(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: -)
الإكليل في استنباط التنزيل (الجلال السيوطي)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الإكليل في استنباط التنزيل
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
تحقيق: سيف الدين عبد القادر الكاتب
دار النشر: دار الكتب العلمية - بيروت
1401 هـ - 1981 م
عدد الصفحات: 306
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)
বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
কিতাব: আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল
লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
সম্পাদনা: সাইফ উদ্দীন আব্দুল কাদির আল-কাতিব
প্রকাশনী: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
১৪০১ হিজরী - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكتاب: الإكليل في استنباط التنزيلالمؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (المتوفى: 911هـ)تحقيق: سيف الدين عبد القادر الكاتبدار النشر: دار الكتب العلمية - بيروت1401 هـ - 1981 معدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
গ্রন্থ: আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিললেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি)সম্পাদনা: সাইফ উদ্দিন আব্দুল কাদির আল-কাতিবপ্রকাশনী: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দখণ্ড সংখ্যা: ১[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيمخطبة الكتابالحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب تبياناً لكل شيء، وجعله شفاء لكل عي، وهدى من كل غي، والصلاة والسلام على محمد المبعوث من أشرف قبيلة وأكرم حي، وعلى آله وصحبه ما لجأ ظامئ لري.وبعد: فقد قال الله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} .وقال: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} .وقال صلى الله عليه وسلم: "ستكون فتن" قيل وما المخرج منها؟ قال: "كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم" أخرجه الترمذي وغيره.وقال سعيد بن منصور في سننه: حدثنا خديج بن معاوية عن أبي إسحق عن مرة عن ابن مسعود قال: من أراد العلم فعليه بالقرآن فإن فيه خبر الأولين والآخرين. قال البيهقي أراد به أصول العلم. وقال الحسن البصري: أنزل الله مائة وأربعة كتب أودع علومها أربعة: التوراة. والإنجيل. والزبور، والفرقان ثم أودع علوم الثلاثة الفرقان، ثم أودع علوم الفرقان المفصل، ثم أودع علوم المفصل فاتحة الكتاب، فمن علم تفسيرها كان كمن علم تفسير الكتب المنزلة. أخرجه البيهقي في الشعب.وقال الإمام الشافعي، رضي الله عنه: جميع ما تقوله الأمة شرح للسنة وجميع شرح السنة شرح للقرآن، وقال بعض السلف: ما سمعت حديثاً إلا التمست له آية من كتاب الله: وقال سعيد بن جبير: ما بلغني حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم على وجهه إلا وجدت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।গ্রন্থের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দাসের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সবকিছুর বিশদ বিবরণ হিসেবে, এবং একে করেছেন সমস্ত অক্ষমতার আরোগ্য এবং সকল ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি প্রেরিত হয়েছেন সর্বোত্তম গোত্র ও সবচেয়ে সম্মানিত বংশ থেকে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর, যতক্ষণ না কোনো তৃষ্ণার্ত তার পিপাসা নিবারণের আশ্রয় গ্রহণ করে।অতঃপর: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি সবকিছুর বিশদ বিবরণ হিসেবে।"এবং তিনি বলেছেন: "আমি এই কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি।"এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই নানাবিধ ফিতনা প্রকাশ পাবে।" জিজ্ঞেস করা হলো, তা থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদসমূহের মীমাংসা রয়েছে।" এটি তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।সাঈদ ইবনে মানসূর তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বলেছেন: খুদাইজ ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তার উচিত কুরআনকে আঁকড়ে ধরা; কারণ এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের সংবাদ নিহিত রয়েছে। ইমাম বায়হাকী বলেছেন, তিনি এর দ্বারা ইলমের মূলনীতিসমূহ বুঝিয়েছেন। হাসান বসরী (রহি.) বলেছেন: আল্লাহ একশ চারটি কিতাব নাযিল করেছেন এবং এগুলোর সমস্ত জ্ঞান চারটি কিতাবে নিহিত করেছেন: তাওরাত, ইনজীল, যাবুর এবং ফুরকান (কুরআন)। অতঃপর এই প্রথম তিনটির জ্ঞান ফুরকানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারপর ফুরকানের জ্ঞান 'মুফাসসাল' অংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর মুফাসসালের জ্ঞান 'ফাতিহাতুল কিতাব' (সূরা ফাতিহা)-এর মধ্যে গচ্ছিত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এর তাফসীর জানল, সে যেন সমস্ত নাযিলকৃত কিতাবের তাফসীর জানল। এটি বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ বর্ণনা করেছেন।এবং ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: এই উম্মত যা কিছু বলে তার সবই সুন্নাহর ব্যাখ্যা, আর সুন্নাহর সমস্ত ব্যাখ্যা হলো কুরআনেরই ব্যাখ্যা। সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: আমি এমন কোনো হাদীস শুনিনি যার সমর্থনে আল্লাহর কিতাব থেকে কোনো আয়াত অনুসন্ধান করিনি। সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহি.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস তার যথাযথভাবে আমার কাছে পৌঁছালে আমি অবশ্যই (তার প্রমাণ কুরআনে) পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
مصداقه في كتاب الله، أخرجه ابن أبي حاتم، وقال ابن مسعود: إذا حدثتكم بحديث أنبأتكم بتصديقه من كتاب الله، أخرجه ابن أبي حاتم. وقال ابن مسعود أيضاً: أنزل في القرآن كل علم وبين لنا فيه كل شيء ولكن علمنا يقصر عما بين لنا في القرآن، أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم. وأخرج ابو الشيخ في العظمة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله لو أغفل شيئاً لأغفل الذرة والخردلة والبعوضة". وقال الشافعي أيضاً: جميع ما حكم به النبي صلى الله عليه وسلم فهو مما فهمه من القرآن.قلت ويؤيد هذا قوله صلى الله عليه وسلم: "إني لا أحل إلا ما أحل الله في كتابه ولا أحرم إلا ما حرم الله في كتابه" رواه بهذا اللفظ الطبراني في الأوسط من حديث عائشة. وقال الشافعي أيضاً: ليست تنزل بأحد في الدين نازلة إلا في كتاب الله الدليل على سبيل الهدى فيها فإن قيل: من الأحكام ما ثبت ابتداء بالسنة، قلنا: ذلك مأخوذ من كتاب الله في الحقيقة لأن كتاب الله أوجب علينا اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وفرض علينا الأخذ بقوله.وقال الشافعي مرة بمكة: سلوني عما شئتم أخبركم عنه من كتاب الله، فقيل له ما تقول في المحرم يقتل الزنبور، فقال: بسم الله الرحمن الرحيم، قال الله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} .وحدثنا سفيان بن عيينة عن عبد الملك بن عمير عن ربعي بن حراش عن حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "اقتدوا باللذين من بعدي أبي بكر وعمر"، وحدثنا سفيان عن معر بن كدام عن قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن عمر بن الخطاب أنه أمر بقتل المحرم الزنبور.
এর সত্যায়ন আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ বলেন: আমি যখন তোমাদের কাছে কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব থেকে তার সত্যায়ন জানিয়ে দেই। ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ আরও বলেছেন: কুরআনে সমস্ত জ্ঞান অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং এতে আমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের জ্ঞান কুরআনে আমাদের জন্য যা স্পষ্ট করা হয়েছে তা উপলব্ধি করতে অক্ষম। ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন। আবুশ শায়খ 'আল-আজামাহ' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যদি কোনো কিছু উপেক্ষা করতেন, তবে তিনি অণু পরিমাণ বস্তু, সরিষার দানা এবং মশা উপেক্ষা করতেন।" ইমাম শাফেঈ আরও বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু ফয়সালা করেছেন, তা তিনি কুরআন থেকেই বুঝেছেন।আমি বলি, একে সমর্থন করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হালাল করেছেন আমি কেবল তাই হালাল করি এবং আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হারাম করেছেন আমি কেবল তাই হারাম করি।" তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আয়েশা থেকে এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেঈ আরও বলেছেন: দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির ওপর এমন কোনো সমস্যা আসে না যার হেদায়াতের পথের প্রমাণ আল্লাহর কিতাবে নেই। যদি বলা হয়: কিছু বিধান তো সুন্নাহ দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তবে আমরা বলব: প্রকৃতপক্ষে তাও আল্লাহর কিতাব থেকেই গৃহীত। কারণ আল্লাহর কিতাব আমাদের ওপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করা ওয়াজিব করেছে এবং তাঁর কথা গ্রহণ করাকে আমাদের ওপর ফরজ করেছে।ইমাম শাফেঈ একবার মক্কায় বলেছিলেন: তোমরা আমাকে যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করো, আমি আল্লাহর কিতাব থেকে তোমাদের তা জানিয়ে দেব। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তি ভীমরুল বা বোলতা হত্যা করলে তার বিধান কী? তখন তিনি বললেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি রিবঈ ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর।" সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাসআর ইবনে কিদাম থেকে, তিনি কায়স ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় ভীমরুল হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى البخاري عن ابن مسعود قال: لعن الله الواشمات والمستوشمات والمتنمصات، والمتفلجات للحسن المغيرات لخلق الله، فقالت له امرأة في ذلك فقال: وما لي لا ألعن من لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في كتاب الله؟ فقالت لقد قرأت ما بين اللوحين فما وجدت فيه ما تقول. قال لئن قرآتيه لقد وجدتيه أما قرأت {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}قالت بلى، قال فإنه قد نهى عنه.وقال ابن برجان. ما قال النبي صلى الله عليه وسلم من شيء فهو في القرآن أو فيه أصله قرب أو بعد. فهمه من فهم، أو عمه عنه من عمه، وكذا كل ما حكم أو قضى به.وقال غيره: ما من شيء إلا يمكن استخراجه من القرآن لمن فهمه الله تعالى. حتى أن بعضهم استنبط عمر النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثاً وستين من قوله في سورة المنافقين: {وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا}فإنها رأس ثلاث وستين سورة، وعقبها بالتغابن ليظهر التغابن في فقده.وقال المرسي: جمع القرآن علوم الأولين والآخرين بحيث لم يحط بها علماً حقيقةً إلا المتكلم به، ثم رسول الله صلى الله عليه وسلم، خلا ما استأثر به سبحانه، ثم ورث عنه معظم ذلك سادات الصحابة وأعلامهم مثل الخلفاء الأربعة، ومثل ابن مسعود وابن عباس حتى قال: لو ضاع لي عقال بعير لوجدته في كتاب الله، ثم ورث عنهم التابعون بإحسان، ثم تقاصرت الهمم وفترت العزائم وتضائل أهل العلم وضعفوا عن حمل ما حمله الصحابة والتابعون من علومه وسائر فنونه، فنوعوا علومه وقامت كل طائفة، بفن من فنونه فاعتنى قوم بضبط لغاته، وتحرير كلماته، ومعرفة مخارج حروفه وعددها وعدد كلماته وآياته وسوره وأحزابه
ইমাম বুখারী ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর অভিশাপ সেই সমস্ত নারীদের ওপর যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি করিয়ে নেয়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।" এ বিষয়ে এক মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে অভিশাপ দিয়েছেন, আমি কেন তাকে অভিশাপ দেব না? অথচ তা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান।" মহিলাটি বলল: "আমি তো দুই মলাটের মাঝখানের সবকিছু পড়েছি, কিন্তু আপনি যা বলছেন তা তো পাইনি।" তিনি বললেন: "তুমি যদি তা পড়তে তবে অবশ্যই তা পেতে। তুমি কি পড়নি: 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো'?"মহিলাটি বলল: "হ্যাঁ (পড়েছি)।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন।"ইবনুল বারজান বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু বলেছেন, তা কুরআনেই আছে অথবা কুরআনে তার মূল ভিত্তি রয়েছে, চাই তা নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী। যে তা বুঝতে পেরেছে সে বুঝেছে, আর যে তা থেকে অন্ধ থেকেছে সে অন্ধই থেকেছে। অনুরূপভাবে তাঁর প্রতিটি বিচার ও সিদ্ধান্তও কুরআনে বিদ্যমান।"অন্য একজন বলেন: "এমন কিছু নেই যা কুরআন থেকে বের করা সম্ভব নয় তার জন্য যাকে আল্লাহ তাআলা জ্ঞান দান করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ সূরা আল-মুনাফিকুনের এই আয়াত থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স তেষট্টি বছর হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছেন: 'যখন কারও মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দেবেন না'।"কেননা এটি হলো তেষট্টিতম সূরার শেষে, আর এর পরপরই সূরা আত-তাগাবুন উল্লেখ করা হয়েছে যাতে তাঁর বিয়োগে যে ক্ষতি বা লোকসান হয়েছে তা প্রকাশ পায়।আল-মুরসি বলেন: "কুরআন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞানকে এমনভাবে সংকলিত করেছে যে, যার প্রকৃত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নেই যিনি এটি বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রয়েছে, তবে আল্লাহ যা নিজের জন্য খাস রেখেছেন তা ব্যতীত। অতঃপর তাঁর থেকে এর অধিকাংশ জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়েছেন বিশিষ্ট সাহাবীগণ ও তাঁদের নেতৃবৃন্দ, যেমন চার খলিফা এবং ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস। এমনকি তিনি (ইবনে আব্বাস) বলতেন: 'যদি আমার উটের রশিও হারিয়ে যায় তবে তাও আমি আল্লাহর কিতাবে পেয়ে যাব'। এরপর উত্তমভাবে অনুসারী তাবিঈগণ তাঁদের থেকে এ জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর মানুষের সংকল্পে ভাটা পড়ে, একাগ্রতা হ্রাস পায় এবং আলেমদের সংখ্যা কমে যায়। সাহাবী ও তাবিঈগণ কুরআনের যে ইলম ও বিভিন্ন শাখা বহন করেছিলেন, তা বহন করার ক্ষেত্রে পরবর্তীগণ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তারা এর জ্ঞানসমূহকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেন এবং প্রতিটি দল একটি নির্দিষ্ট শাখায় নিয়োজিত হয়। একদল এর ভাষা সুসংবদ্ধ করা, শব্দসমূহ বিশ্লেষণ করা এবং বর্ণসমূহের মাখরাজ, সংখ্যা, শব্দের সংখ্যা, আয়াত, সূরা ও হিজব বা অনুচ্ছেদসমূহ নির্ধারণের প্রতি মনোনিবেশ করেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأنصافه وأرباعه وعدد سجداته والتعليم عند عشر كل آيات، إلى غير ذلك من حصر الكلمات المتشابهة والآيات المتماثلة من غير تعرض لمعانيه. ولا تدبر لما أودع فيه فسموا القراء.واعتنى النحاة بالمعرب منه والمبني من الأسماء والأفعال، والحروف العاملة وغيرها وأوسعوا الكلام في الأسماء وتوابعها وضروب الأفعال والازم والمتعدي ورسوم خط الكلمات وجميع ما يتعلق به حتى أن بعضهم أعرب مشكله، وبعضهم أعربه كلمة كلمة.واعتنى المفسرون بألفاظه فوجدوا منه لفظاً يدل على معنى واحد لفظاً يدل على معنيين ولفظاً يدل على أكثر، فاجروا الأول على حكمه وأوضحوا معنى الخفي منه، وخاضوا إلى ترجيح محتملات أحد ذي المعنيين والمعاني، وأعمل كل منهم فكره، وقال بما اقتضاه نظره.واعتنى الأصوليون بما فيه من الأدلة العقلية والشواعد الأصلية والنظرية مثل قوله: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا}إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة، فاستنبطوا منه أدلة على وحدانية الله ووجوده وبقائه وقدمه وقدرته وعلمه وتنزيهه عما لا يليق به وسموا هذا العلم بأصول الدين.وتأملت طائفة منهم معاني خطابه فرأت منها ما يقتضي العموم. ومنها ما يقتضي الخصوص إلى غير ذلك، فاستنبطوا منه أحكام اللغة من الحقيقة والمجاز وتكلموا في التخصيص. والإضمار، والنص، والظاهر، والمجمل، والمحكم، والمتشابه، والأمر، والنهي والنسخ، إلى غير ذلك من أنواع الأقيسة واستصحاب الحال والاستقراء وسموا هذا الفن أصول الفقه.وأحكمت طائفة صحيح النظر وصادق الفكر فيما فيه من الحلال والحرام وسائر الأحكام فأسسوا أصوله وفروعه وبسطوا القول في ذلك بسطا حسناً وسموه بعلم الفروع، وبالفقه أيضاً.وتلمحت طائفة ما فيه في من قصص القرون السابقة والأمم الخالية ونقلوا أخبارهم ودونوا آثارهم ووقائعهم حتى ذكروا بدء الدنيا وأول الأشياء، وسموا ذلك بالتاريخ والقصص.
এবং এর অর্ধাংশ, চতুর্থাংশ, সিজদাহর সংখ্যা এবং প্রতি দশ আয়াতের শিক্ষা; এর বাইরেও সদৃশ শব্দ এবং সমজাতীয় আয়াতসমূহের শ্রেণীবদ্ধকরণ—এই সবকিছুরই তারা যত্ন নিলেন এর অর্থগত বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে এবং এতে নিহিত ভাবধারা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা না করেই। তাদের 'কুররা' (কারীগণ) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।ব্যাকরণবিদগণ কুরআনের মু'রাব (রূপান্তরশীল) ও মাবনি (অপরিবর্তনীয়) বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং আমলকারী অব্যয় ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। তারা বিশেষ্য ও এর অনুগামী পদসমূহ, ক্রিয়ার প্রকারভেদ, অকর্মক ও সকর্মক ক্রিয়া, শব্দের লিখনরীতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ এর জটিল স্থানগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ করেছেন।মুফাসসিরগণ এর শব্দাবলির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা এতে এমন শব্দ পেয়েছেন যা একটি মাত্র অর্থ প্রকাশ করে, আবার এমন শব্দও পেয়েছেন যা দুটি অর্থ বা তার বেশি অর্থ প্রকাশ করে। ফলে তারা প্রথমটিকে তার নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োগ করেছেন এবং অস্পষ্ট অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছেন। তারা দুই বা ততোধিক অর্থবাহী শব্দের সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিবিষ্ট হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ চিন্তা ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন এবং স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।উসুলবিদগণ এতে বিদ্যমান বুদ্ধিভিত্তিক দলিল, মৌলিক প্রমাণাদি এবং তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, যেমন আল্লাহর বাণী: "যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।"এর বাইরেও আরও অনেক আয়াতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর অস্তিত্ব, চিরস্থায়িত্ব, অনাদিত্ব, ক্ষমতা, জ্ঞান এবং তাঁর শানের সাথে যা সংগতিপূর্ণ নয় তা থেকে তাঁকে পবিত্র রাখার সপক্ষে দলিলসমূহ আহরণ করেছেন। তারা এই শাস্ত্রের নাম দিয়েছেন 'উসুলুদ্দীন'।তাদের একটি দল আল্লাহর বাণীর অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছেন। তারা সেখানে এমন কিছু পেয়েছেন যা ব্যাপকতা দাবি করে এবং এমন কিছু যা বিশেষত্ব দাবি করে। এ থেকে তারা সত্যার্থ ও রূপক সংক্রান্ত ভাষার নিয়মাবলি আহরণ করেছেন। তারা নির্দিষ্টকরণ, ঊহ্য রাখা, দ্ব্যর্থহীন পাঠ, প্রকাশ্য অর্থ, অস্পষ্ট, সুস্পষ্ট, সদৃশ, আদেশ, নিষেধ এবং রহিতকরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার কিয়াস, বিদ্যমান অবস্থা বহাল রাখা এবং আরোহ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এই শিল্পের নাম দিয়েছেন 'উসুলুল ফিকহ'।অন্য একটি দল এতে বিদ্যমান হালাল-হারাম এবং অন্যান্য বিধানাবলির ক্ষেত্রে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি ও সত্যনিষ্ঠ চিন্তাকে সুসংহত করেছেন। তারা এর মূলনীতি ও শাখাসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এ বিষয়ে উত্তমভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা এর নাম দিয়েছেন 'ইলমুল ফুরু' এবং 'ফিকহ'।আরেকটি দল কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তী যুগের কাহিনী এবং বিগত জাতিসমূহের বিবরণ লক্ষ্য করেছেন। তারা তাদের সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাদের নিদর্শন ও ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনকি তারা জগতের সূচনা এবং আদি বিষয়গুলোও উল্লেখ করেছেন। তারা এর নাম দিয়েছেন 'ইতিহাস ও কাহিনী'।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وتنبه آخرون لما فيه من الحكم والأمثال، والمواعظ التي تقلقل قلوب الرجال، وتكاد تدكدك الجبال، فاستنبطوا مما فيه من الوعد والوعيد، والتحذير والتبشير، وذكر الموت والمعاد، والنشر والحشر، والحساب والعقاب، والجنة والنار، فصولاً من المواعظ وأصولاً من الزواجر فسموا بذلك الخطباء والوعاظ.واستنبط قوم مما فيه من أصول التعبير مثل ما ورد في قصة يوسف من البقرات السمان وفي منامي صاحبي السجن وفي رؤية الشمس والقمر والنجوم ساجدات، وسموه تعبير الرؤيا. واستنبطوا تفسير كل رؤيا من الكتاب، فإن عز عليهم إخراجها منه فمن السنة التي هي شارحة للكتاب، فإن عسر فمن الحكم والأمثال، ثم نظروا إلى اصطلاح العوام في مخاطباتهم وعرف عاداتهم الذي أشار إليه القرآن بقوله: {وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ} .وأخذ قوم مما في آية المواريث من ذكر السهام وأربابها وغير ذلك علم الفرائض، واستنبطوا منها ذكر النصف، والثلث والربع والسدس والثمن حساب الفرائض ومسائل العول واستخرجوا منه أحكام الوصايا.ونظر قوم إلى ما فيه من الآيات الدالات على الحكم الباهرة في الليل والنهار. والشمس والقمر ومنازله والنجوم والبروج وغير ذلك، فاستخرجوا منه علم المواقيت.ونظر الكتاب والشعراء إلى ما فيه من جزالة اللفظ، وبديع النظم. وحسن السياق والمبادي والمقاطيع والمخالص. والتلوين، في الخطاب والإطناب والإيجاز، وغير ذلك فاستنبطوا منه المعاني والبيان، والبديع.ونظر فيه أرباب الإشارات وأصحاب الحقيقة فلاح لهم من ألفاظه معان ودقايق جعلوا لها أعلاماً اصطلحوا عليها مثل الفناء، والبقاء والحضور، والخوف، والهيبة والأنس، والوحشة، والقبض، والبسط، وما أشبه ذلك.
