(খণ্ড: ১)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
كوثر المعاني الدراري في كشف خبايا صحيح البخاري القسم: شروح الحديث
الكتاب: كوثَر المَعَاني الدَّرَارِي في كَشْفِ خَبَايا صَحِيحْ البُخَاري
المؤلف: محمَّد الخَضِر بن سيد عبد الله بن أحمد الجكني الشنقيطي (ت 1354هـ)
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 14
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ربيع الأول 1436
কাওসারুল মাআনি আদ-দারারি ফি কাশফি খাবায়া সহীহ আল-বুখারী বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
বই: কাওসারুল মাআনি আদ-দারারি ফি কাশফি খাবায়া সহীহ আল-বুখারী
লেখক: মুহাম্মদ আল-খিদর বিন সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-জাকানি আশ-শিনকিতি (মৃত্যু ১৩৫৪ হি.)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ১৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١)
كوثَر المَعَاني الدَّرَارِي في كَشْفِ خَبَايا صَحِيحْ البُخَاري
تأليف
الإِمَامِ المُحَدِّثِ العَلَّامَةِ الشَّيْخ مُحمَّد الخِضْر الجَكيني الشِّنقيطي (المتوفى سنة 1354هـ)
الجُزْء الأوّلُ
مؤسسة الرسالة
সহীহ বুখারীর গোপন রহস্য উন্মোচনে কাওসারুল মাআনি আদ-দারারি
রচনা
ইমাম মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-খিজর আল-জাকিনি আশ-শিনকিতি (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি)
প্রথম খণ্ড
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣)
كوثَر المَعَاني الدَّرَارِي في كَشْفِ خَبَايا صَحِيحْ البُخَاري
সহীহ বুখারীর নিহিত রহস্যসমূহ উন্মোচনে অর্থাবলির সমুজ্জ্বল প্রাচুর্য
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1415 هـ - 1995 م
مؤسسة الرسالة بيروت -شارع سوريا- بناية صَمدي وصالحة
هاتف: 603243 - 815112 - ص. ب: 7460 برقيًا: بيُوشرَان
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - সিরিয়া স্ট্রিট - সামাদি এবং সালহা ভবন
ফোন: ৬০৩২৪৩ - ৮১৫১১২ - পি.ও. বক্স: ৭৪৬০ টেলিগ্রাম: বিউশরান
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
تنبيه:قد اشتمل هذا الكتاب على فنون كثيرة، استقل كل واحد منها بالتأليف عند علماء الحديث على رجال "البخاري"، حيثما جاءت في السند كانت أو في المتن، وأنساب الرجال وبلدانهم. وعلى إيضاح ما فيه من المبهمات، وعلى أصول الحديث بأجمعها، وعلى تعليق المعلقات، وعلى وصل الموقوفات والمرسلات والمقطوعات، وعلى ما في السند من اللطائف والنكت، وعلى تبيين مَنْ أخرج الحديث من الستة، وعلى تعريف الصحابة وطبقاتهم، والتابعين وطبقاتهم، وطبقات المحدثين، وعلى نبذة جليلة من السيرة النبوية، وترجمة الإِمام البخاري، إلى غير ذلك مما لا يحويه كتاب، ولا يستغني عنه راغب في العلم من جميع العلماء والطلاب.
জ্ঞাতব্য:নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি এমন অনেক শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার প্রতিটি বিষয় নিয়ে হাদিস বিশারদগণের নিকট স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যেমন— "বুখারি"র বর্ণনাকারীদের বর্ণনা, তারা সনদে থাকুক কিংবা মতনে; এবং বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় ও তাঁদের দেশসমূহ। আর এতে বিদ্যমান অস্পষ্ট বিষয়গুলোর বিশদ ব্যাখ্যা, হাদিসের সকল মূলনীতি, মুআল্লাক হাদিসসমূহের আলোচনা, মাওকুফ, মুরসাল ও মাকতু হাদিসগুলোর সংযুক্তি, সনদে বিদ্যমান সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয়সমূহ, কুতুবে সিত্তার বা ছয়টি কিতাবের সংকলকদের মধ্যে কে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তার বিবরণ, সাহাবীগণ ও তাঁদের স্তরসমূহ, তাবিঈগণ ও তাঁদের স্তরসমূহ এবং মুহাদ্দিসগণের স্তরসমূহের পরিচিতি, সীরাতে নববীর একটি মহান অংশ এবং ইমাম বুখারির জীবনী; এ ছাড়াও অন্যান্য এমন অনেক বিষয় যা কোনো একক কিতাব ধারণ করে না এবং সকল আলেম ও শিক্ষার্থীর মধ্য হতে কোনো জ্ঞানপিপাসুই তা থেকে বিমুখ থাকতে পারবে না।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
والصلاةُ والسَّلامُ على النبيِّ الكريم، وعلى آله وصحبه أُولي الفضل العميم. وبعد: أيُّها القارىء الكريمُ، هذا شرحٌ لصحيح الإِمام محمَّد بن إسماعيل بن إبراهيم الجعفي البخاري، جاء فريدًا في أسلوبه، ودِقة أبحاثه، بزَّ ما قبله، رَغْمَ ما أولى علماءُ المسلمين هذا الصحيح من دِراسةٍ، وشرح، وتمحيص، متعدِّدة المناهج والمشارب، والتي قيل: إنها بلغت خمسين ما بَيْن تعليقٍ وشرحٍ.
لقد كان المؤلفُ رحمه الله -في دروسه- يُوفي رجالَ السند حقَّهم من تعريفٍ وتجريحٍ وتعديلٍ، ثم يَعْمَدُ إلى شرحِ مفرداتِ الحديثِ، وما فيه من أمور لغوية، ومصطلح الحديث، ثم يبدأ في شرح الحديث، وما أخذه من العلماء، ومَنْ عَمِلَ به مِن علماءِ المذاهب، وذلك ما ستراه في هذا الكتاب (كوثر المعاني الدراري في كشف خبايا صحيح البخاري) وما أصعب كشف خباياه لولا ما مَنَّ الله به على صاحبه من سَعَةٍ في العلم ودِقة وجهد وإخلاص.
والمؤلفُ أَيها القارىء الكريم: هو محمَّد الخَضِر بن سيد عبد الله بن أحمد الملقب (بما يأبى) لكرمه وسخائه كان لا يرد سائلًا ولا يأبى حتى لُقِّبَ بهذا اللقب (الجكني) نسبة إلى قبيلة من أعظم قبائل شنقيط الجامعة بين العلم والسطوة. (الشنقيطي) نسبةً إلى قطر شنقيط. المعروف اليوم باسم الجمهورية الإِسلامية الموريتانية.
أخذ عن والده، وأجلَّة علماء ذلك القطر العربي الإِسلامي، حتى أُنيط به الافتاءُ العام، ثم القاضي الأكبر بلا منازع وكان القضاء في ذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর যারা ব্যাপক অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। অতঃপর: হে সম্মানিত পাঠক, এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-জু'ফী আল-বুখারীর সহীহ গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এর অনন্য শৈলী এবং গবেষণার সূক্ষ্মতায় পূর্ববর্তী সকল কাজকে ছাপিয়ে গেছে; যদিও মুসলিম আলেমগণ এই সহীহ গ্রন্থটি নিয়ে বহুবিধ পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন, যার ব্যাপারে বলা হয় যে, এর টীকা ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশে পৌঁছেছে।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পাঠদানে সনদের বর্ণনাকারীদের পরিচয় প্রদান এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি (জরাহ ও তা'দীল) বর্ণনায় পূর্ণ হক আদায় করতেন। অতঃপর তিনি হাদীসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং তাতে বিদ্যমান ভাষাগত বিষয় ও হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহ ব্যাখ্যা করতেন। এরপর তিনি হাদীসের মূল ব্যাখ্যা শুরু করতেন এবং আলেমদের থেকে তিনি যা গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন মাযহাবের আলেমদের মধ্য থেকে যারা এর ওপর আমল করেছেন তা বর্ণনা করতেন। আর এই বিষয়টিই আপনি এই কিতাবে ("কাওসারুল মাআনি আদ-দারারি ফি কাশফি খাবায়া সহীহিল বুখারী") দেখতে পাবেন। আর এই গ্রন্থের রহস্যগুলো উন্মোচন করা কতই না কঠিন হতো, যদি না আল্লাহ এর লেখককে প্রশস্ত জ্ঞান, সূক্ষ্মতা, প্রচেষ্টা ও ইখলাস দ্বারা ধন্য করতেন।
হে সম্মানিত পাঠক, লেখক হলেন: মুহাম্মদ আল-খাদর বিন সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, যিনি তাঁর বদান্যতা ও দানশীলতার কারণে 'মা ইয়াবা' (যিনি অসম্মতি জানান না) উপাধিতে ভূষিত। তিনি কোনো যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দিতেন না এবং বিমুখ করতেন না, যার ফলে তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি 'জাকানি' গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যা শানকীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোত্র এবং জ্ঞান ও প্রভাব-প্রতিপত্তির আধার। 'আশ-শানকীতী' উপাধিটি শানকীত অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র মৌরিতানিয়া নামে পরিচিত।
তিনি তাঁর পিতা এবং সেই আরব-ইসলামি অঞ্চলের মহান আলেমদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, এমনকি তাঁর ওপর সাধারণ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি অবিসংবাদিতভাবে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। আর সে সময় বিচারব্যবস্থা ছিল...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
الزمان لا يُنال بالتعيين، ولكن ببروزِ العالمِ وتفوقهِ، وإقرار العلماء له بالتفوُّق، فحينئذ يقومُ أمير البلاد باعتماد آرائه وتنفيذِ أحكامه.
وكان صاحبَ مدرسةِ علم يَؤُمُّهَا طلبةُ العلم من جميع أنحاء البلاد والبلدان الإفريقية المجاورة.
وحينما هاجم الإِفرنسيون تلك البلاد 1321 هـ / 1903 م - دعا للجهادِ، وقال الجيوشَ مع أمير البلاد الأمير عثمان بن بكار بن أسويد أحمد (صهره) في حرب استمرَّت أربعَ سنين، ولما ظهر تغلُّبُ الإِفرنسيين، توجه مع الأمير عثمان إلى المغرب الأقصى يَطلبُ النجدة من سلطانها، وصادفَ أن كانت حربٌ بين السلطان عبد العزيز وأخيه السلطان مولاي عبد الحفيظ الذي استتبَّ له الأمرُ، وبذلك السبب لم يجد عونًا حقيقيًا مفيدًا، فقرَّر البقاء في المغرب ونوى الهجرة، فأقام فيها خمسَ سنين أستاذًا للسلطان عبد الحفيظ. (وهو من أجلِّ العلماء وصاحب تآليف كثيرة) ورئيسًا للعلماء.
وحينما أعلنت فرنسا الحماية على المغرب، قرر الاستمرار في الهجرة، ورحل إلى المدينة المنورة سنة 1330 هـ - 1912 م مجاورًا، ومدرسًا بالحرم الشريف النبوي، وعُيِّنَ فيها مفتيًا للمذهب المالكي وفي سنة 1341 هـ - 1922 م ذهب إلى الاردن، حيث عُينَ قاضيًا للقضاة، وأقام بضعَ سنين، ثم رأى التجوال في العالم الإِسلامي، ونشر العلم، فسافر إلى العراق ومصر وتركيا وسوريا وإِمارات الخليج والهند وقد ترك فيها كثيرًا من طلبة العلم، الذين اجتمعوا فيما بعد في أعلى المراكز الدينية، وكان دائم الرجاء من الباري جل شأنه الرجوع إلى المدينة المنورة والموت فيها، وقد تَمَّ له ما طلب فرجع إليها، ومات سنة 1354 هـ - 1936 م تغمَّده الله برحمته، وأسكنه فسيح جناته.
كان رحمه الله مالكيَّ المذهب، وأراد المقارنَة بين المذاهب الأَربعة وأدلة كل منهم في كتابه "إيضاح مختصر خليل بمذاهب الأربعة وأصح
জামানা বা সময় কেবল নিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং এটি অর্জিত হয় একজন আলেমের আত্মপ্রকাশ ও শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে এবং তাঁর সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আলেমগণের স্বীকৃতির মাধ্যমে; আর তখনই দেশের আমির তাঁর মতামতের ওপর আস্থা রাখেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করেন।
তিনি একটি ইলমি মাদরাসার কর্ণধার ছিলেন, যেখানে দেশের সকল প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী আফ্রিকান দেশসমূহ থেকে ইলম অন্বেষণকারী ছাত্ররা সমবেত হতো।
যখন ফরাসীরা ১৩২১ হিজরি / ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে সেই দেশ আক্রমণ করল, তখন তিনি জিহাদের ডাক দিলেন এবং দেশের আমির, আমির উসমান বিন বাক্কার বিন আসওয়াদ আহমাদ (যিনি তাঁর জামাতা ছিলেন)-এর সাথে মিলে চার বছর ব্যাপী এক যুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন। যখন ফরাসীদের বিজয় স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন তিনি আমির উসমানের সাথে মরক্কোর সুলতানের নিকট সাহায্যের আশায় সেদিকে যাত্রা করেন। ঘটনাক্রমে তখন সুলতান আব্দুল আজিজ এবং তাঁর ভাই সুলতান মাওলাই আব্দুল হাফিজের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল, আর সুলতান আব্দুল হাফিজের পক্ষেই ক্ষমতা সুসংহত হয়েছিল। এই কারণে তিনি সেখানে কোনো প্রকৃত ও কার্যকর সাহায্য পাননি। ফলে তিনি মরক্কোতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং হিজরতের সংকল্প করেন। সেখানে তিনি পাঁচ বছর সুলতান আব্দুল হাফিজের শিক্ষক (যিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা) এবং আলেমদের প্রধান হিসেবে অবস্থান করেন।
যখন ফ্রান্স মরক্কোর ওপর তাদের অভিভাবকত্ব ঘোষণা করল, তখন তিনি হিজরত অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ১৩৩০ হিজরি - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করে চলে যান। সেখানে তিনি হারম শরীফ নববীতে শিক্ষক হিসেবে এবং মালিকি মাযহাবের মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৩৪১ হিজরি - ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি জর্ডান গমন করেন, যেখানে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন এবং কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ইসলামী বিশ্ব ভ্রমণের এবং ইলম প্রচারের ইচ্ছা পোষণ করেন; ফলে তিনি ইরাক, মিশর, তুরস্ক, সিরিয়া, উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ এবং ভারত সফর করেন। এই সকল স্থানে তিনি তাঁর অসংখ্য ছাত্র রেখে এসেছেন, যারা পরবর্তীকালে উচ্চতর ধর্মীয় পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সর্বদা এই প্রার্থনা ছিল যেন তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় ফিরে যেতে পারেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় এবং তিনি সেখানে ফিরে যান। ১৩৫৪ হিজরি - ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।
তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি তাঁর ‘ইযাহু মুখতাসারি খালীল বি-মাযাহিবিল আরবাআতি ওয়া আসাহ’ নামক গ্রন্থে চার মাযহাবের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা এবং প্রত্যেকের দলীলসমূহ উপস্থাপনের ইচ্ছা করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
الدليل" الذي لم يشأ الله أن يتم.
وكان مع سَعة باعه في الحديث، وحفظه عن ظهر غيب لأغلب الكتب الستة، متمسكًا بالعمل بمذهب الإِمام مالك -سمعته يقول: لقد حفظتُ مختصر خليل وشروحه، وحواشيه- كما حفظتُ كتب الصحاح بما فيهم الموطأ، وأعتقد أني قد وصلتُ درجةَ الاجتهاد، ولكن كلما ازددتُ علمًا، ازددتُ تمسكًا بمذهب الإِمام مالك، إذ أني أجد فهمَه وعلمه أمامي في كل درجة أَصِلُ إليها.
وترى أيها القارىء أثر ذلك في كتابه "قمع أهل الزيغ والإلحاد عن الطعن في تقليد أئمة الجهاد" وكان رحمه الله جريئًا في الحق لا يُداهن، قويَّ الشكيمة، حاضر البديهة، قوَّام الليل، صائم النهار، مع عدم تركه لدنياه وصلته بالمجتمع من رؤساء ومرؤوسين.
كان يُجِلُّ علماءَ الحقيقة في حرصهم على التمسك بأصول الدين القويم، والبعد عن البدع والضلالات، كما كان حاملًا لسور الإِمام الجيلاني، يُجل علماء الباطن، ناقمًا على من نزع عنهم، وشطًّ عن طريقهم المستقيم، وذلك ما تجده في كتابه "تصوف السادة والنجاح. والرد على متصوفة الرقص والصياح" وكتابه "مشتهى الخارف الجاني. في رد زلقات التجاني الجاني" ذلك الكتاب الذي عَمَّ نَفْعُهُ، وهدى الكثيرين إلى صراط الله المستقيم.
كان متبحرًا في علوم العربية - شاعرًا بليغًا، قوي الأسلوب، سهل المعاني، نرجو الله أن ييسر طبعَ ديوانه، ومن شعره حينما كان بالأردن وحنَّ إلى الرجوع إلى المدينة المنورة.
