(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: -)
الأطول شرح تلخيص مفتاح العلوم القسم: البلاغة
الكتاب: الأطول شرح تلخيص مفتاح العلوم
المؤلف: إبراهيم بن محمد بن عربشاه عصام الدين الحنفي (ت: 943 هـ)
حققه وعلق عليه: عبد الحميد هنداوي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 جُمادَى الآخرة 1440
আল-আতওয়াল শারহু তালখিস মিফতাহিল উলুম বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)
গ্রন্থ: আল-আতওয়াল শারহু তালখিস মিফতাহিল উলুম
লেখক: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আরবশাহ ইসামুদ্দিন আল-হানাফি (মৃ: ৯৪৩ হি.)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়ন (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং তত্ত্বাবধানে (সুলাইমান আল-রাজি খায়রিয়া ফাউন্ডেশন)
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمد لله الذي خص بهذا العلم قوما هم به قائمون، وجعلهم حفظة لكتابه حيث قال: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ.
فلما جزم الله تعالى بحفظ كتابه من عوادي الدهر ونوازله، تبين لأولي الألباب حفظه تعالى لهذه الطائفة ما بقي كتابه أبد الدهر.
فلا يخلو عصر من مجدد للبلاغة معيد لرونقها يجلو عنها ما علاها من غبرة الأخلاط، ولكنة الاختلاط.
ولقد مرّت البلاغة بعصور مزهرة فاح عبيرها وشذاها في كتب الأوائل، ولا زلنا نتنسم إلى اليوم نسيمها، ونعطر رسائلنا بعرفها وأريجها.
والبلاغة وإن تعددت مناهج الناس في دراستها، واختلفت وتباينت مسالكهم إليها؛ فإن لها في النهاية غاية واحدة، وهي الوقوف على وجوه جمال التعبير، ومعرفة أسرار الجمل والتراكيب.
لقد مرّت البلاغة العربية في مسيرتها بأطوار شتى اختلفت فيها دروب السالكين ومناهجهم وإن اتحد القصد- كما بينا- فتفاوتت تلك المناهج بين الذاتية والموضوعية وبين الأدبية والتجريدية، والكلامية والمنطقية، وبين الإيجاز والإطناب، الإيجاز الذي قد يصل إلى حدّ التعقيد، ويتسم بجفاف المادة، وقلّة الشواهد، وندرة التحليل، والإطناب الذى يبالغ في الشرح والإفصاح والإكثار من الشواهد والتحليلات كما رأينا عند ابن الأثير والعلوي على سبيل المثال.
كما تنوعت بين الميل إلى التجريد والتقعيد الشديد أو قل: التعقيد كما رأينا عند ابن قدامة وابن سنان والرازي وغيرهم.
وبين إرسال القول على عواهنه وإرخاء الزمام لخواطر العقل، وسوانح الفكر كما رأينا في مصنفات الأقدمين.
ومنهم من سلك طريقة وسطا بين العناية بالتحليل ورونق التعبير، وحلاوة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই জ্ঞান (ইলম) দ্বারা এমন এক সম্প্রদায়কে বিশিষ্ট করেছেন যারা এর হিফাযতে সচেষ্ট, এবং তিনি তাদের তাঁর কিতাবের সংরক্ষণকারী বানিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী।"
সুতরাং আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কিতাবকে কালের বিবর্তন ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার অকাট্য ঘোষণা দিয়েছেন, তখন জ্ঞানীদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মহান আল্লাহ এই দলটিকেও রক্ষা করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর কিতাব অনন্তকাল অবশিষ্ট থাকবে।
তাই কোনো যুগই অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) এমন একজন সংস্কারক থেকে শূন্য থাকে না, যিনি এর জৌলুস ফিরিয়ে আনেন এবং এর ওপর জমে থাকা বিভিন্ন সংমিশ্রণের ধুলোবালি ও জড়তা দূর করে একে পরিচ্ছন্ন করেন।
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র এমন কিছু প্রস্ফুটিত যুগ অতিক্রম করেছে যার সুবাস পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে বিচ্ছুরিত হয়েছে, আর আমরা আজও সেই সুবাস অনুভব করছি এবং আমাদের পত্রাবলিকে তার সুঘ্রাণে সুশোভিত করছি।
অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে মানুষের পদ্ধতিসমূহ বহুবিধ হলেও এবং এর অভিমুখে তাদের পথ ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হলেও; এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটিই, আর তা হলো—প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্যের দিকগুলো অনুধাবন করা এবং বাক্য ও গাঠনিক কাঠামোর রহস্যগুলো জানা।
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র তার পথচলায় বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছে যেখানে এর অনুসারীদের পথ ও পদ্ধতি ভিন্ন ছিল—যদিও উদ্দেশ্য এক ছিল, যা আমরা স্পষ্ট করেছি—ফলে সেই পদ্ধতিগুলো ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিক, সাহিত্যিক ও বিমূর্ত, কালামশাস্ত্রীয় ও যৌক্তিক এবং সংক্ষেপণ ও সম্প্রসারণের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে। এমন সংক্ষেপণ যা কখনও জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং বিষয়ের শুষ্কতা, উদাহরণের স্বল্পতা ও বিশ্লেষণের অভাব দ্বারা চিহ্নিত হয়; আর এমন সম্প্রসারণ যা ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ এবং উদাহরণ ও বিশ্লেষণের আধিক্যে অতিরঞ্জন করে, যেমনটি আমরা উদাহরণস্বরূপ ইবনুল আসীর ও আল-আলাউয়ীর ক্ষেত্রে দেখেছি।
তদ্রূপ এটি বিমূর্তায়ন ও কঠোর নিয়মবদ্ধতা—অথবা বলা যায় জটিলতার—ঝোঁকের মধ্যেও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়েছে, যেমনটি আমরা ইবনে কুদামা, ইবনে সিনান, রাযী এবং অন্যদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি।
আবার কখনও বা বাচনভঙ্গিকে উন্মুক্ত রাখা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও ভাবনার উদয়কে অবাধে চলতে দেওয়ার রীতিও দেখা গেছে, যেমনটি আমরা প্রাচীনদের রচনাশৈলীতে দেখেছি।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্লেষণধর্মী যত্ন এবং প্রকাশভঙ্গির জৌলুস ও মাধুর্যের মাঝে এক মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৪)
المنطق، وفصاحة التعبير وبين التقعيد والتجريد كما فعل عبد القاهر في كتابه أسرار البلاغة، غير أنه قد اضطرب الزمام في يده في دلائل الإعجاز لانشغاله بالرد على متكلمة زمانه والسابقين عليه.
وبعد هذه المقدمة أقول:
إن لكل مرحلة إذا طبيعتها من حيث منهج التأليف سواء في علوم البلاغة أو غيرها من العلوم، وإنه لمن الظلم الواضح البين أن نحاكم مؤلفات القرن الثامن الهجري وما بعده- حيث شروح التلخيص والمفتاح على كثرتها- إلى المناهج الحديثة في الدرس البلاغي، فلكل عصر طبيعته ومنهجه.
وينبغي ألا يصدنا ذلك عن الاهتمام بتحقيق تلك المصادر وتنقيحها وإعادة طبعها ونشرها على الوجه العلمي اللائق بها، حيث تبدو أهميتها في كونها حلقة من حلقات التراث البلاغي الذي إن فقدنا حلقة منه انقطع إسناده إلينا.
وكما ينبغي على راوي الحديث أن يثبت سلسلة الإسناد بكل رواتها دون نظر إلى حالهم من حيث العدالة أو التجريح، فكذلك تقتضي الأمانة العلمية إظهار التراث البلاغي بكل حلقاته كما هي بما فيها من ضعف أو قوة.
وأخيرا نقول: إن هذه المؤلفات قد أثرت تأثيرا كبيرا في الإنتاج اللاحق بها، ولا يمكن تفسير ذلك الإنتاج وفهمه على وجه الصواب، إلا بعد الاصطبار على تلك المصنفات ومحاولة فهمها واستيعابها مهما لقي الباحث في سبيل ذلك من معاناة، وبذل من جهد.
ولذا فنحن نقدم لدارس البلاغة كتاب الأطول في ثوب قشيب يليق بجلالته، وبما ترك من تأثير كبير في التأليف البلاغي بعده، وبما أثاره من مباحث وقضايا عديدة في التراث البلاغي.
ولقد ذاع صيت العصام صاحب هذا الكتاب بمصنفه هذا، وبلغت شهرته الآفاق، فحريّ بنا أن نقف على ما فيه حتى تكتمل لدينا حلقات تراثنا البلاغي، وحتى يتصل إلينا إسناده على حقيقته من قوة أو ضعف.
هذا، وقد حاولنا جهدنا في ضبط الكتاب على نسخه القديمة العتيقة، مع مراجعة بعض نسخه المخطوطة بدار الكتب المصرية.
যুক্তিবিজ্ঞান, অভিব্যক্তির সাবলীলতা এবং নীতিমালা প্রণয়ন ও বিমূর্তায়নের সমন্বয় করেছেন আব্দুল কাহের তাঁর 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থে। তবে 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থে তাঁর নিয়ন্ত্রণের লাগাম কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল, কারণ তিনি তাঁর সমসাময়িক এবং পূর্ববর্তী ইলমে কালামের পণ্ডিতদের জবাব দিতে ব্যস্ত ছিলেন।
এই ভূমিকা শেষে আমি বলছি:
সুতরাং রচনারীতির দিক থেকে প্রতিটি পর্যায়ের নিজস্ব প্রকৃতি রয়েছে, তা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাহ) হোক বা অন্য কোনো বিজ্ঞান। এটি স্পষ্টত একটি প্রকাশ্য অবিচার হবে যদি আমরা অষ্টম হিজরি শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের রচনাগুলোকে—যেখানে 'তালখীস' ও 'মিফতাহ'-এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে—অলঙ্কারশাস্ত্রের আধুনিক অধ্যয়ন পদ্ধতির মানদণ্ডে বিচার করি। কেননা প্রতিটি যুগের নিজস্ব প্রকৃতি ও পদ্ধতি রয়েছে।
আর এটি যেন আমাদের সেই উৎসগ্রন্থগুলোর তাহকীক (সম্পাদনা), পরিমার্জন এবং সেগুলোকে যথাযথ বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুনঃমুদ্রণ ও প্রকাশের গুরুত্ব থেকে বিচ্যুত না করে। এগুলোর গুরুত্ব এই দিক থেকে যে, এগুলো অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যের এক একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; যার কোনো একটি অংশ হারিয়ে গেলে আমাদের কাছে এর যোগসূত্র বা সনদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
একজন হাদীস বর্ণনাকারীর জন্য যেমন আবশ্যক হলো বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (আদল) বা সমালোচনা (জারহ) নির্বিশেষে পূর্ণ সনদটি সাব্যস্ত করা, তেমনি বৈজ্ঞানিক সততা দাবি করে যে, অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যকে এর দুর্বলতা ও সবলতা সহ প্রতিটি পর্যায়ে যেভাবে আছে সেভাবেই উপস্থাপন করা।
সবশেষে আমরা বলতে পারি: এই গ্রন্থগুলো পরবর্তী জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আর সেই কাজগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা ও অনুধাবন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না এই মূল গ্রন্থগুলোর ওপর ধৈর্য ধারণ করা হয় এবং সেগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়; গবেষককে এই পথে যত কষ্টই পোহাতে হোক এবং যত পরিশ্রমই করতে হোক না কেন।
তাই আমরা অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের সামনে 'আল-আতওয়াল' গ্রন্থটি এমন এক নতুন আঙ্গিকে পেশ করছি যা এর মর্যাদার উপযোগী এবং পরবর্তী অলঙ্কারশাস্ত্রের রচনায় এটি যে বিশাল প্রভাব ফেলেছে ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যে যেসব বহুমুখী আলোচনা ও বিষয়ের অবতারণা করেছে, তার সাথে মানানসই।
এই গ্রন্থের লেখক আল-ইসসাম তাঁর এই রচনার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তাঁর প্রসিদ্ধি দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমাদের জন্য উচিত হলো এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া, যাতে আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যের ধারাগুলো পূর্ণতা পায় এবং আমাদের কাছে এর যোগসূত্র বা সনদ এর প্রকৃত সবলতা ও দুর্বলতা সহ পৌঁছে যায়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, আমরা গ্রন্থটিকে এর প্রাচীন কপিগুলোর ভিত্তিতে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং সেই সাথে মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত কিছু পাণ্ডুলিপির সাথেও তা মিলিয়ে দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৫)
كما قمنا بتفقيره ووضع علامات الترقيم حيث جاءت طبعاته السابقة خلوا من تلك العلامات تماما، فاختلط شعره بنثره، ومتنه بشرحه، وامتلأ بالتصحيفات والأخطاء، فحاولنا إصلاح ذلك ما أمكن، كذلك فقد اعتنينا بتخريج شواهده القرآنية والحديثية والشعرية.
ووضعنا كتاب التلخيص في بدايته كالفهرس والمفتاح للوصول إلى المبتغى من شرحه، وذلك لصعوبة وصول القارئ إلى بغيته من شرح ما يبتغى من متنه لتداخل بعضه ببعض.
هذا، والله نسأل أن يغفر لنا زلاتنا، وأن يجزل لنا المثوبة، وأن ينفع به من شاء من عباده، إنه تعالى هو نعم المولى ونعم النصير.
