(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
أنواع التصنيف المتعلقة بتفسير القرآن الكريم   (مساعد الطيار)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أنواع التَّصنيف المتعلِّقة بتَفسير القُرآن الكريم

المؤلف: د مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

الناشر: دار ابن الجوزي

الطبعة: الثالثة، 1434 هـ

عدد الأجزاء: 1

الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1435

পবিত্র কুরআনের তাফসির সংশ্লিষ্ট রচনাশৈলীর প্রকারভেদ (أنواع التصنيف)   (মুসাঈদ আল-ত্বাইয়ার)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনের তাফসির সংশ্লিষ্ট রচনাশৈলীর প্রকারভেদ (أنواع التصنيف)

লেখক: ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-ত্বাইয়ার

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪৩৪ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

বইটি লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য উপহার

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১)
أنواع التَّصنيف المتعلِّقة بتَفسير القُرآن الكريم

إعداد

د. مساعِد بن سُليمان بن ناصر الطيَّار

أستاذ التفسير المشارك بجامعة الملك سعود

 

دار ابن الجوزي

بسم الله الرحمن الرحيم
পবিত্র কুরআনের তাফসীর সংক্রান্ত রচনার প্রকারভেদ

রচনায়

ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসের আল-ত্বাইয়্যার

কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসীর বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক

 

দার ইবনুল জাওযী

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[عرض أنواع التَّصنيف المتعلِّقة بتَفسير القُرآن الكريم]ـ (*)

 

عرض: عمرو الشرقاوي

 

إعداد

 

د. مساعِد بن سُليمان بن ناصر الطيَّار

 

أستاذ التفسير المشارك بجامعة الملك سعود

 

صدر الكتاب عن دار ابن الجوزي بعدة طبعات مختلفة، آخرهن طبعة مجلدة.

وقد ذكر المؤلف أنه لمْ يَسِرْ على نظامٍ مُجَدْوَلٍ في كلِّ تصنيفٍ، بل كان يكتبُ ما يمليه الخاطرُ؛ لذا لم يكن للمعلوماتِ ترتيبٌ معيَّنٌ.

وذكر المؤلف مدخلاً يتعلَّقُ بتصنيفِ العلومِ التي يشملُها علمُ «علومِ القرآنِ».

واستطرد في ذكرِ قضيَّةِ تداخلِ موضوعاتِ «علوم القرآنِ»، وهي قضيَّةٌ مهمَّةٌ تحتاجُ إلى نظرٍ ودراسةٍ؛ لأنَّه قد يمكنُ أن تُدرسَ جملةٌ من علومِه تحتَ مسمًّى واحدٍ تترابطُ فيه مسائلُ هذا العلمِ؛ ويبنى عليها ما بعدها من المسائلِ.

كما نبه على أن علم التَّفسيرِ جزءٌ من علومِ القرآنِ.

وأن الأصل أن يكونَ ما في علمِ التَّفسيرِ مُبينًا للقرآنِ، وما كانَ خارجًا عن حَدِّ بيانِ كلامِه سبحانَهُ، فإنَّه ليسَ من صُلبِ التَّفسيرِ.

كما أجرى المؤلف محاولةً في ترتيبِ جملةِ هذه العلومِ التي يذكرها المصنِّفون في علومِ القرآنِ، ودمج ما تفرَّق منها، وإرجاعِ بعضها إلى بعضٍ.

وذكر عدة فوائد نفيسة في مدخل الكتاب يحسن الرجوع إليها.

وبدأ بذكر كتب التفسير، منبهًا أنها كثيرةٌ جدًّا، وذكر إشاراتٍ عابرةً في هذه الكتبِ.

كما ذكر أنَّ السَّلفَ من التابعينَ وتابعيهم قد دوَّنوا التَّفسيرَ، وأنَّ أغلبَ هذه المدوَّناتِ مبثوثٌ في الكتبِ التي تُعنى بالمأثورِ عنهم.

ونبه أنه إذا درست تفاسيرَهم بعنايةٍ، ونظرت في تفاسيرِ المتأخرينَ، سيظهر جليًّا أنَّ المتأخِّرينَ عالةٌ عليهم في بيانِ معاني القرآنِ والمرادِ بها، وأنَّ المتأخرينَ لم يزيدوا كثيرًا على أقوالِهم من جهةِ البيانِ عن معنى الآي، وإنما كانتِ الزيادةُ في غيرِ هذا الجانبِ.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا العرض ليس في المطبوع، ومصدره الموقع الرسمي للمؤلف - حفظه الله -.
ـ[পবিত্র কুরআনের তাফসির সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকারের শ্রেণিবিন্যাস উপস্থাপন]ـ (*)

 

উপস্থাপনা: আমর আল-শারকাবি

 

প্রস্তুতকরণ

 

ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আল-তাইয়্যার

 

কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসির বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

 

বইটি দার ইবনুল জাওজি থেকে বেশ কিছু বিভিন্ন মুদ্রণে প্রকাশিত হয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল একটি হার্ডকভার সংস্করণ।

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রতিটি শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেননি, বরং মনে যা এসেছে তাই লিখেছেন; ফলে তথ্যগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ক্রমবিন্যাস ছিল না।

লেখক "উলুমুল কোরআন" (কোরআনের বিজ্ঞানসমূহ) শাস্ত্রের অন্তর্গত বিষয়গুলোর শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত একটি ভূমিকা উল্লেখ করেছেন।

তিনি "উলুমুল কোরআন"-এর বিষয়বস্তুসমূহের পারস্পরিক সংমিশ্রণের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার দাবি রাখে; কারণ এর অনেকগুলো শাস্ত্রকে একই শিরোনামের অধীনে পাঠ করা সম্ভব যেখানে সেই শাস্ত্রের বিষয়গুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী মাসয়ালাসমূহ গড়ে ওঠে।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, তাফসির শাস্ত্র মূলত উলুমুল কোরআনের একটি অংশ।

এবং মূলনীতি হলো, তাফসির শাস্ত্রে যা থাকবে তা যেন কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হয়; আর যা মহান আল্লাহর কালামের ব্যাখ্যার সীমানার বাইরে, তা তাফসিরের মূল অংশ নয়।

লেখক উলুমুল কোরআন বিষয়ে গ্রন্থকারদের উল্লেখিত শাস্ত্রসমূহকে বিন্যস্ত করার একটি প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র স্থাপন করেছেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বেশ কিছু মূল্যবান ফায়দা উল্লেখ করেছেন যা দেখে নেওয়া উত্তম।

তিনি তাফসির গ্রন্থগুলোর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে এগুলোর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি; তিনি এই কিতাবগুলোর ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাবেয়ী (التابعين) এবং তাদের অনুসারী তবে-তাবেয়ী (تابعيهم) পর্যায়ের পূর্বসূরি (السلف) গণ তাফসির সংকলন করেছিলেন, এবং এই সংকলনগুলোর অধিকাংশ সেইসব কিতাবসমূহের মধ্যে ছড়িয়ে আছে যেগুলোতে তাঁদের থেকে বর্ণিত পরম্পরাগত বর্ণনা (المأثور) সমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, আপনি যদি তাঁদের তাফসিরসমূহ মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীকালের লেখকদের তাফসিরগুলো দেখেন, তবে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে যে, পরবর্তীকালের লোকেরা কুরআনের অর্থের ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল। আয়াতের অর্থের ব্যাখ্যার দিক থেকে পরবর্তীকালের পণ্ডিতরা তাঁদের বক্তব্যে খুব বেশি কিছু যোগ করতে পারেননি, বরং যা কিছু সংযোজন হয়েছে তা ব্যাখ্যার বাইরের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে।

--------------------------------------------

(*) শামিলা সফটওয়্যারের কিতাব প্রস্তুতকারী বলেছেন: এই উপস্থাপনাটি মুদ্রিত কপিতে নেই, এর উৎস হলো লেখকের—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
ونبه كذلك أنَّ كُتبَ التَّفسيرِ تحوي كثيرًا من مسائلِ العلومِ التي لها علاقةٌ بعلمِ التَّفسيرِ أو هي من علومِ القرآنِ، وأن هذه الكتبُ مجالٌ خصبٌ لتطبيقاتِ هذه المسائلِ العلميَّةِ، بل قد تجدُ فيها إشاراتٍ إلى مسائلَ متعلِّقةٍ بعلمٍ من علومِ القرآنِ، وهي غيرُ موجودةٍ في كتبِه.

وأن مُدوَّناتُ التَّفسيرِ الكبيرةُ خرجت بعلمِ التَّفسيرِ إلى مسائلَ لا علاقةَ لها به، وإنما جرَّها إليه بُرُوعُ المؤلِّفِ في فنٍّ من الفنونِ.

ونبه أنَّ المذهب الذي يميلُ إليه المفسر، سواءٌ أكانَ فِقْهًا، أم نَحْوًا، أم عَقِيدَةً = له أثرٌ في اختيارِ المفسِّرِ للمعنى، وقد يظهرُ بهذا الاختيارِ تكلُّفُ المفسِّرِ وتعسُّفُه، وتركُه للظَّاهرِ من أجلِ أن لا يخالفَ ما يعتقدُه.

وفي كتب إعراب القرآن نبه على أن علم إعرابِ القرآنِ يدخلُ في تآليفِ معاني القرآنِ.

وذكر المؤلف أنَّ كُتب العلماءِ في إعرابِ القرآنِ على قسمين:

الأول: كتبٌ مستقلَّةٌ باسم إعرابِ القرآنِ.

الثاني: كتبٌ تضمَّنت إعرابَ القرآنِ؛ كبعضِ كتبِ التَّفسيرِ، وكتبِ معاني القرآنِ، وكتبِ الاحتجاجِ للقراءاتِ، وكتبِ الوقفِ والابتداءِ.

ونبه المؤلف أن التَّوجُّهِ للنَّصِّ القرآنيِّ مجالٌ لبعضِهم في ذكر أصولِ مذاهبِ العلماء وآرائهم النحويَّةِ.

ومن الفوائد الحسنة التي ذكرها أن كتابي الفراء والأخفش لو رُتِّبَا على مسائلِ كُتب النَّحوِ، لصارا كتابينِ نحويَّينِ، قلَّ أن يشذَّ عنهما بابٌ من أبوابِ النَّحوِ، وأن هذا يدلُّ على أنهما أرادا بهذا التَّوجُّه للقرآنِ إبرازَ مذهبِهما النَّحويِّ، واللهُ أعلمُ.

وذكر بعض القواعد التي تضبط ما يُعملُ به في إعرابِ كتابِ اللهِ.

وفي كتب معاني القرآن ذكر من ألف فيه من لغويو القرن الثاني، وبعض ما قد طُبِعَ من كُتبِ معاني القرآنِ.

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, তাফসির গ্রন্থসমূহ বিজ্ঞানের এমন অনেক মাসআলা বা বিষয়বস্তু ধারণ করে যা তাফসির শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত অথবা তা উলুমুল কুরআন (علوم القرآن)-এর অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থগুলো এসব বৈজ্ঞানিক মাসআলা প্রয়োগের জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র; এমনকি এতে উলুমুল কুরআন (علوم القرآن)-এর এমন সব বিষয়ের প্রতিও ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে যা উলুমুল কুরআন (علوم القرآن)-এর মূল কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় না।

আর তাফসিরের বৃহৎ সংকলনগুলো তাফসির শাস্ত্রকে এমন সব মাসআলার দিকে নিয়ে গেছে যার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত কোনো বিশেষ শিল্প বা শাস্ত্রে লেখকের পারদর্শিতাই তাকে এদিকে টেনে নিয়েছে।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, মুফাসসির যে মাজহাব বা মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে থাকেন—তা ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ) কিংবা আকিদা (عقيدة) যা-ই হোক না কেন—তা মুফাসসিরের অর্থ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মুফাসসিরের কৃত্রিমতা ও জবরদস্তি প্রকাশ পেতে পারে এবং তিনি যা বিশ্বাস করেন তার বিরোধিতা এড়াতে শব্দের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ ত্যাগ করতে পারেন।

আর ইরাবুল কুরআন (কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরাবুল কুরআন শাস্ত্রটি মাআনিল কুরআন বিষয়ক রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত।

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইরাবুল কুরআন বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের গ্রন্থসমূহ দুই প্রকার:

প্রথম: ইরাবুল কুরআন নামে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয়: এমন সব গ্রন্থ যা ইরাবুল কুরআনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; যেমন কিছু তাফসির গ্রন্থ, মাআনিল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থ, কিরাতসমূহের সপক্ষে দলিল ভিত্তিক গ্রন্থ এবং ওয়াকফ ও ইবতিদা (বিরতি ও প্রারম্ভ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

লেখক সতর্ক করেছেন যে, কুরআনের মূল পাঠের (نص) প্রতি মনোনিবেশ করা কারও কারও ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের মাজহাবের মূলনীতি (أصول) এবং তাদের ব্যাকরণিক মতামতগুলো উল্লেখ করার একটি ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি যেসব চমৎকার ফায়দা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো—ইমাম ফাররা এবং ইমাম আখফাশের কিতাব দুটিকে যদি নাহু শাস্ত্রের মাসআলা অনুযায়ী সাজানো হতো, তবে তা দুটি নাহু বিষয়ক গ্রন্থে পরিণত হতো, যা থেকে নাহুর খুব কম অধ্যায়ই বাদ পড়ত। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআনের প্রতি এই মনোনিবেশের মাধ্যমে তারা আসলে তাদের ব্যাকরণিক মাজহাবকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি আল্লাহর কিতাবের ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পালনীয় কিছু নীতিমালা (قواعد) উল্লেখ করেছেন।

আর মাআনিল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থাবলির আলোচনায় তিনি দ্বিতীয় শতাব্দীর সেইসব ভাষাবিদদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মাআনিল কুরআন বিষয়ক মুদ্রিত কিছু গ্রন্থের নামও উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
ونبه أن بعضَ كتبِ معاني القرآنِ تضمُّ إليها علمَ إعرابِ القرآنِ؛ لذا، فإنها من مراجِعِ كتبِ الإعرابِ القرآنيُّ.

ونبه أنه قد يدخل في علم معاني القرآنِ: علمُ غريبِ القرآنِ، وعلمُ مشكلِ القرآنِ، وعلمُ الأساليبِ العربيَّةِ التي جاءت في القرآن (علم إعجازِ القرآنِ، وعلم البلاغة كما بحثه المتقدِّمونَ).

ومن فوائده: أن معاني القرآن التي كتب فيها المتقدمون غير علم المعاني الذي صار قسمًا من علوم البلاغة.

وفي كتب غريب القرآن، نبه على أنه ليس المرادُ بالغريبِ: ما كانَ غامض المعنى دون غيره، وإنَّما المرادُ به: تفسيرُ مفرداتِ القرآنِ عمومًا.

وذكر أن كتاب مجازِ القرآنِ، لأبي عبيدةَ من أشهرِ كتبِ غريبِ القرآنِ، وأكثرِها أثرًا في من جاء بعده، كما يتميَّزُ بكثرةِ الشَّواهدِ الشِّعريَّةِ.

ونبه أنه قد سارت المؤلفاتُ في غريبِ القرآنِ في ترتيبِها على طريقتين:

الأولى: السَّيرُ على ترتيب الألفاظِ في السورِ، مبتدأةً بسورة الفاتحة، ومختتمةً بسورةِ النَّاس.

الثانية: ترتيبُ الألفاظِ القرآنيَّة على الحروفِ الهجائيَّةِ، وغالبُها سارَ على الترتيبِ الألفبائي.

ومن الفوائد الجميلة: أنَّ علم غريبِ القرآنِ من أوَّلِ علومِ التَّفسيرِ التي يجبُ أن يتعلَّمه طالبُ علمِ التَّفسيرِ.

وفي كتب مُشكلاتِ القُرآن، نبه أنه قد يرادُ بالمشكلِ: المُشَاكِلُ للشَّيءِ؛ أي: المُشَابِه له، وقد يرادُ به: ما غَمَضَ ودَقَّ عن الفَهْمِ.

وأن المراد به هنا النَّوع الثاني؛ أي: ما غَمَضَ في الفَهْمِ وخَفِيَ على المرءِ، أيًّا كانَ سببُ غُمُوضِه وخَفَائه، وأنه قد يُطلقُ على هذا النَّوع مصطلحُ المتشابهِ.

وأنه يظهرُ أنَّ سببَ الكتابةِ في مشكل القرآن مَوجَةٌ من الزَّندقةِ التي كانت تُشكِّكُ بالقرآنِ الكريمِ في نَظْمِه، أو أسلوبِه، أو أخبارِه.
তিনি সতর্ক করেছেন যে, মাআনী আল-কুরআন বিষয়ক কিছু গ্রন্থ তার সাথে ই’রাব আল-কুরআন শাস্ত্রকেও অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে সেগুলো কুরআনুল কারীমের ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের অন্যতম উৎস।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, মাআনী আল-কুরআন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে: গারীব আল-কুরআন শাস্ত্র, মুশকিল আল-কুরআন শাস্ত্র এবং কুরআনে বর্ণিত আরবি ভাষাশৈলী সংক্রান্ত শাস্ত্র (ই’জায আল-কুরআন শাস্ত্র এবং প্রাচীন আলিমদের আলোচিত বালাগাত বা অলঙ্কার শাস্ত্র)।

এর অন্যতম একটি শিক্ষা হলো: প্রাচীনরা 'মাআনী আল-কুরআন' বিষয়ে যা লিখেছেন তা সেই 'ইলমুল মাআনী' থেকে ভিন্ন, যা পরবর্তীতে অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি বিভাগে পরিণত হয়েছে।

গারীব আল-কুরআন বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিরল (غريب) বলতে কেবল অর্থগত অস্পষ্টতাকে বোঝানো হয়নি; বরং এর দ্বারা সাধারণভাবে কুরআনের শব্দাবলির ব্যাখ্যা উদ্দেশ্য।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আবু উবাইদাহ্-এর 'মাজায আল-কুরআন' গ্রন্থটি গারীব আল-কুরআন বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং পরবর্তীদের ওপর এর প্রভাব সর্বাধিক; একইসাথে এটি প্রচুর কাব্যিক নিদর্শনের আধিক্যের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, গারীব আল-কুরআন বিষয়ক গ্রন্থসমূহ বিন্যাসের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছে:

প্রথমটি: সূরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী শব্দগুলোর বিন্যাস অনুসরণ করা, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু হয়ে সূরা আন-নাস-এ শেষ হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: কুরআনের শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো, যার অধিকাংশই সাধারণ বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।

একটি চমৎকার শিক্ষা হলো: গারীব আল-কুরআন শাস্ত্র হলো তাফসির শাস্ত্রের প্রাথমিক বিষয়গুলোর একটি, যা তাফসিরের একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই শেখা উচিত।

মুশকিলাতুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অস্পষ্ট (مشكل) বলতে কখনও কোনো জিনিসের সদৃশ বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াকে বোঝানো হয়; আবার কখনও যা অনুধাবন করা কঠিন ও সূক্ষ্ম তা বোঝানো হয়।

আর এখানে দ্বিতীয় প্রকারটিই উদ্দেশ্য; অর্থাৎ যা বুঝতে কঠিন এবং মানুষের কাছে অস্পষ্ট, তার অস্পষ্টতার কারণ যাই হোক না কেন। আর এই প্রকারটির ক্ষেত্রে অনেক সময় অস্পষ্ট (متشابه) পরিভাষাটিও প্রয়োগ করা হয়।

আরও প্রতীয়মান হয় যে, মুশকিল আল-কুরআন বিষয়ে গ্রন্থ রচনার কারণ ছিল ধর্মহীনতা (زندقة)-এর এমন এক প্রবাহ, যা কুরআনুল কারীমের বিন্যাস, শৈলী বা এর সংবাদসমূহের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করছিল।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
وفي كتبُ متشابه القرآنِ، ذكر أن علم المتشابهِ في علومِ القرآن مصطلحٌ يطلقُ على عدَّةِ علومٍ، وهي:

1 ـ المتشابِه الذي يقابلُ المحكم.

