(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: -)
مسند السراج القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند السراج
المؤلف: أبو العباس محمد بن إسحاق بن إبراهيم بن مهران الخراساني النيسابوري المعروف بالسَّرَّاج (ت 313هـ)
حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: الأستاذ إرشاد الحق الأثري
الناشر: إدارة العلوم الأثرية، فيصل آباد - باكستان
الطبعة: 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 483
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসনাদুস সাররাজ বিভাগ: হাদিসের কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসনাদুস সাররাজ
লেখক: আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মিহরান আল-খুরাসানি আন-নিশাপুরি, যিনি আস-সাররাজ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩১৩ হি.)
তাহকিক, তাখরিজ ও টিকা প্রদান: উস্তাদ ইরশাদুল হক আল-আসারি
প্রকাশক: ইদারাতুল উলূম আল-আসারিইয়্যাহ, ফয়সালাবাদ - পাকিস্তান
সংস্করণ: ১৪২৩ হি. - ২০০২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৩
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١)
مسند السراج
للإمام شيخ الإسلام
محمد بن إسحاق بن إبراهيم السراج الثقفي النيسابوري
المتوفى 313 هـ
حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه
الأستاذ إرشاد الحق الأثري
الناشر
إدارة العلوم الأثرية فيصل آباد - باكستان
মুসনাদুস সাররাজ
ইমাম শায়খুল ইসলাম
মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আস-সাররাজ আস-সাকাফি আন-নিশাপুরি
মৃত্যু ৩১৩ হিজরী
তাহকীক, হাদীসের তাখরীজ এবং টীকা প্রদান করেছেন
উস্তাদ ইরশাদুল হক আসারি
প্রকাশক
ইদারাতুল উলূম আল-আসারিয়্যাহ, ফয়সালাবাদ - পাকিস্তান
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٣)
كلمة الْمُحَقق
إِن الْحَمد لله نحمده، ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا، وَمن سيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله.
يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله حق تُقَاته وَلَا تموتن إِلَّا وَأَنْتُم مُسلمُونَ.
يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا ربكُم الَّذِي خَلقكُم من نفس وَاحِدَة وَخلق مِنْهَا زَوجهَا وَبث مِنْهُمَا رجَالًا كثيرا وَنسَاء وَاتَّقوا الله الَّذِي تساءلون بِهِ والأرحام إِن الله كَانَ عَلَيْكُم رقيباً.
يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله وَقُولُوا قولا سديداً يصلح لكم أَعمالكُم وَيغْفر لكم ذنوبكم وَمن يطع الله وَرَسُوله فقد فَازَ فوزاً عَظِيما، وَبعد:
لَا خلاف بَين أَئِمَّة الْمُسلمين فِي أَن القرنين، الثَّالِث وَالرَّابِع من الْهِجْرَة النَّبَوِيَّة يعتبران الْعَصْر الذَّهَبِيّ فِي تَارِيخ الْإِسْلَام، إِذْ فِيهِ دونت عُلُوم الْقُرْآن الْكَرِيم، وَدون الحَدِيث النَّبَوِيّ الشريف، وَالْفِقْه الإسلامي ونشطت فِيهِ حَرَكَة الْعُلُوم الإسلامية.
وَفِي هَذَا الْعَصْر الذَّهَبِيّ نَشأ أَعْلَام الْمُحدثين أَبُو الْعَبَّاس السراج مُحدث خُرَاسَان رحمه الله.
اسْمه ومولده
وَهُوَ الإِمَام الْحَافِظ شيخ الْإِسْلَام أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن مهْرَان بن عبد الله بن الْعَبَّاس السراج الثَّقَفِيّ مَوْلَاهُم النَّيْسَابُورِي، ولد سنة سِتّ عشرَة
গবেষকের কথা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর নজরদারী করছেন।
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করেছে। অতঃপর:
মুসলিম ইমামদের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীকে ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এই সময়েই পবিত্র কুরআনের ইলমসমূহ সংকলিত হয়েছে, নববী হাদীস ও ইসলামী ফিকহ সংকলিত হয়েছে এবং ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা বেগবান হয়েছিল।
আর এই স্বর্ণযুগেই প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণ আবির্ভূত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন খোরাসানের মুহাদ্দিস আবু আব্বাস আস-সাররাজ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)।
তাঁর নাম ও জন্ম
তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, শাইখুল ইসলাম আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন মিহরান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস আস-সাররাজ আস-সাকাফী (তাদের মুক্তদাস), নিশাপুরী। তিনি ২১৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٤)
وَمِائَتَيْنِ كَمَا ذكره الذَّهَبِيّ وَغَيره.
وَقَالَ الْخَطِيب: قَرَأت فِي كتاب أبي الْحسن الدَّارقطني بخطة أخبرنَا إِبْرَاهِيم ابْن مُحَمَّد بن يحيى قَالَ: قَالَ أَبُو الْعَبَّاس السراج: ولدت فِي سنة ثَمَان عشرَة وَمِائَتَيْنِ.
والسراج بِفَتْح السِّين وَتَشْديد الرَّاء وَبعد الْألف جِيم، هَذِه النِّسْبَة إِلَى عمل السُّرُوج وَهُوَ الَّذِي يُوضح على الْفرس، واشتهر بِهَذِهِ النِّسْبَة جمَاعَة، قَالَ السَّمْعَانِيّ: كَانَ من أجداد الإِمَام أبي الْعَبَّاس من يعْمل السُّرُوج.
شُيُوخه وتلامذته
سمع من إِسْحَاق بن رَاهْوَيْةِ وقتيبة بن سعيد وَمُحَمّد بن بكار وَبشر بن الْوَلِيد الْكِنْدِيّ وهناد بن السّري وَأحمد بن سعيد الدِّرَامِي وَعقبَة بن مكرم وسوار بن عبد الله وَأحمد بن منيع وَأحمد بن الْمِقْدَام وَعَمْرو بن زُرَارَة وَمُحَمّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ وَأبي حَاتِم الرَّازِيّ وَيَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم الدَّوْرَقِي وَمُحَمّد بن سهل بن عَسْكَر وَمُحَمّد بن رَافع وَالْحسن بن عبد الْعَزِيز الجروي وسوار بن عبد الله الْعَنْبَري وأخيه إِبْرَاهِيم بن إِسْحَاق وَخلق كثير سواهُم من أهل خُرَاسَان وبغداد والكوفة وَالْبَصْرَة والحجاز والري، وَقَالَ الخليلي: أَنه كتب عَن ألف وَخمْس مائَة وَزِيَادَة.
وَحدث عَنهُ الإِمَام البُخَارِيّ وَمُسلم بِشَيْء يسير خَارج الصَّحِيحَيْنِ، وَأَبُو حَاتِم الرَّازِيّ أحد شُيُوخه، وَأَبُو بكر بن أبي الدُّنْيَا، والحافظ أَبُو عَليّ النَّيْسَابُورِي وَالْحسن بن سُفْيَان وَعُثْمَان بن السماك وَأَبُو حَاتِم ابْن حبَان وَابْن خُزَيْمَة وَابْن عدي وَأَبُو أَحْمد الْحَاكِم وَالْقَاضِي يُوسُف بن قَاسم الميانجي وَعبد الله بن أَحْمد الصَّيْرَفِي وَعمر بن زارة الْكلابِي وَخلق سواهُم وأخرهم موتا سنة خمس وَتِسْعين وَثَلَاث مئة الشَّيْخ أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد الْخفاف الْقَنْطَرِي رَاوِي بعض مُسْنده عَنهُ.
ثَنَاء الْأَئِمَّة عَلَيْهِ وأخلاقه وفضائله
اتّفق الْحَافِظ وَالْأَئِمَّة على توثيقه، قَالَ الْخَطِيب: ورد السراج بِبَغْدَاد قَدِيما
এবং দুইশত [হিজরি], যেমনটি আয-যাহাবি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।
আল-খাতিব বলেন: আমি আবুল হাসান আদ-দারা কুতনির কিতাবে তাঁর নিজ হাতের লেখায় পড়েছি, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আস-সাররাজ বলেছেন: আমি দুইশত আঠারো হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছি।
আর ‘আস-সাররাজ’ শব্দটি ‘সিন’ বর্ণে ফাতহাহ (যবর), ‘রা’ বর্ণে তাশদিদ এবং আলিফের পরে ‘জিম’ বর্ণ যোগে গঠিত। এটি জিন (ঘোড়ার পিঠের আসন) তৈরির কাজের দিকে নিসবত (সম্পর্কিত)। এটি এমন বস্তু যা ঘোড়ার পিঠে রাখা হয়। একদল লোক এই নিসবতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। আস-সামআনি বলেন: ইমাম আবুল আব্বাসের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ জিন তৈরির কাজ করতেন।
তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রগণ
তিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার, বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিন্দী, হান্নাদ ইবনাস সাররি, আহমাদ ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, উকবা ইবনে মুকরাম, সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ, আহমাদ ইবনে মানি‘, আহমাদ ইবনুল মিকদাম, আমর ইবনে যুরারা, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি, আবু হাতিম আর-রাযি, ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাওরাকি, মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে আসকার, মুহাম্মদ ইবনে রাফি‘, হাসান ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জারওয়ি, সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারি ও তাঁর ভাই ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক এবং এ ছাড়াও খোরাসান, বাগদাদ, কুফা, বসরা, হিজাজ ও রাই অঞ্চলের অসংখ্য ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আল-খলিলি বলেন: তিনি এক হাজার পাঁচশত এরও অধিক ব্যক্তির নিকট থেকে (হাদিস) লিপিবদ্ধ করেছেন।
আর ইমাম বুখারি ও মুসলিম ‘সহীহাইন’-এর বাইরে তাঁর নিকট থেকে অল্প কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তাঁর উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম আবু হাতিম আর-রাযি, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনইয়া, হাফেজ আবু আলী আন-নিসাবুরি, হাসান ইবনে সুফিয়ান, উসমান ইবনে আস-সাম্মাক, আবু হাতিম ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমা, ইবনে আদি, আবু আহমাদ আল-হাকিম, কাজি ইউসুফ ইবনে কাসিম আল-মিয়ানজি, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আস-সাইরাফি, উমর ইবনে যারা আল-কিলাবি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুতে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন শায়খ আবু হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাফফাফ আল-কানতারি, যিনি তাঁর থেকে তাঁর কিছু মুসনাদ বর্ণনা করেছেন এবং ৩৯৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের প্রশংসা, তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি
হাফেজ ও ইমামগণ তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (তাওসিক) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আল-খাতিব বলেন: আস-সাররাজ প্রাচীনকালে বাগদাদে আগমন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٥)
وحديثاً وَأقَام بهَا دهراً طَويلا ثمَّ رَجَعَ إِلَى نيسابور وَاسْتقر بهَا إِلَى حِين وَفَاته، وَكَانَ قد حدث بِبَغْدَاد شَيْئا يَسِيرا، وَكَانَ من المكثرين الثِّقَات الصَّادِقين الاثبات عَنى بِالْحَدِيثِ وصنف كتبا كَثِيرَة وَهِي مَعْرُوفَة مَشْهُورَة، وَذكر الْخَطِيب فِي تَارِيخه (ج10 ص113) أَنه دخل بِبَغْدَاد سنة أَربع وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ وَقَالَ الخليلي فِي الْإِرْشَاد: ثِقَة مُتَّفق عَلَيْهِ من شَرط الصَّحِيح. وَقَالَ أَبُو سهل الصعلوكي الأوحد فِي فنه والأكمل فِي وَزنه قَالَ: وَكُنَّا نقُول: السراج كالسراج. وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: كَانَ من المكثرين الثِّقَات، وَقَالَ ابْن أبي حَاتِم: السراج صَدُوق ثِقَة، وَقَالَ إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْمُزَكي: كَانَ السراج مجاب الدعْوَة.
وَكَانَ رحمه الله أمارا بِالْمَعْرُوفِ ونهاء عَن الْمُنكر، قَالَ إِسْمَاعِيل بن نجيد: رَأَيْت أَبَا الْعَبَّاس السراج يَرك حِمَاره وعباس الْمُسْتَمْلِي بَين يَدَيْهِ يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ وَينْهى عَن الْمُنكر يَقُول: يَا عَبَّاس غير كَذَا واكسر كَذَا، وَقَالَ أَبُو عمر والخفاف للْإِمَام السراج: لَو دخلت على الْأَمِير ونصحته، قَالَ: فجَاء وَعِنْده أَبُو عَمْرو، فَقَالَ أَبُو عَمْرو: هَذَا شَيخنَا وأكبرنا، وَقد حضر ينْتَفع الْأَمِير بِكَلَامِهِ فَقَالَ السراج: أَيهَا الْأَمِير! إِن الْإِقَامَة كَانَت فرادي وَهِي كَذَلِك بالحرمين، وَهِي فِي جامعنا مثنى مثنى، وَإِن الدَّين خرج من الْحَرَمَيْنِ، قَالَ فَخَجِلَ الْأَمِير وَأَبُو عَمْرو وَالْجَمَاعَة، إِذا كَانُوا قصدُوا فِي أَمر الْبِلَاد، فَلَمَّا خرج، عاتبوه، فَقَالَ: استحييت من الله أَن اسْأَل أَمر الدُّنْيَا، وأدع أَمر الدَّين.
وَكَانَ رحمه الله شَدِيدا على أهل الْبدع والهواء وَكَانَ لَا يحدث أَوْلَاد الْكلابِيَّة، قَالَ الْحَاكِم: سَمِعت أَبَا سعيد بن أبي بكر يَقُول: لما وَقع من أَمر الْكلابِيَّة مَا وَقع بنيسابور كَانَ السراج يمْتَحن أَوْلَاد النَّاس، فَلَا يحدث أَوْلَاد الْكلابِيَّة، فأقامني
এবং তিনি সেখানে দীর্ঘকাল হাদিস বর্ণনা করেন ও অবস্থান করেন, অতঃপর নিশাপুরে প্রত্যাবর্তন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই স্থায়িভাবে বসবাস করেন। তিনি বাগদাদে সামান্য কিছু হাদিস বর্ণনা করেছিলেন। তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হাদিসের প্রতি বিশেষভাবে নিবিষ্ট ছিলেন এবং অনেক কিতাব রচনা করেছেন যা সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। খতিব (বাগদাদি) তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে (১০ম খণ্ড, ১১৩ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৩৪ হিজরি সনে বাগদাদে প্রবেশ করেন। আল-খলিলি তাঁর 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তিনি সহিহ গ্রন্থের শর্তানুযায়ী বর্ণনাকারী। আবু সাহল আস-সালুকি বলেছেন: তিনি নিজ বিদ্যায় অনন্য এবং স্বীয় মর্যাদায় পরিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন: আমরা বলতাম, আস-সাররাজ হলো প্রদীপের ন্যায়। ইবনুল জাওজি বলেছেন: তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আস-সাররাজ অত্যন্ত সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য। ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মুযাক্কি বলেছেন: আস-সাররাজ ছিলেন মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সৎ কাজের আদেশ দাতা ও অসৎ কাজের নিষেধকারী ছিলেন। ইসমাইল ইবনে নুজাইদ বলেন: আমি আবুল আব্বাস আস-সাররাজকে তাঁর গাধার পিঠে আরোহণ করতে দেখেছি এবং আব্বাস আল-মুস্তামলি তাঁর সামনে থাকতেন; তিনি সৎ কাজের আদেশ দিতেন ও অসৎ কাজের নিষেধ করতেন এবং বলতেন: হে আব্বাস! এটা পরিবর্তন করো, ওটা ভেঙে ফেলো। আবু আমর আল-খাফফাফ ইমাম আস-সাররাজকে বললেন: আপনি যদি আমিরের কাছে যেতেন এবং তাকে নসিহত করতেন! বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁর নিকট আবু আমরও ছিলেন। আবু আমর বললেন: ইনি আমাদের শায়খ এবং আমাদের বড়, তিনি উপস্থিত হয়েছেন যাতে আমির তাঁর কথা দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। তখন আস-সাররাজ বললেন: হে আমির! ইকামাত একবার করে ছিল এবং হারামাইন শরীফাইনে তেমনই হয়ে থাকে, অথচ আমাদের জামে মসজিদে এটি দুইবার করে বলা হয়; অথচ দ্বীন তো হারামাইন থেকেই নির্গত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আমির, আবু আমর এবং উপস্থিত সকলে লজ্জিত হলেন, কারণ তাঁরা রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা করেছিলেন। যখন তিনি বেরিয়ে আসলেন, তাঁরা তাঁকে অনুযোগ করলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে এই লজ্জা বোধ করেছি যে আমি পার্থিব বিষয় নিয়ে যাচনা করব অথচ দ্বীনের বিষয় ছেড়ে দেব।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিদআতি ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং তিনি কুল্লাবিয়াদের সন্তানদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন না। আল-হাকিম বলেন: আমি আবু সাঈদ ইবনে আবি বকরকে বলতে শুনেছি: নিশাপুরে কুল্লাবিয়াদের বিষয়ে যা ঘটার তা যখন ঘটল, তখন আস-সাররাজ লোকদের সন্তানদের পরীক্ষা করতেন; তিনি কুল্লাবিয়াদের সন্তানদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন না। অতঃপর তিনি আমাকে দাঁড় করালেন...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
فِي الْمجْلس مرّة فَقَالَ: قل: أَنا أَبْرَأ إِلَى الله تَعَالَى من الْكلابِيَّة، فَقلت: إِن قلت هَذَا لَا يطعمي أبي الْخبز، فَضَحِك، وَقَالَ: دعوا هَذَا.
وَقَالَ الإِمَام أَبُو عبد الله الْحَاكِم: سَمِعت أبي يَقُول: لما ورد الزغفراني وَأظْهر خلق الْقُرْآن سَمِعت السراج يَقُول: العنوان الزغفراني - فيضج النَّاس بلعنته، فنزح إِلَى بخاري، وَكَانَ رحمه الله يَقُول: من لم يقر بِأَن الله تَعَالَى يعجب ويضحك وَينزل كل لَيْلَة إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا فَيَقُول: "من يسألني فَأعْطِيه" فَهُوَ زنديق كَافِر يُسْتَتَاب، فَإِن تَابَ وَإِلَّا ضربت عُنُقه، وَلَا يصلى عَلَيْهِ، وَلَا يدْفن فِي مَقَابِر الْمُسلمين.
قَالَ الذَّهَبِيّ: وَقد كَانَ السراج ذَا ثروة وتجارة وبر ومعروف، وَله تعبد وتهجد إِلَّا أَنه كَانَ منافراً للفقهاء أَصْحَاب الرَّأْي وَالله يغْفر لَهُ، قلت: سَبَب المنافرة بَينه وَبَين أهل الراي ظَاهر لِأَن أَكثر أهل الراي قد اصبحوا فِي هَذَا الْعَصْر معاونين لأهل الْبِدْعَة بل اخْتَار بَعضهم الْبِدْعَة مثل الْمُعْتَزلَة والجهمية والمرجئة وَغَيرهم.
وَكَانَ الإِمَام السراج ذَا ثروة وتجارة كَمَا قَالَ الذَّهَبِيّ، وَقد قَالَ نَفسه، حِين سَالَ عَنهُ الْخفاف يَا أَبَا الْعَبَّاس من أَيْن جمعت هَذَا المَال؟ فَقَالَ بغيبة دهر أَنا وأخواي إِبْرَاهِيم وَإِسْمَاعِيل، غَابَ أخي إِبْرَاهِيم أَرْبَعِينَ سنة وَغَابَ أخي أَرْبَعِينَ سنة، وغبت أَنا مُقيما بِبَغْدَاد أَرْبَعِينَ سنة أكلنَا الجشب، ولبسنا الخشن، فَاجْتمع هَذَا المَال.
