(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
تقويم الأدلة في أصول الفقه   (أبو زيد الدبوسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: تقويم الأدلة في أصول الفقه

المؤلف: أبو زيد عبيد الله بن عمر بن عيسى الدبوسي الحنفي (ت 430 هـ)

المحقق: خليل محيي الدين الميس، مفتي زحلة والبقاع ومدير أزهر لبنان

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

عدد الصفحات: 468

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 رمضان 1435

তাকউইমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ   (আবু যায়েদ আদ-দাবূসী)

শাখা: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: তাকউইমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ

লেখক: আবু যায়েদ উবায়দুল্লাহ বিন উমর বিন ঈসা আদ-দাবূসী আল-হানাফী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)

সম্পাদক: খলীল মুহিউদ্দীন আল-মাইস, যাহলা ও আল-বিক্বাউ-এর মুফতী এবং আজহার লেবাননের পরিচালক

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, পৃষ্ঠপোষকতায় (মারকাযু নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

والله المستعان

الحمد لله رب العالمين، والصلاة على رسول الله محمد وآله أجمعين وبعد:

فإن الأصل عقم عن الإنجاب إلا ما شاء الله تعالى، وحكم النسل بالإعجاب، وحكموا بالظن، وخصموا بالطعن، ولم يبق لمن أصاب بتوفيق ربه شيئًا من الإفاقة عن عجبه متعلق غير الكتاب المتلو بلا شك، والخبر المروي بلا إفك، ولا مقتدى غير السلف الذين أخفاهم التراب، ولا مهتدى غير العقول والألباب، ما له من أقرانه إلا ريبة على التلاق، وعيبة لدى الفراق، وما العبد بموفق لسلوك هذا الصراط إلا بعد علمه بالطبقات، ليقرب من الهادية بقدوةٍ، ويبعد من النابية بنبوة، فلن يصل العبد إلى الهدى سابقًا، وقد عرف نفسه فيه لاحقًا.

فنقول وبالله التوفيق: إن الله تعالى جمع في الإنسان بين روح وعقل، وهوى ونفس، تحقيقًا للبلوى، على ما مر شرحه في كتاب "الأمد الأقصى" فالنفس بهواها تدعوه إلى الحاضرة جهلًا، والروح بعقلها تدعوه إلى العاقبة علمًا، فتفرق الناس عن ذلك طبقات أربعًا:

ضال بالهوى غافل عن نفسه، عامه في طغيانه بجهله.

وضال بنفسه ظان أن الأمر كذلك إلى جنسه.

ومهتد إلى ربه بدلائل عقله متأيد بنصوص شرعه.

ومهتد بالروح القدس في أنوار العقل والشرع.

وهؤلاء الطبقة من بينهم إمامهم. فنور الروح أصلي، ونور العقل فرعي على ما بينا في كتاب "الأمد الأقصى" وكتاب "خزانة الهدى".

ثم تفرق هؤلاء الطبقة أحزابًا أربعةً:

- عارف لربه على جهل بتأويل الكتاب والسنة والفقه والحكمة، وأنه لعلى شفا العبث والبدعة.

- وعارف لربه عالم بتأويل الكتاب والسنة بلا فقه واستمداد من الألباب، وأنه لعلى شفاه الضلال والارتياب، فالحوادث ممدودة والنصوص معدودة، فلا يأمن الابتلاء بما لم ينل فيرتاب أو يضل.

- وعارف لربه متفقه برأي قلبه غائب عن طرق الفقه في نصوص شرعه، وأنه لعلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত (দরুদ) বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিজনদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মূল প্রকৃতি সন্তান উৎপাদনে বন্ধ্যা, তবে আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত; আর বংশধারার বিধান বিস্ময়ের ওপর এবং তারা ধারণার বশবর্তী হয়ে বিচার করেছে ও নিন্দার মাধ্যমে বিবাদ করেছে। যে ব্যক্তি তার রবের তৌফিকে সঠিক দিশা পেয়েছে, তার জন্য সন্দেহাতীতভাবে পঠিত কিতাব এবং মিথ্যাচারহীন বর্ণিত হাদীস ব্যতিরেকে বিভ্রান্তি থেকে ফিরে আসার মতো আর কোনো অবলম্বন অবশিষ্ট নেই। আর মাটি যাদেরকে আড়াল করেছে সেই সালাফ (পূর্বসূরিগণ) ব্যতীত কোনো অনুকরণীয় নেই এবং আকল ও বুদ্ধি ব্যতীত কোনো দিশারি নেই। সমসাময়িকদের সাথে সাক্ষাতের সময় কেবল সন্দেহ আর বিচ্ছেদের সময় কেবল দোষারোপই বিদ্যমান। একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত এই পথে চলার তৌফিক পায় না, যতক্ষণ না সে বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে অবগত হয়, যাতে সে অনুকরণের মাধ্যমে পথপ্রদর্শকের নিকটবর্তী হতে পারে এবং বিচ্যুতির কারণে অশুভ থেকে দূরে থাকতে পারে। বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত হেদায়াতে অগ্রগামী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজেকে তাতে অনুগামী হিসেবে চিনতে পারবে।

আমরা বলছি এবং আল্লাহর কাছেই তৌফিক কামনা করছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে রূহ ও আকল (বিবেক), এবং প্রবৃত্তি ও নফসকে (আত্মা) একত্রিত করেছেন পরীক্ষার সত্যতা প্রমাণের জন্য, যেমনটি ‘আল-আমাদ আল-আকসা’ কিতাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুতরাং নফস তার প্রবৃত্তির দ্বারা অজ্ঞতাবশত তাকে পার্থিব উপস্থিত বিষয়ের দিকে আহ্বান করে, আর রূহ তার আকলের দ্বারা জ্ঞানবশত তাকে পরিণামের দিকে আহ্বান করে। এর ভিত্তিতে মানুষ চারটি স্তরে বিভক্ত হয়েছে:

প্রবৃত্তির কারণে পথভ্রষ্ট যে নিজের সম্পর্কে গাফেল, তার অজ্ঞতার কারণে অবাধ্যতায় অন্ধ।

এবং নফসের কারণে পথভ্রষ্ট যে মনে করে বিষয়টি তার সমজাতীয়দের ক্ষেত্রেও এমনই।

এবং আকলের দলীলসমূহের মাধ্যমে নিজ রবের দিকে পথপ্রাপ্ত এবং শরীয়তের নস (দলীল) দ্বারা সমর্থিত।

এবং পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আকল ও শরীয়তের নূরসমূহে পথপ্রাপ্ত।

এই স্তরের লোকেরাই তাদের মধ্যে ইমাম (নেতা)। সুতরাং রূহের নূর হলো মূল, আর আকলের নূর হলো গৌণ, যা আমরা ‘আল-আমাদ আল-আকসা’ এবং ‘খাযানাতুল হুদা’ কিতাবে বর্ণনা করেছি।

এরপর এই স্তরের লোকেরা চারটি দলে বিভক্ত হয়েছে:

- নিজ রব সম্পর্কে মারেফাত (জ্ঞান) রাখে কিন্তু কিতাব, সুন্নাহ, ফিকহ ও হিকমতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে অজ্ঞ, সে অবশ্যই অসারতা ও বিদআতের কিনারায় রয়েছে।

- নিজ রব সম্পর্কে মারেফাত রাখে এবং কিতাব ও সুন্নাহর ব্যাখ্যা জানে কিন্তু ফিকহ এবং প্রজ্ঞা হতে সাহায্য গ্রহণ ব্যতিরেকে; সে অবশ্যই পথভ্রষ্টতা ও সন্দেহের কিনারায় রয়েছে। কারণ ঘটনাবলী অগণিত অথচ নসসমূহ (দলীল) সীমিত, তাই সে যা অর্জন করেনি তার দ্বারা উদ্ভূত পরীক্ষায় নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারে না, ফলে সে সন্দিহান হতে পারে অথবা পথভ্রষ্ট হতে পারে।

- নিজ রব সম্পর্কে মারেফাত রাখে এবং নিজ অন্তরের মতামতের মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করেছে কিন্তু শরীয়তের নসসমূহের ফিকহী পদ্ধতিগুলো থেকে সে বিচ্যুত, আর সে নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১০)
شفا الهلاك بهواه وعجبه، فما بالعقل وحده هداية إلى حدود الهدى، وما بعد العقل ولا شرع معه إلا الهوى.

- وعارف لربه عالم بنصوص شرعه تفسيرًا وتأويلًا وطرق الفقه في أصل الشرع تعليلًا، وهذا الرجل من بينهم إمامهم لكنه على شفا الفسق، فالعلم صالح لكسب الدنيا والآخرة وطلب المولى والورى، ما ينجو عن المحظور بالمأمور إلا بالنظر في المستور من أقسام أعماله وأحواله.

وأنها أقسام أربعة:

- قسم لهو عن العمل بالعلم.

- وقسم شغل بالعمل عن العلم.

واللاهي قسمان:

- قسم اتخذ العلم مكسبه للدنيا.

- وقسم اكتفى بالعلم حظًا يبتغي.

وهما على ضلال، فما العلم إلا للعمل به، وما العمل إلا ترك العاجلة بالآخرة على مخالفة الهوى في إشارته إلى كسب الحاضرة.

والعامل قسمان:

- عامل على قرار وعزلة.

- وعامل على قرار ودعوة، وأنه من بينهم إمامهم، وإليه نهاية الطبقات.

فأقصى مراتب العبد في الدعوة إلى الله تعالى فإنها رتبة الأنبياء عليهم السلام، وتركوها ميراثًا للعلماء، ولأن الداعي إلى الحق هو الله تعالى بآياته، والعبد عامل له فيها بأمره.

وأما العبادة فحق الله تعالى على عبده، والعبد مؤدٍ عن نفسه ما عليها، فلن يصير العبد بالعمل عاملًا لله حتى يدعو، قال الله تعالى: {وجعلناهم أئمة يهدون بأمرنا}، وقوله: {ومن أحسن قولًا ممن دعا إلى الله وعمل صالحًا}، وقال الله تعالى في شأن الرسول عليه السلام: {إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا}، {وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا}.

فأبان الله تعالى شرف الرسول بالدعوة والهداية دون العزلة والعبادة، وقال الله تعالى في شأن الأمة: {وعد الله الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات ليستخلفنهم في الأرض} يعني يثبت لهم ولاية الأرض وأهلها وذلك بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ومبدأه من الهدى ثم العمل به.

وقال الله تعالى: {وهو الذي جعلكم خلائف الأرض}. فالخلافة
প্রবৃত্তির অনুসরণ ও আত্মঅহংকারের কারণে সে ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে; কেবল বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে হিদায়াতের সীমানায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তির পরে যদি তার সাথে শরিয়ত না থাকে, তবে তা প্রবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

- আবার এমন এক ব্যক্তি যে তার রব্ব সম্পর্কে মারেফাত রাখে এবং তাঁর শরিয়তের নস (পাঠসমূহ) সম্পর্কে তাফসির, তাবিল এবং শরিয়তের মূলনীতিতে ফিকহী কারণ দর্শানোর (তালিল) পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অবগত। তাদের মাঝে এই ব্যক্তিই হলো তাদের ইমাম, তবে সে পাপাচারের কিনারে অবস্থান করছে। কেননা জ্ঞান দুনিয়া ও আখিরাত অর্জন এবং মওলা ও মাখলুক অন্বেষণের উপযুক্ত মাধ্যম। নিষিদ্ধ বিষয় থেকে কেবল আদিষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া যায় না, যতক্ষণ না নিজের আমল ও অবস্থার গোপন ভাগগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করা হয়।

আর তা চার ভাগে বিভক্ত:

- এক প্রকার হলো ইলম অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখ থাকা।

- দ্বিতীয় প্রকার হলো ইলম ছেড়ে কেবল আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকা।

আর বিমুখরা আবার দুই প্রকার:

- এক দল ইলমকে দুনিয়া উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে।

- অন্য দল ইলমকেই কাঙ্ক্ষিত অংশ হিসেবে মনে করে তাতে সন্তুষ্ট থেকেছে।

তারা উভয়ই ভ্রান্তির ওপর রয়েছে; কারণ ইলম তো কেবল আমলের জন্যই, আর আমল হলো প্রবৃত্তির বিরোধিতার মাধ্যমে দুনিয়া ত্যাগ করে আখিরাতকে গ্রহণ করা, যেখানে প্রবৃত্তি বর্তমান অর্জনের দিকে ইঙ্গিত করে।

আমলকারীগণও দুই প্রকার:

- এক দল হলো স্থিরতা ও নির্জনতায় আমলকারী।

- অন্য দল হলো স্থিরতা ও দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত আমলকারী। তাদের মধ্যে এই দাওয়াত দানকারীই হলো তাদের ইমাম এবং তার স্তরেই মর্যাদার পরিসমাপ্তি ঘটে।

আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হলো একজন বান্দার সর্বোচ্চ স্তর, কেননা এটি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের মর্যাদা। তাঁরা এটি উলামায়ে কিরামের জন্য মিরাস (উত্তরাধিকার) হিসেবে রেখে গেছেন। কেননা হকের দিকে আহ্বানকারী তো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর নিদর্শনাবলির মাধ্যমে, আর বান্দা তাঁর নির্দেশে সে কাজে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে আমলকারী।

আর ইবাদত হলো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার হক, আর বান্দা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকারী মাত্র। যতক্ষণ না বান্দা দাওয়াতের কাজ করবে, ততক্ষণ সে কেবল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ আমলকারী হতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাদেরকে ইমাম বানিয়েছি, যারা আমার আদেশে মানুষকে পথপ্রদর্শন করে।" এবং তাঁর বাণী: "সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয় এবং সৎকর্ম করে।" আল্লাহ তাআলা রাসুল আলাইহিস সালামের শানে বলেছেন: "আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।" "এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।"

সুতরাং আল্লাহ তাআলা নির্জনতা ও ইবাদতের চেয়ে দাওয়াত ও হিদায়াতের মাধ্যমেই রাসুলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা উম্মতের শানে বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত দান করবেন।" অর্থাৎ তিনি তাদের জন্য জমিন ও জমিনবাসীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করবেন; আর তা হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে। এর সূচনা হয় হিদায়াত থেকে এবং এরপর তা অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তিনিই তোমাদেরকে জমিনের খলিফা (প্রতিনিধি) বানিয়েছেন।" সুতরাং খেলাফত...
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بالولاية من أقصى المراتب، وأنها تقوى بالنبوة وتزداد قوة بالرسالة، وتضعف بالاستنباط والدلالة، وتزداد ضعفًا بالقنوع بظواهر المسموع.

واليوم قد انقطعت النبوة فكان ما ذكرنا نهاية في القوة، ولأن نفع العبادة خاص ونفع الدعوة عام.

قال العبد رضي الله عنه: إني لما رأيت كل هذا الشرف للعلم ونوره كامن في قلوب البشر، كمون النار في الشجر، ما يقدحها إلا أيدي الهمم العالية، بفكر في الحجج الهادية، وأكثر الناس قبسوه بحواسهم ففقدوه في اقتباسهم، رأيت اتباع السلف في إثارة هذا النور ببيان الحجج فرضًا، ثم إنارته بوقود المداد في صحائف الكتب حقًا، رجاء أن أكون من الأشباه، واستعنت بالله تعالى ولا حول ولا قوة إلا بالله على قصد مني تقويم كتاب "الهداية" الذي ذل خاطري [في بعضه] بحكم البداية، فرارًا عن التمادي في الباطل، وتخريجًا على الأصول الأربعة التي بها يتعلق الابتلاء في الحاصل، وبيانًا للحدود التي بها يمتاز البعض عن البعض على وجه خرس دونه ألسنة الأكثر من أولي هذه الصناعة، والله ولي التوفيق لتتميم هذه البضاعة.
বিলায়াত (আল্লাহর নৈকট্য) উচ্চতম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি নবুওয়াতের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় ও রিসালাতের মাধ্যমে এর শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি ইস্তিনবাত (তত্ত্ব উদ্ঘাটন) ও দালালাত (নির্দেশনা)-এর মাধ্যমে দুর্বল হয় এবং শ্রুত বিষয়ের বাহ্যিক অর্থের ওপর তুষ্ট থাকার মাধ্যমে অধিকতর দুর্বলতা লাভ করে।

বর্তমানে নবুওয়াতের ধারা ছিন্ন হয়েছে, ফলে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই শক্তির শেষ সীমা। তদুপরি, ইবাদতের উপকারিতা ব্যক্তিগত কিন্তু দাওয়াতের উপকারিতা সার্বজনীন।

বান্দা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমি যখন ইলমের এই সুউচ্চ মর্যাদা এবং এর নূর মানুষের হৃদয়ে সুপ্ত থাকতে দেখলাম—ঠিক যেমন গাছের অভ্যন্তরে আগুন সুপ্ত থাকে, যাকে কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের হাত হিদায়াতকারী দলিলের ওপর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে প্রজ্বলিত করে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা তাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে গ্রহণ করতে গিয়ে জ্ঞান আহরণের সময় তা হারিয়ে ফেলেছে—তখন আমি দলিলের বর্ণনার মাধ্যমে এই নূরকে প্রজ্জ্বলিত করার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসরণ করাকে ফরজ এবং কিতাবের পাতায় কালির জ্বালানির মাধ্যমে একে আলোকিত করাকে একটি সত্য দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছি। আশা করি আমি তাঁদের সদৃশ হতে পারব। আমি আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করছি—আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই—যাতে আমি 'আল-হিদায়া' কিতাবটিকে সংশোধন করতে পারি, যার [কিছু অংশে] সূচনালগ্নে আমার মন বিভ্রান্ত হয়েছিল। এটি করছি বাতিলের পথে অটল থাকা থেকে পলায়ন করতে, একে এমন চারটি মূলনীতির ওপর বিন্যস্ত করতে যার সাথে প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষার সম্পর্ক রয়েছে, এবং এমন সীমানা বর্ণনা করতে যার মাধ্যমে একটি বিষয় অন্যটি থেকে এমনভাবে পৃথক হয়ে যায় যে এই শাস্ত্রের পারদর্শী অধিকাংশ পণ্ডিতের জিহ্বাও সেখানে নির্বাক হয়ে পড়ে। এই জ্ঞান-সম্পদ সমাপ্ত করার তাওফিক দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وصف النسخ المخطوطة للكتاب

اعتمدنا في إخراج الكتاب على ثلاثة نسخ مخطوطة للكتاب، اثنتان كاملتان وواحدة فيها نقص، عملنا على مقارنتها ببعضها وإخراج النص الحالي بهذا الشكل. والنسخ هي:

أولًا: مصورة نسخة خطية من المكتبة السليمانية باستنبول، تحت رقم (690)، تم نسخها في الليلة التاسعة من شعبان سنة سبع عشرة وسبعمائة هجرية (717هـ).

تقع في 260 لوحة، في الصفحة الواحدة 22 سطرًا.

وقد كتبت بخط النسخ الواضح، وعليها كثير من التعليقات والهوامش والتصحيحات المهمة.

ناسخها: هو ابن العميد قوام الدين أمير كاتب الاتقاني. وجاء عنوان الكتاب في بدايتها: "كتاب التقويم في أصول الفقه".

ثانيًا: مصورة نسخة خطية من الكتبخانة المصرية (دار الكتب المصرية) بالقاهرة تحت رقم (255). وهي موجودة في مكتب الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة تحت رقم (1822)، تم نسخها في السابع والعشرين من صفر الخير سنة ألف وثلاثمائة وعشرين هجرية (1320هـ).

تقع في 956 لوحة، في الصفحة الواحدة 15 سطرًا.

وقد كتبت بخط واضح مقروء.

ناسخها: اسمه محمد أمين الدنف الأنصاري، وجاء عنوان الكتاب في أولها: "تقويم أصول الفقه وتحديد أدلة الشرع".

ثالثًا: مصورة نسخة موجودة بمكتبة سماحة الشيخ خليل الميس من مجموعة مصورات المخطوطات التي يملكها، فيها بعض النقص والطمس في صفحاتها وأسطرها. تم نسخها سنة أربع وسبعين وتسعمائة (974هـ).

تقع في 432 لوحة، في كل صفحة 21 سطرًا. خطها واضح مقروء.

ناسخها: هو سيد محمد بن سيد عبد القادر، وجاء عنوان الكتاب في بدايتها: "تقويم الأدلة لأبي زيد الدبوسي في علم أصول الفقه".

وبالجملة فقد حفظ لنا التاريخ هذا الأثر العلمي النفيس كاملًا غير منقوص، وفي حالة جيدة.
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ

গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার মধ্যে দুটি পূর্ণাঙ্গ এবং একটি অসম্পূর্ণ। আমরা এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করেছি এবং বর্তমান পাঠ্যটি এই রূপে প্রস্তুত করেছি। পাণ্ডুলিপিগুলো হলো:

প্রথমত: ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির একটি পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি, যার নম্বর (৬৯০)। এটি ৭১৭ হিজরি সালের ৯ই শাবান রাতে অনুলিপি করা হয়েছে।

এটি ২৬০ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২২টি লাইন রয়েছে।

এটি স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টীকা, পার্শ্বটীকা ও সংশোধন রয়েছে।

এর অনুলিপিকারক হলেন: ইবনুল আমিদ কাওয়ামুদ্দীন আমির কাতিব আল-ইতকানি। এর শুরুতে গ্রন্থের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে: "কিতাবুত তাকউয়িম ফি উসুলিল ফিকহ"।

দ্বিতীয়ত: কায়রোর আল-কুতুবখানাহ আল-মিসরীয়্যাহ (দারুল কুতুব আল-মিসরীয়্যাহ)-র একটি পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি, যার নম্বর (২৫৫)। এটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ১৮২২ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ১৩২০ হিজরি সালের ২৭শে সফরুল খায়র তারিখে অনুলিপি করা হয়েছে।

এটি ৯৫৬ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫টি লাইন রয়েছে।

এটি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য লিপিতে লিখিত।

এর অনুলিপিকারকের নাম: মুহাম্মদ আমিন আদ-দানাফ আল-আনসারি। এর শুরুতে গ্রন্থের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে: "তাকউয়িমু উসুলিল ফিকহ ওয়া তাহদিদু আদিল্লাতিশ শার’"।

তৃতীয়ত: শাইখ খলিল আল-মাইস-এর ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের একটি ছায়ালিপি। এর পৃষ্ঠা ও লাইনগুলোর কিছু জায়গায় অপূর্ণতা ও অস্পষ্টতা রয়েছে। এটি ৯৭৪ হিজরি সালে অনুলিপি করা হয়েছে।

এটি ৪৩২ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি লাইন রয়েছে। এর লিপি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য।

এর অনুলিপিকারক হলেন: সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন সাইয়্যেদ আব্দুল কাদির। এর শুরুতে গ্রন্থের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে: "তাকউয়িমুল আদিল্লাহ লি-আবি যাইদ আদ-দাব্বুসি ফি ইলমি উসুলিল ফিকহ"।

মোটের ওপর, ইতিহাস আমাদের জন্য এই মূল্যবান জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনটি কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ ও ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করেছে।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌القول في أسماء أنواع الحجج

التي بها ابتلينا بعلم ما شرع الله تعالى من أحكامه ولزمنا العمل بها، وبها يمتاز البعض عن البعض بعرف لسان الفقهاء، وهذه الأسماء أربعة: الآية، والدليل، والعلة، والحال.

