(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
البرهان فى تناسب سور القرآن   (ابن الزبير الغرناطي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: البرهان فى تناسب سور القرآن

المؤلف: أحمد بن إبراهيم بن الزبير الثقفي الغرناطي، أبو جعفر (ت 708هـ)

تحقيق: محمد شعباني

دار النشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية ـ المغرب

عام النشر: 1410 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 386

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-বুরহান ফী তনাসুবি সুওয়ারিল কুরআন   (ইবনুল জুবায়ের আল-গারনাতি)

বিভাগ: কুরআন সংক্রান্ত জ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: আল-বুরহান ফী তনাসুবি সুওয়ারিল কুরআন

লেখক: আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-জুবায়ের আস-সাকাফি আল-গারনাতি, আবু জাফর (মৃত্যু ৭০৮ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ শাবানি

প্রকাশনী: ধর্ম ও ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয় — মরক্কো

প্রকাশের বছর: ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
الكتاب: البرهان فى تناسب سور القرآن (ويسمى: البرهان فى ترتيب سور القرآن)

المؤلف: أحمد بن إبراهيم بن الزبير الثقفي الغرناطي، أبو جعفر (المتوفى: 708هـ)

تحقيق: محمد شعباني

دار النشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية ـ المغرب

عام النشر: 1410 هـ - 1990 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
গ্রন্থ: আল-বুরহান ফি তানাসুব সুওয়ার আল-কুরআন (এবং এটি আল-বুরহান ফি তারতিব সুওয়ার আল-কুরআন নামেও অভিহিত)

গ্রন্থকার: আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন আজ-জুবায়ের আস-সাকাফি আল-গারনাতি, আবু জাফর (মৃত্যু: ৭০৮ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ শাবানি

প্রকাশনা সংস্থা: ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়াবলি মন্ত্রণালয় — মরক্কো

প্রকাশের বছর: ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا ومولانا محمد وسلم تسليماً

قال الشيخ الإمام، العالم العَلَم الأوحد الصدر الجليل، المحدث الناقد

المحقق، حبر التأويل وكاشف أسرار التنزيل، أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن

الزبير الثقفي العاصمي رحمه الله

الحمد لله الحكيم العليم، العلي العظيم، ذي الفضل العميم والجود

القديم، الذي ابتدأ الإنسان بالنعم فُرادى ومثنى، وخلقه في أحسن تقويم بعد

كونه نطفة من مني تُمنى، وخصه بمزية التشريف والتكريم، أهّله لتلقي خطابه، وهيأه لتحمل فرقانه العزيز وكتابه، وقد قال سبحانه فيه: (وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ (4) .

والصلاة على محمد نبيه المعظم ورسوله المصطفى المكرم، المخصوص

بالكتاب، والفاتح لأولي البصائر - بما أيد به من الأعلام الباهرة والحجج

القاطعة القاهرة - مستغلق ذلك الباب، فأوضح السبيل للسالك، فلن يهلك على الله بعد بيانه إلّا هالك، وأنى بسلوك ذلك الباب لمن حقت عليه كلمة العذاب، وقد قال سبحانه: (إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ (11) .

وبعد، فإني اعتبرت قوله صلى الله عليه وسلم: " ما من نبي إلا وقد أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيت وحياً فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة ".
‌ভূমিকা

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আল্লাহ আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের ওপর দুরুদ ও পূর্ণ সালাম বর্ষণ করুন।

ইমাম, শাইখ, অদ্বিতীয় প্রাজ্ঞ আলেম, মহান ব্যক্তিত্ব, হাদিস বিশারদ (المحدث) ও সমালোচক (الناقد)

গবেষক (المحقق), ব্যাখ্যার সমুদ্র এবং আল-কুরআনের নিগূঢ় রহস্যের উন্মোচনকারী আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল

জুবাইর আস-সাকাফি আল-আসিমি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন—

সকল প্রশংসা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী, সমুন্নত ও মহান আল্লাহর জন্য, যিনি ব্যাপক অনুগ্রহ ও চিরন্তন দানশীলতার অধিকারী; যিনি মানুষকে একে একে এবং জোড়ায় জোড়ায় নেয়ামতরাজি প্রদানের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন এবং বীর্য থেকে শুক্রাণু হিসেবে থাকার পর তাকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন; তাকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, তাকে তাঁর বাণী গ্রহণের যোগ্য করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত ফুরকান ও কিতাব বহনের উপযোগী করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর তা তো আমার কাছে মূল কিতাবে (উম্মুল কিতাব) অতি উচ্চ মর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাময়।” (৪)।

এবং দুরুদ বর্ষিত হোক তাঁর মহান নবী ও মনোনীত সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে কিতাব দিয়ে বিশেষায়িত করা হয়েছে এবং যিনি প্রজ্ঞাবানদের জন্য—সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণের সাহায্যে—সেই রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করেছেন; ফলে তিনি পথচারীদের জন্য পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সুতরাং তাঁর বর্ণনার পর কেবল ধ্বংসোন্মুখ ব্যক্তিই আল্লাহর প্রতি অবাধ্য হয়ে ধ্বংস হবে। আর যার ওপর শাস্তির বাণী অবধারিত হয়েছে, সে কীভাবে সেই পথে চলবে? অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন যে উপদেশ অনুসরণ করে এবং না দেখেই দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।” (১১)।

অতঃপর, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেছি: “এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কোনো নিদর্শন (মুজিজা) দেওয়া হয়নি যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে; আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহি (প্রত্যাদেশ), তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই সর্বাধিক হবে।”
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮০)
وتأملت ما أيد به عليه السلام من المعجزات سوى القرآن، فإذا

بدروب لا يحصيها العد، ولا كاد تنحصر بالحد، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "وإنما كان الذي أوتيت وحياً"

يشير إلى دليل القرآن، وما خص به صلى الله عليه وسلم من ساطع ذلك البرهان، وما ذاك إلا لكون معجزته أوضح وأحكم، وأهدى وأقوم، فإنما ضمنت إلى - الدلالة والشهادة إيضاح الطربق وأعلمت بحال كل فريق، ثم زادت بنقائها للمعتبر ومشاهدتها للمدَّكر، وقد اضطر من تأخر فيما

سواها للخبر، وليس كالعيان، فلله ما أعظمها معجزة باقية مدى الدهور

والأزمان، وللمشاهدة حال لا ينكر وتعريف لا يتنكر، وفرق بين ما عرف

بالمشاهدة وبين ما علم بالدليل، وحسبك سوال نبي الله الخليل.

فالحمد لله الذي جمع لهذه الأمة الأمرين وخصها بالاعتبارين، فمن

معجزات نبينا صلى الله عليه وسلم المستوضح اعتبارا بالبيان، والمشاهد حسا بالعيان، وكما أن من تعامى في حياته صلى الله عليه وسلم عن نبع الماء من بين أصابعه وغير ذلك من معجزاته

ملوم مدحور، مأزرر غير مأجور، فكذلك من تعامى عن آيات الكثاب وكأن لم يقرع أذنه قارع من هذا الباب، ولهذا نبه تعالى بقوله: (أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ"، وبقوله: "كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ"، وجهات اعتباره كثيرة، ولسلف هذه الأمة وخلفها مسالك في ذلك شهيرة.

وإني تأملت منها - بفضل الله - وجوه ارتباطاته وتلاحم سوره وآياته إلى

ما يلتحم مع هذا القبيل
আমি আল-কুরআন ব্যতীত অন্যান্য মুজিজাসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করলাম যার দ্বারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শক্তিশালী করা হয়েছিল, তখন আমি

এমন অনেক পথ খুঁজে পেলাম যা গণনা করে শেষ করা যায় না এবং সীমানা দিয়েও যা সীমাবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা মূলত ওহি।"

এখানে তিনি আল-কুরআনের দলিলের প্রতি এবং তাঁকে যে উজ্জ্বল প্রমাণের বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর এটি কেবল এজন্যই যে, তাঁর মুজিজা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুসংহত, অধিক পথপ্রদর্শক ও সুপ্রতিষ্ঠিত। এটি নির্দেশের প্রমাণ ও সাক্ষ্যের পাশাপাশি পথের স্পষ্টতাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং প্রতিটি দলের অবস্থা সম্পর্কে অবগত করেছে। অতঃপর এটি চিন্তাশীলদের জন্য তার বিশুদ্ধতা এবং উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য তার প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে আরও মহিমান্বিত হয়েছে। আর আল-কুরআন ব্যতীত অন্যান্য মুজিজার ক্ষেত্রে পরবর্তীরা

অন্যান্যগুলোর জন্য সংবাদ (خبر) এর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন, অথচ সংবাদ তো চাক্ষুষ দেখার মতো নয়। আল্লাহর কি অপরূপ মহিমা! কতই না মহান এই মুজিজা যা যুগ যুগ ধরে

এবং অনন্তকাল ধরে অবশিষ্ট। প্রত্যক্ষদর্শনের এমন এক অবস্থা রয়েছে যা অস্বীকার করা যায় না এবং এমন এক পরিচয় রয়েছে যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রত্যক্ষদর্শনের মাধ্যমে যা জানা যায়

এবং দলিলের মাধ্যমে যা জানা যায় তার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; আর আল্লাহর নবী খলিল-এর জিজ্ঞাসাই আপনার জন্য যথেষ্ট।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এই উম্মতের জন্য উভয় বিষয়কে একত্রিত করেছেন এবং তাদেরকে উভয় প্রকার বিবেচনার বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোধগম্য এবং কিছু রয়েছে যা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা যায়। যেমন কেউ যদি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় তাঁর আঙুলের ফাঁক থেকে পানি নির্গত হওয়া এবং তাঁর অন্যান্য মুজিজা থেকে

অন্ধ সেজে থাকে তবে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত এবং সওয়াব থেকে বঞ্চিত ও পাপী হিসেবে গণ্য হবে। ঠিক তেমনিভাবে যে ব্যক্তি কিতাবের আয়াতসমূহ থেকে অন্ধ সেজে থাকে যেন এই দুয়ারের কোনো আহ্বানকারী তার কানে করাঘাত করেনি, সেও অনুরূপ। একারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে সতর্ক করে বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না?", এবং তাঁর বাণী: "এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে।" এর পর্যালোচনার দিকসমূহ অনেক এবং এই উম্মতের পূর্বসূরী (سلف) ও উত্তরসূরীদের (خلف) এ বিষয়ে অনেক প্রসিদ্ধ পদ্ধতি রয়েছে।

আর আমি আল্লাহর অনুগ্রহে আল-কুরআনের বিভিন্ন প্রসঙ্গের আন্তঃসম্পর্ক এবং এর সূরা ও আয়াতসমূহ পরস্পরের সাথে যেভাবে ওতপ্রোতভাবে মিশে রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করেছি যা এই বিষয়ের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮১)
عجائب شواهد التنزيل فعلقت في ذلك ما قدر لي

"ثم قطعت بى قواطع الأيام عن تتميم رومى من ذلك وعملي، فاقتصرت بحكم الاضطرار في هذا الاختصار على توجيه ترتيب السور، وإن لم أر في هذا الضرب شيئا لمن تقدم وغبر، وإنما بدر لبعضهم توجيه ارتباط آيات في مواضع مفترقات، وذلك في الباب أوضح، ومجال الكلام فيه أفسح وأسرخ.

أما تعلق السور على ما ترتبب في الإمام، واتفق عليه الصحابة الأعلام

فمما لم يتعرض له فيما أعلم، ولا قرع أحد هذا الباب ممن تأخر أو تقدم، فإن صلى أحد بعد فهذه الإقامة، أو أتمَّ فمرتبط حتما بهذه الإمامة، فإن أنصف فلابد أن ينشد إذعانا للحق وإنابة:

فلو قَبل مبكاها بَكت صبابة

ولما كمل لي بفضل الله الأمل من جليل هذا العمل، غريبا في بابه، رفيعا

في نصابه، موفى التحرير، معدوم النظير، تحصل بمطالعته العلم اليقين، ويفصح بشهادته أن العاقبة للمتقين، والله ينفع فيه بالنية من مرضاته الأُمنيَّة بمنه ويمنه.
'শাওয়াহিদুত তানজিল'-এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ সম্পর্কে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু লিপিবদ্ধ করেছি।

"তারপর যমানার বিভিন্ন ব্যস্ততা আমাকে আমার সেই লক্ষ্য ও কাজ পূর্ণ করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। ফলে বাধ্য হয়ে আমি এই সংক্ষিপ্তসারে কেবল সূরার বিন্যাস (ترتيب السور) স্পষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম। যদিও আমি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো মাঝে এই পদ্ধতিতে কোনো কাজ দেখিনি; বরং তাদের কারো কারো মাঝে কেবল বিভিন্ন স্থানে আয়াতের মধ্যকার যোগসূত্র (ارتباط آيات) তুলে ধরার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। অথচ বর্তমান বিষয়টি (সূরার বিন্যাস) অধিকতর স্পষ্ট এবং এতে আলোচনার ক্ষেত্র অনেক বেশি প্রশস্ত ও গভীর।

আর মূল পাণ্ডুলিপি (الإمام) অনুযায়ী সূরার যে ক্রম বিন্যস্ত হয়েছে এবং বরেণ্য সাহাবীগণ (الصحابة الأعلام) যে বিষয়ে ঐক্যমত (اتفاق) পোষণ করেছেন, সেই বিন্যাস অনুযায়ী সূরাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের বিষয়টি—

—এমন এক বিষয় যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ আলোচনা করেনি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউই এই দ্বারে কড়া নাড়েনি। এখন যদি এর পরে কেউ নামাজ আদায় করে (অর্থাৎ কাজ শুরু করে) তবে এটিই হবে তার ইকামত (الإقامة), আর যদি কেউ তা পূর্ণতা দান করে তবে তা অবশ্যই এই ইমামতের (الإمامة) সাথে সম্পৃক্ত হবে। যদি কেউ ইনসাফ করে তবে সত্যের প্রতি আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশে সে অবশ্যই এই কবিতাটি আওড়াবে: 'সে কাঁদার আগে যদি আমি অনুরাগে কাঁদতাম...'

