(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الكلام في حكم أرض مصر والعراق والشام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تهذيب الكلام في حكم أرض مصر والعراق والشام
المؤلف: مَرْعِي بن يوسف الكرْمي المقدسي الحنبلي (ت 1033 هـ)
المحقق: عبد الله بن عبد الرحمن بن مصبح الشهري
رسالة: ماجستير في الفقه المقارن، المعهد العالي للقضاء، جامعة الإمام محمد بن سعود
العام الجامعي: 1428 - 1429 هـ
عدد الصفحات: 979
[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 جُمادَى الآخرة 1445
তাহজীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ শাম বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
গ্রন্থ: তাহজীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ শাম
লেখক: মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হানবালী (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরী)
গবেষক ও সম্পাদক (المحقق): আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মুসবিহ আশ-শেহরী
গবেষণাপত্র: তুলনামূলক ফিকহশাস্ত্রে মাস্টার্স, উচ্চ বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট (المعهد العالي للقضاء), ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবর্ষ: ১৪২৮ - ১৪২৯ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭৯
[মাকতাবাতুশ শামেলা’র সংখ্যায়ন অনুযায়ী ই-বুক]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৬ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
المعهد العالي للقضاء
قسم الفقه المقارن
تحقيق كتاب: (تهذيب الكلام في حكم أرض مصر والعراق والشام)
تأليف الإمام الفقيه مَرْعِي بن يوسف الكرْمي المقدسي الحنبلي المتوفى سنة (1033 هـ)
بحث تكميلي مقدم لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن
إعداد الطالب
عبد الله بن عبد الرحمن بن مصبح الشهري
إشراف فضيلة الشيخ الدكتور
يوسف بن أحمد القاسم
العام الجامعي
1428/ 1429 هـ
সৌদি আরব রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
বিচার বিভাগীয় উচ্চতর ইনস্টিটিউট
তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ
গ্রন্থটির সম্পাদনা ও গবেষণা (تحقيق): (তাহজিবুল কালাম ফি হুকমি আরদি মিসরা ওয়াল ইরাকি ওয়াস শাম)
ইমাম ও ফকিহ (فقيه) মারয়ি বিন ইউসুফ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১০৩৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত
তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত একটি সম্পূরক গবেষণাপত্র
প্রস্তুতকারী ছাত্র
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মুসবিহ আল-শেহরি
তত্ত্বাবধানে: মাননীয় শায়খ ডক্টর
ইউসুফ বিন আহমদ আল-কাসিম
শিক্ষাবর্ষ
১৪২৮/ ১৪২৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২)
إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمد عبده ورسوله، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة وتركها على المحجة البيضاء لا يزيغ عنها إلا هالك، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن مما نقله إلينا الأثبات، وما بلغنا عن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الأبرار، ذلك الذي فعله الخليفة الراشد، عمر بن الخطاب رضي الله عنه لما فتح الله على المسلمين أرض الشام، وسواد العراق، وأرض مصر، فراى رضي الله عنه كما أشار عليه بعض الصحابة واجتمع عليه رأيهم فيما بعد، أن يوقِفَ ما أخذ عنوة من أرض الكفار على المسلمين، وألا يقسمه على الفاتحين، مراعياً ما فيه مصلحة المسلمين عامة، وأن يكون ذلك دافعاً للجهاد في سبيل الله، ومادة يتقوى بها المسلمون، لكي لا يركن الناس إلى الحرث والدنيا ويدعوا تبليغ هذا الدين، وغير ذلك من الحكم التي ترتبت على هذا الأمر.
وقد مضت السنة العمرية في الناس، وترتب عليها أحكام عظيمة منها الخراج ومصارفه، وأيضاً حكم بيع هذه الأرض، أو رهنها، أو وقفها، أو إحداث الكنائس فيها، وشراء الذمي لها، وغير ذلك من أحكام.
وتناول الفقهاء هذه المسائل بالإيضاح وشَملوها بالبيان والتفصيل، وقد كان ذلك في أماكن متفرقة من كتبهم، مما يدل على ذلك مثلاً لو نظرنا إلى كتاب المغني نجد أن هذه الأمور متفرقة في الأبواب التالية:
1 - كتاب الزكاة، باب زكاة الزروع والثمار، 2 - كتاب الجهاد، باب حكم الأرضين المغنومة 3 - كتاب البيع، بيع ما لا يملك 4 - كتاب الوقف.
وقد يسر الله الوقوف على كتاب للشيخ مرعي الكرمي رحمه الله، شيخ الحنابلة في عصره، المتوفى سنة 1033 هـ،
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাদের এক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল পথের (المحجة البيضاء) উপর রেখে গিয়েছেন, যেখান থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়। তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীবৃন্দের উপর কিয়ামত পর্যন্ত অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الأثبات) মাধ্যমে আমাদের কাছে যা হস্তান্তরিত হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুণ্যবান সাহাবীদের থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে, তার অন্তর্ভুক্ত হলো খলিফায়ে রাশেদ (الخليفة الراشد) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সেই পদক্ষেপ, যখন আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের জন্য শাম দেশ, ইরাকের সাওয়াদ (উর্বর ভূমি) এবং মিশর বিজয় করে দিলেন। তখন তিনি (রা.) লক্ষ্য করলেন—যেমনটি কিছু সাহাবী তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের সবার মত এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল—যে, কাফেরদের কাছ থেকে বলপ্রয়োগে বিজিত (عنوة) ভূমি মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে রাখা হবে এবং তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে না। এক্ষেত্রে তিনি মুসলিমদের সাধারণ জনকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এটি যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একটি প্রেরণা হয় এবং এমন একটি উৎস হয় যার মাধ্যমে মুসলিমরা শক্তিশালী হতে পারে; যাতে মানুষ কেবল চাষাবাদ ও দুনিয়ায় মগ্ন হয়ে এই দ্বীন প্রচার করা ছেড়ে না দেয়। এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের পেছনে আরও অনেক হিকমত নিহিত ছিল।
মানুষের মাঝে ওমর (রা.)-এর এই সুন্নাহ বা পদ্ধতি প্রচলিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে মহান সব বিধান সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন: খারাজ (الخراج) ও তার ব্যয়ের খাতসমূহ, এই জমি বিক্রি করা, বন্ধক রাখা বা ওয়াকফ করার বিধান, সেখানে গির্জা নির্মাণ বা জিম্মিদের (الذمي) মাধ্যমে তা ক্রয় করার বিধান ইত্যাদি।
ফকিহগণ এই বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁদের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে এই আলোচনাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি আল-মুগনি কিতাবটির দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে এই বিষয়গুলো নিম্নলিখিত অধ্যায়গুলোতে বর্ণিত হয়েছে:
১ - কিতাবুজ জাকাত, শস্য ও ফলের জাকাত পরিচ্ছেদ। ২ - কিতাবুল জিহাদ, বিজিত ভূমির বিধান পরিচ্ছেদ। ৩ - কিতাবুল বাই’, মালিকানাধীন নয় এমন বস্তু বিক্রয়। ৪ - কিতাবুল ওয়াকফ।
আল্লাহ তাআলা শায়খ মারঈ আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি কিতাব পড়ার তৌফিক দান করেছেন, যিনি তাঁর সময়ের হাম্বলি মাযহাবের শায়খ ছিলেন এবং ১০৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
واسم هذا الكتاب: "تهذيب الكلام في حكم أرض مصر والعراق والشام"، جمع فيه شتات هذه المسألة في مكان واحد، وزادها إيضاحاً، وجاءت متناسقة الأبواب مع أدلتها الوافية، واجتهاداته الواضحة في الترجيح والتخريج.
وقد تقدمت بهذا الكتاب إلى قسم الفقه المقارن بالمعهد العالي للقضاء، ورغبت في أن يكون بحثي التكميلي لنيل درجة الماجستير، ولقد كان لي مع تحقيق هذا الكتاب، رحلة مفيدة في سماء المعرفة، والبحث في مختلف العلوم، وقد واجهني نوعٌ من الصعوبات، سواءً من ناحية كثرة النقول عن كتب وأقوال لمذاهب الفقهاء، وكان في بعضها نوع غموض، أو من ناحية اختلاف أسماء بعض الأعلام الوارد ذكرهم في الكتاب عما هو مذكور في كتب التراجم، وكذلك البحث عن بعض الكتب التي نقل منها المصنف مما هو مفقود وغير ذلك، ولكن لم اعدم كثيراً من الفوائد والحمد لله.
أهمية الموضوع:1 - تكمن أهمية هذا المخطوط في أن مؤلفه الشيخ العلامة مرعي الكرمي رحمه الله من المدققين والمحققين في المذهب، و"قطع زمانه بالإفتاء والتدريس والتحقيق والتصنيف، فسارت بتآليفه الركبان .. "
(1)، و"مؤلفاته شغلت الطلبة جيلاً بعد جيل فيعتبر الشيخ مرعي مدرسة في المذهب .. "
(2)، وهذا المخطوط من ضمن مؤلفاته القيمة.
2 - أن هذا الكتاب تكلم فيه مؤلفه رحمه الله عن موضوع في غاية الأهمية في عصره، وهي مسألة الأراضي التي أوقفها عمر رضي الله عنه مما فتح عنوة، وما يترتب عليها من المسائل المتعلقة بها، وقد ذكر هذه المسألة بما يوضحها ويثريها، من اهتمام بالأدلة الشرعية من الكتاب والسنة،
--------------------------------------------
এই গ্রন্থটির নাম হলো: "তাহযিবুল কালাম ফি হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ শাম"। লেখক এতে এই মাসআলা সংক্রান্ত বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোকে আরও সুস্পষ্ট করেছেন। গ্রন্থটির অধ্যায়গুলো এর পর্যাপ্ত দলিলসহ অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এতে প্রাধান্যদান (الترجيح) ও উৎস ও ভিত্তি নির্ণয় (التخريج) এর ক্ষেত্রে লেখকের সুস্পষ্ট ইজতিহাদ ফুটে উঠেছে।
আমি এই গ্রন্থটি উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটের তুলনামূলক ফিকহ বিভাগে পেশ করেছি এবং আমার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির সম্পূরক গবেষণা হিসেবে এটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। এই গ্রন্থটির গবেষণামূলক যাচাই (التحقيق) করার ক্ষেত্রে আমার জ্ঞান অন্বেষণের এক ফলপ্রসূ সফর সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ হয়েছে। আমি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তা বিভিন্ন ফিকহী মাজহাবের (المذهب) কিতাব ও মতামত থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি থাকার কারণে—যার কোনো কোনোটিতে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল, অথবা কিতাবে উল্লেখিত কতিপয় ব্যক্তিত্বের নাম জীবনীগ্রন্থ (التراجم) সমূহে বর্ণিত নামের চেয়ে ভিন্ন হওয়ার কারণে। তদুপরি লেখক যেসব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তার মধ্যে কিছু বিলুপ্ত (المفقود) কিতাব খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও বেগ পেতে হয়েছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক ফায়দা লাভ করা থেকে বঞ্চিত হইনি।
বিষয়ের গুরুত্ব:১ - এই পাণ্ডুলিপি (المخطوط) এর গুরুত্ব এই যে, এর লেখক আল্লামা শেখ মারঈ আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ) মাজহাবের (المذهب) একজন অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী গবেষক (المحقق)। তিনি তাঁর সময়কাল ফতোয়া প্রদান (الإفتاء), পাঠদান (التدريس), গবেষণামূলক যাচাই (التحقيق) এবং গ্রন্থ রচনা (التصنيف) এর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন, ফলে তাঁর রচনাবলি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে..."
(১) এবং "তাঁর রচনাবলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রেখেছে, তাই শেখ মারঈকে মাজহাবের (المذهب) একটি স্বতন্ত্র পাঠশালা হিসেবে গণ্য করা হয়..."
(২)। আর এই পাণ্ডুলিপিটি (المخطوط) তাঁর মূল্যবান রচনাবলিরই একটি অংশ।
২ - লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবে তাঁর সমসাময়িক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন; আর তা হলো সেই সব ভূমির মাসআলা যা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত (عنوة) ভূমি হিসেবে ওয়াকফ করেছিলেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ। তিনি এই মাসআলাটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের প্রতি গুরুত্বারোপ করে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وما ورد من أفعال الصحابة رضي الله عنهم وأقوالهم، وكذلك الإشارة إلى المذاهب الفقهية فيها، وتحقيق للروايات المنقولة عن الإمام أحمد، وغير ذلك، مما يجعل هذا الكتاب مرجعاً ومصدراً مهماً في هذه المسألة.
