(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: -)
ندوة علوم الحديث علوم وآفاق   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: ندوة علوم الحديث علوم وآفاق

المؤلف: بحوث لمجموعة من المؤلفين

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদীস শাস্ত্রের সেমিনার: শাস্ত্র ও দিগন্ত   (একদল লেখক)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


বই: হাদীস শাস্ত্রের সেমিনার: শাস্ত্র ও দিগন্ত

লেখক: একদল লেখকের গবেষণাসমগ্র

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১)
بَيَانُ الحَدّ

الذي يَنْتهِي عِنْدَهُ أَهْلُ الاصطلاحِ والنَّقْد

في علوم الحديث

 

د. الشريف حاتم بن عارف بن ناصر العوني

الأستاذ المساعد بقسم الكتاب والسنة

بجامعة أم القرى

 

بسم الله الرحمن الرحيم

المقدّمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على إمام الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: فلا شك أن علم الحديث (كغيره من العلوم) قد مَرّ بأطوار مختلفة، من حين نشأته إلى هذا العصر. وقد كان في أطواره هذه (كغيره من العلوم أيضاً) قد نشأ ونَمَا وترعرع حتى اكتمل، ثمّ أخذ يضعف شيئاً فشيئاً. إلا أنه من حينٍ لآخر تقوم جهودُ بَعْثٍ وتجديد في علوم الحديث، تُعيد إليه بعضاً من مظاهر حياته، وتَدْفَعُ عنه أخطارَ موته وفنائه، تحقيقاً لوعد الله تعالى بحفظ هذا الدين.

وقد كان من فضل الله تعالى علينا في هذه الأيام، أننا نعيش فترة انتعاش لعلوم السنّة وعنايةٍ بتعلُّمها وتعليمها لم تكن موجودةً قبل زمنٍ يسير من الآن. وفي هذه الفترة التي نعيشها: نشهدُ جهوداً كثيرةً لخدمة السنة، وهي جهودٌ وإن لم تصل إلى درجة الكفاية أو قريبٍ منها، إلا أنها قد تكون أكثر نفعاً وأعظمَ بركةً لو كانت جميعُها تنطلق من قواعد راسخة، وتبنى على أصول صحيحة.

وهذا الخللُ المعاصرُ في تعلّم علوم السنة أو في خدمتها هو أمرٌ طبيعي، نتيجةً لفترة الركود الطويلة التي مَرّت عليها. لكنَّ الأمر غير الطبيعي أن نأبى إصلاحَ ذلك الخلل بعد أن تبيّنّاهُ، أو أن نَرْفُضَ الاعترافَ بوجوده أصلاً بعد أن قام المصلحون ببيانه والسَّعْي في إصلاحه.
সেই সীমানার বর্ণনা

যেখানে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা ও সমালোচনা বিশারদগণের আলোচনা সমাপ্ত হয়

হাদিস বিজ্ঞানে

 

ড. আশ-শরিফ হাতিম বিন আরিফ বিন নাসির আল-আউনি

সহকারী অধ্যাপক, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ

উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলদের ইমামের প্রতি, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবি ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি।

অতঃপর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদিস শাস্ত্র (অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায়) তার সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। এই পর্যায়গুলোর মধ্যে (অন্যান্য শাস্ত্রের মতোই) এটি জন্ম নিয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত বিকশিত হয়েছে; অতঃপর তা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে মাঝে মাঝেই হাদিস শাস্ত্রে পুনর্জাগরণ ও সংস্কারের প্রচেষ্টা দেখা গেছে, যা এর প্রাণশক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে এনেছে এবং একে বিলুপ্তি ও ধ্বংসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে; আর এটি এই দ্বীনকে রক্ষা করার ব্যাপারে মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।

বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ এই যে, আমরা সুন্নাহ শাস্ত্রের এমন এক পুনর্জাগরণ এবং এর শিক্ষা ও প্রসারের প্রতি এমন এক গুরুত্বের যুগে বাস করছি, যা অল্পকাল আগেও বিদ্যমান ছিল না। এই যুগে আমরা সুন্নাহর সেবায় বহু প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করছি। যদিও এই প্রচেষ্টাগুলো পর্যাপ্ততা বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবুও এগুলো আরও অধিক উপকারী এবং বরকতময় হতে পারত, যদি এই সব প্রচেষ্টা সুদৃঢ় নীতিমালা এবং সঠিক মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।

সুন্নাহ শাস্ত্রের শিক্ষা বা তার সেবায় বর্তমান সময়ের এই ত্রুটিগুলো দীর্ঘকালীন স্থবিরতার একটি স্বাভাবিক ফলাফল। কিন্তু অস্বাভাবিক বিষয় হলো, ত্রুটিগুলো স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা সংশোধনে অস্বীকার করা, কিংবা সংস্কারকগণ যখন তা স্পষ্ট করেছেন এবং সংশোধনের চেষ্টা করেছেন, তখন সেই ত্রুটির অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানানো।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২)
وحيث إن حركة الإصلاح هذه قائمةٌ عَلى محاولة الرجوع بعلوم السنة إلى نبعها الصافي، وإلى زمن ازدهارها، ((يومَ كان شأنُ الحديث فيما مضى عظيماً، عظيمةٌ جموعُ طلبته، رفيعةٌ مقاديرُ حُفّاظِه وحملته. وكانت علومه بحياتهم حيّة، وأفنان فنونه ببقائهم غضّة، ومغانيه بأهله آهِلةٌ)) (1) فقد فُوجئ الداعون إلى هذا الإصلاح، والمنادون إلى تلك العودة الحميدة، باعتراضٍ عليهم، رافضاً ذلك الإصلاح، معرضاً عن ذلك النداء، مُشَغّباً عليه.

ويقوم ذلك الاعتراضُ على أساس، يتبعُه اعتراضاتٌ تنبني عليه.

فكان على من أراد أن يدعمَ حركة الإصلاح تلك، أن يُجيب على ذلك الاعتراض، عسى أن يكون الجوابُ داعياً لرجوع المعترِض عن وقوفه في سبيل الإصلاح، بل لعله أن يكون أحدَ الساعين فيه، إن تبيّنَ له الحق. وذلك هو الظنّ بالجميع، إذ الجميعُ لا يقصدون إلا خدمة سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

إن ذلك الاعتراض قائمٌ على نَسْفِ مبدأ الإصلاح السابق ذكره، بنفي أحقّية عصرٍ ما في أن يكون علماؤه هُمْ المرجع في معرفة قواعد العلم وفي تقرير معاني مصطلحاته، وأن مَنْ بعدهم يحتكمون إليهم. فأصحاب هذا الاعتراض يرون أنّ علم الحديث لم يزل في تطوُّرٍ، وأنه قابلٌ للتطوير، وأنّ إلزامَ الناس بقواعد أو معاني مصطلحات عصرٍ ما تحكُّمٌ لا وَجْهَ له. ثمّ منهم من يتناقض ليقف بهذا التطوّر عند الحافظ ابن حجر مثلاً، ومنهم من يطّردُ في مقالته إلى اليوم، ويرى أن التطوير حقٌّ مُشَاعٌ إلى قيام الساعة.

--------------------------------------------

(1) اقتباسٌ من مقدّمة كتاب ابن الصلاح: علوم الحديث (5 - 6) .
যেহেতু এই সংস্কার আন্দোলন সুন্নাহর ইলমসমূহকে তার স্বচ্ছ ঝরনাধারায় এবং এর সমৃদ্ধির যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ((যখন অতীতে হাদীসের মর্যাদা ছিল মহান, এর শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ছিল বিশাল, এর হাফিজ ও বাহকদের অবস্থান ছিল সুউচ্চ। তাদের জীবদ্দশায় এর ইলমসমূহ ছিল প্রাণবন্ত, তাদের উপস্থিতিতে এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ছিল সতেজ এবং এর বিদ্যাপীঠগুলো এর বিদগ্ধজনদের দ্বারা ছিল মুখরিত)) (১) সেহেতু এই সংস্কারের আহ্বায়ক এবং সেই প্রশংসনীয় প্রত্যাবর্তনের আহ্বানকারীদের ওপর একটি আপত্তি আসার মাধ্যমে তারা আকস্মিক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। সেই আপত্তি এই সংস্কারকে প্রত্যাখ্যান করে, এই আহ্বান থেকে বিমুখ থাকে এবং এর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

সেই আপত্তিটি একটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক আপত্তি তৈরি হয়েছে।

সুতরাং যারা এই সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন করতে চান, তাদের ওপর দায়িত্ব হলো সেই আপত্তির জবাব দেওয়া; যাতে সম্ভবত এই জবাবটি প্রতিবাদকারীকে সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়, বরং সত্য স্পষ্ট হয়ে গেলে সম্ভবত তিনি নিজেও সংস্কারের অন্যতম প্রচেষ্টাকারী হয়ে যান। আর সবার প্রতি এটাই সুধারণা, কারণ সবার উদ্দেশ্যই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমত করা।

সেই আপত্তিটি পূর্বে উল্লেখিত সংস্কারের মূলনীতিকে নস্যাৎ করার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তা হলো—কোনো বিশেষ যুগের আলেমগণ ইলমের নিয়মাবলি জানা এবং এর পরিভাষার অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মানদণ্ড হবেন এবং তাদের পরবর্তী সময়ের লোকেরা তাদের কাছে বিচারপ্রার্থী হবে—এই অধিকারকে অস্বীকার করা। সুতরাং এই আপত্তির প্রবক্তারা মনে করেন যে, হাদীস শাস্ত্র সর্বদা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এটি আরও উন্নয়নের উপযোগী। কোনো বিশেষ যুগের নিয়মাবলি বা পরিভাষার অর্থের দ্বারা মানুষকে বাধ্য করা একটি ভিত্তিহীন জবরদস্তি। এরপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ববিরোধী অবস্থানে গিয়ে এই বিবর্তনকে উদাহরণস্বরূপ হাফিজ ইবনে হাজার পর্যন্ত এসে থামিয়ে দেন। আবার কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে আজ পর্যন্ত অটল থেকে মনে করেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত এই উন্নয়ন বা বিবর্তন একটি সর্বজনীন অধিকার।

--------------------------------------------

(১) ইবনুস সালাহ রচিত ‘উলূমুল হাদীস’ গ্রন্থের ভূমিকা (৫-৬) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৩)
إن هذا الرأي رأيٌ خطيرٌ، من شأنه أن يُدَمّر علوم السنة لو توسَّعَ نطاقُ تطبيقه فوق ما هو عليه، ويكفي من أثره السلبي ما قد وقع منه دلالةً على خطورته. إن هذا الرأي هو ما كنتُ أسميتُه في كتابي (المنهج المقترح) بفكرة تطوير المصطلحات، وبيّنتُ هناك خطرها وخطلها (1) . ولا أُريد هنا أن أتحدّث عن آثارها السلبيّة، فقد تحدثتُ عن ذلك في غير هذا الموطن، وتحدّث غيري أيضاً عن ذلك.

لكن الذي أريده هنا: أن أُبيّنَ ما إذا كان هناك عَصْرٌ ما هو الذي يُحْتكم إلى علمائه ويُرجعُ إليهم في معرفة علم الحديث: قواعدَ ومصطلحات. وما هي أسباب اختيار أولئك العلماء دون غيرهم؟ ولمَ لا يكونون في عصورٍ مختلفة غير محدودةٍ بحدّ؟

إن الجواب عن هذه الأسئلة في غاية الأهميّة لخُطّة الإصلاح تلك، وبغير الجواب عليها، أو بالجواب غير السديد فيها لن يُمكن لهذه الخطة أن تستمرّ وأن تصمد أمام المعترضين.

ولهذا فقد جاء هذا المقال ليحاول الإجابةَ عن تلك الأسئلة، لكي تتضح سبيلُ المصلحين!!

وأسأل الله تعالى العون والتوفيق، وإخلاص النيّة والقصد، وقبول صالح الأعمال.

 

المقالة الأولى:

التاريخ النظري لأطوار علوم الحديث

 

لا يختلف اثنان من أهل العلم، في أن نَقْل السنة خلال القرن الأول والثاني والثالث كان كافياً للحفاظ على السنة الحفاظ الكامل، بعدم تَفَلُّتِ شيءٍ منها عن الأُمّة، وعدم تَسَلُّلِ ما ليس منها إليها. وهذا أمرٌ بدهي عند من يعتقد أن السنّة قد بلغتنا كاملة؛ لأن اعتقاد وقوع خلل في منهج نَقْل السنة خلال القرن الأوّل مثلاً، سيؤدِّي إلى أن لا يجد القرنُ الثاني إلا ذلك الإرث المُخْتَلّ، إذ لا سبيل له في النقل إلا ما يؤدّيه إليه الناقلون.

--------------------------------------------

(1) المنهج المقترح (176 - 178) .
এই মতটি একটি বিপজ্জনক মত, যা সুন্নাহর জ্ঞানসমূহকে (উলুমুস সুন্নাহ) ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে যদি এর প্রয়োগের পরিধি বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও বিস্তৃত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে যা ইতিপূর্বে সংঘটিত হয়েছে, তা-ই এর ভয়াবহতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এই মতটিকেই আমি আমার 'আল-মানহাজুল মুকতারাহ' নামক গ্রন্থে 'পরিভাষাসমূহের বিবর্তন বা আধুনিকায়ন'-এর ধারণা হিসেবে অভিহিত করেছি এবং সেখানে এর বিপদ ও অসারতা স্পষ্ট করেছি (১)। আমি এখানে এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, কারণ অন্য স্থানে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং অন্যরাও এ নিয়ে কথা বলেছেন।

তবে আমি এখানে যা স্পষ্ট করতে চাই তা হলো: হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি ও পরিভাষা সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট যুগ আছে কি না, যে যুগের আলেমদের সিদ্ধান্তকে মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবে এবং যাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে? আর অন্যদের বাদ দিয়ে সেই নির্দিষ্ট আলেমদেরই নির্বাচনের কারণ কী? কেন তাঁরা কোনো সীমানা ছাড়া বিভিন্ন যুগের হতে পারেন না?

সেই সংস্কার পরিকল্পনার জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উত্তরগুলো ছাড়া অথবা সঠিক উত্তর প্রদান না করলে, এই পরিকল্পনাটি টিকে থাকা এবং বিরোধিতাকারীদের সামনে অটল থাকা সম্ভব হবে না।

এ কারণেই এই প্রবন্ধটি সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে এসেছে, যাতে সংস্কারকদের পথ স্পষ্ট হয়ে যায়!!

আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, আর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের একনিষ্ঠতা এবং নেক আমলসমূহ কবুল হওয়ার দোয়া করছি।

 

প্রথম প্রবন্ধ:

হাদিস শাস্ত্রের পর্যায়সমূহের তাত্ত্বিক ইতিহাস

 

আলেমদের মধ্যে এমন দুজন পাওয়া যাবে না যারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন যে, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর বর্ণনা বা স্থানান্তর প্রক্রিয়া সুন্নাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট ছিল; যার ফলে উম্মতের কাছ থেকে সুন্নাহর কোনো অংশ হারিয়ে যায়নি এবং যা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় তাও এতে অনুপ্রবেশ করতে পারেনি। যারা বিশ্বাস করেন যে সুন্নাহ আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছেছে, তাদের কাছে এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। কারণ, উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ মনে করে যে প্রথম শতাব্দীতে সুন্নাহ বর্ণনার পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল, তবে তার অনিবার্য ফলাফল দাঁড়াবে এই যে, দ্বিতীয় শতাব্দী সেই ত্রুটিপূর্ণ উত্তরাধিকার ছাড়া আর কিছুই পাবে না। কেননা বর্ণনাকারীরা যা পৌঁছে দেবেন, তা ব্যতীত বর্ণনা পাওয়ার আর কোনো পথ তাদের কাছে নেই।

--------------------------------------------

(১) আল-মানহাজুল মুকতারাহ (১৭৬ - ১৭৮)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৪)
وكذلك لا يختلف اثنان من أهل العلم أن منهج نقد السنة خلال القرن الأول والثاني والثالث كان كافياً لمعرفة صحيح السنة وثابتها وتمييزه عن سقيمها وغير الثابت منها؛ لأن اعتقاد وقوع خلل في منهج النقد في القرن الأول مثلاً، يعني أن الأمّة في ذلك القرن قد ضَلّت دينَ ربِّها، فنسبت إلى وَحْي السنة ما ليس منه، أو ردّت هدايةً من هداية ربِّها.

ولا يعني ذلك أن علوم الحديث (نقلاً ونقداً) لم تمرَّ بمراحل تطوّر خلال قرونها الثلاثة الأولى، ولا أن علوم الحديث في القرن الثالث هي تلك التي وُلدت في القرن الأول. وعلى هذا: فكيف يَلْتَئمُ أن تكون علوم السنة قد مَرّت بمراحل تطوّر، ومع ذلك فهي في كل مرحلةٍ كانت كفيلةً بالحفاظ على السنة وبتمييز صحيحها من سقيمها؟

الجواب عن ذلك: أن انتقال علوم السنة من مرحلة إلى مرحلة لم يكن بسبب قصور فيها في المرحلة الأولى عن القيام بواجب الحفاظ على السنة، ولكن لأن عواملَ جديدةً طرأت في المرحلة الثانية تستلزم تطوّراً في العلم. فالتطور لم يكن لنقص العلم قبل تطوّره، وإنما لحدوث أمرٍ لم يكن موجوداً يقتضي ذلك التطوّر. فتجدُّدُ ضروريات، وحدوث حاجيّات، وبروز أخطار لم تكن موجودة كل ذلك هو الذي كان يجعل السنة تنتقل من مرحلة إلى مرحلةٍ، حيث إن علماء السنة كانوا يبادرون إلى استحداث وسائل في التعلُّمِ والتعليم وفي التعامُل مع العلم تحقّقُ لهم تحصيلَ تلك الضروريات، وتلبية الحاجيات، ودَفْع هاتيك الأخطار.
অনুরূপভাবে, বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে এমন দুজনও নেই যারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করবেন যে, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সমালোচনা পদ্ধতি সুন্নাহর বিশুদ্ধ ও প্রমাণিত অংশকে জানা এবং তাকে ত্রুটিযুক্ত ও অপ্রমাণিত অংশ থেকে পৃথক করার জন্য যথেষ্ট ছিল; কারণ, উদাহরণস্বরূপ প্রথম শতাব্দীর সমালোচনা পদ্ধতিতে কোনো বিচ্যুতি ছিল বলে বিশ্বাস করার অর্থ হলো সেই শতাব্দীর উম্মত তাদের রবের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, ফলে তারা সুন্নাহর ওহীর সাথে এমন কিছুকে সম্বন্ধযুক্ত করেছিল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা তারা তাদের রবের হিদায়াতসমূহের মধ্য থেকে কোনো হিদায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এর অর্থ এই নয় যে, হাদীস শাস্ত্র (বর্ণনা ও সমালোচনা) তার প্রথম তিন শতাব্দীতে বিবর্তনের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়নি, কিংবা তৃতীয় শতাব্দীর হাদীস শাস্ত্র হুবহু সেটিই ছিল যা প্রথম শতাব্দীতে জন্ম নিয়েছিল। এমতাবস্থায়, এই বিষয়টি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে যে, সুন্নাহর শাস্ত্রসমূহ বিবর্তনের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, অথচ প্রতিটি স্তরেই তা সুন্নাহর সুরক্ষা এবং তার বিশুদ্ধ অংশকে ত্রুটিযুক্ত অংশ থেকে পৃথক করতে সক্ষম ছিল?

