(খণ্ড: ১) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
انتقاض الاعتراض في الرد على العيني في شرح البخاري   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: انتقاض الاعتراض في الرد على العيني في شرح البخاري

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)

المحقق: حمدي بن عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]- صبحي بن جاسم السامرائي [ت 1434 هـ]

الناشر: مكتبة الرشد، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 رمضان 1435

ইন্তিকাদুল ইতিরাদ ফি রদ্দ আলাল আইনি ফি শারহিল বুখারি (বুখারির ব্যাখ্যায় আইনির আপত্তির খণ্ডন)   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


বই: ইন্তিকাদুল ইতিরাদ ফি রদ্দ আলাল আইনি ফি শারহিল বুখারি (বুখারির ব্যাখ্যায় আইনির আপত্তির খণ্ডন)

লেখক: আবু আল-ফজল আহমাদ বিন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)

সম্পাদক: হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি]- সুব্হি বিন জাসিম আস-সামাররাঈ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বরকরণ ছাপানো সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١)
انْتِقَاض الاعتِرَاض

في

الرَّدِّ على العَيْنيِّ في شَرحِ البُخَارِيِّ

 

تأليف

شيخ الإسلام الإمام العلّامة

الحافظ قاضي القضاة

أبي الفضل أحمَد بَن عَلي بَن حَجَر العَسّقَلَاني

773 هـ - 852 هـ

 

حققه وعلق عليه

حمدي بن عبد المجيد السَّلفي

وصبحي بن جاسم السامرائي

 

الجزء الأوّل

مكتبة الرشد

الرياض
আপত্তির খণ্ডন

প্রসঙ্গে

সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যায় আল-আইনীর প্রতিবাদের প্রত্যুত্তরে

 

রচনা করেছেন

শায়খুল ইসলাম ইমাম আল্লামা

আল-হাফিজ কাযিল কুযাত

আবুল ফজল আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী

৭৭৩ হিজরি - ৮৫২ হিজরি

 

তাহকীক ও তালীক করেছেন

হামদী বিন আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী

এবং সুবহী বিন জাসিম আস-সামাররাঈ

 

প্রথম খণ্ড

মাকতাবাতুর রুশদ

রিয়াদ
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

إنَّ الحمدَ لله نحمده ونستعينه ونسغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إِلَّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمَّدًا عبده ورسوله؛

 

أمّا بعد: فإن أصدق الكلام كلام الله، وخير الهدى هدى محمَّد صلى الله عليه وسلم وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة وبعد:

 

فقد ألف الحافظ ابن حجر كتابه فتح الباري في شرح صحيح البخاريّ الذي لم يؤلف مثله إذ لم يترك شيئًا يتعلّق بالجامع الصّحيح إِلَّا وأتى به سواء من حيث المتون والأسانيد والشواهد وفقه الحديث، وكان كل أقرانه ممّن ألف عالة عليه ومن بحره اغترفوا ومنهم، العلَّامة محمود العيني رحمه الله، فإنّه في كتابه عمدة القاري عالة في كثير من شرحه عليه. ألف العيني كتابه عمدة القاري في شرح صحيح البخاريّ وجعله كأنّه رد على الحافظ ابن حجر في فتح الباري، وكان يتعقب كلما رأى مجالًا، فنجده كثيرًا ما يبتر عبارة الحافظ أو ينقلها محرفة أو مشوهة ليكون هناك مجال للاعتراض عليه، وقلما يفوته عنوان من عناوينه أو شرح لحديثه إِلَّا وتجد له اعتراضًا أو أكثر، وياحبذا لو كانت اعتراضاته ذات فائدة أو فيها زيادة علم. فانبرى له الحافظ في كتابه انتقاض الاعتراض، وأجاب فيه على تلك الاعتراضات الّتي ساقها العيني في شرحه عمدة القاري، وأجاب عنها إجابة جيدة، ولكنه اقتصر رحمه الله على الاعتراضات المهمة منها، إذ لو أجاب عنها كلها لبلغ حجم الكتاب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌সম্পাদনার ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল;

 

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা। অতঃপর:

 

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল বারী' রচনা করেছেন, যার সদৃশ কোনো কিতাব ইতিপূর্বে রচিত হয়নি। কেননা তিনি আল-জামে আল-সহীহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট মতন, আসনাদ, শাওয়াহিদ এবং হাদিসের ফিকহ সংক্রান্ত এমন কোনো বিষয়ই বাদ দেননি যা তিনি কিতাবটিতে আনয়ন করেননি। তাঁর সমসাময়িক সকল লেখকই এ ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী ছিলেন এবং তাঁর ইলমের সমুদ্র থেকেই তারা আহরণ করেছেন। তাদের মধ্যে আল্লামা মাহমুদ আল-আইনী (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম, কারণ তিনি তাঁর 'উমদাতুল ক্বারী' কিতাবের অনেক ব্যাখ্যাতেই তাঁর (ইবনে হাজারের) ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আইনী সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যায় তাঁর 'উমদাতুল ক্বারী' কিতাবটি রচনা করেন এবং এটিকে হাফেজ ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারী'র একটি খণ্ডন হিসেবে উপস্থাপন করেন। যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন তিনি তাঁর সমালোচনা করেছেন। আমরা প্রায়শই দেখতে পাই যে, তিনি হাফেজের বক্তব্যকে আংশিক উদ্ধৃত করেন অথবা তা বিকৃত বা অসংলগ্নভাবে পেশ করেন যাতে সেখানে আপত্তি তোলার অবকাশ থাকে। হাফেজের এমন কোনো শিরোনাম বা হাদিসের ব্যাখ্যা খুব কমই বাদ পড়েছে যেখানে তিনি একটি বা একাধিক আপত্তি উত্থাপন করেননি। এই আপত্তিগুলো যদি ফলপ্রসূ বা ইলম বৃদ্ধির সহায়ক হতো তবে কতই না উত্তম হতো। ফলে হাফেজ তাঁর 'ইনতিকাদুল ইতিরাদ' কিতাবে তাঁর মোকাবিলা করেন এবং আইনী তাঁর 'উমদাতুল ক্বারী'র ব্যাখ্যায় যেসব আপত্তি উত্থাপন করেছিলেন সেগুলোর উত্তর দেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন, তবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কেবল গুরুত্বপূর্ণ আপত্তিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কারণ তিনি যদি সবগুলোর জবাব দিতে যেতেন তবে কিতাবের আকার অনেক বৃদ্ধি পেত।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
أكبر من عمدة القاري، وقد لاحظنا أنّ الحافظ تصرف أحيانًا في عبارة الفتح، وأوضح أحيانًا ما أورده. في الفتح بالزيادة والبيان، وقد يذكر الحافظ عبارة الفتح وعبارة العمدة. ولا يعلق على ذلك بل يكل ذلك إلى القارىء الفهم ليكون هو الحكم العدل.

 

‌‌منهجنا في التحقيق

1 - وجدنا بعض الأخطاء الاملائية وغير الاملائية كثيرًا ما وقعت في المخطوط فأصلحناها، ورجعنا في ذلك إلى الفتح والعمدة وأكملنا النواقص إن وجدت، وقد أخذت منا جهدًا كبيرًا، ولم نشر بالهامش إلى تلك الأخطاء والتي لا فائدة من ذكرها.

2 - أشرنا إلى مكان ما ينقله الحافظ من فتح الباري إلى مكان وجوده في الصفحة والجزء، وكذلك بالنسبة لعمدة القارئ، ولم نجعل من أنفسنا حكمًا عليهما إذ لم نرجح قول أحدهما على الآخر بل أحلنا ذلك إلى القارىء.

3 - ربما نقلنا عبارة من كتاب مبتكرات اللاليء والدرر للبوصيري المتوفى سنة 1354 وسيأتي وصفه.

كتاب مبتكرات اللاليء والدرر في المحاكمة به العيني وابن حجر تأليف الشّيخ عبد الرّحمن البوصيري. وهذا الكتاب طبع بالمطبعة الحكومية لولاية طرابلس الغرب سنة 1959م وهو كتاب نافع وكثير الفوائد ردَّ فيه على العيني، رتبه على شكل محاكمات بلغت ثلاثة وأربعين وثلثمائة محكمة.

 

وهذه ترجمة يسيرة للحافظ ابن حجر.

إمام الحفاظ وحافظ الأئمة شيخ الإسلام أحمد بن علي المعروف بابن حجر العسقلاني، وابن حجر لقب لأحد أجداده. ولقب بأمير المؤمنين في الحديث، والحافظ. لم يقاربه أحد من أقرانه بسعة علمه، اجتمع له من
'উমদাতুল কারী'-এর চেয়েও বড়। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, হাফিজ (ইবনে হাজার) কখনও কখনও 'ফাতহুল বারী'-এর ইবারত (ভাষ্য) পরিমার্জন করেছেন এবং কখনও কখনও 'ফাতহুল বারী'-তে যা উল্লেখ করেছেন তা অতিরিক্ত সংযোজন ও বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। কখনও হাফিজ 'ফাতহুল বারী' ও 'উমদাতুল কারী' উভয়ের ইবারত উল্লেখ করেন। তিনি এর ওপর কোনো মন্তব্য করেন না, বরং বিষয়টি বিজ্ঞ পাঠকের ওপর ছেড়ে দেন যাতে পাঠকই ন্যায়বিচারক হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

‌‌সম্পাদনায় আমাদের পদ্ধতি

১ - আমরা পাণ্ডুলিপিতে বেশ কিছু বানানগত ও অন্যান্য ভুল লক্ষ্য করেছি এবং তা সংশোধন করেছি। এ ক্ষেত্রে আমরা 'ফাতহুল বারী' ও 'উমদাতুল কারী'-এর শরণাপন্ন হয়েছি এবং কোনো অপূর্ণতা থাকলে তা পূরণ করেছি। এটি আমাদের পক্ষ থেকে প্রচুর পরিশ্রম দাবি করেছে। আমরা সেই সব ভুলত্রুটি টীকায় উল্লেখ করিনি যেগুলোর বর্ণনায় কোনো বিশেষ উপকার নেই।

২ - হাফিজ 'ফাতহুল বারী' থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, আমরা তার পৃষ্ঠা ও খণ্ড নম্বর উল্লেখ করেছি। একইভাবে 'উমদাতুল কারী'-এর ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। আমরা নিজেদেরকে তাদের দুজনের বিচারক হিসেবে দাঁড় করাইনি এবং একজনের মতকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেইনি, বরং বিষয়টি পাঠকের ওপর অর্পণ করেছি।

৩ - সম্ভবত আমরা ১৩৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী বুসিরী রচিত 'মুবতাকারাতুল লাআলি ওয়াদ্ দুরার' কিতাব থেকে কোনো ইবারত উদ্ধৃত করেছি, যার বর্ণনা সামনে আসবে।

শাইখ আব্দুর রহমান আল-বুসিরী রচিত 'মুবতাকারাতুল লাআলি ওয়াদ্ দুরার ফিল মুহাকামাতি বাইনাল আইনি ওয়া ইবনি হাজার' কিতাবটি ১৯৫৯ সালে ত্রিপোলি (পশ্চিম) প্রদেশের সরকারি ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এটি একটি উপকারী এবং বহুবিধ ফায়দা সম্বলিত কিতাব, যেখানে লেখক আল্লামা আইনীর (আপত্তির) জবাব দিয়েছেন। তিনি একে বিচারিক পর্যালোচনার (মুহাকামা) আদলে বিন্যস্ত করেছেন, যার সংখ্যা ৩৪৩টি।

 

এটি হাফিজ ইবনে হাজার-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী।

হাফিজগণের ইমাম, ইমামদের হাফিজ, শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আলী, যিনি ইবনে হাজার আসকালানী নামে পরিচিত। 'ইবনে হাজার' তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের উপাধি। তাঁকে 'আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস' এবং 'আল-হাফিজ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততায় তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারেননি। তাঁর মধ্যে সমাবেশ ঘটেছিল...
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
الشيوخ الأكابر ما لم يجتمع لغيره كالزين العراقي، والعز بن جماعة، والبلقيني، ونور الدِّين الهيثمي، والمجد الفيروزبادي، وسراج الدِّين بن الملقن، والبوصيري والتنوخي .. وتخرج به أئمة كبار كالسخاوي والبقاعي.

 

تصدى رحمه الله لنشر حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم إقراءًا وقراءة وتصنيفًا وإفتاءًا وإملاءًا على تلاميذه، وألف في مختلف فنون العلم وبرع وانفرد بالحديث وعلومه وزادت تآليفه على 150 تأليفًا ومعظمها في الحديث وعلومه وفنونه وفيها من فنون الأدب والفقه وغير ذلك. وِاستفاد من تصانيفه أقرانه وشيوخه ففي الرجال تهذيب التهذيب الذي زاد فيه على الحافظ المزي في تهذيب الكمال رحمه الله فوائد كثيرة، وتقريب التهذيب الذي ابتكر فيه وقسم الرواة إلى طبقات ومراتب ولم يسبقه إلى مثله أحد. وفي التخريج كهداية الرواة في تخريج أحاديث المصباح والمشكاة، وتخريج مختصر ابن الحاجب. وأذكار النووي وغيرها وفي المصطلح كالنكت على مقدمة ابن الصلاح ونخبة الفكر ونزهة النظر، وفي كثير من علوم الحديث له فيه تأليف.

 

ظهر في وقتنا الحاضر جماعة جهال نسبوا أنفسهم إلى العلم وهذه الجماعة لا تعرف قدر نفسها أخذت تتهجم على الحافظ ابن ججر الذي نذر نفسه لإعلاء سنة رسول الله والحفاظ عليها وتدريسها ونشرها وتنقصه وهم. أبعد النَّاس عن العلم بل هم من أدعيائه هذا الإمام الذي ملأت تصانيفه المكتبات يرمونه بالجهل وعدم المعرفة، فبئس الجهال هؤلاء، ولا ينبغي لطلاب العلم ومحبي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الالتفات إلى ذلك والاهتمام بما يكتبه هؤلاء، بل ينبغي الحذر منهم ولَعلَّ هؤلاء ينفذون مخططًا لهدم السُّنَّة وعلومها.

 

رحل الحافظ ابن حجر إلى كثير من البلدان الإسلامية للسماع والقراءة وقرأ واطلع على كثير ممن لم يطلع عليه غيره من أقرانه وكتابه المعجم المفهرس (مخطوط) يدلُّ على سعة اطلاعه وكثرة الكتب التي قرأها سيما فِي الحديث
তিনি এমন সব মহান উস্তাদদের সাহচর্য লাভ করেছেন যা অন্যের ভাগ্যে জোটেনি, যেমন: যাইনুল ইরাকি, ইজ্জ ইবনে জামাআহ, আল-বুলকিনি, নুর উদ্দিন আল-হাইসামি, মাজদ আল-ফিরোজাবাদি, সিরাজ উদ্দিন ইবনুল মুলাক্কিন, আল-বুসিরি এবং আত-তানুখি... আর তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করে বড় বড় ইমাম হিসেবে গড়ে উঠেছেন আস-সাখাওয়ি এবং আল-বিকাঈ।

 

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস পড়ানো, পাঠ করা, গ্রন্থ রচনা, ফতোয়া প্রদান এবং ছাত্রদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে হাদিস প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহে পারদর্শিতা অর্জন করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে, যার অধিকাংশ হাদিস এবং এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে; এছাড়াও এতে সাহিত্য, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর উস্তাদগণও তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছেন। রিজাল শাস্ত্রে তাঁর রয়েছে 'তাহজিবুত তাহজিব', যেখানে তিনি হাফেজ মিজ্জি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'তাহজিবুল কামাল'-এর ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ফায়দা সংযোজন করেছেন; আরও রয়েছে 'তাকরিবুত তাহজিব', যেখানে তিনি এক অভিনব পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেননি। তাখরিজ শাস্ত্রে রয়েছে 'হিদায়াতুর রুওয়াত ফি তাখরিজি আহাদিসিল মিসবাহ ওয়াল মিশকাত', ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার'-এর তাখরিজ, ইমাম নববীর 'আজকার'-এর তাখরিজ ইত্যাদি। পরিভাষা শাস্ত্রে (উসুলে হাদিস) রয়েছে ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমার ওপর 'আন-নুকাতে', 'নুখবাতুল ফিকার' এবং 'নুযহাতুন নাযার'। হাদিস শাস্ত্রের অধিকাংশ শাখাতেই তাঁর কোনো না কোনো রচনা রয়েছে।

 

বর্তমান সময়ে একদল মূর্খ লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা নিজেদেরকে ইলমের দিকে সম্পৃক্ত করে, অথচ এই দলটি নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কেই সচেতন নয়। তারা হাফেজ ইবনে হাজারের সমালোচনা ও তাঁর প্রতি আক্রমণ শুরু করেছে, যিনি রাসূলুল্লাহর সুন্নাহকে সমুন্নত রাখা, তা সংরক্ষণ করা, পাঠদান এবং প্রসারে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তারা তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা করে, অথচ তারা ইলম থেকে যোজন যোজন দূরে, বরং তারা ইলমের মিথ্যা দাবিদার মাত্র। এই ইমাম, যাঁর কিতাবসমূহ পাঠাগারগুলোকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে, তাঁকে তারা অজ্ঞতা ও জ্ঞানহীনতার অপবাদ দেয়। এই মূর্খরা কতই না মন্দ! ইলম অন্বেষণকারী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রেমিকদের উচিত হবে না এদের এসব কথায় কান দেওয়া বা এরা যা লেখে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা। বরং এদের থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক, কারণ সম্ভবত এরা সুন্নাহ এবং সুন্নাহর ইলমসমূহ ধ্বংস করার কোনো নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

 

হাফেজ ইবনে হাজার হাদিস শ্রবণ ও পাঠের উদ্দেশ্যে অনেক ইসলামি দেশ সফর করেছেন। তিনি এমন সব বিষয় পাঠ করেছেন এবং অবগত হয়েছেন যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁর গ্রন্থ 'আল-মুজামুল মুফাহরাস' (পাণ্ডুলিপি) তাঁর ব্যাপক অধ্যায়ন এবং বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পঠিত অসংখ্য কিতাবেরই প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٦)
وعلومه. رحم الله الحافظ ابن حجر وجعلنا من محبيه. توفي رحمه الله في القاهرة في ذي الحجة سنة 852 هـ ودفن بالقرافة. وأفرد تلميذه السخاوي كتابًا في ترجمته سماه الجواهر والدرر في ترجمه شيخ الإسلام ابن حجر.