ألا لَيْتَ شِعرِي هَلْ إلى أُحُدٍ (1) عَوْدُ
… وهَلَ لي إلى سَلْعٍ ودَارَاته رَدَّ
--------------------------------------------
"আদ-দালীল" (প্রমাণ) নামক গ্রন্থটি, যা আল্লাহ পূর্ণ হওয়া পছন্দ করেননি।
হাদীস শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সিহাহ সিত্তার (ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ) অধিকাংশ কিতাব মুখস্থ থাকার পাশাপাশি তিনি ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে অত্যন্ত অবিচল ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি মুখতাসার খলীল এবং এর ব্যাখ্যা ও টীকাগ্রন্থগুলো মুখস্থ করেছি—যেমনটি আমি মুয়াত্তা-সহ সিহাহর কিতাবসমূহ মুখস্থ করেছি। আমি মনে করি যে আমি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছি, কিন্তু আমার জ্ঞান যত বৃদ্ধি পেয়েছে, ইমাম মালিকের মাযহাবের প্রতি আমার অবিচলতা ততই বেড়েছে। কেননা, আমি যে স্তরেই উপনীত হয়েছি, সেখানে তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানকে আমার সম্মুখেই বিদ্যমান পেয়েছি।"
হে পাঠক! আপনি তাঁর "কামউ আহলিয যাইগি ওয়াল ইলহাদ আনিত তানি ফি তাকলিদি আইম্মাতিল জিহাদ" (বিপথগামী ও নাস্তিকদের দমন: আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের তাকলিদের বিরুদ্ধে অপবাদের জবাবে) গ্রন্থে এর প্রভাব দেখতে পাবেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সত্যের পথে অত্যন্ত সাহসী ছিলেন এবং কোনো প্রকার তোষামোদ করতেন না। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, প্রখর উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন, অধিক রাত ইবাদতকারী এবং দিনে রোজা পালনকারী। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর পার্থিব জীবন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তথা নেতৃস্থানীয় ও সাধারণ জনগণের সাথে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করা ত্যাগ করেননি।
তিনি হাকিকতপন্থী আলেমদের শ্রদ্ধা করতেন যারা দ্বীনের সঠিক মূলনীতি আঁকড়ে ধরতে এবং বিদআত ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে সচেষ্ট ছিলেন। একইভাবে তিনি ইমাম জিলানীর আদর্শ ধারণকারী ছিলেন এবং আধ্যাত্মিক (বাতেনি) আলেমদের অত্যন্ত সম্মান করতেন। যারা তাঁদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বা তাঁদের সরল পথ থেকে সরে গেছে, তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এটি আপনি তাঁর "তাসাউফুস সাদাহ ওয়ান নাজাহ, ওয়ার রাদ্দু আলা মুতাসাওউফাতিল রাকীসি ওয়াস সিয়াহ" (সজ্জ্বনদের সুফিবাদ ও সফলতা এবং নৃত্য ও চিৎকারকারী তথাকথিত সুফিদের প্রতিবাদ) এবং তাঁর "মুশতাহাল খারিফ আল-জানি, ফি রাদ্দি যালাকাতিত তিজানি আল-জানি" (অপরাধী তিজানির বিচ্যুতি খণ্ডনে ফল অন্বেষণকারীর আকাঙ্ক্ষা) নামক গ্রন্থে খুঁজে পাবেন। শেষোক্ত গ্রন্থটি ব্যাপক কল্যাণ বয়ে এনেছে এবং অনেককে আল্লাহর সরল পথের দিশা দিয়েছে।
তিনি আরবি সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বে সুপণ্ডিত ছিলেন—একজন প্রাঞ্জল কবি, বলিষ্ঠ রচনাশৈলী এবং সহজবোধ্য ভাবার্থের অধিকারী। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর কাব্যগ্রন্থটি (দিওয়ান) প্রকাশের পথ সহজ করে দেন। জর্ডানে থাকাকালীন মদিনা মুনাওয়ারায় ফিরে আসার আকুলতায় তিনি এই কবিতাটি লিখেছিলেন:
হায়! যদি আমি জানতাম, উহুদে (১) কি পুনরায় ফেরা হবে? এবং সাল' পাহাড় ও তার চারপাশের আঙিনায় কি আমার প্রত্যাবর্তন ঘটবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وهَلْ لي إلى سُوقِ المنَاخَةِ نَظْرَةٌ
… بِهَا القلْبُ يُشْفى بَعْدما شَفَّهُ الوَجْدُ
إلى غُرفٍ في حَوْش وَرْدَةَ أَثوى
… بَهَا غُرَرٌ عِيْنٌ بأردانها النَّدُّ
إلى ذِرْوَة العَلْيَاءِ مِنْ آلِ يوسُفٍ
… سراة بني جاكان يُسترفد الرفدُ
ومن شعره أيضًا:
كُنَّا زَمَانًا مِثْلَ غُصْنَيْ بانِ
… يَأْتي النَّسيمُ مَعًا فَيهْتَزَّانِ
مَيَلانُ هَذَا إنْ يَمِلْ مَيَلَانُ ذا
… لا سَابِقٌ ذَا ذَاكَ بالمَيَلَانِ
واليَومَ فَرَّقَنا الزَّمانُ بصَرْفِهِ
… فرَأَى الوُشَاةُ طَرِيقَةَ الشَّنَاَنِ
وقد أثنى عليه العلماءُ، والأدباءُ، ومدحوه بقصائد ورسائل تَجِدُ أكثرها مطبوعًا مع تقارير كتاب مشتهى الخارف الجاني.
رحمه الله، وتغمده برحمته، وأسبل عليه رضوانه، وجزى الله القائمين بطبع هذا الكتاب خيرَ الجزاء والله ولي التوفيق، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
محمَّد الأمين بن المؤلف
قاضي قضاة، ووزير المعارف بالأردن سابقًا
মানাখা বাজারের দিকে কি আমার একটি পলক পড়ার সুযোগ হবে
… যার দ্বারা অন্তর আরোগ্য লাভ করবে দীর্ঘ বিরহ-যাতনার পর।
সেই সব কক্ষের দিকে যা হাওশে ওয়ারদাহ-তে অবস্থিত
… যেখানে উজ্জ্বল চেহারার হরিণনয়নাগণ রয়েছেন, যাঁদের আস্তিনে সুগন্ধি আমেজ ছড়ায়।
আল-ইউসুফ বংশের সেই উচ্চতার শিখরের দিকে
… বনি জাকানের সরদারবৃন্দ, যাঁদের নিকট থেকে অনুদান যাঞ্চা করা হয়।
তাঁর আরও কবিতা থেকে:
আমরা দীর্ঘকাল বানি বৃক্ষের দুটি শাখার ন্যায় ছিলাম
… মলয় বাতাস আসত আর আমরা একত্রে দুলে উঠতাম।
এর হেলে পড়া ছিল ওর হেলে পড়ার অনুগামী
… এই হেলে পড়ার ক্ষেত্রে একজন অপরজনকে ছাড়িয়ে যেত না।
কিন্তু আজ কালের বিবর্তনে সময় আমাদের পৃথক করে দিয়েছে
… ফলে চোগলখোরেরা বিদ্বেষ ও শত্রুতার পথ দেখতে পেয়েছে।
উলামায়ে কেরাম ও সাহিত্যিকগণ তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং বিভিন্ন কাসিদা ও পত্রের মাধ্যমে তাঁর গুণকীর্তন করেছেন। এর অধিকাংশ আপনি ‘মুশতাহাল খারিফ আল-জানি’ কিতাবের অভিমতসমূহের সাথে মুদ্রিত পাবেন।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন, তাঁর ওপর স্বীয় সন্তুষ্টির বারিধারা বর্ষণ করুন এবং আল্লাহ এই কিতাব মুদ্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
মুহাম্মদ আল-আমিন বিন মুসান্নিফ
প্রধান বিচারপতি এবং জর্ডানের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
{وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ} [يونس: 2].
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ والصلاة والسلام على النبي الكريم
الحمدُ لله الموحي إلى عبده ما أوحى، من الأياتِ والأحاديثِ الشارحة لها شرحًا، المقيِّض لها جَهَابذَة نقادًا، لا تَعْرَى معهم ولا تَضْحَى، مصونةً بهِمْ عَنْ زَيْغِ مَنْ حَاوَلَ فيَها قدحًا، والصلاة والسَلامُ على مَن اصطفاه الَباري قديمًا لنبوته، فكان نبيًا وإن آدم لَمُجَدَّلٌ في طينته، متقلبًا في الساجدين إلى أن أظهره الله تعالى رحمة لخليقته، متدثِّرًا بأعباء رسالته، قامعًا كلَّ ماردٍ خارجٍ عن طريقته، محمدٍ الذي ما كان الكون إلا لكون حقيقته، وعلى آله الذين سبق لهم من الله تعالى التطهير، فكانوا في جميع العصور قادة لكل خير وخير، وعلى أصحابه المشمِّرين لإِظهار الحق غاية التشمير، حتى أبادوا ودمروا من خالفه أفظع إبادةٍ وشرَّ تدمير، والتابعينَ لهم فيما سلكوا من مناهج التبصير.
أما بعد: فقد منَّ الله تعالى على هذا العاجز الحقير الفقير، فضلًا منه ورحمة وإحسانًا على أهل التقصير بخدمة جامع الصحيح للإِمام الحجة أبي عبد الله محمَّد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة البخاري الشهير، فجمعت في خدمته ما يَعْجزُ عن تحريره كل عالمٍ نحرير خبير، فجعلت عليه كالشرح قاصدًا به تعريف ما فيه من الرجال سندًا كان، أو مذكورًا في خلال المتن على أي وجه جاء ذكره في الخلال، محيلًا كل ما تكرر من الرجال على الحديث المعرف فيه بالنص لا بالاحتمال، كي لا يتريَّث الناظرُ في طلبه لالتماس المحال، آتيًا بما لهم من الأنساب والبلدان على أكمل حال، موضحًا ما فيه من المبهمات، عازيًا وَصْلَ ما
{আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে সত্যের পা।} [ইউনূস: ২]।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত নবীর ওপর।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করেছেন—আয়াতসমূহ এবং সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানকারী হাদীসসমূহ থেকে। তিনি এগুলোর জন্য দক্ষ ও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক আলেমদের নিয়োজিত করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে এই ইলম কখনো ম্লান বা বিলুপ্ত হয় না। তাঁদের মাধ্যমে ইলম সংরক্ষিত হয়েছে ঐ ব্যক্তিদের বিচ্যুতি থেকে যারা এতে কোনো প্রকার খুঁত ধরার চেষ্টা করে। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে স্রষ্টা অনাদিকাল থেকে তাঁর নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন; তিনি তখনো নবী ছিলেন যখন আদম তাঁর কাদার মধ্যে লীন অবস্থায় ছিলেন। তিনি সিজদাকারীদের বংশপরম্পরায় আবর্তিত হচ্ছিলেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রকাশ করলেন। তিনি তাঁর রিসালাতের গুরুভার গ্রহণকারী এবং তাঁর পদ্ধতির বাইরে চলে যাওয়া প্রতিটি অবাধ্যকে দমনকারী; তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাঁর হাকীকত বা প্রকৃত অস্তিত্বের কারণেই এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এবং তাঁর পরিবারের ওপর, যাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্রতা অবধারিত হয়েছে, ফলে তাঁরা সকল যুগে সকল কল্যাণের অগ্রপথিক হয়েছেন। এবং তাঁর ঐ সকল সাহাবীদের ওপর, যারা সত্যকে বিজয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, এমনকি যারা সত্যের বিরোধিতা করেছিল তাদের তারা সমূলে বিনাশ ও ধ্বংস করেছেন। এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর যাঁরা হেদায়েতের আলোকবর্তিকা স্বরূপ পথে চলেছেন।
অতপর: আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, রহমত এবং ত্রুটিপূর্ণদের প্রতি ইহসান স্বরূপ এই অক্ষম, তুচ্ছ ও অভাবী বান্দাকে ইমাম হুজ্জাহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন মুগীরা আল-বুখারী (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ 'জামে সহীহ'-এর খিদমত করার তাওফীক দান করেছেন। আমি এর খিদমতে এমন কিছু সংগ্রহ করেছি যা সংকলন করতে যে কোনো সুপণ্ডিত বিশেষজ্ঞ আলেমও অক্ষম হতে পারেন। আমি একে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের ন্যায় সংকলন করেছি, যার উদ্দেশ্য হলো এতে বর্ণিত বর্ণনাকারীদের পরিচয় প্রদান করা—চাই তারা সনদের অন্তর্ভুক্ত হোক অথবা মতনের মাঝে যেভাবেই তাদের উল্লেখ আসুক না কেন। আমি প্রতিটি পুনরাবৃত্ত বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সেই হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়েছি যেখানে তাঁর পরিচয় স্পষ্টভাবে ও অকাট্যভাবে বর্ণিত হয়েছে, কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নয়; যাতে পাঠক কোনো অসম্ভব বিষয় খুঁজতে গিয়ে বিলম্বের শিকার না হন। আমি তাঁদের বংশপরিচয় ও দেশের বিবরণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উল্লেখ করেছি, অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছি এবং বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর সূত্র উল্লেখ করেছি যা...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
فيه من التعليقات والموقوفات، والمرسلات والمقطوعات إلى من أوصل ذلك من أجلاء علماء الحديث الثقات، ذاكرًا عند كل محلٍّ ما فيه من أصول الحديث، فاحتوى على كل ما ألَّفه فيها العلماء من قديم وحديث، مبينًا عند كل حديث من أخرجه من الستة أهل الاعتماد، موشحًا ذلك بذكر ما فيه من لطائف الإِسناد، فجاء بحمد الله تعالى جامعًا لكل ما يحتاجه القارىء لصحيح البخاري مما انفرد كُلُّ نوع منه بالتآليف السَّنيَّة، فلم يبق من مطالبه سوى إيضاح المعاني اللغوية، وتناولها سهل على كل متعاط للغة العربية، وسميته.
"
كوثر المعاني الدراري، في خبايا صحيح البخاري"
وأسأل الله تعالى الكريم الحنان المنان وأتوسل وأتشفع وأتوجه إليه بسيد ولد عدنان وقحطان، محمَّد الحاوي من الفضائل ما لم يحوه مَلَك ولا إنس ولا جان. أنْ يعينَني ويوفقَني لإتمام هذا الكتاب، ويجعله نافعًا لمن حاول النفعَ به من العلماء والطلاب، مقبولًا عند الله تعالى يومَ الجزاء والحساب، ليس بينه وبينه -يوم تُجزى كلُّ نفس بما لها- حجاب (1).
هذا ولما كان الصحابةُ والتابعون، عليهم رضوان الله تعالى أجمعين، سببًا في اتصال الشريعة والسند لسائر علماء المسلمين، أردتُ أن أُثبت مقدمةً في حقيقتهم، وما لهم من الطبقات، فتمتاز عند العارف بذلك المرفوعات من المرسلات، ويجني من معرفة حقيقتهم يانعَ الثمرات.
--------------------------------------------
এতে রয়েছে তালীক (ঝুলন্ত বর্ণনা), মাওকুফ (সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা), মুরসাল এবং মাকতু বর্ণনা, যেগুলোকে হাদীসের নির্ভরযোগ্য বরেণ্য আলিমদের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্থানে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে এতে হাদীস বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক আলিমদের সকল রচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ছয়টি কিতাবের সংকলকদের মধ্যে কে এটি বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করা হয়েছে এবং সনদের সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয়গুলো উল্লেখ করে একে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় এটি সহীহুল বুখারীর পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়ের এক অনন্য সংকলনে পরিণত হয়েছে, যে বিষয়গুলোর প্রতিটি নিয়ে আগে পৃথক পৃথক চমৎকার গ্রন্থ রচিত হয়েছিল। ফলে এখন শাব্দিক অর্থ বিশ্লেষণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ের প্রয়োজন বাকি নেই, আর আরবি ভাষা চর্চাকারীদের জন্য তা আয়ত্ত করাও সহজ। আমি এর নাম দিয়েছি।
"
কাউসারুল মাআনি আদ-দারারি, ফি খাবায়া সহীহিল বুখারী"
আর আমি মহানুভব, পরম দয়ালু, অশেষ দানকারী আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি এবং আদনান ও কাহতানের বংশধরদের সর্দার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উসিলায় তাঁর নিকট সুপারিশ ও নিবেদন পেশ করছি, যিনি এমন সব ফযীলতের অধিকারী যা কোনো ফেরেশতা, মানুষ বা জিন অর্জন করতে পারেনি। তিনি যেন আমাকে এই কিতাবটি সম্পন্ন করতে সাহায্য ও তৌফিক দান করেন এবং একে সেই সব আলেম ও শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী করেন যারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে চায়। কিয়ামত ও প্রতিদানের দিনে এটি যেন আল্লাহ তাআলার নিকট কবুল হয়, যেদিন প্রতিটি প্রাণ তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে— সেদিন যেন এটি ও আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরাল না থাকে (১)।
যেহেতু সাহাবী ও তাবিঈগণ (তাদের সকলের ওপর আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) মুসলিম বিশ্বের সকল আলিমদের জন্য শরীয়ত ও সনদের যোগসূত্র, তাই আমি তাদের পরিচয় এবং স্তরসমূহ নিয়ে একটি ভূমিকা সংযোজন করতে চেয়েছি। যাতে এ বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি মারফু বর্ণনা থেকে মুরসাল বর্ণনাকে আলাদা করতে পারেন এবং তাদের পরিচয় লাভের মাধ্যমে পরিপক্ব ফল আহরণ করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فأقول وعلى الله اعتمادي، وبه توفيقي ورشدي وسدادي:
مقدمة في حقيقة الصحابة والتابعين عليهم رضوان الله تعالىوأقتصر في هذا المبحث على ما ذكره فيه "فتح الباري"، سوى زيادات يسيرة من "المواهب" وشرحه للزَّرْقاني والنووي وغير ذلك، وأبدأ في تعريف الصحابي بما عرفه به البخاري.