3 - ما ورد في ثنايا هذه المخطوطة من فوائد جمة، وتقسيمات بديعة في بابها، كل هذا مع حسن عرض وترتيب، وذكر لمسائل ووقائع حدثت في عصره مما هو داخل في حكم هذه المسألة.
أسباب اختيار الموضوع:1 - أن كثيراً من الكتب المخطوطة لم تر النور بعد، ونحن بلا شك بحاجة ملحة إلى إخراج هذه الكنوز الدفينة، والكشف عن هذه الذخيرة الهائلة، والرصيد الضخم من هذا التراث، الذي لا يزال حبيس المكتبات، فمن خلاله نستطيع التعرف على كتب فقهائنا، وطرقهم في التأليف والاستنباط، وتأسيس القواعد الشرعية، فرأيت أن أقدم إلى المكتبة الإسلامية ما أرجو أن ينتفع به طلاب العلم.
2 - أن الاشتغال بتحقيق الكتب المخطوطة يساعد على تنمية قدرات المحقق العلمية، وحصيلته الفقهية، وتعويده على ضبط عبارات العلماء، وفهمها، ويربطه بكثير من العلوم.
3 - ما ذكرت سابقاً من أن هذه الرسالة مهمة في بابها، فرغبت في الاستفادة منها، والتبحر في مسائلها، وضبط فروعها، وما ينبني عليها من مسائل أخرى.
الدراسات السابقة:بعد البحث والاطلاع، تبين لي من خلال سؤال مركز الملك فيصل، ومكتبة الملك فهد الوطنية والمعهد العالي وكلية الشريعة بالرياض، وسؤال أهل التحقيق والمهتمين به، أن هذا المخطوط لم يسبق لأحد أن حققه أو طبعه.
এবং সাহাবীগণের (صحابة) যেসব কর্ম ও বাণী এতে বর্ণিত হয়েছে, পাশাপাশি এ সংক্রান্ত ফিকহি মাযহাবসমূহের প্রতি ইঙ্গিত, ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (روايات) যাচাই-বাছাই (تحقيق) এবং অন্যান্য বিষয়াদি এই কিতাবটিকে সংশ্লিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স ও উৎসে পরিণত করেছে।
৩ - এই পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) অভ্যন্তরে বিদ্যমান প্রচুর ইলমি ফায়দা এবং এই বিষয়ের চমৎকার সব বিন্যাস, যা অত্যন্ত সুন্দর উপস্থাপন ও ক্রমধারা বজায় রেখে বর্ণনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাসআলার বিধানের অন্তর্ভুক্ত এমন অনেক বিষয় ও সমসাময়িক ঘটনাবলীর উল্লেখ রয়েছে যা লেখকের যুগে সংঘটিত হয়েছিল।
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:১ - অনেক পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) কিতাব এখনও আলোর মুখ দেখেনি, আর সন্দেহাতীতভাবে এই লুকায়িত রত্নভাণ্ডারগুলো প্রকাশ করা এবং এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার ও ঐতিহ্যের (تراث) বিশাল মজুত যা এখনও গ্রন্থাগারগুলোতে বন্দি হয়ে আছে, তা উন্মোচন করা আমাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের ফকিহগণের কিতাবসমূহ, তাঁদের গ্রন্থনা ও মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করার পদ্ধতি এবং শরয়ি মূলনীতি প্রতিষ্ঠার ধারা সম্পর্কে জানতে পারি। তাই আমি চাইলেন ইসলামী লাইব্রেরিতে এমন কিছু পেশ করতে যা দ্বারা জ্ঞান অন্বেষণকারীরা উপকৃত হবে বলে আমি আশা রাখি।
২ - পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) কাজে নিয়োজিত থাকা একজন গবেষকের (محقق) ইলমি সক্ষমতা ও ফিকহি জ্ঞান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি তাকে উলামায়ে কেরামের পরিভাষাগুলো নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করতে ও বুঝতে অভ্যস্ত করে তোলে এবং তাকে বিভিন্ন ইলমের সাথে সংযুক্ত করে।
৩ - পূর্বে যা উল্লেখ করেছি যে, এই গবেষণাপত্রটি (رسالة) তার নিজ অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তাই আমি এটি থেকে উপকৃত হওয়ার, এর মাসআলাগুলোতে ব্যুৎপত্তি অর্জনের এবং এর শাখা-প্রশাখা ও এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত অন্যান্য মাসআলাগুলো নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করার আগ্রহ বোধ করেছি।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর এবং কিং ফয়সাল সেন্টার, কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি, রিয়াদের আল-মা'হাদ আল-আলি ও শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) এর আগে কেউ সম্পাদনা (تحقيق) বা মুদ্রণ করেনি।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
خطة البحث:قسمت بحثي إلى قسمين:
القسم الأول: الدراسة، وفيه فصلان:
الفصل الأول: حياة المؤلف، وفيه تمهيد وعشرة مباحث:
التمهيد: عصر المؤلف.
المبحث الأول: اسمه ونسبه ومولده.
المبحث الثاني: نشأته وطلبه للعلم.
المبحث الثالث: أهم أعماله.
المبحث الرابع: صفاته.
المبحث الخامس: عقيدته ومذهبه.
المبحث السادس: وفاته.
المبحث السابع: شيوخه.
المبحث الثامن: تلاميذه.
المبحث التاسع: مكانته العلمية، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الجوانب العلمية.
المطلب الثاني: وصفه من حيث التقليد والاجتهاد.
المبحث العاشر: مؤلفاته.
الفصل الثاني: كتابه، وفيه تسعة مباحث:
المبحث الأول، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: إثبات نسبة الكتاب إلى مؤلفه.
المطلب الثاني: وصف المخطوطات وبيان أماكن وجودها.
المبحث الثاني: تعريف موجز بالكتاب.
المبحث الثالث: منزلته بين كتب الفقه بعامة وكتب مذهبه بخاصة.
গবেষণা পরিকল্পনা:আমি আমার গবেষণাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: অধ্যয়ন, এতে দুটি অধ্যায় (فصلان) রয়েছে:
প্রথম অধ্যায় (الفصل الأول): লেখকের জীবনী, এতে একটি ভূমিকা (تمهيد) ও দশটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
ভূমিকা (التمهيد): লেখকের সমকাল।
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞানার্জন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): তাঁর গুণাবলি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): তাঁর আকিদা ও মাজহাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ (المبحث السادس): তাঁর মৃত্যু।
সপ্তম পরিচ্ছেদ (المبحث السابع): তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ (المبحث الثامن): তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
নবম পরিচ্ছেদ (المبحث التاسع): তাঁর ইলমি মর্যাদা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): জ্ঞানগত দিকসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): তাকলিদ (التقليد) ও ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর বিচারে তাঁর বর্ণনা।
দশম পরিচ্ছেদ (المبحث العاشر): তাঁর রচনাবলি।
দ্বিতীয় অধ্যায় (الفصل الثاني): তাঁর গ্রন্থ, এতে নয়টি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول), এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): লেখকের প্রতি বইটির সম্পৃক্ততা (نسبة) প্রমাণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): পাণ্ডুলিপি (المخطوطات) সমূহের বিবরণ ও তাদের প্রাপ্তিস্থান স্পষ্টিকরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): গ্রন্থটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): সাধারণভাবে ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং বিশেষভাবে তাঁর মাজহাবের গ্রন্থসমূহের মধ্যে বইটির মর্যাদা।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الرابع: منهجه في الكتاب.
المبحث الخامس: مصادره في الكتاب.
المبحث السادس: الكتاب من حيث التبعية والاستقلال.
المبحث السابع: اختياراته الفقهية في الكتاب.
المبحث الثامن: محاسن الكتاب.
المبحث التاسع: الملحوظات على الكتاب.
القسم الثاني: التحقيق ومنهجي فيه على النحو التالي:
أولاً: إخراج نص الكتاب على أقرب صورة وضعها عليه المؤلف، وذلك باتباع الخطوات التالية:
1 - أختار نسخة تكون أصلاً وهي النسخة (أ) التي نقلت من نسخة المؤلف رحمه الله، نقلها عبد الله بن إبراهيم بن غنيم، وذلك في عام 1227 هـ، ثم نقلها عنه عبد الله بن إبراهيم بن عبد اللطيف، وذلك عام 1318 هـ، وكتب عليها (مقابلة تصحيحاً).
2 - أعتمد على هذه النسخة وأجعلها أصلاً، وأحافظ على نصها، إلا إذا تبين أن هناك خطأ واضحاً لا يستقيم معه الكلام، فأصوبه من النسخة الثانية، وأجعله بين قوسين معقوفين هكذا []، وأشير إلى ذلك في الهامش، وأثبت عبارة الأصل في الهامش.
إن لم يكن في النسخة الأخرى ما يصوب العبارة فأجتهد في تصويبها، وأشير إلى ذلك في الهامش، وأثبت ما ورد في النسخ في الهامش أيضاً.
3 - أثبت ما قد سقط من الحروف أو الكلمات من الأصل في الصلب بين قوسين معقوفين هكذا []، وأوجه ذلك في الهامش وأشير إلى ما يعزز ذلك من المصادر والمراجع.
4 - أرسم الكتاب بالرسم الحديث، بدون إشارة إلى ذلك في الهامش.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে তাঁর তথ্যসূত্রসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অনুগমন ও স্বকীয়তার নিরিখে গ্রন্থটি।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে তাঁর ফিকহী অগ্রাধিকারসমূহ (اختيارات)।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্যসমূহ।
নবম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির ওপর পর্যবেক্ষণসমূহ।
দ্বিতীয় অংশ: পাণ্ডুলিপি সম্পাদন (تحقيق) এবং এতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি নিম্নরূপ:
প্রথমত: গ্রন্থের মূল পাঠকে (نص) লেখক যেভাবে নির্ধারণ করেছিলেন তার নিকটতম রূপে উপস্থাপন করা, আর তা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে:
1 - আমি একটি কপিকে মূল (أصل) হিসেবে নির্বাচন করি, যা হলো কপি (আলিফ)। এটি লেখকের—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—কপি থেকে নকল করা হয়েছে। ১২২৭ হিজরীতে আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন গুনাইম এটি নকল করেন, অতঃপর তাঁর নিকট থেকে ১৩১৮ হিজরীতে আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল লতিফ এটি পুনরায় নকল করেন এবং এর ওপর 'সংশোধনকল্পে পাঠ-মিলানো' (مقابلة تصحيحاً) কথাটি লিখে দেন।
2 - আমি এই কপির ওপর নির্ভর করি এবং একেই মূল (أصل) হিসেবে গণ্য করি। আমি এর মূল পাঠ (نص) অক্ষুণ্ণ রাখি, তবে যদি সেখানে কোনো স্পষ্ট ভুল প্রকাশ পায় যার ফলে অর্থ অসংগত হয়ে পড়ে, তবে আমি দ্বিতীয় কপি থেকে তা সংশোধন করি এবং একে এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রাখি। আমি পাদটীকায় (هامش) সেদিকে ইঙ্গিত করি এবং মূল কপির পাঠ (عبارة) পাদটীকায় উল্লেখ করি।
যদি অন্য কপিতেও এমন কিছু না থাকে যা দ্বারা পাঠটি সংশোধন করা যায়, তবে আমি তা সংশোধনের আপ্রাণ চেষ্টা করি এবং পাদটীকায় (هامش) সেদিকে ইঙ্গিত করি। কপিগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ও আমি পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করি।
3 - মূল কপি থেকে যে সমস্ত হরফ বা শব্দ বিলুপ্ত হয়েছে, তা আমি মূল পাঠের (صلب) ভেতরে এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করি এবং পাদটীকায় (هامش) এর কারণ বর্ণনা করি। পাশাপাশি তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স গ্রন্থসমূহ থেকে এর স্বপক্ষে যা পাওয়া যায় তা উল্লেখ করি।
4 - আমি আধুনিক লিখনরীতিতে গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করেছি, পাদটীকায় (هامش) এর কোনো উল্লেখ ছাড়াই।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
5 - أعجم ما أهمله المؤلف من الكلمات، مع عدم الإشارة إلى ذلك في الهامش إلا إذا اختلف المعنى بذلك الإعجام.