এর উত্তর হলো: সুন্নাহর শাস্ত্রসমূহের এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তর প্রথম স্তরে সুন্নাহ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনে কোনো অক্ষমতার কারণে ছিল না, বরং দ্বিতীয় স্তরে এমন কিছু নতুন অনুষঙ্গের উদ্ভব হয়েছিল যা এই শাস্ত্রের বিবর্তনকে অপরিহার্য করে তুলেছিল। সুতরাং এই বিবর্তনটি বিবর্তনের পূর্ববর্তী জ্ঞানের কোনো অপূর্ণতার জন্য ছিল না, বরং এমন কিছু বিষয়ের আবির্ভাবের কারণে হয়েছিল যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যা সেই বিবর্তনের দাবি রাখে। ফলে নতুন নতুন প্রয়োজনীয়তার সৃষ্টি, নতুন চাহিদার উদ্ভব এবং এমন সব বিপদের প্রকাশ যা আগে ছিল না—এই সবকিছুই সুন্নাহর জ্ঞানকে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে স্থানান্তরিত করেছে। এক্ষেত্রে সুন্নাহর আলেমগণ শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান এবং জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এমন সব নতুন উপায় উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যা তাদের সেই প্রয়োজনীয়তাগুলো অর্জন করতে, চাহিদাগুলো পূরণ করতে এবং সেই বিপদগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম করে তুলত।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৫)
ولمّا كانت الغاية الكبرى من علوم السنة هي الحفاظ عليها كاملة صافيةً من الشوائب، ولمّا كان التلقّي الشفهي عن محفوظات الصدور لم يكن ليكفي للاطمئنان إلى صحّة المنقول (1) ، لأسباب منها أن الحفظ خوّان وأن النسيان من جبلّة الإنسان كان لابُدّ من أن يرافق ذلك التلقّي الشفهي ميزانٌ نقدي، يتميّزُ به الصواب من الخطأ والصدق من الكذب، إذ الخطأ والكذب هما آفتا الأخبار، فلا يُردّ الخبر إلا لواحدٍ منهما؛ لأنه قد جمع بينهما أنهما السببان الوحيدان للإخبار بخلاف الواقع، وإن كان الخطأ إخباراً بخلاف الواقع بغير عمد، والكذب إخباراً به لكن بعمد (2) .

--------------------------------------------

(1) ألا ترى كيف بادر الصديقُ والفاروق رضي الله عنهما إلى كتابة المصحف من ذلك الوقت المبكر، خوفاً من ضياعه، مع أن كتاب الله العزيز الذي قد يسّره ربُّنا أجلّ وآثرُ وأعظمُ محفوظ في صدور الأمّة علماءَ وعامّةً!!!

(2) ولذلك فإن شروط قبول الأخبار، المذكورة في تعريف الحديث الصحيح، كلّها إنما اشتُرطت لضمان سلامة الخبر من هاتين الآفتين: الكذب، والخطأ.

1 - فالعدالة: لضمان عدم الوقوع في الكذب المتعمّد.

2 - والضبط: لضمان عدم الوقوع في الخطأ.

3 - والاتصال: لضمان عدم وقوع الآفتين كلتيهما؛ لاحتمال أن يكون الساقط من السند ليس أهلاً لضمان وقوعه في إحدى الآفتين.

4 - وعدم الشذود.

5 - وعدم العلّة: لضمان عدم وقوع الخطأ ممّن الأصل فيه عدم وقوعه فيه، إذ إن الضابط غير معصوم من وقوعه في الخطأ.
যেহেতু সুন্নাহ শাস্ত্রসমূহের মহান লক্ষ্য হলো সুন্নাহকে সকল প্রকার কলুষতা থেকে মুক্ত রেখে পূর্ণাঙ্গ ও পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ করা, এবং যেহেতু মুখস্থ বিষয় থেকে মৌখিক গ্রহণ বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না (১), যার কিছু কারণ হলো—স্মৃতিশক্তি বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং বিস্মৃতি মানুষের প্রকৃতিজাত; তাই সেই মৌখিক গ্রহণের পাশাপাশি একটি সমালোচনামূলক মানদণ্ড থাকা অপরিহার্য ছিল, যার মাধ্যমে সঠিককে ভুল থেকে এবং সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করা যায়। কেননা ভুল ও মিথ্যা হলো সংবাদের দুটি আপদ, তাই এই দুটির কোনো একটি কারণ ব্যতীত সংবাদ প্রত্যাখ্যান করা হয় না; কারণ এই উভয়ের মধ্যে সাধারণ বিষয় হলো যে, বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ প্রদানের একমাত্র কারণ এই দুটিই। যদিও ভুল হলো অনিচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ প্রদান, আর মিথ্যা হলো ইচ্ছাকৃতভাবে তা করা (২)।

--------------------------------------------

(১) আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, সিদ্দীক ও ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কত দ্রুত সেই শুরুর যুগেই তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে মুসহাফ লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন? অথচ আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর যে কিতাবকে সহজ করে দিয়েছেন, তা এই উম্মতের আলেম ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অতি মহিমান্বিত, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সংরক্ষিত বিষয় ছিল!!!

(২) সেজন্যই সংবাদের গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি, যা সহিহ হাদিসের সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে, তার সবকটিই মূলত সংবাদকে এই দুটি আপদ—মিথ্যা ও ভুল—থেকে নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তার জন্য শর্ত করা হয়েছে।

১ - আদালত (ন্যায়পরায়ণতা): ইচ্ছাকৃত মিথ্যায় পতিত না হওয়া নিশ্চিত করার জন্য।

২ - দাবত (স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা): ভুল সংঘটিত না হওয়া নিশ্চিত করার জন্য।

৩ - ইত্তিসাল (সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা): উভয় আপদ থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য; কারণ সনদে যে ব্যক্তিটি বাদ পড়েছে, সে হয়ত এই দুটি আপদ থেকে মুক্ত থাকার যোগ্য না-ও হতে পারে।

৪ - শায (বিচ্যুতি) না হওয়া।

৫ - ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) না থাকা: যার থেকে সাধারণত ভুল প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়, তার ক্ষেত্রেও যেন ভুল না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য; কারণ একজন নির্ভুল বর্ণনাকারীও ভুল করা থেকে সংরক্ষিত বা নিষ্পাপ নন।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৬)
ولك أن تتصوّر: لو قَدّر الله تعالى أن تُدَوّنَ السنةُ كُلُّها بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم، كما دُوِّن القرآن الكريم، هل كُنّا سنحتاج إلى ذلك الميزان النقدي؟ لاشك أننا لم نكن سنحتاج إليه، كما لم نَحْتَجْ إليه مع القرآن الكريم؛ لأن الكتابة حينها ستكون وعاءً شاملاً وصافياً، فلا يضمّ فيه إلا الصدق والصواب. لكن شاء الله تعالى بحكمته أن لا يحصل ذلك؛ لأسباب قدريّة كونيّة، ولأسباب شرعيّة، ليس هذا أوان تفصيلها.

ومن هُنَا يتبيّن لك: أن علاقة الميزان النقدي بتدوين السنّة علاقةُ تلازم كامل، إلى درجة أن تصل هذه العلاقة إلى أن تكون سبباً للوجود وسبباً للعدم، كما سبق. حيث بيّنّا أن سبب نشوء الميزان النقدي هو التلقّي الشفهي وعدم شمول التدوين في زمن النبي صلى الله عليه وسلم، وبيّنّا أن التدوين لو كان شاملاً في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لما احتجنا إلى ذلك الميزان النقدي أصلاً، ولما كان له وجود، كما لم يكن له وجود مع القرآن الكريم.

وما دامت علاقة الميزان النقدي بتدوين السنة على هذه الدرجة الكاملة من الترابط والتلازم، فهذا سيعني أن تطوّر الميزان النقدي مرتبطٌ أيضاً بتطوّر التدوين. وهذا هو ما وقع بالفعل؛ لأنه لا يُمكن إلا أن يكون كما وقع!!

ومع أني لا أرى أن هناك حاجةً للاستدلال على وقوع ذلك الترابط بين تطوّر النقد وتطوّر التدوين، بعد أن بيّنتُ أنهما غير منفكّين وجوداً وعدماً - إلا أني لن أُغْفِل الحرصَ على كَمال وضوح هذا الترابط، وأنه كان لابُدّ أن يكون.
আপনি কল্পনা করতে পারেন: যদি মহান আল্লাহ নির্ধারণ করতেন যে সম্পূর্ণ সুন্নাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে লিপিবদ্ধ করা হবে—যেভাবে পবিত্র কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল—তবে কি আমাদের সেই সমালোচনামূলক মানদণ্ডের প্রয়োজন হতো? নিঃসন্দেহে আমাদের এর প্রয়োজন হতো না, ঠিক যেমন পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে আমাদের এর প্রয়োজন হয়নি; কারণ তখন লিখন পদ্ধতি হতো একটি ব্যাপক ও স্বচ্ছ আধার, যাতে সত্য ও সঠিক বিষয় ছাড়া অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত হতো না। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞায় তা না হওয়ার ফয়সালা করেছেন; কিছু তকদিরি ও জাগতিক কারণে এবং কিছু শরয়ি কারণে, যার বিস্তারিত বর্ণনার সময় এখন নয়।

এখান থেকেই আপনার কাছে স্পষ্ট হয় যে: সুন্নাহর লিপিবদ্ধকরণের সাথে সমালোচনামূলক মানদণ্ডের সম্পর্ক হলো একটি পূর্ণাঙ্গ অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি (অস্তিত্বশীল হওয়া বা না হওয়ার) কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে আমরা স্পষ্ট করেছি যে, সমালোচনামূলক মানদণ্ড উদ্ভবের কারণ ছিল মৌখিক গ্রহণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিপিবদ্ধকরণের ব্যাপকতা না থাকা। আমরা আরও স্পষ্ট করেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যদি লিপিবদ্ধকরণ ব্যাপক হতো, তবে আমাদের মোটেও সেই সমালোচনামূলক মানদণ্ডের প্রয়োজন হতো না এবং এর কোনো অস্তিত্বও থাকতো না, যেমনটি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

আর যেহেতু সুন্নাহর লিপিবদ্ধকরণের সাথে সমালোচনামূলক মানদণ্ডের সম্পর্ক এই পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ সংশ্লিষ্টতা ও অবিচ্ছেদ্যতার উপর ভিত্তি করে, তাই এর অর্থ দাঁড়ায় যে, সমালোচনামূলক মানদণ্ডের বিবর্তনও লিপিবদ্ধকরণের বিবর্তনের সাথে জড়িত। আর বাস্তবে এটিই ঘটেছে; কারণ এটি যেভাবে ঘটেছে তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে হওয়া সম্ভব ছিল না!!

যদিও আমি মনে করি না যে সমালোচনা ও লিপিবদ্ধকরণের বিবর্তনের মধ্যে এই সংলগ্নতা ঘটার স্বপক্ষে প্রমাণের কোনো প্রয়োজন আছে—বিশেষ করে যখন আমি স্পষ্ট করেছি যে অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের বিচারে তারা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য—তবুও আমি এই সম্পর্কের পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেষ্ট হতে কার্পণ্য করব না, এবং এটি ঘটা যে অনিবার্য ছিল তাও উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৭)
فقد قرّرنا آنفاً أن عدم شمول التدوين في زمن النبي صلى الله عليه وسلم، وأن استمرارَ الرواية الشفهيّة المعتمدةِ على حفظ الصدور هو الذي طَرَّق إلى الأخبار احتمالَ أن تكون مخالفةً للواقع، خطأً أو عمداً، وأن هذا الإخبار بخلاف الواقع قد وقع فعلاً، فلم يكن مجرّدَ احتمال. وقرّرنا أيضاً أن الميزان النقدي نشأ مع الرواية في وقت واحد؛ لأن غرضَ الراوي هو الاستفادة من الخبر، ولن تتحقق الإفادة من خبرٍ مخالفٍ للواقع، وما دام يتطرّق إلى الخبر هذا الاحتمال فلابُدّ من وَضْع معايير لتمييز الخبر الموافق للواقع والخبر المخالف للواقع، وهذا هو الميزان النقدي.
আমরা ইতিপূর্বে সাব্যস্ত করেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সংকলনের ব্যাপকতা না থাকা এবং অন্তরে মুখস্থ রাখার ওপর নির্ভরশীল মৌখিক বর্ণনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই সংবাদসমূহের মধ্যে ভুলবশত কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতাবিরোধী হওয়ার সম্ভাবনা অনুপ্রবেশ করিয়েছিল। আর বাস্তবতাবিরোধী এই সংবাদ প্রদান প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হয়েছিল, এটি কেবল নিছক কোনো সম্ভাবনা ছিল না। আমরা আরও সাব্যস্ত করেছি যে, সমালোচনামূলক মানদণ্ড বর্ণনার সাথেই একই সময়ে উদ্ভূত হয়েছিল; কারণ বর্ণনাকারীর উদ্দেশ্য হলো সংবাদ থেকে উপকৃত হওয়া, আর বাস্তবতাবিরোধী কোনো সংবাদ থেকে উপকার লাভ করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সংবাদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাটি বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ বাস্তবসম্মত সংবাদ এবং বাস্তবতাবিরোধী সংবাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করা অপরিহার্য; আর এটিই হলো সমালোচনামূলক মানদণ্ড।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৮)
ولاشك أن احتمال أن يكون الخبرُ مخالفاً للواقع خطأً (بغير عمد) سيزداد قوّةً كُلَّما ابتعد الخبر عن أصله وناقله الأول؛ ((لأنّه ما من راوٍ من رجال الإسناد إلا والخطأ جائزٌ عليه، فكلما كثرت الوسائط وطال السند كَثُرت مظانُّ التجويز، وكلّما قَلّتْ قَلّتْ)) (1) . وكذلك حال الإخبار بخلاف الواقع عمداً (كذباً) ، سيزداد احتمال وقوعه بزيادة عدد الناقلين، الذين يُحتمل في كل واحدٍ منهم (قبل العلم بعدالته) أن يكون كذّاباً. كما أنّ العدالة في الرواة والناس عموماً لم تزل في نقصانٍ ببُعْدِ الناس عن زمن النبوّة، مصداقاً لقول النبي صلى الله عليه وسلم ((خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجيء قومٌ تسبق شهادةُ أحدهم يمينَه ويمينُه شهادتَه)) (2) ، وفي حديث آخر قال في الرابع: ((ثم يفشو الكذب)) (3) .

وهذه الزيادة في احتمالاتِ حُصُولِ الإخبار بخلاف الواقع (عمداً أو خطأً) بسبب امتداد الزمن، لم تكن زيادةً في عدد تلك الاحتمالات فقط، بل هي زيادةٌ في العدد وفي صُوَر تلك الاحتمالات أيضاً.

--------------------------------------------

(1) اقتباسٌ من كلامٍ للحافظ ابن حجر في نزهة النظر (116) .

(2) أخرجه البخاري (رقم 2652، 3651، 6429، 6658) ، ومسلم (رقم 2533) ، من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.

(3) أخرجه الترمذي وصحّحه (رقم 2165) ، وابن ماجه (رقم 2363) ، وابن حبان (رقم 4576، 5586، 6728، 7254) ، والحاكم وصحّحه (1/114، 114 - 115) ، والضياء في المختارة (1/191 - 193 رقم 96 - 98) (1/267 رقم 157) (1/294 - 295 رقم 185) ، من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

والحديث وقع فيه اضطرابٌ على أحد رواته، لكن له طريقُ من غير طريق الراوي الذي اضطُرب عليه فيه، ثم إن الاضطراب الذي وقع فيه مما لا يُعَلّ به الخبر. فانظر: العلل الكبير للترمذي (2/816 - 817) ، والعلل للدارقطني (2/122 - 125 رقم 155) .
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো সংবাদ বাস্তবতার পরিপন্থী হওয়ার সম্ভাবনা—ভুলবশত (অনিচ্ছাকৃতভাবে)—ততটাই জোরালো হতে থাকে, সংবাদটি তার মূল উৎস ও প্রথম বর্ণনাকারী থেকে যত বেশি দূরে সরে যায়; ((কেননা সনদ বা বর্ণনাসূত্রের ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কোনো বর্ণনাকারী নেই যার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া অসম্ভব; সুতরাং মধ্যস্থতাকারীদের সংখ্যা যত বাড়বে এবং সনদ যত দীর্ঘ হবে, ভুল হওয়ার সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো তত বৃদ্ধি পাবে, আর এই সংখ্যা যত কম হবে, সম্ভাবনাও তত কম হবে)) (১)। অনুরূপভাবে, ইচ্ছাকৃতভাবে (মিথ্যাচার) বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ দেওয়ার বিষয়টিও বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে (তাদের ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে জানার পূর্বে) মিথ্যাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে। যেমনটি বর্ণনাকারীদের এবং সাধারণভাবে মানুষের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠতা বা আদালত নবুওয়াতের যুগ থেকে মানুষের দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর সত্যতা হিসেবে: ((সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, তারপর তাদের পরবর্তী স্তরের লোক, তারপর তাদের পরবর্তী স্তরের লোক। এরপর এমন এক জাতির আবির্ভাব ঘটবে যাদের কারো সাক্ষ্য তার কসমের আগে এবং কসম তার সাক্ষ্যের আগে চলে আসবে)) (২)। অন্য একটি হাদিসে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাপারে তিনি বলেছেন: ((এরপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে)) (৩)।

সময়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ আসার (ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুলবশত) এই যে সম্ভাবনার বৃদ্ধি, তা কেবল এই সম্ভাবনাগুলোর সংখ্যার দিক দিয়েই নয়, বরং তা সংখ্যার পাশাপাশি এই সম্ভাবনাগুলোর ধরনের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি পেয়েছে।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার এর 'নুযহাতুন নাযার' (১১৬) থেকে উদ্ধৃত।

(২) এটি ইমাম বুখারি (নং ২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮) এবং মুসলিম (নং ২৫৩৩) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন (নং ২১৬৫), ইবনে মাজাহ (নং ২৩৬৩), ইবনে হিব্বান (নং ৪৫৭৬, ৫৫৮৬, ৬৭২৮, ৭২৫৪), হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন (১/১১৪, ১১৪-১১৫), এবং যিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারাহ'-তে (১/১৯১-১৯৩ নং ৯৬-৯৮; ১/২৬৭ নং ১৫৭; ১/২৯৪-২৯৫ নং ১৮৫) উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটির একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে 'ইজতিরাব' (অসংগতি) ঘটেছে, কিন্তু যে বর্ণনাকারীর বর্ণনায় অসংগতি ঘটেছে তিনি ছাড়াও হাদিসটির অন্যান্য সূত্র রয়েছে। তা ছাড়া এখানে যে অসংগতি ঘটেছে তা এমন নয় যার কারণে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত হবে। দেখুন: তিরমিযির 'আল-ইলালুল কাবীর' (২/৮১৬-৮১৭) এবং দারা কুতনির 'আল-ইলাল' (২/১২২-১২৫ নং ১৫৫)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ৯)
فمثلاً: (التدليس) المذموم و (الإرسالُ) المردود لم يكن ليظهر في جيل الصحابة؛ لأن الصحابة كلّهم عدول، وإنّما ظهر بعدهم، و (الإعضال) لم يكن ليظهر عند من لا يروي عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بواسطةٍ واحدة، لكنه يُمكن أن يظهر عند من يحدث عنه بواسطتين فأكثر.

وما دام احتمالُ إصابة الأخبار بآفتيها (الكذب والخطأ) سيزدادُ بامتداد الزمن، فلابُدّ أن علماء الأمّة ستزداد عنايتهم في إيجاد الوسائل التي تُخَلِّصُ الأخبار من هاتين الآفتين، وهذا هو تطوّر الميزان النقدي.

ولمّا كان سبب حصول هاتين الآفتين هو الرواية الشفهيّة غير المدوّنة، فقد سارع العلماء إلى التدوين، الذي لم يزل يتطوّر، مواكباً حاجة السنة للحفظ (1) وللحماية من الكذب (2) أو الخطأ (3) .

