(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
الإعجاز العلمي إلى أين   (مساعد الطيار)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الإعجاز العلمي إلى أين؟ مقالات تقويمية للإعجاز العلمي.

المؤلف: د مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

الناشر: دار ابن الجوزي

الطبعة: الثانية، 1433 هـ

عدد الأجزاء: 1

الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1435

বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব কোন পথে   (মুসাঈদ আল-তাইয়ার)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


বই: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব কোন পথে? বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ক মূল্যায়নধর্মী প্রবন্ধসমূহ।

লেখক: ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়ার

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৩ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

বইটি লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - আল-মাকতাবা আল-শামিলার জন্য একটি উপহার

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১)
الإعجاز العلمي إلى أين؟

مقالات تقويمية للإعجاز العلمي

تأليف

د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

الأستاذ المشارك بكلية المعلمين بالرياض

دار ابن الجوزي

بسم الله الرحمن الرحيم
বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব কোন অভিমুখে?

বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ক কিছু মূল্যায়নমূলক প্রবন্ধ

রচনায়

ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-ত্বাইয়ার

রিয়াদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক

দার ইবনুল জাওযি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[عرض كتاب الإعجاز العلمي إلى أين]ـ؟

 

مقالات تقويمية للإعجاز العلمي

 

تأليف: د. مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار

 

الأستاذ المشارك بكلية المعلمين بالرياض

 

طبعة: دار ابن الجوزي

 

عرض: عمرو الشرقاوي

 

عرض موجز:

يتكون الكتاب في طبعته الثانية من ثمانية مقالات تعرض فيها الشيخ د. مساعد الطيار، لمصطلح (الإعجاز العلمي)، بالشرح والبيان عند أصحابه، وما يرد على تعريفهم من إشكال.

ثم تعرض لطريقة المعالجة التفسيرية لدى هؤلاء، وما فيها من إشكال.

وتعرض لعدة نصائح لطريقة معالجة التفسير مع الحقائق الكونية الموجودة في القرآن، بما لا يخالف تفسير السلف بل يتفق معه.

واهتم المؤلف بضرب الأمثلة على ما يذكر، وبرع في ذلك.

 

عرض الكتاب:

بدأ المؤلف كتاب بمقدمة أوضح فيها مفهوم المعجزة على سبيل الاختصار؛ لتكون تمهيداً للحديث عن (الإعجاز العلمي).

وقال: ((لو وازنْتَ بين مصطلح القرآن والسُّنّة (الآية)، وهذا المصطلح الحادث (المعجزة) = لبان لك أن مصطلح القرآن والسُّنّة لا يحتاج إلى تلك الشروط التي عَرَّف بها هؤلاء مصطلح المعجزة)).

وبين أنه كما وقع الخلل في تعريف المعجزة، وقع الخلل أيضاً في أمور متعلقة بها.

ونبه كذلك أن مما يحسن التنبه له في موضوع (معجزات ـ آيات ـ الأنبياء) أنها ليست هي الطريق الوحيد لإثبات نبوة الأنبياء.

ومما ذكره المؤلف أنه ((إذا جمعت الوجوه التي حُكيت في أنواع الإعجاز ـ سوى الصرفة ـ وجدت أنها لا تكون في كل سورة، بل تتخلف في كثير من السور، فمثلاً: ليس في كل السور إخبار بالغيب.

أما الذي يوجد في كل سورة بلا استثناء فهو الوجه المتحدى به، وهو ما يتعلق بالنظم العربي لهذا القرآن (لغة وبلاغة وأسلوباً))).

 

وفي المقالة الأولى، الإعجاز العلمي في القرآن

بين أن هذا الموضوع يدخل تحت التفسير بالرأي، وينطبق عليه شروط التفسير بالرأي.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا العرض ليس في المطبوع، ومصدره الموقع الرسمي للمؤلف - حفظه الله -.
‘আল-ই'জায আল-ইলমি ইলা আইনা’ (বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব কোন পথে?) বইটির পর্যালোচনা

 

বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ে মূল্যায়নমূলক প্রবন্ধসমূহ

 

রচনায়: ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসির আল-ত্বাইয়্যার

 

রিয়াদের টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক

 

প্রকাশনা: দার ইবনুল জাওজি

 

পর্যালোচনায়: আমরু আশ-শারক্বাবি

 

সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:

বইটির দ্বিতীয় সংস্করণে আটটি প্রবন্ধ রয়েছে যেখানে শায়খ ড. মুসাঈদ আল-ত্বাইয়্যার ‘আল-ই'জায আল-ইলমি’ (বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব) পরিভাষাটি এর প্রবক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাদের দেওয়া সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যেসব তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন।

এরপর তিনি এই প্রবক্তাদের তাফসির সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি এবং এতে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি কুরআনে বর্ণিত মহাজাগতিক সত্যের সাথে তাফসিরের সমন্বয়ের পদ্ধতি বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যা পূর্বসূরিদের (سلف) ব্যাখ্যার বিরোধী নয় বরং তার সাথে সংগতিপূর্ণ।

লেখক আলোচিত বিষয়গুলোর সপক্ষে উদাহরণ প্রদানে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

 

বইটির বিস্তারিত পর্যালোচনা:

লেখক বইটির শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন যেখানে তিনি সংক্ষেপে অলৌকিকত্ব বা মুজিজার ধারণা স্পষ্ট করেছেন; যা ‘আল-ই'জায আল-ইলমি’ সম্পর্কে আলোচনার একটি ভূমিকা হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন: ((যদি আপনি কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষা ‘আয়াত’ এবং আধুনিককালে উদ্ভাবিত পরিভাষা ‘মুজিজা’-এর মধ্যে তুলনা করেন, তবে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষাটি (আয়াত) সেই সব শর্তের মুখাপেক্ষী নয় যার মাধ্যমে এই লোকেরা ‘মুজিজা’ শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন))।

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, যেভাবে ‘মুজিজা’-এর সংজ্ঞায় ত্রুটি ঘটেছে, একইভাবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি এ বিষয়েও সতর্ক করেছেন যে, নবীদের মুজিজা বা নিদর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে এটি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক যে, নবুওয়াত প্রমাণের জন্য এটিই একমাত্র পথ নয়।

লেখক আরও উল্লেখ করেছেন যে, ((মুজিজার যে ধরণগুলো বর্ণিত হয়েছে —অলৌকিক নিবৃত্তকরণ (صرفة) ব্যতীত— সেগুলোকে একত্রিত করলে দেখা যায় যে, তা প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান নেই, বরং অনেক সূরার ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত থাকে। উদাহরণস্বরূপ: সব সূরায় অদৃশ্যের সংবাদ বা গায়িবের খবর নেই।

পক্ষান্তরে যা প্রতিটি সূরায় কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বিদ্যমান, তা হলো চ্যালেঞ্জের বিষয়টি, যা এই কুরআনের আরবি গঠনশৈলীর (ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও রচনাশৈলী) সাথে সংশ্লিষ্ট))।

 

প্রথম প্রবন্ধে: কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিষয়টি মতামতভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفسير بالرأي) এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর ওপর মতামতভিত্তিক ব্যাখ্যার (التفسير بالرأي) শর্তাবলি প্রযোজ্য হয়।

--------------------------------------------

(*) কিতাবটি ‘শামেলা’র জন্য প্রস্তুতকারী বলেছেন: এই পর্যালোচনাটি মুদ্রিত কপির অংশ নয়, এর উৎস হলো লেখকের—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
كما بين أنَّ كُتب الله السابقة توافق القرآن في جميع ما يتعلق بوجوه الإعجاز المذكورة عدا ما وقع به التحدِّي، إذ لم يرد نصٌّ صريح يدل على أنه قد تُحدِّي الأقوام الذين نزل عليهم كتب، كما هو الحال بالنسبة للقرآن.

كما نبه إلى أن كل من دخل إلى التفسير وله أصل، فإن أصله هذا سيؤثر عليه، وسيقع في التحريف.

ونبه أن في نسبة الإعجاز، أو التفسير إلى «العلمي» خلل كبير، وأثر من آثار التغريب الفكري.

وأنه مما يلاحظ في أصحاب الإعجاز العلمي عدم مراعاة مصطلحات اللغة والشريعة.

ونبه أن من المهم على من يتصدى للكلام في الإعجاز لا بد أن له من تعلُّم التفسير وأصوله لئلا يشتطوا في تفسيراتهم، أو يلووا أعناق النصوص إلى ما يريدون.

وأن عمل المفسِّر أن يرى صحة انطباق تلك القضية على ما جاء في القرآن من جهة دلالة اللغة والسياق وغيرها؛ أي: أن عمله عمل تفسيري بحت.

وكما لا يرضى أهل الإعجاز العلمي بما عند المفسرين من تفسير كل ظواهر الكون التي أثبت البحث التجريبي المعاصر خطأها، فإن المفسرين لا يرضون لكل واحد من الباحثين التجريبيين أن يوافق بين البحث التجريبي وما ورد في القرآن.

ونبه أن الربط بين ما يظهر في البحث التجريبي المعاصر وبين ما يرد في القرآن إنما هو من عمل المفسِّر به، كائناً من كان هذا المفسر.

وذكر عدة قواعد لمن يريد تفسير القرآن بالنظريات العلمية، كما نبه على الفرق بين القرآن والعلم التجريبي في تقرير القضية العلمية، كما نبه على موقف المسلم من قضايا العلوم التجريبية المذكورة في القرآن.

 

وفي المقالة الثانية، تقويم المفاهيم في مصطلح الإعجاز العلمي

بدأ بذكر تعريفات لمصطلح الإعجاز، وعدة مآخذ عليها.

ونبه أنه من الطبيعي أن يكون الحديث عن الحقائق الكونية في القرآن موافقاً للواقع، فخالق الحقيقة الكونية هو المتكلم عنها.
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অলৌকিকত্বের (إعجاز) উল্লিখিত দিকগুলোতে কুরআনের সাথে একমত, তবে চ্যালেঞ্জের (تحدي) বিষয়টি ব্যতীত। কারণ এমন কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص صريح) বর্ণিত হয়নি যা নির্দেশ করে যে, যাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল সেই জাতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যেমনটি কুরআনের ক্ষেত্রে হয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যে কেউ তাফসীর শাস্ত্রে প্রবেশ করে এবং তার নিকট কোনো (পূর্বনির্ধারিত) ভিত্তি বা মূলনীতি (أصل) থাকে, তবে তার সেই মূলনীতি তার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সে বিকৃতির (تحريف) মধ্যে নিপতিত হবে।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, অলৌকিকত্ব (إعجاز) বা তাফসীরকে 'বৈজ্ঞানিক' বিশেষণে বিশেষায়িত করার মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে এবং এটি বুদ্ধিবৃত্তিক পাশ্চাত্যকরণের অন্যতম প্রভাব।

বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) প্রবক্তাদের মধ্যে এটি লক্ষ্য করা যায় যে, তারা ভাষা ও শরীয়তের পরিভাষাসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখেন না।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, যারা অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে আলোচনা করতে চান, তাদের জন্য তাফসীর ও এর মূলনীতিসমূহ (أصول) শিক্ষা করা অপরিহার্য; যাতে তারা তাদের ব্যাখ্যায় সীমা লঙ্ঘন না করেন অথবা মূল পাঠসমূহের (نصوص) অর্থ নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ঘুরিয়ে না ফেলেন।

মুফাসসিরের কাজ হলো ভাষাগত তাৎপর্য, প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য দিক থেকে কুরআনে যা এসেছে তার ওপর সেই বিষয়ের প্রয়োগ কতটা সঠিক তা দেখা; অর্থাৎ তার কাজ বিশুদ্ধভাবে তাফসীর সংক্রান্ত কাজ।

বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বে বিশ্বাসীরা যেমন মুফাসসিরদের সেই মহাজাগতিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন যা সমকালীন পরীক্ষামূলক গবেষণা ভুল বলে প্রমাণ করেছে, তেমনি মুফাসসিরগণও প্রত্যেক পরীক্ষামূলক গবেষকের জন্য পরীক্ষামূলক গবেষণা ও কুরআনে যা এসেছে তার মধ্যে সমন্বয় করাকে পছন্দ করেন না।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, সমকালীন পরীক্ষামূলক গবেষণায় যা প্রকাশ পায় এবং কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে—এই দুটির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা মূলত মুফাসসিরেরই কাজ, সেই মুফাসসির যেই হোন না কেন।

তিনি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মাধ্যমে কুরআন তাফসীর করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য বেশ কিছু নিয়ম উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক বিষয় প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআন ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের মধ্যকার পার্থক্য এবং কুরআনে বর্ণিত পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের বিষয়াবলির প্রতি মুসলিমদের অবস্থানের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন।

 

দ্বিতীয় প্রবন্ধে, 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' পরিভাষার ধারণাগুলোর মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি 'ইজায' বা অলৌকিকত্ব (إعجاز) পরিভাষার বিভিন্ন সংজ্ঞা এবং সেগুলোর ওপর বেশ কিছু সমালোচনা (مآخذ) উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, কুরআনে মহাজাগতিক সত্যসমূহ নিয়ে আলোচনা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক, কারণ মহাজাগতিক সত্যের স্রষ্টাই সেই সত্তা যিনি এগুলো সম্পর্কে কথা বলছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
ونبه على الفرق بين الانطلاق من بيان عظمة الخلق، وأنه سيجعل الباحث غير مقيَّد بموضوع معيَّنٍ يريد إثباته، بل سيكون حديثه عامّاً، فيتحدث عن عموم القضية الكونية؛ كالحديث عن النجوم على سبيل العموم، فتأتي القضايا التي ذكرها القرآن في معرض الحديث عنها، دون أن يكون القصد إلى إثبات مطابقة العلم التجريبي لما فيها من معانٍ ودلالات.

أما لو انطلق من الآيات لتقرير مسألة الإعجاز العلمي، فإنه سيكون مقيَّداً بإثبات دلالة القرآن دلالة واضحة لا لبس فيها على تلك القضية التي يذكرها، وسيدخل في أمرين:

الأول: لزوم ما لا يلزم، حيث يُلزم نفسه بما ليس لازماً أصلاً في البحث والتقرير.

الثاني: أنه يدخل إلى القرآن بمقررات سابقة تجعله يلوي عنق النصِّ إلى هذه المقررات من حيث لا يشعر.

ونبه على عدة قضايا مهمة، مع التنبيه على أمثلة وبيان وجه الصواب فيها.

 

وفي المقالة الثالثة، الإعجاز العلمي

نبه أن أهل التفسير ليسوا ضد المخترعات الحديثة والعلم التجريبي، ولكن الإشكالية بينهم وبين المعتنين بالإعجاز في الربط بين هذه المخترعات والمكتشفات وبين النصوص القرآنية، وطريقة ذلك.

ونبه أن ما يسمى بالإعجاز العلمي ليس مختصّاً بالقرآن وحده بل هو مخصوص بكلام الله سواءً أكان نازلاً على إبراهيم أم على موسى أم على محمد صلوات الله وسلامه عليهم.

وأكد أن الدعوة بالإعجاز العلمي هي أحد طرق الدعوة، وليس هو طريقها الوحيد في هذا العصر، بل ليس هو أنجعها وأنفعها!

 

وفي المقالة الرابعة، تصحيح طريقة معالجة تفسير السلف في بحوث الإعجاز العلمي

ذكر المؤلف أن مشكلة البحث تكمن أن فيما سطَّره بعض المعاصرين ممن اعتنوا بإبراز (الإعجاز العلمي) في كتاب الله سبحانه وتعالى؛ رأيت أن اعتمادهم على المأثور عن السلف قليلٌ جداً، وجُلُّ اعتمادهم على كتب التفسير المتأخرة!
সৃষ্টির মাহাত্ম্য বর্ণনা থেকে আলোচনা শুরু করার পার্থক্যের প্রতি তিনি সতর্ক করেছেন। এটি গবেষককে কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়—যা তিনি প্রমাণ করতে চান—সেটির শিকলে আবদ্ধ করে না, বরং তার আলোচনা হয় সাধারণ (عام)। ফলে তিনি মহাজাগতিক বিষয়ের সাধারণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন; যেমন সাধারণভাবে নক্ষত্ররাজি নিয়ে আলোচনা করা। এতে বিজ্ঞানের গবেষণালব্ধ বিষয়ের সাথে কুরআনের অর্থ ও নির্দেশিকাগুলোর (دلالات) সাদৃশ্য প্রমাণের উদ্দেশ্য ছাড়াই প্রাসঙ্গিকভাবে কুরআনে বর্ণিত বিষয়সমূহ উপস্থাপিত হয়।

পক্ষান্তরে, যদি কেউ বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রমাণের উদ্দেশ্যে আয়াতসমূহ থেকে আলোচনা শুরু করেন, তবে তিনি যে বিষয়টি উল্লেখ করছেন সে সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশিকা (دلالة) কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই স্পষ্টভাবে প্রমাণের বিষয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বেন। আর এর ফলে তিনি দুটি বিষয়ের সম্মুখীন হবেন:

প্রথমত: অনাবশ্যক বিষয়কে আবশ্যক করে তোলা; যেখানে তিনি গবেষণা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজেকে এমন বিষয়ের অনুগামী করেন যা আদতে আবশ্যক ছিল না।

দ্বিতীয়ত: তিনি পূর্বনির্ধারিত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে কুরআনে প্রবেশ করেন, যা তাকে অবচেতনভাবেই মূল পাঠের (النص) অর্থকে সেই সিদ্ধান্তের দিকে ঘুরিয়ে দিতে প্ররোচিত করে।

তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি উদাহরণসহ সেগুলোর সঠিক রূপ বর্ণনা করেছেন।

 

তৃতীয় প্রবন্ধে: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز)

তিনি সতর্ক করেছেন যে, তাফসির বিশেষজ্ঞগণ আধুনিক উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞানের বিরোধী নন; তবে সমস্যা হলো বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের আধুনিক উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের সাথে কুরআনী মূল পাঠের (النصوص) সংযোগ স্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তথাকথিত বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) কেবল কুরআনের সাথেই বিশিষ্ট নয়, বরং এটি আল্লাহর বাণীর বৈশিষ্ট্য; তা ইব্রাহিম, মুসা কিংবা মুহাম্মদ—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যাঁর ওপরই অবতীর্ণ হোক না কেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের (إعجاز) মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান দাওয়াতের একটি অন্যতম পদ্ধতি মাত্র, বর্তমান যুগে এটিই একমাত্র পদ্ধতি নয়; এমনকি এটিই সবচেয়ে মোক্ষম ও উপকারী পদ্ধতিও নয়!