6 - أضبط ما يحتاج إلى ضبط من ألفاظ المؤلف.
ثانياً: أربط الكتاب بمصادره التي أفاد منها إفادة مباشرة.
ثالثاً: أوثق وأحرر الآراء التي ذكرها المؤلف، وذلك بإرجاعها إلى مصادرها الأصلية.
رابعاً: أعزو الروايات التي ينقلها المؤلف عن إمامه من مصادرها المعتبرة.
خامساً: أنبه على الأخطاء العقدية إن وردت في الكتاب.
سادساً: أبين مواضع الآيات من السور، وأشير إلى تفسير الآية إن اقتضاه المقام.
سابعاً: أخرج الأحاديث الواردة، وأحكم عليها - إن لم تكن في الصحيحين أو أحدهما، فإن كانت في الصحيحين أو أحدهما فأكتفي حينئذ بالعزو إليهما أو أحدهما.
ثامناً: أخرج الآثار الواردة في الكتاب وأحكم عليها.
تاسعاً: أعزو الأبيات الشعرية إلى قائليها.
عاشراً: أعزو الأمثال، مع بيان القائل للمثل.
الحادي عشر: أشرح المفردات اللغوية الغريبة.
الثاني عشر: أشرح المفردات الفقهية، والأصولية، والحديثية الغريبة.
الثالث عشر: أعرف بالأعلام، وذلك بإيراد ترجمة قصيرة، تتضمن اسم العلم، وولادته، ومذهبه، وبعض كتبه، ووفاته.
الرابع عشر: أعرف بالطوائف، والفرق، والمذاهب ما عدا المذاهب الفقهية المعروفة.
الخامس عشر: أعرف بالمدن، والمواضع، والبلدان الوارد ذكرها في الكتاب.
৫ - লেখক যেসব শব্দে নুকতা প্রদান করেননি সেগুলোতে নুকতা প্রদান করা, তবে এর ফলে যদি অর্থের পরিবর্তন না ঘটে তবে তা পাদটীকায় উল্লেখ না করা।
৬ - লেখকের ব্যবহৃত যে শব্দগুলোর স্বরচিহ্ন প্রদান আবশ্যক, সেগুলোতে স্বরচিহ্ন প্রদান করা।
দ্বিতীয়ত: বইটিকে সেসব উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা যেখান থেকে লেখক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
তৃতীয়ত: লেখকের উল্লেখিত মতামতগুলোর প্রামাণিকতা যাচাই ও সম্পাদনা করা এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখা।
চতুর্থত: লেখক তাঁর ইমাম থেকে যেসব বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, সেগুলোকে তাদের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে শনাক্ত করা।
পঞ্চমত: বইটিতে কোনো আকিদাগত ত্রুটি থাকলে সে বিষয়ে সতর্ক করা।
ষষ্ঠত: আয়াতের সুরা ও অবস্থান স্পষ্ট করা এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আয়াতের তাফসিরের প্রতি ইঙ্গিত করা।
সপ্তমত: বর্ণিত হাদিসগুলোর তাখরিজ করা এবং সেগুলোর ওপর হুকুম (حكم) প্রদান করা—যদি সেগুলো সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে না থাকে। আর যদি সেগুলো সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে কেবল সেগুলোর প্রতি সম্বন্ধ করাই যথেষ্ট।
অষ্টমত: কিতাবে বর্ণিত আছার (آثار)-গুলোর তাখরিজ করা এবং সেগুলোর ওপর হুকুম (حكم) প্রদান করা।
নবমত: কাব্যপঙ্ক্তিগুলোকে তাদের রচয়িতাদের প্রতি সম্বন্ধ করা।
দশমত: প্রবাদগুলো উদ্ধৃত করার পাশাপাশি এর বক্তাকে চিহ্নিত করা।
একাদশ: দুর্লভ (غريب) ভাষাগত শব্দাবলির ব্যাখ্যা করা।
দ্বাদশ: ফিকহ, উসুল এবং হাদিস শাস্ত্রের দুর্লভ (غريب) শব্দাবলি ব্যাখ্যা করা।
ত্রয়োদশ: বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা; যার মধ্যে তাদের নাম, জন্ম, মাজহাব, গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিতাব এবং মৃত্যু সাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চতুর্দশ: প্রসিদ্ধ ফিকহি মাজহাবসমূহ ব্যতীত বিভিন্ন দল, উপদল ও মতাদর্শের পরিচয় প্রদান করা।
পঞ্চদশ: কিতাবে উল্লিখিত শহর, স্থান ও দেশসমূহের পরিচয় প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
السادس عشر: أعرف بالكتب الوارد ذكرها في الكتاب، وأبين المطبوع والمخطوط.
السابع عشر: أنبه على الأخطاء اللغوية، والنحوية إن وجدت.
الثامن عشر: أضع الفهارس العامة، وأهمها:
1 - فهرس الآيات القرآنية.
2 - فهرس الأحاديث النبوية.
3 - فهرس الآثار.
4 - فهرس الأشعار.
5 - فهرس الأمثال.
6 - فهرس الأعلام.
7 - فهرس الطوائف، والفرق، والمذاهب.
8 - فهرس القبائل والجماعات.
9 - فهرس الأماكن والبلدان.
10 - فهرس الكتب، والرسائل الواردة في الكتاب.
11 - فهرس المراجع والمصادر.
12 - فهرس موضوعات التحقيق.
وإضافة إلى ما سبق فإني قمت بتوثيق المخطوط الأصل، وذلك بالإشارة إلى نهاية كل صفحة، وجعلت ذلك في الهامش، فأذكر رقم اللوح، وما كان في الصفحة اليمنى رمزت له بالحرف (أ)، وما كان في الصفحة اليسرى رمزت له بالحرف (ب). [(3/ أ) أو (3/ ب)].
ثم إن من أجل الأمور أن نتوجه بالشكر والحمد لله رب العالمين، الذي أعان ويسر على إتمام هذا العمل، فاللهم لك الشكر كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك.
ষোড়শ: কিতাবে বর্ণিত গ্রন্থসমূহের সাথে পরিচিত করা এবং কোনটি মুদ্রিত (مطبوع) ও কোনটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط) তা স্পষ্ট করা।
সপ্তদশ: ভাষাগত ও ব্যাকরণগত কোনো ভুল থাকলে সে সম্পর্কে সতর্ক করা।
অষ্টাদশ: সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ তৈরি করা, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১ - কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।
২ - হাদিসের নির্ঘণ্ট।
৩ - আছার (الآثار)-এর নির্ঘণ্ট।
৪ - কবিতার নির্ঘণ্ট।
৫ - প্রবাদের নির্ঘণ্ট।
৬ - ব্যক্তিবর্গের (أعلام) নির্ঘণ্ট।
৭ - বিভিন্ন সম্প্রদায়, দল ও মাজহাবের নির্ঘণ্ট।
৮ - গোত্র ও গোষ্ঠীর নির্ঘণ্ট।
৯ - স্থান ও জনপদের নির্ঘণ্ট।
১০ - কিতাবে উল্লেখিত গ্রন্থ ও ক্ষুদ্র পুস্তিকাসমূহের নির্ঘণ্ট।
১১ - তথ্যসূত্র ও মূল উৎসের নির্ঘণ্ট।
১২ - গবেষণামূলক সম্পাদনার (تحقيق) বিষয়সমূহের নির্ঘণ্ট।
পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি আমি মূল পাণ্ডুলিপির (مخطوط) প্রামাণ্যতা নথিবদ্ধ করেছি। এর পদ্ধতি হলো—প্রতিটি পৃষ্ঠার সমাপ্তি চিহ্নিত করে তা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। আমি সেখানে ফোলিও নম্বর উল্লেখ করেছি; যেখানে ডান পৃষ্ঠাকে 'আলিফ' (أ) অক্ষর দ্বারা এবং বাম পৃষ্ঠাকে 'বা' (ب) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি। যেমন: [(৩/أ) অথবা (৩/ب)]।
পরিশেষে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, যিনি এই কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য ও সহজ করে দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনার জন্য সেই পরিমাণ শোকর, যা আপনার সুমহান সত্তা ও সুমহান কর্তৃত্বের জন্য উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكذلك فإن من أمنّ الناس علي صحبةً وفضلاً، والدايَ العزيزان رعاهما الله، واسأل الله تعالى أن يرزقني برَّهُمَا والإحسان إليهما، فقد كانا يحرصان عن السؤال عن أمور بحثي، ويسألان الله لي التوفيق.
وإن من تمام الشكر أيضاً أن نشكر كل من ساهم في إعانتي على إخراج هذا البحث وإكماله، وهم ولله الحمد كُثُر، وأخص منهم الشيخ الدكتور/ ناصر بن عبد الله السلامة، والذي زودني - حفظه الله - بنسخ هذه المخطوطة، كما أخص منهم أستاذنا الدكتور يوسف بن أحمد القاسم، والذي كان مشرفاً على هذا البحث، واستفدت منه كثيراً في توجيهاته وملاحظاته القيمة.
هذا ونسأل الله العظيم، أن يجمعنا ومن نحب في جنات النعيم، ونسأله أن يجعل عملنا في رضاه، وأن يحسن خاتمتنا، وأن يتقبل هذا الجهد وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم.
وبعد فإن هذا هو جهد المقل الذي لا يخلو من خطأ أو تقصير غير متعمد، وأرجو من الله العلي القدير أن يغفر لنا الزلات ويتجاوز عن التقصير والهفوات.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
তেমনিভাবে, সাহচর্য ও মহানুভবতার দিক থেকে আমার প্রতি সর্বাধিক অনুগ্রহশীলদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা, আল্লাহ তাঁদের হেফাজত করুন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে তাঁদের প্রতি অনুগত থাকার এবং তাঁদের সাথে সদাচরণ করার তাওফিক দান করেন। তাঁরা সর্বদা আমার গবেষণার বিষয়াদি সম্পর্কে খোঁজ নিতেন এবং মহান আল্লাহর নিকট আমার সাফল্যের জন্য দোয়া করতেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পূর্ণতা অর্জনে তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে এবং এটি প্রকাশে আমাকে সহায়তা করেছেন। আল্লাহর শুকরিয়া যে তাঁদের সংখ্যা অনেক। তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে শাইখ ডক্টর নাসের বিন আব্দুল্লাহ আস-সালামার নাম উল্লেখ করছি, যিনি—আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন—আমাকে এই পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) এর অনুলিপিগুলো দিয়ে সহায়তা করেছেন। একইভাবে আমি বিশেষভাবে আমাদের উস্তাদ ডক্টর ইউসুফ বিন আহমদ আল-কাসিমের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি, যিনি এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং আমি তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি।
পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আমাদের প্রিয়জনদের জান্নাতুল নাঈমে একত্রিত করেন। আমরা তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই আমলকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের শেষ পরিণাম সুন্দর করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে একে নিছক তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে গণ্য করেন।
অতঃপর, এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র, যা অনিচ্ছাকৃত ভুল বা সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত নয়। আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পদস্খলনগুলো ক্ষমা করেন এবং আমাদের সীমাবদ্ধতা ও বিচ্যুতিগুলো মার্জনা করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
القسم الأول
الدراسة، وفيه فصلان:
الفصل الأول: حياة المؤلف.
الفصل الثاني: كتابه.
প্রথম অংশ
পর্যালোচনা, এবং এতে দুইটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول وفيه تمهيد وعشرة مباحث:
تمهيد: عصر المؤلف.
المبحث الأول: اسمه ونسبه ومولده.
المبحث الثاني: نشأته وطلبه للعلم.
المبحث الثالث: أهم أعماله.
المبحث الرابع: صفاته.
المبحث الخامس: عقيدته ومذهبه.
المبحث السادس: وفاته.
المبحث السابع: شيوخه.
المبحث الثامن: تلاميذه.
المبحث التاسع: مكانته العلمية.
المبحث العاشر: مؤلفاته.
