(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تحفة الأقران في ما قرئ بالتثليث من حروف القرآن   (أبو جعفر الرعيني الأندلسي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: تُحْفَةُ الأَقْرَانِ في مَا قُرِئ بِالتَّثْلِيثِ مِنْ حُرُوفِ القُرْآنِ

المؤلف: أحمد بن يوسف بن مالك الرعيني الغرناطي ثم البيري، أبو جعفر الأندلسي (ت 779هـ)

الناشر: كنوز أشبيليا - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1482 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 196

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তুহফাতুল আকরান ফি মা কুরিআ বিত-তাসলিসি মিন হুরুফিল কুরআন   (আবু জাফর আল-রুআইনি আল-আন্দালুসি)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: তুহফাতুল আকরান ফি মা কুরিআ বিত-তাসলিসি মিন হুরুফিল কুরআন

লেখক: আহমাদ বিন ইউসুফ বিন মালিক আল-রুআইনি আল-গারনাতি অতঃপর আল-বিরি, আবু জাফর আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি)

প্রকাশক: কুনুজ আশবিলিয়া - সৌদি আরব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৮২ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: تُحْفَةُ الأَقْرَانِ في مَا قُرِئ بِالتَّثْلِيثِ مِنْ حُرُوفِ القُرْآنِ

المؤلف: الإمام أبو جعفر أحمد بن يوسف الرُّعيني (المتوفى 779 هـ)

الناشر: كنوز أشبيليا - المملكة العربية السعودية

الطبعة الثانية - 1428 هـ - 2007 م

تنبيه:

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

مصدر الكتاب نسخة مصورة قام الشيخ الجليل نافع - جزاه الله خيرا - بتحويلها

وقام الفقير إلى عفو ربه الكريم القدير بتصويبه

والحمد لله أولاً وآخراً وظاهراً وباطناً.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

কিতাব: তুহফাতুল আকরান ফি মা কুরিআ বিত-তাথলিথি মিন হুরুফিল কুরআন

লেখক: ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন ইউসুফ আর-রুয়াইনি (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি)

প্রকাশক: কুনুজ আশবিলিয়া - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

দ্বিতীয় সংস্করণ - ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

সতর্কবার্তা:

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

কিতাবের উৎস: একটি সচিত্র সংস্করণ যা মহিমান্বিত শাইখ নাফে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - রূপান্তর করেছেন

এবং তাঁর মহান ও সর্বশক্তিমান রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী এক নগণ্য বান্দা এটি সংশোধন করেছেন

আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله الذي يَسَّرَ آيَ القرآنِ لِقاريها، وأنزلَها على سبعةِ أحرُفٍ

لِتَكْثُر فوائدُها ومَعانيها، فأصبحتِ القراءاتُ قد اتَّسَعَتْ مَجاريها لمُجاريها.

وانتهى إلينا من مَشهورها وشاذِّها طُرُقٌ وَضَحَتْ مَعانيها لمُعانيها.

نَحْمَدُه على نِعَمِه التي لا نُحصيها، ونَشْكُرُه شُكراً نَسْتَمِد به زيادةَ كَرَمِه

ونَستهديها، ونُصَلّي على سيدنا محمَّدٍ الذي أقام الشَريعةَ إلى أنْ تَشَيَّدَتْ

مَبانيها، وعلى آلِه وصحبه الّذين هم كالأَهِلِّةِ في سماء هذه المِلَّة.

وكاللآلىء في أجياد لَياليها.

أما بعد، فإنّي رأيتُ من القراءات ما جاء مُثَلَّثَ اللَّفْظ، وهو من

القسم الشّارد عن الحِفْظ، فأرَدْتُ أن أجمعَه مُتَّبعاً لجَواهره، ومُقتَطِفاً

لأزاهره، ومُبَيِّناً لإعرابه، ورافعاً لإغرابه، معِ نكتٍ أُبْديها، وتُحَفٍ

أُهْديها، فلمّا يَسَّرَ اللهُ جَمْعَ ذلك كَتَبْتُه ليكون تَذْكِرةً لِلَّبِيب، وتَنبيهاً

للأرِيب، ورَتَّبْتُه على حروف المُعْجَم ليكونَ أسهلَ للنّاظر، وأجمعَ

للخاطر، وسَمَّيْتُه بـ:

تُحْفة الأقران في ما قُرِىء بالتَّثليث من حُروف القُرآن

واللهُ المُستعانُ فيما قَصَدْتُه، وعليه التكلانُ فيما اعْتَمَدْتُه.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‌‌ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পাঠকদের জন্য কুরআনের আয়াতসমূহকে সহজ করে দিয়েছেন এবং তা সাতটি হারফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ করেছেন,

যাতে এর উপকারিতা ও অর্থসমূহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কিরাআতসমূহের পথগুলো এর অনুসারীদের জন্য প্রশস্ত হয়েছে।

এবং এর প্রসিদ্ধ (مشهور) ও শায (شاذ) পদ্ধতিগুলো থেকে আমাদের কাছে এমন সব সূত্র পৌঁছেছে, যার অর্থসমূহ গবেষকদের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আমরা তাঁর সেই সব নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি যা আমরা গণনা করতে সক্ষম নই, এবং তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি যার মাধ্যমে আমরা তাঁর অধিকতর করুণা প্রার্থনা করি

এবং তাঁর নিকট হিদায়াত কামনা করি। আর আমরা দুরুদ পাঠ করি আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি শরিয়তকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে তার ভিত্তিগুলো সুদৃঢ় হয়েছে,

এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের প্রতি, যারা এই মিল্লাতের আকাশে উদিত চাঁদের মতো,

এবং এর রজনীগুলোর গ্রীবায় মুক্তমালার মতো।

অতঃপর, আমি কিরাআতসমূহের মধ্যে এমন কিছু শব্দ লক্ষ্য করেছি যা ত্রি-উচ্চারণে (مثلث اللفظ) বর্ণিত হয়েছে, এবং তা

মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে একটি বিরল প্রকারের (القسم الشارد) অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি এর রত্নরাজির অনুসরণ করে এবং এর পুষ্পসমূহ চয়ন করে তা সংকলন করার সংকল্প করেছি,

যেখানে এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) স্পষ্ট করেছি এবং এর জটিলতাগুলো দূর করেছি। সাথে কিছু সূক্ষ্ম তথ্য (نكت) প্রকাশ করেছি এবং কিছু অমূল্য উপহার (تحف)

পেশ করেছি। আল্লাহ যখন এই সংকলন সহজ করে দিলেন, তখন আমি তা লিপিবদ্ধ করলাম যেন তা বুদ্ধিমানদের জন্য স্মারক এবং জ্ঞানীদের জন্য

সতর্কতা স্বরূপ হয়। আর আমি এটি বর্ণানুক্রমে (حروف المعجم) সাজিয়েছি যাতে এটি পাঠকের জন্য সহজতর এবং মনোযোগের জন্য

অধিক সহায়ক হয়। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

তুহফাতুল আকরান ফি মা কুরিআ বিত-তাসলিসি মিন হুরুফিল কুরআন

আমি যা সংকল্প করেছি সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল, এবং যার ওপর আমি নির্ভর করেছি সে বিষয়ে তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حرف الهمزة

فمن ذلك قولُه تعالى في سورة " يونس ‌‌(فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ) .

قُرىء بنصب الهمزة من (شركاءكم) ورفعها وجرّها:

ولا بُدّ أوّلا من تمهيد قاعدةِ يُبْنَى عليها أحكامُ الإعراب، وهي أنَ

أهل اللغة قالوا: إنّ أَجْمَعَ لا يُسْتعملُ إلاّ في المعاني، وجَمَعَ لا

يُستعمل إلا في الأعيان، فيقال: أجمعتُ الأمر؛ لأنه معنى، قال الشاعر:

أجْمَعُوا أمرَهم بليلٍ فلمّا أصْبَحُوا أَصْبَحَتْ لهم غَوغاءُ

وقال الآخر:

يا ليتَ شِعري والمُنى لا تَنْفَعُ. . . هل أَغْدُوَنْ يوماً وأمريَ مُجْمَعُ
হামজা বর্ণ

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা ইউনুসে মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত এবং তোমাদের শরীকদের সুসংহত করো।"

(শরকাহ-কুম) শব্দের হামজা বর্ণটি নসব (نصب), রফ (رفع) এবং জর (جر) — এই তিন ভাবেই পঠিত হয়েছে:

তবে সর্বপ্রথম এমন একটি মূলনীতি (قاعدة) উপস্থাপন করা প্রয়োজন যার ওপর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো এই যে:

ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'আজমায়া' (أجمع) শব্দটি কেবল বিমূর্ত বিষয়ের (معاني) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর 'জামায়া' (جمع) শব্দটি কেবল

মূর্ত বা দৃশ্যমান বস্তুর (أعيان) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়: 'আজমায়তু আল-আমরা' (আমি বিষয়টি সংকল্পবদ্ধ করেছি); কারণ এটি একটি বিমূর্ত বিষয়। জনৈক কবি বলেছেন:

তারা রাতে তাদের সিদ্ধান্ত সুসংহত করেছিল, অতঃপর যখন সকাল হলো তখন তাদের মাঝে শোরগোল শুরু হলো।

অপর এক কবি বলেছেন:

হায়! আমি যদি জানতাম—যদিও আকাঙ্ক্ষা কোনো উপকারে আসে না—আমি কি কোনোদিন এমনভাবে প্রভাত করব যখন আমার সিদ্ধান্ত সুসংহত (مجمع) থাকবে?
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
ويقال: جَمَعْتُ شركائي؛ لأنّ الشُّركاء أعيان.

قلت: هذا هو الأكثر، وقد يوضع كلُّ واحدٍ منهما موضعَ الآخر، وهو

قليل فصيح، فيقال: أجمعتُ الشركاء، وجمعتُ الأمر، قال الله تعالى:

(فجَمَعَ كَيدَهُ) ، وهو من المعاني. وقرأ أبو عمرو في

"طه": (فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ) من جَمعَ، وقُرىء هنا في الشاذّ كذلك.
বলা হয়ে থাকে: ‘আমি আমার অংশীদারদের একত্রিত করেছি’; কারণ অংশীদারগণ দৃশ্যমান সত্তা।

আমি বলছি: এটিই অধিক প্রচলিত ব্যবহার, এবং কখনো একটির স্থলে অন্যটি ব্যবহৃত হয়, যা

বিরল হলেও প্রাঞ্জল (فصيح)। এমতাবস্থায় বলা হয়: ‘আমি অংশীদারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি’ এবং ‘আমি বিষয়টি গুছিয়েছি’, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

‘অতঃপর সে তার কৌশল একত্রিত করল’, যা বিমূর্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আবু আমর

‘ত্বহা’ সূরায় ‘ফা-আজমিউ কাইদাকুম’ পাঠ করেছেন ‘একত্রিত করা’ (جمع) ক্রিয়ামূল থেকে, এবং এখানে শায (شاذ) কিরাআতেও অনুরূপ পঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
إذا تقرّر هذا فاعلم أن القُرّاء السبعة أجمعوا هنا على (فأَجْمِعوا) بقطع

الهمزة ونصب (الشركاء) ، أما قطع الهمزة فجاء على الأكثر " لأنّه مع

الأمر، وهو معنى.

