(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: -)
التبيين عن مذاهب النحويين البصريين والكوفيين القسم: النحو والصرف
الكتاب: التبيين عن مذاهب النحويين البصريين والكوفيين
المؤلف: أبو البقاء العُكبَري (538 - 616 هـ)
تحقيق ودراسة: د. عبد الرحمن بن سليمان العثيمين [ت 1436 هـ]
الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 459
وأعادت نشرها (تصويرا): مكتبة العبيكان بالرياض 1421 هـ - 2000 م
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 رمضان 1435
বসরী ও কুফী নাহুবিদদের মাযহাবসমূহের বিশদ বর্ণনা (আত-তাবয়ীন আন মাজাহিবিন নাহউইয়্যীন আল-বসরইয়্যীন ওয়াল-কুফইয়্যীন) বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: বসরী ও কুফী নাহুবিদদের মাযহাবসমূহের বিশদ বর্ণনা (আত-তাবয়ীন আন মাজাহিবিন নাহউইয়্যীন আল-বসরইয়্যীন ওয়াল-কুফইয়্যীন)
লেখক: আবু আল-বাকা আল-উকবারী (৫৩৮ - ৬১৬ হিজরী)
তাহকিক ও গবেষণা: ড. আবদুর রহমান বিন সুলায়মান আল-উসাইমীন [মৃত্যু ১৪৩৬ হিজরী]
প্রকাশক: দার আল-গারব আল-ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরী - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৯
এবং এটি পুনর্মুদ্রণ (ফটোকপি) করেছে (تصويرا): রিয়াদের মাকতাবাতুল ওবাইকান ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে: (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ রমজান ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قالَ الشيخُ الإسلام وحُجّة الأَنام، العَلَاّمة، نَسيجُ وَحده، تُرجُمان الأَدَب واللِّسان، أبو البقاء عبد الله بن الحُسين العُكَبرِيُّ، أدامَ الله تأييدَه وتسديدَه.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শায়খুল ইসলাম, সৃষ্টির জন্য দলিল (حجة), মহাজ্ঞানী (العلامة), নিজ যুগে অনন্য, সাহিত্য ও ভাষার ভাষ্যকার, আবু আল-বাকা আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-উকবারী—আল্লাহ তাঁর সাহায্য ও সঠিক পথপ্রদর্শন দীর্ঘস্থায়ী করুন—বলেন:
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
1 - مسألة: [الكلام والكلمة]الكلامُ عبارةُ عن الجُملة المُفيدة فائدةً تامةً، كقولك: ((زيدُ منطلقُ))، و ((إن تأتني أكرِمْك))، و ((قُمْ))، و ((صَهْ))،وما كان نحو ذلك.
فأمَّا اللّفظةُ المفردة نحو ((زَيد)) وحده و ((مَن)) ونحو ذلك فلا يُسمَى كلامًا بل كلمةً، هذا قولُ الجُمهور.
وذهبَتْ شِرْذِمَةُ من النّحويين إلى أنّ الكلامَ يُطلق على المُفيد
১ - মাসআলা (مسألة): [কালাম (كلام) ও কালিমা (كلمة)]কালাম (كلام) হলো এমন অর্থবহ বাক্য (جملة مفيدة) যা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ প্রস্থানকারী", "যদি তুমি আমার কাছে আসো তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব", "দাঁড়াও", "চুপ করো" এবং এই জাতীয় বাক্যসমূহ।
পক্ষান্তরে, একক শব্দ (لفظة مفردة) যেমন কেবল "যায়েদ" এবং "মান" ও এই জাতীয় শব্দসমূহকে কালাম (كلام) বলা হয় না, বরং কালিমা (كلمة) বলা হয়; এটিই অধিকাংশ (جمهور) পণ্ডিতের অভিমত।
তবে ব্যাকরণবিদদের (نحويين) একটি ক্ষুদ্র দল এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, কালাম (كلام) শব্দটি প্রত্যেক অর্থবহ (مفيد) বিষয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
وغيرِ المُفيد إطلاقًا حَقيقيًّا.
والدّليلُ على القولِ الأَوَّلِ: أنَّه لفظُ يُعبَّر بإطلاقه من الجُملة المُفيدةِ، فكان حَقيقةً فيها، كالشَّرطِ وجوابِهِ، والدّليلُ على أنَّه يعبر به عنها لا إشكال فيه، إذ هو مُتَّفَقُ عليه، وإنَّما الخلاف في تَخصيصه بذلك دونَ غَيره، وبيان اختصاصه بها من ستّة أوجه:
أحدها: أنه يطلق بإزائها فيُقال: هذه الجُملة كلامُ، والأصلُ في الإطلاقِ الحقيقةُ.
الثاني: أنَّ الكلامَ تؤكّدُ به الجُملة كقولك: تَكلّمتُ كلامًا، وكلمتُهُ كلامًا والمصدَرُ المؤكَّدُ به نائبُ عن إعادةِ الجُملة، ألا تَرى أنَّ قولَكَ: قمتُ قيامًا وتكلّمتُ، تقديره: قمتُ قمتُ؛ لأنَّ الأصلَ في التَّوكيد إعادة الجُملة بعينِها، ولكنّهم آثروا أَلا يُعيدوا الجُملة بعينها، فجاءوا بمفردٍ في معناها، والنائبُ عن الشيءِ يؤدّي عن معناه.
والثالث: أنَّ قولَك كلمتُه عبارة عن أنَّك أفهمتَهُ معنى بلفظٍ، والمعنى المُستفادُ بالإِفهامِ تامُّ فكانت العبارة عنه موضوعه له، لا منبئة عنه، والكلامُ هو معنى كلمتُهُ.
والرابع: أن مصدَرَ تكلَّمتُ التَّكَلُّم، وهو مشدّد العَين في الفعلِ
এবং যা প্রকৃতপক্ষে মোটেও অর্থবহ (مفيد) নয়।
প্রথম মতের স্বপক্ষে দলিল হলো: এটি এমন একটি শব্দ যা মূলত অর্থপূর্ণ বাক্য (جملة مفيدة) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এতেই এর প্রকৃত অর্থ (حقيقة) নিহিত, যেমন— শর্ত (شرط) এবং তার উত্তর (جواب)। এটি যে বাক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, সে ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই; কারণ এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। মূলত মতভেদ কেবল এটি অন্য কিছু বাদ দিয়ে এই অর্থেই সুনির্দিষ্ট কি না তা নিয়ে। আর এর সুনির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়টি ছয়টি দিক থেকে বর্ণনা করা হলো:
প্রথমত: এটি বাক্যের বিপরীতে প্রয়োগ করা হয়, ফলে বলা হয়: ‘এই বাক্যটি হলো কালাম (كلام)’। আর শব্দের প্রয়োগের (إطلاق) ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তার প্রকৃত অর্থ (حقيقة)।
দ্বিতীয়ত: কালাম (كلام) শব্দটি দ্বারা বাক্যকে তাকিদ (توكيد) প্রদান করা হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘আমি কথা (كلام) বলেছি’ অথবা ‘আমি তাকে কথা (كلام) বলেছি’। এখানে তাকিদ (توكيد)-এর জন্য ব্যবহৃত মাসদার (مصدر) বা মূলশব্দটি বাক্য পুনরাবৃত্তির স্থলাভিষিক্ত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনার উক্তি: ‘আমি যথাযথভাবে দাঁড়িয়েছি (قيامًا)’ এবং ‘আমি কথা বলেছি’—এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: ‘আমি দাঁড়িয়েছি, আমি দাঁড়িয়েছি’; কারণ তাকিদ (توكيد)-এর মূল নিয়ম হলো বাক্যটি হুবহু পুনরায় উল্লেখ করা। তবে তারা (আরবরা) হুবহু বাক্যটি পুনরায় উল্লেখ না করে একই অর্থবোধক একটি একক শব্দ (مفرد) ব্যবহার করাকে শ্রেয় মনে করেছেন। আর কোনো কিছুর স্থলাভিষিক্ত শব্দ তার মূল অর্থই প্রকাশ করে।
তৃতীয়ত: আপনার উক্তি ‘আমি তাকে বলেছি’—এর অর্থ হলো আপনি তাকে শব্দের মাধ্যমে একটি ভাব বুঝিয়েছেন। বুঝানোর মাধ্যমে অর্জিত সেই অর্থটি পূর্ণাঙ্গ (تام), তাই পরিভাষাটি সেই অর্থের জন্যই নির্ধারিত হয়েছে, কেবল তার সংবাদদাতা নয়। আর কালাম (كلام) হলো ‘আমি তাকে বলেছি’ কথাটির মূল অর্থ।
চতুর্থত: ‘তাকাল্লামতু’ (تكلمت)-এর মাসদার (مصدر) হলো ‘তাকাল্লুম’ (تكلم), আর ক্রিয়াপদটিতে এর আইন (عين) বর্ণটি তাশদিদযুক্ত (مشدد)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
والمصدَرِ، والتَّشديدُ للتَّكثير، وأَدنى التَّكثير الجُملةُ المفيدةُ.
وأمَّا كلَّمتُ فمشدَّدُ أيضاً، وهو دليلُ الكثرةِ، ومصدَرُهُ التَّكليم، التاء والياء فيه عوض عن التَّشديد.
والخامس: أنَّ الأحكامَ المُتَعَلّقة بالكلام لا تَتَحقّق إلاّ بالجملة المُفيدة، فمن ذلك قوله تعالى: {وإِنْ أَحَدُ من المُشرِكِيْنَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَهِ}. ومعلومُ أنَّ الاستجارة لا تَحصُلُ إلاّ بعدَ سماعِ الكلامِ التامِّ المَعنى، والكلمةُ الواحدةُ لا يَحصُلُ بها ذلك. وكذلك قولُه تَعالَى: {يُرِيدُون أَنْ يُبَدِّلُوا كلامَ اللَهِ} والتَّبديلُ صرفُ مايَدُل عليه اللّفظ إلى غيرِ معناه، ولا يَحصُلُ ذلك بتَبديلِ الكلمةِ الواحدةِ، لأنَّ الكلمةَ الواحدةَ إذا بُدّلت بغيرها كان ذلك لغةٍ إلى لغةٍ أُخرى وقالَ تَعالى: {وَقَدْ كَانَ فَرِيْقُ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوْهُ}،وإنَّما عَقلوا المَعنى التَّامّ ثُمَّ حرَّفوه عن جهته، ومثله قوله تعالى: {يُحرِّفُونَ الكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ}، ومن ذلك تعليقُ اليَمِينِ بسَمَاعِ الكلامِ، فإنَّه لو قال: والله لا سمعتُ كلامَك فَنَطَقَ بلفظةٍ واحدةٍ ليس فيهَا معنى تَامُّ لم يَحنَث.
এবং এটি ক্রিয়ামূল (المصدر), আর তাশদীদ এখানে আধিক্য (التكثير) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর আধিক্যের সর্বনিম্ন স্তর হলো অর্থবহ বাক্য (الجملة المفيدة)।
আর 'কাল্লামতু' শব্দটিও তাশদীদযুক্ত এবং এটি আধিক্যের প্রমাণ; এর ক্রিয়ামূল (المصدر) হলো কথোপকথন (التكليم), আর এতে বিদ্যমান 'তা' ও 'ইয়া' বর্ণ দুটি তাশদীদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
পঞ্চমত: কালাম বা বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ কেবল অর্থবহ বাক্য (الجملة المفيدة) মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর মুশরিকদের মধ্যে যদি কেউ তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়।" এটি সুবিদিত যে, আশ্রয় প্রার্থনা কেবল পূর্ণ অর্থবোধক (التام المعنى) কালাম শোনার মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যা একটি মাত্র শব্দ (الكلمة الواحدة) দ্বারা সম্ভব নয়। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়।" আর পরিবর্তন (التبديل) হলো শব্দের নির্দেশিত অর্থকে অন্য অর্থে সরিয়ে নেওয়া, যা একটি মাত্র শব্দ (الكلمة الواحدة) পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব হয় না। কারণ একটি শব্দকে যখন অন্য শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, তখন তা কেবল এক ভাষা (اللغة) থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর হিসেবে গণ্য হয়। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: "তাদের একটি দল আল্লাহর কালাম শ্রবণ করত, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর বিকৃত করত।" তারা মূলত পূর্ণাঙ্গ অর্থ (المعنى التام) অনুধাবন করার পরই তা সঠিক দিক থেকে বিচ্যুত বা বিকৃত করেছিল। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: "তারা শব্দসমূহকে (الكلم) তার যথাযথ স্থান হতে বিকৃত করে।" এর আরেকটি উদাহরণ হলো কালাম শোনার সাথে শপথকে সংশ্লিষ্ট করা; যদি কেউ বলে: "আল্লাহর শপথ! আমি তোমার কালাম শুনব না," অতঃপর অপর ব্যক্তি কেবল এমন একটি শব্দ উচ্চারণ করল যাতে কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ (معنى تام) নেই, তবে সেই শপথকারী শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
السادس: أن العربَ قد تَتَجَوَّزُ بالقول عن العجماوات كقول الشاعر:
امْتَلَأ الحَوْضُ وقالَ قَطْنِيْ
… سَلا رُويْدًا قَدْ مَلَاتَ بَطْنِي
وهو كثيرُ في استعمالهم، ولا يُنسب الكلامُ إلى مثل ذلك، فلا يقالُ تكلَّم الحَوْضُ ولا الحائطُ، ولا سبَبَ لذلك إلاّ أن الكلامَ حقيقةُ في الفَائِدةِ التَّامةِ، والقولُ لا يُشترطُ فيه ذلك.
