(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: -)
إيناس الناس بتفاحة أبي جعفر النحاس   (حازم خنفر)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: إيناس الناس بتفاحة أبي جعفر النحاس

(وهو شرح على متن «التفاحة في النحو»، لأبي جعفر النحاس)

المؤلف: أبو البهاء، حازم أحمد حسني خنفر

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

ঈনাসুন নাস বি-তুফ্ফাহাতি আবি জাফর আন-নাহহাস   (হাযিম খানফার)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: ঈনাসুন নাস বি-তুফ্ফাহাতি আবি জাফর আন-নাহহাস

(এটি আবু জাফর আন-নাহহাস রচিত «আত-তুফ্ফাহাহ ফিন নাহু» মূলপাঠের (متن) ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح))

লেখক: আবু আল-বাহা, হাযিম আহমদ হুসনি খানফার

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটি অমুদ্রিত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৩)
إينَاس النَّاس

بِتُفَّاحَةِ

أَبِي جَعْفَرٍ النَّحَّاس

لِكَاتِبهِ

حَازم خَنْفَر

 

وَهُوَ شَرْحٌ عَلَى مَتْنِ

«التُّفَّاحَة فِي النَّحْوِ»

لِأَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ المُرَادِيِّ المِصْرِيِّ

المَعْرُوفِ بِأبِي جَعْفَرٍ النَّحَّاسِ

المُتَوَفَّى سَنَةَ (338 هـ)

 

النشرة الثانية

1442 هـ - 2021 م
ইনাসুন নাস

‘তুফফাহাহ’ এর মাধ্যমে

আবু জাফর আন-নাহহাসের

এর লেখক

হাজেম খানফার

 

এটি একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), যা মূল পাঠের (متن) উপর রচিত

«আত-তুফফাহাহ ফিন নাহু»

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-মুরাদি আল-মিসরি-এর

যিনি আবু জাফর আন-নাহহাস নামে পরিচিত

মৃত্যু: (৩৩৮ হিজরি)

 

দ্বিতীয় প্রকাশ

১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المُقَدّمَة

 

الحَمْدُ للهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَمَنْ وَالَاهُ.

أَمَّا بَعْدُ:

فَهَذَا شَرْحٌ وَجِيزٌ لِمُخْتَصَرٍ فِي النَّحْوِ لِلعَلَّامَةِ اللُّغَوِيِّ أَبِي جَعْفَرٍ النَّحَّاسِ، أَسْمَاهُ: (التُّفَّاحَةَ فِي النَّحْوِ)، وَهُوَ مَتْنٌ فَرِيدٌ فِي عِبَارَتِهِ، تُدْرَكُ مَسَائِلُهُ عَلَى غَيْرِ مَشَقَّةٍ؛ مِمَّا يَسْهُلُ عَلَى طَالِبِ النَّحْوِ فَهْمُهُ، وَقَدْ اشْتَمَلَ عَلَى التَّبْوِيبَاتِ الأَسَاسِيَّةِ؛ بَعِيدًا عَنِ تَفْرِيعَاتِ المَسَائِلِ الَّتِي قَدْ تَسْتَشْكِلُ عَلَى المُبْتَدِئِ.

وَلَمْ أَخْرُجْ فِي الشَّرْحِ عَنْ مَسَائِلِ المَتْنِ؛ إِلَّا فِي مَوَاضِعَ يَسِيرَةٍ اقْتضَى فِيهَا الحَالُ التَّشَعُّبَ، وَأَسْمَيْتُ الشَّرْحَ: «إِينَاس النَّاس بتُفاحَةِ أَبي جَعْفَرٍ النَّحَّاس»؛ رَاجِيًا مِنْهُ - سُبْحَانَهُ - القَبُولَ؛ إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ.

حَازِم خَنْفَر

5/ 10/1433 هـ 23/ 8/2012 م
ভূমিকা

 

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

এটি প্রখ্যাত ভাষাবিদ আল্লামা আবু জাফর আন-নাহহাসের ব্যাকরণশাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্তসারের ওপর রচিত একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নামকরণ তিনি করেছেন: (আত-তুফফাহাহ ফিন নাহওয়)। এটি এর প্রকাশশৈলীতে এক অনন্য মূলপাঠ (متن), যার মাসআলাসমূহ কোনো প্রকার ক্লেশ ছাড়াই উপলব্ধি করা যায়; যা ব্যাকরণ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য তা অনুধাবন করা সহজতর করে। এতে মৌলিক বিন্যাসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মাসআলার এমন শাখা-প্রশাখা থেকে দূরে থাকা হয়েছে যা একজন প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর নিকট জটিল প্রতীয়মান হতে পারে।

আমি এই ব্যাখ্যায় মূলপাঠ (متن)-এর মাসআলাসমূহের বাইরে যাইনি; তবে সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত যেখানে পরিস্থিতি শাখা-প্রশাখা আলোচনার দাবি রাখে। আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নামকরণ করেছি: «ইনাসুন নাস বিতুফফাহাতি আবি জাফর আন-নাহহাস»; তাঁর (সুবহানাহু) নিকট এর কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও উত্তরদাতা।

হাজেম খানফার

৫/ ১০/ ১৪৩৩ হিজরি ২৩/ ৮/ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭)
1 -‌‌ بَابُ أَقْسَامِ العَرَبيَّةِ

 

قَالَ المُصَنِّفُ: «اعْلَمْ أَنَّ العَرَبِيَّةَ عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ: اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ جَاءَ لِمَعْنًى».

(الشَّرْحُ): تَنْقَسِمُ الكَلِمَةُ فِي اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ إِلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ - لَا رَابِعَ

لَهَا -: اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفُ مَعْنًى.

القِسْمُ الأَوَّلُ: الاسْمُ: هُوَ كُلُّ لَفْظٍ دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ وَلَمْ يَقْتَرِنْ بِزَمَنٍ مَخْصُوصٍ - مِنْ مَاضٍ أَوْ حَاضِرٍ أَوْ مُسْتَقْبَلٍ -.

فَمِنْ ذَلِكَ: رَجُلٌ، وَشَجَرَةٌ، وَالضَّرْبُ، وَالأَكْلُ، وَعَالِمٌ، وَمُجْتَهِدٌ.

فَكُلُّ هَذِهِ الأَلْفَاظِ: كَلِمَاتٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا.

مِثَالٌ: لَوْ قُلْتَ: (رَجُلٌ) مِنْ غَيْرِ أَنْ تَضَعَهَا فِي جُمْلَةٍ؛ لَوَجَدْتَ لَهَا مَعْنًى فِي مُخَيِّلَتِكَ، وَهُوَ: الذَّكَرُ البَالِغُ مِنْ بَنِي آدَمَ، فَلَا يُشْتَرَطُ فِي تَحْقِيقِ هَذَا المَعْنَى إِلْحَاقُ كَلِمَةِ (رَجُلٍ) بِكَلَامٍ آخَرَ، فَالمَعْنَى مُسْتَقِلٌّ بِالكَلِمَةِ نَفْسِهَا.

وَالأَسْمَاءُ لَا تَتَعَلَّقُ بِزَمَانٍ مَخْصُوصٍ؛ أَيْ: بِحَدَثٍ، فَـ (رَجُلٌ) كَلِمَةٌ لَا تَدُلُّ عَلَى حَدَثٍ وَقَعَ أَوْ يَقَعُ أَوْ سَيَقَعُ.

القِسْمُ الثَّانِي: الفِعْلُ، وَيُرَادُ بِهِ: كُلُّ لَفْظٍ دَلَّ عَلَى مَعْنًى مُسْتَقِلٍّ فِي
1 -‌‌ আরবি ভাষার প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ

 

গ্রন্থকার বলেন: «জেনে রাখুন যে, আরবি ভাষা তিন প্রকার: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং এমন অব্যয় যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য আসে।»

(ব্যাখ্যা): আরবি ভাষায় শব্দ তিন ভাগে বিভক্ত - যার চতুর্থ কোনো প্রকার

নেই -: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অর্থবোধক অব্যয়।

প্রথম প্রকার: বিশেষ্য: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা নিজের সত্তাগত একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং কোনো নির্দিষ্ট কালের —অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ— সাথে যুক্ত হয় না।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ব্যক্তি, বৃক্ষ, প্রহার করা, আহার করা, আলেম এবং মুজতাহিদ।

এই সকল শব্দই এমন শব্দ যা স্বীয় সত্তার মাঝে একটি অর্থ নির্দেশ করে।

উদাহরণ: আপনি যদি কোনো বাক্যে প্রয়োগ করা ছাড়াই কেবল বলেন: (ব্যক্তি); তবে আপনি আপনার ভাবনায় এর একটি অর্থ খুঁজে পাবেন, আর তা হলো: আদম সন্তানদের মধ্যকার একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। সুতরাং এই অর্থটি অর্জনের জন্য 'ব্যক্তি' শব্দটিকে অন্য কোনো কথার সাথে যুক্ত করা শর্ত নয়; বরং অর্থটি ওই শব্দের মাধ্যমেই স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান।

আর বিশেষ্যসমূহ কোনো নির্দিষ্ট কালের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়; অর্থাৎ কোনো ঘটনার সাথে যুক্ত নয়। অতএব, (ব্যক্তি) এমন একটি শব্দ যা কোনো ঘটনা অতীতে ঘটেছে, বর্তমানে ঘটছে বা ভবিষ্যতে ঘটবে—এমনটি নির্দেশ করে না।

দ্বিতীয় প্রকার: ক্রিয়া, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন প্রতিটি শব্দ যা কোনো স্বতন্ত্র অর্থের ওপর নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৮)
نَفْسِهِ مَعَ اقْتِرَانِهِ بِزَمَنٍ مَخْصُوصٍ - مِنْ مَاضٍ أَوْ حَاضِرٍ أَوْ مُسْتَقْبَلٍ -.

فَمِنْ ذَلِكَ: قَامَ، وَيَقُومُ، وَقُمْ، وَضَرَبَ، وَيَضْرِبُ، وَاضْرِبْ.

فَكُلُّ هَذِهِ الأَلْفَاظِ: كَلِمَاتٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا.

مِثَالٌ: لَوْ قُلْتَ: (قَامَ) مِنْ غَيْرِ أَنْ تَضَعَهَا فِي جُمْلَةٍ؛ لَوَجَدْتَ لَهَا مَعْنًى فِي مُخَيِّلَتِكَ، وَهُوَ: الانْتِصَابُ وَاقِفًا، فَلَا يُشْتَرَطُ فِي تَحْقِيقِ هَذَا المَعْنَى إِلْحَاقُ كَلِمَةِ (قَامَ) بِكَلَامٍ آخَرَ، فَالمَعْنَى مُسْتَقِلٌّ بِالكَلِمَةِ نَفْسِهَا.

وَهِيَ بِذَلِكَ تُشَابِهُ الأَسْمَاءَ، إِلَّا أَنَّهَا تَخْتَلِفُ عَنْهَا بِاقْتِرَانِهَا بِزَمَنٍ مَخْصُوصٍ؛ أَيْ: بِحَدَثٍ وَقَعَ أَوْ يَقَعُ أَوْ سَيقَعُ، فَهِيَ بِتَعَلُّقِهَا بِالزَّمَانِ عَلَى ثَلَاثَةِ أَنْوَاعٍ:

1 - المَاضِي، وَهُوَ: مَا دَلَّ عَلَى حَدَثٍ مَضَى وَوَقَعَ؛ كَقَوْلِكَ: (ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا).

2 - المُضَارِعُ، وَهُوَ: مَا دَلَّ عَلَى حَدَثٍ يَقَعُ فِي الزَّمَنِ الحَاضِرِ أَوْ سَيَقَعُ فِي المُسْتَقْبَلِ؛ كَقَوْلِكَ: (يَضْرِبُ زَيْدٌ عَمْرًا)، وَهُنَا يُنْظَرُ فِي القَرَائِنِ اللَّفْظِيَّةِ وَالمَعْنَوِيَّةِ لِتَحْدِيدِ مَا إِذَا كَانَ المُتَكَلِّمُ يُرِيدُ زَمَنَ الحَاضِرِ أَوْ المُسْتَقْبَلِ.

3 - الأَمْرُ: هُوَ مَا دَلَّ عَلَى حَدَثٍ يُطْلَبُ وُقُوعُهُ فِي المُسْتَقْبَلِ؛ كَقَوْلِكَ: (اضْرِبْ عَمْرًا)، فَلَمْ يَتَحَقَّقِ الضَّرْبُ بَعْدُ.
...এর স্বীয় সত্তার সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে - চাই তা অতীত (ماض), বর্তমান (حاضر) অথবা ভবিষ্যৎ (مستقبل) হোক।

এর উদাহরণ হলো: ক্বামা (قام), ইয়াক্বুমু (يقوم), ক্বুম (قم), দরাবা (ضرب), ইয়াদরিবু (يضرب), এবং ইদ্রিব (اضرب)।

এই সকল শব্দই এমন শব্দ যা স্বীয় সত্তায় কোনো একটি অর্থ প্রকাশ করে।

উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি কোনো বাক্য (جملة) গঠন করা ছাড়াই বলেন: 'ক্বামা' (قام), তবে আপনি আপনার চিন্তায় একটি অর্থ খুঁজে পাবেন, আর তা হলো: দণ্ডায়মান হওয়া। সুতরাং এই অর্থটি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে 'ক্বামা' (قام) শব্দটিকে অন্য কোনো কথার সাথে যুক্ত করার শর্ত নেই; বরং অর্থটি ওই শব্দের মাঝেই স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান।

এদিক থেকে এটি বিশেষ্য বা নামবাচক শব্দের (الأسماء) সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এটি তার থেকে পৃথক এই কারণে যে, এর সাথে একটি নির্দিষ্ট সময় সংশ্লিষ্ট থাকে; অর্থাৎ: এমন একটি ঘটনা যা অতীতে ঘটেছে, বর্তমানে ঘটছে অথবা ভবিষ্যতে ঘটবে। সুতরাং সময়ের সাথে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এটি তিন প্রকার (أنواع):

1 - অতীতকাল (الماضي): এটি এমন শব্দ যা অতীত হয়ে যাওয়া ও ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাকে বোঝায়; যেমন আপনার কথা: 'দরাবা যাইদুন আমরান' (ضرب زيد عمرا)।

2 - বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল (المضارع): এটি এমন শব্দ যা বর্তমান সময়ে ঘটছে অথবা ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কোনো ঘটনাকে বোঝায়; যেমন আপনার কথা: 'ইয়াদরিবু যাইদুন আমরান' (يضرب زيد عمرا)। এখানে বক্তা বর্তমান না ভবিষ্যৎ কোনো সময়টি উদ্দেশ্য নিয়েছেন তা নির্ধারণ করার জন্য শাব্দিক ও অর্থগত আলামত বা প্রেক্ষিতসমূহের (قرائن) দিকে লক্ষ্য করা হয়।

3 - আদেশসূচক ক্রিয়া (الأمر): এটি এমন শব্দ যা দ্বারা ভবিষ্যতে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়ার অনুরোধ বা দাবি করা হয়; যেমন আপনার কথা: 'ইদ্রিব আমরান' (اضرب عمرا)। এখানে প্রহার করার বিষয়টি তখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৯)
القِسْمُ الثَّالِثُ: حُرُوفُ المَعَانِي، وَهِيَ: كُلُّ لَفْظٍ دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي غَيْرِهِ؛ فَحُرُوفُ المَعَانِي - كَـ (ثُمَّ) وَنَحْوِهَا - لَا تَسْتَقِلُّ بِمَعْنًى فِي نَفْسِهَا.

فَمِنْ ذَلِكَ: (أَوْ) وَ (أَمْ) وَ (عَنْ) وَ (لَنْ) - وَغَيْرُهَا -.

فَكُلُّ هَذِهِ الأَلْفَاظِ: كَلِمَاتٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي غَيْرِهَا، وَلَا تَسْتَقِلُّ بِمَعْنًى فِي نَفْسِهَا.

مِثَالٌ: لَوْ قُلْتَ: (ثُمَّ) دُونَ أَنْ تَضَعَهَا فِي جُمْلَةٍ؛ لَمَا وَجَدْتَ لَهَا مَعْنًى فِي مُخَيِّلَتِكَ - وَإِنْ كُنْتَ تُدْرِكُ وَظِيفَتَهَا وَفَائِدَتَهَا -، فَإِذَا أَلْحَقْتَهَا بِكَلِمَةٍ أُخْرَى فِي جُمْلَةٍ - كَقَوْلِكَ: (قَامَ زَيْدٌ ثُمَّ ذَهَبَ) - لَوَجَدْتَ كَلِمَةَ (ثُمَّ) دَلَّتْ عَلَى مَعْنَى الذَّهَابِ الَّذِي وَقَعَ بَعْدَ القِيَامِ، فَيُشْتَرَطُ فِي تَحْقِيقِ مَعْنًى لِـ (ثُمَّ) إِلْحَاقُهَا بِكَلَامٍ آخَرَ، فَالمَعْنَى غَيْرُ مُسْتَقِلٍّ بِالكَلِمَةِ نَفْسِهَا، إِنَّمَا بِغَيْرِهَا.

وَالحُرُوفُ - مِنْ حَيْثُ الاصْطِلَاحُ - تَنْقِسمُ إِلَى نَوْعَيْنِ:

الأَوَّلُ: حُرُوفُ الهِجَاءِ، وَهِيَ الَّتِي تَتَكَوَّنُ مِنْهَا الكَلِمَاتُ؛ كَنَحْوِ (أ ب ت ث ج) - وَغَيْرِهَا مِنَ الحُرُوفِ -، وَلَيْسَ هَذَا النَّوْعُ مِنْ مَقَاصِدِ هَذَا البَابِ.

