(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
التحقيق والبيان في شرح البرهان في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: التحقيق والبيان في شرح البرهان في أصول الفقه
المؤلف: علي بن إسماعيل الأبياري (ت 616 هـ)
تنبيه: ورد على الغلاف عام الوفاة 618 هـ لكن المحقق رجح في المقدمة أن الوفاة عام 616 هـ
دراسة وتحقيق: د. علي بن عبد الرحمن بسام الجزائري، أستاذ بالمعهد الوطني العالي لأصول الدين - الجزائر
أصل التحقيق: رسالة دكتوراة
الناشر: دار الضياء - الكويت (طبعة خاصة بوزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية - دولة قطر)
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الأجزاء: 4
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1438
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-বুরহান'-এর ব্যাখ্যায় 'আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান' বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)
বই: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-বুরহান'-এর ব্যাখ্যায় 'আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান'
লেখক: আলী বিন ইসমাইল আল-আবিয়ারি (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি)
সতর্কবার্তা: প্রচ্ছদে মৃত্যুর সাল ৬১৮ হিজরি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সম্পাদক ভূমিকার মধ্যে ৬১৬ হিজরি সালকে প্রাধান্য দিয়েছেন
অধ্যয়ন ও সম্পাদনা: ড. আলী বিন আব্দুর রহমান বাসসাম আল-জাযাইরি, অধ্যাপক, ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট ফর উসুল আদ-দীন - আলজেরিয়া
সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস
প্রকাশক: দার আদ-দিয়া - কুয়েত (ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় - কাতার রাষ্ট্রের বিশেষ সংস্করণ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টার)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
[و] صلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم
الحمد لله ذي الجلال والإكرام، والآلاء العظام، والإفضال والإنعام، والعفو والانتقام. خالق الأعراض والأجرام، ومخترع الأشباح والأجسام. الموجود الذي لا أول لوجوده، إذ لو كان محدثا، لافتقر إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[এবং] আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, সুমহান অনুগ্রহসমূহের দাতা, পরম কৃপা ও নেয়ামত দানকারী এবং ক্ষমা ও শাস্তিদাতা। তিনি গুণাবলি ও বস্তুনিচয়ের স্রষ্টা এবং আকৃতি ও শরীরসমূহের উদ্ভাবক। তিনি এমন এক বিদ্যমান সত্তা যাঁর অস্তিত্বের কোনো সূচনা নেই; কেননা তিনি যদি নবসৃষ্ট হতেন, তবে তিনি মুখাপেক্ষী হতেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
محدث إلى غير أول، وذلك لا يتصور في الأوهام. فهو الباقي إلى غير نهاية، إذ ما يثبت له القدم، استحال عليه الانعدام. نبه العقول على قدرته باختراعه المخترعات على غير مثال وإمام. وأرشدها إلى علمه بعجائب مصنوعاته، بما فيه من الإتقان والإحكام، ودلها على إرادته المتعلقة بجميع المتجددات، من جهة تخصيصها مع تساويها بالتقدم والتأخر، والإيجاد
অনাদিহীন কোনো নবসৃষ্টি—যা কল্পনা করা অসম্ভব। সুতরাং তিনি হলেন অন্তহীন চিরস্থায়ী; কেননা যা অনাদি হিসেবে প্রমাণিত, তাঁর অনস্তিত্ব বা বিলুপ্তি অসম্ভব। তিনি কোনো পূর্ব দৃষ্টান্ত বা নমুনা ছাড়াই অভিনব বস্তুসমূহ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বুদ্ধিকে তাঁর ক্ষমতার বিষয়ে সচেতন করেছেন। আর স্বীয় সৃষ্টির বিস্ময়কর নিপুণতা ও সুদৃঢ় গঠনের মাধ্যমে বুদ্ধিকে তাঁর জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করেছেন। এবং সমস্ত পরিবর্তনশীল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর ইচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন; বিশেষত এই দিক থেকে যে, সেগুলোর আগে ঘটা, পরে ঘটা কিংবা অস্তিত্ব লাভের সম্ভাবনা সমান থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
والإعدام، المنزه عن كل ما قام بالحوادث، فدل على حدثها، فلا تجوز عليه المماسة، والمباينة، والمجاوزة، والمكان والزمان، ولا الساعات والأيام. فهو الواحد في ذاته، فلا يقبل الانقسام. المخصوص بصفاته،
এবং অস্তিত্বহীনতা, তিনি ঐ সমস্ত বিষয় থেকে পবিত্র যা সৃষ্টিসমূহের বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত, যা তাদের নশ্বরতার প্রমাণ দেয়। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে স্পর্শ হওয়া, পৃথক থাকা, সীমা অতিক্রম করা, স্থান ও কাল এবং ঘণ্টা ও দিবস—কোনোটিই প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্বীয় সত্তায় একক, তাই তিনি বিভাজনযোগ্য নন। তিনি স্বীয় গুণাবলীতে বিশিষ্ট,
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
ليس كمثله شيء، وهو السميع العلام. المنفرد بخلق الخلائق وأعمالهم، فلا شريك له عند أهل الإسلام. خلق القدرة لعباده على بعض الأفعال التي اخترعها، فهي مقدورة لهم من غير تأثير له في خلقها، إذ يستحيل أن
কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী। সৃষ্টিজগত ও তাদের কর্মসমূহ সৃষ্টিতে তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাই আহলে ইসলামের নিকট তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সেই সকল কার্যাবলীর সক্ষমতা সৃষ্টি করেছেন যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন; ফলে সেগুলো তাদের সক্ষমতাধীন, যদিও সেগুলোর সৃষ্টিতে সেটির কোনো প্রভাব নেই, কেননা এটি অসম্ভব যে—
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
يتطرق إلى المتحد الانقسام. فلا يتصور خلق بين خالقين عند ذوي الأفهام. البصير الذي يتعلق بصره بجميع الموجودات، فلا يخفى عليه شيء
যা একক বা অখণ্ড তার ক্ষেত্রে বিভাজন কল্পনা করা যায় না। সুতরাং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের নিকট দুইজন স্রষ্টার মাধ্যমে কোনো কিছুর সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব। তিনি সর্বদ্রষ্টা, যাঁর দৃষ্টি সমস্ত বিদ্যমান বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট, ফলে তাঁর নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
في الأرض ولا في السموات، وإن غلظ الحجاب، واشتد الظلام. السميع بسمع، محيط بالموجودات، فيسمع دبيب النمل على الصخرة في قعر البحر على الدوام. المتكلم بكلام قديم أزلي، قائم به، ليس بأصوات تتقطع، وحروف تتوالى، موصوفة بالتقدم والانصرام.
না জমিনে, না আসমানসমূহে (কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়), যদিও পর্দা স্থূল হয় এবং অন্ধকার ঘনীভূত হয়। তিনি শ্রবণগুণের অধিকারী সর্বশ্রোতা, যা বিদ্যমান সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে; ফলে তিনি সমুদ্রের অতল গহ্বরে পাথরের ওপর পিঁপড়ার পদচারণার শব্দও সর্বদা শুনতে পান। তিনি এমন এক অনাদি ও চিরন্তন বাণীর মাধ্যমে কথা বলেন যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান; এটি কোনো বিচ্ছিন্ন শব্দাবলি কিংবা পর্যায়ক্রমিক হরফ নয় যা আগে-পরে আসা এবং বিলীন হওয়ার বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
بل كلامه واحد، [أمر] بالمأمورات، ونهي عن المنهيات، وخبر عن المخبرات، لا تتصور فيه حقيقة الاستفهام، إذ هو العالم بالمعلومات غير المتناهيات، فمن المحال من العالم الاستعلام. وخبره صدق، لا يتصور فيه كب، إذ يستحيل الكذب في كلام النفس على من يستحيل عليه الجهل والأوهام. وهذه الصفات قديمة، أزلية قائمة به، بدليل اتصافه بأحكامها على الدوام.