((وإذا ثَبَتَ ما ذكرناه بانَ أنه حقيقةُ في الدِّلالة على الجُملة التّامة المعنى.
فإن قيل يتَوجّه عليه أسئلةُ:
أحدها:
أنَّ إطلاقَ اللّفظِ على الشيءِ لا يلزمُ منه الحقيقةُ، فإنَّ المجازَ يطلقُ على الشيءِ كما يُقالُ للعالم بَحْرُ، وللشّجاع أسدُ، وقال تعالى: {جدارًا يريدُ أنْ يَنْقَضَّ}، {واسأل القرية}، وكلُّ مجازُ، وقد أُطلق
ষষ্ঠত: আরবরা অনেক সময় নির্বাক প্রাণীদের ক্ষেত্রে রূপক (مجাস - مجاز) হিসেবে উক্তি (কাওল - قول) শব্দটি ব্যবহার করে থাকে, যেমন কবির উক্তি:
হাউজটি পূর্ণ হয়ে গেছে এবং সে বলেছে: 'আমার জন্য যথেষ্ট'
… একটু থামো, তুমি আমার পেট পূর্ণ করে দিয়েছ
আরবদের ব্যবহারে এটি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান, তবে এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে বাক্য (কালাম - كلام) শব্দটির সম্বন্ধ করা হয় না। তাই বলা হয় না যে 'হাউজ কথা বলেছে' কিংবা 'দেওয়াল কথা বলেছে'। এর একমাত্র কারণ হলো, বাক্য (কালাম - كلام) শব্দটি পূর্ণ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ (হাকিকাহ - حقيقة) হিসেবে গণ্য, কিন্তু উক্তি (কাওল - قول) শব্দের জন্য এমন শর্ত প্রযোজ্য নয়।
((আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যদি সাব্যস্ত হয়, তবে স্পষ্ট হয় যে এটি পূর্ণ অর্থবোধক বাক্যের ওপর নির্দেশনা (দালালাহ - دلالة) প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ (হাকিকাহ - حقيقة)।
যদি বলা হয় যে, এর ওপর কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে:
প্রথমটি হলো:
কোনো বিষয়ের ওপর কোনো শব্দের প্রয়োগ হওয়া মানেই তা প্রকৃত অর্থ (হাকিকাহ - حقيقة) হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ অনেক সময় কোনো জিনিসের ওপর রূপক (مجাস - مجاز) অর্থও প্রয়োগ করা হয়; যেমন—আলেমকে 'সমুদ্র' বলা হয় এবং বীরকে 'সিংহ' বলা হয়। আর মহান আল্লাহ বলেন: {একটি প্রাচীর যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল}, {এবং জনপদকে জিজ্ঞেস করো}। এগুলো সবই রূপক (مجাস - مجاز), অথচ তা প্রয়োগ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
على هذا المعنى، فلا يلزمُ من الإطلاقِ على ما ذكرتُم الحقيقةُ.
والسؤال الثاني:
أنَّ الإطلاقَ يَكونُ حَقيقةً مشتركةً، أو جِنْسًا تحتَه مفردات، فالمشتركُ كلفظ العين والجنسُ مثل الحيوان، فإنَّ الحيوانَ حقيقةُ في الجنس، والواحدُ منه حقيقة أيضًا، فَلِمَ لا يكونُ الكلام والكلمة من هاتين الحقيقتين؟.
والسؤال الثالث: أنَّ الكلامَ مشتقُ من الكَلْمِ وهو الجَرْحُ، والجامع بينهما التّأثيروالكلمةُ كذلك، لأنَّ الحروفَ الأصولَ موجودةُ فيها، وهي مؤثرة أيضًا إذ كانت تدلُّ على معنى، وهي جزءُ الجُملةِ التَّامة الفائدة، والجزءُ شارك الكلَّ في حقيقةِ وَضْعِهِ، أَلا تَرى أنَّ الحقَّ يثبتُ بشاهدين مثلاً، وكلُّ واحد منهما شاهدُ حقيقة، وإثبات الحقِّ بهما لا ينفي كونَ كلِّ واحدٍ منهما شاهدًا، كذلك ها هنا، ألا ترى أنَّ قولَكَ قامَ زيدُ يشتملُ على جزئين كلّ واحدٍ منهما يُسمى كلمةً، لدلالته على معنى، وتوقُّف الفائدة التَّامَّة على حكمِ يترتَّبُ على المجموع، ولا يَنفي ذلك اشتراك الجُزئين في الحقيقةِ، وعلى هذا ترتب التَّبديل والتحريف إذ كان ذلك كلُّه حكمًا يُستفاد
এই অর্থ অনুযায়ী, আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর শব্দের প্রয়োগ (إطلاق) অনিবার্যভাবে প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) হওয়া আবশ্যক করে না।
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
শব্দের প্রয়োগটি একটি সমার্থক প্রকৃত অর্থ (حقيقة مشتركة) হতে পারে, অথবা এমন একটি সাধারণ শ্রেণি (جنس) হতে পারে যার অধীনে অনেকগুলো একক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। সমার্থক শব্দটি যেমন 'আইন' (العين) শব্দ এবং সাধারণ শ্রেণি যেমন 'প্রাণী' (الحيوان)। কেননা 'প্রাণী' শব্দটি যেমন সাধারণ শ্রেণির জন্য প্রকৃত অর্থ (حقيقة), তেমনি তার প্রতিটি এককের জন্যও তা প্রকৃত অর্থ (حقيقة)। তবে কেন 'কালাম' (كلام) এবং 'কালিমা' (كلمة) এই দুই প্রকার বাস্তবতার অন্তর্ভুক্ত হবে না?
তৃতীয় প্রশ্ন: 'কালাম' (كلام) শব্দটি 'কালম' (كلم) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো জখম বা আঘাত করা। এই দুটির মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র হলো প্রভাব (التأثير)। 'কালিমা'র (كلمة) ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ, কারণ এর মধ্যে মূল বর্ণগুলো বিদ্যমান এবং এটিও প্রভাবশালী, যেহেতু এটি একটি অর্থ নির্দেশ করে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্যের অংশ। আর অংশটি তার মৌলিক সংজ্ঞার বাস্তবতায় (حقيقة وضعه) সমগ্রের সাথে অংশীদার হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কোনো সত্য যেমন দুজন সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এবং তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত বিচারে একজন সাক্ষী (شاهد حقيقة)। উভয়ের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হওয়া তাদের প্রত্যেকের পৃথকভাবে সাক্ষী (شاهد) হওয়াকে নাকচ করে না। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আপনি কি দেখেন না যে, আপনার উক্তি 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে' দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত, যার প্রত্যেকটিকে একটি 'কালিমা' (كلمة) বলা হয়; কারণ তা একটি নির্দিষ্ট অর্থের ওপর নির্দেশনা দেয়। যদিও পূর্ণাঙ্গ সুফলটি সমষ্টির ওপর বর্তানো একটি বিধানের (حكم) ওপর নির্ভরশীল, তবে তা অংশ দুটির মূল বাস্তবতায় (الحقيقة) শরীক হওয়াকে নাকচ করে না। আর এরই ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন (تبديل) এবং বিকৃতি (تحريف) সংঘটিত হয়, যেহেতু এই সব কিছুই এমন বিধান (حكم) যা থেকে অর্থ লাভ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
بالجُملة، ولا يَنفي حقيقة الوَضع، ثمّ ما ذكرتُمُوه معارضُ بقوله تعالى: {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ}، وبقوله: {كَلِمَةُ الَّذِيْنَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ هِيَ الْعُلْيَا}، و {تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً} ومعلومُ أنه أَرَادَ بالكلمةِ المُفيدة. وإذا وَقَعَت الكلمةُ على الجُملةِ، جازَ أن يقعَ الكلامُ على المُفردِ.
فالجواب:
أمَّا الإطلاقُ فدليلُ الحقيقةِ؛ إذ كان المجازُ على خلافِ الأصلِ، وإنَّما يُصارُ إليه بقرينة صارفة عن الأصلِ، والأصلُ عدمُ القرائن، ثم إنّ البحثَ عن الكلامِ الدّال على الجملة المفيدةِ لا توجد له قرينة، بل يسارع إلى هذا المعنى من غيرِ توقُّفٍ على وجودِ قرينةٍ، وهذا مثلُ لفظِ العُموم إذا أُطلق حُمل على العُموم من غيرِ يَحتاج إلى قرينةٍ تصرفُهُ إليه، بل إن وُجِدَ تخصيص إلى قرينةٍ. أمَّا السُّؤال الثّاني، فلا يَصِحُّ على الوَجهين المَذكورين، أمَّا الاشتراكُ فعنه جوابان:
أحدهما: أنّه على خِلافِ الأصلِ؛ إذْ كان يُخِلّ بالتَّفاهُمِ، أَلا تَرى أنّه إذا أُطلق لَفظة (العين) لم يُفهم منه ما يَصحُّ بِناء الحُكم عليه، والكلامُ إنما وُضع للتَّفاهُمِ، وإنّما عَرَضَ الإِشتراك من اختلاف اللُّغات.
