(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح البخاري - ن عطاءات العلم القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (194 - 256 هـ)
نسخة الحافظ: شرف الدين أبي الحسين علي بن محمد اليونيني (621 - 701 هـ)
اعتنى به: دار الكمال المتحدة
الناشر: عطاءات العلم - موسوعة صحيح البخاري، https://bukhari-pedia.net
عام النشر: 1437 هـ
أهداه للشاملة: «عطاءات العلم» جزاهم الله خيرًا
[رقمنا صفحات الكتاب بالشاملة موافقا لطبعة «بيت السنة»، للتشابه بينهما]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الآخرة 1445
সহীহুল বুখারী - আতাআত আল-ইলম সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়াবলী, তাঁর সুন্নাত ও দিনপঞ্জি বিষয়ক সংক্ষিপ্ত ও সঠিক নির্ভরযোগ্য সংকলন)
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (১৯৪ - ২৫৬ হিজরী)
হাফিজের পাণ্ডুলিপি: শরফুদ্দীন আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইউনিনী (৬২১ - ৭০১ হিজরী)
তত্ত্বাবধানে: দারুল কামাল আল-মুত্তাহিদা
প্রকাশক: আতাআত আল-ইলম - সহীহুল বুখারী বিশ্বকোষ, https://bukhari-pedia.net
প্রকাশকাল: ১৪৩৭ হিজরী
শামেলা লাইব্রেরিতে উপহার প্রদান: «আতাআত আল-ইলম» আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[উভয় সংস্করণের মধ্যে মিল থাকার কারণে আমরা শামেলা লাইব্রেরিতে গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর «বাইতুস সুন্নাহ» সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রদান করেছি]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫ হিজরী
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
(1)يقولُ أفقرُ خلقِ اللهِ سبحانه وتعالى إلى رحمتِهِ عليُّ بنُ محمَّد بنِ أحمدَ بنِ عبدِ اللهِ اليُونِينيُّ، المُكَنَّى بأبي الحُسينِ -عفىَ اللهُ عنهُ ولَطَفَ بِهِ آمين-
(2):
الأصولُ المُشارُ إليها ممَّا أَحَلْتُ عليهِ في هوامشِ نسختيْ مِن «صحيحِ البُخاريِّ» وما أَعْلمتُ
(3) عليهِ في نفسِ الكتابِ بينَ الأسطرِ فما وقعَ عليهِ
(4) اتفاقُ الأيمةِ الحُفَّاظِ الأربعةِ وهم:
الحافظُ
(5) أبو محمَّدٍ عبدُ اللهِ
(6) بنُ إبراهيمَ الأصيليُّ.
والحافظُ أبو ذرٍّ عبدُ بنُ أحمدَ الهرويُّ.
والحافظُ أبو القاسمِ عليُّ بنُ الحسنِ بنِ عساكرَ الدِّمشقيُّ.
والأصلُ المسمُوعُ على أبي الوقتِ بقراءة الحافظِ أبي سعيدٍ
(7) عبدِ الكريمِ بنِ محمَّدِ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১)আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে তাঁর রহমতের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনি, যাঁর উপনাম আবুল হোসেন — আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর প্রতি দয়া করুন, আমীন — তিনি বলেন:
(২):
আমার ‘সহিহ বুখারি’র পাণ্ডুলিপির টীকাসমূহে আমি যে মূল উৎসগুলোর (উসুল) দিকে ইঙ্গিত করেছি এবং মূল কিতাবের পঙ্ক্তিগুলোর মাঝে যা আমি চিহ্নিত
(৩) করেছি, তা চারজন হাফেজ ইমামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত, তাঁরা হলেন:
(৪):
হাফেজ
(৫) আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
(৬) ইবনে ইবরাহিম আল-আছিলি।
এবং হাফেজ আবু যর আব্দ ইবনে আহমদ আল-হারাউয়ি।
এবং হাফেজ আবুল কাসেম আলী ইবনে হাসান ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি।
এবং হাফেজ আবু সাঈদ
(৭) আব্দুল করিম ইবনে মুহাম্মদের পাঠের মাধ্যমে আবুল ওয়াক্তের নিকট শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٤)
ابنِ منصورٍ السَّمعانيِّ، كتبتُ عليه: (5 ص س ظ) هكذا.
وما اتفقَ عليهِ ثلاثةٌ منهم أسقطتُ رسمَ أحدِهم.
وكذا
(1) إنْ اتفقَ اثنانِ منهم رُقِمَ ما جُعِلَ رسمًا
(2) لهما.
وإنْ لمْ يكن عندَهم؛ فإمَّا أكتبُ
(3) على الهامشِ: سقطَ عندَ (5 ص س ط
(4))، أو أكتبَ عليهِ (لا)، وأَرْقُمُ رسمَ مَنْ ليسَ عندَهُ.
ما
(5) مثاله: إنَّه وقعَ في أصلِ سماعِي في
(6) حديث بدء الوحي: (جَمَعَهُ لكَ في صدرِك)، ووقع عند (5 ص س ظ): (جمَعَه لكَ صدرُك) بإسقاط (في) فأمَّا
(7) أَرْقُمُ على (في) (لا)، و
(8) أَرْقُمُ فوقها أو إلى جانبها: (5 ص س ط)، هذا إنْ وقع الاتفاق على سقوطها، وإنْ كانتْ عندَ أحدِهِم وليست عند الباقين رقمتُ رسمَه وتركتُ رسمَهم، وكذلكَ إنْ لم يكن
(9) عند واحد وكانت عند الباقين كتبتُ عليها (لا)، ورقمتُ فوقها الحرف المُصْطَلَحَ عليه،
--------------------------------------------
ইবনে মানসুর আস-সামআনী, আমি এর ওপর লিখেছি: (৫ সোয়াদ সীন জোয়া) এভাবে।
আর তাদের মধ্যে তিন জন যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, আমি তাদের একজনের প্রতীক বাদ দিয়েছি।
আর অনুরূপভাবে
(১) যদি তাদের মধ্য থেকে দুই জন একমত হন, তবে তাদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকটি
(২) চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর যদি তা তাদের কাছে না থাকে; তবে আমি হয় পার্শ্বটীকায়
(৩) লিখি: (৫ সোয়াদ সীন ত
(৪))-এর কাছে বাদ পড়েছে, অথবা আমি তার ওপর (না) লিখি এবং যার কাছে নেই তার প্রতীকটি চিহ্নিত করি।
যার
(৫) উদাহরণ হলো: ওহী শুরুর হাদিসে
(৬) আমার শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: (তিনি তোমার জন্য তা তোমার বক্ষে জমা করেছেন), আর (৫ সোয়াদ সীন জোয়া)-এর কাছে এসেছে: (তোমার বক্ষ তোমার জন্য তা জমা করেছে) 'মধ্যে' (ফি) শব্দটি বাদ দিয়ে। এমতাবস্থায় আমি হয়
(৭) 'মধ্যে' (ফি) শব্দের ওপর (না) লিখি এবং
(৮) তার উপরে বা পাশে (৫ সোয়াদ সীন ত) চিহ্ন দেই; এটা তখন করি যখন এটি বাদ পড়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। আর যদি এটি তাদের একজনের কাছে থাকে কিন্তু অন্যদের কাছে না থাকে, তবে আমি তার প্রতীক চিহ্নিত করি এবং অন্যদের প্রতীক ছেড়ে দেই। আর অনুরূপভাবে যদি একজনের কাছে না
(৯) থাকে এবং অন্যদের কাছে থাকে, তবে আমি তার ওপর (না) লিখি এবং তার উপরে পারিভাষিক বর্ণটি লিখে দেই,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٥)
وعلى ذلك فَقِس في كلِّ ما تراه مرقوماً عليه، فافهم الرسم، واحذر من الغلط.
وراعيتُ رقم أبي ذر ومشايخه الثلاثة: الحَمُّويي والمستملي وأبي الهيثم، فما خالف أصل سماعي فإنْ كانت المخالفة من الجميع كتبتُهُ
(1) في الهامش، ورَقَمْتُ عليه (5) هكذا، وصححتُ عليه (صح) هكذا، وإن وافق أحد مشايخه أصل سماعي كتبتُ الذي خالف إمَّا في الأصلِ بين الأسطر ورقمتُ عليه ما تقرر من الاصطلاح إنه قد رُسم له، أو في الهامش وكتبتُ فوقه الرقم.
فالحَمُّويي رقمه (حـ) هكذا.
والمستملي (سـ) هكذا.
والكُشْمِيْهَنِي (هـ) هكذا.
فإنْ كان
(2) عند الحَمُّويي والمستملي رقمتُ عليه (حسـ) هكذا.
وإن كان عند الحَمُّويي وأبي الهيثم رقمتُ عليه (حهـ) هكذا.
وإن كان
(3) عند المستملي وأبي الهيثم رقمتُ عليه (سهـ) هكذا
(4).
وإنْ كان ثابتًا عندَ أحدهم دون الآخرين
(5) رقمتُ عليه رسْمَه، إمَّا في الأصل أو في الهامش.
--------------------------------------------
এর ওপর ভিত্তি করেই আপনি যা কিছু চিহ্নিত দেখবেন তা অনুমান করে নিন; সুতরাং এই চিহ্নসমূহ বুঝে নিন এবং ভুল করা থেকে সতর্ক থাকুন।
আমি আবু যার এবং তাঁর তিন উস্তাদ—হামমুয়ি, মুস্তামলি এবং আবুল হাইসামের চিহ্নাদির প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। যা আমার শ্রবণকৃত মূল পাঠের পরিপন্থী হয়েছে, সেই বিরোধিতা যদি সবার পক্ষ থেকে হয়, তবে আমি তা পার্শ্বটীকায় লিখেছি
(১) এবং তার ওপর এভাবে (৫) চিহ্ন দিয়েছি এবং তার ওপর এভাবে (সহ) লিখে শুদ্ধ করেছি। আর যদি তাঁর উস্তাদদের মধ্যে কোনো একজন আমার শ্রবণকৃত মূলের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন, তবে আমি ভিন্নমতটিকে হয় মূল পাঠের লাইনের মাঝখানে লিখেছি এবং তার ওপর নির্ধারিত পরিভাষা বা চিহ্ন এঁকে দিয়েছি যা তার জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথবা পার্শ্বটীকায় লিখে তার ওপর চিহ্নটি বসিয়েছি।
হামমুয়ির চিহ্ন হলো এভাবে (হা)।
মুস্তামলির চিহ্ন হলো এভাবে (সিন)।
কুশমিহানির চিহ্ন হলো এভাবে (হা)।
যদি তা
(২) হামমুয়ি এবং মুস্তামলির নিকট থাকে, তবে আমি তার ওপর এভাবে (হা-সিন) চিহ্ন দিয়েছি।
আর যদি তা হামমুয়ি এবং আবুল হাইসামের নিকট থাকে, তবে আমি তার ওপর এভাবে (হা-হা) চিহ্ন দিয়েছি।
আর যদি তা
(৩) মুস্তামলি এবং আবুল হাইসামের নিকট থাকে, তবে আমি তার ওপর এভাবে (সিন-হা) চিহ্ন দিয়েছি
(৪)।
আর যদি তা অন্যদের বাদ দিয়ে তাদের মধ্যে কেবল একজনের নিকট সাব্যস্ত থাকে
(৫), তবে আমি তার ওপর তার চিহ্নটি বসিয়ে দিয়েছি, হয় মূল পাঠে অথবা পার্শ্বটীকায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٦)
وقد وقع شيءٌ كثيرٌ من التراجم والأحاديث والكلمات ويُرقم عليها في رواية أبي ذر أَنَّها عند المستملي وحدَهُ، وهي في
(1) أصل سماعي من «صحيح البخاري» الذي أخبرني به الإمام العالم الثِّقة أبو عبد الله الحُسينُ بنُ أبي بكر عبد الله بن
(2) المبارك بن محمد بن يحيى بن الزَّبيديُّ الرَّبْعيُّ
(3) السَّلاميُّ بقراءة سيدي ومولاي والدي أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الله اليُونينيِّ، والحافظُ الإمامُ العلَّامةُ مفتي الفِرَق رئيسُ الأصحابِ حجةُ العلماءِ تقي الدين أبو
(4) العباس أحمد بن الإمام العلَّامة الحافظ عز الدين الدين محمد بن الإمام العلَّامة
(5) حُجة الحُفَّاظ الحافظ تقي الدين أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سُرور.