 

‌‌العلّامة محمود العيني

أبو محمد محمود بدر الدِّين العيني نسبته إلى عينتاب. تتلمذ على الحافظ العراقي والحافظ سراج الدِّين البلقيني والحاقظ نور الدِّين الهيثمي وغيرهم وصنف الكثير. ومن مؤلفاته. عمدة القارئ في شرح صحيح البخاريّ (طبع) ونخب الأفكار في تنقيح مباني الأخبار (خط)، وعقد الجمان في تاريخ أبناء الزّمان (خط)، وشرح سنن أبي داود (خط)، والعناية في شرح الهداية في الفقه الحنبلي وغيرها. توفي رحمه الله سنة 852 هـ -.

 

‌‌النسخ المعتمدة في التحقيق:

اعتمدنا على ثلاث نسخ:

الأولى:- مخطوطة مكتبة الآثار العامة في بغداد كتبها عبد الرّحمن بن عبد العظيم سنة 1088هـ وجعلناها أصلًا، وعدد أوراقها 250 ورقة وهي نسخة جيدة ورقمها في دار صدام للمخطوطات 29620

الثّانية: نسخة المكتبة الظاهرية بدمشق رقم

الثّالثة: نسخة جستربتي.

 

صبحي بن جاسم السامرائي

حمدي عبد المجيد السلفي

بغداد في 10 رجب 1407هـ
এবং তাঁর জ্ঞান। আল্লাহ হাফেজ ইবনে হাজারের ওপর রহম করুন এবং আমাদের তাঁর ভালোবাসাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি ৮৫২ হিজরীর জিলহজ মাসে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন এবং কারাফায় সমাহিত হন। তাঁর ছাত্র সাখাভী তাঁর জীবনীতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতিল শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার।

 

‌‌আল্লামা মাহমুদ আল-আইনি

আবু মুহাম্মদ মাহমুদ বদরুদ্দীন আল-আইনি, তাঁর নিসবত (সম্পর্ক) আইনতাবের দিকে। তিনি হাফেজ আল-ইরাকি, হাফেজ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি, হাফেজ নূরুদ্দীন আল-হাইসামি এবং অন্যান্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: উমদাতুল কারি ফি শারহি সহীহিল বুখারী (মুদ্রিত), নুখাবুল আফকার ফি তানকিহি মাবানিল আখবার (পাণ্ডুলিপি), উকুদুল জুমান ফি তারিখি আবনাজি জামান (পাণ্ডুলিপি), শারহু সুনানি আবি দাউদ (পাণ্ডুলিপি), এবং হাম্বলি ফিকহের গ্রন্থ আল-হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ইনায়া সহ আরও অনেক। তিনি ৮৫২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌সম্পাদনায় (তাহকিক) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহ:

আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথমটি: বাগদাদের মাকতাবাতুল আসার আল-আম্মাহর পাণ্ডুলিপি, যা ১০৮৮ হিজরীতে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আজিম অনুলিপি করেছিলেন এবং আমরা একে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি। এর পত্র সংখ্যা ২৫০ এবং এটি একটি চমৎকার অনুলিপি, দার সাদ্দাম পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রে এর নম্বর ২৯৬২০।

দ্বিতীয়টি: দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়ার অনুলিপি নম্বর।

তৃতীয়টি: চেস্টার বিটি-র অনুলিপি।

 

সুবহি বিন জাসিম আস-সামাররাঈ

হামদি আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি

বাগদাদ, ১০ রজব ১৪০৭ হিজরী।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه ثقتي

اللَّهُمَّ إنِّي أحمدك في ما ألهمت من المحامد، وأشكرك على فضلك البادي والعائد، وأستنصرك على كلّ معاند ومكائد، وأعوذ بك من شر كلّ باغ وحاسد، وأصلّي وأسلم على نبيك محمَّد وعلى آله وصحبه الصادعين بالحق في جميع المشاهد.

 

أمّا بعد فإني شرعت في شرح صحيح البخاريّ في سنة ثلاث عشرة وثمان مئة بعد أن كنت خرجت ما فيه من الأحاديث المعلقة في كتاب سميته: "تغليق التعليق" وكمل في سنة أربع وثمان مائة في سفر ضخم، ووقف عليه أكابر شيوخي، وشهدوا بأني لم أسبق إليه.

ثمّ عملت مقدمة الشرح فكملت في سنة ثلاث عشرة المذكورة، ومن هناك ابتدأت في الشرح، فكتبت منه قطعة أطلت فيها التبيين، ثمّ خشيتُ أنّ يعوق عن تكملتة على تلك الصِّفَة عائق، فابتدأت في شرح متوسط، سميته "فتح الباري بشرح البخاريّ" فلما كان بعد خمس سنين أو نحوها وقد بيض منه مقدار الربع على طريقة مثلي وقد اجتمع عندي من طلبة العلم المهرة جماعة وافقوني على تحرير هذا الشرح بأن أكتب الكراس ثمّ يحصله كل منهم نسخًا، ثمّ يقرؤه أحدهم ويعارض معه رفقته مع البحث في ذلك والتحرير، فصار السَّفر لا يكمل منه إِلَّا وقد قوبل وحرر من ذلك النظر في ذلك الزمن اليسير لهذه المصلحة، إلى أن يسر الله تعالى إكماله في شهر رجب سنة اثنتين وأربعين.

وفي أثناء العمل كثرت الرغبات في تحصيله ممّن اطلع على طريقتي فيه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা।

হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যে সকল প্রশংসার প্রেরণা দিয়েছেন আমি সেই সকল প্রশংসার মাধ্যমে আপনার গুণগান করছি। আপনার প্রকাশ্য ও চিরস্থায়ী অনুগ্রহের জন্য আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সকল বিরুদ্ধাচরণকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে আমি আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং প্রতিটি বিদ্রোহী ও হিংসুক ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি, যাঁরা সকল পরিস্থিতিতে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন।

 

অতঃপর, আমি আটশত তেরো হিজরি সনে সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করি। এর পূর্বে আমি এতে বিদ্যমান মুআল্লাক হাদীসসমূহকে পৃথক করে একটি গ্রন্থে সংকলন করেছিলাম যার নাম দিয়েছি: "তাগলীকুত তালীক"। গ্রন্থটি আটশত চার হিজরি সনে একটি বিশাল খণ্ডে সম্পন্ন হয়েছিল এবং আমার মহান শিক্ষকগণ এটি পর্যবেক্ষণ করে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, আমার পূর্বে কেউ এমন কাজ করতে সক্ষম হয়নি।

এরপর আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থটির একটি ভূমিকা তৈরি করি যা উল্লিখিত আটশত তেরো হিজরি সনেই সম্পন্ন হয়। সেখান থেকেই আমি মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থটি লিখতে শুরু করি এবং এর একটি অংশ লিখি যেখানে আমি বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করি। পরবর্তীতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, এই দীর্ঘ পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমি একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা শুরু করলাম যার নাম দিলাম "ফাতহুল বারী বিশারহিল বুখারী"। যখন প্রায় পাঁচ বছর বা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত হলো এবং আমার অনুসৃত পদ্ধতিতে এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত হলো, তখন একদল দক্ষ শিক্ষার্থী আমার নিকট সমবেত হলেন। তাঁরা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পাদনার কাজে আমাকে সহযোগিতা করতে সম্মত হলেন। পদ্ধতিটি ছিল এমন যে, আমি একটি পুস্তিকা লিখতাম এবং তাঁরা প্রত্যেকেই তার অনুলিপি তৈরি করতেন। এরপর তাদের মধ্যে একজন তা পাঠ করতেন এবং তাঁর সহপাঠীরা গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তা মিলিয়ে নিতেন। ফলে এই কল্যাণকর ব্যবস্থার কারণে প্রতিটি খণ্ড সম্পন্ন হওয়ার আগেই অল্প সময়ের মধ্যে তা পর্যালোচিত ও সম্পাদিত হয়ে যেত। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাআলা আটশত বিয়াল্লিশ হিজরি সনের রজব মাসে এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিলেন।

আর এই কাজ চলাকালীন সময়ে, যারা আমার অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন তাদের পক্ষ থেকে এটি সংগ্রহের প্রবল আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٨)
حتّى خطبه جماعة من ملوك الأطراف بسؤال علمائهم لهم في ذلك فاستنسخت لصاحب الغرب الأدنى نسخة ممّا كمل منه، وذلك بعناية الإمام المتقن زين الدِّين عبد الرّحمن البرشْكي بكسر الموحّدة والراء المهملة وسكون المعجمة، وكان ملك الغرب يومئذ عبد العزيز الحوصي المعروف بابن فارس، وكان الذي كمل من الكتاب المذكور حينئذ قدر ثلثيه، واستنسخت لصاحب المشرق نسخة بعد ذلك بعناية العلّامة الحافظ شيخ القراء شمس الدِّين الجزري، والملك يومئذ شاه رخ، وجهزت له من قبل الملك الأشرف، ولم يكن الكتاب كمل ثمّ في سلطته الملك الظّاهر جهز له نسخة كاملة، وكان سبب رغبتهم فيه اشتهار المقدِّمة فصار من يعرف فصولها يتشوق إلى الأصل.

وفي سنة اثنتين وعشرين أحضر إليَّ طالب علم كراسة بخط محتسب القاهرة الذي تولى بعد ذلك قضاء الحنفية في الدولة الأشرفية، فرأيت فيه ما نصه:

الحمد لله الذي أوضح وجوه معالم الدِّين، وأفضح وجوه الشك بكشف النقاب عن وجه اليقين، بالعلماء المستنبطين الراسخين، والفضلاء المحققين الشامخين، فاستمر في هذا المهيع يذكر من تصدى لجمع السنن النبوية، إلى أن ذكر البخاريّ وذكر فضل كتابه الصّحيح، وأنّه فإن غيره، ولذلك أقبل عليه كبار العلماء وعملوا عليه شروحًا إلى أن قال:

لكن لم يقع لي شرح يشفي العليل، ويروي الغليل، لأنّ منهم من طول فأمل، ومنهم من قصر فأخل، على أنّه لم يقصد واحد منهم على كثرتهم لشرحه لما هو المقصود، ثمّ ذكر أنّ الذي دعاه إلى شرح هذا الكتاب أمور:

أحدها: أن يعلم أنّ في الخبايا زوايا (1).

--------------------------------------------

(1) في عمدة القاري الزوايا خبايا، وهو الصواب.
এমনকি প্রান্তীয় অঞ্চলের একদল বাদশাহ তাঁদের আলেমদের অনুরোধে এটির জন্য আবেদন করেন। ফলে নিকটবর্তী মাগরিবের অধিপতির জন্য সে সময় পর্যন্ত কিতাবটির যতটুকু সম্পন্ন হয়েছিল তার একটি প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। এটি সম্পন্ন হয়েছিল নিপুণ ইমাম যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান আল-বারাশকি-এর তত্ত্বাবধানে (প্রথম বর্ণটির নিচে জের, রা-এর ওপর জবর এবং শিন-এর ওপর জযম সহযোগে)। সেই সময় মাগরিবের বাদশাহ ছিলেন আব্দুল আজিজ আল-হাউসি, যিনি ইবনে ফারিস নামে পরিচিত ছিলেন। সেই সময় উক্ত কিতাবের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর প্রাচ্যের অধিপতির জন্য আল্লামা হাফেজ শাইখুল কুররা শামসুদ্দীন আল-জাজারির তত্ত্বাবধানে একটি প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। তৎকালীন বাদশাহ ছিলেন শাহ রুখ। এটি তাঁর জন্য বাদশাহ আশরাফের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তখনও কিতাবটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এরপর বাদশাহ জাহিরের শাসনকালে তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি প্রস্তুত করা হয়। তাঁদের এই আগ্রহের কারণ ছিল এর ভূমিকার প্রসিদ্ধি। ফলে যারা এর পরিচ্ছেদগুলো সম্পর্কে জানত, তারা মূল কিতাবটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠত।

এবং আটশত বাইশ হিজরি সনে একজন ছাত্র আমার নিকট কায়রোর মুহতাসিবের হস্তাক্ষরে একটি পুস্তিকা নিয়ে আসেন, যিনি পরবর্তীতে আশরাফিয়া আমলের হানাফি প্রধান বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। সেখানে আমি এই পাঠটি দেখতে পাই:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দীনের নিদর্শনাদির দিকসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের মুখমণ্ডল থেকে পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে সন্দেহের দিকগুলোকে অপদস্থ করেছেন; এটি তিনি করেছেন গভীর জ্ঞানসম্পন্ন গবেষক আলেমগণ এবং উচ্চমর্যাদাবান পণ্ডিতদের মাধ্যমে। এরপর তিনি এই ধারায় তাঁদের কথা উল্লেখ করতে থাকেন যারা নববী সুন্নাহ সংকলনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, এমনকি তিনি ইমাম বুখারি এবং তাঁর সহিহ কিতাবের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এটি অন্য সব কিতাবকে ছাপিয়ে গেছে। একারণেই বড় বড় আলেমগণ এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং এর ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন:

কিন্তু আমি এমন কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাইনি যা রুগ্ন হৃদয়কে নিরাময় দেয় এবং জ্ঞানের তৃষ্ণা নিবারণ করে। কেননা তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এত দীর্ঘ করেছেন যে তা বিরক্তির উদ্রেক করে, আবার কেউ কেউ এত সংক্ষিপ্ত করেছেন যে তাতে অসম্পূর্ণতা থেকে গেছে। উপরন্তু, ব্যাখ্যাকারদের সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কেউই প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার সংকল্প করেননি। এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কিতাবটির ব্যাখ্যা রচনায় তাঁকে যে বিষয়গুলো উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো:

প্রথমত: এটি জানা যে, গুপ্তভাণ্ডারের ভেতর অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকে (১)।

--------------------------------------------

(১) উমদাতুল কারি গ্রন্থে পাঠটি হলো "কোণসমূহ হলো গুপ্তভাণ্ডার", আর এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٩)
وثانيها: قطع حجة من يدعي الانفراد في هذا الباب.

وثالثها: إظهار ما منحه الله من العلوم، ثمّ أخذ في ذم أهل زمانه جميعًا، أمّا علماؤهم فلما عندهم من الحسد، وأمّا رؤساؤهم فلما عندهم من الشح والتهاون بالعلماء.

ثمّ وصف ما عزم عليه من شرح هذا الكتاب بأن يظهر صعابه، ويبين معضلاته، ويوضح مشكلاته، بحيث أنّ الناظر فيه إن أراد المنقول ظفر بآماله، وإن أراد المعقول فاز بكماله .. إلى أن قال:

فجاء هذا الكتاب بحمد الله فوق ما في الخواطر، فائقًا على سائر الشروح بكثرة الفوائد والنوادر.

ثمّ ذكر سنده إلى البخاري.

ثمّ ذكر مقدمة لطيفة انتزعها من القطعة الّتي كتبها شيخ الإسلام النووي، ولو كان نسخها من نسخة صحيحة ونسبها إليه لاستفاد السلامة ممّا وقع في خطه من التصحيف لكثير من الأسماء والسمات، والتحريف لبعض الكلمات (2)، وقد تتبعت ما وقع به من ذلك في تلك الكراسة الّتي ابتدأ بها خاصّة، فزاد على ثمانين غلطة، فأفردت كذلك في جزء سميتهُ "الاستنثار على الطاغي المعثار".

فكتبت عليها علماءُ ذلك العصر كقاضى القضاة جلال الدِّين البلقيني، ورفيقاه قاضى القضاة علاء الدِّين المغلي، وقاضى القضاة شمس الدِّين بن الديري.