--------------------------------------------

(1) قال عبد الله بن المبارك:» لولا الكتاب ما حفظنا «، وقال إسحاق بن منصور:» قلتُ لأحمد: مَنْ كَرِهَ كتابة العلم؟ قال: كرهه قومٌ كثير، ورخّصَ فيه قوم. قلتُ: لو لم يُكتب ذهبَ العلم، قال أحمد: ولولا كتابتُهُ أيّ شيءٍ كُنَّا نحن؟! «.

انظر: المحدث الفاصل للرامهرمزي (377 رقم 360) ، وتقييد العلم للخطيب (114، 115) .

(2) حيث إن التدوين الذي به يتمُّ ضبط المنقول ومعرفته، به يتمّ معرفةُ الكذّابين وفَضْحُهُم، وبحصوله يهابون التجرؤَ عليه، وتُعْرفُ نُسَخُهم فلا يتهافت عليها أشباههم. يقول ابن معين: ((كتبنا عن الكذّابين، وسجرنا به التنّور، فأخرجنا به خُبزاً نضيجاً)) ، ويقول: ((وأيُّ صاحب حديث لا يكتب عن كذّابٍ ألفَ حديث؟!)) .انظر: المجروحين لابن حبان (1/56) ، والكامل لابن عدي (1/124) .

(3) إن علاقة الضبط بالكتابة أمرٌ لا خفاء به. يقول الإمام أحمد:» حدثنا قومٌ من حفظهم، وقومٌ من كتبهم، فكان الذين حدثونا من كتبهم أتقن «. تقييد العلم للخطيب (115) .
উদাহরণস্বরূপ: নিন্দনীয় 'তাদলিস' (বর্ণনাকারীর নাম গোপন করা) এবং প্রত্যাখ্যাত 'ইরসাল' (সূত্রবিচ্ছিন্নতা) সাহাবীগণের প্রজন্মে প্রকাশ পাওয়ার মতো ছিল না; কারণ সাহাবীগণ সকলেই ছিলেন ন্যায়পরায়ণ (আদিল)। বরং এগুলো তাঁদের পরবর্তী যুগে প্রকাশ পেয়েছে। আর 'ই'দাল' (সূত্রে পরপর দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়া) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মাত্র একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেন। তবে এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব, যিনি তাঁর থেকে দুই বা ততোধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেন।

যেহেতু সময়ের ব্যাপ্তির সাথে সাথে বর্ণনাসমূহ দুটি বিপত্তির (মিথ্যা ও ভুল) শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, তাই এটি অনিবার্য ছিল যে, উম্মতের উলামায়ে কেরাম বর্ণনাসমূহকে এই দুই বিপত্তি থেকে মুক্ত করার উপায় উদ্ভাবনে তাঁদের অধিক মনোনিবেশ করবেন। আর এটিই হলো পর্যালোচনার মানদণ্ডের (মীযানুন নাক্বদী) বিবর্তন।

যেহেতু এই দুই বিপত্তি ঘটার কারণ ছিল অলিখিত মৌখিক বর্ণনা, তাই উলামায়ে কেরাম দ্রুত লিপিবদ্ধকরণের (তাদউইন) দিকে ধাবিত হন। সুন্নাহর সংরক্ষণ (১), মিথ্যা থেকে সুরক্ষা (২) অথবা ভুল থেকে হিফাযত (৩) করার প্রয়োজনে এই লিপিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বিবর্তিত হতে থাকে।

--------------------------------------------

(১) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: "যদি কিতাব (লিখনী) না থাকত তবে আমরা মুখস্থ রাখতে পারতাম না।" ইসহাক ইবনে মানসূর বলেন: "আমি আহমাদকে বললাম: কারা ইলম লিপিবদ্ধ করাকে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন: অনেক লোক তা অপছন্দ করতেন এবং অনেকে তার অনুমতি দিতেন। আমি বললাম: যদি লেখা না হতো তবে ইলম হারিয়ে যেত। আহমাদ বললেন: যদি লেখা না হতো তবে আমরা আজ কী-ই বা হতাম!"

দেখুন: রামেহরমুযী রচিত আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (৩৭৭, নং ৩৬০) এবং খতীব রচিত তাকয়িদুল ইলম (১১৪, ১১৫)।

(২) যেহেতু লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়ের নির্ভুলতা ও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়, সেহেতু এর মাধ্যমেই মিথ্যাবাদীদের চেনা এবং তাদের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব হয়। আর লিপিকরণের ফলে তারা মিথ্যাচারের সাহস হারিয়ে ফেলে এবং তাদের পাণ্ডুলিপিগুলো চিহ্নিত করা যায়, যাতে তাদের মতো অন্য কেউ সেগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে। ইবনে মাঈন বলেন: "আমরা মিথ্যাবাদীদের থেকে লিখেছি এবং তা দিয়ে চুলা জ্বালিয়েছি, অতঃপর তা দিয়ে ভালোভাবে সেঁকা রুটি তৈরি করেছি।" তিনি আরও বলেন: "এমন কোন হাদীস বিশারদ আছেন কি যিনি কোন মিথ্যাবাদীর কাছ থেকে এক হাজার হাদীস লেখেননি?" দেখুন: ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহীন (১/৫৬) এবং ইবনে আদী রচিত আল-কামিল (১/১২৪)।

(৩) নির্ভুলতার (দাবত) সাথে লেখনীর সম্পর্ক একটি সুস্পষ্ট বিষয়। ইমাম আহমাদ বলেন: "একদল লোক তাঁদের স্মৃতি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং অন্য একদল তাঁদের কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে যাঁরা তাঁদের কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁরাই অধিক নির্ভুল ছিলেন।" খতীবের তাকয়িদুল ইলম (১১৫)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১০)
وبذلك نعود إلى تأكيد تلك العلاقة بين تطوّر التدوين وتطوّر الميزان النقدي، فلئن بيّنّا سابقاً ما بينهما من علاقة في المنشأ، تقتضي استمرار تلك العلاقة بينهما بعد النشأة فقد بيّنا هنا أيضاً حقيقةَ تلك العلاقة خلال مراحل التطوّر لكليهما، ممّا لا يدع مجالاً للشك في حصول تلك العلاقة بين التدوين والنقد في كل مراحل تطوّرهما.

فإذا انتهينا إلى اليقين من هذه النتيجة، وهي أن التدوين والميزان النقدي متلازمان نشأةً وتطوّراً، تلازُمَ الروح بالجسد الحيّ، فهذا سيعني أن الزَّمنَ الذي يبلغُ التدوينُ فيه نهايتَه، بشموله لجميع المنقولات، وبعدم بقاء روايةٍ غير مدوّنةٍ ممّا كان يذكره الناقلون منذ نشأة الرواية إلى ذلك الزمن سيعني أيضاً أن النقد قد بلغ في ذلك الزمن نهايته، وأنه بعد بلوغه هذه النهاية سيكون قادراً على تصفية المنقولات كُلِّها بلا استثناء، وأنه لم يعد فيه مجالٌ للتطوّر بعد ذلك.

إن هذه النتيجة، وهي أن اكتمال التدوين يعني اكتمال المنهج النقدي، لم يَعُدْ بحاجةٍ إلى استدلال بعدما سبق.

لكني أعود فأقول: إن المنهج النقدي إنما نشأ بسبب وجودِ رواياتٍ أصابتها آفةُ الأخبار (الخطأ والكذب) ، وحصولُ هذا للأخبار إنما وقع بسبب عدم التدوين (كما سبق) ، فكان ذلك المنهجُ النقديُّ قادراً على تمييز الصواب من غيره خلال أزمنة الرواية الشفهيّة غير المدوّنة أفلا يكون هذا المنهجُ النقدي أقدَر على القيام بمَهمّته، بعد حصول ما كان من شأنه أن يُغنينا عنه لو أنه تمّ من حين نشوء النقل (ألا وهو التدوين) ، وبعد أن سَهَّلَ له التدوينُ القيامَ بتلك المهمّة؟!

وبعبارة أخرى: إن منهجاً لنقد المنقولات كان قادراً وكافياً لنقدها يوم أن كانت بين رواية شفهيّة ورواية مدوّنة، ألن يكون قادراً وكافياً لنقد المنقولات بعد أن أصبحت مكتوبة فقط؟!!
এর মাধ্যমে আমরা লিখন সংকলনের বিবর্তন এবং সমালোচনা-মানদণ্ডের বিবর্তনের মধ্যকার সেই সম্পর্কের পুনর্নিশ্চিতকরণে ফিরে আসি। ইতিপূর্বে আমরা তাদের উৎপত্তিকালীন সম্পর্কের বিষয়টি বর্ণনা করেছি, যা উৎপত্তির পরেও সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকে অনিবার্য করে তোলে। এখানে আমরা উভয়ের বিবর্তনের পর্যায়গুলোতে সেই সম্পর্কের বাস্তবতাও স্পষ্ট করেছি, যা উভয়ের বিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে সংকলন ও সমালোচনার মধ্যে বিদ্যমান সেই সম্পর্কের বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না।

সুতরাং আমরা যখন এই ফলাফলের ব্যাপারে নিশ্চিত হলাম যে, লিখন সংকলন ও সমালোচনা-মানদণ্ড উৎপত্তি ও বিবর্তনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে এমনভাবে অবিচ্ছেদ্য, যেমনটি জীবন্ত দেহে রুহ অবিচ্ছেদ্য থাকে; তাহলে এর অর্থ দাঁড়াবে যে, যে সময়ে লিখন সংকলন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে—সমস্ত বর্ণিত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এবং বর্ণনার সূচনা লগ্ন থেকে সেই সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের বর্ণিত কোনো বর্ণনা অলিখিত না থাকার মাধ্যমে—সেটির অর্থ এও দাঁড়াবে যে, সমালোচনাও সেই সময়ে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর এই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তা ব্যতিক্রমহীনভাবে সমস্ত বর্ণিত বিষয়কে যাচাই-বাছাই করতে সক্ষম হবে এবং এরপর বিবর্তনের আর কোনো অবকাশ সেখানে থাকবে না।

এই ফলাফল—অর্থাৎ লিখন সংকলনের পূর্ণতা প্রাপ্তিই সমালোচনা পদ্ধতির পূর্ণতা প্রাপ্তি—পূর্বালোচনার পর আর কোনো প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়।

তবে আমি আবারও বলছি: সমালোচনা পদ্ধতির উদ্ভবই হয়েছে এমন কিছু বর্ণনার অস্তিত্বের কারণে যা সংবাদের ত্রুটি (ভুল ও মিথ্যা) দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। আর সংবাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটার কারণ ছিল লিখন সংকলনের অনুপস্থিতি (যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে)। সুতরাং সেই সমালোচনা পদ্ধতি যদি অলিখিত মৌখিক বর্ণনার যুগে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে সক্ষম হয়, তবে সেই সমালোচনা পদ্ধতি কি তার দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সক্ষম হবে না—এমন কিছু অর্জিত হওয়ার পর যা বর্ণনার সূচনা থেকে সম্পন্ন হলে আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো (আর তা হলো লিখন সংকলন), এবং লিখন সংকলন সেই দায়িত্ব পালনকে সহজ করে দেওয়ার পর?!

অন্য কথায়: বর্ণিত বিষয়সমূহ সমালোচনার একটি পদ্ধতি যা সেগুলোকে সমালোচনা করার জন্য সেই সময়ে সক্ষম ও পর্যাপ্ত ছিল যখন বর্ণনাগুলো মৌখিক ও লিখিত উভয় অবস্থায় ছিল, তবে কি তা বর্ণিত বিষয়সমূহ সমালোচনার জন্য আরও বেশি সক্ষম ও পর্যাপ্ত হবে না যখন সেগুলো কেবল লিখিত রূপ ধারণ করেছে?!!
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১১)
وبعبارة ثالثة: إن منهجاً كان قادراً على تصفية المنقولات حينما كانت تتزايد بالخطأ والكذب كل يوم، ألن يكون قادراً على تصفيتها بعد أن انحصرت بالتدوين الشامل (صوابَها وخطأها وكذبها) في عدد معيَّن؟!! (1) .

وأخيراً: هل يُمكن أن يوجد منهجٌ للنقد أفضل من ذلك المنهج الذي استطاع تصفية السنة في أخطر مراحل وُجودها؟! هل يُمكن لأحدٍ أن يدّعي منهجاً مخالفاً لذلك المنهج يكفل لنا به ما كفله لنا ذلك المنهج؟!! لاشك أن المنهج الذي استطاع أن يواجه تلك الأخطار، وأن يدفعها كلها، هو أفضل المناهج على الإطلاق. وأنّ من أراد أن يستبدل به منهجاً آخر، أقلّ ما يُقال له: أتستبدلون الذي هو أدنى بالذي هو خير (البقرة: 61) .

وهنا يأتي السؤال الأهم: فمن أراد أن يتعرّف على منهج نقد السنّة عمّن يأخذه؟ من هُمْ أهل ذلك المنهج (المكوّنِ من قواعد ومصطلحات) الذين إن أردنا أن ندرس منهج نقد السنة لزمنا أن لا نتجاوزهم وأن لا نخالفهم؟ ومن هم الذين يُحتكم إليهم في تصويب المنهج أو تخطئته؟ ويُمدح من سار على منهجهم ويُذمّ من خالفه؟

لا يخفى على أحدٍ منكم الجواب عن هذا السؤال (أو الأسئلة) .

--------------------------------------------

(1) ولا يعني ذلك أن الخطأ والكذب قد انتهى بعد اكتمال تدوين السنة، ولكن يعني أنه لن يشتبه بالصواب، وسيكون نَقْدُهُ أسهل بعد التدوين؛ لأنه خرجَ عن احتمال أن يكون صواباً، بعدم وجوده مدوَّناً بعد اكتمال التدوين.

وهذا ما ذكره البيهقي عندما قال: ((وهو أنّ الأحاديث التي قد صحّت، أو وقفت بين الصحّة والسُّقْم قد دُوّنت وكُتبت في الجوامع التي جمعها أئمةُ أهل العلم بالحديث، ولا يجوز أن يذهب منها شيءٌ على جميعِهم، وإن جاز أن تذهب على بعضهم؛ لضمان صاحب الشريعة حفظها. فمن جاء اليوم بحديث لا يوجد عند جميعهم، لم يُقبل منه..)) . مناقب الشافعي للبيهقي (2/321) .
অন্য কথায়: যে পদ্ধতি বর্ণনাগুলোকে পরিশোধন করতে সক্ষম ছিল যখন সেগুলো প্রতিদিন ভুল ও মিথ্যার মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তবে কি সেই পদ্ধতি সেগুলোকে পরিশোধন করতে সক্ষম হবে না যখন সেগুলো ব্যাপক সংকলনের মাধ্যমে (সেগুলোর নির্ভুলতা, ভুল ও মিথ্যার সকল প্রকারসহ) একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে?!! (১) .

এবং সবশেষে: সমালোচনার এমন কোনো পদ্ধতি কি থাকা সম্ভব যা সেই পদ্ধতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যা সুন্নাহকে তার অস্তিত্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়গুলোতে পরিশোধন করতে সক্ষম হয়েছিল?! কেউ কি এমন কোনো ভিন্ন পদ্ধতির দাবি করতে পারে যা আমাদের জন্য সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে যা এই পদ্ধতিটি আমাদের দিয়েছিল?!! এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে পদ্ধতিটি সেই সব বিপদ মোকাবিলা করতে এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল, সেটিই হচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। আর যে ব্যক্তি এর পরিবর্তে অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে চায়, তাকে অন্তত এটুকুই বলা যায়: তোমরা কি উত্তম বস্তুর পরিবর্তে নিকৃষ্ট কিছু গ্রহণ করতে চাও (আল-বাকারাহ: ৬১)।

আর এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসে: যে ব্যক্তি সুন্নাহর সমালোচনামূলক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চায়, সে তা কার কাছ থেকে গ্রহণ করবে? এই পদ্ধতির (যা বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিভাষা দ্বারা গঠিত) ধারক-বাহক কারা, যাদের সম্পর্কে যদি আমরা সুন্নাহর সমালোচনামূলক পদ্ধতি নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই, তবে তাদের অতিক্রম না করা এবং তাদের বিরোধিতা না করা আমাদের জন্য অপরিহার্য? আর এই পদ্ধতিকে সঠিক বা ভুল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কাদের ফয়সালা গ্রহণ করা হবে? এবং তাদের প্রশংসা করা হবে যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছে এবং তাদের নিন্দা করা হবে যারা তার বিরোধিতা করেছে?

এই প্রশ্নের (বা প্রশ্নগুলোর) উত্তর আপনাদের কারো কাছেই অজানা নয়।

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ এই নয় যে, সুন্নাহ সংকলন সম্পন্ন হওয়ার পর ভুল ও মিথ্যাচার শেষ হয়ে গেছে, বরং এর অর্থ হলো তা সঠিকের সাথে মিশে অস্পষ্ট হয়ে যাবে না এবং সংকলনের পর সেগুলোর সমালোচনা করা সহজ হবে; কারণ সংকলন পূর্ণ হওয়ার পর সংকলিত রূপের বাইরে হওয়ায় সেগুলো সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

আর এটিই বাইহাকি উল্লেখ করেছেন যখন তিনি বলেছেন: "বিষয়টি হলো, যে হাদিসগুলো সহিহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে অথবা যেগুলো সহিহ ও দুর্বল হওয়ার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো হাদিসশাস্ত্রের ইমামদের সংকলিত গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ ও সংকলিত হয়েছে। আর তাদের সকলের অগোচরে এগুলোর মধ্য থেকে কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, যদিও তাদের কারো কারো অগোচরে তা থাকতে পারে; কারণ শরিয়ত প্রণেতা এটি সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সুতরাং আজ যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের কারোর কাছেই নেই, তবে তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না..."। বাইহাকি রচিত মানাকিব আল-শাফিঈ (২/৩২১)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১২)
إذ إن الجوابَ قد تقدّم، وهو أن منهج نقد السنة يجب أن يؤخذ عمّن أسّسه وبناه حتى اكتمل، وهؤلاء هم أهل ذلك المنهج، الذين يُحتكم إليهم، ويُمدح من سار على منهجهم، ويُذمّ من خالفهم (1) .

وهنا قد ينقدح سؤال، كنت قد أجبت عنه سابقاً، لكنه يحتاج إلى زيادة بيان؛ وهو: لمَ لمْ تقتصر على العلماء الذين عاصروا اكتمال المنهج؟ لمَ أدخلتَ معهم من سبقهم؟ مع أن من سبقهم لم يكن المنهج في زمنهم مكتملاً!! ألا يُطرِّق ذلك احتمالَ تَعَدُّدِ المناهج بسبب اختلاف أزمنة أهل المنهج الذين تُحيل إليهم، وبسبب اختلاف أطوار العلم الذي تُرجعنا إليه؟!

والجواب:

أوّلاً: إنه ليس من حقّي أن أقتصر من عند نفسي على عصرٍ دون عصر، لقد بَنَيْتُ ما قلتُه على الدرس العميق لمراحل تطوّر العلم، كما مَرّ بكم آنفاً. فلست بالذي يختار، وإنما سنةُ التطوّر والارتقاء هي التي تختار.

ثانياً: إن هذا السائل لم ينتبه إلى ما كنتُ قررتُه سابقاً، من أن انتقال منهج النقد من طور إلى طور لم يكن لنقص في الطور الأول، وإنما لتجدّد أمور اقتضت الإضافة إليه فقط. فكل الذي كان يحصل خلال انتقال المنهج من طور إلى طور، هو أن الطور الثاني يضيفُ إلى الطور الأول ما يُمَكّنُهُ من مُوَاجهةِ الأخطار المستحدثة فيه. فقواعد المنهج خلال الطور الأول لم تزل معمولاً بها خلال المنهج الثاني، وانضافت إليها قواعدُ جديدةٌ.

