(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: -)
شمائل الحبيب المصطفى القسم: السيرة النبوية
الكتاب: شمائل الحبيب المصطفى
المؤلف: محمد أبو الهدى اليعقوبي
الناشر: مؤسسة العلم الشريف - المملكة المتحدة
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2017 م
عدد الصفحات: 235
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1442
শামায়িলুল হাবীব আল-মুস্তফা বিভাগ: নববী সীরাত
গ্রন্থ: শামায়িলুল হাবীব আল-মুস্তফা
লেখক: মুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবী
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল ইলম আশ-শরীফ - যুক্তরাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطَّبْعَةُ الأُولَى
1439/ -2017
جمَيِعُ الحُقُوقِ مَحفُوظَةٌ للمُؤَلِّفِ
مُؤسَّسَةُ العِلْمِ الشَّرِيفِ - المملكة المتحدة
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৯/ -২০১৭
সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
মুয়াসসাসাতুল ইলমিশ শরীফ - যুক্তরাজ্য
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفِهْرِسُ الْعَامُ
مُقَدِّمَةُ الكِتَابِ 7
القِسْمُ الأَوَّلُ: مَنْ هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم 21
القِسْمُ الثَّانِي: الجَسَدُ الشَّرِيفُ 29
القِسْمُ الثَّالِثُ: مَظَاهِرُ الزِّينَةِ 65
القِسْمُ الرَّابِعُ: خِزَانَةُ المَلَابِسِ 77
القِسْمُ الخَامِسُ: القِيَادَةُ وَالدَّعْوَةُ 89
القِسْمُ السَّادِسُ: الطَعَامُ وَالشَّرَابُ 103
القِسْمُ السَّابِعُ: أَسَالِيبُ الكَلَامِ 121
القِسْمُ الثَّامِنُ: العِبَادَةُ 131
القِسْمُ التَّاسِعُ: مَظَاهِرُ الكَمَالِ 143
القِسْمُ العَاشِرُ: المُعَامَلَاتُ 171
القِسْمُ الحَادِي عَشَرَ: الرَّحِيلُ 191
القِسْمُ الثَّانِي عَشَرَ: المُبَشِّرَاتُ 203
أَسَانِيدُ المُؤَلِّفِ 209
الإِجَازَةُ بِرِوَايِةِ الكِتَابِ 235
الفِهْرِسُ المُفَصَّلُ لِأَبْوَابِ الكِتَابِ 237
সাধারণ সূচিপত্র
গ্রন্থের ভূমিকা 7
প্রথম অংশ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে 21
দ্বিতীয় অংশ: দেহ মোবারক 29
তৃতীয় অংশ: সাজসজ্জার দিকসমূহ 65
চতুর্থ অংশ: পোশাক-পরিচ্ছদ 77
পঞ্চম অংশ: নেতৃত্ব ও দাওয়াত 89
ষষ্ঠ অংশ: আহার ও পানীয় 103
সপ্তম অংশ: কথোপকথনের শৈলী 121
অষ্টম অংশ: ইবাদত 131
নবম অংশ: পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ 143
দশম অংশ: মুয়ামালাত বা সামাজিক লেনদেন 171
একাদশ অংশ: ওফাত ১৯১ 191
দ্বাদশ অংশ: সুসংবাদসমূহ 203
লেখকের সনদসমূহ 209
গ্রন্থটি বর্ণনার ইজাজত 235
গ্রন্থের অধ্যায়সমূহের বিস্তারিত সূচিপত্র 237
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৭)
مُقَدِّمَةُ الكِتَاباللهم يَا رَبَّنَا لَكَ الحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ، سُبْحَانَكَ لَا نُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلى نَفْسِكَ، عَزَّ جَارُكَ، وَجلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إلهَ غَيْرُكَ، وَلَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَكَ العُتْبَى حَتَّى تَرْضَى، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ العَلِيِّ العَظِيم. الحَمْدُ لِلّاهِ بِجَمِيعِ مَحَامِدِهِ كُلِّهَا مَا عَلِمْنَا مِنْهَا وَمَا
لَمْ نَعْلَمْ، عَلَى جَمِيعِ نِعَمِهِ كُلِّهَا مَا عَلِمْنَا مِنْهَا وَمَا لَمْ نَعْلَمْ، عَدَدَ خَلَائِقِهِ كُلِّهِمْ مَا عَلِمْنَا مِنْهُمْ وَمَا لَمْ نَعْلَمْ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ المَلِكُ الحَقُّ المُبِينُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ المُصْطَفَى، وَرَسُولُهُ المُجْتَبَى، وَحَبِيبُهُ المُرْتَضَى، خاتَِمُ النَّبِيِّينَ، وَإِمَامُ المُرْسَلِينَ، وَقَائِدُ الغُرِّ المُحَجَّلِينَ، الصَّادِقُ الوَعْدِ الأَمِينُ.
هُوَ السَّاجِدُ الرَّاكِعُ، الخَاشِعُ الخَاضِعُ، الحَلِيمُ المُتَوَاضِعُ، سَيِّدُ السَّادَاتِ، وَأَصْلُ البَرَكَاتِ وَمَنْبَعُ الخَيْرَاتِ. رُضَابُهُ أَحْلَى مِنَ الشَّهْدِ، وَخَدُّهُ أَبْهَى مِنَ الوَرْدِ، وَعَرَقُهُ أَطْيَبَ مِنَ النَّدِّ. شَعَرُهُ كَشُذُورِ الذَّهَبِ، وَمِشْيَتُهُ كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ. الرَّوْضُ الزَّاهِرُ، وَالبَحْرُ الزَّاخِرُ، الَّذِي جَمَعَ مَحَاسِنَ الأَوَائِلِ وَالأَوَاخِرِ، صَاحِبُ الأَخْلَاقِ العَظِيمَةِ، وَالشَّمَائِلِ الحَمِيدَةِ، وَالخَصَائِصِ الفَرِيدَةِ.
اللهم إنَّا نَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّكَ وَرَسُولَكَ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا قَدْ بَلَّغَ الرِّسَالَةَ، وَأَدَّى الأَمَانَةَ،
কিতাবের ভূমিকাহে আল্লাহ! হে আমাদের রব, সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, যেমনটি আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার মহা রাজত্বের মহত্ত্বের উপযোগী। আপনি পবিত্র, আমরা আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন। আপনার আশ্রিত ব্যক্তি সম্মানিত, আপনার প্রশংসা মহিমান্বিত, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, এবং আপনার কল্যাণ ব্যতীত কোনো কল্যাণ নেই। আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আপনার কাছেই আমরা ক্ষমাপ্রার্থনা ও নিবেদন পেশ করছি; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা তাঁর সকল প্রশংসিত গুণাবলির সাথে—যার কিছু আমরা জানি এবং কিছু
জানি না; তাঁর সকল নিয়ামতের জন্য—যার কিছু আমরা জানি এবং কিছু জানি না; তাঁর সকল সৃষ্টির সংখ্যার সমান—যাদের কিছু আমরা জানি এবং কিছু জানি না।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি চিরন্তন সত্য রাজা ও সুস্পষ্ট অধিপতি। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মনোনীত বান্দা, তাঁর নির্বাচিত রাসুল এবং তাঁর পছন্দনীয় হাবিব; তিনি নবীদের সমাপ্তিকারী, রাসুলদের ইমাম এবং জ্যোতির্ময় অঙ্গধারী নেককারদের নেতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত।
তিনি সিজদাকারী, রুকুকারী, বিনয়ী ও অনুগত, সহনশীল ও নম্র; তিনি সকল নেতাদের নেতা, বরকতের মূল এবং কল্যাণসমূহের উৎস। তাঁর লালা মধুর চেয়েও মিষ্টি, তাঁর গাল গোলাপের চেয়েও উজ্জ্বল এবং তাঁর ঘাম সুগন্ধির চেয়েও সুবাসিত। তাঁর চুল স্বর্ণালি আভার মতো এবং তাঁর চলন যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। তিনি প্রস্ফুটিত বাগান, উত্তাল সমুদ্র, যিনি আদি ও অন্তের সকল সৌন্দর্যকে একত্রিত করেছেন; তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী, প্রশংসিত গুণাবলি ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের আধার।
হে আল্লাহ! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার নবী ও রাসুল আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَنَصَحَ الأُمَّةَ، وتَرَكَنَا مِنْ بَعْدِهِ عَلَى بَيْضَاءَ نَقِيَّةٍ لَا يَزِيغُ عَنْهَا إِلَّا هَالِك. اللهم فَصَلِّ وَسَلِّمْ مِنَّا عَلَيْهِ أَفْضَلَ الصَّلَاةِ وَأَزْكَى السَّلَامِ، وَعَلَى آلِهِ الطَّيِّبِينَ الطَّاهِرِينَ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ، وَالتَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلى يَوْمِ الدِّينِ.
أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى قَدْ جَعَلَ نَبِيَّهُ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ قُدْوَةً لِلنَّاسِ فَقَالَ عز وجل: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [سُورَةُ الأَحْزَابِ: 21]. وَأَوْجَبَ اللهُ عَلَيْنَا طَاعَتَهُ، وَجَعَلَ اتِّبَاعَهُ دَلِيلًا عَلَى صِدْقِ مَحَبَّتِنَا لَهُ سُبْحَانَهُ، وَشَرْطًا لَا بُدَّ مِنْهُ لِلْفَوْزِ بِمَحَبَّتِهِ عز وجل لَنَا وَمَغْفِرَةِ ذُنُوبِنَا فَقَالَ عز وجل: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (31)} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 31].
وَلَمَّا جَعَلَ اللهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم قُدْوَةً لِلنَّاسِ فِي أَفْعَالِهِ وَأَقْوَالِهِ وَأَحْوَالِهِ، فَإِنَّهُ عَصَمَهُ مِنِ ارْتِكَابِ الذُّنُوبِ وَالمَعَاصِي، وَوَقَاهُ مِنَ الوُقُوعِ فِي الخَطَأِ وَالزَّلَلِ، وَطَهَّرَهُ مِنْ فِعْلِ مَا فِيهِ عَيْبٌ أَوْ خَلَلٌ، وَجَعَلَ خَلْقَهُ وَخُلُقَهُ، وَنَعْتَهُ وحِلْيَتَهُ، وَأَعْمَالَهُ وَأَقْوَالَهُ جَمِيعًا فِي أَعْلَى مَرَاتِبِ الجَمَالِ، وَأَقْصَى غَايَاتِ الكَمَالِ.
وَقَدْ تَفَنَّنَ الصَّحَابَةُ فِي وَصْفِ ذَلِكَ الجَمَالِ البَدِيعِ، وَاجْتَهَدُوا فِي الكَشْفِ عَنْ مَظَاهِرِ ذَلِكَ الكَمَالِ الرَّفِيعِ، فَاجْتَمَعَتْ مِنْ ذَلِكَ أَحَادِيثُ الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ، وَهِيَ جُزْءٌ لَا يَتَجَزَّأُ مِنَ كتب السُّنَّةِ المُطَهَّرَةِ وَمصنفات الحَدِيثِ الشَّرِيفِ. إِذِ
তিনি উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাঁর পরে আমাদেরকে এক স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন, যা থেকে একমাত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বিচ্যুত হয় না। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সর্বোত্তম রহমত ও পবিত্রতম শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী আমাদের সরদার মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে মানুষের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে} [সূরা আল-আহজাব: ২১]। আর আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন এবং তাঁর অনুসরণকে আল্লাহর প্রতি আমাদের ভালোবাসার সত্যতার প্রমাণ এবং তাঁর ভালোবাসা লাভ ও আমাদের পাপসমূহ ক্ষমার জন্য এক অপরিহার্য শর্ত সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু} [সূরা আল ইমরান: ৩১]।
আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষের জন্য তাঁর কাজ, কথা ও অবস্থার ক্ষেত্রে আদর্শ বানিয়েছেন, তাই তিনি তাঁকে পাপ ও নাফরমানি থেকে রক্ষা করেছেন, ভুল ও বিচ্যুতি থেকে হিফাজত করেছেন এবং এমন কাজ থেকে পবিত্র রেখেছেন যাতে কোনো দোষ বা ত্রুটি থাকে। আর তাঁর দৈহিক গঠন ও চরিত্র, গুণাবলি ও অবয়ব এবং তাঁর কথা ও কাজ—সবকিছুকে সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ স্তরে এবং পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে আসীন করেছেন।
সাহাবায়ে কেরাম সেই অপূর্ব সৌন্দর্যের বর্ণনায় চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং সেই সুউচ্চ পূর্ণতার দিকগুলো উন্মোচনে সচেষ্ট হয়েছেন। ফলে তা থেকে ‘শামায়িলে নববী’র হাদিসসমূহ সংকলিত হয়েছে, যা পবিত্র সুন্নাহর কিতাবসমূহ এবং হাদিসে শরিফের সংকলনগুলোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেননা...
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৯)
السُّنَّةُ عِنْدَ عُلَمَاءِ الحَدِيثِ هِيَ: مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ وَصْفٍ أَوْ تَقْرِيرٍ.
وَمَعَ كَثْرَةِ التَّآلِيفِ فِي مَوْضُوعِ الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ بَيْنَ مُخْتَصَرٍ وَمُطَوَّلٍ، وَقَدِيمٍ وَحَدِيثٍ، فَإِنَّ المَكْتَبَةَ الإِسْلَامِيَّةَ لَا تَزَالُ تَحْتَاجُ إِلَى كِتَابٍ سَهْلٍ مُيَسَّرٍ عَلَى نَمَطِ كِتَابِ رِيَاضِ الصَّالِحِينَ. إِذِ الكَلَامُ فِي كُلِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ اللهُ تَعَالَى لَهُ حُدُودٌ، لكنَّ الكَلَامَ فِي وَصْفِ النَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام غَيْرُ مَحْدُودٍ. وَلِكُلِّ كَلَامٍ بِدَايَةٌ وَنِهَايَةٌ، إِلَّا وَصْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَيْسَ لَهُ أَمَدٌ وَلَا غَايَةٌ.
وَكَيْفَ نَصِفُ خُلُقًا جَعَلَهُ اللهُ تَعَالَى عَظِيمًا، وَسَمَّاهُ رَؤُوفًا رَحِيمًا! أَمْ كَيْفَ نُنْصِفُ رَحْمَةً جَعَلَهَا اللهُ تَعَالَى عَامَّةً لِلْعَالَمِينَ!