فأما الحجة: فاسم يعم الكل، وكذلك البينة والبرهان.

وتفسير الحجة: أنها اسم من حج إذا غلب، يقال: لج فحج أي غلب، وحاججته فحججته أي: غلبته ألزمته بالحجة حتى صار مغلوبًا.

فسميت الحجة حجة لأن حق الله تعالى يلزمنا بها، ويجعلنا مغلوبين في المناظرة مع الله تعالى بانقطاع العذر بها.

ويحتمل أن يقال بأن الاسم مأخوذ من معنى وجوب الرجوع إليه عملًا به من قول الشاعر:

يحجون سب الزبرقان المزعفرا

أي يرجعون إليه معظمين إياه، ومنه: "حج البيت".

ألا يرى أن الله تعالى سمى البيت مثابة للناس كما يسمى من الحج محجة، والمثابة المرجع، وسواء أوجبت علم اليقين أو دونه لأن العمل يلزمنا بنوعي العلم على ما يأتيك بيانه من بعد في باب خبر الواحد والقياس.

وكذلك البينة: وهي من البيان قال الله تعالى: {فيه آيات بينات} أي ظاهرات، وهذا لأن الحجة إنما يجب العمل بها إذا ظهر للقلب وجه الإلزام منها، وسواء ظهر ظهورًا أوجب علم اليقين وما دونه لأن العمل يجب بها على ما قلناه.

وكذلك البرهان: اسم للحجة على العموم لغة، وأنواعه أربعة على ما قلنا.

أما الآية: فاسم على الإطلاق لما يوجب علم اليقين، ولذلك سميت معجزات الرسل آيات، قال الله تعالى: {ولقد آتينا موسى تسع آيات بينات}، وقال تعالى: {فاذهبا بآياتنا} وهي المعجزات لأن المعجزة توجب علم اليقين بنبوة الرسل. وتفسيرها لغة: العلامة، قال الشاعر:
হুজ্জত বা দলিলের প্রকারভেদের নামসমূহের আলোচনা

যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বিধিবিধান থেকে যা শরীয়তভুক্ত করেছেন তার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার ওপর আমল করা আমাদের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে। ফকীহগণের পরিভাষায় এর মাধ্যমেই এক অংশ অপর অংশ থেকে পৃথক হয়। আর এই নামগুলো চারটি: আয়াত (নিদর্শন), দলিল (প্রমাণ), ইল্লাত (কারণ) এবং হাল (অবস্থা)।

আর হুজ্জত: এটি এমন একটি নাম যা সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে বাইয়্যিনাহ এবং বুরহানও ব্যাপক অর্থবোধক নাম।

হুজ্জতের ব্যাখ্যা: এটি 'হাজ্জা' শব্দ থেকে উদ্গত, যার অর্থ হলো বিজয়ী হওয়া। বলা হয়: সে বিতর্ক করল এবং বিজয়ী হলো, অর্থাৎ সে প্রবল হলো। আর 'আমি তার সাথে বিতর্ক করলাম এবং তাকে পরাস্ত করলাম' অর্থ: আমি তাকে দলিলের মাধ্যমে নিরুত্তর করলাম এবং তার ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত করলাম যাতে সে পরাজিত হয়।

তাই হুজ্জতকে হুজ্জত বলা হয় কারণ এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর হক আমাদের ওপর আবশ্যক হয় এবং এর দ্বারা ওজর বা অজুহাত ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে বিতর্কে আমাদের পরাজিত বা নিরুত্তর করে দেয়।

আর এটাও সম্ভাব্য যে, এই নামটি এর দিকে আমল করার উদ্দেশ্যে প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা থেকে নেওয়া হয়েছে, যেমনটি কবির উক্তিতে রয়েছে:

তারা জিবরিকানের জাফরান রঞ্জিত বস্ত্রের দিকে বারবার ফিরে আসে।

অর্থাৎ তারা তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তার কাছে বারবার ফিরে আসে। আর এ থেকেই 'হাজ্জুল বাইত' বা কাবাগৃহের হজের নামকরণ হয়েছে।

আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, মহান আল্লাহ কাবাগৃহকে মানুষের জন্য 'মাছাবাহ' (প্রত্যাবর্তনস্থল) হিসেবে নামকরণ করেছেন যেমনটি হজের পথকে 'মাহাজ্জাহ' বলা হয়। আর 'মাছাবাহ' অর্থ হলো প্রত্যাবর্তনস্থল। চাই তা নিশ্চিত জ্ঞান (ইলমে ইয়াকিন) প্রদান করুক বা তার চেয়ে নিম্নস্তরের জ্ঞান, কারণ উভয় প্রকার জ্ঞানের মাধ্যমেই আমাদের ওপর আমল করা আবশ্যক হয়, যেমনটি পরবর্তীকালে একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ) এবং কিয়াস অধ্যায়ে আপনার কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে।

অনুরূপভাবে বাইয়্যিনাহ: এটি 'বায়ান' (স্পষ্টতা) থেকে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে।" অর্থাৎ যা অত্যন্ত প্রকাশ্য। এর কারণ হলো দলিলের ওপর আমল করা তখনই ওয়াজিব হয় যখন অন্তরে তার বাধ্যবাধকতার দিকটি স্পষ্ট হয়। চাই তা নিশ্চিত জ্ঞান লাভের মতো প্রকাশ্য হোক বা তার চেয়ে কম, কারণ যেমনটি আমরা বলেছি, এর মাধ্যমে আমল করা ওয়াজিব হয়।

অনুরূপভাবে বুরহান: এটি ভাষাগতভাবে সাধারণভাবে হুজ্জত বা দলিলের একটি নাম। আর আমরা যা বলেছি সে অনুযায়ী এর প্রকারভেদ চারটি।

আয়াত প্রসঙ্গে: এটি সাধারণভাবে সেই জিনিসের নাম যা নিশ্চিত জ্ঞান (ইলমে ইয়াকিন) প্রদান করে। এই কারণেই রাসুলগণের মুজিজাসমূহকে আয়াত বা নিদর্শন বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি অবশ্যই মুসাকে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন দান করেছি।" এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও।" আর এগুলো হলো মুজিজা। কারণ মুজিজা রাসুলগণের নবুওয়াতের ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। এর ভাষাগত ব্যাখ্যা হলো: চিহ্ন বা নিদর্শন। কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
درست وغيرت أيها العصر

وقال الله تعالى: {فيه آيات بينات مقام إبراهيم} أي: علامات.

فإن قيل: ومن الناس من لم يعلم بالنبوة بعد ظهور الآيات فكيف يكون تفسيرها ما يوجب العلم؟

قلنا: إن هذه الحجج التي نتكلم فيها مما لا توجب العلم جبرًا بل بالتأمل فيها توجب، وإنما جهل من جهل بعد الآيات بالرسل بترك التأمل لكنه لم يعذر لأن العاقل مما يلزمه التأمل فيها فلم يعذر بالترك، ولو كانت الحجج موجبة للعلم جبرًا لما تعلق بها ثواب ولا عقاب.

وأما الدليل: فهو اسم لحجة منطق، لأنه في اللغة؛ فعيل بمعنى فاعل، فكان اسمًا لفاعل الدلالة كالدال. وعنه قيل: يا دليل المتحيرين أي: هاديهم إلى ما يزول به حيرته، وكذلك دليل القافلة، ثم سمي كلامه باسمه دليلًا، ولما كان حجة نطق كان غير الاسم الموضوع لما لا نطق له. فإن قيل: إن الدخان دليل على النار، والبناء دليل على الباني ولا نطق هناك!. قلنا: إنه اسم مجاز لوجود معنى دلالة النطق منهما، كما قال الله تعالى: {جدارًا يريد أن ينقض فأقامه}.

وقال تعالى: {قالتا أتينا طائعين} وكقول الشاعر:

وعظتك أجداث صمت

ثم الدليل مجازًا كان أو حقيقة: اسم لما يبين أمرًا كامن، وسائر الحجج أسماء لما يبين أو يوجب حكمًا مبتدأ فصار الدليل اسمًا خاصًا لما هو مبين.

والشهادة مثل الدليل، لأنها حجة منطق في الأصل كالدلالة، إلا أنه أخص من الدلالة وهما سواء أوجبا علم اليقين أو دونه، فالشهادات في مجلس القضاة تسمى بينات، وهي لا توجب العلم يقينًا.

وأما العلة: فتفسيرها لغة: اسم لحال تغير بحلوله حكم الحال، أو اسم لما أحدث أمرًا بحلوله لا عن اختيار كالمرض يسمى علة لتغير حكم حال الإنسان بحلوله لا عن اختيار للمريض فيه، وكذلك الجرح علة الموت إذا سرى إليه لهذا الحد، ولا يسمى الجارح علة لأنه مختار غير حال بالمجروح، ولهذا لم يجز وصف القديم -عز ذكره- "بالعلة" لأن الله تعالى أنشأ عن اختيار، ولا يوصف بالحلول، فكانت العلة على هذا السبيل نوعًا ثالثًا غير الآية والدليل لأنهما يوجبان الحكم بلا حلول.

والمراد بالعلة بعرف لسان الشرع: المعاني المستنبطة من النصوص التي تعلقت بها الأحكام شرعًا فيها، وتعدت بتعديها إلى الفروع، لأن تلك المعاني بحكم حلولها في
হে কাল! তুমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছ এবং পরিবর্তিত হয়েছ।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যেমন মাকামে ইবরাহিম।" অর্থাৎ: চিহ্নসমূহ।

যদি প্রশ্ন করা হয়: মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে নিদর্শনসমূহ প্রকাশের পর নবুওয়াত সম্পর্কে জানতে পারেনি, তবে সেই নিদর্শনসমূহের ব্যাখ্যা কীভাবে এমন হবে যা জ্ঞান লাভকে অবধারিত করে?

আমরা বলি: আমরা যে সকল প্রমাণ নিয়ে আলোচনা করছি, তা বাধ্যগতভাবে জ্ঞান উৎপন্ন করে না, বরং গভীরভাবে চিন্তা ও ধ্যানের মাধ্যমে তা জ্ঞান লাভকে অবধারিত করে। যারা রাসূলদের নিকট নিদর্শন আসার পরেও অজ্ঞ রয়ে গেছে, তারা চিন্তা ও গবেষণা বর্জন করার কারণেই অজ্ঞ থেকেছে। কিন্তু তাদের ওজর গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এতে চিন্তা করা আবশ্যক ছিল, তাই এটি বর্জন করার কারণে সে অজুহাত পাবে না। যদি প্রমাণসমূহ বাধ্যগতভাবে জ্ঞান উৎপন্ন করত, তবে এর সাথে সওয়াব বা আজাব যুক্ত হতো না।

আর 'দলিল' (প্রমাণ) এর ক্ষেত্রে বলা যায়: এটি একটি বাচনিক প্রমাণের নাম; কেননা ভাষাগতভাবে এটি এমন শব্দ যা কর্তার অর্থ প্রদান করে। ফলে এটি পথপ্রদর্শনের কর্তার নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন পথপ্রদর্শক। এ কারণেই বলা হয়: 'হে পথহারাদের পথপ্রদর্শক', অর্থাৎ: যার মাধ্যমে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় তাদের জন্য হেদায়েতকারী। তেমনিভাবে কাফেলার পথপ্রদর্শক। অতঃপর তার কথাকেও সেই নামে 'দলিল' বলা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি বাচনিক প্রমাণ ছিল, তাই এটি এমন কিছুর জন্য নির্ধারিত নাম হতে ভিন্নতর যা কথা বলতে পারে না। যদি বলা হয়: ধোঁয়া আগুনের প্রমাণ এবং অট্টালিকা নির্মাতার প্রমাণ, অথচ সেখানে কোনো বাচনিক প্রকাশ নেই!

আমরা বলি: এটি একটি রূপক নাম, কারণ উভয়ের মধ্যে বাচনিক নির্দেশনার অর্থ বিদ্যমান রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "একটি প্রাচীর যা পড়ে যেতে চাচ্ছিল, অতঃপর তিনি তা সোজা করে দিলেন।"

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা উভয়ে বলল, আমরা অনুগত হয়ে আসলাম।" এবং যেমন কবি বলেছেন:

নিস্তব্ধ কবরসমূহ তোমাকে উপদেশ দিয়েছে।

অতঃপর 'দলিল' রূপক হোক বা প্রকৃত—তা এমন কিছুর নাম যা কোনো প্রচ্ছন্ন বিষয়কে স্পষ্ট করে। আর অন্যান্য প্রমাণসমূহ হলো এমন নাম যা কোনো নতুন বিধানকে স্পষ্ট করে বা অবধারিত করে। ফলে 'দলিল' শব্দটি সুস্পষ্টকারী বিষয়ের জন্য একটি বিশেষ নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর 'সাক্ষ্য' হলো দলিলের মতো, কারণ এটিও মূলগতভাবে দলিলের মতোই একটি বাচনিক প্রমাণ। তবে এটি সাধারণ নির্দেশনার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট। এই উভয়টি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করুক বা তার চেয়ে কম কিছু—উভয় ক্ষেত্রেই সমান। বিচারকের মজলিসে সাক্ষ্যসমূহকে 'সুস্পষ্ট প্রমাণ' বলা হয়, অথচ তা নিশ্চিতভাবে জ্ঞান উৎপন্ন করে না।

আর 'কার্যকর কারণ' এর ভাষাগত ব্যাখ্যা হলো: এটি এমন এক অবস্থার নাম যার উপস্থিতিতে অবস্থার বিধান পরিবর্তিত হয়ে যায়, অথবা এটি এমন কিছুর নাম যা নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে কোনো বিষয়কে সৃষ্টি করে এবং যা ইচ্ছাধীন নয়। যেমন রোগকে 'কার্যকর কারণ' বলা হয় কারণ রোগীর কোনো ইচ্ছা ছাড়াই এর উপস্থিতিতে মানুষের অবস্থার বিধান পরিবর্তিত হয়ে যায়। তেমনিভাবে আঘাত হলো মৃত্যুর কার্যকর কারণ যখন তা সেই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু আঘাতকারীকে কার্যকর কারণ বলা হয় না, কারণ সে স্বেচ্ছায় কাজ করে এবং সে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাঝে লীন হয়ে থাকে না। এই কারণেই অনাদি সত্তাকে—তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক—'কার্যকর কারণ' হিসেবে অভিহিত করা বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা ইচ্ছাধীনভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে লীন হওয়া বা অনুপ্রবেশের বর্ণনা প্রযোজ্য নয়। সুতরাং 'কার্যকর কারণ' এই দিক থেকে নিদর্শন ও দলিলের চেয়ে ভিন্ন একটি তৃতীয় প্রকার; কেননা এই দুটি কোনো কিছুর মাঝে লীন হওয়া ছাড়াই বিধানকে অবধারিত করে।

আর শরয়ি পরিভাষায় 'কার্যকর কারণ' বলতে উদ্দেশ্য হলো: মূল পাঠসমূহ থেকে উদ্ভাবিত সেই সকল অর্থ যার সাথে শরয়ি বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট থাকে এবং সেই অর্থগুলো সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে বিধানগুলো শাখা-প্রশাখায় সম্প্রসারিত হয়। কেননা সেই অর্থগুলো যে স্থানে বিদ্যমান থাকে তার বিধান অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
المنصوص عليها غيرت أحكامها لا عن اختيار إلى العموم عن الخصوص.

فإن قوله صلى الله عليه وسلم: "الحنطة بالحنطة مثل بمثل والفضل ربا" غير حال بالحنطة.

ولكن قولنا: إنه مكيل أو مطعوم حال بها.

وهذه العلل تسمى مقاييس لأنها قد تستنبط بالمقايسة فسميت باسم سببها وتسمى نظرًا لهذا المعنى.

وأما حكمها: فالعلم على شبهة متى أريد بها هذه العلل التي هي مقاييس اجتهاد، وقد توجب حكم العلة بلا شبهة إذا أثبتت عللًا بطريق بلا شبهة.

وقد يجوز أن تسمى هذه العلل الشرعية أدلة لأن هذه المعاني دلتنا على حكم الله تعالى في الفروع.

وعلل الشرع أعلام وآيات في الحقيقة على الأحكام والموجب هو الله تعالى.

ولا يجوز أن تسمى الأدلة عللًا لأن في العلة معنى الإيجاب، وما في الدليل ذلك كالدخان نسميه دليلًا على النار ولا نسميه علة.

وكل دليل على شيء علة في حق علمك لأن العلم وجب لك به.

وأما الحال: فعبارة عن الحكم الثابت عن دليل غير متعرض لبقائه ولا لزواله محتمل للزوال بدليله لكنه ملتبس عليك حاله لأن ما ثبت دام حتى يقوم دليل البطلان، على ما نبينه في موضعه.

ثم كل نوع مما ذكرنا من أنواع الحجج ينقسم إلى قسمين: ظاهر وباطن.

فالظاهر: ما عقل بالبديهة.

والباطن: ما لم يعقل إلا بتأمل. فعصا موسى كانت آية ظاهرة، إذ تلقفت عصي آل فرعون فعلمتها السحرة آية ببديهة عقولهم، وكذلك انفلاق البحر وانفجار الصخرة.

والقرآن لمحمد صلى الله عليه وسلم آية باطنة ما يعرف معجزة إلا بعد تأمل ونظر ومعارضة بسائر أنواع كلام البشر، وما للظاهر رجحان بظهوره، ولا للباطن رجحان ببطونه، بل الرجحان موقوف على قدر الأثر في مضمونه.

ألا ترى أن الله تعالى خلق الدنيا ظاهرة والآخرة باطنة، ثم لم يكن الرجحان بظهور ولا بطون بل كانت الراجحة منهما ما كانت باقية.

وكذلك الرأس ظاهر والقلب باطن ولكل واحد منهما ضرب درك، وكان الرجحان للقلب لوقوفه على العاقبة.
নصوص দ্বারা নির্ধারিত বিধানসমূহকে ঐচ্ছিকভাবে পরিবর্তন করা হয়নি, বরং বিশেষ অবস্থা থেকে সাধারণ অবস্থায় পরিবর্তিত হয়েছে।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "গমের বিনিময়ে গম সমান সমান হতে হবে এবং অতিরিক্তটুকু হলো সুদ" - এটি কেবল গমের অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়।

বরং আমাদের বক্তব্য হলো: এটি পরিমাপযোগ্য বা খাদ্যদ্রব্য হওয়া এর একটি বৈশিষ্ট্য বা অবস্থা।

আর এই 'ইল্লত' বা কারণগুলোকে 'মাকায়িস' (পরিমাপক) বলা হয়, কারণ এগুলো কিয়াস বা তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উদঘাটন করা যায়; তাই একে তার উৎসের নামেই নামকরণ করা হয়েছে এবং এই অর্থ বিবেচনায় একে 'নজর' (গবেষণালব্ধ জ্ঞান) হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

এর বিধানের ব্যাপারে বলা যায়: যখন এর দ্বারা ইজতিহাদী পরিমাপক রূপী এই কারণগুলোকে উদ্দেশ্য করা হয়, তখন তা সন্দেহের সাথে জ্ঞান প্রদান করে। তবে যদি এই কারণগুলো কোনো সন্দেহাতীত পন্থায় প্রমাণিত হয়, তবে তা সন্দেহাতীতভাবে সেই কারণের বিধানকে অবধারিত করে দেয়।

আর এই শরয়ী কারণগুলোকে 'আদিল্লাহ' (দলিলসমূহ) বলা বৈধ হতে পারে, কারণ এই অর্থগুলোই শাখা-প্রশাখাগত মাসয়ালাসমূহে মহান আল্লাহর বিধানের দিকে আমাদেরকে পথ দেখায়।

প্রকৃতপক্ষে শরীয়তের কারণসমূহ (ইল্লত) হলো বিধানাবলির ওপর নিদর্শন ও চিহ্নমাত্র, আর বিধানের প্রকৃত প্রবর্তক হলেন মহান আল্লাহ।

তবে দলিলসমূহকে 'ইল্লত' বা কারণ বলা জায়েজ নয়; কারণ 'ইল্লত'-এর মধ্যে অপরিহার্যতা বা অবধারিত করার অর্থ বিদ্যমান থাকে, যা দলিলের মধ্যে নেই। যেমন ধোঁয়াকে আমরা আগুনের দলিল বা নিদর্শন বলি, কিন্তু একে 'ইল্লত' বা কারণ বলি না।

আর কোনো কিছুর ওপর প্রতিটি দলিল আপনার জ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি কারণ (ইল্লত) স্বরূপ, কারণ এর মাধ্যমেই আপনার জন্য জ্ঞান অর্জন অবধারিত হয়েছে।

আর 'হাল' (বর্তমান অবস্থা) হলো এমন একটি বিধানের অভিব্যক্তি যা এমন দলিল দ্বারা প্রমাণিত যা এর স্থায়িত্ব বা বিলুপ্তি কোনোটিকেই সরাসরি উল্লেখ করে না; এটি নিজ দলিলের মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে আপনার কাছে এর প্রকৃত অবস্থা অস্পষ্ট থাকে। কেননা যা প্রমাণিত হয়েছে তা বাতিল হওয়ার দলিল না পাওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে, যেমনটি আমরা যথাস্থানে বর্ণনা করব।

অতঃপর আমরা দলিলাদির যে প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করেছি, তার প্রতিটি প্রকার আবার দুই ভাগে বিভক্ত: জাহির (প্রকাশ্য) ও বাতিন (অপ্রকাশ্য)।

জাহির (প্রকাশ্য) হলো তা, যা তাৎক্ষণিকভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুধাবন করা যায়।

আর বাতিন (অপ্রকাশ্য) হলো তা, যা গভীর চিন্তা-ভাবনা ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়। মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর লাঠি ছিল একটি প্রকাশ্য নিদর্শন; কারণ যখন এটি ফেরাউনের বংশধরদের লাঠিগুলোকে গিলে ফেলেছিল, তখন জাদুকররা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত বুদ্ধি দিয়ে একে নিদর্শন হিসেবে বুঝতে পেরেছিল। তেমনিভাবে সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং পাথর থেকে পানির ঝরনা প্রবাহিত হওয়াও একই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ কুরআন হলো একটি অপ্রকাশ্য (বাতিন) নিদর্শন; গভীর চিন্তাভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের অন্যান্য বাচনভঙ্গির সাথে তুলনা করা ব্যতিরেকে এর অলৌকিকত্ব উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। প্রকাশের দিক থেকে জাহিরের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আবার অপ্রকাশের দিক থেকেও বাতিনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; বরং শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে এর মূল বিষয়ের ওপর এর প্রভাবের মাত্রার ওপর।

আপনি কি দেখেন না যে, মহান আল্লাহ দুনিয়াকে প্রকাশ্য এবং আখিরাতকে অপ্রকাশ্য হিসেবে সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ বা অপ্রকাশের কারণে হয়নি, বরং উভয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব তারই যা চিরস্থায়ী।

একইভাবে মাথা প্রকাশ্য এবং অন্তর অপ্রকাশ্য, আর উভয়ের জন্যই অনুধাবনের ভিন্ন স্তর রয়েছে। তবে পরিণতির ওপর দৃষ্টি রাখার কারণে অন্তরের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকৃত।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والنص حجة ظاهرة من الرسول صلى الله عليه وسلم.