وكتبه/ عبد الحميد هنداوي مدرس البلاغة والنقد الأدبي بكلية دار العلوم جامعة القاهرة الجيزة في 9/ 10/ 1421 هـ
একইভাবে আমরা একে অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং বিরামচিহ্ন স্থাপন করেছি, যেহেতু এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো এই চিহ্নগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল, ফলে এর কবিতা গদ্যের সাথে এবং মূল পাঠ এর ব্যাখ্যার সাথে মিশে গিয়েছিল, এবং তা বানান বিভ্রাট ও ত্রুটি-বিচ্যুতিতে পরিপূর্ণ ছিল। তাই আমরা যথাসম্ভব তা সংশোধনের চেষ্টা করেছি। একইভাবে আমরা এর কুরআনি, হাদিস বিষয়ক এবং কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের উৎস নির্দেশের (তাখরিজ) ব্যাপারেও যত্নশীল হয়েছি।
এবং আমরা এর শুরুতে 'আত-তালখিস' কিতাবটি সূচিপত্র ও চাবিকাঠি হিসেবে রেখেছি যাতে এর ব্যাখ্যার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। কেননা মূল পাঠের যে অংশটি কেউ চাচ্ছে সেটির ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া পাঠকের জন্য কঠিন ছিল, কারণ একটির সাথে অন্যটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
এই হলো কথা, আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভুলভ্রান্তিগুলো ক্ষমা করে দেন, আমাদের প্রতিদানকে বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
এটি লিখেছেন/ আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি, অলংকারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ের শিক্ষক, দারুল উলুম অনুষদ, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, গিজা, তারিখ: ৯/ ১০/ ১৪২১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة المؤلفاسمه: إبراهيم بن محمد بن عرب شاه عصام الدين الحنفي، من سلائل أبي إسحاق الإسفراييني.
ذكره صاحب كشف الظنون في معرض ذكر كتاب تلخيص المفتاح والشروح والحواشي عليه، قال: «وشرح العلامة الفاضل المحقق عصام الدين إبراهيم بن عرب شاه الإسفراييني، وهو شرح ممزوج عظيم يقال له: الأطول
… ».
وذكره أيضا في معرض ذكره لرسالة «ما أنا قلت من عبارات المطول» وقال:
«هي لعلي قوشجي، وعصام الدين، وشيخ الإسلام الحفيد، ومحمد أمين الشهير بأمين باذ شاه».
وذكره الزركلي في الأعلام فيمن اسمه عصام، قال: «عصام الإسفراييني إبراهيم بن محمد 945 هـ».
مولده ونشأته: ولد بإسفرايين (قرية بخراسان) في مهد العلم إذ كان أبوه وجده قاضيين لأولاد تيمور، فشب وترعرع على بساط العلماء، وحصّل العلم من ينابيعه الفياضة، وبذّ الأقران، وصار يشار إليه بالبنان.
عقيدته: من خلال صحبتنا للمؤلف في كتابه نتبين أنه كان ملازما لعقيدة أهل السنة والجماعة مدافعا عنها، ينزل البلاغة ويخرج وجوهها على مقتضى عقيدة الفرقة الناجية، ويقف بالمرصاد لأدق دقائق أهل الاعتزال المخالفة لما عليه أهل السنة والجماعة.
نجد ذلك واضحا في مفتتح كتابه حيث يستدرك على العلامة الزمخشري ما ذهب إليه من أن «أل» في «الحمد لله» هي علامة تعريف الجنس، فيقول:
«إن الحمد والبسملة أيضا كسائر ما بين الدفتين، في إيجاب الحمد، فيعجز كل ذي منة عن أداء محامده، بل شمّة، ولا يريبك فيّ ما ألفيت مما ألقيت عليك أنه مبني على جعل اللام في الحمد لام الاستغراق، وقد جعله العلامة الزمخشري علامة تعريف الجنس ولا يوثق به، لأنه صرح بأن في هذا النظم دلالة على
লেখকের জীবনীনাম: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আরব শাহ ইসামুদ্দিন আল-হানাফি, তিনি আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনির বংশধর।
‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থের লেখক ‘তালখিসুল মিফতাহ’ গ্রন্থ এবং এর ব্যাখ্যা ও টীকাগুলোর আলোচনার প্রসঙ্গে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «প্রাজ্ঞ পণ্ডিত ও গবেষক ইসামুদ্দিন ইব্রাহিম বিন আরব শাহ আল-ইসফারায়িনির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি একটি চমৎকার মিশ্রিত ব্যাখ্যা, যাকে ‘আল-আতওয়াল’ বলা হয়
… »।
এছাড়াও তিনি ‘মা আনা কুলতু মিন ইবারাতিল মুতাউওয়াল’ নামক পুস্তিকার আলোচনার প্রসঙ্গেও তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:
«এটি আলি কুশজি, ইসামুদ্দিন, শায়খুল ইসলাম আল-হাফিদ এবং মুহাম্মদ আমিন—যিনি আমিন বায শাহ নামে পরিচিত—তাঁদের লেখা একটি সংকলন।»
যিরিকলি ‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থে ‘ইসাম’ নামধারীদের তালিকায় তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: «ইসাম আল-ইসফারায়িনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ, মৃত্যু ৯৪৫ হিজরি।»
জন্ম ও শৈশব: তিনি খোরাসানের ইসফারায়িন গ্রামে ইলমের এক নিবিড় পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ও দাদা তৈমুর বংশীয়দের বিচারক (কাযী) ছিলেন। ফলে আলেমদের সান্নিধ্যে তিনি বেড়ে ওঠেন এবং ইলমের প্রাচুর্যময় উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। তিনি তাঁর সমকালীনদের ছাড়িয়ে যান এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
তাঁর আকিদা: লেখকের কিতাবটি অধ্যয়নের মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদার ওপর অবিচল ছিলেন এবং এর প্রতিরক্ষা করতেন। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) বিভিন্ন দিক ও রূপকে নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিরোধী মুতাজিলাদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিভ্রান্তিকর মতবাদগুলোকে দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করেন।
তাঁর কিতাবের শুরুর দিকেই এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে তিনি আল্লামা যামাখশারির ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বাক্যে ‘আল’ (ال) বর্ণটিকে ‘জেন্স’ বা জাতিবাচক সংজ্ঞার চিহ্ন হিসেবে গণ্য করার মতামতের সমালোচনা করে বলেন:
«নিশ্চয়ই আল-হামদু এবং বাসমালাহ—বইয়ের দুই মলাটের মধ্যবর্তী অন্যান্য বিষয়ের মতোই—হামদ বা প্রশংসা আদায়ের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে এমন যে, প্রতিটি অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিই আল্লাহর প্রশংসার সামান্যতম অংশও আদায় করতে অক্ষম। আমি আপনার সামনে যা পেশ করেছি, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ার কিছু নেই যে, এটি ‘আল-হামদু’-এর ‘লাম’ অক্ষরটিকে ‘লাম আল-ইসতিগরাক’ (সমগ্রতা জ্ঞাপক) ধরার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। অথচ আল্লামা যামাখশারি একে জাতিবাচক সংজ্ঞার চিহ্ন (তা’রিফুল জেন্স) হিসেবে গণ্য করেছেন, যা নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই বাক্য বিন্যাসে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যা...»
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৭)
اختصاص الحمد به تعالى، فهو لا يتحاشى عن إفادة الاختصاص، وإن يتحاش فبناء على قاعدة الاعتزال من أن العباد هم الخالقون لأفعالهم، فالحمد على أفعالهم ليس حمدا له تعالى، ونحن معاشر أهل السنة نخالفهم بناء على أن لا مؤثر إلا الله، فالمحامد ترجع إليه ولا تتعلق في الحقيقة بما سواه، على أنه قيل: إنما جعل التعريف للجنس دون الاستغراق من موجبات القرائن، كما سيتحقق في بحث التعريف للجنس دون الاستغراق، إما لبيان أن مدلول اللام هو للجنس، والاستغراق من موجات القرائن كما يستحقق في بحث التعريف، وإما لاختيار إثبات اختصاص الأفراد بجعل اختصاص الجنس كناية عنه لأنه أبلغ.
مؤلفاته: تعددت مؤلفات عصام الدين الحنفي لتدل على سعة علمه وتبحره في علوم كثيرة، قال الشيخ المراغي: له التواليف الحسنة في فنون كثيرة منها:
شرح التلخيص الذي سماه: الأطول، نقد فيه كثيرا من بحوث سعد الدين التفتازاني في المطول، وشرح على رسالة الاستعارات لأبي الليث السمرقندي المشهورة بالسمرقندية، والرسالة الفارسية في البيان، وعربها أحمد المولوي الشهير بمنجم باشا، وحاشية على تفسير البيضاوي.
وهذه قائمة بما أوقفتنا عليه كتب التراجم من مصنفاته الكثيرة:
- الأطول شرح تلخيص المفتاح وهو كتابنا هذا.
- شرح الشمائل في حقوق أفضل الورى وأقوى الدلائل.
- حاشية على أنوار التنزيل إلى سورة الأعراف.
- حاشية على جزء النبأ.
- حاشية على الشمسية في المنطق.
- حاشية على شرح المواقف.
- حاشية على شرح عقائد النسفية.
- حاشية على الفوائد الضيائية للجامي.
- حاشية على كليات المطالع.
- شرح تهذيب المنطق.
প্রশংসা (হামদ) একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি এমন যে, তা এই বিশেষত্বের অর্থ প্রদান করা থেকে বিমুখ হয় না। তবে কেউ যদি একে বিমুখ মনে করে, তবে তা মুতাজিলাদের এই নীতির ভিত্তিতে হবে যে, বান্দারাই তাদের কর্মের স্রষ্টা; ফলে তাদের কর্মের ওপর প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য প্রশংসা বলে গণ্য হবে না। কিন্তু আমরা আহলে সুন্নাত জামাত তাদের বিরোধিতা করি এই মূলনীতির ভিত্তিতে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত প্রভাবক নেই; সুতরাং সকল প্রশংসা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি ছাড়া অন্য কারো সাথে তা সম্পৃক্ত নয়। তাছাড়া বলা হয়েছে যে, সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে (আলিফ-লাম যোগে) ব্যাপকতা না বুঝিয়ে কেবল জাতি বোঝানো আনুষঙ্গিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল, যা জাতিবাচক সংজ্ঞায়ন বনাম ব্যাপকতা বিষয়ক আলোচনায় সপ্রমাণিত হবে; এটি হয় ‘লাম’-এর অর্থ যে কেবল জাতি তা বর্ণনা করার জন্য (যেক্ষেত্রে ব্যাপকতা কেবল প্রমাণের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়), অথবা ব্যক্তির সুনির্দিষ্টতা সাব্যস্ত করার পরিবর্তে জাতির সুনির্দিষ্টতা প্রমাণের মাধ্যমেই ব্যক্তির বিশেষত্ব বোঝানোর জন্য, যা একটি আলঙ্কারিক প্রয়োগ বা কেনায়া হিসেবে গণ্য হয়; কারণ এটি অধিকতর প্রাঞ্জল।
তাঁর রচনাবলী: ইসামুদ্দিন আল-হানাফির রচনাবলী অসংখ্য, যা তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততা এবং বহু শাস্ত্রের ওপর গভীর পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক। শেখ মারাগী বলেন: বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর চমৎকার কিছু সংকলন রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
তালখিস-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম ‘আল-আতওয়াল’। এতে তিনি আল-মুতওয়াল গ্রন্থে সাদ উদ্দিন তাফতাজানির অনেক আলোচনার সমালোচনা করেছেন। এছাড়া আবু লাইস আল-সামারকান্দির ‘রিসালাতুল ইস্তি’আরাত’ (যা আস-সামারকান্দিয়া নামে খ্যাত) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত একটি পুস্তিকা (যা মুনাজ্জিম পাশা হিসেবে খ্যাত আহমদ আল-মাওলাউয়ি আরবিতে অনুবাদ করেছেন) এবং তাফসিরুল বায়জাবির ওপর একটি হাশিয়া বা টীকা।
জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মাধ্যমে তাঁর যেসব অসংখ্য রচনার সন্ধান আমরা পেয়েছি, তার একটি তালিকা নিম্নরূপ:
- আল-আতওয়াল শারহু তালখিসিল মিফতাহ; এটিই আমাদের বর্তমান এই গ্রন্থ।
- শারহুশ শামায়িল ফি হুকুকি আফযালিল ওয়ারা ওয়া আকওয়াল দালাইল।
- আনোয়ারুত তানজিল-এর সূরা আল-আ’রাফ পর্যন্ত হাশিয়া।
- জুয নাবা-এর ওপর হাশিয়া।
- যুক্তিবিদ্যার শামসিয়া গ্রন্থের ওপর হাশিয়া।
- শারহুল মাওয়াকিফ-এর ওপর হাশিয়া।
- শারহু আকাইদিন নাসাফিয়া-এর ওপর হাশিয়া।
- জামির আল-ফাওয়ায়েদ আল-দিয়াইয়্যাহ-এর ওপর হাশিয়া।
- কুল্লিয়াতুল মাতালি’-এর ওপর হাশিয়া।
- শারহু তাহযিবিল মানতিক।
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৮)
- شرح رسالة الاستعارة.
- شرح الشافية في النحو.
- شرح الطوالع.
- شرح العوامل للجرجاني.
- شرح القصارى.
- شرح الكافية عارض به الرضيّ.
- مختصر في النحو، وشرح له عليه.