--------------------------------------------

(1) وأهل النقد هم في ذلك كأهل اللغة الذين يُحْتَجُّ بلغتهم، فكما أن دأب اللغويين تقييد لغة هؤلاء، فكان ينبغي أن يكون دأب المصنفين في علوم الحديث من المتأخرين أن يكون دأبهم تقييد لغة أولئك وقواعدهم في علمهم، الذي كان حيًّا بينهم، لا يحْتاجون فيه إلى من يترجم لهم ألفاظه ومصطلحاته. فوجه الشبه بين الفريقين: حياة العلم عند أهل الحديث، وحياة اللغة عند من يحتج بلغتهم.
যেহেতু উত্তরটি পূর্বেই প্রদান করা হয়েছে, আর তা হলো—সুন্নাহ সমালোচনার মূলনীতি অবশ্যই তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে যারা এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং একে পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন। তারাই হলেন এই মূলনীতির ধারক-বাহক, যাদের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হয়; যারা তাদের মূলনীতি অনুসরণ করে তারা প্রশংসিত হয় এবং যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা নিন্দিত হয় (১)।

এখানে একটি প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে, যার উত্তর আমি ইতিপূর্বে দিয়েছি, তবে বিষয়টি আরও বিশদ ব্যাখ্যার দাবি রাখে; আর তা হলো: কেন আপনি কেবল সেইসব আলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেন না যারা এই মূলনীতির পূর্ণতা লাভের যুগের সমসাময়িক ছিলেন? কেন আপনি তাদের সাথে তাদের পূর্ববর্তীদেরও অন্তর্ভুক্ত করলেন? অথচ পূর্ববর্তীদের যুগে তো এই মূলনীতি পূর্ণতা পায়নি! এটি কি মূলনীতির বহুত্ব বা ভিন্নতার সম্ভাবনা তৈরি করে না? কারণ আপনি যাদের উদ্ধৃতি দিচ্ছেন তাদের সময়ের ভিন্নতা রয়েছে এবং যে শাস্ত্রের দিকে আপনি আমাদের ফেরাচ্ছেন তার বিবর্তনের স্তরগুলোও ভিন্ন!

উত্তর:

প্রথমত: নিজের পক্ষ থেকে কোনো একটি যুগকে অন্য যুগের ওপর প্রাধান্য দিয়ে সীমাবদ্ধ করার অধিকার আমার নেই। আমি যা বলেছি তা এই শাস্ত্রের বিবর্তনের স্তরসমূহের গভীর পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে বলেছি, যা ইতিপূর্বে আপনাদের নিকট আলোচিত হয়েছে। সুতরাং আমি চয়নকারী নই, বরং বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের নিয়মই তা নির্ধারণ করে দেয়।

দ্বিতীয়ত: এই প্রশ্নকারী ওই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করেননি যা আমি ইতিপূর্বে স্থির করেছি যে, সমালোচনা পদ্ধতির এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তরণ প্রথম স্তরের কোনো ত্রুটির কারণে ছিল না, বরং কেবল নতুন কিছু বিষয়ের উদ্ভব হওয়ার কারণে তাতে নতুন কিছু সংযোজনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। সুতরাং পদ্ধতির এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তরণের সময় যা ঘটেছিল তা হলো—দ্বিতীয় স্তরটি প্রথম স্তরের সাথে এমন কিছু যোগ করেছে যা তাকে নতুন উদ্ভূত সংকটগুলোর মোকাবিলা করতে সক্ষম করে তোলে। ফলে প্রথম স্তরের পদ্ধতির নিয়মাবলী দ্বিতীয় স্তরেও কার্যকর ছিল, কেবল তার সাথে নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আর সমালোচকগণ এক্ষেত্রে সেই ভাষিক জনগোষ্ঠীর মতো যাদের ভাষাকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়। ভাষাবিদদের কাজ যেমন সেই জনগোষ্ঠীর ভাষাকে লিপিবদ্ধ করা, তেমনি পরবর্তীকালের হাদিস শাস্ত্রের সংকলকদের উচিত ছিল সেই পূর্ববর্তী ইমামদের ভাষা ও তাদের শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ করা; এই শাস্ত্রটি তাদের মাঝে তখন জীবন্ত ছিল, যার শব্দ ও পরিভাষা অনুবাদ করে দেওয়ার জন্য তাদের কারো প্রয়োজন হতো না। উভয় দলের মধ্যে সাদৃশ্যের দিকটি হলো: হাদিস বিশারদদের নিকট শাস্ত্রের সজীবতা এবং যাদের ভাষাকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয় তাদের নিকট ভাষার সজীবতা।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكل دعوى عن اختلافِ المنهج، خلال أزمنة أهل المنهج، وبين أهله دعوى باطلة، بعيدةٌ كل البُعْد عن فقه المسألة، وعن التدبّر في نشأة المنهج ودواعيه وأطواره.

وكيف يُتصوّرُ حصول اختلافٍ في المنهج، والمنهج إنما نشأ لحماية المنقولات من آفتي الخطأ والكذب؟! هل هناك من يقبل الخطأ؟! هل هناك من يقبل الكذب؟! هل هناك من يقبل ما يغلب على الظن أنه خطأ؟! هل هناك من يقبل ما يغلب على الظنّ أنه كذب؟!

أمّا إن ضربتَ أمثلةً للمسائل التي ادُّعي فيها الخلاف في المنهج: كالمرسل، والرواية عن أهل البدع، وزيادة الثقة، واشتراط عدم الشذوذ، واشتراط عدم العلّة … ونحوها من المسائل التي حُكي فيها الخلاف.

فإني أقول لك: لقد درسنا هذه المسائل وغيرها مسألةً مسألةً، فتبيّن لنا عدمُ صحّة وجود ذلك الخلاف المدَّعى، والذي نُقِل في أكثره أيضاً الإجماعُ، وإن اشتهر عند المتأخرين القول بالخلاف!!

ثم إن الخلاف المنهجيَّ لا يخفى، وهو أولى بالظهور والوضوح من الاختلاف في آحاد المسائل الجزئيّة، وأولى بالنقل، وأحرى بأن تقوم له المعارك العلميّة، وبأن تُصنَّفَ فيه الردودُ والردودُ على الردود … هذا هو المعتاد من سُنّه العلوم جميعاً؛ لأنه اختلافٌ منهجيٌّ ينبني عليه اختلافٌ عظيم في كثيرٍ من المسائل الجزئيّة.

وبَعْدُ … فأين هو هذا الاختلاف المنهجيّ في الصُّور التالية:

- أين هو في التوافق العجيب بين نقاد الحديث، من زمن شعبة والقطان وابن مهدي، إلى زمن البخاري ومسلم وأبي حاتم ومن بعدهم: في التصحيح والتضعيف والتعليل والجرح والتعديل؟ هل وجدتم أحداً منهم ردّ حكماً من آخر بدعوى اختلاف المنهج؟
মানহাজ বা পদ্ধতির অনুসারীদের যুগে যুগে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে মানহাজের ভিন্নতা সম্পর্কে করা প্রতিটি দাবিই বাতিল, যা এই বিষয়ের গভীর জ্ঞান এবং মানহাজের উৎপত্তি, এর কারণ ও পর্যায়সমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা থেকে বহু দূরে।

আর মানহাজে কোনো মতপার্থক্য ঘটার কথা কীভাবে কল্পনা করা যায়, যেখানে এই মানহাজ বা পদ্ধতি সৃষ্টিই হয়েছে বর্ণিত বিষয়াদিকে ভুল এবং মিথ্যার এই দুটি আপদ থেকে রক্ষা করার জন্য?! এমন কেউ কি আছে যে ভুলকে গ্রহণ করবে?! এমন কেউ কি আছে যে মিথ্যাকে গ্রহণ করবে?! এমন কেউ কি আছে যে এমন বিষয়কে গ্রহণ করবে যা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল?! এমন কেউ কি আছে যে এমন বিষয়কে গ্রহণ করবে যা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল?!

আর আপনি যদি এমন মাসআলাগুলোর উদাহরণ দেন যেগুলোতে মানহাজি মতপার্থক্যের দাবি করা হয়েছে: যেমন মুরসাল হাদিস, বিদআতিদের থেকে বর্ণনা, নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা, শাজ (বিচ্যুতি) না থাকার শর্ত, ইল্লত (ত্রুটি) না থাকার শর্ত … এবং অনুরূপ মাসআলাসমূহ যেগুলোতে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আমি আপনাকে বলব: আমরা এই মাসআলাগুলো এবং অন্যান্য বিষয়গুলো একে একে অধ্যয়ন করেছি, ফলে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই দাবিকৃত মতপার্থক্য থাকার কোনো সত্যতা নেই। বরং এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইজমা বা ঐক্যমত্য বর্ণিত হয়েছে, যদিও পরবর্তীকালের আলেমদের নিকট মতপার্থক্যের কথাটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে!!

অধিকন্তু, মানহাজি বা পদ্ধতিগত মতপার্থক্য গোপন থাকার বিষয় নয়; বরং একক কোনো আংশিক মাসআলার মতপার্থক্যের তুলনায় এটি অধিক প্রকাশ্য ও স্পষ্ট হওয়ার দাবি রাখে। এটি বর্ণিত হওয়ার এবং এর ওপর ভিত্তি করে ইলমি লড়াই পরিচালিত হওয়ার দাবি রাখে, এবং এর ওপর খণ্ডন ও খণ্ডনের প্রতি-খণ্ডন লিখিত হওয়ার দাবি রাখে … সকল বিজ্ঞানের রীতিনীতি এমনই হয়ে থাকে; কারণ এটি একটি পদ্ধতিগত মতভেদ যার ওপর ভিত্তি করে অনেক আংশিক মাসআলায় বিশাল মতপার্থক্য তৈরি হয়।

অতঃপর … নিচের চিত্রগুলোতে সেই পদ্ধতিগত মতপার্থক্য কোথায়:

- শু'বাহ, আল-কাত্তান এবং ইবনে মাহদির যুগ থেকে শুরু করে বুখারি, মুসলিম, আবু হাতিম এবং তাদের পরবর্তী হাদিস বিশারদদের মধ্যকার সেই বিস্ময়কর ঐক্যের মধ্যে সেই মতভেদ কোথায়: হাদিস বিশুদ্ধ (সহিহ) বা দুর্বল (জয়িফ) নির্ধারণে, ত্রুটি অন্বেষণে এবং জারহ ও তা'দিলের ক্ষেত্রে? আপনারা কি তাদের কাউকে পেয়েছেন যিনি মানহাজ বা পদ্ধতির ভিন্নতার দোহাই দিয়ে অন্যের কোনো সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছেন?
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৪)
- أين هو في ثناء المتأخر منهم على المتقدّم في علمه واطلاعه ودقّة أحكامه؟ كما فعل ابن أبي حاتم في (تقدمة الجرح والتعديل) ، التي عقد فيها أبواباً لبيان عظيم مواقع الأئمة في النقد، ينقل فيها نماذج من أحكامهم على الأحاديث والرواة على وَجْه الإجلال والتعظيم لهم. وهم أئمةٌ مختلفةٌ أعصارهم، متباينةٌ طبقاتهم. ولم يقل مَرّةً واحدة: إن منهج فلان غير مقبول، أو يجب علينا أن ننتبه إلى منهجه الخاص في هذه المسائل أو تلك.

وفعل مثلَ ابن أبي حاتم جماعةٌ: كابن حبان في مقدّمة المجروحين، وابن عدي في مقدّمة الكامل.

- وكيف يقبل بعضُهم من بعضٍ الجرحَ والتعديلَ في الأعمّ الأغلب، ولا يختلفون إلا في جزئيات المسائل؟ أولو كان منهج النقد بينهم مختلفاً كانوا سيقبلون من بعضهم أحكامَهم في الرواة؟! أوليس الحكم على الراوي مرتبطاً كل الارتباط بالحكم على حديثه؟! والحكم على حديثه مرتبطاً بالحكم عليه؟! أين اختلاف المناهج في هذه المسألة؟!!!

- أولم يكونوا يتذاكرون العلم فيما بينهم، ويتناظرون في الأحاديث والرواة، ويفهم بعضهم كلام بعض، ولم يُنقل لنا قطّ أنه قال أحدهم للآخر: منهجك ليس هو منهجي، أو أنهم كانوا يختلفون في غير المسائل الجزئية.

- أولم يعرض البخاري صحيحه على بعض حفاظ زمنه؟ أولم يفعل ذلك مسلم؟ أولم يجمع الترمذي أقوال البخاري وأبي زرعة والدارمي في التعليل والجرح والتعديل في كتاب واحد؟ أولم يفعل نحو ذلك وأكثر منه ابن أبي حاتم في كتابه (العلل) و (الجرح والتعديل) و (المراسيل) ؟ هل كان أولئك القوم مختلفي المنهج أم متفقين؟ إن كانوا مختلفين، كيف تسنَّى أن يؤخذ بأقوالهم جميعاً، وأن تُساق مساقاً واحداً؟ وإن كان هؤلاء هم الذين اتفقوا، وأن المخالفين لهم سواهم، قلنا: فمن القوم بعد هؤلاء، يا رجل؟!!! هم القوم لا يشقى بهم جليسهم.
তাদের পরবর্তীগণ তাদের পূর্ববর্তীদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং রায়ের সূক্ষ্মতার ব্যাপারে যে প্রশংসা করেছেন তা কোথায় গেল? যেমনটি ইবনে আবি হাতেম তার 'তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল' গ্রন্থে করেছেন, যেখানে তিনি সমালোচনার ক্ষেত্রে ইমামগণের সুউচ্চ অবস্থান বর্ণনায় অনেকগুলো অধ্যায় বিন্যাস করেছেন। সেখানে তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনপূর্বক হাদীস এবং বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তাদের রায়ের কিছু নমুনা তুলে ধরেছেন। অথচ তারা বিভিন্ন সময়ের এবং বিভিন্ন স্তরের ইমাম ছিলেন। তিনি একবারও বলেননি যে, অমুকের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়, অথবা এই বা ওই বিষয়ে আমাদের তার বিশেষ পদ্ধতির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ইবনে আবি হাতেমের মতো আরও অনেকেই এমনটি করেছেন: যেমন ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন'-এর ভূমিকায় এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল'-এর ভূমিকায়।

আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা কীভাবে একে অপরের নিকট থেকে জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণগান) গ্রহণ করতেন এবং শুধুমাত্র আংশিক কিছু বিষয়েই তাদের ভিন্নমত হতো? যদি তাদের সমালোচনার পদ্ধতি ভিন্ন হতো, তবে কি তারা বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে একে অপরের রায় গ্রহণ করতেন?! বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কি তার বর্ণিত হাদীসের সিদ্ধান্তের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নয়?! আবার তার হাদীসের সিদ্ধান্ত কি তার নিজের ব্যক্তিত্বের সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত নয়?! তবে এই বিষয়ে পদ্ধতির ভিন্নতা কোথায়?!!!

তারা কি নিজেদের মধ্যে জ্ঞান আলোচনা করতেন না, এবং হাদীস ও বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে বিতর্ক করতেন না? তারা একে অপরের কথা বুঝতেন, আর আমাদের নিকট কখনোই এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে, তাদের কেউ অন্যকে বলেছেন: আপনার পদ্ধতি আমার পদ্ধতির মতো নয়, অথবা তারা আংশিক বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

বুখারী কি তার সহীহ গ্রন্থকে তার সময়ের কিছু হাফেযের নিকট পেশ করেননি? মুসলিম কি তেমনটি করেননি? তিরমিযী কি ত্রুটি বিশ্লেষণ এবং জারহ ও তাদিলের ক্ষেত্রে বুখারী, আবু জুরআহ এবং দারেমীর উক্তিগুলো এক গ্রন্থে জমা করেননি? ইবনে আবি হাতেম কি তার 'আল-ইলাল', 'আল-জারহু ওয়াত তাদিল' এবং 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে এর চেয়েও বেশি কিছু করেননি? তবে ওই সব লোক কি ভিন্ন পদ্ধতির ছিলেন নাকি একমতের ছিলেন? যদি তারা ভিন্নমতের হতেন, তবে কীভাবে তাদের সকলের কথা গ্রহণ করা সম্ভব হলো এবং সেগুলোকে একই ধারায় প্রবাহিত করা হলো? আর যদি এরাই একমত হয়ে থাকেন এবং তাদের বিরুদ্ধবাদীরা অন্য কেউ হয়, তবে আমরা বলবো: হে লোক! এদের পর তবে সেই লোক কারা?!!! তারা এমন এক দল যাদের সাথে বসা ব্যক্তি কখনো দুর্ভাগা হয় না।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
- لقد نُقِل عن المحدثين اختلافٌ كثيرٌ في آحاد الرواة والأحاديث، وناقش بعضهم بعضاً في كثير من ذلك. فما بال الاختلاف في المنهج لا يُنقل عنهم فيه نقاشٌ ولا اعتراض؟! والحاصل أن نقل اختلاف المنهج أولى وأحْرى (كما سبق) .

كل هذا وغيره يقطع باتّحاد المنهج، وإنّما يَدّعي الاختلاف من لم يُراع تلك الكليّات، ووقف عند بعض العبارات المشتبهة، ليبني عليها مذاهبَ ومناهج!! ومن هُنا أُتي من أُتي في هذا الباب. ولو ردّوا تلك المشتبهات إلى هاتيك المحكمات وأمثالها، لتبيّن لهم الحق بلا ارتياب.

ونعود بعد هذا الاستطراد إلى ما كنّا فيه: من التأريخ النظري لعلوم الحديث، والذي خلصنا منه إلى أن الزمن الذي اكتمل فيه تدوين السنة هو نفسه الذي اكتمل فيه نقد الحديث، وأنه لذلك كان منهجُ النقد الذي ينبغي أن يُرجع إليه هو ذلك المنهجَ الذي نشأ وتطوّر حتى اكتمل.

هذا ما كنّا وصلنا إليه أخيراً.

ولكن هناك بقيّةٌ لذلك العرض التاريخي النظري، لابُدّ أن نعرض له.

ذلك أن بلوغ منهج النقد درجة الاكتمال في زمنٍ ما، لاشك أنه سيعني أن بداية النقص ستبدأ من حيث اكتمل، اتّباعاً للسنة الكونية في ذلك:» لكل شيءٍ إذا ما تمَّ نقصانُ «. فما بعد بلوغ الغاية إلا النكوص، وما بعد صعود القمة إلا الهبوط.

ولكن هذا النقص لا يصح أن يُتصَوّر أن يبلغ حدَّ الهُوِيّ في القاع، ولا القفزة الواحدة التي تعود بصاحبها إلى حيث بدأ، بل لابُدّ أن يكون نقصاً تدريجيًّا. كما أنّه قد لا يشمل كل علماء ذلك العصر، فقد يبقى بعضهم على إرثه القديم محافظاً عليه.

