(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية   (مساعد الطيار)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: شرح مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية

المؤلف: د. مُساعِدُ بن سُلَيْمَان بن نَاصِر الطَّيَّار

الناشر: دار ابن الجوزي

الطبعة: الثانية، 1428 هـ

عدد الصفحات: 364

الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 رمضان 1435

ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'মুকাদ্দিমাহ ফী উসুলিত তাফসির'-এর ব্যাখ্যা   (মুসাঈদ আল-তাইয়ার)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'মুকাদ্দিমাহ ফী উসুলিত তাফসির'-এর ব্যাখ্যা

লেখক: ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আল-তাইয়ার

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪

বইটি লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য একটি উপহার

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مقدمة في أصول التفسير

 

شرح مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية

 

د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

الأستاذ المساعد بكلية المعلمين بالرياض
উসূলে তাফসীরের ভূমিকার ব্যাখ্যা

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত উসূলে তাফসীরের ভূমিকার ব্যাখ্যা

 

ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-ত্বাইয়ার

রিয়াদের টিচার্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
-[عرض كتاب شرح مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية]- (*)

د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

الأستاذ المساعد بكلية المعلمين بالرياض

 

عرض: عمرو الشرقاوي

 

بدأ المؤلف بمقدمة ذكر فيها منهجه في شرح مقدمة أصول التفسير، لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى، وقال في بيان منهجه في شرح هذه المقدمة:

1 - جعلت في الحاشية التي أمام النصوص المشروحة رقم الفقرة من مقدمة شيخ الإسلام ليسهل على القارئ معرفة النص المشروح.

وقد يكون الشرح لأكثر من نصٍّ، فإني أذكر أرقامه على ما يتيسر لي، لأنَّ بعض النصوص المرقمة تنتظم في وحدة موضوعية كما هو الحال في آخر موضوعات هذه الرسالة، وهو تحرج بعض السلف في تفسير القرآن.

2 - بيان الأمثلة التفسيرية للموضوعات التي طرحها الشيخ رحمه الله.

3 - ذكر ما أجده من المواطن الأخرى من كتبه التي تكلم عنها فيما يخص موضوعات المقدمة التفسيرية، وقد جعلت بعضها ضمن الشرح، وبعضها الآخر في ملحق جعلته في نهاية هذا الشرح.

4 - ذكر نماذج من التفاسير التي ذكرها، فيما يخصُّ نقده لها.

5 - الإعراض عن تفصيل المسائل العلمية التي لا علاقة لها بالتفسير.

6 - حرصت أن لا أخرج إلى إضافات على ما ذكره الشيخ رحمه الله تعالى؛ لئلا يطول الشرح، ويخرج عن الأفكار التي طرحها رحمه الله.

7 - حرصت على أن أذكر بعض الكتب المعاصرة التي درست شيئًا من الموضوعات التي طرحها الشيخ رحمه الله تعالى، ولم أقصد الاستيعاب لما كتبه المعاصرون؛ لأن ذلك أمر غير ممكن.

وقدم الشارح بين يدي شرحه بمدخل إلى رسالة شيخ الإسلام، ذكر فيها أهم طبعات المقدمة، وعنوانها، ومتى كتب شيخ الإسلام المقدمة؟، ومن أفاد من المقدمة، والموضوعات التي طرقتها المقدمة.
-[ইবনে তাইমিয়্যাহ্-এর মুকাদ্দিমাহ ফি উসুলিত তাফসির-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের পর্যালোচনা]- (*)

ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়ার

রিয়াদের মুয়াল্লিমীন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক

 

পর্যালোচনায়: আমরু আশ-শারকাওয়ী

 

লেখক একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছেন যাতে তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ্ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুকাদ্দিমাহ ফি উসুলিত তাফসির-এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তার অনুসৃত পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। এই মুকাদ্দিমাহর ব্যাখ্যায় নিজের কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন:

1 - আমি ব্যাখ্যা করা মূল পাঠের (نصوص) সামনে পাদটীকায় শাইখুল ইসলামের মুকাদ্দিমাহর অনুচ্ছেদ নম্বর দিয়েছি, যাতে পাঠকের জন্য ব্যাখ্যা করা অংশটি চিহ্নিত করা সহজ হয়।

কখনও কখনও একাধিক মূল পাঠের জন্য একটি ব্যাখ্যা হতে পারে, সেক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী নম্বরগুলো উল্লেখ করেছি; কারণ নম্বরযুক্ত কিছু মূল পাঠ (نصوص) একই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি এই রিসালার শেষ বিষয়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে, আর তা হলো—কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে সালাফদের সতর্কতা অবলম্বন।

2 - শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) যে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন সেগুলোর তাফসির সংক্রান্ত উদাহরণ বর্ণনা করা।

3 - এই মুকাদ্দিমাহর তাফসির সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যে আলোচনাগুলো তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে পেয়েছি সেগুলো উল্লেখ করা; এর কিছু অংশ আমি ব্যাখ্যার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং বাকি অংশ এই ব্যাখ্যার শেষে একটি পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি।

4 - তিনি যেসকল তাফসিরের সমালোচনা করেছেন, সেগুলোর নমুনা উল্লেখ করা।

5 - তাফসিরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ইলমি মাসআলাসমূহের বিস্তারিত আলোচনা বর্জন করা।

6 - আমি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তার বাইরে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত না করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম; যাতে ব্যাখ্যা দীর্ঘ না হয় এবং শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) যে ধারণাগুলো উপস্থাপন করেছেন তা থেকে বিচ্যুত না হয়।

7 - আমি সমসাময়িক এমন কিছু কিতাবের কথা উল্লেখ করতে সচেষ্ট হয়েছি যেগুলোতে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; তবে সমসাময়িক লেখকদের সমস্ত রচনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ (استيعاب) দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না, কারণ সেটি সম্ভবপর নয়।

ব্যাখ্যাকার তাঁর ব্যাখ্যার প্রারম্ভে শাইখুল ইসলামের এই রিসালার একটি প্রবেশিকা পেশ করেছেন, যেখানে তিনি মুকাদ্দিমাহর গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণসমূহ, এর শিরোনাম, শাইখুল ইসলাম কখন এই মুকাদ্দিমাহ লিখেছিলেন, কারা এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এতে আলোচিত বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ثم بين الشيخ المسائل الواقعة في مقدمة المؤلف، وخاصة بيان سبب تأليف هذه المقدمة، وقوله: «فإنَّ الكتب المصنفة في التفسير مشحونة بالغث والسمين، والباطل الواضح والحق المبين»، وقوله: الثاني: أن التفسير إما منقول وإما معقول.

ونبه أن تحديد المنقول والمعقول من التفسير قضية نسبية تختلف باختلاف العصر، وأن ضابط المنقول في عصر الصحابة يختلف عنه في عصر التابعين، وفي عصر التابعين يختلف عنه في عصر من بعدهم.

كما نبه أن من بلغ درجة الاجتهاد في التفسير في العصر الحاضر فإن له مجالين:

المجال الأول: هو أن يجتهد في الاختيار بين أقوال المفسرين السالفين دون أن يخرج عنها.

المجال الثاني: هو أن يأتي المفسر بمعنى جديد لم يذكره المتقدمون، وهذا يظهر جليًا فيما يسمى بالتفسير العلمي الذي يستعين بالعلوم التجريبية في معرفة معاني الآيات القرآنية.

ثم تعرض لموضوع البيان النبويِّ للقرآن، ونبه أنَّ شيخ الإسلام رحمه الله تعالى يناقش أقوال أقوامٍ لا يرون تفسير الصحابة والتابعين، ويذهبون إلى تفسيرات شيوخهم من أهل البدع، فقد ذكر هذه الأفكار في كتبٍ يناقش فيها هؤلاء، ككتاب (بغية المرتاد في الرد على المتفلسفة، والقرامطة والباطنية وأهل الإلحاد القائلين بالحلول والاتحاد)، وفي كلامه على المحكم والمتشابه.

وفي شرح اختلاف التنوع واختلاف التضاد في تفسير السلف، ذكر أن مراد الشيخ في هذا الفصل بيان نوع الاختلاف الذي وقع عند السلف، وذكر أنَّ غالب ما يصحُّ عنهم من الخلاف يرجع إلى اختلاف التنوع لا اختلاف التضاد، وذكر في آخر هذا الفصل أنه لا بدَّ من وجود اختلاف محقق بينهم، وهو ما يُسمى بالتَّضاد، لكنه قليل بالنسبة لاختلاف التنوع.

وعرض لعدة مسائل:

المسألة الأولى: في تعريف اختلاف التنوع واختلاف التضاد.

المسألة الثانية: في نوعي الاختلاف اللذَين يكثران في تفسير سلف الأمة.

المسألة الثالثة: تنبيهات تتعلق بأسباب النُّزول.
অতঃপর শায়খ লেখকের মুখবন্ধে উল্লিখিত বিষয়াবলি বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে এই মুখবন্ধ রচনার কারণ এবং তাঁর এই বক্তব্যটি: «নিশ্চয়ই তাফসীর বিষয়ক সংকলিত কিতাবগুলো অসার (غث) ও সারগর্ভ (سمين), স্পষ্ট বাতিল ও সুস্পষ্ট সত্যে পরিপূর্ণ», এবং তাঁর উক্তি: দ্বিতীয়ত: তাফসীর হয় উদ্ধৃত (منقول) না হয় যুক্তিপ্রসূত (معقول)।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, তাফসীরের ক্ষেত্রে উদ্ধৃত (منقول) ও যুক্তিপ্রসূত (معقول) বিষয়ের নির্ধারণ একটি আপেক্ষিক বিষয় যা যুগের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। সাহাবীগণের যুগে উদ্ধৃত (منقول) বিষয়ের মানদণ্ড তাবিঈগণের যুগের তুলনায় ভিন্ন ছিল এবং তাবিঈগণের যুগের মানদণ্ড তাদের পরবর্তী যুগের তুলনায় ভিন্ন ছিল।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান যুগে যারা তাফসীরের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার স্তরে পৌঁছেছেন, তাদের জন্য দুটি ক্ষেত্র রয়েছে:

প্রথম ক্ষেত্র: পূর্বসূরি মুফাসসিরগণের বক্তব্যের মধ্য থেকে কোনো একটিকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা, তবে সেই বক্তব্যসমূহের বাইরে না যাওয়া।

দ্বিতীয় ক্ষেত্র: মুফাসসির এমন কোনো নতুন অর্থ উপস্থাপন করবেন যা পূর্ববর্তীরা উল্লেখ করেননি। এটি বিশেষভাবে তথাকথিত বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসীর (التفسير العلمي) এর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়, যেখানে কুরআনের আয়াতের অর্থ অনুধাবনে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সহায়তা নেওয়া হয়।

এরপর তিনি কুরআনের নববী বর্ণনা (البيان النبوي) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এমন এক সম্প্রদায়ের মতামত নিয়ে আলোচনা করেছেন যারা সাহাবী ও তাবিঈগণের তাফসীর গ্রহণ করে না, বরং বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) মধ্য থেকে তাদের শায়খদের দেওয়া তাফসীরের দিকে ধাবিত হয়। তিনি তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে এসব মতাদর্শ আলোচনা করেছেন যেখানে তিনি তাদের খণ্ডন করেছেন, যেমন ‘বুগইয়াতুল মুরতাদ ফীর রাদ্দি আলান মুতাফালসিফা ওয়াল কারামিতা ওয়াল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আহলিল ইলহাদ আল-কাইলিনা বিল হুলুলি ওয়াল ইত্তিহাদ’ গ্রন্থ এবং মুহকাম (محكم) ও মুতাশাবিহ (متشابه) সংক্রান্ত আলোচনায়।

সালাফদের তাফসীরের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) এবং বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف التضاد) এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অধ্যায়ে শায়খের উদ্দেশ্য হলো সালাফদের মধ্যে সংঘটিত মতভেদের ধরন বর্ণনা করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁদের পক্ষ থেকে যা কিছু সহিহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার অধিকাংশ মতভেদই বৈচিত্র্যগত মতভেদের (اختلاف التنوع) অন্তর্ভুক্ত, বৈপরীত্যমূলক মতভেদের (اختلاف التضاد) অন্তর্ভুক্ত নয়। অধ্যায়ের শেষে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁদের মধ্যে কিছু সুনিশ্চিত মতভেদ থাকা অনিবার্য, যাকে বৈপরীত্য (تضاد) বলা হয়; তবে বৈচিত্র্যগত মতভেদের তুলনায় এর পরিমাণ খুবই নগণ্য।

এবং তিনি বেশ কিছু মাসআলা (مسائل) তুলে ধরেছেন:

প্রথম মাসআলা (المسألة الأولى): বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) এবং বৈপরীত্যমূলক মতভেদের (اختلاف التضاد) সংজ্ঞায়ন।

দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة الثانية): উম্মতের সালাফদের তাফসীরে যে দুই ধরণের মতভেদ অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়।

তৃতীয় মাসআলা (المسألة الثالثة): শানে নুযূল (أسباب النزول) সংক্রান্ত কিছু সতর্কতা।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
وعرض لعدة قضايا مهمة في أسباب النزول يحسن مراجعتها.

كما تعرض لعدة قضايا علمية، وهي:

1 - الألفاظ المترادفة.

2 - التضمين.

3 - فائدة جمع أقوال السلف.

4 - وقوع الاختلاف المحقق في تفسير السلف.

5 - أسباب الاختلاف.

وفي شرح الاختلاف الواقع في كتب التفسير من جهة النقل ومن جهة الاستدلال، ذكر أن الاختلاف في التفسير على نوعين:

الأول: ما يرجع إلى النقل.

والثاني: ما يرجع إلى الاستدلال.

