(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
الجوهرة في نسب النبي وأصحابه العشرة   (محمد البري)

القسم: الأنساب


الكتاب: الجوهرة في نسب النبي وأصحابه العشرة

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن عبد الله بن موسى الأنصاري التِّلمساني المعروف بالبُرِّي (ت بعد 645هـ)

نقحها وعلق عليها: د محمد التونجي، الأستاذ بجامعة حلب

الناشر: دار الرفاعي للنشر والطباعة والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী এবং তাঁর দশজন সাহাবীর বংশপরিচয়ের রত্নভাণ্ডার   (মুহাম্মদ আল-বেররি)

বিভাগ: বংশলতিকা শাস্ত্র


গ্রন্থ: নবী এবং তাঁর দশজন সাহাবীর বংশপরিচয়ের রত্নভাণ্ডার

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আনসারি আল-তিলমিসানি, যিনি আল-বেররি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৫ হিজরির পরে)

পরিমার্জন ও টীকা প্রদান করেছেন: ড. মুহাম্মদ আল-তুনজি, আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

প্রকাশক: দার আল-রিফাই প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المؤلف

… وتكادُ أن تقترف ما يُردها من المآثم لما ترى من إباحة العقل المحظور فيه ليلا ونهارا، وُمعاطاة … في الدُّور في السواق جهازا. فجمعت جزءا كبير النفع، صغير الجرم. وعلمت أن … ما كنتم … العلم يبوء كاتمة بموبقات الإثم، لقول سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم المصطفى المختار: " مَن بَخل عن علم يعلمه فكتمه ألجم بيوم القيامة بلجام من نار. وما ينفع من العلم لا يحلُّ منعهُ. وما كلُّ علم ينبغي … يحب ظهوره وجمعه ".

وتمَّ الجزء بِمَنُورْقَةَ وكمل، وبه طالبه ابتهج وعليه اشتمل … لنفسي، ليكثر بها في وحشة الأسر أنسى. والزمت نفسي حمد الله وشكره، " ورفعتُ " بجلاله ذكره، على ما يسَّر فيه من ذكر مناقب أحرزها خيرته من عباده الصَّفوة.... فيما يرضي بها والقدوة، المظهرون دينه بنفوس بذلت جهدها في جهد أعدائه " المفضَّلين " في أرضه وسمائه ولم أقدر على تفصُّح ما ألَّفتُ لأصلح ما وقع فيه م غلظ " لما كان " يشغلني عنه في الأسر من ذل وامتحان، فلوا أتيت فيه خطابة قُسًّ وبيان " … " بن صُوحان لأخرس رعبه عن وضع كلمة مع أخرى لساني وأحال عن....

فلمَّا منَّ الله تعالى بفكِّ أسرى من يد العدوِّ، وصرت بعد الخوف " بهُدوٍّ " على يدي رئيس قرشيٍّ همام، أكرم به للمآثر من إمام، يحكمُ بالعدل … يقظان للحقِّ " … " غير نائم، ولا يخاف في الله لائم، وهو النَّقابُ الحبر.... أبو عثمان سعيد بن الوزير الأجَلِّ، الأروع، الأزهد، الأتقى، المقدس، المرحوم،.... عمر بن حكم، حرس الله به " مَنُرْقةَ " وحماها، وضاعف ببركته فيها الخيرات وأنماها، " بِرّاً ". ظاهرا ونور عدله في آفاقها زاهرا:

" هو " الهُمامُ الأوحدُ الأسعدُ … سعيدٌ الزاكي العُلا الأمجدُ

" ليس " له في مَجْدِه مُشْبِهٌ … إذْ طابَ منه الفرعُ والمحتِدُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

... এবং তা প্রায় এমন সব পাপকর্মে লিপ্ত হতে চলেছে যা তাকে ধ্বংস করে দেবে, কারণ সে দিন-রাত নিষিদ্ধ বিষয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক অবাধ স্বাধীনতা এবং ঘরবাড়ি ও বাজারে প্রকাশ্যে ... চর্চা দেখতে পাচ্ছে। তাই আমি একটি পুস্তিকা সংকলন করেছি যা অত্যন্ত উপকারী কিন্তু আয়তনে ক্ষুদ্র। এবং আমি জেনেছি যে ... যা তোমরা ... ইলম গোপনকারী ব্যক্তি ধ্বংসাত্মক পাপের বোঝা বহন করবে; কেননা আমাদের নেতা মনোনীত ও নির্বাচিত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার জানা কোনো ইলম নিয়ে কৃপণতা করে তা গোপন রাখে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে। আর উপকারী জ্ঞানকে বাধা দেওয়া বৈধ নয়। তবে সব ইলমই যে ... প্রকাশ করা এবং সংকলন করা বাঞ্ছনীয় তাও নয়।"

এই পুস্তিকাটি মেনোর্কাতে সমাপ্ত ও পূর্ণ হয়েছে, এর মাধ্যমে এর অন্বেষণকারী আনন্দিত হয়েছে এবং এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে ... আমার নিজের জন্য, যাতে বন্দী জীবনের একাকীত্বের বিভীষিকায় আমার মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। এবং আমি আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছি, এবং তাঁর মহিমা দ্বারা তাঁর স্মরণকে "উচ্চে তুলেছি", যেহেতু তিনি আল্লাহর মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ বান্দাদের সেই সব গুণাবলী উল্লেখ করা সহজ করে দিয়েছেন যা তাঁরা অর্জন করেছিলেন... যা সন্তোষজনক এবং অনুসরণযোগ্য। তাঁরাই আল্লাহর দ্বীনকে সেই সব প্রাণের বিনিময়ে প্রকাশ করেছেন যারা তাঁর যমীনে ও আসমানে তাঁর "মর্যাদাপ্রাপ্ত" শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে নিজেদের সর্বশক্তি ব্যয় করেছেন। আর আমি যা রচনা করেছি তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে সক্ষম হইনি যাতে সেখানে থাকা ভাষাগত ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে পারি; কারণ বন্দিদশার লাঞ্ছনা ও পরীক্ষা "যেহেতু" আমাকে তা থেকে বিমুখ রেখেছিল। যদি আমি এতে কুস-এর বাগ্মিতা এবং ... বিন সুহানের বর্ণনাভঙ্গিও নিয়ে আসতাম, তবুও এই দুরবস্থার আতঙ্ক আমার জিহ্বাকে একটি শব্দের সাথে অন্য শব্দ জুড়ে দিতে অক্ষম করে দিত এবং ফিরিয়ে নিত...

অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা শত্রুর হাত থেকে আমার বন্দিমুক্তি দিয়ে অনুগ্রহ করলেন এবং ভয়ের পর আমি "প্রশান্তি" লাভ করলাম একজন মহান কুরাইশ নেতার মাধ্যমে—যিনি কীর্তিগাথায় অত্যন্ত সম্মানিত এক ইমাম, যিনি ইনসাফের সাথে শাসন করেন ... হকের ব্যাপারে সদাসতর্ক " ... " কভু নিদ্রামগ্ন নন, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না; আর তিনি হলেন গভীর প্রজ্ঞাবান ও পণ্ডিত... আবু উসমান সাঈদ ইবনুল উজির আল-আজাল, আল-আরওয়া', আল-আজহাদ, আল-আতকা, আল-মুকাদ্দাস, আল-মারহুম... উমর ইবনে হাকাম। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে "মেনোর্কাকে" হেফাজত করুন এবং একে রক্ষা করুন, আর তাঁর বরকতে সেখানে কল্যাণসমূহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিন এবং বিকশিত করুন "এক পুণ্য হিসেবে"। তাঁর প্রকাশ্য ও ইনসাফের নূর দিগন্তজুড়ে উদ্ভাসিত হোক:

"তিনি" সেই অনন্য ও পরম সৌভাগ্যবান বীর ... পবিত্র, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও অতি সম্মানিত সাঈদ।

"তাঁর" গৌরবে সমকক্ষ কেউ "নেই" ... যেহেতু তাঁর বংশের শাখা ও মূল উভয়ই পবিত্র।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
" يؤمُّهُ خيرُ الورى منهمُ … خيرُ الهُداةِ المُجتَبَي أحمدُ

" لا " كأبي عثمانَ في مَنْسَبٍ … به أحاطَ الفخرُ والسؤدَدُ

" سامٍ " رشيدُ القولِ ذو هِمَّةٍ … على السَّماكينِ لها مَقْعَدُ

في يدِهِ اليُمنى مَنالُ المُنَى … وفي اليسار واليُسْرُ والأَسعُدُ

لقد خلا المأمونُ من حاسدٍ … ومثلُهُ في فضلهِ يُحسَدُ

" صحَّحتُ " مختبرا، ما علقت لنفسي منه، فوجدت فيه مواضع للنَّقد غير محكمة....، إذ متن غذ ذاك ربَّ خاطر مُقسَّم، حالف الخبال، وعقل عقل فأفسد الخيال.... عدوانه، ولا أفهم ما نقما....

.... بهيمة غررا، واتَّسقت آيات أخباره، سورا. وزدت فيها زيادات حبَّرته، وللناظر كالرَّوض أظهرته. فجاء بها رائق المعاني، محكم الرَّصف والماني، إذا تصفَّحه الأريب اللَّحن اتخذه " قريرا "، وان له على فتح ما استغلق من نسب عدنانيٍّ ظهيرا، إذ جمع ما كان في جاهلية وإسلام.... عن هداة أعلام، من عبد المطلب أبي حارث حامل لواء الفخر، شيبة " الحمد ذي " السُّؤدد والمجد، أعظم بعبد المطلب الذي أوتي ذكرانا وإناثنا، طاب خيمهم " في " المشارق والمغارب، المبارك زرعهم، ورفع في العالم العُلويِّ والسُّفليِّ ذكرهم.... إلى الله بإذنه الشاهد، البشير، النذير. وذكرت أمهات رسول الله صلى الله عليه " وسلم ".... النَّجار عن السَّفاح، من عبد الله أبيه إلى مضر المطهَّر بالإسلام، المبقى بعد … الدائمة والأحلام.

وذكرت من ولد من آبائه وإخوتهم قبائل اشتركوا معه.... منه بالقرابة والسَّبب. ففيهم هداة من الصحابة مشهورون، ونجباء في " الجاهلية " مذكرون، لا يجهل قدرهم، ولا يغيض فخرهم، ذكرا شافيا، قطع فيه أل.... الإعراض. فالمعرض عنه شُعوبيٌّ يبغض العرب لشقائه، والله معرض عنه يوم.... منه بعون
সৃষ্টির সেরা ব্যক্তি তাদের ইমামতি করেন … পথপ্রদর্শকদের শ্রেষ্ঠ মনোনীত আহমদ।

বংশমর্যাদায় আবু উসমানের মতো "কেউ নেই" … গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁকে পরিবেষ্টন করে আছে।

সুউচ্চ, "সত্যনিষ্ঠ" বাক্যের অধিকারী ও হিম্মতসম্পন্ন … আসমানের দুই নক্ষত্রের উপর যার আসন।

তাঁর ডান হাতে আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের প্রাপ্তি … এবং বাম হাতে প্রাচুর্য ও সৌভাগ্য।

মামুন হিংসুক থেকে মুক্ত ছিলেন … অথচ তাঁর মতো শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীর প্রতিই হিংসা করা হয়।

আমি পরীক্ষামূলকভাবে "সংশোধন করেছি" যা আমি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছিলাম, কিন্তু তাতে আমি অসংলগ্ন ও সমালোচনার যোগ্য কিছু স্থান পেয়েছি... কেননা সেই সময়ে চিন্তা ছিল বিক্ষিপ্ত, অস্থিরতা ছিল সঙ্গী এবং বুদ্ধি আচ্ছন্ন থাকায় কল্পনা কলুষিত হয়েছিল... তার শত্রুতা, আর তারা কিসের নিন্দা করেছে আমি তা বুঝতে পারছি না...

...উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর সংবাদের আয়াতগুলো সূরার ন্যায় সুবিন্যস্ত হয়েছে। আমি এতে এমন কিছু পরিবর্ধন করেছি যা একে অলঙ্কৃত করেছে এবং পাঠকের সামনে একটি উদ্যানের মতো উপস্থাপন করেছে। ফলে এটি চমৎকার অর্থবহ এবং সুসংহত বিন্যাস ও কাঠামোতে সমৃদ্ধ হয়েছে। যখন কোনো তীক্ষ্ণধী ব্যক্তি এটি পাঠ করবেন, তখন তিনি একে "চক্ষুশীতলকারী" হিসেবে গ্রহণ করবেন। আদনানী বংশের যে বিষয়গুলো অস্পষ্ট ছিল, তা উন্মোচনে এটি সহায়ক হবে। কেননা এটি জাহেলিয়াত ও ইসলামের বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে... প্রখ্যাত পথপ্রদর্শকদের বর্ণনা থেকে; যেমন গৌরবের পতাকাবাহী হারিসের পিতা আবদুল মুত্তালিব, যিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের অধিকারী "শায়বাতুল হামদ"। আবদুল মুত্তালিব কতই না মহান, যাকে পুত্র ও কন্যা সন্তান দান করা হয়েছিল। পূর্ব ও পশ্চিমে তাদের স্বভাব-চরিত্র "পবিত্র" হয়েছে, তাদের বংশধররা বরকতময় হয়েছে এবং ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতে তাদের খ্যাতি সমুন্নত হয়েছে... আল্লাহর নির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী, সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী পর্যন্ত। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাতাদের কথা উল্লেখ করেছি... নাজ্জার বংশের শুদ্ধতা হতে, তাঁর পিতা আবদুল্লাহ থেকে শুরু করে ইসলামের মাধ্যমে পবিত্র মুদার পর্যন্ত, যিনি নিরন্তর গাম্ভীর্য ও সহনশীলতার প্রতিভূ ছিলেন।

আমি তাঁর পিতৃপুরুষ ও তাঁদের ভাইদের বংশধরদের কথা উল্লেখ করেছি যারা তাঁর সাথে আত্মীয়তা ও সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রখ্যাত সাহাবী পথপ্রদর্শকগণ রয়েছেন এবং "জাহেলিয়াত" যুগেও যারা শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্মরণীয় ছিলেন। তাঁদের মর্যাদা কারো অজানা নয় এবং তাঁদের গৌরব কখনও ম্লান হবে না। আমি এমন এক নিরাময়কারী বর্ণনা দিয়েছি যা বিমুখতার সকল পথ রুদ্ধ করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ থেকে বিমুখ হবে, সে একজন বর্ণবাদী, যে নিজের দুর্ভাগ্যের কারণে আরবদের ঘৃণা করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার থেকে বিমুখ হবেন... আল্লাহর সাহায্যে।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الله المراد، وتسَّير عرفانه المستجاد، وحسن تلاوة فعندئذ سما.... أن أهديه إلى جلال الرئيس السيد، الهمام، الأوحد، الأمجد، أبي عثمان المذكور.... وأدام لنصر الدين الحنيفيِّ أيامه الذي جَلَّى أجياد العلم بعدما ألفت العرور كلِّ مجعجع وبطل. من بذَّ الملوك عدله وسماحه، وجلَّ في مرضاته.....

خيرُ مليكٍ مَلكَ المكْرُماتْ … كما زَكا نفساً وقدراً و " ذاتْ "

أعرقَ في المجدِ لهُ مَحتِدٌ … سَمتْ مَعاليهِ على النيِّراتْ

أعظِمْ به من قُرشيٍ رِضىٍ … له كما لاحتْ ذُكاءٌ " هباتْ "

ربَّ ذَكاءٍ كم جَلا مُشْكلاً … وكم به أوضحَ مِن " مُبْهماتْ "

وذو يمينٍ عزُّها قائمٌ … إذْ شأنُها المحمودُ بذلُ " الصَّلاتْ "

في لَثْمِها العَوزُ بنَيلِ المُنَى … والعملُ الهادي إلى " الصَّالحاتْ "

أعلى بهِ اللهُ مَثارَ الهُدى … وَخَّصهُ بالفضل " والمأْثُراتْ "

ومحرز المناقب الشريفة والفضائل، المنعم لعفاته بعميم النائل، مربي....، الفائز بالعزَّين من مجد القلم والعامل، والمعرق في المكارم القرشية، المحابي بالمعارف.... مظهر السُّن والفرض، ومن أقرض الله أحسن القرض، ذو العقل السديد............. عنانه، ويبهر بيانه.... وشكره، وعطَّل عنبر الشجر في مجالس الأمراء ذكره. مقامه الكريم مؤهَّل لنشر العلم والقريحة، ملأت أحاديثه الحسنة المطربة الآفاق، حتى استقرَّت في أمِّ القرى. حفظه الله من الغير ووقاه، ولحياطة هذه الجزيرة وفتح أختيها أبقاه، وأورثه أرض العدوَّ بهما وديارهم، ومحا بعواليه النافذة وقواضبه الماضية آجالهم وآثارهم، وأمدَّه بمعنونته ونصره، وأجرى المقادير مطيعة عالي أمره:

هوَ الهُمامُ الأمجدُ أبْن الهُمامْ … عن شِرعةِ الدينِ غَدا خَيرَ حامْ

القُرشِيُّ المُجْتَبي للعُلى … إذ قَومُه الصَّيدُ السَّراةُ الكِرامْ
আল্লাহই অভিষ্ট লক্ষ্য, এবং তাঁর সুপ্রশংসিত পরিচিতি লাভ সহজসাধ্য হয়েছে, আর সুন্দর তিলাওয়াত তখন উচ্চকিত হলো... আমি এটি উপহার দিচ্ছি মহান প্রধান, সর্দার, বীরবর, অদ্বিতীয়, অতি সম্মানিত, উল্লিখিত আবু উসমানের প্রতি... আল্লাহ হানিফি দ্বীনের সাহায্যের জন্য তাঁর দিনগুলোকে প্রলম্বিত করুন, যিনি ইলমের গরিমাকে সমুজ্জ্বল করেছেন যখন অজ্ঞতা প্রতিটি অসার বাগাড়ম্বরকারী ও নামধারী বীরকে গ্রাস করেছিল। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর ন্যায়বিচার ও বদান্যতা অন্য রাজাদের অতিক্রম করেছে এবং যাঁর সন্তুষ্টির মহিমা বৃদ্ধি পেয়েছে...

