(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
المحرر في علوم القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المحرر في علوم القرآن
المؤلف: د مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار
الناشر: مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي
الطبعة: الثانية، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 320
الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1435
আল-মুহাররার ফি উলুমিল কুরআন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতিসমূহ (أصول التفسير)
গ্রন্থ: আল-মুহাররার ফি উলুমিল কুরআন
লেখক: ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আল-তাইয়্যার
প্রকাশক: ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০
গ্রন্থটি লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - মাকতাবা শামিলার জন্য একটি উপহার
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১)
المحرر في علوم القرآن
حُكِّم هذا الإصدار التحكيم العلمي المتعارف عليه
الناشر
مركز الدراسات والمعلومات القرآنية
بمعهد الإمام الشاطبي
التابع للجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمحافظة جدة
ص. ب 100 جدة 21411
هاتف: 6523333 تحويلة 221 - 227
فاكس: 6524444
E-Mail:drasat1@gmail.com
عنوان موقع المعهد www.shatiby.edu.sa
المحرر في علوم القرآن
تأليف
مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار
আল-মুহাররার ফি উলূমিল কুরআন
এই প্রকাশনাটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরীক্ষণ করা হয়েছে
প্রকাশক
কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র
ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউট
জেদ্দা প্রদেশের পবিত্র কুরআন হিফজ সংক্রান্ত চ্যারিটেবল সোসাইটির অধিভুক্ত
ডাক বক্স ১০০ জেদ্দা ২১৪১১
ফোন: ৬৫২৩৩৩৩ এক্সটেনশন ২২১ - ২২৭
ফ্যাক্স: ৬৫২৪৪৪৪
ই-মেইল:drasat1@gmail.com
ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.shatiby.edu.sa
আল-মুহাররার ফি উলূমিল কুরআন
রচনায়
মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসির আল-ত্বাইয়্যার
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
المحرر في علوم القرآن
কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) বিষয়ক পরিমার্জিত গ্রন্থ (المحرر)
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصديرالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، وبعد:
فقد دأبت كثير من المؤسسات الرسمية والخيرية بمراجعة مناهجها ومقرراتها الدراسية بين الفينة والأخرى طلباً لتطوير المقررات بما يتلاءم مع حجم التغيير المطلوب من خلال تدريسها لتلك المقررات، وكان لمعهد الإمام الشاطبي التابع للجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن بمحافظة جدة نصيب وافر من تلك المراجعات، فعهد إلى لجنة من المتخصصين مراجعة المناهج الدراسية لدبلوم إعداد معلمي ومعلمات القرآن الكريم الذي يُعنى بتخريج معلمين ومعلمات مؤهلين تأهيلاً عالياً لتدريس القرآن الكريم، فكان من توصيات اللجنة الحاجة إلى استكتاب بعض المتخصصين لوضع مناهج مقررات عدة بما يتناسب مع الدور المطلوب من معلم القرآن، وكان منها مقرر علوم القرآن، فقد عهد مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي لفضيلة شيخنا الدكتور مساعد بن سليمان الطيار ـ وفقه الله ـ بكتابة المقرر وفق الخطة الدراسية المعتمدة من قبل لجنة تطوير المناهج بالمعهد، وقد تم تدريس الكتاب لفصل دراسي واحد، ومن ثم تم تحكيم المقرر من عدد من الأساتذة المتخصصين قبل طباعته. فجاء كتاباً كاسمه محرراً في علوم القرآن تعاقبت عليه أيدٍ كثيرة ليخرج بالصورة المرضيّة مشتملاً على مادة علمية قيمة بأسلوب سلس موثق يقرب المعلومات إلى أذهان الطلاب ويتدرج في طرح الموضوعات بشكل علمي رصين.
وإني لأنتهز هذه الفرصة لأشكر فضيلة الشيخ الدكتور مساعد الطيار
ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরগণের ওপর। অতঃপর:
অনেক সরকারি ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান তাদের পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যক্রমগুলো সময় সময় পর্যালোচনার ধারা বজায় রেখেছে, যাতে পাঠদানের মাধ্যমে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রমগুলোর উন্নয়ন ঘটানো যায়। জেদ্দা প্রদেশের কুরআন মুখস্থকরণ বিষয়ক জনকল্যাণ সংস্থা ‘আল-জামইয়াহ আল-খাইরিয়্যাহ লি-তাহফিজিল কুরআন’-এর অন্তর্গত ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটও এই পর্যালোচনামূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘ডিপ্লোমা ইন প্রিপারেশন অফ কুরআন টিচার্স’-এর পাঠ্যসূচি পর্যালোচনার দায়িত্ব একদল বিশেষজ্ঞের ওপর অর্পণ করেছিল। এই ডিপ্লোমার মূল লক্ষ্য হলো কুরআন মাজিদ পাঠদানের জন্য উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকা তৈরি করা। উক্ত কমিটির অন্যতম একটি সুপারিশ ছিল কুরআনের শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত ভূমিকার সাথে সংগতি রেখে বেশ কিছু বিষয়ের পাঠ্যক্রম রচনার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অনুরোধ করা।
তার মধ্যে একটি বিষয় ছিল উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)। ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের ‘সেন্টার ফর কুরআন স্টাডিজ অ্যান্ড ইনফরমেশন’ আমাদের সম্মানিত শায়খ ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান আত-তায়্যারকে —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন— ইনস্টিটিউটের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী এই পাঠ্যক্রমটি রচনার দায়িত্ব প্রদান করে। বইটি একটি শিক্ষাবর্ষের সেশনের জন্য পাঠদান করা হয়েছে এবং এরপর মুদ্রণের পূর্বে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকের মাধ্যমে এই পাঠ্যক্রমটি বিচার-বিশ্লেষণ বা যাচাই করা হয়েছে। ফলে বইটি এর নামের মতোই উলূমুল কুরআনের একটি পরিমার্জিত (محرر) গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার ওপর অনেকের হাত পড়েছে যেন এটি একটি সন্তোষজনক রূপে প্রকাশিত হয়। এটি অত্যন্ত সাবলীল ও প্রামাণ্য (موثق) শৈলীতে মূল্যবান বৈজ্ঞানিক উপকরণ সমৃদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের নিকট তথ্যসমূহকে সহজবোধ্য করে তোলে এবং অত্যন্ত সুদৃঢ় তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
আর আমি এই সুযোগে শ্রদ্ধেয় শায়খ ড. মুসাঈদ আত-তায়্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
على استجابته لنا في كتابة هذا المقرر، وليس هذا بغريب عليه، فدعمه العلمي بدأ منذ نشأة مركز الدراسات والمعلومات القرآنية، وما زال متواصلاً جزاه الله خيراً.
وفي الختام نرجو من المطلع والباحث الكريم ألا يبخل علينا بملاحظاته على هذا المقرر وما ستعقبه من إصدارات؛ وذلك للنهوض والرقي بتخصص الدراسات القرآنية، خدمةً للقرآن وأهله؛ فهذه التخصصات والعلوم القرآنية مما تفتقر إليه المكتبة الإسلامية.
ومُعلِّم القرآن الكريم بأمس الحاجة إلى التعمق في مجال علوم القرآن لمعرفة الكثير عن المجال الذي يعمل فيه وليتعد أثر ذلك إيجاباً على حلقات التحفيظ ورفع مستوى الفهم والإدراك بالخبرة والمهارة والمدارسة. وفق الله الجميع لخدمة كتابه الكريم.
رئيس الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمحافظة جدة عبد العزيز بن عبد الله حنفي
এই পাঠ্যক্রমটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার জন্য [তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা], আর এটি তাঁর জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়; কেননা 'কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা শুরু হয়েছে এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
পরিশেষে, আমরা বরেণ্য পাঠক ও গবেষকদের নিকট আশা রাখি যে, তাঁরা এই পাঠ্যক্রম এবং এর পরবর্তীতে প্রকাশিতব্য সংকলনসমূহের ওপর তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদানে কার্পণ্য করবেন না; যেন কুরআন ও এর ধারক-বাহকদের খেদমতে কুরআন বিষয়ক বিশেষায়িত গবেষণাকে (الدراسات القرآنية) আরও বেগবান ও উন্নত করা যায়। মূলত ইসলামী গ্রন্থাগারগুলোতে এই বিশেষায়িত শাখা ও উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) বেশ অভাব রয়েছে।
একজন কুরআন শিক্ষকের জন্য উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) গভীরে অবগাহন করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে তিনি যে ক্ষেত্রে নিয়োজিত আছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন এবং এর ইতিবাচক প্রভাব যেন হিফজ মজলিসসমূহের (حلقات التحفيظ) ওপর প্রতিফলিত হয়। সেইসাথে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে অনুধাবন ও উপলব্ধির স্তর যেন বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা সকলকে তাঁর মহান কিতাবের সেবায় নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন।
জেদ্দা প্রদেশের কুরআন হিফজ চ্যারিটেবল সোসাইটির সভাপতি, আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ হানাফী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الثانية
الحمد لله ذي النعم، يبدي ويعيد، وهو على كل شيء قدير، وأصلي وأسلم على البشير النذير، وعلى آله الطيبين، وعلى أصحابه الغرِّ الميامين، وعلى التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فقد منَّ الله بنفاذ الطبعة الأولى من الكتاب، ولما أراد الإخوة في معهد الشاطبي إعادة طباعته نشرت في ملتقى أهل التفسير (www.tafsir.net) طلب الملحوظات على الكتاب، فجاءتني ملحوظات واستفسارات استفدت منها في إخراج الكتب في طبعته الثانية.
الجديد في هذه الطبعة:
أولاً: إجراء التصويبات التي نبَّه عليها الإخوة الذين أرسلوا إلي بملاحظاتهم، وإزالة بعض الإشكالات التي كانت في بعض العبارات بتعديلها، أو إضافة فقرة في المتن أو في الحاشية لتوضيحها.
ثانياً: حذف المقدمة التي جعلتها لكل نوع باسم (إضاءات وإرشادات)، وقد تَمَّ في موضوعاتها الآتي:
1 - إبقاء علاقة النوع بغيره من أنواع القرآن في مقدمة كل فصل تحت عنوان (علاقة هذا النوع بغيره من أنواع علوم القرآن).
2 - بعض الملحوظات التي كتبتها على النوع الذي أدرسه قام الأخ فؤاد أبو الغيث بسبكه في كلامي في الفصل نفسه الذي تكلمت فيه عن النوع من أنواع علوم القرآن، لكي لا يكون الكلام عن النوع في موطنين فيقع التشتيت للذهن.
