেকোনো আক্রমণ এর তুলনায় নগণ্য মনে হয়।
যারা পরবর্তী তিন শতাব্দী অর্থাৎ অষ্টম, নবম ও দশম হিজরি অথবা এর পূর্ববর্তী তিন শতাব্দী অর্থাৎ পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরির আমাদের মনীষীদের ইতিহাস পাঠ করেছেন, তারা জানেন যে অনেকেই তাঁদের চিন্তাধারার জন্য শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সেই পথে তাঁদের ওপর নির্যাতন ও কষ্ট চালানো হয়েছিল; কারণ তাঁরা তৎকালীন রাজকীয় আলেমগণ এবং তাঁদের অনুসারী নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন।
পঞ্চম শতাব্দীতে হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজালির মতো ব্যক্তিত্ব যখন তাঁর ঈর্ষান্বিত শত্রুদের হাত থেকে বাঁচতে ইরাক ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন—যাদের ইচ্ছা যখন তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতার আনুকূল্য পেত তখন তারা তাঁর চেয়ে উচ্চমর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিদের হেনস্তা করতে এবং তাঁর চিন্তার স্রোত স্তব্ধ করতে পিছপা হতো না—সেখান থেকে শুরু করে ইবনে তাইমিয়ার যুগ পর্যন্ত, যিনি মিসর ও শামে নানাবিধ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত দামেস্কের কারাগারে সংস্কারের শহীদ (شهيد الإصلاح) হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর দশম শতাব্দী এবং তার পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে জ্ঞানচর্চা কেবল দাপ্তরিক রূপ ধারণ করে, মাদরাসাগুলো হয়ে পড়ে নামসর্বস্ব এবং আলেমদের জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াকফগুলো আত্মসাৎ ও কুক্ষিগত করা হয়।
এসব ঘটার পর থেকে উম্মাহর মাঝে এমন কোনো প্রকৃত আলেমের দেখা মেলা ভার হয়ে পড়েছিল যিনি অন্ধ অনুকরণের (تقليد) শৃঙ্খল ভেঙে দিতে পারেন এবং প্রতিটি শাস্ত্র থেকে জ্ঞান আহরণের আহ্বান জানান। ফলে প্রতিভার বিকাশ বিরল হয়ে পড়ে; কারণ আলেমগণ তাঁদের সংকল্পকে উজ্জীবিত করার মতো পরিবেশ খুব কমই পেতেন।
যাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁদের শিখনে ও শিক্ষাদানের পথে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করত, তাঁদের দৌড় ছিল ফুরু বা শাখা-প্রশাখার গ্রন্থসমূহ থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করা যা তাঁদের সমসাময়িকদের পরিচিত গণ্ডির বাইরে নিয়ে যায় না।
আর কেউ যদি কোনো বিষয়ে তাঁর বিচারবুদ্ধিকে প্রাধান্য দিতেন, তবে তাঁর বিশ্বস্ততা (أمانة) নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল অতি সহজ কাজ। সাধারণ মানুষ এবং যারা নিজেদের 'বিশিষ্টজন' মনে করতেন, তাঁদের সুনজর থেকে তাঁকে বিতাড়িত করাটা একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما التضليل والتكفير والتبديع والتفسيق، فهذا لا يخلو منه عالم يريد أن يخرجَ بالنَّاس من الظلماتِ إِلى النُّورِ.
ولكن إرادة المولى سبحانه قضت بأن لا تحرِمَ هذه الأُمة من أعلام يَصْدَعونَ بالحَقِّ؛ فَيُجددونَ لها أمر دينها، ويستَطيبونَ الأذى في إِنارَةِ العُقولِ والرُّجوعِ بالشَّرعِ إِلى الحَدِّ الذي رَسَمَهُ الشَّارِعُ وأصحابه، والتابعون، والأئمة الهادون المهديُّون.
• ومن هؤلاءِ المُجددينَ نابِغَةُ دمشق فقيدنا العزيز السَّيد جَمالُ الدِّينِ القَاسِمي الذي يعرِفُهُ قُراءُ هذه المجلة (1) بما نشرهُ في سِنِيِّها الماضية من آثارِ عِلْمِهِ وأدبه، فقد قضى حياة طَيبةً، ولم يعقهُ عن الاشتغالِ ما لقيه من تثبيطِ المُثَبِّطينَ في أول أمره، وتنغيصِ الحاسدينَ في أواسط عُمْرِهِ مِمَّن لا يخلو منهم مصر ولا عصر، خصوصًا في بلادٍ يستمد منها كل شيء من ولاة أمرها.
• نشأ السَّيد القاسمي في بيتِ فَضْلٍ وفضيلة، وكان والدهُ وَجَدُّهُ من المعروفين بالأدب، ومكارمِ الأخلاق.
وهذا من النَّوادرِ في عصر لا يكبر رجاله في العيون إِلَّا على مقدار عدهم في صفوف أهل الرَّسمِ، وفي دور قل أن يُنجبَ فيه ولدٌ لنجيبٍ فصم أوتصامَمَ منذ أوائل سِنِّ التَّحصيلِ عن كُلِّ ما يقف عثرةً في سبيل الطَّالِبِ، فكانَ منذ وعى على نفسه يعملُ على تهذيبها، ولا يكادُ يمضي عليه يوم لم يستفد منه فائدة، ولم يقيد شاردةً، فظهرت عليه مخايلُ النُّبُوغِ
--------------------------------------------
ভ্রান্ত সাব্যস্ত করা (التضليل), কাফির ঘোষণা করা (التكفير), বিদআতি আখ্যা দেওয়া (التبديع) এবং ফাসিক সাব্যস্ত করা (التفسيق) — এই বিষয়গুলো থেকে এমন কোনো আলেমই রেহাই পান না যিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসতে চান।
কিন্তু মহান রবের ইচ্ছা এটিই নির্ধারিত করেছে যে, তিনি এই উম্মতকে এমন প্রথিতযশা ব্যক্তিদের থেকে বঞ্চিত করবেন না যারা সত্যকে উচ্চকিত করেন; ফলে তারা উম্মতের জন্য দ্বীনের বিষয়াবলিকে সংস্কার করেন এবং বুদ্ধিদীপ্তকরণ ও শরীয়তকে সেই সীমারেখায় ফিরিয়ে নেওয়ার পথে কষ্ট সহ্য করাকে শ্রেয় মনে করেন, যে সীমারেখা শরীয়ত প্রণেতা, তাঁর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতকারী ইমামগণ অঙ্কন করেছেন।
• এই সংস্কারকদের (المجددين) অন্তর্ভুক্ত হলেন দামেস্কের সেই অনন্য প্রতিভা, আমাদের প্রিয় মরহুম সাইয়্যেদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী, যাঁকে এই পত্রিকার পাঠকরা (১) বিগত বছরগুলোতে প্রকাশিত তাঁর ইলম ও সাহিত্যের নিদর্শনের মাধ্যমে চেনেন। তিনি এক পবিত্র জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে নিরুৎসাহীদের বাধা এবং মধ্যবয়সে হিংসুকদের উৎপীড়ন তাঁকে জ্ঞানচর্চা থেকে বিরত রাখতে পারেনি; এমন লোক থেকে কোনো দেশ বা কোনো যুগই মুক্ত নয়, বিশেষ করে এমন সব জনপদে যেখানে সবকিছুই রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
• সাইয়্যেদ আল-কাসেমী এক জ্ঞান ও ফযীলতপূর্ণ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা ও পিতামহ আদব এবং সচ্চরিত্রের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
এটি এমন এক যুগে বিরল ঘটনা যেখানে কোনো ব্যক্তি মানুষের চোখে বড় হয়ে ওঠেন না যতক্ষণ না তাকে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার মাপকাঠিতে বিচার করা হয়। এমন এক যুগে যেখানে একজন গুণী ব্যক্তির ঘরে গুণী সন্তান জন্ম নেওয়া দুষ্কর, তিনি জ্ঞান অর্জনের শুরুর সময় থেকেই সেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিমুখ রেখেছিলেন যা একজন শিক্ষার্থীর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যখন থেকেই তিনি আত্মসচেতন হয়েছেন, তখন থেকেই নিজের চরিত্র সংশোধনে সচেষ্ট ছিলেন। এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যাতে তিনি কোনো নতুন তথ্য থেকে উপকৃত হননি কিংবা কোনো দুর্লভ বিষয় লিপিবদ্ধ করেননি। ফলে তাঁর মধ্যে প্রতিভার লক্ষণসমূহ ফুটে উঠেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولمَّا يبلغِ العشرين، فما بالُكَ به وقد نيف على الأربعين وقارب أن يتم العقد الخمسين؟!
جِماعُ الأسباب التي نَجح بها فقيدنا طهارةُ نفسه من المطامع الأشعبية، وشغفه بالعلم للذته، ونفعه في إِنارة القلوب، واعتقاد أنَّه منج في الدُّنيا والآخرة، فهو لم يجعل الدِّين سُلَّمًا إِلى الدُنيا وجسرًا مؤقتًا يجتاز عليه لحيازة مظهر خلَّاب، والتَّصدر في المجالس بمفاخر الهندام، وبرَّاق الثياب، بل فرَّغ قلبه ووقته للعمل النافع فَبُورِكَ له بساعاتِ عمره القصير ويا للأسف!
ولو عددنا ما كتبه من مصنفات وقسناه بالنسبة لهذا العصر الذي أضحت فيه بضاعة العلم مُزجاة بائرة لما قل عن اللِّحاق بالمكثيرين من التأليف في المتأخرين أمثال السُّيوطي، وابن السُّبكي، وأضرابهما مع ملاحظة ما بين العصور والبيئات من الفوارق.
• تذرَّع الفقيد بعامة ذرائع النفع لهذه الأُمة، فكان إِمامًا في تآليفه الوفيرة، إِمامًا في دروسه الكثيرة، إِمامًا في محرابه ومنبره ومصلاه، رأسًا في مضاءِ العزيمة، رأْسًا في العِفَّةِ، وهذه الصفة هي السِّرُّ الأَعظم الذي دار عليه محور نبوغه، لأَنه لو صانع طمعًا في حطام الدُّنيا لما خرج عن صفوف أهل محيطه، ولكان عالمًا وسطًا، يشتغل بالتافهات ويعيش في تقية ويموت كذلك.