তিনিই শ্রেষ্ঠ অধিপতি যিনি মহৎ গুণাবলির অধিকারী হয়েছেন … যেমন তিনি আত্মা, মর্যাদা ও "সত্তা"র দিক থেকে পবিত্র হয়েছেন।

গৌরব ও মর্যাদায় তাঁর বংশমূল অতি সুপ্রাচীন … তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নক্ষত্ররাজির ঊর্ধ্বে সমুন্নত হয়েছে।

কতই না মহান এই সন্তুষ্ট কুরাইশী ব্যক্তিত্ব … তাঁর জন্য সূর্যের মতো উজ্জ্বল "দানসমূহ" রয়েছে।

কতই না তীক্ষ্ণ মেধা যা কত জটিল রহস্যের জট খুলেছে … আর তাঁর মাধ্যমে কত "অস্পষ্ট বিষয়" স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি এক শক্তিশালী ডান হাতের অধিকারী যার প্রতাপ সুপ্রতিষ্ঠিত … কারণ "উপহার ও অনুদান" প্রদানই তাঁর প্রশংসিত বৈশিষ্ট্য।

তা চুম্বন করার আকাঙ্ক্ষায় অভাবীদের আশা পূর্ণ হয় … আর তা এমন আমল যা "নেক কাজের" দিকে পথ দেখায়।

আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে হেদায়েতের মিনারকে উচ্চ করেছেন … এবং তাঁকে মর্যাদা ও "স্মরণীয় শ্রেষ্ঠত্ব" দিয়ে বিশেষিত করেছেন।

তিনি উচ্চমর্যাদা ও মহৎ গুণাবলির অধিকারী, স্বীয় কৃপাপ্রার্থীদের ওপর অকৃপণ দানকারী, লালনপালনকারী..., কলম ও কর্মের গৌরব হতে দ্বৈত সম্মানে ভূষিত, কুরাইশী আভিজাত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক... সুন্নাত ও ফরজের বিধান প্রকাশকারী, এবং যিনি আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করেছেন, সুদৃঢ় বুদ্ধির অধিকারী... তাঁর লাগাম, এবং তাঁর বাগ্মিতা মানুষকে অভিভূত করে... তাঁর কৃতজ্ঞতা এবং উমারাদের মজলিসে তাঁর আলোচনা বৃক্ষের আম্বরকেও ম্লান করে দিয়েছে। তাঁর সম্মানিত অবস্থান ইলম ও মেধা প্রসারের উপযুক্ত ক্ষেত্র, তাঁর চিত্তাকর্ষক সুন্দর আলোচনা দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি তা উম্মুল কুরায় (মক্কায়) গিয়ে স্থির হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে বিবর্তন ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন এবং হেফাযত করুন। এই উপদ্বীপের সুরক্ষা ও এর অবশিষ্ট দুই ভূখণ্ডের বিজয়ের জন্য তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন। তাঁকে শত্রুদের ভূমি ও তাদের আবাসস্থলের উত্তরাধিকার দান করুন এবং তাঁর সুতীক্ষ্ণ বর্শা ও ধারালো তরবারির আঘাতে তাদের আয়ু ও চিহ্নসমূহ মুছে দিন। তাঁকে তাঁর সাহায্য ও বিজয় দিয়ে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর উচ্চ আদেশের অনুগত করে তকদিরকে পরিচালিত করুন:

তিনিই সেই মহিমান্বিত বীর, বীরের তনয় … দ্বীনের শরীয়তের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ রক্ষক।

তিনি আভিজাত্যের জন্য মনোনীত সেই কুরাইশী … যাঁর সম্প্রদায় হলো সাহসী, নেতৃস্থানীয় ও অতি সম্মানিত।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فخرُهم بالمصطفى أحمدٍ … المرْسَلِ المختارِ خيرِ الأنامْ

مَن قادَ بالمعْجِزِ مِن قَولهِ … إلى رضى اللهِ ودارِ السلامْ

صلَّى عليهِ اللهُ ما أَشرقَتْ … زُهْرٌ، وما انْهلَّتْ عَزاليُّ الغَمام

فأَيُ فخرٍ قد سَما في السَّما … واتِ العُلى! فَنَيلُهُ لا يُرامْ

هذا الذي يُعْزَى سعيدٌ له … أَعنى الرئيسَ الأوْحَدِيَّ الهُمامْ

مَن عَزْمُه أَوضحَ سُبْلَ الهُدَى … تَمْحَقُ بالنُّورِ دَآدي الظّلامْ

بالعدلِ في الحُكمِ بدا مُغْرَماً … إنْ غَيرُهُ بالجَور أبدى الغَرامْ

نورُ التُّقى من قلبهِ مُشرِقٌ … إذ لم يُدنَّس باكتسابِ الأَثامْ

ما رُئيفي الأملاكِ مثْلٌ لهُ … في كلِّ ما يَفعلْهُ لا يُذامْ

على الذي يَرضَى به ربُّه … له مساءاً وصباحاً مُقامْ

ومَجدُه مِن قِدَمٍ راسخٍ … حيث تَبدَّى زَمزَمٌ والمَقَامْ

يَمنْحُ إحساناً ليَبْقَى لهُ … ذُخراً ليومٍ جلَّ فيهِ القِيامْ

يَبْهَرُ أربابَ النُّهى لفظُهُ … بَعْجِزٍ من نَثرِهِ أو نظامْ

أفهامُنا تَنْبو عن إدراكهِ … عَجزاً، كما يَنْبو الحُسامُ الكَهامُ

وخطُّهُ الباهِرُ دَأباً له … بأَبدعِ الحُسنِ أَشَدُّ التِئامْ
তাদের গৌরব মনোনীত আহমাদ মুস্তফাকে নিয়ে … যিনি প্রেরিত রাসূল এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জন।

যিনি স্বীয় বাণীর মুজিযার মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন … আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শান্তির আলয়ের (জান্নাত) পানে।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি উদিত হয় … এবং যতক্ষণ মেঘমালা হতে বারিধারা বর্ষিত হয়।

কতই না সুমহান সেই গৌরব যা উচ্চাকাশে আরোহণ করেছে! … যা অর্জন করা সাধারণের সাধ্যাতীত।

ইনিই তিনি যাঁকে সাঈদ নিজের বলে পরিচয় দেন … আমি সেই অনন্য ও অকুতোভয় মহান নেতাকে বোঝাচ্ছি।

যাঁর দৃঢ় সংকল্প হিদায়াতের পথসমূহকে সুস্পষ্ট করেছে … যা আপন নূরের মাধ্যমে ঘন অন্ধকারকে দূরীভূত করে।

শাসনকার্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি অনুরাগী হয়েছেন … যখন অন্যেরা অন্যায়ের প্রতি আসক্তি প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্তর থেকে তাকওয়ার নূর বিচ্ছুরিত হয় … যেহেতু তা কোনো পাপের পঙ্কিলতায় কলুষিত হয়নি।

রাজন্যবর্গের মাঝে তাঁর সদৃশ কাউকে দেখা যায়নি … তাঁর কোনো কর্মেই তিনি নিন্দিত নন।

যাতে তাঁর রব সন্তুষ্ট হন, তার ওপরই … সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সুদৃঢ় অবস্থান।

তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অনাদিকাল থেকেই সুদৃঢ় … যেথায় যমযম ও মাকামে ইব্রাহীম প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ইহসান ও অনুগ্রহ বিলিয়ে দেন যেন তা তাঁর জন্য সঞ্চিত থাকে … সেই দিবসের পাথেয় হিসেবে যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে।

তাঁর শব্দশৈলী প্রজ্ঞাবানদের স্তম্ভিত করে দেয় … চাই তা গদ্যের বিস্ময়কর শৈলী হোক কিংবা পদ্যের।

আমাদের বোধশক্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে অপারগ … ঠিক যেমন ভোঁতা তরবারি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়।

তাঁর চমৎকার লেখনশৈলী নিরন্তর … অপূর্ব সৌন্দর্য ও সুনিপুণ সামঞ্জস্যে পূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عَدْلٌ رِضيً في الحُكمِ بَرٌّ له … بطاعةِ اللهِ اَجلٌّ اعتصامْ

حَوى سَدادَ الرأيِ في مَوطِنٍ … بسعدِه أرجاؤه لا تُضامْ

للهِ ثَغرٌ حاطَةُ سَعدُهُ … وجأشُ قلبٍ يَقِظٍ لا يَينامْ

يَفْعَلُ في يوم الوغي بأسُه … أضعافَ ما يَفْغلُ جيشٌ لُهامْ

أَرْوعُ يُحْبي الرَّوعَ أعداؤهُ … وعزمة تَجْلو الخطوبَ العظامْ

فدامَ مَحْميَّ الحِمَى ظافراً … وللعِدى لا زالَ دَأباً سِمامْ

ومثله أيده الله من بالقبول وصله، ولاستحسانه والاشتمال كما هو أهله أهَّله. إذ حلَّ عند من علم، مذ نشأ، مقداره وحقَّه. وجعل إلى تشييد معالمه الكريمة تقدُّمه وسبقه، ونشر ما طواه من غلبت شهوات الدنيا على عقله. ولم يشغل نفسه باستماع آي رشده ونقله، فإنه يروق العيون اطَّلاعه، ويستحسن غاية الاستحسان استماعه، ينتفع به الناشئ والشَّادي، ويزدان به النادي، ويقول بفضله الحاضر والبادي، وكيف لا يكون ذلك كذلك وفيه ذكر أبرار، ذكرهم يرضي الرحمن، ويرغم الشيطان؟ بهم قام دين الله وظهر، وانتشر في الآفاق واشتهر، أزكياء عدول، ما لهم عن الحقِّ عدول. فهو بحمد الله تأليف صحَّت من الصحائح آثاره، وطابت بالانتخاب من كتب التواريخ أخباره، وما اطَّلع على ما حواه من فقيه سنِّي لحن، أو عارف أديب، أريب فطن، بان له صحة ما أقول، والحق لا تنكره العقول:

للهِ دَرُّ مُنصفٍ الحسدْ! … فهْوَ مُبيرٌ للأُجورِ والجسدْ

والحقُّ خيرُ مَنْهَج يُتَّبعُ … به الإلهُ الدَّرجاتِ يرفعُ

والكذب المكروهُ شَرُّ خَلَّةْ … تولي الذي بها يَدينُ ذِلَّهْ

وهانَ في الناسِ امرؤ كذابُ … كأنَّهُ ما بيْنَهُم ذُبابُ
বিচারে তিনি ন্যায়পরায়ণ ও সন্তোষজনক, মহান আল্লাহর আনুগত্যই তাঁর সর্বোত্তম আশ্রয়।

তিনি সংকটময় স্থানেও সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী, তাঁর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় কোনো দিকই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

আল্লাহর কসম, এমন এক সীমান্ত যাকে তাঁর সৌভাগ্য ঘিরে রেখেছে, আর এক জাগ্রত হৃদয়ের সাহস যা কখনও তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় না।

যুদ্ধের দিনে তাঁর বীরত্ব যা করে, তা এক বিশাল বাহিনীর কর্মের চেয়েও বহুগুণ বেশি।

তিনি এক বিস্ময়কর বীর যাকে দেখে তাঁর শত্রুরা ভীত হয়, আর তাঁর সংকল্প মহান বিপদসমূহকে দূরীভূত করে।

সুতরাং তাঁর সংরক্ষিত ভূখণ্ড চিরকাল বিজয়ী থাকুক, আর শত্রুদের জন্য তিনি সর্বদা বিষস্বরূপ হয়ে থাকুন।

আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন, তার ন্যায় ব্যক্তিই একে কবুল করেছেন এবং এর উৎকর্ষ সাধনের জন্য তিনি তাকে উপযুক্ত করেছেন যেমনটি তার প্রাপ্য। শৈশব থেকেই এর মর্যাদা ও হকের বিষয়ে অবগত ব্যক্তির নিকট যখন এটি পৌঁছেছে, তিনি এর মহান নিদর্শনসমূহকে সুদৃঢ় করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দুনিয়াবি লালসা যাদের বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তাদের নিকট যা অস্পষ্ট ছিল, তিনি তা প্রকাশ করেছেন। তিনি হিদায়াতের বাণী ও বর্ণনা শ্রবণে বিমুখ হননি। এর দর্শন যেমন নয়নজুড়ানো, তেমনি এর শ্রবণও অত্যন্ত চমৎকার। এর দ্বারা শিক্ষার্থী ও গবেষকগণ উপকৃত হয়, সভা-মজলিস সুশোভিত হয় এবং উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলে এর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেয়। আর কেনই বা তা হবে না, যখন এতে পুণ্যবানদের কথা বর্ণিত হয়েছে, যাদের স্মরণে পরম করুণাময় সন্তুষ্ট হন এবং শয়তান লাঞ্ছিত হয়? তাদের মাধ্যমেই আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশমান হয়েছে এবং দিগন্তজুড়ে সুখ্যাতি লাভ করেছে। তারা অত্যন্ত পবিত্র ও ন্যায়পরায়ণ, সত্য থেকে তাদের কোনো বিচ্যুতি নেই। আল্লাহর প্রশংসায়, এটি এমন এক সংকলন যার তথ্যাদি বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত এবং এর ইতিহাসসমূহ সংগৃহীত হয়েছে প্রামাণ্য গ্রন্থাবলি থেকে। কোনো সুন্নী ফকীহ, বিজ্ঞ সাহিত্যিক বা বিচক্ষণ ব্যক্তি যখনই এর বিষয়বস্তু পাঠ করবেন, তখন তাঁর নিকট আমার বক্তব্যের সত্যতা প্রকাশ পাবে। আর সত্যকে সুস্থ বিবেক অস্বীকার করে না:

সেই ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য অনেক প্রশংসা যে হিংসাকে ত্যাগ করে! … কারণ তা আমল ও শরীর উভয়কেই ধ্বংস করে দেয়।

সত্যই অনুসরণের জন্য সর্বোত্তম পথ, … যার মাধ্যমে ইলাহ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

ঘৃণিত মিথ্যাচার হলো নিকৃষ্টতম স্বভাব, … যা তার ধারককে লাঞ্ছনার দিকে নিয়ে যায়।

মানুষের নিকট মিথ্যাবাদী ব্যক্তি অত্যন্ত তুচ্ছ, … যেন সে তাদের মাঝে একটি মাছির ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وصاحبُ الحقِّ عزيزٌ مُكرَمُ … في كلِّ نادٍ قَدرُه يُعظَّمُ

يا ربَّنا ارْزقْنا لهُ اتِّباعا … واجعل لنا بفضلهِ انتفاعا

وهذا التأليف أهل لخزانة هذا السيَّد الرئيس الأرضي، أعزَّ الله به الدِّين وأعلاه، وخير ما أولي عباده الصالحين أولاه، فإنه رضي اله عنه، جلب إليها من العلوم الينِّية والمعارف التاريخية والأدبية أعلاقا، وفتح منها بتصحيحه وتنقيحه أغلاقا، تعجز عمَّا حوته المدرسة النظامية ببغداد، وتنيل في الدارين المأمول لمن بمعارفها لاذ. ولم أر ملكا سنيا سواه إلى محلِّه يهدي، لمَّا منحه الله السُّلوك على الطريق الأهدى. يدأب ليله ونهاره في سنَّة يحيها، ومكرمة يعليها. ولا يزال بين يديه الكريمتين كتاب علم نافع يصلح خلله، وينشر بالرَّقم الرائق حلله، ويوضح ما أشكل منه بنقده الصحيح، وعرفانه المنتخب الصَّريح. لا يشغله عنه، رضي الله عنه، إلا نظر صالح عضد بالاجتهاد لحياطة هذا الثَّغر بأعمِّ الاستعداد، وقاه الله بحمايته وحاطه، وقرن الأمن به وناطه.

والحمد لله الذي أنعم بالإيواء إلى العالي الكريم مقامه ونفع صنفنا بالمفيدين من عرفانه وإنعامه. وأبقى الله مقامه محروسا، هامي الجدا نعمة على الأولياء، نقمة على العدى بمنِّه:

أياربِّ حُطْ مَغْناهُ بالْحِفظِ والسَّعدِ … وسوَّغهُ من نُعماكَ أفضلَ ما تُسْدي

فما زالَ دأباً في رضاكَ بجدةِّ … يقومُ مقامَ الصالحينَ أُلي الرُّشدِ

ونِلنا به أمناً ويُمناً وأنعُماً بها … نحنُ يا ذا العرشِ في عيشةٍ رغْدِ

وذاك بتوفيقٍ له منكَ قادَه … إلى ما بهِ تَرضى من الشكرِ والحمدِ

وجمعت هذا التأليف، وانتخبته، وانتقيته، وهذَّبته من: موطَّأ مالك،
সত্যের অধিকারী শক্তিশালী ও সম্মানিত … প্রতিটি মজলিসে তাঁর মর্যাদা মহিমান্বিত হয়।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের তাঁর অনুসরণের তৌফিক দান করুন … এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের উপকৃত করুন।

এই রচনাটি এই বরেণ্য পার্থিব নেতার গ্রন্থাগারের যোগ্য, আল্লাহ যাঁর মাধ্যমে দীনকে শক্তিশালী ও সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর নেক বান্দাদের প্রতি তিনি যে সর্বোত্তম অনুগ্রহ করেন, তা তাঁকে দান করেছেন। কেননা তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), এতে ধর্মীয় জ্ঞান এবং ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক জ্ঞানরাজি সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁর সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে এর রুদ্ধদ্বারসমূহ উন্মুক্ত করেছেন, যা বাগদাদের নিজামিয়া মাদরাসায় যা রয়েছে তাকেও হার মানায় এবং যে ব্যক্তি এর জ্ঞানরাজির আশ্রয় গ্রহণ করে, তাকে উভয় জগতের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। আমি তাঁর মতো আর কোনো উচ্চমর্যাদাশীল বাদশাহকে দেখিনি যিনি তাঁর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে এমনভাবে পথ প্রদর্শন করেন, যেহেতু আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম পথে চলার তাওফিক দান করেছেন। তিনি দিনরাত কোনো সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং কোনো মহৎ কাজকে সমুন্নত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। সর্বদা তাঁর দুই সম্মানিত হাতের সামনে কোনো না কোনো উপকারী ইলমি কিতাব থাকে, যার ত্রুটি তিনি সংশোধন করেন এবং সুন্দর হস্তাক্ষরের মাধ্যমে তার সৌন্দর্য বিকশিত করেন; আর তাঁর সঠিক সমালোচনা ও সুস্পষ্ট নির্বাচিত প্রজ্ঞা দ্বারা তার অস্পষ্ট বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। জনকল্যাণমূলক চিন্তা ব্যতীত অন্য কোনো কাজ তাঁকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এ থেকে বিচ্যুত করে না, যা এই সীমান্ত এলাকা রক্ষার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতির সাথে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুদৃঢ়। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সুরক্ষায় রক্ষা করুন ও পরিবেষ্টিত রাখুন এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে তাঁর সাথে যুক্ত ও সংশ্লিষ্ট রাখুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই সুউচ্চ ও সম্মানিত অবস্থানে আশ্রয়ের অনুগ্রহ দান করেছেন এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের শ্রেণীকে উপকৃত করেছেন। আল্লাহ তাঁর অবস্থানকে সুরক্ষিত রাখুন এবং তাঁর দানকে বন্ধুদের জন্য নেয়ামত ও শত্রুদের জন্য শাস্তিস্বরূপ তাঁর অনুগ্রহে অব্যাহত রাখুন:

হে প্রভু! তাঁর আবাসস্থলকে সুরক্ষা ও সৌভাগ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত রাখুন … এবং আপনার নেয়ামতসমূহ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম যা দান করেন তা আস্বাদন করান।

তিনি সর্বদা আপনার সন্তুষ্টি অর্জনে নিষ্ঠার সাথে ব্রতী আছেন … এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত সৎকর্মশীলদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

আমরা তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা, কল্যাণ ও এমন সব নেয়ামত লাভ করেছি যার ফলে … হে আরশের অধিপতি! আমরা এক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন অতিবাহিত করছি।

আর তা আপনার পক্ষ থেকে দেওয়া এমন এক তৌফিক যা তাঁকে পরিচালিত করেছে … কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার মাধ্যমে আপনার সন্তুষ্টির দিকে।

আমি এই সংকলনটি প্রস্তুত করেছি এবং তা চয়ন, নির্বাচন ও পরিমার্জন করেছি ইমাম মালিকের মুয়াত্তা থেকে:
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وصحيحي البخاري ومسلم، ومسند الترمذيِّ وكتاب الشمائل له، وكتاب سنن النسائي، والمنتقي لابن الجارود، وتاريخ الطبري وسنن أبي داود، وكتاب الاستيعاب لابن عبد البر، وكتابي التقصِّي والإنباه له، والسِّير لابن إسحاق، وكتاب الأسامي والكنى لمسلم بن الحجاج، وكتاب رياضة المتعلمين لأبي نعيم الأصبهاني، وكتاب الشريعة للآجرِّي، وكتاب صفِّين لأبي منذر هشام بن محمد الكلبي وكتاب الأمثال له، وطبقات الفقهاء لأبي إسحاق الشيرازي، وكتاب الكامل للمبرد، وكتاب النوادر لأبي علي البغدادي، وكتاب العقد لابن عبد ربه، وكتاب منتخب نقائض جرير والفرزدق للنَّجيرمي، وكتاب أشعار الهذليين.

وسميته كتاب " الجوهرة في نسب النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه العشرة " ووشَّحته بتنبيهات على رجال الحديث، وتعريف بهم من غير لبس ولا إشكال، ومعرَّى بالبحث عن إغفال، فجلَّ جمعه، وبورك وضعه، ونظم متفرقا من الأخبار والآثار، محررة من التطويل والإكثار. والله يجعله ابتغاء وجهه الكريم، وينفع به يوم لا ينفع مال ولا بنون، إلا من أتى الله بقلب سليم.