ومن المشايخ شرف الدِّين بن التباني، وشمس الدِّين بن الديري، وشمس الدِّين البرماوي، كتبوا كلهم بتصويب ما تعقبته عليه، ومن جملة ما أنكره عليه البلقيني:

--------------------------------------------

(2) عمدة القاري (1/ 2 - 11).
এবং দ্বিতীয়টি হলো: যারা এ বিষয়ে অনন্য হওয়ার দাবি করে, তাদের প্রমাণ খণ্ডন করা।

এবং তৃতীয়টি হলো: আল্লাহ তাকে যে জ্ঞান দান করেছেন তা প্রকাশ করা। অতঃপর তিনি তাঁর সমসাময়িক সকলের নিন্দা করতে শুরু করেন; তাদের আলেমদের নিন্দা করেন তাঁদের মধ্যে বিদ্যমান হিংসার কারণে, আর তাদের নেতাদের নিন্দা করেন তাদের কৃপণতা ও আলেমদের প্রতি অবজ্ঞার কারণে।

এরপর তিনি এই কিতাবটির ব্যাখ্যা করার যে সংকল্প করেছিলেন তার বর্ণনা দেন, যাতে এর কঠিন বিষয়গুলো প্রকাশ পায়, জটিলতাগুলো স্পষ্ট হয় এবং অস্পষ্টতাগুলো দূর হয়; যেন পাঠক যদি উদ্ধৃত বিষয়াদি চায় তবে সে তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করে, আর যদি যৌক্তিক বিষয়াদি চায় তবে সে তার পূর্ণতা অর্জন করে... তিনি এ কথা বলা পর্যন্ত যে:

আল্লাহর প্রশংসায় এই কিতাবটি মানুষের কল্পনার ঊর্ধ্বে হয়েছে, যা প্রচুর উপকারিতা ও বিরল তথ্যের সমাহারে অন্যান্য সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থকে ছাড়িয়ে গেছে।

এরপর তিনি বুখারী পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করেন।

এরপর তিনি একটি চমৎকার ভূমিকা উল্লেখ করেন যা তিনি শাইখুল ইসলাম আন-নববীর লিখিত অংশ থেকে গ্রহণ করেছেন। যদি তিনি তা কোনো নির্ভুল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করতেন এবং তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করতেন, তবে অনেক নাম ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাঁর লেখায় যে বর্ণ-বিপর্যয় এবং কিছু শব্দের বিকৃতি ঘটেছে (২), তা থেকে তিনি রক্ষা পেতেন। তিনি বিশেষ করে যে পুস্তিকাটি দিয়ে শুরু করেছেন, তাতে সংঘটিত ভুলগুলো আমি অনুসন্ধান করেছি এবং তাতে আশিটিরও বেশি ভুল পেয়েছি। তাই আমি এ বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি অংশ লিখেছি যার নাম দিয়েছি "আল-ইসতিনসার আলাত তগিল মিসার"।

সে যুগের উলামায়ে কেরাম এর ওপর মন্তব্য লিখেছেন, যেমন কাযিল কুযাত জালালুদ্দিন আল-বুলকিনি এবং তাঁর দুই সঙ্গী কাযিল কুযাত আলাউদ্দিন আল-মুগলি ও কাযিল কুযাত শামসুদ্দিন ইবনুদ দাইরি।

আর মাশায়েখদের মধ্যে রয়েছেন শরফুদ্দিন ইবনুুত তিব্বানি, শামসুদ্দিন ইবনুদ দাইরি এবং শামসুদ্দিন আল-বারমাভি; তাঁরা সকলেই আমি তাঁর যে বিষয়গুলোর সমালোচনা করেছি, সেগুলোকে সঠিক বলে সমর্থন করে লিখেছেন। বুলকিনি তাঁর যেসব বিষয়ের প্রতিবাদ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(২) উমদাতুল কারি (১/ ২ - ১১)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٠)
قوله ما ذكره في وصف كتابه، قال: وقوله: أفصح لَحْنٌ، فإن الرباعي إنّما استعمل في اللازم مثل أفصح البشر.

ومن جملة ما أنكره عليه ابن المغلي قوله: إنَّ علم الحديث استوى فيه النَّاس ممّن لا يفرق بين الأنواع والأجناس، فإنّه ما قارب فيه صوابًا ولا سعد خطابًا.

وقوله: ممّن لا يفرق إن أراد أنّ العالم والعامي استوى فيه فهو قول إفك موقع في الهلاك، وإن أراد أنّ أصحاب الحديث لا يفرقون بينهما بحسب الإصطلاح الحادث، فتلك "شكاة ظاهر عنك عارها" لأنّ لهم أسوة بخيار السلف.

وأنكر عليه أيضًا أنّ ظاهر الخبر أنّه لشرحه وأوصافه لما اشتمل عليه، يقتضي أنّ أكمله أو أكثره ولم يكن كتبت منه سوى شيءٍ يسير.

ثمّ لما مضى من هذه القصة عدة سنوات عاد المذكور لما كان شرع فيه من الشرح بزعمه بعد أن كثرت النسخ بما كمل من شرح كاتبه فاستعار من بعض الطلبة ما حصله منه أوَّلًا فأولًا، وقرأت بخطه أنّه شرع في شرحه في شهر رجب سنة عشرين وثمان مائة، فكتب منه مجلدين في سنة، ثمّ ترك إلى أن أكمل المجلد الثالث في جمادي الأولى سنة ثمان وثلاثين، فلم يعد إلى الكتابة فيه حتّى شارف فتح الباري الفراغ فصار يستعير من بعض من كتب. لنفسه من الطلبة فينقله إلى شرحه من غير أن ينسبه إلى مخترعه.

وقد رأيت أن أسوق في ذلك أمثلة كثيرة يتعجب منها كل من وقف عليها، ثمّ أعود إلى إيراد ما أردت منه الجواب من اعتراضاته على فتح الباري.

وقد رمزت إلى الفتح بحرف (ح) مأخوذة من الفتح، ومن أحمد وإلى شرحه بحرف (ع) مأخوذه من العيني ومن المعترض.
তাঁর কিতাবের বর্ণনায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: তিনি বলেছেন: তাঁর কথা: 'আফসাহা' শব্দটি একটি ভাষাগত ভুল, কারণ চার অক্ষরবিশিষ্ট এই রূপটি কেবল অকর্মক ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'আফসাহাল বাশার'।

ইবনুল মাগলি তাঁর প্রতি যে সব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বক্তব্য: নিশ্চয়ই ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে ওই সব লোক সমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যারা প্রকার ও শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে তিনি এতে সঠিক বিষয়ের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি এবং তাঁর বক্তব্যটিও সফল হয়নি।

এবং তাঁর কথা: "যারা পার্থক্য করে না", এর মাধ্যমে তিনি যদি উদ্দেশ্য করেন যে আলেম এবং সাধারণ মানুষ এতে সমান পর্যায়ে রয়েছে, তবে তা ধ্বংসাত্মক এক মিথ্যা কথা। আর যদি তিনি উদ্দেশ্য করেন যে হাদীস বিশারদগণ নতুন উদ্ভাবিত পরিভাষা অনুযায়ী এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেন না, তবে তা "এমন এক অপবাদ যার কলঙ্ক তোমার থেকে মুক্ত", কারণ তাঁদের জন্য সালাফদের মধ্যে উত্তম আদর্শ বিদ্যমান।

তিনি আরও আপত্তি জানিয়েছেন যে, সংবাদটির বাহ্যিক রূপ—যা এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুর বর্ণনা ও ব্যাখ্যার জন্য নিবেদিত—তা দাবি করে যে এর অধিকাংশ বা সম্পূর্ণটা লেখা হয়েছে, অথচ তখন এর সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই লেখা হয়নি।

অতঃপর এই ঘটনার কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, উক্ত ব্যক্তি পুনরায় তাঁর দাবি অনুযায়ী সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় ফিরে আসেন যখন লেখকের ব্যাখ্যাগ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ কপিগুলো সহজলভ্য হওয়ার মাধ্যমে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। ফলে তিনি ছাত্রদের কাছ থেকে যা সংগ্রহ করা হয়েছিল তা একের পর এক ধার নিতে শুরু করেন। আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা দেখেছি যে, তিনি ৮২০ হিজরীর রজব মাসে এর ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেন এবং এক বছরে দুই খণ্ড সমাপ্ত করেন। এরপর তা স্থগিত রাখেন এবং ৮৩৮ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে তৃতীয় খণ্ড শেষ করেন। এরপর তিনি পুনরায় এটি লেখা শুরু করেননি যতক্ষণ না ফাতহুল বারী সমাপ্ত হওয়ার সন্নিকটে পৌঁছাল। তখন তিনি কিছু ছাত্রের কাছ থেকে যারা নিজেদের জন্য তা লিখে রেখেছিল, তা ধার করতে শুরু করেন এবং মূল উদ্ভাবকের নাম উল্লেখ ছাড়াই তা নিজের ব্যাখ্যাগ্রন্থে নকল করতে থাকেন।

আমি এই বিষয়ে অনেক উদাহরণ তুলে ধরা সমীচীন মনে করেছি যা পাঠ করলে যে কেউ বিস্মিত হবে। এরপর আমি ফাতহুল বারীর ওপর তাঁর করা আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়ার জন্য মূল আলোচনায় ফিরে আসব।

আমি 'ফাতহ'কে নির্দেশ করতে 'হা' বর্ণটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছি যা 'ফাতহ' এবং 'আহমাদ' থেকে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের জন্য 'আইন' বর্ণটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছি যা 'আইনী' এবং 'মু'তারিয' (আপত্তিকারী) থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١١)
وسميت هذا التعليق: "انتقاض الاعتراض" وبالله الكريم عوني، وأسأله عن الخطأ والخلل صوني، فمن أراد ما أغار على فتح الباري أول شَيْءٍ فيه وهي التّرجمة من:
এবং আমি এই টীকাটির নামকরণ করেছি: "ইনতিকাদুল ইতিরাদ" (আপত্তির খণ্ডন)। মহান আল্লাহই আমার সহায়, এবং আমি তাঁর নিকট ভুল ও ত্রুটি থেকে সুরক্ষার প্রার্থনা করছি। সুতরাং, ফাতহুল বারীর ওপর যা কিছু আপত্তি তোলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তা জানতে চায়, তার জন্য এতে সর্বপ্রথম বিষয়টি হলো সেই ভূমিকা যা এখান থেকে শুরু হয়েছে:
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌1 - باب كيف كان بدءُ الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم -

قال (ح): قوله: "فَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِيءٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلى دُنْيا … الخ" كذا الأصوِل الصحيحة ليس فيه: "فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله" فساق الكلام على ذلك، إلى أن قال: وإن كان الإِسقاط منه فالجواب عنه ما قال الحافظ أبو محمّد علي بن أحمد بن سعيد في أجوبة على البخاريّ ما ملخصه.

أحسن ما يجاب به هنا أنّ البخاريّ قصد أن يجعل لكتابه صدرًا يستفتح به على ما ذهب إليه كثير من النَّاس من استفتاح كتبهم بخطبة تتضمن معاني ما ذهبوا إليه من التأليف، فكان ابتداؤه بنية رد علمها إلى الله تعالى، فإن علم منه أنّه أراد الدنيا أو عوض إلى شيءٍ من معانيها فسيجزيه بنيته ونكب عن أحد وجهي التقسيم مجانبة للتزكية الّتي لا يناسب ذكرها في هذا المقام (3).

 

قال (ع): فإن قيل لم اختار من هذا الحديث مختصره ولم يذكر مطوله هنا

قلت: لما كان قصده التنبيه على أنّه قصد به وجه الله وأنّه سيجزيه بحسب نيته ابتدأ بالمختصر الذي فيه إشارة إِلَّا أنّ الشخص يجزى بقدر نيته، فإن كانت نيته وجه الله تعالى [بالثواب] والخير في الدارين، وإن كانت نيته وجهًا من وجوه الدنيا فليس له حظ من الثّواب، ولا من خير الدارين، وحذف الجملة الأخرى فرارًا من التزكية (4).

--------------------------------------------

(3) فتح الباري (1/ 15).

(4) عمدة القاري (1/ 22).
১ - অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা কীভাবে হয়েছিল-

(হা) বলেন: তাঁর উক্তি: "প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়ার উদ্দেশ্যে... ইত্যাদি।" নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই রয়েছে, সেখানে "সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে" কথাটি নেই। তিনি এভাবেই আলোচনাটি টেনেছেন, শেষ পর্যন্ত বলেছেন: যদি এটি থেকে কোনো অংশ বাদ পড়ে গিয়ে থাকে, তবে তার উত্তর হলো হাফেজ আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বুখারীর উপর আপত্তির উত্তরে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ।

এখানে সবচেয়ে সুন্দর উত্তর হলো যে, ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবের জন্য একটি ভূমিকা তৈরি করতে চেয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি গ্রন্থটির সূচনা করবেন, যেমনটি অনেক মানুষ তাদের কিতাবের শুরুতে এমন খুতবা দিয়ে থাকেন যা তাদের রচনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাঁর শুরুটি ছিল এমন এক নিয়তের মাধ্যমে যার রহস্য তিনি মহান আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করেছেন। কেননা যদি এটি জানা যায় যে তিনি এর দ্বারা দুনিয়া বা দুনিয়াবী কোনো স্বার্থের ইচ্ছা করেছেন, তবে আল্লাহ তাকে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। আর তিনি (হাদিসে বর্ণিত) বিভাজনের দুই দিকের একটি পরিহার করেছেন নিজের প্রশংসা এড়ানোর জন্য, যা এই স্থানে উল্লেখ করা মানানসই নয় (৩)।

 

(আইন) বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেন তিনি এই হাদিস থেকে এর সংক্ষিপ্ত রূপটি পছন্দ করলেন এবং কেন এখানে এর দীর্ঘ বর্ণনাটি উল্লেখ করলেন না?

আমি বলি: যেহেতু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এই বিষয়ে সচেতন করা যে, তিনি এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেছেন এবং আল্লাহ তাকে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন, তাই তিনি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শুরু করেছেন যাতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, ব্যক্তিকে তার নিয়তের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হয়। সুতরাং যদি তার নিয়ত হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি [সওয়াব লাভ] এবং উভয় জগতের কল্যাণ, (তবে সে তা-ই পাবে)। আর যদি তার নিয়ত হয় দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য, তবে তার জন্য সওয়াবের কোনো অংশ নেই এবং পরকালের কোনো কল্যাণও নেই। আর তিনি দ্বিতীয় বাক্যটি বাদ দিয়েছেন আত্ম-প্রশংসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য (৪)।

--------------------------------------------

(৩) ফাতহুল বারী (১/ ১৫)।

(৪) উমদাতুল ক্বারী (১/ ২২)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٣)
قال (ح): في الكلام على حديث عائشة أن الحارث بن هشام سأل هكذا في أكثر الروايات فيحتمل أن تكون عائشة حضرت ذلك، وعلى ذلك اعتمد أصحاب الأطراف فأخرجوه في مسند عائشة ويحتمل أن يكون الحارث أخبرها بذلك بعد ويؤيد هذا الثّاني ما أخرجه أحمد والبغوي من رواية عامر بن سالم الزميري عن هشام، فقال: عن أبيه عن عائشة عن الحارث قال: سألت (5).

 

قال (ع): قال بعض الشارحين: هذا الحديث أدخله الحفاظ في مسند عائشة دون الحارث.

قلت: أدخله الإمام أحمد في مسند الحارث بن هشام، فإنّه رواه عن عامر بن صالح عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة عن الحارث بن هشام قال: سألت.

 

قلت: فأخذ الكلام فبالغ حتّى نسبه إلى نفسه حتّى قال: قلت، ونظيره (6).

 

قال (ح): في الكلام على حديث عائشة في بدء الوحي يخلو بغار حراء فيتحنث هي بمعنى يتحنف أي يتبع الحنيفية وهي دين إبراهيم، والفاء تبدل ثاء في كثير من كلامهم.

وقد وقع في رواية ابن هشام في السيرة يتحنف بالفاء، أو المراد بقوله يتحنث يلقي عنه الحنث (7).

--------------------------------------------

(5) فتح الباري (1/ 19) والحديث رواه أحمد (6/ 257) والطبراني في الكبير (3343 و3344).

(6) عمدة القاري (1/ 39).