وجدير بِالذكر أَن الإِمَام الذَّهَبِيّ ذكر عَن الإِمَام السراج أَنه قَالَ: ولدت سنة ثَمَانِي عشرَة وَمِائَتَيْنِ وختمت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اثْنَتَيْ عشر ألف ختمة وضحيت عَنهُ أثني عشر ألف أضْحِية، قلت لم يرد بِهِ الْأُضْحِية فِي أَيَّام التَّشْرِيق كَمَا زَعمه الذَّهَبِيّ وَغَيره بل المُرَاد بِهِ الصَّدَقَة الْعَامَّة وَقد ذكر الذَّهَبِيّ نَفسه عَن مُحَمَّد بن أَحْمد الدقاق أَنه قَالَ: رَأَيْت السراج يُضحي كل أُسْبُوع أَو أسبوعين أضْحِية عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ يَصِيح بأصحاب الحَدِيث فَيَأْكُلُونَ، وَبِهَذَا يظْهر كَظهر الشَّمْس نصف النَّهَار أَنه لم يرد بِهِ الْأُضْحِية الْمَعْرُوفَة، على أَن الإِمَام السراج قد توفى سنة ثَلَاث عشرَة وثلاثمائة وَله 96 سنة فَكيف يُمكن أَن يُضحي عَنهُ صلى الله
একবার মজলিসে তিনি বললেন: "বলো: আমি কুল্লিবিয়া মতবাদ থেকে আল্লাহর কাছে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি।" আমি বললাম: "যদি আমি এটি বলি, তবে আমার পিতা আমাকে রুটি খেতে দেবেন না।" তখন তিনি হাসলেন এবং বললেন: "একে ছেড়ে দাও।"
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: যখন যা'ফরানি আসলো এবং কুরআনের সৃষ্টির (খালক আল-কুরআন) মতবাদ প্রকাশ করল, তখন আমি আস-সাররাজকে বলতে শুনেছি: "শিরোনাম হলো যা'ফরানি"—তখন মানুষ তার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে শোরগোল করতে শুরু করল, ফলে সে বুখারায় চলে গেল। তিনি (সাররাজ) রাহিমাহুল্লাহ বলতেন: "যে ব্যক্তি এটি স্বীকার করে না যে আল্লাহ তাআলা আশ্চর্যান্বিত হন, হাসেন এবং প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন ও বলেন: 'কে আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে দান করব?'—সে হলো যিনদীক কাফির, তাকে তাওবা করতে বলা হবে; যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তার শিরশ্ছেদ করা হবে, তার জানাযার নামায পড়া হবে না এবং তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না।"
আয-যাহাবি বলেন: সাররাজ ছিলেন বিত্তশালী, ব্যবসায়ী, নেককার ও সদাচারী ব্যক্তি। তাঁর ইবাদত ও তাহাজ্জুদ ছিল, তবে তিনি রায়পন্থি (আসহাবুর রায়) ফকিহদের বিরুদ্ধাচরণকারী ছিলেন; আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। আমি (লেখক) বলি: তাঁর এবং রায়পন্থিদের মধ্যে এই বিরোধের কারণ স্পষ্ট, কেননা সে যুগে অধিকাংশ রায়পন্থি বিদআতিদের সহযোগী হয়ে পড়েছিল, এমনকি তাদের কেউ কেউ মুতাজিলা, জাহমিয়া, মুরজিয়া ও অন্যদের মতো বিদআত গ্রহণ করেছিল।
ইমাম সাররাজ আয-যাহাবির বর্ণনা অনুযায়ী বিত্তশালী ও ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন, যখন আল-খাফফাফ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "হে আবুল আব্বাস, আপনি এই সম্পদ কোথা থেকে সংগ্রহ করলেন?" তখন তিনি বললেন: "দীর্ঘকাল প্রবাসে থাকার মাধ্যমে আমি এবং আমার দুই ভাই ইবরাহিম ও ইসমাইল। আমার ভাই ইবরাহিম চল্লিশ বছর প্রবাসে ছিল, আমার (অন্য) ভাই চল্লিশ বছর প্রবাসে ছিল এবং আমি বাগদাদে চল্লিশ বছর অবস্থান করেছি। আমরা রুক্ষ খাবার খেয়েছি এবং মোটা কাপড় পরিধান করেছি, ফলে এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে।"
এটি উল্লেখযোগ্য যে ইমাম আয-যাহাবি ইমাম সাররাজের বরাতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছিলেন: "আমি ২১৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বারো হাজার বার কুরআন খতম করেছি এবং তাঁর পক্ষ থেকে বারো হাজার কুরবানি করেছি।" আমি (লেখক) বলি, এখানে কুরবানি বলতে তাশরিকের দিনগুলোর (ঈদুল আযহার) কুরবানি উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি আয-যাহাবি ও অন্যরা ধারণা করেছেন; বরং এর দ্বারা সাধারণ সদকা উদ্দেশ্য। স্বয়ং আয-যাহাবি মুহাম্মদ বিন আহমাদ আদ-দাক্কাকের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি সাররাজকে প্রতি সপ্তাহে বা দুই সপ্তাহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি কুরবানি (পশু জবেহ) করতে দেখতাম, এরপর তিনি আহলে হাদিসদের ডাকতেন এবং তারা তা আহার করত।" এর মাধ্যমে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতো পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এর দ্বারা প্রচলিত কুরবানি উদ্দেশ্য নয়। তদুপরি ইমাম সাররাজ ৩১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৯৬ বছর বয়সে, এমতাবস্থায় কীভাবে সম্ভব যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
عَلَيْهِ وَسلم اثْنَتَيْ عشر ألف أضْحِية؟ وَلَو سلمنَا أَنه كَانَ يُضحي فِي أَيَّام التَّشْرِيق أَيْضا فلاحجة فِيهِ وَلَيْسَ هَذَا مَوضِع التَّفْصِيل.
وَكَانَ للْإِمَام السراج أخوانان أَحدهمَا إِسْمَاعِيل وَالثَّانِي إِبْرَاهِيم، وَإِسْمَاعِيل كَانَ ثِقَة عَالما مُخْتَصًّا بِأَحْمَد بن حَنْبَل توفّي سنة 286، وَكَذَا أَخُوهُ إِبْرَاهِيم كَانَ شَيخا إِمَامًا ثِقَة نزل بَغْدَاد وَأقَام بهَا إِلَى حِين وَفَاته، وَهُوَ أكبر أخوانه توفّي سنة 283، وَكَانَ الإِمَام السراج أَيْضا بِبَغْدَاد، وَلما توفّي أَخُوهُ إِبْرَاهِيم رَجَعَ إِلَى نيسابور، وَقد ذكر الْخَطِيب وَغَيره عَن أبي الْوَلِيد حسان بن مُحَمَّد الْفَقِيه يَقُول: سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس السراج يَقُول: وَا أسفا على بَغْدَاد. فَقيل لَهُ: مَا الَّذِي حملك على الْخُرُوج مِنْهَا؟ قَالَ: أَقَامَ بهَا أخي إِسْمَاعِيل خمسين سنة، فَلَمَّا توفى وَرفعت جنَازَته سَمِعت رجلا على بَاب الدَّرْب يَقُول للْآخر: من هَذَا الْمَيِّت؟ قَالَ: غَرِيب كَانَ هَاهُنَا، فَقلت: إِنَّا لله، بعد طول مقَام أخي بهَا، واشتهاره بِالْعلمِ وَالتِّجَارَة يُقَال: غَرِيب كَانَ هَاهُنَا، فحملتني هَذِه الْكَلِمَة على الِانْصِرَاف إِلَى الوطن، وَمَعَ ذَلِك كَانَ رحمه الله يذكر بغداداً وَيَقُول عِنْد حركاته إِذا قَامَ أَو قعد: يَا بَغْدَاد! وَا أسفي على بَغْدَاد، مَتى يقْضى لي الرُّجُوع إِلَيْك.
وَكَانَ رحمه الله طلاباً للْعلم وَقد قيل لَهُ وَهُوَ يكْتب فِي كهولته عَن يحيى بن أبي طَالب: إِلَى كم هَذَا؟ فَقَالَ: أما علمت أَن صَاحب الحَدِيث لَا يصبر.
مصنفات الإِمَام السراج
وَقد صنف الإِمَام السراج كتبا كَثِيرَة كَمَا قَالَ الْخَطِيب، لَكِن الأسف لم نطلع على مصنفاته أَكثر من عشرَة كتب مِنْهَا:
(1) كتاب التَّارِيخ: ذكره الْخَطِيب والذهبي وَغَيرهمَا وَقَالَ السخاوي فِي الإعلان (ص306) : إِنَّه فِي الْكَلَام فِي أَحْوَال الروَاة. وَقد يذكر الْحَافِظ كثيرا عَنهُ وفيات الْمُحدثين ورواة الحَدِيث كَمَا لَا يخفى على من طلع التَّهْذِيب والإصابة، بل وَيذكر عَنهُ أَحْيَانًا وَالتَّعْدِيل، وَقد اقتبس عَنهُ الْخَطِيب فِي تَارِيخه 236 موضعا،
(তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বারো হাজার কোরবানি? আর যদি আমরা মেনেও নিই যে তিনি তাশরিকের দিনগুলোতেও কোরবানি করতেন, তবুও এতে কোনো দলিল নেই এবং এটি বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।
ইমাম সাররাজের দুই ভাই ছিল, একজন ইসমাইল এবং দ্বিতীয়জন ইবরাহিম। ইসমাইল ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য আলেম এবং আহমদ ইবনে হাম্বলের বিশেষ সহচর; তিনি ২৮৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। একইভাবে তাঁর ভাই ইবরাহিমও ছিলেন একজন শায়খ, ইমাম ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। তিনি তাঁর ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন এবং ২৮৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইমাম সাররাজও বাগদাদে ছিলেন এবং যখন তাঁর ভাই ইবরাহিম ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি নিশাপুরে ফিরে যান। খতিব এবং অন্যান্যেরা আবুল ওয়ালিদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফকিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস সাররাজকে বলতে শুনেছি: হায় বাগদাদ! আফসোস! তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: বাগদাদ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পেছনে কোন বিষয়টি আপনাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল? তিনি বললেন: আমার ভাই ইসমাইল সেখানে পঞ্চাশ বছর অবস্থান করেছেন। যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাঁর জানাজা বহন করা হলো, তখন আমি গলির মুখে এক ব্যক্তিকে অন্যজনকে বলতে শুনলাম: এই মৃত ব্যক্তিটি কে? অন্যজন উত্তর দিল: সে এখানে একজন পরদেশি ছিল। তখন আমি বললাম: ইন্নালিল্লাহ! দীর্ঘকাল অবস্থান করার পর এবং জ্ঞান ও ব্যবসায় তাঁর প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও বলা হচ্ছে: সে এখানে একজন পরদেশি ছিল! এই কথাটিই আমাকে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তা সত্ত্বেও তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বাগদাদকে স্মরণ করতেন এবং চলাফেরার সময়, যখনই উঠতেন বা বসতেন তখন বলতেন: হে বাগদাদ! হায় বাগদাদ, তোমার জন্য আফসোস! কবে তোমার কাছে ফিরে যাওয়ার ফয়সালা আমার জন্য হবে?
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইলমের অত্যন্ত অনুরাগী অন্বেষক ছিলেন। যখন তিনি প্রৌঢ় বয়সে ইয়াহিয়া ইবনে আবু তালিবের নিকট হাদিস লিখছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: কতদিন এভাবে চলবে? তিনি বললেন: তুমি কি জানো না যে, হাদিসের ছাত্র ইলম অর্জন থেকে বিরত থাকতে পারে না।
ইমাম সাররাজের রচনাবলী
খতিব যেমনটি বলেছেন, ইমাম সাররাজ অনেক কিতাব রচনা করেছেন; কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, আমরা তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্য থেকে ১০টির বেশি সম্পর্কে জানতে পারিনি, যার মধ্যে রয়েছে:
(১) কিতাবুত তারিখ: খতিব, জাহাবি এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। সাখাভি 'আল-ইলান' (পৃ. ৩০৬)-এ বলেছেন: এটি বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার ওপর লিখিত। হাফেজ (ইবনে হাজার) প্রায়শই তাঁর থেকে মুহাদ্দিস ও হাদিস বর্ণনাকারীদের মৃত্যুর তারিখ বর্ণনা করেন, যেমনটি 'তাহজিব' ও 'আল-ইসাবাহ' অধ্যয়নকারীদের নিকট অস্পষ্ট নয়। এমনকি কখনও কখনও তিনি তাঁর থেকে জারহ ও তাদিলও বর্ণনা করেন। খতিব তাঁর ইতিহাসে (তারিখু বাগদাদ) তাঁর থেকে ২৩৬টি স্থানে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وَكَذَا اقتبس مِنْهُ أَبُو نعيم فِي الحليلة فِيمَا يزِيد على مِائَتَيْنِ نَص. ويتناول هَذَا الاقتباسات على تواريخ وفياتهم وَأَحْيَانا سني موالدهم ومكانتهم وجرحهم وتعديلهم وَكُنَاهُمْ وألقابهم وأخلاقهم وأقوالهم كَمَا ذكره تَفْصِيلًا الدكتور أكْرم ضِيَاء الْعمريّ فِي موارد الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ فِي تَارِيخه (ص 192، 361، 362، 558) فليراجعه من شَاءَ التَّفْصِيل.
وَقد اهتم إِمَام الْمُحدثين البُخَارِيّ بتاريخ الإِمَام السراج واستفاد مِنْهُ، قَالَ أَبُو بكر مُحَمَّد بن جَعْفَر الْمُزَكي: سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس السراج يَقُول: نظر مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ فِي كتاب التَّارِيخ تصنيفي وَكتب مِنْهُ بِخَطِّهِ أطباقاً وقرأتها عَلَيْهِ، وَبِه يعلم أهمية كتاب التَّارِيخ للسراج رحمه الله، لَكِن الأسف أَنه مَفْقُود لم نطلع على أَيَّة نُسْخَة مِنْهُ فِي الْمكَاتب الْمَعْرُوفَة والفهارس المتداولة، وَلَعَلَّ الله يحدث بعد ذَلِك أمرا، وَلَو أحد من خدام الْعلم جمع كَلَام الإِمَام السراج من الْمَوَارِد الْمُخْتَلفَة لَكَانَ فِي مُجَلد ضخم.
وَأعلم أَن هُنَا الْمُزَكي آخر غير أبي بكر مُحَمَّد بن جَعْفَر، وَهُوَ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن يحيى الْمُزَكي النَّيْسَابُورِي، قَالَ الْخَطِيب: روى بِبَغْدَاد مصنفات أبي الْعَبَّاس السراج مثل كتاب التَّارِيخ وَكتاب الْإِخْوَة وَالْأَخَوَات، وَغَيرهمَا من كتبه، وروى أَيْضا تَارِيخ البُخَارِيّ الْكَبِير وعدة من كتب مُسلم بن الْحجَّاج، وَقد روى الْخَطِيب عَن البرقاني عَن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْمُزَكي عَن تَارِيخ السراج فِي غير وَاحِد من الْمَوَاضِع فِي تَارِيخه، وَكَذَا روى أَبُو نعيم فِي الحليلة عَن الْمُزَكي عَن السراج أَيْضا كَمَا ذكرنَا.
(2) كتاب الْأَخْبَار: ذكره ابْن النديم فِي الفهرست 155، وَقَالَ: روى فِيهِ أَخْبَار الْمُحدثين والوزراء والولاة وَغير ذَلِك من سَائِر الْبلدَانِ وَجعله رجلا رجلا، لَكِن يُمكن أَن "كتاب الْأَخْبَار" هُوَ نفس كتاب التَّارِيخ، وَالله أعلم.
(3) كتاب رسائل: ذكره ابْن النديم أَيْضا.
(4) كتاب الْأَشْعَار المختارة والصحيحة مِنْهَا والمعارة: ذكره ابْن النديم أَيْضا.
একইভাবে আবু নুয়াইম আল-হিলইয়া গ্রন্থে দুই শতাধিক উদ্ধৃতি তার থেকে গ্রহণ করেছেন। এই উদ্ধৃতিগুলো তাদের মৃত্যুর তারিখ, কখনো জন্মের সাল, তাদের মর্যাদা, জারহ ও তা'দিল (সমালোচনা ও গুণাবলি), তাদের উপনাম, উপাধি, স্বভাব-চরিত্র এবং উক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি বিস্তারিতভাবে তার 'মাওয়ারিদ আল-খাতিব আল-বাগদাদি ফি তারিখিহি' (পৃষ্ঠা ১৯২, ৩৬১, ৩৬২, 558) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন তা দেখে নেয়।
মুহাদ্দিসগণের ইমাম বুখারি ইমাম সাররাজের ইতিহাসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছেন। আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-মুযাক্কি বলেছেন: আমি আবুল আব্বাস আস-সাররাজকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি আমার সংকলিত ইতিহাসের কিতাবটি দেখেছেন এবং তা থেকে নিজ হাতে অনেক পৃষ্ঠা লিখে নিয়েছেন এবং আমি সেগুলো তাকে পড়ে শুনিয়েছি। এর মাধ্যমেই ইমাম সাররাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইতিহাসের কিতাবটির গুরুত্ব বোঝা যায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এটি বর্তমানে নিখোঁজ; আমরা কোনো পরিচিত লাইব্রেরি বা প্রচলিত তালিকার মধ্যে এর কোনো পাণ্ডুলিপি পাইনি। সম্ভবত আল্লাহ এরপর নতুন কোনো পথ বের করে দেবেন। আর ইলমের খাদেমদের মধ্যে কেউ যদি বিভিন্ন উৎস থেকে ইমাম সাররাজের কথাগুলো সংগ্রহ করতেন, তবে তা এক বিশাল খণ্ডে রূপ নিত।
জেনে রাখুন যে, এখানে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ছাড়াও অন্য একজন 'মুযাক্কি' রয়েছেন, তিনি হলেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কি আন-নাইসাবুরি। আল-খাতিব বলেছেন: তিনি বাগদাদে আবুল আব্বাস আস-সাররাজের সংকলিত গ্রন্থসমূহ বর্ণনা করেছেন, যেমন ইতিহাসের কিতাব, ভাই ও বোনদের (আল-ইখওয়া ওয়াল আখাওয়াত) কিতাব এবং তার অন্যান্য কিতাব। তিনি বুখারির তারিখ আল-কাবির এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের বেশ কিছু কিতাবও বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব তার ইতিহাসে একাধিক স্থানে আল-বারকানি থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুযাক্কি থেকে এবং তিনি সাররাজের ইতিহাস থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আবু নুয়াইম আল-হিলইয়াতে আল-মুযাক্কি থেকে এবং তিনি সাররাজ থেকেও বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
(২) কিতাবুল আখবার: ইবনে নাদিম আল-ফিহরিস্ট (১৫৫) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এতে তিনি বিভিন্ন দেশের মুহাদ্দিস, উজির, গভর্নর এবং অন্যদের সংবাদ বর্ণনা করেছেন এবং একে ব্যক্তি অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন। তবে সম্ভব যে, "কিতাবুল আখবার" মূলত ইতিহাসের কিতাবটিই, আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(৩) কিতাবুর রাসাইল: ইবনে নাদিম এটিও উল্লেখ করেছেন।
(৪) কিতাবুল আশআর আল-মুখতারাহ ওয়াস-সহিহাহ মিনহা ওয়াল-মুআরাহ: ইবনে নাদিম এটিও উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
وَقد روى الْخَطِيب فِي تَارِيخه (ج10 ص325) عَن البرقاني أخبرنَا إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد المزكى أخبرنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق السراج قَالَ أَنْشدني عبد عبيد الله بن جرير بن جبلة هَذِه الأبيات:
مَا لَا يكون فَلَا يكون حِيلَة
… أبدا وَمَا هُوَ كَائِن سَيكون
سَيكون مَا هُوَ كَائِن فِي وقته
… وأخو الْجَهَالَة مُتْعب محزون
(5) كتاب الْإِخْوَة والاخوات: ذكره الْحَاكِم فِي معرفَة عُلُوم الحَدِيث (ص153) وَذكره الْخَطِيب وَقَالَ: روى عَنهُ إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْمُزَكي كَمَا مر آنِفا.
(6) حَدِيث البيتوتة الصَّغِيرَة: ذكره السَّمْعَانِيّ فِي التحبير (ج2 ص69) قَالَ فِي تَرْجَمَة أبي بكر مُحَمَّد بن أَحْمد البسطامي: كتبت عَنهُ بنيسابور وَمن جملَة مَا كتبت عَنهُ كتاب البيتوتة الصَّغِيرَة لأبي الْعَبَّاس السراج بروايته عَن الْمُحب عَن الْخفاف عَنهُ، وَسَماهُ الْأُسْتَاذ سزكين فِي تَارِيخ التراث الْعَرَبِيّ (ج1 ص341) الْجُزْء الْمَعْرُوف بالبيتوتة من حَدِيث أبي الْعَبَّاس من شُيُوخه، وَقَالَ: يُوجد فِي مخطوط كوبريلي.