2 ـ المتشابه اللفظيُّ الذي يُشْكِلُ على حفَّاظِ القرآنِ.

3 ـ المتكرِّرُ من المقاطعِ، مع تغيُّرِ كلمةٍ أو نحوها، أو ما يكونُ بين مقطعينِ من تناسبٍ ومُشَاكَلةٍ من أي وجهٍ من وجوهِ المُشَاكَلَةِ.

وأنواع ذلك وبعض كتبه.

كما ذكر معنى مصطلح الوجوه والنظائر.

وفي كتب أحكامِ القرآنِ، ذكر أنه قد ألَّفَ العلماءُ في هذا العلم قديمًا.

ونبه أنه لا تخلو كتب التَّفسير المطوَّلةُ من تفسير الأحكام القرآنيَّة والاستطراد في مسائل الفقه.

ونبه أنه قد كانت طريقةُ ترتيبِ كتبِ الأحكامِ على منهجينِ:

الأوَّلُ: ترتيبُ الكتابِ على سورِ القرآنِ، فيبتدأُ بالفاتحةِ، ويختمُ بالنَّاسِ، وعلى هذا أغلبُ كتبِ أحكامِ القرآنِ.

الثاني: ترتيبُ الكتابِ على أبوابِ الفقه.

وذكر أن هذا المنهج الذي انتهجه أصحابُ كتبِ أحكام القرآن جعلَ كتبَهم كتبَ فقهٍ، لا كتب تفسيرٍ، ولذا فإنَّه لا تكتملُ فيها صورةُ التَّفسيرِ.

ولو كانت كتبُ أحكامِ القرآنِ تعمدُ إلى الأحكامِ التي نصَّ عليها القرآنُ، وإلى كيفيَّةِ استنباطِ الحكمِ من القرآنِ، دونَ الاستطرادِ في ذكرِ المسائلِ الفقهيَّةِ، أو تكلُّفِ الحديثِ عن أحكامٍ لم ينصَّ عليها القرآنُ = لما اتسعتْ هذه الكُتبُ، واللهُ أعلمُ.

وفي كتب الناسخِ والمنسوخِ، ذكر أنَّ علمَ النَّاسخِ والمنسوخِ من أشهرِ علومِ القرآنِ، وأكثرها كُتُبًا، إذ كتبَ فيه عددٌ كثيرٌ من العلماءِ، وذكر بعض كتبهم المطبوعة.

كما نبه على الفرق في مصطلح النَّسخ بين المتقدِّمين ومتأخِّري الفقهاء.

وفي كتب المناسبات، ذكر أن العلماء كتبوا في في علمِ المناسباتِ، وكانت كتابتُهم ـ غالبًا ـ في المناسباتِ بين السُّورِ والمناسبات بين الآيات.
কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহ (متشابه القرآن) বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) মধ্যে 'মুতাশাবিহ' (المتشابه) একটি পারিভাষিক শব্দ (مصطلح), যা কয়েকটি বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, সেগুলো হলো:

১. সেই অস্পষ্ট বা রূপক বিষয়সমূহ (المتشابه) যা সুস্পষ্ট বিষয়ের (المحكم) বিপরীত।

২. শাব্দিক রূপক বিষয়সমূহ (المتشابه اللفظي) যা কুরআনের হাফেজদের জন্য জটিলতার সৃষ্টি করে।

৩. আয়াতের সেসব পুনরাবৃত্ত (المتكرر) অংশ, যেখানে কোনো শব্দ বা অনুরূপ কিছুর পরিবর্তন ঘটে, অথবা দুই আয়াতাংশের মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্য (تناسب) ও সাদৃশ্য (مشاكلة) তা সাদৃশ্যের যে কোনো দিক থেকেই হোক না কেন।

এবং এগুলোর প্রকারভেদ ও এ বিষয়ের কিছু গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে তিনি আল-উজুহ ওয়ান নাযায়ির (الوجوه والنظائر) পরিভাষার অর্থও উল্লেখ করেছেন।

কুরআনের বিধানাবলি (أحكام القرآن) বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলেমগণ প্রাচীনকাল থেকেই এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিস্তারিত তাফসির গ্রন্থগুলো কুরআনের বিধানাবলির ব্যাখ্যা এবং ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের মাসআলাসমূহের বিশদ আলোচনা থেকে মুক্ত নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আহকামুল কুরআনের গ্রন্থগুলো সাজানোর পদ্ধতি ছিল মূলত দুই প্রকার:

প্রথমত: কুরআনের সূরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী সাজানো; যা সূরা ফাতিহা থেকে শুরু হয়ে সূরা নাস এ গিয়ে শেষ হয়। কুরআনের বিধানাবলি (أحكام القرآن) বিষয়ক অধিকাংশ গ্রন্থ এই পদ্ধতিতেই রচিত।

দ্বিতীয়ত: ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের অধ্যায়গুলোর ক্রম অনুযায়ী সাজানো।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আহকামুল কুরআনের গ্রন্থকারগণ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা তাদের গ্রন্থগুলোকে ফিকহী গ্রন্থে পরিণত করেছে, তাফসির গ্রন্থে নয়; যার ফলে এগুলোতে তাফসিরের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে ওঠেনি।

যদি কুরআনের বিধানাবলি (أحكام القرآن) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে কেবল কুরআনে সরাসরি বর্ণিত বিধানসমূহ এবং কুরআন থেকে বিধান আহরণের (استنباط) পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হতো—ফিকহী মাসআলাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা অথবা কুরআনে সরাসরি উল্লেখ নেই এমন সব বিধানের আলোচনার অবতারণা না করে—তবে এই গ্রন্থগুলো এতটা দীর্ঘ হতো না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নাসেখ ও মানসুখ শাস্ত্র কুরআনের জ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি শাখা এবং এর ওপর সর্বাধিক সংখ্যক কিতাব রচিত হয়েছে। কেননা বহু সংখ্যক আলেম এ বিষয়ে লিখেছেন এবং তিনি এ বিষয়ের কিছু মুদ্রিত কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন।

অনুরূপভাবে তিনি পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী ফকিহদের (الفقهاء) পরিভাষায় রহিতকরণ (نسخ) শব্দের ব্যবহারের পার্থক্যের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পারষ্পরিক সম্পর্ক (المناسبات) বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলেমগণ পারষ্পরিক সম্পর্ক (المناسبات) বিষয়ে লিখেছেন। তাদের লেখাগুলো সাধারণত সূরাসমূহের মধ্যবর্তী সম্পর্ক এবং আয়াতসমূহের মধ্যবর্তী সম্পর্ক কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
وأن المرادُ بهذا العلمِ: بيان وجهِ ارتباطِ اللفظةِ أو الآية أو السورةِ، أو غيرِها مما يحكيه العلماء من أنواع المناسباتِ.

ثم تحدث عن كتب أسبابِ النُّزولِ، وبعض مصطلحاته.

وذكر المؤلف طريق معرفة سبب النُّزول، والحاجة إلى معرفته.

ثم تعرض لكتب توجيهِ القراءاتِ، وأنها على نوعينِ:

النوع الأول: يذكر القراءات وينسبها إلى من قرأ بها، دون ذكر توجيهها.

النوع الثاني: يذكر القراءات وينسبها، ويذكر توجيهها.

وأنه قد كتبَ العلماءُ في توجيه القراءاتِ كتبًا مستقلَّةً، واعتنوا بتوجيه متواترِها وشاذِّها.

كما ذكر كتبً الوقف والابتداءِ، وأن لعلم الوقف والابتداءِ علاقةً أكيدةً بعلمِ التَّفسيرِ، إذ هو أثرٌ من آثارِ التَّفسيرِ.

وبين في كتب مُبهمَاتِ القرآنِ أن مبهمات القرآنِ: ما لم يُنَصَّ على ذكرِه من الأسماءِ، وقد يكونُ الإبهامُ لعَلَمٍ أو نباتٍ، أو حيوانٍ أو مكانٍ أو زمانٍ … إلخ.

 

ثبت أنواع الكتب المذكورة

 

أولاً: كتبُ التفسير.

ثانيًا: كتب إعراب القرآن.

ثالثًا: كتب معاني القرآن.

رابعًا: كتبُ غريب القرآن.

خامسًا: كتب مشكلات القرآن.

سادسًا: كتبُ متشابهِ القرآن.

سابعًا: كتب الوجوه والنَّظائر.

ثامنًا: كتبُ أحكامِ القرآن.

تاسعًا: كتبُ الناسخ والمنسوخ.

عاشرًا: كتبُ المناسبات.

حادي عشر: كتبُ أسباب النُّزول.

ثاني عشر: كتبُ توجيهِ القراءات.

ثالث عشر: كتبُ الوقف والابتداء.

رابع عشر: كتبُ مبهمات القرآن.
এই শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো: শব্দ, আয়াত বা সূরার পারস্পরিক সম্পর্কের ধরণ অথবা ওলামায়ে কেরাম বর্ণিত অন্যান্য প্রকারের সামঞ্জস্য (مناسبات) বর্ণনা করা।

অতঃপর তিনি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং এর কিছু পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

লেখক অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول) জানার মাধ্যম এবং এটি জানার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি কিরাআতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه القراءات) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের অবতারণা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এগুলো দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: এতে কিরাআতসমূহ উল্লেখ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কিরাআত পাঠকারীর দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তবে এর বিশ্লেষণ (توجيه) উল্লেখ করা হয় না।

দ্বিতীয় প্রকার: এতে কিরাআতসমূহ উল্লেখ ও সম্বন্ধযুক্ত করার পাশাপাশি এর বিশ্লেষণ (توجيه) প্রদান করা হয়।

আর ওলামায়ে কেরাম কিরাআতের বিশ্লেষণের (توجيه القراءات) বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন এবং তাঁরা মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) ও শায বা বিরল (شاذ) কিরাআতসমূহের বিশ্লেষণের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।

অনুরূপভাবে তিনি ওয়াকফ (থামা) ও ইবতিদা (শুরু করা) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াকফ ও ইবতিদা শাস্ত্রের সাথে তাফসির শাস্ত্রের এক সুনিশ্চিত সম্পর্ক রয়েছে, কেননা এটি তাফসিরেরই অন্যতম একটি প্রভাব।

কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ (مبهمات القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কুরআনের অস্পষ্ট বিষয় (مبهمات) হলো সেই সকল নাম যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এই অস্পষ্টতা কোনো ব্যক্তি, উদ্ভিদ, প্রাণী, স্থান কিংবা কাল সংশ্লিষ্ট হতে পারে … ইত্যাদি।

 

উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের প্রকারভেদের তালিকা

 

প্রথমত: তাফসিরের গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয়ত: কুরআনের ইরাব বা ব্যাকরণ বিশ্লেষণ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

তৃতীয়ত: কুরআনের অর্থ ও মর্মার্থ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

চতুর্থত: কুরআনের দুর্লভ বা কঠিন শব্দাবলি সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

পঞ্চমত: কুরআনের জটিল বা আপাত বিরোধপূর্ণ বিষয়াদি সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

ষষ্ঠত: কুরআনের রূপক বা সদৃশ আয়াত সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

সপ্তমত: আল-উজুহ ও আন-নাযাইর সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

অষ্টমত: কুরআনের বিধিবিধান সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

নবমত: রহিতকারী ও রহিতকৃত আয়াত সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

দশমত: সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাত সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

একাদশতম: অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বা শানে নুযূল সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

দ্বাদশতম: কিরাআতের বিশ্লেষণ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

ত্রয়োদশতম: ওয়াকফ ও ইবতিদা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।

চতুর্দশতম: কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াবলি সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة البحث

الحمدُ للهِ العليِّ الكبيرِ، أنزلَ خيرَ كتبِه على خَيرِ رسلِه، وأصلِّي وأسلِّمُ على البشيرِ النَّذيرِ محمَّدِ بنِ عبد اللهِ، وعلى آلهِ وصحبهِ ومن والاه إلى يومِ الدين، وبعد:

لقد تنافسَ العلماءُ في التَّصنيفِ فيما يتعلَّقُ بكتابِ اللهِ، فخرجَ بذلك كتبٌ كثيرةٌ تخدمُ من يريدُ تفسيرَ كتابِ اللهِ، ويستعينُ بها على فهمه.

وهذه الكتبُ لا حصرَ لأفرادِها لكثرتها. لكن كان من الممكنِ حصرُ موضوعاتِها التي تطرَّقت إليها، من غريبٍ ومُشكلٍ ومبهَمٍ وحُكْمٍ، وغيرِها.

وهذا الكتاب يتعلَّقُ بأنواعِ الكتبِ التي صُنِّفت من أجلِ خدمةِ تفسيرِ كتابِ اللهِ.

وقد كانت فكرةُ تدوينِ هذا البحثِ إثرَ محاضراتٍ ألقيتُها تحت عنوان «مقدِّماتٌ في علم التفسير»، وكان هذا الموضوعُ أحد الموضوعات التي طرحتُها، فلاقى استحسانًا من الحضورِ، فبدا لي أن أزيد فيه، وأضعه في مؤلَّفٍ يحويه، فكانَ هذا الكتابُ.

ولقد حَرَصتُ فيه على بيانِ أنواعِ الكتبِ التي يُستفادُ منها في تفسيرِ كلامِ اللهِ، كما أشرتُ ـ في الغالبِ ـ إلى المعلوماتِ التي أُدخِلتْ على التَّفسيرِ في هذه الكتبِ.

وقد ذكرتُ في كلِّ نوعٍ من أنواعِ التَّصنيفِ عنوانَ الكتبِ الذي
গবেষণার ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব নাযিল করেছেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের ওপর। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর অনুসারী হবে তাদের ওপর। অতঃপর:

আল্লাহর কিতাব সংশ্লিষ্ট গ্রন্থ রচনায় আলেমগণ প্রতিযোগিতামূলকভাবে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর ফলে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যা আল্লাহর কিতাবের তাফসীর অন্বেষণকারীদের সহায়তা করে এবং এটি বুঝতে সাহায্য করে।

এই গ্রন্থসমূহের সংখ্যা এত বেশি যে তা গণনা করা অসম্ভব। তবে সেগুলো যেসব বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছে তা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব, যেমন: দুর্লভ শব্দ (غريب), জটিল বিষয় (مشكل), অনির্দিষ্ট বিষয় (مبهم), বিধান (حكم) ইত্যাদি।

এই গ্রন্থটি আল্লাহর কিতাবের তাফসীরের খিদমতে রচিত বিভিন্ন প্রকারের গ্রন্থসমূহ সম্পর্কিত।

এই গবেষণাটি সংকলনের পরিকল্পনা আসে 'তাফসীর শাস্ত্রের ভূমিকা' শীর্ষক আমার দেওয়া কিছু বক্তৃতার পর। এটি ছিল আমার উপস্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়, যা উপস্থিত সুধীবৃন্দের নিকট সমাদৃত হয়। ফলে আমার নিকট প্রতীয়মান হলো যে, এতে আরও কিছু সংযোজন করে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে রূপ দেওয়া প্রয়োজন, আর এভাবেই এই কিতাবটি রচিত হলো।

আমি এতে আল্লাহর কালামের তাফসীরে যেসব কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া যায় সেগুলোর প্রকারভেদ বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে এই কিতাবগুলোতে তাফসীরের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তথ্যগুলোর দিকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইঙ্গিত করেছি।

গ্রন্থ রচনার প্রতিটি প্রকারের অধীনে আমি ঐ সকল কিতাবের শিরোনাম উল্লেখ করেছি যা
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
اشتهرت به، وحرَّرتُ معناه، وبيَّنتُ ما وقع فيه من تطوُّرٍ إن وُجدَ، وذكرتُ بدايات هذا العلم، وبداياتِ التَّأليفِ فيه، وطريقةَ ترتيبِ هذه الكتبِ المصنَّفةِ، وقد أذكرُ نماذجَ منها، كما قد أُشِيرُ إلى مدى إفادتِها للمفسِّرِ وما يحتاجهُ منها، كلُّ ذلك قدر الجهدِ والطَّاقةِ.

ولمْ أَسِرْ على نظامٍ مُجَدْوَلٍ في كلِّ تصنيفٍ، بل كنت أكتبُ ما يمليه الخاطرُ ساعتَها؛ لذا لم يكن للمعلوماتِ ترتيبٌ معيَّنٌ.

كما لم ألتزم قراءة كلِّ كتبِ هذه العلومِ، بل دوَّنتُ ما كنتُ جمعتُه من فوائدَ في هذه الكتبِ في أثناء قراءاتٍ سابقةٍ.