والعلة حجة باطنة لا تنال إلا بتأمل من العقول.

وكذلك الشمس ضياء ظاهر والعقل ضياء باطن.

والأغذية علل ظاهرة لمصالح عاجلة، والأدوية علل باطنة لمصالح في العاقبة.

وكذلك علل الشرع بعضها أظهر من بعض حتى سمى علماؤنا الظاهر منها؛ قياسًا، والباطن استحسانًا، ثم أخذوا بالقياس مرة وبالاستحسان أخرى ليعلم أن الرجحان بقدر قوة المعنى.

وكذلك الدليل قد تكون دلالته ظاهرة كالدخان على النار، وقد تكون دلالته باطنة كالنجم على الطريق، فإنه لا يهتدى به إلا بضرب تأمل فصار حد الآية ما يفيد العلم يقينًا إذا أبصرها القلب على اضطرار كما إذا رأى شخصًا بالعين بلا ستار، والآية آية سواء نظر العبد فيها فأبصر، أو لم ينظر وقصر. وصار حد الحجة ما يغلب الهوى، فإن للقلب نظرًا بموجب الهوى ونظرًا بموجب العقل فإذا قامت الحجة عليه غلبت جهة العقل جهة الهوى، وسواء في ذلك اضطر القلب إلى العلم بارتفاع الشبهة أو لم يضطر، ووقعت الغلبة بالنظر أو تكاسل فلم يبصر.

وصار حد الدليل ما أتى منه فعل الدلالة بحيث لو تأمله ذو البصيرة لاستدلال به واهتدى، وسواء فيه تأمل أو لا، فأوجب العلم قطعًا أو كان دونه حدًا، وصار حد العلة ما تعلق به الإحداث والإيجاد بلا اختيار بقدر الحلول بمحل الحكم ولكن في علل الشرع يراد بها ما تعلق بحلولها وجوب الأحكام في حقنا لا حدوثها في أنفسها بذوات تلك العلل.

فالعلل الشرعية صارت عللًا بجعل الشرع إياها عللًا لا بذواتها، فصارت بذواتها أعلامًا لما لم تكن موجبة.

غير أنا سمينا هذه المعاني المستنبطة من النصوص عللًا مجازًا لتعلق وجوب الأحكام بها في حقنا شرعًا لا في حق الله، وهي حالة بمحل الأحكام لا وجوب في حقنا قبل الشرع، ولا وجود بعد الشرع قبلها فكانت هذه العلل بمنزلة شرط الطلاق في اليمين بالطلاق في حق المرأة.

فالشرط علم على الطلاق في حق الزوج وفي حق الطلاق، فإنه وجب معه بتطليق الزوج، ولكنه علة في حق الوجوب للمرأة حتى إن الطلاق لا يعمل فيها إلا إذا كانت بمحل الإيقاع ابتداءً حال وجود الشرط، ويعمل وإن لم يكن الرجل من أهله حين الشرط.

لأن العلة في حق الطلاق نفسه لفظ الزوج فيعتبر شرط صحته حال تلفظه.
আর নস হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এক প্রকাশ্য দলিল।

আর ইল্লত হলো এক অপ্রকাশ্য দলিল যা কেবল বুদ্ধি-বিবেকের গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়।

অনুরূপভাবে সূর্য হলো একটি প্রকাশ্য আলো এবং আকল (বিবেক) হলো একটি অপ্রকাশ্য আলো।

আর খাদ্যদ্রব্য হলো তাৎক্ষণিক কল্যাণের জন্য প্রকাশ্য কারণ, আর ঔষধ হলো পরিণামগত কল্যাণের জন্য অপ্রকাশ্য কারণ।

তেমনিভাবে শরীয়তের কারণসমূহের কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট, এমনকি আমাদের উলামায়ে কেরাম এগুলোর মধ্যে যা প্রকাশ্য তাকে 'কিয়াস' এবং যা অপ্রকাশ্য তাকে 'এহতেহসান' হিসেবে নামকরণ করেছেন। অতঃপর তারা কখনো কিয়াসকে গ্রহণ করেছেন আবার কখনো এহতেহসানকে, যাতে এটি জানা যায় যে, প্রাধান্যের বিষয়টি অর্থের শক্তির ওপর নির্ভরশীল।

তেমনিভাবে দলিলের নির্দেশনা কখনো প্রকাশ্য হয় যেমন আগুনের ওপর ধোঁয়া, আবার কখনো তার নির্দেশনা অপ্রকাশ্য হয় যেমন পথের ওপর নক্ষত্র; কারণ গভীর চিন্তা-গবেষণা ছাড়া এর মাধ্যমে পথনির্দেশ পাওয়া যায় না। সুতরাং নিদর্শনের (আয়াত) সংজ্ঞা হলো এমন বিষয় যা নিশ্চিত জ্ঞান দান করে যখন অন্তর তা আবশ্যিকভাবে প্রত্যক্ষ করে, যেমন চর্মচক্ষু দিয়ে পর্দা ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে দেখা। আর নিদর্শন নিদর্শনই থাকে, চাই বান্দা তাতে দৃষ্টিপাত করে তা প্রত্যক্ষ করুক কিংবা দৃষ্টিপাত না করে ত্রুটি করুক। আর হুজ্জত বা প্রমাণের সংজ্ঞা হলো যা প্রবৃত্তির ওপর জয়লাভ করে। কারণ অন্তরের একটি দৃষ্টি থাকে প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী এবং আরেকটি দৃষ্টি থাকে বিবেকের চাহিদা অনুযায়ী। যখন তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন বিবেকের দিকটি প্রবৃত্তির দিকের ওপর প্রবল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সংশয় দূর হওয়ার মাধ্যমে অন্তর সেই জ্ঞান লাভে বাধ্য হোক বা না হোক, এবং চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে সেই প্রবলতা অর্জিত হোক কিংবা অলসতার কারণে সে প্রত্যক্ষ না করুক—তা সমান।

আর দলিলের সংজ্ঞা হলো যার পক্ষ থেকে নির্দেশনার কাজ সম্পন্ন হয়, যাতে কোনো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি যদি তা নিয়ে চিন্তা করে তবে সে এর দ্বারা প্রমাণ পেশ করতে পারবে এবং সঠিক পথ পাবে, চাই সে চিন্তা করুক বা না করুক; এটি নিশ্চিত জ্ঞান আবশ্যক করুক বা তার চেয়ে নিম্নপর্যায়ের হোক। আর ইল্লত বা কারণের সংজ্ঞা হলো যার সাথে সৃষ্টি ও অস্তিত্বদান স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট হয়, বিধানের স্থলে তা বিদ্যমান থাকার সমপরিমাণে। কিন্তু শরীয়তের কারণসমূহ বলতে যা বোঝায় তা হলো সেই বিষয় যার উপস্থিতির সাথে আমাদের ক্ষেত্রে বিধানসমূহ ওয়াজিব হওয়া সংশ্লিষ্ট, সেই কারণগুলোর নিজস্ব সত্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধানের উৎপত্তি নয়।

অতএব শরয়ি কারণসমূহ শরীয়ত কর্তৃক সেগুলোকে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করার কারণেই কারণ হয়েছে, তাদের নিজস্ব সত্তার কারণে নয়। সুতরাং এগুলো নিজস্ব সত্তার বিচারে আলামত বা চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়েছে যেহেতু এগুলো সরাসরি বিধানকে আবশ্যককারী নয়।

তবে আমরা নস থেকে উদ্ভূত এই অর্থগুলোকে রূপক অর্থে 'ইল্লত' বা কারণ হিসেবে নামকরণ করেছি, কারণ আমাদের ক্ষেত্রে শরীয়ত অনুযায়ী বিধানের আবশ্যকতা এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট, আল্লাহর ক্ষেত্রে নয়। আর এই কারণগুলো বিধানের স্থানে উপস্থিত থাকে; শরীয়ত আসার আগে আমাদের ওপর কোনো ওয়াজিব ছিল না, আবার শরীয়তের পরে এই কারণগুলোর উপস্থিতির পূর্বেও বিধানের অস্তিত্ব ছিল না। সুতরাং এই কারণগুলো নারীর ক্ষেত্রে তালাকের শপথের মধ্যে তালাক কার্যকর হওয়ার শর্তের সমতুল্য।

শর্তটি স্বামীর ক্ষেত্রে এবং তালাক সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে তালাকের একটি চিহ্ন, কারণ স্বামীর তালাক প্রদানের মাধ্যমে এর সাথে তালাক অবধারিত হয়ে যায়। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে এটি বিধান কার্যকর হওয়ার কারণ (ইল্লত), এমনকি তালাক তার ওপর কার্যকর হবে না যতক্ষণ না শর্তটি পাওয়ার সময় সে তালাক গ্রহণ করার উপযুক্ত অবস্থায় থাকে। আর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে যদিও শর্তটি পাওয়ার সময় স্বামী তালাক প্রদানের যোগ্য অবস্থায় না থাকে।

কারণ স্বয়ং তালাকের ক্ষেত্রে ইল্লত বা কারণ হলো স্বামীর উচ্চারণ, তাই এটি সঠিক হওয়ার শর্ত তার উচ্চারণের সময়ের সাথে বিবেচনা করা হয়।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والدليل عليه أن هذه المعاني كانت موجودة قبل الشرع ولم تكن موجبة لهذه الأحكام، ولو كانت موجبة لذواتها لم تنفك عن معلولاتها كشرط الطلاق يوجد من المرأة قبل تعليق الزوج الطلاق به ولا يوجب طلاقًا.

وصار حد الحال ما يوجب البقاء على الثابت من الحكم لجهلك بالدليل المغير لا لعلمك بالدليل المبقي.
এর দলিল হলো যে, এই অর্থগুলো শরিয়ত আসার পূর্বেও বিদ্যমান ছিল এবং এগুলো এই বিধানগুলোর জন্য আবশ্যককারী ছিল না। আর যদি এগুলো স্বীয় সত্তাগত কারণেই আবশ্যককারী হতো, তবে এগুলো তাদের কার্যকর প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন হতো না; যেমন তালাকের শর্ত স্বামীর পক্ষ থেকে তালাককে তার সাথে সম্পৃক্ত করার আগেই স্ত্রীর মাঝে বিদ্যমান থাকে, অথচ তা তালাক হওয়াকে আবশ্যক করে না।

আর অবস্থার সংজ্ঞা এমন বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা কোনো পরিবর্তনকারী দলিলের ব্যাপারে আপনার অজ্ঞতার কারণে প্রতিষ্ঠিত বিধানের ওপর অটল থাকাকে আবশ্যক করে, স্থায়িত্বদানকারী দলিলের জ্ঞানের কারণে নয়।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌القول في أنواع الحجج نفسها

الحجج نوعان: عقلية وشرعية.

وكل نوع قسمان: موجبة للعلم ومجوزة.

فالموجبة: ما أوجبت العلم قطعًا بموجبها ولم تجوز خلافه.

والمجوزة: ما جوزت إطلاق اسم العلم على موجبها وإن جوزت خلافه.

ثم العقلية: ما عرفت حججًا بالاستدلال بمجرد العقول.

والشرعية: ما لم تعرف حججًا إلا بوحي الله تعالى وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهذه جملة لا نعرف فيها خلافًا فإن من بنى على السماع علمه ما اهتدى إليه حتى يحكم عقله.

فالمسموع في نفسه خبر يحتمل الصدق والكذب، وقائله رجل مثله من الخلق فلا يجوز له اتباع مثله ولا الحكم بقوله حتى تزول عنه جهة كذبه، ولن تزول إلا بمعجزة، ولا معجزة نعرفها إلا بتأمل عن عقله.

ولأنا نرى من لا يعرف الشرع أصلًا يستدل بالبناء على الباني، ويهتدي إلى المصالح الدنيوية ويصل إليها بالدلالات العقلية بنوعي علم: علم بلا شك، وعلم بغالب الرأي مع ضرب ارتياب بحيث جاز أن يتبين له في ضده الصواب.

وكذلك الشرعية فكتاب الله تعالى حجة يوجب العلم قطعًا بلا ريب.

وخبر الواحد يوجب علمًا مع ضرب شك فعلمت أن هذه جملة لا خلاف فيها، وإنما الخلاف في حق أحكام الله تعالى على ما يأتيك شرحها.
দলীল বা প্রমাণের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা

দলীল বা প্রমাণ দুই প্রকার: বুদ্ধিভিত্তিক এবং শরয়ী।

এবং প্রতিটি প্রকার আবার দুই ভাগে বিভক্ত: নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী এবং সম্ভাবনাময় জ্ঞান দানকারী।

নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী হলো তা, যা তার প্রতিপাদ্য বিষয়ে অকাট্যভাবে জ্ঞান দান করে এবং এর বিপরীত কিছু হওয়ার অবকাশ রাখে না।

আর সম্ভাবনাময় জ্ঞান দানকারী হলো তা, যা তার প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর 'জ্ঞান' শব্দের প্রয়োগকে বৈধ করে, যদিও তা বিপরীত কিছু হওয়ার অবকাশ রাখে।

অতঃপর বুদ্ধিভিত্তিক দলীল হলো তা, যা নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ হিসেবে জানা যায়।

আর শরয়ী দলীল হলো তা, যা মহান আল্লাহর ওহী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ব্যতীত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি এমন একটি মূলনীতি যার মধ্যে আমরা কোনো দ্বিমত জানি না। কারণ, যে ব্যক্তি কেবল শ্রুতির ওপর তার জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত করে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথের দিশা পায় না যতক্ষণ না সে তার বুদ্ধিকে বিচারক হিসেবে প্রয়োগ করে।

কেননা শ্রুত বিষয় মূলত সত্য এবং মিথ্যা উভয়টির সম্ভাবনা রাখে। আর এর বর্ণনাকারীও সৃষ্টির মধ্য থেকে তারই মতো একজন মানুষ। তাই তার পক্ষে নিজের মতো একজনের অনুসরণ করা বা তার কথার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার মিথ্যা হওয়ার দিকটি দূরীভূত হয়। আর এটি মুজিযা ব্যতীত দূর হবে না। আর বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-ভাবনা ছাড়া আমরা কোনো মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের স্বরূপ জানতে পারি না।

এবং যেহেতু আমরা দেখি যে, যে ব্যক্তি আদৌ শরীয়ত সম্পর্কে জানে না, সেও অট্টালিকা দেখে এর নির্মাতার অস্তিত্বের ব্যাপারে যুক্তি প্রদান করে। সে বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে দুনিয়াবী কল্যাণসমূহের দিকে পরিচালিত হয় এবং সেগুলো অর্জন করে। আর এটি দুই প্রকার জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত হয়: সন্দেহাতীত জ্ঞান এবং প্রবল ধারণাপ্রসূত জ্ঞান যাতে কিছুটা সংশয় থাকে, যেখানে কখনও তার বিপরীতটিই সঠিক বলে প্রকাশিত হওয়ার অবকাশ থাকে।

অনুরূপভাবে শরয়ী প্রমাণের ক্ষেত্রেও আল্লাহর কিতাব এমন একটি দলীল যা কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে।

এবং খবরে ওয়াহেদ বা একক ব্যক্তির বর্ণনা কিছুটা সংশয় থাকা সত্ত্বেও জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং আপনি জানতে পারলেন যে, এটি এমন এক মূলনীতি যাতে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ কেবল মহান আল্লাহর বিধানসমূহের ক্ষেত্রে, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌القول في أنواع الحجج الشرعية الموجبة للعلم

قال العبد رضي الله عنه: إن الحجج العقلية وإن كانت قبل الشرعية وجودًا في الذوات، فإني قدمت الشرعية فهي أظهر منها بدرجات.

فالشرع على مثال ضوء النهار.

والعقل على مثال نور النار.

والقلب على مثال العين، فكم من عين لم تر في ضوء السراج، رأت إذا بزغ الضياء الوهاج، لا نظره الجلي فيرغب به في الخفي.

فأقول وبالله التوفيق: إن الحجج الشرعية الموجبة للعلم أربع: كتاب الله تعالى، وخبر الرسول المسموع منه، والمروى بالتواتر عنه، والإجماع.

وطريق ذلك كله واحد، وهو خبر الرسول لأنا لم نعرف الكتاب -كتاب الله تعالى- إلا بخبر رسول الله عليه الصلاة والسلام.

وكذا الإجماع ما ثبت حجة قاطعة إلا بكتاب الله والسنة.

والمروي عن النبي صلى الله عليه وسلم بالتواتر كالمسموع منه على ما يأتيك بيان كل قسم في بابه.

فثبت أن المدار على خبر الرسول، وخبر الرسول صدق وحق لدلالة قامت على أن رسول الله لا يكون رسولًا حتى يكون معصومًا عن الكذب وبالله التوفيق.
নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী শরয়ি দলীলসমূহের প্রকারভেদ সম্পর্কিত আলোচনা

বান্দা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: যদিও অস্তিত্বের বিচারে আকলি বা যুক্তিনির্ভর দলীলসমূহ শরয়ি দলীলের পূর্ববর্তী, তবুও আমি শরয়ি দলীলসমূহকেই প্রথমে উপস্থাপন করেছি; কেননা তা আকলি দলীলের চেয়ে বহু গুণ বেশি স্পষ্ট।

শরয়ত হলো দিনের আলোর মতো।

আর আকল বা বুদ্ধি হলো আগুনের আলোর মতো।

এবং অন্তর হলো চোখের মতো। কত চোখই তো প্রদীপের আলোতে দেখতে পায় না, কিন্তু যখন প্রখর দিনের আলো ফুটে ওঠে তখন দেখতে পায়; তাই সে যেন এই উজ্জ্বল বিষয়টিকে ছেড়ে অস্পষ্ট কিছুর প্রতি আগ্রহী না হয়।

আমি বলছি এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি: ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী শরয়ি দলীল চারটি: মহান আল্লাহর কিতাব, রাসুলের মুখ থেকে সরাসরি শোনা সংবাদ, তাঁর থেকে নিরবচ্ছিন্ন পরম্পরায় বর্ণিত সংবাদ এবং ইজমা (ঐক্যমত)।

আর এই সবগুলোর পথ মূলত একটাই, তা হলো রাসুলের সংবাদ। কেননা আমরা কিতাবকে—অর্থাৎ মহান আল্লাহর কিতাবকে—চিনতে পেরেছি কেবল আল্লাহর রাসুলের (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সংবাদের মাধ্যমেই।

অনুরূপভাবে, ইজমাও আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যম ব্যতীত অকাট্য দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি।

নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে নিরবচ্ছিন্ন পরম্পরায় বর্ণিত সংবাদ সরাসরি তাঁর থেকে শোনার মতোই অকাট্য; যেভাবে প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত বিবরণ সামনের অধ্যায়গুলোতে আসবে।

সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, সমস্ত কিছুর মূল ভিত্তি হলো রাসুলের সংবাদ। আর রাসুলের সংবাদ হলো চিরন্তন সত্য ও যথার্থ, কারণ এই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল ততক্ষণ পর্যন্ত রাসুল হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি মিথ্যাচার থেকে নিষ্পাপ বা সংরক্ষিত হন। আর আল্লাহর সাহায্যেই যাবতীয় সাফল্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌القول في بيان حد الكتاب وكونه حجة

كتاب الله تعالى: ما نقل إلينا بين دفتي المصاحف على الأحرف السبعة المشهورة نقلاً متواتراً، لأن ما دون المتواتر من الأخبار لا يبلغ مرتبة العيان على ما يأتيك البيان، فلا يوجب الإيقان، وكتاب الله تعالى ما علم يقيناً، وأوجب علم اليقين إلا لأنه أصل الدين وبه ثبتت الرسالة وقامت الحجة على بطلان الضلالة.

فإن قيل: كون كتاب الله تعالى معجزاً دليل على أنه من الله تعالى من غير نقل متواتر.

قلنا: إن كل آية منه ليست بمعجزة، وهي حجة قطعاً فلا تثبت إلا بعد السماع من الرسول صلى الله عليه وسلم. أو نقل عنه بالتواتر.

على أن كونه معجزاً آية على صدق صاحبه في دعواه، وليست بآية على أنه كلام الله، فإنه كان جائزاً أن يقدر الله تعالى رسوله على كلام يعجز عنه الأنام فيكون آية على صدق رسالته، كما أقدر عيسى عليه السلام على إحياء الموتى، ولهذا قالت الأئمة فيمن قرأ في صلاته بكلمات تفرد بها عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: أن صلاته لا تجوز، كما لو قرأ خبراً من أخبار الرسول.

فإن قيل: فإذا الدليل على القرآن النقل المتواتر لا دفات المصاحف؟

قلنا: إن الصحابة رضي الله عنهم ما أثبتوا القرآن في المصاحف بعد حفظ القلوب إلا ليصونوه بها عن الزيادة والنقصان، حتى كرهوا التعاشير وكتابة رأس السورة وأمروا بالتجريد فأثبتوا فيها ما تواتر إليهم نقله وأطبق عليه أهله وشهدت به نسخة رسول الله صلى الله عليه وسلم ونظمه.

فإن قيل: إن التسمية نقلت إلينا مكتوبة بقلم الوحي بين دفات المصاحف لمبدأ كل سورة ثم لم يعدوها آية منها.

قلنا: إن أصحابنا قالوا في المصلي؛ ويتعوذ بالله من الشيطان الرجيم ثم يفتتح القراءة ويخفي بسم الله الرحمن الرحيم. ففصلوها عن الثناء، ووصلوها بقراءة القرآن فدل هذا الإطلاق على أنها من القرآن عندهم، لكنهم قالوا: ويخفي. كما قالوا بإخفاء القراءة في الأخريين ليعلم أنها ليست بآية من الفاتحة وإنما قرئت تبركاً بها لا أداءً لفرض القراءة، فإن الفاتحة عينت لذلك شرعاً.

وقد روي عن محمد بن الحسن أن التسمية آية من القرآن أنزلت للفصل بين السور
কিতাবের সংজ্ঞা এবং এটি দলীল হওয়ার বর্ণনায় বক্তব্য

মহান আল্লাহর কিতাব হলো: যা আমাদের নিকট মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে প্রসিদ্ধ সাত হারফ (পঠনরীতি) অনুযায়ী মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে। কারণ মুতাওয়াতির পর্যায়ের নিচের সংবাদসমূহ সরাসরি দর্শনের স্তরে পৌঁছায় না যেমনটি আপনার নিকট সামনে বর্ণিত হবে, ফলে তা পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করে না। আর আল্লাহর কিতাব হলো যা নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত এবং যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে কেবল এই কারণে যে, এটি দ্বীনের মূল এবং এর মাধ্যমেই রিসালাত সাব্যস্ত হয়েছে এবং ভ্রষ্টতার অসারতার ওপর হুজ্জত (দলীল) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহর কিতাবের মুজিযা (অলৌকিক) হওয়া কি মুতাওয়াতির বর্ণনা ছাড়াই এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার প্রমাণ নয়?