(7) الْمُسْتَخْرج على مُسلم: أَشَارَ إِلَيْهِ الذَّهَبِيّ فِي السّير، وَذكر عَن الإِمَام ابْن الأخرم أَنه قَالَ: اسْتَعَانَ بن السراج فِي التَّخْرِيج على صَحِيح مُسلم.
(8) حَدِيث السراج: يُوجد مِنْهُ نُسْخَة فِي الظَّاهِرِيَّة فِي 211 ورقة، وَهِي مَكْتُوبَة فِي الْقرن السَّادِس الهجري، جمعه أَبُو الْقَاسِم زَاهِر بن طَاهِر الشحامي عَن مشائخه عَن السراج، وَقد قَامَ بتخريج أَحَادِيثه وتصحيحه فَضِيلَة الْأُسْتَاذ الشَّيْخ مُحَمَّد أكْرم السندهي الْأُسْتَاذ فِي الجامعة السلفية بباكستان وَحصل الدكتورة عَلَيْهِ من كُلية الْمَدِينَة المنورة، وَقد كتب مِنْهُ أَحَادِيث السَّمْعَانِيّ كَمَا ذكره فِي التحبير (ج1 ص207) .
(9) التَّفْسِير: ذكره الْحَافِظ ابْن حجر فِي تَرْجَمَة أبي خلف وسَاق إِسْنَادًا وَقَالَ أخرجه أَبُو الْعَبَّاس السراج فِي تَفْسِيره. التَّعْجِيل ص481.
(10) الْمسند الْكَبِير: ذكره الذَّهَبِيّ فِي السّير والتذكرة، والسمعاني فِي الْأَنْسَاب وَغَيرهمَا، وهما الَّذِي نَحن بصدده بعون الله عز وجل وَحسن توفيقه.
والمسند فِي اصْطِلَاح الْمُحدثين رحمهم الله مَا دونت فِيهِ الْأَحَادِيث مرتبَة على
এবং খতিব তাঁর তারিখে (১০ম খণ্ড, ৩২৫ পৃষ্ঠা) আল-বারকানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুযাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে জারির ইবনে জাবালা আমাকে এই পঙ্ক্তিগুলো পাঠ করে শুনিয়েছেন:
যা হওয়ার নয় তা কোনো কৌশলেই হবে না
… কখনোই নয়, আর যা হওয়ার তা হবেই
যা হওয়ার তা তার নির্ধারিত সময়েই হবে
… আর অজ্ঞ ব্যক্তি পরিশ্রান্ত ও শোকাতুর হয়
(৫) কিতাবুল ইখওয়াহ ওয়াল আখাওয়াত: আল-হাকিম এটি ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’ (পৃষ্ঠা ১৫৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং খতিব এটি উল্লেখ করে বলেছেন: ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুযাক্কি এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি একটু আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(৬) হাদিসুল বাইতুতা আস-সাগিরা: আস-সামআনি এটি ‘আত-তাহবির’ (২য় খণ্ড, ৬৯ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-বিসতামির জীবনীতে বলেন: আমি নিশাপুরে তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি এবং আমি তাঁর থেকে যা লিখেছি তার মধ্যে আবুল আব্বাস আস-সাররাজ রচিত ‘কিতাবুল বাইতুতা আস-সাগিরা’ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল-মুহিব্ব-এর সূত্রে আল-খাফফাফ থেকে তাঁর বর্ণনায় সংকলিত। আর উস্তাদ সেজকিন একে ‘তারিখুত তুরাসিল আরাবি’ (১ম খণ্ড, ৩৪১ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে আবুল আব্বাসের হাদিস থেকে তাঁর শায়খদের সূত্রে বর্ণিত ‘আল-বাইতুতা’ নামে পরিচিত অংশ হিসেবে নামকরণ করেছেন এবং বলেছেন: এটি কোপরুলু পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।
(৭) আল-মুস্তাকরাজ আলা মুসলিম: ইমাম আয-যাহাবি ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং ইমাম ইবনুল আখরাম থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: ইবনুস সাররাজ সহিহ মুসলিমের তাখরিজের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন।
(৮) হাদিসুস সাররাজ: এর একটি পাণ্ডুলিপি যাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ২১১ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে এবং এটি হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীতে লিখিত। এটি আবুল কাসিম জাহির ইবনে তাহির আশ-শাহহামি তাঁর শায়খদের সূত্রে আস-সাররাজ থেকে সংগ্রহ করেছেন। পাকিস্তানের জামিয়া সালাফিয়্যার শিক্ষক পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ মুহাম্মাদ আকরাম আস-সিন্ধি এর হাদিসসমূহের তাখরিজ ও তাহকিক করেছেন এবং এর ওপর মদিনা মুনাওয়ারা কলেজ থেকে ডক্টরেট লাভ করেছেন। আস-সামআনি এটি থেকে হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন যেমনটি তিনি ‘আত-তাহবির’ (১ম খণ্ড, ২০৭ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(৯) আত-তাফসির: হাফেজ ইবনে হাজার আবু খালাফের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একটি সনদ বর্ণনা করে বলেছেন যে, আবুল আব্বাস আস-সাররাজ তাঁর তাফসিরে এটি বর্ণনা করেছেন। (আত-তাজিল, পৃষ্ঠা ৪৮১)।
(১০) আল-মুসনাদ আল-কাবির: আয-যাহাবি ‘আস-সিয়ার’ ও ‘আত-তাযকিরা’ গ্রন্থে এবং আস-সামআনি ‘আল-আনসাব’ ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আর মহান আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও তাঁর সুন্দর তাওফিকের মাধ্যমে আমরা বর্তমানে এটি নিয়েই কাজ করছি।
আর মুহাদ্দিসগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) পরিভাষায় মুসনাদ হলো যাতে হাদিসসমূহ বিন্যস্তভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
حُرُوف الهجاء فِي أَسمَاء الصَّحَابَة صَحِيحا كَانَ أَو حسنا أَو ضَعِيفا أَو على الْقَبَائِل أَو الأوطان أَو السَّابِقَة فِي الْإِسْلَام أَو الشرافة النسبية وَغير ذَلِك، وَقد يقْتَصر فِي بَعْضهَا على أَحَادِيث صَحَابِيّ وَاحِد أَو أَحَادِيث جمَاعَة مِنْهُم كمسند الْأَرْبَعَة أَو الشعرة، أَو طَائِفَة مَخْصُوصَة جمعهَا وصف وَاحِد كمسند المقلين ومسند الصَّحَابَة الَّذين نزلُوا مصرا، وَكَذَا مُسْند الشاميين إِلَى غير ذَلِك، وَالْمَسَانِيد كَثِيرَة جدا أشهرا وأعلاها مُسْند الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل، ومسند أبي يعلى - وَقد طبع بتحقيق مُنْذُ سنوات وَالْحَمْد لله على ذَلِك - ومسند الإِمَام بَقِي بن مخلد، ومسند الطَّيَالِسِيّ، ومسند الْحميدِي ومسند إِسْحَاق بن رَاهْوَيْةِ وَغَيرهَا من المسانيد.
وَقد يُسمى "الْمسند" لكَون أَحَادِيثه مُسندَة، كَمَا سمى الإِمَام البُخَارِيّ كِتَابه بالمسند، وَكَذَا سمى الإِمَام السراج كِتَابه بالمسند الْكَبِير وَهُوَ مُرَتّب على الْأَبْوَاب، وَجمع فِيهِ أَحَادِيثه ومروياته المرفوعة فِي بَاب بَاب على تَرْتِيب أَبْوَاب الْفِقْه عِنْد الْمُحدثين رحمهم الله، وَلَا يخفى على طَالب السّنة المطهرة أَن تتبع الْأَحَادِيث وتخريجها من الْمسند لَيْسَ بسهل، وَلذَا قَامَ الإِمَام السراج فَجمع هَذَا الْمسند على الْأَبْوَاب، وَجمع فِيهِ طَرِيق المسانيد وَكتب الْجَوَامِع وَالسّنَن الَّتِي دون على الْأَبْوَاب ليسهل التناو مِنْهُ، وَصَارَ حِينَئِذٍ مُسْنده انفع من أَكثر الْكتب من السّنَن وَالْمَسَانِيد فجزاه الله أحسن الْجَزَاء.
ولابد من الذّكر بِأَن "الْمسند الْكَبِير" للسراج غير "الْمُسْتَخْرج على مُسلم" على حد علمي، لِأَن الْحَافِظ الذَّهَبِيّ ذكر هَذَا الْكتاب وَقَالَ: "الْمسند الْكَبِير على الْأَبْوَاب كَذَا فِي السّير (ج14 ص389) وَكَذَا سَمَّاهُ الْحَافِظ فِي الْفَتْح (ج7 ص419) : بالمسند المبوب، وَالنُّسْخَة الَّتِي بَين أَيْدِينَا يَرْوِيهَا الْخفاف عَن الإِمَام السراج، وَقد يذكر الْحَافِظ فِي الْفَتْح وَفِي التغليق أَحَادِيث مُسْند السراج من طَريقَة عَن الْخفاف بِهِ، وَلم يقل فِي مَوضِع وَاحِد رَوَاهُ السراج فِي الْمُسْتَخْرج، والكتب فِي المستخرجات مَعْرُوفَة مَعْلُومَة عِنْد أَئِمَّة هَذَا الشَّأْن وَلم يقل أحد أَن الْمُسْتَخْرج للسراج، هُوَ الْمسند الْكَبِير على الْأَبْوَاب على وَأَن السراج نَفسه لم يشر فِي مَوضِع وَاحِد فِي الْمسند، أَنه
সাহাবীদের নামের বর্ণমালার ক্রমানুসারে (হাদিসসমূহ সংকলিত হয়), চাই তা সহিহ, হাসান বা জয়িফ হোক; অথবা গোত্র, দেশ, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্যতা, বংশীয় মর্যাদা বা অন্য কোনো বিষয়ের ভিত্তিতে। কোনো কোনো মুসনাদে কেবল একজন সাহাবীর হাদিস অথবা একটি নির্দিষ্ট দলের হাদিস থাকে, যেমন চার খলিফার মুসনাদ অথবা দশজন জান্নাতি সাহাবীর মুসনাদ, অথবা এমন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যাদের একটি বিশেষ গুণ রয়েছে যেমন অল্প হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মুসনাদ এবং সেই সব সাহাবীদের মুসনাদ যারা মিসরে বসতি স্থাপন করেছিলেন। একইভাবে শামবাসীদের মুসনাদ এবং এ জাতীয় আরও অনেক। মুসনাদ গ্রন্থ অসংখ্য, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও উচ্চতর হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদ, আবু ইয়া'লার মুসনাদ - যা কয়েক বছর আগে গবেষণাপূর্বক সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহর শোকর - ইমাম বাকি ইবনে মাখলাদের মুসনাদ, তায়ালিসির মুসনাদ, হুমাইদির মুসনাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর মুসনাদ এবং অন্যান্য মুসনাদসমূহ।
আবার কোনো কিতাবকে 'মুসনাদ' বলা হয় কারণ তার হাদিসগুলো সনদযুক্ত, যেমন ইমাম বুখারি তাঁর কিতাবকে মুসনাদ নামে অভিহিত করেছেন। একইভাবে ইমাম সিরাজ তাঁর কিতাবকে 'আল-মুসনাদ আল-কাবির' নামে নামকরণ করেছেন, যা অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত। তিনি এতে তাঁর বর্ণিত মারফু হাদিসগুলোকে মুহাদ্দিসগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) অনুসৃত ফিকহি অধ্যায়ের বিন্যাস অনুযায়ী প্রতিটি অধ্যায়ে সংকলন করেছেন। পবিত্র সুন্নাহর শিক্ষার্থীদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, মুসনাদ গ্রন্থ থেকে হাদিস অনুসন্ধান ও তার সূত্র বের করা সহজ কাজ নয়। তাই ইমাম সিরাজ এই মুসনাদকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে মুসনাদগুলোর পদ্ধতি এবং জামে ও সুনান গ্রন্থগুলোর পদ্ধতিকে একত্রিত করেছেন যা অধ্যায়ভিত্তিক রচিত হয়েছে, যাতে তা থেকে ফায়দা গ্রহণ সহজ হয়। ফলে তাঁর এই মুসনাদটি অধিকাংশ সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থের তুলনায় অধিক উপকারী হয়ে উঠেছে। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আমার জানামতে সিরাজ-এর 'আল-মুসনাদ আল-কাবির' এবং 'আল-মুস্তাকরাজ আলা মুসলিম' এক নয়। কারণ হাফেজ জাহাবি এই কিতাবটির উল্লেখ করে বলেছেন: "অধ্যায়ভিত্তিক আল-মুসনাদ আল-কাবির", যেমনটি 'সিয়ার' গ্রন্থে (১৪শ খণ্ড, ৩৮৯ পৃষ্ঠা) রয়েছে। একইভাবে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহ' গ্রন্থে (৭ম খণ্ড, ৪১৯ পৃষ্ঠা) একে 'আল-মুসনাদ আল-মুবাব্বাব' (অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত মুসনাদ) নামে অভিহিত করেছেন। আমাদের হাতে যে পাণ্ডুলিপিটি রয়েছে তা খাফফাফ ইমাম সিরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহ' এবং 'তাগলিক' গ্রন্থে ইমাম সিরাজের মুসনাদের হাদিসগুলো খাফফাফের সূত্রে তাঁর মাধ্যমেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কোনো একটি স্থানেও তিনি বলেননি যে সিরাজ এটি 'মুস্তাকরাজ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এই বিষয়ের ইমামগণের কাছে মুস্তাকরাজ বিষয়ক কিতাবগুলো সুপরিচিত এবং কেউ বলেননি যে সিরাজ-এর মুস্তাকরাজই হলো অধ্যায়ভিত্তিক আল-মুসনাদ আল-কাবির। তাছাড়া খোদ সিরাজ নিজেও মুসনাদ গ্রন্থের কোনো একটি স্থানেও ইঙ্গিত দেননি যে এটি...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
خرجه على مُسلم، خلاف مُسْند أبي عوَانَة، انْظُر (ج1 ص235، 236، ج4 ص489، ج5 ص15، 71) والمسند الْمُسْتَخْرج لأبي نعيم وَغَيرهمَا من المسندات المستخرجات، وَقد فرق بَينهمَا منيرة نَاجِي سَالم أَيْضا فِي تَحْقِيقه على التحبير فِي المعجم الْكَبِير (ج1 ص207) وَالله أعلم.
وصف نُسْخَة الْمسند
وصلت إِلَيْنَا نُسْخَة وَاحِدَة من الْمسند الْكَبِير وَهِي مصورة من المكتبة الظَّاهِرِيَّة بِدِمَشْق، وَهِي مَكْتُوبَة فِي الْقرن السَّادِس أَو السَّابِع الهجرية، كتبه الإِمَام الْهمام شيخ الْإِسْلَام ضِيَاء الدَّين مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد الْمَقْدِسِي رحمه الله لَكِن الأسف على أَن هَذِه النُّسْخَة نُسْخَة نَاقِصَة مُشْتَمِلَة على تِسْعَة أَجزَاء مُخْتَلفَة فَقَط بأجزاء أبي عَمْرو الْخفاف، فَمِنْهَا: آخر الْجُزْء الأول، والجزء الثَّالِث، وَالرَّابِع، ثمَّ الْجُزْء الثَّانِي من الْجُزْء الثَّانِي ثمَّ الْجُزْء التَّاسِع والعاشر وجزء بعض الْحَادِي عشر، وَالثَّانِي عشر، وجزء.
وَقد ذكر الشَّيْخ الكتاني فِي الرسَالَة المستطرفة (ص64) أَن مُسْند الإِمَام السراج مرت على الْأَبْوَاب وَلم يُوجد مِنْهُ إِلَّا الطَّهَارَة وَمَا مَعهَا فِي أَرْبَعَة عشر جُزْءا وَهَكَذَا فِي بعض مسموعات هَذِه النُّسْخَة كَمَا ذكره فِي ورق 52 سَمِعت وَهُوَ أَرْبَعَة عشر جُزْءا وَالله أعلم، وَعَلِيهِ سماعات الشَّيْخ الإِمَام أبي الْحجَّاج يُوسُف بن عبد الرَّحْمَن الْمزي، وَالْإِمَام شمس الدَّين الذَّهَبِيّ وَغَيرهمَا من الْحفاظ.
وجدير بِالذكر بِأَن فِي الْجُزْء الْعَاشِر أَحَادِيث مكررة أَكثر من مائَة حَدِيث، وَهِي مَوْجُودَة فِي الْجُزْء الرَّابِع، انْظُر رقم: 1079إِلَى 1195. وَلَا يبعد أَن يكون هَذَا الِاخْتِلَاف والتكرار فِي الرِّوَايَة عَن الْخفاف وَالله سبحانه وتعالى أعلم.
وَهَذِه الْأَجْزَاء التِّسْعَة رَوَاهَا عَنهُ الشَّيْخ أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن عمر بن الْخفاف وَعنهُ أَصْحَابه، ولنذكر أَولا إِسْنَاد هَذِه الْأَجْزَاء ثمَّ نذْكر تراجمهم إِن شَاءَ الله.
তিনি এটি মুসলিম-এর মানদণ্ডে বের করেছেন, যা মুসনাদে আবু আওয়ানা থেকে ভিন্ন। দেখুন (১ম খণ্ড, ২৩৫, ২৩৬ পৃষ্ঠা; ৪র্থ খণ্ড, ৪৮৯ পৃষ্ঠা; ৫ম খণ্ড, ১৫, ৭১ পৃষ্ঠা) এবং আবু নুয়াইমের আল-মুসনাদ আল-মুস্তাখরাজ ও অন্যান্য মুস্তাখরাজ মুসনাদসমূহ। মুনিরা নাজি সালেমও আল-মু'জাম আল-কাবীরের আত-তাহবীর-এর তাহকিকে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন (১ম খণ্ড, ২০৭ পৃষ্ঠা)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
মুসনাদের পাণ্ডুলিপির বিবরণ
আল-মুসনাদ আল-কাবীরের একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়্যাহ থেকে সংগৃহীত পাণ্ডুলিপির ছবি। এটি হিজরি ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দীতে লিখিত। এটি লিখেছেন মহান ইমাম, শাইখুল ইসলাম যিয়াউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ)। তবে পরিতাপের বিষয় এই যে, এই পাণ্ডুলিপিটি একটি অপূর্ণাঙ্গ কপি, যা আবু আমর আল-খাফফাফের বর্ণনা অনুযায়ী মাত্র নয়টি ভিন্ন ভিন্ন খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে: প্রথম খণ্ডের শেষাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড, এরপর দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় অংশ, এরপর নবম ও দশম খণ্ড এবং একাদশ খণ্ডের কিছু অংশ, দ্বাদশ খণ্ড এবং একটি অংশ।
শাইখ কাত্তানী 'আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ' (পৃষ্ঠা ৬৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আল-সাররাজের মুসনাদটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত ছিল এবং এর মধ্যে কেবল পবিত্রতা (তাহারাত) অধ্যায় ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ চৌদ্দটি খণ্ডে পাওয়া গিয়েছিল। একইভাবে এই পাণ্ডুলিপির কিছু শ্রুতি-নোটের (সামাআত) মধ্যেও এটি চৌদ্দ খণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনটি ৫২ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: "আমি শুনেছি যে এটি চৌদ্দ খণ্ড"। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই পাণ্ডুলিপিতে শাইখ ইমাম আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান আল-মিযযী, ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবী এবং অন্যান্য হাফেজগণের শ্রুতি-নোট রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, দশম খণ্ডে একশটিরও বেশি হাদিস পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা চতুর্থ খণ্ডেও বিদ্যমান; দেখুন নম্বর: ১০৭৯ থেকে ১১৯৫ পর্যন্ত। আর এটি অসম্ভব নয় যে, আল-খাফফাফ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতে এই ভিন্নতা এবং পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সবচেয়ে ভালো জানেন।
এই নয়টি খণ্ড তাঁর থেকে শাইখ আবুল হুসাইন আহমদ বিন ওমর বিন আল-খাফফাফ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর ছাত্ররা বর্ণনা করেছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ প্রথমে এই খণ্ডগুলোর সনদ (সূত্র) বর্ণনা করব এবং এরপর তাঁদের জীবনী আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
سَنَد الْجُزْء من آخر الْجُزْء الأول
فقد رَوَاهُ الإِمَام الْمَقْدِسِي عَن الشَّيْخ الإِمَام أبي المظفر عبد الرَّحِيم بن عبد الْكَرِيم بن مُحَمَّد بن مَنْصُور السَّمْعَانِيّ عَن الشَّيْخ أبي الأسعد هبة الرَّحْمَن بن عبد الْوَاحِد بن عبد الْكَرِيم الْقشيرِي عَن جده أبي الْقَاسِم عبد الْكَرِيم بن هوَازن الْقشيرِي عَن أبي الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عمر الْخفاف عَن الإِمَام السراج.