وأما النصب في (شركاءكم) فيحتمل تخريجه أوجهاً:

الأول: أن يكونَ معطوفاَ على (أمركم) على حذف مضاف.

التقدير: وأمر شركائكم، وإنما حَمَلْناه على المضاف لئلاّ يقال: أجمعتُ

الشركاء.

الثاني: أن يكون معطوفاَ على (أمركم) من غير تقدير حذف مضاف.

بناء على أن يُقال: أجمعتُ الشركاء، وإن كان قليلاً.

الثالث: أن يكون معطوفاَ على (أمركم) لا على أنه على حذف

مضاف، ولا على أنْ يقال: أجمعتُ الشركاء، ولكن على أنّه يجوز في

المعطوف ما لا يجوز في المعطوف عليه، نحو قولهم: رُبَّ رجلٍ وأخيه.

ولا يقال: رُبَّ أخيه.

وقولهم: كلُّ شاة وسَخْلَتِها بدرهم، ولا يقال: كلُّ سخلتِها.

وتقول: قامت هند وزيد، ولا يقال: قامت زيد.
এটি যদি সুনিশ্চিত হয় তবে জেনে রাখুন যে, সাতজন ক্বারী এখানে 'ফআজমিয়ূ' শব্দটিতে হামযাহর ক্বত (বিচ্ছেদ)

এবং 'আশ-শুরাকা' শব্দটির নসব (জবর) পড়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। হামযাহর ক্বত হওয়ার বিষয়টি অধিকাংশের ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে; কারণ এটি

নির্দেশসূচক ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি অর্থবহ।

আর 'শুরাকাআকুম' শব্দটিতে নসব হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিশ্লেষণের অবকাশ রয়েছে:

প্রথমত: এটি 'আম্রাকুম' শব্দের ওপর অনুগামী হিসেবে গণ্য হবে এবং এখানে একটি সম্বন্ধ পদ উহ্য রয়েছে।

বিশ্লেষণটি হলো: 'এবং তোমাদের অংশীদারদের বিষয়'। আমরা এখানে সম্বন্ধ পদটি এই কারণে উহ্য ধরেছি যাতে এমনটি বলতে না হয়: 'আমি সঙ্কল্পবদ্ধ করেছি

অংশীদারদের'।

দ্বিতীয়ত: কোনো সম্বন্ধ পদ উহ্য না রেখেই এটি 'আম্রাকুম' শব্দের ওপর অনুগামী হবে।

এটি সেই মতের ওপর ভিত্তি করে যেখানে 'আমি অংশীদারদের সঙ্কল্পবদ্ধ করেছি' বলা বৈধ, যদিও তা বিরল।

তৃতীয়ত: এটি 'আম্রাকুম' শব্দের ওপর অনুগামী হবে; তবে তা কোনো সম্বন্ধ পদ উহ্য থাকার কারণে নয়,

কিংবা 'আমি অংশীদারদের সঙ্কল্পবদ্ধ করেছি' বলা বৈধ হওয়ার কারণেও নয়। বরং তা এই নিয়মের ভিত্তিতে যে,

অনুগামীর ক্ষেত্রে যা বৈধ হয়, অনেক সময় যার অনুগামী করা হচ্ছে তার ক্ষেত্রে তা বৈধ হয় না। যেমন আরবদের প্রবাদ: 'কতই না ব্যক্তি এবং তার ভাই'।

কিন্তু 'কতই না তার ভাই' বলা হয় না।

এবং তাদের উক্তি: 'প্রতিটি ছাগল ও তার বাচ্চা এক দিরহামের বিনিময়ে'; কিন্তু 'প্রতিটি তার বাচ্চা' বলা হয় না।

আর আপনি বলতে পারেন: 'হিন্দ ও যায়েদ দাঁড়িয়েছে'; কিন্তু 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে' (স্ত্রীলিঙ্গ ক্রিয়ারূপ সহকারে) বলা হয় না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
الرابع: أن يكون محمولاً على فعل مُضْمَرٍ يُفَسرُه المعنى، أي: وادعوا

شركاءكم، وقد أظهرَ أُبَى رضي الله عنه هذا الفعل وثَبَتَ في مصحفه.

وهذا بناءً على أنّه لا يُقال: أجمعتُ شركائي، وهذا الوجه حسن.

وهو كثير نثراً ونظماً، حتى إنهم اختلفوا فيه: هل هو مقيس أو مسموع؛ قالوا: والصحيح أنّه قياس، والضابط: أنّه متى اجتمع فعلان متقاربان

في المعنى ولكلّ واحدٍ منهما متعلّق، جاز حذف أحد الفعلين وعطف

متعلّق المحذوف على المذكور، على حسب ما يقتضيه لفظه، حتى كأنّه

شريكُه في أصل الفعل، إجراءً لأحد المتقاربين مُجرى الآخر، فمن ذلك

عند بعضهم قولُه تعالى: (وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ) .
চতুর্থত: এটি একটি উহ্য (مضمر) ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়া যা অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যায়িত হয়; অর্থাৎ: 'তোমরা তোমাদের শরিকদের ডাকো'। উবাই (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই ক্রিয়াটিকে প্রকাশ করেছেন এবং তা তাঁর মাসহাফে সাব্যস্ত হয়েছে।

আর এটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, 'আমি আমার শরিকদের সংকল্প করেছি' বলা হয় না; এবং এই ব্যাখ্যাটি সুন্দর (حسن)।

গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ প্রচুর, এমনকি এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, এটি কি নিয়মানুগ (مقيس) নাকি কেবল শ্রুত (مسموع); তাঁরা বলেছেন: সঠিক (صحيح) মত হলো এটি একটি নিয়মানুগ পদ্ধতি (قياس)। আর এর মূলনীতি (ضابط) হলো: যখন অর্থে কাছাকাছি এমন দুটি ক্রিয়া একত্রিত হয় এবং তাদের প্রত্যেকের পৃথক সংশ্লিষ্ট পদ থাকে, তখন একটি ক্রিয়াকে উহ্য রাখা এবং উহ্য ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট পদটিকে উল্লিখিত পদের ওপর অন্বয় করা বৈধ; পদের দাবি অনুযায়ী, যেন সেটি মূল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে তার অংশীদার হয়—একটি সমজাতীয় বিষয়কে অন্যটির স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে। কারও কারও মতে মহান আল্লাহর এই বাণীটি এর অন্তর্ভুক্ত: "তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পা (ধৌত করো)।"
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
على قراءة الكسر، التقدير عنده واغسلوا أرجلكم؛ لأن الأرجل لا تُمْسَح، فحذف "واغسلوا" لقرب معناه من "وامسحوا" ثم جرّوا (أرجلكم) عطفاً

على (برؤوسكم) حملاً لأحد الفعلين على الاآخر.

وسيأتي الكلام على هذه الآية بأبسط من هذا في باب اللام إن شاء الله تعالى.

ومنه قوله تعالى: (وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ) ، أي: واعتقدوا الإيمان؛ لأن الإيمان لا يُتبَوّأ.

ومنه قوله تعالى على بعض الأقوال: ‌‌(وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ (48) وَرَسُولًا) ، أي: ويجعله رسولاً؛ لأن العلم لا يعمل في

الذات، فلو جعلت الرسولَ بمعنى الرسالة جازَ عطفُه على الكتاب.

ومنه قول الشاعر:

فَعَلَفْتُها تِبناً وماءً بارِداً. . . حتى شَتَتْ همّالةً عيناها
কাসরা (জের) পাঠের রীতি অনুযায়ী, তাঁর নিকট এর অনুমিত বাক্য হলো—"এবং তোমরা তোমাদের পা ধৌত করো"; কেননা পা মাসেহ করা হয় না। সুতরাং "তোমরা ধৌত করো" ক্রিয়াটি উহ্য রাখা হয়েছে, কারণ এর অর্থ "তোমরা মাসেহ করো" ক্রিয়ার কাছাকাছি। অতঃপর (তোমাদের পা) শব্দটিকে সমন্বয় বা আতফ হিসেবে

(তোমাদের মাথা) শব্দের অনুগামী করে মাজরুর (জেরবিশিষ্ট) করা হয়েছে, যা এক ক্রিয়াকে অন্য ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত করার নামান্তর।

এই আয়াতের ব্যাপারে এর চেয়েও বিস্তারিত আলোচনা 'লাম' পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।

এর অন্য একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা এই ঘর ও ঈমানকে ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছে), অর্থাৎ: তারা ঈমান গ্রহণ করেছে; কারণ ঈমানকে তো আর আক্ষরিক অর্থে বসবাসের ঠিকানা বানানো যায় না।

কোনো কোনো অভিমত অনুযায়ী এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: ‌‌(এবং তিনি তাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দেবেন (৪৮) এবং রাসূল হিসেবে পাঠাবেন), অর্থাৎ: এবং তাকে রাসূল বানাবেন; কারণ জ্ঞান সরাসরি কোনো

সত্তার ওপর ক্রিয়াশীল হয় না। তবে যদি 'রাসূল' শব্দটিকে 'রিসালাত' অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে 'কিতাব' শব্দের সাথে এর সমন্বয় করা বৈধ হবে।

জনৈক কবির উক্তিটিও এর অনুরূপ:

অতঃপর আমি তাকে খড় খাইয়েছি এবং (ঠান্ডা পানি পান করিয়েছি)... যতক্ষণ না তার চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত অবস্থায় শীতকাল অতিবাহিত করল।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
أي: وسَقَيْتُها ماء؛ لأن الماء لا يُعلف.

ومنه قول الآخر:

يا ليتَ زوجَك قد غدا. . . مُتَقَلِّداً سَيفاً ورُمحا

أي: وحاملا رمحاً؛ لأنّ الرمح لا يُتَقَلَّد.