وفاته: قال الشيخ المراغي: خرج في أخريات حياته من بخارى إلى سمرقند لزيارة العارف بالله عبد الله النقشبندي، فمرض اثنين وعشرين يوما ثم قضى نحبه سنة إحدى وخمسين وتسعمائة، وكانت سنّه اثنين وسبعين سنة.
وقد اختلف في تاريخ وفاته، فقيل: توفي سنة ثلاث وأربعين وتسعمائة.
وقيل: خمس وأربعين وتسعمائة.
مصادر الترجمة: شذرات الذهب (4/ 735)، روضات الجنات (1/ 50)، تاريخ علوم البلاغة للشيخ المراغي (179 - 180)، هدية العارفين (5/ 26، 27)، كشف الظنون (1/ 477)، الأعلام (4/ 233)، فؤاد سيزكين (1330).
- শারহু রিসালাতিল ইস্তিআরাহ (ইস্তিআরাহ বিষয়ক গ্রন্থের ব্যাখ্যা)।
- নাহু শাস্ত্রের আশ-শাফিয়ার ব্যাখ্যা।
- আত-তাওয়ালি’-এর ব্যাখ্যা।
- জুরজানি রচিত আল-আওয়ামিল-এর ব্যাখ্যা।
- আল-কুসারা-এর ব্যাখ্যা।
- আল-কাফিয়ার ব্যাখ্যা, যার মাধ্যমে তিনি আর-রাযীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
- নাহু শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং তার উপর তাঁরই রচিত ব্যাখ্যা।
তাঁর মৃত্যু: শেখ আল-মারাগী বলেন: তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে বুখারা থেকে সমরকন্দে আরিফ বিল্লাহ আব্দুল্লাহ আন-নকশবন্দীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি বাইশ দিন অসুস্থ থাকার পর নয়শত একান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল বাহাত্তর বছর।
তাঁর মৃত্যুর তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: তিনি নয়শত তেতাল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
আবার বলা হয়: নয়শত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে।
জীবনীর উৎসসমূহ: শাযারাতুয যাহাব (৪/ ৭৩৫), রওজাতুল জান্নাত (১/ ৫০), শেখ আল-মারাগী রচিত তারিখু উলূমিল বালাগাহ (১৭৯ - ১৮০), হাদিয়াতুল আরিফীন (৫/ ২৬, ২৭), কাশফুয যুনুন (১/ ৪৭৭), আল-আ’লাম (৪/ ২৩৩), ফুয়াদ সেজগিন (১৩৩০)।
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: -)
صورة الصفحة الأولى من مخطوطة الأطول
আল-আতওয়াল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: -)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: -)
متن كتاب التّلخيص في علوم البلاغة وهو تلخيص كتاب «مفتاح العلوم» للسّكاكيّتأليف الإمام جلال الدّين محمّد بن عبد الرّحمن القزويني المتوفّى سنة 739 هـ
অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক 'আত-তালখিস' গ্রন্থের মূলপাঠ, যা আস-সাক্কাকি রচিত 'মিফতাহুল উলুম' গ্রন্থের সারসংক্ষেপইমাম জালালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কাযভিনি (মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ৯)
كلمة الافتتاحللخطيب القزوينى
(1/ 133) الحمد لله على ما أنعم، وعلّم من البيان ما لم نعلم، والصلاة والسّلام على سيّدنا محمد خير من نطق بالصواب، وأفضل من أتى الحكمة وفصل الخطاب، وعلى آله الأطهار
… وصحابته الأخيار.
(1/ 142) أما بعد:
فلّما كان علم البلاغة وتوابعها من أجلّ العلوم قدرا؛ وأدقها سرّا؛ إذ به تعرف دقائق العربية وأسرارها، وتكشف عن وجوه الإعجاز فى نظم القرآن أستارها، وكان القسم الثالث من «مفتاح العلوم» الذى صنّفه الفاضل العلّامة أبو يعقوب يوسف السّكّاكى أعظم ما صنّف فيه من الكتب المشهورة نفعا؛ لكونه أحسنها ترتيبا، وأتمّها تحريرا، وأكثرها للأصول جمعا، ولكن كان غير مصون عن الحشو والتطويل والتعقيد؛ قابلا للاختصار مفتقرا إلى الإيضاح والتجريد- ألّفت مختصرا يتضمّن ما فيه من القواعد، ويشتمل على ما يحتاج إليه من الأمثلة والشواهد، ولم آل جهدا فى تحقيقه وتهذيبه؛ ورتّبته ترتيبا أقرب تناولا من ترتيبه، ولم أبالغ فى اختصار لفظه تقريبا لتعاطيه؛ وطلبا لتسهيل فهمه على طالبيه، وأضفت إلى ذلك فوائد عثرت فى بعض كتب القوم عليها؛ وزوائد لم أظفر فى كلام أحد بالتصريح بها ولا الإشارة إليها، وسميته: «تلخيص المفتاح».
وأنا أسأل الله تعالى من فضله أن ينفع به، كما نفع بأصله؛ إنه ولى ذلك، وهو حسبى ونعم الوكيل!
***
ভূমিকাখতীব আল-কাযওয়িনী কর্তৃক
(১/ ১৩৩) সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি নি’আমত দান করেছেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছেন যা আমরা জানতাম না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সত্য উচ্চারণে সর্বোত্তম এবং যাকে প্রজ্ঞা ও অকাট্য বক্তব্য প্রদানের যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর সৎকর্মশীল সাহাবীগণের ওপর।
(১/ ১৪২) অতঃপর:
যেহেতু অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম মহান এবং রহস্যের দিক থেকে সূক্ষ্মতম বিজ্ঞান; কেননা এর মাধ্যমেই আরবী ভাষার সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ জানা যায় এবং আল-কুরআনের বাচনভঙ্গির অলৌকিকত্বের (ই’জায) পর্দা উন্মোচিত হয়। আর যেহেতু ফাযেল আল্লামা আবু ইয়াকুব ইউসুফ আস-সাক্কাকী রচিত ‘মিফতাহুল উলূম’-এর তৃতীয় অংশটি এই বিষয়ে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে উপকারের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল; কারণ এটি বিন্যাসের দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর, পরিমার্জনের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং মূলনীতিসমূহ সংগ্রহের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যাপক। কিন্তু এটি অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত ছিল না; যা সংক্ষিপ্ত করার অবকাশ রাখে এবং স্পষ্টীকরণ ও সারসংক্ষেপণের মুখাপেক্ষী ছিল—তাই আমি একটি সংক্ষিপ্তসার রচনা করেছি যা এর অন্তর্গত নিয়মাবলীকে ধারণ করে এবং প্রয়োজনীয় উদাহরণ ও প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এর যাচাই-বাছাই ও পরিমার্জনে কোনো প্রচেষ্টার ত্রুটি করিনি; আর একে তাঁর বিন্যাসের চেয়ে সহজে আয়ত্তযোগ্য পদ্ধতিতে সাজিয়েছি। আমি এর শব্দ সংক্ষেপণে এমন চরমপন্থা অবলম্বন করিনি যা একে দুর্বোধ্য করে তোলে, বরং এটি চর্চা করা সহজ করার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে পরিমিত রেখেছি। এছাড়া আমি এতে এমন কিছু তাত্ত্বিক উপকারিতা যোগ করেছি যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কিছু কিতাবে পেয়েছি এবং এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করেছি যা অন্য কারো বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বা ইশারাতেও আমি পাইনি। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘তালখীসুল মিফতাহ’।
আর আমি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন, যেভাবে তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা উপকার করেছেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!
***
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১০)
مقدّمة فى بيان معنى الفصاحة، والبلاغة(1/ 158) الفصاحة: يوصف بها المفرد (1)، والكلام، والمتكلّم.
(1/ 158) والبلاغة: يوصف بها الأخيران فقط.
فالفصاحة فى المفرد: خلوّه من تنافر الحروف، والغرابة، ومخالفة القياس:
فالتنافر (2): نحو [من الطويل]:
غدائره مستشزرات إلى العلا
(1/ 158) والغرابة (3): نحو [من الرجز]:
وفاحما ومرسنا مسرّجا (4)
أى: كالسيف السّريجى فى الدقة والاستواء، أو كالسراج فى البريق واللمعان.
(1/ 166) والمخالفة (5): نحو [من الرجز]:
الحمد لله العلىّ الأجلل (6)
--------------------------------------------
ফাসাহাত এবং বালাগাতের অর্থ বর্ণনায় ভূমিকা(১/ ১৫৮) ফাসাহাত: এর মাধ্যমে মুফরাদ (একক শব্দ) (১), কালাম (বাক্য) এবং মুতাকাল্লিম (বক্তা)-কে বিশেষায়িত করা হয়।
(১/ ১৫৮) বালাগাত: এর মাধ্যমে কেবল শেষোক্ত দুটিকে (বাক্য ও বক্তা) বিশেষায়িত করা হয়।
মুফরাদের ফাসাহাত হলো: তা বর্ণমালার পরস্পর বিমুখতা, শব্দের অচেনা হওয়া এবং ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া।
বর্ণমালার পরস্পর বিমুখতা (২): যেমন [তওয়ীল ছন্দ থেকে]:
তাঁর চুলের বেণীগুলো উপরিভাগের দিকে উন্নীত ও বিন্যস্ত।
(১/ ১৫৮) অচেনা হওয়া বা দুর্বোধ্যতা (৩): যেমন [রজজ ছন্দ থেকে]:
এবং কুচকুচে কালো চুল ও তলোয়ারের ন্যায় খাঁড়া নাসিকা (৪)
অর্থাৎ: সূক্ষ্মতা ও সরলতায় (সোজা হয়ে উঠায়) সারীজী তলোয়ারের ন্যায়, অথবা উজ্জ্বলতা ও চমকে প্রদীপের ন্যায়।
(১/ ১৬৬) নিয়ম পরিপন্থী হওয়া (৫): যেমন [রজজ ছন্দ থেকে]:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ ও মহিমান্বিত (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১১)
(1/ 167) قيل (1): ومن الكراهة فى السمع؛ نحو [من المتقارب]:
كريم الجرشّى شريف النّسب (2)
(1/ 168) وفيه نظر (3):
وفى الكلام: خلوصه من ضعف التأليف، وتنافر الكلمات، والتعقيد، مع فصاحتها:
فالضعف (4): نحو: ضرب غلامه زيدا.
والتنافر (5): كقوله [من الرجز]:
وليس قرب قبر حرب قبر (6)
وقوله (7) [من الطويل]:
كريم متى أمدحه أمدحه والورى
… معي وإذا ما لمته لمته وحدي
(1/ 173) والتعقيد: ألّا يكون الكلام ظاهر الدّلالة على المراد؛ لخلل:
إمّا فى النظم: كقول الفرزدق فى خال هشام (8): [من الطويل]
وما مثله فى النّاس إلّا مملّكا
… أبو أمّه حىّ أبوه يقاربه
--------------------------------------------
(১/ ১৬৭) বলা হয়েছে (১): শ্রুতি-কটুতাও এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন [মুত্যাকারিব ছন্দ থেকে]:
উন্নত চিত্তের অধিকারী, মহান বংশমর্যাদাসম্পন্ন (২)
(১/ ১৬৮) এবং এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (৩):
আর বাক্যের (প্রাঞ্জলতা) হলো: শব্দের প্রাঞ্জলতার পাশাপাশি বাক্যটি রচনাশৈলীর দুর্বলতা, শব্দসমূহের পরস্পর-বিমুখতা এবং জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া:
রচনাশৈলীর দুর্বলতা (৪): যেমন: "তার গোলাম যায়েদকে প্রহার করল।"
পরস্পর-বিমুখতা (৫): যেমন কবির উক্তি [রাজায ছন্দ থেকে]:
আর হারবের কবরের নিকটে কোনো কবর নেই (৬)
এবং তার উক্তি (৭) [তাবীল ছন্দ থেকে]:
তিনি মহানুভব, যখন আমি তাঁর প্রশংসা করি তখন সৃষ্টিজগত আমার সাথেই প্রশংসা করে, আর যখন আমি তাঁকে তিরস্কার করি তখন আমি তা একাকী করি
(১/ ১৭৩) জটিলতা হলো: কোনো ত্রুটির কারণে বাক্যটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যের ওপর সুস্পষ্টভাবে নির্দেশক না হওয়া:
হয়তো বিন্যাসের ক্ষেত্রে: যেমন হিশামের মামার বিষয়ে ফারাযদাকের উক্তি (৮): [তাবীল ছন্দ থেকে]
মানুষের মধ্যে তাঁর মতো কেউ নেই সেই বাদশাহ ব্যতীত, যার মায়ের পিতা এমন এক জীবিত ব্যক্তি যার পিতা তাঁর নৈকট্য রাখেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أى: ليس مثله فى الناس حىّ يقاربه إلا مملّكا أبو أمّه (1) أبوه.
(1/ 176) 2 - وإمّا فى الانتقال (2): كقول الآخر (3) [من الطويل]:
سأطلب بعد الدّار عنكم لتقربوا
… وتسكب عيناى الدّموع لتجمدا
فإن الانتقال (4) من جمود العين إلى بخلها بالدموع، لا إلى ما قصده من السرور.
(1/ 179) قيل (5): ومن كثرة التّكرار، وتتابع الإضافات؛ كقوله [من الطويل]:
سبوح لها منها عليها شواهد (6)
وقوله [من الطويل]:
حمامة جرعا حومة الجندل اسجعى
…وفيه نظر!