আল্লাহর অনুগ্রহে যখন এই মহান কাজের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো, যা তার নিজ ধারায় অনন্য, মানে সমুন্নত, সুনিপুণভাবে সম্পাদিত এবং অতুলনীয়; যা অধ্যয়ন করলে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقين) অর্জিত হয় এবং যার সাক্ষ্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের জন্য। আল্লাহ যেন তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে করা এই কাজের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮২)
‌‌باب التعريف بترتيب السور

وهل ذلك بتوتيف من الشارع صلى الله عليه وسلم أم هو من فعل الصحابة؟

اعلم أولا أن ترتيب الآيات في سورها وقع بتوقيف صلى الله عليه وسلم وأمره من غير خلاف في هذا بين المسلمين، وإنما اختلف في ترتيب السور على ما هي عليه

وكما ثبت في الإمام مصحف عمان بن عفان رضي الله عنه الذي بعث بنسخة إلى الآفاق، وأطبقت الصحابة على موافقة عثمان في ترتيب سوره وعمله فيه، فذهب مالك، والقاضي أبو بكر بن الطيب. فيما اعتمده واستقر عليه مذهبه من قوليه، والجمهور من العلماء، إلى أن تريب السور إنما وقع باجتهاد الصحابة، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم فوض ذلك إلى أمته بعده، وذهبت طائفة من العلماء إلى أن ذلك إنما

وقع بتوقيفه عدوط وأمره، ولكل من الطائفتين جهات تعلق، وكلا القولين والحمد لله لا يقدح في الدين، ولا يثمر إلا اليقين، فأقول مستعينا بالله سبحانه:
সুরাসমূহের বিন্যাসের পরিচিতি অধ্যায়

আর এটি কি শরিয়ত প্রবর্তক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো ঐশী নির্দেশনার (توقيف) মাধ্যমে নির্ধারিত, নাকি এটি সাহাবায়ে কিরামের (الصحابة) কৃত কাজ?

প্রথমেই জেনে রাখুন যে, সুরাগুলোর অভ্যন্তরে আয়াতের বিন্যাস রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঐশী নির্দেশনা (توقيف) এবং নির্দেশের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে—এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ কেবল সুরাগুলোর বর্তমান বিন্যাস পদ্ধতি নিয়ে।

যেমনটি উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলিত প্রামাণ্য মুসহাফে সাব্যস্ত হয়েছে, যার অনুলিপি তিনি বিভিন্ন জনপদে প্রেরণ করেছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (الصحابة) সুরাসমূহের বিন্যাস এবং এই কার্যে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। এমতাবস্থায় ইমাম মালিক, কাজী আবু বকর ইবনুল তায়্যিব (তাঁর দুটি মতের মধ্যে যেটির ওপর তিনি নির্ভর করেছেন এবং তাঁর মাযহাবের সিদ্ধান্ত হিসেবে স্থির হয়েছে), এবং অধিকাংশ পণ্ডিত (جمهور) এই মত পোষণ করেছেন যে, সুরাসমূহের বিন্যাস কেবল সাহাবায়ে কিরামের (الصحابة) স্বাধীন গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরবর্তী উম্মতের ওপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলেন।

অন্যদিকে একদল আলেম মনে করেন যে, এটি কেবল তাঁর ঐশী নির্দেশনা (توقيف) এবং আদেশের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষেরই নিজস্ব দলিলের ভিত্তি রয়েছে। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এই উভয় মতের কোনোটিই দ্বীনের কোনো ক্ষতি করে না এবং এটি কেবল দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) উৎপাদন করে। মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
اعلم أن الأمر في ذلك كيفما قدر فلابد من رعي التناسب، والتفات

التواصل والتجاذب، فإن كان بتوقيف منه صلى الله عليه وسلم، فلا مجال للخصم بعد ذلك التحديد الجليل والرسم، وإن كان مما فوض فيه الأمر إلى الأمة بعده فقد أعمل الكل من الصحابة في ذلك جهده، وهم الأعلياء بعلمه، والمسلم لهم في وعيه وفهمه، والعارفون بأسباب نزول الآيات، ومواقع الكلمات، وإنما ألفوا القرآن على ما

كانوا يسمعونه من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا قول مالك ضي الله عنه في حكاية بعضهم عنه، ومالك أحد القائلين بأن ترتيب السور اجتهاد من المسلمين كما تقدم عنه، فكيف مادار الأمر، فمنه صلى الله عليه وسلم عرف ترتيب السور، وعلى ما سمعوه منه بنوا

جليل ذلك النظر، فإذاً إنما الخلاف هل ذلك يتوقيف قولي أو بمجرد استناد فعلي بحيث بقى لهم فيه مجال للنظر؟ فهذا موضع الخلاف.

فإن قيل إذَا كانوا قد سمعوا منه صلى الله عليه وسلم استقر عليه ترتيبه ففيم إذاً عملوا الأنظار، وأي مجال بقي لهم بعد للاختيار؟

فالجواب أنا قد روينا في صحيح مسلم عن حذيفة رضى الله عنه قال: صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فافتتح

بالبقرة، فقلت يركع عند المائة؟ ثم مضى، فقلت يصلي بها في ركعة، فمضى، فقلت يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، ثم افتتح آل عمران....... الحديث.

فلما كان صلى الله عليه وسلم ربما فعل هذا إرادة التوسعة على الأمة، وبيانا لجليل تلك النعمة، كان محلا للتوقف حتى استقر النظر على وعى من كان من فعله الأكثر

فهذا محل اجتهادهم في المسألة والله اعلم.

ثم يشهد لما بنينا كتابنا هذا عليه ما روينا في مصنف ابن أبي شيبة عن

أناس من أهل المدينة قال الحكم: أرى منهم أبا جعفر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم -
জেনে রাখুন যে, এই বিষয়টি যেভাবে নির্ধারিত হোক না কেন, এতে পারস্পরিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং যোগসূত্র ও আকর্ষণের প্রতি লক্ষ্য রাখা

অপরিহার্য। যদি এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো অপরিবর্তনীয় বিধান (توقيف) হয়, তবে সেই মহান নির্ধারণ ও নকশার পর বিরোধীর আর কোনো অবকাশ থাকে না। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যা তাঁর পরবর্তী উম্মতের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, তবে সাহাবীগণের সকলেই এক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন; অথচ তাঁরা ছিলেন তাঁর ইলমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তাঁদের প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত এবং তাঁরা আয়াতের প্রেক্ষাপট ও শব্দসমূহের প্রয়োগস্থল সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তাঁরা কুরআনকে সেভাবেই সংকলিত করেছেন যেভাবে

তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শ্রবণ করতেন। এটিই ইমাম মালেকের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অভিমত যা তাঁর সম্পর্কে কারো কারো বর্ণনায় পাওয়া যায়; আর ইমাম মালেক হলেন সেই সব আলেমদের একজন যাঁরা মনে করেন যে, সূরার বিন্যাস ছিল মুসলমানদের একটি স্বাধীন গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد), যা ইতিপূর্বে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বিষয়টি যেভাবেই আবর্তিত হোক না কেন, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমেই সূরার বিন্যাস জানা গেছে এবং তাঁরা তাঁর নিকট থেকে যা শুনেছেন তার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছেন

তাঁদের এই মহান দৃষ্টিভঙ্গি। মূলত মতভেদ কেবল এখানেই যে, তা কি কোনো মৌখিক নির্দেশনার (توقيف) মাধ্যমে হয়েছিল, নাকি কেবল কর্মগত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ছিল, যাতে তাঁদের গবেষণার অবকাশ ছিল? এটাই হলো মতবিরোধের মূল জায়গা।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, যেহেতু তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শ্রবণ করেছেন এবং সূরার বিন্যাস সেভাবেই স্থির হয়েছে, তবে কিসের ভিত্তিতে তাঁরা পুনরায় অনুসন্ধান করেছিলেন এবং তাঁদের পছন্দের আর কী সুযোগ অবশিষ্ট ছিল?

এর উত্তর হলো—আমরা সহীহ মুসলিম গ্রন্থে হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: এক রাতে আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি শুরু করলেন

সূরা আল-বাকারা দিয়ে। আমি ভাবলাম, তিনি সম্ভবত একশত আয়াত পড়ে রুকু করবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি সম্ভবত এক রাকাআতে পুরোটা পড়বেন। তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি এবার রুকু করবেন। এরপর তিনি সূরা আন-নিসা শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, তারপর তিনি সূরা আলে ইমরান শুরু করলেন... হাদিস।

যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের জন্য সহজীকরণ এবং এই মহান নিআমতের বর্ণনার খাতিরে মাঝে মাঝে এমনটি করতেন, তাই বিষয়টি অমীমাংসিত ছিল যতক্ষণ না তাঁর অধিকাংশ আমলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে

সুতরাং এটিই এই মাসআলায় তাঁদের স্বাধীন গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্র ছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

অতঃপর আমরা আমাদের এই গ্রন্থটি যে ভিত্তির ওপর রচনা করেছি তার সাক্ষ্য দেয় যা আমরা মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-তে বর্ণনা করেছি

মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে একদল লোক থেকে। হাকাম বলেন: আমি তাঁদের মধ্যে আবু জাফরকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন—
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
يقرأ في الجمعة بسورة الجمعة والمنافقين، فأما سورة الجمعة فيبشر بها المؤمنين

ويحرضهم، وأما صورة المنافقين فيؤيس بها المنافقين ويوبخهم.

وحكى الخطابى أن الصحابة لما اجتمعوا على القرآن، وضعوا سورة القدر

عقيب العلق، واستدلوا بذلك على أن المراد بهاء الكتابة في قوله: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1)

إشارة إلى قوله: اقرأ، قال القاضى أبو بكر بن العربي. وهذا

بديع جدا، قلت: ومن ظن ممن اعتمد القول بأن ترتيب السور اجتهاد من الصحابة

أنهم لم يراعوا في ذلك التناسب والاشتباه فقد سقطت مخاطبته، وإلا فما المراعى

وترتيب النزول غير ملحوظ في ذلك بالقطع، بل هذا معلوم في ترتيب آي اقرآن، الواقع ترتيبها بأمره عليه السلام وتوقيفه بغير خلاف، ألا ترى أن سورة البقرة من المدني

وقد تقدمت سور القرآن بتوقيفه عليه السلام في الصحيح المقطوع به، وتقدم المدني على المكي في ترتيب السور والآي كثير جدا، فإذا سقط تعلق الضمان بترتيب النزول

لم يبق إلى رعي التناسب والاشتباه، وارتباط النظائر والاشباه.
জুমআর নামাজে সূরা আল-জুমআ এবং সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করা হয়। সূরা আল-জুমআর মাধ্যমে মুমিনদের সুসংবাদ প্রদান করা হয়

এবং তাদের উৎসাহিত করা হয়; আর সূরা আল-মুনাফিকুনের মাধ্যমে মুনাফিকদের নিরাশ করা হয় এবং তাদের তিরস্কার করা হয়।

খাত্তাবী বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবীগণ যখন কুরআন সংকলনের জন্য একত্রিত হলেন, তখন তারা সূরা আল-কদরকে

সূরা আল-আলাকের পরপরই স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, 'নিশ্চয়ই আমি তা কদরের রাতে নাযিল করেছি' (১)

এই বাণীতে 'হা' (তা) সর্বনামের মাধ্যমে 'ইকরা' (পড়ুন) আয়াতের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন, এটি

অত্যন্ত চমৎকার। আমি বলি: যারা এই মতের ওপর নির্ভর করে মনে করেন যে, সূরাসমূহের বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد)

এবং তারা এক্ষেত্রে পারস্পরিক সামঞ্জস্য ও সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখেননি, তাদের সাথে বিতর্ক করাই বৃথা। অন্যথায় কীসের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে?

কেননা সূরা অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম যে এখানে নিশ্চিতভাবে অনুসরণ করা হয়নি তা সর্বজনবিদিত। বরং কুরআনের আয়াতসমূহের বিন্যাসের বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে জানা আছে, যা কোনো মতভেদ ছাড়াই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ এবং তাওকিফ (توقيف) বা সুনির্দিষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, সূরা আল-বাকারা মাদানি (مدني) পর্যায়ের হওয়া সত্ত্বেও

তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশের (توقيف) মাধ্যমে কুরআনের অন্যান্য সূরার আগে স্থান পেয়েছে যা সহিহ (صحيح) ও অকাট্য (مقطوع) বর্ণনায় প্রমাণিত? সূরা ও আয়াতের বিন্যাসের ক্ষেত্রে মক্কি (مكي) সূরার আগে মাদানি (مدني) সূরা আসা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। সুতরাং যখন অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি অপসারিত হলো,

তখন সামঞ্জস্য ও সাদৃশ্য রক্ষা এবং সমজাতীয় বিষয়গুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
وتدبر بعقلك وضوح ذلك في عدة سور كالأنفال وبراءة، والطلاق والتحريم، والتكوير والانفطار، والضحى وألم نشرح، والفيل وقريش، والمعوذتين إلى غير هذه السور مما لا يتوقف في وضوحه من له أدنى نظر.

وقد مال القاضى أبو محمد عبد الحق بن عطية. رحمه الله في ترتيب

السور إلى القول بالتفصيل.

وهو أن كثيرا من سور القرآن قد كان علم ترتيبها في

أيامه صلى الله عليه وسلم كالسبع الطوال، والحواميم، والمفصل، وأشار كلامه إلى أن مما سوى ذلك

يمكن أن يكون عليه السلام فوض فيه الأمر إلى الأمة بعده، ولم يقطع القاضى أبو محمد في هذا القسم الثاني بشىء.