وَالثَّانِي: حُرُوفُ المَعَانِي، وَهِيَ الَّتِي يَتَحَقَّقُ المَعْنَى فِيهَا بِإِضَافَتِهَا إِلَى الاسْمِ أَوِ الفِعْلِ، وَهَذَا النَّوْعُ مِنَ الحُرُوفِ هُوَ المُرَادُ - هُنَا - فِي هَذَا البَابِ،
তৃতীয় বিভাগ: অর্থবোধক অব্যয় (حُرُوفُ المَعَانِي), আর তা হলো: এমন প্রতিটি শব্দ যা অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রদান করে; সুতরাং অর্থবোধক অব্যয়সমূহ (حُرُوفُ المَعَانِي) - যেমন ‘অতঃপর’ (ثُمَّ) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ - নিজের সত্তায় কোনো স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।

তার মধ্যে রয়েছে: ‘অথবা’ (أَوْ), ‘নাকি’ (أَمْ), ‘হতে/থেকে’ (عَنْ), ‘কখনো নয়’ (لَنْ) - এবং অন্যান্য -।

সুতরাং এই সকল শব্দই এমন কালিমা যা অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে অর্থ প্রদান করে এবং নিজের মাঝে স্বতন্ত্র কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।

উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি কোনো বাক্যে প্রয়োগ করা ছাড়াই কেবল ‘অতঃপর’ (ثُمَّ) বলেন, তবে আপনার কল্পনায় এর কোনো অর্থ খুঁজে পাবেন না - যদিও আপনি এর কার্যকারিতা ও উপযোগিতা সম্পর্কে অবগত। কিন্তু আপনি যখন একে কোনো বাক্যে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত করবেন - যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ দাঁড়ালো অতঃপর চলে গেল’ (قَامَ زَيْدٌ ثُمَّ ذَهَبَ) - তখন আপনি দেখতে পাবেন যে ‘অতঃপর’ (ثُمَّ) শব্দটি দাঁড়ানোর পরবর্তী প্রস্থানের অর্থটি স্পষ্ট করছে। সুতরাং ‘অতঃপর’ (ثُمَّ) এর অর্থ প্রতিফলিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো একে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত করা; কেননা অর্থটি শব্দের নিজস্ব সত্তায় স্বতন্ত্র নয়, বরং অন্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

আর পারিভাষিক (اصْطِلَاح) দিক থেকে অব্যয়সমূহ (الحُرُوفُ) দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: বর্ণমালা (حُرُوفُ الهِجَاءِ), যা দ্বারা শব্দ বা কালিমা গঠিত হয়; যেমন (أ ب ت ث ج) - এবং অন্যান্য বর্ণসমূহ -। এই প্রকারটি এই আলোচনার উদ্দেশ্য নয়।

দ্বিতীয়: অর্থবোধক অব্যয় (حُرُوفُ المَعَانِي), যা বিশেষ্য (الاسْم) বা ক্রিয়ার (الفِعْل) সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে। অব্যয়ের এই প্রকারটিই এখানে বর্তমান অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১০)
وَقَدْ تَكُونُ أُحَادِيَّةً أَوْ ثُنَائِيَّةً أَوْ ثُلَاثِيَّةً أَوْ رُبَاعِيَّةً أَوْ خُمَاسِيَّةً؛ كَنَحْوِ (بَاءِ الجَرِّ)، وَ (عَنْ)، وَ (ثُمَّ)، وَ (لَعَلَّ)، وَ (لَكِنَّ).

قَالَ المُصَنِّفُ: «فَالاسْمُ: مَا جَازَ أَنْ يَكُونَ فَاعِلًا، أَوْ مَفْعُولًا، أَوْ صَلَحَ فِيهِ حَرْفٌ مِنْ حُرُوفِ الخَفْضِ؛ مِثْلُ: (رَجُلٍ، وَفَرَسٍ، وَزَيْدٍ، وَعَمْرٍو) - وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ -».

(الشَّرْحُ): للاسْمِ عَلَامَاتٌ كَثِيرَةٌ، ذَكَرَ مِنْهَا المُصَنِّفُ ثَلَاثًا:

الأُولَى: كَوْنُهُ فَاعِلًا؛ كَقَوْلِكَ: (قَامَ زَيْدٌ)، فَـ (زَيْدٌ) فَاعِلٌ، وَهُوَ اسْمٌ، فَإِذَا قُلْتَ: (أَكَلَ يَقْرَأُ)، فَهُنَا فِعْلَانِ، وَلَا بُدَّ مِنْ فَاعِلٍ فَعَلَ فِعْلَ الأَكْلِ وَالقِرَاءَةِ، فَلَا يَصِحُّ الفِعْلُ أَنْ يَكُونَ فَاعِلًا.

الثَّانِيَةُ: كَوْنُهُ مَفْعُولًا؛ كَقَوْلِكَ: (فَهِمَ زَيْدٌ الدَّرْسَ)، فَـ (الدَّرْسَ) مَفْعُولٌ بِهِ، فَهِيَ المَفْهُومُ، وَهِيَ اسْمٌ، فَإِذَا قُلْتَ: (فَهِمَ زَيْدٌ يَقُومُ)، فَلَا يَصِحُّ المَعْنَى فِي الجُمْلَةِ؛ لأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ المَفْهُومُ - فِي المِثَالِ - هُوَ (يَقُومُ).

الثَّالِثَةُ: دُخُولُ حَرْفِ الخَفْضِ - أَيِ الجَرِّ - فِي أَوَّلِهِ؛ كَقَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِزَيْدٍ)، فَـ (زَيْدٌ) اسْمٌ دَخَلَتْ عَلَيْهِ بَاءُ الجَرِّ، وَصَحَّ المَعْنَى، فَإِذَا قُلْتَ: (مَرَرْتُ بِيَذْهَبُ)، فَلَا يَصِحُّ المَعْنَى؛ لأَنَّ بَاءَ الجَرِّ فِي (بِيَذْهَبُ) دَخَلَتْ عَلَى
আর তা কখনো এক-অক্ষরবিশিষ্ট (أُحَادِيَّةً), দুই-অক্ষরবিশিষ্ট (ثُنَائِيَّةً), তিন-অক্ষরবিশিষ্ট (ثُلَاثِيَّةً), চার-অক্ষরবিশিষ্ট (رُبَاعِيَّةً) অথবা পাঁচ-অক্ষরবিশিষ্ট (خُمَاسِيَّةً) হতে পারে; যেমন- (জের প্রদানকারী বা-بَاءِ الجَرِّ), (আন-عَنْ), (সুম্মা-ثُمَّ), (লা-আল্লা-لَعَلَّ), এবং (লাকিন্না-لَكِنَّ)।

গ্রন্থকার (المُصَنِّفُ) বলেন: «বিশেষ্য (الاسْمُ) হলো: যা কর্তা (فَاعِلًا) অথবা কর্ম (مَفْعُولًا) হওয়া বৈধ, অথবা যাতে জের প্রদানকারী অব্যয়সমূহের (حُرُوفِ الخَفْضِ) কোনো একটি যুক্ত হওয়া সঠিক হয়; যেমন: (রজুলুন, ফারাসুন, যাইদ এবং আমর) —এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ—»।

(ব্যাখ্যা-الشَّرْحُ): বিশেষ্যের (الاسْمُ) অনেকগুলো আলামত বা চিহ্ন রয়েছে, গ্রন্থকার (المُصَنِّفُ) তন্মধ্যে তিনটি উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: তা কর্তা (فَاعِلًا) হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: (ক্বামা যাইদুন), এখানে (যাইদুন) হলো কর্তা (فَاعِلٌ) এবং সেটি একটি বিশেষ্য (اسْمٌ)। সুতরাং আপনি যখন বলেন: (আকালা ইয়াক্বরাউ), তখন এখানে দুটি ক্রিয়া (فِعْلَانِ) রয়েছে, অথচ খাওয়া এবং পড়ার কাজের জন্য অবশ্যই একজন কর্তা (فَاعِلٌ) প্রয়োজন। সুতরাং ক্রিয়া কখনো কর্তা (فَاعِلًا) হওয়া সঠিক নয়।

দ্বিতীয়টি: তা কর্ম (مَفْعُولًا) হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: (ফাহিমা যাইদুন আদ-দারসা), এখানে (আদ-দারসা) হলো কর্ম (مَفْعُولٌ بِهِ), আর এটিই হলো যা বুঝা হয়েছে (المَفْهُومُ) এবং সেটি একটি বিশেষ্য (اسْمٌ)। সুতরাং আপনি যদি বলেন: (ফাহিমা যাইদুন ইয়াক্বুমু), তবে বাক্যের অর্থ সঠিক হবে না; কারণ এই উদাহরণে যা বুঝা হয়েছে (المَفْهُومُ) তা (ইয়াক্বুমু) হতে পারে না।

তৃতীয়টি: শব্দের শুরুতে জের প্রদানকারী অব্যয় (حَرْفِ الخَفْضِ) —অর্থাৎ (الجَرِّ)— প্রবেশ করা; যেমন আপনার উক্তি: (মারারতু বি-যাইদিন), এখানে (যাইদুন) একটি বিশেষ্য (اسْمٌ) যার শুরুতে জের প্রদানকারী 'বা' (بَاءُ الجَرِّ) যুক্ত হয়েছে এবং অর্থ সঠিক হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি বলেন: (মারারতু বি-ইয়াজহাবু), তবে অর্থ সঠিক হবে না; কারণ (বি-ইয়াজহাবু) শব্দে জের প্রদানকারী 'বা' (بَاءُ الجَرِّ) প্রবেশ করেছে...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১১)
فِعْلٍ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَالفِعْلُ: مَا دَلَّ عَلَى المَصْدَرِ، وَحَسُنَ فِيهِ الجَزْمُ وَالتَّصَرُّفُ؛ مِثْلُ: (قَامَ يَقُومُ، وَقَعَدَ يَقْعُدُ) - ومَا أشْبَهَ ذَلِكَ -».

(الشَّرْحُ): ذَكَرَ المُصَنِّفُ ثَلَاثَ عَلَامَاتٍ مِنْ عَلَامَاتِ الفِعْلِ:

الأُولَى: كَوْنُهُ مُشْتَقًّا مِنَ المَصْدَرِ.

فَالأَفْعَالُ لَيْسَتْ مُشْتَقَّةً مِنْ كُلِّ اسْمٍ، بَلْ مِنَ المَصْدَرِ الَّذِي هُوَ نَوْعٌ مِنْ أَنْوَاعِ الأَسْمَاءِ المُتَعَلِّقَةِ بِالزَّمَانِ المُطْلَقِ غَيْرِ المُعَيَّنِ؛ كَـ (الضَّرْبِ)؛ فَـ (الضَّرْبُ) مَصْدَرٌ؛ لأَنَّهُ اسْمٌ مُتَعَلِّقٌ بِزَمَانٍ غَيْرِ مَخْصُوصٍ، فَهُوَ يَدُلُّ عَلَى حَدَثِ الضَّرْبِ فِي وَقْتٍ دُونَ تَعْيِينِهِ عَلَى زَمَنِ المَاضِي أَوِ الحَاضِرِ أَوِ المُسْتَقْبَلِ، فَإِذَا عَيَّنْتَ زَمَانَهُ قُلْتَ: (ضَرَبَ) أَوْ (يَضْرِبُ) أَوِ (اضْرِبْ).

الثَّانِيَةُ: مَا صَلَحَ فِيهِ الجَزْمُ.

هَذهِ هِيَ العَلَامَةُ الثَّانِيَةُ الَّتِي ذَكَرَهَا المُصَنِّفُ فِي تَمْيِيزِ الفِعْلِ عَنْ غَيْرِهِ، وَهِيَ الجَزْمُ؛ كَقَوْلِكَ: (لَمْ يَأْكُلْ)، وَلَا يَصِحُّ الجَزْمُ لِلاسْمِ.

النَّوْعُ الثَّالِثُ: مَا صَلَحَ فِيهِ التَّصَرُّفُ؛ بِمَعْنَى: أَنَّهُ يَتَبَدَّلُ وَيَتَقَلَّبُ مِنْ صُورَةٍ إِلَى أُخْرَى بِحَسَبِ الزَّمَانِ، فَالفِعْلُ الوَاحِدُ يَكُونُ فِي صُورَةٍ لِلْمَاضِي وَأُخْرَى لِلْمُضَارِعِ وَأُخْرَى لِلْمُسْتَقْبَلِ؛ كَـ (كَتَبَ) فِي الماضِي، وَ (يَكْتُبُ) فِي
ক্রিয়া (فعل)।

গ্রন্থকার (المصنف) বলেন: «আর ক্রিয়া (فعل) হলো: যা ক্রিয়ামূলের (مصدر) ওপর নির্দেশ করে এবং যাতে জজম (جزم) ও রূপান্তর (تصرف) হওয়া শুদ্ধ; যেমন: (কামা ইয়াকুমু, কা’আদা ইয়াক’উদু) —এবং যা এর অনুরূপ—»।

(ব্যাখ্যা): গ্রন্থকার (المصنف) ক্রিয়ার (فعل) আলামতসমূহের মধ্য থেকে তিনটি আলামত উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে ব্যুৎপন্ন হওয়া।

কেননা ক্রিয়াসমূহ (أفعال) প্রত্যেক বিশেষ্য (اسم) থেকে ব্যুৎপন্ন হয় না, বরং কেবল ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে ব্যুৎপন্ন হয়, যা এমন এক প্রকার বিশেষ্য (اسم) যা কোনো সুনির্দিষ্ট সময় ছাড়াই অনির্দিষ্ট কালের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন— (আদ-দারবু); সুতরাং (আদ-দারবু) হলো একটি ক্রিয়ামূল (مصدر); কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য (اسم) যা কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। ফলে এটি অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ছাড়াই কেবল প্রহারের ঘটনার ওপর নির্দেশ করে। অতঃপর যখন আপনি এর সময় নির্ধারণ করবেন, তখন বলবেন: (দারাবা) অথবা (ইয়াদরিবু) অথবা (ইদরিব)।

দ্বিতীয়টি: যাতে জজম (جزم) হওয়া শুদ্ধ।

এটিই দ্বিতীয় আলামত যা গ্রন্থকার (المصنف) ক্রিয়াকে (فعل) অন্য শব্দ থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো জজম (جزم); যেমন আপনার উক্তি: (লাম ইয়াকুল), আর বিশেষ্যের (اسم) জন্য জজম (جزم) হওয়া সহীহ (صحيح) নয়।

তৃতীয় প্রকার: যাতে রূপান্তর (تصرف) হওয়া শুদ্ধ; এর অর্থ হলো: সময়ের পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এটি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত ও বিবর্তিত হয়। সুতরাং একটি ক্রিয়াই (فعل) অতীত কালের জন্য এক রূপে হয়, বর্তমানের জন্য অন্য রূপে এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়; যেমন— অতীতে (কাতাবা), এবং বর্তমান বা ভবিষ্যতে (ইয়াকতুবু) এর মধ্যে...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১২)
المُضَارِعِ، وَ (اكْتُبْ) لِلْأَمْرِ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَالحَرْفُ: مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي غَيْرِهِ، وَخَلَا مِنْ دَلِيلِ الاسْمِ وَالفِعْلِ؛ مِثْلُ: (هَلْ، وَبَلْ، وَمِنْ، وَإِلَى، وَمَتَى، وَقَدْ) - وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ -».

(الشَّرْحُ): أَمَّا الحَرْفُ؛ فَهُوَ الَّذِي لَا يَقْبَلُ شَيْئًا مِنْ عَلَامَاتِ الاسْمِ وَالفِعْلِ؛ كَـ (بَلْ)، وَ (مِنْ)، وَ (إِلَى)، وَ (مَتَى)، وَ (قَدْ)، وَ (لَمْ).

فَلَا يَصِحُّ دُخُولُ حَرْفِ الجَرِّ عَلَيْهَا؛ كَقَوْلِكَ (بِلَمْ).

وَلَا تَصِحُّ أَنْ تَكُونَ فَاعِلًا أَوْ مَفْعُولًا؛ كَقَوْلِكَ (ذَهَبَ لَمْ إِلَى المَدْرَسَةِ)، أَوْ (ضَرَبَ زَيْدٌ لَمْ)، فَهَذَا لَا يَصِحُّ.

وَكَذَلِكَ لَا يَصِحُّ اشْتِقَاقُهَا مِنَ المَصَادَرِ، فَلَا يُوجَدُ لِـ (لَمْ) مَصْدَرٌ.

وَكَذَلِكَ فَإِنَّ الحَرْفَ لَا يَتَصَرَّفُ؛ بِمَعْنَى أَنَّهُ يَبْقَى عَلَى حَالَةٍ وَاحِدَةٍ، وَلَيْسَ كَالفِعْلِ فإِنَّهُ - كَمَا تَقَدَّمَ - يَتَغَيَّرُ مِنْ صُورَةِ المَاضِي إِلَى المُضَارِعِ إِلَى الأَمْرِ.