প্রথম অধ্যায়এতে রয়েছে একটি ভূমিকা এবং দশটি পরিচ্ছেদ:
ভূমিকা: লেখকের যুগ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রধান কার্যাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা ও মাযহাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা।
দশম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
التمهيد: عصر المؤلفجرت عادة الباحثين في تناولهم لدراسة حياة المؤلفين، النظرُ في زمانهم الذي عاشوا فيه وتحليله من نواحٍ عدة سواء الناحية السياسية أو الاجتماعية أو الدينية والعلمية، وذلك لكي يخرجوا بنظرة عامة كانت مؤثرة في حياة المؤلف سواء سلباً أو إيجاباً.
وقد يختلف أسلوب كل باحث عن الآخر في هذه النظرة، فمنهم من يكتفي بالخطوط العريضة، ومنهم من يذكر التفاصيل.
وسوف أتطرق في هذا التمهيد إلى شيء موجز وأتكلم عن عصر الشيخ مرعي من ثلاث نواحٍ:
1 - الناحية السياسية:لقد عاش المؤلف رحمه الله في أواخر القرن العاشر وبداية القرن الحادي عشر وقد كانت مصر مستقراً له، وإن الظروف السياسية التي مرّت بمصر في تلك الفترة هي: أنها كانت تحت حكم المماليك، ثم إن السلطان سليم العثماني في سنة 923 هـ قام بضم مصر إلى الخلافة العثمانية، وكانت هذه الفترة عصر قوة الدولة العثمانية حيث توسعت رقعة البلاد، ودخلت في حكم العثمانيين، العراق، وشمال غربي إيران، وشمال أفريقيا، والمجر ورودس، وقبرص، وقد وصلت جيوش هذه الدولة إلى أسوار فيينا.
وكان سلاطين هذه الدولة يحرصون على قيادة المعارك بأنفسهم، كما حرصوا على نشر الإسلام وتعاليمه، ولقد كان لهذه الدولة الفضل بعد الله سبحانه وتعالى في حفظ وصيانة الإسلام وأهله من التوسع النصراني، وصد هجماتهم على المسلمين والتي من خلالها حاولوا القضاء عليهم وعلى دينهم.
উপক্রমণিকা: লেখকের সমকালগবেষকদের জীবনীর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গবেষকদের সাধারণ রীতি হলো তাঁদের সমসাময়িক যুগের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং রাজনৈতিক, সামাজিক অথবা ধর্মীয় ও ইলমি (জ্ঞানের) বিভিন্ন দিক থেকে তা বিশ্লেষণ করা; যাতে করে তাঁরা এমন একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি লাভ করতে পারেন যা লেখকের জীবনের ওপর নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল।
এই দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে প্রত্যেক গবেষকের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে; তাঁদের কেউ কেবল মূল বিষয়গুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকেন, আবার কেউ বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আমি এই উপক্রমণিকায় সংক্ষেপে শায়খ মারঈ-এর সমকাল সম্পর্কে তিনটি দিক থেকে আলোকপাত করব:
১ - রাজনৈতিক দিক:লেখক (রহিমাহুল্লাহ) দশম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ এবং একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জীবিত ছিলেন এবং মিশর ছিল তাঁর আবাসস্থল। সেই সময় মিশরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল নিম্নরূপ: এটি মামলুকদের শাসনাধীন ছিল। অতঃপর ৯২৩ হিজরি সনে উসমানীয় সুলতান সেলিম মিশরকে উসমানীয় খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সময়টি ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের শক্তির যুগ, যখন রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল এবং ইরাক, উত্তর-পশ্চিম ইরান, উত্তর আফ্রিকা, হাঙ্গেরি, রোডস ও সাইপ্রাস উসমানীয় শাসনের অধীনে চলে এসেছিল। এমনকি এই সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী ভিয়েনার দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
এই সাম্রাজ্যের সুলতানগণ স্বয়ং যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা ইসলাম ও এর শিক্ষার প্রসারেও সচেষ্ট ছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পর এই সাম্রাজ্যেরই অবদান ছিল যে, তারা খ্রিষ্টীয় আধিপত্য বিস্তার থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের সুরক্ষা প্রদান করেছিল এবং মুসলমানদের ওপর তাদের আক্রমণ প্রতিহত করেছিল, যার মাধ্যমে তারা মুসলিম জাতি ও তাদের ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأيضاً فإن هذه الدولة مكنت لمذهب أهل السنة والجماعة بعد أن تعرض لمحاولات إبادة من قبل دول شيعية كالبويهيين والفاطميين والقرامطة والحمدانيين.
ولعل بعض هذه المآثر دفعت المؤلف إلى أن يؤلف كتاباً يمدح فيه سلاطين آل عثمان سماه "قلائد العِقْيان في فضائل آل عثمان"
(1).
ولكن من ناحية أخرى فقد أدرك المؤلف في أواخر حياته بداية الضعف في هذه الدولة؛ حيث ظهرت بعض الأمور التي كانت سبباً في تمزق قوتها وأدت إلى ضعفها منها:
- السيطرة العسكرية، فقد اهتمت الدولة بالتربية العسكرية والإسلامية، ثم ظهر الحرص على السلطان كنقطة جوهرية، وأعطى جيش الإنكشارية من الصلاحيات ما لم يكن له قبل ذلك.
وقد وصل الأمر إلى أنهم يقومون بالوقوف في وجه من فكر أو شك السلطان في طاعته ولو كان من إخوان السلطان أو قرابته.
وقد زاد نفوذهم فيما بعد حتى صاروا يتدخلون في شؤون الناس ويتحكمون في أموالهم وإقطاعاتهم مما زاد الأمرَ سوءً.
- ظهور الاتفاقيات مع الدول الأجنبية:
وقد أدت هذه الاتفاقيات إلى إعطاء بعض الدول الأجنبية امتيازات لها ولرعاياها، مما أدى إلى تدخلهم في شؤون الدولة، بل تحريض الناس عليها من الداخل وقد كان سبباً في إضعافها.
-ضعف الحماس الجهادي:
فقد كانت الدولة العثمانية في بدايتها ذات حماس إسلامي، فحمت الدولة من أعدائها، ولكن هذا الأمر بدأ بالضعف عندما مال السلاطين إلى قصورهم
--------------------------------------------
তদুপরি, এই রাষ্ট্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মাযহাব (مذهب)-কে শক্তিশালী করেছিল, যখন বুওয়াইহি, ফাতিমি, কারামাতি এবং হামদানিদের মতো শিয়া রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে এটি নির্মূলের প্রচেস্থার সম্মুখীন হয়েছিল।
সম্ভবত এই মহান কীর্তিগুলোর কিছু লেখককে উসমানীয় বংশের সুলতানদের প্রশংসা করে একটি গ্রন্থ রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার নামকরণ তিনি করেছেন "কালাইদুল ইকিয়ান ফি ফাদায়িলি আলি উসমান"
(১)।
কিন্তু অন্যদিকে, লেখক তাঁর জীবনের শেষভাগে এই রাষ্ট্রের দুর্বলতার সূচনা উপলব্ধি করেছিলেন; যেখানে এমন কিছু বিষয় প্রকাশ পেয়েছিল যা রাষ্ট্রের শক্তি খর্ব হওয়ার কারণ হয়েছিল এবং এর দুর্বলতার দিকে পরিচালিত করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
- সামরিক নিয়ন্ত্রণ: রাষ্ট্র সামরিক ও ইসলামী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিল, অতঃপর সুলতানের প্রতি আনুগত্য একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ইনকিশারি বাহিনীকে এমন ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল যা তাদের আগে ছিল না।
এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সুলতান যার আনুগত্যে সন্দেহ করতেন বা যার ব্যাপারে সুলতানের মনে সংশয় জাগত, তারা তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়াত, যদিও সে সুলতানের ভাই বা নিকটাত্মীয় কেউ হত।
পরবর্তীতে তাদের প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তারা জনগণের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে এবং তাদের সম্পদ ও জায়গিরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়।
- বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে চুক্তির আবির্ভাব:
এই চুক্তিগুলো কিছু বিদেশী রাষ্ট্রকে এবং তাদের নাগরিকদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের পথ উন্মুক্ত করে দেয়, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়, এমনকি ভেতর থেকে জনগণকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করার অন্যতম কারণ ছিল।
- জিহাদী উদ্দীপনার দুর্বলতা:
উসমানীয় রাষ্ট্র তার সূচনালগ্নে ইসলামী উদ্দীপনায় উজ্জীবিত ছিল, যা রাষ্ট্রকে তার শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। কিন্তু সুলতানরা যখন তাদের প্রাসাদের আভিজাত্যে মগ্ন হতে শুরু করলেন, তখন এই উদ্দীপনায় ভাটা পড়তে শুরু করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباذخة، والميل إلى الراحة والدعة، مما أدى إلى تسلط الأعداء، ولعل هذا السبب في تأليف الشيخ مرعي الكرمي لكتابه: "نزهة الناظرين في الوصول إلى فضائل المجاهدين".
أما من الناحية الإدارية: فقد كانت هذه البلاد تحكم من قبل بعض الأمراء والقواد، وكان على الوالي أن يقوم بأمرين:
1 - أن يعمل على نشر الأمن وجباية الضرائب.
2 - أن يعمل على تهيئة عدد من الخيالة والفرسان المحاربين الذين يعدّون للجهاد في سبيل الله ونشر الإسلام.
ويظهر أن هؤلاء الولاة لم يكونوا بدرجة واحدة من العدالة والكفاءة المؤهلة مما أدى إلى انتشار الظلم والطغيان، وكثرة الاضطرابات في إدارة بعض البلاد، مما أدى إلى لجوء بعض الناس إلى بلاد أكثر أمناً كمصر
(1).
2 - الناحية الاجتماعية:لقد برزت بعض المفاسد الاجتماعية نظراً لتولي بعض الولاة غير الأكفاء دفعة الحكم في بعض البلاد الإسلامية، مما أدى إلى انتشار الظلم والفساد.
وكذلك آلت الأمور إلى ظهور الترف والفجور، فقد ركن كبار الدولة إلى الدعة والبذخ، وانصرفوا إلى اللهو وتبذير المال على الشهوات واقتناء الجواري من مختلف الجنسيات، وبذلك فسدت أمور الرعية.
وكما سمحت الامتيازات الأجنبية لدخول غير المسلمين البلاد وجلبوا معهم عادات أثرت سلباً على المجتمع الإسلامي، وأدت إلى انحرافه وذلك مثل: انتشار عادة شرب الدخان، والذي ألف فيها المؤلف رحمه الله كتابه "تحقيق البرهان
--------------------------------------------
বিলাসিতা এবং আরাম-আয়েশের প্রতি প্রবণতা, যা শেষ পর্যন্ত শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের কারণ হয়েছিল। সম্ভবত এই কারণেই শায়খ মারয়ী আল-কারমী তাঁর গ্রন্থ: "নুজহাতুন নাযিরিন ফি আল-উসুল ইলা ফাদাইলিল মুজাহিদিন" রচনা করেছিলেন।
প্রশাসনিক দিক থেকে: এই দেশগুলো কিছু আমির ও সেনাপতিদের দ্বারা শাসিত হতো এবং একজন গভর্নরের দায়িত্ব ছিল দুটি কাজ সম্পন্ন করা:
১ - নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর সংগ্রহ করা।
২ - এমন কিছু অশ্বারোহী ও যোদ্ধা বাহিনী প্রস্তুত করা, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ এবং ইসলাম প্রচারের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
দেখা যায় যে, এই গভর্নররা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং যোগ্যতার দিক থেকে সমান স্তরের ছিলেন না, যার ফলে জুলুম ও স্বৈরাচারের বিস্তার ঘটে এবং কিছু দেশের প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে অনেক মানুষ মিশরের মতো অধিকতর নিরাপদ দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়
(১)।
২ - সামাজিক দিক:কিছু ইসলামি দেশে অযোগ্য গভর্নরদের শাসনভার গ্রহণের কারণে কিছু সামাজিক অনাচার প্রকট হয়ে ওঠে, যা জুলুম ও দুর্নীতির প্রসারের দিকে ধাবিত করে।
অনুরূপভাবে বিষয়গুলো বিলাসিতা ও পাপাচারের দিকে গড়ায়। রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা আয়েশ ও আড়ম্বরের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং তারা আমোদ-প্রমোদ, প্রবৃত্তির তাড়নায় অর্থ অপচয় এবং বিভিন্ন জাতির দাসী সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করেন। এর ফলে প্রজাসাধারণের অবস্থা কলুষিত হয়।
পাশাপাশি, বৈদেশিক বিশেষ সুবিধাসমূহ অমুসলিমদের দেশে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় এবং তারা নিজেদের সাথে এমন সব অভ্যাস নিয়ে আসে যা মুসলিম সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সমাজকে বিচ্যুত করে। যেমন: ধূমপানের অভ্যাসের প্রসার, যে বিষয়ে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "তাহকিকুল বুরহান" গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في شأن الدخان الذي يشربه الناس الآن"
(1)، بل تعدى الأمر ذلك بأن تزوج السلاطين ببعض النساء النصارى الأجنبيات والذي أعجبهم جمالهن، أو لمصلحة سياسية، مما أثر على أولاد السلاطين حيث بقوا على عقيدة أمهاتهم، بل كان هؤلاء النسوة خير معين لدولهن وبني جلدتهن على المسلمين، وصار لهن تدخل واضح في سياسة الدولة.