أما سَنَد الْجُزْء الثَّالِث
فَرَوَاهُ الإِمَام الْمَقْدِسِي عَن الشَّيْخ الإِمَام شهَاب الدَّين أبي بكر الْقَاسِم بن عبد الله الصفار عَن أبي بكر وجيه بن طَاهِر الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْقشيرِي وابي بكر يَعْقُوب بن أَحْمد الصَّيْرَفِي وَالْحَاكِم أبي الْحسن أَحْمد بن عبد الرَّحِيم الْإِسْمَاعِيلِيّ قَالُوا: ثَنَا أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد الْخفاف.
وَأما سَنَد الْجُزْء الرَّابِع
فَرَوَاهُ عَن الْحَافِظ شمس الدَّين أبي الْحجَّاج يُوسُف بن خَلِيل الدِّمَشْقِي عَن أبي الْقَاسِم يحيى بن أسعد بن يحيى الْأَزجيّ عَن أبي طَالب عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد عَن أبي الْفضل مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الحريصي عَن الْخفاف.
وَأما سَنَد الْجُزْء الثَّانِي من الثَّانِي
فَرَوَاهُ عَن الإِمَام أبي المظفر عبد الرَّحِيم السَّمْعَانِيّ عَن الشحامي وابي سعد سعيد بن الْحُسَيْن بن إِسْمَاعِيل الريوندي قَالَا: أَنا أَبُو الْقَاسِم الْفضل بن عبد الله بن مُحَمَّد بن الْمُحب عَن الْخفاف.
وَأما سَنَد الْجُزْء التَّاسِع والعاشر
فَرَوَاهُ عَن أبي المظفر عَن أبي الأسعد هبة الرَّحْمَن الْقشيرِي عَن جدة أبي
প্রথম খণ্ডের শেষাংশের সনদ
ইমাম মাকদিসী এটি বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আবুল মুজাফফর আব্দুর রহিম বিন আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আস-সামআনী থেকে, তিনি শাইখ আবুল আসআদ হিবাতুর রহমান বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল কারিম আল-কুশাইরী থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবুল কাসিম আব্দুল কারিম বিন হাওয়াজিন আল-কুশাইরী থেকে, তিনি আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উমর আল-খাফফাফ থেকে, আর তিনি ইমাম সিরাজ থেকে।
আর তৃতীয় খণ্ডের সনদের ক্ষেত্রে
ইমাম মাকদিসী এটি বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম শিহাবুদ্দিন আবু বকর আল-কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার থেকে, তিনি আবু বকর ওয়াজিহ বিন তাহির আশ-শাহামী থেকে, তিনি আবুল কাসিম আল-কুশাইরী, আবু বকর ইয়াকুব বিন আহমদ আস-সাইরাফী এবং আল-হাকিম আবুল হাসান আহমদ বিন আব্দুর রহিম আল-ইসমাঈলী থেকে; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খাফফাফ।
আর চতুর্থ খণ্ডের সনদের ক্ষেত্রে
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন হাফিজ শামসুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন খালিল আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া আল-আজজী থেকে, তিনি আবু তালিব আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হারীসী থেকে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে।
আর দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় ভাগের সনদের ক্ষেত্রে
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবুল মুজাফফর আব্দুর রহিম আস-সামআনী থেকে, তিনি আশ-শাহামী এবং আবু সাদ সাঈদ বিন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আর-রায়ওয়ান্দী থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-ফজল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহিব্ব, তিনি আল-খাফফাফ থেকে।
আর নবম ও দশম খণ্ডের সনদের ক্ষেত্রে
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবুল মুজাফফর থেকে, তিনি আবুল আসআদ হিবাতুর রহমান আল-কুশাইরী থেকে, তিনি তাঁর দাদী (অথবা দাদা) আবু-
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الْقَاسِم الْقشيرِي عَن الْخفاف.
وَأما سَنَد بعض الْجُزْء الْحَادِي عشر
فَرَوَاهُ عَن أبي المظفر السَّمْعَانِيّ عَن أبي سعد سعيد بن الْحُسَيْن الريوندي وَأبي عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْفضل بَين عبد الله بن الْمُحب عَن الْخفاف.
وَأما سَنَد الْجُزْء الثَّانِي عشر
فَرَوَاهُ عَن أبي المظفر السَّمْعَانِيّ عَن أبي سعد سعيد بن الْحُسَيْن الريوندي وَأبي عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْفضل بن عبد الله بن الْمُحب عَن الْخفاف.
وَأما سَنَد الْجُزْء الثَّانِي عشر
فَرَوَاهُ عَن أبي المظفر عَن أبي سعد سعيد بن الْحُسَيْن الريوندي عَن أبي الْقَاسِم بِهِ، وَقد ذكر فِيهِ إِسْنَادًا آخر: عَن أبي المظفر عَن أبي الأسعد هبة الرَّحْمَن عَن أبي الْقَاسِم الْقشيرِي عَن الْخفاف - انْظُر رقم: 1333.
وَأما سَنَد الْجُزْء (الثَّالِث عشر)
فَرَوَاهُ عَن أبي بكر الْقَاسِم بن أبي سعد عبد الله بن عمر الصفار عَن أبي بكر وجيه بن طَاهِر الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْقشيرِي عَن الْخفاف.
وَهَذِه الْأَسَانِيد تدل على أَن إِسْنَاد الْمسند الْكَبِير للسراج مُخْتَلفَة عَن الْخفاف كَمَا ذكرنَا أَولا.
تَرْجَمَة الْخفاف
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الزَّاهِد العابد مُسْند خُرَاسَان أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عمر النَّيْسَابُورِي الْخفاف الْقَنْطَرِي قَالَ أَبُو عبد الله الْحَاكِم: كَانَ مجاب الدعْوَة، سماعاته صَحِيحَة بِخَط أَبِيه، من أبي الْعَبَّاس السراج وأقرانه، وَبَقِي وَاحِد عصره فِي علو الْإِسْنَاد وَقد حدث عَنهُ الْحَاكِم وَأَبُو الْقَاسِم الْقشيرِي وَالْفضل بن عبد الله الْمُحب وَأحمد بن عبد الرَّحِيم الْإِسْمَاعِيلِيّ يَعْقُوب بن أَحْمد الصَّيْرَفِي وَخلق سواهُم، قَالَ الْحَاكِم: توفّي فِي ربيع الأول سنة خمس وَتِسْعين وَثَلَاث مئة، وَله ثَلَاثَة
আল-কাসিম আল-কুশায়রী আল-খাফফাফ থেকে।
আর একাদশ খণ্ডের কিছু অংশের সনদ প্রসঙ্গে:
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুজাফফর আস-সামআনী থেকে, তিনি আবু সা’দ সাঈদ ইবনুল হুসাইন আর-রায়ওয়ান্দী এবং আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আশ-শাহহামী থেকে, তাঁরা আবুল কাসিম আল-ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুহিব্ব থেকে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে।
আর দ্বাদশ খণ্ডের সনদ প্রসঙ্গে:
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুজাফফর আস-সামআনী থেকে, তিনি আবু সা’দ সাঈদ ইবনুল হুসাইন আর-রায়ওয়ান্দী এবং আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আশ-শাহহামী থেকে, তাঁরা আবুল কাসিম আল-ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুহিব্ব থেকে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে।
আর দ্বাদশ খণ্ডের সনদ প্রসঙ্গে:
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুজাফফর থেকে, তিনি আবু সা’দ সাঈদ ইবনুল হুসাইন আর-রায়ওয়ান্দী থেকে, তিনি আবুল কাসিম থেকে এর মাধ্যমে। এতে তিনি আরও একটি সনদ উল্লেখ করেছেন: আবু মুজাফফর থেকে, তিনি আবুল আসআদ হিবাতুর রহমান থেকে, তিনি আবুল কাসিম আল-কুশায়রী থেকে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে - দেখুন নম্বর: ১৩৩৩।
আর (ত্রয়োদশ) খণ্ডের সনদ প্রসঙ্গে:
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-কাসিম ইবনে আবু সা’দ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আস-সাফফার থেকে, তিনি আবু বকর ওয়াজিহ ইবনে তাহির আশ-শাহহামী থেকে, তিনি আবুল কাসিম আল-কুশায়রী থেকে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে।
এই সনদগুলো প্রমাণ করে যে, আল-খাফফাফ থেকে আস-সাররাজের ‘আল-মুসনাদ আল-কাবীর’-এর সনদগুলো ভিন্ন ভিন্ন, যেমনটি আমরা প্রথমে উল্লেখ করেছি।
আল-খাফফাফের জীবনী
তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার, খোরাসানের মুসনিদ, আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আন-নিশাপুরী আল-খাফফাফ আল-কান্তারি। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) ছিলেন, তাঁর পিতার হাতের লেখায় তাঁর শ্রুত বর্ণনাগুলো সহীহ ছিল, যা তিনি আবুল আব্বাস আস-সাররাজ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে লাভ করেছিলেন। তিনি উঁচু মানের সনদের ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর থেকে আল-হাকিম, আবুল কাসিম আল-কুশায়রী, আল-ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুহিব্ব, আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-ইসমাঈলী, ইয়াকুব ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি এবং আরও অনেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম বলেন: তিনি তিনশত পঁচানব্বই হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন, এবং তাঁর ছিল তিন...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وَتسْعُونَ سنة وَصليت أَنا عَلَيْهِ.
السّير (ج16 ص481) تَارِيخ الْإِسْلَام 312، العبر (ج3 ص58) الشذرات (ج3 ص145) الْأَنْسَاب ق (204/2) مرْآة الْجنان (ج2 ص447) كتاب التَّقْيِيد (ج1 ص198) .
أَبُو الْقَاسِم الْقشيرِي
هُوَ الإِمَام الزَّاهِد الْقدْوَة الْأُسْتَاذ أَبُو الْقَاسِم عبد الْكَرِيم بن هوَازن بن عبد الْملك بن طَلْحَة الْقشيرِي الْخُرَاسَانِي النَّيْسَابُورِي صَاحب "الرسَالَة القشيرية" ولد سنة سِتّ وَسبعين وَثَلَاث مئة، سمع من الْخفاف وابي نعيم الأسفر أييني وَأبي الْحسن الْعلوِي وَعبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم الْمُزَكي وَأبي بكر بن فورك وتفقه على أبي بكر مُحَمَّد بن أبي بكر الطوسي وَأبي إِسْحَاق الأسفراييني وَحدث عَنهُ أَوْلَاده عبد الله وَعبد الْوَاحِد، وَأَبُو نصر عبد الرَّحِيم وَعبد الْمُنعم وزاهر الشحامي، وَأَخُوهُ وجيه، وحفيده أَبُو الأسعد هبة الرَّحْمَن وَمُحَمّد بن الْفضل الفراوي وَعبد الرَّحْمَن بن عبد الله الْبُحَيْرِي وَآخَرُونَ.
قَالَ القَاضِي أَن خلكان: كَانَ أَبُو الْقَاسِم عَلامَة فِي الْفِقْه وَالتَّفْسِير والْحَدِيث وَالْأُصُول وَالْأَدب وَالشعر وَالْكِتَابَة، وصنف التَّفْسِير الْكَبِير وَهُوَ من أَجود التفاسير وصنف الرسَالَة فِي رجال الطَّرِيقَة، وَحج مَعَ الإِمَام أبي مُحَمَّد الْجُوَيْنِيّ والحافظ ابي بكر الْبَيْهَقِيّ، فَسمع مَعَهم الحَدِيث بِبَغْدَاد والحجاز، وَقَالَ الْخَطِيب: كتبناعنه وَكَانَ ثِقَة، وَكَانَ حسن الْوَعْظ مليح الْإِشَارَة يعرف الاصول على مَذْهَب الْأَشْعَرِيّ، وَالْفُرُوع على مَذْهَب الشَّافِعِي، وَقَالَ أَبُو سعد السَّمْعَانِيّ: لم يرد الْأُسْتَاذ أَبُو الْقَاسِم مثل نَفسه فِي كَمَاله وبراته، وَتُوفِّي يَوْم الْأَحَد السَّادِس وَالْعِشْرين من ربيع الآخر سنة خمس وَسِتِّينَ وَأَرْبع مائَة.
انْظُر: تَارِيخ بَغْدَاد (ج11 ص83) السّير (ج18 ص227) وفيات الْأَعْيَان (ج3 ص205) الْكَامِل (ج10 ص88) الْبِدَايَة (ج12 ص107) وطبقات الشَّافِعِيَّة
এবং নব্বই বছর। আর আমি তাঁর জানাজা পড়েছি।
আস-সিয়ার (খন্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৪৮১), তারিখুল ইসলাম ৩১২, আল-ইবার (খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৮), আশ-শাযারাত (খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৪৫), আল-আনসাব কাফ (২০৪/২), মিরআতুল জিনান (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৭), কিতাবুত তাকিদ (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৮)।
আবুল কাসেম আল-কুশায়রী
তিনি হলেন ইমাম, জাহেদ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব ও উস্তাদ আবুল কাসেম আবদুল করিম ইবনে হাওয়াজিন ইবনে আবদুল মালিক ইবনে তালহা আল-কুশায়রী আল-খুরাসানী আন-নাইসাবুরী। তিনি "আর-রিসালাতুল কুশায়রিয়্যাহ" গ্রন্থের লেখক। তিনি তিনশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-খাফফাফ, আবু নুয়াইম আল-ইসফারায়িনী, আবুল হাসান আল-আলাওয়ী, আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম আল-মুজাক্কী এবং আবু বকর ইবনে ফুরাক থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আত-তুসী এবং আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী-র নিকট ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁর সন্তান আবদুল্লাহ, আবদুল ওয়াহিদ, আবু নাসর আবদুর রহিম, আবদুল মুনইম এবং জাহির আশ-শহামী; তাঁর ভাই ওয়াজিহ; তাঁর নাতি আবু আস'আদ হিবাতুর রহমান, মুহাম্মদ ইবনে ফাদল আল-ফারাবী, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-বুহাইরী এবং আরও অনেকে।
কাজী ইবনে খাল্লিকান বলেন: আবুল কাসেম ফিকহ, তাফসির, হাদিস, উসুল, সাহিত্য, কবিতা ও রচনায় একজন আল্লামা ছিলেন। তিনি 'আত-তাফসিরুল কাবির' রচনা করেছেন, যা শ্রেষ্ঠ তাফসিরগুলোর অন্যতম। তিনি তরীকার মনীষীদের জীবনী নিয়ে 'আর-রিসালা' রচনা করেন। তিনি ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী এবং হাফেজ আবু বকর আল-বাইহাকীর সাথে হজ পালন করেছেন এবং তাঁদের সাথে বাগদাদ ও হিজাজে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর থেকে লিখেছি এবং তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার উপদেশদানকারী ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদানকারী ছিলেন। তিনি আকিদাহর মূলনীতিগুলো (উসুল) আশআরি মাযহাব অনুযায়ী এবং শাখা-প্রশাখার মাসআলাগুলো (ফুরু) শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী জানতেন। আবু সা'দ আস-সামআনী বলেন: উস্তাদ আবুল কাসেম তাঁর পূর্ণতা ও যোগ্যতায় নিজের সমতুল্য কাউকে দেখেননি। তিনি চারশত পঁয়ষট্টি হিজরি সনের ছাব্বিশে রবিউস সানি, রবিবার দিন ইন্তেকাল করেন।
দেখুন: তারিখ বাগদাদ (খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৩), আস-সিয়ার (খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২২৭), ওফায়াতুল আইয়ান (খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২০৫), আল-কামিল (খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ৮৮), আল-বিদায়া (খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ১০৭) এবং তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
للسبكي (ج3 243) والأنساب ق 453/2، وَلكنه سَمَّاهُ عبد الله، مرْآة الْجنان (ج3 ص91) التَّقْيِيد (ج2 ص131) وشذرات (ج3 ص319) وَغَيرهَا من الْكتب.
أَبُو الأسعد الْقشيرِي
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْخَطِيب مُسْند خُرَاسَان أَبُو الأسعد هبة الرحمان بن عبد الْوَاحِد ابْن شيخ الْإِسْلَام أبي الْقَاسِم الْقشيرِي ولد سنة سِتِّينَ وَأَرْبع مئة، وَتُوفِّي سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَخمْس مئة.
سمع من جده أبي الْقَاسِم الْقشيرِي وَمن أَبِيه وعميه أبي سعد وَأبي مَنْصُور، وَمن أبي سهل الفحصي صَاحب الْكشميهني سمع مِنْهُ فِي سنة 465 صَحِيح البُخَارِيّ، وَسمع من نصر بن عَليّ الحاكمي سنَن أبي دَاوُد، وَمن عبد الحميد بن عبد الرَّحْمَن الْبُحَيْرِي مُسْند أبي عوَانَة، وَحدث عَنهُ ابْن عَسَاكِر وابو سعيد السَّمْعَانِيّ وَأَبُو المظفر عبد الرَّحِيم بن السَّمْعَانِيّ وَالقَاسِم بن عبد الله الصفار وَخلق كثير.
قَالَ أَبُو سعد السَّمْعَانِيّ: سَمِعت أَصْحَابنَا يَقُولُونَ: أَنه ادّعى سَماع الرسَالَة من جده، وَمَا ظهر لَهُ عَن جده إِلَّا أَجزَاء أبي الْعَبَّاس السراج، ومجالس أملاها أَبُو الْقَاسِم، وَكتاب عُيُون الأجوية فِي فنون الأسولة وَقَالَ أَبُو سعد السَّمْعَانِيّ: سَمِعت مِنْهُ خَمْسَة أَجزَاء ضخمة من حَدِيث أبي الْعَبَّاس السراج، عَن جده عَن الْخفاف عَن السراج. قَالَ السُّبْكِيّ: كَانَ أسْند من بَقِي بخراسان فِي زَمَانه.
انْظُر: السّير (ج 20 ص180) التحبير (ج2 ص368، 371) التَّذْكِرَة (ج4 ص1309) شذرات (ج4 ص140) العبر (ج4 ص125) مرْآة الْجنان (ج3 ص284) لِسَان (ج6 ص187) التقيد (ج2 ص298) الْمُسْتَفَاد من ذيل تَارِيخ بَغْدَاد (ج19 ص251) طَبَقَات الشَّافِعِيَّة (ج4 ص322) لكنه سَمَّاهُ هبة الله، وَقَالَ: توفّي سنة 548، دوَل الْإِسْلَام (ج2 ص44) .