(7) فتح الباري (1/ 32).
(হ) বলেছেন: আয়িশা (রা.)-এর হাদিসের আলোচনায় যে হারিস বিন হিশাম জিজ্ঞাসা করেছিলেন—অধিকাংশ বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে আয়িশা (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করেই আতরাফ গ্রন্থকারগণ একে মুসনাদে আয়িশার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার এমনও সম্ভাবনা রয়েছে যে হারিস পরবর্তীতে তাকে এটি জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় এই মতটিকে ইমাম আহমাদ ও বাগাভী কর্তৃক আমির বিন সালিম আল-জুমাইরি সূত্রে হিশাম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতটি সমর্থন করে; সেখানে বলা হয়েছে: তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে, তিনি হারিস থেকে বর্ণনা করেন যে, হারিস বলেছেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

 

(আইনি) বলেছেন: কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার বলেছেন: হাফিজগণ এই হাদিসটিকে হারিসের পরিবর্তে আয়িশার মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আমি বলছি: ইমাম আহমাদ একে হারিস বিন হিশামের মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা তিনি এটি আমির বিন সালিহ থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে, তিনি হারিস বিন হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস বলেছেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

 

আমি বলছি: অতঃপর তিনি কথাটি গ্রহণ করেছেন এবং তাতে অতিরঞ্জন করেছেন এমনকি তা নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, এমনকি তিনি বলেছেন: আমি বলছি, এবং এর অনুরূপ।

 

(হ) বলেছেন: ওহীর সূচনা পর্বে আয়িশা (রা.)-এর হাদিসের আলোচনায় যে, 'তিনি হেরা গুহায় নির্জনে থাকতেন এবং তাহান্নুছ (ইবাদত) করতেন'—এটি তাহান্নুফ অর্থেই ব্যবহৃত, অর্থাৎ তিনি হানিফিয়্যাহর অনুসরণ করতেন যা ইব্রাহিম (আ.)-এর দ্বীন। তাদের অনেক কথায় 'ফা' বর্ণটি 'ছা' বর্ণ দ্বারা পরিবর্তিত হয়।

ইবনে হিশামের সিরাত গ্রন্থে 'তাহান্নুফ' শব্দটি 'ফা' দিয়ে এসেছে। অথবা 'তাহান্নুছ' কথাটির অর্থ হলো নিজের থেকে গুনাহ বা পাপ দূর করা।

--------------------------------------------

(৫) ফাতহুল বারী (১/১৯) এবং হাদিসটি আহমাদ (৬/২৫৭) ও তাবারানী আল-কাবীর-এ (৩৩৪৩ ও ৩৩৪৪) বর্ণনা করেছেন।

(৬) উমদাতুল কারী (১/৩৯)।

(৭) ফাতহুল বারী (১/৩২)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٤)
وهو الإثم كما قالوا: تأثم وتحرج، أي فعل فعلًا ألقى عنه الفعل والتحرج ونحو ذلك، فقال في كلام طويل نقله من كلام ابن بطّال والكرماني وغيرهما من شراح البخاريّ.

وقال التيمي [التميمي]: هذا من المشكلات ولا يهتدي إليه إِلَّا الحذاق.

وسئل ابن الأعرابي عن قوله: يتحنث؟ فقال: لا أعرفه إنّما هو يتحنف من الحنيفية دين إبراهيم.

 

قال (ع): وقع في سيرة ابن هشام يتحنف بالفاء (8).

 

قوله: وفي حديث ابن عبّاس وكان أجود ما يكون.

قال (ح): هو برفع أجود إِلَّا أن قال: ووجه ابن الحاجب الرفع من خمسة أوجه.

قلت: ويرجحه وروده بغير لفظة كان عند المؤلِّف في الصوم (9).

 

قال (ع): بعد أن نقل [من] كلام النووي أنّه سأل ابن مالك … الخ.

قلت: من جملة مؤكدات الرفع وروده بدون كان في صحيح البخاريّ في كتاب الصوم (10).

قوله في حديث أبي سفيان مع هرقل، قال: أشراف النَّاس اتبعوه أو ضعفاؤهم؟

قلت: بل ضعفاؤهم.

--------------------------------------------

(8) عمدة القاري (1/ 49).

(9) فتح الباري (1/ 30 - 31).

(10) عمدة القاري (1/ 76) وما بين المعكوفين في نسخة الظاهرية.
এটি হলো পাপ, যেমন তারা বলে: 'তাআসসামা' (পাপ থেকে দূরে থাকা) এবং 'তাহারাযা' (সংকীর্ণতা বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা), অর্থাৎ সে এমন কাজ করেছে যার মাধ্যমে সে (পাপের) কাজ ও সংকীর্ণতা ইত্যাদি নিজের থেকে দূর করেছে। তিনি বুখারীর ব্যাখ্যাকার ইবন বাত্তাল, কিরমানি এবং অন্যদের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত একটি দীর্ঘ বক্তব্যে এ কথা বলেছেন।

আত-তাইমি [আত-তামিমি] বলেছেন: এটি জটিল বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং দক্ষ পণ্ডিতগণ ছাড়া কেউ এর দিশা পায় না।

ইবনুল আরাবিকে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) কথা 'ইয়াতাহাননাসু' (ইবাদত করা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি এটি জানি না; বরং এটি ইবরাহীমের ধর্ম 'হানিফিয়্যাহ' থেকে 'ইয়াতাহাননাফু'।

 

(আইনি) বলেছেন: ইবন হিশামের সিরাত গ্রন্থে 'ফা' বর্ণের সাথে 'ইয়াতাহাননাফু' শব্দটি এসেছে (৮)।

 

তাঁর বক্তব্য: ইবন আব্বাসের হাদীসে বর্ণিত—'তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল'।

(হাফিজ) বলেছেন: এটি 'আজওয়াদু' শব্দটির রফ' (পেশ) যোগে হবে, তবে তিনি বলেছেন: ইবনুল হাজিব এর রফ' হওয়ার পাঁচটি দিক বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: সওম অধ্যায়ে লেখকের (বুখারী) নিকট এটি 'কানা' শব্দ ব্যতিরেকে বর্ণিত হওয়া বিষয়টিকে শক্তিশালী করে (৯)।

 

(আইনি) ইমাম নববীর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেছেন যে, তিনি ইবন মালিককে জিজ্ঞাসা করেছেন... ইত্যাদি।

আমি বলছি: রফ' হওয়ার অন্যতম সমর্থক বিষয় হলো সহীহ বুখারীর সওম অধ্যায়ে এটি 'কানা' শব্দ ছাড়াই বর্ণিত হওয়া (১০)।

হিরাক্লিয়াসের সাথে আবু সুফিয়ানের হাদীসে তাঁর বক্তব্য—তিনি (হিরাক্লিয়াস) বললেন: মানুষের মধ্যে সম্ভ্রান্তরা কি তাঁর অনুসরণ করে নাকি দুর্বলরা?

আমি বললাম: বরং তাদের মধ্যে যারা দুর্বল।

--------------------------------------------

(৮) উমদাতুল ক্বারি (১/ ৪৯)।

(৯) ফাতহুল বারী (১/ ৩০ - ৩১)।

(১০) উমদাতুল ক্বারি (১/ ৭৬) এবং তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٥)
قال (ح): المراد بالأشراف أهل النخوة والتكبر منهم، لا كل الأشراف حتّى لا يدخل مثل أبي بكر وعمر وحمزة وغيرهم ممّن أسلم قبل هذا السؤال، فأمّا ما وقع في رواية ابن إسحاق تبعه منا الضعفاء والمساكين، فأمّا ذو الأنساب والشرف فما تبعه منهم أحد فهو محمول على الأغلب (11).

 

قال (ع): قال بعضهم: المراد بالأشراف أهل النخوة لا كل الأشراف. قلت: هذا على الغالب وإلا فقد سبق إلى اتباعه أكابر وأشراف منهم الصديق والفاروق وحمزة وغيرهم وهم أيضًا كانوا أهل النخوة (12).

قلت: فأخذ الكلام فادعاه ثمّ اعترض عليه، فاعتراضه مردود لأنّه حذف من كلامه قوله: والتكبر وبهذه اللفظة يندفع اعتراضه لأنّ أبا بكر ومن ذكر معه وإن كانوا أشرافًا أهل النخوة لم يكونوا أهل تكبر، فالتكبر محطة الفرق بين الفريقين فحذفها المعترض ليعترض، وهذا ذكرته على سبيل المثال وإلا فقد استعمل مثل هذا في بقية هذا الحديث وفي غيره.

 

قوله: فأتوه:

قال (ح): فيه حذف تقديره أرسل إليهم يلتمس منهم المجيء، فجاء الرسول بذلك فأتوه ووقع عند المصنف في الجهاد أن الرسول وجدهم ببعض الشّام.

وفي الدلائل لأبي نعيم تعيين الموضع وهو غزة، قال: وكانت وجه متجرهم، وكذا رواه ابن إسحاق في المغازي عن الزهري (13).

--------------------------------------------

(11) فتح الباري (1/ 35) بتصرُّف. وفيه لا كل شريف. وليس فيه وحمزة.

(12) عمدة القاري (1/ 85) وكلمة "التكبر" موجودة في النسخة المطبوعة من عمدة القاري.

(13) فتح الباري (1/ 34).
(হাফিজ ইবনে হাজার) বলেছেন: 'আশরাফ' (অভিজাত) বলতে তাদের মধ্যে যারা দাম্ভিক ও অহংকারী তাদের বোঝানো হয়েছে, সকল অভিজাতদের নয়; যাতে আবু বকর, উমর, হামজা এবং তাদের মতো অন্যান্য যারা এই জিজ্ঞাসার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা এর অন্তর্ভুক্ত না হন। আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় যা এসেছে যে, 'আমাদের মধ্য থেকে দুর্বল ও অসহায়রাই তাঁর অনুসরণ করেছে, আর বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যের অধিকারীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর অনুসরণ করেনি'—তা অধিকাংশের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে (১১)।

 

(আইনি) বলেছেন: কেউ কেউ বলেছেন: 'আশরাফ' বলতে দাম্ভিকদের বোঝানো হয়েছে, সকল অভিজাতদের নয়। আমি (আইনি) বলি: এটি অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নতুবা বড় বড় ব্যক্তিত্ব ও অভিজাতগণ ইতিপূর্বেই তাঁর অনুসরণে অগ্রণী হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্দিক (আবু বকর), ফারুক (উমর), হামজা ও অন্যান্যরা; আর তাঁরাও আভিজাত্যের অধিকারী ছিলেন (১২)।

আমি বলি: তিনি (আইনি) কথাটি গ্রহণ করেছেন এবং তা নিজের বলে দাবি করেছেন, অতঃপর তার ওপর আপত্তি করেছেন। কিন্তু তার এই আপত্তি প্রত্যাখ্যানযোগ্য; কারণ তিনি তার (ইবনে হাজারের) কথা থেকে 'ও অহংকার' শব্দটি বাদ দিয়েছেন। অথচ এই শব্দটির মাধ্যমেই তার আপত্তি খণ্ডন হয়ে যায়। কারণ আবু বকর এবং যাদের কথা তাঁর সাথে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা যদিও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও অভিজাত ছিলেন, কিন্তু তারা অহংকারী ছিলেন না। সুতরাং অহংকারই হলো এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের মূলবিন্দু, যা আপত্তিকারী আপত্তি করার জন্য বাদ দিয়েছেন। আমি এটি একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছি, নতুবা এই হাদিসের বাকি অংশে এবং অন্য ক্ষেত্রেও অনুরূপ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

তাঁর উক্তি: অতঃপর তারা তাঁর নিকট আসলো:

(হাফিজ ইবনে হাজার) বলেছেন: এখানে একটি বাক্য উহ্য রয়েছে যার মূল রূপ হলো—তিনি তাদের নিকট লোক পাঠালেন যেন তারা আসার আবেদন করে, অতঃপর বার্তাবাহক সেই বার্তা নিয়ে আসলেন এবং তারা আসলেন। গ্রন্থকার (ইমাম বুখারি) 'জিহাদ' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, বার্তাবাহক তাদের শামের কোনো এক এলাকায় পেয়েছিলেন।

আবু নুয়াইমের 'দালাইল' গ্রন্থে স্থানটি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে তা ছিল গাজা। তিনি বলেছেন: এটি ছিল তাদের বাণিজ্যের গন্তব্যস্থল। অনুরূপভাবে ইবনে ইসহাক 'মাগাজি' গ্রন্থে জুহরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (১৩)।

--------------------------------------------

(১১) ফাতহুল বারি (১/ ৩৫) কিছুটা পরিমার্জিত। সেখানে 'সকল শরিফ নয়' কথাটি আছে এবং 'হামজা'-এর নাম নেই।

(১২) উমদাতুল কারি (১/ ৮৫) এবং "অহংকার" শব্দটি উমদাতুল কারি-র মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান আছে।

(১৩) ফাতহুল বারি (১/ ৩৪)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٦)
قال (ع): قوله: فأتوه، تقدير الكلام أرسل لي طلب إتيانهم، فجاء الرسول فطلب إتيانهم فأتوه ثمّ قال:

فإن قلت: هم في أي موضع كانوا حتّى أرسل إليهم.

قلت: في الجهاد ذكر البخاريّ من أن الرسول وجدهم ببعض الشّام، وفي رواية أبي نعيم في الدلائل تعيين الموضع غزة.

قال: وكانت وجه متجرهم، وكذا رواه ابن إسحاق في المغازي عن الزهريّ (14).

 

تنبيه:

بين (ح) اختلاف الرواة في الألفاظ الواقعة في حديث أبي سفيان مع هرقل على ترتيب الحديث من أوله إلى آخره، وبين ما خالف بعضهم بعضًا في الأسماء والزيادة والنقص وغير ذلك، فجمع (ع) ذلك كله في مكان واحد وترجم له بيان اختلاف الروايات فذكرها نقلًا من كلام (ح) موهمًا أنّه من تصرفه وتتبعه، وهكذا يَصْنَع في كثير من الأحاديث وإنّما نبهت على ذلك بطريق الِإجمال لتعسر تتبع ذلك فيحصل الملل، وفي الإشارة ما يغني عن الإِسهاب فيطول الخطب والله المستعان.

 

قوله: وكان ابن الناطور … الخ.

قال (ح): الواو عاطفة، والتقدير أنّه لما انتهى المتن عند قول أبي سفيان حتّى أدخل عَلَيَّ الِإسلام.

قال الزهريّ بالسند المذكور إليه، وكان ابن الناطور … الخ، فقصة ابن الناطور موصولة لا معلقة كما زعم بعض من لا عناية له بهذا الشأن، وكذلك زعم بعض المغاربة فجعلها معطوفة على قول أبي سفيان، والتقدير

--------------------------------------------

(14) عمدة القاري (1/ 90).
আইনি (রহ.) বলেন: তাঁর উক্তি: "অতএব তারা তাঁর নিকট আসল", এখানে বক্তব্যের নিহিতার্থ হলো—তিনি তাদের উপস্থিত করার জন্য লোক পাঠালেন, অতঃপর সেই দূত গিয়ে তাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান করল, ফলে তারা এল। এরপর তিনি বললেন:

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: তিনি যখন তাদের নিকট লোক পাঠালেন তখন তারা কোন স্থানে ছিলেন?

আমি উত্তরে বলি: 'জিহাদ' অধ্যায়ে বুখারি উল্লেখ করেছেন যে, সেই দূত তাদের সিরিয়ার কোনো এক অঞ্চলে পেয়েছিলেন। আর আবু নুয়াইমের 'আদ-দালাইল' গ্রন্থের বর্ণনায় স্থানটিকে 'গাজা' হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

তিনি বলেন: এটি ছিল তাদের ব্যবসার গন্তব্যস্থল। ইবনে ইসহাক 'আল-মাগাজি' গ্রন্থে যুহরি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (১৪)।

 

সতর্কীকরণ:

হাফিজ (ইবনে হাজার) হিরাক্লিয়াসের সাথে আবু সুফিয়ানের হাদিসে বর্ণিত শব্দাবলির ক্ষেত্রে হাদিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুসারে বর্ণনাকারীদের মতভেদসমূহ বর্ণনা করেছেন; এবং নামের ক্ষেত্রে, শব্দের হ্রাস-বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে একে অপরের সাথে যে বৈপরীত্য রয়েছে তাও স্পষ্ট করেছেন। আইনি (রহ.) এই সব কিছু এক স্থানে একত্রিত করেছেন এবং এর শিরোনাম দিয়েছেন 'রেওয়ায়েতসমূহের পার্থক্যের বর্ণনা'। তিনি হাফিজের বক্তব্য থেকে এগুলো উদ্ধৃত করেছেন, কিন্তু এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যা ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে যে এটি তাঁর নিজস্ব বিন্যাস ও অনুসন্ধান। তিনি অনেক হাদিসের ক্ষেত্রেই এমনটি করে থাকেন। আমি বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে নির্দেশ করলাম, কারণ এর বিস্তারিত অনুসন্ধান করা অত্যন্ত দুরূহ এবং তা ক্লান্তির কারণ হতে পারে। সংক্ষিপ্ত ইশারাই দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করার জন্য যথেষ্ট, নতুবা কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

 

তাঁর উক্তি: "এবং ইবনুন নাতুর ছিলেন..." ইত্যাদি।

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি সংযোজক অব্যয়। এর নিহিতার্থ হলো—আবু সুফিয়ানের বক্তব্য যখন "এমনকি আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন" পর্যন্ত এসে শেষ হলো,

তখন যুহরি উল্লিখিত সনদে বললেন: "এবং ইবনুন নাতুর ছিলেন..." ইত্যাদি। সুতরাং ইবনুন নাতুরের ঘটনাটি 'মাওসুল' (সংযুক্ত), 'মুয়াল্লাক' (বিচ্ছিন্ন) নয়, যেমনটি এই শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বহীন কিছু লোক ধারণা করেছেন। অনুরূপভাবে মরক্কোর কিছু আলেমও এমন ধারণা করে একে আবু সুফিয়ানের উক্তির ওপর সংযোজিত হিসেবে গণ্য করেছেন। এর নিহিতার্থ হলো

--------------------------------------------

(১৪) উমদাতুল কারি (১/ ৯০)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٧)
قال أبو سفيان: وكان ابن الناطور، وهذا وإن كان محتملًا عقلًا فقد بين أبو نعيم في دلائل النبوة أنّ الزهريّ قال: لقيت ابن الناطور في زمن عبد الملك بن مروان فذكر عنه القصة.