ولذلك فقد يصح لنا نظريًّا أن نعتبر الزمن الأوّل بعد اكتمال نضج العلم، من أزمان أهل ذلك المنهج الذي يُرجع إليهم ويُحتكم إلى علمهم؛ لأنهم استطاعوا أن يكونوا امتداداً حقيقيًّا للزمن الذي اكتمل فيه المنهج، وأن لا يكونوا مجرّد وعاءٍ لذلك المنهج، بل أن يشاركوا أصحابه في تمام العلم به وكمال الأهليّة فيه.
মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে একক বর্ণনাকারী এবং হাদিসের বিষয়ে অনেক মতভেদ বর্ণিত হয়েছে এবং তারা এগুলোর অনেক বিষয়ে একে অপরের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনা করেছেন। তাহলে কেন মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে মতভেদ সম্পর্কে তাদের থেকে কোনো আলোচনা বা আপত্তি বর্ণিত হয়নি?! সারকথা হলো, মানহাজের মতভেদ বর্ণিত হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও জরুরি ছিল (যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে)।

এই সব কিছু এবং এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির ঐক্যের ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ দেয়। আর কেবল তারাই মতভেদের দাবি করে, যারা এই মৌলিক নীতিমালার প্রতি লক্ষ রাখেনি এবং কিছু অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্যের ওপর থেমে গেছে, যাতে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন মাযহাব ও মানহাজ গড়ে তুলতে পারে!! এখান থেকেই এই বিষয়ে পথভ্রষ্টরা পথভ্রষ্ট হয়েছে। তারা যদি এই অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে সেই সব অকাট্য বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করাত, তবে তাদের কাছে সত্য কোনো সংশয় ছাড়াই স্পষ্ট হয়ে যেত।

এই দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা আবার পূর্বের কথায় ফিরে আসি: যা ছিল উলুমুল হাদিসের তাত্ত্বিক ইতিহাস বিষয়ক। যেখান থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলাম যে, যে সময়ে সুন্নাহ সংকলন পূর্ণতা পেয়েছিল, সেই একই সময়ে হাদিস সমালোচনা বা নক্কুদে হাদিসের জ্ঞানও পূর্ণতা লাভ করেছিল। আর এ কারণেই সমালোচনার সেই মানহাজের দিকেই ফিরে যাওয়া উচিত, যা জন্ম নিয়েছিল এবং বিবর্তিত হয়ে পূর্ণতা পেয়েছিল।

এটিই সেই বিষয় যা আমরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম।

তবে সেই তাত্ত্বিক ঐতিহাসিক উপস্থাপনার কিছু অংশ বাকি রয়েছে, যা অবশ্যই আমাদের উপস্থাপন করতে হবে।

তা হলো, কোনো এক সময়ে নক্কুদ বা সমালোচনা পদ্ধতির পূর্ণতার স্তরে পৌঁছানোর অর্থ হলো যে, এই মহাজাগতিক নিয়মের অনুসরণে যেখানে পূর্ণতা শেষ হবে সেখান থেকেই অপূর্ণতার শুরু হবে: "সবকিছুরই যখন পূর্ণতা আসে, তখন তার অবনতি শুরু হয়।" সুতরাং লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর পশ্চাদপসরণ ছাড়া আর কিছু থাকে না এবং চূড়ায় আরোহণের পর অবতরণ ছাড়া আর কিছু নেই।

তবে এই ঘাটতি বা অবনতি একেবারে অতল গহ্বরে পতিত হওয়ার মতো কল্পনা করা সঠিক নয়, কিংবা এটি এমন কোনো একক লাফ নয় যা এর অধিকারীকে সেখান থেকেই শুরু করতে বাধ্য করবে যেখান থেকে শুরু হয়েছিল। বরং এটি অবশ্যই একটি ক্রমিক অবনতি হতে হবে। একইভাবে এটি সেই যুগের সকল আলেমকে অন্তর্ভুক্ত নাও করতে পারে, কারণ তাদের কেউ কেউ তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর অটল থেকে তা সংরক্ষণ করতে পারেন।

আর তাই তাত্ত্বিকভাবে আমাদের জন্য সেই সময়কে—যেখানে ইলম বা জ্ঞান পূর্ণতা পাওয়ার পর প্রথম যুগ শুরু হয়েছে—সেই মানহাজের অনুসারীদের সময় হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক হতে পারে, যাদের দিকে ফিরে যাওয়া হয় এবং যাদের ইলমের মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণ করা হয়। কারণ তারা সেই সময়ের প্রকৃত অনুসারী হতে সক্ষম হয়েছিলেন যে সময়ে মানহাজ পূর্ণতা পেয়েছিল। তারা কেবল সেই মানহাজের বাহক ছিলেন না, বরং সেই মানহাজের উদ্ভাবকদের সাথে এর পূর্ণ জ্ঞান এবং যোগ্যতায় অংশীদার ছিলেন।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد يشهد لذلك، ولمعرفة حدِّ ذلك الزمن الذي تعتبر علماءَهُ من أهل المنهج: ما لو وجدنا أولئك العلماء قد صنفوا في أصول العلم، وطبّقوا ذلك المنهج الذي ورثوه عمن سبقهم تطبيقاً يشهد لبلوغهم رتبة الاجتهاد المطلق فيه.

وسنستمر على اعتبار الزمن التالي لزمن اكتمال المنهج من عصور من يُحتجّ بمنهجه، إلى أن يبدو لنا أن ذلك النقص التدريجي قد ظهرت آثاره، وقويت ملامحُه واتّضحت؛ إلى حدِّ ظهور النقص في أهليّة علماء ذلك العصر عن رتبة الاجتهاد المطلق فيه، وإلى حدِّ إعلان علمائه أنّهم ليسوا سوى مترجمين لعلوم من سبقهم، وأنهم يتلمّسون آثار خطاهم تلمُّسَ من تخفى عليه بعض مدارجهم.
এবং এর স্বপক্ষে প্রমাণ হতে পারে এবং সেই সময়ের সীমা জানার ক্ষেত্রে যাদের আলেমগণকে মানহাজের অনুসারী হিসেবে গণ্য করা হয়: তা হলো যদি আমরা দেখতে পাই যে, সেই আলেমগণ ইলমের মূলনীতিসমূহ নিয়ে কিতাব রচনা করেছেন এবং তাঁদের পূর্বসূরিদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেই মানহাজকে এমনভাবে প্রয়োগ করেছেন যা তাতে তাঁদের নিরঙ্কুশ ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর সাক্ষ্য দেয়।

আর আমরা মানহাজ পূর্ণতা পাওয়ার পরবর্তী সময়কালকেও সেই সব যুগের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করতে থাকব যাদের মানহাজ দলিল হিসেবে গণ্য হয়, যতক্ষণ না আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে সেই ক্রমিক ঘাটতির প্রভাবগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে এবং এর লক্ষণগুলো শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট হয়েছে; এমনকি সেই যুগের আলেমদের যোগ্যতায় নিরঙ্কুশ ইজতিহাদের স্তরের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দেওয়া পর্যন্ত, এবং সেই যুগের আলেমদের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার সীমা পর্যন্ত যে, তারা তাদের পূর্বসূরিদের ইলমের ব্যাখ্যাকারী ব্যতীত আর কিছুই নন এবং তারা তাঁদের পদচিহ্ন এমনভাবে অনুসরণ করছেন যেমনটি সেই ব্যক্তি করে যার কাছে তাঁদের কিছু পথ অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
إن هذا التدرّج في مراحل تطوّر العلوم أمرٌ طبيعي، إذ إن انتقال العلم من مرحلةٍ إلى مرحلة لا يتمُّ فجْأة، ولكن يتم بالتدريج. بأن يكون العلم في المرحلة الأولى له خصائصه التي تميّزه، ثم يبتدئ بفقدان شيءٍ من خصائصه لصالح خصائص المرحلة التالية، التي تحلُّ شيئاً فشيئاً محل الخصائص الأولى. حتى يصل هذا التناقصُ التدريجي إلى درجة الانتصاف، فيكون العلم قد بلغ مرحلةً تحمل في طيّاتها نصف خصائص المرحلة الأولى ونصف خصائص المرحلة الثانية. وهذه المرحلة هي المرحلة الانتقالية، التي لا يُمكن معها أن تَفْصِل مرحلةً عن مرحلة (1) . ثم بعد ذلك تبتدئ كفة المرحلة الجديدة بالرجحان، وتتضح خصائصها بصورة أكبر، حتى تصلَ درجةَ الاتّضاح الكامل. والتي بوضوحها هذا تيقّنّا من مرور ذلك العلم بمراحل، وبوضوحها هذا استطعنا أن نعرف خصائص كل مرحلة التي تميّزها عن غيرها، وبوضوحها هذا (أخيراً) استطعنا أن نؤرّخ لذلك العلم (2)

--------------------------------------------

(1) لقد ابتدع الأدباء لأصحاب هذه المرحلة الانتقالية اسمَ المخضرمين، الذين جمعوا في خصائص شعرهم بين خصائص زمنين، كالشعراء الذين عاصروا الدولتين الأمويّة والعباسيّة.

(2) وهنا أنبّهُ إلى أنه من الخطأ البيِّن أن نجعل من عدم وضوح ملامح المرحلة الانتقاليّة، أو من تَأَرْجُح علمائها بين مرحلتين دليلاً على عدم مرور ذلك العلم بمراحل مختلفة؛ لأن هذا لا يختص بعلم دون علم، فالمرور بهذه المرحلة لا يخلو منه علم. فلم يكن ذلك بقاضٍ على حقيقة مرور تلك العلوم بمراحل، ولا منع ذلك من وضع حدود زمانيّة لتلك المراحل، ولم يفهم أحدٌ منها أنها حدودٌ فاصلة، وإنما هي حدود تقريبيّة.

فلئن اشتبهَ عندي إلحاقُ بعض أصحاب المرحلة الانتقاليّة بإحدى المرحلتين، وكان لإلحاق هذا البعض أثرٌ وأهميّة (افتراضاً) فلن يشتبه عندي إلحاقُ أقوامٍ آخرين بإحدى المرحلتين، ولا أشك فيهم أدنى شك.

 

فلمَ الشَّغبُ بالقليل النادر قليلِ الثمرة أو عديمِها، على الأصل الغالِب عظيمِ الثمرةِ واضحِها؟!!!
বিজ্ঞানের বিবর্তনের স্তরসমূহের এই ধারাবাহিকতা একটি স্বাভাবিক বিষয়, কেননা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে বিজ্ঞানের উত্তরণ হঠাৎ করে ঘটে না, বরং তা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়। প্রথম স্তরে বিজ্ঞানের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাকে স্বতন্ত্র করে, এরপর পরবর্তী স্তরের বৈশিষ্ট্যাবলীর অনুকূলে এটি তার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য হারাতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে প্রথম স্তরের বৈশিষ্ট্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। এমনকি এই ক্রমহ্রাসমান প্রক্রিয়াটি এক পর্যায়ে মধ্যবর্তী অবস্থানে পৌঁছায়, তখন বিজ্ঞান এমন এক স্তরে উপনীত হয় যা নিজের মধ্যে প্রথম স্তরের অর্ধেক বৈশিষ্ট্য এবং দ্বিতীয় স্তরের অর্ধেক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। আর এই স্তরটিই হলো ‘সংক্রমণকাল’ বা ‘সন্ধিক্ষণ’, যার উপস্থিতিতে এক স্তরকে অন্য স্তর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয় না (১)। অতঃপর নতুন স্তরের পাল্লা ভারী হতে শুরু করে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, এমনকি তা পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টতার স্তরে পৌঁছে যায়। এই স্পষ্টতার মাধ্যমেই আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে উক্ত বিজ্ঞানটি বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রতিটি স্তরের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো জানতে পারি যা একে অন্যের থেকে পৃথক করে, আর এই স্পষ্টতার ফলেই (পরিশেষে) আমরা সেই বিজ্ঞানের ইতিহাস সংকলন করতে সক্ষম হই (২)

--------------------------------------------

(১) সাহিত্যিকগণ এই অন্তর্বর্তীকালীন স্তরের ব্যক্তিদের জন্য 'মুখাদরামিন' (যাঁরা দুই যুগ পেয়েছেন) নামকরণ করেছেন, যাঁদের কবিতার বৈশিষ্ট্যে দুটি যুগের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে; যেমন সেই সকল কবিগণ যাঁরা উমাইয়া ও আব্বাসীয়—উভয় রাষ্ট্রকাল প্রত্যক্ষ করেছেন।

(২) এখানে আমি সজাগ করতে চাই যে, অন্তর্বর্তীকালীন স্তরের রূপরেখা অস্পষ্ট হওয়া অথবা সেই স্তরের আলিমদের দুই স্তরের মাঝে দোদুল্যমান থাকাকে উক্ত বিজ্ঞানের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত না হওয়ার দলিল হিসেবে গণ্য করা একটি সুস্পষ্ট ভুল; কারণ এটি কোনো বিশেষ বিজ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং এই স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া থেকে কোনো বিজ্ঞানই মুক্ত নয়। সুতরাং এটি উক্ত বিজ্ঞানসমূহের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ার বাস্তবতাকে নাকচ করে দেয় না, আর এটি সেই স্তরগুলোর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করতেও বাধা দেয় না। আর কেউ এই সীমাগুলোকে চূড়ান্ত বিচ্ছেদকারী সীমা হিসেবে বুঝেননি, বরং এগুলো হচ্ছে আনুমানিক বা নিকটবর্তী সীমা।

ফলে যদি অন্তর্বর্তীকালীন স্তরের কিছু ব্যক্তিকে দুই স্তরের কোনো একটির সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আমার নিকট অস্পষ্টতা তৈরি হয়, এবং (ধরে নেওয়া যাক) এই যুক্তকরণের কোনো প্রভাব বা গুরুত্ব থাকে, তবুও অন্যান্য ব্যক্তিদের কোনো একটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমার কোনো অস্পষ্টতা থাকবে না এবং তাদের ব্যাপারে আমি বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করি না।

 

তবে কেন সেই বিরল ও নগণ্য বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা হবে যার ফলাফল অতি সামান্য বা একেবারেই নেই, অথচ এর বিপরীতে রয়েছে এক প্রবল মূলনীতি যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সুস্পষ্ট?!!!
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
وبعد هذا البيان الطويل، الذي أعتذر من جفافه، أدخل في بيان التحديد الزمني لتلك المراحل، ليكون لذلك العرض الثمرة المنشودة (1) .

 

المقالة الثانية:

التاريخ الواقعي لأطوار علوم الحديث

 

المرحلة الأولى: بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم إلى مقتل عثمان رضي الله عنه سنة (35هـ) .

وتتميّز هذه المرحلة بصفائها وبُعدها عن أسباب الخطأ والكذب، لعدم الإسناد، وقوّة الحافظة، وعدم ظهور الفتن، وشدّة الاحتياط في التبليغ للسنة.

وكان التدوين في هذه المرحلة قليلاً، ولم يكن بغرض التخليد، وإنما كان بغرض الإعانة على الحفظ في الصدور.

المرحلة الثانية: من مقتل عثمان رضي الله عنه، إلى انتهاء جيل الصحابة، بموت غالبهم، وكان ذلك نحو سنة (80هـ) .

وتميّزت هذه المرحلة بحصول الفتنة التي فرّقت المسلمين أحزاباً وشيعاً، وبظهور بعض البدع، وبانتشار الصحابة في البلدان شرقاً وغرباً.

--------------------------------------------

(1) أرّخ للسنة كثيرٌ من العلماء والباحثين قديماً وحديثاً، ولذلك فسأكتفي هنا بعرض مختصر، محيلاً إلى الدراسات في ذلك الإحالة الإجمالية التالية، إلا ما رأيت ضرورة الاستشهاد له.

فانظر: ذمّ الكلام وأهله للهروي (3/148 - 150) ، وجامع الأصول لابن الأثير (1/39 - 43) ، وشرح علل الترمذي لابن رجب (1/35 - 43) ، وهدي الساري لابن حجر (8 - 9) ، والسنة قبل التدوين للدكتور محمد عجاج الخطيب، ودراسات في الحديث النبوي للأعظمي، وغيرها، ومنها كتابي المنهج المقترح (13 - 65) .
এই দীর্ঘ আলোচনার পর, যার নিরসতার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি সেই পর্যায়গুলোর সময়সীমা নির্ধারণের বর্ণনায় প্রবেশ করছি, যাতে এই উপস্থাপনা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে (১)।

 

দ্বিতীয় প্রবন্ধ:

হাদিস বিজ্ঞানের স্তরসমূহের বাস্তব ইতিহাস

 

প্রথম পর্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল থেকে ৩৫ হিজরি সনে ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত পর্যন্ত।

এই পর্যায়টি এর বিশুদ্ধতা এবং ভুল ও মিথ্যার কারণসমূহ থেকে মুক্ত থাকার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যেহেতু তখনো সনদ বা সূত্র পরম্পরার আবশ্যকতা দেখা দেয়নি, স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর, ফিতনার প্রকাশ ঘটেনি এবং সুন্নাহ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতো।

এই পর্যায়ে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধকরণ খুব কম ছিল এবং তা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং কেবল অন্তরে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ছিল।

দ্বিতীয় পর্যায়: ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কেরামের প্রজন্মের সমাপ্তি পর্যন্ত, তাদের অধিকাংশের ইন্তেকালের মাধ্যমে; যা ছিল প্রায় ৮০ হিজরি সনের দিকে।

এই পর্যায়টি এমন ফিতনার সূচনা দ্বারা চিহ্নিত, যা মুসলমানদের বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করে দিয়েছিল, সেইসাথে কিছু বিদআতের প্রকাশ এবং পূর্ব ও পশ্চিমে বিভিন্ন দেশে সাহাবীদের ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে।

--------------------------------------------

(১) প্রাচীন ও আধুনিক অনেক আলেম ও গবেষক সুন্নাহর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। তাই আমি এখানে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকব এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সাধারণ উদ্ধৃতিগুলোতে গবেষণার প্রতি নির্দেশ করব, কেবল যেখানে আমি প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করব সেটি ছাড়া।

দেখুন: হারাবীর ‘যম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি’ (৩/১৪৮-১৫০), ইবনুল আসীরের ‘জামেউল উসুল’ (১/৩৯-৪৩), ইবনে রজবের ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ (১/৩৫-৪৩), ইবনে হাজারের ‘হাদইউস সারী’ (৮-৯), ড. মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতীবের ‘আস-সুন্নাহ কবলাত তাদভীন’, আল-আজমীর ‘দিরাসাত ফিল হাদিসিন নববী’ এবং অন্যান্য। এগুলোর মধ্যে আমার কিতাব ‘আল-মানহাজুল মুকতারাহ’ (১৩-৬৫)-ও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي هذه الفترة ظهرت المطالبة بالإسناد (1) ، وفي المطالبة به دليلٌ على نشوء علم الجرح والتعديل (2) ، وفي أن الجهل بحال المحذوف من الإسناد علةٌ يُردّ به الخبر (3) .

ولم يزل التدوين في هذا الجيل قليلاً، لإمكان حفظ الصدورِ القيامُ بواجب النقل الكامل.

المرحلة الثالثة: وهي عصر التابعين، والذي يبتدئ من نحو سنة (80هـ) إلى نحو سنة (140هـ) ، بموت غالب التابعين.

وقد كان لبداية طول الإسناد في هذه المرحلة، ولتشعّب الأسانيد، واختلاف رواتها، مع زيادة انتشار السنة، وزيادةِ الغلو في البدع ونشوء بدع أخرى، مما أدّى إلى أن يروي من ليس بأهلٍ للاطمئنان إلى روايته أن كان الهاجسُ الأكبر لدى علماء التابعين حينها هو: خوفُ تفلُّتِ شيءٍ من السنّة، وتحديثُ من لا يؤمن على النقل، ووقوعُ الاختلال في ضبط المنقول.

 

فواجهوا كل خطرٍ من هذه الأخطار بما يدفعه:

- فخوف تفلُّتِ شيءٍ من السنة واجهوه بأمور، منها:

1 - استنفار الأمّة لجمع السنة، وذلك يظهر من كثرة عدد التابعين الذين نقلوا السنة؛ إذ إن كثرةَ الحَمَلَةِ يجعل فوات شيءٍ من السنة على جميعهم مستبعداً.

--------------------------------------------

(1) مقدّمة صحيح مسلم (1/15) . ومن أغرب المواقف في ذلك استحلافُ أحد التابعين، وهو عَبيدة السلماني، لعلي رضي الله عنه، في روايته لحديث، هل سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم!، انظر: صحيح مسلم (2/747) ، موازنة بمسند البزار (رقم 581) .

