(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: -)
وسطية الإسلام وسماحته - عبد العزيز التويجري القسم: كتب عامة
الكتاب: وسطية الإسلام وسماحته ودعوته للحوار
المؤلف: د. عبد العزيز بن عثمان التويجري
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 25
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 38
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের মধ্যপন্থা ও এর উদারতা - আবদুল আজিজ আল-তুওয়াইজিরি বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামের মধ্যপন্থা, এর উদারতা এবং সংলাপের প্রতি এর আহ্বান
লেখক: ড. আবদুল আজিজ বিন উসমান আল-তুওয়াইজিরি
প্রকাশক: গ্রন্থটি কোনো প্রকাশনা তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ২৫
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১)
وسطية الإسلام وسماحته ودعوته للحوار إعداد
د. عبد العزيز بن عثمان التويجري
المدير العام للمنظمة الإسلامية للتربية والعلوم والثقافة
- إيسيسكو -
بسم الله الرحمن الرحيم
مدخل تتزايد في هذه المرحلة الدقيقة التي يمرّ بها العالم الإسلامي، الأسباب والدواعي التي تدفع إلى معالجة القضايا والموضوعات ذات الصلة بمبادئ الإسلام وقيمه المثلى في الاعتدال والوسطية والسماحة والدعوة إلى الحوار والتعايش بين الأمم والشعوب، من أجل بناء علاقات دولية سليمة، والعمل على استتباب الأمن والسلام واستقرار المجتمعات الإنسانية، وصياغة مستقبل مزدهر للبشرية بمشيئة اللَّه تعالى، تسود فيه قيم الحق والعدل والمساواة والإخاء الإنساني.
ইসলামের ভারসাম্য (وسطية), মহানুভবতা (سماحة) এবং সংলাপের প্রতি এর আহ্বান
ড. আব্দুল আজিজ বিন ওসমান আল-তুওয়াইজরি
মহাপরিচালক, ইসলামিক এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন
- ইসেস্কো -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সূচনা মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে যে সূক্ষ্ম ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, তাতে ইসলামের মূলনীতি এবং মধ্যপন্থা (اعتدال), ভারসাম্য (وسطية), মহানুভবতা (سماحة) ও জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সংলাপ এবং সহাবস্থানের আহ্বানের মতো এর আদর্শ মূল্যবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় ও সমস্যাবলি আলোচনার কারণ ও প্রয়োজনীয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো একটি সুসংহত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা, শান্তি ও মানব সমাজের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে কাজ করা; সেই সাথে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মানবতার জন্য এমন এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করা, যেখানে সত্য, ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিক ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধসমূহ জয়যুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২)
وبقدر ما تتفاقم الأزمات على الصعيد الدولي، ويسود الاضطراب ويعمّ القلق الأسرةَ الدولية نتيجةً لإصرار إسرائيل على مواصلة إرهابها وبطشها بالشعب الفلسطيني قتلاً وتدميراً وحصاراً، ضاربة عرض الحائط بالقانون الدولي وبكل القرارات الصادرة عن الأمم المتحدة التي تدين عدوانها وإجرامها، تَتَعاظَمُ مسؤولية أولي العلم وأرباب الفكر وحَمَلَة القلم من أبناء الأمة الإسلامية، في تبيان وجه الحق في الموقف المبدئي للإسلام من الإرهاب بجميع أشكاله، وفي توضيح المبادئ الإسلامية في التعاون الإنساني وفي تعامل المجتمع الإسلامي مع المجتمعات التي لا تدين بالإسلام على أساسٍ من الأخوة الإنسانية متين.
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকটসমূহ যত ঘনীভূত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হত্যা, ধ্বংসলীলা ও অবরোধের মাধ্যমে ইসরায়েলের অব্যাহত সন্ত্রাস ও নিপীড়নের অনড় অবস্থানের ফলে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে—যা আন্তর্জাতিক আইন এবং তাদের আগ্রাসন ও অপরাধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সকল প্রস্তাবনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে—ঠিক ততটাই মুসলিম উম্মাহর আলেম সমাজ, চিন্তানায়ক ও কলমসৈনিকদের দায়িত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁদের এই দায়িত্ব হলো সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসলামের নীতিগত অবস্থানের সত্য দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা এবং এক সুদৃঢ় মানবিক ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে মানবিক সহযোগিতা ও অমুসলিম সমাজগুলোর সাথে মুসলিম সমাজের পারস্পরিক আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের মহান মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
وعلى الرغم من تعدّد المناسبات التي نبادر فيها إلى إبراز مبادئ الإسلام وتبليغ رسالته إلى الناس كافة، ونقوم فيها بالكشف عن القيم الإسلامية والمثل العليا للدين الإسلامي الحنيف التي تدعو المسلم إلى التعامل مع العالم كلِّه لكونه الأسرة الإنسانية الواحدة، فإن التأكيد على هذه المبادئ يزيدها رسوخاً في الأذهان، ويمدّ إشعاعها إلى المدى الأوسع، ويوضح حقيقة موقف العالم الإسلامي من الجرائم التي ترتكب ضد الإنسانية والتي ينسب بعضها بالباطل والبهتان إلى الإسلام والمسلمين.
إن التأكيد على هذه المبادئ في هذه الظروف التي يتعرض فيها المسلمون للحملات المغرضة التي تزيف الحقائق، وتشوّه صورة الإسلام، وتروّج للأباطيل والاتهامات والشبهات ضد كل ما له صلة بالإسلام، هو من صميم المهام الحضارية التي ننهض بها. وهذه مسؤوليةٌ مشتركةٌ بين جميع العاملين في حقل الفكر الإسلامي، والعمل الإسلامي المشترك، وفي الدعوة الإسلامية بالحكمة والموعظة الحسنة.
যদাপি এমন বহু প্রেক্ষাপট রয়েছে যেখানে আমরা ইসলামের মূলনীতিসমূহ ফুটিয়ে তুলতে এবং সকল মানুষের নিকট এর পয়গাম পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হই এবং ইসলামের সেই সুমহান মূল্যবোধ ও এই একনিষ্ঠ দ্বীনের সুউচ্চ আদর্শসমূহ উন্মোচিত করি যা মুসলিমদেরকে সমগ্র বিশ্বকে একটি অভিন্ন মানব পরিবার হিসেবে গণ্য করে সবার সাথে আচরণ করার আহ্বান জানায়, তবুও এই মূলনীতিগুলোর ওপর পুনঃপুন গুরুত্বারোপ মানুষের মানসপটে এগুলোর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে, এর বিচ্ছুরণকে আরও সুদূরপ্রসারী করে এবং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধসমূহের ব্যাপারে মুসলিম বিশ্বের প্রকৃত অবস্থানকে স্পষ্ট করে, যে অপরাধগুলোর কোনো কোনোটিকে মিথ্যাচার (باطل) ও অপবাদের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর আরোপ করা হয়।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে যখন মুসলিমরা এমন সব বিদ্বেষপ্রসূত প্রচারণার সম্মুখীন হচ্ছে যা সত্যকে বিকৃত করে, ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুর বিরুদ্ধে অসার বিষয় (أباطيل), অপবাদ ও সংশয় ছড়িয়ে দেয়, তখন এই মূলনীতিগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা আমাদের আঞ্জাম দেওয়া সভ্যতাগত দায়িত্বসমূহের মূল নির্যাস। আর এটি ইসলামী চিন্তাধারা, সম্মিলিত ইসলামী কর্মকাণ্ড এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াহর ময়দানে নিয়োজিত সকল ব্যক্তিবর্গের একটি যৌথ দায়িত্ব।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولعل في مقدمة ما يجب أن نجلّيه للرأي العام العالمي، من مبادئ الإسلام الخالدة، ثلاثة مبادئ رئيسَة، هي: الوسطية، والسماحة، والدعوة إلى الحوار، وهي المبادئ التي تشكّل منظومة متكاملة من القيم الثابتة التي لا تتغيّر بتغيّر الزمان والمكان.
وسنتناول في هذا البحث كلَّ مبدأ على حدة، نبيّن حقيقته، ونكشف عن جوهره، ونوضح خصائصه، ونعرض لتأثيراته في المجتمع الإسلامي، وفي العلاقات التي أقامها المسلمون عبر العصور، مع الأمم والشعوب انطلاقاً من أساسه. ثم نعرض بعد ذلك لحاجة البشرية اليوم إلى العودة لهذه المبادئ، حتى يستقر العالم ويعمّ الأمن والسلم أرجاءه، ونعقد مقارنة بين هذه المبادئ، وبين ما جاء في المواثيق والإعلانات والعهود الدولية بهذا الخصوص.
বিশ্ব জনমতের নিকট ইসলামের শাশ্বত নীতিমালার মধ্য থেকে আমাদের যা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত, তার অগ্রভাগে সম্ভবত তিনটি প্রধান মূলনীতি রয়েছে; সেগুলো হলো: মধ্যপন্থা (الوسطية), সহনশীলতা (السماحة) এবং সংলাপের আহ্বান। এগুলো এমন মূলনীতি যা সুদৃঢ় মূল্যবোধের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গঠন করে, যা কাল ও পাত্রের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয় না।
আমরা এই গবেষণায় প্রতিটি মূলনীতি নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করব, এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করব, এর সারসত্তা উন্মোচন করব এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করব। এছাড়া মুসলিম সমাজে এবং এর ভিত্তির ওপর নির্ভর করে যুগ যুগ ধরে অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর সাথে মুসলিমদের গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব তুলে ধরব। অতঃপর বর্তমান মানবজাতির এই মূলনীতিগুলোর দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করব, যাতে বিশ্বে স্থিতিশীলতা আসে এবং এর সর্বত্র নিরাপত্তা ও শান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এই মূলনীতিসমূহ এবং এই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ, ঘোষণা ও চুক্তিগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা পেশ করব।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: وَسَطية الإسلامفي اللغة الوسط للشيء: ما بين طرفَيْه. وجُعلَ الوسط وصفاً للمتصف بالفضائل، فصار معناه الخيِّر الفاضل. ومن شأن هذا أن يكون عدلاً في قضائه وشهادته، يقال رجل وسط وأمة وسط، والأوسط يأتي في معنى الأقرب إلى الاعتدال والقصد، والأبعد عن الغلوّ في الجودة والرداءة ونحوهما (1) .