وَكَذَلِكَ لَا يَصْلُحُ فِي الحُرُوفِ الجَزْمُ؛ وَأَمَّا السَّاكِنَةُ مِنْهَا فَهِيَ مَبْنِيَّةٌ عَلَى السُّكُونِ وَلَيْسَتْ مَجْزُومَةً بِالإِعْرَابِ، وَسَيَأْتِي تَفْصِيلُهُ فِي البَابِ التَّالِي.
বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (المضارع), এবং (উক্তুব) হলো আদেশসূচক (الأمر) ক্রিয়ার উদাহরণ।

গ্রন্থকার (المصنف) বলেন: «অব্যয় (الحرف) হলো এমন শব্দ যা অন্য শব্দ ব্যতিরেকে নিজের অর্থ পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে না এবং যা বিশেষ্য (الاسم) ও ক্রিয়া (الفعل)-এর আলামত বা চিহ্নসমূহ থেকে মুক্ত; যেমন: (হাল, বাল, মিন, ইলা, মাতা এবং ক্বাদ) - এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ -»।

(ব্যাখ্যা (الشرح)): অব্যয় (الحرف) হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য (الاسم) ও ক্রিয়া (الفعل)-এর কোনো চিহ্নই গ্রহণ করে না; যেমন: (বাল), (মিন), (ইলা), (মাতা), (ক্বাদ) এবং (লাম)।

সুতরাং এগুলোর পূর্বে প্রদান্বয়ী অব্যয় (حرف الجر) যুক্ত হওয়া সঠিক নয়; যেমন আপনার বলা (বি-লাম)।

এবং এগুলোর কর্তা (الفاعل) বা কর্ম (المفعول) হওয়াও শুদ্ধ নয়; যেমন আপনার বলা (যাহাবা লাম ইলাল মাদরাসাহ) কিংবা (দবারাবা যাইদুন লাম); কেননা এটি সঠিক নয়।

অনুরূপভাবে এগুলোর ক্রিয়ামূল (المصدر) থেকে ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) হওয়াও সম্ভব নয়, কেননা (লাম)-এর কোনো মূল ধাতু বা ক্রিয়ামূল (المصدر) নেই।

তেমনিভাবে অব্যয় (الحرف)-এর কোনো রূপান্তর (التصرف) হয় না; অর্থাৎ এটি সর্বদা একই অবস্থায় স্থির থাকে। এটি ক্রিয়া (الفعل)-এর মতো নয়, কেননা ক্রিয়া - যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে - অতীতকাল (الماضي) থেকে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (المضارع) এবং সেখান থেকে আদেশসূচক (الأمر) রূপে পরিবর্তিত হয়।

তদ্রূপ অব্যয়সমূহের ক্ষেত্রে জজম (الجزم) হওয়া প্রযোজ্য নয়; আর এগুলোর মধ্যে যা সাকিন বা স্থির থাকে তা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني), তা শব্দরূপ (الإعراب)-এর কারণে মাজযুম (مجزوم) নয়। এর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পরিচ্ছেদে আসবে।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 -‌‌ بَابُ الإِعْرَابِ

 

قَالَ المُصَنِّفُ: «اعْلَمْ أَنَّ الإِعْرَابَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَوْجُهٍ: عَلَى الرَّفْعِ، وَالنَّصْبِ، وَالجَرِّ، وَالجَزْمِ».

(الشَّرْحُ): الإِعْرَابُ - اصْطِلَاحًا -: هُوَ التَّغَيُّرُ فِي آخِرِ الكَلِمَةِ لِلتَّفْرِيقِ بَيْنَ المَعَانِي المُخْتَلِفَةِ.

وَأَقْسَامُهُ أَرْبَعَةٌ: الرَّفْعُ، وَالنَّصْبُ، وَالجَرُّ، وَالجَزْمُ.

فَلَوْ قُلْتَ: (ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا)، فَرَفَعْتَ آخِرَ حَرْفٍ مِنْ كَلِمَةِ (زَيْد) وَنَصَبْتَ آخِرَ حَرْفٍ مِنْ كَلِمَةِ (عَمْرو): فَإِنَّكَ أَرَدْتَ بِهَذِهِ العِبَارَةِ أَنَّ (زَيْدٌ)

- بِالرَّفْعِ - هُوَ الضَّارِبُ، وَ (عَمْرًا) - بِالنَّصْبِ - هُوَ المَضْرُوبُ.

وَلوَ عَكَسْتَ الرَّفْعَ وَالنَّصْبَ، فَقُلْتَ: (ضَرَبَ زَيْدًا عَمْرٌو)، فَنَصَبْتَ آخِرَ حَرْفٍ مِنْ كَلِمَةِ (زَيْد) وَرَفَعْتَ آخِرَ حَرْفٍ مِنْ كَلِمَةِ (عَمْرو)؛ فَإِنَّكَ أَرَدْتَ بِهَذِهِ العِبَارَةِ أَنَّ (زَيْدًا) - بِالنَّصْبِ - هُوَ المَضْرُوبُ، وَ (عَمْرٌو)

- بِالرَّفْعِ - هُوَ الضَّارِبُ.

وَبِهَذَا اخْتَلَفَ المَعْنَى فِي الجُمْلَتَيْنِ لاخْتِلَافِ أَوَاخِرِ الكَلِمَاتِ، فَهَذَا هُوَ الإِعْرَابُ؛ وَهُوَ تَمْيِيزُ المَعَانِي المُخْتَلِفَةِ؛ مِنْ فَاعِلٍ وَمَفْعُولٍ - وَغَيْرِهَا مِنْ
২ -‌‌ ই'রাব (إعراب) পরিচ্ছেদ

 

গ্রন্থকার বলেন: «জেনে রাখুন যে, ই'রাব (إعراب) চারটি পদ্ধতিতে হয়: রাফ' (رفع), নাসব (نصب), জার (جر) এবং জাজম (جزم)»।

(ব্যাখ্যা): ই'রাব (إعراب) -পারিভাষিক অর্থে-: হলো বিভিন্ন প্রকার অর্থের মধ্যে পার্থক্য করার উদ্দেশ্যে শব্দের শেষে পরিবর্তন হওয়া।

আর এর প্রকারসমূহ চারটি: রাফ' (رفع), নাসব (نصب), জার (جر) এবং জাজম (جزم)।

যদি আপনি বলেন: (যাইদ আমরকে প্রহার করেছে), আর আপনি 'যাইদ' শব্দের শেষ অক্ষরে রাফ' (رفع) প্রদান করেন এবং 'আমর' শব্দের শেষ অক্ষরে নাসব (نصب) প্রদান করেন; তবে আপনি এই বাক্যটির মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে (যাইদ)

-রাফ' (رفع) সহকারে- হলো প্রহারকারী, এবং (আমর) -নাসব (نصب) সহকারে- হলো প্রহৃত।

আর যদি আপনি রাফ' (رفع) এবং নাসব (نصب) পরিবর্তন করে দেন এবং বলেন: (যাইদকে আমর প্রহার করেছে), ফলে আপনি 'যাইদ' শব্দের শেষ বর্ণকে নাসব (نصب) প্রদান করলেন এবং 'আমর' শব্দের শেষ বর্ণকে রাফ' (رفع) প্রদান করলেন; তবে আপনি এই বাক্যের দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে (যাইদ) -নাসব (نصب) সহকারে- হলো প্রহৃত, এবং (আমর)

-রাফ' (رفع) সহকারে- হলো প্রহারকারী।

আর এর মাধ্যমেই শব্দের শেষভাগের পরিবর্তনের কারণে উভয় বাক্যের অর্থের পরিবর্তন হয়েছে; আর এটাই হলো ই'রাব (إعراب), যা বিভিন্ন অর্থের মধ্যে যেমন: কর্তা (فاعل) ও কর্ম (مفعول) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَبْوَابِ النَّحْوِ -.

وَهَذِهِ التَّسْمِيَاتُ لِلأَقْسَامِ الأَرْبَعَةِ هِيَ لأَوَاخِرِ الكَلِمَاتِ.

أَمَّا الَّتِي تَكُونُ عَلَى الأَحْرُفِ فِي أَوَّلِ الكَلِمَةِ وَوَسَطِهَا فَتُسَمَّى بِـ: الفَتْحِ، وَالضَّمِّ، وَالكَسْرِ، وَالسُّكُونِ.

فَإِذَا أَرَدْتَ ضَبْطَ كَلِمَةِ (جَعْفَرٍ) فِي قَوْلِكَ: (جَاءَ جَعْفَرٌ)؛ تَقُولُ: (جَعْفَرٌ: بِفَتْحِ الجِيمِ وَسُكُونِ العَيْنِ وَفَتْحِ الفَاءِ)، وَلَا تَقُولُ: (بِنَصْبِ الجِيمِ وَجَزْمِ العَيْنِ وَنَصْبِ الفَاءِ)؛ لأَنَّهَا ضَبْطٌ لِأَوَّلِ الكَلِمَةِ وَوَسَطِهَا، أَمَّا فِي إِعْرَابِهَا فَتَقُولُ: (جَعْفَرٌ) بِالرَّفْعِ؛ تُرِيدُ بِذَلِكَ أَنَّ الحَرْفَ الأَخِيرَ مِنَ الكَلِمَةِ هُوَ بِالضَّمِّ، وَهُوَ الرَّاءُ، فَإِذَا أَرَدْتَ ذِكْرَ عَلَامَةِ الرَّفْعِ قُلْتَ: هِيَ الضَّمَّةُ الظَّاهِرَةُ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «فَالرَّفْعُ وَالنَّصْبُ مُشْتَرَكٌ فِيهِمَا الأَسْمَاءُ وَالأَفْعَالُ، وَالخَفْضُ لِلأَسْمَاءِ خَاصَّةً دُونَ الأَفْعَالِ، وَالجَزْمُ لِلْأَفْعَالِ خَاصَّةً دُونَ الأَسْمَاءِ، فَإِعْرَابُ الأَسْمَاءِ: رَفْعٌ وَنَصْبٌ وَخَفْضٌ، وَلَا جَزْمَ فِيهَا، وَإِعْرَابُ الأَفْعَالِ: رَفْعٌ وَنَصْبٌ وَجَزْمٌ، وَلَا خَفْضَ فِيهَا».

(الشَّرْحُ): وَهَذِهِ الأَقْسَامُ الأَرْبَعَةُ لَيْسَتْ عَامَّةً لِكُلِّ كَلِمَةٍ - مِنَ اسْمٍ وَفِعْلٍ وَحَرْفٍ -، إِنَّمَا يَخْتَصُّ كُلُّ قِسْمٍ بِكَلِمَةٍ دُونَ أُخْرَى:
ব্যাকরণ (النحو)-এর অধ্যায়সমূহ -.

চারটি প্রকারের এই নামকরণগুলো মূলত শব্দের শেষ বর্ণের অবস্থার জন্য নির্ধারিত।

পক্ষান্তরে শব্দের প্রথম ও মধ্যবর্তী বর্ণসমূহে যে উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য থাকে, সেগুলোকে বলা হয়: ফাতহ (الفَتْح), যম্ম (الضَّمّ), কাসর (الكَسْر) এবং সুকুন (السُّكُون)।

সুতরাং আপনি যখন আপনার বক্তব্য—(জা’ফার এসেছে)—এর মধ্যে ‘জা’ফার’ (جَعْفَرٍ) শব্দটির সঠিক উচ্চারণ পদ্ধতি (ضَبْط) নির্ণয় করতে চান, তখন আপনি বলবেন: (জা’ফার: জীম বর্ণে ফাতহ (فَتْح), আইন বর্ণে সুকুন (سُكُون) এবং ফা বর্ণে ফাতহ (فَتْح) সহকারে)। আপনি বলবেন না যে: (জীম বর্ণে নাসব (نَصْب), আইন বর্ণে জজম (جَزْم) এবং ফা বর্ণে নাসব (نَصْب) সহকারে); কারণ এগুলো শব্দের প্রথম এবং মধ্যভাগের উচ্চারণ বিন্যাস। আর শব্দটির ই’রাব (إِعْرَاب)-এর ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: ‘জা’ফার’ শব্দটি রফ (الرَّفْع) অবস্থায় আছে; এর দ্বারা আপনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে, শব্দটির শেষ বর্ণটি যম্ম (الضَّمّ) বিশিষ্ট, আর তা হলো ‘রা’ বর্ণ। অতঃপর আপনি যদি রফ (الرَّفْع)-এর চিহ্ন উল্লেখ করতে চান, তবে বলবেন: এটি হলো প্রকাশ্য যম্মাহ (الضَّمَّة الظَّاهِرَة)।

গ্রন্থকার (المُصَنِّف) বলেন: «রফা (الرَّفْع) ও নাসব (النَّصْب)-এর ক্ষেত্রে বিশেষ্য (الأَسْمَاء) ও ক্রিয়া (الأَفْعَال) উভয়ই অংশীদার, আর খাফদ (الخَفْض) শুধুমাত্র বিশেষ্য (الأَسْمَاء)-এর জন্য নির্দিষ্ট—ক্রিয়ার জন্য নয়, এবং জজম (الجَزْم) শুধুমাত্র ক্রিয়া (الأَفْعَال)-এর জন্য নির্দিষ্ট—বিশেষ্যের জন্য নয়। সুতরাং বিশেষ্য (الأَسْمَاء)-এর ই’রাব (إِعْرَاب) হলো: রফ (رَفْع), নাসব (نَصْب) ও খাফদ (خَفْض), এবং এতে কোনো জজম (جَزْم) নেই। আর ক্রিয়া (الأَفْعَال)-এর ই’রাব (إِعْرَاب) হলো: রফ (رَفْع), নাসব (نَصْب) ও জজম (جَزْم), এবং এতে কোনো খাফদ (خَفْض) নেই»।

(ব্যাখ্যা (الشَّرْح)): এই চারটি প্রকার প্রতিটি শব্দের জন্য—চাই তা বিশেষ্য (اسْم), ক্রিয়া (فِعْل) বা অব্যয় (حَرْف) হোক—সাধারণ বা সার্বজনীন নয়; বরং প্রতিটি প্রকার এক এক ধরণের শব্দের সাথে পরিভাষা হিসেবে নির্দিষ্ট:
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَالرَّفْعُ وَالنَّصْبُ يَكُونَانِ فِي الأَسْمَاءِ وَالأَفْعَالِ.

أَمَّا الأَسْمَاءُ فَكَقَوْلِكَ: (السَّمَاءُ صَافِيَةٌ) وَ (إِنَّ السَّمَاءَ صَافِيَةٌ)؛ فَـ (السَّمَاء) اسْمٌ، وقَدْ صَحَّ رَفْعُهَا وَنَصْبُهَا فِي المِثَالَيْنِ.

وَأَمَّا الأَفْعَالُ؛ فَكَقَوْلِكَ: (زَيْدٌ يَكْتُبُ) وَ (زَيْدٌ لَنْ يَكْتُبَ)؛ فَـ (يَكْتُب) فِعْلٌ، وَقَدْ صَحَّ رَفْعُهُ وَنَصْبُهُ فِي المِثَالَيْنِ.

وَأَمَّا الجَرُّ فَيَخْتَصُّ بِالأَسْمَاءِ؛ كَقَوْلِكَ: (ذَهَبَ زَيْدٌ إِلَى المَدْرَسَةِ)؛ فَـ (المَدْرَسَةِ) اسْمٌ قَدْ صَحَّ جَرُّهَا، وَلَا يَصِحُّ هَذَا لِلْفِعْلِ.

وَأَمَّا الجَزْمُ فَيَخْتَصُّ بِالأَفْعَالِ، وَهَذَا كَقَوْلِكَ: (زَيْدٌ لَمْ يَذْهَبْ إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (يَذْهَبْ) فِعْلٌ، وَقَدْ صَحَّ جَزْمُهُ، وَلَا يَصِحُّ ذَلِكَ لِلأَسْمَاءِ.

وَعَلَى مَا تَقَدَّمَ:

ـ فَإِنَّ الأَسْمَاءَ يَقَعُ فِيهَا الرَّفْعُ وَالنَّصْبُ وَالجَرُّ، وَلَا يَقَعُ فِيهَا الجَزْمُ.

ـ وَالأَفْعَالَ يَقَعُ فِيهَا الرَّفْعُ وَ النَّصْبُ وَالجَزْمُ وَلَا يَقَعُ فِيهَا الجَرُّ.

هَذَا كُلُّهُ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالإِعْرَابِ؛ أَيْ: بِالكَلِمَاتِ الَّتِي يَتَغَيَّرُ أَوَاخِرُهَا.