وَأَنَّى لَنَا أَنْ نُدْرِكَ حَقَّهُ عَلَيْنَا وَقَدْ جَعَلَهُ اللهُ تَعَالَى أَوْلَى بِنَا مِنْ أَنْفُسِنَا!
نَبِيٌّ أُنْزِلَ القُرْآنُ عَلَيْهِ، وَحَنَّ الجِذْعُ إِلَيْهِ، وَتَفَجَّرَ المَاءُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ.
نَبِيٌّ انْشَقَّ لَهُ القَمَرُ، وَسَعَى إِلَيْهِ الشَّجَرُ، وَسَبَّحَ فِي كَفِّهِ الحَجَرُ.
نَبِيٌّ أَمْرُهُ مِنْ أَمْرِ اللهِ، وَطَاعَتُهُ طَاعَةٌ لِلّاهِ، وَبَيْعَتُهُ بَيْعَةٌ لِلّاهِ.
نَبِيٌّ مَا ضَلَّ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى.
نَبِيٌّ سَمَّاهُ اللهُ نُورًا، وَجَعَلَهُ سِرَاجًا مُنِيرًا.
نَبِيٌّ أَخَذَ اللهُ لَهُ مِنَ الأَنْبِيَاءِ المِيثَاقَ، وَعَرَجَ بِهِ فَوْقَ السَّبْعِ الطِّبَاقِ.
হাদিসশাস্ত্রবিদদের নিকট সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, বৈশিষ্ট্য অথবা মৌন সম্মতি।
নববী শামায়িল (বৈশিষ্ট্য) বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত এবং প্রাচীন ও আধুনিক বহু রচনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামি লাইব্রেরি এখনও রিয়াদুস সলিহীন-এর আদলে একটি সহজবোধ্য গ্রন্থের মুখাপেক্ষী। কারণ, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি করা প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনার একটি সীমা আছে, কিন্তু নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের গুণাবলির আলোচনার কোনো সীমা নেই। প্রতিটি কথারই শুরু এবং শেষ আছে, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা শেষ নেই।
আর আমরা এমন এক চরিত্রের বর্ণনা কীভাবে দেব যাকে আল্লাহ তাআলা মহান করেছেন এবং যাকে তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময় বলে অভিহিত করেছেন! অথবা এমন এক রহমতের যথাযথ মূল্যায়ন আমরা কীভাবে করব যাকে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য ব্যাপক করেছেন!
আর আমাদের উপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে তা আমরা উপলব্ধি করবই বা কীভাবে, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে আমাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত করেছেন!
তিনি এমন এক নবী যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যাঁর বিরহে খেজুরের কাণ্ড ক্রন্দন করেছে এবং যাঁর দুই হাতের আঙুলের মাঝ থেকে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি এমন এক নবী যাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে, গাছ যাঁর দিকে এগিয়ে এসেছে এবং যাঁর হাতের তালুতে পাথর তসবিহ পাঠ করেছে।
তিনি এমন এক নবী যাঁর আদেশ আল্লাহর আদেশের অন্তর্ভুক্ত, যাঁর আনুগত্য আল্লাহরই আনুগত্য এবং যাঁর কাছে বায়আত হওয়া আল্লাহর কাছেই বায়আত হওয়া।
তিনি এমন এক নবী যিনি পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি, আর তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথাও বলেন না; এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।
তিনি এমন এক নবী যাকে আল্লাহ 'নূর' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়েছেন।
তিনি এমন এক নবী যাঁর পক্ষে আল্লাহ অন্যান্য নবীদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন এবং তাঁকে সাত আসমানের ঊর্ধ্বে আরোহণ করিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১০)
نَبِيٌّ جَعَلَهُ اللهُ تَعَالَى مَلْجَأً لِلْخَلَائِقِ يَومَ الدِّينِ، وَخَصَّهُ بِالشَّفَاعَةِ العُظْمَى مِنْ بَيْنِ جَمِيعِ المُرْسَلِينَ.
نَبِيٌّ كَانَ أَطْهَرَ النَّاسِ نَسَبًا، وَأَكْرَمَهُمْ مَعْدِنًا، وأَطْيَبَهُمْ أَصْلًا، وَأَعْظَمَهُمْ أَدَبًا.
نَبِيٌّ شَرَحَ اللهُ صَدْرَهُ، وَرَفَعَ ذِكْرَهُ، وَأَعْلَى قَدْرَهُ.
نَبِيٌّ كَانَ أَبْهَى مِنَ الشَّمْسِ، وَأَحْلَى مِنَ القَمَرِ.
نَبِيٌّ كَانَتْ يَدُهُ شِفَاءً، وَرِيقُهُ دَوَاءً.
نَبِيٌّ كَانَ أَعْلَمَ الخَلْقِ بِاللهِ، وَأَخْشَاهُمْ وَأَتْقَاهُمْ لِمَوْلَاهُ.
نَبِيٌّ يُصَلِّي عَلَيْهُ اللهُ تَعَالَى وَمَلَائِكَتُهُ بِلَا انْقِطَاعٍ، وَتُبَلِّغُهُ المَلَائِكَةُ سَلَامَ النَّاسِ عَلَيْهِ فِي كُلِّ طَرْفَةِ عَيْنٍ مِنْ جَمِيعِ الأَصْقَاعِ.
نَبِيٌّ أَقْسَمَ اللهُ تَعَالَى بِأَنَّ الآخِرَةَ خَيْرٌ لَهُ مِنَ الأُولَى، وَأَنَّ لَهُ أَنَّ رَبَّهُ سَوْفَ يُعْطِيهِ إِلَى أَنْ يَرْضَى.
نَبِيٌّ أَكْمَلَ اللهُ لَهُ الدِّينَ، وَأَتَمَّ عَلَيْهِ النِّعْمَةَ، وَجَعَلَ أَتْبَاعَهُ خَيْرَ أُمَّةٍ.
نَبِيٌّ اصْطَفَاهُ اللهُ تَعَالَى وَاجْتَبَاهُ، وَعَصَمَهُ وَطَهَّرَهُ وَآوَاهُ، وَأَيَّدَهُ وَكَفَاهُ، وَنَصَرَهُ فِي كُلِّ مَوطِنٍ وَكَانَ مَوْلَاهُ.
كَيْفَ لَا، وَهُوَ صَاحِبُ المَقَامِ المَحْمُودِ، وَاللِّوَاءِ المَعْقُودِ، وَالحَوْضِ المَوْرُودِ.
এমন এক নবী, যাকে মহান আল্লাহ বিচার দিবসে সৃষ্টির আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন এবং সকল রাসুলদের মধ্য থেকে তাকেই মহা সুপারিশের জন্য বিশিষ্ট করেছেন।
এমন এক নবী, যিনি বংশের বিচারে মানুষের মধ্যে পবিত্রতম, উপাদানের বিচারে শ্রেষ্ঠতম, মূলে সর্বোত্তম এবং শিষ্টাচারে মহানতম ছিলেন।
এমন এক নবী, যার বক্ষ আল্লাহ উন্মুক্ত করেছেন, যার আলোচনাকে উচ্চকিত করেছেন এবং যার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন।
এমন এক নবী, যিনি সূর্যের চেয়েও উজ্জ্বল এবং চাঁদের চেয়েও সুন্দর ছিলেন।
এমন এক নবী, যার হাত ছিল আরোগ্য এবং যার লালা ছিল মহৌষধ।
এমন এক নবী, যিনি সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং তাদের মধ্যে স্বীয় রবের প্রতি সর্বাধিক ভীত ও পরহেযগার ছিলেন।
এমন এক নবী, যার প্রতি মহান আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নিরবচ্ছিন্নভাবে দরূদ পাঠ করেন এবং ফেরেশতারা পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে প্রতি পলকে মানুষের সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে দেন।
এমন এক নবী, যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ শপথ করেছেন যে, অবশ্যই তাঁর জন্য ইহকাল অপেক্ষা পরকাল শ্রেয় এবং শীঘ্রই তাঁর রব তাঁকে এত দান করবেন যে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
এমন এক নবী, যার জন্য আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, তাঁর ওপর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর অনুসারীদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন।
এমন এক নবী, যাকে মহান আল্লাহ চয়ন করেছেন ও নির্বাচিত করেছেন, তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছেন, পবিত্র করেছেন ও আশ্রয় দান করেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন ও তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁকে বিজয়ী করেছেন ও স্বয়ং তাঁর অভিভাবক হয়েছেন।
তা কেন হবে না? অথচ তিনিই তো মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান), সুসংবদ্ধ ঝাণ্ডা এবং সেই হাউযের (কাওসার) অধিকারী যেখানে সবাই সমবেত হবে।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১১)
كَيْفَ لَا، وَهُوَ أَجَلُّ الأَنْبِيَاءِ قَدْرًا، وَأَعْظَمُهُمْ شَرَفًا وَمَجْدًا وَفَخْرًا
كَيْفَ لَا، وَهُوَ مَعْدِنُ الأَنْوَارِ، وَمَنْبَعُ الأَسْرَارِ، وَسَيِّدُ الأَبْرَارِ.
كَيْفَ لَا، وَهُوَ أَشْرَفُ العِبَادِ، وَأَفْضَلُ العُبَّادِ.
كَيْفَ لَا، وَهُوَ حَبِيبُ اللهِ، وَسَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ، وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَمُشَفَّعٍ، وَأَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الجَنَّةِ.
وَقَدْ قُلْتُ فِي مَدْحِهِ عليه الصلاة والسلام:
لَيْسَ لِلْعَينِ دُونَ رُؤْيَاكَ مَضْجَعْ
… لا وَلِلْقَلْبِ قَبْلَ لُقْيَاكَ مَرْبَعْ
يَا حَبِيبًا لَهُ الفَضَائِلُ دَانَتْ
… أَنْتَ مِنْ كُلِّ مَا بَرَا اللهُ أَرْفَعْ
يَا مَلِيكَ الجَمَالِ يَا مَنْ عَلى عَرْ
… شِ الكَمَالِ ارْتَقَى الذُّرَى وَتَرَبَّعْ
قَدْ مَلَكْتَ القُلُوبَ فَاحْكُمْ بِمَا شِئْـ
… ـتَ فَكُلُّ الوَرَى لَكَ يَخْضَعْ
أَنْتَ أَوْلَى بِالمُؤْمِنِينَ مِنَ الأَنْـ
… ـفُسِ بَلْ أَنْتَ حَاكِمٌ لَيْسَ يُدْفَعْ
أَنْتَ أَهْدَى لِلْحَقِّ أَزْكَى وَأَنْقَى
… أَنْتَ أَتْقَى لِلّاهِ دَوْمًا وَأَخْشَعْ
أَنْتَ أَوْفَى لِلْخَلْقِ أَسْنَى وَأَسْمَى
… أَنْتَ أَقْوَى وَفِي المَعَامِعِ أَشْجَعْ
أَنْتَ أَحْيَى مِنَ العَذارَى احْتِشَامًا
… أَنْتَ أَنْدَى يَدًا وَأَسْخى وَأَوْرَعْ
أَنْتَ أَبْهَى مِنَ البُدُورِ وَأَحْلَى
… أَنْتَ لِلْحُسْنِ وَالمَلاحَةِ مَنْبَعْ
أنْتَ بَابُ الهُدَى وَأَصْلُ المَزَايَا
… أَنْتَ لِلْفَضْلِ وَالمَفَاخِرِ مَجْمَعْ
يَا حَبِيبِي عَطْفًا عَليَّ فَإِنِّي
… لَيْسَ لي مِنْ سِوَاكَ يَا جَدُّ مَقْنَعْ
কেন হবে না, অথচ তিনি মর্যাদায় নবীদের মধ্যে সবচেয়ে মহান, এবং সম্মানে, মহিমায় ও গৌরবে তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
কেন হবে না, অথচ তিনি সকল নূরের খনি, সকল রহস্যের উৎস এবং পুণ্যবানদের সরদার।
কেন হবে না, অথচ তিনি বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং ইবাদতকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
কেন হবে না, অথচ তিনি আল্লাহর প্রিয়তম, আদম সন্তানদের সরদার, প্রথম সুপারিশকারী ও যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে এবং তিনিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজায় করাঘাত করবেন।
আর আমি তাঁর (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রশংসায় বলেছি:
আপনার দর্শন লাভ করা ব্যতীত চোখের জন্য কোনো বিশ্রামের স্থান নেই
… না, এবং আপনার সাথে সাক্ষাতের পূর্বে হৃদয়ের জন্য কোনো স্বস্তি নেই।
হে সেই প্রিয়তম, যাঁর প্রতি সকল শ্রেষ্ঠত্ব অবনত হয়েছে
… আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, আপনি সেই সব কিছুর চেয়ে ঊর্ধ্বে।
হে সৌন্দর্যের অধিপতি, হে সেই সত্তা যিনি পূর্ণতার আর
… শের চূড়ায় উঠেছেন এবং আসীন হয়েছেন।
আপনি হৃদয়সমূহ জয় করেছেন, তাই আপনার ইচ্ছামতো শাস
… ন করুন, কারণ সমস্ত সৃষ্টি আপনার নিকট অবনত হয়।
আপনি মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের প্রা
… ণের চেয়েও অধিক আপন, বরং আপনি এমন এক শাসক যাকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
আপনি সত্যের পথে সবচেয়ে বড় দিশারি, সবচেয়ে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন
… আপনি আল্লাহর প্রতি সর্বদা সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান ও বিনয়ী।
আপনি সৃষ্টির প্রতি সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী, সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সমুন্নত
… আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং রণক্ষেত্রে সবচেয়ে সাহসী।
লজ্জাশীলতায় আপনি কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক লাজুক
… আপনি অধিক দানশীল হাতের অধিকারী, অধিক বদান্য ও অধিক পরহেজগার।
আপনি পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক উজ্জ্বল ও সুন্দর
… আপনি রূপ ও লাবণ্যের মূল উৎস।
আপনি হিদায়াতের দ্বার এবং সকল বিশেষত্বের মূল
… আপনি সকল করুণা ও গৌরবের মিলনস্থল।
হে আমার প্রিয়তম, আমার প্রতি সদয় হোন, কারণ
… হে আমার পূর্বপুরুষ, আপনি ছাড়া আমার তৃপ্ত হওয়ার মতো আর কেউ নেই।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১২)
أفَيُلَامُ المُسْلِمُونَ إِنْ تَعَلَّقُوا بِجَنَابِهِ، أَوْ هَامُوا فِيهِ وَاشْتَاقُوا إِلَى رُؤْيَةِ أَنْوَارِهِ! وَقَدْ قَالَ الرَّسُولُ الأَعْظَمُ سَيِّدُنا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم فِيمَا أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَنْ سَيِّدِنَا أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلِدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ».
فَازْدَدْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حُبًّا تَزْدَدْ مِنَ اللهِ تَعَالَى قُرْبًا، وَأَكْثِرْ مِنْ ذِكْرِ سَيِّدِنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ ذِكْرَهُ ذِكْرٌ لِلّاهِ عز وجل، وَصَلِّ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ، وَهِمْ فِي جَمَالِهِ وَتَوَلَّهْ فِي كَمَالِهِ، وَتَتَبَّعْ مَا شِئْتَ مِنْ أَوْصَافِهِ وَأَحْوَالِهِ. وَأَصْبِحْ وَأَمْسِ عَلَى الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَيْهِ، وَنَمْ وَقُمْ وَأَنْتَ مُشْتَاقٌ إِلَيْهِ، لِتَكُونَ أَيُّهَا الأَخُ المُحِبُّ الصَّادِقُ مِمَّنْ وَصَفَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيثِ الَّذِي أَخْرَجَهُ الإِمَامُ مُسْلِمٌ عَنْ سَيِّدِنَا أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «مِنْ أَشَدِّ أُمَّتِي لِي حُبًّا نَاسٌ يَكُونُونَ بَعْدِي، يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ رَأَىنِي بِأَهْلِهِ وَمَالِهِ».
وَقَدْ يَبْدُو لِكَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ أَنَّ الِاقْتِدَاءَ بِالنَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام صَارَ أَمْرًا عَسِيرًا فِي هَذَا الزَّمَانِ، فَقَدِ اجْتَاحَتْ بِلَادَ المُسْلِمِينَ ثَقَافَاتٌ غَرِيبَةٌ حَلَّتْ مَحَلَّ كَثِيرٍ مِنَ السُّنَنِ، وَفُتِنَ النَّاسُ بِلُغَةِ المُنْتَصِرِ، وَشُغِفُوا بثَقَافَتِهِ، وَتَعَلَّقُوا بعَادَاتِهِ، وَأَعْرَضُوا عَنْ سُنَنٍ حَمِيدَةٍ، وَأَدَارُوا ظُهُورَهُمْ لِأَخْلَاقٍ مَجِيدَةٍ، حَتَّى صَارَتِ السُّنَنُ النَّبَوِيَّةُ غَرِيبَةً، يُنْكِرُ بَعْضُ النَّاسِ عَلَى فَاعِلِهَا، وَقَدْ يَسْتَهْزِئُونَ بِالمُتَحَلِّي بِهَا، أَوْ صَارَتْ وَصْمَةً يُوصَمُ المُتَمَسِّكُ بِهَا بِالتَّطَرُّفِ، أَوْ يُوصَفُ
মুসলিমদের কি তবে তিরস্কার করা হবে যদি তারা তাঁর পবিত্র সত্তার সাথে অনুরাগী হয়, অথবা তাঁর প্রেমে ব্যাকুল হয় এবং তাঁর নূরসমূহ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা করে! অথচ মহান রাসুল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম আমাদের নেতা আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।»
অতএব নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করুন, তবেই আপনি আল্লাহ তাআলার অধিক নৈকট্য লাভ করবেন। আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্মরণ অধিক পরিমাণে করুন, কেননা তাঁর স্মরণ মূলত আল্লাহরই স্মরণ। তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি দরুদ পাঠ করুন, তাঁর সৌন্দর্যে বিমোহিত হোন, তাঁর পূর্ণতায় আত্মহারা হোন এবং তাঁর গুণাবলি ও অবস্থা থেকে যা ইচ্ছা অনুসরণ করুন। তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পাঠরত অবস্থায় আপনার সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত করুন এবং তাঁর প্রতি ব্যাকুলতা নিয়ে নিদ্রা যান ও জাগ্রত হোন; হে সত্যনিষ্ঠ অনুরাগী ভাই, যাতে আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যাদের গুণাবলি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা ইমাম মুসলিম আমাদের নেতা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: «আমার উম্মতের মধ্যে আমার প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা পোষণকারী হলো এমন কিছু লোক যারা আমার পরে আসবে; তাদের প্রত্যেকেই এই আকাঙ্ক্ষা করবে যে, যদি সে নিজের পরিবার ও সম্পদের বিনিময়েও আমাকে একবার দেখতে পেত।»
অনেকের কাছেই মনে হতে পারে যে, বর্তমান সময়ে নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অনুসরণ করা একটি দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা মুসলিম দেশগুলোতে বিজাতীয় সংস্কৃতি এমনভাবে আগ্রাসন চালিয়েছে যা বহু সুন্নতের স্থান দখল করে নিয়েছে। মানুষ বিজয়ীদের ভাষা দ্বারা প্রলুব্ধ হয়েছে, তাদের সংস্কৃতির মোহে আচ্ছন্ন হয়েছে, তাদের অভ্যাসের সাথে জড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশংসনীয় সুন্নতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা মহিমান্বিত চরিত্রসমূহকে অবজ্ঞা করেছে, যার ফলে নবীর সুন্নতসমূহ আজ অপরিচিত হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু মানুষ সুন্নতের আমলকারীর ওপর আপত্তি করে, কখনওবা সুন্নত অনুযায়ী জীবন যাপনকারীকে নিয়ে উপহাস করে। অথবা সুন্নত আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির জন্য এটি এমন এক অপবাদে পরিণত হয়েছে যে তাকে চরমপন্থী বলে আখ্যা দেওয়া হয় অথবা বিশেষিত করা হয়...
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بِالتَّأَخُّرِ، كَإِطْلَاقِ اللِّحْيَةِ، وَلَعْقِ الأَصَابِعِ، وَلُبْسِ الإِزَارِ، وَاسْتِعْمَالِ السِّوَاكِ. وَكَثُرَتِ الفِتَنُ، وَتَشَعَّبَتِ الآرَاءُ، وَانْتَشَرَ الضَّلَالُ، وَعَمَّ الفَسَادُ، وَكَادَ يَصِيرُ الصَّوَابُ خَطَأً وَالخَطَأُ صَوَابًا.
وَلَكِنَّ النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام، بِمَا آتَاهُ اللهُ تَعَالَى مِنْ عِلْمٍ بِمَا سَيَكُونُ، وَاطِّلَاعٍ عَلَى مَا سَيَؤُولُ إِلَيْهِ حَالُ المُسْلِمِينَ مِنْ بَعْدِهِ، أَخْبَرَ عَنْ مِثْلِ هَذَا الزَّمَانِ الذي نحنُ فِيه، وَبَيَّنَ ثَوَابَ المُتَمَسِّكِينَ بِالسُّنَةِ فِيهِ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ وَالبَزَّارُ عَنْ سَيِّدِنَا عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه: «إِنَّ مِنْ وَرَاءِكُمْ زَمَانَ صَبْرٍ، لِلْمُتَمَسِّكِ فِيهِ أَجْرُ خَمْسِينَ شَهِيدًا. فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللّاهِ، مِنَّا أَوْ مِنْهُمْ؟ قَالَ: مِنْكُمْ».
مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ وَضَعْتُ هَذَا الكِتَابَ فِي شَمَائِلِ النَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام، وَجَمَعْتُ فِيهِ خَمْسَمِائَةِ حَدِيثٍ نَبَوِيٍّ شَرِيفٍ فِي صِفَةِ خَلْقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَخُلُقِهِ، وَمَا يَتَّصِلُ بِذَلِكَ مِنْ أَحْوَالِهِ مَعَ اللهِ تَعَالَى فِي العِبَادَةِ، وَمَعَ النَّاسِ فِي الدَّعْوَةِ، وَمَعَ النِّسَاءِ وَالرِّجَالِ، وَالكِبَارِ وَالصِّغَارِ، وَالمَرْضَى وَالأَصِحَّاءِ، وَالأَصْحَابِ وَالأَعْدَاءِ، فِي الحَضَرِ وَالسَّفَرِ، وَالحِلِّ وَالتَّرْحَالِ، وَالسِّلْمِ وَالحَرْبِ، وَالبَيْتِ وَالمَسْجِدِ، وَالسُّوقِ وَالطَّرِيقِ.
وَلَمْ أَقْصِدْ فِي هَذَا الكِتَابِ حَصْرَ جَمِيعِ أَحَادِيثِ الشَّمَائِلِ، إِذْ تَبْلُغُ بِلَا مُبَالَغَةٍ نَحْوَ عَشَرَةِ آلَافِ حَدِيثٍ، وَلَكِنِّي أَرَدْتُ بَيَانَ أُمَّهَاتِ الصِّفَاتِ النَّبَوِيَّةِ، وَتَقْدِيمَ
অনগ্রসরতা হিসেবে (বিবেচিত), যেমন দাড়ি রাখা, আঙুল চেটে খাওয়া, লুঙ্গি পরিধান করা এবং মেসওয়াক ব্যবহার করা। ফিতনা বেড়ে গিয়েছে, মতভেদ বহুমুখী হয়েছে, পথভ্রষ্টতা ছড়িয়ে পড়েছে, বিশৃঙ্খলা ব্যাপক রূপ নিয়েছে এবং অবস্থা প্রায় এমন হয়েছে যে সঠিক বিষয়টি ভুল এবং ভুল বিষয়টি সঠিক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
কিন্তু নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক), আল্লাহ তাআলা তাঁকে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে যে জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের অবস্থা কী হতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে যে অবগতি দিয়েছেন, তার মাধ্যমে তিনি আমাদের বর্তমান সময়ের মতো কাল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং এই সময়ে যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে তাদের পুরস্কার বর্ণনা করেছেন। তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) একটি সহীহ হাদীসে বলেছেন, যা তাবারানি ও বাজার আমাদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে ধৈর্যের সময় আসছে, তখন (সুন্নাহকে) আঁকড়ে ধরে থাকা ব্যক্তির জন্য পঞ্চাশজন শহীদের সমান সওয়াব থাকবে। উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্য থেকে নাকি তাদের মধ্য থেকে? তিনি বললেন: বরং তোমাদের মধ্য থেকেই।"
একারণেই আমি নবীর (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) শামায়েল বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এই বইটি রচনা করেছি এবং এতে পাঁচশত শরীফ নববী হাদীস সংগ্রহ করেছি যা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর শারীরিক গঠন ও চরিত্রের বর্ণনা সম্বলিত। সেই সাথে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সাথে তাঁর অবস্থা, দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে তাঁর আচরণ, এবং নারী ও পুরুষ, বড় ও ছোট, অসুস্থ ও সুস্থ, বন্ধু ও শত্রু সবার সাথে তাঁর ব্যবহার; জনপদে অবস্থানকালে ও সফরে, প্রবাসে ও ভ্রমণে, শান্তি ও যুদ্ধে, ঘরে ও মসজিদে এবং বাজারে ও পথে তাঁর বিভিন্ন অবস্থা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখানে একত্রিত করা হয়েছে।
তবে এই বইটিতে আমি শামায়েল সংক্রান্ত সমস্ত হাদীসকে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য রাখিনি, কারণ অতিরঞ্জিত না করে বলা যায় যে সেগুলোর সংখ্যা প্রায় দশ হাজার হাদীস। কিন্তু আমি নববী গুণাবলির মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে এবং পেশ করতে চেয়েছি...
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أَبْرَزِ الأَخْلَاقِ المُحَمَّدِيَّةِ، فَاخْتَرْتُ أَصَحَّ الأَحَادِيثِ فِي كُلِّ بَابٍ، تَيْسِيرًا عَلَى القَارِئِ المُتَعَطِّشِ لِمَعْرِفَةِ دَقَائِقِ الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ الحَمِيدَةِ، وَلَطَائِفِ الخِصَالِ المُحَمَّدِيَّةِ الفَرِيدَةِ. وَقَلِيلٌ يَنْتَفِعُ بِهِ القَارِئُ خَيْرٌ مِنْ كَثِيرٍ يَنْقَطِعُ عَنْ قِرَاءَتِهِ، عَلَى أَنَّ هَذَا القَلِيلَ الَّذِي جَمَعْتُهُ قَدْ لَا يُقَالُ لَهُ قَلِيلٌ. فَإِنَّ كُلَّ قَطْرَةٍ مِنْ بِحَارِ الحَبِيبِ المُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم دُرَّةٌ، وَكُلُّ ذَرَّةٍ مِنْ أَنْوَارِهِ مَجَرَّةٌ.
وَنَظَمْتُ سِلْكَ هَذِهِ الأَحَادِيثِ فِي اثْنَيْ عَشَرَ قِسْمًا تَجْمَعُ مِائَةً وَخَمْسَةً وَسَبْعِينَ بَابًا، فَابْتَدَأْتُ بِالتَّعْرِيفِ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ هُوَ، مُبَيِّنًا اصْطِفَاءَ اللهِ تَعَالَى لَهُ مِنَ الأَزَلِ، وَسَرَدْتُ نَسَبَهُ الشَّرِيفَ وَأَشَرْتُ إِلَى بَعْضِ أَسْمَائِهِ. وَانْتَقَلْتُ إِلَى وَصْفِ الجَسَدِ الشَّرِيفِ، ثُمَّ إِلَى مَظَاهِرِ الزِّينَةِ وَالمَلَابِسِ وَأَحْوَالِهِ فِي القِيَادَةِ وَالدَّعْوَةِ، وَطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ وَكَلَامِهِ وَعِبَادَتِهِ. وَجَمَعْتُ أَخْلَاقَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في قِسْمٍ عُنْوَانُهُ: مَظَاهِرُ الكَمَالِ، وَأَحْوَالَهُ مَعَ النَّاسِ في قِسْمٍ سَمَّيْتُهُ المُعَامَلَاتِ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قِسْمَ الرَّحِيلِ، وَخَتَمْتُ بِقِسْمِ المُبَشِّرَاتِ.
