(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: -)
شرح مقدمة التسهيل لعلوم التنزيل لابن جزي القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: شرح مقدمة التسهيل لعلوم التنزيل لابن جزي
المؤلف: د مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار
اعتنى بها: بدر بن ناصر بن صالح الجبر
الناشر: دار ابن الجوزي
الطبعة: الأولى، 1431 هـ
عدد الصفحات: 292
الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1435
ইবনে জুজাই রচিত তাসহিল লি-উলুমিত তানজিল-এর মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা বিভাগ: কুরআনুল কারিমের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: ইবনে জুজাই রচিত তাসহিল লি-উলুমিত তানজিল-এর মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা
লেখক: ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসির আল-তাইয়ার
সম্পাদনায়: বদর বিন নাসির বিন সালেহ আল-জাবর
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২
বইটি লেখকের পক্ষ থেকে একটি উপহার - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - মাকতাবা শামিলার জন্য
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
মাকতাবা শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৩)
شرح مقدمة التسهيل لعلوم التنزيل
لابن جزي
شرحها
د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار
اعتنى بإخراجها
بدر بن ناصر بن صالح الجبر
دار ابن الجوزي
‘আত-তাসহিল লি-উলুমিত তানজিল’-এর মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা
ইবনে জুযাই-এর মূল রচনার
ব্যাখ্যা করেছেন
ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আল-তৈয়্যার
সম্পাদনা ও প্রকাশনার তত্ত্বাবধানে
বদর বিন নাসির বিন সালিহ আল-জাবর
দার ইবনুল জাওযী
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الشرحالحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فهذا شرح للمقدمة الأولى من مقدمتَي كتاب: «التسهيل لعلوم القرآن» لمحمد بن أحمد بن جزي الكلبي.
وإني لأشكر الله الذي يسَّر لي إتمام شرحها، وإني لأسأله أن يبارك لي في وقتي لأنجز سواها مما هو بين يدي.
ولا يفوتني في هذا المقام أن أشكر أخي بدر بن ناصر بن صالح الجبر الذي أعانني على إخراج هذا الشرح بهذه الصورة التي بين يديكم، فقد كان مراجعاً ومدقِّقاً ومخرجاً، فجزاه الله عني خيراً، وبارك له في كل أموره.
وقبل البدء بشرح هذه المقدمة أشير إلى كتاب: «ابن جزي ومنهجه في التفسير» لعلي بن محمد الزبيري رحمه الله، فإنه يُعدُّ من أحسن الكتب التي كُتبت في بيان منهجِ مُفَسِّر، وقد ذكر في ترجمة ابن جزي رحمه الله ما نصه: (ـ مولد ابن جزي ووفاته ـ: ولد أبو القاسم محمد بن أحمد بن جزي في يوم الخميس تاسع ربيع الثاني عام 693هـ، الموافق 1294م في مدينة غرناطة عاصمة الأندلس في ذلك العهد، واستُشهد رحمه الله في ضحوة يوم الاثنين السابع من جمادى الأولى عام 741هـ، الموافق 30 أكتوبر/ت1 سنة 1340م في معركة (طريف) بعد أن أبلى بلاء حسناً ـ تقبَّل الله شهادته ـ.
ব্যাখ্যার ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতপর:
এটি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুযাই আল-কালবী রচিত 'আত-তাসহিল লি-উলুমিল কুরআন' গ্রন্থের দুটি ভূমিকার মধ্যে প্রথমটির একটি ব্যাখ্যা।
আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যিনি আমার জন্য এর ব্যাখ্যা সম্পন্ন করা সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার সময়ে বরকত দান করেন যাতে আমি আমার হাতে থাকা অন্যান্য কাজগুলোও সম্পন্ন করতে পারি।
এই পর্যায়ে আমি আমার ভাই বদর বিন নাসের বিন সালেহ আল-জাবর-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না, যিনি আমাকে এই ব্যাখ্যাটি আপনাদের সামনে থাকা বর্তমান রূপে প্রকাশ করতে সহায়তা করেছেন। তিনি এর পর্যালোচনাকারী, নিরীক্ষক ও বিন্যাসকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর সকল বিষয়ে বরকত দান করুন।
এই ভূমিকার ব্যাখ্যা শুরু করার আগে আমি আলী বিন মুহাম্মদ আজ-যুবাইরী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'ইবনে জুযাই ওয়া মানহাজুহু ফিত তাফসির' গ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করছি। কোনো মুফাসসিরের কর্মপদ্ধতি বা মানহাজ বর্ণনায় এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তিনি ইবনে জুযাই (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: (— ইবনে জুযাইয়ের জন্ম ও মৃত্যু —: আবুল কাসেম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুযাই ৬৯৩ হিজরী সনের ৯ই রবিউস সানি, মোতাবেক ১২৯৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন আন্দালুসের রাজধানী গ্রানাডা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৭৪১ হিজরী সনের ৭ই জুমাদাল উলা, মোতাবেক ৩০ অক্টোবর ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে সোমবার চাশতের সময় 'তারিফ' যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করার পর শাহাদাত বরণ করেন (রহিমাহুল্লাহ) —আল্লাহ তাঁর শাহাদাত কবুল করুন—।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৬)
لقد فُقد رحمه الله وهو يشحذ هِمم الناس، ويحرِّضهم ويثبِّت بصائرهم، وكان هذا هو آخر العهد به، لقد حفظ لنا صاحب «نيل الابتهاج» نصّاً تاريخياً هامّاً يتعلق باستشهاد ابن جزي نقله عن فهرسة الحضرمي ـ أحد تلاميذ ابن جزي ـ جاء فيه: قال الفقيه المحدث الوزير أبو بكر بن ذي الوزارتين ابن الحكيم: (أنشدني ـ يقصد ابن جزي ـ يوم الوقيعة من آخر شعره قوله:
قصدي مؤمل في جهري وإسراري
… ومطلبي من إلهي الواحد الباري
شهادةٌ في سبيلِ اللهِ خالصةٌ
… تمحو ذنوبي وتُنجيني من النار
إن المعاصي رجسٌ لا يُطَهِّرُها
… إلا الصَّوارمُ في أيْمانِ كُفَّارِ
ثم قال: (في هذا اليوم أرجو أن يعطيني الله ما سألته في هذه الأبيات، وهكذا صدق الله ابن جزي، فصدقه وانتقل إلى جوار ربه بموكب الشهداء الذين صدقوا ما عاهدوا الله عليه فأكرمهم وآواهم، وفي هذه المعركة استشهد العديد من علماء الأندلس وأعيانهم، كما استشهد العديد من علماء المغرب وأعيانه) (1).
هذا موجزٌ نكتفي به فيما يتعلق بحياة ابن جزي، ومن أراد المزيد في كتب ابن جزي وعلمه وطريقته في العلم وشيوخه وتلاميذه، فيمكنه مراجعة كتاب الزبيري.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন, তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন যখন তিনি মানুষের হিম্মত বৃদ্ধি করছিলেন, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছিলেন এবং তাদের অন্তর্দৃষ্টিকে সুদৃঢ় করছিলেন। আর এটাই ছিল তাঁর সম্পর্কে শেষ সংবাদ। ‘নাইলুল ইবতিহাজ’ গ্রন্থের লেখক ইবনু জুযাই-এর শাহাদাত সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পাঠ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন, যা তিনি ইবনু জুযাই-এর অন্যতম ছাত্র হাদরামির ‘ফিহরিস্ত’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তাতে এসেছে: ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث) ও উজির আবু বকর বিন যিল উযারাতাইন ইবনুল হাকিম বলেন: (যুদ্ধের দিনে ইবনু জুযাই তাঁর সর্বশেষ কবিতা থেকে আমাকে শুনিয়েছিলেন:
প্রকাশ্যে ও গোপনে আমার আশা ও আকাঙ্ক্ষা এক
… আর আমার একমাত্র স্রষ্টা ইলাহ-এর নিকট আমার প্রার্থনা
আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ শাহাদাত
… যা আমার গুনাহসমূহ মুছে দেবে এবং আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবে
নিশ্চয়ই পাপ এক অপবিত্রতা, যা কাফিরদের হাতের ধারালো তলোয়ার ব্যতীত
… অন্য কিছু পবিত্র করতে পারে না
অতঃপর তিনি বললেন: “আমি আশা করি আজ আল্লাহ আমাকে সেই নিয়ামত দান করবেন যা আমি এই পঙক্তিগুলোতে চেয়েছি।” এভাবেই ইবনু জুযাই আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতা বজায় রেখেছিলেন, ফলে আল্লাহও তাঁর প্রার্থনা কবুল করেছেন। তিনি সেই শহীদদের কাফেলায় শামিল হয়ে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে গেছেন, যারা আল্লাহর সাথে করা তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিলেন; ফলে আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করেছেন এবং আশ্রয় দান করেছেন। এই যুদ্ধে আন্দালুসের বহু আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শহীদ হয়েছিলেন, যেমনটি মাগরিবের বহু আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শহীদ হয়েছিলেন) (১)।
ইবনু জুযাই-এর জীবন সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাটুকুই আমরা যথেষ্ট মনে করছি। আর যিনি ইবনু জুযাই-এর কিতাবসমূহ, তাঁর ইলম, ইলম অর্জনের পদ্ধতি, তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তিনি যুবাইরীর কিতাবটি দেখে নিতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৭)
سبب تأليفه للكتاب ومقاصدهقال المصنف رحمه الله (1): الحمد لله العزيز الوهَّاب، مالك الملوك وربِّ الأرباب، هو الذي أنزل على عبده الكتاب هدًى وذكرى لأولي الألباب، وأودعه من العلوم النافعة، والبراهين القاطعة غاية الحكمة وفصل الخطاب، وخصَّه بالخصائص العليَّة، واللطائف الخفيَّة، والدلائل الجليَّة، والأسرار الربَّانية العُجاب، بكل عجب عجاب، وجعله في الطبقة العليا من البيان حتى أعجز الإنسان والجانّ، واعترف زعماء أرباب اللسان بما تضمَّنه من الفصاحة والبراعة والبلاغة والإعراب والإغراب، ويسَّر حفظه في الصدور، وضمن حفظه من التبديل والتغيير، فلم يتغير، ولا يتغير على طول الدهور وتوالي الأحقاب، وجعله قولاً فصلاً، وحكماً عدلاً، وآية بادية، ومعجزة باقية يشاهدها من شهد الوحي ومن غاب، وتقوم بها الحجة للمؤمن الأوَّاب، والحجَّة على الكافر المرتاب، وهدى الخلق بما شرع فيه من الأحكام، وبيَّن من الحلال والحرام، وعلَّم من شعائر الإسلام، وصرف من النواهي والأوامر، والمواعظ والزواجر، والبشارة بالثواب، والنذارة بالعقاب، وجعل أهل القرآن أهل الله وخاصَّته، واصطفاهم من عباده وأورثهم الجنة وحسن المآب.
فسبحان المولى الكريم الذي خصَّنا بكتابه، وشرَّفنا بخطابه، فيا له من نعمة سابغة، وحجة بالغة، أوزعنا الله الكريم القيام بواجب شكرها، وتوفية حقها، ومعرفة قدرها، وما توفيقي إلا بالله هو ربي لا إله إلا هو
--------------------------------------------
গ্রন্থ রচনার কারণ ও এর উদ্দেশ্যসমূহগ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) (১) বলেন: সমস্ত প্রশংসা মহা প্রতাপশালী, পরম দাতা আল্লাহর জন্য, যিনি রাজাধিরাজ ও সকল প্রতিপালকের প্রতিপালক। তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন বুদ্ধিমানদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশস্বরূপ। তিনি তাতে গচ্ছিত রেখেছেন উপকারী জ্ঞান এবং অকাট্য (قاطعة) প্রমাণাদি, যা প্রজ্ঞার চরম শিখর ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তিনি একে বিশেষায়িত করেছেন সুউচ্চ বৈশিষ্ট্যসমূহ, সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ, সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি এবং বিস্ময়কর রব্বানি রহস্যের মাধ্যমে, যা প্রতিটি দিক থেকেই পরম আশ্চর্যের। তিনি একে বর্ণনার এমন এক উচ্চস্তরে আসীন করেছেন যা মানুষ ও জিন উভয়কেই অক্ষম করে দিয়েছে। আর ভাষাবিদদের নেতৃবৃন্দ স্বীকার করে নিয়েছেন এর সাবলীলতা (فصاحة), পারদর্শিতা, অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) এবং ব্যাকরণগত সূক্ষ্মতা ও বিরল চমৎকারিত্বকে। তিনি অন্তরে একে মুখস্থ করা সহজ করে দিয়েছেন এবং একে পরিবর্তন ও রূপান্তর থেকে রক্ষা করার গ্যারান্টি প্রদান করেছেন। ফলে এটি পরিবর্তিত হয়নি এবং মহাকাল ও যুগের পরিক্রমায়ও এটি পরিবর্তিত হবে না। তিনি একে করেছেন ফয়সালাকারী বাণী, ন্যায়নিষ্ঠ বিধান (حكم), প্রকাশমান নিদর্শন এবং এক চিরস্থায়ী মুজিযা, যা ওহীর উপস্থিত ও অনুপস্থিত উভয় পক্ষই প্রত্যক্ষ করে। এর মাধ্যমে অনুগত মুমিনের পক্ষে দলিল (حجة) এবং সংশয়ী কাফিরের বিপক্ষে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বিধিবদ্ধ বিধানসমূহের (احكام) মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিজগতকে পথ দেখিয়েছেন, হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন, ইসলামের নিদর্শনসমূহ শিখিয়েছেন এবং এতে সন্নিবেশ করেছেন নিষেধ ও আদেশ, ওয়াজ ও সতর্কবাণী এবং সওয়াবের সুসংবাদ ও আযাবের ভীতিপ্রদর্শন। আর তিনি কুরআনের ধারক-বাহকদের আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; তিনি তাদেরকে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে চয়ন করেছেন এবং জান্নাত ও সর্বোত্তম আবাসের উত্তরাধিকারী করেছেন।
অতীব পবিত্র সেই মহান রব, যিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে আমাদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। এটি কতই না এক পূর্ণাঙ্গ নি’য়ামত এবং চূড়ান্ত দলিল (حجة)। মহান আল্লাহ আমাদের এর শোকর আদায়ের আবশ্যকতা পালন করার, এর যথাযথ হক পূরণ করার এবং এর মর্যাদা অনুধাবন করার তাওফিক দান করুন। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৮)
عليه توكلت وإليه متاب، وصلاة الله وسلامه وتحياته وبركاته وإكرامه على من دلَّنا على الله، وبلَّغنا رسالة الله، وجاءنا بالقرآن العظيم وبالآيات والذكر الحكيم، وجاهد في الله حق الجهاد، وبذل جهده في الحرص على نجاة العباد، وعلَّم ونصح وبيَّن وأوضح حتى قامت الحجة، ولاحت المحَجَّة، وتبيَّن الرشد من الغي، وظهر طريق الحق والصواب، وانقشعت ظلمات الشك والارتياب، ذلك سيدنا ومولانا محمد النبي الأمي القرشي الهاشمي المختار من لُباب اللباب، والمصطفى من أطهر الأنساب، وأشرف الأحساب، الذي أيده الله بالمعجزات الظاهرة، والآيات الباهرة، والجنود القاهرة، والسيوف الباترة الغضاب، وجمع له بين شرف الدنيا والآخرة، وجعله قائداً للغر المحجَّلين والوجوه الناضرة، فهو أول من يشفع يوم الحساب، وأول من يدخل الجنة ويقرع الباب، فصلى الله عليه وعلى آله الطيبين وأصحابه الأكرمين خير أهل وأكرم أصحاب، صلاة زاكية نامية لا يحصر مقدارها العد والحساب، ولا يبلغ إلى أدنى وصفها ألسنة البلغاء ولا أقلام الكتَّاب، أما بعد:
فإن علم القرآن العظيم هو أرفع العلوم قدراً، وأجلها خطراً، وأعظمها أجراً، وأشرفها ذكراً، وأن الله أنعم عليَّ بأن شغلني بخدمة القرآن وتعلُّمه وتعليمه، وشغفني بتفهم معانيه وتحصيل علومه، فاطلعت على ما صنفه العلماء رضي الله عنهم في تفسير القرآن من التصانيف المختلفة الأوصاف، المتباينة الأصناف، فمنهم من آثر الاختصار، ومنهم من طوَّل حتى أكثر الأسفار، ومنهم من تكلَّم في بعض فنون العلم دون بعض، ومنهم من اعتمد على نقل أقوال الناس، ومنهم من عوَّل على النظر والتحقيق والتدقيق، وكل أحد سلك طريقاً نحاه، وذهب مذهباً ارتضاه، وكلاًّ وعد الله الحسنى، فرغبتُ في سلوك طريقهم، والانخراط في سلك فريقهم، وصنفتُ هذا الكتاب في تفسير القرآن العظيم وسائر ما يتعلق به من العلوم، وسلكت مسلكاً نافعاً؛ إذ جعلته وجيزاً جامعاً، قصدت به أربع مقاصد تتضمن أربع فوائد:
আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর সালাত, সালাম, অভিবাদন, বরকত এবং মহিমা বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যিনি আমাদের আল্লাহর দিকে পথ প্রদর্শন করেছেন, আল্লাহর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের নিকট মহান কুরআন, নিদর্শনাবলী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ নিয়ে এসেছেন। তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং বান্দাদের নাজাতের প্রচেষ্টায় স্বীয় সামর্থ্য ব্যয় করেছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, নসিহত করেছেন এবং দ্বীনকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন, যতক্ষণ না প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সত্য পথ উজ্জ্বল হয়েছে, সঠিক পথ ভ্রষ্টতা থেকে পৃথক হয়েছে এবং হক ও ন্যায়ের পথ প্রকাশিত হয়েছে। সংশয় ও সন্দেহের অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে। তিনি আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.), যিনি উম্মি নবী, কুরাইশী, হাশেমী এবং সারনির্যাস থেকে মনোনীত। তিনি পবিত্রতম বংশ ও অতি সম্মানিত আভিজাত্য থেকে নির্বাচিত, যাঁকে আল্লাহ সুস্পষ্ট মুজিযা (معجزات), উজ্জ্বল নিদর্শন, বিজয়ী বাহিনী এবং সুতীক্ষ্ণ তরবারি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের মর্যাদা একত্রিত করেছেন এবং তাঁকে জ্যোতির্ময় হাত-পা ও উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট জান্নাতিদের নেতা বানিয়েছেন। তিনিই হাশরের ময়দানে প্রথম সুপারিশকারী হবেন এবং জান্নাতের দরজায় করাঘাতকারী ও তাতে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি হবেন। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর অতি সম্মানিত সাহাবীদের ওপর, যাঁরা সর্বোত্তম পরিবার ও শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। এমন এক পবিত্র ও ক্রমবর্ধমান সালাত, যার পরিমাণ গণনা ও হিসাব দ্বারা সীমাবদ্ধ করা যায় না এবং বাগ্মীগণের ভাষা কিংবা লেখকদের কলম যার নূন্যতম বর্ণনায় পৌঁছাতে সক্ষম নয়। অতপর:
নিশ্চয়ই মহান কুরআনের ইলম মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ, গুরুত্বের দিক থেকে সুমহান, প্রতিদানের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আলোচনার দিক থেকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আমার ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে কুরআনের খিদমত, এটি শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের কাজে নিয়োজিত করেছেন এবং এর অর্থ উপলব্ধি ও এর ইলমসমূহ অর্জনে আমাকে অনুরাগী করেছেন। ফলে আমি কুরআন তাফসিরের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) রচিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও প্রকারের সংকলনগুলো (تصنيف) পর্যবেক্ষণ করেছি। তাঁদের মধ্যে কেউ সংক্ষিপ্তকরণকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আবার কেউ দীর্ঘায়িত করে বহু খণ্ড রচনা করেছেন। তাঁদের কেউ ইলমের কিছু নির্দিষ্ট শাখা নিয়ে আলোচনা করেছেন, আবার কেউ অন্যদের উক্তি উদ্ধৃত করার ওপর নির্ভর করেছেন। কেউ বিচার-বিশ্লেষণ, গভীর গবেষণা (تحقيق) ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করেছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মনোনীত পথ ও পছন্দনীয় মাযহাব অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁদের প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আমিও তাঁদের পথ অনুসরণে এবং তাঁদের জামাতের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হয়ে মহান কুরআনের তাফসির এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইলম নিয়ে এই কিতাবটি সংকলন করেছি। আমি এতে একটি উপকারী পদ্ধতি অবলম্বন করেছি; যেহেতু আমি একে সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যবহুল করেছি। এর মাধ্যমে আমি চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি যা চারটি উপকারিতা অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفائدة الأولى: جمع كثير من العلم في كتاب صغير الحجم؛ تسهيلاً على الطالبين، وتقريباً على الراغبين، فلقد احتوى هذا الكتاب على ما تضمَّنته الدواوين الطويلة من العلم ولكن بعد تلخيصها وتمحيصها، وتنقيح فصولها، وحذف حشوها وفضولها، ولقد أودعته من كل فن من فنون علم القرآن اللباب المرغوب فيه دون القشر المرغوب عنه من غير إفراط ولا تفريط، ثم إني عزمت على إيجاز العبارة، وإفراط الاختصار، وترك التطويل والتكرار.