وقد آن أن أشرع في سياق النسب الكريم؛ نسب خاتم الأنبياء فإنه سابق إلى الفضل العميم، والمشرع الرَّواء، ثم اتبعه بعد نسب الصحابة العشرة الكرام الأبرار، المسمَّين للجنة، المصطفين الأخيار. ومن الله أسأل الإعانة على ما فيه شرعت، بعد ما ألفت مفترقة وجمعت، فإنه المعين الولَِي الكفيل، وه حسبي ونعم الوكيل.

يا ربِّ يسِّر عليَّ فيه … بالمصطفى أحمدَ الوجيهِ

خَيرِ الأنامِ الرشيدِ قولاً … أَعجزَ لُدَّاً بلا شبيهِ

بدأتهُ في أجلِّ شهرٍ … يُسدِي أجوراً لصائميهِ

فمَن تَلا منه في نَدِيِّ … جلَّ به عندَ سامعيهِ

ونالَ حسنَ الثوابِ بَرٌّ … لرفعةِ الذكرِ يَقْتنيهِ
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম, তিরমিযীর মুসনাদ ও তাঁর শামাইল গ্রন্থ, নাসায়ীর সুনান গ্রন্থ, ইবনুল জারূদের আল-মুনতাকা, তাবারীর তারিখ (ইতিহাস), আবু দাউদের সুনান, ইবনে আব্দুল বার-এর আল-ইসতিআব গ্রন্থ এবং তাঁরই আত-তাকাসসী ও আল-ইনবাহ গ্রন্থদ্বয়, ইবনে ইসহাকের সীরাত, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের আল-আসামী ওয়াল কুনা গ্রন্থ, আবু নুআইম আল-আসফাহানীর রিয়াদাতুল মুতাআল্লিমীন গ্রন্থ, আজুররীর আশ-শারীআহ গ্রন্থ, আবু মুনযির হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবীর সিফফীন ও তাঁর আল-আমসাল গ্রন্থ, আবু ইসহাক আশ-শীরাযীর তাবাকাতুল ফুকাহা, মুবাররাদের আল-কামিল, আবু আলী আল-বাগদাদীর আল-নাওয়াদির, ইবনে আবদে রাব্বিহির আল-ইকদ, নাজীরামীর মুনতাখাব নাকায়েদ জারীর ওয়াল ফারাযদাক এবং আশআরুল হুযালিয়্যীন।

আমি এর নামকরণ করেছি "আল-জাওহারা ফী নাসাবিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর দশজন সাহাবীর বংশপরিচয় বিষয়ক রত্নভাণ্ডার)। আমি একে হাদীস বর্ণনাকারীদের ওপর টীকা এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ও জটিলতা ছাড়াই তাদের পরিচিতি দ্বারা সুশোভিত করেছি। এটি অসতর্কতা থেকে মুক্ত এবং গবেষণালব্ধ। এর সংকলন মহিমান্বিত এবং বিন্যাস বরকতময় হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা ও বাহুল্য বর্জন করে এতে বিভিন্ন সংবাদ ও আসারের সুবিন্যস্ত সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। আল্লাহ একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করুন এবং সেই দিন এর মাধ্যমে উপকৃত করুন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

এখন সময় হয়েছে আমি মহান বংশপরম্পরার বর্ণনা শুরু করি; অর্থাৎ সর্বশেষ নবীর বংশপরিচয়, কারণ তিনিই অসীম মর্যাদা ও সুপেয় প্রস্রবণের অগ্রপথিক। অতঃপর আমি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ও মনোনীত শ্রেষ্ঠ দশজন সম্মানিত পুণ্যবান সাহাবীর বংশপরিচয় বর্ণনা করব। যা কিছু শুরু করেছি এবং যা কিছু বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে সংকলন ও একত্রিত করেছি, সে বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সাহায্যকারী, অভিভাবক ও জিম্মাদার; তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

হে আমার প্রতিপালক! মনোনীত ব্যক্তিত্ব মর্যাদাবান আহমদের অসিলায় এতে আমার জন্য সহজ করে দিন …

যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং যাঁর বাণী সত্য-সঠিক … তিনি উপমাহীনভাবে কট্টর বিরোধীদের অক্ষম করে দিয়েছেন।

আমি এটি শুরু করেছি এক অতি মহিমান্বিত মাসে … যা রোযাদারদের প্রতিদান প্রদান করে।

অতঃপর যে ব্যক্তি কোনো মজলিসে তা পাঠ করবে … শ্রোতাদের নিকট তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

এবং কোনো এক পুণ্যবান ব্যক্তি উত্তম সওয়াব লাভ করবেন … যিকিরের উচ্চ মর্যাদা লাভের জন্য যিনি এটি সংগ্রহ করবেন।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أحببْ بما حازَ من بَيانٍ … وما منَ الحُكم حلَّ فيهِ

فانظرْ إليهِ بعينِ عزٍّ … واشْدُدْ عليهِ يَدَيْ نَبيهِ

وكُن به يا أخي ضَنينا … خوف ضياعٍ على سَفيهِ

وقلت أيضا ناظما لما تضمَّنه هذا الكتاب:

هذا كتابٌ فيه آثارُ … أَسندَها بالنَّقْلِ أَخبارُ

صحَّتْ عن المختارِ مُختارةً … وكلُّ ما يحويهِ مُختارُ

وفيهِ أخبارٌ زَكا خُبْرُها … ما شانَها في السَّردِ إكثارُ

جمعتُها من كتُبٍ جَمَّةٍ … فهْيَ لدى السُّدفةِ أنوارُ

تُحْيي قلوباً بعد موتٍ كما … تُحْيي مواتَ الأرضِ أمطارُ

يا قارئاً فيهِ اسألِ اللهَ لي … مَغفرةً، فاللهُ غَفَّارُ

واجعلْهُ إنْ مُلِّكتهُ مانعاً … عنكَ إذا بُرِّزت النارُ
এতে যে সাবলীল বর্ণনা রয়েছে … এবং এতে যে প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে তাকে ভালোবাসুন।

একে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখুন … এবং একজন সচেতন ব্যক্তির ন্যায় একে আপনার দুই হাত দিয়ে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।

হে আমার ভাই, এটি নিয়ে আপনি অতি যত্নবান (সংরক্ষণশীল) হোন … কোনো নির্বোধের হাতে পড়ে এটি নষ্ট হওয়ার ভয়ে।

এই কিতাবটি যা যা অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা ছন্দবদ্ধ করতে গিয়ে আমি আরও বলেছি:

এটি এমন একটি কিতাব যাতে রয়েছে প্রাচীন আসার (নিদর্শনসমূহ) … যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে সমর্থিত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এগুলো বিশুদ্ধভাবে চয়ন করা হয়েছে … এবং এতে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সবই মনোনীত।

এতে রয়েছে এমন সব সংবাদ যার উৎস অতি পবিত্র … বর্ণনার আধিক্য এর সৌন্দর্যকে ম্লান করেনি।

আমি এগুলোকে বহু কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছি … এগুলো অন্ধকারের মাঝে আলোকবর্তিকা স্বরূপ।

এগুলো মৃত্যুর পর অন্তরসমূহকে পুনর্জীবিত করে, যেমন … বৃষ্টি মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করে।

হে এর পাঠক, আমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন … ক্ষমা প্রার্থনা করুন, কারণ আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল।

আপনি যখন এর মালিক হবেন, তখন একে আপনার জন্য রক্ষক বানিয়ে নিন … যখন জাহান্নামের আগুন প্রকাশ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ذكر نسب رسول الله

صلى الله عليه وسلم للآباء الكرام، أولي المكارم والمأثرات، والأمهات العقائل المحصنات. وذكر من اشترك معه النسب من القبائل، وذكر البطون منهم والأفخاذ والفصائل، وذكر من آمن به، وصحبهم من أبنائهم السّعداء، ومن اشتهر منهم بإيمان أو منقبة في الجاهلية الجهلاء، وذكر من قتله منهم على استهزائه وكفره في غزوات أيَّده الله فيها بنصره.

 

‌‌محمد رسول الله

صلى الله عليه وسلم، ابن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف ابن قصي بن كلاب بن مرَّة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النَّضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معدِّ بن عدنان. إلى هنا هو النسب الصحيح الذي لا اختلاف فيه بين العلماء بالأنساب. وإلى عدنان كان يعدُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم.

روى ابن الكلبيِّ عن ابن صالح عن ابن عباس، قال: كان البنيُّ عليه السلام، إذا انتهى في النسب إلى عدنان أمسك، ثم يقول: " كذب النسابون ".. وقالت عائشة رضي الله عنها: " ما وجدنا من يعرف ما وراء عدنان ولا ما وراء قحطان إلا تخرُّصا ". وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: " إنما ننتسب إلى عدنان، وما بعد ذلك لا أدري ما هو ". وقال ابن جريح عن القاسم بن أبي بزَّة عن عكرمة: " أضلَّت نزار نسبتها من عدنان ".

ابن جريح هو عبد الملك بن عبد العزيز بن جريح. وجريح مولى لآل خالد ابن أسيد بن أبي العيص بن أمَّية. وولد ابن جريح سنة ثمانين عام الجحاف؛ سيل كان مكة، ومات سنة خمسين ومئة. وكان ثقة عدلا، روى عنه الأئمة.
রাসূলুল্লাহর বংশপরিচয় বর্ণনা

তাঁর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক; তিনি সম্মানিত পিতৃপুরুষগণের বংশধর, যাঁরা ছিলেন মহানুভবতা ও মহৎ কীর্তির অধিকারী, এবং বুদ্ধিমতী ও সতী-সাধ্বী মাতৃকুল থেকে আগত। আরও উল্লেখ করা হয়েছে সেইসব গোত্রের কথা যারা তাঁর সাথে বংশীয় সূত্রে অংশীদার, এবং তাদের শাখা, উপশাখা ও ক্ষুদ্রতর বংশধারা। আরও বর্ণিত হয়েছে তাদের কথা যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন এবং তাঁদের সেই সৌভাগ্যবান সন্তানদের কথা যারা তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন; এবং তাদের মধ্য থেকে যারা ঘোর অজ্ঞতার যুগে ঈমান বা কোনো বিশেষ গুণের জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। আরও উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কথা, যাদের তিনি (আল্লাহর রাসূল) তাদের বিদ্রূপ ও কুফরির কারণে সেইসব যুদ্ধাভিযানে হত্যা করেছিলেন যেখানে আল্লাহ তাঁকে তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছিলেন।

 

আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ

তাঁর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক; তিনি আব্দুল্লাহর পুত্র, তিনি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র, তিনি হাশিমের পুত্র, তিনি আব্দু মানাফের পুত্র, তিনি কুসাইয়ের পুত্র, তিনি কিলাবের পুত্র, তিনি মুররাহর পুত্র, তিনি কা'বের পুত্র, তিনি লুয়াইয়ের পুত্র, তিনি গালিবের পুত্র, তিনি ফিহরের পুত্র, তিনি মালিকের পুত্র, তিনি নাদরের পুত্র, তিনি কিনানার পুত্র, তিনি খুযাইমার পুত্র, তিনি মুদরিকার পুত্র, তিনি ইলিয়াসের পুত্র, তিনি মুদারের পুত্র, তিনি নিযারের পুত্র, তিনি মা'আদ-এর পুত্র, তিনি আদনানের পুত্র। আদনান পর্যন্ত এই বংশলতিকাটিই সঠিক, যার ব্যাপারে বংশবিদ আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। আল্লাহর রাসূল (তাঁর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) আদনান পর্যন্তই তাঁর বংশ গণনা করতেন।

ইবনে আল-কালবী ইবনে সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যখন বংশলতিকা বর্ণনায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন থেমে যেতেন এবং বলতেন: "বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছে।" আয়িশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: "আমরা এমন কাউকে পাইনি যে আদনানের পরবর্তী কিংবা কাহতানের পরবর্তী বংশধারা সম্পর্কে অনুমান ছাড়া নিশ্চিত কোনো জ্ঞান রাখে।" উমর ইবনে আল-খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: "আমরা কেবল আদনান পর্যন্তই আমাদের বংশের সম্বন্ধ করি, এরপর যা আছে আমি জানি না তা কী।" ইবনে জুরাইজ আল-কাসিম ইবনে আবি বায্যাহ থেকে এবং তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন: "নিযার গোত্র আদনান থেকে তাদের বংশসূত্র হারিয়ে ফেলেছে।"

ইবনে জুরাইজ হলেন আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে জুরাইজ। জুরাইজ ছিলেন উমাইয়া বংশীয় খালিদ ইবনে আসীদ ইবনে আবিল আইস পরিবারের আযাদকৃত দাস। ইবনে জুরাইজ আশি হিজরিতে 'জহাফ' বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন; এটি ছিল মক্কায় আসা একটি বিধ্বংসী প্লাবন। তিনি একশত পঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন; প্রথিতযশা ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والقاسم بن أبي بزَّة نسب إلى جده. واسم أبيه نافع، وجده أبو برة اسمه يسار. والقاسم هو جدُّ البزِّي القارئ الآخذ القراءة بإسناد عن ابن كثير أحد القراء السبعة. واسم البزِّي: أحمد بن محمد بن عبد الله بن القاسم بن بزِّة، ويكنى البزَِّي: أبا الحسن. وتوفي بمكة بعد سنة أربعين ومئتين. وكان مقرئ أهل مكة ومؤذنهم. وجده أبو بزِّة يسار الذي يعرف به البزِّي هو مولى عبد الله ابن السائب بن صيفي. أسلم على يديه فارسي من همذان. والسائب، أبو مولاه: هو السائب بن أبي السائب المخزوميِّ، وهو شريك رسول الله صلى الله عليه وسلم. واسم أبي السائب: صيفي بن عابد بن عبد الله بن عمر بن مخزوم.

وقال محمد بن أحمد بن حميد القرشي العدوي: لا أعلم أحد من الشعراء بلغ في شعره عدنان إلا لبيد بن ربيعة وعباس بن مرداس السلمَّي. قال لبيد:

فإنْ لم تجدْ من دونِ عدنانَ والداً … ودون مَعَدٍّ فلتَرُعْكَ القبائلُ

وقال عباس بن مرداس:

وعَكُّ بنُ عدنانَ الذين تَلعَّبوا … بغسَّانَ حتَّى " طُرِّدُوا " كلَّ مَطْرَدِ

وقال أبو الأسود يتيم عروة: " سمعت أبا بكر بن سليمان بن أبي حثمة، وكان أعلم قريش بأشعارهم وأنسابهم، يقول: ما وجدنا يعلم ما وراء معدِّ ابن عدنان في شعر شاعر ولا علم عالم ". وروى ابن لهيعة عن أبي الأسود أنه سمع عروة بن الزبير يقول: " ما وجدنا أحدا يعرف ما وراء معدِّ بن عدنان ".

ابن لهيعة: اسمه عبد الله بن لهيعة بن عقبة بن لهيعة الحضرمُّي، ويكنى، أبا عبد الرحمن، وكان ضعيفا في الحديث. ومات بمصر سنة أربع وسبعين ومئة.

واسم أبي الأسود يتيم عروة: محمد بن عبد الرحمن بن الأسود بن نوفل بن خويلد بن أسد القرشي الأسدي. وقيل له يتيم عروة لأنه كان في حجره. لمالك عنه أربعة أحاديث مسندة، وهو من شيوخه. وجدُّه الأسود بن نوفل بن خويلد، كان من مهاجرة الحبشة، وأمه فُرَيعَة بنت عليِّ بن نوفل بن عبد مناف بن قصيٍّ.
কাসিম ইবন আবি বাযযাহ তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাঁর পিতার নাম নাফি', এবং তাঁর দাদা আবু বাযযাহ-এর নাম ইয়াসার। কাসিম হলেন ক্বারী আল-বাযযীর দাদা, যিনি সাত ক্বারীর অন্যতম ইবন কাসিরের থেকে সনদের মাধ্যমে ক্বিরাআত গ্রহণ করেছেন। আল-বাযযীর নাম হলো: আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কাসিম ইবন বাযযাহ, এবং আল-বাযযীর উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবুল হাসান। তিনি দুইশত চল্লিশ হিজরির পর মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তিনি মক্কাবাসীদের ক্বারী এবং মুয়াজ্জিন ছিলেন। তাঁর দাদা আবু বাযযাহ ইয়াসার, যাঁর পরিচয়ে আল-বাযযী পরিচিত, তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন আস-সাইব ইবন সাইফির আযাদকৃত দাস। তিনি ছিলেন হামাদানের একজন পারসিক যিনি তাঁর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এবং সাইব, তাঁর আযাদকারী মনিবের পিতা: তিনি হলেন সাইব ইবন আবিস সাইব আল-মাখযুমি, এবং তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যবসায়িক অংশীদার। আবু সাইবের নাম হলো: সাইফি ইবন আবিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মাখযুম।

মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন হুমাইদ আল-কুরাশি আল-আদাবি বলেন: আমি কবিদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যারা লবিদ ইবন রাবিয়া এবং আব্বাস ইবন মিরদাস আস-সুলামি ব্যতীত তাদের কবিতায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছেছেন। লবিদ বলেন:

যদি তুমি আদনানের উর্ধ্বে কোনো পিতা না পাও … এবং মা'আদের উর্ধ্বে, তবে গোত্রসমূহ যেন তোমাকে আতঙ্কিত করে

এবং আব্বাস ইবন মিরদাস বলেন:

আদনানের পুত্র আক্ক তারা, যারা গাসসানের সাথে … যুদ্ধ করেছে যতক্ষণ না তাদের প্রতিটি স্থান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে

উরওয়ার এতিম আবু আল-আসওয়াদ বলেন: "আমি আবু বকর ইবন সুলায়মান ইবন আবি হাসমাহকে বলতে শুনেছি—যিনি কুরাইশদের কবিতা ও বংশলতিকা সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন—তিনি বলতেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যে কোনো কবির কবিতায় বা কোনো জ্ঞানীর জ্ঞানে মা'আদ ইবন আদনানের উর্ধ্বতন কিছু জানে।" এবং ইবন লাহিয়াহ আবু আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উরওয়াহ ইবন আয-যুবাইরকে বলতে শুনেছেন: "আমরা এমন কাউকে পাইনি যে মা'আদ ইবন আদনানের উর্ধ্বতন বংশধারা সম্পর্কে অবগত।"

ইবন লাহিয়াহ: তাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবন লাহিয়াহ ইবন উকবাহ ইবন লাহিয়াহ আল-হাদরামি, এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান। তিনি হাদিস শাস্ত্রে দুর্বল ছিলেন। তিনি একশত চুয়াত্তর হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

উরওয়ার এতিম আবু আল-আসওয়াদের নাম হলো: মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-আসওয়াদ ইবন নাওফাল ইবন খুওয়াইলিদ ইবন আসাদ আল-কুরাশি আল-আসাদি। তাঁকে 'উরওয়ার এতিম' বলা হতো কারণ তিনি তাঁর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। ইমাম মালিক তাঁর থেকে চারটি মুসনাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর দাদা আসওয়اد ইবন নাওফাল ইবন খুওয়াইলিদ ছিলেন হাবশায় হিজরতকারীদের একজন, এবং তাঁর মা ছিলেন ফুরাইয়াহ বিনতে আলি ইবন নাওফাল ইবন আবদ মানাফ ইবন কুসাই।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ونوفل بن خويلد بن أسد: هو ابن العدويِّة؛ عديِّ خزاعة. وهو الذي قرن أبا بكر الصدِّيق وطلحة بن عبيد الله، حين أسلما، في حبل، فكانا يسمَّيان " القرينين " لذلك. وكان من شياطين قريش، قتله علي بن أبي طالب يوم بدر. قال هذا ابن إسحاق في السيرة. وقال ابن قتيبة في كتاب " المعارف " له: " كان لطلحة بن عبيد الله أخوان: عثمان بن عبيد الله ومالك بن عبيد الله. فأما عثمان فكان له قدر في الجاهلية. وأدرك الإسلام، فأخذ طلحة وأبا بكر، فقرنهما بحبل، ولذلك سمِّيا القرينين ". وقال بعض الزبيريين في رجل من ولد طلحة، ولده أبو بكر:

يا طَلْحَ يابْنَ القَرينينِ اللذين هُما … معَ النبيِّ أذَلاً كلِّ جَبَّارِ

هذا المسمَّى بفعل الخير نافلةً … دونَ الأنام وهذا صاحبُ الغارِ

وقال الحافظ أبو عمر بن عبد البر في كتاب الصحابة: " عثمان بن عبيد الله أخو طلحة بن عبيد الله، أسلم وهاجر وصحب النبيِّ صلى الله عليه وسلم، ولا أحفظ له رواية ".