(1/ 182) وفى المتكلّم (7) ملكة يقتدر بها على التعبير عن المقصود، بلفظ فصيح.
(1/ 184) والبلاغة فى الكلام: مطابقته لمقتضى الحال، مع فصاحته.
--------------------------------------------
অর্থাৎ: মানুষের মধ্যে তার সমতুল্য কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই যে তার নিকটবর্তী হতে পারে, কেবল সেই শাসক ছাড়া যার মায়ের বাবা তার (প্রশংসিত ব্যক্তির) বাবা। (১)
(১/ ১৭৬) ২ - অথবা ভাবান্তরের ক্ষেত্রে (২): যেমন অন্য কবির উক্তি (৩) [তওয়ীল ছন্দে]:
আমি তোমাদের থেকে গৃহের দূরত্ব কামনা করব যাতে তোমরা নিকটবর্তী হও
… এবং আমার দুই চোখ অশ্রু বিসর্জন দেবে যেন তারা শুষ্ক হয়ে যায়।
কারণ চোখের শুষ্কতা (জমে যাওয়া) থেকে অশ্রুর কৃপণতার দিকে মনের ভাবান্তর ঘটে, যা কবির উদ্দেশ্য ছিল (অর্থাৎ আনন্দ), সেদিকে নয়।
(১/ ১৭৯) বলা হয়েছে (৫): এবং অধিক পুনরাবৃত্তি ও একের পর এক সম্বন্ধ পদের (ইযাফাত) ব্যবহার থেকে মুক্ত হওয়া; যেমন কবির উক্তি [তওয়ীল ছন্দে]:
এক দ্রুতগামী ঘোড়া, যার স্বপক্ষে তার নিজের হতেই তার উপরে সাক্ষ্যসমূহ বিদ্যমান (৬)
এবং কবির উক্তি [তওয়ীল ছন্দে]:
জাওউয়া হারমাতুল জান্দালের বালুকাময় প্রান্তরের কপোতী, তুমি কূজন করো
…এবং এর মাঝে পর্যবেক্ষণ (তর্ক) রয়েছে!
(১/ ১৮২) এবং বক্তার ক্ষেত্রে (৭) (প্রাঞ্জলতা হলো) এমন এক স্বভাবজাত সক্ষমতা, যার মাধ্যমে তিনি প্রাঞ্জল শব্দের দ্বারা স্বীয় উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সমর্থ হন।
(১/ ১৮৪) আর কথার অলঙ্কারিকতা (বালাগাত) হলো: প্রাঞ্জল হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهو (1) مختلف؛ فإنّ مقامات الكلام متفاوتة:
فمقام كلّ من التنكير، والإطلاق، والتقديم والذكر: يباين مقام خلافه.
ومقام الفصل: يباين مقام الوصل.
ومقام الإيجاز: يباين مقام خلافه.
وكذا: خطاب الذكى مع خطاب الغبىّ، ولكلّ كلمة مع صاحبتها مقام.
(1/ 188) وارتفاع شأن الكلام فى الحسن والقبول بمطابقته للاعتبار المناسب (2)، وانحطاطه بعدمها، فمقتضى الحال: هو الاعتبار المناسب.
(1/ 191) فالبلاغة؛ راجعة إلى اللفظ باعتبار إفادته المعنى بالتركيب، وكثيرا ما يسمّى ذلك فصاحة- أيضا- ولها (3) طرفان:
أعلى: وهو حدّ الإعجاز وما يقرب منه.
وأسفل: وهو ما إذا غيّر الكلام عنه إلى ما دونه، التحق عند البلغاء بأصوات الحيوانات.
وبينهما مراتب كثيرة، وتتبعها وجوه أخر تورث الكلام حسنا.
وفى المتكلم: ملكة يقتدر بها على تأليف كلام بليغ.
فعلم: أنّ كلّ بليغ فصيح، ولا عكس.
(1/ 197) وأنّ البلاغة مرجعها:
1 - إلى الاحتراز عن الخطأ فى تأدية المعنى المراد.
2 - وإلى تمييز الفصيح من غيره:
والثاني (4): منه ما يبيّن فى علم متن اللغة، أو التصريف، أو النحو، أو يدرك بالحسّ، وهو ما عدا التعقيد المعنوىّ.
--------------------------------------------
আর তা (১) ভিন্নতর হয়ে থাকে; কেননা কথার প্রেক্ষিতসমূহ (মাকামাত) পরস্পর পৃথক।
অনির্দিষ্টকরণ (তানকির), ব্যাপকতা (ইতলাক), অগ্রবর্তী করা (তাকদিম) এবং উল্লেখ করা (যিকর)—এগুলোর প্রতিটির মাকাম বা প্রেক্ষিত তার বিপরীত অবস্থার প্রেক্ষিত থেকে ভিন্ন।
পৃথকীকরণের (ফাসল) প্রেক্ষিত সংযোগের (ওয়াসল) প্রেক্ষিত থেকে ভিন্ন।
সংক্ষিপ্তকরণের (ঈজায) প্রেক্ষিত তার বিপরীতের (বিস্তারিত বর্ণনা) প্রেক্ষিত থেকে ভিন্ন।
অনুরূপভাবে: বুদ্ধিমান ব্যক্তির সাথে সম্বোধন এবং নির্বোধ ব্যক্তির সাথে সম্বোধন (ভিন্নতর), আর প্রতিটি শব্দের জন্য তার সঙ্গীয় শব্দের সাথে একটি নির্দিষ্ট মাকাম রয়েছে।
(১/ ১৮৮) কথার সৌন্দর্য ও গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় উপযুক্ত বিবেচনার (২) সাথে তার সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে, আর এর অভাবে তার মানহানি ঘটে। সুতরাং পরিস্থিতির দাবি (মুকতাদা আল-হাল) হলো উপযুক্ত বিবেচনা।
(১/ ১৯১) সুতরাং অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাঘাত) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বাক্য গঠনের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করে। অনেক সময় একে 'ফাসাহাত' (বিশুদ্ধতা বা প্রাঞ্জলতা) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। আর এর (৩) দুটি সীমা রয়েছে:
সর্বোচ্চ: যা অলৌকিকতার (ইজায) সীমা বা তার নিকটবর্তী।
সর্বনিম্ন: যা থেকে যদি কথাকে পরিবর্তন করে তার নিচে নামানো হয়, তবে তা সাবলীল ভাষাবিদদের নিকট পশুপাখির আওয়াজের সমতুল্য হয়ে যায়।
আর এ দুইয়ের মাঝে অনেক স্তর রয়েছে এবং সেগুলোর অনুগামী এমন আরও অনেক দিক রয়েছে যা কথার শ্রী বৃদ্ধি করে।
বক্তার ক্ষেত্রে: এটি একটি সুপ্ত ক্ষমতা বা দক্ষতা (মালাকাহ), যার মাধ্যমে তিনি অলঙ্কারপূর্ণ কথা রচনায় সক্ষম হন।
সুতরাং জানা গেল: প্রত্যেক 'বালিগ' (সাবলীল ও অলঙ্কৃত ভাষী) হচ্ছে 'ফাসিহ' (বিশুদ্ধভাষী), কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ প্রত্যেক ফাসিহ ব্যক্তি বালিগ হওয়া) সঠিক নয়।
(১/ ১৯৭) আর বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো:
১ - উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল করা থেকে বেঁচে থাকা।
২ - এবং অশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধ কথাকে পৃথক করা:
দ্বিতীয় বিষয়টি (৪): এর কিছু অংশ মূল ভাষাতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব (সারফ) বা ব্যাকরণশাস্ত্রের (নাহু) মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়, অথবা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়। আর এটি অর্থগত জটিলতা (তাকীদ মানাভী) ব্যতীত অন্য সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(1/ 198) وما يحترز به عن الأوّل (1): علم المعانى.
وما يحترز به عن التعقيد المعنوىّ: علم البيان.
وما يعرف به وجوه التحسين: علم البديع.
وكثير (2) يسمّى الجميع: علم البيان.
وبعضهم يسمّى الأول: علم المعانى، والأخيرين: علم البيان، والثلاثة:
علم البديع.
***
--------------------------------------------
(১/ ১৯৮) এবং যার মাধ্যমে প্রথমটি (১) হতে রক্ষা পাওয়া যায় তা হলো: ইলমুল মাআনি (অর্থ সংক্রান্ত বিদ্যা)।
আর যার মাধ্যমে অর্থগত জটিলতা হতে রক্ষা পাওয়া যায় তা হলো: ইলমুল বায়ান (প্রকাশভঙ্গি সংক্রান্ত বিদ্যা)।
এবং যার মাধ্যমে অলঙ্করণের দিকসমূহ জানা যায় তা হলো: ইলমুল বাদি (অলঙ্কারশাস্ত্র)।
আর অনেকেই (২) এই সবগুলোকে একত্রে ‘ইলমুল বায়ান’ নামে অভিহিত করেন।
আবার কেউ কেউ প্রথমটিকে ‘ইলমুল মাআনি’, শেষোক্ত দুইটিকে ‘ইলমুল বায়ান’ এবং এই তিনটিকে একত্রে:
‘ইলমুল বাদি’ নামে অভিহিত করেন।
***
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفنّ الأوّل علم المعاني(1/ 200) وهو: علم يعرف به أحوال اللفظ العربى التى بها يطابق مقتضى الحال.
(1/ 206) وينحصر فى ثمانية أبواب:
1 - أحوال الإسناد الخبرىّ.
2 - أحوال المسند إليه.
3 - أحوال المسند.
4 - أحوال متعلّقات الفعل.
5 - القصر.
6 - الإنشاء.
7 - الفصل والوصل.
8 - الإيجاز والإطناب والمساواة.
لأنّ الكلام إمّا خبر، وإما إنشاء، لأنه:
إن كان لنسبته خارج تطابقه أو لا تطابقه: فخبر، وإلا: فإنشاء.
والخبر: لا بدّ له من مسند إليه، ومسند، وإسناد.
(1/ 209) والمسند: قد يكون له متعلّقات إذا كان فعلا أو فى معناه.
وكلّ من الإسناد والتعلّق: إما بقصر أو بغير قصر.
وكلّ جملة قرنت بأخرى: إمّا معطوفة عليها أو غير معطوفة.
والكلام البليغ: إمّا زائد على أصل المراد لفائدة، أو غير زائد.
تنبيه (1/ 213) صدق الخبر: مطابقته للواقع، وكذبه: عدمها.
وقيل: «مطابقته لاعتقاد المخبر ولو خطأ، وعدمها (1)؛ بدليل قوله تعالى:
إِنَّ الْمُنافِقِينَ لَكاذِبُونَ (2)»:
--------------------------------------------
প্রথম শিল্প: ইলমুল মাআনি (অর্থবিজ্ঞান)(১/ ২০০) আর তা হলো: এমন এক শাস্ত্র যার মাধ্যমে আরবি শব্দের এমন সব অবস্থা জানা যায়, যার দ্বারা শব্দ পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(১/ ২০৬) এটি আটটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ:
১ - সংবাদমূলক সম্বন্ধের (ইসনাদে খবরী) অবস্থাসমূহ।
২ - মুসনাদ ইলাইহি-র অবস্থাসমূহ।
৩ - মুসনাদ-এর অবস্থাসমূহ।
৪ - ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির (মুতায়াল্লাকাত) অবস্থাসমূহ।
৫ - কাসর (সীমাবদ্ধকরণ)।
৬ - ইনশা (সৃজনমূলক বাক্য)।
৭ - ফাসল (বিচ্ছেদ) ও ওয়াসল (সংযোগ)।
৮ - ইজায (সংক্ষিপ্ততা), ইত্নাব (দীর্ঘতা) ও মুসাওয়াত (সমতা)।
কারণ কথা হয় সংবাদ (খবর), অথবা সৃজনমূলক (ইনশা); কেননা:
কথার সম্বন্ধের যদি এমন কোনো বাহ্যিক বাস্তবতা থাকে যার সাথে তা মিলে যায় অথবা মিলে না যায়, তবে তা সংবাদ (খবর)। আর যদি তা না হয়, তবে তা সৃজনমূলক (ইনশা)।
আর খবরের জন্য অবশ্যই মুসনাদ ইলাইহি, মুসনাদ এবং ইসনাদ (সম্বন্ধ) থাকতে হবে।
(১/ ২০৯) আর মুসনাদ যদি ক্রিয়া বা ক্রিয়ার অর্থবোধক হয়, তবে তার কিছু সংশ্লিষ্ট বিষয় (মুতায়াল্লাকাত) থাকতে পারে।
ইসনাদ এবং মুতায়াল্লাকাত (সংশ্লিষ্টতা)-এর প্রতিটিই হয় কাসর (সীমাবদ্ধকরণ) সহ হবে অথবা কাসর ছাড়া হবে।
একটির সাথে যুক্ত প্রতিটি বাক্যই হয় তার ওপর আতফ (সংযুক্ত) হবে অথবা আতফ হবে না।
সাবলীল কথা (কালামে বালিগ) কোনো উপকারের জন্য মূল উদ্দেশ্যের অতিরিক্ত হতে পারে অথবা অতিরিক্ত না-ও হতে পারে।
সতর্কীকরণ (১/ ২১৩): খবরের সত্যতা হলো বাস্তবের সাথে তার মিল থাকা, আর মিথ্যা হলো তার অমিল থাকা।কেউ কেউ বলেছেন: «খবরের সত্যতা হলো সংবাদদাতার বিশ্বাসের সাথে তার মিল থাকা, যদিও তা ভুল হয়; আর মিথ্যা হলো তার অমিল থাকা (১); এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী:
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (২)»:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(1/ 217) وردّ: بأن المعنى: لكاذبون فى الشهادة، أو فى تسميتها، أو فى المشهود به فى زعمهم.