 

চতুর্থ প্রবন্ধে: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত গবেষণায় সালাফদের তাফসির পর্যালোচনার পদ্ধতি সংশোধন

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার সমস্যাটি নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহর কিতাবের 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (إعجاز) ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের একদল লেখকের রচনার মাঝে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, সালাফদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার (المأثور) ওপর তাদের নির্ভরতা খুবই নগণ্য, বরং তাদের অধিকাংশ নির্ভরতা পরবর্তীকালের তাফসির গ্রন্থসমূহের ওপর!
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
كما شرح في هذا المقال مصطلحات البحث، فشرح مصطلح: التفسير، والسلف، وأصول التفسير، والإعجاز العلمي، وتكلم المؤلف في هذا البحث عن أهمية تفسير السلف وكيفية التعامل معه، وضوابط القول بالتفسير المعاصر، واعتراضات على تفسير السلف، والجواب عنها.

ونبه أن معرفة تفسير السلف أصل أصيل من أصول التفسير، ومن ترك أقوالهم، أو ضعف نظره فيها، فإنه سيصاب بنقص في العلم، وقصور في الوصول إلى الحق في كثير من آيات القرآن.

وذكر أن من يُعنى بدراسة (الإعجاز العلمي) يلزمه أن يكون مدركاً لكيفية التعامل مع أقوال السلف المتفقة والمختلفة، ويكون عنده الأداة القادرة على التمييز بين الأقوال، والقادرة على الترجيح بينها إذا دعا إلى ذلك الحال.

وذكر عدة ضوابط لقبول التفسير المعاصرـ منها:

الضابط الأول: أن يكون القول المفسَّر به صحيحاً في ذاته.

الضابط الثاني: أن تحتمل الآية هذا القول الحادث.

الضابط الثالث: أن لا يبطل قول السلف.

الضابط الرابع: أن لا يقصر معنى الآية على ما ظهر له من التفسير الحادث.

وفي فصل: اعتراضات على تفسير السلف، ذكر أنه قد يقع عند بعض المعتنين بالإعجاز اعتراض على هذه القضية من جهتين:

الأولى: أن الواحد من السلف قد يخطئ، فكيف أكون ملزَماً بقوله.

الثانية: أن في تفسير السلف إسرائيليات، وبعضها يتعلق بأمور كونية أو تجريبية قد ثبت خطؤها.

وبحثهما المؤلف بحثًا وافيًا.

 

وفي المقالة الخامسة، هل يصح أن ينسب الإعجاز للسُّنَّة؟

ذكر أن أزمة المصطلحات لا تكاد تنفك عن علم من العلوم، ونحن بحاجة إلى النظر فيها لتحرير محلِّ النِّزاع، أو لما قد يترتب عليها من معلومات فيها خلل، لذا فإن ما يقال: إنه لا مشاحة في الاصطلاح = فإنه ليس على إطلاقه، نعم، لا مشاحة في الاصطلاح إذا كان لا يغيِّر حقائق الأمور، ولا يترتب عليه معلومات علمية خاطئة.
এই প্রবন্ধে তিনি গবেষণার পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন; যেমন তিনি ব্যাখ্যা করেছেন: তাফসির (التفسير), সালাফ (السلف), তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) এবং বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) পরিভাষাগুলো। লেখক এই গবেষণায় সালাফদের তাফসিরের গুরুত্ব ও তা ব্যবহারের পদ্ধতি, সমকালীন তাফসির (التفسير المعاصر) প্রদানের মানদণ্ডসমূহ এবং সালাফদের তাফসিরের ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও সেগুলোর উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, সালাফদের তাফসির জানা তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)-এর একটি অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি। যে ব্যক্তি তাঁদের বক্তব্য বর্জন করবে অথবা সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিদানে শিথিলতা দেখাবে, সে জ্ঞানের ঘাটতিতে পড়বে এবং কুরআনের অনেক আয়াতের সঠিক মর্ম উপলব্ধিতে ব্যর্থ হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যারা 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত, তাঁদের জন্য সালাফদের ঐক্যমত ও মতপার্থক্যপূর্ণ বক্তব্যগুলো ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া আবশ্যক। তাঁদের নিকট এমন যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন যা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনবোধে সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য (الترجيح) নিরূপণ করতে পারে।

তিনি সমকালীন তাফসির গ্রহণের বেশ কিছু মানদণ্ড উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথম মানদণ্ড: যে বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে তা স্বয়ং সঠিক (صحيح) হতে হবে।

দ্বিতীয় মানদণ্ড: আয়াতের মধ্যে এই নতুন বক্তব্যের অবকাশ থাকতে হবে।

তৃতীয় মানদণ্ড: এটি যেন সালাফদের বক্তব্যকে বাতিল না করে।

চতুর্থ মানদণ্ড: আয়াতের অর্থকে যেন কেবল গবেষকের নিকট প্রকাশিত নতুন তাফসিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করা হয়।

'সালাফদের তাফসিরের ওপর আপত্তি' নামক পরিচ্ছেদে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে গবেষণাকারীদের কারও কারও নিকট এই বিষয়ে দুই দিক থেকে আপত্তি দেখা দিতে পারে:

প্রথমত: সালাফদের কোনো একজন ব্যক্তি ভুল করতে পারেন, তবে কেন আমি তাঁর বক্তব্য মানতে বাধ্য থাকব?

দ্বিতীয়ত: সালাফদের তাফসিরের মধ্যে ইসরাঈলি বর্ণনা (إسرائيليات) রয়েছে এবং সেগুলোর কিছু বিষয় সৃষ্টিজগত বা পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট যেগুলোর ভুল হওয়া প্রমাণিত হয়েছে।

লেখক এই দুটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত আলোচনা করেছেন।

 

পঞ্চম প্রবন্ধে প্রশ্ন রাখা হয়েছে: অলৌকিকত্বকে (إعجاز) কি সুন্নাহর (السنة) দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক হবে?

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পরিভাষা সংক্রান্ত সংকট প্রায় প্রতিটি জ্ঞানের শাখার সাথেই জড়িত। বিতর্কের মূল বিন্দু স্পষ্ট করার (تحرير محل النزاع) জন্য অথবা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া রোধ করার জন্য আমাদের এই পরিভাষাগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। অতএব, প্রচলিত যে কথাটি বলা হয় যে—'পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই'—তা ঢালাওভাবে সঠিক নয়। হ্যাঁ, পরিভাষার ক্ষেত্রে বিবাদ নেই তখনই প্রযোজ্য, যখন এটি বাস্তব সত্যকে পরিবর্তন করে না এবং এর ফলে কোনো ভুল বৈজ্ঞানিক তথ্য বা জ্ঞানগত ত্রুটি সৃষ্টি হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
ثم بحث الشيخ مصطلحًا معاصرًا حادثًا، وهو (الإعجاز العلمي في السُّنَّة النبوية)، وهل يصح هذا الإطلاق؟ وما يترتب على هذا الإطلاق.

 

وفي المقالة السادسة، تعريف الإعجاز العلمي بالسبق هل هو دقيق في التعبير عن مضمونه؟

ذكر أن طالب الحقِّ لا ينزعج من أن يُعترض عليه في تعريفه، بل أن يُنقض تعريفه؛ لأن الحقَّ مطلبُه وبغيته، ولا ينزعج من ذلك إلا قليل البضاعة في العلم، أو ضيق النفس الذي لا يحتمل الصولة في العلم.

ثم ذكر عدة اعتراضات على مصطلح الإعجاز العلمي، وتعريفاته.

 

وفي المقالة السابعة، مصطلح الإعجاز العلمي عند الطاهر بن عاشور،

ذكر الشيخ أن الطاهر بن عاشور ذكر (الإعجاز العلمي) في حديثه في المقدمة العاشرة في إعجاز القرآن.

ولاحظ أن مدلول العلم عند الطاهر بن عاشور أوسع من مدلول المعتنين بالإعجاز العلمي الذين جعلوه في (العلوم التجريبية)، وقد ظهر أثر توسع المدلول عنده في التطبيقات التي استخرجتها من كتابه، وهي قريبة من العشرين موضعاً، وذكر منها ما يدل على هذا المقال.

 

وفي المقالة الثامنة، التفسير بالإعجاز العلمي قائم على الظنِّ والاحتمال، وليس على اليقين

بين أنه في كلا الحالتين (أي: كونه تفسيراً علميّاً أو إعجازاً علميّاً) لا يختلف الحال في أن تفسير القرآن بهذا أو ذاك إنما هو تفسير احتمالي ظني، وضرب مثالًا على ذلك.

كما نبه أن الحاجة ماسَّة لعقد لقاء تأصيلي لمسألة الإعجاز العلمي، تناقش فيها أقوال العلماء السابقين ـ كالشاطبي ـ وتحرر فيها آراء المعاصرين، ويكون بين يدينا بحوث تأصيلية لهذا الموضوع الذي شرَّق وغرَّب، وانتفع به فئام من الناس.
এরপর শায়খ একটি সমকালীন আধুনিক পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো 'সুন্নাহর মধ্যে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي في السنة النبوية)। এই নামকরণ কি সঠিক? এবং এই নামকরণের ফলাফল কী?

 

ষষ্ঠ প্রবন্ধে, অগ্রগামিতার ভিত্তিতে 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي)-এর সংজ্ঞা প্রদান করা কি এর বিষয়বস্তু প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভুল?

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সত্যের অন্বেষী তার সংজ্ঞার ওপর আপত্তি উত্থাপিত হলে বিচলিত হন না, এমনকি তার সংজ্ঞা খণ্ডন করা হলেও তিনি বিরক্ত হন না; কারণ সত্যই তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কেবল তারাই এতে বিচলিত হয় যাদের জ্ঞানের পুঁজি সামান্য, অথবা যারা সংকীর্ণমনা হওয়ার কারণে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্ক সহ্য করতে পারে না।

অতঃপর তিনি 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) পরিভাষা এবং এর সংজ্ঞাসমূহের ওপর বেশ কিছু আপত্তি উল্লেখ করেছেন।

 

সপ্তম প্রবন্ধে, তাহের বিন আশুরের নিকট 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) পরিভাষাটি (আলোচনা করা হয়েছে)।

শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, তাহের বিন আশুর কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক দশম ভূমিকায় তার আলোচনায় 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) কথাটি উল্লেখ করেছেন।

তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, তাহের বিন আশুরের নিকট 'ইলম' বা বিজ্ঞানের অর্থ সেইসব গবেষকদের চেয়েও ব্যাপক যারা 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي)-কে কেবল 'পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের' (العلوم التجريبية) মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তার নিকট এই অর্থের ব্যাপকতার প্রভাব আমি তার কিতাব থেকে উদ্ধৃত প্রয়োগিক ক্ষেত্রগুলোতে ফুটে উঠেছে, যা সংখ্যায় প্রায় বিশটির মতো। তিনি সেখান থেকে এমন কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা এই প্রবন্ধের সপক্ষে প্রমাণ দেয়।

 

অষ্টম প্রবন্ধে, বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান ধারণা ও সম্ভাবনার (الظن والاحتمال) ওপর প্রতিষ্ঠিত, নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) ওপর নয়।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, উভয় অবস্থাতেই (অর্থাৎ: এটি বৈজ্ঞানিক তাফসির হোক বা বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব হোক) পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না যে, এই দুটির যেকোনোটির মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করা মূলত একটি সম্ভাব্য ও ধারণাপ্রসূত (ظني) ব্যাখ্যা মাত্র। তিনি এর একটি উদাহরণও পেশ করেছেন।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) বিষয়ের মৌলিক নীতি নির্ধারণের জন্য একটি সভার আয়োজন করা একান্ত প্রয়োজন, যেখানে পূর্ববর্তী আলেমদের—যেমন শাতবি—বক্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং সমকালীনদের মতামত পর্যালোচনা করা হবে। এর ফলে আমাদের সামনে এই বিষয়ের ওপর এমন কিছু মৌলিক গবেষণা (بحوث تأصيلية) উপস্থিত হবে যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা দ্বারা বহু মানুষ উপকৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: -)
وأن حاجة من يتكلم في الإعجاز العلمي من غير المتخصِّصين في الشريعة إلى تعلم أصول التفسير أهم من أن يتعلم المفسِّر هذه القضايا الموجودة في العلم المعاصر، ولا يعني هذا أن المفسر المعاصر لا يحتاجها، لكن المراد أن الموازنة في الأهمية تدل على حاجة من يريد بيان الإعجاز لا من يريد بيان معاني القرآن.

 

وختم الكتاب بعدة فهارس علمية، منها فهرس للفوائد العلمية.

والحمد لله رب العالمين.
শরিয়ত (الشريعة) বিশেষজ্ঞ নন অথচ বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) নিয়ে আলোচনা করেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) শিক্ষা করা একজন মুফাসসিরের (المفسر) আধুনিক বিজ্ঞানে বিদ্যমান এই বিষয়গুলো শেখার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ এই নয় যে, সমকালীন মুফাসসিরের (المفسر) এগুলোর প্রয়োজন নেই; বরং উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বের বিচারে ভারসাম্য নিরূপণ করা, যা প্রমাণ করে যে, এর প্রয়োজনীয়তা মূলত সেই ব্যক্তির জন্য যে অলৌকিকত্ব (الإعجاز) বর্ণনা করতে চায়, তার জন্য নয় যে কেবল কুরআনের অর্থ বর্ণনা করতে চায়।

 

গ্রন্থটি বেশ কিছু জ্ঞানগর্ভ নির্ঘণ্ট (فهارس) দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়াবলির নির্ঘণ্ট।

আর সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمدُ لله نزَّل الكتاب، تحدَّى به الثقلين، فما وقع في تحدِّيه ريب، وأصلِّي وأسلِّم على خير البشر؛ محمد بن عبد الله طيِّب الذكر، وعلى آله الأحباب، وأصحابه الكرام أولي الألباب، أما بعد:

فإني أسأل الله أن يقيني شرَّ نفسي، وأن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم، وأن يكون قصدي وهمِّي الذبُّ عن كتابه، وحمايته مما يلحقه من التحريف، وأن يُبعد عنِّي حظَّ النفس، ونزغ الشيطان.

وإني أسأله أن يُبصِّرني بالحق أينما كان، ويرزقني اتِّباعه، ويجنبي الخطأ والباطل، ويرزقني اجتنابه.

وبعد:

فهذه مقالات كتبتها في أوقات متباعدة، وكان أولها عام 1423هـ، وآخرها عام 1427هـ، كتبتها في تصحيح مسار (الإعجاز العلمي)، وإني لأرجو أن أكون وُفِّقت فيها إلى الصواب.

ولما طلب مني بعض الإخوة نشر هذه المقالات = رأيت أن أقدِّم لها بمقدمة تتعلق بمفهوم المعجزة على سبيل الاختصار؛ لتكون تمهيداً للحديث عن (الإعجاز العلمي)، فأقول ـ وبالله التوفيق ـ:

إنه ما من نبي إلا وكانت له آية تدل على صدقه في كونه مرسلاً من ربَّ العالمين، ويدل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما من الأنبياء نبي إلا أعطي ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحياً أوحاه الله إليَّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة» رواه البخاري ومسلم.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা দিয়ে তিনি জিন ও মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, আর তাঁর সেই চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাঁর স্মরণ অত্যন্ত বরকতময়; আরও সালাম তাঁর প্রিয় পরিবারবর্গ এবং প্রজ্ঞাবান ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং আমার আমলকে শুধুমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। আমার উদ্দেশ্য ও সংকল্প যেন হয় তাঁর কিতাবের প্রতিরক্ষা করা এবং একে বিকৃতি (التحريف) থেকে সুরক্ষা দেওয়া। তিনি যেন আমার থেকে নফসের তাড়না ও শয়তানের প্ররোচনা দূর করে দেন।

আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সত্য যেখানেই থাকুক তা দেখার তাওফিক দান করেন এবং সত্য অনুসরণের তাওফিক দেন, আর ভুল ও বাতিল থেকে আমাকে দূরে রাখেন এবং তা বর্জন করার তাওফিক দান করেন।

অতঃপর:

এগুলো কিছু প্রবন্ধ যা আমি বিভিন্ন সময়ে লিখেছি; এর প্রথমটি ছিল ১৪২৩ হিজরিতে এবং সর্বশেষটি ১৪২৭ হিজরিতে। আমি এগুলো লিখেছি 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা' (الإعجاز العلمي)-এর গতিপথ সংশোধনের লক্ষ্যে। আমি আশা করি এক্ষেত্রে আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছি।

যখন কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে এই প্রবন্ধগুলো প্রকাশের অনুরোধ করলেন, তখন আমি সংক্ষেপে অলৌকিকত্ব (المعجزة)-এর ধারণা সংশ্লিষ্ট একটি ভূমিকা প্রদান করা সমীচীন মনে করলাম; যাতে এটি 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা' (الإعجاز العلمي) সম্পর্কে আলোচনার একটি উপক্রমণিকা হতে পারে। আমি বলছি—এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—:

নিশ্চয়ই এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যাঁকে তাঁর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ কোনো নিদর্শন (آية) দেওয়া হয়নি, যা প্রমাণ করে যে তিনি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسلاً)। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি প্রমাণ বহন করে: «নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁকে এমন কিছু দেওয়া হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহি (وحياً) যা আল্লাহ আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাঁদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে।» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ৬)
لكن هذا لا يلزم منه أن تكون آيات الأنبياء عليهم السلام قد حُكيت لنا، فنحن لا نعرف آيات يونس عليه السلام، ولا سليمان عليه السلام، ولا يحيى عليه السلام، ولا إدريس عليه السلام، وعدم معرفتنا بها لا يعني عدم وجودها، بل نؤمن بوجودها بدلالة الحديث النبوي.

والأنبياء عليهم السلام تكون لهم أكثر من آية، وتتمايز هذه الآيات في عظمتها، لذا لا يلزم أن تكون كل آية من آياتهم مما برع به أقوامهم، وإنما يقال: مما يدركه أقوامهم، فعيسى عليه الصلاة والسلام كان يحيي الموتى بإذن الله، ويبرئ الأكمه بإذن الله (1)، وكذلك كان يخبر قومه بما يدَّخرونه في بيوتهم، فهل برع القوم في كل هذه الأمور؟!

وكذا نبينا محمد صلى الله عليه وسلم؛ كانت أعظم آياته القرآن الكريم، وكان من آياته انشقاق القمر، والإسراء إلى بيت المقدس، وغيرها كثيرٌ، فهل برع العرب بكل موضوع هذه الآيات؟!