وَقَدِ اقْتَصَرْتُ عَلَى أَهَمِّ المُخَرِّجِينَ لِلْحَدِيثِ، لِكَيْ لَا أُثْقِلَ الكِتابَ بِمَا يَصُدُّ القَارِئَ عَنْ قِرَاءَتِهِ أَوْ يَصْرِفُهُ عَنْ قَصْدِهِ. إِذْ إِنَّ مَلْءَ الحَوَاشِي بِالتَّخْرِيجَاتِ وَدِرَاسَةِ الأَسَانِيدِ بَابٌ آخَرُ مِنَ العِلْمِ، هُوَ بِطَلَبَةِ عُلُومِ الحَدِيثِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ أَوْلَى. وَلَنَا بِالإِمَامِ النَّوَوِيِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى فِي رِيَاضِ الصَّالِحِينَ أُسْوَةٌ. وَالقَارِئُ يُرِيدُ خُلَاصَةَ الحُكْمِ، وَزُبْدَةَ الكَلَامِ، وَهَذَا مَا وَفَّقَنِي اللهُ تَعَالَى إِلَى
মুহাম্মদীয় চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকগুলো; তাই আমি প্রশংসনীয় নববী শামায়েলের সূক্ষ্ম বিবরণ এবং অনন্য মুহাম্মদীয় স্বভাবের মাধুর্য জানার জন্য তৃষ্ণার্থ পাঠকের সুবিধার্থে প্রতিটি অধ্যায়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসগুলো নির্বাচন করেছি। পাঠকের জন্য এমন অল্প কিছু যা দ্বারা সে উপকৃত হয়, তা এমন অনেক কিছু থেকে উত্তম যা পাঠ করা থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে আমি যা সংগ্রহ করেছি তাকে হয়তো 'অল্প' বলা যাবে না। কারণ হাবীব মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমুদ্রের প্রতিটি ফোঁটা এক একটি মুক্তো এবং তাঁর নূরের প্রতিটি কণা এক একটি ছায়াপথ।
আমি এই হাদিসগুলোকে বারোটি অংশে বিন্যস্ত করেছি যা একশত পঁচাত্তরটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় দিয়ে শুরু করেছি যে তিনি কে, যেখানে অনাদিকাল থেকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁর মনোনীত হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছি, তাঁর সম্মানিত বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছি এবং তাঁর কিছু নামের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এরপর আমি তাঁর পবিত্র দেহের বর্ণনায় গিয়েছি, তারপর সাজসজ্জা, পোশাক-পরিচ্ছদ, নেতৃত্ব ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা এবং তাঁর আহার, পানীয়, কথাবার্তা ও ইবাদতের বিবরণে উপনীত হয়েছি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রকে 'পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ' শিরোনামের একটি অংশে এবং মানুষের সাথে তাঁর ব্যবহারের বিষয়গুলোকে 'মুয়ামালাত' নামক অংশে একত্রিত করেছি। অতঃপর তাঁর বিদায়ের অংশটি উল্লেখ করেছি এবং সুসংবাদসমূহের অংশের মাধ্যমে সমাপ্তি টেনেছি।
আমি হাদিসের প্রধান সংকলকদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যাতে কিতাবটিকে এমন ভারাক্রান্ত না করি যা পাঠককে এটি পড়া থেকে বিরত রাখে বা তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে। কেননা টীকাসমূহকে হাদিসের সূত্র বিশ্লেষণ ও সনদ পর্যালোচনার মাধ্যমে পূর্ণ করা ইলমের ভিন্ন একটি শাখা, যা হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্যই অধিক উপযুক্ত। রিয়াদুস সালিহীন কিতাবে ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের জন্য আদর্শ। পাঠক মূলত সিদ্ধান্তের নির্যাস এবং কথার সারবস্তু চায়; আর আল্লাহ তাআলা আমাকে এই তাওফিকই দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تَقْدِيمِهِ. فَإِذَا كَانَ الحَدِيثُ فِي أَحَدِ الصَّحِيحَيْنِ لَمْ أَتَجَاوَزْهُمَا. ثُمَّ إِذَا كَانَ فِي أَحَدِ الكُتُبِ السِّتَّةِ اقْتَصَرْتُ فِي التَّخْرِيجِ عَلَيْهَا غالِبًا إِلَّا لِفَائِدَةٍ فِي لَفْظِ الحَدِيثِ، وَأُشِيرُ إِلَى دَرَجَتِهِ بِاخْتِصَارٍ، وَقَدْ أَنْقُلُ فِي الحَوَاشِي خُلَاصَةَ الحُكْمِ عَلَيْهِ عَنْ بَعْضِ الحُفَّاظِ. وَتَحَرَّيْتُ فِي اخْتِيَارِ الأَحَادِيثِ، فَلَمْ أُدْرِجْ فِي هَذَا الكِتَابِ حَدِيثًا مَوْضُوعًا، وَلَا حَدِيثًا ذَكَرَ فِيهِ الحُفَّاظُ أَنَّهُ شَدِيدُ الضَّعْفِ لَا يَصْلُحُ لِلِاسْتِدْلَالِ.
وَأَدْرَجْتُ فِي بِدَايَاتِ بَعْضِ الأَبْوَابِ مَا يَتَعَلَّقُ بِالمَوْضُوعِ مِنْ آيَاتِ القُرْآنِ الكَرِيمِ، فَإِنَّ كَلَامَ اللهِ تَعَالَى بِلَا شَكٍّ هُوَ أَعْظَمُ مَصْدَرٍ مِنْ مَصَادِرِ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ، وَخَيْرُ دَلِيلٍ إِلَى مَعْرِفَةِ عَظِيمِ قَدْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَشَرَحْتُ الأَلْفَاظَ الغَرِيبَةَ بِأَوْجَزِ عِبَارَةٍ، لِكَيْ لَا يَخْرُجَ الكِتَابُ عَنِ المَقْصُودِ، وَهُوَ نَقْلُ القَارِئِ الكَرِيمِ إِلَى رُوحِ النَّصِّ، لِيَسِيرَ مَعَهُ فِي وَصْفِ الأَحْدَاثِ وَالمَشَاهِدِ، وَيَتَمَثَّلَ الصُّوَرَ وَيَشْهَدَ المَعَالِمَ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَجِدَ أَيَّ عَقَبَةٍ تَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ.
وَعِلْمُ الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ خَاصٌّ بِمَا يَتَعَلَّقُ بِوَصْفِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِسًّا وَمَعْنًى، أَيْ وَصْفِ جَسَدِهِ الشَّرِيفِ، وَوَصْفِ أَخْلَاقِهِ، أَوْ بَيَانِ أَوْجُهِ جَمَالِهِ وَكَمَالِهِ. وَهُوَ بِذَلِكَ عِلْمٌ مُتَمَيِّزٌ عَنْ عُلُومِ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ الأُخْرَى، وَهِيَ مُتَعَدِّدَةٌ، أَهَمُّهَا: المَغَازِي، وَالسِّيرَةُ، وَالمُعْجِزَاتُ، وَالخَصَائِصُ، وَالحُقُوقُ.
وَمِنَ المُصَنَّفَاتِ فِي المَغَازِي كِتَابُ المَغَازِي لِمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ القُرَشِيِّ (-141)،
উপস্থাপনের ক্ষেত্রে। যদি হাদিসটি সহীহাইন-এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি তা অতিক্রম করিনি। অতঃপর যদি তা কুতুবুস সিত্তাহর কোনোটিতে থাকে, তবে আমি সাধারণত সেগুলোর মধ্যেই হাদিসের উৎস নির্দেশ সীমাবদ্ধ রেখেছি; তবে হাদিসের শব্দে কোনো বিশেষ ফায়দা থাকলে ভিন্ন কথা। আমি সংক্ষেপে হাদিসের মান নির্দেশ করি এবং কখনো কখনো পাদটীকায় কোনো কোনো হাফেজ থেকে উক্ত হাদিসের ওপর হুকুমের সারসংক্ষেপ উদ্ধৃত করি। আমি হাদিস নির্বাচনের ক্ষেত্রে গভীর সতর্কতা অবলম্বন করেছি, ফলে এই কিতাবে আমি কোনো জাল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং এমন কোনো হাদিসও আনিনি যার সম্পর্কে হাফেজগণ উল্লেখ করেছেন যে এটি অত্যন্ত দুর্বল এবং তা দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।
আমি কোনো কোনো অধ্যায়ের শুরুতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ সংযোজন করেছি; কেননা মহান আল্লাহর বাণী নিঃসন্দেহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের উৎসসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ উৎস এবং তাঁর সুমহান মর্যাদা অনুধাবনের সর্বোত্তম পথনির্দেশক। আমি অপরিচিত শব্দগুলোকে অত্যন্ত সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেছি, যাতে কিতাবটি মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না হয়; আর তা হলো সম্মানিত পাঠককে মূল পাঠের রূহের সাথে একীভূত করা, যাতে তিনি ঘটনাবলি ও দৃশ্যপটের বর্ণনার সাথে সাথে চলতে পারেন, ছবিগুলো কল্পনা করতে পারেন এবং নিদর্শনগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারেন, আর এর মাঝে তিনি কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হন।
শামায়েলে নববী সংক্রান্ত ইলম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহ্যিক ও আত্মিক গুণাবলির বর্ণনার সাথে সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ তাঁর পবিত্র শরীরের বর্ণনা এবং তাঁর চরিত্রের বর্ণনা, কিংবা তাঁর সৌন্দর্য ও পূর্ণতার দিকগুলোর বর্ণনা। এ কারণে এটি সীরাতুন্নবীর অন্যান্য ইলম থেকে একটি স্বতন্ত্র ইলম। সীরাত সংশ্লিষ্ট ইলম অনেক প্রকারের, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-মাগাজি, আস-সীরাহ, আল-মুজিজাত, আল-খাসায়েস এবং আল-হুকুক।
মাগাজি বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম হলো মুসা ইবনে উকবা আল-কুরাশির (মৃত ১৪১ হি.) কিতাবুল মাগাজি,
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَكِتَابُ المَغَازِي لِمُحَمَدِ بْنِ عُمَرَ الوَاقِدِيِّ (130 - 207).
وَفِي السِّيرَةِ: كِتَابُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ المَدَنِيِّ (85 - 151) وَقَدْ هَذَّبَهُ أبو محمد عَبْدُ المَلِكِ بْنِ هِشَامٍ الحِمْيَرِيُّ (-218).
وَفِي المُعْجِزَاتِ: كِتَابُ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ لِلْحَافِظِ أَبِي نُعَيمٍ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَصْبَهَانِيِّ (336 - 430)، وَكِتَابُ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ لِلْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الحُسَيْنِ البَيْهَقِيِّ (384 - 458).
وَفِي الخَصَائِصِ: كِتَابُ الخَصَائِصِ الكُبْرَى المُسمَّى كِفايةَ الطالب اللبيب في خصائص الحبيب صلى الله عليه وسلم لِلْحَافِظِ جَلَالِ الدِّينِ عَبْدِ الرَّحْمَانِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ السُّيُوطِيِّ (849 - 911).
وَفِي الحُقُوقِ الوَاجِبَةِ لَهُ صلى الله عليه وسلم: كِتَابُ الشِّفَا بِتَعْرِيفِ حُقُوقِ المُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم لِلْقَاضِي أَبِي الفَضْلِ عِيَاضِ بْنِ مُوسَى اليَحْصَبِيِّ (476 - 544).
وَتَفَرَّعَتْ عَنِ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ عُلُومٌ أُخْرَى اشْتَغَلَ العُلَمَاءُ بِهَا، مِنْهَا: الأَسْمَاءُ النَّبَوِيَّةُ، وَالنَّسَبُ النَّبَوِيُّ، وَالمَوْلِدُ النَّبَوِيُّ، وَالوَثَائِقُ النَّبَوِيَّةُ، وَالمَدَائِحُ
النَّبَوِيَّةُ، وَفَضَائِلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَالصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَلَمْ يُوجَدْ شَخْصٌ فِي تَارِيخِ البَشَرِ وُصِفَ لَنَا بِدِقَّةٍ، وَنُقِلَتْ لَنَا أَخْبَارُهُ وَأَحْوَالُهُ بِالتَّفْصِيلِ كَمَا وُصِفَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. وَالكُتُبُ المُتَعَلِّقَةُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أُلِّفَ قَدِيمًا وَحَدِيثًا فِي عُلُومِ الحَدِيثِ الشَّرِيفِ وَالسِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ بِاللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ رُبَّمَا
এবং মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদী (১৩০ - ২০৭)-এর কিতাবুল মাগাযী।
এবং সীরাতের ক্ষেত্রে: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-মাদানী (৮৫ - ১৫১)-এর গ্রন্থ, যা আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম আল-হিমইয়ারি (মৃত্যু ২১৮) পরিমার্জন করেছেন।
এবং মুজিযাসমূহের ক্ষেত্রে: হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি (৩৩৬ - ৪৩০)-এর দালাইলুন নুবুওয়াহ এবং ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকী (৩৮৪ - ৪৫৮)-এর দালাইলুন নুবুওয়াহ।
এবং বৈশিষ্ট্যাবলীর ক্ষেত্রে: হাফেজ জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী (৮৪৯ - ৯১১)-এর আল-খাসায়েসুল কুবরা, যার নাম ‘কিফায়াতুত তালিবিল লাবিব ফি খাসায়েসিল হাবিব’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ওয়াজিব হকসমূহের ক্ষেত্রে: কাজী আবু ফজল আইয়াজ ইবনে মুসা আল-ইয়াহসুবি (৪৭৬ - ৫৪৪)-এর কিতাবুশ শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
নববী সীরাত থেকে আরও অন্যান্য জ্ঞান-শাখা তৈরি হয়েছে যা নিয়ে উলামায়ে কেরাম চর্চা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: নববী নামসমূহ, নববী বংশলতিকা, নববী জন্মবৃত্তান্ত, নববী দলিলপত্র, নববী প্রশংসা
গীতিসমূহ, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজিলতসমূহ এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ।
মানব ইতিহাসে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার বৈশিষ্ট্য আমাদের নিকট এত সূক্ষ্মভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং যার সংবাদ ও অবস্থা আমাদের কাছে এত বিস্তারিতভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে যেমনটা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। হাদিস শাস্ত্র এবং নববী সীরাত বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক কালে আরবি ভাষায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংশ্লিষ্ট যত কিতাব রচিত হয়েছে তা সম্ভবত
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تَزِيدُ عَلَى مِائَةِ أَلْفِ كِتَابٍ، فَكَيْفَ إِذَا جُمِعَتِ المُصَنَّفَاتُ فِي سَائِرِ اللُّغَاتِ.