3 - المراجع التي ذكرتها في مقدمة كل فصل؛ جعلها في آخر كل
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি নেয়ামতসমূহের দাতা, তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন ও পুনরায় সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (রাসূল) এর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, মর্যাদাশালী ও বরকতময় সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের (التابعين) প্রতি। অতঃপর:
আল্লাহর অনুগ্রহে বইটির প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। যখন আশ-শাতিবি ইনস্টিটিউটের ভাইয়েরা এটি পুনর্মুদ্রণের ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন আমি 'মুলতাকা আহলিল তাফসির' (www.tafsir.net) নামক প্ল্যাটফর্মে বইটির ব্যাপারে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্ট করি। সেখান থেকে আমি কিছু পর্যবেক্ষণ ও জিজ্ঞাসা প্রাপ্ত হই যা থেকে আমি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি।
এই সংস্করণে নতুন যা রয়েছে:
প্রথমত: যে সকল ভাই তাদের পর্যবেক্ষণসমূহ পাঠিয়ে আমাকে সচেতন করেছেন, সেই অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে। কিছু বাক্যের মধ্যকার অস্পষ্টতা পরিমার্জনের মাধ্যমে দূর করা হয়েছে অথবা তা স্পষ্ট করার জন্য মূল পাঠ্য (متن) বা টীকায় (حاشية) কোনো অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: প্রতিটি বিষয়ের শুরুতে আমি 'আলোকপাত ও নির্দেশনাবলি' (إضاءات وإرشادات) শিরোনামে যে ভূমিকা রেখেছিলাম তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিষয়বস্তুগুলো নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
1 - প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) অন্যান্য শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সম্পর্ক 'কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) অন্যান্য প্রকারের সাথে এই প্রকারের সম্পর্ক' শিরোনামের অধীনে বহাল রাখা হয়েছে।
2 - আলোচিত বিষয়ের ওপর আমার লেখা কিছু পর্যবেক্ষণ ভাই ফুয়াদ আবু আল-গাইস সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের আলোচনার ভেতরেই আমার বক্তব্যের সাথে সমন্বয় করে দিয়েছেন যেখানে আমি কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করেছি। যাতে করে একই বিষয়ের আলোচনা দুই স্থানে না থাকে এবং পাঠকের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না হয়।
3 - প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আমি যে তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করেছিলাম; সেগুলো প্রত্যেকটির শেষে রাখা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
فصل تحت عنوان (قراءات مقترحة في الموضوع)، ثم أتبعها بذكر بعض البحوث المقترحة فيه.
ثالثاً: شرح تقرير اللجنة العلمية للطبعة الثانية من مصحف المدينة، التي رأسها الدكتور علي بن عبد الرحمن الحذيفي بدلاً من شرح تقرير النسخة الأولى التي كانت لجنتها العلمية برئاسة الأستاذ الدكتور عبد العزيز بن عبد الفتاح القاري، والذي تم شرحه في الطبعة الأولى؛ لاعتماد الطبعات الحديثة على الطبعة الثانية
…رابعاً: إضافة ملحق في آخر الكتاب وضع به جدول يبين العلاقات بين أنواع علوم القرآن المذكورة في الكتاب، وقد جمعت هناك ليسهل رؤيتها في مكان واحد، وعسى الله أن ييسر في طبعات أخرى أن تبين العلاقات بين جميع أنواع علوم القرآن.
وفي الختام تجدر الإشادة بجهود الإخوة الباحثين في مركز الدراسات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي لما أولوا الكتاب من عناية واهتمام في طبعته الأولى بقيام الأخ الدكتور خالد واصل بترتيب الكتاب وتنسيقه وفهرسة مسائله، وقيام الأخ الأستاذ طارق الواحدي بتخريج أحاديث الكتاب، ثم ما قام به الأخ الأستاذ فؤاد أبو الغيث في طبعته الثانية من قراءة الكتاب قراءة نقدية استفدت منها فائدة كبيرة بالإضافة إلى ترتيبه (الإرشادات والإضاءات) التي كانت في بداية كل فصل وإدخالها في أصل الكتاب، وصنع جدول العلاقات بين أنواع علوم القرآن الملحق في آخر الكتاب. فجزاهم الله خير الجزاء.
وأسال الله العلي العظيم أن يبارك في هذا العمل ويتقبله مني إنه جواد كريم.
(বিষয়টির ওপর ‘প্রস্তাবিত পাঠসমূহ’ শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ), এরপর আমি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রস্তাবিত গবেষণার কথা উল্লেখ করেছি।
তৃতীয়ত: মদিনা মুসহাফের দ্বিতীয় মুদ্রণের বৈজ্ঞানিক কমিটির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা, যার প্রধান ছিলেন ডক্টর আলী বিন আব্দুর রহমান আল-হুজাইফী। এটি প্রথম সংস্করণের প্রতিবেদনের ব্যাখ্যার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে, যার বৈজ্ঞানিক কমিটির প্রধান ছিলেন প্রফেসর ডক্টর আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আল-কারী এবং যা প্রথম সংস্করণে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল; কারণ বর্তমান সময়ের মুদ্রণগুলো দ্বিতীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভরশীল
...চতুর্থত: বইয়ের শেষে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে একটি ছক দেওয়া হয়েছে যা বইটিতে উল্লিখিত উলূমুল কুরআনের প্রকারভেদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক প্রদর্শন করে। এগুলোকে সেখানে একত্রিত করা হয়েছে যাতে এক স্থানে তা সহজে দেখা যায়। আশা করি আল্লাহ পরবর্তী সংস্করণগুলোতে উলূমুল কুরআনের সকল প্রকারের মধ্যকার সম্পর্কগুলো বর্ণনা করা সহজ করে দেবেন।
পরিশেষে, ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভাইদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা বাঞ্ছনীয়, কারণ তারা প্রথম সংস্করণে বইটির প্রতি যথেষ্ট যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন। ভাই ডক্টর খালিদ ওয়াসিল বইটির বিন্যাস, সজ্জা এবং বিষয়বস্তুর সূচি প্রণয়ন করেছেন; ভাই প্রফেসর তারিক আল-ওয়াহিদি বইয়ের হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছেন; এরপর দ্বিতীয় সংস্করণে ভাই প্রফেসর ফুয়াদ আবু আল-গাইস বইটি সমালোচনামূলক পাঠ করেছেন যা থেকে আমি প্রভূত উপকৃত হয়েছি। এছাড়া তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে থাকা (নির্দেশনা ও আলোকপাত) অংশগুলো বিন্যস্ত করে মূল বইয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বইয়ের শেষে সংযুক্ত উলূমুল কুরআনের প্রকারভেদ সংক্রান্ত সম্পর্কের ছকটি তৈরি করেছেন। আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি সুউচ্চ মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজে বরকত দান করেন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الطبعة الأولىالحمد لله الذي أنزل الكتاب على عبده ليكون للعالمين نذيراً، والصلاة والسلام على رسوله محمد، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فإن من عظمة هذا القرآن الكريم تلك الدراسات المتكاثرة التي تدور في فلكه، بحيث لا يمكن حصرها والإحاطة بها، وانظر على سبيل المثال عدد مخطوطات التفسير، ووازنها بعدد المطبوع = تجد أن المطبوع لا يمثِّل عشر عدد المخطوط، فما بالك في غيره من الدراسات المرتبطة بالقرآن الكريم.
هذا، ولقد كان اعتناء العلماء بالقرآن وعلومه مما لا يخفى، فما تكاد تجد عالماً من علماء هذه الأمة إلا وله مشاركة في أحد علوم القرآن الكريم.
ولقد تنامت هذه الدراسات في علومه، حتى ظهرت كتب تجمع عدداً منها، ثم جاءت محاولة استقصاء علومه عند الزركشي (ت794هـ)، ثم عند البلقيني (ت824هـ)، ثمَّ خُتِم الأمر بالسيوطي (ت911هـ)، ولا يعني هذا تأخر الكتابة في علوم القرآن، إذ قد يكون فيه من الكتب ما هو على منوال هذا الجمع الذي يذهب إلى الاجتهاد في استقصاء علومه لكننا لم نطلع عليه بعد.
وإن علوم القرآن لا زالت بحاجة إلى تنقيح وتحرير، فكم من موضوع يظنُّ القارئ أنه مما انتهى فيه الأمر، واتفقت فيه الكلمة، بل قد يَمُرُّ على ما يعارضه فلا ينتبه له؛ لأن الأفكار السابقة التي كونها من خلال قراءته قوية ومؤثرة بحيث صار العقل ينكر ما يتعارض مع هذه الأفكار أو
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। আর তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য গবেষণাকর্ম, যা গণনা করা বা পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, তাফসীরের পাণ্ডুলিপিগুলোর সংখ্যার দিকে তাকান এবং মুদ্রিত কপির সাথে সেগুলোর তুলনা করুন; আপনি দেখতে পাবেন যে মুদ্রিত গ্রন্থগুলো পাণ্ডুলিপির এক দশমাংশও নয়। তাহলে কুরআন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জ্ঞানকাণ্ডের অবস্থা কী হতে পারে!
উল্লেখ্য যে, কুরআন এবং এর জ্ঞানসমূহের প্রতি আলেমদের বিশেষ যত্ন ও গুরুত্বারোপ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই উম্মতের এমন কোনো আলেম হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার কুরআনের কোনো না কোনো শাখার গবেষণায় অবদান নেই।
কুরআনের এই জ্ঞানসমূহের চর্চা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি এর বহু শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে সংকলিত গ্রন্থাদি প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে যারাকশী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরী), তারপর বুলকিনী (মৃত্যু: ৮২৪ হিজরী) এবং সবশেষে সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরী) কুরআনের জ্ঞানসমূহকে বিস্তারিতভাবে সংকলন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, উলূমুল কুরআনের লিখনী অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে; বরং এমন অনেক গ্রন্থ থাকতে পারে যা গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে এই জ্ঞানসমূহকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংকলন করার ক্ষেত্রে এই ধারারই অনুসারী, কিন্তু আমরা এখনও সেগুলো সম্পর্কে অবহিত হতে পারিনি।
প্রকৃতপক্ষে কুরআনের জ্ঞানসমূহ এখনও পরিমার্জন ও চুলচেরা বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী। কত এমন বিষয় রয়েছে যা সম্পর্কে পাঠক ধারণা করেন যে তা চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বরং অনেক সময় তিনি এর বিপরীত কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হলেও সেদিকে খেয়াল করেন না; কারণ তার পাঠের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পূর্ববর্তী ধারণাগুলো এতটাই প্রবল ও প্রভাবশালী হয়ে থাকে যে, বিবেক তখন সেই সব ধারণার পরিপন্থী বিষয়গুলোকে অস্বীকার করতে থাকে অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
يتجاهلها، فإذا دَخَلتْ هذه الموضوعات في محل النقاش والجدل العلمي بان ما فيها من حاجة إلى تحرير وتنقيح.
وإن مما يحسن أن يُعنى به طالب علوم القرآن الانتباه للأمثلة، وتقييدها، ودراستها للخروج بصورة صحيحة عن الموضوع الذي سيدرسه، ومتى أخذ بعض الموضوعات غير المحرَّرة على سبيل القبول دون النظر في الأمثلة المتكاثرة التي تخالف ذلك التقرير لم يستطع الوصول إلى بعض الحقائق المهمة في الموضوع.