বরং তাঁর কথা এক; যা পালনীয় বিষয়সমূহের নির্দেশক, বর্জনীয় বিষয়সমূহ হতে নিষেধকারী এবং সংবাদযোগ্য বিষয়সমূহের সংবাদদাতা। এতে প্রকৃত জিজ্ঞাসার কোনো অবকাশ নেই, কারণ তিনি অসীম জ্ঞাতব্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে পূর্ণ পরিজ্ঞাত। সুতরাং সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে কোনো কিছু জানার চেষ্টা করা অসম্ভব। আর তাঁর সংবাদ সত্য, তাতে মিথ্যার কল্পনা করা যায় না; কারণ যাঁর ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও সংশয় অসম্ভব, তাঁর আত্মগত কালামে মিথ্যা হওয়া অসম্ভব। আর এই গুণাবলি অনাদি, অনন্ত এবং তাঁর সত্তায় বিদ্যমান; যার প্রমাণ হলো সর্বদা এগুলোর বিধানের সাথে তাঁর গুণান্বিত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
ويستحيل أن يكون محلا للحوادث، ثبت ذلك بواضح الأعلام. وهو المريد لجميع المتجددات، وأعمال العباد خيرها وشرها نفعها وضرها. فلا مانع له مما أراد، ولا معارض له فيما فعل من صحة وإسقام.
لا جائز في صفاته، ولا واجب في أفعاله. فإن عفا فبفضله، وإن عذب
আর তাঁর সত্তা পরিবর্তনশীল ঘটনাবলীর আধার হওয়া অসম্ভব, সুস্পষ্ট নিদর্শনাদির মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সকল নবসৃষ্ট বিষয়ের ইচ্ছাকারী এবং বান্দাদের সকল কর্ম—তার ভালো ও মন্দ, উপকার ও অপকার—সবই (তাঁর ইচ্ছাধীন)। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাতে কোনো বাধা দানকারী নেই এবং সুস্থতা ও অসুস্থতার ক্ষেত্রে তিনি যা করেন তাতে তাঁর কোনো বিরোধিতাকারী নেই।
তাঁর গুণাবলিতে কোনো কিছুই (অস্থায়ী বা) সম্ভব নয় এবং তাঁর কর্মসমূহে কোনো কিছুই (আল্লাহর ওপর) আবশ্যক নয়। সুতরাং তিনি যদি ক্ষমা করেন তবে তা তাঁর অনুগ্রহ, আর যদি তিনি শাস্তি প্রদান করেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
فبعدله، لا للتشفي والانتقام.
رحم عباده بإسقاط التكليف عنهم قبل ورود الأنبياء، وبعثة الرسل الكرام. ثم أرسل الرسل، وأيدهم بالمعجزات الظاهرة، دلالة على صدقهم فيما يبلغونه عن الملك العلام. بعث محمدا صلى الله عليه وسلم، بشيرا ونذيرا إلى الأحمر
সুতরাং তা তাঁর ন্যায়ের কারণে, ক্রোধ নিবারণ কিংবা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য নয়।
তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেছেন নবীদের আগমন এবং সম্মানিত রাসূলদের প্রেরণের পূর্বে তাদের থেকে শরীয়তের দায়ভার রহিত করার মাধ্যমে। এরপর তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে প্রকাশ্য মুজিজাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেন, যা সর্বজ্ঞ অধিপতির পক্ষ থেকে তারা যা প্রচার করেন তাতে তাদের সত্যবাদিতার প্রমাণস্বরূপ। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে লাল বর্ণের মানুষের (তথা সমগ্র মানবজাতির) নিকট প্রেরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
والأسود، مبينا للأحكام، وموضحا للحلال والحرام، داعيا إلى الله بإذنه، بأوضح الدلائل والأعلام- وهو القرآن المجيد- فلا يشبهه شيء من الكلام.
بل لو اجتمعت الإنس على أن يأتوا بسورة من مثله لعجزوا، مدى الدهور والأعوام، مشتمل على الفصاحة والجزالة، (2/ب) والبلاغة، قد تحيرت فيه عقول ذوي الأفهام. فيه نبأ من كان قبلنا من الأمم الخالية، والقرون البالية، على أكمل تفسير وأحسن نظام، عما سيكون من الأمور، فصودفت على حسب ما أخبر، من غير انقسام. والمخمن والمنجم لا تتفق له الإصابة في كل الأحكام، لا جرم انقادت العرب العاربة، وهم اللد الفصحاء، واللسن
এবং কৃষ্ণবর্ণের (মানুষদের জন্য), বিধিবিধানের স্পষ্ট বর্ণনাকারী এবং হালাল ও হারামের বিশদ ব্যাখ্যাদানকারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী, সুস্পষ্ট দলীল ও নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে—আর তা হলো মহিমান্বিত কুরআন—কথামালোর কোনো কিছুই এর সদৃশ নয়।
বরং যদি সকল মানুষ এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা যুগ-যুগান্তর ও বছরব্যাপী চেষ্টা করলেও অক্ষম হবে; এটি বাকপটুতা, সুদৃঢ়তা (২/খ) ও অলঙ্কারশাস্ত্রে সমৃদ্ধ, যাতে প্রজ্ঞাবানদের বুদ্ধি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। এতে রয়েছে আমাদের পূর্ববর্তী বিগত জাতিসমূহ ও বিলুপ্ত প্রজন্মের সংবাদ, অতি উত্তম ব্যাখ্যা ও সর্বোত্তম বিন্যাসের মাধ্যমে; এবং ভবিষ্যতে যেসব বিষয় সংঘটিত হবে তার বর্ণনাও রয়েছে, যা কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই তাঁর দেওয়া সংবাদ অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই সংঘটিত হয়েছে। আর অনুমানকারী ও জ্যোতিষীদের পক্ষে সকল বিষয়ে সত্যে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। কোনো সন্দেহ নেই যে, খাঁটি আরবরা এর সামনে নতি স্বীকার করেছে, অথচ তারা ছিল ঘোর প্রতিবাদী, অত্যন্ত বাকপটু ও বাগ্মী।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
البلغاء، واعترفت بالعجز، مع استبدادهم بفصيح الكلام. فأوضح الحجة، وأظهر المحجة، ودعا إلى شريعة الإسلام. وأمر بالصلاة والصدقة الصيام، وحث على الجهاد والحج وصلة الأرحام. وجاهد في الله حق جهاده حتى أمات الكفر وأبطل عبادة الأصنام. ونهى عن الظلم، والبغي والفواحش، وجميع الآثام. حتى انقاد الناس لحكم الله عز وجل، وترك التحاكم إلى الأزلام. وزهد في الدنيا قولا وفعلا، فإنها أشبه شيء بالأحلام. ورغب في الآخرة التي هي دار الدوام. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأصهاره وأنصاره البررة الكرام.
أما بعد، فإنه لا أهم بعد العلم بالله عز وجل، وصفاته ورسله، من أحكامه ليحصل الامتثال لأمره، والانكفاف عما نهى عنه. قال الله تعالى: {وما خلقت [الجن والإنس] إلا ليعبدون}. وقال تعالى: {قل هذه سبيلي أدعوا إلى الله على بصيرة أنا ومن اتبعني}. وقال: {وأن هذا صراطي مستقيما فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله}. فلا نجاة إلا بسلوك طريق الله عز وجل. والعلم هو الدليل على الطريق، وهو الميراث الذي ورثه الأنبياء، قال صلى الله عليه وسلم: (إن الأنبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما، وإنما ورثوا العلم).
বাগ্মীরা এবং তারা তাদের অক্ষমতা স্বীকার করেছে, যদিও তারা প্রাঞ্জল বক্তব্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। অতঃপর তিনি প্রমাণ স্পষ্ট করেছেন, সঠিক পথ উন্মোচিত করেছেন এবং ইসলামের শরীয়তের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। আর তিনি সালাত, সদকা ও সিয়ামের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জিহাদ, হজ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। এবং তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তিনি কুফরকে নিস্তেজ করেছেন এবং মূর্তিপূজাকে বাতিল করেছেন। আর তিনি জুলুম, অবাধ্যতা, অশ্লীলতা এবং সকল প্রকার গুনাহ থেকে নিষেধ করেছেন। শেষ পর্যন্ত মানুষ মহান আল্লাহর বিধানের অনুগত হলো এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরের মাধ্যমে বিচার প্রার্থনা বর্জন করল। তিনি কথায় ও কাজে দুনিয়ার প্রতি বিরাগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি স্বপ্নের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তিনি পরকালের প্রতি আগ্রহী করেছেন যা চিরস্থায়ী আবাস। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী, বৈবাহিক আত্মীয় ও নেককার ও সম্মানিত আনসারদের উপর।
অতঃপর, মহান আল্লাহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর রাসূলগণ সম্পর্কে জানার পর তাঁর বিধানসমূহ জানার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই, যাতে তাঁর আদেশের আনুগত্য এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" তিনি আরও বলেছেন: "বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা সুনিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।" তিনি বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" সুতরাং মহান আল্লাহর পথে চলা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। আর জ্ঞান হলো সেই পথের দিশারী এবং এটিই সেই উত্তরাধিকার যা নবীগণ রেখে গেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল জ্ঞানকেই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
ولا تصح معرفة الفروع دون تحصيل علم الأصول.