والوسط: في الأصل هو اسم للمكان الذي يستوي إليه المساحة من الجوانب في المدوَّر، ومن الطرفين في المطوَّل، كمركز الدائرة، ولسان الميزان من العمود، ثم استعير للخصال المحمودة لوقوعها بين طرفَيْ إفراط وتفريط: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (2) : يعني متباعدين عن طرفي الإفراط في كل الأمور والتفريط، ثم أطلق على المتصف بها مستوياً فيه الواحد والجمع والمذكر والمؤنث كسائر الأسماء التي وصف بها (3) .
وفي القاموس، الوسط: كل موضع صلح فيه (بين) فهو بالتسكين، وإلَاّ فهو بالتحريك، ولا يقع إلا ظرفاً.
وتقوم وسطية الإسلام على قواعد من القرآن والحديث النبوي. يقول اللَّه تعالى في محكم التنزيل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} ، والمعنى في هذا السياق القرآني ينصرف إلى أمور ثلاثة:
--------------------------------------------
প্রথমত: ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية)অভিধান অনুযায়ী কোনো বস্তুর 'ওয়াসাত' (وسط) হলো তার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ। আর 'ওয়াসাত' শব্দটিকে সচ্চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির বিশেষণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে উত্তম ও গুণী। এ ধরনের ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য হলো তার বিচার ফয়সালা ও সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়া। বলা হয়ে থাকে 'ওয়াসাত ব্যক্তি' বা 'ওয়াসাত উম্মাহ'। 'আওসাত' (الأوسط) শব্দটি ভারসাম্য ও পরিমিতিবোধের (الاعتدال) অধিকতর নিকটবর্তী এবং উৎকর্ষ ও নিকৃষ্টতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে চরমপন্থা (الغلو) থেকে অধিকতর দূরবর্তী হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় (১)।
মধ্যভাগ (وسط): মূলত এটি এমন কোনো স্থানের নাম যেখানে বৃত্তাকার বস্তুর ক্ষেত্রে সব দিক থেকে এবং দীর্ঘ বস্তুর ক্ষেত্রে দুই প্রান্ত থেকে দূরত্ব সমান হয়; যেমন বৃত্তের কেন্দ্র এবং দাঁড়িপাল্লার কাঁটা। অতঃপর প্রশংসনীয় গুণাবলিকে রূপকার্থে এই শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে, কারণ সেই গুণাবলি আতিশয্য (إفراط) ও অবহেলার (تفريط) দুই প্রান্তের মাঝে অবস্থান করে: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি} (২): অর্থাৎ সকল বিষয়ে আতিশয্য ও অবহেলার দুই প্রান্ত থেকে দূরে অবস্থানকারী। এরপর এই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একবচন, বহুবচন, পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্নভাবে শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যেমনটি অন্যান্য বিশেষণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে (৩)।
'আল-কামুস' অভিধানে বলা হয়েছে: 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দটি যেখানে 'মাঝখানে' (بين) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া সঠিক, সেখানে এটি সুকুন বা সাকিনযুক্ত (পড়ুন: ওয়ান্ত) হবে। অন্যথায় এটি হরকত বা যবরযুক্ত (পড়ুন: ওয়াহসাত) হবে এবং এটি কেবল ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) কুরআন ও নববী হাদিসের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ তাঁর সুষ্পষ্ট ওহিতে বলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি}। কুরআনের এই প্রেক্ষাপটে শব্দটির অর্থ তিনটি বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
أولها: الأمة الوسط.
ثانيها: الدين الوسط.
ثالثها: الرسالة الوسط.
فالأمة الوسط التي تدين بالدين الوسط هي ذات رسالة وسطية، تحمل مبادئ الإيمان والحرية والمساواة والتكافل والتضامن بين جميع البشر، وتنشر قيم الخير والفضيلة، وتدعو الناس كافة إلى سواء السبيل، وتسلك بهم الطرق المستقيمة التي توصلهم إلى الأمن والأمان، والسلام والاطمئنان، وإلى سكينة القلب وراحة الوجدان. والأمة الوسط شاهدة على الناس الشهادة التي تؤكد التكليفَ الإلهيَّ، يقول المولى تعالى في تتمة الآية الثالثة والأربعين بعد المائة من سورة البقرة، موجّهاً الخطاب القرآني إلى المؤمنين: {لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (1) . والشهادة بالحق هي أعلى الدرجات في سلم المسؤولية التي تتحمّلها الأمة الإسلامية وتنهض بأعبائها وتقوم بواجباتها.
--------------------------------------------
প্রথমত: মধ্যমপন্থী উম্মাহ (الأمة الوسط)।
দ্বিতীয়ত: মধ্যমপন্থী দ্বীন (الدين الوسط)।
তৃতীয়ত: মধ্যমপন্থী বার্তা (الرسالة الوسط)।
সুতরাং মধ্যমপন্থী উম্মাহ (الأمة الوسط) যারা মধ্যমপন্থী দ্বীনের (الدين الوسط) অনুসারী, তারা এক মধ্যমপন্থী বার্তার অধিকারী, যা সকল মানুষের মাঝে ঈমান, স্বাধীনতা, সাম্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংহতির মূলনীতিসমূহ বহন করে এবং কল্যাণ ও সচ্চরিত্রের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়। এটি সকল মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানায় এবং তাদের এমন সরল পথে পরিচালিত করে যা তাদের নিরাপত্তা ও অভয়, শান্তি ও স্বস্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি ও বিবেকের আরামের দিকে নিয়ে যায়। আর মধ্যমপন্থী উম্মাহ (الأمة الوسط) মানুষের ওপর এমন সাক্ষ্য (الشهادة) প্রদানকারী যা ঐশী দায়িত্বকে (التكليف) সুনিশ্চিত করে। সূরা বাকারার ১৪৩ নম্বর আয়াতের অবশিষ্টাংশে মহান প্রতিপালক মুমিনদের প্রতি কুরআনী সম্বোধন করে বলেন: {যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন} (১)। আর সত্যের সাক্ষ্য (الشهادة) প্রদান হলো দায়িত্বের সোপানে সেই সর্বোচ্চ স্তর যা মুসলিম উম্মাহ বহন করে, এর গুরুভার আঞ্জাম দেয় এবং এর কর্তব্যসমূহ সম্পাদন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
لقد اختار اللَّه الأمة الإسلامية لتكون شاهدة على العالمين، لأنها أمة الوسط، لا تميل إلى التفريط ولا إلى الإفراط، ولأن خيرية الأمة من وسطيتها. يقول تعالى في كتابه العزيز: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} (1) . فالخيرية في هذا السياق هي الوسطية، واللَّه سبحانه وتعالى وصف أمة الإسلام بالصفتين معاً، كما وصفها بصفات أخرى في آيات كثيرة.
ولما جعل اللَّه هذه الأمة وسطاً، خصّها بأكمل الشرائع وأقوم المناهج وأوضح المذاهب (2) ، كما قال تعالى: {هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} (3) .
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্ববাসীর ওপর সাক্ষী হিসেবে মনোনীত করেছেন, কারণ তারা এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি; তারা শৈথিল্য (تفريط) বা বাড়াবাড়ি (إفراط) কোনোটির দিকেই ঝুঁকে পড়ে না। আর এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যপন্থা (وسطية) অবলম্বনের মধ্যে। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় গ্রন্থে বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে} (১)। সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে শ্রেষ্ঠত্বই হলো মধ্যপন্থা (وسطية), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইসলামি উম্মাহকে একই সঙ্গে এই উভয় বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, যেমন তিনি অন্যান্য আয়াতে তাদের আরও অনেক গুণের বর্ণনা দিয়েছেন।
আর যেহেতু আল্লাহ এই উম্মাহকে মধ্যপন্থী (وسط) করেছেন, তাই তিনি একে পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত, সবচেয়ে সুদৃঢ় আদর্শ এবং সুস্পষ্ট মতাদর্শ দান করেছেন (২), যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন। দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কঠোরতা আরোপ করেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ। তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবেও (তোমাদের এই নাম রাখা হয়েছে), যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানবজাতির ওপর} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
إنها الأمة الوسط التي تشهد على الناس جميعاً، فتقيم بينهم العدل والقسط، وتضع لهم الموازين والقيم، فتبدي فيهم رأيها، فيكون هو الرأي المعتمد، وتزن قيمهم وتصوراتهم وشعاراتهم، فتفصل في أمرها، فتقول هذا حق منها وهذا باطل، لا التي تتلقى من الناس تصوراتها وقيمها وموازينها، وهي شهيدة على الناس، وفي مقام الحكم العدل بينهم، وبينما هي تشهد على الناس هكذا، فإن الرسول هو الذي يشهد عليها، فيقرر لها موازينها وقيمها، ويحكم على أعمالها وتقاليدها، ويزن ما يصدر عنها، ويقول فيها الكلمة الأخيرة. وبذلك تتحدّد حقيقة هذه الأمة ووظيفتها لتعرفها، ولتشعر بضخامتها، ولتقدر دورها حق قدرها، وتستعد له استعداداً لائقاً، وإنها لَلأمة الوسط بكل معاني الوسط، سواء من الوساطة بمعنى الحسن والفضل، أو من الوسط بمعنى الاعتدال والقصد، أو من الوسط بمعناه المادي الحسي (1) .