وقد يقول قائل: ألا يعني هذا أننا سنفتش مرة بعد مرة في كل موضوعات علوم القرآن، ولن يقنع الآخِرُ بما وصل إليه الأول؟
أقول: نعم، إن هذا الاستفسار صحيح، وهو في محلِّه، وليس هناك ما يمنع من النظر والتقليب مرة بعد مرة ما دام الأمر يعمد إلى قضايا يسوغ فيها النظر والاجتهاد، ولست أرى أنك ملزم بقول فلان أو علان ما دام ظهر لك الحق، وبان لك الخطأ في قوله، فالعالِم الحق لا يرضى لنفسه أن تتبعه وأن تعتقد أنك وصلت إلى الصواب، فكل يؤخذ من قوله ويرد سوى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وليس في ذلك أي غضاضة أو انتقاص ما دام سبيل الأدب والمحبة والترحُّم على أسلافنا هو السبيل الذي نسلكه. بل لن ترتقِي دراساتنا وعلومنا إذا لم نسلك هذا السبيل، وسنبقى في انحصار ذهني لا يمكننا الخروج منه لخوفنا من المخالفة العلمية.
وإن مما هو مشاهد وظاهر في العلوم أن الاختلاف لا يمكن أن ينقطع، بل هو سنة كامنة فيه لا تنفك عنه، وإنك قد تعجب في بعض الأحيان من وضوح حجتك التي تحتج بها ويخالفك فيها مخالف، وتستغرب كيف يغفل عن الصواب؟
لكنك لو تأملت الأمر قليلاً لظهر لك أن ذلك سنة الله في خلقه، فلست تملك إدخال الصواب في قلوبهم، وإن كان من حقك أن تقول ما تراه صواباً وتدافع عنه.
তিনি এগুলো উপেক্ষা করেন; কিন্তু যখন এই বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে আসে, তখন সেগুলোর পরিমার্জন ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) শিক্ষার্থীর জন্য যা সংগত তা হলো উদাহরণগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, সেগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং অধীত বিষয়টি সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা লাভের উদ্দেশ্যে সেগুলো পর্যালোচনা করা। যখন কেউ অপরিমার্জিত কিছু বিষয়কে কেবল গ্রহণের ভিত্তিতে গ্রহণ করে নেয় এবং সেই বর্ণনার পরিপন্থী অসংখ্য উদাহরণগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে না, তখন সে ওই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: এর অর্থ কি এই নয় যে আমরা কুরআন বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বারবার অনুসন্ধান চালাব এবং পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের অর্জিত ফলাফলে সন্তুষ্ট হবে না?
আমি বলব: হ্যাঁ, এই জিজ্ঞাসাটি সঠিক এবং যৌক্তিক। যে সকল বিষয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা (اجتهاد) করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে বারবার পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনায় কোনো বাধা নেই। আমি মনে করি না যে আপনি অমুক বা তমুকের বক্তব্যে দায়বদ্ধ, যতক্ষণ আপনার কাছে সত্য উদ্ভাসিত হয় এবং তাদের বক্তব্যের ভুল আপনার নিকট স্পষ্ট হয়। কেননা প্রকৃত আলেম কখনও নিজের জন্য এটি পছন্দ করেন না যে আপনি তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন এবং বিশ্বাস করবেন যে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে কিংবা বর্জন করা হতে পারে। আর এতে কোনো অবমাননা বা মর্যাদাহানি নেই, যতক্ষণ আমাদের অনুসৃত পথটি হয় আদব, ভালোবাসা এবং আমাদের পূর্বসূরিদের জন্য রহমতের দোয়া সম্বলিত। বরং আমরা যদি এই পথ অবলম্বন না করি, তবে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি ঘটবে না; এবং আমরা এক মানসিক সংকীর্ণতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ব যেখান থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিন্নমতের ভয়ে বেরিয়ে আসা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এটি দৃশ্যমান যে মতভেদ কখনও নিরসন হওয়ার নয়; বরং এটি এর একটি অবিচ্ছেদ্য ও চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। আপনি হয়তো অনেক সময় আপনার উপস্থাপিত দলিলের স্পষ্টতা দেখে বিস্মিত হন এবং আপনার বিরোধিতাকারীর অবস্থানে অবাক হয়ে ভাবেন যে সে কীভাবে সঠিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে ভুল করল?
কিন্তু আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে সামান্য চিন্তা করেন, তবে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে এটি সৃষ্টিজগতে আল্লাহর একটি বিধান। মানুষের অন্তরে সত্য প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আপনার নেই, যদিও যা আপনি সত্য বলে মনে করেন তা ব্যক্ত করা এবং তার সপক্ষে যুক্তি পেশ করার অধিকার আপনার রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
وإن من أهم الأمور التي يحسن أن تنتبه لها في هذا المقام مبادئ الأمور وأولياته التي تربى عليها مخالفك، فما تراه من المسلَّمات لم يتربَّ هو عليه، حتى لقد يصل الأمر به أن لا يرى أنه ملزم بأقوال الصحابة في التفسير، وما ذاك إلا لأنه لم يتربَّ على تعظيم قدر الصحابة، ومعرفة مميزات علمهم، وما لهم من المعرفة باللغة العربية، والأحوال المصاحبة للنُّزول، وأحوال النبي صلى الله عليه وسلم، فكيف لمن يكون بهذه المنْزلة أن يترك قوله؟!
والمقصود الذي أريد أن أصل إليه أنني أدعو إلى أن يكون الدرس العلمي درس نقاش وحوار للوصول إلى المعلومة الصحيحة، وأنك لست ملزماً بصحة كل ما ورد في هذا المؤلَّف، فما هو إلا جهد شخص ظهرت له ملحوظات في بعض علوم القرآن فألقاها بين يديك لتناقشها كما ناقشها، فإن اقتنعت بما وصل إليه تبنَّيته عن قناعة، وصارت فكرته هي فكرتك، وإن خالفته، فذلك حقٌّ لك، ولك أن تبيِّن خطأه وبعده عن الصواب، وكل ذلك يكون بأسلوب علمي أدبي رزين وعالٍ.
وإن مما كنت قد دعوت إليه ـ ولا زلت أرى الحاجة إليه ماسة ـ أن يقوم الطلاب بفهرسة كتب الحديث على علوم القرآن؛ لاستخراج موضوعات علوم القرآن منها، لكي تكون زاداً لطلاب هذا العلم يستقون منها ما يريدون حينما يكتبون عن موضوع ما من موضوعات علوم القرآن.
وإنه من خلال القراءة في كتب السنة تمرُّ بالقارئ أحاديث وآثار لها علاقة بعلوم القرآن فلا يقيدها القارئ فتضيع هذه الفوائد التي هي كالشهاب الخاطف إن لم تقيَّد مباشرة احترقت وصارت في عالم الغيب، وأنَّى له أن يسترجعها.
ومما أراه مهمّاً لطالب العلم أن يقوم بإجراء تطبيقات عملية علمية على الموضوعات التي يأخذها، وإن ميدان كتب التفسير ميدان رحب لهذه التطبيقات، فلو أخذ ـ على سبيل المثال ـ المكي والمدني، ودرس تطبيقاته في تفسير ابن جرير (ت310هـ)، أو في تفسير ابن عطية (ت542هـ)، أو في
এই ক্ষেত্রে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা আপনার জন্য সমীচীন, তার মধ্যে অন্যতম হলো সেই সকল মৌলিক বিষয় ও অগ্রাধিকারসমূহ যার ওপর আপনার প্রতিপক্ষ বেড়ে উঠেছে। আপনি যে বিষয়গুলোকে স্বতঃসিদ্ধ মনে করেন, সে হয়তো সেগুলোর ওপর গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি এমনকি এমন পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে যে, সে তাফসিরের ক্ষেত্রে সাহাবিদের (الصحابة) কথা মানতে নিজেকে বাধ্য মনে করে না। এর কারণ মূলত এটাই যে, সে সাহাবিদের (الصحابة) মর্যাদাকে মহিমান্বিত করার ওপর এবং তাঁদের ইলমের বৈশিষ্ট্যসমূহ, আরবি ভাষায় তাঁদের দক্ষতা, ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের যে গভীর জ্ঞান ছিল, তা অনুধাবনের ওপর বেড়ে ওঠেনি। সুতরাং যিনি এমন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাঁর কথা পরিত্যাগ করা কীভাবে সম্ভব?!
আমি যে মূল উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে চাচ্ছি তা হলো—আমি এই আহ্বান জানাই যে, একাডেমিক পাঠ যেন সঠিক তথ্যে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা ও পর্যালোচনার পাঠ হয়। এই গ্রন্থে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সবটুকুর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনে নিতে আপনি বাধ্য নন। কারণ এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রচেষ্টা মাত্র, যাঁর নিকট উলুমুল কুরআনের কিছু বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হয়েছে এবং তিনি সেগুলো আপনার সামনে পর্যালোচনার জন্য পেশ করেছেন ঠিক যেভাবে তিনি নিজে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদি আপনি তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হন, তবে তা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করবেন এবং তাঁর ধারণাটি আপনার ধারণায় পরিণত হবে। আর যদি আপনি তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে তা আপনার অধিকার। আপনার সুযোগ রয়েছে তাঁর ভুল এবং সত্য থেকে তাঁর বিচ্যুতি তুলে ধরার; তবে এই সবকিছুই হতে হবে এক উচ্চাঙ্গের ইলমি ও মার্জিত শৈল্পিক পদ্ধতিতে।
আমি পূর্বে যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম—এবং এখনো যার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করি—তা হলো শিক্ষার্থীরা যেন উলুমুল কুরআনের বিষয়ের আলোকে হাদিসের কিতাবসমূহের বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট তৈরি করে; যাতে হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে উলুমুল কুরআনের বিষয়বস্তুসমূহ আহরণ করা যায়। এর ফলে এটি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক পাথেয় হবে, যা থেকে তারা যখনই উলুমুল কুরআনের কোনো বিষয় নিয়ে লিখবে, তখন সেখান থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করতে পারবে।
সুন্নাহর কিতাবসমূহ পড়ার সময় পাঠকের সামনে এমন অনেক হাদিস এবং আসসার (آثار) আসে যেগুলোর সাথে উলুমুল কুরআনের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পাঠক সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখে না, ফলে এই জ্ঞানগর্ভ হিতোপদেশগুলো হারিয়ে যায়; যেগুলো দ্রুতবেগে ধাবমান উজ্জ্বল উল্কার মতো। যদি এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করা না হয়, তবে তা বিলীন হয়ে অদৃশ্যের জগতে হারিয়ে যায়। এরপর সেগুলো পুনরায় উদ্ধার করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আমি যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি তা হলো—সে যেসব বিষয় গ্রহণ করছে সেগুলোর ওপর ব্যবহারিক ও ইলমি অনুশীলন করা। আর তাফসিরের কিতাবসমূহ এই অনুশীলনের জন্য এক সুবিস্তৃত ক্ষেত্র। উদাহরণস্বরূপ, সে যদি মক্কি (مكي) ও মাদানি (مدني) বিষয়গুলো গ্রহণ করে এবং তাফসির ইবনে জারির (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি)-এর তাফসিরে কিংবা তাফসির ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু: ৫৪২ হিজরি)-এর তাফসিরে এর প্রয়োগসমূহ নিয়ে গবেষণা করে, অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
تفسير القرطبي (ت671هـ)، أو في تفسير ابن جُزِي (ت741هـ)، أو غيرها من التفاسير = لكان في هذا التطبيق رسوخاً في العلم.