قال البخاري في "صحيحه": الصحابي من صَحِب النبي صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه.
قال في "الفتح": يعني أن اسم صُحبة النبي صلى الله عليه وسلم مستحق لمن صحبه أقل ما يُطلَق عليه اسم الصحبة لغةً، وإن كان العُرف يُخصُّ ذلك ببعض الملازمة، فالصحابي مشتق من الصحبة، جارٍ على من صحب غيرَه قليلًا كان أو كثيرًا؛ يقال: صحبه شهرًا ويومًا وساعة، وهذا يوجب في حكم اللغة إجراء هذا على من صحب النبي صلى الله عليه وسلم ولو ساعة. وما ذكره البخاري هو الراجح، وسبقه إليه شيخُه علي بن المديني، وهو قول أحمد بن حَنْبل وجمهور المحدثين، وقال النووي: كافة المحدثين.
وذهب أكثر أصحاب الفقه والأصول إلى أنه مَنْ طالت صحبته، له صلى الله عليه وسلم قائلين: إن عُرف الأمة هو أنهم لا يستعملون لفظ الصحبة إلا فيمن كثرت صحبته، واتصل لقاؤه، ولا يجري ذلك على مَنْ لَقِيَ المرءَ ساعة، ومشى معه خَطَوات، وسمع منه حديثًا، فوجب أن لا يجري في الاستعمال إلا على من هذا حاله.
قال النووي: ويُستدل على ترجيح مذهب المحدثين بأنهم نقلوا عن أهل اللغة أن الاسم يتناول صحبة ساعة، وأكثر أهل الحديث قد نقلوا الاستعمال في الشرع والعرف على وفق اللغة، فوجب المصير إليه.
وعُلِم من قول البخاري: "أو رآه" أنه يُطلَق على من رآه رؤيةً، ولو
আমি বলছি এবং আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা, আর তাঁর মাধ্যমেই আমার তাওফিক, হেদায়েত ও সঠিক সিদ্ধান্ত লাভের দৃঢ়তা:
সাহাবী ও তাবিঈগণের প্রকৃত পরিচয় প্রসঙ্গে ভূমিকা (তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক)এই পরিচ্ছেদে আমি 'ফাতহুল বারী'-তে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, সাথে 'মাওয়াহিব' ও এর যারকানি এবং নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে সামান্য কিছু বিষয় সংযোজন করব। আমি সাহাবীর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা দিয়েই শুরু করছি।
ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বলেছেন: সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন অথবা মুসলিম অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন, তিনিই তাঁর সাথীদের (সাহাবীদের) অন্তর্ভুক্ত।
'ফাতহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য বা সোহবতের নাম ধারণ করার অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি আভিধানিক অর্থে সোহবতের ন্যূনতম স্তর লাভ করেছেন। যদিও উরফ বা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী একে দীর্ঘ সময় সাথে থাকার সাথে বিশিষ্ট করা হয়। মূলত সাহাবী শব্দটি সাহচর্য (সোহবত) থেকে নির্গত, যা কম বা বেশি সময় কারো সাথে অবস্থানকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: সে তার সাথে এক মাস, একদিন বা এক ঘণ্টা ছিল। আর আভিধানিক বিধান অনুযায়ী এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভকারীর ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক, যদিও তা এক ঘণ্টার জন্য হয়। ইমাম বুখারী যা উল্লেখ করেছেন তা-ই অগ্রগণ্য মত, এবং তাঁর পূর্বে তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীও এ কথা বলেছেন। এটি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও অধিকাংশ মুহাদ্দিসের অভিমত। ইমাম নববী বলেছেন: সকল মুহাদ্দিসের অভিমত এটিই।
অধিকাংশ ফিকহ ও উসূল শাস্ত্রবিদদের মতে সাহাবী হলেন তিনি, যাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দীর্ঘ সাহচর্য রয়েছে। তাঁরা বলেন: উম্মতের প্রচলিত রীতি হলো তাঁরা 'সাহাবী' শব্দটি কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেন যার সাহচর্য দীর্ঘ এবং সাক্ষাৎ ছিল নিরন্তর। যে ব্যক্তি কারো সাথে এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ করল, কয়েক কদম হাঁটল বা তাঁর থেকে একটি হাদীস শুনল, তাঁর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং এই শব্দটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা আবশ্যক যাদের অবস্থা এমন (অর্থাৎ দীর্ঘ সাহচর্য)।
ইমাম নববী বলেন: মুহাদ্দিসগণের মতামতের প্রাধান্য প্রাপ্তির প্রমাণ হলো, তাঁরা ভাষাবিদদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে এই নামটি (সাহাবী) এক ঘণ্টার সাহচর্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর অধিকাংশ হাদীস বিশারদ শরীয়ত ও প্রচলিত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আভিধানিক অর্থের সাথে মিল রেখেই তা বর্ণনা করেছেন। অতএব, এটিই গ্রহণ করা অপরিহার্য।
ইমাম বুখারীর উক্তি "অথবা তাঁকে দেখেছে" থেকে এটি বোঝা যায় যে, যে ব্যক্তি তাঁকে চাক্ষুষ দেখেছে তার ক্ষেত্রেও এই নাম প্রযোজ্য হবে, যদিও...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
على بعد، وهل يُشتَرط في الرائي أن يكون بحيث يميز ما رآه أو يُكتفى بمجرد حصول الرؤية؟ محل نظر، وعمل من ألَّف في الصحابة يدل على الثاني، فإنهم ذكروا مثل محمد بن أبي بكر الصديق، وإنما وُلد قبل وفاة الرسول، صلى الله عليه وسلم بثلاثة أشهر وأيام كما ثبت في الصحيح: "إن أمه أسماء بنت عميس ولدته في حجة الوداع، قبل أن يدخلوا مكة" وذلك في أواخر ذي القعدة سنة عشر من الهجرة، ومع ذلك فأحاديث هذا الضرب مراسيل.
والخلاف الجاري بين الجمهور وبين أبي إسحاق الإسفراييني ومَنْ وافقه على رد المراسيل مطلقًا، حتى مراسيل الصحابة لا يجري في أحاديث هؤلاء؛ لأن أحاديثهم لا من قبيل مراسيل الصحابة الذين سمعوا من النبي صلى الله عليه وسلم بل من قبيل مراسيل كبار التابعين.
وهذا مما يُلغَز به، فيقال: صحابي حديثه مرسل ولا يقبله من يقبل مراسيل الصحابة، ومنهم -يعني أهل الحديث- من بالغ فكان لا يعد في الصحابة إلا من صَحِب الصحبة العرفية، كما جاء عن عاصم الأحول قال: رأى عبد الله بن سَرْجِسَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم غير أنه لم تكن له صحبة. أخرجه أحمد؛ هذا مع كون عاَصم قد روى عن عبد الله بن سَرْجسَ هذا عدة أحاديث، وهي عند مسلم، وأصحاب السنن، وأكثرها من رواية عاصم عنه، ومن جملتها قوله: "إن النبي صلى الله عليه وسلم استغفر له".
فهذا رأي عاصم: أن الصحابي من يكون صحب الصحبة العرفية؛ وكذا روي عن سعيد بن المسيِّب: أنه كان لا يعد في الصحابة إلا من أقام مع النبي صلى الله عليه وسلم سنة فصاعدًا، أو غزا معه غزوة فصاعدًا.
والعمل على خلاف هذا القول، لأنهم اتفقوا على عَدّ جمع جَمٍّ في الصحابة، لم يجتمعوا مع النبي صلى الله عليه وسلم إلا في حجة الوداع، ومن اشترط الصحبة العرفية أخرج مَن له رؤية، أو من اجتمع به، لكن فارقه عن قرب، كما جاء عن أنس أنه قيل له: "هل بقي من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحد غيرك؟ قال: لا" مع أنه كان في ذلك الوقت عدد كثير ممن لقيه من
...দূর থেকে, এবং যে ব্যক্তি দেখেছে তার ক্ষেত্রে কি এমন হওয়া শর্ত যে সে যা দেখেছে তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে, নাকি কেবল দেখার বিষয়টি ঘটলেই যথেষ্ট হবে? এটি পর্যালোচনার বিষয়। তবে সাহাবীদের জীবনী রচয়িতাদের কর্মপদ্ধতি দ্বিতীয় মতটিরই প্রমাণ দেয়। কেননা তারা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিকের মতো ব্যক্তিদের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের মাত্র তিন মাস কয়েক দিন আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যেমনটি সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে: "তাঁর মা আসমা বিনতে উমাইস তাঁকে বিদায় হজ্জের সময় মক্কায় প্রবেশের পূর্বেই প্রসব করেছিলেন।" আর তা ছিল হিজরি দশম বর্ষের জিলকদ মাসের শেষ দিকে। তা সত্ত্বেও, এই পর্যায়ের ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদিসগুলো 'মুরসাল' হিসেবে গণ্য হয়।
জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম) এবং আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে সকল প্রকার মুরসাল হাদিস—এমনকি সাহাবীদের মুরসালও—প্রত্যাখ্যান করা নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে, তা এই ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ তাদের হাদিসগুলো সেইসব সাহাবীদের মুরসালের পর্যায়ভুক্ত নয় যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শুনেছেন, বরং এগুলো বড় বড় তাবেয়ীদের মুরসালের পর্যায়ভুক্ত।
এটি একটি ধাঁধার মতো বিষয়, যার সম্পর্কে বলা হয়: তিনি একজন সাহাবী যার হাদিস মুরসাল, অথচ যারা সাহাবীদের মুরসাল হাদিস গ্রহণ করেন তারাও তাঁর হাদিস গ্রহণ করেন না। তাদের মধ্যে—অর্থাৎ হাদিস বিশারদদের মধ্যে—কেউ কেউ কড়াকড়ি করেছেন, ফলে তারা কেবল তাকেই সাহাবী হিসেবে গণ্য করতেন যার সাহচর্য প্রচলিত সংজ্ঞায় প্রমাণিত ছিল। যেমন আসিম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন, তবে তাঁর সাহচর্য ছিল না। এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন; অথচ আসিম এই আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা ইমাম মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারদের সংকলনে রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশই আসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিও রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।"
সুতরাং এটিই আসিমের অভিমত: সাহাবী কেবল তিনিই যিনি প্রচলিত অর্থে সাহচর্য লাভ করেছেন। অনুরূপভাবে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কেবল তাকেই সাহাবী হিসেবে গণ্য করতেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক বছর বা তার বেশি সময় অবস্থান করেছেন অথবা তাঁর সাথে এক বা একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
তবে আমল এই মতের বিপরীত। কারণ আলেমগণ সাহাবীদের মধ্যে বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কেবল বিদায় হজ্জের সময় একত্রিত হয়েছিলেন। আর যারা প্রচলিত সাহচর্যের শর্তারোপ করেন, তারা কেবল দেখার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের অথবা যারা তাঁর সাথে মিলিত হয়ে অল্প সময় পরই পৃথক হয়ে গেছেন তাদেরকে সাহাবীর সংজ্ঞা থেকে বাদ দেন। যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আপনি ছাড়া আর কেউ কি অবশিষ্ট আছেন? তিনি বললেন: না।" অথচ সেই সময়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন এমন আরও অনেক ব্যক্তি জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الأعراب، ومنهم من يشترط في ذلك أن يكون حين اجتماعه به بالغًا، وهو مردودٌ أيضًا؛ لأنه مخرج، مثل الحسن بن علي رضي الله تعالى عنهما، ونحوه من أحداث الصحابة.
وقول البخاري: من المسلمين، قَيْد يخرج به مَنْ صَحِبه أو مَنْ رآه من الكفار، فأما من أسلم منهم بعد موته فإن كان قوله "من المسلمين" حالًا، خرج مَنْ هذا صفته، وهو المعتمد.
ويَرِدُ على التعريف من صحبه أو رآه مؤمنًا به ثم ارتد بعد ذلك، ولم يعد إلى الإِسلام، فإنه ليس صحابيًا اتفاقًا، فينبغي أن يُزاد فيه: ومات على ذلك.
وقد وقع في مسند أحمد حديث ربيعة بن أمية بن خَلَفٍ الجُمَحِىّ، وهو ممن أسلم في الفتح، وشهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة الوداع، وحدَّث عنه بعد موته، ثم لحقه الخِذْلانُ، فلحِق في خلافة عمر بالروم، وتنصَر بسبب شيء أغضبه، وإخراج حديث مثل هذا مشكل، ولعل من أخرجه لم يقف على قصة ارتداده والله تعالى أعلم. فلو ارتد ثم عاد إلى الإِسلام لكن لم يره ثانيًا، بعد عوده؛ فالصحيح أنه معدود في الصحابة، لإطباق المحدثين على عدّ الأشعثِ بن قيس ونحوه ممن وقع له ذلك فيهم، وإخراجهم أحاديثهم في المسانيد.
وقال العراقي: إن في ذلك نظرًا كبيرًا، فإن الردة مُحبطة للعمل عند أبي حنيفة، ونص عليه الشافعي في "الأم" وإن كان الرافِعي قد حكى عنه: أنها إنما تَبطُل بشرط اتصالها بالموت، وهو المعتمد عند الشافعية؛ وحينئذ فالظاهر أنها محبطة للصحبة المتقدمة.
قلت: يعني على ما في "الأم" لا على ما للرافعي، فتأمل.
ثم قال: والجواب عن هذا أنها محبطة لثوابها، لا لعملها الذي هو الصحبة أو الرؤية، فيُعتَدُّ به في عدِّه صحابيًا، وتخريج أحاديثه في المسانيد، كما يُعتد بما فعله المسلم قبل ردته من صلاة وزكاة وصيام
গ্রাম্য আরবরা; আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। তবে এটিও প্রত্যাখ্যানযোগ্য; কারণ এটি হাসান ইবনে আলী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং তাঁর মতো অল্পবয়স্ক সাহাবীদের সাহাবীদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।
ইমাম বুখারীর বক্তব্য "মুসলিমদের মধ্য হতে" - এটি এমন একটি শর্ত যার মাধ্যমে ঐসব কাফেররা বাদ পড়ে যায় যারা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছে বা তাঁকে দেখেছে। আর তাদের মধ্যে যারা তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম গ্রহণ করেছে, যদি তাঁর উক্তি "মুসলিমদের মধ্য হতে" বর্তমান অবস্থাকে নির্দেশ করে, তবে যার মধ্যে এই গুণ রয়েছে সে বাদ পড়ে যাবে এবং এটিই নির্ভরযোগ্য মত।
এই সংজ্ঞার ওপর ঐ ব্যক্তির প্রসঙ্গ আপতিত হয়, যে মুমিন অবস্থায় তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছে বা তাঁকে দেখেছে, এরপর সে ধর্মত্যাগী হয়ে গেছে এবং ইসলামে আর ফিরে আসেনি; তবে সর্বসম্মতভাবে সে সাহাবী নয়। অতএব, সংজ্ঞার মধ্যে "এবং এর ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন" কথাটি বৃদ্ধি করা উচিত।
মুসনাদে আহমাদে রাবিআহ ইবনে উমাইয়্যাহ ইবনে খালাফ আল-জুমাহীর হাদীস বর্ণিত হয়েছে; তিনি মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিদায় হজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর ইন্তেকালের পর হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি দুর্ভাগ্যের শিকার হন এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে রোমীয়দের সাথে যোগ দেন এবং কোনো একটি কারণে রাগান্বিত হয়ে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। এই ধরনের ব্যক্তির হাদীস সংকলন করা একটি জটিল বিষয়; সম্ভবত যারা এটি সংকলন করেছেন তারা তার ধর্মত্যাগের ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। কিন্তু যদি কেউ ধর্মত্যাগী হওয়ার পর পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে, তবে ইসলামে ফিরে আসার পর তাকে দ্বিতীয়বার না দেখলেও বিশুদ্ধ মতানুসারে সে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। কেননা মুহাদ্দিসগণ আশআস ইবনে কায়স এবং এই ধরনের ব্যক্তিবর্গ—যাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে—তাদের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহে তাদের হাদীসসমূহ সংকলন করেছেন।
ইরাকী বলেন: এ বিষয়ে যথেষ্ট পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ ইমাম আবু হানিফার মতে ধর্মত্যাগ আমলকে নষ্ট করে দেয়। আর ইমাম শাফেয়ী "আল-উম্ম" গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও রাফেয়ী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমল কেবল মৃত্যুর সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত থাকার শর্তে বাতিল হয়; আর এটিই শাফেয়ীদের নিকট নির্ভরযোগ্য মত। সেই অনুযায়ী, বাহ্যত এটি পূর্ববর্তী সাহচর্যকে বাতিল করে দেয়।
আমি বলি: অর্থাৎ "আল-উম্ম" গ্রন্থে যা রয়েছে সেই অনুযায়ী, রাফেয়ীর বর্ণনা অনুযায়ী নয়; সুতরাং চিন্তা করুন।
অতঃপর তিনি বলেন: এর উত্তর হলো, এটি আমলের সওয়াবকে নষ্ট করে দেয়, আমল তথা সাহচর্য বা দর্শনকে নয়। ফলে তাকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহে তার হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে তা ধর্তব্য হবে; যেভাবে একজন মুসলিমের ধর্মত্যাগী হওয়ার আগে আদায়কৃত সালাত, যাকাত ও সওম ধর্তব্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ونحوها، فلا يعيد ذلك إذا ارتد ثم عاد إلى الإِسلام، وإن سقط ثوابه بالردة، وحينئذ فلا نظر. أما من ارتد ثم عاد إلى الإِسلام في حياته صلى الله عليه وسلم فهو داخل في الصحبة بدخوله الثاني في الإِسلام اتفاقًا إن رآه عليه الصلاة والسلام مرة أخرى بعد العود للإسلام، وعلى الصحيح المعتمد: إن لم يره ثانيًا، والتقييد بالرؤية المراد به عند عدم المانع كالعمى، فإن كان كابن أم مَكْتوم الأعمى فهو صحابي جزمًا، فالأحسن أن يُعبَّر باللقاء بدل الرؤية.