(2) فقد نهى عمر بن الخطاب وعبد الله بن مسعود عن الأخذ عن الأصاغر، ففسّر عبد الله بن المبارك ذلك بأنه الرواية عن أهل البدع، فانظر: الزهد لابن المبارك (رقم 815) ، والمدخل إلى السنن للبيهقي (رقم 275) ، وشرح أصول أهل السنة للالكائي (رقم 101، 102) .

(3) كما دل عليه موقف ابن عباس من المراسيل، فانظر: مقدّمة صحيح مسلم (1/12 - 13) .
وفي এই সময়েই ইসনাদ (সূত্র) তলবের দাবি প্রকাশ পায় (১), এবং এই দাবির মধ্যেই জারহ ও তা'দিল (সনদ যাচাই) শাস্ত্রের উদ্ভবের প্রমাণ রয়েছে (২), আর এটিও প্রমাণিত হয় যে ইসনাদ থেকে বাদ পড়া ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা একটি ত্রুটি যার কারণে বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয় (৩)।

এই প্রজন্মে লিপিবদ্ধকরণ তখনও কম ছিল, কারণ মুখস্থ রাখার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিল।

তৃতীয় পর্যায়: এটি হলো তাবিঈদের যুগ, যা শুরু হয় আনুমানিক ৮০ হিজরি থেকে ১৪০ হিজরি পর্যন্ত, অধিকাংশ তাবিঈর মৃত্যুর মাধ্যমে।

এই পর্যায়ে ইসনাদ দীর্ঘ হতে শুরু করা, সনদের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পাওয়া এবং বর্ণনাকারীদের ভিন্নতা, সেই সঙ্গে সুন্নাহর প্রচার বৃদ্ধি এবং বিদআতের চরম বাড়াবাড়ি ও নতুন নতুন বিদআতের উদ্ভবের কারণে এমন ব্যক্তিরাও বর্ণনা করতে শুরু করে যাদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায় না। ফলে সে সময় তাবিঈ আলেমদের বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল: সুন্নাহর কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার ভয়, নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা করা এবং বর্ণিত বিষয় সংরক্ষণে ত্রুটি দেখা দেওয়া।

 

ফলে তারা এই প্রতিটি বিপদকে যথাযথভাবে মোকাবিলা করেন:

- সুন্নাহর কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার ভয়কে তারা কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - সুন্নাহ সংগ্রহের জন্য উম্মাহকে উদ্বুদ্ধ করা, আর এটি সুন্নাহ বর্ণনাকারী তাবিঈদের বিশাল সংখ্যা থেকে স্পষ্ট হয়; কেননা বাহকদের আধিক্য তাদের সকলের নিকট থেকে সুন্নাহর কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়াকে অসম্ভব করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিমের ভূমিকা (১/১৫)। এ বিষয়ে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হলো জনৈক তাবিঈ ওবায়দাহ আস-সালমানী কর্তৃক আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে তার বর্ণিত একটি হাদীসের ব্যাপারে কসম করানো যে, তিনি কি তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন! দেখুন: সহীহ মুসলিম (২/৭৪৭), মুসনাদে বাযযার-এর সাথে তুলনাযোগ্য (নম্বর ৫৮১)।

(২) কেননা উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ছোটদের (আসাগির) কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এর ব্যাখ্যা করেছেন বিদআতপন্থীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ হিসেবে। দেখুন: ইবনুল মুবারক রচিত আয-যুহদ (নম্বর ৮১৫), বায়হাকী রচিত আল-মাদখাল ইলাস সুনান (নম্বর ২৭৫), এবং লালকাঈ রচিত শারহু উসূলি আহলিস সুন্নাহ (নম্বর ১০১, ১০২)।

(৩) যেমনটি মুরসাল হাদীসসমূহের ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের অবস্থান থেকে প্রমাণিত হয়, দেখুন: সহীহ মুসলিমের ভূমিকা (১/১২ - ১৩)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - الأمرُ بكتابة السنة أمراً رسميًّا من قبل عمر بن عبد العزيز، وذلك في آخر القرن الهجري الأول أو أوّل الثاني، وائْتِمارُ التابعين لذلك، حتى كثر عدد التابعين الذين كتبوا السنة (1) .

لكن مدوّنات هذا العصر كانت غالباً بغرض أن تُعين على الحفظ في الصدور، ولذلك كان بعض التابعين يمحو ما يكتب أو يغسله بعد حفظه (2) . ولم يكتب للتخليد إلا القليل منهم مصنفاتٍ مختصرة: في التفسير، والسيرة، وبعض أبواب الأحكام (كالطلاق، والمناسك، والصلاة) (3) .

ويظهر من تلك المدوّنات استيلاءُ هاجس التفلّت على أصحابها، حتى كانت أبعد ما تكون عن العناية بحُسْن الترتيب والتبويب، ويختلط فيها المرفوع بالموقوف والمقطوع.

3 - زيادة ظاهرة الرحلة في طلب الحديث، لمواجهة واقعِ انتشارِ السنة في الآفاق (4) .

وفي ذلك يقول الشعبي عن مسروق:)) ما علمت أحداً من الناس كان أطلب لعلم في أفق من الآفاق من مسروق ((.

وقال مكحول الشامي:)) طُفْتُ الأرضَ في طلب العلم)) .

- وخطورةُ تحديث من لا يُؤْتَمَنُ على النقل، واجهوه بأمور، منها:

1 - التشديد في المطالبة بالإسناد.

وهنا تأتي عبارة ابن سيرين علماً لهذا العصر، عندما قال: ((إن هذا العلم دين، فانظروا عمّن تأخذون دينكم)) (5) .

--------------------------------------------

(1) أحصى الدكتور محمد مصطفى الأعظمي في كتابه (دراسات في الحديث النبوي) أكثر من (150) تابعيًّا ممّن دوّن، ومع كثرة هذا العدد، لكنه إنما هو شيءٌ يسيرٌ ممّا يمثِّلُ الواقع؛ فهو أوّلاً إحصاءٌ غير مستقصي، لأخبار لم يعتن العلماءُ بنقلها، فوصول هذا العدد إلينا يدلّ على ما وراءه.

(2) انظر: الجامع للخطيب (1/353) .

(3) انظر: دراسات في الحديث النبوي للأعظمي (1/148، 149، 151، 159 - 160، 196، 208، 213، 218) .

(4) انظر الرحلة في طلب الحديث للخطيب (رقم 45، 47 - 48، 49، 52، 53، 54، 57، 93، 94، 95، 97) .

(5) مقدّمة صحيح مسلم (1/14) .
২ - উমর বিন আব্দুল আজীজের পক্ষ থেকে প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষ দিকে অথবা দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান এবং তাবিঈদের সেই নির্দেশ পালন করা, এমনকি সুন্নাহ লিপিবদ্ধকারী তাবিঈদের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল (১)।

কিন্তু এই যুগের সংকলনগুলো সাধারণত অন্তরে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে কোনো কোনো তাবিঈ যা লিখতেন তা মুখস্থ করার পর মুছে ফেলতেন বা ধুয়ে ফেলতেন (২)। আর তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই কেবল স্থায়ী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত কিছু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন: তাফসির, সিরাত এবং আহকামের কিছু অধ্যায়ে (যেমন তালাক, মানাসিক বা হজ-ওমরার বিধান এবং সালাত) (৩)।

সেই সংকলনগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সেগুলোর রচয়িতাদের ওপর (হাদিস) হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল ছিল, এমনকি সেগুলো বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের নিপুণতার প্রতি গুরুত্বারোপ থেকে অনেক দূরে ছিল এবং সেখানে মারফু (রাসূলের বাণী), মাওকুফ (সাহাবীর বাণী) ও মাকতু (তাবিঈর বাণী) হাদিসগুলো একে অপরের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় ছিল।

৩ - বিভিন্ন দিগন্তে সুন্নাহ ছড়িয়ে পড়ার বাস্তবতাকে মোকাবিলা করার জন্য হাদিস অন্বেষণে সফরের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া (৪)।

এই প্রসঙ্গে মাসরুক সম্পর্কে আশ-শা’বী বলেন: “মানুষের মধ্যে মাসরুকের চেয়ে পৃথিবীর কোনো প্রান্তে ইলম অন্বেষণে অধিক সচেষ্ট আর কাউকে আমি দেখিনি।”

মাকহুল আশ-শামী বলেন: “আমি ইলম অন্বেষণে পৃথিবী ভ্রমণ করেছি।”

- বর্ণনার ক্ষেত্রে যাদের ওপর নির্ভরযোগ্য হওয়া যায় না, তাদের থেকে হাদিস বর্ণনার বিপদের বিষয়টি তারা বিভিন্নভাবে মোকাবিলা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - ইসনাদ বা সূত্রের দাবির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা।

এখানে ইবনে সিরীনের উক্তিটি এই যুগের একটি মূলনীতি হিসেবে আসে, যখন তিনি বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো” (৫)।

--------------------------------------------

(১) ডক্টর মুহাম্মাদ মুস্তাফা আল-আ’জামী তার (দিরাসাত ফিল হাদিসিন নাবাবি) গ্রন্থে ১৫০ জনেরও বেশি তাবিঈর কথা উল্লেখ করেছেন যারা হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এই সংখ্যাটি অনেক হওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবের একটি সামান্য অংশ মাত্র; কেননা এটি প্রথমত এমন তথ্যের একটি অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান যা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফলে আমাদের কাছে এই সংখ্যক তাবিঈর তথ্য পৌঁছানোই প্রমাণ করে যে, এর পেছনে আরও বিশাল বাস্তবতা রয়েছে।

(২) দেখুন: খতিবের আল-জামি (১/৩৫৩)।

(৩) দেখুন: আল-আ’জামীর দিরাসাত ফিল হাদিসিন নাবাবি (১/১৪৮, ১৪৯, ১৫১, ১৫৯ - ১৬০, ১৯৬, ২০৮, ২১৩, ২১৮)।

(৪) দেখুন: খতিবের আর-রিহলা ফি তালাবিল হাদিস (নং ৪৫, ৪৭ - ৪৮, ৪৯, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৭, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ৯৭)।

(৫) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম (১/১৪)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - والمطالبة بالإسناد تعني ردَّ المراسيل، للجهل بحال المحذوف (1) . فقد ردّ المرسل جماعةٌ من التابعين: كابن سيرين، والشعبي، وعروة بن الزبير، والزهري.

3 - وإنما يُستفاد من المطالبة بالإسناد إذا ما مُيِّزَ بين الرواة العدول والرواة المجروحين، وهذا يستلزم الكلام في الرواة جرحاً وتعديلاً.

وفي ذلك يقول ابن سيرين: ((لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلمّا وقعت الفتنة، قالوا: سموا لنا رجالكم، فيُنظر إلى أهل السنة، فيؤخذُ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم)) (2) .

ويقول إبراهيم النخعي:)) كانوا إذا أرادوا أن يأخذوا عن رجل، نظروا إلى صلاته وإلى سَمْته وإلى هيئته (3) ((.

ولذلك فقد تكلّم في الرواة جماعةٌ من التابعين: كابن سيرين، وسعيد بن المسيب، وطاوس اليماني، وعروة بن الزبير، والزهري، وأيوب السختياني، والأعمش، وغيرهم.

4 - تَرْكُ الرواية عن الفُسّاق وغير العدول من الرواة.

وهذا أمرٌ مُجْمَعٌ عليه من سلف الأمّة وخلفها (4) .

- ووقوعُ الاختلال في ضبط المنقولات، واجهه التابعون بأمور، منها:

1 - بكتابة السنة، فكما سبق، فإن كتابة التابعين للسنة كان غالباً بغرض تجويد الحفظ، ولم يكن بقصد التأليف إلا نادراً.

2 - تجويد الكتابة: بابتداع الإعجام (5) ، وبتصحيح الكتاب (6) ، وبمعارضة المكتوب على أصله (7) ، وبالقراءة على الشيخ ما كُتبَ عنه (8) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الكفاية للخطيب (442 - 443) .

(2) مقدمة صحيح مسلم (1/15) .

(3) الكفاية للخطيب (188) .

(4) نقل الإجماع جماعةٌ، منهم: ابن حبان (المجروحين 1/305) ، والخطيب (الكفاية 51، والجامع رقم 144) .

(5) الجامع للخطيب (رقم 581) .

(6) الجامع للخطيب (رقم 586) .

(7) المدخل إلى السنن للبيهقي (رقم 778) ، والجامع للخطيب (رقم 577، 578) .

(8) تاريخ أبي زرعة الدمشقي (رقم 796) .
২ - ইসনাদ বা সনদ দাবি করার অর্থ হলো মুরসাল হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করা, কারণ যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা (১)। একদল তাবিঈ মুরসাল হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন: যেমন ইবনে সিরীন, আশ-শা'বী, উরওয়াহ ইবনুত জুবায়ের এবং আয-যুহরী।

৩ - ইসনাদের দাবি তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং সমালোচিত বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। আর এটি বর্ণনাকারীদের জরাহ (দোষারোপ) এবং তা'দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

এই বিষয়ে ইবনে সিরীন বলেন: ((তারা আগে ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না। যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগল: তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না)) (২)।

ইবরাহীম আন-নাখায়ী বলেন: ((তারা যখন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতে চাইতেন, তখন তারা তার সালাত, তার আচরণ এবং তার চালচলনের দিকে লক্ষ্য করতেন (৩) ))।

এ কারণে তাবিঈদের একদল বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে সমালোচনা বা আলোচনা করেছেন: যেমন ইবনে সিরীন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, তাউস আল-ইয়ামানি, উরওয়াহ ইবনুত জুবায়ের, আয-যুহরী, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আল-আ'মাশ এবং অন্যান্যরা।

৪ - ফাসিক এবং অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা ত্যাগ করা।

এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) এবং উত্তরসূরিরা (খালাফ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন (৪)।

- বর্ণিত বিষয়াবলি সংরক্ষণে (যাবত) ত্রুটির সম্ভাবনা তৈরি হলে তাবিঈগণ বিভিন্নভাবে তার মোকাবিলা করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে; যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তাবিঈদের সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল মূলত মুখস্থকরণকে আরও নিখুঁত করা, গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য খুব কমই ছিল।

২ - লিখনশৈলী নিখুঁত করা: ই'জাম বা নুকতা ব্যবহারের উদ্ভাবন (৫), পাণ্ডুলিপি সংশোধন (৬), লিখিত অনুলিপিকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (৭) এবং উস্তাদ বা শাইখের কাছ থেকে যা লেখা হয়েছে তা তাকে পড়ে শুনানো (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-খতিবের আল-কিফায়াহ (৪৪২ - ৪৪৩)।

(২) মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম (১/১৫)।

(৩) আল-খতিবের আল-কিফায়াহ (১৮৮)।

(৪) একদল আলেম ইজমা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে হিব্বান (আল-মাজরুহীন ১/৩০৫) এবং আল-খতিব (আল-কিফায়াহ ৫১, এবং আল-জামি' নং ১৪৪)।

(৫) আল-খতিবের আল-জামি' (নং ৫৮১)।

(৬) আল-খতিবের আল-জামি' (নং ৫৮৬)।

(৭) আল-বাইহাকীর আল-মাদখাল ইলাস সুনান (নং ৭৭৮) এবং আল-খতিবের আল-জামি' (নং ৫৭৭, ৫৭৮)।

(৮) আবু যুরআ আদ-দিমাশকির তারিখ (নং ৭৯৬)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২২)
3 - طلب المتابعات، والتحرّي بسماع الحديث الواحد من جماعة، وكراهية رواية غريب الحديث، خشيةً من الغلط والإخلال بالضبط.

يقول إبراهيم النخعي: ((كانوا يكرهون غريب الكلام وغريب الحديث)) (1) .

وقال يزيد بن أبي حبيب: ((إذا سمعت الحديث، فانْشُدْهُ كما تنشدُ الضالّة، فإن عُرِفَ، وإلا فَدَعْه)) (2) .

 

وعندما أثنى أحدُهم عند أيوب السختياني على راوٍ لما له من الغرائب، قال له أيوب: ((إنما نفرُّ أو نَفْرَقُ من تلك الغرائب)) (3) .

ولذلك فإن قاعدة الترجيح بالأكثر عددًا من الرواة قاعدةٌ مجمعٌ عليها (4) ، ودلّت عليها السنّة (5) .

4 - نَقْدُ المتن، وعدم الاكتفاء بنقد السند.

قال الأعمش: ((كان إبراهيم - يعني النخعي - صيرفيًّا في الحديث، وكنتُ أسمع من الرجال، فأجعل طريقي عليه، فأعرض عليه)) (6) .

5 - الرحلة لطلب الحديث (وقد سبق الحديث عنها) ، فهي من أسباب تقليل الوسائط، وتقليل الوسائط من أسباب تقليل احتمال الوهم، وهذا سبب الحرص على العلوّ في الأسانيد (7) .

المرحلة الرابعة: وهي مرحلة أتباع التابعين، وتبدأ من سنة (140هـ) ، وتنتهي سنة (200هـ) .

--------------------------------------------

(1) الكفاية للخطيب (171) .

(2) رسالة أبي داود إلى أهل مكة (48) ، والجرح والتعديل لابن أبي حاتم (1/19) .

(3) مقدّمة صحيح مسلم (1/23) .

(4) نقل الإجماع البيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى (رقم 23) .

(5) فهذا أحد الفوائد التي استنبطها العلماء من حديث ذي اليدين، انظر المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي (رقم 9) ، وإن كان العلائي يخالف في صحّة هذا الاستنباط، كما في نظم الفرائد (223 - 225) .

(6) الجرح والتعديل (2/17) .