وأبو بكر بن سليمان بن أبي حثمة الذي روى عنه أبو الأسود يتيم عروة، روى عنه ابن الشهاب الزُّهري في الموطأ ما نصُّه: " مالك عن ابن شهاب عن أبي بكر بن سليمان بن أبي حثمة أن عمر بن الخطاب فقد سليمان بن أبي حثمة في صلاة الصبح، وأنَّ عمر بن الخطاب غدا إلى السوق، ومسكن سليمان بين المسجد والسوق، فمر على " الشِّفاء " أمِّ سليمان، فقال لها: لم أر سليمان في الصبح! فقالت: إنه بات يصلِّي، فغلبته عيناه. فقال عمر: لأن أشهد صلاة الصبح في الجماعة أحبُّ إليَّ من أن أقوم ليلة ".

وأبوه سليمان بن أبي حثمة: هاجر صغيرا مع أمه " الشِّفاء ". وكان من فضلاء المسلمين وصالحيهم. استعمله عمر على السوق، وجمع عليه وعلى أبيَّ بن كعب الناس ليصلِّيا بهم في شهر رمضان. والحديث بذلك في الموطأ، وهو معدود
নওফাল ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ: তিনি আল-আদাবিয়্যাহর পুত্র; যিনি খুজাআহ গোত্রের আদি বংশজাত। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক এবং তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তখন তাদেরকে একটি রশিতে বেঁধেছিলেন। একারণেই তাদের উভয়কে "আল-কারিনাইন" (রশিবদ্ধ যুগল) বলা হতো। তিনি কুরাইশদের শয়তানদের (চরম শত্রুদের) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিব তাকে হত্যা করেন। ইবনে ইসহাক তাঁর 'সিরাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে কুতাইবা তাঁর "আল-মাআরিফ" গ্রন্থে বলেছেন: "তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর দুই ভাই ছিল: উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং মালিক ইবনে উবাইদুল্লাহ। উসমানের জাহিলিয়াত যুগে বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন এবং তিনি তালহা ও আবু বকরকে ধরে একটি রশিতে বেঁধেছিলেন, যার ফলে তাদের নাম 'আল-কারিনাইন' হয়েছিল।" জনৈক জুবায়েরি বংশীয় ব্যক্তি তালহার এক বংশধর সম্পর্কে কবিতা বলেছেন, যার মাতামহ ছিলেন আবু বকর:

হে তালহা! হে সেই 'কারিনাইন'-এর বংশধর, যারা নবীর সাথে … প্রতিটি অহংকারীকে লাঞ্ছিত করেছিলেন।

এই একজন কেবল নেক আমল করার কারণে পরিচিতি পেয়েছেন … অন্য সবার বিপরীতে, আর অন্যজন হলেন গুহার সাথী।

হাফিজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার সাহাবীদের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: "উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ হলেন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর ভাই। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, হিজরত করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেন, তবে তাঁর কোনো বর্ণনা (হাদিস) আমার জানা নেই।"

আর আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাহ, যার থেকে উরওয়ার লালিত ইয়াতিম আবু আল-আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে ইবনে শিহাব আজ-জুহরি মুয়াত্তায় যা বর্ণনা করেছেন তার পাঠ হলো: "মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাহকে ফজরের সালাতে পেলেন না। উমর ইবনুল খাত্তাব সকালে বাজারের দিকে গেলেন, আর সুলাইমানের ঘর ছিল মসজিদ ও বাজারের মাঝখানে। তিনি সুলাইমানের মা 'শিফা'-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: আমি ফজরের সালাতে সুলাইমানকে দেখলাম না! তিনি বললেন: সে সারারাত সালাত আদায় করেছে, তারপর ভোরে তার চোখে ঘুম চেপে বসেছিল। উমর বললেন: সারারাত নফল সালাত পড়ার চেয়ে জামায়াতের সাথে ফজরের সালাতে উপস্থিত হওয়া আমার কাছে অধিক প্রিয়।"

আর তাঁর পিতা সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাহ: তিনি শৈশবে তাঁর মা 'শিফা'-এর সাথে হিজরত করেন। তিনি মুসলিমদের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন। উমর তাঁকে বাজারের তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং রমজান মাসে মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করার জন্য তাঁকে এবং উবাই ইবনে কাবকে নিযুক্ত করেছিলেন। এ সংক্রান্ত হাদিস মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি গণ্য হন...
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
في كبار التابعين. وأبو حثمة ممن اشتهر بكنيته، وهو أبو حثمة بن حذيفة بن غانم بن عبد الله بن عويج بن عديِّ بن كعب بن لؤي القرشي العدوي، زوج الشِّفام أمِّ سليمان ابنه، وأخو أبي جهم بن حذيفة صاحب " الخميصة "، وحديثها مشهور. " أسلم عام الفتح "، وكذلك من جلَّة مشيخة قريش، عالما بالنسب، وعُمرِّ.... قتل يوم الحرة....

والشِّفاء هي بنت عبد الله بن عبد شمس بن خالد بن " صداد ". ويقال أن ضرار بن عبد الله بن قرط بن رزاح بن عديِّ بن كعب القرشية العدويَّة من المبايعات. قال احمد بن صالح المصري: " اسمها ليلى، وغلب عليها الشفاء، أمُّها فاطمة بنت أبي وهب بن عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم، أخت حزن بن أبي وهب، جدُّ سعيد بن المسيَّب بن حزن، وأخت هبيرة ابن أبي وهب زوج أمِّ هانئ بنت أبي طالب. وهي بنت خال أبي رسول الله صلى الله عليه وسلم. أسلمت الشفاء قبل الهجرة، فهي من المهاجرات الأول. وبايعت النبي صلى الله عليه وسلم، وكانت من عقلاء النساء وفضلائهنَّ. وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتيها، ويقيل عندها في بيتها. وكانت قد اتخذت له فراشا وإزارا ينام فيه. فلم يزل ذلك عند ولدها حتى أخذه منها مروان. وقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: " علِّمي حفصة رقية النَّملة كما علَّمتها الكتاب ". وأقطعها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة دارا، فنزلتها مع ابنها سليمان. وكان عمر يقدمِّها في الرأي، ويرضاها، ويفضِّلها، وربما ولاها شيئا من أمر السوق. روى عنها ابنا ابنها سليمان: أبو بكر وعثمان.

قال المؤلف غفر الله له: هذا بحث يفيد معرفة برواة الآثار وعلما، ويزيد من نظر في هذا الشأن نباهة وفهما، بليغا موجزا، جامعا لسبل الخير، محرزا. من
বড় তাবেয়ীদের মধ্যে। আবু হাছমা তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নিজ উপনামে প্রসিদ্ধ ছিলেন, তিনি হলেন আবু হাছমা ইবনে হুযায়ফা ইবনে গানিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উয়াইজ ইবনে আদি ইবনে কাব ইবনে লুআই আল-কুরাশি আল-আদাউয়ি, তাঁর পুত্র সুলাইমানের মা শিফার স্বামী, এবং আবু জাহম ইবনে হুযায়ফার ভাই, যিনি 'খামিসা' (এক প্রকার চাদর) এর ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং যার হাদিসটি প্রসিদ্ধ। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন। একইভাবে তিনি কুরাইশের শ্রেষ্ঠ প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বংশবিদ্যায় জ্ঞানী ছিলেন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। হাররার যুদ্ধের দিন তিনি নিহত হন।

শিফা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দ শামস ইবনে খালিদ ইবনে 'সাদ্দাদ'-এর কন্যা। আর বলা হয় যে, দ্বিরার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রিযাহ ইবনে আদি ইবনে কাব আল-কুরাশিয়া আল-আদাউয়িয়া তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। আহমাদ ইবনে সালেহ আল-মিসরি বলেন: "তাঁর নাম লায়লা, তবে শিফা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত।" তাঁর মা ফাতিমা বিনতে আবি ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে আয়িয ইবনে ইমরান ইবনে মাখযুম, যিনি হুযন ইবনে আবি ওয়াহাবের বোন। হুযন হলেন সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব ইবনে হুযনের দাদা। তিনি হুবাইরা ইবনে আবি ওয়াহাবের বোন, যিনি আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির স্বামী। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতার মামাতো বোন ছিলেন। শিফা হিজরতের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন, ফলে তিনি প্রথম হিজরতকারী মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তিনি মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিদুষী ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁর ঘরে দুপুরের বিশ্রাম নিতেন। তিনি তাঁর জন্য একটি বিছানা ও লুঙ্গি তৈরি করে রেখেছিলেন যাতে তিনি তাতে ঘুমান। মারওয়ান তা গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত সেটি তাঁর সন্তানদের কাছেই সংরক্ষিত ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "হাফসাকে নামলা (এক প্রকার চর্মরোগ) এর ঝাড়ফুঁক শিখিয়ে দাও, যেমন তাকে লেখা শিখিয়েছ।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় তাঁকে একটি ঘর বরাদ্দ দেন, যেখানে তিনি তাঁর পুত্র সুলাইমানের সাথে বসবাস করতেন। উমর (রা.) মতামতের ক্ষেত্রে তাঁকে অগ্রাধিকার দিতেন, তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাঁকে মর্যাদা দিতেন; এমনকি কখনও কখনও বাজারের কোনো বিষয়ের দায়িত্বও তাঁকে প্রদান করতেন। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র সুলাইমানের দুই সন্তান আবু বকর এবং উসমান বর্ণনা করেছেন।

লেখক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: এটি এমন একটি গবেষণা যা আসার (বর্ণনা) বর্ণনাকারীদের পরিচিতি এবং জ্ঞানার্জনে উপকারে আসে এবং যে ব্যক্তি এই বিষয়ে দৃষ্টি দেবে তার প্রজ্ঞা ও বুঝ বৃদ্ধি করবে; এটি অত্যন্ত সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত, যা কল্যাণের পথসমূহকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে একত্রকারী।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
طالعة أهل السنَّة دان به، وتعلَّق بالمتين سببه. والله الولُّي المعين، وبتوفيقه مناهج الرُّشد تبين. وأرجع إلى ما كنت بسبيله.

قال أبو العباس محمد بن إبراهيم السرَّاج: حدثنا عبيد الله بن سعد الزُّبيريُّ، قال: نا أحمد بن محمد، قال: سمعت الشافعيَّ يقول: اسم عبد المطلب شيبة بن هاشم، وهاشم اسمه عمرو بن عبد مناف، وعبد مناف اسمه المغيرة بن قصيٍّ، وقصيٌّ اسمه زيد بن كلاب بن مرَّة بن كعب بن لؤي. قال: سمعت الشافعيُّ يقول: أبو طالب اسمه عبد مناف بن عبد المطلب.

 

‌‌عبد مناف بن قصي

ويكنى أبا عبد شمس، فولد عبد مناف هاشما، والمطلب، ونوفل، وعبد شمس. وأمُّهم ما عدا نوفلا عاتكة بنت مرَّة بن هلال بن فالح بن ذكوان بن ثعلبة بن بهثة بن سليم بن منصور بن عكرمة. وأمُّ نوفل وافدة بنت عمرو المازنيَّة، من مازن بن منصور بن عكرمة. فإما هاشم فلم يعقب من ولده غير عبد المطلب. وليس في الأرض هاشميٌّ إلا من ولد عبد المطلب، ويأتي ذكره بعد هذا. وقال شاعر من قريش، أو من بعض العرب يمدح هاشما:

عَمرُو الذي هَشَم الثَّريدَ لقومهِ … قومٍ بمكةَ مُسْنِتينَ عِجافِ

سُنَّتْ إليهِ الرِّحلتانِ كلاهُما … سَفَرُ الشتاءِ ورِحلةُ الأصيافِ

وهلك هاشم بغزَّة من أرض الشام تاجرا. والمقدَّم من قريش " بنو هاشم " وهي فصيلة رسول الله صلى الله عليه وسلم. وعشيرته الأقربون، وآله الذين تحرم عليهم الصدقة. قال أهل العلم في تأويل قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تحلُّ الصدقة لمحمد ولا لآل محمد " قال: هم بنو هاشم؛ آل العباس، وآل أبي طالب، وبنو أبي لهب، وبنو الحارث بن عبد المطلب، وآل عليٍّ، وآل عقيل، وآل جعفر.
আহলে সুন্নাতের অনুসারীরা এর মাধ্যমেই মস্তক উত্তোলন করে এবং এর দৃঢ় রজ্জুকেই আঁকড়ে ধরে। আল্লাহই সাহায্যকারী অভিভাবক, আর তাঁরই তাওফিকে হিদায়াতের পথসমূহ স্পষ্ট হয়। এখন আমি আমার পূর্বের আলোচনায় ফিরে যাচ্ছি।

আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আস-সাররাজ বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবন সা’দ আজ-জুবাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈকে বলতে শুনেছি: আবদুল মুত্তালিবের নাম ছিল শায়বাহ ইবন হাশিম, হাশিমের নাম ছিল আমর ইবন আবদে মানাফ, আবদে মানাফের নাম ছিল আল-মুগিরা ইবন কুসাই এবং কুসাইয়ের নাম ছিল যায়েদ ইবন কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কাব ইবন লুআই। তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈকে বলতে শুনেছি: আবু তালিবের নাম ছিল আবদে মানাফ ইবন আবদুল মুত্তালিব।

 

‌‌আবদে মানাফ ইবন কুসাই

তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম ছিল আবু আবদে শামস। আবদে মানাফের ঘরে হাশিম, মুত্তালিব, নাওফাল এবং আবদে শামস জন্মগ্রহণ করেন। নাওফাল ব্যতীত বাকি সবার মাতা ছিলেন আতিকা বিনতে মুররাহ ইবন হিলাল ইবন ফালিহ ইবন যাকওয়ান ইবন ছালাবা ইবন বাহসা ইবন সুলাইম ইবন মানসুর ইবন ইকরিমা। আর নাওফালের মাতা ছিলেন ওয়াফিদা বিনতে আমর আল-মাযানিয়্যাহ, যিনি মাযিন ইবন মানসুর ইবন ইকরিমার বংশোদ্ভূত। হাশিমের সন্তানদের মধ্যে কেবল আবদুল মুত্তালিবেরই বংশধারা অব্যাহত ছিল। পৃথিবীতে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর ব্যতীত আর কোনো হাশিমী নেই; তাঁর আলোচনা সামনে আসছে। কুরাইশদের জনৈক কবি অথবা কোনো এক আরব কবি হাশিমের প্রশংসা করে বলেন:

আমর তো সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর কওমের জন্য রুটি গুঁড়ো করে সারীদ বানিয়েছিলেন … যখন মক্কার লোকেরা চরম দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে শীর্ণকায় হয়ে পড়েছিল।

তাঁর মাধ্যমেই উভয় সফরের সূচনা হয়েছিল … শীতকালীন সফর এবং গ্রীষ্মকালীন সফর।

হাশিম সিরিয়া অঞ্চলের গাজা নামক স্থানে ব্যবসা উপলক্ষে অবস্থানকালে ইন্তেকাল করেন। আর কুরাইশদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলো "বনু হাশিম", যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতি নিকটবর্তী আত্মীয়। তারাই তাঁর বংশীয় নিকটাত্মীয় এবং তাঁর পরিবারভুক্ত সদস্য যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম। আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী— "মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের জন্য সদকা বৈধ নয়" —এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: তারা হলেন বনু হাশিম; অর্থাৎ আব্বাসের পরিবার, আবু তালিবের পরিবার, আবু লাহাবের বংশধর, হারিস ইবন আবদুল মুত্তালিবের বংশধর এবং আলী, আকিল ও জাফরের পরিবার।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقيل: بنو عبد المطَّلب فصيلته، وبنو هاشم فخذه، وعبد مناف بطنه، وقريش عمارته، وبنو كنانة قبيلته، ومضر شعبه. حدَّث محمد بن وضاَّح قال: نا أبو بكر بن أبي شيبة، نا محمد بن مصعب، نا الأوزاعيُّ عن أبي عمَّار، عن واثلة قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أن الله اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل، واصطفى من ولد إسماعيل كنانة، واصطفى من كناية قريشا، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم ".

وقال الأمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاريُّ: نا سليمان بن عبد الرحمن الدمشقيُّ قال: نا الوليد بن مسلم وشعيب بن إسحاق قالا: نا الأوزاعيُّ قال: نا شدَّاد أبو عمار قال: نا واثلة بن الأسفع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الله اصطفى كنانة من ولد اسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى هاشما من قريش، واصطفاني من بني هاشم ".

قال محمد بن عبد الله بن سنجر: حدثنا مسلم بن إبراهيم قال: نا الحسن ابن جعفر قال: نا أبو الصَّبهاء عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أهل بيتي مثل سفينة نوح؛ من ركب فيها نجا، ومن تخلَّف هلك ". وروى حمَّاد بن زيد عن عمرو بن دينار، عن محمد بن علي رفعه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الله اختار العرب، ثم اختار منهم النَّضر بن كنانة، ثم اختار قريشا، ثم اختار من قريش بني هاشم، ثم اختارني من بني هاشم ".

وعن سفيان الثوريِّ، رفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن الله خلق الخلق، فجعلني في خير خلقه، وجعلهم أفراقا، فجعلني من خير فرقة، وجعلهم قبائل، فجعلني في خير قبيلة، وجعلهم بيوتا، فجعلني في خير بيت، فأنا خيركم بيتا وخيركم نسبا ". وقال صلى الله عليه وسلم: " كلُّ سبب نسب ينقطع يوم القيامة إلا سببي ونسبي ".

وأما المطَّلب بن عبد مناف فكان يقال له " الفيض " لسماحه. وفيه قيل: " والفيض مطَّلب أبي الأضياف ". وهلك المطلب ب " ردمان " من اليمن فقال رجل من العرب يبكيه:
বলা হয়েছে: বনু আবদ আল-মুত্তালিব হলো তাঁর নিকটতম স্বজন, বনু হাশিম তাঁর উপগোত্র, আবদ মানাফ তাঁর বংশধারা, কুরাইশ তাঁর বৃহৎ গোত্র শাখা, বনু কিনানা তাঁর গোত্র এবং মুদার তাঁর জাতিগোষ্ঠী। মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ি আবু আম্মার থেকে, তিনি ওয়াহিলা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন, আর ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন, আর কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন, এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি বলেছেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এবং শুআইব বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তাঁরা দুজনেই বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাদ্দাদ আবু আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াহিলা বিন আল-আসকা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন, আর কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে হাশিমকে মনোনীত করেছেন, এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঞ্জার বলেছেন: আমাদের নিকট মুসলিম বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হাসান ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আস-সাবহা সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার পরিবারবর্গ নূহের নৌকার সদৃশ; যে তাতে আরোহণ করল সে মুক্তি পেল, আর যে তা থেকে পিছিয়ে থাকল সে ধ্বংস হলো।" এবং হাম্মাদ বিন যায়েদ আমর বিন দিনার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলি থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আরবদের মনোনীত করেছেন, তারপর তাদের মধ্য থেকে নাদর বিন কিনানাকে মনোনীত করেছেন, তারপর কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, তারপর কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন, তারপর বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"

সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে বর্ণিত, তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ অংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছেন আর আমাকে শ্রেষ্ঠ দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন আর আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং তাদের বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন আর আমাকে শ্রেষ্ঠ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; সুতরাং আমি পরিবার ও বংশমর্যাদায় তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্ক ও বংশধারা ব্যতীত অন্য সকল সম্পর্ক ও বংশধারা ছিন্ন হয়ে যাবে।"

আর আবদ মানাফের পুত্র আল-মুত্তালিবের ব্যাপারে বলা হয় যে, তাঁর দানশীলতার কারণে তাঁকে "আল-ফায়দ" (প্রবাহমান দানবীর) বলা হতো। তাঁর সম্পর্কেই বলা হয়েছে: "আর দানবীর হলেন সেই মুত্তালিব, যিনি অতিথিদের আশ্রয়দাতা।" আল-মুত্তালিব ইয়ামেনের "রাদমান" নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। তখন আরবদের জনৈক ব্যক্তি তাঁর স্মরণে বিলাপ করে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قَد ظَمئ الحجيجُ بعدَ المطَّلبْ

بعدَ الجِفانِ والشرابِ المُنْثِعِبْ

ليتَ قُريشاً بعدَهُ على نُصُبْ

ومن ولده: عبيدة، والطفيل، والحصين. بنو الحارث بن المطَّلب شهدوا بدرا، وهم من المهاجرين الأولين. واستشهد عبيدة يوم بدر، قطع رجله عتبة بن ربيعة، فمات بالصَّفراء.