--------------------------------------------

(1) يذكر بعض العلماء أن قوم عيسى عليه الصلاة والسلام قد برعوا في الطبِّ، ولم أجد لهذه المعلومة أصلاً صحيحاً، فقومه هم اليهود، ولم يشتهر اليهود بالطبِّ، ولعل قولهم هذا كان نتيجة لمقدمة عقلية (أي: أن كل نبي يأتي بمعجزة من جنس ما برع به قومه)، وكانت معجزة عيسى عليه الصلاة والسلام تتعلق بإبراء المرض وإحياء الموتى، فظنوا في قوم عيسى عليه الصلاة والسلام معرفة الطبِّ والعناية به، وإلا فما الذي برع فيه قوم عيسى عليه الصلاة والسلام لما قال لهم إنه يُخبرهم بما يدَّخرون في بيوتهم؟!

وأول من رأيته أشار إلى هذا الجاحظ (ت:255هـ)، قال: «وكذلك زمن عيسى عليه السلام كان الأغلب على أهله، وعلى خاصة علمائه الطب، وكانت عوامهم تعظِّم على ذلك خواصهم، فأرسله الله عز وجل بإحياء الموتى، إذ كانت غايتهم علاج المرضى، وإبراء الأكمه إذ كانت غايتهم علاج الرمد، مع ما أعطاه الله عز وجل من سائر العلامات، وضروب الآيات؛ لأن الخاصة إذا بُخعت بالطاعة، وقهرتها الحجة، وعرفت موضع العجز والقوة، وفصل ما بين الآية والحيلة، كان أنجع للعامة، وأجدر أن لا يبقى في أنفسهم بقية».
তবে এর অর্থ এই নয় যে, নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) সকল নিদর্শন আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা ইউনুস (আ.), সুলায়মান (আ.), ইয়াহইয়া (আ.) এবং ইদ্রিস (আ.)-এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে জানি না। আমাদের এই না জানা তাদের নিদর্শনের অনস্তিত্বকে প্রমাণ করে না, বরং আমরা নববী হাদিসের প্রমাণের ভিত্তিতে সেগুলোর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি।

নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) একাধিক নিদর্শন থাকে এবং এই নিদর্শনসমূহের শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে। তাই তাদের প্রতিটি নিদর্শনই যে তাদের সম্প্রদায়ের পারদর্শী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে এমনটি জরুরি নয়; বরং বলা হয়: যা তাদের সম্প্রদায় উপলব্ধি করতে পারে। ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করতেন এবং আল্লাহর অনুমতিতে জন্মান্ধকে সুস্থ করতেন (১); তেমনি তিনি তার সম্প্রদায়কে তারা ঘরে যা জমা করে রাখত সে সম্পর্কে সংবাদ দিতেন। তবে সেই সম্প্রদায় কি এই সব বিষয়েই পারদর্শী ছিল?

একইভাবে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন ছিল মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। তাঁর অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে ছিল চন্দ্র বিভাজন, বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ইসরা (নিশীয় ভ্রমণ) এবং আরও অনেক কিছু। আরবরা কি এই সব বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী ছিল?

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সম্প্রদায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে পারদর্শী ছিল। কিন্তু আমি এই তথ্যের কোনো সহিহ (صحيح) ভিত্তি পাইনি। তাঁর সম্প্রদায় ছিল ইহুদি, আর ইহুদিরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসিদ্ধ ছিল না। সম্ভবত তাদের এই উক্তিটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক উপপাদ্যের (অর্থাৎ: প্রত্যেক নবী এমন অলৌকিক নিদর্শন নিয়ে আসেন যা তার সম্প্রদায়ের পারদর্শী বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ) ফলাফল ছিল। যেহেতু ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন রোগ নিরাময় এবং মৃতকে জীবিত করার সাথে সম্পর্কিত ছিল, তাই তারা ধারণা করে নিয়েছিলেন যে ঈসা (আ.)-এর সম্প্রদায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ও তার প্রতি যত্নশীল ছিল। নতুবা ঈসা (আ.)-এর সম্প্রদায় কোন বিষয়ে পারদর্শী ছিল যখন তিনি তাদের বলেছিলেন যে তিনি তাদের ঘরে যা জমা করে রাখে সে বিষয়ে সংবাদ দিবেন?!

আমি সর্বপ্রথম আল-জাহিজকে (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি) এই বিষয়ে ইঙ্গিত করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন: «তেমনি ঈসা (আ.)-এর সময়ে তাঁর প্রজাসাধারণ এবং বিশেষ করে তাদের বিশিষ্ট আলেমদের ওপর চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রবল ছিল এবং তাদের সাধারণ মানুষ এই গুণের কারণে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান করত। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে মৃতকে জীবিত করার সামর্থ্য দিয়ে পাঠালেন, কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল রোগীদের চিকিৎসা করা; আর তিনি জন্মান্ধকে সুস্থ করার সামর্থ্য লাভ করেছিলেন কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল চোখের রোগের চিকিৎসা করা। এর সাথে আল্লাহ তাকে আরও যেসব নিদর্শন ও বিবিধ অলৌকিক শক্তি দান করেছিলেন তার কারণ হলো—বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যখন আনুগত্যে নতি স্বীকার করে, অকাট্য প্রমাণ দ্বারা পরাস্ত হয় এবং অলৌকিক নিদর্শন ও জাদুকরী কৌশলের পার্থক্য বুঝতে পারে, তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য অধিক ফলপ্রসূ হয় এবং তাদের মনে আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট না থাকাই সমীচীন।»
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ৭)
لذا فإن الأصوب أن يقال: إن مقام النظر أن تكون الآية مما يدركها قوم النبي عليه السلام؛ سواء برعوا فيها أو لم يبرعوا، تحدَّى بها النبي عليه السلام أو لم يتحدَّ بها، عارضها قومه أو لم يعارضوها، كانت ابتداءً أو كانت بطلب من القوم.

وقد شاع تسمية آيات الأنبياء عليهم السلام بالمعجزات، حتى غلب لفظ المعجزة على لفظ الآية في آيات الأنبياء، والوارد في القرآن تسميتها بالآية والبرهان والسلطان والبيِّنة.

ومنه قوله تعالى: {وَاضْمُمْ يَدَكَ إِلَى جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ آيَةً أُخْرَى}، وقوله تعالى: {اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِنْ رَبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ}.

وقوله تعالى: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمّىً قَالُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلَاّ بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَاتُونَا بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ *قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَاّ بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأَتِيَكُمْ بِسُلْطَانٍ إِلَاّ بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ}

وقوله تعالى: {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ هَذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَاكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَاخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.

والآية: العلامة الدالة على صدق الرسول بأنه مُرسل من ربه، وهذا المصطلح هو الغالب في القرآن والسُّنَّة من بين المصطلحات الأخرى التي جاءت فيهما، وبقي هذا المصطلح في كلام الصحابة
অতএব, সর্বাধিক সঠিক মত হলো এই যে: পর্যালোচনার ক্ষেত্র হলো নিদর্শনটি (آية) এমন হওয়া যা নবি (আলাইহিস সালাম)-এর কওম উপলব্ধি করতে সক্ষম; তারা তাতে পারদর্শী হোক বা না হোক, নবি (আলাইহিস সালাম) তা দিয়ে চ্যালেঞ্জ প্রদান করুন বা না করুন, তাঁর কওম তার বিরোধিতা করুক বা না করুক, তা প্রারম্ভিকভাবে প্রকাশ পাক কিংবা কওমের দাবির প্রেক্ষিতে।

আম্বিয়ায়ে কেরাম (আলাইহিমুস সালাম)-এর নিদর্শনসমূহকে 'মুজিজা' (معجزة) হিসেবে অভিহিত করা বহুল প্রচলিত হয়েছে, এমনকি আম্বিয়ায়ে কেরামের নিদর্শনের ক্ষেত্রে 'মুজিজা' (معجزة) শব্দটি 'আয়াত' (آية) শব্দের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। অথচ কুরআনে এগুলোকে 'আয়াত' (آية), 'বুরহান' (برهان), 'সুলতান' (سلطان) এবং 'বাইয়্যিনাহ' (بيِّنة) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর তোমার হাত তোমার বগলে রাখো, তা কোনো ত্রুটি ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে অন্য এক নিদর্শন (آية) হিসেবে}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার হাত তোমার পকেটে প্রবেশ করাও, তা কোনো ত্রুটি ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে এবং ভয়ের সময় তোমার হাত নিজের দিকে টেনে নিও। এ দুটি তোমার রবের পক্ষ থেকে ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে দুটি অকাট্য প্রমাণ (برهان)। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপাচারী কওম}।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের রাসুলগণ বলেছিলেন, আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করছেন যাতে তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন এবং তোমাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ বৈ নও, তোমরা আমাদেরকে আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা থেকে বিরত রাখতে চাও; সুতরাং তোমরা আমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (سلطان) নিয়ে এসো। তাদের রাসুলগণ তাদেরকে বলেছিলেন, আমরা তোমাদের মতো মানুষ বৈ নই, তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তোমাদের কাছে কোনো দলিল (سلطان) নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়। আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা}।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর সামুদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (بيِّنة) এসেছে। আল্লাহর এই উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন (آية); সুতরাং একে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও এবং একে কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না, অন্যথায় যন্ত্রণাদায়ক আজাব তোমাদেরকে পাকড়াও করবে}।

আর আয়াত (آية) হলো: সেই চিহ্ন যা রাসুলের সত্যতার ওপর প্রমাণ বহন করে যে, তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسل)। কুরআন ও সুন্নাহতে উল্লিখিত অন্যান্য পরিভাষাগুলোর মধ্যে এই পরিভাষাটিই সর্বাধিক প্রচলিত, আর সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যেও এই পরিভাষাটিই বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ৮)
والتابعين وأتباعهم (1)، حتى إذا برز أهل الجدل من المعتزلة، ودخلوا في جدالهم فيما بينهم (2) أو مع بعض الزنادقة الذين يطعنون في الإسلام، وقد ينتسبون إليهم أحياناً (3)؛ لما برز هؤلاء ظهر عندهم الحديث عن (المعجزة) (4)، وكانت كشأن غيرها من المصطلحات الحادثة البعيدة عن

--------------------------------------------

(1) يرد سؤال في محلِّه، وهو: لماذا لم يتكلم الصحابة والتابعون وأتباعهم عن (المعجزة وإعجاز القرآن = الآية) كما هو الحال عند من بعدهم؟

الذي يظهر لي ـ والله أعلم ـ أن الأمر مرتبط بالحاجة، فإعجاز القرآن كان مستقرّاً في أذهانهم، ولم يكن في عصرهم من يشكُّ في هذا أو يتكلم فيه؛ لذا لم تقع الحاجة إلى الكلام المسهب فيه، واقتصر الأمر على تفسير الآيات المتعلقة بالمعجزات من جهة بيان المعاني فحسب.

(2) قال ابن قتيبة في تأويل مختلف الحديث (ص: 64): «وسأل آخرٌ آخرَ عن العلم فقال له: أتقول إن سميعاً في معنى عليم؟ قال: نعم. قال: {لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ} هل سمعه حين قالوه؟ قال: نعم. قال: فهل سمعه قبل أن يقولوا؟ قال: لا. قال: فهل علِمه قبل أن يقولوه؟ قال: نعم. قال له: فأرى في سميع معنى غير معنى عليم. فلم يجب!

قال أبو محمد: قلت له وللأول: قد لزمتكما الحجة، فلم لا تنتقلان عما تعتقدان إلى ما ألزمتكما الحجة؟ فقال أحدهما: لو فعلنا ذلك لانتقلنا في كل يوم مرات! وكفى بذلك حيرة! قلت: فإذا كان الحق إنما يعرف بالقياس والحجة وكنت لا تنقاد لها بالاتباع كما تنقاد بالانقطاع فما تصنع بهما؟ التقليد أربح لك، والمقام على أثر الرسول صلى الله عليه وسلم أولى بك».

(3) ومن هؤلاء ثمامة بن الأشرس، وهو منسوب للمعتزلة، قال ابن قتيبة في تأويل مختلف الحديث: «ثم نصير إلى ثمامة فنجده من رقة الدين وتنقص الإسلام والاستهزاء به وإرساله لسانه على ما لا يكون على مثله رجل يعرف الله تعالى ويؤمن به. ومن المحفوظ عنه المشهور أنه رأى قوماً يتعادون يوم الجمعة إلى المسجد لخوفهم فوت الصلاة فقال: انظروا إلى البقر! انظروا إلى الحمير! ثم قال لرجل من إخوانه: ما صنع هذا العربي بالناس؟!».

(4) لقد كنت أتأمل سبب ظهور الحديث عن المعجزة عند المعتزلة، فبان لي أمرٌ أرجو أن أكون قد وُفِّقت فيه، وهو أن المعتزلة كانوا بحاجة إلى القول بالإعجاز بشرطي خرق العادة والتحدي لضعف قولهم في القرآن، فالقرآن عندهم (مخلوق)، لذا فالإعجاز لن يكون ذاتياً فيه، بل سيكون مخلوقاً فيه أيضاً، فاضطروا إلى النظر في الإعجاز لأجل هذا، والله أعلم. =
এবং সাহাবা (صحابة), তাবেঈ (تابعين) ও তাঁদের অনুসারীদের (أتباعهم) (১) যুগ পর্যন্ত এভাবেই চলছিল; যতক্ষণ না মুতাজিলাদের মধ্য থেকে বিতর্কপ্রিয় একদল লোক প্রকাশ পেল এবং তারা নিজেদের মধ্যে (২) অথবা কিছু যিনদিক (زنادقة) এর সাথে তর্কে লিপ্ত হলো যারা ইসলামের সমালোচনা করত এবং কখনো কখনো নিজেদের তাদের (মুতাজিলাদের) দিকে সম্পৃক্ত করত (৩)। যখন এই লোকগুলো প্রকাশ পেল, তখন তাদের মাঝে 'অলৌকিক ঘটনা' (معجزة) (৪) বিষয়ক আলোচনা প্রকাশ পেল। এটি ছিল অন্যান্য নবউদ্ভাবিত পরিভাষাগুলোর মতোই যা মূল উৎস থেকে দূরে ছিল।

--------------------------------------------

(১) এখানে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: কেন সাহাবি (صحابة), তাবেঈ (تابعين) ও তাঁদের অনুসারীগণ (أتباعهم) 'অলৌকিক ঘটনা' (معجزة) এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز القرآن) তথা 'নিদর্শন' (آية) সম্পর্কে আলোচনা করেননি, যেভাবে তাঁদের পরবর্তী যুগের লোকেরা করেছেন?

আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো এই বিষয়টি প্রয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত। কেননা কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) তাঁদের অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তাঁদের যুগে এমন কেউ ছিল না যে এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করত বা কথা বলত; তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেয়নি। বিষয়টি কেবল অর্থের ব্যাখ্যার দিক থেকে অলৌকিক ঘটনা (معجزات) সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের তাফসিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

(২) ইবনে কুতায়বাহ তাঁর 'তাওয়িল মুখতালিফ আল-হাদিস' (পৃষ্ঠা: ৬৪) গ্রন্থে বলেছেন: "এক ব্যক্তি অন্য একজনকে ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল এবং তাকে বলল: আপনি কি মনে করেন 'সামিউন' (সর্বশ্রোতা) অর্থ কি 'আলিম' (সর্বজ্ঞ)-এর অনুরূপ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: {আল্লাহ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল যে, আল্লাহ অভাবগ্রস্ত} তারা যখন এ কথা বলেছিল তখন কি তিনি তা শুনেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: তারা বলার আগেই কি তিনি তা শুনেছিলেন? তিনি বললেন: না। সে বলল: তারা বলার আগেই কি তিনি তা জানতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন সে তাকে বলল: তাহলে আমি 'সামিউন' (সর্বশ্রোতা)-এর মধ্যে 'আলিম' (সর্বজ্ঞ)-এর অর্থ ছাড়া ভিন্ন অর্থ দেখতে পাচ্ছি। তখন সে কোনো উত্তর দিতে পারল না!

আবু মুহাম্মদ (ইবনে কুতায়বাহ) বলেন: আমি তাকে এবং প্রথম ব্যক্তিকে বললাম: তোমাদের উভয়ের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে, তাহলে কেন তোমরা তোমাদের বিশ্বাস থেকে সরে এসে দলিলের অনুসারী হচ্ছ না? তাদের একজন বলল: আমরা যদি তা করতাম, তবে দিনে বহুবার আমাদের মত পরিবর্তন করতে হতো! আর বিভ্রান্তির জন্য এটাই যথেষ্ট! আমি বললাম: যদি সত্য কেবল কিয়াস (قياس) এবং দলিলের মাধ্যমেই চেনা যায়, আর তুমি যদি পর্যুদস্ত হওয়ার ভয়ে দলিলের অনুসারী না হও, তবে তুমি এই দুইটিকে দিয়ে কী করবে? অন্ধ অনুকরণ (تقليد) তোমার জন্য অধিক লাভজনক, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলাই তোমার জন্য অধিক শ্রেয়।"

(৩) এদের মধ্যে একজন হলেন সুমামাহ ইবনে আশরাস, যিনি মুতাজিলাদের সাথে সম্পৃক্ত। ইবনে কুতায়বাহ 'তাওয়িল মুখতালিফ আল-হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন: "এরপর আমরা সুমামার প্রসঙ্গে আসি এবং তাকে দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল, ইসলামের অবমাননাকারী ও উপহাসকারী হিসেবে পাই। তিনি এমনভাবে মুখ চালাতেন যা আল্লাহ তাআলাকে চেনে এবং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখে এমন কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাঁর একটি সুপরিচিত ঘটনা হলো, তিনি জুমার দিন একদল লোককে দেখলেন যারা সালাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে মসজিদের দিকে দৌড়াচ্ছে। তখন তিনি বললেন: এই গরুগুলোর দিকে তাকাও! এই গাধাগুলোর দিকে তাকাও! তারপর তিনি তাঁর এক ভাইকে বললেন: এই আরব ব্যক্তিটি (রাসুলুল্লাহ) মানুষের কী দশা করেছে?!"

(৪) আমি মুতাজিলাদের মাঝে 'অলৌকিক ঘটনা' (معجزة) বিষয়ক আলোচনার উদ্ভবের কারণ নিয়ে চিন্তা করছিলাম। তখন আমার কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো, আশা করি আমি এতে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। বিষয়টি হলো, কুরআনের ব্যাপারে তাদের দুর্বল মতামতের কারণে মুতাজিলাদের জন্য অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে 'অভ্যাস বহির্ভূত হওয়া' এবং 'চ্যালেঞ্জ করা'—এই দুটি শর্ত আরোপ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কারণ তাদের মতে কুরআন হলো 'সৃষ্ট' (مخلوق), তাই এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর স্বকীয় কোনো গুণ নয়, বরং অলৌকিকত্বও এর মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। একারণেই তারা অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে এভাবে চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ৯)
مصطلحات الكتاب والسُّنّة، لكن قدَّر الله لها الشيوع والذيوع.