وقراءة ابن عمِهِ الإمام العالم شرف الدين أبي محمد الحسن
(6) بن الإمام الحافظ جمال الدين أبي موسى عبد الله بن الحافظ عبد الغنيِّ
(7)، والإمام العالم
(8) المحدِّث سيف الدين أبي العباس أحمد بن عيسى بن الإمام العلَّامة موفق الدين أبي محمد عبد الله بن أحمد بن محمد بن قُدامة المقدسيين، وذلك في شهر رمضان سنة ثلاثين وستمئية، بدمشق المحروسة، في قلعتها:
على
(9) الشيخ الثقة الصدوق الصالح السَّديد بقية الأشياخ أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب بن إبراهيم بن إسحاق السِّجِزي الهَروي قراءة عليه في شهور سنة ثلاث
--------------------------------------------
অনেক শিরোনাম, হাদিস এবং শব্দাবলি এমন রয়েছে যেগুলোর ওপর আবু যর-এর বর্ণনায় চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে, সেগুলো কেবল মুস্তামলী-র নিকট বিদ্যমান, এবং তা
(১) আমার শ্রুত ‘সহীহ বুখারী’-র মূল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান, যা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য আলেম ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন
(২) আল-মুবারক বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আয-যাবাইদি আর-রাবঈ
(৩) আস-সালামী; আমার সাইয়্যেদ, মাওলা এবং পিতা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনী-র পাঠের মাধ্যমে; এবং হাফেজ, ইমাম, আল্লামা, বিভিন্ন মাযহাবের মুফতি, সহচরদের প্রধান, ওলামাদের হুজ্জত তাকিউদ্দীন আবু
(৪) আব্বাস আহমাদ বিন ইমাম আল্লামা হাফেজ ইযযুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইমাম আল্লামা
(৫) হাফেজদের হুজ্জত হাফেজ তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূরের পাঠের মাধ্যমে।
এবং তাঁর চাচাতো ভাই আলেম ইমাম শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান
(৬) বিন ইমাম হাফেজ জামালুদ্দীন আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন হাফেজ আব্দুল গনি-র পাঠের মাধ্যমে
(৭), এবং আলেম ইমাম
(৮) মুহাদ্দিস সাইফুদ্দীন আবু আব্বাস আহমাদ বিন ঈসা বিন ইমাম আল্লামা মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসীগণের পাঠের মাধ্যমে; আর তা ছিল ৬৩০ হিজরীর রমজান মাসে, সুরক্ষিত দামেস্কের কেল্লায়:<
নির্ভরযোগ্য, অত্যন্ত সত্যবাদী, নেককার, সুদৃঢ় শাইখ, পূর্বসূরি শাইখদের শেষ প্রতিনিধি আবু ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব বিন ইব্রাহিম বিন ইসহাক আস-সিজিযী আল-হারাভীর সম্মুখে
(৯) পাঠের মাধ্যমে, তাঁর নিকট এই পাঠ সম্পন্ন হয়েছিল তিন সনের মাসসমূহে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٧)
وخمسين وخمسمئية
(1):
أخبَرَنا
(2) الإمام جمال الإسلام أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر بن محمد بن داود بن أحمد بن معاذ بن سهل بن الحكم الدَّاوديُّ قراءة عليه ببُوْشَنج في ذي القعدة سنة خمس وستين وأربعمئة
(3):
أخبرنا
(4) الإمام أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حَمُّويه بن أحمد بن يوسف بن أعين السَّرخسي قراءةً عليه/ في صفر سنة إحدى وثمانين وثلاثمية، عن الفربري، عن البُخاريِّ.
وإنَّما سقتُ سندي حتى يُعلم أنَّه عن الحمُّويي، وقد خالفَتْ روايةُ الحافظ أبي ذر عبد؟ بن أحمد بن عُفير الهروي عن الحمويي
(5) لرواية أبي الحسن الداوودي عن الحمويي في أشياء ثابتة عند الحمُّويي، وكذلك يُرقَم على ترجمة
(6) أنَّها ليست عند الحَمُّويي من روايته، وهي ثابتة في أصل سماعي من رواية الدَّاودي عن الحمويي، أو يُرقم فوقها بما اصطلح الحافظ أبو ذر عليه من (هـ) هكذا أنها عنده، وهي ثابتة عند الحمُّويي من روايتي
(7) (حـ) هكذا، أو (سـ) هكذا فيُعْلَم ذلك، وليس ما أعلمتُ
(8) عليه مِن أنَّه عند أبي الهيثم على ما أرقم عليه أنَّ ذلك ليس في روايتي، وإِنَّما رقمتُ فوقه
(9) أو نبهتُ عليه، إمَّا في الأصل أو في الهامش
(10)؛ حتى يُعْلَم أَنَّه عند
--------------------------------------------
এবং পঞ্চাশ এবং পাঁচশত (৫৫০)
(১):
আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন
(২) ইমাম জামালুল ইসলাম আবুল হাসান আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফার বিন মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন আহমদ বিন মুআয বিন সাহল বিন আল-হাকাম আদ-দাউদী, ৪৬৫ হিজরী সালের যিলকদ মাসে বুশাঞ্জ-এ তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে
(৩):
আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন
(৪) ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্মুওয়াইহ বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন আয়িন আস-সারখাসী, ৩৮১ হিজরী সালের সফর মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি আল-ফিরাবরী থেকে, তিনি আল-বুখারী থেকে।
আমি কেবল আমার সনদটি উল্লেখ করেছি যাতে জানা যায় যে এটি হাম্মুওয়াইহ থেকে বর্ণিত। আর হাম্মুওয়াইহ থেকে হাফিয আবু যার আবদ? বিন আহমদ বিন উফায়ির আল-হারাভীর বর্ণনাটি
(৫) হাম্মুওয়াইহ-এর নিকট সুসাব্যস্ত কিছু বিষয়ে আবু হাসান আদ-দাউদী কর্তৃক হাম্মুওয়াইহ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার পরিপন্থী হয়েছে। অনুরূপভাবে কোনো কোনো শিরোনামের
(৬) ওপর চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে তা হাম্মুওয়াইহ-এর বর্ণনায় নেই, অথচ তা আদ-দাউদী কর্তৃক হাম্মুওয়াইহ থেকে বর্ণিত আমার মূল শ্রবণকৃত পাণ্ডুলিপিতে সুসাব্যস্ত। অথবা তার ওপর হাফিয আবু যার কর্তৃক নির্ধারিত পরিভাষা অনুযায়ী (হ) এভাবে চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে তা তাঁর নিকট রয়েছে, আবার তা আমার বর্ণনায় হাম্মুওয়াইহ-এর নিকট সুসাব্যস্ত হওয়ার কারণে (হা) এভাবে, অথবা (সিন) এভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যাতে তা জানা যায়। আর আবু হাইসামের নিকট যা আছে বলে আমি চিহ্নিত করেছি
(৮) তার অর্থ এই নয় যে তা আমার বর্ণনায় নেই; বরং আমি কেবল তার ওপরে চিহ্ন দিয়েছি
(৯) অথবা সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, মূল পাঠে অথবা পার্শ্বটীকায়
(১০); যাতে জানা যায় যে এটি তাঁর নিকট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٨)
الحافظ أبي ذر كذلك، وهو ثابت
(1) عند الحمُّويي من طريق الداودي فيُعْلَم ذلك.
وعُنِيْتُ برواية الإمام الحافظ
(2) أبي ذر لأمرين:
أحدهما: أَنِي قرأتُ جميع صحيح البخاري رضي الله عنه
(3) على الشيخ الإمام العالم المحدِّث شيخ القُراء وكبيرهم بالديار المصرية أبي الحسن علي بن شجاع بن سالم العبَّاسيِّ
(4) الضريرِ المنعوتِ بـ «كمال الدين»
(5) في شهور سنة إحدى وستين وستماية بالقاهرة المحروسة، من أصل سماعه بحق روايته له عن المشايخ الثلاثة الثقات المسندين:
أبي القاسم هبة الله بن علي سُعود بن ثابت بن غالب بن هاشم الأنصاري الخزرجي المعروف بالبوصيري.
والإمام المقري الصالح أبي عبد الله محمد بن حَمَد
(6) بن حامد بن مُفَرِّجِ الأَرْتَاحِيِّ الحنبليِّ المصري.
والثقة المسند أبي محمد عبد الرحمن بن عبد الله عتيق بن باقا البغدادي
(7).
قال البوصيري: أخبرنا
(8) الإمام العلَّامة اللغوي النحوي أبو عبد الله محمد بن بركات بن هلال بن عبد الواحد السَّعِيْدِيُّ الصوفي رحمه الله
(9).
--------------------------------------------
হাফেজ আবু যর থেকেও অনুরূপ বর্ণিত, আর আল-হামমুয়ী-এর নিকট আদ-দাউদী-এর সূত্রে এটি প্রমাণিত; সুতরাং তা অবগত হওয়া গেল।
আর আমি ইমাম হাফেজ
(২) আবু যর-এর বর্ণনাটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি দুটি কারণে:
প্রথমত: আমি সম্পূর্ণ সহীহ আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(৩) পাঠ করেছি শাইখ ইমাম, আলিম, মুহাদ্দিস, ক্বারীগণের শাইখ এবং মিসর অঞ্চলের প্রধান ব্যক্তি আবুল হাসান আলী বিন শুজা বিন সালিম আল-আব্বাসী
(৪) আদ-দারীরের নিকট, যিনি ‘কামালুদ্দীন’
(৫) উপাধিতে ভূষিত। এটি ছিল ৬৬১ হিজরী সনের মাসগুলোতে সংরক্ষিত কায়রো শহরে। আমি তাঁর সেই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করেছি যা তিনি তিনজন নির্ভরযোগ্য এবং মুসনিদ (যাঁদের বর্ণনাসূত্র রয়েছে) শাইখের নিকট থেকে বর্ণনার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন:
আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলী সুউদ বিন সাবিত বিন গালিব বিন হাশিম আল-আনসারী আল-খাজরাজী, যিনি আল-বূসিরী নামে পরিচিত।
এবং সালেহ ইমাম ও ক্বারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামাদ
(৬) বিন হামিদ বিন মুফাররিজ আল-আরতাহী আল-হাম্বালী আল-মিসরী।
এবং নির্ভরযোগ্য মুসনিদ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আতিক বিন বাকা আল-বাগদাদী
(৭)।
আল-বূসিরী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৮) ইমাম আল্লামা, ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বারাকাত বিন হিলাল বিন আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাঈদী আস-সূফী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٩)
وقال الأَرْتَاحِيُّ: أخبرنا
(1) الشيخ المُسْنِد أبو الحسن علي بن الحسين بن عمر الفرَّاء إجازةً.
قالا: أخبرتنا الحُرَّة العالمة أمُّ الكرام كريمةُ بنتُ أحمد بن محمد بن حاتم المروزية.