وَأَشْهَرُ مَنْ صَنَّفَ فِي عِلْمِ الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ الإِمَامُ الحَافِظُ أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ التِّرْمِذِيُّ (209 - 279). وَقَدْ اعْتَنَى العُلَمَاءُ بِرِوَايَةِ كِتَابهِ وَسَمَاعِهِ، فَقُرِئَ وَدُرِسَ، وَمَرَّتْ قُرُونٌ وَلَمْ يَنْدَرِسْ، وَأُلِّفَ عَلَيْهِ كُلُّ شَرْحٍ نَفِيسٍ، وَعُقِدَتْ لَهُ مَجَالِسُ السَّمَاعِ وَالتَّدْرِيسِ. وَقَدْ أَكْرَمَنَا اللهُ تَعَالَى بِإِقْرَائِهِ دِرَايَةً مَعَ الشَّرْحِ خَمْسَ مَرَّاتٍ، وَرِوَايَةً مَعَ الضَّبْطِ نَحْوَ عِشْرِينَ مَرَّةً.
وَقَدْ تَلَمَّسْتُ خِلَالَ تَدْرِيسِهِ حَاجَةَ النَّاسِ إِلَى كِتَابٍ جَدِيدٍ سَهْلٍ لَا يَحْتَاجُ إِلَى أُسْتَاذٍ. فَكِتَابُ الإِمَامِ التِّرْمِذِيِّ كِتَابٌ جَلِيلُ القَدْرِ، لَكِنَّهُ وُضِعَ لِلْعُلَمَاءِ وَالطَّلَبَةِ، وَلَا يَتِمُّ الِانْتِفَاعُ بِهِ إِلَّا إِذَا تَمَّتْ دِرَاسَتُهُ عَلَى الشُّيُوخِ، أَوْ قُرِئَ مَعَ شَرْحٍ. وَمَا كُلُّ قَارِئٍ يَجِدُ الوَقْتَ لِذَلِكَ. وَمِنْ هُنَا نَشَأَتْ فِكْرَةُ وَضْعِ كِتَابٍ جَدِيدٍ، فَإِنَّ أَشَدَّ مَا تَحْتَاجُ إِلَيْهِ الأُمَّةُ فِي هَذَا العَصْرِ هُوَ مَعْرِفَةُ أخْلاقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَشَمَائِلِهِ، فَهِيَ مِفْتَاحُ المَحَبَّةِ وَالشَّوْقِ وَالتَّعْظِيمِ وَالِاقْتِدَاءِ.
وَلَعَلَّ أَوْسَعَ كِتَابٍ أَلَّفَهُ الأَقْدَمُونَ فِي شَمَائِلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا اطَّلَعْتُ عَلَيْهِ هُوَ كِتَابُ الأَنْوَارِ فِي شَمَائِلِ النَّبِيِّ المُخْتَارِ صلى الله عليه وسلم تَأْلِيفُ الإِمَامِ رُكْنِ الدِّينِ مُحْيِي السُّنَّةِ الحُسَيْنِ بْنِ مَسْعُودٍ البَغَوِيِّ الفَرَّاءِ المُتَوَفَّى سَنَةَ 516 هِجْرِيَّةً، فَقَدَ حَوَى 1257 حَدِيثًا. وَقَدْ عَلَّقَ عَلَيْهِ العَلَّامَةُ الوَالِدُ الشَّيْخُ إِبْرَاهِيمُ اليَعْقُوبِيُّ رحمه الله وَخَرَّجَ أَحَادِيثَهُ، وَقَرَأْتُهُ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ خِلَالَ تَصْحِيحِ تَجَارِبِ الطَّبْعِ، وَتُوُفِّيَ
এগুলো এক লক্ষেরও বেশি কিতাব ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অন্যান্য সকল ভাষার সংকলনগুলো একত্র করলে কেমন হবে!
নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামাইল (বৈশিষ্ট্যাবলি) সংক্রান্ত ইলমে যারা কিতাব রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন ইমাম হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা তিরমিজি (২০৯ - ২৭৯ হিজরি)। আলেমগণ তাঁর এই কিতাবের বর্ণনা ও শ্রবণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে এটি পঠিত ও পাঠদানকৃত হয়েছে এবং শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর চর্চা লুপ্ত হয়নি। এর ওপর প্রতিটি মূল্যবান শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রচিত হয়েছে এবং এর জন্য শ্রবণ ও পাঠদানের মজলিসসমূহ আয়োজিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি এটি ব্যাখ্যাসহ তাত্ত্বিক ও অনুধাবনমূলক আলোচনা হিসেবে পাঁচবার এবং নিপুণতার সাথে বর্ণনা ও পাঠ হিসেবে প্রায় বিশবার পড়িয়েছি।
এটি পাঠদানের সময় আমি মানুষের মধ্যে এমন একটি সহজ ও নতুন কিতাবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, যার জন্য কোনো উস্তাদের প্রয়োজন হবে না। ইমাম তিরমিজির কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও তা আলেম ও শিক্ষার্থীদের জন্য সংকলিত হয়েছে। শায়খদের কাছে এটি পাঠ না করা পর্যন্ত অথবা কোনো শরাহসহ না পড়া পর্যন্ত এর থেকে পূর্ণ উপকার লাভ করা সম্ভব হয় না। আর সকল পাঠকের পক্ষে এর জন্য সময় বের করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এখান থেকেই একটি নতুন কিতাব রচনার চিন্তা জাগ্রত হয়। কারণ বর্তমান যুগে উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আখলাক ও শামাইল সম্পর্কে জানা; কারণ এটিই হলো ভালোবাসা, আকুলতা, সম্মান ও অনুসরণের চাবিকাঠি।
আমার জানা মতে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামাইল সম্পর্কে পূর্বসূরিদের রচিত সবচেয়ে বিস্তারিত কিতাব হলো ‘আল-আনোয়ার ফি শামাইলিন নাবিইল মুখতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’। এটি ইমাম রুকনুদ্দিন মুহয়িস সুন্নাহ হুসাইন ইবনে মাসউদ বাগাভি আল-ফাররা (মৃত্যু ৫১৬ হিজরি)-এর রচনা; এতে ১২৫৭টি হাদিস রয়েছে। আমার সম্মানিত পিতা আল্লামা শায়খ ইব্রাহিম আল-ইয়াকুবি (রাহিমাহুল্লাহ) এর ওপর টীকা লিখেছিলেন এবং এর হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ করেছিলেন। ছাপার পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সময় আমি এটি তাঁর কাছে দুবার পড়েছি। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
رَحِمَهُ اللهُ قَبْلَ صُدُورِهِ، فَأَعْدَدْتُ فَهَارِسَهُ وَقَدَّمْتُ لَهُ، وَقَرَأْتُهُ خِلَالَ ذَلِكَ عِدَّةَ مَرَّاتٍ. وَقَدْ نَشَرَتْهُ دَارُ الضِّيَاءِ بِدِمَشْقَ سَنَةَ 1409 وَأَعَادَتْ نَشْرَهُ دَارُ المَكْتَبِيِّ بِدِمَشْقَ أَيْضًا سَنَةَ 1420.
وَصَدَرَتْ مُنْذُ ذَلِكَ الوَقْتِ عِدَّةُ مُصَنَّفَاتٍ فِي السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ وَالشَّمَائِلِ وَالفَضَائِلِ وَالدَّلَائِلِ كَانَتْ حَبِيسَةَ خَزَائِنِ المَخْطُوطَاتِ، مِمَّا أَتَاحَ لِلْمُشْتَغِلِينَ بِهَذِهِ العُلُومِ الِاطِّلَاعَ عَلَى كُنُوزٍ مِنَ المُصَنَّفَاتِ فِي الجَنَابِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ. وَقَدِ اسْتَفَدْنَا مِنْ مُعْظَمِ هَذِهِ المُصَنَّفَاتِ عِنْدَ جَمْعِ هَذَا الكِتَابِ.
وَمِنْ فَضْلِ اللهِ تَعَالَى عَلَيْنَا أَنَّهُ أَكْرَمَنَا حَالَ الصِّبَا وَالشَّبَابِ بِتَحَمُّلِ الحَدِيثِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ عَنِ العُلَمَاءِ الثِّقَاتِ بِطُرُقِ السَّمَاعِ وَالعَرْضِ وَالإِجَازَةِ رِوَايَةً وَدِرَايَةً. وَقَدِ اتَّصَلَتْ أَسَانِيدُنَا بِمَشَاهِيرِ الحُفَّاظِ بِطُرُقٍ مَتِينَةٍ عَالِيَةٍ. فَقَدْ قَرَأْتُ مُعْظَمَ الكُتُبِ السِّتَّةِ وَالمُوَطَّأَ بِرِوَايَةِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى اللَّيْثِيِّ وَرِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ الحَسَنِ الشَّيْبَانِيِّ وَالشَّمَائِلَ لِلتِّرْمِذِيِّ وَغَيْرَهَا مِنْ كُتُبِ السُّنَّةِ المُشَرَّفَةِ عَلَى وَالِدِي عَلَّامِةِ الشَّامِ الشَّيْخِ إِبْرَاهِيمَ اليَعْقُوبِيِّ (1343 - 1406). وَأَجَازَنِي رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى مِرَارًا إِجَازَةً عَامَّةً بِالرِّوَايَةِ، وَإِجَازَةً خَاصَّةً بِالدِّرَايَةِ وَالأَهْلِيَّةِ لِلتَّدْرِيسِ وَالإِفْتَاءِ، وَهِيَ الإِجَازَةُ المُعْتَبَرَةُ الَّتِي عَلَيْهَا المُعَوَّلُ، فَإِنَّ الإِجَازَةَ بِالرِّوَايَةِ لَيْسَتْ شَهَادَةً بِالأَهْلِيَّةِ، وَكَمْ رَأَيْنَا مِنَ المُنْتَسِبِينَ لِلْعِلْمِ فِي هَذَا العَصْرِ مِمَّنْ يَتَفَاخَرُ بِرِوَايَةِ الحَدِيثِ وَنَيْلِ الإِجَازَاتِ، ثُمَّ إِذَا قَرَأَ الحَدِيثَ لَحَنَ فِيهِ.
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, এটি প্রকাশের পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ফলে আমি এর সূচিপত্র তৈরি করি এবং এর ভূমিকা লিখি, আর এই সময়কালে আমি এটি কয়েকবার পাঠ করেছি। এটি ১৪০৯ হিজরিতে দামেস্কের দারুজ জিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৪২০ হিজরিতে দামেস্কেরই দারুল মাকতাবি তা পুনরায় প্রকাশ করেছিল।
তখন থেকে সীরাতুন নবী, শামায়েল, ফাদায়েল এবং দালায়েল বিষয়ে এমন অনেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যা পাণ্ডুলিপি আকারে গ্রন্থাগারগুলোতে অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে এই শাস্ত্রের জ্ঞানান্বেষীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান শান সংশ্লিষ্ট বহু রত্নভাণ্ডার সদৃশ কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা সহজ হয়েছে। আমরা এই কিতাবটি সংকলনের সময় সেসব গ্রন্থের অধিকাংশ থেকে উপকৃত হয়েছি।
আমাদের ওপর মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, তিনি আমাদের শৈশব ও কৈশোরে নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কিরামের কাছ থেকে শ্রবণ, পেশ করা ও অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা ও উপলব্ধির ভিত্তিতে হাদীসে নববী গ্রহণের সৌভাগ্য দান করেছেন। আমাদের সনদসমূহ সুদৃঢ় ও উচ্চধারার মাধ্যমে প্রখ্যাত হাফেজে হাদিসগণের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। আমি কুতুবে সিত্তার অধিকাংশ কিতাব, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাইসীর বর্ণনা ও মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানীর বর্ণনা অনুযায়ী মুয়াত্তা, তিরমিযীর শামায়েল এবং সুন্নাহর অন্যান্য সম্মানিত কিতাবসমূহ আমার পিতা, শামের প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইব্রাহিম আল-ইয়াকুবীর (১৩৪৩ - ১৪০৬ হিজরি) কাছে পাঠ করেছি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি আমাকে বহুবার বর্ণনার সাধারণ অনুমতি এবং উপলব্ধি ও পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছেন। এটিই সেই নির্ভরযোগ্য অনুমতি যার ওপর নির্ভর করা হয়; কেননা কেবল বর্ণনার অনুমতি যোগ্যতার সনদ নয়। বর্তমান যুগে আমরা ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন অনেককেই দেখি যারা হাদীস বর্ণনা করা এবং ইজাজত লাভ করা নিয়ে অহংকার করেন, অথচ যখন তারা হাদিস পাঠ করেন, তখন তাতে ভুল করেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَدْ أَجَازَنِي بِالرِّوَايَةِ سِوَى العَلَّامَةِ الوَالِدِ بِاسْتِجَازَتِهِ رحمه الله لِي جَمْعٌ مِنْ كِبَارِ العُلَمَاءِ، مِنْ أَعْلَاهُمْ رُتْبَةً وَإِسْنَادًا: مُفْتِي المَالِكِيَّةِ فِي الشَّامِ السَّيِّدُ مُحَمَّدٌ المَكَّيُّ الكَتَّانِيُّ (1312 - 1393) وَالعَلَّامَةُ الأَدِيبُ الشَّيْخُ زَيْنُ العَابِدِينَ الحُسَيْنِيُّ التُّوْنُسِيُّ (1305 - 1397) وَالشَّيْخُ مُحَمَّدٌ وَفَا القَصَّابُ (1322 - 1397) وَشَيْخُ قُرَّاءِ حِمْصَ وَأَمِينُ الفَتْوَى فِيهَا العَلَّامَةُ الشَّيْخُ عَبْدُ العَزِيزِ عُيُونُ السُّودِ (1335 - 1399) وَمُفْتِي الحَنَفِيَّةِ العَلَّامَةُ الشَّيْخُ مُحَمَّدٌ أَبُو اليُسْرِ عَابِدِينَ (1307 - 1401) وَالمُسْنِدُ الشَّيْخُ مُحَمَّدٌ صَالِحٌ الخَطِيبُ (1313 - 1401) وَأَمِينُ الفَتْوَى فِي لُبْنَانَ الشَّيْخُ مُخْتَارٌ العَلَايِلِيُّ (1316 - 1404) وَالمُعَمَّرُ الصَّالِحُ الشَّيْخُ عُمَرُ الحِمْصِيُّ (1292 - 1405) وَالعَلَّامَةُ المَشْهُورُ الشَّيْخُ مُحَمَّدٌ صَالِحٌ الفَرْفُورُ (-1406) وَالعَارِفُ الشَّيْخُ عَلِيٌّ البُودِيْلِمِيُّ التِّلِمْسَانِيُّ (-1408).