ومنه قول امرىء القيس:

غرائرُ في كِنٍّ وصَوْنٍ ونَعمةِ. . . يُحَلَّينَ ياقوتاً وشَذْراً مُفَقَّرا

وريحَ سنا في حُقّةٍ حِميريّةٍ. . . تُخَصّ بمَفروكٍ من المسك أذفرا
অর্থাৎ: এবং আমি তাকে পানি পান করালাম; কারণ পানি চর্বণ করানো যায় না।

এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য এক কবির উক্তি:

হায়! তোমার স্বামী যদি ভোরে বের হতেন... তরবারি ও বর্শায় সজ্জিত হয়ে।

অর্থাৎ: এবং বর্শা বহনকারী হয়ে; কারণ বর্শাকে তরবারির মতো ঝুলিয়ে রাখা যায় না।

এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ইমরুল কায়েসের উক্তি:

অন্তরালে, সুরক্ষায় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পালিত তরুণীরা... যারা ইয়াকুত এবং ছিদ্রযুক্ত স্বর্ণালঙ্কারে সুশোভিত হয়।

এবং হিময়ারি কৌটায় রাখা সুগন্ধি উদ্ভিদের সৌরভ... যা তীব্র সুবাসিত চূর্ণকৃত কস্তুরীর গুণে বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
لأنّ الريح لا يُحَلَّى.

ومنه قول الآخر:

إذا ما الغانياتُ بَرَزْنَ يوما. . . وزَججنَ الحواجبَ والعُيونا

أي: وكَحَّلْنَ العيون؛ لأنَّ العيون لا تُزَجَّج، وإنما يكونُ ذلك في

الحاجب. يقال: زجَّجَتِ المرأةُ حاجبها: أطالَته بالإثمد.

ومنه قول الآخر يصفُ مُسْتَنْبِحا وهو الضيف:

يُعالجُ عِرنيناً من الليلُ باردا. . . تلفُّ رياح ثوبَه وبُروقُ

أي: وتصيبه بروق.
কারণ বাতাসকে অলঙ্কৃত করা যায় না।

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য কবির উক্তি:

যখন সুন্দরী রমণীরা কোনো একদিন আত্মপ্রকাশ করে... এবং তারা তাদের ভ্রু যুগল ও চোখসমূহকে সুশোভিত করে।

অর্থাৎ: এবং তারা চোখগুলোতে সুরমা পরিধান করল; কারণ চোখকে 'তাজজিজ' (চিকন ও দীর্ঘ) করা যায় না, বরং তা কেবল

ভ্রুর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। বলা হয়: নারী তার ভ্রু 'তাজজিজ' করেছে, অর্থাৎ সে ইসমুদ সুরমার দ্বারা তা দীর্ঘ ও সুন্দর করেছে।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো মেহমানের বর্ণনা দিতে গিয়ে অন্য এক কবির উক্তি:

সে রাতের হিমশীতল বাতাসের তীব্রতার মোকাবিলা করছে... প্রবল বাতাস ও বিজলি তার পরিধেয় বস্ত্রকে জাপটে ধরছে।

অর্থাৎ: এবং বিজলি তাকে বিদ্ধ করছে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
ومنه قول الآخر:

فعلا فروعَ الأَيْهُقانِ وأَطْفَلَتْ. . . بالجَلْهَتَين ظِباؤُها ونَعامُها

أي: وباضت نعامُها؛ لأنّ النّعامَ لا تُطفل.

ومنه قول الآخر:

تراه كأنّ اللهَ يَجْدَعُ أنفَه وعَينَيه. . .، إنْ مولاه ثابَ له وَفْرُ

أي: ويفقأ عينيه؛ لأنّ العينَ لا تُجدع.

وعلى هذا حمل بعضُهم قوله:

أَكْنيه حينَ أُناديه لأُكْرِمَه. . . . ولا ألقِّبُه والسوأةَ اللقَبا

أي: ولا ألقّبُه اللَّقَبَ وأسوءه السوأة، ثم حذف أسوءه لدلالة ألقبه

عليه، ثم قدّم مضطرّا، ورأى هذا أولى من تقدُّم المفعول معه.
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য একজনের উক্তি:

“অতঃপর আইহু্বান বৃক্ষের শাখাগুলো উপরে উঠে গেল এবং উপত্যকার দুই তীরে হরিণগুলো শাবক প্রসব করল ও উটপাখিগুলো...”

অর্থাৎ: এবং তার উটপাখিগুলো ডিম পেড়েছে; কারণ উটপাখি সরাসরি শাবক প্রসব করে না।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য একজনের বক্তব্য:

“তুমি তাকে এমন দেখবে যেন আল্লাহ তার নাক এবং তার চোখ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন... যদি তার অভিভাবকের প্রচুর সম্পদ ফিরে আসে।”

অর্থাৎ: এবং তার চোখ উপড়ে ফেলেছেন; কেননা চোখের ক্ষেত্রে 'বিচ্ছিন্ন করা' শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।

আর এর ওপর ভিত্তি করেই কেউ কেউ নিম্নোক্ত পঙক্তিটিকে ব্যাখ্যা করেছেন:

“আমি তাকে সম্মান জানানোর জন্য ডাকার সময় উপনামে (كنية) সম্বোধন করি... আর আমি তাকে মন্দ উপাধি (لقب) এবং কদর্য বিষয়ের সাথে যুক্ত করি না।”

অর্থাৎ: আমি তাকে কোনো মন্দ উপাধিতে ভূষিত করি না এবং তাকে মন্দ ব্যবহারের সম্মুখীন করি না। অতঃপর 'মন্দ ব্যবহারের সম্মুখীন করা' অংশটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, কারণ 'উপাধিতে ভূষিত করা' বিষয়টি এর ওপর ইঙ্গিত প্রদান করে।

অতঃপর ছন্দের প্রয়োজনে একে অগ্রে আনা হয়েছে, এবং তিনি একে 'মাফউল মাআহু'কে অগ্রে নিয়ে আসার চেয়ে উত্তম মনে করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت: وهذا دليل على كثرة هذا الوجه وسَعَته، لأنّهم يرجعون إليه عند

المضايق، ويقدّمونه على غيره في التأويل.

وقد ذهب جماعةٌ من النحويّين إلى أنّ هذا النوعَ وأمثالَه محمو على التَّضمين لا على حذف الفعل.

ومعنى التضمين: أن يُضَمَّنَ الفعلُ معنى فعل آخر يصح أن يعملَ في

المعطوف والمعطوف عليه، فيُضَمَّن (تَبَوَّءوا) : اتَخَذوا، وعَلَفْتُها:

أعطيْتُها، ويُحَلَّين؛ يُعْطَين، وزجَّجْن: حَسَّنَّ، وأطْفَلَت: وَضَعَت.

ويَجْدَع: يُذهب.

والفرق بين التَّضمين وإضمار الفعل؛ أنّ التَّضمينَ يكونُ العطفُ فيه من

باب عطف المفردات، وأن إضمارَ الفعل العطفُ فيه من باب عطف

الجُمَل، والترجيح بين المذهبين مذكور في الكتب المطوّلة.

الخامس من أوجه النصب ما قاله أبو علي، ولم يذكر الزمخشريُّ

غيرَه، وهو أن يكون (وشركاءكم) مفعولاً معه، وإذا كان كذلك

فالمصاحَب يحتمل أن يكون الواو في (فأجمعوا) فتكون (الشركاء) فاعلاً

في المعنى، ويحتمل أن يكون (أمركم) فتكون مفعولاً في المعنى.

والأَولى أن يكون المصاحب الواو، لأن الصحيح عندهم أن المفعول معه
আমি বলি: এটি এই পদ্ধতির আধিক্য ও ব্যাপকতার প্রমাণ, কারণ তারা সংকীর্ণ ক্ষেত্রসমূহের সময় এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন এবং

ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তারা এটিকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেন।

ব্যাকরণবিদদের একটি দল এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এই প্রকার এবং এর অনুরূপ দৃষ্টান্তগুলো শব্দার্থ-অন্তর্ভুক্তি হিসেবে গণ্য হবে, ক্রিয়াপদ বিলোপের ভিত্তিতে নয়।

আর শব্দার্থ-অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো: একটি ক্রিয়াপদকে অন্য একটি ক্রিয়াপদের অর্থ প্রদান করা যা

অনুগামী এবং যার অনুগামী করা হয়েছে—উভয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। ফলে 'তাবাউউ' শব্দে: গ্রহণ করা; এবং 'আলাফতুহা' শব্দে:

'আমি তাকে খাদ্য দিয়েছি'; 'ইউহাল্লাইনা' অর্থ: 'তাদের অলঙ্কৃত করা হবে বা দেওয়া হবে'; 'যাজ্জাজনা' অর্থ: 'তারা সুন্দর করেছে'; এবং 'আতফালাত' অর্থ: 'সে প্রসব করেছে'—এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবং 'ইয়াজদাউ' অর্থ: দূর করে দেওয়া।

শব্দার্থ-অন্তর্ভুক্তি এবং ক্রিয়াপদ উহ্য রাখার মধ্যে পার্থক্য হলো; শব্দার্থ-অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সংযোজন হলো

একক পদের সংযোজনের পর্যায়ভুক্ত, আর ক্রিয়াপদ উহ্য রাখার ক্ষেত্রে সংযোজন হলো বাক্য

সংযোজনের পর্যায়ভুক্ত। এই দুই মতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণের বিষয়টি বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে।

নসব হওয়ার পঞ্চম পদ্ধতি হলো যা আবু আলী বলেছেন, আর যামাখশারী

এটি ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি; তা হলো 'ওয়া শারুকাআকুম' পদটি 'মাফউলু মাহু' হওয়া। আর যদি তাই হয়,

তবে অনুষঙ্গী পদটি 'ফা-আজমইউ' ক্রিয়ার 'ওয়াও' হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, এমতাবস্থায় 'শুরাকা' পদটি কর্তা

হিসেবে গণ্য হবে, আবার তা 'আম্রাকুম' হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে, সেক্ষেত্রে তা অর্থগতভাবে কর্ম হবে।

আর উত্তম হলো অনুষঙ্গী হিসেবে 'ওয়াও'কে গ্রহণ করা, কারণ তাদের নিকট বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, মাফউলু মাহু
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
لا يجوز إلا حيث يجوز العطف، وأنت إذا عطفت (شركاءكم) على

الواو جاز لوجود الفصل، وإن جعلت المصاحب (أمركم) لم يجز العطف

على اللغة المشهورة؛ لأن العطف يقتضي أن يقال: أجمعت، وهو قليل.

وأما قراءة الرفع فقرأ بها أبو عبد الرحمن، والحسن، وابن أبي إسحق، وعيسى بن عمر، ويعقوب. ووجه هذه القراءة أنْ

يكونَ معطوفاً على الضمير في (فأجمعوا) وحَسَّنَه وقوعُ الفصل

بالمفعول.