فالدراسات التطبيقية هي التي تُثبِّت المعلومات، وتظهر خبايا الموضوعات، وتزيد الدرس قوة إلى قوة.
تصنيف هذا الكتاب:
لقد عهِد إليَّ مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي تصنيف هذا الكتاب وَفْقَ الخطة المقرَّرة لهذه المادة في دبلوم إعداد معلمي ومعلمات القرآن الكريم بالمعهد، وكان من الظاهر في اختيار موضوعات هذا الكتاب أن يتناسب مع ما سيقوم به الطالب في مستقبله من تعليمٍ للقرآن، وإقراءٍ له في المساجد ومدارس التحفيظ، فاختير من الموضوعات ما يكون له فائدة مباشرة بمزاولة هذه المهمة (1)، مع ذكر موضوعات يحسن به أن يمرَّ بها.
والجدير بالذكر أن مفردات هذه المادة قد وضعت من قِبَلِ (لجنة تطوير المناهج) في المعهد، ثم حُكِّمت من قبل بعض المتخصصين، ومن ثَم أقرَّت من (المجلس العلمي) بالمعهد.
ولما كان مما يُلتزم به في التأليف أن تكون الموضوعات المطروحة متناسبة مع التخصص العام الذي يدرسه الطالب، ومع الزمن المقرر للمادة العلمية، فإني حرصت على عدم الاستطراد، وخلصت إلى وضع مقدمة لبعض الموضوعات أذكر فيها أنواع علوم القرآن المرتبطة بالموضوع المدروس، ثم أذكر في خاتمة بعض الموضوعات أمرين:
الأول: مراجع يستفاد منها في الموضوع.
--------------------------------------------
তাফসির আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৬৭১ হি.), অথবা তাফসির ইবনু জুযাই (মৃত্যু ৭৪১ হি.), অথবা অন্যান্য তাফসির গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রেও একই কথা—তবে এই প্রয়োগটি জ্ঞানে সুগভীর পাণ্ডিত্য (رسوخاً في العلم) আনয়ন করত।
কেননা ব্যবহারিক অধ্যয়নই (الدراسات التطبيقية) তথ্যসমূহকে সুদৃঢ় করে, বিষয়বস্তুর নিগূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করে এবং পাঠের শক্তিকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে।
এই গ্রন্থটির সংকলন (تصنيف):
ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের 'কুরআনিক স্টাডিজ অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার' এই ইনস্টিটিউটে পবিত্র কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষিকা তৈরির ডিপ্লোমা কোর্সে নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এই গ্রন্থটি সংকলন (تصنيف) করার দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেছে। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাতে একজন ছাত্র ভবিষ্যতে মসজিদ ও হিফজ মাদরাসায় কুরআন শিক্ষা এবং তিলাওয়াত করানোর যে দায়িত্ব পালন করবে, তার সাথে যেন এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাই এমন সব বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে যা এই দায়িত্ব পালনে (১) সরাসরি সহায়ক হবে, সাথে এমন কিছু বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে যা সম্পর্কে তার অবগত থাকা ভালো।
উল্লেখ্য যে, এই পাঠ্যসূচির বিষয়বস্তুগুলো ইনস্টিটিউটের 'কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট কমিটি' কর্তৃক প্রণীত হয়েছে, এরপর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ দ্বারা তা পর্যালোচিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাউন্সিল (المجلس العلمي) কর্তৃক তা অনুমোদিত হয়েছে।
যেহেতু গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে একটি নীতি হলো উত্থাপিত বিষয়গুলো ছাত্রের অধীত সাধারণ বিশেষায়িত বিষয়ের সাথে এবং নির্ধারিত সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, তাই আমি অবান্তর দীর্ঘ আলোচনা (الاستطراد) এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। আমি কিছু বিষয়ের শুরুতে ভূমিকা (مقدمة) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেখানে পঠিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান (علوم القرآن) এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব। এরপর কিছু বিষয়ের শেষে দুটি বিষয় উল্লেখ করব:
প্রথমত: এমন সব তথ্যসূত্র (مراجع) যা থেকে এই বিষয়ে উপকৃত হওয়া যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الثاني: اقتراح موضوعات بحثية يمكن للناظر في هذا الكتاب القيام بها.
وقد جاءت خطة هذه المادة على النحو الآتي:
الباب الأول: مدخل إلى علوم القرآن.
ويشتمل على ثلاثة فصول:
الفصل الأول: مفهوم علوم القرآن.
الفصل الثاني: نشأة علوم القرآن.
الفصل الثالث: الفرق بين علوم القرآن وأصول التفسير.
الباب الثاني: نزول القرآن وجمعه.
ويشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: الوحي.
الفصل الثاني: نزول القرآن.
الفصل الثالث: المكي والمدني.
الفصل الرابع: أسباب النُّزول.
الفصل الخامس: جمع القرآن.
الباب الثالث: علوم السور.
ويشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: أسماء السور.
الفصل الثاني: عدد آيات السور.
الفصل الثالث: فضائل السور.
الفصل الرابع: ترتيب السور.
الفصل الخامس: موضوعات السور ومقاصدها.
الباب الرابع: المصحف عناية الأمة به.
ويشتمل على فصلين:
দ্বিতীয়ত: এমন সব গবেষণামূলক বিষয়ের প্রস্তাবনা যা এই কিতাব অধ্যয়নকারীর পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই বিষয়ের পরিকল্পনা নিম্নরূপভাবে বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: উলূমুল কুরআনের ভূমিকা।
এটি তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের ধারণা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীরের মধ্যকার পার্থক্য।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া এবং তা সংকলন।
এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ওহী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মক্কী ও মাদানী।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আসবাবুন নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআন সংকলন।
তৃতীয় অধ্যায়: সূরা সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহ।
এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের নামসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের আয়াতের সংখ্যা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের ফযিলত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের বিন্যাস।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সূরাসমূহের বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যসমূহ।
চতুর্থ অধ্যায়: মুসহাফ এবং এর প্রতি উম্মতের বিশেষ যত্ন।
এটি দুটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الأول: عناية علماء الأمة بالمصحف.
الفصل الثاني: مثال معاصر لعناية العلماء بضبط المصحف (مصطلحات ضبط مصحف المدينة النبوية).
وأسأل الله أن يكون هذا الكتاب قد وفَّى بالغرض الذي رُسم له، وأن يتقبله عملاً صالحاً، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وإني لأرجو ممن تظهر له ملاحظة أن يراسلني بها؛ لأتدارك ما فيه من النقص والخلل الذي لا يخلو منه عمل البشر، سائلاً الله التوفيق والسداد لكل من كان له أثر في هذا الكتاب، وأخص بذلك من أحسن بي الظنَّ وأسند إليَّ كتابة هذا الكتاب، والحمد لله رب العالمين.
د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار attyyar@hotmail.com
প্রথম পরিচ্ছেদ: উম্মাহর আলেমগণের আল-কুরআনের পাণ্ডুলিপি (مصحف)-এর প্রতি যত্ন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের পাণ্ডুলিপি নির্ভুলকরণের (ضبط) ক্ষেত্রে আলেমগণের যত্নের একটি সমসাময়িক উদাহরণ (মদিনা মুনাওয়ারার মুসহাফের নির্ভুলকরণের পরিভাষাসমূহ)।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই বইটি যে উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে তা পূরণ করে এবং তিনি যেন এটিকে একটি সৎকর্ম (عملاً صالحاً) হিসেবে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
আমি তাদের নিকট আশা করি যাদের কাছে কোনো পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হবে, তারা যেন তা আমাকে লিখে পাঠান; যাতে আমি এর মধ্যকার ত্রুটি ও বিচ্যুতি সংশোধন করতে পারি, যা মানুষের কর্ম থেকে মুক্ত নয়। এই বইটির পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। বিশেষভাবে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করেছেন এবং এই বইটি রচনার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছেন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. মুসায়েদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়ার attyyar@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مدخل إلى علوم القرآن
الفصل الأول: مفهوم علوم القرآن
الفصل الثاني: نشأة علوم القرآن
الفصل الثالث: الفرق بين علوم القرآن وأصول التفسير
উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) ভূমিকা (مدخل)
প্রথম পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) ধারণা (مفهوم)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) উৎপত্তি (نشأة)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن) এবং উসূলে তাফসীরের (أصول التفسير) মধ্যকার পার্থক্য (الفرق)
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأولمفهوم علوم القرآن
প্রথম অধ্যায়উলূমুল কুরআনের ধারণা
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يذهب الباحثون في مثل هذه المصطلحات (المركبة من مضاف ومضاف إليه) إلى تعريف كل مصطلح من المتضايفين على حِدةٍ، ثمَّ يبينون المصطلح حال التركيب، ويشرحونه مبينين محترزات التعريف، وذلك لضبط المصطلح الذي يريدون تعريفه ضبطاً جامعاً (يجمع كل مسائله فيه)، مانعاً (يمنع غير مسائله من الدخول فيه).
ومن هذا المنطلق فإنني سأشرح التعريف بهذا الأسلوب، مع ملاحظة أن طالب العلم لا يحتاج إلى مثل هذا الأسلوب في كثير من العلوم التي يتعلمها؛ إذ يأخذ مسائلها بالدراسة والمِران، حتى يتكون لديه معرفة وإلمام بأغلب مسائل العلم الذي يدرسه إن لم يكن كلها.
أولاً: معنى (علوم):العلوم جمع (علم)، والعلم: معرفة الشيء على الحقيقة التي هو عليها ظنّاً أو يقيناً، فحين يقال لك: هل تعلم أن أول من أسلم من الرجال أبو بكر؟ فأنت تعلم هذا، وهو حقيقة، فهذا علمٌ.
وقد تقرأ في كتب الفلك وجود نجم له مسمى جديد، فهذا بالنسبة لك علم ظنيٌّ لم يرتق إلى الحقيقة، وهو بالنسبة لك علمٌ.