وظواهر الآثار شاهدة بصحة ما ذهب إليه في أكثر ما نُص عليه، ثم يبقى بعدُ

قليل من السور يمكن فيها جري الخلاف أو يكون وقع، وإذا كان مستند المسألة النقل لم يصعب خلاف غير أهله، على أن ما مهدناه من المراعاة في الترتيب حاصل لا محالة على كل قول، ولنورد هنا بعض ما يشهد بظاهره من الآثار لما قاله القاضى أبو محمد على ما نطنا به فمن ذلك:

قوله عليه السلام: (اقرأوا الزهراوين: البقرة وآل عمران) . في حديث

خرجه مسلم وغيره، وخرج أيضا قوله صلى الله عليه وسلم: (يؤتى بالقرآن يوم القيامة وأهله الذين كانوا يعملون به تقدمه سورة البقرة وآل عمران.
আর আপনি আপনার মেধা দিয়ে বেশ কিছু সূরায় এর স্পষ্টতা নিয়ে চিন্তা করুন, যেমন: আনফাল ও বারায়াত, তালাক ও তাহরীম, তাকবীর ও ইনফিতার, দুহা ও আলাম নাশরাহ, ফীল ও কুরাইশ এবং মুআওবিজাতাইন সহ আরও অন্যান্য সূরা; যার স্পষ্টতার ব্যাপারে সামান্যতম দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরও কোনো সংশয় থাকবে না।

বিচারক আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক ইবনে আতিয়্যাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূরাসমূহের বিন্যাসের (ترتيب)

ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার মতের দিকে ঝুঁকেছেন।

তা হলো, কুরআনের অনেক সূরার বিন্যাস (ترتيب) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবদ্দশাতেই

নির্ধারিত ছিল, যেমন: সাব’আ তিওয়াল, হা-মীমসমূহ এবং মুফাসসাল। তাঁর বক্তব্য এই ইঙ্গিত প্রদান করে যে, এগুলো বাদে অন্যগুলোর ক্ষেত্রে

হতে পারে তিনি (আলাইহিস সালাম) বিষয়টি তাঁর পরবর্তী উম্মতের ওপর ন্যস্ত করেছেন। তবে বিচারক আবু মুহাম্মদ এই দ্বিতীয় ভাগের ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

অধিকাংশ উদ্ধৃত (نص) বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর এই অভিমতের বিশুদ্ধতার (صحة) সপক্ষে আসার (آثار) সমূহের প্রকাশ্য দিকগুলো সাক্ষ্য প্রদান করে। এরপর স্বল্প কিছু সংখ্যক

সূরা অবশিষ্ট থাকে যেগুলোতে মতভেদ হওয়ার অবকাশ রয়েছে অথবা মতভেদ ঘটেছে। আর যদি মাসআলাটির ভিত্তি বর্ণনা (نقل) এর ওপর হয়, তবে এ শাস্ত্রের অযোগ্যদের দ্বিমত কোনো গুরুত্ব বহন করে না। উপরন্তু, সূরাসমূহের বিন্যাসের (ترتيب) ক্ষেত্রে আমরা যে সামঞ্জস্যের ভিত্তি স্থাপন করেছি, তা প্রতিটি মতেই অনিবার্যভাবে সাব্যস্ত হয়। বিচারক আবু মুহাম্মদ যা বলেছেন, তার সপক্ষে আসার (آثار) সমূহের মধ্য থেকে আমরা এখানে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করব যা বাহ্যিকভাবে এর সাক্ষ্য দেয়; যার সাথে আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট করেছি। তন্মধ্যে রয়েছে:

তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: (তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরা আয-যাহরাওয়াইন অর্থাৎ সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান পাঠ করো।) এটি এমন একটি হাদিস

যা মুসলিম ও অন্যান্য ইমামগণ সংকলন করেছেন। তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণীটিও সংকলন করেছেন: (কিয়ামতের দিন কুরআন এবং এর সেই অনুসারীদের উপস্থিত করা হবে যারা এটি অনুযায়ী আমল করত; যার অগ্রভাগে থাকবে সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান।)
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
وفي مصنف ابن أبى شيبة عن معبد بن خالد. قال: (صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالسبع الطوال في ركعة، وفيه أنه عليه السلام (كان يجمع المفصل في ركعة.

وفي صحيح البخارى عن عبد الرحمن بن زيد قال سمعت عبد الله بن مسعود

يقول في بني إسرائيل والكهف ومريم وطه والأنبياء: إنهن من العتاق الأولى، وهن من تلادى، فذكرها نسقا كما استقر ترتيبها.

وفي صحيح البخارى أيضا عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أوى إلى فراشه كل ليلة جمع كفيه ثم نفث فيهما فقرأ فيهما قل هو الله أحد، وقل أعوذ برب الفلق،وقل أعوذ برب الناس..... الحديث.

وفي المصنف عن عمر أنه قرأ في ركعة واحدة ألم تر كيف فعل ربك

بأصحاب الفيل، ولإيلاف قريش، وروى أنهما في مصحف أبى غير مفصول بينهما
মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বায় মা’বাদ ইবনে খালিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাকাতে সাতটি দীর্ঘ সূরা (السبع الطوال) পাঠ করেছেন। এতে আরও উল্লেখ আছে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) এক রাকাতে মুফাসসাল (المفصل) সূরাগুলো একত্রিত করতেন।

সহিহ বুখারিতে আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে

বনী ইসরাইল, কাহফ, মারইয়াম, ত্বহা এবং আম্বিয়া সূরাগুলো সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এগুলো প্রথম দিককার শ্রেষ্ঠ সূরা এবং এগুলো আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্পদ।" অতঃপর তিনি সূরাগুলোকে সেভাবেই ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন যেভাবে সেগুলোর বিন্যাস নির্ধারিত হয়েছে।

সহিহ বুখারিতে আয়েশা (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালু একত্রিত করতেন, তারপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং তাতে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ', 'কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক' ও 'কুল আউজু বিরাব্বিন নাস' পাঠ করতেন... হাদিস।

মুসান্নাফে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক রাকাতে 'আলাম তারা কাইফা ফা'আলা রাব্বুকা' (সূরা ফীল)

এবং 'লি ইলাফি কুরাইশ' (সূরা কুরাইশ) পাঠ করেছিলেন। বর্ণিত (روى) আছে যে, উবাই (রা.)-এর মাসহাফে এ দুটির মাঝে কোনো বিচ্ছেদ ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
بالبسملة.

قلت والوارد من هذا عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن كبار الصحابة قبل كتب المصحف كثير ومروى من طرق شتى، في أحوال مختلفة، فإن قيل فقد كان يجب على ما أشرت إليه أن يكون القول بالتوقيف أكثر وأشهر، والأمر على خلاف ذلك، فإن مالكا رحمه الله، والقاضى أبا بكر من المتكلمين وأكثر أهل العلم قائلون بأن ترتيب السور اجتهاد من الصحابة وقد مر.

فالجواب أن الآثار المستفيضة والمقطوع به منها، إنما ورد ذلك في الأكثر ولم

يرد فيما بين كل سورتين سورتين، ولا شك أنه إذا بقي بعض ذلك لاجتهادهم ولو فيما بين سورتين، جرى المقول المشهور عليه وصح اعتماده، ثم أن الآثار إنما وقعت بفعل، لا بقول وأمر يحصل منه الوقيف. فإذا قد آل الأمر إلى أن تلك الآثار هي مستند اجتهادهم وأصل اتفاقهم، وهذا أراد مالك رحمه الله بقوله: وإنما

ألفوا القران على ما كانوا يسمعونه من رسول الله عز وجل، وهذا القدر كاف في المقصود، والحمد لله رب العالمين.

‌‌سورة أم القرآن

قد ذكر الناس كيفية تضمنها مجملا لما تفصل في الكتاب العزيز
বিসমিল্লাহর মাধ্যমে (শুরু করছি)।

আমি বলছি, মুসহাফ সংকলিত হওয়ার পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং প্রবীণ সাহাবীদের থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তা সংখ্যায় অনেক এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নানা সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে। যদি বলা হয় যে, আমি যা ইঙ্গিত করেছি সেই অনুযায়ী সূরার বিন্যাস ওহীনির্ভর (توقيف) হওয়ার বিষয়টিই অধিকতর ও প্রসিদ্ধ হওয়া আবশ্যক ছিল, অথচ বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা ইমাম মালিক (রহ.), মুতাকাল্লিমদের মধ্যে কাজী আবু বকর এবং অধিকাংশ আলেম এ কথা বলেন যে, সূরার বিন্যাস সাহাবীদের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) সিদ্ধান্ত ছিল, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর উত্তর হলো, এই বিষয়ে যে সকল সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) এবং অকাট্য (مقطوع) বর্ণনা এসেছে, তা অধিকাংশ সূরার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; কিন্তু

প্রতিটি সূরার মধ্যবর্তী বিন্যাসের ক্ষেত্রে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যদি এর কিছু অংশও তাঁদের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়—চাই তা দুটি সূরার মধ্যবর্তী বিন্যাসই হোক না কেন—তবেই প্রসিদ্ধ মতটি প্রচলিত হয়েছে এবং এর ওপর নির্ভর করা সঠিক হয়েছে। তদুপরি, এই আছার (آثار) বা বর্ণনাগুলো মূলত কর্মের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো মৌখিক বাণী বা আদেশের মাধ্যমে নয় যা দ্বারা ওহীনির্ভরতা (توقيف) সাব্যস্ত হয়। সুতরাং বিষয়টি এই দাঁড়ালো যে, ওই সকল আছার (آثار) মূলত তাঁদের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং তাঁদের ঐকমত্যের মূল উৎস ছিল। ইমাম মালিক (রহ.) তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন: মূলত

তাঁরা কুরআনকে সেভাবেই বিন্যস্ত করেছেন যেভাবে তাঁরা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে শুনতেন। আর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

‌‌সূরা উম্মুল কুরআন

পবিত্র কিতাবে যা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, এই সূরাটি কীভাবে সংক্ষেপে সেই বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, আলেমগণ তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
بجملته.

وهو أوضح وجه في تقدمها سوره الكريمة. ثم هي مما يلزم المسلمين

حفظه، ولابد للمصلين من قرائتها، ثم افتتاحها بحمد الله سبحانه. وقد

شرع في ابتداءات الأمور، وأوضح الشرع فضل ذلك وأخذ به كل خطيب

ومتكلم، وفيها تعقيب الحمد لله سبحانه بذكر صفاته الحسنى والإشارة إلى إرسال الرسل في قوله، "اهدنا" وقوله "صراط الذين أنعمت عليهم "، وقد قال تعالى: "أولئك الذين هدى الله فبهداهم اقتده (الأنعام 95) وذكر افتراق الخلق بذكر المهتدين، وذكر المغضوب عليهم ولا الضالين، وإن ملاك الهدى بيده، "وإياك نستعين " وهذا كله أشفى شيء في بيان التقديم.
সামগ্রিকভাবে।

সম্মানিত সূরাসমূহের মধ্যে এর অগ্রগণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বাধিক স্পষ্ট দিক। তদুপরি, এটি এমন একটি বিষয় যা মুখস্থ করা মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য,

এবং সালাত আদায়কারীদের জন্য এটি পাঠ করা আবশ্যক। অতঃপর মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে এর সূচনা হওয়া। আর এটিই সকল বিষয়ের প্রারম্ভে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং শরিয়ত এর ফযিলত স্পষ্ট করেছে এবং প্রত্যেক খতিব

ও আলোচক তা গ্রহণ করেছেন। এতে মহান আল্লাহর প্রশংসার অনুবর্তী হিসেবে তাঁর সুন্দর গুণাবলি এবং তাঁর বাণী "আমাদের পথ প্রদর্শন করুন" ও "তাদের পথ যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন"-এর মাধ্যমে রাসুল প্রেরণের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। আর মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারাই তারা, যাদের আল্লাহ হেদায়াত দিয়েছেন, সুতরাং তাদের হেদায়াতই অনুসরণ করুন" (আল-আনআম ৯৫)। এতে হেদায়াতপ্রাপ্তদের বর্ণনার মাধ্যমে সৃষ্টির বিভক্তি এবং যাদের ওপর অভিশাপ বর্ষিত হয়েছে ও যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই হেদায়াতের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে—"এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই"। আর এই সবকিছুই অগ্রগণ্য হওয়ার বর্ণনায় সবচেয়ে সন্তোষজনক বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯০)
‌‌سورة البقرة

لما قال العبد بتوفيق ربه "اهدنا الصراط المستقيم " قيل له: "ذلك الكتاب

لا ريب فيه " (آية 2) هو مطلوبك وفيه أربك، وهو الصراط المستقيم "هدى للمتقين " (آية 2) القائلين اهدنا الصراط المستقيم والخائفين من حال الفريقين المغضوب عليهم ولا الضالين، فاتخذوا وقاية من العذاب خوف ربهم وتقواه بامتثال أمره ونهيه، ثم أشير من الأعمال إلى ما يستحق سائرها من قبيلي البدنيات والماليات بيانا للصراط المستقيم فقيل في وصف المتقين أنهم (الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (3)

وحصل من هذا حصر الفعل والترك الضابطين لجميع الأعمال كيف ما تشعبت، في مهد التفسير عند ضم ما ورد هنا

إلى قوله: "إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ" (العنكبوت 43)

ووقع الفعل صريحا والترك إيماء للتناسب المبين حيث ذكر، ثم بين لهم قدر النعمة عليهم في طلب الهدى من الله في قولهم "اهدنا" قيل: "إن الذين كفروا.... الآية.
সূরা আল-বাকারাহ

যখন বান্দা তার রবের তাওফিকে বলল "আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন", তখন তাকে বলা হলো: "এটি সেই কিতাব

যাতে কোনো সন্দেহ নেই" (আয়াত ২); এটিই আপনার কাম্য এবং এতেই আপনার উদ্দেশ্য নিহিত, আর এটিই সেই সরল পথ যা "মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক" (আয়াত ২)। যারা "আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন" বলে এবং যারা (আল্লাহর) ক্রোধের শিকার ও পথভ্রষ্ট—এই উভয় দলের অবস্থা থেকে ভীত; ফলে তারা তাদের রবের ভয় ও তাকওয়ার মাধ্যমে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের মাধ্যমে আজাব থেকে রক্ষার উপায় অবলম্বন করেছে। অতঃপর সরল পথের ব্যাখ্যাস্বরূপ আমলসমূহের মধ্য থেকে শারীরিক ও আর্থিক উভয় প্রকারের এমন আমলসমূহের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যা অন্য সব আমলকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে। তাই মুত্তাকিদের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তারা হলো (যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে) (৩)।

এবং এর মাধ্যমে করণীয় ও বর্জনীয় কার্যাবলির একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা অর্জিত হয় যা সমস্ত আমলকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা যেভাবেই শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হোক না কেন; এটি তাফসিরের প্রারম্ভিক পর্যায়ে স্পষ্ট হয় যখন এখানে বর্ণিত বিষয়কে আল্লাহর এই বাণীর সাথে যুক্ত করা হয়

আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে বিরত রাখে" (আল-আনকাবুত ৪৩)

এবং এখানে করণীয় বিষয়টি স্পষ্টভাবে এবং বর্জনীয় বিষয়টি ইঙ্গিতস্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে যাতে বর্ণিত স্থানে যথাযথ সামঞ্জস্য বজায় থাকে। অতঃপর "আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন" বলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হেদায়েত প্রার্থনার ক্ষেত্রে তাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে... (আয়াত)।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯১)
ليعلموا أن الهدى من عنده فيلحوا في الطلب ويتبرؤوا من ادعاء حول

أو قوة.

تم نبهوا على الإخلاص، وأن يكون قولهم "اهدنا الصراط " صادرا عن يقين

وإخلاص حتى لا يشبهوا من يقول: "آمنا بالله وباليوم الآخر وما هم بمومنين "، وبسط لهم حال هؤلاء في ثلاث عشرة آية ما يوضح لهم طريق

الهدى الواضح، إذ حذروا من شكك هؤلاء وحيرتهم فقالوا: اهدنا عن يقين

وإخلاص، ثم أعقب ذلك الدلائل المشاهدة من جعل الأرض فراشا والسماء بناء وإنزال الماء وإخراج النبات وذلك كله أمر مشاهد يصل إليه كل عاقل بأول وهلة.