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই এটি সেই মধ্যপন্থী (وسط) উম্মাহ যারা সকল মানুষের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করবে; ফলে তারা তাদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করবে এবং তাদের জন্য মানদণ্ড ও মূল্যবোধ নির্ধারণ করবে। তারা তাদের বিষয়ে নিজ অভিমত ব্যক্ত করবে এবং সেটিই নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত হিসেবে গণ্য হবে। তারা মানুষের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও স্লোগানসমূহ যাচাই করবে এবং সেগুলোর বিষয়ে ফয়সালা প্রদান করবে। তারা বলবে যে, এর মধ্যে কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা। তারা এমন উম্মাহ নয় যারা মানুষের কাছ থেকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও মানদণ্ড গ্রহণ করবে; বরং তারাই মানুষের ওপর সাক্ষী এবং তাদের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠ বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত। আর যখন তারা এভাবে মানুষের ওপর সাক্ষ্য দিবে, তখন রাসুল তাদের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করবেন। তিনি তাদের জন্য তাদের মানদণ্ড ও মূল্যবোধ সুনিশ্চিত করবেন, তাদের কর্মকাণ্ড ও রীতিনীতির ওপর হুকুম প্রদান করবেন, তাদের থেকে যা প্রকাশ পায় তা পরিমাপ করবেন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর মাধ্যমেই এই উম্মাহর প্রকৃত পরিচয় ও দায়িত্ব নির্ধারিত হয়, যাতে তারা তা জানতে পারে, এর গুরুত্ব অনুভব করতে পারে, এর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। আর এটি ‘ওয়াসাত’ শব্দের সকল অর্থেই একটি মধ্যপন্থী (وسط) উম্মাহ; চাই তা শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযিলতের অর্থে হোক, কিংবা ভারসাম্য ও পরিমিতিবোধের অর্থে হোক, অথবা বস্তুগত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অবস্থানের দিক থেকে মধ্যবর্তী হওয়া বুঝাক (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
لقد جعل اللَّه الإسلام ديناً وسطاً وأمر المسلمين بأن يكونوا خياراً عدولاً، فهم خيار الأمم والوسط في الأمور كلها، بلا إفراط، ولا تفريط، في شأن الدين والدنيا، وبلا غلو في دينهم، ولا تقصير منهم في واجباتهم، فهم ليسوا بالماديين، ولا بالروحانيين، وإنما جمعوا حق الجسد وحق الروح، تمشياً مع الفطرة الإنسانية القائمة على أن الإنسان جسد وروح.
ومن غايات هذه الوسطية وثمرتها: أن يكون المسلمون شهداء على الأمم السابقة يوم القيامة، فهم يشهدون أن رسلهم بلَّغتهم دعوةَ اللَّه، ففرط الماديون في جنب اللَّه وأخلدوا إلى الملذات، وحرم الروحانيون أنفسهم من التمتع بحلال الطيبات، فوقعوا في الحرام، وخرجوا عن جادة الاعتدال، وجنوا على متطلبات الجسد.
والحاصل أن الشهادة على الأمم ميزانُها وسببُها وسطية الإسلام، ويؤكدها شهادة الرسول صلى الله عليه وسلم على أمته بأنه يزكيهم ويُعلم بعدالتهم (1) .
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা ইসলামকে একটি মধ্যমপন্থী (وسط) ধর্ম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা শ্রেষ্ঠ (خيار) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) হয়; ফলে তারা সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং যাবতীয় বিষয়ে মধ্যমপন্থী, যেখানে দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে কোনো অতিরঞ্জন (إفراط) বা অবহেলা (تفريط) নেই, এবং তাদের দ্বীনের ব্যাপারে কোনো চরমপন্থা (غلو) নেই, আর তাদের কর্তব্যে কোনো ত্রুটি নেই। তারা কেবল জড়বাদী নয়, আবার কেবল আধ্যাত্মবাদীও নয়, বরং তারা দেহের অধিকার ও আত্মার অধিকারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে, যা মানুষের সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মানুষ দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত।
এই মধ্যপন্থা (وسطية) অবলম্বনের অন্যতম লক্ষ্য ও প্রতিফল হলো: কিয়ামতের দিন মুসলিমরা পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর সাক্ষী (شهداء) হবে। তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, তাদের নিকট প্রেরিত রাসূলগণ আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন; কিন্তু জড়বাদীরা আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে শিথিলতা (تفريط) প্রদর্শন করেছিল এবং পার্থিব ভোগবিলাসে নিমগ্ন হয়েছিল, আর আধ্যাত্মবাদীরা নিজেদেরকে হালাল ও পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে বঞ্চিত করেছিল, ফলে তারা হারামে লিপ্ত হয়েছিল, ভারসাম্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল এবং দেহের চাহিদার ওপর জুলুম করেছিল।
সারকথা হলো, উম্মতগণের ওপর সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের মানদণ্ড ও কারণ হলো ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية), এবং উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষ্য একে সুনিশ্চিত করে যে, তিনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ/তাযকিয়াহ (تزكية) করেন এবং তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن شروط الشهادة في الأمور التي تتعلق بأحوال الناس ومعاشهم وحياتهم العامة: الصدق، والنزاهة، والاستقامة، إلى المعرفة والإحاطة بالظروف والحيثيات والمعطيات كافة. فالعلم مع هذه السجايا الحميدة، من مقوّمات الشهادة، وهذا الشرط لا يتوافر كاملاً مستوفيَ الأركان، إلا عند المؤمن حقاً بالدين الوسط، والذي ينتمي فعلاً إلى الأمة الوسط.
ولعلنا بهذا الربط بين (وسطية الإسلام) ، وبين (خيرية الأمة الإسلامية) ، نصل إلى إدراك المفهوم العميق لهذا المبدأ السامي من مبادئ الإسلام. وهو مبدأ لم تكن تعرفه الأديان السماوية السابقة على الإسلام، وذلك مما يتطابق تطابقاً تاماً مع الدين الخاتم والرسالة الخاتمة.
ولا ينبغي أن يتبادر إلى الذهن على أي نحو من الأنحاء أن الوسطية تعني مستوى من مستويات التوفيق بين قواعد ومبادئ وقيم ومثل نزولاً على مقتضى من المقتضيات، أو أنها ضرب من (التقريب) بين ما تَبَايَنَ واختلف من التشريعات والأحكام. فهذا الفهم للوسطية يجافي حقيقتها ويتعارض مع خصوصيتها.
মানুষের অবস্থা, জীবিকা এবং তাদের সাধারণ জীবন সম্পর্কিত বিষয়াবলির সাক্ষ্যের অন্যতম শর্ত হলো: সত্যবাদিতা (الصدق), স্বচ্ছতা (النزاهة), দৃঢ়তা (الاستقامة) এবং সকল পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট ও তথ্য সম্পর্কে জ্ঞান ও পরিব্যপ্তি। সুতরাং এই প্রশংসনীয় গুণাবলির সাথে জ্ঞান হলো সাক্ষ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। আর এই শর্তটি তখনই পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান থাকে, যখন কেউ ভারসাম্যপূর্ণ দ্বীনের (الدين الوسط) প্রতি প্রকৃত বিশ্বাসী এবং মধ্যপন্থী উম্মাহর (الأمة الوسط) প্রকৃত অন্তর্ভুক্ত হন।
সম্ভবত ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية الإسلام) এবং মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বের (خيرية الأمة الإسلامية) মধ্যে এই সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা ইসলামের মহান আদর্শসমূহের অন্যতম এই উচ্চতর মূলনীতির গভীর মর্মার্থ অনুধাবনে সক্ষম হব। এটি এমন এক মূলনীতি যা ইসলামের পূর্ববর্তী আসমানি ধর্মসমূহ জানত না, যা সর্বশেষ দ্বীন এবং সর্বশেষ রিসালাতের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর কোনোভাবেই মনে করা উচিত নয় যে, মধ্যপন্থা (الوسطية) মানে হলো বিশেষ কোনো প্রয়োজনের তাগিদে বিভিন্ন নিয়ম, মূলনীতি, মূল্যবোধ ও আদর্শের মধ্যে কোনো স্তরের আপস করা, অথবা এটি পরস্পর ভিন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বিধিবিধান ও হুকুমের মধ্যে এক প্রকার সমন্বয় (التقريب) সাধন করা। কেননা মধ্যপন্থা (الوسطية) সম্পর্কে এমন অনুধাবন এর প্রকৃত রূপের পরিপন্থী এবং এর বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وجملة القول أن الوسطية هي تحقيق لمبدأ التوازن الذي تقوم عليه سنة اللَّه في خلقه. يقول تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} (1) ، أي بمقدار وبميزان، ووفق نظام رباني ومشيئة إلاهية، ولحكمة أرادها اللَّه تعالى. ويقول اللَّه تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} (2) أي وفق تقدير مسبق وثوابت وسَنَن لا تبديل لها. وهذا التوازن الذي يعني في الوقت نفسه الاعتدال، والتكافؤ بين العناصر والمقومات والمكونات جميعاً والتكامل فيما بينها، هو القاعدة الثابتة للوسطية، وهو الخاصية الجوهرية التي تتميّز بها، فإذا انتفى هذا التوازن، فقدت الوسطية عنصرها الأساس، لأنها في هذه الحالة تميل مع الأهواء، فتصبح تفريطاً أو إفراطاً، وهما بابان من أبواب التطرف في أحد الاتجاهين الإيجابي أو السلبي، وإن كان لا خير في التطرف من حيث هو، وإن حسنت النوايا، لأنه شرٌّ كلّه وعاقبته وخيمة في جميع الأحوال.