وقال البوصيري أيضاً: أخبرنا
(2) الشيخ المُسنِد أبو صادق مُرْشد بن يحيى بن القاسم
(3) بن علي بن محمد بن خلف
(4) بن زِعْبل المدني
(5) إجازةً إن لم يكن سماعاً، قال
(6): أخبرتنا كريمة المروزية -قال السَّعِيْدِيُّ: بقراءتي عليها سنة ستٍّ -وقال أبو صادق: قراءة عليها
(7) وأنا أسمع في شوال سنة سبعٍ، ثم اتفقا- وخمسين وأربعمئة/ بمكة شرفها الله تعالى قالت:
أخبرنا
(8) أبو الهيثم
(9) محمد بن المكيِّ بن محمد بن المكي بن زراع الكُشْمَاهني
(10) قراءة عليه وأنا أسمع في جمادى الأول سنة تسع وثمانين وثلاثمئية:
قال: أخبرنا
(11) أبو عبد الله محمد بن
(12) يوسف بن مطر بن صالح بن بشر بن إبراهيم الفربري، بفربر قراءة عليه وأنا أسمع في شهر ربيع الأول سنة عشرين وثلاثمئة:
حدَّثنا
(13) الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن الأحنف
--------------------------------------------
এবং আরতাহি বলেছেন: শায়খ আল-মুসনিদ আবু الحسن আলী বিন আল-হুসাইন বিন উমর আল-ফাররা ইজাজতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(১)তাঁরা উভয়ে বলেন: বিদুষী মহীয়সী উম্মুল কিরাম কারীমা বিনতে আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম আল-মারওয়াযিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
আল-বুসিরিও বলেছেন: শায়খ আল-মুসনিদ আবু সাদিক মুরশিদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-কাসিম
(৩) বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ
(৪) বিন যিবিল আল-মাদানি
(৫) শ্রবণসূত্রে না হলেও ইজাজতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(২) তিনি বলেন
(৬): কারীমা আল-মারওয়াযিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন —আস-সাঈদি বলেছেন: ৪৬৫ হিজরি সনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে— এবং আবু সাদিক বলেছেন: ৪৫৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার সময়
(৭) আমি শ্রবণ করছিলাম, অতঃপর তাঁরা উভয়ে একমত হলেন— চারশত সাতান্ন হিজরি সনে মক্কায় (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন), তিনি বললেন:
আবু আল-হাইসাম
(৯) মুহাম্মাদ বিন আল-মাক্কি বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মাক্কি বিন যুরা আল-কুশমাহানি
(১০) ৩৮৯ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৮) এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম:
তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন
(১২) ইউসুফ বিন মাতার বিন সালিহ বিন বিশর বিন ইব্রাহিম আল-ফিরাবরি ৩২০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে ফিরাবর নামক স্থানে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(১১) এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম:
ইমাম আল-হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগিরা বিন আল-আহনাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(১৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الجعفي، مولاهم البخاري بصحيحه مرتين، مرة بفِربر سنة ثمان وأربعين، ومرة سنة اثنتين وخمسين ومائتين.
وقال أبو محمد عبد الرحمن بن عبد الله عتيق بن باقا: أخبرنا
(1) أبو الوقت: أخبرنا الداودي: أخبرنا الحمويي: أخبرنا الفربري: أخبرنا
(2) البخاري.
الأمر
(3) الثاني: أنَّ أصل سماعي الوقف بخانكاة الشيخ أبي القاسم السُّيمصاطي
(4) الذي سُمِعَ على الشيخ أبي الوقت ببلاد خراسان بقراءة الإمام الحافظ أبي سعد
(5) عبد الكريم بن محمد بن منصور السَّمعاني فإنَّه مسموع من رواية كريمة المروزية، وقد جمع فيه بين روايتي أبي الوقت وكريمة فعنيت برواية أبي ذر لأنَّ أحد مشايخه -وهو أبو الهيثم- شيخ كريمة المروزية، وقد خالفت كريمة المروزية في روايتها عن الكشماهني للحافظ أبي ذر في أشياء من روايته عن الإمام أبي الهيثم الكشمهيني.
والأصل الذي قابلت به من طريق الحافظ أبي ذر هو مسموع على الشيخ الإمام الثقة العالم الفقيه المسنِد أبي العباس أحمد بن عبد الله بن الحُطَيْئة، عن الشيخ الفقيه العالم أبي عبد الله محمد بن منصور
(6) الحضرمي، عن الشيخ الفقيه أبي القاسم عبد الجليل بن أبي سعد، عن الحافظ أبي ذر الهروي.
--------------------------------------------
আল-জু'ফি, তাদের আযাদকৃত দাস আল-বুখারি তার সহিহ গ্রন্থটি দুইবার শুনিয়েছেন, একবার চব্বিশ (আটচল্লিশ) হিজরি সনে ফিরবরে এবং একবার দুইশত বায়ান্ন হিজরি সনে।
এবং আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আতিক বিন বাকা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দাউদি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হামুইয়ি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফিরাবরি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারি।
দ্বিতীয় বিষয়: আমার শ্রবণের মূল ভিত্তি হলো শায়খ আবু আল-কাসিম আস-সুমাইসাতির খানকাহর ওয়াকফকৃত পাণ্ডুলিপি, যা খোরাসান দেশে ইমাম হাফিজ আবু সা'দ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর আস-সামআনির কিরাআতের মাধ্যমে শায়খ আবু আল-ওয়াক্তের নিকট শ্রবণ করা হয়েছে; এটি কারিমা আল-মারওয়াজিয়ার বর্ণনা থেকে শ্রবণকৃত। এতে আবু আল-ওয়াক্ত এবং কারিমা—উভয়ের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে, তাই আমি আবু যার-এর বর্ণনার প্রতি মনোনিবেশ করেছি, কারণ তার অন্যতম শায়খ—যিনি হলেন আবু আল-হাইসাম—কারিমা আল-মারওয়াজিয়ারও শায়খ ছিলেন। কারিমা আল-মারওয়াজিয়া আল-কুশমিহানি থেকে তার বর্ণনায় হাফিজ আবু যারের কিছু বর্ণনার বিপরীতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যা তিনি ইমাম আবু আল-হাইসাম আল-কুশমিহানি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর যে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে আমি হাফিজ আবু যারের সূত্রের মাধ্যমে তুলনা করেছি, তা বিশ্বস্ত ইমাম, আলিম, ফকিহ এবং মুসনিদ আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুতাইয়ার নিকট শোনা হয়েছে, তিনি শায়খ ফকিহ আলিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মানসুর আল-হাদরামি থেকে, তিনি শায়খ ফকিহ আবু আল-কাসিম আব্দুল জলিল বিন আবু সা'দ থেকে এবং তিনি হাফিজ আবু যার আল-হারাউয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١١)
وهي نسخة صحيحة معتنًى بها حُجة.
قال الإمام الحافظ العالم
(1) العارف الزاهد العابد أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن الأزهر الصَّرْيَفيني
(2) شيخنا: هذه النسخة من صحيح البخاري مَفْزَع يُلجأُ إليه لصحتها وإتقانها
(3).
وأمَّا الأصل المعزوُ إلى الأصيلي فإنَّه وقفٌ في مدرسة شيخنا الحافظ ضياء الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي، وعليه حواشي
(4) بخط الحافظ أبي عُمر يوسف بن عبد البر النَّمري، وهو أصل صحيح تظهر
(5) عليه مخايلُ النَّباهة والصَّحة.
وأما الأصل المعزو إلى الحافظ أبي القاسم مؤرخ الشام علي بن الحسن بن هبة الله بن عساكر فإِنَّه أصل سماعه، وقد سُمِعَ عليه غير مرة.
وأما الأصل المعزو إلى الحافظ أبي سعد السمعاني فإنه أصل أصيل، وهو أحد أصول
(6) سماعات دمشق المحروسة وخراسان ردَّها الله
(7) إلى المسلمين، وهو قد سُمِعَ على جماعة من الحُفَّاظ، وسُمِعَ بقراءة جماعة من الحفاظ.
واخترتُ لأبي ذر (5) على هذا الشكل علامة؛ لأنَّه غلب عليه النسبة إلى بلده، فلا يُقال إلَّا الحافظ الهروي.
وللأصيلي (ص) هكذا؛ لأنه غلب عليه النسبة إلى بلده، وهي
(8): أزيله، فقُلبت إلى الصاد، وغَلبت على
(9) الزاي.
--------------------------------------------
এটি একটি বিশুদ্ধ, সযত্নে সংরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি।
আমাদের শাইখ ইমাম, হাফিজ, আলিম, আরিফ, যাহিদ, আবিদ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-আযহার আস-সারিফিনি বলেছেন: সহিহ বুখারির এই পাণ্ডুলিপিটি এমন এক আশ্রয়স্থল, যার বিশুদ্ধতা ও সুনিপুণতার কারণে এর প্রতি নির্ভর করা হয়।
আর আল-আসিলির দিকে সম্বন্ধযুক্ত মূল পাণ্ডুলিপিটি আমাদের শাইখ হাফিজ জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসির মাদরাসায় ওয়াকফকৃত। এতে হাফিজ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামরির স্বহস্তে লিখিত টীকা রয়েছে। এটি একটি বিশুদ্ধ মূল পাণ্ডুলিপি, যাতে মেধা ও নির্ভুলতার লক্ষণসমূহ সুস্পষ্ট।
আর হাফিজ আবুল কাসিম, শামের ঐতিহাসিক আলি বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকিরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত মূল পাণ্ডুলিপিটি হলো তাঁর সরাসরি শ্রুত মূল কপি, যা তাঁর নিকট একাধিকবার পাঠ করে শোনানো হয়েছে।
আর হাফিজ আবু সা’দ আস-সামআনির দিকে সম্বন্ধযুক্ত মূল পাণ্ডুলিপিটি একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও মৌলিক উৎস। এটি সুরক্ষিত দামেস্ক এবং খোরাসানের—আল্লাহ যেন একে পুনরায় মুসলিমদের নিকট ফিরিয়ে দেন—অন্যতম প্রধান শ্রুত পাণ্ডুলিপি। এটি একদল হাফিজের উপস্থিতিতে শোনা হয়েছে এবং একদল হাফিজের পাঠের মাধ্যমে এটি শ্রুত হয়েছে।
আমি আবু যর-এর জন্য (৫) এই আকৃতির একটি চিহ্ন নির্ধারণ করেছি; কারণ তাঁর ক্ষেত্রে তাঁর শহরের নিসবতটিই (পরিচয়) প্রাধান্য পেয়েছে, ফলে তাঁকে ‘হাফিজ আল-হারাউই’ ছাড়া অন্য কিছু বলা হয় না।
আর আল-আসিলির জন্য (সদ) এই রূপ চিহ্ন দিয়েছি; কারণ তাঁর ক্ষেত্রেও তাঁর শহরের নিসবতটি প্রাধান্য পেয়েছে, আর তা হলো: আযিলাহ। অতঃপর ‘যায়’ বর্ণটি ‘সদ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে এবং তা ‘যায়’-এর ওপর প্রবল হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وللحافظ الدِّمشقي مؤرخ الشام (س) هكذا؛ لأنَّه لا يقال له إلا ابن عساكر.
وإما ابن السمعاني فاخترت له الظاء؛ لحفظه وإتقانه وتقدُّمه على أقرانه فيُعْلَمُ ذلك.
وكذلك ربما وقع الخلاف في حرف واحد من الكلمة
(1)، مثل أن يكون
(2) في أصل سماعي: (فقال)، وفي غيره: (وقال) بالواو وبالعكس، فربما كتبت الحرف المختلف فيه فقط، ورقمتُ فوقه
(3) أو إلى جانبه بالحرف المصطلح عليه، وكذلك إذا كان الخلاف في الياء والتاء أو غير ذلك من الحروف.