ثم أعقب بابتداء الخلق وهو قوله تعالى: (وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً)

وذلك كله مبين لقوله "رب العالمين ملك يوم الدين " إذ من البدأة تعلم العودة لمن تدبر، وقد نبه تعالى بتكرر النبات.

ثم ذكر أحوال بني إسرائيل وإمهالهم على مرتكباتهم ومعاملتهم بالعفو والإقالة

وذلك مبين سعة رحمته، وأعلم تعالى أن أفعالهم تلك مما أعقبهم أن "ضربت عليهم الذلة والمسكنة وباؤوا بغضب من الله " (البقرة: 61) تحذيرا لمن طلب سلوك الطريق المستقيم من حالهم، وإعلاما لعباده أن المتقين المستجاب لهم عند قولهم "اهدنا" ليسوا في شيء من ذلك لأنهم قالوا اهدنا عن يقين وإخلاص متبرين من المساوىء.

ثم أعقب تعالى تفصيل أحوال هؤلاء بقوله: "وإذا ابتلى إبراهيم ربه

بكلمات فأتمهن "البقرة 124) ليبين أحوال المصطفى من أهل الصراط المستقيم فأنبأ تعالى بحال إبراهيم، وإتمام ما ابتلاه به من غير توقف ولا بحث عن علة، وهي أسنى أحوال العباد، وفي طرف من حال من قدم من بني إسرائيل وهذا الموضع مما يعضد ما ظهر في قصة أمر بنى إسرائيل في ذبح البقرة من وجوه الحكمة،

فتوقفوا وشددوا بعد إسائتهم الأدب مع نببهم فأورثهم ذلك نكالا وبعدا.
যাতে তারা জানতে পারে যে হেদায়েত তাঁর পক্ষ থেকেই আসে, ফলে তারা প্রার্থনায় অত্যন্ত বিনয় ও ব্যাকুলতা প্রকাশ করে এবং কোনো শক্তি বা সামর্থ্যের দাবি থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করে।

অতঃপর একনিষ্ঠতা (إخلاص)-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, আর এই বিষয়টি যে তাদের 'আমাদের সঠিক পথ দেখান' (اهدنا الصراط) উক্তিটি যেন দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) এবং একনিষ্ঠতা (إخلاص) থেকে উৎসারিত হয়, যাতে তারা তাদের সদৃশ না হয় যারা বলে: 'আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়।' আর এই শ্রেণির লোকদের অবস্থা তেরটি আয়াতে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা হেদায়েতের সুস্পষ্ট পথকে ব্যাখ্যা করে। যেহেতু তাদের সংশয় ও বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাই তারা বলেছে: আমরা দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) ও একনিষ্ঠতা (إخلاص)-এর সাথে হেদায়েত প্রার্থনা করি। অতঃপর এর অনুগামী হিসেবে প্রত্যক্ষ নিদর্শনসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন জমিনকে বিছানা হিসেবে প্রস্তুত করা, আকাশকে ছাদ হিসেবে নির্মাণ করা, পানি বর্ষণ করা এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করা—যা এমন সব প্রত্যক্ষ বিষয় যা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি প্রথম দর্শনেই অনুধাবন করতে পারে।

এরপর সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা মহান আল্লাহর বাণী: 'আর যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (خليفة) নিযুক্ত করতে যাচ্ছি।' এই সবকিছুই 'বিশ্বজগতের প্রতিপালক, বিচার দিবসের মালিক'—এই বাণীর ব্যাখ্যাস্বরূপ। কেননা যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করে, সে সৃষ্টির সূচনা থেকেই পুনরুত্থান সম্পর্কে জানতে পারে। আর মহান আল্লাহ উদ্ভিদের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেও বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

অতঃপর বনী ইসরাঈলের অবস্থা এবং তাদের অপরাধ সত্ত্বেও তাদের অবকাশ প্রদান এবং ক্ষমা ও মার্জনার সাথে তাদের সাথে আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর রহমতের প্রশস্ততাকে প্রকাশ করে। মহান আল্লাহ আরও জানিয়েছেন যে, তাদের কৃতকর্মই তাদের জন্য এই পরিণাম নিয়ে এসেছে যে, 'তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়েছে' (বাকারা: ৬১)। এটি তাদের অবস্থা থেকে সতর্ক করার জন্য যারা সরল সঠিক পথ (الصراط المستقيم) অনুসরণের অন্বেষী। আর এটি তাঁর বান্দাদের জানানোর জন্য যে, মুত্তাকি (المتقين) যাদের 'আমাদের পথ দেখান' প্রার্থনায় সাড়াপ্রাপ্ত হয়, তারা সেই মন্দ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তারা দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) ও একনিষ্ঠতা (إخلاص)-এর সাথে এবং সমস্ত মন্দ থেকে মুক্ত হয়ে হেদায়েত প্রার্থনা করেছে।

এরপর মহান আল্লাহ তাদের অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এই বাণীর মাধ্যমে: 'আর যখন ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কালিমা দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন' (বাকারা: ১২৪), যাতে সরল সঠিক পথ (الصراط المستقيم)-প্রাপ্তদের মধ্যে যারা মনোনীত (مصطفى) তাদের অবস্থা বর্ণনা করা যায়। মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর অবস্থা এবং কোনো দ্বিধা বা কারণ অনুসন্ধান ছাড়াই তাঁর ওপর অর্পিত পরীক্ষার পূর্ণতা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যা বান্দাদের সর্বোত্তম অবস্থা। এটি বনী ইসরাঈলের পূর্ববর্তী আচরণের বিপরীত দিক। এই বিষয়টি বনী ইসরাঈলের গরু জবাই করার নির্দেশের ঘটনায় প্রকাশিত হিকমতের দিকগুলোকে সমর্থন করে।

তারা তাদের নবীর সাথে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের পর দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং কঠোরতা অবলম্বন করেছিল, যার ফলে তারা নজিরমূলক শাস্তি ও আল্লাহর রহমত থেকে দূরত্বের শিকার হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯২)
فالصراط المستقيم حال إبراهيم عليه السلام ومن ذكر من الأنبياء والرسل

"أولئك الذين هدى الله " (الأنعام 95) وهم المنعم عليهم.

ثم أعقب ذلك بما نسبوا لإبراهيم وبنيه المصطفين بعد أن بين حاله فقال:

"أم يقولون أن إبراهيم … الآية (البقرة: 140) وبين فساد اليهودية والنصرانية وبرأ نبيه إبراهيم والأنبياء عن ذلك، وأوضح أن الصراط المستقيم هو ما كانوا عليه لا اليهودية ولا النصرانية.

ثم ذكرهم بوحدانيته تعالى "وإلهكم إله واحد" (البقرة: 163) ثم نبه على

الاعتبار ودلائل التوحيد، وبين حال من اعتمد سواه جل وتعالى فقال: "إذ تبرأ الذين اتبعوا من الذين اتبعوا" (البقرة: 166) وبين سوء حال المشركين وأنهم لاحقون باليهود والنصارى في انحرافهم عن الصراط المستقيم وحيدتهم عن الجادة، ووقع تنبيه هؤلاء بدون ما ضمنه تنبيه بنى إسرائيل من التقريع والتوبيخ لفرقان ما بينهم لأن كفر هؤلاء تعنيت بعد مشاهدة الآيات "وجعلنا قلوبهم قاسية".

ومتى بين شيء في الكتاب العزيز من أحوال النصارى فليس على ما ورد

مثله في (بني إشرائيل) لا ذكر، وخطاب مشركي العرب فيما أشير إليه دون

خطاب الفريقين إذ قد تقدم لهم (ذكر) ما لم يتقدم للعرب، وبشروا في. كتبهم وليس لمشركي العرب (مثل ذلك) ، والزيغ عن الهدى شامل للكل، وليسوا في شيء من الصراط المستقيم، مع أن أسؤا الأحوال حال من أضله الله على علم) .. وإن الذين اختلفوا في الكتاب لفى شقاق بعيد (البقرة: 176 (.

وهنا انتهى ذكر ما حذر منه ونهى عنه من أراد سلوك الصراط المستقيم،

وبيان حال من حاد عنه وتنكبه، وظن أنه على شىء، وضم مفترق أصناف الزائغين في
সরল পথ (الصراط المستقيم) হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং উল্লিখিত নবী ও রাসূলগণের অবস্থা।

"এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন" (আল-আনআম: ৯৫) এবং তাঁরাই অনুগ্রহপ্রাপ্ত (المنعم عليهم)।

অতঃপর তাঁর অবস্থা বর্ণনা করার পর, তারা ইব্রাহিম ও তাঁর মনোনীত (المصطفين) সন্তানদের ওপর যা আরোপ করেছিল তা অনুসরণ করে তিনি বললেন:

"নাকি তোমরা বলছ যে ইব্রাহিম … আয়াত (আল-বাকারাহ: ১৪০)। তিনি ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের ভ্রষ্টতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নবী ইব্রাহিম ও অন্যান্য নবীগণকে তা থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরল পথ (الصراط المستقيم) হলো তা যার ওপর তাঁরা ছিলেন, ইহুদি বা খ্রিষ্টধর্ম নয়।

অতঃপর তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহর একত্ববাদ (وحدانية) স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: "তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ" (আল-বাকারাহ: ১৬৩)। এরপর তিনি

শিক্ষা গ্রহণ এবং তাওহীদের (التوحيد) প্রমাণাদির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর যারা মহামহিমান্বিত আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ওপর নির্ভর করেছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করে তিনি বলেছেন: "যখন অনুসারিতরা অনুসারীদের থেকে সম্পর্কহীন (تبرأ) হবে" (আল-বাকারাহ: ১৬৬)। তিনি মুশরিকদের শোচনীয় অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, সরল পথ (الصراط المستقيم) থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং সঠিক পথ (الجادة) থেকে সরে যাওয়ার (حيدة) ক্ষেত্রে তারা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের অনুগামী। তাদের প্রতি এই সতর্কবাণী বনী ইসরাঈলের প্রতি করা তিরস্কার ও ভর্ৎসনার মতো কঠোর ছিল না, কারণ তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কেননা এই লোকদের কুফর (كفر) ছিল নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করার পর একগুঁয়েমিপূর্ণ, "আর আমি তাদের অন্তরসমূহ কঠোর (قاسية) করে দিয়েছি"।

যখনই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে খ্রিষ্টানদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করা হয়েছে, তা বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা এসেছে

তার অনুরূপ নয় এবং উল্লেখের (ذكر) দিক থেকেও এক নয়। আর উল্লিখিত বিষয়ে আরবের মুশরিকদের প্রতি সম্বোধন ঐ

দুই দলের প্রতি সম্বোধনের মতো নয়, কারণ তাদের জন্য এমন বিষয়ের উল্লেখ (ذكر) আগে এসেছিল যা আরবদের জন্য আসেনি। তাদের কিতাবসমূহে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল যা আরবের মুশরিকদের জন্য ছিল না (অনুরূপ কিছু)। হিদায়াত থেকে বিচ্যুতি (الزيغ) সকলের জন্যই অন্তর্ভুক্ত এবং তারা সরল পথের (الصراط المستقيم) কোনো কিছুর ওপর নেই। অথচ সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থা হলো তার যাকে আল্লাহ জেনেশুনে বিভ্রান্ত করেছেন। "নিশ্চয়ই যারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদ করেছে তারা সুদূর বিরোধে (شقاق) লিপ্ত" (আল-বাকারাহ: ১৭৬)।

যারা সরল পথে (الصراط المستقيم) চলতে চায় তাদের জন্য যা থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তার আলোচনা এখানে সমাপ্ত হলো।

আর যারা এ পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং ধারণা করেছে যে তারা সঠিক কোনো ভিত্তির ওপর আছে, তাদের অবস্থা বর্ণনা এবং পথভ্রষ্টদের (الزائغين) বিভিন্ন শ্রেণির সমাহার এখানে সমাপ্ত হলো...
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
أصناف ثلاثة وهم: اليهود، والنصارى، وأهل الشرك، وبهم يلحق سائر من تنكب فيلحق باليهود منافقو أمتنا ممن ارتاب بعد إظهار إيمانه وفَعل أفاعيلهم من المكر والخديعة والاستهزاء، ويلحق بالنصارى من اتصف بأحوالهم، وبالمشركين من جعل لله ندا (أو اعتقد) فعلا لغيره تعالى على غير طريقة الكسب، والمجوس لاحقون بأهل الشرك، والشرك أكثر هذه الطرق السيئة تشعبا، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم:

"الشرك في أمتي أخفى من دبيب النمل "،

ومن فعل أفعال من ذكر ولم ينته به الأمر إلى مفارقة دينه والخروج في شيء من اعتقاده خيف عليه أن يكون ذلك وسيلة إلى اللحوق بمن تشبه به وإلى هذا أشار عليه السلام بقوله "أربع من كن فيه كان منافقا خالصا".

إلى أشباه هذا من الأحاديث.