--------------------------------------------
পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যপন্থা (الوسطية) হলো ভারসাম্যের সেই মূলনীতির বাস্তবায়ন যার ওপর আল্লাহর সৃষ্টির বিধান প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছি পরিমিতভাবে} (১), অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ ও ভারসাম্য বজায় রেখে এবং রব্বানি বিধান ও ইলাহি ইচ্ছানুযায়ী, সেই হিকমতের ভিত্তিতে যা আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তা নির্ধারণ করেছেন যথাযথ অনুপাতে} (২), অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট পূর্ব-পরিকল্পনা, অটল আদর্শ এবং অপরিবর্তনীয় নিয়ম অনুযায়ী। আর এই ভারসাম্য—যার অর্থ একই সাথে পরিমিতিবোধ এবং সকল উপাদান, ভিত্তি ও উপকরণের মধ্যে সমতা ও পারষ্পরিক পূর্ণতা বিধান—হলো মধ্যপন্থার (الوسطية) একটি অবিচল ভিত্তি। এটিই সেই মৌলিক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে এটি বিশিষ্টতা লাভ করে। যদি এই ভারসাম্য বিলুপ্ত হয়, তবে মধ্যপন্থা (الوسطية) তার মূল উপাদান হারিয়ে ফেলে; কারণ সেক্ষেত্রে এটি প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশির অনুগামী হয়ে পড়ে এবং তা শিথিলতা (تفريط) অথবা বাড়াবাড়ি (إفراط) হিসেবে গণ্য হয়। এ দু’টি বিষয়ই হলো ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেকোনো এক দিকে চরমপন্থার দু’টি দ্বার। চরমপন্থার মধ্যে আদতে কোনো কল্যাণ নেই, যদিও উদ্দেশ্য ভালো হয়ে থাকে; কারণ এটি সম্পূর্ণ অনিষ্ট এবং সর্বাবস্থায় এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولقد وضع الخالق تعالى الميزان لهذا الكون، ما نعلمه منه وما نجهل، لتنظيم الحياة وفق نظام رباني يجمع بين الانسجام والتناغم وبين الاعتدال والتوازن، وهو ما يؤكد أن الوسطية أصل النظام الكوني، وأنها عنصر من عناصر الخلق. وكما ينطبق هذا النظام الرباني على الحياة والكون، ينطبق أيضاً على الإنسان بدرجة أولى، بحيث إن المنهج الذي يصلح للإنسان هو المنهج الوَسَطي، وهو ما جاءت به الرسالة الإسلامية الخاتمة التي اشتملت على القواعد والأصول وكليات الأحكام.
فالوسطية هي المنهج الرباني، والنظام الكوني الإلهي، وسنة اللَّه في خلقه، وهي تنسجم مع الفطرة الإنسانية، ولذلك فالخير كلُّه في الوسطية التي جاء بها الإسلام للأمة الإسلامية وللإنسانية جمعاء، في كل زمان ومكان. وقد بلغت الوسطية الإسلامية وتبلغ هذا المقام في حضارتنا، لأنها بنفيها الغلو الظالم والتطرف الباطل، إنما تمثل الفطرة الإنسانية الطبيعية في براءتها، وفي بساطتها، وبداهتها، وعمقها، وصدق تعبيرها عن فطرة اللَّه التي فطر الناس عليها، إنها صبغة اللَّه (1) .
--------------------------------------------
মহান স্রষ্টা এই মহাবিশ্বের জন্য একটি ভারসাম্য নির্ধারণ করেছেন—তা আমরা অবগত হই কিংবা না হই—যাতে জীবন এক রব্বানি ব্যবস্থার অধীনে সুসংগঠিত হয়, যা সংহতি ও সুসমন্বয় এবং পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্যের সমন্বয় ঘটায়। এটি একথাই নিশ্চিত করে যে, মধ্যপন্থা (وسطية) হলো মহাজাগতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং এটি সৃষ্টির অন্যতম উপাদান। এই ঐশী নিয়ম যেমন জীবন ও মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি তা প্রথমত মানুষের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। ফলে মানুষের জন্য কল্যাণকর পথ হলো মধ্যপন্থা (وسطية) অবলম্বন করা। আর এটিই ইসলামের সেই চূড়ান্ত বার্তা, যা বিভিন্ন নিয়ম, মূলনীতি (أصول) এবং বিধানের সামগ্রিক বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সুতরাং মধ্যপন্থা (وسطية) হলো একটি খোদায়ী পদ্ধতি, ঐশী মহাজাগতিক ব্যবস্থা এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর সুন্নাত। এটি মানবীয় ফিতরাতের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই মধ্যপন্থা (وسطية)-র মধ্যেই সকল কল্যাণ নিহিত, যা ইসলাম মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বকালে ও সর্বস্থানে নিয়ে এসেছে। আমাদের সভ্যতায় ইসলামি মধ্যপন্থা (وسطية) এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে; কারণ এটি অন্যায় অতিরঞ্জন (غلو) এবং বাতিল চরমপন্থা (تطرف)-কে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক ফিতরাতকে তার শুভ্রতা, সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীরতায় উপস্থাপন করে। এটি আল্লাহর সেই ফিতরাতেরই সত্য প্রকাশ যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; এটিই আল্লাহর রঙ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانياً: في دلالة سماحة الإسلامفي اللغة، السماحة: الجود والكرم والسهولة، وسمح سمحاً وسماحاً: لانَ وسَهُل، والسَّماح التسامح والتساهل. وفي الفقه البيع السَّماح هو البيع بأقل من الثمن المناسب. ومن معاني السماحة أيضاً، سمح العود: استوى وتجرّد من العقد. ففي تاج العروس (سُمح، ككرُم، سماحاً وسماحةً وسموحاً وسموحةً، بالضم فيها، و (سمحاً) بفتح فسكون (وسماحاً) ، إذا جاد بما لديه، وكرم (1) . وفي معجم لغة الفقهاء: سماحة مصدر سُمح (بضم الميم وفتحها) الجود والكرم، واللين والسهولة (2) . وورود (اللين) هنا يفيد نقيض الشدة التي ترهق وتكلف المرء ما لا يستطيع تحمّله من أعباء وتكاليف في حياته. واللين فضيلة من الفضائل المحمودة، وهو منزع من منازع الشريعة السمحاء، وصفة من صفات المؤمن.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ইসলামের উদারতার (سماحة) তাৎপর্য প্রসঙ্গেভাষাগতভাবে, ‘সামাহাহ’ (سماحة) অর্থ হলো: মহানুভবতা (جود), বদান্যতা (كرم) এবং সহজসাধ্যতা (سهولة)। ‘সামুহা-সামহান-সামাহান’ (سمح سمحاً وسماحاً) এর অর্থ হলো: কোমল ও সহজ হওয়া। আর ‘সামাহ’ (سماح) বলতে সহনশীলতা (تسامح) ও শিথিলতা (تساهل) বোঝায়। ফিকহ শাস্ত্রের (فقه) পরিভাষায় ‘উদার বিক্রয়’ (البيع السماح) হলো উপযুক্ত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা। ‘সামাহাহ’ (سماحة) শব্দের অন্যতম অর্থ হলো— বৃক্ষশাখা সোজা হওয়া এবং গিঁটমুক্ত হওয়া। ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: (সামুহা—‘কারুমা’ এর ওজনে—সামাহান ও সামাহাতান এবং সুমুহান ও সুমুহাতান—পেশ যোগে; এবং সামহান—সীন বর্ণে জবর ও মিম বর্ণে সাকিন যোগে; ও সামাহান) যখন কেউ তার নিকট যা আছে তা নিয়ে মহানুভবতা (جود) ও বদান্যতা (كرم) প্রদর্শন করে (১)। ‘মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সামাহাহ হলো ‘সামুহা’ (سُمح) শব্দের (মিম বর্ণে পেশ অথবা জবর যোগে) মাসদার (مصدر), যার অর্থ মহানুভবতা (جود), বদান্যতা (كرم), কোমলতা (لين) ও সহজসাধ্যতা (سهولة) (২)। এখানে ‘কোমলতা’ (لين) শব্দের ব্যবহার সেই কঠোরতার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে যা মানুষকে পরিশ্রান্ত করে এবং তার ওপর সাধ্যাতীত জীবনযাপনের বোঝা ও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়। কোমলতা (لين) একটি প্রশংসনীয় গুণ এবং এটি উদার শরিয়তের (شريعة) অন্যতম মূলনীতি ও মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وينفرد صاحب (التعريفات) بإيراد معنى عميق الدلالة رحب المضمون، للسماحة، وهو (بذل ما لا يجب تفضّلاً) (1) . ولعل هذا المعنى هو أقرب ما يكون إلى الكرم والجود. ويلحظ ابتداءً أن الجرجاني أدق في تعريفه السماحة من غيره، لنزوعه كما نعلم إلى التعمق في المفردات والنظر إليها من زاوية أشمل، هي إلى الفلسفة أقرب منها إلى اللغة.