قال الحافظ زين الدين العراقي: قولهم: مَنْ رأى النبي- صلى الله عليه وسلم هل المراد به: من رآه في حال نبوته، أو أعم من ذلك حتى يدخلَ من رآه قبل النبوة ومات قبل النبوة على دين الحنيفة: كزيد بن عمرو بن نُفَيْل، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنه يُبعَثُ أمةً وَحْدَهُ بيني وبين عيسى بن مَريم" رواه البغوي في "الصحابة" من حديث جابر، ورواه أبو أسامة زيادة على رواية البخاري، وأخرجه البزار من طريق جابر أيضًا، والطَّيالِسِيُّ من طريق ابنه سعيد، وقد ذكره في الصحابة أبو عبد الله بن مَنْدَةَ. وكذلك لو رآه قبل النبوة، ثم غاب عنه، وعاش إلى بعد زمن البعثة، وأسلم ثم مات ولم يره، ولم أر من تعرض لذلك.
ويدل على أن المراد رآه بعد نبوته أنهم ترجموا في الصحابة لمن وُلِدَ للنبي صلى الله عليه وسلم بعد النبوة، كإبراهيم من مارية، وعبد الله من خديجة، ولم يترجموا لمن ولد له صلى الله عليه وسلم قبل النبوة كالقاسم.
وأما من رآه وآمن به بعد البعثة وقبل الدعوة، كوَرقَةَ بن نَوْفل، فإنه صحابي، كما جزم به ابن الصلاح.
وهل يختص جميع ذلك ببني آدم، أو يَعُمُّ غيرهم من العقلاء؟ محل نظر، أما الجِنُّ فالراجح دخولهم، لأنّ النبي صلى الله عليه وسلم بُعِث إليهم قَطْعًا وهم مكلفون، فيهم العصاة والطائعون؛ فمن عُرف اسمه منهم لا ينبغي التردد في ذكره في الصحابة، وإن كان ابن الأَثير عاب ذلك على أبي
এবং এর অনুরূপ, তাই যদি কেউ ধর্মত্যাগ (মুরতাদ) করে এবং পরে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে, তবে তাকে তা পুনরায় করতে হবে না, যদিও ধর্মত্যাগের কারণে তার সাওয়াব বাতিল হয়ে যায়, এবং সেই ক্ষেত্রে আর কোনো বিবেচনার অবকাশ নেই। আর যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় মুরতাদ হওয়ার পর পুনরায় ইসলামে ফিরে এসেছেন, তারা সর্বসম্মতিক্রমে তাদের দ্বিতীয়বার ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে সাহাবিত্বের অন্তর্ভুক্ত হবেন, যদি তারা ইসলামে ফেরার পর তাঁকে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আবারও দেখেন। আর নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী: যদি তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার না-ও দেখেন (তবুও তিনি সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন)। আর দেখার শর্তটি মূলত কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকার ক্ষেত্রের জন্য, যেমন অন্ধত্ব। সুতরাং যদি কেউ ইবনে উম্মে মাকতূম আল-আ'মার মতো অন্ধ হন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই সাহাবী। তাই 'দেখা' শব্দের পরিবর্তে 'সাক্ষাৎ' শব্দ ব্যবহার করাই অধিকতর উত্তম।
হাফেজ জাইন উদ্দিন আল-ইরাকী বলেন: তাদের এই কথা—'যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন'—এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য হলো: যিনি নবুওয়াত অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন, নাকি এটি তার চেয়েও ব্যাপক? যাতে এমন ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত হবে যিনি নবুওয়াতের আগে তাঁকে দেখেছেন এবং হানিফ ধর্মের ওপর থেকে নবুওয়াতের আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন: যেমন যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমার এবং ঈসা ইবনে মারিয়ামের মাঝে একক একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবে।" এটি আল-বাগাওয়ী 'আস-সাহাবা' গ্রন্থে জাবির বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু উসামা এটি বুখারীর বর্ণনার অতিরিক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল-বাযযার এটি জাবিরের সূত্র থেকেও উদ্ধৃত করেছেন, এবং আত-তয়ালিসি তাঁর পুত্র সাঈদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ একে সাহাবীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে যদি কেউ নবুওয়াতের আগে তাঁকে দেখেন, তারপর তাঁর নিকট থেকে অনুপস্থিত থাকেন এবং নবুওয়াত পরবর্তী কাল পর্যন্ত জীবিত থাকেন, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু (ইসলাম গ্রহণের পর) তাঁকে আর দেখেননি। আমি কাউকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দেখিনি।
আর নবুওয়াতের পর তাঁকে দেখার বিষয়টি যে উদ্দেশ্য—তার প্রমাণ হলো এই যে, তারা সাহাবীদের জীবনীগ্রন্থে তাঁদের জীবনী উল্লেখ করেছেন যারা নবুওয়াতের পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যেমন মারিয়ার গর্ভজাত ইব্রাহীম এবং খাদিজার গর্ভজাত আব্দুল্লাহ। কিন্তু যারা নবুওয়াতের আগে তাঁর ঘরে জন্মেছিলেন তাদের জীবনী সাহাবী হিসেবে উল্লেখ করেননি, যেমন কাসেম।
আর যারা নবুওয়াতের পর এবং দাওয়াতের আগে তাঁকে দেখেছেন ও তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন, যেমন ওরাকা ইবনে নওফাল, তবে তিনি সাহাবী, যেমনটি ইবনুস সালাহ নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।
এবং এই সবকিছু কি কেবল বনী আদমের জন্য নির্দিষ্ট, নাকি অন্যান্য বুদ্ধিমান সৃষ্টির জন্যও সাধারণ? এটি পর্যালোচনার বিষয়। আর জিনদের ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো তারা এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিশ্চিতভাবে তাদের প্রতিও প্রেরিত হয়েছেন এবং তারা শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট; তাদের মধ্যে পাপাচারী এবং অনুগত উভয়ই রয়েছে। সুতরাং তাদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে, তাদের সাহাবীদের তালিকায় উল্লেখ করার বিষয়ে দ্বিধাবোধ করা উচিত নয়, যদিও ইবনুল আসীর এটি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ-এর ওপর সমালোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
موسى، ولم يستند في ذلك إلى حجة، فليس ذلك بمعيب.
وأما الملائكة فيتوقف عندهم فيهم على ثبوت بعثته إليهم، فإنَّ فيه خلافًا بين الأصوليين، حتى نقل بعضهم الإجماع على ثبوته وعَكس بعضهم.
وهذا كله فيمن رآه وهو في قيد الحياة الدنيوية، أما من رآه بعد موته وقبل دفنه فالراجح أنه ليس بصحابي، وإلا لعد من اتفق أن يرى جسده الشريف المكرم وهو في قبره المعظم، ولو في هذه الأعصار، وكذلك من كشف له عنه من الأولياء، فرآه كذلك على طريق الكرامة، إذ حجة من أثبت الصحبة لمن رآه قبل دفنه أنه مستمر الحياة، وهذه الحياة ليست دنيوية، وإنما هي أخروية لا تتعلق بها أحكام الدنيا، فإن الشهداء أحياءٌ، ومع ذلك فإن الأحكام المتعلقة بهم بعد القتل جارية على أحكام غيرهم من الموتى، وكذلك المراد بهذه الرؤية من اتفقت له ممن تقدم شرحه وهو يقظان، أما من رآه في المنام وإن كان قد رآه حقًا فذلك مما يرجِعُ إلى الأمور المعنوية لا الأحكام الدنيوية، فلذلك لا يُعَدُّ صحابيًا، ولا يجب عليه أن يعمل بما أمر به في تلك الحالة.
طبقات الصحابةوقد ذكر العلماء للصحابة ترتيبًا على طبقات، وقسمهم أبو عبد الله الحاكم في كتاب "علوم الحديث" إلى اثنتي عشرة طبقة.
الأولى: قوم أسلموا بمكة أول المبعث، وهم سُبّاقُ المسلمين، مثل خديجة بنت خُوَيلد والعشرة المبشرين بالجنة.
الثانية: أصحاب دار النَّدْوة، بعد إسلام عُمر بن الخطاب حمل عُمر النبي صلى الله عليه وسلم ومن معه من المسلمين إلى دار الندوة، فأسلم لذلك جماعة من أهل مكة.
الثالثة: الذين هاجروا إلى الحبشة، كجعفر بن أبي طالب، وأبي
মুসা, আর তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণের ওপর নির্ভর করেননি, তাই এটি দোষণীয় নয়।
আর ফেরেশতাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তাদের কাছে তাঁর প্রেরিত হওয়ার প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। কেননা এ বিষয়ে উসুলবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; এমনকি তাদের কেউ কেউ এর সপক্ষে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।
আর এই সমস্ত কথা কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা তাঁকে পার্থিব জীবনের বন্ধনে থাকা অবস্থায় দেখেছেন। পক্ষান্তরে, যিনি তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের পর এবং দাফনের পূর্বে দেখেছেন, তার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মত হলো তিনি সাহাবী নন। অন্যথায়, বর্তমান যুগেও যদি কেউ তাঁর সুমহান কবরে তাঁর সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র শরীর দেখার সুযোগ পান, তবে তাকেও সাহাবী গণ্য করতে হতো। একইভাবে আওলিয়ায়ে কেরামের মধ্যে যাদের সামনে তাঁর পর্দা উন্মোচিত হয় এবং তারা কারামত হিসেবে তাঁকে সেভাবে দেখেন; কেননা যারা দাফনের পূর্বে দেখার কারণে সাহাবী হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেন, তাদের যুক্তি হলো তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে জীবিত। অথচ এই জীবন পার্থিব নয়, বরং এটি পরকালীন জীবন যার সাথে দুনিয়ার হুকুম-আহকাম সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ শহীদগণ জীবিত থাকা সত্ত্বেও শাহাদাতের পর তাদের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের ন্যায় হুকুম প্রযোজ্য হয়। তদ্রূপ, এই দেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা জাগ্রত অবস্থায় পূর্বোল্লিখিত বর্ণনার অনুকূলে ঘটে থাকে। আর যারা তাঁকে স্বপ্নে দেখেছেন, যদিও তিনি তাকে সত্যই দেখেছেন, তবুও তা আধ্যাত্মিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, পার্থিব কোনো বিধানের সাথে নয়। একারণে তাকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং সেই অবস্থায় তাকে যা আদেশ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী আমল করাও তার জন্য আবশ্যক নয়।
সাহাবীগণের স্তরসমূহউলামায়ে কেরাম সাহাবীগণের স্তরের একটি বিন্যাস উল্লেখ করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তার "উলুমুল হাদিস" গ্রন্থে তাদেরকে বারোটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।
প্রথম স্তর: যারা নবুওয়াতের শুরুতে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তারা হলেন অগ্রগামী মুসলিম, যেমন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন।
দ্বিতীয় স্তর: দারুন নাদওয়ার সাথীবৃন্দ। উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের পর, উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে থাকা মুসলিমদের দারুন নাদওয়ায় নিয়ে যান, যার ফলে মক্কাবাসীদের একটি দল ইসলাম গ্রহণ করে।
তৃতীয় স্তর: যারা হাবশায় হিজরত করেছিলেন, যেমন জাফর ইবনে আবি তালিব এবং আবু
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
سَلَمَة بن عبد الأسد، فرارًا بدينهم من أذى المشركين، أهل مكة.
الرابعة: أصحاب العقبة الأولى، وهم سُبّاق الأنصار إلى الإِسلام وكانوا ستة، وأصحاب بيعة العقبة الأولى من العام المقبل وكانوا اثني عشر رجلًا، والستة الأُوَلُ كلهم من الخزرج، وهم أبو أُمامة أسْعد بن زُرارة، وعوفُ بن الحارث بن رِفاعة وهو ابن عَفْراء، ورافعُ بن مالك بن العَجْلان، وقُطبة بن عامر بن حديدة، وعُقبة بن عامر بن نابي، وجابر بن عبد الله بن رِئاب لا جابر بن عبد الله بن حَرام، وعد بعض أهل السير فيهم عُبادة بن الصّامتِ بدل جابر بن عبد الله بن رِئاب، وكل هؤلاء من الاثني عشر أهل بيعة العقبة الأولى إلا جابر بن رِئاب، والسبعة الباقية هم: معاذُ ابن الحارث ابن رِفاعة وهو ابن عَفْراءَ أيضًا، وذَكوانُ بن عبد القَيس الزُّرَقِي، وعبادةُ بن الصامت، وأبو عبد الرحمن يزيدُ بن ثعلبةَ البَلَوِيّ، والعباس بن عُبادة بن نَضْلة وهؤلاء من الخَزْرج أيضًا، ومن الأوس: أبو الهَيْثَم بن التيهان من بني عبد الأشهل، وَعُويم بن ساعدة.
الخامسة: أصحاب العقبة الثانية، وكانوا سبعين من الأنصار، منهم البراء بن مَعْرور، وسعدُ بن عبادة، وعبد الله بن رَوَاحة، وعبد الله بن حَرَام، وسعدُ بن الرّبيع.
السادسة: المهاجرون الذين وصلوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم بعد هجرته، وهو بِقباء، قبل أن يبني المسجد، وينتقل إلى المدينة المنورة.
السابعة: أهل بدر الكُبرى، قال النبي صلى الله عليه وسلم لعمر في قصة حاطِب بن أبي بَلْتَعَة كما في "البخاري" و "مسلم": "وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللهَ اطَّلَعَ على هذه العصابةِ من أهل بدرٍ فقال: اعْمَلُوا ما شِئْتُم فَقَدْ غَفرْتُ لَكُم" وعند أحمد وأبي داود بالجزمَ، ولفظه: "إن الله اطلَع على أهلِ بدرٍ" إلخ.
قال النوويُّ: الرجاء هنا راجع إلى عُمر، لأن وقوع هذا الأمر محققٌ عند الرسول، وقد قال العلماء: الترجي في كلام الله وكلام الرسول للوقوع.
সালামাহ বিন আব্দুল আসাদ, মক্কাবাসীদের অর্থাৎ মুশরিকদের নির্যাতন থেকে নিজ দ্বীন রক্ষার্থে পলায়ন করে (হিজরত করেছিলেন)।
চতুর্থ: প্রথম আকাবার শপথ গ্রহণকারীগণ, যারা আনসারদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী ছিলেন এবং সংখ্যায় ছিলেন ছয় জন। আর পরবর্তী বছরের প্রথম আকাবার বাইআতে অংশগ্রহণকারীগণ ছিলেন বারো জন। প্রথম ছয় জনের সকলেই ছিলেন খাযরাজ গোত্রের। তারা হলেন: আবু উমামাহ আসআদ বিন যুরারাহ, আওফ বিন হারিস বিন রিফায়া—যিনি ইবনে আফরা নামে পরিচিত, রাফে বিন মালিক বিন আল-আজলান, কুতবাহ বিন আমির বিন হাদীদাহ, উকবাহ বিন আমির বিন নাবী এবং জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন রিআব—জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন হারাম নন। সীরাত রচয়িতাদের কেউ কেউ জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন রিআবের পরিবর্তে উবাদাহ বিন সামিতকে গণনা করেছেন। জাবির বিন রিআব ছাড়া এরা সকলেই প্রথম আকাবার বাইআতে অংশগ্রহণকারী সেই বারো জনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বাকি সাতজন হলেন: মুআয বিন হারিস বিন রিফায়া—যিনিও ইবনে আফরা নামে পরিচিত, যাকওয়ান বিন আব্দুল কায়স আয-যুরাকী, উবাদাহ বিন সামিত, আবু আব্দুর রহমান ইয়াযীদ বিন সালাবা আল-বালাউয়ী, আব্বাস বিন উবাদাহ বিন নাযলাহ—এরা সকলেই খাযরাজ গোত্রের। আর আউস গোত্র থেকে ছিলেন: আবু হাইসাম বিন আত-তাইয়িহান—যিনি বনী আব্দুল আশহাল গোত্রের, এবং উওয়াইম বিন সায়েদাহ।
পঞ্চম: দ্বিতীয় আকাবার শপথ গ্রহণকারীগণ, তারা আনসারদের মধ্য থেকে সত্তর জন ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-বারা বিন মারূর, সা'দ বিন উবাদাহ, আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ, আব্দুল্লাহ বিন হারাম এবং সা'দ বিন আর-রাবী।
ষষ্ঠ: সেই সকল মুহাজির যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের পর তাঁর নিকট পৌঁছেছিলেন যখন তিনি কুবায় অবস্থান করছিলেন, মসজিদ নির্মাণ ও মদিনা মুনাওয়ারায় স্থানান্তরের পূর্বে।
সপ্তম: বড় বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীগণ। হাতিব বিন আবি বালতায়ার ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে: "তুমি কী জানো? হতে পারে আল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই দলটির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" আহমাদ ও আবু দাউদের বর্ণনায় এটি সুনিশ্চিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যার শব্দ হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন..." ইত্যাদি।
ইমাম নববী বলেছেন: এখানে আশা বা সম্ভাবনা প্রকাশ করা উমর (রা.)-এর প্রেক্ষিতে করা হয়েছে, কারণ বিষয়টি ঘটা রাসূলের নিকট সুনিশ্চিত ছিল। উলামায়ে কিরাম বলেছেন: আল্লাহর বাণী এবং রাসূলের বাণীতে আশা বা সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয় কোনো বিষয় সুনিশ্চিতভাবে ঘটার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وقال الحافظ: فيه بشارة عظيمة لم تقع لغير أهل بدر، واتفقوا على أن هذه البشارة فيما يتعلق بأحكام الآخرة، لا فيما يتعلق بأحكام الدنيا، من إقامة الحدود وغيرها.