ثم ذكر تعالى من أول آية "ليس البر" (177) ما لزم - المتقين لما بين لهم ما

هو خروج عن الصراط المستقيم، وحذروا منها عقب ذكر ما يلزمهم، فابتدىء من هناك بذكر الأحكام إلى قوله: "آمن الرسول " خاتمة السور، وفصل لهم كثيرا مما كلفوه، فذكر الإيمان وفصل تفصيلا لم يتقدم، وأعقب بذكر الصدقة وموقعها على التفصيل، وفي ذكر إتيان المال عقب الإيمان إشعارا بما فيه السلامة من فتنة المال

"إنما أموالكم وأولاكم فتنة" التغابن: 15) ، وإشارة من الآية إلى أنه يبعد حب المال بل يستحيل وجوده ممن أحب الله سبحانه، وأن محبة الله تعالى تهون عليه كل شىء "لا تمدن عينيك.... إلى "لا نسألك رزقا" (طه: 131 - 132) ، ثم ذكر الزكاة والصيام والحج والجهاد إلى غير ذلك من الأحكام كالنكاح والطلاق والعدد والحيض والرضاع والحدود والربا والبيوع إلى ما تخلل هذه الآيات من تفاصيل
তিনটি শ্রেণী রয়েছে, আর তারা হলো: ইহুদি, খ্রিস্টান এবং শিরককারীগণ (أهل الشرك); আর তাদের সাথেই তারা সংযুক্ত হবে যারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ইহুদিদের সাথে আমাদের উম্মতের সেই সকল মুনাফিকগণ (منافقون) যুক্ত হবে যারা ঈমান প্রকাশের পর সন্দেহে পতিত হয়েছে এবং তাদের (ইহুদিদের) ন্যায় চাতুর্য, প্রতারণা ও উপহাসের অপকর্মসমূহ সম্পাদন করেছে। খ্রিস্টানদের সাথে তারা যুক্ত হবে যারা তাদের অবস্থার সাথে বিশেষিত হয়েছে। আর মুশরিকদের (مشركون) সাথে তারা যুক্ত হবে যারা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করেছে (অথবা বিশ্বাস করেছে) যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যেরও স্বাধীন কার্যক্ষমতা রয়েছে যা মানুষের অর্জিত পন্থার বহির্ভূত। অগ্নিপূজকরাও শিরককারীগণের (أهل الشرك) অন্তর্ভুক্ত। আর এই সকল মন্দ পথের মধ্যে শিরক (شرك) হলো সর্বাধিক শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমার উম্মতের মধ্যে শিরক (شرك) পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও অধিক গোপন।"

আর যে ব্যক্তি উল্লিখিত ব্যক্তিদের ন্যায় কাজ করল কিন্তু তার বিষয়টি দ্বীন ত্যাগ করা এবং বিশ্বাসের কোনো কিছু থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত পৌঁছালো না, তবে তার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে, তা সদৃশ ব্যক্তিদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। এই দিকেই রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "যার মধ্যে চারটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক (منافق خالص) হিসেবে গণ্য হবে।"

এই জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

এরপর আল্লাহ তাআলা "পুণ্য এটি নয়" (১৭৭) আয়াতের প্রারম্ভ থেকে মুত্তাকীদের জন্য যা অপরিহার্য তা উল্লেখ করেছেন, যেহেতু তিনি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে কোনটি সরল পথ থেকে বিচ্যুতি; এবং তাদের জন্য যা আবশ্যক তা বর্ণনার পরপরই সেই বিচ্যুতি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। অতঃপর সেখান থেকে শুরু করে সূরার সমাপ্তি "রাসূল ঈমান এনেছেন" আয়াত পর্যন্ত বিধিবিধানের বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের ওপর যা কিছু অর্পণ করা হয়েছে তার অনেক কিছুই এখানে বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে। এতে ঈমানের আলোচনা করা হয়েছে এবং এমন বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়নি। এরপর সদকা এবং এর ক্ষেত্রসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঈমানের বর্ণনার পরপরই সম্পদ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পদের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে—"নিশ্চয়ই তোমাদের সম্পদ ও সন্তানসন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা মাত্র" (আত-তাগাবুন: ১৫)। আয়াতটি থেকে এও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সম্পদের ভালোবাসা ও আল্লাহর ভালোবাসা এক হৃদয়ে একত্র হওয়া সুদূরপরাহত, বরং যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভালোবাসে তার জন্য সম্পদের মোহ থাকা অসম্ভব। আল্লাহর মহব্বত ব্যক্তির নিকট প্রতিটি বিষয়কে সহজ করে দেয়—"আপনি আপনার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করবেন না... আমি আপনার নিকট রিজিক চাই না" (ত্বহা: ১৩১-১৩২)। এরপর জাকাত, সিয়াম, হজ এবং জিহাদসহ অন্যান্য বিধানাবলি যেমন—বিবাহ, তালাক, ইদ্দত, হায়েয, দুগ্ধপান, হদ, সুদ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়গুলো এই আয়াতগুলোর ব্যবধানে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
الأحكام ومجملها، وقدم منها الوفاء بالعهد والصبر، لأن ذلك يحتاجِ إليه في كل الأعمال، وما تخلل هذه الآيات من لدن قوله: "وليس البر" إلى قوله "آمن الرسول "

مما ليس من قبيل الإلزام. والتكليف فلسبب أوجب ذكره

ولتعلق أو نسق استدعاه

ولما بين سبحانه أن الكتاب هو الصراط المستقيم، وذكر افتراق الأمم

كما شاء، وأحوال الزائغين والمتنكبين تحذيرا من حالهم ونهيا عن مرتكبهم وحصل قبيل التروك بجملته وانحصار التاركين، وأعقب بذكر ملتزمات المتقين وما ينبغي لهم امتثاله والأخذ به من الأوامر والأحكام والحدود، أعقب ذلك بأن المرء يجب أن ينطوي على ذلك ويسلم الأمر لمالكه فقال تعالى: "آمن الرسول "

فاعلم أن هذا إيمان الرسول ومن كان معه على إيمانه وأنهم قالوا:.

"سمعنا وأطعنا"

لا كقول بني إسرائيل "سمعنا عصينا"

وأنه أثابهم على إيمانهم برفع الإصر والمشقة والمؤاخذة بالخطأ والنسيان عنهم فقال: "لا يكلف الله نفسا إلا وسعها"

فحصل من هذه السورة بأسرها بيان الصراط المستقيم على الاستيفاء والكمال.

أخذا وتركا، وبيان شرف من أخذ به، وسوء حال من تنكب عنه، وكأن العباد لما عُلِّموا (أن يقولوا) اهدنا الصراط المستقيم إلى آخر السورة قيل لهم عليكم بالكتاب إجابة لسؤالهم، ثم - بين لهم حال من سلك ما طلبوه، فكان قد قيل لهم أهل الصراط المستقيم وسالكوه هم الذين من شأنهم وأمرهم، والمغضوب عليهم من المتنكبين هم اليهود الذين من أمرهم وشأنهم، والضالون هم النصارى الذين من شأنهم وأمرهم.
বিধানসমূহ এবং সেগুলোর সারসংক্ষেপ; তন্মধ্যে অঙ্গীকার পূরণ ও ধৈর্যকে অগ্রগণ্য করা হয়েছে, কারণ সকল আমলের ক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। 'পুণ্য কেবল এটিই নয়' বাণী থেকে শুরু করে 'রাসূল ঈমান এনেছেন' পর্যন্ত যা কিছু এই আয়াতগুলোর মধ্যে সন্নিবেশিত হয়েছে

তা মূলত বাধ্যবাধকতা ও দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং বিশেষ কারণে সেগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক হয়েছে

এবং সংশ্লিষ্টতা বা প্রাসঙ্গিকতার দাবি অনুযায়ী তা আনা হয়েছে।

মহান আল্লাহ যখন স্পষ্ট করেছেন যে এই কিতাবই হলো সরল পথ, এবং উম্মতদের বিভক্তির কথা উল্লেখ করেছেন

তাঁর ইচ্ছানুযায়ী, এবং পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুতদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন তাদের অবস্থা থেকে সতর্ক করার জন্য এবং তাদের কৃতকর্ম থেকে বারণ করার জন্য। বর্জনীয় বিষয়সমূহের সামগ্রিক প্রকারভেদ এবং বর্জনকারীদের সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করার পর তিনি মুত্তাকীদের আবশ্যিক কার্যাবলি এবং আদেশ, বিধান ও সীমারেখার মধ্য থেকে তাদের যা অনুসরণ ও গ্রহণ করা উচিত তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে মানুষের উচিত এই বিষয়গুলো অন্তরে ধারণ করা এবং সমস্ত বিষয় তার মালিকের নিকট সমর্পণ করা। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল ঈমান এনেছেন"

সুতরাং জেনে রাখুন, এটি হলো রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা ছিলেন তাদের ঈমান, এবং তারা বলেছিলেন:

"আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি"

বনী ইসরাঈলদের "আমরা শুনেছি এবং অমান্য করেছি" বলার মতো নয়।

এবং তিনি তাদের ঈমানের বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে গুরুভার, কষ্ট এবং ভুল ও বিস্মৃতিবশত কৃত কার্যের পাকড়াও উঠিয়ে নিয়ে তাদের পুরস্কৃত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।"

ফলে সমগ্র এই সূরা থেকে সরল পথের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত বর্ণনা অর্জিত হয়েছে।

তা গ্রহণ ও বর্জন উভয় দিক থেকেই; আর যারা এটি গ্রহণ করেছে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং যারা এটি থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের করুণ অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। বান্দাদের যখন শেখানো হলো (যেন তারা বলে) "আমাদের সরল পথ দেখান" সূরার শেষ পর্যন্ত, তখন যেন তাদের প্রার্থনার উত্তরে বলা হলো যে তোমরা এই কিতাব আঁকড়ে ধরো। এরপর তাদের সামনে সেই পথের পথিকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যা তারা প্রার্থনা করেছিল। ফলে তাদের বলা হয়েছে যে, সরল পথের অধিকারী ও এর পথিকরা তারাই যাদের বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা এমন; আর বিচ্যুত ও যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে তারা হলো ইহুদি সম্প্রদায় যাদের অবস্থা ও পরিচয় এমন; এবং পথভ্রষ্টরা হলো নাসারা সম্প্রদায় যাদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য এমন।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
فيجب على من رغب في سلوك الصراط المستقيم أن يحذر ما أصاب هؤلاء

مما نبه عليه وأن يأخذ نفسه بكذا وكذا، وأن (ينسحب إيمانه) على كل ذلك

وأن يسلم الأمر لله الذي يَطلب منه الهداية ويتضرع إليه بأن لا يواخذه لما

يثمره الخطأ والنسيان وألا يُحمله ما ليس في وسعه وأن يعفو عنه إلى آخر السؤال.

‌‌سورة آل عمران

اتصالها بسورة البقرة والله أعلم من جهات:

إحداها ما تبين في صدر السورة مما هو إحالة على ما ضمن في سورة

البقرة بأسرها.
সুতরাং যারা সরল পথে চলার আকাঙ্ক্ষা করেন, তাদের জন্য ওই সব বিষয় থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক যা এদের ওপর আপতিত হয়েছিল

যে সম্পর্কে তাকে সতর্ক করা হয়েছে; আর সে যেন নিজেকে অমুক অমুক বিষয়ে অভ্যস্ত করে এবং তার ঈমান যেন এই সবকিছুর ওপর পরিব্যপ্ত হয়।

আর সে যেন সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করে, যাঁর নিকট সে হিদায়াত প্রার্থনা করে এবং তাঁর কাছে বিনীত ফরিয়াদ জানায় যেন তিনি তাকে পাকড়াও না করেন সেই সবকিছুর জন্য যা

ভুল ও বিস্মৃতির ফলশ্রুতি, এবং তার ওপর যেন এমন বোঝা চাপিয়ে না দেওয়া হয় যা তার সাধ্যাতীত এবং তাকে যেন ক্ষমা করা হয়— দোয়ার শেষ পর্যন্ত।

সুরা আল-ইমরান

সুরা বাকারার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ, কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:

তার একটি হলো সূরার প্রারম্ভে যা স্পষ্ট হয়েছে, যা সমগ্র সুরা বাকারার অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির প্রতি এক প্রকার দিক-নির্দেশ।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
ثانيها الإشارة في صدر السورة أيضا إلى أن الصراط المستقيم قد بين

شأنه لمن تقدم في كتبهم، وأن هذا (الكتاب) جاء مصدقا لها

(نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ (3) مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ)

ليبين لأمة محمد صلى الله عليه وسلم، أن من تقدمهم قد بين لهم "وما

كنا معذبين حتى نبعث رسولا".

والثالثة قصة عيسى عليه السلام، وابتداء أمره من غير أب والاعتبار به

نظير الاعتبار بآدم عليه السلام، ولهذا أشار قوله تعالى: "إن مثل عيسى عند الله كمثل آدم (آل عمران: 39) كما اتبعت قصة آدم بذكر بني إسرائيل لوقوففم من تلك القصة. على ما لم تكن العرب تعرفه وأنذروا وحذروا، واتبعت أيضا قصة عيسى عليه السلام بذكر الحواريين وأمر النصارى إلى آية المباهلة حسبما نبسط بعد، ولنبين وجه الانفصال من صدر السورة فأقول مستعينا بالله.

إن قوله سبحانه: نزل عليك الكتاب "بيان لحال الكتاب الذى هو هدى للمتقين ولما بين افتراق الأمم بحسب السابقة إلى أصناف ثلاثة، وذكر من تعنيت بني
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সূরার প্রারম্ভে এ দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সরল পথ (الصراط المستقيم)-এর বৈশিষ্ট্য তাদের কিতাবসমূহে পূর্ববর্তীদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে এবং এই (কিতাব) সেগুলোর সত্যায়নকারী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।

যাতে তাঁর মাহাত্ম্য পূর্ববর্তীদের নিকট স্পষ্ট হয় এবং এটি প্রমাণিত হয় যে এই কিতাব পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী

(তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী; আর তিনি তাওরাত ও ইনজিল নাযিল করেছেন (৩) ইতিপূর্বে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ।)

যাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, তাদের পূর্ববর্তীদের নিকটও বিশদ বর্ণনা করা হয়েছিল— "আর আমি

ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না, যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি।"

তৃতীয় বিষয়টি হলো ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী, পিতা ছাড়া তাঁর অস্তিত্বের সূচনা এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা

আদম আলাইহিস সালাম-এর থেকে শিক্ষা গ্রহণের সদৃশ। এই কারণেই আল্লাহ তাআলার বাণী সেদিকে ইঙ্গিত করেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের সদৃশ" (আল-ইমরান: ৩৯)। যেভাবে আদম আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীর পর বনী ইসরাঈলের আলোচনা করা হয়েছে, কারণ তারা এই কাহিনীর এমন সব দিক সম্পর্কে অবগত ছিল যা আরবরা জানত না এবং তাদের সতর্ক ও সাবধান করা হয়েছে। একইভাবে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীর পর হাওয়ারীগণ (الحواريون) এবং খ্রিস্টানদের বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে মুবাহালা (المباهلة)-এর আয়াত পর্যন্ত, যা আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত বর্ণনা করব। সূরার প্রারম্ভ থেকে এর যোগসূত্র বা বিভাজনের দিকটি স্পষ্ট করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি—

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন" এটি মূলত সেই কিতাবের অবস্থা বর্ণনা করে যা মুত্তাকীদের (المتقين) জন্য হিদায়াত। আর যখন তিনি পূর্ববর্তীদের অগ্রবর্তিতার নিরিখে উম্মতগণের তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং বনী ইসরাঈলের হঠকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
إسرائيل وتوقفهم ما تقدم، أخبر تعالى هنا أنه أنزل عليهم التوراة وأنزل بعده

الإنجيل وأن كل ذلك هدى لمن وفق.

ثم أشار قوله تعالى: "إن الله لا يخفى عليه شىء" (آل عمران: 5) إلى

ما تقدم من تفصيل أخبارهم، فكان الكلام في قوة أن لو قيل أتخفى عليه

مرتكبات العباد وهو مصورهم في الأرحام والمطلع عليهم حيث لا يطلع عليهم غيره.