• كان أجزل الله ثوابه إِذا لقيه المُماحك في أحد المجامع عرضًا أو غشيه في درسه وبيته ناقدًا أو ناقِمًا علَّمه من حيث لا يشعر، وهداهُ إِلى المحبة بلين القول، فإِذا أيقن أنَّه من المكابرين المموهين أعرض عنه وقال
অথচ তিনি যখন বিশ বছর বয়সেও উপনীত হননি [তখনই এমন ছিলেন], তাহলে তাঁর সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে যখন তিনি চল্লিশ অতিক্রম করেছেন এবং পঞ্চাশতম দশকের সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন?!
আমাদের এই মরহুম যে সকল কারণে সফল হয়েছিলেন তার সারকথা হলো—অশআবী (লোভী) লালসা থেকে তাঁর নফসের পবিত্রতা, ইলমের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও এর আস্বাদন, অন্তরসমূহকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে এর উপকারিতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এটিই নাজাতের মাধ্যম হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি দ্বীনকে দুনিয়া হাসিলের সিঁড়ি বানাননি এবং কোনো চাকচিক্যময় রূপ ধারণ কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক ও বাহ্যিক সাজসজ্জার মাধ্যমে মজলিসসমূহে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের জন্য একে অস্থায়ী সেতু হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং তিনি তাঁর অন্তর ও সময়কে কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত করেছিলেন; ফলে তাঁর ক্ষণস্থায়ী জীবনের সময়গুলোতে বরকত দান করা হয়েছিল। কিন্তু আফসোস!
আমরা যদি তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলো গণনা করি এবং বর্তমান যুগের সাথে তুলনা করি—যেখানে ইলমের পুঁজি তুচ্ছ ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে—তবে তা সুয়ূতী, ইবনে সুবকী এবং তাঁদের ন্যায় পরবর্তী যুগের অধিক গ্রন্থপ্রণেতা (المكثرون) মনীষীদের কাতারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মোটেও কম হবে না; তবে এক্ষেত্রে যুগ ও পরিবেশের পার্থক্যগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।
• এই মরহুম উম্মাহর উপকারের সকল মাধ্যম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রচুর রচনাবলীতে ছিলেন একজন ইমাম (إمام), তাঁর অসংখ্য দরসে ছিলেন ইমাম (إمام), তাঁর মেহরাব, মিম্বর ও সালাতের স্থানেও ছিলেন ইমাম (إمام)। তিনি ছিলেন সুদৃঢ় সংকল্পের অগ্রপথিক এবং চারিত্রিক শুভ্রতায় অনন্য। আর এই গুণটিই ছিল তাঁর প্রতিভার মূল রহস্য; কারণ তিনি যদি পার্থিব তুচ্ছ মোহে পড়ে আপস করতেন, তবে তিনি তাঁর পরিবেশের সাধারণ মানুষদের কাতার থেকে বের হতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে তিনি হতেন একজন সাধারণ মানের আলিম, যিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং তাকিয়া (تقية) বা সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকতেন ও এভাবেই মৃত্যুবরণ করতেন।
• আল্লাহ তাঁর প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দিন। কোনো মজলিসে হঠাৎ কোনো বিতর্কপ্রিয় ব্যক্তির সাথে তাঁর দেখা হলে, কিংবা তাঁর দরসে বা বাড়িতে কোনো সমালোচক (ناقد) বা বিদ্বেষী ব্যক্তি উপস্থিত হলে, তিনি তাকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন যে সে টেরও পেত না। তিনি কোমল কথার মাধ্যমে তাকে ভালোবাসার পথে নিয়ে আসতেন। এরপর যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে লোকটি হঠকারী ও সত্য গোপনকারী (المموهون), তখন তিনি তাকে এড়িয়ে চলতেন এবং বলতেন—
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سلامًا، ولذلك لم يلق ما لقيه أشداء العلماء والفلاسفة في العصور الماضية من الإِرهاق والإِعنات أمثال ابن حزم الأندلسي، والشِّهاب السهروردي، لأنَّه كان يتلطف في المُناظرة وإقناع المخالف فإِذا رأى المناقش بمعزل عن الفهم سكت عنه.
نعم كان مثال التلطف في بث الفكر فلم يصك به -كما قيل- معارضه صك الجَنْدَلِ ويُنشقه متلقنه انتشاق الخَرْدَلِ.
• قام الأستاذ في دورٍ زهد النَّاس فيه في العلوم الدينية إلَّا قليلًا، فأعاد إِليها في هذه الدِّيار بنور عقله شيئًا من بهائها السابق، ولقد كان يجتمع به المُوافق والمُخالف فما كانا يصدران عنه إِلَّا معجبين بعقله مقرين بفضله معترفين بقصورٍ كثير حتى من المشاهير عن إدراك شأوه: يخلب الألباب، ويستميلُ العقول، فكأنَّه خلق من معدن اللُّطف ورقَّةِ الشمائل.
لم تجد الغلظة سبيلًا إِلى قلبه، ولا الفظاظة أثرًا في كلامه وقلمه، ولا عجب إِذا كثر في آخر أمره أنصاره، وعشقته النُّفوس فأكبرت الخطب فيه. جاء في الأثر: لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلَّا من كان فقيهًا فيما يأمر به فقيهًا فيما ينهى عنه رفيقًا فيما يأمر به رفيقًا فيما ينهى عنه حليمًا فيما يأمر به حليمًا فيما ينهى عنه.
دخل عبد اللطيف البغدادي فيلسوف الإِسلام على القاضي الفاضل فقال: رأيت شيخًا ضئيلًا كله رأس وقلب، وهو يكتب ويُملي على اثنين ووجهه وشفتاه تلعب ألوان الحركات لقوة حرصه في إخراج الكلام، وكأنَّهُ يكتب بجملة أعضائه.
وهذا التَّعريفُ يصدقُ من أكثر وجوهه على الشَّيخ القَاسمي؛ فإِنَّهُ
তিনি শান্তিতে ছিলেন, আর একারণেই তিনি অতীত যুগের কঠোর আলেম ও দার্শনিকদের মতো—যেমন ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি এবং শিহাব আল-সুহরাওয়ার্দি—ক্লান্তি ও লাঞ্ছনার সম্মুখীন হননি। কারণ তিনি বিতর্কে (مناظرة) অত্যন্ত নম্র ছিলেন এবং বিরোধীদের বোঝাতে পারদর্শী ছিলেন। যখন তিনি দেখতেন যে কোনো আলোচক বোঝার ক্ষমতা থেকে দূরে আছেন, তখন তিনি চুপ হয়ে যেতেন।
হ্যাঁ, তিনি চিন্তা-ভাবনা প্রচারের ক্ষেত্রে নম্রতার এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন। যেমনটি বলা হয়েছে, তিনি তার বিরুদ্ধবাদীকে পাথরের আঘাতের মতো আঘাত করতেন না, কিংবা তার শিক্ষার্থীদের নাকে সরিষার ঝাঁজের মতো কটুতা দিতেন না।
ওস্তাদ এমন এক যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন সামান্য কিছু লোক ছাড়া মানুষ দ্বীনি ইলম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তিনি তার বুদ্ধিবৃত্তিক আলো দিয়ে এই ভূখণ্ডে দ্বীনি ইলমের হৃত গৌরবের কিয়দাংশ ফিরিয়ে আনেন। তার কাছে একমত পোষণকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারী—উভয়ই সমবেত হতো। তারা যখন তার নিকট থেকে বিদায় নিত, তখন তারা তার বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেই বিদায় নিত। এমনকি খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও তার সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করতেন। তিনি মানুষের মন জয় করতেন এবং বুদ্ধিকে আকর্ষিত করতেন; মনে হতো যেন তাকে নম্রতা ও কোমল চরিত্রের উপাদান দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছে।
তার হৃদয়ে কঠোরতার কোনো স্থান ছিল না, আর তার কথা ও লেখনীতে রুক্ষতার কোনো ছাপ ছিল না। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, শেষ জীবনে তার অনুসারী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মানুষ তাকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিল, ফলে তার মৃত্যুতে বড় শোক নেমে এসেছিল। আসারে (أثر) বর্ণিত আছে: “সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ কেবল সেই ব্যক্তিই করবে, যে বিষয়ে সে আদেশ দিচ্ছে সে বিষয়ে সে ফকিহ (فقيه), যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়েও সে ফকিহ (فقيه); যা কিছু সে আদেশ করছে তাতে সে কোমল (رفيق), যা কিছু সে নিষেধ করছে তাতেও সে কোমল (رفيق); যা কিছু সে আদেশ করছে তাতে সে ধৈর্যশীল (حليم) এবং যা কিছু সে নিষেধ করছে তাতেও সে ধৈর্যশীল (حليم)।”
ইসলামের দার্শনিক আব্দুল লতিফ আল-বাগদাদি কাজী আল-ফাদিলের কাছে প্রবেশ করে বললেন: ‘আমি একজন শীর্ণকায় শায়খকে দেখেছি যার পুরো সত্তাই যেন মস্তিষ্ক আর হৃদয়ে ঘেরা। তিনি লিখছিলেন এবং একই সাথে দুইজনকে শ্রুতিলিখনের (إملاء) নির্দেশ দিচ্ছিলেন। কথাগুলো সঠিকভাবে প্রকাশের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁটে নানা ভঙ্গি ফুটে উঠছিল; মনে হচ্ছিল তিনি যেন তার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে লিখছেন।’
এই সংজ্ঞা বা পরিচিতিটি অধিকাংশ দিক থেকেই শায়খ কাসিমির ক্ষেত্রে যথার্থ; কেননা তিনি...
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كان نحيلَ الجِسْمِ، كبيرَ الرُّوحِ، ولو تهيأ لجمال الدِّين مثلَ صلاح الدِّين لسرت أفكاره أكثر مِمَا سَرَت، وراقت أسفاره أكثر مِمَّا وُفِّقَ إِليه؛ ولكن إِذا عَظُمَ المطلوبُ قَلَّ المُسَاعِدُ.
وقديمَا زكا غَرْسُ العلم في الشَّرْقِ في ظل الملوكِ والأُمراء، واليوم يزكو في الغرب في حمى الجامعات والمجامع والجمعيات، والعلم مد كان محتاج إِلى العلم.
• بَرَزَ الفقيدُ الرَّاحِلُ وأيّ تبريزٍ في علوم الشَّرع وما إِليها، ولم يَفُتْهُ النَّظَرُ في علوم المدنية، فَألَمَّ بأَكثرها إِلمامًا كافيًا؛ لتكونَ له عونًا على فهم أسرارِ الشَّريعة.
أَمَا وقد جمعَ الفضيلتين، فلا تَجِدُ لكلامه مسحةً من الجُمودِ المعهود لكثيرين ممن يقتصرونَ على العلم والعلمين، ويعدون ما عداهما لغوًا.