সুবকি-এর (৩য় খণ্ড, ২৪৩) এবং আল-আনসাব ৪৫৩/২, তবে তিনি তাঁর নাম আব্দুল্লাহ রেখেছেন, মিরআতুল জিনান (৩য় খণ্ড, পৃ. ৯১), আত-তাকয়িদ (২য় খণ্ড, পৃ. ১৩১), শাজারাত (৩য় খণ্ড, পৃ. ৩১৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থাবলি।
আবু আল-আসআদ আল-কুশাইরি
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আলিম, খতিব, খুরাসানের মুসনিদ (হাদিসের বর্ণনাকারী), আবু আল-আসআদ হিবাতুর রহমান ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে শাইখুল ইসলাম আবু আল-কাসিম আল-কুশাইরি। তিনি ৪৬০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৪৬ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।
তিনি তাঁর দাদা আবু আল-কাসিম আল-কুশাইরি থেকে এবং তাঁর পিতা ও দুই চাচা আবু সাদ ও আবু মানসুর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি কুশমিহানির সাথী আবু সাহল আল-ফাহসি থেকে ৪৬৫ হিজরি সালে সহিহ বুখারি শ্রবণ করেন। নাসর ইবনে আলি আল-হাকিমি থেকে সুনানে আবু দাউদ এবং আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বুহাইরি থেকে মুসনাদে আবু আওয়ানা শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনে আসাকির, আবু সাইদ আস-সামআনি, আবু আল-মুজাফফর আব্দুর রহিম ইবনে আস-সামআনি, আল-কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার এবং আরও বহু লোক।
আবু সাদ আস-সামআনি বলেন: আমি আমাদের সঙ্গীদের বলতে শুনেছি যে, তিনি (আবু আল-আসআদ) তাঁর দাদা থেকে 'আর-রিসালাহ' শোনার দাবি করেছেন, কিন্তু তাঁর দাদার সূত্রে আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ-এর হাদিসের কিছু অংশ (আজজা), আবু আল-কাসিম কর্তৃক শ্রুতলিপি করানো মজলিসসমূহ এবং 'উয়ুনুল আজউইয়াহ ফি ফুনুনিল আসউইলাহ' নামক কিতাব ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ পায়নি। আবু সাদ আস-সামআনি আরও বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ-এর হাদিসের পাঁচটি বিশাল খণ্ড শুনেছি, যা তিনি তাঁর দাদার সূত্রে, তিনি আল-খাফফাফ থেকে, তিনি আস-সাররাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। সুবকি বলেন: তিনি তাঁর সময়ে খুরাসানে জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুসনিদ ছিলেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (২০তম খণ্ড, পৃ. ১৮০), আত-তাহবির (২য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৮, ৩৭১), আত-তাযকিরাহ (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩০৯), শাজারাত (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৪০), আল-ইবার (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১২৫), মিরআতুল জিনান (৩য় খণ্ড, পৃ. ২৮৪), লিসান (৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৮৭), আত-তাকয়িদ (২য় খণ্ড, পৃ. ২৯৮), আল-মুস্তাফাদ মিন জাইল তারিখ বাগদাদ (১৯তম খণ্ড, পৃ. ২৫১), তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩২২) তবে তিনি তাঁর নাম হিবাতুল্লাহ রেখেছেন এবং বলেছেন: তিনি ৫৪৮ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন, দুওয়ালুল ইসলাম (২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أَبُو المظفر السَّمْعَانِيّ
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الْمُفْتِي الْمُحدث فَخر الدَّين أَبُو المظفر عبد الرَّحِيم بن الْحَافِظ الْكَبِير أبي سعد عبد الْكَرِيم بن مُحَمَّد السَّمْعَانِيّ الْمروزِي، ولد سنة سبع وَثَلَاثِينَ وَخمْس مائَة، واعتنى بِهِ أَبوهُ اعناء كليلاً ورحل بِهِ، وأسمعه مَالا يُوسُف كَثْرَة، سمع من الرئيس أسعد بن عَليّ المهروي ووجيه الشحامي وَأبي الأسعد هبة الرَّحْمَن الْقشيرِي وَأبي سعد مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الْمقري وَأبي طَاهِر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الله الْخَطِيب وَالْحسن بن عَليّ الشحامي وَأبي الْوَقْت السجْزِي وَأبي الْفَتْح مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الْكشميهني وَغَيرهَا من المشائخ ببخاري وسمرقند وهراة ونيسابور ومرو وَمَا وَرَاء النَّهر وأماكن عدَّة، وَسمع مِنْهُ الْحَافِظ أَبُو بكر مُحَمَّد بن مُوسَى الْحَازِمِي وَابْن الصّلاح والضياء الْمَقْدِسِي وَابْن النجار وَغَيرهَا من الْأَعْيَان، وَسمع بعلو الْجَامِع الصَّحِيح للْإِمَام البُخَارِيّ وَالسّنَن لأبي داؤد وَالْجَامِع لأبي عِيسَى التِّرْمِذِيّ وَالسّنَن للنسائي ومسند ابي عوَانَة والتاريخ للْإِمَام الْفَسَوِي، وَسمع الْحِلْية ومسند الْهَيْثَم بن كُلَيْب وصحيح مُسلم وَكَثِيرًا من مُسْند السراج، وَخرج لَهُ أَبوهُ معجماً فِي ثَمَانِيَة عشر جزاءاً، وَاللِّسَان: ثَلَاثَة عشر جزاءاً، وعوالي فِي مجلدين، واشتغله بالفقه والْحَدِيث وَالْأَدب حَتَّى حصل من كل وَاحِد طرفا صَالحا وانتهت إِلَيْهِ رياسة أَصْحَاب الشَّافِعِي بِبَلَدِهِ، وَكَانَ فَاضلا جَلِيلًا نبيلاً متديناً محباً لرِوَايَة الْعلم ذَا أَخْلَاق حَسَنَة وسيرة جميلَة قَالَه ابْن النجار، وَقَالَ الذَّهَبِيّ: كَانَ فَقِيها مفتياً عَارِفًا بِالْمذهبِ وَله أنس بِالْحَدِيثِ خرج لنَفسِهِ أَرْبَعِينَ حَدِيثا، توفّي سنة سبع عشرَة وسِتمِائَة وَذكر ابْن النجار أَنه مَاتَ بمرو مَا بَين سنة أَربع عشرَة أَو سِتّ عشرَة وسِتمِائَة.
انْظُر: السّير (ج22 ص107) تَارِيخ الْإِسْلَام ص313، والمستفاد من ذيل تَارِيخ بَغْدَاد (ج19 ص157) وَالتَّقْيِيد (ج2 ص119) والعبر (ج5 ص68) وشذرات (ج5 ص75) وَاللِّسَان (ج4 ص6) وطبقات الشَّافِعِيَّة لِابْنِ شُهْبَة (ج2 ص68) .
আবু মুযাফফর আস-সামআনী
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুফতি, মুহাদ্দিস, ফখরুদ্দীন আবু মুযাফফর আব্দুর রহীম ইবনুল হাফিয আল-কাবীর আবী সা’দ আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মাদ আস-সামআনী আল-মারওয়াযী। তিনি ৫৩৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দান করেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। তিনি তাঁকে প্রচুর পরিমাণে হাদীস শ্রবণ করিয়েছেন। তিনি রইস আসআদ ইবনে আলী আল-মাহরাউয়ী, ওয়াজীহ আশ-শাহামী, আবুল আসআদ হিবাতুর রহমান আল-কুশায়রী, আবু সা’দ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-মুকরী, আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাতীব, আল-হাসান ইবনে আলী আশ-শাহামী, আবু ওয়াকত আস-সিজযী, আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুশমীহানী এবং বুখারা, সমরকন্দ, হেরাত, নিশাপুর, মার্ভ, মা-ওয়ারাউন নাহারসহ আরও অনেক স্থানের মাশায়েখদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে হাফিয আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-হাযিমী, ইবনুস সালাহ, যিয়া আল-মাকদিসী, ইবনুন নাজ্জার এবং আরও অনেক বরেণ্য ব্যক্তি হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি উচ্চ সনদে ইমাম বুখারীর ‘আল-জামে আস-সহীহ’, আবু দাউদের ‘আস-সুনান’, আবু ঈসা আত-তিরমিযীর ‘আল-জামে’, আন-নাসাঈর ‘আস-সুনান’, আবু আওয়ানার ‘মুসনাদ’ এবং ইমাম ফাসাওয়ীর ‘আত-তারীখ’ শ্রবণ করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘আল-হিলয়াহ’, হাইসাম ইবনে কুলাইবের ‘মুসনাদ’, ‘সহীহ মুসলিম’ এবং সিরাজের ‘মুসনাদ’-এর বড় একটি অংশ শ্রবণ করেছেন। তাঁর পিতা তাঁর জন্য আঠারো খণ্ডে একটি ‘মু’জাম’, তেরো খণ্ডে ‘আল-লিসান’ এবং দুই খণ্ডে ‘আওয়ালী’ সংকলন করেছেন। তিনি তাঁকে ফিকহ, হাদীস এবং সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত রাখেন, যার ফলে তিনি প্রতিটি বিষয়েই বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং নিজ শহরে শাফিঈ ফকীহদের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে পৌঁছে। ইবনুন নাজ্জার বলেন, তিনি ছিলেন বিদগ্ধ, মর্যাদাবান, অভিজাত, ধর্মপ্রাণ ও হাদীস বর্ণনার প্রতি অনুরাগী; তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্র ও প্রশংসনীয় জীবনবোধের অধিকারী। আয-যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন ফকীহ, মুফতি এবং মাযহাব সম্পর্কে বিজ্ঞ; হাদীসশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল এবং তিনি নিজের জন্য চল্লিশটি হাদীস সংকলন করেছিলেন। তিনি ৬১৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তবে ইবনুন নাজ্জার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৬১৪ অথবা ৬১৬ হিজরীর কোনো এক সময়ে মার্ভে মৃত্যুবরণ করেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (২২তম খণ্ড, ১০৭ পৃষ্ঠা), তারীখুল ইসলাম (৩১৩ পৃষ্ঠা), আল-মুস্তাফাদ মিন যাইল তারীখ বাগদাদ (১৯তম খণ্ড, ১৫৭ পৃষ্ঠা), আত-তাকয়ীদ (২য় খণ্ড, ১১৯ পৃষ্ঠা), আল-ইবার (৫ম খণ্ড, ৬৮ পৃষ্ঠা), শাযারাত (৫ম খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা), আল-লিসান (৪র্থ খণ্ড, ৬ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে শাহবার তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (২য় খণ্ড, ৬৮ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
رجال إِسْنَاد الْجُزْء الثَّالِث
وَقد رَوَاهُ الإِمَام الْمَقْدِسِي عَن الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم شهَاب الدَّين أبي بكر الْقَاسِم ابْن عبد الله بن عمر الصفار عَن أبي بكر وجيه بن طَاهِر الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْقشيرِي عَن أبي بكر يَعْقُوب بن أَحْمد الصَّيْرَفِي وَالْحَاكِم أبي الْحسن أَحْمد بن عبد الرَّحِيم الْإِسْمَاعِيلِيّ قَالُوا: ثَنَا الْخفاف.
تَرْجَمَة الْإِسْمَاعِيلِيّ
هُوَ الإِمَام الْوَاعِظ الْمعدل أَبُو الْحسن أَحْمد بن عبد الرَّحِيم بن أَحْمد الْإِسْمَاعِيلِيّ النَّيْسَابُورِي الْحَاكِم، حدث عَن الْخفاف وَيحيى بن إِسْمَاعِيل الْحَرْبِيّ، وَأبي الْعَبَّاس السليطي وابي عَليّ الرُّوذَبَارِي وَجَمَاعَة، وَحدث بسنين ابي داؤد عَن الْحسن بن دَاوُد السمر قندي صَاحب ابْن داسة، وَحدث عَنهُ إِسْمَاعِيل بن أبي صَالح وزاهر بن طَاهِر الشحامي وَأَخُوهُ وجيه وَعبد الغافر بن إِسْمَاعِيل، وثقة عبد الْغفار والسمعاني وَتُوفِّي سنة تسع وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة - السّير (ج18 ص250)
الصَّيْرَفِي
هُوَ الشَّيْخ الرئيس الثِّقَة الْمسند أَبُو بكر يَعْقُوب بن أَحْمد بن مُحَمَّد النَّيْسَابُورِي سمع أَبَا مُحَمَّد المخلدي وَأَبا الْحُسَيْن الْخفاف وَأَبا نعيم أَحْمد بن مُحَمَّد الْأَزْهَرِي وَأَبا عبد الله الْحَاكِم، وَحدث عَنهُ مُحَمَّد بن الْفضل الفراوي وزاهر بن طَاهِر وَأَخُوهُ وجيه وَهبة الرَّحْمَن بن الْقشيرِي وَآخَرُونَ توفّي سنة سِتّ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة. قَالَ الذَّهَبِيّ: كَانَ صَحِيح الْأُصُول محتشماً.
انْظُر: السّير (ج18 ص245) والتذكرة (ج3 ص1160) والعبر (ج3 ص262) وشذرات (ج3 ص325) .
তৃতীয় অংশের সনদসমূহের বর্ণনাকারীগণ
ইমাম মাকদিসি এটি বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আলিম শিহাবুদ্দিন আবু বকর আল-কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আস-সাফফার থেকে, তিনি আবু বকর ওয়াজিহ ইবনে তাহির আশ-শাহহামি থেকে, তিনি আবুল কাসিম আল-কুশাইরি থেকে, তিনি আবু বকর ইয়াকুব ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি এবং হাকিম আবুল হাসান আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-ইসমাঈলি থেকে; তারা বলেছেন: আমাদের নিকট আল-খাফফাফ বর্ণনা করেছেন।
আল-ইসমাঈলির জীবনী
তিনি হলেন ইমাম, উপদেশদাতা, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবুল হাসান আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে আহমদ আল-ইসমাঈলি আন-নাইসাবুরি আল-হাকিম। তিনি আল-খাফফাফ, ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল আল-হারবি, আবুল আব্বাস আস-সুলাইতি, আবু আলি আর-রুজাবারি এবং একদল বর্ণনাকারী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে দাসা-এর শিষ্য হাসান ইবনে দাউদ আস-সামারকান্দি থেকে সুনানে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইসমাইল ইবনে আবি সালিহ, জাহির ইবনে তাহির আশ-শাহহামি এবং তার ভাই ওয়াজিহ ও আব্দুল গাফির ইবনে ইসমাইল হাদিস বর্ণনা করেছেন। আব্দুল গাফফার ও সামআনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি ৪৬৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন - সিয়ার (১৮ খণ্ড, ২৫০ পৃষ্ঠা)।
আস-সাইরাফি
তিনি হলেন শাইখ, প্রধান ব্যক্তিত্ব, নির্ভরযোগ্য, মুসনিদ আবু বকর ইয়াকুব ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাইসাবুরি। তিনি আবু মুহাম্মদ আল-মাখলাদি, আবু হুসাইন আল-খাফফাফ, আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আযহারি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তার থেকে মুহাম্মদ ইবনে ফাদল আল-ফারাবি, জাহির ইবনে তাহির এবং তার ভাই ওয়াজিহ ও হিবাতুর রহমান ইবনুল কুশাইরি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি ৪৬৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম যাহাবি বলেন: তার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সঠিক ছিল এবং তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন।
দেখুন: সিয়ার (১৮ খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠা), আত-তাযকিরাহ (৩ খণ্ড, ১১৬০ পৃষ্ঠা), আল-ইবার (৩ খণ্ড, ২৬২ পৃষ্ঠা) এবং শাযারাত (৩ খণ্ড, ৩২৫ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أَبُو بكر الشحامي
هُوَ الشَّيْخ الْعَالم الْعدْل مُسْند خُرَاسَان أَبُو بكر وجيه بن طَاهِر بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمد أخوزاهر الشحامي النَّيْسَابُورِي، ولد سنة خمس وَخمسين وَأَرْبَعمِائَة وَسمع أَبَا الْقَاسِم الْقشيرِي وابا حَامِد الْأَزْهَرِي وَأَبا المظفر الشجاعي وَإِسْمَاعِيل بن مسْعدَة وَأَبا صَالح الْمُؤَذّن وَعلي بن يُوسُف الْجُوَيْنِيّ وَغَيرهم، وَحدث عَنهُ ابْن عَسَاكِر والسمعاني وَمُحَمّد بن أَحْمد الطبسي، وَمُحَمّد بن فضل الله السالاري وَالقَاسِم بن عبد الصفار وَخلق، قَالَ السَّمْعَانِيّ فِي مُعْجم شُيُوخه: كتبت عَنهُ الْكثير وَكَانَ يملي فِي الْجَامِع الْجَدِيد بنيسابور كل جُمُعَة، وَكَانَ كخير الرِّجَال متواضعاً متودداً ألوفاً دَائِم الذّكر كثير التِّلَاوَة، وصُولا للرحم، توفّي سنة إِحْدَى وَأَرْبَعين وَخمْس مائَة. وقدروى الذَّهَبِيّ حَدِيثا فِي السّير عَن أَحْمد بن هبة الله أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم. وَالصَّوَاب الْقَاسِم بن عبد الله أخبرنَا وجيه بن طَاهِر بِهِ عَن السراج حَدثنَا قُتَيْبَة حَدثنَا بكر عَن جَعْفَر بن ربيعَة عَن الْأَعْرَج عَن عبد الله بن مَالك بن بُحَيْنَة أَو رَسُول صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا صلى فرج بَين يَدَيْهِ الحَدِيث، وَهُوَ فِي الْمسند رقم: 1348.
انْظُر: السّير (ج20 ص109) التقيد (ج2 ص287) المنتظم (ج18 ص53) شذرات (ج4 ص130) العبر (ج4 ص113) الْبِدَايَة (ج12 ص262) .
ابْن الصفار
هُوَ الإِمَام الْفَقِيه الْمسند الْجَلِيل شهَاب الدَّين قَاسم بن الشَّيْخ أبي سعد عبد الله بن الْفَقِيه عمر بن أَحْمد النَّيْسَابُورِي مفتي خُرَاسَان ولد سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَخمْس مائَة، سمع من جده وَعَن وجيه الشحامي وَعبد الله بن الفراوي وَمُحَمّد بن مَنْصُور وَهبة الرَّحْمَن الْقشيرِي وعدة، وَحدث عَنهُ البرزالي والضياء الصيريفيني وَابْن الصّلاح والبكري وَمُحَمّد بن مُحَمَّد الإِسْفِرَايِينِيّ وَغَيرهم، وَقَالَ الإِسْفِرَايِينِيّ: مَا رَأَيْت فِي
আবু বকর আশ-শহ্হামী
তিনি হলেন শায়খ, আলিম, ন্যায়নিষ্ঠ, খুরাসানের মুসনিদ আবু বকর ওয়াজিহ ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আখুজাহির আশ-শহ্হামী আন-নাইসাবুরি। তিনি চারশত পঞ্চান্ন হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবুল কাসিম আল-কুশায়রি, আবু হামিদ আল-আযহারি, আবু মুযাফফর আশ-শুজাঈ, ইসমাইল ইবনে মাসআদাহ, আবু সালিহ আল-মুয়াজ্জিন, আলি ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনি এবং অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনে আসাকির, আস-সামআনি, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আত-তাবাসি, মুহাম্মদ ইবনে ফজলুল্লাহ আস-সালারি, কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার এবং এক বিশাল সংখ্যক মানুষ। আস-সামআনি তাঁর 'মুজামু শুয়ুখিহি' গ্রন্থে বলেন: "আমি তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস লিখেছি। তিনি প্রতি জুমুয়াবার নাইসাবুরের জামে জাদিদে হাদিস শ্রুতলিপি (ইমলা) করাতেন। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানুষদের মতো—বিনয়ী, বন্ধুসুলভ, অমায়িক, সর্বদা জিকিরকারী, প্রচুর তিলাওয়াতকারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী। তিনি পাঁচশত একচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।" আয-যাহাবি 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে আহমদ ইবনে হিবাতুল্লাহর সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম। আর সঠিক হলো কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াজিহ ইবনে তাহির এর সূত্রে আস-সিরাজ থেকে, তিনি কুতাইবাহ থেকে, তিনি বাকর থেকে, তিনি জাফর ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহাইনা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাঁর দুই হাতের মাঝে ফাঁক রাখতেন; হাদিসটি মুসনাদে রয়েছে, নম্বর: ১৩৪৮।
দেখুন: আস-সিয়ার (খন্ড ২০, পৃষ্ঠা ১০৯), আত-তাকিয়িদ (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮৭), আল-মুনতাযাম (খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৫৩), শাযারাত (খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩০), আল-ইবার (খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৩), আল-বিদায়া (খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ২৬২)।
ইবনুস সাফফার
তিনি হলেন ইমাম, ফকিহ, মহান মুসনিদ, শিহাবুদ্দিন কাসিম ইবনে শায়খ আবু সা'দ আব্দুল্লাহ ইবনে ফকিহ উমর ইবনে আহমদ আন-নাইসাবুরি, খুরাসানের মুফতি। তিনি পাঁচশত তেত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং ওয়াজিহ আশ-শহ্হামী, আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ফারাওয়ি, মুহাম্মদ ইবনে মানসুর, হিবাতুর রহমান আল-কুশায়রি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আল-বারজালি, আদ-দিয়া আস-সাইরিফিনি, ইবনুস সালাহ, আল-বাকরি, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনি এবং অন্যান্যরা। আল-ইসফারায়িনি বলেন: "আমি এর মধ্যে দেখিনি...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
خُرَاسَان من المشائخ مثل شهَاب الدَّين حلماً وعلماً وَمَعْرِفَة الْمَذْهَب توفّي سنة ثَمَانِي عشرَة وست مائَة.