أَمَّا الكَلِمَاتُ الَّتِي يَكُونُ آخِرُهَا عَلَى وَجْهٍ وَاحِدٍ لَا يَتَغَيَّرُ؛ فَيُسَمَّى بِالبِنَاءِ، وَلَمْ يَتَطَرَّقْ إِلَيْهِ المُصَنِّفُ، وَهُوَ خِلَافُ الإِعْرَابِ؛ كَحُرُوفِ المَعَانِي - مَثَلًا -، فَهِيَ كُلُّهَا عَلَى البِنَاءِ؛ كَـ (لَمْ) وَ (لَنْ).
সুতরাং রফ (الرَّفْعُ) এবং নসব (النَّصْبُ) বিশেষ্য (الأَسْمَاءُ) এবং ক্রিয়া (الأَفْعَالُ) উভয় ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

বিশেষ্যের (الأَسْمَاءُ) ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো আপনার কথা: (আস-সামাউ সাফিয়াতুন) এবং (ইন্নাস সামায়া সাফিয়াতুন); এখানে 'আস-সামা' একটি বিশেষ্য (اسْمٌ), এবং এই দুটি উদাহরণে যথাক্রমে এর রফ (رَفْعٌ) এবং নসব (نَصْبٌ) হওয়া সঠিক হয়েছে।

আর ক্রিয়ার (الأَفْعَالُ) ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো আপনার কথা: (যাইদুন ইয়াক্তুবু) এবং (যাইদুন লান ইয়াক্তুবা); এখানে 'ইয়াক্তুবু' একটি ক্রিয়া (فِعْلٌ), এবং এই দুটি উদাহরণে এর রফ (رَفْعٌ) ও নসব (نَصْبٌ) হওয়া সঠিক হয়েছে।

আর জর (الجَرُّ) বিশেষত বিশেষ্যের (الأَسْمَاءُ) সাথেই সম্পৃক্ত; যেমন আপনার কথা: (যাহাবা যাইদুন ইলাল মাদরাসাতি); এখানে 'আল-মাদরাসাতি' একটি বিশেষ্য (اسْمٌ) যার জর (جَرٌّ) হওয়া সঠিক হয়েছে, আর এটি ক্রিয়ার (فِعْلٌ) ক্ষেত্রে হওয়া সঠিক নয়।

আর জজম (الجَزْمُ) বিশেষত ক্রিয়ার (الأَفْعَالُ) সাথেই সম্পৃক্ত, এটি যেমন আপনার কথা: (যাইদুন লাম ইয়াজহাব ইলাল মাদরাসাতি), এখানে 'ইয়াজহাব' একটি ক্রিয়া (فِعْلٌ) এবং এর জজম (جَزْمٌ) হওয়া সঠিক হয়েছে, তবে এটি বিশেষ্যের (الأَسْمَاءُ) ক্ষেত্রে সঠিক নয়।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে:

— বিশেষ্যের (الأَسْمَاءُ) মধ্যে রফ (الرَّفْعُ), নসব (النَّصْبُ) এবং জর (الجَرُّ) সংঘটিত হয়, কিন্তু এতে জজম (الجَزْمُ) হয় না।

— আর ক্রিয়ার (الأَفْعَالُ) মধ্যে রফ (الرَّفْعُ), নসব (النَّصْبُ) এবং জজম (الجَزْمُ) সংঘটিত হয়, কিন্তু এতে জর (الجَرُّ) হয় না।

এসবই মূলত ইরাব (الإِعْرَابُ) সংক্রান্ত আলোচনা; অর্থাৎ ওইসব শব্দ যার শেষাংশ পরিবর্তিত হয়।

আর যেসব শব্দের শেষাংশ এক অবস্থাতেই থাকে, পরিবর্তিত হয় না, তাকে বিনা (البِنَاءُ) বলা হয়; গ্রন্থকার এ সম্পর্কে আলোচনা করেননি। এটি ইরাব (الإِعْرَابُ)-এর বিপরীত; যেমন অর্থের দ্যোতক অব্যয়সমূহ (حُرُوفُ المَعَانِي) — উদাহরণস্বরূপ এগুলো সবই মাবনি বা অপরিবর্তনীয় (البِنَاءُ) অবস্থার ওপর থাকে; যেমন: (লাম) এবং (লান)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَتَسْمِيَةُ أَقْسَامِ البِنَاءِ هِيَ نَفْسُهَا الَّتِي تَكُونُ فِي أَوَّلِ الكَلِمَةِ وَوَسَطِهَا، وَهِيَ: الضَّمُّ، وَالفَتْحُ، وَالكَسْرُ، وَالسُّكُونُ.

فَالضَّمُّ كَـ (حَيْثُ)، فَيُقَالُ: مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ.

وَالفَتْحُ كَـ (أَيْنَ) وَ (كَتَبَ)؛ فَيُقَالُ: مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

وَالسُّكُونُ كَـ (لَمْ) وَ (اكْتُبْ)؛ فَيُقَالُ: مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ.

وَالكَسْرَةُ كَـ (هَؤُلَاءِ)؛ فَيُقَالُ: مَبْنِيٌّ عَلَى الكَسْرِ.

فَالبِنَاءُ يَكُونُ عَلَى الضَّمِّ أَوِ الفَتْحِ أَوِ الكَسْرِ أَوِ السُّكُونِ.

وَالمَبْنِيَّاتُ هِيَ: حُرُوفُ المَعَانِي كُلُّهَا، وَالفِعْلُ المَاضِي، وَفِعْلُ الأَمْرِ، وَبَعْضُ أَحْوَالِ الفِعْلِ المُضَارِعِ، وَبَعْضُ الأَسْمَاءِ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَرَفْعُ الاسْمِ الوَاحِدِ بِالضَّمَّةِ، وَنَصْبُهُ بِالفَتْحَةِ، وَخَفْضُهُ بِالكَسْرَةِ؛ تَقُولُ فِي الرَّفْعِ: (زَيْدٌ وَعَمْرٌو وَبَكْرٌ)، وَتَقُولُ فِي النَّصْبِ: (زَيْدًا وَعَمْرًا وَبَكْرًا)، وَتَقُولُ فِي الخَفْضِ: (زَيْدٍ وَعَمْرٍو بَكْرٍ)، عَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي هَذِهِ الأَسْمَاءِ: ضَمُّ آخِرِهَا، وَعَلَامَةُ النَّصْبِ: فَتْحُ آخِرِهَا، وَعَلَامَةُ الخَفْضِ: كَسْرُ آخِرِهَا».

(الشَّرْحُ): شَرَعَ المُصَنِّفُ فِي ذِكْرِ حَالَاتِ الإِعْرَابِ؛ فَبَدَأَ فِي الاسْمِ الوَاحِدِ، ثُمَّ الأَسْمَاءِ الخَمْسَةِ المُعْتَلَّةِ، ثُمَّ جَعَلَ التَّثْنِيَةَ وَالجَمْعَ فِي بَابٍ وَاحِدٍ:
শব্দ গঠনের (البناء) প্রকারভেদগুলোর নামকরণ ঠিক সেরকমই যেমনটি শব্দের শুরুতে ও মধ্যভাগে হয়ে থাকে। আর সেগুলো হলো: দম্মাহ (الضم), ফাতহাহ (الفتح), কাসরাহ (الكسر) এবং সুকুন (السكون)।

দম্মাহ (الضم) যেমন ‘হায়সু’; সেক্ষেত্রে বলা হয়: দম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الضم)।

ফাতহাহ (الفتح) যেমন ‘আইনা’ ও ‘কাতাবা’; সেক্ষেত্রে বলা হয়: ফাতহাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح)।

সুকুন (السكون) যেমন ‘লাম’ ও ‘উকতুব’; সেক্ষেত্রে বলা হয়: সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون)।

কাসরাহ (الكسرة) যেমন ‘হাউলা-ই’; সেক্ষেত্রে বলা হয়: কাসরাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الكسر)।

সুতরাং গঠন (البناء) হয়ে থাকে দম্মাহ (الضم), অথবা ফাতহাহ (الفتح), অথবা কাসরাহ (الكسر), অথবা সুকুনের (السكون) ওপর ভিত্তি করে।

অপরিবর্তনশীল শব্দসমূহ (المبنيات) হলো: সকল অর্থবোধক অব্যয় (حروف المعاني), অতীতকালীন ক্রিয়া (الفعل الماضي), আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر), বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) কিছু অবস্থা এবং কিছু বিশেষ্য (الأسماء)।

গ্রন্থকার বলেন: «একবচন বিশেষ্যের রফ' (الرفع) হয় দম্মাহর (الضمة) মাধ্যমে, নসব (النصب) হয় ফাতহাহর (الفتحة) মাধ্যমে এবং খফদ (الخفض) হয় কাসরাহর (الكسرة) মাধ্যমে; রফ'র অবস্থায় আপনি বলবেন: (যাইদুন, আমরুন ও বকরুন), নসবের অবস্থায় বলবেন: (যাইদান, আমলান ও বকরান) এবং খফদের অবস্থায় বলবেন: (যাইদিন, আমরিন ও বকরিন)। এই বিশেষ্যসমূহে রফ'র চিহ্ন হলো তাদের শেষাক্ষরে দম্মাহ (ضم), নসবের চিহ্ন শেষাক্ষরে ফাতহাহ (فتح) এবং খফদের চিহ্ন শেষাক্ষরে কাসরাহ (كسر)»।

(ব্যাখ্যা): গ্রন্থকার ইরাবের (الإعراب) অবস্থাসমূহ বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন; তাই তিনি একবচন বিশেষ্য (الاسم الواحد) দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর পাঁচটি ত্রুটিযুক্ত বিশেষ্য (الأسماء الخمسة المعتلة), অতঃপর দ্বিবচন (التثنية) ও বহুবচনকে (الجمع) একটি পরিচ্ছেদে নিয়ে এসেছেন:
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَالاسْمُ الوَاحِدُ: هُوَ الاسْمُ المُفْرَدُ الَّذِي يَدُلُّ عَلَى الوَاحِدِ وَالفَرْدِ؛ كَقَوْلِكَ: (زَيْدٌ)؛ بِخِلَافِ قَوْلِكَ: (الزَّيْدَانِ) وَ (الزَّيْدُونَ).

فَالأَسْمَاءُ المُفْرَدَةُ يَكُونُ: رَفْعُهَا بِضَمِّ آخِرِهَا، وَنَصْبُهَا بِفَتْحِ آخِرِهَا، وَجَرُّهَا بِكَسْرِ آخِرِهَا؛ تَقُولُ: (بَكْرٌ وَبَكْرًا وَبَكْرٍ)، وَتَقُولُ: (عِلْمٌ) وَ (عِلْمًا) وَ (عِلْمٍ).

أَمَّا الرَّفْعُ؛ فَكَقَوْلِكَ: (جَاءَ بَكْرٌ) وَ (العِلْمُ نُورٌ)، فَعَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي كُلٍّ مِنْ (بَكْرٌ) وَ (العِلْمُ): الضَّمَّةُ الظَّاهِرَةُ.

وَأَمَّا النَّصْبُ؛ فَكَقَوْلِكَ: (عَلَّمَ زَيْدٌ بَكْرًا)، وَ (إِنَّ العِلْمَ نُورٌ)، فَعَلَامَةُ النَّصْبِ فِي (بَكْرًا) وَ (العِلْمَ): الفَتْحَةُ الظَّاهِرَةُ.

وَأَمَّا الجَرُّ؛ فَكَقَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِبَكْرٍ)، وَ (بِالعِلْمِ تَعْرِفُ الحَقَّ)، فَعَلَامَةُ الجَرِّ فِي (بِبَكْرٍ) وَ (بِالعِلْمِ): الكَسْرَةُ الظَّاهِرَةُ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَخَمْسَةُ أَسْمَاءٍ مُعْتَلَّةٍ مُضَافَةٍ، رَفْعُهَا: بِالوَاوِ، وَنَصبُهَا: بِالأَلِفِ، وَخَفْضُهَا: بِاليَاءِ؛ وَهِيَ: (أَبُوكَ وَأَخُوكَ وَحَمُوكَ وَفُوكَ وَذُو مَالٍ)، وَالنَّصْبُ: (أَبَاكَ وَأَخَاكَ وَحَمَاكَ وَفَاكَ وَذَا مَالٍ)، وَالخَفْضُ: (أَبِيكَ وَأَخِيكَ وَحَمِيكَ وَفِيكَ وَذِي مَالٍ)».

(الشَّرْحُ): الأَسْمَاءُ الخَمْسَةُ هِيَ: (أَبٌ وَأَخٌ وَحَمٌ وَفُو وَذُو).
একবচন বিশেষ্য: এটি হলো সেই একক বিশেষ্য যা এক এবং একক সত্তাকে নির্দেশ করে; যেমন আপনার উক্তি: (জায়দ); আপনার উক্তি: (দুই জায়দ) এবং (বহু জায়দ)-এর বিপরীত।

সুতরাং একবচন বিশেষ্যসমূহের বিধান হলো: সেগুলোর রফ শেষাক্ষরে পেশ প্রদানের মাধ্যমে, নসব শেষাক্ষরে জবর প্রদানের মাধ্যমে এবং জর শেষাক্ষরে জের প্রদানের মাধ্যমে হয়; আপনি বলবেন: (বাকরুন, বাকরান এবং বাকরিন), এবং বলবেন: (ইলমুন, ইলমান এবং ইলমিন)।

আর রফ-এর ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো যেমন আপনার উক্তি: (বাকর এসেছে) এবং (জ্ঞান হলো আলো), এখানে (বাকরুন) এবং (আল-ইলমু)-এর প্রত্যেকটিতে রফ-এর আলামত হলো স্পষ্ট পেশ।

আর নসব-এর ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো যেমন আপনার উক্তি: (জায়দ বাকরকে শিক্ষা দিয়েছে) এবং (নিশ্চয়ই জ্ঞান হলো আলো), এখানে (বাকরান) এবং (আল-ইলমা)-তে নসব-এর আলামত হলো স্পষ্ট জবর।

আর জর-এর ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো যেমন আপনার উক্তি: (আমি বাকরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম) এবং (জ্ঞানের মাধ্যমে তুমি সত্যকে জানতে পারবে), এখানে (বি-বাকরিন) এবং (বিল-ইলমি)-তে জর-এর আলামত হলো স্পষ্ট জের।

গ্রন্থকার বলেন: «এবং পাঁচটি ইলালযুক্ত (দুর্বল) ও মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) বিশেষ্য, যেগুলোর রফ: ওয়াও-এর মাধ্যমে, নসব: আলিফ-এর মাধ্যমে এবং খফদ: ইয়া-এর মাধ্যমে হয়; আর সেগুলো হলো: (আবুকা, আখুকা, হামুকা, ফুকা এবং যু-মালিন), নসবের ক্ষেত্রে: (আবাকা, আখাকা, হামাকা, ফাকা এবং যা-মালিন), এবং খফদ-এর ক্ষেত্রে: (আবীকা, আখীকা, হামীকা, ফীকা এবং যী-মালিন)»।

(ব্যাখ্যা): আসমাউল খামসাহ (পাঁচটি বিশেষ্য) হলো: (পিতা, ভাই, শ্বশুর, মুখ এবং বিশিষ্ট/অধিকারী)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَلِهَذِهِ الأَسْمَاءِ حَالَةٌ إِعْرَابِيَّةٌ خَاصَّةٌ بِشَرْطِ أَنْ يَأْتِي هَذَا الاسْمُ مُفْرَدًا مُضَافًا؛ كَقَوْلِكَ: (أَبُوكَ) أَوْ (أَبُوهُ) أَوْ (أَبُو فُلَانٍ)، وَقِسْ عَلَى ذَلِكَ الأَسْمَاءَ المَذْكُورَةَ الأُخْرَى.

وَهَذِهِ الأَسْمَاءُ الخَمْسَةُ المُعْتَلَّةُ المُضَافَةُ: تُرْفَعُ بِالوَاوِ، وَتُنْصَبُ بِالأَلِفِ، وَتُجَرُّ بِاليَاءِ.

أَمَّا الرَّفْعُ؛ فَكَقَوْلِكَ: (أَخُوكَ مُسَافِرٌ)، وَأَصْلُ الكَلَامِ: (الأَخُ مُسَافِرٌ)، وَهُوَ مَرْفُوعٌ، وَلَمَّا جَاءَ الاسْمُ المُعْتَلُّ مُضَافًا تَغَيَّرَ الرَّفْعُ مِنَ الضَّمَّةِ إِلَى الوَاوِ.

وَأَمَّا النَّصْبُ؛ فَكَقَوْلِكَ: (إِنَّ أَخَاكَ مُسَافِرٌ)، وَأَصْلُ الكَلَامِ: (إِنَّ الأَخَ مُسَافِرٌ)، وَهُوَ مَنْصُوبٌ، وَلَمَّا جَاءَ الاسْمُ المُعْتَلُّ مُضَافًا تَغَيَّرَ النَّصْبُ مِنَ الفَتْحَةِ إِلَى الأَلِفِ.

أَمَّا الجَرُّ؛ فَكَقَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِأَخِيكَ المُسَافِرِ)، وَأَصْلُ الكَلَامِ: (مَرَرْتُ بِالأَخِ المُسَافِرِ)، وَهُوَ مَجْرُورٌ، وَلَمَّا جَاءَ الاسْمُ المُعْتَلُّ مُضَافًا تَغَيَّرَ الجَرُّ مِنَ الكَسْرَةِ إِلَى اليَاءِ.