فهو عَالِمٌ دينيٌّ كَامِلٌ؛ ولكنه كان يقرأ العلوم المدنية، ويطالع صُحُفَها وَمَجَلَّاتِها، وكُتُبِها الحديثة كما يطالعها المنقطعون إِلى هذه العلوم وزيادة، ولا ينكر شيئًا يقال له عِلْمٌ أو فن، ولذلك لم يَمُجَّهُ العصريون ولا غيرهم.
• ربما قال من لم يعرف أن هذا كلامُ صدِيقٍ فُجِعَ بصديقٍ تسلسلت الصَّداقةُ بين بيتيهما منذ نحو ثمانين عامًا، وعينُ الحُبِّ رمداء، أما أنا فلا أُحِيلُ المعترض إِلَّا على الرُّجوع إِلى كُتُب الشَّيخ وقراءة بعض ما طبع منها، وتحكيمِ العَقْلِ والإِنصاف، وأنا الضَّامِنُ بأنَّهُ لا يلبثُ أن يُساهمني قولي ويُوقِنُ بأن المرحوم جَوَّدَ تآليفه التي تَنُمُّ عن عقله وَعِلْمِه أكثرَ مِمَا جَوَّدَها كثيرٌ من متأخري المؤلفين من بعد عصر السُّيوطي، ممن شُهِدَ لهم بالإِجادَةِ، ولو سَمحت له الحالُ أكثر مِمَّا سَمحت ومُتِّعَ بحرية
তিনি ছিলেন কৃশকায় দেহবিশিষ্ট কিন্তু সুউচ্চ আত্মার অধিকারী। যদি জামালুদ্দিনের জন্য সালাহুদ্দিনের মতো কোনো সহযোগী জুটত, তবে তাঁর চিন্তাধারা বর্তমানের চেয়েও অধিক প্রসার লাভ করত এবং তাঁর সফরসমূহ বর্তমানের চেয়েও অধিক ফলপ্রসূ হতো; তবে লক্ষ্য যখন মহান হয়, তখন সাহায্যকারীর সংখ্যা কমে যায়।
অতীতে প্রাচ্যে রাজা-বাদশাহ ও আমিরদের ছত্রছায়ায় ইলমের চারাগাছ বিকশিত হতো, আর আজ তা পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়, একাডেমি ও সংস্থাগুলোর তদারকিতে বিকশিত হচ্ছে; আর জ্ঞান আদিকাল থেকেই জ্ঞানের মুখাপেক্ষী।
• সদ্যপ্রয়াত এই মনীষী শরয়ি ইলম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অভাবনীয় পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন; পাশাপাশি জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি দিতেও তিনি ভুলেননি। বরং অধিকাংশ বিষয়ে তিনি পর্যাপ্ত ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, যাতে তা শরিয়তের নিগূঢ় রহস্য অনুধাবনে সহায়ক হয়।
যেহেতু তিনি উভয় প্রকার শ্রেষ্ঠত্বের সমন্বয় করেছিলেন, তাই তাঁর বক্তব্যে সেই জড়তার ছাপ পাওয়া যায় না যা সচরাচর ওই সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা কেবল একটি বা দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকেন এবং এর বাইরের বিষয়কে অসার মনে করেন।
তিনি ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি আলেম; কিন্তু তিনি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান অধ্যয়ন করতেন এবং এর পত্র-পত্রিকা ও আধুনিক গ্রন্থাবলি এমন নিবিষ্টভাবে পাঠ করতেন যেমনটি কেবল ওই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাই করে থাকেন, বরং তার চেয়েও বেশি। জ্ঞান বা শিল্প বলে অভিহিত কোনো কিছুকেই তিনি অস্বীকার করতেন না, একারণেই আধুনিকমনা বা অন্য কেউ তাঁকে অপছন্দ করত না।
• যারা বিষয়টি জানেন না তারা হয়তো বলবেন যে, এটি এমন এক বন্ধুর কথা যিনি তাঁর বন্ধুকে হারিয়ে শোকাতুর, যাঁদের দুই পরিবারের মধ্যে প্রায় আশি বছর ধরে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান; আর প্রবাদ আছে যে, 'অনুরাগের আঁখি দোষ দেখে না'। তবে আমি কোনো আপত্তিকারীকে শাইখের কিতাবসমূহের প্রতি রুজু করা এবং তাঁর মুদ্রিত রচনাবলি পাঠ করে বিবেক ও ইনসাফের সাথে বিচার করা ছাড়া অন্য কোনো পরামর্শ দেব না। আমি এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, অবিলম্বে তিনি আমার কথার সাথে একমত হবেন এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করবেন যে, মরহুম তাঁর রচনাবলিকে এতোটা উৎকৃষ্ট করেছেন—যা তাঁর প্রজ্ঞা ও ইলমের পরিচয় বহন করে—যা ইমাম সুয়ুতির পরবর্তী যুগের (المتأخرون) অনেক গ্রন্থকারও করতে পারেননি, যাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদি পরিস্থিতি তাঁর জন্য বর্তমানের চেয়েও অধিক অনুকূল হতো এবং তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারতেন...
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القول والعمل أكثر مِمَا مُتِّعَ لجاء منه أضعاف ما جاء، ولكن ضيق العيش، وضيق المضطرب لا يرجى منهما أكثر مِمَّا تَمَّ على يد فقيدنا العظيم من الأعمال والَآثار.
وقد أُغلقت دونه أبواب الدواعي والبواعث رحمه الله وبارك لنا فيمن خلَّفَ من مريديه ومعاصريه ومن ساروا بسيرته حتى لا نقع تحت مضمون الحديث: "إن الله لا يقبض العلم انتزاعًا ينتزعه من العبادة ولكن يقبض العلم بقبض العلماء حتى إذا لم يبق عالمًا اتخذ الناس رؤساء جُهالًا فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا".
ولقد كتبنا في تأبين الشيخ غداة وفاته في جريدة الإِصلاح ما نصه (1): لا تحضرني عبارة تُشْعِرُ بمبلغ الحُزنِ الذي نالَ دمشق بفقد مَنْ كان عالِمُها الكبير، وأُستاذُها العَامِل النِّحرير، فقد كان أحد أفراد هذا العصر المعدودين في التَّحقيق بأسرار الشريعة.
وهو ولا مراء عَالِمٌ الكتاب والسُّنة بلا مدافِع، خُلِقَ ليعملَ على بث الدِّين المبين، خاليًا من حشو المتأخرين الجامدين، وتضليل المخرفين والمعطلين.
• لم يكد فقيدُنا العزيز يطرق هذه الموضوعات، ويهيبُ بالنَّاس إِلى الأخذ بمذاهب السَّلَفِ، ويتلطفُ في إِبلاغها العقولَ المظلمة في دروسه وتآليفه، حتى أخذ بعض أهل الجمود يغتابونه ويحذرون عوامهم بدون برهان من الأخذ عنه ولكن ظلمة تقليدهم ما لبثت أن انقشعت بنور
--------------------------------------------
কথা ও কাজ যদি পর্যাপ্ত সুযোগ পেত, তবে এখন যা অর্জিত হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্জিত হতো। কিন্তু জীবনযাত্রার সংকীর্ণতা এবং কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের মহান মরহুমের হাতে যে সকল কাজ ও কীর্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা যায় না।
তাঁর জন্য অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপনার দ্বারগুলো রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত মুরিদ, সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং যারা তাঁর আদর্শে চলেছেন তাদের মাঝে আমাদের জন্য বরকত দান করুন; যাতে আমরা এই হাদিসের মর্মার্থের (مضمون) অন্তর্ভুক্ত না হই: "নিশ্চয়ই আল্লাহ (বান্দাদের) অন্তর থেকে জ্ঞান ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তা তুলে নেবেন না, বরং আলেমদের তুলে নেওয়ার (মৃত্যুর) মাধ্যমেই জ্ঞান তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে এবং তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
শায়খের ইন্তেকালের পরদিন আমরা 'আল-ইসলাহ' পত্রিকায় তাঁর শোকবার্তায় যা লিখেছিলাম তার পাঠ (১) নিম্নরূপ: দামেস্ক তার মহান আলেম এবং কর্মঠ ও প্রাজ্ঞ উস্তাদকে হারিয়ে যে শোকের সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে, তা ব্যক্ত করার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই। তিনি ছিলেন শরিয়তের রহস্য উদঘাটনে বা বিশ্লেষণে (تحقيق) এই যুগের অদ্বিতীয় ও বরণীয় ব্যক্তিদের একজন।
তিনি যে কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলেম ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি দ্বীনকে বিকশিত করার লক্ষ্যেই সৃজিত হয়েছিলেন—পরবর্তী যুগের স্থবিরদের অসার কথা এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও সত্যবিমুখদের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকে।
• আমাদের প্রিয় মরহুম যখনই এই বিষয়গুলো আলোচনা করতেন এবং মানুষকে সালাফদের (السلف) আদর্শ গ্রহণের আহ্বান জানাতেন এবং অত্যন্ত নম্রতার সাথে তাঁর পাঠদান ও রচনার মাধ্যমে অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়ে তা পৌঁছে দিতেন, তখনই কিছু স্থবির ও সংকীর্ণমনা লোক তাঁর গীবত করতে শুরু করত এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাধারণ মানুষকে তাঁর থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করত। কিন্তু তাদের অন্ধ অনুকরণের (تقليد) অন্ধকার অচিরেই নূরের আলোয় দূরীভূত হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اجتهاده وتراجع أمر خصومه بعد قليل، وقد بَهَرَ النَّاس فضله وعلمه وأنشأوا بعد أن كانوا يزيفون أقواله في مجامعهم الخاصَّة والعامَّة يتبعون أقواله المدعومة بالسُّنة الصحيحة، ومذاهب الأئمة.
وأكبر دليل على ذلك ما شهدناه يوم مشهده الأخير من إجماع من كانوا خصومه أمس على إعظام الخطب فيه، والإِقرار له بفضائل كانوا في حياته يغمطونه إيَّاها ولكن المعاصرة حرمان.
• رأيت رجالًا كثيرين من أهل الإِسلام وغيرهم، وفي مصر والشَّام خاصة فلم أرَ همَّة تفوق همَّة صديقي الرَّاحل، ولا نفسًا طويلًا على العمل ودؤوبًا عليه أكثر منه، ولا غَرامًا بالإِفادة والاستفادة، ولا حُبًّا بالعلم للعلم، فقد قضى عن 49 عامًا وخلَّف ما خلَّف من عشرات من مصنفاته الدينية العصرية النَّافعة منها: "تفسيره" الذي لم يطبع، ومنها مقالاته الممتعة وأبحاثه المستوفاة، وأثر في عقول كثير من الطلبة تخرجوا به، وأخذوا أحكام الحلال والحرام عنه، دع دروس وعظه للعامة، وحلقات خاصَّته، ومع كل هذا كان حتى الرَّمق الأخير أشبهُ بطالب يريد أن يجوز الامتحان لنيل شهادة العالمية.