(7) نزهة النظر لابن حجر (116) .
৩ - মুতাবেআত (সমর্থক বর্ণনা) অনুসন্ধান করা, একদল বর্ণনাকারীর কাছ থেকে একটি হাদিস শোনার মাধ্যমে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা, এবং ভুল ও নির্ভুলতার (জব্ত) বিচ্যুতি ঘটার ভয়ে গরিব (একক) হাদিস বর্ণনা করাকে অপছন্দ করা।

ইবরাহিম আন-নাখায়ি বলেন: "তাঁরা অদ্ভুত কথা এবং গরিব হাদিস অপছন্দ করতেন" (১)।

ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব বলেন: "যখন তুমি কোনো হাদিস শুনবে, তখন তা এমনভাবে খোঁজ করো যেভাবে হারানো বস্তু খোঁজা হয়; যদি তা পরিচিত হয় (তবে গ্রহণ করো), অন্যথায় তা বর্জন করো" (২)।

 

আইয়ুব আস-সাখতিয়ানির সামনে যখন কেউ একজন বর্ণনাকারীর প্রশংসা করছিল কারণ তার কাছে অনেক গরিব (বিচিত্র) বর্ণনা রয়েছে, তখন আইয়ুব তাকে বললেন: "আমরা তো সেই গরিব বর্ণনাগুলো থেকেই পলায়ন করি বা ভয় পাই" (৩)।

এই কারণে বর্ণনাকারীদের সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে কোনো বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতিটি একটি সর্বসম্মত (ইজমা নির্দেশিত) নীতি (৪), এবং সুন্নাহও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে (৫)।

৪ - মতনের (মূল পাঠ) সমালোচনা করা এবং কেবল সনদের সমালোচনার ওপর ক্ষান্ত না হওয়া।

আল-আমাশ বলেন: "ইবরাহিম — অর্থাৎ আন-নাখায়ি — হাদিসের ক্ষেত্রে ছিলেন একজন জহুরির মতো। আমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হাদিস শুনতাম, তারপর তাঁর কাছে যেতাম এবং সেগুলো তাঁর কাছে পেশ করতাম" (৬)।

৫ - হাদিস অন্বেষণের জন্য সফর (যার কথা আগে আলোচিত হয়েছে); এটি মধ্যস্থতাকারীদের সংখ্যা কমানোর অন্যতম উপায়। আর মধ্যস্থতাকারী কমানো হলো ভ্রম বা ভুলের সম্ভাবনা কমানোর অন্যতম কারণ। আর এটাই হলো উচ্চমানের সনদ (উলুউ ফিল আসানিদ) অর্জনের প্রতি আগ্রহের কারণ (৭)।

চতুর্থ পর্যায়: এটি হলো তাবে-তাবেয়িদের যুগ, যা ১৪০ হিজরি থেকে শুরু হয়ে ২০০ হিজরিতে সমাপ্ত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব আল-বাগদাদির আল-কিফায়া (১৭১)।

(২) মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের পত্র (৪৮), এবং ইবনে আবি হাতিমের আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (১/১৯)।

(৩) সহিহ মুসলিমের ভূমিকা (১/২৩)।

(৪) আল-বায়হাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা (নম্বর ২৩) গ্রন্থে এই ইজমা নকল করেছেন।

(৫) এটি হলো সেই সব উপকারের একটি যা উলামায়ে কেরাম 'যুল ইয়াদাইন'-এর হাদিস থেকে উদ্ভাবন করেছেন। দেখুন: আল-বায়হাকির আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা (নম্বর ৯), যদিও আল-আলাই এই ইস্তিম্বাতের সঠিকতার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন, যেমনটি রয়েছে নাযমুল ফারায়েদ (২২৩ - ২২৫) গ্রন্থে।

(৬) আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (২/১৭)।

(৭) ইবনে হাজারের নুযহাতুন নাযার (১১৬)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
وتميزت هذه المرحلة بخصائص: منها أن طال الإسناد أكثر ممّا كان عليه، وما يتبع ذلك من زيادة تشعُّب الأسانيد واختلاف الرواة، مع ما يصحب ذلك من تعسُّر الحفظ. كما أنه قد زادت أيضاً بعض خصائص المرحلة السابقة وضوحاً: كانتشار السنّة في الآفاق، وظهور البدع وغُلُوّ أصحابها فيها. كما أنّ هذه المرحلة قد ورثت جهوداً مباركة من الجيل السابق في جمع السنّة حفظاً وتدويناً، كما سبق، ممّا كان له أكبر الأثر في إعانة علماء هذه المرحلة على إتمام المسيرة.

وقد واجه العلماء أخطار هذه المرحلة بنفس الأمور التي واجه بها علماء المرحلة السابقةَ أخطارهم، وزادوا عليها أموراً:

- ففي مجال تدوين السنة: صار الحرص على التدوين كاملاً (1) ، إلى درجة أن يهمّ شعبة بن الحجاج بأن يترك حديثَ أحد جِلّة التابعين ثقةً وإتقاناً، لأجل أنه لم يكن يكتب (2) . وحتى قال يحيى بن سعيد القطان: ((لئن أكون كتبتُ كل ما أسمع أحب إليّ من أن يكون لي مثل مالي)) (3) . وحتى إن ترجيح رواية من يرجع إلى كتاب عند التحديث على من لا يرجع عند تحديثه إلى كتاب أصبح أمراً ظاهراً، حتى في الترجيح بين كبار النقّاد، كما قال القطان عن الثوري وشعبة:» سفيان أقل خطأً، لأنه يرجع إلى كتاب)) (4) . ووصل الأمر ببعضهم إلى أنه لم يعد يأخذ الحديث إلا إملاءً، وانتشرت (5) لذلك مجالس الإملاء (6) .

--------------------------------------------

(1) انظر تاريخ الإسلام للذهبي - حوادث سنة 143هـ - (13) .

(2) شرح علل الترمذي (1/170) .

(3) المدخل إلى السنن الكبرى (رقم 781) .

(4) شرح علل الترمذي (1/178) .

(5) أدب الإملاء والاستملاء للسمعاني (رقم 29، 30) .

(6) انظر: تاريخ ابن معين (رقم 2481، 2482، 4901، 4905) ، والجامع للخطيب (رقم 1169، 1170، 1171) .
এই পর্যায়টি কিছু বৈশিষ্ট্যের দ্বারা স্বতন্ত্র ছিল: তার মধ্যে একটি হলো, সনদ (সূত্র) আগের তুলনায় দীর্ঘতর হয়ে গিয়েছিল, এবং এর ফলে সনদের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায় ও রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) ভিন্নতা দেখা দেয়; আর এর পাশাপাশি হিফজ (মুখস্থ রাখা) কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও পূর্ববর্তী পর্যায়ের কিছু বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পায়: যেমন দিগন্তময় সুন্নাহর প্রসার এবং বিদআতের উদ্ভব ও বিদআতপন্থীদের বাড়াবাড়ি। তদ্রূপ, এই পর্যায়টি পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে মুখস্থকরণ ও লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে সুন্নাহ সংকলনের বরকতময় প্রচেষ্টাসমূহ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিল, যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়টি এই পর্যায়ের আলেমদের এই পথচলা পূর্ণ করতে অত্যন্ত সহায়ক প্রভাব ফেলেছিল।

উলামায়ে কেরাম এই পর্যায়ের বিপদসমূহের মোকাবিলা ঠিক সেভাবেই করেছিলেন যেভাবে পূর্ববর্তী পর্যায়ের আলেমগণ তাদের বিপদগুলোর মোকাবিলা করেছিলেন, এবং এর সাথে তারা আরও কিছু বিষয় যুক্ত করেছিলেন:

- সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে: লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে পূর্ণ আগ্রহ তৈরি হয় (১), এমনকি তা এই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মহান এক তাবিঈর হাদীস বর্জন করার ইচ্ছা করেছিলেন, কারণ তিনি হাদীস লিখতেন না (২)। এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: "আমি যা কিছু শুনি তার সবকিছু যদি লিখে রাখতাম, তবে তা আমার কাছে আমার সব সম্পদের মালিক হওয়ার চেয়েও প্রিয় হতো" (৩)। এমনকি হাদীস বর্ণনার সময় যে ব্যক্তি কিতাব বা লিখিত পাণ্ডুলিপির সাহায্য নেন, তাকে এমন ব্যক্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়াটা একটি সুস্পষ্ট বিষয়ে পরিণত হয় যে বর্ণনার সময় কিতাবের সাহায্য নেয় না। এমনকি বড় বড় সমালোচকদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য ছিল, যেমনটি আল-কাত্তান সাওরী ও শু'বা সম্পর্কে বলেছেন: "সুফিয়ান (সাওরী) কম ভুল করতেন, কারণ তিনি কিতাবের সাহায্য নিতেন" (৪)। কারও কারও কাছে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা ইমলা (শ্রুতিলিপি) ছাড়া হাদীস গ্রহণ করতেন না, আর একারণেই ইমলা মজলিসসমূহ ছড়িয়ে পড়ে (৬)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: যাহাবীর তারিখুল ইসলাম - ১৪৩ হিজরীর ঘটনাবলি - (১৩)।

(২) শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/১৭০)।

(৩) আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা (নং ৭৮১)।

(৪) শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/১৭৮)।

(৫) সামআনীর আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা (নং ২৯, ৩০)।

(৬) দ্রষ্টব্য: তারিখ ইবনে মাঈন (নং ২৪৮১, ২৪৮২, ৪৯০১, ৪৯০৫), এবং খতীবের আল-জামে (নং ১১৬৯, ১১৭০, ১১৭১)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومظاهر هذه العناية كثيرةٌ جدًّا، لكن اللافت للنظر في ذلك هو نشوء التصنيف المبوّب في هذا الجيل. ففي حين ازدادت كتابة النسخ غير المبوّبة على ما كانت عليه في المرحلة السابقة، وانتشرت الكتابة في بابٍ واحد من أبواب العلم (كالطهارة، والصلاة، والمناسك (1) ، والفرائض (2) ، والتفسير (3) ، والزهد (4) ، والجهاد (5) ، والقدر (6) … ونحوها) (7) فقد انضاف إلى ذلك نشوء أسلوب جديد، هو التصنيف المبوّب، ومن أوّل من قام بذلك الإمام مالك في كتابه الموطأ (8) ، ثم صنّف غيره، كجامع ابن وهب، وجامع معمر (وهما مطبوعان) ، وكجامع الثوري.

إن مثل هذا الترتيب يدل على ظهور الحاجةِ إليه، وإلى أن هاجس التفلّت الذي كان يشغل التابعين في تدوينهم ويُلْهِيهم عن الترتيب ابتدأ يخفت ويضعف، وأن بداية الشعور بأن التدوين أصبح أكثر استيعاباً للسنة من الرواية الشفهيّة أخذَ في النشوء في قلوب العلماء؛ ولذلك الْتَفَتُوا إلى التبويب، الذي الغرضُ منه التسهيل (9) ، وهي حاجةٌ ليست في ضرورة الحفظ من الضياع، ولذلك لم تكن لتبرز لولا ما سبق.

--------------------------------------------

(1) وصلنا كتاب المناسك لابن أبي عروبة - قطعة منه - وطبعت.

(2) وصلتنا قطعةٌ من كتاب الفرائض للثوري.

(3) وصلنا كتاب التفسير للثوري، ولعبد الرزاق، وليحيى بن سلام.

(4) وصلنا كتاب الزهد لابن المبارك ووكيع وأسد بن موسى.

(5) وصلنا كتاب الجهاد لابن المبارك.

(6) وصلنا كتاب القدر لعبد الله بن وهب.

(7) 10) انظر صحائف الصحابة لأحمد الصويّان (239 - 252) .

(8) 11) قيل إن مالكاً أول من بوّب (ذم الكلام للهروي 3/149 رقم 610) ، ولكن هناك من قيل إنه سبق مالكاً إلى ذلك. فانظر دراسات في الحديث للأعظمي (1/280، 306) .

(9) 12) وهذا واضح، وهو ظاهر من تسمية كتاب مالك بـ (الموطأ) ، أي: المسهّل!
এই বিশেষ যত্নের বহিঃপ্রকাশ অনেক, তবে এক্ষেত্রে যা বিশেষভাবে দৃষ্টিগোচর হয় তা হলো এই প্রজন্মে অধ্যায়ভিত্তিক গ্রন্থ রচনার উদ্ভব। যদিও পূর্ববর্তী স্তরের তুলনায় অধ্যায়বিহীন পাণ্ডুলিপি রচনার হার বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং জ্ঞানের একক কোনো শাখা বা অধ্যায়ে (যেমন পবিত্রতা, সালাত, হজের নিয়মাবলি (১), উত্তরাধিকার (২), তাফসির (৩), যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা (৪), জিহাদ (৫), তাকদির (৬) … ইত্যাদি) (৭) গ্রন্থ রচনার প্রসার ঘটেছিল, তবে এর সাথে যুক্ত হয়েছিল একটি নতুন পদ্ধতির উদ্ভব, যা হলো অধ্যায়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ। আর যারা সর্বপ্রথম এটি করেছিলেন তাদের মধ্যে ইমাম মালিক অন্যতম, তিনি তাঁর মুয়াত্তা (৮) গ্রন্থে এটি করেন। এরপর অন্যরাও গ্রন্থ রচনা করেন, যেমন ইবনুল ওয়াহাবের জামি‘, মা’মারের জামি‘ (উভয়টি মুদ্রিত) এবং সাওরির জামি‘।

এ ধরনের বিন্যাস নির্দেশ করে যে, এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল এবং ইলম হারিয়ে যাওয়ার যে উদ্বেগ তাবিঈদেরকে তাঁদের সংকলনের কাজে ব্যস্ত রাখত এবং বিন্যাসের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখত, তা ম্লান ও দুর্বল হতে শুরু করেছিল। আর আলেমদের হৃদয়ে এই বোধের জন্ম হতে শুরু করেছিল যে, সংকলন এখন মৌখিক বর্ণনার চেয়ে সুন্নাহর অধিকতর ব্যাপক সংগ্রহে পরিণত হয়েছে; এ কারণেই তাঁরা অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের দিকে মনোনিবেশ করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সহজীকরণ (৯)। এটি হারিয়ে যাওয়া থেকে হিফাযত করার মতো কোনো জরুরি আবশ্যকতা ছিল না, তাই পূর্ববর্তী বিষয়গুলো না থাকলে এটি এভাবে প্রকাশ পেত না।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি আরুবার কিতাবুল মানাসিক-এর একটি অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং তা মুদ্রিত হয়েছে।

(২) সাওরির কিতাবুল ফারায়িয-এর একটি অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(৩) সাওরি, আবদুর রাজ্জাক এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালামের তাফসির গ্রন্থ আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(৪) ইবনুল মুবারক, ওয়াকি এবং আসাদ ইবনে মুসার কিতাবুয যুহদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(৫) ইবনুল মুবারকের কিতাবুল জিহাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(৬) আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের কিতাবুল কদর আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(৭) ১০) দ্রষ্টব্য: আহমাদ আস-সুওয়াইয়ানের সাহাইফুস সাহাবা (২৩৯ - ২৫২)।

(৮) ১১) বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম মালিক সর্বপ্রথম অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেন (হারাউয়ির যাম্মুল কালাম ৩/১৪৯, নং ৬১০); তবে এমনও বলা হয় যে, কেউ কেউ এক্ষেত্রে ইমাম মালিকের অগ্রবর্তী ছিলেন। দেখুন: আজমির দিরাসাত ফিল হাদিস (১/২৮০, ৩০৬)।

(৯) ১২) এটি স্পষ্ট এবং ইমাম মালিকের গ্রন্থের নাম 'মুয়াত্তা' (অর্থাৎ: সহজকৃত!) রাখা থেকেই তা প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويُلاحَظُ على هذه المصنّفات: عدمُ دقّة الترتيب الموضوعي، وعدم تمييزهم فيها بين الصحيح والضعيف، وجمعُهم فيها بين المرفوع والموقوف والمقطوع؛ إذ كُلّها تحتاج في عصرهم إلى الجمع.

كما أنه يُلاحَظُ عليها: أنها ليست في ضخامة الكتب اللاحقة لها، وهذا كلّه أمرٌ طبيعي، فهي سمةٌ معروفة للمصنِّفين الأوائل والمصنّفات الأولى في كل فن.

لكن في آخر هذا الجيل ابتدأت تظهر بعض الموسوعات الحديثيّة، ممّا يشهد لسرعة البناء خلال هذا الجيل، وإلى المبادرة إلى إتمام الجهود لدى علماء السنة فيه. ولا أدلّ على ذلك من كتاب (المصنّف) لعبد الرزاق الصنعاني.

وفي آخر هذا الجيل ابتكر المحدّثون أسلوباً جديداً في التصنيف، لم يكن موجوداً في السابق.

لقد نظر المحدّثون إلى تلك المدوّنات والمجاميع والمصنفات، فوجدوا أنها شملت جميع أنواع المنقولات، من المرفوعات والموقوفات والمقطوعات. ولاشك أن قسم الأخبار المرفوعة هو أهمّ الأقسام، وأولاها بالجمع، وأحراها بالخوف عليه من التفلُّت. فبادروا إلى أسلوب في التصنيف لا يضمّ إلا المرفوعات، وهو التصنيف على طريقة المسانيد. وهو أسلوب في التصنيف يدل على أن ابتكاره لم يكن إلا لغرض الجمع خشيةَ الضياع، لأن أسلوب ترتيبه ليس فيه تيسيرُ التصنيف على الأبواب، وإن كان فيه وَجْهٌ ضعيف من التيسير، وهو الترتيب على أسماء الرواة من الصحابة.

قال بكر بن خلف: ((قال عبد الرحمن بن مهدي حين طلبوا المسند: ما أحسن هذا، إلا أني أخاف أن يحملهم هذا أن يكتبوا عن غير الثقات)) (1) .

ألا ترى إلى قوله (طلبوا) التي تدلّ على استنفارٍ عامّ نحو هذا المنحى من التصنيف، والذي كان من قوّة الرغبة فيه إلى درجة أن خشي ابنُ مهدي أن يقود إلى شيءٍ من الشَّرَه في الرواية عن غير الثقات.

--------------------------------------------

(1) المعرفة والتاريخ للفسوي (3/60) .
এই সংকলনগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়: বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসের নির্ভুলতার অভাব, সহিহ এবং যয়িফের (দুর্বল) মধ্যে পার্থক্যের অনুপস্থিতি এবং মারফু, মাওকুফ ও মাকতু বর্ণনার একত্রীকরণ; কারণ তাদের যুগে এ সমস্ত কিছুই সংগ্রহ করার প্রয়োজন ছিল।

আরও লক্ষ্য করা যায় যে: এগুলো পরবর্তী গ্রন্থগুলোর মতো বিশালাকৃতির নয়, এবং এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়; কেননা প্রতিটি শাস্ত্রের প্রাথমিক সংকলক এবং আদি সংকলনগুলোর ক্ষেত্রে এটি একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

তবে এই প্রজন্মের শেষভাগে কিছু হাদিস বিশ্বকোষ আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে, যা এই প্রজন্মের দ্রুত গাঠনিক অগ্রগতির এবং সুন্নাহর আলেমদের প্রচেষ্টা সম্পন্ন করার তৎপরতার সাক্ষ্য দেয়। আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনির 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থটি এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ হতে পারে না।

এই প্রজন্মের শেষে মুহাদ্দিসগণ সংকলনের এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা ইতিপূর্বে বিদ্যমান ছিল না।

মুহাদ্দিসগণ সেই সব নিবন্ধ, সংগ্রহ ও সংকলনগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পান যে, সেগুলো মারফু, মাওকুফ এবং মাকতু—সব ধরণের বর্ণিত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিঃসন্দেহে মারফু সংবাদ বা হাদিসের অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংগ্রহের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য, আর এটি হারিয়ে যাওয়ার ভয়ও ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে তারা সংকলনের এমন একটি পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হন যা কেবল মারফু হাদিসগুলোকেই ধারণ করে, আর তা হলো 'মুসনাদ' পদ্ধতি। সংকলনের এই পদ্ধতিটি প্রমাণ করে যে, এর উদ্ভাবন কেবল হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাদিস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই ছিল। কারণ এর বিন্যাস পদ্ধতিতে অধ্যায়ভিত্তিক সংকলনের সুবিধা নেই, যদিও এতে সহজীকরণের একটি সামান্য দিক রয়েছে, আর তা হলো সাহাবি বর্ণনাকারীদের নামের ক্রমানুসারে বিন্যাস।

বকর বিন খালাফ বলেন: ((আবদুর রহমান বিন মাহদি যখন তারা মুসনাদ চাইল তখন বললেন: এটি কতই না চমৎকার! তবে আমি আশঙ্কা করছি যে, এটি হয়তো তাদের নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখতে উদ্বুদ্ধ করবে)) (১)।

আপনি কি তার 'চাইল' (طلبوا) শব্দটি লক্ষ্য করেছেন যা সংকলনের এই ধারার প্রতি একটি সাধারণ গণজাগরণ নির্দেশ করে? এর প্রতি প্রবল আগ্রহের মাত্রা এতটাই ছিল যে, ইবনে মাহদি আশঙ্কা করেছিলেন এটি হয়তো নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে এক ধরণের অতি-লালসার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আল-মারিফাত ওয়াত-তারিখ, আল-ফাসায়ি (৩/৬০)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال الإمام أحمد في سياق انتقاده ليحيى بن عبد الحميد الحماني، الذي ادّعى أنه سمع من الإمام أحمد حديثاً مسنداً على باب ابن عُليّة: ((أي وقت التقينا على باب ابن علية؟ إنما كنا نتذاكر الفقه والأبواب، لم نكن تلك الأيام نتذاكر المسند)) (1) وابن علية توفي سنة (193هـ) ، فهذا يُبيّنُ أن العناية بالمسند إلى هذا العام أو قبله بقليل لم يكن ابتُدِئَ بالعناية به.