وقد ذكرتُ في مبدإ هذا البحثِ مدخلاً يتعلَّقُ بتصنيفِ العلومِ التي يشملُها علمُ «علومِ القرآنِ» وقد ذكرتُها لأجل أن يُعرفَ الفرقُ بين «علومِ التَّفسيرِ» و «علومِ القرآن»، واستطردتُ في ذكرِ قضيَّةِ تداخلِ موضوعاتِ «علوم القرآنِ»، وهي قضيَّةٌ مهمَّةٌ تحتاجُ إلى نظرٍ ودراسةٍ؛ لأنَّه قد يمكنُ أن تُدرسَ جملةٌ من علومِه تحتَ مسمًّى واحدٍ تترابطُ فيه مسائلُ هذا العلمِ؛ ويبنى عليها ما بعدها من المسائلِ.

ولقد كانَ يكفي أن يعرفَ الدَّارسُ ترابُطَ بعضِ العلومِ وتداخُلَها التي تُذكرُ مفرَّقةً في كتبِ القرآنِ، غير أنه في بعضِ الموضوعاتِ يكونُ ما هو أكثرُ من ذلكَ، وهو تأخيرُ دراسةِ موضوعٍ يمرُّ ذِكرهُ في موضوعاتٍ متقدِّمةٍ، ولا يمكنُ فهمُ ما يطرحُ فيها بدونِ شرحِه وتفصيلِه.

ومن الأمثلةِ على ذلك: أنَّك تجدُ أنَّ في موضوعِ «جمعِ القرآنِ» إشارةً إلى «الأحرفِ السَّبعةِ» في جمعِ أبي بكرٍ وجمعِ عُثمانَ، والدَّارسُ لا يعرفُ المرادَ بالأحرفِ السَّبعةِ، فتَراكَ مضطرًّا لشرحِ موضوعِ «الأحرفِ السَّبعةِ» بإيجازٍ شديدٍ جدًّا يتناسبُ مع وقتِ إلقاءِ معلوماتِ «جمعِ القرآنِ».
আমি যার মাধ্যমে এটি প্রসিদ্ধ হয়েছে, তার অর্থ বিশ্লেষণ করেছি, এতে কোনো বিবর্তন ঘটে থাকলে তা স্পষ্ট করেছি এবং এই ইলমের সূচনা ও এতে গ্রন্থ রচনার প্রারম্ভিক অবস্থা উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এই শ্রেণীবদ্ধ কিতাবগুলোর বিন্যাস পদ্ধতিও বর্ণনা করেছি। আমি এগুলোর কিছু নমুনা উল্লেখ করতে পারি এবং একজন মুফাসসিরের জন্য এগুলো কতটা ফলপ্রসূ এবং তার যা কিছু প্রয়োজন, সেদিকেও ইঙ্গিত করতে পারি। এ সবকিছুই আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী সম্পন্ন করেছি।

আমি প্রতিটি শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে কোনো ছকবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করিনি, বরং সেই মুহূর্তে স্মৃতিপটে যা উদিত হয়েছে তা-ই লিপিবদ্ধ করেছি; এই কারণে তথ্যের কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস ছিল না।

তদ্রূপ আমি এই ইলমসমূহের সকল কিতাব পাঠ করার আবশ্যকতা রক্ষা করিনি, বরং পূর্ববর্তী পাঠের সময় এই কিতাবগুলো থেকে আমি যেসব সারসংক্ষেপ সংগ্রহ করেছিলাম, তা-ই লিপিবদ্ধ করেছি।

আমি এই গবেষণার শুরুতে 'উলূমুল কুরআন'-এর অন্তর্ভুক্ত বিদ্যাসমূহের শ্রেণিবিভাগ সংক্রান্ত একটি ভূমিকা উল্লেখ করেছি। আমি এটি উল্লেখ করেছি যাতে 'উলূমুত তাফসীর' এবং 'উলূমুল কুরআন'-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এছাড়া আমি 'উলূমুল কুরআন'-এর বিষয়বস্তুসমূহের পারস্পরিক সংমিশ্রণের বিষয়টিও সবিস্তারে আলোচনা করেছি; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার দাবি রাখে। কারণ, সম্ভবত এর বেশ কিছু বিষয়কে একটি একক শিরোনামের অধীনে অধ্যয়ন করা সম্ভব, যেখানে সেই ইলমের মাসআলাগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত হবে এবং পরবর্তী বিষয়গুলো তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

একজন শিক্ষার্থীর জন্য উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে বিচ্ছিন্নভাবে আলোচিত কিছু বিষয়ের পারস্পরিক যোগসূত্র ও সংমিশ্রণ সম্পর্কে জানাই যথেষ্ট ছিল। তবে কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন হয়, আর তা হলো এমন কোনো বিষয়ের অধ্যয়নকে বিলম্বিত করা যার উল্লেখ পূর্ববর্তী বিষয়গুলোতে এসেছে, অথচ তার ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া সেখানে উপস্থাপিত বিষয়গুলো বোঝা সম্ভব নয়।

এর একটি উদাহরণ হলো: আপনি 'জামউল কুরআন' (কুরআন সংকলন) বিষয়ের আলোচনায় আবু বকর এবং উসমানের সংকলন প্রসঙ্গে 'সাত উপভাষা (الأحرف السبعة)'-এর প্রতি ইঙ্গিত দেখতে পান। অথচ শিক্ষার্থী 'সাত উপভাষা (الأحرف السبعة)' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা জানে না। ফলে আপনি অত্যন্ত সংক্ষেপে 'সাত উপভাষা (الأحرف السبعة)' বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হন, যা 'জামউল কুরআন' সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
وكذا الحالُ عند الحديث عن القراءات، وكيفَ اختلفتْ هذه القراءاتُ؟ وما عَلاقتُها بالأحرفِ السَّبعةِ؟

فإنَّك إن لم تكن قد درَّستَ الأحرفَ السَّبعةَ، ستضطرُّ إلى بيانِها هنا على أنَّها جُزئيَّةٌ استطراديَّةٌ. وقد كان يُغني عن ذلك ما لو رُتِّبت علومُ القرآنِ، وجُعِلَ مثلُ هذا الموضوعِ من أوَّلِ ما يدرسُه الدارسُ، ثمَّ يُحالُ عليه عندما يأتي موضوعٌ له علاقةٌ به.

وسيكونُ في ترتيبِ العلومِ في كتبِ علومِ القرآنِ ابتعادٌ عن هذه المشكلةِ وغيرِها مما يلاحظهُ الذي يُدرِّسُ هذا العلمَ.

وقد كنتُ أودُّ أن أطرحَ جانبًا أراهُ مُغْفَلاً في علومِ القرآنِ، مما جعلَ هذا العِلْمَ علمًا لا يطربُ له دارسُه، ولا يُحسُّ بثرائه وكثرة مادَّتِهِ، ولذا يندرُ أن تجدَ هذا العلمَ يُدرَّسُ خارجَ قاعاتِ الدِّراسةِ النِّظاميَّةِ، كما هو الحالُ في علمِ العقيدة أو علم الفقه أو علمِ الحديثِ.

وبعضُ الباحثينَ يحسبُ أنَّ هذا العلمَ قوالبُ مصبوبةٌ قد انتهى البحثُ فيه، واحترقتْ مادَّتُه، فلا جِدَّةَ في مسائله، ولا ثَمرة بعد ما ذكره الأقدمونَ ممن كتبوا في هذا العلمِ؛ وهذا ظنٌّ زائفٌ.

وفي ظنِّي أن الذي أنشأ هذا التَّفكيرَ عن علومِ القرآنِ هو إغفالُ الجانبِ التَّطبيقيِّ لهذا العلمِ، لذا قد يمرُّ بالباحثِ وهو يقرأ في التَّفسيرِ أمثلةٌ تخالفُ ما نُظِّرَ له في دراستِه لعلومِ القرآنِ، لكنَّها لا تسترعي انتباهَه، ولا يَطلبُ لها حلًّا، وكأنَّه قد حكمَ بزَيْفِها؛ لأنَّها خالفت ما قُرِّرَ له، فلا يُتعبُ نفسَه بتثويرِ الموضوعِ مرَّةً أخرى، عَلَّهُ يجدُ ما يصحِّحُ ما درسَه أو يؤيِّدُه.

إنَّ كتبَ تفسير القرآنِ ميدانٌ رحبٌ لتطبيقاتِ مسائلِ علومِ القرآنِ،
কিরাআত (القراءات) সম্পর্কিত আলোচনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এই কিরাআতসমূহ (القراءات) কীভাবে ভিন্ন হলো এবং সাত হরফের (الأحرف السبعة) সাথে এগুলোর সম্পর্ক কী?

কেননা আপনি যদি সাত হরফ (الأحرف السبعة) সম্পর্কে পাঠদান না করে থাকেন, তবে আপনি একে একটি আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গের অংশ হিসেবে এখানে বর্ণনা করতে বাধ্য হবেন। অথচ উলূমুল কুরআনের বিষয়গুলো যদি সুবিন্যস্ত করা হতো এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকে শিক্ষার্থীর প্রারম্ভিক পাঠ্য হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে তা যথেষ্ট হতো; পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় এলে এর প্রতি ইঙ্গিত করা যেত।

উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে বিষয়গুলোর সঠিক বিন্যাস এই সমস্যা এবং এই শাস্ত্রের শিক্ষকগণ যা লক্ষ্য করেন তা থেকে উত্তরণ ঘটাবে।

আমি উলূমুল কুরআনের এমন একটি দিক তুলে ধরতে চেয়েছিলাম যা আমার দৃষ্টিতে অবহেলিত। এর ফলে এই শাস্ত্রটি এমন এক জ্ঞানে পরিণত হয়েছে যার প্রতি শিক্ষার্থীরা তেমন উৎসাহ পায় না এবং এর সমৃদ্ধি ও বিষয়বস্তুর প্রাচুর্য অনুভব করতে পারে না। এই কারণেই আকীদা শাস্ত্র, ফিকহ শাস্ত্র বা হাদিস শাস্ত্রের মতো এই শাস্ত্রটি প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদানের ঘটনা বিরল।

কিছু গবেষক মনে করেন যে, এই শাস্ত্রটি একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে আবদ্ধ যার গবেষণা শেষ হয়ে গেছে এবং এর উপাদানসমূহ নিঃশেষিত; ফলে এর মাসআলাগুলোতে (المسائل) কোনো নতুনত্ব নেই এবং এই শাস্ত্রে প্রাচীন লেখকদের বর্ণনার পর আর কোনো ফলপ্রসূ দিক অবশিষ্ট নেই। তবে এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।

আমার ধারণা মতে, উলূমুল কুরআন সম্পর্কে এই ধরনের চিন্তার উদ্রেক হয়েছে এই শাস্ত্রের প্রায়োগিক দিকটিকে উপেক্ষা করার কারণে। ফলে একজন গবেষক যখন তাফসীর পড়েন, তখন হয়তো তাঁর সামনে এমন কিছু উদাহরণ আসে যা তাঁর পঠিত উলূমুল কুরআনের তাত্ত্বিক কাঠামোর পরিপন্থী। কিন্তু তা তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করে না এবং তিনি এর কোনো সমাধানও খোঁজেন না; যেন তিনি এগুলোকে অসার বলে ধরে নিয়েছেন যেহেতু তা তাঁর পঠিত বিষয়ের বিপরীত। তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেকে পরিশ্রান্ত করেন না, অথচ এর মাধ্যমেই হয়তো তিনি এমন কিছু পেতে পারতেন যা তাঁর পাঠকে সংশোধন করত অথবা তাকে সমর্থন জোগাত।

প্রকৃতপক্ষে কুরআন তাফসীরের গ্রন্থসমূহ হলো উলূমুল কুরআনের মাসআলাসমূহের (المسائل) প্রয়োগের এক বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
فلو اتَّجه مدرِّسو علومِ القرآنِ إلى هذه الكتبِ وطبَّقوا عليها ما درسوه في كتبِ علومِ القرآنِ، فإن الأمرَ لا يخلو من ثلاثةِ أحوالٍ نافعةٍ في تنشيط هذا العلمِ، وفي إشباعهِ بالتَّطبيقاتِ والأمثلةِ:

الحالُ الأولى: تعزيزُ الأفكارِ العلميَّةِ المطروحةِ في كتبِ علومِ القرآنِ، وذلك بتكثيرِ الأمثلةِ التي توافقُ الفكرةَ العلميَّةَ المطروحةَ.

الحالُ الثَّانيةُ: أن يوجدَ أمثلةٌ تخالفُ ما تقرَّرَ في الفكرةِ العلميَّةِ المطروحةِ، فتدرسُ هذه الأمثلةُ، وقد تكونُ نتيجةُ هذه الدِّراسةِ ضَعْفَ هذه الأمثلةِ وعدَم صحَّتِها، أو أنَّها تدلُّ على أنَّ تلكَ الفكرةَ العلميَّةَ المطروحةَ في كتبِ علومِ القرآنِ = مدخولةٌ وغيرُ صحيحةٍ، فتحتاجُ إلى إعادةِ تنظيرٍ.

الحالُ الثَّالثةُ: أن يوجدَ في الأمثلةِ أفكارٌ جديدةٌ تضافُ إلى مسائلِ العلمِ الذي يُطبَّقُ عليه من خلالِ التَّفسيرِ.

وفي هذه الطَّريقة إثارةٌ وتحفيزٌ للدَّارسِ، وتحريكٌ وتنشيطٌ له في متابعةِ الدَّرسِ، وفي تثبيتِ المعلوماتِ.

وليس المقصودُ هنا الحديثَ عن هذه القضيَّةِ، وإنما أردتُ أن أُذكِّرَ به لمَّا مرَّ ما يتعلَّق به في هذا المدخلِ، وأسألُ الله أن ييسِّرَ بسطَ هذه الموضوعِ في مكانٍ آخرَ.

وبعد، أرجو أن يكونَ هذا المؤلَّفُ نافعًا، وأن يكونَ خالصًا لله الكريمِ، وأن ييسِّرَ لي غيرَه من التَّآليفِ، إنه سميعٌ مجيبٌ.

مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار المملكة العربيَّة السُّعودية/ الرياض www.attyyar.net
যদি উলূমুল কুরআনের শিক্ষকগণ এই কিতাবগুলোর দিকে মনোনিবেশ করতেন এবং উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে তারা যা অধ্যয়ন করেছেন তা এগুলোর ওপর প্রয়োগ করতেন, তবে বিষয়টি এই ইলমকে গতিশীল করতে এবং প্রয়োগ ও উদাহরণের মাধ্যমে একে সমৃদ্ধ করতে তিনটি উপকারী অবস্থা থেকে খালি থাকত না:

প্রথম অবস্থা: উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে উপস্থাপিত তাত্ত্বিক ধারণাগুলোকে শক্তিশালী করা; আর তা সেই তাত্ত্বিক ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ উদাহরণের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভব।

দ্বিতীয় অবস্থা: উপস্থাপিত তাত্ত্বিক ধারণার পরিপন্থী কিছু উদাহরণ পাওয়া যেতে পারে, তখন এই উদাহরণগুলো নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই গবেষণার ফলাফল এমন হতে পারে যে, উদাহরণগুলোই দুর্বল (ضعيف) এবং তা বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। অথবা এটি নির্দেশ করতে পারে যে, উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে উপস্থাপিত সেই তাত্ত্বিক ধারণাটি ত্রুটিপূর্ণ (مدخولة) এবং সঠিক (صحيح) নয়, ফলে সেটি পুনরায় তাত্ত্বিক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

তৃতীয় অবস্থা: উদাহরণগুলোর মধ্যে এমন কিছু নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে যা তাফসিরের মাধ্যমে প্রয়োগকৃত সংশ্লিষ্ট ইলমের বিষয়াবলীতে যুক্ত হবে।

আর এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে কৌতূহল ও উদ্দীপনা এবং পাঠ অনুসরণে ও তথ্যসমূহকে স্মৃতিপটে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাকে সক্রিয় ও গতিশীল করার প্রয়াস।

এখানে মূল উদ্দেশ্য এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা নয়, বরং এই ভূমিকায় এর প্রাসঙ্গিক কিছু দিক আসার কারণে আমি কেবল তা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি অন্য কোনো স্থানে এই বিষয়টি সবিস্তারে আলোচনার সুযোগ দান করেন।

পরিশেষে, আমি আশা করি এই গ্রন্থটি উপকারী হবে এবং এটি কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একনিষ্ঠ হবে। তিনি যেন আমার জন্য অন্যান্য গ্রন্থ রচনার পথ সুগম করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসির আত-তাইয়ার, সৌদি আরব/ রিয়াদ www.attyyar.net
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مدخلٌ إلى الموضوعِ

علمُ التَّفسيرِ جزءٌ من علومِ القرآنِ.

والأصلُ أن يكونَ ما في علمِ التَّفسيرِ مُبينًا للقرآنِ، وما كانَ خارجًا عن حَدِّ بيانِ كلامِه سبحانَهُ، فإنَّه ليسَ من صُلبِ التَّفسيرِ.

وغالبًا ما يكونُ ذلكَ الخارجُ عن حدِّ البيانِ من علومٍ تعلَّقتْ بعلمِ التَّفسيرِ، وكثيرٌ من هذه العلومِ التي تطرَّقَ إليها المفسِّرُونَ معدودٌ في علوم القرآنِ.

وقد نشأ عن ذِكْرِهم لهذه العلومِ في تفاسيرهم خطأٌ، ذلك أنَّ بعضَ مَنْ كتبَ في علمِ التَّفسيرِ جعلَها كلَّها من العلومِ التي يحتاج إليها المفسِّرُ، ويَلزَمُه معرفتُها، وفي ذلكَ نظرٌ.