الفائدة الثانية: ذكر نُكت عجيبة وفوائد غريبة قلَّما توجد في كتاب؛ لأنها من بنات صدري ونتائج فكري، ومما أخذته عن شيوخي رضي الله عنهم، أو مما التقطته من مستظرفات النوادر، الواقعة في غرائب الدفاتر.
الفائدة الثالثة: إيضاح المشكلات، إما بحل العُقَد المقفلات، وإما بحسن العبارة ورفع الاحتمالات وبيان المجملات.
الفائدة الرابعة: تحقيق أقوال المفسرين والتفرقة بين السقيم منها والصحيح، وتمييز الراجح من المرجوح؛ وذلك أن أقوال الناس على مراتب، فمنها الصحيح الذي يعوَّل عليه، ومنها الباطل الذي لا يلتفت إليه، ومنها ما يحتمل الصحة والفساد، ثم إن هذا الاحتمال قد يكون متساوياً أو متفاوتاً، والتفاوت قد يكون قليلاً أو كثيراً. وإني جعلت لهذه الأقسام عبارات مختلفة تعرف بها كل مرتبة وكل قول، فأدناها ما أُصرِّحُ بأنه خطأ أو باطل، ثم ما أقول فيه: إنه ضعيف أو بعيد، ثم ما أقول: إن غيره أرجح منه أو أقوى أو أظهر أو أشهر، ثم ما أقدم غيره عليه إشعاراً بترجيح المتقدم، أو بالقول فيه: قيل، كذا قصداً للخروج من عهدته.
وأما إذا صرحت باسم قائل القول فإني أفعل ذلك لأحد أمرين: إما للخروج عن عهدته، وإما لنصرته إذا كان قائله ممن يُقتدى به، على أني لا أنسب الأقوال إلى أصحابها إلا قليلاً؛ وذلك لقلة صحة إسنادها إليهم، أو لاختلاف الناقلين في نسبتها إليهم، وأما إذا ذكرت شيئاً دون حكاية قوله عن أحد؛ فذلك إشارة إلى أني أتقلده وأرتضيه سواء كان من تلقاء
প্রথম ফায়দা: ক্ষুদ্র আয়তনের একটি কিতাবে প্রচুর জ্ঞান সঞ্চয় করা; যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয় এবং আগ্রহীদের নিকটবর্তী হয়। এই কিতাবটি দীর্ঘ সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত জ্ঞানকে ধারণ করেছে, তবে তা সংক্ষিপ্তকরণ ও যাচাই-বাছাই করার পর, পরিচ্ছেদগুলোকে পরিমার্জন করার পর এবং অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত অংশগুলো বর্জন করার পর। আমি এতে কুরআন বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা থেকে সারসংক্ষেপ ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহ সন্নিবেশিত করেছি এবং বর্জনীয় অসার অংশগুলো পরিহার করেছি কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা কমতি ছাড়াই। এরপর আমি ভাষা সংক্ষিপ্ত করার, চরম সংক্ষেপণ করার এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও পুনরাবৃত্তি বর্জনের সংকল্প করেছি।
দ্বিতীয় ফায়দা: এমন কিছু বিস্ময়কর সূক্ষ্ম বিষয় ও বিরল উপকারিতা উল্লেখ করা যা কদাচিৎ কোনো কিতাবে পাওয়া যায়; কারণ এগুলো আমার নিজস্ব উদ্ভাবন ও চিন্তাপ্রসূত ফলাফল, অথবা আমার শাইখদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে প্রাপ্ত, অথবা বিরল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান চমকপ্রদ দুর্লভ বিষয়াদি থেকে সংগৃহীত।
তৃতীয় ফায়দা: জটিল বিষয়গুলোর স্পষ্টীকরণ, হয় রুদ্ধ গ্রন্থিগুলোর উন্মোচনের মাধ্যমে, অথবা সুন্দর বাচনভঙ্গি এবং অস্পষ্টতা দূরীকরণ ও সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বর্ণনার মাধ্যমে।
চতুর্থ ফায়দা: মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ যাচাই করা এবং সেগুলোর মধ্যে রুগ্ণ (سقيم) ও সহিহ (صحيح) এর মধ্যে পার্থক্য করা, এবং অগ্রগণ্য (الراجح) কে অগ্রহণযোগ্য (المرجوح) থেকে পৃথক করা; এর কারণ হলো মানুষের বক্তব্য বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু রয়েছে সহিহ (صحيح) যার ওপর নির্ভর করা হয়, আবার কিছু বাতিল (باطل) যার প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয় না। আবার কিছু এমন যা সঠিক ও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এই সম্ভাবনা কখনো সমান হয়, আবার কখনো কম-বেশি হয়, আর এই পার্থক্য কখনো সামান্য হয় আবার কখনো অনেক বেশি হয়। আমি এই বিভাগগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছি যার মাধ্যমে প্রতিটি স্তর ও প্রতিটি উক্তি চেনা যাবে। এগুলোর মধ্যে নিম্নতম স্তর হলো যা সম্পর্কে আমি স্পষ্টভাবে বলেছি যে এটি ভুল (خطأ) বা বাতিল (باطل)। এরপর সেই স্তর যা সম্পর্কে আমি বলি যে এটি দুর্বল (ضعيف) বা দূরবর্তী (بعيد)। এরপর যা সম্পর্কে বলি যে এটি ছাড়া অন্যটি অধিক অগ্রগণ্য (أرجح), অথবা অধিক শক্তিশালী (أقوى), অথবা অধিক স্পষ্ট (أظهر), অথবা অধিক প্রসিদ্ধ (أشهر)। এরপর সেই বক্তব্য যাকে আমি অন্যটির পরে উল্লেখ করি যা পূর্ববর্তীটির প্রাধান্য নির্দেশ করে, অথবা সে বিষয়ে বলি: "বলা হয়েছে" (قيل), যা মূলত সেটির দায়ভার থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে।
আর যখন আমি কোনো বক্তব্যের প্রবক্তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি, তখন তা দুটি কারণে করি: হয় সেই বক্তব্যের দায়ভার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, অথবা যদি সেই বক্তা এমন কেউ হন যাঁকে অনুসরণ করা হয় তবে তাঁকে সমর্থনের জন্য। যদিও আমি খুব অল্প ক্ষেত্রেই বক্তব্যসমূহকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি; কারণ তাঁদের পর্যন্ত সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) হওয়ার নিশ্চয়তা কম অথবা তাঁদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতভেদ রয়েছে। আর আমি যখন কোনো উক্তি বর্ণনা না করে কিছু উল্লেখ করি, তখন তা ইঙ্গিত দেয় যে আমি এটি গ্রহণ করছি এবং পছন্দ করছি, চাই তা আমার নিজের পক্ষ থেকে হোক...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১০)
نفسي أو مما أختاره من كلام غيري، وإذا كان القول في غاية السقوط والبطلان لم أذكره تنزيهاً للكتاب عنه، وربما ذكرته تحذيراً منه، وهذا الذي ارتكبت من الترجيح والتصحيح مبني على القواعد العلمية، أو على ما تقتضيه اللغة العربية، وسنذكر بعد هذا باباً في موجبات الترجيح بين الأقوال إن شاء الله.
وسميت هذا الكتاب كتاب «التسهيل لعلوم التنزيل»، وقدمت في أوله مقدمتين: إحداهما: في أبواب نافعة، وقواعد كلية جامعة، والأخرى: فيما كثر دوره من اللغات الواقعة.
وأنا أرغب إلى الله العظيم الكريم أن يجعل تصنيف هذا الكتاب عملاً مبروراً، وسعياً مشكوراً، ووسيلة توصلني إلى جنات النعيم، وتنقذني من عذاب الجحيم، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم (1).
--------------------------------------------
আমার নিজের পক্ষ থেকে অথবা অন্যদের বক্তব্য থেকে যা আমি নির্বাচন করেছি। আর যদি কোনো বক্তব্য চরম অসারতা (سقوط) ও বাতিল (بطلان) হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে, তবে গ্রন্থটিকে তা থেকে পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যে আমি তা উল্লেখ করিনি; তবে কখনও কখনও সে সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য তা উল্লেখ করেছি। আর আমি যে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ (تصحيح) এর পন্থা অবলম্বন করেছি, তা ইলমি মূলনীতি অথবা আরবি ভাষার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এরপর আমরা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে প্রাধান্য প্রদানের কারণসমূহ সম্পর্কে একটি অধ্যায় আলোচনা করব।
আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি 'আত-তাসহিল লি-উলুমিত তানজিল'। এর শুরুতে আমি দুটি ভূমিকা পেশ করেছি: প্রথমটি হলো—উপকারী অধ্যায়সমূহ এবং ব্যাপক ও সমন্বিত মূলনীতিসমূহের বর্ণনায়; আর দ্বিতীয়টি হলো—ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্যে যেগুলোর পুনরাবৃত্তি অধিক ঘটে সে বিষয়ে।
আমি সুমহান ও দয়ালু আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব সংকলনের কাজটিকে একটি কবুলযোগ্য (مبرور) আমল ও প্রশংসনীয় (مشكور) প্রচেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং একে জান্নাতুন নাঈমে পৌঁছানোর অসিলা ও জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির মাধ্যম বানান। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১১)
بدأ المؤلف كتابه بالحمد والثناء على الله سبحانه، والصلاة والسلام على رسوله صلى الله عليه وسلم، ثم ذكر أن علم القرآن هو أرقى العلوم قدراً، وأجلها خطراً، وأعظمها أجراً، وهذه القضية لا يكاد يختلف عليها علماء المسلمين، فعِلم القرآن هو أجل العلوم الإسلامية؛ لأن القرآن هو كلام الله سبحانه، ومنه تؤخذ الشريعة والعقائد، وكل علوم الإسلام ترجع إلى هذا الكتاب، وذكر أن العلماء قد خدموه إقراء وتفسيراً وتدبراً واستنباطاً، وذكر أيضاً أن من نِعم الله عليه أنه شغله بخدمة القرآن وتعلمه وتعليمه، وهذا نراه كثيراً في كلام العلماء، وهو التنبيه على ما منَّ الله عليهم به من التفرغ لخدمة كتاب الله سبحانه وتعالى بأنواع من الخدمة، فنجد بعض العلماء قد تفرغ للإقراء فقط؛ يصحِّح للطلاب القراءة، ولا تكاد تجده يُحسن غير هذا، وهذه نعمة، فلو أردت منه غير هذا ما استطاع، فهذا علم من علوم القرآن قد ميَّز به سبحانه بعض الناس، وهناك أناس قد تفرغوا لتفسيره والاستنباط منه.
ثم ذكر تصنيفات العلماء في التفسير، وذكر لها أوصافاً، كأنه يريد أن يبين السبب الموجب لتأليفه التفسير، ولعلنا نذكر لكل نوع مثالاً من هذه المصنفات التي صُنِّفت قبل ابن جزي ـ أي: قبل عام 741هـ.
قوله: (ومنهم من آثر الاختصار) مثاله: تفسير الوجيز للواحدي (ت468هـ).
قوله: (ومنهم من طوَّل حتى أكثر الأسفار) مثاله: تفسير الرازي (ت606هـ).
قوله: (ومنهم من تكلم في بعض فنون العلم دون بعض) مثاله: ابن العربي (ت543هـ) في (أحكام القرآن) حيث خصَّه بنوع مما يتعلق بالتفسير وإن كان الكتاب ينحو منحًى فقهياً لكن المقصد من ذلك أنه تكلم على جزء من علم التفسير، وكذا كتب غريب القرآن أو كتب معاني القرآن التي اختصت بنوع من علم التفسير دون الأخذ بكل معلومات التفسير.
قوله: (ومنهم من اعتمد على نقل أقوال الناس) مثاله: الثعلبي (ت427هـ)، وابن أبي حاتم (ت327هـ)، والماوردي (ت450هـ) وابن الجوزي (ت597هـ)، فهؤلاء يُعدون نَقَلَةً للتفسير.
قوله: (ومنهم من عوَّل على النظر والتحقيق والتدقيق) مثل: ابن جرير (ت310هـ)، وابن عطية (ت542هـ)، وغيرهم.
المقصود أن هذه الأوصاف العامة التي ذكرها يمكن أن توصف بها بعض التفاسير، وبعضها قد يجتمع فيه أكثر من وصف.