وقد طرح فيما يرجع إلى النقل الموضوعات الآتية:

1 - الإسرائيليات.

2 - الإشارة إلى أسانيد التفسير، وغلبة المراسيل عليها، وحكمها.

3 - الموضوعات في كتب التفسير، مع الإشارة إلى بعض الكتب التي فيها ضعف من هذه الجهة.

وتعرض لمسألة المراسيل في التفسير، وذكر أن هذه المسألة من نفائس هذه المقدمة التي يحسن بالمعتنين بالتفسير الاستفادة منها في حال دراسة أقوال مفسري السلف.

كما تعرض لنقد شيخ الإسلام لبعض المفسرين، وهم البغوي (ت:516)، والثعلبي (ت:427) وتلميذه الواحدي (ت:468).

وفي مسائل الاختلاف الواقع في كتب التفسير من جهة الاستدلال، تعرض إلى أن أكثر الخطأ في الاستدلال من جهتين لا توجدان في تفسير السلف:

أحدهما: قوم اعتقدوا معاني، ثم أرادوا حمل ألفاظ القرآن عليها، وكان نظرهم إلى المعنى أسبق.

والثانية: قوم فسَّروا القرآن بمجرد ما يسوغ أن يريده من كان من الناطقين بلغة العرب بكلامه، من غير نظر إلى المتكلم بالقرآن، والمنَزَّل عليه، والمخاطب به، وكان نظرهم إلى اللفظ أسبق.

كما أشار إلى جملة علوم العربية ومنْزلتها من التفسير.
তিনি শানে নুযূল (أسباب النزول) সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেছেন, যা পর্যালোচনা করা ফলপ্রসূ।

তেমনিভাবে তিনি বেশ কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো:

১ - সমার্থক শব্দাবলি।

২ - অর্থ-অন্তর্ভুক্তি (التضمين)।

৩ - সালাফদের (পূর্বসূরিদের) উক্তিগুলো সংকলনের উপযোগিতা।

৪ - সালাফদের তাফসিরে প্রকৃতপক্ষে যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয় তার স্বরূপ।

৫ - মতভেদের কারণসমূহ।

তাফসিরের গ্রন্থসমূহে উদ্ধৃতি (النقل) এবং দলিল গ্রহণ (الاستدلال) এর দিক থেকে বিদ্যমান মতভেদের ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাফসিরের ক্ষেত্রে মতভেদ দুই প্রকার:

প্রথমত: যা উদ্ধৃতি বা বর্ণনার (النقل) সাথে সম্পৃক্ত।

দ্বিতীয়ত: যা দলিল গ্রহণ বা অনুমানের (الاستدلال) সাথে সম্পৃক্ত।

উদ্ধৃতি বা বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তিনি নিম্নোক্ত প্রসঙ্গগুলো তুলে ধরেছেন:

১ - ইসরাঈলি (الإسرائيليات) বর্ণনা।

২ - তাফসিরের সনদ (أسانيد) সমূহের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান এবং এতে মুরসাল (المراسيل) বর্ণনার আধিক্য ও সেগুলোর বিধান।

৩ - তাফসিরের কিতাবসমূহে বানোয়াট (الموضوعات) বিষয়াবলি, সাথে এমন কিছু কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেগুলোতে এই দিক থেকে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে মুরসাল (المراسيل) বর্ণনার মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়টি এই মুকাদ্দামা বা ভূমিকার অন্যতম মূল্যবান অংশ, যা তাফসির নিয়ে চর্চাকারীদের জন্য সালাফ মুফাসসিরদের উক্তি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকারী।

তদুপরি তিনি কতিপয় মুফাসসিরের প্রতি শাইখুল ইসলামের সমালোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন; তাঁরা হলেন— আল-বাগাওয়ী (মৃ: ৫১৬), আস-সা'লাবী (মৃ: ৪২৭) এবং তাঁর ছাত্র আল-ওয়াহিদী (মৃ: ৪৬৮)।

দলিল গ্রহণের দিক থেকে তাফসিরের কিতাবগুলোতে বিদ্যমান মতভেদের মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভুল দুটি দিক থেকে হয়ে থাকে যা সালাফদের তাফসিরের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না:

একটি হলো: এমন এক দল লোক যারা আগে কিছু অর্থকে বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করেছে, এরপর কুরআনের শব্দগুলোকে সেই অর্থের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে; তাদের নিকট শব্দের তুলনায় অর্থই প্রাধান্য পেয়েছে।

অন্যটি হলো: এমন এক দল লোক যারা কুরআনকে নিছক আরবি ভাষাভাষীদের বাকরীতি অনুযায়ী যা হতে পারে সেই হিসেবে তাফসির করেছে, এক্ষেত্রে তারা কুরআনের বক্তা, যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাদের সম্বোধন করে এটি নাযিল হয়েছে— তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেনি। এক্ষেত্রে তাদের নিকট অর্থের তুলনায় শব্দই প্রাধান্য পেয়েছে।

এছাড়া তিনি আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখা এবং তাফসিরের ক্ষেত্রে সেগুলোর গুরুত্ব ও মর্যাদার প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
كما تعرض لنقد بعض التفاسير المخالفة لمنهج السلف، وبيان المنهج العقدي العام لها.

ومن المسائل المهمة التي تعرض لها، قوله: ((وأما كيفية معرفة فساد أقوال هؤلاء فقد ذكر شيخ الإسلام طريقة ذلك، ورتبها على الآتي:

1 - معرفة القول الصواب الذي خالفه هؤلاء المبتدعة.

2 - أن يتيقن أن قول السلف هو الحقُّ، وأن تفسير السلف يخالف تفسير المبتدعة.

3 - أن يعرف أن تفسير المبتدعة مُحدثٌ مبتدع.

4 - أن يعرف بالأدلة التي نصبها الله للحق فساد قولهم.

هذا خلاصة ما ذكره في هذه الفقرة، ويمكن أن يزاد عليه: معرفة الرأي المبتدع على وجهه وحقيقته، إذ كثيرٌ ممن يقرؤون التفسير لا يُحسنون معرفة المذاهب المخالفة، فيفوت عليهم شيء من أقوال المبتدعة، وتدخل عليهم وهم لا يشعرون.)).

وفي شرح أحسن طرق تفسير القرآن، لاحظ على هذه الطرق أمور:

الأول: أنها دائرة بين الأثر والرأي.

الثاني: أن هذا التقسيم الذي ذكره شيخ الإسلام إنما هو تقسيم فنيٌّ، وليس المراد أن المفسر يتدرَّج في التفسير على هذه الطرق، فالذي يخوض غمار التفسير يعلم أنَّ هذه الطرق ستكون مختلطة، ولا يوجد تفسير مرتَّب على هذا الترتيب، حتى التفسير الذي كتبه شيخ الإسلام.

الثالث: أنَّ هذه الطرق من حيث الجملة هي التي يجب الرجوع إليها عند التفسير، لكن أفراد هذه الطرق لها أحكامٌ خاصَّةٌ بحيث إنه لا يمكن القول بأنه يجب الأخذ بهذه الطرق جملة وتفصيلاً، بل في الأمر تفصيلات سيأتي في محلها من هذه الطرق.

الرابع: إن تمايز المفسرين عمومًا هو في مدى اعتمادهم على هذه الطرق، ولا يكاد أن يخلو منها كتاب في التفسير؛ إما نصًّا وإما إشارة.

ثم تعرض لهذه الطرق بالشرح، وهي:

1 - تفسير القرآن بالقرآن.

2 - تفسير القرآن بالسنة.

3 - تفسير القرآن بأقوال الصحابة.

4 - تفسير القرآن بأقوال التابعين.

وبعد أن أنهى شيخ الإسلام الحديث عن أحسن طرق التفسير ذكر عددًا من القضايا المتعلقة بالتفسير بالرأي، وهي:

1 - حكم التفسير بالرأي المجرد.

2 - الأحاديث الناهية عن ذلك.

3 - تحرج جماعة من السلف عن تفسير ما لا علم لهم به، والمقصود بتحرج هؤلاء.
তিনি সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতির পরিপন্থী কিছু তাফসিরের সমালোচনা এবং সেগুলোর সাধারণ আকিদাগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর এই বক্তব্য: "এদের বক্তব্যের অসারতা চেনার পদ্ধতি সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন এবং তা নিম্নোক্তভাবে সাজিয়েছেন:

1 - সঠিক বক্তব্যটি জানা যার বিরোধিতা এই বিদআতিরা (مبتدعة) করেছে।

2 - সালাফদের কথাটিই সত্য এবং সালাফদের তাফসির বিদআতিদের (مبتدعة) তাফসিরের বিপরীত হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া।

3 - বিদআতিদের (مبتدعة) তাফসির যে নব-উদ্ভাবিত (محدث) ও বিদআতপূর্ণ তা জানা।

4 - আল্লাহ সত্যের স্বপক্ষে যে প্রমাণাদি স্থাপন করেছেন তার মাধ্যমে তাদের বক্তব্যের অসারতা চেনা।

এই পরিচ্ছেদে তিনি যা উল্লেখ করেছেন এটিই তার সারসংক্ষেপ। এর সাথে আরও যোগ করা যেতে পারে: বিদআতি মতবাদকে তার প্রকৃত রূপ ও হাকিকত অনুযায়ী চেনা; কেননা তাফসির পাঠকারীদের অনেকেই বিরোধী মাযহাবগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন না, ফলে বিদআতিদের (مبتدعة) কিছু বক্তব্য তাদের অগোচরেই থেকে যায় এবং তারা অজান্তেই সেসবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন।

আর 'আহসান তুরুক তাফসিরিল কুরআন' (কুরআন তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতিসমূহ) এর ব্যাখ্যায় তিনি এই পদ্ধতিগুলোর ওপর কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন:

প্রথমত: এগুলো বর্ণনা (أثر) ও ব্যক্তিগত মতামতের (রায়) এর মধ্যেই আবর্তিত।

দ্বিতীয়ত: শাইখুল ইসলাম যে বিভাজনটি উল্লেখ করেছেন তা মূলত একটি পদ্ধতিগত বা কারিগরি বিভাজন। এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, একজন মুফাসসির এই স্তরগুলো অনুসরণ করেই তাফসিরে অগ্রসর হবেন। বরং যারা তাফসিরের গভীরে প্রবেশ করেন তারা জানেন যে, এই পদ্ধতিগুলো মিশ্র অবস্থায় থাকে। এমনকি শাইখুল ইসলামের লিখিত তাফসিরসহ এমন কোনো তাফসির পাওয়া যাবে না যা হুবহু এই বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো।

তৃতীয়ত: সাধারণভাবে এই পদ্ধতিগুলোই তাফসিরের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে এই পদ্ধতিগুলোর প্রতিটি বিষয়ের নিজস্ব বিধান রয়েছে, যার ফলে এটি বলা সম্ভব নয় যে সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে এই সব কটি পদ্ধতি হুবহু গ্রহণ করা আবশ্যক। বরং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে যা এই পদ্ধতির যথাযোগ্য স্থানে বর্ণিত হবে।

চতুর্থত: মুফাসসিরগণের মধ্যে পার্থক্য মূলত এই পদ্ধতিগুলোর ওপর তাঁদের নির্ভরতার মাত্রার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাফসিরের এমন কোনো গ্রন্থ পাওয়া দুষ্কর যেখানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগ নেই।

এরপর তিনি এই পদ্ধতিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যা হলো:

1 - কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসির।

2 - সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের তাফসির।

3 - সাহাবীগণের বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির।

4 - তাবেয়ীদের বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির।

শাইখুল ইসলাম তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতিসমূহের আলোচনা শেষ করার পর রায় বা ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে তাফসির সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

1 - শুধু রায় বা ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে তাফসিরের বিধান।

2 - এ বিষয়ে নিষেধজ্ঞামূলক হাদিসসমূহ।

3 - একদল সালাফদের সেই বিষয়ে তাফসির করতে সতর্কতা অবলম্বন করা যে বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান নেই, এবং তাঁদের এই সতর্কতার উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ثمَّ ختم الرسالة بحديث ابن عباس في تقسيم التفسير.

وقد تعرض لها الشارح بالتفصيل، والبيان.

وختم الشارح شرحه بإيراد الملاحق العلمية، وهي: نقولٌ من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن قيم الجوزية.

وخُتم الشرح بعدة فهارس علمية.

ويمتاز الشرح بعدة مميزات، من أهمها:

1 - حسن التصوير لمسائل المقدمة.

2 - جودة إقامة الدليل عليها.

3 - كثرة الأمثلة الموضحة للمقصود.

والحمد لله رب العالمين.
এরপর তিনি তাফসিরের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কিত ইবনে আব্বাসের একটি হাদিস দ্বারা রিসালাহটি সমাপ্ত করেছেন।

ব্যাখ্যাকার বিষয়টি বিস্তারিত এবং সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

ব্যাখ্যাকার কিছু জ্ঞানগর্ভ পরিশিষ্ট যোগ করার মাধ্যমে তাঁর ব্যাখ্যাটি সমাপ্ত করেছেন, আর সেগুলো হলো: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিসমূহ।

কয়েকটি জ্ঞানগর্ভ নির্ঘণ্টের মাধ্যমে ব্যাখ্যাটি সমাপ্ত হয়েছে।

এই ব্যাখ্যাটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১ - মুকাদ্দামার মাসআলাসমূহের নিপুণ উপস্থাপনা।

২ - মাসআলাগুলোর স্বপক্ষে চমৎকারভাবে দলিল উপস্থাপন।

৩ - উদ্দিষ্ট বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য প্রচুর উদাহরণের সমাবেশ।

আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

شكر واعتذار

الحمد لله الذي أنعم عليَّ بنعمِهِ الكثيرة، والصلاة والسلام على رسوله الكريم الذي كان سببًا في هداية الخلق، وعلى آله وصحبه الذين نقلوا لنا العلم، وعلى من تبع طريقهم إلى يوم الدين.