والعلم بهذا التعريف يقرب من معنى (المعرفة)، لكنَّ في دلالة لفظ (العلم) من جهة اللغة ما يدلُّ على أنه أوسع في المدلول عليه من لفظ (المعرفة)، وهو موجود في كتب (الفروق اللغوية وغيرها) (1).
--------------------------------------------
গবেষকগণ এই ধরণের পরিভাষাগুলোর (যা সম্বন্ধপদ এবং সম্বন্ধীপদ (مضاف ومضاف إليه) এর সমন্বয়ে গঠিত) ক্ষেত্রে উভয় পদের প্রত্যেকটিকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করার রীতি অনুসরণ করেন। এরপর তারা যৌগিক অবস্থায় পরিভাষাটি ব্যাখ্যা করেন এবং সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করেন, যাতে কাঙ্ক্ষিত পরিভাষাটির সংজ্ঞাটি একটি সার্বিক (যা তার সকল অনুষঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করে (جامع)) এবং ব্যাবর্তক (যা তার বহির্ভূত বিষয়কে প্রবেশ করতে বাধা দেয় (مانع)) সংজ্ঞা হিসেবে সুসংহত হয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমি এই পদ্ধতিতে সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করব। তবে লক্ষ্যণীয় যে, একজন ইলম অন্বেষণকারীর তার অধীত অনেক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না; কারণ সে অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে শাস্ত্রের বিষয়গুলো আয়ত্ত করে নেয়, যতক্ষণ না তার অধীত শাস্ত্রের অধিকাংশ বা সমস্ত বিষয়ে একটি সম্যক ধারণা ও পাণ্ডিত্য তৈরি হয়।
প্রথমত: (উলুম (علوم)) এর অর্থ:উলুম হলো ইলম এর বহুবচন। আর ইলম (علم) হলো: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় অনুধাবন করা, চাই তা প্রবল ধারণা (ظন) বা সুনিশ্চিত জ্ঞান (يقين) এর স্তরে হোক। যেমন আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়: আপনি কি জানেন যে পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি হলেন আবু বকর? আপনি এটি জানেন এবং এটি একটি বাস্তব সত্য, সুতরাং এটি একটি জ্ঞান (علم)।
আবার আপনি হয়তো জ্যোতির্বিদ্যার কোনো বইয়ে নতুন নামযুক্ত কোনো নক্ষত্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে পড়তে পারেন; এটি আপনার জন্য একটি ধারণাপ্রসূত জ্ঞান যা এখনো বাস্তব সত্যের পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে এটিও আপনার জন্য একটি জ্ঞান (علم)।
এই সংজ্ঞার আলোকে জ্ঞান (علم) শব্দটির অর্থ পরিচিতি (معرفة) এর কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে ভাষাগত দিক থেকে ইলম (علم) শব্দটির তাৎপর্য মা'রিফাহ (معرفة) শব্দের চেয়ে ব্যাপকতর, যা 'ভাষাতাত্ত্বিক পার্থক্য (الفروق اللغوية)' এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأمَّا (العلم) في الاصطلاح، فهو يُطلق على (المسائل المضبوطة ضبطاً خاصّاً)، وسيدرك الطالب تمايز كل علم بالنظر في موضوعاته ومسائله، فإذا قلت له: مقدار الغنة حركتان، فإنه يعرف أن هذا من علم التجويد، وإذا قلت له: قرأ نافع كذا، علِم أن هذا من علم القراءات، وإذا قلت له: الشمس تضيء بنفسها، والقمر يعكس ضوءها، علِم أن هذا من علم الفلك، وهكذا غيرها من المعلومات التي ضُبطت في مسائل العلوم، وتميَّزت بها (1).
ثانياً: معنى (القرآن):القرآن في اللغة مأخوذ من مادة قرأ، بمعنى تلا، وهذا ظاهرٌ من
--------------------------------------------
আর পারিভাষিক অর্থে জ্ঞান (العلم) বলতে সেই 'বিষয়গুলোকে (المسائل) বোঝায় যা বিশেষভাবে সুসংবদ্ধ'। একজন শিক্ষার্থী তার বিষয়বস্তু ও মাসআলাগুলোর (المسائل) দিকে তাকালে প্রতিটি বিজ্ঞানের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারবে। যেমন, আপনি যদি তাকে বলেন: গুন্নাহর পরিমাণ দুই হরকত, তখন সে বুঝবে এটি তাজবিদ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর আপনি যদি তাকে বলেন: নাফি এইভাবে পড়েছেন, তখন সে বুঝবে এটি কিরাত শাস্ত্রের বিষয়। আবার আপনি যদি তাকে বলেন: সূর্য নিজেই আলো দেয় এবং চাঁদ তার আলো প্রতিফলিত করে, তখন সে জানবে এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান। এভাবেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সুসংবদ্ধ তথ্যাবলীর মাধ্যমে প্রতিটি শাস্ত্র একে অপরের থেকে পৃথক হয়েছে (১)।
দ্বিতীয়ত: (কুরআন)-এর অর্থ:ভাষাগত দিক থেকে কুরআন শব্দটি 'কারা-আ' (قرأ) ধাতু থেকে গৃহীত, যার অর্থ তিলাওয়াত করা বা পাঠ করা। এটি স্পষ্ট যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
استخدام هذا اللفظ ومشتقاته في كلام الله سبحانه، وفي كلام رسوله، وفي كلام الصحابة الذين نزل عليهم القرآن، ولا حاجة إلى التطويل في تقرير هذه المسألة.
ومما يدل على أنه مأخوذ من (قرأ) بمعنى (تلا) قوله تعالى: {وَإِذَا قُرِىءَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأعراف: 204]، وقوله تعالى: {وَمَا تَكُونُ فِي شَانٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ} [يونس: 61]، وقوله تعالى: {فَإِذَا قَرَاتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [النحل: 98]، وقوله تعالى: {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78]، وقوله تعالى: {وَقُرْآناً فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلاً} [الإسراء: 106] وغيرها من الآيات.
أخرج البخاري عن عبد الله بن عمرو بن العاص، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: «اقرأ القرآن في كل شهر. قال إني أطيق أكثر فما زال حتى قال: في ثلاث» (1).
وأخرج البخاري عن أبي بردة أن النبي صلى الله عليه وسلم: (بعث جده أبا موسى ومعاذاً) إلى اليمن فقال: «يسرا ولا تعسرا، وبشرا ولا تنفرا، وتطاوعا».
فقال أبو موسى: يا نبي الله، إن أرضنا بها شراب من الشعير المِزْر (2)، وشراب من العسل البِتْع (3).
فقال: «كل مسكر حرام».
فانطلقا، فقال معاذ لأبي موسى كيف تقرأ القرآن؟
قال: قائماً وقاعداً، وعلى راحلتي، وأتفوقه تفوقاً (4).
--------------------------------------------
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালামে, তাঁর রাসূলের কালামে এবং সেই সাহাবীদের কালামে যাদের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, এই শব্দ এবং এর ব্যুৎপন্ন রূপগুলোর ব্যবহার রয়েছে; আর এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।
এটি যে 'তিলাওয়াত করা' (تلا) অর্থে 'পাঠ করা' (قرأ) থেকে গৃহীত (مأخوذ), তার প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার এই বাণীগুলো উল্লেখযোগ্য: "আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়" [আল-আরাফ: ২০৪], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন এবং কুরআন থেকে যা-ই তিলাওয়াত করো না কেন" [ইউনুস: ৬১], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতএব যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো" [আন-নাহল: ৯৮], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর ফজরের কুরআন পাঠ; নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ উপস্থিতির সময়" [আল-ইসরা: ৭৮], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পারো ধীরে ধীরে এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি" [আল-ইসরা: ১০৬] এবং আরও অন্যান্য আয়াত।
ইমাম বুখারী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: «তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন পাঠ করো। তিনি বললেন: আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। এভাবে তিনি বারবার বলতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত নবীজি বললেন: তবে তিন দিনে খতম করো» (১)।
ইমাম বুখারী আবু বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তার দাদা আবু মুসা এবং মুয়াজকে) ইয়েমেনে প্রেরণ করেন এবং বলেন: «তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করো না এবং পরস্পর একমত হয়ে চলো (তথা মতভেদ করো না)»।
তখন আবু মুসা বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমাদের ভূমিতে যব থেকে তৈরি 'মিজর' (২) নামক এক প্রকার পানীয় এবং মধু থেকে তৈরি 'বিত' (৩) নামক এক প্রকার পানীয় প্রচলিত আছে।
তিনি বললেন: «প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম»।
অতঃপর তারা দুজনে রওয়ানা হলেন। পথে মুয়াজ আবু মুসাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কীভাবে কুরআন পাঠ করেন?
তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে, বসে এবং আমার সওয়ারিতে থাকা অবস্থায়। আর আমি তা অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে নিয়মিত তিলাওয়াত করি (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال: أما أنا فأنام وأقوم، فأحتسب نومتي كما أحتسب قومتي
… (1).
فالقرآن بمعنى المقروء، ثم غلب اسماً على كلام الله تعالى المحفوظ بين دفتي المصحف.
والقرآن في الاصطلاح: كلام الله المنَزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، المتعبد بتلاوته، المعجز بأقصر سوره.
شرح التعريف:
(كلام الله): عموم يشمل جميع كلامه سبحانه، فيدخل فيه كلامه للملائكة، ولغيرهم.
وخرج بـ (المنَزل) ما لم يُنَزل من كلامه لأهل السماء، ويدخل فيه كلامه المنَزل على عموم أنبيائه.
وخرج بقوله: (على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم ما نزل على غيره من الأنبياء، ويدخل فيه ما نزل عليه من كلام الله كالحديث القدسي.
وخرج بقوله: (المتعبد بتلاوته، المعجز بأقصر سوره) الحديث القدسي، وغيره من الكلام المنَزل على محمد صلى الله عليه وسلم سوى القرآن (2).