لو وازنْتَ بين مصطلح القرآن والسُّنّة (الآية)، وهذا المصطلح الحادث (المعجزة) = لبان لك أن مصطلح القرآن والسُّنّة لا يحتاج إلى تلك الشروط التي عَرَّف بها هؤلاء مصطلح المعجزة؛ لأن الآية هي العلامة الدالة على صدق النبي، وهي مستلزمة لذلك إذا نطق بها، وعلى هذا جميع آيات الأنبياء عليهم الصلاة والسلام.

أما مصطلح المعجزة، فاحتاج من يقول بها إلى تقييدات لها سمَّوها (شروط المعجزة)، وقد بُنيت هذه الشروط شيئاً فشيئاً حتى تكاملت إلى سبعة شروط عند المتأخرين (1)، وما دعاهم لذلك إلا الحرص على عدم انخرام التعريف الذي اختاروه لآيات الأنبياء وسمَّوه بالمعجزات.

--------------------------------------------

= ثم إني نظرت في أقوالهم، فوجدت قول النَّظَّام بالصرفة هو أنسب وأليق بقول المعتزلة في (خلق القرآن)؛ لأن الإعجاز علي قوله سيكون خارجًا عن القرآن (المخلوق عن رأية).

(1) قال الإيجي: (البحث الأول في شرائطها، وهي سبع:

الأول: أن يكون فعل الله أو ما يقوم مقامه …

الثاني: أن يكون خارقاً للعادة إذ لا إعجاز دونه …

الثالث: أن يتعذر معارضته، فإن ذلك حقيقة الإعجاز.

الرابع: أن يكون ظاهراً على يد مدعي النبوة ليعلم أنه تصديق له …

الخامس: أن يكون موافقاً للدعوى …

السادس: ألا يكون ما ادعاه وأظهره مكذباً له …

السابع: أن لا يكون متقدماً على الدعوى بل مقارناً، لها لأن التصديق قبل الدعوى لا يعقل …) المواقف للإيجي، تحقيق عبد الرحمن عميرة (3: 338 - 339).

وبعض المتقدمين كان يكتفي بثلاثة منها، كما ذكر القرطبي: (فأما حقيقتها: فهو أمر خارق للعادة مقرون بالتحدي مع عدم المعارضة). الإعلام بما في دين النصارى من الفساد والأوهام وإظهار محاسن الإسلام، للقرطبي المفسر، تحقيق أحمد حجازي السقا (ص: 239).
কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষাসমূহ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এগুলোর জন্য ব্যাপক প্রচার ও প্রসার নির্ধারণ করেছেন।

আপনি যদি কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষা (নিদর্শন (آية)) এবং এই নতুন পরিভাষা (অলৌকিক ঘটনা (معجزة))-এর মধ্যে তুলনা করেন, তবে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষাটির জন্য সেইসব শর্তাবলির প্রয়োজন নেই যার মাধ্যমে তারা ‘মুজিজা’ পরিভাষাটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন; কারণ নিদর্শন (آية) হলো নবীর সত্যতার পরিচায়ক চিহ্ন, এবং যখন তিনি এটি ব্যক্ত করেন তখন তা নবীর সত্যতাকে অনিবার্য করে তোলে। আর এভাবেই নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) সমস্ত নিদর্শনাবলি (آيات) প্রকাশ পেয়েছে।

পক্ষান্তরে ‘মুজিজা’ পরিভাষাটি যারা গ্রহণ করেছেন, তাদের এর জন্য কিছু সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন হয়েছে যেগুলোকে তারা ‘মুজিজার শর্তাবলি’ বলে অভিহিত করেছেন। এই শর্তাবলি ধীরে ধীরে তৈরি করা হয়েছে, এমনকি পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرون) নিকট তা সাতটি শর্তে পূর্ণতা লাভ করেছে (১)। আর তাদেরকে এই কাজে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—নবীদের নিদর্শনাবলির জন্য তারা যে সংজ্ঞাটি নির্বাচন করেছেন এবং যেটিকে তারা ‘মুজিজা’ নামকরণ করেছেন, সেই সংজ্ঞার কাঠামো যেন ক্ষুণ্ণ না হয় সে ব্যাপারে তাদের বিশেষ সতর্কতা।

--------------------------------------------

= অতঃপর আমি তাদের মতামতের ওপর দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখতে পেলাম যে, ‘সরফাহ’ (صرفة) সম্পর্কে নাজ্জামের বক্তব্যটি ‘কুরআন সৃষ্টি’ (خلق القرآن) সম্পর্কে মুতাজিলাদের বক্তব্যের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মানানসই; কারণ তার মতে অলৌকিকতা (إعجاز) কুরআনের বাইরের বিষয় হবে (তার মতে যা সৃষ্ট)।

(1) আল-ঈজী বলেন: (প্রথম আলোচনা হলো এর শর্তাবলি নিয়ে, যা সাতটি:

প্রথম: এটি আল্লাহর কাজ হতে হবে অথবা যা এর স্থলাভিষিক্ত... …

দ্বিতীয়: এটি রীতিবহির্ভূত (خارق للعادة) হতে হবে, কারণ এটি ছাড়া কোনো অলৌকিকতা (إعجاز) নেই... …

তৃতীয়: এর মোকাবেলা করা অসম্ভব হতে হবে, কারণ সেটিই অলৌকিকতার (إعجاز) প্রকৃত রূপ।

চতুর্থ: এটি নবুওয়াত দাবিদারের হাতে প্রকাশ পেতে হবে যাতে জানা যায় যে এটি তার সত্যতার প্রমাণ... …

পঞ্চম: এটি দাবির অনুকূলে হতে হবে... …

ষষ্ঠ: তিনি যা দাবি করেছেন এবং যা প্রকাশ করেছেন তা যেন তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন না করে... …

সপ্তম: এটি দাবির পূর্বে হওয়া চলবে না বরং এর সাথে সমকালীন হতে হবে, কারণ দাবির পূর্বের সত্যতা স্বীকার করা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়...) আল-মাওয়াকিফ লিল ঈজী, তাহকিক: আবদুর রহমান উমাইরা (৩: ৩৩৮ - ৩৩৯)।

আর পূর্ববর্তী আলেমদের (متقدمون) কেউ কেউ এর মধ্যে তিনটি শর্তেই যথেষ্ট মনে করতেন, যেমনটি কুরতুবী উল্লেখ করেছেন: (আর এর প্রকৃত স্বরূপ হলো: এটি একটি রীতিবহির্ভূত (خارق للعادة) বিষয় যা চ্যালেঞ্জের (تحدي) সাথে সম্পৃক্ত এবং যার কোনো মোকাবেলা নেই)। আল-ইলাম বিমা ফি দিনিন নাসারা মিনাল ফাসাদ ওয়াল আওহাম ওয়া ইজহারু মাহাসিনিল ইসলাম, কুরতুবী মুফাসসিরের রচিত, তাহকিক: আহমদ হিজাজী আস-সাক্কা (পৃষ্ঠা: ২৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وكما وقع الخلل في تعريف المعجزة، وقع الخلل أيضاً في أمور متعلقة بها يأتي بيان بعضها بإيجاز إن شاء الله.

وبما أن الأنبياء عليهم السلام ليست لهم معجزة واحدة، فإن ما يذكره بعض العلماء من شروطٍ للمعجزة فإنها لا تتناسب مع معجزات الأنبياء، ومن أهم الشروط التي ذكروها: أن المعجزة تكون مقرونة بالتحدي، وهذا الشرط لا يتناسب مع كثير من معجزاتهم، بل إنها كلها ـ إلا القرآن ـ لم يُتحدَّ بها، فبعضها عارضها الكفار ظنّاً منهم أنه بمقدورهم الغلبة على النبي عليه السلام كحال السحرة مع موسى، وبعضها طلبها المشركون آية للتصديق، ولم يتحدَّهم بها النبي عليه الصلاة والسلام؛ كانشقاق القمر، وبعضها حدث بين قوم مؤمنين؛ كانبجاس الماء لموسى عليه السلام، وما كان كذلك، فليس مقامه مقام التحدي، وبعضها حدث للنبي عليه الصلاة والسلام قبل نبوته؛ كشقِّ الصدر الذي كان له قبل بعثته (1).

ومن هنا تعلم أن اشتراط التحدي في تسمية المعجزة ليس بسديد، وإنما الذي دعا إليه هو حصر الحديث عن آيات الأنبياء بالآية العظمى لنبينا صلى الله عليه وسلم، وهي القرآن الكريم الذي تحدى الله به الإنس والجن.

وبمناسبة ذكر التحدي فإن بعض العلماء ذهب إلى التفريق بين المعجزة والكرامة بتفريقات منها: أن المعجزة يتحدى بها النبي عليه الصلاة والسلام، والكرامة تقع للولي ولا يتحدى بها.

وهذا التفريق محض اصطلاح، بل يصح تسمية ما يظهر على يد

--------------------------------------------

(1) روى مسلم بسنده عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل صلى الله عليه وسلم وهو يلعب مع الغلمان، فأخذه فصرعه، فشق عن قلبه، فاستخرج منه علقةً، فقال: هذا حظ الشيطان منك. ثم غسله في طستٍ من ذهبٍ بماء زمزم، ثم لأمَهُ، ثم أعاده في مكانه، وجاء الغلمان يسعون إلى أمه ـ يعني ظِئْرَهُ ـ فقالوا: إن محمداً قد قتل. فاستقبلوه وهو منتقع اللون. قال أنس: وقد كنت أرى أثر ذلك المخيط في صدره.
যেভাবে মুজিযার (المعجزة) সংজ্ঞায় বিভ্রাট ঘটেছে, তেমনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও বিভ্রাট ঘটেছে, যার কিছু বিষয় ইনশাআল্লাহ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হবে।

যেহেতু নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম)-এর কেবল একটিই মুজিযা (المعجزة) ছিল না, তাই মুজিযার (المعجزة) শর্তাবলি সম্পর্কে কিছু আলিম যা উল্লেখ করেছেন, তা নবীগণের মুজিযাগুলোর (المعجزة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের উল্লিখিত শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: মুজিযাকে (المعجزة) অবশ্যই চ্যালেঞ্জের (التحدي) সাথে যুক্ত হতে হবে। অথচ এই শর্তটি তাঁদের অনেক মুজিযার (المعجزة) সাথে খাপ খায় না; বরং কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো মুজিযা (المعجزة) দিয়ে চ্যালেঞ্জ (التحدي) করা হয়নি। কিছু মুজিযার (المعجزة) ক্ষেত্রে কাফিররা এই ভেবে বিরোধিতা করেছিল যে তারা নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর জয়ী হতে সক্ষম হবে, যেমন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে জাদুকরদের অবস্থা হয়েছিল। আবার কিছু মুজিযা (المعجزة) মুশরিকরা সত্যতা প্রমাণের নিদর্শন (آية) হিসেবে দাবি করেছিল, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেগুলো দিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ (التحدي) করেননি; যেমন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া। আবার কিছু মুজিযা (المعجزة) মুমিন সম্প্রদায়ের মাঝে ঘটেছিল, যেমন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য পানি নির্গত হওয়া; আর এই ধরনের ক্ষেত্রগুলো চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদানের স্থান নয়। আবার কিছু ঘটনা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই ঘটেছিল, যেমন তাঁর রিসালাত প্রাপ্তির পূর্বে বক্ষ বিদারণের (شق الصدر) ঘটনা (১)।

এখান থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে, মুজিযার (المعجزة) নামকরণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের (التحدي) শর্তারোপ করা সঠিক নয়। বরং যে বিষয়টি এই শর্তারোপে প্ররোচিত করেছে তা হলো নবীগণের নিদর্শনাবলি (آيات) বিষয়ক আলোচনাকে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন (آية) অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানব ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ (التحدي) করেছেন।

চ্যালেঞ্জের (التحدي) আলোচনার সূত্র ধরে উল্লেখ্য যে, কিছু আলিম মুজিযা (المعجزة) ও কারামতের (الكرامة) মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে কতগুলো মত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো: মুজিযা (المعجزة) দিয়ে নবী (আলাইহিস সালাম) চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদান করেন, আর কারামত (الكرامة) ওলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় কিন্তু তা দিয়ে চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদান করা হয় না।

আর এই পার্থক্য নিছক একটি পরিভাষা (اصطلاح) মাত্র, বরং [কারও] হাতে যা প্রকাশ পায় তাকে মুজিযা (المعجزة) নামে অভিহিত করা সঠিক...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তার সনদে (بسنده) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন যখন তিনি বালকদের সাথে খেলছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে ধরে শুইয়ে দিলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ড বের করলেন। অতঃপর তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন: এটি তোমার মাঝে শয়তানের অংশ। তারপর একটি স্বর্ণের পাত্রে যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করলেন। এরপর তা যথাস্থানে জুড়ে দিয়ে স্বস্থানে ফিরিয়ে রাখলেন। এদিকে বালকরা দৌড়ে তাঁর মায়ের কাছে—অর্থাৎ তাঁর দুধমায়ের (ظئر) কাছে—গিয়ে বলল: মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে। তখন তারা তাঁর দিকে এগিয়ে এলো এবং দেখল তাঁর চেহারার রঙ বিবর্ণ হয়ে আছে। আনাস বলেন: আমি তাঁর বক্ষে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১১)
الولي معجزة، لكنها لا تكون كمعجزة النبي عليه الصلاة والسلام من حيث العظمة، ويمكن أن تظهر لوليٍّ غيرِه، أما معجزة النبي عليه الصلاة والسلام فلا تظهر ـ إن ظهرت ـ إلا لنبي مثله، لذا ورد التحدي في بعض معجزات الأولياء لإثبات صدق الدين الذي يتبعه، ومن ثَمَّ فإن التفريق بالتحدي ليس عليه دليل من واقع المعجزات التي ظهرت على يد نبي أو ولي.

ومما وقع من شروط المعجزة، وليس موافقاً لواقع معجزات الأنبياء دعوى (أن تكون المعجزة مقارنةً لدعوى النبوة)، والحال أن هناك معجزات كانت قبل دعوى النبوة، وهناك معجزات حصلت بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك ما ظهر بعده من معجزات غيبية أخبر عنها القرآن الكريم، كقوله تعالى: {وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ}، فقد دخل غير العرب في دين الله أفواجاً بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم تصديقاً لهذا الخبر.

ومما وقع في تعريف المعجزة من خلل ما يُذكر من كون المعجزة خارقة للعادة، وقد أوقع هذا الشرط فريقين في الخلل لكونهم لم يفرقوا بين خوارق العادات حيث جعلوها من جنس واحد، فمنع قوم خرق العادة لغير النبي عليه الصلاة والسلام فأنكروا الكرامات والسحر، واختلط على آخرين فجعلوا السحر من جنس ما يُخرق من العادة للأنبياء عليهم السلام، وذهبوا إلى أنه لا يمكن التفريق بين معجزة النبي عليه الصلاة والسلام وغيرها = إلا بالتحدي أو بدعواه أنه نبي من عند الله سبحانه.

والحق في هذا أن خرق العادة الذي يكون للأنبياء لا يستطيعه أحد من الخلق مطلقاً؛ لأنه من عند الله تأييداً لنبيه وتصديقاً له، ولو استطاعه غيرهم لاختلط على الناس الأمر.
ওলির কারামতও একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), তবে মহত্ত্বের দিক থেকে তা নবী (সা.)-এর অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) মতো নয়। এটি অন্য কোনো ওলির ক্ষেত্রেও প্রকাশ পেতে পারে; কিন্তু নবীর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) —যদি তা প্রকাশিত হয়— তবে কেবল তাঁর ন্যায় কোনো নবীর মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। এই কারণে, ওলিদের কিছু অলৌকিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ (تحدي) করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে যাতে তারা যে ধর্ম অনুসরণ করেন তার সত্যতা প্রমাণিত হয়। অতএব, চ্যালেঞ্জের (تحدي) মাধ্যমে পার্থক্য করার বিষয়টি নবী বা ওলির মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) বাস্তব অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কোনো দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়।

অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) যেসব শর্ত বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে নবীদের অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) বাস্তব অবস্থার সাথে অমিল রয়েছে এমন একটি দাবি হলো: "অলৌকিক নিদর্শনকে (معجزة) নবুওয়াতের দাবির সমসাময়িক হতে হবে।" অথচ বাস্তবতা হলো, নবুওয়াতের দাবির পূর্বেও অনেক অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ছিল এবং নবী (সা.)-এর ওফাতের পরেও অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর পরবর্তী সময়ের অদৃশ্য বিষয় সংক্রান্ত অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزات غيبية) যা পবিত্র কুরআন সংবাদ দিয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তাদের মধ্য থেকে অন্যদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ফলে নবী (সা.)-এর ওফাতের পর দলে দলে অনারবরা আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে, যা এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে।

অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) সংজ্ঞায় যে ত্রুটি দেখা যায়, তার একটি হলো অলৌকিক নিদর্শনকে (معجزة) স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী (خارقة للعادة) হিসেবে গণ্য করা। এই শর্তটি দুটি দলকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে, কারণ তারা স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী (خوارق العادات) বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি এবং সবগুলোকে একই প্রকারের মনে করেছে। একদল নবী (সা.) ব্যতীত অন্য কারো জন্য অভ্যাসের লঙ্ঘন (خرق العادة) ঘটাকে অসম্ভব মনে করে অলৌকিক কারামত (كرامات) এবং জাদুকে (سحر) অস্বীকার করেছে। আবার অন্য দল বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে এবং জাদুকে (سحر) নবীদের জন্য প্রকাশিত অভ্যাসের লঙ্ঘন (خرق العادة) বিষয়ের সমগোত্রীয় মনে করেছে। তারা এই মতে গিয়েছেন যে, নবীর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে চ্যালেঞ্জ (تحدي) অথবা তিনি আল্লাহর প্রেরিত নবী—এই দাবি ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পার্থক্য করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে সঠিক কথা হলো, নবীদের জন্য অভ্যাসের যে লঙ্ঘন (خرق العادة) ঘটে, তা সৃষ্টির কোনো সত্তাই কোনোভাবেই করতে সক্ষম নয়। কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীকে শক্তিশালীকরণ ও সত্যায়নের জন্য হয়ে থাকে। যদি অন্য কেউ তা করতে সক্ষম হতো, তবে মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১২)
لذا يمكن القول بأن خرق العادة نوعان:

الأول: الخرق المطلق الكلي، وذلك لا يكون إلا لنبي من أنبياء الله عليهم الصلاة والسلام.