সামগ্রিকভাবে, এটি ভাষাগত মৌল নির্ধারণের (حقيقة الوضع) সত্যতাকে অস্বীকার করে না। অতঃপর আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক: {তাদের মুখ থেকে নির্গত শব্দটি (كلمة) কতই না গর্হিত}, এবং তাঁর এই বাণীর সাথে: {কাফিরদের কথাই (كلمة) হলো নিম্নগামী আর আল্লাহর বাণীই (كلمة) হলো সুউচ্চ}, এবং {আপনার রবের বাণী (كلمة) সত্য ও ন্যায়ের সাথে পূর্ণ হয়েছে}। এটি সুবিদিত যে, তিনি শব্দ (كلمة) দ্বারা অর্থবহ বাক্যই বুঝিয়েছেন। আর যদি পূর্ণ বাক্যের ক্ষেত্রে 'শব্দ' (كلمة) প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে একক শব্দের ক্ষেত্রেও 'কালাম' বা বাক্য (الكلام) প্রয়োগ করা বৈধ হতে পারে।
এর উত্তর হলো:
সাধারণ বা নিঃশর্ত প্রয়োগ (الإطلاق) হলো প্রকৃত অর্থের (الحقيقة) প্রমাণ; কেননা রূপক বা অলঙ্কারিক অর্থ (المجاز) মূলনীতির পরিপন্থী। আর কোনো মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তনকারী সূত্রের (قرينة صارفة) সাহায্যেই কেবল রূপক অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া যায়, অথচ মূলনীতি হলো কোনো অতিরিক্ত সূত্রের অনুপস্থিতি। অধিকন্তু, অর্থবহ বাক্য নির্দেশকারী বাণীর অনুসন্ধানে এমন কোনো সূত্র পাওয়া যায় না; বরং কোনো সূত্রের অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি এই অর্থের দিকেই মন ধাবিত হয়। এটি সাধারণ অর্থবোধক শব্দের (لفظ العموم) ন্যায়, যা নিঃশর্তভাবে প্রয়োগ করা হলে কোনো সূত্রের প্রয়োজন ছাড়াই তাকে ব্যাপক অর্থেই (العموم) গ্রহণ করা হয়; বরং যদি বিশেষায়ন (التخصيص) করতে হয়, তবেই সূত্রের প্রয়োজন পড়ে। দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে বলা যায়, উল্লিখিত উভয় পদ্ধতিতে তা সঠিক নয়। আর সমোচ্চারিত কিন্তু ভিন্নার্থক শব্দের (الاشتراك) ক্ষেত্রে দুটি উত্তর রয়েছে:
প্রথমটি হলো: এটি মূলনীতির পরিপন্থী; কারণ এটি পারস্পরিক বুঝাপড়ায় বিঘ্ন ঘটায়। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন 'আইন' (العين) শব্দটি নিঃশর্তভাবে বলা হয়, তখন তা থেকে এমন কিছু বোঝা যায় না যার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান প্রদান করা সঠিক হতে পারে? অথচ কথা বা বাণী মূলত তৈরিই করা হয়েছে পারস্পরিক বুঝাপড়ার জন্য। আর সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (الاشتراك) বিষয়টি কেবল বিভিন্ন ভাষার ভিন্নতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
والثاني: أنّ الاشتراكَ هُنا لا يَتَحَقَّقُ؛ لأنَّ الكلامَ والكلامةَ من حقيقةٍ واحدةٍ، ولكنَّ الكلامَ مجموع شيئين فصاعدًا، اللّفظةُ المفردةُ ولا اشتراكَ بَينهما، وإنما الكلامُ مُستفادُ بالأوصافِ والاجتماعِ، وليس كذلك المشتركُ بلْ كلُّ من ألفاظه كالأخرى في كونِها مفردَةً. وأمّا الجنس فغيرُ موجودٍ هُنا؛ لأنَّ الجنسَ يفرَّق بين واحدة وبينه بتاء التَّأنيث نحو: تَمرةٍ وتَمْرٍ، وهذا غيرُ موجودٍ في الكلامِ والكلمةِ بل جنس الكلمةِ كَلِمُ وليس واحدُ الكلامِ كلامةُ، فبانَ أنَّه ليس بجنسٍ.
وأما السؤال الثالث: فخارجُ عمّا نَحنُ فيه، وبيانه: أنَّ اشتقاقَ الكلمةِ من الكَلْم، وهو التَّأثير، والكلامُ تأثيرُ مخصوصً، لا مطلقُ التأثير، والخاصُّ غيرُ المُطلق، يَدُلُّ عليه أنَّ الكَلْمَ الذي هو الجَرْحُ مؤثرُ في النَّفس معنى تامّاً وهو الأَلَمُ مثلاً، والكلامُ أشبَه بذلك؛ ولأنَّه يؤثِّرُ تأثيرًا تامّاً، وأمَّا الكلمةُ المفردةُ فتأثيرها قاصرُ، لا يتمُّ منه معنى إلاّ بانضمامِ تأثيرٍ آخرَ إليه، فهما مشتركان في أصلِ التأثير، لا في مِقداره.
وأمَّا المُعارضةُ بقوله تعالى: {كَبُرَتْ كَلِمَةً} فلا تتوجهُ؛ لأنَّ أكثرَ ما فيه أنَّه عَبَّرَ بالجُزء عن الكلِّ، وهذا مَجازُ ظاهرُ؛ إذ كان الواحدُ ليس بجمعٍ ولا جنسٍ، بل يعبَّر به عن الجَمعِ والجِنسِ مَجازًا ووجهُ المَجَاز أن الجُملةَ يتألَّفُ بعضُ أجزائِها إلى بعضٍ، كما تَتَأَلَّف حروفُ الكلمةِ المفردةِ بعضُها إلى بعضٍ، فلمّا اشتركا في ذلك جازَ المَجَازُ، وليس كذلك التَّعبيرُ عن الكلمةِ؛ لأنَّ ذلك نقضُ معناها، ودليلُ المجازِ في الكلمةِ ظاهرُ، وهو قوله: {تَخْرُجُ من أَفْواهِهِمْ إنْ يَقُوْلُونَ إلاّ كَذِبًا}
দ্বিতীয়ত: এখানে সমার্থকতা (اشتراك) বাস্তবায়িত হয় না; কারণ 'কালাম' (বাক্য) এবং 'কালামাহ' (كلامة) একই মূল বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত। তবে 'কালাম' হলো দুই বা ততোধিক বিষয়ের সমষ্টি, পক্ষান্তরে একক শব্দ তা নয়, ফলে তাদের মধ্যে কোনো সমার্থকতা (اشتراك) নেই। মূলত গুণাবলী এবং সম্মিলনের মাধ্যমেই 'কালাম' অর্থবহ হয়। সমোচ্চারিত শব্দ (المشترك) এমন নয়, বরং তার প্রতিটি শব্দ একক হওয়ার দিক থেকে একে অপরের মতোই হয়ে থাকে। আর এখানে কোনো শ্রেণি (الجنس) বিদ্যমান নেই; কারণ শ্রেণি এবং তার একককে স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা' (تاء التأنيث) দ্বারা পৃথক করা হয়, যেমন: 'তামরাহ' এবং 'তামর'। কালাম এবং কালিমাহ-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়; বরং কালিমাহ-এর শ্রেণিবাচক রূপ হলো 'কালিম', আর কালাম-এর একবচন 'কালামাহ' (كلامة) নয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, এটি কোনো শ্রেণি (الجنس) নয়।
তৃতীয় প্রশ্নটি আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের বাইরে। এর ব্যাখ্যা হলো: 'কালিমাহ' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে 'কালম' থেকে, যার অর্থ হলো প্রভাব (التأثير)। আর 'কালাম' হলো এক বিশেষ ধরণের প্রভাব, ঢালাও কোনো প্রভাব নয়। আর বিশেষ বিষয়টি সাধারণ বিষয় থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এর প্রমাণ হলো, 'কালম' যার অর্থ হলো জরাহ (الجرح), তা আত্মার ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ বা প্রভাব সৃষ্টি করে, যেমন বেদনা। কালাম-এর বিষয়টিও এর সদৃশ; কারণ তা পূর্ণাঙ্গ প্রভাব বিস্তার করে। পক্ষান্তরে একক শব্দ বা 'কালিমাহ'-এর প্রভাব অসম্পূর্ণ; অন্য কোনো প্রভাব যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর মাধ্যমে কোনো পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। সুতরাং তারা প্রভাবের মূল উৎসে অংশীদার হলেও এর মাত্রায় সমান নয়।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {কত ভয়ংকর কথা} এর মাধ্যমে উত্থাপিত আপত্তিটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এর দ্বারা বড়জোর অংশ ব্যবহার করে পূর্ণকে প্রকাশ করা হয়েছে, যা একটি সুস্পষ্ট রূপক (المجاز)। যেহেতু একবচন শব্দটি নিজে কোনো বহুবচন বা শ্রেণি (الجنس) নয়, বরং রূপক (المجاز) হিসেবেই তা বহুবচন বা শ্রেণির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। এই রূপকের ভিত্তি হলো, বাক্যের অংশসমূহ একে অপরের সাথে সেভাবেই গ্রথিত হয় যেভাবে একটি একক শব্দের বর্ণগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। যখন তারা এই বৈশিষ্ট্যে এক হলো, তখন রূপক (المجاز) প্রয়োগ করা বৈধ হলো। কিন্তু শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়, কারণ তা এর মূল অর্থকে ব্যাহত করে। 'কালিমাহ' শব্দের ক্ষেত্রে রূপকের প্রমাণ স্পষ্ট, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যা তাদের মুখ থেকে নির্গত হয়; তারা কেবল মিথ্যাই বলে}।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২০)
والكذبُ لا يتحقّقُ في الكلمةِ المفردةِ، وإنّما يُتَصَوَّرُ فيما هو خبرُ، والخبرُ لا يكونُ مفردًا في المعنى.
واحتَجَّ الآخرون بأنّ الاشتقاقَ موجودُ في الكلمةِ والكلامِ بمعنى واحدٍ، وهو التّأثيرُ، فكان اللّفظ شاملاً لهما، يَدُلُّ عليه أنّكَ تقولُ: تكلّم كلمةً وما تكلمَّ بكلمةٍ فيؤكّد باللّفظةِ المفردةِ الفعلُ كما يؤكّد بالكلامِ فيلزمُ من ذلك إطلاق العِبارتين على شَيءٍ واحدٍ.
والجوابُ عن هذا ما تقدّم في جوابِ السُّؤال. والله أعلمُ بالصَّواب.
মিথ্যা (الكذب) একক শব্দের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয় না, বরং এটি কেবল সংবাদ (خبر) এর ক্ষেত্রেই কল্পনা করা যায়; আর সংবাদ (خبر) অর্থগতভাবে একক শব্দ হতে পারে না।
অন্যরা যুক্তি দিয়েছেন যে, শব্দ এবং বাক্য—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যুৎপত্তি বিদ্যমান এবং তা একই অর্থে ব্যবহৃত, আর তা হলো ‘প্রভাব বিস্তার করা’। সুতরাং এই পরিভাষাটি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রমাণ হলো আপনার এই উক্তি: ‘সে একটি কথা বলেছে’ এবং ‘সে একটি কথাও বলেনি’। এখানে একক শব্দের মাধ্যমে ক্রিয়াকে সেভাবেই তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা হয়, যেভাবে বাক্যের মাধ্যমে করা হয়। ফলে এর দ্বারা একই বিষয়ের ওপর উভয় পরিভাষার প্রয়োগ আবশ্যক হয়ে পড়ে।
এর উত্তর ইতিপূর্বে প্রশ্নের উত্তরে প্রদান করা হয়েছে। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২১)
2 - مسألة: [حد الاسم]اختلفت عبارات النحويين في حدّ الاسم، وسيبويه لم يصرح له بحدِّ.
فقالَ بعضُهم: الاسم ما استحقّ الإعراب في أول وضعه.
وقالَ آخرون: ما استحقَّ التنوين في أصلِ وضعه.
২ - মাসআলা: [নামের (الاسم) সংজ্ঞা]নামের (الاسم) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদগণের সংজ্ঞায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, এবং সিবওয়াইহ এর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা (حد) ব্যক্ত করেননি।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন: নাম (الاسم) হলো তা-ই, যা তার প্রাথমিক রূপায়ণে ই'রাব (إعراب) গ্রহণের যোগ্যতা রাখে।
অন্যরা বলেছেন: যা তার মৌলিক গঠনে তানউইন (تنوين) গ্রহণের উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২২)
وقالَ آخرون: حدّ الاسم ما سَما بِمُسَمَّاةُ، فأوضحه وكشف معناه.
وقالَ آخرون: الاسمُ كلُّ لفظٍ دلّ على معنى مُفرد في نَفسِهِ.
وقالَ آخرون: هو كلُّ لفظٍ دلّ على معنى في نَفْسِهِ ولم يدل على زمان ذلك المعنى.
وقالَ ابنُ السّراج: هو كلّ لفظٍ دلَّ على معنى في نفسِه غير مقترنٍ بزمانٍ مُحصّل، وزادَ بعضهُم في هذا الحدِّ دلالةَ الوضعِ.
وقبل الخوض في الصّحيح في هذه العبارات نُبيّن حدَّ الحدّ،
অন্যরা বলেছেন: নাম (الاسم)-এর সংজ্ঞা (الحد) হলো যা তার নামকৃত বিষয়কে উচ্চাসীন করে, ফলে তাকে সুস্পষ্ট করে এবং তার অর্থ উন্মোচন করে।
অন্যরা বলেছেন: নাম (الاسم) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি একক অর্থের ওপর নির্দেশ করে।
অন্যরা বলেছেন: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং সেই অর্থের সময়ের ওপর নির্দেশ করে না।
ইবনুল সাররাজ বলেছেন: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে; আর কেউ কেউ এই সংজ্ঞায় (الحد) শব্দপ্রয়োগগত (الوضع) নির্দেশনার বিষয়টিও যুক্ত করেছেন।
এই উক্তিগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক (الصحيح) তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আমরা সংজ্ঞার (الحد) সংজ্ঞা (الحد) বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
والعبارات الصحيحة فيه مُختلفة الألفاظ مُتفقة المعاني.