আমরা বলি: এর প্রতিটি আয়াতই মুজিযা নয়, অথচ তা নিশ্চিতভাবে একটি দলীল, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ অথবা তাঁর থেকে মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যম ছাড়া তা সাব্যস্ত হয় না।

তদুপরি, এর মুজিযা হওয়া হলো এর বাহকের দাবির সত্যতার নিদর্শন, এটি আল্লাহর কালাম হওয়ার নিদর্শন নয়। কেননা এটা সম্ভব ছিল যে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে এমন কোনো কালামের ওপর সক্ষমতা দান করবেন যা করতে মানুষ অক্ষম, ফলে তা তাঁর রিসালাতের সত্যতার নিদর্শন হতো, যেমনটি তিনি ঈসা আলাইহিস সালামকে মৃতকে জীবিত করার সক্ষমতা দিয়েছিলেন। এই কারণেই আইম্মায়ে কিরাম সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার সালাতে এমন শব্দ পাঠ করে যাতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একক ছিলেন: তার সালাত বৈধ হবে না, যেমনটি সে যদি রাসূলের কোনো সংবাদ (হাদিস) পাঠ করত।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তাহলে কুরআনের দলীল কি মুতাওয়াতির বর্ণনা, মুসহাফের মলাট নয়?

আমরা বলি: সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম অন্তরে হিফয করার পর কুরআনকে মুসহাফে লিপিবদ্ধ করেছেন কেবলমাত্র একে হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করার জন্য। এমনকি তাঁরা প্রতি দশ আয়াতের চিহ্ন প্রদান এবং সূরার শিরোনাম লেখা অপছন্দ করেছেন এবং কেবল মূল পাঠ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তাঁরা এতে তাই লিপিবদ্ধ করেছেন যা তাঁদের নিকট মুতাওয়াতির বর্ণনায় পৌঁছেছে এবং যার ওপর এর أهل (পারদর্শীগণ) একমত হয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাণ্ডুলিপি ও এর বিন্যাস যার সাক্ষ্য দেয়।

যদি প্রশ্ন করা হয়: 'তাসমিয়াহ' (বিসমিল্লাহ) তো ওহীর কলমে লিখিত অবস্থায় মুসহাফের মলাটের মাঝে প্রতিটি সূরার শুরুতে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, অতঃপর তাঁরা একে সূরার আয়াত হিসেবে গণ্য করেননি কেন?

আমরা বলি: আমাদের সাথীগণ (উলামায়ে আহনাফ) সালাত আদায়কারীর ক্ষেত্রে বলেছেন যে; সে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইবে, অতঃপর কিরাত শুরু করবে এবং 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংগোপনে পড়বে। ফলে তাঁরা একে ছানা (প্রশংসা) থেকে আলাদা করেছেন এবং কুরআনের কিরাতের সাথে যুক্ত করেছেন। এই সাধারণ প্রয়োগ প্রমাণ করে যে এটি তাঁদের নিকট কুরআনের অন্তর্ভুক্ত। তবে তাঁরা বলেছেন: সে তা সংগোপনে পড়বে, যেমনটি তাঁরা শেষ দুই রাকাতে কিরাত সংগোপনে পড়ার কথা বলেছেন, যাতে জানা যায় যে এটি ফাতিহার কোনো আয়াত নয়, বরং তা বরকতের জন্য পড়া হয়েছে, কিরাতের ফরয আদায়ের জন্য নয়। কেননা ফাতিহা শরীয়ত কর্তৃক সেই উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাসমিয়াহ হলো কুরআনের একটি আয়াত যা সূরাসমূহের মাঝে পার্থক্য করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وللبدء تبركاً بها فكتبت بقلم الوحي لأنها آية من الكتاب، وكتبت بخط على حدة غير موصولة بالسورة لأنها ليست من تلك السورة، وكيف تثبت التسمية آية من كل سورة مع اختلاف الناس والأخبار، وأدون أحوال الاختلاف المعتبر إيراد شبهة، والقرآن لا يثبت مع الشبهة.

فإن قيل: إنكم أخذتم بقراءة عبد الله بن مسعود رضي الله عنه في كفارة اليمين: "فصيام ثلاثة أيام متتابعات" فشرطتم التتابع لجواز الكفارة.

قلنا: أخذنا بها عملاً بها كما لو روي خبر عن الرسول عليه السلام لأنه ما قرأها إلا نقلاً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما لم يثبت قرآناً لفوات شرطه بقي خبراً.

فإن قيل: فهلا أخذتم بأخبار التسمية الدالة على أنها من الفاتحة عملاً بها من حيث الجهر بها في الصلاة، وحرمة القراءة على الحائض والجنب التي هي من حكم القرآن.

قلنا: لأنا متى صرفناها إلى أن التسمية في حكم الفاتحة لم تكن حكماً لها بظاهر ما توجبه التسمية لغة بل كان عملاً بمقتضى أنها من القرآن، ولا عموم للمقتضى عندنا، وإنما يوجب العمل به بأدنى ما لا بد منه.

والحرمة على الحائض لا بد منها، ولم يرو عن أصحابنا شيء في إباحة القراءة لها.

فأما الجهر بها في الصلاة فمما لا يجب لا محالة بحكم أنها من الفاتحة على ما بينا أنه لا يجهر بها في الأخريين.

ولأن متى لم تثبت التسمية آية من القرآن على قول بعضهم بقيت خبراً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولو كانت خبراً لم يكن من حكمه الجهر بقراءته ولا حرمته على الجنب لغة.

فإما الكلام في أن القرآن حجة:

فإنه كلام الله تعالى، وقد ثبت ان الله تعالى لا يتكلم بالباطل، وبالله التوفيق.
বরকত অর্জনের লক্ষ্যে এটি দিয়ে শুরু করা হয়েছে। এটি ওহীর কলম দিয়ে লেখা হয়েছে কারণ এটি কিতাবের একটি আয়াত। এটি একটি স্বতন্ত্র লাইনে লেখা হয়েছে এবং সূরার সাথে যুক্ত করা হয়নি, কারণ এটি সেই সূরার অংশ নয়। মানুষ ও বর্ণনার পার্থক্যের মাঝে কীভাবে তাসমিয়াহ প্রতিটি সূরার অংশ হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে? মতভেদের ন্যূনতম বিচার্য অবস্থাও সংশয় সৃষ্টি করে, আর সংশয় থাকলে কুরআন সাব্যস্ত হয় না।

যদি বলা হয়: আপনারা শপথের কাফফারার ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কিরাআত গ্রহণ করেছেন: "টানা তিন দিন রোজা রাখা", অতঃপর আপনারা কাফফারা বৈধ হওয়ার জন্য ধারাবাহিকতাকে শর্ত করেছেন।

আমরা বলি: আমল করার উদ্দেশ্যে আমরা তা গ্রহণ করেছি, যেমনটি রাসূল আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত সংবাদের ক্ষেত্রে করা হয়। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা হিসেবেই তা পাঠ করেছেন। যখন কুরআনের শর্তসমূহ না পাওয়ার কারণে এটি কুরআন হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি, তখন এটি একটি সংবাদ হিসেবে অবশিষ্ট থাকল।

যদি বলা হয়: তবে আপনারা তাসমিয়াহ সংক্রান্ত সেই সংবাদগুলো কেন গ্রহণ করলেন না যা নির্দেশ করে যে এটি ফাতিহার অংশ? অর্থাৎ—নামাজে তা উচ্চস্বরে পাঠ করা এবং ঋতুবতী ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা হারাম হওয়া—যা কুরআনের বিধানভুক্ত।

আমরা বলি: কারণ আমরা যখন তাসমিয়াহকে সূরা ফাতিহার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করি, তখন তা ভাষাগত দিক থেকে তাসমিয়াহর বাহ্যিক অর্থের অপরিহার্য বিধান হিসেবে নয়, বরং এটি কুরআনের অংশ হওয়ার চাহিদার ভিত্তিতে করা হয়। আমাদের নিকট এই চাহিদার কোনো ব্যাপকতা নেই; বরং এর দ্বারা কেবল ততটুকু আমল করা ওয়াজিব হয় যতটুকু অপরিহার্য।

ঋতুবতী নারীর জন্য এর নিষিদ্ধতা অপরিহার্য, আর আমাদের ইমামদের থেকে এটি পাঠ করার বৈধতা সম্পর্কে কিছুই বর্ণিত হয়নি।

নামাজের মধ্যে এটি উচ্চস্বরে পড়ার বিষয়টি সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার কারণে অপরিহার্যভাবে ওয়াজিব হয় না, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে শেষ দুই রাকাআতে তা উচ্চস্বরে পড়া হয় না।

কারণ কারো কারো মতে তাসমিয়াহ যখন কুরআনের আয়াত হিসেবে সাব্যস্ত হয় না, তখন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি সংবাদ হিসেবে গণ্য হয়।

আর যদি এটি কেবল সংবাদ হয়, তবে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি উচ্চস্বরে পাঠ করা বা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা হারাম হওয়ার বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

কুরআন যে একটি দলিল, সেই প্রসঙ্গে কথা হলো: নিশ্চয়ই এটি আল্লাহ তাআলার কালাম। আর এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ তাআলা কোনো মিথ্যা কথা বলেন না। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌القول في تحديد المتواتر وكونه حجة موجبة

اختلفت العبارات في حد المتواتر، والمختار عندنا؛ ما تواتر نقله أي: اتصل بك من النبي صلى الله عليه وسلم بتتابع النقل.

يقال: تواترت الكتب أي: اتصل بعضها ببعض بتتابع الورود.

ولا تثبت حقيقة الاتصال إلا بعد ارتفاع شبهة الانفصال ومتى ارتفعت الشبهة ضاهى المتصل منه بك بحاسة سمعك.

فطريق هذا الاتصال أن ينقله إليك قوم لا يتوهم في العادات تواطؤهم على الكذب لكثرتهم، لأن الناس على همم شتى تبعثهم على العمل بموافقتها ما يرجعون عنها إلى سنن واحد، إلا عن أصل آخر جامع مانع وذلك سماع اتبعوه أو اتفاق صنعوه، فمتى بطل وهم الاجتماع تعين لهم السماع.

ألا ترى أنك علمت بكون السماء فوقنا، كذلك قبلنا بالسماع كما علمتها للحال بالرؤية.

وعلمت أباك سماعاً حسب ما علمك أبوك عياناً.

ثم إنه حجة بمنزلة آية من كتاب الله تعالى لأنه قد ثبت بالدلائل أن النبي صلى الله عليه وسلم معصوم عن الكذب والكلام بالباطل، ولأن كتاب الله تعالى ما ثبت إلا بخبره، وعلى هذا أسئلة ذكرناها في باب "مراتب الأخبار" من بعد.
মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত সংবাদের) সংজ্ঞা এবং এটি অকাট্য দলিল হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা

মুতাওয়াতির-এর সংজ্ঞায় বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। আমাদের নিকট পছন্দনীয় মত হলো: যার বর্ণনাপরম্পরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এসেছে; অর্থাৎ বর্ণনার ধারাবাহিকতার মাধ্যমে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আপনার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বলা হয়ে থাকে: কিতাবসমূহ ‘তওয়াতুর’ হয়েছে, অর্থাৎ আগমনের ধারাবাহিকতায় একটির পর একটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে।

বিচ্ছিন্নতার সন্দেহ দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত সংযোগের বাস্তবতা সাব্যস্ত হয় না। আর যখন সন্দেহ দূর হয়ে যায়, তখন আপনার নিকট যা পৌঁছেছে তা আপনার শ্রবণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিষয়ের সমতুল্য হয়ে যায়।

এই সংযোগের পথ হলো, এমন একদল লোক আপনার নিকট এটি বর্ণনা করবেন যাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে অভ্যাসগতভাবে মিথ্যার ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অকল্পনীয়। কারণ মানুষের সংকল্প বা উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে যা তাদের সেই অনুযায়ী কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তারা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির দিকে ফিরে আসে না, যতক্ষণ না কোনো ব্যাপক ও সংহত মূল ভিত্তি থাকে। আর সেটি হলো হয় তাদের শোনা কোনো বিষয় যা তারা অনুসরণ করেছে, অথবা কোনো সুপরিকল্পিত সমঝোতা। সুতরাং যখন মিথ্যা বলার জন্য সমবেত হওয়ার ধারণা বাতিল হয়ে যায়, তখন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুনে বর্ণনা করার বিষয়টিই সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়।

আপনি কি দেখেন না যে, আপনি জানেন আসমান আমাদের উপরে অবস্থিত? ঠিক তেমনিভাবে শ্রুতির মাধ্যমে আমরা তা গ্রহণ করেছি, যেমনটি আপনি বর্তমান অবস্থায় দেখার মাধ্যমে জেনেছেন।

আর আপনি আপনার পিতাকে শ্রুতির মাধ্যমেই জেনেছেন, যেভাবে আপনার পিতা আপনাকে চাক্ষুষ দেখার মাধ্যমে চিনেছেন।

অতঃপর এটি আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি আয়াতের ন্যায় দলিল বা প্রমাণ। কেননা দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা ও বাতিল কথা বলা থেকে পবিত্র বা নিষ্পাপ। এছাড়া আল্লাহ তাআলার কিতাবও তাঁর সংবাদের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে। এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে যা আমরা পরবর্তীতে "সংবাদের স্তরসমূহ" অধ্যায়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القول في بيان أن الإجماع من هذه الأمة حجة

إجماع هذه الأمة حجة موجبة للعلم شرعاً، كرامة لهذا الدين، لدلالة أن المجوس اجتمعت على أشياء كانت باطلة، وكذلك النصارى واليهود وسائر الكفرة، وهم أكثر منا عدداً.

ولأن الإجماع جائز من الخلق اتباعاً للآباء من غير حجة بطباعهم كما فعلت الكفرة، فلا يصير عينه حجة فثبت أن إجماعنا جعل حجة شرعاً وذلك بقوله تعالى: {الله ولي الذين آمنوا يخرجهم من الظلمات إلى النور}.

أخبر أنه يخرج المؤمنين من ظلمات الكفر والباطل إلى نور الإيمان والحق، ولو جاز إجماعهم على الباطل لكانوا في ظلمة فكيف يكون خلاف ما أخبر الله تعالى وأنه لا يجوز.

وقال الله تعالى: {هو الذي يصلي عليكم وملائكته ليخرجكم من الظلمات إلى النور}.

وقال: {كنتم خير أمة أخرجت للناس} وكلمة خير بمعنى أفعل فيدل على نهاية الخيرية ونفس الخيرية في كينونة العبد مع الحق، والنهاية في كينونته مع الحق على الحقيقة، فدل صفة الخير وهو بمعنى أفعل على أنهم مصيبون لا محالة الحق الذي هو حق عند الله تعالى إذا أجمعوا على شيء، وإن ذلك الحق لا يعدوهم إذا اختلفوا.

وكذلك قال الله تعالى: {تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر} والمعروف والمنكر على الإطلاق ما كان معروفاً ومنكراً عند الله.

فأما الذي يؤدي إليه رأي المجتهد من غير إصابة ما عند الله تعالى فمعروف ومنكر في حقه ورأيه لا أن يكون معروفاً ومنكراً مطلقاً، فكان هذا بياناً لصدر الآية في أن كانوا خير أمة بهذا السبب وهو إصابة المعروف المطلق.

فإن قيل: معنى قوله "تأمرون" أي: يأمر كل واحد منكم كقولك: لبس القوم ثيابهم، وقول كل واحد ليس بحجة.

قلنا: نعم، فيجب إذا أمر كل واحد منهم بمعروف أن يكون المعروف المطلق في جملة ما أمروا.

وقال تعالى: {وكذلك جعلناكم أمة وسطاً} والوسط في اللغة: من يرتضى قوله.

وقال الله تعالى: {قال أوسطهم ألم أقل لكم} أي أرضاهم قولاً، ومطلق
এই উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত্য) যে একটি দলিল বা প্রমাণ, তার বর্ণনায় আলোচনা

এই উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত্য শরীয়তের দৃষ্টিতে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী একটি অকাট্য দলিল। এটি এই দ্বীনের প্রতি এক বিশেষ সম্মাননা। কেননা এটি সুস্পষ্ট যে, মজুসিরা (অগ্নিউপাসক) এমন অনেক বিষয়ে একমত হয়েছিল যা ছিল বাতিল। অনুরূপভাবে নাসারা, ইহুদি এবং অন্যান্য কাফেররাও বাতিল বিষয়ে একমত হয়েছে, যদিও তারা সংখ্যায় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

আর যেহেতু মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেবল পিতৃপুরুষদের অনুসরণে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব, যেমনটি কাফেররা করেছে, তাই কেবল ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেই কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল নয়। ফলে এটি প্রমাণিত হলো যে, আমাদের ইজমাকে শরীয়তগতভাবে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত: "আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।"

তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুমিনদের কুফর ও বাতিলের অন্ধকার থেকে ঈমান ও সত্যের আলোর দিকে বের করে আনেন। যদি তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া বাতিলের ওপর হওয়া সম্ভব হতো, তবে তারা অন্ধকারেই নিমজ্জিত থাকত। অথচ আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন তার বিপরীত হওয়া কীভাবে সম্ভব? আর তা তো অসম্ভব।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও (তোমাদের জন্য দোয়া করে), যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা যায়।"

তিনি আরও বলেছেন: " তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণে যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে।" এখানে 'খাইর' (শ্রেষ্ঠ) শব্দটি 'আফ'আলু' (তথা আধিক্যসূচক শ্রেষ্ঠত্ব) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায়কে নির্দেশ করে। আর প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব হলো বান্দার সত্যের সাথে থাকা। আর সত্যের সাথে চূড়ান্তভাবে থাকার অর্থ হলো প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর নিকট যা সত্য তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা। সুতরাং শ্রেষ্ঠত্ব গুণটি—যা আধিক্য বা চূড়ান্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—তা একথাই প্রমাণ করে যে, তারা যখন কোনো বিষয়ে একমত হবে, তখন তারা অবশ্যই আল্লাহর নিকট যে সত্যটি সত্য হিসেবে পরিগণিত, তা সঠিকভাবে প্রাপ্ত হবে। আর তারা যদি মতভেদও করে, তবে সেই সত্য তাদের (সামগ্রিক অবস্থানের) বাইরে যাবে না।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা সৎকাজের আদেশ করো এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো।" এখানে নিঃশর্তভাবে 'মারুফ' (সৎকাজ) এবং 'মুনকার' (অসৎকাজ) বলতে তাই বোঝায় যা আল্লাহর নিকট সৎ ও অসৎ হিসেবে পরিগণিত।

পক্ষান্তরে, মুজতাহিদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত যদি আল্লাহর নিকট যা (সত্য) রয়েছে তার সাথে না মেলে, তবে তা কেবল তার অধিকার ও তার মতামতের প্রেক্ষিতেই সৎ বা অসৎ হিসেবে গণ্য হবে, তা ঢালাওভাবে বা নিঃশর্তভাবে সৎ বা অসৎ হবে না। সুতরাং এটি আয়াতের প্রথমাংশের একটি ব্যাখ্যা যে, তারা 'শ্রেষ্ঠ উম্মত' হওয়ার কারণ হলো এই—অর্থাৎ পরম সত্যের বা পরম ন্যায়ের ওপর উপনীত হওয়া।

যদি বলা হয়: "তোমরা আদেশ করো" বাক্যটির অর্থ হলো: তোমাদের প্রত্যেকেই আলাদাভাবে আদেশ করো; যেমনটি বলা হয়—'লোকেরা তাদের পোশাক পরিধান করেছে'। আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক কথা কোনো অকাট্য দলিল নয়।

আমরা উত্তরে বলব: হ্যাঁ, তবে তাদের প্রত্যেকে যখন কোনো সৎকাজের আদেশ দেয়, তখন তাদের সেই সম্মিলিত আদেশের সামগ্রিকতার মধ্যেই প্রকৃত বা পরম সৎকাজটি অন্তর্ভুক্ত থাকা অপরিহার্য।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি।" ভাষাগতভাবে 'ওয়াসাত' বা মধ্যপন্থী বলা হয় তাকে, যার কথা পছন্দনীয় বা গ্রহণযোগ্য।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "তাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ (মধ্যপন্থী) ছিলেন, তিনি বললেন—আমি কি তোমাদেরকে বলিনি?" অর্থাৎ যার কথা ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। আর নিঃশর্তভাবে
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الارتضاء في إصابة الحق عند الله تعالى لأن الخطأ في الأصل مردود ومنهي عنه، إلا أن المخطئ ربما يعذر بسبب عجزه ويؤجر على قدر طلبه للحق بطريقه لا أن يكون الخطأ بعينه مرضياً عند الله تعالى.

وقال تعالى: {لتكونوا شهداء على الناس} والشاهد: اسم لمن ينطق عن علم ولمن قوله حجة.

فدل النص على أن لهم علماً بما على الناس من الأحكام، وأن أقوالهم حجة على الناس في حق الله تعالى.

والله تعالى عالم بحقائق الأمور فلا تثبت الحجة حجة في حقه على حكمه إلا ما أوجب العلم يقيناً قطعاً.

بخلاف حجج العباد لأنا لا نقف على حقوقنا إلا من طريق الظاهر فكانت حجتنا ثابتة وفاق حقوقنا.

وكذلك خبر الله تعالى عن علمهم لا يقع إلا حقيقة. ألا ترى أن الله تعالى شبه شهادتنا على الناس بشهادة الرسول علينا فقال الله تعالى: {ويكون الرسول عليكم شهيداً} وشهادة الرسول موجبة للعلم قطعاً فكذلك شهادتنا.

ولأن شهادة جماعتنا لو لم تكن موجبة علماً كالوحي لصارت معارضة بشهادة غيرنا بآرائهم فلا تبقى حجة.

فإن قيل إن الآية وردت في أمور الآخرة!.

قلنا: لا تفصيل في الآية، ولأن شهادة أداء في مجلس القضاء بما علمنا في الدنيا.

فلو لم تكن شهادتنا حجة موجبة للعلم قطعاً لما طلب أداؤها في مجلس الحكم للقضاء بها، والقاضي علام الغيوب لا يقضي إلا بالثابت حقاً على الحقيقة.

ومتى احتمل علمنا للحال الخطأ لم تكن شهادتنا موجبة علماً لا يحتمل الخطأ.

ولن الله تعالى حيث نص على الآخرة خص الرسول عليه السلام بالشهادة فقال: {وجئنا بك على هؤلاء شهيدًا} وقال: {ويوم نبعث في كل أمة شهيداً عليهم من أنفسهم} ولم يقل شهيداً من أمتك فلت هاتان الآيتان على أن المراد بشهادة الأمة الشهادة في الدنيا.

فإن قيل: إن المراد بها في نقل القرآن والأخبار.