ويجوز أنْ يكونَ مبتدأً والخبرُ محذوف لدلالة ما تقدّم.
এটি কেবল সেখানেই বৈধ (يجوز) যেখানে সংযোজন (العطف) বৈধ, আর আপনি যদি ‘শুরাকাআকুম’ (شركاءكم) শব্দটিকে

‘ওয়াও’-এর ওপর সংযোজন (العطف) করেন তবে ব্যবধান (الفصل) থাকার কারণে তা বৈধ (جاز) হবে; আর যদি আপনি ‘আমরুকুম’ (أمركم) শব্দটিকে সহগামী (المصاحب) হিসেবে গণ্য করেন তবে সংযোজন (العطف)

প্রসিদ্ধ ভাষা (اللغة المشهورة) অনুযায়ী বৈধ হবে না; কারণ সংযোজন (العطف) দাবি করে যে বলা হবে: ‘আজমাতু’ (أجمعت), যা বিরল (قليل)।

আর পেশযুক্ত পাঠরীতি (قراءة الرفع) অনুযায়ী আবু আব্দুর রহমান, হাসান, ইবনে আবি ইসহাক, ঈসা ইবনে ওমর এবং ইয়াকুব পাঠ করেছেন। এই পাঠরীতির বিশ্লেষণ হলো যে

এটি ‘ফআজমিউ’ (فأجمعوا) ক্রিয়াপদের অন্তর্গত সর্বনামের (الضمير) ওপর সংযোজিত (معطوف) হয়েছে এবং ব্যবধান (الفصل) সৃষ্টি হওয়া

কর্মপদ (المفعول) দ্বারা একে শ্রুতিমধুর করেছে।

এটি মুক্তাদা (مبتدأ) হওয়াও সম্ভব এবং খবর (الخبر) অংশটি উহ্য (محذوف) রয়েছে, যা পূর্ববর্তী আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
والتقدير: وشركاؤكم فليجمعوا أمرَهم.

وأما قراءة الجرّ فقالوا: قرأ بها فرقةٌ ولم يُسَمُّوها.

ووجهُها أنْ يكونَ معطوفا على الضمير في (أمركم) على حذف مضاف، أي: وأمر شركائكم، كقول الشاعر:

أكلَّ امرءٍ تَحْسِبينَ امرءا. . . ونارٍ توقَّدُ بالليلِ نارا

ومنه قولهم: " ما كلُّ بيضاءَ شحمة، ولا سوداءَ تمرة "، أي: وكلّ

نارٍ، ولا كلّ سوداء، فحذف " كلّ " فيهما لدلالة ما تقدّم.

وعلى هذا حَمَلَ البصريون قوله تعالى: (وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ) فيمن نصب (آيات) .
আর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: "তোমাদের শরীকরাও যেন তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।"

আর 'জের' বিশিষ্ট পাঠ (قراءة الجرّ) সম্পর্কে তারা বলেছেন: একদল (فرقة) লোক এই পদ্ধতিতে পাঠ করেছেন কিন্তু তারা তাদের নাম উল্লেখ করেননি।

এর ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা হলো, এটি একটি মুদাফ (مضاف) উহ্য থাকার ভিত্তিতে (أمركم) এর মধ্যকার সর্বনামের সাথে অন্বিত (معطوف) হয়েছে, অর্থাৎ: "তোমাদের শরীকদের বিষয়" (وأمر شركائكم), যেমনটি কবির কবিতায় বলা হয়েছে:

তুমি কি প্রতিটি লোককেই (যোগ্য) পুরুষ মনে করো? এবং (প্রতিটি) আগুন যা রাতে প্রজ্বলিত হয়, তাকেও কি (যুদ্ধের) অগ্নি মনে করো?

এর উদাহরণ হলো আরবদের প্রবাদ বাক্য: "প্রত্যেক সাদা বস্তু চর্বি নয়, আর প্রত্যেক কালো বস্তু খেজুর নয়", অর্থাৎ: এবং প্রতিটি আগুন, এবং প্রতিটি কালো বস্তু; এখানে পূর্ববর্তী শব্দের প্রমাণের কারণে উভয় ক্ষেত্রে 'কুল্লু' (كلّ) শব্দটিকে উহ্য রাখা হয়েছে।

আর এর ওপর ভিত্তি করেই বসরাবাসীরা (البصريون) মহান আল্লাহর বাণী: (وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ) এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাদের কিরাত অনুযায়ী যারা (آيات) শব্দটিকে নসব (نصب) যোগে পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أي: وفي اختلاف، فأضمرت " في " لتقدّم ذكرِها في قوله تعالى: (وَفِى

خلقكم) ، والدليل على هذا قراءة عبد الله: (وفي اختلاف) فصرح

ب (في) المضمرة، فلم يَبْقَ في الآية دليل للأخفش على تجويز العطف

على عاملين. والله أعلم.
অর্থাৎ: এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে; এখানে "ফি" অব্যয়টি উহ্য (مضمر) রাখা হয়েছে, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমাদের

সৃষ্টিতে" অংশে এটি ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে। এর স্বপক্ষে দলিল (دليل) হলো আবদুল্লাহর ক্বিরাআত (قراءة): "এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে", যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন

উহ্য (مضمر) থাকা "ফি" অব্যয়টিকে। ফলে এই আয়াতে আল-আখফাশের জন্য দুটি আমেলের (عامل) ওপর আতফ (عطف)

করার বৈধতা (تجويز) সম্পর্কে কোনো দলিল (دليل) অবশিষ্ট থাকল না। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن ذلك قوله تعالى في سورة " فصّلت ": ‌‌(سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ)

قرئ بالنصب والجرّ والرفع:

وأما النصب فقرأ به القرّاء السبعة، ووجهُها أن يكون (سَوَاءً) بمعنى

استواء، فيكون مصدراً بفعل مقدّر: أي استوت استواء، أو يكون حالاً:

إمّا من (الأرض) ، أو من الضمير في (فيها) ، أو من (أقواتها) ، ويمكن أن

يكون حالاً من (أربعة) ، وجاءت الحال من النكرة لأنها قد خُصّصت

بالإضافة، والإضافة من المُخَصِّصات - قاله ابن مالك، وهو إعراب

حسن.

وأما الرفع فقرأ به أبو جعفر، ووجهُها أن يكونَ خبرَ ابتداء محذوف.

أي: هي سواء.
এর মধ্যে একটি হলো সূরা "ফুসসিলাত"-এ মহান আল্লাহর বাণী: (সাওয়ায়াল লিস-সা-ইলীন)

এটি নসব, জর এবং রফ — এই তিন পদ্ধতিতেই পঠিত হয়েছে:

আর নসব এর ক্ষেত্রে সাতজন ক্বারী পাঠ করেছেন। এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো (সাওয়ায়ান) শব্দটি

'ইস্তিওয়া' অর্থে ব্যবহৃত হওয়া; সেক্ষেত্রে এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে মাসদার হিসেবে গণ্য হবে: অর্থাৎ 'ইস্তাওয়াত ইস্তিওয়াআ'। অথবা এটি হাল হিসেবেও হতে পারে:

হয় (পৃথিবী) থেকে, অথবা (ফিহা)-এর মধ্যস্থিত সর্বনাম থেকে, অথবা (তার খাদ্যদ্রব্যসমূহ) থেকে। আবার এটি

(চার) থেকে হাল হওয়াও সম্ভব। এখানে হাল শব্দটি নাকেরা হওয়া সত্ত্বেও তা বৈধ হয়েছে কারণ একে

ইদাফাতের মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়েছে; আর ইদাফাত হলো বিশিষ্টকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত — এটি ইবনে মালিকের উক্তি এবং এটি একটি বিশ্লেষণ

উত্তম (حسن)।

আর রফ-এর ক্ষেত্রে আবু জাফর পাঠ করেছেন; এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো এটি একটি উহ্য মুবতাদা বা প্রারম্ভিক পদের খবর হওয়া।

অর্থাৎ: হিয়া সাওয়ায়ুন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما قراءة الجرّ فقرأ بها زيد بن علي، والحسن، وابن أبي إسحق.

وعمرو بن عُبيد، وعيسى، ويعقوب. ووجهها أن تكون نعتاً ل (أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ) ..

تتميم:

قوله تعالى: (لِلسَّائِلِينَ) يَحتملُ أنْ يتعلَّقَ بقوله تعالى: (قَدَّرَ) أي

قدّر فيها أقواتها لأجل الطالبين لها المُحتاجين المُقتاتين.

ويَحتملُ أنْ يتعلَّقَ بمحذوف: أي هذا الحصر لأجل من سأل: في كم خُلقت الأرضُ وما فيها؛ ذكرهما الزمخشري.

واعلم أن (سواء) اختصّت بحكم: وهو أنّها لا ترفعُ الظاهرَ في الأكثر.

بل ترفعُ الضمير، إلا إذا كان الظاهرُ معطوفاً على الضمير فيرفعه، تقول:

مررت برجلٍ سواءٍ هو والعَدَم، فالعَدَم معطوف على الضمير المستتر في

(سواء) المؤكّد بـ " هو " الظاهر، وهذا ممّا يجوز في المعطوف ما لا يجوز

في المعطوف عليه، وقد تقدّمت نظائره.