ومن ناحية أخرى فقد ظهر في هذه الفترة الطاعون مراراً، وكان يجرف الأحياء جرفاً، فاستولى على الناس الخوف والأوهام.
وقد ساهم العلماء في دفع شر هذا الوباء ومنهم المؤلف في كتابه: "تحقيق الظنون بأخبار الطاعون"
(2) وأيضاً "ما يفعله الأطباء والداعون لدفع شر الطاعون"
(3).
3 - الناحية الدينية والعلمية:لقد كان هناك ضعفٌ في الاهتمام بالعلم على وجه العموم، ففشا الجهل، وقل الإبداع وظهر الاتجاه إلى التقليد والتعصب الأعمى، حتى قال بعضهم: (أما القرن الحادي عشر فشبيه بتاليه وسالفه من حيث قلة الإبداع والتجدد والاكتفاء بالموجود لكن عدد العالمين والمتأدبين كان أكثر على ما يظهر)
(4).
ولكن كانت هناك مراكز علمية تؤدي رسالتها، بنشر العلم، والدين، وتعاليم الإسلام، ومن تلك المراكز الجامع الأزهر، والذي قصده الطلاب من أقطارٍ عدة وعكفوا على طلب العلم فيه. ولكن نلاحظ من ناحية أخرى أن الجمود والتقليد قد سيطر على العلماء آنذاك، وعلى الأزهر بشكل خاص، واتجهت الهمم إلى حفظ المتون والحواشي ونحوها، وكان هناك محاولات لقفل باب الاجتهاد، وذم
--------------------------------------------
"বর্তমানে মানুষের পানকৃত ধূমপান প্রসঙ্গে"
(১), বরং বিষয়টি এর চেয়েও বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে, সুলতানগণ কিছু বিদেশী খ্রিস্টান নারীকে বিবাহ করেছিলেন যাদের সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছিল, অথবা রাজনৈতিক স্বার্থে; যা সুলতানদের সন্তানদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল কারণ তারা তাদের মায়েদের আকিদার ওপরই থেকে গিয়েছিল। এমনকি এই মহিলারা তাদের দেশ এবং স্বজাতির লোকদের জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম সাহায্যকারী হয়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাদের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছিল।
অন্যদিকে, এই সময়ে বারবার প্লেগ প্রাদুর্ভূত হয়েছিল, যা জীবিতদের প্রবলভাবে গ্রাস করছিল, ফলে মানুষের মাঝে ভয় ও অমূলক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
আর আলেমগণ এই মহামারীর অকল্যাণ দূরীকরণে অবদান রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে গ্রন্থকার তাঁর "তাহকীকুজ জুনুন বি আখবারিত তাউন"
(২) এবং "মা ইয়াফআলুহু আত-তিব্বাউ ওয়াদ্ দাঊনা লি দফই শাররিত তাউন"
(৩) গ্রন্থে অবদান রাখেন।
৩ - ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক:সাধারণভাবে ইলম বা জ্ঞানের প্রতি আগ্রহে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, ফলে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছিল, সৃজনশীলতা হ্রাস পেয়েছিল এবং অন্ধ অনুসরণ (تقليد) ও অন্ধ গোঁড়ামির প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: (একাদশ শতাব্দী সৃজনশীলতা ও নতুনত্বের অভাব এবং বিদ্যমান বিষয়ের ওপর সন্তুষ্ট থাকার দিক থেকে এর পরবর্তী ও পূর্ববর্তী শতাব্দীর মতোই ছিল, তবে দৃশ্যত আলেম ও সাহিত্যমনা ব্যক্তিদের সংখ্যা বেশি ছিল)
(৪)।
তবে সেখানে এমন কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র ছিল যা ইলম, দ্বীন ও ইসলামের শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করছিল। সেই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জামে আল-আজহার, যেখানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে আসত এবং তাতে নিমগ্ন থাকত। কিন্তু আমরা অন্যদিকে লক্ষ্য করি যে, জড়তা ও অন্ধ অনুসরণ (تقليد) তৎকালীন আলেমদের ওপর, বিশেষ করে আজহারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। মানুষের মনোযোগ মূল পাঠ (متون) এবং টীকা (حواشي) ও অনুরূপ বিষয়গুলো মুখস্থ করার দিকে নিবদ্ধ ছিল। সেখানে ইজতিহাদের (اجتهاد) দরজা বন্ধ করার প্রচেষ্টা ছিল এবং নিন্দাবাদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المجتهدين إن خالفوا مذاهبهم.
وفي هذا العصر أيضا انتشر الاهتمام بقبور الأولياء وأضرحتهم، وكثر البكاء على القبور، وشد الرحال إليها، وتعظيمها، بل كان هناك اهتمام من الولاة بهذا الأمر، وانتشرت الاحتفالات البدعية والطرق الصوفية.
ومن أجل ذلك انبرى الشيخ مرعي فألف كتاباً سماه "شفاء الصدور في زيارة القبور" والذي ذكر فيه شيئاً مما اعتاده الناس مما يخالف الشريعة الصحيحة.
واشير إلى أنه شاع في هذا العصر التصوف وكثُر، واستخدمت ألفاظه كالحقيقة والشريعة، والكشف وغيرها، وقد تأثر المؤلف بشيء من ذلك وظهر في بعضٍ من كتبه مثل "روض العارفين وتسليك المريدين" وغيره
(1).
--------------------------------------------
মুজতাহিদগণ (المجتهدين) যদি তাদের মাযহাবের খেলাফ করেন।
এই যুগে আউলিয়াদের কবর ও মাযহারের প্রতি গুরুত্বারোপের প্রবণতাও ছড়িয়ে পড়েছিল। কবরের পাশে কান্নাকাটি করা, কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা (شد الرحال) এবং সেগুলোকে অতি-সম্মান প্রদর্শনের আধিক্য দেখা দিয়েছিল। এমনকি শাসকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং বিদআতী (بدعية) অনুষ্ঠানাদি ও সুফি তরীকাগুলোর বিস্তার ঘটেছিল।
এ কারণেই শায়খ মারঈ অগ্রসর হন এবং "শিফাউস সুদুর ফি যিয়ারাতিল কুবুর" নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি মানুষের মাঝে প্রচলিত এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা সঠিক শরীয়তের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য যে, এই যুগে তাসাউউফ ব্যাপক প্রসার লাভ করে এবং এর বিভিন্ন পরিভাষা যেমন— হাকীকত, শরীয়ত, কাশফ (الكشف) ইত্যাদির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। লেখকও এর দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তার কিছু কিতাবে এর প্রকাশ ঘটেছে, যেমন— "রওদুল আরিফীন ওয়া তাসলিকুল মুরিদীন" ইত্যাদি
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول: اسمه ونسبه ومولده (1)هو الإمام زين الدين مرعي بن يوسف بن أبي بكر بن أحمد بن يوسف بن أحمد الكرمي - نسبة إلى طور كرم - ثم المقدسي ثم الأزهري الحنبلي.
وأما مولده: فإن كتب المصادر التي ذكرت ترجمته لم تتعرض بالتحديد إلى سنة مولده، وإنما ذكرت أنه ولد في "طور كرم"
(2) من أعمال فلسطين بالقرب من نابلس، ولكن في الجملة يمكن القول بأن مولده كان في القرن العاشر، كما يظهر ذلك وقد خصه بعض الباحثين في النصف الثاني من القرن العاشر
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম (১)তিনি হলেন ইমাম জয়নুদ্দীন মারঈ ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি বকর ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ আল-কারমি —তূর কারম-এর অধিবাসী হিসেবে— অতঃপর আল-মাকদিসি, এরপর আল-আযহারি আল-হাম্বলি।
আর তাঁর জন্মের ব্যাপারে কথা হলো: তাঁর জীবনী আলোচনা করা মূল উৎসগ্রন্থগুলোতে তাঁর সঠিক জন্মসাল উল্লেখ করা হয়নি; বরং তাতে কেবল উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ফিলিস্তিনের নাবলুসের নিকটবর্তী "তূর কারম"
(২) এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে, তাঁর জন্ম দশম হিজরি শতাব্দীতে হয়েছিল, যেমনটি প্রতীয়মান হয়; এবং কোনো কোনো গবেষক তাঁর জন্মকালকে দশম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে নির্দিষ্ট করেছেন।
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثانينشأته وطلبه للعلملا بد لكل عالم من نشأة وبداية في طلب العلم، والتزود بأنواع المعارف، ومع ذلك لم أجد شيئاً يذكر في مصادر وكتب الترجمة لهذا الإمام يبين كيف كانت نشأته ومراحله العمرية الأولى؟، وماذا عن شبابه؟، وكيف كانت بداية طلبه للعلم؟ وهل كان أبوه من أصحاب العلم الفضلاء أم لا؟ ونحو ذلك.
غير أنه ذكر أن الإمام مرعي الكرمي رحمه الله ولد بطور كرم وبها نشأ، وتلقى فيها مبادئ القراءة والكتابة، ثم انتقل إلى القدس ينهل من معين العلم، وبقي فيها زمناً، وأخذ العلم فيها عن علمائها، ثم انتقل إلى القاهرة بمصر - حاضرة العلم آنذاك -، ودرس فيها علوم عصره وتمكن منها، سواء كان ذلك في الحديث، أو التفسير، أو النحو، أو الأدب، وغير ذلك، وساعده في ذلك شغفه وحبه للعلم، كما يؤكد هذا المعنى انتقاله من بيت المقدس إلى مصر في فترة طلبه للعلم، فإن القاهرة وبالأخص جامع الأزهر كانت بلد العلم، حيث زخرت بالعلماء الأفذاذ من شتى المذاهب، وكذلك طلبة العلم الذين قدموا للتنافس في العلم وتحصيله من شتى الديار والأقطار، بالإضافة إلى انتشار المصنفات العديدة في مختلف المجالات والتي أدت إلى بروز الثقافة في مجتمع مصر
(1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণপ্রত্যেক জ্ঞানীর জন্য জ্ঞান অন্বেষণে একটি বিকাশকাল ও সূচনা এবং বিভিন্ন প্রকার বিদ্যায় সমৃদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন থাকে। তা সত্ত্বেও, এই ইমামের জীবনী বিষয়ক উৎস ও গ্রন্থসমূহে তাঁর বেড়ে ওঠা এবং প্রাথমিক জীবনের পর্যায়গুলো কেমন ছিল, তা বর্ণনা করে এমন কিছু আমি পাইনি। তাঁর যৌবনকাল কেমন ছিল? তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তাঁর পিতা কি মর্যাদাবান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কি না? ইত্যাদি বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম মারঈ আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ) তুলকারমে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। সেখানে তিনি পঠন ও লিখনের প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর তিনি জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য জেরুজালেমে গমন করেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে সেখানকার উলামাদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি মিশরের কায়রোতে—যা তৎকালীন জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে সমসাময়িক শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন করে তাতে বুৎপত্তি লাভ করেন, চাই তা হাদিস, তাফসির, নাহু (ব্যাকরণ) কিংবা সাহিত্য যা-ই হোক না কেন। এক্ষেত্রে জ্ঞানের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা তাঁকে প্রভূত সাহায্য করেছিল। জ্ঞানার্জনকালে বায়তুল মাকদিস থেকে মিশরে তাঁর হিজরত এই বিষয়টিকেই সুনিশ্চিত করে। কেননা কায়রো এবং বিশেষ করে জামে আজহার ছিল ইলমের দেশ, যেখানে বিভিন্ন মাযহাবের অসামান্য পণ্ডিতদের সমাগম ঘটেছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও জনপদ থেকে শিক্ষার্থীরা সেখানে জ্ঞান অর্জন ও প্রতিযোগিতার জন্য আসত। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংখ্য গ্রন্থ ও রচনার ব্যাপক প্রসার, যা মিশরের সমাজে উচ্চতর সংস্কৃতির বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল
(১)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ونُقل عن المؤلف رحمه الله أنه كان مقبلاً على العلم منهمكاً فيه انهماكاً كلياً، ومنشغلاً بتحصيله دون أن يضيع الوقت فيما لا نفع فيه، ولما أمضى فترة من الزمن على هذا الحال في الطلب والتعلم، ما لبث أن أجازه شيوخه، وأصبح ذا علم وسعة اطلاع، فانصرف إلى التدريس، والإفتاء، والتحقيق والتصنيف، وتفرغ لذلك، حتى ذَكر عنه غيرُ واحد أنه قطع زمانه ما بين تدريس وإقراء، وإفتاء، وتحقيق، وتصنيف
(1).