الثاني: خرق نسبي، وهو ما يقع لغيرهم، وهذا الخرق يتفاضل فيه الناس، فالسحرة ـ مثلاً ـ بعضهم أقوى في خرق عادة السحرة من بعض لذا يمكن معارضته فيما بينهم، أما ما يأتيهم من جهة النبي عليه الصلاة والسلام فإنهم يقرون بأنه مما لا يمكنهم صنعه ـ إلا ادعاءً كاذباً ـ ولا معارضته، لذا آمن السحرة بموسى لِمَا علموا من كون ما أتى به لا يمكن أن يكون من جنس ما يأتي به المخلوق أبداً.

كما أن مما يحسن التنبه له في موضوع (معجزات ـ آيات ـ الأنبياء) أنها ليست هي الطريق الوحيد لإثبات نبوة الأنبياء، لذا تجد أن أغلب الناس يؤمنون بدون أن يظهر لهم البرهان والحجة على معجزة من المعجزات، ومما يدلُّ على ذلك الأمثلة على ذلك ما وقع من أسئلة هرقل (ملك الروم) لأبي سفيان، فقد استدل هرقل على صدق النبي صلى الله عليه وسلم بأحواله، والأحوال من أعظم ما يمكن فيه معرفة الكاذب من الصادق.

واليوم ترى ـ وقبله كذلك ـ فئاماً من الناس يؤمنون برسالة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، ولم يكن طريق إيمانهم به هو المعجزات، بل كان إيمانهم بأقل من ذلك بكثير، وهذا معروف مشتهر بين من يدعون الكفار إلى توحيد الله وتعبيد الناس له.

ومما يحسن التنبه له في (إعجاز القرآن) أن هذا المصطلح أحدث بلبلة في التفريق بين ما تُحدِّي به العرب صراحة وبين (دلائل الصدق) الأخرى التي فيه التي سمَّاها العلماء (أنواع الإعجاز القرآني)؛ كالإخبار بالغيوب، فظنَّ بعض الناس أنها داخلة في التحدي، والصحيح أنها دلائل صدق، لكنها ليست مما تَحدى الله به الإنس والجن، وأوضح
সুতরাং এ কথা বলা যেতে পারে যে, অলৌকিক ঘটনা (خرق العادة) দুই প্রকার:

প্রথমটি হলো: নিরঙ্কুশ ও সামগ্রিক অলৌকিকত্ব, যা কেবল আল্লাহর নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।

দ্বিতীয়টি হলো: আপেক্ষিক অলৌকিকত্ব, যা নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে এবং এই অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ—জাদুকরদের মধ্যে কেউ কেউ জাদুর প্রচলিত রীতি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়, যার ফলে তাদের পরস্পরের মধ্যে মোকাবিলা সম্ভব হয়। তবে নবীগণের পক্ষ থেকে যা প্রকাশিত হয়, জাদুকররা সেটি স্বীকার করে নেয় যে, এটি এমন কিছু যা তারা করতে সক্ষম নয়—মিথ্যা দাবি (ادعاء كاذب) ব্যতীত—এবং তারা এর মোকাবিলা করতেও সক্ষম নয়। একারণেই জাদুকররা মূসা (আ.)-এর প্রতি ঈমান এনেছিল; কারণ তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা কোনোভাবেই সৃষ্টির সাধ্যাধীন বিষয় হতে পারে না।

এছাড়া নবীগণের (মুজিযা—নিদর্শন—আয়াত) বিষয়ে এটি লক্ষ্য করা জরুরি যে, কেবল অলৌকিকত্বই তাঁদের নবুওয়াত প্রমাণের একমাত্র পথ নয়। এই কারণেই দেখা যায় যে, অধিকাংশ মানুষ কোনো মুজিযা বা অকাট্য প্রমাণের চাক্ষুষ দর্শন ছাড়াই ঈমান আনেন। এর স্বপক্ষে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস কর্তৃক আবু সুফিয়ানকে করা প্রশ্নাবলীর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। হিরাক্লিয়াস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনবৃত্তান্ত ও সামগ্রিক অবস্থার মাধ্যমে তাঁর সত্যবাদিতা (صدق) প্রমাণ করেছিলেন। বস্তুত সত্যবাদী (صادق) ও মিথ্যাবাদী (كاذب) ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য জীবনবৃত্তান্ত ও সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।

বর্তমানে এবং এর আগেও লক্ষ্য করা যায় যে, একদল মানুষ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ওপর ঈমান আনেন এবং তাদের ঈমান আনয়নের পথ কেবল মুজিযা ছিল না; বরং তাদের ঈমান ছিল এর চেয়েও অনেক সহজ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। যারা কাফিরদের আল্লাহর তাওহিদের দিকে এবং মানুষকে তাঁর ইবাদতের অনুগত করার দিকে আহ্বান জানান, তাদের নিকট এটি একটি সুপরিচিত বিষয়।

'কুরআনের অলৌকিকত্ব' (إعجاز القرآن) বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, এই পরিভাষাটি আরবদের যে বিষয়ে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল এবং কুরআনে বিদ্যমান অন্যান্য 'সত্যতার নিদর্শন'-এর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। উলামায়ে কেরাম এই নিদর্শনগুলোকে 'কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রকারভেদ' (أنواع الإعجاز القرآني) হিসেবে অভিহিত করেছেন; যেমন—অদৃশ্য বিষয়াদি (الغيوب) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। এর ফলে কিছু মানুষ ধারণা করেছেন যে, এগুলোও চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত। অথচ সঠিক বিষয় হলো, এগুলো সত্যতার নিদর্শন (دلائل صدق), কিন্তু এগুলো এমন কিছু নয় যা দিয়ে আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আর এটি স্পষ্ট যে...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الأدلة على ذلك أن الله قد نزل بالتحدي إلى سورة من مثل القرآن في قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَاتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ}.

وإذا جمعت الوجوه التي حُكيت في أنواع الإعجاز ـ سوى الصرفة ـ وجدت أنها لا تكون في كل سورة، بل تتخلف في كثير من السور، فمثلاً: ليس في كل السور إخبار بالغيب.

أما الذي يوجد في كل سورة بلا استثناء فهو الوجه المتحدى به، وهو ما يتعلق بالنظم العربي لهذا القرآن (لغة وبلاغة وأسلوباً) بأي اصطلاح اصطلح عليه العلماء؛ كقول بعضهم: الإعجاز البلاغي، وقول آخرين: الإعجاز البياني … إلخ، فإن مرجعها إلى النظم العربي المتميز لهذا القرآن الكريم.

والتأمل في هذا النظر الذي ذكرته لك يُبينُ لك حقيقةً مهمة، وهي أن الوصف بالتحدي منطبق على هذا الوجه دون ما سواه، وأن المتحدى به هو المعجز إعجازاً تامّاً تامّاً، بحيث لو اجتمعت الجن والإنس على أن يأتوا بسورة من مثله ما استطاعوا إلى ذلك سبيلاً.

وإذا تأملت ما ورد في القرآن عن العرب من وصف القرآن بأوصاف = وجدت أن هذه الأوصاف مرتبطة بالكلام أكثر من ارتباطها بالمضمون الذي هو جديد عليهم، وليس من علومهم (1)، فقالوا: قول ساحر، وقالوا: قول كاهن، وقالوا: قول شاعر، قال تعالى: {فَلَا أُقْسِمُ

--------------------------------------------

(1) هذا الموضوع، وهو تميز موضوعات (معلومات) القرآن وعلوَّها وجِدَّتَها على العرب من البحوث المهمة التي يحسن الكتابة فيها، والملاحظ أن العرب لم يستطيعوا أن يعترضوا على موضوعات القرآن سوى أنهم وصفوه بأساطير الأولين، وبأنه إفك، وبأنه مما درسه أو أخذه عن غيره، وكلها تخرصات ووهم وظنون قد ردَّ الله عليها في القرآن تفصيلاً، ثم ردَّ عليها إجمالاً بالتحدي بأن يأتوا بسور من مثله.
এর প্রমাণ হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনের সমতুল্য একটি সূরার চ্যালেঞ্জ অবতীর্ণ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"

আর যদি আপনি অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রকারভেদ সম্পর্কে বর্ণিত দিকগুলো—'সারফাহ' (صرفة) ব্যতীত—একত্রিত করেন, তবে দেখতে পাবেন যে সেগুলো প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান নেই, বরং অনেক সূরার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। উদাহরণস্বরূপ: প্রতিটি সূরায় গায়েব বা অদৃশ্যের সংবাদ নেই।

পক্ষান্তরে, যা ব্যতিক্রমহীনভাবে প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান রয়েছে, তা হলো সেই দিকটি যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আর তা হলো এই কুরআনের আরবি বিন্যাস (ভাষাগত, অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও শৈলীগত), আলেমরা একে যে পরিভাষাতেই অভিহিত করুন না কেন; যেমন কারো উক্তি: আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز البلاغي), আবার অন্যদের উক্তি: বর্ণনাশৈলীগত অলৌকিকত্ব (الإعجاز البياني) … ইত্যাদি। কেননা এগুলোর মূল ভিত্তি হলো এই পবিত্র কুরআনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আরবি বিন্যাস।

আমি আপনার কাছে যে দৃষ্টিভঙ্গিটি উল্লেখ করেছি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে আপনার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা স্পষ্ট হবে, আর তা হলো—চ্যালেঞ্জের বিষয়টি এই দিকটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অন্য কিছুর ক্ষেত্রে নয়। আর যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তা হলো এমন এক পরিপূর্ণ অলৌকিক (معجز) বিষয় যে, যদি জিন ও মানুষ সম্মিলিতভাবে এর মতো একটি সূরা আনয়নের চেষ্টা করে, তবে তারা কখনই তা করতে সক্ষম হবে না।

আর আরবরা কুরআনকে যেসব বিশেষণে বিশেষিত করেছে বলে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, সেদিকে লক্ষ করলে আপনি দেখতে পাবেন যে, এই বিশেষণগুলো কুরআনের বিষয়বস্তুর—যা তাদের কাছে নতুন ছিল এবং তাদের জ্ঞানভুক্ত ছিল না (১)—চেয়ে বাণীর বা বাচনভঙ্গির সাথেই বেশি সম্পৃক্ত। তাই তারা বলেছিল: এটি জাদুকরের কথা, তারা বলেছিল: এটি গণকের কথা, তারা বলেছিল: এটি কবির কথা। মহান আল্লাহ বলেন: "কাজেই আমি কসম করছি...

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়টি, অর্থাৎ কুরআনের বিষয়বস্তুসমূহের (তথ্যের) স্বাতন্ত্র্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং আরবদের কাছে এর নতুনত্ব—এমন এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় যার ওপর লেখা উচিত। লক্ষণীয় যে, আরবরা কুরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আপত্তি তুলতে পারেনি, কেবল তারা একে 'পূর্ববর্তীদের রূপকথা' বলে আখ্যায়িত করেছিল এবং বলেছিল যে এটি একটি মিথ্যাচার, কিংবা এটি এমন কিছু যা তিনি অন্য কারো কাছ থেকে শিখেছেন বা গ্রহণ করেছেন। এগুলোর সবই ছিল ভিত্তিহীন অনুমান, বিভ্রম ও ধারণা, যেগুলোর উত্তর মহান আল্লাহ কুরআনে বিস্তারিতভাবে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে এর মতো সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ প্রদানের মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে এর জবাব দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
بِمَا تُبْصِرُونَ *وَمَا لَا تُبْصِرُونَ *إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ *وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلاً مَا تُؤْمِنُونَ *ولَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ *تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ}، وقال تعالى: {بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلْ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَاتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الأَوَّلُونَ}.

وقال تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ *قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُتَرَبِّصِينَ *أَمْ تَامُرُهُمْ أَحْلَامُهُمْ بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ *أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لَا يُؤْمِنُونَ *فَلْيَاتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ}.

وقال تعالى: {إِنَّهُ فَكَّرَ وقَدَّرَ *فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ *ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ *ثُمَّ نَظَرَ *ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ *ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ *فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَاّ سِحْرٌ يُؤْثَرُ *إِنْ هَذَا إِلَاّ قَوْلُ الْبَشَرِ}.

وكذا إذا أضفت ما ورد في السيرة من أوصاف الكفار لروعة هذا الكتاب، كالوصف الوارد عن الوليد بن المغيرة في سبب نزول قوله تعالى: {إِنَّهُ فَكَّرَ وقَدَّرَ *فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ *ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ *ثُمَّ نَظَرَ *ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ *ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ *فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَاّ سِحْرٌ يُؤْثَرُ *إِنْ هَذَا إِلَاّ قَوْلُ الْبَشَرِ}، وكان من خبره في هذا ما رواه العوفي، عن ابن عباس قال: دخل الوليد بن المغيرة على أبي بكر بن أبي قحافة فسأله عن القرآن، فلما أخبره خرج على قريش فقال: يا عجباً لما يقول ابن أبي كبشة. فوالله ما هو بشعر ولا بسحر ولا بهذْي من الجنون، وإن قوله لمن كلام الله. فلما سمع بذلك النفرُ من قريش ائتمروا فقالوا: والله لئن صبا الوليد لتصْبُوَنَّ قريش. فلما سمع بذلك أبو جهل بن هشام قال: أنا والله أكفيكم شأنه. فانطلق حتى دخل عليه بيته فقال للوليد: ألم تر قومك قد جمعوا لك الصدقة؟ فقال: ألستُ أكثرهم مالاً وولداً. فقال له أبو جهل: يتحدثون أنك إنما تدخل على ابن أبي قحافة لتصيب من طعامه. فقال
{যা তোমরা দেখতে পাও এবং যা তোমরা দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী। এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস করো। এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো। এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বরং তারা বলে: ‘এগুলো অলীক স্বপ্ন মাত্র; বরং সে এটি মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, বরং সে একজন কবি। সুতরাং সে আমাদের কাছে এমন কোনো নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন নিদর্শন নিয়ে পূর্ববর্তীরা প্রেরিত হয়েছিলেন’}।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি তারা বলে: ‘সে একজন কবি, আমরা তার ব্যাপারে কালের আবর্তনের প্রতীক্ষা করছি’। বলুন: ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত’। তবে কি তাদের বুদ্ধি তাদের এ নির্দেশ দেয়, না তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়? নাকি তারা বলে: ‘সে এটি নিজে বানিয়ে নিয়েছে’? বরং তারা বিশ্বাস করে না। সুতরাং তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক}।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং মনস্থির করেছে। সে ধ্বংস হোক, কীভাবে সে মনস্থির করল! আবার সে ধ্বংস হোক, কীভাবে সে মনস্থির করল! তারপর সে দৃষ্টিপাত করল। তারপর সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ বিকৃত করল। এরপর সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল ও অহঙ্কার করল। অতঃপর সে বলল: ‘এটি তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়’}।

অনুরূপভাবে, এই কিতাবের মহিমা সম্পর্কে সীরাত গ্রন্থে কাফিরদের পক্ষ থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ যদি আপনি যোগ করেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং মনস্থির করেছে। সে ধ্বংস হোক, কীভাবে সে মনস্থির করল! আবার সে ধ্বংস হোক, কীভাবে সে মনস্থির করল! তারপর সে দৃষ্টিপাত করল। তারপর সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ বিকৃত করল। এরপর সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল ও অহঙ্কার করল। অতঃপর সে বলল: ‘এটি তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়’} অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়ে তার সংবাদ ছিল তেমনটি যা আউফী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ আবু বকর ইবনে আবু কুহাফার নিকট প্রবেশ করে তাকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। যখন তিনি তাকে সংবাদ দিলেন, সে কুরাইশদের নিকট ফিরে গিয়ে বলল: "ইবনে আবু কাবশার কথায় কী আশ্চর্য বিষয়! আল্লাহর কসম, তা কোনো কবিতা নয়, জাদু নয় এবং পাগলের প্রলাপও নয়। নিশ্চয়ই তার কথা আল্লাহর বাণী।" যখন কুরাইশদের একদল লোক তা শুনতে পেল, তারা পরামর্শ করল এবং বলল: "আল্লাহর কসম, যদি ওয়ালিদ ধর্মত্যাগী হয়, তবে পুরো কুরাইশই ধর্মত্যাগী হয়ে যাবে।" আবু জাহল বিন হিশাম যখন এ কথা শুনল, তখন সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য যথেষ্ট হব।" সে রওয়ানা হয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করল এবং ওয়ালিদকে বলল: "আপনি কি দেখেননি যে, আপনার কওম আপনার জন্য সাদাকাহ সংগ্রহ করেছে?" সে বলল: "আমি কি তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদ ও সন্তানের অধিকারী নই?" আবু জাহল তাকে বলল: "লোকেরা বলাবলি করছে যে, আপনি ইবনে আবু কুহাফার নিকট কেবল তার খাবার থেকে কিছু পাওয়ার জন্যই প্রবেশ করেন।" অতঃপর সে বলল
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
الوليد: أقد تحدث به عشيرتي؟! فلا والله لا أقرب ابن أبي قحافة، ولا عمر، ولا ابن أبي كبشة، وما قوله إلا سحر يؤثر. فأنزل الله على رسوله صلى الله عليه وسلم: {ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا} [المدثر: 11] إلى قوله: {لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ} [المدثر: 28].

وقال قتادة: زعموا أنه قال: والله لقد نظرت فيما قال الرجل فإذا هو ليس بشعر، وإن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإنه ليعلو وما يعلى، وما أشك أنه سحر. فأنزل الله: {فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ} الآية [المدثر: 19]، {ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ} [المدثر: 22] قبض ما بين عينيه وكلح.

والمقصود أن الذي ينتظم ـ من وجوه الإعجاز المحكية ـ في كلِّ سورة، ولا يتخلف عن واحدةٍ منها = هو ما يتعلق بالنظم العربي، وهو المتحدَّى به، دون ما سواه من أنواع الأوجه المحكية في إعجاز القرآن.

وإذا جاز لنا أن نعدل عن مصطلح (أنواع إعجاز القرآن) إلى (دلائل صدق القرآن)، فإنه يمكن القول بأن وجوه صدق هذا الكتاب تظهر في جوانب كثيرة جداً:

منها ما دلَّ عليه الله بقوله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا}.

ومن وجوه صدقه حفظُه من التبديل والتغيير طيلة هذه القرون، ومن وجوه صدقه كونُه حقّاً في كل أموره كما قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ *لَا يَاتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ}، إلى غير ذلك من وجوه الصدق الكثيرة التي سمَّاها بعض العلماء (وجوه الإعجاز) كما فعل السيوطي (ت:911هـ) في كتابه (معترك الأقران في إعجاز القرآن).