قلنا: لا تفصيل في الآية، ولأنه لا ذكر للمشهود به فتعين المشهود به لتعليق الحكم به زيادة على كتاب الله تعالى وذلك يجري مجرى النسخ على ما يأتيك بيانه فلا يكون تأويلاً.
মহান আল্লাহর নিকট সন্তুষ্টি কেবল সত্য প্রাপ্তির মধ্যেই নিহিত, কারণ ভ্রান্তি বা ভুল মূলগতভাবেই প্রত্যাখ্যাত ও নিষিদ্ধ। তবে ভুলকারী ব্যক্তি তার অক্ষমতার কারণে কখনো মার্জনা পেতে পারে এবং সঠিক পদ্ধতিতে তার সত্য অন্বেষণের প্রচেষ্টা অনুযায়ী সওয়াব পেতে পারে; এর অর্থ এই নয় যে স্বয়ং ভুলটিই আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়।

আর মহান আল্লাহ বলেন: {যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হও}। আর 'সাক্ষী' (শহীদ) হলো এমন ব্যক্তির নাম যে জ্ঞানের ভিত্তিতে কথা বলে এবং যার কথা দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

সুতরাং এই নস (পাঠ) প্রমাণ করে যে, মানুষের উপর অর্পিত বিধানসমূহ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান রয়েছে এবং মহান আল্লাহর হকের ব্যাপারে মানুষের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত।

আর মহান আল্লাহ বিষয়াদির হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। সুতরাং তাঁর হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁর হকের সপক্ষে এমন কিছু ব্যতীত কোনো দলিলই দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না যা নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে।

বান্দাদের দলিলসমূহের বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা আমরা বাহ্যিক মাধ্যম ব্যতীত আমাদের অধিকারসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারি না। ফলে আমাদের দলিল আমাদের অধিকারসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে।

তদ্রূপ তাদের জ্ঞান সম্পর্কে মহান আল্লাহর সংবাদ প্রদান কেবল প্রকৃত অর্থেই বাস্তবায়িত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, মহান আল্লাহ মানুষের উপর আমাদের সাক্ষ্যপ্রদানকে আমাদের উপর রাসূলের সাক্ষ্যপ্রদানের সাথে তুলনা করেছেন? মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হবেন}। আর রাসূলের সাক্ষ্য অকাট্যভাবে জ্ঞান প্রদান করে, সুতরাং আমাদের সাক্ষ্যও তদ্রূপ।

অধিকন্তু আমাদের জামাতের (সমষ্টির) সাক্ষ্য যদি ওহীর ন্যায় নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী না হতো, তবে তা অন্যের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া সাক্ষ্য দ্বারা বাধাগ্রস্ত হতো; ফলে তা আর দলিল হিসেবে অবশিষ্ট থাকত না।

যদি বলা হয় যে, এই আয়াতটি পরকালের বিষয়াদি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে!

আমরা বলি: আয়াতে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তদুপরি এটি দুনিয়াতে আমাদের অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে বিচারকার্যের মজলিসে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়।

আমাদের সাক্ষ্য যদি অকাট্য জ্ঞান প্রদানকারী দলিল না হতো, তবে এর মাধ্যমে ফয়সালা করার জন্য বিচারিক মজলিসে তা পেশ করার দাবি জানানো হতো না। আর বিচারক (আল্লাহ) তো অদৃশ্য বিষয়ের পরিজ্ঞাত, তিনি প্রকৃতপক্ষে সত্য হিসেবে প্রমাণিত বিষয় ব্যতীত কোনো ফয়সালা করেন না।

আর যখনই বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ভুলের সম্ভাবনা রাখবে, তখন আমাদের সাক্ষ্য এমন জ্ঞান প্রদানকারী হবে না যা ভুলের ঊর্ধ্বে।

যেহেতু মহান আল্লাহ যেখানে পরকাল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, সেখানে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য রাসূল (আলাইহিস সালাম)-কে নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: {এবং আমি আপনাকে এদের উপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব}। তিনি আরও বলেছেন: {এবং সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে তাদের বিপক্ষে তাদেরই একজনকে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করাব}। তিনি 'আপনার উম্মত থেকে সাক্ষী' এ কথা বলেননি। সুতরাং এই দুই আয়াত প্রমাণ করে যে, উম্মতের সাক্ষ্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার বুকে সাক্ষ্য প্রদান।

যদি বলা হয়: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন এবং হাদীস বর্ণনা বা আদান-প্রদান করা।

আমরা বলি: আয়াতে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তাছাড়া এখানে কিসের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দেওয়া হবে তার কোনো উল্লেখ নেই। সুতরাং হুকুমের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু নির্দিষ্ট করে দেওয়া আল্লাহর কিতাবের উপর অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে। আর অতিরিক্ত সংযোজন নসখের (রহিতকরণ) স্থলাভিষিক্ত হয়—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে—তাই এটি কোনো ব্যাখ্যা (তাবিল) হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولأن نقل المتواتر لا يثبت إلا بقوم لا يجوز تواطؤهم على الكذب في العادات لكثرتهم، والإجماع من علماء الأمة حجة وإن كانوا ثلاثة أو خمسة أو عشرة، وجاز تواطؤهم على الكذب عادة.

فإن قيل: إن جعلهم الله تعالى وسطاً ليكونوا حجة لا يدل على امتناع إجماعهم على الضلالة كما قال الله تعالى: {وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} أخبر أنه خلقهم ليعبدوه ثم لم يمتنع إجماعهم على ترك العبادة.

قلنا: لأن معنى قوله تعالى: {لتكونوا شهداء على الناس} بجعل الله تعالى وإكرامه إياهم بأن جعلهم وسطاً، واصطفاهم حتى كانوا وسطاً فصاروا شهداء عن علم بإصابتهم الحق بهذه الصفة، كما خلقهم الله أحراراً ليكونوا من أهل ملك ما سواهم، فكانت اللام لبيان حكم صفة الوساطة التي من الله تعالى بها عليهم فحقيقتها تقتضي ثبوت الحكم إذا ثبتت العلة كما تثبت أهلية الملك إذا ثبتت الحرية، على هذا موجب اللغة.

وكما خلق الله الأنبياء عليهم السلام معصومين عن الكذب والباطل، وكذلك الملائكة حتى كان قولهم موجباً علم اليقين إلا أن الحقيقة تركت في قوله: {ليعبدون} إذ لو عمل بها لاقتضت وقوع العبادة على سبيل الجبر حكاً للتخليق.

والمطلوب منا عبادة يوصف العبد بالاختيار في فعلها فبهذه الدلالة علمنا ان المراد بها: وما خلقت الجن والإنس إلا وعليهم عبادتي، وما منا أحد غلا وعليه أمانة الله تعالى التي حملها الإنسان على ما يأتيك سلاحه على التفصيل.

ونظير قوله: {لتكونوا شهداء على الناس} قوله: {ويكون الرسول عليكم شهيداً} فإن قيل: خبر الواحد حجة في حق الله تعالى وكذا القياس ولا يوجبان العلم قطعاً!.

قلنا: أصل الحجة خبر الرسول، وخبره يوجب العلم قطعاً، والشبهة وقعت في النقل وتحمل ذلك لضرورة.

وأما القياس فليس بحجة لنصب الحكم ولكن لتعديه حكم ثبت بنص أصله موجب للعلم إلى محل لم يتناوله النص.

والكلام في الأصل والإجماع من قبلهم حجة لحكم لا نص فيه كرامة لهم على ما قال: {كنتم خير امة اخرجت للناس}، وقال: {لتكونوا شهداء} أثبت تلك الصفة لهم من قبله لا من قبلهم على ما مر.

على أنا لم نجعلهما حجة في حق العلم بما عند الله تعالى بل في حق العمل الذي يلزمنا بهما.
কারণ মুতাওয়াতির বর্ণনা কেবল এমন একদল লোক দ্বারা প্রমাণিত হয় যাদের আধিক্যের কারণে স্বাভাবিকভাবে মিথ্যার ওপর একতাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব। অন্যদিকে, উম্মতের আলেমদের ইজমা (ঐক্যমত) একটি দলিল, যদিও তারা সংখ্যায় তিন, পাঁচ বা দশজন হন; অথচ স্বাভাবিকভাবে এত অল্প সংখ্যক লোকের মিথ্যার ওপর একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব।

যদি বলা হয়: আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যপন্থী ও শ্রেষ্ঠ করেছেন যাতে তারা দলিল হতে পারেন—একথাটি তাদের পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয় না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অথচ তাদের ইবাদত বর্জনের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েনি।

আমরা বলি: কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী "যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো" এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের মধ্যপন্থী হিসেবে নির্ধারণ করা এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তিনি তাদের মনোনীত করেছেন যাতে তারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন এবং সেই গুণের কারণে হকের সাথে সম্পৃক্ত থেকে জ্ঞানের ভিত্তিতে সাক্ষী হতে পারেন। ঠিক যেমন আল্লাহ তাদের স্বাধীন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা অন্য সবকিছুর মালিক হওয়ার যোগ্য হন। এখানে 'লাম' (অক্ষরটি) সেই মধ্যপন্থা বা শ্রেষ্ঠত্বের গুণের বিধান বর্ণনার জন্য এসেছে যা আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে দান করেছেন। সুতরাং এর প্রকৃত অর্থ বিধানটি সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে যখন কারণটি সাব্যস্ত হয়, যেমন স্বাধীনতা সাব্যস্ত হলে মালিকানার যোগ্যতা সাব্যস্ত হয়। ভাষার দাবি অনুযায়ী বিষয়টি এমনই।

এবং যেমন আল্লাহ নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মিথ্যা ও বাতিল থেকে নিষ্পাপ করে সৃষ্টি করেছেন, তদ্রূপ ফেরেশতাদেরও; যার ফলে তাদের কথা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। তবে "যাতে তারা ইবাদত করে" আয়াতের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; কারণ যদি সেটি গ্রহণ করা হতো তবে সৃষ্টির হুকুম অনুযায়ী বাধ্যবাধকতামূলকভাবে ইবাদত সংঘটিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত।

অথচ আমাদের কাছে এমন ইবাদত কাম্য যাতে বান্দার কার্যে ইচ্ছাশক্তি বিদ্যমান থাকে। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই আমরা জেনেছি যে, আয়াতের উদ্দেশ্য হলো: "আমি জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করিনি তবে তাদের ওপর আমার ইবাদত করা আবশ্যক।" এবং আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ওপর আল্লাহর আমানত অর্পিত নেই, যা মানুষ বহন করেছে, যেমনটি বিস্তারিত বর্ণনায় আপনার কাছে উপস্থাপিত হবে।

আর "যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও" বাণীর অনুরূপ হলো তাঁর বাণী "এবং রসূল যেন তোমাদের ওপর সাক্ষী হন"। যদি বলা হয়: খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে দলিল এবং কিয়াসও তদ্রূপ, অথচ এ দুটি অকাট্যভাবে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না!

আমরা বলি: দলিলের মূল ভিত্তি হলো রসূলের বাণী, আর তাঁর বাণী অকাট্যভাবে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। বর্ণনার ক্ষেত্রে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা গ্রহণ করা হয়েছে।

আর কিয়াসের কথা যদি বলা হয়, তবে কিয়াস কোনো বিধান প্রবর্তনের দলিল নয়; বরং এটি এমন এক বিধানকে সম্প্রসারিত করার জন্য যা মূল দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত এবং যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, এমন এক ক্ষেত্রে যা মূল দলিলে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর মূল বিষয়ে আলোচনা হলো, যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দলিল নেই সেখানে তাদের পক্ষ থেকে ইজমা দলিল হিসেবে গণ্য হওয়া মূলত তাদের প্রতি এক প্রকার সম্মাননা। যেমন আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে" এবং তিনি বলেছেন: "যাতে তোমরা সাক্ষী হও"। তিনি তাদের এই গুণটি নিজের পক্ষ থেকে সাব্যস্ত করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে নয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

তদুপরি আমরা এই দুইটিকে আল্লাহর নিকট যা রয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করি না, বরং সেই আমলের ক্ষেত্রে দলিল মনে করি যা পালন করা আমাদের জন্য আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويجوز ذلك في حق ما عندنا لأنا لم نؤت في كل شيء علم الحقيقة كما نعمل بالشهادات، وهي لا توجب العلم قطعاً وقال: {ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى} الآية ولو جاز إجماعهم على الضلالة لما كان مخالفتهم نظيراً لمشاقة الرسول.

فلما جعل مخالفتهم أحد شطري استيجاب النار علم أنها مثل الشطر الآخر.

وقال: {وليمكنن لهم دينهم الذي ارتضى لهم} والذي ارتضاه الله تعالى لنا هو الذي هو حق عنده دون الخطأ، وإن عذر الله المجتهد على خطئه وأثابه على قدر طلبه فإن الثواب قابل الطلب لكونه مصيباً فيه.

والدين اسم للمطلوب وقد جاء عن الرسول عليه السلام من غير واحد: "إن الله تعالى لا يجمع أمتي على الضلالة" وقد جاء الوعيد بمخالفة الجماعة وهو قوله عليه السلام: "من خالف الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه" وقد صنف الناس في هذا الباب، وأوردوا من المشاهير ما يوجب العلم وكتابنا هذا كان يضيق عن ذكرها على الاستقصاء فاكتفينا بالكتاب وبالإشارة إلى السنة.

فإن قال قائل: إن الاختلاف وقع من إجماع انعقد عن رأي او خبر واحد وإنهما لا يوجبان العلم فكيف أوجب العلم إجماع تفرع عنهما؟

قلنا: اتصالهما بالإجماع وقد ثبت بالأدلة أن الكل عصموا عن الباطل كان بمنزلة الاتصال برسول الله صلى الله عليه وسلم وتقريره على ذلك، او الاتصال بآية من كتاب الله تعالى وغير مستنكر أن لا يصيب الواحد الحق برأيه، ويصيب إذا قوي بآراء مثله، كما يجوز ضعفه عن حمل شيء ثقيل وقدرته عليه مع غيره.

فإن قيل: قال الله تعالى: {يا أهل الكتاب لم تصدون عن سبيل الله} إلى قوله: {وأنتم شهداء}.

قلنا: يحتمل أن يقال؛ أن إجماعهم كان حجة ما داموا متمسكين بالكتاب، وإنما لم نجعل اليوم إجماعهم حجة لأنهم كفروا به وإنما ينسبون إلى الكتاب بدعواهم لأن تأويل الآية: {وأنتم شهداء} بما فيه نبوة محمد صلى الله عليه وسلم فلم لا تشهدون بالحق، ألا ترى أنه قال: {وإذ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب لتبيننه للناس} يعني الكتاب وهو الذي سبق ذكره، وابتدأ الآية بقوله: {يا أهل الكتاب لم تصدون عن سبيل الله من آمن تبغونها عوجاً وأنتم شهداء} فثبت أنهم شهداء بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم وبنقل ما في الكتاب لا غير.
এটি আমাদের ক্ষেত্রে জায়েজ (অনুমোদিত), কারণ আমাদের প্রতিটি বিষয়ে হাকীকত বা প্রকৃত রহস্যের জ্ঞান দান করা হয়নি, যেমন আমরা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আমল করি, অথচ তা অকাট্যভাবে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। আর তিনি বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাব যেদিকে সে ফিরেছে।" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। যদি তাদের (মুমিনদের) পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব হতো, তবে তাদের বিরোধিতা করা রাসূলের বিরোধিতার সমতুল্য হতো না।

অতঃপর যখন তাদের বিরোধিতা করাকে জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার দুটি কারণের একটি করা হয়েছে, তখন জানা গেল যে এটি অপর অংশের মতোই (গুরুত্বপূর্ণ)।

এবং তিনি বলেছেন: "এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন।" আর আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন তা-ই তাঁর নিকট সত্য, ভুল নয়। যদিও আল্লাহ মুজতাহিদকে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করেন এবং তার অন্বেষণের পরিমাণ অনুযায়ী সওয়াব দান করেন, তবে সেই সওয়াব মূলত সত্য অন্বেষণে সচেষ্ট হওয়ার কারণেই প্রাপ্য হয়।

আর 'দ্বীন' হলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের নাম। রাসূল (আলাইহিস সালাম) থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না।" জামাআতের বিরোধিতার ব্যাপারে সতর্কবাণীও এসেছে, যা তাঁর (রাসূলের) বাণী: "যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্যুত হলো, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলল।" এ বিষয়ে উলামাগণ কিতাব রচনা করেছেন এবং এমন অনেক প্রসিদ্ধ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আমাদের এই কিতাব সেসবের বিস্তারিত বর্ণনার জন্য সংক্ষিপ্ত, তাই আমরা কুরআন এবং সুন্নাহর ইশারার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি।

যদি কেউ বলে: ইজমা বা ঐকমত্য তো কোনো রায় (বিচক্ষণ মতামত) বা খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) থেকে তৈরি হয়, অথচ এই দুটি তো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না; তবে কীভাবে সেই ইজমা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করবে যা এই দুটি থেকে উৎসারিত হয়েছে?

আমরা বলি: ইজমার সাথে এগুলোর সংশ্লিষ্টতা—যেখানে দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে উম্মতের সমষ্টি বাতিল বা ভুল থেকে সুরক্ষিত—তা মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া এবং এই বিষয়ে তাঁর মৌন সম্মতির সমতুল্য, অথবা আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার মতো। কোনো একজন ব্যক্তির রায়ের মাধ্যমে সত্যে উপনীত হতে না পারা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যখন তা সমপর্যায়ের অন্যান্য রায়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় তখন তা সত্যে উপনীত হয়; যেমন কোনো ভারী বস্তু বহন করতে একজন অক্ষম হলেও অন্যদের সহযোগিতায় সে সক্ষম হয়।

যদি বলা হয়: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কেন আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছ..." তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "অথচ তোমরা সাক্ষী।"

আমরা বলি: সম্ভবত এটি বলা যেতে পারে যে, তাদের ইজমা ততক্ষণ পর্যন্ত হুজ্জত (দলিল) ছিল যতক্ষণ তারা কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছিল। বর্তমানে আমরা তাদের ইজমাকে হুজ্জত হিসেবে গ্রহণ করি না কারণ তারা কিতাবকে অস্বীকার করেছে এবং তারা এখন কেবল মৌখিক দাবির মাধ্যমে কিতাবের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে। কারণ আয়াতের ব্যাখ্যা: "অথচ তোমরা সাক্ষী"—এর অর্থ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত সম্পর্কে যা কিতাবে আছে সে বিষয়ে তোমরা সাক্ষী, সুতরাং কেন তোমরা সত্যের সাক্ষ্য দিচ্ছ না? আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে তিনি বলেছেন: "এবং স্মরণ করো যখন আল্লাহ সেই লোকদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে" অর্থাৎ সেই কিতাব যার উল্লেখ পূর্বে করা হয়েছে। আর আয়াতটি শুরু হয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা আল্লাহর পথে বাধা দাও তাকে যে ঈমান এনেছে, তোমরা সেখানে বক্রতা তালাশ করো অথচ তোমরা সাক্ষী।" সুতরাং প্রমাণিত হলো যে তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ব্যাপারে এবং কিতাবে যা বর্ণিত আছে কেবল তা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেই সাক্ষী।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال: {إنا أنزلنا التوراة فيها هدى ونور} إلى قوله: {وكانوا عليه شهداء} وشهادتهم بما أثبت الله تعالى لهم كانت حجة موجبة قطعاً وصاروا كفاراً بمنعها ولم يجز خلوهم عن ذلك العلم.

وقال في شان هذه الأمة: {لتكونوا شهداء على الناس} ولم يقل على الكتاب، فدل على علمهم قطعاً بما على الناس من أحكام الله تعالى وأنهم بالإعراض عن ذلك قصداً يكفرون ولم يجز أن يعدوهم علم الحق.
এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে পথনির্দেশ ও আলো} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং তারা তার উপর সাক্ষী ছিল}। আর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন সে বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য প্রদান সুনিশ্চিতভাবে একটি অপরিহার্য দলিল ছিল এবং তা অস্বীকার করার কারণে তারা কাফিরে পরিণত হয়েছে, আর তাদের সেই জ্ঞানশূন্য থাকা বৈধ ছিল না।

এবং তিনি এই উম্মতের শানে বলেছেন: {যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও} এবং তিনি কিতাবের উপর বলেননি; যা সুনিশ্চিতভাবে মানুষের ওপর অর্পিত আল্লাহ তাআলার বিধানাবলি সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের প্রমাণ দেয় এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে কাফির সাব্যস্ত হয়, আর সত্যের জ্ঞান তাদের অগোচরে থাকা সম্ভব ছিল না।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌القول في تحديد الإجماع

حد الإجماع الذي هو حجة؛ إجماع علماء العصر من أهل العدالة والاجتهاد على حكم.

وثبوت الإجماع منهم قد يكون بنصهم عليه، وبنص بعضهم وسكوت الباقين على الرد.

والسكوت الذي هو حجة: السكوت عند عرض الفتوى عليهم أو اشتهار الفتوى في الناس من غير ظهور رد من أحد، وذلك لأنه إذا كان الحكم عنده بخلاف ما سمع لم يسعه السكوت عن ذكره فيدل حاله على سكوت يحل، وذلك إذا كان عنده الحكم كذلك، هذا إذا دام على السكوت إلى مدة تنقضي في مثلها الحاجة غلى النظر لإصابة الحق.

فنفس السكوت قد يكون لطلب الصواب ولا عبرة لقلة العلماء وكثرتهم.

ولا عبرة بالثبات على ذلك حتى يموتوا.

ولا عبرة لمخالفة العامة الذين لا رأي لهم في الباب.

ولا بالمتهمين بالهوى فيما خالفونا فيما نسبوا به إلى الهوى.

فأما خلافهم فيما عدا ذلك فمعتبر ما لم يغلو في هواهم حتى كفروا أو تسفهوا حتى صاروا ماجنين لا تقبل شهادتهم.

أما الإجماع نصاً فما فيه إشكال وأما سكوتاً فلأن السامع ما يحل له السكوت عن بيان الحق إذا كان علمه بخلافه فتدل عدالته على أن سكوته على سبيل يحل له، وهو في كون المسموع حقاً إلا أنا شرطنا مدة التأمل لدرك الحق لأن الحق لا ينال بالاجتهاد إلا بعد نظر في أشباه المحادث، وتمييز الأشبه من بين الجملة ولا بد لهذا من مدة.

ثم المدة لمثله في العادات لا يمتد إلى الموت بل إلى حين يتبين له الوجه فيه إما على الموافقة فلا يلزمه النطق به فسكوته عن الرد دليل عليه، أو على المخالفة فيرده، أو يتعارض عليه الأشباه فيلزمه الفتوى بأي الأشباه كان فيصير سكوته فتوى بما ظهر من فتوى الأول.