فمنها اللَّفظُ على كمالِ ماهيَّة الشَّيءِ، وهذا حدُّ صَحيحُ؛ لأنَّ الحدَّ هو الكاشفُ عن حَقيقةِ المَحدودِ، ويُرادُ بالماهية ما يُقالُ في جوابِ ما هو؟ واحتَرزوا بقولهم: ((كمالُ الماهِيّة)) من أنّ بعضَ ما يدلُّ على الحقيقة قد يَحصلُ من طريقِ الملازمةِ لا من طريقِ المطابقة، مثالُه: أن تَقولَ: حدُّ الإنسان هو الناطقُ فلفظُ الحدّ يكشف عن حقيقة النُّطق، ولا يَدُلّ على جنس المحدود، وإن كان لا ناطق إلاّ الإنسان، ولكن ذلك معلوم من جهة الملازمة، لا من جهة دلالة اللَّفظ، ومثالُه من النَّحو قولهم: المَصدرُ يدلُّ على زمانٍ مَجهولٍ، ولَيس كذلك، فإن لفظَ المَصدَرِ لا يَدُلُّ على زمانٍ البَتَّة وإنَّما الزّمان من ملازماته، فلا يَدخلُ في حدّه، ولو دَخَل ذلك في الحدّ لوجَب أن يُقالَ: الرَّجل والفَرسُ يدلان على الزَّمان والمكان، إذْ يُتَصَوَّر انفكاكه عنهما.
ولكنْ لمّا لم يَكُن اللَّفظُ دالاً عليهما يَدخلا في حدّه، وقالَ قومّ: حدُّ الحدّ: هو عبارةُ عن جُملة ما فرّقه التَّفصيلُ.
এর অন্তর্গত সঠিক (صحيح) অভিব্যক্তিগুলোর শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অর্থ অভিন্ন।
তার মধ্যে একটি হলো—এমন শব্দ যা কোনো বস্তুর সত্তার পূর্ণতাকে নির্দেশ করে, আর এটি একটি সঠিক (صحيح) সংজ্ঞা (حد); কারণ সংজ্ঞা (حد) হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনকারী। আর সত্তা (মাহিয়্যাত) বলতে সেই জিনিসকে বোঝানো হয় যা ‘সেটি কী?’—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়। তারা ‘সত্তার পূর্ণতা’ কথাটি বলার মাধ্যমে এ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যে, হাকিকত বা প্রকৃত রূপের ওপর নির্দেশকারী কিছু বিষয় অনেক সময় আবশ্যিকতার (ملازمة) মাধ্যমে অর্জিত হয়, সরাসরি সামঞ্জস্যতার (مطابقة) মাধ্যমে নয়। এর উদাহরণ হলো: যেমন আপনি বললেন, মানুষের সংজ্ঞা (حد) হলো তার বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া; এখানে ‘সংজ্ঞা’ শব্দটি বাকশক্তির হাকিকত বা প্রকৃত স্বরূপকে উন্মোচন করে, কিন্তু তা সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল শ্রেণির ওপর দলালত করে না। যদিও মানুষ ব্যতীত অন্য কেউ বাকশক্তি সম্পন্ন নয়, তবে এটি আবশ্যিকতার (ملازمة) দিক থেকে জানা যায়, শব্দের দলালত বা অর্থের দিক থেকে নয়। নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র থেকে এর উদাহরণ হলো আলিমদের এই কথা: ক্রিয়ামূল (مصدر) অজ্ঞাত সময়ের ওপর দলালত করে। অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ ক্রিয়ামূল (مصدر) শব্দটি মূলত কোনো সময়ের ওপরই দলালত করে না, বরং সময় হলো এর একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ বা আবশ্যিকতা (ملازمة) মাত্র। তাই এটি এর সংজ্ঞার (حد) অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যদি তা সংজ্ঞার (حد) অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে বলা আবশ্যক হতো যে: পুরুষ ও ঘোড়া শব্দ দুটিও কাল ও স্থানের ওপর দলালত করে, কারণ এই দুটি থেকে কাল ও স্থানকে বিচ্ছিন্ন ভাবা সম্ভব নয়।
কিন্তু যেহেতু শব্দটি কাল ও স্থানের ওপর সরাসরি দলালত করে না, তাই তারা এর সংজ্ঞার (حد) অন্তর্ভুক্ত হবে না। একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন: সংজ্ঞার সংজ্ঞা (حد) হলো—বিশদ বিবরণের মাধ্যমে যা পৃথক করা হয়েছিল, তার সমষ্টির একটি অভিব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
وقالَ آخرون: حدُّ الحدِّ: ((ما اطّرد وانعكس))، وهذا صحيحُ؛ لأنَّ الحدَّ كاشفُ عن حقيقة الشَّيءِ فاطّرادُهُ يُثبِتُ حقيقتَه أينما وُجِدَتْ وانعكاسُهُ يَنفيها حَيثُما فُقِدت وهذا هو التَّحقيقُ، بخلاف العلامة، فإِنّ العلامة تَطّردُ ولا تنعكسُ، ألا تَرى أنّ كلَّ اسمٍ دخلَ عليه حرفُ الجرّ والتَّنوين وما أشبههما أَنَّى وُجِدَ حُكِمَ بكون اللّفظ اسمًا، ولا ينفي كونه اسمًا بامتناع حرف الجرّ، ولا بامتناع التَّنوين ونحوهما؛ وإذْ قد بانت حقيقةُ الحدّ فنشرعُ في تحقيق ما ذكر من الحُدود وإفساد الفاسد منها.
أما قولهم: الاسمُ كلُّ لفظٍ دلَّ على معنى مفردٍ في نفسه، فحدُّ صحيح إذ الحدُّ ما جمع الجنس والفصل واستوعبه جنسُ المحدود، وهو كذلك هاهُنا، ألا ترى أنّ الفعل يدلُّ على معنيين حدث وزمان، ((وأمس)) وما أشبهه يدلُّ على الزَّمان وحده، فكان الأول فعلاً والثاني اسمًا، والحرفُ لا يدلُّ على معنى في نفسِهِ، فقد تَحقّق فيما ذكرناه الجنس، والفصل، والاستيعاب، وأمَّا قولُ ابنِ السّراج فصحيحُ أيضًا، فإنّ الاسم يدل على معنى في نفسِهِ، فيفه احترازُ من الحرف وقوله ((غير مقترن بزمانٍ محصّل)) يخرج منه الفعل فإنه يدلُّ على الزمان المقترن به، وأما المَصادر فلا دلالة لها على الزمان، المَجهول ولا المُعَيّن على ما ذكرنا، ومن قالَ منهم: يدلُّ على الزَّمان المجهول فقد احترز عنه بقوله ((مُحَصّل)) فإن
অন্যান্যরা বলেছেন: সংজ্ঞার সংজ্ঞা হলো: ((যা পরিব্যাপ্ত (اطرد) এবং বিপরীতমুখী বা স্বতন্ত্র (انعكس))), আর এটি সঠিক (صحيح); কারণ সংজ্ঞা (حد) কোনো বস্তুর প্রকৃত সত্তাকে উন্মোচিত করে। সুতরাং এর পরিব্যাপ্তি (اطراد) তার প্রকৃত সত্তাকে যেখানেই পাওয়া যায় সেখানেই সাব্যস্ত করে এবং এর স্বাতন্ত্র্য বা বিপরীতমুখিতা (انعكاس) প্রকৃত সত্তার অনুপস্থিতিতে তা নাকচ করে দেয়। আর এটিই হলো নিগূঢ় সত্য বা তাহকিক (تحقيق), লক্ষণের (علامة) বিপরীত; কারণ লক্ষণ পরিব্যাপ্ত হয় কিন্তু বিপরীতমুখী হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, প্রতিটি বিশেষ্য (اسم) যাতে অব্যয় (حرف الجر) এবং তানউইন (تنوين) বা অনুরূপ কিছু প্রবেশ করে, যেখানেই তা পাওয়া যায় তাকে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য করা হয়; কিন্তু অব্যয় বা তানউইন ইত্যাদির অনুপস্থিতি শব্দটি বিশেষ্য (اسم) হওয়াকে নাকচ করে না। যেহেতু সংজ্ঞার (حد) স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাই আমরা এখন উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর (حدود) বিচার-বিশ্লেষণ (تحقيق) এবং সেগুলোর মধ্য থেকে ত্রুটিপূর্ণগুলো বাতিল করার কাজ শুরু করব।
আর তাদের উক্তি: বিশেষ্য (اسم) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি একক অর্থের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে; এটি একটি সঠিক (صحيح) সংজ্ঞা। কেননা সংজ্ঞা (حد) হলো তা-ই যা সাধারণ বৈশিষ্ট্য (جنس) ও পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যকে (فصل) একত্রিত করে এবং সংজ্ঞায়িত বস্তুকে তার সাধারণ বৈশিষ্ট্য দ্বারা পরিবেষ্টন করে। এখানেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। আপনি কি দেখেন না যে, ক্রিয়া (فعل) দুটি অর্থের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে: কাজ ও সময়। আর 'অতীত' (أمس) ও অনুরূপ শব্দগুলো কেবল সময়ের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে; ফলে প্রথমটি ক্রিয়া (فعل) এবং দ্বিতীয়টি বিশেষ্য (اسم)। আর অব্যয় (حرف) নিজের মধ্যে কোনো পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে সাধারণ বৈশিষ্ট্য (جنس), পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য (فصل) ও পরিবেষ্টন (استيعاب) প্রমাণিত হয়েছে। আর ইবনে সিরাজের উক্তিটিও সঠিক (صحيح); কেননা বিশেষ্য (اسم) নিজের মধ্যে একটি অর্থের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে, যার মাধ্যমে অব্যয় (حرف) থেকে পৃথক হওয়া বা বেঁচে থাকা (احتراز) সম্ভব হয়। আর তাঁর উক্তি 'কোনো নির্দিষ্ট সময়ের (زمان محصل) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়'—এর মাধ্যমে ক্রিয়াকে (فعل) বের করে দেওয়া হয়েছে, কারণ ক্রিয়া তার সাথে সংশ্লিষ্ট সময়ের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে। আর মাসদার বা ক্রিয়ামূলগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের উল্লেখ অনুযায়ী অনির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট কোনো সময়ের ওপর কোনো নির্দেশ বা দলালত (دلالة) নেই। আর তাদের মধ্যে যারা বলেছেন যে, এটি অনির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে, তিনি 'নির্দিষ্ট' (محصل) শব্দের দ্বারা তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন বা আত্মরক্ষা (احتراز) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
المصدر لا يدلُّ على زمان معيّنٍ، وأمَّا من زاد فيه ((دلالة الوضع)) فإنّه قَصَدَ بذلك دفع النَّقض بقولهم: ((أتيتكُ مَقدم الحاجّ)) و ((خفوق النَّجم)) وأتت الناقة على منتَجِها فإن هذه مَصادر، وقد دلَّت على زمانٍ محصّلٍ، فعندَ ذلك تخرج عن الحدِّ، وإذا قالَ دلالة الوَضع لم يَنتقض الحدّ بها، لأنها دالةُ على الزَّمان لا من طريقِ الوضعِ، وذلك أن مَقدم الحاجّ يتفقُ في أزمنَةٍ معلومة بينَ النّاس، لا أنّها معلومةُ من لفظِ المَقدم، والدّليلُ على ذلك أنّك لو قلتَ: أتيتُكَ وقت مقدم الحاج صحّ الكلامُ، وظهرَ فيه ما كان مقدّرًا قبله، والتّحقيقُ فيه أن الحُدود تكشف عن حقيقة الشيء الموضوع أولاً، فإذا جاء منها شيءُ على خلاف ذلك لعارضٍ لم ينتقص الحد به وسَيَاتي نظائر ذلك فيما يمر بك من المسائل.