অন্য একদল লোক এর মধ্যে বিদ্যমান প্রজ্ঞা, দৃষ্টান্ত এবং এমন সব উপদেশাবলীর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন যা মানুষের অন্তরকে প্রকম্পিত করে এবং পাহাড়সমূহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার উপক্রম করে। তারা এর মধ্যকার প্রতিশ্রুতি ও ধমক, সতর্কতা ও সুসংবাদ, মৃত্যু ও পরকাল, পুনরুত্থান ও হাশর, হিসাব ও শাস্তি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা থেকে উপদেশের নানা পরিচ্ছেদ এবং সতর্কবার্তার মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করেছেন; একারণে তাদের বাগ্মী ও উপদেশদাতা হিসেবে অভিহিত করা হয়।একদল লোক এর মধ্য থেকে স্বপ্ন ব্যাখ্যার মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করেছেন, যেমন ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীতে স্থূলকায় গাভীসমূহ, কারাগারের দুই সঙ্গীর স্বপ্ন এবং সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির সিজদাবনত হওয়ার স্বপ্ন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; তারা এর নাম দিয়েছেন স্বপ্ন ব্যাখ্যা। তারা কিতাবুল্লাহ থেকেই প্রতিটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা উদ্ভাবন করতেন। যদি কিতাব থেকে তা বের করা তাদের জন্য কঠিন হতো, তবে সুন্নাহ থেকে নিতেন যা কিতাবের ব্যাখ্যাকারী। যদি তাও দুরুহ হতো তবে প্রজ্ঞা ও দৃষ্টান্ত থেকে নিতেন। অতঃপর তারা সাধারণ মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনের পরিভাষা এবং তাদের প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, যার প্রতি কুরআন এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে: "আর তুমি প্রচলিত প্রথার নির্দেশ দাও।"এবং একদল লোক উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াতে উল্লিখিত বিভিন্ন অংশ ও অংশীদারদের বর্ণনা ইত্যাদি থেকে উত্তরাধিকার বিজ্ঞান গ্রহণ করেছেন। তারা এ থেকে অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ, এক-ষষ্ঠাংশ এবং এক-অষ্টমাংশের হিসাব ও আউলের মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন করেছেন এবং অসিয়তের বিধানাবলী বের করেছেন।আরেকদল লোক দিন ও রাত, সূর্য ও চন্দ্র এবং এর মঞ্জিলসমূহ, নক্ষত্র ও রাশিচক্র ইত্যাদি সম্পর্কে এতে বিদ্যমান বিস্ময়কর প্রজ্ঞার নির্দেশক আয়াতসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। ফলে তারা এ থেকে সময় নির্ধারণ বিদ্যা বের করেছেন।লেখক ও কবিগণ এর শব্দের গাম্ভীর্য, চমৎকার বিন্যাস, প্রসঙ্গের সৌন্দর্য, প্রারম্ভ, সমাপ্তি ও উত্তরণ এবং সম্বোধনের বৈচিত্র্য, দীর্ঘায়ন ও সংক্ষিপ্তকরণ ইত্যাদির প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন; ফলে তারা এ থেকে অলংকার শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যথা মাআনী, বায়ান ও বাদী উদ্ভাবন করেছেন।ইঙ্গিত বিশারদ ও সত্যের অন্বেষীগণ এতে নিবিড়ভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন। ফলে এর শব্দাবলী থেকে তাদের কাছে এমন কিছু সূক্ষ্ম অর্থ ও নিগূঢ় তত্ত্ব উদ্ভাসিত হয়েছে যেগুলোর জন্য তারা কিছু নির্দিষ্ট পরিভাষা স্থির করেছেন, যেমন: বিলয়, স্থিতি, উপস্থিতি, ভয়, গাম্ভীর্য, সখ্যতা, একাকীত্ব, সংকোচন, প্রসারণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هذه الفنون التي أخدتها الملة الإسلامية منه، وقد احتوى على علوم أخر من علوم الأوائل مثل الطب، والجدل، والهيئة، والهندسة، والجبر والمقابلة، والنجامة، وغير ذلك.أما الطب فمداره على حفظ نظام الصحة، واستحكام القوة، وذلك إنما يكون باعتدال المزاع تبعاً على الكيفيات المتضادة، وقد جمع ذلك في آية واحدة وهي قوله: {وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} .وعرفنا فيه بما يعيد نظام الصحة بعد اختلاله وحدوث الشفاء للبدن بعد اعتلاله في قوله: {شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ} .ثم زاد على طب الأجساد بطب القلوب وشفاء الصدور.وأما الهيئة ففي تضاعيف سوره من الآيات التي ذكر فيها من ملكوت السموات والأرض، وما بث في العالم العلوي والسفلي من المخلوقات.وأما الهندسة ففي قوله: {انْطَلِقُوا إِلَى ظِلٍّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ (30) لَا ظَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ}فإن فيه قاعدة هندسية وهو أن الشكل المثلث لا ظل له.وأما الجدل فقد حوت آياته من البراهين والمقدمات والنتائج والقول بالموجب والمعارضة وغير ذلك شيئاً كثيراً، ومناظرة إبراهيم أصل في ذلك عظيم.وأما الجبر والمقابلة فقد قيل إن أوائل السور ذكر مدد وأعوام وأيام لتواريخ أمم سالفة، وأن فيها تاريخ بقاء هذه الأمة وتاريخ مدة الدنيا وما مضى وما بقي مضروب بعضها في بعض.
এই শিল্পকলাগুলো মুসলিম উম্মাহ এটি থেকে গ্রহণ করেছে এবং এটি পূর্ববর্তীদের অন্যান্য অনেক জ্ঞান বিজ্ঞানেও সমৃদ্ধ, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, বিতর্কশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতি, বীজগণিত ও সমীকরণ, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু।চিকিৎসা বিজ্ঞান মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শক্তির সুদৃঢ়করণের ওপর আবর্তিত হয়। আর তা কেবল পরস্পরবিরোধী গুণাবলির সামঞ্জস্যের মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহ তাআলা একটি আয়াতেই এর সবটুকু একত্রিত করেছেন, যা হলো তাঁর এই বাণী: "আর তারা এর মাঝামাঝি একটি অবস্থানে থাকে।"অসুস্থতার পর শরীরের আরোগ্য লাভ এবং স্বাস্থ্যের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে আনার উপায় সম্পর্কে তিনি আমাদের অবগত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "এমন একটি পানীয় যার বর্ণ বিভিন্ন, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগ নিরাময়।"এরপর তিনি দেহের চিকিৎসার সাথে হৃদয়ের চিকিৎসা এবং অন্তরের আরোগ্যকেও যুক্ত করেছেন।আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়টি তাঁর সূরার সেই আয়াতসমূহে বিদ্যমান যেখানে আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে ছড়িয়ে থাকা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।আর জ্যামিতির বিষয়টি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: "তোমরা চল সেই ছায়ার দিকে যা তিন শাখাবিশিষ্ট, যা শীতল নয় এবং যা অগ্নিশিখা হতে রক্ষা করে না।"কারণ এতে একটি জ্যামিতিক মূলনীতি রয়েছে, আর তা হলো ত্রিভুজাকৃতি বস্তুর কোনো ছায়া থাকে না।আর বিতর্কশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর আয়াতসমূহে অসংখ্য প্রমাণ, ভূমিকা, ফলাফল, ইতিবাচক বক্তব্য, বিরোধিতা এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে ইবরাহীম (আ.)-এর বিতর্ক এক মহান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।আর বীজগণিত ও সমীকরণের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে যে, সূরার শুরুর অক্ষরসমূহ বিগত জাতিসমূহের ইতিহাসের সময়কাল, বছর ও দিনগুলো উল্লেখ করে। এছাড়া এতে এই উম্মতের স্থায়িত্বের ইতিহাস, দুনিয়ার মেয়াদের ইতিহাস এবং যা অতিক্রান্ত হয়েছে ও যা অবশিষ্ট আছে সেগুলোর গুণফলের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما النجامة ففي قوله: {أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ}فقد فسره ابن عباس بذلك.وفيه من أصول الصنائع وأسماء الآلات التي تدعو الضرورة إليها، فمن الصنائع: الخياطة في قوله: {وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ} .والحدادة في قوله تعالى {آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ} .{وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ}الآية والبناء في آيات والنجارة {أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ}والغزل {نَقَضَتْ غَزْلَهَا}والنسيج {كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا} .والفلاحة {أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ} .في آيات أخر، والصيد في آيات، والغوص، {وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ} .{وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً} .والصياغة {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا} .والزجاجة {صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ} .{الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ}والفخارة {فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ} .والملاحة {أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ} .والكتابة {عَلَّمَ بِالْقَلَمِ}في آيات أخر. والخبز، والطحن، {أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْزًا تَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْهُ} .والطبخ {بِعِجْلٍ
আর নক্ষত্রবিদ্যা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা জ্ঞানের কোনো অবশেষ}। ইবনে আব্বাস (রা.) এর ব্যাখ্যা এভাবেই করেছেন।আর এতে মৌলিক শিল্পকর্ম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নাম রয়েছে। শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে: সেলাই কাজ, আল্লাহর বাণীতে: {আর তারা উভয়ে নিজেদের ওপর জান্নাতের পাতা জোড়া দিতে শুরু করল}।আর কর্মকারের কাজ মহান আল্লাহর বাণীতে: {তোমরা আমার কাছে লোহার পিণ্ডগুলো নিয়ে এসো}।{আর আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম}এই আয়াত এবং নির্মাণ কাজ রয়েছে বিভিন্ন আয়াতে, আর কাঠমিস্ত্রির কাজ: {তুমি নৌকা তৈরি করো}এবং সুতা কাটা: {যে তার সুতা ছিঁড়ে ফেলেছে}এবং বয়ন শিল্প: {মাকড়সার মতো, যে ঘর তৈরি করেছে}।এবং কৃষি কাজ: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন করো?}অন্যান্য আয়াতেও রয়েছে। শিকারের কথা বিভিন্ন আয়াতে রয়েছে, এবং ডুবুরির কাজ: {আর শয়তানদেরকে, যারা ছিল প্রত্যেক নির্মাণকারী ও ডুবুরি}।{যাতে তোমরা তা থেকে অলঙ্কার বের করতে পারো}।এবং স্বর্ণকারের কাজ: {আর মুসার সম্প্রদায় তার প্রস্থানের পর তাদের অলঙ্কারগুলো দিয়ে একটি বাছুর বানিয়ে নিল}।এবং কাঁচ শিল্প: {এটি স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে নির্মিত প্রাসাদ}।{প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের মধ্যে রয়েছে}এবং মৃৎশিল্প: {হে হামান, তুমি আমার জন্য কাদা পুড়িয়ে আগুন প্রজ্বলিত করো}।এবং নৌচালনা: {নৌকাটি ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যক্তির, যারা সমুদ্রে কাজ করত}।এবং লিখন শিল্প: {যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন}অন্যান্য আয়াতেও রয়েছে। আর রুটি তৈরি ও পেষণ কাজ: {আমি আমার মাথায় রুটি বহন করছি যা থেকে পাখি খাচ্ছে}।এবং রান্না করা: {একটি বাছুর দিয়ে
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حَنِيذٍ} .والغسل، والقصارة، {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} .{قَالَ الْحَوَارِيُّونَ}وهم القاصرون، والجزارة {إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ} .والبيع والشراء في آيات كثيرة والصبغ {صِبْغَةَ اللَّهِ} .{جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ} .والحجارة {وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا} .والكيالة، والوزن في آيات كثيرة، والرمي: {وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ} .{وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} .وفيه من أسماء الآلات وضروب المأكولات والمشروبات والمنكوحات وجميع ما وقع في الكائنات ما يحقق معنى قوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} .انتهى، كلام المرسي ملخصاً مع زيادات.قلت: قج اشتمل كتاب الله على كل شيء! أما أنواع العلوم فليس منها باب ولا مسئلة هي أصل إلا وفي القرآن ما يدل عليها، وفيه على عجائب المخلوقات، وملكوت السموات والأرض، وما في الأفق الأعلى، وتحت الثرى، وبدء الخلق، وأسماء مشاهير الرسل والملائكة، وعيون أخبار الأمم السالفة، كقصة آدم مع إبليس في إخراجه من الجنة، وفي الولد الذي سماه عبد الحارث، ورفع إدريس، وإغراق قوم نوح، وقصة عاد الأولى والثانية، وثمود، والناقة، وقوم لوط، وقوم شعيب الأولين، والاخرين، فإنه أرسل مرتين قوم تبع، ويونس، وإلياس، وأصحاب الرس، وقصة موسى في ولادته وإلقائه في اليم وقتله القبطي ومسيره إلى مدين، وتزوجه ابنة شعيب، وكلامه تعالى بجانب الطور، وبعثه إلى فرعون وخروجه واغراق عدوه، وقصة العجل والقوم الذين خرج بهم وأخذتهم الصعقة، وقصة القتيل وذبح البقرة، وقصته في قتال الجبارين، وقصته مع الخضر، والقوم الذين ساروا في سرب من الأرض إلى الصين، وقصة طالوت
পোড়া গোশত।এবং ধৌত করা ও কাপড় পরিষ্কার করা, {এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন}।{হাওয়ারীগণ বলল}আর তারা হলো কাপড় পরিষ্কারকারী (ধোপা), এবং কসাইগিরি {তোমরা যা জবেহ করেছ তা ছাড়া}।এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে এবং রঙ করা {আল্লাহর রঙ}।{সাদা ও লাল বর্ণের বিভিন্ন রেখা}।এবং পাথর কাটা {আর তোমরা পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করো}।এবং পরিমাপ করা ও ওজন করা সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে, এবং নিক্ষেপ করা: {আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি}।{আর তাদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি প্রস্তুত রাখো}।এতে যন্ত্রপাতির নাম, বিভিন্ন প্রকার খাদ্য, পানীয়, বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং সৃষ্টিজগতে যা কিছু ঘটে তার সবকিছুই রয়েছে যা তাঁর এই বাণীর অর্থকে সার্থক করে: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি}।আল-মুরসির বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে ও কিছু সংযোজনসহ এখানে সমাপ্ত।আমি বলি: আল্লাহর কিতাব তো সবকিছুকেই শামিল করেছে! বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে এমন কোনো অধ্যায় বা মাসআলা নেই যা মৌলিক, অথচ কুরআনে তার কোনো নির্দেশিকা নেই। এতে সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়াবলী, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব, উচ্চ দিগন্ত ও মাটির নিচে যা কিছু আছে, সৃষ্টির সূচনা, প্রসিদ্ধ রাসূল ও ফেরেশতাদের নাম এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসমূহ বিদ্যমান। যেমন জান্নাত থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে ইবলিসের সাথে আদমের কাহিনী, সেই সন্তানের কাহিনী যাকে তিনি আবদুল হারিস নাম দিয়েছিলেন, ইদরিসের ঊর্ধ্বে আরোহণ, নূহ-এর সম্প্রদায়ের নিমজ্জন, প্রথম ও দ্বিতীয় আদ সম্প্রদায়, সামুদ ও উষ্ট্রী, লূতের সম্প্রদায় এবং শুয়াইবের প্রথম ও পরবর্তী সম্প্রদায়ের কাহিনী—কেননা তাঁকে দুইবার পাঠানো হয়েছিল—তুব্বা সম্প্রদায়, ইউনুস, ইলিয়াস এবং আসহাবুর রাস-এর কাহিনী। এবং মূসার কাহিনী: তাঁর জন্ম, তাঁকে নদীতে নিক্ষেপ করা, কিবতিকে হত্যা করা, মাদিয়ানের দিকে তাঁর সফর, শুয়াইবের কন্যার সাথে তাঁর বিবাহ, তূর পাহাড়ের পাশে মহান আল্লাহর সাথে তাঁর কথোপকথন, ফেরাউনের কাছে তাঁর প্রেরণ, তাঁর প্রস্থান ও শত্রুর নিমজ্জন, বাছুরের কাহিনী, সেই সম্প্রদায়ের কাহিনী যাদের নিয়ে তিনি বের হয়েছিলেন এবং যারা বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়েছিল, নিহত ব্যক্তির কাহিনী ও গাভী জবেহ করা, জাব্বারীনদের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধের কাহিনী, খিদিরের সাথে তাঁর কাহিনী, এবং সেই সম্প্রদায় যারা যমিনের সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে চীন পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং তালুতের কাহিনী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وداود مع جالوت وقتلته، وقصة سليمان وخبره مع ملكة سبأ، وفتنته، وقصة القوم الذين خرجوا فراراً من الطاعون فأماتهم الله ثم أحياهم، وقصة إبراهيم في مجادلته قومه ومناظرته النمروذ، ووضعه إسماعيل مع أمه بمكة، وبنائه البيت، وقصة الذبيح، وقصة يوسف وما أبسطها، وقصة مريم وولادتها عيسى وإرساله ورفعه، وقصة زكريا وابنه يحي وأيوب وذي الكفل، وقصة ذي القرنين ومسيره إلى مطلع الشمس ومغربها وبنائه السد، وقصة أصحاب الكهف، وقصة أصحاب الرقيم، وقصة بختنصر، وقصة الرجلي اللذين لأحدهما الجنة، وقصة أصحاب الجنة، وقصة مؤمن آل فرعون، وقصة أصحاب الفيل، وقصة الجبار الذي أراد أن يصعد إلى السماء.وفيه من شأن النبي صلى الله عليه وسلم دعوة إبراهيم به وبشارة عيسى، وبعثه وهجرته ومن غزاوته بدر في سورة الأنفال، وأحُد في آل عمرن، وبدر الصغرى فيها، والخندق في الأحزاب، والنضير في الحشر، والحديبية في الفتح وتبوك في براءة وحجة الوداع في المائدة، ونكاحه زينيب جحش وتحريم سريتهِ، وتظاهر أزواجه عليه، وقصة الإفك، وقصة الإسراء، وانشقاق القمر، وسحر اليهود إياه، وفيه بدء حلق الإنسان إلى موته، وكيفية الموت وقبض الروح، وما يفعل بها بعد صعوجها إلى السماء، وفتح الباب للمؤمنة والقاء الكافرة، وعذاب القبر والسؤال فيه، ومقر الأرواح، وأشراط الساعة الكبرى العشرة، وهي زول عيسى، وخروج الدجال، ويأجوج ومأجوج، والدابة، والدخان، ورفع القرآن، وطلوع الشمس من مغربها، وغلق باب التوبة، والخسف، وأحوال البعث من نفخة الصور والفزع والصعق والقيام، والحشر، والنشر، وأهوال الموقف، وشدة حر الشمس، وظل العرش، والصراط، والميزان، والحوض، والحساب لقوم ونجاة آخرين منه، وشهادة الأعضتء، وإتيان الكتب بالأيمان والشمائل وخلف الظهور، والشفاعة، والجنة وأبوابها وما فيها من الأنهار والأشجار والأثمار والحلى والألوان والدرجات، ورؤيته تعالى، والنار وما فيها من الأودية وأنواع العقاب وألوان العذاب والزقوم والحميم إلى غير ذلك، مما لو بسط جاء في مجلدات.وفي القرآن جميع أسمائه تعالى الحسنى كما ورد فد حديث، وفيه من أسمائه مطلقاً ألف اسم، وفيه من أسماء النبي صلى الله عليه وسلم جملة، وفيه شعب الإيمان البضع والسبعون، وفيه شرائع الإسلام الثلاثمائة وخمس عشرة، وفيه أنواع الكبائر وكثير من الصغائر، وفيه تصديق