وبعض دلائل الصدق (أنواع الإعجاز) ليست مختصةً بالقرآن، بل هي مرتبطة بكلام الله سبحانه وتعالى، سواءٌ أكان كلامَ الله النازل على إبراهيم عليه
আল-ওয়ালিদ বলল: "আমার গোত্রের লোকেরা কি এ বিষয়ে আলোচনা করবে?! আল্লাহর কসম, আমি ইবনে আবি কুহাফা, উমর বা ইবনে আবি কাবশাহ-এর নিকটবর্তী হব না। তাঁর কথা কেবলই যাদু, যা পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সা.)-এর ওপর নাজিল করলেন: {ছেড়ে দিন আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী} [আল-মুদ্দাসসির: ১১] থেকে তাঁর বাণী: {তা কাউকে জীবন্ত রাখবে না এবং কাউকে রেহাইও দেবে না} [আল-মুদ্দাসসির: ২৮] পর্যন্ত।

কাতাদাহ (রহ.) বলেন: তারা দাবি করেছে যে সে বলেছিল: "আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তি যা বলেছে তা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি; তা কবিতা নয়। নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ মাধুর্য এবং এর ওপর রয়েছে বিশেষ দীপ্তি। নিশ্চয়ই এটি বিজয়ী হয় এবং এর ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না। আমি নিশ্চিত এটি যাদু ছাড়া আর কিছু নয়।" অতঃপর আল্লাহ নাজিল করলেন: {সে ধ্বংস হোক, সে কীভাবে এই স্থির করল} [আল-মুদ্দাসসির: ১৯], {অতঃপর সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ বিকৃত করল} [আল-মুদ্দাসসির: ২২]। (অর্থাৎ) সে তার দুই চোখের মধ্যবর্তী অংশ কুঁচকালো এবং চেহারা বিবর্ণ করল।

উদ্দেশ্য হলো, অলৌকিকত্বের (إعجاز) যে দিকগুলো বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে যা প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান এবং কোনোটি থেকেও বাদ পড়ে না, তা হলো আরবি বাচনভঙ্গি বা ভাষারীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এর মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়েছে, কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বর্ণনায় বর্ণিত অন্য কোনো প্রকারের (أنواع) মাধ্যমে নয়।

যদি আমাদের জন্য ‘কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রকারভেদ’ থেকে ‘কুরআনের সত্যতার প্রমাণাদি’ (دلائل صدق) পরিভাষাটি ব্যবহার করা বৈধ হয়, তবে বলা সম্ভব যে এই কিতাবের সত্যতার দিকগুলো অত্যন্ত ব্যাপক ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়:

তার মধ্যে একটি হলো যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে নির্দেশ করেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত}।

এর সত্যতার দিকসমূহের অন্যতম হলো শত শত বছর ধরে একে সব ধরণের রদবদল ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত রাখা। এর সত্যতার আরেকটি দিক হলো এর প্রতিটি বিষয় সত্য হওয়া, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের কাছে কুরআন আসার পর তা অস্বীকার করে (তারা বিপথগামী), আর এটি অবশ্যই একটি মহিমান্বিত কিতাব। বাতিল এর সামনে থেকেও আসতে পারে না, পেছন থেকেও নয়। এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} এছাড়াও সত্যতার আরও অনেক দিক রয়েছে যেগুলোকে কোনো কোনো আলেম ‘অলৌকিকত্বের দিক’ (وجوه الإعجاز) বলে অভিহিত করেছেন, যেমনটি সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরী) তাঁর ‘মুতারাকুল আকরান ফি ইজাযিল কুরআন’ কিতাবে করেছেন।

সত্যতার কিছু প্রমাণ (বা অলৌকিকত্বের প্রকারভেদ (أنواع الإعجاز)) কেবল কুরআনের সাথেই খাস নয়, বরং তা মহান আল্লাহর বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট; চাই তা ইবরাহীম (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম হোক...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الصلاة والسلام (الصُّحف)، أو على موسى عليه الصلاة والسلام (التوراة)، أو على عيسى عليه الصلاة والسلام (الإنجيل)، أو على غيرهم من الأنبياء؛ لذا فإن ما يحكيه بعض المعاصرين من وجوه إعجاز جديدة؛ كإطلاق مصطلح (الإعجاز العقدي) أو (الإعجاز التشريعي) أو (الإعجاز العلمي) أو غيرها = فإنها غير مختصَّة بالقرآن وحده، بل هي عامَّةٌ في كلام الله النازل على رسله الكرام عليهم الصلاة والسلام.

وبعد ..

فإن الحديث عن (المعجزة) طويل، وليس المراد في هذه المقدمة التفصيل، بل لقد أجملت كيما لا يتشعب الحديث ويطول.

وأخيراً أقول: ليس المراد في نقدي لمصطلح (المعجزة) التخلي عن هذا المصطلح الذي توارد عليه العلماء جيلاً بعد جيل، وإنما المراد تصحيح بعض ما وقع في هذا الموضوع، والاجتهاد في ردِّ تعريف المعجزة إلى مصطلح الكتاب والسُّنّة قدر الطاقة.

ويمكن تعريف المعجزة بالآتي:

آية النبي المختصَّة به، الخارقة للعادة، التي لا يقدر الخلق على الإتيان بمثلها، الدالة على صدق النبي تارة، وعلى غير ذلك تارة.

وإني لأسأل الله أن يغفر لي ولوالدي ولأهل بيتي، وأن يسددني ويبارك لي في وقتي، وأن يجعلني من خدم كتابه الكريم، إنه سميع مجيب.

الدكتور مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار الأستاذ المشارك بقسم الدراسات القرآنية كلية المعلمين/جامعة الملك سعود

ATTYYAR@HOTMAIL.COM ATTYYAR@GMAIL.COM WWW.TAFSIR.NET
সালাত ও সালাম (সহিফা [الصُّحف]), অথবা মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর (তাওরাত), অথবা ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর (ইঞ্জিল), অথবা অন্যান্য নবীদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল; অতএব, সমসাময়িক কেউ কেউ অলৌকিকত্বের (إعجاز) যে নতুন দিকগুলো বর্ণনা করেন; যেমন 'আকিদাগত অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العقدي) বা 'বিধানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز التشريعي) অথবা 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' (الإعجاز العلمي) ইত্যাদি পরিভাষা ব্যবহার—এগুলো কেবল কুরআনের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, বরং আল্লাহর কালাম হিসেবে তাঁর সম্মানিত রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সবকিছুর ক্ষেত্রেই সাধারণ।

অতঃপর ..

নিশ্চয়ই মুজিজা (المعجزة) সংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘ, আর এই ভূমিকার উদ্দেশ্য বিস্তারিত বর্ণনা নয়, বরং আমি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি যাতে আলোচনা শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে না যায় এবং দীর্ঘ না হয়।

পরিশেষে আমি বলব: 'মুজিজা' (المعجزة) পরিভাষাটির (مصطلح) ব্যাপারে আমার সমালোচনার (نقد) উদ্দেশ্য এই নয় যে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উলামায়ে কেরাম যে পরিভাষাটির ওপর একমত হয়েছেন তা বর্জন করা। বরং এর উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ে যা কিছু ঘটেছে তার কিছু সংশোধন করা এবং সাধ্যানুযায়ী মুজিজার (المعجزة) সংজ্ঞাকে কিতাব ও সুন্নাহর পরিভাষার দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করা।

মুজিজাকে (المعجزة) নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে:

নবীর জন্য সুনির্দিষ্ট নিদর্শন (آية), যা অলৌকিক বা স্বভাববহির্ভূত (الخارقة للعادة), যার অনুরূপ আনয়নে সৃষ্টিজগত অক্ষম, যা কখনো নবীর সত্যতার প্রমাণ দেয় এবং কখনো অন্য কিছুর প্রমাণ দেয়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে ক্ষমা করেন। তিনি যেন আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমার সময়ে বরকত দান করেন এবং আমাকে তাঁর সম্মানিত কিতাবের খাদেম হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

ডক্টর মুসাঈদ বিন সুলাইমান বিন নাসের আল-তাইয়ার, সহযোগী অধ্যাপক, কুরআন শিক্ষা বিভাগ, টিচার্স কলেজ/কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি।

ATTYYAR@HOTMAIL.COM ATTYYAR@GMAIL.COM WWW.TAFSIR.NET
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
المقالة الأولى

الإعجاز العلمي في القرآن
প্রথম নিবন্ধ

কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المقالة الأولى

الإعجاز العلمي في القرآن
(1)

قال السائل: ما رأيكم بما يسمَّى الآن بالإعجاز العلمي للقرآن، وهل يدخل تحت علوم القرآن؟ (2)

الجواب:

إن هذه المسألة تعتبر من المسائل العلمية التي حدثت في هذا العصر، والموضوع أكبر من أن يجاب عنه في مثل هذا الموضع، لكن أستعين بالله، وأذكر من ما يفتح الله به عليَّ.

1 - إنَّ هذا الموضوع يدخل تحت التفسير بالرأي، فإن كان المفسر به ممن تأهل وعَلِمَ، كان تفسيره محموداً، وإن لم يكن من أهل العلم فإن تفسيره مذموم، وإن كان قد يصل إلى بعض الحقِّ.

2 - إنَّ الإعجاز العلمي يدخل في ما يسمَّى بالإعجاز الغيبيي، وهو فرع منه، إذ مآله الإخبار بما غاب عن الناس فترة من الزمن، ثمَّ علمه المعاصرون.

وإذا تحقَّق ذلك، فليُعلم أنَّ هذا النوع من الإعجاز ليس مما يختص به القرآن وحده، بل هو موجود في كل كتب الله السابقة؛ لأنَّ

--------------------------------------------

(1) نشر في 10/ 3/1424هـ في مشاركة المؤلف في إجاباته على أسئلة أعضاء ملتقى أهل الحديث في الإنترنت، ثم نُشر في كتاب «مقالات في علوم القرآن وأصول التفسير» للمؤلف، نشرته دار المحدث بالرياض.

(2) إذا ثبت الإعجاز العلمي، فهو فرع عن الإعجاز القرآني، وبهذا يكون من علوم القرآن.
প্রথম নিবন্ধ

কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي)
(১)

প্রশ্নকারী বলেছেন: বর্তমানে কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) নামে যা অভিহিত করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এবং এটি কি কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) অন্তর্ভুক্ত? (২)

উত্তর:

নিশ্চয়ই এই বিষয়টি বর্তমান যুগে উদ্ভূত জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি এতোটাই বিস্তৃত যে, এই ক্ষুদ্র পরিসরে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহ আমার জন্য যা উন্মোচন করবেন তা উল্লেখ করছি।

১ - নিশ্চয়ই এই বিষয়টি নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রসূত তাফসিরের (التفسير بالرأي) অন্তর্ভুক্ত। যদি তাফসিরকারী যোগ্য এবং বিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তার তাফসির প্রশংসনীয় (محمود) হবে। আর যদি তিনি ইলম বা জ্ঞানের অধিকারী না হন, তবে তার তাফসির নিন্দনীয় (مذموم), যদিও তা কিছু ক্ষেত্রে সত্যে উপনীত হতে পারে।

২ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) অদৃশ্য বিষয়ক অলৌকিকত্বের (الإعجاز الغيبي) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তারই একটি শাখা। কারণ এর সারমর্ম হলো এমন সংবাদ প্রদান করা যা দীর্ঘকাল মানুষের নিকট অদৃশ্য ছিল, অতঃপর সমসাময়িকরা তা জানতে পেরেছে।

আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন জেনে রাখা উচিত যে, এই প্রকারের অলৌকিকত্ব (الإعجاز) কেবল কুরআনের সাথেই নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি আল্লাহর পূর্ববর্তী সকল কিতাবেও বিদ্যমান রয়েছে; কারণ

--------------------------------------------

(১) ১০/০৩/১৪২৪ হিজরি তারিখে ইন্টারনেটে 'মুলতাকা আহলিল হাদিস'-এর সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে লেখকের অংশগ্রহণের সময় এটি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর রিয়াদের 'দারুল মুহাদ্দিস' থেকে প্রকাশিত লেখকের 'মাকালাত ফি উলুমিল কুরআন ওয়া উসুলিত তাফসির' গ্রন্থে এটি প্রকাশিত হয়।

(২) যদি বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) প্রমাণিত হয়, তবে এটি কুরআনিক অলৌকিকত্বের (الإعجاز القرآني) একটি শাখা, আর এভাবেই এটি কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২০)
الإخبار في هذه الكتب عن الحقائق الكونية لا يمكن أن يختلف البتة.

وعدم وجود ما يطابق علم القرآن في كتبهم التي بين يديهم إنما هو لتحريفهم لها، فلينتبه لذلك.

ومن باب إيضاح هذه المسألة بالذات؛ يقال: إنَّ كُتب الله السابقة توافق القرآن في جميع ما يتعلق بوجوه الإعجاز المذكورة عدا ما وقع به التحدِّي، إذ لم يرد نصٌّ صريح يدل على أنه قد تُحدِّي الأقوام الذين نزل عليهم كتب، كما هو الحال بالنسبة للقرآن.

3 - إن قصارى الأمر في مسألة الإعجاز العلمي أنَّ الحقيقة الكونية التي خلقها الله، وافقت الحقيقة القرآنية التي تكلم بها الله، وهذا هو الأصل؛ لأنَّ المتكلم عن الحقيقة الكونية المخبر بها هو خالقها، فلا يمكن أن يختلفا البتة.

وكل ما في الأمر أنَّ هذه الحقيقة الكونية كانت غائبة من جهة تفاصيلها عن السابقين، فمنَّ الله على اللَاّحقين بمعرفة هذه التفاصيل، فكشفوا عنها، وأثبتوا حقيقة ما جاء في القرآن من صدق، فكان اكتشاف ذلك من دلائل صدق القرآن الذي أخبر عنها بدقة بالغة، لم تظهر تفاصيلها إلا في هذا العصر الذي نبغ فيه سوق البحث التجريبي الذي صارت دولته إلى الكفار دون المسلمين، فصاروا إذا ما اكتشفوا أمراً جديداً عليهم سارع المعتنون بالإعجاز العلمي لإثبات وجوده في نصوص القرآن.

4 - إن كثيراً ممن كَتب في الإعجاز العلمي ليس ممن له قدم في العلم الشرعي فضلاً عن علم التفسير، وكان من أخطار ذلك أن جُعلت الأبحاث في العلوم التجريبية أصلاً يُحكم به القرآن، وتُؤوَّل آياته لتتناسب مع هذه النظريات والفرضيات.

وكل من دخل إلى التفسير وله أصل، فإن أصله هذا سيؤثر عليه،
এই কিতাবসমূহে মহাজাগতিক সত্য সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্যগুলো মোটেও ভিন্ন হতে পারে না।

তাদের নিকট বর্তমানে বিদ্যমান কিতাবগুলোতে কুরআনের জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের অভাব মূলত তাদের পক্ষ থেকে কৃত বিকৃতির (تحريف) কারণে; সুতরাং সেদিকে লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।

বিশেষত এই বিষয়টি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বলা যায় যে: আল্লাহর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অলৌকিকত্বের (إعجاز) উল্লিখিত সকল দিকের ক্ষেত্রে কুরআনের সাথে একমত, তবে কেবল সেই ক্ষেত্রটি ব্যতীত যেখানে চ্যালেঞ্জ (تحدِّي) করা হয়েছে। কারণ এমন কোনো স্পষ্ট বর্ণনা (نص صريح) পাওয়া যায় না যা নির্দেশ করে যে, যাদের প্রতি কিতাব নাজিল হয়েছিল সেই জাতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যেমনটি কুরআনের ক্ষেত্রে করা হয়েছে।

৩ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের (إعجاز علمي) বিষয়ের সারকথা হলো, আল্লাহ যে মহাজাগতিক সত্য সৃষ্টি করেছেন, তা আল্লাহর কালামের মাধ্যমে বর্ণিত কুরআনিক সত্যের সাথে মিলে গেছে। আর এটাই হলো মূল নীতি (أصل); কারণ যে মহাজাগতিক সত্য সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার বক্তা স্বয়ং সেটির স্রষ্টা, ফলে তাদের মধ্যে কোনোক্রমেই বৈসাদৃশ্য থাকা সম্ভব নয়।

মূলত বিষয়টি হলো, এই মহাজাগতিক সত্যের বিস্তারিত বিবরণ পূর্ববর্তীদের কাছে অস্পষ্ট ছিল। অতঃপর আল্লাহ পরবর্তীদের এই বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার তৌফিক দান করেছেন, ফলে তারা সেগুলো উন্মোচন করেছে এবং কুরআনে বর্ণিত সত্যের যথার্থতা প্রমাণ করেছে। এই আবিষ্কারগুলো কুরআনের সত্যতার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো বর্ণনা করেছে। এসবের বিস্তারিত বিবরণ কেবল এই যুগেই প্রকাশিত হয়েছে যখন পরীক্ষণমূলক গবেষণার ক্ষেত্রটি সমৃদ্ধ হয়েছে, যার কর্তৃত্ব মুসলিমদের পরিবর্তে কাফিরদের হাতে চলে গেছে। ফলশ্রুতিতে, তারা যখন নতুন কিছু আবিষ্কার করে, তখন বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) নিয়ে গবেষণাকারীরা কুরআনের নস (نص) বা পাঠগুলোতে তার অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন।

৪ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শরয়ি ইলমে পারদর্শী নন, এমনকি তাফসির (تفسير) শাস্ত্রেও তাদের সুগভীর জ্ঞান নেই। এর একটি ভয়াবহ দিক হলো, পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানের গবেষণাগুলোকে এমন একটি মূল নীতি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে কুরআনের বিচার করা হয় এবং কুরআনের আয়াতগুলোর এমন ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা (تأويل) করা হয় যাতে সেগুলো এই সকল তত্ত্ব ও অনুমিত ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

আর যে কেউ কোনো একটি মূল নীতিকে (أصل) ভিত্তি ধরে তাফসির (تفسير) করতে প্রবৃত্ত হয়, তবে তার সেই মূল নীতিটি (أصل) অবশ্যই তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২১)
وسيقع في التحريف، كما وقع التحريف عند المعتزلة الذين جعلوا العقل المجرد أصلاً يحتكمون إليه، وكما وقع لغيرهم من الطوائف المنحرفة.

والذي يدل على وقوع الانحراف في هذا الاتجاه الحرص الزائد على إثبات حديث القرآن عن كثير من القضايا التي ناقشها الباحثون التجريبيون.