أما بعد:

فقد منَّ اللهُ عليَّ بنفاذ طبعة الكتاب الأولى في زمن وجيز، حتى دعت الحاجة إلى إعادة طباعته، فأعددته للطباعة مرة أخرى بعد أن استدركت بعض الأخطاء المطبعية، وأعدت ترتيبه من جديد؛ إذ جعلت كل فصل من فصول مقدمة شيخ الإسلام قبل شرحه، بخلاف الطبعة الأولى التي جعلت فيها جميع المقدمة في مكان واحد، ثم أتبعتها بشرح الفصول فصلاً فصلاً.

ولقد كان هذا التغيير بسبب ما جاءني من طلب من اطَّلع على شرح هذه المقدمة بأن يتلو كلَّ فصل من فصول مقدمة الشيخ شرحُه، فأجبتُ الطالبين لذلك، لما رأيت من حسن هذا الصنيع الذي غاب عني أول الأمر؛ لذا أعتذر من القراء الكرام الذين اقتنوا الطبعة الأولى.

وكما أشكر كل من قدَّم لي نصيحة أو مشورة أو تصحيحًا أثناء إعداد الكتاب لطبعته الثانية، وأخص بالذكر أخي الدكتور عبد الرحمن بن معاضة الشهري الذي كان أول من قرأ الكتاب في طبعته الأولى، وأرشدني إلى تصويب بعض الأخطاء فيها، كما قام بالتعريف بهذا الشرح في (ملتقى أهل
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

কৃতজ্ঞতা ও ক্ষমা প্রার্থনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে অগণিত নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের প্রতি, যিনি সৃষ্টির হিদায়াতের উসিলা ছিলেন; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি, যাঁরা আমাদের নিকট ইলম পৌঁছে দিয়েছেন, আর কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের প্রতি।

অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বইটির প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে এটি পুনরায় মুদ্রণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আমি কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধন করার পর এবং নতুন বিন্যাসে এটি পুনরায় মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছি। পূর্বের সংস্করণে শায়খুল ইসলামের মুকাদ্দিমার সম্পূর্ণ অংশ এক স্থানে এবং তারপর ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি পরিচ্ছেদের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছিল; কিন্তু বর্তমান সংস্করণে আমি শায়খুল ইসলামের মুকাদ্দিমার প্রতিটি পরিচ্ছেদকে তার ব্যাখ্যার ঠিক পূর্বেই স্থাপন করেছি।

এই পরিবর্তনটি করা হয়েছে সেই সব পাঠকদের অনুরোধে যাঁরা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছেন। তাঁদের প্রস্তাব ছিল যেন শায়খের মুকাদ্দিমার প্রতিটি পরিচ্ছেদের পরপরই তার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। আমি তাঁদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি, কারণ এই পদ্ধতিটিই আমার নিকট অধিকতর উত্তম মনে হয়েছে যা শুরুতে আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তাই আমি সেই সব সম্মানিত পাঠকদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যাঁরা প্রথম সংস্করণটি সংগ্রহ করেছিলেন।

বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রস্তুতির সময় যাঁরা আমাকে নসিহত, পরামর্শ বা সংশোধনী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে আমার ভাই ডক্টর আব্দুর রহমান বিন মাআযা আশ-শাহরির কথা উল্লেখ করছি, যিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বইটির প্রথম সংস্করণটি পাঠ করেছিলেন এবং এর কিছু ভুল সংশোধনে আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘মুলতাকা আহলি`
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
التفسير/ www.tafsir.net) على الشبكة العنكبوتية، فجزاه الله عني أفضل الجزاء.

وإني لأسأل الله لي ولجميع من أفادني في هذا الكتاب أو استفاد منه التوفيق والسداد، والرضا والقبول من رب العباد.

د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار كلية المعلمين بالرياض attyyar@hotmail.com ص. ب/43058 الرياض/11561
ইন্টারনেটে বিদ্যমান (www.tafsir.net) তাফসির সাইটটি, আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমি আল্লাহর নিকট আমার নিজের জন্য এবং যারা এই গ্রন্থে আমাকে উপকৃত করেছেন অথবা যারা এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের সকলের জন্য তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশ এবং বান্দাদের রবের পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি ও কবুলিয়ত প্রার্থনা করছি।

ডক্টর মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়ার, টিচার্স কলেজ, রিয়াদ। attyyar@hotmail.com, পি.ও. বক্স/৪৩০৫৮, রিয়াদ/১১৫৬১
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي يسَّر لي إتمام هذا الشرح على ما كان، وأصلي وأسلم على رسوله خير الأكوان، وأثنِّي بالصلاة على الآل الكرام، ثمَّ على الصَّحْبِ العظام، ثمَّ على التابعين إلى يوم القيام.

أحمدك ربي على نعمك الوفيرة، وآلائك العظيمة، أحمدك على تيسير كل عسير، وعلى تبليغي ما كنت إليه أصبو وأسير، أحمدك حمد عاجزٍ عن الثناء عليك بما أنت أهله، فلك الحمد مثل ما أقول، وفوق ما أقول، فلك الحمد أولاً وآخرًا.

أما بعد:

فهذا شرح ـ قد منَّ الله به عليَّ ـ لرسالة شيخ الإسلام التي أجاب فيها بعض أصحابه الذين سألوه أن يكتب لهم (مقدمة تتضمن قواعد كلية، تعين على فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه، والتمييز في منقول ذلك ومعقوله بين الحق وأنواع الأباطيل، والتنبيه على الدليل الفاصل بين الأقاويل)، وهي التي سُمِّيت ـ فيما اشتهر ـ بمقدمة في أصول التفسير.

ولقد وفَّقني الله لقراءة هذه المقدمة مراتٍ كثيرة، كما وفَّقني لشرحها كذلك.

ولقد حرصت على سماع بعض شروحها الموجودة اليوم لبعض العلماء (1)، فرأيت أنَّ هذه المقدمة بحاجة إلى أمورٍ لم أرها في شروحهم

--------------------------------------------

(1) اطلعت على تعليقات الشيخ محمد بن صالح العثيمين ـ رحمه الله تعالى ـ التي أشرف على طبعها الشيخ عبد الله الطيار، وشرح العلامة الشيخ عبد الله بن جبرين =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার পক্ষে এই ব্যাখ্যা (شرح) সম্পন্ন করা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে সহজ করে দিয়েছেন। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর রাসূলের প্রতি, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা। অতঃপর দরুদ পেশ করছি তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ, মহান সাহাবীগণ (الصحابة) এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের (التابعين) প্রতি।

হে আমার প্রতিপালক! আপনার অঢেল নেয়ামত ও মহান অনুগ্রহের জন্য আমি আপনার প্রশংসা করছি। প্রতিটি কঠিন বিষয় সহজ করে দেওয়ার জন্য এবং আমি যা আকাঙ্ক্ষা করছিলাম ও যে পথে অগ্রসর হচ্ছিলাম, তাতে আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনার প্রশংসা করছি। আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যেমন একজন অক্ষম ব্যক্তি আপনার যোগ্য প্রশংসা করতে অসমর্থ হয়ে করে থাকে। সুতরাং আপনার প্রশংসা ঠিক তেমন, যেমনটি আমি বলছি এবং তার চেয়েও ঊর্ধ্বে; আপনারই প্রশংসা আদিতে ও অন্তে।

অতঃপর:

এটি শায়খুল ইসলামের সেই পুস্তিকার একটি ব্যাখ্যা (شرح)—যা আল্লাহ তাআলা আমাকে সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করেছেন—যেখানে তিনি তাঁর কতিপয় সাথীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন, যারা তাঁর কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি তাঁদের জন্য একটি (ভূমিকা লিখেন, যাতে এমন কিছু সার্বিক মূলনীতি থাকবে যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির ও অর্থ অনুধাবন করতে সহায়ক হবে এবং এর বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) বিষয়সমূহের মধ্যে সত্য ও বিভিন্ন প্রকার বাতিলের পার্থক্য করতে এবং বিভিন্ন মতামতের মাঝে অকাট্য প্রমাণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়ক হবে)। এটিই বর্তমানে—প্রসিদ্ধি অনুযায়ী—'মুকাদ্দিমা ফি উসুলিত তাফসির' নামে পরিচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাকে এই ভূমিকাটি বহুবার পাঠ করার তাওফিক দিয়েছেন, যেমনটি তিনি আমাকে এর ব্যাখ্যা (شرح) করারও তাওফিক দান করেছেন।

আমি বর্তমানে বিদ্যমান উলামায়ে কিরামের দেওয়া এর কিছু ব্যাখ্যা (شروح) শোনার ব্যাপারে যত্নবান ছিলাম (১), তবে আমি দেখেছি যে এই ভূমিকাটি এমন কিছু বিষয়ের মুখাপেক্ষী যা তাঁদের ব্যাখ্যাসমূহে (شروح) আমি পাইনি।

--------------------------------------------

(১) আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— এর টীকা (تعليقات) সমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি, যার মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছেন শায়খ আবদুল্লাহ আত-তৈয়্যার, এবং আল্লামা শায়খ আবদুল্লাহ বিন জিবরীনের ব্যাখ্যা (شرح)...
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
النافعة، فاستعنت الله على ذلك، وبدأت في كتابة هذا الشرح الذي أسأل الله أن يلقى القبول الحسن.

ولقد عمدتُ في المقدمة وشرحها إلى الأمور الآتية:

 

‌‌أولاً: ما يتعلق بالمقدمة:

1 - مراجعة مخطوطة دار الكتب القومية بمصر (1).

2 - تقسيم المقدمة إلى فِقَرٍ مرقَّمة، وقد جعلتها أمام كلِّ فقرة.

3 - وضع عناوين جانبية للموضوعات التي طرحها الشيخ في رسالته.

4 - التعليق على نصِّ المقدمة بما يحتاجه النصُّ، وتوضيح ما غمض من عبارات هذه المقدِّمة.

 

‌‌ثانيًا: ما يتعلق بشرح هذه المقدمة:

1 - جعلت في الحاشية التي أمام النصوص المشروحة رقم الفقرة من مقدمة شيخ الإسلام ليسهل على القارئ معرفة النص المشروح.

وقد يكون الشرح لأكثر من نصٍّ، فإني أذكر أرقامه على ما يتيسر لي،

--------------------------------------------

= حفظه الله، وشرح الشيخ صالح بن عبد العزيز آل الشيخ وزير الشؤون الإسلامية، وشرح الشيخ عبد الرحمن بن صالح الدهش، وشرح الشيخ صالح الأسمري، ولم يتسنَّ لي الاطلاع على شرحٍ للشيخ محمد بازمول.

(1) أتحفني أخي سالم العماري بهذه النسخة، وقد أخبرني الشيخ المحقق علي العمران عن نسخة عنده، فظهر أنها النسخة نفسها التي أُرسلت إليَّ، وهي نسخة دار الكتب القومية بمصر، تحت رقم 229 تفسير، تيمورية.

وأطلعني الأخ سالم على معلومة مفادها أن هناك نسخة أخرى في المكتبة السليمانية بتركيا (الرقم 4، الخزانة: خليل أوكتين (1:297)، عدد الأوراق 59ص).

ولم أعتنِ كثيرًا بتحقيق النصِّ من خلال المخطوط الذي بين يدي لأنَّ نسخة الدكتور عدنان زرزور موافقة لهذه النسخة، وقد تركت الاعتناء بتحقيقها لأجل وجود نسخٍ أخرى لهذا الكتاب المبارك، أسأل الله تيسير ذلك.
উপকারী, তাই আমি এ বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এই ব্যাখ্যা (شرح) লিখতে শুরু করেছি, যা আল্লাহর কাছে উত্তম গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমি আশা করি।

আমি ভূমিকা (مقدمة) এবং এর ব্যাখ্যার (شرح) ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি:

 

‌‌প্রথমত: ভূমিকা (مقدمة) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি:

১ - মিশরের দারুল কুতুব আল-কওমিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) পর্যালোচনা করা (১)।

২ - ভূমিকাকে (مقدمة) নম্বরযুক্ত অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদের সামনে তা উল্লেখ করা।

৩ - শাইখ তাঁর রিসালায় (رسالة) যেসব বিষয় উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর জন্য পার্শ্ব-শিরোনাম প্রদান করা।

৪ - ভূমিকার মূল পাঠের (نص) ওপর প্রয়োজনীয় টীকা প্রদান এবং এই ভূমিকার অস্পষ্ট বাক্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এই ভূমিকার ব্যাখ্যার (شرح) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি:

১ - ব্যাখ্যাত মূল পাঠের (نصوص) সামনের টীকাতে শাইখুল ইসলামের ভূমিকার অনুচ্ছেদ নম্বর উল্লেখ করেছি, যাতে পাঠকের জন্য ব্যাখ্যাত মূল পাঠ (نص) চিনে নেওয়া সহজ হয়।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাটি একাধিক মূল পাঠের (نص) জন্য হতে পারে, সেক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

= আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন; এছাড়া ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শাইখ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ আল-শাইখের ব্যাখ্যা (شرح), শাইখ আব্দুর রহমান বিন সালেহ আদ-দাহাশের ব্যাখ্যা (شرح), এবং শাইখ সালেহ আল-আসিমারীর ব্যাখ্যা (شرح); তবে শাইখ মুহাম্মাদ বাযমূলের কোনো ব্যাখ্যা (شرح) দেখার সুযোগ আমার হয়নি।

(১) আমার ভাই সালেম আল-আম্মারি আমাকে এই কপিটি উপহার দিয়েছেন। গবেষক (محقق) শাইখ আলী আল-ইমরানও তাঁর কাছে থাকা একটি কপির কথা আমাকে জানিয়েছিলেন, পরে দেখা গেল সেটি সেই একই কপি যা আমার নিকট পাঠানো হয়েছে। এটি মিশরের দারুল কুতুব আল-কওমিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি (نسخة), যার নম্বর ২২৯ তাফসীর, তায়মুরিইয়াহ।

ভাই সালেম আমাকে আরও তথ্য দিয়েছেন যে, তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে এর আরেকটি অনুলিপি (نسخة) রয়েছে (নম্বর ৪, সংগৃহীত: খলিল উকতিন (১:২৯৭), পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৯)।

আমার নিকট থাকা পাণ্ডুলিপি (مخطوط) থেকে মূল পাঠের সম্পাদনার (تحقيق) বিষয়ে আমি খুব বেশি মনোনিবেশ করিনি, কারণ ডক্টর আদনান যারযূরের সংস্করণটি এই কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বরকতময় কিতাবটির অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (نسخ) বিদ্যমান থাকায় আমি এর সম্পদনার (تحقيق) প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া থেকে বিরত থেকেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি সহজ করে দেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
لأنَّ بعض النصوص المرقمة تنتظم في وحدة موضوعية كما هو الحال في آخر موضوعات هذه الرسالة، وهو تحرج بعض السلف في تفسير القرآن.