এবং দাউদ ও জালুত এবং তাকে হত্যা করার কাহিনী, সুলাইমানের কাহিনী ও সাবার রানীর সাথে তাঁর সংবাদ এবং তাঁর পরীক্ষা, এবং সেই কওমের কাহিনী যারা প্লেগের ভয়ে পলায়ন করে বের হয়েছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের মৃত্যু দিলেন তারপর পুনর্জীবিত করলেন। ইবরাহিমের কাহিনী—তাঁর কওমের সাথে তাঁর বিতর্ক ও নমরুদের সাথে তাঁর বিতর্ক, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রের সাথে ইসমাইলকে মক্কায় রাখা, তাঁর কাবা গৃহ নির্মাণ, যবেহকৃত ব্যক্তির কাহিনী, এবং ইউসুফের কাহিনী যা অত্যন্ত বিস্তারিত। মারিয়ামের কাহিনী এবং তাঁর ঈসাকে জন্মদান, ঈসাকে প্রেরণ ও তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া। যাকারিয়া ও তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া, আইয়ুব ও যুল-কিফলের কাহিনী। যুল-কারনাইন এবং তাঁর উদয়াচল ও অস্তাচলে ভ্রমণ ও প্রাচীর নির্মাণের কাহিনী। আসহাবে কাহাফের কাহিনী, আর-রাকীমের অধিবাসীদের কাহিনী, বুখতানাসরের কাহিনী, সেই দুই ব্যক্তির কাহিনী যাদের একজনের বাগান ছিল, জান্নাতের অধিপতিদের কাহিনী, ফেরাউন বংশের মুমিন ব্যক্তির কাহিনী, হস্তীবাহিনীর কাহিনী এবং সেই স্বৈরাচারী ব্যক্তির কাহিনী যে আকাশে উঠতে চেয়েছিল।এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান সম্পর্কে রয়েছে তাঁর জন্য ইবরাহিমের দোয়া ও ঈসার সুসংবাদ, তাঁর নবুওয়াত লাভ ও হিজরত, এবং তাঁর যুদ্ধসমূহের সংবাদ—যেমন সূরা আনফালে বদরের যুদ্ধ, সূরা আলে ইমরানে উহুদ ও বদরে সোগরা, সূরা আহযাবে খন্দকের যুদ্ধ, সূরা হাশরে বনু নাযীরের যুদ্ধ, সূরা ফাতহে হুদায়বিয়া, সূরা বারায়াতে তাবুক এবং সূরা মায়িদায় বিদায় হজ্জের আলোচনা। আরও আছে যয়নাব বিনতে জাহাশের সাথে তাঁর বিবাহ ও তাঁর দাসীকে হারাম করা, তাঁর স্ত্রীদের তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হওয়া, ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনা, ইসরার (নৈশ ভ্রমণ) ঘটনা, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং ইহুদিদের তাঁকে যাদু করা। এতে আরও রয়েছে মানুষের সৃষ্টির সূচনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিবরণ, মৃত্যুর পদ্ধতি ও রূহ কবজ করা, আসমানে আরোহণের পর রূহের সাথে যা করা হয়, মুমিনের জন্য আসমানের দরজা উন্মুক্তকরণ ও কাফিরের রূহকে নিক্ষেপ করা, কবরের আযাব ও কবরের সওয়াল-জওয়াব, রুহসমূহের অবস্থানস্থল, কিয়ামতের দশটি বড় আলামত—যথা ঈসার অবতরণ, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ইয়াজুজ ও মাজুজ, দাব্বাতুল আরদ, ধোঁয়া, কুরআন উঠিয়ে নেওয়া, পশ্চিম আকাশ থেকে সূর্যোদয়, তাওবার দরজা বন্ধ হওয়া এবং ভূমিধস। আরও আছে পুনরুত্থানের অবস্থা—যেমন শিঙায় ফুঁৎকার, ভীতি, সংজ্ঞাহীন হওয়া ও দণ্ডায়মান হওয়া, হাশর, পুনর্জাগরণ, হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা, সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ, আরশের ছায়া, সিরাত, মীযান, হাওয, একদলের হিসাব গ্রহণ ও অন্যদলের তা থেকে মুক্তি লাভ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য দান, ডান হাতে, বাম হাতে ও পিঠের পেছন দিয়ে আমলনামা প্রদান, শাফায়াত, জান্নাত ও এর প্রবেশদ্বারসমূহ এবং সেখানে বিদ্যমান নদ-নদী, বৃক্ষরাজি, ফলমূল, অলঙ্কার, বর্ণ ও স্তরসমূহ, এবং মহান আল্লাহকে দর্শন। আরও আছে জাহান্নাম ও এর উপত্যকাসমূহ, বিভিন্ন প্রকার শাস্তি ও আযাবের ধরন, যাক্কুম ও ফুটন্ত পানি ইত্যাদি—যা বিস্তারিত বর্ণনা করলে বহু খণ্ডে সমাপ্ত হবে।কুরআনের মধ্যে মহান আল্লাহর সমস্ত সুন্দর নাম রয়েছে যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এতে সাধারণভাবে আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একগুচ্ছ নাম রয়েছে। এতে ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। এতে ইসলামের তিনশত পনেরটি শরীয়ত বা বিধান রয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রকার কবিরা গুনাহ এবং অনেক সগিরা গুনাহের বর্ণনা রয়েছে। এতে রয়েছে সত্যায়ন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
كل حديث ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم.هذه جملة القول في ذلك هذا وقد أكثر الناس التصنيف في أنواع علوم القرآن وقد ألفت في جملة من أنواعه كأسباب النزول، والمعرب والمبهمات، وغير ذلك، وما من كتاب منها إلا وقد فاق الكتب المؤلفة في نوعه ببديع اختصاره، وحسن تحريره وكثرة جمعه.وقد أفرد الناس في أحكامه كتباً كالقاضي إسماعيل وبكر بن العلاء وأبي بكر الرازي والكيا الهواسي وأبي بكر بن العربي وعبد المنعم بن الفرس، وغيرهم وكل منهم أفاد وأجاد، وجمع فأبدع غير أنها محشوة بالحشو والتطويل مشحونة بالاستطراد إلى أقوال المخالف والدليل، ومع ما فاتها من الاستباطات العلية، والاستخراجات الخفية.فعزمت على وضع كتاب في ذلك مهذب المقاصد، محرر المسالك، أورد فيه كل ما استبط منه أو أستدل به عليه من مسئلة فقهية أو أصلية أو اعتقادية، وبعضاً مما سوى ذلك، مقرونا بتفسير الآية حيث توقف فهم الاستباط عليه معزواً إلى قائله من الصحابة والتابعين، مخرجاً من كتاب ناقلة من ا [لأئمة المعتبرين فاشدد بهذا الكتاب يديك، وعض عليه بناجذيك، ولا يحملنك على استحقاره صغر حجمه، فمن نظر إليه بقلب سليم بان له غزارة علمه.وسميته بـ (الإكليل في استباط التنزيل) وعلى الله توكلت فهو حسبي ونعم الوكيل.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি হাদিস।এ বিষয়ে এটিই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। ইতিপূর্বে মানুষ উলুমুল কুরআনের (কুরআনের জ্ঞানসমূহ) বিভিন্ন শাখায় প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমিও এর বিভিন্ন শাখায় কিছু গ্রন্থ রচনা করেছি, যেমন আসবাবুন নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), মু'রাব (আরবি ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ), মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়াবলি) এবং আরও অনেক। এগুলোর প্রতিটি গ্রন্থই তার চমৎকার সংক্ষিপ্তসার, সুন্দর লিখনশৈলী এবং প্রচুর তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে স্বীয় বিষয়ে ইতিপূর্বে রচিত অন্য সকল কিতাবকে ছাড়িয়ে গেছে।ইতিপূর্বে মানুষ কুরআনের আহকাম (বিধিবিধান) সংক্রান্ত স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন; যেমন কাজী ইসমাঈল, বকর ইবনে আলা, আবু বকর আল-রাজি, কিয়া আল-হাররাসি, আবু বকর ইবনে আরাবি, আবদুল মুনইম ইবনে আল-ফারাস এবং আরও অনেকে। তাদের প্রত্যেকেই উপকারী ও চমৎকার কাজ করেছেন এবং চমৎকারভাবে সংকলন করেছেন। তবে সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক ও দীর্ঘ আলোচনায় ভরপুর এবং বিরুদ্ধবাদীদের বক্তব্য ও দলীল নিয়ে আলোচনার ভারে ন্যুব্জ। সেইসাথে তাতে উচ্চতর উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) এবং নিগূঢ় সিদ্ধান্তসমূহ সেভাবে আসেনি।তাই আমি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছি, যার উদ্দেশ্যসমূহ হবে পরিমার্জিত এবং কর্মপন্থা হবে সুসংহত। এতে আমি এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করব যা কুরআন থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে অথবা যার ওপর ভিত্তি করে ফিকহি, মূলনীতি সংক্রান্ত কিংবা আকিদাগত সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে প্রাসঙ্গিক আরও কিছু বিষয়ও থাকবে। আয়াতের সেই ব্যাখ্যাটিও সাথে থাকবে যার ওপর উদ্ভাবিত বিষয়ের উপলব্ধি নির্ভরশীল। এগুলো সাহাবী ও তাবেয়ীদের মধ্য থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের দিকে সম্পৃক্ত করা হবে এবং নির্ভরযোগ্য ইমামদের কিতাব থেকে উদ্ধৃত করা হবে। সুতরাং এই কিতাবটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরুন এবং মজবুতভাবে গ্রহণ করুন। এর ছোট কলেবর দেখে একে তুচ্ছ মনে করবেন না; কেননা যে ব্যক্তি স্বচ্ছ হৃদয়ে এটি দেখবে, তার কাছে এর জ্ঞানের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল’ (কুরআন থেকে উদ্ভাবনের মুকুট)। আর আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করছি, তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمةقال الغزالي وغيره: آيات الأحكام خمسمائة آية، وقال بعضهم مائة وخمسون، وقيل لعل مرادهم المصرح به فإن آيات القصص والأمثال وغيرها يستنبط منها كثير من الأحكام. قال اشيخ عز الدين بن عبد السلام في كتاب الإمام: إنما ضرب الله الأمثال في كتابه تذكيراً ووعظاً فما اشتمل منها على تفاوت في ثواب أو على إحباط عمل أو على مدح أو ذم أو نحوه فإنه يدل على الأحكام، ثم قال: ومعظم أي القرآن لا تخلو عن أحكام مشتملة على آداب حسنة وأخلاق جميلة، ثم من الآيات ما صرح فيه بالأحكام، ومنها ما يؤخذ بطريق الاستنباط إما بلا ضم إلى آية أخرى كاستنباط تحريم الاستمناء من قوله: {إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ}إلى قوله: {فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ} الآية. وصحة أنكحة الكفار من قوله: {وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ} .وصحة صوم الجنب من قوله: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ}إلى قوله: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ}ألاية. وإما به كاستنباط أن أقل الحمل ستة أشهر من قوله: {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا} .مع قوله: {وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ} .قال الشيخ عز الدين: ويستدل على الأحكام تارة بالصيغة وهو ظاهر وترة بالإخبار مثل {أُحِلَّ لَكُمْ} .{حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} .و {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} .وتارة بما رتب عليها في العاجل أو الآجل من خير أو شر أو نفع أو ضر.
ভূমিকাগাযালী এবং অন্যরা বলেছেন: আহকামের আয়াতসমূহ হলো পাঁচশতটি, আবার কেউ কেউ বলেছেন একশত পঞ্চাশটি। বলা হয়েছে যে, সম্ভবত তাদের উদ্দেশ্য হলো সেই আয়াতসমূহ যা স্পষ্টভাবে বিধান বর্ণনা করে; কারণ কাহিনী ও উপমাসমূহ এবং অন্যান্য আয়াত থেকেও অনেক বিধান আহরণ করা যায়। ইমাম গ্রন্থে শায়খ ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উপমাসমূহ কেবল স্মরণ ও উপদেশের জন্য পেশ করেছেন। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা কিছু সওয়াবের তারতম্য, আমল নষ্ট হওয়া, প্রশংসা কিংবা নিন্দা অথবা এই জাতীয় বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করে, তা বিধানের ওপরই দলীল প্রদান করে। অতঃপর তিনি বলেন: কুরআনের অধিকাংশ আয়াতই এমন যা উত্তম আদব এবং সুন্দর চরিত্র সম্বলিত বিধান থেকে মুক্ত নয়। এরপর কিছু আয়াত এমন যাতে স্পষ্টভাবে বিধান বর্ণিত হয়েছে, আবার কিছু আয়াত এমন যা গবেষণালব্ধ (ইস্তিম্বাত) পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়; হয় অন্য কোনো আয়াতের সাথে যুক্ত না করে—যেমন হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করা: {নিজেদের স্ত্রী অথবা নিজেদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্র ছাড়া} থেকে {অতঃপর যারা এর বাইরে অন্য কিছু কামনা করবে} আয়াত পর্যন্ত। এবং কাফেরদের বিবাহের বৈধতা আল্লাহর এই বাণী থেকে: {এবং তার স্ত্রীও, যে কাঠ বহনকারিণী}।এবং অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থায় রোজা সহীহ হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর এই বাণী থেকে: {অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো}থেকে আল্লাহর এই বাণী: {যতক্ষণ না স্পষ্ট হয়ে যায়}আয়াত পর্যন্ত। অথবা অন্য আয়াতের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে—যেমন গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়কাল ছয় মাস হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করা: {এবং তাকে গর্ভে ধারণ করা ও তার দুধ ছাড়ানোর সময়কাল হলো ত্রিশ মাস}।এর সাথে আল্লাহর এই বাণী: {আর তার দুধ ছাড়ানো হলো দুই বছরে}।শায়খ ইযযুদ্দীন বলেন: বিধানের ওপর কখনও শব্দরীতির মাধ্যমে দলীল প্রদান করা হয়, যা সুস্পষ্ট। আবার কখনও সংবাদের মাধ্যমে দলীল দেওয়া হয়, যেমন: {তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে}।{তোমাদের ওপর মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে}।এবং {তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে}।আবার কখনও ইহকাল বা পরকালে সেটির ওপর নির্ধারিত কল্যাণ বা অকল্যাণ এবং উপকার বা অপকারের মাধ্যমে দলীল প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد نوع الشارع ذلك أنواعاً كثيرة ترغيباً للعباد، وترهيباً وتقريباً إلى أفهامهم فكل فعل عظمه الشرع أو مدحه أو مدح فاعله، أو أحبه أو أحب فاعله أو رضي به أو رضي عن فاعله، أو وصفه بالاستقامة أو البركة أو الطيب أو أقسم به أو بفاعله كالأقسام بالشفع والوتر وبخيل المجاهدين، وبالنفس اللوامة. أو نصبه سبباً لذكره اعبده أو لمحبته أو للثواب عاجلاً أو آجلاً، أو لشكره له أو لهدايته إياه، أو لإرضاء فاعله أو لمغفرة ذنبه وتكفير سيئآته، أو لقبوله أو لنصرة فاعله أو بشارته، أو وصف فاعله بالطيب أو وصف الفعل بكونه معروفاً، أو نفي الحزن أو الخوف عن فاعله، أو وعده بالأمن أو نصبه سبباً لولايته، أو أخبر عن دعاء الرسول بحصوله أو وصفه بكون قربه، أو بصفة مدح كالحياة والنور والشفاء، فهو دليل على مشروعيته المشتركة بين الوجوب والندب.وكل فعل طلب الشارع تركه، أو ذمه أو ذم فاعله أو عتب عليه، أو مقت فاعله أو لعنه أو نفي محبته أو محبة فاعله أو الرضا به أو عن فاعله، أو شبه فاعله بالبهائم أو بالشياطين، أو جعله مانعاً من الهدى أو القبول أو وصفه بسوء أو كراهة، أو استعاذ الأنبياء منه أو أبغضوه، أو جعله سبباً لتفي الفلاح، أو لعذاب آجل أو عاجل، أو لذم أو لوم أو ضلالة أو معصية، أو وصف بخيث أو رجس أو نجس، أو بكونه فسقاً أو إثماً أو سبباً لإثم أو رجس، أو لعن أو غضب أو زوال نعمة أو حلول نقمة أو حد من الحدود أو قسوة أوخزي أو ارتهان نفي، أو لعداوة الله ومحاربته أز لاستهزائه أو سخريته، أو جعله اللهه سبباً لنسيانه فاعله، أو وصف نفسه بالصبر عليه أو بالحلم أو بالصفح عنه أو دعا إلى التوبة منه أو وصف فاعله بخبث أو احتقار أو نسبه إلى عمل الشيطان أو تزيينه أو تولي الشيطان لفاعله، أو وصف بصفة ذم ككونه ظلماً أو بغياً، أو عدوناً، أو إثماً، أو مرضاً، أو تبرأ الأنبياء منه أو من فاعله أو شكوا إلى الله من فعله أو جاهروا فاعله بالعداوة أو نهوا عن الآسى والحزن عليه، أو نصب سبباً لخيبه فاعله عاجلاً أو آجلاً، أو رتب عليه حرمان الجنة وما فيها، أ، نصب فاعله بأنه عدو الله أو بأن الله عدوه، أو أعلم بحرب من الله ورسوله، أو حمل فاعله إثم غيره، أو قيل فيه لا ينبغي هذا. أو لا يكون، أو أمر بالتقوى عن السؤال عنه، أو أمر بفعل مضاده، أو بهجر فاعله، أو تلاعن فاعلوه في الآخرة، أو تبرأ بعضهم من بعض، أو دعا بعضهم على بعض، أو وصف فاعله بالضلالة، أو انه ليس من الله في شيء، أو ليس من الرسول وأصحابه. أو جعل اجتنابه سبباً للفلاح، أو جعله سبباً لإيقاع العداوة والبغضاء بين المسلمين، أو قيل هل أنت منته، أو نهى الانبياء عن الدعاء لفاعله أو