الفرقُ بين الترجي بلعل وعسى في كلام الله تعالى.
قلت: فرق السُّهَيْلِيُّ بين الترجي في كلام الله تعالى بـ "بلعل" و"عسى"، فقال: إن الترجي بعسى واجب الوقوع وبلعل ليس كذلك، ونصه عند الكلام على آية {عَسَى اللَّهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ} [التوبة: 102] في توبة أبي لُبابة في غزوة بني قُرَيْظة.
فإن قيل: إن القرآن نزل بلسان العرب، وليست عسى في كلام العرب بخبر، ولا تقتضي وجوبًا، فكيف تكون واجبةً في القرآن، وليس بخارج عن كلام العرب؟ وأيضًا فإن لعل تعطي معنى الترجي، وليست من الله واجبة، فقد قال: {لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ} [إبراهيم: 37]، فلم يشكروا وقال: {لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 44]، فلم يتذكر ولم يخش، فما الفرق بين لعل وعسى حتى صارت عسى واجبة؟! قلنا: لعل تعطي الترجي، وذلك الترجي مصروف إلى الخلق، وعسى مثلها في الترجي، وتزيد عليها بالمقاربة، ولذلك قال: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء: 79]، ومعنى الترجي مع الخبر بالقرب، كأنه قال: قَرُبَ أن يبعثك ربك، فالترجي مصروف إلى العبد كما في لعل، والخبر عن القرب والمقاربة مصروف إلى الله تعالى، وخبره حق، ووعده حَتْمٌ، فما تضمنته من الخبر فهو الواجب، دون الترجي الذي هو محال على الله تعالى، ومصروف إلى العبد، وليس في لعل من تضمن الخبر مثل ما في عسى، فمِن ثَمَّ كانت عسى واجبةَ الوقوع إذا تكلم بها، ولم تكن لعل كذلك.
وهو كلام تُشَدُّ له الرحال، مبين عدم الإطلاق الوارد عن العلماء في كون الترجي في كلام الله تعالى للوقوع، فإنه بين اختصاص ذلك بعسى
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: এতে এক মহান সুসংবাদ রয়েছে যা বদরবাসীদের ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটেনি। উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এই সুসংবাদ পরকালের বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট, দুনিয়ার বিধান যেমন হদ কায়েম করা বা অন্যান্য বিষয়ের সাথে নয়।
মহান আল্লাহর কালামে 'লাআল্লা' এবং 'আসা' এর মাধ্যমে প্রত্যাশা বুঝানোর ক্ষেত্রে পার্থক্য।
আমি বলছি: সুহাইলি মহান আল্লাহর কালামে 'লাআল্লা' এবং 'আসা' দ্বারা প্রত্যাশা (তারাজ্জি) বুঝানোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন: 'আসা' দ্বারা প্রত্যাশা নিশ্চিতভাবে সংঘটিত হওয়া আবশ্যক, কিন্তু 'লাআল্লা' এর বিষয়টি তেমন নয়। বনু কুরাইজা যুদ্ধে আবু লুবাবার তওবা সংক্রান্ত আয়াত—{আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন} [তওবা: ১০২]-এর আলোচনার সময় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
যদি বলা হয়: কুরআন তো আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, আর আরবদের ভাষায় 'আসা' কোনো সংবাদ (খবর) নয় এবং এটি কোনো কিছুর আবশ্যকতা (উজুব) দাবি করে না। তাহলে কুরআনে এটি কীভাবে আবশ্যকীয় হবে, অথচ এটি তো আরবদের ভাষারই অন্তর্ভুক্ত? তদুপরি, 'লাআল্লা' প্রত্যাশার অর্থ প্রদান করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তা সংঘটিত হওয়া আবশ্যক নয়। যেমন তিনি বলেছেন: {যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে} [ইবরাহিম: ৩৭], অথচ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। তিনি আরও বলেছেন: {যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে অথবা ভয় পায়} [ত্বহা: ৪৪], অথচ সে উপদেশ গ্রহণ করেনি এবং ভয়ও পায়নি। তাহলে 'লাআল্লা' এবং 'আসা'-এর মধ্যে পার্থক্য কী যার কারণে 'আসা' আবশ্যকীয় হয়ে গেল?
আমরা বলি: 'লাআল্লা' প্রত্যাশা (তারাজ্জি) বুঝায়, আর সেই প্রত্যাশা সৃষ্টির দিকে প্রত্যাবর্তিত। 'আসা'-ও প্রত্যাশার ক্ষেত্রে একই রকম, তবে এটি নৈকট্যের (মুকারাবাহ) অর্থ বৃদ্ধি করে। এজন্যই তিনি বলেছেন: {আশা করা যায় আপনার রব আপনাকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাবেন} [ইসরা: ৭৯]। এখানে নৈকট্যের সংবাদসহ প্রত্যাশার অর্থ নিহিত রয়েছে; যেন তিনি বলছেন: আপনার রব আপনাকে পৌঁছানোকে নিকটবর্তী করেছেন। সুতরাং 'লাআল্লা'-র ন্যায় প্রত্যাশা এখানেও বান্দার দিকে প্রত্যাবর্তিত, আর নৈকট্য ও নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদটি মহান আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত। তাঁর সংবাদ সত্য এবং তাঁর ওয়াদা অমোঘ। সুতরাং এতে সংবাদের যে অংশটুকু রয়েছে তা ঘটা আবশ্যক, কিন্তু প্রত্যাশা—যা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব—তা বান্দার দিকে প্রত্যাবর্তিত। আর 'লাআল্লা'-র মধ্যে সংবাদের এমন কোনো দিক নেই যা 'আসা'-র মধ্যে রয়েছে। এই কারণেই, 'আসা' যখন আল্লাহর কালামে ব্যবহৃত হয় তখন তা সংঘটিত হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়, কিন্তু 'লাআল্লা' তেমন নয়।
এটি এমন এক তাত্ত্বিক কথা যার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আলেমদের পক্ষ থেকে আসা সেই সাধারণ বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে যাতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কালামে প্রত্যাশা মানেই তা সংঘটিত হওয়া; কেননা তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিষয়টি কেবল 'আসা' শব্দের জন্য সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
دون لعل، وأظهر الفرق الواضح.
الثامنة: الذين هاجروا بين بدر والحُدَيْبيَة.
التاسعة: أهل بيعة الرضوان الذين بايعوا بالحُدَيْبيَة تحت الشجرة، قال صلى الله عليه وسلم: "لا يدخُلُ النارَ إن شاءَ الله تعالى من أصحاب الشجرة أحدٌ". رواه مسلم من حديث أم مبشر، وفي حديث جابر عند مسلم وغيره: "لا يدخلُ النارَ من شَهِدَ بَدرًا والحُدَيْبيَةَ".
العاشرة: الذين هاجروا بعد الحُديبية، وقبل الفَتْح كخالد بن الوليد، وعمرو بن العاص، قال الحافظُ العراقي: أما التمثيل بأبي هُرَيْرة كما جاء عن بعضهم فلا يَصِحُّ، لأنه هاجر عقيب خيبر في أواخرها، وذلك كان في المحرم سنة سبع.
قلت: هذا سهو شديد فإن خيبر كانت بين الحُديبية والفتح، وهي المغانم التي وعد الله تعالى نبيه عليه الصلاة والسلام في سورة الفتح، النازلة بعد الرجوع من الحديبية، فالتمثيل بأبي هُريرة فيمَنْ أسلم بين الحديبية والفتح صحيح.
الحادية عشرة: الذين أسلموا يوم الفتح، وهم خلق كثير، فمنهم من أسلم طائعًا، ومنهم من أسلم كرهًا، ثم حسن إسلامه.
الثانية عشرة: صبيان أدركوا الرسول صلى الله عليه وسلم ورأوه يوم الفتح، وبعده في حجة الوداع، وغيرهما كالسائب بن يزيد.
قلت: هذا تقسيم الحاكم، والعجب منه، كيف أغفل الذين هاجروا إلى المدينة المنورة قبله صلى الله عليه وسلم بإذنه، كمصعب بن عُمير وغيره؟ ولعل هذه الطبقة هي المراد في قول ابن الصلاح: ومنهم من زاد على اثنتي عشرة طبقة.
وقال ابن سعد: إنهم خمس طبقات: الأولى: البدريون، والثانية: من أسلم قديمًا ممن هاجر عامتهم إلى الحبشة وشهدوا أُحُدًا وما بعدها،
সংশয়হীনভাবে, এবং তিনি স্পষ্ট পার্থক্য প্রকাশ করেছেন।
অষ্টম: যারা বদর ও হুদায়বিয়ার মধ্যবর্তী সময়ে হিজরত করেছেন।
নবম: বায়আতে রিদওয়ানের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ যারা হুদায়বিয়ায় গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা চাইলে গাছের নিচে বায়আত গ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।" এটি মুসলিম উম্মে মুবাশশির থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন। আর জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মুসলিম ও অন্যান্যদের হাদিসে রয়েছে: "বদর ও হুদায়বিয়ায় যারা উপস্থিত ছিলেন তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন না।"
দশম: যারা হুদায়বিয়ার পরে এবং মক্কা বিজয়ের পূর্বে হিজরত করেছেন, যেমন খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আস। হাফেজ ইরাকী বলেন: কারো কারো বর্ণনা অনুযায়ী আবু হুরায়রাকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা সঠিক নয়, কারণ তিনি খায়বার যুদ্ধের শেষ দিকে হিজরত করেছিলেন এবং তা ছিল সপ্তম হিজরীর মহররম মাসে।
আমি বলছি: এটি একটি বড় ধরণের অসাবধানতা, কারণ খায়বার হুদায়বিয়া ও মক্কা বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। আর এটিই সেই গনিমত যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আল-ফাতহ-এ দিয়েছিলেন, যা হুদায়বিয়া থেকে ফেরার পর নাযিল হয়েছিল। সুতরাং যারা হুদায়বিয়া ও মক্কা বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাদের উদাহরণ হিসেবে আবু হুরায়রাকে পেশ করা সঠিক।
একাদশ: যারা মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তারা এক বিশাল জনগোষ্ঠী। তাদের কেউ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে করেছিলেন, অতঃপর তাদের ইসলাম সুন্দর হয়েছিল।
দ্বাদশ: এমন সব শিশু-কিশোর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছেন এবং তাঁকে মক্কা বিজয়ের দিন দেখেছেন এবং পরবর্তীতে বিদায় হজ ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখেছেন, যেমন সায়িব বিন ইয়াজিদ।
আমি বলছি: এটি ইমাম হাকিমের বিভাজন, আর তাঁর ব্যাপারে আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি কীভাবে ঐসব সাহাবীদের কথা ভুলে গেলেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে তাঁরই অনুমতিতে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, যেমন মুসআব বিন উমাইর ও অন্যান্যরা? সম্ভবত এই স্তরটিই ইবনুস সালাহ-এর সেই উক্তির উদ্দেশ্য যেখানে তিনি বলেছেন: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্তর সংখ্যা বারোর অধিক করেছেন।"
ইবনে সাদ বলেন: তারা পাঁচটি স্তরভুক্ত। প্রথম স্তর: বদরী সাহাবীগণ। দ্বিতীয় স্তর: যারা প্রাচীনকালে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ হাবশায় হিজরত করেছিলেন এবং ওহুদ ও তার পরবর্তী যুদ্ধসমূহে উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الثالثة: من شهد الخندق وما بعدها، الرابعة: مسلمة الفتح فما بعدها، الخامسة: الصبيان والأطفال ممن لم يغْزُ.
ما قيل في عدَّة الصحابة رضي الله تعالى عنهموأما عدة أصحابه عليه الصلاة والسلام فمن رَامَ حصر ذلك رام أمرًا بعيدًا، ولا يعلم حقيقة ذلك إلا الله تعالى، لكثرة من أسلم من أول البعث إلى أن مات. عليه الصلاة والسلام، وتفرقهم في البلدان والبوادي، وقد روى البخاري في حديث كعب بن مالك في تخلفه عن غزوة تَبُوك: "وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير لا يجمعهم كتاب حافظ، يعني الديوان" لكن قد جاء ضبطهم في بعض مشاهده كتبوك وقد روي أنه سار عام الفتح في عشرة آلاف من المقاتلة، وإلى حنين في اثني عشر ألفًا، وإلى حجة الوداع في تسعين ألفًا، وإلى تبوك في سبعين ألفًا، وقد روي أنه قُبِضَ عن مئة ألف وأربعة وعشرين ألفًا من رجل وامرأة.
وجاء عن أبي زُرْعَةَ الرَّازي أنه قيل له: أليس يقال: إن حديث النبي صلى الله عليه وسلم أربعة آلاف حديث؟ فقال ومن قال هذا قلقل الله أنيابه؟ هذا قول الزنادقة، قبض صلى الله عليه وسلم عن مئة وأربعة عشر ألفًا من الصحابة ممن روى عنه وسمع منه، وفي رواية ممن رآه وسمع منه، فقيل له: هؤلاء أين كانوا؟ وأين سمعوا منه؟ فقال أهل المدينة، وأهل مكة، ومن بينهما، والأعراب، ومن شهد معه حجة الوداع، كل رآه وسمع منه بعرفة. قال محمَّد بن فَتْحون في "ذيل الاستيعاب": أجاب أبو زرعة سؤال من سأله عن الرواة خاصة فكيف بغيرهم؟
وثبت عن الثَّوْرِيِّ فيما أخرجه الخطيب بسنده الصحيح إليه، قال: من قدّم عليًّا على عثمان فقد أزرى باثني عشر ألفًا، مات النبي صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض. قال النَّوَوِيُّ: وذلك بعد النبي صلى الله عليه وسلم باثني عشر عامًا بعد أن مات، في خلافة أبي بكر في الردة والفتوح، الكثير ممن لم تضبط أسماؤهم، ثم مات في خلافة عمر في الفتوح، وفي الطاعون العام، وفي
তৃতীয়: যারা খন্দক এবং তার পরবর্তী যুদ্ধসমূহে উপস্থিত ছিলেন। চতুর্থ: মক্কা বিজয়ের সময় এবং তার পরে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। পঞ্চম: এমন সব ছোট ছেলেমেয়ে ও শিশুরা যারা কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।
সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) সংখ্যা সম্পর্কে যা বলা হয়েছেআর নবীজির (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সাহাবীগণের সংখ্যার ব্যাপারে বলা যায় যে, যারা এটি নির্দিষ্টভাবে গণনা করতে চেয়েছেন, তারা এক অসম্ভব বিষয়ের পেছনে ছুটেছেন। আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এর প্রকৃত সংখ্যা আর কেউ জানে না। কারণ, নবুওয়াত প্রাপ্তির শুরু থেকে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মৃত্যু পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল বিশাল, এবং তারা বিভিন্ন শহর ও মরু অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। ইমাম বুখারী কা’ব ইবনে মালিকের হাদীসে তার তাবুক যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সংখ্যায় এত বেশি ছিলেন যে, কোনো একটি সংরক্ষণকারী কিতাব অর্থাৎ 'দিওয়ান' তাদের সকলকে ধারণ করতে পারে না।" তবে কিছু ক্ষেত্রে তাদের সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে যেমন তাবুকের যুদ্ধ। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের বছর তিনি দশ হাজার সৈন্য নিয়ে যাত্রা করেছিলেন, হুনাইনের যুদ্ধে বারো হাজার, বিদায় হজ্জে নব্বই হাজার এবং তাবুক যুদ্ধে সত্তর হাজার। আরও বর্ণিত আছে যে, যখন তাঁর ওফাত হয়, তখন নারী-পুরুষ মিলিয়ে সাহাবীদের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ চব্বিশ হাজার।
আবু যুরআ আর-রাযী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "এমনটি কি বলা হয় না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সংখ্যা চার হাজার?" তিনি উত্তর দিলেন: "কে এমন কথা বলেছে? আল্লাহ তার দাঁত নড়িয়ে দিন! এটি যিনদীকদের কথা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার সাহাবী ছিলেন, যারা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং শুনেছেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যারা তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে শুনেছেন।" তাকে প্রশ্ন করা হলো: "তারা কোথায় ছিলেন? এবং কোথায় তাঁর থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন: "তারা ছিলেন মদীনার অধিবাসী, মক্কার অধিবাসী, এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানের অধিবাসী এবং মরুবাসী আরবগণ। আর যারা তাঁর সাথে বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলেন, তারা সকলেই তাকে দেখেছেন এবং আরাফায় তাঁর থেকে শুনেছেন।" মুহাম্মদ ইবনে ফাতহুন 'যাইলুল ইস্তিয়াব' গ্রন্থে বলেন: আবু যুরআ কেবল বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে এই উত্তর দিয়েছেন, তাহলে অন্যদের অবস্থা কী হবে?