ووقع في سيرة ابن إسحاق ما يوهم أنّها من رواية الزهريّ عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عبّاس عن ابن الناطور، فإنّه ساق السند إلى ابن عبّاس، قال: افتتح هرقل حيث انفرد فذكر القصة بمعناه، والذي بدأت به هو الذي جزم به الحفاظ، وهو ممّا ينبغي التنبيه عليه (15).

 

قال (ع): قوله: وكان ابن الناطور الواوفيه عاطفة لما قبلها داخلة في سند الزهريّ والتقدير عن الزهريّ أخبرني عبيد الله … الخ، ثمّ قال: قال ابن الناطور فذكر القصة، فذكر قصة ابن الناطور موصولة لا معلقة كما توهمه بعضهم، وهذا موضع يحتاج فيه إلى أبي سفيان عنه، وإنّما هي عن الزهريّ عنه، وقد بين ذلك أبو نعيم في دلائل النبوة أنّ الزهريّ قال: لقيته بدمشق في زمن عبد الملك بن مروان (16).

قلت: فانظروا وتعجبوا فإن هذا الموضع لم ينبه عليه أحد قبلي وتناوله من كتابي وتصرف فيه بالتقديم والتأخير، وأوهم أنّه من تصرفه وتنبيهه والله المستعان.

قوله: رواه صالح بن كيسان ويونس ومعمر.

قال (ح): قال الكرماني: يحتمل ذلك من وجهين أن يروي البخاريّ عن الثلاثة بالإسناد المذكور، كأنّه قال أخبرنا أبو اليمان عن الثّلاثة عن

--------------------------------------------

(15) فتح الباري (1/ 40).

(16) عمدة القاري (1/ 93) وفي النسخ الثلاث قال: قال ابن الناطور وهو خطأ والصواب ما صححناه "وكان ابن الناطور" كما في عمدة القاري وصحيح البخاريّ.
আবু সুফিয়ান বলেন: আর ইবনুন নাতুর ছিলেন, এটি যুক্তির বিচারে সম্ভবপর হলেও আবু নুয়াইম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে জুহরি বলেছেন: আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগে ইবনুন নাতুরের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, অতঃপর তিনি তার সূত্রে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থে এমন কিছু এসেছে যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে যে, এটি জুহরি থেকে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি ইবনুন নাতুরের বরাতে বর্ণনা করেছেন। কেননা তিনি ইবনে আব্বাস পর্যন্ত সনদ বর্ণনা করে বলেছেন: হিরাক্লিয়াস যখন নির্জনে গেলেন তখন তিনি শুরু করলেন, এরপর তিনি মর্মগতভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। আর আমি যা দিয়ে শুরু করেছি সেটিই হাফেজগণ নিশ্চিত করেছেন, আর এটি এমন একটি বিষয় যার প্রতি মনোনিবেশ করা আবশ্যক (১৫)।

 

আইনী (আ.) বলেন: তাঁর উক্তি: "আর ইবনুন নাতুর ছিলেন"—এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে সংযোজক হিসেবে জুহরির সনদের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো—জুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন … ইত্যাদি। এরপর তিনি বলেন: ইবনুন নাতুর বলেছেন, অতঃপর তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করেন। সুতরাং তিনি ইবনুন নাতুরের ঘটনাটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মুয়াল্লাক (ঝুলন্ত) হিসেবে নয়, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করেছেন। আর এটি এমন একটি স্থান যেখানে তার থেকে বর্ণনা করার জন্য আবু সুফিয়ানের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হতে পারে, অথচ এটি মূলত জুহরি থেকে তার সূত্রে বর্ণিত। আর আবু নুয়াইম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন যে জুহরি বলেছেন: আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগে দামেস্কে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি (১৬)।

আমি বলছি: লক্ষ্য করুন এবং বিস্মিত হোন, কারণ এই বিষয়টি সম্পর্কে আমার পূর্বে কেউ অবগত করেননি। তিনি আমার কিতাব থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং এতে অগ্র-পশ্চাৎ করার মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, আর এমন ধারণা দিয়েছেন যে এটি তার নিজস্ব কাজ ও পর্যবেক্ষণ। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তাঁর উক্তি: এটি সালেহ ইবনে কাইসান, ইউনুস এবং মা'মার বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার (হা.) বলেন: কিরমানি বলেছেন: এর দুটি সম্ভাব্য দিক রয়েছে; একটি হলো ইমাম বুখারি উল্লিখিত সনদে এই তিনজনের থেকেই বর্ণনা করেছেন, যেন তিনি বলেছেন—আমাদেরকে আবুল ইয়ামান এই তিনজনের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১৫) ফাতহুল বারি (১/ ৪০)।

(১৬) উমদাতুল কারি (১/ ৯৩)। আর তিনটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তিনি বলেন: ইবনুন নাতুর বলেছেন, যা ভুল। সঠিক সেটিই যা আমরা সংশোধন করেছি "আর ইবনুন নাতুর ছিলেন", যেমনটি উমদাতুল কারি এবং সহিহ বুখারিতে রয়েছে।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٨)
الزهريّ، وأن يروي عنهم بطريق آخر، كما أنّ الزّهريّ يحتمل أيضًا في رواية الثّلاثة أن يروي لهم عن عبيد الله عن ابن عبّاس، وأن يروي لهم عن غيره، هذا ما يحتمل اللّفظ وإن كان الظّاهر الاتحاد.

 

قلت: هذا الظّاهر كاف لمن شم أدنى رائحة من علم الإِسناد، والاحتمالات العقلية المجردة لا مدخل لها في هذا الفن، وأمّا الاحتمال الأوّل فأشد بعدًا لأنّ أبا اليمان لم يلحق صالح بن كيسان، فإن مولده بعد وفاة صالح، ولا سمع من يونس، ولو كان من أهل النقل لاطلع على كيفية رواية هؤلاء الثّلاثة لهذا الحديث بخصوصه فاستراح من هذا التردد.

وقد أوضحت ذلك في كتابي "تغليق التعليق" وأشير إليه هنا إشارة مفهمة، فرواية صالح أخرجها المؤلِّف في كتاب الجهاد بتمامها إِلَّا قصة ابن الناطور وكذا أخرجها مسلم.

ورواية يونس أخرجها المؤلِّف في الجهاد من طريق اللَّيث، وفي الاستئذان من طريق عبد الله بن مبارك كلاهما عن يونس عن الزهريّ بسنده بعينه مختصرًا ولم يسقه بتمامه، وساقها الطبراني بتمامها من طريق عبد الله بن صالح عن اللَّيث وفيها قصة ابن الناطور.

ورواية معمر ساقها المؤلِّف بتمامها في التفسير.

والطرق الثّلاثة عن الزهريّ عن عبيد الله عن ابن عبّاس، كرواية أبي اليمان عن شعيب عن الزهريّ، ولو كان سند الحديث عند هؤلاء عن الزهريّ عن غير عبد الله لأفضى ذلك إلى الشذوذ أو الإِضطراب المانع من الصّحيح، فظهر بطلان الاحتمالات المذكورة والله المستعان (17).

 

قال (ع): رواه صالح بن كيسان ويونس ومعمر عن الزهريّ، أي

--------------------------------------------

(17) فتح الباري (1/ 44 - 45) وتغليق التعليق (2/ 18 - 19).
আল-জুহরী, এবং তিনি তাদের থেকে অন্য পথে বর্ণনা করেছেন, যেমন আল-জুহরীর ক্ষেত্রেও তিনজন বর্ণনাকারীর বর্ণনায় এটি সম্ভব যে, তিনি তাদের কাছে উবাইদুল্লাহর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার তিনি অন্য কারো থেকেও তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে এটিই সম্ভব, যদিও বাহ্যত এর অভিন্নতা প্রতীয়মান হয়।

 

আমি বলছি: ইসনাদ (সনদ) শাস্ত্রের সামান্যতম ঘ্রাণ যে পেয়েছে, তার জন্য এই বাহ্যিক বিষয়টিই যথেষ্ট। নিছক যৌক্তিক সম্ভাবনার এই শাস্ত্রে কোনো স্থান নেই। আর প্রথম সম্ভাবনাটি আরও বেশি দূরবর্তী, কারণ আবু আল-ইয়ামান সালিহ বিন কাইসানের সাক্ষাৎ পাননি; কেননা তাঁর জন্ম সালিহ-এর মৃত্যুর পরে হয়েছে। তিনি ইউনুস থেকেও কিছু শ্রবণ করেননি। যদি তিনি হাদীস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে তিনি বিশেষভাবে এই হাদীসের ক্ষেত্রে এই তিনজন বর্ণনাকারীর বর্ণনার ধরন সম্পর্কে অবহিত হতেন এবং এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতেন।

আমি এটি আমার 'তাগলিকুত তালীক' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছি এবং এখানেও বোধগম্য করার জন্য সংক্ষেপে ইঙ্গিত দিচ্ছি। সালিহ-এর বর্ণনাটি লেখক (ইমাম বুখারী) জিহাদ অধ্যায়ে ইবনে আন-নাতুরের ঘটনা ব্যতীত পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিমও একইভাবে বর্ণনা করেছেন।

আর ইউনুসের বর্ণনাটি লেখক জিহাদ অধ্যায়ে লাইসের সূত্রে এবং ইস্তি'জান (অনুমতি প্রার্থনা) অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়েই ইউনুস থেকে, তিনি জুহরী থেকে তাঁর নির্দিষ্ট সনদে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে তা উল্লেখ করেননি। তাবারানী এটি আবদুল্লাহ বিন সালিহ-এর সূত্রে লাইস থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনে আন-নাতুরের ঘটনাটি রয়েছে।

আর মা'মারের বর্ণনাটি লেখক তাফসীর অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন।

আর তিনটি পথই জুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আবু আল-ইয়ামানের বর্ণনা শুয়াইব থেকে, তিনি জুহরী থেকে করেছেন। যদি এই বর্ণনাকারীদের নিকট হাদীসের সনদ জুহরী থেকে উবাইদুল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে হতো, তবে তা এমন শায (ব্যতিক্রমী) বা ইযতিরাব (অসংগতি)-এর দিকে নিয়ে যেত যা হাদীসটিকে 'সহীহ' হওয়ার পথে বাধা প্রদান করত। সুতরাং উল্লেখিত সম্ভাবনাগুলোর অসারতা স্পষ্ট হলো এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি (১৭)।

 

তিনি (আ) বলেছেন: এটি সালিহ বিন কাইসান, ইউনুস এবং মা'মার আল-জুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ...

--------------------------------------------

(১৭) ফাতহুল বারী (১/ ৪৪ - ৪৫) এবং তাগলিকুত তালীক (২/ ১৮ - ১৯)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٩)
روى هذا الحديث المذكور صالح بن كيسان عن الزهريّ عن عبيد الله عن ابن عبّاس، أخرجه البخاريّ بتمامه في الجهاد، ولم يذكر قصة ابن الناطور، وكذا أخرجه مسلم بدونها.

وأخرج رواية مسلم في الجهاد مختصره من طريق اللَّيث.

وفي الإِستئذان مختصره من طريق عبد الله بن المبارك، كلاهما عن يونس عن الزهريّ بسنده بعينه ولم يسقه بتمامه.

وقد ساقه الطبراني بتمامه من طريق عبد الله بن صالح عن اللَّيث وفيه قصة ابن الناطور.

وأخرج رواية معمر بتمامها في التفسير.

فقد ظهر لك أنّ روايات هؤلاء الثّلاثة عند البخاريّ عن غير أبي اليمان، وأن الزهريّ إنّما رواه لأصحابه بسند واحد عن شيخ واحد وهو عبيد الله بن عبد الله عن ابن عبّاس لا كما توهمه الكرماني حيث يقول: أعلم أنّ هذه العبارة تحتمل وجهين، فذكر كلامه ثمّ قال بعده: وهذا فاسد من وجهين:

أحدهما: أنّ أبا اليمان لم يلحق صالح بن كيسان ولا سمع من يونس.

والآخر: أنّه لو احتمل أنّ يروي الزّهريُّ هذا الحديث لهؤلاء الثّلاثة عن شيخ آخر لكان ذلك إختلافًا قد يفضي إلى الإضطراب الموجب للضعف، وهذا إنّما نشأ لعدم تحريه في النقل واعتماده في هذا الفن على العقل انتهى كلامه (18).

فأخذ الكلام بطوله فقدم فيه وأخر وأوهم أنّه من تصرفه وليس كذلك.

 

قوله: وقال مجاهد … الخ.

--------------------------------------------

(18) عمدة القاري (1/ 100 - 101) ورواية يونس عند الطبراني في الكبير (7270).
উল্লিখিত এই হাদিসটি সালেহ ইবনে কাইসান যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি জিহাদ অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছেন, তবে তাতে ইবনে নাতুরের কাহিনী উল্লেখ করেননি। একইভাবে ইমাম মুসলিমও এটি উক্ত কাহিনী ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাটি লাইসের সূত্রে জিহাদ অধ্যায়ে সংক্ষেপে উদ্ধৃত হয়েছে।

আর ইস্তিজান (অনুমতি গ্রহণ) অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের সূত্রে এটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা উভয়ই ইউনুসের সূত্রে যুহরি থেকে অভিন্ন সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেননি।

তাবারানি এটি আবদুল্লাহ ইবনে সালেহর সূত্রে লাইস থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইবনে নাতুরের কাহিনী বিদ্যমান রয়েছে।

আর মা'মারের বর্ণনাটি তাফসির অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

সুতরাং আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হলো যে, বুখারিতে এই তিনজনের বর্ণনা আবু ইয়ামান ব্যতীত অন্য সূত্রে এসেছে। আর যুহরি মূলত এটি তাঁর ছাত্রদের নিকট একজন শাইখ অর্থাৎ উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকেই বর্ণনা করেছেন; কিরমানি যা ধারণা করেছেন বিষয়টি তেমন নয়। তিনি বলেন: "জেনে রাখুন যে, এই বক্তব্যটি দুটি দিক বহন করে।" এরপর তিনি তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন: "এটি দুটি কারণে অসার বা ত্রুটিপূর্ণ:

এক: আবু ইয়ামান সালেহ ইবনে কাইসানের সাক্ষাৎ পাননি এবং ইউনুস থেকেও কিছু শোনেননি।

দুই: যদি এটি সম্ভব হতো যে যুহরি এই হাদিসটি এই তিনজনের নিকট অন্য কোনো শাইখের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তবে তা এমন মতপার্থক্য তৈরি করত যা হাদিসটিকে 'ইজতিরাব' (বিশৃঙ্খলা)-এর দিকে নিয়ে যেত, যা হাদিসটি দুর্বল হওয়ার কারণ হতো।" বর্ণনায় তাঁর অসতর্কতা এবং এই শাস্ত্রে কেবল যুক্তিনির্ভরতার কারণেই এমনটি ঘটেছে—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত (১৮)।

অতঃপর তিনি দীর্ঘ বক্তব্যটি গ্রহণ করে তাতে আগে-পাছে পরিবর্তন ঘটালেন এবং এমন ধারণা দিলেন যে এটি তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ, অথচ বাস্তবতা তেমন নয়।

 

তাঁর উক্তি: মুজাহিদ বলেছেন … ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১৮) উমদাতুল কারি (১/ ১০০ - ১০১) এবং ইউনুসের বর্ণনাটি তাবারানি সংকলিত আল-মু'জামুল কারিব (৭২৭০)-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قال (ح): وصل هذا التعليق عبد بن حميد في تفسيره (19) والمراد أنّ الذي تظاهرت عليه الأدلة من الكتاب والسُّنَّة هو شرع الأنبياء كلهم.

 

تنبيه:

قال شيخنا الِإمام البلقيني: وقع في أصله الصّحيح في جميع الروايات في أثر مجاهد هذا تصحيف قل في تعرض لبيانه، وذلك أنّ لفظ مجاهد (شرع لكم) أوصيناك يا محمَّد وإياه دينًا واحدًا، والصواب أوصيناك يا محمَّد وأنبياءه كذا أخرجه عبد بن حميد والفريابي والطّبريّ وابن المنذر في تفاسيرهم، وبه يستقيم الكلام، وكيف يفرد مجاهد الضمير لنوح وحده مع أنّ في السياق ذكر جماعة انتهى، وإفراد الضمير لا يمتنع لأنّ نوحًا أفرد في الآية فلم يتعين التصحيف، وغاية ما ذكر من مجيء التفسير بخلاف لفظه أن يكون المصنف ذكره بالمعنى (20).