ومن ولده مسطح بن أثاثة، واسمه عوف بن أثاثة بن عبَّاد بن المطلب. ومسطح مهاجري بدري، وهو من أصحاب الأفك. وأمه: بنت خالة أبي بكر الصديق، وأبوها أبو رهم بن المطَّلب. وأمها سلمى بنت صخر بن عامر بن كعب بن سعيد بن تيم، أخت أمِّ الخير أمِّ أبي بكر رضي الله عنه.

ومنهم ركانة بن عبد يزيد بن هاشم بن المطلب. وكان من أشدَّاء قريش. وخبره حين صرعه النبي صلى الله عليه وسلم بمكة في بعض شعابها مشهور، وذلك قبل الهجرة. ثم أسلم بعد ذلك وحسن إسلامه. وكان إسلامه قبل فتح خيبر. وقسم له رسول الله صلى الله عليه وسلم من أموال الكتيبة من خيبر خمسين وسقا وروى عن النبيِّ عليه السلام.

وكان لركانة ابنان: يزيد وطلحة فأما يزيد فكانت له صحبة ورواية. وروى عنه أبو جعفر محمد بن علي. وأما طلحة فولد زيد بن طلحة، وفي الموطأ عنه ما نصُّه: مالكعن سلمة بن صفوان بن سلمة الزرقي، عن زيد بن طلحة بن ركانة، يرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لكلِّ دين خلق، وخلق الإسلام الحياء ". قال الحافظ أبو عمر بن عبد البرِّ في كتاب " التقصِّي " له: هكذا الحديث في الموطأ عند
আল-মুত্তালিবের পর হাজিগণ পিপাসার্ত হয়ে পড়ল

বড় বড় খাঞ্চা এবং প্রবহমান পানীয়ের পর

হায়! কুরাইশরা যেন তাঁর পরে কষ্টের মধ্যে থাকে

তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন: উবাইদাহ, আত-তুফাইল এবং আল-হুসাইন। আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিবের এই পুত্রগণ বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা প্রথম দিকের মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উবাইদাহ বদরের দিন শাহাদাত বরণ করেন, উতবাহ বিন রাবিয়াহ তাঁর পা কেটে ফেলেছিল, ফলে তিনি আস-সাফরায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন মিসতাহ বিন আসাছাহ, যাঁর নাম আউফ বিন আসাছাহ বিন আব্বাদ বিন আল-মুত্তালিব। মিসতাহ একজন মুহাজির ও বদরি সাহাবি ছিলেন এবং তিনি ইফকের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন আবু বকর সিদ্দিকের খালাতো বোন, আর তাঁর (মাতার) পিতা ছিলেন আবু রুহম বিন আল-মুত্তালিব। তাঁর মাতা সালমা বিনতে সাখর বিন আমির বিন কাব বিন সাঈদ বিন তাইম ছিলেন উম্মুল খায়েরের বোন, যিনি আবু বকরের (রা.) মাতা।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুকানাহ বিন আবদ ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব। তিনি কুরাইশদের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন। মক্কার কোনো এক উপত্যকায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁকে কুস্তিতে ভূপাতিত করার সংবাদটি সুপ্রসিদ্ধ, যা হিজরতের পূর্বে ঘটেছিল। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত উত্তম। খায়বার বিজয়ের পূর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের আল-কাতিবাহর সম্পদ হতে তাঁকে পঞ্চাশ ওয়াসাক প্রদান করেছিলেন এবং তিনি নবী (আলাইহিস সালাম) হতে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

রুকানাহর দুই পুত্র ছিল: ইয়াজিদ এবং তালহা। ইয়াজিদের কথা বলতে গেলে, তাঁর সাহচর্য (সাহাবিয়্যাত) ও বর্ণনা রয়েছে। তাঁর নিকট হতে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন। আর তালহা জন্ম দিয়েছেন যাইদ বিন তালহাকে, এবং মুয়াত্তায় তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ নিম্নরূপ: মালিক সালামাহ বিন সাফওয়ান বিন সালামাহ আল-জুরাকি হতে, তিনি যাইদ বিন তালহা বিন রুকানাহ হতে বর্ণনা করেন, যা মারফু হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে; তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রতিটি দ্বীনেরই একটি চরিত্র থাকে, আর ইসলামের চরিত্র হলো লজ্জা।" হাফেজ আবু উমর বিন আব্দুল বার তাঁর "আত-তাকাসসি" গ্রন্থে বলেছেন: মুয়াত্তায় হাদিসটি এভাবেই রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
أكثر الرواة عن مالك. وقد أسنده بعض الرواة عن مالك. وقد ذكره في التمهيد.

وأخو ركانة عُجَير بن عبد يزيد. كان ممَّن بعثه عمر فيمن أقام أعلام الحرم. وكان من مشايخ قريش وجلَّتهم. وقسم له رسول الله صلى الله عليه وسلم من الكتيبة من خيبر ثلاثين وسقا.

وابن أخيه السائب بن عبيد بن عبد يزيد أسر يوم بدر فافتدى. ثم أسلم فقيل له " هلَاّ " أسلمت قبل أن تفتدي؟ فقال: ما كنت لأحرم المؤمنين طمعا لهم فيَّ.

وابنه شافع بن السائب: إليه ينتسب الشافعي الأمام. فيقال فيه: محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع.

وجدُّ السائب عبد يزيد بن هاشم بن المطلب: وهو أبو ركانة. كان يقال له: " المحض لا قذى فيه "، لأنه ولده هاشما " ن "؛ هاشم بن المطلب أبوه، وهاشم بن عبد مناف أبو أمِّه، واسمها " الشفاء ". فالشافعي صريح المجد لأب وأم. وولد سنة خمسين ومئة، في السنة التي مات فيها أبو حنيفة في خلافة أبي جعفر المنصور. وتوفي بمصر سنة أربع ومئتين في خلافة المأمون. ونشأ بمكة مسقط رأسه، ورحل في طلب العلم منها إلى مالك إمام الهجرة، وقرأ عليه، وهو ابن أربع عشرة سنة، رضي الله عنه.

ومن " بني " المطلب بن عبد مناف أيضا قيس بن مخرمة بن المطلب: أبو محمد، ويقال: أبو السائب، ولد هو رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل. روي عنه أنه قال: كنت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم لدة. وكان أحد المؤلَّفة قلوبهم، وممَّن حسن إسلامه منهم. ولم يبلِّغه رسول الله صلى الله عليه وسلم مئة من الإبل من غنائم
মালিক থেকে অধিকাংশ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো বর্ণনাকারী এটি মালিক থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি আত-তামহীদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর রুকানার ভাই হলেন উজাইর ইবন আবদ ইয়াযীদ। তিনি উমর কর্তৃক প্রেরিত সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হারামের সীমানা চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন। তিনি কুরাইশদের শায়খ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অন্যতম ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের কুতাইবাহ থেকে তাঁর জন্য ত্রিশ ওয়াসাক বরাদ্দ করেছিলেন।

তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সায়িব ইবন উবাইদ ইবন আবদ ইয়াযীদ বদরের যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন এবং পরে মুক্তিপণ প্রদান করেন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হলো, "মুক্তিপণ প্রদানের আগেই কেন আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন না?" তিনি বললেন, "মুমিনরা আমার থেকে যে লাভের আশা করছিল, আমি তাদের তা থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি।"

তাঁর পুত্র হলেন শাফি ইবন সায়িব: তাঁর দিকেই ইমাম শাফেয়ী নিজেকে সম্পর্কিত করেন। তাই তাঁর সম্পর্কে বলা হয়: মুহাম্মদ ইবন ইদরিস ইবন আব্বাস ইবন উসমান ইবন শাফি।

সায়িবের দাদা হলেন আবদ ইয়াযীদ ইবন হাশিম ইবন মুত্তালিব: তিনি রুকানার পিতা। তাঁকে বলা হতো: "নিখাদ ব্যক্তি যাতে কোনো কালিমা নেই", কারণ তাঁর জন্মদাতা হাশিম; হাশিম ইবন মুত্তালিব তাঁর পিতা এবং হাশিম ইবন আবদ মানাফ তাঁর মাতামহ, যাঁর নাম ছিল "আশ-শিফা"। সুতরাং শাফেয়ী পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকেই আভিজাত্যে ভাস্বর। তিনি একশত পঞ্চাশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর আবু জাফর আল-মনসুরের খিলাফতকালে আবু হানিফা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুইশত চার হিজরিতে আল-মামুনের খিলাফতকালে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর জন্মস্থান মক্কায় লালিত-পালিত হন এবং সেখান থেকে ইলম অন্বেষণে হিজরতের ইমাম মালিকের নিকট গমন করেন এবং তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

বনু মুত্তালিব ইবন আবদ মানাফের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কায়েস ইবন মাখরামা ইবন মুত্তালিব: তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ, আবার বলা হয় আবু সায়িব। তিনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবাহিনীর বছর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমবয়সী ছিলাম।" তিনি মুআল্লাফাতুল কুলুবদের (যাদের অন্তর জয় করা হয়েছিল) একজন ছিলেন এবং তাদের মধ্যে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গনীমতের সম্পদ থেকে একশ উট পূর্ণ করে দেননি।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
حنين. وروى عنه ابنه المطلب بن عبد الله روى عنه محمد بن إسحاق في السيرة عن أبيه، عن جده قيس بن مخرمة الحديث المتقدم: " ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل، فنحن لدان ". وخرَّج التَّرمذي الحديث بلفظه سواء عن محمد بن بشّار العبدي عن وهب بن جرير عن أبيه، عن محمد بن إسحاق، عن المطلب، عن أبيه، عن جده، ولم يذكر فيه " فنحن لدان ".

وكانت لقيس بن مخرمة بن المطلب بنت تسمى زينب قد صلَّت القبلتين " جميعا " مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي مولاة السُّدِّي المفسِّر، أعتقت أباه. روى " أسباط " بن نصر عن السُّدي عن أبيه قال: كاتبتني زينب بنت قيس بن مخرمة من بني المطَّلب بن عبد مناف على عشرة آلاف فتركت لي ألفا. وكانت قد صلَّت القبلتين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم.

السُّدِّي إسماعيل بنُ عبد الرحمن: سمع من أنس بن مالك، ورأى الحسين بن علي. وثَّقة شعبة " وسفيان " الثَّوريُّ ويحيى بن سعيد القطَّان وقيل له: " السدِّي " لأنه كان يبيع الخمر في سدَّة المسجد با....

وأما نوفل بن عبد مناف فمن ولده: مطعم بن عديِّ بن نوفل. وهو الذي أجاز النبي عليه السلام حين رجع من الطائف من دعاء ثقيف بعد موت أبي طالب. ذكر أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لما انصرف من الطائف مريدا مكة مَّر به بعض أهل مكة. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: " هل أنت مبلِّغ عني رسالة أرسلك بها؟ " قال: نعم. قال: " إئت الأخنس بن شريف، فقيل له: يقول محمد: " هل أنت مجيري حتى أبلِّغ رسالات ربي؟ ". قال: فأتاه، فقال له ذلك. فقال الأخنس: إنَّ الحليف لا يجير على الصَّريح. قال: فأتى النبي صلى الله عليه وسلم، فأخبره. قال: " تعود؟ " قال: نعم. قال: " إئت سهيل بن عمرو فقل له: أن محمدا يقول لك: هل أنت مجيري حتى
হুনাইন। এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্র মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক 'আস-সিরাত'-এ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা কায়স ইবনে মাখরামা থেকে পূর্ববর্তী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই আমরা সমবয়সী।" তিরমিযী মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আল-আবদি থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে হাদিসটি হুবহু একই শব্দে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে "আমরা সমবয়সী" কথাটি উল্লেখ করেননি।

কায়স ইবনে মাখরামা ইবনে আল-মুত্তালিবের জয়নব নামে এক কন্যা ছিল, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উভয় কিবলার দিকেই সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুফাসসির আস-সুদ্দীর আযাদকৃত মনিব, যিনি তাঁর (সুদ্দীর) পিতাকে আযাদ করেছিলেন। আসবাত ইবনে নাসর আস-সুদ্দী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু মুত্তালিব ইবনে আব্দ মানাফের কায়স ইবনে মাখরামার কন্যা জয়নব দশ হাজারের বিনিময়ে আমার সাথে মুক্তিপণ চুক্তি করেছিলেন এবং তিনি আমার জন্য এক হাজার ছেড়ে দিয়েছিলেন। আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উভয় কিবলার দিকেই সালাত আদায় করেছিলেন।

আস-সুদ্দী ইসমাঈল ইবনে আব্দুর রহমান: তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে হাদিস শুনেছেন এবং হুসাইন ইবনে আলীকে দেখেছেন। শু'বা, সুফিয়ান আস-সাওরী এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তাঁকে "আস-সুদ্দী" বলা হতো কারণ তিনি মসজিদের বারান্দায় বা প্রবেশপথে কাপড় বিক্রি করতেন...

আর নওফাল ইবনে আব্দ মানাফের সন্তানদের মধ্যে ছিলেন: মুতয়িম ইবনে আদি ইবনে নওফাল। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আবু তালিবের মৃত্যুর পর সাকিফ গোত্রের দাওয়াত শেষে তায়েফ থেকে ফেরার পথে নবী আলাইহিস সালামকে আশ্রয় প্রদান করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে ফিরছিলেন, তখন মক্কার কিছু লোকের সাথে তাঁর দেখা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "আমি তোমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠাব, তুমি কি তা পৌঁছে দেবে?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "আখনাস ইবনে শারীফের কাছে যাও এবং তাকে বলো: মুহাম্মাদ বলছে: 'আমি যতক্ষণ আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে না দিই, ততক্ষণ আপনি কি আমাকে আশ্রয় দেবেন?'" বর্ণনাকারী বলেন: সে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে তা বলল। আখনাস বলল: কোনো চুক্তিবদ্ধ মিত্র গোত্রের মূল নেতার অনুমতির বাইরে কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না। বর্ণনাকারী বলেন: সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে তাঁকে তা জানাল। তিনি বললেন: "তুমি কি আবার যাবে?" সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "সুহাইল ইবনে আমরের কাছে যাও এবং তাকে বলো যে, মুহাম্মাদ আপনাকে বলছে: আপনি কি আমাকে আশ্রয় দেবেন যাতে আমি..."
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أبلِّغ رسالات ربي؟ ". فأتاه، فقال له ذلك. قال: فقال: إن بني عامر لا تجير على بني كعب. قال: فرجع إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فأخبره. قال: " تعود؟ " قال: " إئت المطعم بن عديٍّ فقل له: إن محمدا يقول لك: هل أنت مجيري حتى أبلِّغ رسالات ربي؟ ". قال: نعم فليدخل. قال: فرجع الرجل إليه فأخبره. وأصبح المطعم بن عديّ قد لبس سلاحه وهو بنوه وبنو أخيه. فدخلوا المسجد، فلما رآه أبو جهل قال: أمجير أم متابع؟ قال: بل مجير. قال: أجرنا من أجرت. فدخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة، فأقام بها. ولم يشهد المطعم بدرا مع المشركين لأنه مات بمكة مشركا في صفر قبل بدر بسبعة أشهر. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابنه جبير حين قفل من غزوة بدر إلى المدينة، وأتاه جبير يكلمه في أسارى بدر من مكة وهو على شركه: " لو أن أباك كان حيا، أو لو أن المطعم بن عدي كان حيا ثم كلمني في هؤلاء النتنى لأطلقتهم له " جزاء ليده التي كانت له عنده حين أجاره.

وكان المطعم من أشراف قريش، وممن قام في نقض الصحيفة التي كتبتها قريش على بني هاشم وبني المطلب بمكة، وخبرها مشهور.

وابنه جُبيرُ بنُ مُطعِم: من مسلمة الفتح، وحسن إسلامه، وكان نسَّابة وتوفي بالمدينة سنة سبع وخمسين، وقيل: سنة تسع وخمسين في خلافة معاوية. وهو من المؤلفة قلوبهم، وممَّن حسن إسلامه منهم، ويكنى أبا محمد. ويقال: إن أول من لبس بالمدينة طيلسانا جبير بن مطعم ويروى عن ابنه محمد ونافع الحديث. روى ابن شهاب عن محمد بن جبير بن مطعم عن أبيه قال: " أتيت النبي صلى الله عليه وسلم لأكلمه في أسارى بدر فوافقته وهو يصلي بأصحابه المغرب أو العشاء. فسمعته وهويقرأ، وقد خرج صوته من المسجد:) إنَّ عذابَ ربِّكَ لواقعٌ مالَه من دافع (. قال: فكأنما صدع قلبي. وبعض أصحاب الزُّهري يقول في هذا الخبر: فسمعته يقرأ:) خُلقوا من غير شئ أم هُمُ الخالقون أم خَلقوا السماواتِ والأرضَ بل لا يُقِنونَ (. فكاد قلبي يطير. فلمَّا فرغ من صلاته كلَّمته في أسارى بدر، فقال: " لو كان الشيخ أبوك حيا فأتانا فيهم لشفَّعناه ".
"আমি কি আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে দেব?" অতঃপর তিনি তার নিকট আসলেন এবং তাকে তা বললেন। তিনি বললেন: বনু আমির বনু কাবের বিপক্ষে আশ্রয় প্রদান করে না। তিনি বললেন: তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে গেলেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি (নবী) বললেন: "তুমি কি পুনরায় যাবে?" তিনি বললেন: "মুতিম ইবনে আদীর নিকট যাও এবং তাকে বলো: মুহাম্মাদ তোমাকে বলছে: আমি আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আপনি কি আমাকে আশ্রয় প্রদান করবেন?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে যেন প্রবেশ করে। তিনি বললেন: তখন লোকটি তাঁর নিকট ফিরে আসলেন এবং তাঁকে জানালেন। পরদিন সকালে মুতিম ইবনে আদী স্বীয় অস্ত্র পরিধান করলেন এবং তাঁর পুত্ররা ও তাঁর ভাইয়ের পুত্ররাও অস্ত্র পরিধান করল। তারা মসজিদে প্রবেশ করল। আবু জাহল যখন তাঁকে দেখল, সে বলল: আপনি কি আশ্রয়দাতা নাকি অনুসারী? তিনি বললেন: বরং আমি আশ্রয়দাতা। সে বলল: আপনি যাকে আশ্রয় দিয়েছেন আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে অবস্থান করলেন। মুতিম মুশরিকদের সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত হননি, কারণ তিনি বদরের সাত মাস পূর্বে সফর মাসে মক্কায় মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র জুবাইরকে বললেন—যখন তিনি বদর যুদ্ধ থেকে মদিনায় ফিরছিলেন এবং জুবাইর মক্কার বদর বন্দীদের বিষয়ে কথা বলতে তাঁর নিকট এসেছিলেন অথচ তিনি তখনও মুশরিক ছিলেন: "যদি তোমার পিতা জীবিত থাকতেন, অথবা মুতিম ইবনে আদী যদি জীবিত থাকতেন এবং এই দুর্গন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আমার নিকট সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর হাতের (উপকারের) প্রতিদানস্বরূপ তাদের মুক্ত করে দিতাম যা আমার নিকট তাঁর পক্ষ হতে ছিল যখন তিনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।"

মুতিম কুরাইশদের অন্যতম অভিজাত ব্যক্তি ছিলেন এবং মক্কায় বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে কুরাইশদের তৈরিকৃত চুক্তিপত্র বাতিলের প্রচেষ্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; এ ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ।

তাঁর পুত্র জুবাইর ইবনে মুতিম: তিনি মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অতি উত্তম। তিনি একজন বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং হিজরী সাতান্ন সনে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। কারো মতে তিনি মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে ঊনষাট হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন 'মুআল্লাফাতুল কুলুব' (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়েছিল) এর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মধ্যে উত্তম ইসলাম পালনকারী ছিলেন। তাঁর উপনাম ছিল আবু মুহাম্মদ। বলা হয়ে থাকে: মদিনায় সর্বপ্রথম জুবাইর ইবনে মুতিমই 'তাইলসান' (এক প্রকার চাদর) পরিধান করেছিলেন। তাঁর পুত্র মুহাম্মদ এবং নাফে থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনে শিহাব মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতিম থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি বদর বন্দীদের বিষয়ে কথা বলার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে মাগরিব অথবা এশার সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম, এবং তাঁর আওয়াজ মসজিদ থেকে বাইরে আসছিল: (নিশ্চয় আপনার রবের শাস্তি অবশ্যই আপতিত হবে, যা ঠেকানোর কেউ নেই)। তিনি বললেন: মনে হচ্ছিল যেন তা আমার অন্তরকে বিদীর্ণ করে ফেলছে।" যুহরীর কোনো কোনো সাথী এই বর্ণনায় বলেন: আমি তাঁকে পড়তে শুনলাম: (তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না)। তখন যেন আমার অন্তর উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমি বদর বন্দীদের বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললাম। তখন তিনি বললেন: "যদি তোমার বৃদ্ধ পিতা জীবিত থাকতেন এবং আমাদের নিকট সুপারিশ করতেন, তবে আমরা তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করতাম।"
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي الموطأ: مالك عن ابن شهاب عن محمد بن جبير بن مطعم، عن أبيه أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ بالطُّور في المغرب.