وقد رأيت كتاب الشيخ الإمام، إمام الحرمين رحمة الله عليه الملقب (بالبرهان)، من أحل ما صنف في أصول الفقه، لمكان مصنفه من العلم، وحرصه على التحقيق، ميله عن التقليد، وإضرابه عن التطويل والتكرير، وانصرافه عن الاستدلال عن الخيالات البعيدة، والاستدلالات الركيكة، مع فصاحة في اللفظ واختصار، واعتناء بالمعنى وعدم انتشار. فاستخرت الله تعالى في الاعتناء بشرحه، وحل ما أشكل من ألفاظه، وعسر من معانيه، مع الحرص على إيضاح الحق، والانحراف عن التعصب، مستعينا بالله عز وجل، متبرئا من الحول والقوة إلا بالله، وهو الموفق للصواب.
قال الإمام رحمة الله عليه: (الحمد لله رب العالمين والصلاة) [على محمد خاتم النبيين]). قال الشيخ [رضي الله عنه]: الحمد: لفظة يراد بها الثناء
মূলনীতিসমূহের জ্ঞান অর্জন ব্যতীত শাখা-প্রশাখার জ্ঞান পরিশুদ্ধ হয় না।
আমি শাইখ আল-ইমাম, ইমামুল হারামাইন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচিত 'আল-বুরহান' নামক গ্রন্থটিকে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে রচিত শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থসমূহের অন্যতম হিসেবে পেয়েছি; এর কারণ হলো রচয়িতার উচ্চতর পাণ্ডিত্য, সূক্ষ্ম গবেষণার প্রতি তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহ, অন্ধ অনুকরণের প্রতি তাঁর বিমুখতা, দীর্ঘসূত্রতা ও পুনরাবৃত্তি বর্জন, সুদূরপরাহত কল্পনাপ্রসূত ও দুর্বল যুক্তি-প্রমাণ থেকে নিবৃত্তি, সেই সাথে শব্দ চয়নে প্রাঞ্জলতা ও সংক্ষিপ্ততা এবং অর্থের প্রতি সবিশেষ মনোযোগ ও অসংলগ্নতা পরিহার। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করে গ্রন্থটির ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর দুর্বোধ্য শব্দ ও জটিল অর্থসমূহ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এক্ষেত্রে আমি সত্যকে সুস্পষ্ট করতে সচেষ্ট থেকেছি এবং সংকীর্ণ গোঁড়ামি থেকে বিমুখতা অবলম্বন করেছি। আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো শক্তি ও সামর্থ্য থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করছি; আর তিনিই সঠিক পথে পরিচালিত করার মালিক।
ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ [সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদের ওপর])। শাইখ [আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন] বলেন: 'হামদ' এমন একটি শব্দ যার মাধ্যমে প্রশংসা জ্ঞাপন করা উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
بصفات الكمال ومحاسن الأمور والأفعال والأقوال. فقد يحمد الإنسان على الشجاعة والعلم والمعرفة، وإن كانت هذه الصفات مختصة به، قاصرة عليه. والشكر للمنعم بآلائه ونعمه، إنما يشكر على ما أولى من إحسانه. فالحمد أعم والشكر أخص. هذا هو الأمر المشهور عند أهل اللسان. وقد يوضع الحمد موضع الشكر، فيقال: حمدتك على ما صنعت إلي من خير، ولا يوضع الشكر موضع الحمد، فلا يقال: شكرتك على شجاعتك وغيرها. وعند أهل التصوف: يرجع الشكر إلى العمل، ويرجع الحمد إلى الثناء الجميل. وقد قال الله تعالى: {وقل الحمد لله}. وقال: {وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين}. (3/أ) وقال: {اعملوا آل داود شكرا}. فالشكر عندهم: صرف النعم إلى جهات يرضى بها المشكور المنعم.
وقوله: (الله)، قد اختلف في أصل هذه الكلمة ومعناها. فذهب
পূর্ণতার গুণাবলী এবং বিষয়সমূহ, কাজ ও কথার সৌন্দর্যের মাধ্যমে। মানুষকে তার বীরত্ব, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার জন্য প্রশংসা (হামদ) করা হয়, যদিও এই গুণগুলো তার নিজস্ব এবং তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর নিআমতদাতার প্রতি তাঁর দান ও অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা (শুকর) প্রকাশ করা হয়; তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন কেবল তার জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সুতরাং হামদ ব্যাপকতর এবং শুকর অধিকতর সুনির্দিষ্ট। ভাষাবিদদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ বিষয়। কখনো কখনো হামদ-কে শুকর-এর স্থলে ব্যবহার করা হয়, তখন বলা হয়: ‘তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ করেছ তার জন্য আমি তোমার প্রশংসা (হামদ) করছি’। কিন্তু শুকর-কে হামদের স্থলে ব্যবহার করা হয় না; তাই বলা হয় না: ‘তোমার বীরত্ব বা অন্য কিছুর জন্য আমি তোমাকে কৃতজ্ঞতা (শুকর) জানাচ্ছি’। সূফীগণের নিকট: শুকর বা কৃতজ্ঞতা কর্মের সাথে সম্পৃক্ত এবং হামদ বা প্রশংসা সুন্দর স্তুতির সাথে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর বলুন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য}। তিনি আরও বলেছেন: {এবং তাদের শেষ আহ্বান হলো: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। (৩/ক) তিনি আরও বলেছেন: {হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করো}। তাদের নিকট শুকর হলো: নিআমতসমূহকে এমন পথে ব্যয় করা যাতে কৃতজ্ঞতাভাজন নিআমতদাতা সন্তুষ্ট হন।
এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহ), এই শব্দটির মূল এবং এর অর্থের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪১)
[البصريون] إلى أن أصلها (لاه)، فزيدت (اللام) للتعريف ساكنة، فأدغمت اللام في اللام، فإن [ابتدئ] بها، اجتلبت همزة الوصل لها، وإن كان في حال التدرج سقطت.
وقال أهل الكوفة: أصلها (إله) ثم ادخلت الألف واللام، فصار (الإلاه)، ثم حذفت الهمزة لكثرة الاستعمال، ثم أدغمت (اللام) في (اللام) فقيل: (الله). والقول الأول أصح لوجهين:
أحدهما- لزوم [التمسك] [بهاء] الاسم عليه. وما ذكروه دعوى من غير دليل.
الثاني- أنه قد سمع (لاه أبوك) بمعنى الله أبوك، فتحرك حرف الجر، وبقيت الكلمة على ما هي عليه.