وَعَلَى الأَمْثِلَةِ الثَّلاثَةِ قِسِ الأَسْمَاءَ المُعْتَلَّةَ الأُخْرَى؛ فَبِالرَّفْعِ تَقُولُ: (أَبُوكَ وَأَخُوكَ وَحَمُوكَ وَفُوكَ وَذُو مَالٍ)، وَبِالنَّصْبِ تَقُولُ: (أَبَاكَ وَأَخَاكَ
এই নামগুলোর জন্য একটি বিশেষ ব্যাকরণিক অবস্থা নির্ধারিত রয়েছে এই শর্তে যে, এই নামটি একবচন এবং সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হবে; যেমন আপনার উক্তি: (আবুকা) অথবা (আবুহু) অথবা (আবু ফুলান), এবং অন্যান্য উল্লেখিত নামগুলোকে এগুলোর ওপর কিয়াস করুন।

আর এই পাঁচটি রূপান্তরশীল সম্বন্ধযুক্ত নামসমূহ: ওয়াও দ্বারা রফ’ প্রাপ্ত হয়, আলিফ দ্বারা নাসব প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া দ্বারা জার প্রাপ্ত হয়।

আর রফ’-এর বিষয়টি হলো; যেমন আপনার উক্তি: (আখুকা মুসাফিরুন), আর বাক্যের মূল রূপ হলো: (আল-আখু মুসাফিরুন), যা রফ’যুক্ত (مرفوع); কিন্তু যখন রূপান্তরশীল শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে এসেছে, তখন রফ’ অবস্থাটি দম্মাহ থেকে ওয়াও-তে পরিবর্তিত হয়েছে।

আর নাসব-এর বিষয়টি হলো; যেমন আপনার উক্তি: (ইন্না আখাকা মুসাফিরুন), আর বাক্যের মূল রূপ হলো: (ইন্নাল আখা মুসাফিরুন), যা নাসবযুক্ত; কিন্তু যখন রূপান্তরশীল শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে এসেছে, তখন নাসব অবস্থাটি ফাতহাহ থেকে আলিফে পরিবর্তিত হয়েছে।

আর জার-এর বিষয়টি হলো; যেমন আপনার উক্তি: (মারারতু বি-আখিকাল মুসাফির), আর বাক্যের মূল রূপ হলো: (মারারতু বিল আখিল মুসাফির), যা জারযুক্ত; কিন্তু যখন রূপান্তরশীল শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে এসেছে, তখন জার অবস্থাটি কাসরাহ থেকে ইয়া-তে পরিবর্তিত হয়েছে।

এই তিনটি উদাহরণের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য রূপান্তরশীল নামগুলোকে কিয়াস করুন; রফ’-এর ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: (আবুকা, আখুকা, হামুকা, ফুকা এবং যু-মালিন), এবং নাসব-এর ক্ষেত্রে বলবেন: (আবাকা, আখাকা
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَحَمَاكَ وَفَاكَ وَذَا مَالٍ)، وَبِالجَرِّ تَقُولُ: (أَبِيكَ وَأَخِيكَ وَحَمِيكَ وَفِيكَ وَذِي مَالٍ)».
এবং তোমার শ্বশুর, তোমার মুখ এবং সম্পদশালী), আর ‘জার’ অবস্থায় তুমি বলবে: (তোমার পিতা, তোমার ভাই, তোমার শ্বশুর, তোমার মুখ এবং সম্পদশালী)»
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২০)
3 -‌‌ بَابُ رَفْعِ الاثنَيْنِ وَالجَمْعِ

 

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَرَفْعُ الاثْنَيْنِ بِالأَلِفِ، وَنَصْبُهُمَا وَخَفْضُهُمَا بِاليَاءِ؛ تَقُولُ فِي الرَّفْعِ: (الزَّيْدَانِ وَالعَمْرَانِ وَالبَكْرَانِ)، وَعَلَامَةُ الرَّفْعِ فِيهِمَا: الأَلِفُ الَّتِي قَبْلَ النُّونِ، وَتَقُولُ فِي النَّصْبِ وَالخَفْضِ: (الزَّيْدَيْنِ وَالعَمْرَيْنِ وَالبَكْرَيْنِ)، وَعَلَامَةُ النَّصْبِ وَالخَفْضِ فِيهِمَا: اليَاءُ الَّتِي قَبْلَ النُّونِ».

(الشَّرْحُ): هَذَا بَابٌ مُكَمِّلٌ لِأَحْوَالِ الإِعْرَابِ، وَهُوَ بَابُ التَّثْنِيَةِ وَالجَمْعِ.

فَالاسْمُ المُثَنَّى: هُوَ كُلُّ اسْمٍ زِيدَ فِي آخِرِهِ عَلَامَةُ التَّثْنِيَةِ عِوَضًا عَنْ ذِكْرِ اسْمٍ آخَرَ مَعَهُ؛ فَقَوْلُكَ: (الزَّيْدَانِ)؛ فَالأَلِفُ هِيَ عِوَضٌ عَنْ قَوْلِكَ: (جَاءَ زَيْدٌ وَزَيْدٌ)، فَتَقُولُ: (جَاءَ الزَّيْدَانِ)، وَكَذَلِكَ قَوْلُكَ: (الهِنْدَانِ)؛ فَالأَلِفُ هِيَ عِوَضٌ عَنْ قَوْلِكَ: (جَاءَتْ هِنْدٌ وَهِنْدٌ)، فَتَقُولُ: (جَاءَتِ الهِنْدَانِ).

وَعَلَامَةُ إِعْرَابِهِ: يُرْفَعُ بِالأَلِفِ، وَيُنْصَبُ وَيُجَرُّ بِاليَاءِ.

فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (قَامَ الزَّيْدَانِ)، فَـ (الزَّيْدَانِ) - هُنَا - عَلَى التَّثْنِيَةِ، مُفْرَدُهُ: (زَيْدٌ)؛ كَقَوْلِكَ: (قَامَ زَيْدٌ)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (زَيْدٍ) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى
৩ -‌‌ দ্বিবচন ও বহুবচনের রফ সংক্রান্ত অধ্যায়

 

গ্রন্থকার বলেন: «দ্বিবচনের রফ হয় আলিফ দ্বারা, এবং এ দুটির নসব ও খফদ (জের) হয় ইয়া দ্বারা; আপনি রফ-এর অবস্থায় বলবেন: (যাইদদ্বয়, আমরদ্বয় ও বকরদ্বয়), আর এগুলোতে রফ-এর চিহ্ন হলো সেই আলিফ যা নূনের পূর্বে অবস্থিত। এবং আপনি নসব ও খফদ-এর অবস্থায় বলবেন: (যাইদদ্বয়কে/যাইদদ্বয়ের, আমরদ্বয়কে/আমরদ্বয়ের ও বকরদ্বয়কে/বকরদ্বয়ের), আর এগুলোতে নসব ও খফদ-এর চিহ্ন হলো সেই ইয়া যা নূনের পূর্বে অবস্থিত।»

(ব্যাখ্যা): এটি ইরাবের অবস্থাসমূহের পরিপূরক একটি অধ্যায়, আর তা হলো দ্বিবচন ও বহুবচনের অধ্যায়।

দ্বিবচন বিশিষ্ট বিশেষ্য (মুসান্না) হলো: এমন প্রতিটি বিশেষ্য যার শেষে অন্য একটি বিশেষ্যকে তার সাথে পুনরায় উল্লেখ করার পরিবর্তে দ্বিবচনের আলামত বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন আপনার উক্তি: (যাইদদ্বয়); এখানে আলিফটি আপনার 'যাইদ ও যাইদ এসেছে' বলার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তাই আপনি বলেন: (যাইদদ্বয় এসেছে)। একইভাবে আপনার উক্তি: (হিন্দাদ্বয়); এখানে আলিফটি আপনার 'হিন্দা ও হিন্দা এসেছে' বলার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তাই আপনি বলেন: (হিন্দাদ্বয় এসেছে)।

আর এর ইরাব প্রদানের চিহ্ন হলো: এটি আলিফ দ্বারা রফ প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া দ্বারা নসব ও জর প্রাপ্ত হয়।

রফ-এর উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (যাইদদ্বয় দাঁড়িয়েছে), এখানে (যাইদদ্বয়) শব্দটি দ্বিবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এর একবচন হলো: (যাইদ); যেমন আপনার কথা: (যাইদ দাঁড়িয়েছে), অতঃপর যখন 'যাইদ' শব্দটি একবচন থেকে পরিবর্তিত হয়ে...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২১)
المُثَنَّى (زَيْدَانِ)؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الرَّفْعُ بِالضَّمِّ فِي المُفْرَدِ إِلَى الأَلِفِ وَمَعَهَا النُّونُ المَكْسُورَةُ؛ لأَنَّهُ جَاءَ بِصِيغَةِ التَّثْنِيَةِ.

فَالأَلِفُ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي المُثَنَّى، وَأَمَّا النُّونُ فَسَيَأْتِي ذِكْرُهَا.

أَمَّا نَصْبُ الاسْمِ المُثَنَّى فَكَقَوْلِكَ: (ضَرَبَ عَمْرٌو الزَّيْدَيْنِ)، فَـ (الزَّيْدَيْنِ) - هُنَا - عَلَى التَّثْنِيَةِ، مُفْرَدُهُ: (زَيْدًا) كَقَوْلِكَ: (ضَربَ عَمْرٌو زَيْدًا)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (زَيْدًا) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى المُثَنَّى (زَيْدَانِ)؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا النَّصْبُ بِالفَتْحِ فِي المُفْرَدِ إِلَى اليَاءِ وَمَعَهَا النُّونُ المَكْسُورَةُ؛ لأَنَّهَا جَاءَتْ بِصِيغَةِ التَّثْنِيَةِ.

فَاليَاءُ: هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ فِي المُثَنَّى.

أَمَّا جَرُّ الاسْمِ المُثَنَّى فَكَقَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِالزَّيْدَيْنِ)، فَـ (الزَّيْدَيْنِ)

- هُنَا - عَلَى التَّثْنِيَةِ، مُفْرَدُهُ: (زَيْدٍ)؛ كَقَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِزَيْدٍ)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (زَيْدٍ) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى المُثَنَّى (زَيْدَيْنِ)؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الجَرُّ بِالكَسْرِ فِي المُفْرَدِ إِلَى اليَاءِ وَمَعَهَا النُّونُ المَكْسُورَةُ؛ لأَنَّهَا جَاءَتْ بِصِيغَةِ التَّثْنِيَةِ.

فَاليَاءُ - أَيْضاً -: هِيَ عَلَامَةُ الجَرِّ فِي المُثَنَّى - كَمَا هِيَ فِي النَّصْبِ -.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَرَفْعُ الجَمْعِ الَّذِي عَلَى هِجَائَيْنِ: بِالوَاوِ؛ نَحْوُ قَوْلِكَ: (الزَّيْدُونَ وَالعَمْرُونَ وَالبَكْرُونَ)، وَنَصْبُهُمْ وَخَفْضُهُمْ: بِاليَاءِ؛ نَحْوُ
দ্বিবচন (যথা: যয়দান); এর ক্ষেত্রে একবচনের পেশ (জম্মা) দ্বারা রফা হওয়ার বিষয়টি আলিফে পরিবর্তিত হয় এবং তার সাথে একটি কাসরাযুক্ত (জেরযুক্ত) নূন থাকে; কারণ এটি দ্বিবচনের রূপে এসেছে।

অতঃপর আলিফ হলো দ্বিবচনের ক্ষেত্রে রফা-এর আলামত, আর নূন সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।

আর দ্বিবচন বিশেষ্যের নসব হওয়ার বিষয়টি আপনার এই উক্তির মতো: (আমর দুইজন যদকে প্রহার করেছে), এখানে (আয-যয়দায়নি) শব্দটি—এখানে—দ্বিবচন হিসেবে এসেছে, যার একবচন হলো: (যয়দান) যেমন আপনার উক্তি: (আমর যদকে প্রহার করেছে)। সুতরাং যখন (যয়দান) শব্দটি একবচন থেকে দ্বিবচন (যয়দান)-এ পরিবর্তিত হলো, তখন তার সাথে একবচনের ফাতহা (জবর) দ্বারা নসব হওয়ার বিষয়টি ইয়া-তে পরিবর্তিত হলো এবং তার সাথে একটি কাসরাযুক্ত (জেরযুক্ত) নূন যুক্ত হলো; কারণ এটি দ্বিবচনের রূপে এসেছে।

সুতরাং ইয়া হলো দ্বিবচনের ক্ষেত্রে নসব-এর আলামত।

আর দ্বিবচন বিশেষ্যের জর হওয়ার বিষয়টি আপনার এই উক্তির মতো: (আমি দুইজন যদ-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি), এখানে (আয-যয়দায়নি) শব্দটি

—এখানে—দ্বিবচন হিসেবে এসেছে, যার একবচন হলো: (যয়দিন); যেমন আপনার উক্তি: (আমি যদ-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। সুতরাং যখন (যয়দিন) শব্দটি একবচন থেকে দ্বিবচন (যয়দায়নি)-তে পরিবর্তিত হলো, তখন তার সাথে একবচনের কাসরা (জের) দ্বারা জর হওয়ার বিষয়টি ইয়া-তে পরিবর্তিত হলো এবং তার সাথে একটি কাসরাযুক্ত (জেরযুক্ত) নূন যুক্ত হলো; কারণ এটি দ্বিবচনের রূপে এসেছে।

সুতরাং ইয়া-ও দ্বিবচনের ক্ষেত্রে জর-এর আলামত—যেমনটি নসব-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল।

গ্রন্থকার বলেন: «এবং সেই বহুবচনের রফা যা দুই প্রকার বানানে গঠিত হয়: ওয়াও দ্বারা; যেমন আপনার উক্তি: (আয-যয়দূন, আল-আম রূন এবং আল-বাকরূন), এবং তাদের নসব ও খাফদ (জর): ইয়া দ্বারা; যেমন...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২২)
قَوْلِكَ: (الزَّيْدِينَ وَالعَمْرِينَ وَالبَكْرِينَ)».

(الشَّرْحُ): ثُمَّ تَكَلَّمَ المُصَنِّفُ عَنِ الجَمْعِ الَّذِي عَلَى هِجَائِيْنِ، وَيُرِيدُ بِذَلِكَ: الوَاوَ وَالنُّونَ، وَاليَاءَ وَالنُّونَ، وَهُوَ: جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ.

فَجَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ: هُوَ كُلُّ اسْمٍ زِيدَ فِي آخِرِهِ عَلَامَةُ الجَمْعِ المُذَكَّرِ عِوَضًا عَنْ ذِكْرِ أَكْثَرَ مِنْ اسْمٍ مَعَهُ بِحَيْثُ تَبْقَى حَالَةُ مُفْرَدِهِ كَمَا هِيَ إِذَا جُرِّدَ مِنْ هَذِهِ الزِّيَادَةِ.

فَالزِّيادَةُ فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ - كَمَا تَقَدَّمَ - هِيَ: الوَاوُ وَالنُّونُ، وَاليَاءُ وَالنُّونُ.

فَقَوْلُكَ: (العَامِلُونَ)؛ فَالوَاوُ وَالنُّونُ هِيَ عِوَضٌ عَنْ قَوْلِكَ: (جَاءَ العَامِلُ وَالعَامِلُ وَالعَامِلُ)، فَتَقُولُ: (جَاءَ العَامِلُونَ)؛ فَـ (عَامِلٌ) مَفُرْدٌ، وَبِجَمْعِهَا عَلَى (عَامِلُونَ) بَقِيَتْ حُرُوفُهَا كَمَا هِيَ، وَلَكِنْ زِيدَ فِيهَا فَقَطْ (الوَاوُ وَالنُّونُ)، فَسَلِمَ مِنَ التَّغْيِيرِ عِنْدَ جَمْعِهِ، وَكَذَلِكَ جَمْعُ (عَامِلٍ) عَلَى (عَامِلِينَ) فِي قَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِالعَامِلِينَ)؛ بَقِيَتِ الحُرُوفُ كَمَا هِيَ عَلَى الإِفْرَادِ وَزِيدَ فِيهِ فَقَطْ (اليَاءُ وَالنُّونُ)، فَسَلِمَ مِنَ التَّغْيِيرِ عِنْدَ جَمْعِهِ.

وَجَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ: يُرْفَعُ بِالوَاوِ، وَيُنْصَبُ وَيُجَرُّ بِاليَاءِ.

فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (جَاءَ الزَّيْدُونَ)، فَـ (الزَّيْدُونَ) - هُنَا - جَمْعُ مُذَكَّرٍ
আপনার উক্তি: (যাইদগণ, আমরগণ এবং বাকরগণ)৷

(ব্যাখ্যা): এরপর গ্রন্থকার এমন বহুবচন (جمع) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যা দুটি বর্ণের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন: 'ওয়াও' ও 'নুন' এবং 'ইয়া' ও 'নুন'। আর তা হলো: পুংলিঙ্গ সুস্থ বহুবচন (جمع المذكر السالم)।

পুংলিঙ্গ সুস্থ বহুবচন (جمع المذكر السالم) হলো: এমন প্রত্যেকটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষে একাধিক নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে পুংলিঙ্গ বহুবচনের আলামত বৃদ্ধি করা হয়েছে, এমনভাবে যে সেই অতিরিক্ত অংশটি সরিয়ে ফেললে তার একবচনের (مفرد) অবস্থাটি অপরিবর্তিত থাকে।

পুংলিঙ্গ সুস্থ বহুবচনে (جمع المذكر السالم) অতিরিক্ত অংশটি হলো—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—'ওয়াও' ও 'নুন' এবং 'ইয়া' ও 'নুন'।

যেমন আপনার উক্তি: (আল-আমিলুনা); এখানে 'ওয়াও' ও 'নুন' হলো আপনার এই উক্তির স্থলাভিষিক্ত: (আমিল এসেছে, আমিল এসেছে এবং আমিল এসেছে), ফলে আপনি বলেন: (আমিলগণ এসেছেন)। এখানে 'আমিল' একবচন (مفرد), আর তাকে (আল-আমিলুনা) রূপে বহুবচন করার সময় এর বর্ণগুলো অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে, শুধু তাতে 'ওয়াও' ও 'নুন' বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বহুবচন করার সময় এটি পরিবর্তন থেকে রক্ষা পেল। অনুরূপভাবে আপনার উক্তি: (আমি আমিলগণের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম)-এ 'আমিল' শব্দের বহুবচন (আল-আমিলিনা)-এর ক্ষেত্রেও বর্ণগুলো একবচনের অবস্থায় অবিকৃত থাকল এবং তাতে কেবল 'ইয়া' ও 'নুন' বৃদ্ধি করা হলো। ফলে বহুবচন করার সময় তা পরিবর্তন থেকে নিরাপদ থাকল।

আর পুংলিঙ্গ সুস্থ বহুবচন (جمع المذكر السالم): 'ওয়াও' এর মাধ্যমে রফ (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং 'ইয়া' এর মাধ্যমে নাসব (নصب) ও জার (جر) প্রাপ্ত হয়।

রফ (رفع) হওয়ার উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (যাইদগণ এসেছে); এখানে (যাইদুন) শব্দটি হলো পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع مذكر)
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৩)
سَالِمٌ، مُفْرَدُهُ: (زَيْدٌ)؛ كَقَوْلِكَ: (جَاءَ زَيْدٌ)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (زَيْدٍ) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ (الزَّيْدُونَ)؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الرَّفْعُ بِالضَّمِّ فِي المُفْرَدِ إِلَى الوَاوِ وَمَعَهَا النُّونُ المَفْتُوحَةُ؛ لأنَّهَا جَاءَتْ بِصِيغَةِ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

فَالوَاوُ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

وَمِثْلُهُ: (ذَهَبَ العَمْرُونَ)، وَ (سَافَرَ البَكْرُونَ)، وَ (انْتَصَرَ المُسْلِمُونَ).