ثم قال بعد ذلك: (فرغبت في سلوك طريقهم، والانخراط في مساق فريقهم).
يثير قوله هذا سؤالاً، وهو: ما الفائدة أن يُخرج العالم تفسيراً، فالتفاسير كثيرة؟
লেখক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপনের মাধ্যমে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে তাঁর কিতাব শুরু করেছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন বিষয়ক জ্ঞান হলো মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ, গাম্ভীর্যের দিক থেকে মহান এবং প্রতিফলের দিক থেকে শ্রেষ্ঠতম। এই বিষয়টি নিয়ে মুসলিম উলামায়ে কেরামের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই বললেই চলে। কেননা কুরআন মাজীদের ইলম হলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ইসলামি জ্ঞান; যেহেতু কুরআন হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালাম এবং এ থেকেই শরয়ি বিধান ও আকিদা গ্রহণ করা হয়। ইসলামের যাবতীয় জ্ঞান এই কিতাবের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উলামায়ে কেরাম পঠন, ব্যাখ্যা, চিন্তা-গবেষণা এবং বিধান আহরণের মাধ্যমে এর খিদমত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো তিনি তাঁকে কুরআনের খিদমতে এবং তা শেখা ও শেখানোর কাজে ব্যস্ত রেখেছেন। উলামায়ে কেরামের বক্তব্যে আমরা প্রায়শই এটি দেখতে পাই, যেখানে তাঁরা আল্লাহর কিতাবের বিভিন্ন ধরনের খিদমতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারার নেয়ামতটির কথা উল্লেখ করেন। আমরা দেখতে পাই কোনো কোনো আলেম কেবল পঠন-পদ্ধতি বা কিরাত শিখানোর জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছেন; তিনি ছাত্রদের কিরাত সংশোধন করে দেন এবং এর বাইরে অন্য বিষয়ে তাঁকে তেমন পারদর্শী পাওয়া যায় না। এটিও একটি নেয়ামত। আপনি যদি তাঁর কাছে অন্য কিছু আশা করেন তবে তিনি তা পারবেন না; এটি কুরআনের জ্ঞানসমূহের মধ্য হতে একটি বিশেষ ইলম যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষকে বিশিষ্টতা দান করেছেন। আবার এমন কিছু লোক আছেন যারা এর ব্যাখ্যা এবং তা থেকে বিধান আহরণের জন্য নিজেদের নিবেদিত করেছেন।
এরপর তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। যেন তিনি তাঁর এই তাফসির গ্রন্থটি রচনার প্রয়োজনীয় কারণ স্পষ্ট করতে চাচ্ছেন। আমরা সম্ভবত ইবনে জুযাই (মৃত্যু: ৭৪১ হিজরি)-এর পূর্বে রচিত এই শ্রেণির গ্রন্থগুলোর প্রতিটি থেকে একটি করে উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি।
তাঁর উক্তি: (তাদের মধ্যে কেউ সংক্ষেপণকে প্রাধান্য দিয়েছেন) এর উদাহরণ হলো: ওয়াহেদি (মৃত্যু: ৪৬৮ হি.) রচিত তাফসির আল-ওয়াজিজ।
তাঁর উক্তি: (তাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘ করেছেন এমনকি অনেক খণ্ড বিস্তৃত করেছেন) এর উদাহরণ হলো: তাফসির আল-রাজি (মৃত্যু: ৬০৬ হি.)।
তাঁর উক্তি: (তাদের মধ্যে কেউ ইলমের কিছু শাখা নিয়ে আলোচনা করেছেন কিন্তু অন্যগুলো করেননি) এর উদাহরণ হলো: ইবনুল আরাবি (মৃত্যু: ৫৪৩ হি.) রচিত আহকামুল কুরআন। এখানে তিনি তাফসির সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ দিক বেছে নিয়েছেন যদিও কিতাবটি ফিকহী ধারার অনুসারী, কিন্তু এর উদ্দেশ্য হলো তিনি তাফসির শাস্ত্রের একটি অংশ নিয়ে আলোচনা করেছেন। অনুরূপভাবে গারিবুল কুরআন বা মাআনিল কুরআন বিষয়ক কিতাবসমূহ, যা তাফসিরের সকল তথ্য গ্রহণ না করে কেবল একটি বিশেষ দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট।
তাঁর উক্তি: (তাদের মধ্যে কেউ মানুষের মতামত বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন) এর উদাহরণ হলো: ছালাবি (মৃত্যু: ৪২৭ হি.), ইবনে আবি হাতিম (মৃত্যু: ৩২৭ হি.), মাওয়ার্দি (মৃত্যু: ৪৫০ হি.) এবং ইবনুল জাওযি (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.)। এঁরা তাফসিরের বর্ণনাকারী (نقلة) হিসেবে গণ্য হন।
তাঁর উক্তি: (তাদের মধ্যে কেউ পর্যবেক্ষণ, যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করেছেন) যেমন: ইবনে জারির (মৃত্যু: ৩১০ হি.), ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু: ৫৪২ হি.) এবং অন্যান্যরা।
উদ্দেশ্য হলো, এই সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো যা তিনি উল্লেখ করেছেন তা দিয়ে কোনো কোনো তাফসির গ্রন্থকে বিশেষায়িত করা যায়, আবার কোনোটিতে একাধিক বৈশিষ্ট্য একত্রে পাওয়া যেতে পারে।
অতঃপর তিনি বলেন: (তাই আমি তাদের পথ অনুসরণে এবং তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হলাম)।
তাঁর এই উক্তিটি একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে, আর তা হলো: যখন অসংখ্য তাফসির গ্রন্থ বিদ্যমান, তখন একজন আলেমের নতুন আরেকটি তাফসির প্রকাশ করার উপযোগিতা কী?
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১২)
الجواب: إن من أهم المقاصد التي يقصدها المؤلف ويرجوها، بركةَ ذلك العمل؛ بأن يكون ممَّن ألف في التفسير، وممَّن يعتمد الناس كتابه في الرجوع إليه والاستفادة منه، فيترحَّمون عليه، لذا فإنه ينظر في ذلك إلى الأجر الأخروي؛ ولهذا لا نستغرب عندما نرى علماء المسلمين يحرصون على أن يُخلِّفوا أثراً بعدهم، ولقد كان من أثر ذلك أن حرص العلماء على تخليد علومهم في كتب تناقلتها الأجيال، حتى إننا نجد اليوم من التفاسير ما كُتب في القرن الهجري الأول والثاني والثالث والرابع
… إلخ، وكثرة المخطوطات في تفسير القرآن تدل على أن هذا المقصدَ من المقاصدِ المهمةِ للعالِمِ؛ لأنه يريد أن يخلف أثراً بعده يستفاد منه.
قوله: (وصنفت هذا الكتاب في تفسير القرآن العظيم، وسائر ما يتعلق به من العلوم).
يظهر من قوله هذا أنه قصد أن يكون كتابه في علمين:
الأول: تفسير القرآن، وهو الذي عبَّر عنه بقوله: (وصنفت هذا الكتاب في تفسير القرآن العظيم).
الثاني: علوم القرآن ممَّا عدا التفسير، وهو الذي عُطفت عليه جملة: (وسائر ما يتعلق به من العلوم)، بل قد يدخل في هذه العبارة كل ما يتعلق بالقرآن من معلومات، سواءٌ أكانت من علوم القرآن والتفسير، أم كانت من علوم أخرى، لكن سيأتي في عباراته ما يدلُّ على أنه يريد علوم القرآن العظيم (1).
قوله: (وسلكت مسلكاً نافعاً؛ إذ جعلته وجيزاً جامعاً).
لو قُمتَ بموازنة بين تفسير ابن جُزي وبين أحد التفاسير التي ذكرها مثل: تفسير المهدوي (ت440هـ) أو مكي بن أبي طالب (ت437هـ) أو
--------------------------------------------
উত্তর: লেখকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষা হলো সেই কাজের বরকত; অর্থাৎ এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যারা তাফসির (تفسير) বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন এবং যাদের কিতাবকে মানুষ নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা থেকে উপকৃত হয়, ফলে তারা তাঁর জন্য রহমত প্রার্থনা করে। এই কারণে তিনি এখানে পরকালীন প্রতিদানের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন; আর এই কারণেই যখন আমরা দেখি মুসলিম আলিমগণ নিজেদের পরে কোনো নিদর্শন বা প্রভাব রেখে যাওয়ার জন্য উন্মুখ থাকেন, তখন আমরা বিস্মিত হই না। এর ফলেই আলিমগণ তাঁদের ইলমকে (জ্ঞানকে) এমন সব কিতাবে অমর করে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরম্পরায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে, এমনকি আমরা বর্তমানে এমন সব তাফসির (تفسير) খুঁজে পাই যা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে রচিত হয়েছিল
… ইত্যাদি। কুরআনুল কারীমের তাফসিরের পাণ্ডুলিপির প্রাচুর্য প্রমাণ করে যে, এটি একজন আলিমের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য; কারণ তিনি চান নিজের পরে এমন একটি প্রভাব রেখে যেতে যা থেকে মানুষ উপকৃত হতে পারে।
তাঁর উক্তি: (আর আমি এই কিতাবটি রচনা করেছি সুমহান কুরআনের তাফসির (تفسير) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল ইলম সম্পর্কে)।
তাঁর এই উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর কিতাবটি দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত হোক:
প্রথমটি: কুরআনের তাফসির (تفسير), যা তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন: (আর আমি এই কিতাবটি রচনা করেছি সুমহান কুরআনের তাফসির)।
দ্বিতীয়টি: তাফসির ব্যতীত কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن), যা এই বাক্যাংশের মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছে: (এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল ইলম সম্পর্কে)। বরং এই বর্ণনায় কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, চাই তা কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) ও তাফসির (تفسير) সংক্রান্ত হোক অথবা অন্য কোনো শাস্ত্রীয় বিষয় হোক। তবে সামনে তাঁর এমন কিছু বক্তব্য আসবে যা নির্দেশ করে যে, তিনি সুমহান কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) বুঝিয়েছেন (১)।
তাঁর উক্তি: (এবং আমি একটি উপকারী পন্থা অবলম্বন করেছি; যেহেতু আমি একে সংক্ষিপ্ত (وجيز) ও তথ্যসমৃদ্ধ (جامع) করেছি)।
আপনি যদি ইবনে জুযাই-এর তাফসির এবং তিনি উল্লেখ করেছেন এমন তাফসিরগুলোর মধ্যে তুলনা করেন, যেমন: তাফসিরে মাহদাওয়ী (মৃ. ৪৪০ হিজরি) অথবা মাক্কী বিন আবি তালিব (মৃ. ৪৩৭ হিজরি) অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৩)
غيرهما فإنك ستجدُ أن تلك التفاسير أطول من تفسيره بكثير، وأن طريقتَها في التصنيف الاستيعابُ والاستطرادُ، وهي خلافُ طريقة ابن جُزي الذي عَمَد إلى الاختصار، فالاستطرادات عنده قليلة بالنسبة للكمِّ الذي كتبه في هذا التفسير؛ لذا يصح أن يطلق عليه: التفسير الوجيز الجامع، فهو جامع للأقوال مع وجازة العبارة.
قوله: (قصدت فيه أربع مقاصد) هنا فائدة مهمة وهي أنه يحسن بنا أن نعرف مقاصد المؤلفين في تآليفهم، فابن جزي ألف كتابه هذا لمقاصد أربع ذكرها، وكان قد سبق أن أشار إلى مقصد عام، وهو أن ينخرط في سلك المفسرين.
وهذه المقاصد الأربعة التي نصَّ عليها تُعدُّ خطة العمل التي أراد ابن جُزيٍّ أن يقوم عليها كتابه، فكأنه يقول: إن هذه المقاصد ستكون موجودة في كتابه (1).
فالمؤلف أراد أن يحقق أربع فوائد وهي: (الفائدة الأولى: جمع كثير من العلم في كتاب صغير الحجم؛ تسهيلاً على الطالبين، وتقريباً على الراغبين) وهذه الفائدة تتعلق بقضية الإيجاز؛ أي: أنه قصد أن
--------------------------------------------
অন্যান্যদের তুলনায় আপনি দেখতে পাবেন যে, ঐ তাফসিরগুলো তার তাফসিরের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং সেগুলোর রচনার পদ্ধতি হলো ব্যাপকতা ও বিষয়ান্তর আলোচনা। এটি ইবনে জুযাই-এর পদ্ধতির বিপরীত, যিনি সংক্ষিপ্তকরণের পথ অবলম্বন করেছেন। তার এই তাফসিরের কলেবরের তুলনায় বিষয়ান্তর আলোচনা খুবই কম; তাই একে 'আত-তাফসিরুল ওয়াজিজুল জামি' বলা যথার্থ; কারণ এটি সংক্ষিপ্ত শব্দচয়নের মাধ্যমে সকল মতামতের সংকলন।
তার কথা: (আমি এতে চারটি লক্ষ্য স্থির করেছি) এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে, তা হলো লেখকদের রচনার উদ্দেশ্যগুলো সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য উত্তম। ইবনে জুযাই তার এই গ্রন্থটি চারটি উদ্দেশ্যে রচনা করেছেন যা তিনি উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, তা হলো মুফাসসিরদের কাতারে শামিল হওয়া।
আর এই চারটি লক্ষ্য যা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তা মূলত সেই কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গণ্য যার ওপর ভিত্তি করে ইবনে জুযাই তার গ্রন্থটি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যেন তিনি বলছেন যে, এই লক্ষ্যগুলো তার গ্রন্থে বিদ্যমান থাকবে (১)।
সুতরাং লেখক চারটি উপকারিতা অর্জন করতে চেয়েছিলেন, সেগুলো হলো: (প্রথম উপকারিতা: একটি ছোট আকারের গ্রন্থে প্রচুর জ্ঞান জমা করা; যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয় এবং আগ্রহীদের নিকটবর্তী হয়)। আর এই উপকারিতাটি সংক্ষিপ্তকরণের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ তিনি চেয়েছিলেন যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يكون الكتاب صغير الحجم سهلاً على من أراد أن يطلب علم التفسير، وهذا المقصد هو الذي أراده الواحدي (ت468هـ) لما كتب كتابه: (الوجيز) ليسهل على من أراد أن يقرأ التفسير استظهار كتابه أو حفظه، قال: «
… إلى إيجاز كتاب في التفسير، يقربُ على من تناوله، ويسهل على من تأمله، من أوجز ما عمل في بابه، وأعظمه فائدة على متحفِّظيه وأصحابه.
وهذا كتاب أنا فيه نازل إلى درجة أهل زماننا، تعجيلاً لمنفعتهم، وتحصيلاً للمثوبة في إفادتهم ما تمنَّوه طويلاً، فلم يُغْنِ عنهم أحدٌ فتيلاً
…» (1).
إذن هذا المقصد يحسن أن يكون مقصداً لمن أراد أن يؤلف لعامة الناس، فليس كل الناس يستطيع أن يقرأ المجلدات الكبار، وكأن ابن جُزيٍّ رحمه الله أراد أن يقرِّب التفسير للراغبين فيه فقال: (صغير الحجم تسهيلاً على الراغبين).
ثم وصف كتابه فقال: (فلقد احتوى هذا الكتاب على ما تضمنته الدواوين الطويلة من العلم، ولكن بعد تلخيصها وتمحيصها، وتنقيح فصولها، وحذف حشوها وفضولها).
كأن المؤلف ينتقد بعض الكتب ـ وإن لم يذكرها ـ ويشير إلى أن فيها مشكلة من جهة الإطالة في العبارة أو الحشو، والمراد به: زيادة ما لا داعي له، وكأنه أراد أن يقول: (سأجعل كتابي مختصراً)، ويدل لذلك العبارة التي ستأتي في قوله: (من غير إفراط ولا تفريط).