এবং শরীয়ত প্রণেতা বান্দাদেরকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য, সতর্ক করার জন্য এবং তাদের বোধগম্য করার জন্য এগুলোকে অনেক প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে সকল কাজকে শরীয়ত মহিমান্বিত করেছে অথবা প্রশংসা করেছে অথবা তার কর্তার প্রশংসা করেছে, অথবা সেটিকে পছন্দ করেছে অথবা তার কর্তাকে পছন্দ করেছে অথবা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছে কিংবা তার কর্তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, অথবা সেটিকে সততা, বরকত বা পবিত্রতা দ্বারা গুণান্বিত করেছে অথবা সেটির শপথ কিংবা তার কর্তার শপথ গ্রহণ করেছে—যেমন জোড় ও বেজোড়, মুজাহিদদের ঘোড়া এবং নাফসে লাওয়ামার (তিরস্কারকারী আত্মা) শপথ; অথবা সেটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে স্মরণ করার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, কিংবা তাঁর মহব্বত লাভের, অথবা দুনিয়া বা আখেরাতে সওয়াব লাভের, কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে শুকরিয়া বা হেদায়েত লাভের, অথবা কর্তার সন্তুষ্টি বিধানের, কিংবা তার গুনাহ মাফ ও পাপ মোচনের, অথবা তা কবুল করার, কিংবা কর্তাকে সাহায্য করার বা সুসংবাদ প্রদানের কারণ বানিয়েছে; অথবা তার কর্তাকে পবিত্র বলে অভিহিত করেছে কিংবা কাজটিকে 'মারুফ' (সৎকাজ) হিসেবে বর্ণনা করেছে, অথবা তার কর্তার থেকে দুঃখ ও ভয় দূর করার কথা বলেছে, কিংবা তাকে নিরাপত্তার ওয়াদা দিয়েছে, অথবা সেটিকে আল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভের কারণ বানিয়েছে, অথবা রাসূলের দোয়ার মাধ্যমে তা অর্জিত হওয়ার সংবাদ দিয়েছে, কিংবা সেটিকে নৈকট্য বলে অভিহিত করেছে অথবা জীবন, নূর ও শিফার মতো প্রশংসনীয় গুণাবলীতে গুণান্বিত করেছে—তবে তা ওয়াজিব (আবশ্যক) ও মুস্তাহাবের (পছন্দনীয়) মাঝে সাধারণ শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ।আর যে সকল কাজ শরীয়ত প্রণেতা বর্জন করতে বলেছেন, অথবা সেটির নিন্দা করেছেন কিংবা তার কর্তার নিন্দা করেছেন অথবা তাকে তিরস্কার করেছেন, কিংবা তার কর্তাকে ঘৃণা করেছেন অথবা অভিশাপ দিয়েছেন কিংবা সেটির প্রতি বা তার কর্তার প্রতি ভালোবাসা নেই বলে জানিয়েছেন, কিংবা তাতে বা তার কর্তার প্রতি সন্তুষ্ট নেই বলে ব্যক্ত করেছেন, অথবা তার কর্তাকে চতুষ্পদ জন্তু বা শয়তানের সাথে তুলনা করেছেন, অথবা সেটিকে হেদায়েত বা কবুলিয়াতের পথে অন্তরায় সাব্যস্ত করেছেন অথবা সেটিকে মন্দ বা অপছন্দনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিংবা নবীগণ তা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন অথবা সেটিকে ঘৃণা করেছেন, অথবা সেটিকে সফলতা না পাওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন, কিংবা দুনিয়া বা আখেরাতের আযাবের কারণ, অথবা নিন্দা, তিরস্কার, পথভ্রষ্টতা বা পাপাচারের কারণ বানিয়েছেন, অথবা সেটিকে খবীস, অপবিত্র বা নাপাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিংবা সেটিকে ফাসেকী বা গুনাহ অথবা গুনাহ ও অপবিত্রতার কারণ সাব্যস্ত করেছেন, অথবা লানত, গযব, নিয়ামত চলে যাওয়া বা আযাব অবতীর্ণ হওয়া, কিংবা কোনো নির্ধারিত শাস্তি (হদ) কার্যকর হওয়া, অথবা কঠোরতা, লাঞ্ছনা বা নফসের অবরুদ্ধতার কারণ বানিয়েছেন, অথবা আল্লাহর সাথে শত্রুতা ও যুদ্ধের কারণ করেছেন, কিংবা বিদ্রূপ ও উপহাসের কারণ করেছেন, অথবা আল্লাহ তাআলা সেটিকে তার কর্তাকে ভুলে যাওয়ার কারণ বানিয়েছেন, অথবা আল্লাহ তাআলা নিজের ক্ষেত্রে সেটির প্রতি ধৈর্য, সহনশীলতা বা ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন করার কথা বলেছেন কিংবা তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন, অথবা তার কর্তাকে অপবিত্র বা তুচ্ছ বলে অভিহিত করেছেন অথবা কাজটিকে শয়তানের কাজ কিংবা শয়তানের সৌন্দর্যমণ্ডিত করা বা শয়তানের অভিভাবকত্বের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, অথবা সেটিকে কোনো নিন্দনীয় গুণে গুণান্বিত করেছেন—যেমন যুলুম, অবাধ্যতা, শত্রুতা, গুনাহ বা ব্যাধি; কিংবা নবীগণ তা থেকে বা তার কর্তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন অথবা আল্লাহর নিকট সে কাজ সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন কিংবা তার কর্তার সাথে প্রকাশ্যে শত্রুতা ঘোষণা করেছেন অথবা তার জন্য দুঃখ ও শোক প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন, কিংবা সেটিকে দুনিয়া বা আখেরাতে তার কর্তার ব্যর্থতার কারণ সাব্যস্ত করেছেন, অথবা এর ফলে জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা বলেছেন, অথবা তার কর্তাকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন কিংবা আল্লাহ তার শত্রু বলে ঘোষণা করেছেন, অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, কিংবা তার কর্তার ওপর অন্যের গুনাহ চাপিয়ে দিয়েছেন, অথবা সে সম্পর্কে বলা হয়েছে যে—এটি সমীচীন নয় কিংবা এটি হতে পারে না, অথবা তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা থেকে তাকওয়া অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, অথবা তার বিপরীত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিংবা তার কর্তাকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথবা আখেরাতে তার কর্তারা একে অপরকে লানত করবে বলে জানানো হয়েছে, অথবা একে অপরের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে কিংবা একে অপরের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে, অথবা তার কর্তাকে পথভ্রষ্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কিংবা বলা হয়েছে যে—আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই অথবা সে রাসূল ও তাঁর সাহাবীদের দলভুক্ত নয়, অথবা তা বর্জন করাকে সফলতার কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, কিংবা সেটিকে মুসলমানদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা সৃষ্টির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা বলা হয়েছে যে—তোমরা কি বিরত হবে না?, কিংবা নবীগণকে তার কর্তার জন্য দোয়া করতে নিষেধ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رتب عليه إبعاداً أو طرداً أو لفظه، قتل من فعله، أو قاتله الله، أو أخبر أن فاعله لا يكلمه الله يوم القيامة ولا ينظر إليه ولا يزكيه ولا يصلح عمله ولا يهدي كيده أو لا يفلح، أو قيض له الشيطان أو جعل سبباً لإزاغة قلب فاعله أو صرفه عن آيات الله وسؤاله عن علة القعل، فهو دليل المنع ودلالته على التحريم أظهر من دلالته على مجرد الكراهة.وتستفاد الإباحة من لفظ الإحرل ونفي الجناح والحرام والإثم والمؤاخذة، ومن الإذن فيه والعفو عنه ومن الامتنان بما في الأعيان من المنافع. ومن السكوت عن التحريم، ومن الإنكار على من حرم الشيء، ومن الإخبار بأنه خلق أو جعل لنا، والاخبار عن فعل من قبلنا غير ذام لهم عليه، فإن اقترن بالإخبار مدح دل على مشروعيته وجواباً أو استحباباً. انتهى.
যদি এর ওপর দূরত্ব সৃষ্টি করা, বহিষ্কার করা কিংবা এমন শব্দ প্রয়োগ করা হয় যেমন—যে তা করবে তাকে হত্যা করা হবে, অথবা আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, অথবা এই সংবাদ দেওয়া হয় যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না, তার কর্ম সংশোধন করবেন না, তার চক্রান্তকে সফল করবেন না কিংবা সে সফল হবে না, অথবা তার জন্য শয়তানকে নিয়োজিত করা হবে কিংবা একে ঐ ব্যক্তির অন্তর বিচ্যুত হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা হবে অথবা আল্লাহর আয়াতসমূহ থেকে তাকে বিমুখ করা হবে এবং কাজের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে; তবে তা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ। আর স্রেফ অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হওয়ার তুলনায় এটি হারাম হওয়ার ওপর অধিক সুস্পষ্টভাবে দালালত করে।আর বৈধতা (ইবাহাত) অনুমিত হয় হালাল করা এবং গুনাহ, হারাম, পাপ ও জবাবদিহিতাকে নাকচ করার শব্দ থেকে। এছাড়া তাতে অনুমতি প্রদান, ক্ষমা করা এবং বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে নিহিত উপকারসমূহ নিয়ে অনুগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত হয়। তেমনিভাবে হারাম হওয়া থেকে নীরব থাকা, কোনো কিছুকে হারামকারীর প্রতিবাদ করা এবং তা আমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে বা আমাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে—এমন সংবাদ প্রদান করা এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের কোনো কাজ তাদের নিন্দা না করে বর্ণনা করা থেকে বৈধতা বোঝা যায়। যদি সংবাদের সাথে প্রশংসা যুক্ত থাকে, তবে তা এর বৈধতা এবং ওয়াজিব হওয়া কিংবা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ বহন করে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
-1-سورة فاتحة الكتاب2- قوله تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} .فيه إثبات الصانع وحدوث العالم واستدل بالافتتاح بها من قال أنها أبلغ صيغ الحمد خلافاً لمن ادعى أن الجملة الفعليه أبلغ، قال البلقيني: اجل صيغ الحمد: الحمد لله رب العالمين. لأنها فاتحة الكتاب وخاتمة دعوى اهل الجنة فتتعين في بر: ليحمدن الله بأجل التحاميد، خلافاً لما في "الروضة" وأصلها عن المتولي: أن أجلها الحمد لله حمداً يوافي نعمه ويكافي مزيده.3- قوله تعالى: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}فيه اثبات الصفات الذاتية.4- قوله تعالى: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}فيه اثبات المعاد.5- قوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}فيه الإرشاد إلى تقديم الخضوع والتذلل على طلب الحاجة. قال أبو طالب الثعلبي في تفسيره: وقد جمع في هذه الآية إبطال الجبر والقدر معاً لأنه وصف عباجة بأنهم يعبدون فأثبت لهم كسباً وعلمهم الاستعانة ولو كان العبد مستطيعاً قبل الإعانة لما احتاج إلى الاستعانة فنفى عنهم القدرة فهو كقوله: {وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ}نفى الخلق وأثبت الكسب، قال وسائر آيات السور على مناقضة قواعد المعتزلة لأنه بدأ بالتسمية وان جعل الاسم زائداً فمعناه: بالله كانت الكائنات أولاً، لأن العبد إذا كان خالقاً لكسبه مستطيعاً له لم يكن للاستعانة بالاسم معنى ثم عليهم حمده ةقد قبح سيرة من أحب أن يحمد بما لم يفعل، فدل على أنه الفعال لكل شيء، ثم أمرهم بالاستعانة وسؤال الهداية، وعلى زعمهم لا حاجة إليها وإلى الهدى لأنه قد هداهم بالدعوة وبيان الأدلة وليس الهدى على زعمهم خلق المعرفة، ففاتحة الكتاب شاهدة عليهم. وقال القاضي البيضاوي: الضمير المستكن في نعبد ونستعين
-1-সূরা ফাতিহাতুল কিতাব২- মহান আল্লাহর বাণী: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক}।এতে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ এবং জগত যে নব্য বা সৃষ্ট তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। যারা বলেন যে এটি প্রশংসার বাক্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অলঙ্কারপূর্ণ, তারা এই সূরার মাধ্যমে এর সূচনা হওয়াকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। এটি তাদের মতের বিপরীত যারা দাবি করেন যে ক্রিয়াবাচক বাক্য অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ। আল-বালকিনি বলেছেন: প্রশংসার সর্বশ্রেষ্ঠ বাক্য হলো— আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। কারণ এটি কিতাবের শুরু এবং জান্নাতবাসীদের শেষ ডাক। তাই কেউ যদি শপথ করে যে সে আল্লাহকে সর্বোত্তম প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসা করবে, তবে এটিই নির্ধারিত হবে। এটি ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থে যা আছে তার বিপরীত, যার মূল উৎস আল-মুতাওয়াল্লি থেকে বর্ণিত: সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসা হলো— আল্লাহর জন্য এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির উপযুক্ত।৩- মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}এতে সত্তাগত গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়েছে।৪- মহান আল্লাহর বাণী: {বিচার দিবসের মালিক}এতে পরকাল সাব্যস্ত করা হয়েছে।৫- মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}এতে কোনো প্রয়োজন চাওয়ার আগে বিনয় ও হীনতা প্রকাশের দিকনির্দেশনা রয়েছে। আবু তালিব আস-সা’লাবি তাঁর তাফসিরে বলেছেন: এই আয়াতে জাবরিয়া এবং কাদারিয়া উভয় মতবাদের অসারতা একত্রে জমা করা হয়েছে। কারণ তিনি তাঁর বান্দাদের গুণ বর্ণনা করেছেন যে তারা ইবাদত করে, ফলে তিনি তাদের জন্য কর্মের উপার্জন সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের সাহায্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। যদি বান্দা সাহায্য পাওয়ার আগেই সক্ষম হতো, তবে তার সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন হতো না। সুতরাং তিনি তাদের থেকে (স্বকীয়) ক্ষমতাকে অস্বীকার করেছেন। এটি তাঁর এই বাণীর মতো: {আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি}।এখানে তিনি সৃষ্টিকে অস্বীকার করেছেন এবং উপার্জন সাব্যস্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন: এই সূরার অবশিষ্ট আয়াতগুলো মু’তাযিলাদের মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী। কারণ তিনি আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করেছেন, আর যদি নামকে অতিরিক্তও ধরা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায়: আল্লাহর মাধ্যমেই প্রথম সমস্ত অস্তিত্বশীল বস্তু অস্তিত্ব লাভ করেছে। কেননা বান্দা যদি নিজের কর্মের স্রষ্টা হতো এবং তাতে সক্ষম হতো, তবে আল্লাহর নামে সাহায্য চাওয়ার কোনো অর্থ থাকত না। অতঃপর তাদের ওপর তাঁর প্রশংসা করা কর্তব্য, অথচ তিনি তাদের কর্মপন্থাকে নিন্দনীয় বলেছেন যারা এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে যা তারা করেনি। এটি প্রমাণ করে যে, তিনিই সবকিছুর প্রকৃত কর্তা। অতঃপর তিনি তাদের সাহায্য প্রার্থনা করার এবং হেদায়েত চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ তাদের দাবি অনুযায়ী এর এবং হেদায়েতের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ তিনি তো তাদের দাওয়াত এবং দলিলের বর্ণনার মাধ্যমে হেদায়েত দিয়েই দিয়েছেন। তাদের দাবি মতে হেদায়েত মানে জ্ঞান সৃষ্টি করা নয়। সুতরাং ফাতিহাতুল কিতাব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী। আর কাযী আল-বায়যাভী বলেছেন: ‘আমরা ইবাদত করি’ এবং ‘আমরা সাহায্য চাই’ বাক্যদ্বয়ের মধ্যে নিহিত সর্বনামটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
للقارئ ولسائر الموحدين أدرج عبادته في تضاعيف عبادتهم وخلط بحاجتهم لعلها تقبل ويجاب إليها، ولهذا شرعت الجماعة.7- قوله تعالى: {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ}فيه الإشارة إلى الاقتداء بالسلف الصالح.
পাঠক ও অন্যান্য সকল তাওহীদপন্থীদের জন্য তিনি নিজের ইবাদতকে তাদের ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং নিজের প্রয়োজনকে তাদের প্রয়োজনের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন যাতে সম্ভবত তা কবুল হয় ও তাতে সাড়া দেওয়া হয়; আর একারণেই জামাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।৭- মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন}এতে নেককার পূর্বসূরিদের অনুকরণের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
-2-سورة البقرة3- قوله تعالى: {وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ}قال الرازي: يتضمن الأمر بالصلاة والزكاة.8- قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ}الآية: قال الرازي: يدل على أن الايمان ليس هو الإقرار دون الاعتقاد لأن الله قد أخبر عن إقرارهم بالإيمان ونفى عنهم اسمه بقوله {وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ}قال هو وغيره يحتج بهذه الآيات وأشباهها على استتابة الزنديق الذي ظهر منه الكفر لأنه تعالى أخبر عنهم بذلك ولم يأمر بقتلهم، ومعلوم أن نزول هذه الآيات بعد فرض القتال.22- قوله تعالى: {الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا}إلى قوله: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا}فيه دلالة على الأمر باستعمال حجج العقول وإبطال التقليد. قال محمود بن حمزة الكرماني: استدل أكثر المفسرين بالآية على شكل الأرض بسيط ليس بكروي.29- قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا}استدل به على أن الأصل في الأشياء الإباحة إلا ما ورد الشرع بتحريمه.23- قوله تعالى: {فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ}استدل به من قال: إنه لا يتعلق الإعجاز بأقل من سورة، ورد به على من قال من المعتزلة بأنه يتعلق بجميع القرآن.قوله تعالى: {أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ}استدل به على أن النار مخلوقة الآن.26- قوله تعالى: {يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا} الآية.فيه دلالة لمذهب أهل السنة أن الهدى والضلالة من الله.30- قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ} الآية.فيه إرشاد عباده إلى المشاورة وأن الحكمة تقتضي إيجاد ما يغلب خيره وإن كان فيه نوع شر وانه لا رأي مع وجود النص وهو أصل في المسائل التعبدية.