ومن العرب من يرفع بـ سواء

الظاهر، وليس بالكثير.
আর যেরের কিরাআত (قراءة الجرّ) প্রসঙ্গে কথা হলো, এটি পাঠ করেছেন যায়েদ ইবনে আলী, হাসান এবং ইবনে আবি ইসহাক।

এবং আমর ইবনে উবাইদ, ঈসা ও ইয়াকুব। এর কারণ হলো এটি (أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ) এর বিশেষণ (نعتاً) হিসেবে গণ্য হওয়া।

পরিশিষ্ট (تتميم):

মহান আল্লাহর বাণী: (لِلسَّائِلِينَ) - এটি মহান আল্লাহর বাণী (قَدَّرَ) এর সাথে সংশ্লিষ্ট (يتعلق) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অর্থাৎ-

তিনি এতে এর খাদ্যসামগ্রী নির্ধারণ করেছেন অন্বেষণকারী, অভাবী ও জীবিকা গ্রহণকারীদের জন্য।

আর এটি একটি উহ্য (محذوف) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে: অর্থাৎ, এই ব্যাপ্তিকাল সেই ব্যক্তির জন্য যে প্রশ্ন করেছে: পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কত দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে; যামাখশারী এ দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন।

জেনে রাখুন যে, 'সাওয়া' (سواء) শব্দটি একটি বিশেষ বিধানের (حكم) সাথে সুনির্দিষ্ট: আর তা হলো, এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকাশ্য বিশেষ্যকে (الظاهر) রফ’ বা পেশ প্রদান করে না।

বরং এটি সর্বনামকে (الضمير) রফ’ প্রদান করে, তবে যদি প্রকাশ্য বিশেষ্যটি সর্বনামের ওপর সংযোজিত (معطوف) হয়, তবে সেটিকে রফ’ প্রদান করে। আপনি বলবেন:

‘মারারতু বি-রাজুলিন সাওয়ায়িন হুয়া ওয়াল আদাম’ (আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান)। এখানে ‘আল-আদাম’ শব্দটি সেই উহ্য সর্বনামের (الضمير المستتر) ওপর সংযোজিত হয়েছে যা-

(سواء) এর মধ্যে রয়েছে এবং যা প্রকাশ্য ‘হুয়া’ (هو) দ্বারা তাকিদ বা গুরুত্বারোপ (المؤكّد) করা হয়েছে। আর এটি এমন একটি বিষয় যা সংযোজিত পদের (المعطوف) ক্ষেত্রে বৈধ, যা-

যার ওপর সংযোজন করা হয়েছে (المعطوف عليه) তার ক্ষেত্রে বৈধ নয়। এর সদৃশ উদাহরণগুলো পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর আরবদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা 'সাওয়া' (سواء) এর মাধ্যমে-

প্রকাশ্য বিশেষ্যকে (الظاهر) রফ’ প্রদান করে থাকেন, তবে তা সংখ্যায় অধিক নয়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌حرف الباء

فمن ذلك قوله تعالى في سورة " الفاتحة ": ‌‌(رَبِّ الْعَالَمِينَ)

قُرِىء بخَفض الباء ونصبها ورفعها:

فأمّا قراءة الخَفض فقرأ بها السبعة، ووجهها ظاهر: وهو إما يكون نعتاً

للجلالة أو بدلاً.

وأمّا قراءة النصب فقرأ بها زيدُ بن على وطائفة، وفي توجيه هذه

القراءة تفصيل: وهو أن يقال: لا يخلو الذي قرأ بنصب (رَبِّ) أن

ينصب (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) وقد قُرىء بذلك، أو يجرّهما.

فإن كان قرأ بنصبهما فلا إشكال؛ لأنه نصبَ الجميعَ على القطع، أي: أعني ربَّ العالمين الرحمنَ الرحيمَ.

وإن كان قرأ بجرّهما ففيه إشكالٌ من جهة أنّهم قالوا: لا يجوزُ في الصفات الإتباعُ بعد القطع؛ لأنه يلزمُ منه الرجوعُ بعد الانصراف.

وقد قال الشاعر:

إذا انصرفَتْ نفسي عن الشيء لم تَكَدْ. . . إليه بوجهٍ آخرَ الدهرِ تَرْجِعُ
বা (ب) বর্ণ

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা "আল-ফাতিহা"-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: (রব্বিল আলামীন)

এটি 'বা' বর্ণটিতে নিম্নস্বর (خفض), জবর (نصب) এবং পেশ (رفع) সহকারে পঠিত হয়েছে:

নিম্নস্বর (خفض)-এর পঠনরীতির ক্ষেত্রে সাতজন ক্বারীই এভাবে পাঠ করেছেন এবং এর কারণ সুস্পষ্ট: এটি মহান আল্লাহর নামের বিশেষণ (نعت) অথবা স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

আর জবর (نصب)-এর পঠনরীতির ক্ষেত্রে যায়দ ইবনে আলী এবং একটি দল এভাবে পাঠ করেছেন। এই পঠনরীতির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে: তা হলো, যিনি (রব্বি) শব্দটিকে জবর (نصب) দিয়ে পাঠ করেছেন, তিনি (আর-রাহমানির রাহীম)-কেও জবর (نصب) দিয়ে পড়বেন—এবং এভাবেও পাঠ করা হয়েছে—অথবা এই দুইটিকে নিম্নস্বর (جر) দিয়ে পড়বেন।

যদি তিনি উভয়টিকে জবর (نصب) দিয়ে পাঠ করেন, তবে কোনো জটিলতা নেই; কারণ তিনি বিচ্ছেদ (قطع)-এর ভিত্তিতে সবগুলোকে জবর (نصب) দিয়েছেন। অর্থাৎ: 'আমি উদ্দেশ্য করছি জগতসমূহের প্রতিপালক, পরম করুণাময়, অতি দয়ালুকে'।

আর যদি তিনি এই দুইটিকে নিম্নস্বর (جر) দিয়ে পাঠ করেন, তবে সেক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। কারণ ব্যাকরণবিদগণ বলেছেন: বিশেষণের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ (قطع) করার পর পুনরায় অনুগমন (إتباع) করা বৈধ নয়; কারণ এর ফলে বিমুখ হওয়ার পর পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

যেমনটি কবি বলেছেন:

যখন আমার মন কোনো বিষয় থেকে বিমুখ হয়, তখন মহাকালের শেষ অবধি তা আর কোনোভাবেই সেদিকে ফিরে আসে না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذه القراءة يلزم منها الإتباع بعد القطع، لأنّه قَطَعَ (رَبِّ الْعَالَمِينَ) ؛ عن الإتباع، ثم أتبع (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) .

وتوجيه هذه القراءة ولا يلزم منه الإتباع بعد القطع: أن يكون (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) بدلاً لا نعتاً، لا سيّما على مذهب "الأعلم" الذي يرى أنّ (الرحمن) لا يكون صفة.

ومنهم: من نصب (رَبِّ الْعَالَمِينَ) على النداء وهو ضعيف.

ومنهم: من نصبه بفعل على أنه توهّم أنّ مكان (الحمد لله) : نَحْمَدُ

الله ربَّ العالمين، فأجراه على ما يَصلُحُ في المَوضع، وهو ضعيف جدّاً "

لأنّ مراعاةَ التَّوَهُمِ لا تجوز إلا في العطف، نحو قولك: ليس زيد بقائم

ولا قاعداً، بنصب " قاعد" على توهّم حذف الباء.

قال الشاعر:

مُعاوِيَ، إنّنا بَشَرٌ فَأَسْجِحْ. . . فَلَسْنا بالجبالِ ولا الحديدا
এই পঠনরীতির ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর অনুগমন করা আবশ্যক হয়, কারণ তিনি ‘রব্বিল আলামিন’ অংশটিকে অনুগমন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন, অতঃপর ‘আর-রাহমানির রাহিম’ অংশটিকে অনুগামী করেছেন।

এই পঠনরীতির ব্যাখ্যা—যেখানে বিচ্ছেদের পর অনুগমন করা আবশ্যক হয় না—তা হলো: ‘আর-রাහমানির রাহিম’ শব্দটি বদল (বিকল্প) হিসেবে গণ্য হবে, না’ত (বিশেষণ) হিসেবে নয়; বিশেষত ‘আল-আলাম’-এর মাযহাব অনুযায়ী, যিনি মনে করেন যে ‘আর-রাহমান’ শব্দটি বিশেষণ হতে পারে না।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘রব্বিল আলামিন’ অংশটিকে সম্বোধন হিসেবে নসব (জবর) প্রদান করেছেন, আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) মত।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ক্রিয়ার মাধ্যমে নসব দিয়েছেন এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’-এর স্থলে ‘নাহমাদুল্লাহ রব্বাল আলামিন’ হবে। ফলে তিনি সেই স্থানে যা সঙ্গতিপূর্ণ তা প্রয়োগ করেছেন; তবে এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।

কেননা ভ্রান্ত ধারণার (তাওয়াহহুম) বিবেচনা কেবল সংযোজক অব্যয়ের (আতিফ) ক্ষেত্রেই বৈধ, যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ দণ্ডায়মান নয় এবং উপবিষ্টও নয়’; এখানে ‘বা’ হরফটি বিলুপ্ত হওয়ার ধারণা করে ‘উপবিষ্ট’ শব্দে নসব প্রদান করা হয়েছে।

কবি বলেছেন:

হে মুয়াবিয়া! আমরা তো মানুষ, তাই আমাদের প্রতি সদয় ও সহজ আচরণ করুন... কেননা আমরা তো পাহাড় নই এবং লোহাও নই।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
فعطف " ولا الحديد " على توهّم حذف الباء من " الجبال "، أي: فلسنا

جبالاً ولا حديداً.

هذا كلّه على من يمنعُ الإتباعَ بعد القطع، وهو الكثير.

وأما من جوّزه فلا إشكال في ذلك.

وأما قراءة الرفع فذكرها أبو البقاء في " إعرابه " ولم يُسْنِدْها، وفي

وجه هذه القراءة تفصيل أيضاً: وهو أن يقال: لا يخلو الذي يقرأ بالرفع أن

يرفعَ (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) وقد قرىء بذلك، أو يجرّهما، فإن كان قرأ

برفعهما فلا إشكال، لأنّه رفع الجميع على القطع، أي: هو ربُّ العالمين

الرحمنُ الرحيمُ.

وإن كان قرأ بجرّهما ففيه إشكال من جهة الإتباع بعد القطع، ووجه ذلك أن يكون (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) بدلاً كما تقدّم.