2 - بيان الأمثلة التفسيرية للموضوعات التي طرحها الشيخ رحمه الله.

3 - ذكر ما أجده من المواطن الأخرى من كتبه التي تكلم عنها فيما يخص موضوعات المقدمة التفسيرية، وقد جعلت بعضها ضمن الشرح، وبعضها الآخر في ملحق جعلته في نهاية هذا الشرح.

4 - ذكر نماذج من التفاسير التي ذكرها، فيما يخصُّ نقده لها.

5 - الإعراض عن تفصيل المسائل العلمية التي لا علاقة لها بالتفسير.

6 - حرصت أن لا أخرج إلى إضافات على ما ذكره الشيخ رحمه الله تعالى؛ لئلا يطول الشرح، ويخرج عن الأفكار التي طرحها رحمه الله.

7 - حرصت على أن أذكر بعض الكتب المعاصرة التي درست شيئًا من الموضوعات التي طرحها الشيخ رحمه الله تعالى، ولم أقصد الاستيعاب لما كتبه المعاصرون؛ لأن ذلك أمر غير ممكن (1).

وأخيرًا ..

إنني لأشكر الله شكرًا كثيرًا على ما أتمَّ عليَّ من هذا الشرح، ثمَّ أشكر الإخوة الكرام الذين أعانوني في عملي هذا، وأخصُّ منهم أخي الكريم سامي بن محمد بن جاد الله الذي أفادني في قراءته هذا الشرح، كما أشكر الأخ الفاضل علي بن أحمد بامرعي الذي تفضَّل بفهرسة هذا الشرح فهرسة فنية كاملة، والأخ سالم العماري الذي أهداني صورة لمخطوطة

--------------------------------------------

(1) لعلي أتمكن ـ إن شاء الله ـ في طبعات قادمة من أن أزيد في الكتب التي بحثت شيئًا من أفكار هذه المقدمة؛ ليتسنَّى لمن أراد شرحها أن يطلع على أكبر قدر ممكن من المعلومات المساعدة له في شرحه.
কারণ কিছু সংখ্যায়িত পাঠ্য একটি বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের মধ্যে বিন্যস্ত হয়েছে, যেমনটি এই রিসালার শেষ বিষয়গুলোতে দেখা যায়; আর তা হলো কুরআন তাফসীরের ক্ষেত্রে কিছু সালাফ (السلف)-এর সতর্কতা অবলম্বন।

2 - শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) উপস্থাপিত বিষয়গুলোর জন্য তাফসীরভিত্তিক উদাহরণগুলোর বর্ণনা।

3 - তাঁর অন্যান্য কিতাবে যে সকল স্থানে এই তাফসীরি ভূমিকা (المقدمة التفسيرية) সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে তা উল্লেখ করা। আমি এর কিছু অংশ ব্যাখ্যার (شرح) অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং বাকি অংশ একটি পরিশিষ্টে রেখেছি যা এই ব্যাখ্যার শেষে যুক্ত করা হয়েছে।

4 - তিনি যে সকল তাফসীরের উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর ওপর তাঁর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর কিছু নমুনা উপস্থাপন করা।

5 - যে সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক মাসআলার সাথে তাফসীরের কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা বর্জন করা।

6 - আমি চেষ্টা করেছি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ তা’আলা) যা উল্লেখ করেছেন তার বাইরে অতিরিক্ত কিছু না আনতে; যাতে ব্যাখ্যাটি দীর্ঘ না হয়ে যায় এবং তিনি যে সকল চিন্তাধারা পেশ করেছেন তা থেকে বিচ্যুত না হয়।

7 - আমি সমসাময়িক কিছু বইয়ের কথা উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি যেগুলোতে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ তা’আলা) উপস্থাপিত কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সমসাময়িকদের লেখা সবকিছুর সংকলন করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না; কারণ তা সম্ভবপর নয় (১)।

পরিশেষে ..

আমি আল্লাহর নিকট অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাকে এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন। এরপর আমি সেই সকল সম্মানিত ভাইদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা আমাকে এই কাজে সাহায্য করেছেন, বিশেষ করে আমার সম্মানিত ভাই সামি বিন মুহাম্মদ বিন জাদুল্লাহ, যিনি এই ব্যাখ্যাটি পাঠ করে আমাকে উপকৃত করেছেন। একইভাবে আমি শ্রদ্ধেয় ভাই আলী বিন আহমদ বামরা’য়ীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি অনুগ্রহপূর্বক এই ব্যাখ্যার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট (فهرسة) তৈরি করে দিয়েছেন, এবং ভাই সালেম আল-আম্মারিকে, যিনি আমাকে একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة)-র আলোকচিত্র উপহার দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(1) ইনশাআল্লাহ, আমি হয়তো পরবর্তী সংস্করণগুলোতে সেই কিতাবগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব যেগুলোতে এই মুকাদ্দিমা (المقدمة)-র ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; যাতে যারা এটি ব্যাখ্যা করতে চান তারা তাদের ব্যাখ্যার সহায়ক সর্বোচ্চ পরিমাণ তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
رسالة شيخ الإسلام، فأسأل الله أن يجعل ما قدمته وقدَّموه في ميزان حسناتنا يوم أن نلقاه، وأن يغفر لنا خطايانا، وأن يشمل بعفوه والدينا ومشايخنا وأهلينا وإخواننا، إنه كريم مجيب.

كتبه د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار كلية المعلمين بالرياض

attayyar@hotmail.com

ص. ب/43058 الرياض/11561
শাইখুল ইসলামের পত্র; আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এবং তাদের উপস্থাপিত খিদমতসমূহকে আমাদের সাক্ষাতের দিনে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তাঁর ক্ষমার চাদরে আমাদের পিতামাতা, শিক্ষকগণ, পরিবারবর্গ ও ভাইদের আবৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম মহানুভব ও দোয়ায় সাড়াদানকারী।

লিখেছেন: ড. মুসায়েদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়্যার, টিচার্স কলেজ, রিয়াদ

attayyar@hotmail.com

পো. ব./৪৩০৫৮ রিয়াদ/১১৫৬১
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مدخل إلى رسالة شيخ الإسلام
শাইখুল ইসলামের রিসালার ভূমিকা
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أهم طبعات المقدمة:

لهذه المقدمة عدَّة طبعات، وأفضلها التي حققها الدكتور عدنان زرزور، وقد قدَّم لها بمقدمة حسنة في التعريف بها.

وقد سبقها (1) ولحقها طبعات، لكنها ليست بمستواها من حيث العناية بالنَّص، ولا بالإخراج الفني لها.

 

‌‌عنوان هذه المقدمة:

تسمَّى هذه الرسالة (مقدمة في أصول التفسير)، وهذا العنوان ليس من صنع شيخ الإسلام، بل هو من صنع القاضي الحنبلي بدمشق (محمد جميل الشطي)، الذي نشر الرسالة عام 1355 (2).

وقد قال شيخ الإسلام في مقدمة رسالته: «فقد سألني بعض الإخوان أن أكتب له مقدمةً تتضمَّنُ قواعدَ كليةً تُعينُ على فَهْمِ القرآنِ، ومعرفةِ تفسيرِه ومعانيه، والتمييزِ ـ في منقولِ ذلك ومعقولِه ـ بين الحقِّ وأنواعِ الأباطيلِ، والتنبيه على الدليلِ الفاصلِ بين الأقاويلِ» (3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مقدمة الدكتور عدنان زرزور فقد تكلم عن الطبعات السابقة لطبعته.

(2) يقول الدكتور عدنان زرزور (ص:22): «وليس هناك ما يشير إلى تسميتها بـ «مقدمة في أصول التفسير»، ولكن الذي دعا الشيخ محمد جميل الشطي ـ رحمه الله تعالى ـ إلى تسميتها بهذا الاسم ـ إلى جانب موضوعها بالطبع ـ قول ابن تيمية في فاتحتها: «فقد سألني بعض الإخوان أن أكتب له مقدمة تتضمن قواعد كلية تعين على فهم القرآن، ومعرفة تفسيره ومعانيه …»، والقواعد الكلية هي التي يُعبَّر عنها بـ «الأصول»، وإن كان لا مانع من أن تسمى: مقدمة في قواعد التفسير».

(3) مقدمة في أصول التفسير، تحقيق: عدنان زرزور (ص:33).
‌মুকাদ্দিমার (مقدمة) গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণসমূহ:

এই মুকাদ্দিমার (مقدمة) একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সংস্করণটি হলো ড. আদনান যারযূর কর্তৃক তাহকিক (تحقيق) কৃত সংস্করণ। তিনি এর পরিচিতি হিসেবে একটি সুন্দর ভূমিকা পেশ করেছেন।

এর পূর্বেও (১) এবং পরেও বেশ কিছু সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, তবে মূল পাঠের (نص) প্রতি যত্নশীলতা এবং শৈল্পিক প্রকাশনার দিক থেকে সেগুলো এই সংস্করণের সমপর্যায়ের নয়।

 

‌‌এই মুকাদ্দিমার (مقدمة) শিরোনাম:

এই রিসালাহটিকে (رسالة) ‘মুকাদ্দিমা ফি উসুলুত তাফসির’ নামে অভিহিত করা হয়। তবে এই শিরোনামটি শাইখুল ইসলামের দেওয়া নয়; বরং এটি দামেস্কের হাম্বলি বিচারক মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি-এর দেওয়া, যিনি ১৩৫৫ হিজরিতে রিসালাহটি (رسالة) প্রকাশ করেছিলেন (২)।

শাইখুল ইসলাম তাঁর রিসালাহর (رسالة) ভূমিকায় বলেছেন: «জনৈক ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যে, আমি যেন তাঁর জন্য এমন একটি মুকাদ্দিমা (مقدمة) লিখে দিই যা কিছু সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية) ধারণ করবে। এই মূলনীতিগুলো কুরআন বুঝতে, এর তাফসির ও অর্থ জানতে এবং তাফসির সংক্রান্ত বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) বিষয়ের ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করবে। সেইসাথে বিভিন্ন মতামতের মধ্যে চূড়ান্ত দলিলের (دليل) প্রতিও ইঙ্গিত করবে» (৩)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ড. আদনান যারযূরের ভূমিকা; সেখানে তিনি তাঁর সংস্করণের পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

(২) ড. আদনান যারযূর বলেন (পৃষ্ঠা: ২২): «এমন কোনো বিষয় নেই যা এর নাম ‘মুকাদ্দিমা ফি উসুলুত তাফসির’ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে। তবে এর বিষয়বস্তুর পাশাপাশি শাইখ মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— একে এই নামে ডাকার কারণ হলো এর শুরুতে ইবনে তাইমিয়্যার এই উক্তিটি: ‘জনৈক ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যে, আমি যেন তাঁর জন্য এমন একটি মুকাদ্দিমা (مقدمة) লিখে দিই যা কিছু সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية) ধারণ করবে, যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির ও অর্থ জানতে সাহায্য করবে...’। আর সামগ্রিক মূলনীতিকেই (قواعد كلية) ‘উসুল’ বা মূলনীতি (أصول) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যদিও একে ‘মুকাদ্দিমা ফি কাওয়ায়িদুত তাফসির’ নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই»।

(৩) মুকাদ্দিমা ফি উসুলুত তাফসির, তাহকিক: আদনান যারযূর (পৃষ্ঠা: ৩৩)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌متى كتب شيخ الإسلام المقدمة؟

لا يظهر من هذه الرسالة متى كتبها شيخ الإسلام؟

وقد ذكر ابن القيم (ت:751) في مدارج السالكين ما يمكن أن يفيد عن وقتها، قال: «وبعثَ إليَّ في آخر عمره قاعدةً في التفسير بخطِّه …» (1). وقد تكون هذه القاعدة التي أرسلها لتلميذه هي هذه الرسالة.

وواضحٌ فيها أنه كتبها بعد قراءة واسعة في كتب التفسير، وهذا ظاهر من عدد التفاسير التي ذكرها، ومن طريقته في معالجة الموضوعات التي طرحها.

وشيخ الإسلام من المفسرين المحررين، وقد كان واسع الاطلاع على تفاسير السلف والخلف، وكان ذا حافظةٍ فذَّة، ونفسٍ ناقدةٍ لما تقرأ، وقد مكَّنه ذلك من القدرة على تحرير التفسير، فلم يكن ناقلاً، بل كان ناقدًا مرجِّحًا.