--------------------------------------------
আর দামেস্কের হাফেজ তথা শামের ঐতিহাসিকের জন্য (সীন) প্রতীকটি রাখা হয়েছে; কারণ তাঁকে ইবনে আসাকির ছাড়া অন্য কোনো নামে অভিহিত করা হয় না।
আর ইবনে সাম'আনী-এর ক্ষেত্রে আমি (যা) বর্ণটি বেছে নিয়েছি; তাঁর হেফজশক্তি, নির্ভুলতা এবং সমসাময়িকদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে, যেন বিষয়টি অবগত হওয়া যায়।
অনুরূপভাবে শব্দের কোনো একটি বর্ণেও মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হতে পারে, যেমন কোনো শ্রবণকৃত মূলে রয়েছে: (অতঃপর তিনি বললেন), আবার অন্য কপিতে রয়েছে: (এবং তিনি বললেন) ‘ওয়াও’ যোগে, অথবা এর বিপরীত। সে ক্ষেত্রে হয়তো আমি শুধু মতভেদপূর্ণ বর্ণটিই লিখেছি এবং তার উপরে অথবা পাশে পারিভাষিক সংকেতটি বসিয়ে দিয়েছি। একইভাবে যখন ‘ইয়া’ এবং ‘তা’ অথবা অন্য কোনো বর্ণের ক্ষেত্রে মতভেদ ঘটে থাকে, তখনো অনুরূপ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقد أخبرني بالجامع الصحيح من رواية الإمام الحافظ أبي محمد
(1) الأصيلي رحمه الله فأخبرني سيدي ومولاي والدي أبو عبد الله محمد رحمه الله إذنًا
(2):
أخبرنا
(3) الشيخ الثقة المسنِد أبو طاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر بن بركات الخُشُوعي
(4) إجازة
(5):
أنبأنا الشيخ الإمام
(6) أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتَّاب
(7) إذنًا
(8):
أخبرني والدي
(9) عن أحمد بن ثابت الواسطي
(10) وغيره، عن الأصيلي عن أبي زيد محمد بن أحمد المروزي، وأبي محمد يوسف الجرجاني، كلاهما عن الفربري.
قال أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتاب: وأخبرني بالجامع الصحيح أبو عبد الله بن نبات
(11) أجازة عن الأصيلي.
وأما رواية الحافظ أبي القاسم مؤرخ الشام للجامع الصحيح فحدَّثني بها إجازةً الشيخ السديد المكي بن علان القيسي
(12) وزين الأمناء
(13)، بحق سماع شيخنا زين الأمناء من عمه مُؤَرِّخ الشام.
وهذا الرسم الذي أشرتُ إليه وجعلتُهُ مضافًا إلى رواية الحافظ أبي ذرٍ فهو رسم روايتي في الأصل الذي رواه الحافظ أبو سعد
(14) عبد الكريم ابن السمعاني على أبي الوقت.
وإِنَّما وقع اختياري على هذه النسخة المنسوبة إلى الحافظ أبى ذر لتحقُق ضبطها وتحريره، وما قاله شيخنا الحافظ أبو إسحاق إبراهيم بن الأزهر الصَّرْيَفيني من جودة ضبطها وأنَّها مَفْزَعٌ يرجع إليه وإن خالفتها النسخة
(15) الوقف السمصاطي
(16) في بعض رسم ما، فيعلم ذلك.
--------------------------------------------
ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মদ
(১) আল-আসিলি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা থেকে আমাকে 'আল-জামে আস-সহিহ' সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আমার সাইয়্যিদ ও মাওলা, আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ), অনুমতিক্রমে:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শাইখ ও মুসনিদ আবু তাহির বারাকাত ইবনে ইবরাহিম ইবনে তাহির ইবনে বারাকাত আল-খুশুয়ি
(২) ইজাজতসূত্রে:
আমাদের খবর দিয়েছেন শাইখ ইমাম
(৩) আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব
(৪) অনুমতিক্রমে:
আমাকে আমার পিতা
(৫) আহমদ ইবনে সাবিত আল-ওয়াসিতি
(৬) ও অন্যদের থেকে, তিনি আল-আসিলি থেকে, তিনি আবু যায়েদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মারওয়াযি ও আবু মুহাম্মদ ইউসুফ আল-জুরুজানি থেকে, তারা উভয়ে আল-ফারাবরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন।
আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব বলেন: আমাকে 'আল-জামে আস-সহিহ' সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে নাবাত
(৭) আল-আসিলি থেকে ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।
আর শাম দেশের ইতিহাসবিদ হাফিজ আবুল কাসিম কর্তৃক 'আল-জামে আস-সহিহ'-এর বর্ণনার বিষয়ে আমাকে ইজাজতসূত্রে হাদিস শুনিয়েছেন শাইখ আস-সাদিদ মক্কি ইবনে আল্লান আল-কায়সি
(৮) এবং যাইনুল উমানা
(৯)। আমাদের শাইখ যাইনুল উমানা শাম দেশের ইতিহাসবিদ তথা তার চাচার নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের ভিত্তিতে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর এই যে পাণ্ডুলিপির শৈলী (রসম) যা আমি উল্লেখ করেছি এবং যা হাফিজ আবু যর-এর বর্ণনার সাথে যুক্ত করেছি, তা মূলত আমার সেই বর্ণনারই শৈলী যা হাফিজ আবু সাদ
(১০) আব্দুল কারিম ইবনে আস-সামআনি আবু ওয়াকতের সামনে পাঠ করে বর্ণনা করেছেন।
হাফিজ আবু যর-এর দিকে নিসবতকৃত এই পাণ্ডুলিপিটি আমি বেছে নিয়েছি এর বিশুদ্ধতা ও সূক্ষ্ম সম্পাদনার কারণে। আর আমাদের শাইখ হাফিজ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আল-আযহার আস-সারাইফিনি এর বিশুদ্ধতার উৎকর্ষ সম্পর্কে যা বলেছেন তা হলো, এটি একটি নির্ভরযোগ্য উৎস যার দিকে ফিরে যেতে হয়; যদিও সামসাতি
(১১) ওয়াকফ পাণ্ডুলিপিটি কোনো কোনো শৈলীর ক্ষেত্রে এর বিপরীত হয়। সুতরাং বিষয়টি যেন অবগত থাকা হয়।
--------------------------------------------
\n'
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وقد أخبرني نازلًا برِواية الحافظ أبي ذر بدرجات الشيخ المقرئ أبو الفضل
(1) جعفر الهمْداني إجازة، عن الحافظ أبي طاهر السلفي
(2) إجازة، عن الإمام أبي الفضل عِياض إجازة.
قال القاضي عِياض: أخبرني القاضي الشهيد أبو علي الحسين بن محمد الصَّدفي، عن القاضي أبي الوليد سليمان بن خلف الباجي عن أبي ذر رحمه الله تعالى، وصلى الله على محمد وآله وصحبه.
(3)--------------------------------------------
এবং তিনি আমাকে হাফেয আবু যর-এর বর্ণনায় নিম্ন পর্যায়ের সনদে সংবাদ প্রদান করেছেন, যা শেখ মুকরি আবু আল-ফজল জাফর আল-হামদানি-এর ইজাজতের মাধ্যমে, তিনি হাফেয আবু তাহের আস-সালাফি থেকে ইজাজতপ্রাপ্ত হয়ে, তিনি ইমাম আবু আল-ফজল ইয়াজ থেকে ইজাজতপ্রাপ্ত হয়ে বর্ণনা করেছেন।
কাজী ইয়াজ বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কাজী শহীদ আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আস-সাডাফি, তিনি কাজী আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ আল-বাজি থেকে, তিনি আবু যর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের উপর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح البخاري - ن عطاءات العلم القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (194 - 256 هـ)
نسخة الحافظ: شرف الدين أبي الحسين علي بن محمد اليونيني (621 - 701 هـ)
اعتنى به: دار الكمال المتحدة
الناشر: عطاءات العلم - موسوعة صحيح البخاري، https://bukhari-pedia.net
عام النشر: 1437 هـ
أهداه للشاملة: «عطاءات العلم» جزاهم الله خيرًا
[رقمنا صفحات الكتاب بالشاملة موافقا لطبعة «بيت السنة»، للتشابه بينهما]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الآخرة 1445
সহীহ আল-বুখারী - আতাআত আল-ইলম বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (১৯৪ - ২৫৬ হিজরি)
হাফিযের সংস্করণ: শারাফুদ্দীন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইউনিনী (৬২১ - ৭০১ হিজরি)
সম্পাদনায়: দার আল-কামাল আল-মুত্তাহিদা
প্রকাশক: আতাআত আল-ইলম - সহীহ আল-বুখারী বিশ্বকোষ، https://bukhari-pedia.net
প্রকাশকাল: ১৪৩৭ হিজরি
শামেলার জন্য উপহার দিয়েছেন: «আতাআত আল-ইলম» আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[উভয় সংস্করণের মধ্যে সাদৃশ্য থাকার কারণে আমরা শামেলায় কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর «বাইতুস সুন্নাহ» সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করেছি]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١)
التعريف بالنسخة اليونينية ومنهج عملنا فيهاشغلَت قضيةُ ضبط وإتقان نسخةٍ من الجامع الصحيح للإمام أبي عبد الله البخاري رحمه الله تكون عُمدةً لطلَّاب العلم المحققين ومثابةً للباحثين المدققين وأمنًا للقراء النابهين من زَلَّات الوهم والخطأ أو شطحات التحريف والتصحيف، شغلت هذه القضية ضمائرَ الكِبار من أئمة العلم - سواءً المختصين بالرواية منهم أو المتخصصين بالدراية - منذ طبقة تلاميذ الإمام البخاري رحمه الله فهُلُمَّ جرًا جيلًا بعدَ جيلٍ، إلى الحد الذي أوجب الرحلةَ على كثير من هؤلاء العلماء إلى آفاق الدنيا طلبًا منهم لتحصيل أصلٍ أصيلٍ متقَنٍ يُلجِمون به شِماسَ الاختلاف في ضبط ألفاظ وروايات هذا الكتاب الفَذِّ الذي أَذِنَ الله تعالى له أن يُرفَع.
ইউনিনী পাণ্ডুলিপির পরিচিতি এবং এতে আমাদের কাজের পদ্ধতিইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-জামি আস-সহীহ’-এর এমন একটি অনুলিপি নির্ভুল ও নিপুণভাবে প্রস্তুত করার বিষয়টি বড় বড় ইলমি ইমামদের—চাই তারা বর্ণনা (রিওয়ায়াত) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ হোন বা অনুধাবন (দিরায়াত) শাস্ত্রের—মনোযোগ ও চিন্তাজগতকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, যা গবেষণাধর্মী ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য মূল ভিত্তি, সূক্ষ্মদর্শী গবেষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র এবং সজাগ পাঠকদের জন্য বিভ্রান্তি, ভুল কিংবা বিকৃতি ও পরিবর্তনের বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষাস্বরূপ হবে। এই বিষয়টি ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্রদের যুগ থেকে শুরু করে একের পর এক প্রজন্ম ধরে চলে আসছে, এমনকি তা অনেক আলেমকে পৃথিবীর দিগ দিগন্তে সফর করতে বাধ্য করেছে একটি নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত মূল উৎস হাসিল করার উদ্দেশ্যে, যার মাধ্যমে তারা এই অনন্য কিতাবের শব্দাবলি ও বর্ণনার বিভিন্নতার অবাধ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন—যে কিতাবটিকে আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদা ও গ্রহণীয়তা দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢)
وما زال العلماء على جادتهم في ذلك السعي المبارَك لاحِقًا تِلوَ سابقٍ حتى بلغَت تلك العُهدةُ المقدَّسةُ ذِمةَ الإمام شرَف الدين أبي الحُسين علي بن محمد بن أحمد بن عبد الله الهاشمي الحُسَيني الحنبَلي الشهير باليُونِينِيِّ (المولود ببعلبك سنةَ إحدى وعشرين وست مئةٍ، والمتوفى فيها سنةَ إحدى وسبع مئة) رحمه الله، فأولاها كلَّ اهتمامه، وبَذَل لأجلها خلاصةَ عُمره، وصَرف إليها جَهدَ جُهدِه، حتى كانت مسألَةُ ضبط صحيح البخاري قضيةَ حياته؛ فقد ذكَر تلميذُه الإمامُ الذهبي رحمه الله أنه قابَلَ الصحيحَ في سنةٍ واحدةٍ فقط بضعَ عشرةَ مرة!