وكلما كان يُوغل في طلب المزيد من العلم والتحقيق تراه آسفًا على عدم إشباع أبحاثه حقها أحيانًا من النظر البليغ.
• رزق الصَّديق العلَّامة صفاتٍ إذا جُمِعَ بعضها لغيره عُدَّ قريعَ دهره، ووحيدَ عصره، فقد كان طلق اللِّسان، طلق المحيا، وافر المادة، وافر العقل، سريع الخاطر، سريع الكتابة، جميل العهد، جميل الود.
وكان بلا جدال جمال الدين والدنيا، ما اجتمع به أحد إلَّا وتمنى
তার গবেষণা (اجتهاد) এবং তার বিরোধীদের বিরুদ্ধাচরণ অল্প সময়ের মধ্যেই স্তিমিত হয়ে পড়ে। তার শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলম মানুষকে বিমুগ্ধ করেছিল। একসময় তারা তাদের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য মজলিসগুলোতে তার বক্তব্যকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিলেও পরবর্তীতে তারা সহিহ (صحيح) সুন্নাহ এবং ইমামগণের মাযহাব দ্বারা সমর্থিত তার মতামতেরই অনুসরণ করতে শুরু করে।
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তার অন্তিম বিদায়ের দিনে আমাদের প্রত্যক্ষ করা সেই দৃশ্য, যেখানে গতকালের ঘোর বিরোধীরাও এই শোকাবহ ঘটনার ভয়াবহতার ব্যাপারে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছিল এবং তার এমন সব গুণাবলির স্বীকৃতি প্রদান করেছিল যা তার জীবদ্দশায় তারা অবজ্ঞা করত; কিন্তু সমসাময়িকতা হলো এক প্রকার বঞ্চনা।
• আমি ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বহু মানুষকে দেখেছি, বিশেষ করে মিসর ও সিরিয়ায়; কিন্তু আমার এই পরলোকগত বন্ধুর মতো সুউচ্চ হিম্মত আমি আর কারো মাঝে দেখিনি। তার মতো কাজের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ধৈর্য ও নিরলস পরিশ্রম আর কারো মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। অন্যের উপকার করা ও নিজে উপকৃত হওয়ার প্রতি এমন অদম্য অনুরাগ এবং জ্ঞানের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আমি আর দেখিনি। তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তার পেছনে রেখে যান ডজনখানেক উপকারী আধুনিক ধর্মীয় রচনাবলি, যার মধ্যে রয়েছে: তার অপ্রকাশিত ‘তাফসির’, উপভোগ্য প্রবন্ধসমূহ এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণাকর্ম। তিনি বহু শিক্ষার্থীর চিন্তাধারায় প্রভাব বিস্তার করেছেন যারা তার কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং তার নিকট থেকে হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) সংক্রান্ত বিধানসমূহ গ্রহণ করেছেন; সাধারণ মানুষের জন্য তার ওয়ায-নসিহতের আসর এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পাঠচক্রের কথা বাদ দিলেও, এই সবকিছুর মাঝেও তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এমন এক শিক্ষার্থীর ন্যায় ছিলেন যে ‘আলমিয়া’ ডিগ্রি অর্জনের জন্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ইচ্ছুক।
তিনি ইলম অন্বেষণ ও সূক্ষ্ম গবেষণার (تحقيق) ক্ষেত্রে যত গভীরে প্রবেশ করতেন, গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার গবেষণার সঠিক হক আদায় না করতে পারার আক্ষেপে তাকে তত বেশি অনুতপ্ত দেখা যেত।
• আমার সেই মহাজ্ঞানী (علامة) বন্ধু এমন কিছু গুণাবলির অধিকারী হয়েছিলেন, যার কয়েকটি যদি অন্য কারোর মধ্যে সঞ্চিত হতো তবে সে তার সময়ের অদ্বিতীয় ও যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হতো। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, সদা-প্রফুল্ল, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, তীক্ষ্ণ প্রত্যুৎপন্নমতি, দ্রুত লিখনশৈলীতে পারদর্শী এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অমায়িক।
তিনি নিঃসন্দেহে ছিলেন দ্বীন ও দুনিয়ার সৌন্দর্য; তার সাথে যারই সাক্ষাৎ হয়েছে সেই আকাঙ্ক্ষা করেছে...
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لو طال بحديثه استمتاعه ليزيد في الأخذ عنه والتَّشَبُّع بفضائله والاغتراف من بحر علمه.
وبينا كنتَ ترى الأستاذ على قَدَمِ السَّلف الصالِح، عالمًا كبيرًا بين الفقهاء والأصوليين والمُحَدِّثِينَ والمفسرين إذا هو من الأفراد المُختصين بالأدب وما يتعلق به، وبينا تراه يؤلف ويطبع، إِذا بك تراه يواظب على تدريس طلبته ووعظ المستمعين في درسه وخطبه، ومع كل هذه الأعمال التي قد يكون منها انقباض في صدر العامل تراه يهش ويبش كل ساعة، ويفسح من وقته شطرًا ليغشى مجلسه أوفياؤه وأخلَّاؤه وطلّاب الفوائد منه.
فهو علامة بين العلماء، منوَّر ممدن بين المنورين بنور المدنية الصحيحة. ذهبَ مثال الرجل الصالح، عفيف الطعمة، لم يسفِ إلى ما يسفِ إليه بعض من يتذوقون قليلًا من المعارف، وما أنكر إلَّا المنكَر ولا أمر إلَّا بالمعروف، ومن ضيق ذات يده كان يتصدق في السِّرِّ، ولا يخلو ساعة من عبادة وذكر، وما فقْده جَلَلٌ على دمشق بل على الشَّام بل على أهل الإِسلام، وشهرته التي نالها في العالم الإِسلامي في هذه السِّن من الكهولة هي مما استحقه أو أقل مما يستحقه؛ لأنه حقيقةً العالم العامل الذي يُحبب الدِّين حتى لمن لم يتدين حياته.
فاللَّهُمَّ عوِّض المسلمين عن هذه الدرة اليتيمة التي أصيبوا بها وارحمه عداد حسناته، وارزقنا الصبر عليه، وجميع أسرته ومريديه وأحبابه الذين فجعوا به؟
محَمَّد كُرْد عَلي
যদি তাঁর আলোচনার মাধ্যমে আনন্দ লাভের বিষয়টি দীর্ঘ হতো, তবে তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ, তাঁর গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হওয়া এবং তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আহরণ করার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পেত।
আপনি যখন এই উস্তাদকে সলফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসারী হিসেবে দেখতেন—যিনি ফকিহ, উসুলবিদ, হাদিস বিশারদ ও মুফাসসিরগণের মাঝে একজন বরেণ্য আলেম ছিলেন—তখনই তাঁকে সাহিত্য ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক অনন্য বিশেষজ্ঞ হিসেবেও খুঁজে পেতেন। একদিকে যখন আপনি তাঁকে গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনায় নিয়োজিত দেখতেন, তখনই আবার তাঁকে তাঁর ছাত্রদের নিয়মিত পাঠদানে এবং দরস ও খুতবার মাধ্যমে শ্রোতাদের নসিহত প্রদানে অবিচল থাকতে দেখতেন। এসব কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও, যা অনেক সময় কর্মীর মনে অবসাদ সৃষ্টি করতে পারে, আপনি তাঁকে প্রতি মুহূর্তে প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল দেখতেন। তিনি তাঁর সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ রাখতেন যাতে তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত, সুহৃদ এবং জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে পারেন।
তিনি আলেমদের মধ্যে একজন আল্লামা ছিলেন এবং প্রকৃত সভ্যতার আলোয় উদ্ভাসিত ব্যক্তিদের মাঝে এক আলোকবর্তিকা ও মার্জিত রুচির অধিকারী ছিলেন। নেককার মানুষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিদায় নিলেন, যাঁর উপার্জন ছিল পবিত্র এবং যিনি এমন কোনো হীন বিষয়ের দিকে ধাবিত হননি যার দিকে সামান্য জ্ঞানের অধিকারী কিছু লোক ধাবিত হয়। তিনি মন্দ বা অন্যায় (المنكر) ব্যতীত অন্য কিছুকে প্রত্যাখ্যান করেননি এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কিছুর আদেশ দেননি। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও তিনি গোপনে দান-সদকা করতেন এবং ইবাদত ও জিকির ব্যতীত তাঁর একটি মুহূর্তও কাটত না। তাঁর এই তিরোধান কেবল দামেস্কের জন্য নয়, বরং সমগ্র শাম ও মুসলিম জাহানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রৌঢ়ত্বের এই বয়সে তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বে যে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তা ছিল তাঁর প্রাপ্য অথবা তাঁর প্রকৃত যোগ্যতার তুলনায় কম; কারণ তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে এমন এক আমলকারী আলেম, যিনি দীনকে এমনকি তাদের কাছেও প্রিয় করে তুলেছিলেন যারা জীবনে কখনো ধার্মিক ছিল না।
হে আল্লাহ! এই অনন্য রত্নকে হারিয়ে মুসলিম উম্মাহ যে বিপদে পড়েছে, আপনি তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন। তাঁর নেক আমলের সমপরিমাণ তাঁকে রহমত দান করুন এবং তাঁর বিয়োগব্যথায় আমাদেরসহ তাঁর পরিবার, মুরিদ ও প্রিয়জনদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।
মুহাম্মদ কুর্দ আলী
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مؤلفاته
وأما مؤلفاته فقد بلغت أكثر من مائة كتاب، وهذا ذكر المطبوع منها:
1 - الأجوبة المرضية عما أورده كمال الدين ابن الهمام على المستدلين بثبوت سنة المغرب القبلية. ط 1 مطبعة روضة الشام، دمشق 1326 هـ.
2 - إرشاد الخلق للعمل بخبر البرق. ط 1 مطبعة المقتبس، دمشق 1329 هـ.
3 - الاستئناس لتصحيح أنكحة الناس. أتمَّ تأليفه في جمادى الأولى عام 1332 هـ، ط 1 دمشق 1332 هـ.
4 - الإِسراء والمعراج. ط دمشق 1331 هـ.