والموضوعاتُ المعدودةُ في علومِ القرآنِ بحاجةٍ إلى تحريرٍ، لكثرةِ التَّشقيقِ فيها، إذ تجدُ مجموعةً من هذه العلومِ يمكنُ أن تدخلَ في مسمًّى واحدٍ، ولكنَّ بعضَ المؤلِّفينَ في علومِ القرآنِ يجعلونَها عدَّةَ علومٍ، حتى لقد ادَّعى بعضهم أنَّ علومَ القرآنِ لا تُحصى عددًا، قال ابن العربيِّ (ت: 543): «وقد ركَّبَ العلماءُ على هذا كلامًا، فقالوا: إنَّ علومَ القرآنِ خمسونَ علمًا، وأربعمائة علمٍ، وسبعةُ آلاف وسبعونَ ألفَ علمٍ، على عدد كَلِمِ القرآن مضروبةً في أربعةٍ، إذ لكلِّ كلمةٍ منها ظهرٌ وبطنٌ وحدٌّ ومطلعٌ. هذا مطلقٌ دون اعتبارِ تركيبه، ونَضْدِ بعضِه إلى بعضٍ، وما بينها
‌‌বিষয়ের অবতারণা

তাফসির শাস্ত্র হলো কুরআন বিজ্ঞানের একটি অংশ।

মূলনীতি হলো, তাফসির শাস্ত্রের অন্তর্গত বিষয়সমূহ কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হতে হবে; আর যা মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যার সীমানার বাইরে, তা তাফসিরের মূল অংশ নয়।

ব্যাখ্যার সীমানার বাইরের সেই বিষয়গুলো সাধারণত তাফসির শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জ্ঞানশাখা থেকে উদ্ভূত। মুফাসসিরগণ যেসব শাস্ত্রের অবতারণা করেছেন, সেগুলোর অনেকগুলোই কুরআন বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়।

তাঁদের তাফসির গ্রন্থগুলোতে এই শাস্ত্রগুলোর উল্লেখ করার ফলে একটি ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে; তা হলো, তাফসির শাস্ত্রের কোনো কোনো লেখক এই সমস্ত বিষয়কেই এমন সব শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করেছেন যা একজন মুফাসসিরের জন্য প্রয়োজন এবং যা জানা তাঁর জন্য আবশ্যক। তবে এ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

কুরআন বিজ্ঞানে পরিগণিত বিষয়গুলোর সুক্ষ্ম বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এগুলোতে অতিমাত্রায় শাখাবিন্যাস করা হয়েছে। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, এই শাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশকে একটি মাত্র শিরোনামের অধীনে আনা সম্ভব; কিন্তু কুরআন বিজ্ঞানের কোনো কোনো লেখক এগুলোকে একাধিক স্বতন্ত্র শাস্ত্রে বিভক্ত করেছেন। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, কুরআন বিজ্ঞানের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়। ইবনুল আরাবি (মৃত: ৫৪৩ হি.) বলেন: «বিদ্বানগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ হলো পঞ্চাশটি, চারশতটি এবং সাতাত্তর হাজারটি। কুরআনের শব্দের সংখ্যাকে চার দিয়ে গুণ করে এই সংখ্যাটি পাওয়া গেছে; কেননা প্রতিটি শব্দেরই রয়েছে একটি বাহ্যিক দিক, একটি অভ্যন্তরীণ দিক, একটি সীমা এবং একটি লক্ষ্যস্থল। এটি কেবল শব্দের একক অবস্থার বিচার করে, বাক্যের গঠন, বিন্যাস, একটির সাথে অপরটির সমন্বয় এবং সেগুলোর মধ্যবর্তী সম্পর্ক বিবেচনা না করেই...»
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
من روابطَ على الاستيفاءِ في ذلك كلِّه، وهذا مما لا يحصى، ولا يعلمُه إلَاّ اللهُ» (1).

وهذا من التَّكثُّرِ في عدِّ العلومِ الذي لا داعيَ له، ولا دليلَ يدلُّ عليه.

وقد أجريتُ محاولةً في ترتيبِ جملةِ هذه العلومِ التي يذكرها المصنِّفون في علومِ القرآنِ، ودمج ما تفرَّق منها، وإرجاعِ بعضها إلى بعضٍ.

وقبلَ أنْ أذكرَ لك هذه المحاولةَ، أُشيرُ إلى بعضِ الملحوظاتِ حولَ ما سأكتبه في هذه العلومِ:

1 - أنَّ ما سأذكرُه من المصطلحاتِ، إنما هو على الاصطلاحِ السَّائدِ في كتبِ علومِ القرآنِ.

2 - أنه يوجدُ ترابطٌ وثيقٌ بين علومِ القرآنِ، بل قد يكونُ بعضُها منبثقًا من علمٍ آخر من علومِه؛ لذا يمكنُ أن يوضعَ علمٌ منها في موضعينِ؛ لارتباطِه بهذا وبذاك، وهذا التَّداخلُ لا يمكنُ الانفكاك منه، وليسَ ذلك عيبًا، والله الموفِّقُ.

وقد ظَهَرَ لي في ترتيبِ علومِ القرآنِ ما يأتي:

أولاً: علم نزول القرآن:

ويندرجُ تحته:

1 - أحوالُ نزولِه، ويشمل: أوَّلَ ما نزلَ وآخرَ ما نزلَ، والحضريَّ

--------------------------------------------

(1) قانون التأويلِ، لابن العربيِّ، تحقيق: محمد السليماني (ص:540).
...ঐ সবকিছুর পূর্ণতার সাথে সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রগুলো, যা অগণিত এবং আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা জানেন না (১)।

আর এটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা গণনার ক্ষেত্রে এক প্রকার বাহুল্য মাত্র, যার কোনো প্রয়োজন নেই এবং এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ (دليل) নেই।

আর উলূমুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থকারগণ যে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখার কথা উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলোকে বিন্যস্ত করার, এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করার এবং একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করার একটি প্রয়াস চালিয়েছি।

আর এই প্রয়াসটি আপনার নিকট উল্লেখ করার পূর্বে আমি এই জ্ঞান-শাখাগুলো সম্পর্কে যা লিখব সে বিষয়ে কিছু লক্ষণীয় বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছি:

১ - আমি যে সকল পরিভাষা (مصطلحات) উল্লেখ করব, তা মূলত উলূমুল কুরআনের গ্রন্থসমূহে প্রচলিত পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী হবে।

২ - উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন শাখার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে, এমনকি কোনো কোনো শাখা এর অন্য কোনো শাখা থেকে উদ্ভূত হতে পারে; তাই এর কোনো একটি জ্ঞান-শাখাকে দুটি স্থানে রাখা সম্ভব; এটার সাথে ওটার সংশ্লিষ্টতার কারণে। আর এই পারস্পরিক প্রবিষ্টতা (التداخل) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং এটি কোনো ত্রুটি নয়। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

উলূমুল কুরআন বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে তা হলো:

প্রথমত: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া সংক্রান্ত জ্ঞান:

এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:

১ - এটি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থাসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে ও সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আবাসে অবস্থানকালীন (الحضري) অবতীর্ণ হওয়া...

--------------------------------------------

(১) কানুনুত তাবীল, ইবনুল আরাবি রচিত, তাহকীক: মুহাম্মদ আল-সুলাইমানি (পৃষ্ঠা: ৫৪০)।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
والسَّفريَّ، والصيفيَّ والشِّتائيَّ، واللَّيليَّ والنَّهاريَّ، والفراشيَّ والمناميَّ، وغيرَها من الموضوعاتِ التي يذكرُونها في أحوال نزولِه.

2 - أسباب النُّزول.

3 - المكيُّ والمدنيُّ.

4 - الأحرف السَّبعة (1).

5 - كيفية إنزال القرآن (الوحي).

6 - اللُّغاتُ التي نزلَ بها القرآنِ، ويشمل: ما نزل بغير لغة العرب (المعرَّب)، وما نزل بغير لغة الحجاز.

ثانيًا: علم جمع القرآن:

ويندرجُ تحته:

1 - تدوين المصحف وتاريخه.

2 - رسم المصحف.

ويَتْبَع رسمَه ما يتعلَّقُ بنَقْطِه وشَكْلِه بالحركاتِ، وغيرِها مما أُدخِلَ لتوضيحِ القراءةِ وتسهيلِها.

ثالثًا: علم القراءات:

ويندرجُ تحته:

1 - طبقات القراء.

2 - أنواع القراءات.

--------------------------------------------

(1) يلاحظ أنَّ الأحرف السَّبعة لها عَلاقة كبيرة بجمع القرآن وبالقراءات.
এবং ভ্রমণকালীন (السفري), গ্রীষ্মকালীন (الصيفي), শীতকালীন (الشتائي), রাত্রিকালীন (الليلي), দিবাভাগকালীন (النهاري), শয্যাবস্থাকালীন (الفراشي), নিদ্রাকালীন (المنامي) এবং অন্যান্য বিষয়াবলি যা তাঁরা এর অবতরণকালীন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন।

2 - অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول)।

3 - মক্কী (المكي) এবং মাদানী (المدني)।

4 - সাতটি অক্ষর (الأحرف السبعة) (১)।

5 - কুরআন নাজিলের পদ্ধতি (ওহী/الوحي)।

6 - যেসব ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যা আরবদের ভাষা ভিন্ন অন্য ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে (আত্তীকৃত শব্দ/المعرب), এবং যা হিজাজিদের ভাষা ভিন্ন অন্য ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: কুরআন সংকলন বিদ্যা:

এর অধীনে রয়েছে:

1 - মুসহাফ লিপিবদ্ধকরণ এবং এর ইতিহাস।

2 - মুসহাফের লিখনরীতি।

আর এই লিখনরীতির অনুষঙ্গ হিসেবে এর নুকতা (বিন্দু) ও স্বরচিহ্ন (হরকত) প্রদান এবং তিলাওয়াতকে স্পষ্ট ও সহজতর করার নিমিত্তে যা কিছু সংযোজন করা হয়েছে তা আলোচিত হয়।

তৃতীয়ত: কিরাত বিদ্যা:

এর অধীনে রয়েছে:

1 - কিরাত পাঠকারীগণের স্তরবিন্যাস (طبقات القراء)।

2 - কিরাতের প্রকারভেদ (أنواع القراءات)।

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্যণীয় যে, সাতটি অক্ষরের (الأحرف السبعة) সাথে কুরআন সংকলন এবং কিরাতের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
3 - توجيه القراءات (1).

4 - آداب القراءة.

5 - تجويد القرآن.

رابعًا: علم معاني القرآن (2):

1 - غريب القرآن (3).

2 - إعراب القرآن.

3 - مشكِل القرآن (4).

4 - إعجاز القرآن، ويَدخُل فيه ما يتعلَّق بأساليبِ الكلام العربيِّ (البلاغة) (5).

--------------------------------------------

(1) يشملُ توجيه القراءات: توجيه لغتها، وإعرابِها، وصرفِها، وأدائها، ومعانيها، ويلاحظ أنَّ ما له أثرٌ في تغيُّرِ المعنى يندرجُ تحت علمِ التَّفسير.

(2) المقصودُ هنا جملةُ العلوم التي لها علاقةٌ بالعربيَّةِ، من مفرداتٍ وإعرابٍ، وأساليبَ، وبلاغةٍ، وهذه العلوم لها ارتباطٌ بالمعنى من حيثُ الجملة، وما كان له منها أثرٌ في بيانِ المعنى أو اختلافهِ، فإنَّه بهذا يكونُ مما له علاقةٌ بعلمِ التَّفسيرِ، وهذه الإشارةُ تغني عن تكرارِ بعضِ هذه العلومِ تحت علمِ التَّفسيرِ.

(3) يلاحظُ أنَّ غريبَ القرآنِ من صميمِ علومِ التَّفسيرِ، لكني ذكرته هنا لأنَّ أغلبَ من كتبَ في هذا العلمِ كتابةً مستقلَّةً كانَ من علماءِ اللُّغةِ، ولو جعلته في علومِ التَّفسيرِ، لكان صوابًا، والأمرُ فيه سعةٌ، وللهِ الحمدُ.

(4) بين هذا المصطلح ومصطلح المتشابهِ النِّسبيِّ، الذي يُدرَسُ مستقلًّا تحت عنوان «علمِ المحكمِ والمتشابِهِ» تداخلٌ من حيثُ الموضوع، وسيأتي بيانُه عند الحديث عن هذين العلمينِ في الكتب المتعلقة بالتَّفسيرِ، كما يلاحظُ أنَّ له علاقةً بعلمِ التَّفسيرِ، ولذا لن يردَ ذكره مستقلًّا تحت علمِ التَّفسيرِ.

(5) لا تجدُ مصطلحَ البلاغة في كتبِ علومِ القرآنِ، وإنما كان بحثهم لعلمِ البلاغةِ من خلالِ كتبِ إعجازِ القرآنِ.
৩ - কিরাআতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه القراءات) (১)।

৪ - কিরাআতের আদব।

৫ - তাজবিদুল কুরআন।

চতুর্থত: কুরআনের অর্থ বিষয়ক জ্ঞান (২):

১ - গারীবুল কুরআন (غريب القرآن) (৩)।

২ - কুরআনের ইরাব (ব্যাকরণ)।

৩ - মুশকিলুল কুরআন (مشكل القرآن) (৪)।

৪ - ইজাযুল কুরআন, এর অন্তর্ভুক্ত হলো আরবি বাচনভঙ্গি (অলঙ্কারশাস্ত্র) (البلاغة) সংক্রান্ত বিষয়সমূহ (৫)।

--------------------------------------------

(১) কিরাআতসমূহের বিশ্লেষণের (توجيه القراءات) অন্তর্ভুক্ত হলো: এর ভাষাগত দিক, ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব, তিলাওয়াত পদ্ধতি এবং এর অর্থসমূহ; লক্ষণীয় যে, অর্থের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যার প্রভাব রয়েছে তা তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) অধীনে গণ্য হয়।

(২) এখানে উদ্দেশ্য হলো আরবি ভাষার সাথে সম্পর্কিত একগুচ্ছ জ্ঞান, যেমন শব্দভাণ্ডার, ব্যাকরণ, বাচনভঙ্গি এবং অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة)। এই জ্ঞানগুলো সামগ্রিকভাবে অর্থের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলোর মধ্যে যার প্রভাব অর্থের বর্ণনা বা অর্থের পার্থক্যের ক্ষেত্রে রয়েছে, তা তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) সাথে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হবে। এই নির্দেশটি তাফসির শাস্ত্রের অধীনে এই জ্ঞানগুলোর পুনরাবৃত্তি থেকে রেহাই দেবে।

(৩) লক্ষণীয় যে, গারীবুল কুরআন (غريب القرآن) তাফসির শাস্ত্রের মৌলিক অংশ, কিন্তু আমি এটিকে এখানে উল্লেখ করেছি কারণ এই বিষয়ে যারা স্বতন্ত্রভাবে কিতাব লিখেছেন তাদের অধিকাংশই ভাষাবিদ ছিলেন। যদি আমি একে তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) অন্তর্ভুক্ত করতাম, তবে তাও সঠিক হতো; আর এ বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

(৪) এই পরিভাষা এবং আপেক্ষিক মুতাশাবিহ (المتشابه النسبي) পরিভাষার মধ্যে—যা 'মুহকাম ও মুতাশাবিহ শাস্ত্র' (علم المحكم والمتشابه) শিরোনামে স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হয়—বিষয়ের দিক থেকে পরষ্পর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাফসির সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহে এই দুটি শাস্ত্র নিয়ে আলোচনার সময় এর বিবরণ আসবে। আরও লক্ষণীয় যে, এর সাথে তাফসির শাস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে, তাই তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) অধীনে এটি স্বতন্ত্রভাবে আসবে না।

(৫) উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে আপনি অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) পরিভাষাটি স্বতন্ত্রভাবে পাবেন না, বরং তারা অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) নিয়ে আলোচনা করেছেন ইজাযুল কুরআনের কিতাবসমূহের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
5 - مُتشابِه القرآن (1).

خامسًا: علم التفسير:

ويندرج تحته:

1 - تاريخُ التَّفسيرِ وطبقاتُ المفسِّرينَ.

2 - أصول التفسير.

3 - الناسخ والمنسوخ، ويشملُ: (النسخ الاصطلاحي، والعام والخاص، والمجمل والمبين، والمطلق والمقيد) (2).

4 - الوجوه والنَّظائر.

5 - أقسام القرآن.

6 - أمثال القرآن.

7 - المحكمُ والمتشابهُ (3).

--------------------------------------------

(1) لمصطلحِ «متشابه القرآنِ» عدة معانٍ في الدراساتِ القرآنيَّةِ، وسيأتي تفصيلُ ذلك لاحقًا، وجزءٌ من هذا العلم يدخلُ هنا، وهو ما يتعلقُ ببيان سبب تشابه بعضِ المقاطع القرآنيَّةِ، وذكرتُه لتعلُّقِه بالمعاني، وسيأتي ذكرُ الجزءِ الآخر منه، وهو ما يقابلُ المحكم.

(2) تجدُ أنَّ كتبَ علومِ القرآن تَفْصِل كلَّ علمٍ من هذه العلومِ على حِدّةٍ، وقد ذكرتها هنا على مصطلحِ السَّلفِ في النَّسخِ، وهو مطلق الرَّفعِ، فرفعُ أيِّ حكم أو معنى من الآيةِ، سواءٌ بإزالة حكمِه، أو تخصيصِ عامِّه أو الاستثناءِ منه، أو غيرها، كلُّ ذلكَ يُعدُّ نسخًا عندهم.

وقد ذكرتها كلها تحت مسمَّى مصطلحِ النَّسخِ، لأنِّي قصدتُ اختصارَ العلومِ المذكورةِ، وإدخالَ ما يمكنُ إدخالُه منها في بعضها.