 

قال (ع): أخرج أثر مجاهد عبد بن حميد في تفسيره بسنده عنه، ورواه ابن المنذر بلفظ وصاه، وقوله: وإياه، يعني نوحًا.

قال: وقد قيل إنَّ الذي وقع في أثر مجاهد تصحيف، والصواب أوصيناك يا محمَّد وأنبياءه وكيف يقول مجاهد بإفراد الضمير مع نوح وحده، مع أنّ في السياق ذكر جماعة.

 

قلت: ليس بتصحيف بل هو صحيح، ونوح أفرد في الآية وبقية الأنبياء عطفت عليه وهم داخلون فيما وصى به، ونوح أقرب مذكور وهو أولى بعود الضمير. انتهى (21).

--------------------------------------------

(19) الذي في الفتح (1/ 48) وصل هذا التعليق عبد الرزاق في تفسيره. وفي تغليق التعليق (2/ 25) أنّ عبد بن حميد وعبد الزراق وصلاه.

(20) فتح الباري (1/ 48) وتغليق التعليق (2/ 24).

(21) عمدة القاري (1/ 117)
(হা) বলেছেন: আবদ ইবনে হুমাইদ তাঁর তাফসীরে এই তালীকটি (সংযুক্তবিহীন বর্ণনা) সংযুক্ত করেছেন (১৯)। এর উদ্দেশ্য হলো, কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ যা সমর্থন করে তা হলো সকল নবীর শরীয়ত এক ও অভিন্ন।

 

সতর্কবার্তা:

আমাদের শাইখ ইমাম বুলকিনি বলেছেন: সহীহ বুখারীর মূল পাণ্ডুলিপির সমস্ত বর্ণনায় মুজাহিদের এই আসারে (বর্ণনায়) একটি শব্দগত বিকৃতি ঘটেছে যা খুব কম লোকেই ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয়টি হলো, মুজাহিদের শব্দ ছিল (তোমাদের জন্য দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন) "হে মুহাম্মদ, আমি আপনাকে এবং তাঁকে (নূহকে) একই দ্বীনের অসিয়ত করেছি"। সঠিক পাঠ হলো "হে মুহাম্মদ, আমি আপনাকে এবং তাঁর (আল্লাহর) নবীদের অসিয়ত করেছি"। এভাবেই আবদ ইবনে হুমাইদ, ফিরইয়াবি, তাবারী এবং ইবনুল মুনযির তাঁদের তাফসীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর মাধ্যমেই বাক্যটি সুসংগত হয়। কারণ, মুজাহিদ কীভাবে সর্বনামটি কেবল নূহের জন্য একবচনে ব্যবহার করবেন যেখানে প্রসঙ্গের মধ্যে একদল নবীর উল্লেখ রয়েছে? (বুলকিনির বক্তব্য শেষ)। তবে সর্বনাম একবচনে আসা অসম্ভব নয়, কারণ আয়াতে নূহকে একবচনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এটিকে নিশ্চিতভাবে শব্দগত বিকৃতি বলা যায় না। আর মূল শব্দের বিপরীতে তাফসীর আসার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তার সর্বোচ্চ ব্যাখ্যা হতে পারে যে গ্রন্থকার (ইমাম বুখারী) এটি মর্মার্থে উল্লেখ করেছেন (২০)।

 

(আইনি) বলেছেন: আবদ ইবনে হুমাইদ তাঁর তাফসীরে নিজ সনদে মুজাহিদের আসারটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুনযির এটি "তাঁকে অসিয়ত করেছেন" শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর উক্তি: "এবং তাকে" বলতে নূহকে বোঝানো হয়েছে।

তিনি বলেন: বলা হয়েছে যে, মুজাহিদের আসারে যা ঘটেছে তা শব্দগত বিকৃতি, আর সঠিক পাঠ হলো "হে মুহাম্মদ, আমি আপনাকে এবং তাঁর নবীদের অসিয়ত করেছি"। মুজাহিদ কীভাবে কেবল নূহের জন্য একবচনে সর্বনাম ব্যবহার করবেন, অথচ প্রসঙ্গের মধ্যে একদল নবীর উল্লেখ রয়েছে?

 

আমি বলি: এটি শব্দগত বিকৃতি নয় বরং এটি সঠিক। আয়াতে নূহকে একবচনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি নবীদের নাম তাঁর ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে, ফলে তাঁরাও সেই অসিয়তের অন্তর্ভুক্ত। আর নূহ হলেন নিকটতম উল্লিখিত ব্যক্তি, তাই সর্বনামটি তাঁর দিকে ফিরে আসা অধিক যুক্তিযুক্ত। সমাপ্ত (২১)।

--------------------------------------------

(১৯) ফাতহুল বারীতে (১/৪৮) যা আছে তা হলো, আবদুর রাজ্জাক তাঁর তাফসীরে এই তালীকটি সংযুক্ত করেছেন। আর তাগলিকুত তালীক গ্রন্থে (২/২৫) আছে যে, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং আবদুর রাজ্জাক উভয়েই এটি সংযুক্ত করেছেন।

(২০) ফাতহুল বারী (১/৪৮) এবং তাগলিকুত তালীক (২/২৪)।

(২১) উমদাতুল কারী (১/১১৭)
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢١)
فأخر جواب الإعتراض فزاد فيه قليلًا وادعى أنّه من تصرفه وليس كذلك.

 

قوله: "دعاؤكم إيمانكم" صنع فيه (ع) نحو ما صنع فيما قبله من أخذه كلام (ح) بحروفه وإيهامه أنّه من تصرفه لكن زاد فيه ونقص.

 

قوله:
তিনি আপত্তির জবাব দিতে বিলম্ব করলেন, ফলে তাতে সামান্য কিছু বৃদ্ধি করলেন এবং দাবি করলেন যে এটি তাঁর নিজস্ব উপস্থাপনা, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

 

তাঁর উক্তি: "তোমাদের দুআই তোমাদের ঈমান"; তিনি (আ) এতে তেমনই করেছেন যা তিনি এর পূর্বের ক্ষেত্রে করেছিলেন—তা হলো (হা) এর বক্তব্য হুবহু গ্রহণ করা এবং এমন বিভ্রম সৃষ্টি করা যে এটি তাঁর নিজস্ব উপস্থাপনা, কিন্তু তিনি তাতে কিছু বৃদ্ধি ও হ্রাস করেছেন।

 

তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌2 - باب أي الإِسلام أفضل … إلى أن قال: قالوا: يا رسول الله

قال (ح): رواه مسلم والحسن بن سفيان وأبو يعلى في مسنديهما عن سعيد بن يحيى شيخ البخاريّ فيه بإسناده هذا بلفظة قلنا.

ورواه ابن منده من طريق حسين بن محمَّد القباني أحد الحفاظ عن سعيد بن يحيى هذا ولفظه.

قلت: فتعين أنّ السائل أبو موسى ولا تخالف بين الروايات لأنّ في هذه صرح، وفي رواية مسلم أراد نفسه ومن معه من الصّحابة إذ الراضى بالسؤال في حكم السائل.

وفي رواية البخاريّ أبهم السائل وهو المراد وقد سأل هذا السؤال أيضًا أبو ذر رواه ابن حبّان، وعمير بن قتادة رواه الطبراني (22).

 

قال (ع) مغيرًا على هذا الفصل: غير مناسب له لمن حرره وتعب عليه فقال: قوله: قالوا: فاعله جماعة، ووقع في رواية مسلم والحسن بن سفيان وأبي يعلى في مسنديهما عن سعيد بن يحيى شيخ البخاريّ بإسناده المذكور بلفظة "قلنا" ورواه ابن منده من طريق حسين بن محمَّد القباني أحد الحفاظ عن سعيد بن يحيى بلفظة قلت.

--------------------------------------------

(22) فتح الباري (1/ 55) حديث أبي ذر عند ابن حبّان (361) وإسناده ضعيف جدًا. وحديث عمير بن قتادة عند الطبراني في الكبير (ج 17 رقم 105) وفيه بكر بن خنيس وهو ضعيف.
২ - পরিচ্ছেদ: কোন্ ইসলাম সর্বোত্তম ... এ পর্যন্ত যে তিনি বলেন: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল!

তিনি (হা) বলেন: এটি মুসলিম, আল-হাসান বিন সুফিয়ান এবং আবু ইয়ালা তাদের নিজ নিজ মুসনাদ গ্রন্থে বুখারীর উস্তাদ সাঈদ বিন ইয়াহইয়া থেকে তাঁর এই সনদে 'আমরা বললাম' শব্দে বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে মান্দাহ এটি হাফেজগণের অন্যতম হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাব্বানি-এর সূত্রে এই সাঈদ বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দ হচ্ছে—

আমি বলছি: সুতরাং এটি নিশ্চিত যে প্রশ্নকারী ছিলেন আবু মুসা। আর বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ এতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মুসলিমের বর্ণনায় তিনি নিজেকে এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীদের বুঝিয়েছেন, যেহেতু প্রশ্নের প্রতি সন্তুষ্ট ব্যক্তিও প্রশ্নকারীর হুকুমে অন্তর্ভুক্ত।

বুখারীর বর্ণনায় প্রশ্নকারীকে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে এবং সেটিই উদ্দেশ্য। আর এই প্রশ্নটি আবু যার-ও করেছিলেন যা ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং উমাইর বিন কাতাদাহ-ও করেছিলেন যা তাবারানি বর্ণনা করেছেন (২২)।

 

তিনি (আইন) এই পরিচ্ছেদের সমালোচনা করে বলেন: যিনি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এর পেছনে শ্রম দিয়েছেন তাঁর জন্য এটি মানানসই নয়। তিনি বলেন: তাঁর কথা: "তারা বললেন": এর কর্তা হলো একটি দল। আর মুসলিম, আল-হাসান বিন সুফিয়ান এবং আবু ইয়ালা তাদের নিজ নিজ মুসনাদ গ্রন্থে বুখারীর উস্তাদ সাঈদ বিন ইয়াহইয়া থেকে উল্লিখিত সনদে "আমরা বললাম" শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে মান্দাহ এটি হাফেজগণের অন্যতম হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাব্বানি-এর সূত্রে সাঈদ বিন ইয়াহইয়া থেকে "আমি বললাম" শব্দে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(২২) ফাতহুল বারি (১/ ৫৫); ইবনে হিব্বানের নিকট আবু যার-এর হাদিস (৩৬১) এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আর তাবারানির আল-মু'জামুল কবির-এ উমাইর বিন কাতাদাহ-এর হাদিস (খণ্ড ১৭, নং ১০৫) এবং এতে বাকর বিন খুনাইস রয়েছেন, যিনি দুর্বল।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فتعين من هذا أنّ السائل هو أبو موسى وحده، ومن رواية مسلم أنّ أبا موسى أحد السائلين، ولا تنافي بين هذه الروايات، لأنّ في رواية البخاريّ أخبر عن جماعة هو داخل فيهم، وفي رواية مسلم صرح بأنّه أحد جماعة السائلين.

فإن قلت: بين رواية قالوا ورواية، [قلت منافاة].

قلت: لا لإِمكان التعدد وقد سأل هذا السؤال أيضًا إثنان من الصّحابة، أحدهما أبو ذر، وحديثه عند ابن حبّان، والآخر عمير بن قتادة. وحديثه عند الطبراني (23).

فلم يزد إِلَّا قوله إمكان التعدد، ويرد عليه أنّه لم ينحصر الأمر في التعدد لأنّ لقائل أنّ يقول: الأصل عدم التعدد والجمع بين الروايتين بغير الرَّدِّ واضح وهو أنّ عادة الجماعة إذا سألوا عن شيءٍ أن يتولى الخطاب عنهم أحدهم، فحاصل الجمع أن جماعة منهم أبو موسى اجتمعوا في السؤال عن ذلك، وكان الذي باشر السؤال لهم هو أبو موسى، فإن كان أبو ذر وعمير ممّن كان مع أبي موسى وإلا فنسبة السؤال إلى كلّ منهم بطريق المجاز مع احتمال التعدد أيضًا.

--------------------------------------------

(23) عمدة القاري (1/ 136) ووقع الأصل "لا منافات قلت لا لِإمكان" وهو خطأ صححناه من عمدة القاري.
এখান থেকে এটি নির্ধারিত হলো যে প্রশ্নকারী কেবল আবু মুসা একাই ছিলেন, আবার মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী আবু মুসা প্রশ্নকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন। এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ বুখারীর বর্ণনায় এমন এক দলের কথা জানানো হয়েছে যার অন্তর্ভুক্ত তিনি নিজেও ছিলেন, আর মুসলিমের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে তিনি প্রশ্নকারী দলের একজন ছিলেন।

যদি আপনি বলেন: 'তারা বলল' এই বর্ণনা এবং [আমি বললাম] এই বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে।

আমি বলব: না, কারণ একাধিকবার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও দুইজন সাহাবীও এই প্রশ্নটি করেছিলেন, তাঁদের একজন হলেন আবু যার, যাঁর হাদীস ইবনে হিব্বানের নিকট রয়েছে, আর অন্যজন হলেন উমাইর বিন কাতাদাহ, যাঁর হাদীস তাবারানীর নিকট রয়েছে (২৩)।

সুতরাং তিনি কেবল 'একাধিকবার ঘটার সম্ভাবনা'র কথাটিই বৃদ্ধি করেছেন। এর বিপরীতে বলা যায় যে, বিষয়টি কেবল একাধিকবার ঘটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ কেউ বলতেই পারেন যে, মূল নীতি হলো একাধিকবার না ঘটা। আর কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যান না করেই উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি স্পষ্ট; আর তা হলো, কোনো দল যখন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করে, তখন সাধারণত তাদের পক্ষ থেকে একজন কথা বলার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সুতরাং সমন্বয়ের সারকথা হলো আবু মুসাসহ একদল লোক সেই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন এবং আবু মুসা-ই তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্নটি করেছিলেন। যদি আবু যার ও উমাইর আবু মুসার সাথেই থেকে থাকেন তবে তো কথা নেই, অন্যথায় প্রত্যেকের দিকে প্রশ্নের সম্বন্ধ করাটি রূপক অর্থে হবে, সাথে একাধিকবার ঘটার সম্ভাবনাও বজায় থাকবে।

--------------------------------------------

(২৩) উমদাতুল কারী (১/ ১৩৬)। মূল পাঠে "কোনো বৈপরীত্য নেই আমি বললাম না কারণ সম্ভাবনা রয়েছে" এভাবে এসেছিল, যা একটি ভুল; আমরা উমদাতুল কারী থেকে তা সংশোধন করেছি।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌فصل

ما تعمده هذا المعترض ومما استلبه كما هو في قدر ورقة وأكثر ما ساقه (ح) في شرح باب إثم من كذب على النّبيّ صلى الله عليه وسلم ونظائر ذلك كثيرة جدًا، وفي باب عظة الِإمام النِّساء فإن فيه تعقب على الكرماني نحو نصف صفحة قائلًا فيه:

قلت: ثمّ ساق كلام (ح) بعينه من استلاب فوائد الذي سبقه كما هي موهمًا أنّها من تصرفه وتحصيله واستنباطه لو وقع تتبعه بطريق الإِستيعاب لطال الشرح جدًا، لكن لم أكتب إِلَّا ما طال فيه الإستلاب من غير أن يزيد من قبل نفسه شيئًا إِلَّا ما يستحق الخدش فيه، ووجدته أحيانًا يذكر ما يستلبه في غير المكان الذي استلبه منه لظنه أنّه يخفى كما صنع في الكلام على حديث أنس "لا يُؤْمِنُ أَحَدكُمْ حَتَّى يُحبَّ لَأخِيه مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ" فإنّه قال فيه: إنَّ رواته كلهم بصريون فوقع له من الغرائب أن إسناد هذا كلهم بصريون، وإسناد الذي قبله كلهم كوفيون، والذي قبله كلهم مصريون، فوقع له التسلسل في الأبواب الثّلاثة على الولاء انتهى.

وهذا الكلام برمته قاله (ح) في الكلام على حديث عبدَ الله بن عمر ذكر باب إطعام الطّعام ما نصه، رواة هذا الإِسناد كلهم بصريون، والذي قبله كلهم كوفيون، والذي بعده من طريقيه كلهم مصريون، فوقع له التسلسل في الأبواب الثّلاثة على الولاء وهو من اللطائف (24).