5 - إصلاح المساجد، من البدع والعوائد. ط 1 المكتبة السلفية، مصر 1341 هـ.
6 - إقامة الحجة على المصلي جماعة قبل الإِمام الراتب وأقوال سائر أئمة المذاهب. ط 1 مطبعة الصداقة دمشق 1342 هـ.
7 - أوامر مهمة في إصلاح القضاء الشرعي في تنفيذ بعض العقود على مذهب الشافعية وغيرهم. ط 1 مطبعة الترقي دمشق.
8 - الأوراد المأثورة. ط 1 بيروت 1320 هـ.
9 - تاريخ الجهمية والمعتزلة. نشر أولًا بمقالات متسلسلة في المجلد السادس من مجلة المنار ثُمَّ جرد في كتاب مستقل. ط 1 صيدا 1320 هـ، ط 2 مطبعة المنار، مصر 1331 هـ.
তাঁর রচনাবলি
তাঁর রচনাবলির সংখ্যা একশোরও বেশি, এখানে তার মধ্যে মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর উল্লেখ করা হলো:
১ - আল-আজউয়িবাতুল মারদিয়্যাহ আম্মা আওরাদাহু কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম আলাল মুস্তাদিল্লিনা বি-থুবুতি সুন্নাতি আল-মাগরিব আল-কাবলিয়্যাহ (মাগরিবের ফরজের পূর্বের সুন্নাত সাব্যস্ত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশকারীদের ওপর কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন তার সন্তোষজনক উত্তর)। ১ম সংস্করণ, রওদাতুশ শাম প্রেস, দামেস্ক ১৩২৬ হিজরি।
২ - ইরশাদুল খালক লি-আমালি বি-খাবারিল বারক (টেলিগ্রাফের বার্তার ওপর আমল করার বিষয়ে সৃষ্টির নির্দেশনা)। ১ম সংস্করণ, আল-মুকতাবাস প্রেস, দামেস্ক ১৩২৯ হিজরি।
৩ - আল-ইসতিনাস লি-তাসহিহি আনকিহাতিন নাস (মানুষের বিবাহ বিশুদ্ধকরণের (تصحيح) পদ্ধতি)। তিনি এটির রচনা সম্পন্ন করেন ১৩৩২ হিজরির জমাদিউল উলা মাসে। ১ম সংস্করণ, দামেস্ক ১৩৩২ হিজরি।
৪ - আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ। দামেস্ক ১৩৩১ হিজরি।
৫ - ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াইদ (বিদআত ও কুসংস্কার থেকে মাসজিদ সংস্কার)। ১ম সংস্করণ, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মিশর ১৩৪১ হিজরি।
৬ - ইকামতুল হুজ্জাহ আলাল মুসাল্লি জামাআতান কাবলাল ইমামির রাতিব ওয়া আকওয়ালু সায়িরি আইম্মাতিল মাজাহিব (নির্ধারিত ইমামের পূর্বে জামাতে সালাত আদায়কারীর বিরুদ্ধে দলিল (حجة) প্রদান এবং অন্যান্য মাযহাবের ইমামগণের অভিমত)। ১ম সংস্করণ, আস-সাদাকাহ প্রেস, দামেস্ক ১৩৪২ হিজরি।
৭ - আওয়ামিরু মুহিম্মাহ ফি ইসলাহিল কাদাউশ শারয়ি ফি তানফীযি বাদিল উকুদ আলা মাজহাবিশ শাফিইয়্যাহ ওয়া গাইরিহিম (শাফিঈ ও অন্যান্য মাযহাব অনুযায়ী কিছু চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে শরয়ি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাবলী)। ১ম সংস্করণ, আত-তারাক্কি প্রেস, দামেস্ক।
৮ - আল-আওরাদ আল-মাথুরাহ (বর্ণিত দোয়াসমূহ)। ১ম সংস্করণ, বৈরুত ১৩২০ হিজরি।
৯ - তারিখুল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুতাজিলাহ (জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের ইতিহাস)। এটি প্রথমে আল-মানার সাময়িকীর ষষ্ঠ খণ্ডে ধারাবাহিকভাবে প্রবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়, পরবর্তীতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলন করা হয়। ১ম সংস্করণ, সাইদা ১৩২০ হিজরি; ২য় সংস্করণ, আল-মানার প্রেস, মিশর ১৩৩১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
10 - تنبيه الطالب إلى معرفة الفرض والواجب. ط 1 مطبعة والدة عباس، مصر 1326 هـ.
11 - تنوير اللب في معرفة القلب. مقالة كتبها في 27 ربيع الثاني 1315 هـ ونشرت في العدد الثاني والستين من جريدة الشام، دمشق، في 3 صفحات.
12 - جواب الشيخ السناني في مسألة العقل والنقل. مقالة في مجلة المنار نشرت عام 1325 هـ.
13 - جوامع الآداب، في أخلاق الأنجاب. ط 1 مطبعة السعادة، مصر 1339 هـ.
14 - حياة البخاري. ط 1 مطبعة العرفان صيدا 1330 هـ.
15 - خطب أو مجموعة خطب. ط 1 دمشق 1325 هـ.
16 - دلائل التوحيد. ط 1 مطبعة المقتبس، دمشق 1326 هـ.
17 - الشاي والقهوة والدخان. ط 1 دمشق 1322 هـ.
18 - الشذرة البهية في حل ألغاز نحوية وأدبية. دمشق 1322 هـ.
19 - شذرة من السيرة المحمدية. ط 1 مطبعة المنار مصر 1321 هـ.
20 - شرح أربع رسائل في الأصول. الأولى في أصول الشافعية لابن فورك، والثانية لابن عربي، والثالثة في المصالح للنجم الطوفي، والرابعة للسيوطي من كتاب النقاية. ط 1 بيروت 1324 هـ.
21 - شرح لقطة العجلان. الأصل -أي: لقطة العجلان- من
10 - তানবিহুত তালিব ইলা মা’রিফাতিল ফারদ (الفرض) ওয়াল ওয়াজিব (الواجب)। ১ম সংস্করণ, মাতবায়াহ ওয়ালিদাহ আব্বাস, মিসর ১৩২৬ হিজরি।
11 - তানভিরুল লুব্ব ফি মা’রিফাতিল কাল্ব। ১৩১৫ হিজরির ২৭শে রবিউস সানি তারিখে তাঁর লিখিত একটি প্রবন্ধ, যা দামেস্কের 'জারিদাতুশ শাম' পত্রিকার ৬২তম সংখ্যায় ৩ পৃষ্ঠাব্যাপী প্রকাশিত হয়েছিল।
12 - জাওয়াবুশ শায়খ আস-সিনানি ফি মাসআলাতিল আকলি ওয়ান নাকলি। ১৩২৫ হিজরিতে 'আল-মানার' সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ।
13 - জাওয়ামিউল আদাব ফি আখলাকিল আনজাব। ১ম সংস্করণ, মাতবায়াতুস সা’আদাহ, মিসর ১৩৩৯ হিজরি।
14 - হায়াতুল বুখারি। ১ম সংস্করণ, মাতবায়াতুল ইরফান, সাইদা ১৩৩০ হিজরি।
15 - খুতাব বা খুতবা সংকলন। ১ম সংস্করণ, দামেস্ক ১৩২৫ হিজরি।
16 - দালায়েলুত তাওহিদ। ১ম সংস্করণ, মাতবায়াতুল মুকতাবাস, দামেস্ক ১৩২৬ হিজরি।
17 - আশ-শাই ওয়াল কাহওয়াহ ওয়াদ দুখান। ১ম সংস্করণ, দামেস্ক ১৩২২ হিজরি।
18 - আশ-শাযরাতুল বাহিয়্যাহ ফি হাল্লি আলগাযিন নাহভিয়্যাতিন ওয়া আদাবিয়্যাহ। দামেস্ক ১৩২২ হিজরি।
19 - শাযরাতুন মিনাস সিরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ। ১ম সংস্করণ, মাতবায়াতুল মানার, মিসর ১৩২১ হিজরি।
20 - শারহু আরবায়ি রাসায়িল ফিল উসুল (الأصول)। প্রথমটি ইবনে ফুরাক রচিত শাফেয়ী মূলনীতি (أصول) বিষয়ক, দ্বিতীয়টি ইবনে আরাবি রচিত, তৃতীয়টি নাজমুত তুফি রচিত জনস্বার্থ (المصالح) বিষয়ক এবং চতুর্থটি সুয়ুতির 'আন-নুকায়াহ' গ্রন্থ থেকে গৃহীত। ১ম সংস্করণ, বৈরুত ১৩২৪ হিজরি।
21 - শারহু লুকতাতিল আজলান। মূল গ্রন্থ—অর্থাৎ: লুকতাতিল আজলান—হলো...
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২০)
تأليف الإِمام بدر الدِّين الزركشي. جمع فيه أربعة علوم: الأصول والمنطق والحكمة والكلام، وأتمه في منتصف ربيع الأول سنة 1325 هـ. ط القاهرة 1326 هـ.
22 - شرف الأسباط. ط 1 مطبعة الترقي، دمشق.
23 - الطائر الميمون في حل لغز الكنز المدفون. ط 1 مطبعة روضة الشام، دمشق 1316 هـ.
24 - فتاوى مهمة في الشريعة الإِسلامية. ط 1 مطبعة المنار، مصر 1336 هـ.
25 - الفتوى في الإِسلام. ط 1 في دمشق 1329 هـ.
26 - الفضل المبين على عقد الجوهر الثمين. ط 1 دار النفائس، بيروت 1986 بتحقيق عاصم البيطار.
27 - قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث. ط 1 مكتب النشر العربي، دمشق 1935 م.
28 - محاسن التأويل (تفسير القاسمي) في 17 جزءًا. ط 1 دار إحياء الكتب العربية، مصر من سنة 1376 إلى سنة 1380 هـ بتحقيق محمَّد فؤاد عبد الباقي.
29 - مذاهب الأعراب وفلاسفة الإِسلام في الجن. ط 1 مطبعة المقتبس، دمشق 1328 هـ.