قال تلميذه ابن عبد الهادي: «قال الشيخ أبو عبد الله بن رشيق ـ وكان من أخص أصحاب شيخنا، وأكثرهم كتابة لكلامه، وحرصًا على جمعه ـ: كتب الشيخ رحمه الله نقول السلف مجردةً عن الاستدلال على جميع القرآن (2)، وكتب في أوله قطعة كبيرة بالاستدلال، ورأيت له سورًا وآيات يفسرها، ويقول في بعضها: كَتَبْتُهُ للتَّذَكُّرِ، ونحو ذلك.

ثم لما حُبِسَ في آخر عمره كَتَبْتُ له أن يكتبَ على جميع القرآن تفسيرًا مرتَّبًا على السُّور، فكتب يقول: إن القرآن فيه ما هو بَيِّنٌ بنفسه (3)،

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1:520).

(2) هذه الطريقة شبيهة بما فعل السيوطي في الدر المنثور.

(3) هذا النقل يفيد في تحرير مراد شيخ الإسلام في كون الرسول صلى الله عليه وسلم قد بيَّن للصحابة معاني القرآن كما بيَّن لهم ألفاظه، حيث جعل قدرًا منه بيِّنًا بنفسه، فإذا كان يبين للمتأخرين فمن باب أولى أن يكون بيِّنًا لمن نزل عليهم بلغتهم، وهم يعرفون أحواله.
‌‌শায়খুল ইসলাম মুকাদ্দিমাটি কখন লিখেছিলেন?‌

এই রিসালা থেকে এটি স্পষ্ট হয় না যে, শায়খুল ইসলাম এটি কখন লিখেছিলেন?

ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু: ৭৫১ হিজরি) মাদারিজুস সালিকিন গ্রন্থে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এর সময়কাল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তিনি বলেন: «তিনি তাঁর জীবনের শেষ সময়ে নিজের হস্তাক্ষরে তাফসির সংক্রান্ত একটি মূলনীতি (قاعدة) আমার নিকট পাঠিয়েছিলেন …» (১)। হতে পারে তাঁর ছাত্রের নিকট পাঠানো এই মূলনীতিটিই হলো এই রিসালা।

এতে স্পষ্ট যে, তিনি এটি তাফসিরের গ্রন্থসমূহ ব্যাপক পাঠ করার পর লিখেছিলেন। তিনি যে সংখ্যক তাফসিরের উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং যে পদ্ধতিতে আলোচ্য বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, তা থেকে এটি প্রতীয়মান হয়।

শায়খুল ইসলাম ছিলেন একজন নিপুণ বিশ্লেষণী মুফাসসির (المفسرين المحررين)। সালাফ (السلف) এবং পরবর্তী আলিমদের তাফসিরের ওপর তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর এবং পঠিত বিষয়ের ওপর ছিল এক সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এটিই তাঁকে তাফসিরের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে সক্ষম করে তুলেছিল; তিনি কেবল একজন বর্ণনাকারী (ناقل) ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সমালোচক (ناقد) ও অগ্রাধিকার প্রদানকারী (مرجح)।

তাঁর ছাত্র ইবনু আবদিল হাদি বলেন: «শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইবনে রাশিদ—যিনি আমাদের শায়খের বিশেষ ঘনিষ্ঠ সাথীদের একজন ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্য লিখে রাখার ও তা সংকলন করার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন—তিনি বলেছেন: শায়খ (রহ.) দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করা ছাড়াই পুরো কুরআনের ওপর সালাফদের বর্ণনা (نقول السلف) লিখেছিলেন (২), এবং এর শুরুতে দলিল-প্রমাণসহ একটি বড় অংশ লিখেছিলেন। আমি তাঁর কিছু সূরা ও আয়াতের তাফসির দেখেছি যেখানে তিনি কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে বলেছেন: এটি আমি স্মারক হিসেবে লিখেছি, অথবা এই জাতীয় কিছু।

অতঃপর জীবনের শেষ ভাগে যখন তিনি কারারুদ্ধ হন, তখন আমি তাঁকে পুরো কুরআনের ওপর সূরার ক্রম অনুযায়ী একটি সুবিন্যস্ত তাফসির লেখার জন্য আবেদন জানালাম। প্রতিউত্তরে তিনি লিখেছিলেন: কুরআনের মধ্যে এমন কিছু বিষয় আছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্পষ্ট (৩),

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১:৫২০)।

(২) এই পদ্ধতিটি সুয়ূতি তাঁর আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থে যা করেছেন তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

(৩) এই উদ্ধৃতিটি শায়খুল ইসলামের এই উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণের (الصحابة) নিকট কুরআনের শব্দাবলি (ألفاظ) ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তার অর্থাবলিও (معاني) বর্ণনা করেছেন। কেননা তিনি এর একটি অংশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পষ্ট হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং যদি তা পরবর্তী প্রজন্মের নিকট স্পষ্ট হয়, তবে যাদের ওপর তাদের ভাষায় কুরআন নাজিল হয়েছে এবং যারা এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাদের নিকট তা স্পষ্ট হওয়া আরও বেশি স্বাভাবিক।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفيه ما قد بيَّنه المفسرون في غير كتاب، ولكن بعض الآيات أشكلَ تفسيرُها على جماعة من العلماء، فربما يطالع الإنسان عليها عِدَّةَ كُتُبٍ ولا يتبيَّنُ له تفسيرُها، وربما كتب المصنِّفُ الواحدُ في آية تفسيرًا ويفسِّرُ غيرَها بنظيره، فقصدت تفسير تلك الآيات بالدليل، لأنه أهمُّ من غيره، وإذا تبيَّن معنى آية تبيَّن معاني نظائرِها.

وقال: قد فتح الله عليَّ في هذه المرَّةِ من معاني القرآن، ومن أصول العلم بأشياء كان كثير من العلماء يتمنونها، ونَدِمْتُ على تضييع أكثر أوقاتي في غير معاني القرآن، أو نحو هذا» (1).

 

‌‌من أفاد من المقدمة:

جُلُّ من كتب في مسائل هذا العلم بعد شيخ الإسلام ابن تيمية؛ عالةٌ على هذه الرسالة الفريدة في بابها. وعلى وجازتها؛ فإنه قد استفاد منها كثيرٌ ممن جاء بعد شيخ الإسلام، ومنهم:

1 - تلميذه ابن كثيرٍ (ت:774) الذي ذكر جزءًا من موضوعات المقدمة في مقدمة تفسيره (2)، ولم يُشر فيها إلى أنه ينقل من هذه الرسالة، كما هي عادة بعض العلماء في نقولاتهم.

2 - الزركشي (ت:794) في كتابه البرهان في علوم القرآن (3).

3 - السيوطي (ت:911) في الإتقان في علوم القرآن (4).

4 - القاسمي (ت:1332) في مقدمة تفسيره محاسن التأويل (5).

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (43 ـ 44).

(2) ينظر: تفسير ابن كثير، تحقيق: البنا (1:39 ـ 45).

(3) ينظر (2:175)، وغيرها.

(4) ينظر النوع الثامن والسبعون.

(5) محاسن التأويل (1:17 ـ 22).
এতে এমন বিষয় রয়েছে যা মুফাসসিরগণ একাধিক কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তবে কিছু আয়াতের তাফসির একদল আলেমের নিকট জটিল মনে হয়েছে; ফলে কোনো ব্যক্তি হয়তো এ বিষয়ে অনেক কিতাব অধ্যয়ন করেন কিন্তু তার নিকট সেগুলোর তাফসির স্পষ্ট হয় না। আবার কখনো কখনো কোনো লেখক একটি আয়াতের এক ধরণের তাফসির করেন এবং সমজাতীয় অন্য আয়াতের ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাই আমি দলিল সহকারে সেই আয়াতগুলোর তাফসির করার সংকল্প করেছি, কারণ এটি অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যখন একটি আয়াতের অর্থ স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তার সমজাতীয় অন্যান্য আয়াতের অর্থও স্পষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেছেন: ‘আল্লাহ তাআলা এবার আমার জন্য কুরআনের অর্থ এবং ইলমের মূলনীতি (أصول) থেকে এমন কিছু বিষয় উন্মোচন করেছেন যা অনেক আলেম কামনা করতেন। আমি কুরআনের অর্থ ব্যতীত অন্য কাজে আমার অধিকাংশ সময় ব্যয় করার জন্য অনুতপ্ত হয়েছি, অথবা অনুরূপ কিছু।’ (১)

 

‌‌যিনি মুকাদ্দিমা থেকে উপকৃত হয়েছেন:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার পর এই ইলমের মাসয়ালাগুলো নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের অধিকাংশই এই অনন্য রিসালা বা প্রবন্ধটির ওপর নির্ভরশীল। এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও শাইখুল ইসলামের পরবর্তী অনেকেই এর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাঁর ছাত্র ইবনে কাসীর (মৃত্যু: ৭৭৪), যিনি তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় (২) এই মুকাদ্দিমার কিছু বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন। তবে অনেক আলেমের উদ্ধৃতি প্রদানের রীতি অনুযায়ী তিনি এটি উল্লেখ করেননি যে তিনি এই রিসালা থেকে উদ্ধৃত করছেন।

২ - যারকাশি (মৃত্যু: ৭৯৪) তাঁর আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন (৩) গ্রন্থে।

৩ - সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১) তাঁর আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন (৪) গ্রন্থে।

৪ - কাসিমী (মৃত্যু: ১৩৩২) তাঁর তাফসির মাহাসিনুত তাবিল (৫)-এর ভূমিকায়।

--------------------------------------------

(১) আল-উকুদ আদ-দুররিয়াহ (৪৩-৪৪)।

(২) দ্রষ্টব্য: তাফসিরে ইবনে কাসীর, সম্পাদনা: আল-বান্না (১:৩৯-৪৫)।

(৩) দ্রষ্টব্য (২:১৭৫) এবং অন্যান্য।

(৪) দ্রষ্টব্য ৭৮তম প্রকার (النوع)।

(৫) মাহাসিনুত তাবিল (১:১৭-২২)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهناك غيرهم من اللاحقين والمعاصرين.

 

‌‌الموضوعات التي طرقتها المقدمة:

وتنقسم أفكار هذه الرسالة إلى:

* بيان الرسول صلى الله عليه وسلم معاني القرآن وألفاظه للصحابة.

* اختلاف التنوع والتضاد في تفسير السلف.

* سبب الاختلاف من جهة المنقول ومن جهة الاستدلال.

* أحسن طرق التفسير.

* التفسير بالرأي (1).

مع طرحه لبعض المسائل العلمية المتعلقة بالتفسير وكتب التفسير أثناء هذه الموضوعات.

--------------------------------------------

(1) ينظر كلام الدكتور عدنان زرزور حول هذه الأفكار (ص:15 ـ 19).
এবং পরবর্তী ও সমসাময়িকদের মধ্যে আরও অনেকে রয়েছেন।

 

‌‌মুকাদ্দিমায় আলোচিত বিষয়সমূহ:

এবং এই রিসালাহর মূল ভাবনাগুলো নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:

* সাহাবীগণের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কুরআনের শব্দ ও অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান।

* সালাফদের তাফসীরে বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) ও বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف التضاد)।

* বর্ণিত ভাষ্য (المنقول) এবং ইস্তিদলাল বা যুক্তি-প্রমাণের (الاستدلال) প্রেক্ষাপটে মতভেদের কারণ।

* তাফসীরের সর্বোত্তম পদ্ধতিসমূহ।

* নিজস্ব অভিমত ভিত্তিক তাফসীর (التفسير بالرأي) (১)।

এই বিষয়গুলো আলোচনার পাশাপাশি তিনি তাফসীর ও তাফসীর গ্রন্থ সংশ্লিষ্ট কিছু তাত্ত্বিক মাসআলাও উপস্থাপন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এই ভাবনাগুলো সম্পর্কে ডক্টর আদনান যারজুরের আলোচনা দেখুন (পৃষ্ঠা: ১৫-১৯)।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة المؤلف
গ্রন্থকারের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال شيخ الإسلام: بسم الله الرحمن الرحيم رب يسر وأعن برحمتك

 

(1) الحمد لله، نستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليمًا.

 

(2) أما بعد: فقد سألني بعض الإخوان أن أكتب له مقدمة تتضمن قواعد كلية، تعين على فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه، والتمييز في منقول ذلك ومعقوله بين الحق وأنواع الأباطيل، والتنبيه على الدليل الفاصل بين الأقاويل؛ فإنَّ الكتب المصنفة في التفسير مشحونة بالغث والسمين، والباطل الواضح والحق المبين (1).

 

(3) والعلم إما نقل مصدق عن معصوم، وإما قول عليه دليل معلوم، وما سوى هذا فإما مزيف مردود، وإما موقوف لا يعلم أنه بهرج ولا منقود (2).

--------------------------------------------

(1) المراد بهذا الكتب المتأخرة لأن التفاسير التي يذكر فيها كلام السلف صرفًا لا يكاد يوجد فيها خطأ من جهة الاستدلال، وإن كان قد يوجد فيها خطأ من جهة النقل.