فأمَّا من قال: هو ما استحق الإعرابُ في أولِ وضعِهِ، أو ما استحقَّ التَّنوين، فكلامُ ساقطُ جدّاً وذلك أنّ استحقاق الشيءٍ لحكمٍ ينبغي أن يَسبِقَ العلم بحقيقته، حتى يرتب عليه الحُكْمُ، ألا ترى أنّه لو قالَ في لفظة ((ضَرَبَ)) هذا الاسم لأنه يستحق الإعراب في أولِ وضعه لاحتَجتَ أن تُبيّنَ أنه ليس باسمٍ، ولا يُعترض في ذلك بالإعرابِ وعدمه، ولو قال قائلُ: أنا أعربه أو أحكم باستحقاقه الإعراب؟ لقيلَ له: ما الدَّليلُ على ذلك؟ فقال: لأنّه اسمُ فيقال له: ما الدّليل على أنه اسم؟ فإن قال بعدَ ذلك: لأنّه
মাসদার (مصدر) কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ওপর দালালত বা প্রমাণ পেশ করে না। তবে যারা এতে "মৌলিক গঠনগত তাৎপর্য (دلالة الوضع)" শব্দটুকু যুক্ত করেছেন, তারা এর মাধ্যমে সেই আপত্তির খণ্ডন করতে চেয়েছেন যা তাদের এই কথাগুলো দ্বারা উত্থাপিত হয়: "আমি হাজীদের আগমনের (مقدم) সময় তোমার কাছে এসেছি", "তারকা অস্তমিত হওয়ার (خفوق) সময়", এবং "উষ্ট্রীটি তার শাবক প্রসবের (منتج) সময় এসেছে"। এগুলো মাসদার (مصدر), অথচ এগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর প্রমাণ পেশ করেছে; ফলে সেক্ষেত্রে এগুলো সংজ্ঞার (حد) পরিধি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন কেউ "মৌলিক গঠনগত তাৎপর্য (دلالة الوضع)" বলবে, তখন সংজ্ঞাটি (حد) আর ত্রুটিযুক্ত হবে না। কারণ এগুলো সময়ের ওপর প্রমাণ পেশ করলেও তা মৌলিক শব্দগঠনের (وضع) মাধ্যমে নয়। বিষয়টি হলো, হাজীদের আগমনের সময়টি মানুষের নিকট পরিচিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে থাকে, এমন নয় যে তা 'মাকদাম' (مقدم) শব্দটির মূল অর্থ থেকেই জানা যাচ্ছে। এর প্রমাণ হলো, আপনি যদি বলেন: "আমি হাজীদের আগমনের সময়ে তোমার কাছে এসেছি", তবে বাক্যটি সঠিক হবে এবং পূর্বে যা উহ্য ছিল তা এখানে প্রকাশ পাবে। এর প্রকৃত বিশ্লেষণ হলো, সংজ্ঞাগুলো (الحدود) মূলত কোনো বিষয়ের মৌলিক বাস্তবতাকে উন্মোচন করে। সুতরাং যদি কোনো আনুষঙ্গিক কারণে (عارض) এর বিপরীতে কিছু পরিলক্ষিত হয়, তবে তার দ্বারা সংজ্ঞাটি (الحد) ত্রুটিযুক্ত হয় না। আপনার সামনে আসা মাসআলাগুলোতে (المسائل) এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ আসবে।
আর যারা বলেন: এটি (বিশেষ্য) তা-ই যা তার মৌলিক শব্দগঠনের (وضع) শুরুতেই ইরাব (إعراب) লাভের যোগ্যতা রাখে, অথবা যা তানউইন (التنوين) লাভের যোগ্যতা রাখে; তবে তাদের এ কথাটি অত্যন্ত অসার। কেননা, কোনো বিষয় একটি বিধান লাভের যোগ্য হওয়ার বিষয়টি তার হাকিকত বা বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পরবর্তী স্তরের হওয়া উচিত, যাতে সেই বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে বিধানটি বিন্যস্ত করা যায়। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি কেউ 'দ্বরাবা' (ضرب) শব্দ সম্পর্কে বলে: "এটি বিশেষ্য (اسم), কারণ এটি তার মৌলিক শব্দগঠনের (وضع) শুরুতে ইরাব (إعراب) লাভের যোগ্যতা রাখে", তবে আপনাকে স্পষ্ট করতে হতো যে এটি বিশেষ্য (اسم) নয়। আর ইরাব (إعراب) থাকা বা না থাকা নিয়ে সেখানে কোনো আপত্তি করা হতো না। যদি কেউ বলে: "আমি এতে ইরাব প্রদান করি অথবা আমি এর ইরাব লাভের যোগ্য হওয়ার বিধান দেই", তখন যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়: "এর প্রমাণ কী?", আর সে উত্তর দেয়: "কারণ এটি একটি বিশেষ্য (اسم)", এরপর যদি তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হয়: "এটি যে বিশেষ্য (اسم) তার প্রমাণ কী?", এরপর যদি সে বলে: "কারণ এটি..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
يستحق الإعراب أدى إلى الدَّور؛ لأنه لا يثبتُ كونه اسمًا إلا باستحقاق الإِعراب، ولا يَستحق الإِعراب إلا بكونِهِ اسمًا، وهكذا سبيلُ التّنوين وغيره.
وأمَّا قول الآخر ((ما سَما بِسُمّاه)) فحدُّ مدخولُ أيضًا؛ وذلك أنَّه أرادَ ما سمّي مُسَمَّاه، ولهذا قال: فأوضحه، فجعلَ في الحدِّ لفظَ المَحدودِ، وإذا كُنَّا لا نَعلمُ معنى الاسم فكيفَ يُجعل فيما يُوضحه لفظًا مشتَقًا منه؟ وذلك أنّ الاشتقاق يَستدعي فهم المُشتق منه أولاً، ثم يؤخذ منه لفظ آخر يدلُ على معنى زائد، قالَ عبدُ القاهر: في ((شرح جملة)): حدّ الاسم: ما جازَ الإخبارُ عنه قال: والدّليلُ على ذلك من وجهين:
أحدهما: أنه مُطّرد ومُنعكس، وهذا إمارة صحّة الحد.
والثاني: أنّ الفعلَ لا يصحُّ الإخبار عنه، والحرفُ لا حظَّ له في
ইরাব (إعراب) প্রাপ্তির যোগ্যতা চক্রাকার আবর্তনে (الدور) পর্যবসিত হয়; কারণ ইরাব (إعراب) লাভের যোগ্যতা ব্যতিরেকে তার বিশেষ্য (اسم) হওয়া প্রমাণিত হয় না, আবার বিশেষ্য (اسم) হওয়া ব্যতীত সে ইরাব (إعراب) প্রাপ্তির যোগ্য হয় না। তানউইন (التنوين) এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
আর অন্যের উক্তি— "যা তার উচ্চতার দ্বারা উচ্চ হয়েছে (ما سَما بِسُمّاه)"—এটিও একটি ত্রুটিযুক্ত সংজ্ঞা (حد); কেননা তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন 'যাকে তার নাম দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে', একারণেই তিনি বলেছেন: 'অতঃপর তিনি তা স্পষ্ট করেছেন'। ফলে তিনি সংজ্ঞার (الحد) মধ্যে সংজ্ঞায়িত (المحدود) শব্দেরই প্রয়োগ করেছেন। অথচ আমরা যখন বিশেষ্যের (الاسم) অর্থই জানি না, তখন তাকে স্পষ্ট করার জন্য সেখান থেকেই নির্গত (مشتق) কোনো শব্দকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়? কারণ, শব্দ-নির্গমন বা ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) প্রক্রিয়াটি প্রথমে মূল শব্দ বা উৎসকে (المشتق منه) বোঝার দাবি রাখে, এরপর সেখান থেকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য শব্দ গ্রহণ করা হয়। আব্দুল কাহের 'শারহুল জুমাল'-এ বলেছেন: বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞা (حد) হলো: 'যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الإخبار عنه) বৈধ হয়'। তিনি বলেন: এর স্বপক্ষে দলিল (الدليل) দু'টি দিক থেকে হতে পারে:
প্রথমত: এটি ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট (مُطّرد ومُنعكس), আর এটিই সঠিক সংজ্ঞার (الحد) লক্ষণ।
দ্বিতীয়ত: ক্রিয়া (الفعل) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الإخبار عنه) শুদ্ধ নয়, আর হরফ বা অব্যয়ের (الحرف) এতে কোনো অংশ নেই।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
الإخبار، فعنى أن يكون الاسمُ هو المخبر عنه، إذ لا يجوز أن تخلو الكلمة من إسنادِ الخبرِ إليها، [كان] الفعلُ والحرفُ والاسمُ لا يُسند إليه خبر ارتفعَ الأخبارُ عن جملةِ الكلامِ، والدَّليلُ على أنه ليس بحدٍّ وإنّما هو علامةُ، وقد اختارَ ذلك عبد القاهر في ((شرح الإِيضاح)) أنَّ هذا اللّفظ يطرد ولا ينعكس. والدَّليل عليه قولك ((إذ)) و ((إذا)) و ((أيّان)) و ((أَين)) وغير ذلك، وأنها أسماء ولا يصحّ الإخبار عنها، فعندَ ذلك يَبطل كونها حدّاً.
والوَجهُ الثّالِثُ: أنَّ قولَكَ: ما جازَ الإخبار عنه لا يُنبئ عن حَقيقةِ وَضعه، وإنّما هو من أحكامِه، ولذلك لو ادَّعى مُدَّعٍ أنّ لفظةُ ((ضَرَبَ)) يصحُّ الإخبار عنها بأن يقول: ضَرَبَ اشتدّ كما تقول: الضَّربُ مشتدّ، لم يصح معارضته بالمنع المُجرَّدِ حتّى يُبيّن وجه الامتناع، والحدُّ لا يَحتاجُ إلى دليلٍ يُقام عليه، لأنَّه لفظُ موضوعُ على المَعنى، ودلالةُ الأَلفاظِ على المَعاني لا تَثُبتُ بالمناسبة والقياس.
فإن قيلَ: ((إذ)) و ((إذا)) ونحوهما يَصحُّ الإخبارُ عنهما من حيثُ إِنَّهما أوقاتُ وأمكنةُ وكلاهما يَصحُ الإخبار عنه وإنما عَرض لها أنّها لا تَقَعُ إلا ظُروفًا فمن حيثُ هي ظروفُ لا يخبرُ عنها، ومن حيثُ هي أوقاتُ وأمكنةُ يصح الإخبار عنها، ألا ترى أنَّك لو قلتَ: طابَ وقتُنا، واتّسع مكانُنا كان خبراً صحيحًا.