ইমাম সাওরী থেকে সহীহ সনদে খতীব বাগদাদী বর্ণনা করেছেন যে, সাওরী বলেছেন: "যে ব্যক্তি আলীকে উসমানের ওপর প্রাধান্য দেবে, সে মূলত বারো হাজার সাহাবীকে তুচ্ছজ্ঞান করল, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।" ইমাম নববী বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের বারো বছর পরের বিষয়। তাঁর ওফাতের পর আবু বকরের খিলাফতকালে রিদ্দাহর যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিজয়াভিযানে এমন বহু সংখ্যক সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন যাদের নাম সংরক্ষিত নেই। এরপর ওমরের খিলাফতকালেও অনেক সাহাবী বিজয়াভিযান এবং মহামারীতে (প্লেগ) মৃত্যুবরণ করেন এবং...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
عَمَواس، وغير ذلك من لا يحصى كثرةً. يعني الثوريُّ بالاثني عشر ألفًا الذين اتفقوا على بيعة عثمان دون علي.
وعن الشافعي: قُبِضَ صلى الله عليه وسلم عن ستين ألفًا ثلاثون بالمدينة، وثلاثون في قبائل العرب وغيرها.
وعن أحمد: قُبِضَ وقد صلى خلفه ثلاثون ألف رجل. وكأنه عني بالمدينة فلا يخالف ما فوقه.
وفي "المواهب": روي عن مالك؛ أنه قال: مات بالمدينة من الصحابة عشرة آلاف.
قال الحافظ: لم يحصل لجميع من جمع أسماء الصحابة العُشر من أساميهم بالنسبة إلى قول أبي زُرْعة السابق؛ فإن جميع ما في "الاستيعاب" ثلاثة آلاف وخمس مئة، وزاد عليه ابن فتحون قريبًا من ذلك.
قال الذَّهَبِيُّ: لعل الجميع ثمانية آلاف إن لم يزيدوا لم ينقصوا.
وقال أيضًا: إن جميع من في "أُسْد الغابة" سبعة آلاف وخمس مئة وأربعة وخمسون نفسًا، وسبب خفاء أسمائهم أن أكثرهم أعراب، وأكثرهم حضروا حجة الوداع.
قلت: التعرض لضبطهم على القول الصحيح أن كل من رآه مؤمنًا صحابي، صبيًّا كان أو امرأة، أو أَمَة، أو عبدًا غير ممكن، بل غير معقول، فإن النفوس في زمانه صلى الله عليه وسلم غير محصورة ولا مُدَوَّنة، وأول من جعل الديوان عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه، فمن في المدينة وحدها من النساء والإِماء والصبيان ممن رأوه لا يمكن حصرهم، فضلًا عمن رآه من غيرها ممن لم يعلم أنه رآه، فضلًا عن أن يعلم اسمه، فالتعرض لضبطهم، رضي الله تعالى عنهم أجمعين، محال.
واعلم أنه قد أجمع جمهور العلماء من السَّلَف والخَلَف على أنهم
আমওয়াস এবং এ জাতীয় আরও অসংখ্য লোক। সাওরী বারো হাজার বলতে তাদের বুঝিয়েছেন যারা আলীর পরিবর্তে উসমানের বায়আতের ওপর একমত হয়েছিলেন।
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর সাহাবীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার; ত্রিশ হাজার মদীনায় এবং ত্রিশ হাজার অন্যান্য আরব গোত্র ও অন্যত্র।
ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত: তিনি ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর পেছনে ত্রিশ হাজার লোক সালাত আদায় করেছেন। সম্ভবত তিনি মদীনার কথা বুঝিয়েছেন, তাই এটি পূর্বোক্ত বর্ণনার বিরোধী নয়।
‘আল-মাওয়াহিব’ গ্রন্থে রয়েছে: ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: মদীনায় দশ হাজার সাহাবী মৃত্যুবরণ করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: যারা সাহাবীদের নাম সংকলন করেছেন, তাদের সংগ্রহ আবু যুরআ’র পূর্বোক্ত উক্তির তুলনায় সাহাবীদের নামের এক-দশমাংশও পৌঁছেনি। কেননা ‘আল-ইস্তিআব’ গ্রন্থে সর্বমোট তিন হাজার পাঁচশ নাম রয়েছে এবং ইবনে ফাতহুন এর কাছাকাছি সংখ্যক নাম আরও বৃদ্ধি করেছেন।
ইমাম যাহাবী বলেন: সম্ভবত সব মিলিয়ে সংখ্যাটি আট হাজার হবে, যদি এর বেশি না হয় তবে কমও হবে না।
তিনি আরও বলেন: ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে মোট সাত হাজার পাঁচশ চুয়ান্ন জন রয়েছেন। তাদের নাম অপ্রকাশিত থাকার কারণ হলো যে, তাদের অধিকাংশই ছিলেন গ্রাম্য এবং তারা বিদায় হজে উপস্থিত ছিলেন।
আমি বলি: সঠিক মত অনুযায়ী তাদের সংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান নিরুপণ করা অসম্ভব; কারণ যে ব্যক্তিই ঈমান অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন—চাই তিনি শিশু হোক কিংবা নারী, কিংবা দাসী কিংবা দাস—তিনিই সাহাবী। বরং এটি ধারণারও অতীত, কেননা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময়ে লোকসংখ্যা সীমাবদ্ধ ছিল না এবং তা কোথাও লিপিবদ্ধও ছিল না। সর্বপ্রথম উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু দেওয়ান বা নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। শুধু মদীনার নারী, দাসী ও শিশুদের মধ্যে যারা তাঁকে দেখেছেন তাদেরই গণনা করা সম্ভব নয়, অন্য এলাকার কথা তো বলাই বাহুল্য যাদের সম্পর্কে জানা যায় না যে তারা তাঁকে দেখেছিলেন, আবার তাদের নাম জানার বিষয়টি তো আরও সুদূরপরাহত। অতএব, তাঁদের—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সংখ্যার সঠিক হিসাব করা অসম্ভব।
জেনে রাখুন যে, সালাফ ও খালাফদের অধিকাংশ আলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তাঁরা (সাহাবীগণ) সকলেই ন্যায়পরায়ণ।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
خير الخلق، وأفضلهم بعد النبيين، وخواصِّ الملائكة المقربين، والأحاديث الواردة في فضلهم كثيرة، وسنأتي إن شاء الله تعالى بالبعض، وكفاهم ثناء الله تعالى عليهم ورضاه، وقد وعدهم الله تعالى مغفرة وأجرًا عظيمًا، ووعد الله حق، وصدق، لا يخلَف. {لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [الأنعام: 115].
بعض ما قيل في فَضل الصحابة رضي الله تعالى عنهم أجمعينفقد قال سبحانه وتعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} [الفتح: 29] إلى آخر السورة، لما أخبر سبحانه وتعالى أن سيدنا محمدًا صلى الله عليه وسلم رسوله حقًا من غير شكٍّ، ولا رَيْب، قال: محمَّد رسول الله مبتدأ وخبر. وقال البيْضاوي وغيره: جملةٌ مبينة للمشهود به، يعني قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا} [الفتح: 28]، رادَّةٌ على الكفار في منع كتب اسمه، ويجوز أن يكون محمَّد خبر مبتدأ محذوف، صرح باسمه للعلم؛ دفعًا لتوهم غيره من الرسل، أي ذلك الرجل الموصوف "محمَّد رسول الله". ورسول الله بيان أو نعت، وهذه الآية مشتملة على كل وصف جميل، ولا يكون تركيب أجمل منه، ثم ثَنّى بالثناء على أصحابه فقال: {وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} [الفتح: 29]. كما قال تعالى: {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ} [المائدة: 54].
فوصفهم بالشدة والغلظة على الكفار، والرحمة والبر بالأخيار {رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} أي: متعاطفون متوادّون بينهم، كالوالد مع الولد، وَصْفٌ لهم بكمالِ الرجولية والحكمة، حيث وضعوا كل شيء موضعه، وفي الحديث: "المُؤْمنون كالجَسَدِ الواحدِ إذا اشْتَكى عضوٌ منهُ تَدَاعى له سائرُ الجَسَدِ بالحُمّى والسَّهَر". وقال عليه الصلاة والسلام: "الرَّاحمونَ يرحَمُهُمُ الرَّحمن، ارْحَمُوا مَنْ في الأرْضِ يَرْحَمْكُم مَنْ في السَّماءِ". رواه أحمد في "مسنده"، وأبو داود، وأبو بكر بن أبي شيبة، والترمذي، وقال:
সৃষ্টির সেরা, এবং নবীগণের ও নিকটবর্তী বিশিষ্ট ফেরেশতাগণের পর তাঁদের মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ অসংখ্য, ইনশাআল্লাহ আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করব। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশংসা ও সন্তুষ্টিই তাঁদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য ও বাস্তব, যা কখনও ব্যত্যয় ঘটে না। "তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" [আল-আনআম: ১১৫]
সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম আজমাঈন) শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তার কিছু অংশমহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এরশাদ করেছেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা রয়েছে তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর ও নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল।" [আল-ফাতহ: ২৯] - সূরার শেষ পর্যন্ত। যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিলেন যে আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো প্রকার সন্দেহ ও সংশয় ছাড়াই প্রকৃতপক্ষে তাঁর রাসূল, তখন তিনি বললেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল"—এটি (ব্যকরণগতভাবে) মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়)। আল-বায়যাভী ও অন্যান্যগণ বলেন: বাক্যটি 'সাক্ষ্যকৃত বিষয়' স্পষ্টকারী, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সপক্ষে: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" [আল-ফাতহ: ২৮]। এটি কাফেরদের সেই আচরণের প্রতিবাদ যারা (চুক্তিনামায়) তাঁর নাম লিখতে বাধা দিয়েছিল। এটিও জায়েয আছে যে 'মুহাম্মদ' শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর হবে; পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এখানে তাঁর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে যাতে অন্য কোনো রাসূলের ব্যাপারে ভুল ধারণা না হয়। অর্থাৎ, সেই গুণসম্পন্ন ব্যক্তিটি হলেন "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল"। আর 'রাসূলুল্লাহ' শব্দটি বর্ণনা বা বিশেষণ। এই আয়াতটি প্রতিটি সুন্দর গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর চেয়ে সুন্দর গঠন আর হতে পারে না। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীগণের প্রশংসার মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর ও নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল।" [আল-ফাতহ: ২৯]। যেমন আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: "অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি বিনম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে।" [আল-মায়িদাহ: ৫৪]।
সুতরাং তিনি তাদেরকে কাফেরদের প্রতি কঠোরতা ও রুক্ষতা এবং নেককারদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত করেছেন। "নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল" অর্থাৎ: তারা আপোসে একে অপরের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ, যেমন সন্তানের প্রতি পিতা। এটি তাদের পূর্ণ পুরুষত্ব ও হিকমতের একটি বর্ণনা, কেননা তারা প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেছেন। হাদীস শরীফে আছে: "মুমিনগণ একটি দেহের ন্যায়; যখন তার কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের বাকি অংশও জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।" এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "দয়াশীলদের ওপর পরম দয়াময় (আল্লাহ) দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" এটি আহমদ তাঁর "মুসনাদে", আবু দাউদ, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
حديث حسن صحيح، وصححه الحاكم وقال: "لا تُنْزعُ الرحْمَةُ إلَّا مِنْ شَقِيٍّ، ومن الترحم أن تُحِبَّ لكل مسلم ما تُحِبَّ لنفسك، وتكرهَ له ما تكره لنفسك، وتلقاه بوجه طَلْقٍ، مع بَذْل السلام وطيب الكلام، وبذل المعروف.
والآية في جميع أصحابه عند الجمهور، وقيل: في أهل الحديبية، وفيها إشارة إلى ما غلب من الصفات في كل واحد من الخلفاء كالمعية مع النبي صلى الله عليه وسلم في أبي بكر، والشدة على الكفار في عمر بن الخطاب وعلي ابن أبي طالب، والرحمة على المؤمنين في عثمان بن عفان، رضي الله عنهم أجمعين.
ثم أثنى عليهم بكثرة الأعمال مع الإخلاص التامِّ، فمن نظر إليهم أعجبه سمتهم وهديهم لخلوص نياتهم وحسن أعمالهم.
قال مالك: بلغني أن النصارى كانوا إذا رَأَوُا الصحابة الذين فتحوا الشام، يقولون: والله لَهؤلاء خيرٌ من الحواريين فيما بلغنا، وصدقوا، فإن هذه الأمة المحمدية، خصوصًا الصحابة، لم يزل ذكرهم مُعَظَّمًا في الكتب، كما قال تعالى: {ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ} [الفتح: 29]، أي: أفراخه التي تَنْبُتُ حوله؛ {فَآزَرَهُ} شده وقواه، {فَاسْتَغْلَظَ} شَبَّ وطال، واستحكم غِلْظَةً بعد الرقة، {فَاسْتَوَى} قوي واستقام، {عَلَى سُوقِهِ} قصبه، جمع ساق، {يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ} قوته وغلظه وحسن منظره مثل الصحابة، رضي الله عنهم، في ذلك لأنهم بدؤوا في قلة وضعف، فكثرُوا وقَووا على أحسن الوجوه، فآزروه عليه الصلاة والسلام، وأيدوه ونصروه، فهم معه كالشطء مع الزَّرْعِ، {لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ}. ومن هذه الآية انتزع مالك، رحمه الله تعالى، في رواية عنه، تكفير الروافض الذين يبغضون الصحابة، قال: لأنهم يغيظونهم، ومن غاظه الصحابة فهو كافر، وقد وافقه على ذلك جماعة من العلماء.
হাদিসটি হাসান সহিহ, এবং হাকিম এটিকে সহিহ বলেছেন। তিনি বলেছেন: "দুর্ভাগা ব্যতীত কারো নিকট থেকে দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয় না। আর দয়া প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো প্রত্যেক মুসলিমের জন্যও তা পছন্দ করবে, নিজের জন্য যা অপছন্দ করো তার জন্যও তা অপছন্দ করবে, হাসিমুখে তার সাথে সাক্ষাৎ করবে, সালাম বিনিময় করবে, উত্তম কথা বলবে এবং পরোপকার করবে।"
জমহুর উলামাদের মতে এই আয়াতটি তাঁর সকল সাহাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হুদায়বিয়াহর লোকদের ক্ষেত্রে। এতে প্রত্যেক খলিফার মাঝে যে গুণাবলিগুলো প্রবল ছিল সেদিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যেমন আবু বকরের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকা, উমর ইবনুল খাত্তাব ও আলী ইবনে আবি তালিবের ক্ষেত্রে কাফিরদের প্রতি কঠোরতা এবং উসমান ইবনে আফফানের ক্ষেত্রে মুমিনদের প্রতি দয়া, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
অতঃপর তিনি পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে অধিক আমল করার কারণে তাদের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং কেউ যদি তাদের দিকে তাকায়, তবে তাদের নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং আমলের সৌন্দর্যের কারণে তাদের চালচলন ও আদর্শ তাকে মুগ্ধ করবে।
ইমাম মালিক বলেছেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে, নাসারারা যখন সিরিয়া বিজয়কারী সাহাবীদের দেখত, তখন তারা বলত: আল্লাহর কসম, আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী এরা অবশ্যই হাওয়ারিদের চেয়ে উত্তম। আর তারা সত্যই বলেছে, কেননা এই মুহাম্মাদি উম্মত, বিশেষ করে সাহাবীদের আলোচনা কিতাবসমূহে সর্বদা মহিমান্বিত ছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাওরাতে তাদের উদাহরণ এবং ইঞ্জিলে তাদের উদাহরণ এমন একটি শস্যক্ষেত্রের মতো যা নিজের অংকুর বের করে দিল} [আল-ফাতহ: ২৯], অর্থাৎ: তার চারাগাছগুলো যা তার চারপাশে জন্মায়; {অতঃপর সেটিকে শক্তিশালী করল} একে মজবুত ও শক্তিশালী করল, {অতঃপর তা মোটা হলো} তা সতেজ ও দীর্ঘ হলো এবং সূক্ষ্ম ভাব চলে যাওয়ার পর শক্ত ও মোটা হলো, {অতঃপর তা উঠে দাঁড়াল} শক্তিশালী হলো এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল, {নিজ কাণ্ডের ওপর} তার ডাঁটার ওপর, যা 'সাক' শব্দের বহুবচন, {কৃষককে যা মুগ্ধ করে} তার শক্তি, স্থূলতা এবং সুন্দর দৃশ্য সাহাবীদের সদৃশ, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কারণ তারা শুরুতে সংখ্যায় কম ও দুর্বল ছিলেন, অতঃপর সংখ্যায় বৃদ্ধি পেলেন এবং সর্বোত্তম পন্থায় শক্তিশালী হলেন। এরপর তারা তাঁকে (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) শক্তি জোগালেন, সমর্থন দিলেন এবং সাহায্য করলেন। ফলে তারা তাঁর সাথে ঠিক তেমন ছিলেন যেমন শস্যক্ষেত্রের সাথে তার চারাগাছ থাকে, {যাতে কাফিরদের তাদের দ্বারা ক্ষুব্ধ করা যায়}। এই আয়াত থেকেই ইমাম মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর একটি বর্ণনা অনুযায়ী সেই রাফেজিদের কাফির হওয়ার রায় দিয়েছেন যারা সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তিনি বলেছেন: কারণ তারা সাহাবীদের ক্ষুব্ধ করে, আর যাকে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ করে সে কাফির। একদল আলেম এ বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
إفادة العلة الحصر، قلت: وجه انتزاع مالك كفرهم من الآية هو أن العلة عنده تفيد الحصر، فكان المعنى على ذلك لا يُغيظُ بهم إلا الكفار فدخل كل من غاظوه في الكفار، وعلى جعله العلة للحصر بنى مذهبه في تحريم أكل لحوم الخيل والبغال والحمير، لقوله تعالى: {وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا} [النحل: 8]، فجعل منفعتها محصورةً في الركوب، لإفادة العلة الحصرَ عنده، فَحَرُمَ أكلها.