انْظُر: السّير (ج22 ص109) تَارِيخ الْإِسْلَام ص374، التَّقْيِيد (ج2 ص230) العبر (ج5 ص74) شذرات (ج5 ص81، 82) وَقد مر تَرْجَمَة الْخفاف والقشيري رحمهمَا الله.
رجال إِسْنَاد الْجُزْء الرَّابِع
قَالَ: أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْحَافِظ شمس الدَّين أَبُو الْحجَّاج يُوسُف بن خَلِيل بن عبد الله الدِّمَشْقِي قَالَ: أَنا أَبُو الْقَاسِم يحيى بن أسعد بن يحيى بن يُوسُف الأرجي أَنا أَبُو طَالب عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد بن عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد بن يُوسُف أَنا أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن عبد الرحمان بن مُحَمَّد بن عبد الله بن أَحْمد الحريضي أَنا أَبُو الْحسن الْخفاف.
الحريضي
هُوَ الشَّيْخ أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الحريضي بن أُخْت أبي مَنْصُور بكر بن مُحَمَّد سمع أَبَا الْحُسَيْن الْخفاف وَمُحَمّد بن أَحْمد الْمُزَكي وَمُحَمّد بن الْحسن الْعلوِي وَغَيرهم، وَقَالَ الْخَطِيب: قدم بَغْدَاد وَحدث بهَا فكتبنا عَنهُ، وَكَانَ صَدُوقًا خيرا صَالحا، قَالَ: وَسَأَلت الحريضي عَن مولده فَقَالَ: ولدت سنة خمس وَثَمَانِينَ وثلاثمائة، وَكَانَ أَقَامَ بِبَغْدَاد مُدَّة ثمَّ خرج مُتَوَجها إِلَى نيسابور فَبَلغنَا أَنه مَاتَ بهمذان فِي إِحْدَى الجمادين من سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَأَرْبع مائَة، وَقَالَ السَّمْعَانِيّ: كَانَ صَدُوقًا صَالحا، وقدروى الْخَطِيب عَنهُ حَدِيثا من مُسْند السراج، وَهُوَ حَدِيث رقم: 661.
انْظُر: تَارِيخ بَغْدَاد (ج2 ص324) ، الْأَنْسَاب ق (166/1) اللّبَاب (ج1 ص361)
খোরাসানের শায়খগণের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের মতো ধৈর্যশীল, জ্ঞানী এবং মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৬১৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ১০৯), তারিখুল ইসলাম (পৃষ্ঠা ৩৭৪), আত-তাকয়ীদ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩০), আল-ইবার (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭৪), শাযারাত (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৮১, ৮২) এবং আল-খাফফাফ ও আল-কুশায়রী (আল্লাহ তাঁদের উপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর জীবনী ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
চতুর্থ অংশের বর্ণনাকারীগণের পরিচিতি
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলেম, হাফিজ শামসুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ আল-আরজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হারিদি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-খাফফাফ।
আল-হারিদি
তিনি হলেন শায়খ আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-হারিদি, যিনি আবু মনসুর বকর ইবনে মুহাম্মদের ভাগ্নে। তিনি আবুল হুসাইন আল-খাফফাফ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুযাক্কি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-আলাবি এবং অন্যদের থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। আল-খতিব বলেন: তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে হাদীস বর্ণনা করেন, তাই আমরা তাঁর থেকে হাদীস লিখেছি। তিনি সত্যবাদী, কল্যাণকামী এবং নেককার ছিলেন। তিনি বলেন: আমি আল-হারিদিকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন: আমি ৩৮৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি। তিনি এক সময় বাগদাদে অবস্থান করেছিলেন, তারপর নিশাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি ৪৪৬ হিজরি সনের জুমাদাল উলা বা জুমাদাস সানি মাসের কোনো এক সময় হামাদানে মৃত্যুবরণ করেন। আস-সামআনি বলেন: তিনি সত্যবাদী ও নেককার ছিলেন। আল-খতিব তাঁর থেকে মুসনাদ আস-সাররাজ এর একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা ৬৬১ নম্বর হাদীস।
দেখুন: তারিখু বাগদাদ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২৪), আল-আনসাব (১/১৬৬), আল-লুবাব (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬১)
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أَبُو طَالب اليوسفي
هُوَ الشَّيْخ الْأمين الثِّقَة الْعَالم الْمسند أَبُو طَالب عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد بن عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد بن يُوسُف الْبَغْدَادِيّ اليوسفي، ولد سنة نَيف وَثَلَاثِينَ وَأَرْبع مائَة، سمع المصنفات الْكِبَار من أبي عَليّ بن الْمَذْهَب وَأبي إِسْحَاق الْبَرْمَكِي وَأبي بكر بن بَشرَان وَأبي مُحَمَّد الْجَوْهَرِي، وعدة، وَتفرد فِي وقته حدث عَنهُ السلَفِي وَأَبُو الْعَلَاء الْعَطَّار وَهبة الله الصائن وَالشَّيْخ عبد الْقَادِر وَعبد الْحق اليوسفي وَأَبُو الْقَاسِم يحيى بن أسعد الْأَزجيّ وَأَبُو مَنْصُور مُحَمَّد بن أَحْمد الدقاق وَخلق كثير، قَالَ السَّمْعَانِيّ: شيخ صَالح ثِقَة دين متحر فِي الرِّوَايَة، كثير السماع، انتشرت عَنهُ الرِّوَايَات فِي الْبلدَانِ، وَقَالَ السلَفِي: كَانَ كَامِل الْفضل، حسن الْجُمْلَة ثِقَة متحرياً إِلَى غَايَة، مَا عَلَيْهَا مزِيد، قل من رَأَيْت مثله، وَكَانَ أَبوهُ أزهد خلق الله، توفّي سنة سِتّ عشرَة وَخمْس مائَة وَقَالَ ابْن النقطة: كَانَ من الثِّقَات المأمونين المكثرين.
… انْظُر: السّير (ج19 ص386) التَّقْيِيد (ج2 ص110) العبر (ج4 ص38) (شذرات ج4 ص49) المنتظم (ج17 ص211) .
أَبُو الْقَاسِم الْأَزجيّ
هُوَ الشَّيْخ المعمر الرحلة أَبُو الْقَاسِم يحيى أسعد بن يحيى بن مُحَمَّد بن بوش الْبَغْدَادِيّ الْأَزجيّ سمع من أبي طَالب بن يُوسُف وَأبي الْغَنَائِم مُحَمَّد بن مُحَمَّد وَالْحسن بن مُحَمَّد الباقرحي، وابي سعد ابْن الطيوري، وَأبي غَالب عبيد الله بن عبد الْملك الشهرزوري وَغَيرهم وَأخذ عَنهُ جمَاعَة من النبلاء مِنْهُم أَبُو الْحجَّاج يُوسُف بن خَلِيل الدِّمَشْقِي وَالشَّيْخ موفق الدَّين والبهاء عبد الرَّحْمَن وَمُحَمّد بن عبد الْعَزِيز الصَّواف وَمُحَمّد بن عبد الْقَادِر الْبَنْدَنِيجِيّ وَتَمِيم بن مَنْصُور الرصافي ومحيي الدَّين ابْن الْجَوْزِيّ وَغَيرهم توفى ثَلَاث وَتِسْعين وَخمْس مائَة، وَمن سَمَاعه الْمسند كُله على
আবু তালিব আল-ইউসুফী
তিনি হলেন নির্ভরযোগ্য, আমানতদার শায়খ, আলিম ও মুসনিদ আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-বাগদাদী আল-ইউসুফী। তিনি চারশ ত্রিশ হিজরীর কিছুকাল পরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু আলী ইবনুল মাযহাব, আবু ইসহাক আল-বারমাকী, আবু বকর ইবনে বাশরান এবং আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারীসহ আরও অনেকের নিকট থেকে বৃহৎ গ্রন্থাবলি শ্রবণ করেছেন। স্বীয় যুগে তিনি অনন্য ছিলেন। তাঁর নিকট থেকে আস-সিলাফী, আবু আল-আলা আল-আত্তার, হিবাতুল্লাহ আস-সায়িন, শায়খ আব্দুল কাদির, আব্দুল হক আল-ইউসুফী, আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ আল-আজজী, আবু মানসুর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক এবং আরও বহু লোক হাদিস বর্ণনা করেছেন। আস-সামআনী বলেছেন: তিনি একজন সৎকর্মশীল, নির্ভরযোগ্য ও দ্বীনদার শায়খ ছিলেন, যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। বিভিন্ন দেশে তাঁর বর্ণনাগুলো ছড়িয়ে পড়েছিল। আস-সিলাফী বলেছেন: তিনি পূর্ণ ফযিলতের অধিকারী, সচ্চরিত্রবান, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ের সতর্ক ব্যক্তি ছিলেন, যার উপরে আর কিছু নেই। আমি তাঁর মতো ব্যক্তি খুব কমই দেখেছি। তাঁর পিতা ছিলেন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় যাহিদ। তিনি ৫১৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। ইবনুন নুকতাহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমানতদার এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
… দেখুন: আস-সিয়ার (১৯তম খণ্ড, ৩৮6 পৃষ্ঠা), আত-তাকয়ীদ (২য় খণ্ড, ১১০ পৃষ্ঠা), আল-ইবার (৪র্থ খণ্ড, ৩৮ পৃষ্ঠা), শাযারাত (৪র্থ খণ্ড, ৪৯ পৃষ্ঠা), আল-মুনতাজাম (১৭তম খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা)।
আবুল কাসিম আল-আজজী
তিনি হলেন দীর্ঘায়ু লাভকারী শায়খ ও পর্যটক আবুল কাসিম ইয়াহইয়া আসআদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুশ আল-বাগদাদী আল-আজজী। তিনি আবু তালিব ইবনে ইউসুফ, আবু আল-গানায়িম মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ, আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকারহী, আবু সাদ ইবনুত তুয়ুরী, আবু গালিব উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মালিক আশ-শাহরাযূরী এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। একদল মহৎ ব্যক্তি তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলীল আদ-দিমাশকী, শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দীন, আল-বাহাউ আব্দুর রহমান, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয আস-সাউওয়াফ, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির আল-বান্দানিজী, তামীম ইবনে মানসুর আর-রুসাফী, মুহিউদ্দীন ইবনুল জাওযী এবং আরও অনেকে। তিনি ৫৯৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শ্রবণকৃত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হলো সম্পূর্ণ মুসনাদ যা তিনি...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ابْن الْحصين، قَالَ ابْن الدبيثي: كَانَ سَمَاعه صَحِيحا وبورك فِي عمره واحتيج إِلَيْهِ وَحدث أَرْبَعِينَ سنة.
انْظُر: السّير (ج21 ص243) وَالتَّقْيِيد (ج2 ص305) والعبر (ج4 ص283) وشذرات (ج4 ص315) التكملة لِلْمُنْذِرِيِّ (ج1 ص290) وَغَيرهَا.
يُوسُف بن خَلِيل
هُوَ الإِمَام الْمُحدث الصَّادِق الرّحال النقال شيخ الْمُحدثين رِوَايَة الْإِسْلَام أَبُو الْحجَّاج شمس الدَّين يُوسُف بن خَلِيل الدِّمَشْقِي ولد سنة خمس وَخمسين وَخمْس مائَة، سمع من يحيى الثَّقَفِيّ وَمُحَمّد بن عَليّ بن صَدَقَة وَعبد الرَّحْمَن بن عَليّ الْخرقِيّ وَإِسْمَاعِيل الجنزوي وَأبي طَاهِر الخشوعي وأقرانهم، وَصَحب الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ وَسمع من أبي مَنْصُور عبد الله بن عبد السَّلَام وَغَيرهم ومشيخته نَحْو الْخمس مائَة، وَحدث عَنهُ جمَاعَة من القدماء، وَكتب عَنهُ الْحَافِظ إِسْمَاعِيل ابْن الانماطي وزكي الدَّين البرزالي وشهاب الدَّين القوصي ومجد الدَّين ابْن الحلوانية وَغَيرهم، وَكَانَ حسن الْأَخْلَاق مرضِي السِّيرَة، خرج لنَفسِهِ الثمانيات وأجزاء عوالي، كعوالي هِشَام بن عُرْوَة وعوالي الْأَعْمَش وعوالي أبي حنيفَة وعوالي أبي عَاصِم وَمَا اجْتمع فِيهِ أَرْبَعَة من الصَّحَابَة وَغير ذَلِك وروى كتبا كبارًا كالحلية، والمعجم الْكَبِير والطبقات لِابْنِ سعد وَسنَن الدَّارقطني والْآثَار للطحاوي ومسند الطَّيَالِسِيّ وَالسّنَن لأبي قُرَّة وَالدُّعَاء للطبراني وَجُمْلَة من تصانيف ابْن أبي عَاصِم وَكثير من تصانيف أبي الشَّيْخ وَالطَّبَرَانِيّ وَأبي نعيم وَانْقطع بِمَوْتِهِ سَماع أَشْيَاء كَثِيرَة لخراب أَصْبَهَان توفّي سنة ثَمَان وَأَرْبَعين وست مائَة.
انْظُر: السّير (ج23 ص151) التَّذْكِرَة (ج4 ص1410) العبر (ج5 ص201) الشذرات (ج5 ص243) الْمُسْتَفَاد (ج19 ص263) ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة (ج2
ইবনুল হুসাইন। ইবনে দুবাইসী বলেন: তার শ্রবণ (হাদিস গ্রহণ) সঠিক ছিল, তার আয়ুষ্কালে বরকত দেয়া হয়েছিল, তার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল এবং তিনি চল্লিশ বছর যাবৎ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (খণ্ড ২১, পৃষ্ঠা ২৪৩), আত-তাকয়ীদ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৫), আল-ইবার (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮৩), শাযারাত (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৫), মুনযিরীর আত-তাকমিলাহ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০) এবং অন্যান্য।
ইউসুফ ইবনে খলিল
তিনি হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, সত্যবাদী, দেশভ্রমণকারী, বর্ণনাকারী, মুহাদ্দিসগণের শায়খ, ইসলামের বর্ণনাকারী আবু হাজ্জাজ শামসুদ্দীন ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি। তিনি পাঁচশত পঞ্চান্ন হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়াহইয়া আস-সাকাফি, মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সাদাকাহ, আবদুর রহমান ইবনে আলী আল-খারকি, ইসমাইল আল-জানযাওয়ি, আবু তাহের আল-খুশুয়ি ও তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি হাফেজ আবদুল গনির সাহচর্য লাভ করেন এবং আবু মনসুর আবদুল্লাহ ইবনে আবদুস সালাম ও অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছেন। তাঁর শায়খ বা উস্তাদদের সংখ্যা প্রায় পাঁচশত। প্রাচীনদের একটি দল তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইসমাইল ইবনুল আনমাতি, যাকিউদ্দীন আল-বিরযালি, শিহাবুদ্দীন আল-কুসি, মাজদুদ্দীন ইবনুল হালওয়ানিয়া এবং অন্যরা তাঁর নিকট থেকে (হাদিস) লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি উত্তম চরিত্র ও পছন্দনীয় জীবনরীতির অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজের জন্য ‘সামানিয়াত’ (আট বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস) এবং ‘আওয়ালি’ (উচ্চ সনদ সংবলিত হাদিস) অংশসমূহ সংকলন করেছেন; যেমন হিশাম ইবনে উরওয়ার আওয়ালি, আ'মাশের আওয়ালি, আবু হানিফার আওয়ালি, আবু আসিমের আওয়ালি এবং যাতে চারজন সাহাবী একত্রিত হয়েছেন এমন বর্ণনা ও অন্যান্য। তিনি বড় বড় গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন যেমন ‘হিলয়াহ’, ‘আল-মু'জামুল কাবীর’, ইবনে সা’দের ‘আত-তাবাকাত’, ‘সুনানে দারা কুতনী’, ত্বহাভীর ‘আল-আসার’, ‘মুসনাদে তায়ালিসি’, আবু কুররাহর ‘আস-সুনান’, তাবারানির ‘আদ-দুয়া’, ইবনে আবি আসিমের অনেকগুলো রচনা এবং আবুশ শায়খ, তাবারানি ও আবু নুয়াইমের অনেকগুলো রচনা। ইসফাহান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে অনেক কিছুরই শ্রবণের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি ছয়শত আটচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (খণ্ড ২৩, পৃষ্ঠা ১৫১), আত-তাযকিরাহ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৪১০), আল-ইবার (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০১), আশ-শাযারাত (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪৩), আল-মুস্তাফাদ (খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ২৬৩), যায়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (খণ্ড ২)
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ص244) طَبَقَات الْحَافِظ (ص 495) .
رجال إِسْنَاد الْجُزْء الثَّانِي من الثَّانِي
قَالَ: أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام أَبُو المظفر السَّمْعَانِيّ قلت لَهُ: أخْبركُم أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ الشحامي وَأَبُو سعد سعيد بن الْحُسَيْن بن إِسْمَاعِيل الريوندي الْجَوْهَرِي قَالَ: أَنا أَبُو الْقَاسِم الْفضل بن عبد الله بن مُحَمَّد بن الْمُحب قَالَ: أَنا الْخفاف.
ابْن الْمُحب
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْوَاعِظ الْمسند أَبُو الْقَاسِم الْفضل بن عبد الله بن الْمُحب النَّيْسَابُورِي سمع من أبي الْحُسَيْن الْخفاف، وَبِه ختم حَدِيثه، وَأبي الْحُسَيْن الْعلوِي وَعبد الله بن يُوسُف الاصبهاني وَابْن محمش وَطَائِفَة، وَحدث عَنهُ ابْن طَاهِر وزاهر الشحامي وَسَعِيد بن الْحُسَيْن الْجَوْهَرِي وَأَبُو طَالب مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الكنجرودي وَالْحُسَيْن بن عَليّ الشحامي وَأَبُو الأسعد ابْن الْقشيرِي وَخلق كثير، قَالَ ابْن طَاهِر: رحلت من مصر لأجل الْفضل ابْن الْمُحب صَاحب الْخفاف فَلَمَّا دخلت قَرَأت عَلَيْهِ فِي أول مجْلِس جزئين من حَدِيث السراج، وكل حَدِيث من الْجُزْء يُسَاوِي رحْلَة قَالَ الذَّهَبِيّ: قد صنف فِي الْوَعْظ، وَكَانَ خيرا دينا عَالما أثنى عَلَيْهِ السَّمْعَانِيّ، توفّي سنة ثَلَاث وَسبعين وَأَرْبع مائَة.
انْظُر: السّير (ج18 ص378) والعبر (ج3 ص279) وشذرات (ج3 ص343) والأنساب ق (510/2) .