واختلف الناس في هذا الاسم، هل هو مشتق أو جامد؟ فذهب أكثر أهل العلم إلى أنه مشتق. ثم اختلفوا في اشتقاقه، فقال النضر بن شميل: هو من
[বসরাবাসী আলেমগণ] মনে করেন যে এর মূল হলো (লাহ্), অতঃপর সংজ্ঞাবাচক করার জন্য সুকুনযুক্ত (লাম) যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এক লাম অন্য লামের সাথে সন্ধি (ইদগাম) হয়েছে। যদি শব্দটি দ্বারা কথা শুরু করা হয়, তবে এর জন্য শুরুতে একটি হামজাতুল ওয়াসল নিয়ে আসা হয়, আর যদি পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়া হয় তবে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
কুফাবাসী আলেমগণ বলেন: এর মূল হলো (ইলাহ), অতঃপর আলিফ এবং লাম যুক্ত করা হয়েছে, ফলে তা (আল-ইলাহ) হয়েছে। এরপর অধিক ব্যবহারের কারণে হামজাহটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এক (লাম) অন্য (লাম)-এর সাথে সন্ধি (ইদগাম) হয়েছে, ফলে বলা হয়: (আল্লাহ)। দুটি কারণে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক:
প্রথমত—নামটির শেষে ‘হা’ অক্ষরটি অপরিহার্যভাবে বহাল থাকা। আর তারা যা উল্লেখ করেছেন তা প্রমাণহীন দাবি মাত্র।
দ্বিতীয়ত—(লাহ্ আবূকা) কথাটি (আল্লাহ্ আবূকা) অর্থে শ্রুত হয়েছে, যেখানে অব্যয়টি (হরফে জার) হরকতযুক্ত হয়েছে এবং শব্দটি তার নিজ অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
এই নামটির ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে যে এটি কি ব্যুৎপন্ন নাকি মৌলিক? অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে এটি ব্যুৎপন্ন। অতঃপর এর ব্যুৎপত্তির বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। নজর ইবনে শুমাইল বলেন: এটি—
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪২)
التأله، وهو التعبد [والتنسك]. وقيل: هو من (الإلاه)، وهو الاعتماد، إذ الخلق معتمدون عليه. وقال أبو عمرو بن العلاء: هو من ألهت إلى الشيء، إذا تحيرت فيه. وقال المبرد: هو من قول العرب: ألهت إلى الشيء، إذا سكنت إليه. وقيل: هو من (الوله)، وهو فقدان العقل لفوات المحبوب، فأبدلت من (الواو) (همزة)، كما يقال: إشاح ووشاح. وقيل معناه: المحتجب، لأن العرب تقول: لاهت العروس، إذا احتجبت. وقيل: معناه المتعالي، ومنه قيل للشمس: [إلهة]. وقد قيل غير هذا. وهذه الأقاويل أجودها.
তায়াল্লুহ হলো উপাসনা [এবং একনিষ্ঠ সাধনা]। বলা হয়েছে: এটি 'আল-ইলাহ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নির্ভরতা; কেননা সৃষ্টিজগত তাঁর ওপর নির্ভরশীল। আবু আমর ইবনুল আলা বলেন: এটি 'আলাহতু ইলাশ শাই' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো যখন তুমি কোনো বিষয়ে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়ো। মুবাররাদ বলেন: এটি আরবদের কথা 'আলাহতু ইলাশ শাই' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো যখন তুমি কোনো কিছুর সান্নিধ্যে প্রশান্তি লাভ করো। বলা হয়েছে: এটি 'ওয়ালাহ' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো প্রিয়জনকে হারানোর ফলে বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলা; এখানে 'ওয়াও' বর্ণটিকে 'হামজা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমন 'উশাহ' ও 'ইশাহ' বলা হয়। আরও বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: পর্দা আবৃত হওয়া; কেননা আরবরা বলে থাকে: 'লাহাতিল আরূস' যখন কনে নিজেকে আবৃত করে। আরও বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: সমুন্নত, আর এ কারণেই সূর্যকে 'ইলাহা' বলা হয়। এছাড়া আরও অনেক অভিমত বর্ণিত হয়েছে, তবে এগুলিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৩)
وقوله: (رب العالمين)، أي خالق الخلق، وسيدهم، ومالكهم، والقائم بأمورهم. العالمين: جمع عالم، ولا واحد له من لفظه، كالرهط والناس، وقيل: إنه اسم للجمع. قاله النضر بن شميل. واختلفوا في مدلوله، فقيل: هم الملائكة، وقيل: هم [بنو] آدم، وقيل: هم الإنس والجن، وقيل: الروحانيون. قاله أبو عمرو بن العلاء. وهو معنى قول ابن عباس: كل ذي روح. وقال سفيان بن عيينة: هم الخلق أجمعون. وهذا قول أهل الكلام. وسبب الاختلاف أنه: هل أخذ من العلم أو العلامة؟
وقوله: (الصلاة على محمد)، الصلاة من الله الرحمة. ومحمد: اسم
এবং তাঁর বাণী: (সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক), অর্থাৎ সৃষ্টির স্রষ্টা, তাঁদের অধিপতি, তাঁদের মালিক এবং তাঁদের সকল বিষয় তদারককারী। ‘আলামীন’ শব্দটি ‘আলাম’ এর বহুবচন, যার স্বীয় শব্দমূল হতে কোনো একবচন নেই, যেমন ‘রাহাত’ এবং ‘নাস’ শব্দসমূহ। কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। এটি নাজর ইবন শুমাইল বলেছেন। এর মর্মার্থ নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন; কারো মতে: তাঁরা ফেরেশতাকুল, কেউ বলেছেন: তাঁরা আদম সন্তান, কেউ বলেছেন: তাঁরা মানুষ ও জিন, আবার কেউ বলেছেন: তাঁরা রূহানি সত্তাসমূহ। এটি আবু আমর ইবনুল আলা বলেছেন। এটিই ইবনে আব্বাসের উক্তির মর্মার্থ: প্রত্যেক প্রাণধারী সত্তা। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলেন: তাঁরা হলেন সমগ্র সৃষ্টি। এটি আহলে কালামের অভিমত। এই মতভেদের কারণ হলো: শব্দটি কি ‘ইলম’ (জ্ঞান) থেকে উদ্ভূত নাকি ‘আলামত’ (নিদর্শন) থেকে?
এবং তাঁর বাণী: (মুহাম্মাদের উপর সালাত), আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত। আর মুহাম্মাদ হলো একটি নাম।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৪)
دال على كثرة المحامد، ومذمم بخلافه. وخاتم النبيين: بعموم المعنى.
قال الإمام: (حق على كل من يحاول الخوض في فن من فنون العلم) إلى قوله (حظ من العلم الجملي). قال الشيخ رضي الله عنه: الحق: خلاف الباطل. والحق بمعنى الثبوت، يقال: استحق عليه حقا، أي ثبت له ولزمه. أي لازم لكل من يحاول الخوض، يقال: حاولت الأمر، أي أردته. فعلى مريد علم من العلوم هذه الوظائف الثلاث، وهي: الإحاطة بالمقصود الذي يراد له الفن، لتجر الداعية إلى الطلب، غذ صرف الهمة لما لا يتعلق به غرض، لا يتأتى للعقلاء اعتيادا. عن، الباري سبحانه لا يقصد إلى الأمور، ولا يريدها لغرض، لاستحالة الغرض عليه.
وقوله: (بالمواد التي منها يستمد ذلك الفن). المادة: زيادة متصلة.
এটি প্রশংসার আধিক্য নির্দেশক এবং এর বিপরীতটি নিন্দনীয়। আর নবীদের পরিসমাপ্তি: অর্থের ব্যাপকতা অনুযায়ী।
ইমাম বলেন: (জ্ঞানের কোনো শাখায় যারা অবগাহন করতে চায় তাদের প্রত্যেকের জন্য এটি কর্তব্য) তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত (সামগ্রিক জ্ঞানের একটি অংশ)। শাইখ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সত্য হলো মিথ্যার বিপরীত। আর সত্য বলতে সাব্যস্ত হওয়া বা বিদ্যমান থাকাকে বুঝায়; বলা হয়ে থাকে: তার জন্য বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে, অর্থাৎ তা তার জন্য অবধারিত ও আবশ্যক হয়েছে। অর্থাৎ এটি শাস্ত্রের আলোচনায় প্রবেশকারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক। বলা হয়: 'আমি বিষয়টির সংকল্প করেছি', অর্থাৎ আমি তা ইচ্ছা করেছি। সুতরাং কোনো শাস্ত্র অন্বেষণকারীর জন্য এই তিনটি দায়িত্ব রয়েছে, আর তা হলো: শাস্ত্রটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা, যাতে তা তাকে জ্ঞান অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করে। কেননা উদ্দেশ্যহীন কোনো বিষয়ে মনোযোগ নিবিষ্ট করা সাধারণত বিবেকসম্পন্নদের কাজ নয়। তবে মহান সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো বিষয়ের সংকল্প করেন না এবং তা ইচ্ছাও করেন না, কারণ তাঁর ক্ষেত্রে কোনো উদ্দেশ্য থাকা অসম্ভব।
এবং তাঁর উক্তি: (সেই সকল উপাদান যা থেকে উক্ত শাস্ত্রটি সাহায্য লাভ করে)। উপাদান হলো: অবিচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৫)
قال الله تعالى: {والبحر يمده من بعده سبعة أبحر .. }.