المراد بعلوم القرآن:تحتمل إضافة العلوم إلى القرآن احتمالين:
الأول: أن يراد بها عموم (المعلومات) التي تنطوي تحت ألفاظ
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "আমি তো ঘুমাই এবং ইবাদতের জন্য দাঁড়াই; আমি আমার ঘুমের বিনিময়ে সওয়াব আশা করি যেমনটি আমি আমার ইবাদতের (দাঁড়ানো) জন্য সওয়াব আশা করি..." (১)।
কুরআন শব্দটি ‘পঠিত’ (المقروء) অর্থে ব্যবহৃত, অতঃপর এটি মুসহাফের (المصحف) দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত মহান আল্লাহর বাণীর নাম হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে কুরআন হলো: মহান আল্লাহর বাণী যা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ (المنزل), যা তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য (المتعبد بتلاوته) এবং যার সংক্ষিপ্ততম সূরাও অলৌকিক (المعجز)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
(আল্লাহর বাণী): এটি একটি ব্যাপক (عام) শব্দ যা তাঁর পবিত্র সত্তার সকল বাণীকে অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে এর মধ্যে ফেরেশতাদের প্রতি ও অন্যদের প্রতি তাঁর সকল বাণী শামিল রয়েছে।
‘অবতীর্ণ’ (المنزل) শব্দটির মাধ্যমে আল্লাহর সেই সকল বাণী পৃথক হয়ে গেছে যা আসমানবাসীদের জন্য অবতীর্ণ করা হয়নি। তবে সকল নবীর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত থাকে।
‘তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর’—একথার মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৃথক হয়ে গেল। তবে তাঁর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর অন্যান্য বাণী যেমন হাদিসে কুদসি এর অন্তর্ভুক্ত থাকে।
‘যা তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য (المتعبد بتلاوته) এবং যার সংক্ষিপ্ততম সূরাও অলৌকিক (المعجز)’—একথার মাধ্যমে হাদিসে কুদসি এবং কুরআন ব্যতীত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ অন্যান্য বাণীসমূহ পৃথক হয়ে গেছে (২)।
‘উলুমুল কুরআন’ (কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান) দ্বারা উদ্দেশ্য:কুরআনের দিকে ‘উলুম’ বা জ্ঞানসমূহকে সম্বন্ধ (إضافة) করার ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমত: এর দ্বারা সেই সকল সাধারণ তথ্য বা জ্ঞানসমষ্টি (المعلومات) উদ্দেশ্য হতে পারে যা শব্দাবলির অধীনে নিহিত রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القرآن، فأي معلومة نصَّ عليها أو أشار إليها فهي من علومه؛ أي: معلوماته، وهذا المعنى ذهب إليه بعض العلماء، فأطلقوا هذا على علوم القرآن، قال أبو بكر بن العربي المالكي (ت543هـ): «وقد ركَّبَ العلماءُ على هذا كلاماً، فقالوا: إنَّ علومَ القرآنِ خمسونَ علماً، وأربعُمائة علمٍ، وسبعةُ آلاف، وسبعونَ ألفَ علمٍ، على عدد كَلِمِ القرآنِ، مضروبةً في أربعةٍ، إذ لكلِّ كلمةٍ منها ظهرٌ وبطنٌ، وحدُّ ومطلع (1).
هذا مطلقٌ دون اعتبارِ تركيبِه، ونَضْدِ بعضِه إلى بعضٍ، وما بينها من روابط على الاستيفاءِ في ذلك كلِّه، وهذا مما لا يحصى، ولا يعلمُه إلَاّ اللهُ» (2).
وهذا المعنى الذي ذهب إليه هؤلاء ـ مع ما فيه من نظر ـ ليس هو المراد بإطلاق علوم القرآن في الاصطلاح الذي هو الاحتمال الثاني المراد بهذه الإضافة.
الثاني: جملة من أنواع المعلومات المضبوطة ضبطاً خاصّاً المتعلقة بالقرآن الكريم من حيث نزوله وجمعه وقراءاته ومكيِّه ومدنيِّه وأسباب نزوله، وما إلى ذلك (3).
--------------------------------------------
কুরআন; এতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বা ইঙ্গিতকৃত যে কোনো তথ্যই এর বিজ্ঞানের (علوم) অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ এর তথ্যসমূহ। এই অর্থটি কিছু আলেম গ্রহণ করেছেন এবং তারা একে 'কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ' (علوم القرآن) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৫৪৩ হিজরি) বলেন: «উলামায়ে কেরাম এর ওপর ভিত্তি করে কিছু কথা সাজিয়েছেন। তারা বলেছেন: কুরআনের বিজ্ঞানের সংখ্যা হলো পঞ্চাশ, চারশ, সাত হাজার এবং সত্তর হাজার; যা কুরআনের শব্দের সংখ্যার সমান, তাকে চার দিয়ে গুণ করলে যা হয় তা-ই। কারণ প্রতিটি শব্দের একটি প্রকাশ্য (ظهر), একটি গোপন (بطن), একটি সীমা (حد) এবং একটি উচ্চতর অর্থ (مطلع) রয়েছে (১)।
এটি এর গঠনশৈলী, বিন্যাস এবং এগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা ছাড়াই একটি সাধারণ রূপ। আর এটি এমন কিছু যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা জানেন না» (২)।
তারা যে অর্থের দিকে গিয়েছেন—তাতে পর্যালোচনার অবকাশ থাকলেও—পারিভাষিক অর্থে 'কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ' (علوم القرآن) বলতে যা বোঝানো হয়, এটি তা নয়; যা এই সম্বন্ধের দ্বিতীয় সম্ভাবনা।
দ্বিতীয়টি: কুরআন কারীমের অবতীর্ণ হওয়া, সংকলন, কেরাআতসমূহ, মক্কি ও মাদানি বৈশিষ্ট্য, শানে নুযুল এবং এই জাতীয় বিশেষ পদ্ধতিতে সুবিন্যস্ত তথ্যাবলীর একটি সমষ্টি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويمكن تقسيم هذه الأنواع إلى قسمين:
الأول: أنواع منبثقة منه، ولا يمكن أخذها ودراستها في غيره؛ كالمكي والمدني، ونزول القرآن، والأحرف السبعة، وعد الآي، والوقف والابتداء، وغيرها من هذه الأنواع التي هذه صفتها.
الثاني: أنواع مشتركة بين علوم القرآن وغيره من العلوم، وهي على نظرين:
الأول: النظر إلى القرآن باعتباره نصّاً عربيّاً، فيدخل فيه جملة العلوم العربية التي بحثها علماء العربية بفروعها؛ كالإعراب والتصريف والبلاغة وغيرها، فوجودها في علوم العربية أصل من جهة كونها تبحث في الكلام العربي من حيث هو كلام عربيٌّ سواءً أكان كلام الله تعالى أم كان كلام البشر؛ كالرسول صلى الله عليه وسلم، أو العرب في أشعارهم ونثرهم.
ويلاحظ في هذا التداخل مع علوم العربية أمور؛ منها:
1 - أن نشوء هذه العلوم كان بسبب القرآن الكريم؛ إذ لا يُعرف للعرب اعتناء بلغتهم، ولا تدوين منظَّمٌ لها.
2 - أنَّ تفاصيل هذه الأنواع في كتب أهل اللغة أشمل من تفاصيلها في كتب علوم القرآن؛ لأن كتب علوم القرآن تأخذ ما يتناسب من هذه الموضوعات مع طبيعة بحثها، فليس كل ما دُرس في هذا العلوم، وثبتت عربيته لازماً لعلوم القرآن.
الثاني: النظر إلى القرآن باعتباره نصّاً شرعيّاً تُستقى منه الأحكام، وتشاركه السُّنة النبوية في هذه الحيثية، وقد نتج من هذا النظر جملة من العلوم؛ منها: الفقه، ونشأ منه دراسة آيات الأحكام، وأصول الفقه الذي
--------------------------------------------
এই প্রকারভেদগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে:
প্রথম: এমন কিছু প্রকার যা এ থেকেই উদ্ভূত এবং এগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও তা গ্রহণ বা অধ্যয়ন করা সম্ভব নয়; যেমন—মক্কী (المكي) ও মাদানী (المدني), কুরআনের অবতরণ (نزول القرآن), সাবআ আহরুফ (الأحرف السبعة), আয়াত গণনা (عد الآي), ওয়াকফ ও ইবতিদা (الوقف والابتداء) এবং এই বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ অন্যান্য প্রকারসমূহ।
দ্বিতীয়: এমন সব প্রকার যা উলূমুল কুরআন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের মাঝে সাধারণ বা অভিন্ন; এটি দুই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত:
প্রথম: কুরআনকে একটি আরবী পাঠ (نصّاً عربيّاً) হিসেবে বিবেচনা করা; ফলে এতে সেই সমস্ত আরবী বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত হয় যা ভাষাবিদগণ তাদের বিভিন্ন শাখায় আলোচনা করেছেন; যেমন—ইরাব (الإعراب), তাসরীফ (التصريف), বালাগাত (البلاغة) ইত্যাদি। আরবী বিজ্ঞানে এগুলোর উপস্থিতিই মূল ভিত্তি, কারণ এগুলো আরবী ভাষার প্রেক্ষাপটে আলোচনা করে—সেটি মহান আল্লাহর কালাম হোক কিংবা মানুষের কথা; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী অথবা আরবদের কবিতা ও গদ্য।
আরবী বিজ্ঞানের সাথে এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়; তার মধ্যে রয়েছে:
১ - এই বিজ্ঞানসমূহের উৎপত্তি হয়েছিল কুরআনুল কারীমের কারণে; কেননা আরবদের মাঝে তাদের ভাষা নিয়ে বিশেষ কোনো যত্ন বা সুশৃঙ্খল সংকলন সম্পর্কে জানা যায় না।
২ - ভাষাবিদদের কিতাবসমূহে এই প্রকারগুলোর বিস্তারিত আলোচনা উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাপক; কারণ উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহ এই বিষয়গুলো থেকে শুধু ততটুকুই গ্রহণ করে যা তার আলোচনার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং এই বিজ্ঞানে যা কিছু আলোচিত হয় এবং আরবী ভাষায় যা সাব্যস্ত হয়, তার সবই উলূমুল কুরআনের জন্য আবশ্যক নয়।
দ্বিতীয়: কুরআনকে একটি শারঈ পাঠ (نصّاً شرعيّاً) হিসেবে বিবেচনা করা যেখান থেকে বিধানসমূহ (الأحكام) আহরণ করা হয়, এবং এক্ষেত্রে সুন্নাহও এই বৈশিষ্ট্যের অংশীদার। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কতগুলো বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে: ফিকহ (الفقه), এবং এ থেকে উদ্ভূত হয়েছে আয়াতুল আহকাম (آيات الأحكام) ও উসূলুল ফিকহ (أصول الفقه) এর অধ্যয়ন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يحوي جملة من الأنواع التي تُدرس في كتب علوم القرآن؛ كالناسخ والمنسوخ، والعام والخاص، والمطلق والمقيد، وغيرها.
ويلاحظ في هذا الموضوع ما يأتي:
1 - أنَّ تدوين العلوم المنبثقة من دراسة النص القرآني كانت أسبق من كتب علوم القرآن الشاملة، كما سيأتي ذكرها في نشأة علوم القرآن.
2 - أنَّ طرح هذه الأنواع قد يختلف بين هذه العلوم، فدراسة العموم والخصوص في كتب أصول الفقه ليست كدراسته في كتب علوم القرآن، وإن كانت كتب علوم القرآن قد استفادت من كتب أصول الفقه، إن لم تكن قد زادت عليها شيئاً (1).
ويمكن القول إن هذه الأنواع ـ المشتركة بين كتب علوم القرآن وكتب العلوم الأخرى ـ إن كانت مما سُبِقَ إلى كتابته في العلوم الأخرى؛ فإنه يُستفاد من كتابة علماء هذه العلوم، ولا تؤخذ مباحثهم بتفاصيلها بل بقدر ما تحتاج إليه منهجية علوم القرآن، ثمَّ يضاف إليها ما هو من خصائص هذه الأنواع في القرآن.