أَمَّا نَصْبُ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ فَكَقَوْلِكَ: (نَصَرَ الحَاكِمُ المُسْتَضْعَفِينَ)، فَـ (المُسْتَضْعَفِينَ) - هُنَا - جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ، مُفْرَدُهُ: (المُسْتَضْعَفَ)؛ كَقَوْلِكَ: (نَصَرَ الحَاكِمُ المُسْتَضْعَفَ)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (المُسْتَضْعَفَ) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ (المُسْتَضْعَفِينَ)؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا النَّصْبُ بِالفَتْحِ فِي المُفْرَدِ إِلَى اليَاءِ وَمَعَهَا النُّونُ المَفْتُوحَةُ؛ لأَنَّهَا جَاءَت بِصِيغَةِ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

فَاليَاءُ هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

أَمَّا جَرُّ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ فَكَقَوْلِكَ: (إِنَّ اللهَ عز وجل رَؤُوفٌ بِالمُؤْمِنِينَ)، فَـ (المُؤْمِنِينَ) - هُنَا - جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ، مُفْرَدُهُ: (المُؤْمِنِ)؛ كَقَوْلِكَ: (إِنَّ اللهَ عز وجل رَؤُوفٌ بِالمُؤْمِنِ)، فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ كَلِمَةُ (المُؤْمِنِ) مِنَ المُفْرَدِ إِلَى جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ (المُؤْمِنِينَ)؛ تَغَيَّرَتْ مَعَهَا الجَرُّ بِالكَسْرِ فِي المُفْرَدِ إِلَى اليَاءِ وَمَعَهَا النُّونُ المَفْتُوحَةُ؛ لأَنَّهَا جَاءَتْ بِصِيغَةِ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.
সালেম (নিয়মিত), এর একবচন হলো: (যায়েদ); যেমন আপনার কথা: (যায়েদ এসেছে), অতঃপর যখন (যায়েদ) শব্দটি একবচন থেকে জমা মুযাক্কার সালেম (যাইদুন)-এ রূপান্তরিত হলো; তখন এর সাথে একবচনের পেশ (দম্মাহ)-এর মাধ্যমে হওয়া রফ অবস্থাটি পরিবর্তিত হয়ে ওয়াও এবং তার সাথে যবরযুক্ত নুন-এ পরিণত হলো; কারণ এটি জমা মুযাক্কার সালেম-এর ওজনে এসেছে।

সুতরাং ওয়াও হলো জমা মুযাক্কার সালেম-এর ক্ষেত্রে রফ-এর আলামত।

আর এর অনুরূপ হলো: (আমরগণ গিয়েছে), এবং (বকরগণ সফর করেছে), এবং (মুসলিমগণ বিজয় লাভ করেছে)।

পক্ষান্তরে জমা মুযাক্কার সালেম-এর নসব হলো যেমন আপনার উক্তি: (শাসক অসহায়দের সাহায্য করেছেন), এখানে (আল-মুস্তাদ'আফীন) শব্দটি জমা মুযাক্কার সালেম, যার একবচন হলো: (আল-মুস্তাদ'আফা); যেমন আপনার উক্তি: (শাসক অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করেছেন), অতঃপর যখন (আল-মুস্তাদ'আফা) শব্দটি একবচন থেকে জমা মুযাক্কার সালেম (আল-মুস্তাদ'আফীন)-এ রূপান্তরিত হলো; তখন এর সাথে একবচনের যবর (ফাতহা)-এর মাধ্যমে হওয়া নসব অবস্থাটি পরিবর্তিত হয়ে ইয়া এবং তার সাথে যবরযুক্ত নুন-এ পরিণত হলো; কারণ এটি জমা মুযাক্কার সালেম-এর ওজনে এসেছে।

ফরাসি ইয়া হলো জমা মুযাক্কার সালেম-এর ক্ষেত্রে নসব-এর আলামত।

আর জমা মুযাক্কার সালেম-এর জর হলো যেমন আপনার উক্তি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু), এখানে (আল-মুমিনীন) শব্দটি জমা মুযাক্কার সালেম, যার একবচন হলো: (আল-মুমিন); যেমন আপনার উক্তি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী মুমিন ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত দয়ালু), অতঃপর যখন (আল-মুমিন) শব্দটি একবচন থেকে জমা মুযাক্কার সালেম (আল-মুমিনীন)-এ রূপান্তরিত হলো; তখন এর সাথে একবচনের যের (কাসরা)-এর মাধ্যমে হওয়া জর অবস্থাটি পরিবর্তিত হয়ে ইয়া এবং তার সাথে যবরযুক্ত নুন-এ পরিণত হলো; কারণ এটি জমা মুযাক্কার সালেম-এর ওজনে এসেছে।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَاليَاءُ - أَيْضًا -: هِيَ عَلَامَةُ الجَرِّ فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَنُونُ الاثْنَيْنِ مَكْسُورَةٌ أَبَدًا، وَنُونُ الجَمْعِ مَفْتُوحَةٌ أَبَدًا، وَتَسْقُطَانِ بِالإِضَافَةِ؛ نَحْوُ قَوْلِكَ: (هَذَانِ ابْنَا زَيْدٍ، وَهَؤُلَاءِ بَنُو زَيْدٍ)؛ أَصْلُهُ: (ابْنَانِ وَبَنُونَ)، فَحُذِفَتِ النُّونُ لِلإِضَافَةِ».

(الشَّرْحُ): النُّونُ الوَارِدَةُ فِي الأَمْثِلَةِ السَّابِقَةِ مِنْ هَذَا البَابِ: نُونٌ زَائِدَةٌ، وَتَكُونُ مَكْسُورَةً فِي التَّثْنِيَةِ، وَمَفْتُوحَةً فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ؛ فَتَقُولُ فِي الاسْمِ المُثَنَّى: (الزَّيْدَانِ) بِكَسْرِ النُّونِ الزَّائِدَةِ، وَتَقُولُ فِي جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ: (الزَّيْدُونَ) بِفَتْحِ النُّونِ الزَّائِدَةِ.

وَتُحْذَفُ النُّونُ الزَّائِدَةُ فِي المُثَنَّى وَجَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ عِنْدَ وُقُوعِهِ مُضَافًا.

فَالاسْمُ المُثَنَّى كَقَوْلِكَ: (هَذَانِ ابْنَا زَيْدٍ)، فَـ (ابْنَا) عَلَى التَّثْنِيَةِ، وَهِيَ مُضَافٌ - هُنَا - وَ (زَيْدٍ) مُضَافٌ إِلَيْهِ، وَأَصْلُ الكَلِمَةِ (ابْنَانِ) كَقَوْلِكَ: (هَذَانَ ابْنَانِ لِزَيْدٍ)، فَلَمَّا جُعِلَ السِّيَاقُ عَلَى الإِضَافَةِ حُذِفَتِ النُّونِ.

وَقِسْ عَلَى ذَلِكَ نَصْبَ الاسْمِ المُثَنَّى المُضَافِ وَجَرَّهُ؛ كَقَوْلِكَ: (ضَرَبْتُ ابْنَيْ زَيْدٍ) وَ (مرَرْتُ بِابْنَيْ زَيْدٍ).

أَمَّا جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ فَكَقَوْلِكَ: (هَؤُلَاءِ بَنُو زَيْدٍ)؛ فَـ (بَنُو) عَلَى الجَمْعِ، وَهِيَ مُضَافٌ - هُنَا - وَ (زَيْدٍ) مُضَافٌ إِلَيْهِ، وَأَصْلُ الكَلِمَةِ: (بَنُونَ)
সুতরাং ‘ইয়া’—অধিকন্তু—হলো অক্ষত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে জার (জের) বা সম্বন্ধসূচক অবস্থার চিহ্ন।

গ্রন্থকার বলেন: “দ্বিবচনের ‘নুন’ সর্বদা কাসরা (জের) বিশিষ্ট হয় এবং বহুবচনের ‘নুন’ সর্বদা ফাতহা (যবর) বিশিষ্ট হয়। সম্বন্ধ (ইযাফত)-এর কারণে উভয়টি বিলুপ্ত হয়ে যায়; যেমন আপনার উক্তি: (হাযানি ইবনা যাইদিন এবং হাউলায়ি বানু যাইদিন); এর মূল রূপ ছিল: (ইবনানি এবং বানুনা), অতঃপর সম্বন্ধের কারণে ‘নুন’ বিলুপ্ত করা হয়েছে।”

(ব্যাখ্যা): এই পরিচ্ছেদের পূর্বোক্ত উদাহরণগুলোতে বর্ণিত ‘নুন’ হলো অতিরিক্ত ‘নুন’। এটি দ্বিবচনের ক্ষেত্রে কাসরা বিশিষ্ট এবং অক্ষত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে ফাতহা বিশিষ্ট হয়। অতএব দ্বিবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: (আয-যাইদানি) অতিরিক্ত ‘নুন’-এ কাসরা প্রদানের মাধ্যমে, এবং অক্ষত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে বলবেন: (আয-যাইদুনা) অতিরিক্ত ‘নুন’-এ ফাতহা প্রদানের মাধ্যমে।

আর দ্বিবচন এবং অক্ষত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন যখন মুদাফ (সম্বন্ধিত পদ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের অতিরিক্ত ‘নুন’ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

দ্বিবচন বিশেষ্যের উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (হাযানি ইবনা যাইদিন), এখানে (ইবনা) শব্দটি দ্বিবচন হিসেবে আছে এবং এটি এখানে মুদাফ, আর (যাইদিন) হলো মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে)। শব্দটির মূল রূপ ছিল (ইবনানি) যেমন আপনার উক্তি: (হাযানি ইবনানি লি-যাইদিন), অতঃপর যখন বাক্যরীতিকে সম্বন্ধের (ইযাফত) ওপর ভিত্তি করে গঠন করা হয়েছে, তখন ‘নুন’ বিলুপ্ত হয়েছে।

আপনি এর ওপর ভিত্তি করেই সম্বন্ধিত দ্বিবচন বিশেষ্যের নসব (যবর) এবং জার (জের) হওয়ার অবস্থাকে অনুমান করে নিন; যেমন আপনার উক্তি: (দারাবতু ইবনাই যাইদিন) এবং (মারারতু বি-ইবনাই যাইদিন)।

আর অক্ষত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনের উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: (হাউলায়ি বানু যাইদিন); এখানে (বানু) শব্দটি বহুবচন হিসেবে আছে এবং এটি এখানে মুদাফ, আর (যাইদিন) হলো মুদাফ ইলাইহি। শব্দটির মূল রূপ ছিল: (বানুনা)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৫)
كَقَوْلِكَ: (هَؤُلَاءِ بَنُونَ لِزَيْدٍ)، فَلَمَّا جُعِلَ السِّيَاقُ عَلَى الإِضَافَةِ حُذِفَتِ النُّونُ.

وَقِسْ عَلَى ذَلِكَ نَصْبَ جَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ المُضَافِ وَجَرَّهُ؛ كَقَوْلِكَ: (ضَرَبْتُ بَنِي زَيْدٍ) وَ (مرَرْتُ بِبَنِي زَيْدٍ).

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَرَفْعُ فِعْلِ الاثْنَيْنِ وَالجَمْعِ وَمُخَاطبَةِ المُؤَنَّثِ الوَاحِدِ يَكُونُ بِالنُّونِ، وَنَصْبُهَا وَجَزْمُهَا بِحَذْفِ النُّونِ؛ تَقُولُ: (تَذْهَبَانِ، وَتَذْهَبُونَ، وَتَذْهَبِينَ) - وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ -، فَعَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي هَذِهِ الأَفْعَالِ ثَبَاتُ النُّونِ، وَتَقُولُ فِي النَّصْبِ وَالجَزْمِ: (لَنْ تَذْهَبَا وَلَمْ تَذْهَبَا، وَلَنْ تَذْهَبُوا وَلَمْ تَذْهَبُوا، وَلَنْ تَذْهَبِي وَلَمْ تَذْهَبِي)، فَعَلَامَةُ النَّصْبِ وَالجَزْمِ فِي الأَفْعَالِ: حَذْفُ النُّونِ».

(الشَّرْحُ): ثُمَّ تَكَلَّمَ المُصَنِّفُ عَنْ أَحْوَالِ الإِعْرَابِ فِي الفِعْلِ، وَيُرِيدُ بِذَلِكَ الأَفْعَالَ الخَمْسَةَ، وَهِيَ: (تَفْعَلَانِ وَيَفْعَلَانِ وَتَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ وَتَفْعَلِينَ)، فَيُرَفْعُ فِيهَا الفِعْلُ بِثُبُوتِ النُّونِ، وَيُنْصَبُ وَيُجَرُّ بِحَذْفِهَا، وَالحَالَاتُ هِيَ:

1 - الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ أَلِفُ الاثْنَيْنِ؛ كَـ (تَذْهَبَانِ) وَ (يَذْهَبَانِ).

2 - الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ؛ كَـ (تَذْهَبُونَ) وَ (يَذْهَبُونَ).
যেমন আপনার উক্তি: (হাউলাই বানুনা লি-যাইদিন), অতঃপর যখন বাক্যরীতিটি সম্বন্ধযুক্ত করার ভিত্তিতে হলো, তখন ‘নূন’ বিলুপ্ত করা হলো।

এবং এর ওপর ভিত্তি করে সম্বন্ধযুক্ত পুংলিঙ্গবাচক অক্ষত বহুবচনের নসব ও জরের অবস্থাকে অনুমান করুন; যেমন আপনার উক্তি: (দারাবতু বানি যাইদিন) এবং (মারারতু বি-বানি যাইদিন)।

গ্রন্থকার বলেন: «এবং দ্বিবচন, বহুবচন এবং স্ত্রীবাচক একবচন সম্বোধনের ক্রিয়ার রফ হয় নূনের মাধ্যমে, আর এগুলোর নসব ও জজম হয় নূন বিলুপ্ত করার মাধ্যমে; আপনি বলবেন: (তাদহাবানি, তাদহাবূনা, তাদহাবিনা) - এবং এর অনুরূপ যা রয়েছে -, সুতরাং এই ক্রিয়াগুলোতে রফের আলামত হলো নূন স্থির থাকা। আর নসব ও জজমের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: (লান তাদহাবা ও লাম তাদহাবা, লান তাদহাবূ ও লাম তাদহাবূ, লান তাদহাবি ও লাম তাদহাবি)। সুতরাং ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে নসব ও জজমের আলামত হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া।»

(ব্যাখ্যা): অতঃপর গ্রন্থকার ক্রিয়ার ইরাবের অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর দ্বারা তিনি ‘আফআলে খামসাহ’ (পাঁচটি ক্রিয়া) উদ্দেশ্য নিয়েছেন, আর সেগুলো হলো: (তাফআলানি, ইয়াফআলানি, তাফআলূনা, ইয়াফআলূনা এবং তাফআলিনা)। এগুলোতে ক্রিয়াকে নূন স্থির রাখার মাধ্যমে রফ প্রদান করা হয় এবং নূন বিলুপ্ত করার মাধ্যমে নসব ও জর প্রদান করা হয়। অবস্থাগুলো হলো:

1 - সেই ক্রিয়া যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ যুক্ত হয়েছে; যেমন- (তাদহাবানি) ও (ইয়াডহাবানি)।

2 - সেই ক্রিয়া যার সাথে বহুবচনের ওয়াও যুক্ত হয়েছে; যেমন- (তাদহাবূনা) ও (ইয়াডহাবূনা)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ يَاءُ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ؛ كَـ (تَذْهَبِينَ).

القِسْمُ الأَوَّلُ: الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ أَلِفُ الاثْنَيْنِ:

فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (الطَّالِبَانِ يَذْهَبَانِ إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (يَذْهَبَانِ) - هُنَا - اتَّصَلَتْ بِهَا ضَمِيرُ التَّثْنيَةِ وَهُوَ (الأَلِفُ)، وَالأَصْلُ: (يَذْهَبُ)؛ كَقَوْلِكَ: (الطَّالِبُ يَذْهَبُ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَحَوَّلَ الكَلَامُ فِي الجُمْلَةِ مِنْ صِيغَةِ الإِفْرَادِ إِلَى التَّثْنِيَةِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الرَّفْعُ بِالضَمِّ إِلَى ثُبُوتِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ أَلِفِ الاثْنَيْنِ.

فَثُبُوتُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَ بِهِ (أَلِفُ الاثْنَيْنِ).