 

ومن ذلك ما منعه في الكلام على إسناد هذا الحديث، فقد قال (ح):

قوله: وعن حسين المعلم هو معطوف على شعبة، والتقدير عن شعبة وحسين

--------------------------------------------

(24) فتح الباري (1/ 56).
‌পরিচ্ছেদ

এই আপত্তিকারী ইচ্ছাকৃতভাবে যা করেছেন এবং যা তিনি আত্মসাৎ করেছেন তা প্রায় এক পৃষ্ঠা পরিমাণ। এর অধিকাংশ তিনি (হা) [হাফেজ ইবনে হাজার] কর্তৃক বর্ণিত 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপকারীর পাপ' শীর্ষক পরিচ্ছেদের ব্যাখ্যা থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এই জাতীয় উদাহরণ অনেক। আবার ইমাম কর্তৃক নারীদের উপদেশ প্রদান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে তিনি আল-কিরমানীর ওপর প্রায় আধ পৃষ্ঠা পরিমাণ সমালোচনা করেছেন এবং সেখানে বলেছেন:

আমি বলছি: অতঃপর তিনি (হা)-এর বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর পূর্বসূরীর জ্ঞানলব্ধ বিষয়গুলো এমনভাবে হরণ করেছেন যেন মনে হয় তা তাঁর নিজস্ব পরিচালনা, অর্জন ও গবেষণালব্ধ ফলাফল—এমন এক বিভ্রম তিনি সৃষ্টি করেছেন। যদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর অনুসন্ধান করা হতো, তবে এই ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যেত। তবে তিনি নিজ থেকে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে হরণকার্য চালিয়েছেন এবং যা কেবল ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার যোগ্য, আমি কেবল তা-ই লিপিবদ্ধ করেছি। আমি তাকে দেখেছি যে, কখনো কখনো তিনি যা আত্মসাৎ করেছেন তা মূল স্থান পরিবর্তন করে অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন, যাতে তা গোপন থাকে বলে তিনি ধারণা করেন। যেমনটি তিনি আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীস—"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে"—এর আলোচনায় করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই বসরীবাসী। এটি একটি বিস্ময়কর বিষয় যে, এই হাদীসের সনদ সবাই বসরীবাসী, এর পূর্বেরটির সনদ সবাই কুফাবাসী এবং তার পূর্বেরটির সনদ সবাই মিসরবাসী। এভাবে পরপর তিনটি পরিচ্ছেদে এক চমৎকার ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে—সমাপ্ত।

অথচ এই পুরো বক্তব্যটি (হা) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদীসের আলোচনায় 'অন্নদান' সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বলেছিলেন। যার মূল পাঠ হলো: "এই সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বসরীবাসী, এর পূর্ববর্তীগণ কুফাবাসী এবং পরবর্তী সনদের উভয় সূত্রের বর্ণনাকারীগণ মিসরবাসী। ফলে পরপর তিনটি পরিচ্ছেদে এক অপূর্ব ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও চমৎকার একটি বিষয় (২৪)।"

 

অনুরূপভাবে তিনি এই হাদীসের সনদের আলোচনায় যা বর্জন করেছেন, যেখানে (হা) বলেছেন:

তাঁর উক্তি: 'হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে বর্ণিত'—এটি শু'বাহ-এর সাথে সংযোজিত হয়েছে, আর এর অন্তর্নিহিত রূপ হলো 'শু'বাহ ও হুসাইন থেকে বর্ণিত'।

--------------------------------------------

(২৪) ফাতহুল বারী (১/ ৫৬)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كلاهما عن قتادة، وإنّما لم يجمعهما لأنّ شيخه أفردهما فأورده المصنف معطوفًا اختصارًا، ولأن شعبة قال: عن قتادة.

وقال حسين: حدّثنا قتادة، وأغرب بعض المتأخرين فزعم أنّ قوله وعن حسين تعليق وهو غلظ، فقد رواه أبو نعيم في المستخرج من طريق إبراهيم الحربيّ عن مسدد شيخ المصنف عن يحيى القطان عن حسين المعلم.

وأبدى الكرماني بحسب التحرير العقلي احتمال أن يكون تعليقًا أو معطوفًا على قتادة، فيكون شعبة رواه عن حسين عن قتادة وذلك ممّا يغفر عنه من مارس شيئًا من علم الإسناد.

ثمّ قال: واللفظ الذي ذكر هنا شعبة، وأمّا لفظة حسين فهو فيما أخرجه الحربيّ بلفظ: "لَا يُؤْمِنُ حَتَّى يُحِبَّ لَأخِيهِ وَلجارِهِ" … إلى أن قال: وأمّا طريق شعبة فصرح أحمد والنسَائي في روايتهما بسماع قتادة له من أنس فانتفت تهمة تدليسه (25).

 

قال (ع): قوله عن حسين، عطف على شعبة، فالتقدير عن حسين وشعبة كلاهما عن قتادة، وإنّما لم يجمعهما لأنّ شيخه أفردهما فأورده معطوفًا اختصارًا، ولأن شعبة قال: عن قتادة وحسين قال: حدّثنا قتادة، وقال بعض المتأخرين طريق حسين معلقة وهو غير صحيح.

فقد رواه أبو نعيم في المستخرج من طريق إبراهيم الحربيّ عن مسدد شيخ البخاريّ فيه عن يحيى القطان عن حسين المعلم.

وقال الكرماني: قوله: وعن حسين عطف، إمّا على حدّثنا مسدد. فساق كلام الكرماني بطوله ثمّ قال: قلت: وهذا كله مبني على حكم العقل وليس كذلك وليس هو بعطف على مسدد ولا على قتادة، وإنّما هو عطف على شعبة كما ذكرنا.

--------------------------------------------

(25). فتح الباري (1/ 57).
তারা উভয়ই কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁদের দুজনকে একত্রিত করেননি কারণ তাঁর উস্তাদ তাঁদের পৃথকভাবে উল্লেখ করেছিলেন, তাই গ্রন্থকার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাঁদের সংযুক্ত (আতিফ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর যেহেতু শু'বাহ বলেছেন: কাতাদাহ থেকে।

আর হুসাইন বলেছেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীকালের কেউ কেউ এক অদ্ভূত দাবি করেছেন যে, তাঁর কথা "এবং হুসাইন থেকে" এটি একটি তালীক (ঝুলন্ত সনদ), কিন্তু এটি একটি ভুল। কারণ আবু নুয়াইম আল-মুস্তাখরাজ গ্রন্থে ইবরাহীম আল-হারবীর সূত্রে গ্রন্থকারের উস্তাদ মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে এবং তিনি হুসাইন আল-মুআল্লিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর কিরমানি যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে, এটি তালীক হতে পারে অথবা কাতাদাহর ওপর সংযুক্ত হতে পারে; ফলে অর্থ দাঁড়াবে শু'বাহ এটি হুসাইন থেকে, আর তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা ইলমে ইসনাদ (সনদ শাস্ত্র) নিয়ে সামান্যতম চর্চাকারীদের কাছেও অগ্রহণযোগ্য।

তারপর তিনি বলেন: এখানে উল্লিখিত শব্দগুলো শু'বাহর বর্ণনা অনুযায়ী। আর হুসাইনের বর্ণিত শব্দগুলো আল-হারবীর বর্ণনায় এভাবে এসেছে: "সে ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাই ও তার প্রতিবেশীর জন্য (তা-ই) পছন্দ করে..." ... এরপর তিনি বলেন: আর শু'বাহর সূত্রের ব্যাপারে আহমদ ও নাসাঈ তাঁদের বর্ণনায় কাতাদাহর আনাস থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফলে তাঁর তাদলীস করার (সূত্র গোপন করার) অভিযোগ দূর হয়ে গেছে (২৫)।

 

আইনী বলেছেন: তাঁর উক্তি "হুসাইন থেকে", এটি শু'বাহর ওপর সংযুক্ত (আতিফ)। সুতরাং বাক্যটি হবে "হুসাইন ও শু'বাহ থেকে, তাঁরা উভয়ই কাতাদাহ থেকে"। তিনি তাঁদের একত্রিত করেননি কারণ তাঁর উস্তাদ তাঁদের পৃথকভাবে উল্লেখ করেছিলেন, তাই তিনি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাঁদের সংযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ শু'বাহ বলেছেন "কাতাদাহ থেকে" এবং হুসাইন বলেছেন "কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন"। পরবর্তীকালের কেউ কেউ বলেছেন যে, হুসাইনের সূত্রটি তালীক, যা সঠিক নয়।

কেননা আবু নুয়াইম আল-মুস্তাখরাজ গ্রন্থে ইবরাহীম আল-হারবীর সূত্রে বুখারীর উস্তাদ মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে এবং তিনি হুসাইন আল-মুআল্লিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর কিরমানি বলেছেন: তাঁর কথা "এবং হুসাইন থেকে" এটি সংযুক্ত (আতিফ), হতে পারে তা "আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন" এর ওপর। এরপর তিনি দীর্ঘভাবে কিরমানির কথা উল্লেখ করেন এবং তারপর বলেন: আমি বলছি, এর পুরোটাই যুক্তিনির্ভর ধারণার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। এটি মুসাদ্দাদের ওপর কিংবা কাতাদাহর ওপর সংযুক্ত নয়, বরং এটি শু'বাহর ওপর সংযুক্ত, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(২৫). ফাতহুল বারী (১/ ৫৭)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
والمتن الذي ذكر هنا لفظ شعبة، وأمّا لفظ حسين وهو الذي رواه أبو نعيم فذكره ثمّ قال: فإن قيل قتادة مدلس.

قلت: قد صرح شعبة عن أحمد والنسائي بسماع قتادة له من أنس فانتفت تهمة تدليسه انتهى (26).

فأخذ كلام غيره فنسبه لنفسه من غير اعتذار عنه، وقد صنع في الباب الذي يليه قريبًا من ذلك، وما ظننت أنّ أحدًا يرضى لنفسه بذلك، وإذا تأمل من ينصف هذه الأمثلة عرف أنّ الرَّجل هذا عريض الدعوى بغير موجب متشبع بما لم يعطه منتهب لمخترعات غيره ينسبها إلى نفسه من غير مراعاة عاتب عليه وطاعن ممّن يقف على كلامه وكلام من أغار عليه، ولو حلفت أنّه لم يخل بابًا من أبواب هذا الكتاب على غزارتها من شيءٍ من ذلك لَبَرَرْتُ، وشاهدي على ذلك عدل من كلامه نصًا لا اختصارًا، بل مصالقة ومناهبة، حتّى أنّه يغفل فينقل لفظة قلت الدالة على الإِختراع له والإِعتراض منه، ويكون ذلك كله لمن سبقه، ومن عجائب ما وقع له أنّه بالغ الإِنكار على من يأخذ [مِنْ] من سبقه فيحكيه ولا ينسبه لصاحبه، ثمّ وقع فيما عابه من ذلك وبالغ الإِكثار، وسيأتي قريبًا في باب خوف المؤمّن أنّ يحبط عمله.

 

قال (ع) في من يأخذ كلام غيره ولا ينسبه إليه: ومن عجيب ما وقع له أنّه نقل عن الكرماني شيئًا ولم يرضه، فرد عليه بكلام (ح) قائلًا في أوله: قلت: موهمًا أنّ ذلك من تصرفه وتتبعه واجتهاده (27).

قال البخاريّ:

--------------------------------------------

(26) عمدة القاري (1/ 141).

(27) فتح الباري (1/ 111) وعمدة القاري (1/ 276).
এখানে যে মতনটি উল্লেখ করা হয়েছে তা শু'বাহর শব্দ; আর হুসাইনের শব্দের ব্যাপারে যা আবু নু'আইম বর্ণনা করেছেন, তিনি তা উল্লেখ করে বলেছেন: যদি বলা হয় যে কাতাদাহ একজন মুদাল্লিস।

আমি বলব: আহমদ ও নাসায়ীর বরাতে শু'বাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে কাতাদাহ আনাস (রা.) থেকে এটি শুনেছেন, ফলে তার তাদলীস করার অভিযোগটি খণ্ডন হয়ে গেল। সমাপ্ত (২৬)।

সুতরাং তিনি অন্যের কথা গ্রহণ করেছেন এবং কোনো প্রকার স্বীকারোক্তি ছাড়াই তা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তী পরিচ্ছেদেই তিনি এর কাছাকাছি কাজ করেছেন। আমি মনে করি না যে কেউ নিজের জন্য এমন আচরণ পছন্দ করবেন। যদি কোনো ইনসাফকারী এই উদাহরণগুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে তিনি বুঝতে পারবেন যে এই ব্যক্তিটি কোনো কারণ ছাড়াই বড় বড় দাবি করেন এবং যা তাকে দেওয়া হয়নি তা নিয়ে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন। তিনি অন্যের উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ লুণ্ঠন করেন এবং যারা তার বক্তব্য ও যাদের থেকে তিনি লুণ্ঠন করেছেন তাদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়ে তার সমালোচনা বা নিন্দা করবেন—তাদের পরোয়া না করেই তা নিজের নামে চালিয়ে দেন। এই কিতাবের পরিচ্ছেদসমূহের আধিক্য সত্ত্বেও তিনি এর কোনো পরিচ্ছেদকে এ জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত রেখেছেন বলে আমি যদি শপথ করি, তবে আমি অবশ্যই সত্যবাদী হব। এ ব্যাপারে আমার সাক্ষী হলো তার নিজের বক্তব্য থেকে যথাযথ উদ্ধৃতি, যা কোনো সংক্ষিপ্তকরণ নয়, বরং হুবহু নকল ও লুণ্ঠন। এমনকি তিনি এতটাই অসতর্ক যে, তিনি ‘আমি বলেছি’ (কুলতু) শব্দটি পর্যন্ত নকল করে ফেলেন যা মূলত বক্তার নিজস্ব উদ্ভাবন বা আপত্তির কথা জানান দেয়, অথচ এই সম্পূর্ণ বক্তব্যটিই ছিল তার পূর্ববর্তীদের। তার ক্ষেত্রে ঘটা অদ্ভুত বিষয়গুলোর একটি হলো, যারা তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করে তা বর্ণনা করে কিন্তু মূল লেখকের নাম উল্লেখ করে না, তাদের তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন; অথচ এরপর তিনি নিজেই সেই নিন্দনীয় কাজে অত্যন্ত অধিক মাত্রায় লিপ্ত হয়েছেন। ‘মুমিনের আমল বরবাদ হয়ে যাওয়ার ভয়’ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে এটি শীঘ্রই আসছে।

 

তিনি (আইনী) অন্যের কথা গ্রহণ করে তা তার দিকে সম্বন্ধ না করার বিষয়ে বলেন: তার ব্যাপারে একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তিনি কিরমানী থেকে কোনো একটি বিষয় উদ্ধৃত করেছেন এবং সেটি তার পছন্দ হয়নি, ফলে তিনি (হা) এর বক্তব্যের মাধ্যমে এর উত্তর দিয়েছেন এবং তার শুরুতে বলেছেন: ‘আমি বলেছি’, যাতে ধারণা হয় যে এটি তার নিজের বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও ইজতিহাদ (২৭)।

বুখারী বলেছেন:

--------------------------------------------

(২৬) ‘উমদাতুল ক্বারী (১/১৪১)।

(২৭) ফাতহুল বারী (১/১১১) এবং ‘উমদাতুল ক্বারী (১/২৭৬)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌3 - باب الكفيل في السلم

فذكر حديث عائشة اشترى رسول الله صلى الله عليه وسلم طعامًا من يهودي نسيئة ورهنه له درعًا من حديد.

 

قال (ع): قيل: ليس في هذا الحديث ما ترجم به، وأجاب الكرماني بأنّه إمّا أن يراد بالكفالة الضمان فلا شك أنّ المرهون هنا من الدين من حيث أنّه يباع فيه وإما أنّ يقيسه على الرَّهْن بجامع كلّ منهما وثيقة، ولهذا كلما صح الرَّهْن فيه صح ضمانه وبالعكس.

 

قال: (ع): قلت إثبات المطابقة بين هذا الحديث وبين التّرجمة، فهذا الكلام إنّما هو بالجر الثقيل، ومع هذا فالجواب الثّاني فيه بعض قرب، والأولى أن يقال: إن عادته جرت أن يشير إلى بعض ما ورد في بعض طرق الحديث.

وقد روى في الرَّهْن عن مسدد عن عبد الواحد عن الأعمش قال: تذاكرنا عند إبراهيم الرَّهْن والقبيل في السلف، فذكر إبراهيم هذا الحديث وفيه التصريح بالرهن والكفيل لأنّ القبيل هو الكفيل، وبهذا يجاب عن قول الكرماني ليس فيه ذكر السلم لأنا نقول فيه ذكر السلف وهو السلم (28).