وابنه نافعُ بن جُبير: كان ذا كبر، وجلس في حلقة العلا بن عبد الرحمن الحرفي، وهو يقرئ المسلمين، فلما فرغ قال: أتدرون لم جلست إليكم؟ قالوا: جلست لتسمع؟. قال: لا، ولكنِّي أردت أن أتواضع لله بالجلوس إليكم......

إنَّ اللعينَ أبوكَ فارْمِ عِظامَهُ … إنْ ترمِ ترمِ مُخَلَّجاً مَجْنونا

يُمسي خَميصَ البطنِ من عملِ التُّقى … ويظلُّ من عملِ الخبيثِ بَطِينا

أما قول عبد الرحمن بن حسان: " إنَّ اللعين أبوك فارم عظامه "، فروي عن عائشة، من طرق ذكرها ابن أبي خيثمة وغيره، أنها قالت لمروان إذ قال في أخيها عبد الرحمن ما قال: " أمَّا أنت يا مروان فأشهد أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن أباك، وأنت في صلبه. وقال أبو بكر أحمد بن زهير أبي خيثمة: نا موسى بن إسماعيل، نا عبد الواحد بن زياد، نا عثمان بن حكيم، قال: نا شعيب بن محمد بن عبد الله بن عمرو بن العاصي، عن عبد الله بن عمرو بن العاصي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يدخل عليكم رجل لعين ". وكنت قد تركت عمرا يلبس عليه ثيابه ليقبل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلم أزل مشفقا أن يكون أول من يدخل، فدخل الحكم بم أبي العاصي.

وابنه مروانُ بنُ الحكم: توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن
মুওয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে: মালিক বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তুর তিলাওয়াত করতে শুনেছি।

এবং তাঁর পুত্র নাফি ইবনে জুবাইর: তিনি কিছুটা অহংকারী ছিলেন, এবং তিনি আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান আল-হারফির মজলিসে বসলেন, যখন তিনি মুসলিমদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যখন তিনি পাঠদান শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা কি জানো আমি কেন তোমাদের সাথে বসেছি? তারা বলল: আপনি কি শোনার জন্য বসেছেন? তিনি বললেন: না, বরং আমি তোমাদের সাথে বসার মাধ্যমে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হতে চেয়েছি......

নিশ্চয়ই তোমার পিতা অভিশপ্ত, সুতরাং তার হাড়গুলোকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করো … যদি তুমি নিক্ষেপ করো, তবে এক পঙ্গু ও উন্মাদের দিকেই নিক্ষেপ করবে।

সে তাকওয়ার আমলের কারণে ক্ষুধার্ত পেটে সন্ধ্যা অতিবাহিত করে … আর পাপাচারের কারণে উদর পূর্ণ করে দিন কাটায়।

আর আবদুর রহমান ইবনে হাসানের উক্তি: "নিশ্চয়ই তোমার পিতা অভিশপ্ত, সুতরাং তার হাড়গুলোকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করো", এটি আয়েশা (রা.) থেকে ইবনে আবি খাইসামা ও অন্যান্যদের বর্ণিত সূত্রে রেওয়ায়েত করা হয়েছে যে, মারওয়ান যখন তাঁর ভাই আবদুর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর যা বলার বলেছিল, তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: "হে মারওয়ান! তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার পিতাকে অভিশাপ দিয়েছেন যখন তুমি তার পৃষ্ঠদেশে ছিলে।" এবং আবু বকর আহমদ ইবনে জুহাইর আবি খাইসামা বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে হাকিম থেকে, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুয়াইব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কাছে এখন একজন অভিশপ্ত ব্যক্তি প্রবেশ করবে।" আমি তখন আমরকে পোশাক পরতে রেখে এসেছিলাম যাতে সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসে, তাই আমি প্রতিনিয়ত এই আশঙ্কায় ছিলাম যে সে-ই যেন প্রথম প্রবেশকারী না হয়। এরপর আল-হাকাম ইবনে আবিল আস প্রবেশ করল।

এবং তাঁর পুত্র মারওয়ান ইবনুল হাকাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল...
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ثماني سنين. وكان من الفقهاء، وكان كاتب عثمان رضي الله عنه، ومن أجله حوصر عثمان. وكان مع عائشة يوم الجمل. وولي المدينة مرَّتين لمعاوية، ثم بويع بالخلافة سنة أربع وستين؛ بايعه أهل الشام بالجابية. وقتل الضحاك بن قيس الفهريَّ بمرج راهط. وكان من أصحاب ابن الزبير. بايعه، ودعا له. وكان يوم المرج حيث قتل الضحاك للنِّصف من ذي الحجَّة سنة أربع وستين، وكانت ولاية مروان عشرة أشهر، ومات بالشام سنة خمس وستين، وهو ابن ثلاث وستين سنة. وهو يعدُّ فيمن قتله النساء.

وأمُّه آمنة بنت علقمة بن صفوان بن أميَّة بن محدِّث بن جمل بن شقٍّ ابن رقبة بن مجدج بن عامر بن ثعلبة بن الحرث بن مالك بن كنانة بن خزيمة ابن مدركة بن إلياس بن مضر. وكانت زرقاء، ولذلك يقال لمروان: " ابن الزرقاء ".

وابنه عبدُ الملك من الفقهاء وأهل الحزم والدهاء، ويلقَّب " رشح الحجر " لبخله، ويكنى " أبا ذبَّان " لبخره. وكان معاوية جعله مكان زيد بن ثابت على ديوان المدينة، وهو ابن ستَّ عشرة سنة وجعله أبوه الخليفة من بعده. وتوفي عبد الملك بدمشق سنة ستٍّ وثمانين. وولي الخلافة من ولده أربعة: الوليد وسليمان ويزيد - وهو ابن عاتكة بنت يزيد بن معاوية - وهشام، وولي وسطا بين سليمان ويزيد عمر بن عبد العزيز بن مروان رضي الله عنه. وتوفي بدير سمعان من أرض حمص سنة إحدى ومئة، وهو ابن تسع وثلاثين سنة.

ومن ولده هشام بن عبد الملك بن مروان عبدُ الرحمنِ بنُ " مُعاوية " بن هشامٍ الداخلُ إلى الأندلس، وهو أبو الخلفاء بها. وكان يقال له " صفر قريش ".

ويكنى " أبا المُطرِّف ". واحتلَّ بالمنكب بعد انفصاله عن الشام غُرِّةٌ ربيع الأولى سنة ثمان وثلاثين ومئة. ودخل قرطبة ظاهرا فاشيا أمره بالأندلس.
আট বছর। তিনি ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর লেখক ছিলেন, আর তাঁর কারণেই উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অবরুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি উটের যুদ্ধের দিন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে ছিলেন। তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষে দুইবার মদিনার শাসনভার পরিচালনা করেন, অতঃপর চৌষট্টি হিজরি সনে তাঁর খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয়; জাবিয়া নামক স্থানে শামের অধিবাসীরা তাঁর হাতে বায়আত নেয়। তিনি মারজ রাহিতের যুদ্ধে দাহহাক বিন কায়েস আল-ফিহরিকে হত্যা করেন। তিনি (দাহহাক) ইবনে যুবায়েরের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি তাঁর হাতে বায়আত নিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। মারজ রাহিতের যুদ্ধ, যেখানে দাহহাক নিহত হন, তা ছিল চৌষট্টি হিজরি সনের জিলহজ মাসের মাঝামাঝি সময়ে। মারওয়ানের খিলাফতকাল ছিল দশ মাস, এবং তিনি পঁয়ষট্টি হিজরি সনে শামে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। তাঁকে সেই ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করা হয় যাদেরকে মহিলারা হত্যা করেছিল।

তাঁর মাতা ছিলেন আমিনা বিনতে আলকামা বিন সাফওয়ান বিন উমাইয়া বিন মুহাদ্দিস বিন জামাল বিন শিক্ক বিন রাকাবাহ বিন মাজদাজ বিন আমির বিন সা'লাবা বিন হারিস বিন মালিক বিন কিনানা বিন খুজাইমা বিন মুদ্রিকা বিন ইলিয়াস বিন মুদার। তিনি নীল চক্ষুবিশিষ্ট ছিলেন, আর এ কারণেই মারওয়ানকে "ইবনুল যারকা" (নীল চক্ষুবিশিষ্ঠের পুত্র) বলা হতো।

তাঁর পুত্র আব্দুল মালিক ছিলেন ফকীহ এবং দৃঢ় সংকল্প ও বিচক্ষণতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। কৃপণতার কারণে তাঁর উপাধি ছিল "রাশহুল হাজার" (পাথরের ঘাম), এবং মুখের দুর্গন্ধের কারণে তাঁর উপনাম ছিল "আবু জুব্বান"। মুয়াবিয়া তাঁকে ষোলো বছর বয়সে জায়েদ বিন সাবিতের স্থলাভিষিক্ত করে মদিনার দিওয়ানের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন এবং তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর পরবর্তী খলিফা মনোনীত করেন। আব্দুল মালিক ছিয়াশি হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে চারজন খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন: ওয়ালিদ, সুলাইমান, ইয়াজিদ—যিনি আতিকা বিনতে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার পুত্র—এবং হিশাম। সুলাইমান ও ইয়াজিদের মধ্যবর্তী সময়ে উমর বিন আব্দুল আজিজ বিন মারওয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একশত এক হিজরি সনে হিমস অঞ্চলের দাইরে সামআনে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ঊনচল্লিশ বছর।

হিশাম বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের বংশধরদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন "মুয়াবিয়া" বিন হিশাম ছিলেন আন্দালুসে প্রবেশকারী, এবং তিনি সেখানকার খলিফাদের আদিপিতা। তাঁকে "সাকর কুরাইশ" (কুরাইশদের বাজপাখি) বলা হতো।

তাঁর উপনাম ছিল "আবু আল-মুতরিফ"। শাম থেকে পৃথক হওয়ার পর একশত আটত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে তিনি আল-মুনাক্কাবে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি বিজয়ী বেশে কর্ডোভায় প্রবেশ করেন এবং আন্দালুসে তাঁর কর্তৃত্ব ছড়িয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وثبت له به البيعة يوم الأضحى، ووافق ذلك يوم الجمعة من سنة ثمان وثلاثين ومئة، وهو ابن ستٍّ وعشرين سنة.

وتوفي يوم الثُّلاثاء لستٍّ بقين لربيع الأول سنة اثنتين وسبعين مئة.

وكان ملكه اثنتين وثلاثين سنة وخمسة أشهر. وكان مولده بدير حنينا من عمل دمشق، سنة ثلاث وعشرة مئة.

ومن ولد يزيد " بن " عبد الملك بعد عمر بن عبد العزيز الوليدُ بن يزيد. وولي الخلافة بعد عمِّه هشام. وكان مناجا زنديقا سفيها. وقصته في المصحف مشهورة حين رشقه بالسِّهام لمَّا استفتح فيه، فخرج له) واسْتَفْتحوا وخابَ كلُّ جَبَّارٍ عَنِيد (فغضب، ونصبه هدفا للسهام. وقال، وهو يرشقه:

أتوعد كلِّ جبارٍ عنيدٍ … فهأنذاكَ جبَّارٌ عنيدُ

إذا ما جئتَ ربَّكَ يومَ حشرٍ … فقل: يا ربِّ مزَّقني الوليدُ

فرؤي رأسه بعد ثلاثة أيام في موضع المصحف موضوعا بعد ما حزَّ، انتقم الله منه لكتابه الكريم. وقتله ابن عمِّه يزيدُ بنُ الوليد الملقب بالناقص، وكان فاضلا. وكانت ولايته من مقتل الوليد خمسة أشهر. ويقال: أنه مذكور في الكتب المتقدمة بحسن السيرة والعدل، وفي بعضها: يا مبذِّر الكنوز، يا سجَّادا في الأسحار، كانت ولايتك رحمة ووفاتك فتنة، أخذوك فصلبوك.

وكان مروان بن محمد بن مروان بن الحكم آخر ملوك بني أمية، الذي قامت عليه " المسوَّدة " بنو العباس لمَّا ولي الخلافة نبش قبر يزيد الناقص، واستخرجه وصلبه. ولقِّب يزيد بالناقص لأنه نقص الجند أعطياتهم.
ঈদুল আযহার দিন তাঁর প্রতি আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, এবং সেটি ছিল একশত আটত্রিশ হিজরি সনের জুমআর দিন। তখন তাঁর বয়স ছিল ছাব্বিশ বছর।

তিনি একশত বাহাত্তর হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের ছয় দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার দিন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রাজত্বকাল ছিল বত্রিশ বছর পাঁচ মাস। তাঁর জন্ম হয়েছিল দামেস্কের অধীনস্থ দাইরে হানিনাতে, একশত তেরো হিজরি সনে।

উমর ইবনে আবদুল আজিজের পর ইয়াজিদ ইবনে আবদুল মালিকের সন্তানদের মধ্য থেকে আল-ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ ক্ষমতাসীন হন। তিনি তাঁর চাচা হিশামের পর খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকাশ্য যিনদিক (ধর্মত্যাগী) ও নির্বোধ। পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি (মুসহাফ) নিয়ে তাঁর কাহিনীটি প্রসিদ্ধ, যখন তিনি এতে শুভ লক্ষণ দেখার জন্য তা খোলেন এবং তাঁর সামনে এই আয়াতটি আসে: "তারা বিজয় প্রার্থনা করল এবং প্রত্যেক হঠকারী স্বৈরাচারী ব্যর্থ হলো।" এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে সেটিকে তীরের লক্ষ্যবস্তু বানান। তিনি সেটিতে তীর নিক্ষেপ করার সময় বলতে থাকেন:

তুমি কি প্রত্যেক হঠকারী স্বৈরাচারীকে ভয় দেখাচ্ছ? … তবে শোনো, আমিই সেই হঠকারী স্বৈরাচারী।

হাশরের ময়দানে যখন তুমি তোমার রবের কাছে উপস্থিত হবে, … তখন বলো: হে আমার রব, ওয়ালিদ আমাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে।

তাঁর মাথা কাটার তিন দিন পর মুসহাফের জায়গায় সেটি রাখা অবস্থায় দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। তাঁর চাচাতো ভাই ইয়াজিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাঁকে হত্যা করেন, যিনি 'আন-নাকিস' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং তিনি একজন গুণী ব্যক্তি ছিলেন। ওয়ালিদের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর শাসনকাল ছিল পাঁচ মাস। বলা হয় যে, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে তাঁর উত্তম চরিত্র ও ন্যায়পরায়ণতার উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো কিতাবে বর্ণিত আছে: হে ধনভাণ্ডার অকাতরে দানকারী, হে শেষ রাতে সিজদাকারী, তোমার শাসন ছিল রহমত এবং তোমার মৃত্যু ছিল ফিতনা; তারা তোমাকে ধরে শূলে চড়িয়েছে।

মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান ইবনুল হাকাম ছিলেন উমাইয়া বংশের শেষ রাজা, যাঁর বিরুদ্ধে 'আল-মুসাওওয়াদা' অর্থাৎ আব্বাসীয়রা বিদ্রোহ করেছিল। মারওয়ান যখন খিলাফতে আসীন হন, তখন তিনি ইয়াজিদ আন-নাকিসের কবর খনন করেন এবং তাঁর দেহ বের করে শূলে চড়ান। ইয়াজিদকে 'আন-নাকিস' (হ্রাসকারী) উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি সৈন্যদের ভাতা কমিয়ে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ومن بني العاصي بن أمية خالد وعمرو وسعيد وأبان والحكم، بنو سعيد أبي أحيحة بن العاصي. وهؤلاء الخمسة من الصحابة مشاهير. وعمر وخالد منهم إسلامهما قديم، وهاجرا الهجرتين جميعا إلى أرض الحبشة ثم إلى المدينة، وأما سعيد فاستشهد في الطائف، وكان إسلامه قبل فتح مكة بيسير. وأما أبان فكان إسلامه بين الحديبية وخيب. واستعمله رسول الله صلى الله عليه وسلم على البحرين؛ برَّها وبحرها، ثم عزل العلاء بن الحضرميِّ عنها، وأمَّره على بعض سراياه. وهو الذي أجار عثمان بن عفان حين بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى قريش عام الحديبية، وحمله على فرس حتى دخل مكة، وقال له:

أقبلْ وأَدبِر ولا تخفْ أحداً … بنو سعيدٍ أعزَّةُ الحَرَمِ

واستشهد عمر وخالد وأبان في فتوح الشام رضي الله عنهم. وأما الحكم خامسهم فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم غيَّر اسمه، وسمَّاه " عبد الله ". لأبي أحيحة ثمانية قدِّمت خمسة منهم للإسلام والصُّحبة. والثلاثة الباقون ماتوا كفارا، وهم: أحيحة والعاصي و " عبيدة ". فأما أحيحة وبه كان يكنى سعيد ابن العاصي بن أمية أبوهم، فقتل يوم الفجار. وأما العاصي وعبيدة فقتلا يوم بدر كافرين. قتل عليُّ بن أبي طالب العاصي، وقتل عبيدة الزبير بن العوّام، وسعيد بن العاصي، قتيل عليٍّ، أحد أجواد الإسلام، وكان فصيحا شريفا وفيه يقول الفرزدق حين ولاه معاوية المدينة في قصيدة:

ترى الغُرَّ الجحاجحَ من قريشٍ … إذا ما الأمرُ في الحَدَثانِ عالا
আল-আস ইবনে উমাইয়ার বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন খালিদ, আমর, সাঈদ, আবান এবং আল-হাকাম; যারা আবু উহায়হা সাঈদ ইবনে আল-আস ইবনে আল-আসের পুত্র। এই পাঁচজনই প্রখ্যাত সাহাবী ছিলেন। তাদের মধ্যে আমর ও খালিদ প্রাচীনকালেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তারা হাবশা (আবিসিনিয়া) ও পরবর্তীতে মদীনা—উভয় স্থানেই হিজরত করেছিলেন। আর সাঈদ তায়েফে শাহাদাত বরণ করেন; তার ইসলাম গ্রহণ ছিল মক্কা বিজয়ের অল্পকাল আগে। আবান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন হুদায়বিয়া এবং খায়বারের মধ্যবর্তী সময়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বাহরাইনের স্থল ও জলভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন; পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে আলা ইবনুল হাদরামিকে অপসারণ করে তাকে (আবানকে) তার কয়েকটি সামরিক অভিযানের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনিই উসমান ইবনে আফফানকে আশ্রয় দিয়েছিলেন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বছর তাকে কুরাইশদের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাকে একটি ঘোড়ায় চড়িয়ে মক্কায় প্রবেশ করিয়েছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন:

সম্মুখপানে চলো অথবা পশ্চাতে ফেরো, কাউকে ভয় করো না … সাঈদের সন্তানেরাই তো হারামের প্রকৃত মর্যাদাবান।

আমর, খালিদ এবং আবান শাম (সিরিয়া) বিজয়ের অভিযানে শাহাদাত বরণ করেন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। আর তাদের পঞ্চমজন আল-হাকাম, যার নাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবর্তন করে 'আব্দুল্লাহ' রেখেছিলেন। আবু উহায়হার আটজন পুত্র ছিল যাদের মধ্যে পাঁচজন ইসলাম ও সাহচর্যের সৌভাগ্য লাভ করেন। অবশিষ্ট তিনজন কাফির অবস্থায় মারা যান; তারা হলেন: উহায়হা, আল-আস এবং উবায়দাহ। উহায়হা—যার নামেই তাদের পিতা সাঈদ ইবনে আল-আস ইবনে উমাইয়াকে সম্বোধন করা হতো—তিনি ফিজারের যুদ্ধে নিহত হন। আর আল-আস এবং উবায়দাহ বদরের যুদ্ধে কাফির অবস্থায় নিহত হন। আলী ইবনে আবি তালিব আল-আসকে হত্যা করেছিলেন এবং যুবায়ের ইবনুল আওয়াম উবায়দাহকে হত্যা করেছিলেন। আলীর হাতে নিহত ব্যক্তির পুত্র সাঈদ ইবনে আল-আস ইসলামের অন্যতম দানশীল ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। মুয়াবিয়া যখন তাকে মদীনার গভর্নর নিযুক্ত করেন, তখন কবি ফারাজদাক এক কবিতায় তার সম্পর্কে বলেন:

তুমি কুরাইশদের সেই উজ্জ্বল ও মহান নেতৃবৃন্দকে দেখবে … যখন পরিস্থিতির বিপর্যয় অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
قياماً ينظرونَ إلى سعيدٍ … كأنَّهمُ يرونَ " به " هَلالا

وكان يقال له " عكة العسل ". ولد عام الهجرة وقيل: سنة إحدى. واستعمله عثمان على الكوفة، وغزا بالناس طبرستان فافتتحها، وافتتح أيضا جرجان في زمن عثمان، وكان أيَّدا. يقال: أنه ضرب بجرجان رجل على حبل عاتقه فأخرج السيف من مرفقه. ولما قتل عثمان لزم سعيد بن العاصي هذا بيته، واعتزل أيام الجمل وصفين، ولم يشهد شيئا من تلك الحروب. فلما أجتمع الناس على معاوية استوسق له الأمر ولاّه المدينة، وعزله وولاها مروان. وكان يعاقب بينه وبين مروان بن الحكم في أعمال المدينة.

وقال سفيان بن عيينة: كان سعيد بن العاصي كريما، إذ سأله سائل فلم يكن عنده ما يعطيه كتب له بما يريد أن يعطيه إلى أيام يسره. وكساه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو غلام، جبَّة فبها سميَّت الثياب السعيدية.... وهو أوَّل من خش الأبل في العظم. والخش: جعل الخشاش في أنف البعير.

وتوفي سنة تسع وخمسين في خلافة معاوية.

وابنه عمر بن سعيد الأشدق: هو الذي قتله عبد الملك بن مروان بيده. وكان مفوَّها بليغا. وقال له معاوية، وهو صغير: " إلى من اوصى بك أبوك؟ " فقال: " أوصى إليَّ ولم يوص بي ".

ومن ولد عمرو الأشدق إسماعيل بن أمية بن عمرو وكان يروي عنه الحديث ومات سنة أربعين ومئة.
দাঁড়িয়ে তারা সাঈদের দিকে তাকায় … যেন তারা তার মাঝে নতুন চাঁদ দেখছে।

তাঁকে "আক্কাতুল আসাল" (মধুর পাত্র) বলা হতো। তিনি হিজরতের বছর জন্মগ্রহণ করেন, আবার কেউ বলেছেন: প্রথম হিজরি সালে। উসমান (রা.) তাঁকে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং তিনি মানুষের সাথে নিয়ে তাবারিস্তান অভিযান পরিচালনা করে তা জয় করেন। উসমানের (রা.) আমলে তিনি জুরজানও জয় করেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন। বলা হয় যে, জুরজানে তিনি এক ব্যক্তিকে তার কাঁধের হাড়ের ওপর এমনভাবে আঘাত করেছিলেন যে, তলোয়ারটি তার কনুই দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। যখন উসমান (রা.) শহীদ হলেন, তখন এই সাঈদ ইবনুল আস নিজ ঘরে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জঙ্গে জামাল ও সিফফিনের দিনগুলোতে নির্জনতা অবলম্বন করেন; তিনি সেসব যুদ্ধের কোনোটিতেই অংশগ্রহণ করেননি। যখন মানুষ মুয়াবিয়ার (রা.) ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো এবং তাঁর শাসন সুসংহত হলো, তখন তিনি তাঁকে মদিনার গভর্নর নিযুক্ত করেন। এরপর তাঁকে অপসারণ করে মদিনার দায়িত্ব মারওয়ানকে প্রদান করেন। মদিনার প্রশাসনিক কার্যে তিনি এবং মারওয়ান বিন হাকাম পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করতেন।

সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেন: সাঈদ ইবনুল আস অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী তাঁর কাছে কিছু চাইত এবং তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কিছু থাকত না, তখন তিনি যা দিতে চান তা সেই ব্যক্তির জন্য লিখে দিতেন, যাতে তাঁর স্বচ্ছলতার দিনে তা পরিশোধ করতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে শৈশবে একটি জুব্বা পরিয়েছিলেন, যার কারণে সেই পোশাকগুলো 'সাঈদিয়া' নামে পরিচিতি লাভ করে। ... তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি উটের নাকের হাড়ে ছিদ্র করেছিলেন। 'খাশ' অর্থ হলো উটের নাকে নাসাভরণ বা লাগাম স্থাপন করা।

তিনি মুয়াবিয়ার (রা.) খিলাফতকালে হিজরি উনষাট সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর পুত্র উমর বিন সাঈদ আল-আশদাক: যাকে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান নিজ হাতে হত্যা করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত বাকপটু ও বাগ্মী ছিলেন। মুয়াবিয়া (রা.) তাকে শৈশবে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তোমার পিতা কার কাছে তোমার অসিয়ত (অভিভাবকত্বের দায়িত্ব) করে গেছেন?" তিনি উত্তরে বললেন: "তিনি আমার নিকট অসিয়ত করে গেছেন, আমাকে নিয়ে কারো নিকট অসিয়ত করেননি।"

আমর আল-আশদাকের সন্তানদের মধ্যে ইসমাইল বিন উমাইয়া বিন আমর ছিলেন, যিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তিনি একশত চল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ومن ولده أيضا إسحاق ويحيى ابنا سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاصي أبو أمية، روى عن أبيه يحيى. وروى عنه روح بن عبادة. وكنية عمرو الأشدق " أبو أمية ". وهو الذي قال له عبد الملك بن مروان: " أمكرا وأنت في الحديد؟ "، حين جعل الجامعة في عنقه، والقصة مشهورة.

ومن بني أبي العيص بن أمية عتّاب بن أسيد بن أبي العيص بن أمية، ويكنى " أبا عبد الرحمن "، وقيل أبو محمد. وهو من خيار مسلمة الفتح. واستعمله رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي خلافة أبي بكر. ومات هو وأبو بكر في وقت لم يعلم واحد منهما بموت الآخر. وقال الواقدي: " ماتا في يوم واحد " وكذلك يقول ولد عتّاب.

وأخوه خالد بن أسيد لأبويه: أسلم يوم فتح مكة. وكان فيه تيه شديد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " اللهم زده تيها "، فإن ذلك في ولد إليه اليوم.... " وكان لعتّاب بن أسيد ابن اسمه عبد الرحمن، وكان يقال له " يعسوب قريش ". شبِّه بيعسوب النحل، وهو أميرها. وشهد الجمل مع عائشة، فقتل. فاحتملت عقاب كفَّه فأصيبت ذلك اليوم باليمامة فعرفت بخاتمه.

ومن بني حرب بن أمية أبو سفيان صخر بن حرب، وابناه يزيد ومعاوية. قتل ابنه " حنظلة " يوم بدر كافرا؛ قتله زيد بن حارثة، وقيل اشترك في قتله حمزة وعليٌّ وزيد. وكان يزيد أفضل بني أبي سفيان؛ كان يقال له " يزيد الخير " أسلم يوم فتح مكة، وأعطاه من غنائم حنين مئة بعير. واستعمله أبو بكر الصديق وأوصاه، وخرج يشيِّعه راجلا.

مالك عن يحيى بن سعيد أن أبا بكر الصديق بعث جيوشا إلى الشام، فخرج يمشي مع يزيد بن أبي سفيان، وكان أمير ربع من الأرباع. فزعموا أن
তাঁর সন্তানদের মধ্যে ইসহাক এবং ইয়াহইয়াও রয়েছেন, যারা সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আস আবু উমাইয়ার দুই পুত্র। তিনি তাঁর পিতা ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে রাওহ ইবনে উবাদাহ বর্ণনা করেছেন। এবং আমর আল-আশদাকের উপনাম ছিল "আবু উমাইয়া"। তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান বলেছিলেন: "আবদ্ধ অবস্থায়ও কি চাতুরী করছ?" যখন তিনি তাঁর গলায় শিকল পরিয়েছিলেন, আর এই ঘটনাটি সুপরিচিত।

আবু আল-আস ইবনে উমাইয়ার বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন আত্তাব ইবনে আসিদ ইবনে আবি আল-আস ইবনে উমাইয়া। তাঁর উপনাম ছিল "আবু আব্দুর রহমান", আবার কেউ বলেন "আবু মুহাম্মদ"। তিনি মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন এবং আবু বকরের খিলাফতকালেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। তিনি এবং আবু বকর এমন সময়ে ইন্তেকাল করেন যে, তাঁদের কেউ অন্যজনের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেননি। আল-ওয়াকিদি বলেন: "তাঁরা উভয়ে একই দিনে মৃত্যুবরণ করেন" এবং আত্তাবের সন্তানরাও অনুরূপ বলেন।

এবং তাঁর আপন ভাই খালিদ ইবনে আসিদ মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর মধ্যে অত্যন্ত অহমিকা ছিল, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "হে আল্লাহ, তাঁর অহমিকা বাড়িয়ে দিন।" ফলে আজও তাঁর সন্তানদের মধ্যে সেই স্বভাব বিদ্যমান...। আর আত্তাব ইবনে আসিদের আব্দুর রহমান নামে এক পুত্র ছিল, যাঁকে "ইয়া'সুবু কুরাইশ" বলা হতো। তাঁকে মৌমাছির সরদারের সাথে তুলনা করা হতো, যে তাদের নেতা। তিনি আয়েশার সাথে উটের যুদ্ধে (জামাল) অংশগ্রহণ করেন এবং নিহত হন। তাঁর হাতের কব্জি একটি ঈগল পাখি বহন করে নিয়ে গিয়েছিল, যা সেদিন ইয়ামামায় পাওয়া যায় এবং তাঁর আংটি দেখে তাঁকে শনাক্ত করা হয়।

আর হারব ইবনে উমাইয়ার বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব এবং তাঁর দুই পুত্র ইয়াজিদ ও মুয়াবিয়া। তাঁর পুত্র "হানজালা" বদরের যুদ্ধে কাফির অবস্থায় নিহত হয়; তাকে জায়েদ ইবনে হারিসা হত্যা করেছিলেন, আবার কেউ বলেন হামযাহ, আলী এবং জায়েদ যৌথভাবে তাকে হত্যা করেছিলেন। ইয়াজিদ ছিলেন আবু সুফিয়ানের সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; তাঁকে "ইয়াজিদ আল-খায়র" বলা হতো। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবীজি তাঁকে হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে একশত উট দান করেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক তাঁকে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে উপদেশ প্রদান করেন, আর তাঁকে বিদায় জানাতে তিনি স্বয়ং পায়ে হেঁটে পথ চলেন।

মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর সিদ্দিক সিরিয়ায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানের সাথে হেঁটে চললেন, যিনি বাহিনীর এক-চতুর্থাংশের আমীর ছিলেন। তারা ধারণা করেন যে...
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
يزيد قال لأبي بكر الصديق: " إما أن تركب وإمَّا أن أنزل ". فقال أبو بكر: " ما أنت بنازل وما أنا براكب. أني أحتسب خطاي هذه في سبيل الله ". ثم قال له: " إنك ستجد أقواما زعموا أنهم حبسوا أنفسهم لله فذرهم وما زعموا، إنهم حبسوا أنفسهم له. وستجد قوما فحصوا عن أوساط رؤوسهم من الشَّعر، فاضرب ما فحصوا عنه بالسيف.

وإني موصيك بعشر: لا تقتلنَّ امرأة ولا صبيا ولا كبيرا هرما، ولا تقطعنَّ شجرا مثمرا، ولا تخربنَّ عامرا، ولا تعقرنَّ شاة ولا بعير إلا لمأكلة، ولا تحرقنَّ نخلا ولا تغرِّقنَّه، ولا تغلل، ولا تجبن " مات يزيد في طاعون عمواس سنة ثمان عشرة، ولا عقب له وقال الوليد ابن مسلم: مات يزيد بن أبي سفيان سنة تسع عشرة، بعد أن افتتح قيساريَّة.

وأما معاوية بن أبي سفيان فأسلم عام الفتح، هو وأبوه من المؤلفة قلوبهم، ومن الطبقة الأولى في قسم غنائم حنين. وكتب للنبيِّ صلى الله عليه وسلم.

ويكنى أبا " عبد الرحمن "، وولي الشام لعمر وعثمان عشرين سنة. وولي الخلافة سنة أربعين، ومكث خليفة عشرين سنة إلا شهرا. وتوفي بدمشق سنة ستين، وهو ابن اثنتين وثمانين سنة. وقال ابن اسحاق: مات وله ثمان وسبعون سنة.

وشهد أبو سفيان حصار الطائف مع النبيِّ عليه السلام، ورمي بسهم بها ففقأ عينه، وفقئت عينه الأخرى يوم اليرموك. واستعمله النبيُّ صلى الله عليه وسلم على نجران، فمات عليه السلام، وهو وال عليها. ولما أعطاه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعطى ابنيه يزيد ومعاوية من غنائم حنين ما أعطاهم قال له أبو سفيان: " والله إنك لكريم، فداك أبي وأمي، والله لقد حاربتك فنعم المحارب كنت، ولقد سالمتك فنعم المسالم كنت، جزاك الله خيرا ".

وكان من أشراف قريش في الجاهلية، وكان تاجرا يجهز التجار بماله وأمواله
ইয়াজিদ আবু বকর সিদ্দিককে বললেন: "হয় আপনি আরোহণ করুন নতুবা আমি নেমে পড়ি।" আবু বকর বললেন: "তুমি নামবে না আর আমিও আরোহণ করব না। আমি আমার এই পদচিহ্নগুলোকে আল্লাহর পথে সওয়াব হিসেবে গণ্য করছি।" অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি এমন কিছু লোক পাবে যারা দাবি করে যে তারা নিজেদেরকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছে; সুতরাং তাদেরকে এবং তারা যা দাবি করে সে অবস্থায় ছেড়ে দাও, কারণ তারা নিজেদেরকে তাঁর জন্যই উৎসর্গ করেছে। আর তুমি এমন কিছু লোক পাবে যারা তাদের মাথার মাঝখানের চুল মুণ্ডন করেছে, সুতরাং তাদের সেই মুণ্ডিত স্থানে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করো।

আর আমি তোমাকে দশটি বিষয়ে অসিয়ত করছি: কোনো নারীকে হত্যা করবে না, কোনো শিশুকে নয়, কোনো অতিবৃদ্ধকেও নয়; কোনো ফলবান বৃক্ষ কাটবে না, কোনো জনপদ ধ্বংস করবে না, খাওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো ছাগল বা উট জবাই করবে না, কোনো খেজুর গাছ পোড়াবে না এবং তা পানিতে ডুবিয়ে দেবে না, গণিমতের মালামাল আত্মসাৎ করবে না এবং কাপুরুষতা দেখাবে না।" ইয়াজিদ আঠারো হিজরি সনে আমওয়াস মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর কোনো বংশধর ছিল না। ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান উনিশ হিজরি সনে কায়সারিয়া বিজয়ের পর ইন্তেকাল করেন।

আর মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম কবুল করেন; তিনি এবং তাঁর পিতা ছিলেন সেইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়েছিল এবং হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী লেখক ছিলেন।

তাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুর রহমান। তিনি ওমর ও ওসমানের শাসনামলে বিশ বছর শাম (সিরিয়া) শাসন করেন। তিনি চল্লিশ হিজরি সনে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এক মাস কম বিশ বছর খলিফা হিসেবে আসীন থাকেন। তিনি ষাট হিজরি সনে বিরাশি বছর বয়সে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল আটাত্তর বছর।

আবু সুফিয়ান নবী আলাইহিস সালামের সাথে তায়েফ অবরোধে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে একটি তীরের আঘাতে তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় এবং ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন তাঁর অপর চোখটিও নষ্ট হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নাজরানের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন; নবী আলাইহিস সালাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি সেখানকার গভর্নর ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এবং তাঁর দুই পুত্র ইয়াজিদ ও মুয়াবিয়াকে হুনাইনের গনিমতের মাল থেকে দান করলেন, তখন আবু সুফিয়ান তাঁকে বললেন: "আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত মহানুভব, আপনার চরণে আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক। আল্লাহর কসম, আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এবং আপনি কতই না উত্তম যোদ্ধা ছিলেন, আবার আমি আপনার সাথে সন্ধি করেছি এবং আপনি কতই না উত্তম সন্ধিপ্রিয় ছিলেন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"

তিনি জাহেলিয়াত যুগে কুরাইশদের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং তিনি এমন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি নিজের অর্থ ও সম্পদ দিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক কাফেলা প্রস্তুত করে দিতেন।
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
قريش إلى الشام وغيرها من أرض الأعاجم. وربما خرج أحيانا بنفسه وكانت إليه راية الرؤساء المعروفة بالعقاب. وكانت لا يحبسها إلا رئيس. وولد قبل الفيل بعشر سنين، وأمُّه صفية بنت حزن الهلالية. وتوفي بالمدينة سنة إحدى وثلاثين فيما قال الواقديُّ، وهو ابن ثمان وثمانين سنة. وقال المدائني: توفي سنة أربع وثلاثين، وصلى عليه عثمان. وروى عنه عبد الله بن عباس قصة هرقل حديثا حسنا.

ومن بني أبي عمرو بن أمية عقبة بن أبي معيط بن أبي عمرو بن أمية. واسم أبي عمرو ذكوان. وكان أبو عمرو..... ويسَّمى ذكوان، فاستلحقه أمية وكناه " أبا عمرو "، فخلف على امرأة أمية، وهي آمنة بنت أبان أمُّ الأعياص.