الجاحظ (1) «مطابقته مع الاعتقاد، وعدمها معه (2)، وغيرهما (3) ليس بصدق ولا كذب؛ بدليل: أَفْتَرى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَمْ بِهِ جِنَّةٌ (4)؛ لأن المراد بالثانى غير الكذب؛ لأنه قسيمه، وغير الصدق؛ لأنهم لم يعتقدوه»:
وردّ: بأنّ المعنى: «أم لم يفتر؟ ! »؛ فعبّر عنه ب «الجنّة»؛ لأنّ المجنون لا افتراء له.
أحوال الإسناد الخبريّ(1/ 224) لا شك أن قصد المخبر بخبره إفادة المخاطب: إمّا الحكم، أو كونه عالما به؛ ويسمّى الأول: فائدة الخبر. والثانى: لازمها.
(1/ 232) وقد ينزّل العالم بهما منزلة الجاهل؛ لعدم جريه على موجب العلم؛ فينبغى أن يقتصر من التركيب على قدر الحاجة:
(1/ 235) فإن كان خالى الذّهن من الحكم، والتردّد فيه: استغنى عن مؤكّدات الحكم. وإن كان متردّدا فيه، طالبا له: حسن تقويته بمؤكّد.
وإن كان منكرا: وجب توكيده بحسب الإنكار؛ كما قال الله تعالى- حكاية عن رسل عيسى- عليه السلام، إذ كذّبوا فى المرّة الأولى: إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ (5)، وفى الثانية: إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ (6).
(1/ 242) ويسمّى الضّرب الأول: ابتدائيّا، والثانى: طلبيّا، والثالث:
إنكاريّا، وإخراج الكلام عليها: إخراجا على مقتضى الظاهر.
--------------------------------------------
(১/ ২১৭) আর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এর অর্থ হলো: তারা তাদের সাক্ষ্যপ্রদানে মিথ্যাবাদী, অথবা এর নামকরণে, অথবা তাদের ধারণা অনুযায়ী যা সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে।
আল-জাহিয (১) [বলেন]: "বিশ্বাসের সাথে [সংবাদের] মিল থাকা, এবং মিল না থাকা (২), এবং এ দুটির বাইরের কোনো অবস্থা (৩) সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয়; এর প্রমাণ হলো: 'সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে?' (৪); কারণ এখানে দ্বিতীয়টি (উন্মাদনা) দ্বারা মিথ্যা ভিন্ন অন্য কিছু উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; যেহেতু এটি মিথ্যার সমান্তরাল একটি বিভাগ, এবং এটি সত্যও নয়; কারণ তারা তা বিশ্বাস করত না।":
আর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এর অর্থ হলো: 'নাকি সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেনি?'; আর একে 'উন্মাদনা' শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে; কারণ উন্মাদ ব্যক্তির পক্ষে মিথ্যা উদ্ভাবন করা সম্ভব নয়।
সংবাদমূলক সম্বন্ধের (ইসনাদ খবরী) অবস্থাসমূহ(১/ ২২৪) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সংবাদদাতার নিজ সংবাদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য থাকে সম্বোধিত ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ের ফায়দা বা উপকার প্রদান করা: হয় কোনো বিধান সম্পর্কে জানানো, অথবা সংবাদদাতার সেই বিধান সম্পর্কে জ্ঞান আছে তা জানানো; প্রথমটিকে বলা হয়: ফায়িদাতুল খবর (সংবাদের উপকারিতা)। আর দ্বিতীয়টিকে বলা হয়: লাযিমুল ফায়িদাহ।
(১/ ২৩২) আর কখনো কখনো কোনো বিষয়ে জ্ঞানবান ব্যক্তিকে অজ্ঞ ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত করা হয়; তার আচরণের মধ্যে জ্ঞানের প্রতিফলন না থাকার কারণে। এমতাবস্থায় বাক্যগঠন কেবল প্রয়োজনের পরিমাণ অনুযায়ী হওয়া উচিত:
(১/ ২৩৫) যদি সম্বোধিত ব্যক্তির মন বিধানটি সম্পর্কে এবং সে বিষয়ে কোনো দ্বিধা থেকে মুক্ত থাকে, তবে বিধানটিতে কোনো তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের উপকরণের প্রয়োজন নেই। আর যদি সে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং বিধানটি জানতে আগ্রহী হয়, তবে তাকিদ দিয়ে একে শক্তিশালী করা উত্তম।
আর যদি সে অস্বীকারকারী হয়, তবে অস্বীকারের মাত্রা অনুযায়ী তাকিদ দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রেরিত রাসূলদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন—যখন তাদেরকে প্রথমবার মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা হয়েছিল: 'নিশ্চয় আমরা তোমাদের নিকট প্রেরিত রাসূল' (৫), এবং দ্বিতীয়বার বলেছিলেন: 'নিশ্চয় আমরা তোমাদের নিকট অবশ্যই প্রেরিত রাসূল' (৬)।
(১/ ২৪২) প্রথম প্রকারটিকে বলা হয়: ইবতিদায়ী, দ্বিতীয়টিকে: তালাবী এবং তৃতীয়টিকে:
ইনকারী; আর এসব ক্ষেত্রে কথাকে এভাবে উপস্থাপন করাকে বলা হয়: প্রকাশ্য চাহিদানুযায়ী (মুকতাযায়ে যাহির) উপস্থাপন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(1/ 244) وكثيرا ما يخرج على خلافه.
إخراج الكلام على خلاف مقتضى الظاهرفيجعل غير السائل كالسائل: إذا قدّم إليه ما يلوّح له بالخبر؛ فيستشرف له استشراف الطالب المتردّد؛ نحو: وَلا تُخاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ (1).
(1/ 247) وغير (2) المنكر كالمنكر: إذا لاح عليه شيء من أمارات الإنكار؛ نحو (3) [من السريع]:
جاء شقيق عارضا رمحه
… إنّ بنى عمّك فيهم رماح
(1/ 248) والمنكر كغير المنكر (4): إذا كان معه ما إن تأمّله ارتدع؛ نحو:
لا رَيْبَ فِيهِ (5).
(1/ 241) وهكذا اعتبارات النّفى.
ثم الإسناد:
(1/ 257) 1 - منه: حقيقة عقلية، وهى: إسناد الفعل- أو معناه- إلى ما هو له عند المتكلّم، فى الظاهر؛ كقول المؤمن: أنبت الله البقل، وقول الجاهل: أنبت الرّبيع البقل، وقولك: جاء زيد، وأنت تعلم أنه لم يجىء.
(1/ 263) 2 - ومنه: مجاز عقلىّ، وهو: إسناده إلى ملابس له غير ما هو له بتأوّل.
وله (6) ملابسات شتّى: يلابس الفاعل، والمفعول به، والمصدر، والزمان،
--------------------------------------------
(১/ ২৪৪) এবং প্রায়শই তা এর পরিপন্থী হয়ে থাকে।
বাহ্যিক পরিস্থিতির চাহিদার বিপরীতে বক্তব্য উপস্থাপনফলে প্রশ্নকারী নয় এমন ব্যক্তিকে প্রশ্নকারীর মতো গণ্য করা হয়: যখন তার সামনে এমন কিছু পেশ করা হয় যা তাকে সংবাদের প্রতি ইঙ্গিত দেয়; ফলে সে দ্বিধান্বিত জিজ্ঞাসুর ন্যায় সেটির প্রতীক্ষায় থাকে; যেমন: "এবং যারা জুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে তুমি আমার নিকট কোনো কথা বলো না; নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে।" (১)।
(১/ ২৪৭) এবং অস্বীকারকারী নয় এমন ব্যক্তিকে (২) অস্বীকারকারীর মতো গণ্য করা: যখন তার মধ্যে অস্বীকারের কোনো আলামত বা চিহ্ন প্রকাশ পায়; যেমন (৩) [সারী' ছন্দ থেকে]:
শাকিক তার বর্শা আড়াআড়িভাবে ধরে উপস্থিত হলো... নিশ্চয়ই তোমার চাচাতো ভাইদের মাঝেও বর্শা রয়েছে।
(১/ ২৪৮) এবং অস্বীকারকারীকে অস্বীকারকারী নয় এমন ব্যক্তির মতো গণ্য করা (৪): যখন তার নিকট এমন কিছু বিদ্যমান থাকে যা নিয়ে চিন্তা করলে সে (অস্বীকার থেকে) বিরত হবে; যেমন:
এতে কোনো সন্দেহ নেই (৫)।
(১/ ২৪১) আর না-বোধক বাক্যের ক্ষেত্রেও বিবেচনাগুলো এমনই।
অতঃপর ইসনাদ (সম্বন্ধন):
(১/ ২৫৭) ১ - এর একটি প্রকার হলো: আকলি হাকিকত (বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতা), আর তা হলো: ক্রিয়াকে—অথবা তার অর্থকে—বক্তার নিকট বাহ্যিকভাবে সেটি যার প্রাপ্য তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা; যেমন মুমিনের কথা: "আল্লাহ উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছেন", এবং মূর্খের কথা: "বসন্তকাল উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছে", এবং তোমার কথা: "জায়েদ এসেছে", অথচ তুমি জানো যে সে আসেনি।
(১/ ২৬৩) ২ - আর এর অপর প্রকার হলো: আকলি মাজায (বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক), আর তা হলো: কোনো ব্যাখ্যার মাধ্যমে ক্রিয়াকে তার প্রকৃত হকদার ব্যতীত অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা।
আর ক্রিয়ার (৬) বিভিন্ন ধরণের সংশ্লিষ্টতা থাকে: তা সংশ্লিষ্ট হয় কর্তা, কর্ম, মূল ধাতু (মাসদার) এবং সময়ের সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والمكان والسبب:
فإسناده إلى الفاعل أو المفعول به- إذا كان مبنيّا له حقيقة كما مرّ.
وإلى غيرهما- للملابسة-: مجاز؛ كقولهم: عيشة راضية، وسيل مفعم، وشعر شاعر، ونهاره صائم، ونهر جار، وبنى الأمير المدينة.
(1/ 268) وقولنا: «بتأوّل»: يخرج ما مرّ من قول الجاهل؛ ولهذا لم يحمل نحو قوله (1) [من المتقارب]:
أشاب الصّغير وأفنى الكبي
… ر كرّ الغداة ومرّ العشى
على المجاز؛ ما لم يعلم أو يظنّ بأنّ قائله لم يرد ظاهره؛ كما استدلّ على أنّ إسناد «ميّز» فى قول أبى النّجم [من الرجز]:
ميّز عنه قنزعا عن قنزع
… جذب اللّيالى أبطئ أو أسرعي (2)
مجاز بقوله عقيبه [من الرجز]:
أفناه قيل الله للشّمس اطلعى
(1/ 272) وأقسامه أربعة: لأنّ طرفيه:
إمّا حقيقتان: نحو: أنبت الربيع البقل.
أو مجازان: نحو: أحيا الأرض شباب الزّمان.
أو مختلفان: نحو: أنبت البقل شباب الزمان، وأحيا الأرض الربيع.
(1/ 274) وهو فى القرآن كثير: وَإِذا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آياتُهُ زادَتْهُمْ إِيماناً (3)،
--------------------------------------------
এবং স্থান ও কারণ: সুতরাং একে কর্তা বা কর্মের দিকে সম্বন্ধ করা—যদি তা প্রকৃতপক্ষে তার জন্যই নির্ধারিত হয় যেমন পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা—কোনো সম্পর্কের (মুলাবাসাহ) কারণে—তা রূপক (মাজায); যেমন তাদের কথা: সন্তুষ্ট জীবন, টইটুম্বুর প্লাবন, কাব্যিক কবিতা, তার দিন রোযাদার, প্রবহমান নদী এবং আমীর শহরটি নির্মাণ করেছেন।
(১/ ২৬৮) আর আমাদের কথা: «ব্যাখ্যার মাধ্যমে»: এর দ্বারা যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে অর্থাৎ জাহেলের (অজ্ঞ ব্যক্তির) উক্তি বাদ পড়ে যায়; একারণেই নিম্নোক্ত উক্তিটির মতো বক্তব্যকে (মুতাকারিব ছন্দ থেকে):
সকাল-সন্ধ্যার পুনরাবৃত্তি ছোটকে বৃদ্ধ করে দেয় এবং বড়কে নিঃশেষ করে দেয়
…মাজায বা রূপক হিসেবে গণ্য করা হবে না; যতক্ষণ না জানা যায় বা প্রবল ধারণা হয় যে, বক্তা এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য করেননি; যেমন দলীল দেওয়া হয়েছে যে, আবু নাজমের উক্তিতে (রাজায ছন্দ থেকে) «পৃথক করা»র সম্বন্ধটি:
রাতগুলোর অতিবাহিত হওয়া—তা ধীর হোক বা দ্রুত হোক—তার মাথা থেকে চুলের গুচ্ছগুলোকে পৃথক করে দিয়েছে (২)
…রূপক (মাজায), তার পরবর্তী এই উক্তির কারণে (রাজায ছন্দ থেকে):
তাকে নিঃশেষ করেছে সূর্যের প্রতি আল্লাহর বাণী: উদিত হও
(১/ ২৭২) এবং এর প্রকারভেদ চারটি: কারণ এর দুই প্রান্ত:
হয়তো উভয়ই হাকীকত (প্রকৃত): যেমন: বসন্ত উদ্ভিদ জন্মানো।
অথবা উভয়ই মাজায (রূপক): যেমন: সময়ের যৌবন যমীনকে জীবিত করা।
অথবা ভিন্ন ভিন্ন: যেমন: সময়ের যৌবন উদ্ভিদ জন্মানো, এবং বসন্ত যমীনকে জীবিত করা।
(১/ ২৭৪) আর এটি কুরআনে প্রচুর রয়েছে: এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يُذَبِّحُ أَبْناءَهُمْ (1)، يَنْزِعُ عَنْهُما لِباسَهُما (2)، يَوْماً يَجْعَلُ الْوِلْدانَ شِيباً (3)، وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقالَها (4).