--------------------------------------------
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইলমের প্রতি পূর্ণরূপে মনোযোগী ও এতে সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন ছিলেন এবং কোনো নিরর্থক কাজে সময় নষ্ট না করে ইলম অর্জনে ব্যাপৃত থাকতেন। ইলম অন্বেষণ ও শিক্ষা গ্রহণের এই ধারায় কিছুকাল অতিবাহিত করার পর অতি দ্রুতই তাঁর শায়খগণ তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন এবং তিনি সুগভীর জ্ঞান ও ব্যাপক পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। এরপর তিনি পাঠদান, ফতোয়া প্রদান (إفتاء), গবেষণা (تحقيق) ও গ্রন্থ রচনায় (تصنيف) মনোনিবেশ করেন এবং নিজেকে এ কাজের জন্য নিবেদিত করেন। এমনকি একাধিক ব্যক্তি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর জীবনের পুরো সময় পাঠদান, পাঠ করানো (إقراء), ফতোয়া প্রদান (إفتاء), গবেষণা (تحقيق) এবং গ্রন্থ রচনার (تصنيف) মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالثأهم أعمالهإن من أهم الأعمال التي باشرها الشيخ مرعي الكرمي رحمه الله كما ذكر صاحب خلاصة الأثر، هي ما يلي:
1 - أنه تصدر للإفتاء، والإقراء، والتدريس بجامع الأزهر.
2 - أنه تولى المشيخة بجامع السلطان حسن. وقد وقع خلاف بينه وبين العلامة إبراهيم الميموني الشافعي حول هذا المنصب، ووقع بينهما ما يقع بين الأقران، وألف كل واحد منهما في الآخر رسائل، وكانت رسالة مرعي الكرمي بعنوان: "النادرة الغريبة والواقعة العجيبة" ومضمونها الشكوى من الميموني الذي استطاع أن ينتزع هذا المنصب منه.
3 - أنه انقطع وانشغل أيضاً بالتحقيق، والتأليف، والتصنيف، وقد جاءت مؤلفاته متنوعة، وكثيرة، وقد سلم غالبها من الضياع، كما سنذكره لاحقاً
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদতাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যাবলিশেখ মারয়ি আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ) যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করেছেন, যেমনটি 'খুলাসাতুল আসার' গ্রন্থের রচয়িতা উল্লেখ করেছেন, তা নিম্নরূপ:
১ - তিনি জামিউল আজহারে ফতোয়া প্রদান (الإفتاء), কিরাত শিক্ষা (الإقراء) এবং অধ্যাপনার জন্য আসীন হয়েছিলেন।
২ - তিনি জামে সুলতান হাসানের শায়খ বা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এই পদটি নিয়ে তাঁর এবং আল্লামা ইবরাহিম আল-মাইমুনি আশ-শাফিয়ির মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং সমসাময়িকদের (الأقران) মধ্যে যা ঘটে থাকে, তাঁদের মাঝেও তেমনটিই ঘটেছিল। তাঁদের প্রত্যেকেই অপরজনের বিরুদ্ধে পুস্তিকা রচনা করেন। মারয়ি আল-কারমির পুস্তিকাটির শিরোনাম ছিল: "আন-নাদিরাতুল গারিবা ওয়াল ওয়াকিআতুল আজিবা"; যার মূল বিষয়বস্তু ছিল আল-মাইমুনির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যিনি তাঁর নিকট থেকে এই পদটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
৩ - তিনি নিজেকে গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (التحقيق), গ্রন্থনা (التأليف) এবং রচনা (التصنيف) কার্যে নিবিষ্ট করেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি বৈচিত্র্যময় ও সংখ্যায় প্রচুর এবং এর অধিকাংশ বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الرابعصفاتهلقد حظي الشيخ مرعي الكرمي رحمه الله بإعجاب وثناء علماء عصره فقد كان وحيد زمانه، وأحد أعلامه الأفذاذ، وشهد له كثير من العلماء بالإمامة في الفقه - وخاصة في المذهب الحنبلي - والحديث والتفسير، وشُهد له كذلك بسعة الاطلاع وغزارة العلم، وحسن التأليف ونسق العرض.
وقد قال فيه المحبي: "أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر، كان إماماً، فقيهاً ذا اطلاع واسع على نقول الفقه ودقائقه، ومعرفة تامة بالعلوم النقلية والعقلية، وجميع العلوم المتداولة"
(1).
ووصفه الغزى في النعت الأكمل بقوله: "شيخ مشايخ الإسلام، أوحد العلماء المحققين الأعلام، واحد عصره وأوانه، ووحيد دهره وزمانه، صاحب التآليف العديدة، والفوائد الفريدة، والتحريرات المفيدة، خاتمة أعيان العلماء المتأخرين - إلى أن قال - وقد قلت مادحاً لهذا الهمام بشيء من النظام:
حوى السبق في كل المعارف باله
… إمام همام حاز كل العوارف
وقد صار ممنوحاً بكل فضيلة
… بظل ظليل بالعوارف وارف
وحاز بجد واجتهاد ومنحة
… لما عنه حقاً كلَّ كُلُّ الغطارف"
(2)وقال عنه في السحب الوابلة: "العالم، العلامة، البحر الفهامة، المدقق، المحقق، المفسر، المحدث، الفقيه، الأصولي، النحوي"
(3).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদতাঁর গুণাবলিশেখ মারয়ি আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমসাময়িক আলেমদের প্রশংসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। অনেক আলেম তাঁর ফিকহ—বিশেষত হাম্বলি মাযহাবে—এবং হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে ইমামত (إمامة)-এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। একইভাবে তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন, অগাধ জ্ঞান, চমৎকার রচনাশৈলী এবং উপস্থাপনার সুশৃঙ্খল বিন্যাসের বিষয়েও সকলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আল-মুহিব্বি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মিশরের হাম্বলি আলেমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম (إمام), ফকিহ (فقيه), যার ফিকহি উদ্ধৃতি ও এর সূক্ষ্ম বিষয়াদির ওপর ব্যাপক দখল ছিল এবং নকলি (نقلي) ও আকলি (عقلي) সকল প্রচলিত শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল"
(১)।
আল-গাযযি ‘আন-নাতুল আকমাল’ গ্রন্থে তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি শায়খুল মাশায়েখ, শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞ আলেমদের মধ্যে অনন্য গবেষক (محقق), তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি অসংখ্য গ্রন্থ, অনন্য জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও উপকারী সংকলনের রচয়িতা এবং পরবর্তী যুগের বিশিষ্ট আলেমদের শেষ প্রতিনিধি। — তিনি আরও বলেন — আমি এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রশংসায় কিছু ছন্দবদ্ধ পঙ্ক্তি রচনা করেছি:
তাঁর প্রজ্ঞা সকল জ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে
… তিনি এমন এক মহান ইমাম (إمام) যিনি সমস্ত মারেফাত জয় করেছেন।
তিনি প্রতিটি ফযিলত দ্বারা ধন্য হয়েছেন
… অনুগ্রহের এক সুশীতল ও বিস্তৃত ছায়াতলে।
নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আল্লাহপ্রদত্ত দানে তিনি এমন উচ্চতা অর্জন করেছেন
… যার বর্ণনায় বড় বড় পণ্ডিতরা সত্যিই অক্ষম হয়ে পড়েছেন"
(২)‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি হলেন আলেম (عالم), আল্লামা (علامة), প্রজ্ঞার অতল সমুদ্র, সূক্ষ্মদর্শী, গবেষক (محقق), মুফাসসির (مفسر), মুহাদ্দিস (محدث), ফকিহ (فقيه), উসুলি (أصولي) এবং নাহবি (نحوي)"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ووصفه في "معجم المؤلفين" ب"المحدث، الفقيه، المؤرخ، الأديب"
(1).
وأيضاً قال عنه محقق كتاب السحب الوابلة: "من كبار أئمة المذهب المحققين، أسهم في التأليف والتعليم معاً، فكان من تلامذته كبار علماء المذهب في مصر، والشام، ونجد، ومؤلفاته شغلت الطلبة جيلاً بعد جيل، فيعتبر الشيخ مرعي مدرسة في المذهب"
(2).
وقال عنه أيضاً الشيخ محمد الباني: "هو العلامة الأستاذ مرعي بن يوسف الكرمي .. كان رحمه الله حجة الإسلام في عصره علما بأصول الشريعة وفروعها، وفهماً بأسرارها وسياستها، وحسبي تصويراً لمقدرته العلمية أن أقول إنه كان بالنسبة إلى زمنه صورة مصغرة لشيخ الإسلام ابن تيمية، أو الإمام ابن القيم، كما يشهد بذلك كتبه التي يوفق فيها بين الشريعة الغراء، ومقتضيات الزمان، والعمران فضلاً عن توفيقه أقوال الفقهاء، والصوفية، وتَفوقُه في الأدبيات العربية"
(3).
ولا بد من الإشارة إلى أن المؤلف رحمه الله كان محباً لشيخ الإسلام ابن تيمية أشد الحب، ومطلعاً على آثاره أوسع الاطلاع، حتى أنه أكثر من النقول عنه، وحتى أنه أفرد كتاباً عن حياته هو "الكواكب الدرية في مناقب المجتهد ابن تيمية"
(4).
وقال عنه في نفحة الريحانة: "مقدَّم في العلوم الشرعية، غيرُ متأخِّر في العلوم الأدبيَّة المرعية، فهو من الفضل في منتهاه، ومن الأدب في محل سهاه، وله جودة إتقان، وتمسك بالهدى وإيقان، مع زهد يحول بين القلوب ولذاتها، وتبتُّل لا يرغَب في العبادة إلا لذاتها. يهيم في صلاح وسداد، إذا هامت الشعراء في كل واد"
(5).
--------------------------------------------
এবং তাকে "মুজামুল মুআল্লিফিন"-এ "হাদিস বিশারদ (المحدث), ফকিহ (الفقيه), ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে
(1).
এছাড়াও "আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ" গ্রন্থের মুহাক্কিক (গবেষক) তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মাযহাবের বড় বড় গবেষক (المحققين) ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি একাধারে রচনা ও শিক্ষাদানে অবদান রেখেছেন। মিশর, সিরিয়া ও নজদে মাযহাবের বড় বড় আলেমগণ তার ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তার রচনাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রেখেছে, তাই শেখ মারঈ-কে মাযহাবের একটি স্বতন্ত্র বিদ্যাপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়"
(2).
শেখ মুহাম্মদ আল-বানি তার সম্পর্কে আরও বলেছেন: "তিনি হলেন আল্লামা উস্তাদ মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমি... রহিমাহুল্লাহ তাঁর যুগে শরীয়তের মূলনীতি (أصول) ও শাখাগত বিষয়সমূহ (فروع) সম্পর্কে ইলম এবং এর রহস্য ও পরিচালনা পদ্ধতি বোঝার ক্ষেত্রে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' ছিলেন। তাঁর ইলমি যোগ্যতার চিত্র তুলে ধরতে আমি এতটুকুই বলব যে, তিনি তাঁর সময়ের প্রেক্ষাপটে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বা ইমাম ইবনুল কায়্যিমের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ ছিলেন। যেমনটি তাঁর গ্রন্থসমূহ সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি উজ্জ্বল শরীয়ত ও সমসাময়িক যুগের চাহিদা এবং সভ্যতার সাথে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি ফকিহগণ (الفقهاء) ও সুফিদের বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং আরবি সাহিত্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন"
(3).