الْجَوْهَرِي
هُوَ الشَّيْخ أَبُو سعد سعيد بن حُسَيْن بن إِسْمَاعِيل الريوندي الْجَوْهَرِي ذكر الذَّهَبِيّ أَنه توفّي سنة خمسين وَخمْس مائَة. كَمَا فِي السّير (ج20 ص291) وَذكره فِي تَارِيخ الْإِسْلَام (ص423) وَقَالَ: سعيد بن الْحسن أَبُو سعد النَّيْسَابُورِي الريوندي
(পৃষ্ঠা ২৪৪) তাবাকাতুল হাফিজ (পৃষ্ঠা ৪৯৫)।
দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় ভাগের বর্ণনাকারীগণের পরিচিতি
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবু মুজাফফর আস-সামআনী। আমি তাকে বললাম: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী আশ-শাহামী এবং আবু সাদ সাঈদ বিন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আর-রিওয়ান্দি আল-জাওহারী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-ফাদল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহিব। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খাফফাফ।
ইবনুল মুহিব
তিনি হলেন শাইখ ইমাম, ওয়াজকারীন (উপদেশদাতা) এবং মুসনিদ আবু কাসিম আল-ফাদল বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুহিব আন-নিশাপুরী। তিনি আবু হুসাইন আল-খাফফাফ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তার মাধ্যমেই তার বর্ণিত হাদিসের সিলসিলার সমাপ্তি ঘটে। এছাড়া তিনি আবুল হুসাইন আল-আলাভি, আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-আসফাহানি, ইবনু মাহমাশ এবং একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনু তাহির, জাহির আশ-শাহামী, সাঈদ বিন আল-হুসাইন আল-জাওহারী, আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কানজারুদী, হুসাইন বিন আলী আশ-শাহামী, আবুল আসআদ ইবনুল কুশাইরী এবং অসংখ্য বর্ণনাকারী। ইবনু তাহির বলেন: আমি আল-খাফফাফের ছাত্র আল-ফাদল ইবনুল মুহিবের উদ্দেশ্যে মিশর থেকে সফর করেছি। যখন আমি সেখানে পৌঁছলাম, প্রথম মজলিসেই তার কাছে সিরাজের হাদিসের সংকলন থেকে দুটি অংশ পাঠ করলাম; আর সেই সংকলনের প্রতিটি হাদিসই ছিল এক একটি দীর্ঘ সফরের সমতুল্য। যাহাবী বলেন: তিনি নসিহত বা উপদেশের বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনি অত্যন্ত কল্যাণময়, ধার্মিক ও বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। সামআনী তার প্রশংসা করেছেন। তিনি ৪৭৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
দেখুন: আস-সিয়ার (১৮ খণ্ড, ৩৭৮ পৃষ্ঠা), আল-ইবার (৩ খণ্ড, ২৭৯ পৃষ্ঠা), শাযারাত (৩ খণ্ড, ৩৪৩ পৃষ্ঠা) এবং আল-আনসাব (২/৫১০)।
আল-জাওহারী
তিনি হলেন শাইখ আবু সাদ সাঈদ বিন হুসাইন বিন ইসমাইল আর-রিওয়ান্দি আল-জাওহারী। যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৫৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি আস-সিয়ার গ্রন্থে (২০ খণ্ড, ২৯১ পৃষ্ঠা) বর্ণিত হয়েছে। তিনি তার জীবনী তারিখুল ইসলাম (৪২৩ পৃষ্ঠা) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সাঈদ বিন আল-হাসান আবু সাদ আন-নিশাপুরী আর-রিওয়ান্দি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الْجَوْهَرِي صَالح عفيف، سمع الْفضل ابْن الْمُحب وَإِسْمَاعِيل بن مسْعدَة ولد سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة، كتب عَنهُ ابْن السَّمْعَانِيّ وَطَائِفَة – وَقد مر تَرْجَمَة أبي المظفر السَّمْعَانِيّ، وَكَذَا تراجم رجال الْجُزْء التَّاسِع والعاشر وَالْحَادِي عشر، إِلَّا الْحُسَيْن بن عَليّ الشحامي فأذكره هَاهُنَا.
أَبُو عَليّ الشحامي
هُوَ الشَّيْخ الرئيس الأوحد أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد الشحامي النَّيْسَابُورِي سمع الْكثير من الْفضل بن الْمُحب وَأبي بكر بن خلف والصرام وَمُحَمّد بن إِسْمَاعِيل التفليسي، وَعنهُ السَّمْعَانِيّ وَابْنه عبد الرَّحِيم، توفّي بمرو لَيْلَة نصف شعْبَان سنة خمس وَأَرْبَعين وَخمْس مائَة قَالَ السَّمْعَانِيّ: وجدنَا جُزْءا من حَدِيث السراج سَماع أبي عَليّ الشحامي عَن أبي الْقَاسِم الْفضل بن عبد الله بن الْمُحب.
انْظُر: السّير (ج20 ص223) العبر (ج4 ص123، 124) شذرات (ج4 ص139) التحبير (ج1 ص194) .
وَأما تراجم رجال الْجُزْء الثَّانِي عشر فقد مر آنِفا وَكَذَا تراجم الْجُزْء (الآخر) .
الضياء الْمَقْدِسِي
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الْقدْوَة الْمُحَقق المجود الْحجَّة بَقِيَّة السّلف ضِيَاء الدَّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن بن إِسْمَاعِيل بن مَنْصُور الْمَقْدِسِي السَّعْدِيّ الجماعيلي ثمَّ الدِّمَشْقِي ولد سنة تسع وَسِتِّينَ وَخمْس مائَة، وَأَجَازَ لَهُ الْحَافِظ السلَفِي وشهدة الْكِتَابَة وَعبد الْحق اليوسفي وَسمع من أبي الْمَعَالِي بن صابر وَأبي المظفر السَّمْعَانِيّ وَأبي الْفرج ابْن الْجَوْزِيّ وَعمر بن حمويه وَيحيى الثَّقَفِيّ وَأبي الْقَاسِم البوصيري وزاهر بن أَحْمد الثَّقَفِيّ وَخلق كثير، وَتخرج بِالْحَافِظِ عبد الْغَنِيّ وبرع فِي هَذَا الشَّأْن، وَكتب عَنهُ أقرانه، وَمن هُوَ دونه، وَحصل الْأُصُول الْكَثِيرَة وجرح
আল-জাওহারী সালিহ আফিফ; তিনি ফাদল ইবনুল মুহিব্ব এবং ইসমাঈল ইবনে মাসআদাহ থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি চারশ একষট্টি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে সামআনী এবং একদল (উলামা) তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছেন—আবু মুজাফফর আস-সামানীর জীবনী ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তেমনিভাবে নবম, দশম এবং একাদশ জুযের বর্ণনাকারীদের জীবনীও অতিবাহিত হয়েছে, তবে হুসাইন ইবনে আলী আশ-শুহামী ব্যতীত; তাই আমি তাঁর কথা এখানে উল্লেখ করছি।
আবু আলী আশ-শুহামী
তিনি হলেন শাইখ, অদ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শুহামী আন-নিসাবুরী। তিনি আল-ফাদল ইবনুল মুহিব্ব, আবু বকর ইবনে খালাফ, আস-সাররাম এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আত-তিফলিসী থেকে অনেক (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে আস-সামআনী এবং তাঁর পুত্র আব্দুর রহীম বর্ণনা করেছেন। তিনি পাঁচশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনের শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে মার্ভ শহরে মৃত্যুবরণ করেন। আস-সামআনী বলেন: আমরা সিরাজের হাদিসের একটি অংশ পেয়েছি, যা আবু কাসিম আল-ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুহিব্ব থেকে আবু আলী আশ-শুহামীর শ্রবণকৃত।
দেখুন: আস-সিয়ার (খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ২২৩), আল-ইবার (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১২৩, ১২৪), শাযারাত (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৯), আত-তাহবীর (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৪)।
আর দ্বাদশ জুযের বর্ণনাকারীদের জীবনী ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং তেমনিভাবে (পরবর্তী) জুযের জীবনীগুলোও।
আদ-দিয়া আল-মাকদিসী
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, হাফেজ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, মুহাক্কিক, মুজাওউইদ, হুজ্জাহ, সালাফদের অবশিষ্টাংশ যিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাঈল ইবনে মনসুর আল-মাকদিসী আস-সা’দী আল-জামাঈলী অতঃপর আদ-দিমাশকী। তিনি পাঁচশ উনসত্তুর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। হাফেজ আস-সালাফী, শুহদাহ আল-কাতিবাহ এবং আব্দুল হক আল-ইউসুফী তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তিনি আবুল মাআলী ইবনে সাবির, আবু মুজাফফর আস-সামআনী, আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী, উমর ইবনে হামুওয়াইহ, ইয়াহইয়া আস-সাকাফী, আবুল কাসিম আল-বুসীরী, যাহির ইবনে আহমাদ আস-সাকাফী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। তিনি হাফেজ আব্দুল গণীর নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং এই শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর সমসাময়িক এবং কনিষ্ঠরা তাঁর থেকে (হাদিস) লিখে নিয়েছেন। তিনি প্রচুর পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন এবং জারাহ (সমালোচনা)...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَعدل وَصحح وَعلل وَقيد وأهمل مَعَ الدّيانَة وَالْأَمَانَة وَالتَّقوى والصيانة والورع والتواضع والصدق وَالْإِخْلَاص وَصِحَّة النَّقْل قَالَ زكي الدَّين البرزالي: حَافظ ثِقَة جبل دين خير، وَقَالَ الشَّيْخ عز الدَّين عبد الرَّحْمَن: مَا جَاءَ بعد الدَّارقطني مثل شَيخنَا، وَقَالَ الْحَافِظ شرف الدَّين يُوسُف بن بدر: رحم الله شَيخنَا كَانَ عَظِيم الشَّأْن فِي الْحِفْظ وَمَعْرِفَة الرِّجَال، وَهُوَ كَانَ الْمشَار إِلَيْهِ فِي علم صَحِيح الحَدِيث وسقيمه، مَا رَأَتْ عَيْني مثله، وَقَالَ عمر بن الْحَاجِب: شَيخنَا الضياء شيخ وقته، ونسيج وَحده علما وحفظاً وثقة ودينا من الْعلمَاء الربانيين وَهُوَ أكبر من أَن يدل عَلَيْهِ مثلي، وَقد روى عَنهُ خلق كثير مِنْهُم ابْن نقطة وَابْن النجار وَسيف الدَّين ابْن الْمجد وزكي الدَّين البرزالي، وَابْن الْأَزْهَر الصريفيني ومجد الدَّين ابْن الحلوانية وَشرف الدَّين ابْن النابلسي وابنا أَخَوَيْهِ الشَّيْخ فَخر الدَّين عَليّ ابْن البُخَارِيّ، وَالشَّيْخ شمس الدَّين مُحَمَّد بن الْكَمَال عبد الرَّحِيم، والحافظ أَبُو الْعَبَّاس وعدة، قَالَ ابْن النجار: كتب الْكتب الْكِبَار بِخَطِّهِ، وَحصل النّسخ بِبَعْضِهَا بهمة عالية وجد واجتهاد وَتَحْقِيق وإتقان، وَهُوَ حَافظ متقن ثَبت صَدُوق نبيل حجَّة عَالم بِالْحَدِيثِ وأحوال الرِّجَال، وَله مجموعات وتخريجات وَهُوَ ورع تَقِيّ زاهد عَابِد محتاط فِي أكل الْحَلَال مُجَاهِد فِي
سَبِيل الله ولعمري مَا رَأَتْ الْحَافِظ ضِيَاء الدَّين أعلم بِالْحَدِيثِ وَالرِّجَال من الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ – توفّي سنة ثَلَاث وَأَرْبَعين وست مائَة – وَمن تصانيفه الْمَشْهُورَة "الْأَحْكَام" وَلم يتم فِي ثَلَاث مجلدات، وَالْأَحَادِيث المختارة، تستعين جُزْءا وفضائل الْأَعْمَال وفضائل الْقُرْآن، ومناقب أَصْحَاب الحَدِيث، وَالنَّهْي عَن سبّ الصَّحَابَة، وفضائل الشَّام، وسيرة شَيْخه الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ وَالشَّيْخ الْمُوفق.
انْظُر: السّير (ج23 ص126) التَّذْكِرَة (ج4 ص1405) العبر (ج5 ص179) الْبِدَايَة (ج13 ص169) ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة (ج2 ص236، 240) الشذرات
তিনি ধার্মিকতা, আমানতদারি, তাকওয়া, আত্মসংযম, পরহেজগারি, বিনয়, সত্যবাদিতা, ইখলাস এবং বর্ণনার বিশুদ্ধতার সাথে হাদিসের রাবিদের ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিপন্ন করেছেন, সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, ইল্লাত (ত্রুটি) বর্ণনা করেছেন, কাইদ (শর্তযুক্ত) করেছেন এবং কোনো ক্ষেত্রে উপেক্ষা করেছেন। জাকিউদ্দীন আল-বিরজালি বলেন: তিনি একজন হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, দ্বীনের পাহাড় এবং কল্যাণময় ব্যক্তি। শায়খ ইযযুদ্দীন আব্দুর রহমান বলেন: দারা কুতনির পরে আমাদের শায়খের মতো আর কেউ আসেনি। হাফেজ শারাফুদ্দীন ইউসুফ বিন বদর বলেন: আল্লাহ আমাদের শায়খের ওপর রহম করুন, তিনি হিফজ এবং রিজাল শাস্ত্রের জ্ঞানে সুমহান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সহিহ এবং জঈফ হাদিসের ইলমে তিনিই ছিলেন প্রধান লক্ষ্যস্থল; আমার চোখ তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি। উমর ইবনুল হাজিব বলেন: আমাদের শায়খ যিয়া (উদ্দীন) তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ এবং ইলম, হিফজ, বিশ্বস্ততা ও দ্বীনদারিতে তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি ছিলেন রব্বানি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এতোই মহান যে আমার মতো ব্যক্তির পক্ষে তাঁর পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাঁর থেকে অসংখ্য লোক বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে নুকতাহ, ইবনুন নাজ্জার, সাইফুদ্দীন ইবনুল মাজদ, জাকিউদ্দীন আল-বিরজালি, ইবনুল আযহার আস-সারিফিনি, মাজদুদ্দীন ইবনুল হালওয়ানিয়াহ, শারাফুদ্দীন ইবনুন নাবুলসি, তাঁর দুই ভাতিজা শায়খ ফাখরুদ্দীন আলি ইবনুল বুখারি এবং শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আল-কামাল আব্দুর রহিম, হাফেজ আবুল আব্বাস এবং আরও অনেকে। ইবনুন নাজ্জার বলেন: তিনি নিজ হাতে বড় বড় কিতাব লিখেছেন এবং সুউচ্চ হিম্মত, প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, তাহকিক ও নিখুঁতভাবে সেগুলোর অনুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি একজন সুসংহত হাফেজ, সুদৃঢ়, পরম সত্যবাদী, মহৎ, হুজ্জাত (দলিল) এবং হাদিস ও রাবিদের অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তাঁর অনেক মজমুআ (সংকলন) ও তাখরিজ রয়েছে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার, হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অতি সাবধানী এবং আল্লাহর পথে
জিহাদকারী। আমার জীবনের কসম, আমি হাফেজ আব্দুল গনি—যিনি ৬৪৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন—তাঁর পরে হাফেজ যিয়াউদ্দীন অপেক্ষা হাদিস ও রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ আর কাউকে দেখিনি। তাঁর প্রসিদ্ধ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘আল-আহকাম’ যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত হয়নি, ‘আল-আহাদিস আল-মুখতারা’, যা নব্বইটি অংশে বিভক্ত, ‘ফাদায়িলুল আমাল’, ‘ফাদায়িলুল কুরআন’, ‘মানাকিবু আসহাবিল হাদিস’, ‘আন-নাহইউ আন সাব্বিস সাহাবাহ’, ‘ফাদায়িলুশ শাম’ এবং তাঁর উস্তাদ হাফেজ আব্দুল গনি ও শায়খ আল-মুওয়াফফাকের জীবনী।
দেখুন: আস-সিয়ার (২৩তম খণ্ড, ১২৬ পৃষ্ঠা), আত-তাযকিরাহ (৪র্থ খণ্ড, ১৪০৫ পৃষ্ঠা), আল-ইবার (৫ম খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা), আল-বিদায়া (১৩তম খণ্ড, ১৬৯ পৃষ্ঠা), যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২য় খণ্ড, ২৩৬ ও ২৪০ পৃষ্ঠা), আশ-শাযারাত।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
(ج5 ص224) فَوَات الوفيات (ج3 ص426) .
كَلَام لابد مِنْهُ
لَا يخفى على الطلاب أَن الْحَافِظ ابْن حجر يذكر كثيراًَ من الْأَحَادِيث من الْمسند السراج فِي الْفَتْح وتغليق التَّعْلِيق، وَهنا ذكر أَحَادِيث من الْمسند لَكِن لم تُوجد فِي هَذِه الْأَجْزَاء.
(1) مِنْهَا مَا رَوَاهُ من طَرِيق الْخفاف أَنا مُحَمَّد بن إِسْحَاق السراج ثَنَا مُحَمَّد بن يحيى ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس ثَنَا سُلَيْمَان بن بِلَال عَن ابْن شهَاب عَن عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة عَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الله عَلَيْهِ وَسلم شرب لَبَنًا فَتَمَضْمَض ثمَّ قَالَ: إِن لَهُ دسماً.
ثمَّ قَالَ الْحَافِظ: وَأما مُتَابعَة صَالح قَالَ السراج فِي مُسْنده بِالْإِسْنَادِ الْمُتَقَدّم إِلَيْهِ: حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى ثَنَا يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم هُوَ ابْن سعد حَدثنِي أبي عَن صَالح هُوَ ابْن كسيان عَن الزُّهْرِيّ مثله كَمَا فِي التغليق (ج2 ص205) وَقَالَ: قَالَ السراج فِي مُسْنده حَدثنَا إِسْحَاق ثَنَا عبد الله بن الْحَارِث المَخْزُومِي ثَنَا الضَّحَّاك بن عُثْمَان عَن إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن حنين عَن أبي مرّة عَن أم هَانِيء بنت أبي طَالب قَالَت: رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، يُصَلِّي فِي ثوب وَاحِد مُخَالفا بَين طَرفَيْهِ ثَمَانِي رَكْعَات بِمَكَّة يَوْم الْفَتْح - ثمَّ رَوَاهُ من طَرِيق سعيد المَقْبُري عَن أبي مرّة، ثمَّ قَالَ: وَقَالَ السراج أَيْضا ثَنَا جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّائِغ ثَنَا شُرَيْح بن النُّعْمَان ثَنَا فليح بن سُلَيْمَان عَن سعيد نَحوه.
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ فِي التغليق (ج2 ص123) عَن أبي سعيد أَن رَسُول الله صلى
(৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা) ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত (৩য় খণ্ড, ৪২৬ পৃষ্ঠা)।
একটি অত্যাবশ্যকীয় আলোচনা
শিক্ষার্থীদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' এবং 'তাগলিকুত তালীক'-এ মুসনাদে সিরাজ থেকে অনেক হাদিস উল্লেখ করেছেন। আর এখানেও তিনি মুসনাদ থেকে হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলো এই খণ্ডগুলোতে পাওয়া যায়নি।
(১) সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যা তিনি খাফ্ফাফের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সিরাজ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুলাইমান বিন বিলাল বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন, অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেন: এতে চর্বি রয়েছে।
অতঃপর হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: সালেহ এর মুতাবেআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) সম্পর্কে সিরাজ তার মুসনাদে পূর্বোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন ইবরাহিম—যিনি ইবনে সাদ—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট সালেহ—যিনি ইবনে কায়সান—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'তাগলিকুত তালীক' (২য় খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা)-এ রয়েছে। এবং তিনি বলেছেন: সিরাজ তার মুসনাদে বলেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন হারেস আল-মাখজুমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট দহহাক বিন উসমান বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হুনাইন থেকে, তিনি আবু মুররাহ থেকে, তিনি আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানি (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কা বিজয়ের দিন একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে তার দুই প্রান্তের মাঝে বিপরীতমুখী করে আট রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছি। - অতঃপর তিনি সাঈদ আল-মাকবুরির সূত্রে আবু মুররাহ থেকে বর্ণনা করেন। তারপর তিনি বলেন: সিরাজ আরও বলেছেন, আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সায়েগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট শুরাইহ বিন নুমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ফালিহ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে অনুরূপ হাদিস।
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যা তিনি 'তাগলিকুত তালীক' (২য় খণ্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা)-এ আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الله عَلَيْهِ وَسلم مر على رجل من الْأَنْصَار فَدَعَاهُ فَخرج إِلَيْهِ وَرَأسه يقطر، فَقَالَ: لَعَلَّنَا أعجلناك قَالَ: نعم، قَالَ: قَالَ: إِذا أعجلت أَو أقحطت فَعَلَيْك الْوضُوء وَعَزاهُ فِي التفح (ج1 ص284) لمُسْند السراج أَيْضا.