وكان رحمه الله لصدق نيته وإخلاص قصده قد أُمِدَّ بعناية الله تعالى وأُعِينَ بتوفيقه سبحانه؛ فتحصَّل لديه من الأصول النفيسة والنسخ القيمة من صحيح البخاري ما شَدَّ أَسْرَه ورسَّخ عزيمتَه وآزَر هِمَّتَه لإتقان نسخةٍ كانت في حياته وبعدَ موته مقصَدَ رحلة الطلَّاب وقِبلةَ تحصيلهم، فقد حازَ الإمام اليونيني رحمه الله من نُسخ الصحيح المعتمَدة:
1 - نسخةَ إمام ومحدِّث البلاد الشامية ومؤرِّخها: أبي القاسم ابن عساكر رحمه الله، وهي المرموز لها عنده بالرمز: (س).
2 - ونسخةَ الحافظ الجوَّال إمام مكة المكرمة: أبي ذَرٍّ الهَرَوي رحمه الله، وهي المرموز لها عنده بالرمز: (هـ).
3 - ونسخة إمام المغاربة وقُطبِ رَحى رواياتهم: أبي محمد الأصيلي رحمه الله، وهي المرموز لها عنده بالرمز: (ص).
4 - ونسخةً مسموعةً على حافظ المشرق الإمام أبي الوقت عبد الأول السِّجْزِي، وقد قرأها عليه - في ضمن مَن قرأها - الحافظ الإمام أبو منصور السَّمْعاني، رحمهم الله جميعًا، وهي الموقوفة في المدرسة السُميساطية، وهي المرموز لها عنده بالرمز: (ط).
فاعتَمَد على هذه الركائز وعلى غيرها من النسخ والروايات ليُقيم على أساسها صرحًا مُمرَّدًا طارت شهرتُه في الآفاق وسَدَّت سمعتُه مسَدَّ الليل والنهار، فرحل إليه الناس ليسمعوا منه الصحيح، ثم انضاف إلى ذلك أنه عَقَد إحدى نَوبات الإسماع لهذه النسخة بحضرة شيخه الإمام ابن مالك العلامة النحوي الشهير الذي كان قد سأله أهلُ العلم بدمشقَ عندما حَلَّ بها أنْ يوضِّح ويصحِّح لهم مشكلات ألفاظ روايات صحيح البخاري، فأجابهم إلى ذلك معتمِدًا في ضبط الروايات على حكومة الإمام اليونيني، فمن هاهنا ترسَّخَت عنايةُ مَن جاء بعد الإمام اليونيني من طلَّاب العلم بنسخته؛ لأنها صارت في حقيقتها بعد هذه النوبة نسخةً صادرةً عن مَجمَعٍ علمي بأكمله لا عن شخص منفردٍ؛ لأن الحاضرين لمجالس الإسماع كانوا ينظرون في نسخ معتمدة متابعين ومتتبعين لما يقرأه الإمام اليونيني كما وصف ذلك في آخر نسخته، ناهيك عن أنَّ أصول الإمام اليونيني كانت هي الأخرى نسخًا مقروءة ومصححة على أصحابها من الحفاظ.
উলামায়ে কিরাম এই বরকতময় প্রচেষ্টার পথে পূর্ববর্তীদের অনুসরণে একের পর এক নিয়োজিত ছিলেন, যে পর্যন্ত না এই পবিত্র আমানত ইমাম শরাফুদ্দিন আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাশিমী আল-হুসাইনী আল-হাম্বলী, যিনি আল-ইউনিনী নামে পরিচিত (তিনি ৬২১ হিজরিতে বালবাক-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭০১ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন), আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এর দায়িত্বে অর্পিত হয়। তিনি একে তাঁর পূর্ণ মনোযোগের কেন্দ্রে পরিণত করেন, তাঁর জীবনের সারাংশ এর জন্য উৎসর্গ করেন এবং এতে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। এমনকি সহীহ বুখারীর পাঠ ও বিশুদ্ধতা রক্ষা করাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। তাঁর ছাত্র ইমাম যাহাবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মাত্র এক বছরের মধ্যেই সহীহ বুখারীকে অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে দশবারেরও বেশি বার মিলিয়ে দেখেছিলেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর নিয়তের সততা এবং সংকল্পের একনিষ্ঠতার কারণে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ যত্ন ও তাওফীক লাভ করেছিলেন। ফলে তাঁর কাছে সহীহ বুখারীর এমন সব অমূল্য মূলকপি এবং মূল্যবান পাণ্ডুলিপি সংগৃহীত হয়েছিল, যা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তাঁর মনোবলকে সুদৃঢ় এবং সংকল্পকে শক্তিশালী করেছিল। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও এই পাণ্ডুলিপিটি জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্য এবং জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইমাম ইউনিনী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সহীহ বুখারীর যে সকল নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো হলো:
১ - সিরিয়া অঞ্চলের ইমাম, মুহাদ্দিস এবং ইতিহাসবিদ আবু কাসিম ইবনে আসাকিরের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পাণ্ডুলিপি; যা তাঁর নিকট (সীন) প্রতীকের মাধ্যমে নির্দেশিত।
২ - দেশ-দেশান্তর পরিভ্রমণকারী হাফিয ও মক্কা মুকাররমার ইমাম আবু যার আল-হারাবীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পাণ্ডুলিপি; যা তাঁর নিকট (হা) প্রতীকের মাধ্যমে নির্দেশিত।
৩ - মাগরিববাসীদের ইমাম এবং তাঁদের বর্ণনাসমূহের কেন্দ্রবিন্দু আবু মুহাম্মদ আল-আসীলীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পাণ্ডুলিপি; যা তাঁর নিকট (সাদ) প্রতীকের মাধ্যমে নির্দেশিত।
৪ - মাশরিকের হাফিয ইমাম আবুল ওয়াকত আব্দুল আউয়াল আস-সিজযীর নিকট পঠিত একটি পাণ্ডুলিপি। তাঁর কাছে যারা এটি পাঠ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে হাফিয ইমাম আবু মানসুর আস-সামআনীও (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এটি সুমাইসাতিয়্যাহ মাদরাসায় ওয়াকফকৃত ছিল এবং এটি তাঁর নিকট (ত) প্রতীকের মাধ্যমে নির্দেশিত।
তিনি এই স্তম্ভসমূহ এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপি ও বর্ণনার ওপর নির্ভর করে এমন এক সুউচ্চ সৌধ নির্মাণ করেন, যার খ্যাতি দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং যার সুখ্যাতি দিন ও রাতের মতো সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়। ফলে মানুষ তাঁর কাছ থেকে সহীহ বুখারী শোনার জন্য তাঁর কাছে সফর করে আসতেন। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছিল যে, তিনি এই পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করার একটি আসর তাঁর উস্তাদ প্রসিদ্ধ নাহুবিদ এবং প্রখ্যাত ভাষাবিদ ইমাম ইবনে মালিকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করেছিলেন। দামেস্কের আলিমগণ ইবনে মালিক যখন সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁকে সহীহ বুখারীর বর্ণনার শব্দগত জটিলতাসমূহ স্পষ্ট ও সংশোধন করে দিতে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি ইমাম ইউনিনীর নির্ধারিত পাঠের ওপর ভিত্তি করে সেই জটিল শব্দাবলির সমাধান প্রদান করেছিলেন। এখান থেকেই ইমাম ইউনিনীর পরবর্তী তালিবে ইলমদের নিকট তাঁর পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব সুদৃঢ় হয়। কারণ, এই আসরের পর এটি প্রকৃতপক্ষে একজন একক ব্যক্তির পাণ্ডুলিপি না থেকে বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ইলমী মজলিসের পাণ্ডুলিপিতে পরিণত হয়েছিল। কেননা শ্রবণ মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহ সামনে রেখে ইমাম ইউনিনী যা পাঠ করছিলেন তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপির শেষে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া ইমাম ইউনিনীর মূল কপিগুলোও ছিল এমন পাণ্ডুলিপি, যা হাফিযদের উপস্থিতিতে পঠিত এবং তাঁদের দ্বারা সংশোধিত।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣)
ثم تتابعت الجهود من قِبَل العلماء في نَسخ هذه النسخة والنقل عنها فتعدَّدت بذلك الفروع المنقولة عنها ووقع فيها هي الأخرى الاختلافُ الذي وقع مِن قَبلُ في روايات الصحيح، حتى كانت سنةُ إحدى عشر وثلاث مئةٍ بعد الألف، حيث صَدَر الأمر السلطاني إلى مشيخة الأزهر بالقاهرة من قِبَل السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله بطباعة هذه النسخة المؤيَّدة بالقَبول، فقامت اللجنة العِلمية المُكلَّفة بذلك المشروع بجمع أفضل الفروع المنقولة عن اليونينية التي استطاعوا الوقوفَ عليها، ثم قاموا بتحقيق نص اليونينية وضبطه على عدة نسخٍ مضبوطةٍ مصحَّحة فيما صَرَّحوا به في مقدمة طبعتهم، لكنهم - وللأسف - لم يُفيدوا المُطالِعَ شيئًا عن حقيقة تلك الأصول التي اعتمدوها ولا أشبعوا نهمةَ الباحث بوصفهم حالَ تلك الأصول وصفًا يرسِّخ الثقةَ بجهودهم، نقول هذا غيرَ مُنكرِي فضلِهم، بل نقولُه ونحن شاكرون لسعيهم في ما بَذَلوا، داعين الله تعالى أن يجزيهم أحسنَ ما يجزي عِبادَه الصالحين.
وقد لاقَت تلك الطبعةَ حظَّها الوافرَ من الشهرة والقَبُول والعَمادة والرَّواج في الأوساط العلمية والأسواق التجارية على حدٍّ سواء، بيد أن المحققين من العلماء لم يمنعهم ذلك النجاح ولا ردَّهم ذلك الانتشار أن يُعيدوا النظرَ بين المدة والأُخرى في ضبط نص اليونينية، أو ضبط رموز الروايات التي لا تخلو من وقوع بعض الاشتباه في قراءتها أو في تحديد مواطن ورودها، أو إبداء بعض الملاحظات وتوجيه بعض الانتقادات إلى
الطبعة السلطانية، معتمدين في كَرِّهم ذلك على نسخ جديدة يقِفون عليها لم يكن محققو السلطانية قد اعتمدوا عليها أو لم يرَوها أصلًا حالَ مباشرتهم العمل، كما في الطبعة التي أشرف عليها العلامة أحمد محمد شاكر رحمه الله، أو معتَبِرين لبعض الفوائد العلمية المتممة لجهود محققي السلطانية والتي لا دخلَ لها بضبط اليونينية؛ كالإحالة إلى مَن وافق البخاري في تخريج الحديث مِن باقي أصحاب الكتب الستة أو ربط الكتاب بأهم شروحه، كما في الطبعة التي قدَّم لها الشيخ الفاضل محمد زهير الناصر، أو مراعِين لتنسيق فصول وتقاسيم الصحيح (الكتب والأبواب) مما أخلَّ به مَن سبقهم إلى تحقيق الصحيح، كما في الطبعة التي قدَّم لها العلامة عبد الغني عبد الخالق رحمه الله.