সংবাদ প্রদান (الإخبار); এর অর্থ হলো বিশেষ্য (الاسم) হবে সেটি যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়। কেননা কোনো শব্দ তথ্য আরোপ (إسناد) করা থেকে বিমুক্ত হওয়া বৈধ নয়। যদি ক্রিয়া (الفعل), অব্যয় (الحرف) এবং বিশেষ্যের (الاسم) প্রতি সংবাদ বা তথ্য আরোপ (إسناد) করা না যেত, তবে পূর্ণাঙ্গ বাক্য থেকে সংবাদ প্রদানের বিষয়টি রহিত হয়ে যেত। আর এর প্রমাণ হলো, এটি কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা (حدّ) নয় বরং এটি কেবল একটি চিহ্ন (علامة)। আব্দুল কাহের 'শারহুল ঈজাহ' গ্রন্থে এই মতটিই গ্রহণ করেছেন যে, এই শব্দটির ক্ষেত্রে বিধেয়টি ব্যাপকার্থে প্রযোজ্য হলেও এর বিপরীতটি সঠিক নয়। এর প্রমাণ হলো 'যখন' (إذ), 'যদি' (إذا), 'কখন' (أيان), 'কোথায়' (أين) এবং এ জাতীয় শব্দাবলি; এগুলো বিশেষ্য হওয়া সত্ত্বেও এদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা সঠিক নয়। এমতাবস্থায় এগুলোকে সংজ্ঞা (حدّ) হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়।
তৃতীয় দিকটি হলো: আপনার বক্তব্য—যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা বৈধ—তা এর প্রকৃত গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেয় না, বরং তা এর বিধানসমূহের (أحكام) অন্তর্ভুক্ত। তাই কেউ যদি দাবি করে যে 'প্রহার করল' (ضرب) শব্দটির ব্যাপারে সংবাদ প্রদান করা শুদ্ধ, যেমন সে বলল: 'প্রহার করল বিষয়টি তীব্র হয়েছে'—যেভাবে বলা হয়: 'প্রহারটি তীব্র হয়েছে'; তবে এই দাবিকে কেবল নিছক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রতিহত করা যাবে না যতক্ষণ না নিষেধাজ্ঞার কারণ স্পষ্ট করা হয়। আর পারিভাষিক সংজ্ঞার (حدّ) জন্য কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয় না, কারণ সংজ্ঞা হলো অর্থের ওপর স্থাপিত একটি শব্দ। আর অর্থের ওপর শব্দের দালিলিক নির্দেশ (دلالة) সাদৃশ্য বা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।
যদি বলা হয়: 'যখন' (إذ) ও 'যদি' (إذا) এবং এ জাতীয় শব্দাবলি সময় ও স্থান হওয়ার প্রেক্ষিতে এদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা সঠিক, আর উভয়টির ক্ষেত্রেই সংবাদ প্রদান বৈধ। তবে এগুলো কেবল বাক্যে আধেয় (ظرف) হিসেবে আসার কারণে এমনটি প্রতীয়মান হয় যে এদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যায় না। কিন্তু সময় ও স্থান হিসেবে এদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা সঠিক। আপনি কি দেখেন না যে আপনি যদি বলেন: 'আমাদের সময়টি আনন্দময় হয়েছে' এবং 'আমাদের স্থানটি প্রশস্ত হয়েছে', তবে তা একটি সঠিক সংবাদ (خبر) হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
فالجواب: أن كونها ظروفًا أو صفات انضمّت إلى كونها وقتًا أو مكانًا لم تستعمل إلا بهذه الصفة، فهي كالخصوص من العُموم والخُصوص، لا يحدُّ بحدِّ العُموم، ألا ترى أن الإنسان حيوان مخصوص، ولا يحدُّ بحدٍّ الحيوان العام؛ لأنَّ ذلك يسقط الفصل الذي يميّز به من بقيّة أنواع الحيوان والحدُّ ما جَمَعَ الجنسَ والفصلَ، فالوقت الذي يدلُ عليه إذاً هو الجنس، وكونه ظرفًا بمنزلة الفصل، كالنطق في الإنسان وبهذا يحصل جواب قوله يطّرد وينعكس، لأنا قد بيّنا أنه لا ينعكس والله أعلم بالصواب.
উত্তর হলো: এগুলি আধার (ظرف) বা গুণাবলী হওয়ার বিষয়টি সময় বা স্থানের সাথে এমনভাবে যুক্ত যে, এই গুণাগুণ ব্যতীত এগুলি ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং এটি সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ (الخصوص) এর মতো, যা সাধারণের (العموم) সংজ্ঞা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা যায় না। আপনি কি দেখেন না যে, মানুষ একটি বিশেষ (مخصوص) প্রাণী এবং একে সাধারণ প্রাণীর সংজ্ঞা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না? কারণ তা সেই ব্যবচ্ছেদক বৈশিষ্ট্যকে (الفصل) বিলুপ্ত করে দেয় যার মাধ্যমে মানুষ অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী থেকে পৃথক হয়। আর সংজ্ঞা (الحد) হলো তা-ই যা মূল বর্গ (الجنس) এবং ব্যবচ্ছেদক বৈশিষ্ট্যকে (الفصل) একত্রিত করে। অতএব, এটি যে সময়ের নির্দেশ দেয় তা হলো মূল বর্গ (الجنس), আর এর আধার (ظرف) হওয়াটি ব্যবচ্ছেদক বৈশিষ্ট্যের (الفصل) স্থলাভিষিক্ত, যেমন মানুষের ক্ষেত্রে বাকশক্তি (النطق)। এর মাধ্যমেই তাঁর উক্তি ‘ব্যাপ্ত ও বিপরীতমুখী (يطرد وينعكس)’ হওয়ার বিষয়ের উত্তর পাওয়া যায়; কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি যে এটি বিপরীতমুখী হয় না। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
3 - مسألة: [اسميّة كيف]كيف اسم بلا خلافٍ، وإنَّما ذكرناها هنا لخفاء الدَّليل على كونها اسمًا، والدَّليل على كونِها اسمًا من خمسة أشياء:
أحدها: أنَّها داخلةُ تحت حدِّ الاسمِ، وذلك أنّها تدلُ على معنى
৩ - মাসআলা (مسألة): [‘কাইফা’-এর বিশেষ্যত্ব (اسميّة)]‘কাইফা’ কোনো মতভেদ (خلاف) ছাড়াই একটি বিশেষ্য (اسم)। আমরা এটি এখানে কেবলমাত্র একারণে উল্লেখ করেছি যে, এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়ার দলিল (دليل) অস্পষ্ট, আর এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়ার স্বপক্ষে পাঁচটি বিষয় রয়েছে:
তার একটি হলো: এটি বিশেষ্যের (اسم) সংজ্ঞার (حد) অন্তর্ভুক্ত; আর তা এই কারণে যে, এটি একটি অর্থ নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
في نفسها ولا تَدُلُّ على زمانِ ذلك المعنى.
والثاني: أنَّها تجابُ بالاسم والجوابُ على وفق السُّؤال وذلك قولهم:
كيفَ زيدُ؟ فيقالُ: صحيحُ أو مريضُ أو غنيُ أو فقيرُ، وذلك أنها سؤالُ عن الحالِ، فجاوابها ما يكون حالاً.
والثالث: أنك تُبدل منها الاسمَ فتقول: كيفَ زيدُ؟ أصحيحُ أم مريضُ، والبدل ها هنا مع همزة الاستفهام نائب عن قولك أصحيح زيدُ أم مريضُ؟، والبدلُ يساوي المبدل منه في جنسه.
والرابع: أنّ من العرب من يدخلُ عليها حرف الجَرُ، قالوا: على كيفَ تبيعُ الأحمرين؟ وقالَ بعضهم: أنظر إلى كيفَ يصنع؟ وهذا
তার নিজের সত্তাগতভাবে এবং তা সেই অর্থের সময়ের ওপর নির্দেশ করে না।
দ্বিতীয়ত: এটি বিশেষ্য দ্বারা উত্তর প্রদান করা হয় এবং উত্তরটি প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আর তা হলো তাদের কথা:
‘জায়েদ কেমন আছে?’ তখন বলা হয়: ‘সহিহ (صحيح)’ অথবা ‘অসুস্থ’ অথবা ‘ধনী’ অথবা ‘দরিদ্র’। আর তা এজন্য যে, এটি অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রশ্ন, তাই এর উত্তরটি অবস্থাবাচক হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত: আপনি এটি থেকে বিশেষ্যটিকে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন; যেমন আপনি বললেন: ‘জায়েদ কেমন? সে কি সহিহ (صحيح) নাকি অসুস্থ?’ এখানে প্রশ্নবোধক হামজা সহ স্থলাভিষিক্ত শব্দটি আপনার এই কথা—‘জায়েদ কি সহিহ (صحيح) নাকি অসুস্থ?’—এর স্থলাভিষিক্ত। আর স্থলাভিষিক্ত শব্দটি তার মূল শব্দের প্রকারের ক্ষেত্রে সমমান হয়ে থাকে।
চতুর্থত: আরবদের মধ্যে কেউ কেউ এর ওপর অব্যয় যুক্ত করেন। তারা বলেন: ‘কীভাবে তুমি লাল বস্তু দুটি বিক্রি করবে?’ এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: ‘দেখো সে কীভাবে কাজ করছে?’ আর এটি
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
شاذ في الاستعمال، ولكنّه يدلُّ على الاسمية.
والخامس: أنّ دليلَ السّبْرِ والتَّقسيم أوجَبَ كونها اسمًا، وذلك أن يقال: لا تخلو ((كيف)) من أن تكون اسمًا أو فعلاً أو حرفًا، فكونها حرفًا باطلُ؛ لأنها تفيد مع الاسمِ الواحدِ فائدةً تامة كقولك: ((كيفَ زيدُ)). والحرفُ لا تنعقد به الاسم جملة مفيدة، فأما ((يا)) في النّداء ففيها كلامُ يذكر في موضعه، وكونها فعلاً باطلُ أيضًا لوجهين:
أحدُهما: أنها لا تدلُّ على حدثٍ وزمان ولا على الزَّمان وحدَه.
والثاني: أنَّ الفعلَ يليها بلا فَصل كقولك: كيفَ صَنَعتَ، ولا يكون ذلك في الأفعالِ إلاّ أن يكونَ في الفعلِ الأولِ ضميرُ كقولك: أقبلَ يسرعُ: أي أقبلَ زيدُ أو رَجُلُ، وإِذا بَطَلَ القسمان ثَبت كونها اسمًا؛ لأنَّ الأسماءَ هي الأصولُ، وإذا بطلت الفُروعُ حُكِمَ بالأصلِ، والله أعلمُ بالصَّواب.
ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রমী (شاذ), তবে এটি বিশেষ্যত্বের (اسمية) পরিচায়ক।
পঞ্চমত: বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم)-এর প্রমাণ এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়াকে আবশ্যক করে। আর তা হলো: ‘কাইফা’ (كيف) বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) অথবা অব্যয় (حرف)-এর যেকোনো একটি হওয়া থেকে মুক্ত নয়। এর মধ্যে এটি অব্যয় (حرف) হওয়া বাতিল (باطل); কারণ এটি একটি মাত্র বিশেষ্যের (اسم) সাথে মিলে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, যেমন আপনার উক্তি: ‘কাইফা যাইদুন’। আর অব্যয় (حرف) দ্বারা বিশেষ্যের (اسم) সাথে মিলে কোনো পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠিত হয় না। তবে আহ্বানের (النداء) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘ইয়া’ (يا) সম্পর্কে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে যা তার যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে। এটি ক্রিয়া (فعل) হওয়াও দুটি কারণে বাতিল (باطل):
তার একটি হলো: এটি কোনো কার্য (حدث) ও কাল (زمان) অথবা শুধু কালের (زمان) ওপর নির্দেশ করে না।
দ্বিতীয়টি হলো: কোনো ব্যবধান ছাড়াই এর পরে ক্রিয়া (فعل) যুক্ত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘কাইফা সানা’তা’, আর ক্রিয়াগুলোর (أفعال) ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না, যদি না প্রথম ক্রিয়াটিতে কোনো সর্বনাম (ضمير) থাকে; যেমন আপনার উক্তি: ‘আকবালা ইউসরিউ’—অর্থাৎ যাইদ বা কোনো ব্যক্তি এগিয়ে এল। যখন উক্ত দুই প্রকার বাতিল হয়ে গেল, তখন এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়া সাব্যস্ত হলো; কারণ বিশেষ্যসমূহ (أسماء) হলো মূল (أصول), আর যখন শাখাগুলো (فروع) বাতিল হয়ে যায়, তখন মূলের (أصل) মাধ্যমেই বিধান প্রদান করা হয়। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
4 - مسألة [اشتقاق الاسم]الاسم المشتق من السموّ عندنا، وقال الكوفيون هو من الوَسمِ،
৪ - মাসআলা [নামের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق)]আমাদের মতে ‘ইসম’ (নাম) শব্দটি উচ্চতা (السموّ) থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق), আর কুফীবাসীরা বলেন এটি চিহ্ন (الوَسمِ) থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
فالمحذوفُ عندنا لامهُ وعندهم فاؤُهُ.
لنا فيه ثلاثةُ مسالِكٍ:
المعتمد منها أنّ المحذوفَ يعودُ في التَّصريف إلى موضع اللاّم، فكانَ المحذوفُ هو اللام، كالمحذوفِ من ((أينَ))، والدَّليلُ على عوده إلى موضِع اللاّم أنَّك تقولُ سمَّيتُ وأَسميت، وفي التّصغير ((سُمَيُّ)) وفي الجمع أسماءُ وأسامٍ وفي فَعيل منه سَمِيُّ أي: اسمك مثلُ اسمه، ولو كان المحذوف من أوّله لعادَ في التَّصريف إلى أوله، فكانَ يُقال: أَوَسَمْتُ، وَوَسَمْتُ، وَوَسِيْمُ، وأَوسام، وهذا التَّصريفُ قاطعُ على أنَّ المحذوفَ هو اللَاّمُ.
فإن قيل: هذا لِثبات اللُّغة بالقياس، وهي لا تَثُبتُ به.
