(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: -)
منهج علماء الحديث والسنة في أصول الدين   (مصطفى حلمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: منهج علماء الحديث والسنة في أصول الدين

المؤلف: د مصطفى محمد حلمي

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الصفحات: 303

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে হাদীস ও সুন্নাহর আলেমগণের মানহাজ   (মুস্তফা হিলমী)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে হাদীস ও সুন্নাহর আলেমগণের মানহাজ

লেখক: ড. মুস্তফা মুহাম্মদ হিলমী

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد …

فقد آثرنا اختيار دراستنا عن علم الكلام - أو أصول الدين - لتوضيح آراء علماء الحديث والسنة وبيان منهجهم، ذلك لأن الدراسات الكلامية التقليدية أولت عنايتها للفرق المنشقة عن أهل القرون الأولى - كالخوارج والشيعة والقدرية والجهمية - كما تعمقت وتوسعت في عرض المذهبين الكبيرين: الاعتزالي والأشعري، ولم تلتفت للنتاج العقلي للمحدثين والفقهاء بالقدر الكافي الذي يسمح بإبراز مواقفهم من أصول الدين ومنهجهم في النقاش والرد على مخالفيهم، مع العلم بأنهم كانوا يستندون إلى أدلة عقلية وبراهين منطقية قائمة على تفسير الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، والاسترشاد أيضًا بفهم الأوائل الذين كانوا أكثر علمًا ودراية بأسرار اللغة العربية وأسباب النزول ودقائق العقائد المتصلة بأصول الدين.

وفي ضوء هذه الحقيقة، نرى أن طريقة أهل الحديث والسنة تحتاج إلى نظرة إنصاف وتقدير حيث شاعت الفكرة التي تصفهم بأنهم (نصيين) وليسوا (عقليين) ، فضلاً عن أوصاف أخرى تشاع عنهم خطأ كوصفهم بالجمود وما إلى ذلك من صفات شوهت صورهم في أذهان الخاصة والعامة.

وكثيرًا ما تروج - مع الأسف - أفكار وتسود أراء مع مجافاتها للحقيقة ومجانبتها الصحة وذلك بسبب ترديدها المتواصل. وساعد على ذلك عوامل ثقافية وتاريخية ومذهبية وسياسية، كلها أدت إلى ترقي الفكرة الشائعة إلى مرتبة تكاد تصل إلى اليقين في دوائر البحث العلمي، سواء على مستوى الجامعات والكليات المتخصصة، أو المهتمين بالدراسات الإسلامية من العلماء والباحثين والمؤرخين وغيرهم، إلا فيما ندر.

وقد آن الأوان لإعطاء علماء الحديث والسنة حقهم، لا أقول من التقدير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর।

অতঃপর …

আমরা ইলমুল কালাম —বা উসুলুদ দীন— সম্পর্কে আমাদের অধ্যয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি হাদীস ও সুন্নাহর আলেমদের মতামত স্পষ্ট করার জন্য এবং তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতি বর্ণনা করার জন্য। কারণ প্রথাগত কালামশাস্ত্রীয় অধ্যয়নসমূহ প্রথম যুগের উম্মাহর থেকে বিচ্ছিন্ন দলগুলোর —যেমন খাওয়ারিজ, শিয়া, কাদারিয়া ও জাহমিয়া— প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে। একইভাবে তা দুটি বড় মাযহাব: মুতাজিলা ও আশআরী মতবাদ উপস্থাপনে গভীরে প্রবেশ করেছে ও বিস্তারিত আলোচনা করেছে, কিন্তু মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি যা উসুলুদ দীনের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান এবং বিরোধীদের সাথে বিতর্ক ও খণ্ডনের পদ্ধতিকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ করে দিত। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে যৌক্তিক দলিল ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করতেন এবং সেই সাথে সালাফদের বা পূর্বসূরিদের বুঝ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতেন, যারা আরবি ভাষার রহস্য, শানে নুযুল এবং উসুলুদ দীনের সূক্ষ্ম আকিদাগত বিষয়গুলো সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ছিলেন।

এই বাস্তবতার আলোকে আমরা মনে করি যে, আহলে হাদীস ও সুন্নাহর পদ্ধতির প্রতি ন্যায়সংগত ও মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন; কারণ তাদের সম্পর্কে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তাদেরকে কেবল 'নকলপন্থী' (নস-নির্ভর) বলা হয় এবং 'যুক্তিপন্থী' নয় বলে গণ্য করা হয়। এছাড়াও ভুলবশত তাঁদের সম্পর্কে অন্যান্য বিশেষণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেমন তাঁদেরকে স্থবির বা জড়তাপ্রবণ বলা এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুণাবলী যা বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষের মনে তাঁদের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, অনেক সময় এমন সব ধারণা ও মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং আধিপত্য বিস্তার করে যা সত্য ও সঠিকতা থেকে অনেক দূরে, আর এটি ঘটে কেবল সেগুলোর অনবরত পুনরাবৃত্তির কারণে। সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, মাযহাবী ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষঙ্গ এতে সহায়তা করেছে। এই সব কিছুই সেই প্রচলিত ধারণাকে এমন এক পর্যায়ে উন্নীত করেছে যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিমণ্ডলে প্রায় ধ্রুব সত্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে; চাই তা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত কলেজ পর্যায়ে হোক, কিংবা ইসলামী গবেষণায় আগ্রহী আলেম, গবেষক ও ঐতিহাসিকদের মাঝে হোক—খুব সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া।

এখন সময় এসেছে হাদীস ও সুন্নাহর আলেমদের তাঁদের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করার; আমি কেবল তাঁদের সম্মানের কথাই বলছি না...
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৪)
فحسب، بل من التبيين والإيضاح.

إزاء كل هذه العوامل، رأينا أن المسؤولية العلمية تقتضي منا إلقاء الضوء على منهج هؤلاء، وبيان الطابع العقلي بحيث يجعلهم في صفوف نظَّار المسلمين الأصليين وإنه وفقًا لاتباع مناهج المتكلمين أصحاب النظر العقلي، يمكننا وضع علماء السنة والحديث الذين خاضوا في قضايا علم الكلام في الصفوف الأولى. وكان مثار اهتمامنا بهذا الاتجاه، هو وقوفنا على سمات بارزة تربط بين هؤلاء العلماء الذين لا ينتمون إلى الدوائر الكلامية بمدارسها المعروفة، ذلك أن من يتتبع الحركات الفكرية المناوئة للفرق المنشقة منذ ظهورها، يعثر - كما فَعلْنا - على ملامح عناصر ثابتة لتيار إسلامي أصيل يعبر عن غالبية عقائد المسلمين، ظلوا يعارضون منذ البداية كافة الانشقاقات التي خالفت الأصول الإسلامية.

وكان من سمات منهجنا تتبع الآثار الأولى حيث نلحظ المعارضة الشديدة لأية بادرة للخروج عن الصف الأول المتماسك الذي تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم على المحجة البيضاء، وكان يجابه بعلاج حاسم، وربما يعد من المفيد الاستشهاد على بعض هذه الملامح المشهورة تاريخيًا: كما حدث في حرب الردة إذ حاول بعض المسلمين الامتناع عن دفع الزكاة فكان موقف أبي بكر الصديق رضي الله عنه المعروف، الذي استند فيه إلى قاعدة إيمانية نظر منها إلى شمول الدائرة الإسلامية التي لا تفرق بين الصلاة والزكاة، فتحرك بدافع هذا الفهم الواضح، ورأى أن أي انفراط يعني تخلخل الأساس واهتزازه وضياع المعالم للإسلام. وفي أيام عمر بن الخطاب رضي الله عنه نرى واقعة زجره لصبيغ عندما سأل عن الآيات المتشابهات فنهاه عن الخوض فيما لا طائل وراءه وثبت بعد ذلك صدق إلهام عمر.

وفي خلافة عثمان رضي الله عنه، عندما ظهرت الفتن بأيدي محركيها، كان الخليفة الثالث يناقش بالحجج والأدلة آراء دعاة الفتنة ويدحضها، ولكنهم كانوا قد ركبوا رؤوسهم وبيتوا أمرًا بليل، فعبروا بجريمتهم على أنهم لم يكونوا طلاب حق وعدل، بل دعاة تفرقة وأدوات فتن كيدت للإسلام من وراء الستار. كذلك وقف علي بن أبي طالب وابن عباس رضي الله عنهما وعمر بن عبد العزيز وغيرهم كما تروي لنا المصادر التاريخية لمناقشة الخوارج بالأدلة العقلية المستمدة من الكتاب والسنة.
শুধু তাই নয়, বরং বিষয়টিকে পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট করাও এর উদ্দেশ্য।

এই সকল উপাদানের প্রেক্ষিতে আমরা মনে করি যে, আমাদের ইলমি দায়িত্ব হলো তাদের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করা এবং তাদের চিন্তার যৌক্তিক রূপটি তুলে ধরা, যা তাদের মূলধারার মুসলিম চিন্তাবিদদের সারিতে আসীন করে। আর যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মুতাকাল্লিমদের মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে আমরা আহলুস সুন্নাহ ও হাদিসের ঐ সকল আলেমকে প্রথম সারিতে স্থান দিতে পারি যারা ইলমুল কালামের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই ধারার প্রতি আমাদের আগ্রহের কারণ হলো, আমরা সেই সকল আলেমদের মধ্যে বিদ্যমান কিছু সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি যারা প্রচলিত কালামশাস্ত্রীয় ঘরানাগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। কেননা, যারা পথভ্রষ্ট দলগুলোর আবির্ভাবের সময় থেকেই তাদের বিরোধী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনগুলোর অনুসন্ধান করবেন, তারা—যেমনটি আমরা পেয়েছি—একটি মূলধারার ইসলামী প্রবাহের চিরস্থায়ী উপাদানগুলোর সন্ধান পাবেন। এই প্রবাহটি মুসলিমদের সংখ্যাগুরু অংশের আকিদাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা শুরু থেকেই ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী সকল বিভক্তির বিরোধিতা করে আসছেন।

আমাদের কর্মপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রথম যুগের নিদর্শনসমূহ অনুসরণ করা, যেখানে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুদৃঢ় প্রথম সারিকে এক উজ্জ্বল শ্বেতশুভ্র পথের ওপর রেখে গিয়েছিলেন, তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করা হতো এবং তা কঠোরভাবে দমন করা হতো। এই ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য থেকে কিছু প্রসিদ্ধ ঘটনা উল্লেখ করা হয়তো উপকারী হবে: যেমনটি ঘটেছিল রিদ্দার যুদ্ধের সময়, যখন কিছু মুসলিম জাকাত প্রদান করতে অস্বীকার করেছিল। তখন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই সুবিদিত অবস্থান পরিলক্ষিত হয়, যেখানে তিনি একটি ঈমানি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছিলেন। সেই মূলনীতি অনুযায়ী তিনি ইসলামি জীবনব্যবস্থার সামগ্রিকতাকে এমনভাবে দেখেছিলেন যা সালাত ও জাকাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। ফলে তিনি এই স্পষ্ট উপলব্ধির তাড়নায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি মনে করেছিলেন যে, সামান্য বিচ্যুতিও ইসলামের ভিত্তিকে দুর্বল ও টালমাটাল করে দেবে এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহকে বিলীন করে দেবে। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে আমরা দেখি সাবিগ নামক ব্যক্তিকে তার ধমক দেওয়ার ঘটনাটি, যখন সে মুতাশাবিহ বা রূপক আয়াতসমূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। তখন তিনি তাকে নিরর্থক বিতর্কে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অন্তর্দৃষ্টির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে যখন ষড়যন্ত্রকারীদের মাধ্যমে ফিতনার উদ্ভব হয়, তখন তৃতীয় খলিফা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে ফিতনাকারীদের মতবাদ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং তা খণ্ডন করেছিলেন। কিন্তু তারা তাদের জেদ ধরে রেখেছিল এবং গোপনে কুপরিকল্পনা করেছিল। তাদের অপরাধের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছিল যে, তারা সত্য ও ন্যায়ের অন্বেষী ছিল না, বরং তারা ছিল বিভেদ সৃষ্টিকারী এবং ইসলামের বিরুদ্ধে পর্দার আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র করা ফিতনার হাতিয়ার। একইভাবে আলী ইবনে আবি তালিব, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং অন্যান্যরা—ঐতিহাসিক উৎসসমূহ যেমনটি আমাদের বর্ণনা করে—কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে খারেজীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৫)
وظل هذا الاتجاه سائرًا في طريقه لمواجهة ما ظهر من الفرق، ففي مواجهة الخوارج والشيعة والقدرية والجهمية وقف عشرات العلماء لمقارعة الحجة وتقديم الأدلة والبراهين على انحرافاتهم، ونعني بهم أمثال الحسن البصري وسعيد بن المسيب والأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد ووقائع وقوف كل من الشافعي والدارمي لمعارضة بشر المريسي معروفة مشهورة بكتب التاريخ والملل والنحل، كذلك تحدي الإمام أحمد بن حنبل لكل من المأمون والمعتصم والواثق في مسألة (خلق القرآن) ، إلى جانب أتباعه الذين ظلوا محافظين على منهجه لمواجهة المنهج الأشعري، بل إننا نرى موقف الأشعري نفسه إمام المذهب - في كتابه (الإبانة) ، (ومقالات الإسلاميين) - معبرًا عن الاتجاه السلفي العام في أصول الدين، حيث وجد فيه المنهج الصحيح الذي يستطيع به مواجهة منهج الكلام الاعتزالي الذي بلغ ذروته في عصر المأمون (215 هـ) ثم المعتصم ثم الواثق (227 هـ - 232 هـ) .

وأثناء فترة حالكة في تاريخ الحضارة الإسلامية ظهر شيخ الإسلام ابن تيمية (661 - 728 هـ) ليستجمع مؤلفات علماء السنة والحديث قبله، ويظهرها في قالب (كلامي) يدحض به كافة الآراء حوله بعد أن تضخمت واستفحل أمرها، فكانت موَاقِفه الكلامية الحاسمة إزاء كل الفرق والمذاهب التي جعلت منه علامة بارزة على منهج علماء الحديث والسنة يستضاء بها في ظلمات الغربة واليأس، وسنرى في هذا الكتاب كيف وفق شيخ الإسلام إلى استنتاج طرق الاستدلالات العقلية من القرآن الكريم، مثل (الميزان القرآني) و (الآيات) و (اللزوم) و (قياس الأولى) و (أدلة الكمال) .

هذا ما رأينا بحثه ودراسته.

أما تكرار الحديث عن علم الكلام لمباحثه المعروفة في دوائر الفرق والمعتزلة والأشاعرة، مع انحياز لمذاهبهم الكلامية، فلن يخدم الحقيقة التي نسعى لمعرفتها في مجال البحث العلمي، لأن تجاهل غالبية علماء المسلمين في القرون الأولى - مع جلالة قدرهم ومكانتهم الدينية والعملية، ومن اتبع نفسه منهجهم - أو عرض آرائهم من وجهة نظر خصومهم بغير إنصاف، كل هذا يتنافى مع ما نتوخاه من معرفة الحقيقة - لا سيما إنَّ علماء الكلام عنوا بأصول الدين، لا بفروعه، ولكن المناهج السائدة عكست الآية، ذلك أن أغلب الدارسين اكتفوا بكتب علماء الكلام المتأخرين المشوبة
এই ধারাটি উদ্ভূত বিভিন্ন উপদলের মোকাবিলায় আপন গতিতে অব্যাহত ছিল। খারেজি, শিয়া, কাদারিয়া ও জাহমিয়াদের মোকাবিলায় বহুসংখ্যক আলেম তাদের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন এবং দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাঁদের মাধ্যমে হাসান বসরি, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং চার ইমাম—আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি ও আহমদকে বোঝাতে চাচ্ছি। বিশর আল-মারিসির বিরোধিতায় শাফেয়ি ও দারিমির অবস্থানের ঘটনাবলি ইতিহাস এবং 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। একইভাবে ‘কুরআন সৃষ্টি’র প্রশ্নে আল-মামুন, আল-মুতাসিম এবং আল-ওয়াসিকের বিরুদ্ধে ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও সুবিদিত। এর পাশাপাশি তাঁর সেই অনুসারীদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য যারা আশআরি মানহাজের মোকাবিলায় তাঁর মানহাজকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। এমনকি আমরা খোদ মাযহাবের ইমাম আল-আশআরির অবস্থানকেও—তাঁর গ্রন্থ 'আল-ইবানাহ' এবং 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন'-এ—উসুলুদ দ্বীনের ক্ষেত্রে সাধারণ সালাফি ধারার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখতে পাই। সেখানে তিনি এমন এক সঠিক পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছিলেন যার মাধ্যমে তিনি মুতাজিলি কালামি পদ্ধতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হন, যা আল-মামুন (২১৫ হিজরি), আল-মুতাসিম এবং অতঃপর আল-ওয়াসিকের (২২৭ - ২৩২ হিজরি) যুগে চরম শিখরে পৌঁছেছিল।

ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসের এক অন্ধকার সময়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হিজরি) আবির্ভূত হন। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী সুন্নাহ ও হাদিসের আলেমদের রচনাবলি একত্রিত করেন এবং সেগুলোকে একটি ‘কালামি’ (তাত্ত্বিক) কাঠামোতে উপস্থাপন করেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর চারপাশের যাবতীয় মতবাদকে খণ্ডন করেন যখন সেগুলো অত্যন্ত প্রকট ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। তাঁর সেই চূড়ান্ত কালামি অবস্থানগুলো সমস্ত উপদল ও মাযহাবের বিপরীতে তাঁকে হাদিস ও সুন্নাহর আলেমদের মানহাজের একটি উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার মাধ্যমে বিজাতীয়করণ ও হতাশার অন্ধকারে আলো পাওয়া যায়। আমরা এই গ্রন্থে দেখব কীভাবে শাইখুল ইসলাম পবিত্র কুরআন থেকে যৌক্তিক প্রমাণের পদ্ধতিগুলো উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, যেমন: 'কুরআনিক পাল্লা', 'নিদর্শনসমূহ', 'অনিবার্যতা', 'শ্রেষ্ঠত্বের অনুমান' এবং 'পূর্ণতার দলিলসমূহ'।

এটিই আমরা অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

পক্ষান্তরে, বিভিন্ন উপদল, মুতাজিলা ও আশআরিদের পরিচিত পরিমণ্ডলে ইলমে কালাম নিয়ে আলোচনার পুনরাবৃত্তি এবং তাদের কালামি মাযহাবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব সেই সত্যের কোনো সেবা করবে না যা আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অন্বেষণ করছি। কারণ প্রথম কয়েক শতাব্দীর অধিকাংশ মুসলিম আলেমকে উপেক্ষা করা—তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং ধর্মীয় ও ব্যবহারিক অবস্থান সত্ত্বেও এবং যাঁরা তাঁদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাঁদের অবজ্ঞা করা—কিংবা ইনসাফ ব্যতিরেকে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁদের মতামত উপস্থাপন করা; এই সবকিছুই সত্য জানার আমাদের লক্ষ্যের পরিপন্থী। বিশেষ করে যেহেতু কালামশাস্ত্রবিদগণ দ্বীনের মৌলিক বিষয় (উসুল) নিয়ে কাজ করেছেন, শাখা-প্রশাখা (ফুরু) নিয়ে নয়। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিগুলো এই বিষয়টিকেই পাল্টে দিয়েছে, কারণ অধিকাংশ গবেষক পরবর্তী যুগের কালামশাস্ত্রবিদদের সেইসব কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন যা মিশ্রিত ছিল...
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৬)
بكثير من الأنظار الغريبة الدخيلة وآراء عهد انحدار الحضارة الإسلامية، مع المنهج العلمي التاريخي الصحيح الذي يقتضي أن نرجع إلى الأصول الأولى قبل كل شيء (1) .

وقد التزمنا باتباع هذا المنهج المعبر عن أصول حضارتنا أيام ذروتها، فكانت خطتنا البدء بالنظر في عصر النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته والتابعين، ثم التدرج لبحث ظهور الفرق وأسبابه، مع انتفاء بعض المناقشات التي دارت بين علماء الحديث والمعتزلة، كعبد العزيز المكي وبشر المريسي، والإمام أحمد والقاضي ابن أبي دؤاد.