تنبيه في استخدام العلماء لمصطلحات مرادفة لعلوم القرآن:
علوم القرآن هو المصطلح الأشهر الذي سار عليه العلماء والباحثون في تسمية الموضوعات المشار إليها في تعريفه باعتباره فنّاً مدوَّناً، وقد استخدم العلماء في كتبهم مصطلحات مرادفة لعلوم القرآن ـ سواءٌ أكانت كتبهم في التفسير أم في علوم القرآن الاصطلاحية؛ لأن النظر هنا إلى الإضافة التي وقعت عند العلماء ـ وهذه الإضافات المرادفة لعلوم القرآن هي:
1 - علم القرآن.
2 - علم الكتاب، أو علوم الكتاب.
--------------------------------------------
এটি এমন একগুচ্ছ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা উলুমুল কুরআন (কুরআনিক বিজ্ঞান) বিষয়ক কিতাবসমূহে পঠিত হয়; যেমন: রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), ব্যাপক (العام) ও বিশেষ (الخاص), শর্তহীন (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد) এবং অন্যান্য বিষয়।
এই বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়:
1 - কুরআনিক পাঠ (নস) অধ্যয়ন থেকে উদ্ভূত জ্ঞানসমূহের সংকলন উলুমুল কুরআনের সামগ্রিক কিতাবসমূহের পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল, যেমনটি উলুমুল কুরআনের ক্রমবিকাশ আলোচনায় সামনে আসবে।
2 - এই বিষয়গুলোর উপস্থাপন বিভিন্ন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহে ব্যাপকতা (العموم) ও বিশেষত্ব (الخصوص) নিয়ে আলোচনা আর উলুমুল কুরআনের কিতাবসমূহে এগুলোর আলোচনা এক নয়; যদিও উলুমুল কুরআনের কিতাবগুলো উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে নতুন কিছু সংযোজনও করেছে (১)।
একথা বলা যেতে পারে যে, উলুমুল কুরআনের কিতাব এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবের মধ্যে অভিন্ন এই বিষয়গুলো যদি অন্য শাস্ত্রসমূহে আগে সংকলিত হয়ে থাকে, তবে সেই শাস্ত্রের আলেমদের রচনা থেকে উপকার গ্রহণ করা হয়। তবে তাঁদের আলোচনার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিস্তারিতভাবে গ্রহণ করা হয় না, বরং উলুমুল কুরআনের মূলনীতি ও পদ্ধতির যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকুই নেওয়া হয়। এরপর কুরআনের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ রয়েছে তা যুক্ত করা হয়।
আলেমগণ কর্তৃক উলুমুল কুরআনের সমার্থক পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতা:
'উলুমুল কুরআন' হলো সর্বাধিক প্রসিদ্ধ পরিভাষা যা আলেমগণ এবং গবেষকগণ একটি সংকলিত শাস্ত্র হিসেবে এর সংজ্ঞায় উল্লেখিত বিষয়গুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন। আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে উলুমুল কুরআনের সমার্থক পরিভাষা ব্যবহার করেছেন—তাঁদের কিতাবগুলো তাফসির বিষয়ক হোক কিংবা পারিভাষিক উলুমুল কুরআন বিষয়ক হোক; কারণ এখানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে আলেমদের ব্যবহৃত শব্দচয়নের (ইদাফাত) প্রতি। উলুমুল কুরআনের সমার্থক এই শব্দচয়নগুলো হলো:
1 - ইলমুল কুরআন।
2 - ইলমুল কিতাব বা উলুমুল কিতাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - علم التنْزيل، أو علوم التنْزيل.
والمقصود التنبُّه لما كتبه العلماء من مدونات بهذه العناوين فإنه قد يكون له علاقة بعلوم القرآن كما سيأتي ذكر شيء من ذلك في الحديث عن نشأة علوم القرآن.
৩ - অবতীর্ণকরণ বিষয়ক জ্ঞান (علم التنْزيل), অথবা অবতীর্ণকরণ বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহ (علوم التنْزيل)।
এর উদ্দেশ্য হলো আলেমগণ এই শিরোনামগুলোতে যেসব গ্রন্থ বা সংকলন রচনা করেছেন সেগুলোর প্রতি সচেতন হওয়া; কেননা কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে, যেমনটি কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) উদ্ভব সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثانينشأة علوم القرآن
দ্বিতীয় অধ্যায়উলুমুল কুরআনের উদ্ভব
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نشأة علوم القرآنإن بداية ظهور علوم القرآن مرتبطة ببداية نزوله، فلما نزل جبريل عليه السلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار حراء، وتلا عليه قوله تعالى: {اقْرَا بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ *خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ *اقْرَا وَرَبُّكَ الأَكَرَمُ *الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ *عَلَّمَ الإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1 - 5] بدأت العلوم المرتبطة بالقرآن بالظهور شيئاً فشيئاً.
ويمكن أن يُستنبطَ من نزوله على الرسول صلى الله عليه وسلم في غار حراء جملة من أنواع علوم القرآن، ففيه من هذه الأنواع:
• نزوله، خصوصاً أول ما نزل.
• قراءته.
• الوحي.
ثمَّ ما لبث القرآن ينْزل مرةً بعد مرَّةٍ، ويحدثُ من علومِه غير هذه الثلاثة على حسبِ موضوعات الآيات وما يتعلَّقُ بها.
ولا ريب أن نشأة علوم القرآن كانت قد بدأت مع نزوله كما هو ظاهر، وقد كان هناك جملة من علومه التي اعتنى بها الصحابة رضي الله عنهم، وكان في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم وآثار الصحابة والتابعين ما يُنبئُ عن أن لهذا القرآن علوماً يُحثُّ على تعلمها، ومن ذلك ما يأتي:
1 - دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم لابن عمِّه عبد الله بن عباس رضي الله عنهما، قال: «اللهم علِّمه الكتاب» (1)، وهذا يشمل جملة العلوم المتعلقة بالقرآن، من قراءته، وحفظه، وتفسيره، ومعرفة نزوله وأحكامه، وناسخه ومنسوخه، وغير ذلك من علومه.
--------------------------------------------
কোরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) উদ্ভবকোরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) আবির্ভাবের সূচনা মূলত এর অবতীর্ণ হওয়ার শুরুর সাথে সম্পৃক্ত। যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) হেরা গুহায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন এবং তাঁর ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {পাঠ করো তোমার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করো, আর তোমার পালনকর্তা মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না} [আল-আলাক: ১ - ৫], তখন থেকেই কোরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ ক্রমে ক্রমে প্রকাশ পেতে শুরু করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর হেরা গুহায় কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা থেকে কোরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) বেশ কিছু বিষয় উদ্ঘাটন করা সম্ভব। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
• এর অবতরণ (نزول), বিশেষ করে সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে।
• এর পাঠরীতি (قراءة)।
• ওহি (وحي)।
এরপর কোরআন বারবার অবতীর্ণ হতে থাকে এবং আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি অনুযায়ী এই তিনটি ছাড়াও আরও অন্যান্য জ্ঞান উদ্ভূত হতে থাকে।
নিঃসন্দেহে কোরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) উদ্ভব এর অবতরণের সাথেই শুরু হয়েছিল যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কোরআনের এমন বেশ কিছু জ্ঞান ছিল যার প্রতি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গুরুত্বারোপ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনাসমূহে (آثار) এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই কোরআনের এমন কিছু শাস্ত্র রয়েছে যা শেখার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - তাঁর চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দোয়া। তিনি বলেছিলেন: «হে আল্লাহ! তাকে কিতাবের (কোরআনের) জ্ঞান দান করুন», এটি কোরআন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন: এর পাঠরীতি (قراءة), মুখস্থকরণ (حفظ), ব্যাখ্যা (تفسير), এর অবতরণ ও বিধানাবলি (أحكام) সম্পর্কে জ্ঞান, রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ এবং এর অন্যান্য জ্ঞানসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي رواية عند الإمام أحمد: «اللهم فَقِّهُ في الدين، وعلِّمه التَّأويل» (1)؛ والمرادُ به علم التفسيرِ الذي هو أجلُّ علومِ القرآنِ وأعظمها، ولا تخلو تفاسير السلف من ذكر جملة من علوم القرآن؛ كعلم الناسخ والمنسوخ، والمكي والمدني، والعام والخاص، وغيرها.
2 - قوله صلى الله عليه وسلم: «خيركم من تعلَّم القرآن وعلَّمه» (2)، وهذا يشملُ جُملةَ علومِ القرآنِ من قراءته وحفظه وتفسيره وغيرِها؛ لأنَّه خبر مطلقٌ غير محدَّدٍ بنوعِ من أنواع تعلُّمِ القرآنِ وتعليمه.
3 - وروى ابن أبي شيبة بسنده عن أبي البختري عن علي رضي الله عنه قالوا: «أخبِرْنا عن عبد الله.
قال: علم القرآن والسنة، ثم انتهى، وكفى بذلك علماً» (3).
4 - عن سفيان بن حسين (4) قال: «سألني إياس بن معاوية، فقال: إني أراك قد كَلِفْتَ بعلم القرآن، فاقرأ عليَّ سورة وفَسِّر حتى أنظر فيما علمت.
قال: ففعلت.
فقال: احفظ عني ما أقول لك: إياك والشناعة في الحديث، فإنه قَلَّ ما حملها أحدٌ إلا ذلَّ في نفسه، وكذب في حديثه».
ومن تتبع الآثار وجدَ فيها كثيراً من هذا الباب، وهو موضوع يصلح للبحث، بحيث يصل الباحث به إلى مرادهم بعلوم القرآن من خلال آثارهم.