এরপর আলেমদের পক্ষ থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি নকল করার এবং তা থেকে অনুলিপি তৈরি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। ফলে তা থেকে উদ্ধৃত শাখা-প্রশাখা বা উপ-পাণ্ডুলিপিগুলো বহুমুখী হয়ে ওঠে এবং সেগুলোতেও ঠিক তেমনি মতভেদ দেখা দেয় যেমনটি ইতিপূর্বে সহীহ-এর বর্ণনাগুলোতে ঘটেছিল। পরিশেষে ১৩১১ হিজরী সনে সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে কায়রোর মাশয়াখাতুল আজহারের প্রতি সর্বজনগৃহীত এই পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রণের রাজকীয় ফরমান জারি হয়। তখন সেই প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত ইলমী কমিটি ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত সেই সব শ্রেষ্ঠ শাখা-প্রশাখাগুলো সংগ্রহ করেন যা খুঁজে পেতে তাঁরা সক্ষম হয়েছিলেন। অতঃপর তাঁরা ইউনিনিয়ার মূল পাঠ (নস) তাহকীক করেন এবং তাঁদের মুদ্রণের ভূমিকায় যেমনটি ব্যক্ত করেছেন—তা কয়েকটি সুসংরক্ষিত ও সংশোধিত পাণ্ডুলিপির আলোকে বিন্যস্ত করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁরা যে মূল উৎসগুলোর (উসূলে) ওপর নির্ভর করেছিলেন, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পাঠককে কিছুই অবগত করেননি এবং সেই উৎসগুলোর অবস্থার এমন কোনো বিবরণ দিয়ে গবেষকের জ্ঞানপিপাসা মেটাননি যা তাঁদের প্রচেষ্টার ওপর আস্থা সুদৃঢ় করে। আমরা তাঁদের অবদানকে অস্বীকার না করে বরং তাঁদের এই মেহনতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই এ কথা বলছি এবং মহান আল্লাহর নিকট তাঁদের জন্য সেই সর্বোত্তম প্রতিদানের দুআ করছি যা তিনি তাঁর নেক বান্দাদের প্রদান করে থাকেন।
উক্ত সংস্করণটি ইলমী মহল এবং বাণিজ্যিক বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই সমভাবে বিপুল খ্যাতি, গ্রহণযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও প্রসার লাভ করেছে। তবে এই সাফল্য গবেষক আলেমদেরকে বিরত রাখেনি এবং এই ব্যাপক প্রচার তাঁদেরকে বিমুখ করতে পারেনি যে তাঁরা সময়ে সময়ে ইউনিনিয়ার পাঠ বিন্যাস কিংবা বর্ণনাকারীদের সংকেতগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে পুনরায় নজর না দিতে; যার পাঠোদ্ধারে কিংবা সেসবের প্রয়োগস্থল নির্ধারণে কিছু অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত ছিল না। অথবা কিছু পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনা পেশ করা থেকেও তাঁদের বিরত রাখেনি যা নির্দেশ করা হয়েছে
সুলতানিয়া সংস্করণের প্রতি, যেখানে তাঁরা এই পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে এমন সব নতুন পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন যা সুলতানিয়া সংস্করণের গবেষকদের হস্তগত হয়নি অথবা কাজ শুরুর সময় তাঁরা তা একেবারেই দেখতে পাননি। যেমনটি ঘটেছে আল্লামা আহমদ মুহাম্মদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত সংস্করণে। অথবা তাঁরা এমন কিছু ইলমী ফায়দা বিবেচনা করেছেন যা সুলতানিয়া সংস্করণের গবেষকদের প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দান করে, যদিও ইউনিনিয়ার পাঠ বিন্যাসের সাথে তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; যেমন কুতুবে সিত্তার বাকি গ্রন্থকারদের মধ্যে কারা হাদীস বর্ণনায় ইমাম বুখারীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তার উদ্ধৃতি প্রদান করা অথবা কিতাবটিকে তার গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্যগ্রন্থগুলোর সাথে যুক্ত করা, যেমনটি শায়খ ফাযিল মুহাম্মদ যুহাইর আল-নাসির কর্তৃক উপস্থাপিত সংস্করণে দেখা যায়। অথবা তাঁরা সহীহ-এর পরিচ্ছেদ ও বিভাগগুলোর (কিতাব ও অধ্যায়) বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন যা তাঁদের পূর্ববর্তী গবেষকগণ সহীহ-এর তাহকীক করতে গিয়ে ব্যাহত করেছিলেন, যেমনটি ঘটেছে আল্লামা আব্দুল গনি আব্দুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক উপস্থাপিত সংস্করণে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٤)
وعلى الرغم من كل هذه الجهود التي بُذلت في إعادة طباعة السلطانية إلا أن بعض أهل العلم ما زال يرى أنها بحاجة إلى إعادة نظر؛ نظرًا إلى وقوع الخطأ والسهو اللذين لا يخلو جهدٌ إنسانيٌّ منهما، وقد ارتأت دار الكمال إعادة العمل في تحقيق النسخة اليونينية راكنةً إلى عِدة دوافع وأسباب، يمكِن إجمالُها بالتالي:
السبب الأول: الوقوف على بعض فروع اليونينية العالية الجودة والبالغة الدقة والفائقة الضبط والإتقان، وهي:
أولًا: أصل خطي نفيس؛ منقول عن نسخة اليونيني، وهو أصل مُعتنى به متداوَل تعاقَبَت عليه قراءات كِبار أئمة العلم؛ منهم: أبو حيان النحوي، وابن التركماني، وابن سيد الناس، والحافظ العراقي، والبُلقيني، وابن الملقن، والهيثمي، وأبو زرعة العراقي، والدجوي، والأشموني، وغيرهم، كما هو مثبَت في حواشيها، خطه واعتنى به الأديب المؤرخ أحمد بن عبد الوهاب النويري، وقد جاء وصفها بالبطاقة المرفقة، وهي المرموز لها في حواشينا بالرمز: [ن].
ثانيًا: أصل خطي نفيس؛ منقول عن نسخة اليونيني، وهو أصل مُعتنى به متداوَل تعاقَبَت عليه قراءات كِبار أئمة العلم أيضًا؛ خطه واعتنى به الأديب المؤرخ أحمد بن عبد الوهاب النويري أيضًا، وهي المرموز لها في حواشينا بالرمز: [و].
ثالثًا: نسخة لعلها نسخة العلامة إمام الحجاز عبد الله بن سالم البصري (ت 1134)، ونسخته من أشهر فروع اليونينية وأتقنها عند العلماء، وهي أحد أهم الأصول المعتمَدة من قِبَل محققي الطبعة السلطانية، وقد اكتسبت عَمادَتَها من حيث كونها منقولة عن أصل اليونيني ومقابلَة على عدة نسخ من فروع اليونينية، وهي مقارنة أيضًا بشروح الصحيح المشهورة كالفتح لابن حجر والإرشاد للقسطلاني، وعليها تعليقات مفيدة، وهي المرموز لها في حواشينا بالرمز: [ب].
رابعًا: نسخة بخط العلامة إبراهيم بن علي القيصري المكي الحنفي، وهي فرع عن اليونينية انتهى من كتابتها سنةَ ألف ومئة وسبعة عشر في مكة المكرمة، تجاه الكعبة المعظمة، وهي نسخةٌ نفيسة، لا تنزل عن نسخة البصري في الرتبة، بل تعلوها أحيانًا، وهي منقولة من نسخة اليونيني أيضًا ومقابلة على عدة نسخ من فروع اليونينية، ومقارنة بالفتح لابن حجر والإرشاد للقسطلاني، وعليها تعليقات مفيدة بعضها منقول عن الحافظ السخاوي، مما يشير إلى أنها منقولة من نسخة قرأت عليه، وهي المرموز لها في حواشينا بالرمز: [ب].
كما استعنا بنُسخ أخرى منقولة عن اليونينية أو عن فروعها هي أقل دقةً وجودةً وإتقانًا من النُّسخ السابقة الذِّكر، لكنها تساعد عند اختلافهن، وأفضل هذه النُّسَخ:
نسخة بخط العلامة إسماعيل بن علي بن محمد البِقَاعي (ت 807)، وهي فرع عن اليونينية انتهى من كتابتها سنةَ ثمان مئة في دمشق، وهي نسخةٌ نفيسة قال عنها الحافظ ابن حجر: (مجلدةٍ واحدةٍ عديمة النظير).
نسخة من مصورات الشيخ ثناء الله الزاهدي، وهي نسخة جيدة منقولة ومقابلَة على عدة نسخ من فروع اليونينية، ومقارنة أيضًا بشروح الصحيح المشهورة كالفتح لابن حجر والإرشاد للقسطلاني، وعليها تعليقات مفيدة.
خامسًا: الوقوف على أصول تُقارب الأصول التي اعتمدها الإمام اليونيني نفسه في ضبط نسخته، وهي:
أ- قطعتان نفيستان من رواية أبي ذر الهروي:
- الأولى: قطعة نفيسة يرويها عنه ابنه أبو مكتوم.
- الثانية: قطع متفرقة من رواية ابن الحُطَيئة، وهذه الرواية إحدى عُمَد اليونيني كما جاء في آخر [ن].
ب- نسخة كاملة من رواية أبي ذر الهروي، منقولة عن نسخة الحافظ أبي علي الصَّدَفي.
ج- نسخة كاملة من رواية أبي الوقت السِّجْزِي، جيدة الخط، وعليها سماعات مهمة.
د- قطع من رواية الأصيلي.
السبب الثاني: عدم مراعاة الطبعات السابقة (بما فيها الطبعة السلطانية) قضيةَ الحِفاظ على خصوصية النسخة اليونينية، والوقوع في خطأ خلط فكرة طباعة هذه النسخة بمسألة ضبط صحيح البخاري عمومًا، فكانت بعض الطبعات تحذف بعض الاختلافات التي قيَّدها اليونيني رحمه الله؛ ظَنًّا من المشرفين عليها أن مثل هكذا اختلافات غير ضرورية ولا مهمة، فارضين بذلك التصرف ظلالَ شخصياتهم على آثار شخصية اليونيني في اختياراته. وفي المقابل كانت هناك بعض الطبعات (كالسلطانية) تُضيف إلى الاختلافات التي قيَّدها اليونينيُّ اختلافاتٍ أخرى لم يُوردها؛ معتمدين في ذلك على كلام الأئمة الذين شرحوا صحيح البخاري كالحافظ ابن حجر والقسطلاني وغيرهما، فوقعوا بذلك في نفس الإشكالية.
وكذلك الحال في مسألة ضبط المتن الذي اختاره اليونيني لنسخته، فقد همَّش رحمه الله بعض الأحاديث الواردة في روايات الصحيح أو بعض الأبواب أو بعض العبارات والكلمات، فأدخلها القائمون على طباعة نسخته في المتن، وأحيانًا فعلوا العكسَ؛ فهمَّشوا ما أثبتَه في المتن.
وكذلك الحال في عَدِّ الكتب والأبواب وضبط المفرَدات الغريبة.
السبب الثالث: الحاجة العلمية الملحة إلى فَكِّ الرموز الموجودة في حواشي اليونينية؛ دَفعًا للالتباس الذي وقع فيه كثيرٌ من المعتنين بطباعة هذه النسخة، بل وحتى من المعتنين بشرحها كالإمام القسطلاني؛ وذلك نظرًا إلى انتفاء الحاجة إلى تلك الرموز التي أوجبتها على السابقين من العلماء ظروفٌ اقتصادية وتقنية بحتة قد انتفت مبرراتها في عصرنا الراهن ولله الحمد، وإلا فإن قضية الخوف من وقوع الخطأ لدى العلماء بسبب استخدام الرموز اختصارًا قد ناقشها أئمة العلم في مباحثهم المتعلِّقة بضبط النسخ والمخطوطات.