(3) المرادُ به هنا ما يتعلَّقُ بالمتشابه النِّسبيِّ الذي قد يخفى على قومٍ، فإنَّ له تفسيرًا يعلمُه الرَّاسخون في العلمِ، وإن جَهِلَهُ أقوامٌ: أمَّا المتشابه الكليُّ، وهو ما استأثرَ اللهُ بعلمِه، فإنَّه لا يدخلُ في علمِ التَّفسيرِ البتةَ؛ لتعلُّقِه بغيبيَّاتٍ =
৫ - কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহ (متشابه القرآن) (১)।

পঞ্চম: তাফসির শাস্ত্র (علم التفسير):

এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হলো:

১ - তাফসিরের ইতিহাস (تاريخ التفسير) ও মুফাসসিরদের স্তরসমূহ (طبقات المفسرين)।

২ - তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)।

৩ - রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ); আর এটি অন্তর্ভুক্ত করে: (পারিভাষিক রহিতকরণ (النسخ الاصطلاحي), ব্যাপক ও বিশেষ (العام والخاص), সংক্ষেপ ও ব্যাখ্যা (المجمل والمبين), এবং শর্তহীন ও শর্তযুক্ত (المطلق والمقيد)) (২)।

৪ - শব্দের বহুমাত্রিক অর্থ ও সমার্থ (الوجوه والنظائر)।

৫ - কুরআনের শপথসমূহ (أقسام القرآن)।

৬ - কুরআনের উপমাবলি (أمثال القرآن)।

৭ - সুস্পষ্ট ও অস্পষ্ট (المحكم والمتشابه) (৩)।

--------------------------------------------

(১) কুরআনিক গবেষণায় ‘কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহ’ (متشابه القرآن) পরিভাষাটির বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে। এই শাস্ত্রের একটি অংশ এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা কুরআনের কিছু আয়াতাংশের মধ্যকার সাদৃশ্যের কারণ বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত। আমি এটি এখানে উল্লেখ করেছি এর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে; আর এর অপর অংশটি সামনে আলোচিত হবে, যা সুস্পষ্ট (المحكم) এর বিপরীতে আসে।

(২) আপনি দেখবেন যে উলুমুল কুরআনের কিতাবগুলো এই প্রতিটি শাস্ত্রকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছে। তবে আমি এখানে রহিতকরণের (النسخ) ক্ষেত্রে সালাফ বা পূর্বসূরিদের (سلف) পরিভাষা অনুযায়ী উল্লেখ করেছি, যার অর্থ হলো সাধারণভাবে কোনো বিধান উঠিয়ে নেওয়া (الرفع)। সুতরাং আয়াতের যেকোনো হুকুম বা অর্থ উঠিয়ে দেওয়া—হোক তা বিধান রহিত করার মাধ্যমে, অথবা ব্যাপক কোনো বিধানকে বিশেষ করার (تخصيص) মাধ্যমে, অথবা তা থেকে কোনো ব্যতিক্রম (استثناء) করার মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনোভাবে—তাদের নিকট এ সবই রহিতকরণের (النسخ) অন্তর্ভুক্ত।

আমি এই সবগুলোকে রহিতকরণ (النسخ) পরিভাষার অধীনে উল্লেখ করেছি, কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত শাস্ত্রগুলোকে সংক্ষেপ করা এবং যার একটিকে অপরটির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, তাকে তার অধীনে নিয়ে আসা।

(৩) এখানে এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আপেক্ষিক অস্পষ্টতা (المتشابه النسبي) যা কোনো কোনো লোকের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে; কেননা এর এমন তাফসির রয়েছে যা জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতগণ (الراسخون في العلم) জানেন, যদিও সাধারণ মানুষ তা না জানে। পক্ষান্তরে, পূর্ণাঙ্গ অস্পষ্টতা (المتشابه الكلي)—যা আল্লাহ তাআলা কেবলমাত্র নিজের ইলমের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন—তা মোটেই তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ তা গায়েব বা অদৃশ্যের (غيبيات) সাথে সম্পৃক্ত। =
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
8 - قواعد التَّفسير.

9 - كليَّات القرآنِ.

10 - مُبْهَمات القرآن.

ويُلحقُ به من الدِّراسات المعاصرة:

11 - مناهج المفسرين (1).

12 - التفسير الموضوعي.

13 - التفسير العلمي (2).

14 - اتجاهات التفسير (3).

سادسًا: علم سور القرآن وآياته:

ويندرجُ تحته:

1 - معرفة أسماء السور.

--------------------------------------------

= لا يعلمُها إلَاّ اللهُ، ومن ادَّعى علمها، فقد كذبَ، كزمن وقوعِ المغيَّباتِ وكيفياتِ المغيَّباتِ، واللهُ أعلمُ.

(1) كانت بدايات هذا العلم قديمة، وهي منذ عهد الصحابة والتابعين، لأنه يدخل فيه أي نقد للمفسرين أو تفاسيرهم، والمراد من جعل هذا العلم من الدراسات المعاصرة ما ظهر من طريقة تناول مناهج المفسرين فحسب، وليس الحديث هنا عن نشأة هذا العلم، وقد جمعت جملة من هذه الانتقادات، وأسأل الله أن ييسِّر تمامها.

(2) التَّفسيرُ العلميُّ جزءٌ من علمِ التَّفسيرِ، وإنما أفردته هنا لأنَّه صارَ علمًا مُميّزًا عن غيرِه، ولعلَه غيرُ خافٍ عليكَ أنَّه لا يخرجُ عن التَّفسيرِ بالرَّأي، وعليه ملاحظات ليس هذا محلَّها.

(3) المرادُ باتجاهاتِ التَّفسيرِ: الاتجاه العلميُّ الذي غلبَ على تفسيرِ المفسِّرِ، والاتجاهُ العقديُّ، والاتجاهُ الفقهيُّ، وغيرها من الاتجاهاتِ التي يصطبغُ بها التفسيرُ.
8 - তাফসিরের মূলনীতিসমূহ (قواعد)।

9 - কুরআনের সর্বজনীন বিষয়াবলি (كليَّات)।

10 - কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ (مُبْهَمات)।

এবং সমসাময়িক গবেষণাসমূহ থেকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়:

11 - মুফাসসিরদের কর্মপদ্ধতি (مناهج) (১)।

12 - বিষয়ভিত্তিক তাফসির।

13 - বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসির (২)।

14 - তাফসিরের প্রবণতাসমূহ (اتجاهات) (৩)।

ষষ্ঠ: কুরআনের সুরা ও আয়াত বিষয়ক জ্ঞান:

এবং এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:

1 - সুরাসমূহের নাম বিষয়ক জ্ঞান।

--------------------------------------------

= যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না, আর যে ব্যক্তি তা জানার দাবি করে সে মিথ্যা (كذب) বলেছে; যেমন অদৃশ্যের সময়কাল এবং অদৃশ্যের স্বরূপসমূহ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(1) এই বিদ্যার সূচনা প্রাচীনকাল থেকেই হয়েছিল, যা সাহাবী ও তাবিঈদের যুগ থেকে বিদ্যমান। কারণ, এতে মুফাসসিরদের অথবা তাদের তাফসিরের যেকোনো সমালোচনা (نقد) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই বিদ্যাকে সমসাময়িক গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো কেবল মুফাসসিরদের কর্মপদ্ধতি (مناهج) পর্যালোচনার যে ধরন বর্তমানে প্রকাশ পেয়েছে তা-ই; এখানে এই বিদ্যার উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে না। আমি এ জাতীয় কিছু সমালোচনা সংগ্রহ করেছি এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দেন।

(2) বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসির হলো তাফসির শাস্ত্রেরই অংশ, তবে আমি এখানে একে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছি কারণ এটি বর্তমানে অন্যান্য বিষয় থেকে একটি বিশেষ বিদ্যায় পরিণত হয়েছে। সম্ভবত আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, এটি ব্যক্তিগত মতামত ভিত্তিক তাফসিরের (التفسير بالرأي) বহির্ভূত নয়; আর এ বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।

(3) তাফসিরের প্রবণতা (اتجاهات) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রবণতা যা মুফাসসিরের তাফসিরের ওপর প্রবল হয়েছে, কিংবা আকিদাগত প্রবণতা, ফিকহশাস্ত্রীয় প্রবণতা এবং অন্যান্য প্রবণতা যার ছোঁয়ায় তাফসিরটি রঞ্জিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - ترتيب السور.

3 - المناسبات بين السور.

4 - ترتيب الآي.

5 - المناسبات في الآيات: في الفواتح والخواتم.

6 - فواصل الآي.

7 - عَدُّ الآي.

سابعًا: علم فضائل القرآن.

ثامنًا: علمُ أحكامِ القرآنِ ووجوهِ الاستنباطاتِ.

تاسعًا: علمُ الوقف والابتداء.

عاشرًا: علمُ جدلِ القرآنِ.

وهذا اجتهادٌ أردتُ به قدح الفكرِ إلى إعادةِ صياغةِ ترتيبِ العلومِ المذكورةِ في كتبِ علومِ القرآنِ، ولو أطلقتَ العِنانَ لتشقيقِ هذه العلومِ، فإنكَ ستبلغُ بها عددًا كثيرًا لا ضابطَ له ولا حدَّ.

وبعدَ هذا، أجيءُ إلى الكتبِ المصنَّفةِ المتعلِّقةِ بتفسيرِ القرآنِ، وهي في جملتِها مذكورةٌ في عِدادِ علومِ القرآنِ، وهذه الكتبُ نوعان:

الأول: كتبُ علمِ التَّفسيرِ بأنواعِه واتِّجاهاته المختلفةِ التي قَصَدتْ تفسيرَ الآيات القرآنيَّةِ، سواءٌ أكانت هذه الكتبُ شاملةً لجميع آياتِ القرآنِ؛ كتفسير الطبريِّ (ت: 310)، أمْ لم تشملْ تفسيرَ جميع الآياتِ، كالأجزاء المفردةِ في تفسيرِ سورةٍ أو آيةٍ أو آياتٍ، ويدخل فيها تفاسيرُ السَّلفِ التي لم تكنْ شاملةً لجميع آيِ القرآنِ؛ مثلُ: تفسيرِ مجاهد (ت: 104). وكتبُ التَّفسيرِ هذه قد يوجدُ فيها ما لا علاقةَ له بالتَّفسيرِ.
২ - সূরাসমূহের বিন্যাস।

৩ - সূরাসমূহের মধ্যবর্তী যোগসূত্র।

৪ - আয়াতসমূহের বিন্যাস।

৫ - আয়াতসমূহের মধ্যকার যোগসূত্র: প্রারম্ভিক ও সমাপনী অংশে।

৬ - আয়াতের বিরতিসমূহ (فواصل)।

৭ - আয়াত গণনা।

সপ্তম: কুরআনের ফযিলত সংক্রান্ত ইলম।

অষ্টম: কুরআনের বিধানাবলী এবং মাসআলা উদ্ভাবন (استنباطات) পদ্ধতি সংক্রান্ত ইলম।

নবম: থামা (وقف) ও শুরু করা (ابتداء) সংক্রান্ত ইলম।

দশম: কুরআনের বিতর্কশাস্ত্র (جدل) সংক্রান্ত ইলম।

এটি একটি গবেষণালব্ধ প্রয়াস (اجتهاد), যার মাধ্যমে আমি উলূমুল কুরআনের গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত শাস্ত্রসমূহের বিন্যাসকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার খোরাক দিতে চেয়েছি। আর আপনি যদি এই শাস্ত্রগুলোকে আরও বিশদভাবে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করার অবাধ সুযোগ দেন, তবে আপনি এর এমন এক বিশাল সংখ্যায় পৌঁছাবেন যার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম বা সীমা নেই।

এরপর, আমি কুরআনের তাফসীর সংশ্লিষ্ট সংকলিত গ্রন্থাবলির আলোচনায় আসছি, যা সামগ্রিকভাবে উলূমুল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। আর এই গ্রন্থগুলো দুই প্রকার:

প্রথমত: তাফসীর শাস্ত্রের ঐসকল গ্রন্থ, যা এর বিভিন্ন প্রকার ও ধারাসহ কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে; চাই এই গ্রন্থগুলো কুরআনের সকল আয়াতকে বেষ্টন করুক—যেমন: তাফসীরে তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হি.), অথবা সকল আয়াতের তাফসীরকে অন্তর্ভুক্ত না করুক—যেমন: কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা আয়াত কিংবা আয়াতসমূহের তাফসীরে রচিত পৃথক খণ্ডসমূহ। এর মধ্যে পূর্বসূরি (سلف) মনীষীদের ঐসকল তাফসীরও অন্তর্ভুক্ত হবে যা কুরআনের সকল আয়াতকে বেষ্টন করেনি; যেমন: তাফসীরে মুজাহিদ (মৃত্যু: ১০৪ হি.)। আর তাফসীরের এই কিতাবগুলোতে এমন অনেক বিষয়ও থাকতে পারে যার সাথে তাফসীরের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويلحقُ بها ما لا علاقةَ له إلَاّ بعلمِ التَّفسيرِ، ككتبِ مبهماتِ القرآنِ، وكتبِ أسباب النُّزولِ.

الثاني: كتبُ علومِ القرآنِ الأخرى التي يوجدُ فيها مباحثُ يحتاجُها المفسِّرُ، ومنها كتبٌ لا يكادُ يستغني عنها المفسِّرُ؛ ككتب توجيهِ القراءاتِ وكتبِ غريبِ القرآنِ، ومنها كتبٌ حاجةُ المفسِّرِ إليها قليلةٌ؛ ككتبِ علمِ الوقفِ والابتداءِ، وكتبِ علمِ الجدلِ القرآنيِّ، وكتبِ علمِ المبهماتِ.

والحديثُ هنا عن كُتبٍ صُنِّفتْ بهذه العناوين، وليسَ المرادُ الحديثَ عن العلومِ التي سبقَ ذِكْرُها تحتَ علمِ التَّفسيرِ، ولذا ستجدُ عناوينَ كتبٍ تحملُ اسمَ علمٍ من علومِ القرآنِ كما هو مذكورٌ هناك.

كما ستجدُ أنَّ بعض ما ذُكرَ تحتَ «علمِ التَّفسيرِ» غير مذكور هنا؛ كعلمِ «طبقاتِ المفسِّرينَ» الذي هو من العلومِ النَّظريَّة، وليس له أثرٌ في بيانِ القرآنِ البتَّةَ.

ولن تجدَ ذكرًا لما قلَّ التَّأليفُ فيه؛ كعلم «أقسامِ القرآن».

ويمكنُ تقسيمُ هذه المصنَّفاتِ المتعلِّقةِ بتفسيرِ القرآنِ كالآتي:

كتبُ التفسير (1).

كتبُ إعرابِ القرآنِ.

كتبُ معاني القرآنِ (2).

--------------------------------------------

(1) يلاحظُ أنَّ المرادَ بكتبِ التفسيرِ: الكتبُ التي غلبَ عليها شمولُ مصادرِ التفسيرِ وعلومِه، كتفسيرِ الطَّبريِّ وابن عطيَّةَ، وابن كثيرٍ، وغيرها.

كما يلاحظُ أنَّ غالبَ كتبِ التَّفسيرِ فسَّرت القرآنَ آيةً آيةً، أمَّا العلومُ الأخرى التي سأذكرها، فإنَّ الغالبَ عليها انتقاءُ ما يناسبُ موضوعَها.

(2) المرادُ بكتبِ معاني القرآنِ الكتب التي سماها مؤلفوها بهذا الاسمِ؛ ككتابِ =
এর সাথে এমন বিষয়গুলোও যুক্ত হবে যেগুলোর কেবল তাফসির বিজ্ঞানের সাথেই সম্পর্ক রয়েছে, যেমন: কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াবলি (مبهمات القرآن) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি এবং অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি।

দ্বিতীয়ত: উলূমুল কুরআনের অন্যান্য গ্রন্থসমূহ যাতে এমন সব আলোচনা রয়েছে যা মুফাসসিরের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে কিছু গ্রন্থ এমন যা ছাড়া মুফাসসিরের পক্ষে চলা প্রায় অসম্ভব; যেমন: কিরাতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه القراءات) বিষয়ক গ্রন্থাবলি এবং কুরআনের দুর্বোধ্য শব্দাবলি (غريب القرآن) বিষয়ক গ্রন্থাবলি। আবার কিছু গ্রন্থ এমন যেগুলোর প্রতি মুফাসসিরের প্রয়োজন সামান্য; যেমন: থামা ও শুরু করা (الوقف والابتداء) বিষয়ক গ্রন্থাবলি, কুরআনিক বিতর্ক (الجدل القرآني) বিষয়ক গ্রন্থাবলি এবং অস্পষ্ট বিষয়াবলি (المبهمات) বিষয়ক গ্রন্থাবলি।

এখানে মূলত ঐ সকল গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে যেগুলো এই শিরোনামগুলোতে সংকলিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য সেই বিজ্ঞানগুলো নিয়ে আলোচনা করা নয় যেগুলোর উল্লেখ ইতিপূর্বে তাফসির বিজ্ঞানের অধীনে করা হয়েছে। এই কারণে আপনি এমন কিছু গ্রন্থের শিরোনাম পাবেন যা উলূমুল কুরআনের কোনো একটি শাখার নাম বহন করছে, যেমনটি সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেমনিভাবে আপনি দেখবেন যে, ‘তাফসির বিজ্ঞানের’ অধীনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করা হয়নি; যেমন: ‘মুফাসসিরগণের স্তরবিন্যাস’ (طبقات المفسرين) বিষয়ক জ্ঞান, যা মূলত একটি তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে এর কোনো প্রভাব নেই।

আর যাতে অতি অল্প পরিমাণ সংকলন করা হয়েছে সেগুলোর উল্লেখ এখানে পাবেন না; যেমন: ‘কুরআনের শপথসমূহ’ (أقسام القرآن) বিষয়ক জ্ঞান।

কুরআন তাফসির সংশ্লিষ্ট এই সংকলনগুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়:

তাফসিরের গ্রন্থসমূহ (১)।

কুরআনের ব্যাকরণ বিশ্লেষণ (إعراب القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কুরআনের অর্থাবলি (معاني القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ (২)।

--------------------------------------------

(১) লক্ষণীয় যে, তাফসিরের গ্রন্থ বলতে সেই সকল গ্রন্থকে বোঝানো হয়েছে যেগুলোতে তাফসিরের উৎস ও উলূমুল কুরআনের ব্যাপকতা প্রাধান্য পেয়েছে, যেমন: তাবারির তাফসির, ইবনে আতিয়্যাহর তাফসির, ইবনে কাসিরের তাফসির ইত্যাদি।

আরও লক্ষ্যণীয় যে, অধিকাংশ তাফসির গ্রন্থেই কুরআনের প্রতিটি আয়াতের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে আমি অন্যান্য যে সকল বিজ্ঞানের কথা উল্লেখ করব, সেগুলোতে সাধারণত নিজ নিজ বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অংশগুলোকেই নির্বাচন করা হয়েছে।

(২) কুরআনের অর্থাবলি (معاني القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ বলতে সেই সব গ্রন্থকে বোঝানো হয়েছে যেগুলোকে তাদের লেখকগণ এই নামেই নামকরণ করেছেন; যেমন: =
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
كتبُ غريبِ القرآنِ.

كتبُ مشكلاتِ القرآنِ.

كتبُ متشابهِ القرآنِ.

كتبُ الوجوهِ والنَّظائرِ.

كتبُ أحكامِ القرآنِ.

كتبُ الناسخِ والمنسوخِ.

كتبُ المناسباتِ.

كتبُ أسباب النُّزول.

كتبُ توجيهِ القراءاتِ.

كتبُ الوقف والابتداء.

كتبُ مبهماتِ القرآن.