والثَّاني أنّ عودةَ المحذوف إلى الأخير، لا يلزم منه أن يكون المَحذوف من الأخير، بل يَجوز أن يكونَ مقلوبًا، وقد جاءَ القلبُ عنهم كثيرًا كما قالوا: ((لَهي أبوك)) فأخَّروا العَين إلى موضع اللام، وقالوا: ((الجاه))
আমাদের নিকট বিলুপ্ত (المحذوف) অংশটি হলো তার ‘লাম’ (لام), আর তাদের মতে তা হলো ‘ফা’ (فاء)।
এ ক্ষেত্রে আমাদের তিনটি পন্থা রয়েছে:
তার মধ্যে নির্ভরযোগ্য (المعتمد) পন্থাটি হলো এই যে, বিলুপ্ত (المحذوف) অক্ষরটি রূপান্তরের (التصريف) সময় ‘লাম’ (لام)-এর স্থানে ফিরে আসে; সুতরাং বিলুপ্ত (المحذوف) অক্ষরটি হলো ‘লাম’ (لام), যেমনটি ‘আইনা’ শব্দ থেকে বিলুপ্ত হওয়া অক্ষরের ন্যায়। আর এটি ‘লাম’ (لام)-এর স্থানে ফিরে আসার প্রমাণ হলো এই যে, আপনি বলেন ‘সাম্মাইতু’ ও ‘আস-মাইতু’। এছাড়া ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে (التصغير) বলা হয় ‘সুমাইয়ুন’, বহুবচনে (الجمع) বলা হয় ‘আসমাউন’ ও ‘আসামিন’, এবং ‘ফাইল’ ছাঁচে বলা হয় ‘সামিয়্যুন’, যার অর্থ: তোমার নাম তার নামের মতো। যদি বিলুপ্ত (المحذوف) অক্ষরটি শব্দের শুরু থেকে হতো, তবে রূপান্তরের (التصريف) সময় তা শুরুতেই ফিরে আসতো; তখন বলা হতো: ‘আওয়াসামতু’, ‘ওয়াসামতু’, ‘ওয়াসিমুন’ ও ‘আওসাম’। এই রূপান্তর (التصريف) একথার ওপর অকাট্য (قاطع) প্রমাণ যে, বিলুপ্ত (المحذوف) অক্ষরটি হলো ‘লাম’ (لام)।
যদি বলা হয়: এটি কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে ভাষা সাব্যস্ত করার নামান্তর, অথচ ভাষা কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।
দ্বিতীয়ত, বিলুপ্ত (المحذوف) অক্ষরের শেষে ফিরে আসার দ্বারা এটি অনিবার্য হয় না যে বিলুপ্ত (المحذوف) অংশটি শেষ থেকেই ছিল; বরং তা ওলটপালটকৃত (مقلوب) হওয়াও সম্ভব। তাদের পক্ষ থেকে ওলটপালট (القلب) হওয়ার অনেক উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে, যেমন তারা বলেছে: ‘লাহি আবুকা’, যেখানে তারা ‘আইন’ (عين)-কে ‘লাম’ (لام)-এর স্থানে পিছিয়ে দিয়েছে এবং তারা বলেছে: ‘আল-জাহ’।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
وأصله الوجه، وقالوا: ((أَيْنُقُ)) وأصله أَنْوُقُ، وقالوا: ((قِسِيُّ)) وأصله قُووس، وقالُوا في ((الفُوق: فُقيً)) والأَصلُ فوقُ وإذا كَثُر ذلك في كلامِهم جازَ أن يُحمَلَ ما نحنُ فيه عليه.
فالجوابُ:
أمَّا الأوّلُ فغيرُ صَحيحٍ، فإنَّا لا نُثبت اللُّغة بالقياس، بل يُستَدَلُ بالظَّاهِرِ على الخَفِيّ خُصوصًا في الاشتقاق، فإنّ ثبوت الأَصلِ والزّائد والمَحذوف لا طريقَ له على التَّحقيق إلاّ الاشتقاق، ويَدُلُّ عليه لفظةُ ((ابن)) فإنَّهم لمّا قالوا بني وأَبناء وتبنّيت والبنوّة، علم أنَّ المحذوفَ لامُهُ، وأمّا دعوى القلب فلا سبيلَ إليه؛ لأن القَلبَ مخالفُ للأصل، فلا يُصار إليه ما وجدت عنه مَندُوحة، ولا ضَرورَة هُنا تدعو إلى دَعوى القَلب. ويدلُّ
এর মূল রূপ হলো আল-ওয়াজহ, তারা বলেছে: 'আইনুকুন' যার মূল হলো 'আনওয়ুকুন', তারা বলেছে: 'কিসিয়্যুন' যার মূল হলো 'কুউসুন', এবং তারা 'ফুক' এর ক্ষেত্রে বলেছে: 'ফুকিয়্যান' অথচ এর মূল হলো 'ফুকুন'; যখন তাদের কথাবার্তায় এর আধিক্য দেখা যায়, তখন আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তাকেও এর ওপর প্রয়োগ করা বৈধ।
উত্তর হলো:
প্রথমত, এটি সঠিক (صحيح) নয়। কেননা আমরা অনুমানের ভিত্তিতে ভাষা সাব্যস্ত করি না, বরং অস্পষ্ট বিষয়ের ওপর স্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা হয়, বিশেষ করে ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে। কেননা মূল বর্ণ, অতিরিক্ত বর্ণ এবং বিলুপ্ত বর্ণ সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত করার জন্য ব্যুৎপত্তি ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এর প্রমাণ হলো 'ইবন' শব্দটি; কারণ যখন তারা বুনাই, আবনা, তাবান্নাইতু এবং বুনুওয়্যাহ শব্দগুলো ব্যবহার করে, তখন জানা যায় যে এর বিলুপ্ত বর্ণটি হলো 'লাম' কালিমা। আর বর্ণ বিপর্যয়ের দাবি করার কোনো অবকাশ নেই; কারণ বর্ণ বিপর্যয় মূল নিয়মের পরিপন্থী। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন কোনো পথ পাওয়া যায় ততক্ষণ এর দিকে ধাবিত হওয়া যাবে না এবং এখানে বর্ণ বিপর্যয়ের দাবি করার কোনো আবশ্যকতাও নেই। এবং এটি নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
على ذلك أنَّ القلبَ لا يَطَّردُ هذا الاطّراد، ألا تَرى أنَّ جميع ما ذكر من المقلوب يجوزُ إخراجُه على الأصل.
المسلك الثاني: أنَّا أجمعنا على أنَّ المحذوفَ قد عُوّض منه في أوّله، فوجب أن يكونَ المحذوفُ من آخره كما ذكرنا في ((ابن)) وإنّما قُلنا ذلك لوجهين:
أحدهما: أنّا عرّفنا من طريقةِ العربِ أنَّهم إذا حذفوا من الأَوّلِ، عوَّضُوا أخيرًا مثل عِدة وزِنَة، وإذا حذفوا من آخره عوّضوا أوَّله مثل ابن، وهُنا قد عوَّضوا في أوله فكان المَحذوف من آخره.
والثاني: أنّ العوضَ مخالفُ للبَدَلِ، فبدل الشيءِ يكونُ في موضعه والعِوَضُ يكون في غيرِ المعوضِ منه، فلو كانت الهمزةُ عوضًا من الواو في أوّلِهِ لكانت بَدَلاً من الواو، ولا يجوز ذلك إذ لو كانت كذلك لكانت هَمزةً مقطوعةَ، ولمّا كانت ألفّ وصلٍ حكم بأنّها عوض، فإن قيل:
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, বর্ণবিপর্যয় (القلب) সবসময় এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে না; আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, বিপরীতক্রমে গঠিত (المقلوب) হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তার সবটুকুই মূল রূপের (الأصل) ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, বিলুপ্ত অক্ষরের পরিবর্তে শব্দের শুরুতে ক্ষতিপূরণ (العوض) প্রদান করা হয়েছে; সুতরাং বিলুপ্ত অক্ষরটি শব্দের শেষভাগ থেকেই হওয়া আবশ্যক, যেমনটি আমরা 'ইবন' শব্দের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। আমরা দুটি কারণে এটি বলেছি:
প্রথমটি হলো: আমরা আরবদের পদ্ধতি থেকে জেনেছি যে, তারা যখন শব্দের শুরু থেকে কোনো অক্ষর বিলোপ করে, তখন শেষে তার ক্ষতিপূরণ (العوض) দেয়, যেমন: 'ইদাহ' (عدة) এবং 'যিনাহ' (زنة)। আর যখন তারা শব্দের শেষ থেকে কোনো অক্ষর বিলোপ করে, তখন শুরুতে তার ক্ষতিপূরণ (العوض) দেয়, যেমন: 'ইবন'। এখানে যেহেতু শব্দের শুরুতে ক্ষতিপূরণ (العوض) দেওয়া হয়েছে, তাই বিলুপ্ত অক্ষরটি শেষভাগ থেকেই ছিল।
দ্বিতীয়টি হলো: ক্ষতিপূরণ (العوض) বিষয়টি স্থলাভিষিক্ত বা বদল (البدل) থেকে ভিন্ন। কোনো কিছুর বদল (البدل) তার নিজ স্থানেই হয়, আর ক্ষতিপূরণ (العوض) হয় মূল অক্ষরের স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে। সুতরাং হামজাটি যদি শুরুতে 'ওয়াও'-এর পরিবর্তে হতো, তবে তা 'ওয়াও'-এর বদল (البدل) হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু তা বৈধ নয়, কারণ তেমনটি হলে এটি বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزة القطع) হতো। যেহেতু এটি সংযোজক আলিফ (ألف وصل), তাই একে ক্ষতিপূরণ (العوض) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এখন যদি বলা হয়:
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
التَّعويضُ موضعُ لا يوثق بأن المعوَّض عنه في غيره لأنَّ القصد منه تَكميلُ الكلمةِ فأين كَمُلَتْ حَصَلَ غرضُ التَّعويض، أَلا ترى أنَّ همزة الوصل في ((اضرب)) وبابه عوضُ من حركةِ أوَّل الكَلِمَةِ وقد وَقَعَتْ في موضعِ الحَركة.
فالجوابُ:
إنّ التَّعويضَ على ما ذكرنا يغلبُ على الظَنُ أنّ موضعَه مخالفُ لموضعِ المعوَّضِ منه، لِمَا ذكرنا من الوَجهين قولُهم الغرضُ تكميلُ الكلمةِ، ليسَ كذلك، وإنّما الغرض العدول عن أصلٍ ما هو أخفُّ منه، والخفّةُ تحصلُ لمخالفة الموضعِ.
فأمّا تعويضُه في موضع محذوف فلا تحصل منه خفة، لأنّ الحرف قد يثقل بموضعه فإذا أزيل عنه حصل التخفيف.
المسلك الثالث: أنّ اشتقاق الاسم من السمو مطابق للمعنى فكان المحذوف الواو كسائر المواضع، وبيانه أنّ الاسم أحد أقسام الكلم وهو أعلى من صاحبيه، إذ كان يخبر به وعنه، وليس كذلك صاحباه فقد سما
বিনিময় (التعويض) এমন এক বিষয় যার ক্ষেত্র সম্পর্কে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, যার বিনিময় করা হয়েছে তা অন্য কোথাও বিদ্যমান; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো শব্দকে পূর্ণতা দান করা। সুতরাং যেখানেই শব্দটি পূর্ণতা পাবে, সেখানেই বিনিময়ের উদ্দেশ্য হাসিল হবে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, 'ইদরিব' (اضرب) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোতে হামজাতুল ওয়াসল (همزة الوصل) হলো শব্দের প্রথম বর্ণের হরকতের (حركة) বিনিময়, যা ঠিক হরকতের স্থানেই আপতিত হয়েছে?