30 - المسح على الجوربين. رسالة ألَّفها في مجالس آخرها ربيع الثاني 1332 هـ. ط 1 مطبعة الترقي، دمشق 1332 بتحقيق قاسم
ইমাম বদরুদ্দীন আজ-যারকাশী (রহ.)-এর রচনা। তিনি এতে চারটি শাস্ত্র একত্রিত করেছেন: উসুল (الأصول), যুক্তিবিদ্যা (المنطق), হিকমাহ (الحكمة) এবং কালাম (الكلام)। তিনি এটি ১৩২৫ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন করেন। কায়রো সংস্করণ, ১৩২৬ হিজরি।
২২ - শারাফুল আসবাত। ১ম সংস্করণ, আত-তারাাক্কি প্রেস, দামেস্ক।
২৩ - আত-তায়িরুল মায়মুন ফি হাল্লি লুগজিল কানজিল মাদফুন। ১ম সংস্করণ, রওদাতুশ শাম প্রেস, দামেস্ক, ১৩১৬ হিজরি।
২৪ - ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ। ১ম সংস্করণ, আল-মানার প্রেস, মিশর, ১৩৩৬ হিজরি।
২৫ - আল-ফাতওয়া ফিল ইসলাম। ১ম সংস্করণ, দামেস্ক, ১৩২৯ হিজরি।
২৬ - আল-ফাদলুল মুবিন আলা আকদিল জাওহারিস সামিন। ১ম সংস্করণ, দারুন নাফাইস, বৈরুত, ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, আসিম আল-বাইতারের যাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق) সহ।
২৭ - কাওয়াইদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস। ১ম সংস্করণ, মাকতাবুন নাশরিল আরাবি, দামেস্ক, ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ।
২৮ - মাহাসিনুত তাবিল (তাফসিরে কাসিমি), ১৭ খণ্ডে। ১ম সংস্করণ, দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ, মিশর, ১৩৭৬ হিজরি থেকে ১৩৮০ হিজরি পর্যন্ত, মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির যাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق) সহ।
২৯ - মাজাহিবুল আ'রাব ওয়া ফালাসিফাতুল ইসলাম ফিল জিন। ১ম সংস্করণ, আল-মুকতাবাস প্রেস, দামেস্ক, ১৩২৮ হিজরি।
৩০ - আল-মাসহু আলাল জাওরাবাইন। এটি একটি রিসালা বা পুস্তিকা যা তিনি বিভিন্ন মজলিসে রচনা করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল ১৩৩২ হিজরির রবিউস সানি মাসে। ১ম সংস্করণ, আত-তারাাক্কি প্রেস, দামেস্ক, ১৩৩২ হিজরি, কাসিমের যাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق) সহ।
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২১)
خير الدِّين القاسمي، ط 2 مصر 1377 بتحقيق أحمد محمَّد شاكر، ط 3 المكتب الإِسلامي، عمان وبيروت بتحقيق أحمد محمَّد شاكر.
31 - منتخب التوسلات. وهو متمم لكتابه الأوراد المأثورة جمعه عام 1315، وأراد به إلى الابتعاد عن الأدعية الخرافية التي تتداولها العامة.
32 - موعظة المؤمنين من إحياء علوم الدين. ط 1 مصر 1331 هـ، ط 2 بيروت 1980 م بتحقيق عاصم البيطار.
33 - ميزان الجرح والتعديل. ط 1 مصر، مطبعة المنار 1330 هـ.
34 - النفحة الرحمانية شرح متن الميدانية في علم التجويد. ط 1 دمشق 1323 هـ.
35 - نقد النصائح الكافية. ط 1 مطبعة الفيحاء، دمشق 1328 هـ.
* * *
খাইরুদ্দিন আল-কাসিমি, ২য় সংস্করণ মিসর ১৩৭৭ হিজরি, আহমদ মুহাম্মদ শাকিরের সম্পাদনায়, ৩য় সংস্করণ আল-মাকতাবুল ইসলামি, আম্মান ও বৈরুত, আহমদ মুহাম্মদ শাকিরের সম্পাদনায়।
31 - মুনতাখাবুত তাওয়াসসুলাত। এটি তাঁর রচিত ‘আল-আওরাদ আল-মা’সুরা’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট যা তিনি ১৩১৫ হিজরিতে সংকলন করেন; এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভিত্তিহীন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দোয়াগুলো থেকে দূরে থাকার সংকল্প করেছিলেন।
32 - মাওয়িজাতুল মুমিনিন মিন ইহয়াউ উলুমিদ্দিন। ১ম সংস্করণ মিসর ১৩৩১ হিজরি, ২য় সংস্করণ বৈরুত ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, আসিম আল-বিতারের সম্পাদনায়।
33 - মিজানুল জারহ ওয়াত তাদিল (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ - الجرح والتعديل)। ১ম সংস্করণ মিসর, আল-মানার প্রেস ১৩৩০ হিজরি।
34 - আন-নাফহাতুর রহমানিয়া শরহু মাতনিল মাইদানিয়া ফি ইলমিত তাজবিদ। ১ম সংস্করণ দামেস্ক ১৩২৩ হিজরি।
35 - নাকদুন নাসাইহিল কাফিয়া। ১ম সংস্করণ আল-ফাইহা প্রেস, দামেস্ক ১৩২৮ হিজরি।
* * *
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (8)
سر الاستغفار عقب الصلوات
تأليف
العلامة الشيخ محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي (1283 - 1332 هـ)
تحقيق وتعليق
محمد بن ناصر العجمي
ساهم بطبعه بعض أهل الخير بالمدينة المنورة
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশদিনের মজলিস (৮)
সালাতের পর ইস্তিগফারের রহস্য
রচনায়
আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী আদ-দিমাশকী (১২৮৩ - ১৩৩২ হি.)
তাহকীক ও তালীক
মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী
মদিনা মুনাওয়ারার কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তির দানে মুদ্রিত
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربّ العالمين، وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّد وآله أجمعين.
أمَّا بعد:
فهذه رسالة في "سرّ الاستغفار عقب الصلوات" حداني إلى جمعها أنَّ بعض الطلَبة نقل عن بعض الفقهاء أنَّه قال: لا يجوز للمصلِّي أن يقول بعد الفراغ من الصلاة "أستغفرُ الله" لأنَّ الله سبحانه وتعالى قال: {إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ}. انتهى.
فقلت: أطبق المحدِّثون على رواية الاستغفار بعد الصلاة عن النبي صلى الله عليه وسلم، واتفق الأئمة على ندب ذلك بلا نكير. ولا مساغ لردّ الأحاديث الواردة في ذلك عن معناها انتصارًا للرأي، لدلالتها القطعيَّة على ما أرشدت إليه، دلالة يفهمها العَرَبي والعَجَميّ، والبليغ والغبي؛ لظهورها نصًّا، ومجيئها على شرط الصحيح. والأعجب من هذا استدلاله بالآية على عدم الجواز مع أن الذي أُنزلت عليه صلى الله عليه وسلم هو الَّذي سَنَّ الاستغفار بعد الصلوات قولًا وفعلًا.
وهاك بيان الأحاديث التي رواها أئمة السنن في صحاحهم وسننهم ومسانيدهم:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।
অতঃপর:
এটি "সালাতের পর ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) রহস্য" বিষয়ক একটি রিসালাহ বা ক্ষুদ্র পুস্তিকা। এটি সংকলনে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—জনৈক ছাত্র কোনো এক ফকিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: সালাত শেষ করার পর মুসল্লির জন্য 'আস্তাগফিরুল্লাহ' (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি) বলা বৈধ নয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তওবা কেবল তাদের জন্য যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে এবং দ্রুত তওবা করে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বললাম: মুহাদ্দিসগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সালাতের পর ইস্তিগফারের বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই একে পছন্দনীয় (مندوب) হিসেবে গণ্য করেছেন। নিজস্ব মতের সমর্থনে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের অর্থ প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ নেই; কারণ এগুলো যা নির্দেশ করে তার ওপর এগুলোর প্রমাণ সুনিশ্চিত (قطعية), যা আরব-অনারব, সুবক্তা ও সাধারণ বুদ্ধিমান নির্বিশেষে সকলেই বুঝতে সক্ষম। কেননা এগুলো সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) হিসেবে বর্ণিত এবং বিশুদ্ধ/সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তানুসারে আগত। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আয়াত দিয়ে তার অবৈধতার ওপর দলীল পেশ করা; অথচ যাঁর ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনিই কথা ও কাজের মাধ্যমে সালাতের পর ইস্তিগফারের বিধান সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
আর এখানে সেই হাদিসগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো যা সুনানগ্রন্থের ইমামগণ তাঁদের সহিহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
* قال الإِمام مسلم في "صحيحه" في باب "استحباب الذكر بعد الصلاة وبيان صفته":
حدَّثنا داود بن رُشَيْد قال: حدَّثنا الوليد، عن الأوزاعي، عن أبي عمار -اسمه شدَّادُ بن عبد الله-، عن أبي أَسْماء، عن ثوبان قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا انْصَرَفَ مِن صَلَاتِهِ استغفر ثلاثًا. وقال: "اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الجَلَالِ والإِكْرَام".
قال الوليد: فقلت للأوزاعي: كيف الاستغفار؟
قال: تقول: أَستغْفِرُ الله، أَستغْفِرُ الله (1).
* وروى ابن أبي شيبة بإسناد صحيح عن زاذان، قال: حدَّثني رجل من الأنصار، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في دُبر الصَّلاة: "اللهُمَّ اغْفِرْ لِي، وتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الغَفُور -مائة مرَّة" (2).
* وروى عبد الرزاق عن معاذ بن جبل: من قال بعد كُلِّ صلاة: أستغفرُ الله الذي لا إله إلَّا هو الحيّ القيوم وأتوب إليه- ثلاث مرَّات؛ كَفَّرَ الله عنه ذُنوبه، وإن كان فرارًا من الزَّحْفِ (3).
* وروى ابن السنِّي وابن النجَّار عن معاذ مرفوعًا: "من قال بعد الفجر ثلاث مرَّات، وبعد العصر ثلاث مرَّات: أستغفرُ الله الذي لا إله
--------------------------------------------
* ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে "সালাতের পর জিকির মুস্তাহাব হওয়া এবং এর পদ্ধতির বর্ণনা" শীর্ষক অধ্যায়ে বলেছেন:
আমাদের নিকট দাউদ ইবনে রুশাইদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি আবু আম্মার (তাঁর নাম শাদ্দাদ ইবনে আব্দুল্লাহ) থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর সালাত শেষ করতেন, তখন তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করতেন এবং বলতেন: 'হে আল্লাহ! আপনিই শান্তিদাতা এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময়, হে মহিমাময় ও মহানুভব'।"
ওয়ালিদ বলেন: আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম: ইস্তিগফার কীভাবে করতে হয়?