السبب الرابع: الاستجابة الواعية والتحرُّك الفعَّال للدعَوات التي نادى بها كثيرٌ من أهل العلم المعاصرين منبِّهين إلى ضرورة صَرف العناية إلى إخراج نسخةٍ متقَنةٍ مضبوطةٍ لصحيح الإمام البخاري رحمه الله، خصوصًا في خِضَمِّ هذه العاصفة الهوجاء التي يشنُّها أعداء الإسلام المشكِّكين بأصالة الجهود التي قام بها أئمة العلم في الحِفاظ على سُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وضبط كلماته، ومما لا شكَّ فيه أن النسخة اليونينية هي أفضل ما يتدَرَّع به المسلمون اليومَ ضدَّ هذه السهام المسمومة الموجَّهة من قِبَل أذناب الشعوبيين والملحدين عن سبق إصرارٍ وترصُّد لقتل ثقةِ الضعفاء الخائرين الحائرين بنقاء وسلامة الشريعة الغراء من أي شائبة شكٍّ أو عدم اطمئنانٍ تشوبُ حياضها أو تعكِّر صفوَ واحتها للواردين على اختلاف مشاربهم.
সুলতানিয়া সংস্করণ পুনর্মুদ্রণে ব্যয়িত সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কিছু আলেম এখনো মনে করেন যে এটি পুনঃনিরীক্ষণ করা প্রয়োজন; যেহেতু মানুষের কোনো কাজই ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়। এ প্রেক্ষিতে দার আল-কামাল কতিপয় প্রেরণা ও কারণের ওপর ভিত্তি করে ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজ পুনরায় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
প্রথম কারণ: ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির উচ্চমানসম্পন্ন, অত্যন্ত নির্ভুল ও সুসংহত কিছু শাখা সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেগুলো হলো:
প্রথমত: একটি মূল্যবান মৌলিক পাণ্ডুলিপি; যা ইউনিনিয়া কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত একটি মূল কপি যা বড় বড় ইমামদের পাঠচক্রের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু হাইয়ান আন-নাহবী, ইবনুত তুর্কমানী, ইবনু সাইয়্যিদিন নাস, হাফেজ আল-ইরাকী, আল-বুলকিনী, ইবনুল মুলাক্কিন, আল-হাইসামী, আবু যুরআহ আল-ইরাকী, আদ-দাজবী, আল-আশমুনী এবং আরও অনেকে; যা এর টীকাগুলোতে প্রমাণিত রয়েছে। এটি লিখেছেন এবং এর যত্ন নিয়েছেন সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন-নুওয়াইরী। এর বর্ণনা সংযুক্ত পরিচিতি পত্রে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের টীকায় একে [ন] প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: আরেকটি মূল্যবান মৌলিক পাণ্ডুলিপি; এটিও ইউনিনিয়া কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এটিও বড় বড় ইমামদের পাঠচক্রের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত একটি মূল কপি। এটিও লিখেছেন এবং এর যত্ন নিয়েছেন সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন-নুওয়াইরী। আমাদের টীকায় একে [ওয়া] প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: একটি পাণ্ডুলিপি যা সম্ভবত হিজাযের ইমাম আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন সালিম আল-বাসরীর (মৃত্যু ১১৩৪) কপি। তার এই কপিটি আলেমদের নিকট ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির অন্যতম প্রসিদ্ধ ও নির্ভুল শাখা। এটি সুলতানিয়া সংস্করণের সম্পাদকদের নিকট অন্যতম প্রধান নির্ভরযোগ্য মূল ভিত্তি ছিল। ইউনিনিয়া মূল কপি থেকে অনুলিপি করা এবং ইউনিনিয়া শাখার একাধিক কপির সাথে মিলিয়ে দেখার কারণে এটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। এছাড়াও এটি সহীহ বুখারীর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারী' এবং আল-কাসতাল্লানির 'ইরশাদ' এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এতে অনেক উপকারী মন্তব্য রয়েছে এবং আমাদের টীকায় একে [বা] প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চতুর্থত: আল্লামা ইবরাহিম বিন আলী আল-কায়সারী আল-মাক্কী আল-হানাফীর হস্তলিপি সম্বলিত একটি কপি। এটি ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির একটি শাখা যার অনুলিপি করার কাজ তিনি ১১১৭ হিজরী সনে পবিত্র মক্কার মহিমান্বিত কাবার সামনে সম্পন্ন করেছিলেন। এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কপি, যা মর্যাদার দিক থেকে বাসরীর কপির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও উন্নত। এটিও ইউনিনিয়া কপি থেকে অনুলিপি করা এবং এর বেশ কিছু শাখার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়া ফাতহুল বারী ও ইরশাদের সাথেও এর তুলনা করা হয়েছে। এতে বেশ কিছু উপকারী মন্তব্য রয়েছে যার কিছু হাফেজ আস-সাখাবী থেকে বর্ণিত, যা নির্দেশ করে যে এটি এমন কোনো কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা তার সামনে পাঠ করা হয়েছিল। আমাদের টীকায় এটিকেও [বা] প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া আমরা ইউনিনিয়া বা তার শাখাগুলো থেকে অনুলিপি করা আরও কিছু কপির সাহায্য নিয়েছি যা উপরোক্ত কপিগুলোর তুলনায় কম নির্ভুল ও সুসংহত, কিন্তু সেগুলো পাঠভেদের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই কপিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো:
আল্লামা ইসমাইল বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-বিক্বায়ী (মৃত্যু ৮০৭) এর হস্তলিপিতে লিখিত একটি কপি। এটি ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির একটি শাখা যা ৮০০ হিজরী সনে দামেস্কে লেখা সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান কপি যার সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: (এক খণ্ডে রচিত অতুলনীয় কপি)।
শেখ সানাউল্লাহ আল-যাহিদী সাহেবের সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত একটি ফটোকপি। এটি একটি উন্নতমানের কপি যা ইউনিনিয়া শাখার বেশ কিছু কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এটিও সহীহ বুখারীর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী ও ইরশাদ এর সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং এতে অনেক উপকারী মন্তব্য রয়েছে।
পঞ্চমত: ইমাম ইউনিনি তার কপিটি সুসংহত করার জন্য যে সকল মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছিলেন, সেই উৎসগুলোর নিকটবর্তী কিছু মূল কপি সম্পর্কে অবগত হওয়া। সেগুলো হলো:
ক- আবু যার আল-হারাভীর রেওয়ায়েত থেকে প্রাপ্ত দুটি মূল্যবান খণ্ড:
- প্রথমটি: একটি মূল্যবান অংশ যা তার থেকে তার পুত্র আবু মাকতূম বর্ণনা করেছেন।
- দ্বিতীয়টি: ইবনুল হুতাইয়াহ এর রেওয়ায়েত থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন অংশ। এই রেওয়ায়েতটি ইমাম ইউনিনির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল যেমনটি [ন] কপির শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।
খ- আবু যার আল-হারাভীর রেওয়ায়েতের একটি পূর্ণাঙ্গ কপি, যা হাফেজ আবু আলী আস-সাদাফীর কপি থেকে অনুলিপি করা।
গ- আবু আল-ওয়াকত আস-সিজযীর রেওয়ায়েতের একটি পূর্ণাঙ্গ কপি; যার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ শ্রবণ-সনদ (সামা'আত) রয়েছে।
ঘ- আল-আসীলীর রেওয়ায়েত থেকে প্রাপ্ত কিছু অংশ।
দ্বিতীয় কারণ: পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে (সুলতানিয়া সংস্করণসহ) ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা না করা, এবং এই পাণ্ডুলিপি মুদ্রণের ধারণাকে সাধারণভাবে সহীহ বুখারীর পাঠ সুসংহত করার বিষয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলার ভুলের মধ্যে নিপতিত হওয়া। ফলে কিছু সংস্করণে ইউনিনি (রহ.) কর্তৃক লিপিবদ্ধ কিছু পাঠভেদ বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ এর তত্ত্বাবধায়করা মনে করেছিলেন যে এ ধরনের মতভেদ অপ্রয়োজনীয় বা গুরুত্বহীন। এই আচরণের মাধ্যমে তারা ইউনিনির নিজস্ব পছন্দের ওপর তাদের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব চাপিয়ে দিয়েছেন। বিপরীতে, কিছু সংস্করণে (যেমন সুলতানিয়া) ইমাম ইউনিনি যে সকল পাঠভেদ উল্লেখ করেননি, সেগুলোও যোগ করা হয়েছে; এক্ষেত্রে তারা হাফেজ ইবনে হাজার এবং আল-কাসতাল্লানি প্রমুখের মতো সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারকদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন, ফলে তারা একই সমস্যায় পতিত হয়েছেন।
একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয় ইমাম ইউনিনি তার কপির জন্য যে মূলপাঠ (মাতান) নির্বাচন করেছেন তার ক্ষেত্রেও। তিনি (রহ.) সহীহ বুখারীর বিভিন্ন রেওয়ায়েতে বর্ণিত কিছু হাদীস, অধ্যায় বা শব্দকে মার্জিনে রেখেছিলেন, কিন্তু তার এই কপি মুদ্রণকারীরা সেগুলোকে মূলপাঠের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আবার কখনো তারা এর উল্টোটা করেছেন; অর্থাৎ যা তিনি মূলপাঠে রেখেছিলেন সেটিকে তারা মার্জিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
অনুরূপভাবে কিতাব ও অধ্যায়ের গণনা এবং বিরল শব্দগুলোর উচ্চারণের ক্ষেত্রেও একই বিচ্যুতি ঘটেছে।
তৃতীয় কারণ: ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির টীকাগুলোতে বিদ্যমান প্রতীকগুলো (রুমুজ) উন্মোচনের তীব্র জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রয়োজনীয়তা; যাতে এই পাণ্ডুলিপি মুদ্রণে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ, এমনকি ইমাম আল-কাসতাল্লানির মতো এর ব্যাখ্যাকারকগণও যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তা দূর করা যায়। মূলত ঐ প্রতীকগুলোর প্রয়োজনীয়তা বর্তমান যুগে আর অবশিষ্ট নেই, যা পূর্ববর্তী আলেমদের কাছে কেবল অর্থনৈতিক ও কারিগরি কারণে অপরিহার্য ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। অন্যথায়, সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে প্রতীক ব্যবহারের কারণে আলেমদের মধ্যে ভুল হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি ইমামগণ পাণ্ডুলিপি ও হস্তলিপি যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত আলোচনায় বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ কারণ: বর্তমান যুগের অনেক আলেম সহীহ বুখারীর একটি নিখুঁত ও সুসংহত সংস্করণ বের করার বিষয়ে যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার প্রতি সচেতন সাড়া প্রদান এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষ করে ইসলামবিদ্বেষীদের এই প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণ এবং তাঁর বাণীগুলো যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে উম্মতের ইমামদের প্রচেষ্টার মৌলিকতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শুউবিয়্যাহ ও নাস্তিকদের পক্ষ থেকে ইসলামের দুর্বল চিত্তের মানুষদের আস্থা নষ্ট করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে যে বিষাক্ত তীরগুলো নিক্ষেপ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপি হলো মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম ঢাল। যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা দ্বিধা এই পবিত্র শরীয়তের নির্মলতাকে কলুষিত করতে না পারে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - নুসহাতু আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٥)
أما منهج العمل في تحقيق النسخة اليونينية الذي اتبعناه فيمكن إجماله بالتالي:
أولًا: تدقيق وضبط رموز الروايات التي اصطلح عليها الحافظ اليونيني في نسخته؛ وذلك باتباع الخطوات الآتية:
أ- اعتماد النسخة [ن] أصلًا، وعدم مخالفته إلا فيما يتبيَّن لنا فيه خطأُه يقينًا.
ب- مراجعة الرموز الواردة في [ن] مع فروع اليونينية والنسخ المذكورة سالفًا، إضافةً إلى مراجعتها مع شروح الصحيح، وأهمها: فتح الباري لابن حجر، وإرشاد الساري للقسطلاني.
ج- مقارنة الرموز مع الطبعة السلطانية، وتتميم الرموز التي أهملَ بعضَها مصححو السلطانية.
د- التنبيه المجرَّد إلى الاختلافات التي تقع بين الأصول في ضبط الرموز فيما لم يتبيَّن لنا فيه وجه الصواب.