وَقَدْ بَسَطْتُ بَعْضَ أَسَانِيدِنَا إِلَى أَشْهَرِ الأَثْبَاتِ فِي ذَيْلِ هَذَا الكِتَابِ، لِيَعْرِفَ العُلَمَاءُ وَالطَّلَبَةُ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الرِّوَايَةَ عَنَّا طُرُقَ اتِّصَالِنَا بِالأَئِمَّةِ الأَعْلَامِ الَّذِينَ عَلَيْهِمْ مَدَارُ الإِسْنَادِ وَالرِّوَايَةِ، فَقَدْ أَخْرَجَ الإِمَامُ مُسْلِمٌ فِي مُقَدِّمَةِ الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ المُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ: «الإِسْنَادُ مِنَ الدِّينِ وَلَوْلَا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ». وَيَقُولُ الإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ: «هَذَا الحَدِيثُ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ». وَقَدْ خَتَمَ الإِمَامُ التِّرْمِذِيُّ كِتَابَهُ الشَّمَائِلَ بِهَذَا الحَدِيثِ، كَمَا أَخْرَجَهُ الإِمَامُ مُسْلِمٌ فِي مُقَدِّمَةِ الصَّحِيحِ أَيْضًا.
আমার শ্রদ্ধেয় পিতা আল্লামার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) প্রদত্ত ইজাজতের পাশাপাশি একদল বরেণ্য আলেম আমাকে রেওয়ায়েত বা হাদিস বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন। পদমর্যাদা ও সনদের উচ্চতার দিক থেকে তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন: সিরিয়ার মালিকি মাযহাবের মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-মাক্কি আল-কাত্তানি (১৩১২ - ১৩৯৩), সুসাহিত্যিক আল্লামা শেখ জয়নুল আবিদীন আল-হুসাইনি তিউনিসি (১৩০৫ - ১৩৯৭), শেখ মুহাম্মদ ওয়াফা আল-কাসসাব (১৩২২ - ১৩৯৭), হিমসের শায়খুল কুররা ও আমিনুল ফতোয়া আল্লামা শেখ আব্দুল আজিজ উইউন আস-সুদ (১৩৩৫ - ১৩৯৯), হানাফি মাযহাবের মুফতি আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আবু আল-ইউসর আবিদীন (১৩০৭ - ১৪০১), মুসনিদ শেখ মুহাম্মদ সালিহ আল-খতিব (১৩১৩ - ১৪০১), লেবাননের আমিনুল ফতোয়া শেখ মুখতার আল-আলাইলি (১৩১৬ - ১৪০৪), দীর্ঘজীবী পুণ্যবান ব্যক্তি শেখ উমর আল-হিমসি (১২৯২ - ১৪০৫), সুপ্রসিদ্ধ আল্লামা শেখ মুহাম্মদ সালিহ আল-ফারফুর (মৃত্যু ১৪০৬) এবং আরিফ বিল্লাহ শেখ আলী আল-বুদিলিমী তিলিমসানি (মৃত্যু ১৪০৮)।
আমি এই কিতাবের পরিশিষ্টে আমাদের কিছু সনদ বা বর্ণনাপরম্পরা প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের সাথে বিস্তারিতভাবে সংযুক্ত করেছি, যাতে আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীগণ, যারা আমাদের থেকে রেওয়ায়েত করতে ইচ্ছুক, তারা সেই মহান ইমামদের সাথে আমাদের সংযোগের সূত্রগুলো জানতে পারেন, যাঁদের কেন্দ্র করেই ইসনাদ ও রেওয়ায়েতের ধারা আবর্তিত হয়। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: “ইসনাদ হলো দ্বীনের অংশ; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা মনে চাইত সে তা-ই বলত।” ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন: “নিশ্চয়ই এই হাদিস হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।” ইমাম তিরমিযী তাঁর ‘শামায়েল’ গ্রন্থটি এই হাদিসের মাধ্যমেই সমাপ্ত করেছেন, যেমনটি ইমাম মুসলিমও তাঁর সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَإِذْ أَضَعُ هَذَا الكِتَابَ بَعْدَ أَنْ تَمَّ بَيْنَ أَيْدِي المُحِبِّينَ لِسَيِّدِنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِنِّي أَشْكُرُ اللهَ تَعَالَى عَلَى مَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَيَّ مِنْ إِنْجَازِ هَذَا الكِتَابِ، وَأَشْكُرُ كُلَّ مَنْ سَاعَدَ عَلى تَنْضِيدِهِ وَتَصْحِيحِهِ وَطَبْعِهِ وَنَشْرِه. وأَسْأَلُ اللهَ سبحانه وتعالى أَنْ يَتَكَرَّمَ عَلَيَّ بِقَبُولِه، وَأَنْ يَنْفَعَ بِهِ كُلَّ مَنْ قَرَأَهُ وَنَظَرَ فِيهِ وَدَرَّسَهُ، وَأَنْ يُعِينَنِي وَإِيَّاكَ أَيُّهَا القَارِئُ الكَرِيمُ عَلَى اتِّبَاعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الأَقْوَالِ وَالأَفْعَالِ وَالأَحْوَالِ، وَأَنْ يُنْعِمَ عَلَيْنَا جَمِيعًا بِرُؤْيَتِهِ، وَأَنْ يَسْقِيَنَا جَمِيعًا مِنْ حَوْضِهِ الشَّرِيفِ شَرْبَةً هَنِيئَةً لَا نَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا، وَأَنْ يَرْزُقَنَا شَفَاعَتَهُ وَمُرَافَقَتَهُ عليه الصلاة والسلام فِي الفِرْدَوْسِ الأَعْلَى مِنَ الجَنَّةِ.
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الحَمْدُ لِلّاهِ رَبِّ العَالَمِينَ. وَصَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
وَكُتِبَ فِي الرِّبَاطِ لِأَرْبَعِ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ صَفَرِ الخَيْرِ سَنَةَ 1439
المُؤَلِّفُ
مُحَمَّدٌ أَبُو الهُدَى اليَعْقُوبِيُّ
এবং যখন আমি আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর প্রেমিকদের সম্মুখে এই কিতাবটি সম্পন্ন করার পর উপস্থাপন করছি, তখন আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাকে এই কিতাবটি সম্পন্ন করার যে নেয়ামত দান করেছেন। আর আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা এর বিন্যাস, সংশোধন, মুদ্রণ এবং প্রকাশনায় সহায়তা করেছেন। আমি আল্লাহ (তিনি পবিত্র ও মহান)-এর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি মেহেরবানি করে এটি কবুল করেন এবং যারা এটি পাঠ করবে, এতে দৃষ্টিপাত করবে এবং এটি অধ্যয়ন করবে তাদের সকলকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। হে সম্মানিত পাঠক, তিনি যেন আমাকে এবং আপনাকে কথা, কাজ ও অবস্থার ক্ষেত্রে নবী (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর অনুসরণে সাহায্য করেন এবং তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর দিদার (দর্শন) দ্বারা ধন্য করেন। আর তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর সম্মানিত হাউজ থেকে এমন এক তৃপ্তিদায়ক পানীয় পান করান যার পর আমরা আর কখনোই তৃষ্ণার্ত হব না এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফিরদাউসে আমাদের তাঁর (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুপারিশ এবং সাহচর্য নসিব করেন।
এবং আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর।
এটি ১৪৩৯ হিজরি সনের কল্যাণময় সফর মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রিবাত শহরে লিখিত।
লেখক
মুহাম্মদ আবুল হুদা আল-ইয়াকুবী
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২১)
القِسْمُ الأَوَّلُ: مَنْ هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم -
وفيه ثلاث أبواب
প্রথম বিভাগ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে-
এবং এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(1) بَابُ اصْطِفَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -
قَالَ اللهُ تَعَالَى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّآ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (127) رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (128) رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (129)} [سُورَةُ البَقَرَةِ: 127 - 129].
وَقَالَ عَزَّ مِنْ قَائِلٍ: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَآ آتَيْتُكُم مِّن كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَآءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ قَالَءَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ (81)} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 81].
وَقَالَ عز وجل: {وَإِذَا جَآءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَن نُّؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَآ أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [سُورَةُ الأَنْعَامِ: 124].
وَقَالَ سبحانه وتعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَأَئٌ مِّمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ (27) وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ (28)} [سُورَةُ الزُّخْرُفِ: 26 - 28].
(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনোনয়ন বিষয়ক অধ্যায়-
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল গৃহের (কা’বার) ভিতসমূহ উত্তোলন করছিল (এবং বলছিল), "হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১২৭) হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকে আপনার প্রতি অনুগত এক উম্মত বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (১২৮) হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এমন এক রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১২৯)"} [সূরা আল-বাকারা: ১২৭ - ১২৯]।
এবং মহান সত্তা বলেছেন: {আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, "আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবে, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে।" তিনি বললেন, "তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি গ্রহণ করলে?" তারা বলল, "আমরা স্বীকার করলাম।" তিনি বললেন, "তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম"} [সূরা আলে ইমরান: ৮১]।
এবং মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তখন তারা বলে, "আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছে, আমাদেরও তা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঈমান আনব না।" আল্লাহই সবচাইতে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন} [সূরা আল-আনআম: ১২৪]।
এবং মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেছেন: {আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, "তোমরা যাদের ইবাদত কর, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই; (২৬) তবে তিনি ছাড়া, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতএব নিশ্চয় তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন (২৭)।" আর তিনি একে (তাওহীদের বাণীকে) তার বংশধরদের মধ্যে চিরস্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছেন, যাতে তারা ফিরে আসে (২৮)} [সূরা আয-যুখরুফ: ২৬ - ২৮]।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
1 - عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ، وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ.
2 - عَنِ العَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: «يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ قُرَيْشًا جَلَسُوا فَتَذَاكَرُوا أَحْسَابَهُمْ بَيْنَهُمْ، فَجَعَلُوا مَثَلَكَ مَثَلَ نَخْلَةٍ في كُبْوَةٍ
(1) مِنَ الأَرْضِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ اللهَ خَلَقَ الخَلْقَ فَجَعَلَنِي مِنْ خَيْرِهِمْ، مِنْ
خَيْرِ فِرَقِهِمْ، وخَيْرَ الفَريقَيْنِ، ثُمَّ تَخَيَّرَ القَبائِلَ فجَعَلَني مِنْ خَيْرِ قَبِيلَةٍ،
ثُمَّ تَخَيَّرَ البُيُوتَ فجَعَلَني مِن خَيْرِ بُيُوتِهِمْ، فَأَنَا خَيْرُهُمْ نَفْسًا وخَيْرُهُمْ بَيْتًا».
حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَحْمَدُ وَالبَزَّارُ.
3 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «بُعِثْتُ مِنْ خَيْرِ قُرُونِ بَنِي آدَمَ قَرْنًا فَقَرْنًا، حَتَّى بُعِثْتُ مِنَ القَرْنِ الَّذِي كُنْتُ فِيهِ». أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ.
4 - وَعَنْ قَتَادَةَ بْنِ دِعَامَةَ السَّدُوسِيِّ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ} قَالَ: «التَّوْحِيدُ وَالإِخْلَاصُ، وَلَا يَزَالُ فِي ذُرِّيَّتِهِ مَنْ يُوَحِّدُ اللهَ وَيَعْبُدُهُ»
(2). حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ ابْنُ جَرِيرٍ الطَّبَرِيُّ.
--------------------------------------------
১ - ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
২ - আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: «হে আল্লাহর রাসূল! কুরাইশরা যখন একত্রে বসে নিজেদের বংশমর্যাদা আলোচনা করে, তখন তারা আপনার উদাহরণ পৃথিবীর একটি আবর্জনার স্তূপের
(১) মধ্যে গজিয়ে ওঠা একটি খেজুর গাছের মতো দেয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, দুই দলের মধ্যে সর্বোত্তম দলে রেখেছেন, তারপর তিনি গোত্রসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম গোত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তারপর তিনি পরিবারসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি সত্তাগতভাবে এবং পরিবারগতভাবে তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।»
এটি একটি সহীহ হাদীস, তিরমিযী, আহমাদ এবং বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন।
৩ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আদম সন্তানের সর্বোত্তম প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে প্রেরিত হয়েছি, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি সেই প্রজন্মে প্রেরিত হয়েছি যে প্রজন্মে আমি রয়েছি।» এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
৪ - কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসী থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি একে তাঁর সন্তানদের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছেন} এর তাফসীরে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এটি হলো তাওহীদ ও ইখলাস; তাঁর বংশধরদের মধ্যে সর্বদা এমন লোক থাকবে যারা আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবে এবং তাঁর ইবাদত করবে»
(২)। এটি একটি সহীহ বর্ণনা, ইবনে জারীর আত-তাবারী এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ قَصْرٍ أُحْسِنَ بُنْيَانُهُ، تُرِكَ مِنْهُ مَوْضِعُ لَبِنَةٍ، فَطَافَ بِهِ النُّظَّارُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْ حُسْنِ بُنْيَانِهِ إِلَّا مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ، لَا يَعِيبُونَ سِوَاهَا. فَكُنْتُ أَنَا سَدَدْتُ مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ، خُتِمَ بِيَ البُنْيَانُ، وَخُتِمَ بيَ الرُّسُلُ». أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
6 - عَنِ العِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنِّي عِنْدَ اللهِ مَكْتُوبٌ خَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ، وَسَأُحَدِّثُكُمْ بِأَوَّلِ أَمْرِي: دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ، وَبِشَارَةُ عِيسَى، وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِي، وَقَدْ خَرَجَ لَها نُورٌ أَضَاءَتْ لَها مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ». حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ وَابْنُ حِبَّانَ والحَاكِمُ
(1).