5 - إن كتاب الله أعلى وأجلَّ من أن يُجعل عرضة لهذه العقول التي لم تتأصل في علم التفسير، فأين هم من قول مسروق: «اتقوا التفسير، فإنما هو الرواية عن الله»؟

6 - إنَّ في نسبة الإعجاز، أو التفسير إلى «العلمي» خلل كبير، وأثر من آثار التغريب الفكري، فهذه التسمية منطلقة من تقسيم العلوم إلى أدبية وعلمية، كما هو الحال في المدارس الثانوية سابقاً، وفي الجامعات حتى اليوم، وفي ذلك رفع من شأن العلوم التجريبية على غيرها من العلوم النظرية التي تدخل فيها علوم الشريعة.

وإذا كان هذا يسمَّى بالإعجاز العلمي، فماذا يسمَّى الإعجاز اللغوي، أليس إعجازاً علمياً، أليست اللغة علماً، وقل مثل ذلك في وجوه الإعجاز المحكية.

لا شكَّ أنها علوم، لكنها غير العلم الذي يريده الدنيويون الغربيون الذين أثَّروا في حياة الناس اليوم، وصارت السيادة لهم.

ومما يؤسف عليه أن يتبعهم فضلاء من المسلمين في هذا المصطلح دون التنبه لما تحته من الخطر والخطأ (1).

--------------------------------------------

(1) يقول الشيخ عبد المجيد الزنداني: «ينقسم العلم البشري في المدارس والجامعات إلى نوعين من الدراسة:

أـ دراسات حول علوم المادة (القسم العلمي)، وتعتني هذه الدراسات بدراسة المادة ومعرفة أحوالها، ثم استخدام هذه المادة لمصلحة الإنسان. =
এবং তিনি বিকৃতির (التحريف) মধ্যে নিপতিত হবেন, যেমনটি মুতাজিলাদের ক্ষেত্রে বিকৃতি (التحريف) ঘটেছিল, যারা নিছক যুক্তিকে একটি মূলনীতি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছিল যার মাধ্যমে তারা বিচার-ফয়সালা করত, এবং যেমনটি অন্যান্য বিচ্যুত দলগুলোর ক্ষেত্রে ঘটেছে।

এই ধারায় বিচ্যুতি ঘটার বিষয়টি যা প্রমাণ করে তা হলো, পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণাকারীরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে কুরআনের হাদিস বা বর্ণনাকে প্রমাণ করার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ।

5 - নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব এর চেয়েও অনেক উচ্চ ও মহান যে, তাকে এমন সব বুদ্ধিবৃত্তির শিকারে পরিণত করা হবে যা তাফসির (التفسير) শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। মাসরুক-এর উক্তি থেকে তারা কত দূরে: "তোমরা তাফসির (التفسير) করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো, কারণ তা তো আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা (الرواية) মাত্র।"

6 - নিশ্চয়ই অলৌকিকত্ব (الإعجاز) বা তাফসিরকে (التفسير) "বৈজ্ঞানিক" এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মধ্যে বড় ধরণের ত্রুটি রয়েছে এবং এটি বুদ্ধিবৃত্তিক পাশ্চাত্যকরণের অন্যতম প্রভাব। এই নামকরণটি জ্ঞানকে সাহিত্যিক এবং বৈজ্ঞানিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রবণতা থেকে উৎসারিত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের মর্যাদাকে অন্যান্য তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শরিয়াহ (الشريعة) সংক্রান্ত বিজ্ঞানসমূহও অন্তর্ভুক্ত।

যদি একে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) বলা হয়, তবে ভাষাগত অলৌকিকত্বকে (الإعجاز اللغوي) কী বলা হবে? সেটি কি বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) নয়? ভাষা কি কোনো বিজ্ঞান নয়? বর্ণিত অলৌকিকত্বের (الإعجاز) অন্যান্য দিকগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেগুলো জ্ঞান, কিন্তু সেগুলো সেই জ্ঞান নয় যা বর্তমান মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী এবং আধিপত্য বিস্তারকারী পশ্চিমা ইহজাগতিকতাবাদীরা চায়।

পরিতাপের বিষয় এই যে, মুসলিমদের মধ্যে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও এর পেছনে নিহিত বিপদ ও ভুল সম্পর্কে সচেতন না হয়েই এই পরিভাষাটি (المصطلح) অনুসরণে তাদের অনুগামী হয়েছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) শেখ আব্দুল মাজিদ আয-যিন্দানি বলেন: «স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানবীয় জ্ঞান অধ্যয়নের ক্ষেত্রে দুই ভাগে বিভক্ত:

ক- পদার্থ বিজ্ঞান সংক্রান্ত অধ্যয়ন (বিজ্ঞান বিভাগ), আর এই অধ্যয়নগুলো পদার্থ নিয়ে গবেষণা ও তার অবস্থাসমূহ জানার প্রতি যত্নশীল হয়, অতঃপর মানুষের কল্যাণে এই পদার্থের ব্যবহার নিশ্চিত করে। =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২২)
7 - ومما يلاحظ في أصحاب الإعجاز العلمي عدم مراعاة مصطلحات اللغة والشريعة، ومحاولة تركيب ما ورد في البحوث التجريبية على ما ورد في القرآن، ومن الأمثلة على ذلك: أن القرآن يذكر عرشاً وكرسيّاً وقمراً وشمساً وكواكب ونجوماً وسموات سبع، ومن الأرض مثلهن … إلخ.

ومصطلحات العلم التجريبي المعاصر زادت على هذه، وذكرت لها تحديدات وتعريفات لا تُعرفُ في لغة القرآن ولا العرب، فحملوا ما جاء في القرآن عليها، وشطَّ بعضهم فتأوَّل ما في القرآن إلى ما لم يوافق ما عند الباحثين التجريبيين المعاصرين.

فبعضهم جعل السموات السبع هي الكواكب السبع السيارة، وجعل الكرسي المجرات التي بعد هذه المنظومة الشمسية، والعرش هو كل الكون.

وآخر يجعل ما تراه من نجوم السماء التي أقسم الله بها وأخبر عن عبوديتها، وجعلها علامات؛ يجعل ما تراه مواقع النجوم، وإلا فالنجوم قد ماتت منذ فترة. إلى غير ذلك من التفسيرات الغريبة التي تجيء مرة باسم الإعجاز العلمي، ومرة باسم التفسير العلمي .. إلخ من المسمَّيات.

8 - إنَّ بعض من نظَّر للإعجاز العلمي، وضع قاعدة، وهي: أن لا يفسَّر القرآن إلا بما ثبت حقيقة علمية لا تقبل الشكَّ، لئلا يتطرق الشك إلى القرآن إذا ثبت بطلان فرضية فسِّرت بها آية.

وهذا القيد خارجٌ عن العمل التفسيري، ولا يتوافق مع أصول

--------------------------------------------

= ب ـ دراسات حول العلوم الإنسانية (القسم الأدبي)، وتعتني هذه الدراسة بالإنسان ودراسة أحواله. «توحيد الخالق» نشر المكتبة العصرية (2: 7).

 

ثم عمل مقارنة بين الدراسات المادية (العلمية) والدراسات الإنسانية (الأدبية)، ويلاحظ أن علوم الشريعة ستدخل في الدراسات الإنسانية الأدبية؛ لأن القسمة ثنائية.
৭ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ের প্রবক্তাদের ক্ষেত্রে যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো, তারা ভাষা ও শরয়ি পরিভাষাগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখেন না এবং পরীক্ষামূলক গবেষণায় যা পাওয়া যায়, সেগুলোকে কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: কুরআন আরশ, কুরসি, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও সপ্ত আকাশ এবং অনুরূপ পৃথিবী ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে … ইত্যাদি।

সমকালীন পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের পরিভাষাগুলো এর চেয়েও বিস্তৃত হয়েছে এবং এগুলো এমন সব সীমাবদ্ধতা ও সংজ্ঞা প্রদান করেছে যা কুরআন বা আরবদের ভাষায় পরিচিত ছিল না। ফলে তারা কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে এগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ তো এত দূর বিচ্যুত হয়েছেন যে, তারা কুরআনের বিষয়াবলিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা সমকালীন পরীক্ষামূলক গবেষকদের মতের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের কেউ কেউ সপ্ত আকাশকে সাতটি বিচরণশীল গ্রহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, কুরসিকে এই সৌরজগতের বাইরের ছায়াপথসমূহ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং আরশকে সমগ্র মহাবিশ্ব বলে অভিহিত করেছেন।

অন্য কেউ আকাশের যে নক্ষত্রসমূহ আপনি দেখছেন—যার শপথ আল্লাহ নিয়েছেন, যেগুলোর আনুগত্যের খবর দিয়েছেন এবং যেগুলোকে নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন—সেগুলোকে 'নক্ষত্রের অবস্থানস্থল' হিসেবে গণ্য করেন; অন্যথায় [তাদের মতে] মূল নক্ষত্রগুলো তো বহু আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এ জাতীয় আরও অনেক অদ্ভুত ব্যাখ্যা রয়েছে যা কখনো বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব নামে, আবার কখনো বৈজ্ঞানিক তাফসির ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

৮ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব নিয়ে যারা তাত্ত্বিক আলোচনা করেন, তাদের কেউ কেউ একটি নীতি নির্ধারণ করেছেন। তা হলো: কুরআনকে কেবল এমন বৈজ্ঞানিক সত্যের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা যাবে যা সন্দেহের ঊর্ধ্বে; যাতে কোনো আয়াত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অনুকল্পটি যদি বাতিল প্রমাণিত হয়, তবে যেন কুরআনের ব্যাপারে কোনো সংশয় সৃষ্টি না হয়।

এই সীমাবদ্ধতাটি তাফসির কর্মের বহির্ভূত এবং এটি মূলনীতির (أصول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

--------------------------------------------

= খ — মানবিক বিজ্ঞান বিষয়ক অধ্যয়ন (সাহিত্য বিভাগ); এই অধ্যয়নটি মানুষ এবং তার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে। ‘তাওহীদুল খালিক’, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ প্রকাশিত (২: ৭)।

 

এরপর তিনি বস্তুগত (বৈজ্ঞানিক) অধ্যয়ন এবং মানবিক (সাহিত্যিক) অধ্যয়নের মধ্যে একটি তুলনা করেছেন। এখানে লক্ষণীয় যে, শরয়ি বিজ্ঞানসমূহ মানবিক ও সাহিত্যিক অধ্যয়নের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ বিভাজনটি দ্বিমুখী।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
التفسير، وهو قيد يلتزم به مقيِّده ـ وإن لم يكن في الواقع قد التزمه كثيرون ممن بحث في هذا الموضوع ـ ولا يُلزمُ به المفسِّرَ؛ لأنَّ التفسير أوسع من الإعجاز.

ومن عجيب الأمر أن بعضهم يؤكد على هذه القاعدة، ويجعل المقام في الإعجاز مقام تحدٍّ للكفار، ويقول: … أن القرآن الذي أنزل من قبل ألف وأربعمائة سنة على النبي الأمي صلى الله عليه وسلم في أمة غالبيتها الساحقة من الأميين = يحوي من حقائق هذا الكون ما لم يستطع العلماء إدراكه إلا منذ عشرات قليلة من السنين.

هذا السبق يستلزم توظيف الحقائق، ولا يجوز أن توظف فيه الفروض والنظريات إلا في قضية واحدة وهي قضية الخلق والإفناء … لأن هذه القضايا لا تخضع للإدراك المباشر للإنسان، ومن هنا فإن العلم التجريبي لا يتجاوز فيها مرحلة التنظير، ويبقى للمسلم نور من كتاب ربه أو من سُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم يعينه على أن يرتقي بإحدى تلك النظريات إلى مقام الحقيقة، ونكون بذلك قد انتصرنا للعلم بالقرآن الكريم أو بالحديث النبوي الشريف، وليس العكس. انتهى كلامه.

ولعلك ترى كيف أن هذا القائل ينقض قاعدته في نفس كلامه عنها، إذ يمكن أن يستخدم غيره هذا الضابط الذي خرم به القاعدة في الحديث عن الخلق والإفناء كما استخدمه هو، وبهذا فإنه لا يوجد قاعدة تخصُّ الإعجاز العلمي على هذا السبيل؛ إذ يمكن أن تكون كثير من فرضيات البحوث التجريبية مما لا تخضع للإدراك البشري، ثم نصحِّحها لورود ما يدل عليها من القرآن اجتهاداً أن هذه الآية تشهد لتلك النظرية.

وهنا مسألة مهمة، وهي: من الذي يُثبتُ أنَّ هذه القضية صارت حقيقةً لا فرضية؟

أي: من هو المرجع في ذلك؟ أيكفي أن يُحدِّثَ بها مختصٌّ،
তাফসির (تفسير), এটি একটি সীমাবদ্ধতা যা এর প্রবক্তারা মেনে চলেন — যদিও বাস্তবে এই বিষয়টি নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তাদের অনেকে এটি মেনে চলেননি — এবং মুফাসসিরের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়; কারণ তাফসির (تفسير) হলো মুজিজার (إعجاز) চেয়ে অধিক বিস্তৃত।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের কেউ কেউ এই মূলনীতির (قاعدة) ওপর জোর দেন এবং মুজিজার (إعجاز) ক্ষেত্রটিকে কাফেরদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং বলেন: … এক হাজার চারশত বছর পূর্বে নিরক্ষর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এমন এক জাতির মাঝে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যাদের বিশাল সংখ্যাগুরু অংশই ছিল নিরক্ষর; যা মহাবিশ্বের এমন সব ধ্রুব সত্য ধারণ করে আছে যা বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক দশক আগ পর্যন্ত উপলব্ধি করতে সক্ষম হননি।

এই অগ্রগামিতা ধ্রুব সত্যগুলোর প্রয়োগ দাবি করে, এবং এতে অনুমান ও তত্ত্বের প্রয়োগ বৈধ নয়, কেবল একটি ক্ষেত্র ব্যতীত আর তা হলো সৃষ্টি ও ধ্বংসের বিষয়টি … কারণ এই বিষয়গুলো মানুষের সরাসরি উপলব্ধির আওতাধীন নয়। এখান থেকেই বুঝা যায় যে, পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান এই ক্ষেত্রগুলোতে তাত্ত্বিক পর্যায়ের ঊর্ধ্বে যেতে পারে না। এমতাবস্থায় একজন মুসলিমের কাছে তার রবের কিতাব কিংবা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে প্রাপ্ত নূর বা আলো অবশিষ্ট থাকে, যা তাকে ঐ তত্ত্বগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে সত্যের পর্যায়ে উন্নীত করতে সাহায্য করে। আর এর মাধ্যমে আমরা পবিত্র কুরআন কিংবা হাদিসের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে বিজয়ী করি, এর উল্টোটা নয়। (তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত)।

আপনি হয়তো দেখছেন যে, এই বক্তা কীভাবে নিজের বক্তব্যের মধ্যেই নিজের মূলনীতিকে (قاعدة) খণ্ডন করছেন। কেননা, তিনি সৃষ্টি ও ধ্বংস সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে মূলনীতিটি যেভাবে ভঙ্গ করেছেন, অন্য কেউও একইভাবে সেই মানদণ্ড (ضابط) ব্যবহার করতে পারে। ফলে এই পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক মুজিজা (إعجاز علمي) সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতি (قاعدة) অবশিষ্ট থাকে না; যেহেতু পরীক্ষামূলক গবেষণার অনেক অনুমানই মানুষের উপলব্ধির আওতাধীন না-ও হতে পারে। অতঃপর আমরা ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে কুরআনে এর সপক্ষে দলিল থাকায় সেগুলোকে সঠিক বলে গণ্য করি যে, এই আয়াতটি অমুক তত্ত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: কে এটি প্রমাণ করবেন যে, এই বিষয়টি সত্যে পরিণত হয়েছে, কোনো অনুমান নয়?

অর্থাৎ: এক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড কে? কোনো বিশেষজ্ঞ তা বর্ণনা (يحدث) করলেই কি তা যথেষ্ট হবে?
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أتكفي فيها دراسةٌ بحثيةٌ، أتحتاج إلى إجماعٍ من المختصِّين؟

هذه المسألة من أولى ما يجب أن يعتني به من يريدون تفسير القرآن بالحقائق التي أثبتها البحث التجريبي المعاصر.

وفي نظري أنَّ هذا هو أول ما يجب على الباحث تأصيله وتأكيد ثبوته من جهة البحث التجريبي، فإذا ثبت ذلك له، انتقل من يريد الحديث عن ما يسمى بالإعجاز العلمي إلى المرحلة الثانية، وهي تعلُّم التفسير وأصوله لئلا يشتطوا في تفسيراتهم، أو يلووا أعناق النصوص إلى ما يريدون.

9 - أما بالنسبة للمفسِّر، فإنه لا يمكنه أن ينكر ما يُحكمُ بثبوته من حقائق العلم التجريبي؛ لأنه لا يملك الأدوات التي يصل بها إلى أن يثبت أو ينكر، وهذه الأدوات متكاملة عند الباحثين التجريبيين، وإن من يأخذها عنهم، فإنما يأخذها ثقة منه فيهم لا غير.

وعمل المفسِّر هنا أن يرى صحة انطباق تلك القضية على ما جاء في القرآن من جهة دلالة اللغة والسياق وغيرها؛ أي: أن عمله عمل تفسيري بحت، وهو يمتلك أدواته بخلاف كثير ممن كتب في الإعجاز العلمي الذين لا يملكون تلك الأدوات.

فكما لا يرضى أهل الإعجاز العلمي بما عند المفسرين من تفسير كل ظواهر الكون التي أثبت البحث التجريبي المعاصر خطأها، فإن المفسرين لا يرضون لكل واحد من الباحثين التجريبيين أن يوافق بين البحث التجريبي وما ورد في القرآن.

وإن كنت أرى أن المفسر أقدر في الربط من الباحث التجريبي.

10 - إن الربط بين ما يظهر في البحث التجريبي المعاصر وبين ما يرد في القرآن إنما هو من عمل المفسِّر به، كائناً من كان هذا المفسر، ومهمته في هذا بيان معاني القرآن، وإذا كانت هذه مهمته هنا، فإنَّ
এতে কি কেবল একটি গবেষণা ভিত্তিক অধ্যয়ন যথেষ্ট, নাকি বিশেষজ্ঞগণের ঐক্যমত্য (إجماع) প্রয়োজন?