وحكى النَّقَّاشُ عن ابن عباس في هذه الآية أنه قال: الزَّرْعُ النبي صلى الله عليه وسلم أشْطَأَ بأبي بكر، فآزره عمر، فاستغلظ بعثمان، فاستوى على سوقه بعلي، رضي الله تعالى عنهم. قال في "الجواهر": وهو لين الإسناد والمتن، والله أعلم بصحته.
بعض الأحاديث الواردة في فضلهم رضي الله عنهم
ومما هو وارد في فضلهم من الأحاديث:ما أخرجه البخاري من حديث عبد الله، أنه صلى الله عليه وسلم قال: "خيرُ الناسِ قَرْني ثُمَّ الذينَ يَلُونهُمْ".
وأخرج الشيخان عن عِمْران بن حُصَين قال: قال صلى الله عليه وسلم: "خيرُ أُمَّتي قَرْني ثم الّذينَ يَلُونهُم ثم الّذينَ يَلُونهُم". قال عِمران: فلا أدري أذكر بعد قرنه مرتين أو ثلاثًا. "ثُمَّ إنَّ بَعْدَهُمْ قومًا يَشْهَدُونَ ولا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ ولا يُؤتَمَنُونَ، ويَنْذُرونَ، ولا يَفُونَ، ويَظْهَرُ فيهم السِّمَنُ". وفي رواية "وَيَحْلِفُونَ وَلا يُسْتَحْلَفونَ". وفي رواية لمسلم عن أبي هريرة: "ثُمَّ يَخْلِفُ قَوْمٌ يُحِبُّونَ السِّمانَةَ".
وروى النسائي، وإسناده صحيح، عن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أكرِمُوا أصحابي فإنهُم خِيارُكُم، ثم الّذين يلونَهُم، ثم يَظهَرُ الكَذِب، حتى إن الرَّجُل يَحلِفُ ولا يُسْتَحْلَفُ، ويَشْهَدُ ولا يُسْتَشْهَدُ، ألا مَنْ سَرَّهُ بُحْبُوحَةُ الجنةِ فَلْيَلْزَم الجماعَةَ، فإنَّ الشَّيطانَ مع الفَذِّ وهو من
কারণ নির্দেশ করার মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা (হাসর) প্রকাশ পাওয়া। আমি বলি: ইমাম মালিক (রহ.) এই আয়াত থেকে তাদের কাফের হওয়ার বিষয়টি যেভাবে গ্রহণ করেছেন তা হলো—তার মতে কারণ বর্ণনা করা সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: তাদের মাধ্যমে কেবল কাফেররাই ক্রোধান্বিত হবে। সুতরাং যারা তাদের (সাহাবীদের) মাধ্যমে ক্রোধান্বিত হয়, তারা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। কারণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা প্রকাশের ওপর ভিত্তি করেই তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত খাওয়া হারাম হওয়ার মাযহাব গঠন করেছেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "এবং ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা—যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করতে পারো" [আন-নাহল: ৮]। ফলে তিনি এগুলোর উপযোগিতাকে কেবল আরোহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, যেহেতু তার নিকট কারণটি সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে; তাই এগুলো খাওয়া হারাম হয়েছে।
আন-নাক্কাশ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "শস্য" হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে অঙ্কুরিত হয়েছে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে, উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে পুষ্ট হয়েছে এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে নিজ কাণ্ডের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছে। "আল-جওয়াহির" গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সনদ ও মূলপাঠ দুর্বল, আর এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।
তাদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত কিছু হাদীস
তাদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে রয়েছে:ইমাম বুখারী আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী লোক।"
শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী লোক।" ইমরান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি জানি না তিনি তাঁর যুগের পর দুইবার না তিনবার উল্লেখ করেছেন। "অতঃপর তাদের পর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা খিয়ানত করবে অথচ তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা মানত করবে অথচ তা পূর্ণ করবে না এবং তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তারা শপথ করবে অথচ তাদের শপথ করতে বলা হবে না।" মুসলিমের এক বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "অতঃপর এমন এক প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত ঘটবে যারা স্থূলতা পছন্দ করবে।"
ইমাম নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের সম্মান করো, কেননা তারা তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী লোক, এরপর মিথ্যা প্রকাশ পাবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি শপথ করবে অথচ তাকে শপথ করতে বলা হবে না এবং সে সাক্ষ্য দেবে অথচ তাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না। জেনে রেখো! যাকে জান্নাতের প্রশস্ত অংশ আনন্দিত করে, সে যেন জামাতকে আঁকড়ে ধরে। কেননা শয়তান একাকী ব্যক্তির সাথে থাকে এবং সে..."
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الاثنين أَبْعَدُ، ولا يَخلوَنَّ رَجُلٌ بامرأةٍ فإنَّ الشَّيطانَ ثالثُهم، وَمَنْ سرَّتْه حَسَنَتُهُ وساءَتْه سيِّئَتُهُ فهو مؤمنٌ".
قال في "فتح الباري": القرن أهل زمان واحد متقارب، اشتركوا في أمر من الأمور المقصودة، ويطلق على مدة من الزمن، واختلفوا في تحديدها من عشرة أعوام إلى مئة وعشرين، لكن لم أر من صرح بالتسعين ولا بمئة وعشرة، وما عدا ذلك فقد قال به قائل، وقال صاحب "المحكم": هو القدر المتوسط من أعمار أهل كل زمن، وهذا أعدل الأقوال، المراد بقرن النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث السابق الصحابة، وهم المقصودون في حديث بُريْدَةَ عند أحمد: "خيرُ هذهِ الأُمة القرنُ الذين بُعِثْتُ فيهم". وحديث: "بُعِثتْ مِنْ خَيرِ قُرونِ بَني آدمَ".
وقد ضبط الأئمة من الحفاظ آخر من مات من الصحابة على الِإطلاق بلا خلاف أبو الطُّفَيْل عامر بن واثِلَةَ الَّلْيثِيُّ كما جَزَمَ به مسلم، وكان موتهُ سنة مئة على الصحيح، وقيل: سنة سبع ومئة، وقيل: سنة عشر ومئة، وهو الذي صححه الذَّهبِيُّ، وهو مطابق لقوله صلى الله عليه وسلم قبل وفاته بشهر: "على رأس مئة سنة لا يبقى على وجهِ الأرْض ممَّنْ هُو عليها اليوم أحدٌ". وفي رواية مسلم: "أرأيتكم لَيْلَتَكُم هذه، فإنه ليس من نفسٍ منفوسةٍ تأتي عليها مئة سنة". وأما ما ذكر أن عِكْراشَ بن ذؤيب عاش بعد يوم الجمل مئة سنة، فذلك غير صحيح، كما نص عليه الأئمة. وأما آخر الصحابة موتًا بالِإضافة إلى النواحي: فقد أفردهم ابن مَنْدَةَ.
وقوله: "ثمَّ الذينَ يلونُهم" فهم أهل القرن الذين بعدهم، وهم التابعون، "ثم الذين يلونهم" وهم أتباع التابعين، وقرن التابعين إن اعتبر من سنة مئة كان نحو السبعين أو الثمانين، وأما الذين بعدهم فإن اعتبر منها كان نحوًا من خمسين فظهر بهذا أن مدة القرن تختلف باختلاف أعمار أهل كل زمان، والله تعالى أعلم.
واتفقوا أن آخر من كان من أتباع التابعين، ممن يقبل قوله، من عاش
...দুইজন (বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি) থেকে দূরে থাকে। কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একাকী নির্জনে না থাকে, কেননা তখন শয়তান তাদের তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত থাকে। আর যার নেক কাজ তাকে আনন্দিত করে এবং মন্দ কাজ তাকে ব্যথিত করে, সেই মুমিন।
"ফাতহুল বারী" গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'কারন' (প্রজন্ম) হলো এক ও সমসাময়িক সময়ের লোকজন, যারা উদ্দীষ্ট কোনো বিষয়ে অংশীদার হয়। এটি সময়ের একটি মেয়াদের ওপরও ব্যবহৃত হয়। এর সময়সীমা নির্ধারণে আলেমগণের মাঝে দশ বছর থেকে একশ বিশ বছর পর্যন্ত মতভেদ রয়েছে। তবে আমি কাউকে নব্বই বা একশ দশ বছরের কথা স্পষ্টভাবে বলতে দেখিনি। এছাড়া বাকি সব মত কেউ না কেউ ব্যক্ত করেছেন। "আল-মুহকাম" গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি হলো প্রত্যেক যুগের অধিবাসীদের গড় আয়ু, আর এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মত। পূর্বোক্ত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর 'কারন' (যুগ) দ্বারা সাহাবিদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। ইমাম আহমদের বর্ণনায় বুরাইদাহ (রা.)-এর হাদিসেও তাঁরাই উদ্দেশ্য, যেখানে বলা হয়েছে: "এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম তারা, যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি।" এবং হাদিস: "আমি বনী আদমের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মসমূহ থেকে প্রেরিত হয়েছি।"
হাফেজ ইমামগণ কোনো প্রকার মতভেদ ছাড়াই এটি সুনিশ্চিত করেছেন যে, সাহাবিদের মধ্যে সাধারণভাবে সর্বশেষে ইন্তেকালকারী ব্যক্তি হলেন আবু তোফায়েল আমির বিন ওয়াসিলা আল-লাইসি, যেমনটি ইমাম মুসলিম দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল ১০০ হিজরিতে। কারো মতে ১০৭ হিজরিতে, আবার কারো মতে ১১০ হিজরিতে—যাকে ইমাম যাহাবী সঠিক বলেছেন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের এক মাস আগে দেওয়া তাঁর এই বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ: "একশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আজকের দিনে পৃথিবীর বুকে যারা আছে, তাদের কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না।" মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছ? নিশ্চয়ই আজ থেকে একশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে জীবিত কোনো প্রাণীই আর অবশিষ্ট থাকবে না।" আর একরাশা বিন জুয়াইব জঙ্গে জামালের পর একশ বছর বেঁচে ছিলেন বলে যা উল্লেখ করা হয়, তা সঠিক নয়, যেমনটি ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আর এলাকাভিত্তিক সর্বশেষ সাহাবির ইন্তেকাল সম্পর্কে ইবনে মানদাহ পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন।
আর তাঁর বাণী: "অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী", তারা হলেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের লোক, যারা হলেন তাবেয়ীগণ। "অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী", তারা হলেন তাবে-তাবেয়ীগণ। তাবেয়ীদের প্রজন্ম যদি ১০০ হিজরি থেকে গণনা করা হয়, তবে তা প্রায় সত্তর বা আশি বছর ছিল। আর তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যদি সেখান থেকে ধরা হয়, তবে তা ছিল প্রায় পঞ্চাশ বছর। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, 'কারন' বা প্রজন্মের সময়কাল প্রত্যেক যুগের মানুষের আয়ুর ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।
তারা একমত হয়েছেন যে, তাবে-তাবেয়ীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি, যার কথা গ্রহণযোগ্য, যিনি বেঁচে ছিলেন...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
إلى حدود العشرين ومئتين. وفي هذا الوقت ظهرت البدع ظهورًا فاشيًا، وأطلقت المعتزلة ألسنتها، ورفعت الفلاسفة رؤوسها، وامتُحِنَ أهل العلم ليقولوا بخلق القرآن، وتغيرت الأحوال تغيرًا شديدًا، ولم يزل الأمر في نقص إلى الآن. وظهر قوله صلى الله عليه وسلم: "ثُمَّ يَفْشُو الكَذِبُ" ظهورًا بيِّنا حتى يَشْمَلَ الأقوال والأفعال والمعتقداتِ.
واقتضى هذا الحديث أن تكون الصحابة أفضل من التابعين؛ والتابعون أفضل من أتباع التابعين، ويأتي تحرير هذا قريبًا إن شاء الله تعالى.
وأخرج الشيخان، وأحمد، وأبو داود، والترمذي عن أبي سعيد الخُدْري، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تَسُبُّوا أصحابي، فَلَوْ أنَّ أحدَكُم أَنْفَقَ مثل أحُدٍ ذهبًا ما بلغ مدَّ أحدِهِم ولا نَصيفَهُ".
قال في "الفتح": فيه إشعار بأن المراد بقوله: "أصحابي" أصحاب مخصوصون، وإلا فالخطاب كان للصحابة، وقد قال: "لَوْ أنَّ أحدَكُم أَنْفَقَ" وهذا كقوله تعالى: {لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ
… الآية} [الحديد: 10] ومع ذلك فَنهيُ بعض من أدركَ النبي صلى الله عليه وسلم وخاطبه بذاك عن سب من سَبَقَهُ يقتضي زَجْرَ منَ لم يدرِكِ النبي صلى الله عليه وسلم ولم يخاطبه عن سبِّ من سبقه من باب الأولى.
وسبب هذا الحديث أنه كان بين خالد بن الوليد وعبد الرحمن بن عوف شيء، فسبَّه خالدٌ، فذكر الحديث.
وقال في "المِرْقاة": وكذا سائر طاعاتهم وعباداتهم وغَزَواتهم وخَدَماتهم. وقال القاضي عِياض: المعنى: لا يَنَالُ أحَدُكُم بإِنفاقِ مثلِ أُحُدٍ ذهبًا من الأجرِ والفضل ما ينال أحدهم بإنفاق مُدِّ طعام أو نصفه، لما يقارنه من مزيد الِإخلاصِ، وصدق النية، وكمالِ النفس.
وقال الطِّيْبيُّ: يمكن أن يُقال: إن فضيلتهم بحسب فضيلة
২২০ হিজরি পর্যন্ত। এই সময়ে বিদআত ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেল, মুতাজিলাগণ তাদের কথার দৌরাত্ম্য শুরু করল, দার্শনিকগণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল এবং আলেম সম্প্রদায়কে কুরআন সৃষ্ট হওয়ার মতবাদ গ্রহণ করার জন্য পরীক্ষায় ফেলা হলো। পরিস্থিতির চরম পরিবর্তন ঘটল এবং এখন পর্যন্ত বিষয়টি ক্রমাগত অবনতির দিকেই যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "অতঃপর মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে" এর প্রকাশ অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠল, যা কথা, কাজ এবং বিশ্বাস (আকিদাহ) পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হলো।
এই হাদিসটি দাবি করে যে, সাহাবীগণ তাবিঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আর তাবিঈগণ তাবি-তাবিঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ইনশাআল্লাহ তাআলা শীঘ্রই এর বিশদ ব্যাখ্যা আসছে।
শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম), আহমাদ, আবু দাউদ এবং তিরমিজি আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তাদের ব্যয় করা এক মুদ (এক আজলা পরিমাণ খাদ্য) কিংবা তার অর্ধেকের সমপরিমাণ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।"
'ফাতহুল বারি'-তে বলা হয়েছে: এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাঁর বাণী "আমার সাহাবীগণ" দ্বারা বিশেষ একদল সাহাবী উদ্দেশ্য। নতুবা সম্বোধনটি তো সাহাবীদের প্রতিই ছিল, অথচ তিনি বলেছেন: "যদি তোমাদের কেউ ব্যয় করে"। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতোই: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়
… আয়াত} [সুরা হাদিদ: ১০]। তদুপরি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভকারী ও তাঁর সরাসরি সম্বোধনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যদি তাঁদের পূর্ববর্তীদের গালি দিতে নিষেধ করা হয়, তবে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য পায়নি এবং যাদের প্রতি তিনি সরাসরি সম্বোধন করেননি, তাদের জন্য পূর্ববর্তীদের গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকা অধিকতর যুক্তিযুক্ত হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
এই হাদিসের প্রেক্ষাপট হলো, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফের মধ্যে কিছু একটা হয়েছিল, ফলে খালিদ তাঁকে গালি দিয়েছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদিসটি উল্লেখ করেন।
'মিরকাত'-এ বলা হয়েছে: একইভাবে তাঁদের অন্যান্য আনুগত্য, ইবাদত, যুদ্ধ এবং খিদমতের ক্ষেত্রেও একই শ্রেষ্ঠত্ব প্রযোজ্য। কাজী আইয়াজ বলেন: এর অর্থ হলো: তোমাদের কেউ ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় করেও সেই সওয়াব ও মর্যাদা লাভ করতে পারবে না, যা তাঁদের কেউ এক মুদ বা তার অর্ধেক পরিমাণ খাদ্য ব্যয় করে লাভ করেন। কারণ এর সাথে তাঁদের ইখলাসের আধিক্য, নিয়তের সততা এবং আত্মিক পূর্ণতা জড়িত ছিল।
তিবি বলেন: এটা বলা সম্ভব যে, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব হলো শ্রেষ্ঠত্বের সেই মর্যাদানুযায়ী...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
إنفاقهم، وعِظَم موقعه، كما قال تعالى: {لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ
… الآية} [الحديد: 10]. وهذا في الإنفاق، فكيفَ بمجاهدتهم وبذل أرواحهم بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم؟!