--------------------------------------------
(আত-তারিফাত) গ্রন্থের রচয়িতা ‘উদারতা’-এর এমন এক সুগভীর ও বিস্তৃত অর্থ বর্ণনা করেছেন যা অনন্য, আর তা হলো: (অনুগ্রহস্বরূপ এমন কিছু প্রদান করা যা আবশ্যক নয়) (১)। সম্ভবত এই অর্থটি বদান্যতা ও দানশীলতার সর্বাধিক নিকটবর্তী। প্রাথমিকভাবে এটি পরিলক্ষিত হয় যে, আল-জুরজানি ‘উদারতা’-এর সংজ্ঞায়নে অন্যদের তুলনায় অধিকতর সূক্ষ্মতা প্রদর্শন করেছেন। এর কারণ হলো শব্দমালার গভীরে প্রবেশ করা এবং সেগুলোকে একটি ব্যাপকতর দৃষ্টিভিকোণ থেকে দেখার প্রতি তাঁর সুপরিচিত প্রবণতা, যা ভাষাতত্ত্বের তুলনায় দর্শনের অধিকতর নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد اكتسب مصدر (السماحة) في هذا العصر معنى هو أقرب إلى التساهل بما يعني عدم تعقيد الأمور وجعلها سهلة لينة. وللتساهل معنيان، أولهما إيجابي، وثانيهما سلبي. ونحن نقصد بطبيعة الحال المعنى الإيجابيَّ الذي هو نقيض التفريط والإخلال بالواجب. وبذلك يكون معنى سماحة الإسلام، أو الشريعة السمحاء، هو التسهيل في الأحكام والتكاليف الشرعية، ومراعاة مقتضيات الفطرة الإنسانية، وتخفيف الأعباء عن كاهل الإنسان وعدم تكليفه ما لا يطيق، مصداقاً لقوله تعالى: {لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا} (1) ، وقوله عز وجل: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} (2) ، ولقوله عزَّ من قائل: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} (3) . ونحن إذا جمعنا هذه المعاني جميعاً، نصل إلى المعنى العام للسماحة الذي نهدف إليه، وهو المعنى الوافي بالقصد في هذا السياق. وفي ضوء ذلك تكون سماحة الإسلام، هي رحابة مبادئه وسعة شريعته ونزوعه إلى اللين واليسر، وتلبيته لنداء الفطرة واستجابته لمتطلباتها في وسطية واعتدال.
--------------------------------------------
বর্তমান যুগে 'উদারতা' (السماحة) শব্দটি এমন এক অর্থের রূপ লাভ করেছে যা শিথিলতার (التساهل) অধিক নিকটবর্তী, যার অর্থ হলো বিষয়গুলোকে জটিল না করা এবং সেগুলোকে সহজ ও কোমল করা। এই শিথিলতার (التساهل) দুটি অর্থ রয়েছে: প্রথমটি ইতিবাচক এবং দ্বিতীয়টি নেতিবাচক। আমরা স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক অর্থটিই উদ্দেশ্য নিচ্ছি, যা অবহেলা (التفريط) এবং কর্তব্য পালনে ত্রুটির (الإخلال بالواجب) বিপরীত। সেই হিসেবে ইসলামের উদারতা (سماحة الإسلام) বা উদার শরিয়তের (الشريعة السمحاء) অর্থ হলো বিধান ও শরিয়াহর বিধি-নিষেধের ক্ষেত্রে সহজীকরণ (التسهيل), মানব প্রকৃতির চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা, মানুষের কাঁধ থেকে গুরুভার লাঘব করা এবং তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে না দেওয়া। মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা অনুযায়ী: {কাউকেও তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া হয় না} (১), এবং মহামহিম আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না} (২), এবং আরও এক স্থানে তিনি বলেছেন: {আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে—আমি কাউকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করি না} (৩)। আমরা যদি এই সবকটি অর্থকে একত্রিত করি, তবে উদারতার (السماحة) সেই সাধারণ অর্থে পৌঁছাতে পারব যা আমাদের লক্ষ্য, আর এটিই এই প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদানকারী। এর আলোকে ইসলামের উদারতা (سماحة الإسلام) বলতে এর মূলনীতিসমূহের প্রশস্ততা, শরিয়তের ব্যাপকতা এবং কোমলতা ও সহজতার (اليسر) প্রতি এর প্রবণতাকে বোঝায়; যা ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা (وسطية واعتدال) বজায় রেখে মানব প্রকৃতির ডাক ও এর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لقد اشتملت مبادئ الإسلام على منهج للحياة ملائم للإنسان في كل أطواره وظروفه، فيه الرحمة بالإنسان، وفيه هدايته إلى ما فيه الخير والصلاح والقوة والمناعة ضد كل ما يفسد الفطرة ويضرّ بالجسد والروح، وفيه ما يحقق له سكينة الضمير وراحة العقل وطمأنينة النفس، ويضمن له السعادة في الدارين.
ورحمة الإسلام بالإنسان من حيث هو إنسان، إنما تأتي من وسطيته، ومن سماحته، ومن عدالته، ومن تكريمه للإنسان، ومن تأكيده على مبدأ الأخوة الإنسانية النابعة من وحدة الأصل، فمبادئ الإسلام كلها رحمة وسماحة وعدالة بين البشر جميعاً، واللَّه سبحانه وتعالى خلق الخلق وسخر لهم ما في الكون وبعث فيهم الرسل والأنبياء، وجعل رسوله محمد بن عبد اللَّه صلى الله عليه وسلم آخر أنبيائه ورسله مثال السماحة وعنوان الوسطية وميزان العدالة، والرحمة المهداة إلى الإنسانية، إلى أن تقوم الساعة.
ইসলামের মূলনীতিসমূহ মানুষের প্রতিটি পর্যায় ও পরিস্থিতির উপযোগী এমন এক জীবনব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাতে রয়েছে মানুষের প্রতি রহমত, এবং তাকে এমন সব বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করা যাতে রয়েছে কল্যাণ, সংশোধন, শক্তি এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة) বিনষ্টকারী ও দেহ-মনকে ক্ষতিগ্রস্তকারী সকল বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা। এতে আরও রয়েছে এমন সব উপাদান যা মানুষের বিবেকের প্রশান্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বস্তি ও আত্মার স্থিরতা নিশ্চিত করে এবং উভয় জগতে তার সৌভাগ্য নিশ্চিত করে।
মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি ইসলামের এই রহমত মূলত এর মধ্যপন্থা (وسطية), উদারতা (سماحة), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। এছাড়া সৃষ্টির মূল উৎসের একতা থেকে উৎসারিত মানবিক ভ্রাতৃত্বের মূলনীতির ওপর গুরুত্বারোপের ফলেও তা পরিস্ফুট হয়। বস্তুত ইসলামের সকল মূলনীতিই হচ্ছে সমগ্র মানবজাতির মাঝে রহমত, উদারতা (سماحة) ও ন্যায়বিচারের (عدالة) বহিঃপ্রকাশ। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, মহাবিশ্বের সবকিছুকে তাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন এবং তাদের নিকট রাসূল (رسول) ও নবীগণকে (أنبياء) প্রেরণ করেছেন। আর তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল (رسول) হিসেবে মনোনীত করেছেন, যিনি কিয়ামত পর্যন্ত মানবতার জন্য উদারতার (سماحة) এক অনন্য দৃষ্টান্ত, মধ্যপন্থার (وسطية) মূর্ত প্রতীক, ন্যায়বিচারের (عدالة) মানদণ্ড এবং এক উপহারস্বরূপ রহমত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثالثاً: دعوة الإسلام إلى الحوارتقوم فلسفة الحوار في الحضارة الإسلامية على قواعد ثلاث، هي:
القاعدة الأولى:
الإيمان بالله ورسوله وكتابه، وتقوى اللَّه، والتواضع للَّه، والثقة في نصره، والاعتزاز بالحق والتشبث به، يقول تعالى في محكم التنزيل: {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (1) ، {وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} (2) . فاستشعارُ العزة والامتلاء بها، يحفزان إلى الثبات في مواقف الحق، وإلى عدم الركون إلى الباطل أو الانهزام أمام سطوته، ويقوّيان في النفس إرادةَ البقاء الحرّ الكريم، فالمؤمن دائماً عزيز النفس قويُّ الجانب، حرّ الإرادة، كريم الذات؛ لا يقبل الهوان والانكسار والذلة والصغار، لا في دينه، ولا في نفسه.
القاعدة الثانية:
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: সংলাপে ইসলামের আহ্বানইসলামী সভ্যতায় সংলাপের দর্শন তিনটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:
প্রথম মূলনীতি:
আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর কিতাবের প্রতি ঈমান আনা, আল্লাহর প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করা, আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়া, তাঁর সাহায্যের ওপর আস্থা রাখা এবং সত্যের প্রতি গৌরববোধ ও তাতে অবিচল থাকা। মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় বাণীতে ইরশাদ করেছেন: {আর সকল মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদেরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না} (১), {আর তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও} (২)। সুতরাং আত্মমর্যাদাবোধের অনুভূতি এবং এতে সিক্ত হওয়া সত্যের অবস্থানে অবিচল থাকতে এবং বাতিলের প্রতি ঝুঁকে না পড়তে কিংবা তার দাপটের সামনে পরাজিত না হতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি মানুষের অন্তরে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করে। ফলে মুমিন সর্বদা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা এবং স্বকীয়তায় উজ্জ্বল হয়ে থাকেন; তিনি কখনো হীনম্মন্যতা, পরাজয়, লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতা কবুল করেন না—না তাঁর দ্বীনের ক্ষেত্রে, আর না তাঁর নিজের সত্তার ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয় মূলনীতি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التأدّب بأخلاق الإسلام، والتأسي بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وسِيرة صحابته الكرام، في الحوار ومخاطبة الناس من منطلق الإيمان بوحدة النوع الإنساني أولاً، قال صلى الله عليه وسلم: «كلكم لآدم وآدم من تراب» ، والمجادلة بالتي هي أحسن ثانياً، يقول تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (1) ، {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (2) .