ثم لما بلغ الكلام هنا، كأن قد قيل فكيف طرأ عليهم مع وجود الكتاب

فأخبر تعالى بشأن الكتاب، وأنه محكم ومتشابه وكذا غيره من الكتب والله

أعلم..
বনী ইসরাঈল এবং তাদের দ্বিধা-সংকোচ যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, মহান আল্লাহ এখানে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের প্রতি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন এবং এর পরে অবতীর্ণ করেছেন

ইঞ্জিল এবং এর সবই ওই ব্যক্তির জন্য পথনির্দেশ যে তাওফীকপ্রাপ্ত হয়েছে।

অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না" (আলে ইমরান: ৫) ইঙ্গিত করছে

তাদের সংবাদসমূহের ওই বিস্তারিত বর্ণনার প্রতি যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং বক্তব্যটি এমন জোরালো অবস্থানে রয়েছে যেন বলা হয়েছে—তাঁর নিকট কি গোপন থাকতে পারে

বান্দাদের কৃতকর্মসমূহ, অথচ তিনি জরায়ুতে তাদের আকৃতিদানকারী এবং তাদের সম্পর্কে এমনভাবে অবগত যেখানে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা অবগত নয়?

অতঃপর আলোচনা যখন এ পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন যেন মনে হলো প্রশ্ন করা হয়েছে—কিতাব বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কীভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হলো?

তখন মহান আল্লাহ কিতাবের স্বরূপ সম্পর্কে সংবাদ দিলেন যে, তা সুস্পষ্ট (محكم) এবং অস্পষ্ট (متشابه) আয়াত সম্বলিত, আর অন্যান্য কিতাবও অনুরূপ ছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
فحال أهل التوفيق تحكيم المحكم، وحال أهل الزيغ المتشابه والتعلق به، وهذا بيان قوله: "يضل به كثيرا ويهدى به كثيرا (البقرة: 26) وكل هذا بيان لكون الكتاب العزيز أعظم فرقا وأوضح بيانا، إذ قد أوضح أحوال المختلفين، ومن أين أتي عليهم مع وجود الكتب، وفي أثناء ذلك تنبيه العباد على عجزهم، وعدم استبدادهم لئلا يغتر الغافل فيقول مع هذا البيان ووضوح الأمر لا طريق إلى تنكب الصراط، فنهوا حين علموا الدعاء من قوله "وإياك نستعين ".

ثم كرر تنبيههم لشدة الحاجة ليذكر هذا أبداً ففيه معظم البيان، ومنه ينشأ

الشرك الأكبر، إذ اعتقاد الاستبداد بالأفعال إخراج لنصف الموجودات عن يد بارئها "والله خلقكم وما تعملون " (الصافات: 96) ، فمن التنبيه "إن الذين كفروا" (البقرة: 6) ومنه "يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا" (البقرة: 26) ومنه "آمن الرسول" إلى خاتمتها) .

هذا من جلى التنبيه ومحكمه، ومما يرجع إليه ويحرز معناه بعد اعتباره

(وإلهكم إله واحد) وقوله: "الله لا إله إلا هو الحي القيوم "

(البقرة: 255) ، فمن رأى الفعل أو بعضه لغيره تعالى حقيقة فقد قال بإلهية

غيره، ثم حذروا أشد التحذير لما بين لهم فقال تعالى: "إن الذين كفروا بآيات

الله لهم عذاب شديد. (آل عمران: 4) ثم ارتبطت الآيات إلى آخرها.

‌‌سورة النساء

لما تضمنت سورة البقرة ابتداء الخلق وإيجاد آدم عليه السلام من غير أب

ولا أم، وأعقبت بسورة آل عمران لتضمنها - مع ما ذكر في صدرها أمر عيسى عليه السلام
তৌফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবস্থা হলো সুস্পষ্ট ও অকাট্য (محكم) বিধানকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা, আর পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থা হলো অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অনুসরণ এবং সেগুলোকে আঁকড়ে ধরা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বর্ণনা: "এর মাধ্যমে তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হেদায়াত দান করেন" (আল-বাকারাহ: ২৬)। আর এ সবই এই কথার প্রমাণ যে, এই মহাগ্রন্থ (কুরআন) সত্য-মিথ্যার মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ পার্থক্যকারী এবং অত্যন্ত স্পষ্ট বর্ণনাকারী। কারণ এটি মতভেদকারীদের অবস্থা এবং কিতাব থাকা সত্ত্বেও তারা কোথা থেকে বিভ্রান্ত হয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মাঝেই বান্দাদেরকে তাদের অক্ষমতা এবং স্রষ্টার ওপর নির্ভরশীলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কোনো গাফেল ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে এ কথা না বলে যে—এত স্পষ্ট বর্ণনা ও বিষয়ের স্বচ্ছতার পর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাই যখন তাদেরকে "আর আমরা কেবল তোমারই সাহায্য চাই" বাণীর মাধ্যমে দোয়ার শিক্ষা দেওয়া হলো, তখন তাদেরকে (অহংকার থেকে) নিবৃত্ত করা হলো।

এরপর অত্যধিক প্রয়োজনীয়তার কারণে তাদের সতর্কবার্তাকে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যাতে এটি সর্বদা স্মরণে থাকে; কারণ এর মধ্যেই বর্ণনার মূল নির্যাস নিহিত এবং এখান থেকেই বড় শিরক (الشرك الأكبر) এর উৎপত্তি হয়। কেননা কর্মের ক্ষেত্রে নিজেকে স্বাধীন বা সর্বেসর্বা মনে করা মানে হলো অস্তিত্বশীল জগতের অর্ধাংশকে তাদের স্রষ্টার কর্তৃত্ব থেকে বের করে দেওয়া, অথচ আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন" (আস-সাফফাত: ৯৬)। সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত হলো "নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে", আরও অন্তর্ভুক্ত হলো "এর মাধ্যমে তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হেদায়াত দান করেন", এবং "রাসূল ঈমান এনেছেন" থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত।

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও অকাট্য (محكم) সতর্কবার্তা, যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং গভীরভাবে বিবেচনার পর এর অর্থ অনুধাবন করা যায়।

"(আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ)" এবং আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক"

(আল-বাকারাহ: ২৫৫)। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কাজ বা তার অংশবিশেষকে প্রকৃত অর্থে আল্লাহ ছাড়া অন্যের বলে মনে করে, সে মূলত অন্যকে ইলাহ হিসেবে সাব্যস্ত করল। এরপর যখন তাদের সামনে সবকিছু স্পষ্ট করে দেওয়া হলো, তখন তাদেরকে কঠোরভাবে সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা বললেন: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব।" (আল ইমরান: ৪)। এরপর আয়াতগুলো ধারাবাহিকভাবে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

সূরা আন-নিসা

যেহেতু সূরা আল-বাকারাহ সৃষ্টির সূচনা এবং পিতা-মাতা ছাড়াই আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে, এবং এরপর সূরা আল ইমরান এসেছে—যার সূচনাভাগের আলোচনার সাথে সাথে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وأنه كمثل آدم في (عدم) الافتقار إلى أب، وعلم الموقنون من ذلك أنه

تعالى لو شاء لكانت سنة فيمن بعد آدم عليه السلام، (فكان سائر الحيوان لا

يتوقف على أبوين، أو كان يكون) عيسى عليه السلام لا يتوقف إلا على أم

فقط، أعلم سبحانه أن من عدا المذكورين عليهم السلام من ذرية آدم سبيلهم سبيل الأبوين فقال تعالى: "يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً".

ثم أعلم تعالى بكيفية النكاح المجعول سببا في التناسل وما يتعلق به،

وبين حكم الأرحام والمواريث، وتضمنت السورة ابتداء الأمر وانهاءه فاعلمنا

بكيفية الناكح، وصورة الاعتصام واحترام بعضنا لبعض كيفية تناول الإصلاح فيما بين الزوجين عند التشاجر والشقاق، وبين لنا ما ينكح وما لا ينكح وما أبيح من العدد، وحكم من لم يجد الطول وما يتعلق بهذا إلى المواريث، فصل ذلك كله، إلا الطلاق لأن أحكامه قد تقدمت، ولأن بناء هذه السورة على التواصل والائتلاف ورعي حقوق ذوي الأرحام) وحفظ ذلك كله إلى حالة الموت
এবং তিনি পিতার মুখাপেক্ষী না হওয়ার (عدم) দিক থেকে আদমের সদৃশ। আর এ থেকে নিশ্চিত বিশ্বাসীরা জানতে পেরেছেন যে, মহান আল্লাহ

চাইলে আদমের (আলাইহিস সালাম) পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও বিষয়টিকে একটি রীতি (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারতেন, (ফলে অন্যান্য সকল প্রাণীকুলও পিতা-মাতার ওপর

নির্ভরশীল হতো না, অথবা) ঈসা (আলাইহিস সালাম) কেবল মাতার ওপরই নির্ভরশীল হতেন

মাত্র। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবগত করেছেন যে, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত আদমের অন্যান্য সন্তানদের পথ হলো পিতা-মাতার মাধ্যম অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী।"

অতঃপর মহান আল্লাহ বংশবৃদ্ধির কারণ হিসেবে নির্ধারিত বিবাহ এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে অবহিত করেছেন,

এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ও উত্তরাধিকারের বিধান বর্ণনা করেছেন। এই সূরাটি বিষয়টির সূচনা ও সমাপ্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সুতরাং তিনি আমাদের অবহিত করেছেন

বিবাহকারী সম্পর্কে, পারস্পরিক সংহতি ও সম্মানের রূপরেখা এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ও কলহের সময় সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাদের বিবাহ করা যাবে এবং কাদের যাবে না, বিবাহের অনুমোদিত সংখ্যা, যাদের সামর্থ্য নেই তাদের বিধান এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ। তিনি এই সমস্ত বিষয় সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন, তবে তালাক ব্যতীত; কেননা তালাকের বিধানসমূহ পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে এবং যেহেতু এই সূরার মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি এবং আত্মীয়দের অধিকার রক্ষা করা এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ সবকিছুর সংরক্ষণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০০)
المكتوب علينا وناسب هذا المقصود (من) التواصل والألفة ما افتتحت به

السورة من قوله (تعالى) : "اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا"

بالالتئام والوصلة، ولهذا خصت حكم تشاجر الزوجين بالإعلام بصورة الإصلاح والعدل إبقاء لذلك التواصل، فلم يكن الطلاق

ليناسب هذا فلم يقع له هنا ذكر ولا إيماء "وإن يتفرقا يغن الله كلا من سعته " ولكثرة ما يعرض من رعى حظوظ النفوس عند الزوجية ومع القرابة

ويدق ذلك ويغمض، لذلك ما تكرر كثيرا في هذه السورة الأمر بالاتقاء،

وبه افتتحت "اتقوا ربكم " "وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ"

"وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ"

ثم حذروا من حال من صمم على الكفر، وحال اليهود والنصارى

والمنافقين وذوى التقلب في الأديان بعدًا عن اليقين، "وكل ذلك تأكيد لا

أمروا به من الاتقاء، والتحمت الآيات إِلى الختم بالكلالة من المواريث المتقدمة.

‌‌سورة المائدة

لما بين تعالى حالة أهل الصراط المستقيم ومن تنكب عن نهجهم، ومآل

الفريقين من المغضوب عليهم ولا الضالين، وبين لعباده المتقين ما فيه هداهم وبه خلاصهم أخذا وتركا، وحصل طي ذلك الأسهم الثمانية الواردة في حديث
আমাদের ওপর যা বিধিবদ্ধ হয়েছে এবং যোগাযোগ ও হৃদ্যতার এই উদ্দেশ্যের সাথে যা মানানসই, তা হলো সেই বিষয় যা দিয়ে

সূরাটি শুরু হয়েছে (মহান আল্লাহর) বাণী থেকে: "তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন"

সম্প্রীতি ও মিলনের মাধ্যমে। এই কারণেই স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের বিধানকে সংশোধন ও ন্যায়বিচারের পদ্ধতি জ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয়েছে যাতে সেই যোগাযোগ বজায় থাকে। তালাক

এই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, তাই এখানে তার কোনো উল্লেখ বা ইঙ্গিত প্রদান করা হয়নি; "যদি তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ নিজ প্রাচুর্যে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন।" দাম্পত্য জীবনে এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নফসের চাহিদা পূরণ করার বিষয়টি যেহেতু অহরহ ঘটে থাকে

এবং বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট, তাই এই সূরায় আল্লাহভীতির নির্দেশটি বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

আর এই আল্লাহভীতির মাধ্যমেই এটি শুরু হয়েছে: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো", "আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের (অধিকার) সম্পর্কে সতর্ক থাকো"

"আর আমি তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো"

অতঃপর তাদের সতর্ক করা হয়েছে সেই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে যে কুফরিতে অনড়, এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অবস্থা সম্পর্কে

এবং মুনাফিক ও দৃঢ় বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গিয়ে ধর্মে দোদুল্যমান ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে। "এই সব কিছুই তাদের আল্লাহভীতির যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তার গুরুত্ব প্রদানের জন্য। আয়াতগুলো পূর্ববর্তী মিরাসের আলোচনার ধারাবাহিকতায় কালালাহ সংক্রান্ত বিধানের মাধ্যমে পরিসমাপ্তির দিকে সংযুক্ত হয়েছে।

‌‌সূরা আল-মায়িদাহ

যখন মহান আল্লাহ সরল পথের অনুসারীদের অবস্থা এবং যারা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করলেন, এবং অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট—এই উভয় দলের পরিণাম স্পষ্ট করলেন; আর যখন তিনি তাঁর মুত্তাকি বান্দাদের জন্য এমন বিষয় বর্ণনা করলেন যাতে গ্রহণ ও বর্জনের মাধ্যমে তাদের হেদায়েত ও মুক্তি নিহিত রয়েছে, তখন এরই প্রেক্ষিতে হাদিসে বর্ণিত আটটি অংশের বিষয়াবলীও এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০১)
حذيفة من قوله: (الإسلام ثمانية أسهم: الشهادة سهم، والصلاة سهم،

والصوم سهم، والحج سهم، والجهاد سهم، والأمر بالمعروف سهم، وقد خاب من لا سهم له) ، وقال صلى الله عليه وسلم: بني الإسلام على خمس، وقد تحصلت وتحصل مما تقدم أيضا أن أسوأ حال المخالفين حال من غضب الله عليه ولعنه، وإن ذلك ببغيهم وعدوانهم ونقضهم العهود "فبما نقضهم ميثاقهم لعناهم "
হুজাইফা (রা.)-এর উক্তি হতে বর্ণিত: (ইসলামের অংশ আটটি: শাহাদাহ একটি অংশ, সালাত একটি অংশ,

সিয়াম একটি অংশ, হজ একটি অংশ, জিহাদ একটি অংশ, সৎকাজের আদেশ একটি অংশ; আর যার কোনো অংশ নেই সে ব্যর্থ হয়েছে)। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত। পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এটিও সাব্যস্ত ও অর্জিত হয়েছে যে, বিরোধিতাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা তাদের যাদের ওপর আল্লাহ রাগান্বিত হয়েছেন এবং যাদের তিনি অভিশাপ দিয়েছেন। আর এটি হয়েছে তাদের বিদ্রোহ, শত্রুতা এবং অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে; "অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের অভিশাপ দিয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০২)
وكان النقض كل مخالفة، قال الله تعالى: لعباده المؤمنين: "يا أيها

الذين آمنوا أوفوا بالعقود"

لأن اليهود والنصارى إنما أتي عليهم من عدم الوفاء ونقض العهود فحذر المؤمنين.