ثم قال بعد ذلك: (ولقد أودعته من كل فن من فنون علم القرآن) نلاحظ أنه قال أولاً: (صنفت هذا الكتاب في تفسير القرآن العظيم وسائر
--------------------------------------------
বইটি ছোট আকারের হওয়া উচিত যাতে তাফসির শাস্ত্র (علم التفسير) অন্বেষণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য তা সহজ হয়। এই লক্ষ্যটিই ইমাম ওয়াহিদী (ওফাত ৪৬৮ হিজরি) চেয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর কিতাব আল-ওয়াজিজ রচনা করেন, যাতে যারা তাফসির পাঠ করতে চায় তাদের জন্য তা আয়ত্ত করা বা মুখস্থ করা সহজ হয়। তিনি বলেন: «
… তাফসিরের একটি সংক্ষিপ্তকরণ (إيجاز) সম্বলিত কিতাবের প্রতি [মনোনিবেশ করেছি], যা পাঠকের জন্য নিকটবর্তী হবে এবং তা নিয়ে গবেষণাকারীর জন্য সহজ হবে; যা এই বিষয়ে রচিত সংক্ষিপ্ততম কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এর হিফজকারী ও সঙ্গীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমি আমার সমসাময়িক লোকদের স্তরে নেমে এসেছি, যাতে তাদের দ্রুত উপকার হয় এবং তাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো জানিয়ে সওয়াব হাসিল করা যায়, যা ইতিপূর্বে তাদের জন্য কেউ সামান্যতমও পূরণ করতে পারেনি
…» (১)।
সুতরাং, এই লক্ষ্যটি এমন ব্যক্তির জন্য হওয়া উত্তম যিনি সাধারণ মানুষের জন্য গ্রন্থ রচনা করতে চান। কারণ সকল মানুষের পক্ষে বিশাল খণ্ডগুলো পড়া সম্ভব নয়। মনে হয় ইবনে জুযাই (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আগ্রহীদের নিকট তাফসিরকে সহজবোধ্য করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি বলেছেন: (আগ্রহীদের জন্য সহজসাধ্য করতে এটি ছোট আকারের)।
এরপর তিনি তাঁর কিতাবের বর্ণনা দিয়ে বলেন: (নিশ্চয়ই এই কিতাবটি দীর্ঘ সংকলনসমূহের জ্ঞানকে ধারণ করেছে, তবে তা করা হয়েছে সেগুলোর সারসংক্ষেপ (تلخيص) ও সূক্ষ্ম যাচাই (تمحيص), পরিচ্ছেদগুলোর পরিমার্জন (تنقيح) এবং অপ্রয়োজনীয় আধিক্য (حشو) ও অতিরিক্ত অংশগুলো বর্জনের পর)।
লেখক যেন এখানে কিছু কিতাবের সমালোচনা করছেন—যদিও তিনি সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি—এবং ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, সেগুলোতে দীর্ঘ বর্ণনা বা অপ্রয়োজনীয় কথার সমস্যা রয়েছে। এখানে 'হাশব' বলতে উদ্দেশ্য হলো: অপ্রয়োজনীয় কিছুর আধিক্য; তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: (আমি আমার কিতাবকে সংক্ষিপ্ত (مختصر) করব)। এর প্রমাণ হিসেবে সামনে আসা তাঁর এই বক্তব্যটি উল্লেখযোগ্য: (বাড়াবাড়ি বা কমতি ছাড়াই)।
এরপর তিনি আরও বলেন: (এবং আমি এতে কুরআনি বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা (فن) থেকে তথ্য সন্নিবেশিত করেছি)। আমরা লক্ষ্য করি যে, তিনি প্রথমেই বলেছিলেন: (আমি এই কিতাবটি মহান কুরআনের তাফসির এবং অন্যান্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ما يتعلق به من العلوم) ثم رجع مرة أخرى وقال: (ولقد أودعته من كل فن من فنون علم القرآن اللباب المرغوب فيه دون القشر المرغوب عنه).
وهذا يشير إلى ما ذكرته سابقاً من أن إدخال مسائل بعض أنواع علوم القرآن من مقاصد ابن جزي في تفسيره هذا.
ثم قال: (من غير إفراط ولا تفريط) كأنه يقول: جعلته وجيزاً مختصراً ليس فيه ذلك الحشو ولا ذلك التطويل.
ثم قال: (ثم إني عزمت على إيجاز العبارة وإفراط الاختصار وترك التطويل والتكرار)، بدأ بذكر الأسلوب الكتابي الذي سينتهجه في عباراته في هذا التفسير (1).
ثم قال رحمه الله: (الفائدة الثانية: ذكر نكت عجيبة وفوائد غريبة قلما توجد في كتاب؛ لأنها من نبات صدري، وينابيع ذكري، ومما أخذته عن شيوخي رضي الله عنهم، أو مما التقطته من مستظرفات النوادر، الواقعة في غرائب الدفاتر).
--------------------------------------------
(কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ (العلوم)) এরপর তিনি পুনরায় ফিরে এসে বললেন: (এবং আমি এতে আল-কুরআনের বিজ্ঞানের (علم القرآن) প্রতিটি শাখা থেকে কাম্য সারবস্তুগুলো জমা করেছি, যা অসার তা বর্জন করে)।
এটি আমার পূর্বে করা সেই মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) বিভিন্ন প্রকারের মাসআলাসমূহ (مسائل) সন্নিবেশ করা এই তাফসিরে ইবনে জুযাই-এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
অতঃপর তিনি বললেন: (অতিরঞ্জন ও শিথিলতা বর্জন করে)। যেন তিনি বলতে চাইছেন: আমি এটিকে সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ করেছি যেখানে কোনো অনর্থক বিষয় বা দীর্ঘসূত্রিতা নেই।
তারপর তিনি বললেন: (অতঃপর আমি শব্দচয়ন সংক্ষিপ্ত করতে, অতিশয় সংক্ষেপণ করতে এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও পুনরাবৃত্তি পরিহার করার সংকল্প করেছি)। তিনি এই তাফসিরের বাক্য বিন্যাসে যে লিখনশৈলী অনুসরণ করবেন তা উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন (১)।
অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (দ্বিতীয় ফায়দা: বিস্ময়কর সূক্ষ্মতত্ত্ব এবং বিরল (غريبة) উপকারিতাগুলোর আলোচনা যা সচরাচর কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না; কারণ এগুলো আমার অন্তরের চিন্তাপ্রসূত, আমার স্মৃতির প্রস্রবণ, এবং যা আমি আমার শায়খদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে গ্রহণ করেছি, অথবা আমি কিতাবের দুর্লভ ও চমৎকার অংশগুলো থেকে চয়ন করেছি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يتحدث المؤلف عن المقصد الثاني من هذا التأليف، وهو (ذكر نكت عجيبة وفوائد غريبة)، وغالباً ما تكون في باب المُلَح أو الاستنباطات الطريفة.
ثم قال عنها: (قلما توجد في كتاب) أي: لا يوجد كتاب يحوي هذه النكت، ولا يزال الناس إلى اليوم ينشدون كتاباً يجمع هذه النكت، وهذا صعب، فهي كثيرة جداً، ولا يمكن حصرها.
ثم ذكر رحمه الله مصادره في هذه النكت والفوائد:
1 - قال: (من بنات صدري ونتائج فكري).
وهذا ما يقع له حسب اجتهاده وتدبره في الكتاب العزيز، ولا يعني هذا ألا يكون قد سُبِق إليها، لكنه حسب علمه لم يطلع عليها، وإن وقع لك وأنت تقرأ كتابه شيئاً ادَّعى افتراعه وابتداعه، ثم رأيته لأحد ممن تقدمه، فاعلم أن الأمر كما يقال: (وقع الحافر على الحافر)، فاتفق هو مع المتقدم عليه دون اطلاع سابق، وذلك كثير في كتب أهل العلم.
2 - قال: (مما أخذته عن شيوخي بالمشافهة، فهي غير مسطرة في كتاب).
هذه الدرر التي يأخذها عن شيوخه كالتي يصل إليها بمحض اجتهاده، وقيدها عنده أنها غير مدونة في كتب أهل العلم، فهي من بنات أفكار شيوخه، لكن لا يلزم ألا يكون وصل إليها أحد قبلهم ـ كما مرَّ التنبيه على ذلك في الفقرة السابقة.
ومن باب الفائدة، فإن الطالب لو جعل له كرَّاساً يجمع فيه الفوائد واللطائف التي يسمعها من أساتذته في شتى العلوم والمعارف لحفظ من فوائد العلم شيئاً كثيراً.
ولقد كان عمِل بهذه الفكرة أحد أصحابي، ورأيت كُنَّاشةً جمع فيها فوائد ولطائف وأشعار مما كان يسمعه من الأستاذين في سني دراسته في
লেখক এই রচনার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করছেন, যা হলো (বিস্ময়কর সূক্ষ্ম বিষয় (نكت) এবং বিরল জ্ঞানগর্ভ উপযোগিতা (فوائد) উল্লেখ করা), এবং এগুলো সাধারণত চমৎকার কিচ্ছা বা কৌতূহলোদ্দীপক গবেষণালব্ধ (استنباطات) আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়।
অতঃপর তিনি এগুলো সম্পর্কে বলেন: (এগুলো কিতাবে খুব কমই পাওয়া যায়) অর্থাৎ: এমন কোনো কিতাব নেই যা এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে (نكت) ধারণ করে। মানুষ আজও এমন একটি কিতাব অনুসন্ধান করে যা এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে (نكت) একত্রিত করবে, তবে এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ; কারণ এগুলো সংখ্যায় অগণিত এবং এগুলোকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই সূক্ষ্ম বিষয় (نكت) এবং জ্ঞানগর্ভ উপযোগিতাগুলোর (فوائد) উৎসসমূহ উল্লেখ করেছেন:
1 - তিনি বলেন: (আমার অন্তরের প্রসূত এবং চিন্তাপ্রসূত ফলাফল)।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে তাঁর নিজস্ব গবেষণা (اجتهاد) এবং গভীর চিন্তার (تدبر) ফলশ্রুতিতে এগুলো তাঁর কাছে প্রকাশিত হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, ইতিপূর্বে কেউ এ বিষয়ে বলেননি; বরং তাঁর জানামতে তিনি সেগুলো সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। যদি আপনি তাঁর কিতাব পড়ার সময় এমন কিছু পান যা তিনি অভিনব বা নতুন বলে দাবি করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে আপনি তা পূর্ববর্তী কারো বক্তব্যে দেখতে পান, তবে জেনে রাখুন বিষয়টি হলো যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "খুর যেখানে পড়েছিল ঠিক সেখানেই আবার খুর পড়েছে" (وقع الحافر على الحافر) — অর্থাৎ পূর্ববর্তী কারো লেখা না দেখেই তিনি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। ইলম চর্চাকারীদের কিতাবসমূহে এমনটি অহরহ ঘটে থাকে।
2 - তিনি বলেন: (যা আমি আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি শ্রবণের বা মৌখিক কথোপকথনের (مشافهة) মাধ্যমে গ্রহণ করেছি, যা কোনো কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই)।
তাঁর শিক্ষকদের কাছ থেকে আহরিত এই মণি-মুক্তাসমূহ ঠিক তেমনি, যেমনটি তিনি তাঁর নিছক গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে লাভ করেছেন। তিনি এগুলোকে এই শর্তে লিপিবদ্ধ করেছেন যে, এগুলো আলেমদের কিতাবসমূহে সচরাচর লেখা নেই; বরং এগুলো তাঁর শিক্ষকদের চিন্তাপ্রসূত বিষয়। তবে এটি আবশ্যক নয় যে, তাঁদের আগে কেউ এসকল বিষয়ে উপনীত হননি—যেমনটি পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষণীয় বিষয় (فوائد) হিসেবে বলা যায় যে, কোনো ছাত্র যদি তার জন্য এমন একটি নোটবুক রাখে যাতে সে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার শিক্ষকদের কাছ থেকে শোনা সূক্ষ্ম বিষয় (لطائف) এবং জ্ঞানগর্ভ উপযোগিতাগুলো (فوائد) লিখে রাখে, তবে সে ইলমের অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ বিষয় (فوائد) সংরক্ষণ করতে পারবে।
আমার এক বন্ধু এই ধারণা অনুযায়ী আমল করেছিলেন। আমি তার একটি সংগ্রহশালা দেখেছি যেখানে সে তার ছাত্রজীবনের বছরগুলোতে উস্তাদদের কাছ থেকে শোনা বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ বিষয় (فوائد), সূক্ষ্ম বিষয় (لطائف) এবং পদ্যসমূহ সংগ্রহ করে রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الكلية، وكان فيها من اللطائف والمعارف الشيء الكثير، حتى كأنك تسير في حديقة غنَّاء مليئة بأنواع الثمار والفواكه والزهور.
وأذكر من فوائد ما علِق في ذاكرتي من أثناء دراستي في الجامعة تعليقاً لأحد أساتذة التربية على قوله تعالى: {وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ} [التكوير: 22]، قال ما معناه: جاء لفظ صاحب للردِّ على زعمهم بأن محمداً صلى الله عليه وسلم مجنون؛ إذ كيف تتهمونه بالجنون، وهو مصاحب لكم تعلمون جميع أحواله، وأنتم أشد الناس معرفة بصدقه وأمانته.
3 - قال: (أو مما التقطته من مستظرفات النوادر الواقعة في غرائب الدفاتر).
أي: أنه أخذها من مصادر لا يتصور أنها من مراجع علم التفسير، فقد تكون من كتاب فقهي أو كتاب أدبي أو كتاب لغوي، والقارئ قد يقع على شيء من علم التفسير في غير مظانِّه، ومن هذه الكتب ـ على سبيل المثال ـ: كتاب «نتائج الفكر» للسيهلي (ت581هـ)، فهذا الكتاب ـ وهو في علم النحو ـ لا يُتوقَّع أن يوجد فيه شيء مما يتعلق بالتفسير؛ فأنَّى لك أن تكتشف أن فيه من النكت والطرائف والفوائد التفسيرية الشيء الكثير العجيب، وإنك واجد فيه مِنْ براعة السهيلي في استنباط الكثير من بلاغة القرآن ولطائف لغته ودقائقها الشيء الكثير، وقد استفاد منه ابن القيم (ت751هـ) كثيراً في كتابه: «بدائع الفوائد».
ذكر السهيلي (ت581هـ) بحثاً ماتعاً حول سؤال قال فيه: (فإن قيل: كيف جاز {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} [الأعلى: 1]، {وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلاً} [المزمل: 8]، والمقصود بالذكر والتسبيح هو الرب تبارك وتعالى، لا اللفظ الدال عليه؟
قلنا: هذا سؤال قد كعَّ عنه أكثر المحصِّلين، ونكتة عجز عنها أكثر المتأولين
… والقول السديد في ذلك ـ والله المستعان ـ أن نقول: الذِّكر
সামগ্রিকভাবে, এতে সূক্ষ্ম বিষয় (لطائف) এবং জ্ঞানগর্ভ তথ্যের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, মনে হতো যেন আপনি ফল-ফলাদি ও ফুলে ভরপুর এক সুশোভিত বাগানে বিচরণ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আমার স্মৃতিতে গেঁথে থাকা একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের সঙ্গী পাগল নন" [আত-তাকভীর: ২২] -এর ওপর শিক্ষা অনুষদের জনৈক অধ্যাপকের মন্তব্য। তিনি যা বলেছিলেন তার সারমর্ম হলো: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাগল—তাদের এই দাবি খণ্ডন করতেই 'সঙ্গী' শব্দটি এসেছে। কেননা তোমরা কীভাবে তাঁকে উন্মাদনার দায়ে অভিযুক্ত করো, অথচ তিনি তোমাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং তোমরা তাঁর সব অবস্থা সম্পর্কে জানো? অধিকন্তু তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে তোমরাই সবচেয়ে বেশি অবগত।
3 - তিনি বলেন: (অথবা যা আমি দুর্লভ কিতাবসমূহে বিদ্যমান চমকপ্রদ ও বিরল বিষয়াবলি থেকে চয়ন করেছি)।
অর্থাৎ, তিনি এগুলো এমন সব উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন যা সাধারণত তাফসির শাস্ত্রের মূল গ্রন্থ হিসেবে ভাবা যায় না। এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের বই, সাহিত্য বিষয়ক বই অথবা ভাষা বিষয়ক কোনো গ্রন্থ হতে পারে। অনেক সময় পাঠক কোনো বিষয় যেখানে পাওয়া যাওয়ার কথা নয়, সেখানে তাফসির শাস্ত্রের কোনো মুক্তো পেয়ে যেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ: সুহাইলী (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি)-র 'নাতায়িজুল ফিকর' নামক গ্রন্থটির কথা বলা যায়। এটি মূলত নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের একটি কিতাব, তাই এতে তাফসির সংশ্লিষ্ট কোনো আলোচনা থাকবে—এমনটি আশা করা যায় না। কিন্তু আপনি সেখানে বিস্ময়করভাবে প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত (نكت), চমৎকার তথ্য (طرائف) এবং তাফসির বিষয়ক ফায়দা খুঁজে পাবেন। কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র এবং এর ভাষার সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনে সুহাইলীর অসাধারণ বুৎপত্তি এখানে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। ইবনুল কায়্যিম (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি) তাঁর 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থে এই কিতাবটি থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন।
সুহাইলী (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি) একটি প্রশ্নের ওপর অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা করেছেন। প্রশ্নটি হলো: "যদি বলা হয়, 'আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন' [আল-আলা: ১] এবং 'আপনার রবের নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর ইবাদতে মগ্ন হোন' [আল-মুয্যাম্মিল: ৮]—এখানে যিকির (الذكر) ও তাসবিহ করার উদ্দেশ্য তো স্বয়ং মহান রব, রবের নির্দেশক শব্দটি তো নয়?"