وقوله: (وبحقيقته وحده)، الحقيقة: لفظ مشترك، وقد يراد بها الذات، فيقال: حقيقة الشيء ونفسه وعينه بمعنى واحد. وقد يراد بها خلاف المجاز، وهي من أقسام الألفاظ، فيقال: اللفظ ينقسم (3/ب) إلى الحقيقة والمجاز. والمراد هنا بالحقيقة: الذات دون اللفظ. والضمير عائد على الفن، أي بحقيقة الفن، وليست هذه الإضافة إضافة الشيء إلى نفسه، فإن تلك ممنوعة، وهي كإضافة الأسماء إلى الكنى، والكنى إلى الأسماء، وذلك لا يسوغ عند أهل اللسان. نعم، الإضافة على وجهين: لفظية ومعنوية. فاللفظية في اللفظ دون المعنى، كالحسن الوجه، فلا تفيد تخصيصا ولا تعريفا. والإضافة المعنوية: [ما أفادت]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং সমুদ্র, তার পেছনে যোগ হবে আরও সাত সমুদ্র...}।
এবং তাঁর কথা: (এবং এককভাবে তার প্রকৃত সত্তার মাধ্যমে), হাকীকাত (প্রকৃত সত্তা): একটি বহু-অর্থবোধক শব্দ। কখনও এর দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য করা হয়, ফলে বলা হয়: কোনো জিনিসের হাকীকাত, নফস (সত্তা) এবং আইন (অস্তিত্ব) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও এর দ্বারা রূপকের বিপরীত অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়, যা শব্দের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা হয়: শব্দ (৩/খ) হাকীকাত এবং মাজাযে (প্রকৃত ও রূপক অর্থে) বিভক্ত। আর এখানে হাকীকাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সত্তা, শব্দ নয়। আর সর্বনামটি বিদ্যার (ফন) দিকে প্রত্যাবর্তন করছে, অর্থাৎ বিদ্যার প্রকৃত স্বরূপের মাধ্যমে। আর এই সম্বন্ধটি (ইযাফত) কোনো বস্তুকে তার নিজের দিকে সম্বন্ধিত করা নয়, কারণ তা নিষিদ্ধ। এটি নামকে উপনামের দিকে এবং উপনামকে নামের দিকে সম্বন্ধিত করার মতো, যা ভাষাবিদদের নিকট বৈধ নয়। হ্যাঁ, সম্বন্ধ দুই প্রকার: শাব্দিক এবং অর্থগত। শাব্দিক সম্বন্ধ কেবল শব্দের ক্ষেত্রে হয়, অর্থের ক্ষেত্রে নয়, যেমন সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট, এটি কোনো নির্দিষ্টকরণ বা পরিচয় প্রদান করে না। আর অর্থগত সম্বন্ধ: [যা প্রদান করে]
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
أحدهما، ثم هي على وجهين: إضافة الشيء لغيره، كغلام زيد، وسرج الدابة. وقد تكون كإضافة النوع إلى الجنس، كخاتم حديد، ونفس زيد، إذ لفظ الخاتم لا يختص بالحديد، ولا النفس بزيد، فأفادت الإضافة التخصيص.
وقوله: (وحده). اعلم أن لفظ الحد ينطلق في اللغة على جهات: إذ يطلق على الحاجز بين شيئين. فيقال: بيني وبينه حد. وقد يطلق على منتهى الشيء، فحدود الدار منتهاها. ويطلق أيضا على المنع، ومنه تسمى المرأة حادا، لامتناعها من الزينة والأزواج. وحدود الشرع موانع من المحرمات. وسمي الحديد حديدا، لامتناعه لشدته. وسمي السجان حدادا، لمنعه من في السجن من الخروج.
وهو في عرف العلماء: مشترك بين اللذات واللفظ، فيقال فيه على الوجه الأول: حد الشيء نفسه. وعلى الثاني: حد الشيء هو اللفظ المفسر لمعناه. ثم إنه أيضا على هذا الوجه مشترك بين [ثلاثة] أمور:
فيطلق على اللفظ الحد، باعتبار دلالته على الأوصاف النفسية عند
তাদের একটি, অতঃপর এটি দুই প্রকার: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর দিকে সম্বন্ধ করা, যেমন যায়িদের গোলাম এবং পশুর জিন। আবার কখনও তা কোনো প্রকারকে শ্রেণির দিকে সম্বন্ধ করার মতো হতে পারে, যেমন লোহার আংটি এবং যায়িদের সত্তা; যেহেতু আংটি শব্দটি লোহার সাথে নির্দিষ্ট নয় এবং সত্তা শব্দটিও যায়িদের সাথে নির্দিষ্ট নয়, ফলে এই সম্বন্ধটি বিশিষ্টতা প্রদান করেছে।
এবং তাঁর কথা: (এককভাবে)। জেনে রাখুন যে, 'হাদ্দ' (সীমা/সংজ্ঞা) শব্দটি ভাষাগতভাবে কয়েক অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত, এটি দুই বস্তুর মধ্যবর্তী অন্তরায় অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: আমার ও তার মাঝে একটি সীমা বা অন্তরায় রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো বস্তুর শেষ প্রান্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়; সুতরাং বাড়ির সীমানা বলতে তার শেষ প্রান্তসমূহকে বোঝায়। তৃতীয়ত, এটি বাধা প্রদান অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আর এ থেকেই শোকাতুরা নারীকে 'হাদ' বলা হয়, যেহেতু সে সাজসজ্জা এবং বিবাহ থেকে বিরত থাকে। শরীয়তের সীমারেখা বা হুদুদসমূহ হলো হারাম কাজ থেকে বাধাদানকারী। লোহাকে 'হাদীদ' বলা হয় তার কাঠিন্য ও প্রতিরোধের কারণে। কারারক্ষীকে 'হাদ্দাদ' বলা হয়, কারণ সে বন্দিকে কারাগার থেকে বের হতে বাধা দেয়।
আর আলেমদের পরিভাষায় এটি: সত্তা এবং শব্দ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থ অনুযায়ী বলা হয়: বস্তুর সংজ্ঞা হলো বস্তুটি নিজেই। আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী: বস্তুর সংজ্ঞা হলো সেই শব্দ যা তার অর্থকে ব্যাখ্যা করে। অতঃপর এটি এই দিক থেকেও [তিনটি] বিষয়ের মধ্যে সাধারণ:
সুতরাং শব্দকে 'হাদ্দ' বা সংজ্ঞা বলা হয়, সত্তাগত গুণাবলির ওপর তার নির্দেশনার বিবেচনায় যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
مثبتي الأحوال، ولابد أن يكون دالا على جميع الأوصاف، وإن كانت ألفا، ولا [تبال] بالتطويل، حتى يكون السامع للحد متصور للمحدود، بحيث إذا رآه، لم يستفد معلوما جديدا، بل لا يتجدد له سوى الرؤية، ولكن يحترز من التكرار. وإذا كان اللفظ يدل على الشيء بطريق الضمن، فلا يذكر أولا صريحا، ثم يذكر ثانيا ضمنا، فيحصل التكرار.