فإن قيل: وقد يبدو للمجتهد في عمره ما يرجع به عن الأول، فهلا شرط لصحة الإجماع الثبات على الفتوى منهم ما لم يموتوا؟

قلنا: لما ثبت أن الحق لا يعدو إجماعهم علم يقيناً بعد الإجماع إصابتهم الحق
ইজমার (ঐক্যমত্যের) সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে আলোচনা

যে ইজমা বা ঐক্যমত্য দলীল হিসেবে গণ্য, তার সংজ্ঞা হলো: কোনো বিধানের ওপর সমসাময়িক যুগের ন্যায়পরায়ণ ও ইজতিহাদ করার যোগ্য আলেমগণের ঐক্যমত্য।

তাঁদের পক্ষ থেকে ইজমা সাব্যস্ত হওয়া কখনো তাঁদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে হতে পারে, আবার কখনো তাঁদের কারো কারো সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে অন্যদের মৌনতা বা নীরব সম্মতির মাধ্যমে হতে পারে।

যে মৌনতা দলীল হিসেবে গণ্য হবে তা হলো: তাঁদের নিকট ফতোয়া উপস্থাপন করার সময় কিংবা জনগণের মাঝে ফতোয়াটি প্রসিদ্ধি লাভ করার পর যখন কারো পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা প্রত্যাখ্যান প্রকাশ পায় না। কারণ, যদি বিষয়টি তাঁর নিকট শ্রুত বিষয়ের বিপরীত হতো, তবে তা উল্লেখ না করে নীরব থাকা তাঁর জন্য বৈধ হতো না। তাই তাঁর এই অবস্থাটি এমন এক বৈধ নীরবতাকে নির্দেশ করে যা সম্মতির পরিচায়ক। আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন নীরবতা এমন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যাতে সত্য উদঘাটনের জন্য পর্যালোচনার প্রয়োজনীয় সময় অতিক্রান্ত হয়।

কেননা খোদ নীরবতা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত অনুসন্ধানের জন্য হতে পারে। এক্ষেত্রে আলেমদের সংখ্যা কম বা বেশি হওয়া ধর্তব্য নয়।

আর মৃত্যু পর্যন্ত উক্ত মতের ওপর অটল থাকা ইজমা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়।

সাধারণ জনগণ যাদের এ বিষয়ে কোনো সুচিন্তিত মতামত দেওয়ার যোগ্যতা নেই, তাদের ভিন্নমতও ধর্তব্য নয়।

অনুরূপভাবে প্রবৃত্তি পূজার অপবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিন্নমতও ধর্তব্য নয়, যে সকল বিষয়ে তারা আমাদের বিরোধিতা করে এবং যে সকল বিষয়ে তাদের ওপর প্রবৃত্তি পূজার তকমা দেওয়া হয়েছে।

তবে এ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নমত গণ্য হবে যতক্ষণ না তারা নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণে এমন চরম সীমায় পৌঁছে যায় যে তারা কাফেরে পরিণত হয়, কিংবা তারা এমন মূর্খতায় লিপ্ত হয় যার ফলে তারা পাপাচারী সাব্যস্ত হয় এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না।

সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে যে ইজমা হয় তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর মৌন সম্মতির মাধ্যমে যে ইজমা হয় তার কারণ হলো—শ্রোতার জন্য সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকা জায়েজ নয় যদি বিষয়টি তাঁর জানার বিপরীত হয়। সুতরাং তাঁর ন্যায়পরায়ণতা নির্দেশ করে যে, তাঁর নীরবতা একটি বৈধ পন্থায় ছিল, যা শ্রুত বিষয়টি সত্য হওয়ার অনুকূলে। তবে আমরা সত্য অনুধাবনের জন্য চিন্তাভাবনার এক নির্দিষ্ট সময়কে শর্ত করেছি। কারণ ইজতিহাদের মাধ্যমে সত্য ততক্ষণ অর্জিত হয় না যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বিষয়টির সদৃশ বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করা হয় এবং সামগ্রিক বিষয়ের মধ্য থেকে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়টি পৃথক করা হয়। আর এর জন্য সময়ের প্রয়োজন।

অতঃপর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই সময়টি মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ হয় না, বরং ততক্ষণ পর্যন্ত হয় যতক্ষণ বিষয়টি তাঁর সামনে স্পষ্ট না হয়। হয় তিনি একমত হবেন—এমতাবস্থায় তাঁর মৌখিকভাবে তা বলা আবশ্যক নয়, ফলে প্রত্যাখ্যান থেকে তাঁর নীরবতা ওই মতের পক্ষে দলীল হিসেবে গণ্য হবে; অথবা তিনি দ্বিমত পোষণ করবেন—ফলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন; অথবা তাঁর সামনে সদৃশ বিষয়গুলো সাংঘর্ষিক মনে হবে—ফলে তখন যে কোনো একটি সদৃশ বিষয়ের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করা তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়াবে, এমতাবস্থায় তাঁর নীরবতা প্রথম যে ফতোয়াটি প্রকাশিত হয়েছে তারই অনুবর্তী ফতোয়া হিসেবে গণ্য হবে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: একজন মুজতাহিদের জীবনে এমন কিছু স্পষ্ট হতে পারে যার কারণে তিনি তাঁর পূর্বের মত থেকে ফিরে আসতে পারেন; তবে ইজমার বিশুদ্ধতার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত সেই ফতোয়ার ওপর অটল থাকাকে কেন শর্ত করা হলো না?

আমরা বলব: যেহেতু এটি প্রমাণিত যে সত্য তাঁদের ইজমার বাইরে যায় না, তাই ইজমা সংগঠিত হওয়ার পর নিশ্চিতভাবে জানা গেল যে তাঁরা সত্যকেই লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بعينه، فلا يجوز بعد ذلك من واحد منهم ولا جماعتهم خلافه كما لا يسعهم خلاف كتاب الله تعالى.

فإن قيل: إن السكوت قد يكون مهابة، فقد سئل ابن عباس رضي الله عنهما عن حجته على رد العول في الفرائض فذكرها، فقيل له: هلا ذكرتها لعمر رضي الله عنه؟ فقال: مهابة له.

قلنا: ما هذا بصحيح عندنا فعمر رضي الله عنه كان يقدمه على الكثير من الصحابة ويسأله ويمدحه ويستحسن اجتهاده، وقد ظهر رده عليه في مسائل.

ولئن ثبت فتأويله أن مهابته لسبقه عليه في الدين والفقه والرأي، منعته عن المبالغة في المناظرة لا أنه سكت عن نفس الرد فعمر رضي الله عنه كان ألين للحق من غيره.

وكان يقول: لا خير فيكم ما لم تقولوا ولا خير في ما لم أسمع.

وكان يقول: رحم الله امرأً أهدى إلى أخيه عيوبه وكان أكثر الصحابة شورى.

وجائز عندنا ان يكون فقيهان مختلفان في مسألة، واحدهما أسبق وأكثر فقهاً فيسلم الذي هو دونه للذي هو فوقه اتهاماً لرأي نفسه، ولا يرد عليه رد منكر.

فإن قيل: أليس أن عمراً رضي الله عنه شاور الصحابة في مال فضل عنده للمسلمين، فأشاروا عليه بالإمساك إلى وقت الحاجة، وعلي رضي الله عنه كان ساكتاً في القوم فسأله عمر رضي الله عنه فقال: قد تكلم القوم. فقال: لتتكلمن، فأمر بالقسمة. وروى فيها حديثاً عن النبي عليه السلام فقد استجاز علي رضي الله عنه السكوت وعنده الحكم بخلاف ما أفتوا.

قلنا: إن علياً رضي الله عنه استجاز السكوت لأن ما أشار القوم إليه من الإمساك إلى وقت نائبة أخرى كان حسناً جائزاً، ولكن لما استنطق نطق بالقسمة ففيها الاحتياط للخروج عن الأمانة وهو الأحسن والنطق بمثل هذا لا يجب، ولكن يحسن فيجوز السكوت عنه، ويكون دلالة على حسن ما ظهر على أنا لم نجعل نفس السكوت دلالة على التقرير فإنه جائز للتأمل فيما قال القوم، ولتجربة أفهامهم إلى وقت الإمضاء.

ثم لا عبرة لمخالفة العامة لأنه لا بصر لهم في الباب، كما لا عبرة بالمجانين في كل باب.

ولا عبرة بالذين لا تقبل شهادتهم في ابا الدنيا لتهمة الكذب بسبب الفسق لأن أمر الدين فوق أمر الدنيا فكل تهمة أوجبت رد شهادتهم في باب الدنيا أوجبت ردها في باب الدين، إلا أن ما وراء تهمة الفسق من نحو الأبوة [من الإباء] والضغينة لا تتصور تهمة في
সুনির্দিষ্টভাবে, তাই এরপর তাদের কারো জন্য বা তাদের সমষ্টির জন্য তার বিরোধিতা করা বৈধ নয়, ঠিক যেমন আল্লাহর কিতাবের বিরোধিতা করার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

যদি বলা হয়: নীরবতা কখনও কখনও ভীতি বা শ্রদ্ধার কারণে হতে পারে; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উত্তরাধিকার আইনে 'আউল' (বর্ধিত অংশ) প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তার দলীল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তা উল্লেখ করেন। তাকে বলা হলো: আপনি কেন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এটি উল্লেখ করেননি? তিনি বললেন: তার প্রতি শ্রদ্ধার কারণে।

আমরা বলি: এটি আমাদের নিকট সঠিক নয়। কারণ উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে অনেক সাহাবীর ওপর অগ্রাধিকার দিতেন, তাকে জিজ্ঞাসা করতেন, তার প্রশংসা করতেন এবং তার ইজতিহাদকে পছন্দ করতেন। অনেক মাসআলায় তার প্রতি উমরের আপত্তি বা তার প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে।

আর যদি এটি প্রমাণিতও হয়, তবে এর ব্যাখ্যা হলো যে, দ্বীন, ফিকহ এবং মতামতের ক্ষেত্রে উমরের অগ্রগামী হওয়ার কারণে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তাকে বিতর্কে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত রেখেছিল; এমন নয় যে তিনি মূল আপত্তির ক্ষেত্রে নীরব ছিলেন। কারণ উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সত্যের প্রতি অন্যদের তুলনায় অধিক নমনীয় ছিলেন।

তিনি বলতেন: তোমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যতক্ষণ না তোমরা (সত্য) বলো, আর আমার মধ্যেও কোনো কল্যাণ নেই যদি আমি তা না শুনি।

তিনি বলতেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন যে তার ভাইকে তার ত্রুটিগুলো উপহার দেয়। আর তিনি সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরামর্শকারী ছিলেন।

আমাদের নিকট এটি বৈধ যে, কোনো একটি বিষয়ে দুইজন ফকীহ ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, যাদের মধ্যে একজন অগ্রগামী ও অধিকতর ফকীহ। এমতাবস্থায় যিনি স্তরে নিচে, তিনি নিজের মতামতের ওপর সংশয় পোষণ করে উচ্চতর ফকীহর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেন এবং কঠোরভাবে তার বিরোধিতা করবেন না।

যদি বলা হয়: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কি মুসলমানদের উদ্বৃত্ত সম্পদ সম্পর্কে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেননি? তারা তাকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত তা রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তখন মজলিসে নীরব ছিলেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: লোকেরা তো কথা বলেছেই। উমর বললেন: আপনাকে অবশ্যই বলতে হবে। তখন তিনি তা বণ্টনের নির্দেশ দিলেন এবং এ ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। সুতরাং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এখানে নীরব থাকাকে বৈধ মনে করেছিলেন, অথচ তার কাছে তাদের ফতোয়ার বিপরীত বিধান জানা ছিল।

আমরা বলি: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নীরব থাকাকে বৈধ মনে করেছিলেন কারণ লোকেরা পরবর্তী কোনো দুর্যোগের সময় পর্যন্ত সম্পদ রেখে দেওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছিল, তা-ও একটি উত্তম ও বৈধ মত ছিল। কিন্তু যখন তাকে কথা বলতে বলা হলো, তখন তিনি বণ্টনের কথা বললেন; কারণ এতে আমানতের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার সতর্কতা রয়েছে এবং এটিই সর্বোত্তম। এই ধরণের কথা বলা ওয়াজিব নয়, বরং উত্তম; তাই এ বিষয়ে নীরব থাকা জায়েজ। আর এটি প্রকাশ পাওয়া মতের উত্তম হওয়ারই প্রমাণ বহন করে। তাছাড়া আমরা কেবল নীরব থাকাকেই সম্মতির চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য করিনি; কারণ মানুষের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য এবং সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময় পর্যন্ত তাদের বোধশক্তি পরীক্ষা করার জন্য নীরব থাকা বৈধ।

অতঃপর সাধারণ মানুষের বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ এই বিষয়ে তাদের কোনো অন্তর্দৃষ্টি নেই; ঠিক যেমন কোনো বিষয়েই পাগলদের কথার কোনো গুরুত্ব নেই।

আর দুনিয়াবী বিষয়ে ফাসেক হওয়ার কারণে মিথ্যার অভিযোগে যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না, তাদের (বিরোধিতারও) কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ দ্বীনের বিষয় দুনিয়ার বিষয়ের ঊর্ধ্বে। সুতরাং যে সকল অভিযোগ দুনিয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে, তা দ্বীনের ক্ষেত্রেও তা প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করবে। তবে ফাসেক হওয়ার অভিযোগ ব্যতীত অন্য কিছু যেমন- পিতৃত্ব (বা আত্মীয়তা) এবং শত্রুতা—এসব ক্ষেত্রে (দ্বীনী বিষয়ে) অভিযোগ কল্পনা করা যায় না...
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
باب الدين وإظهار أحكام الله تعالى فلم تعتبر.

وأما صاحب الهوى فلا عبرة بخلافه في نفس ما نسب إلى الهوى لأنه لا ينسب إلى الهوى إلا إذا خالف فيما يجب الفتوى به بدليل يوجب العلم يقيناً، فيصير خلافه ذلك الدليل برأيه ساقطاً كخلافه نصاً يروى له فيصير هوى.

وأما في غير ذلك من الأحكام فإن ظهرت منه مجانة في نحلته بخلاف الحجج تعصباً لمذهبه بلا دليل أو قلة التأمل لا عن تأويل لشبهته لم يعتبر خلافه، كما لم تقبل شهادته.

وكذلك إذا غلا في هواه حتى كفر لأن المعتبر إجماع المسلمين ولهذا لم نبال بخلاف الروافض إيانا في إمامة أبي بكر الصديق رضي الله عنه.

وبخلاف الخوارج إيانا في إمام علي رضي الله عنه لفساد تأويلهم وإن لم نكفرهم للشبهة.

وإنما قلنا: إن السكوت الذي هو حجة مرة يثبت بالسكوت بعد عرض الفتوى عليهم، وهو ظاهر ومرة يثبت بعدم الخلاف مع اشتهار الفتوى لأن الفتوى من البعض إذا اشتهر في العامة لم يجز الخفاء على الأقران في العادة فيصير الاشتهار كالعرض عليه.

ثم الرد يجب على السامع إذا كان الحق عنده بخلاف ذلك على سبيل الاشتهار كالأول ليصير معارضاً إياه أينما ثبت الأول، كالآية إذا نسخت لزم الرسول أن يبلغ الناسخ أينما بلغ الأول، وإذا لزمه رد شائع مثل الأول لم يجز ظهور أحدهما دون الآخر، وهذا كما قيل: إن القرآن معجزة لعجز العرب عن المعارضة وهذا العجز لا يمكن إثباته إلا من طريق عدم الظهور فكان حجة، لأنه ممتنع في العادات اندراس أثر مثل القرآن بعد وجوده والمنكرون للقرآن أكثر من المؤمنين به وكانوا محتاجين إلى رده بالمعارض ولا يمكنهم إلا بالرواية كما احتاج المؤمنون إلى رواية القرآن لإثباته.

فإن قيل: إن المزارعة اشتهرت في الناس بعد أبي حنيفة رضي الله عنه من غير ظهور رد ثم لم يصر إجماعاً!.

قلنا: إن الرد شائع من شيعة أبي حنيفة رضي الله عنه فتوى وناظرة إلا أن الناس عملوا بقول غيره.

وعند من لا يجوز المزارعة جائز اتباع الناس في هذا الباب من خالف أبا حنيفة رضي الله عنه لضرب رجحان يبدو لهم، فلا يكون سكوتمه عن تضليلهم عن الرد والتشنيع عليهم، تقريراً إياهم على أنه هو الحق دون ما قاله أبو حنيفة رضي الله عنه.

وهذا كما إذا بلغ المفتي قضاء القاضي بخلاف رأيه فسكت، لم يدل سكوته على الرجوع إلى قول القاضي لأنه مع خلافه رأياً يعتقد نفاذ قضائه بخلاف رأيه، والله أعلم.
দ্বীন এবং আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ প্রকাশ করা বিষয়ক অধ্যায়, যা গণ্য করা হয়নি।

আর প্রবৃত্তি পূজারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে বিষয়টিকে প্রবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাতে তার বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ কোনো ব্যক্তিকে প্রবৃত্তির অনুসারী তখনই গণ্য করা হয় যখন সে এমন বিষয়ে বিরোধিতা করে যাতে ফতোয়া দেওয়া ওয়াজিব এবং যা অকাট্য জ্ঞান দানকারী দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত। এমতাবস্থায় তার নিজস্ব রায়ের মাধ্যমে ঐ দলিলের বিরোধিতা করা বাতিল বলে গণ্য হবে, যেমনটি তার কাছে বর্ণিত কোনো নসের বিরোধিতা করার মাধ্যমে সে প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে যায়।

তবে অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে যদি তার মতাদর্শে কোনো ধরনের ধৃষ্টতা প্রকাশ পায়, যেখানে সে কোনো দলিল ছাড়াই কেবল মাযহাবী গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে অকাট্য প্রমাণের বিরোধিতা করে অথবা পর্যাপ্ত চিন্তা-ভাবনার অভাব থাকে—কোনো সংশয়ের ব্যাখ্যার কারণে নয়—তবে তার বিরোধিতাকে ধর্তব্য ধরা হবে না, যেমনটি তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য হয় না।

অনুরূপভাবে, যদি সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণে এমন চরমপন্থা অবলম্বন করে যার ফলে সে কাফের হয়ে যায়, তবে তার বিরোধিতার কোনো মূল্য নেই; কারণ গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো মুসলমানদের ইজমা। এই কারণেই আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইমামতের বিষয়ে আমাদের সাথে রাফেজিদের বিরোধিতাকে আমরা ভ্রূক্ষেপ করি না।

এবং আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইমামতের বিষয়ে আমাদের সাথে খারেজিদের বিরোধিতারও তোয়াক্কা করি না তাদের ব্যাখ্যার ত্রুটির কারণে, যদিও কোনো সংশয়ের কারণে আমরা তাদেরকে কাফের সাব্যস্ত করিনি।

আমরা বলেছি যে, যে নীরবতা দলিল হিসেবে গণ্য হয়, তা কখনও ফতোয়া তাদের সামনে পেশ করার পর নীরব থাকার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়—যা সুস্পষ্ট। আবার কখনও ফতোয়া প্রসিদ্ধি লাভ করার পর কোনো বিরোধিতার অস্তিত্ব না থাকার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। কেননা কোনো একজনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ফতোয়া যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করে, তবে সাধারণত সমসাময়িক আলেমদের কাছে তা গোপন থাকা সম্ভব নয়। ফলে এই প্রসিদ্ধি তাদের সামনে ফতোয়া পেশ করার মতোই গণ্য হয়।

অতঃপর শ্রোতার নিকট যদি সত্য এর বিপরীত হয়, তবে প্রথমটির ন্যায় প্রসিদ্ধি সহকারে তার প্রতিবাদ করা ওয়াজিব, যাতে প্রথমটি যেখানেই সাব্যস্ত হয়েছে সেখানে এটি তার প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য হয়। যেমন কোনো আয়াত যখন রহিত হয়, তখন রাসুলের ওপর আবশ্যক হয়ে যায় রহিতকারী বিধানটি সেখানে পৌঁছে দেওয়া যেখানে প্রথমটি পৌঁছেছে। আর যখন প্রথমটির ন্যায় প্রসিদ্ধ প্রতিবাদ আবশ্যক হয়, তখন একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটির প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। এটি অনেকটা তেমনই যেমন বলা হয়েছে: কুরআন একটি মোজেজা যেহেতু আরবরা এর মোকাবিলা করতে অক্ষম ছিল। আর এই অক্ষমতা প্রমাণের অভাব ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়, তাই এটিই ছিল দলিল। কারণ সাধারণত কুরআনের মতো কোনো জিনিসের প্রভাব বিদ্যমান থাকার পর তা বিলুপ্ত হওয়া অসম্ভব। কুরআনের অস্বীকারকারীরা এর বিশ্বাসীদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল এবং তাদের প্রয়োজন ছিল কোনো প্রতিবাদের মাধ্যমে একে খণ্ডন করা, কিন্তু বর্ণনার মাধ্যম ছাড়া তাদের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না, ঠিক যেমন মুমিনদের পক্ষে কুরআন প্রমাণের জন্য বর্ণনার প্রয়োজন ছিল।

যদি বলা হয়: আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর পর মানুষের মাঝে বর্গা চাষ (মুজারাআ) প্রথা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল কোনো প্রতিবাদ প্রকাশ হওয়া ছাড়াই, তবুও তো তা ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়নি!

আমরা বলব: ফতোয়া ও বিতর্কের ক্ষেত্রে আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অনুসারীদের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ ছিল ব্যাপক, কিন্তু মানুষ অন্য কারো মত অনুযায়ী আমল করেছে।

আর যারা বর্গা চাষ বৈধ মনে করেন না, তাদের মতে যারা আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বিরোধিতা করেছেন তাদের ক্ষেত্রে মানুষের জন্য এই সুযোগ রয়েছে যে তারা তাদের কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হয় তা অনুসরণ করবে। সুতরাং তাদেরকে গোমরাহ সাব্যস্ত করা অথবা প্রতিবাদ ও নিন্দা করা থেকে তাদের নীরব থাকাটা এই বিষয়ের স্বীকৃতি নয় যে, আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যা বলেছেন তা ব্যতিরেকে অন্যটিই সত্য।

এটি ঠিক তেমনই যেমন কোনো মুফতির কাছে যদি বিচারকের কোনো রায় পৌঁছে যা তার মতের বিপরীত, আর এমতাবস্থায় সে নীরব থাকে—তবে তার এই নীরবতা বিচারকের মতের দিকে ফিরে আসাকে বুঝায় না। কারণ নিজস্ব মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও সে তার মতের বিপরীতে বিচারকের রায় কার্যকর হওয়াকে আবশ্যক মনে করে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌القول في أقسام الإجماع

أقسام الإجماع أربعة:

1 - إجماع الصحابة نصاً.

2 - وإجماعهم بنص البعض وسكوت الباقين.

3 - وإجماع أهل كل عصر بعدهم على حكم لم يسبقهم فيه قول.

4 - وإجماعهم على أحد أقوال اختلف فيها السلف.

ومن الناس من قال: إن إجماع أهل كل عصر حجة.

ومنهم من قال: لا إجماع لمن بعد الصحابة.

ومنهم من قال: لا إجماع إلا لأهل المدينة.

ومنهم من قال: لا إجماع إلا لعترة الرسول صلى الله عليه وسلم لأن الإمام منهم والإمام معصوم عن الكذب.

ومنهم من قال: لا إجماع إذا كان في السلف من خالفهم.

والصحيح هو القول الأول، لأن الدلائل التي جعلت الإجماع حجة لم تخص قوماً بنسب ولا مكان ولا قرن، والأقوال الأربعة الأخيرة مهجورة.

وقد حكى مشايخنا عن محمد بن الحسن نصاً: أن إجماع أهل كل عصر حجة إلا أنه على مراتب أربعة.

فالأقوى إجماع الصحابة نصاً لأنه لا خلاف فيه بين الأمة لأن العترة يكونون فيهم، وكذلك أهل المدينة.