وتابعنا هذه الخطة فعرضنا لمذهب الأشاعرة ونقده من وجهة نظر علماء الحديث والسنة - لا سيما رأي ابن تيمية.

كذلك خصصنا بابًا للحديث عن موقف ابن تيمية من القضايا الكلامية. وفي النهاية رأينا ضرورة عرض نبذة عن الفكر الإسلامي المعاصر.

ولم يغب عن ذهننا أن موضوع الكتاب له وجهان:

الأول - تاريخي ربما قد خمد بسببه الانفعال الذي كان مشتعلاً بين طيات السطور في الكتب الكلامية. ولكن بقيت المسائل موضوعيًا نابضة بالحياة إلى وقتنا الحاضر، لأنه ما من مسلم يقرأ القرآن ويطالع كتب الحديث إلا وتدور في ذهنه أوجه التفسير والتأويل، والتأمل في قضايا أصول الدين، من كلام عن الله تعالى ذاتًا وصفاتًا وأمور الغيب الأخرى، كقيام الساعة والحساب والعقاب والجنة والنار وأفعال العباد والإيمان بالقضاء والقدر وغيرها. ونرى أن خير عون - بعد توفيق الله تعالى - هو الاستضاءة بالفهم والتدبر بفهم علماء السنة وتدبرهم والاستناد إلى حججهم الشرعية العقلية، فإنها شرعية لأنها مستمدة من الشرع، وعقلية لأنها تتفق مع أدلة العقل الصحيحة.

الثاني - الجانب المعاصر في الفكر الإسلامي المتجه إلى مقاومة الغزو الفكري للحضارة الغربية، فما لم نستكمل الدراسة بإلقاء النظر إلى الفكر الإسلامي المعاصر فإن الدراسة بذلك تصبح مبتورة، ولا تفيد القارئ الذي يريد فهم ما يدور حوله،

--------------------------------------------

(1) مقدمة كتاب (عقائد السلف) تحقيق وتقديم أستاذنا الدكتور علي سامي النَّشَّار- رحمه الله تعالى - ود. عمار الطالبي - منشأة المعارف بالإسكندرية 1970 م.
অনেক বিজাতীয় অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামী সভ্যতার পতনের যুগের মতামতসমূহকে পাশ কাটিয়ে, সঠিক ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাথে যা দাবি করে যে আমরা সবকিছুর আগে মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে যাব (১)।

আমরা আমাদের সভ্যতার স্বর্ণযুগের মূলনীতি প্রকাশকারী এই পদ্ধতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি। তাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), তাঁর সাহাবী ও তাবেয়িগণের যুগের প্রতি দৃষ্টি প্রদানের মাধ্যমে শুরু করা, তারপর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন ফেরকার উদ্ভব ও এর কারণসমূহ অনুসন্ধান করা; সাথে হাদিস বিশারদ এবং মুতাযিলাদের মধ্যে সংঘটিত কিছু বিতর্কের অবতারণা করা, যেমন আব্দুল আজিজ আল-মাক্কী ও বিশর আল-মারীসী এবং ইমাম আহমাদ ও কাজী ইবনে আবি দুয়াদ।

আমরা এই পরিকল্পনা অনুসরণ করে আশআরি মতবাদ এবং হাদিস ও সুন্নাহর আলেমদের—বিশেষ করে ইবনে তাইমিয়্যার—দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর সমালোচনার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি।

অনুরূপভাবে, আমরা ইলমুল কালামের বিষয়াবলির ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়্যার অবস্থানের আলোচনার জন্য একটি অধ্যায় বরাদ্দ করেছি। পরিশেষে আমরা সমসাময়িক ইসলামী চিন্তা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা আবশ্যক মনে করেছি।

আমাদের মনে এই বিষয়টিও জাগ্রত ছিল যে, এই বইটির আলোচ্য বিষয়ের দুটি দিক রয়েছে:

প্রথমটি—ঐতিহাসিক, যার কারণে হয়তো ইলমুল কালামের বইগুলোর ছত্রে ছত্রে প্রজ্জ্বলিত উত্তেজনা এখন স্তিমিত হয়ে গেছে। কিন্তু বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত সজীব রয়ে গেছে। কারণ, এমন কোনো মুসলিম নেই যে কুরআন পড়ে এবং হাদিসের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে অথচ তার মনে তাফসির ও ব্যাখ্যার বিভিন্ন দিক এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি নিয়ে চিন্তাভাবনা জাগ্রত হয় না; যেমন আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলি এবং গায়েবের অন্যান্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে আলোচনা, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া, হিসাব-নিকাশ, শাস্তি, জান্নাত, জাহান্নাম, বান্দাদের কর্ম এবং ভাগ্য ও নিয়তির ওপর বিশ্বাস ইত্যাদি। আমরা মনে করি যে—আল্লাহ তাআলার তৌফিকের পর—সর্বোত্তম সহায়তা হলো সুন্নাহর আলেমদের বুঝ ও গবেষণার মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হওয়া এবং তাদের শরয়ি ও যৌক্তিক দলিলের ওপর নির্ভর করা। কেননা তা শরয়ি, কারণ তা শরিয়ত থেকে আহরিত; আর তা যৌক্তিক, কারণ তা সঠিক আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

দ্বিতীয়টি—ইসলামী চিন্তাধারার সমসাময়িক দিক, যা পশ্চিমা সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন প্রতিরোধের অভিমুখী। সুতরাং যতক্ষণ না আমরা সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারার ওপর দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অধ্যয়নটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং এটি সেই পাঠকের জন্য ফলপ্রসূ হবে না যে তার চারপাশে কী ঘটছে তা বুঝতে চায়।

--------------------------------------------

(১) ‘আকাইদুস সালাফ’ গ্রন্থের ভূমিকা, তাহকিক ও উপস্থাপনা আমাদের শিক্ষক ডক্টর আলী সামি আন-নাশশার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এবং ডক্টর আম্মার আত-তালিবী, মানশাতুল মাআরিফ, আলেকজান্দ্রিয়া ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৭)
لتعينه على التمييز بين الصواب والخطأ. لذلك رأينا إعطاء فكرة عن ملامح المشكلات الكلامية في عصرنا الحاضر مع اختلافها عما أثير في القرون الماضية.

ونقرر عن ثقة واقتناع، بأن طريقة القرآن الكريم التي أجلاها وأظهرها علماء السنة هي الطريقة الثابتة الصحيحة على أمد الدهر، ولا تهز ثقتنا بهذا الأصل ما نراه حولنا من تطورات علمية وتكنولوجية بهرت العقول والقلوب، ذلك لأن المعلومات العلمية مهما ازدادت وتشعبت وتفرعت، فإنها لا تناقض ولا تعارض سنن الله تعالى في الكون والآفاق، فبقدر ما يهب الله عباده العلماء من القدرات والوسائل المتطورة لاكتشاف أبعاد أكبر في الآفاق أو أبعاد أعمق في النفس البشرية، بقدر ما تتأكد لهم ثبات السنن الإلهية.

وقد مهد الطريق لهذا المنهج كثير من العلماء المتخصصين ذوي الكفايات الممتازة في مجالات تخصصهم، فإن أصبنا الغرض فذلك بتوفيق من الله تعالى، وإن أخطأنا فمن أنفسنا والشيطان، والخير أردنا وما توفيقي إلا بالله العلي القدير.

مصطفى حلمي

الإسكندرية في 3 ذو الحجة سنة

1402 هـ

20 سبتمبر سنة 1982 م
যাতে তাকে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করা যায়। সেজন্য আমরা বর্তমান যুগে কালামশাস্ত্রীয় সমস্যার বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছি, যদিও তা বিগত শতাব্দীগুলোতে উত্থাপিত সমস্যাগুলো থেকে ভিন্ন।

আমরা পূর্ণ আস্থা ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে ব্যক্ত করছি যে, পবিত্র কুরআনের যে পদ্ধতি সুন্নাহর অনুসারী আলেমগণ সুস্পষ্ট করেছেন, তা সর্বকালের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক পদ্ধতি। আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন যা বুদ্ধি ও হৃদয়কে বিমোহিত করে, তা এই মূলনীতির প্রতি আমাদের আস্থাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারে না। কারণ, বৈজ্ঞানিক তথ্য যতই বৃদ্ধি পাক বা বিস্তৃত হোক না কেন, তা মহাবিশ্ব ও দিগন্তসমূহে আল্লাহ তাআলার চিরাচরিত বিধানের সাথে কোনো বৈপরীত্য বা বিরোধ সৃষ্টি করে না। আল্লাহ তাঁর আলেম বান্দাদের মহাকাশে বিশাল কোনো দিগন্ত অথবা মানবাত্মার গভীরে আরও সূক্ষ্ম বিষয় আবিষ্কারের জন্য যত বেশি উন্নত সক্ষমতা ও মাধ্যম দান করেন, তাদের নিকট ঐশ্বরিক বিধানের স্থায়িত্ব তত বেশি সুনিশ্চিত হয়।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য যোগ্যতাসম্পন্ন বহু বিশেষজ্ঞ আলেম এই পদ্ধতির পথ সুগম করে দিয়ে গেছেন। সুতরাং আমরা যদি আমাদের উদ্দেশ্যে সফল হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহ তাআলারই অনুগ্রহে; আর যদি কোনো ভুল চ্যুতি হয়ে থাকে, তবে তা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনায়। আমরা কেবল কল্যাণই কামনা করেছি। আর আমার কর্মতৎপরতা তো কেবল মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর তাওফিকের ওপরই নির্ভরশীল।

মুস্তফা হিলমি

আলেকজান্দ্রিয়া, ৩ যুল হিজ্জাহ, ১৪০২ হিজরি

২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول

 

‌‌الفصل الأول:

 

عصر الصحابة رضي الله عنهم

 

- أصول الدين في عصر النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة.

- رد الرسول صلى الله عليه وسلم على وفد نجران.

- القرآن كلام الله تعالى.

- الإيمان بالقدر وفهمه على الوجه الصحيح.

- الملائكة.
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

প্রথম অধ্যায়:

 

সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ

 

- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের যুগে দ্বীনের মূলনীতি।

- নাজরানের প্রতিনিধি দলের প্রতি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর।

- কুরআন মহান আল্লাহর কালাম (বাণী)।

- তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং তা সঠিক পদ্ধতিতে অনুধাবন।

- ফেরেশতামণ্ডলী।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১১)
عصر الصحابة رضي الله عنهم

ظلت أغلب دراسات المحدثين في الإسلاميات التي تحوم حول علم الكلام في نشأته وتطوره تعتمد على كتب المتكلمين أنفسهم من المعتزلة والأشاعرة في الغالب، فلا تكاد تعثر على دراسة عن المسلمين الأوائل ومناهجهم الشرعية العقلية في الاستدلال على أصول الدين.

ونلحظ أن أغلب البحوث المعاصرة تعتمد على آراء المستشرقين الذين يهتمون عادة بالفرق المنشقة عن أهل السنة والجماعة، والاهتمام بإيجاد الصلات بين معتقدات الفرق والمصادر الخارجية من عقائد وديانات وفلسفات يونانية وفارسية ونحوها.

وكثيرًا ما تتضخم أبحاثهم بالمسائل الخلافية والعناية بالفرق الغالية، وتصور التاريخ الإسلامي من خلال الخلافات والانشقاقات، فتختفي الحقيقة تحت أكوام من الجدل والخلاف بحيث يصعب على القارئ التمييز بين الحق والباطل.

ومثل هذا المنهج - فضلا عن النتائج المغرضة التي يراد الوصول إليها فإنه يتجاهل حقيقة بارزة لا يمكن إخفاؤها، ألا وهي أن آراء الفرق المنشقة قد حوصرت منذ ظهورها بواسطة علماء الحديث والسنة، ورفضتها الغالبية من أهل السنة والجماعة التي ظلت مستمسكة بالعقيدة الصحيحة المتلقاة بالقبول والفهم منذ عصر النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته.

لهذا، رأينا - مستعينين بالله سبحانه وتعالى إجلاء المنهج المتبع بواسطة علماء الحديث والسنة، وكانت أولى خطواتنا البدء بعصر الصحابة لاستقراء الاتجاهات الدالة على ألوان من النظر العقلي قبل أن يظهر أهل الكلام وقبل أن ينشق الصف الإسلامي إلى فرق ومذاهب متطاحنة، لنحاول أن نقف على تفسيرات أصحاب الصدر الأول للآيات القرآنية والأحاديث النبوية المتصلة ما سماه المتكلمون بـ (أصول الدين) والتي لم توضع في الصيغ الكلامية أو الأنساق الفلسفية خلال العصور المبكرة التي نتحدث عنها، ولكن الذي حدث هو أنه كلما تفتقت مسألة، أو حدث انشقاق طارئ مستحدث، قام لها من يتصدى بالتفسير والتوضيح، أو النهي والزجر إذا كان من قبل
সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ

ইসলামি বিষয়াবলি নিয়ে আধুনিক গবেষকদের অধিকাংশ গবেষণা, যা ইলমুল কালামের উদ্ভব ও বিকাশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তা মূলত মুতাযিলা ও আশআরিয়াদের মতো মুতাকাল্লিমদের (কালাম শাস্ত্রবিদ) নিজেদের লিখিত গ্রন্থাবলির ওপরই নির্ভরশীল। ফলে প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের অবস্থান এবং দীনের মৌলিক বিষয়াদির (উসূলে দীন) ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণের নিমিত্তে তাদের অনুসৃত শরয়ি-যৌক্তিক পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো গবেষণা খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না।

আমরা লক্ষ্য করি যে, অধিকাংশ সমকালীন গবেষণা প্রাচ্যবিদদের মতামতের ওপর নির্ভর করে, যারা সাধারণত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দলগুলোর প্রতি আগ্রহী। তাদের মূল মনোযোগ থাকে এই দলগুলোর আকিদা এবং গ্রিক, পারস্য ও অনুরূপ বৈদেশিক উৎস, ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করার প্রতি।

অনেক সময়ই তাদের গবেষণাগুলো বিতর্কমূলক বিষয়াবলি এবং চরমপন্থী দলগুলোর প্রতি অতি-মনোযোগের কারণে স্ফীত হয়ে ওঠে। তারা ইসলামি ইতিহাসকে কেবল বিভেদ ও অনৈক্যের মাধ্যমে চিত্রায়িত করে, ফলে সত্য বিষয়টি বিতর্ক ও মতপার্থক্যের স্তূপের নিচে এমনভাবে ঢাকা পড়ে যায় যে, পাঠকের পক্ষে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই ধরনের পদ্ধতি—উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফলাফলে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছাড়াও—এমন একটি সুস্পষ্ট সত্যকে উপেক্ষা করে যা আড়াল করা অসম্ভব। আর তা হলো, এই বিচ্ছিন্ন দলগুলোর মতামত প্রকাশের শুরু থেকেই হাদীস ও সুন্নাহর আলিমগণ সেগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের যুগ থেকে গ্রহণ ও সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ আকিদাকেই আঁকড়ে ধরে ছিল।

এ কারণেই, আমরা—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য নিয়ে—হাদীস ও সুন্নাহর আলিমগণের অনুসৃত পদ্ধতিকে স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। আমাদের প্রথম পদক্ষেপ ছিল সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করা, যাতে কালাম শাস্ত্রবিদদের আবির্ভাবের আগে এবং ইসলামি কাতার বিভিন্ন বিবদমান দল ও মতে বিভক্ত হওয়ার আগে যৌক্তিক চিন্তার বিভিন্ন রূপ প্রকাশকারী প্রবণতাগুলো অনুসন্ধান করা যায়। আমরা চেষ্টা করেছি প্রাথমিক যুগের মনীষীদের সেই সব কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা অনুধাবন করতে, যেগুলোকে মুতাকাল্লিমগণ ‘উসূলে দীন’ (দীনের মূলনীতি) হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ আমরা যে প্রাথমিক যুগের কথা বলছি, তখন এগুলো কালাম শাস্ত্রীয় রূপরেখা বা দার্শনিক কাঠামোতে বিন্যস্ত ছিল না। বরং যা ঘটেছিল তা হলো, যখনই কোনো নতুন বিষয়ের অবতারণা হয়েছে কিংবা কোনো আকস্মিক বিভক্তি দেখা দিয়েছে, তখনই কেউ না কেউ তার ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণে দাঁড়িয়েছেন অথবা পূর্ব থেকে বিদ্যমান কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে হলে তা থেকে নিষেধ ও তিরস্কার করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১২)
البدع المنهي عنها.

ثم ظهر على مر الأعصار المتكلمون في الفرق المختلفة فصاغوا كل هذا الكلام وشرحوه في أبواب وفصول نقلته إلينا مصادرهم، وجاء الباحثون لمحاولة استقصاء هذه المسائل في صيغها التقليدية بعينها، فلم يعثروا لها على أثر، فظنوا أن الصحابة لم يعرفوها، ولم يتطرقوا إليها، بينما الحق أنهم عرفوها وفهموا دقائقها، كما ينبغي أن تفهم وتعرف. ولا شك أن الأدلة تدعم اتجاهنا في اتخاذ عصر الصحابة نقطة البدء في البحث؛ لأن دراسة التاريخ الإسلامي ترشدنا إلى معرفة أسبقية الأوائل في العلم والعمل، في العقيدة والسلوك. وسنتخذ هذا المنهج في البحث لمحاولة شجب النتائج التي توصل إليها أمثال جولد تسيهر وغيره من المستشرقين الذين يطبقون على الإسلام - في العقائد والعبادات - آثار فكرة التطور، فيتصورون أنه بدأ بسيطًا ثم تطور على يد المسلمين فكانت أكبر زلاتهم.

ولما كانوا غير مسلمين معنا بالدليل القطعي الثابت في قوله تعالى: (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) [المائدة، الآية: 3] فإن استقراء الأحداث بأناة وصبر وجهد - مع توافر الصدق وحسن الطوية - ليثبت أن الإسلام في حياة الرسول اكتمل في عقائده وعباداته وأخلاقه وأحكامه ونصوصه وقواعده وأن الرسول صلوات الله عليه انتقل إلى الرفيق الأعلى، وترك الإسلام على هذا النحو وأن المسلمين من القرن الأول يرفضون من أي مخلوق، ومن أي جماعة، أن يضعوا في هذا الدين جديدًا إلى يوم الناس هذا، ويعتبرون أي تزيد على هذا الدين بدعة تحارب.

وسنحاول على قدر الاستطاعة، وبقدر ما تسمح به هذه الدراسة، الالتفات إلى عصر الصحابة والتابعين للبحث عن مواقفهم إزاء المسائل التي أثارها المتكلمون في العصور التالية.