ومثاله: أن يقول في حد الشراب: إنه مسكر معتصر من العنب. ولا يقول: إنه جسم مائع. والأحسن أن يبدأ بالأعم ويختم بالأخص. فلا يقول: مسكر معتصر من العنب، بل العكس. والسبب فيه أنه لا يمكن معرفة الأخص مع الغفلة عن الأعم، فإذا ذكر الأخص أولا، تعذر الفهم حتى يذكر الأعم، ثم يفهم الأخص، [فيتراخى] الفهم عن الذكر، وليس كذلك إذا ذكر الأعم
অবস্থা (আহওয়াল) সাব্যস্তকারীদের মতে, সংজ্ঞাকে অবশ্যই সমস্ত গুণের নির্দেশক হতে হবে, এমনকি তা যদি সংখ্যায় এক হাজারও হয়। আর দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ভ্রূক্ষেপ করবেন না, যাতে সংজ্ঞার শ্রোতা সংজ্ঞায়িত বিষয় সম্পর্কে এমন পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারে যে, সে যখন তা স্বচক্ষে দেখবে, তখন যেন তার নতুন কোনো তথ্য অর্জিত না হয়; বরং কেবল চাক্ষুষ দেখা ব্যতীত তার জ্ঞানে নতুন কিছুই যুক্ত হবে না। তবে পুনরাবৃত্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি কোনো শব্দ কোনো বিষয়কে অন্তর্নিহিতভাবে নির্দেশ করে, তবে প্রথমে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে পুনরায় পরোক্ষভাবে উল্লেখ করা যাবে না, কারণ তাতে পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এর উদাহরণ হলো: পানীয়ের সংজ্ঞায় বলা: এটি আঙুর থেকে নিংড়ানো একটি নেশাজাতীয় দ্রব্য। এমনটি বলা যাবে না যে: এটি একটি তরল বস্তু। আর উত্তম পন্থা হলো ব্যাপকতর বৈশিষ্ট্য দিয়ে শুরু করা এবং সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দিয়ে শেষ করা। সুতরাং এমনটি বলা সমীচীন নয়: এটি আঙুর থেকে নিংড়ানো নেশাজাতীয় দ্রব্য; বরং এর বিপরীত ক্রমে বলা উচিত। এর কারণ হলো, ব্যাপকতর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে উদাসীন থেকে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যটি জানা সম্ভব নয়। তাই যদি প্রথমে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখ করা হয়, তবে ব্যাপকতর বিষয়টি উল্লেখ না করা পর্যন্ত তা অনুধাবন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অতঃপর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যটি বুঝতে হয়, ফলে বর্ণনার তুলনায় তা বুঝতে বিলম্ব ঘটে। কিন্তু ব্যাপকতর বিষয়টি আগে উল্লেখ করলে এমনটি হয় না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৮)
أولا، فإن الفهم يساوق الذكرن فكان [أولى].
واعلم أن المقصود بالحد: الإرشاد إلى المحدود وإيضاحه، فلا يصح أن يأتي بالألفاظ المجملة من غير قرينة، لتعذر البيان، فأما إذا اقترنت قرينة معرفة، ففيه خلاف. والصحيح القبول، والأحسن الترك. ولا حاجة في الحد النفسي إلى ذكر الاطراد والانعكاس، والجمع والمنع، فإنه إذا [أتى] به على شرطه، لا يكون إلا كذلك.
الاصطلاح الثاني: للحد باعتبار اللفظ: الحد الرسمي، والمقصود منه بيان من حيث الجملة، إما بذكر بعض صفات النفس المختصة، أو بذكر اللوازم والتوابع المشهورة، بحيث تكون مختصة به، ولا تثبت لغيره. والفرق بينه وبين الأول: أن هذا لا تتصور به الحقيقة في النفس، ولكن إذا صودفت عرف (4/أ) عندها المحدود. ولابد في هذا من شرط الجمع والمنع، والاطراد
প্রথমত, উপলব্ধি আলোচনার সমান্তরাল, তাই এটিই ছিল [অধিকতর সংগত]।
এবং জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞার (হাদ্দ) উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়কে (মাহদুদ) নির্দেশ করা এবং তা স্পষ্ট করা। অতএব, কোনো সুস্পষ্ট সংকেত বা সূত্র ব্যতীত অস্পষ্ট শব্দ প্রয়োগ করা সঠিক নয়, কারণ তাতে অর্থ পরিস্ফুট হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তবে যদি কোনো পরিচিতিজ্ঞাপক সূত্র যুক্ত থাকে, তবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সঠিক মত হলো তা গ্রহণ করা, তবে বর্জন করাই উত্তম। তাত্ত্বিক বা আত্মগত সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও বৈপরীত্য এবং অন্তর্ভুক্তি ও বর্জন উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই; কেননা এটি যদি তার শর্তানুযায়ী উপস্থাপন করা হয়, তবে তা এমনই হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় পরিভাষা: শব্দের বিবেচনায় সংজ্ঞার ক্ষেত্রে: বাহ্যিক বা লৌকিক সংজ্ঞা। এর উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিকভাবে বিষয়টি বর্ণনা করা; হয় সত্তার বিশেষ কিছু গুণাবলী উল্লেখ করার মাধ্যমে, অথবা এমন কিছু সুপরিচিত অনুষঙ্গ ও অনুবর্তী বিষয় বর্ণনার মাধ্যমে যা শুধুমাত্র সেই বিষয়ের জন্যই নির্দিষ্ট এবং অন্য কারো জন্য তা প্রযোজ্য নয়। এর সাথে প্রথমটির পার্থক্য হলো: এর মাধ্যমে মনের মধ্যে বিষয়টির প্রকৃত সত্তা চিত্রায়িত হয় না, কিন্তু যখন সংজ্ঞায়িত বিষয়ের (৪/ক) সম্মুখীন হওয়া হয়, তখন তা চেনা যায়। আর এক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, বর্জন এবং ধারাবাহিকতার শর্ত থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
والانعكاس. ونعني بالجمع: أنه لا يخرج من المحدود عن الحد شيء. وبالمنع: انه لا يدخل فيه غيره. ونعني بالاطراد: وجود كل واحد منهما مع وجود صاحبه. وبالانعكاس: انتفاؤه مع انتفائه.
وهل الطر والعكس شرط في الحصة أو دليلها؟ فإن كان شرطا، لم يلزم من وجوده صحة الحد، ويلزم من الانتفاء الفساد. وإن كان دليل الصحة، لزم من الوجود الصحة، ولم يلزم من الانتفاء الفساد. والصحيح أنه شرط لا دليل. لأنا نجد حدودا مطردة منعكسة، ولا يحصل منها مقصد صحيح.
وأما قول الأصوليين في المناظرة: عرفت صحته باطراده وانعكاسه، فهو
এবং ইন'ইকাস (ব্যতিরেক)। 'জম' (একত্রীকরণ) বলতে আমরা যা বুঝাই তা হলো: সংজ্ঞায়িত বস্তু থেকে কোনো কিছুই সংজ্ঞার বাইরে থাকবে না। আর 'মান' (প্রতিরোধ) বলতে আমরা বুঝাই: সংজ্ঞার মধ্যে অন্য কোনো বিজাতীয় বিষয় প্রবেশ করবে না। 'ইত্তিরাদ' (অন্বয়) বলতে আমরা বুঝাই: উভয়ের (সংজ্ঞা ও সংজ্ঞায়িত বস্তু) একে অপরের উপস্থিতির সাথে বিদ্যমান থাকা। আর 'ইন'ইকাস' (ব্যতিরেক) বলতে বুঝাই: একজনের অনুপস্থিতিতে অপরজনের অনুপস্থিত থাকা।
আর 'ইত্তিরাদ' ও 'ইন'ইকাস' কি সংজ্ঞার শুদ্ধতার ক্ষেত্রে শর্ত নাকি তার দলিল (প্রমাণ)? যদি তা শর্ত হয়, তবে তা বিদ্যমান থাকলেই সংজ্ঞা শুদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয় না, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে সংজ্ঞাটি বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়। আর যদি তা শুদ্ধতার দলিল হয়, তবে তার উপস্থিতিতে সংজ্ঞা শুদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয়, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে সংজ্ঞা বাতিল হওয়া আবশ্যক হয় না। সঠিক মত হলো—এটি শর্ত, দলিল নয়। কেননা আমরা এমন অনেক অন্বয়ী ও ব্যতিরেকী (মুত্তারিদ ও মুন'আকিস) সংজ্ঞা পাই, যা থেকে কোনো সঠিক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না।
আর বিতর্ক সভায় উসূলবিদদের এই কথা যে: "এর শুদ্ধতা তার ইত্তিরাদ ও ইন'ইকাসের মাধ্যমে জানা গেছে", তা হলো
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
كلام متجوز به. وإنما اكتفى بذلك في المناظرة، من جهة أنه لا يمكن سواه، إذ الحدود لا تقتنص بالبرهان، إذ البرهان إنما يقام على الجملة الخبرية بعد معرفة مفرداتها، ثم تق النسبة القابلة للصدق والكذب، فتطلب البرهان.