আমরা বলি: এটি এমন একটি প্রশ্ন যা অধিকাংশ গবেষককে থমকে দিয়েছে এবং এটি এমন একটি সূক্ষ্ম রহস্য (نكتة) যা ব্যাখ্যা করতে অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারই অক্ষম হয়েছেন... এ ব্যাপারে সঠিক মত—আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য—হলো এই যে: যিকির (الذكر)
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৮)
على الحقيقة محله القلب؛ لأنه ضدُّ النسيان، والتسبيح نوع من الذكر، فلو أطلق الذكر والتسبيح لما فُهِم منه إلا ذلك، دون اللفظ باللسان، والله عز وجل إنما تعبَّدنا بالأمرين جميعاً، ولم يتقبل من الإيمان إلا ما كان قولاً باللسان، واعتقاداً بالجَنان، فصار معنى الآيتين على هذا: اذكر ربك وسبح ربك بقلبك ولسانك، ولذلك أقحم الاسم تنبيهاً على هذا المعنى حتى لا يخلو الذكر والتسبيح من اللفظ باللسان؛ لأن الذكر بالقلب مُتَعَلَّقُه المسمى المدلول عليه بالاسم دون سواه، والذكر باللسان متعلَّقه اللفظ وما يدلَّ عليه؛ لأن اللفظ لا يراد لنفسه، فلا يتوهم أحد أن اللفظ هو المسبَّح دون ما يدل عليه من المعنى، هذا ما لا يذهب إليه خاطر، ولا يتوهَّمُه ضمير، فقد وضحت تلك الحكمة التي من أجلها أُقحِم ذكر الاسم، وأنه به كملت الفائدة، وظهر الإعجاز في النظم والبلاغة في الخطاب.
فهذه نكتة لمتدبرها خير من الدنيا بحذافيرها، والحمد لله على ما فَهَّمَ وعَلَّم) (1).
ومن لطيف ما نقله ابن القيم (ت751هـ) عن شيخه ابن تيمية (ت728هـ) في هذه الآية قوله: «وعبَّر لي شيخنا أبو العباس ابن تيمية ـ قدس الله روحه ـ عن هذا المعنى بعبارة لطيفة وجيزة فقال: المعنى: سبِّح ناطقاً باسم ربك متكلماً به، وكذا سبح اسم ربك؛ «المعنى: سبِّح ربك ذاكراً اسمه، وهذه الفائدة تساوي رحلة، لكن لمن يعرف قدرها، فالحمد لله المنان بفضله ونسأله تمام نعمته» (2).
ثم قال رحمه الله: (الفائدة الثالثة: إيضاح المشكلات إما بحل العقد المقفلات، وإما بحسن العبارة ورفع الاحتمالات وبيان المجملات).
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে এর প্রকৃত স্থান হলো অন্তর; কারণ এটি বিস্মৃতির বিপরীত। আর তসবিহ (التسبيح) হলো জিকিরের (الذكر) একটি প্রকার। যদি জিকির (الذكر) ও তসবিহ (التسبيح) শব্দ দুটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হতো, তবে তা দ্বারা কেবল এটিই (অন্তরের স্মরণ) বোঝা যেত, জিহ্বার উচ্চারণ ব্যতীত। অথচ মহান আল্লাহ আমাদের উভয়টির মাধ্যমেই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর ইমান (الإيمان) ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হয় না যতক্ষণ না তা জিহ্বার মাধ্যমে মৌখিক স্বীকৃতি (قولاً باللسان) এবং অন্তরের বিশ্বাস (اعتقاداً بالجنان) উভয়টির সমন্বিত রূপ হয়। সুতরাং এই ভিত্তিতে আয়াত দুটির অর্থ দাঁড়ায়: আপনার রবের জিকির (الذكر) ও তসবিহ (التسبيح) আপনার অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে করুন। এই কারণেই 'নাম' (الاسم) শব্দটি এখানে অতিরিক্ত হিসেবে আনা হয়েছে এই অর্থের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, যাতে জিকির (الذكر) ও তসবিহ (التسبيح) মৌখিক উচ্চারণ থেকে খালি না থাকে। কেননা অন্তরের জিকিরের (الذكر بالقلب) সম্পৃক্ততা হলো নামধারী সত্তার (المسمى) সাথে যা নাম (الاسم) দ্বারা নির্দেশিত হয়, অন্য কিছুর সাথে নয়। আর জিহ্বার জিকিরের সম্পৃক্ততা হলো শব্দের (اللفظ) সাথে এবং তা যা নির্দেশ করে তার সাথে; কারণ শব্দ স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়। ফলে কেউ যেন এই ধারণা না করে যে, কেবল শব্দই তসবিহ (المسبح) করার বিষয়, এর দ্বারা নির্দেশিত অর্থ নয়—এমন চিন্তা কারো মনে আসাও সম্ভব নয়। সুতরাং সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা এখন স্পষ্ট হলো যার জন্য 'নাম' (الاسم) শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এর মাধ্যমেই ফায়দা পূর্ণতা পেয়েছে এবং বাচনভঙ্গির অলঙ্কার ও সম্বোধনের অলৌকিকত্ব (الإعجاز) প্রকাশ পেয়েছে।
এটি এমন একটি সূক্ষ্ম বিষয় (نكتة) যা অনুধাবনকারীর নিকট সমগ্র দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও উত্তম। আর আল্লাহরই যাবতীয় প্রশংসা যে তিনি আমাদের যা বুঝিয়েছেন ও শিখিয়েছেন (১)।
এই আয়াতের বিষয়ে ইবনুল কাইয়্যিম (ওফাত: ৭৫১ হি.) তাঁর উস্তাদ ইবনে তায়মিয়্যাহ (ওফাত: ৭২৮ হি.) থেকে একটি চমৎকার বিষয় বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «আমাদের শায়খ আবুল আব্বাস ইবনে তায়মিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—এই অর্থটি অত্যন্ত চমৎকার ও সংক্ষিপ্তভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো: আপনি আপনার রবের নাম উচ্চারণের মাধ্যমে তসবিহ (التسبيح) পাঠ করুন। অনুরূপভাবে 'আপনার রবের নামের তসবিহ (التسبيح) পাঠ করুন'—এর অর্থ হলো: আপনার রবের নাম স্মরণ করার মাধ্যমে তাঁর তসবিহ (التسبيح) করুন। এই জ্ঞানটুকু অর্জনের জন্য একটি সফর (رحلة) করাও সার্থক, তবে তা কেবল তার জন্যই যে এর মর্যাদা বোঝে। সুতরাং সকল প্রশংসা দয়াময় আল্লাহর তাঁর অনুগ্রহের জন্য এবং আমরা তাঁর নেয়ামতের পূর্ণতা কামনা করি» (২)।
অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (তৃতীয় ফায়দা: জটিল বিষয়সমূহের স্পষ্টীকরণ; তা হয় বন্ধ গ্রন্থি উন্মোচনের মাধ্যমে, অথবা সুন্দর বাচনভঙ্গি, সংশয় নিরসন এবং অস্পষ্ট বিষয়সমূহের (المجملات) ব্যাখ্যার মাধ্যমে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يشير بهذه الفائدة إلى أن هناك مشكلات؛ سواء ما يقال فيه: «مشكل القرآن» أو فيما يُشكِل من المسائل العلمية التي يذكرها العلماء، فنبَّه أنه سيعمل على حلِّ هذه العقد المقفلات:
• إما بحسن العبارة فتكون واضحة بحيث تنفك المشكلة، ويزول الغموض.
• وإما برفع الاحتمالات بأن يذكر القول الصواب فيها، إن كانت تحتاج إلى بيان القول الصواب، أو بأن يبين عن المراد باللفظة أو الجملة إذا احتملت أكثر من معنى.
وإما ببيان المجملات بأن يذكر المعنى البيِّن من هذه الأقوال التي فيها إجمال، فحسن العبارة وطريقة التعبير عنها كفيل بإيضاح وإفهام هذه القضايا المشكلة.
ثم تحدث ابن جزي عن الفائدة الرابعة فقال: (الفائدة الرابعة: تحقيق أقوال المفسرين والتفرقة بين السقيم منها والصحيح، وتمييز الراجح من المرجوح ....).
المؤلف جعل من مقاصد التأليف عنده تحقيق أقوال المفسرين أي: تمييز الصحيح من الضعيف، وتمييز الصحيح من الباطل، وهذا المقصد موجود في بعض التفاسير؛ لأن بعض الكتب يغلب عليها النقل وعدم التحقيق، وأما الكتب التي تتميز بالتحقيق فمن أهمها: تفسير الإمام الطبري (ت310هـ) رحمه الله تعالى فهو من الكتب التي تعتمد تمييز الراجح من المرجوح والتحقيق في أقوال المفسرين، وكذلك تفسير ابن عطية (ت542هـ)، وتفسير القرطبي (ت671هـ)، وتفسير البحر المحيط لأبي حيان (ت745هـ)، وتفسير ابن كثير (ت774هـ)، وتفسير الألوسي (ت1270هـ)، وتفسير الطاهر ابن عاشور (ت1393هـ) وهو «التحرير والتنوير»، هذه بعض الكتب التي عملت بما يذكره المؤلف وإن لم تذكر ـ
এই উপকারের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, সেখানে কিছু জটিলতা রয়েছে; চাই তা 'মুশকিলুল কুরআন' সংক্রান্ত হোক অথবা ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক বর্ণিত জ্ঞানতাত্ত্বিক মাসআলাসমূহের জটিলতা হোক। তিনি সতর্ক করেছেন যে, তিনি এই রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মোচন করতে সচেষ্ট হবেন:
• হয় প্রাঞ্জল বর্ণনার মাধ্যমে, যা এমন স্পষ্ট হবে যে জটিলতা কেটে যাবে এবং অস্পষ্টতা দূরীভূত হবে।
• অথবা সম্ভাব্য একাধিক অর্থের সংশয় দূর করার মাধ্যমে—যেখানে সঠিক অভিমতটি উল্লেখ করা হবে, যদি বিষয়টি সঠিক অভিমত বর্ণনার মুখাপেক্ষী হয়; অথবা শব্দ বা বাক্যের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে, যদি সেটি একাধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে।
অথবা সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট বিষয়াবলির (مجملات) ব্যাখ্যার মাধ্যমে, যেখানে এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যগুলো থেকে সুস্পষ্ট অর্থটি উল্লেখ করা হবে। সুতরাং প্রাঞ্জল ভাষা এবং তা প্রকাশের পদ্ধতি এই জটিল বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করতে ও বোঝাতে সক্ষম।
অতঃপর ইবনে জুযাই চতুর্থ উপকার সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: (চতুর্থ উপকার: মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ যাচাই-বাছাই করা এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) ও বিশুদ্ধ (صحيح) এর মধ্যে পার্থক্য করা, আর অগ্রগণ্য (راجح) ও অনুত্তম (مرجوح) এর মাঝে তফাৎ করা....)।
লেখক মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ যাচাই-বাছাই করাকে তাঁর গ্রন্থ রচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, অর্থাৎ: বিশুদ্ধ (صحيح) থেকে দুর্বল (ضعيف) এবং সঠিক (صحيح) থেকে বাতিল (باطل) এর মধ্যে পার্থক্য করা। এই উদ্দেশ্যটি কিছু তাফসীর গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে; কারণ কিছু কিতাবের ক্ষেত্রে কেবল উদ্ধৃতি প্রদান ও যাচাই-বাছাইয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়। আর যেসব কিতাব যাচাই-বাছাই ও গবেষণার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো: ইমাম তাবারী (ওফাত ৩১০ হি.)-এর তাফসীর (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। এটি এমন একটি কিতাব যা অগ্রগণ্য (راجح) ও অনুত্তম (مرجوح) এর পার্থক্য নিরূপণ এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে। অনুরূপভাবে ইবনে আতিয়্যাহ (ওফাত ৫৪২ হি.)-এর তাফসীর, কুরতুবীর তাফসীর (ওফাত ৬৭১ হি.), আবু হাইয়ানের তাফসীর আল-বাহরুল মুহীত (ওফাত ৭৪৫ হি.), ইবনে কাসীরের তাফসীর (ওফাত ৭৭৪ হি.), আলুসির তাফসীর (ওফাত ১২৭০ হি.) এবং তাহের ইবনে আশুরের (ওফাত ১৩৯৩ হি.) তাফসীর—যা হলো 'আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর'। এগুলো এমন কিছু কিতাব যা লেখকের উল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করেছে, যদিও তারা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি—
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২০)
في الغالب ـ نصّاً منظماً كنصِّ المؤلف، وهذه الكتب المحررة ستجد فيها نقاشات علمية وترجيحات وتحريرات في التفسير، فابن جزي قدَّم تنظيراً متكاملاً، ثم سيذكر التطبيقات في التفسير.
وقد جعل المؤلف أقوال الناس على مراتب؛ منها:
1 - الصحيح الذي يعول عليه.
2 - والباطل الذي لا يلتفت إليه (1).
3 - وما يحتمل الصحة والفساد، ثم يذكر مع هذا الاحتمال قد يكون متساوياً وقد يكون متفاوتاً، والتفاوت قد يكون قليلاً أو كثيراً.
--------------------------------------------
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি—লেখকের লেখনীর ন্যায় একটি সুসংগঠিত পাঠ। এই সম্পাদিত গ্রন্থগুলোতে আপনি তাফসির বিষয়ক ইলমি আলোচনা, অগ্রাধিকার নিরূপণ (ترجيحات) এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحريرات) দেখতে পাবেন। ইবনে জুজাই একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন, এরপর তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগগুলো উল্লেখ করবেন।
লেখক মানুষের মতবাদগুলোকে কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে:
1 - সঠিক (صحيح), যার ওপর নির্ভর করা হয়।
2 - এবং বাতিল (باطل), যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না (১)।
3 - এবং যা সঠিক (صحة) হওয়া বা অসার (فساد) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; অতঃপর তিনি এই সম্ভাবনার সাথে উল্লেখ করেন যে, তা সমান হতে পারে অথবা কম-বেশি হতে পারে। আর এই কম-বেশি হওয়াটা সামান্য হতে পারে অথবা অনেক বেশি হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذه التفصيلات التي ذكرها في حال العمل التفسيري قد لا نحتاج إليها كثيراً؛ أي: أننا لا نعمل بها في حال الاختلاف، ولا ننظر هل هذا من هذا القسم أو من ذاك؛ لذا لو أردنا أن نمثل لما يكون متساوياً أو ما يكون متفاوتاً لصعب علينا في كل مثال يقع فيه اختلاف، وهذه إن ذُكرت في باب التنظير، فلا يلزم أن يوجد لها تطبيقات كثيرة في التفاسير في كل الأحوال.
أما الصحيح والضعيف، أو الصحيح والباطل فهذا يوجد، ويمكن التمثيل له فنقول: هذا تفسير صحيح وهذا تفسير ضعيف.
قوله: (وإني جعلت لهذه الأقسام عبارات مختلفة تعرف بها كل مرتبة وكل قول).
المؤلف لم يجعل القارئ يستقرئ طريقته في قضية الترجيح، بل ذكر طريقته تلك في هذه المقدمة بوضوح، فذكرها بالترقي من الأدنى إلى الأعلى.
• فأدناها: ما صرَّح بأنه خطأ أو باطل، فهو أضعف الأقوال.
• ثم ما ذكر أنه ضعيف أو بعيد، وهذا مرتبته أعلى قليلاً من الذي قبله.
• ثم ما يقول فيه: إن غيره أقوى أو أرجح أو أظهر أو أشهر، وهذا أعلى من سابقه.
• ثم ما يقدم غيره عليه إشعاراً بترجيح المتقدم وأن الذي بعده أقل منه عند المؤلف.
ثم قال: (وأما إذا صرَّحت باسم قائل القول فإني أفعل ذلك لأحد أمرين: إما للخروج عن عهدته، وإما لنصرته إذا كان قائله ممن يقتدى به).