 

‌‌أصول الدين في عصر النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة:

تتعدد المواقف التي توضح اتجاه الصحابة في تلقي الآيات القرآنية والنظر إليها، فإذا بدأنا في دراسة تلك المواقف لمنهج استقرائي، استطعنا الوقوف على استنباطهم
নিষিদ্ধ বিদআতসমূহ।

অতঃপর কালের আবর্তনে বিভিন্ন ফির্কার (দলের) কালাম শাস্ত্রবিদদের আবির্ভাব ঘটে এবং তারা এ সমস্ত বক্তব্যকে সুবিন্যস্ত করেন এবং বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে সেগুলো ব্যাখ্যা করেন, যা তাদের উৎসগ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। গবেষকরা এই মাসআলাগুলোকে হুবহু তাদের প্রথাগত রূপেই অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা সেগুলোর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি। ফলে তারা ধারণা করেছিলেন যে, সাহাবীগণ এগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো আলোচনাও করেননি। অথচ সত্য এই যে, তাঁরা এগুলো জানতেন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সেভাবেই অনুধাবন করেছিলেন যেভাবে এগুলো বুঝা ও জানা উচিত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দলিল-প্রমাণসমূহ গবেষণার প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে সাহাবীদের যুগকে গ্রহণ করার আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে; কারণ ইসলামী ইতিহাসের অধ্যয়ন আমাদের জ্ঞান ও কর্মে, আকিদা ও আচরণে পূর্ববর্তীদের অগ্রগামিতা সম্পর্কে জানতে পথপ্রদর্শন করে। আমরা গবেষণায় এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করব গোল্ডজিহার এবং তাঁর মতো অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য, যারা ইসলামের আকিদা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে 'বিবর্তনবাদের' ধারণা প্রয়োগ করেন। তারা কল্পনা করেন যে ইসলাম সহজ-সরলভাবে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে মুসলমানদের হাতে এর বিবর্তন ঘটেছে; এটিই ছিল তাদের সবচাইতে বড় পদস্খলন।

যেহেতু তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অকাট্য প্রমাণের প্রতি আমাদের ন্যায় বিশ্বাসী নন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" [মায়েদাহ, আয়াত: ৩]; তাই ধৈর্য, সতর্কতা ও প্রচেষ্টার সাথে ঘটনাপ্রবাহের পর্যালোচন—যদি সেখানে সততা ও সদিচ্ছা থাকে—তবে তা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ই ইসলাম তার আকিদা, ইবাদত, আখলাক, বিধান, পাঠ ও মূলনীতিসমূহে পূর্ণতা লাভ করেছিল। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রফীকে আ'লার (মহান বন্ধুর) সান্নিধ্যে চলে গিয়েছেন এবং ইসলামকে এই পূর্ণাঙ্গ অবস্থাতেই রেখে গিয়েছেন। প্রথম শতাব্দী থেকেই মুসলমানরা যেকোনো সৃষ্টির পক্ষ থেকে বা যেকোনো গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং তাঁরা দ্বীনের মধ্যে যেকোনো বাড়াবাড়িকে এমন এক বিদআত হিসেবে গণ্য করেন যার বিরুদ্ধে লড়াই করা আবশ্যক।

আমরা সাধ্যমতো এবং এই অধ্যয়ন যতটুকু সুযোগ দেয় সেই অনুযায়ী সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগের দিকে দৃষ্টিপাত করার চেষ্টা করব, যাতে পরবর্তী যুগের কালাম শাস্ত্রবিদদের উত্থাপিত মাসআলাগুলোর ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান অনুসন্ধান করা যায়।

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের যুগে উসুলুদ্দীন (দ্বীনের মূলনীতিসমূহ):

কুরআনের আয়াতসমূহ গ্রহণ এবং সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে সাহাবীদের অবস্থান পরিষ্কারকারী বহু ঘটনা রয়েছে। যদি আমরা একটি আরোহী পদ্ধতিতে সেই অবস্থানগুলো নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি, তবে আমরা তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও উপলব্ধির গভীরতা বুঝতে সক্ষম হব।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
للنصوص الشرعية من الكتاب والسنة، فيتضح لنا كيف بدأ التنازع، وأسباب حدوث الانشقاقات عن القواعد الإسلامية بعدهم. وكيف جوبهت الفرق المنشقة عن صف الجماعة، كالخوارج والشيعة والمرجئة والقدرية وغيرها، وظل علماء السلف من أهل الحديث والسنة يحملون على أعناقهم هذه المهمة يفندون مزاعم المنشقين، موضحين أسباب انحرافاتهم، مبينين القواعد الإسلامية الصحيحة المتلقاة عن الأوائل.

وتجتمع عناصر بحثنا في رأينا من قواعد عامة تجمع مواقف الصحابة منها أنهم تكلموا في أصول الدين جميعًا، كما أنهم يتفقون في المنهج فيفسرون بالقرآن مستندين إلى طرق الاستدلالات العقلية التي أشار إليها وحض على استخدامها.

ونستطيع أن نستدل من الأحداث التاريخية على أن الرسول صلى الله عليه وسلم شرح لهم الأصول الإسلامية كلها أو ما يسميه المتكلمون بـ (أصول الدين) ، والأمثلة كثيرة نقتطف بعضًا منها فيما يلي:

بدء الخلق:

روى مسلم في صحيحه في باب الإيمان عن أبي هريرة رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: "لا يزال الناس يسألونك عن العلم حتى يقولوا هذا الله خلقنا فمن خلق الله؟ " قال أبو هريرة جاءني ناس من الأعراب فقالوا: يا أبا هريرة هذا الله خلقنا فمن خلق الله؟ فأخذ حصى بكفه فرماهم به ثم قال: قوموا صدق خليلي صلى الله عليه وسلم وهناك عدة روايات لمسلم بهذا المعنى، جاء في إحداها قول الرسول صلوات الله عليه: "فمن وجد من ذلك شيئًا فليقل آمنت بالله " وقوله: "فمن بلغ ذلك فليستعذ بالله " فأرجع الرسول صلى الله عليه وسلم هذا السؤال إلى وسوسة الشيطان.

وروى البخاري في صحيحه في كتاب (بدء الخلق) عن عمران بن حصين قال: دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم وعقلت ناقتي بالباب، فأتاه ناس من بني تميم فقال: اقبلوا البشرى يا بني تميم. قالوا: قد بشرتنا فأعطنا مرتين، ثم دخل ناس من أهل اليمن فقال: اقبلوا البشرى يا أهل اليمن إذ لم يقبلها بنو تميم. قالوا: قد قبلنا يا رسول الله: قالوا: جئناك نسألك عن أول هذا الأمر. قال: (كان الله ولم يكن شيء غيره وكان عرشه على الماء، وكتب في الذكر كل شيء وخلق
কুরআন এবং সুন্নাহর শরীয়াহগত পাঠ্যসমূহের প্রেক্ষিতে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কীভাবে বিরোধের সূচনা হয়েছিল এবং সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী সময়ে ইসলামি মূলনীতিগুলো থেকে বিচ্যুতি ঘটার কারণসমূহ কী ছিল। কীভাবে জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দলসমূহ, যেমন খারেজি, শিয়া, মুরজিয়া, কাদরিয়া এবং অন্যান্যদের মোকাবিলা করা হয়েছিল, এবং আহলে হাদিস ও সুন্নাহর সালাফ বা পূর্বসূরী আলেমগণ কীভাবে এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে বহন করে গেছেন—তাও প্রতীয়মান হয়। তাঁরা বিচ্যুতদের দাবিগুলো খণ্ডন করেছেন, তাদের বিভ্রান্তির কারণসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং পূর্বসূরীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সঠিক ইসলামি মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন।

আমাদের গবেষণার বিষয়বস্তুগুলো আমাদের মতে এমন কিছু সাধারণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একত্রিত হয়েছে যা সাহাবায়ে কেরামের অবস্থানগুলোকে তুলে ধরে। এর মধ্যে একটি হলো যে, তাঁরা দ্বীনের সকল মৌলিক বিষয় (উসুল আদ-দ্বীন) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তদুপরি, তাঁরা পদ্ধতির (মানহাজ) ক্ষেত্রেও একমত ছিলেন; তাঁরা কুরআনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করতেন এবং সেই সমস্ত যৌক্তিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করতেন যেগুলোর প্রতি কুরআন ইঙ্গিত করেছে এবং যা ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করেছে।

আমরা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে এই দলিল পেশ করতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে সমস্ত ইসলামি মূলনীতি বা মুতাকাল্লিমগণ যাকে 'দ্বীনের মূলনীতি' (উসুল আদ-দ্বীন) বলে অভিহিত করেন, তা ব্যাখ্যা করেছেন। এর উদাহরণ অনেক, যার কিছু নিচে তুলে ধরা হলো:

সৃষ্টির সূচনা:

মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষ আপনাকে জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন করতেই থাকবে, এমনকি তারা বলবে: এই তো আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?" আবু হুরায়রা বলেন, মরুচারী আরবদের কিছু লোক আমার কাছে এসে বলল: হে আবু হুরায়রা, এই তো আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? তখন তিনি হাতের মুঠোয় কিছু কঙ্কর নিয়ে তাদের দিকে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন: তোমরা উঠে যাও, আমার পরম বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন। মুসলিমের এই মর্মে আরও কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে। তার একটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী এসেছে: "যার মনে এ জাতীয় কোনো চিন্তার উদয় হবে সে যেন বলে: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম।" এবং তাঁর বাণী: "যে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।" সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই প্রশ্নটিকে শয়তানের কুমন্ত্রণার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের (সৃষ্টির সূচনা) অধ্যায়ে ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করলাম এবং দরজায় আমার উটটি বাঁধলাম। তখন বনু তামিম গোত্রের কিছু লোক তাঁর কাছে এল। তিনি বললেন: "হে বনু তামিম, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো।" তারা বলল: "আপনি আমাদের সুসংবাদ তো দিলেন, এখন আমাদের কিছু দান করুন" - তারা এটি দুবার বলল। এরপর ইয়েমেনের কিছু লোক প্রবেশ করল। তিনি বললেন: "হে ইয়েমেনবাসী, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু বনু তামিম তা গ্রহণ করেনি।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা গ্রহণ করলাম।" তারা বলল: "আমরা আপনার কাছে এসেছি এই (সৃষ্টির) আদি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। তিনি লাওহে মাহফুজে (স্মারক গ্রন্থে) সবকিছু লিখে রেখেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন..."
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
السموات والأرض.. ") .

وسئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أقريب ربنا فنناجيه أم بعيد فنناديه؟ فانزل الله تعالى هذه الآية: (وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ) [البقرة، الآية: 186] (1) .

 

‌‌رد الرسول صلى الله عليه وسلم على وفد نجران:

تروي لنا كتب التاريخ قصة المباهلة المشهورة بين الرسول صلى الله عليه وسلم ووفد نجران، نختار منها المناقشة الدائرية بينه وبينهم، وكان عمادها الجدل بالتي هي أحسن.

وقد أورد الطبري في تفسيره أن النصارى أتوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فخاصموه في عيسى ابن مريم، وقالوا له: من أبوه؟

وقالوا على الله الكذب والبهتان لا إله إلا هو لم يتخذ صاحبة ولا ولدا. فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: (ألستم تعلمون أنه لا يكون ولد إلا وهو يشبه أباه) ؟ قالوا: نعم.

قال: فإن ربنا صور عيسى في الرحم كيف شاء.

قال: ألستم تعلمون أن ربنا حي لا يموت وأن عيسى يأتي عليه الفناء؟

قالوا: بلى.

قال: ألستم تعلمون أن ربنا قيم على كل شيء يكلؤه ويحفظه ويرزقه.

قالوا: بلى.

قال: فهل يملك عيسى من ذلك شيئًا؟ قالوا: لا.

قال: ألستم تعلمون أن الله لا يخفى عليه شيء في الأرض ولا في السماء؟

قالوا: بلى.

قال: فهل يعلم عيسى من ذلك شيئًا إلا ما علم؟

قالوا: لا.

قال: ألستم تعلمون أن ربنا لا يأكل الطعام ولا يشرب الشراب ولا يحدث الحدث؟

قالوا: بلى.

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير ج 1 ص 2 يقول ابن تيمية: وقصّتهم مشهورة متواترة نقلها أهل السير،

وأهل التفسير، وأهل الحديث وأهل الفقه وأصل حديثهم معروف.
আসমানসমূহ এবং জমিন...

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমাদের রব কি কাছে যে আমরা তাঁর সাথে গোপনে কথা বলব, নাকি দূরে যে আমরা তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকব? তখন মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন: (এবং যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬] (১)।

 

‌‌নাজরান প্রতিনিধিদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তর:

ইতিহাসের কিতাবসমূহ আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নাজরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংঘটিত বিখ্যাত মুবাহালার কাহিনী বর্ণনা করে। আমরা সেখান থেকে তাদের মধ্যের ধারাবাহিক আলোচনাটি বেছে নিচ্ছি, যার মূল ভিত্তি ছিল উত্তম পন্থায় বিতর্ক।

ইমাম তাবারী তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, খ্রিস্টানরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে মারইয়াম-তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বিতর্ক শুরু করে এবং তাঁকে বলে: তাঁর পিতা কে?

তারা আল্লাহর নামে মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করেছিল, অথচ তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "তোমরা কি জানো না যে, সন্তান অবশ্যই তার পিতার সদৃশ হয়ে থাকে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমাদের রব জরায়ুর ভেতরে ঈসাকে যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আকৃতি দান করেছেন।"

তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো না যে আমাদের রব চিরঞ্জীব যাঁর মৃত্যু নেই, আর ঈসার ওপর মৃত্যু আসবে?"

তারা বলল: "হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো না যে আমাদের রব সব কিছুর অভিভাবক ও রক্ষক, তিনি সবকিছুর হেফাযত করেন এবং রিযিক দান করেন?"

তারা বলল: "হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "তবে ঈসা কি এ সবের কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখেন?" তারা বলল: "না।"

তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো না যে আল্লাহর কাছে জমিন ও আসমানের কোনো কিছুই গোপন থাকে না?"

তারা বলল: "হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "তবে ঈসা কি তাকে যা শেখানো হয়েছে তা ছাড়া এই জ্ঞানের কোনো কিছু জানেন?"

তারা বলল: "না।"

তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো না যে আমাদের রব খাদ্য গ্রহণ করেন না, পানীয় পান করেন না এবং তাঁর মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয় না?"

তারা বলল: "হ্যাঁ।"

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খণ্ড, ২য় পৃষ্ঠা। ইবনে তাইমিয়া বলেন: তাদের কাহিনীটি প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির, যা সীরাত বিশেষজ্ঞ, তাফসীরকারক, হাদীস বিশারদ ও ফকীহগণ বর্ণনা করেছেন এবং তাদের এই আলোচনার মূল বিষয়টি সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال: ألستم تعلمون أن عيسى حملته أمه كما تحمل المرأة ثم وضعته كما تضع المرأة ولدها، ثم غذي كما يتغذى الصبي ثم كان يطعم ويشرب الشراب ويحدث الحدث؟

قالوا: بلى.

قال: فكيف يكون هذا كما زعمتم؟

قال: فعرفوا ثم أبوا إلا جحودًا. فأنزل الله تعالى: (الم (1) اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ) [آل عمران، الآيتان: 1، 2] (1) .

 

‌‌القرآن كلام الله تعالى:

قبل إثارة محنة خلق القرآن قد لا نعثر في المصادر التاريخية على روايات تشرح موقف الصحابة بنفس الطريقة التي تقابلنا بكتب الفرق أثناء مناقشة بعضها البعض، كالمعتزلة والأشاعرة، أو المعتزلة والسلف، ولكن مع هذا، نستطيع لمح آراء متناثرة تفيدنا في التوصل إلى معرفة موقف الصحابة بما ورد على ألسنة أئمتهم كعلي وابن مسعود وابن عباس رضي الله عنهم، وأقوالهم حجة.

ومن المعروف تاريخيًا أن أول من قال بأن القرآن مخلوق الجعد بن درهم من سني نيف وعشرين ومائة بعد الهجرة ثم الجهم بن صفوان.

ولكن الثابت عن هؤلاء الصحابة رضوان الله عليهم أنهم قالوا: إن القرآن كلام الله، صحيح لم يرد لفظ غير مخلوق، لأن المشكلة ظهرت بعدهم واستخدم المتكلمون هذه الألفاظ ولكن استقراء النصوص الواردة عنهم تفيد ذلك، فقد اعترض الخوارج - كما هو معروف - عليًا بن أبي طالب لأنه حكم الحكمين وقالوا له: (حكمت رجلين قال: ما حكمت مخلوقًا إنما حكمت القرآن) وفي إجابته أنه ما حكم إلا القرآن نفي لهذا الخلق عنه.

وأيضا قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: (من حلف بالقرآن فعليه بكل آية يمين، ومن كفر بحرف منه فقد كفر به أجمع) (2) .

--------------------------------------------

(1) الواحدي: أسباب النزول ص 61/62 ط مؤسسة الحلبي 1388 هـ- 1968 م.

(2) ابن تيمية الفتاوى الكبرى، تحقيق حسين محمد مخلوف ج 5 ص 56.
তিনি বললেন: তোমরা কি জানো না যে, ঈসাকে তাঁর মা গর্ভে ধারণ করেছিলেন যেভাবে নারীরা গর্ভধারণ করে, এরপর তিনি তাঁকে প্রসব করেছিলেন যেভাবে নারীরা তাদের সন্তানদের প্রসব করে, এরপর তাঁকে খাবার খাওয়ানো হয়েছিল যেভাবে শিশুকে খাওয়ানো হয়, এরপর তিনি খাবার খেতেন, পানীয় পান করতেন এবং মলমূত্র ত্যাগ করতেন?

তারা বলল: অবশ্যই।

তিনি বললেন: তাহলে তিনি তোমাদের দাবি অনুযায়ী এমন (ইলাহ) কীভাবে হতে পারেন?

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তারা সত্য বুঝতে পারল কিন্তু জেদবশত অস্বীকার করা ছাড়া আর কিছু করল না। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: (আলিফ-লাম-মীম (১) আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক) [আলে ইমরান, আয়াত: ১, ২] (১)।

 

‌‌কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম:

কুরআন সৃষ্টির ফিতনা (খালাকে কুরআন) উত্থাপিত হওয়ার পূর্বে, ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে আমরা সম্ভবত এমন কোনো বর্ণনা খুঁজে পাব না যা সাহাবীদের অবস্থানকে সেই একই পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করে যা আমরা বিভিন্ন ফেরকার কিতাবসমূহে একে অপরের সাথে আলোচনার সময় পাই, যেমন মুতাজিলা ও আশাইরা, অথবা মুতাজিলা ও সালাফদের মধ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আমরা কিছু বিক্ষিপ্ত মতামতের আভাস পেতে পারি যা আমাদের সাহাবীদের অবস্থান জানার ক্ষেত্রে সাহায্য করে, যা তাঁদের ইমামদের জবানিতে বর্ণিত হয়েছে যেমন আলী, ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), আর তাঁদের কথা দলিল হিসেবে গণ্য।

ঐতিহাসিকভাবে এটি পরিচিত যে, কুরআন মাখলুক বা সৃষ্টি হওয়ার কথা প্রথম যে ব্যক্তি বলেছিল সে হলো জা'দ ইবন দিরহাম, হিজরি একশ বিশ ও কিছু বছর পরে; এরপর জাহম ইবন সাফওয়ান।

তবে এই সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা প্রমাণিত তা হলো তাঁরা বলেছেন: কুরআন আল্লাহর কালাম। এটি ঠিক যে 'অসৃষ্ট' (গাইরে মাখলুক) শব্দটি সরাসরি আসেনি, কারণ এই সমস্যাটি তাঁদের পরে উদ্ভূত হয়েছে এবং কালামশাস্ত্রবিদগণ এসব শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যসমূহের অনুসন্ধান এটিই প্রমাণ করে। যেমনটি সর্বজনবিদিত যে, খারেজীরা আলী ইবনে আবি তালিবের বিরোধিতা করেছিল কারণ তিনি দুইজন সালিশ নিযুক্ত করেছিলেন। তারা তাঁকে বলেছিল: (আপনি দুইজন মানুষকে বিচারক নিযুক্ত করেছেন)। তিনি উত্তরে বলেছিলেন: (আমি কোনো মাখলুককে বা সৃষ্টিকে বিচারক নিযুক্ত করিনি, বরং আমি কুরআনকে বিচারক মেনেছি)। তাঁর এই উত্তরে যে তিনি কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুকে বিচারক মানেননি, তা কুরআনের 'মাখলুক' হওয়াকে নাকচ করে দেয়।

এছাড়াও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরআনের কসম খাবে, তার উপর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে একটি করে কসম সাব্যস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এর একটি হরফকেও অস্বীকার করল, সে যেন পুরো কুরআনকেই অস্বীকার করল) (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াহিদি: আসবাবুন নুজুল, পৃষ্ঠা ৬১/৬২, মুয়াসসাসাতুল হালাবি সংস্করণ, ১৩৮৮ হিজরি- ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, তাহকীক: হুসাইন মুহাম্মদ মাখলুফ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما قول ابن عباس رضي الله عنهما، قد كان مرة في جنازة فلما وضع الميت في لحده قام رجل فقال: اللهم رب القرآن اغفر له، فوثب إليه ابن عباس فقال: القرآن منه وفي رواية أخرى (القرآن كلام الله وليس بمربوب منه خرج وإليه يعود) .