উত্তর হলো:
বিনিময় (التعويض) সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তাতে প্রবল ধারণা (يغلب على الظن) হয় যে, এর স্থানটি বিনিময়কৃত মূল বর্ণের স্থান থেকে ভিন্ন হবে। আমরা যে দুটি কারণ বর্ণনা করেছি তার প্রেক্ষিতে তাদের এই দাবি—যে এর উদ্দেশ্য শব্দ পূর্ণ করা—তা সঠিক নয়। বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মূল (أصل) থেকে সরে এসে অপেক্ষাকৃত হালকা কোনো রূপ গ্রহণ করা, আর অবস্থানের ভিন্নতার মাধ্যমেই এই লাঘব বা সহজতা (خفة) অর্জিত হয়।
পক্ষান্তরে, বিলুপ্ত (محذوف) বর্ণের স্থলাভিষিক্ত করে বিনিময় প্রদান করলে তাতে কোনো সহজতা আসে না; কারণ কোনো বর্ণ তার নির্দিষ্ট অবস্থানের কারণেই শ্রুতিকটু বা ভারী হতে পারে, তাই যখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখনই কেবল লাঘব (تخفيف) ঘটে।
তৃতীয় পথ: 'ইসম' শব্দের বুৎপত্তি 'সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে হওয়া অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; সুতরাং অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় এখানেও বিলুপ্ত (محذوف) বর্ণটি ছিল 'ওয়াও'। এর ব্যাখ্যা হলো—'ইসম' হলো কালিমাহ বা পদের অন্যতম প্রকার এবং এটি তার অপর দুই সঙ্গী (ক্রিয়া ও অব্যয়) অপেক্ষা উচ্চতর। কেননা 'ইসম' সম্পর্কে যেমন সংবাদ দেওয়া যায়, তেমনি এর মাধ্যমেও সংবাদ প্রদান করা যায়, যা তার অপর দুই সঙ্গীর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়; ফলে এটি উচ্চতা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
عليهما، ولأنّ الاسم ينوّه بلمسمّى ويرفعه للأذهان بعد خفائه وهذا معنى السموّ. فإن قيل هذا معارض باشتقاقه من الوسم فإنّ المعنى فيه صحيح كما أنّ المعنى فيما ذكرتموه صحيح فبماذا يثبت الترجيح؟.
قيل: الترجيح معنا لوجهين:
أحدهما: أنّ تسمية هذا اللّفظ اسمًا اصطلاحُ من أرباب هذه الصناعة، وقد ثَبَتَ من صناعتهم علوّ هذا اللّفظ على الآخَرَين ومثل هذا لا يُوجد في اشتقاقه من الوسم.
والثاني: أنّه يترجّح بما ذكرناه من المسالك المتقدّمة.
أمّا حجتهم فقد قالوا: الاسم علامة على المسمّى، والعلامة تؤذن بأنّه من الوسم وهو العلامة، فيجب أن يكون مشتقّاَ منها.
والجواب عنه ما تقدّم من الأوجه الثلاثة على أنّ اتّفاق الأصلين في المعنى وهو العلامة، لا يوجب أن يكون أحدهما مُشتقّاً من الآخر، ألا ترى
তাদের উভয়ের ওপর; আর যেহেতু নাম নামধারী সত্তাকে মহিমান্বিত করে এবং প্রচ্ছন্ন থাকার পর তা মানুষের জ্ঞানপটে উচ্চকিত করে, আর এটিই হলো উচ্চতা বা শ্রেষ্ঠত্বের (السموّ) অর্থ। যদি বলা হয় যে, এটি 'চিহ্ন' (الوسم) হতে ব্যুৎপত্তি (اشتقاقه) ঘটার মতামতের পরিপন্থী; কারণ এতে যে অর্থ নিহিত রয়েছে তাও সঠিক, যেমনটি আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তার অর্থও সঠিক; তবে কিসের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার (الترجيح) সাব্যস্ত হবে?
বলা হয়েছে: আমাদের নিকট অগ্রাধিকার (الترجيح) পাওয়ার দুটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: এই শব্দটিকে 'নাম' হিসেবে অভিহিত করা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের একটি পরিভাষা (اصطلاح); আর তাঁদের শাস্ত্রীয় প্রয়োগে এই শব্দটির অন্য দুটির ওপর উচ্চ মর্যাদা সাব্যস্ত হয়েছে, যা 'চিহ্ন' (الوسم) হতে ব্যুৎপত্তি (اشتقاقه) হওয়ার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না।
দ্বিতীয়ত: আমরা পূর্বে যেসকল পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমে এটি অগ্রাধিকার (يترجّح) লাভ করে।
পক্ষান্তরে তাদের দলিল (حجتهم) সম্পর্কে তারা বলেন: নাম হলো নামধারী সত্তার একটি চিহ্ন, আর চিহ্ন নির্দেশ করে যে এটি 'চিহ্ন প্রদান' (الوسم) হতে গৃহীত যা একটি নিদর্শন। সুতরাং এটি সেখান থেকেই ব্যুৎপত্তি (مشتقا) হওয়া আবশ্যক।
এর উত্তর হলো পূর্বে বর্ণিত তিনটি দিক; তদুপরি মূল দ্বয়ের অর্থের ক্ষেত্রে যে মিল রয়েছে অর্থাৎ চিহ্ন হওয়া, তা একটি অপরটি থেকে ব্যুৎপত্তি (مشتقاً) হওয়াকে আবশ্যক করে না। আপনি কি দেখেন না...
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
أنّ ((دمث)) و ((دمثر)) سواء في معنى، وليس أحدُهما مشتقّاً من الآخر، وكذلك سَبَطَ وسَبْطَرَ وأبعد من ذلك الأَسد واللَّيثُ بمعنى واحد ولا يجمعهما الاشتقاق والله أعلم بالصواب.
দামিস (دمث) এবং দামসার (دمثر) অর্থগত দিক থেকে অভিন্ন এবং এদের কোনোটিই অপরটি হতে বুৎপন্ন (مشتق) নয়। অনুরূপভাবে সাবাতা (سبط) এবং সাবতারা (سبطر)-এর বিষয়টিও একই। এর চেয়েও স্পষ্ট উদাহরণ হলো আসাদ (أسد) এবং লাইস (ليث), যা একই অর্থ প্রকাশ করে অথচ বুৎপত্তি (الاشتقاق) তাদের উভয়কে একত্রিত করে না। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
5 - مسألة [حدّ الفعل]اختلفت عباراتُ النحويين في حدّ الفعل.
فقال ابن السّراج وغيره: حَدّه كلُّ لفظٍ دلّ على معنى في نفسه مقترن بزمانٍ محصّل. وهذا هو حدّ الاسم، إلاّ أنّهم أضافوا إليه لفظة ((غير)) ليدخلَ فيه المصدر، وإذا حذفتَ ((غير)) لم يدخل فيه المصدر؛ لأنّ الفعل يدلُّ على زمانٍ محصّلٍ، ولأنّ المصدر لا يدلّ على تعيين الزّمان. وإن شئت أضفت إلى ذلك دلالة الوضع، كما قيّدت حدّ الاسم بذلك،
৫ - মাসআলা [ক্রিয়ার (الفعل) সংজ্ঞা (حدّ)]ক্রিয়ার (الفعل) সংজ্ঞা (حدّ) নির্ধারণে ব্যাকরণবিদগণের পরিভাষায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
ইবনুল সাররাজ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এর সংজ্ঞা (حدّ) হলো এমন প্রতিটি শব্দ (لفظ) যা আপন সত্তায় কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং যা একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের (زمان محصل) সাথে সংশ্লিষ্ট। এটিই মূলত বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞা (حدّ), তবে তারা এর সাথে 'ব্যতীত' (غير) শব্দটি যুক্ত করেছেন যাতে এর মধ্যে ক্রিয়ামূল (المصدر) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর যখন আপনি 'ব্যতীত' (غير) শব্দটি বাদ দেবেন, তখন তাতে ক্রিয়ামূল (المصدر) প্রবেশ করবে না; কারণ ক্রিয়া (الفعل) সুনির্দিষ্ট সময়ের (زمان محصل) ওপর প্রমাণ পেশ করে, অন্যদিকে ক্রিয়ামূল (المصدر) সময় নির্ধারণের ওপর প্রমাণ পেশ করে না। আপনি চাইলে এর সাথে 'আভিধানিক নির্দেশনা' (دلالة الوضع) বিষয়টিও যুক্ত করতে পারেন, যেমনটি আপনি বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞাকে (حدّ) এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়ীন আন মাযাহিবিন নাহউয়িয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وإنّما زادوا هذه الزيادة لئلاّ ينتقض ب ((ليس)) و ((كان)) الناقصة. وقال أبو على: الفعل ما أسند إلى غيره ولم يسند غيره إليه. وهذا يقرب من قولهم في حدّ الاسم: ما جاز الإخبار عنه؛ لأنّ الإسنادَ والإخبارَ متقاربان في هذا المعنى، وهذا الحدُّ رسميُّ؛ إذْ هو علامةُ، وليس بحقيقي؛ لأنّه غيرُ كاشفٍ عن مدلول الفعل لفظًا، وإنّما هو تمييز له بحكمٍ من أحكامه، والذي قال سيبويه في الباب الأول: وأمّا الفعل فأمثلهُ أُخذت من لفظِ أحداثِ الأسماء، وبُنيت لما مضى ولما سيكونُ وما هو كائنُ لم يَنقطع.
وقد أتى في هذا بالغاية؛ لأنّه جَمع فيه قوله: ((أمثلة))، والأمثلة بالأفعال أحقُّ منها بالأسماء والحروف، وبيّن أنّها مشتقّة من المصادِر، وقوله: ((من لَفظ أحداث الأسماء)) ربّما أُخذ عليه أنّه أضافَ الأحداثَ إلى الأسماءِ، والأحداثُ للمُسمّيات لا للأسماءِ، وهذا الأخذُ غيرُ واردٍ عليه لوجهين:
أحدُهما: أنّ المراد بأحداث الأسماء ما كان منها عبارةُ عن
তারা এই সংযোজনটি করেছেন যাতে 'ليس' এবং অপূর্ণ (الناقصة) ক্রিয়া 'كان' এর মাধ্যমে সংজ্ঞাটি ভেঙে না যায়। আবু আলী বলেন: ক্রিয়া (الفعل) হলো যা অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত (أسند) হয় এবং অন্য কোনো কিছুকে এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না। এটি বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞায় তাদের সেই উক্তির নিকটবর্তী যে: "যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الإخبار عنه) বৈধ"; কারণ সম্বন্ধ (الإسناد) এবং সংবাদ প্রদান (الإخبار) এই অর্থে পরস্পর নিকটবর্তী। আর এই সংজ্ঞাটি হলো রসমী বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যমূলক (رسمي); যেহেতু এটি একটি চিহ্ন মাত্র, এবং এটি প্রকৃত (حقيقي) সংজ্ঞা নয়; কারণ এটি শাব্দিকভাবে ক্রিয়ার মূল অর্থকে উন্মোচন করে না, বরং এটি ক্রিয়ার বিধানসমূহের মধ্য থেকে একটি বিধানের মাধ্যমে তাকে পৃথক করা মাত্র। আর সিবাওয়াইহ প্রথম অধ্যায়ে যা বলেছেন তা হলো: "আর ক্রিয়া (الفعل) হলো এমন যার রূপান্তরসমূহ (أمثلة) বিশেষ্যের (الأسماء) কার্যাবলীর শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে এবং তা অতীত (ما مضى), অনাগত ভবিষ্যৎ (لما سيكون) এবং যা বর্তমানে বিদ্যমান অথচ বিচ্ছিন্ন হয়নি—এর জন্য গঠন করা হয়েছে।"
তিনি এতে চূড়ান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন; কারণ তিনি এতে তাঁর কথা 'রূপান্তরসমূহ' (أمثلة) কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর রূপান্তর বা দৃষ্টান্তসমূহ বিশেষ্য ও অব্যয়ের (الحروف) তুলনায় ক্রিয়ার (الأفعال) ক্ষেত্রেই অধিক প্রযোজ্য। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সেগুলো ক্রিয়া-মূল (المصادر) থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتقّة)। আর তাঁর কথা "বিশেষ্যের কার্যাবলীর শব্দ থেকে"—এর ওপর সম্ভবত এই আপত্তি তোলা যেতে পারে যে, তিনি কার্যাবলীকে (الأحداث) বিশেষ্যের (الأسماء) দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথচ কার্যাবলী তো নামধারী সত্তার (المسميات) বৈশিষ্ট্য, নামের (الأسماء) নয়। আর এই আপত্তিটি দুটি কারণে তাঁর ওপর প্রযোজ্য নয়:
তার মধ্যে একটি হলো: বিশেষ্যের কার্যাবলী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা কোনো কিছুর বর্ণনা (عبارة) হিসেবে প্রকাশ পায়...