সমকালীন পরীক্ষণমূলক গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত তথ্যের আলোকে যারা কুরআনের তাফসির করতে চান, তাদের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রথম ও প্রধান কাজ।

আমার দৃষ্টিতে, একজন গবেষকের জন্য প্রথমত পরীক্ষণমূলক গবেষণার দিক থেকে বিষয়টির ভিত্তি স্থাপন এবং এর সাব্যস্ততা (ثبوت) নিশ্চিত করা অপরিহার্য। যখন এটি তার কাছে প্রমাণিত হবে, তখন যারা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা নিয়ে আলোচনা করতে চান, তারা দ্বিতীয় ধাপে পদার্পণ করবেন। আর সেই ধাপটি হলো তাফসির এবং এর মূলনীতি (أصول) শিক্ষা করা, যাতে তারা তাদের ব্যাখ্যায় সীমালঙ্ঘন না করেন কিংবা নিজেদের ইচ্ছানুসারে মূল পাঠ বা নصوص (نصوص) এর অপব্যাখ্যা না করেন।

9 - আর মুফাসসিরের ক্ষেত্রে কথা হলো, পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানের যেসকল তথ্য প্রমাণিত (ثبوت) বলে সাব্যস্ত হয়, তা তিনি অস্বীকার করতে পারেন না; কারণ এটি প্রমাণ বা প্রত্যাখ্যান করার মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি তার নেই। এই সরঞ্জামাদি কেবল পরীক্ষণমূলক গবেষকদের কাছেই পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যমান। আর যে ব্যক্তি তাদের থেকে তথ্য গ্রহণ করে, সে মূলত তাদের প্রতি তার নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) থাকার কারণেই তা গ্রহণ করে থাকে।

এখানে মুফাসসিরের কাজ হলো ভাষাগত নির্দেশকতা (دلالة), প্রেক্ষাপট (سياق) এবং অন্যান্য দিক থেকে কুরআনের বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি প্রয়োগের সঠিকতা যাচাই করা। অর্থাৎ, তার কাজটি হবে বিশুদ্ধ তাফসির সংক্রান্ত; আর এর জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার রয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা নিয়ে লেখকদের অনেকের মধ্যেই নেই।

যেভাবে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মুফাসসিরদের সেই সকল মহাজাগতিক ঘটনার ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেন না যা আধুনিক বিজ্ঞান ভুল প্রমাণিত করেছে, ঠিক তেমনি মুফাসসিরগণও প্রত্যেক পরীক্ষণমূলক গবেষকের জন্য পরীক্ষণমূলক গবেষণার সাথে কুরআনের বাণীর সমন্বয় করার বিষয়টি অনুমোদন করেন না।

যদিও আমি মনে করি, একজন পরীক্ষণমূলক গবেষকের তুলনায় একজন মুফাসসিরই এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষম।

10 - সমকালীন পরীক্ষণমূলক গবেষণার ফলাফল এবং কুরআনের বাণীর মধ্যে সমন্বয় করা মূলত মুফাসসিরেরই কাজ, তিনি যে-ই হোন না কেন। এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব হলো কুরআনের অর্থ স্পষ্ট করা। আর যেহেতু এটিই তার দায়িত্ব, তাই...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
المفسِّر يبيِّن معانيه بجملة من المعلومات التي قد يكون فيها الضعيف من جهة أفراده، كبعض الآثار الضعيفة مثلاً. فلو أن مفسِّراً اعتمد في تفسيره على نظريةٍ من النظريات التي ثبت بطلانها لاحقاً، فإنَّ النتيجة أن هذا تفسير ضعيف لا يصحُّ، ولا علاقة للقرآن به، فالخطأ خطأ المفسر، وليس الخطأ في القرآن قطعاً.

وهذا يشبه ما لو فسّر مفسِّر بمعنًى شاذٍّ، فهل ينال القرآن خطأ منه، وهل يقال: إن الخطأ من القرآن؟

لا شكَّ أن الأمر ليس كذلك.

لكن الأمر اختلف هنا لأنَّ بعض الباحثين في الإعجاز العلمي يريدون أن يلزموا الناس بما توصَّلوا إليه على أنَّ القرآن حقٌّ لا مرية فيه؛ لأنه أثبت هذه القضايا قبل أن يعرف الناس تفاصيلها، فألزموا أنفسهم من جهة التفسير بما لا يلزم، فأوقعوا أنفسهم في الضيق والحرج، وظهر عندهم الإلزام بتفسير القرآن بالحقائق، وذلك ما لم يطبقوه في تفسيراتهم، كما قلت.

11 - إن موضوع الإعجاز العلمي طويل جدّاً، ولست ممن يردُّه جملة وتفصيلاً، لكنني أدعو إلى تصحيح مساره، ووضعه في مكانه الطبيعي دون تزيُّدٍ وتضخيم كما هو الحاصل اليوم، حتى لقد جعله بعضهم الطريق الوحيد لدعوة الكفار، وأنَّى له ذلك؟

لقد أسلم كثير منهم في هذا العصر ـ ولا زالوا يسلمون بما يعرفه كثير ممن خبر إسلامهم ـ ولم يكن إسلامهم بسبب ما ورد في القرآن من حقائق وافقها البحث التجريبي.

نعم لقد كان له أثر في إسلام بعض الكفار، لكنهم أقل بكثير ممن يسلم بسبب الاقتناع بالإسلام، وبما فيه مما يلائم فطرة البشر، وهذا الموضوع بذاته بحث يصلح للمتخصِّصين في قسم الدعوة، وهو يحتاج إلى عناية.
একজন মুফাসসির এর অর্থগুলো এমন কিছু তথ্যের সমষ্টির মাধ্যমে বর্ণনা করেন, যার একক বর্ণনাসমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি দুর্বল (ضعيف) হতে পারে, যেমন উদাহরণস্বরূপ কিছু দুর্বল (ضعيفة) আছার (آثار)। যদি কোনো মুফাসসির তার তাফসিরে এমন কোনো তত্ত্বের ওপর নির্ভর করেন যা পরবর্তীকালে বাতিল প্রমাণিত হয়, তবে এর ফলাফল হলো এই তাফসিরটি একটি দুর্বল (ضعيف) তাফসির যা সঠিক (يصح) নয়। এর সাথে কুরআনের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং এই ভুলটি মুফাসসিরের ভুল, কোনোভাবেই এটি নিশ্চিতরূপে কুরআনের ভুল নয়।

এটি ঠিক তেমন যেমন কোনো মুফাসসির যদি কোনো শায (شاذ) বা অসংগতিপূর্ণ অর্থের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন; তবে কি এর কারণে কুরআনের ওপর ভুলের দায় আসবে? আর এমনটি কি বলা যাবে যে, ভুলটি কুরআনের পক্ষ থেকে হয়েছে?

নিঃসন্দেহে বিষয়টি তেমন নয়।

কিন্তু এখানে বিষয়টি ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (ইজায ইলমি) বিষয়ক কিছু গবেষক মানুষকে তাদের অর্জিত ফলাফলের বিষয়ে বাধ্য করতে চান এই যুক্তিতে যে, কুরআন হলো এমন সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ মানুষ এসবের বিস্তারিত জানার আগেই কুরআন এসব বিষয় সাব্যস্ত করেছে। ফলে তারা তাফসিরের ক্ষেত্রে নিজেদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে নিয়েছেন যা আবশ্যক ছিল না এবং নিজেদের সংকীর্ণতা ও বিড়ম্বনায় ফেলেছেন। তাদের মাঝে কুরআনকে বৈজ্ঞানিক সত্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার বাধ্যবাধকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা কি না তারা তাদের তাফসিরগুলোতে প্রয়োগ করেননি, যেমনটি আমি বলেছি।

11 - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘ। আমি একে পুরোপুরিভাবে ও বিস্তারিতভাবে প্রত্যাখ্যানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই, তবে আমি এর গতিপথ সংশোধন করার এবং বর্তমানে যা ঘটছে সেই অতিরঞ্জন ও অতিশয়োক্তি ব্যতিরেকে একে এর স্বাভাবিক অবস্থানে রাখার আহ্বান জানাই। এমনকি অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেউ কেউ একে অমুসলিমদের দাওয়াত দেওয়ার একমাত্র পথ বানিয়ে নিয়েছেন; কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব?

বর্তমান যুগে তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন—এবং যারা তাদের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের জানামতে এখনো অনেকে ইসলাম গ্রহণ করছেন—তাদের এই ইসলাম গ্রহণ কুরআনে বর্ণিত এমন কোনো তথ্যের কারণে ছিল না যা পরীক্ষামূলক গবেষণার সাথে মিলে গেছে।

হ্যাঁ, কোনো কোনো অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল, তবে তাদের সংখ্যা সেই সব লোকদের তুলনায় অনেক কম যারা ইসলামের প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির সাথে এর সামঞ্জস্যের কারণে ইসলাম গ্রহণ করেন। এই বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে দাওয়াহ বিভাগের বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি উপযুক্ত গবেষণার বিষয় এবং এটি বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
12 - إنَّ أي تفسير جاء بعد تفسير السلف، فإنه لا يقبل إلا بضوابط، وهذه الضوابط:

1 - أن لا يناقض (أي: يبطل) ما جاء عن السلف (أعني: الصحابة والتابعين وأتباع التابعين) (1).

وذلك لأنَّ فهم السلف حجة يُحتكم إليه، ولا تجوز مناقضته البتة، فمن جاء بتفسير بعدهم، سواءً أكان مصدره لغة، أو بحثاً تجريبياً، فإنه لا يقبل إن كان يناقض قولهم.

فإن قلت: إنه يرد عن السلف في تفسير الآية اختلاف، فكيف العمل؟

فالجواب: إنَّ الاختلاف الوارد عنهم أغلبه اختلاف تنوع، وليس بينه تضادٌّ إلا في القليل منه.

والقاعدة في اختلاف التنوع:

1 - أن تقبل الأقوال الواردة عنهم على سبيل التنوع ما دام ليس في قَبولها جميعاً ما يمنع ذلك.

2 - أن يُرجَّح أحد أقوالهم على سبيل القول الأَولى والأرجح دون اطِّراح غيره وتركه بالكلية؛ لأنه قد يستفاد منه في موضع آخر.

والقاعدة في اختلاف التضاد الوارد بينهم أن يرجَّح أحدها على سبيل التعيين لا التنوع؛ لأنه لا يمكن القول بها معاً، فلزم الترجيح، وهو هنا تصحيح لقول، وترك للآخر.

واطراح ما جاء عنهم بالكلية في هذين النوعين من الاختلاف معناه مناقضة قولهم، وعدم الاعتبار به، وهذا واقع بعض ممن تعرض للتفسير

--------------------------------------------

(1) ملاحظة: السلف عند أصحاب الإعجاز العلمي كل المفسرين السابقين، وليس مقصوراً على هذه الطبقات الثلاث.
১২ - সালাফদের (السلف) তাফসিরের পরে আগত যে কোনো ব্যাখ্যা বা তাফসির নির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা মূলনীতি (ضوابط) ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়। আর সেই শর্তগুলো হলো:

১ - সালাফদের (السلف) অর্থাৎ: সাহাবি (الصحابة), তাবেয়ি (التابعين) এবং তবে-তাবেয়িদের (أتباع التابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার পরিপন্থী (يناقض) হওয়া যাবে না (অর্থাৎ তা যেন তাদের বক্তব্যকে বাতিল করে না দেয়) (১)।

কারণ সালাফদের (السلف) উপলব্ধি হলো একটি অকাট্য দলিল (حجة), যার আলোকে ফয়সালা করা হয়। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধাচরণ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। অতএব, তাদের পরবর্তী যুগে কেউ যদি এমন কোনো তাফসির নিয়ে আসে—তার উৎস চাই ভাষাগত (لغة) হোক কিংবা কোনো গবেষণালব্ধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোক—যদি তা সালাফদের বক্তব্যের পরিপন্থী (يناقض) হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কোনো আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে সালাফদের (السلف) থেকে তো ভিন্ন ভিন্ন মত বা ইখতিলাফ (اختلاف) বর্ণিত হয়েছে, এমতাবস্থায় করণীয় কী?

উত্তর হলো: তাদের থেকে বর্ণিত অধিকাংশ মতভেদই হলো বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف تنوع), আর এর মধ্যে বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (تضاد) খুবই সামান্য ক্ষেত্র ব্যতীত দেখা যায় না।

বৈচিত্র্যগত মতভেদের (اختلاف تنوع) ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো:

১ - তাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত বক্তব্যগুলো বৈচিত্র্য হিসেবেই গ্রহণ করা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার সবগুলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে।

২ - তাদের কোনো একটি বক্তব্যকে অপেক্ষাকৃত উত্তম ও অগ্রাধিকারযোগ্য (الأرجح) হিসেবে গ্রহণ (ترجيح) করা হবে, তবে অন্য বক্তব্যগুলোকে পুরোপুরি বর্জন বা পরিত্যাগ করা হবে না; কারণ অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

আর তাদের মধ্যে বর্ণিত বৈপরীত্যমূলক মতভেদের (اختلاف التضاد) ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: নির্দিষ্টভাবে কোনো একটি মতকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দেওয়া, এখানে বৈচিত্র্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ একইসাথে পরস্পরবিরোধী দুটি মত গ্রহণ করা অসম্ভব। ফলে সেখানে অগ্রাধিকার (الترجيح) প্রদান আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা মূলত একটি বক্তব্যকে সঠিক সাব্যস্ত করা (تصحيح) এবং অন্যটিকে বর্জন করার নামান্তর।

এই দুই ধরনের মতভেদের ক্ষেত্রেই তাদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যগুলোকে পুরোপুরি বর্জন করার অর্থ হলো তাদের বক্তব্যের বিরোধিতা (مناقضة) করা এবং সেগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করা। তাফসির নিয়ে কাজ করেন এমন কারো কারো ক্ষেত্রে এই ভ্রান্তিটি ঘটতে দেখা যায়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইজায আল-ইলমি (الإعجاز العلمي) বা 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা' সংশ্লিষ্ট গবেষকদের নিকট 'সালাফ' (السلف) বলতে পূর্ববর্তী সকল মুফাসসিরদের বোঝানো হয়, যা কেবল এই তিন স্তরের (সাহাবি, তাবেয়ি ও তবে-তাবেয়ি) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ইলা আইনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وجعل مصدره البحث التجريبي المعاصر، أما إذا اعتبر خلافهم وصحَّح منه ما صحَّح، ثم زاد عليه تفسيراً صحيحاً، فإن الأمر مختلف، ولا يكون مناقضاً لقول السلف في هذه الحال.

2 - أن يكون المعنى المفسَّر به صحيحاً.

وهو على قسمين:

الأول: أن يكون المعنى من جهة اللغة، وهذا لا بدَّ أن يثبت لغةً، وأي تفسير بمعنًى لم يثبت من جهة اللغة، فإنه مردود، كمن يفسِّر الذرة الواردة في القرآن بالذرة في علم الكيمياء، وهذا مصطلح حادث لا يثبت في اللغة.

الثاني: أن يكون المعنى خارج إطار اللغة، كمن يفسِّر خلق الأطوار بأنها الأطوار الداروينية.

وهذا مخالف لما جاء في الشريعة، وهو غير صحيح في نفسه؛ لذا لا يصحُّ التفسير به، وبما هو مثله البتة.

3 - أن يتناسب مع سياق الآية، وتحتمله الآية.

وهذا قيد مهمٌّ، وفي كون الآية تحتمل هذا المعنى أو لا تحتمله مجال للاختلاف، لكن القول بأحدها لا يجب إلزام الآخر به، وكثيرٌ من التفسيرات بما وصل إليه البحث التجريبي تجري تحت هذا الضابط؛ إذ قد يكون المعنى غير مناقض لما ورد عن السلف، وهو معنى صحيح، لكن يكون وجه ردِّه عدم احتمال الآية له، والحكم باحتمال الآية له من عدمه محلُّ اجتهادٍ، وإذا كان الاجتهاد ـ في احتماله أو عدمه ـ عن علم فلا تثريب على الفريقين، بل في الأمر سعة، كما هو الحال في الاجتهاد الكائن في علماء أمة محمد صلى الله عليه وسلم.

وسأضرب مثلاً أرجو أن يوضح هذا الأمر، وهو ما ورد في تفسير قوله تعالى: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ
এবং এর উৎস হিসেবে সমকালীন গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে গ্রহণ করেছেন। তবে যদি তিনি তাদের মতপার্থক্য বিবেচনা করেন এবং সেখান থেকে যা সহিহ (صحيح) তা গ্রহণ করেন, এরপর এর ওপর একটি সঠিক (صحيح) ব্যাখ্যা যোগ করেন, তবে বিষয়টি ভিন্ন হবে এবং এমতাবস্থায় তা সালাফদের বক্তব্যের বিরোধী হবে না।

২ - যে অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে তা সঠিক (صحيح) হওয়া।

এটি দুই প্রকার:

প্রথমত: বিষয়টি আভিধানিক দিক থেকে হওয়া। এটি অবশ্যই ভাষাতাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত হতে হবে। ভাষাতাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত নয় এমন কোনো অর্থ দিয়ে করা ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে। যেমন কেউ যদি কুরআনে বর্ণিত 'জাররাহ' (ذرة) শব্দটিকে রসায়ন বিজ্ঞানের 'পরমাণু' (atom) দিয়ে ব্যাখ্যা করে। এটি একটি আধুনিক পরিভাষা যা আরবি ভাষায় প্রমাণিত নয়।

দ্বিতীয়ত: অর্থটি ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর বাইরে হওয়া। যেমন কেউ যদি সৃষ্টির পর্যায়সমূহকে ডারউইনীয় বিবর্তনবাদের পর্যায়সমূহ দ্বারা ব্যাখ্যা করে।

এটি শরিয়তে বর্ণিত বিষয়ের বিরোধী এবং এটি নিজেই সঠিক নয়; তাই এর মাধ্যমে এবং এর অনুরূপ অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা মোটেও সঠিক হবে না।

৩ - আয়াতের প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া এবং আয়াতে সেই অর্থের অবকাশ থাকা।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আয়াতের মধ্যে সেই অর্থের অবকাশ আছে কি নেই, তা মতপার্থক্যের একটি ক্ষেত্র। তবে কোনো একটি মত গ্রহণ করলে অন্যকে তা মানতে বাধ্য করা যাবে না। পরীক্ষামূলক গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত অনেক ব্যাখ্যাই এই মূলনীতির অধীনে পরিচালিত হয়; কারণ সেই অর্থটি হয়তো সালাফদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যের বিরোধী নয় এবং অর্থটি নিজেও সঠিক (صحيح), কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হলো আয়াতের শব্দে সেই অর্থের অবকাশ না থাকা। আর আয়াতের শব্দে অবকাশ আছে কি নেই তা নির্ধারণ করা ইজতিহাদের (اجتهاد) বিষয়। যদি এই ইজতিহাদ (اجتهاد)—অবকাশ থাকা বা না থাকার ব্যাপারে—জ্ঞানলব্ধ হয়, তবে উভয় পক্ষের কারোরই কোনো দোষ নেই, বরং এতে প্রশস্ততা রয়েছে। যেমনটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের আলেমদের ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি যা আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট করবে। তা হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: {অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে তিনি...}