 

‌‌الإيمان بالقدر وفهمه على الوجه الصحيح:

وفي الإيمان بالقدر الذي تنازع فيه المسلمون فيما بعد رأينا كيف كان أبو بكر رضي الله عنه مصيبًا حين يقول: أقول برأيي فإن كان صوابا فمن الله وإن كان خطأ فمني ومن الشيطان فهذا القول يدل على تأييده لحقيقة المسؤولية الأخلاقية ونفي الجبر، كما عزر عمر بن الخطاب رضي الله عنه من ادعى أن سرقته كانت بقضاء الله، فلما سأله فقال:

قضى الله علي، فأمر بقطع يده وضربه أسواطًا، فلما استفسروا من عمر عن سبب هذا التعزير (1) فأجاب: القطع للسرقة، والجلد لما كذب على الله. ولما قال محاصرو عثمان رضي الله عنه حين رموه: الله يرميك. قال: كذبتم لو رماني ما أخطأني.

وهناك توضيح أيضًا على لسان علي بن أبي طالب رضي الله عنه شارحًا الفرق بين قضاء الله تعالى وأمره، قد سأله شيخ عند انصرافه من صفين أكان المسير بقضاء الله وقدره؟ فأجابه علي رضوان الله عليه: والذي خلق الحبة وبرأ النسمة، ما هبطنا واديا ولا علونا قلعة إلا بقضاء وقدر، ففهم الشيخ خطأ أن عليًا يفسر ما حدث بالجبر لذلك أسرع علي فأفهمه معنى الإيمان بالقدر على حقيقته، وأنه لا يتنافى مع حرية إرادة الإنسان ومسؤوليته عن أفعاله، فقال له:

لعلك تظن قضاء واجبًا وقدرًا حتمًا، لو كان كذلك لبطل الثواب والعقاب وسقط الوعد والوعيد، ولما كانت تأتي من الله لائمة لمذنب ولا محمدة لمحسن، ولا كان المحسن بثواب الإحسان أولى من المسيء، ولا المسيء بعقوبة الذنب أولى من المحسن.. ثم أردف قائلاً: (إن الله تعالى أمر تخييرًا، ونهى تحذيرًا، ولم يكلف مجبرًا، ولا بعث الأنبياء عبثًا) (2) .

--------------------------------------------

(1) التعزير: التأديب دون الحد.

(2) القاضي عبد الجبار (فرق طبقات المعتزلة) ص 24 ط دار المطوعات الجامعية بالإسكندرية تحقيق د. النشار وعصام الدين محمد علي.
আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উক্তির ব্যাপারে বলা যায় যে, একবার তিনি একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হলো, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহ, কুরআনের রব! তাকে ক্ষমা করে দিন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) তার দিকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বললেন: কুরআন তাঁর থেকেই এসেছে। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে (কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই তা প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে)।

 

‌‌তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং একে সঠিক পদ্ধতিতে অনুধাবন করা:

তাকদীরের প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে—যে বিষয়ে পরবর্তীতে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল—আমরা দেখেছি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কতটা সঠিক ছিলেন যখন তিনি বলতেন: "আমি আমার অভিমত দিচ্ছি, যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।" এই উক্তিটি নৈতিক দায়বদ্ধতার বাস্তবতাকে সমর্থন এবং জবর (বাধ্যবাধকতা)-বাদকে নাকচ করার প্রমাণ দেয়। একইভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছিলেন যে দাবি করেছিল যে তার চুরি করা আল্লাহর ফয়সালা (কাযা) অনুযায়ী হয়েছে। যখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বলল:

আল্লাহ আমার ওপর এটি ফয়সালা করেছেন। তখন তিনি তার হাত কাটার এবং তাকে চাবুক মারার নির্দেশ দিলেন। যখন উমরের কাছে এই শাস্তির (১) কারণ জানতে চাওয়া হলো, তখন তিনি উত্তর দিলেন: "হাত কাটা চুরির জন্য, আর চাবুক মারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য।" আর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন অবরোধকারীরা আক্রমণ করে বলেছিল: "আল্লাহ তোমাকে নিক্ষেপ করছেন (আঘাত করছেন)।" তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহ যদি আমাকে নিক্ষেপ করতেন তবে তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেন না।"

এখানে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জবানীতেও একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর ফয়সালা (কাযা) এবং আদেশের (আমর) মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। সিফফীন থেকে ফেরার সময় এক বৃদ্ধ ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদের এই পথচলা কি আল্লাহর কাযা ও কদর (ফয়সালা ও নির্ধারণ) অনুযায়ী ছিল? আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে উত্তর দিলেন: "সেই সত্তার কসম, যিনি শস্যবীজ অংকুরিত করেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেন, আমরা কোনো উপত্যকায় নামিনি এবং কোনো দুর্গে আরোহণ করিনি যা আল্লাহর কাযা ও কদর ব্যতীত হয়েছে।" তখন সেই বৃদ্ধ ভুলবশত বুঝলেন যে আলী (রা.) যা ঘটেছে তাকে 'জবর' (মানুষের ইচ্ছাশক্তিহীনতা) দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন। তাই আলী (রা.) দ্রুত তাকে তাকদীরের প্রতি ঈমানের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়ে দিলেন এবং এটি যে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা এবং তার কর্মের দায়বদ্ধতার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তা স্পষ্ট করে বললেন:

হয়তো আপনি একে কোনো অনিবার্য ফয়সালা এবং অমোঘ নির্ধারণ মনে করছেন। যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে পুরস্কার ও শাস্তি অর্থহীন হয়ে যেত এবং প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী অসার হয়ে পড়ত। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে পাপাচারীর জন্য কোনো তিরস্কার এবং পুণ্যবানের জন্য কোনো প্রশংসা আসত না। পুণ্যবান ব্যক্তি তার সৎকর্মের পুরস্কারের জন্য পাপাচারীর চেয়ে অধিক যোগ্য হতো না, আর পাপাচারী তার পাপের শাস্তির জন্য পুণ্যবানের চেয়ে অধিক যোগ্য হতো না। এরপর তিনি আরও বললেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়ে আদেশ করেছেন এবং সতর্ক করে নিষেধ করেছেন। তিনি কাউকে বাধ্য করে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেননি এবং নবীদের নিরর্থক প্রেরণ করেননি) (২)।

--------------------------------------------

(১) তাযীর: হদ বা নির্ধারিত দণ্ডের নিচে সংশোধনমূলক শাস্তি।

(২) কাজী আবদুল জব্বার (ফারাকু তাবাকাতিল মুতাযিলা), পৃষ্ঠা ২৪, আলেকজান্দ্রিয়া দারুল মাতবুআত আল-জামিয়্যাহ সংস্করণ, ড. আন-নাশশার এবং ইসামুদ্দিন মুহাম্মদ আলী কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويسوق لنا التاريخ أيضًا ما فهمه عمر بن الخطاب وابنه رضي الله عنهما وتمييزهما الدقيق بين العلم الإلهي المسبق المحيط بكل شيء وبين أفعال الإنسان التي يؤديها بحريته وإرادته.

وللقارئ هذا المثل الذي يضربه عمر بن الخطاب رضي الله عنه في شرح الصلة بين العلم الإلهي والفعل الإنساني قال: (مثل علم الله فيكم كمثل السماء التي أظلتكم، والأرض التي أقلتكم، فكما لا تستطيعون الخروج من السماء والأرض، كذلك لا تستطيعون الخروج من علم الله، كما لا تحملكم السماء والأرض على الذنوب، كذلك لا يحملكم علم الله على ما تم) .

وبسؤال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن حالة بعض الناس الذي يزنون ويشربون الخمر ويسرقون ويقتلون النفس زاعمين أن ذلك كان في علم الله تعالى، فغضب ثم قال: (سبحان الله العظيم، قد كان ذلك في علمه أنهم يفعلونها، ولم يحملهم علم الله على فعلها) (1) .

والإجابة توضح نفسها ولا تحتاج إلى مزيد، فإن علم الله تعالى المحيط بكل شيء - لأنه سبحانه بكل شيء عليم - صفة من صفات الكمال، والعلم الإلهي بما حدث ويحدث وسيحدث لا يحمل العباد على أفعالهم.

 

‌‌الملائكة:

قال جماعة من المفسرين: كان لعمر أرض بأعلى المدينة فكان يأتيها، وكان طريقه على موضع مدارسة اليهود، وكان كلما مر دخل عليهم فسمع منهم وأنه دخل عليهم ذات يوم فقالوا: يا عمر ما من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أحد أحب إلينا منك، إنهم يمرون بنا فيؤذوننا وتمر بنا فلا تؤذينا، وإنا لنطمع فيك، فقال لهم عمر: أي يمين فيكم أعظم؟ قالوا: الرحمن قال: فبالرحمن الذي أنزل التوراة على موسى بطور سيناء أتجدون محمدًا عندكم نبيًا؟ فسكتوا فقال: تكلموا ما شأنكم والله ما سألتكم وأنا شاكٌّ في شيء من ديني، فنظر بعضهم لبعض، فقام رجل منهم فقال: أخبروا الرجل أو لأخبرنه، قالوا: نعم إنا نجده مكتوبًا عندنا، ولكن صاحبه من الملائكة الذي يأتيه

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر ص 26.
ইতিহাস আমাদের সামনে উমর ইবনুল খাত্তাব এবং তাঁর পুত্র (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর সেই উপলব্ধি এবং সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও মানুষের কর্মের মধ্যে তাঁদের নিখুঁত পার্থক্যের বিষয়টিও তুলে ধরে, যা মানুষ তার স্বাধীনতা ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করে।

পাঠকের জন্য উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) প্রদত্ত এই উদাহরণটি উপস্থাপন করা হলো, যা তিনি আল্লাহর জ্ঞান ও মানুষের কর্মের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যায় প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: "তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর জ্ঞানের উদাহরণ হলো সেই আকাশের মতো যা তোমাদের ছায়া প্রদান করে এবং সেই জমিনের মতো যা তোমাদের বহন করে। যেভাবে তোমরা আকাশ ও জমিনের সীমানার বাইরে যেতে সক্ষম নও, তেমনিভাবে তোমরা আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে যেতেও সক্ষম নও। আর যেভাবে আকাশ ও জমিন তোমাদের পাপ করতে বাধ্য করে না, তেমনিভাবে আল্লাহর জ্ঞানও তোমাদের সেসব কাজে বাধ্য করে না যা তোমরা সম্পাদন করেছ।"

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে এমন কিছু লোকের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যারা ব্যভিচার করে, মদ পান করে, চুরি করে এবং মানুষ হত্যা করে—এই দাবি করে যে তা আল্লাহর জ্ঞানে ছিল। তখন তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "মহান আল্লাহ অতি পবিত্র! তাঁর জ্ঞানে অবশ্যই ছিল যে তারা এসব করবে, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান তাদের এসব করতে বাধ্য করেনি।" (১)

এই উত্তরটি নিজেই স্পষ্ট এবং এতে আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কারণ সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী মহান আল্লাহর জ্ঞান—যেহেতু তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ—তা তাঁর একটি পূর্ণতার গুণ। আর যা ঘটেছে, যা ঘটছে এবং যা ঘটবে সে সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান বান্দাদের তাদের কর্মে বাধ্য করে না।

 

‌‌ফেরেশতামণ্ডলী:

একদল মুফাসসির বলেন: মদীনার উচ্চভূমিতে উমরের এক খণ্ড জমি ছিল যেখানে তিনি যাতায়াত করতেন। তাঁর পথ ছিল ইহুদিদের পাঠশালার পাশ দিয়ে। যখনই তিনি সেখান দিয়ে যেতেন, তাদের নিকট প্রবেশ করতেন এবং তাদের কথা শুনতেন। একদিন তিনি তাদের নিকট প্রবেশ করলে তারা বলল: হে উমর, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্যে আপনার চেয়ে প্রিয় আমাদের কাছে আর কেউ নেই। তারা আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের কষ্ট দেয়, কিন্তু আপনি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের কষ্ট দেন না। আমরা আপনার ব্যাপারে আশাবাদী। উমর তাদের বললেন: তোমাদের নিকট সবচেয়ে বড় শপথ কোনটি? তারা বলল: আর-রাহমান। তিনি বললেন: তবে সেই আর-রাহমান (পরম দয়ালু)-এর শপথ, যিনি সিনাই পাহাড়ে মূসার ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি মুহাম্মদকে তোমাদের কিতাবে নবী হিসেবে পাও? তারা চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন: তোমরা কথা বলো, তোমাদের কী হয়েছে? আল্লাহর শপথ, আমি আমার দ্বীনের কোনো বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে তোমাদের প্রশ্ন করছি না। তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাল। তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: তোমরা লোকটিকে জানাও, নতুবা আমি তাকে জানিয়ে দেব। তারা বলল: হ্যাঁ, আমরা তাঁকে আমাদের কিতাবে লিখিত পাই, কিন্তু ফেরেশতাদের মধ্যে তাঁর নিকট যে সাথীটি আসে...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
بالوحي هو جبريل، وجبريل عدونا وهو صاحب كل عذاب وقتل وخسف، ولو أنه كان وليه ميكائيل لآمنا به. فإن ميكائيل صاحب كل رحمة وكل غيث قال لهم: فأنشدكم بالرحمن الذي أنزل التوراة على موسى بطور سيناء أين ميكائيل وأين جبريل من الله؟ قالوا جبريل عن يمينه وميكائيل عن يساره، قال عمر: فأشهد أن الذي هو عدو للذي عن يمينه هو عدو للذي عن يساره والذي هو عدو للذي عن يساره هو عدو للذي عن يمينه وأن من كان عدوًا لهما فإنه عدو لله.

ثم رجع عمر ليخبر النبي صلى الله عليه وسلم فوجد جبريل قد سبقه بالوحي فدعاه النبي صلى الله عليه وسلم فقرأ عليه: (قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ (97) مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ) [البقرة، الآيتان: 97، 98] فقال عمر: والذي بعثك بالحق لقد جئت وما أريد إلا أن أخبرك (1) .

--------------------------------------------

(1) الحافظ ابن عبد البر (463 هـ) جامع بيان العلم وفضله ج 2 ص 123، 124.
ওহী নিয়ে আগমনকারী হলেন জিবরাঈল; আর জিবরাঈল আমাদের শত্রু, কারণ তিনি সকল আযাব, হত্যা ও ভূমিধসের দায়িত্বশীল। যদি তাঁর বন্ধু মিকাঈল হতেন, তবে আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনতাম। কেননা মিকাঈল সকল রহমত ও বৃষ্টির দায়িত্বশীল। উমর (রা.) তাদের বললেন: আমি তোমাদের সেই দয়াময় আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, যিনি সিনাই পাহাড়ে মূসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, আল্লাহর নিকট জিবরাঈল ও মিকাঈলের অবস্থান কোথায়? তারা বলল: জিবরাঈল তাঁর ডান দিকে এবং মিকাঈল তাঁর বাম দিকে। তখন উমর বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি তাঁর ডান দিকে অবস্থানকারীর শত্রু, সে তাঁর বাম দিকে অবস্থানকারীরও শত্রু; আর যে ব্যক্তি তাঁর বাম দিকে অবস্থানকারীর শত্রু, সে তাঁর ডান দিকে অবস্থানকারীরও শত্রু। আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের শত্রু, সে আল্লাহর শত্রু।

অতঃপর উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সংবাদ প্রদানের জন্য ফিরে আসলেন এবং দেখলেন যে জিবরাঈল ওহী নিয়ে তাঁর আগেই পৌঁছে গেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁর সামনে তিলাওয়াত করলেন: (বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হবে, তবে সে জেনে রাখুক যে, তিনি (জিবরাঈল) আল্লাহর অনুমতিক্রমে এটি আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা তার সম্মুখস্থ কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ। (৯৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।) [আল-বাকারা, আয়াত: ৯৭, ৯৮]। তখন উমর বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনার কাছে কেবলমাত্র সংবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছিলাম (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাফিজ ইবনে আব্দুল বার (৪৬৩ হিজরি), জামিউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৩, ১২৪।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني:

 

مكانة الصحابة رضي الله عنهم في الأمة

 

- منهج الصحابة في النظر والتدبر.

- الأدلة النقلية والعقلية على فضل الصحابة.

أولا: الأدلة النقلية.

ثانيًا: الدليل العقلي.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

 

উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর মর্যাদা

 

- বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতি।

- সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের স্বপক্ষে বর্ণিত এবং যুক্তিনির্ভর প্রমাণাদি।

প্রথমত: বর্ণিত (নক্বলী) প্রমাণাদি।

দ্বিতীয়ত: যুক্তিনির্ভর (আকলী) প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২১)
مكانة الصحابة رضي الله عنه في الأمة

تخبرنا كتب التاريخ وصحائفه عن اكتمال الفهم والمعرفة لأصول الدين جميعًا لدى الصحابة رضي الله عنهم وكان ذلك بفضل طاعتهم للآيات القرآنية التي حثتهم على التدبر في غير موضع، مثل قوله تعالى: (كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ [ص، الآية: 29] وعلى العكس وصف الكفار والمنافقين بالإعراض عن تدبره في مثل قوله تعالى عز وجل: (أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا) [النساء، الآية: 82] ومعنى ذلك أن معانيه مما يمكن للكفار والمنافقين فهمها ومعرفتها فهي إذن ممكنة للمؤمنين أيضًا، ويدل على أن معانيه كانت معروفة بينة لهم.

وأيضًا فإن الله عز وجل بين أنه أنزل القرآن عربيًا لكي يعقلوه: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) [يوسف، الآية: 2] والعقل لا يكون إلا مع العلم بمعانيه، وذم من لا يفقهه: (فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا) [النساء، الآية: 78] فلو كان المؤمنون غير عاقلين لاصطفوا في صف واحد مع المنافقين والكفار الذين ضرب لهم مثلاً بقوله تعالى: (وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ) [البقرة، الآية: 171] فكيف إذن يمكن وضع السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار بمنزلة الكفار الذين ذمهم الله في أكثر من موضع لأنهم أعرضوا عن تدبر القرآن واتبعوا أهواءهم، فقال تعالى في وصفهم: (وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ) [محمد، الآية: 16] (1) .

ويضيف شيخ الإسلام ابن تيمية إلى كل هذه الأدلة، ما ثبت عن كل واحد من أصحاب ابن مسعود وابن عباس أنه نقل عنهما من التفسير ما لا يحصيه إلا الله فقد قال ابن مسعود: "لو أعلم أحدًا أعلم بكتاب الله مني تبلغه الإبل لأتيته".