قال في "الفتح": وذلك أنَّ الإنفاق والقتال كان قبل فتح مكة عظيمًا، لشدة الحاجة إليه، وقلة المعتني به، بخلاف ما وَقَعَ بعد ذلك، لأن المسلمين كَثُروا بعد الفتح، ودخل الناس في دين الله أفواجًا، فإنه لا يَقَعُ ذلك الموقعَ، والحديث مثل الآية في المعنى.
وأخرج عليُّ بن حَرب، وخَيْثَمَة بن سليمان، عن ابن عمر، قال: "لا تسبُّوا أصحَابَ مُحمَّد، فَلمنَامُ أحدِهمْ سَاعةٌ خَير مِنْ عَملِ أحَدِكمْ عُمرَهُ".
وأخرج المَحامليُّ، والحاكم والطبراني عن عُويْم بن ساعِدَة مرفوعًا: "إنَّ الله اخْتارَني واختَار لي أَصحابًا، وجَعلَ لي فيهم وُزَراءَ وأَنصارًا وَأَصهارًا، فَمنْ سَبَّهمْ فَعلَيْهِ لَعْنةُ الله والملائكةِ والناسِ أجمعينَ، لا يَقْبَلُ الله منه صرْفًا ولا عَدْلًا، وسيأتي قوم يَسبُّونهُم ويَسْتَنقصُونهم فلا تُجالِسوهم، ولا تُشارِبوهم، ولا تُؤاكِلُوهم، ولا تُنَاكِحُوهم".
وروى الترمذي وحسنه، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تَمسُّ النار مسلمًا رآني أو رأى مَنْ رآني".
وروى عبد بن حُميْد، عن أبي سعيد الخُدري، وابن عساكر عن واثِلَة: "طُوبَى لِمَنْ رآني، ولِمَنْ رأى من رآني وَلِمَنْ رأى من رأى من رآني".
وروى الطبراني، والحاكم عن عبد الله بن بسر: "طُوبى لِمَنْ رآني وآمَنَ بي، وطُوبى لمن رأى من رآني، ولمن رأى من رأى من رآني وآمن بي، طُوبى لهم وحُسْنُ مَآبٍ".
وفي "شرح السنة" عن أنس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَثَلُ
তাদের দান এবং এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা যেমন বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়
… আয়াত} [আল-হাদিদ: ১০]। এটি যদি ব্যয়ের ক্ষেত্রে হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে তাদের জিহাদ এবং প্রাণ বিসর্জনের বিষয়টি কেমন হতে পারে?!
"আল-ফাতহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর কারণ হলো মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় ও যুদ্ধ ছিল অতি মহৎ, কারণ তখন এর প্রয়োজনীয়তা ছিল তীব্র এবং এর প্রতি যত্নশীলদের সংখ্যা ছিল অতি সামান্য। এটি তার বিপরীত যা পরবর্তীতে ঘটেছিল; কেননা বিজয়ের পর মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে। তাই পরবর্তী আমল সেই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে না। আর হাদিসটিও অর্থের দিক থেকে এই আয়াতের মতোই।
আলী বিন হারব এবং খাইসামা বিন সুলায়মান ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমরা মুহাম্মাদের সাহাবীদের গালি দিও না; কেননা তাদের একজনের মুহূর্তের ঘুম তোমাদের সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম।"
মাহামিলি, হাকেম এবং তাবারানি উয়াইম বিন সায়িদাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। তাদের মধ্য থেকে আমার জন্য উজির (সহযোগী), আনসার এবং বৈবাহিক আত্মীয় নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দেয়, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত বর্ষিত হোক। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। অচিরেই এমন এক কওম আসবে যারা তাদের গালি দেবে এবং তাদের অবমাননা করবে; সুতরাং তোমরা তাদের সাথে বসো না, তাদের সাথে পান করো না, তাদের সাথে আহার করো না এবং তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না।"
তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, জাবির থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নামের আগুন এমন কোনো মুসলিমকে স্পর্শ করবে না যে আমাকে দেখেছে অথবা আমাকে যারা দেখেছে তাদের কাউকে দেখেছে।"
আবদ বিন হুমাইদ আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এবং ইবনে আসাকির ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেছেন: "সুসংবাদ তার জন্য যে আমাকে দেখেছে, এবং তার জন্য যে আমাকে যারা দেখেছে তাদের দেখেছে, এবং তার জন্য যে তাদের দেখেছে যারা আমাকে যারা দেখেছে তাদের দেখেছে।"
তাবারানি এবং হাকেম আবদুল্লাহ বিন বুসর থেকে বর্ণনা করেছেন: "সুসংবাদ তার জন্য যে আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে। সুসংবাদ তার জন্য যে আমাকে যারা দেখেছে তাদের দেখেছে, এবং তার জন্য যে তাদের দেখেছে যারা আমাকে যারা দেখেছে তাদের দেখেছে এবং ঈমান এনেছে। তাদের জন্য সুসংবাদ এবং উত্তম আবাস।"
এবং "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "উদাহরণ...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أصحابي في أُمَّتي كَالمِلْحِ في الطَّعامِ، لا يَصْلُحُ الطَّعامُ إلا بِالمِلْحِ".
قال الحسن: فقد ذَهبَ مِلْحُنا، فكيف نصلُحُ؟!
وروى الترمذي عن عبد الله بن بُرَيْدة، عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما مِنْ أحَدٍ من أصحابي يموتُ بأرضٍ إلا بُعِثَ قائدًا ونورًا لهم يوم القيامة" انتهى. هذا بعضٌ قليلٌ مما قيل في فضل الصحابة جملة.
وأما السابقون الأولون من المهاجرين والأنصار، الداخل فيهم العشرة المبشرون بالجنة، فلا يحصي النَّزْرَ من مناقبهم إلا الدَّفاتِرُ الضخامُ، كما هو مسطورٌ فيها عن الجَهَابِذَةِ الأعلام.
الترتيبُ في فضلِ الصَّحابةِ.
واعلم أن أفضل الصحابة على الإطلاق عند أهل السنة إجماعًا أبو بكر، ثم عمر رضي الله تعالى عنهما، والمشهور عند أهل السنة تقديم عثمان عن علي رضي الله تعالى عنهما، وذهب بعض السلف إلى تقديم علي على عثمان، وممن قال به سُفيان الثَّورِيُّ، ويقال: إِنه رجع عنه، وقال ابن خُزَيْمَةَ وطائفة قبله وبعده، وقيل: لا يَفْضُلُ أحدهما على الآخر، قاله مالك في "المدونة"، وتبعه جماعة منهم يَحيى القطان، وقال ابن مَعِين: من قال: أبو بكر وعُمر وعثمان وعلي، وعرف لعلي سابقته وفضيلته فهو صاحب سنة، ولا شك أن من اقتصر على عثمان ولم يعرف لعلي فضيلته فهو مذموم قاله في "فتح الباري".
قلت: قوله إن سفيان الثوري قيل: إنه رجع عن تقديم علي على عثمان هذا هو المتعين إن كان الثوري هو القائل بذلك ليوافق ما مر مما أخرجه الخطيب بسند صحيح أنه قال:
"من قدَّم عليًّا على عثمان فقد أزرى باثني عشر ألفًا، مات النبي صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض". والأظهر عندي أن يكون القائل بذلك سفيان بن عُيَيْنة، لما ذكر عنه ابن عَدِيّ أنه كان فيه شيء من التشيع، والثوري لم يقل أحد
"আমার উম্মতের মাঝে আমার সাহাবীদের দৃষ্টান্ত খাবারে লবণের ন্যায়; লবণ ছাড়া যেমন খাবার সুস্বাদু হয় না।"
হাসান (বসরী) বলেন: "আমাদের লবণ তো শেষ হয়ে গেছে, তবে আমরা কীভাবে সংশোধিত হব?!"
আর তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ কোনো ভূখণ্ডে মৃত্যুবরণ করলে তিনি কিয়ামতের দিন সেখানকার অধিবাসীদের জন্য নেতা ও নূর হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।" সমাপ্ত। সাহাবীদের সামগ্রিক মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এটি তার সামান্য অংশ মাত্র।
আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা অগ্রগামী প্রথম সারির, যাদের অন্তর্ভুক্ত জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী, তাদের গুণাবলির সামান্য অংশও বিশাল বিশাল কিতাব ছাড়া গণনা করা সম্ভব নয়, যেমনটি প্রখ্যাত প্রাজ্ঞ পণ্ডিতবর্গের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
সাহাবীদের মর্যাদার ক্রমবিন্যাস.
জেনে রাখুন যে, আহলুস সুন্নাহর নিকট সর্বসম্মতভাবে সকল সাহাবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর আহলুস সুন্নাহর নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো আলীর ওপর উসমানকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রাধান্য দেওয়া। তবে পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ কেউ উসমানের ওপর আলীকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন; যারা এটি বলেছেন তাদের মধ্যে সুফিয়ান সাওরী অন্যতম। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এ মত থেকে ফিরে এসেছিলেন। ইবনে খুজায়মাহ এবং তার পূর্বের ও পরের একদল আলেমও এ কথা বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন: তাদের একজন অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন না; ইমাম মালিক 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থে এটি বলেছেন এবং ইয়াহইয়া আল-কাত্তানসহ একদল আলেম তার অনুসরণ করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: "যে ব্যক্তি আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর ক্রমধারা বজায় রাখে এবং আলীর অগ্রগামিতা ও মর্যাদা স্বীকার করে, সে সুন্নাহর অনুসারী। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি কেবল উসমানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে এবং আলীর মর্যাদা স্বীকার করে না, সে নিন্দিত।" এটি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
আমি বলছি: সুফিয়ান সাওরী সম্পর্কে যে বলা হয়েছে যে তিনি উসমানের ওপর আলীকে প্রাধান্য দেওয়ার মত থেকে ফিরে এসেছেন, এটাই সুনিশ্চিত হওয়া উচিত যদি সাওরীই সেই মতের প্রবক্তা হয়ে থাকেন; যাতে এটি ইতিপূর্বে খতীব কর্তৃক সহীহ সনদে বর্ণিত সেই উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যেখানে তিনি বলেছেন:
"যে ব্যক্তি উসমানের ওপর আলীকে প্রাধান্য দিল, সে বারো হাজার সাহাবীকে অবজ্ঞা করল, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।" আমার নিকট অধিকতর স্পষ্ট মত হলো, এই উক্তির প্রবক্তা হলেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ। কারণ ইবনে আদী তার সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তার মাঝে কিছুটা শিয়া মনোভাব ছিল। আর সাওরী সম্পর্কে কেউ বলেননি...
(খণ্ড: ١)
কাওসারুল মাআনিল দারারি ফী কাশফি খাবায়া সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
عنه ذلك، وما قاله ابن معين في حق عثمان وعلي قال به قبله مَعْمر في حق الشيخين، فقد نقل عبد الرزاق عن معْمر أنه قال لو أن رجلًا قال: عمر أفضل من أبي بكر ما عنفته، وكذلك لو قال: علي أفضل عندي من أبي بكر وعمر لم أعنفه، إذا عرف فضل الشيخين وأحبهما وأثنى عليهما بما هما أهله، قال عبد الرزاق: فذكرت ذلك لِوَكيع فأعجبه واشتهاه.
وحجة الجمهور في تقديم عثمان على علي: ما أخرجه الشيخان عن عبد الله بن عمر، قال: كنا نخير بين الناس في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم فنخير أبا بكر ثم عمر ثم عثمان رضي الله عنهم. وفي رواية عبيد الله بن عمر، عن نافع: كنا في زمان النبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدًا، ثم عمر، ثم عثمان، ثم نترك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فلا نفاضل بينهم.
رواه البخاري أيضًا. وقوله: لا نَعْدِلُ بأبي بكرٍ أَحدًا، أي: لا نجعل له مثلًا.
ولأبي داود من طريق سالم، عن ابن عمر، كنا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم حىٌّ: "أفضلُ أمةِ النبي صلى الله عليه وسلم بعده أبو بكر ثم عمر ثم عثمان" زاد الطَّبَرانيُّ في رواية: "فيسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك فلا يُنْكِرُهُ".
وروى خَيْثَمَةُ بن سليمان في "فضائل الصحابة" من طريق سهيل بن أبي صالح، عن أبيه، عن ابن عمر: "كنا نقول: إذا ذهب أبو بكر وعمر وعثمان استوى الناس". فيسمع النبي صلى الله عليه وسلم ذلك فلا ينكره.
وقد ادَّعى ابن عبد البر أن حديث الاقتصار على الثلاثة: أبي بكر وعمر وعثمان، خلاف قول أهل السنة: إن عليًّا أفضل الناس بعد الثلاثة، وتعقب بأنه يلزم من سكوتهم إذ ذاك عن تفضيله عدم تفضيله على الدوام، وبأن الإجماع المذكور إنما حدث بعد الزمن الذي قيده ابن عمر، فيخرج حديثه عن أن يكون غلطًا، وابن عمر قد اعترف بتقديم علي على غيره، فالمقطوع به عند أهل السنة القول بأفضلية أبي بكر ثم عمر، واختلفوا فيمن بعدهما، والجمهور على تقديم عثمان كما مر.
তাঁর থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। ওসমান ও আলীর ব্যাপারে ইবনে মঈন যা বলেছেন, তাঁর পূর্বে মামার শায়খাইনের ব্যাপারে একই কথা বলেছিলেন। আবদুর রাজ্জাক মামার থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছিলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি বলে যে ওমর আবু বকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে আমি তাকে তিরস্কার করব না। একইভাবে যদি কেউ বলে যে আমার নিকট আলী আবু বকর ও ওমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে আমি তাকে তিরস্কার করব না; যদি সে শায়খাইনের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত থাকে, তাঁদের ভালোবাসে এবং তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা অনুযায়ী প্রশংসা করে।" আবদুর রাজ্জাক বলেন: "আমি ওয়াকি-র কাছে এটি উল্লেখ করলে তিনি তা পছন্দ করলেন এবং তা তাঁর মনঃপূত হলো।"
আলীর ওপর ওসমানকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের দলিল হলো যা শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমরা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ করতাম; তখন আমরা আবু বকরকে, তারপর ওমরকে, তারপর ওসমানকে (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) শ্রেষ্ঠ গণ্য করতাম।" উবায়দুল্লাহ ইবনে ওমরের বর্ণনায় নাফে থেকে বর্ণিত: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আবু বকরের সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, তারপর ওমর, তারপর ওসমান। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবীদের বিষয়ে কোনো আলোচনা করতাম না এবং তাঁদের মধ্যে কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম না।"
ইমাম বুখারীও এটি বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর উক্তি "আমরা আবু বকরের সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না" এর অর্থ হলো: আমরা তাঁর কোনো দৃষ্টান্ত বা তুলনা সাব্যস্ত করতাম না।
আবু দাউদে সালেমের সূত্রে ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত আছে, "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাকালীন বলতাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর ওমর, তারপর ওসমান।" তাবারানি একটি বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করতেন না।"
খাইসামা ইবনে সুলাইমান 'ফাদায়িলুস সাহাবা' গ্রন্থে সুহাইল ইবনে আবি সালেহ-এর সূত্রে, তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমরা বলতাম: যখন আবু বকর, ওমর ও ওসমান চলে যাবেন, তখন সব মানুষ সমান হয়ে যাবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন কিন্তু অস্বীকার করতেন না।
ইবনে আবদুল বার দাবি করেছেন যে, কেবল তিনজনের (আবু বকর, ওমর ও ওসমান) বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সংক্রান্ত হাদিসটি আহলুস সুন্নাহর এই মতের পরিপন্থী যে: ওই তিনজনের পরে আলী হলেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে, সেই সময়ে আলীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাঁদের নীরবতা থেকে এটা আবশ্যক হয় না যে সর্বদাই তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে না। আরও বলা হয়েছে যে, উল্লিখিত ইজমা বা ঐক্যমত্য সেই সময়ের পরে সংঘটিত হয়েছে যে সময়টিকে ইবনে ওমর নির্দিষ্ট করেছেন; সুতরাং তাঁর এই হাদিসটি ভুল হওয়ার অবকাশ থাকে না। আর ইবনে ওমর নিজেই আলীকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অতএব, আহলুস সুন্নাহর নিকট অকাট্য বিষয় হলো আবু বকর ও তারপর ওমরের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা। আর তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হলো ওসমানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।