الأصل عند ابن جزي عدم التصريح بالأسماء، وقد ذكر سبب ذكره الأسماء في بعض المواطن:
তাফসিরি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে তিনি যে সকল বিশদ বিবরণ উল্লেখ করেছেন, আমাদের হয়তো সেগুলোর খুব একটা প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলোর আলোকে আমল করি না এবং এটি কোন বিভাগের অন্তর্গত তাও আমরা খতিয়ে দেখি না। অতএব, আমরা যদি সমপর্যায়ের বা ভিন্নতর পর্যায়ের কোনো উদাহরণ পেশ করতে চাই, তবে মতভেদপূর্ণ প্রতিটি উদাহরণের ক্ষেত্রে তা আমাদের জন্য কঠিন হবে। এগুলো তাত্ত্বিক আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লিখিত হলেও সব ক্ষেত্রে তাফসিরসমূহে এর অধিক প্রয়োগ থাকা জরুরি নয়।
তবে সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف), অথবা সহিহ (صحيح) ও বাতিল (باطل) এর বিষয়টি বিদ্যমান এবং এর উদাহরণ দেওয়া সম্ভব। যেমন আমরা বলতে পারি: এটি একটি সহিহ (صحيح) তাফসির এবং এটি একটি দুর্বল (ضعيف) তাফসির।
তাঁর বক্তব্য: (এবং আমি এই বিভাগগুলোর জন্য বিভিন্ন পরিভাষা নির্ধারণ করেছি, যার মাধ্যমে প্রতিটি স্তর এবং প্রতিটি বক্তব্য চেনা যাবে)।
লেখক পাঠকের ওপর তাঁর প্রাধান্যদান (ترجيح) পদ্ধতিটি নিরূপণের ভার ছেড়ে দেননি, বরং তিনি এই ভূমিকায় তাঁর সেই পদ্ধতিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরের দিকে আরোহণের ক্রমানুসারে তা বর্ণনা করেছেন।
• তার মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর হলো: যেটিকে তিনি ভুল বা বাতিল (باطل) হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; এটি হলো দুর্বলতম (أضعف) বক্তব্য।
• এরপর যা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তা দুর্বল (ضعيف) বা দূরবর্তী; এর স্তর পূর্ববর্তীটির তুলনায় কিছুটা উচ্চ।
• এরপর যেটির ক্ষেত্রে তিনি বলেন: অন্যটি এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী (أقوى), অধিক প্রাধান্যযোগ্য (أرجح), অধিক স্পষ্ট (أظهر) অথবা অধিক প্রসিদ্ধ (أشهر); এটি পূর্ববর্তীটির চেয়ে উচ্চতর।
• এরপর হলো সেটি, যার ওপর তিনি অন্যটিকে অগ্রগণ্য করেন; এটি অগ্রবর্তীটিকে প্রাধান্যদানের (ترجيح) ইঙ্গিত এবং লেখকের মতে পরবর্তীটির মান তার চেয়ে কম।
এরপর তিনি বলেছেন: (আর যদি আমি কোনো বক্তব্যের প্রবক্তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি, তবে তা দুটি কারণের কোনো একটির জন্য করি: হয় তাঁর দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে, অথবা তাঁকে সমর্থন করতে যদি প্রবক্তা এমন কেউ হন যাঁকে অনুসরণ করা হয়)।
ইবনে জুযাই-এর নিকট মূল নীতি হলো নাম উল্লেখ না করা, তবে তিনি কিছু স্থানে নাম উল্লেখ করার কারণ বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأول: إذا أراد أن يخرج من عهدة القول.
الثاني: إذا أراد أن ينصر القول؛ لأن قائل هذا القول إمام معتبر فهذه قاعدته في التصريح بالأسماء.
ثم علَّل سبب عدم تصريحه بالأسماء، فقال: (على أني لست أنسب الأقوال إلى أصحابها إلا قليلاً؛ وذلك لقلة صحة إسنادها إليهم، أو لاختلاف الناقلين في نسبتها إليهم).
أوجز المؤلف قضية اختلاف الناقلين في نسبتها إلى أصحابها وهي تحتاج إلى تأمل، والظاهر من العبارة أنه يقصد مفسري السلف؛ لأن غيرهم من العلماء كالطبري (ت310هـ) أو ابن عطية (ت542هـ) وغيرهم إن نَسَبَ إليهم شيئاً فسينظر في كتبهم التي بين يدينا ويعرف صحته من عدمه، لكن الذين قد لا يصح الإسناد إليهم، أو يكون للواحد منهم أكثر من قول، هم مفسرو السلف، وهذا يدل على أن عنده مشكلتين تحفَّان ببعض تفسيرات السلف:
الأولى: قلة صحة الإسناد إليهم.
الثانية: اختلاف الناقلين في نسبتها إليهم.
وهاتان المشكلتان تحتاجان إلى نظر آخر غير ما ذكره الإمام ابن جزي رحمه الله، وهو:
أولاً: إن ما يتعلق بصحة الإسناد لم يكن مشكلة جوهرية عند المفسرين، فلم يتوقف ابن جزي أو من قبله أو بعده من المفسرين من الاستفادة من مرويات السلف بهذه الأسانيد التي فيها ما هو ضعيف وليس باطلاً أو موضوعاً، وأخذوا منها بيان معاني القرآن، ورجحوا بها أقوالهم على أقوال المتأخرين، والمقصود أن قضية صحة الإسناد في آثار السلف في التفسير لا تمثل مشكلة كبيرة؛ بدلالة أن علماءنا منذ القرن الثاني ومن بعده لم يتوقفوا في هذه الأسانيد وقبلوها وعملوا بما فيها مع
প্রথমত: যখন তিনি উক্ত বক্তব্যের দায়ভার থেকে মুক্ত হতে চান।
দ্বিতীয়ত: যখন তিনি উক্ত বক্তব্যটিকে সমর্থন করতে চান; যেহেতু এই উক্তির প্রবক্তা একজন নির্ভরযোগ্য (معتبر) ইমাম, আর এটিই নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত মূলনীতি।
এরপর তিনি নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করার কারণ বর্ণনা করে বলেন: (যদিও আমি খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রেই বক্তব্যসমূহকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি; আর তা করা হয়েছে তাদের প্রতি সনদ (إسناد)-এর বিশুদ্ধতা (صحة)-র স্বল্পতার কারণে অথবা তাদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতপার্থক্যের কারণে)।
লেখক বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন যা গভীরভাবে চিন্তা করার অবকাশ রাখে। এই উক্তি থেকে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সালফে সালেহীন মুফাসসিরদের উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.) অথবা ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু ৫৪২ হি.) ও অন্যান্য আলেমদের ক্ষেত্রে যদি তিনি কোনো কিছু সম্বন্ধ করেন, তবে তা আমাদের নিকট বিদ্যমান তাঁদের গ্রন্থসমূহে দেখা সম্ভব এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة) বা এর অভাব সম্পর্কে জানা সম্ভব। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) না-ও হতে পারে, অথবা তাঁদের কারো থেকে একাধিক বক্তব্য বর্ণিত থাকতে পারে, তাঁরা হলেন সালফে সালেহীন মুফাসসিরগণ। আর এটি নির্দেশ করে যে, সালাফদের কিছু তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁর নিকট দুটি সমস্যা বিদ্যমান ছিল:
প্রথমটি: তাঁদের প্রতি সনদ (إسناد)-এর বিশুদ্ধতা (صحة)-র স্বল্পতা।
দ্বিতীয়টি: তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতপার্থক্য।
আর এই সমস্যা দুটির ক্ষেত্রে ইমাম ইবনে জুযাই রহিমাহুল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়াও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার প্রয়োজন রয়েছে, আর তা হলো:
প্রথমত: সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) সংক্রান্ত বিষয়টি মুফাসসিরদের নিকট কোনো মৌলিক সমস্যা ছিল না। তাই ইবনে জুযাই অথবা তাঁর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী মুফাসসিরগণ সালাফদের সেই সকল বর্ণনা (مرويات) থেকে উপকৃত হওয়া বন্ধ করেননি যেগুলোর সনদে (أسانيد) এমন কিছু রয়েছে যা দুর্বল (ضعيف), কিন্তু তা ভিত্তিহীন (باطل) বা জাল (موضوع) নয়। তাঁরা সেগুলো থেকে কুরআনের অর্থের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে পরবর্তী যুগের আলেমদের মতামতের ওপর সালাফদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো, তাফসিরের ক্ষেত্রে সালাফদের আছারের (آثار) সনদের বিশুদ্ধতার (صحة الإسناد) বিষয়টি বড় কোনো সমস্যা তৈরি করে না; এর প্রমাণ হলো আমাদের আলেমগণ দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে এই সকল সনদের (أسانيد) ব্যাপারে থেমে যাননি, বরং তাঁরা এগুলো গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন এর সাথে...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৩)
علمهم التام بما في بعضها من كلام؛ كما في رواية الضحاك (ت105هـ) عن ابن عباس (ت68هـ) فإن فيها انقطاعاً؛ لأن الضحاك لم يلق ابن عباس. وكذلك رواية العوفيين عن جدهم عطية العوفي (ت111هـ) عن ابن عباس فإن فيها ضعفاً ـ أيضاً ـ وهذا معروف عند علماء الحديث والتفسير، ومع ذلك أخذوا بهذه الروايات من حيث الجملة.
وهنا ينبه إلى فائدة مهمة قد تخفى على بعض طلاب العلم، وهو أن عمل العلماء وتتابعهم على قبول هذه الرواية محكَّم معتبرٌ، وكذا هو الحال في كثير من روايات السلف التي عُلمت مخارجها، أو كانت نُسخاً تروى عن أصحابها بالإسناد إليهم، كنسخة عطية العوفي (ت111هـ) عن ابن عباس، أو نسخة علي بن أبي طلحة (ت145هـ) عن ابن عباس.
ثانياً: إن قضية اختلاف الناقلين في نسبتها إليهم، فيها نظر؛ لأن المختلف في نسبته إلى الناقلين يحتاج أن نثبت وقوع الاختلاف فيه؛ فقد ينسبه راوٍ إلى عكرمة (ت105هـ) وآخر ينسبه إلى مجاهد (ت104هـ) فاختلفت النسبة لكن قد يكون هذا القول قال به مجاهد وقال به عكرمة فليس هناك اختلاف؛ لأن غالب ما ينقل عنهم هو من باب اختلاف التنوع الذي يكون بين جميع المفسرين من السلف ويكون عن المفسر الواحد؛ ولذا تجد رواية عن ابن عباس بمعنى ورواية أخرى بمعنى آخر وليس بينهما تضاد، وإنما هو من باب التنوع، فهذا القول صحيح، والقول الآخر صحيح، والمقصود أن اختلاف نقل الناقلين عنهم لا يُعدُّ مشكلة.
ثم ذكر طريقته في الأقوال الباطلة فقال: (وإذا كان القول في غاية السقوط والبطلان لم أذكره تنزيهاً للكتاب، وربما ذكرته تحذيراً منه) بمعنى أنه إذا ورد تفسير باطل أو ضعيف في كتابه فقد يذكره للتحذير منه والتنبيه عليه.
ثم ذكر بعد ذلك مصطلح الترجيح والتصحيح، ولا نستطيع من
তাদের সে সকল বর্ণনার কোনো কোনোটিতে বিদ্যমান আপত্তি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ছিল; যেমন ইবনে আব্বাস (মৃত্যু ৬৮ হি.) থেকে দাহহাক (মৃত্যু ১০৫ হি.)-এর বর্ণনা, কেননা তাতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে; কারণ দাহহাক ইবনে আব্বাসের সাক্ষাৎ পাননি। তদ্রূপ আউফি বংশীয়দের বর্ণনা, যা তাঁরা তাঁদের দাদা আতিয়্যাহ আল-আউফি (মৃত্যু ১১১ হি.)-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাতেও দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে—আর এটি হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রবিদদের নিকট সুপরিচিত। তা সত্ত্বেও তাঁরা এই বর্ণনাগুলো সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করেছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন যা অনেক ইলম অন্বেষণকারীর নিকট অস্পষ্ট থাকতে পারে; সেটি হলো—আলেমদের আমল এবং এই বর্ণনাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের ধারাবাহিকতা একটি অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড। তদ্রূপ সালফদের সেই সমস্ত বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই হুকুম যাদের উৎসসমূহ সুপরিচিত, অথবা যেগুলো এমন নুসখা বা পাণ্ডুলিপি যা তাঁদের রচয়িতাদের থেকে সনদের মাধ্যমে (إسناد) বর্ণিত হয়েছে। যেমন ইবনে আব্বাস থেকে আতিয়্যাহ আল-আউফি (মৃত্যু ১১১ হি.)-এর নুসখা অথবা ইবনে আব্বাস থেকে আলি বিন আবি তালহা (মৃত্যু ১৪৫ হি.)-এর নুসখা।
দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে এই বর্ণনাগুলো তাঁদের (ইমামদের) দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে যে মতভেদের বিষয়টি রয়েছে, তা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। কারণ বর্ণনাকারীদের নিসবতের ক্ষেত্রে যেখানে মতভেদ হয়েছে, সেখানে মতভেদটি প্রকৃতপক্ষেই ঘটেছে কি না তা প্রমাণ করা প্রয়োজন। হয়তো একজন বর্ণনাকারী (راو) এটিকে ইকরিমা (মৃত্যু ১০৫ হি.)-এর দিকে নিসবত করেছেন এবং অন্যজন মুজাহিদ (মৃত্যু ১০৪ হি.)-এর দিকে নিসবত করেছেন। ফলে নিসবতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দিলেও বাস্তবে হয়তো কথাটি মুজাহিদ এবং ইকরিমা উভয়েই বলেছেন, ফলে সেখানে কোনো বিরোধ নেই। কারণ সালফদের মধ্য থেকে সকল মুফাসসিরদের মাঝে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশই বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা এমনকি একজন মুফাসসির থেকেও বর্ণিত হতে পারে। এই কারণেই আপনি ইবনে আব্বাস থেকে একটি অর্থে একটি বর্ণনা পাবেন এবং অন্য অর্থে আরেকটি বর্ণনা পাবেন অথচ তাঁদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, বরং তা বৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই বক্তব্যটিও বিশুদ্ধ (صحيح), আবার অন্য বক্তব্যটিও বিশুদ্ধ (صحيح)। মূল কথা হলো, বর্ণনাকারীদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ভিন্নতা কোনো সমস্যা হিসেবে গণ্য নয়।
এরপর তিনি বাতিল উক্তিগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপন্থা উল্লেখ করে বলেন: (যদি কোনো উক্তি চরম অসার ও বাতিল বলে গণ্য হয়, তবে কিতাবের পবিত্রতা রক্ষার্থে আমি তা উল্লেখ করিনি, তবে কখনও হয়তো সতর্ক করার উদ্দেশ্যে সেটি উল্লেখ করেছি)। অর্থাৎ যদি তাঁর কিতাবে কোনো বাতিল (باطل) বা দুর্বল (ضعيف) তাফসির এসে থাকে, তবে তিনি হয়তো সে সম্পর্কে সতর্ক করার এবং সচেতন করার জন্য তা উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি প্রাধান্য দান (ترجيح) এবং বিশুদ্ধ আখ্যা দান (تصحيح)-এর পরিভাষা উল্লেখ করেছেন, আর আমরা...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خلال عبارة المؤلف أن نميز ونفرِّق بينهما، ولا نقول: إن العطف يقتضي المغايرة؛ لأن المؤلف قد يكون ذكر هذا من باب تنويع العبارة وليس من باب المغايرة، ثم قال: (وسنذكر بعد هذا باباً في موجبات الترجيح)، ويلاحظ أنه غيَّر المصطلح، فسمَّاها قبل ذلك قواعد الترجيح، ثم سمَّاها هنا موجبات الترجيح، ثم سمَّاها وجوه الترجيح في بابها الذي سيناقش فيه ذلك، وتنوع مصطلحات العالم قد يكون من باب تنويع العبارة، وقد يكون له مقصد لا نعرفه.
ثم قال: (وسميته كتاب التسهيل لعلوم التنزيل).
الأصل في هذا الكتاب أنه كتاب تفسير، فنُصَنِّفه في كتب علوم التفسير؛ لكن المؤلف أراد أن يضيف إليه أنواعاً من علوم القرآن، وهذا ظاهر من تسمية المؤلف له حيث جعله في «علوم التنزيل»، أي: «علوم القرآن».
لذا أقول: من أراد أن يكتب في تصنيف علوم القرآن فلا بد أن يذكر هذا الكتاب أثناء كتابته عن تطور علوم القرآن في المراحل التاريخية؛ لأن علوم القرآن مقصد من مقاصد التأليف عند المؤلف ونصَّ عليها في أكثر من موطن، ولما سمَّى كتابه لم يسمِّه «تفسيراً»، بل سمَّاه: «التسهيل لعلوم التنزيل»، فيجب أن نعرف أن للعلماء مناهج في الحديث عن علوم القرآن فبعضهم ألف مؤلفات مفردة كالناسخ والمنسوخ، وأحكام القرآن والمكي والمدني، وبعضهم ألف كتباً فيها جمع لعددٍ من علوم القرآن، ومن أشهرها: كتاب البرهان للزركشي (ت794هـ)، والإتقان للسيوطي (ت911هـ).
والمشكلة التي قد تقع لبعضنا في الوقت الحاضر أنه لا يفهم أنواع علوم القرآن إلا من خلال ما كتبه «صاحب البرهان» و «صاحب الإتقان»، فأي كتاب لا يتمثَّل فيه صبغة البرهان وصبغة الإتقان فإنه عنده ليس من كتب علوم القرآن.
লেখকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাদের উচিত এই দুটির মধ্যে পার্থক্য ও ব্যবধান নিরূপণ করা। আমরা এটা বলব না যে, সংযোজক অব্যয় (العطف) ভিন্নতা (المغايرة) দাবি করে; কারণ লেখক হয়তো বিষয়টি শব্দশৈলীর বৈচিত্র্যের খাতিরে উল্লেখ করেছেন, ভিন্নতা (المغايرة) বোঝানোর জন্য নয়। এরপর তিনি বলেছেন: (আর আমি এর পরে প্রাধান্য লাভের কারণসমূহ (موجبات الترجيح) নিয়ে একটি অধ্যায় আলোচনা করব)। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, তিনি পরিভাষা পরিবর্তন করেছেন; এর আগে তিনি সেগুলোকে প্রাধান্যদানের মূলনীতিসমূহ (قواعد الترجيح) বলেছিলেন, তারপর এখানে সেগুলোকে প্রাধান্য লাভের কারণসমূহ (موجبات الترجيح) নামকরণ করেছেন, আর যে অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন সেখানে সেগুলোকে প্রাধান্যদানের দিকসমূহ (وجوه الترجيح) হিসেবে অভিহিত করেছেন। একজন আলিমের পরিভাষার এই বৈচিত্র্য কখনো বর্ণনার শৈল্পিক বৈচিত্র্যের কারণে হতে পারে, আবার কখনো এর পেছনে এমন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে যা আমরা জানি না।
অতঃপর তিনি বলেছেন: (আর আমি এর নাম রেখেছি আত-তাশহিল লি-উলুমিত তানজিল)।
মূলত এই গ্রন্থটি তাফসিরের কিতাব, তাই আমরা একে তাফসির বিজ্ঞানের (علوم التفسير) কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করব; তবে লেখক এতে কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) বিভিন্ন প্রকার সংযোজন করতে চেয়েছেন। লেখকের দেওয়া গ্রন্থটির নাম থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট, যেখানে তিনি একে «উলুমুত তানজিল» অর্থাৎ «কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن)» অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তাই আমি বলব: যে ব্যক্তি কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে লিখতে চায়, তাকে অবশ্যই ঐতিহাসিক পর্যায়গুলোতে কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) ক্রমবিকাশ নিয়ে লেখার সময় এই কিতাবটি সম্পর্কে উল্লেখ করতে হবে। কারণ কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) ছিল লেখকের গ্রন্থ রচনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য এবং তিনি একাধিক স্থানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যখন তিনি তার কিতাবের নামকরণ করেছেন, তখন তিনি একে «তাফসির» নাম দেননি, বরং নাম দিয়েছেন: «আত-তাশহিল লি-উলুমিত তানজিল»। সুতরাং আমাদের জানা প্রয়োজন যে, কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে আলেমগণের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একক বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন: রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), আহকামুল কুরআন এবং মক্কি (المكي) ও মাদানি (المدني)। আবার কেউ কেউ এমন কিতাব লিখেছেন যাতে কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) অনেকগুলো বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: যারকাশির (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) কিতাব আল-বুরহান এবং সুয়ুতির (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) আল-ইতকান।
বর্তমানে আমাদের কারো কারো মধ্যে যে সমস্যাটি দেখা দিতে পারে তা হলো, তারা কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) প্রকারভেদগুলো কেবল «আল-বুরহানের লেখক» এবং «আল-ইতকানের লেখক»-এর লেখনীর মাধ্যমেই বুঝতে চায়। ফলে যে কিতাবে আল-বুরহান বা আল-ইতকানের বৈশিষ্ট্য বা আঙ্গিক ফুটে ওঠে না, তাকে তারা কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) কিতাব বলে গণ্য করতে চায় না।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وتنظير أنواع علوم القرآن من خلال هذين الكتابين فحسب فيه نظر، بل الصواب أن نتتبع المراحل التاريخية، ونرى كيف تعامل العلماء مع أنواع علوم القرآن، وننظر في مقاصد كتبهم، فإن كان واضحاً من مقصدهم التأليف في أنواع علوم القرآن فلا يجدر بنا أن نغفله عند الحديث عن تاريخ علوم القرآن والمؤلفات فيه (1).
قوله: (وقدمت في أوله مقدمتين: إحداهما: في أبواب نافعة، وقواعد كلية جامعة، والأخرى: فيما كثر دوره من اللغات الواقعة).
هذه مقدمة المقدمة، أمَّا المقدمة التي سيذكر فيها ما يتعلق بعلوم القرآن وأصول التفسير فهي المقدمة الأولى التي سنشرحها.
وأما المقدمة الثانية، فقد ذكر فيها الألفاظ التي يكثر دورانها في القرآن وبيّن معانيها فجعلها كأنها كتاب في مفردات ألفاظ القرآن بحيث لا يحتاج إلى أن يذكر معاني هذه الكلمات في كل موضع ترد فيه.
وهذه الطريقة لها جانب حسن، ولها جانب غير ذلك، وذلك مبني على مدى استفادة القارئ منهما؛ لأن قارئ التفسير ـ مثلاً ـ قد يقرأ في
--------------------------------------------
শুধুমাত্র এই দুটি কিতাবের মাধ্যমে উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) প্রকারভেদ নির্ধারণের বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, বরং সঠিক হলো ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো অনুসরণ করা এবং আলেমগণ উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) প্রকারসমূহের সাথে কীভাবে আচরণ করেছেন তা দেখা এবং তাঁদের কিতাবসমূহের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য করা। যদি তাঁদের কিতাব রচনার উদ্দেশ্য উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) প্রকারভেদ নিয়ে হওয়া স্পষ্ট হয়, তবে উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) ইতিহাস ও এ বিষয়ক রচনাবলি নিয়ে আলোচনার সময় আমাদের তা উপেক্ষা করা সমীচীন নয় (১)।
তাঁর উক্তি: (এবং আমি এর শুরুতে দুটি ভূমিকা পেশ করেছি: একটি: উপকারী অধ্যায়সমূহ এবং ব্যাপক ও সর্বজনীন মূলনীতি (قواعد كلية جامعة) প্রসঙ্গে, অন্যটি: অধিক ব্যবহৃত শব্দাবলি প্রসঙ্গে)।
এটি হলো ভূমিকার ভূমিকা, আর যে ভূমিকার মধ্যে তিনি উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) সংক্রান্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করবেন, তা হলো প্রথম ভূমিকা যা আমরা ব্যাখ্যা করব।
আর দ্বিতীয় ভূমিকার ক্ষেত্রে, সেখানে তিনি এমন শব্দসমূহ উল্লেখ করেছেন যা কুরআনে অধিক ব্যবহৃত হয় এবং সেগুলোর অর্থ বর্ণনা করেছেন। তিনি একে কুরআনের শব্দার্থের (مفردات) একটি কিতাবের মতো তৈরি করেছেন যাতে প্রতিটি স্থানে এই শব্দগুলোর অর্থ পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন না হয়।
এই পদ্ধতির একটি প্রশংসনীয় দিক রয়েছে, আবার অন্য দিকও রয়েছে। এটি পাঠকের এ থেকে উপকৃত হওয়ার মাত্রার ওপর নির্ভরশীল; কারণ তাফসিরের পাঠক — উদাহরণস্বরূপ — পড়তে পারেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سورةٍ ما، ولا يجد تفسير لفظة من الآية، فيظن أن المؤلف قد أهملها، وإنما تركها لأنه ذكرها في هذه المقدمة التي فسَّر فيها الألفاظ.
وإذا كان القارئ يعلم عن منهج المؤلف، فإنه سيضطر للرجوع إلى هذه المقدمة ليعرف ما قاله المؤلف في بيان معنى هذه اللفظة، وهذا فيه تطويل في تحصيل الفائدة في غير مظنتها.
وأما محاسن جمع تفسير الألفاظ في محلٍّ واحد، فمن جهة أن من أراد أن يقرأ مفردات القرآن عند ابن جزي يجدها مجموعة في مكان واحد.
فوائد علمية مستخلصة من هذه المقدمة:
يمكن استخراج النتائج والفوائد من هذه المقدمة التي جعلها تمهيداً للمقدمتين الأولى والثانية، فمن هذا الفوائد:
1 - تفريق المؤلف بين علوم التفسير وعلوم القرآن.
2 - أن علوم القرآن مقصد من مقاصد التأليف عند المؤلف؛ أي: ليس الكتاب تفسيراً، وإنما هو تفسير قصد فيه ذكر مسائل علوم القرآن.
3 - وضوح مقاصد تأليف الكتاب عند المؤلف.
4 - وضوح منهج المؤلف.
5 - عناية المؤلف بتحقيق الأقوال التفسيرية.
6 - اعتماد المؤلف على القواعد العلمية في الترجيح بين الأقوال.
কোনো সূরার ক্ষেত্রে (পাঠক হয়তো) আয়াতের কোনো শব্দের ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, ফলে তিনি মনে করেন যে লেখক হয়তো এটি উপেক্ষা করেছেন; অথচ তিনি এটি ছেড়ে দিয়েছেন কারণ তিনি এই ভূমিকায় তা উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি শব্দসমূহের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আর পাঠক যদি লেখকের পদ্ধতি বা মানহাজ (منهج) সম্পর্কে অবগত থাকেন, তবে এই শব্দের অর্থ বর্ণনায় লেখক কী বলেছেন তা জানার জন্য তিনি এই ভূমিকায় ফিরে যেতে বাধ্য হবেন। আর এতে কাঙ্ক্ষিত স্থান ব্যতীত অন্য স্থান থেকে উপকারিতা অর্জনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
অন্যদিকে এক স্থানে শব্দসমূহের ব্যাখ্যা একত্রিত করার কল্যাণকর দিকটি হলো, যে ব্যক্তি ইবনে জুযাই-এর নিকট কুরআনের শব্দ বিশ্লেষণ (مفردات) পড়তে চান, তিনি তা এক স্থানেই সংগৃহীত পাবেন।
এই ভূমিকা থেকে সংগৃহীত জ্ঞানগর্ভ ফায়দাসমূহ:
প্রথম ও দ্বিতীয় ভূমিকার প্রারম্ভিকা হিসেবে তিনি যে ভূমিকাটি তৈরি করেছেন, তা থেকে বিভিন্ন ফলাফল ও ফায়দা আহরণ করা সম্ভব; সেই ফায়দাসমূহ হলো:
১ - তাফসির শাস্ত্র এবং উলুমুল কুরআন (علوم القرآن)-এর মধ্যে লেখকের পার্থক্যকরণ।
২ - লেখকের নিকট উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) রচনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল; অর্থাৎ, কিতাবটি কেবল একটি তাফসির নয়, বরং এটি এমন এক তাফসির যেখানে উলুমুল কুরআনের মাসয়ালাসমূহ উল্লেখ করার উদ্দেশ্য নিহিত ছিল।
৩ - লেখকের নিকট কিতাবটি রচনার উদ্দেশ্যসমূহ সুস্পষ্ট হওয়া।
৪ - লেখকের পদ্ধতি বা মানহাজ (منهج) সুস্পষ্ট হওয়া।
৫ - তাফসির সংক্রান্ত মতামতের যাচাই-বাছাই বা তাহকিক (تحقيق) করার ক্ষেত্রে লেখকের বিশেষ যত্ন।
৬ - বিভিন্ন মতামতের মাঝে প্রাধান্য নির্ধারণ বা তারজিহ (الترجيح) করার ক্ষেত্রে লেখকের বৈজ্ঞানিক নীতিমালার ওপর নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الباب الأولنزول القرآن الكريمقال رحمه الله: المقدمة الأولى: فيها اثنا عشر باباً، الباب الأول: في نزول القرآن وجمعه في المصحف ونقطه وتحزيبه وتعشيره وذكر أسمائه. في نزول القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم من أول ما بعثه الله بمكة، وهو ابن أربعين سنة إلى أن هاجر إلى المدينة، ثم نزل عليه بالمدينة إلى أن توفاه الله، فكانت مدة نزوله عليه عشرون سنة، وقيل: كانت ثلاثاً وعشرين سنة على حسب الاختلاف في سنِّه صلى الله عليه وسلم يوم توفي هل كان ابن ستين سنة؟ أو ثلاث وستين سنة؟ وكان ربما تنزل عليه سورة كاملة، وربما تنزل عليه آيات مفترقات، فيضم عليه السلام بعضها إلى بعض حتى تكمل السورة.
وأول ما نزل عليه من القرآن: صدر سورة العلق، ثم المدثر والمزمل، وقيل: أول ما نزل المدثر، وقيل: فاتحة الكتاب، والأول هو الصحيح؛ لما ورد في الحديث الصحيح عن عائشة في حديثها الطويل في ابتداء الوحي قالت فيه: «جاءه الملك وهو بغار حراء قال: اقرأ، قال: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني وغطني الثالثة حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني ثم قال: {اقْرَا بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ *خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ *اقْرَا وَرَبُّكَ الأَكَرَمُ *الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ *عَلَّمَ الإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1 - 5]، فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف
প্রথম অধ্যায়পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়াতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: প্রথম ভূমিকা: এতে বারোটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া, মুসহাফে তা সংকলন করা, নুকতা (বিন্দু) প্রদান, হিযব (অংশ) বিন্যাস, প্রতি দশ আয়াতের চিহ্ন প্রদান এবং এর নামসমূহ উল্লেখ করা প্রসঙ্গে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে—যখন আল্লাহ তাঁকে মক্কায় নবুওয়াত প্রদান করেন এবং তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর, মদিনায় হিজরত করা পর্যন্ত। এরপর মদিনায় তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল ছিল বিশ বছর। আর বলা হয়েছে: তা ছিল তেইশ বছর; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের দিনের বয়সের মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে—তিনি কি ষাট বছর বয়সের ছিলেন নাকি তেষট্টি বছরের? কখনো কখনো তাঁর ওপর পূর্ণাঙ্গ একটি সূরা অবতীর্ণ হতো, আবার কখনো বিচ্ছিন্ন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হতো। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) সেগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করতেন যতক্ষণ না সূরাটি পূর্ণতা লাভ করত।
কুরআন থেকে সর্বপ্রথম যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: সূরা আলাকের প্রথমাংশ। এরপর সূরা মুদ্দাসসির ও সূরা মুয্যাম্মিল। কারো মতে, সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে সূরা মুদ্দাসসির। আবার কারো মতে, ফাতিহাতুল কিতাব। তবে প্রথম মতটিই সঠিক (الصحيح); যেহেতু আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত ওহী শুরুর দীর্ঘ হাদীসে সহীহ (الصحيح) বর্ণনা এসেছে, তিনি তাতে বলেছেন: «ফেরেশতা হেরা গুহায় তাঁর কাছে এসে বললেন: পাঠ করুন। তিনি বললেন: আমি পাঠ করতে জানি না। তিনি (রাসূল) বললেন: তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চূড়ান্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পাঠ করুন। আমি বললাম: আমি পাঠ করতে জানি না। তিনি বললেন: তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চূড়ান্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পাঠ করুন। আমি বললাম: আমি পাঠ করতে জানি না। তিনি বললেন: তখন তিনি আমাকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চূড়ান্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} [আলাক: ১-৫]। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فؤاده فقال: «زمِّلوني زمِّلوني، فزمَّلوه حتى ذهب عنه ما يجد من الرَّوع» (1)، وفي رواية من طريق جابر بن عبد الله: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «زملوني، فأنزل الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} (2) [المزمل: 1]، وأما آخر ما نزل: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} [النصر: 1]، وقيل: آية الربا التي في البقرة، وقيل: الآية قبلها (3).
الفرق بين علوم القرآن وعلوم التفسير:
علوم التفسير وعلوم القرآن بينهما فرق، ونعرفه إذا فهمنا المراد بالتفسير الذي هو (بيان معاني كلام الله)، فإذا جئنا إلى قوله تعالى: {خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ} [العلق: 2] فمعناه: أن الله سبحانه وتعالى أوجد هذا الإنسان من العلقة التي تتكون في رحم المرأة، وهذا هو التفسير؛ لأنه بيان للمعنى.
أما إذا قلنا: إن هذه الآيات الخمس الأولى من سورة العلق، أولُ ما نزل من القرآن، وقال آخر: ليست أول ما نزل بل نزل قبلها {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} [المدثر: 1]؛ كما هو مروي عن جابر (ت:78هـ)، فإن هذا الخلاف لا يؤثر في فهم المعنى، وهذه المعلومة مرتبطة بالآية بلا ريب؛ فلا تكون من علوم التفسير، بل تكون من علوم القرآن.
المقصود أن المعنى إذا كان لا يتم إلا بفهم معلومة معينة فنقول: إن هذه المعلومة من التفسير، وإذا كان المعنى يفهم بدون هذه المعلومة فهي من علوم الآية؛ أي: من علوم القرآن، وليست من علوم التفسير.
وعلوم القرآن قد تكون من علوم السورة؛ كفضائلها، وعدد آياتها، واسمها.