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত ছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং তাঁর জীবনীর ওপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন, যার নাম "আল-কাওয়াকিবুদ দুরিইয়াহ ফি মানাকিবিল মুজতাহিদ ইবনে তাইমিয়া"
(4).
এবং "নাফহাতুর রাইহানা"-তে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি শরয়ী জ্ঞানসমূহে অগ্রগামী এবং সমাদৃত সাহিত্যিক জ্ঞানে মোটেও পিছিয়ে নেই। তিনি মর্যাদার শিখরে এবং সাহিত্যের উচ্চাসনে আসীন। তাঁর কাজের নিখুঁত মান রয়েছে এবং তিনি হিদায়াত ও দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর পাশাপাশি রয়েছে এমন যুহদ (পরহেজগারি) যা অন্তর ও এর কামনা-বাসনার মাঝে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় এবং এমন একাগ্রতা যা কেবল ইবাদতের জন্যই ইবাদতে আগ্রহী হয়। যখন কবিরা প্রতিটি উপত্যকায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তিনি তখন কল্যাণ ও সঠিক পথের ওপর অবিচল থাকেন"
(5).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الخامسعقيدته ومذهبهإن الحكم على عقيدة المؤلف لا يكون إلا من خلال معرفة كلامه، وأقواله في كتبه التي كتبها.
وبالنظر إلى كتبه نجد منها ما تكلم فيه عن مسألة مهمة من مسائل العقيدة والتي شغلت حيزاً كبيراً في حياة المسلمين، وهي مسألة أسماء الله تعالى وصفاته، وقد جاء هذا الكتاب من آخر ما كتبه وصنفه في حياته رحمه الله، وسماه "أقاويل الثقات في تأويل الأسماء والصفات والآيات المحكمات والمتشابهات"، فقد انتهى من تأليفه سنة اثنتين وثلاثين بعد الألف
(1).
وقد بيّن المؤلف فيه حبه الشديد لمذهب السلف الصالح، وحث على اتباعه والالتزام بمنهجهم في آيات الصفات، ودلل على ذلك بجملة من أقوال السلف وآرائهم في إثبات الصفات، ونقل عن العلماء ممن لهم قدم راسخة في هذا الباب وجعله داعما لما يقول، بل إنه صرح في كتابه هذا أنه على مذهب السلف الصالح حيث يقول: "وبمذهب السلف أقول وأدين الله به، وأسأله سبحانه الموت عليه مع حسن الخاتمة في خير وعافية"
(2).
وبالنظر أيضاً إلى كتاب آخر نجد أن المؤلف رحمه الله تناول فيه موضوعاً ومسألة أخرى من مسائل العقيدة، وهي توحيد الله وحده لا شريك له، وإفراده بالعبادة، ففي ذلك العصر انتشرت البدع، وزيارة القبور، والتوسل بها ونحو ذلك، فألف كتاباً أسماه: "شفاء الصدور في زيارة القبور"،
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদতাঁর আকিদাহ ও মাযহাবলেখকের আকিদাহ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেবল তাঁর বক্তব্য এবং তাঁর রচিত কিতাবসমূহে বর্ণিত বক্তব্যের মাধ্যমেই সম্ভব।
তাঁর কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা এমন কিছু কিতাব দেখতে পাই যেখানে তিনি আকিদাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা মুসলিমদের জীবনে এক বিশাল স্থান দখল করে আছে; আর তা হলো মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলা। এই কিতাবটি তাঁর জীবনের শেষদিকের রচনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, রাহিমাহুল্লাহ। তিনি এর নামকরণ করেছেন "আকাবীলুস সিকাত ফি তাওয়ীলিল আসমা ওয়াস সিফাত ওয়াল আয়াতিল মুহকামাত ওয়াল মুতাশাবিহাত"। ১০৩২ হিজরিতে তিনি এটি রচনার কাজ সমাপ্ত করেন।
(১)লেখক এতে সালাফে সালিহীনের মাযহাবের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন এবং গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ অনুসরণ ও তাঁদের পদ্ধতির ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সালাফদের একগুচ্ছ বাণী ও গুণাবলি সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে তাঁদের অভিমতসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এ বিষয়ে সুদৃঢ় পাণ্ডিত্যের অধিকারী ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য তিনি উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোকে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পেশ করেছেন। এমনকি তিনি এই কিতাবে স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সালাফে সালিহীনের মাযহাবের ওপর রয়েছেন। তিনি বলেন: "আমি সালাফদের মাযহাব অনুযায়ী কথা বলি এবং এর মাধ্যমেই আল্লাহর দ্বীন পালন করি। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এর ওপরই মৃত্যু দান করেন এবং কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে উত্তম সমাপ্তি দান করেন।"
(২)অন্য আরেকটি কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, লেখক রাহিমাহুল্লাহ সেখানে আকিদাহর অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর তাওহিদ এবং ইবাদতে কেবল তাঁরই একত্ব। সেই যুগে বিদআত, কবর যিয়ারত এবং কবরের অসিলা ধরা ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন ছিল। তাই তিনি একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দেন: "শিফাউস সুদুর ফি যিয়ারাতিল কুবুর",
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبين فيه المنهج الصحيح في القبور وزيارتها، وقد تكلم أيضاً فيه عن حكم زيارة القبر، والتمسح به، وتقبيله، وبناء المساجد على القبور، واتخاذ القبر عيداً ومجتمعاً يُجتمع عنده في أوقات معينة
… الخ
(1).
وبالجملة فإنه أعلن محاربته للبدع ولأهل القبور، ولكل ما يفعل عندها مما لم يأت به الشرع، ورد عليهم بأدلة نقلية وعقلية، وقد أجاد فيه وأفاد.
وأما مذهبه رحمه الله: فإنه أحد كبار علماء الحنابلة في عصره، وقد تلقى العلم عن علماء مشهورين في المذهب الحنبلي، بل أنه قَدّم مؤلفات خدم بها هذا المذهب، كما هو الحال في كتابه "غاية المنتهى في الجمع بين الإقناع والمنتهى" وأيضاً "دليل الطالب".
وقد سلك في تلك المصنفات مسلك المجتهدين.
إذاً فقد كان في الفروع على مذهب الإمام أحمد بن حنبل، عارفاً به، ومنافحاً عنه، وعاشقاً له، كيف لا؟ وهو الذي يقول:
لئن قلد الناس الأئمة إنني
… لفي مذهب الحبر ابن حنبل راغب
أقلد فتواه وأعشق قوله
… وللناس فيما يعشقون مذاهب
(2)--------------------------------------------
তিনি এতে কবর এবং তা জিয়ারত করার সঠিক পদ্ধতি (المنهج الصحيح) বর্ণনা করেছেন। তিনি কবরের জিয়ারত, বরকতের উদ্দেশ্যে কবরে হাত বুলানো (التمسح), তা চুম্বন করা, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ এবং নির্দিষ্ট সময়ে কবরে সমবেত হওয়ার মাধ্যমে সেটিকে উৎসবে (عيدًا) পরিণত করার বিধান সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন
… ইত্যাদি
(১).
সারসংক্ষেপ হলো, তিনি বিদআত (البدع) এবং কবরপূজারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, এবং সেখানে শরিয়ত (الشرع) বহির্ভূত যা কিছু করা হয় তার সবকিছুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বর্ণনাভিত্তিক দলিল (أدلة نقلية) ও যুক্তিভিত্তিক দলিলের (أدلة عقلية) মাধ্যমে তাদের জবাব দিয়েছেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ও পাঠককে উপকৃত করেছেন।
আর তাঁর মাযহাব (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বলতে গেলে: তিনি ছিলেন তাঁর যুগের হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম বড় আলেম। তিনি হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, বরং তিনি এমন কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন যা এই মাযহাবের জন্য বিশেষ খেদমত হিসেবে বিবেচিত, যেমনটি তাঁর রচিত "গায়াতুল মুনতাহা ফি জাময়ি বাইনাল ইজনা ওয়াল মুনতাহা" এবং "দলিলুত তালিব" গ্রন্থদ্বয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
তিনি এই সকল গ্রন্থ রচনায় মুজতাহিদগণের (المجتهدين) পথ অনুসরণ করেছেন।
সুতরাং ফিকহশাস্ত্রের শাখাগত মাসআলাগুলোতে (الفروع) তিনি ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, এই মাযহাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন, এর সপক্ষে লড়াই করতেন এবং এর প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। কেনই বা হবেন না? তিনিই তো বলেছিলেন:
যদি মানুষ বিভিন্ন ইমামের তাকলিদ (قلد) করে, তবে আমি মহান আলেম ইবনে হাম্বলের মাযহাবেরই অনুরাগী
…আমি তাঁর ফতোয়ার (فتواه) তাকলিদ করি এবং তাঁর বক্তব্যকে ভালোবাসি
… আর মানুষ যা ভালোবাসে তার তো ভিন্ন ভিন্ন পথ থাকতেই পারে
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث السادسوفاتهبعد أن أمضى حياته رحمه الله في العلم، والتعليم، والتدريس، والإقراء والتأليف، توفاه الله تعالى؛ وذلك في شهر ربيع الأول سنة 1033 هـ في مصر، ودفن بها. هذا هو الراجح وهو ما عليه أكثر المترجمين له.
وقال في السحب الوابلة: "رأيتُ في ظهْر "الغاية" بخط شيخ مشايخنا العمدة الضابط الشيخ محمد بن سلوم نقلاً أنَّ وفاته ضحوة يوم الأربعاء لخمسٍ بقيت من ذي القعدة سنة 1032 هـ"
(1).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদতাঁর ইন্তেকালআল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, ইলম অর্জন, শিক্ষা দান, অধ্যাপনা, কিরাত শিক্ষা দান এবং গ্রন্থ রচনার কাজে জীবন অতিবাহিত করার পর মহান আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন; আর তা ছিল মিশরে ১০৩৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। এটিই অগ্রগণ্য (راجح) মত এবং তাঁর অধিকাংশ জীবনীকার এই মতের ওপরই রয়েছেন।
আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমি 'আল-গায়াহ' গ্রন্থের পৃষ্ঠদেশে আমাদের শায়খদের শায়খ, নির্ভরযোগ্য (عمدة) ও সূক্ষ্মদর্শী (ضابط) শায়খ মুহাম্মদ বিন সাল্লুম-এর হস্তাক্ষরে একটি উদ্ধৃতি দেখেছি যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৩২ হিজরি সনের যিলকদ মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে বুধবার পূর্বাহ্নে।"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث السابعشيوخهأخذ الشيخ مرعي الكرمي العلم، وتعلمه على أيدي شيوخ عصره، وكان له شيوخ بالقدس قبل أن ينتقل منها إلى القاهرة، حيث تتلمذ على شيوخ آخرين، ولذلك فسوف نذكر شيوخه بالقدس مع ترجمة موجزة لهم، وكذلك شيوخه بالقاهرة:
أولاً: شيوخه بالقدس:
أ - الشيخ محمد المرداوي (1):
وهو محمد بن أحمد المرداوي الحنبلي، الإمام العالم الهمام الفقيه، شيخ الحنابلة في عصره ومرجعهم، نزيل القاهرة، كان جبلا من جبال العلم، وقد أخذ العلم عن التقي محمد الفتوحي، وعن الفرضي عبد الله الشنشوري، وأخذ عنه جماعة منهم: الشيخ مرعي الكرمي، والشيخ منصور البهوتي، وعثمان الفتوحي وغيرهم، توفي رحمه الله بمصر سنة 1026 هـ.
ب - القاضي يحيى الحجاوي (2):
هو يحيى بن العلامة موسى بن أحمد الحجاوي، الإمام الشيخ، الفرضي الفقيه، المحدث، المقدسي الأصل، أخذ الحديث وغيره بدمشق عن جماعة منهم والده شيخ المذهب، ومنقحه، ومهذّبه، ومصنف الإقناع، الشيخ شرف الدين موسى الحجاوي، ثم رحل إلى القاهرة بعد وفاة والده، ودَرّس بالأزهر، وتخرج على يديه جمعٌ من الطلبة وانتفعوا بعلمه منهم: مرعي الكرمي، ومنصور البهوتي، وغيرهما.