تتميم:

" الربّ " مصدر في الأصل، من قولك: رَبَّ يرُبُّ ربّاً: إذا أصلح، ثم

وصف به كعَدل ورِضاً، فوزنه على هذا " فَعْل "، وقيل: هو اسم فاعل وأصله راب، وحذفت ألفه كما قالوا: رجل بارّ وبَرّ، فوزنه على هذا " فاعل ".
সুতরাং "ولا الحديد" (এবং লোহাও নয়) অংশটিকে "الجبال" (পাহাড়সমূহ) থেকে 'বা' অব্যয়টি উহ্য আছে বলে ধরে নিয়ে তার ওপর সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ: আমরা পাহাড়ও নই এবং লোহাও নই।

এ সবকিছুই সেই মতানুসারে যারা বিচ্ছেদ (القطع)-এর পর অনুগমন (الإتباع)-কে নিষেধ করেন, আর এটিই অধিকাংশের মত।

পক্ষান্তরে যারা একে বৈধ বলেছেন, তাদের মতে এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

আর পেশ (الرفع) যোগে পাঠ করার বিষয়টি আবু আল-বাকা তাঁর "ইরাব" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এর কোনো সনদ উল্লেখ করেননি (لم يسندها)। এই পাঠরীতির প্রেক্ষিত সম্পর্কেও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে:

আর তা হলো এই যে, যিনি পেশ (الرفع) দিয়ে পড়েন, তিনি হয়তো "আর-রাহমানির রাহিম" শব্দদ্বয়কেও পেশ দিয়ে পড়েন—এবং সেভাবেও পাঠ করা হয়েছে—অথবা তিনি এ দুটিকে জের (الجر) দিয়ে পড়েন। যদি তিনি উভয়টিকে পেশ দিয়ে পড়েন, তবে কোনো সমস্যা নেই; কারণ তিনি বিচ্ছেদ (القطع)-এর ভিত্তিতে সবগুলোকে পেশ করেছেন। অর্থাৎ: "তিনি বিশ্বজগতের রব, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।"

আর যদি তিনি এ দুটিকে জের দিয়ে পড়েন, তবে বিচ্ছেদ (القطع)-এর পর অনুগমন (الإتباع)-এর দিক থেকে এতে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো "আর-রাহমানির রাহিম" শব্দদ্বয় বদল (بدل) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

পরিশিষ্ট (تتميم):

"আর-রব" শব্দটি মূলত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر); যা "রাব্বা-ইয়ারুব্বু-রাব্বান" থেকে উদ্ভূত: যখন কোনো কিছু সংশোধন করা হয়। পরবর্তীতে 'আদল' ও 'রিদা' শব্দের ন্যায় এটি দিয়ে গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। এই হিসেবে এর ওযন বা ছন্দ হলো "ফাল" (فَعْل)। আবার বলা হয়েছে যে, এটি কর্তা (اسم فاعل), যার মূল রূপ ছিল "রা-বিউন", কিন্তু এর আলিফটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেমনটি আরবরা "বাররুন" এবং "বাররুন" বলে থাকে। সুতরাং এই মতানুসারে এর ওযন হলো "ফায়িল" (فاعل)।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
والربّ في اللغة: السَّيَد، والمالك، والمعبود، والثابت، والمُصلح.

والخالق، وزاد بعضهم: الصاحب، واستدلّ على ذلك بقوله:

فدنا له ربُّ الكلابِ، بكَفه. . . بِيض رِهادفٌ، ريشُهن مُقَزَّع

ولا دليل في البيت.

وكلّها تصلح في الآية إلاّ الثابت والصاحب، وفي السيّد خلاف.

و (الْعَالَمِينَ) فيه شذوذ من وجهين:

أحدهما: أنّه اسم جَمع كالأنام، وأسماء الجموع لا تجمع.

الثاني: أنّه جُمع بالواو والنون، ولم يَستوفِ الشروط.

قال شيخ الجماعة أبو حيَّان: والذي أختاره: أنْ يُطْلَقَ على المُكَلَّفين.

لقوله تعالى: (إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْعَالَمِينَ) .

وقراءة حَفص (للعالِمين) بكسر اللام توضّحه، ولم يقرأ حفص بكسر اللام في
অভিধানে 'রব' বলতে বুঝায়: প্রভু, মালিক, উপাস্য, অপরিবর্তনীয় এবং সংশোধনকারী।

এবং স্রষ্টা। কেউ কেউ এতে 'সাথী' (الصاحب) শব্দটিও যোগ করেছেন এবং এর স্বপক্ষে এই পঙক্তিটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন:

"অতঃপর তার নিকট কুকুরের মালিক এগিয়ে আসলো, তার হাতে ছিল উজ্জ্বল চওড়া ফলাযুক্ত তির, যার পালকগুলো ছিল অসম বিন্যাসযুক্ত।"

তবে এই কাব্যপঙক্তিতে কোনো দলিল নেই।

আয়াতের ক্ষেত্রে 'অপরিবর্তনীয়' এবং 'সাথী' ব্যতীত বাকি সবকটি অর্থই প্রযোজ্য হতে পারে; তবে 'প্রভু' (السيد) শব্দের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে।

এবং (আল-আলামীন) শব্দটিতে দুই দিক থেকে ব্যতিক্রমতা (شذوذ) রয়েছে:

প্রথমত: এটি 'আনাম'-এর মতো একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, আর সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের বহুবচন হয় না।

দ্বিতীয়ত: এটি 'ওয়াও' এবং 'নূন' যোগে বহুবচন করা হয়েছে, অথচ এটি (বহুবচন হওয়ার) শর্তসমূহ পূর্ণ করেনি।

শায়খুল জামাআহ আবু হাইয়ান বলেছেন: "আমি যে মতটি গ্রহণ করেছি তা হলো—এটি শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য (المكلفين) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে।"

আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (নিশ্চয়ই এর মাঝে জগতবাসীর জন্য নিদর্শন রয়েছে)।

হাফসের ক্বিরাআতে 'লাম' অক্ষরে কাসরা বা যের দিয়ে পাঠ করা বিষয়টি একে আরও স্পষ্ট করে দেয়, যদিও হাফস অন্য কোথাও 'লাম' অক্ষরে যের দিয়ে পাঠ করেননি...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
(العالِمين) إلاّ في " الروم ".

***

ومن ذلك قوله تعالى في سورة " الأنعام ": ‌‌(وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ (23) قرىء بنصب الباء وخفضها ورفعها:

فأما قراءة النصب فقرأ بها حمزة والكسائي، ووجهها أن يكون

منصوباً على النداء، أو بإضمار أمدح، قاله ابن عطيّة، أو بإضمار أعني.

قاله أبو البقاء. وكل واحد منهما قريب من الآخر، فتكون جملةً مُعْتَرَضاً

بها بين القسم الذي هو (والله) وبين جوابه الذي هو (مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ) .

وأما قراءة الخفض فقرأ بها باقي السبعة، ووجهها أن يكون نعتاً (لله)

وقيل: يجوز أن يكون بدلاً، وقيل: يجوز أن يكون عطف بيان.

وأما قراءة الرفع فقرأ بها عِكرمة، وسلام بن مسكين) ، مع رفع الجلالة،
(আল-আলামীন) কেবল "রূম" সূরা ব্যতীত।

***

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা "আনআম"-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: (وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ (২৩)) এখানে 'বা' (ب) বর্ণটি নসব (نصب), খফদ (خفض) এবং রফ (رفع) সহকারে পঠিত হয়েছে:

নসবের (نصب) কিরাআতটি হামজাহ এবং আল-কিসায়ি পাঠ করেছেন; এর ব্যাকরণিক কারণ হলো এটি নিদা (نداء - সম্বোধন) হিসেবে নসব (منصوب) হয়েছে,

অথবা 'আমি প্রশংসা করি' (أمدح) - এর ন্যায় একটি ক্রিয়া উহ্য থাকার কারণে; এটি ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন। অথবা 'আমি উদ্দেশ্য করছি' (أعني) ক্রিয়াটি উহ্য থাকার কারণেও হতে পারে।

এটি আবু আল-বাকা বলেছেন। এই অভিমতগুলোর প্রতিটি একে অপরের নিকটবর্তী। ফলে এটি শপথ (قسم), যা হলো (والله), এবং এর জবাব (جواب), যা হলো (مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ)-এর মাঝে একটি জুমলা মু'তারিদা (جملة معترضة - মধ্যবর্তী বাক্য) হিসেবে গণ্য হবে।

আর খফদ (خفض) সহকারে কিরাআতটি সাতজন কিরাআতের ইমামের অবশিষ্টরা পাঠ করেছেন; এর ব্যাখ্যা হলো এটি 'আল্লাহ' শব্দের সিফাত বা বিশেষণ (نعت) হয়েছে।

বলা হয়েছে যে: এটি বদল (بدل) হওয়া জায়েজ, আবার বলা হয়েছে যে: এটি আতফে বায়ান (عطف بيان) হওয়া জায়েজ।

আর রফ (رفع) সহকারে কিরাআতটি ইকরিমাহ এবং সালাম ইবনে মিসকিন পাঠ করেছেন, যাতে জাজালাল্লাহ বা আল্লাহ (الجلالة) শব্দটিও রফ (رفع) সহকারে পঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
ووجهها أن يكون الجلالة مبتدأ، و (رَبِّنَا) خبر، ويكون الكلام مبنيّاً على

التقديم والتأخير، أي: ما كنا مشركين واللهُ ربُّنا، وتكون الواو واو الحال.

ثم قدّمت الجملة الحالية. والجملة بأسرها من قوله تعالى: (وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ) في موضع نصب مفعول القول.

‌‌تتميم:

في الصحيح " أن رجلاً أتى ابنَ عبّاس رضي الله عنهما فقال: سمعتُ

الله يقول: (وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ) . وفي أُخرى: (وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا) ، فقال ابن عبّاس: لما رأوا أن الجنّةَ لا يَدْخُلُها إلا مؤمن قالوا: تعالَوا فلْنَجْحَدْ وقالوا: ما كُنا مشركين، فختم الله على أفواههم، وتكلّمت جوارحهم، فلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا.

ومن ذلك قوله تعالى في سورة "والصّافّات ": ‌‌(بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ)

قُرىء بخفض الباء من (الكواكب) ونصبها ورفعها:
এর বিশ্লেষণ হলো ‘আল্লাহ’ (الجلالة) শব্দটি মুবতাদা এবং ‘রাব্বুনা’ শব্দটি খবর হবে। বাক্যটি মূলত পদের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাসের

(تقديم وتأخير) ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ: আমরা মুশরিক ছিলাম না অথচ আল্লাহ আমাদের রব; এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি হাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

অতঃপর ‘হাল’ সম্বলিত বাক্যটি আগে আনা হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: (আমাদের রব আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না)—এই সম্পূর্ণ বাক্যটি ‘মাফউলুল কউল’ হিসেবে নসব (نصب) এর স্থলে রয়েছে।

‌‌পরিশিষ্ট:

সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এসে বললেন: আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: (আমাদের রব আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না)। আবার অন্য আয়াতে আছে: (এবং তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না)। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: তারা যখন দেখল যে মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, তখন তারা বলল: ‘এসো আমরা (আমাদের শিরক) অস্বীকার করি।’ তারা বলল: ‘আমরা মুশরিক ছিলাম না।’ তখন আল্লাহ তাদের মুখে মোহর মেরে দিলেন এবং তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কথা বলতে শুরু করল, ফলে তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথাই গোপন করতে পারল না।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আস-সাফফাত-এ মহান আল্লাহর বাণী: ‌‌(নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্য দ্বারা)

(আল-কাওয়াকিবি) শব্দের ‘বা’ বর্ণটিতে জের (خفض), জবর (نصب) এবং পেশ (رفع) সহকারে পাঠ করা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
أما قراءة الخفض فقرأ بها السبعة غير أبي بكر - أحد راويَي عاصم

إلاّ أن حمزة وحَفصاً - أحد راويَ عاصم نوّنا (زينة) والباقون لم يُنَوّنوا.