(2) هذه قاعدة علمية، فالعلم إما أن يكون صادرًا عن معصوم وهو النبي صلى الله عليه وسلم، ويلحق بذلك الإجماع فإن المسلمين لا يجمعون على خطأ، ومثال ذلك إثبات صفة العلو لله تعالى فإنه ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو معصوم. =
শায়খুল ইসলাম বলেন: পরম করুণাময় ও দয়াময় আল্লাহর নামে। হে আমার রব, সহজ করে দিন এবং আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য করুন।

 

(১) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

(২) অতঃপর: আমার নিকট কোনো এক দ্বীনি ভাই আবেদন জানিয়েছেন যেন আমি তাঁর জন্য এমন একটি ভূমিকা লিখে দিই যাতে কিছু সামগ্রিক মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির ও অর্থ অনুধাবনে সাহায্য করবে; আর সেই সাথে বর্ণিত বিষয় ও যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ের মধ্যে সত্য ও বিভিন্ন প্রকার বাতিলের পার্থক্য করতে এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে চূড়ান্ত দলিলের দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করবে। কেননা, তাফসিরের কিতাবসমূহ অসার ও সারবস্তু এবং স্পষ্ট বাতিল ও সুষ্পষ্ট সত্যে পরিপূর্ণ।

 

(৩) আর ইলম বা জ্ঞান হলো হয় কোনো নিষ্পাপ (معصوم) সত্তা হতে প্রাপ্ত সত্যায়িত বর্ণনা (نقل مصدق), অথবা এমন কোনো বক্তব্য যার স্বপক্ষে সুনিশ্চিত দলিল বিদ্যমান। এ ছাড়া অন্য কিছু হলে তা হয় কৃত্রিম ও প্রত্যাখ্যাত (مردود), অথবা তা স্থগিত (موقوف), যার বিশুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা কোনোটিই জানা যায় না।

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা পরবর্তী যুগের কিতাবগুলো উদ্দেশ্য। কারণ যে সকল তাফসিরে সালাফদের বক্তব্য সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেখানে দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ক্ষেত্রে ভুলের অবকাশ নেই বললেই চলে, যদিও বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে ভুল পাওয়া যেতে পারে।

(২) এটি একটি ইলমি মূলনীতি; জ্ঞান হয় নিষ্পাপ (معصوم) সত্তা থেকে উৎসারিত হবে—আর তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এবং এর সাথে ঐক্যমত (إجماع) যুক্ত হবে, কারণ মুসলিম উম্মাহ কোনো ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর জন্য সুউচ্চতার গুণ (সিফাতুল উলু) সাব্যস্ত করা; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত এবং তিনি হলেন নিষ্পাপ (معصوم)। =
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
(4) وحاجة الأمة ماسَّة إلى فهم القرآن الذي هو حبل الله المتين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، ولا يَخْلَقُ عن كثرة الترديد، ولا تنقضي عجائبه، ولا يشبع منه العلماء، من قال به صدق، ومن عمل به أُجِرَ، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم، ومن تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله (1).

قال تعالى: {يَاتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى *قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا *قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} [طه: 123 ـ 126].

--------------------------------------------

=

وقد أشار إلى عصمة الإجماع في هذه الرسالة عند حديثه عن حديث جابر في بيع جمله، قال: «… فإن جمهور ما في البخاري ومسلم مما يقطع بأن النبي صلى الله عليه وسلم قاله؛ لأن غالبه من هذا النحو؛ ولأنه قد تلقاه أهل العلم بالقبول والتصديق، والأمة لا تجتمع على خطأ؛ فلو كان الحديث كذبًا في نفس الأمر، والأمة مصدقة له قابلة له لكانوا قد أجمعوا على تصديق ما هو في نفس الأمر كذب، وهذا إجماع على الخطأ وذلك ممتنع، وإن كنا نحن بدون الإجماع نُجَوِّزُ الخطأ أو الكذب على الخبر، فهو كتجويزنا قبل أن نعلم الإجماع على العلم الذي ثبت بظاهر أو قياس ظني أن يكون الحق في الباطن بخلاف ما اعتقدناه، فإذا أجمعوا على الحكم جزمنا بأن الحكم ثابت باطنًا وظاهرًا».

وإما أن يكون قولاً عليه دليل معلوم، وذلك مثل الاستدلال على أن المراد بالقرء الطهر، أو أن المراد به الحيض في قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة: 228].

وما سوى ذلك من العلم: فإما باطل غير مقبول، وإما متوقف فيه، وذلك مثل بعض الأخبار المروية عن بني إسرائيل وغيرهم التي لم يرد في شرعنا ما يخالفها، فلا تستطيع أن تكذبها، ولا أن تصدقها؛ لأنها تحتمل الصدق وتحتمل الكذب، فتتوقف فيها، ولا تجزم فيها بصدق، ولا كذب.

(1) هذه الصفات للقرآن الكريم اقتبسها الشيخ رحمه الله من الأثر المروي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
(4) আর উম্মাহর কুরআন বোঝার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, যা আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (الذكر الحكيم) এবং সরল পথ (الصراط المستقيم); যার দ্বারা কুপ্রবৃত্তি (الأهواء) বিভ্রান্ত হয় না, জিহ্বা জড়তাগ্রস্ত হয় না, বারবার পাঠ করলেও যা পুরোনো হয় না এবং যার বিস্ময়কর বিষয়াবলি নিঃশেষ হয় না। আলিমগণ তা থেকে তৃপ্ত হন না। যে এর মাধ্যমে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে পুরস্কৃত হয়, যে এর দ্বারা ফয়সালা করে সে ইনসাফ করে, যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের (صراط مستقيم) দিশা পায়। আর যে কোনো অহংকারীর ভয়ে একে পরিত্যাগ করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন, আর যে একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খোঁজে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন (১)।

মহান আল্লাহ বলেন: {আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত পৌঁছানোর পর যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে তারা পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল কিন্তু তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে; ঠিক তেমনি আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।} [ত্বহা: ১২৩-১২৬]।

--------------------------------------------

=

তিনি এই রিসালায় ইজমার অভ্রান্ততার (عصمة الإجماع) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি জাবির (রা.)-এর উট বিক্রয় সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন: «… কেননা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত অধিকাংশ বিষয়ই এমন যা নিশ্চিতভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন বলে প্রমাণিত। কারণ এগুলোর অধিকাংশ এই পর্যায়ের; আর এ কারণে যে, বিদ্বানগণ (أهل العلم) একে কবুল ও সত্যয়ন (تلقاه بالقبول والتصديق) করেছেন। আর উম্মাহ কখনো ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ (لا تجتمع على خطأ) হয় না। যদি বাস্তুবিকভাবে কোনো হাদিস মিথ্যা (كذب) হয়ে থাকে অথচ উম্মাহ তাকে সত্য বলে গ্রহণ করে থাকে, তবে তার অর্থ দাঁড়াবে তারা বাস্তুবিকভাবে যা মিথ্যা তার সত্যয়নের ওপর ঐক্যমত হয়েছে। আর এটি ভুলের ওপর ইজমা (إجماع على الخطأ), যা অসম্ভব (ممتنع)। যদিও আমরা ইজমা ব্যতিরেকে কোনো খবরের (الخبر) ক্ষেত্রে ভুল বা মিথ্যার সম্ভাবনা (تُجَوِّزُ الخطأ أو الكذب) রাখি। এটি ঠিক তেমনই যেমন ইজমা জানার আগে আমরা কোনো বাহ্যিক প্রমাণ বা ধারণামূলক কিয়াসের (قياس ظني) মাধ্যমে প্রমাণিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে মনে করি যে বাস্তুবিক বিষয়টি আমাদের বিশ্বাসের বিপরীত হতে পারে। কিন্তু যখন তারা কোনো হুকুমে (الحكم) ইজমা করেন, তখন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সেই হুকুমটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবভাবেই প্রমাণিত।»

অথবা এটি এমন একটি কথা হতে পারে যার ওপর সুপরিচিত দলিল (دليل) বিদ্যমান। যেমন—আল্লাহর বাণী: {তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ‘কুরু’ (قروء) পর্যন্ত অপেক্ষা করবে} [আল-বাকারা: ২২৮]—এখানে 'কুরু' দ্বারা পবিত্রতা (الطهر) নাকি ঋতুস্রাব (الحيض) উদ্দেশ্য তা নির্ণয়ে দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা।

এছাড়া বাকি জ্ঞান হয় বাতিল (باطل) ও অগ্রহণযোগ্য, অথবা সে বিষয়ে স্থগিত বা নীরবতা (متوقف فيه) অবলম্বন করতে হয়। যেমন বনী ইসরাঈল ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত কিছু খবর (الأخبار) যা আমাদের শরীয়তের পরিপন্থী নয়; ফলে আপনি একে মিথ্যা বলতে পারবেন না আবার সত্য বলেও বিশ্বাস করতে পারবেন না। কারণ এতে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তাই এসব বিষয়ে নীরব থাকতে হয় (تتوقف فيها) এবং সত্য বা মিথ্যা কোনোটিরই চূড়ান্ত ফয়সালা দেয়া যায় না।

(1) কুরআন কারীমের এই গুণাবলি শায়খ (রহ.) আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত আসর (الأثر) থেকে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ} {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [المائدة: 15 ـ 16].

وقال تعالى: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} {اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ} [إبراهيم: 1، 2].

وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقَيمٍ *صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأُمُورُ} [الشورى: 52، 53].

 

(5) وقد كتبت هذه المقدمة مختصرة بحسب تيسير الله تعالى من إملاء الفؤاد (1)، والله الهادي إلى سبيل الرشاد.

--------------------------------------------

(1) قوله: «من إملاء الفؤاد» يشير إلى أمرين:

الأول: أنه كتبها من حفظه، ولم يكن رجع إلى مصادر التفسير أو غيرها لكتابة إجابته على هذه المسألة.

الثاني: أنه لم يراجع هذه المقدمة، ويستفاد من هذا أن ما وقع من أخطاء جلية في هذه المقدمة، فهو راجع إلى كونها إملاءً لم يُراجع، فتُحمل على سبق الذهن والوهم، والإملاء لا يكاد يسلم من الخطأ كما هو معروف مُجَرَّبٌ، فإن الإنسان إذا كتب شيئًا ثمَّ راجعه، فإنه يزيد فيه وينقص، ويصحح ما يقع عليه نظره من الأخطاء التي مرَّت عليه في الإملاء بسبب سبق الخاطر أو القلم.

يقول ابن دريد ـ معتذرًا عما قد يقع في إملائه لكتاب جمهرة اللغة ـ: «فإن كنا أغفلنا من ذلك شيئًا؛ لم يُنكر علينا إغفاله؛ لأنا أمليناه حفظًا، والشذوذ مع الإملاء لا يُدفع». جمهرة اللغة، تحقيق: البعلبكي (3:1339)، وقال في موطن آخر (2:1085): «وإنما أملينا هذا الكتاب ارتجالاً، لا عن نسخة، ولا تخليد في كتاب قبله، فمن نظر فيه فليخاصم نفسه بذلك، فيعذر إن كان فيه تقصير أو تكرير».
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজের অনুমতিক্রমে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন।" [আল-মায়িদা: ১৫-১৬]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, সেই পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ, যাঁর মালিকানাধীন যা কিছু আসমানে আছে এবং যা কিছু যমীনে আছে।" [ইব্রাহিম: ১, ২]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহ (ওহী) নাযিল করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী; কিন্তু আমি একে করেছি এক জ্যোতি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পরিচালিত করছেন। সেই আল্লাহর পথ, যাঁর মালিকানাধীন আসমানসমূহে যা আছে এবং যমীনে যা আছে। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।" [আশ-শূরা: ৫২, ৫৩]

 

(৫) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সহজ করে দেওয়ার বরকতে এই ভূমিকাটি স্মৃতি থেকে লিপিবদ্ধ (إملاء الفؤاد) (১) করে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছি। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিকে হিদায়াতকারী।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: «স্মৃতি থেকে লিপিবদ্ধ করা (إملاء الفؤاد)» দুটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে:

প্রথমত: তিনি এটি তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে লিখেছেন এবং এই মাসআলাটির উত্তর লেখার জন্য তিনি তাফসিরের মূল উৎস বা অন্য কোনো কিতাবের শরণাপন্ন হননি।

দ্বিতীয়ত: তিনি এই ভূমিকাটি পুনর্নিরীক্ষণ করেননি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই ভূমিকায় যেসব সুস্পষ্ট ভুল সংঘটিত হয়েছে, তা মূলত পুনর্নিরীক্ষণহীন মুখস্থ লেখার কারণে হয়েছে। সুতরাং সেগুলোকে মনের অসতর্কতা ও বিভ্রম (الوهم) হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর মুখস্থ বলা বা লেখার ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব, যা সর্বজনবিদিত ও পরীক্ষিত। কেননা মানুষ যখন কোনো কিছু লেখে এবং পুনরায় তা পাঠ করে, তখন সে তাতে অনেক কিছু যোগ-বিয়োগ করে এবং মনের অসতর্কতা বা লেখনীর দ্রুততার কারণে ঘটে যাওয়া ভুলগুলো সংশোধন করে নেয়।

ইবনে দুরাইদ —তাঁর জামহারাতুল লুগাহ কিতাবটি স্মৃতি থেকে লিপিবদ্ধ করার সময় সংঘটিত হতে পারে এমন ত্রুটির ওজর পেশ করতে গিয়ে— বলেন: "যদি আমরা এর কোনো কিছুতে ভুল বা অবহেলা করে থাকি, তবে সেজন্য আমাদের অভিযুক্ত করা যাবে না; কারণ আমরা তা স্মৃতি থেকে বলেছি, আর স্মৃতি থেকে বলার ক্ষেত্রে বিচ্যুতি (شذوذ) এড়ানো যায় না।" (জামহারাতুল লুগাহ, তাহকিক: আল-বালবাকি ৩:১৩৩৯)। তিনি অন্য এক স্থানে (২:১০৮৫) বলেছেন: "আমি এই কিতাবটি তাৎক্ষণিকভাবে মুখস্থ বলেছি, কোনো পাণ্ডুলিপি বা পূর্ববর্তী কোনো কিতাব দেখে নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে দৃষ্টিপাত করবেন, তিনি যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন। ফলে এতে কোনো ত্রুটি বা পুনরাবৃত্তি থাকলে তিনি যেন তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌شرح مقدمة المؤلف
গ্রন্থকারের ভূমিকার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
-[مسائل مقدمة المؤلف]-

 

أولاً: ابتدأ المؤلف ببيان‌‌ سبب تأليف هذه المقدمة، وهو: أن بعض الإخوان سأله أن يبين له قواعد كلية تعينه على أمرين، هما:

1 - فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه.