والنَّظرُ في عناوينِ هذه الكتبِ يدلُّ على تداخُلٍ بينَ العلمِ العامِّ (علومِ القرآنِ)، والعلمِ الجزئيِّ منه (علمِ التَّفسيرِ)، وسببُ ذلكَ أنَّ كُتبَ التَّفسيرِ هي المحلُ الأوسعُ لتطبيقاتِ مسائلِ علومِ القرآنِ، ولا يلزمُ من ذكرِها في كتبِ التفسيرِ أنْ تكونَ من صلبِه.

وقد جاءَ ذكرها في كتبِ التَّفسيرِ وعلومِ القرآنِ بسبب اشتراكهما في الموضوع الذي يُدرسُ، وهو القرآن، فَعِلْمُ علومِ القرآنِ يتحدثُ عن علومِه المستنبطةِ منه والخادمةِ له، وعلمُ تفسيرِ القرآنِ يتحدثُ عن بيانِه وكشفِ معانيه.

استطرادٌ في: دخول مواد بعض العلوم الأخرى في علومِ القرآنِ:

مما يلاحظُ أنَّ جملةً من العلوم المندرجةِ في كتبِ علومِ القرآنِ

--------------------------------------------

= معاني القرآنِ للفراءِ، وكتابِ معاني القرآنِ للأخفشِ، وغيرِها.
কোরআনের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কোরআনের জটিল বিষয়াবলি (مشكلات القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কোরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহ (متشابه القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

সমশব্দ ও বিবিধ অর্থ (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কোরআনের বিধানাবলি (أحكام القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

আয়াত ও সূরার পারস্পরিক সম্পর্ক (المناسبات) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কিরাতসমূহের ভাষাগত ব্যাখ্যা (توجيه القراءات) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

থামা ও শুরু করা (الوقف والابتداء) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

কোরআনের অস্পষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা বিষয়াবলি (مبهمات القرآن) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

এই গ্রন্থগুলোর শিরোনামের দিকে দৃষ্টিপাত করলে সাধারণ জ্ঞান (علوم القرآن) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিশেষায়িত জ্ঞান (علم التفسير)-এর মধ্যকার এক প্রকার পারস্পরিক সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। এর কারণ হলো, তাফসিরের গ্রন্থগুলোই হচ্ছে উলূমুল কোরআনের বিভিন্ন বিষয়ের প্রয়োগের জন্য প্রশস্ততম স্থান; আর তাফসিরের গ্রন্থসমূহে এগুলোর উল্লেখ থাকার আবশ্যকীয় অর্থ এই নয় যে, সেগুলো এর মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।

তাফসির এবং উলূমুল কোরআনের কিতাবসমূহে এগুলোর উল্লেখ আসার কারণ হলো উভয়ের আলোচ্য বিষয়ের অভিন্নতা, আর তা হলো ‘কোরআন’। উলূমুল কোরআন মূলত কোরআন থেকে উদঘাটিত (المستنبطة) এবং কোরআনের সেবায় নিয়োজিত জ্ঞানসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, আর কোরআনের তাফসির শাস্ত্র এর বর্ণনা ও অর্থসমূহ উন্মোচন করা নিয়ে আলোচনা করে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা: উলূমুল কোরআনের মধ্যে অন্যান্য কিছু শাস্ত্রের বিষয়বস্তুর অনুপ্রবেশ:

এটি লক্ষ্যণীয় যে, উলূমুল কোরআনের কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত জ্ঞানসমূহের একটি বড় অংশ...

--------------------------------------------

= ফাররা রচিত মাআনি আল-কুরআন, আখফাশ রচিত মাআনি আল-কুরআন এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
موجودةٌ في كتبِ علومٍ أخرى؛ كالمسائل المتعلقةِ بالناسخِ والمنسوخِ، والمطلقِ والمقيَّدِ، والخاصِّ والعامِّ، وغيرها من المسائل التي هي من جملةِ علمِ أصول الفقهِ، فهل يعني هذا أنَّ هذه العلومَ ليست من صميمِ علومِ القرآن؛ كعلمِ القراءاتِ، وعلم نزولِ القرآنِ، وغيرِها من العلومِ التي تتعلق به فقط.

في هذه المسألةِ نظرٌ لا بدَّ من بيانِه، فأقول:

إنَّ هذه المسائل وغيرَها من صميمِ علومِ القرآنِ، لا شكَّ في ذلكَ، ولكن لما سبقَ علماءُ الأصولِ ـ مثلاً ـ إلى تحريرِ المسائلِ المعلِّقة بالناسخِ والمنسوخِ، والعامِّ والخاصِّ، والمطلقِ والمقيَّدِ، وغيرها، وضبطوها ضبطًا خاصًّا = صارتْ تُنْسَبُ إلى علمهم (1)، ولما كان ذلك كذلك، فإنه قد يُفهمُ أنَّ هذه العلومَ المحرَّرةَ في كتبِ العلومِ الأخرى ليست من علوم القرآنِ.

والواقعُ أنَّ هذه العلومَ مشتركةٌ بين هذين العلمين، وكونُ أصحابِ هذه العلومِ حرَّروا هذه المسائل المشتركةَ قبلَ علماء علومِ القرآنِ، فإن هذا لا يعني أنها ليست من علومِ القرآنِ، وإنْ كانَ يُنسبُ لأصحابِ العلومِ الأخرى تحريرُ مسائلِ هذه العلومِ التي استفادَ منها من كتبَ في علومِ القرآنِ.

وإن كان علماءُ علومِ القرآنِ قد استفادوا في تقعيدِ هذه العلومِ من

--------------------------------------------

(1) يقاس على ذلك غيرُها من المسائل التي استفادها مَنْ كَتَبَ في علومِ القرآنِ مِنْ كُتُبِ العلومِ الأخرى. ويجبُ أن يلاحظَ أنَّ الاصطلاحَ قد يختلفُ بين علماء علومِ القرآنِ وغيرِهم، وهذا مما يجب أن يُراعى، فالاتفاقُ في المسمَّى لا يعني الاتفاق في المصطلحِ.
অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এগুলো বিদ্যমান; যেমন রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), শর্তহীন (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد), বিশেষ (الخاص) ও সাধারণ (العام) এবং অন্যান্য বিষয়াবলি যা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। তবে কি এর অর্থ এই যে, এই জ্ঞানগুলো উলুমুল কুরআনের মৌলিক বিষয় নয়; যেমন কিরাআত শাস্ত্র, কুরআন নাজিলের জ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয় যা কেবল কুরআনের সাথেই সংশ্লিষ্ট?

এই বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যা বর্ণনা করা আবশ্যক, সুতরাং আমি বলছি:

নিঃসন্দেহে এই বিষয়গুলো এবং অন্যান্য বিষয়াদি উলুমুল কুরআনেরই অন্তর্ভুক্ত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন উসুলশাস্ত্রবিদগণ—উদাহরণস্বরূপ—রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), সাধারণ (العام) ও বিশেষ (الخاص), শর্তহীন (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিশ্লেষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বিন্যস্ত করেছেন, তখন তা তাঁদের শাস্ত্রের (১) সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি যেহেতু এমন দাঁড়িয়েছে, তাই মনে হতে পারে যে অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিশ্লেষিত এই বিষয়গুলো উলুমুল কুরআনের অংশ নয়।

বাস্তবতা হলো এই জ্ঞানগুলো উভয় শাস্ত্রের মাঝে পরিব্যপ্ত এবং এই শাস্ত্রগুলোর বিশেষজ্ঞরা উলুমুল কুরআনের আলেমদের পূর্বে এই সাধারণ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন বিধায় এমনটি বোঝায় না যে এগুলো উলুমুল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এই বিষয়গুলোর বিশ্লেষণের কৃতিত্ব অন্যান্য শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের দিকেই দেওয়া হয়, যা থেকে উলুমুল কুরআনের লেখকরা উপকৃত হয়েছেন।

যদিও উলুমুল কুরআনের আলেমগণ এই বিষয়গুলোর মূলনীতি নির্ধারণে উপকৃত হয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য বিষয়গুলোকেও তুলনা করা যাবে যা উলুমুল কুরআনের লেখকরা অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন। আর এটি লক্ষ্য রাখা জরুরি যে, উলুমুল কুরআনের আলেমগণ এবং অন্যান্যদের মাঝে পরিভাষাগত পার্থক্য থাকতে পারে। এটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত; কেননা নাম বা শিরোনামে মিল থাকা মানেই পরিভাষায় এক হওয়া নয়।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
كتبِ العلومِ الأخرى، لسبقِها في ذلك، فإنَّ هذا لا يعني الاتِّفاقَ التَّامَّ بين كتب علوم القرآنِ وغيرِها في طرحِها لهذه العلومِ.

ويبدو أنَّ هذا السَّبقَ في التَّدوينِ جعلَ بعضَ الباحثينَ يظنُّ أنَّ جملةً من علومِ القرآنِ، مما يكونُ متداخلاً مع علمٍ آخر = ليست خالصةً له.

وأزيدُ فأقولُ: إنَّ الأصلَ في العلومِ الإسلاميَّةِ التَّداخلُ، وهناكَ قاسمٌ مشترَكٌ بين أصولِ هذه العلومِ، ذلك أنَّ العلومَ الشَّرعيَّة كلَّها مستقاةٌ من الكتابِ والسُّنَّةِ، والكتابُ نزل بلسانٍ عربيٍّ مبينٍ، وكذا الحالُ في السُّنَّةِ أنَّها بلسانٍ عربيٍّ مبينٍ.

فالفقيهُ ـ مثلاً ـ يحتاجُ إلى تفسير آياتِ الأحكامِ، ولكنَّه لا يحتاجُ إلى تفسير غيرها من الآيات.

والمفسِّرُ المشتغلُ بعلومِ القرآنِ يُعنَى بتفسيرِ آياتِ الأحكامِ؛ لأنها جزءٌ من علمِه الذي يشتغلُ به.

ولا بدَّ لكلٍّ من الفقيهِ والمفسِّرِ من أصولٍ توصلُهما إلى مرادهما (أي: تفسير آيات الأحكام).

ومع اتفاقِهما في محلِّ البحثِ (أي: آيات الأحكام).

وفي اللُّغةِ التي يفسِّرُونَ بها، وإليها يرجعُ كثيرٌ من الأصولِ.

وفي الغاية التي يريدونها، وهي تفسير آياتِ الأحكامِ = فمن الطَّبيعيِّ أن تتَّفِقَ كثيرٌ من أصولِهما.

ولكنَّ الأصولَ التي تعنِي الفقيهَ هي المتعلِّقةُ بآياتِ الأحكامِ فحسب؛ لأنَّها مجالُ بحثِه، في حين يهتمُّ المفسِّرُ بالأصولِ التي تتعلَّقُ بجميعِ آياتِ القرآنِ، من آيات عقائدَ وأحكامٍ وأخبارٍ.
অন্যান্য বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ, এই ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামীতার কারণে; তবে এর অর্থ এই নয় যে, উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের কিতাবসমূহের মাঝে এই বিষয়গুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পূর্ণ ঐক্য রয়েছে।

প্রতীয়মান হয় যে, সংকলনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগামীতা কোনো কোনো গবেষককে এই ধারণায় উপনীত করেছে যে, উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) এমন বেশ কিছু বিষয়—যা অন্য কোনো বিজ্ঞানের সাথে পরস্পর সংশ্লিষ্ট—তা কেবল উলুমুল কুরআনের নিজস্ব বিষয় নয়।

আমি আরও যোগ করে বলছি: ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের মূল ভিত্তিই হলো পরস্পর সংশ্লিষ্টতা এবং এই বিজ্ঞানসমূহের উসুলের (أصول) মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র বিদ্যমান। তার কারণ হলো, সকল শরয়ি বিজ্ঞান কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত, আর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়; সুন্নাহর বিষয়টিও তদ্রূপ যে, তাও সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।

উদাহরণস্বরূপ—ফকিহ আহকামের আয়াতের (آيات الأحكام) তাফসিরের মুখাপেক্ষী হন, কিন্তু তিনি অন্যান্য আয়াতের তাফসিরের প্রয়োজন বোধ করেন না।

অন্যদিকে, উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) নিয়ে গবেষণারত মুফাসসির আহকামের আয়াতের (آيات الأحكام) তাফসিরের প্রতি গুরুত্ব দেন; কেননা এটি তাঁর গবেষণাধীন বিদ্যারই একটি অংশ।

আর ফকিহ ও মুফাসসির উভয়ের জন্যই এমন কিছু উসুলের (أصول) আবশ্যকতা রয়েছে যা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে (অর্থাৎ: আহকামের আয়াতের তাফসির) পৌঁছে দেয়।

এবং গবেষণার বিষয়ের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ: আহকামের আয়াত (آيات الأحكام)) তাঁদের উভয়ের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও।

এবং সেই ভাষার ক্ষেত্রে যার মাধ্যমে তাঁরা তাফসির করেন, আর যার দিকে বহু উসুল (أصول) প্রত্যাবর্তন করে।

এবং তাঁদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের ক্ষেত্রে—যা হলো আহকামের আয়াতের (آيات الأحكام) তাফসির—তাঁদের বহু উসুলের (أصول) মাঝে মিল থাকাটা স্বাভাবিক।

তবে ফকিহ যেসকল উসুলের (أصول) প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, তা কেবল আহকামের আয়াতের (آيات الأحكام) সাথেই সংশ্লিষ্ট; কেননা এটাই তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র। পক্ষান্তরে, মুফাসসির এমন সকল উসুলের (أصول) প্রতি গুরুত্ব দেন যা কুরআনের সকল আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট—চাই তা আকিদা, আহকাম কিংবা সংবাদ বিষয়ক আয়াত হোক।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
ومن ثَمَّ، قد تجدُ في أصولِ الفقهِ ما ينطبقُ على جميعِ آياتِ الأحكامِ، لكنَّه لا ينطبقُ على غيرِها من الآياتِ، وهذا الذي لا ينطبقُ على غيرِها من الآياتِ ينبغي أن لا يوجدَ في أصولِ التَّفسيرِ وعلومِ القرآنِ، لعدمِ وجودِ تطبيقاتٍ له، أو لاختلافِ المصطلحاتِ وتطبيقاتِها بين العلمينِ.

ومن هنا وقع الخطأُ من بعضِ من كتبَ في علمِ أصولِ التَّفسيرِ أو علومِ القرآنِ حينَ جعلُوا القواعدَ التي وضعَها علماءُ أصولِ الفقه التي تخصُ آياتِ الأحكامِ منطبقةً على جميعِ الآياتِ القرآنيَّةِ.

ومن الأمثلةِ على ذلكَ أنَّكَ تجدُ أنَّ علماءَ أصولِ الفقه قد قعَّدوا قاعدةً في النَّسخِ، وهي: الأخبارُ لا يجوزُ فيها النَّسخُ.

وإذا رجعتَ إلى المأثورِ عن السَّلفِ، وجدتَ أنَّهم حكموا بالنَّسخ على بعضِ الأخبارِ، فهلْ تُخَطِّئُ الواردَ عن السَّلفِ، أو أنَّ في الأمرِ شيئًا آخر؟

لا شكَّ أنَّ القاعدةَ المذكورةَ صحيحةٌ، ولكن يلزمُ أن تفهم أن مرادَ السَّلفِ بالنَّسخِ أوسع من مرادِ الأصوليِّين، فالسَّلفُ يريدونَ بالنَّسخِ مطلقَ الرَّفعِ، فأيُّ رفعٍ يحصلُ لمعنى الآيةِ من تخصيصٍ أو تقييدٍ أو بيانٍ أو نسخٍ اصطلاحيٍّ، فهو نسخٌ عندهم، وعلى هذا فالأخبارُ يدخلها النَّسخُ؛ أي: التخصيص أو البيان أو التَّقييد أو غيرُها مما يدخلُ الأخبار، وليس المرادُ الإزالةَ التَّامَّةَ التي تكونُ في النَّسخِ الاصطلاحيِّ المتأخّر، وسيأتي بيانُ ذلكَ بأمثلتِه في (كتب النَّاسخِ والمنسوخِ).

وهذا الذي ذكرتُه لك من التَّمثيلِ بأصولِ الفقه وعلومِ القرآن، إنَّما هو مثالٌ تقيسُ عليه تداخلَ المعلوماتِ بين العلومِ الشَّرعيَّةِ، واللهُ أعلمُ.