القاعدة الثالثة:
نشدان الحق والبحث عنه، والسعي إلى الحقيقة والتماسها، والقصد إلى ما فيه الصالحُ العام من شتى الطرق التي ليس فيها انحرافٌ عن محجة الشرع، وبمختلف الوسائل التي تحقّق مصالح العباد والبلاد.
--------------------------------------------
ইসলামি নৈতিকতায় ভূষিত হওয়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের সীরাতের অনুসরণ করা; যা হবে মানুষের সাথে সংলাপ ও সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রথমত মানবজাতির একত্বের ওপর বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সকলেই আদমের সন্তান এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্টি»। দ্বিতীয়ত, উত্তম পন্থায় বিতর্ক করা; মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়} (১), {আর তোমরা কিতাবধারীদের সাথে বিতর্ক করো না সর্বোত্তম পন্থা ব্যতীত} (২)।
তৃতীয় নীতি:
সত্যের অন্বেষণ ও অনুসন্ধান করা, হাকীকত বা প্রকৃত সত্যের দিকে ধাবিত হওয়া ও তা তালাশ করা এবং শরীয়তের সুষ্পষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে বিভিন্ন উপায়ে জনকল্যাণ নিশ্চিত করার সংকল্প করা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী বিভিন্ন মাধ্যম গ্রহণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعلى الرغم من الطبيعة المتشعبة للحوار، فإنه ليس دعوة، ولا مناظرة، ولا مجادلة، ولكنه صيغة جامعة، وأسلوب من أساليب التقارب والتجاوب والتفاعل. ولذلك فإن من شروط الحوار الجادّ الهادف أن يتصف بالحكمة. والحكمة هي جماع العلم والمعرفة، من عناصرها الفطنةُ وحسنُ الفهم، وعمق الوعي وسعة الإدراك، والرشد، والتنبّه، والقصد والاعتدال. يقول تعالى في سورة البقرة: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (1) . وإذا كانت الحكمة هنا قرينةَ الدعوة، فإنها من شروط الحوار أيضاً.
--------------------------------------------
সংলাপের বহুমুখী প্রকৃতি সত্ত্বেও এটি কোনো দাওয়াত, বিতর্ক কিংবা তর্কা-তর্কি নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত রূপ এবং পারস্পরিক নৈকট্য, সাড়াদান ও মিথস্ক্রিয়ার একটি মাধ্যম। এই কারণে কার্যকর ও লক্ষ্যমুখী সংলাপের অন্যতম শর্ত হলো প্রজ্ঞায় ভূষিত হওয়া। প্রজ্ঞা হলো জ্ঞান ও মারেফতের সমষ্টি; যার উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ণ মেধা, উত্তম বোধশক্তি, প্রগাঢ় সচেতনতা, উপলব্ধির প্রশস্ততা, সঠিক পথপ্রাপ্তি, সতর্কতা এবং পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্য। মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারায় ইরশাদ করেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে অবশ্যই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} (১)। এখানে প্রজ্ঞা যদি দাওয়াতের সহগামী হয়ে থাকে, তবে তা সংলাপের জন্যও অন্যতম একটি শর্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكما ترتبط الدعوة بالحكمة والموعظة الحسنة، فكذلك الحوار قرين الحكمة والموعظة الحسنة في جميع الأحوال. وهذا الارتباط هو من قبيل ارتباط المنهج والمضمون بالوسيلة والأسلوب؛ فالحوار هو الوسيلة والأسلوب، والحكمة هي المنهج، بينما المضمون هو الموعظة الحسنة، وليست أية موعظة، على أي نحوٍ من الأنحاء، ولا بأية طريقة من الطرق، ولكنها موعظةٌ حسنة. وفي السياق القرآني، تتبع الدعوةَ إلى اللَّه بالحكمة والموعظة الحسنة، المجادلةُ بالتي هي أحسن، يقول تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (1) . وينطبق هذا على الحوار انطباقاً كاملاً.
وإذا كانت المجادلة، وهي مقارعة الحجة بالحجة، تأتي في المرتبة الثانية من مراتب الدعوة إلى اللَّه، وكما أن الدعوة لا تتم على الوجه الشرعي، إلا إذا كانت صادرة عن الحكمة، ومقترنة بها، كذلك الحوار لا يكون إلا بالتي هي أحسن، أي أحسن الوسائل وأقوم الأساليب، وأصح الطرق. وهذه هي مبادئ الحوار، وأسسه، وشروطه.
--------------------------------------------
যেমনভাবে দাওয়াত প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের সাথে সম্পৃক্ত, তেমনিভাবে সংলাপও সকল অবস্থায় প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। এই সম্পৃক্ততা হলো মূলত মাধ্যম ও শৈলীর সাথে পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সম্পর্কের মতো; এখানে সংলাপ হলো মাধ্যম ও শৈলী এবং প্রজ্ঞা হলো পদ্ধতি, আর বিষয়বস্তু হলো উত্তম উপদেশ। এটি কোনো সাধারণ উপদেশ নয়, কোনো সাধারণ ছক বা পন্থায় নয়, বরং এটি একটি বিশেষায়িত ‘উত্তম’ উপদেশ। কুরআনিক প্রেক্ষাপটে, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের অনুগামী হয় সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক; মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার রবের পথের দিকে দাওয়াত দিন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়} (১)। এটি সংলাপের ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রযোজ্য।
আর যদি বিতর্ক—যা হলো যুক্তির বিনিময়ে যুক্তি প্রদান—আল্লাহর পথে দাওয়াতের স্তরসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরে অবস্থান করে, তবে দাওয়াত যেমন প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত এবং তার সাথে ঘনিষ্ঠ না হলে শরয়ী পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় না, তেমনি সংলাপও কেবল সর্বোত্তম পন্থায়—অর্থাৎ সর্বোত্তম মাধ্যম, সঠিক শৈলী এবং বিশুদ্ধতম (أصح) পদ্ধতিতে—পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। আর এগুলিই হলো সংলাপের মূলনীতি, ভিত্তি এবং শর্তাবলি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما مقوّمات المحاور، فهي فرعٌ عن هذه المبادئ، وتأسيسٌ على تلك القواعد. فالمحاور لا بد أن يكون حكيماً فطناً، عالماً بالعصر، فقيهاً في قضاياه ومشكلاته، قوياً مستقيماً، عارفاً بالدنيا، مدركاً لرسالته، متفتح العقل، ذكي الفؤاد، واسع الأفق، محيطاً بمعارف شتى، على قدر كبير من الثقافة والخبرة والتخصّص.
وبهذا المعنى، فإن الحوار قوة وسلاح من أسلحة السجال الثقافي والمعركة الحضارية، وهو وسيلة ناجعة من وسائل الدفاع عن المصالح العليا للأمة، وشرح قضاياها، وإبراز اهتماماتها، وتبليغ رسالتها، وإسماع صوتها، وإظهار حقيقتها، وكسب الأنصار لها، وجلب المنافع إليها، ودرء المفاسد عنها.
وإذا كان الحوار أصلاً ثابتاً في الحضارة الإسلامية، فإنه من مبادئ الشرع الحنيف، استناداً إلى قوله تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} (1) . فهذه الآية في عمقها وجوهرها، وفي مغزاها ومعناها، دعوة إلى الحوار الراقي الهادف.
--------------------------------------------
একজন আলোচকের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো এই মূলনীতিসমূহের একটি শাখা এবং সেই নিয়মাবলির (قواعد) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং একজন আলোচককে অবশ্যই প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ, সমসাময়িক যুগ সম্পর্কে বিজ্ঞ, যুগের সমস্যা ও সংকটসমূহ সম্পর্কে সুবিজ্ঞ (فقيه), শক্তিশালী ও অটল (مستقيم), দুনিয়া সম্পর্কে অবগত, নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন, উদারমনা, প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন, বিভিন্ন জ্ঞানে পরিবেষ্টিত এবং সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত জ্ঞানে উচ্চস্তরের অধিকারী হতে হবে।
এই অর্থে, সংলাপ হলো একটি শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিতর্ক ও সভ্যতাগত লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার। এটি উম্মাহর সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম, এবং এর সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করার, এর গুরুত্বসমূহ তুলে ধরার, এর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার, এর কণ্ঠস্বর শোনানোর, এর প্রকৃত সত্য উন্মোচনের, এর জন্য সহায়ক শক্তি অর্জনের, এর জন্য কল্যাণ বয়ে আনার এবং এর থেকে অকল্যাণ (مفاسد) দূর করার একটি সফল উপায়।
সংলাপ যদি ইসলামী সভ্যতার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ভিত্তি (أصل) হয়ে থাকে, তবে এটি সুমহান শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর নির্ভরশীল: "বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান; যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি, তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরিক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ না করি।" (১)। এই আয়াতটি তার গভীরতায় ও সারমর্মে এবং এর তাৎপর্য ও অর্থে একটি উন্নত ও উদ্দেশ্যমূলক সংলাপের প্রতি আহ্বান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وتأسيساً على هذه القاعدة، فإن الحوار الذي يجب أن ندعو إليه وندخل فيه ونتبنّاه، هو الذي يستمد من الإسلام روح الاعتدال، لأن أحكام الإسلام تسودها روح الاعتدال، فهي تنبذ التطرف وتفضل التوسّط بين الأطراف. ولقد وردت الكثير من الآيات القرآنية في مواضع مختلفة تشير إلى هذه الروح، بل تشيد بها، أي بذلك التوسّط، منها قولُه تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} (1) ويقصد "بأمة وسط" أمة لها طابع الاعتدال (2) . ويرى بعض العلماء أن "وسطية الإسلام" تلتقي في معناها أو تتقارب مع "مثالية الإسلام"، فقد فسروا معنى " أمة وسطاً "، الواردة في هذه الآية، بأمة مثالية إذا اتبعت شريعة اللَّه وقامت بحقها (3) .