2 - معرفة الدليل الفاصل بين الحق والباطل من الأقوال التي قيلت في التفسير.

ثانيًا: أشار المؤلف إلى أمرين متعلقين بالتفسير:

الأول: قوله: «فإنَّ الكتب المصنفة في التفسير مشحونة بالغث والسمين، والباطل الواضح والحق المبين».

والكتب المصنفة عنده على نوعين:

النوع الأول: الكتب التي تنقل أقوال السلف (أي: الصحابة والتابعين وأتباع التابعين) صِرْفَة (أي: غير مخلوطة بآراء المتأخرين)، وهذه يوجد فيها شيءٌ من الغثِّ من جهة النقل؛ كالمنقول عن بني إسرائيل.

النوع الثاني: كتب المتأخرين، ويوجد فيها الغثُّ من جهتين:

الجهة الأولى: جهة النقل؛ كالآثار الموضوعة في فضائل السور.

الجهة الثانية: جهة الرأي الفاسد، وهذا كثير في تفاسير المتأخرين.

وقد أشار إلى شيء من هذا عند حديثه عن النوع الثاني من مستندي الاستدلال، قال: «وأما النوع الثاني من مستندي الاختلاف وهو ما يعلم بالاستدلال لا بالنقل، فهذا أكثر ما فيه الخطأ من جهتين ـ حدثتا بعد تفسير
-[লেখকের ভূমিকার বিষয়াবলি]-

 

প্রথমত: লেখক এই ভূমিকাটি রচনার ‌কারণ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন, আর তা হলো: জনৈক দ্বীনি ভাই তাঁর নিকট এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি বর্ণনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন যা তাঁকে দুটি বিষয়ে সাহায্য করবে, সেগুলো হলো:

১ - কুরআন অনুধাবন এবং এর তাফসির ও অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

২ - তাফসিরের ক্ষেত্রে বর্ণিত বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী দলিল সম্পর্কে অবগত হওয়া।

দ্বিতীয়ত: লেখক তাফসির সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

প্রথমটি: তাঁর এই উক্তি: «নিশ্চয়ই তাফসির বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলো অসার ও সারগর্ভ এবং স্পষ্ট বাতিল ও সুস্পষ্ট হকের সংমিশ্রণে পরিপূর্ণ»।

আর তাঁর দৃষ্টিতে রচিত গ্রন্থগুলো দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: সেই সকল গ্রন্থ যা সলফদের (السلف) (অর্থাৎ: সাহাবি (صحابي), তাবেয়ি (تابعي) ও তাবে-তাবেয়িন (أتباع التابعين)) বক্তব্যসমূহ বিশুদ্ধভাবে (অর্থাৎ: পরবর্তী যুগের আলেমদের মতামতের সংমিশ্রণহীনভাবে) উদ্ধৃত করে। আর এগুলোতে বর্ণনার (نقل) দিক থেকে কিছু অসারতা বিদ্যমান রয়েছে; যেমন বনি ইসরাঈল থেকে বর্ণিত বিষয়সমূহ।

দ্বিতীয় প্রকার: পরবর্তী যুগের আলেমদের গ্রন্থসমূহ, এগুলোতে দুই দিক থেকে অসারতা বিদ্যমান:

প্রথম দিক: বর্ণনার (نقل) দিক থেকে; যেমন বিভিন্ন সূরার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত জাল (موضوع) বর্ণনা (أثر) সমূহ।

দ্বিতীয় দিক: ভ্রান্ত মতামতের দিক থেকে, আর পরবর্তী যুগের আলেমদের তাফসিরগুলোতে এর আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

আর তিনি যখন দলিল গ্রহণের দ্বিতীয় প্রকার ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন, তখন এর কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: «আর মতভেদের দ্বিতীয় প্রকার ভিত্তি হলো যা বর্ণনার (نقل) মাধ্যমে নয় বরং গবেষণালব্ধ প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায়, আর এর মধ্যেই দুই দিক থেকে ভুলের আধিক্য রয়েছে—যা তাফসিরের পরে উদ্ভূত হয়েছে
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان؛ فإن التفاسير التي يذكر فيها كلام هؤلاء صرفًا لا يكاد يوجد فيها شيء من هاتين الجهتين مثل تفسير عبد الرزاق، ووكيع، وعبد بن حميد، وعبد الرحمن بن إبراهيم دحيم، ومثل تفسير الإمام أحمد، وإسحاق بن راهويه، وبَقِي بن مخلد، وأبي بكر بن المنذر، وسفيان بن عيينة، وسنيد، وابن جرير، وابن أبي حاتم، وأبي سعيد الأشج، وأبي عبد الله بن ماجه، وابن مردويه …».

 

الثاني: أن‌‌ التفسير إما منقول وإما معقول، وقد ذكر هذه الجزئية وشرحها في فصل خاصٍّ، قال: «… منه ما مستنده النقل فقط، ومنه ما يعلم بغير ذلك؛ إذ العلم إما نقل مصدق وإما استدلال محقق، والمنقول إما عن المعصوم وإما عن غير المعصوم، والمقصود بأن جنس المنقول سواء كان عن المعصوم أو غير المعصوم ـ وهذا هو النوع الأول ـ منه ما يمكن معرفة الصحيح منه والضعيف، ومنه ما لا يمكن معرفة ذلك فيه.

وهذا القسم الثاني من المنقول ـ وهو ما لا طريق لنا إلى الجزم بالصدق منه ـ عامته مما لا فائدة فيه، فالكلام فيه من فضول الكلام، وأما ما يحتاج المسلمون إلى معرفته، فإن الله نصب على الحق فيه دليلاً».

 

ويَحْسُنُ أن يعلم‌‌ أن تحديد المنقول والمعقول من التفسير قضية نسبية تختلف باختلاف العصر، فقد يكون معقولاً في عصر ما هو منقول في عصر آخر، فإذا نظرت في عصر الصحابة فإن كل ما يروونه عن النبي صلى الله عليه وسلم من الأخبار المغيبة ـ بما فيها أخبار بني إسرائيل ـ وما يروونه من أسباب النُّزول = كل ذلك يعد منقولاً بالنسبة لهم، فيدخل في التفسير المنقول.

أما ما قالوه بآرائهم سواء اتفقوا فيه أو اختلفوا، كاختلافهم في المراد بلفظ (القرء) هل هو الطهر أم الحيض؟ والمراد بالعاديات هل هي الإبل أم الخيل؟ ونحو ذلك مما كان مستنده الرأي المحمود = فإنه يدخل في باب التفسير المعقول، وجُلُّ تفسير مفسري الصحابة من هذا القسم.
সাহাবিগণ, তাবেয়িগণ এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীগণের (তাবে-তাবেয়ি) ক্ষেত্রে; যে সকল তাফসিরে শুধুমাত্র তাঁদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এই দুটি দিকের (সমস্যার) কোনো অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। যেমন: আব্দুর রাজ্জাক, ওয়াকি, আব্দ ইবনে হুমাইদ, আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহিম দুহাইম-এর তাফসির এবং ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, বাকি ইবনে মাখলাদ, আবু বকর ইবনুল মুনজির, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, সুনাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসির …।

 

দ্বিতীয়ত: তাফসির হয় বর্ণিত (منقول) অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক (معقول), এবং তিনি এই অংশটি একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন: «… এর কিছু অংশের ভিত্তি কেবল বর্ণনা (نقل), আর কিছু অংশ তা ব্যতীত অন্য উপায়ে জানা যায়; কেননা জ্ঞান হয় সত্য প্রমাণিত বর্ণনা (نقل مصدق), না হয় সঠিক অনুসন্ধানলব্ধ দলিল (استدلال محقق)। আর বর্ণিত (منقول) বিষয়টি হয় নিষ্পাপ (معصوم) কারো পক্ষ থেকে, অথবা নিষ্পাপ নয় এমন কারো পক্ষ থেকে। উদ্দেশ্য হলো, বর্ণনার (منقول) ধরন চাই তা নিষ্পাপ ব্যক্তি থেকে হোক বা অন্য কারো থেকে—আর এটিই প্রথম প্রকার—তার মধ্যে কিছু অংশ এমন যার বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) হওয়া নিরূপণ করা সম্ভব, আর কিছু এমন যার ক্ষেত্রে তা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

আর বর্ণনার (منقول) এই দ্বিতীয় প্রকারটি—যা সত্য হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোনো পথ আমাদের কাছে নেই—তার অধিকাংশেই কোনো ফায়দা নেই। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করা অনর্থক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। আর মুসলমানদের যা জানা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা সে বিষয়ে হকের ওপর দলিল সাব্যস্ত করে দিয়েছেন।»

 

এটি জেনে রাখা ভালো যে, তাফসিরের ক্ষেত্রে বর্ণিত (منقول) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক (معقول) বিষয় নির্ধারণ করা একটি আপেক্ষিক বিষয় যা যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। কোনো এক যুগে যা বুদ্ধিবৃত্তিক (معقول) বলে গণ্য, অন্য যুগে তা বর্ণিত (منقول) হতে পারে। আপনি যদি সাহাবিদের যুগের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে তাঁরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গায়বি সংবাদসমূহ (বনি ইসরাইলি সংবাদসহ) এবং শানে নুযুল সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা করেন—তার সবই তাঁদের ক্ষেত্রে বর্ণিত (منقول) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং তা বর্ণিত তাফসিরের (التفسير المنقول) অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর তাঁরা নিজেদের রায়ের ভিত্তিতে যা বলেছেন, চাই তাতে তাঁরা একমত হোন কিংবা ভিন্নমত পোষণ করুন, যেমন (কুরআনের) 'কুরু' (القرء) শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য কী—পবিত্রতা নাকি ঋতুস্রাব? এবং 'আদিয়াত' (العاديات) দ্বারা উদ্দেশ্য কী—উট নাকি ঘোড়া? এজাতীয় যা কিছুর ভিত্তি ছিল প্রশংসিত রায় (الرأي المحمود)—তা বুদ্ধিবৃত্তিক তাফসিরের (التفسير المعقول) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর সাহাবি মুফাসসিরগণের অধিকাংশ তাফসির এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا نظرت في طبقة التابعين فإن المنقول بالنسبة لهم يشمل كل ما رواه الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم من الأخبار الغيبية والإسرائيليات، وما ذكروه من أسباب النُّزول، ويضاف إلى ذلك ما قاله الصحابة بآرائهم فإنه يعد أيضًا منقولاً بالنسبة للتابعين، وإن كان في أصله يعود إلى التفسير بالمعقول.

وإذا نزلت إلى طبقة أتباع التابعين فإن كل المنقولات التي ذُكِرَتْ للتابعين تُعَدُّ تفسيرًا منقولاً عندهم، ويضاف إليها ما نقلوه من معقول التابعين في التفسير.

ومعنى هذا: أن ضابط المنقول في عصر الصحابة يختلف عنه في عصر التابعين، وفي عصر التابعين يختلف عنه في عصر من بعدهم.

ويمكن القول أن دائرة المنقول تضيق بتقدم الزمان، وتتسع بتأخره.

فإذا رجعت ـ مثلاً ـ إلى كتاب زاد المسير في علم التفسير، لابن الجوزي (ت:597)، فالأقوال التي ينقلها المصنف هي بالنسبة لك منقولة، لأنه لا يمكن أن تعرفها إلا عن طريق النقل.

 

وبناءً على ما تقدم فإن‌‌ من بلغ درجة الاجتهاد في التفسير في العصر الحاضر فإن له مجالين:

المجال الأول: هو أن يجتهد في الاختيار بين أقوال المفسرين السالفين دون أن يخرج عنها.

مثال ذلك: للمفسرين قولان في معنى قوله تعالى: {وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا} [العاديات: 1]:

أحدهما: أنها الإبل.

والثاني: أنها الخيل.