وجاء التابعون فتعلموا التفسير من الصحابة، قال مجاهد: عرضت المصحف على ابن عباس من أوله إلى آخره، أقف عند كل آية وأسأله عنها؛ لهذا قال سفيان

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية فتاوى ج 5 ص 157 و 159 ط الرياض.
উম্মাহর মধ্যে সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা

ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ ও এর পত্রাবলি আমাদের সংবাদ দেয় যে, সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট দ্বীনের সকল মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ বুঝ ও জ্ঞান বিদ্যমান ছিল। আর এটি সম্ভব হয়েছিল কুরআনের আয়াতসমূহের প্রতি তাঁদের আনুগত্যের বদৌলতে, যা তাঁদেরকে বিভিন্ন স্থানে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (তাদাব্বুর) করার তাগিদ দিয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে) [সোয়াদ, আয়াত: ২৯]। পক্ষান্তরে, কাফির ও মুনাফিকদেরকে কুরআনের তদারব বা অনুধাবন থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে নিন্দা করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: (তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত।) [আন-নিসা, আয়াত: ৮২]। এর অর্থ হলো, এর অর্থসমূহ এমন যা কাফির ও মুনাফিকদের পক্ষেও বুঝা ও জানা সম্ভব; সুতরাং মুমিনদের জন্যও তা সম্ভব। আর এটি প্রমাণ করে যে, এর অর্থসমূহ তাঁদের কাছে সুপরিচিত ও সুস্পষ্ট ছিল।

আরও বিষয় হলো, মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কুরআনকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন যাতে তারা তা বুঝতে পারে: (নিশ্চয়ই আমি একে আরবি ভাষায় কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো) [ইউসুফ, আয়াত: ২]। আর বুঝা বা অনুধাবন (আকল) তো এর অর্থসমূহের জ্ঞান ছাড়া সম্ভব নয়। আর আল্লাহ তাঁদের নিন্দা করেছেন যারা তা অনুধাবন করে না: (এই সম্প্রদায়ের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?) [আন-নিসা, আয়াত: ৭৮]। মুমিনরা যদি অনুধাবন করতে অক্ষম হতেন, তবে তারা মুনাফিক ও কাফিরদের সাথে একই কাতারে শামিল হতেন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছেন: (আর যারা কুফরি করেছে তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে এমন কিছুকে ডাকছে যা আহ্বান ও চিৎকার ব্যতীত কিছুই শোনে না; তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা বুঝতে পারে না।) [আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭১]। এমতাবস্থায়, কীভাবে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে সেই প্রথম অগ্রবর্তী দলটিকে সেই কাফিরদের স্তরে রাখা সম্ভব হতে পারে, যাদের নিন্দা আল্লাহ একাধিক স্থানে করেছেন, কারণ তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করা থেকে বিমুখ ছিল এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছিল। আল্লাহ তাদের বর্ণনায় বলেছেন: (তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার কথা শোনে, কিন্তু যখন তারা আপনার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়, তখন যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে, 'এইমাত্র সে কী বলল?' এরাই তারা যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে।) [মুহাম্মদ, আয়াত: ১৬] (১) .

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই সকল প্রমাণের সাথে আরও যুক্ত করেছেন যা ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস (রা.)-এর প্রত্যেক ছাত্র থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁদের থেকে তাফসিরের এত বিপুল বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন: "আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কারো কথা যদি আমি জানতাম যার কাছে উটের পিঠে চড়ে পৌঁছানো সম্ভব, তবে আমি অবশ্যই তার কাছে যেতাম"।

এরপর তাবিঈগণ আসলেন এবং তাঁরা সাহাবায়ে কিরামের কাছ থেকে তাফসির শিক্ষা করলেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন: "আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ কুরআন পেশ করেছি; আমি প্রতিটি আয়াতের নিকট থামতাম এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম।" এই কারণেই সুফইয়ান বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ, ফাতাওয়া, ৫ খণ্ড, ১৫৭ ও ১৫৯ পৃষ্ঠা, রিয়াদ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২২)
الثوري: إذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به. فالأصل أن الرسول صلى الله عليه وسلم قد يبلغ الرسالة كما أمر ولم يكتم منها شيئًا تنفيذا لقوله تعالى: (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) [النحل، الآية: 44] وقال تعالى: (يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ) [المائدة، الآية: 67] وقد أخبر الله بأنه قد أكمل الدين، وقال الرسول صلوات الله عليه: "ما تركت من شيء يقربكم إلى الجنة إلا وقد حدثتكم به، وما من شيء يبعدكم عن النار إلا وقد حدثتكم به".

وبناء على هذا الأصل، فإنه تبين لنا أنه صلى الله عليه وسلم أوضح كافة الأصول الإسلامية مما أخبر به عن الله تعالى من أسماء الله وصفاته مما جاء في القرآن، وشرح وبين لأصحابه هذه الأصول كلها كأحسن ما يكون البيان. قال أبو ذر: "لقد توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما طائر يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علمًا".

كان الصحابة حريصين على الفهم والاستيعاب الدقيق الكامل لكل ما يتعلمونه من القرآن والحديث، فإن عثمان بن عفان وعبد الله بن مسعود وغيرهما كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يجاوزوهما حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل (قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعًا) وقام عبد الله بن عمر يحفظ سورة البقرة في ثمان سنين لاستغراقه في المعرفة والفهم (1) .

وكانت أم الدرداء تصف زوجها بأن أفضل عمله التفكر (2) وعلى العكس من هذه الحقيقة، فإن الادعاء بأن الصحابة كانوا مشغولين بالجهاد - كما يذكر بعض المتكلمين - فإنه يحمل في طياته ذم الصحابة بل يجعل مذهب السلف أن الرسول صلى الله عليه وسلم بلغ قرآنًا لا يفهم معناه، بل تكلم بأحاديث الصفات وهو لا يفهم معناها، وأن جبريل كذلك وأن الصحابة والتابعين كذلك وهذا الموقف - كما يذكر ابن تيمية - ضلال عظيم (3) .

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: فتاوى ج 5 ص 155 و 156 ط الرياض.

(2) نقض المنطق ص 87.

(3) شرح حديث النزول.
আস-সাওরী বলেন: মুজাহিদ থেকে যখন তোমার নিকট তাফসীর পৌঁছায়, তবে সেটিই তোমার জন্য যথেষ্ট। মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশিত পন্থায় রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহর এই বাণী পালনার্থে এর কোনো কিছুই গোপন করেননি: (এবং আমি আপনার প্রতি এই যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন) [আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন) [আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৭]। আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো বিষয় আমি বাকি রাখিনি যা তোমাদের নিকট বর্ণনা করিনি, এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন কোনো বিষয় নেই যা তোমাদের নিকট বর্ণনা করিনি।"

এই মূলনীতির ভিত্তিতে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত যা কিছু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তার সকল ইসলামী মূলনীতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিকট এই সকল মূলনীতি সর্বোত্তম পন্থায় ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করেছেন। আবু যার বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এমন অবস্থায় যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো কোনো পাখি সম্পর্কেও তিনি আমাদের নিকট জ্ঞান বর্ণনা করেছেন।"

সাহাবীগণ কুরআন ও হাদীস থেকে যা কিছু শিখতেন তার প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে ও পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে এবং আত্মস্থ করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। উসমান বিন আফফান, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তারা সেই আয়াতের ইলম ও আমল না শেখা পর্যন্ত পরবর্তী আয়াতে যেতেন না (তারা বলতেন: এভাবে আমরা কুরআন, ইলম ও আমল সবকিছু একসাথে শিখেছি)। আর আবদুল্লাহ বিন উমর সূরা আল-বাকারাহর গভীর জ্ঞান ও উপলব্ধিতে নিমগ্ন থাকার কারণে তা মুখস্থ করতে আট বছর সময় নিয়েছিলেন (১)।

উম্মুদ দারদা তাঁর স্বামীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলতেন যে, তাঁর শ্রেষ্ঠ আমল ছিল চিন্তা-গবেষণা (২)। এই বাস্তবতার বিপরীতে একদল কালাম শাস্ত্রবিদদের দাবি যে সাহাবীগণ জিহাদে ব্যস্ত ছিলেন—তাদের এই দাবি সাহাবীগণের অবমাননা করার শামিল। বরং এটি সালাফদের মানহাজ সম্পর্কে এমন ধারণা দেয় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন এক কুরআন পৌঁছে দিয়েছেন যার অর্থ বুঝা যায় না, এমনকি তিনি গুণাবলী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বলেছেন অথচ তিনি নিজে এর অর্থ বুঝতেন না, জিবরাঈল এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণও তা বুঝতেন না। ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, এই অবস্থান এক চরম ভ্রষ্টতা (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ: ফাতাওয়া, ৫ম খণ্ড, ১৫৫ ও ১৫৬ পৃষ্ঠা, রিয়াদ সংস্করণ।

(২) নাকযুল মানতিক, পৃষ্ঠা ৮৭।

(三) শারহু হাদীসিন নুযূল।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وشرح ذلك يحتاج إلى مزيد من الإيضاح، نذكره فيما يلي:

 

‌‌منهج الصحابة في النظر والتدبر:

لقد خاطب الإسلام العقل كما رأينا ودعا الإنسان إلى النظر في آثار مخلوقات الله تعالى، وقد مضى عصر الصحابة في الصدر الأول على هذا المنهج القرآني الواضح كان قدوتهم الرسول صلى الله عليه وسلم وحده في النظر والسلوك، حيث عاشوا معه وشاهدوا التنزيل وسألوا واستفسروا عما يعنُّ لهم من قضايا تحتاج إلى شرح وإيضاح.

وهكذا استمدوا من كتاب الله تعالى معرفة وحدانية الله تعالى، وإثبات صفاته، وعرفوا الأنبياء والرسل عليهم السلام وقصصهم مع أممهم، ووقفوا منه على أصل خلق آدم عليه السلام وعداوة إبليس له ولبنيه وعرفوا مكانة الملائكة وأدوارهم من بين مخلوقات الله تعالى، واستمدوا معلوماتهم عن اليوم الآخر وحساب الله تعالى وجنته وناره والقدر خيره وشره إلى ذلك من القضايا التي تشكل أركانًا رئيسية وأصولاً في الإيمان. وكلها جمعها القرآن الكريم - كما يرى الزركشي - في أقسام ثلاثة: توحيد وتذكير وأحكام. (فالتوحيد تدخل فيه معرفة المخلوقات ومعرفة الخالق بأسمائه وصفاته وأفعاله، والتذكير ومنه الوعد والوعيد والجنة والنار وتصفية الظاهر والباطن، والأحكام ومنها التكاليف كلها وتبيين النافع والضار والأمر والنهي والندب. فالأول: (وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ) [البقرة، الآية: 163] فيه التوحيد كله في الذات والصفات والأفعال، والثاني: (وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ [الذاريات، الآية: 55] . والثالث: (وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ) [المائدة، الآية: 49] (1) .

وقد خط لهم القرآن الكريم الاستدلال بمخلوقات الله تعالى على وحدانيته سبحانه وعلمه وحكمته، فإنها جميعًا تبرهن على أن لها صانعًا حكيماً خبيراً تام القدرة بالغ الحكمة، كما دعاهم إلى آثار الصنعة في أنفسهم أيضًا (وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ [الذاريات، الآية: 21] إشارة إلى ما فيها من آثار الصنعة ولطيف الحكمة

--------------------------------------------

(1) الزركشي: البرهان في علوم القرآن ج 1 ص 17 ط الحلبي 1957 م.
এর ব্যাখ্যার জন্য আরও বিশদ আলোচনার প্রয়োজন, যা আমরা নিম্নে উল্লেখ করছি:

 

‌‌চিন্তা ও গবেষণায় সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ (পদ্ধতি):

ইসলাম বিবেককে সম্বোধন করেছে, যেমনটি আমরা দেখেছি, এবং মানুষকে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিসমূহের নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাত করার আহ্বান জানিয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবায়ে কেরামের যুগ এই স্পষ্ট কুরআনি পদ্ধতির উপরেই অতিবাহিত হয়েছে। চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাদের আদর্শ। কারণ তারা তাঁর সাথে বসবাস করেছেন, ওহি অবতীর্ণ হতে দেখেছেন এবং তাঁদের সামনে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন ও জেনে নিয়েছেন।

এভাবেই তারা আল্লাহর কিতাব থেকে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের জ্ঞান এবং তাঁর গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। তারা নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) এবং তাঁদের জাতিসমূহের কাহিনী সম্পর্কে জেনেছেন। তারা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির মূল রহস্য এবং তাঁর ও তাঁর সন্তানদের প্রতি ইবলিসের শত্রুতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেছেন। তারা সৃষ্টিজগতের মধ্যে ফেরেশতাদের মর্যাদা ও ভূমিকা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তারা পরকাল, আল্লাহর হিসাব-নিকাশ, তাঁর জান্নাত ও জাহান্নাম এবং তাকদিরের ভালো-মন্দ সম্পর্কে তথ্য আহরণ করেছেন; যা ঈমানের প্রধান রুকন ও মূল বিষয়াবলি গঠন করে। আল-যারকাশির মতে, কুরআনুল কারিম এ সব বিষয়কে তিনটি প্রধান ভাগে একত্রিত করেছে: তাওহিদ, উপদেশ এবং বিধিবিধান। (তাওহিদের অন্তর্ভুক্ত হলো সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জানা এবং স্রষ্টাকে তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে চেনা; উপদেশের অন্তর্ভুক্ত হলো জান্নাত-জাহান্নামের প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহ পরিশুদ্ধ করা; আর বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত হলো সমস্ত শরয়ি দায়িত্ব, উপকারী ও ক্ষতিকারক বিষয়ের বর্ণনা এবং আদেশ, নিষেধ ও পছন্দনীয় বিষয়সমূহ)। প্রথমটি হলো: "আর তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ" [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩], এর মধ্যে আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলির যাবতীয় তাওহিদ অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি হলো: "আর আপনি উপদেশ দিন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে" [সূরা আজ-যারিয়াত, আয়াত: ৫৫]। তৃতীয়টি হলো: "আর আপনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করুন আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে, এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন পাছে তারা আপনাকে আল্লাহ আপনার প্রতি যা নাজিল করেছেন তার কোনোটি থেকে বিচ্যুত করে ফেলে" [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৪৯] (১)।

কুরআনুল কারিম তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে তাঁর একত্ববাদ, জ্ঞান ও হিকমতের দলিল গ্রহণের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছে। কারণ এ সমস্ত সৃষ্টিই প্রমাণ করে যে, এগুলোর একজন প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞাত, পূর্ণ ক্ষমতাবান ও মহাজ্ঞানী কারিগর রয়েছেন। পাশাপাশি কুরআন তাদেরকে তাদের নিজ সত্তার মধ্যে বিদ্যমান কারুকার্যের নিদর্শনের প্রতিও দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে: "আর তোমাদের নিজ সত্তার মধ্যেও, তবে কি তোমরা দেখবে না?" [সূরা আজ-যারিয়াত, আয়াত: ২১]। যা মানুষের সৃষ্টির মধ্যকার নিপুণ শিল্পকর্ম ও সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার নিদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করে।

--------------------------------------------

(১) আল-যারকাশি: আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭, হালবি প্রকাশনী, ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
الدالين على وجود الصانع الحكيم (1) .

ونهاهم الرسول صلى الله عليه وسلم عن التفكر في الخالق جل شأنه، فجاء في الأثر "تفكروا في الخلق ولا تتفكروا في الخالق) ، وتعليل النهي أنه سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء (فالتفكر والذي مبناه على القياس ممتنع في حقه، وإنما هو معلوم بالفطرة، فيذكره العبد) (2) كذلك جاء الرسول صلى الله عليه وسلم بسنته كمصدر ثان للإسلام ولذلك أصبح المنهج الصحيح يقتضي معرفة سنته وتنفيذها، فمن كان أعلم بسنته وأتبع لها كان الصواب معه، وهذه الأوصاف تنطق على الصحابة رضي الله عنهم ثم الأجيال التالية من أهل الحديث والسنة (وهؤلاء هم الذين لا ينتصرون إلا لقوله، ولا يضافون إلا إليه، وهم أعلم الناس بسنته وأتبع لها لكن التفرق والاختلاف كثير في المتأخرين) (3) .

وبهذه الطريقة وضعوا الأسس السليمة للمنهج الصحيح في معرفة أصول الدين وفروعه، فمن أراد إذن معرفة شيء من الدين والكلام فيه، نظر فيما قاله الله والرسول صلى الله عليه وسلم، فمنه يتعلم وبه يتكلم وفيه ينظر ويتفكر وبه يستدل، هذا أصل منهج أهل الحديث والسنة.

أما المخالفون لهذا المنهج، فلم يراعوا قاعدته ويلتزموا بخطواته، إذ أنهم بدلاً من البدء بالنظر فيما قاله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، بدأوا بما رأوه بعقولهم كما فعل المتكلمون، أو بما ذاقوه بوجدانهم - كما فعل الصوفية - فإذا وجدوا السنة توافقه وإلا لم يبالوا بذلك، فإذا وجدوها تخالفه، أعرضوا عنها تفويضًا أو حرفوها تأويلاً (4) .

وهذه الصورة المخالفة للمنهج الإسلامي الصحيح كثيرًا ما نراها في عصرنا أيضًا، بسبب ضغوط ثقافة الغرب وحضارته، وعلى أثر انتصاره العسكري والسياسي وتفوقه العلمي ونفوذه الثقافي، وتأثيره الساحر على العقول والنفوس، في مقابل ضآلة

--------------------------------------------

(1) السيوطي: صون المنطق ج 1 ص 143.

(2) ابن تيمية: نقض المنطق ص 35.

(3) ابن تيمية: منهاج السنة ج 3 ص 46.

(4) ابن تيمية: الفرقان بين الحق والباطل ص 47.
প্রজ্ঞাবান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণাদি (১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে স্রষ্টা মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন। প্রবাদে এসেছে, "তোমরা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে চিন্তা করো, কিন্তু স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা করো না।" এই নিষেধারোপের কারণ হলো, মহান আল্লাহ এমন এক সত্তা যাঁর সদৃশ কিছুই নেই। (চিন্তা-গবেষণা, যা তুলনার ওপর ভিত্তি করে চলে, তা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। বরং তিনি স্বভাবজাতভাবেই জ্ঞাত, ফলে বান্দা তাঁকে স্মরণ করে) (২)। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহকে ইসলামের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে নিয়ে এসেছেন। এই কারণে সঠিক মানহাজ বা পদ্ধতির দাবি হলো তাঁর সুন্নাহ জানা এবং তা বাস্তবায়ন করা। সুতরাং যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ এবং অধিক অনুসারী হবেন, সত্য তাঁর সাথেই থাকবে। এই গুণাবলি সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং পরবর্তীতে আহলুল হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারী প্রজন্মগুলোর ওপর প্রযোজ্য। (এঁরাই হলেন তারা, যারা কেবল রাসূলের বাণীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং তাঁর সম্বন্ধ ব্যতীত অন্য কোনো দিকে সম্বন্ধিত হন না। তাঁরাই সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং তার একনিষ্ঠ অনুসারী। তবে পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে অনৈক্য ও মতভেদ অনেক বেশি) (৩)।

এই পন্থায় তাঁরা দ্বীনের মূলনীতি (উসূল) এবং শাখা-প্রশাখা (ফুরু) জানার জন্য সঠিক মানহাজের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে জানতে চায় বা সে বিষয়ে কথা বলতে চায়, সে যেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তাতে দৃষ্টিপাত করে। সেখান থেকেই সে জ্ঞান অর্জন করবে, তা দিয়েই কথা বলবে, তা নিয়েই চিন্তা-গবেষণা করবে এবং তার সাহায্যেই দলিল পেশ করবে। এটাই আহলুল হাদীস ও সুন্নাহর মানহাজের মূল ভিত্তি।

পক্ষান্তরে যারা এই মানহাজের বিরোধী, তারা এর মূলনীতি অনুসরণ করেনি এবং এর ধাপসমূহ মেনে চলেনি। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা দেখার পরিবর্তে নিজেদের বুদ্ধিপ্রসূত অভিমতের ভিত্তিতে যাত্রা শুরু করেছে—যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদরা করেছেন; অথবা নিজেদের আধ্যাত্মিক অনুভবের ভিত্তিতে—যেমনটি সূফীরা করেছেন। যদি তারা সুন্নাহকে তাদের মতের অনুকূলে পায় তবে গ্রহণ করে, অন্যথায় তারা এর তোয়াক্কা করে না। আর যদি তারা সুন্নাহকে তাদের মতের পরিপন্থী হিসেবে পায়, তবে তারা হয় বিষয়টিকে আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করার (তাফউইয) মাধ্যমে তা এড়িয়ে যায় অথবা ব্যাখ্যার (তাবিল) মাধ্যমে তা বিকৃত করে (৪)।

সঠিক ইসলামী মানহাজের বিরোধী এই রূপটি আমরা আমাদের যুগেও অনেক বেশি দেখতে পাই। এর কারণ হলো পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সভ্যতার চাপ, তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয়, বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব, সাংস্কৃতিক আধিপত্য এবং মানুষের বুদ্ধি ও মনের ওপর তাদের জাদুকরী প্রভাব। এর বিপরীতে যা অত্যন্ত নগণ্য...