-২-সূরা আল-বাকারা৩- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে}রাযী বলেন: এটি নামাজ এবং জাকাতের নির্দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে।৮- মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি}আয়াত: রাযী বলেন: এটি নির্দেশ করে যে, ঈমান কেবল অন্তরের বিশ্বাস ছাড়া মৌখিক স্বীকৃতি নয়; কারণ আল্লাহ তাদের ঈমানের মৌখিক স্বীকৃতির কথা সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর বাণী {আর তারা মুমিন নয়}-এর মাধ্যমে তাদের থেকে ঈমান নামটিকে নাকচ করেছেন।তিনি এবং অন্যান্যেরা এই আয়াত এবং এর সমজাতীয় আয়াতগুলো দ্বারা সেই জিন্দিকের তওবা করানোর বিষয়ে দলিল পেশ করেন যার থেকে কুফর প্রকাশ পেয়েছে; কারণ মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন অথচ তাদের হত্যার নির্দেশ দেননি, আর এটি জানা কথা যে এই আয়াতগুলো যুদ্ধের বিধান ফরয হওয়ার পর অবতীর্ণ হয়েছে।২২- মহান আল্লাহর বাণী: {যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন}{অতঃপর যদি তোমরা তা না করো} বাণী পর্যন্ত।এতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ ব্যবহারের নির্দেশ এবং অন্ধ অনুকরণের অসারতার প্রমাণ রয়েছে। মাহমুদ ইবনে হামযা আল-কিরমানি বলেন: অধিকাংশ মুফাসসির এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, পৃথিবীর আকৃতি সমতল, তা গোলাকার নয়।২৯- মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে তার সবটুকুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন}এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, বস্তুসমূহের মূল বিধান হলো বৈধতা, যতক্ষণ না শরিয়ত কর্তৃক তা নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান আসে।২৩- মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো}যারা বলেন যে, আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব একটি সূরার চেয়ে কম পরিমাণে প্রকাশ পায় না, তারা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন; এবং এর মাধ্যমে মুতাজিলাদের মধ্য থেকে যারা বলেন যে এটি সমগ্র কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাদের মত খণ্ডন করা হয়েছে।মহান আল্লাহর বাণী: {যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে}এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, জাহান্নাম বর্তমানেই সৃজিত অবস্থায় আছে।২৬- মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি এর দ্বারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এর দ্বারা অনেককে হিদায়াত দান করেন} আয়াত।এতে আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের সপক্ষে দলিল রয়েছে যে, হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।৩০- মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমার প্রতিপালক বললেন} আয়াত।এতে তাঁর বান্দাদের জন্য পরামর্শ করার নির্দেশনা রয়েছে এবং এই শিক্ষা রয়েছে যে, হিকমত বা প্রজ্ঞা এমন কিছু সৃষ্টি করা দাবি করে যার কল্যাণই প্রবলতর, যদিও তাতে কিছু অনিষ্ট থাকে; এবং নস বা অকাট্য দলিলের উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিগত রায়ের অবকাশ নেই, যা তায়াব্বুদি বা ইবাদতগত বিষয়সমূহের একটি মূলনীতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
31- قوله تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا}أستدل به من قال إن اللغات توقيفية. وضعها الله بالوحي وعلمها.33- قوله تعالى: {قَالَ يَا آدَمُ}استدل به صلى الله عليه وسلم على أن آدم مكلم. روى أحمد وغيره عن أبي أمامة: أن أبا ذر قال يا نبي الله أي الأنبياء كان أول؟ قال: "آدم"، قال: أول نبياً كان آدم؟ قال نعم مكلم، خلقه الله بيده ثم نفخ فيه من روحه ثم قال يا آدم قيلا وفي بقية الآية دليل على مزية العلم وأنه شرط في الخلافة وفضل آدم على الملائكة قال الإمام: لمتا أراد الله إظهار فضل آدم لم يظهره إلا بالعلم فلو كان في الإمكان شيء أفضل من الهعلم كان إظهار فضله بذلك الشيء لا بالعلم وكذلك أمر الملائكة بالسجود له لأجل فضلية العلم.قلت: ويؤخذ من هذا استحباب القيام للعالم. وقال الطيبي: أفادت هذه الآية أن على اللغة فوق التحلي بالعبادة فكيف علم الشريعة.34- قوله: {أَبَى}رد على الجبرية إذ لا يوصف بالإباء من هو غير قادر على المطلوب.35- قوله: {اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ}إلى آخر القصة فيها دلالة على أن الجنة مخلوقة الآن. قوله: {وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ}قال ابم الفرس هذا أًصل جيد في سد لبذرائع لأنه تعالى لما أراد النهي عن الأكل منها نهى عنه بلفظ يقتضي الأكل وما يدعو إليه وهو القرب.40- قوله تعالى: {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ}يستدل به على دخول اولاد الأولاد في الوقف على الأولاد. قوله تعالى: {اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ} الآية.قال ابن الفرس فيه دليل على أن الله على الكفار نعمة خلافاً لمن قال لا نعمة لله عليه وإنما النعمة على المؤمنين.43- قوله تعالى: {وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ}قالر الرازي: يفيد إثبات فرض الركوع في الصلاة.45- قوله تعالى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ}فيه استحباب الصلاة عند المصيبة وأنها تعين صاحبها، أخرج سعيد بن منصور وغيره عن ابن عباس أنه كان في
৩১- মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন}যারা বলেন যে ভাষা হলো ঐশী (তাক্বীফিয়া), তারা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন। আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে এগুলো প্রবর্তন করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন।৩৩- মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, হে আদম}রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এমন নবী যার সাথে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু যার (রা.) বললেন, হে আল্লাহর নবী, নবীদের মধ্যে কে প্রথম ছিলেন? তিনি বললেন: "আদম", তিনি বললেন: প্রথম নবী কি আদম ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যার সাথে সরাসরি কথা বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাঁর রূহ থেকে তাতে ফুঁ দিয়েছেন, এরপর বলেছেন, হে আদম! আর আয়াতের বাকি অংশে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের দলিল রয়েছে এবং এটি যে খিলাফতের শর্ত, এবং ফেরেশতাদের উপর আদমের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রয়েছে। ইমাম (রাযী) বলেন: আল্লাহ যখন আদমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চাইলেন, তখন তিনি তা জ্ঞানের মাধ্যমেই প্রকাশ করলেন। যদি জ্ঞানের চেয়ে উত্তম কিছু থাকা সম্ভব হতো, তবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সেই জিনিসের মাধ্যমেই প্রকাশ করা হতো, জ্ঞানের মাধ্যমে নয়। একইভাবে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই ফেরেশতাদেরকে তাঁর প্রতি সাজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আমি (লেখক) বলি: এখান থেকে আলিমের সম্মানে দাঁড়ানো মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি গৃহীত হয়। তীবী বলেন: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভাষার জ্ঞান অর্জন করাও ইবাদতে মশগুল হওয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাহলে শরীয়তের জ্ঞানের মর্যাদা কতই না বেশি হবে।৩৪- তাঁর বাণী: {সে অস্বীকার করল}এটি জাবরিয়াদের (অদৃষ্টবাদী) মতবাদের খণ্ডন, কারণ যে ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত কাজ করতে সক্ষম নয়, তার ক্ষেত্রে 'অস্বীকার করা' শব্দ ব্যবহার করা যায় না।৩৫- তাঁর বাণী: {তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো}কাহিনীর শেষ পর্যন্ত এতে দলিল রয়েছে যে জান্নাত বর্তমানেই সৃষ্ট অবস্থায় বিদ্যমান আছে। তাঁর বাণী: {এবং তোমরা এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না}ইবনুল ফারাস বলেন, এটি 'পাপের পথ বন্ধ করা' (সাদ্দুজ যারায়ে)-এর ক্ষেত্রে একটি উত্তম মূলনীতি। কারণ আল্লাহ তাআলা যখন তা থেকে ফল খাওয়া নিষিদ্ধ করতে চাইলেন, তখন তিনি এমন শব্দে নিষেধ করলেন যা খাওয়া এবং খাওয়ার দিকে ধাবিত করে এমন কাজ অর্থাৎ 'নিকটবর্তী হওয়া' উভয়কেই নিষিদ্ধ করে।৪০- মহান আল্লাহর বাণী: {হে বনী ইসরাঈল}এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয় যে, সন্তানদের জন্য করা ওয়াকফের মধ্যে নাতি-নাতনি বা পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত হবে। মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আমার নেয়ামত স্মরণ করো} শেষ পর্যন্ত।ইবনুল ফারাস বলেন, এতে দলিল রয়েছে যে কাফেরদের উপরও আল্লাহর নেয়ামত রয়েছে; তাদের বিপক্ষ মত হলো যারা বলে কাফেরদের উপর আল্লাহর কোনো নেয়ামত নেই, বরং নেয়ামত কেবল মুমিনদের উপর।৪৩- মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো}রাযী বলেন: এটি নামাযে রুকু ফরয হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করে।৪৫- মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো}এতে বিপদের সময় নামায পড়ার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে এবং এটি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করে। সাঈদ ইবনে মানসুর ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন বিপদে পড়তেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مسير فنعى إليه ابن له فنزل فصلى ركعتين ثم استرجع وقال فعلنا كما أمرنا الله: واستعينوا بالصبر والصلاة.47- قوله تعالى: {وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ}قال ابن الفرس فيه ورود العام المراد به الخصوص لأن المراد عالم زمانهم.50- قوله تعالى: {فَأَنْجَيْنَاكُمْ}الآيات في العجائب للكرماني استدل بها بعض من يقول بالتناسخ وقالوا: إن القوم كانوا هم بأعيانهم فلما تطاولت عليهم مدة التلاشي والبلى نسوا فذكوا، قال وهذا وجهل بكلام العرب فإن العرب تخاطب بمثل هذا وتعني الجد الأعلى والأب الأبعد.57- قزله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا}استدل به على أن الضيف لا يملك ما قدم له وأنه لن يتصرف فيه إلا بإذن، ذكره صاحب التحرير.59- قوله تعالى: {فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ}قال الكيا: يدل على أنه لايجوز تغيير الأقوال المنصوص عليها وأنه يتعين اتباعها، وقال الرازي: يحتج به فيما ورد من التوقيف في الأذكار والأقوال وأنه غير جائز تغييرها، وربما احتج به علينا المخالف في تجويز تحريمه الصلاة بلفظ التعظيم والتسبيح، وفي تجويز القراءة بالفارسية وفي تجويز النكاح بلفظ الهبة وما جرى مجرى ذلك.67- قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً}إلى آخر القصة فيها أحكام.الأول استدل بقوله {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً}ان الآمر لا يدخل في عموم الأمر فإن موسى لم يدخل في عموم الأمر بدليل قوله {فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ}ولا يظن بموسى ذلك ذكره الزركشي في شرح جمع الجوامع.الثاني استدل به بكر بن العلاء على أن السنة في البقرة الذبح.الثالث استدل به على جواز ورود الأمر مجملاً وتأخير بيانه.الرابع استدل بقوله: {لَا فَارِضٌ وَلَا بِكْرٌ}وبقوله: {مُسَلَّمَةٌ}على جواز الاجتهاد واستعمال غالب الظن في الأحكام لأن ذلك لا يعلم إلا من الاجتهاد.
তিনি সফরে ছিলেন, তখন তাঁর কাছে তাঁর এক পুত্রের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাল। তিনি (বাহন থেকে) নামলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর ইন্নালিল্লাহ পড়লেন এবং বললেন: আমরা তা-ই করেছি যা আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: "তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।"৪৭- মহান আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে সকল জগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।"ইবনুল ফারস বলেন, এখানে এমন এক সাধারণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার দ্বারা নির্দিষ্ট অর্থ উদ্দেশ্য; কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজ সময়ের বিশ্ববাসী।৫০- মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছি।"আল-কিরমানি তাঁর 'আল-আজায়েব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী কেউ কেউ এই আয়াতসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করে বলেছে: এই লোকেরা স্বয়ং তারাই ছিল। অতঃপর যখন দীর্ঘকাল বিলীন ও ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় অতিবাহিত হলো, তখন তারা ভুলে গিয়েছিল, তাই তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি (কিরমানি) বলেন, এটি আরবি ভাষার প্রতি অজ্ঞতা; কারণ আরবরা এই ধরনের সম্বোধন করে থাকে এবং এর দ্বারা তারা মহান পূর্বপুরুষ বা সুদূরবর্তী পিতাদের বুঝিয়ে থাকে।৫৭- মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তোমাদের ওপর মান্না ও সালওয়া নাজিল করেছি, তোমরা ভক্ষণ করো।"'আত-তাহরির' গ্রন্থের লেখক এটি থেকে দলিল পেশ করেছেন যে, মেহমান তার সামনে পরিবেশিত বস্তুর মালিক হয় না এবং সে অনুমতি ব্যতীত তাতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।৫৯- মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর জালেমরা তাদের যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল।"আল-কিয়া বলেন: এটি প্রমাণ করে যে, সরাসরি বর্ণিত শব্দ বা নস পরিবর্তন করা জায়েজ নেই এবং সেগুলো অনুসরণ করা আবশ্যক। আল-রাজি বলেন: জিকির ও বাক্যগুলোর ক্ষেত্রে যা কিছু সরাসরি শরয়ি নির্দেশ (তাওকিফ) হিসেবে এসেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা হয় যে, সেগুলো পরিবর্তন করা জায়েজ নয়। আর সম্ভবত আমাদের বিরোধীরা আমাদের বিপক্ষে এই আয়াত দ্বারা দলিল দেয়—সালাতকে (আরবি তাকবিরের পরিবর্তে) অন্য কোনো সম্মানসূচক বা তাসবিহমূলক শব্দ দ্বারা শুরু করা জায়েজ করার ক্ষেত্রে, ফারসি ভাষায় তিলাওয়াত জায়েজ করার ক্ষেত্রে এবং 'হেবা' (দান) শব্দের মাধ্যমে বিবাহ জায়েজ করার ক্ষেত্রে এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাসআলার ক্ষেত্রে।৬৭- মহান আল্লাহর বাণী: "আর স্মরণ করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী জবাই করার নির্দেশ দিচ্ছেন।"কাহিনীর শেষ পর্যন্ত, এতে অনেক বিধান রয়েছে।প্রথমত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী জবাই করার নির্দেশ দিচ্ছেন"—এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, নির্দেশদাতা নিজে সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হন না। কারণ মুসা (আলাইহিস সালাম) নিজে এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, যার প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা তা জবাই করল, অথচ তারা তা করতে চাচ্ছিল না।"আর মুসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে এমন (আদেশ পালনে বিলম্বের) ধারণা করা যায় না। আল-যারকাশি 'শারহু জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।দ্বিতীয়ত: বকর ইবনে আল-আলা এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, গাভীর ক্ষেত্রে সুন্নাত পদ্ধতি হলো জবাই করা।তৃতীয়ত: এটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, নির্দেশ অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্তভাবে আসা এবং পরবর্তীতে তার ব্যাখ্যা প্রদান করা জায়েজ।চতুর্থত: আল্লাহর বাণী: "তা বৃদ্ধও নয় এবং অল্পবয়স্কও নয়"এবং আল্লাহর বাণী: "সুস্থ-নিখুঁত"দ্বারা বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা এবং প্রবল ধারণার ওপর আমল করা জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল নেওয়া হয়েছে; কারণ এই বিষয়গুলো ইজতিহাদ ছাড়া জানা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الخامس استدل على أن المستهزئ يستحق سمة الجهل، ذكر محمد بن مسعود أن عبيد الله بن الحسن العنبير القاضي مازحه فقال له: لا تجهل، قال: وأنى وجدت المزاح جهلاً فنلا عليه: {أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ} .السادس فيها الإرشاد إلى الاستثناء في الأمور في قوله: {وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ} .السابع فيها دليل لأهل السنة على المعتزلة لأن الأمر لا يستلزم المشيئة، قاله الماتري.الثامن استدل بالآية على حصر الحيوان بالوصف وجواز السلم فيه.التاسع قال المهدوي: في قوله: {فَافْعَلُوا مَا تُؤْمَرُونَ}دليل على أن الأمر على الفور، قال ابن الفرس ويدل على ذلك أنه استقصرهم حين لم يبادروا إلى فعل ما أمرهم به وقال فذبحوها وما كادوا يفعلون.79- قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ}الآية استدل به النخعي على كراهة كتابة المصاحف بالأجرة.81- قوله تعالى: {مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ}استدل به على أن المعلق على شرطين لا يتنجز بأحدهما.102- قوله تعالى: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ} الآية.استدل بها على أن السحر كفر حيث قال: {وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ} .وقال {إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ}قال بكر بن العلاء وفي الآية أن الساحر يقتل، ووجهه أنه قال: {وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ}أي باعوا أنفسهم للقتل بالسحر الذي فعلوه كما قال: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ - إلى أن قال - فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ} .104- قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا}قال ابن الفرس استدل بها على سد الذرائع في الأحكام، لأن المؤمنين منعوا من وقول: راعنا له صلي الله عليه وسلم لئلا يجد اليهود بذلك السبيل إلى سبه.106- قوله تعالى: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا}فيها وقوع