وهكذا، فإن الحوار في شريعة الإسلام، وفي مفهوم الفكر الإسلامي، هو الحوار الذي ينزع منزع الوَسَطِيَّة والاعتدال، استمداداً من دلالة لفظ "كلمة سواء" في الآية الكريمة، فهو حوار بالكلمة الراقية، وبالمنهج السويّ (4) . وبذلك يتميّز حوارنا دلالةً ومفهوماً وغايةً وفلسفةً.
--------------------------------------------
এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে, যে সংলাপের প্রতি আমাদের আহ্বান জানানো, যাতে অংশগ্রহণ করা এবং যা আমাদের গ্রহণ করা উচিত, তা হলো সেই সংলাপ যা ইসলাম থেকে ভারসাম্যপূর্ণ (الاعتدال) চেতনা আহরণ করে। কেননা ইসলামের বিধানসমূহে ভারসাম্যপূর্ণ (الاعتدال) চেতনা প্রাধান্য পায়; তা চরমপন্থাকে বর্জন করে এবং পক্ষসমূহের মাঝে মধ্যমপন্থাকে (التوسط) অগ্রাধিকার দেয়। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এমন অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে যা এই চেতনার দিকে ইঙ্গিত করে, বরং এর প্রশংসাও করে—অর্থাৎ সেই মধ্যমপন্থা (التوسط)। তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি হিসেবে গঠন করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পারো} (১)। এখানে "মধ্যপন্থী জাতি" বলতে এমন জাতিকে বোঝানো হয়েছে যাদের বৈশিষ্ট্য হলো ভারসাম্য (الاعتدال) (২)। কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে, "ইসলামের মধ্যমপন্থা" (وسطية الإسلام)-এর অর্থ "ইসলামের আদর্শবাদিতা"-র অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ বা তার নিকটবর্তী। তারা এই আয়াতে বর্ণিত "মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি"-এর ব্যাখ্যা করেছেন এমন এক আদর্শ জাতি হিসেবে, যারা আল্লাহর শরিয়ত অনুসরণ করে এবং তার হক আদায় করে (৩)।
এভাবে ইসলামের শরিয়তে এবং ইসলামী চিন্তাধারার পরিভাষায় সংলাপ হলো সেই সংলাপ যা মধ্যমপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্যের (الاعتدال) পথ অবলম্বন করে, যা পবিত্র আয়াতের "ন্যায়সঙ্গত কথা" (كلمة سواء) শব্দের তাৎপর্য থেকে উৎসারিত। সুতরাং এটি হলো উন্নত বাক্য ও সঠিক পদ্ধতির (المنهج السوي) মাধ্যমে পরিচালিত সংলাপ (৪)। এর মাধ্যমেই আমাদের সংলাপ তার তাৎপর্য, ধারণা, উদ্দেশ্য ও দর্শনের দিক থেকে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
منطلقات الحوار وموضوعاته وأهدافه
أولاً: منطلقات الحوار من منظور إسلاميوما دام الحوار الراقي هو مظهرٌ حضاريٌّ يعكس تطورَ المجتمع ونضجَ فئاته الواعية، فإنه لا بد أن يستند إلى أسس ثابتة، وضوابط مُحكمة، وأن يقوم على منطلقاتٍ أساسٍ يمكن حصرها في ثلاث، هي:
1. الاحترام المتبادل.
2. الإنصاف والعدل.
3. نبذ التعصّب والكراهية.
সংলাপের প্রারম্ভিক ভিত্তি, বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যসমূহ
প্রথমত: ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সংলাপের প্রারম্ভিক ভিত্তিযেহেতু পরিশীলিত সংলাপ হলো একটি সভ্য বহিঃপ্রকাশ যা সমাজের উন্নয়ন এবং এর সচেতন জনগোষ্ঠীর পরিপক্বতাকে প্রতিফলিত করে, সেহেতু একে অবশ্যই সুদৃঢ় মূলনীতি ও সুসংহত নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করতে হবে এবং এমন কিছু মৌলিক প্রারম্ভিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে যেগুলোকে মূলত তিনটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা যায়, আর তা হলো:
1. পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
2. ইনসাফ ও ন্যায়নিষ্ঠতা (العدل)।
3. গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ বর্জন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي رؤيتنا الإسلامية الحضارية، فإن الاحترام المتبادل بين الأطراف المتحاورة، هو المنطلق الأول الذي يجب أن يَرتكز عليه الحوار. يقول تعالى: {وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ} (1) . وهذا يفترض وجود قواسم مشتركة تكون إطاراً عاماً وأرضيةً صلبة للحوار. ولنا في القيم الدينية أولاً، ثم في المبادئ الإنسانية والقواعد القانونية ثانياً، غَنَاءٌ لجميع الفرقاء المشاركين في الحوار، على أي مستوى كان، وهي جميعاً قيمٌ ومبادئ تحكم علاقات البشر بعضهم مع بعض، وتضبط مسار حركاتهم وسكناتهم، وتضع القواعدَ الثابتةَ للتعامل فيما بينهم. وبذلك نضمن ألا يكون الحوارُ ساحةً للَّجاج العقيم، والتطاول على أقدار الناس، والمسّ بمكانتهم، وتبادل الإساءة فيما بينهم، ولئلا يفقد الحوار صبغتَه الحضارية.
--------------------------------------------
আমাদের ইসলামি সভ্যতাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে, সংলাপকারী পক্ষগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা হলো প্রথম প্রারম্ভবিন্দু, যার ওপর ভিত্তি করে সংলাপ পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, যাদেরকে তারা আল্লাহ ব্যতীত আহ্বান করে, অন্যথায় তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দেবে} (১)। এটি এমন কিছু অভিন্ন বিষয়ের অস্তিত্বকে সাব্যস্ত করে যা সংলাপের জন্য একটি সাধারণ কাঠামো এবং মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আমাদের জন্য প্রথমত ধর্মীয় মূল্যবোধে এবং দ্বিতীয়ত মানবিক নীতিমালা ও আইনি বিধিবিধানের মধ্যে সংলাপে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষের জন্য—তা যে স্তরেই হোক না কেন—পর্যাপ্ত পাথেয় রয়েছে; এগুলোর সবই এমন মূল্যবোধ ও নীতিমালা যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আচার-আচরণের গতিপথ সুশৃঙ্খল করে এবং তাদের পারস্পরিক লেনদেনের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলি নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করি যে, সংলাপ যেন কোনো নিষ্ফল বিতর্ক, মানুষের মর্যাদাহানি, তাদের সম্মানে আঘাত এবং পারস্পরিক অপমানের ক্ষেত্রে পরিণত না হয় এবং সংলাপ যেন তার সভ্যতাগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে না ফেলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا كان الاحترام المتبادل منطلقاً أولاً للحوار، فإنَّ الإنصاف والعدل هو المنطلق الثاني. ولنا في قوله تعالى في سورة المائدة قاعدةٌ ثابتةٌ، وهدايةٌ دائمةٌ. يقول تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ} (1) . فالعدل هو أساس الحوار الهادف الذي ينفع الناس ويمكث أثرُه في الأرض. ويقتضي العدل المساواة بين البشر، ويستدعي الاعتراف بالفضل لذويه، ويتطلب الإقرار بالحقيقة، حتى وإن لم تكن في صالح جميع الأطراف. ثم إنَّ العدل هو روح الشريعة الإسلامية، وهو جوهر القانون الوضعي، وهو الأساس الراسخ الذي يقوم عليه القانون الدولي الذي يجب أن يسود المجتمعات البشرية كلَّها. ولذلك فإن العدل والإنصاف في مفهومنا الإسلامي، هو الشرعية الحضارية التي ينبغي أن تكون منطلقاً للحوار، أيّاً كان مستواه، ومهما تكن أهدافه.
--------------------------------------------
যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা সংলাপের প্রথম প্রারম্ভিক বিন্দু হয়, তবে নিরপেক্ষতা (إنصاف) ও ন্যায়পরায়ণতা (عدل) হলো দ্বিতীয় প্রারম্ভিক বিন্দু। সূরা আল-মায়িদায় মহান আল্লাহর বাণীতে আমাদের জন্য রয়েছে একটি সুদৃঢ় মূলনীতি এবং চিরস্থায়ী হিদায়াত। মহান আল্লাহ বলেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ন্যায়বিচার করবে না। তোমরা ন্যায়বিচার করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} (১)। সুতরাং ন্যায়পরায়ণতা (عدل) হলো উদ্দেশ্যপূর্ণ সংলাপের মূল ভিত্তি, যা মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে এবং পৃথিবীতে যার প্রভাব স্থায়ী হয়। ন্যায়পরায়ণতা (عدل) মানুষের মধ্যে সমতার দাবি রাখে, গুণীজনের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতির আহ্বান জানায় এবং সত্যের স্বীকৃতির তাগিদ দেয়, যদিও তা সকল পক্ষের স্বার্থের অনুকূলে না হয়। অধিকন্তু, ন্যায়পরায়ণতা (عدل) হলো ইসলামী শরীয়াহর প্রাণ এবং মানব রচিত আইনের মূল নির্যাস; এটি সেই সুদৃঢ় ভিত্তি যার ওপর আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠিত এবং যা সমগ্র মানব সমাজে পরিব্যাপ্ত হওয়া উচিত। তাই আমাদের ইসলামী ধারণায় ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও নিরপেক্ষতা (إنصاف) হলো সেই সভ্যতামূলক বৈধতা, যা সংলাপের স্তর ও লক্ষ্য যাই হোক না কেন, তার প্রারম্ভিক ভিত্তি হওয়া আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وباجتماع الاحترام المتبادل والإنصاف والعدل، تتوفر قاعدة ثالثة من القواعد التي تقوم عليها منطلقات الحوار، وهي نبذ التعصّب والكراهية، ونجد أصلاً لهذه القاعدة في قوله تعالى في سورة الممتحنة: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} (1) .