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী: সউনুল মানতিক, ১ম খণ্ড, ১৪৩ পৃষ্ঠা।

(২) ইবনে তাইমিয়া: নাকদুল মানতিক, ৩৫ পৃষ্ঠা।

(৩) ইবনে তাইমিয়া: মিনহাজুস সুন্নাহ, ৩য় খণ্ড, ৪৬ পৃষ্ঠা।

(৪) ইবনে তাইমিয়া: আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল, ৪৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
المعرفة بالإسلام بأصوله وفروعه، نجم عنه أن أصبح الكثيرون يتبنون الأفكار والفلسفات الغربية ويعطونها شكلاً إسلاميًا، ظانين بذلك أنهم يدافعون عنه ويقدمونه إلى الأجيال الشابة في ثوب عصري!! (1) .

--------------------------------------------

(1) كالقول مثلاً بديمقراطية النظام الإسلامي أو اشتراكيته وتحرر نظمه وقابليته للتطور وغيرها من المصطلحات اللصيقة بفلسفة الغرب وحضارته وتاريخه، ولها مدلولاتها ومعانيها المختلفة تمامًا عن مقابلها في الإسلام بعقيدته وشريعته وتاريخه وحضارته.
ইসলামের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত জ্ঞান, এর ফলে যা ঘটেছে তা হলো অনেকেই পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা ও দর্শন গ্রহণ করছেন এবং সেগুলোকে একটি ইসলামি রূপ দিচ্ছেন; তারা মনে করছেন যে এর মাধ্যমে তারা ইসলামকে রক্ষা করছেন এবং একে আধুনিক আবরণে তরুণ প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করছেন!!

--------------------------------------------

(১) যেমন উদাহরণস্বরূপ ইসলামি ব্যবস্থার গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্রের কথা বলা এবং এর বিধানগুলোর উদারতা ও বিবর্তনশীলতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য পরিভাষা যা পশ্চিমা দর্শন, সভ্যতা ও ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত; অথচ ইসলামের আকিদাহ, শরিয়াহ, ইতিহাস ও সভ্যতার আলোকে এগুলোর সমান্তরাল বিষয়ের অর্থ ও তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأدلة النقلية والعقلية على فضل الصحابة رضي الله عنهم

تشهد الأدلة النقلية والعقلية معًا على فضلهم، وبيان ذلك كالآتي:

 

‌‌أولا: الأدلة النقلية:

منها ما قاله تعالى في وصفهم: (وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ) [التوبة، الآية: 100] فكانوا هم الأفضل ثم يتناول الوصف من اتبعهم إلى يوم القيامة. وأيضًا ثبت في الصحيحين من غير وجه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "خير القرون القرن الذي بعثت فيهم ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم".

كما ظهر من دراسة السنة النبوية مكانة الصحابة الخاصة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا سيما الخلفاء الراشدين وباقي العشرة المبشرين بالجنة.

والحديث: "فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين. عضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل بدعة ضلالة" (1) .

والآيات والأحاديث كثيرة في وصف أفضالهم ومكانتهم الممتازة، مثل قوله تعالى: (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) [آل عمران، الآية: 110] .

وقوله تعالى: (لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى) [الحديد، الآية: 10] .

والحديث "أوصيكم بأصحابي ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم يفشو الكذب حتى يحلف الرجل ولا يستحلف ويشهد الشاهد ولا يستشهد" (2) .

كما وصفهم الرسول صلى الله عليه وسلم في حديث آخر بأنهم خير القرون، وبأن غيرهم لو أنفق مثل أحد ذهبًا، ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه.

وقد عانوا وكابدوا كثيرًا بعد الاهتداء للإسلام من أهلهم وعشيرتهم وقبائلهم وأقرب أقربائهم ولكنهم لم يبالوا، بل صبروا وثبتوا لأنهم تذوقوا حلاوة الإيمان في القلوب أيقنوا صدق الرسول صلى الله عليه وسلم واقتنعوا بعقيدتهم ولم تتأثر نفوسهم وقلوبهم بأية

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث ص 43 رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي وقال: الحديث حسن.

(2) الحديث رواه أحمد والترمذي.
সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের শ্রেষ্ঠত্বের সপক্ষে তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক দলীলসমূহ

তাত্ত্বিক (নকলী) ও যৌক্তিক (আকলী) উভয় প্রকার দলীলই একত্রে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়। এর বিবরণ নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথমত: তাত্ত্বিক দলীলসমূহ:

এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহ তাঁদের বর্ণনায় যা বলেছেন: (মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।) [আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০]। তাঁরাই ছিলেন শ্রেষ্ঠ, অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ক্ষেত্রেও এই বর্ণনা প্রযোজ্য। এছাড়া সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ একাধিক সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সর্বোত্তম যুগ হলো সেই যুগ যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি, এরপর তাদের পরবর্তী যুগ, এরপর তাদের পরবর্তী যুগ।"

সুন্নাহর গবেষণায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে সাহাবীগণের বিশেষ মর্যাদা স্পষ্ট হয়েছে, বিশেষত খুলাফায়ে রাশিদীন এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দশজন সাহাবীর ক্ষেত্রে।

হাদীস: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে তোমরা মাড়ি দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরো। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সাবধান থাকো, কারণ প্রত্যেক বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।" (১)।

তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্য মর্যাদা বর্ণনায় আয়াত ও হাদীস অসংখ্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে) [আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা [পরবর্তীদের] সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তী সময়ে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের কাছেই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন) [আল-হাদীদ, আয়াত: ১০]।

হাদীস: "আমি তোমাদের আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে অসিয়ত করছি, এরপর তাদের পরবর্তী যারা, এরপর তাদের পরবর্তী যারা। এরপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে, এমনকি কোনো ব্যক্তি কসম করতে না বলতেই কসম করবে এবং সাক্ষ্য দিতে না বলতেই সাক্ষ্য প্রদান করবে।" (২)।

অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে সর্বোত্তম যুগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, অন্য কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবুও তা তাঁদের কারো এক 'মুদ' (এক কোষ) বা তার অর্ধেক পরিমাণ ব্যয়ের সমান হবে না।

ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা নিজেদের পরিবার, বংশ, গোত্র ও নিকটাত্মীয়দের পক্ষ থেকে অনেক কষ্ট ও যাতনা সহ্য করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেননি। বরং তাঁরা ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং অটল থেকেছেন। কারণ তাঁরা হৃদয়ে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন এবং নিজেদের আকীদার প্রতি আস্থাশীল হয়েছিলেন। ফলে তাঁদের মন ও আত্মায় কোনো প্রকারের...

--------------------------------------------

(১) ৪৩ পৃষ্ঠার হাদীসের অংশবিশেষ, ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: হাদীসটি হাসান।

(২) হাদীসটি আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
اضطهادات أو مشاق يقابلونها بسبب عقيدتهم، ثم انطلقوا ينشرونها، ويدافعون عنها ويبذلون في ذلك الأنفس والنفائس.

يقول ابن الوزير اليماني:

لولا ثقل موازينهم في الشرف والدين ما اتبعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بأدلة الدين الجديد فلم يعبأوا أمام وضوح الأدلة ورسوخها في عقولهم ومالوا عن إلف دين الآباء والأتراب والقرباء إلى أمر شاق على القلوب، ثقيل على النفوس، لا سيما وهم في ذلك الزمان أهل الأنفة (1) .

والصحابة رضي الله عنهم هم أيضًا الواسطة بين الرسول صلى الله عليه وسلم وبين الأمة، ولذلك امتدحهم عليه السلام وجعلهم الأفضل على مدى الأجيال، ففي حديث صحيح قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تسبوا أصحابي فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبًا ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه " (2) .

قال ابن عبد البر: (وما أظن أهل دين من الأديان إلا وعلماؤهم معنيون بمعرفة أصحاب أنبيائهم، لأنهم الواسطة بين النبي وبين أمته) (3) .

والأدلة كثيرة تدل على فطنتهم وذكائهم، وأنهم كانوا أصحاب دراية وفكر ونظر، ولم يكونوا من السذج بحيث يخدعون أو يؤمنون كإيمان العامة. يروي لنا ابن كثير في تفسيره عن أحد صالحي المهاجرين وهو جندب بن كعب الأزدي أنه رأى عند الوليد بن عقبة ساحرًا يلعب بين يديه، فكان يضرب رأس الرجل ثم يصبح به فيرد إليه رأسه، فقال الناس: سبحان الله يحيي الموتى! فلما كان الغد جاء مشتملاً على سيفه، وذهب حيث يلعب لعبه ذلك، فاخترط الرجل سيفه فضرب عنق الساحر وقال: إن كان صادقا فليحي نفسه وتلا قوله تعالى: (أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ) [الأنبياء، الآية: 3] ولا شك أنه كان يعرف الحديث "حد الساحر ضربة

--------------------------------------------

(1) ابن الوزير اليماني: الذب عن سنة أبي القاسم ج 1 ص 55.

(2) رواه البخاري بسنده عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

والمد: ربع الصاع، وإنما قدره لأنها أقل ما كانوا يتصدقون به في العادة.

(3) ابن عبد البر: الاستيعاب ص 19.
তারা তাদের আকিদার কারণে নির্যাতন বা যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, তা সত্ত্বেও তারা সেই আকিদা প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিরক্ষা করেছেন। আর এই পথে তারা তাদের জীবন ও মূল্যবান সম্পদ উৎসর্গ করেছেন।

ইবনুল উজির আল-ইয়ামানি বলেন:

মর্যাদা ও দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের পাল্লা যদি ভারী না হতো, তবে তারা কেবল নতুন দ্বীনের প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করতেন না। দলিলের স্পষ্টতা এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিতে এর দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা কোনো কিছুরই পরোয়া করেননি। তারা পিতৃপুরুষ, সমবয়সী ও আত্মীয়-স্বজনের পরিচিত দ্বীন ত্যাগ করে এমন এক বিষয়ের দিকে ঝুঁকেছিলেন যা হৃদয়ের জন্য কঠিন ও নফসের জন্য ভারী ছিল, বিশেষ করে যখন তারা সেই যুগে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন (১) লোক ছিলেন।

সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মতের মধ্যবর্তী মাধ্যম। এ কারণেই তিনি (রাসূল) তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদেরকে সকল প্রজন্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছেন। একটি সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাঁদের কারো এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেকেরও সমতুল্য হবে না” (২)।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: “আমি মনে করি না যে কোনো ধর্মাবলম্বীদের আলেমরা তাঁদের নবীর সাহাবীদের চেনার ব্যাপারে যত্নশীল নন, কারণ তাঁরাই হলেন নবী ও তাঁর উম্মতের মধ্যে মাধ্যম” (৩)।

তাঁদের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে যে, তাঁরা ছিলেন প্রজ্ঞা, চিন্তা ও দূরদর্শিতার অধিকারী। তাঁরা এমন সরলমনা ছিলেন না যে তাঁদের প্রতারিত করা যাবে কিংবা তাঁরা সাধারণ মানুষের মতো (অন্ধভাবে) ঈমান আনবেন। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে মুহাজিরদের একজন পুণ্যবান ব্যক্তি জুনদুব বিন কাব আল-আজদী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওয়ালিদ বিন উকবার নিকট এক জাদুকরকে খেলা দেখাতে দেখলেন। জাদুকরটি এক ব্যক্তির মাথা কেটে ফেলছিল এবং পরে চিৎকার করলে মাথাটি আবার যথাস্থানে ফিরে আসছিল। তখন উপস্থিত লোকেরা বলল: সুবহানাল্লাহ! সে তো মৃতকে জীবিত করে! পরদিন তিনি তাঁর তরবারি নিয়ে আসলেন এবং সেখানে গেলেন যেখানে সে খেলা দেখাচ্ছিল। এরপর তিনি তরবারি কোষমুক্ত করে জাদুকরের গর্দান উড়িয়ে দিলেন এবং বললেন: “সে যদি সত্যবাদী হয় তবে সে যেন নিজেকে জীবিত করে।” এরপর তিনি আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: “তবে কি তোমরা দেখে-শুনে জাদুর কবলে পড়বে?” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি এই হাদীসটি জানতেন: “জাদুকরের শাস্তি হলো তরবারির আঘাত...”

--------------------------------------------

(১) ইবনুল উজির আল-ইয়ামানি: আয-যব্বু আন সুন্নাতি আবিল কাসিম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৫।

(২) ইমাম বুখারী তাঁর নিজস্ব সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর 'মুদ' হলো এক সা’ এর চারভাগের একভাগ; তিনি এ পরিমাণ উল্লেখ করেছেন কারণ সাধারণত এটিই ছিল তাঁদের সর্বনিম্ন সদকার পরিমাণ।

(৩) ইবনে আব্দুল বার: আল-ইসতিআব, পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
بالسيف" (رواه الترمذي) (1) .

ولا نظن أننا نغالي إذا قلنا: إنهم عاشوا على أعتاب عالم الغيب وتمثلوه، كأنه عالم مشاهد حاضر أمامهم يرونه ويعيشون فيه، فكانوا يتنافسون في طلب الشهادة للانتقال من الحياة الفانية إلى الحياة الباقية، تحقيقًا للسعادة الأبدية عند ربهم عز وجل وها هو حارثة رضي الله عنه يسأله رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كيف أصبحت يا حارثة؟ " قال: أصبحت مؤمنًا حقًا، قال: "انظر ما تقول؟ فإن لكل قول حقيقة"، قال: يا رسول الله، عزفت نفسي عن الدنيا فأسهرت ليلي وأظمأت نهاري كأني بعرش ربي عز وجل بارزًا، وكأني أنظر إلى أهل الجنة يتزاورون فيها، وكأني أنظر إلى أهل النار يتعاوون فيها، قال: "الزم، عبد نور الله الإيمان في قلبه" (2) .

فأما درجة السابقين كأبي بكر وعمر فتلك لا يبلغها أحد وقد ثبت في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "قد كان في الأمم قبلكم محدثون، فإن يكن في أمتي فعمر" وفي حديث آخر "إن الله ضرب الحق على لسان عمر وقلبه" وقال علي: "كنا نتحدث أن السكينة تنطق على لسان عمر" وفي الترمذي وغيره (لو لم أبعث فيكم لبعث فيكم عمر، ولو كان بعدي نبي ينتظر لكان عمر) .

ومع هذا فالصديق أكمل منه؛ فإن الصديق كمل في تصديقه للنبي صلى الله عليه وسلم فلا يتلقى إلا عن النبي والنبي معصوم. والمحدث - كعمر - يأخذ أحيانًا عن قلبه ما يلهمه، ويحدث به، لكن قلبه ليس معصومًا. فعليه أن يعرض ما ألقي عليه على ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فإن وافقه قبله، وإن خالفه رده. ولهذا رجع عمر عن أشياء، وكان الصحابة يناظرونه ويحتجون عليه، فإذا بينت له الحجة من الكتاب والسنة رجع إليها وترك ما رآه والصديق إنما يتلقى عن الرسول صلى الله عليه وسلم لا عن قلبه. فهو أكمل من المحدث. وليس بعد أبي بكر الصديق أفضل منه، ولا بعد عمر محدث أفضل منه (3) .

بعد هذا التوضيح لا نرى مزيدًا لمستزيد لتقرير كمال المنهج الذي اتبعه

--------------------------------------------

(1) ابن كثير: التفسير ج 1 ص 139 ط دار الشعب.

(2) ابن الأثير: أسد الغابة في معرفة الصحابة ج ص 425 - 426 ط الشعب.

(3) ابن تيمية: الرد على المنطقيين ص 513- 514.
তরবারির মাধ্যমে" (তিরমিযী বর্ণনা করেছেন) (১)।

আমরা মনে করি না যে আমরা অতিশয়োক্তি করছি যদি বলি: তারা অদৃশ্যের জগতের দ্বারপ্রান্তে বসবাস করতেন এবং তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যেন তা তাদের সামনে উপস্থিত কোনো দৃশ্যমান জগত যা তারা দেখছেন এবং যাতে তারা বসবাস করছেন। ফলে তারা নশ্বর জীবন থেকে অবিনশ্বর জীবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের মহান রবের নিকট চিরস্থায়ী সুখ অর্জনের নিমিত্তে শাহাদাত কামনায় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন। এই তো হারিসাহ (রা.), যাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "হে হারিসাহ! তোমার সকাল কেমন কাটল?" তিনি বললেন: "আমি প্রকৃত মুমিন হিসেবে সকাল করেছি।" তিনি বললেন: "ভেবে দেখো কী বলছ? কারণ প্রতিটি কথারই একটি বাস্তবতা থাকে।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার মন দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়েছে, ফলে আমি আমার রাতকে বিনিদ্র কাটিয়েছি এবং আমার দিনকে তৃষ্ণার্ত রেখেছি। যেন আমি আমার মহান রবের আরশকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, আর যেন আমি জান্নাতীদের দেখছি তারা সেখানে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করছে, এবং যেন আমি জাহান্নামীদের দেখছি তারা সেখানে আর্তনাদ করছে।" তিনি বললেন: "অটল থাকো, তুমি এমন এক বান্দা যার অন্তরে আল্লাহ ঈমানের আলো প্রজ্বলিত করেছেন" (২)।

আর অগ্রবর্তীদের মর্যাদা যেমন আবু বকর ও উমর, তা কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। সহীহাইন-এ নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে মুহাদ্দাস (যাদের অন্তরে সত্যের ইলহাম হতো) ব্যক্তিরা ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ থেকে থাকে, তবে সে উমর।" অন্য একটি হাদিসে আছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বা ও অন্তরে সত্যকে জারি করে দিয়েছেন।" আলী (রা.) বলেন: "আমরা আলোচনা করতাম যে সাকিনাহ (প্রশান্তি) উমরের জিহ্বা দিয়ে কথা বলে।" তিরমিযী ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (যদি আমি তোমাদের মাঝে প্রেরিত না হতাম, তবে তোমাদের মাঝে উমর প্রেরিত হতো; এবং যদি আমার পরে কোনো নবী আসার অবকাশ থাকত তবে সে উমর হতো)।

এতদসত্ত্বেও সিদ্দিক (আবু বকর) তাঁর চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ; কেননা সিদ্দিক নবী (সা.)-এর সত্যায়নে পূর্ণতা লাভ করেছিলেন, ফলে তিনি একমাত্র নবী থেকেই গ্রহণ করতেন, আর নবী হলেন মাসুম (ভ্রান্তিহীন)। কিন্তু মুহাদ্দাস ব্যক্তি—যেমন উমর—মাঝে মাঝে তাঁর অন্তরে যা ইলহাম হয় তা থেকে গ্রহণ করেন এবং তা বর্ণনা করেন, কিন্তু তাঁর অন্তর মাসুম নয়। তাই তাঁর ওপর যা উদিত হয় তা রাসূল (সা.)-এর আনীত আদর্শের ওপর পেশ করা তাঁর জন্য আবশ্যক; যদি তা তার সাথে মিলে যায় তবে তিনি তা গ্রহণ করেন, আর যদি তার বিপরীত হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই কারণেই উমর (রা.) অনেক বিষয় থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সাথে বিতর্ক করতেন ও তাঁর বিরুদ্ধে দলীল পেশ করতেন। যখনই তাঁর সামনে কিতাব ও সুন্নাহর দলীল স্পষ্ট হতো, তিনি সেদিকে ফিরে আসতেন এবং নিজের ব্যক্তিগত রায় ত্যাগ করতেন। পক্ষান্তরে সিদ্দিক কেবল রাসূল (সা.) থেকেই গ্রহণ করতেন, নিজের অন্তর থেকে নয়। সুতরাং তিনি মুহাদ্দাস অপেক্ষা অধিক পূর্ণ। আবু বকর সিদ্দিকের পরে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই এবং উমরের পরে আর কোনো শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দাস নেই (৩)।

এই স্পষ্টীকরণের পর, অনুসৃত পদ্ধতির পূর্ণতা প্রমাণের জন্য আমরা আর কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন বোধ করি না।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর: আত-তাফসীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৯, দারুশ শাব সংস্করণ।

(২) ইবনুল আসীর: উসদুল গাবাহ ফি মারিফাতিস সাহাবাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২৫ - ৪২৬, আশ-শাব সংস্করণ।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহ: আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৫১৩- ৫১৪।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الصحابة في معرفة الدين أصولاً وفروعًا (1) .