পঞ্চম বিষয়: এতে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, বিদ্রূপকারী মূর্খতার বিশেষণে ভূষিত হওয়ার যোগ্য। মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ উল্লেখ করেছেন যে, বিচারক উবায়দুল্লাহ ইবনে হাসান আল-আনবিয়ারী জনৈক ব্যক্তির সাথে কৌতুক করলে সে তাকে বলেছিল: "আপনি মূর্খতা করবেন না।" তিনি বললেন: "রসিকতা যে মূর্খতা—তা আপনি কোথায় পেলেন?" তখন সে তার সামনে তিলাওয়াত করল: "আপনি কি আমাদের সাথে বিদ্রূপ করছেন? তিনি (মুসা) বললেন: আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"ষষ্ঠ বিষয়: এতে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে ইনশাআল্লাহ বলার বা শর্তারোপ করার নির্দেশনা রয়েছে: "আর নিশ্চয়ই আল্লাহ চাইলে আমরা অবশ্যই সুপথপ্রাপ্ত হব।"সপ্তম বিষয়: এতে মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে আহলুস সুন্নাহর জন্য দলিল রয়েছে, কারণ আদেশ প্রদানের বিষয়টি সেই কাজটি ঘটার ইচ্ছাকে (মাশিয়াহ) অপরিহার্য করে না; কথাটি আল-মাতারি বলেছেন।অষ্টম বিষয়: এই আয়াতের মাধ্যমে প্রাণীকে গুণের বর্ণনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করা এবং তাতে 'সালাম' (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) জায়িয হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে।নবম বিষয়: আল-মাহদাভী আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর তোমাদের যা আদেশ করা হচ্ছে তা পালন করো।"এটি দলিল যে, আদেশ অবিলম্বে পালন করা ওয়াজিব। ইবনুল ফারাস বলেছেন, এর প্রমাণ হলো যে তারা আদেশ পালনে ত্বরিত উদ্যোগ না নেওয়ায় তিনি তাদের কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন এবং বলেছেন: "অতঃপর তারা তা যবেহ করল, অথচ তারা তা করবে বলে মনে হচ্ছিল না।"৭৯- মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে।"এই আয়াতের মাধ্যমে আন-নাখায়ী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন বা মাসহাফ লেখার অপছন্দনীয়তার বিষয়ে দলিল পেশ করেছেন।৮১- মহান আল্লাহর বাণী: "যে মন্দ উপার্জন করেছে এবং তার পাপ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে।"এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, যা দুটি শর্তের ওপর ঝুলন্ত রাখা হয়েছে তা কেবল একটির মাধ্যমে কার্যকর হয় না।১০২- মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা তার অনুসরণ করেছিল যা শয়তানরা সুলায়মানের রাজত্বকালে পাঠ করত।" আয়াতাংশ শেষ পর্যন্ত।এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে যে জাদু হলো কুফর, যেহেতু তিনি বলেছেন: "কিন্তু শয়তানরাই কুফরি করেছিল, তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত।"এবং তিনি বলেছেন: "আমরা কেবল পরীক্ষাস্বরূপ, সুতরাং তোমরা কুফরি করো না।"বকর ইবনে আলা বলেছেন, আয়াতের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে জাদুকরকে হত্যা করা হবে। এর যৌক্তিকতা হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: "আর তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ!"অর্থাৎ তারা যে জাদু করেছিল তার বিনিময়ে নিজেদের হত্যার জন্য সোপর্দ করেছে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন—পরবর্তীতে তিনি বলেছেন—অতঃপর তারা লড়াই করে, ফলে তারা হত্যা করে ও নিহত হয়।"১০৪- মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা 'রায়িনা' বোলো না, বরং 'উনজুরনা' বলো।"ইবনুল ফারাস বলেছেন, এই আয়াতের মাধ্যমে বিধানের ক্ষেত্রে 'সাদদুয যারাই' (মন্দ পথ বন্ধ করা)-এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে। কারণ মুমিনদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'রায়িনা' বলতে নিষেধ করা হয়েছে যেন ইয়াহুদীরা এর মাধ্যমে তাঁকে গালি দেওয়ার কোনো পথ খুঁজে না পায়।১০৬- মহান আল্লাহর বাণী: "আমি কোনো আয়াত রহিত করলে বা তা ভুলিয়ে দিলে আমি তার চেয়ে উত্তম অথবা তার অনুরূপ কোনো আয়াত নিয়ে আসি।"এতে রহিতকরণ সংঘটিত হওয়ার বিষয় রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النسخ في هذه الملة واستدل بقوله نأت بخير منهاأو مثلها من قال إن النسخ إلى غير بدل لا يجوز ومن قال إنه لا يجوز إلى بدل أغلظ ومن قال إنه لا يجوز نسخ القرآن بالسنة.114- قوله تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ}إلى قوله: {خَائِفِينَ} . قال الرازي: فيه دليل على منع دخول أهل الذمة المساجد، وقال الكيا: يدل أن للمسلمين إخراجهم منها إذا دخلوها ولولا ذلك ما كانوا خائفين بدخولها.115- قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ} . الآية. روى مسلم عن ابن عمر أنها نزلت في صلاة التطوع على الراحلة في السفر، وروى الترمذي وابن ماجة والدارقطني وغيرهم من حديث عامر بن ربيعة وجابر أنها نزلت فيمن صلى بالاجتهاد إلى القبلة ثم تبين له الخطأ. قال الرازي: لايمتنع أن تكون نزلت في الأمرين معاً وقعا في وقت واحد وسئل النبي صلى الله عليه وسلم عنهما، فأنزل الله الآيه مريداً بها حكم جميع ذلك.116- قوله تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا}ألاية تدل على امتناع اجتماع المُلْك والولادة.124- قوله تعالى: {وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ}أخرج ابن المنذر من طريق التيمي عنة ابن عباس أنها مناسك الحج، وأخرج الحاكم وغيره من طريق طاوس عنه أنها قص الشارب والمضمضة والاستنشاق والسواك وفرق الرأس، وتقليم الأظافر، وحلق العانة والختان، ونتف الأبط، وغسل أثر الغائط والبول بالماء واخرج ابن أبي حاتم من طريق حنش الصنعاني عنه أنه المذكورات والمناسك وزاد فيها غسل يوم الجمعة، ففي الآية مشروعية جميع ذلك.قوله تعالى: {قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي}؟ قال ابن الفرس: يؤخذ من هذا إباحة السعي في منافع الذرية والقرابة وسؤال ذلك من بيده ذلك.قوله تعالى: {لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ}قال الراز يفسر السدي العهد بالنبوة. وعن مجاهد أنه أراد أن الظالم لا يكون إماماً، وعن ابن عباس أنه قال لا يلزم الوفاء لعهد الظالم فإذا عقد عليك في ظلم فانقضه قال وجميع ذلك يحتمله اللفظ وجائز أن يكون جميعه مراداً لله وهو محمول على ذلك عندنا فلا يجوز أن يكون الظالم نبياً ولا خليفة نبي، ولا قاضياً ولا من يلزم الناس قبول قوله في أمور الدين، من مفت أو شاهد أو مخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم خبراً، فقد أفادت الآية أن شرط جميع من كان محل الائتمام به أمور الدين
এই মিল্লাতে (ধর্মে) নাসেখ বা রহিতকরণ; যারা বলেন যে বিনিময় ব্যতীত নাসেখ জায়েয নেই তারা আল্লাহর বাণী ‘আমরা তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমরূপ নিয়ে আসি’ দ্বারা দলিল পেশ করেন। আর যারা বলেন যে বিনিময় ব্যতীত নাসেখ জায়েয নেই তাদের বক্তব্য আরও কঠোর, এবং যারা বলেন যে সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের হুকুম রহিত করা জায়েয নেই।১১৪- আল্লাহর বাণী: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়...}{ভীত অবস্থায়} পর্যন্ত। ইমাম রাযী বলেন: এতে আহলে জিম্মাদের মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদানের দলিল রয়েছে। আল-কিয়া বলেন: এটি প্রমাণ করে যে, তারা মসজিদে প্রবেশ করলে মুসলিমদের জন্য তাদের বের করে দেওয়া বৈধ, অন্যথায় মসজিদে প্রবেশের সময় তারা ভীত হতো না।১১৫- আল্লাহর বাণী: {আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই} (আয়াত)। ইমাম মুসলিম ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াতটি সফরে সওয়ারির ওপর নফল সালাত আদায়ের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনী এবং অন্যান্যরা আমের ইবনে রাবিয়াহ ও জাবেরের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে যে ইজতিহাদ করে কিবলার দিকে সালাত আদায় করেছে কিন্তু পরে তার ভুল ধরা পড়েছে। ইমাম রাযী বলেন: এমন হওয়া অসম্ভব নয় যে, আয়াতটি উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই অবতীর্ণ হয়েছে যে দুটি একই সময়ে ঘটেছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উভয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করে সবগুলোর বিধান উদ্দেশ্য করেছেন।১১৬- আল্লাহর বাণী: {আর তারা বলে যে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন}এই আয়াতটি মালিকানা ও সন্তান গ্রহণের একত্র হওয়া অসম্ভব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে।১২৪- আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো যখন ইবরাহীমকে তাঁর রব কয়েকটি কালিমা দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করলেন}ইবনুল মুনযির তাইমীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো হজের বিধানসমূহ। ইমাম হাকেম ও অন্যান্যরা তাউসের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো হলো মোচ কাটা, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, মিসওয়াক করা, সিঁথি করা, নখ কাটা, নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করা, খতনা করা, বগলের পশম উপড়ানো এবং পানি দিয়ে মলমূত্রের অবশিষ্টাংশ ধৌত করা। ইবনে আবি হাতিম হানাশ আস-সানআনী সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো উল্লেখিত বিষয়সমূহ ও হজের বিধানসমূহ এবং এর সাথে জুমার দিনের গোসলকেও যোগ করেছেন। সুতরাং এই আয়াতে এসব বিষয় শরয়ি হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, আর আমার বংশধরদের থেকেও কি?}ইবনুল ফারাস বলেন: এ থেকে বংশধর ও আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে সচেষ্ট হওয়া এবং যাঁর হাতে এটি রয়েছে তাঁর কাছে তা প্রার্থনা করা বৈধ হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করা যায়।আল্লাহর বাণী: {জালেমদের কাছে আমার ওয়াদা পৌঁছাবে না}ইমাম রাযী বলেন, সুদ্দী ওয়াদা (আহদ)-এর ব্যাখ্যায় নবুওয়াত বুঝিয়েছেন। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে জালেম ব্যক্তি ইমাম হতে পারবে না। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, জালেমের ওয়াদা বা চুক্তি পূর্ণ করা আবশ্যক নয়; যদি সে জুলুমের ভিত্তিতে তোমার সাথে কোনো চুক্তি করে তবে তা ভঙ্গ করো। তিনি বলেন, শব্দগতভাবে এ সবগুলোরই সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি জায়েয যে আল্লাহ তাআলা এর সবগুলোই উদ্দেশ্য করেছেন এবং আমাদের নিকট এটি সেভাবেই গণ্য। সুতরাং কোনো জালেম ব্যক্তি নবী হতে পারবে না, নবীর খলিফা হতে পারবে না, বিচারক হতে পারবে না এবং দ্বীনি বিষয়ে যার কথা মেনে নেওয়া মানুষের জন্য আবশ্যক হয় এমন কেউও হতে পারবে না—তা সে মুফতি হোক, সাক্ষী হোক বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ বর্ণনাকারীই হোক। অতএব, এই আয়াতটি এই ফায়দা দিচ্ছে যে, দ্বীনি বিষয়ে যাদের অনুসরণ করা হয় তাদের সবার জন্যই ইনসাফ একটি শর্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العدالة والصلاح، قال: وهذا يدل أيضاً على أن شرط أئمة الصلاة أن يكونوا صالحين غير فساق ولا ظالمين.125- قوله تعالى: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا} . يحتج به في كون الحرم مأمناً. قوله تعالى: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} . فيه مشروعية ركعتي الطواف واستحبابهما خلف المقام واستدل الرازي بظاهر الأمر على وجوبهما. قوله تعالى: {أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}فيه أن الأعمال المتعلقة بالبيت ثلاثة: الطواف والاعتكاف والصلاة. أخرج ابن أبي حاتم من طريق عطاء عن ابن عباس قال إذا كان قائماً فهم من الطائفين، وإذا كان جالساً فهو من العاكفين، وإذا كان مصلياً فهو من الركع السجود. وأخرج أيضاً من طريق حماد بن سلمة عن ثابت قال قلت لعبد الله ابن عبيد بن عمير ما أراني إلا مكلم الأمير أن امنع الذين ينامون في المسجد الحرام فإنهم يجنبون ويحدثون، قال: لا تفعل فإن ابن عمر سئل عنهم فقال هم العاكفون. وفي الآية مشروعية طهارة المكان للطواف الصلاة. قال الرازي والكيا: وفيها دلالة على أن الطواف للغراء أفضل والصلاة للمقيم أفضل. قلت: ولم يظهر لي وجه ذلك، قالا وفيها دلالة على جواز الصلاة في نفس الكعبة حيث قال: بيتي، خلافاً لمالك. قلت: يرده قوله: للطائفين، والطواف لا يكون في نفس الكعبة، قال الرازي: وفيها دلالة على أن الطواف قبل الصلاة. قلت: قد استدل بذلك ابن عباس، فأخرج الحاكم من طريق عطاء بن السائب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس أنه أتاه رجل فقال أبدأ بالصفا قبل المروة وأصلي قبل أن أطوف أو أطوف قبل أو أحلق قبل أن أذبح أو أبذح قبل أن احلق؟ فقال ابن عباس: ذلك من كتاب الله فإنه أجدر أن يحفظ قال الله {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ}فالصفا قبل المروة. وقال: {وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ}فالذبح قبل الحلق، وقال: {أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}فالطواف قبل الصلاة، وقال الحاكم صحيح الإسناد قال الرازي وفيها دلالة على جواز المجاورة بمكة لأن قوله: والعاكفين، يحتمله مع أن عطاء وغيره قد تأولوه على المجاورين.127- قوله تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ
ন্যায়পরায়ণতা ও নেককার হওয়া। তিনি বলেন: এটি আরও প্রমাণ করে যে, নামাজের ইমামদের জন্য শর্ত হলো তারা নেককার হবেন, পাপাচারী বা জালিম হবেন না।১২৫- মহান আল্লাহর বাণী: "আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে (কাবা) মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপত্তার স্থান বানালাম।" এটি হারাম শরিফ নিরাপদ স্থান হওয়ার ব্যাপারে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়। মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।" এতে তওয়াফের দুই রাকাত নামাজের বিধান এবং মাকামে ইবরাহিমের পেছনে তা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ইমাম রাজি আদেশের প্রকাশ্য অর্থের ভিত্তিতে এই দুই রাকাত ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আমার ঘরকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।"এতে এটি প্রমাণিত হয় যে, কাবার সাথে সংশ্লিষ্ট আমল তিনটি: তওয়াফ, ইতিকাফ ও নামাজ। ইবনে আবি হাতিম আতার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সে তওয়াফকারীদের অন্তর্ভুক্ত; যখন কেউ বসে থাকে, তখন সে ইতিকাফকারীদের অন্তর্ভুক্ত; আর যখন কেউ নামাজরত থাকে, তখন সে রুকু-সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামার সূত্রে সাবেত থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইরকে বললাম, আমি আমিরকে (শাসককে) বলব যাতে তিনি মসজিদে হারামে যারা ঘুমায় তাদের নিষেধ করেন, কারণ তারা নাপাক হয়ে যায় এবং অপবিত্রতা ঘটায়। তিনি বললেন: এমন করো না, কারণ ইবনে উমরকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন, তারা ইতিকাফকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এবং এই আয়াতে তওয়াফ ও নামাজের জন্য স্থান পবিত্র করার বিধান রয়েছে। রাজি এবং আল-কিয়া বলেন: এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, বহিরাগতদের জন্য তওয়াফ উত্তম এবং স্থানীয়দের জন্য নামাজ উত্তম। আমি (গ্রন্থকার) বলি: আমার কাছে এর কারণটি স্পষ্ট নয়। তারা উভয়ে আরও বলেন যে, এতে খোদ কাবার ভেতরে নামাজ জায়েজ হওয়ার দলিল রয়েছে, যেহেতু আল্লাহ বলেছেন: "আমার ঘর"; যা ইমাম মালিকের মতের পরিপন্থী। আমি বলি: একে খণ্ডন করে আল্লাহর বাণী: "তওয়াফকারীদের জন্য"; আর তওয়াফ কাবার ভেতরে হয় না। রাজি বলেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, তওয়াফ নামাজের আগে হবে। আমি বলি: ইবনে আব্বাস এটি দিয়ে দলিল দিয়েছেন। হাকেম আতা ইবনে সাইবের সূত্রে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাসের কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল: আমি কি মারওয়ার আগে সাফা থেকে শুরু করব? তওয়াফের আগে নামাজ পড়ব না কি তওয়াফ আগে করব? অথবা জবেহ করার আগে মাথা মুণ্ডাব না কি মাথা মুণ্ডানোর আগে জবেহ করব? ইবনে আব্বাস বললেন: এটি আল্লাহর কিতাব থেকেই প্রমাণিত, যা মুখস্থ রাখা অধিক সমীচীন। আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"কাজেই মারওয়ার আগে সাফা। এবং তিনি বলেছেন: "আর যতক্ষণ না কোরবানির পশু তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে, ততক্ষণ তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না।"সুতরাং মাথা মুণ্ডানোর আগে জবেহ। এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার ঘরকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।"কাজেই নামাজের আগে তওয়াফ। হাকেম বলেছেন এর সনদ সহিহ। রাজি বলেন: এতে মক্কায় অবস্থান (মুজাওয়ারা) জায়েজ হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, কারণ আল্লাহর বাণী: "এবং ইতিকাফকারীগণ", শব্দটি এই অর্থ বহন করে; যদিও আতা ও অন্যান্যরা একে অবস্থানকারীদের অর্থেই ব্যাখ্যা করেছেন।১২৭- মহান আল্লাহর বাণী: "আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল এই ঘরের ভিত্তি উত্তোলন করছিল (এবং বলছিল), হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مِنَّا} .قال الرازي فيه أن بناء المساجد قربة. قلت: وفيه استحباب الدعاء بقبول الأعمال.130- قوله تعالى: {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ}فيه دلالة على لزوم اتباع ملته فبما لم يثبت نسخه، ذكره الكيا وغيره.133- قوله تعالى: {أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ}الآية استدل به ابن عباس على أن الجد بمنزلة الأب وعلى توريثه جون الأخوة. وأخرج ابن أبي حاتم عن عطاء قال سمعت ابن عباس يقول الجد أب ويتلو ابن عباس: {قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ} الآية.ورد عليه من الآية بذكر إسماعيل فسمى العم أباً ولا يقوم مقامه إجماعاً.141- قوله تعالى: {تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ} الآية.قال الرازي: يدل على أن الأبناء لا يثابون على طاعة الآباء، ولا يعذبون على ذنوبهم، وفيه ابطال مذهب من يجيز تعذيب اولاد المشركين تبعاً لآبائهم، قال ابن الفرس: وفي قوله: {لَهَا مَا كَسَبَتْ}إثبات الكسب للعبد.142- قوله تعالى: {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ} الآية.فيه الرد على من أنكر النسخ ودلالة على جواز نسخ السنة بالقرآن لأن استقبال بيت المقدس كان ثابتاً بالسنة الفعلية لا بالقرآن.143- قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا}يستدل به على تفضيل هذه الأمة على سائر الأمم، قوله {لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ}قيل: أي لتكونوا حجة فيما تشهدون كما أنه صلى الله عليه وسلم شهيج بمعنى حجة. قال: ففيه دلالة إجماع الأمة. قوله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ}أي صلاتكم إلى بيت المقدس، استدل به على أن الإيمان قول وعمل.