ولهذا الغرض والله أعلم ذكر هنا العهد المشار إليه في قوله تعالى:

"وأوفوا بعهدي " (البقرة: 40) فقال تعالى: " ولقد أخذ الله ميثاق بني

إسرائيل " إلى قوله: "فقد ضل سواء السبيل " (المائدة: 12) .

ثم بين نقضهم وبنى اللعنة وكل محنة ابتلوا بها عليه فقال: "فبما نقضهم

ميثاقهم " (آية: 13) وذكر تعالى عهد الآخرين فقال: "ومن الذين قالوا إنا

نصارى أخذنا ميثاقهم.... الآية (آية: 14) ، ثم فصل تعالى للمؤمنين أفعال

الفريقين ليتبين لهم فيما نقضوا (فيه من ادعائهم في المسيح ما ادعوا، وقولهم نحن أبناء الله وأحباؤه، وكفهم عن فتح الأرض المقدسة، وإسرافهم في القتل وغيره، وتغييرهم أحكام التوراة إلى غير ذلك مما ذكره في أحكام هذه السورة ثم بين تفاوتهمِ في البعد عن الاستجابة فقال تعالى: "لتجدن أشد الناس عداوة.... الآية (آية: 82) ثم نصح عباده وبين لهم أبوابا منها دخول الامتحان، وهي سبب في كل ابتلاء فقال تعالى: "لا تحرموا طيبات ما أحل الله لكم ولا تعتدوا" (آية: 89) .

وأعقب ذلك بقوله: "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ … الآية " (آية: 95) ثم قال تعالى: "جعل الله الكعبة البيت الحرام … الآية (آية: 97) فنبه على سوء العاقبة في تتبع البحث عن التعليل، وطلب الوقوف على ما لعله استأثر الله بعلمه، ومن هذا الباب أتي على بني إسرائيل في أمر البقرة وغير ذلك، وجعل هذا التنبيه إيماء، ثم أعقبه بما يفسره "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ" (آية: 151) ووعظهم بحال غيرهم في
আর চুক্তি ভঙ্গ (نقض) প্রতিটি বিরোধী কাজকেই বোঝায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের বলেছেন: "হে মুমিনগণ,

তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।"

কারণ ইয়াহুদি ও নাসারাদের ওপর বিপদ এসেছিল অঙ্গীকার পূর্ণ না করা এবং অঙ্গীকার ভঙ্গের (نقض) কারণে, তাই তিনি মুমিনদের সতর্ক করেছেন।

আর এই উদ্দেশ্যে — আল্লাহই ভালো জানেন — এখানে সেই অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার প্রতি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে:

"এবং তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো" (আল-বাকারাহ: ৪০)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বনী ইসরাঈলের নিকট থেকে

অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন..." তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "তবে সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হলো।" (আল-মায়িদাহ: ১২)।

অতঃপর তিনি তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের (نقض) কথা বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই অভিশাপ ও প্রতিটি পরীক্ষা বা মুসিবত যা দ্বারা তারা আক্রান্ত হয়েছিল তা নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "অতঃপর তাদের

অঙ্গীকার ভঙ্গের (نقض) কারণে..." (আয়াত: ১৩)। এবং আল্লাহ তাআলা অন্যদের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আর যারা বলে যে, আমরা নাসারা, আমি তাদের থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম... আয়াত" (আয়াত: ১৪)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য উভয় দলের

কর্মকাণ্ড বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যেন তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, তারা কোন কোন বিষয়ে অঙ্গীকার ভঙ্গ (نقض) করেছিল (যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাদের মিথ্যা দাবি, তাদের এই কথা যে 'আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়ভাজন', পবিত্র ভূমি বিজয়ে তাদের অস্বীকৃতি, হত্যা ও অন্যান্য কাজে তাদের সীমালঙ্ঘন এবং তাওরাতের হুকুম-আহকাম পরিবর্তন করা সহ আরও অনেক বিষয় যা তিনি এই সূরার বিধানাবলিতে উল্লেখ করেছেন)। অতঃপর তিনি সত্য গ্রহণে তাদের দূরত্বের তারতম্য বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তুমি অবশ্যই মানুষের মধ্যে শত্রুতার দিক থেকে সবচেয়ে কঠোর পাবে... আয়াত" (আয়াত: ৮২)। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাদের উপদেশ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছেন যার মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া, যা প্রতিটি বিপদের কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের জন্য যা পবিত্র ও বৈধ করেছেন তা তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না।" (আয়াত: ৮৯)।

এর পরপরই তিনি বলেন: "হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীর … আয়াত" (আয়াত: ৯৫)। এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ সম্মানিত ঘর কাবাকে নির্ধারণ করেছেন … আয়াত" (আয়াত: ৯৭)। এভাবে তিনি হুকুমের কার্যকারণ (تعليل) অনুসন্ধানে লিপ্ত হওয়ার এবং এমন জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করার অশুভ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যা সম্ভবত আল্লাহ কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট রেখেছেন। এই সূত্রেই বনী ইসরাঈলের ওপর গাভী যবেহ করার নির্দেশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিপদ এসেছিল। তিনি এই সতর্কবানীকে একটি ইশারা (إيماء) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং পরবর্তীতে এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী বাণী নাযিল করেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে।" (আয়াত: ১৫১) এবং অন্যদের অবস্থার মাধ্যমে তাদের উপদেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০৩)
هذا، وأنهم سألوا فخيروا ثم امتحنوا، وقد كان التسليم أولى لهم فقال تعالى: "قد سألها قوم من قبلكم ثم أصبحوا بها كافرين " (آية: 102) ثم عرف عباده أنهم إذا استقاموا فلن يضرهم خذلان غيرهم "يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم " (آية: 103) فلما طلب تعالى المؤمنين بالوفاء فيما نقض فيه غيرهم وذكرهم ببعض ما وقع فيه النقض، وما أعقب ذلك فاعله، واعلمهم بثمرة التزام التسليم والامتثال أراهم جل وتعالى ثمرة الوفاء وعاقبته فقال تعالى: "وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ" إلى قوله تعالى "هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ" إلى آخر السورة (116 - 120) .

فحصل من جملتها الأمر بالوفاء فيما تقدمها وحال من حاد ونقض، وعاقبة

من وفى وأنهم الصادقون، وقد أمرنا أن نكون معهم "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119) ".

‌‌سورة الأنعام

لما بين سبحانه وتعالى لعباده حال المتقين وهو الصراط المستقيم وأوضح تعالى ما يحذرون من جانبي الأخذ والترك، وبين حال من تنكب عنه ممن كان قد يلمحه
বিষয়টি এই যে, তারা প্রশ্ন করেছিল, অতঃপর তাদের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল এবং এরপর তাদের পরীক্ষা করা হয়েছিল; অথচ তাদের জন্য আত্মসমর্পণ (التسليم) করাই শ্রেয় ছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের পূর্বে এক সম্প্রদায় এরূপ প্রশ্ন করেছিল, অতঃপর তারা সে কারণে কাফির হয়ে গেল" (আয়াত: ১০২)। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাদের অবহিত করেছেন যে, তারা যদি অবিচল থাকে তবে অন্যের অসহযোগিতা তাদের কোনো ক্ষতি করবে না: "হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব" (আয়াত: ১০৩)। যখন আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নিকট সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করার দাবি জানালেন যা অন্যেরা ভঙ্গ করেছিল এবং তাদের সেই সব লঙ্ঘনের কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দিলেন যা ইতিপূর্বে ঘটেছিল এবং এর কর্তার ওপর যা আপতিত হয়েছিল, আর তাদের আত্মসমর্পণ (التسليم) ও আনুগত্যের (الامتثال) আবশ্যকতা ও এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন মহান আল্লাহ তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করার সুফল ও পরিণাম দেখালেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন আল্লাহ বললেন: হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে..." মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "এটি এমন এক দিন যখন সত্যবাদীদের (الصادقين) তাদের সত্যবাদিতা উপকৃত করবে" সূরার শেষ পর্যন্ত (১১৬ - ১২০)।

সুতরাং এর সামগ্রিক আলোচনা থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত বিষয়সমূহ পূর্ণ করার নির্দেশ এবং যারা বিচ্যুত হয়েছে ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে তাদের অবস্থা, আর যারা অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে তাদের পরিণাম

এবং তারা যে সত্যবাদী (الصادقون), তা স্পষ্ট হলো। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে থাকার জন্য: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের (الصادقين) সঙ্গী হও (১১৯)।"

‌‌সূরা আল-আনআম

যখন মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য মুত্তাকীদের (المتقين) অবস্থা বর্ণনা করলেন যা হলো সরল পথ (الصراط المستقيم), এবং গ্রহণ ও বর্জনের উভয় দিক থেকে তারা যা হতে সতর্ক থাকবে তা স্পষ্ট করলেন, এবং যারা এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করলেন যারা হয়ত তা প্রত্যক্ষ করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০৪)
وهم اليهود والنصارى وكونهم لم يلتزموا الوفاء، وحادوا عما أنهج لهم، وانقضى أمر الفريقين ذما لحالهم وبيانا لنقضهم وتحذيرا للمتقين أن يصيبهم ما أصابهم، وختم ذلك ببيان حال الموقنين في القيامة "يوم ينفع الصادقين صدقهم ".

وقد كان انجرَّ مع ذلك ذكر مشركي العرب وصممهم عن الداعى،

وعماهم عن الآيات فكانوا أشبه بالهائم منهم بالأناسي، أعقب ذلك تعالى

بالإشارة إلى طائفة أومأت إلى النظر والاعتبار، فلم توفق لإصابة الحق، وقصرت عن الاستضاءة بأنوار الهدى وليسوا ممن يرجع إلى شريعة قد حرفت وغيرت، بل هم في صورة من هم أن يهتدى بهدى الفطرة، ويستدل بما بسط الله تعالى في المخلوقات، فلم يمعن النظر ولم يوفق فضل وهم المجوس وسائر الثنويه ممن كان قصارى أمره نسبة الفعل إلى النور والإظلام ولم يكن تقدم لهؤلاء ذكر ولا أخبار بحال فقال تعالى: (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ) .

فبدأ تعالى بذكر خلق السموات والأرض التي عنها أوجد
তারা হলেন ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং এই বিষয়টি যে তারা আনুগত্য বজায় রাখেনি এবং তাদের জন্য প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের উভয়ের বিষয়াদির পরিসমাপ্তি ঘটেছে তাদের অবস্থার নিন্দা জ্ঞাপন, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের বর্ণনা এবং মুত্তাকিদের জন্য সতর্কতা স্বরূপ—পাছে তাদেরও সেই দশা হয় যা এদের হয়েছিল। আর এর সমাপ্তি ঘটেছে কিয়ামতের দিন সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে: "সেদিন সত্যবাদীদের (صادقين) তাদের সত্যবাদিতা উপকারে আসবে"।"

এর সাথে সাথে আরব মুশরিকদের প্রসঙ্গ এবং আহ্বানকারীর আহ্বানে তাদের বধিরতার কথাটিও চলে এসেছে,

এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর প্রতি তাদের অন্ধত্ব, যার ফলে তারা মানুষের চেয়ে লক্ষ্যহীন বিচরণকারীর মতোই অধিক সদৃশ ছিল। এরপর মহান আল্লাহ এমন এক দলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যারা চিন্তা ও গবেষণার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা সত্যে পৌঁছাতে সফল হয়নি এবং হিদায়াতের আলোয় আলোকিত হতে সক্ষম হয়নি। তারা এমন লোক ছিল না যারা কোনো বিকৃত বা পরিবর্তিত শরয়ি বিধানের অনুসারী ছিল; বরং তারা সেই অবস্থায় ছিল যারা স্বভাবজাত হিদায়াতের মাধ্যমে পরিচালিত হতে চেয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতে যা কিছু ছড়িয়ে দিয়েছেন তা দিয়ে দলিল (استدلال) গ্রহণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা গভীর চিন্তা করেনি এবং আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে সমর্থ হয়নি। তারা হলো অগ্নিপূজক ও অন্যান্য দ্বিত্ববাদী সম্প্রদায়, যাদের চূড়ান্ত কাজ ছিল যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে আলো ও অন্ধকারের প্রতি সম্বন্ধ (نسبة) করা। ইতিপূর্বে এদের সম্পর্কে কোনো উল্লেখ বা বিবরণ আসেনি, তাই আল্লাহ তাআলা বলেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন) ।

অতঃপর মহান আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা থেকে তিনি অস্তিত্ব দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০৫)
النور والظلمة، إذ الظلمة ظلال هذه الأجرام، والنور عن أجرام نيرة محمولة فيها (وهي الشمس) ، والقمر والنجوم، فكأن الكلام في قوة: الحمد لله الذي أوضح الأمر لمن اعتبر واستبصر فعلم أن وجود النور والظلمة متوقف بحكم السببية التي شاءها تعالى على وجود أجرام السموات والأرض وما أودع فيها، ومع بيان الأمر في ذلك

حاد عنه من عمي عن الاستبصار "ثم الذين كفروا بربهم يعدلون "

وقوله تعالى: "هو الذي خلقكم من طين " (آية: 2) مما يزيد هذا المعنى وضوحا فإنه تعالى ذكر أصلنا والمادة التي عنها أوجدنا

ذكر للنور والظلمة ما هو كالمادة وهو

وجود السموات والأرض وأشعر لفظ "جعل " بتوقف الوجود بحسب المشيئة على ما ذكر فكأن قد قيل: أي فرق بين وجود النور والظلمة عن وجود السموات والأرض وبين وجودكم عن الطين حتى يقع امتراء فتدعى نسبة الإيجاد إلى النور والظلمة؟ وهما لم يوجدا إلا بعد مادة أو سبب،كما طرأ في إيجادكم، فالأمر في ذلك أوضح شيء ثم أنتم تمترون.

ثم مرت السورة من أولها إلى آخرها منبهة على بسط الدلالات في الموجودات

مع التنبيه على أن ذلك لا يصل إلى استثمار فائدته إلا من هيء بحسب السابقة.