وَأَمَّا النَّصْبُ فَكَقَوْلِكَ: (الطَّالِبَانِ لَنْ يَذْهَبَا إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (يَذْهَبَا)

- هُنَا - اتَّصَلَتْ بِهَا ضَمِيرُ التَّثْنيَةِ وَهُوَ (الأَلِفُ)، وَالأَصْلُ: (يَذْهَبَ)؛ كَقَوْلِكَ: (الطَّالِبُ لَنْ يَذْهَبَ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَحَوَّلَ الكَلَامُ فِي الجُمْلَةِ مِنْ صِيغَةِ الإِفْرَادِ إِلَى التَّثْنِيَةِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا النَّصْبُ بِالفَتْحِ إِلَى حَذْفِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ أَلِفِ الاثْنَيْنِ.

وَقِسْ عَلَى النَّصْبِ: الجَزْمَ فِي قَوْلِكَ: (الطَّالِبَانِ لَمْ يَذْهَبَا إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَحَذْفُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ وَالجَزْمِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَ بِهِ أَلِفُ الاثْنَيْنِ.
৩ - সেই ক্রিয়া (فعل) যার সাথে দ্বিতীয় পুরুষ একবচন স্ত্রীবাচক সম্বোধনের ‘ইয়া’ (ياء المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়েছে; যেমন- (তাজহাবিনা)।

প্রথম প্রকার: সেই ক্রিয়া (فعل) যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين) যুক্ত হয়েছে:

সুতরাং রফ (رفع) এর অবস্থা যেমন আপনার কথা: (আত-তালিবা-নি ইয়াজহাবা-নি ইলাল মাদ্রাসাতি), এখানে (ইয়াজহাবা-নি) শব্দটির সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير التثنية) যুক্ত হয়েছে আর তা হলো আলিফ (ألف), যার মূল রূপ ছিল: (ইয়াজহাবু); যেমন আপনার কথা: (আত-তালিবু ইয়াজহাবু ইলাল মাদ্রাসাতি)।

যখন বাক্যের বক্তব্য একবচন রূপ (صيغة الإفراد) থেকে দ্বিবচনে (تثنية) পরিবর্তিত হয়েছে, তখন দম্মাহ বা পেশের মাধ্যমে রফ (رفع) হওয়ার পরিবর্তে দ্বিবচনের আলিফ বহাল রাখার পাশাপাশি নুন বহাল থাকার (ثبوت النون) মাধ্যমে তার রফ হওয়ার আলামত পরিবর্তিত হয়েছে।

অতএব নুন বহাল থাকা (ثبوت النون)-ই হলো সেই ক্রিয়ার (فعل) রফ (رفع) হওয়ার আলামত যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين) যুক্ত হয়।

আর নসব (نصب) এর অবস্থা যেমন আপনার কথা: (আত-তালিবা-নি লান ইয়াজহাবা- ইলাল মাদ্রাসাতি), এখানে (ইয়াজহাবা-)

- এর সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير التثنية) যুক্ত হয়েছে আর তা হলো আলিফ (ألف), যার মূল রূপ ছিল: (ইয়াজহাবা); যেমন আপনার কথা: (আত-তালিবু লান ইয়াজহাবা ইলাল মাদ্রাসাতি)।

যখন বাক্যের বক্তব্য একবচন রূপ (صيغة الإفراد) থেকে দ্বিবচনে (تثنية) পরিবর্তিত হয়েছে, তখন ফাতহা বা জবরের মাধ্যমে নসব (نصب) হওয়ার পরিবর্তে দ্বিবচনের আলিফ বহাল রাখার পাশাপাশি নুন বিলুপ্ত হওয়ার (حذف النون) মাধ্যমে তার নসব হওয়ার আলামত পরিবর্তিত হয়েছে।

আর নসব (نصب) এর অবস্থার ওপর জজম (جزم) এর অবস্থাকে তুলনা করুন আপনার এই কথায়: (আত-তালিবা-নি লাম ইয়াজহাবা- ইলাল মাদ্রাসাতি)।

সুতরাং নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)-ই হলো সেই ক্রিয়ার (فعل) নসব (نصب) ও জজম (جزم) হওয়ার আলামত যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين) যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৭)
القِسْمُ الثَّانِي: الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ:

فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (الطُّلَّابُ يَذْهَبُونَ إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (يَذْهَبُونَ) - هُنَا - عَلَى الجَمْعِ، وَالأَصْلُ: (يَذْهَبُ)؛ كَقَوْلِكَ: (الطَّالِبُ يَذْهَبُ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَحَوَّلَ الكَلَامُ فِي الجُمْلَةِ مِنْ صِيغَةِ الإِفْرَادِ إِلَى الجَمْعِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الرَّفْعُ بِالضَمِّ إِلَى ثُبُوتِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ وَاوِ الجَمَاعَةِ.

فَثُبُوتُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ.

وَأَمَّا النَّصْبُ فَكَقَوْلِكَ: (الطُّلَّابُ لَنْ يَذْهَبُوا إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (يَذْهَبُوا) - هُنَا - عَلَى الجَمْعِ، وَالأَصْلُ: (يَذْهَبَ)؛ كَقَوْلِكَ: (الطَّالِبُ لَنْ يَذْهَبَ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَحَوَّلَ الكَلَامُ فِي الجُمْلَةِ مِنْ صِيغَةِ الإِفْرَادِ إِلَى الجَمْعِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا النَّصْبُ بِالفَتْحِ إِلَى حَذْفِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ وَاوِ الجَمَاعَةِ.

وَقِسْ عَلَى النَّصْبِ: الجَزْمَ فِي قَوْلِكَ: (الطُّلَّابُ لَمْ يَذْهَبُوا إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَحَذْفُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ وَالجَزْمِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ.

القِسْمُ الثَّالِثُ: الفِعْلُ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ يَاءُ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ:
দ্বিতীয় প্রকার: সেই ক্রিয়া যার সাথে বহুবচনের ওয়াও যুক্ত হয়েছে:

রফা অবস্থা যেমন আপনার উক্তি: (ছাত্ররা মাদরাসায় যাচ্ছে), এখানে (যাহাবূনা) শব্দটি বহুবচনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর এর মূল রূপ হলো: (যাহাবু); যেমন আপনার উক্তি: (ছাত্রটি মাদরাসায় যাচ্ছে)।

যখন বাক্যের বক্তব্য একবচনের রূপ থেকে বহুবচনে রূপান্তরিত হলো, তখন দম্মাহ (পেশ) দ্বারা রফা হওয়ার বিষয়টি নুন বহাল থাকার পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং বহুবচনের ওয়াও বহাল থাকল।

সুতরাং নুন বহাল থাকাই হলো সেই ক্রিয়ার রফা হওয়ার আলামত, যার সাথে বহুবচনের ওয়াও যুক্ত হয়েছে।

আর নসব অবস্থা যেমন আপনার উক্তি: (ছাত্ররা মাদরাসায় যাবে না), এখানে (যাহাবূ) শব্দটি বহুবচনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর এর মূল রূপ হলো: (যাহাবা); যেমন আপনার উক্তি: (ছাত্রটি মাদরাসায় যাবে না)।

যখন বাক্যের বক্তব্য একবচনের রূপ থেকে বহুবচনে রূপান্তরিত হলো, তখন ফাতহাহ (জবর) দ্বারা নসব হওয়ার বিষয়টি নুন বিলুপ্ত হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং বহুবচনের ওয়াও বহাল থাকল।

আর নসবের সাথে তুলনা করে জজম অবস্থাকে বুঝে নিন আপনার এই উক্তিতে: (ছাত্ররা মাদরাসায় যায়নি)।

অতএব নুন বিলুপ্ত হওয়া হলো সেই ক্রিয়ার নসব ও জজম হওয়ার আলামত, যার সাথে বহুবচনের ওয়াও যুক্ত হয়েছে।

তৃতীয় প্রকার: সেই ক্রিয়া যার সাথে স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষের ইয়া যুক্ত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (رَأَيْتُكِ تَذْهَبِينَ إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (تَذْهَبِينَ) - هُنَا - عَلَى صِيغَةِ المُؤَنَّثِ المُخَاطَبِ، وَالأَصْلُ: (تَذْهَبُ)؛ كَقَوْلِكَ: (رَأَيْتُهَا تَذْهَبُ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَغَيَّرَتِ الكَلِمَةُ مِنْ (تَذْهَبُ) بِصِيغَةِ المُؤَنَّثِ الغَائِبِ إِلَى (تَذْهَبِينَ) بِصِيغَةِ المُؤَنَّثِ المُخَاطَبِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا الرَّفْعُ بِالضَمِّ إِلَى ثُبُوتِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ يَاءِ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ.

فَثُبُوتُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ يَاءُ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ.

أَمَّا النَّصْبُ فَكَقَوْلِكَ: (أَخْبَرُونِي بِأَنَّكِ لَنْ تَذْهَبِي إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (تَذْهَبِي) - هُنَا - عَلَى صِيغَةِ المُؤَنَّثِ المُخَاطَبِ، وَالأَصْلُ: (تَذْهَبَ)؛ كَقَوْلِكَ: (أَخْبَرُونِي بِأَنَّهَا لَنْ تَذْهَبَ إِلَى المَدْرَسَةِ).

فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ الكَلِمَةُ مِنْ (تَذْهَبَ) بِصِيغَةِ المُؤَنَّثِ الغَائِبِ إِلَى (تَذْهَبِي) بِصِيغَةِ المُؤَنَّثِ المُخَاطَبِ؛ تَغَيَّرَ مَعَهَا النَّصْبُ بِالفَتْحِ إِلَى حَذْفِ النُّونِ مَعَ إِبْقَاءِ يَاءِ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ.

وَقِسْ عَلَى النَّصْبِ: الجَزْمَ فِي قَوْلِكَ: (أَخْبَرُونِي بِأَنَّكِ لَمْ تَذْهَبِي إِلَى المَدْرَسَةِ).
সুতরাং রফ (الرفع) এর উদাহরণ হলো যেমন আপনার উক্তি: (আমি তোমাকে মাদরাসায় যেতে দেখেছি), এখানে (তাজহাবিনা) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষ (المؤنث المخاطب) রূপে ব্যবহৃত হয়েছে, আর এর মূল রূপ ছিল: (তাজহাবু); যেমন আপনার উক্তি: (আমি তাকে মাদরাসায় যেতে দেখেছি)।

অতঃপর যখন শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নাম পুরুষ (المؤنث الغائب) এর রূপ (তাজহাবু) থেকে পরিবর্তিত হয়ে স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষ (المؤنث المخاطب) এর রূপ (তাজহাবিনা) ধারণ করল; তখন এর সাথে সাথে দম্মা (الضمة) দ্বারা রফ (الرفع) হওয়া পরিবর্তিত হয়ে নুন বহাল থাকা (ثبوت النون) এর মাধ্যমে রফ হয়েছে এবং স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষের ইয়া (ياء المؤنثة المخاطبة) টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সুতরাং নুন বহাল থাকা (ثبوت النون) হলো এমন ক্রিয়া বা ফেলের রফ (الرفع) হওয়ার আলামত বা চিহ্ন, যার সাথে স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষের ইয়া (ياء المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়।

আর নাসব (النصب) এর উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (তারা আমাকে অবহিত করেছে যে তুমি মাদরাসায় যাবে না), এখানে (তাজহাবি) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষ (المؤنث المخاطب) রূপে রয়েছে, যার মূল রূপ ছিল: (তাজহাবা); যেমন আপনার উক্তি: (তারা আমাকে অবহিত করেছে যে সে মাদরাসায় যাবে না)।

যখন শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নাম পুরুষ (المؤنث الغائب) এর রূপ (তাজহাবা) থেকে পরিবর্তিত হয়ে স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষ (المؤنث المخاطب) এর রূপ (তাজহাবি) তে রূপান্তরিত হলো; তখন এর সাথে ফাতহা (الفتحة) দ্বারা নাসব (النصب) হওয়া পরিবর্তিত হয়ে নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) এর মাধ্যমে নাসব হয়েছে এবং স্ত্রীলিঙ্গ মধ্যম পুরুষের ইয়া (ياء المؤنثة المخاطبة) টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

আর নাসব (النصب) অবস্থার সাথে জজম (الجزم) অবস্থাকে কিয়াস বা তুলনা করুন আপনার এই উক্তিতে: (তারা আমাকে অবহিত করেছে যে তুমি মাদরাসায় যাওনি)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَحَذْفُ النُّونِ هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ وَالجَزْمِ لِلْفِعْلِ الَّذِي اتَّصَلَتْ بِهِ يَاءُ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَرَفْعُ جَمَاعَةِ المُؤَنَّثِ الَّتِي بِالأَلِفِ وَالتَّاءِ - مِثْلُ (مُسْلِمَاتٍ وَهِنْدَاتٍ) وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ - يَكُونُ: بِضَمِّ التَّاءِ، وَنَصْبُهَا وَخَفْضُهَا: بِكَسْرِ التَّاءِ؛ تَقُولُ فِي الرَّفْعِ: (جَاءَتِ الهِنْدَاتُ)، وَفِي النَّصْبِ وَالخَفْضِ: (رَأَيْتُ الهِنْدَاتِ، وَمَرَرْتُ بِالهِنْدَاتِ)؛ نَصْبُهَا وَخَفْضُهَا سَوَاءٌ».

(الشَّرْحُ): ثُمَّ تَكَلَّمَ المُصَنِّفُ عَنِ جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ، وَهُوَ: كُلُّ اسْمٍ جُمِعَ بِأَلِفٍ وَتَاءٍ زَائِدَتَيْنِ فِي آخِرِهِ.

فَقَوْلُكَ: (العَامِلَاتُ)؛ فَالأَلِفُ وَالتَّاءُ هِيَ عِوَضٌ عَنْ قَوْلِكَ: (جَاءَتِ العَامِلَةُ وَالعَامِلَةُ وَالعَامِلَةُ)، فَتَقُولُ: (جَاءَتِ العَامِلَاتُ).

وَجَمْعُ المُؤَنَّثِ السَّالِمُ: يُرْفَعُ بِضَمِّ التَّاءِ، وَيُنْصَبُ وَيُجَرُّ بِكَسْرِهَا.

فَالرَّفْعُ كَقَوْلِكَ: (جَاءَتِ الهِنْدَاتُ)، فَـ (الهِنْدَاتُ) - هُنَا - جَمْعُ مُؤَنَّثٍ سَالِمٌ، مُفْرَدُهُ: (هِنْدٌ)؛ كَقَوْلِكَ: (جَاءَتْ هِنْدٌ).

فَضَمُّ التَّاءِ هِيَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ فِي جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ.

أَمَّا النَّصْبُ فَكَقَوْلِكَ: (رَأَيْتُ الهِنْدَاتِ)، فَـ (الهِنْدَاتِ) - هُنَا - جَمْعُ مُؤَنَّثٍ سَالِمٌ، مُفْرَدُهُ: (هِنْدًا)؛ كَقَوْلِكَ: (رَأَيْتُ هِنْدًا).
সুতরাং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) হলো সেই ক্রিয়ার (فعل) নসব (نصب) এবং জজম (جزم)-এর আলামত (علامة), যার সাথে সম্বোধনসূচক স্ত্রীবাচক 'ইয়া' (ياء المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়েছে।

গ্রন্থকার (المصنف) বলেন: «আলিফ এবং তা-এর সাহায্যে গঠিত স্ত্রীবাচক বহুবচন (جماعة المؤنث) - যেমন (মুসলিমাত এবং হিন্দাত) এবং এর সদৃশ শব্দাবলি - এর রফ (رفع) হয়: ‘তা’ বর্ণে পেশ (ضمة) প্রদানের মাধ্যমে; আর এর নসব (نصب) ও খফজ (خفض) হয়: ‘তা’ বর্ণে যের (كسرة) প্রদানের মাধ্যমে; আপনি রফ (رفع)-এর অবস্থায় বলবেন: (জায়াতিল হিন্দাতু), আর নসব (نصب) ও খফজ (خفض)-এর অবস্থায় বলবেন: (রাআইতুল হিন্দাতি, ওয়া মারারতু বিল হিন্দাতি); এর নসব (نصب) ও খফজ (خفض) উভয়ই সমান»।

(ব্যাখ্যা): অতঃপর গ্রন্থকার (المصنف) জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো: এমন প্রতিটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও তা যুক্ত করে বহুবচন করা হয়েছে।

যেমন আপনার উক্তি: (আল-আমিলাতু); এখানে আলিফ এবং তা হলো আপনার এই উক্তির বিকল্প: (জায়াতিল আমিলাতু ওয়া আল-আমিলাতু ওয়া আল-আমিলাতু), তাই আপনি বলেন: (জায়াতিল আমিলাতু)।

আর জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم)-এর রফ (رفع) হয় ‘তা’ বর্ণে পেশ দ্বারা, এবং নসব (نصب) ও জর (جر) হয় এর ‘তা’ বর্ণে যের দ্বারা।

রফ (الرفع)-এর উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (জায়াতিল হিন্দাতু), এখানে (হিন্দাতু) শব্দটি জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع مؤنث سالم), যার একবচন (مفرد) হলো: (হিন্দুন); যেমন আপনার উক্তি: (জায়াত হিন্দুন)।

সুতরাং ‘তা’ বর্ণে পেশ হওয়া হলো জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم)-এর ক্ষেত্রে রফ-এর আলামত (علامة الرفع)।

পক্ষান্তরে নসব (النصب)-এর উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি: (রাআইতুল হিন্দাতি), এখানে (হিন্দাতি) শব্দটি জমা মুয়ান্নাস সালেম (جمع مؤنث سالم), যার একবচন (مفرد) হলো: (হিন্দান); যেমন আপনার উক্তি: (রাআইতু হিন্দান)।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَقِسْ عَلَى النَّصْبِ: الكَسْرَ فِي قَوْلِكَ: (مَرَرْتُ بِالهِنْدَاتِ).