(1/ 275) وهو غير مختصّ بالخبر، بل يجرى فى الإنشاء؛ نحو يا هامانُ ابْنِ لِي صَرْحاً (5).
(1/ 275) ولا بدّ له من قرينة:
لفظيّة: كما مرّ.
أو معنويّة: كاستحالة قيام المسند بالمذكور:
عقلا: كقولك: محبّتك جاءت بى إليك.
أو عادة: نحو: هزم الأمير الجند.
وكصدوره عن الموحّد فى مثل [من المتقارب]:
أشاب الصّغير
…(1/ 276) ومعرفة حقيقته:
إمّا ظاهرة: كما فى قوله تعالى: فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ (6) أى: فما ربحوا فى تجارتهم.
وإمّا خفيّة: كما فى قولك: سرّتنى رؤيتك، أى: سرّنى الله عند رؤيتك، وقوله [من مجزوء الوافر]:
يزيدك وجهه حسنا
… إذا ما زدته نظرا (7)
أى: يزيدك الله حسنا فى وجهه.
--------------------------------------------
সে তাদের সন্তানদের যবেহ করছিল (১), সে তাদের থেকে তাদের পোশাক খুলে নিচ্ছিল (২), এমন একদিন যা শিশুদের বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে (৩), এবং পৃথিবী তার ভারসমূহ বের করে দেবে (৪)।
(১/ ২৭৫) এবং এটি কেবল বিবৃতিনির্ভর বাক্যের (খবর) সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যেও (ইনশা) কার্যকর হয়; যেমন: হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো (৫)।
(১/ ২৭৫) আর এর জন্য একটি অনুষঙ্গ (কারিনা) থাকা আবশ্যক:
শাব্দিক: যেমন ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
অথবা অর্থগত: যেমন উল্লিখিত কর্তার মাধ্যমে বিধেয়টি (মুসনাদ) সংঘটিত হওয়া অসম্ভব হওয়া:
বুদ্ধিগতভাবে: যেমন তোমার কথা: তোমার প্রতি ভালোবাসা আমাকে তোমার কাছে নিয়ে এসেছে।
অথবা অভ্যাসগতভাবে: যেমন: আমীর সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করেছেন।
এবং যেমন কোনো একেশ্বরবাদীর (মুওয়াহহিদ) পক্ষ থেকে উচ্চারিত হওয়ার ক্ষেত্রে [মুতাকারিইব ছন্দ থেকে]:
তা ছোটকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে
…(১/ ২৭৬) এবং এর প্রকৃত অবস্থা জানা থাকা:
হয় তা স্পষ্ট: যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে: ফলে তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি (৬) অর্থাৎ: তারা তাদের ব্যবসায় লাভবান হয়নি।
অথবা তা প্রচ্ছন্ন: যেমন তোমার কথায়: তোমার দর্শন আমাকে আনন্দিত করেছে, অর্থাৎ: তোমাকে দেখার সময় আল্লাহ আমাকে আনন্দিত করেছেন। এবং কবির কথা [মাজজু আল-ওয়াফির ছন্দ থেকে]:
তার চেহারা তোমার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়
… যখনই তুমি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করো (৭)
অর্থাৎ: আল্লাহ তার চেহারায় তোমার জন্য সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২০)
(1/ 278) وأنكره (1) السكاكىّ؛ ذاهبا إلى: (أنّ ما مرّ ونحوه استعارة بالكناية؛ على أنّ المراد بالربيع الفاعل الحقيقيّ؛ بقرينة نسبة الإنبات إليه، وعلى هذا القياس غيره):
وفيه نظر (2):
أ- لأنه يستلزم أن يكون المراد ب «عيشة» فى قوله تعالى: فَهُوَ فِي عِيشَةٍ راضِيَةٍ (3): صاحبها؛ كما سيأتى.
- ألّا تصحّ الإضافة فى نحو: «نهاره صائم»؛ لبطلان إضافة الشيء إلى نفسه.
- وألّا يكون الأمر بالبناء لهامان.
- وأن يتوقّف نحو: «أنبت الربيع البقل» على السمع.
واللوازم كلّها منتفية.
ب- ولأنه ينتقض بنحو: «نهاره صائم»؛ لاشتماله على ذكر طرفى التشبيه.
أحوال المسند إليه (4)
أولا: حذف المسند إليه، وذكره.
حذف المسند إليه:
(1/ 284) أما حذفه:
1 - للاحتراز عن العبث بناء على الظاهر.
2 - أو تخييل العدول إلى أقوى الدليلين من العقل واللفظ؛ كقوله [من
--------------------------------------------
(১/ ২৭৮) এবং সাক্কাকি একে (১) অস্বীকার করেছেন; এই অভিমত ব্যক্ত করে যে: (অতীত হওয়া বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ উদাহরণগুলো হলো ‘ইস্তিয়ারা বিল কিনায়া’ (ইশারাযুক্ত রূপক); এই ভিত্তিতে যে, ‘বসন্ত’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কর্তা; শস্য উদগত করার বিষয়টি তার দিকে সম্বন্ধ করার সংকেত (কারিনা) হিসেবে, এবং এই নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্যগুলো হবে):
এবং এতে আপত্তির অবকাশ (২) রয়েছে:
ক- কারণ এটি এই বিষয়টি আবশ্যক করে যে, মহান আল্লাহর বাণী: “অতঃপর সে সন্তোষজনক জীবনে (৩) থাকবে”—এতে ‘জীবন’ (ঈশাহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হবে ‘জীবনের অধিকারী ব্যক্তি’; যেমনটি সামনে আসবে।
খ- ‘তার দিনটি রোজা পালনকারী’—এর মতো বাক্যগুলোতে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা সঠিক হবে না; কারণ কোনো বস্তুকে নিজের দিকেই সম্বন্ধ করার অসারতার কারণে।
গ- এবং হামানকে নির্মাণের আদেশ দেওয়ার বিষয়টি থাকবে না (অর্থাৎ এটি রূপক হবে না)।
ঘ- এবং ‘বসন্ত শাক-সবজি উদগত করেছে’—এর মতো বাক্যগুলো শ্রুতির (নকলি দলিলের) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
আর এই সমস্ত আবশ্যিক বিষয়গুলোই প্রত্যাখ্যাত।
খ- এবং কারণ এটি ‘তার দিনটি রোজা পালনকারী’—এর মতো উদাহরণ দ্বারা খণ্ডিত হয়; কেননা এটি উপমার উভয় প্রান্তের উল্লেখকে অন্তর্ভুক্ত করে।
মুসনাদ ইলাইহ-এর অবস্থাসমূহ (৪)
প্রথমত: মুসনাদ ইলাইহ বিলোপ করা এবং তা উল্লেখ করা।
মুসনাদ ইলাইহ বিলোপ করা:
(১/ ২৮৪) আর এর বিলোপের কারণগুলো হলো:
১ - বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে অনর্থকতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
২ - অথবা বুদ্ধি এবং শব্দ—এই দুই দলিলের মধ্যে অধিকতর শক্তিশালীটির দিকে ফিরে যাওয়ার ধারণা তৈরি করা; যেমন জনৈক কবির উক্তি [থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الخفيف]:
قال لى: كيف أنت قلت: عليل (1)
3 - أو اختبار تنبّه السامع عند القرينة.
4 - أو مقدار تنبّهه.
5 - أو إيهام صونه عن لسانك.
6 - أو عكسه.
7 - أو تأتّى الإنكار لدى الحاجة.
8 - أو تعيّنه.
9 - أو ادّعاء التعيّن.
10 - أو نحو ذلك.
ذكر المسند إليه:
(1/ 288) وأمّا ذكره، ف:
1 - لكونه الأصل ولا مقتضي للعدول عنه.
2 - أو للاحتياط؛ لضعف التعويل على القرينة.
3 - أو التنبيه على غباوة السامع.
4 - أو زيادة الإيضاح والتقرير.
5 - أو إظهار تعظيمه.
6 - أو إهانته.
7 - أو التبرّك بذكره.
8 - أو استلذاذه.
9 - أو بسط الكلام حيث الإصغاء مطلوب؛ نحو: هِيَ عَصايَ (2).
ثانيا: تعريف المسند إليه، وتنكيره.
أ- تعريف المسند إليه:
تعريف المسند إليه بالإضمار:
(1/ 291) وأمّا تعريفه: فبالإضمار:
1 - لأنّ المقام للتكلّم.
--------------------------------------------
[খাফীফ ছন্দ]:
তিনি আমাকে বললেন: তুমি কেমন আছো? আমি বললাম: অসুস্থ (১)
৩ - অথবা সূত্রের উপস্থিতিতে শ্রোতার সচেতনতা পরীক্ষা করা।
৪ - অথবা তার সচেতনতার মাত্রা যাচাই করা।
৫ - অথবা নিজের জিহ্বাকে তার নাম উচ্চারণ থেকে রক্ষা করার ধারণা দেওয়া।
৬ - অথবা এর বিপরীত।
৭ - অথবা প্রয়োজনকালে অস্বীকার করার পথ সুগম রাখা।
৮ - অথবা তার সুনির্দিষ্ট হওয়া।
৯ - অথবা সুনির্দিষ্ট হওয়ার দাবি করা।
১০ - অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু।
মুসনাদ ইলাইহি-র উল্লেখ:
(১/ ২৮৮) আর এর উল্লেখের কারণসমূহ হলো:
১ - যেহেতু এটিই মূল ব্যাকরণিক ভিত্তি এবং তা বর্জনের কোনো সংগত কারণ নেই।
২ - অথবা সতর্কতাস্বরূপ; যেহেতু সূত্রের ওপর নির্ভর করা দুর্বল হতে পারে।
৩ - অথবা শ্রোতার বোধশক্তির স্থূলতার প্রতি ইঙ্গিত করা।
৪ - অথবা অধিকতর স্পষ্টীকরণ ও সুদৃঢ়করণ।
৫ - অথবা তার মর্যাদা প্রদর্শন করা।
৬ - অথবা তাকে হীন প্রতিপন্ন করা।
৭ - অথবা তার উল্লেখের মাধ্যমে বরকত হাসিল করা।
৮ - অথবা তার নাম উচ্চারণে তৃপ্তি লাভ করা।
৯ - অথবা বক্তব্য দীর্ঘ করা যেখানে শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ কাম্য; যেমন: "এটি আমার লাঠি" (২)।
দ্বিতীয়ত: মুসনাদ ইলাইহি-কে নির্দিষ্ট (মারেফাহ) ও অনির্দিষ্ট (নাকেরাহ) করা।
ক- মুসনাদ ইলাইহি-কে নির্দিষ্ট করা:
সর্বনামের মাধ্যমে মুসনাদ ইলাইহি-কে নির্দিষ্ট করা:
(১/ ২৯১) আর একে সর্বনামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার কারণ:
১ - যেহেতু প্রেক্ষিতটি হলো উত্তম পুরুষের কথোপকথন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 - أو الخطاب.
3 - أو الغيبة.
(1/ 294) وأصل الخطاب أن يكون لمعيّن، وقد يترك إلى غيره؛ ليعمّ كلّ مخاطب؛ نحو: وَلَوْ تَرى إِذِ الْمُجْرِمُونَ ناكِسُوا رُؤُسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ (1) أى:
تناهت حالهم فى الظهور؛ فلا يختصّ بها مخاطب.
[أتعريفه]
تعريف المسند إليه بالعلمية:(1/ 296) وبالعلمية:
1 - لإحضاره بعينه فى ذهن السامع ابتداء باسم مختصّ به؛ نحو: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (2).
2 - أو تعظيم.
3 - أو إهانة.
4 - أو كناية.
5 - أو إيهام استلذاذه.
6 - أو التبرّك به.
7 - أو نحو ذلك.
تعريف المسند إليه بالموصليّة:(1/ 302) وبالموصوليّة:
1 - لعدم علم المخاطب بالأحوال المختصّة به سوى الصّلة؛ كقولك: الذى كان معنا أمس رجل عالم.
2 - أو لاستهجان التصريح بالاسم.
3 - أو زيادة التقرير؛ نحو: وَراوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِها عَنْ نَفْسِهِ (3).
4 - أو التفخيم؛ نحو: فَغَشِيَهُمْ مِنَ الْيَمِّ ما غَشِيَهُمْ (4).