فيُرَجِّح المجتهد المعاصر ـ مثلاً ـ أن المراد بالعاديات: الخيل؛ بدليل قوله تعالى: {فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًا} [العاديات: 2]؛ لأن الخيل هي التي
আপনি যখন তাবেয়ীদের (التابعين) স্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন, তখন তাদের ক্ষেত্রে বর্ণিত (منقول) বিষয়গুলো সেই সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে যা সাহাবীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অদৃশ্যের সংবাদ (أخبار غيبية) এবং ইসরাঈলী বর্ণনা (إسرائيليات) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁরা যা শানের নুযূল (أسباب النُّزول) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর সাথে যোগ হবে সাহাবীগণ তাদের নিজস্ব রায় বা মতামতের ভিত্তিতে যা বলেছেন, কারণ তাবেয়ীদের (التابعين) ক্ষেত্রে তাও বর্ণিত (منقول) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা মূলগতভাবে যুক্তিভিত্তিক তাফসীরের (التفسير بالمعقول) অন্তর্ভুক্ত।

আর আপনি যখন তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) স্তরে নামবেন, তখন তাবেয়ীদের (التابعين) জন্য যা কিছু বর্ণিত (منقولات) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তা তাদের কাছে বর্ণিত তাফসীর (تفسير منقول) হিসেবে গণ্য হবে। এর সাথে যুক্ত হবে তাবেয়ীদের (التابعين) যুক্তিভিত্তিক তাফসীর থেকে তারা যা বর্ণনা করেছেন।

এর অর্থ হলো: সাহাবীদের যুগে বর্ণিত (منقول) বিষয়ের মানদণ্ড তাবেয়ীদের (التابعين) যুগের মানদণ্ড থেকে ভিন্ন, আর তাবেয়ীদের (التابعين) যুগে তা তাদের পরবর্তী যুগের মানদণ্ড থেকে ভিন্ন।

এটা বলা যেতে পারে যে, সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে বর্ণিত (منقول) বিষয়ের পরিধি সংকীর্ণ হয় এবং সময়ের বিলম্বে তা প্রশস্ত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ইবনুল জাওযী (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.) রচিত যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর গ্রন্থের দিকে ফিরে তাকান, তবে গ্রন্থকার যে সকল অভিমত বর্ণনা করেছেন তা আপনার জন্য বর্ণিত (منقول), কারণ বর্ণনা (النقل) ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে তা জানা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, বর্তমান যুগে যারা তাফসীরের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (الاجتهاد) বা গবেষণার স্তরে পৌঁছেছেন, তাদের জন্য দুটি ক্ষেত্র রয়েছে:

প্রথম ক্ষেত্র: পূর্ববর্তী মুফাসসিরগণের অভিমতগুলোর মধ্য থেকে কোনোটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (يجتهد) করা, যাতে সেই অভিমতগুলোর বাইরে যাওয়া না হয়।

এর উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী {وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا} [আল-আদিয়াত: ১]-এর অর্থের ব্যাপারে মুফাসসিরগণের দুটি অভিমত রয়েছে:

একটি হলো: এগুলো উট।

দ্বিতীয়টি হলো: এগুলো ঘোড়া।

ফলে বর্তমান সময়ের একজন মুজতাহিদ (المجتهد) উদাহরণস্বরূপ প্রাধান্য (يُرَجِّح) দেবেন যে, 'আদিয়াত' বলতে ঘোড়া বোঝানো হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণী {فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًا} [আল-আদিয়াত: ২]-এর দলীলের ভিত্তিতে; কারণ ঘোড়া হচ্ছে সেই প্রাণী যা...
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
يظهر فيها إيراء النار، بسبب الضرب الشديد على الحصى.

فهذا ترجيح مستنده العقل، وهو يدخل في باب التفسير بالرأي، وإن كان المُرَجَّح هو من التفسير المنقول.

فإذا نُظِرَ إلى نفس الأقوال المحكية في التفسير فهي بالنسبة للمجتهد المعاصر من التفسير المنقول، وإذا نظرنا إلى الترجيح بينها فهو من التفسير المعقول.

المجال الثاني: هو أن يأتي المفسر بمعنى جديد لم يذكره المتقدمون، وهذا يظهر جليًا فيما يسمى بالتفسير العلمي الذي يستعين بالعلوم التجريبية في معرفة معاني الآيات القرآنية.

ومثال ذلك ـ وهو مثال للدراسة وليس للتقرير ـ: أن المفسرين ذكروا في قوله تعالى: {وَالأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا} [النازعات: 30] قولين عن السلف:

أحدهما: أن دحاها بمعنى بسطها.

والثاني: أن (دحاها) يفسرها ما بعدها، فيكون معناها: {أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا} [النازعات: 31] وما بعدها.

ولم ينقل عن السلف غير هذين القولين في تفسير الآية.

وأما في هذا العصر فتجد أنه ظهر رأي جديد يقول بأن الدَّحْوَ هنا بمعنى التكوير والاستدارة، فتكون لفظة (دحاها) بمعنى كوَّرها، يعني جعلها كالكُرَةِ، وهذا رأي جديد لم يقل به المتقدمون من المفسرين (1).

ثالثًا: أن التفسير إما أن يكون منقولاً عن معصوم وهذا هو التفسير

--------------------------------------------

(1) وهذا المجال من التفسير له ضوابطه وشروطه، وليس هذا محل ذكرها وإنما المراد هنا هو التمثيل فقط.
সেখানে কঙ্করের ওপর তীব্র আঘাতের কারণে আগুনের স্ফুলিঙ্গ প্রকাশ পায়।

সুতরাং এটি এমন একটি অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) যার ভিত্তি হলো বিবেক (عقل), আর এটি রায়-নির্ভর তাফসির (التفسير بالرأي)-এর অন্তর্ভুক্ত, যদিও যে মতটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তা বর্ণিত তাফসির (التفسير المنقول)-এর অংশ।

অতএব যদি তাফসিরের ক্ষেত্রে বর্ণিত মূল বক্তব্যগুলোর দিকে লক্ষ করা হয়, তবে একজন সমসাময়িক গবেষকের (مجتهد) নিকট সেগুলো বর্ণিত তাফসির (التفسير المنقول)-এর অন্তর্ভুক্ত; আর আমরা যখন সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করি, তখন তা বুদ্ধিবৃত্তিক তাফসির (التفسير المعقول)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তাফসিরকারক (مفسر) এমন কোনো নতুন অর্থ উপস্থাপন করবেন যা পূর্ববর্তীগণ (متقدمون) উল্লেখ করেননি। এটি স্পষ্টত বৈজ্ঞানিক তাফসিরের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, যা কুরআনের আয়াতসমূহের মর্মার্থ অনুধাবনে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সহায়তা গ্রহণ করে।

এর উদাহরণ—যা পর্যালোচনার জন্য, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নয়—হলো: মহান আল্লাহর বাণী: “আর এর পরে তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন (دحاها)” [নাযিয়াত: ৩০]—এর ব্যাখ্যায় তাফসিরকারকগণ (مفسرون) পূর্বসূরিদের (سلف) থেকে দুটি মত উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: ‘দাহাহা’ (دحاها) অর্থ হলো একে বিছিয়ে দেওয়া বা বিস্তৃত করা (بسطها)।

দ্বিতীয়টি: ‘দাহাহা’ (دحاها)-এর ব্যাখ্যা দেবে এর পরবর্তী অংশ, ফলে এর অর্থ হবে: “তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি নির্গত করেছেন” [নাযিয়াত: ৩১] এবং এর পরবর্তী অংশ।

এই আয়াতের তাফসিরে পূর্বসূরিদের (سلف) থেকে এই দুটি মত ছাড়া অন্য কিছু বর্ণিত হয়নি।

আর বর্তমান যুগে দেখা যায় যে, একটি নতুন মতের উদ্ভব হয়েছে যা বলে যে, এখানে ‘দাহউ’ (الدحو) অর্থ হলো গোল করা বা বৃত্তাকার করা। ফলে ‘দাহাহা’ (دحاها) শব্দটির অর্থ হবে একে গোলাকার করা (كورها), অর্থাৎ একে একটি গোলকের মতো তৈরি করা। এটি এমন একটি নতুন মত যা পূর্ববর্তী তাফসিরকারকগণ (متقدمون) বলেননি (১)।

তৃতীয়ত: তাফসির হয় কোনো নিষ্পাপ (معصوم) ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হবে এবং এটিই হলো সেই তাফসির

--------------------------------------------

(১) তাফসিরের এই ক্ষেত্রের নিজস্ব মূলনীতি (ضوابط) ও শর্তাবলি (شروط) রয়েছে; এটি সেগুলো আলোচনার স্থান নয়, বরং এখানে উদ্দেশ্য কেবল উদাহরণ পেশ করা।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
النبوي، وإما أن لا يكون كذلك، ويدخل فيه أقوال جميع المفسرين باختلاف عصورهم، وإن كان لتفسير السلف ميزة على تفسير غيرهم، لاعتبارات يأتي بيانها إن شاء الله تعالى.

فأما الأول ـ وهو التفسير النبوي ـ: فهذا إذا ثبت نقلاً كان حجة بلا ريب.

وأما الثاني ـ وهو ما عدا التفسير النبوي ـ: فلا يكون حجة حتى يقوم عليه دليل معلوم (1).

رابعًا: في ضوء ما سبق يكون التفسير بالرأي منقسمًا إلى قسمين:

القسم الأول: الرأي الصحيح وهو نوعان:

أحدهما: أن يتخير من أقوال السابقين.

والثاني: أن يأتي بمعنى صحيح تحتمله الآية ولا يناقض قول السلف.

القسم الثاني: الرأي الباطل، وهو الذي يكون عن جهل أو عن هوى.

 

خامسًا: أن الأمة بحاجة إلى أن تفهم القرآن، وهذا بالنسبة لعامة الأمة، ف‌‌تعلم تفسير القرآن من فروض الكفايات التي لا يجوز أن تخلو الأمة من قائم بها، فإذا قام بالتفسير من يكفي فلا يجب على الفرد أن يتعلم منه إلا ما يقيم به دينه.

وهذه الحاجة الماسة لا تختصُّ بجيل دون جيل، وإن كان الجيل الذي نعيشه اليوم قد ظهرت فيه انحرافات علمية كثيرةٌ، ودعوات مشككة بتراث المفسرين السابقين، وهجوم ينحو إلى تضعيف بعض فهم السابقين لكتاب الله بأي شكل من أشكال كتابة هذه الدعوات المتهجِّمة، فصارت الحاجة ـ اليوم ـ ملحَّة إلى تفهيم كلام الله سبحانه على الوجه الصحيح، وضبط

--------------------------------------------

(1) ستأتي أمثلة هذا في طرق التفسير (التفسير بالسنة).
নবিজি-সংক্রান্ত (النبوي), অথবা যা এমন নয়। আর এর মধ্যে সকল যুগের সকল মুফাসসিরের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও অন্যদের তাফসিরের ওপর সালাফদের (পূর্বসূরি) তাফসিরের বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে এমন কিছু বিবেচনার ভিত্তিতে যা ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণিত হবে।

প্রথম প্রকার—যা হলো নবিজি-সংক্রান্ত তাফসির (التفسير النبوي)—তা যদি নির্ভরযোগ্য বর্ণনার (نقلاً) মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।

আর দ্বিতীয় প্রকার—যা নবিজি-সংক্রান্ত তাফসির ব্যতীত অন্য কিছু—তা ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল (حجة) হবে না, যতক্ষণ না এর সপক্ষে কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ (دليل) উপস্থাপিত হয় (১)।

চতুর্থত: পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে ব্যক্তিগত অভিমতভিত্তিক তাফসির (التفسير بالرأي) দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: সঠিক রায় (الرأي الصحيح), যা আবার দুই ধরনের:

এক. পূর্বসূরিদের বক্তব্যসমূহ থেকে কোনোটিকে বেছে নেওয়া।

দুই. এমন কোনো সঠিক অর্থ উপস্থাপন করা যার অবকাশ আয়াতের মধ্যে রয়েছে এবং যা সালাফদের (পূর্বসূরি) বক্তব্যের পরিপন্থী নয়।

দ্বিতীয় প্রকার: ভ্রান্ত রায় (الرأي الباطل), যা অজ্ঞতা অথবা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে উৎসারিত হয়।

 

পঞ্চমত: উম্মাহর কুরআন বোঝার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, আর এটি উম্মাহর সাধারণ স্তরের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং কুরআনের তাফসির শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া (فروض الكفايات) -এর অন্তর্ভুক্ত, যাতে কোনো যুগেই উম্মাহর মধ্যে এই কাজ আঞ্জাম দেওয়ার মতো লোকের অভাব হওয়া বৈধ নয়। অতএব, পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক যদি তাফসিরের দায়িত্ব পালন করেন, তবে সাধারণ ব্যক্তির ওপর তা শেখা আবশ্যক নয়, তবে ততটুকু পরিমাণ ব্যতীত যা দ্বারা তার দ্বীন পালন সঠিক হয়।

আর এই তীব্র প্রয়োজন কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; যদিও আমরা আজ যে প্রজন্মের মধ্যে বসবাস করছি, তাতে বহু জ্ঞানগত বিচ্যুতি এবং পূর্ববর্তী মুফাসসিরদের ঐতিহ্যের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টিকারী প্রচারণার প্রকাশ ঘটেছে। পাশাপাশি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে পূর্বসূরিদের কোনো কোনো উপলব্ধিকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার প্রবণতাসম্পন্ন আক্রমণাত্মক লেখালেখিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে আল্লাহর কালামকে সঠিক পদ্ধতিতে বোঝানো এবং তা যথাযথভাবে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা আজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ (সুন্নাহর আলোকে তাফসির) শীর্ষক আলোচনায় এর উদাহরণসমূহ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأصول التي يهتدي بها طلاب العلم لمعرفة الصحيح من التفسير من الأباطيل.

ومن هنا فإن من المستحسن لطلاب علم التفسير أن يسيروا على قواعد واضحة ثابتة يرجعون إليها حال الاختلاف، وهذه القواعد العلمية في التفسير مبثوثة في كتب أهل العلم، وقد جُمِع شيءٌ منها في رسائل علمية، ولا زالت الحاجة قائمة إلى جمع ما بقي منها مما يتعلق بأصول هذا العلم.
সেই সকল মূলনীতি (الأصول) যার মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীরা তাফসীরের সঠিক (صحيح) বিষয়সমূহকে বাতিল বা ভিত্তিহীন বিষয়সমূহ থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে হেদায়েত লাভ করেন।

আর এ কারণেই তাফসীর শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বাঞ্ছনীয় যে, তারা এমন কিছু স্পষ্ট ও সুদৃঢ় মূলনীতির (قواعد) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে যার দিকে তারা মতভেদের সময় প্রত্যাবর্তন করবে। তাফসীরের এই জ্ঞানতাত্ত্বিক মূলনীতিসমূহ (قواعد) বিজ্ঞ আলেমগণের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং সেগুলোর কিছু অংশ গবেষণামূলক প্রবন্ধে সংকলিত হয়েছে। তবে এই শাস্ত্রের মূলনীতির (أصول) সাথে সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট বিষয়গুলো সংকলন করার প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুকাদ্দিমাতিন ফী উসূলিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌بيان النبي صلى الله عليه وسلم معاني القرآن لأصحابه رضي الله عنهم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণের (الصحابة) নিকট কুরআনের মর্মার্থের ব্যাখ্যা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)