فَكَسْرُ التَّاءِ هِيَ عَلَامَةُ النَّصْبِ وَالكَسْرِ فِي جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ.
এবং নসবের সাথে তুলনা করুন: আপনার উক্তি— (আমি হিন্দাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম)-এর কাসরাকে।

কেননা ‘তা’ বর্ণের কাসরা হলো জমা মুয়ান্নাস সালেমের ক্ষেত্রে নসব এবং কাসরার আলামত।
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৩১)
4 -‌‌ بَابُ أَقْسَامِ الأَفْعَالِ

 

قَالَ المُصَنِّفُ: «اعْلَمْ أَنَّ الأَفْعَالَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَقْسَامٍ: فِعْلٌ مَاضٍ، وَفِعْلٌ مُسْتَقْبِلٌ، وَالأَمْرُ، وَالنَّهْيُ».

(الشَّرْحُ): تَقَدَّمَ أَنَّ الفِعْلَ يُرَادُ بِهِ: كُلُّ لَفْظٍ دَلَّ عَلَى مَعْنًى مُسْتَقِلٍّ فِي نَفْسِهِ مَعَ اقْتِرَانِهِ بِزَمَانٍ مَخْصُوصٍ - مِنْ مَاضٍ أَوْ حَاضِرٍ أَوْ مُسْتَقْبَلٍ -؛ كَقَوْلِكَ: (ضَرَبَ يَضْرِبُ اضْرِبْ، وَقَامَ يَقُومُ قُمْ، وَجَلَسَ يَجْلِسُ اجْلِسْ).

وَقَدْ قَسَّمَ المُصَنِّفُ الفِعْلَ إِلَى أَرْبَعَةِ أَقْسَامٍ: مَاضٍ، وَمُسْتَقْبِلٍ، وَأَمْرٍ، وَنَهْيٍ.

وَالمُسْتَقرُّ عِنْدَ أَهْلِ النَّحْوِ أَنَّهُ عَلَى ثَلاثَةٍ: المَاضِي، وَالمُضَارِعِ، وَالأَمْرِ، وَقَدْ تَقَدَّمَ ذِكْرُهَا فِي البَابِ الأَوَّلِ.

وَلَا إِشْكَالَ - هُنَا - بِالشَّرْحِ عَلَى طَرِيقَةِ المُصَنِّفِ وَمَسْلَكِهِ فِي تَقْسِيمِ الأَفْعَالِ؛ فَهِيَ مُصْطَلَحَاتٌ لَا مُشَاحَّةَ فِيهَا مَا لَمْ تُغَيِّرْ مِنَ القَوَاعِدِ النَّحْوِيَّةِ الَّتِي اسْتَقَرَّ عَلَيْهَا عُلَمَاءُ النَّحْوِ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «فَالمَاضِي: مَا حَسُنَ فِيهِ (أَمْسِ)، وَهُوَ مَفْتُوحُ الآخِرِ أَبَدًا، نَحْوُ: (سَارَ وَبَانَ وَخَرَجَ وَغَدَا وَرَاحَ)».
৪ -‌‌ পরিচ্ছেদ: ক্রিয়ার প্রকারভেদ

 

গ্রন্থকার বলেন: «জেনে রাখুন, ক্রিয়া চার প্রকার: অতীতকালের ক্রিয়া, ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়া, আদেশসূচক ক্রিয়া এবং নিষেধসূচক ক্রিয়া।»

(ব্যাখ্যা): ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, ক্রিয়া বলতে এমন প্রতিটি শব্দকে বোঝানো হয় যা কোনো নির্দিষ্ট কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) সাথে সম্পৃক্ত হয়ে স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে; যেমন আপনার উক্তি: (দ্বরাবা, ইয়াদ্বরিবু, ইদ্বরিব; ক্বামা, ইয়াক্বূমু, ক্বুম; এবং জালাসা, ইয়াজলিসু, ইজলিস)।

গ্রন্থকার ক্রিয়াকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন: অতীত, ভবিষ্যৎ, আদেশ এবং নিষেধ।

তবে ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি তিন প্রকারের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত: অতীত (মাদি), বর্তমান-ভবিষ্যৎ (মুদারি) এবং আদেশ (আমর)। প্রথম পরিচ্ছেদে এগুলোর আলোচনা গত হয়েছে।

এখানে গ্রন্থকারের পদ্ধতি ও ক্রিয়া বিভাজনের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পন্থা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করাতে কোনো জটিলতা নেই; কেননা পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই যতক্ষণ না তা ব্যাকরণবিদদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাকরণিক নিয়মাবলিকে পরিবর্তন করে দেয়।

গ্রন্থকার বলেন: «অতীতকাল হলো তা, যার সাথে ‘গতকাল’ (আমসি) শব্দটি ব্যবহার করা শুদ্ধ হয়। এর শেষাক্ষর সর্বদা ফাতহাহ (জবর) যুক্ত হয়, যেমন: (সারা, বানা, খারাজা, গাদা এবং রহা)।’»
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৩২)
(الشَّرْحُ): النَّوْعُ الأَوَّلُ مِنَ الأَفْعَالِ: هُوَ المَاضِي، وَهُوَ: مَا دَلَّ عَلَى فِعْلٍ انْقَضَى زَمَانُهُ وَحَدَثُهُ؛ أَيْ: قَبْلَ التَّكَلُّمِ بِهِ؛ كَقَوْلِكَ: (ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا)، فَـ (ضَرَبَ) فِعْلٌ، وَقَدْ تَحَقَّقَ الضَّرْبُ وَانْقَضَى قَبْلَ زَمَانِ التَّكَلُّمِ.

وَمَيَّزَهُ المُصَنِّفُ بِصِحَّةِ دُخُولِ كَلِمَةِ (أَمْسِ) مَعَهُ، فَإِنَّهُ إِذَا زِدْتَ عَلَى المِثَالِ السَّابِقِ (أَمْسِ) فَقُلْتَ: (ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا أَمْسِ) صَحَّ المَعْنَى، وَإِذَا قُلْتَ: (زَيْدٌ يَضْرِبُ عَمْرًا أَمْسِ) لَمْ يَصِحَّ المَعْنَى؛ لأَنَّ الفِعْلَ (يَضْرِبُ) لَيْسَ فِعْلًا مَاضِيًا.

وَيُبْنَى المَاضِي عَلَى الفَتْحِ؛ فَتَقُولُ: (سَارَ)، وَ (بَانَ)، وَ (خَرَجَ)، وَ (رَاحَ)، وَ (اسْتَقَامَ)، وَ (اسْتَفْسَرَ)، وَ (تَدَحْرَجَ).

وَقَدْ يُبْنَى عَلَى الفَتْحِ تَقْدِيرًا وَلَيْسَ لَفْظًا - لِلتَعَذُّرِ -؛ كَقَوْلِكَ: (رَأَى).

وَهُنَاكَ حَالَتَانِ يُبْنَى فِيهَا المَاضِي عَلَى غَيْرِ الفَتْحِ:

1 - اتِّصَالُهُ بِبَعْضِ الضَّمَائِرِ؛ كَقَوْلِكَ: (شَرِبْتُ المَاءَ)، وَ (شَرِبْتَ المَاءَ)، وَ (شَرِبْنَ المَاءَ)، وَ (شَرِبْنَا المَاءَ)، فَتَجِدُ أَنَّ البَاءَ فِي (شَرِب) أَصْبَحَتْ سَاكِنَةً عِنْدَ اتِّصَالِ هَذِهِ الضَّمَائِرِ، فَيُبْنَى فِي هَذِهِ الحَالَةِ عَلَى السُّكُونِ.

2 - اتِّصَالُهُ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ؛ فَيُبْنَى عَلَى الضَّمِّ؛ كَقَوْلِكَ: (التَّلَامِيذُ ذَهَبُوا إِلَى المَدْرَسَةِ)، فَـ (ذَهَبُوا) فِعْلٌ مَاضٍ دَخَلَتْ عَلَيْهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ، وَأَصْلُ الفِعْلِ
(ব্যাখ্যা): ক্রিয়ার প্রথম প্রকার হলো অতীতকাল (الماضي); আর তা হলো এমন যা এমন কাজের ওপর নির্দেশ করে যার সময় এবং কাজ অতিবাহিত হয়েছে; অর্থাৎ কথা বলার পূর্বেই; যেমন আপনার উক্তি: (জায়েদ আমরকে প্রহার করেছে), এখানে (প্রহার করেছে) একটি ক্রিয়া, এবং প্রহারের কাজটি কথা বলার সময়ের আগেই বাস্তবায়িত ও সমাপ্ত হয়ে গেছে।

গ্রন্থকার একে 'গতকাল' (أمس) শব্দটি যুক্ত হওয়ার যোগ্যতার দ্বারা পৃথক করেছেন, কেননা আপনি যদি পূর্ববর্তী উদাহরণের সাথে 'গতকাল' (أمس) শব্দটি যোগ করেন এবং বলেন: (জায়েদ গতকাল আমরকে প্রহার করেছে) তবে অর্থ সঠিক হবে, আর যদি আপনি বলেন: (জায়েদ গতকাল আমরকে প্রহার করছে) তবে অর্থ সঠিক হবে না; কারণ 'প্রহার করছে' (يضرب) ক্রিয়াটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) নয়।

অতীতকাল ফাতহ (الفتح)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়; যেমন আপনি বলবেন: (সে চলেছে), (সে পৃথক হয়েছে), (সে বের হয়েছে), (সে চলে গেছে), (সে সোজা হয়েছে), (সে ব্যাখ্যা চেয়েছে) এবং (সে গড়িয়ে পড়েছে)।

আর কখনও কখনও এটি উহ্যভাবে (تقديرًا) ফাতহ-এর ওপর গঠিত হয়, শাব্দিকভাবে (لفظًا) নয় - অক্ষমতার (التعذر) কারণে -; যেমন আপনার উক্তি: (সে দেখেছে)।

আর এমন দুটি অবস্থা রয়েছে যেখানে অতীতকাল ফাতহ ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর গঠিত হয়:

1 - কিছু সর্বনামের (الضمائر) সাথে এটি যুক্ত হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: (আমি পানি পান করেছি), (তুমি পানি পান করেছ), (মহিলারা পানি পান করেছে) এবং (আমরা পানি পান করেছি), আপনি লক্ষ্য করবেন যে 'পান করেছে' (شرب) ক্রিয়ার 'বা' (ب) অক্ষরটি এই সর্বনামগুলো যুক্ত হওয়ার সময় সাকিন হয়ে গেছে, সুতরাং এই অবস্থায় এটি সুকুন (السكون)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়।

2 - বহুবচনের ওয়াও (واو الجماعة)-এর সাথে এটি যুক্ত হওয়া; তখন এটি দম্মাহ (الضم)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়; যেমন আপনার উক্তি: (ছাত্ররা মাদরাসায় গিয়েছে), এখানে 'গিয়েছে' (ذهبوا) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যাতে বহুবচনের ওয়াও (واو الجماعة) যুক্ত হয়েছে, এবং ক্রিয়ার মূল রূপটি হলো...
(খণ্ড: ১) ইনাসুন নাস বি তুফফাহাতি আবী জাফার আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
هُوَ مِنْ (ذَهَبَ) المَبْنِيِّ عَلَى الفَتْحِ، وَلَمَّا دَخَلَتْ عَلَيْهِ وَاوُ الجَمَاعَةِ أَصْبَحَتِ البَاءُ مَضْمُومَةً، فَيُحْكَمُ عَلَيْهِ فِي هَذِهِ الحَالَةِ بِأَنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ.

قَالَ المُصَنِّفُ: «وَالمُضَارِعُ: مَا كَانَ فِي أَوَّلِهِ حَرْفٌ مِنْ حُرُوفِ الاسْتِقْبَالِ؛ وَهِيَ أَرْبَعَةُ أَحْرُفٍ: (التَّاءُ وَاليَاءُ وَالنُّونُ وَالأَلِفُ)؛ كَقَوْلِكَ: (تَقُومُ وَيَقُومُ وَنَقُومُ وَأَقُومُ) - وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ -، وَهَذِهِ الأَفْعَالُ مَرْفُوعَةٌ أَبَدًا؛ مَا لَمْ يَدْخُلْ عَلَيْهَا نَاصِبٌ يَنْصِبُهَا أَوْ جَازِمٌ يَجْزِمُهَا، وَلَهُمَا مَوْضِعَانِ يُذْكَرَانِ فِيهِ».

(الشَّرْحُ): النَّوْعُ الثَّانِي مِنَ الأَفْعَالِ: هُوَ المُضَارِعُ، وَهُوَ: مَا دَلَّ عَلَى فِعْلٍ لَمْ يَنْقَضِ زَمَانُهُ وَحُدُوثُهُ - حَاضِرًا أَوْ مُسْتَقْبَلًا -؛ كَقَوْلِكَ: (يَضْرِبُ زَيْدٌ عَمْرًا)، وَهُنَا يُنْظَرُ فِي القَرَائِنِ اللَّفْظِيَّةِ وَالمَعْنَوِيَّةِ لِتَحْدِيدِ مَا إِذَا كَانَ الكَلَامُ يُرَادُ بِهِ زَمَنُ الحَاضِرِ أَوْ المُسْتَقْبَلِ.

وَمَيَّزَهُ المُصَنِّفُ بِدُخُولِ أَحَدِ هَذِهِ الحُرُوفِ فِي أَوَّلِهِ، وَهِيَ: (التَّاءُ وَاليَاءُ وَالنُّونُ وَالأَلِفُ)؛ كَقَوْلِكَ: (تَقُومُ وَيَقُومُ وَنَقُومُ وَأَقُومُ) - وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ -.

فَالتَّاءُ فِي (تَقُومُ) لِلمُخَاطَبِ، وَاليَاءُ فِي (يَقُومُ) لِلْغَائِبِ، وَالأَلِفُ فِي (أَقُومُ) لِلْمُتَكَلِّمِ الَّذِي لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ شَارَكَهُ فِي الفِعْلِ، وَالنُّونُ فِي (نَقُومُ) لِلْمُتَكَلِّمِ الَّذِي شَارَكَهُ غَيْرُهُ فِي الفِعْلِ.
এটি ‘যাহাবা’ ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত যা ফাতহাহ-এর ওপর মাবনি (অপরিবর্তনীয়); যখন এর সাথে সমষ্টিবাচক ওয়াও (ওয়াও আল-জামায়াহ) যুক্ত হয়েছে, তখন এর ‘বা’ বর্ণটি দ্বম্মাহ-যুক্ত (পেশযুক্ত) হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় একে দ্বম্মাহ-এর ওপর মাবনি হিসেবে গণ্য করা হয়।

গ্রন্থকার বলেন: «আর মুদারি‘ হলো তা, যার শুরুতে ভবিষ্যৎকাল জ্ঞাপক বর্ণগুলোর কোনো একটি থাকে; আর এই বর্ণগুলো হলো চারটি: (তা, ইয়া, নুন এবং আলিফ); যেমন আপনার উক্তি: (তাকুমু, ইয়াকুমু, নাকুমু এবং আকুমু) — এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্রিয়া — এই ক্রিয়াগুলো সর্বদা মারফু (পেশযুক্ত) থাকে; যতক্ষণ না এগুলোর শুরুতে নসব প্রদানকারী (নাসিব) কোনো অব্যয় প্রবেশ করে একে নসব প্রদান করে অথবা জযম প্রদানকারী (জাযিম) কোনো অব্যয় প্রবেশ করে একে জযম প্রদান করে। আর এই দুই প্রকারের জন্য দুটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে যেখানে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।»

(ব্যাখ্যা): ক্রিয়ার দ্বিতীয় প্রকার হলো মুদারি‘। এটি এমন কাজকে নির্দেশ করে যার সময় এবং সংঘটন এখনো শেষ হয়ে যায়নি—তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালীন হতে পারে; যেমন আপনার উক্তি: (যায়দ আমরকে প্রহার করছে)। এখানে শাব্দিক ও অর্থগত আলামতগুলোর মাধ্যমে এটি নির্ধারণ করা হয় যে, বাক্যটি দ্বারা বর্তমান কাল উদ্দেশ্য নাকি ভবিষ্যৎ কাল।

গ্রন্থকার মুদারি‘-কে এর শুরুতে উক্ত বর্ণগুলোর কোনো একটির প্রবেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র করেছেন, আর সেগুলো হলো: (তা, ইয়া, নুন এবং আলিফ); যেমন আপনার উক্তি: (তাকুমু, ইয়াকুমু, নাকুমু এবং আকুমু) — এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

সুতরাং ‘তাকুমু’ ক্রিয়ায় ‘তা’ বর্ণটি সম্বোধিত ব্যক্তির (মুখাতাব) জন্য, ‘ইয়াকুমু’ ক্রিয়ায় ‘ইয়া’ বর্ণটি অনুপস্থিত ব্যক্তির (গায়েব) জন্য, ‘আকুমু’ ক্রিয়ায় ‘আলিফ’ বর্ণটি এমন বক্তার (মুতাকাল্লিম) জন্য যার সাথে অন্য কেউ কাজে শরিক নেই, এবং ‘নাকুমু’ ক্রিয়ায় ‘নুন’ বর্ণটি এমন বক্তার জন্য যার সাথে অন্য কেউ উক্ত কাজে শরিক রয়েছে।