فقال (إِنَّمَا يَسْتَجِيبُ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ) (آية 36) ثم قال تعالى (وَالْمَوْتَى يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ) (آية: 36) وهو والله أعلم من نمط "أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ"

أجمل هنا، ثم فسر بعد في السورة بعينها، والمراد أن من الخلق من

جعله الله سامعا مستيقظا معتبرا بأول وهلة، وقد أرى المثال سبحانه وتعالى من ذلك في قصة إبراهيم عليه السلام في قوله "وكذلك نري إبراهيم مكوت السموات والأرض " (آية: 75) فكأنه يقول لعباده المتقين تعالوا فانهجوا طريق الاعتبار ملة
আলো ও অন্ধকার; কারণ অন্ধকার হলো এই জ্যোতিষ্কসমূহের ছায়া, আর আলো হলো সেগুলোর মধ্যে নিহিত জ্যোতির্ময় পিণ্ডসমূহ (আর তা হলো সূর্য), চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি থেকে বিচ্ছুরিত। যেন কথাটির সারমর্ম হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি উপদেশ গ্রহণকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ফলে তিনি জানতে পেরেছেন যে, আলো ও অন্ধকারের অস্তিত্ব—আল্লাহ তাআলা যে কার্যকারণ সম্পর্ক (সাবাবিয়্যাহ) নির্ধারণ করেছেন তার বিধান অনুযায়ী—আসমান ও জমিন এবং তাতে যা কিছু গচ্ছিত রাখা হয়েছে তার অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও

যারা দূরদৃষ্টির অভাবে অন্ধ, তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে; "অতঃপর যারা কুফরি করে, তারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।"

আর মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে" (আয়াত: ২), এটি পূর্বোক্ত অর্থের স্পষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ মহান আল্লাহ এখানে আমাদের মূল উৎস এবং সেই উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন যা থেকে আমাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে।

তিনি আলো ও অন্ধকারের জন্য এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা উপাদানের ন্যায়, আর তা হলো

আসমান ও জমিনের অস্তিত্ব। "জাআলা" (সৃষ্টি করা/তৈরি করা) শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে, মহান আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী এদের অস্তিত্ব উল্লেখিত বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল। যেন বলা হয়েছে: আসমান ও জমিনের অস্তিত্ব থেকে আলো ও অন্ধকারের উৎপত্তির মাঝে এবং মাটি থেকে তোমাদের অস্তিত্ব লাভের মাঝে পার্থক্য কোথায় যে, তোমরা সংশয়ে পতিত হবে? এমনকি আলো ও অন্ধকারের দিকে সৃষ্টিতত্ত্বের সম্বন্ধ জুড়ে দেয়া হবে? অথচ এই দুটিও কোনো উপাদান বা কারণ ছাড়া অস্তিত্ব লাভ করেনি, ঠিক যেমনটি তোমাদের সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ঘটেছে। সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তবুও তোমরা সংশয় পোষণ করছ।

অতঃপর সূরাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিজগতের মাঝে বিদ্যমান নিদর্শনসমূহের বিস্তারিত বর্ণনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সাথে সাথে এই সতর্কতাও দিয়েছে যে, সেই ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এর সুফল লাভ করতে পারে না, যাকে পূর্বলব্ধ তকদির অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।

অতঃপর তিনি বলেছেন, "কেবল তারাই সাড়া দেয় যারা শ্রবণ করে" (আয়াত: ৩৬)। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন, "আর মৃতদের আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন" (আয়াত: ৩৬)। আল্লাহই ভালো জানেন, এটি সম্ভবত "সেই ব্যক্তি কি (তার সমান) যে মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি" এই আয়াতের পর্যায়ভুক্ত।

এখানে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে এই সূরার মধ্যেই তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো—সৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের

আল্লাহ তাআলা প্রথম দৃষ্টিতেই শ্রবণকারী, জাগ্রত এবং শিক্ষা গ্রহণকারী হিসেবে তৈরি করেছেন। মহান আল্লাহ এর উদাহরণ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনায় তুলে ধরেছেন যখন তিনি বলেছেন: "আর এভাবেই আমি ইব্রাহিমকে আসমান ও জমিনের মালিকানা (ও রহস্য) দেখাই" (আয়াত: ৭৫)। যেন তিনি তাঁর মুত্তাকি বান্দাদের বলছেন—এসো এবং শিক্ষা গ্রহণের এই পথ তথা মিল্লাত বা আদর্শ অনুসরণ করো।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০৬)
أبيكم إبراهيم، كيف نظر عليه السلام نظر السامع المتيقظ فلم يعرج في أول نظرة على ما سبب وجوده بين فيحتاج فيه إلى فرض ما فرض في الكوكب والقمر والشمس، بل نظر فيما عنده صدور النور لا في النور "فلما جن عليه الليل رأى كوكبا" (آية: 76) فتأمل قوله عليه السلام لم يطول النظر بالتفات النور، ثم كان يرجع إلى اعتبار الجرم الذي عنه النور، بل لما رأى النور أجرام سماوية تأمل تلك الأجرام وما قام بها من الصفات فرأى الأفول والطلوع والانتقال فقال هذا لا يليق بالربوبية لأنها صفات حدوث، ثم رقى النظر إلى القمر والشمس فرأى ذلك الحكم جاريا فيهما، فحكم بأن وراءها مدبرا لها يتنزه عن الانتقال والغيبة والأفول فقال: "إني وجهت وجهي للذى فطر السموات والأرض " (آية: 79) وخص عليه السلام ذكر هذين لحملهما أجرام النور وسببيتهما في وجود الظلمة، ثم تأمل هذا النظر منه عليه السلام، وكيف خص بالاعتبار أشرف الوجودين وأعلاهما فكان في ذلك وجهان من الحكمة.

أحدهما علو النظر ونفوذ البصيرة في اعتبار الأشرف الذي إذا بان فيه

الأمر فهو فيما سواه أبين، فجمع بين قرب التناول وعلو التهدي.

والوجه الثاني: التناسب بين حال الناظر والمنظور فيه، والتفاؤل والجرى

على الفطرة العلية، وهو من قبيل أخذ نبينا عليه السلام اللبن حين عرض عليه اللبن والخمر، فاختار اللبن فقيل له اخترت الفطرة، فكان قد قيل: هذا النظر

والاعتبار بالهام لا نظر من أخلد إلى الأرض فعبد الضياء والظلام.
তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.); তিনি কীভাবে একজন সজাগ ও সচেতন শ্রোতার ন্যায় পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, তিনি তাঁর প্রথম দৃষ্টিতেই সেই বাহ্যিক কারণগুলোর প্রতি নিবদ্ধ হননি যা তাঁর অস্তিত্বের হেতু ছিল। ফলে নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্যের ক্ষেত্রে যা ধারণা করা হয়েছিল, এখানেও সেই একই বিষয় কল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত। বরং তিনি তাঁর নিকটস্থ জ্যোতির উৎসের প্রতি লক্ষ্য করেছিলেন, নিছক জ্যোতির প্রতি নয়—"অতঃপর যখন রাত তাকে আচ্ছন্ন করল, তখন তিনি একটি নক্ষত্র দেখতে পেলেন" (আয়াত: ৭৬)। তাঁর (আ.) এই উক্তির প্রতি লক্ষ্য করুন; তিনি জ্যোতির বিচ্ছুরণের প্রতি দীর্ঘক্ষণ দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেননি যে, পুনরায় তাঁকে সেই জড়পিণ্ডের কথা বিবেচনায় নিতে হবে যা থেকে জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। বরং যখন তিনি জ্যোতিষ্কপিণ্ডগুলোকে আকাশমণ্ডলীয় বস্তু হিসেবে দেখলেন, তখন তিনি সেই পিণ্ডসমূহ এবং সেগুলোতে বিদ্যমান গুণাবলি নিয়ে চিন্তা করলেন। তিনি সেগুলোর অস্ত যাওয়া, উদিত হওয়া এবং স্থান পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করলেন; তখন তিনি বললেন—এটি প্রভুত্বের জন্য শোভনীয় নয়, কারণ এগুলো হলো নশ্বরতার গুণাবলি। এরপর তিনি চন্দ্র ও সূর্যের প্রতি দৃষ্টি প্রসারিত করলেন এবং দেখলেন যে সেই একই বিধান এগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এগুলোর অন্তরালে একজন পরিচালক রয়েছেন যিনি স্থান পরিবর্তন, অনুপস্থিতি এবং অস্ত যাওয়া থেকে পবিত্র। অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকে ফেরালাম, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন" (আয়াত: ৭৯)। তিনি (আ.) বিশেষভাবে এই দুইটির উল্লেখ করেছেন কারণ এগুলো আলোকবাহী পিণ্ড এবং অন্ধকারের উপস্থিতিতে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে। অতঃপর তাঁর এই পর্যবেক্ষণের প্রতি লক্ষ্য করুন; কীভাবে তিনি বিদ্যমান বস্তুসমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উচ্চতর বিষয়টিকে বিবেচনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। এতে প্রজ্ঞার দুইটি দিক নিহিত রয়েছে।

প্রথমটি হলো—পর্যবেক্ষণের উচ্চতা এবং অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতা; এমন একটি শ্রেষ্ঠ বিষয়কে বিবেচনার ভিত্তি করা হয়েছে যা স্পষ্ট হলে অন্যান্য সবকিছু অধিকতর স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এভাবে তিনি সহজলভ্যতা এবং হিদায়াতের উচ্চমার্গের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিকটি হলো—পর্যবেক্ষক এবং যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তার মধ্যকার সামঞ্জস্য, এবং উচ্চতর স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর অবিচল থাকা ও কল্যাণের প্রত্যাশা করা।

এটি আমাদের নবী (সা.)-এর দুধ গ্রহণ করার সদৃশ, যখন তাঁর সামনে দুধ ও মদ্য পেশ করা হয়েছিল। তিনি দুধ বেছে নিলেন এবং তাঁকে বলা হলো—আপনি স্বভাবজাত প্রকৃতিকেই বেছে নিয়েছেন। তাই বলা হয়ে থাকে: এই পর্যবেক্ষণ

এবং বিবেচনা ছিল ইলহামের মাধ্যমে; এটি এমন কোনো ব্যক্তির পর্যবেক্ষণ ছিল না যে পার্থিব মোহে নিমগ্ন হয়ে আলো ও অন্ধকারের পূজা করত।
(খণ্ড: ১) আল-বুরহান ফী তানাসুবি সুওয়ারিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০৭)
وينبغى أن يعتمد في قصة إبراهيم عليه السلام في هذا الاعتبار أنه صلى الله عليه وسلم في قوله: "هذا ربي " (آية: 78) إنما قصد قطع حجة من عبد شيئا من ذلك، إذ كان دين قومه، فبسط لهم الاعتبار والدلالة، وأخذ بعرض ما قد تنزه قدره عن الميل إليه، فهو كما يقول المناظر لمن يناظره هب أن هذا على ما تقول يريد بذلك إذعان خصمه (واساتدناءه) للاعتبار حتى يكون غير (منافر له

فيسلم له ما لا يعتقده ليبنى على ذلك مقصوده لقنع خصمه وهو على يقين من أمره.

فهذا ما ينبغى أن يعتمد هنا لقول يوسف عليه السلام "ما كان لنا أن نشرك بالله من شيء" (يوسف: 38) فالعصمة قد اكتنفتهم عما يتوهمه المبطلون ويتقوله المفترون، ويشهد لما قلناه قوله تعالى: "وتلك حجتنا آتيناها إبراهيم على قومه " (آية: 83) ، فهذه حال من علت درجته من الذين يسمعون، فمن الخلق من جعله الله سامعا بأول وهلة، وهذا مثال شاف في ذلك، ومنهم الميت، والموتى على ضربين منهم من يزاح ضربين عمهه، ومنهم من يبقى في ظلماته ميتا لا حراك به يبين ذلك قوله تعالى: (أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا) .
হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর এই প্রসঙ্গের বিচারে এটিই নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত যে, তাঁর উক্তি "এটি আমার প্রতিপালক" (আয়াত: ৭৮)-এর মাধ্যমে তিনি মূলত ঐ সব সত্তার উপাসকদের যুক্তি (حجة) খণ্ডন করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন, যেহেতু এটিই ছিল তাঁর সম্প্রদায়ের ধর্ম। ফলে তিনি তাদের নিকট বিচার-বিশ্লেষণ ও দলিল (دلالة) বিস্তারিতভাবে পেশ করেন এবং এমন বিষয় প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করেন যা থেকে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা বিচ্যুতির আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত ছিল। এটি অনেকটা একজন তার্কিকের মতো, যিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন: "ধরা যাক, বিষয়টি আপনি যেমনটি বলছেন তেমনই", যার মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষের বশ্যতা ও পর্যালোচনার নিকটবর্তী হওয়া কামনা করেন, যাতে সে তার প্রতি বিমুখ না থাকে।

অতএব, তিনি এমন বিষয়ও মেনে নেন যা তিনি নিজে বিশ্বাস করেন না, যাতে তার ওপর ভিত্তি করে তিনি স্বীয় উদ্দেশ্য নির্মাণ করতে পারেন এবং প্রতিপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারেন, অথচ তিনি নিজে স্বীয় বিষয়ে সুনিশ্চিত ছিলেন।

ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী "আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করা আমাদের জন্য সংগত নয়" (ইউসুফ: ৩৮)-এর ক্ষেত্রেও এটিই নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। কেননা নিষ্পাপতা (عصمة) তাঁদেরকে বাতিলপন্থীদের কল্পনা এবং মিথ্যাবাদীদের অপবাদ থেকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। আমাদের বক্তব্যের সমর্থনে মহান আল্লাহর বাণী: "এটি ছিল আমার যুক্তি (حجة) যা আমি ইব্রাহিমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম" (আয়াত: ৮৩)। এটি শ্রবণকারীদের মাঝে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবস্থা। সৃষ্টিজগতের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ প্রথমবারেই শ্রবণকারী করেছেন এবং এটি এ বিষয়ে একটি পর্যাপ্ত উদাহরণ। আবার তাদের মধ্যে কেউ মৃত; আর মৃত ব্যক্তিরা দুই প্রকার—একদল এমন যাদের বিভ্রান্তি দূর করা হয়, আর অন্যদল এমন যারা নিশ্চল মৃত হিসেবে নিজেদের অন্ধকারের মধ্যেই থেকে যায়। মহান আল্লাহর এই বাণী এটিই স্পষ্ট করে: "যে ব্যক্তি মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবন দান করেছি এবং তার জন্য একটি আলো তৈরি করেছি যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না?"