وأما الحد، فإنه وإن كان على صورة الجملة، فهو في التحقيق مفرد. مثاله: أنا إذا قلنا: الخمر شراب مسكر، فالشراب المسكر هو الخمر بعينه، ولم يعقل أولا خمرا ثم وصفناه بكونه شرابا مسكرا، بخلاف قولنا: زيد عالم، فإنا لما عقلنا زيدا، قضينا عليه بكونه عالما، فأمكن الصدق والكذب في
এটি একটি রূপক বক্তব্য। তিনি বিতর্কের ক্ষেত্রে কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়েছেন এই কারণে যে, এটি ছাড়া অন্য কিছু সম্ভব নয়। কারণ, সংজ্ঞা (হুদুদ) প্রমাণের মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায় না। কেননা, প্রমাণ কেবল বর্ণনামূলক বাক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় তার একক শব্দাবলি বা পদসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পর। অতঃপর সত্য ও মিথ্যার সম্ভাবনাযুক্ত একটি সম্বন্ধ তৈরি হয়, যার ফলে প্রমাণের আবশ্যকতা দেখা দেয়।
পক্ষান্তরে সংজ্ঞা (হাদ), যদিও তা বাক্যের আকৃতিতে হয়ে থাকে, প্রকৃতপক্ষে তা একটি একক পদ (মুফরাদ)। এর উদাহরণ হলো: যখন আমরা বলি, 'মদ একটি নেশাজাতীয় পানীয়', তখন নেশাজাতীয় পানীয়ই হলো স্বয়ং মদ। আমরা প্রথমে মদের ধারণা লাভ করে পরে তাকে নেশাজাতীয় পানীয় হিসেবে গুণান্বিত করিনি। আমাদের এই কথাটি 'যায়েদ একজন আলেম'—এর বিপরীত। কারণ, যখন আমরা যায়েদকে অনুধাবন করেছি, তখন তার উপর আলেম হওয়ার বিধান আরোপ করেছি, ফলে এতে সত্য ও মিথ্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
النسبة، فافتقر إلى البرهان. فلما لم تتصور إقامة الدليل على الحد، وأمكن أيضا من الحاد العبد الكثير، كان أقرب الطرق البيان بالاطراد والانعكاس، ويفوض إلى الخصم الاعتراض.
الاصطلاح الثالث: لإطلاق الحد على اللفظ باعتبار كونه شارحا للفظ: وهو بمثابة قولنا: العلم معرفة. وهذا لا يتحصل منه بيان الحقيقة بأوصاف النفوس، ولا باللوازم، بل يكون المتكلم فهم عن السائل أنه فهم الحقيقة، وإنما جهل نسبة اللفظ إليها، فيبين له بلفظ واضح النسبة عند السائل، أن اللفظ المسؤول عن بيانه [وينسب] إلى ما ينسب إليه الآخر.
সম্বন্ধ, ফলে এটি প্রমাণের মুখাপেক্ষী হয়েছে। যেহেতু সংজ্ঞার ওপর দলিল উপস্থাপন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বান্দার পক্ষ থেকে অনেক বিতর্কেরও অবকাশ রয়েছে, তাই নিকটতম পন্থা হলো অনুবৃত্তি (ইতিরাদ) ও ব্যতিরেক (ইনকিকাস) এর মাধ্যমে বর্ণনা করা এবং প্রতিপক্ষের ওপর আপত্তির বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া।
তৃতীয় পরিভাষা: কোনো শব্দের ওপর 'সংজ্ঞা' (হদ) শব্দটির প্রয়োগ করা এই বিবেচনায় যে, তা উক্ত শব্দের ব্যাখ্যাকারী। এটি আমাদের এই বক্তব্যের মতো: 'জ্ঞান হলো পরিচিতি'। এর মাধ্যমে সত্তাগত বৈশিষ্ট্য বা অনিবার্য বিষয়াবলি দ্বারা প্রকৃত স্বরূপ (হাকীকত) ফুটে ওঠে না; বরং বক্তা প্রশ্নকর্তার অবস্থা থেকে বুঝতে পারেন যে, সে প্রকৃত স্বরূপটি অনুধাবন করেছে, কেবল এর সাথে শব্দটির সম্বন্ধ সম্পর্কে সে অজ্ঞ। ফলে বক্তা প্রশ্নকর্তার নিকট সম্বন্ধের দিক থেকে সুস্পষ্ট এমন একটি শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে দেন যে, যে শব্দটির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে তা সেই বিষয়ের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত, যার দিকে দ্বিতীয় শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫২)
وشرطه: أن يكون اللفظ الثاني أوضح عند السائل من الأول. وقد يجوز باعتبار سائل غيره أن ينعكس الأمر في حقه، فيبين له بما سأل عن بيانه غيره.
فإذا ثبت هذا، فقول الإمام: (بحقيقته وحده)، لم يرد بالحد الحقيقة لقوله: (إن أمكنت عبارة سديدة)، بل إنما أراد اللفظ باعتبار كونه يدل على الذات. وهذا أمر لا يحتاج إليه مريد الفن، لتصور المطلوب عند الإحاطة بالحقيقة، وإن لم يدر الطالب التحديد. ثم إنه هل يحد لنفسه، أو يطلب من غيره التحديد؟ فإن كان يحد لنفسه ليبين، فذلك محال، وإن طلب من غيره الحد ليتبين بعد درك الحقيقة، فهو أيضا باطل، إذ الحاصل لا
এর শর্ত হলো: দ্বিতীয় শব্দটি যেন প্রশ্নকারীর নিকট প্রথমটির তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট হয়। অন্য কোনো প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত হওয়াও সম্ভব, ফলে তার নিকট এমন শব্দ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে যা অন্য কেউ ব্যাখ্যা করার জন্য আবেদন করেছিল।
যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন ইমামের উক্তি: (তার হাকীকত ও সংজ্ঞার মাধ্যমে) দ্বারা তিনি সংজ্ঞাকে হাকীকত হিসেবে উদ্দেশ্য করেননি; কারণ তিনি বলেছেন: (যদি কোনো সঠিক অভিব্যক্তি সম্ভব হয়)। বরং তিনি এর দ্বারা শব্দটি এমনভাবে উদ্দেশ্য করেছেন যা সত্তার (জাত) ওপর নির্দেশ করে। আর এটি এমন একটি বিষয় যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর প্রয়োজন নেই, কারণ হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করার মাধ্যমেই উদ্দিষ্ট বিষয়টি চিত্রিত হয়ে যায়, যদিও ছাত্র এর সংজ্ঞা না জানে। এরপর কথা হলো, সে কি নিজের জন্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে, নাকি অন্যের কাছে সংজ্ঞা প্রার্থনা করবে? যদি সে স্পষ্ট করার জন্য নিজের জন্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, তবে তা অসম্ভব। আর যদি হাকীকত অনুধাবন করার পর বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য অন্যের কাছে সংজ্ঞা প্রার্থনা করে, তবে তাও বাতিল; যেহেতু যা অর্জিত হয়েছে তা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫৩)
[يبتغي]. والظاهر أن هذا خلل في العبارة. والمراد- والله أعلم- وبحقيقته بحده، ملتمسا ذلك من غيره. فلم يرد الحد لعينه، وإنما أريد ليتصور السائل المحدود ليمكنه طلبه.