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ فِي التغليق (ج2 ص341) وَقَالَ: قَالَ أَبُو الْعَبَّاس السراج فِي مُسْنده حَدثنَا أَبُو كريب ثَنَا مخلد بن يزِيد عَن ابْن جريج عَن أبي الزبير سمع جَابِرا يَقُول نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن أكل الكراث فَلم ينْتَهوا، وَلم يَجدوا من ذَلِك بدا، فَوجدَ ريحًا فَقَالَ ألم أنهكم عَن هَذِه البقلة الخبيثة أَو المنتنة؟ من أكلهَا فَلَا يغشنا فِي مَسْجِدنَا فَإِن الْمَلَائِكَة تتأذى مَا يتَأَذَّى مِنْهُ الْإِنْسَان. وَأَشَارَ إِلَيْهِ فِي الْهَدْي أَيْضا.
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ فِي التغليق (ج2 ص452) أَولا: من طَرِيق الطَّبَرَانِيّ ثَنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم عَن عبد الرَّزَّاق عَن ابْن جريج أَخْبرنِي ابْن شهَاب عَن عبد الرَّحْمَن الْأَعْرَج عَن ابْن بُحَيْنَة الْأَسدي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي الظّهْر وَعَلِيهِ جُلُوس، فَلَمَّا تمّ صلَاته سجد سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ مجَالِس قبل أَن يسلم، الحَدِيث، ثمَّ قَالَ: رَوَاهُ أَبُو الْعَبَّاس السراج فِي مُسْنده عَن مُحَمَّد بن رَافع عَن عبد الرَّزَّاق.
وَمِنْهَا مَا ذكره الْحَافِظ ابْن قيم فِي رَوْضَة المحبين (ص 106) وَقَالَ: وَفِي مُسْند مُحَمَّد بن إِسْحَاق السراج من حَدِيث عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم: أخوف مَا أَخَاف على أمتِي النِّسَاء وَالْخمر.
وَمِنْهَا مَا ذكره السُّيُوطِيّ فِي اللالئ (ج1 ص480) وَقَالَ: قَالَ أَبُو الْعَبَّاس السراج فِي مُسْنده: حَدثنَا جَعْفَر بن هَاشم حَدثنَا حجاج حَدثنَا حَمَّاد عَن يحيى بن سعيد عَن سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَا من أَمِير عشرَة إِلَّا يُؤْتِي بِهِ يَوْم الْقِيَامَة مغلولة يَدَاهُ إِلَى عُنُقه، أطلقهُ الْحق أَو أوبقه الْجور.
وَهَذَا كُله يدل على أَن هَذَا الْمسند الْكَبِير للْإِمَام السراج قد ضَاعَ وَلم يبْق مِنْهَا
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাকে ডাকলেন, ফলে সে ব্যক্তি তাঁর নিকট বের হয়ে আসল এমতাবস্থায় যে তার মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তিনি বললেন: সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়ো করতে বাধ্য করেছি। সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যখন তোমাকে তাড়াহুড়ো করতে বাধ্য করা হয় অথবা বীর্যপাত না হয়, তখন তোমার ওপর কেবল ওযু করা আবশ্যক। আর তিনি এটি 'আত-তাফহ' (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৪) গ্রন্থে মুসনাদে সিরাজের উদ্ধৃতিতেও উল্লেখ করেছেন।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা তিনি 'আত-তাগলিক' (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবু আব্বাস আস-সিরাজ তার মুসনাদে বলেছেন যে, আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবিরকে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাছ (পিঁয়াজ জাতীয় উদ্ভিদ) ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তারা বিরত হয়নি এবং এর কোনো বিকল্প তারা পায়নি। এরপর তিনি এর ঘ্রাণ পেলেন এবং বললেন: আমি কি তোমাদের এই নিকৃষ্ট বা দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদটি থেকে নিষেধ করিনি? যে ব্যক্তি এটি খাবে সে যেন আমাদের মসজিদে আমাদের নিকট না আসে, কারণ মানুষ যে জিনিসে কষ্ট পায় ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট পায়। 'আল-হাদি' গ্রন্থেও তিনি এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা তিনি 'আত-তাগলিক' (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫২) গ্রন্থে প্রথমে তাবারানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন আমাকে ইবনে শিহাব সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে বুহাইনা আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের সালাতে বসার স্থলে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন তিনি সালাত পূর্ণ করলেন, তখন তিনি সালাম ফেরানোর পূর্বে বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করলেন—হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি বলেন: আবু আব্বাস আস-সিরাজ তার মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে রাফি'র সূত্রে আবদুর রাজ্জাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম 'রওজাতুল মুহিব্বিন' (পৃষ্ঠা ১০৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সিরাজের মুসনাদে আলী ইবনে আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যা ভয় পাই তা হলো নারী এবং মদ।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা সুয়ূতী 'আল-লাআলী' (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আবু আব্বাস আস-সিরাজ তার মুসনাদে বলেছেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: দশজন ব্যক্তির ওপর দায়িত্বশীল এমন কোনো আমীর নেই যাকে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে না এমতাবস্থায় যে, তার হাত দুটি তার ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে; ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা জুলুম তাকে ধ্বংস করবে।
এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, ইমাম সিরাজের এই বৃহৎ মুসনাদ গ্রন্থটি হারিয়ে গেছে এবং এর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
إِلَّا هَذِه الْأَجْزَاء – فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون – وَهنا أَحَادِيث أُخْرَى عَن السراج فِي بعض الْكتب لَكِن لم نحكم أَنَّهَا من مُسْند السراج فتركنا الْكَلَام.
فَوَائِد منشورة
وَقد وجدت فِيهِ بعض الْفَوَائِد النادرة لابد أَن أذكرها هُنَا.
فَمِنْهَا أَن الإِمَام البُخَارِيّ روى فِي الْأَذَان فِي فضل صَلَاة الْفجْر عَن جمَاعَة حَدِيثا عَن أبي الْيَمَان عَن شُعَيْب عَن نَافِع عَن ابْن عمر، وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي الْفَتْح (ج2 ص138) لم أر طَرِيق شُعَيْب هَذِه إِلَّا عِنْد المُصَنّف قلت: بل قد رَوَاهُ الإِمَام السراج عَن عبد الْكَرِيم بن أبي الْهَيْثَم عَن أبي الْيَمَان بِهَذَا الْإِسْنَاد أَيْضا، انْظُر رقم 676.
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ من طرق عَن النَّضر بن شُمَيْل عَن يُونُس بن أبي إِسْحَاق عَن أَبِيه عَن الْبَراء قَالَ: كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا سجد جخ، وَقَالَ الْحَاكِم: هُوَ أحد مَا يعد فِي أَفْرَاد النَّضر قلت: لم ينْفَرد بِهِ النَّضر بل رَوَاهُ الإِمَام السراج من طَرِيق شبابه وَأبي الْجَواب أحوص بن جَوَاب وَأبي نعيم الْفضل بن دُكَيْن ثَلَاثَتهمْ عَن يُونُس بِهِ أَيْضا. انْظُر رقم: 356.
وَمِنْهَا مَا ذكره بعد حَدِيث رقم: 212 قَالَ: سَمِعت مُحَمَّد بن سهل بن عَسْكَر يَقُول: سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول: إِذا اخْتلف النَّاس فِي حَدِيث معمر فَالْقَوْل مَا قَالَ عبد الرَّزَّاق، فَهَذَا القَوْل لم أَجِدهُ فِي المراجع الَّتِي بَين يَدي، نعم ذكره الْحَافِظ وَغَيره بِمَعْنَاهُ بِلَفْظ: قَالَ أَحْمد: حَدِيث عبد الرَّزَّاق عَن معمر أحب إِلَيّ من حَدِيث هَؤُلَاءِ الْبَصرِيين.
وَمِنْهَا مَا أخرجه مُسلم فِي بَاب مَا يجمع صفة الصَّلَاة وَمَا يفْتَتح بِهِ وَيخْتم بِهِ حَدِيثا، عَن مُحَمَّد بن عبد الله بن نمير قَالَ أَنا أَبُو خَالِد يَعْنِي الْأَحْمَر عَن حُسَيْن الْمعلم.
وَحدثنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم وَاللَّفْظ لَهُ قَالَ: أَنا عِيسَى بن يُونُس، ثمَّ سَاق
এই অংশগুলো ব্যতীত – নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী – এখানে কিছু কিতাবে আস-সাররাজ থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদিস রয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো 'মুসনাদ আস-সাররাজ'-এর অন্তর্ভুক্ত বলে নিশ্চিত হতে পারিনি, তাই সে সম্পর্কে আলোচনা বর্জন করেছি।
বিক্ষিপ্ত কিছু উপকারিতা
আমি এতে কিছু বিরল উপকারিতা পেয়েছি যা এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করছি।
তার মধ্যে একটি হলো, ইমাম বুখারি 'আল-আযান' অধ্যায়ে ফজর সালাতের ফজিলত সম্পর্কে একদল রাবী থেকে আবুল ইয়ামান, তিনি শুআইব থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ'-এ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৮) বলেছেন: আমি শুআইবের এই সূত্রটি কেবল গ্রন্থকার (বুখারি)-এর নিকটই দেখেছি। আমি বলছি: বরং ইমাম সাররাজও এটি আব্দুল কারিম বিন আবুল হাইসাম থেকে, তিনি আবুল ইয়ামান থেকে—এই একই সনদে বর্ণনা করেছেন, দেখুন নম্বর ৬৭৬।
অন্যটি হলো যা নাসাঈ, ইবনে খুজাইমা, হাকিম এবং বায়হাকী বিভিন্ন সূত্রে নজর বিন শুমাইল থেকে, তিনি ইউনুস বিন আবু ইসহাক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সিজদা করতেন তখন দুই হাত প্রশস্ত করে ফাঁক করে রাখতেন। হাকিম বলেছেন: এটি নজর-এর একক বর্ণনা হিসেবে গণ্য। আমি বলছি: নজর এতে একক নন, বরং ইমাম সাররাজ এটি শাবাবাহ, আবু জাওয়াব আহওয়াস বিন জাওয়াব এবং আবু নুআইম আল-ফদল বিন দুকাইন—এই তিনজন থেকে, তাঁরা ইউনুস থেকে—এই একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। দেখুন নম্বর: ৩৫৬।
আরেকটি হলো যা তিনি ২১২ নম্বর হাদিসের পর উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি: মা'মারের হাদিস নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তখন আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য। এই উক্তিটি আমার কাছে থাকা রেফারেন্স গ্রন্থগুলোতে পাইনি; তবে হাফেজ এবং অন্যরা এর সমার্থবোধক শব্দে উল্লেখ করেছেন যে, আহমদ বলেছেন: আব্দুর রাজ্জাক কর্তৃক মা'মার থেকে বর্ণিত হাদিস আমার নিকট এই বসরাবাসীদের হাদিসের চেয়ে অধিক প্রিয়।
অন্যটি হলো যা ইমাম মুসলিম 'সালাতের বৈশিষ্ট্য এবং যা দিয়ে শুরু ও শেষ করা হয়' অধ্যায়ে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খালিদ অর্থাৎ আল-আহমার, তিনি হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে।
এবং আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইবরাহিম হাদিস বর্ণনা করেছেন—আর শব্দাবলী তাঁরই—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা বিন ইউনুস, অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
إِسْنَاده وَأَلْفَاظه، ثمَّ قَالَ: وَفِي رِوَايَة ابْن أبي نمير عَن أبي خَالِد، وَكَانَ يُنْهِي عَن عقب الشَّيْطَان انْتهى كَأَن إِسْحَاق ابْن رَاهْوَيْةِ يرويهِ بِلَفْظ: عقبَة الشَّيْطَان، وَابْن أبي نمير بِلَفْظ: عقب الشَّيْطَان – لَكِن الإِمَام السراج قد روى حَدِيث إِسْحَاق فِي الْمسند رقم: 353 وَذكر فِيهِ: كَانَ يُنْهِي عَن عقب الشَّيْطَان، بل هُوَ هَكَذَا فِي مُسْند الإِمَام إِسْحَاق أَيْضا انْظُر رقم: 1331 (ج3 ص725) وَالله أعلم.
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ بِإِسْنَاد حسن عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا، أَنه كره النّوم قبل الْعَتَمَة. انْظُر رقم: 1476، وَلم أجد هَذَا الحَدِيث فِي المراجع المتداولة عَن أبي هُرَيْرَة وَالله أعلم.
وَمِنْهَا أَنه روى حَدِيث رقم: 1286، من طَرِيق مُحَمَّد بن اشتويه الواسطى، وَقَالَ: كَانَ ثِقَة:، وان اشتويه لم أجد تَرْجَمته وَفِيه فَوَائِد أُخْرَى كَمَا سَيعْلَمُ كَمَا سَيعْلَمُ الْقَارئ الْكَرِيم فِي مُرَاجعَته إِن شَاءَ الله.
عَمَلي ومنهجي فِي التَّحْقِيق
والمنهج الَّذِي سرت عَلَيْهِ فِي تَحْقِيق الْمسند الْكَبِير للْإِمَام أبي الْعَبَّاس السراج فَهُوَ كَمَا يَلِي: -
(1) تَحْقِيق نَص الْكتاب على نسخته الوحيدة النادرة مَعَ مقارنته إِلَى الْكتب المصنفة الْمُعْتَبرَة.
(2) وضعت الأرقام فِي أَوَائِل الْأَحَادِيث وَعَلَيْهَا حولت الفهرس.
(3) خرجت الْأَحَادِيث واخترت فِي تَخْرِيجه طَرِيقا علمياً على الإيجاز بِحَيْثُ إِذا اتّفق الْإِسْنَاد إِلَى تَابِعِيّ أَو تبع تَابِعِيّ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَو أَحدهمَا اكتفيت بهما، لِأَن الْمَقْصُود صِحَة الحَدِيث وَهُوَ حَاصِل بتخريجه فِي الصَّحِيحَيْنِ – وَإِلَّا راجعت السّنَن وَالْمَسَانِيد، فَإِذا كَانَ عِنْدهم أَو عِنْد الشَّيْخَيْنِ عَن الصَّحَابِيّ أَو عَن التَّابِعِيّ عَن الصَّحَابِيّ فَقَط ذكرت مَوْضِعه عِنْدهمَا أَو أَحدهمَا، وأنبه كثيرا إِذا وجدت الِاتِّفَاق بَين
এর সনদ ও শব্দাবলি, অতঃপর তিনি বলেন: ইবনে আবি নুমাইর-এর বর্ণনায় আবু খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি শয়তানের বসার ভঙ্গি থেকে নিষেধ করতেন। সমাপ্ত। মনে হয় ইসহাক ইবনে রাহওয়াই এটি ‘উক্ববাতুশ শয়তান’ শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি নুমাইর ‘উক্ববশ শয়তান’ শব্দে বর্ণনা করেছেন – কিন্তু ইমাম সিরাজ তাঁর মুসনাদ নং: ৩৫৩-তে ইসহাকের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে উল্লেখ করেছেন: ‘তিনি শয়তানের বসার ভঙ্গি থেকে নিষেধ করতেন’, বরং ইমাম ইসহাকের মুসনাদেও এটি এভাবেই রয়েছে, দেখুন নং: ১৩৩১ (৩য় খণ্ড, ৭২৫ পৃষ্ঠা)। আল্লাহই ভালো জানেন।
তার মধ্যে এমনও রয়েছে যা তিনি হাসান সনদে আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইশার নামাজের আগে ঘুমানো অপছন্দ করতেন। দেখুন নং: ১৪৭৬; আমি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি প্রচলিত উৎসসমূহে খুঁজে পাইনি। আল্লাহই ভালো জানেন।
তার মধ্যে একটি হলো তিনি ১২৮৬ নম্বর হাদিসটি মুহাম্মদ ইবনে ইশতাওয়াইহ আল-ওয়াসিতির সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ‘তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন’। আমি ইবনে ইশতাওয়াইহর জীবনী খুঁজে পাইনি। এতে আরও অন্যান্য উপকারিতা রয়েছে যা সম্মানিত পাঠক ইনশাআল্লাহ পাঠ করার সময় জানতে পারবেন।
তাহক্বীক বা সম্পাদনায় আমার কাজ ও পদ্ধতি
ইমাম আবু আব্বাস আস-সিরাজের ‘আল-মুসনাদ আল-কাবীর’ সম্পাদনায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ: -
(১) গ্রন্থটির একমাত্র বিরল পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এর মূল পাঠ যাচাই করা এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংকলিত গ্রন্থের সাথে তুলনা করা।
(২) হাদিসগুলোর শুরুতে নম্বর প্রদান করেছি এবং তার ভিত্তিতে সূচিপত্র তৈরি করেছি।
(৩) আমি হাদিসগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং তাখরীজের ক্ষেত্রে সংক্ষেপে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছি; যেমন—যদি সনদ কোনো তাবিঈ বা তাবে-তাবিঈ পর্যন্ত সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এর যেকোনো একটির সাথে মিলে যায়, তবে আমি কেবল সেই দুটি গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো হাদিসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা, যা সহীহাইনে থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অন্যথায় আমি সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থগুলোর সাহায্য নিয়েছি। যদি তাদের কাছে অথবা শাইখাইনের কাছে কেবল সাহাবী থেকে অথবা তাবিঈর মাধ্যমে সাহাবী থেকে বর্ণিত থাকে, তবে আমি তাদের উভয়ের বা যেকোনো একজনের গ্রন্থের অবস্থান উল্লেখ করেছি। আমি প্রায়ই সতর্ক করি যখন আমি দেখি যে উভয়ের বর্ণনায় মিল রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
السراج وَبَين المخرجين، وَكَذَا إِذا روى الحَدِيث عَن السراج أحد من الْمُتَأَخِّرين ذكر مخارجه حسب الْإِمْكَان.
(4) تَكَلَّمت على كل حَدِيث من حَيْثُ الصِّحَّة أَو الضعْف مَعَ بَيَان سَببه حسب الطَّاقَة، وَإِذا كَانَ فِي إِسْنَاد مُسْند السراج أَو ضَعِيف بَينته وَلم أَتكَلّم على الحَدِيث من نَاحيَة اللُّغَة وَالْفِقْه بل اكتفيت بالتخريج فَقَط.
وَفِي الختام لَا أنسى الْمُشَاركَة العلمية الَّتِي قَامَ بهَا صديقي فَضِيلَة الشَّيْخ عبد الْحَيّ الْأنْصَارِيّ حفظه الله وَهُوَ الَّذِي نسخ أَكْثَره من النُّسْخَة المصورة جزاه الله خير الْجَزَاء.
وَسَأَلَ الله تَعَالَى أَن يَجْعَل عَملنَا هَذَا خَالِصا لوجهه الْكَرِيم وَأَن ينفعنا بِهِ وَالْمُسْلِمين ويتجاوز عَمَّا أَخْطَأنَا فِيهِ، رَبنَا لَا تُؤَاخِذنَا إِن نَسِينَا أَو أَخْطَأنَا إِنَّك سميع مُجيب، وَصلى الله تعلى على خير خلقه مُحَمَّد النَّبِي الْأُمِّي وَآله وصبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا. أَمِين.
إرشاد الْحق الأثري.. عُفيَ عَنهُ
আস-সিরাজ এবং এর বর্ণনাকারীদের মাঝে; একইভাবে যদি পরবর্তী যুগের কেউ আস-সিরাজ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন, তবে আমি সাধ্যমতো তার সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছি।
(৪) আমি প্রতিটি হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা নিয়ে সাধ্যানুযায়ী কারণসহ আলোচনা করেছি। যখনই আস-সিরাজের মুসনাদের সনদে কোনো দুর্বলতা পাওয়া গেছে, আমি তা স্পষ্ট করেছি। আমি হাদিসের ভাষাগত বা ফিকহি দিক নিয়ে আলোচনা করিনি, বরং কেবল হাদিসের সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
পরিশেষে, আমি আমার বন্ধু ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল হাই আল-আনসারী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ইলমি সহযোগিতার কথা ভুলছি না; তিনিই এর অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি ছায়ালিপি থেকে অনুলিপি করেছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আর আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন, আর আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো মার্জনা করেন। হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা কোনো ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ—যিনি উম্মি নবী—এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আমিন।
ইরশাদুল হক আল-আসারি.. আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুস সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
جُزْء من آخر الْجُزْء الأول من أَجزَاء
أبي الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْخفاف
খণ্ডসমূহের মধ্যে প্রথম খণ্ডের শেষাংশের একটি অংশ
আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খাফফাফ