أمّا من نوّن (زينة) فالكواكب بدل منها. وأما من لم ينوّن فالكواكب

مضاف إليه.

و (الزينة) حينئذٍ لا تخلو أن يراد بها المصدر كاللينة، أو الاسم كاللِّيقة اسم لما يلاق بها الدواة، فإن أُريد بها المصدر فتحتمل أن تكون من إضافة المصدر إلى الفاعل، كقوله تعالى: (وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ) ، ويكون التقدير: أنْ زيّنت السماء الكواكب.

ويحتمل أن يكون من إضافة المصدر إلى المفعول كقوله تعالى: (بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ) ، ويكون التقدير: أن زيّن الله الكواكب. وإن أُريد بالزينة

الاسم، فالإضافة من إضافة الخاصّ إلى العام، كخاتم حديد، وباب

ساج.
জেরের (الخفض) পঠনশৈলীর ব্যাপারে বলা যায় যে, আসিমের অন্যতম দুই বর্ণনাকারীর (راوي) একজন আবু বকর ব্যতীত সাবআ’ বা সাতজন ক্বারী এই পঠনশৈলী অনুযায়ী পাঠ করেছেন।

তবে হামজাহ এবং আসিমের অন্যতম বর্ণনাকারী (راوي) হাফস (زينة) শব্দটিতে তানউইন প্রদান করেছেন, আর অবশিষ্টগণ তানউইন দেননি।

যারা (زينة) শব্দটিতে তানউইন প্রদান করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে 'আল-কাওয়াকিব' শব্দটি এর বদল (بدل) হিসেবে গণ্য। আর যারা তানউইন দেননি, তাদের ক্ষেত্রে 'আল-কাওয়াকিব' শব্দটি

মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে বিবেচিত।

সেই অবস্থায় (الزينة) শব্দটি হয় 'লীনাহ' এর ন্যায় ক্রিয়ামূল (المصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে মুক্ত নয়, অথবা 'লীকাহ' এর ন্যায় বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে—যা দোয়াতের কালির সাথে সংশ্লিষ্ট বস্তুর নাম। যদি এটি ক্রিয়ামূল (المصدر) হিসেবে উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি ক্রিয়ামূলকে (المصدر) কর্তার (الفاعل) দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ), এবং এর সম্ভাব্য অর্থ হবে: আসমান নক্ষত্ররাজিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে।

আবার এটি ক্রিয়ামূলকে (المصدر) কর্মের (المفعول) দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ), এবং এর সম্ভাব্য অর্থ হবে: আল্লাহ নক্ষত্ররাজিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। আর যদি 'যীনাহ' দ্বারা

বিশেষ্য (اسم) উদ্দেশ্য হয়, তবে এই সম্বন্ধ (إضافة) হবে সাধারণের প্রতি বিশেষের সম্বন্ধের (إضافة) ন্যায়, যেমন: লোহার আংটি বা সেগুন কাঠের দরজা।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما قراءة النصب فقرأ بها أبو بكر - أحد راويَي عاصم، وابنُ وَثّاب.

ومسروق بخلاف عنهما، والأعمش، وطلحة، وذلك مع تنوين (زينة) .

ووجه هذه القراءة أن يكون نصب (الكواكب) بالمصدر المنوّن) ، كقوله تعالى: (أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ) ، ف (يتيم)

منصوب بـ (إِطْعَامٌ) .

وكقول الشاعر:

فلولا رَجاءُ النصرِ منكَ ورهبةٌ. . . عقابَك، قد كانوا لنا كالمواردِ

 

ف " عقابك " منصوب بـ " رهبة ".

وقال الآخر:
পক্ষান্তরে নাসব পঠনরীতিতে আসিমের দুই বর্ণনাকারী (راوي)-এর একজন আবু বকর এবং ইবনে ওয়াসসাব পাঠ করেছেন।

আর তাদের উভয়ের থেকে ভিন্ন বর্ণনায় মাসরুক, আমাশ এবং তালহা এটি পাঠ করেছেন, আর তা (যিনাত) শব্দের তানউইনসহ।

এই পঠনরীতির ব্যাকরণগত ভিত্তি হলো (আল-কাওয়াকিব) শব্দটি তানউইনযুক্ত মাসদারের কারণে নাসব হওয়া, যেমন মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: (অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান করা), এমতাবস্থায় (ইয়াতীম)

(ইতয়াম) শব্দটির দ্বারা নাসব হয়েছে।

যেমন কবির উক্তি:

যদি আপনার পক্ষ থেকে সাহায্যের আশা এবং আপনার শাস্তির ভয় না থাকত, তবে তারা আমাদের জন্য সুপেয় পানির প্রস্রবণের মতো হতো।

 

এখানে "উক্বাবাকা" শব্দটি "রাহবাতুন" দ্বারা নাসব হয়েছে।

অন্য একজন কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
بضرب بالسيوفِ رؤوسَ قومِ. . . أزلْنا هامَهُنَّ عن المَقيلِ

ف " رؤوس " منصوب بـ " ضرب ".

قلت: وهل في هذا المصدر المنوّن الناصب للمفعول فاعلٌ أم لا؛

اختلف النحويّون في ذلك على خمسة مذاهب:

الأول: وعليه الجمهور: أن الفاعل محذوف.

فإن قيل: الفاعل لا يحذف.

قيل: ذلك في الفعل لا في المصدر.

الثاني: وعليه الكوفيون: أن الفاعل مضمر.

الثالث: مذهب أبي القاسم بن الأبرش من نحاة الأندلس: أنّ

الفاعل منويّ إلى جنب المصدر، فقال في قوله تعالى: (أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ) ، التقدير: أو إطعامُ إنسانٍ.

قال: ودلّ عليه ذكره الإنسانَ قبله.

وهذا لا يطَرِدُ له، ألا ترى أنك تقول: عجبت من ركوبٍ

الفَرَسَ، وليس هنا شيء متقدم يدل على الفاعل كما في الآية.
তলোয়ারের আঘাতে এক সম্প্রদায়ের মস্তকসমূহ... আমরা তাদের মাথাগুলোকে বিশ্রামস্থল (স্কন্ধ) হতে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।

সুতরাং "রউস" (রউস) শব্দটি "যারব" (আঘাত) দ্বারা নাসব প্রাপ্ত (منصوب)।

আমি বলছি: এই তানউইনযুক্ত মাসদার (المصدر المنوّن), যা মাফউলকে (المفعول) নাসব প্রদান করেছে, তার কি কোনো ফায়েল (فاعل) বা কর্তা আছে কি নেই?

ব্যাকরণবিদগণ (النحويّون) এ বিষয়ে পাঁচটি মাযহাব বা মতভেদে (مذاهب) বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথমত: এবং এর ওপরই জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ উলামার মত: ফায়েল (فاعل) বা কর্তাটি এখানে উহ্য (محذوف)।

যদি প্রশ্ন করা হয়: ফায়েল (فاعل) তো উহ্য (محذوف) হয় না।

উত্তরে বলা হয়: সেটি ফেল বা ক্রিয়ার (الفعل) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, মাসদারের (المصدر) ক্ষেত্রে নয়।

দ্বিতীয়ত: এবং এর ওপর কুফাবাসীদের (الكوفيون) মত: ফায়েল (فاعل) বা কর্তাটি প্রচ্ছন্ন (مضمر)।

তৃতীয়ত: আন্দালুসের ব্যাকরণবিদ আবুল কাসিম ইবনুল আবরাশের মাযহাব (مذهب) হলো:

ফায়েল (فاعل) মাসদারের (المصدر) পার্শ্বেই মনে মনে সংকল্পিত থাকে। মহান আল্লাহর বাণী: "অথবা অন্নদান করা দুর্ভিক্ষের দিনে" সম্পর্কে তিনি বলেন, এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "অথবা কোনো মানুষের অন্নদান করা"।

তিনি বলেন: এর পূর্বেই "মানুষ" শব্দের উল্লেখ থাকা ফায়েল (فاعل) বা কর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।

তবে এটি সর্বদা প্রযোজ্য (يطرد) নয়; আপনি কি দেখেন না যখন আপনি বলেন: "আমি ঘোড়ায় আরোহণে বিস্মিত হয়েছি", তখন এখানে ফায়েল (فاعل) বা কর্তার দিকে নির্দেশ করার মতো পূর্ববর্তী কোনো বিষয় নেই, যেমনটি আয়াতে বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الرابع: مذهب السيرافي: أن المصدر ليس فيه فاعل، لا محذوف

ولا مضمر، والمنصوب بعده كدرهم بعد عشرين، وهو مذهب مردود.

الخامس: مذهب الفرّاء: أن المصدر لا يجوز أن يُلْفَظَ بالفاعل

بعده، قال لأنه لم يُسمع في لسان العرب. فإن قلتَ قد سُمعَ في قول

الشاعر:

حَرْب تَرَدَّدُ بينهم بتشاجُرٍ. . . قد كفَّرَتْ آباؤها أبناؤها

ألا ترى أن " أبناؤها " فاعل بـ " تشاجر ".

فالجواب أنَّ هذا البيتَ
চতুর্থ: সিরাফীর অভিমত হলো, ক্রিয়ামূলের (مصدر) মধ্যে কোনো কর্তা (فاعل) নেই, তা উহ্য (محذوف)

কিংবা প্রচ্ছন্ন (مضمر) কোনোটিই নয়। আর এর পরবর্তী নসবপ্রাপ্ত (منصوب) পদটি হলো বিংশতির পরে দিরহামের ন্যায়, তবে এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) মতবাদ।

পঞ্চম: আল-ফাররা-এর মতবাদ হলো, ক্রিয়ামূলের (مصدر) পরে কর্তাকে (فاعل) উচ্চারণ করা বৈধ নয়।

তিনি বলেন, কারণ এটি আরবদের ভাষাশৈলীতে শ্রুত নয়। আপনি যদি বলেন যে, কবির এই উক্তিতে তা শোনা গেছে:

কবি:

তাদের মাঝে বিবাদের (تشاجر) মাধ্যমে যুদ্ধ আবর্তিত হয়... তাদের পিতারা সন্তানদের কাফের বানিয়ে দিয়েছে।

আপনি কি দেখছেন না যে, ‘আবনাউহা’ শব্দটি ‘তাশাজুর’ (تشاجر) এর কর্তা (فاعل)।

এর উত্তর হলো, নিশ্চয়ই এই পঙক্তিটি...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
لا حُجّةَ فيه، إذ مَحملُ البيت على أنّ " آباؤها " مبتدأ، و " أبناؤها " خبر.