ثم الذي ثبت بنص بعضهم وسكوت الباقين، لأن السكوت في الدلالة على التقرير دون النص.

ثم إجماع من بعد الصحابة على حكم لم يظهر فيه قول من سبقهم لأن الصحابة كانوا خلفاء الرسول صلى الله عليه وسلم، ومن بعدهم كانوا خلفاء الصحابة فيقع بينهم وبين من خلفهم من التفاوت قريب ما يقع بينهم وبين الرسول صلى الله عليه وسلم، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "خير الناس رهطي الذين أنا فيهم ثم الذين يلونهم ثم يفشو الكذب".
ইজমার প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা

ইজমার প্রকার চারটি:

1 - সাহাবীগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইজমা।

2 - এবং তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও অবশিষ্টাংশের মৌন সম্মতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইজমা।

3 - এবং সাহাবীগণের পরবর্তী প্রত্যেক যুগের অধিবাসীদের এমন কোনো বিধানের ওপর ইজমা, যে বিষয়ে তাঁদের পূর্বে কোনো বক্তব্য ছিল না।

4 - এবং সালাফগণের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ কোনো একটি মতের ওপর তাঁদের ঐকমত্য বা ইজমা।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: নিশ্চয়ই প্রত্যেক যুগের অধিবাসীদের ইজমা একটি অকাট্য প্রমাণ।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সাহাবীগণের পরবর্তী কারো জন্য ইজমা সাব্যস্ত হবে না।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: মদিনাবাসীগণ ব্যতীত আর কারো ইজমা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরগণ ব্যতীত আর কারো ইজমা নেই; কারণ ইমাম তাঁদের মধ্য থেকেই হন এবং ইমাম মিথ্যা থেকে সুরক্ষিত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সালাফগণের মধ্যে যদি কেউ তাঁদের বিরোধিতা করে থাকেন, তবে ইজমা সাব্যস্ত হবে না।

সঠিক হলো প্রথম মতটি; কারণ যে সকল দলীল ইজমাকে প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, তা কোনো নির্দিষ্ট বংশ, স্থান বা যুগের জন্য নির্দিষ্ট নয়। আর শেষোক্ত চারটি মত পরিত্যক্ত।

আমাদের মাশায়েখগণ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে: প্রত্যেক যুগের অধিবাসীদের ইজমা একটি প্রমাণ, তবে তা চারটি স্তরে বিন্যস্ত।

সবচেয়ে শক্তিশালী হলো সাহাবীগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইজমা; কারণ এই বিষয়ে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, যেহেতু রাসূলুল্লাহর বংশধরগণ এবং মদিনাবাসীগণ তাঁদের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

অতঃপর যা তাঁদের কয়েকজনের বক্তব্য এবং অন্যদের মৌনতার মাধ্যমে প্রমাণিত; কেননা সম্মতির প্রমাণ হিসেবে মৌনতা সুস্পষ্ট বক্তব্যের চেয়ে নিম্নস্তরের।

অতঃপর সাহাবীগণের পরবর্তীগণের ইজমা এমন বিধানের ওপর যার বিষয়ে তাঁদের পূর্ববর্তীদের কোনো বক্তব্য প্রকাশ পায়নি; কারণ সাহাবীগণ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত, আর তাঁদের পরবর্তীগণ ছিলেন সাহাবীগণের স্থলাভিষিক্ত। ফলে সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীদের মাঝে ঠিক তেমনি ব্যবধান তৈরি হয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের মাঝে বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার সেই দল যাদের মধ্যে আমি রয়েছি, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে।"
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فرتبهم رسول الله صلى الله عليه وسلم على مراتب الخيرية.

فكذلك نحن نرتبهم في كونهم حجة أنه نهاية ما ينتهي إلى صفة الخيرية.

ثم إجماعهم على حكم سبق فيه مخالف لأن هذا فصل اختلف فيه العلماء والفقهاء.

فقال بعضهم: هذا لا يكون إجماعاً لأن الدلائل الموجبة عمت جميع الأمة، والأم: اسم يعم الحي والميت، فلا ينعقد الإجماع ما وجد في الأمة مخالف من حي أو ميت.

ولأن ذلك المخالف لو كان حياً للحال لم ينعقد إجماع من سواه إجماعاً فكذلك وإن مات، لأنا لا نعتبر خلافة خلافاً لحياته بل لحجيته وبالموت لا تتبدل الحجة.

ولأنا متى جعلنا إجماع المتأخرين حجة موجبة وجب تضليل المخالف ولا يجوز تضليله.

أيجوز تضليل ابن عباس رضي الله عنهما في مسألة العول؟ ومسألة توريث الأم مع الزوج والأب ثلث المال كاملاً؟ وقد أجمعوا على خلافه.

وقال محمد بن الحسن رحمه الله تعالى فيمن قال لامرأته: أنت خلية، ونوى به ثلاثاً ثم جامعها في العدة وقال: علمت أنها علي حرام: لم يحد، لأن عمر رضي الله عنه كان يراها واحدة رجعية، وقد أجمعنا بخلافه فنية الثلاث صحيحة بلا خلاف بين الأمة اليوم.

ولو سقط قول السابق لانقطعت الشبهة كالآية المنسوخة لا تبقى شبهة في استباحة المنسوخ، ولكن الذي ثبت عندنا أنه إجماع.

وقد روى محمد بن الحسن عنهم جميعاً أن القاضي إذا قضى ببيع أم الولد لم يجز وقد اختلف فيها الصدر الأول لأن الخلف بعدهم أجمعوا على أنه لا يجوز، ولو بقي قول القاضي معتبراً كأنه حي لنفذ قضاء القاضي بما اختلف فيه الفقهاء.

والحجة فيه ان إجماع الصحابة إنما كان حجة لامتناع ان يعدو الحق جماعتهم بالدلائل التي أوجبت الكرامة لهم لكونهم امة محمد صلى الله عليه وسلم، فلم يجز كذلك: أن يعدو الحق جماعة التابعين أو من بعدهم.

ولأن الله تعالى جعلهم خير امة يأمرون بالمعروف وجعل إجماعهم حجة، وصفة الخيرية بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا يتصور إثباتها إلا مع الحياة فإن الميت لا يتصور منه الأمر بالمعروف فثبت أنه لم يرد بهذه الكلمة جماعة الأمة من حين رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يوم القيامة، ولكن أمته الأحياء في كل عصر.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্বের স্তর অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।

অনুরূপভাবে হুজ্জাত বা দলীল হওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা তাদেরকে এমনভাবে বিন্যস্ত করি যে, তা শ্রেষ্ঠত্বের গুণের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়।

অতঃপর এমন কোনো হুকুমের ওপর তাদের ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যেখানে পূর্বে কোনো দ্বিমত পোষণকারী বিদ্যমান ছিল; কেননা এটি এমন একটি অধ্যায় যেখানে আলিম ও ফকীহগণ মতভেদ করেছেন।

তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি ইজমা হবে না। কারণ (ইজমার) আবশ্যকতা জ্ঞাপক দলীলসমূহ সমগ্র উম্মতকে শামিল করে। আর 'উম্মত' শব্দটি জীবিত ও মৃত সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং উম্মতের মধ্যে জীবিত বা মৃত কোনো দ্বিমত পোষণকারী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় ইজমা সঙ্ঘটিত হবে না।

আর এ কারণে যে, সেই দ্বিমত পোষণকারী যদি বর্তমানে জীবিত থাকতেন, তবে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ইজমা হিসেবে গণ্য হতো না; অনুরূপভাবে তিনি মারা গেলেও একই হুকুম। কারণ আমরা তাঁর দ্বিমতকে তাঁর জীবিত থাকার কারণে নয়, বরং তাঁর মতামতের প্রামাণিকতার (হুজ্জাত) কারণে গণ্য করি, আর মৃত্যুর দ্বারা সেই প্রামাণিকতা পরিবর্তিত হয় না।

আর এজন্য যে, যখনই আমরা পরবর্তীগণের ইজমাকে অকাট্য দলীল হিসেবে গণ্য করব, তখন পূর্ববর্তী দ্বিমত পোষণকারীকে পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়া ওয়াজিব হয়ে পড়বে, অথচ তাঁকে পথভ্রষ্ট বলা জায়েজ নয়।

আউলের মাসআলায় এবং স্বামী ও পিতার সাথে মায়ের পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার মাসআলায় ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কি পথভ্রষ্ট বলা জায়েজ হবে? অথচ পরবর্তীগণ তাঁর মতের বিপরীতে ইজমা করেছেন।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার স্ত্রীকে বলেছে: 'তুমি মুক্ত', এবং এর দ্বারা তিন তালাকের নিয়ত করেছে, অতঃপর ইদ্দত চলাকালীন তার সাথে সহবাস করেছে এবং বলেছে: 'আমি জানতাম যে সে আমার জন্য হারাম'; এমতাবস্থায় তার ওপর হদ কার্যকর হবে না। কারণ উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইহাকে একটি রাজয়ী তালাক মনে করতেন। যদিও বর্তমানে আমরা তাঁর মতের বিপরীতে ইজমা করেছি এবং বর্তমানে উম্মতের মাঝে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিন তালাকের নিয়ত সহীহ বলে গণ্য।

যদি পূর্ববর্তীদের বক্তব্য বাতিল হয়ে যেত, তবে সংশয় নিরসন হয়ে যেত, যেমন রহিত আয়াতের ক্ষেত্রে রহিত বিধানটি বৈধ হওয়ার কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু আমাদের নিকট এটিই সাব্যস্ত যে, এটি একটি ইজমা।

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তাদের সকলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, বিচারক যদি 'উম্মে ওয়ালাদ' বিক্রির ফয়সালা দেন, তবে তা কার্যকর হবে না। যদিও প্রথম যুগের মনীষীদের মাঝে এ বিষয়ে মতভেদ ছিল, কারণ তাঁদের পরবর্তীগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যে এটি জায়েজ নয়। যদি পূর্ববর্তী ফকীহগণের মতটি তাঁদের মৃত্যুর পরও নির্ভরযোগ্য হিসেবে অবশিষ্ট থাকত, তবে ফকীহদের মতভেদপূর্ণ বিষয়ে বিচারকের রায় কার্যকর হতো।

এ ক্ষেত্রে দলীল হলো, সাহাবায়ে কিরামের ইজমা দলীল হিসেবে গণ্য হওয়ার কারণ হলো—সেই সকল প্রমাণের ভিত্তিতে যা তাঁদের জন্য সম্মান সাব্যস্ত করেছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত হওয়ার কারণে—তাঁদের সমষ্টির বাইরে সত্য থাকা অসম্ভব। অনুরূপভাবে তাবিঈন বা তাঁদের পরবর্তীগণের জামাত বা সমষ্টির বাইরেও সত্য থাকা অসম্ভব।

আর এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন যারা সৎকাজের আদেশ দেন এবং তাঁদের ইজমাকে দলীল হিসেবে গণ্য করেছেন। আর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের গুণ সাব্যস্ত হওয়া কেবল জীবিত থাকার মাধ্যমেই কল্পনা করা যায়। কেননা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সৎকাজের আদেশ প্রদান করা সম্ভব নয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, এই শব্দ দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র উম্মতকে বোঝানো হয়নি, বরং প্রতি যুগের জীবিত উম্মতকেই বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإذا كان كذلك فتبين بإجماع الخلف على قول واحد من الجملة أن ما سواه خطأ يقيناً، كما لو عرض على الرسول صلى الله عليه وسلم فصوب ذلك الواحد ولا يصير من خالفه ضالاً لأنه خالف حين لا إجماع، فكان كخلاف وجد من الصحابة فعرض على الرسول صلى الله عليه وسلم فبين خطا بعضهم فإنه لا يصير ضالاً بما قاله قبل بلوغه نص رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكما كان أهل قباء يصلون إلى بيت المقدس بعد نزول التوجه إلى الكعبة فأتاهم آتٍ وهم في الصلاة فأخبرهم بذلك فاستداروا كهيئتهم إلى الكعبة في صلاتهم فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم ينكر عليهم.

وهذا لأن الإجماع هو الحجة التي يضل الإنسان بمخالفتها ولم يكن حين ما قاله هذا القائل يخالفه إجماع.

أليس أن ابن عباس رضي الله عنهما كان يجوز بيع الدرهم بالدرهمين؟ وكان يبيح المتعة بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم ثم رجع لما بلغه النص؟ ولسنا نسميه ضالاً فيما كان يقوله أولاً قبل بلوغه النص فهذا مثله.

وإنما أسقط محمد بن الحسن رحمه الله الحد عن الذي جامع امرأته في العدة وقد قال لها: أنت خلية، ونوى بها ثلاث؛ لأن الحد لا يجب مع الشبهة، وقد اختلف الناس في هذا الإجماع أهو حجة أم لا؟ فلا يصير موجباً علماً بلا شبهة ولهذا كان هذا الإجماع حجة على أدنى المراتب.
আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে বিভিন্ন মতের মধ্য থেকে উত্তরসূরীদের (খালাফ) একটি মতের ওপর ঐক্যমত (ইজমা) হওয়ার দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তদ্ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা নিশ্চিতভাবেই ভুল। এটি অনেকটা এমন যে, বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পেশ করা হলো এবং তিনি সেই একটি মতকেই সঠিক বলে সাব্যস্ত করলেন। তবে যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে সে পথভ্রষ্ট হবে না; কারণ সে তখন বিরোধিতা করেছিল যখন কোনো ইজমা ছিল না। এটি সাহাবায়ে কেরামের মাঝে বিদ্যমান সেই মতভেদের ন্যায় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পেশ করা হয়েছিল এবং তিনি তাদের কারো কারো ভুল স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বা নস পৌঁছানোর পূর্বে তিনি যা বলেছিলেন, তার কারণে তিনি পথভ্রষ্ট হবেন না।

আর যেমনটি কুবাবাসী কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ নাযিল হওয়ার পরেও বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে সালাতরত অবস্থায় বিষয়টি অবহিত করলেন, তখন তারা সালাতকালেই তাদের অবস্থায় থেকেই কাবার দিকে ঘুরে গেলেন। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি তাদের প্রতি কোনো অসম্মতি প্রকাশ করেননি।

আর এটি একারণে যে, ইজমা হলো সেই দলিল যার বিরোধিতা করলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়, অথচ এই বক্তা যখন কথাটি বলেছিলেন তখন তার বিপরীতে কোনো ইজমা ছিল না।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কি এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রয় করা বৈধ মনে করতেন না? তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরেও মুতআ (সাময়িক বিবাহ) বৈধ মনে করতেন, অতঃপর যখন তার কাছে নস বা দলিল পৌঁছাল তখন তিনি তা থেকে ফিরে এসেছিলেন। নস পৌঁছানোর পূর্বে তিনি যা বলতেন, তার কারণে আমরা তাকে পথভ্রষ্ট বলি না; সুতরাং এটিও তদ্রূপ।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর থেকে হদ রহিত করেছেন যে ইদ্দত চলাকালীন নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে, অথচ সে তাকে বলেছিল: "তুমি মুক্ত" এবং এর মাধ্যমে তিন তালাকের নিয়ত করেছিল। কেননা সন্দেহের উপস্থিতিতে হদ আবশ্যক হয় না। আর এই ইজমার ব্যাপারে মানুষ মতভেদ করেছেন যে, এটি দলিল কি না? ফলে এটি সন্দেহাতীতভাবে অকাট্য জ্ঞান প্রদানকারী হয় না এবং একারণেই এই ইজমা সর্বনিম্ন স্তরের দলিল হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌القول في أنواع التكلم وضعاً وتفسيرها حقاً

انواع التكلم أربعة:

أخبار، واستخبار، وأمر، ونهي.

لأن الكلام إما شرعه القديم عز ذكره، أو وضعه حكيم فلم يجز خلوه عن فائدة حميدة وما هي إلا إفادة العلم لما يحتاج إليه، والفائدة منه تحصل بالتكلم وتنتهي بهذه الأنواع.

الإخبار بما عندك لتفيد غيرك العلم بما كان أو يكون أو بما توجبه إن جعلته إنشاء كقولك: بعت عبدي أو أعتقته ونحوهما.

والاستخبار: لتستفيد من غيرك ذلك العلم بما كان.

والأمر: بفعل لبيان أنه مما ينبغي أن يوجد.

والنهي: لبيان أنه مما ينبغي أن لا يكون وأن يعدم.

ولأن أقسام صرف الفعل تنتهي بأربعة أقسام لأنك تقول: فعل يفعل، وتقول افعل ولا تفعل فإذا دخلها حرف الاستفهام صارا للاستخبار وتقول: افعل ولا تفعل وما لها خامس، ثم كل قسم منها ينقسم إلى أقسام قد ذكرنا منه قدر الحاجة إليه لأحكام الشرع. وأما تفسيرها:

فالإخبار: تكلم بكلام يسمى خبراً.

والخبر: الكلام الدال على أمر كان أو سيكون غير مضاف كينونته إلى الخبر كقولك: "جاء زيد" أو "يجيء عمرو" ونحوه.

والإخبار: تكلمك به.

وأنه ينقسم إلى قسمين في الماضي: صدق، وكذب.

وقسمين في المستقبل: جد، وهزل.

لأن الإخبار نكلم.

والتكلم فعلك باللسان التفعيل منها.

والانفعال في الحروف التي تنتظم حتى يصير مفهوم المعنى والانفعال على هذا متحقق، كذباً كان الإخبار أو صدقاً، جداً أو هزلاً.

نحو "الكتابة" تكون كتابة للكلام كتب باطلاً أم حقاً لأنها فعلك بالقلم.

والانفعال في حرف تنتظم صورة حتى يكون مفهوم المعنى.
পারিভাষিক বিন্যাস ও প্রকৃত ব্যাখ্যার আলোকে বাক্যালাপের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা

বাক্যালাপ বা কথার প্রকার চারটি:

সংবাদ প্রদান, সংবাদ অনুসন্ধান, আদেশ এবং নিষেধ।

কারণ কথা হয় অনাদি সত্তা (যাঁর স্মরণ মর্যাদাপূর্ণ) কর্তৃক প্রবর্তিত, অথবা কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত; তাই তা কোনো প্রশংসনীয় উপকারিতা বর্জিত হওয়া বৈধ নয়। আর সেই উপকারিতা হলো প্রয়োজনীয় বিষয়ের জ্ঞান প্রদান করা। বাক্যালাপের মাধ্যমেই সেই উপকার অর্জিত হয় এবং এই প্রকারগুলোর মাধ্যমেই তা সমাপ্ত হয়।

সংবাদ প্রদান হলো আপনার নিকট যা আছে তা অন্যকে জানানো, যাতে সে যা ঘটেছে বা ঘটবে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে, অথবা যা আপনি আবশ্যক করেছেন যদি তাকে আপনি ইনশা (কার্যকরী বাক্য) হিসেবে সাব্যস্ত করেন, যেমন আপনার বলা: "আমি আমার দাসকে বিক্রয় করলাম" অথবা "তাকে মুক্ত করে দিলাম" এবং এই জাতীয় শব্দ।

আর সংবাদ অনুসন্ধান হলো অন্যের নিকট থেকে যা ঘটেছে সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা।

আর আদেশ হলো কোনো কাজের নির্দেশ দেওয়া, এটি স্পষ্ট করার জন্য যে এটি এমন বিষয় যা সম্পাদিত হওয়া উচিত।

আর নিষেধ হলো এটি স্পষ্ট করা যে এটি এমন বিষয় যা হওয়া উচিত নয় এবং যা বিলুপ্ত থাকা উচিত।

এবং যেহেতু ক্রিয়ার রূপান্তরের প্রকারভেদ চারটি বিভাগে সমাপ্ত হয়; কারণ আপনি বলেন: সে করেছে, সে করছে এবং আপনি বলেন করো এবং করো না। যখন এগুলোতে প্রশ্নবোধক অব্যয় যুক্ত হয় তখন সেগুলো সংবাদ অনুসন্ধানে পরিণত হয়। আপনি বলেন: করো এবং করো না; এর পঞ্চম কোনো প্রকার নেই। অতঃপর এগুলোর প্রত্যেকটি আবার বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত যা শরীআতের বিধানের প্রয়োজনে আমরা যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু উল্লেখ করেছি। আর এগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে:

সংবাদ প্রদান হলো এমন কথার মাধ্যমে বাক্যালাপ করা যাকে খবর (সংবাদ) বলা হয়।

আর খবর হলো এমন কথা যা অতীত বা ভবিষ্যতে কোনো বিষয় ঘটা বা ঘটার ওপর প্রমাণ পেশ করে, যার অস্তিত্ব সংবাদের উপর নির্ভরশীল নয়; যেমন আপনার কথা: "যায়েদ এসেছে" অথবা "আমর আসবে" ইত্যাদি।

আর সংবাদ প্রদান হলো আপনার মাধ্যমে সেই কথাটি বলা।

এবং অতীতকালের ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত: সত্য ও মিথ্যা।

এবং ভবিষ্যৎকালের ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত: গুরুত্ব ও তামাশা।

কারণ সংবাদ প্রদান হলো আমাদের বাক্যালাপ।

আর বাক্যালাপ হলো জিহ্বার মাধ্যমে আপনার সম্পাদিত কাজ, যা তফয়ীল (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য) পর্যায়ের।

আর এর প্রতিক্রিয়া হলো সেই বর্ণমালার মধ্যে যা সুবিন্যস্ত হয়ে অর্থপূর্ণ রূপ লাভ করে। আর এই প্রতিক্রিয়াটি এভাবে বাস্তবায়িত হয় যে, সংবাদটি মিথ্যা হোক বা সত্য, গুরুত্বের সাথে হোক বা তামাশাচ্ছলে—তা একই থাকে।

যেমন "লিখন" প্রক্রিয়াটি কথাটি মিথ্যা বা সত্য যাই হোক না কেন তা লিখন হিসেবেই গণ্য হয়, কারণ তা কলমের মাধ্যমে আপনার সম্পাদিত কাজ।

আর এর প্রতিক্রিয়া হলো বর্ণমালার এমন বিন্যাস যা একটি রূপ দান করে যাতে অর্থ অনুধাবন করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال علماؤنا- فيمن حلف لا يخبر أن فلاناً قدم فأخبر كذباً: حنث ولم يفد علماً.

وكذلك إذا حلف لا يكتب أن فلاناً قدم فكتب باطلاً؛ حنث وإن لم يفد علماً بما قال.

لأن العلم فيه ثمرته المطلوبة منه بحكمة الوضع لا أنه من نفسه وأنه لا يتم بدونه كما في الكتابة.

بخلاف الإعلام فإنه فعل لا ينفعل إلا بوجود العلم.

وبخلاف ما إذا حلف لا يبيع فباع حراً لم يحنث لأن البيع ليس من أقسام التكلم إنما هو اسم لسبب تمليك بالمال، وانه عبارة عن قوله: لا يملك مالاً بمال فلا ينفعل تمليك المال في غير المال، كما لا ينفعل التكلم في غير الحروف التي يدور عليها الكلام غير أن هذا السبب مما ينفعل بالكلام فيكون آلة في نفسه بفوات ثمرته فإنه يحنث بالبيع الخاسر، فكذلك التكلم بالإخبار لا ينعدم بفوات ثمرته من الإعلام.