--------------------------------------------
ইমাম আহমদের একটি বর্ণনাতে রয়েছে: «হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যা (التأويل) শিক্ষা দিন» (১); আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাফসির শাস্ত্র, যা কুরআন সংশ্লিষ্ট সকল বিদ্যার মধ্যে সুমহান ও শ্রেষ্ঠ। সালাফদের তাফসিরসমূহ কুরআন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা থেকে মুক্ত নয়; যেমন রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ), মাক্কি ও মাদানি (المكي والمدني), ব্যাপক ও বিশেষ (العام والخاص) এবং অন্যান্য বিষয়াদি।
2 - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়» (২), এটি কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের একটি সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে—যেমন এর তিলাওয়াত, হিফজ, তাফসির এবং অন্যান্য বিষয়; কারণ এটি একটি সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق) সংবাদ যা কুরআন শিক্ষা ও প্রদানের কোনো বিশেষ প্রকারের সাথে নির্দিষ্ট নয়।
3 - ইবনে আবি শায়বা তার সনদসহ আবুল বাখতারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলি (রা.)-কে তারা বললেন: «আমাদের আবদুল্লাহ সম্পর্কে কিছু বলুন।
তিনি বললেন: কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান, অতপর তাতেই সমাপ্তি, আর জ্ঞানের জন্য এটাই যথেষ্ট» (৩)।
4 - সুফিয়ান বিন হুসাইন (৪) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ইয়াস বিন মুয়াবিয়া আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন: আমি দেখছি যে আপনি কুরআনের জ্ঞানের প্রতি খুবই অনুরাগী, তাই আমার কাছে একটি সূরা পাঠ করুন এবং তার তাফসির করুন যাতে আমি দেখতে পারি আপনি কী শিখেছেন।
তিনি বলেন: আমি তা করলাম।
তখন তিনি বললেন: আমি আপনাকে যা বলছি তা মনে রাখুন: হাদিসের ক্ষেত্রে অসংলগ্নতা বা অদ্ভুত বর্ণনা (الشناعة) থেকে বেঁচে থাকবেন; কারণ খুব কম লোকই তা বহন করেছে যে সে নিজে লাঞ্ছিত হয়নি এবং তার হাদিস বর্ণনায় মিথ্যা (كذب) প্রকাশ পায়নি।»
যারা আছারসমূহ অনুসন্ধান করবেন, তারা এই বিষয়ে অনেক কিছু পাবেন। এটি গবেষণার জন্য একটি উপযুক্ত বিষয়, যার মাধ্যমে গবেষক তাদের আছারসমূহের আলোকে 'উলুমুল কুরআন' বা কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تدوين علوم القرآن:إن مما يحسن لفت النظر إليه علاقة علوم القرآن بعلم التفسير، فعلم التفسير من حيث هو بيان لمعاني كلام الله جزء من علوم القرآن، لكنه يتضمن جملة من أنواع علوم القرآن لا يقوم التفسير إلا بها، ومن تلك الأنواع: علم غريب القرآن، وعلم الناسخ والمنسوخ، وعلم أسباب النُّزول، فهذه الأنواع وغيرها من ما يحتاج إليه المفسر أحياناً؛ كالمكي والمدني وغيره مما لا تخلو منه كتب التفسير.
ومن ثَمَّ، فإن كتب التفسير التي دوَّنها السلف مصدر من مصادر علوم القرآن، وهي جزء مرتبط بنشأة علوم القرآن لا يمكن إغفاله وتجنُّبه، إلا إذا كان المقصود البحث عن هذه الإضافة (علوم القرآن)، أو عمَّا أدخله المتأخرون تحت مسمى علوم القرآن؛ كالناسخ والمنسوخ الذي هو من صلب علوم التفسير.
لذا فإن الحديث عن تدوين علوم القرآن لا يمكن أن ينفك عن الحديث عن كتب التفسير في جميع مراحلها (1).
ومن هنا، فإنه يمكن تقسيم نشأة علوم القرآن على عدة أساليب في التقسيم، إما بالنظر إلى الزمان، وإما بالنظر إلى مادة الكتب، وسأجمع بين التقسيمين هنا، وسأقسم الموضوع إلى مراحل كالآتي:
--------------------------------------------
উলূমুল কুরআনের সংকলন ও বিন্যাস:একটি বিষয় যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সমীচীন তা হলো উলূমুল কুরআনের সাথে তাফসির শাস্ত্রের সম্পর্ক। তাফসির শাস্ত্র আল্লাহর বাণীর অর্থের বর্ণনা হওয়ার দিক থেকে উলূমুল কুরআনেরই একটি অংশ। তবে এটি উলূমুল কুরআনের এমন কিছু প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ছাড়া তাফসির শাস্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এই প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে: কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলীর জ্ঞান (غريب القرآن), রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয়ের জ্ঞান (الناسخ والمنسوخ) এবং নাযিলের প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত জ্ঞান (أسباب النُّزول)। এই প্রকারগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা একজন মুফাসসিরের মাঝেমধ্যে প্রয়োজন হয়; যেমন মক্কী (مكي) ও মাদানী (مدني) এবং অন্যান্য বিষয় যা থেকে তাফসিরের কিতাবসমূহ খালি থাকে না।
অতএব, সালাফগণ কর্তৃক সংকলিত তাফসিরের গ্রন্থগুলো উলূমুল কুরআনের অন্যতম প্রধান উৎস। এটি উলূমুল কুরআনের উদ্ভবের সাথে এমনভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যা উপেক্ষা করা বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; অবশ্য যদি উদ্দেশ্য হয় কেবল এই পারিভাষিক শব্দটির (উলূমুল কুরআন) সংযোজন নিয়ে গবেষণা করা, অথবা পরবর্তী যুগের আলিমগণ (المتأخرون) যা উলূমুল কুরআন শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করা; যেমন রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয় (الناسخ والمنسوخ) যা মূলত তাফসির শাস্ত্রের মূল নির্যাস।
তাই উলূমুল কুরআনের সংকলন নিয়ে আলোচনাকে এর সকল পর্যায়ে তাফসিরের কিতাবসমূহের আলোচনা থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় (১)।
এখান থেকে, উলূমুল কুরআনের উদ্ভবকে কয়েকটি পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা যায়; হয় সময়ের বিবেচনায়, না হয় গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তুর বিবেচনায়। আমি এখানে উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করব এবং বিষয়টিকে নিম্নোক্ত পর্যায়সমূহে বিভক্ত করব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المرحلة الأولىبذور هذا العلم منذ نشأته إلى نهاية القرن الثاني (200هـ)
كانت علوم القرآن في هذه المرحلة تتمثل في وجود روايات شفاهية يتناقلها التابعون عن الصحابة، وأتباع التابعين عن التابعين، وأتباع أتباع التابعين عن أتباع التابعين حتى يصل السند إلى قائله من هذه الطبقات الثلاث.
وكان للتدوين نصيبٌ في هذه الفترة، فقد دُوِّنت مجموعة من الكتب في هذه المرحلة، وكانت تحمل قدراً لا بأس به من أنواع علوم القرآن.
ويمكن تقسيمها على النحو الآتي:
أولاً: روايات التفسير وكتبه:
يمكن تصنيف الكتابة في التفسير في هذه المرحلة إلى أقسام:
الأول: الكتابات الجزئية للتفسير، وذلك إما أن تكون رواية لتفسير أحد أعلام المفسرين؛ كمجاهد بن جبر (ت104هـ) الذي كتب تفسير شيخه ابن عباس رضي الله عنهما (ت68هـ)، وإما أن تكون لعدد من المفسرين؛ كتفسير سفيان الثوري (ت161هـ).
وفي هذين النوعين لم يصلنا تفسير كاملٌ لجميع القرآن.
الثاني: الكتابة الشاملة لجميع القرآن، وقد نُسب هذا التصنيف على هذا الأسلوب للضحاك بن مزاحم (ت105هـ)، ومنه كذلك تفسير مقاتل بن سليمان (ت150هـ)، وهو كاملٌ مطبوع، وتفسير يحيى بن سلام البصري (ت200هـ) (1)،
--------------------------------------------
প্রথম পর্যায়এই বিজ্ঞানের অঙ্কুরোদগম: এর সূচনা থেকে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর (২০০ হি.) শেষ পর্যন্ত (২০০ হি.)
এই পর্যায়ে উলূমুল কুরআন এমন মৌখিক বর্ণনার (روايات) আকারে বিদ্যমান ছিল যা তাবেঈগণ সাহাবীদের নিকট থেকে, তাবা-তাবেঈগণ তাবেঈদের নিকট থেকে এবং তাবা-তাবেঈদের অনুসারীগণ তাবা-তাবেঈদের নিকট থেকে একে অপরের কাছে হস্তান্তর করতেন, যতক্ষণ না এই তিন স্তরের (طبقات) কোনো প্রবক্তার কাছে সূত্রটি (سند) পৌঁছায়।
এই সময়ে সংকলন (تدوين) প্রক্রিয়ারও একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল; ফলে এই পর্যায়ে একগুচ্ছ গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন প্রকারের এক বড় অংশ ধারণ করেছিল।
সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত করা যেতে পারে:
প্রথমত: তাফসিরের বর্ণনা (روايات) ও তার গ্রন্থসমূহ:
এই পর্যায়ে তাফসির লিখনকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রথম: তাফসিরের আংশিক লিখনসমূহ; আর তা হয় কোনো একজন প্রথিতযশা মুফাসসিরের তাফসিরের বর্ণনা (رواية) হিসেবে; যেমন মুজাহিদ ইবন জাবর (মৃত্যু ১০৪ হি.), যিনি তাঁর উস্তাদ ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) (মৃত্যু ৬৮ হি.)-এর তাফসির লিখেছিলেন, অথবা তা একাধিক মুফাসসিরের বর্ণনার সংকলন হতে পারে; যেমন সুফিয়ান আস-সাওরীর (মৃত্যু ১৬১ হি.) তাফসির।
এই দুই পদ্ধতিতে সমগ্র কুরআনের কোনো পূর্ণাঙ্গ তাফসির আমাদের নিকট পৌঁছেনি।
দ্বিতীয়: সমগ্র কুরআনের পূর্ণাঙ্গ লিখন; আর এই পদ্ধতির সংকলনটি (تصنيف) দাহহাক ইবন মুজাহিম (মৃত্যু ১০৫ হি.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তদ্রূপ মুকাতিল ইবন সুলাইমানের (মৃত্যু ১৫০ হি.) তাফসিরও এর অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্ণাঙ্গ ও মুদ্রিত; এবং ইয়াহইয়া ইবন সালাম আল-বাসরি (মৃত্যু ২০০ হি.) (১)-এর তাফসির।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাররার ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وتفسيره لجميع القرآن، والموجود منه بعضه، وقد طُبِع منه قطعة بتحقيق الدكتورة هند شلبي التونسية، ويتميز هذا التفسير بمقدمة ذكر فيها بعض مسائل في علوم القرآن، وقد نقلها عنه ابن أبي زمنين (ت399هـ) (1)، وهود بن محكم (من أعلام القرن الثالث) (2) في مختصريهما لتفسير يحيى بن سلام (ت200هـ) (3).
--------------------------------------------
তার তাফসির সমগ্র কুরআনের জন্য, তবে এর কিছু অংশ বর্তমানে পাওয়া যায়। তিউনিসিয়ার ডক্টর হিন্দ শালবির সম্পাদনায় এর একটি অংশ মুদ্রিত হয়েছে। এই তাফসিরটি একটি ভূমিকা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যেখানে তিনি উলূমুল কুরআনের কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবি যামানিন (মৃত্যু ৩৯৯ হিজরি) (১) এবং হূদ বিন মুহাক্কাম (তৃতীয় শতাব্দীর অন্যতম ব্যক্তিত্ব) (২) ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লামের (মৃত্যু ২০০ হিজরি) (৩) তাফসিরের তাদের সংক্ষিপ্তসারগুলোতে (মুখতাসার) তার থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
--------------------------------------------