--------------------------------------------
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে সংলাপের ভিত্তি হিসেবে তৃতীয় একটি মূলনীতি পরিলক্ষিত হয়, যা হলো গোঁড়ামি ও ঘৃণা বর্জন। এই মূলনীতির ভিত্তি হিসেবে আমরা সূরা আল-মুমতাহানায় মহান আল্লাহর বাণী খুঁজে পাই: {দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সাথে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والتوجيه القرآني هنا، يرقى من مستوى نبذ التعصّب والكراهية، إلى مقام أرفع، وهو البرُّ بالناس كافة، ومعاملتهم بالقسط وهو العدل جميعاً. والبِرُّ هو الإحسان بكل دلالاته الأخلاقية واللغوية. ونتلو في سورة البقرة قوله تعالى: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} (1) . ويذهب الشيخ محمد عبده في شرحه لهذه الآية إلى أن "الحُسْن" في هذا السياق، ليس معناه مجرد التلطف بالقول والمجاملة في الخطاب، فالحُسْن هو النافع في الدين والدنيا (2) . وعند ابن كثير: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا} ، أي كلموهم طيباً وليّنوا لهم جانباً، ويدخل في ذلك الأمرُ بالمعروف والنهي عن المنكر بالمعروف، كما قال الحسن البصري أن يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر بالمعروف، ويعفو ويصفح ويقول للناس حسناً كما قال اللَّه وهو كلُّ خلق حسن رضيه اللَّه، بعد أن أمرهم بالإحسان إليهم بالفعل، فجمع بين طرفي الإحسان الفعلي والقولي (3) وتلك هي المنطلقات الراسخة لأي حوار فاعل وهادف.
--------------------------------------------
এখানে কুরআনিক দিকনির্দেশনা গোঁড়ামি ও ঘৃণা বর্জনের স্তর থেকে এক উন্নততর মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে, আর তা হলো সমস্ত মানুষের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন এবং তাদের সকলের সাথে ইনসাফ তথা ন্যায়বিচারের (عدل) সাথে আচরণ করা। 'বির' (البر) হলো এর সমস্ত নৈতিক ও ভাষাগত তাৎপর্যসহ সদাচরণ। আমরা সূরা আল-বাকারাহ-তে মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করি: {এবং মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো, নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} (১)। শেখ মুহাম্মদ আবদুহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রেক্ষাপটে "হুসন" (সৌজন্য) এর অর্থ কেবল কথার মাধুর্য বা আলাপচারিতায় লৌকিকতা নয়; বরং "হুসন" হলো যা দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর (২)। ইবনে কাসীরের মতে: {এবং মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো}, অর্থাৎ তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো এবং তাদের প্রতি কোমল হও। এর মধ্যে সৎকাজের আদেশ এবং উত্তম পন্থায় অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধও অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি হাসান বসরী বলেছেন যে—সে যেন সৎকাজের আদেশ দেয় এবং উত্তম পন্থায় অসৎকাজ (منكر) থেকে বিরত রাখে, আর ক্ষমা ও মার্জনা করে এবং মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলে যেমনটি আল্লাহ বলেছেন; আর এটি হলো আল্লাহর পছন্দনীয় প্রতিটি উত্তম (حسن) চরিত্র, যা তিনি তাদের প্রতি কর্মের মাধ্যমে সদাচরণ করার নির্দেশ দেওয়ার পর উল্লেখ করেছেন। এভাবে তিনি কর্মগত ও ভাষাগত সদাচরণের উভয় দিককে সমন্বিত করেছেন (৩)। আর এগুলোই হলো যেকোনো কার্যকর ও উদ্দেশ্যমূলক সংলাপের সুদৃঢ় ভিত্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثانياً: موضوعات الحوارإن كلَّ ما فيه المصلحة للفرد والمجتمع، يصلح أن يكون مجالاً للحوار، وكل ما يحقق المنفعة للمجتمع الإسلامي، جدير بأن يكون موضوعاً للحوار، فلا يقتصر الحوار على موضوع دون آخر، ما دامت المنافع والمصالح هي محورَه الرئيسَ ومجاله الحيويّ، فهو يتناول الموضوعات جميعاً، ويشمل كلَّ القضايا ذات الصلة بحياة المجتمع في حاضره ومستقبله، ويغطّي شتى الموضوعات التي ترتبط بجميع مناحي الحياة سياسياً واقتصادياً، ثقافياً وعلمياً، تربوياً وفكرياً، ويستجيب للحاجات الضرورية التي تفرضها طبيعة العلاقات الثنائية والمصالح المتبادلة.
وموضوعات الحوار هي من السعة والشمول بحيث لا تُحَدُّ بمدارٍ أو مسار، ما دام الهدف هو الوصول إلى الحقائق، وتحقيق الأهداف التي تعود بالنفع على الجميع.
দ্বিতীয়ত: সংলাপের বিষয়বস্তুব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর প্রতিটি বিষয়ই সংলাপের ক্ষেত্র হওয়ার যোগ্য। যা কিছু ইসলামি সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে, তা-ই সংলাপের বিষয়বস্তু হওয়ার দাবি রাখে। সুতরাং সংলাপ কেবল কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ ও জনস্বার্থ এর মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে থাকে। এটি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে সমাজজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, শিক্ষামূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক—জীবনের সকল দিকের সাথে সম্পৃক্ত বিবিধ বিষয়কে পরিব্যাপ্ত করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃতি ও পারস্পরিক স্বার্থের নিরিখে উদ্ভূত প্রয়োজনীয় চাহিদাপূরণে সাড়া দেয়।
সংলাপের বিষয়বস্তু এতটাই প্রশস্ত ও ব্যাপক যে, একে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডি বা পথে সীমাবদ্ধ করা যায় না; যতক্ষণ পর্যন্ত এর মূল লক্ষ্য থাকে সত্য উদ্ঘাটন এবং সকলের জন্য কল্যাণকর উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولا شك أن المجتمعات الإسلامية في المرحلة الراهنة في حاجة إلى أن ينفتح فيها الحوار على آفاق العصر، ولن يتيسّر هذا إلا بالأخذ بأمرين مهمين، أولهما الدخول في حوار مع العصر، بما يناسب من طرائق وأساليب، وثانيهما تحصين الذات بإصلاح أحوال الفرد والمجتمع إصلاحاً عميقاً، ومن النواحي كافة، حتى تسود روح الحوار العالم العربي الإسلامي، ويتعمّق ما يصطلح عليه ب (الحوار الوطني) من جهة، و (الحوار العربي العربي) ، و (الحوار الإسلامي الإسلامي) ، من جهة ثانية.
وينبغي أن يهدف (الحوار الوطني) إلى رصد عوامل تفاقم الأوضاع الاجتماعية واحتوائها، والعمل على تدعيم سبل الاستقرار والتنمية. وحتى تصبح الحوارات الوطنية في العالم العربي الإسلامي بمثابة نقطة تحوّلٍ وانطلاقٍ إلى آفاق جديدة في واقعنا السياسي والاجتماعي وفي الميادين كافة، لا بد أن نحرص على الإدارة العلمية والدقيقة لهذه الحوارات، وفي اتجاهنا نحو هذه الغاية لا بد أن نفرّق أولاً بين مفهومَي (الحوار) وبين (عمليات التفاوض الجمعي) (1) ، وذلك تجنباً للفوضى والوقوع في المحظور، والسير في الاتجاه الخطأ.
--------------------------------------------
নিঃসন্দেহে বর্তমান পর্যায়ে মুসলিম সমাজসমূহ আধুনিক যুগের দিগন্তের সাথে সংলাপ উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এটি কেবল দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে; প্রথমত, সমসাময়িক যুগের সাথে উপযুক্ত পন্থা ও পদ্ধতির মাধ্যমে সংলাপে লিপ্ত হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও সমাজের অবস্থার সর্বাত্মক ও আমূল সংস্কারের মাধ্যমে স্বীয় সত্তাকে সুরক্ষিত করা, যাতে সমগ্র আরব-ইসলামী বিশ্বে সংলাপের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একদিকে যেমন (জাতীয় সংলাপ) ধারণাটি সুসংহত হয়, তেমনি অন্যদিকে (আরব-আরব সংলাপ) ও (ইসলামী-ইসলামী সংলাপ) প্রক্রিয়াগুলো আরও গভীরতর হয়।
এবং (জাতীয় সংলাপ)-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক পরিস্থিতির অবনতির কারণসমূহ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করা। আরব-ইসলামী বিশ্বে জাতীয় সংলাপগুলো যাতে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সকল ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তে উত্তরণ ও সূচনার বিন্দু হিসেবে পরিগণিত হয়, সেজন্য আমাদের এই সংলাপগুলোর বৈজ্ঞানিক ও সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনার প্রতি যত্নবান হতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এড়ানো, নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হওয়া এবং ভুল পথে চলা রোধ করতে আমাদের প্রথমে (সংলাপ) এবং (সম্মিলিত সমঝোতা প্রক্রিয়া) (১)-এর ধারণাদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে হবে।
--------------------------------------------