 

‌‌ثانيًا الدليل العقلي:

ففضلاً عن النصوص المستفيضة عن الصحابة رضي الله عنهم في التفسير، والتي تدل على فهمهم للقرآن الكريم وتدبرهم، وإحاطتهم بالأدلة التي قدمها كالآيات وضرب الأمثلة واستخدام الأقيسة العقلية، فإن استخدامنا للدليل العقلي يبرهن أيضًا على أن حواريي الرسل وصحابتهم هم أكثر الناس فهمًا لرسالتهم من غيرهم بأصولها الكبرى وفروعها ودقائقها أيضًا، وأن المتأخرين هم أكثر الناس بعدًا عن الرسالات وفهمها باستثناء القلة الحريصة على اتباع السابقين عليهم بمنهج النقل الدقيق كما فعل أهل الحديث والسنة.

وهذا هو التفسير المنطقي المعقول الذي يشهد به تاريخ الدعوات الدينية، فهي (تقوم إبان نشأتها على معتنقين اتجهوا نحوها بقلوبهم وتفاوتوا فيها بأرواحهم. وكم روى التاريخ من أخبار الرسول صلوات الله عليه وأن إشارته كانت تقابل بالتنفيذ من الجميع، فإذا ما فترت الدعوة وضعفت العقيدة وخمدت حرارة الإيمان الأولى، أخذ الناس يبحثون في معتقداتهم ويعللون ويناقشون ويعارضون) (2) .

ولم نذهب بعيدًا في التعليل والتفسير بينما كان عبد الله بن عباس رضي الله عنهما سباقًا إلى تعليل اختلاف المسلمين متنبئًا بما سيحدث في العصور التالية لعصر الصحابة مفسرًا إياه بنقص درايتهم بالقرآن وافتقادهم لفهمه على الوجه الصحيح فقد خلا عمر رضي الله عنه ذات يوم فجعل يحدث نفسه: كيف تختلف هذه الأمة ونبيها واحد؟ فأرسل إلى ابن عباس رضي الله عنهما فقال: كيف تختلف هذه الأمة ونبيها واحد وقبلتها واحدة وكتابها واحد؟ فقال ابن عباس: يا أمير المؤمنين، إنما أنزل علينا القرآن فقرأناه وعلمنا فيما أنزل وأنه سيكون بعدنا أقوام يقرأون القرآن ولا يدرون فيما نزل، فيكون لهم فيه رأي فإذا كان كذلك اختلفوا فيكون لكل قوم فيه رأي..

--------------------------------------------

(1) لم يكن تقسيم الدين إلى أصول وفروع معروفًا في عصر الصحابة والتابعين ولكن هذا التفريق ظهر من جهة المعتزلة.

(2) د. إبراهيم مدكور: في الأخلاق والاجتماع ص 26 ط الهيئة العامة للنشر.
দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা জানার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: যৌক্তিক প্রমাণ:

তাফসীরের ক্ষেত্রে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত প্রচুর সংখ্যক উদ্ধৃতি ছাড়াও, যা পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে তাঁদের বুঝ ও অনুধাবন এবং কুরআন উপস্থাপিত দলীলসমূহ যেমন আয়াতসমূহ, উদাহরণ প্রদান এবং যৌক্তিক কিয়াস ব্যবহারের ওপর তাঁদের পূর্ণ আয়ত্তের প্রমাণ দেয়; আমাদের যৌক্তিক দলীলের ব্যবহার এটিও প্রমাণ করে যে, রাসূলদের সাহায্যকারী ও তাঁদের সাহাবীগণই অন্য যে কারো তুলনায় তাঁদের রিসালাতের বৃহৎ মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা এবং সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। পক্ষান্তরে পরবর্তী যুগের লোকেরা রিসালাতসমূহ ও তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দূরে অবস্থিত, তবে সেই অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত যারা নিখুঁত বর্ণনার মানহায অনুযায়ী পূর্বসূরিদের অনুসরণে সচেষ্ট ছিলেন, যেমনটি আহলে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারীগণ করেছেন।

এটাই হলো সেই যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা যার সাক্ষ্য ধর্মীয় দাওয়াতগুলোর ইতিহাস দেয়। দাওয়াতসমূহ (সূচনাকালে এমন অনুসারীদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় যারা তাদের অন্তর দিয়ে সেদিকে ধাবিত হয় এবং তাদের রূহ দিয়ে তাতে ভিন্নতা লাভ করে। ইতিহাস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বহু সংবাদ বর্ণনা করেছে যে, তাঁর সামান্য ইশারাও সবার পক্ষ থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হতো। অতঃপর যখন দাওয়াত স্তিমিত হয়ে পড়ে, আকিদা দুর্বল হয়ে যায় এবং ঈমানের প্রাথমিক উদ্দীপনা নিভে যায়, তখন মানুষ তাদের বিশ্বাসগুলো নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করে এবং কারণ অনুসন্ধান, বিতর্ক ও বিরোধিতা করতে থাকে) (২)।

আমরা কারণ দর্শানো ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে খুব দূরে যাইনি, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মুসলমানদের মতপার্থক্যের কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং সাহাবীদের যুগের পরবর্তী যুগগুলোতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। তিনি এর কারণ হিসেবে কুরআনের বিষয়ে তাঁদের জ্ঞানের অভাব এবং সঠিক পদ্ধতিতে তা অনুধাবনের ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করেছিলেন। একদা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একাকী বসে মনে মনে ভাবছিলেন: এই উম্মত কীভাবে মতভেদ করে অথচ তাদের নবী এক? তখন তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ডেকে পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: এই উম্মত কীভাবে মতভেদ করে অথচ তাদের নবী এক, কিবলা এক এবং কিতাবও এক? ইবনে আব্বাস বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, আমাদের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা তা পড়েছি এবং আমরা জানি তা কেন অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমাদের পরে এমন সব জাতি আসবে যারা কুরআন পড়বে কিন্তু জানবে না তা কেন অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব মতামত তৈরি হবে। আর যখন এমনটি হবে, তখন তারা মতভেদে লিপ্ত হবে এবং প্রতিটি দলের আলাদা মতামত থাকবে।

--------------------------------------------

(১) সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে দ্বীনকে মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করা পরিচিত ছিল না, তবে এই পার্থক্য মুতাজিলাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) ড. ইব্রাহীম মাদিকুর: ফিল আখলাক ওয়াল ইজতিমা, পৃষ্ঠা ২৬, আল-হাইআতুল আম্মাহ লিন-নাশর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
فإذا اختلفوا اقتتلوا (1) .

وكانت طرق استدلال الصحابة مستمدة من النظر في المخلوقات والتأمل في عجائب صنع الله تعالى وما يطرأ عليها من تغيرات على مدار الأزمنة، فأيقنوا أنها لا بد أنها مخلوقة من رب حكيم، أحسن كل شيء خلقه وأتقن صنع كل شيء. عن الحسن البصري قال: (كانوا - يعني الصحابة - يقولون: الحمد لله الرب الرفيق الذي لو جعل هذا الخلق خلقًا دائمًا لا ينصرف لقال الشاك في الله: لو كان لهذا الخلق رب لحادثه (2) وإن الله قد حادثه بما ترون من الآيات: إنه جاء بضوء طبق ما بين الخافقين، وجعل فيها معاشا وسراجا وهاجا، ثم إذا شاء ذهب بذلك الخلق وجاء بظلمة طبقت ما بين الخافقين وجعل فيها سكنًا ونجومًا وقمرًا منيرًا، وإذا شاء بني بناء جعل فيه من المطر والبرق والرعد ما شاء وإذا شاء صرف ذلك وإذا شاء جاء ببرد يقرقف الناس (من القرقفة أي: الرعدة) ، وإذا شاء ذهب بذلك وجاء بحر يأخذ بأنفاس الناس، ليعلم الناس أن لهذا الخلق رباً يحادثه بما يرون من الآيات، كذلك إذا شاء ذهب بالدنيا وجاء بالآخرة.

وترى الصحابة - طبقًا لهذا الاستدلال - قد سلكوا الطريق الفطري المطابق لطريق البرهان العقلي في إثبات وجود الله سبحانه وتعالى، وأنه خالق كل شيء وهو سبحانه المحدث الفاعل بمشيئته وقدرته، ولم يفعلوا كما فعل بعض فلاسفة اليونان عندما فسروا صدور الكون بأنه معلول يقارن علته (فإن ذلك يمتنع محادثته أي: إحداث الحوادث فيه) (3) .

من هذا يتبين أيضًا أن أدلة الشرع أدلة عقلية، فقد فطر الله تعالى عباده على معرفة الحق وقد بعث الرسل - كما يصفهم ابن تيمية - بتكميل الفطرة قال تعالى: (سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ) [فصلت، الآية: 53]

--------------------------------------------

(1) الشاطبي: الاعتصام ج 2 ص 107 ط دار الشعب.

(2) حادثه أي جدد وجوده فهو (حادث) ويتعدى بالألف فيقال: (أحدثه) .

(3) ابن تيمية - جامع الرسائل- المجموعة الأولى ص 139 تحقيق محمد رشاد سالم 1389 هـ /1969 م ط المدني بالقاهرة.
যখন তারা মতভেদ করত তখন তারা যুদ্ধে লিপ্ত হত (১)।

সাহাবায়ে কেরামের দলীল পেশ করার পদ্ধতিটি ছিল মাখলুকাত বা সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত এবং আল্লাহ তাআলার নিপুণ কারুকার্যের বিস্ময়কর দিকসমূহ ও সময়ের আবর্তনে তাতে যে পরিবর্তন ঘটে সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনার ওপর ভিত্তি করে। ফলে তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, এগুলো অবশ্যই একজন প্রজ্ঞাবান রবের দ্বারা সৃষ্ট, যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সর্বোত্তম করেছেন এবং সবকিছুর নির্মাণকে নিখুঁত করেছেন। হাসান বসরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (তারা—অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম—বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দয়ালু রব। তিনি যদি এই সৃষ্টিজগতকে এমন এক স্থায়ী সৃষ্টি করতেন যা কখনো পরিবর্তিত হয় না, তবে আল্লাহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণকারী বলত: "যদি এই সৃষ্টির কোনো রব থাকত, তবে তিনি এতে নতুনত্বের (পরিবর্তনের) সূচনা করতেন" (২)। অথচ আল্লাহ এতে পরিবর্তন আনেন সেই সব নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে যা তোমরা দেখতে পাও: তিনি এমন আলো নিয়ে আসেন যা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যবর্তী স্থানকে আবৃত করে ফেলে এবং তাতে জীবিকা ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ স্থাপন করেন। অতঃপর যখন তিনি চান, সেই সৃষ্টিকে সরিয়ে নেন এবং এমন অন্ধকার নিয়ে আসেন যা দিগন্তদ্বয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং তাতে প্রশান্তি, নক্ষত্ররাজি ও আলোকময় চন্দ্র স্থাপন করেন। আর তিনি যখন চান এমন এক মেঘমালার অট্টালিকা নির্মাণ করেন যাতে তিনি বৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও বজ্রের যা ইচ্ছা তা দান করেন। আবার যখন ইচ্ছা করেন তা সরিয়ে দেন। যখন ইচ্ছা করেন এমন হাড়কাঁপানো শীত (কারকাফাহ অর্থ: কম্পন) নিয়ে আসেন যা মানুষকে কাঁপিয়ে দেয়, আর যখন ইচ্ছা করেন তা দূর করে এমন উষ্ণতা নিয়ে আসেন যা মানুষের নিঃশ্বাস রোধ করে দেয়। যাতে মানুষ জানতে পারে যে, এই সৃষ্টির একজন রব রয়েছেন যিনি তাদের দেখা নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে এতে নতুনত্বের সঞ্চার করেন। একইভাবে যখন তিনি চাবেন দুনিয়াকে বিলীন করে আখেরাত নিয়ে আসবেন।

এই দলীল অনুযায়ী আপনি দেখতে পাবেন যে—সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সেই স্বভাবজাত পথ অবলম্বন করেছেন যা যৌক্তিক প্রমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর তিনি সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় ইচ্ছা ও ক্ষমতায় সবকিছুর পরিবর্তনকারী ও কর্তা। তারা গ্রিক দার্শনিকদের মতো আচরণ করেননি যারা মহাবিশ্বের উদ্ভবকে এমন এক 'কার্য' (Effect) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে যা তার 'কারণের' (Cause) সাথে সমসাময়িক বা অবিচ্ছেদ্য (ফলে সেক্ষেত্রে এতে নতুন কিছু সৃষ্টি করা বা পরিবর্তন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে) (৩)।

এ থেকে আরও স্পষ্ট হয় যে, শরয়ি দলীলসমূহ মূলত যৌক্তিক দলীল। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সত্য অনুধাবনের স্বভাবজাত যোগ্যতার (ফিতরাত) ওপর সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি রাসূলদের পাঠিয়েছেন—যেভাবে ইবনে তাইমিয়া তাঁদের বর্ণনা করেছেন—সেই ফিতরাতকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তা সত্য) [ফুসসিলাত, আয়াত: ৫৩]

--------------------------------------------

(১) শাতবি: আল-ইতিসাম, ২য় খণ্ড, ১০৭ পৃষ্ঠা, দারুশ শা'ব সংস্করণ।

(২) হাদাছাহু অর্থাৎ এর অস্তিত্বকে নতুন করে সৃষ্টি করা, তাই এটি 'হাদিছ' (সৃষ্ট) এবং আলিফ যোগে একে 'আহদাছাহু' (নতুনভাবে সৃষ্টি করা) বলা হয়।

(৩) ইবনে তাইমিয়া - জামিউর রাসায়িল - প্রথম খণ্ড, ১৩৯ পৃষ্ঠা, সম্পাদনা: মুহাম্মদ রাশাদ সালিম, ১৩৮৯ হিজরি / ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ, আল-মাদানি সংস্করণ, কায়রো।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وتفسيرها (أنه سبحانه أخبر أنه سيريهم الآيات الأفقية والنفسية المبينة، لأن القرآن الذي أخبر به عباده حق، فتتطابق الدلالة البرهانية العيانية ويتصادق موجب الشرع المنقول والنظر المعقول) (1) .

والتفسير العقلي أيضًا يبرهن على تجاوبهم الكامل مع العقيدة التي تغلغلت إلى نفوسهم فإن الدارس لأحوالهم وسلوكهم خلال سنوات الأزمات والجهاد الشاق على النفس وعلى الهوى وفي مواجهة الأهل والأصحاب والعادات المألوفة والعقائد الوثنية الباطلة بعد أن تلقوها من رسول الله صلى الله عليه وسلم، بعد كل هذا يمكن وصفهم بأنهم الأعلم والأحكم من كل من جاء بعدهم.

ونكتفي بواقعة واحدة للمقارنة، تلك هي موقعة تبوك حيث بلغت بهم الشدة مبلغها.

يقول ابن كثير: (ومن هنا تتبين فضيلة أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم على سائر أصحاب الأنبياء في صبرهم وعدم تعنتهم كما كانوا معه في أسفاره وغزواته منها عام تبوك في ذلك القيظ والحر الشديد والجهد لم يسألوا خرق عادة ولا إيجاد أمر مع أن ذلك كان سهلاً على الرسول صلى الله عليه وسلم لما أجهدهم الجوع سألوه في تكثير طعامهم فجمعوا ما معهم فجاء قدر مبرك الشاة فدعَا فيه وأمرهم فملأوا كل وعاء معهم. وكذا لما احتاجوا إلى الماء سأل الله تعالى فجاءت سحابة فأمطرتهم، فشربوا وسقوا الإبل وملأوا أسقيتهم ثم نظروا فإذا هي لم تجاوز العسكر فهذا هو الأكمل في الاتباع أي: المشي مع قدر الله مع متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم (2) .

وهل نتصور أن أهل العصور التالية كانوا أكثر فهمًا للدين وأصوله من الصحابة؟ أو أنهم أفقه وأورع منهم؟ إن ذلك يعد قلبًا للأوضاع وتبديلاً لموازين القياس الصحيح، إذ سجل لنا التاريخ فضائل أعمال الجيل الأول بمثاليتهم في الفهم والتطبيق فلم يشغلهم عن الجهاد؛ والأعمال الصالحة تنطوي في ذاتها على عمق الإدراك والوعي بالرسالة والتحرك بها فانصرفوا عن الجدال واهتموا بالأعمال، ولكن الأوضاع

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة ج 1 ص 82.

(2) ابن كثير: التفسير ج 1 ص 139 ط الشعب.
এর ব্যাখ্যা হলো (তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি অচিরেই তাঁদেরকে দিগন্ত বিস্তৃত ও নিজেদের মধ্যকার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দেখাবেন, কারণ কুরআন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জানিয়েছেন তা সত্য। ফলে চাক্ষুষ প্রামাণিক দলিল এবং বর্ণিত শরয়ি বিধান ও বিবেকপ্রসূত চিন্তার দাবি পরস্পর মিলে যাবে এবং একে অপরকে সত্যায়ন করবে) (১)।

যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যাও সেই আকিদার প্রতি তাঁদের পূর্ণ সাড়াদানের প্রমাণ দেয় যা তাঁদের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করেছিল। যে ব্যক্তি সংকটের বছরগুলোতে এবং নফস ও খেয়াল-খুশির বিরুদ্ধে পরিচালিত কঠিন জিহাদের সময় তাঁদের অবস্থা ও আচরণ নিয়ে অধ্যয়ন করবে, যেখানে তাঁরা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত প্রথা ও বাতিল মূর্তিপূজার আকিদার মুখোমুখি হয়েছিলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণের পর—এই সবকিছুর পর তাঁদেরকে তাঁদের পরবর্তী আসা যে কারো চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান হিসেবে বর্ণনা করা সম্ভব।

তুলনার জন্য আমরা একটি ঘটনাই যথেষ্ট মনে করছি, আর তা হলো তাবুকের যুদ্ধ, যেখানে তাঁদের কষ্ট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

ইবনে কাসীর বলেন: (এখান থেকেই অন্যান্য নবীদের সাহাবীদের ওপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ধৈর্য ও অবাধ্যতা না করার শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হয়, যেমনটি তাঁরা তাঁর সাথে বিভিন্ন সফর ও যুদ্ধে ছিলেন, যার মধ্যে তাবুকের বছর সেই প্রচণ্ড রোদ্রতাপ, তীব্র গরম ও কঠোর পরিশ্রমেও তাঁরা কোনো অলৌকিক কিছু ঘটার বা নতুন কিছু সৃষ্টির দাবি করেননি। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা সহজ ছিল। যখন ক্ষুধা তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ফেলেছিল, তখন তাঁরা তাঁর কাছে খাবার বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলেন, ফলে তাঁরা তাঁদের সাথে থাকা সামান্য খাবার একত্র করলেন এবং তা একটি ছাগল বসার জায়গার পরিমাণ হলো। অতঃপর তিনি তাতে দোয়া করলেন এবং তাঁদেরকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁরা তাঁদের সাথে থাকা প্রতিটি পাত্র পূর্ণ করলেন। একইভাবে যখন তাঁদের পানির প্রয়োজন হলো, তখন তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন, ফলে একটি মেঘ এসে তাঁদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করল। তাঁরা পানি পান করলেন, উটগুলোকে পান করালেন এবং তাঁদের মশকগুলো পূর্ণ করলেন। অতঃপর তাঁরা তাকিয়ে দেখলেন যে, মেঘটি সেনাশিবিরের সীমানা অতিক্রম করেনি। আর অনুসরণ-অনুকরণের ক্ষেত্রে এটিই হলো সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ, অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের পাশাপাশি আল্লাহর তকদিরের সাথে চলা) (২)।

আমরা কি কল্পনা করতে পারি যে পরবর্তী যুগের লোকেরা সাহাবীদের চেয়ে দ্বীন ও এর মূলনীতি সম্পর্কে বেশি বুঝতেন? অথবা তাঁরা তাঁদের চেয়ে অধিক ফকীহ এবং পরহেযগার ছিলেন? এটি বাস্তবতাকে উল্টে দেওয়া এবং সঠিক তুলনার মানদণ্ড পরিবর্তন করার শামিল। কেননা ইতিহাস আমাদের সামনে প্রথম প্রজন্মের আমলের শ্রেষ্ঠত্ব লিপিবদ্ধ করেছে, যা তাঁদের বুঝ ও প্রয়োগের আদর্শকে তুলে ধরে। জিহাদ তাঁদেরকে বিমুখ করেনি; আর নেক আমলগুলো তো নিজেই দাওয়াতের গভীর উপলব্ধি, সচেতনতা এবং তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ধারণ করে। ফলে তাঁরা বিতর্ক থেকে দূরে সরে গিয়ে আমলের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি...