وقريب من هذا ما وقع له في باب أحب الدين إلى الله أدومه ذكر كلام (ح) بعينه في قصة الحولاء بنت ثويب قائلًا قلت موهمًا أنّه من تصرفه، ثمّ

--------------------------------------------

(28) عمدة القاري (12/ 68) وفتح الباري (4/ 433 - 434).
৩ - সালাম (অগ্রিম ক্রয়) চুক্তিতে জামিনদার সংক্রান্ত অধ্যায়

অতঃপর আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক ইহুদির কাছ থেকে বাকিতে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করেছিলেন এবং তার নিকট নিজের একটি লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।

 

আল-আইনি বলেন: বলা হয়েছে যে, এই হাদিসে এমন কিছু নেই যা দ্বারা অধ্যায়ের শিরোনামটি প্রমাণিত হয়। এর উত্তরে আল-কিরমানি বলেছেন যে, জামিনদারিত্ব (কাফালাহ) দ্বারা হয়তো নিশ্চয়তা (যামান) উদ্দেশ্য; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে বন্ধক রাখা বস্তুটি ঋণের অংশ হিসেবে গণ্য, যেহেতু ঋণ পরিশোধের জন্য তা বিক্রি করা যায়। অথবা তিনি একে বন্ধকের সাথে তুলনা (কিয়াস) করেছেন এই যুক্তিতে যে, উভয়টিই একটি দালিলিক জামানত। এই কারণেই যা বন্ধক রাখা বৈধ, তার জামিন গ্রহণ করাও বৈধ এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য।

 

আল-আইনি বলেন: আমি বলি, এই হাদিস এবং শিরোনামের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রমাণ করা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়। তাসত্ত্বেও দ্বিতীয় উত্তরটি কিছুটা নিকটবর্তী মনে হয়। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো এটি বলা যে: ইমাম বুখারীর রীতি হলো হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করা।

আর বন্ধক অধ্যায়ে মুসাদ্দাদ হতে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ হতে, তিনি আমাশ হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা ইবরাহিমের নিকট বন্ধক এবং অগ্রিম লেনদেনে (সালাফ) জামিনদার (কাবিল) সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন ইবরাহিম এই হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে বন্ধক ও জামিনদারের (কাফিল) সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, কারণ ‘কাবিল’ অর্থ হলো ‘কাফিল’ (জামিনদার)। এর মাধ্যমেই আল-কিরমানির সেই আপত্তির উত্তর হয়ে যায় যে, এতে ‘সালাম’-এর কোনো উল্লেখ নেই। কারণ আমরা বলি যে, এতে ‘সালাফ’-এর উল্লেখ রয়েছে আর ‘সালাফ’ মানেই হলো ‘সালাম’ (২৮)।

অনুরূপ একটি বিষয় ঘটেছে ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন হলো যা সর্বদা পালন করা হয়’ শীর্ষক অধ্যায়ে। সেখানে খাওলা বিনতে তুওয়াইবের ঘটনায় আল-হাফিজ ইবনে হাজারের বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘আমি বলছি’ বলে এই ধারণা দেওয়া হয়েছে যে এটি তার নিজস্ব বক্তব্য, অতঃপর...

--------------------------------------------

(২৮) উমদাতুল কারি (১২/৬৮) এবং ফাতহুল বারি (৪/৪৩৩-৪৩৪)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
لما أمعنت النظر في كتابه رأيته أكثر من مثل هذا لكنه أغنى عن التصريح بقوله، قلت: قليل بالنسبة إلى الأخذ بغير لفظه.

 

قلت: وسيجزي الله تعالى كلا بفعله، وما الله بظلام للعبيد، ومن هنا أشرع في بعض اعتراضاته على ترتيب الكتاب والله الهادي للصواب، من باب كيف كان‌‌ بدءُ الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم (29).

‌‌الحديث الأوّل

قال (ح): قوله: حدّثنا الحميدي .. إلى أنّ قال: كأن البخاريّ امتثل قوله صلى الله عليه وسلم: "قَدِّموا قُرَيْشًا" فافتتح كتابه بِالرِّوَايَةِ عنه لكونه أفقه قرشي أخذ عنه، ولأنّه مكي كشيخه فناسب أنّ يذكر في أول ترجمة بدء الوحي لأنّ ابتداءه كان بمكة ومن ثمّ ثنى بالرواية عن مالك لأنّه شيخ أهل المدينة، وهي تالية لمكة في نزول الوحي وفي جميع الفضل، ومالك وابن عيينة قريبان.

قال الشّافعيّ: لولاهما لذهب العلم من الحجاز (30).

 

قال (ع): فإن قلت: لم قدم رواية الحميدي على غيره من مشايخه؟

قلت: هذا السؤال ساقط لأنّه لو قدم رواية غيره لكان يقال لم قدم على غيره.

وقال بعضهم: قدم الرِّواية عن الحميدي لأنّه قرشي، وساق كلام (ح) ثمّ قال: قلت: وليس البخاريّ هنا في صدد بيان فضيلة قريش ولا مكّة حتّى يبتدىء برواية قرشي مكي، وأيضًا فقوله صلى الله عليه وسلم: "قَدِّمُوا قُرَيْشًا" إنّما هو

--------------------------------------------

(29) فتح الباري (1/ 101) وعمدة القاري (1/ 256).

(30) فتح الباري (1/ 10).
যখন আমি তাঁর কিতাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন দেখলাম যে তিনি এর চেয়েও বেশি করেছেন, তবে তাঁর বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেননি। আমি বললাম: তাঁর মূল শব্দ ব্যবহার না করার তুলনায় এটি সামান্যই।

 

আমি বললাম: মহান আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন, আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেও অবিচারকারী নন। এখান থেকে আমি কিতাবের বিন্যাসের ওপর তাঁর কিছু আপত্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করছি, আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী। এটি হলো ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল’ অধ্যায় থেকে (২৯)।

‌‌প্রথম হাদীস

তিনি (হা) বলেছেন: তাঁর উক্তি: ‘হুমাইদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...’ থেকে নিয়ে তিনি আরও বলেছেন: মনে হয় ইমাম বুখারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি অনুসরণ করেছেন: "তোমরা কুরাইশদের অগ্রগণ্য করো"। তাই তিনি তাঁর কিতাব তাঁর থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েতের মাধ্যমে শুরু করেছেন, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর নিকট থেকে শিক্ষাগ্রহণকারী কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ। যেহেতু তিনি তাঁর উস্তাদের মতো মক্কী ছিলেন, তাই ওহীর সূচনার প্রথম শিরোনামে তাঁকে উল্লেখ করা সংগতিপূর্ণ হয়েছে, কারণ ওহীর সূচনা মক্কাতেই হয়েছিল। এরপর তিনি দ্বিতীয়ত মালেক থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েত নিয়ে এসেছেন, কারণ তিনি হলেন মদীনাবাসীদের শায়খ, আর ওহী নাযিল এবং সমস্ত ফযীলতের ক্ষেত্রে মক্কার পরেই মদীনার স্থান। আর মালেক ও ইবনে উয়াইনা সমপর্যায়ের।

ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: যদি তাঁরা দুজন না থাকতেন, তবে হিজায থেকে ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত (৩০)।

 

তিনি (আইন) বলেছেন: যদি তুমি বলো: তিনি কেন তাঁর অন্য উস্তাদদের তুলনায় হুমাইদীর রিওয়ায়েতকে অগ্রগণ্য করলেন?

আমি বললাম: এই প্রশ্নটি অবান্তর, কারণ তিনি যদি অন্য কারও রিওয়ায়েতকে আগে আনতেন, তবে তখনও বলা হতো যে কেন একে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হলো।

তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তিনি হুমাইদী থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েতকে অগ্রগণ্য করেছেন কারণ তিনি কুরাইশী ছিলেন। এরপর তিনি (হা)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: আমি বললাম: ইমাম বুখারী এখানে কুরাইশ বা মক্কার ফযীলত বর্ণনার উদ্দেশ্যে নেই যে তিনি একজন কুরাইশী ও মক্কী রাবীর রিওয়ায়েত দিয়ে শুরু করবেন। অধিকন্তু, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা কুরাইশদের অগ্রগণ্য করো" মূলত হলো...

--------------------------------------------

(২৯) ফাতহুল বারী (১/ ১০১) এবং উমদাতুল কারী (১/ ২৫৬)।

(৩০) ফাতহুল বারী (১/ ১০)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
في الإمامة الكبرى ليس إِلَّا، وفي غيرها يقدم الباهلي العالم على القرشي الجاهل.

وقوله: لأنّ ابتداء الوحي … الخ إنّما يستقيم أنّه لو كان الحديث في أمر الوحي، وإنّما الحديث في النية فلا يلزم من ذلك ما قال (31).

قلت: أجوبة هذا الفصل ظاهرة لكل من يبتدىء طرفًا من العلم، وما كنت أظن أن العصبية تنتهي به إلى هذه المكابرة، وهب أنّ البخاريّ ليس هنا في صدد فضيلة قريش تمتنع أن تقصد المناسبة المذكورة، وحصره الذي ادعاه في "قَدِّمُوا قَرَيْشًا" مردود، لأنّ العبرة بعموم اللّفظ لا بخصوص السبب، وهو لا يزال يحتج بهذه القاعدةُ، ولما لم توافق هواه ردها وأكد الرَّدِّ.

وقوله: يقدم الباهلي … الخ يفهم منه أنّ القرشي الجاهل في الإِمامة الكبرى يقدم على الباهلي العالم وليس كذلك، لأنّ شرط الإمام الأعظم أن يكون عالمًا، وأمّا رده الأخير فجوابه أنّ الحديث وإن كان في النية لكن المناسبة المذكورة إنّما هي في التّرجمة لأنّها في بدء الوحي فتمت المناسبة.

 

قوله:

 

‌‌الحديث الثّاني

قالت عائشة: ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد.

 

قال (ح): موصول بالسند المذكور وإنّما أعاد لفظ قالت ليفصل بين ما نقلته عن النّبيّ صلى الله عليه وسلم من قوله، وبين ما حكته عنه من حاله وليس هذا بمعلق، لأنّ الأصل في الكلام أن يكون في حكم ما قبله حتّى يظهر الفاصل (32).

--------------------------------------------

(31) عمدة القاري (1/ 22).

(32) فتح الباري (1/ 22).
প্রধান ইমামত (ইমামতে কুবরা) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে নয়, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে জাহিল কুরাইশীর ওপর আলিম বাহিলীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এবং তাঁর বক্তব্য: "কারণ ওহীর সূচনা... ইত্যাদি" কেবল তখনই সঠিক হতো যদি হাদীসটি ওহী সংক্রান্ত বিষয়ে হতো। অথচ হাদীসটি হলো নিয়ত সম্পর্কে, তাই তিনি যা বলেছেন তা এখান থেকে আবশ্যক হয় না (৩১)।

আমি বলি: এই পরিচ্ছেদের উত্তরসমূহ ইলমের সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও স্পষ্ট। আমি ভাবিনি যে গোঁড়ামি তাকে এই পর্যায়ের হঠকারিতা পর্যন্ত নিয়ে যাবে। ধরে নেওয়া যাক যে ইমাম বুখারী এখানে কুরাইশদের ফযীলত বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে নেই, তবুও কি উল্লিখিত সামঞ্জস্যের উদ্দেশ্য পোষণ করা অসম্ভব? আর "তোমরা কুরাইশদের অগ্রগণ্য করো" এই হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি যে সীমাবদ্ধতার দাবি করেছেন তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ গ্রহণযোগ্যতা শব্দের ব্যাপকতার ওপর নির্ভর করে, কারণের বিশিষ্টতার ওপর নয়। অথচ তিনি সর্বদা এই মূলনীতি দিয়ে দলিল পেশ করেন, কিন্তু যখন এটি তাঁর প্রবৃত্তির অনুকূলে হলো না, তখন তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করলেন এবং সেই প্রত্যাখ্যানের ওপর জোর দিলেন।

এবং তাঁর কথা: "বাহিলীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে... ইত্যাদি" থেকে বোঝা যায় যে প্রধান ইমামতের ক্ষেত্রে জাহিল কুরাইশীকে আলিম বাহিলীর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে; অথচ বিষয়টি সেরূপ নয়। কারণ মহান ইমাম হওয়ার জন্য শর্ত হলো তাঁকে আলিম হতে হবে। আর তাঁর সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানের উত্তর হলো, হাদীসটি যদিও নিয়ত সম্পর্কে, কিন্তু উল্লিখিত সামঞ্জস্যটি অনুচ্ছেদের শিরোনামের (তারজামাতুল বাব) সাথে সম্পর্কিত, কারণ তা ওহীর সূচনা সম্পর্কে; সুতরাং সামঞ্জস্য পূর্ণ হয়েছে।

 

তাঁর উক্তি:

 

‌‌দ্বিতীয় হাদীস

আয়েশা (রা.) বলেন: আমি তাকে অত্যন্ত শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি।

 

(হা) বলেন: এটি উল্লিখিত সনদের সাথে সংযুক্ত (মাওসুল)। আর তিনি "বললেন" শব্দটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে তাঁর যে বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এটি মুয়াল্লাক নয়, কারণ কথার মূল নীতি হলো তা পূর্ববর্তী বিষয়ের বিধানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে যতক্ষণ না কোনো পার্থক্যকারী স্পষ্ট হয় (৩২)।

--------------------------------------------

(৩১) উমদাতুল কারী (১/২২)।

(৩২) ফাতহুল বারী (১/২২)।
(খণ্ড: ١) ইনতিকাদুল ইতিরাদ ফির রাদ্দি আলাল আইনি ফী শারহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
قال (ع): هذا اللّفظ يحتمل وجهين:

أحدهما: أن يكون معطوفًا على الذي قبله بغير أداة عطف ويكون مُسْنَدًا.

والثّاني: أن يكون كلامًا برأسه فيكون معلقًا، ونفى بعضهم أن يكون معلقًا ولم يقم عليه دليلًا، فنفيه منفي (33).

 

‌‌الحديث الثّالث

قوله في الكلام على حديثها: أول ما بدىء به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا … إلى أنّ قال: فقلت: "مَا أَنَا بقَارِيءٍ" (ما) نافية إذ لو كانت إستفهامية لم تدخل الباء عليها، وإن حكي جوازه عن الأخفش فإنّه شاذ، وإنّما الباء زائدة لتأكيد النفي، وجَوَّز أبو شامة أن تكون (ما) الأولى للإِمتناع، والثّانية للإِخبار، والثالثة للإِستفهام.

قلت: ويؤيده أنّ في رواية أبي الأسود عن عروة في مغازيه كيف أقرأ ونحوه من وجه آخر عن الزّهري في الدلائل للبيهقي (34).

 

قال (ع): العجب من هذا الشارح يغلط من قال: إنها إستفهامية، ثمّ يذكر رواية أبي الأسود وهي مصرحة بأنّها إستفهامية (35).

 

قلت: انظر وتعجب.

قوله: "فرجع بها".

--------------------------------------------

(33) عمدة القاري (42 - 43).

(34) فتح الباري (1/ 24)

(35) عمدة القاري (1/ 57).
তিনি (আইনী) বলেছেন: এই শব্দগুচ্ছটি দুটি দিক বা সম্ভাবনার অবকাশ রাখে:

প্রথমটি: এটি কোনো সংযোজক অব্যয় ছাড়াই তার পূর্ববর্তী শব্দের সাথে অন্বিত (আতফ) হতে পারে এবং এটি মুসনাদ (বিধেয়) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়টি: এটি একটি স্বতন্ত্র বাক্য হতে পারে, সেক্ষেত্রে এটি মুআল্লাক (ঝুলন্ত) হবে। কেউ কেউ এটি মুআল্লাক হওয়াকে অস্বীকার করেছেন কিন্তু এর সপক্ষে কোনো দলিল পেশ করেননি; ফলে তাদের সেই অস্বীকারই ভিত্তিহীন (৩৩)।

 

‌‌তৃতীয় হাদিস

হাদিসটির আলোচনায় তাঁর বক্তব্য: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী সূচনার প্রথম পর্যায় ছিল সত্য স্বপ্ন... যে পর্যন্ত তিনি বলেছেন: অতঃপর আমি বললাম: "আমি পাঠকারী নই।" এখানে 'মা' হলো না-বোধক, কারণ এটি যদি প্রশ্নবোধক হতো তবে তার পরে 'বা' বর্ণটি যুক্ত হতো না। যদিও আখফাশ থেকে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে, তবুও তা শায (বিচ্যুত)। মূলত এখানে 'বা' বর্ণটি না-বোধক অর্থকে জোরালো করার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। আবু শামাহ অভিমত দিয়েছেন যে, প্রথম 'মা' অপারগতা প্রকাশের জন্য, দ্বিতীয়টি তথ্য প্রদানের জন্য এবং তৃতীয়টি প্রশ্নবোধক হতে পারে।

আমি (ইবনে হাজার) বলছি: এর সপক্ষে প্রমাণ হলো উরওয়া থেকে আবুল আসওয়াদের 'মাগাযী' বর্ণনায় এসেছে— "আমি কীভাবে পাঠ করব?" এবং বাইহাকীর 'দালাইলুন নবুওয়াত' গ্রন্থে যুহরী থেকে বর্ণিত অন্য এক সূত্রেও অনুরূপ পাওয়া যায় (৩৪)।

 

তিনি (আইনী) বলেছেন: এই ব্যাখ্যাকারীর ওপর বিস্ময় জাগে, যিনি এটিকে প্রশ্নবোধক বলা ব্যক্তিকে ভুল সাব্যস্ত করছেন, আবার তিনিই আবুল আসওয়াদের বর্ণনাটি উল্লেখ করছেন যা স্পষ্টভাবে এটিকে প্রশ্নবোধক হওয়ারই সাক্ষ্য দিচ্ছে (৩৫)।

 

আমি বলছি: লক্ষ্য করুন এবং বিস্মিত হোন।

তাঁর কথা: "অতঃপর তিনি এটি নিয়ে ফিরে এলেন।"

--------------------------------------------

(৩৩) উমদাতুল কারী (৪২ - ৪৩)।

(৩৪) ফাতহুল বারী (১/ ২৪)

(৩৫) উমদাতুল কারী (১/ ৫৭)।