هـ- التنبيه إلى وقوع الخطأ أو الوهم في السلطانية أو في إرشاد الساري بعبارة: قارن بما في الإرشاد أو بما في السلطانية أو بهما معًا.
و- إهمال بعض فروق الروايات التي ذُكرت في بعض الأصول استدراكًا وإتمامًا للفائدة، والتي أهملها اليونيني ولم يقيِّدها في نسخته؛ مراعاةً لمقصدنا في ضبط النسخة اليونينية خصوصًا لا ضبطِ صحيح البخاري عمومًا.
ثانيًا: فكُّ الرموز التي استخدمها الحافظ اليونيني في ضبط اختلاف الروايات وذِكرُها مفروشةً؛ تسهيلًا وتيسيرًا على القارئ من معاناة مراجعة مقاصد الرموز حالَ الحاجة إلى ذلك.
إثباتُ المذكور في (أولًا وثانيًا) ضمن حاشيةٍ مستقلَّة مختَصَّة بضبط الرواية.
ثالثًا: ترقيم الأحاديث وأطرافها باعتماد ترقيم الأستاذ محمد فؤاد عبد الباقي، وكذلك الحال في ترقيم الكتب والأبواب؛ لاشتهار ترقيمه بين الناس واعتماد أغلب المحققين العَزوَ إليه، مع ترقيمنا الحديثي للكتاب على أساس الأخذ بعين الاعتبار اختلاف الطرق في الحديث المتصل بالنسبة لشيوخ البخاري.
وقد نبَّهْنا في هامش نشرتنا إلى أماكن انتهاء صفحات الطبعة السلطانية بالعزو إلى الجزء والصفحة؛ مراعاةً لشهرتها وما حظيت به من القَبول والعَمَادَة في الأوساط العلمية، وحِفظًا لمرجعيتها عند الكثير من العلماء والباحثين والمحققين الأفاضل بعَدَم تفويت فائدة ما دَرَجوا عليه من الإحالة إليها على القارئ.
رابعًا: ذِكرُ مَن شارَك الإمامَ البخاريَّ تخريجَ الحديث من باقي أصحاب الكتب الستة، بمُراعاة موطِن الشاهد في الحديث والمتعلِّق بمقصد الإمام البخاري في تبويبه، دونَ مراعاة اختلاف الأسانيد والألفاظ بينهم إذا اتفقوا على الصحابي، مع الإحالة إلى تحفة الأشراف للحافظ المزي لِمَن أراد تقصِّي ذلك الاختلاف.
خامسًا: عَزو الأحاديث والآثار المعلَّقة التي أخرجها البخاري في صحيحه متصلة في موضع آخر إلى ذاك الموضع بذكر رقمه في نهاية المعلق، وذكر من وصل المعلق من أصحاب الكتب الستة في الحاشية وإلا إن لم يكن متصلًا في البخاري ولا في كتب أحد أصحاب الكتب الستة فنعزوه إلى كتاب تغليق التعليق للحافظ ابن حجر؛ ليتسنَّى لمَن شاء من الباحثين الاطلاعُ على مَن وصَلَ هذه الآثارَ من أصحاب الكتب والمصنَّفات.
سادسًا: تقييد الفوائد العلمية المهمَّة الواردة في هوامش اليونينية أو في حواشي أصولنا المعتمَدة.
إثبات المذكور في (ثالثًا) إلى (سادسًا) كلِّه ضمن حاشيةٍ مستقلَّة مختَصَّة بالفوائد العِلمية معزولةٍ عن حاشية ضبط الرواية.
سابعًا: المحافظة على رموز الضبط التي دَرَج على استعمالها أئمة العلم في نسخهم؛ كالتضبيب والتصحيح وعلامة الدائرة المنقوطة آخر كل حديث، وغيرها باستخدام التقنيات الإخراجية الحديثة؛ إحياءً لسنتهم ومَدًّا لظلال طريقتهم المبارَكة في إتقان الكتب.
هذا، ونسأل الله تعالى أن يتقبَّلنا بقَبولٍ حسَنٍ خُدَّامًا مُحرَّرين للدفاع عن حِياض شريعته، وأن يجعل عَملنا هذا سببًا لبلوغ أيدينا إلى يد رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم عندَ ورودنا حَوضه لنشرب من يُمناه الشريفة شربةً لا نظمأ بعدها أبدًا، إنه هو البَرُّ الرحيم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
ইউনিনী পাণ্ডুলিপির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যে কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
প্রথমত: হাফেজ ইউনিনী তাঁর পাণ্ডুলিপিতে যে বর্ণনার প্রতীকসমূহ পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সেগুলো যাচাই ও বিন্যাস করা; আর তা নিম্নোক্ত ধাপগুলোর অনুসরণে করা হয়েছে:
ক- [ন] পাণ্ডুলিপিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা এবং নিশ্চিত ভুল প্রতীয়মান না হওয়া পর্যন্ত এর ব্যতিক্রম না করা।
খ- [ন] পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত প্রতীকসমূহকে ইউনিনীয়ার শাখা পাণ্ডুলিপি এবং পূর্বে উল্লিখিত অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা। সেই সাথে সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থসমূহের সাথেও মিলিয়ে দেখা, যার মধ্যে প্রধান হলো: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী এবং কাসতালানীর ইরশাদুস সারী।
গ- প্রতীকগুলোকে সুলতানিয়া মুদ্রণের সাথে তুলনা করা এবং সুলতানিয়া মুদ্রণের সংশোধকগণ যেসব প্রতীক উপেক্ষা করেছেন তা পরিপূরণ করা।
ঘ- যেখানে সঠিক রূপটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি, সেখানে মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রতীকের বিন্যাসে যে পার্থক্য রয়েছে সে সম্পর্কে কেবল সজাগ করে দেওয়া।
ঙ- সুলতানিয়া মুদ্রণে অথবা ইরশাদুস সারীতে কোনো ভুল বা বিভ্রম ঘটলে সে বিষয়ে ‘ইরশাদ বা সুলতানিয়া অথবা উভয়টির সাথে তুলনা করুন’—এই বাক্যের মাধ্যমে সতর্ক করা।
চ- বর্ণনার এমন কিছু পার্থক্য যা কোনো কোনো মূল পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত বা পরিপূরক হিসেবে এসেছে কিন্তু ইউনিনী সেগুলোকে উপেক্ষা করেছেন এবং তাঁর পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ করেননি, সেগুলো বাদ দেওয়া; যেন বিশেষ করে ইউনিনী পাণ্ডুলিপির বিন্যাস ঠিক রাখার উদ্দেশ্যটি রক্ষা পায়, যা সাধারণভাবে সহীহ বুখারীর বিন্যাসের চেয়ে ভিন্ন।
দ্বিতীয়ত: বর্ণনার বিভিন্নতা স্পষ্ট করার জন্য হাফেজ ইউনিনী যেসব প্রতীক ব্যবহার করেছেন, সেগুলো ভেঙে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা; যেন পাঠকের জন্য প্রয়োজনে প্রতীকের অর্থ খুঁজে বের করার কষ্ট লাঘব হয় এবং সহজসাধ্য হয়।
প্রথম ও দ্বিতীয় পয়েন্টে উল্লিখিত বিষয়গুলো বর্ণনার বিন্যাস সংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র টীকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: উস্তাদ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর সংখ্যায়ন অনুসরণে হাদিস এবং এর বিভিন্ন অংশগুলোর নম্বর দেওয়া, একইভাবে কিতাব এবং অধ্যায়গুলোর নম্বর দেওয়া। কারণ গবেষকদের কাছে তাঁর করা সংখ্যায়নটিই অধিক পরিচিত এবং অধিকাংশ মুহাক্কিক তাঁর উদ্ধৃতির ওপরই নির্ভর করেন। এর পাশাপাশি আমরা কিতাবটির হাদিসের সংখ্যায়ন করার ক্ষেত্রে বুখারীর উস্তাদদের সূত্রে আসা সংযুক্ত হাদিসের বিভিন্ন পথ বা তরিকের পার্থক্যকে বিবেচনায় রেখেছি।
আমরা আমাদের এই সংস্করণের টীকায় সুলতানিয়া মুদ্রণের পৃষ্ঠা যেখানে শেষ হয়েছে, তার খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করেছি। এর কারণ হলো বিদগ্ধ মহলে এই মুদ্রণটির প্রসিদ্ধি, গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতা। সেই সাথে অনেক আলেম, গবেষক এবং বিজ্ঞ মুহাক্কিকদের নিকট এর যে রেফারেন্স মূল্য রয়েছে তা রক্ষা করা, যাতে পাঠকের জন্য এর উদ্ধৃতি ব্যবহারের চিরাচরিত উপকারিতা হাতছাড়া না হয়।
চতুর্থত: ইমাম বুখারীর সাথে কুতুবে সিত্তাহর অন্য যেসব সংকলক হাদিস বর্ণনায় শরিক হয়েছেন তাদের কথা উল্লেখ করা। এক্ষেত্রে হাদিসের সেই অংশটির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যা ইমাম বুখারীর অধ্যায় বিন্যাসের উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। যদি সাহাবীর বর্ণনায় সকলে একমত হন, তবে তাদের মধ্যকার সনদ বা শব্দের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়নি। তবে যারা সেই পার্থক্যগুলো বিস্তারিত জানতে চান, তাদের জন্য হাফেজ মিযযীর তুহফাতুল আশরাফ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত: ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে যেসব হাদিস বা আসার মুআল্লাক (সনদবিহীন) হিসেবে এনেছেন কিন্তু অন্য কোনো স্থানে পূর্ণ সনদে উল্লেখ করেছেন, মুআল্লাক অংশের শেষে সেই নম্বরটি উল্লেখ করার মাধ্যমে সেই স্থানের সাথে যুক্ত করে দেওয়া। আর যদি কুতুবে সিত্তাহর অন্য কোনো ইমাম সেই মুআল্লাক হাদিসটি পূর্ণ সনদে বর্ণনা করে থাকেন, তবে টীকায় তা উল্লেখ করা। আর যদি সেটি বুখারী বা কুতুবে সিত্তাহর অন্য কারো কাছে পূর্ণ সনদে না থাকে, তবে আমরা হাফেজ ইবনে হাজারের তাগলীকুত তালীক গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি; যেন আগ্রহী গবেষকগণ জানতে পারেন যে অন্য কোন কিতাব বা সংকলনে এই আসারগুলো পূর্ণ সনদে বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠত: ইউনিনীয়ার মার্জিনে বা আমাদের ব্যবহৃত মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর টীকায় উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ইলমী ফায়দাগুলো লিপিবদ্ধ করা।
তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ পর্যন্ত উল্লিখিত বিষয়গুলো ইলমী ফায়দা সংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র টীকায় রাখা হয়েছে, যা বর্ণনার বিন্যাস সংক্রান্ত টীকা থেকে আলাদা।
সপ্তমত: বিজ্ঞ ইমামগণ তাঁদের পাণ্ডুলিপিতে যেসব সংশোধনমূলক চিহ্ন ব্যবহার করতেন তা বজায় রাখা; যেমন: তাদবীব, তাসহীহ এবং প্রতিটি হাদিসের শেষে ফুটকিযুক্ত বৃত্তাকার চিহ্ন ইত্যাদি। আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেন তাঁদের রীতিনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা যায় এবং কিতাব নিখুঁত করার ক্ষেত্রে তাঁদের বরকতময় পদ্ধতির ধারা বজায় রাখা যায়।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কবুল করেন এবং তাঁর শরীয়তের সীমানা রক্ষার একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে আমাদের গ্রহণ করেন। তিনি যেন আমাদের এই কাজকে তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতের সাথে আমাদের হাত মেলানোর অসীলা বানিয়ে দেন, যেন আমরা তাঁর বরকতময় ডান হাত থেকে এমন এক ঢোক পান করতে পারি যার পর আর কখনও তৃষ্ণা লাগবে না। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতি দাতা। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।