(1/ 305) 5 - أو تنبيه المخاطب على خطأ؛ نحو [من الكامل]:
--------------------------------------------
২ - অথবা সম্বোধন।
৩ - অথবা পরোক্ষ উক্তি।
(১/ ২৯৪) সম্বোধনের মূল নিয়ম হলো তা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য হওয়া; তবে কখনো কখনো তা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; যেন তা প্রত্যেক সম্বোধনযোগ্য ব্যক্তিকে শামিল করে; যেমন: "আর যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়াবে (১)" অর্থাৎ:
তাদের অবস্থা প্রকাশের চরম সীমায় পৌঁছেছে; ফলে তা কোনো নির্দিষ্ট সম্বোধনকারীর জন্য বিশেষিত নয়।
[মুসনাদ ইলাইহি-কে নির্দিষ্টকরণ]
মুসনাদ ইলাইহি-কে নাম (আলাম) দ্বারা নির্দিষ্ট করা:(১/ ২৯৬) এবং নাম (আলাম) দ্বারা নির্দিষ্ট করার কারণগুলো হলো:
১ - শ্রোতার মস্তিষ্কে শুরুতেই তাকে তার নির্দিষ্ট বিশেষ নামের মাধ্যমে উপস্থিত করার জন্য; যেমন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয় (২)"।
২ - অথবা সম্মান প্রদর্শনের জন্য।
৩ - অথবা অপমান করার জন্য।
৪ - অথবা কোনো বিষয়ের ইঙ্গিত বা কিনায়া হিসেবে।
৫ - অথবা নামের মাধুর্য আস্বাদন প্রকাশের জন্য।
৬ - অথবা তার মাধ্যমে বরকত অর্জনের জন্য।
৭ - অথবা অনুরূপ অন্যান্য কারণে।
মুসনাদ ইলাইহি-কে সম্বন্ধবাচক সর্বনাম (মাওসুল) দ্বারা নির্দিষ্ট করা:(১/ ৩০২) এবং সম্বন্ধবাচক সর্বনাম দ্বারা নির্দিষ্ট করার কারণগুলো হলো:
১ - শ্রোতার কাছে সেই সংযোজক বাক্য (সিলাহ) ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ অবস্থা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকা; যেমন আপনার উক্তি: "যে আমাদের সাথে গতকাল ছিল, সে একজন আলেম।"
২ - অথবা স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ করাটা অশোভন মনে করার কারণে।
৩ - অথবা বক্তব্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য; যেমন: "আর সে (ইউসুফ) যে মহিলার ঘরে ছিল, সেই মহিলা তাকে কুপ্ররোচনা দিতে লাগল (৩)"।
৪ - অথবা গাম্ভীর্য ও ভয়াবহতা প্রকাশের জন্য; যেমন: "অতঃপর সমুদ্র তাদের ঢেকে ফেলল সেভাবে, যেভাবে তা ঢেকে ফেলে (৪)"।
(১/ ৩০৫) ৫ - অথবা শ্রোতাকে তার ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য; যেমন [কামিল ছন্দ থেকে]:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إنّ الّذين ترونهم إخوانكم
… يشفى غليل صدورهم أن تصرعوا (1)
6 - أو الإيماء إلى وجه بناء الخبر؛ نحو: إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ داخِرِينَ (2).
7 - ثم إنّه ربّما جعل ذريعة إلى التعريض بالتعظيم:
لشأنه؛ نحو [من الكامل]:
إنّ الّذى سمك السماء بنى لنا
… بيتا دعائمه أعزّ وأطول (3)
أو شأن غيره نحو: الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْباً كانُوا هُمُ الْخاسِرِينَ (4).
تعريف المسند إليه بالإشارة:(1/ 309) وبالإشارة:
1 - لتمييزه أكمل تمييز؛ نحو [من البسيط]:
هذا أبو الصّقر فردا في محاسنه
… من نسل شيبان بين الضّال والسّلم (5)
2 - أو التعريض بغباوة السامع؛ كقوله [من الطويل]:
أولئك آبائى فجئنى بمثلهم
… إذا جمعتنا يا جرير المجامع (6)
3 - أو بيان حاله فى القرب، أو البعد، أو التوسّط؛ كقولك: هذا أو ذلك أو ذاك زيد.
(1/ 312) 4 - أو تحقيره بالقرب؛ نحو: أَهذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ (7).
--------------------------------------------
নিশ্চয় যাদের তোমরা তোমাদের ভাই হিসেবে দেখছ
… তাদের অন্তরের জ্বালা বা তৃষ্ণা মিটবে যদি তোমরা ধরাশায়ী হও (১)
৬ - অথবা সংবাদের কাঠামোর আঙ্গিকের দিকে ইঙ্গিত করা; যেমন: নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত সম্পর্কে অহংকার করে তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে (২)।
৭ - তারপর কখনো কখনো একে মহিমা প্রকাশের প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যম বানানো হয়:
তাঁর মর্যাদার ক্ষেত্রে; যেমন [কামিল ছন্দ থেকে]:
নিশ্চয় যিনি আসমানকে সুউচ্চ করেছেন তিনি আমাদের জন্য এমন এক ঘর নির্মাণ করেছেন যার স্তম্ভসমূহ অত্যন্ত সম্মানিত ও সুদীর্ঘ (৩)
অথবা অন্য কারো মর্যাদার ক্ষেত্রে যেমন: যারা শুআইবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারাই ছিল ক্ষতিগ্রস্ত (৪)।
ইশারা (ইঙ্গিতবাচক শব্দ) দ্বারা মুসনাদ ইলাইহকে নির্দিষ্ট করা:(১/ ৩০৯) এবং ইশারার মাধ্যমে:
১ - তাকে পূর্ণতমভাবে পৃথক করার জন্য; যেমন [বাসিত ছন্দ থেকে]:
এই সেই আবু সাকার যে তার গুণাবলীতে অনন্য
… শায়বান বংশের সন্তান, দাল ও সালাম বৃক্ষের মধ্যবর্তী স্থানে (৫)
২ - অথবা শ্রোতার নির্বুদ্ধিতার প্রতি ইঙ্গিত করা; যেমন কবির উক্তি [তওয়ীল ছন্দ থেকে]:
ওরাই আমার পিতৃপুরুষ, সুতরাং তাদের মতো কাউকে আমার সামনে নিয়ে এসো
… হে জারীর! যখন কোনো সমাবেশ আমাদের একত্রিত করবে (৬)
৩ - অথবা নিকটবর্তী, দূরবর্তী বা মধ্যবর্তী হওয়ার অবস্থা বর্ণনা করা; যেমন তোমার উক্তি: এই বা ওই বা সেই হয় যায়েদ।
(১/ ৩১২) ৪ - অথবা নৈকট্যের মাধ্যমে তুচ্ছজ্ঞান করা; যেমন: এই কি সেই ব্যক্তি যে তোমাদের উপাস্যদের আলোচনা (সমালোচনা) করে? (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - أو تعظيمه بالبعد؛ نحو: الم ذلِكَ الْكِتابُ (1).
6 - أو تحقيره؛ كما يقال: ذلك اللعين فعل كذا.
(1/ 313) 7 - أو التنبيه عند تعقيب المشار إليه بأوصاف على أنه جدير بما يرد بعده من أجلها؛ نحو: أُولئِكَ عَلى هُدىً مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (2).
تعريف المسند إليه باللام:(1/ 314) وباللام: 1 - للإشارة إلى معهود نحو: وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثى (3) أى: ليس (4) الذى طلبت كالتى وهبت لها.
2 - أو إلى نفس الحقيقة؛ كقولك: الرجل خير من المرأة.
3 - وقد يأتى لواحد باعتبار عهديّته فى الذهن؛ كقولك: «ادخل السوق»؛ حيث لا عهد، وهذا فى المعنى كالنّكرة.
4 - وقد يفيد الاستغراق (5)؛ نحو: إِنَّ الْإِنْسانَ لَفِي خُسْرٍ (6) وهو ضربان:
- حقيقيّ؛ نحو: عالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهادَةِ* (7) أى: كلّ غيب وشهادة.
- وعرفيّ؛ نحو: جمع الأمير الصّاغة، أى: صاغة بلده أو مملكته.
(1/ 322) واستغراق المفرد أشمل؛ بدليل صحة: «لا رجال فى الدار»: إذا كان فيها رجل أو رجلان، دون: «لا رجل».
(1/ 326) ولا تنافى بين الاستغراق وإفراد الاسم؛ لأنّ الحرف إنما يدخل
--------------------------------------------
৫ - অথবা দূরত্বের ব্যবহারের মাধ্যমে তার মহিমা প্রকাশ করা; যেমন: আলিফ-লাম-মীম, এটি সেই কিতাব (১)।
৬ - অথবা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা; যেমন বলা হয়: সেই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি এমন কাজ করেছে।
(১/ ৩১৩) ৭ - অথবা নির্দেশিত বিষয়টির বর্ণনার পর তার গুণাবলী উল্লেখের মাধ্যমে এই বিষয়ের প্রতি সতর্ক করা যে, সে এসব গুণের কারণেই পরবর্তী বিষয়ের যোগ্য; যেমন: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম (২)।
লাম (আলিফ-লাম) যোগে মুসনাদ ইলাইহ-কে নির্দিষ্ট করা:(১/ ৩১৪) এবং লাম যোগে: ১ - কোনো পরিচিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে, যেমন: আর সেই পুরুষটি সেই নারীর মতো নয় (৩); অর্থাৎ: তিনি (৪) যা চেয়েছিলেন তা সেই দানকৃত কন্যার মতো নয়।
২ - অথবা খোদ হাকিকত বা মূল প্রকৃতির প্রতি ইঙ্গিত করতে; যেমন আপনার উক্তি: পুরুষ জাতি নারীর চেয়ে উত্তম।
৩ - কখনো এটি মনের মধ্যে বিদ্যমান পরিচিতির নিরিখে কোনো একক সত্তার ক্ষেত্রে আসে; যেমন আপনার উক্তি: "বাজারে প্রবেশ করো"; যখন নির্দিষ্ট কোনো বাজারের পূর্বপরিচয় নেই। অর্থের দিক থেকে এটি নাকেরা বা অনির্দিষ্টের মতোই।
৪ - কখনো এটি ব্যাপকতা বা এস্তিগরাক (৫) অর্থ প্রদান করে; যেমন: নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিমজ্জিত (৬)। এটি দুই প্রকার:
- হাকিকি (প্রকৃত); যেমন: তিনি সকল অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বিষয়ের পরিজ্ঞাত (৭); অর্থাৎ: প্রতিটি গায়েব ও শাহাদাত।
- উরফি (প্রথাগত); যেমন: আমির স্বর্ণকারদের একত্রিত করলেন, অর্থাৎ: তার শহরের বা রাজ্যের স্বর্ণকারদের।
(১/ ৩২২) এবং একবচনের ব্যাপকতা অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক; এর প্রমাণ হলো: "ঘরে কোনো পুরুষ (বহুবচন) নেই" বলা শুদ্ধ হতে পারে যদিও সেখানে এক বা দুইজন পুরুষ থাকে, কিন্তু "ঘরে কোনো পুরুষ (একবচন) নেই" বলা তখন সঠিক হয় না।
(১/ ৩২৬) এবং ব্যাপকতা ও বিশেষ্যের একবচন হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ হরফ তো কেবল প্রবেশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عليه مجرّدا عن معنى الوحدة، ولأنه بمعنى كلّ فرد لا مجموع الأفراد؛ ولهذا امتنع وصفه بنعت الجمع.
تعريف المسند إليه بالإضافة:(1/ 328) وبالإضافة: 1 - لأنها أخصر طريق (إلى إحضار المسند إليه) (1)؛ نحو [من الطويل]:
هواى مع الرّكب اليمانين مصعد (2)
… ...
2 - أو تضمّنها تعظيما لشأن المضاف إليه، أو المضاف، أو غيرهما؛ كقولك:
عبدى حضر، وعبد الخليفة ركب، وعبد السلطان عندى.
3 - أو تحقيرا؛ نحو: ولد الحجّام حاضر.
ب- تنكير المسند إليه(1/ 330) وأمّا تنكيره ف:
1 - للإفراد؛ نحو: وَجاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعى (3).
2 - أو النوعيّة؛ نحو: وَعَلى أَبْصارِهِمْ غِشاوَةٌ (4).
3 - أو التعظيم.
4 - أو التحقير؛ كقوله [من الطويل]:
له حاجب فى كلّ أمر يشينه
… وليس له عن طالب العرف حاجب (5)
5 - أو التكثير؛ كقولهم: إنّ له لإبلا، وإنّ له لغنما.
6 - أو التقليل؛ نحو: وَرِضْوانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ (6).
--------------------------------------------
এককত্বের অর্থ থেকে মুক্ত হয়ে এর ওপর; আর যেহেতু এটি প্রতিটি ব্যক্তি বোঝায়, ব্যক্তিদের সমষ্টি নয়; এজন্যই একে বহুবচনের বিশেষণে বিশেষিত করা নিষিদ্ধ।
ইদাফাতের (সম্বন্ধ) মাধ্যমে মুসনাদ ইলাইহকে নির্দিষ্ট করা:(১/ ৩২৮) এবং ইদাফাতের মাধ্যমে: ১ - কারণ এটি (মুসনাদ ইলাইহকে উপস্থিত করার) সংক্ষিপ্ততম পথ (১); যেমন [তবীল ছন্দ থেকে]:
আমার প্রিয়তমা ইয়ামানি কাফেলার সাথে দ্রুত চলে যাচ্ছে (২)
… ...