আমাদের পক্ষ থেকে}।আর-রাযী এই বিষয়ে বলেছেন যে, মসজিদ নির্মাণ করা একটি পুণ্যময় কাজ। আমি বলি: এতে আমল কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।১৩০- মহান আল্লাহর বাণী: {আর ইব্রাহীমের আদর্শ থেকে কে বিমুখ হবে সে ছাড়া যে নিজেকে মূর্খ বানিয়েছে}এতে ইব্রাহীম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার আবশ্যকতা রয়েছে সেই সব বিষয়ে যেগুলোর রহিতকরণ প্রমাণিত হয়নি; কিয়া এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।১৩৩- মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমরা কি উপস্থিত ছিলে}এই আয়াত দ্বারা ইবনে আব্বাস দলিল পেশ করেছেন যে, দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত এবং ভাইদের পরিবর্তে তিনি উত্তরাধিকার পাবেন। ইবনে আবি হাতিম আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি যে, ‘দাদা হলেন পিতা’, আর ইবনে আব্বাস তিলাওয়াত করতেন: {তারা বলল: আমরা আপনার উপাস্য এবং আপনার পিতৃপুরুষদের উপাস্যের ইবাদত করব} এই আয়াতটি।তবে এই আয়াতের বিপরীতে উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, এখানে ইসমাইল (আ.)-এর উল্লেখ রয়েছে যেখানে চাচাকে ‘পিতা’ বলা হয়েছে, অথচ ঐকমত্য অনুযায়ী চাচা পিতার স্থলাভিষিক্ত হন না।১৪১- মহান আল্লাহর বাণী: {সেটি ছিল একটি উম্মত যারা গত হয়ে গেছে, তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরই জন্য} আয়াতটি।আর-রাযী বলেছেন: এটি প্রমাণ করে যে, সন্তানদের তাদের পিতৃপুরুষদের আনুগত্যের জন্য সওয়াব দেওয়া হবে না এবং তাদের পাপের কারণে শাস্তিও দেওয়া হবে না। এতে সেই মতবাদের অসারতা প্রমাণিত হয় যারা মুশরিকদের সন্তানদের তাদের পিতৃপুরুষদের অনুগামী হিসেবে শাস্তি দেওয়া বৈধ মনে করে। ইবনুল ফারাস বলেন: আল্লাহর বাণী {তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরই জন্য}এর মধ্যে বান্দার জন্য কর্ম-অর্জনের সাব্যস্তকরণ রয়েছে।১৪২- মহান আল্লাহর বাণী: {নির্বোধরা বলবে} আয়াতটি।এতে যারা রহিতকরণ (নাসখ) অস্বীকার করে তাদের প্রতি উত্তর রয়েছে এবং কুরআন দ্বারা সুন্নাহ রহিত হওয়ার বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। কারণ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করা কর্মগত সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত ছিল, কুরআনের মাধ্যমে নয়।১৪৩- মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি}অন্যান্য সকল উম্মতের ওপর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে এটি পেশ করা হয়। আল্লাহর বাণী: {যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও}বলা হয়েছে: অর্থাৎ তোমরা যা সাক্ষ্য দিবে তাতে যেন তোমরা দলিল হও, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী তথা দলিল স্বরূপ। তিনি বলেন: এতে উম্মতের ঐকমত্যের (ইজমা) প্রামাণিকতার দলিল রয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না}অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে তোমাদের সালাত; এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও কর্মের সমষ্টি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
144- قزله تعالى: {وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ}فيه إيجاب استقبال الكعبة في كل صلاة فرضاً كانت أو نفلاً، في كل مكان حضراً أو سفراً، وهو مخصوص بالآية المتقدمة في نافلة السفر على الراحلة، وبالآية الآتية في حالة المسابقة. قال الرازي: والخطاب لمن كان معايناً للكعبة وغائباً عنها، والمراد لمن كان حاضرها إصابة عينها، ولمن كان غائباً عنها النحو الذي عنده أنه نحو الكعبة وجهتها في غالب ظنه دون العين يقيناً، إذ لا سبيل إلى ذلك وهذا أحد الأصول الدالة على تجويز الاجتهاد، وقد يستدل بقوله: شطره، على أن الفرض للغائب إصابه الجهة لا العين هو أحد قولي الشافعي. وقد أخرج أبو داود في الناسخ والمنسوخ عن ابن عباس أنه كاان يقول: شطره: نحوه، وأخرج الحاكم عن علي قال: شطره: قبله، وأخرج ابن أبي حاتم عن داود عن رفيع قال: تلقاءه، وأخرج عن البراء قال: شطره: وسطه. وهذا صريح في إرادة العين ولا الجهة.148- قوله تعالى {فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ}يدل على أن تعجيل الطاعات أفضل من تأخيرها.154- قوله تعالى: {وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} الآية.فيها دلالة على حياة الشهداء بعض الموت.155- قوله تعالى: {وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ} الآية.فيه استحباب الاسترجاع عند المصيبة، وإن قلت كما أشر إليه تنكير مصيبة وقد أخرج الطبراني عن أبي أمامه قال انقطع قبال النبي صلى الله عليه وسلم فاسترجع، فقالوا: مصيبة يا رسول الله؟ فقال: {ما أصاب المؤمن مما يكره فهو مصيبة}وله شواهد أوردتها في التفسير المسند.158- قوله تعالى: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ}الآية فهم منها جماعة عدم وجوب السعي، وبه قال الثوري واسحق. قال اللخمي ورد القرآن باباحته بقوله: {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ}وتضمنت الآية الندب بقوله: {مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ}وقوله: {وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا}قال ابن الفرس: وفيه نظر حيث جعله مباحاً مندوبا في آية واحدة، وقال قوم: من شعائر الله دليل على الوجوب لأنه خبر بمعنى الأمر ولا دليل على سقوطه في قوله: {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ}لأنه ورد لرفع ما وقع في نفوسهم كما ثبت في سبب نزولها. وهذا ما ردت به عائشة على عروة في فهمه ذلك، وقال: لو كانت على ما أولتها عليه كانت فلا
১৪৪- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তোমাদের মুখমণ্ডল সেই দিকেই ফিরাও}এতে ফরয বা নফল প্রতিটি সালাতে কাবার দিকে মুখ করা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, চাই তা যে কোনো স্থানে হোক—বাসস্থানে কিংবা সফরে। তবে এটি যানবাহনের পিঠে আরোহী অবস্থায় সফরের নফল সালাত সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আয়াতের মাধ্যমে এবং যুদ্ধের অগ্রগামী হওয়ার অবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী আয়াতের মাধ্যমে বিশেষায়িত। রাযী বলেছেন: এই সম্বোধন তাদের জন্য যারা কাবাকে সরাসরি দেখছে এবং যারা তার থেকে দূরে আছে উভয়ের জন্য। এর উদ্দেশ্য হলো—যারা উপস্থিত আছে তাদের জন্য মূল কাবার দিক নিশ্চিত করা, আর যারা দূরে আছে তাদের জন্য সেই দিকটি লক্ষ্য করা যা তার প্রবল ধারণায় কাবার অভিমুখ বলে মনে হয়, নিশ্চিতভাবে মূল কাবার দিক লক্ষ্য করা জরুরি নয়; কারণ সেটির কোনো উপায় নেই। এটি ইজতিহাদ বৈধ হওয়ার অন্যতম মূলনীতি। 'শাতরাহু' (তার দিকে) শব্দটির মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা হয় যে, দূরবর্তী ব্যক্তির জন্য মূল কাবা নয় বরং দিক লক্ষ্য করা ফরয। এটি ইমাম শাফেঈর দুটি মতের একটি। আবু দাউদ 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: 'শাতরাহু' অর্থ হলো তার দিকে। হাকেম আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'শাতরাহু' অর্থ তার সম্মুখভাগে। ইবনে আবি হাতিম দাউদ থেকে এবং তিনি রফী' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তার সামনে। বারা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: 'শাতরাহু' অর্থ তার মাঝখানে। আর এটি দিক নয় বরং মূল কাবাকেই উদ্দেশ্য করার ব্যাপারে স্পষ্ট।১৪৮- মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা নেক কাজে প্রতিযোগিতা করো}এটি প্রমাণ করে যে, ইবাদত দ্রুত করা বিলম্ব করার চেয়ে উত্তম।১৫৪- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হয় তাদের তোমরা মৃত বলো না}—এই আয়াত।এতে মৃত্যুর পর শহীদদের জীবিত থাকার প্রমাণ রয়েছে।১৫৫- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন}—এই আয়াত।এতে বিপদের সময় 'ইস্তিরজা' (ইন্না লিল্লাহ পড়া) মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যদিও বিপদটি সামান্য হয়; যেমনটি 'মুসিবাত' (বিপদ) শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাবারানি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছিল, তখন তিনি ইস্তিরজা পাঠ করলেন। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটিও কি বিপদ? তিনি বললেন: "মুমিন যা অপছন্দ করে এমন যা কিছুই তার সাথে ঘটে, তাই বিপদ।"এর অনেক সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে যা আমি 'তাফসীরুল মুসনাদ'-এ উল্লেখ করেছি।১৫৮- মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত}এই আয়াত থেকে একদল আলিম সাঈ ওয়াজিব না হওয়ার বিষয়টি বুঝেছেন। সূরি ও ইসহাক এই মত পোষণ করেছেন। লাখমি বলেছেন: কুরআনে {তার জন্য কোনো গুনাহ নেই} বাণীর মাধ্যমে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে।আর আয়াতটি {আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত} এবং {আর যে স্বেচ্ছায় কোনো নেক কাজ করবে}—বাণী দুটির মাধ্যমে এর পছন্দনীয়তা বা নফল হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।ইবনে ফারস বলেন: এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে যেখানে তিনি একই আয়াতে এটিকে মুবাহ (বৈধ) এবং মানদুব (পছন্দনীয়) সাব্যস্ত করেছেন। একদল আলিম বলেছেন: 'আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত' হওয়াটি ওয়াজিব হওয়ার দলিল, কারণ এটি আদেশের অর্থ প্রদানকারী সংবাদ। আর {তার জন্য কোনো গুনাহ নেই} বাণীর মধ্যে এটি রহিত হওয়ার কোনো দলিল নেই, কারণ এটি তাদের মনে উদিত হওয়া দ্বিধা দূর করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যেমনটি শানে নুযুলে প্রমাণিত। এটিই ছিল সেই বিষয় যার মাধ্যমে আয়েশা উরওয়ার বুঝের খণ্ডন করেছিলেন এবং বলেছিলেন: বিষয়টি যদি তোমার ব্যাখ্যা অনুযায়ী হতো, তবে আয়াতটি এমন হতো না...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
جناح عليه ألا يطوف بهما الحديث، أخرجه الشيخان. وقد فهم صلى الله عليه وسلم من الآية الوجوب حيث قال "إن الله كتب عليكم السعي" رواه أحمد والطبراني، واستدل بتقديم الصفافي الآية على وجوب الابتداء به حيث قال: "ابدأ بما بدأ الله به" رواه مسلم وفي لفظ "نبدأ" رواه الترمذي وفي لفظ "ابدءوا" رواه النسائي وابن خزيمة. قال ابن الفرس: واستدل بعموم الآية على صحة طواف الراكب والمحدث.159- قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ} الآية.فيه وجوب إظهار العلم وتبيينه وتحريم كتمانه، قال الكيا والرازي: وعم ذلك المنصوص والمستنبط لشمول اسم الهدى للجميع. قال الكيا: فيه دليل على وجوب قبول قول الواحد، لأنه لا يجب عليه البيان إلا وقد وجب قبول قوله، قلت: ويستدل بالآية على عدم وجوب ذلك على النساء بناء على أنهم لا يدخلن في خطاب الرجال.160 - قوله تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا}يدل على أنه لا يكتفي في صحة التوبة بالندم على ما سلف، بل لابد من تدارك ما فات في المستقبل حيث قال، وبينوا ذكره الرازي والكيا.161 - قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا}الآية استدل به على جواز لعن الكافر بعد موته خلافاً لمن قال إنه لا فائدة.163 - قوله تعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ}فيه إثبات الوحدانية له تعالى في ذاته وصفاته.164 - قوله تعالى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ}الآية فيه إثبات الاستدلال بالحجج العقلية واستدل بقوله: {وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ}على جواز ركوب البحر تاجراً وغيره، وقد سئل بعض الأكابر عن قوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} .فأين الفلفل وكذا وكذا؟ فقال في قوله {وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ} .168 - قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ}يدل على أن من حرم طعاماً أو ثوباً أو غيره فهو لاغٍ ولا يحرم
'তাদের জন্য এতে কোনো দোষ নেই যে তারা উভয়ের (সাফা ও মারওয়া) তওয়াফ করবে'—এই হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত থেকে ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি বুঝেছেন যখন তিনি বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সাঈ (দৌড়ানো) লিখে দিয়েছেন (বাধ্যতামূলক করেছেন)।" আহমদ ও তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আয়াতে সাফাকে আগে উল্লেখ করার মাধ্যমে সাফা থেকে শুরু করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল পেশ করেছেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "আমি তা দিয়েই শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীর শব্দে আছে "আমরা শুরু করছি" এবং নাসাঈ ও ইবনে খুজাইমার শব্দে আছে "তোমরা শুরু করো"। ইবনুল ফারাস বলেন: আয়াতের ব্যাপকতা থেকে আরোহী এবং অপবিত্র ব্যক্তির তওয়াফ শুদ্ধ হওয়ার ওপর দলিল পাওয়া যায়।১৫৯- মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা গোপন করে..." (আয়াত)।এতে ইলম বা জ্ঞান প্রকাশ করা ও তা ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব হওয়া এবং তা গোপন করা হারাম হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আল-কিয়া এবং আর-রাজি বলেছেন: এটি বর্ণিত এবং উদ্ভাবিত (ইস্তিনবাতকৃত) উভয় প্রকার বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ হেদায়াত শব্দটি উভয়কে শামিল করে। আল-কিয়া বলেন: এতে একজনের কথা গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার দলিল রয়েছে, কারণ তার ওপর বিষয়টি বর্ণনা করা ওয়াজিব হতো না যদি না তার কথা গ্রহণ করা ওয়াজিব হতো। আমি বলি: এই আয়াতের মাধ্যমে নারীদের ওপর এটি ওয়াজিব না হওয়ার দলিল পেশ করা যেতে পারে, এই যুক্তিতে যে তারা পুরুষদের প্রতি করা সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত হয় না।১৬০ - মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যারা তওবা করে, সংশোধন করে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।"এটি প্রমাণ করে যে তওবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য কেবল অতীতের ওপর অনুশোচনা যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে যা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে তা সংশোধন করা আবশ্যক, কারণ তিনি বলেছেন: "এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।" এটি আর-রাজি ও আল-কিয়া উল্লেখ করেছেন।১৬১ - মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে..."এই আয়াত থেকে মৃত্যুর পর কাফেরকে লানত করা জায়েজ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে, তাদের মতের বিপরীতে যারা মনে করেন এতে কোনো ফায়দা নেই।১৬৩ - মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।"এতে মহান আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলিতে একত্ববাদের (ওয়াহদানিয়াত) প্রমাণ রয়েছে।১৬৪ - মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে..."এই আয়াতে বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করার বৈধতা রয়েছে। আর তাঁর বাণী: "এবং সাগরে চলাচলকারী নৌকাগুলো" থেকে ব্যবসায়ী হিসেবে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে সমুদ্রযাত্রার বৈধতার দলিল পেশ করা হয়েছে। জনৈক বড় আলেমকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি।"তাহলে মরিচ এবং অমুক অমুক বিষয় কোথায়? তিনি তখন আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে উত্তর দিলেন: "এবং সাগরে চলাচলকারী নৌকাগুলো যা মানুষের উপকারে আসে।"১৬৮ - মহান আল্লাহর বাণী: "হে মানুষ! জমিনে যা কিছু আছে তা থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।"এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি কোনো খাবার বা কাপড় বা অন্য কিছু নিজের ওপর হারাম করে নেয়, তার সেই ঘোষণা নিরর্থক এবং এর ফলে তা হারাম হয়ে যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عليه. أخرج ابن أبي حاتم عن أبي مسعود أن رجلاً قال له: إني حرمت أن آكل ضرعاً أبداً فقال: هذا من خطوات الشيطان أطعم وكفر عن يمينك، وأخرج عبد بن حميد ابن عباس: ما كان يمين أو نذر في غصب فهو من خطوات الشيطان وكفارته كفارة يمين. وأخرج ابن أبي حاتم عن أبي مجلز قال: خطوات الشيطان النذور في المعاصي.170- قوله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ}الآية فيه إبطال التقليد.173- قوله تعالى: {إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ} .عام في جميع أجزائها حتى الدهن واللبن والإنفحة خلافاً لمن خالف في ذلك، واستدل بعمومه على تحريم ما لا نفس له سائله خلافاً لمن أباحه من المالكية، واستدل به أيضاً من حرم ميتة السمك الطافي وما مات من الجراد بغير سبب، وعليه أكثر المالكية، والأجنة، وعليه أبو حنيفة.قوله تعالى: {وَالدَّمَ}قيده في سورة الأنعام بالمسفوح وسيأتي، واستدل بعمومه على تحريمه ونجاسة دم الحوت وما لا نفس له سائلة. قوله، ولحم الخنزير، استدل بعمومه من حرم خنزير البحر.قوله تعالى: {وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ}استدل به من حرم ما ذبحه أهل الكتاب لأعيادهم وكنائسهم وعلى اسن المسيح.قوله تعالى: {فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ}الآية فيه إباحة المذكورات للمضطر بشرط أن لا يكون باغياً ولا عادياً فلا يحل تأولها للباغي والعادي كالعاصي بسفره. أخرج سعيد بن منصور في سننه عن سفيان عن ابن أبي نجيح عن مجاهد: {فَمَنِ
তার ওপর। ইবনে আবি হাতিম আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাকে বলল: "আমি পশুর ওলান খাওয়াকে আমার জন্য চিরতরে হারাম করেছি।" তিনি বললেন: "এটি শয়তানের পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত। এটি খাও এবং তোমার শপথের কাফফারা আদায় করো।" আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "জবরদখলের বিষয়ে যে শপথ বা মানত করা হয় তা শয়তানের পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত এবং এর কাফফারা হলো শপথের কাফফারা।" ইবনে আবি হাতিম আবু মিজলাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "পাপের কাজে মানত করাই হলো শয়তানের পদক্ষেপ।"১৭০- মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো}এই আয়াতটি অন্ধ অনুকরণের (তাকলিদ) অসারতা প্রমাণ করে।১৭৩- মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত প্রাণী এবং রক্ত}।এটি মৃত প্রাণীর সকল অংশের ক্ষেত্রে সাধারণ বা ব্যাপক, এমনকি চর্বি, দুধ এবং পনির তৈরির উপাদানও (রেনেট) এর অন্তর্ভুক্ত, যারা এর বিরোধিতা করেছেন তাদের মতের বিপরীতে। প্রবাহিত রক্ত নেই এমন প্রাণীকে হারাম করার ক্ষেত্রে এই আয়াতের ব্যাপকতার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা হয়েছে, মালিকি মাযহাবের যারা একে বৈধ বলেছেন তাদের বিপরীতে। এর মাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকেও দলিল গ্রহণ করা হয়েছে যারা পানিতে ভেসে ওঠা মৃত মাছ এবং কোনো কারণ ছাড়া মৃত পঙ্গপালকে হারাম বলেছেন, আর অধিকাংশ মালিকিগণ এই মতের ওপর রয়েছেন; এবং মৃত ভ্রূণের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যার ওপর আবু হানিফা রয়েছেন।মহান আল্লাহর বাণী: {এবং রক্ত}সূরা আল-আনআম-এ একে প্রবাহিত রক্ত হিসেবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যা সামনে আসবে। এর ব্যাপকতা থেকে তিমির রক্ত এবং প্রবাহিত রক্ত নেই এমন প্রাণীর রক্ত হারাম ও অপবিত্র হওয়ার ওপর দলিল গ্রহণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: 'এবং শূকরের গোশত', এর ব্যাপকতা থেকে তারা দলিল গ্রহণ করেছেন যারা সমুদ্রের শূকরকে হারাম বলেন।মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যার ওপর আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য নাম নেওয়া হয়েছে}এর মাধ্যমে তারা দলিল গ্রহণ করেছেন যারা আহলে কিতাবদের তাদের উৎসব, গির্জা এবং মসীহের নামে জবাইকৃত পশুকে হারাম বলেন।মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, তবে অবাধ্য হয়ে নয় এবং সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবেও নয়}এই আয়াতে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য উল্লিখিত বিষয়গুলো বৈধ করা হয়েছে এই শর্তে যে, সে অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী হবে না। সুতরাং অবাধ্য এবং সীমালঙ্ঘনকারীর জন্য এর ছাড় দেওয়া বৈধ নয়, যেমন যে ব্যক্তি তার সফরের মাধ্যমে পাপ করছে। সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ}قال غير باغ على المسلمين. ولا معتد عليهم، من خرج لقطع الرحم أو لقطع السبيل، أو يفسد في الأرض فاضطر إلى الميتة لم تحل له. ومن أباح ذلك قال: غير باغ ولا عاد في الأكل. أخرج ابن ألي حاتم من طريق علي بن أبي طلحة عن ابن عباس ولا عاد في الأكل. أخرج ابن أبي حاتم من طريق علي بن أبي طلحة عن ابن عباس في هذه الآية قال: من أكل شيئاً من هذه وهو مضطر فلا حرج ومن أكله غير مضطرفقد بغى واعتدى. وأخرج ابن المنذر من طريق عطية عن ابن عباس قال غير باغ في الميتة ولا عاد في الأكل، واستدل بعموم الآية على جواز أكل المضطر ميتة الخنزير والآدمي خلافاً لمن منع ذلك.174- قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا}الآية فيه تحريم أخذ الأجرة على الإفتاء.177- قوله تعالى: {وَلَكِنَّ الْبِرَّ}فيها من شعب الإيمان بالله واليوم الآخر، والملائكة والكتب والأنبياء وصلة الأرحام والأيتام والمساكين وابن السبيل والسائلين ولو أغنياء والعتق وفك الأسرى وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والوفاء بالعهود والصبر على الفقر والضر والجهاد وفي قوله: {عَلَى حُبِّهِ}دليل على أن أفضل الصدقة ما كان في حال الصحة كما فسره ابن مسعود بقوله: "تؤتيه وأنت صحيح تأمل العيش وتخشى الفقر" أخرجه الحاكم وغيره.178- قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ}الآية: فيه مشروعية القصاص، واستدل به الليث على أن الرجل لا يقتص منه لامرأة كما استدل به غيره على أن الحر لا يقتل بالعبد.قوله تعالى {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ}الأية فيه مشروعية العفو على الدية والمطالبة برفق والأداء من غير مطل، وفي ذكر {أَخِيهِ}ترقيق مرغعفو وفي تنكير (شيء) إشارة إلى سقوط القصاص بالعفو عن بعضه، قوله تعالى {فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ}فيه أن العافي إذا قتل بعد العفو يقتص منه وأخذ جماعة من الآية تحتم قتله وأنه لا يصح العفو عنه.