তিনি বললেন: তুমি বলবে: আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) (১)।
* ইবনে আবি শাইবা একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) যাদান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারদের জনৈক ব্যক্তি আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সালাত শেষে বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী ও পরম ক্ষমাশীল—এটি একশ বার বলতেন" (২)।
* আব্দুর রাজ্জাক মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি প্রতি সালাতের পর তিনবার বলবে: 'আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি' (আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক এবং আমি তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি); আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে (৩)।
* ইবনে সিন্নি ও ইবনে নাজ্জার মুয়াজ (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি ফজরের পর তিনবার এবং আসরের পর তিনবার বলবে: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلَّا هو الحي القيوم وأتوب إليه؛ كُفِّرت عنه ذُنوبه، وإن كانت مثل زبد البحر" (1).
* وروى الديلمي عن أبي هريرة مرفوعًا: "من استغفر الله عز وجل سبعين مرة في دبر كل صلاة؛ غُفر له ما اكتسب من الذنوب" (2).
* وروى الخطيب مرفوعًا: "أيُّ عَبْدٍ صلَّى الفريضة ثُمَّ استغفر الله عشر مرَّاتٍ؛ لم يقم من مقامه حتى يُغفر له ذنوبه" (3).
والأحاديث والَآثار في هذا الباب كثيرة، وفيما ذكرناه كفاية للمنصف.
ولا يخفى على الخبير، أن من سبر كثيرًا من جزئيات الطاعات، يرى أن الحق سبحانه وتعالى شَرَع التوبة والاستغفار في خواتيم أعمالها، فشرعها في خاتمة الحج، وقيام اللَّيل، وأَمَر تعالى رسوله بالاستغفار عقب توفِيَتِه ما عليه من تبليغ الرسالة، والجهاد في سبيله حين دخل الناس في دينه أفواجًا؛ فكان التبليغ عبادة قد أكملها وأدَّاها فشرع له الاستغفار عقيبها.
--------------------------------------------
"...ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক এবং আমি তাঁর নিকট তওবা করছি; তবে তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার ন্যায় হয়" (১)।
* এবং দাইলামি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের শেষে সত্তর বার মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে; তার কৃত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে" (২)।
* এবং খতিব মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে বান্দা ফরজ নামাজ আদায় করার পর দশ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে; সে নিজ স্থান থেকে ওঠার আগেই তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়" (৩)।
এ বিষয়ে বহু হাদিস ও আছার (آثار) রয়েছে এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ইনসাফকারীদের জন্য যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের নিকট এটি গোপন নয় যে, যারা ইবাদতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা দেখতে পান যে পরম সত্য মহান আল্লাহ তায়ালা ইবাদতের শেষে তওবা ও এস্তেগফার বিধিবদ্ধ করেছেন। তাই তিনি হজের শেষে এবং রাতের নামাজের (কিয়ামুল লাইল) শেষে এটি বিধিবদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলকে রিসালাত পৌঁছানোর দায়িত্ব ও তাঁর পথে জিহাদ পূর্ণ করার পর এস্তেগফারের নির্দেশ দিয়েছেন যখন মানুষ দলে দলে তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করছিল। সুতরাং রিসালাত প্রচার একটি ইবাদত ছিল যা তিনি পূর্ণ করেছিলেন এবং সম্পাদন করেছিলেন, তাই এর শেষে আল্লাহ তওবা ও এস্তেগফারের বিধান দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الحافظ ابن كثير في "تفسيره" عند قوله تعالى: {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ}:
كثيرًا ما يأمر الله بذكره بعد قضاء العبادات؛ ولهذا ثبت في "صحيح مسلم": أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا فرغ من الصلاة يستغفر الله ثلاثًا (1).
وقال ابن القيم في كتابه "طريق الهجرتين" في بحث ترتيب عبادة الصالحين حين دخول وقت الصلاة ما نصَّه:
"فإذا جاء وقت الفرض بادر إليه مكملًا له، ناصحًا فيه لمعبوده، كنصح المحبِّ الصادقِ المحبةِ لمحبوبه الذي قد طلب منه أن يعمل له شيئًا ما؛ فهو لا يُبقي مجهودًا، بل يبذل مقدوره كله في تحسينه وتزيينه وإصلاحه وإكماله؛ ليقع موقعًا من محبوبه؛ فينال به رضاه عنه وقربه منه.
أفلا يستحي العبد من ربه ومولاه ومعبوده أن لا يكون عمله هكذا؟ وهو يرى المُحِبِّين في إشغال محبوبهم من الخلق كيف يجتهدون في إيقاعها على أحسن وجه وأكمله، بل هو يجد من نفسه ذلك مع من يحبه من الخلق، فلا أقل من أن يكون مع ربه بهذه المنزلة. ومن أنصف نفسه وعرف أعماله؛ استحى من الله أن يواجهه بعمله أو يرضاه لربه، وهو يعلم من نفسه أنه لو عمل لمحبوب له من الناس لبذل فيه نصحه ولم يدع من حسنه شيئًا إلَّا فعله.
وبالجملة: فهذا حال هذا العبد مع ربه في جميع أعماله، فهو يعلم أنَّه لا يوفِّي هذا المقام حقه؛ فهو أبدًا يستغفر الله عقيب كل عمل.
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর "তাফসীর"-এ মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোচনায় বলেন: {অতঃপর তোমরা সেখান থেকে প্রস্থান করো যেখান থেকে মানুষ প্রস্থান করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো}:
আল্লাহ তাআলা প্রায়ই ইবাদতসমূহ সম্পাদন করার পর তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন; এজন্য "সহীহ মুসলিম"-এ সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত থেকে অবসর হতেন, তখন তিনবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন (১)।
এবং ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "তারিকুল হিজরাতাইন" কিতাবে সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সময় নেককার বান্দাদের ইবাদতের বিন্যাস সম্পর্কিত আলোচনায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
"যখন ফরজের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে দ্রুত অগ্রসর হয়। সে তার মাবুদের জন্য এমন ঐকান্তিকতা বজায় রাখে, যেমন একজন সত্যনিষ্ঠ প্রেমিক তার প্রিয়তমের জন্য রেখে থাকে, যে তার কাছে কোনো কাজ করার অনুরোধ করেছে। সে তার চেষ্টার কোনো ত্রুটি বাকি রাখে না, বরং কাজটিকে সুন্দর, সুশোভিত, সংশোধিত এবং পূর্ণাঙ্গ করার জন্য তার সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দেয়; যাতে তা তার প্রিয়তমের নিকট গ্রহণীয় হয় এবং এর মাধ্যমে সে তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারে।
বান্দা কি তার রব, অভিভাবক এবং মাবুদের সামনে লজ্জা পায় না যে তার আমল এমন হবে না? অথচ সে মাখলুকাতের মাঝে প্রেমিকদের তাদের প্রিয়তমের কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে দেখে যে, তারা তা কতটা সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। বরং সে নিজের মধ্যেও সৃষ্টির কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে তা অনুভব করে; অতএব, অন্তত তার রবের সাথে তার এই স্তরের সম্পর্ক হওয়া উচিত। যে ব্যক্তি নিজের প্রতি ইনসাফ করে এবং নিজের আমলসমূহকে চিনতে পারে, সে আল্লাহর সামনে তার আমল নিয়ে উপস্থিত হতে কিংবা নিজের আমলকে রবের উপযোগী মনে করতে লজ্জা বোধ করবে। কারণ সে নিজের সম্পর্কে জানে যে, যদি সে মানুষের মধ্যে তার প্রিয় কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো কাজ করত, তবে সে তার পূর্ণ ঐকান্তিকতা বিলিয়ে দিত এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির কোনো কিছুই বাদ দিত না।
সারসংক্ষেপ হলো: এটিই হলো তার রবের সাথে সকল আমলের ক্ষেত্রে এই বান্দার অবস্থা। সে জানে যে, সে এই মাকামের হক যথাযথভাবে আদায় করতে পারছে না; তাই সে সর্বদা প্রত্যেক আমলের পরেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا سلم من الصلاة استغفر الله ثلاثًا.
وقال تعالى: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ (17) وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الذاريات: 17، 18]، فأخبر عن استغفارهم عقيب صلاة الليل. قال الحسن: مدّوا الصلاة إلى السحر ثمَّ جلسوا يستغفرون ربهم.
وقال تعالى: {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (199)}، فأمر سبحانه بالاستغفار بعد الوقوف بعرفة والمزدلفة.
وشرع للمتوضِّئ أن يقول بعد وضوئه: "اللهُمَّ اجعلني من التَّوَّابين واجعلني من المُتَطَهِّرين" (1).
فهذه توبة بعد الوضوء، وتوبة بعد الحَجِّ، وتوبة بعد الصلاة، وتوبة بعد قيام الليل؛ فصاحب هذا المقام مضطر إلى التوبة والاستغفار كما تبين، فهو لايزال مُستغفرًا تائبًا، وكلَّما كثرت طاعاته كثرت توبته واستغفاره". انتهى (2).
وقال رحمه الله تعالى أيضًا بعد ذلك بكراريس: "فإن قيل: فما وجه خوف الملائكة وهم معصومون من الذنوب التي هي أسباب المخافة، وشدة خوف النبي صلى الله عليه وسلم مع علمه بأن الله قد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر وأنَّه أقرب الخلق إلى الله؟!
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত (১৭) এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত} [আয-যারিয়াত: ১৭, ১৮]। এখানে রাতের সালাতের অব্যবহিত পরে তাদের ইস্তিগফারের কথা জানানো হয়েছে। হাসান বলেন: তারা শেষ রাত পর্যন্ত সালাত দীর্ঘায়িত করতেন, অতঃপর বসে তাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (১৯৯)}, এখানে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরাফাহ ও মুজদালিফায় অবস্থানের পর ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওযুকারীর জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেন সে ওযুর পর বলে: "হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন" (১)।
সুতরাং এটি ওযুর পর তওবা, হজ্জের পর তওবা, সালাতের পর তওবা এবং কিয়ামুল লাইলের পর তওবা। এই অবস্থানের অধিকারী ব্যক্তি তওবা ও ইস্তিগফারের প্রতি মুখাপেক্ষী যেমনটি স্পষ্ট হয়েছে। ফলে সে সর্বদা ক্ষমাপ্রার্থী ও তওবাকারী থাকে। তার ইবাদত যত বৃদ্ধি পায়, তার তওবা ও ইস্তিগফারও তত বৃদ্ধি পায়। সমাপ্ত (২)।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এর কয়েক পৃষ্ঠা পরে আরও বলেন: "যদি প্রশ্ন করা হয়: ফেরেশতাদের ভীতির কারণ কী, অথচ তারা পাপ থেকে সুরক্ষিত (معصومون) যা ভীতির কারণ হয়ে থাকে? এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তীব্র ভীতির কারণ কী, যেখানে তিনি জানেন যে আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে নিকটতম?!"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قيل: عن هذا أربعة أجوبة:
الجواب الأول: أن هذا الخوف على حسب القرب من الله والمنزلة عنده، وكلما كان العبد أقرب إلى الله كان خوفه منه أشد؛ لأنه يطالب بما لا يطالب به غيره، ويجب عليه من رعاية تلك المنزلة وحقوقها ما لا يجب على غيره. ونظير هذا في المشاهد: أنَّ الماثل بين يدي أحد الملوك المشاهد له أشد خوفًا منه من البعيد عنه؛ بحسب قربه منه ومنزلته عنده ومعرفته به وبحقوقه، وأنه يطالب من حقوق الخدمة وأدائها بما لا يطالب به غيره؛ فهو أحقّ بالخوف من البعيد.