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮২।

(২) ইবনে কাসীর: আত-তাফসীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৯, আশ-শা'ব সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
انقلبت بعدهم، فظهر الجدل في الدين على حساب العمل، أو كان بداية لفرقة وحدة المسلمين وتفتيت جماعتهم وظهور علامات الوهن بين صفوفهم.

لذلك اعتبر علماء الحديث ظهور الجدل الكلامي لونًا من الردة، وعللوه بقلة الفقه في الدين وذهاب العلماء لقول الدارمي: (وكانوا مقموعين أيام الصحابة والتابعين مقهورين بسلطان الدولة وحجج العلماء، ولكنهم عندما بعد الزمن وجدوا الفرصة لنشر مذاهبهم عندما وجدوا من الرعاع جهلاً ومن العلماء قلة) (1) .

لقد بحث المتكلمون ونقبوا في تاريخ الصحابة وأيامهم فلم يجدوا آثارًا تدل على خوض الصحابة فيهم، فاستنتجوا أنهم لم يعرفوها وهذا منهج خاطئ في البحث والتصور لقول السفاريني:

ولما كان عصر الصحابة والتابعين لهم بإحسان خاليًا من البدع الكلامية والشبه الخيالية والخصوم المعتزلية، لم تكن أدلة علم أصول الدين مدونة هذا التدوين (2) . كما تمادى المتكلمون بالطعن في الصحابة فزعموا أنهم كانوا مشغولين بالجهاد عن تناول أمهات أصول الدين والحق أن الجهاد كان ثمرة العقيدة وتجسيدًا وتعبيرًا عن تمكنها من النفوس والقلوب.

ولا يمكن تفسير الانتصارات المذهلة للصحابة إلا في ضوء استجابتهم لعقيدة الإسلام وفهمها حق الفهم وتطبيقها عمليًا فاجتذبوا غيرهم من الشعوب ذات الحضارات العريقة فكان الصحابة في وضع الطلائع والصفوة الممتازة.

ولما كانت حضارة الإسلام منتصرة وسائدة لا انتصارًا عسكريًا فحسب فإن - ذلك يعبر عن المقدمات - ولكن تغلغلا إلى أعماق الشعوب عقائديًا ونفسيًا؛ لأن حملة العقيدة الجديدة كانوا هم الأفضل والأجدر بالاتباع والانقياد.

وظهرت حروب الردة لتكشف معادن الرجال مبرهنة على أن قوة الإيمان في صف أبي بكر والصحابة وقد وقفت سدًا مانعًا لمواجهة أية ثغرة في العقيدة، وكانت

--------------------------------------------

(1) عقائد السلف (نقد الدارمي على المريسي) .

(2) مختصر السفاريني، ص 5 تحقيق محمد زهري النجار - دار الكتب العلمية بيروت

1403 هـ/ 1983 م.
তাদের পরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল, ফলে আমলের বিনিময়ে দ্বীনের ক্ষেত্রে বিতর্কের উদ্ভব ঘটেছিল, অথবা এটি ছিল মুসলিমদের ঐক্যের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, তাদের জামাতকে খণ্ডিত করা এবং তাদের সারিতে দুর্বলতার লক্ষণ প্রকাশের সূচনা।

একারণে হাদীস বিশারদগণ কালামশাস্ত্রীয় বিতর্কের উদ্ভবকে এক প্রকারের ধর্মত্যাগ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তারা এর কারণ হিসেবে দ্বীনের গভীর জ্ঞানের অভাব এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আদ-দারিমী বলেন: (তারা সাহাবী ও তাবিঈগণের যুগে অবদমিত ও পর্যুদস্ত ছিল, রাষ্ট্রের শক্তি এবং আলেমদের দলিলের মাধ্যমে তারা পরাভূত ছিল। কিন্তু যখন সময় অতিবাহিত হলো, তারা তাদের মতবাদ প্রচারের সুযোগ পেল যখন তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা এবং আলেমদের সংখ্যায় স্বল্পতা দেখতে পেল) (১)।

কালামশাস্ত্রবিদগণ সাহাবীগণের ইতিহাস ও তাদের সময়কাল নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছিলেন, কিন্তু তারা এমন কোনো চিহ্ন পাননি যা প্রমাণ করে যে সাহাবীগণ এই বিষয়গুলোতে লিপ্ত ছিলেন। ফলে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সাহাবীগণ এই বিষয়গুলো জানতেন না। আর এটি গবেষণা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে একটি ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি। যেমন আস-সাফারিণী বলেছেন:

যেহেতু সাহাবী এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবিঈগণের যুগ কালামশাস্ত্রীয় বিদআত, কাল্পনিক সংশয় এবং মুতাযিলাপন্থীদের বৈরিতা থেকে মুক্ত ছিল, তাই দ্বীনের মূলনীতির দলিলসমূহ বর্তমানের মতো এভাবে সংকলিত ছিল না (২)। তদ্রূপ কালামশাস্ত্রবিদগণ সাহাবীগণের সমালোচনা করতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং দাবি করেছে যে, তারা দ্বীনের মৌলিক নীতিসমূহ আলোচনার চেয়ে জিহাদে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। অথচ সত্য এই যে, জিহাদ ছিল আকিদারই ফল এবং নফস ও অন্তরে এর সুদৃঢ় অবস্থানের এক বাস্তব প্রতিফলন ও বহিঃপ্রকাশ।

সাহাবীগণের বিস্ময়কর বিজয়সমূহ কেবল ইসলামের আকিদার প্রতি তাদের সাড়া দেওয়া, এর সঠিক উপলব্ধি এবং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এর ফলেই তারা প্রাচীন সভ্যতার অধিকারী অন্যান্য জাতিগুলোকে আকৃষ্ট করেছিলেন, যার ফলে সাহাবীগণ অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠতম এক জামাতে পরিণত হয়েছিলেন।

যেহেতু ইসলামের সভ্যতা কেবল সামরিকভাবে বিজয়ী ও প্রভাবশালী ছিল না—যা ছিল কেবল প্রাথমিক পর্যায়—বরং এটি আকিদাগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে জনগণের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করেছিল; কারণ এই নতুন আকিদার বাহকগণই ছিলেন অনুসরণের জন্য সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিত্ব।

রিদ্দার যুদ্ধসমূহ মানুষের আসল স্বরূপ উন্মোচন করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিল, যা প্রমাণ করেছিল যে ঈমানের প্রকৃত শক্তি আবু বকর এবং সাহাবীগণের পক্ষেই ছিল। এটি আকিদার যেকোনো ফাটল রোধে একটি অভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়েছিল, এবং এটি ছিল

--------------------------------------------

(১) আকাইদুস সালাফ (আল-মারীসীর বিরুদ্ধে আদ-দারিমীর সমালোচনা)।

(২) মুখতাসার আস-সাফারিণী, পৃষ্ঠা ৫, তাহকীক: মুহাম্মাদ যুহরী আন-নাজ্জার - দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত ১৪০৩ হিজরি/ ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
محكًا لأثر الإيمان في النفوس والفهم الصحيح لعقائد الإسلام، فقد كشفت الردة عن (حقيقة التصور الإلهي في أذهان المسلمين وسلوكهم حين تحول إلى أعمال وحرب حتى لا يتمكن المرتدون من تشويه العقيدة، أو انتقاص المنهج، أو إدخال شيء من الجاهلية في الإسلام) (1) .

إن هذا الفهم الممتزج بالإيمان هو الدافع الحقيقي لجهاد الصحابة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم والتسابق للاستشهاد، ومع الصديق رضي الله عنه بعده.

ألا يحق لعلماء أهل السنة والجماعة سلوك طريقهم واعتبارهم الجيل المثالي في العقيدة والسلوك؟

ولن يدهشنا إذًا عندما نرى أحد علمائهم - وهو الدارمِيّ - يقول:

فلم يظهر جهم وأصحابه - وهم أول من قالوا بالجبر ونفوا الصفات الإلهية - في زمن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وكبار التابعين فيروى عنهم فيها أثر منصوص، مسمى ولو كانوا بين أظهرهم مظهرين آراءهم لقتلوا كما قتل علي رضي الله عنه الزنادقة - وهم أتباع عبد الله بن سبأ اليهودي الذين قالوا بتأليه علي وظهروا في عصره، ولقتلوا كما قتل أهل الردة (2) .

ويوضح لنا الدارمي - بهذا الرأي - كيف دارت عجلة التاريخ لتطبيق سننه في رقي الأمم وتدهورها، إذ عبرت الفلول المهزومة في الحضارات المغلوبة عن نفسها بنشر فلسفاتها ونظراتها للألوهية والكون والإنسان، أو إثارة المشكلات العقائدية التي كانت تعاني منها إبان أزماتها.

ومما أذهل عقول مؤرخي التاريخ وفلاسفته أن المسلمين قاموا بغزو بلاد ذات حضارات عريقة، فكان من المنتظر قياسًا على الغزوات المماثلة من قبل كغزوات الإسكندر الأكبر مثلا - حيث لم تجاوز أعماله مجال التعمير الحضاري بمظهرها المادي فقط - كان من المنتظر بقاء الأفكار الفلسفية والدينية للسكان الأصليين كما هي

--------------------------------------------

(1) محمد حسن بريغش: ظاهرة الردة في المجتمع الإسلامي الأول ط مؤسسة الرسالة- بيروت.

(2) عقائد السلف ص 349.
এটি ছিল হৃদয়ে ঈমানের প্রভাব এবং ইসলামের আকিদা সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধির একটি কষ্টিপাথর। কেননা মুরতাদদের বিদ্রোহ (মুসলিমদের মন ও আচরণে ইলাহি ধারণার বাস্তবতা প্রকাশ করে দিয়েছিল, যা বাস্তবে আমল ও যুদ্ধে রূপ নিয়েছিল যেন মুরতাদরা আকিদাকে বিকৃত করতে, মানহাজ বা পদ্ধতিকে ক্ষুণ্ণ করতে অথবা ইসলামের ভেতর জাহিলিয়াতের কোনো কিছু প্রবেশ করাতে না পারে) (১)।

ঈমানের সাথে মিশে থাকা এই সঠিক উপলব্ধিই ছিল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহাবায়ে কেরামের জিহাদ ও শাহাদাতের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার এবং তাঁর পরে সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে জিহাদ করার প্রকৃত চালিকাশক্তি।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আলেমদের জন্য কি তাদের পথ অনুসরণ করা এবং আকিদা ও আচরণের ক্ষেত্রে তাদেরকে একটি আদর্শ প্রজন্ম হিসেবে গণ্য করা সঙ্গত নয়?

সুতরাং, আমরা যখন তাদের অন্যতম আলেম আদ-দারেমিকে বলতে দেখি, তখন আমরা বিস্মিত হব না:

জাহম ও তার অনুসারীরা—যারা সর্বপ্রথম জাবর মতবাদের কথা বলেছিল এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করেছিল—আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং বড় বড় তাবেয়ীদের যুগে আবির্ভূত হয়নি যে তাদের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণনা বা নাম পাওয়া যাবে। যদি তারা তাদের মাঝে নিজেদের মতবাদ প্রকাশ করত, তবে তাদের হত্যা করা হতো যেমনিভাবে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জিন্দিকদের হত্যা করেছিলেন—তারা ছিল ইহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী যারা আলীকে ইলাহ হিসেবে দাবি করেছিল এবং তাঁর যুগে আবির্ভূত হয়েছিল—এবং তাদেরকে সেভাবেই হত্যা করা হতো যেভাবে মুরতাদদের হত্যা করা হয়েছিল (২)।

আদ-দারেমি এই মতের মাধ্যমে আমাদের কাছে পরিষ্কার করেছেন যে, জাতিসমূহের উন্নতি ও অবনতির ক্ষেত্রে ইতিহাসের চাকা কীভাবে তার নিয়মানুযায়ী আবর্তিত হয়। কারণ বিজিত সভ্যতাসমূহের পরাজিত অবশিষ্টাংশগুলো তাদের দর্শন এবং ইলাহিয়াত, মহাবিশ্ব ও মানুষ সম্পর্কে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করার মাধ্যমে অথবা তাদের সংকটের সময়কার আকিদাগত সমস্যাগুলো উসকে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল।

ইতিহাসবিদ ও দার্শনিকদের যা বিস্মিত করেছে তা হলো—মুসলিমরা প্রাচীন সভ্যতাসমৃদ্ধ দেশগুলো জয় করেছিলেন। এর আগের সমজাতীয় অভিযানগুলোর সাথে তুলনা করলে, যেমন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের অভিযানগুলো—যার কাজগুলো কেবল বস্তুগত সভ্যতার উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল—এটিই প্রত্যাশিত ছিল যে আদিবাসীদের দার্শনিক ও ধর্মীয় ধ্যান-ধারণাগুলো অপরিবর্তিত থাকবে

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ হাসান বারীগিশ: ইসলামি সমাজের প্রথম যুগে মুরতাদ হওয়ার প্রবণতা, তাবা: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ- বৈরুত।

(২) আকিদাতুস সালাফ পৃ. ৩৪৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজু উলামাউল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ ফী উসুলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ولكن ما حدث نتيجة انتصار المسلمين لم يتوقع، لأنه اكتسح ما لاقاه في طريقه كالسيل الجارف، (فتغير كل شيء بين يوم وليلة. ولم يقتصر في هذه المرة على الواجهة السياسية والاقتصادية في المدن الكبرى فقط، وإنما تغلغل في الأعماق النفسية لهذه الشعوب جميعًا: فاللغات والأفكار والقانون والآمال والعادات وتصور العالم وعقيدة الألوهية، كل ذلك قد طرأ عليه تغيير جذري سريع) (1) .

والشواهد أكثر من أن يستدل بها في هذا الموضع وإلا اضطررنا إلى عرض حياة عشرات، بل مئات الصحابة رضوان الله عليهم ومنهم من فسر القرآن الكريم ومنهم من تفقه ومنهم من اختص بالإفتاء والاجتهاد والأمثلة كثيرة على مثل هذه التخصصات.

ولو مضينا في دراسة أنشطتهم العلمية لخرجنا بصورة كاملة عن حقيقة عقائدهم، إذ توصلوا إليها في كافة أوجه أصول الدين من عقيدة التوحيد إلى الصفات الإلهية إلى مسألة القضاء والقدر الإلهي، إلى الإنسان وحقيقته وغايته وأخلاقه، إلى المجتمع ومكوناته والحياة الإنسانية بكافة جوانبها، حتى قال الإمام أحمد بن حنبل: (لقد حدثت أجناس الأعمال في عصر الصحابة) .

وقال الإمام أحمد: (أنه ما من مسألة إلا وقد تكلم فيها الصحابة أو في نظيرها فإنه لما فتحت البلاد وانتشر الإسلام حدثت جميع أجناس الأعمال فتكلموا فيها بالكتاب والسنة، وإنما تكلم بعضهم في مسائل قليلة) (2) .

ويقصد بذلك أنهم أرسوا قواعد الحياة الإسلامية الحقيقية كلها.

هذه الحياة الكاملة التي تتناول العقيدة والعبادات والأخلاق في دائرة واحدة يعبرون عنها بحياتهم اليومية العادية والمعارك العسكرية والمعاملات التجارية والعلاقات الاجتماعية في الأخوة والصحبة والزواج والعتاق والمسرات والأحزان

--------------------------------------------

(1) د. دراز: مدخل إلى القرآن الكريم ص 54 ط دار القلم - الكويت 1391 هـ - 1971 م.

(2) ابن تيمية: معارج الوصول إلى أن أصول الدين وفروعه قد بينها الرسول ص 43 ط المكتبة العلمية بالمدينة المنورة. والجنس: الضرب من كل شيء والجمع: (أجناس) وهو أعم من النوع.
তবে মুসলিমদের বিজয়ের ফলে যা ঘটেছিল তা ছিল অপ্রত্যাশিত, কারণ এটি তার পথে আসা সবকিছুকে এক প্রলয়ংকারী স্রোতের মতো ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, (ফলে দিন ও রাতের ব্যবধানে সবকিছু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। এই পরিবর্তন এবার কেবল বড় শহরগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এই সকল জাতির মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় প্রবেশ করেছিল: ভাষা, চিন্তা, আইন, আকাঙ্ক্ষা, রীতিনীতি, বিশ্বদর্শন এবং উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্ব-সম্পর্কিত আকিদাহ—সবকিছুতেই এক দ্রুত ও আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল) (১)।

আর এ বিষয়ে প্রমাণাদি এত বেশি যে এই সীমিত স্থানে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়; অন্যথায় আমাদের দশ দশ নয় বরং শত শত সাহাবীর (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) জীবন আলোচনা করতে হতো। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, কেউ ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী এবং কেউ ফাতাওয়া প্রদান ও ইজতিহাদে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এই জাতীয় বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে এ ধরনের উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।

আমরা যদি তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের অধ্যয়ন চালিয়ে যাই, তবে আমরা তাঁদের আকিদাহর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র লাভ করব। কেননা তাঁরা দীনের মূলনীতিসমূহের সকল দিক যেমন—তাওহিদের আকিদাহ থেকে শুরু করে আল্লাহর গুণাবলি, আল্লাহর কাজা ও কদর (ঐশী ফয়সালা ও তকদির) সংক্রান্ত মাসআলা, মানুষ এবং তার বাস্তবতা, লক্ষ্য ও চরিত্র এবং সমাজ ও এর উপাদানসমূহসহ মানবজীবনের সকল দিক সম্পর্কে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন। এমনকি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: (সাহাবীদের যুগে সকল প্রকার আমল বা বিষয়াদি সংঘটিত হয়েছে)।

ইমাম আহমাদ আরও বলেছেন: (এমন কোনো মাসআলা বা বিষয় নেই যে সম্পর্কে সাহাবীগণ কথা বলেননি অথবা তার সদৃশ কোনো বিষয়ে আলোচনা করেননি। কেননা যখন দেশসমূহ বিজিত হলো এবং ইসলামের প্রসার ঘটল, তখন সকল প্রকারের কর্ম বা বিষয়ের উদ্ভব হলো, আর তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সে বিষয়ে কথা বললেন। তবে তাঁদের কেউ কেউ অতি অল্প কিছু মাসআলায় কথা বলেছেন) (২)।

এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, তাঁরা প্রকৃত ইসলামি জীবনের সকল মূলভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন।

এই পূর্ণাঙ্গ জীবন আকিদাহ, ইবাদাত ও আখলাককে একই বৃত্তে ধারণ করে, যা ফুটে ওঠে তাঁদের সাধারণ প্রাত্যহিক জীবন, সামরিক যুদ্ধবিগ্রহ, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ভ্রাতৃত্ব, সাহচর্য, বিবাহ, দাসমুক্তি, আনন্দ ও দুঃখের সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।

--------------------------------------------

(১) ড. দরাজ: মাদখাল ইলাল কুরআনিল কারীম, পৃষ্ঠা ৫৪, দারুল কলম প্রকাশনী - কুয়েত, ১৩৯১ হিজরি - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ: মা’আরিজুল উসুল ইলা আন্না উসুলাদ দ্বীন ওয়া ফুরুয়াহু কদ বাইয়্যানাহুর রাসূল, পৃষ্ঠা ৪৩, মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারা। আর ‘জিলস’ বা শ্রেণি: প্রত্যেক জিনিসেরই এক একটি প্রকার, এর বহুবচন হলো: ‘আজিনাস’ (শ্রেণিসমূহ); এটি ‘নও’ (প্রজাতি) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।