ثم قال: (وإن [عسرت]، حاول المدرك بمسلك التقاسيم). والمدرك ههنا: اسم مصدر، كمالضرب، والمراد: حاول الدرك. وهذا الكلام قد تكرر من الإمام مرارا في غير موضع. ورأي أن التقسيم يتوصل به إلى درك الحقيقة. وهذا الكلام (4/ب) فيه نظر. فإن الشيء على ما ذكرناه، إنما
[তিনি অন্বেষণ করেন]। আর স্পষ্টত এটি বাক্যরচনায় একটি বিচ্যুতি। আর এর উদ্দেশ্য—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তা হচ্ছে বস্তুর প্রকৃত রূপকে তার সংজ্ঞার মাধ্যমে জানা, যা অন্য কারো কাছ থেকে অন্বেষণ করা হচ্ছে। সুতরাং সংজ্ঞাটি মূলত তার নিজের জন্য অভিপ্রেত নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো প্রশ্নকর্তা যেন সংজ্ঞায়িত বিষয়টি কল্পনা বা ধারণা করতে পারেন যাতে তিনি তা অন্বেষণ করতে সক্ষম হন।
এরপর তিনি বললেন: (আর যদি তা [কঠিন হয়ে পড়ে], তবে উপলব্ধিকারী যেন বিভাজন পদ্ধতির মাধ্যমে তা উপলব্ধির চেষ্টা করেন)। এখানে 'মুদরিক' শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল (ইসমে মাসদার), যেমন 'আদ-দারব' (প্রহার করা) শব্দটি; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উপলব্ধির চেষ্টা করা। ইমামের পক্ষ থেকে এই কথাটি বিভিন্ন স্থানে বারবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিনি মনে করেন যে, বিভাজনের মাধ্যমেই কোনো বিষয়ের প্রকৃত রূপ বা হাকিকত উপলব্ধি করা সম্ভব। আর এই বক্তব্যের (৪/খ) ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কেননা বিষয়টি আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী, কেবল...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫৪)
تتبين حقيقته بالوقوف على أوصافه النفسية. وسلب أمر عن أمر لا يبينه بوجه، إذ نفي الضد ليس بصفة لضده نفسية، ولا معنوية. ولو تصور إنسان لا يعرف البياض مثلا، ولا تصوره، وعرف كل لون سواه، لم يكن نفي الألوان في حقه كافيا في تصور البياض. نعم، إن انضبط المطلوب في النفس مع معان سواه، وحصلت الإحاطة بالجميع، والتبست نسبة الاسم إلى معين منها، وعرف الإنسان اسم ما سواه، كان التقسيم في هذه الصورة يفيد في معرفة التسمية. وسيأتي لهذا مزيد تقرير في مسألة حد العلم، إن شاء الله.
وقد بينا أن الإحاطة بالمقصود لابد منها ليتأتى الطل اعتيادا. وأما تصور المطلوب في النفس، فشرط تصور الطلب عقلا. وأما تحصيل المواد، فقد يكون الاستمداد عقليا، وقد يكون عاديا، وسنتكلم على ذلك عند ذكر أصول الفقه.
قال: (والغرض من ذلك أن يكون الإقدام على تعلمه مع حظ من العلم). قد بينا توقف الطلب على تصور المطلوب. فإن قيل: فإذا علمه، فكيف يتصور الطلب مع حصول العلم؟ قلنا: علم الجملة لا يمنع من علم
এর প্রকৃত স্বরূপ তার জাতিগত গুণাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। কোনো বিষয় থেকে অন্য বিষয়কে বিচ্ছিন্ন করা তাকে কোনোভাবেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে না; কেননা কোনো বিপরীতকে নাকচ করা তার প্রতিপক্ষের কোনো জাতিগত বা অর্থগত গুণ নয়। যদি কোনো ব্যক্তি—উদাহরণস্বরূপ—শুভ্রতা সম্পর্কে না জানে এবং সেটির কোনো ধারণা না রাখে, অথচ সে শুভ্রতা ব্যতীত অন্য সব রঙ সম্পর্কে অবগত থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে অন্যান্য রঙকে নাকচ করে দেওয়া শুভ্রতার ধারণা লাভের জন্য যথেষ্ট হবে না। তবে হ্যাঁ, কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি যদি মনের মধ্যে অন্যান্য অর্থের সাথে সুশৃঙ্খলভাবে বিদ্যমান থাকে এবং সবগুলোর ব্যাপারে পূর্ণ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান অর্জিত হয়, আর নামটিকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, এমতাবস্থায় যদি মানুষ অবশিষ্ট বিষয়গুলোর নাম জেনে ফেলে, তবে এই অবস্থায় বিভাজন পদ্ধতিটি সঠিক নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়। ইনশাআল্লাহ, ইলমের সংজ্ঞা নির্ধারণের আলোচনায় এ বিষয়ে আরও বিশদ ব্যাখ্যা আসবে।
আমরা বর্ণনা করেছি যে, সাধারণ রীতি অনুযায়ী অন্বেষণ প্রক্রিয়া সম্ভব হওয়ার জন্য উদ্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। আর অন্তরে উদ্দিষ্ট বিষয়ের কল্পনা থাকা হলো বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অন্বেষণের ধারণা লাভের শর্ত। পক্ষান্তরে উপাদানসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক বা পদ্ধতিগত—উভয় প্রকারেই সাহায্য নেওয়া যেতে পারে; উসূলে ফিকহ আলোচনার সময় আমরা এ বিষয়ে কথা বলব।
তিনি বলেছেন: (আর এর উদ্দেশ্য হলো যাতে এটি শিক্ষা করার ক্ষেত্রে কিছুটা জ্ঞান বা ধারণা সাথে নিয়েই অগ্রসর হওয়া যায়)। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, কোনো কিছু অন্বেষণ করা সেই উদ্দিষ্ট বস্তুর ধারণার ওপর নির্ভরশীল। যদি প্রশ্ন করা হয় যে: যদি সে বিষয়টি জেনে ফেলে, তবে জ্ঞান অর্জিত হওয়ার পর অন্বেষণের বিষয়টি কীভাবে কল্পনা করা যায়? আমরা বলি: কোনো বিষয়ের সামগ্রিক জ্ঞান লাভ করা বিস্তারিত জ্ঞান... লাভ করার পথে প্রতিবন্ধক নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীক ওয়াল বায়ান ফী শারহিল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
التفصيل، فإن من علم أن الفقه: هو العلم بالأحكام الشرعية، لم يصر بذلك فقيها، وكذلك من علم أن النحو: معرفة جهات كلام العرب، لم يكن بذلك نحويا، وكذلك من علم أن أصول الفقه: أدلته، لم يكن بذلك أصوليا.
ثم قال: (والعلم الذي يحاول الخوض فيه) إلى قوله (وهو مستمد من الكلام والعربية والفقه). اعلم أن أصول الفقه يطلق لقبا، ويطلق مضافا على حد الإضافة. فإذا أطلق لقبا، كان عبارة عن فن من الفنون، مشتمل على جملة معلومات، وهي الأحكام الشرعية، وحقائقها وأقسامها، والمثمر لها، وهي أدلتها، وبيان أقسامها، وشرائط دلالتها، وهي كيفية الاستثمار من الأدلة، من جهة المنظوم والمفهوم، والمعنى المعقول، وعلى من له استنباط الأحكام من الأدلة. فهذا هو العلم المعبر عنه بأصول الفقه.
وإذا أطلق مضافا، كان عبارة عن الأدلة خاصة. وهذا هو الذي أراده
বিস্তারিত বিবরণ হলো, যে ব্যক্তি কেবল এটি জানে যে ফিকহ হলো শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান, সে এর মাধ্যমেই ফকীহ হয়ে যায় না। একইভাবে, যে ব্যক্তি কেবল এটি জানে যে নাহু হলো আরবদের বাকপদ্ধতি সম্পর্কিত জ্ঞান, সে এর মাধ্যমে নাহবী হয়ে যায় না। ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি কেবল এটি জানে যে উসূলে ফিকহ হলো এর দলিলসমূহ, সে এর মাধ্যমে উসূলবিদ হয়ে যায় না।
অতঃপর তিনি বললেন: (এবং সেই জ্ঞান যা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে) তাঁর এই বক্তব্য পর্যন্ত (এবং তা ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা ও ফিকহ থেকে গৃহীত)। জেনে রাখুন যে, 'উসূলে ফিকহ' শব্দটি একটি পারিভাষিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার এটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যখন এটি পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি এমন একটি শাস্ত্রকে বোঝায় যা কতগুলো তথ্যের সমষ্টি; আর সেগুলো হলো—শরয়ী বিধানসমূহ, তাদের প্রকৃত রূপ ও প্রকারভেদ; এবং যা এসব বিধান প্রদান করে অর্থাৎ এর দলিলসমূহ, সেগুলোর প্রকারভেদের বর্ণনা এবং সেগুলোর নির্দেশক হওয়ার শর্তাবলি; আর তা হলো শাব্দিক বিন্যাস, মর্মার্থ ও বুদ্ধিগ্রাহ্য অর্থের দিক থেকে দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি; এবং ওই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা যার দলিল থেকে বিধান উদ্ঘাটন করার যোগ্যতা রয়েছে। এটিই সেই জ্ঞান যাকে 'উসূলে ফিকহ' হিসেবে ব্যক্ত করা হয়।
আর যখন এটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি বিশেষভাবে কেবল দলিলসমূহকে বোঝায়। আর এটিই তিনি উদ্দেশ্য করেছেন।