--------------------------------------------
সপ্তম পরিচ্ছেদতাঁর শায়খগণশায়খ মারয়ি আল-কারমি তাঁর যুগের প্রথিতযশা শায়খদের নিকট ইলম অর্জন ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কায়রোতে স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্বে জেরুজালেমে (আল-কুদস) তাঁর বেশ কয়েকজন শায়খ ছিলেন, সেখানে তিনি অন্যান্য শায়খদের নিকটও ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। তাই আমরা জেরুজালেমে তাঁর শায়খদের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ উল্লেখ করব এবং একইভাবে কায়রোতে তাঁর শায়খদের কথা উল্লেখ করব:
প্রথমত: জেরুজালেমে (আল-কুদস) তাঁর শায়খগণ:
ক - শায়খ মুহাম্মাদ আল-মারদাবি (১):
তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-মারদাবি আল-হাম্বলি; ইমাম (إمام), আলিম (عالم), মহান ব্যক্তিত্ব ও ফকিহ (فقيه)। তিনি তাঁর যুগের হাম্বলিদের শায়খ এবং প্রধান আশ্রয়স্থল (مرجع) ছিলেন। তিনি কায়রোতে বসবাস করতেন এবং ইলমের সুউচ্চ পাহাড় সদৃশ ছিলেন। তিনি তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ আল-ফুতুহি এবং ফরায়েজবিদ (الفرضي) আবদুল্লাহ আশ-শানশুরি-এর নিকট ইলম অর্জন করেন। তাঁর নিকট থেকে একদল আলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ মারয়ি আল-কারমি, শায়খ মানসুর আল-বুহুতি, উসমান আল-ফুতুহি এবং আরও অনেকে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ১০২৬ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।
খ - কাজি ইয়াহইয়া আল-হাজ্জাবি (২):
তিনি হলেন আল্লামা মুসা ইবনে আহমাদ আল-হাজ্জাবির পুত্র ইয়াহইয়া; ইমাম (إمام), শায়খ, ফরায়েজবিদ (الفرضي), ফকিহ (فقيه) এবং মুহাদ্দিস (محدث)। তাঁর বংশমূল জেরুজালেমের (আল-কুদস)। তিনি দামেস্কে একদল আলেমের নিকট হাদিস এবং অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে তাঁর পিতা—যিনি মাজহাবের প্রধান শায়খ, এর পরিমার্জনাকারী (منقح) ও সংস্কারক (مهذب) এবং 'আল-ইকনা' গ্রন্থের রচয়িতা—শায়খ শরাফুদ্দিন মুসা আল-হাজ্জাবি অন্যতম। পিতার মৃত্যুর পর তিনি কায়রোতে পাড়ি জমান এবং আল-আজহারে অধ্যাপনা করেন। তাঁর হাতে একদল শিক্ষার্থী তৈরি হয়েছে এবং তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মারয়ি আল-কারমি, মানসুর আল-বুহুতি এবং আরও অনেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد ذكر في النعت الأكمل: أن مرعي الكرمي أخذ عنهما الفقه
(1).
ثانياً: شيوخه بالقاهرة:
أ - الإمام محمد حجازي الواعظ (2):
هو محمد بن حجازي بن محمد بن عبد الله الواعظ، الإمام المحدث المقرئ، ولد سنة 957 هـ بمصر، ونشأ بها، وأخذ العلم عن كثير من مشائخ عصره يقول عنه المحبي: "خاتمة العلماء كان من الأكابر الراسخين في العلم".
وكان أحد المتصوفة شعراوي الطريقة، توفي سنة 1035 هـ بالقاهرة ومن مصنفاته: "شرح ألفية السيوطي" و"فتح المولى النصير بشرح الجامع الصغير".
ب - أحمد الغنيمي (3):
هو أحمد بن محمد بن علي، شهاب الدين المعروف بالغنيمي، الأنصاري الخزرجي الحنفي المصري، قال عنه المحبي: "
… من أجل الشيوخ الذين انفردوا في عصرهم في علم المنقول والمعقول، وتبحروا في العلوم الدقيقة والفنون العويصة
… ".
وكان الغنيمي شافعي المذهب في بداية أمره، وتتلمذ على الشيخ محمد الرملي وغيره، ثم لما صار بمصر صار حنفي المذهب بعد أن تعلمه في المدرسة الأشرفية.
ولد سنة 964 هـ، وتوفي سنة 1044 هـ، ومن مصنفاته: "أم البراهين في أصول الدين" وله رسالة في الخضر عليه السلام.
--------------------------------------------
'আন-নাতুল আকমাল' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মারয়ি আল-কারমি তাদের দুজনের নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন
(১).
দ্বিতীয়ত: কায়রোতে তাঁর শিক্ষকগণ:
ক - ইমাম মুহাম্মদ হিজাজি আল-ওয়ায়েজ (২):
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন হিজাজি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়ায়েজ। তিনি ইমাম, মুহাদ্দিস (محدث) এবং ক্বারী (مقرئ)। তিনি ৯৫৭ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক অনেক শায়খের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর সম্পর্কে আল-মুহিব্বি বলেন: "তিনি ছিলেন আলেমদের শেষ প্রতিনিধি (খাতামুল উলামা), তিনি ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় পাণ্ডিত্যের অধিকারী মহান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"
তিনি শারওয়ানি তরীকার একজন সুফি ছিলেন। ১০৩৫ হিজরিতে কায়রোতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "শারহু আলফিয়াতুস সুয়ুতি" এবং "ফাতহুল মাওলা আন-নাসির বি-শারহিল জামিউস সাগির"।
খ - আহমদ আল-গুনাইমি (৩):
তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী, শিহাবুদ্দিন হিসেবে পরিচিত আল-গুনাইমি, আল-আনসারী আল-খাজরাজি আল-হানাফি আল-মিসরি। তাঁর সম্পর্কে আল-মুহিব্বি বলেছেন: "…তিনি ছিলেন সেই সকল মহান শায়খদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের যুগে বর্ণিত জ্ঞান (মানকুল) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানে (মাকুল) অনন্য ছিলেন এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান ও জটিল শাখাগুলোতে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন …"।
আল-গুনাইমি তাঁর জীবনের শুরুতে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং শেখ মুহাম্মদ আল-রামলি ও অন্যান্যদের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যখন তিনি মিশরে অবস্থান করেন, তখন আল-মাদরাসাতুল আশরাফিয়া-তে শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি হানাফি মাযহাব গ্রহণ করেন।
তিনি ৯৬৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৪৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "উম্মুল বারাহিন ফি উসুলিদ দ্বীন" এবং খিজির আলাইহিস সালামের বিষয়ে তাঁর একটি রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثامنتلاميذهذكرت كتب التراجم أن المؤلف رحمه الله قطع زمانه بالإفتاء، والتدريس والتعليم، ولا ريب أن ذلك يفهم منه أنه تتلمذ على يدي الشيخ مجموعةٌ من الطلبة والتلاميذ، ولكن لم تذكر مصادر ترجمته بعض أسماء تلاميذه، ولقد سبقني عدد من الباحثين، فقاموا بالبحث في تراجم الحنابلة ممن جاء بعد الشيخ مرعي، وذُكر أنه - أي مرعي - كان من شيوخه، وذكروهم ضمن تلاميذه وهم:
1 - أحمد بن يحيى بن يوسف الكرمي (1):
هو شهاب الدين أبو العباس، أحمد بن يحيى بن يوسف بن أبي بكر الكرمي ابن أخي الشيخ مرعي، الشيخ الفاضل العالم النبيل الفقيه، ولد في بيت المقدس سنة 1000 هـ، ورحل إلى القاهرة حيث دَرَس على شيخه وعمه مرعي ومنصور البهوتي وغيرهم، توفي سنة 1071 هـ، وقيل 1091 هـ، ودفن قرب عمه مرعي.
2 - محمد الجمازي (2):
هو محمد بن موسى بن محمد الجمازي نسبة إلى الأمير عز الدين بن جماز الحسيني المالكي، وينتهي نسبه إلى الخليفة علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وكان مالكي المذهب، وأحد الفضلاء الأعيان، فقيه له اشتغال بالأدب وله نظم، أخذ العلم عن الشيخ مرعي الكرمي وغيره، وتولى القضاء، توفي بمصر سنة 1065 هـ، له كتاب: "الحجة في التوحيد"، و"شرح الأندلسية في العروض".
--------------------------------------------
অষ্টম পরিচ্ছেদতাঁর ছাত্রবৃন্দজীবনীগ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের পুরো সময় ফতোয়া প্রদান, পাঠদান ও শিক্ষাদানের কাজে ব্যয় করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর থেকে বোঝা যায় একদল শিক্ষার্থী ও ছাত্র শায়খের সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর জীবনীর উৎসগুলোতে তাঁর কতিপয় ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমার পূর্বে বেশ কয়েকজন গবেষক শায়খ মারই-এর পরবর্তী হাম্বলি পণ্ডিতদের জীবনী অনুসন্ধান করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি—অর্থাৎ মারই—তাঁদের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁরা তাঁকে তাঁদের শিক্ষকদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন:
১ - আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ আল-কারমি (১):
তিনি হলেন শিহাবউদ্দিন আবুল আব্বাস, আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ ইবনে আবু বকর আল-কারমি। তিনি শায়খ মারই-এর ভ্রাতুষ্পুত্র, একজন বিদগ্ধ শায়খ, প্রাজ্ঞ আলিম এবং মার্জিত ফকিহ (فقيه)। তিনি ১০০০ হিজরিতে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে সফর করেন, যেখানে তিনি তাঁর চাচা মারই, মানসুর আল-বাহুতি এবং অন্যান্যদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ১০৭১ হিজরিতে, মতান্তরে ১০৯১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর চাচা মারই-এর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
২ - মুহাম্মদ আল-জামাজি (২):
তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ আল-জামাজি। আমীর ইজ্জুদ্দিন ইবনে জামাজ আল-হুসাইনি আল-মালিকির দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে আল-জামাজি বলা হয়। তাঁর বংশধারা খলিফা আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। তিনি মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন এবং সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ও কাব্যপ্রতিভা ছিল। তিনি শায়খ মারই আল-কারমি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং বিচারকের (قاضي) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১০৬৫ হিজরিতে মিশরে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-হুজ্জাহ ফিত তাওহিদ" এবং "শারহুল আন্দালুসিয়্যাহ ফিল আরুজ" (ছন্দতত্ত্ব বিষয়ক)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল কালাম ফী হুকমি আরদি মিসর ওয়াল ইরাক ওয়াশ-শাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - عبد الباقي البعلي (1):
هو العلامة عبد الباقي بن عبد الباقي بن عبد القادر بن عمر بن محمد البعلي الدمشقي الحنبلي الأزهري، الشهير بابن البدر، ولد بدمشق سنة 1005 هـ، محدث مقرئ فقيه، رحل إلى مصر وتعلم في الأزهر وأخذ الفقه عن الشيخين مرعي، ومنصور البهوتي، وعاد بعد ذلك إلى دمشق ودَرّس بها، وأفتى، توفي في دمشق سنة 1071 هـ، ومن مصنفاته: "شرح الجامع الصحيح للبخاري"، و"فيض الرزاق في تهذيب الأخلاق".
--------------------------------------------
৩ - আবদুল বাকি আল-বালি (১):
তিনি হলেন আল্লামা আবদুল বাকি বিন আবদুল বাকি বিন আবদুল কাদির বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-বালি আদ-দিমাশকি আল-হানবালি আল-আজহারি, যিনি ইবনুল বদর নামে প্রসিদ্ধ। তিনি ১০০৫ হিজরি সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে হাদিস বিশারদ (محدث), ক্বারী (مقري) এবং ফকিহ (فقيه) ছিলেন। তিনি মিশরে সফর করেন এবং আল-আজহারে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি দুই শায়খ—মারঈ এবং মানসুর আল-বাহুতির নিকট থেকে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানে শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১০৭১ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম হলো: "শারহু আল-জামিউস সহিহ লিল বুখারি" এবং "ফায়দুল রাজ্জাক ফি তাহজিবিল আখলাক"।
--------------------------------------------