والتقدير، آباؤها في ضعف الحلوم مثل أبنائها، ويدلّ على ما ذكرنا قوله

في البيت قبلَه:

هيهاتَ، قد سَفِهَتْ أميّةُ رأيها. . . فاستجهلتْ، حُلَماؤها سُفَهاؤها

أي: حلماؤها مثل سفهائها.

ويلزم أيضاً في البيت على جعل " أبناؤها "

فاعلاً بـ " تشاجر" الفصل بين المصدر ومعموله.

وإلى مذهب الفرّاء مال الشيخ أبو حيان ونَصَرَه، وتأول ظواهر

سيبويه.

ويجوز أن يكون نصب (الكواكب) على بدل الاشتمال من (السماء) .

أي: زينّا كواكب السماء.

وزاد أبو البقاء أن يكون منصوباً بإضمار أعني.

وأما قراءة الرفع فقرأ بها زيد بن عليّ مع تنوين (زينة) ، ووجهها أن

تكون (الكواكب) خبر مبتدأ محذوف، أي: هي الكواكب، أو أن تكون

فاعلاً بالمصدر المنوّن على مذهب البصريين، كقوله: عجبت من قيام زيد،
এতে কোনো দলিল (حجة) নেই; কেননা পঙ্ক্তিটির প্রয়োগ এই যে, "আবাউহা" হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং "আবনাউহা" হলো বিধেয় (خبر)।

আর প্রচ্ছন্ন রূপটি (تقدير) হলো—তাদের পিতৃপুরুষগণ প্রজ্ঞার দুর্বলতায় তাদের সন্তানদের ন্যায়; এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর তাঁর এই উক্তিটি প্রমাণ বহন করে

পূর্ববর্তী পঙ্ক্তিতে:

হায়! উমাইয়্যাহ বংশীয়রা তাদের মতামতের ক্ষেত্রে মূর্খতা প্রকাশ করেছে... ফলে তারা অজ্ঞতায় নিমজ্জিত হয়েছে; তাদের বিজ্ঞজনরা নির্বোধের ন্যায় হয়ে গেছে।

অর্থাৎ: তাদের বিজ্ঞজনরা তাদের নির্বোধদের সদৃশ।

তদুপরি, পঙ্ক্তিটিতে যদি "আবনাউহা" শব্দটিকে

"তাশাজারা" ক্রিয়ার কর্তা (فاعل) সাব্যস্ত করা হয়, তবে ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং তার আমল গ্রহণকারীর (معمول) মাঝে বিচ্ছেদ ঘটার আবশ্যকতা দেখা দেয়।

আর শায়খ আবু হাইয়ান আল-ফাররার মতবাদের (مذهب) দিকে ঝুঁকেছেন এবং একে সমর্থন করেছেন, আর সিবওয়াইহের বক্তব্যের বাহ্যিক দিকগুলোর

ব্যাখ্যা করেছেন।

আর "আল-কাওয়াকিবা" শব্দটি "আস-সামা" থেকে বদলে ইশতিমাল (بدل الاشتمال) হিসেবে জবরযুক্ত অবস্থা (نصب) হওয়াও বৈধ।

অর্থাৎ: আমরা আসমানের নক্ষত্ররাজিকে সুশোভিত করেছি।

আবু আল-বাকা আরও যোগ করেছেন যে, এটি "আ’নী" ক্রিয়া উহ্য থাকার কারণে মানসুব হতে পারে।

আর পেশযুক্ত অবস্থার (رفع) যে পাঠরীতি (قراءة), তা যায়িদ ইবনে আলী "যিনাতুন" শব্দটিতে তানভীনসহ পাঠ করেছেন। এর বিশ্লেষণ হলো

"আল-কাওয়াকিবু" শব্দটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر) হবে, অর্থাৎ: "হিয়া আল-কাওয়াকিবু" (সেগুলো হলো নক্ষত্ররাজি); অথবা বসরীদের মতবাদ (مذهب) অনুযায়ী এটি তানভীনযুক্ত ক্রিয়ামূলের কর্তা (فاعل) হবে, যেমন তাঁর উক্তি: "আমি যায়িদের দণ্ডায়মান হওয়া দেখে বিস্মিত হয়েছি",
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
التقدير: بأن زَينت الكواكبُ. أو أن يكون مفعولاً لم يستم فاعله.

التقدير: أن زُيّنت الكواكب.

وفي هذه المسألة خلاف: فذهب الجمهور إلى أن المصدر ينحلّ إلى

فعل ما لم يُسَم فاعلُه، فتقول: عجبت من ضربٍ زيد، على أن يكون

" زيد " مفعولاً لم يسم فاعله، والتقدير: من أن ضُرب زيد.

وأنشدوا على ذلك:

إنَّ قَهراً ذَوو الضلالةِ والبا. . . طلِ عِزّ لكلِّ عَبد مُحِقِّ

أي: أن يُقْهَرَ ذَوو الضلالة.

وذهب أبو الحسن الأخفش إلى مَنع ذلك، وتَبِعَه نحاةُ الأندلس، وكان

شيخنا الإمام العلامة أبو عبد الله البَيْري يميل إلى مذهب أبي الحسن

ويُعَوّل عليه.

ومن ذلك قوله تعالى في سورة " الدخان ": ‌‌(رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ (8)
বিশ্লেষণটি হলো: নক্ষত্রসমূহ সুশোভিত হওয়ার দ্বারা। অথবা এটি এমন কর্মপদ হতে পারে যার কর্তার নাম উল্লেখ নেই (مفعولاً لم يسم فاعله)।

বিশ্লেষণটি হলো: নক্ষত্রসমূহ সুশোভিত করা হয়েছে।

আর এই মাসআলায় মতভেদ রয়েছে: অধিকাংশ আলিম (جمهور) এই মত পোষণ করেছেন যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) এমন ক্রিয়ায় রূপান্তরিত হতে পারে যার কর্তার নাম উল্লেখ নেই (فعل ما لم يُسَم فاعلُه)। সুতরাং আপনি বলতে পারেন: 'আমি জাইদকে প্রহার করায় বিস্মিত হয়েছি', যেখানে 'জাইদ' শব্দটি এমন কর্মপদ হিসেবে গণ্য হবে যার কর্তার নাম উল্লেখ নেই (مفعولاً لم يسم فاعله), আর এর বিশ্লেষণ হলো: 'জাইদকে প্রহার করা হয়েছে বলে (আমি বিস্মিত হয়েছি)'।

তারা এর স্বপক্ষে এই কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

নিশ্চয়ই বিভ্রান্ত ও বাতিলপন্থীদের অবদমিত হওয়া প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ বান্দার জন্য এক সম্মানের বিষয়।

অর্থাৎ: বিভ্রান্তদের অবদমিত করা বা পরাজিত করা।

আবু হাসান আল-আখফাশ এটি নিষিদ্ধ হওয়ার মত পোষণ করেছেন এবং আন্দালুসের ব্যাকরণবিদগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন। আমাদের শাইখ ইমাম আল্লামা আবু আবদুল্লাহ আল-বাইরি আবু হাসানের মতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং এর ওপরই নির্ভর করতেন।

এর উদাহরণ হলো সূরা আদ-দুখানে মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক (৮))
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল আকরান ফী মা কুরিআ বিত-তাসলীসি মিন হুরুফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
قُرىء فيهما برفع الباء ونصبها وجرّها:

أما قراءة الرفع فقرأ بها السبعة، ووجهها أن تكونَ خبرَ مبتدأ محذوف.

أي: هو رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ) . وجوّزوا فيه أن يكونَ خبراً بعد

خبر، وأن يكونَ فاعلُ (يميت) ، وفاعلُ (يحيي) ضميراً يعود على ما قبله.

أو أن يكونَ من باب التنازع، فيكون (ربكم) فاعلَ (يميت) على إعمال

الثاني، وفي (يحيي) ضمير يعود عليه، أو بالعكس على إعمال الأول.

ويجوز فيه على مذهب الفرّاء أن يكون (وربكم) فاعلاً بـ (يُحيي

ويُميت) معاً، والأظهرُ الإعرابُ الأول.

وأما قراءة النصب فقرأ بها أحمد بن جُبير الأنطاكي، ووجهها

النصب على المدح، أو العناية، أي: أمدح أو أعني.

وأما قراءة الجرّ فقرأ بها جماعة، منهم ابن أبي إسحاق،
এই দুটি ক্ষেত্রে 'বা' বর্ণটিতে রফু (رفع), নসব (نصب) এবং জর (جر) সহকারে পাঠ করা হয়েছে:

রফু (رفع) পড়ার যে রীতি, তা সাতজন ইমামই (ক্বারী) পাঠ করেছেন। এর ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা হলো এটি একটি উহ্য মুবতাদা (مبتدأ)-এর খবর (خبر) হওয়া।

অর্থাৎ: (তিনিই তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের রব)। তাঁরা এটিকে খবরের পর আরও একটি

খবর (خبر) হওয়ার অবকাশ রেখেছেন। এছাড়া 'ইউমিতু' (মৃত্যু দান করা) এবং 'ইউহয়ি' (জীবন দান করা) ক্রিয়াদ্বয়ের কর্তা (فاعل) একটি সর্বনাম হতে পারে যা পূর্ববর্তী বিষয়ের দিকে ফিরে যায়।

অথবা এটি 'তানাযু' (تنازع)-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় ক্রিয়ার আমল অনুযায়ী 'রব্বুকুম' শব্দটি 'ইউমিতু' ক্রিয়ার কর্তা (فاعل) হিসেবে গণ্য হবে

এবং 'ইউহয়ি' ক্রিয়াতে একটি সর্বনাম থাকবে যা তার দিকে ফিরে যাবে, অথবা প্রথম ক্রিয়ার আমল অনুযায়ী এর বিপরীত রূপ হবে।

আল-ফাররার মাযহাব অনুযায়ী 'ওয়া রব্বুকুম' অংশটি 'ইউহয়ি'

এবং 'ইউমিতু' উভয় ক্রিয়ারই একত্রে কর্তা (فاعل) হওয়া বৈধ। তবে প্রথমোক্ত ব্যাকরণগত বিশ্লেষণটিই অধিকতর স্পষ্ট।

আর নসব (نصب) পড়ার রীতিটি আহমাদ বিন জুবায়ের আল-আন্তাকি বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো

প্রশংসা (مدح) কিংবা বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের (عناية) উদ্দেশ্যে নসব (نصب) হওয়া; অর্থাৎ: "আমি প্রশংসা করছি" অথবা "আমি নির্দিষ্ট করছি"।

আর জর (جر) পড়ার বিষয়টি একদল ক্বারী থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ইবনে আবি ইসহাক অন্যতম।