{যে ব্যক্তি নিরুপায় হবে, অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে}তিনি বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী নয় এবং তাদের ওপর আক্রমণকারী নয়; যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে অথবা ডাকাতি করতে অথবা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করতে বের হয়েছে, এরপর সে মৃত প্রাণীর মাংস খেতে নিরুপায় হয়েছে, তবে তা তার জন্য হালাল হবে না। আর যারা এটি বৈধ বলেছেন তারা বলেন: খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিভোজী বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়। ইবনে আবি হাতিম আলী ইবনে আবি তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন—খাওয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী নয়। ইবনে আবি হাতিম আলী ইবনে আবি তালহার সূত্রে এই আয়াত সম্পর্কে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে এর কিছু আহার করল তার কোনো গুনাহ নেই, আর যে ব্যক্তি নিরুপায় না হয়ে আহার করল সে অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করল। ইবনুল মুনজির আতিয়্যার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মৃত প্রাণী ভক্ষণে অবাধ্য নয় এবং খাওয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী নয়। এই আয়াতের ব্যাপকতা থেকে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য শুকর ও মানুষের মৃতদেহ খাওয়ার বৈধতার দলিল নেওয়া হয়েছে, যদিও কেউ কেউ তা নিষেধ করেছেন।১৭৪- আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব গোপন করে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে}এই আয়াতে ফতোয়া প্রদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ হারাম হওয়ার বিষয়টি রয়েছে।১৭৭- আল্লাহ তাআলার বাণী: {কিন্তু পুণ্য হলো}এতে রয়েছে আল্লাহর ওপর ঈমান, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের ওপর ঈমান আনা; আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির ও সাহায্যপ্রার্থীদের (তারা ধনী হলেও) দান করা; দাসমুক্তি ও বন্দি মুক্ত করা; নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা এবং দারিদ্র্য, দুঃখ-কষ্ট ও জিহাদের সময় ধৈর্য ধারণ করার মতো ঈমানের শাখাসমূহ। আর তাঁর বাণী: {তাঁর ভালোবাসায়}এটি দলিল যে, সর্বোত্তম সদকা হলো সুস্থ অবস্থায় করা, যেমনটি ইবনে মাসউদ ব্যাখ্যা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তুমি তা দান করবে এমন অবস্থায় যখন তুমি সুস্থ, জীবনের আশা রাখো এবং দারিদ্র্যের ভয় করো।" এটি হাকেম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।১৭৮- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের ওপর কিসাস ফরজ করা হয়েছে}আয়াত: এতে কিসাস বা প্রতিশোধ গ্রহণের বিধান রয়েছে। লাইস বিন সাদ এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল দিয়েছেন যে, নারীর বিনিময়ে পুরুষের ওপর কিসাস কার্যকর হবে না; যেমন অন্যরা দলিল দিয়েছেন যে, দাসের বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না।আল্লাহ তাআলার বাণী {অতঃপর যার জন্য ক্ষমা করা হবে}আয়াতে দিয়ত বা রক্তপণ গ্রহণের বিনিময়ে ক্ষমা করার বিধান এবং নম্রতার সাথে দাবি করা ও কোনো টালবাহানা ছাড়া তা পরিশোধ করার বিষয়টি রয়েছে। আর {তার ভাই} শব্দের উল্লেখে ক্ষমার প্রতি উৎসাহ ও কোমলতা রয়েছে। আর ‘কিছু’ শব্দটিকে অনির্দিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আংশিক ক্ষমার মাধ্যমেই কিসাস বাতিল হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার বাণী {অতঃপর যে ব্যক্তি এর পর সীমালঙ্ঘন করবে}এতে বলা হয়েছে যে, ক্ষমাকারী ব্যক্তি যদি ক্ষমার পর হত্যা করে, তবে তার ওপর কিসাস কার্যকর করা হবে। একদল আলেম এই আয়াত থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তাকে হত্যা করা বাধ্যতামূলক এবং এক্ষেত্রে তার জন্য ক্ষমা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
180- قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ}هذا منسوخ كما تبين في كتاب والمنسوخ، وقيل محكم خاص بمن لا يرث من الوالدين كالكفار والأقربين المحجوبين، واختلف أصحاب هذا القول هل الوصية لهم واجبة لقوله: {كُتِبَ}و {حَقًّا} .أو مندوبة لقوله {بِالْمَعْرُوفِ} .واستدل محمد بن الحسن بالآية على أن مطلق الأقربين لا يتناول الوالدين لعطفه عليه.181- قوله: {فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ} الآية.قال الكيا: يدل على أن الفرض يسقط عن الموصي بنفس الوصية، فإن إثم التبديل لا يلحقه وعلى أن من كان عليه دين فأوصى بقضائه يسلم من تبعته في الآخرة، وأن ترك الوصي والوارث قضاءه، قال ابن الفرس: ومن أحكام الآية أن الوصى إليه بشيء خاص لا يكون وصياً في غيره خلافاً لأبي حنيفة، والحجة عليه: {فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ} الآية.قال الكيا وغيره: أفادت الآية أن على الوصي والحاكم والوارث وكل من وقف على جوز في الوصية من جهة العمد أو الخطأ ردها إلى العدل، وأن قوله: {بَعْدَ مَا سَمِعَهُ}خاص بالوصية العادلة دون الجائزة وفيها الدلالة على جواز الاجتهاد والعمل بغالب الظن لأن الخوف من الميل يكون في غالب ظن الخائف، وفيها رخصة في الدخول بينهم على وجه الصلاح مع ما فيه من زيادة أو نقصان عن الحق بعدما يكون ذلك بتراضيهم قال ابن الفرس ويؤخذ من الآية أيضاً أنه أوصى بأ: ثر من الثلث لا تبطل الوصية كلها خلافاً لزاعمه وإنما يبطل منها ما زاد عليه لأنه لم يبطل الوصية جملة بالجور فيها بل جعل فيها الوجه الإصلاح.183- قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ}فيه فرض الصوم.184- قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ}استدل به من أباح الفطر بمجرد المرض وائن كان يسيراً أو بمجرد السفر وإن كان قصيراً أو غير طاعة أو غير مباح واستدل به داود على أنه لا يصح صوم المريض والمسافر لأنه تعالى جعل الواجب عليه أياماً أخر فكان صائماً قبل الوقت، واستدل به الكرخي على أ، الواجب أيام أخر ورمضان عليهما غير واجب فإن قدمه صح وكان معجلاً كتعجيل الزكاة واستدل بقوله {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ}على جواز القضاء متتابعاً ومتفرقاً. وروى ابن أبي حاتم عن ابن عباس قال: إن شاء تارع وإن شاء فرق، لأن الله تعالى يقول:
180- মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের ওপর (অসিয়ত করা) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।"এটি মানসুখ (রহিত), যা নাসিখ-মানসুখ বিষয়ক কিতাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এটি মুহকাম (বলবৎ), যা পিতা-মাতার মধ্য থেকে যারা উত্তরাধিকারী হয় না তাদের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন কাফির এবং বঞ্চিত নিকটাত্মীয়গণ। এই মত পোষণকারীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে যে, তাদের জন্য অসিয়ত করা কি ওয়াজিব; কারণ আল্লাহ "বিধিবদ্ধ করা হয়েছে" এবং "হক (আবশ্যক)" শব্দ ব্যবহার করেছেন?নাকি এটি মুস্তাহাব; কারণ তিনি "ন্যায়সঙ্গতভাবে" কথাটি বলেছেন? মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এই আয়াত দিয়ে দলীল পেশ করেছেন যে, 'নিকটাত্মীয়' শব্দটির সাধারণ প্রয়োগে পিতা-মাতা অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ তিনি একে তার ওপর সংযুক্ত করেছেন। 181- তাঁর বাণী: "অতঃপর যে ব্যক্তি তা শোনার পর পরিবর্তন করবে" আয়াতাংশ। আল-কিয়া বলেছেন: এটি নির্দেশ করে যে, অসিয়ত করার মাধ্যমেই অসিয়তকারীর ওপর থেকে ফরয দায়িত্বটি রহিত হয়ে যায়, ফলে পরিবর্তনের গুনাহ তাকে স্পর্শ করবে না। আরও নির্দেশ করে যে, যার ওপর ঋণ রয়েছে সে যদি তা পরিশোধের অসিয়ত করে, তবে সে আখিরাতে এর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে, যদিও অসিয়ত পালনকারী বা উত্তরাধিকারী তা পরিশোধ করা ত্যাগ করে। ইবনুল ফারাস বলেন: এই আয়াতের বিধানসমূহের একটি হলো—যাকে কোনো বিশেষ বিষয়ে অসিয়ত করা হয়েছে, সে অন্য বিষয়ে অসিয়ত পালনকারী হবে না; যা আবু হানিফার মতের বিপরীত। এর স্বপক্ষে দলীল হলো: "অতঃপর যে ব্যক্তি তা শোনার পর পরিবর্তন করবে" আয়াতাংশ। আল-কিয়া ও অন্যান্যরা বলেছেন: এই আয়াতটি শিক্ষা দেয় যে, অসিয়ত পালনকারী, বিচারক, উত্তরাধিকারী এবং যে কেউ অসিয়তের মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনো অবিচার দেখতে পাবে, তার জন্য তা ন্যায়ের দিকে ফিরিয়ে আনা আবশ্যক। আর "শোনার পর" কথাটি কেবল ন্যায়সঙ্গত অসিয়তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্যায় অসিয়তের ক্ষেত্রে নয়। এতে ইজতিহাদ এবং প্রবল ধারণার ওপর আমল করার বৈধতার দলীল রয়েছে; কারণ পক্ষপাতের ভয় সাধারণত ভয়কারীর প্রবল ধারণার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়। এতে তাদের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি রয়েছে, যদিও তাতে হকের চেয়ে কম বা বেশি কিছু ঘটে থাকে, যদি তা তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে হয়। ইবনুল ফারাস বলেন: এই আয়াত থেকে আরও নেওয়া যায় যে, যদি কেউ এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করে, তবে পুরো অসিয়ত বাতিল হবে না—যা দাবি করা হয়েছে তার বিপরীতে; বরং কেবল অতিরিক্ত অংশটুকু বাতিল হবে। কারণ তিনি অসিয়তে অবিচার হওয়ার কারণে পুরো অসিয়তকে বাতিল করে দেননি, বরং এতে সংশোধনের পথ রেখেছেন। 183- মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ওপর সিয়াম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।" এতে সিয়াম ফরয হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। 184- মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।" এটি দিয়ে সেই ব্যক্তি দলীল পেশ করেছেন যিনি কেবল অসুস্থতার কারণেই রোজা ভঙ্গ করা বৈধ মনে করেন, যদিও তা সামান্য অসুস্থতা হয়; অথবা কেবল সফরের কারণেই, যদিও তা সংক্ষিপ্ত সফর হয় কিংবা ইবাদত বহির্ভূত বা অবৈধ সফর হয়। দাউদ এটি দিয়ে দলীল পেশ করেছেন যে, অসুস্থ ও মুসাফিরের সিয়াম সঠিক হবে না; কারণ মহান আল্লাহ তার ওপর অন্য দিনগুলোতে সিয়াম পালন ওয়াজিব করেছেন, তাই নির্ধারিত সময়ের আগে সিয়াম পালন করা সঠিক হবে না। আল-কারখি এটি দিয়ে দলীল পেশ করেছেন যে, তাদের ওপর ওয়াজিব হলো অন্য দিনগুলো, আর রমজান তাদের ওপর ওয়াজিব নয়; তবে যদি সে তা অগ্রিম পালন করে তবে তা সহীহ হবে এবং তা যাকাত অগ্রিম দেওয়ার মতো অগ্রিম কাজ হিসেবে গণ্য হবে। "অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ" কথাটি দিয়ে বিরতিহীনভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে কাযা পালনের বৈধতার ওপর দলীল পেশ করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সে চাইলে টানা পালন করবে আর চাইলে আলাদাভাবে পালন করবে; কারণ মহান আল্লাহ বলছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
{فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} .واستدل به على أنه ليس على الفور، خلافاً لدواد على أن من أفطر رمضان كله قضى أياماً بعدده فلو كان تاماً لم يجزه شهر ناقص، أو ناقصاً لم يلزمه شهر كامل خلافاً لمن خالف في الصورتين، قال ابن القصار: ويحتج به لمذهب مالك والشافعي في أن المسافر إذا أقام، أو شفي المريض أثناء النهار، لا يلزمهم الإمساك بقيته لأنه تعالى إنما أوجب عدة من أيام أخر، وهؤلاء قد أفطروا، فحكم الإفطار لهم باقٍ ومن حكمه أن لا يجب عليه أكثر من يوم ولو أمرناه بالإمساك ثم القضاء لأوجبنا بدل اليوم أكثر منه، ويستدل بالآية على أنه يجزيء صوم يوم قصير مكان يوم طويل ولا أعلم فيه خلافاً وعلى أنه فدية مع القضاء.قوله تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ}هذا منسوخ وقيل لا؛ والمراد لمن لا يطيق الصوم لهرم أو لمرض أو نحوه، إما بتقدير لا النافية أو أن يطيقونه بمعنى يتكلفونه كما قرئ يطوقونه، وأخرج البخاري وغيره عن ابن عباس لأنه قرأ: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ}قال يكلفونه وهو الشيخ الكبير والعجوز الكبيرة يطعموه كل يوم مسكيناً ولا يقضون وله طرق كثيرة عنه، وأخرج الدارقطني عنه أنه قال لأم ولد له حبلى أو مرضع: أنتِ من الذين لا يطيقون الصيام عليك الجزاء وليس عليك القضاء. قال الشافعي: ظاهر الآية أن الذين يطيقون الصوم إذ لم يصوموا أطعموا ونسخ في غيره حق الحامل والمرضع وبقي في حقهما، فالحاصل أنا إن جعلناها منسوخة فهي في الحامل والمرضع محكمة وإن جعلناها محكمة ففيها دليل على إباحة الإفطار لمن لا يطيق لعذر لا يرجى برؤه وأن عليه فدية بدل الصوم وأنها عن كل يوم قدر لطعام مسكين وهو مُدُّ من حبًّ، وأن من زاد على ذلك فهو أفضل وأن مصرفها طائفة المساكين بخلاف غيرهم من أهل الزكاة، وقد يستدل بالآية على أن الصوم لا يقبل النيابة وإلا لذكرها واستدل بها ابن عباس على أن الحامل والمرضع يفديان ولا قضاء عليهما قال أبو عبيد اختلف الناس في الحامل والمرضع فقيل عليهما الفدية دون القضاء وقيل القضاء دون الفدية وقيل الأمران وكل تأول الآية، من قال بالفدية فقط رأى أنهما ممن لا يطيق وليستا من أهل السفر والمرض، وأهل هذا الوصف هم أهل الفدية، ومن رأى القضاء رأى الحمل والرضاع علتين من العلل كالمرض، ومن أوجبهما قال إن الله حكم في تارك الصوم بعذر بحكمين في آية والفدية في أخرى فلما يجد لهما ذكراً في واحد منهما
{তবে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করতে হবে।} এটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, রোযা কাযা করা অবিলম্বে হওয়া জরুরি নয়; এটি দাউদ আল-জাহিরির মতের পরিপন্থী। এর ভিত্তি হলো, যে ব্যক্তি পুরো রমজানের রোযা ভঙ্গ করে, সে সেই সমপরিমাণ দিন কাযা করবে। সুতরাং রমজান মাসটি যদি পূর্ণ ত্রিশ দিনের হয়, তবে ঊনত্রিশ দিনের মাস কাযা হিসেবে যথেষ্ট হবে না। আবার যদি রমজান মাসটি ঊনত্রিশ দিনের হয়, তবে পূর্ণ ত্রিশ দিন কাযা করা তার ওপর আবশ্যক হবে না। এই উভয় অবস্থায় যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, এটি তাদের মতের পরিপন্থী। ইবনুল কাসসার বলেন: ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈর মাযহাবের সপক্ষে এটি দিয়ে দলিল প্রদান করা হয় যে, মুসাফির যদি দিনের বেলা নিজ এলাকায় পৌঁছে যায় অথবা অসুস্থ ব্যক্তি দিনের বেলা সুস্থ হয়ে যায়, তবে দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা তাদের ওপর আবশ্যক নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা কেবলমাত্র অন্য দিনগুলোতে সমপরিমাণ সংখ্যা পূরণ করা ওয়াজিব করেছেন। আর তারা যেহেতু ইতিমধ্যে রোযা ভঙ্গ অবস্থায় রয়েছে, তাই রোযা ভঙ্গের বিধানই তাদের ক্ষেত্রে বহাল থাকবে। আর রোযা ভঙ্গের অন্যতম বিধান হলো, তার ওপর একদিনের রোযার পরিবর্তে একদিনের বেশি আবশ্যক হবে না। যদি আমরা তাকে দিনের বাকি অংশ বিরত থাকতে নির্দেশ দেই এবং এরপর আবার কাযা করতে বলি, তবে একদিনের বিনিময়ে তার ওপর একদিনের বেশি পরিমাণ বোঝা আবশ্যক করে ফেলতাম। এই আয়াত দ্বারা আরও দলিল পেশ করা হয় যে, দীর্ঘ দিনের পরিবর্তে ছোট দিনে রোযা রাখা যথেষ্ট হবে এবং এ ব্যাপারে আমার জানা মতে কোনো মতভেদ নেই। এছাড়া এটি কাযার সাথে ফিদইয়া প্রদানের বিষয়েও দলিল। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যাদের জন্য রোযা রাখা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার দান করবে।} এটি রহিত হয়ে গেছে; আবার কেউ বলেছেন এটি রহিত নয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বার্ধক্য, অতি অসুস্থতা বা অনুরূপ কারণে যারা রোযা রাখতে সক্ষম নয়। এটি হয় আয়াতের মধ্যে একটি উহ্য না-বোধক অব্যয় ধরে ব্যাখ্যা করা হয়, অথবা "তারা সক্ষম হয়" এর অর্থ হবে "তারা অত্যন্ত কষ্টের সাথে তা সম্পাদন করে", যেমনটি "ইউতাওয়াক্কুনাহু" কিরাতে পড়া হয়েছে। বুখারি ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "আর যাদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়" কিরাতে পড়েছেন। তিনি বলেন: এর দ্বারা অতিশয় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা উদ্দেশ্য যারা অত্যন্ত কষ্টের সাথে তা করতে পারে। তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার দান করবে এবং তাদের কাযা করতে হবে না। এ বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত আরও অনেক সূত্র রয়েছে। দারাকুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এক গর্ভবতী অথবা স্তন্যদাত্রী দাসীকে বলেছিলেন: "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা রোযা রাখতে সক্ষম নও। তোমার ওপর ফিদইয়া আবশ্যক, কিন্তু কাযা নেই।" ইমাম শাফিঈ বলেন: আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হলো যারা রোযা রাখতে সক্ষম তারা যদি রোযা না রাখে তবে খাবার দান করবে; তবে গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এটি রহিত হয়ে গেছে এবং তাদের দুইজনের ক্ষেত্রে এটি বহাল রয়েছে। সারকথা হলো, আমরা যদি আয়াতটিকে রহিত মনে করি তবে গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রীর ক্ষেত্রে এটি সুদৃঢ় বা কার্যকর (মুহকাম)। আর যদি আমরা এটিকে মুহকাম মনে করি তবে এতে এমন ব্যক্তির জন্য রোযা ভঙ্গের বৈধতার দলিল রয়েছে, যে এমন ওজরের কারণে রোযা রাখতে সক্ষম নয় যার আরোগ্য হওয়ার আশা নেই। এমতাবস্থায় তার ওপর রোযার পরিবর্তে ফিদইয়া ওয়াজিব হবে এবং তা হবে প্রত্যেক দিনের বিনিময়ে একজন মিসকিনের খাবার পরিমাণ, যা এক মুদ পরিমাণ শস্য। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি দান করবে তা তার জন্য উত্তম। এর ব্যয়ের খাত হলো মিসকিন শ্রেণি, যা যাকাতের অন্যান্য খাতের চেয়ে ভিন্ন। এই আয়াত দ্বারা এ দলিলও পেশ করা যেতে পারে যে, রোযার ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব গ্রহণীয় নয়, অন্যথায় আল্লাহ তা উল্লেখ করতেন। ইবনে আব্বাস (রাযি.) এটি দিয়ে দলিল দিয়েছেন যে, গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী নারী ফিদইয়া দিবে কিন্তু তাদের ওপর কাযা নেই। আবু উবাইদ বলেন: গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী নারীর বিষয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন তাদের ওপর শুধু ফিদইয়া, কাযা নেই। কেউ বলেছেন শুধু কাযা, ফিদইয়া নেই। আবার কেউ বলেছেন উভয়টিই আবশ্যক। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতে আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। যারা শুধু ফিদইয়ার কথা বলেন, তারা মনে করেন যে তারা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা রোযা রাখতে অক্ষম এবং তারা মুসাফির বা অসুস্থদের শ্রেণিভুক্ত নন। আর এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরাই ফিদইয়ার বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যারা কাযা করার কথা বলেন, তারা গর্ভধারণ ও স্তন্যদানকে অসুস্থতার ন্যায় একটি কারণ হিসেবে গণ্য করেন। আর যারা উভয়টি ওয়াজিব করেন, তারা বলেন যে আল্লাহ তাআলা ওজরের কারণে রোযা ত্যাগকারীর বিষয়ে এক আয়াতে একটি বিধান দিয়েছেন এবং অন্য আয়াতে ফিদইয়ার বিধান দিয়েছেন; যেহেতু এই দুই শ্রেণির জন্য কোনো একটির মধ্যে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় না।