ومن ثَمَّ، فإنَّك قد تجدُ أصولَ مسائلِ علمٍ من علومِ القرآنِ مستقاةً من كتبِ علمٍ آخرَ، وهذه الأصول المستقاةُ هي من صميمِ بحثِهم، لكنهم
ফলে, আপনি উসূলুল ফিকহে (أصول الفقه) এমন কিছু পেতে পারেন যা বিধান সংক্রান্ত সকল আয়াতের (آيات الأحكام) ওপর প্রযোজ্য হয়, কিন্তু তা অন্য কোনো আয়াতের ওপর প্রযোজ্য হয় না। আর যা অন্য আয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তা উসূলুত তাফসীর (أصول التفسير) এবং উলূমুল কুরআনে (علوم القرآن) থাকা উচিত নয়; কারণ সেখানে সেগুলোর কোনো প্রয়োগ নেই অথবা এই দুই শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلحات) ও প্রয়োগের ভিন্নতার কারণে।

এখান থেকেই উসূলুত তাফসীর (أصول التفسير) অথবা উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) ওপর কিতাব রচনাকারী কারো কারো ক্ষেত্রে ভুলটি ঘটেছে, যখন তারা উসূলুল ফিকহের (أصول الفقه) আলেমদের প্রণীত বিধান সংক্রান্ত আয়াতের (آيات الأحكام) জন্য নির্ধারিত নিয়মসমূহকে (قواعد) সমস্ত কুরআনী আয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য করেছেন।

এর একটি উদাহরণ হলো, আপনি দেখবেন যে উসূলুল ফিকহের (أصول الفقه) আলেমগণ রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ে একটি মূলনীতি (قاعدة) নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো: সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) জায়েজ নয়।

আর আপনি যদি সালাফদের (سلف) থেকে বর্ণিত (مأثور) বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তারা কিছু সংবাদের (أخبار) ক্ষেত্রেও রহিতকরণের (نسخ) বিধান দিয়েছেন। তাহলে আপনি কি সালাফদের (سلف) থেকে বর্ণিত (وارد) বিষয়টিকে ভুল বলবেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে উল্লিখিত নিয়মটি (قاعدة) সঠিক (صحيحة), তবে এটি বোঝা আবশ্যক যে রহিতকরণ (نسخ) বলতে সালাফদের (سلف) উদ্দেশ্য উসূলবিদদের (أصوليون) উদ্দেশ্যের চেয়েও ব্যাপক। সালাফদের (سلف) নিকট রহিতকরণ (نسخ) বলতে বুঝায় নিরঙ্কুশভাবে কোনো হুকুম উঠিয়ে দেয়া (رفع)। ফলে আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষায়ন (تخصيص), সীমাবদ্ধকরণ (تقييد), ব্যাখ্যা প্রদান (بيان) কিংবা পারিভাষিক রহিতকরণ (نسخ اصطلاحي) যাই ঘটুক না কেন, তাদের নিকট তা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য। এই ভিত্তিতেই সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) মধ্যে রহিতকরণ (نسخ) প্রবেশ করতে পারে; অর্থাৎ: বিশেষায়ন (تخصيص), ব্যাখ্যা প্রদান (بيان), সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) অথবা সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য বিষয়। এখানে পরবর্তী যুগের পারিভাষিক রহিতকরণের (نسخ اصطلاحي) মতো কোনো বিধানকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা উদ্দেশ্য নয়। অচিরেই নাসিখ ওয়াল মানসূখ সংক্রান্ত কিতাবসমূহে এর উদাহরণসহ ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে।

উসূলুল ফিকহ (أصول الفقه) এবং উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) মাধ্যমে আমি আপনার কাছে যে উদাহরণটি তুলে ধরেছি, তা মূলত একটি দৃষ্টান্ত যা থেকে আপনি শরয়ি জ্ঞানসমূহের (علوم شرعية) মধ্যকার তথ্যের পারস্পরিক অনুপ্রবেশ বা সমন্বয় পরিমাপ করতে পারবেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

ফলে, আপনি উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) কোনো কোনো বিষয়ের মূলনীতি অন্য কোনো শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে আহরিত দেখতে পেতে পারেন। আর এই আহরিত মূলনীতিগুলো তাদের গবেষণারই মৌলিক অংশ, কিন্তু তারা...
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
تأخروا في تحريرها فنقلوها عمَّن حرَّرها، وأضربُ لك مثلاً بعلم التجويدِ:

يقولُ شمس الدينِ ابنُ الجَزَرِيِّ (ت: 833) في كتابِه التمهيد في علم التجويدِ: «مخارجُ الحروف عند الخليلِ سبعةَ عشر مخرجًا (1)، وعند سيبويه وأصحابه ستَّةَ عشر (2)، لإسقاطِهم الجويَّة (3)، وعند الفراء وتابعيه أربعةَ عشر، لجعلهم مخرجَ الذلقيةِ (4) واحدًا» (5).

ألا تلاحظُ أنَّ المقرئ ابن الجَزَريِّ (ت: 833)، وهو يتحدَّثُ عن أصلٍ من أصولِ التجويدِ، يُرجِعُ معلوماتِه إلى علماءِ لغةٍ ونَحْوٍ، ولم يُرجِعْهُ إلى عالمٍ متخصَّصٍ بعلمِ القراءةِ!

أيعني هذا أنَّ مخارجَ الحروفِ ليستْ من علمِ التجويدِ؟

كلَاّ. لكنَّ علماءَ النَّحوِ واللُّغةِ كانوا أصحابَ التَّحريرِ الأولِ لمسائلِ مخارجِ الحروف وصفاتها، فلما أفردَ علماءُ القراءاتِ علمَ التَّجويدِ لبيانِ صفةِ قراءةِ كلِّ قارئٍ على حِدةٍ، جعلوا علم مخارجِ الحروف وصفاتِها من أوَّلِ العلومِ التي يحتاجُها دارسُ التَّجويدِ، ولما كتبوا مسائلها نقلوها عن أوَّلِ من حرَّرها، وهم علماءُ النَّحوِ واللُّغةِ، ولا يختلف اثنانِ في أنَّ علمَ النَحوِ واللُّغةِ سابقانِ لعلمِ القراءةِ والتجويدِ من حيثُ التأليف.

إذًا، فمخارجُ الحروفِ وصفاتُها من صميمِ علم التَّجويدِ، وإنما

--------------------------------------------

(1) ينظر عن المخارج عند الخليل: كتاب العين (1:51 - 52، 57 - 58).

(2) ينظر عن المخارج عند سيبويه: الكتاب، طبعة بولاق (2:405).

(3) أي: حروف الجوف المدية، وهي الألف والياء والواو.

(4) أي: اللام والراء والنون.

(5) التمهيد في علم التجويد، لابن الجزري، تحقيق: الدكتور علي حسين البواب (ص105).
তারা এটি সম্পাদনায় (تحرير) পিছিয়ে ছিলেন, তাই তারা এটি তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যারা এটি সম্পাদনা (حرَّرها) করেছেন। আমি আপনার কাছে তাজবিদ শাস্ত্রের একটি উদাহরণ পেশ করছি:

শামস আদ-দ্বীন ইবনুল জাজারি (মৃত্যু: ৮৩৩ হি.) তাঁর 'আত-তামহিদ ফি ইলমিত তাজবিদ' গ্রন্থে বলেন: "খলিলের মতে হরফের উচ্চারণস্থলসমূহ (مخارج الحروف) সতেরোটি (১), এবং সিবওয়াইহ ও তাঁর সঙ্গীদের মতে ষোলোটি (২), যেহেতু তারা জৌফিয়া (الجويَّة) (৩) মাখরাজটি বাদ দিয়েছেন। আর আল-ফাররা ও তাঁর অনুসারীদের মতে চৌদ্দটি, কারণ তারা যালকিয়া (الذلقية) (৪) উচ্চারণস্থলকে একটি হিসেবে গণ্য করেছেন" (৫)।

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, ক্বারি ইবনুল জাজারি (মৃত্যু: ৮৩৩ হি.), তাজবিদ শাস্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় (أصل) নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর তথ্যগুলো ভাষা ও ব্যাকরণবিদদের দিকে সম্পৃক্ত করছেন, অথচ তিনি কোনো ক্বিরাআত বিশেষজ্ঞের দিকে তা সম্পৃক্ত করেননি!

এর অর্থ কি এই যে, হরফের উচ্চারণস্থলসমূহ (مخارج الحروف) তাজবিদ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়?

কখনোই নয়। বরং ব্যাকরণ ও ভাষাবিদগণই ছিলেন হরফের উচ্চারণস্থল (مخارج الحروف) ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (صفات) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর প্রথম সম্পাদক (أصحاب التحرير الأول)। যখন ক্বিরাআত বিশেষজ্ঞগণ প্রত্যেক ক্বারির পৃথক পৃথক ক্বিরাআতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার জন্য তাজবিদ শাস্ত্রকে স্বতন্ত্র রূপ দান করলেন, তখন তারা হরফের উচ্চারণস্থল (مخارج الحروف) ও বৈশিষ্ট্য (صفات) সংক্রান্ত জ্ঞানকে তাজবিদ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করলেন। আর যখন তারা এর মাসআলাগুলো লিপিবদ্ধ করলেন, তখন তারা তা প্রথম সংকলকদের থেকেই গ্রহণ করেছেন, আর তাঁরা হলেন ব্যাকরণ ও ভাষাবিদ। গ্রন্থ রচনার (التأليف) দিক থেকে ব্যাকরণ ও ভাষাশাস্ত্র যে ক্বিরাআত ও তাজবিদ শাস্ত্রের অগ্রবর্তী, সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না।

সুতরাং, হরফের উচ্চারণস্থল (مخارج الحروف) ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (صفات) তাজবিদ শাস্ত্রের মৌলিক অংশের (صميم علم التجويد) অন্তর্ভুক্ত, বরং

--------------------------------------------

(১) খলিলের মাখরাজ সংক্রান্ত মতামতের জন্য দেখুন: কিতাবুল আইন (১:৫১ - ৫২, ৫৭ - ৫৮)।

(২) সিবওয়াইহ-এর মাখরাজ সংক্রান্ত মতামতের জন্য দেখুন: আল-কিতাব, বুলাক সংস্করণ (২:৪০৫)।

(৩) অর্থাৎ: জৌফ বা মুখগহ্বরের শূন্যস্থান থেকে উচ্চারিত মাদ্দের হরফসমূহ, যা হলো আলিফ, ইয়া এবং ওয়াও।

(৪) অর্থাৎ: লাম, রা এবং নূন।

(৫) আত-তামহিদ ফি ইলমিত তাজবিদ, ইবনুল জাজারি, তাহকিক (تحقيق): ড. আলি হুসাইন আল-বাওয়াব (পৃষ্ঠা ১০৫)।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
نُقلتْ عن علماء النَّحوِ واللُّغةِ لسبقِهم في التدوينِ (1).

وبعدَ هذا الاستطرادِ، أرجِعُ إلى صُلبِ الموضوعِ، وهو:

--------------------------------------------

(1) لقد تكلم قوم في علم التجويد، وضعَّفوا تأصيلَه، وجعلوه علمًا حادثًا، وفي هذا نظرٌ ليس هذا محله، والذي أريدُ أن أُنبِّه عليه هنا:

1 - مما ينبغي أن يعلمَ أوَّلاً: أنَّ القرآنَ قد خالفَ المعهودَ من نظمِ العربِ ونثرِها، وإن لم يخرجْ عن سنَنِها في الكلامِ، وكذلكَ الحالُ في قراءتِه، فإنَّها مخالفةٌ لكيفيَّةِ قراءتِهم لنثرِهم وشعرِهم، وإن وقع اشتراكٌ بين الكيفيَّتينِ، لكن كان له تميُّزهُ في طريقةِ قراءته.

2 - أنَّ في علم التجويدِ مسائلَ تتعلَّقُ بعربيَّةِ القرآنِ؛ أي: أنَّه لا تقومُ قراءتُه بدونِها، وهي قسمان:

قسمٌ ليسَ فيه إلَاّ وجه واحدٌ؛ كمخارجِ الحروفِ وصفاتِها.

وقسم فيه وجهان أو أكثر عند القراءِ، كالإظهارِ والإدغامِ، والفتحِ والإمالةِ، والوقف على الهمزِ وعدمه، والسكت وعدمه، إلى غيرِ ذلكَ من المسائلِ التي تجدها في علم النَّحوِ، وهي من صميمِ علمِ التجويدِ.

3 - أنَّ القراءة علمُ مشافهةٍ، ولذا لا يُمكن أخذُه من الصُّحفِ، فلو قرأت أنَّ فلانًا من القرَّاء يقرأ حرفًا ما بالإشمامِ أو بالرَّوم، فلا يمكنُ أن تعرفَ كيفيَّةَ تطبيقِ ذلك إلَاّ بأخذِها على معلِّمٍ شافَه شيخَه وتلقى عنه هذه الصِّفةَ من القراءةِ. وهذا مما ينبغي أن يُشكَرَ ويذكَرَ لعلماءِ التَّجويدِ والقراءةِ؛ لأنَّهم حفِظُوا طريقةَ نطقِ بعض الأمورِ الصَّوتيَّةِ التي لو لم تؤخذ بالمشافهة، لما عرفت كيفيَّةُ نُطقِها عندَ العربِ.

4 - أنَّ الذين نقلوا حروفَه، وأُخِذَ عنهم هذا النقلُ، هم الذينَ نقلوا كيفيَّة أداء هذه الحروفِ، فكما قُبِلَ منهم نقلُ الحروفِ، يُقبلُ منهم نقلُ الأداءِ، وهو التَّجويدُ، الذي هو وصفٌ اصطلاحيٌّ لصفةِ القراءةِ النَّبويَّة للقرآنِ، بما ثبتت به الروايةُ من طريقِ القرَّاءِ.

5 - أنَّ علم التجويدِ قد دخلَه الاجتهادُ، وذلك في أمرينِ:

الأول: التَّقسيماتُ والتَّعريفاتُ الاصطلاحيَّةُ، وهو في هذا ككلِّ العلومِ الإسلاميَّةِ.

الثاني: التَّقديراتُ والتَّحريراتُ؛ كتقديرِ حركاتِ المدِّ الفرعيِّ، أو تحرير الأوجه عند وصل السور.
এটি ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাবিদদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, কারণ তাঁরা সংকলনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন (১)।

এই অবান্তর আলোচনার পর, আমি মূল বিষয়ের দিকে ফিরে আসছি, আর তা হলো:

--------------------------------------------

(১) একদল লোক ইলমে তাজবিদ নিয়ে কথা বলেছেন এবং এর ভিত্তিকেও দুর্বল (ضعيف) বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁরা একে একটি নবউদ্ভাবিত শাস্ত্র হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে যা এখানে আলোচনার স্থান নয়। আমি এখানে যা স্পষ্ট করতে চাই তা হলো:

১ - যা প্রথমত জানা উচিত: কুরআন আরবদের প্রচলিত ছন্দ ও গদ্যের রীতি থেকে ভিন্ন, যদিও তা তাদের কথোপকথনের নিয়মের বাইরে নয়। একইভাবে কুরআন তিলাওয়াতের বিষয়টিও তাদের গদ্য ও কাব্য পাঠের পদ্ধতির চেয়ে আলাদা, যদিও উভয় পদ্ধতির মধ্যে কিছু মিল বিদ্যমান। তবে এর পাঠশৈলীতে একটি অনন্য স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।

২ - ইলমে তাজবিদের এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা কুরআনের আরবিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ, তা ছাড়া কুরআন তিলাওয়াত সম্ভব নয়। এটি দুই প্রকার:

এক প্রকার হলো যার কেবল একটিই পদ্ধতি রয়েছে; যেমন হরফের মাখরাজ ও সিফাত।

অন্য প্রকারটি হলো যাতে কারীগণের নিকট দুই বা ততোধিক পদ্ধতি রয়েছে; যেমন ইজহার, ইদগাম, ফাতহ, ইমালাহ, হামজার ওপর ওয়াকফ করা বা না করা, সাকত করা বা না করা ইত্যাদি। এ সকল মাসআলা আপনি ইলমে নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রতেও পাবেন এবং এগুলো ইলমে তাজবিদের মূল ভিত্তি।

৩ - কিরাত বা কুরআন পাঠ হলো সরাসরি শ্রবণ ও শ্রুতির (মুশাফাহাহ) জ্ঞান। তাই শুধু কিতাব পড়ে এটি অর্জন করা সম্ভব নয়। আপনি যদি পড়েন যে অমুক কারী কোনো একটি হরফ ইশমাম বা রাউমের সাথে পাঠ করতেন, তবে একজন শিক্ষকের নিকট সরাসরি না পড়ে এর সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি জানতে পারবেন না—যিনি নিজে তাঁর শায়খের নিকট সরাসরি পড়েছেন এবং এই কিরাত পদ্ধতি লাভ করেছেন। তাজবিদ ও কিরাত শাস্ত্রের ওলামাদের প্রতি এ জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত; কারণ তাঁরা কিছু ধ্বনিগত উচ্চারণের পদ্ধতি সংরক্ষণ করেছেন, যা যদি সরাসরি শ্রবণ ও শ্রুতির মাধ্যমে না নেওয়া হতো, তবে আরবদের নিকট সেগুলোর উচ্চারণের ধরন জানা সম্ভব হতো না।

৪ - যাঁরা কুরআনের হরফসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং যাঁদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁরাই এই হরফগুলোর আদায়ের পদ্ধতিও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যেভাবে তাঁদের থেকে হরফের বর্ণনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেভাবেই তাঁদের বর্ণিত আদায়ের পদ্ধতিটিও গ্রহণ করা হবে। আর এটিই হলো তাজবিদ, যা কারীগণের সূত্রে বর্ণিত রেওয়াত (رواية) দ্বারা সাব্যস্ত হওয়া কুরআনের নববী কিরাত পদ্ধতির একটি পারিভাষিক বিবরণ।

৫ - ইলমে তাজবিদে ইজতিহাদ বা গবেষণার অনুপ্রবেশ ঘটেছে, আর তা দুটি ক্ষেত্রে:

প্রথমত: পারিভাষিক বিভাজন ও সংজ্ঞায়ন। এ ক্ষেত্রে এটি অন্যান্য সকল ইসলামী শাস্ত্রের মতোই।

দ্বিতীয়ত: পরিমাপ ও পর্যালোচনা; যেমন মাদ্দে ফারঈ এর হরকত নির্ধারণ করা অথবা সূরার সংযোগস্থলে পাঠের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
أنواعُ التصنيف المتعلقةُ بتفسير القرآن

قبلَ البدءِ بسَرْدها أذكر بعضَ التَّنبيهات:

إنَّ بعض هذه العلومِ المصنَّفةِ المتعلِّقةِ بتفسيرِ القرآنِ مُشْتَرَكَةٌ بين علم التَّفسيرِ وعلومِ القرآنِ، وقد سبق ذكرُ جملةِ العلومِ التي تتضمَّنها كتبُ علوم القرآنِ، وأشرتُ هناكَ إلى هذه المسألةِ.

إنَّه لا يلزمُ أن تكونَ كلُّ هذه العلوم التي سأذكُرها مما يحتاج إليه المفسِّرُ، والحديثُ هنا عن مصنَّفاتٍ تمَّ تدوينُها، وليسَ عن العلومِ التي يحتاج إليها المفسِّرُ.

ولا بدَّ من الإشارةِ هنا إلى مسألةٍ، وهي التَّوازنُ في النَّظرِ إلى حاجةِ المفسِّرِ لبعض العلومِ التي ينصُّ عليها العلماءُ؛ كعلمِ النَّحوِ، وعلمِ البلاغةِ، وعلمِ الفقه، وغيرها.

ومعنى ذلك أنْ لا يُجعَلَ علمٌ من هذه العلومِ هو الأصلَ في التَّفسيرِ، وأنَّ من عَلِمَه علِمَ التَّفسيرَ، بل يكونُ هذا العلم من جملةِ المصادرِ التي تفيدُ المفسِّرَ، وتُعينُه في بيان القرآنِ.

ولا شكَّ أنَّ بعضَ هذه العلومِ أسعدُ حظًّا من غيرِها ببيان القرآنِ، كعلمِ مفرداتِ اللُّغة الذي لا يمكنُ أن تنفكَّ منه آيةٌ، والمفسِّرُ بحاجةٍ أكيدةٍ إليه؛ إذ لا يمكنُ التَّفسيرُ بدونِ معرفةِ دلالة الألفاظِ.