وقال ابن الكلبي: كان أمية بن عبد شمس خرج إلى الشام، فأقام بها عشر سنين، فوقع على أمة للخمر يهودية من أهل صفُّوريَّة، يقال لها " تُرْنا "، وكان لها زوج من أهل صفُّوريَّة يهودي، فولدت له ذكوان، فادَّعاه أمية، واستلحقه، وكناه أبا عمرو، ثم قدم به مكة. ولذلك قال النبيّ صلى الله عليه وسلم لعقبة يوم أمر بقتله عند الفراغ من بدر، إذ قال عقبة: يامحمد، أتقتلني من بين أسارى قريش صبرا، " حنَّ قدح ليس منها، إنما أنت يهودي من أهل صفُّوريَّة ".

روي أن عقبة قال له عند قتله: " يا محمد من للصبية؟ " فقال: " النار ".

وقال النبيّ صلى الله عليه وسلم: " كنت بمكة بين شر جارين: بين عقبة بن أبي معيط وبين أبي لهب ". وهو الذي طرح سلى الجزور على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ساجد. ذكر ذلك مسلم في صحيحه فقال: نا محمد
কুরাইশগণ শাম (সিরিয়া) এবং অনারবদের অন্যান্য ভূমিতে যাতায়াত করত। কখনো কখনো তিনি নিজেও বের হতেন এবং তাঁর কাছে ‘আল-উকাব’ নামে পরিচিত নেতাদের সেই সুপ্রসিদ্ধ পতাকা থাকত। কেবল কোনো নেতাই সেটি বহন করতে পারতেন। তিনি হস্তী বর্ষের দশ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মাতা ছিলেন সাফিয়্যাহ বিনতে হাযন আল-হিলালিয়্যাহ। ওয়াকিদীর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি একত্রিশ হিজরি সনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আটাশি বছর। আল-মাদায়িনী বলেন: তিনি চৌত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং উসমান তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। তাঁর নিকট থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হিরাক্লিয়াসের ঘটনাটি একটি উত্তম হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু আমর ইবনে উমাইয়্যার বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন উকবা ইবনে আবি মুআইত ইবনে আবি আমর ইবনে উমাইয়্যা। আবু আমরের নাম ছিল যাকওয়ান। আবু আমর... এবং তাঁকে যাকওয়ান বলা হতো। অতঃপর উমাইয়্যা তাঁকে নিজের বংশীয় পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাঁর উপনাম রাখেন ‘আবু আমর’। এরপর তিনি উমাইয়্যার স্ত্রীর স্থলাভিষিক্ত হন (অর্থাৎ তাঁকে বিবাহ করেন), যিনি ছিলেন আমিনা বিনতে আবান—আল-আ’ইয়াসগণের মাতা।

ইবনুল কালবী বলেন: উমাইয়্যা ইবনে আবদে শামস শাম অভিমুখে বের হয়েছিলেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সাফফুরিয়্যাহর অধিবাসী ‘তুর্না’ নামক মদ বিক্রেতা এক ইহুদি দাসীর সাথে মিলিত হন। সেই দাসীর জনৈক ইহুদি স্বামীও ছিল। অতঃপর সেই দাসী যাকওয়ানকে প্রসব করলে উমাইয়্যা তাঁকে নিজের সন্তান বলে দাবি করেন, নিজের বংশভুক্ত করেন এবং তাঁর উপনাম রাখেন আবু আমর। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে মক্কায় আসেন। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর যুদ্ধ শেষে ওকবাকে হত্যার নির্দেশ দিলে উকবা বলেছিল: হে মুহাম্মদ, আপনি কি কুরাইশ বন্দীদের মধ্য থেকে আমাকেই কেবল বন্দী অবস্থায় হত্যা করবেন? তখন নবীজি বলেছিলেন: "তীরের তূণে এমন একটি শব্দ ধ্বনিত হলো যা তার স্বজাতীয় নয় (অর্থাৎ তুমি এদের বংশোদ্ভূত নও), তুমি তো সাফফুরিয়্যাহর একজন ইহুদি।"

বর্ণিত আছে যে, হত্যার সময় উকবা তাঁকে বলেছিল: "হে মুহাম্মদ, ছোট বাচ্চাদের জন্য কে রইল?" তিনি বললেন: "জাহান্নাম।"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি মক্কায় দুই নিকৃষ্ট প্রতিবেশীর মাঝে ছিলাম: উকবা ইবনে আবি মুআইত এবং আবু লাহাব।" সে-ই সেই ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদারত থাকাবস্থায় তাঁর পিঠের ওপর উটের নাড়িভুঁড়ি নিক্ষেপ করেছিল। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
ابن المثنى وابن بشار، واللفظ لابن مثنى، قالا: نا محمد بن جعفر قال: نا شعبة قال: سمعت أبا إسحاق يحدث عن عمرو بن ميمون عن عبد الله قال: " بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد، حوله ناس من قريش إذ جاء عقبة بن أبي معيط بسلي جزور فقذفه على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم. فلم يرفع رأسه " فجاءت فاطمة فأخَّرته عن ظهره، ودعت على من صنع ذلك. فقال: " اللهم عليك الملأ من قريش: أبا جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة وعقبة بن أبي معيط وأمية بن خلف أو أبي بن خلف؛ شعبة الشاك ". قال: فلقد رأيت قتلوا يوم بدر، فالقوا في بئر، غير أن أمية أو أبيّا تقطَّعت أوصاله، فلم يلق في البئر.

قال المؤلف غفر الله له: الصحيح الذي لا شكَّ فيه أن أمية بن خلف هو الذي تقطَّعت أوصاله لما رواه ابن إسحاق عن يزيد بن رومان عن عروة بن الزبير عن عائشة قالت: لما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقتلى أن يطرحوا في القليب طرحوا فيه، إلا ما كان من أمية بن خلف، فإنه أنتفخ في درعه، فملأها. فذهبوا يحركوه فتزايل لحمه، فأقرُّوه، وألقوا عليه ما غيَّبه من التراب والحجارة.

وأما أبُّي بن خلف فإنه مات من خدش رسول الله صلى الله عليه وسلم إياه بالحربة يوم أحد في الطريق مع كفار قريش، حين رجعوا إلى مكة من أحد.

وقال أبو داود سليمان بن الأشعث السِّجستانُّي في السُّنن: نا عمرو بن عثمان ومحمود بن خالد وحسين بن عبد الرحمن، قالوا: حدثنا الوليد بن مسلم عن الأوزاعي، قال: نا يحيى بن أبي كثير عن محمد بن إبراهيم بن الحارث التَّميمِّي، عن عروة بن الزبير قال: سألت عبد الله بن عمرو بن العاصي قلت: أخبرني بأشدّ شيء صنعه المشركون برسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: نعم، بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجر الكعبة إذ أقبل عقبة بن أبي المعيط، فوضع ثوبه في عنق رسول الله صلى الله عليه وسلم فخنقه به خنقا شديدا. فقال: فأقبل أبو بكر حتى أخذ بمنكبه، ودفعه عن رسول الله، وقال: أتقتلون رجلا أن يقول ربي الله، وقد جاءكم بالبيِّنات من ربكم؟.
ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন—শব্দ বিন্যাস ইবনুল মুসান্নার—তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাককে আমর ইবনে মাইমুন থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: "একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদারত ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর চারপাশে কুরাইশদের কিছু লোক ছিল। তখন উকবা ইবনে আবি মুআইত একটি জবাইকৃত উটের নাড়িভুঁড়ি নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিঠের ওপর নিক্ষেপ করল। তিনি তাঁর মাথা তুললেন না।" অতঃপর ফাতেমা এসে তাঁর পিঠ থেকে তা সরিয়ে ফেললেন এবং যারা এই জঘন্য কাজ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের এই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিচার করুন: আবু জাহল ইবনে হিশাম, উতবাহ ইবনে রাবিআহ, শায়বাহ ইবনে রাবিআহ, উকবা ইবনে আবি মুআইত এবং উমাইয়াহ ইবনে খালাফ অথবা উবাই ইবনে খালাফ; বর্ণনাকারী শু'বাহ এই নামটিতে সন্দেহ পোষণ করেছেন।" আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন: "আমি তাদের বদরের দিন নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি; অতঃপর তাদের একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়। তবে উমাইয়াহ অথবা উবাইয়ের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তাই তাকে কূপে নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি।"

লেখক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: সঠিক মত—যাতে কোনো সন্দেহ নেই—তা হলো উমাইয়াহ ইবনে খালাফেরই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কারণ ইবনে ইসহাক ইয়াজিদ ইবনে রুমান থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিহতদের কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন, তখন সবাইকে তাতে নিক্ষেপ করা হলো। তবে উমাইয়াহ ইবনে খালাফের বিষয়টি ছিল ভিন্ন; সে তার বর্মের ভেতর ফুলে উঠেছিল এবং তা পূর্ণ করে ফেলেছিল। তারা তাকে নাড়াচাড়া করতে গেলে তার গোশত খসে পড়তে থাকে, তাই তারা তাকে ওভাবেই রেখে দেয় এবং মাটি ও পাথর দিয়ে তাকে ঢেকে দেয়।"

আর উবাই ইবনে খালাফের বিষয় হলো, সে উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্শার আঘাতে প্রাপ্ত সামান্য জখমের কারণে মারা গিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল তারা যখন উহুদ থেকে মক্কার পথে কুরাইশ কাফেরদের সাথে ফিরে যাচ্ছিল।

আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআছ আস-সিজিস্তানি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে উসমান, মাহমুদ ইবনে খালিদ এবং হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল হারিস আত-তামিমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে জিজ্ঞাসা করলাম: মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সবচেয়ে কঠিন যে আচরণটি করেছিল সে সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবার চত্বরে ছিলেন, তখন উকবা ইবনে আবি মুআইত এসে তার চাদর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গলায় পেঁচিয়ে দিল এবং তা দিয়ে তাঁকে সজোরে শ্বাসরোধ করল। তখন আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) এগিয়ে এসে উকব্বার কাঁধ ধরলেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে যে বলে 'আমার রব আল্লাহ', অথচ তিনি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন?"
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم عليَّ بن أبي طالب بضرب عنق عدو الله اللعين عقبة بن أبي معيط صبرا بعد أخذه أسيرا يوم بدر. وقيل: ضرب عنقه عاصم بن ثابت بن أبي الأفلح الأنصاريُّ الأوسيُّ، وهو حميُّ الدَّبر. وروى حماد بن سلمة عن عطاء بن السائب عن عامر الشَّعبَّي قال: لمَّا أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقتل عقبة بن أبي معيط عدوِّ الله قال: تقتلني يا محمد من بين قريش؟ قال: " نعم ". ثم أقبل على أصحابه فقال: " أتدرون ما صنع هذا بي؟ جاء وأنا ساجد خلف المقام، فوضع رجله على عنقي، وجعل يقمرها، فما رفعها حتى ظننت أنَّ عينيَّ ستندران " أو قال: تسقطان "، ثم جاء مرة أخرى بسلي شاة فألقاه على رأسي، وأنا ساجد خلف المقام. فجاءت فاطمة فغسلته عن رأسي ".

وعمُّ عقبة مسافر بن أبي عمرو بن أمية: كان من أشراف قريش.

وإنما كان بنو عبد مناف أهل بيت واحد شرف بعضهم لبعض شرف، وفضل بعضهم لبعض فضل. وهو القائل يفتخر:

ورثنا المجدَ عن آبا … ئنا فنما بنا صُعُدا

ألم نسق الحجيجَ ونن … حُر الدَّلَاّقة الرُّفّدا

ونلقَى عند تصريف ال … منايا شدَّدا رُفُدا؟

وكان لعقبة من الولد: عمارة، وخالد، والوليد. وهم من مسلمة الفتح.

وأمُّ كلثوم، وهي التي هاجرت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في هدنة الحديبية من مكة إلى المدينة على قدميها ماشية. فخرج أخواها: عمارة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহর অভিশপ্ত শত্রু উকবা বিন আবি মুয়াইতকে বন্দী করার পর তাকে হত্যার জন্য আলী ইবনে আবি তালিবকে নির্দেশ দেন। কেউ কেউ বলেন: তার শিরশ্ছেদ করেছিলেন আসিম বিন সাবিত বিন আবি আল-আফলাহ আল-আনসারী আল-আউসি, যিনি ছিলেন ভ্রমর দ্বারা সুরক্ষিত। হাম্মাদ বিন সালামাহ আতা বিন আল-সাইব থেকে এবং তিনি আমির আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর শত্রু উকবা বিন আবি মুয়াইতকে হত্যার নির্দেশ দিলেন, তখন সে বলল: হে মুহাম্মদ, আপনি কি কুরাইশদের মধ্য থেকে কেবল আমাকেই হত্যা করবেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেন: "তোমরা কি জানো সে আমার সাথে কী করেছিল? আমি যখন মাকামের পেছনে সিজদাবনত ছিলাম, তখন সে এসে আমার ঘাড়ের ওপর তার পা রাখল এবং তা দিয়ে সজোরে চাপ দিতে লাগল; সে তার পা সরায়নি যতক্ষণ না আমার মনে হয়েছিল যে আমার চোখ দুটি কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে" অথবা তিনি বলেছিলেন: "পড়ে যাবে", "এরপর সে অন্য একবার একটি পশুর নাড়িভুঁড়ি নিয়ে এল এবং তা আমার মাথার ওপর ফেলে দিল যখন আমি মাকামের পেছনে সিজদায় ছিলাম। তখন ফাতিমা এসে আমার মাথা থেকে তা ধুয়ে ফেলেছিল।"

আর উকবার চাচা মুসাফির বিন আবি আমর বিন উমাইয়া কুরাইশদের অন্যতম অভিজাত ব্যক্তি ছিলেন।

মূলত বনু আবদে মানাফ ছিল একটি একক পরিবার, যাদের একজনের মর্যাদা অন্যজনের জন্য মর্যাদা এবং একজনের শ্রেষ্ঠত্ব অন্যজনের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব স্বরূপ ছিল। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি গর্ব করে বলেছিলেন:

আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের নিকট হতে আভিজাত্য … উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি, যা আমাদের মাধ্যমে আরও উচ্চতায় পৌঁছেছে

আমরা কি হাজীদের পানিপান করাইনি এবং … মেহমানদারির জন্য পশু যবেহ করিনি?

এবং আমরা কি ভাগ্যের বিপর্যয় ও মৃত্যুর … মুহূর্তে শক্তিশালী সহায়তাকারী হিসেবে উপস্থিত হই না?

উকবার সন্তানদের মধ্যে ছিল: উমারা, খালিদ এবং ওয়ালিদ। তারা মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এবং উম্মে কুলসুম, যিনি হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মক্কা থেকে মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পায়ে হেঁটে হিজরত করেছিলেন। তখন তার দুই ভাই: উমারা
(খণ্ড: ১) আনসাবুল আশরাফ - তাহকীক হামীদুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
والوليد ابنا عقبة بن أبي معيط، حتى قدما على رسول الله صلى الله عليه وسلم، يسألانه أن يردَّها عليهما بالعهد الذي بينه وبين قريش في الحديبية، فلم يفعل " أبى الله ذلك ". ولما قدمت المدينة تزوِّجها زيد بن حارثة، فقتل عنها يوم مؤتة فتزوجها الزبير بن العوَّام. فولدت له زينب، ثم طلَّقها، فتزوجها عبد الرحمن بن عوف. فولدت له إبراهيم وحميدا. ومات عنها فتزوَّجهتا عمرو بن العاصي فمكثت عنده شهرا وماتت. وهي من المهاجرات المبايعات. وفي شأنها أنزل الله تعالى " يا أيُّها الذين آمنوا إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات فامتَحِنوهُنَّ، اللهُ أعلمُ بإيمانهنَّ … (إلى آخر الآية.

وهي وأخواها الوليد شقيقها أخو عثمان لأمِّه أمُّهم أروى بنت كريز بن ربيعة بن حبيب بن عبد شمس، وعمارة الذي يروى عنه.

وخالد بن عقبة: كان من سروات قريش، وليست له رواية، فيما يعلم، ولا خبر نادر إلا أنَّ له أخبارا في يوم الدار. منها قول أزهر بن سيخان في خالد هذا، معرِّضا بذكره في أبيات قالها، منها:

يَلومونَني أنْ جُلتُ في الدارِ حاسراً … وقد فرَّ منها خالدٌ، وهْوَ دارعُ

وهو المذكور في كتاب " الجامع " من " الموَّطأ " في حديث: " لا يتناجى اثنان دون واحد " ونصُّ الحديث: مالك عن عبد الله بن دينار، قال: كنت أنا وعبد الله بن عمر عند دار خالد بن عقبة التي بالسوق. فجاء رجل يريد أن يناجيه، وليس مع عبيد الله غيرى وغير الرجل الذي يريد أن يناجيه. فدعا عبد الله بن عمر رجلا آخر حتى كنا أربعة، فقال لي وللرَّجل الذي دعا: " استأخرا شيئا، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا يتناجى اثنان دون واحد ". وإلى خالد هذا ينسب المعيطيُّون. وشهد جنازة الحسن بن علي من بين جميع بني أمية.
এবং ওলিদ, উকবাহ বিন আবি মুআইতের দুই পুত্র, অবশেষে তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে আবেদন করল যেন তিনি হুদায়বিয়াতে কুরাইশদের সাথে করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, "আল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।" যখন তিনি মদীনায় আসলেন, তখন যায়েদ বিন হারিসা তাকে বিয়ে করেন এবং মুতার যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। এরপর যুবায়ের ইবনুল আওয়াম তাকে বিয়ে করেন। তার গর্ভে জয়নাব জন্মগ্রহণ করেন, তারপর তিনি তাকে তালাক দেন। অতঃপর আবদুর রহমান বিন আউফ তাকে বিয়ে করেন। তার গর্ভে ইব্রাহিম ও হুমাইদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মারা গেলে আমর বিন আস তাকে বিয়ে করেন এবং তিনি তার কাছে এক মাস ছিলেন, এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সেই মুহাজির নারীদের অন্তর্ভুক্ত যারা বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তার ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা অবতীর্ণ করেছেন: "হে মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করে নিও; আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত … (আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

তিনি এবং তার সহোদর ভাই ওলিদ—যিনি উসমান (রা.)-এর বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন—তাদের মা ছিলেন আরওয়া বিনতে কুরাইজ বিন রাবিয়া বিন হাবিব বিন আবদু শামস। আর উমারা, যার থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

আর খালিদ বিন উকবাহ: তিনি কুরাইশদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যতটুকু জানা যায়, তার কোনো বর্ণনা নেই এবং কোনো বিরল সংবাদও নেই, তবে ইয়াউমুত দার সম্পর্কে তার কিছু তথ্য রয়েছে। তন্মধ্যে আজহার বিন সাইখানের কবিতা উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি এই খালিদকে ইঙ্গিত করে কিছু চরণে বলেছেন:

তারা আমাকে তিরস্কার করে যে আমি অনাবৃত অবস্থায় বাড়ির ভেতর পায়চারি করছি … অথচ খালিদ বর্ম পরিহিত অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে গেছে

মুয়াত্তার 'কিতাবুল জামে'-তে এই খালিদেরই উল্লেখ রয়েছে সেই হাদিসে: "তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দুইজন যেন কানে কানে কথা না বলে।" হাদিসের পাঠ হলো: মালিক, আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং আবদুল্লাহ বিন ওমর বাজারের কাছে খালিদ বিন উকবাহর বাড়ির কাছে ছিলাম। তখন একজন লোক এসে তার সাথে কানে কানে কথা বলতে চাইলেন। সেখানে আমি এবং যে ব্যক্তিটি কানে কানে কথা বলতে চেয়েছিল তারা ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন আবদুল্লাহ বিন ওমর অন্য একজন লোককে ডাকলেন যতক্ষণ না আমরা চারজন হলাম। এরপর তিনি আমাকে এবং যাকে ডেকেছিলেন তাকে বললেন: "তোমরা একটু পিছিয়ে যাও, কারণ আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দুইজন যেন কানে কানে কথা না বলে।" এই খালিদের সাথেই মুয়াইতিদের বংশীয় সম্পর্ক সম্পৃক্ত। আর বনু উমাইয়ার মধ্যে একমাত্র তিনিই হাসান বিন আলীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।