ويقول الحافظ ابن حجر في تأريخه للتدوين:» إلى أن رأى بعضُ الأئمة أن يفرد حديث النبي صلى الله عليه وسلم خاصّة، وذلك على رأس المائتين. فصنّف عبيد الله بن موسى العبسي الكوفي مسنداً، وصنف مسدّد بن مسرهد البصري مسنداً، وصنف أسد بن موسى مسنداً، وصنف نعيم بن حماد الخزاعي نزيل مصر مسنداً. ثمّ اقتفى الأئمةُ بعد ذلك أثرهم، فقلَّ إمامٌ من الحفاظِ إلا وصنّف حديثه على المسانيد، كالإمام أحمد، وإسحاق بن راهويه، وعثمان بن أبي شيبة، وغيرهم من النبلاء، ومنهم من صنّف على الأبواب والمسانيد معاً كأبي بكر بن أبي شيبة)) (2) .

وبهذا النشاط الهائل في الجمع والتدوين، تيسَّر للعلماء أن يواجهوا ذلك التشعّب الهائل للأسانيد، وأن يضبطوا اختلافَ الرواة في المتون والأسانيد، وهذا ما أعانهم على كمال النقد في هذه المرحلة.

--------------------------------------------

(1) العلل (رقم 4077، 4078) والجرح والتعديل (9/169) .

(2) هدي الساري (8) .
ইমাম আহমাদ ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল হামিদ আল-হিমানীর সমালোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন, যিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ-এর দরজার সামনে ইমাম আহমাদ থেকে একটি মুসনাদ হাদিস শুনেছেন: "কোন সময়ে আমরা ইবনে উলাইয়্যাহ-এর দরজায় সাক্ষাৎ করেছি? আমরা কেবল ফিকহ ও ফিকহি অধ্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করতাম, সেই দিনগুলোতে আমরা মুসনাদ নিয়ে আলোচনা করতাম না।" (১) আর ইবনে উলাইয়্যাহ ১৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট করে যে, এই বছর পর্যন্ত বা এর সামান্য আগে পর্যন্ত মুসনাদ সংকলনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হয়নি।

হাফিজ ইবনে হাজার সংকলনের ইতিহাসে বলেন: "পরবর্তীতে কিছু ইমাম মনে করলেন যে বিশেষভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস পৃথক করে সংকলন করা প্রয়োজন, আর তা ছিল দুইশ হিজরির শুরুর দিকে। তখন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি আল-কুফি একটি মুসনাদ সংকলন করেন, মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ আল-বাসরি একটি মুসনাদ সংকলন করেন, আসাদ ইবনে মুসা একটি মুসনাদ সংকলন করেন এবং মিসরের বাসিন্দা নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-খুজায়ি একটি মুসনাদ সংকলন করেন। এরপর ইমামগণ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। হাফেজদের মধ্যে এমন ইমাম খুব কমই ছিলেন যারা তাদের সংগৃহীত হাদিস মুসনাদ আকারে সংকলন করেননি, যেমন ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, উসমান ইবনে আবি শায়বাহ এবং অন্যান্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বগণ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অধ্যায় এবং মুসনাদ উভয় পদ্ধতিতেই সংকলন করেছেন, যেমন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ।" (২)

সংগ্রহ ও সংকলনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে আলেমদের পক্ষে সনদের সেই ব্যাপক শাখা-প্রশাখার মুখোমুখি হওয়া এবং মূল পাঠ ও সনদে বর্ণনাকারীদের মতপার্থক্যসমূহ নিরূপণ করা সহজতর হয়েছিল। আর এটিই এই পর্যায়ে তাদের জন্য হাদিস সমালোচনার শাস্ত্রকে পূর্ণতা দিতে সাহায্য করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল (নম্বর ৪০৭৭, ৪০৭৮) এবং আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৯/১৬৯)।

(২) হাদি আস-সারি (৮)।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
- لقد اكتملت ملامح النقد في هذه المرحلة، حيث تحقّقت أسبابه. حيث إن الميزان النقدي الحديثي يعتمد كل الاعتماد على الإحاطة البالغة بالمنقولات، وعلى استحضارها جُملةً عند نَقْدِ كل حديث. وهذا يستلزم أن تكون محفوظةً في الصدور، ولم يكن لذلك الحفظ أن يتمّ لولا جهود العلماء في الجمع والتدوين (1) .

إن علاقةَ نقد السنة بالحفظ لها في الصدور، ذلك الحفظ المتقن المحيط الواسع، لا يخفى على من عرف حقيقة ذلك النقد وعُمْقَه، وشموليّةَ معياره النقدي، ودِقّةَ ذلك المعيار، الذي يصل إلى حدٍّ يُشبه فيه الكهانة عند غير أصحاب العلم به (2) .

وقد أُتيح هذا الحفظُ الواسع لأئمة هذه المرحلة، فجاء نَقْدُهم بملامحَ واضحةٍ لصورته النهائيّة التامّة.

--------------------------------------------

(1) وهذا الجمع والاستقصاء في حفظ السنّة. هو الذي جعل العلماء يَرَوْنَ أنَّ احتمال التفرُّدِ من الراوي بالسنّة يزدادُ ضَعْفُه كلّ ما امتدّ الزمن وبَعُدَ الجيل، حتى وصل الأمر إلى درجة ردّ المفاريد لمجرّد أنّها مفاريد من بعض حُفّاظِ صغارِ أتباع التابعين، وإلى ردِّها مطلقاً ممّن بعدهم. انظر: الموقظة للذهبي (77 - 78) .

(2) وأقوال العلماء المتقدمين والمتأخرين أكثر من أن تُحصى في ذلك، ولمثل ذلك قال علي بن المديني:» الباب إذا لم تُجمع طرقه لم يتبيّن خطؤه « (الجامع للخطيب رقم 1701) ، وقال يحيى بن معين: ((لو لم نكتب الحديث من ثلاثين وجهاً ما عقلناه)) .

وانظر الفصل الذي عقده الخطيب البغدادي بعنوان: ((أن المعرفة بالحديث ليست تلقيناً، وإنما هو علمٌ يُحدثه الله في القلب)) ، (الجامع لأخلاق الراوي: 2/382 - 385) .

ولهذا قال الحافظ ابن حجر عن علم العلل في النزهة (92) : ((ولا يقوم به إلا من رزقه الله تعالى فهماً ثاقباً وحفظاً واسعاً ومعرفة تامّة بمراتب الرواة وملكةً قويّة بالأسانيد والمتون، ولهذا لم يتكلّم فيه إلا القليل من أهل هذا الشأن)) .
এই স্তরে এসে সমালোচনার বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে, কারণ এর উপকরণসমূহ অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু হাদীস শাস্ত্রের সমালোচনামূলক মানদণ্ড পুরোপুরিভাবে বর্ণিত তথ্যাবলি (মানকুলাত) সম্পর্কে গভীর পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান এবং প্রত্যেক হাদীস পর্যালোচনার সময় সেগুলোকে একত্রে উপস্থিত করার ওপর নির্ভরশীল। আর এর জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো সেই তথ্যগুলো স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকা। আর ওলামায়ে কেরামের সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার প্রচেষ্টা না থাকলে এই সংরক্ষণ সম্পন্ন হতো না (১)।

সুন্নাহর সমালোচনার সাথে অন্তরে তা মুখস্থ রাখার সম্পর্ক—সেই সুনিপুণ, বিস্তৃত ও পরিবেষ্টনকারী মুখস্থ রাখা—তাদের কাছে গোপন নয় যারা এই সমালোচনার হাকীকত ও গভীরতা এবং এর সমালোচনামূলক মানদণ্ডের ব্যাপকতা ও সূক্ষ্মতা সম্পর্কে অবগত। এই মানদণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যা এই শাস্ত্রের জ্ঞানহীনদের কাছে গণকগিরির মতো মনে হয় (২)।

এই ব্যাপক মুখস্থ শক্তি বা হিফজ এই স্তরের ইমামদের জন্য সহজসাধ্য হয়েছিল, ফলে তাঁদের সমালোচনা পদ্ধতি এক পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত রূপের স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রকাশ পেয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সুন্নাহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই সংগ্রহ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানই আলেমদের এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের কারণ হয়েছে যে, সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এবং প্রজন্মের ব্যবধান বাড়ার সাথে সাথে বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সুন্নাহ বর্ণনায় একক হয়ে পড়ার (তাফাররুদ) সম্ভাবনা ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। এমনকি বিষয়টি এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, তাবি-তাবিঈদের কনিষ্ঠ স্তরের কোনো কোনো হাফেজের ক্ষেত্রে কেবল একক বর্ণনার কারণেই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে একক বর্ণনাকে ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেখুন: আয-যাহাবীর আল-মুওকিযাহ (৭৭ - ৭৮)।

(২) এ বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের উক্তি গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এই কারণেই আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: "একটি হাদীসের বিভিন্ন সূত্র (তুরুক) যদি একত্রিত করা না হয়, তবে এর ভুল স্পষ্ট হয় না" (খতীবের আল-জামি, নং ১৭০১)। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "যদি আমরা হাদীস ত্রিশটি সূত্র থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।"

আর খতীব আল-বাগদাদী যে অধ্যায়টি রচনা করেছেন তা দেখুন, যার শিরোনাম হলো: "নিশ্চয়ই হাদীস বিষয়ক জ্ঞান কেবল শেখানো বা তালকিনের বিষয় নয়, বরং এটি এমন এক ইলম যা আল্লাহ হৃদয়ে সৃষ্টি করেন" (আল-জামি লি-আখলাকির রাউই: ২/৩৮২ - ৩৮৫)।

এজন্যই হাফেজ ইবনে হাজার 'নুযহাতুন নাযার' (৯২)-এ ইলমে ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) সম্পর্কে বলেছেন: "যাকে আল্লাহ তাআলা তীক্ষ্ণ মেধা, ব্যাপক মুখস্থ শক্তি, বর্ণনাকারীদের স্তর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং সনদ ও মতন বিষয়ে শক্তিশালী বুৎপত্তি দান করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ এটি সম্পাদন করতে পারে না। এজন্যই এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে খুব সামান্য সংখ্যক লোকই এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويكفي في هذه العجالة أن أُذَكِّر بثلاثةٍ أئمةٍ من هذه المرحلة، بلغوا درجةً سامية في النقد، بل كانوا في الحقيقة أساتذة النقد في هذه المرحلة، وبعلمهم وجهودهم اكتمل النقد بعد ذلك الاكتمال النهائي. إنهم: شعبة بن الحجاج، ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي. إنها مدرسة النقد البصريّة، ذات الفضل الكبير على النقد الحديثي كُلّه.

قال يعقوب بن شيبة: ((قلت ليحيى بن معين: تعرف أحداً من التابعين كان ينتقي الرجال كما كان ابن سيرين ينتقيهم؟ فقال برأسه، أي: لا. (قال يعقوب:) وسمعتُ علي بن المديني يقول: كان ممّن ينظر في الحديث ويُفتّشُ عن الإسناد، لا نَعْلَمُ أحداً أوّلَ منه: محمد بن سيرين، ثم كان أيوب، وابن عون، ثم كان شعبة، ثم كان يحيى بن سعيد وعبد الرحمن. (قال يعقوب:) قلت لعليّ: فمالك بن أنس؟ فقال: أخبرني سفيان بن عيينة، قال: ما كان أشدَّ انتقاءَ مالكٍ للرجال)) (1) .

لقد بلغت العناية بالنقد في هذه المرحلة، والاطمئنان إلى كمال النّقْل والرواية، إلى حدِّ تقديم النقد وتعلُّمه على الرواية!!

يقول خلف بن سالم المخرِّمي: ((سمعتُ ابن عُليّة يقول: كُنّا نرى عند حميد (يعني الطويل) وسليمان (يعني التيمي) وابن عون الرجلَ والرجلين، فنأتي شعبة، فنرى الناسَ عليه. (قال خلف:) كان أصحابُ الحديث يريدون حُسْنَ المعرفةِ بالرجال وبمعرفة الحديث … وهكذا، كان هذا المعنى بيِّناً في شعبة إن شاء الله)) (2) .

ويصرِّح بذلك عبد الرحمن بن مهدي، فيقول: ((لأن أعرف عِلّة حديث واحد، أحبُّ إليّ من أن أستفيدَ عشرة أحاديث)) (3) .

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي لابن رجب (1/52) .

(2) تقدمة الجرح والتعديل (176) .

(3) شرح علل الترمذي لابن رجب (1/199) .
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এই স্তরের তিনজন ইমামের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট, যারা সমালোচনায় (নাকদ) এক উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন; বরং তারা প্রকৃতপক্ষে এই স্তরের সমালোচনার শিক্ষক ছিলেন। তাদের জ্ঞান ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পরবর্তীতে হাদীস সমালোচনা চূড়ান্ত পূর্ণতা লাভ করে। তারা হলেন: শু’বাহ বিন হাজ্জাজ, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদী। এটি হলো বসরার সমালোচনা কেন্দ্রিক ঘরানা, যার অবদান সমগ্র হাদীস সমালোচনার ওপর অপরিসীম।

ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি তাবিঈদের মধ্যে এমন কাউকে চেনেন যিনি ইবনে সিরীনের মতো বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই করতেন? তিনি মাথা নেড়ে ইশারা করলেন, অর্থাৎ: না। (ইয়াকুব বলেন:) আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি: যারা হাদীসের প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখতেন এবং সনদ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতেন, তাদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন সিরীনের পূর্বে আর কাউকে আমরা চিনি না। অতঃপর আইয়ুব এবং ইবনে আওন, অতঃপর শু'বাহ, অতঃপর ইয়াহইয়া বিন সাঈদ এবং আব্দুর রহমান। (ইয়াকুব বলেন:) আমি আলীকে বললাম: মালেক বিন আনাস সম্পর্কে কী বলবেন? তিনি বললেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাকে বলেছেন: বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ে মালেক কতই না কঠোর ছিলেন!" (১) ।

এই স্তরে হাদীস সমালোচনার প্রতি মনোযোগ এবং বর্ণনা ও বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব লাভ করেছিল যে, হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে সমালোচনা জানা এবং তা শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো!!

খালাফ বিন সালেম আল-মুখাররামী বলেন: "আমি ইবনে উলাইয়াহকে বলতে শুনেছি: আমরা হুমাইদ (অর্থাৎ আত-তওয়ীল), সুলাইমান (অর্থাৎ আত-তাইমী) এবং ইবনে আওনের নিকট এক-দুজন ব্যক্তিকে দেখতাম। কিন্তু যখন শু'বাহর নিকট আসতাম, তখন দেখতাম মানুষের ভিড়। (খালাফ বলেন:) হাদীস অন্বেষণকারীরা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে উত্তম জ্ঞান এবং হাদীস সম্পর্কে সঠিক ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে চাইতেন … আর এভাবেই, ইনশাআল্লাহ শু'বাহর মাঝে এই বৈশিষ্ট্যটি সুস্পষ্ট ছিল।" (২) ।

আব্দুর রহমান বিন মাহদী এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেন: "একটি হাদীসের গোপন ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে অবগত হওয়া আমার কাছে দশটি হাদীস অর্জন করার চেয়ে বেশি প্রিয়।" (৩) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব কৃত শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/৫২) ।

(২) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দীল (১৭৬) ।

(৩) ইবনে রজব কৃত শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/১৯৯) ।
(খণ্ড: ১) নাদওয়াতু উলূমিল হাদীস উলূমুউ ওয়া আফাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولهذه الجهود العظيمة في النقد، بات الاطمئنان على سلامة السنّة من تطرُّقِ الكذب إليها ثابتاً مستقرًّا في قلوب العلماء. حتى يأتي أحدُ الغيورين على السنة، فزعاً عليها من الأحاديث الموضوعة، إلى عبد الله بن المبارك، ليقول له في حيرةٍ ووجل: ((هذه الأحاديث المصنوعة؟!!!)) ، فيجيبه ابن المبارك ذلك الجواب المطمئن المسترخي، الذي يدل على عدم اكتراثٍ لذلك، قائلاً: ((يعيش لها الجهابذة)) (1) .

ولم يَنْجُ من التشدّد في النقد والجُرْأةِ على إنكار مواضع الشك كبارُ الحفّاظ، فضلاً عمّن دونهم. حتى كانوا يصيحون بالحافظ إذا تفرّد بحديث حتى يتركه، وهو صادق في روايته ضابطٌ!! (2) .

إنّه الاحتياط الذي لا يُغفل كُلَّ احتمالٍ للوهم والخطأ، وإن كان مستبعداً.

يقول عبد الرحمن بن مهدي: ((خصلتان لا يستقيم فيهما حُسْنُ الظنّ: الحُكْمُ والحديث)) (3) .

لقد انتهت هذه المرحلة، مؤذنةً ببداية أعظم عصور السنة، عصرِ الاكتمال والنضج النهائي.

المرحلة الخامسة: وهي القرن الهجري الثالث.

--------------------------------------------

(1) تقدمة الجرح والتعديل (3) .

(2) انظر من قصص ذلك في الجامع للخطيب (رقم 1142 - 1146) .

(3) الجرح والتعديل (2/35) ، والكفاية للخطيب (269) .
আর সমালোচনার এই বিশাল প্রচেষ্টার কারণে আলেমদের অন্তরে সুন্নাহর মাঝে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটা থেকে তা সুরক্ষিত থাকার বিষয়টি সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল হয়েছে। এমনকি সুন্নাহর প্রতি দরদী একজন ব্যক্তি জাল হাদিসগুলোর ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট আসেন এবং হতবিহ্বল ও ভীত হয়ে তাঁকে বলেন: "এই বানোয়াট হাদিসগুলোর কী হবে?!!!" তখন ইবনুল মুবারক তাঁকে এমন এক আশ্বস্তকারী ও সাবলীল উত্তর দেন, যা এ বিষয়ে কোনো প্রকার উদ্বেগের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে; তিনি বলেন: "এগুলোর (রহস্য উন্মোচনের) জন্য দক্ষ বিশেষজ্ঞরা বেঁচে আছেন।" (১)।

আর সমালোচনার কঠোরতা এবং সন্দেহজনক বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করার সাহসিকতা থেকে বড় বড় হাফেজগণও রেহাই পাননি, তাঁদের নিম্নস্তরের লোকদের কথা তো বলাই বাহুল্য। এমনকি তাঁরা কোনো হাফেজকে এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করতে দেখলে তাঁর ওপর এতই চাপ সৃষ্টি করতেন যে পরিশেষে তিনি সেটি বর্জন করতেন, অথচ তিনি তাঁর বর্ণনায় সত্যবাদী এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন!! (২)।

এটি ছিল এমন এক সতর্কতা যা বিভ্রম বা ভুলের কোনো সম্ভাবনাকেই উপেক্ষা করত না, যদিও তা সুদূরপরাহত হতো।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: "দুটি বিষয়ে সুধারণা পোষণ করা সংগত নয়: বিচারকার্য এবং হাদিস।" (৩)।

এই পর্যায়টি সমাপ্ত হয়েছে সুন্নাহর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম যুগের সূচনার বার্তা দিয়ে, যা ছিল পূর্ণতা এবং চূড়ান্ত পরিপক্বতার যুগ।

পঞ্চম পর্যায়: আর এটি হলো হিজরি তৃতীয় শতাব্দী।

--------------------------------------------

(১) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল (৩)।

(২) খতিব বাগদাদীর আল-জামি' গ্রন্থে এর ঘটনাবলি দেখুন (নং ১১৪২ - ১১৪৬)।

(৩) আল-জারহু ওয়াত তা'দিল (২/৩৫), এবং খতিব বাগদাদীর আল-কিফায়াহ (২৬৯)।