ومَنْ تَصَوَّرَ هذا حقّ تصوره فهم قوله صلى الله عليه وسلم: "إِنِّي أَعْلمُكم بالله وَأَشَدُّكُم لَه خَشية" (1).
وفهم قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه أبو داود وغيره، من حديث زيد بن ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "إنَّ اللهَ تعالى لو عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِه وأَهْلَ أَرْضهِ، لَعَذَّبَهُمْ وهو غَيْرُ ظالمٍ لهم، ولَوْ رَحِمَهُمْ كانت رحمته لهم خيرًا من أعمالهم" (2).
وليس المراد به لو عذَّبهم تصرف في ملكه -والمتصرف في ملكه غير ظالم- كما يظنّه كثير من الناس؛ فإن هذا يتضَّمن مدحًا والحديث إنَّما سِيق للمدح وبيان عظم حق الله على عباده، وأنه لو عذَّبهم لعذَّبهم بحقه عليهم ولم يكن بغير استحقاق، فإن حقَّه سبحانه عليهم أضعاف ما أتوا؛ ولهذا قال بعده: "ولو رحمهم كانت رحمته خيرًا لهم من أعمالهم"،
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: এর চারটি উত্তর রয়েছে:
প্রথম উত্তর: আল্লাহর প্রতি এই ভয় মূলত তাঁর নৈকট্য এবং তাঁর নিকট মর্যাদার অনুপাতে হয়ে থাকে। বান্দা আল্লাহর যত বেশি নিকটবর্তী হয়, তাঁর প্রতি তার ভয় তত বেশি তীব্র হয়; কারণ তার কাছে এমন কিছু দাবি করা হয় যা অন্যের কাছে করা হয় না এবং সেই মর্যাদা ও তার অধিকারসমূহ রক্ষা করা তার জন্য তেমন আবশ্যক হয়ে পড়ে যা অন্যের ওপর আবশ্যক নয়। দৃশ্যমান জগতের একটি উদাহরণ হলো: কোনো বাদশাহর সামনে উপস্থিত ব্যক্তি, যে তাঁকে সরাসরি দেখছে, সে দূরবর্তী ব্যক্তির তুলনায় তাঁকে বেশি ভয় পায়; এটি মূলত বাদশাহর প্রতি তার নৈকট্য, মর্যাদা এবং বাদশাহ ও তাঁর অধিকার সম্পর্কে জ্ঞানের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তার নিকট খিদমতের হক ও তা পালনের এমন দাবি করা হয় যা অন্যের কাছে করা হয় না; তাই দূরবর্তী ব্যক্তির তুলনায় ভয় পাওয়ার ক্ষেত্রে সে-ই অধিকতর উপযুক্ত।
আর যে ব্যক্তি বিষয়টি যথাযথভাবে উপলব্ধি করবে, সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মর্ম বুঝতে পারবে: "নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি এবং তোমাদের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি" (১)।
এবং সে আবু দাউদ ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মর্ম বুঝতে পারবে, যা জায়েদ বিন সাবিত বর্ণনা করেছেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি দেন, তবে তিনি তাদের ওপর কোনো জুলুম না করেই তাদের শাস্তি দেবেন। আর যদি তিনি তাদের ওপর রহমত করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের আমলের চেয়ে তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর হবে" (২)।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তিনি তাঁর রাজত্বে যা ইচ্ছা তাই করছেন—আর নিজ রাজত্বে যা ইচ্ছা তাইকারী জালিম নন—যেমনটি অনেক মানুষ মনে করে থাকে। কেননা এটি তো প্রশংসাসূচক বাক্য এবং হাদিসটি মূলত আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর হকের মহিমা বর্ণনার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। যদি তিনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তাদের ওপর তাঁর হকের কারণেই শাস্তি দেবেন এবং তা প্রাপ্য হওয়ার বাইরে হবে না। কেননা বান্দার কৃত আমলের তুলনায় সুবহানাহু ওয়া তাআলার হক বহুগুণ বেশি। এই কারণেই তিনি এরপর বলেছেন: "আর যদি তিনি তাদের ওপর রহমত করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের আমলের চেয়ে তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর হবে",
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিররুল ইস্তিগফার উকিবুস সালাওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يعني: أن رحمته لهم ليست على قدر أعمالهم؛ إذ أعمالهم لا تستقل باقتضاء الرحمة، وحقوق عبوديّته وشكره التي يستحقها عليهم لم يقوموا بها؛ فلو عذبهم والحالة هذه لكان تعذيبًا لحقه وهو غير ظالم لهم فيه، ولا سيما فإن أعمالهم لا توازي القليل من نعمه عليهم؛ فتبقى نعمه الكثيرة لا مقابل لها من شكرهم، فإذا عذبهم على ترك شكرهم وأداء حقه الذي ينبغي له سبحانه عذبهم ولم يكن ظالمًا لهم.
فإن قيل: فهم إذا فعلوا مقدورهم من شكره وعبوديته لم يكن ما عداه ممَّا ينبغي له مقدورًا لهم، فكيف يحسن العذاب عليه؟.
قيل: الجواب من وجهين:
أحدهما: أنَّ المقدور للعبد لا يأتي به كله، بل لا بد من فتور وإعراض وغفلة وتوانٍ، وأيضًا ففي نفس قيامه بالعبودية لا يوفيها حقها الواجب لها، من كمال المراقبة والإِجلال والتعظيم والنصيحة التامَّة لله فيها، بحيث يبذل مقدوره كله في تحسينها وتكميلها ظاهرًا وباطنًا، فالتقصير لازم في حال الترك وفي حال الفعل.
ولهذا سأل الصديقُ النبي صلى الله عليه وسلم دعاء يدعو به في صلاته، قال له: "قُل: اللَّهُمَّ إِنِّي ظلمتُ نَفْسي ظُلمًا كثيرًا ولا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلَّا أنت؛ فاغْفِر لي مَغْفِرَةً مِن عِنْدِكَ وارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغفورُ الرحيم" (1)، فأخبر عن ظلمه لنفسه، مؤكدًا له "بأنَّ" المقتضيةِ ثبوتَ الخبر وتحقُّقَه، ثُمَّ أكده بالمصدر النافي للتجوُّز والاستعارة، ثُمَّ وصفه بالكثرة المقتضية لتعدده وتكثره، ثُمَّ قال: "فاغفر لي مغفرة من عندك" أي: لا ينالها عملي ولا
--------------------------------------------
অর্থাৎ: তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত তাদের আমলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; কারণ তাদের আমলসমূহ এককভাবে রহমত লাভের দাবি রাখে না। তাঁর দাসত্ব ও কৃতজ্ঞতার যে হক তাদের ওপর ওয়াজিব ছিল এবং যা পাওয়ার তিনি যোগ্য, তা তারা যথাযথভাবে আদায় করেনি। এমতাবস্থায় তিনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তা তাঁর প্রাপ্য হকের কারণেই হবে এবং তিনি তাদের প্রতি মোটেও অবিচারকারী হবেন না। বিশেষ করে, তাদের আমলসমূহ তাদের ওপর আল্লাহর দেওয়া সামান্যতম নিআমতেরও সমতুল্য নয়। ফলে তাঁর অগণিত নিআমত তাদের পক্ষ থেকে কোনো কৃতজ্ঞতার বিনিময় ছাড়াই থেকে যায়। সুতরাং যদি তিনি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা এবং তাঁর প্রাপ্য হক আদায় না করার কারণে শাস্তি দেন, তবে তিনি তাদের প্রতি মোটেই অবিচারকারী হবেন না।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তারা যদি তাদের সাধ্যমতো কৃতজ্ঞতা ও ইবাদত পালন করে থাকে, তবে এর অতিরিক্ত যা তাঁর প্রাপ্য ছিল তা তো তাদের সাধ্যাতীত ছিল, এমতাবস্থায় তার জন্য শাস্তি হওয়া কীভাবে সংগত হতে পারে?
বলা হয়েছে: এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: বান্দার সাধ্যের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, সে তার সবটুকু পালন করে না; বরং সেখানে অলসতা, বিমুখতা, গাফেলতি ও শিথিলতা অবশ্যই প্রকাশ পায়। তদুপরি, ইবাদত পালনের সময়ও সে এর ওপর অর্পিত ওয়াজিব হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করে না, যেমন—পরিপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, মহিমা ও সম্মানের পূর্ণতা এবং আল্লাহর জন্য পূর্ণ একনিষ্ঠতা; যাতে সে তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতকে সুন্দর ও নিখুঁত করার জন্য নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে। সুতরাং আমল বর্জন করা কিংবা আমল করা—উভয় অবস্থাতেই ত্রুটি অনিবার্য।
আর একারণেই সিদ্দীক (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন যা তিনি তাঁর সালাতে পাঠ করবেন। তিনি তাঁকে বললেন: "বলো: হে আল্লাহ! আমি নিজের প্রতি অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না; অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" (১)। এখানে তিনি নিজের নফসের প্রতি জুলুমের কথা সংবাদ দিয়েছেন, যা তিনি 'নিশ্চয়' (أنَّ) শব্দের মাধ্যমে জোরালো করেছেন, যা সংবাদের বাস্তবতা ও ধ্রুবতাকে আবশ্যক করে। এরপর তিনি একে ক্রিয়ামূল দ্বারা তাকিদ দিয়েছেন যা কোনো প্রকার রূপক বা আলঙ্কারিক ব্যবহারের সম্ভাবনাকে নাকচ করে। এরপর তিনি একে 'অধিক' শব্দ দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন যা জুলুমের আধিক্য ও সংখ্যাধিক্যকে নির্দেশ করে। এরপর বলেছেন: "আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন" অর্থাৎ যা আমার আমল দ্বারা অর্জিত নয় এবং...
--------------------------------------------