7 - عَنْ مَيْسَرَةَ الفَجْرِ
(2) رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: «يَا رَسُولَ اللهِ، مَتَى كُتِبْتَ نَبِيًّا؟
قَالَ: وآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالجَسَدِ». حديث صحيح أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ والحَاكِمُ
(3).
(2) بَابُ نَسَبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -
8 - رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ سَيِّدُنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ
فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكةَ بْنِ إِلْيَاسَ بْنِ
--------------------------------------------
৫ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার এবং নবীদের উপমা হলো এমন একটি প্রাসাদের ন্যায় যার নির্মাণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে করা হয়েছে, কেবল একটি ইটের জায়গা খালি রাখা হয়েছে। অত:পর দর্শনার্থীরা তার চারপাশ ঘুরে দেখে এবং এর নির্মাণশৈলীর সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়, কেবল সেই ইটের জায়গাটি ছাড়া। তারা এটি ছাড়া আর কোনো খুঁত পায় না। সুতরাং আমিই সেই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করেছি, আমার মাধ্যমে অট্টালিকাটি সমাপ্ত হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই রাসূলগণের সilsিলা সমাপ্ত হয়েছে»। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
৬ - ইরবায ইবন সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম তাঁর মাটির সাথে মিশে ছিলেন। অচিরেই আমি তোমাদেরকে আমার সূচনালগ্ন সম্পর্কে সংবাদ দিব: (তা হলো) ইবরাহীমের দুআ, ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মাতার স্বপ্ন যা তিনি আমাকে প্রসব করার সময় দেখেছিলেন; তাঁর থেকে এমন একটি নূর নির্গত হয়েছিল যার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ তাঁর জন্য আলোকিত হয়ে গিয়েছিল»। এটি ইমাম আহমাদ, ইবন হিব্বান এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহীহ হাদীস
(১)।
৭ - মাইসারাহ আল-ফাজর
(২) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: «হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছেন?
তিনি বললেন: যখন আদম রূহ এবং শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন»। এটি ইমাম আহমাদ, তাবারানী এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহীহ হাদীস
(৩)।
(২) অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশপরিচয় -
৮ - আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কাব ইবন লুয়াই ইবন গালিব ইবন
ফিহর ইবন মালিক ইবনুন নাযর ইবন কিনানাহ ইবন খুজাইমাহ ইবন মুদরিকাহ ইবন ইলিয়াস ইবন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ. وَهَذَا نَسَبٌ مُتَوَاتِرٌ عِنْدَ أَهْلِ التَّارِيخِ وَالنَّسَبِ، لَا اخْتِلَافَ فِيهِ، وذَكَرَهُ البُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ.
9 - عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «خَرَجْتُ مِنْ نِكَاحٍ وَلَمْ أَخْرُجْ مِنْ سِفَاحٍ، مِنْ لَدُنْ آدَمَ إِلَى أَنْ وَلَدَني أَبِي وَأُمِّي». حَدِيثٌ حَسَنٌ
أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي المُعْجَمِ الأَوْسَطِ.
10 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ أَبَا سُفْيانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ: «أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وكانُوا تُجَّارًا بِالشَّامِ، فِي المُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ. فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيْلِيَاءَ، فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ: أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا. فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّي، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ. ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُمْ: إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ. فَوَاللّاهِ لَوْلَا الحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثُرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ. ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ: كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ
(1)». وَذَكَرَ بقيةَ الحَدِيثَ. أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
--------------------------------------------
মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। ইতিহাস ও বংশবিদ্যার পণ্ডিতদের নিকট এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ বংশপরম্পরা, যাতে কোনো মতভেদ নেই। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
৯ - আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি বৈধ বিবাহ থেকে জন্ম নিয়েছি এবং ব্যভিচার থেকে জন্ম নিইনি; আদম থেকে শুরু করে আমার পিতা-মাতা আমাকে জন্ম দেওয়া পর্যন্ত (এই পবিত্র ধারা বজায় ছিল)।" এটি একটি হাসান হাদিস। তাবারানী এটি আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
অতঃপর এটি তাবারানী আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে বের করেছেন।
১০ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: "হিরাক্লিয়াস একদল কুরাইশ কাফেলার সাথে থাকাকালীন তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা তখন সিরিয়ায় ব্যবসায়ী হিসেবে অবস্থান করছিলেন—এটি ছিল সেই সময়ের ঘটনা যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফেরদের সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সন্ধি চুক্তিতে ছিলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর কাছে আসলেন যখন তাঁরা ইলিয়া (জেরুজালেম) অবস্থান করছিলেন। তিনি (হিরাক্লিয়াস) তাঁদেরকে তাঁর দরবারে ডাকলেন এবং তাঁর চারপাশে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং তাঁর দোভাষীকে ডেকে বললেন: 'এই যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করছে, তোমাদের মধ্যে বংশের দিক থেকে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী কে?' আবু সুফিয়ান বলেন: আমি বললাম, 'আমিই বংশের দিক থেকে তাঁদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী।' তখন তিনি বললেন: 'তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এসো এবং তাঁর সঙ্গীদেরকেও কাছে আনো এবং তাঁদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করাও।' এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন: 'তাঁদেরকে বলো যে, আমি এই ব্যক্তিটিকে ওই লোকটির (নবী) সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করব; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে ধরিয়ে দেবে।' (আবু সুফিয়ান বলেন) আল্লাহর শপথ! যদি এই লোকগুলো আমার নামে মিথ্যার অপবাদ দেবে—এই লজ্জা না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। এরপর তিনি আমাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলেন তা হলো: 'তোমাদের মাঝে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?' আমি বললাম: 'আমাদের মাঝে তিনি সুউচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী।
(১)'" এবং তিনি হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করেছেন। বুখারী ও মুসলিম এটি সংকলন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كُلُّ سَبَبٍ وَنَسَبٍ مُنْقَطِعٌ يَوْمَ القِيَامَةِ غَيْرَ سَبَبِي وَنَسَبِي». حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ
(1).
(3) بَابُ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -
قَالَ اللهُ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَاءِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [سُورَةُ الصَّفِّ: 6]. وقال عز وجل: {قَدْ جَآءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ} [سُورَةُ المَائِدَةِ: 15]. وَقَالَ سبحانه وتعالى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا (46)} [سُورَةُ الأَحْزَابِ: 45 - 46]. وَقَالَ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ (2)} [سُورَةُ مُحَمَّدٍ: 2]. وَقَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ (1)} [سُورَةُ المُزَّمِّلِ: 1]. وَقَالَ جل جلاله: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (1)} [سُورَةُ المُدَّثِّرِ: 1] وقال: عَزَّ مِنْ قَائلٍ: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ (21)} [سُورَةُ الغَاشِيَةِ: 21].
12 - عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِي أَسْمَاءً: أَنَا مُحَمَّدٌ،
--------------------------------------------
১১ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কেয়ামতের দিন আমার মাধ্যম ও বংশীয় সম্পর্ক ব্যতীত সকল মাধ্যম ও বংশীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।» এটি একটি সহীহ হাদীস, যা তাবারানি বর্ণনা করেছেন
(১).
(৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামসমূহের অধ্যায় -
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন মারইয়াম তনয় ঈসা বলল, ‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী আর আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা’} [সূরা আস-সাফ: ৬]। এবং তিনি আরও বলেন: {অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে} [সূরা আল-মায়িদাহ: ১৫]। এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে (৪৫) আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে (৪৬)} [সূরা আল-আহযাব: ৪৫ - ৪৬]। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করেছে—আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য—তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন (২)} [সূরা মুহাম্মাদ: ২]। এবং তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত, তিনি বলেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত! (১)} [সূরা আল-মুযযাম্মিল: ১]। এবং তাঁর মহিমা মহান, তিনি বলেছেন: {হে চাদরাবৃত! (১)} [সূরা আল-মুদ্দাসসির: ১] এবং সর্বশক্তিমান বক্তা হিসেবে তিনি বলেছেন: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা (২১)} [সূরা আল-গাশিয়াহ: ২১]।
১২ - জুবাইর ইবনে মুতয়িম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার বেশ কিছু নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মাদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَأَنَا أَحْمَدُ، وَأَنَا المَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللهُ بِيَ الكُفْرَ، وَأَنَا الحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي، وَأَنَا العَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ». أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
13 - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ اليَمَانِ رضي الله عنهما قَالَ: لَقِيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ طُرُقِ المَدِينَةِ فَقَالَ: «أَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَنَا أَحْمَدُ، وَأَنَا نَبِيُّ الرَّحْمَةِ، وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ، وَأَنَا المُقَفَّى، وَأَنَا الحَاشِرُ، وَنَبِيُّ المَلاحِمِ». حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ والتِّرْمِذِيُّ في الشَّمَائِلِ.
14 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ رضي الله عنهما: «أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} قَالَ: فِي التَّوْرَاةِ: يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا
أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّينَ. أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي، سَمَّيْتُكَ المُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الأَسْوَاقِ، وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَةَ بالسَّيِّئَةِ، ولَاكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ. وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللهُ حَتَّى يُقِيمَ بِهِ المِلَّةَ
العَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا: لَا إِلَاهَ إِلَّا اللهُ، فَيَفْتَحُ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا، وَآذَانًا صُمًّا، وَقُلُوبًا غُلْفًا». أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ.
আর আমি আহমদ, এবং আমিই মাহী (নিশ্চিহ্নকারী) যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন, আর আমিই হাশির (একত্রকারী) যাঁর পায়ের ওপর মানুষকে একত্রিত করা হবে, আর আমিই আকিব (সর্বশেষ) যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
১৩ - হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদীনার কোনো এক পথে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি বললেন: "আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি দয়ার নবী, আমি তাওবার নবী, আমি মুকাফ্ফা (সবার শেষে আগমনকারী), আমি হাশির এবং আমি যুদ্ধের নবী।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যা আহমদ এবং তিরমিযী শামাইল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
১৪ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই এই আয়াত—{হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি}—তিনি (তাওরাত সম্পর্কে) বললেন: তাওরাতে (রয়েছে): হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা এবং উম্মীদের জন্য আশ্রয়স্বরূপ পাঠিয়েছি। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী); তিনি রুক্ষ স্বভাবের নন, কঠোর নন, বাজারে শোরগোলকারী নন এবং মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দেবেন না যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে (জাতিকে) সোজা করেন এভাবে যে, তারা বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; অতঃপর এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখগুলো, বধির কানগুলো এবং আবৃত অন্তরসমূহ খুলে দেবেন।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القِسْمُ الثَّانِي: الجَسَدُ الشَّرِيفُ
দ্বিতীয় বিভাগ: সম্মানিত শরীর
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(4) بَابُ صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -
15 - عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنهما قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا مَرْبُوعًا، بَعِيدَ مَا بَيْنَ المَنْكِبَيْنِ، عَظِيمَ الجُمَّةِ
(1) إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ، عَلَيْهِ حُلَّةٌ
(2) حَمْرَاءُ، مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ». أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
16 - عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام قَالَ: «لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالقَصِيرِ، شَثْنُ
(3) الكَفَّيْنِ وَالقَدَمَيْنِ، ضَخْمُ الرَّأْسِ، ضَخْمُ الكَرَادِيسِ
(4)، طَوِيلُ المَسْرُبَةِ
(5)، إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ
(6) تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ
(7)، لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صلى الله عليه وسلم». حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَحْمَدُ وَابْنُ حِبَّانَ.
17 - عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ مِنْ وَلَدِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ إِذَا وَصَفَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالطَّوِيلِ
--------------------------------------------
(৪) পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক বৈশিষ্ট্য-
১৫ - বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাঝারি গড়নের মানুষ, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তাঁর মাথার প্রচুর চুল ছিল যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যেত। তাঁর পরনে ছিল লাল রঙের এক জোড়া পোশাক (হুল্লাহ)। আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কিছু কখনো দেখিনি»। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
১৬ - আলী ইবনে আবু তালিব আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দীর্ঘ ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। তাঁর দুই হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল পুরু (মাংসল), মাথা ছিল বড়, হাড়ের সন্ধিস্থলগুলো ছিল স্থূল, বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের দীর্ঘ রেখা ছিল। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন, যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন। তাঁর পূর্বে বা পরে আমি তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)»। এটি একটি সহীহ হাদীস, যা তিরমিযী, আহমাদ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।
১৭ - আলী ইবনে আবু তালিব আলাইহিস সালামের বংশধর ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দীর্ঘকায় ছিলেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المُمَّغِطِ
(1) وَلَا بِالقَصِيرِ المُتَرَدِّدِ
(2)، وَكَانَ رَبْعَةً مِنَ القَوْمِ، لَمْ يَكُنْ بِالجَعْدِ القَطَطِ
(3) وَلَا بِالسَّبْطِ، كَانَ جَعْدًا رَجِلًا. وَلَمْ يَكُنْ بِالمُطَهَّمِ
(4) وَلَا بِالمُكَلْثَمِ
(5)، وَكَانَ فِي وَجْهِهِ تَدْوِيرٌ. أَبْيَضُ مُشْرَبٌ
(6)، أَدْعَجُ
(7) العَيْنَيْنِ، أَهْدَبُ
(8) الأَشْفَارِ
(9)، جَلِيلُ المُشَاشِ
(10) وَالكَتِدِ
(11)، أَجْرَدُ ذُو مَسْرُبَةٍ
(12)، شَثْنُ
(13) الكَفَّيْنِ وَالقَدَمَيْنِ.
إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ فِي صَبَبٍ
(14)، وَإِذَا التَفَتَ التَفَتَ مَعًا. بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ، وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ. أَجْوَدُ النَّاسِ صَدْرًا، وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً، وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً، وَأَكْرَمُهُمْ عِشْرَةً، مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً هَابَهُ، وَمَنْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً
--------------------------------------------
অত্যধিক লম্বা
(১) ছিলেন না এবং অতিরিক্ত খর্বাকৃতিও
(২) ছিলেন না, বরং তিনি লোকদের মধ্যে মধ্যম উচ্চতার ছিলেন। তাঁর চুল অতিরিক্ত কোঁকড়ানো
(৩) ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না; বরং তা ছিল ঢেউখেলানো। তিনি অত্যধিক স্থূলকায়
(৪) ছিলেন না এবং মুখমণ্ডল পুরোপুরি গোল
(৫) ছিল না, তবে তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলাকার ভাব ছিল। তাঁর গায়ের রং ছিল লালিমা মিশ্রিত সাদা
(৬)। চোখের মণি ছিল ঘন কালো
(৭), চোখের পাতা ছিল দীর্ঘ
(৮)(৯)। কাঁধের সন্ধিস্থলের হাড়
(১০) এবং দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ
(১১) ছিল সুগঠিত ও বড়। শরীরে পশম কম ছিল, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা
(১২) ছিল। তাঁর হাত ও পায়ের পাতা ছিল পুরু ও মাংসল
(১৩)।
যখন তিনি হাঁটতেন, তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন
(১৪)। যখন তিনি কারো দিকে মনোনিবেশ করতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে তাকাতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর ছিল এবং তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, সর্বাধিক সত্যবাদী, সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং সাহচর্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে প্রভাবিত বা ভীত হতো, আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর সাথে মেলামেশা করত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَحَبَّهُ، يَقُولُ نَاعِتُهُ: لَمْ أَرَ قَبْلَهُ، وَلا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صلى الله عليه وسلم».
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ
(1).
18 - عَنِ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عليهما السلام قَالَ: سَأَلْتُ خَالِي هِنْدَ بْنَ أَبِي هَالَةَ - وَكَانَ وَصَّافًا - عَنْ حِلْيَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَشْتَهِي أَنْ يَصِفَ لِي مِنْهَا شَيْئًا أَتَعَلَّقُ بِهِ، فَقَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَخْمًا مُفَخَّمًا، يَتَلَأْلَأُ وَجْهُهُ تَلَأْلُؤَ القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ، أَطْوَلُ مِنَ المَرْبُوعِ، وَأَقْصَرُ مِنَ المُشَذَّبِ
(2)، عَظِيمُ الهَامَةِ
(3)، رَجِلُ الشَّعْرِ
(4)، إِنِ انْفَرَقَتْ عَقِيقَتُهُ
(5) فَرَقَهَا، وَإِلَّا فَلَا يُجَاوِزُ شَعَرُهُ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ إِذَا هُوَ وَفَّرَهُ. أَزْهَرُ اللَّوْنِ، وَاسِعُ الجَبِينِ، أَزَجُّ
(6) الحَوَاجِبِ، سَوَابِغَ
(7) فِي غَيْرِ قَرَنٍ، بَيْنَهُمَا عِرْقٌ يُدِرُّهُ
(8) الغَضَبُ، أَقْنَى العِرْنِيْنِ
(9)، لَهُ نُورٌ يَعْلُوهُ يَحْسَبُهُ مَنْ لَمْ
--------------------------------------------
তাকে ভালোবেসে ফেলতেন। তাঁর গুণ বর্ণনাকারী বলতেন: আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন
(১)।
১৮ - হাসান ইবনে আলী (আলাইহিমাস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবি হালাহকে—যিনি একজন দক্ষ বর্ণনাকারী ছিলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল যে তিনি আমার কাছে তাঁর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবেন যা আমি হৃদয়ে গেঁথে নিতে পারি। অতঃপর তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সত্তায় মহিমান্বিত ও অন্যের দৃষ্টিতে মর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতায় জ্বলজ্বল করত। তিনি মাঝারি গড়নের মানুষের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন এবং অতিশয় দীর্ঘাকার
(২) ছিলেন না। তাঁর মাথা ছিল বড়
(৩)। তাঁর চুল ছিল সামান্য ঢেউখেলানো
(৪)। যদি তাঁর মাথার চুল
(৫) নিজে থেকে সিঁথি হয়ে দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত, তবে তিনি তা সেভাবেই রাখতেন, অন্যথায় যখন তিনি চুল পূর্ণ রাখতেন তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল শুভ্র। কপাল ছিল প্রশস্ত। ভ্রুদ্বয় ছিল সরু ও দীর্ঘ
(৬), যা ছিল ঘন ও পূর্ণাঙ্গ
(৭) কিন্তু মাঝখানে জোড়া লাগানো ছিল না। ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুলে উঠত
(৮)। তাঁর নাক ছিল খাড়া ও দীর্ঘ
(৯)। তাঁর চেহারায় এক বিশেষ নূর বা জ্যোতি উপচে পড়ত, যে ব্যক্তি তাঁকে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখত না সে মনে করত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يَتَأَمَّلْهُ أَشَمَّ
(1).، كَثُّ اللِّحْيَةِ، سَهْلُ الخَدَّيْنِ، ضَلِيعُ
(2) الفَمِ، مُفَلَّجُ
(3) الأَسْنَانِ، دَقِيقُ المَسْرُبَةِ. كَأَنَّ عُنُقَهُ جِيدُ دُمْيَةٍ، فِي صَفَاءِ الفِضَّةِ، مُعْتَدِلُ الخَلْقِ، بَادِنٌ مُتَمَاسِكٌ.
سَوَاءُ البَطْنِ وَالصَّدْرِ، عَرِيضُ الصَّدْرِ، بَعِيْدُ مَا بَيْنَ المَنْكِبَيْنِ، ضَخْمُ الكَرَادِيسِ، أَنْوَرُ المُتَجَرَّدِ، مَوْصُولُ مَا بَيْنَ اللَّبَّةِ وَالسُّرَّةِ بِشَعَرٍ يَجْرِي كَالخَطِّ، عَارِي الثَّدْيَيْنِ وَالبَطْنِ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ، أَشْعَرُ الذِّرَاعَيْنِ وَالمَنْكِبَيْنِ وَأَعَالِي الصَّدْرِ، طَوِيلُ الزَّنْدَيْنِ، رَحْبُ الرَّاحَةِ، شَثْنُ الكَفَّيْنِ وَالقَدَمَيْنِ، سَائِلُ
(4) الأَطْرَافِ - أَوْ قَالَ: شَائِلُ
(5) الأَطْرَافِ - خَمْصَانُ
(6) الأَخْمَصَيْنِ، مَسِيحُ القَدَمَيْنِ، يَنْبُو عَنْهُمَا المَاءُ. إِذَا زَالَ زَالَ قَلْعًا، يَخْطُو تَكَفِّيًا، وَيَمْشِي هَوْنًا، ذَرِيعُ المِشْيَةِ، إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ، وَإِذَا التَفَتَ التَفَتَ جَمِيعًا. خَافِضُ الطَّرْفِ، نَظَرُهُ إِلَى الأَرْضِ أَطْوَلُ مِنْ نَظَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ، جُلُّ نَظَرِهِ المُلاحَظَةُ، يَسُوقُ
(7) أَصْحَابَهُ، وَيَبْدَأُ مَنْ لَقِيَ بِالسَّلامِ». أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ.
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি তাঁকে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করবে সে তাঁকে উন্নত নাসিকাবিশিষ্ট দেখতে পাবে
(১)। তিনি ঘন দাড়িবিশিষ্ট, মসৃণ গালবিশিষ্ট, প্রশস্ত মুখগহ্বরবিশিষ্ট
(২) এবং তাঁর দাঁতসমূহ ছিল বিসংযুক্ত (ফাঁকা)
(৩)। তাঁর বুকের পশম ছিল সরু ও দীর্ঘ। তাঁর ঘাড় ছিল রূপার শুভ্রতা মাখানো মূর্তির গ্রীবার মতো সুন্দর। তাঁর গঠন ছিল সুঠাম এবং শরীর ছিল মাংসল ও সুসংহত।
তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান এবং বুক ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বিস্তৃত। হাড়ের জোড়া বা গ্রন্থিসমূহ ছিল বড়। শরীরের অনাবৃত অংশ ছিল উজ্জ্বল। তাঁর কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা প্রলম্বিত ছিল। বুক ও পেটের অবশিষ্টাংশ ছিল পশমহীন। তবে দুই বাহু, দুই কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগ ছিল পশমযুক্ত। তাঁর কবজি ছিল দীর্ঘ, হাতের তালু ছিল প্রশস্ত এবং হাত ও পা ছিল পুষ্ট ও মজবুত। তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ছিল দীর্ঘ ও সুবিন্যস্ত
(৪) - অথবা তিনি বলেছেন: উঁচু ও দীর্ঘ
(৫)। তাঁর পায়ের তালুর মধ্যভাগ ছিল অধিক বাঁকানো (মাটি থেকে বিযুক্ত)
(৬)। তাঁর পা দুটি ছিল অতি মসৃণ, যার ওপর পানি পড়লে তা গড়িয়ে পড়ে যেত। তিনি যখন চলতে শুরু করতেন, তখন কদম শক্তভাবে ফেলতেন। তিনি সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে এবং ধীরস্থিরভাবে বিনয়ের সাথে হাঁটতেন। তাঁর হাঁটা ছিল দ্রুতগতির। তিনি যখন হাঁটতেন মনে হতো যেন কোনো উঁচু স্থান থেকে ঢালুর দিকে নেমে আসছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে তাকাতেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল অবনত। আকাশের চেয়ে জমিনের দিকেই তিনি দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকতেন। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সঙ্গীদের আগে পাঠিয়ে নিজে পেছনে হাঁটতেন
(৭) এবং যার সাথে দেখা হতো তাকে আগে সালাম দিতেন। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামাইলুল হাবীবিল মুসতফা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
19 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَبْيَضَ كَأَنَّمَا صِيغَ مِنْ
فِضَّةٍ، رَجِلَ الشَّعَرِ». حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ
(1).
20 - عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ الكِنَانِيِّ رضي الله عنه قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَا بَقِيَ عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ أَحَدٌ رَأَىهُ غَيْرِي. قُلْتُ: صِفْهُ لِي، قَالَ: كَانَ أَبْيَضَ مَلِيحًا مُقَصَّدًا». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ.
21 - عَنْ حُبَيْشِ بْنِ خَالِدٍ رضي الله عنه صَاحِبِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَخَرَجَ مِنْهَا مُهَاجِرًا إِلَى المَدِينَةِ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، وَمَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ، وَدَلِيلُهُمَا اللَّيْثِيُّ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُرَيْقِطٍ مَرُّوا عَلَى خَيْمَتَيْ أُمِّ مَعْبَدٍ الخُزَاعِيَّةِ [رضي الله عنها]، وَكَانَتِ امْرَأَةً بَرْزَةً جَلْدَةً، تَحْتَبِي بِفِنَاءِ القُبَّةِ ثُمَّ تَسْقِي وَتُطْعِمُ. فَسَأَلُوهَا لَحْمًا وَتَمْرًا لِيَشْتَرُوهُ مِنْهَا، فَلَمْ يُصِيبُوا عِنْدَهَا
شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ، وَكَانَ القَوْمُ مُرْمِلِينَ
(2) مُسْنِتِينَ
(3). فَنَظَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى
شَاةٍ فِي كِسْرِ
(4) الخَيْمَةِ فَقَالَ: مَا هَذِهِ الشَّاةُ يَا أُمَّ مَعْبَدٍ؟ قَالَتْ: شَاةٌ خَلَّفَهَا الجَهْدُ عَنِ الغَنَمِ، قَالَ: فَهَلْ بِهَا مِنْ لَبَنٍ؟ قَالَتْ: هِيَ أَجْهَدُ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: أَتَأْذَنِينَ أَنْ أَحْلُبَهَا؟ قَالَتْ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، إِنْ رَأَيْتَ بِهَا حَلَبًا فَاحْلُبْهَا. فَدَعَا
--------------------------------------------
১৯ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন এমন ধবধবে ফর্সা যেন তাঁকে রূপা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে, তাঁর চুল ছিল ঈষৎ ঢেউখেলানো।» এটি একটি সহীহ হাদীস, তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
২০ - আবু তুফায়েল আমির বিন ওয়াসিলা আল-কিনানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি এবং ভূপৃষ্ঠে এখন আমি ব্যতীত এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যিনি তাঁকে দেখেছেন। আমি বললাম: আমার কাছে তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন শ্বেতশুভ্র, অত্যন্ত সুন্দর এবং সুঠাম দেহের অধিকারী।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
২১ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী হুবাইশ বিন খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা থেকে বের হলেন এবং হিজরতকারী হিসেবে মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন—তিনি এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা এবং তাঁদের পথপ্রদর্শক লাইসি গোত্রের আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত—তখন তাঁরা উম্মে মাবাদ আল-খুজায়িয়্যাহ [রাদিয়াল্লাহু আনহা]-এর দুটি তাঁবুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও কর্মঠ নারী, যিনি তাঁবুর আঙিনায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকতেন এবং লোকজনকে পানাহার করাতেন। তাঁরা তাঁর কাছে মাংস ও খেজুর কিনতে চাইলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর কাছে এর কিছুই পেলেন না। সেই সময় কাফেলার লোকজনের পাথেয় ফুরিয়ে গিয়েছিল
(২) এবং তাঁরা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিলেন
(৩)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁবুর এক কোণে
(৪) একটি বকরি দেখতে পেয়ে বললেন: হে উম্মে মাবাদ, এই বকরিটি কীসের? তিনি বললেন: এটি দুর্বলতার কারণে পালের সাথে যেতে পারেনি। তিনি বললেন: এতে কি দুধ আছে? তিনি বললেন: এটি তার চেয়েও বেশি জরাজীর্ণ। তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যে আমি এটি দোহন করি? তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, যদি আপনি এতে দুধের সামান্য চিহ্নও দেখতে পান তবে দোহন করুন। অতঃপর তিনি ডাকলেন...»
--------------------------------------------