২ - অথবা এতে মুদাফ ইলাইহ, বা মুদাফ, অথবা অন্য কারো মর্যাদার মহিমা প্রকাশ পায়; যেমন তোমার কথা:
আমার গোলাম উপস্থিত হয়েছে, খলিফার গোলাম সওয়ার হয়েছে, এবং সুলতানের গোলাম আমার নিকট আছে।
৩ - অথবা তুচ্ছজ্ঞান করার জন্য; যেমন: নাপিতের ছেলে উপস্থিত।
খ- মুসনাদ ইলাইহকে অনির্দিষ্ট (নাকিরা) করা(১/ ৩৩০) আর এর অনির্দিষ্ট হওয়া:
১ - একক ব্যক্তি বুঝাতে; যেমন: আর শহরের প্রান্তসীমা থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল (৩)।
২ - অথবা প্রকার বুঝাতে; যেমন: এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে এক প্রকার আবরণ (৪)।
৩ - অথবা মহিমা বুঝাতে।
৪ - অথবা তুচ্ছতা বুঝাতে; যেমন কবির উক্তি [তবীল ছন্দ থেকে]:
তাকে কলঙ্কিত করে এমন প্রতিটি বিষয়ে তার জন্য রয়েছে এক প্রতিবন্ধক
… অথচ দানপ্রার্থীর জন্য তার নিকট কোনো দ্বাররক্ষী নেই (৫)
৫ - অথবা আধিক্য বুঝাতে; যেমন তাদের উক্তি: নিশ্চয়ই তার অনেক উট রয়েছে, এবং নিশ্চয়ই তার অনেক বকরি রয়েছে।
৬ - অথবা সল্পতা বুঝাতে; যেমন: আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সামান্য সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
7 - وقد جاء للتعظيم والتكثير نحو: وَإِنْ يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ (1) أى: ذوو عدد كثير، وآيات عظام.
(1/ 333) ومن تنكير غيره:
1 - للإفراد أو النوعيّة؛ نحو: وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِنْ ماءٍ (2).
2 - وللتعظيم؛ نحو: فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ (3).
3 - وللتحقير؛ نحو: إِنْ نَظُنُّ إِلَّا ظَنًّا (4).
ثالثا: إتباع المسند إليه، وعدمه
وصف المسند إليه:(1/ 335) وأمّا وصفه، فلكونه:
1 - مبيّنا له، كاشفا عن معناه؛ كقولك: الجسم الطويل العريض العميق يحتاج إلى فراغ يشغله، ونحوه فى الكشف: قوله [من المنسرح]:
الألمعىّ الّذى يظنّ بك ال
… ظنّ كأن قد رأى وقد سمعا (5)
2 - أو مخصّصا؛ نحو: زيد التاجر عندنا.
3 - أو مدحا أو ذمّا؛ نحو جاءنى زيد العالم أو (6) الجاهل؛ حيث يتعيّن الموصوف قبل ذكره.
4 - أو تأكيدا؛ نحو: أمس الدابر كان يوما عظيما.
***
--------------------------------------------
৭ - আর এটি সম্মান প্রদর্শন ও আধিক্য বোঝাতে আসে; যেমন: "আর যদি তারা আপনাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে, তবে আপনার পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও তো মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা হয়েছিল (১)" অর্থাৎ: তারা ছিলেন অনেক সংখ্যক এবং মহান নিদর্শনের অধিকারী।
(১/ ৩৩৩) এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হওয়ার কারণসমূহ:
১ - একত্ব বা প্রকার বোঝাতে; যেমন: "আর আল্লাহ প্রত্যেকটি জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন (২)।"
২ - এবং সম্মান বা ভয়াবহতা প্রকাশের জন্য; যেমন: "তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও (৩)।"
৩ - এবং তুচ্ছতা বোঝাতে; যেমন: "আমরা তো কেবল একটি সামান্য ধারণাই পোষণ করি (৪)।"
তৃতীয়ত: মুসনাদ ইলাইহ-এর অনুগমন এবং অনুগমন না হওয়া
মুসনাদ ইলাইহ-এর বিশেষণ:(১/ ৩৩৫) আর এর বিশেষণের বিষয়টি নিম্নোক্ত কারণে হয়ে থাকে:
১ - তাকে স্পষ্টকারী ও তার অর্থের উন্মোচনকারী হিসেবে; যেমন আপনার উক্তি: "দীর্ঘ, প্রশস্ত ও গভীর বিশিষ্ট কোনো বস্তু বা দেহ এমন এক শূন্যস্থানের মুখাপেক্ষী যা সে দখল করবে।" এবং অর্থ উন্মোচনের ক্ষেত্রে অনুরুপ হলো কবির উক্তি [মুনসারিহ ছন্দ থেকে]:
সেই প্রখর বুদ্ধিমান, যে তোমার সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করে, যেন সে (ঘটনাটি) দেখেছে এবং শুনেছে (৫)
২ - অথবা নির্দিষ্ট করার জন্য; যেমন: "ব্যবসায়ী জায়েদ আমাদের নিকট আছে।"
৩ - অথবা প্রশংসা বা নিন্দার জন্য; যেমন: "জ্ঞানী জায়েদ আমার নিকট এসেছে" অথবা (৬) "মূর্খ (জায়েদ)"; যেখানে গুণ বর্ণনা করার আগেই বিশেষ্যটি নির্ধারিত হয়ে থাকে।
৪ - অথবা গুরুত্বারোপের জন্য; যেমন: "বিগত গতকালটি ছিল একটি মহান দিন।"
***
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
توكيد المسند إليه:(1/ 344) وأمّا توكيده، ف:
1 - للتقرير.
2 - أو لدفع توهّم التجوّز، أو السهو، أو عدم الشمول.
بيان المسند إليه:(1/ 350) وأمّا بيانه، ف:
- لإيضاحه باسم مختصّ به؛ نحو: قدم صديقك خالد.
الإبدال من المسند اليه:(1/ 352) وأمّا الإبدال منه، ف:
- لزيادة التقرير، نحو: جاءنى أخوك زيد، وجاء القوم أكثرهم، وسلب عمرو (1) ثوبه.
العطف على المسند إليه:(1/ 356) وأمّا العطف، ف:
1 - لتفصيل المسند إليه مع اختصار، نحو: جاءنى زيد وعمرو.
2 - أو المسند كذلك؛ نحو: جاءنى زيد فعمرو، أو ثمّ عمرو، أو جاءنى القوم حتى خالد.
3 - أو ردّ السامع إلى الصواب؛ نحو: جاءنى زيد لا عمرو.
4 - أو صرف الحكم إلى آخر؛ نحو: جاءنى زيد بل عمرو، وما جاءنى عمرو بل زيد.
5 - أو الشكّ أو التشكيك للسامع (2)؛ نحو: جاءنى زيد أو عمرو.
--------------------------------------------
মুসনাদ ইলাইহ-এর তাকিদ (দৃঢ়করণ):(১/ ৩৪৪) আর এর তাকিদ করার কারণসমূহ হলো:
১ - বিষয়টিকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
২ - অথবা রূপক ব্যবহারের সম্ভাবনা, কিংবা ভুলবশত কিছু বলা, অথবা ব্যাপকতার অভাব দূর করার জন্য।
মুসনাদ ইলাইহ-এর বয়ান (ব্যাখ্যা):(১/ ৩৫০) আর এর বয়ান বা ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্য হলো:
- মুসনাদ ইলাইহ-এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো নাম দ্বারা সেটিকে আরও স্পষ্ট করা; যেমন: তোমার বন্ধু খালেদ এসেছে।
মুসনাদ ইলাইহ থেকে বদল (স্থলাভিষিক্ত করা):(১/ ৩৫২) আর তা থেকে বদল নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হলো:
- বক্তব্যকে অধিকতর সুদৃঢ় করা, যেমন: আমার নিকট তোমার ভাই জায়েদ এসেছে, এবং কওমের অধিকাংশ লোক এসেছে, আর আমর-এর কাপড় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে (১)।
মুসনাদ ইলাইহ-এর ওপর আতফ (সংযোজন):(১/ ৩৫৬) আর আতফ করার কারণসমূহ হলো:
১ - সংক্ষেপ করার পাশাপাশি মুসনাদ ইলাইহ-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া, যেমন: আমার নিকট জায়েদ ও আমর এসেছে।
২ - অথবা একইভাবে মুসনাদ-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া; যেমন: আমার নিকট জায়েদ তারপর আমর এসেছে, অথবা অতঃপর আমর এসেছে, অথবা আমার নিকট খালেদসহ সব লোক এসেছে।
৩ - অথবা শ্রোতাকে সঠিক বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে আনা; যেমন: আমার নিকট জায়েদ এসেছে, আমর নয়।
৪ - অথবা বিধানকে অন্যজনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া; যেমন: আমার নিকট জায়েদ নয় বরং আমর এসেছে, এবং আমার নিকট আমর আসেনি বরং জায়েদ এসেছে।
৫ - অথবা বক্তার নিজের সন্দেহ বা শ্রোতাকে সন্দেহে ফেলা (২); যেমন: আমার নিকট জায়েদ অথবা আমর এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আতওয়াল শারহু তালখীসি মিফতাহিল উলূম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل (1) المسند إليه:
(1/ 363) وأما فصله، ف:
- لتخصيصه بالمسند.
رابعا: تقديم المسند إليه، وتأخيره:تقديم المسند إليه:
(1/ 365) وأما تقديمه: فلكون ذكره أهمّ:
1 - إمّا لأنه الأصل ولا مقتضي للعدول عنه.
2 - وإمّا ليتمكّن الخبر فى ذهن السامع؛ لأنّ فى المبتدأ تشويقا إليه كقوله (2) [من الخفيف]:
والّذى حارت البريّة فيه
… حيوان مستحدث من جماد
3 - وإمّا لتعجيل المسرّة أو المساءة؛ للتفاؤل أو التطيّر؛ نحو: سعد فى دارك، والسّفّاح فى دار صديقك.
4 - وإمّا لإيهام:
- أنه لا يزول عن الخاطر.
- أو أنه لا يستلذّ إلّا به.
(1/ 369) وإمّا لنحو ذلك.
رأى عبد القاهر:(1/ 372) قال عبد القاهر: «وقد يقدّم ليفيد تخصيصه بالخبر الفعلى إن ولى حرف النفي؛ نحو: ما أنا قلت هذا، أى: لم أقله مع أنه مقول غيري؛ ولهذا لم يصحّ: (ما أنا قلت ولا غيري)، ولا: (ما أنا رأيت أحدا) ولا: (ما أنا ضربت إلا زيدا)؛ وإلّا فقد يأتى للتخصيص؛ ردّا على من زعم انفراد غيره
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ (১) মুসনাদ ইলাইহি:
(১/ ৩৬৩) আর এর 'ফাসল' (বিচ্ছেদকারী সর্বনাম) ব্যবহারের কারণ হলো:
- মুসনাদের (বিধেয়) মাধ্যমে তাকে নির্দিষ্ট (তাখসিস) করা।
চতুর্থত: মুসনাদ ইলাইহিকে আগে আনা (তাকদীম), এবং পরে নেওয়া (তাখীর):
মুসনাদ ইলাইহির তাকদীম (আগে আনা):
(১/ ৩৬৫) আর একে আগে আনা হয় এর উল্লেখ অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে:
১ - হয় এজন্য যে এটিই মূল নিয়ম এবং এর থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
২ - অথবা যাতে খবর বা সংবাদটি শ্রোতার মনে সুদৃঢ়ভাবে বসে যায়; কারণ মুবতাদা বা উদ্দেশ্যের মধ্যে খবরের প্রতি এক প্রকার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। যেমন কবির কথা (২) [খাফীফ ছন্দ থেকে]:
আর যার ব্যাপারে সৃষ্টিজগত বিভ্রান্ত
… সে হলো জড় বস্তু হতে উদ্ভূত এক প্রাণ
৩ - অথবা আনন্দ সংবাদ কিংবা দুঃসংবাদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য; শুভ লক্ষণ গ্রহণ বা অশুভ লক্ষণের আশঙ্কায়। যেমন: 'সা’দ (সৌভাগ্য) আপনার ঘরে', এবং 'সাফফাহ (রক্তপাতকারী) আপনার বন্ধুর ঘরে'।
৪ - অথবা এই ধারণা দেওয়ার জন্য যে:
- এটি মন থেকে কখনো বিলুপ্ত হয় না।
- অথবা এটি ছাড়া অন্য কিছুতে স্বাদ পাওয়া যায় না।
(১/ ৩৬৯) অথবা অনুরূপ কোনো কারণে।
আব্দুল কাহিরের মত:(১/ ৩৭২) আব্দুল কাহির বলেন: «কখনো একে আগে আনা হয় ফে’লী খবরের (ক্রিয়াবাচক বিধেয়) সাথে তাকে নির্দিষ্ট করার ফায়দা দেওয়ার জন্য, যদি তা না-বোধক অব্যয়ের (নফি) পরে আসে; যেমন: 'আমি এটি বলিনি' (মা আনা কুলতু হাজা), অর্থাৎ: আমি এটি বলিনি কিন্তু অন্য কেউ বলেছে; একারণেই এটি বলা শুদ্ধ নয় যে: (আমিও বলিনি অন্য কেউও বলেনি), কিংবা: (আমি কাউকে দেখিনি), অথবা: (আমি জায়েদ ছাড়া কাউকে প্রহার করিনি); অন্যথায় এটি তাখসিস বা নির্দিষ্টকরণের জন্য আসে; এমন ব্যক্তির প্রতিবাদে যে ধারণা করে যে বিষয়টি অন্য কেউ এককভাবে করেছে।
--------------------------------------------