إنَّه قد يوجدُ مصنَّفات لا تدخلُ ضمنَ هذه العلومِ التي سأذكرُها.
কোরআন তাফসির সংশ্লিষ্ট রচনার প্রকারভেদ

সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বিবৃত করার পূর্বে আমি কিছু সতর্কতা উল্লেখ করছি:

কোরআন তাফসির সংশ্লিষ্ট এই শ্রেণীবদ্ধ জ্ঞানসমূহের কিছু অংশ ইলমে তাফসির ও উলূমুল কোরআনের মধ্যে অভিন্ন। উলূমুল কোরআনের গ্রন্থাবলীতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহের বিস্তারিত বিবরণ ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সেখানে আমি এই বিষয়টি ইঙ্গিত করেছি।

আমি যে সকল ইলম বা বিষয়ের কথা উল্লেখ করব, তার সবকটিই যে একজন মুফাসসিরের প্রয়োজন হবে এমনটি আবশ্যক নয়। এখানে আলোচনা হচ্ছে সংকলিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে, মুফাসসিরের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে নয়।

এখানে একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা আবশ্যক, আর তা হলো—ওলামায়ে কেরাম যে সকল জ্ঞানের কথা বর্ণনা করেছেন, যেমন: নাহু (ব্যাকরণ), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), ফিকহ ইত্যাদি; সেগুলোর ক্ষেত্রে মুফাসসিরের প্রয়োজনের দিকে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টি রাখা।

এর অর্থ হলো, এই জ্ঞানগুলোর কোনো একটিকে তাফসিরের মূল ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত না করা এবং এমনটি মনে না করা যে, যে ব্যক্তি এটি জানল সে তাফসির জেনে গেল; বরং এই জ্ঞানটি হবে সেই উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা মুফাসসিরকে উপকৃত করে এবং কোরআনের বর্ণনায় তাকে সহায়তা করে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু বিষয় কোরআন বর্ণনায় অন্যগুলোর তুলনায় অধিক সহায়ক, যেমন: লুগাত বা শব্দতত্ত্বের জ্ঞান; যা থেকে কোনো আয়াতই বিচ্ছিন্ন নয় এবং মুফাসসিরের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা শব্দের অর্থ বা তাৎপর্য জানা ব্যতীত তাফসির করা সম্ভব নয়।

এমন কিছু রচনাও থাকতে পারে যা আমার উল্লেখ করা এই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
إنَّه ليس من شَرْطِي أن أستوعب كلَّ ما يتعلَّقُ بهذه العلومِ التي سأذكرُها، وأغلبُ ما كتبتُه ملحوظاتٌ وأفكارٌ جمعتها في أثناء القراءةِ في كتبِ هذه العلومِ، فسطَّرتها لك هنا.
নিশ্চয়ই আমি যেসব শাস্ত্র (علوم) উল্লেখ করব, সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা আমার শর্ত (شرط) নয়। আমি যা লিখেছি তার অধিকাংশ হলো কিছু পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনা যা আমি এই শাস্ত্রসমূহের (علوم) কিতাবাদি অধ্যয়নকালে সংগ্রহ করেছি, অতঃপর তা আপনার জন্য এখানে লিপিবদ্ধ করেছি।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أولاً: كتب التفسير

كتبُ التَّفسيرِ كثيرةٌ جدًّا، ولا يمكنُ الحديثُ عنها هنا، ولو بإيجازٍ، لذا سأذكرُ إشاراتٍ عابرةً في هذه الكتبِ.

* أنَّ السَّلفَ من التابعينَ وتابعيهم قد دوَّنوا التَّفسيرَ، وأنَّ أغلبَ هذه المدوَّناتِ مبثوثٌ في الكتبِ التي تُعنى بالمأثورِ عنهم؛ كتفسير عَبْدِ بنِ حُمَيد (ت: 249)، وتفسيرِ الطَّبريِّ (ت: 310)، وتفسيرِ ابن أبي حاتم (ت: 327)، وغيرِها.

وغالبُ تفاسيرِهم كانت صُحُفًا تُروى بالأسانيدِ؛ كتفسيرِ عطيَّةَ بنِ سعد العوفيِّ (ت: 111)، وتفسيرِ إسماعيلَ بنِ عبدِ الرَّحمنِ السُّدِّيِّ (ت: 128)، وتفسيرِ عليِّ بنِ أبي طلحةَ الوالبِيِّ (ت: 143)، وغيرها.

وقد كان تفسيرُهم يشملُ تفسيرَ مفرداتِ القرآنِ، وناسخَه ومنسوخَه، وقصصَ آيِهِ من إسرائيلياتٍ وغيرِها، وسببَ نزولِه، ومبْهماتِه، والمعنى الجُمْليَّ، وذكرَ التفسيرِ النَّبويِّ، والتفسيرَ بالقرآنِ، والتفسيرَ بالسُّنَّةِ، وبيانَ أحكامِه …
প্রথমত: তাফসিরের গ্রন্থাবলি

তাফসিরের গ্রন্থাবলি সংখ্যায় অত্যন্ত বেশি এবং এখানে সংক্ষেপে হলেও সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাই আমি এই গ্রন্থগুলো সম্পর্কে কেবল সংক্ষিপ্ত কিছু ইঙ্গিত প্রদান করব।

* তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈদের মধ্য থেকে সালাফগণ তাফসির লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাঁদের এসব সংকলনগুলোর অধিকাংশ সেই সমস্ত কিতাবসমূহে ছড়িয়ে আছে যেগুলোতে তাঁদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াত (المأثور) সংগৃহীত হয়েছে; যেমন: আবদ ইবনে হুমাইদ-এর তাফসির (মৃ. ২৪৯ হি.), তাবারির তাফসির (মৃ. ৩১০ হি.), ইবনে আবি হাতিমের তাফসির (মৃ. ৩২৭ হি.) এবং অন্যান্য।

তাঁদের অধিকাংশ তাফসিরই ছিল বিভিন্ন সহিফা বা পুস্তিকা (صحف) যা বর্ণনাপরম্পরা (الأسانيد) সহযোগে বর্ণিত হতো; যেমন: আতিয়্যাহ ইবনে সাআদ আল-আওফি-এর তাফসির (মৃ. ১১১ হি.), ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান আস-সুদ্দি-এর তাফসির (মৃ. ১২৮ হি.), আলী ইবনে আবি তালহা আল-ওয়ালিবি-এর তাফসির (মৃ. ১৪৩ হি.) এবং অন্যান্য।

তাঁদের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত ছিল কুরআনের শব্দার্থের ব্যাখ্যা, রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়াদি, ইসরাঈলি বর্ণনা (إسرائيليات) ও অন্যান্য উৎস থেকে বর্ণিত আয়াতের ঘটনাবলি, নাজিলের প্রেক্ষাপট (سبب النزول), অস্পষ্ট পরিভাষা (مبهمات), সামগ্রিক অর্থ, নববী তাফসিরের উল্লেখ, কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির, সুন্নাহর মাধ্যমে তাফসির এবং এর বিধানাবলির বর্ণনা …
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإذا درستَ تفاسيرَهم بعنايةٍ، ونظرتَ في تفاسيرِ المتأخرينَ، سيظهرُ لكَ جليًّا أنَّ المتأخِّرينَ عالةٌ عليهم في بيانِ معاني القرآنِ والمرادِ بها، وأنَّ المتأخرينَ لم يزيدوا كثيرًا على أقوالِهم من جهةِ البيانِ عن معنى الآي، وإنما كانتِ الزيادةُ في غيرِ هذا الجانبِ.

وأحسبُ أنَّ كتبَ التَّفسيرِ الكبيرةَ ـ كالجامعِ لأحكام القرآنِ لأبي عبدِ اللهِ محمدِ بن أحمدَ القرطبيِّ (ت: 671)، أو البحرِ المحيطِ لأبي حيانَ محمدِ بنِ يوسفَ الأندلسيِّ (ت: 745)، أو غيرها ـ لو اعتمدتْ صُلْبَ التَّفسيرِ، وتركتِ الاستطرادَ في مسائلِ العلومِ، لرجعتْ إلى تفسيرِ السَّلفِ وقاربتْهُ.

* ولما تنوَّعتِ المعارفُ والعلومُ، وتشكَّلتْ مسائلُ كلِّ علمٍ؛ كالفقه، وأصولِ الفقه، والنَّحوِ، واللُّغَةِ، والتَّاريخِ، وغيرها، وشاركَ في التَّأليفِ في التَّفسيرِ مَنْ تميَّزَ بعلمٍ من هذه العلومِ، صبغ كل منهم تفسيرَه بتخصُّصِه الذي برزَ فيه، يساعدُه في ذلك إمكانيَّةُ التوسُّعِ في كتابةِ التَّفسيرِ، وهذا ما جعلَ كتبَ التَّفسيرِ تفترقُ في المناهجِ.

* ولهذا، ستجدُ أنَّ كثيرًا مما سيأتي من المصنَّفاتِ المُدوَّنةِ على انفرادٍ، يكونُ موجودًا في بطونِ كتبِ التَّفسيرِ من حيثُ الجملةُ، لذا تجدُ أنَّ مما يتميَّزُ به منهجُ أبي حيان (ت: 745) في كتابِه البحرِ المحيطِ عنايتَه بعلمِ المناسبات (1).

وهذا يعني أنَّ كُتبَ التَّفسيرِ تحوي كثيرًا من مسائلِ العلومِ التي لها

--------------------------------------------

(1) ينظر على سبيل المثال، البحر المحيط، نشر المكتبة التجارية (1:77، 214، 224، 250، 403، 568، 592).
আপনি যদি তাদের তাফসিরসমূহ নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের (المتأخرون) তাফসিরগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তবে আপনার নিকট স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে যে, কুরআনের অর্থ ও মর্ম বর্ণনার ক্ষেত্রে পরবর্তী আলেমগণ (المتأخرون) তাঁদের ওপর নির্ভরশীল (عالة)। আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের ওপর খুব বেশি কিছু সংযোজন করেননি, বরং সংযোজন কেবল এই ক্ষেত্রটি ব্যতিরেকে অন্য বিষয়েই হয়েছে।

আমি মনে করি, বৃহৎ তাফসির গ্রন্থসমূহ—যেমন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-কুরতুবীর (মৃত্যু: ৬৭১ হি.) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, অথবা আবু হাইয়ান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-আন্দালুসির (মৃত্যু: ৭৪৫ হি.) আল-বাহরুল মুহিত, বা অন্যান্য—যদি তাফসিরের মূল বিষয়ের ওপর নির্ভর করত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিবিধ মাসআলাসমূহের (مسائل) বিস্তারিত আলোচনা পরিহার করত, তবে তা সালাফদের (السلف) তাফসিরের ধারায় প্রত্যাবর্তন করত এবং এর নিকটবর্তী হতো।

* যখন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা বৈচিত্র্যময় হলো এবং প্রতিটি শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ (مسائل) স্বতন্ত্র রূপ লাভ করল—যেমন ফিকহ (الفقه), উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), নাহু (النحو), ভাষা, ইতিহাস ইত্যাদি—এবং যারা এসকল শাস্ত্রের কোনো একটিতে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন তারা যখন তাফসির রচনায় অংশগ্রহণ করলেন, তখন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিশেষত্ব অনুযায়ী নিজ নিজ তাফসিরকে রঞ্জিত করলেন। তাফসির লিখনে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকায় এটি তাঁদের জন্য সহায়ক হয়েছিল, আর এটিই তাফসির গ্রন্থগুলোর পদ্ধতিসমূহকে (المناهج) একে অপরের থেকে পৃথক করে দিয়েছে।

* এ কারণে আপনি দেখতে পাবেন যে, স্বতন্ত্রভাবে রচিত বহু কিতাব সামগ্রিকভাবে তাফসির গ্রন্থগুলোর উদরে বিদ্যমান রয়েছে। ফলে দেখা যায় যে, আবু হাইয়ান (মৃত্যু: ৭৪৫ হি.) তাঁর আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থে যে পদ্ধতির (منهج) কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তা হলো মুনাসাবাত বা আয়াতের আন্তঃসম্পর্ক (المناسبات) বিষয়ক শাস্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন (১)।

এর অর্থ হলো, তাফসির গ্রন্থসমূহ বিজ্ঞানের এমন অনেক মাসআলা (مسائل) ধারণ করে আছে যেগুলোর

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত, মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ প্রকাশনী (১:৭৭, ২১৪, ২২৪, ২৫০, ৪০৩, ৫৬৮, ৫৯২)।
(খণ্ড: ১) আনওয়াউত তাসনীফ আল-মুতাআল্লিকাতি বিতাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
علاقةٌ بعلمِ التَّفسيرِ أو هي من علومِ القرآنِ، وهذه الكتبُ مجالٌ خصبٌ لتطبيقاتِ هذه المسائلِ العلميَّةِ (1)، بل قد تجدُ فيها إشاراتٍ إلى مسائلَ متعلِّقةٍ بعلمٍ من علومِ القرآنِ، وهي غيرُ موجودةٍ في كتبِه، ومن ذلك:

في تفسير قول الله تعالى: {وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [الأنفال: 30]، قال ابن عطية (ت: 542): «وحكى الطَّبريُّ عن عكرمةَ ومجاهد أنَّ هذه الآيةَ مكيَّةٌ (2) … ويَحتملُ عندي قولُ عكرمةَ ومجاهدٍ: «هذه مكيَّةٌ»، أن أشارا إلى القصَّةِ لا إلى الآية» (3).

هل تجدُ مثلَ هذا التَّحريرِ في كتبِ علومِ القرآنِ؟

لو صحَّتْ هذه الفرضيَّةُ التي ذكرَها ابن عطيَّةَ (ت: 542)، لحلَّتْ كثيرًا مما يُشكلُ من عباراتِ السَّلفِ في علمِ المكيِّ والمدنيِّ، وبهذا التَّخريجِ لا يخالفُ قولُ مجاهد (ت: 104) وعكرمة (ت: 105) من قال إنها مدنيَّةٌ؛ لأنَّ هذا يَحكي وقتَ النُّزولِ، وهما يَحكيانِ وقتَ وقوعِ الحدثِ الذي نزلتِ الآيةُ بشأنِه، واللهُ أعلمُ.

وفي تفسير قوله تعالى: {وَإِنْ يُرِيدُوا خِيَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ فَأَمْكَنَ مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [الأنفال: 71]، قال ابن عطيَّة الأندلسيُّ

--------------------------------------------

(1) مثلاً، لو دُرِستْ عباراتُ السَّلفِ في نزولِ القرآنِ، وهل يلزم من قولهم: نزلت هذه الآيةُ بمكة، أو بالمدينة، أنهم لا يراعون تاريخ النُّزول؟

الذي يظهرُ أن من عبَّرَ بهذا التَّعبيرِ لا يُخالفُ اعتبارَ الزَّمانِ، وليسَ أصحابُ هذا التَّعبيرِ أصحابَ قولٍ آخر في المكي والمدني، تأمَّلْ هذا، وتحقَّق منه في تطبيقاتِ المكي والمدني عند السلفِ، فقد يظهر لك هذا.

(2) ينظر: تفسير الطبري، تحقيق: شاكر (13:502).

(3) تفسير ابن عطية، طـ: قطر (6:272).
তাফসির শাস্ত্রের সাথে সম্পর্ক বা এটি উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থগুলো এই তাত্ত্বিক মাসয়ালাগুলোর প্রয়োগের জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র (১), বরং আপনি সেখানে উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) এমন কোনো মাসয়ালার প্রতি ইঙ্গিত পেতে পারেন যা সেই বিষয়ের গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। তার মধ্যে একটি হলো:

আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসির প্রসঙ্গে: {وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [আল-আনফাল: ৩০], ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু: ৫৪২ হি.) বলেন: “তাবারী ইকরিমা এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি মক্কী (مكية) (২) … আমার মতে ইকরিমা এবং মুজাহিদের এই কথা: ‘এটি মক্কী (مكية)’, এর সম্ভাব্য অর্থ হলো তাঁরা ঘটনাটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আয়াতটির প্রতি নয়” (৩)।

আপনি কি উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) গ্রন্থগুলোতে এই ধরণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ খুঁজে পাবেন?

ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু: ৫৪২ হি.) বর্ণিত এই অনুমানটি যদি সঠিক হয়, তবে মক্কী (مكي) এবং মাদানী (مدني) সম্পর্কিত ইলমের ক্ষেত্রে সালাফদের অস্পষ্ট পরিভাষাগুলোর অনেক কিছুই সমাধান হয়ে যাবে। এই ব্যাখ্যা (تخريج) অনুযায়ী মুজাহিদ (মৃত্যু: ১০৪ হি.) এবং ইকরিমা (মৃত্যু: ১০৫ হি.)-এর বক্তব্য সেই ব্যক্তির বক্তব্যের বিরোধী হবে না যিনি এটিকে মাদানী (مدنية) বলেছেন; কারণ তিনি নাযিলের সময়ের কথা বলছেন, আর তাঁরা দু’জন সেই ঘটনাটি ঘটার সময় বর্ণনা করছেন যে প্রসঙ্গে আয়াতটি নাযিল হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসির প্রসঙ্গে: {وَإِنْ يُرِيدُوا خِيَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ فَأَمْكَنَ مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [আল-আনফাল: ৭১], ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসী বলেন—

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ, যদি কুরআন নাযিল বিষয়ে সালাফদের পরিভাষাগুলো অধ্যয়ন করা হয়; তাদের এই উক্তি: “এই আয়াতটি মক্কায় নাযিল হয়েছে” বা “মদীনায় নাযিল হয়েছে” থেকে কি এটি আবশ্যক হয় যে তারা নাযিলের ইতিহাস বা কালক্রম বিবেচনা করেননি?

যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যারা এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন তারা সময়ের বিবেচনাকে উপেক্ষা করেন না। আর এই পরিভাষা ব্যবহারকারীরা মক্কী (مكي) ও মাদানী (مدني) এর ক্ষেত্রে অন্য কোনো মতের অধিকারী নন। এটি চিন্তা করুন এবং সালাফদের কাছে মক্কী (مكي) ও মাদানী (مدني) এর প্রয়োগিক ক্ষেত্রে এটি যাচাই করে দেখুন, সম্ভবত এটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে।

(২) দ্রষ্টব্য: তাফসিরে তাবারী, তাহকিক: শাকের (১৩:৫০২)।

(৩) তাফসিরে ইবনে আতিয়্যাহ, কাতার সংস্করণ (৬:২৭২)।