وأما الأمر: فتكلم بقولك: افعل وانفعاله بحروفه.

وأما بيان أنه مما ينبغي أن يوجد بحكمه الأمر كالصدق من الأخبار الذي فيه وجود المخبر عنه لأن الأمر أحد أقسام تصاريف الفعل على ما ذكرنا فتكون الفائدة منه على مثال سائره.

وقولك "قدم زيد" لفائدة بيان وجود قدومه، ويقدم لبيان أنه سيوجد فكذا أقدم لبيان أنه مما ينبغي أن يوجد منه حتى لا يستقيم في الحكمة أن نقول للعمى: أبصر لأنه لا يتصور وجوده منه.

ولما كان وجود فائدة الحكمة صح وضع الأمر لغة لكل فعل يتصور وجوده منه في نفسه، وإن وجب أن يعدم في الحكمة كالسفه والعبث وإذا كان الأمر لهذا الضرب من البيان كان النهي الذي هو خلاف الأمر لبيان ضده، وهو: بيان أنه مما ينبغي أن لا يكون وأن يعدم إلا أن حقيقة إعدام الفعل لا يتصور لأن الموجود منه عرض انقضى، فلا يتصور إعدامه.

وما لم يوجد كذلك لا يمكن أن يعدم ولكن يعدمه بالامتناع عن إيجاده فصار الامتناع حكمه وكان النهي للمنع عن الفعل لغة فيلزمه بالنهي ما يتعلق بعده انعدام ذلك الفعل منه، كما يلزمه بالأمر ما يوجد منه ذلك الفعل.

وأقسام النهي من التصرف: ما علم زيد، ولا يعلم زيد.

والنهي: لا تعلم، على خلاف؛ علم يعلم واعلم.
আমাদের আলেমগণ বলেছেন—যে ব্যক্তি এই মর্মে শপথ করে যে, সে অমুকের আগমনের সংবাদ দেবে না, অতঃপর সে মিথ্যা সংবাদ দিল: তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে, যদিও তার সংবাদের মাধ্যমে কোনো জ্ঞান অর্জিত হয়নি।

অনুরূপভাবে যদি সে শপথ করে যে, অমুকের আগমনের কথা লিখবে না, এরপর সে মিথ্যাভাবে লিখল; তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে, যদিও সে যা বলেছে তা দ্বারা কোনো জ্ঞান লাভ হয়নি।

কারণ এর মাধ্যমে জ্ঞান লাভ হওয়া হলো আভিধানিক বিন্যাসের প্রজ্ঞা অনুযায়ী এর কাঙ্ক্ষিত ফল, বিষয়টি এমন নয় যে এটি তার নিজের সত্তার অংশ কিংবা এর ব্যতিরেকে তা সম্পন্ন হয় না, যেমনটি লেখার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এর ব্যতিক্রম হলো 'ইলাম' (জ্ঞাপন), কারণ এটি এমন একটি কাজ যা জ্ঞান অর্জিত হওয়া ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না।

আর এর ব্যতিক্রম হলো যদি সে শপথ করে যে সে 'বিক্রি' করবে না, অতঃপর সে একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করল, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। কারণ বিক্রি তো কথা বলার প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা মালের বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তরের সাবাবের (কারণের) নাম। আর তা মূলত তার এই বক্তব্যেরই রূপান্তর যে: 'সে মালের বিনিময়ে মাল মালিকানায় নেবে না'। সুতরাং মাল ব্যতীত অন্য কিছুতে মালের মালিকানা যেমন সাব্যস্ত হয় না, ঠিক তেমনি যে সব বর্ণের ওপর কথা আবর্তিত হয় সেগুলো ব্যতীত কথা সম্পন্ন হয় না। তবে এই 'সাবাব' (বিক্রয়) যেহেতু কথার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, তাই তার কাঙ্ক্ষিত ফল নষ্ট হলেও তা নিজের সত্তার ক্ষেত্রে একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়; ফলে লোকসান হওয়া বিক্রির মাধ্যমেও সে শপথ ভঙ্গকারী হয়। ঠিক তেমনি সংবাদের মাধ্যমে কথা বলাও 'ইলাম' (জ্ঞাপন) রূপ ফল অর্জিত না হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

আর নির্দেশের (আমর) বিষয়টি হলো: তোমার 'তুমি করো' বলার মাধ্যমে কথা বলা, আর এর বাস্তবায়ন ঘটে এর বর্ণমালার মাধ্যমে।

আর এই বর্ণনা যে—নির্দেশের হুকুম অনুযায়ী বিষয়টি অস্তিত্বমান হওয়া উচিত, যেমন খবরের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা—যাতে সংবাদকৃত বিষয়টি বিদ্যমান থাকে। কারণ নির্দেশ হলো ক্রিয়ার রূপান্তরের একটি প্রকার যা আমরা উল্লেখ করেছি, সুতরাং এর উপকারিতাও অন্যান্য প্রকারের মতোই হবে।

আর তোমার বলা 'যায়েদ এসেছে'—এটি তার আসার অস্তিত্ব বর্ণনার ফায়দা দেয়, এবং 'সে আসবে'—এটি তা ভবিষ্যতে অর্জিত হবে তার বর্ণনা দেয়। ঠিক তেমনি 'তুমি আসো'—এটি এই বর্ণনার জন্য যে, এটি এমন বিষয় যা তার থেকে পাওয়া উচিত। এমনকি প্রজ্ঞা ও যুক্তির বিচারে একজন অন্ধ ব্যক্তিকে 'তুমি দেখো' বলা সংগত নয়; কারণ তার পক্ষ থেকে এটি বিদ্যমান হওয়া কল্পনা করা যায় না।

যেহেতু প্রজ্ঞার ফায়দা বিদ্যমান থাকা বাঞ্ছনীয়, তাই ভাষাগতভাবে নির্দেশ প্রতিটি এমন কাজের জন্য প্রযোজ্য হওয়া সঠিক যা সত্তাগতভাবে অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব; যদিও প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী তা অনুপস্থিত থাকা আবশ্যক হয়, যেমন নির্বুদ্ধিতা ও অনর্থক কাজ। আর নির্দেশ যখন এই ধরনের বর্ণনার জন্য হয়, তখন নিষেধ—যা নির্দেশের বিপরীত—তা এর বিপরীত অর্থ বর্ণনার জন্য হবে। আর তা হলো: এটি এমন বিষয় যা হওয়া উচিত নয় এবং যা অনুপস্থিত থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে কোনো কাজকে প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্বহীন করা কল্পনা করা যায় না, কারণ যা অর্জিত হয়েছে তা মূলত একটি নশ্বর গুণ যা শেষ হয়ে গেছে, সুতরাং একে বিলুপ্ত করা অসম্ভব।

তদ্রূপ যা এখনো অস্তিত্বশীল হয়নি, তাকেও বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়; বরং সে তা অস্তিত্বে আনা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বিলুপ্ত করে। ফলে বিরত থাকাটাই এর হুকুম সাব্যস্ত হয়েছে। আর ভাষাগতভাবে নিষেধের অর্থ হলো কাজ থেকে বিরত রাখা। সুতরাং নিষেধের মাধ্যমে ওই বিষয়টিকে আবশ্যক করা হয় যার সাথে উক্ত কাজটির অনুপস্থিতি সংশ্লিষ্ট, যেমন নির্দেশের মাধ্যমে ওই বিষয়কে আবশ্যক করা হয় যার দ্বারা উক্ত কাজটি অস্তিত্ব লাভ করে।

আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধের (না-বোধক) প্রকারভেদগুলো হলো: 'যায়েদ জানেনি' এবং 'যায়েদ জানে না'।

আর নিষেধবাচক নির্দেশ হলো: 'তুমি জেনো না', যা 'সে জেনেছে', 'সে জানে' এবং 'তুমি জানো'—এর বিপরীত।
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌القول في حكم الأوامر المطلقة في حق المأمورين شرعاً

اختلف العلماء في حكم الأمر على أربعة أقوال:

فقال بعضهم: حكمه الوقف حتى يأتي البيان.

وقال بعضهم: الإباحة إلا بدليل زائد عليها.

وقال بعضهم: الندب إلا بدليل مغير.

وقال جمهور العلماء: حكمه الوجوب إلا بدليل مسقط.

أما الواقفون: فذهبوا إلى أنا وجدنا موجب الأمر مختلفاً لغة أريد به الإيجاب وأريد به السؤال كقول العبد: اللهم اغفر لي.

وأريد به الإفحام كقول الله تعالى: {فأت بها من المغرب}، وقوله تعالى: {فأتوا بسورة من مثله}.

وأريد به التوبيخ كقول الله تعالى: {واستفزز من استطعت منهم بصوتك}.

وأريد به الإباحة كقول الله تعالى: {فانتشروا في الأرض}.

وأريد به الندب كقوله تعالى: {ومن الليل فتهجد به نافلة لك} ولهذا كان الأمر موضوعاً لغة لما يجب فعله، ولما يباح، ولما يقبح نحو السفه والعبث، فثبت أن الأمر محتمل وجوهاً شتى والمحتمل لا يكون حجة حتى يتعين أحد وجوهه بدليل.

وأما المبيحون: فذهبوا إلى أن الأمر لطلب وجود المأمور به من المأمور، ولا وجود إلا بالائتمار، فدل ضرورة على انفتاح طريق الائتمار عليه وأدناه الإباحة.

فأما الإفحام والتوبيخ ونحوهما فما فهمت مراده للأوامر إلا بدلالة من النص دلت عليه فكانت مجازاً لما لم تفهم إلا بقرينة أخرى على ما قال الله تعالى: {وعدهم وما يعدهم الشيطان إلا غروراً} فتبين أنه وبخهم بما أمره، فالغرور حرام والله تعالى لا يوجب الحرام.

وأما أمر الإفحام فمذكور في باب المناظرة فدل سياق الخطاب أنه للإفحام لأن الحجة إنما تقوم لعجزهم عن المأمور به.

والحكيم عند المناظرة لا ينطق إلا بما تقوم به حجته وهذا كما أن لفظة "المشيئة" للتخيير عن تمليك والله تعالى قال: {فمن شاء فليؤمن ومن شاء فليكفر} ثم كان للردع بدلالة السياق: {إنا أعتدنا للظالمين ناراً} النار لا تستقيم جزاء
শরয়িভাবে আদিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত নির্দেশের (আলাওয়ামির আল-মুতলাক্বাহ) বিধান প্রসঙ্গে আলোচনা

নির্দেশের (আমর) বিধানের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম চারটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর বিধান হলো স্থগিত থাকা (ওয়াকফ), যতক্ষণ না এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসে।

কেউ কেউ বলেছেন: এর বিধান হলো বৈধতা (ইবাহাত), যদি না এর স্বপক্ষে অতিরিক্ত কোনো দলিল পাওয়া যায়।

কেউ কেউ বলেছেন: এর বিধান হলো পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব হওয়া (নদব), যদি না এর পরিবর্তনকারী কোনো দলিল পাওয়া যায়।

আর অধিকাংশ (জমহুর) ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: এর বিধান হলো আবশ্যক হওয়া (ওয়াজিব), যদি না তা রহিত করার কোনো দলিল পাওয়া যায়।

স্থগিতকরণের (ওয়াকেফুন) প্রবক্তারা বলেন: আমরা ভাষাগতভাবে নির্দেশের দাবিকে ভিন্ন ভিন্ন পেয়েছি; কখনো এর দ্বারা আবশ্যক করা (ইজাব) উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো এর দ্বারা প্রার্থনা (সওয়াল) উদ্দেশ্য হয়, যেমন কোনো বান্দার উক্তি: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।

কখনো এর দ্বারা প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর বা অক্ষম করা (ইফহাম) উদ্দেশ্য হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে নিয়ে আসো", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো।"

কখনো এর দ্বারা তিরস্কার করা (তাওবিখ) উদ্দেশ্য হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের মধ্যে যাকে পারো তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রলুব্ধ করো।"

কখনো এর দ্বারা বৈধতা (ইবাহাত) উদ্দেশ্য হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো।"

আবার কখনো এর দ্বারা পছন্দনীয় হওয়া (নদব) উদ্দেশ্য হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত।" এই কারণে নির্দেশের শব্দটি ভাষাগতভাবে এমন বিষয়ের জন্য নির্ধারিত হয় যা করা ওয়াজিব, যা বৈধ এবং যা মূর্খতা ও অনর্থক কাজের মতো মন্দ। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, নির্দেশের শব্দটি বিভিন্ন দিক ধারণ করার সম্ভাবনা রাখে, আর যা একাধিক অর্থ ধারণের সম্ভাবনা রাখে তা ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না দলিলের মাধ্যমে তার কোনো একটি দিক সুনির্দিষ্ট হয়।

আর যারা বৈধতার (মুবীহুন) প্রবক্তা তারা মনে করেন: নির্দেশ প্রদান করা হয় আদিষ্ট ব্যক্তির নিকট হতে সেই কাজের অস্তিত্ব কামনায়। আর আনুগত্য (ইমতিসাল) ছাড়া কোনো কাজের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সুতরাং এটি অপরিহার্যভাবে আনুগত্যের পথ উন্মুক্ত করার ওপর প্রমাণ বহন করে এবং তার সর্বনিম্ন স্তর হলো বৈধতা।

আর প্রতিপক্ষকে অক্ষম করা (ইফহাম), তিরস্কার করা (তাওবিখ) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নির্দেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য তখনই বোঝা যায় যখন কোনো পাঠ্য দলিল (নস) সেদিকে ইঙ্গিত করে। সুতরাং এগুলো রূপক (মাজায) হিসেবে গণ্য হবে, যেহেতু অন্য কোনো অনুষঙ্গ (কারিনাহ) ছাড়া এগুলো বোঝা যায় না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।" সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, তিনি তাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তার মাধ্যমে তাদের তিরস্কার করেছেন। কেননা প্রতারণা হলো হারাম, আর মহান আল্লাহ কখনো হারামকে ওয়াজিব করেন না।

আর নিরুত্তর বা অক্ষম করার (ইফহাম) বিষয়টি বিতর্কের অধ্যায়ে আলোচিত। সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষাপটই প্রমাণ করে যে এটি অক্ষম করার জন্য, কারণ আদিষ্ট বিষয়টি পালনে তাদের অক্ষমতার মাধ্যমেই দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়।

আর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বিতর্কের সময় কেবল সেই কথাই বলেন যার মাধ্যমে তার দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ঠিক "ইচ্ছা" (মাশিয়াহ) শব্দের মতো, যা মালিকানা প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বাধীনতা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়; অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফর অবলম্বন করুক", অতঃপর প্রেক্ষাপটের কারণে এটি ধমক বা সতর্কবাণী (রাদ'উন) হিসেবে গণ্য হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।" জাহান্নামের আগুন তো কোনো কাজের প্রতিদান হিসেবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়...
(খণ্ড: ১) তাকবীমুল আদিল্লাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
على اختيار العبد ما خيره الله فيه وملكه.

ولأن الأمر لو وجب به الوقف لوجب بالنهي مثله فحينئذ يصير الأمر والنهي واحداً، وأنه قول محال، وإذا لم يجب الوقف بالنهي ووجبت الحرمة به والأمر ضده وجب أن يثبت به الإباحة.

وأما النادبون: فذهبوا إلى أن الإباحة لا ترجح جهة الفعل على جهة الترك، وفي الأمر طلب الفعل فإن الوجود متعلق بالفعل فلا بد من إثبات ما يترجح به الفعل على الترك وهو في أن يجعل الفعل أحين من الترك وأدنى صفة جهة الحسن في الندب. قالوا: ولا يلزمنا قول الله تعال: {وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم} ولا تنقطع الخيرة إلا بعد الوجوب، لأن الخلاف في مطلق الأمر والله تعالى علق انقطاع الخيرة بأمر مقضي به، وفي القضاء دلالة الإلزام من حيث الحقيقة وإن كان يقام مقام الأمر مجازاً.

ثم دل تعليق الله تعالى انتفاء الخيرة بالقضاء بالأمر، على أن الخيرة غير منتفية ما لم يتصف الأمر بالقضاء.

ولا يلزمنا كفر إبليس- عليه اللعنة- لمخالفته أمر ربه بالسجود لآدم عليه السلام لأنه إنما كفر لاستكباره على ما نص الله تعالى عليه، حتى قال الله تعالى: {فاهبط منها فما يكون لك أن تتكبر فيها فاخرج} فأخبر أنه أخرجه لتكبره.

ولنه قال: {ما منعك أن تسجد لما خلقت بيدي أستكبرت} وقوله تعالى: {ما منعك ألا تسجد إذ أمرتك قال أنا خير منه} فبين أنه تركه له لرؤيته الفضل لنفسه بغير حق وهو الكبر، وقال الله تعالى: {إلا إبليس استكبر وكان من الكافرين} أخبر أنه كفر باستكباره، ولأن الأمر بالسجود لآدم عليه السلام نص على أن الفضل لآدم فصار كافراً برده حكم الله تعالى في تفضيل آدم.

وأما الشرائع التي افترض أداؤها بالأوامر فعرفت فرائض الله بقرائن؛ إما إلحاق وعيد، أو إيجاب صريح، أو بأسباب أخر غير الأوامر على ما بينا.

والحجة لعلمائنا- رحمهم الله ما ذكرنا أن الأمر لبيان أن المأمور به مما ينبغي أن يوجد من قبل المأمور، وهي صفة لازمة بالأمر، كما كانت صفة الوجود لازمة من سائر أقسام التصريف، فإن قولك: "دخل فلان الدار" على ما عليه حق الكلام وهو الصدق يقتضي وجود الدخول لا محالة.

وكذلك يدخل على ما عليه الحد مقتضى وجود الدخول في الثاني، فكذلك أدخل على ما عليه الحد.

وإذا صار صفة الأمر أن يوجد صفة لازمة للفعل المأمور به من قبل المأمور بحكم
বান্দার সেই বস্তুকে পছন্দ করার উপর ভিত্তি করে যাতে আল্লাহ তাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) ও মালিকানা দান করেছেন।

কারণ যদি নির্দেশের দ্বারা স্থগিত থাকা (ওয়াকফ) আবশ্যক হতো, তবে নিষেধের দ্বারাও অনুরূপ হওয়া আবশ্যক হতো। এমতাবস্থায় নির্দেশ ও নিষেধ উভয়ই এক হয়ে যেত, যা একটি অসম্ভব কথা। আর যখন নিষেধের দ্বারা স্থগিত থাকা আবশ্যক নয় এবং এর দ্বারা হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়, আর নির্দেশ হলো এর বিপরীত, তবে এর দ্বারা বৈধতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক।

আর যারা একে মুস্তাহাব বা নফল মনে করেন, তারা এই মত পোষণ করেছেন যে, বৈধতা পরিত্যাগের দিকের তুলনায় করার দিককে প্রাধান্য দেয় না। অথচ নির্দেশের মধ্যে কাজটি করার চাহিদা বিদ্যমান, কারণ অস্তিত্ব কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এমন কিছু সাব্যস্ত করা আবশ্যক যার দ্বারা কাজ করাকে না-করার উপর প্রাধান্য দেওয়া যায়। আর তা হলো কাজটিকে না-করার চেয়ে উত্তম গণ্য করা, আর মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই হলো উত্তম হওয়ার সর্বনিম্ন স্তর। তারা বলেন: আল্লাহর এই বাণী আমাদের বিপক্ষে দলিল হিসেবে আবশ্যক হয়না যে, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না।" কেননা ওয়াজিব হওয়ার আগ পর্যন্ত ইখতিয়ার শেষ হয় না। কারণ বিতর্ক হলো সাধারণ নির্দেশের (মুতলাক আমর) ক্ষেত্রে, আর আল্লাহ তাআলা ইখতিয়ার বিলুপ্ত হওয়াকে এমন নির্দেশের সাথে যুক্ত করেছেন যার ফয়সালা (কাযা) হয়ে গেছে। আর ফয়সালা করার মধ্যে প্রকৃত অর্থে বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রমাণ থাকে, যদিও রূপক অর্থে একে নির্দেশের স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

অতঃপর ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ না থাকাকে ফয়সালাকৃত নির্দেশের সাথে আল্লাহ তাআলার যুক্ত করা একথার প্রমাণ দেয় যে, নির্দেশ যতক্ষণ ফয়সালা হিসেবে গুণান্বিত না হয়, ততক্ষণ ইখতিয়ার অপসারিত হয় না।

আর আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করার জন্য রবের নির্দেশ অমান্য করার কারণে ইবলিসের—তার উপর অভিশাপ—কাফির হওয়া আমাদের জন্য দলিল হিসেবে আবশ্যক হয় না। কারণ সে কাফির হয়েছিল তার অহংকারের কারণে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তুমি এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করার অধিকার তোমার নেই, সুতরাং বের হয়ে যাও।" এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তার অহংকারের কারণেই তাকে বের করে দিয়েছেন।

আর যেহেতু তিনি বলেছেন: "আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে?" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম তখন কিসে তোমাকে সিজদা করতে বাধা দিল? সে বলল, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" এখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সে সিজদা বর্জন করেছিল অন্যায়ভাবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করার কারণে, আর এটিই হলো অহংকার। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "কিন্তু ইবলিস অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।" তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সে তার অহংকারের কারণে কাফির হয়েছে। তাছাড়া আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করার নির্দেশ একথারই সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল যে শ্রেষ্ঠত্ব আদমের জন্য নির্ধারিত, ফলে আদমের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান করার কারণেই সে কাফির হয়ে যায়।

আর যেসব শরীয়তের বিধান নির্দেশের মাধ্যমে আদায় করা ফরয করা হয়েছে, সেখানে আল্লাহর ফরযসমূহ বিভিন্ন আলামত দ্বারা জানা গেছে; হয় তা শাস্তির হুমকির সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে, অথবা স্পষ্ট ফরয হওয়ার বর্ণনার মাধ্যমে, অথবা নির্দেশ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।

আর আমাদের ওলামায়ে কেরামের—আল্লাহ তাদের রহম করুন—পক্ষে দলিল হলো আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, নির্দেশ হলো একথার বর্ণনা যে যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা আদিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে সম্পাদিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর এটি নির্দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য গুণ, যেমনটি অস্তিত্বের গুণটি রূপান্তরের অন্যান্য প্রকারের ক্ষেত্রেও আবশ্যকীয় হয়ে থাকে। যেমন আপনার কথা: "অমুক ঘরে প্রবেশ করেছে", যা কথার সত্যতার দাবি অনুযায়ী অবশ্যই প্রবেশের অস্তিত্বকে আবশ্যক করে।

অনুরূপভাবে সংজ্ঞার বর্ণনার ক্ষেত্রেও ‘প্রবেশ করে’ কথাটি দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রবেশের অস্তিত্বের দাবি রাখে, ঠিক তেমনি ‘প্রবেশ করো’ কথাটিও সংজ্ঞার বর্ণনার ক্ষেত্রে একই অর্থ প্রদান করে।

আর যখন নির্দেশের বৈশিষ্ট্য এমন হলো যে, তা আদিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদিষ্ট কাজের জন্য বিধানগতভাবে একটি আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাব্যস্ত হলো।