--------------------------------------------
তাঁর অন্তর [কম্পিত হচ্ছিল], অতঃপর তিনি বললেন: «আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো», সুতরাং তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর থেকে ভীতি দূর হলো (১)। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমাকে বস্ত্রাবৃত করো», তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত!} (২) [আল-মুযযাম্মিল: ১]। আর সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} [আন-নাসর: ১]। আর বলা হয়েছে: এটি সূরা আল-বাকারাহর সুদের আয়াত, আবার বলা হয়েছে: এর পূর্ববর্তী আয়াত (৩)।
উলুমুল কুরআন এবং উলুমুত তাফসিরের মধ্যে পার্থক্য:
উলুমুত তাফসির এবং উলুমুল কুরআনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; আমরা তা জানতে পারব যদি তাফসিরের উদ্দেশ্য বুঝতে পারি, যা হলো (আল্লাহর কালামের অর্থের বর্ণনা)। সুতরাং আমরা যখন আল্লাহ তাআলার বাণী: {সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ থেকে} [আল-আলাক: ২]-এর দিকে তাকাই, তখন এর অর্থ হয়: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মানুষকে সেই ‘আলাক’ (রক্তপিণ্ড) থেকে সৃষ্টি করেছেন যা নারীর জরায়ুতে গঠিত হয়। আর এটাই হলো তাফসির; কারণ এটি অর্থের বর্ণনা।
পক্ষান্তরে আমরা যদি বলি: সূরা আল-আলাকের এই প্রথম পাঁচটি আয়াত কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হওয়া অংশ। আবার অন্য কেউ বললেন: এগুলো প্রথম নাযিলকৃত নয় বরং এর আগে {হে চাদরাবৃত} [আল-মুদ্দাসসির: ১] নাযিল হয়েছে; যেমনটি জাবির (মৃ: ৭৮ হি.) থেকে বর্ণিত (مروي) হয়েছে, তবে এই মতপার্থক্য অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। আর এই তথ্যটি নিঃসন্দেহে আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট; তাই এটি উলুমুত তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং উলুমুল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত হবে।
উদ্দেশ্য হলো, যদি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বোঝা ব্যতীত অর্থ পূর্ণতা না পায়, তবে আমরা বলি: এই তথ্যটি তাফসিরের অংশ। আর যদি এই তথ্য ছাড়াই অর্থ বোঝা যায়, তবে সেটি আয়াতের বিজ্ঞান তথা উলুমুল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত, উলুমুত তাফসিরের নয়।
আর উলুমুল কুরআন কখনো সূরার জ্ঞান সংশ্লিষ্ট হতে পারে; যেমন এর ফজিলতসমূহ, আয়াতের সংখ্যা এবং এর নাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد تكون من علوم الآية، كسبب نزولها، ومكان نزولها، ومشكلها، وما وقع فيها من النسخ
… إلخ.
ومن أمثلة علوم السورة: فضائل السور، ومن ذلك فضل سورة البقرة التي ورد فيها عدد من الأحاديث، فإن المسلم إذا أراد أن يتعلم تفسيرها، ولم يكن يعرف فضائلها فإن جهله هذا بفضائلها لا يؤثر على فهمه للمعاني.
ومن علوم الآية في هذا الموضوع فضل آية الكرسي، فإن المسلم لو لم يعرف فضلها فإن فهمه لن يتأثر بعدم هذه المعرفة.
والمؤلف يحدثنا في هذا الباب عن نزول القرآن على الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو نوع من علوم القرآن، ثم ذكر الخلاف المشهور في مدة بقاء الرسول صلى الله عليه وسلم في مكة، فقيل: عشر سنوات، وقيل: ثلاث عشرة سنة، وهو الراجح، وتوفي وعمره ثلاث وستون سنة؛ كما رجحه المحققون، وعلى هذا تكون مدة نزول القرآن ثلاث وعشرون سنة.
وقال في الفائدة التي بعدها: (وكان ربما تنزل عليه سورة كاملة)، مثل: سورة الكوثر وسورة الناس وسورة الفلق وسورة الفاتحة، وغيرها من قصار السور.
قال بعدها: (وربما تنزل عليه آيات مفترقات، فيضم عليه السلام بعضها إلى بعض حتى تكمل السورة)، ولذا ورد قوله صلى الله عليه وسلم: «ضعوا هذه الآية في السورة التي يذكر فيها كذا» (1)، وترتيب الآيات في السور كان بوحيٍ من الله سبحانه وتعالى إجماعاً؛ وإذا نظرت إلى سورة العلق فإنك ستجد أن الآيات الخمس الأولى من سورة العلق أنها كانت أول ما نزل في غار حراء، أما الآيات التي بعدها فهي متأخرة في النزول؛ لأنها تتحدث عن حدث
--------------------------------------------
এবং এটি আয়াতের উলুম বা জ্ঞান (উলুমুল আয়াত) সংশ্লিষ্ট হতে পারে, যেমন এর নাযিলের কারণ (সববে নুযুল (سبب نزول)), নাযিলের স্থান, এর অস্পষ্টতা (মুশকিল (مشكل)), এবং এতে যা রহিতকরণ (নাসখ (النسخ)) সংঘটিত হয়েছে
… ইত্যাদি।
সূরার উলুমের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: সূরাসমূহের ফযিলত। এর একটি উদাহরণ হলো সূরা আল-বাকারার ফযিলত, যার ব্যাপারে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কোনো মুসলিম যদি এর তাফসির শিখতে চায় কিন্তু এর ফযিলত সম্পর্কে তার জানা না থাকে, তবে ফযিলত বিষয়ক তার এই অজ্ঞতা অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এই বিষয়ের আয়াতের উলুমের অন্তর্ভুক্ত হলো আয়াতুল কুরসির ফযিলত। কোনো মুসলিম যদি এর ফযিলত নাও জানে, তবে এই জ্ঞানের অভাবের কারণে তার বুঝ বা উপলব্ধিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
লেখক এই অধ্যায়ে আমাদের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কুরআন নাযিল হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা উলুমুল কুরআনের একটি প্রকার। এরপর তিনি মক্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ উল্লেখ করেছেন। কারো মতে: দশ বছর, আবার কারো মতে: তেরো বছর, আর এটিই অগ্রগণ্য (রাজিহ (الراجح))। তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; যেমনটি গবেষকগণ (মুহাক্কিক (المحققون)) অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেই হিসেবে কুরআন নাযিলের সময়কাল হলো তেইশ বছর।
পরবর্তী তত্ত্বে তিনি বলেন: (কখনো কখনো তাঁর ওপর পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হতো), যেমন: সূরা আল-কাওসার, সূরা আন-নাস, সূরা আল-ফালাক, সূরা আল-ফাতিহা এবং অন্যান্য ছোট সূরাসমূহ।
এরপর তিনি বলেন: (কখনো কখনো তাঁর ওপর বিচ্ছিন্ন আয়াতসমূহ নাযিল হতো, অতঃপর তিনি আলাইহিস সালাম সেগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করতেন যতক্ষণ না সূরাটি পূর্ণ হতো)। এজন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণিত হয়েছে: «এই আয়াতটি সেই সূরায় রাখো যেখানে অমুক বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে» (১)। সূরাসমূহে আয়াতের বিন্যাস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল—এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্য (ইজমা (إجماعاً)) রয়েছে। আপনি যদি সূরা আল-আলাকের দিকে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন যে, এই সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াতই ছিল হেরা গুহায় সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত। পক্ষান্তরে এর পরবর্তী আয়াতগুলো নাযিলের দিক থেকে পরবর্তী সময়ের; কারণ সেগুলো একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بعد إظهار الدعوة؛ لأنها تتكلم عن الرجل الذي ينهى (أبو جهل) عبداً إذا صلى (محمد صلى الله عليه وسلم، وهذا كان بعد فترة طويلة، فجعلت هذه الآيات مع أول الآيات التي نزلت، فالرسول صلى الله عليه وسلم كان يضم الآيات إلى الآيات في السورة.
الخلاف في أول ما نزل:
الصحيح أن أول ما نزل هو صدر سورة العلق.
وقيل: أول ما نزل: المدثر، وهو مذهب الصحابي جابر بن عبد الله.
وقيل: فاتحة الكتاب، وهذا قول ضعيف جداً؛ لكنه يذكر في كتب علوم القرآن.
لكن الذي وقع فيه الخلاف صدر سورة العلق وصدر سورة المدثر، ولولا أثر جابر رضي الله عنه لما حُكِيَ الخلاف، وهذا الأثر فيه إشكال كبير، فإن جابراً سئل عن أول ما نزل؟ فقال: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} [المدثر: 1] فالسؤال عن الأولية مطلقاً، وبعض العلماء يخرِّجه على أولية مخصوصة، ويقول: إن جابراً رضي الله عنه أراد أنها أول ما نزل بالإنذار أو بالنبوة.
والذي يظهر من خلال الأثر الذي ورد عن جابر، أن جابراً لم يعلم عن نزول الآيات في غار حراء، ويظهر أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يحدِّثه بنزول الآيات بل حدثه بمجيء جبريل عليه السلام إليه في غار حراء فقط، ثم حدَّثه بما حصل بعد هذا المجيء، فجابر رضي الله عنه حدَّث بما عَلِمَ، وظنَّ أن ما قاله الرسول صلى الله عليه وسلم هو أول ما بدئ به في الوحي، ولو أخذناه على هذا المحمل فليس ـ في نظري ـ هناك مشكلة، وجابر رضي الله عنه لو كان يعلم أن المَلَكَ لما نزل في غار حراء قرأ على الرسول صلى الله عليه وسلم: {اقْرَا بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} لم يقل: (أول ما نزل سورة المدثر).
ثم إن هذا مذهب فرد من الصحابة، والصحابي قد يقع منه الغلط، وليس له عصمة.
দাওয়াত প্রকাশের পর; কারণ এখানে সেই ব্যক্তি (আবু জেহেল) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে একজন বান্দাকে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায়ে বাধা প্রদান করত। আর এটি ছিল দীর্ঘ সময় পরের ঘটনা। তাই এই আয়াতগুলোকে অবতীর্ণ হওয়া প্রথম আয়াতগুলোর সাথে শামিল করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরার ভেতরে আয়াতগুলোকে আয়াতের সাথে মিলিয়ে রাখতেন।
সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে সে বিষয়ে মতবিরোধ:
সঠিক (الصحيح) মত হলো, সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সূরা আল-আলাকের প্রথমাংশ।
বলা হয়েছে: সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সূরা আল-মুদ্দাসসির, আর এটি সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর অভিমত।
বলা হয়েছে: সূরা আল-ফাতিহা; কিন্তু এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) একটি বক্তব্য; তবে এটি উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়।
তবে যে বিষয়ে মূলত মতবিরোধ দেখা দিয়েছে তা হলো সূরা আল-আলাকের প্রথমাংশ এবং সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথমাংশ। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা (أثر) না থাকলে এই মতবিরোধের কথা আলোচিত হতো না। আর এই বর্ণনায় (أثر) বড় ধরণের অস্পষ্টতা রয়েছে। জাবিরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, সর্বপ্রথম কী অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন: {হে চাদরাবৃত!} [আল-মুদ্দাসসির: ১]। এখানে প্রশ্নটি ছিল নিরঙ্কুশভাবে প্রথম হওয়া সম্পর্কে। কিন্তু কিছু আলেম একে একটি বিশেষ প্রথম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেন যে, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, সতর্কীকরণ বা নবুওয়াতের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম অবতীর্ণ হওয়া বিষয়।
জাবির থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনার (أثر) মাধ্যমে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, হেরা গুহায় আয়াত অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে জাবির জানতেন না। এটি প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কথা বর্ণনা করেননি, বরং শুধুমাত্র হেরা গুহায় জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আগমনের বিষয়টি বর্ণনা করেছিলেন। এরপর সেই আগমনের পর যা ঘটেছিল তা বলেছিলেন। সুতরাং জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু যতটুকু জেনেছিলেন তা-ই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ধারণা করেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা-ই ওহীর সূচনা ছিল। আমরা যদি বিষয়টিকে এভাবে ধরি, তবে আমার দৃষ্টিতে সেখানে কোনো সমস্যা নেই। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু যদি জানতেন যে ফেরেশতা যখন হেরা গুহায় অবতরণ করেছিলেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}, তবে তিনি বলতেন না যে: (সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সূরা হলো আল-মুদ্দাসসির)।
তদুপরি এটি একজন সাহাবীর একক অভিমত, আর সাহাবীর পক্ষ থেকেও ভুল হওয়া সম্ভব এবং তিনি ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাসহীল লি উলূমিত তানযীল লি ইবনি জুযাই
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قوله: (وأما آخر ما نزل: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} [النصر: 1]، وقيل: آية (الربا) (1) التي في البقرة، وقيل: الآية قبلها).
آخر ما نزل على الإطلاق فيه خلاف، والتعبير بعبارة (آخر ما نزل) عند السلف على قسمين:
القسم الأول: أن يكون مرادهم الآخرية المطلقة، وعليه قول بعضهم: آخر ما نزل سورة الكوثر.
القسم الثاني: آخرية نسبية، وعليه قول بعضهم: (آخر ما نزل سورة المائدة، وهي محكمة)، ومراده أن جميع آياتها لا يوجد فيها نسخ.
وقول بعضهم: «إن آخر آية نزلت آية الربا»، مراده الآخرية المطلقة، وهي من قوله تعالى: {الَّذِينَ يَاكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ} إلى قوله: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ} [البقرة: 281].
ومن قال منهم: آخر آية نزلت قوله تعالى: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ} [البقرة: 281]، فإنه لا يخالف هذا القول؛ لأن الأول ذكر أول الآيات التي نزلت آخراً، والثاني ذكر آخر آية مما نزل آخراً.
والذي ينتج من خلال بحث (آخر ما نزل) ما يأتي:
1 - أنه لا يوجد اتفاق على الآخرية المطلقة.
2 - أنه يوجد آخريات نسبيه كثيرة، كآخر ما نزل من آيات الربا، أو آيات الخمر، أو آيات الجهاد.
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: (আর সবশেষে যা অবতীর্ণ হয়েছে: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} [আন-নাসর: ১], আর বলা হয়েছে: (সুদ) সংক্রান্ত আয়াত (১) যা সূরা বাকারায় রয়েছে, এবং বলা হয়েছে: তার আগের আয়াতটি)।
নিরঙ্কুশভাবে সর্বশেষ অবতীর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে এবং সালাফদের নিকট (সর্বশেষ অবতীর্ণ) কথাটি দুই প্রকারের ওপর প্রয়োগ হয়:
প্রথম প্রকার: তাদের উদ্দেশ্য হলো নিরঙ্কুশ পরিসমাপ্তি (الآخرية المطلقة), আর এর ওপর ভিত্তি করেই কারো কারো অভিমত হলো: সবশেষে অবতীর্ণ হয়েছে সূরা আল-কাওসার।
দ্বিতীয় প্রকার: আপেক্ষিক পরিসমাপ্তি (آخرية نسبية), আর এর ওপর ভিত্তি করেই কারো কারো অভিমত: (সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো সূরা আল-মায়িদাহ, এবং এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة)), আর তার উদ্দেশ্য হলো এর কোনো আয়াতেই রহিতকরণ (نسخ) নেই।
আর কারো কারো উক্তি: «নিশ্চয়ই সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো সুদের আয়াত», তার উদ্দেশ্য হলো নিরঙ্কুশ পরিসমাপ্তি (الآخرية المطلقة), আর তা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে শুরু হয়েছে: {যারা সুদ খায় তারা ঐ ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা আচ্ছন্ন করে ফেলেছে} থেকে শুরু করে মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যে দিন তোমাদের আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [আল-বাকারা: ২৮১]।
আর তাদের মধ্যে যারা বলেন: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যে দিন তোমাদের আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [আল-বাকারা: ২৮১], এটি পূর্বোক্ত মতের বিরোধী নয়; কারণ প্রথমজন শেষে অবতীর্ণ হওয়া আয়াতগুলোর শুরুটি উল্লেখ করেছেন এবং দ্বিতীয়জন শেষে অবতীর্ণ হওয়া আয়াতগুলোর শেষ আয়াতটি উল্লেখ করেছেন।
(সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে) বিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা হলো নিম্নরূপ:
১ - যে নিরঙ্কুশ পরিসমাপ্তির (الآخرية المطلقة) ব্যাপারে কোনো ঐক্যমত নেই।
২ - যে এখানে অনেকগুলো আপেক্ষিক পরিসমাপ্তি (آخريات نسبيه) রয়েছে, যেমন সুদের আয়াতসমূহের মধ্যে সবশেষে যা অবতীর্ণ হয়েছে, অথবা মদের আয়াতসমূহ, অথবা জিহাদের আয়াতসমূহের মধ্যে সবশেষে যা অবতীর্ণ হয়েছে।
--------------------------------------------