(খণ্ড: ১) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: -)
منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات - ت التركي   (ابن النجار الفتوحي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات، لتقي الدين محمد بن أحمد الفتوحي الحنبلي الشهير بابن النجار (972 هـ)

ومعه: حاشية المنتهى، لعثمان بن أحمد بن سعيد النجدي الشهير بابن قائد (ت 1097 هـ) [وهي منشورة بالشاملة على استقلال]

المحقق: عبد الله بن عبد المحسن التركي

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 5

[تنبيه]: متن "المنتهى" المُثبَت بهذه النشرة الإلكترونية ليس من تحقيق د. التركي، وإنما وُزّعَت الصفحات فقط بما يوافق هذه الطبعة

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1435

মুনতাহাল ইরাদত ফী জাময়িল মুকনি’ মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - আত-তুর্কি সংস্করণ   (ইবনুন নাজ্জার আল-ফুতুহি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: মুনতাহাল ইরাদত ফী জাময়িল মুকনি’ মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত, তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-ফুতুহি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত (৯৭২ হিজরি)

এবং এর সাথে আছে: হাশিয়াতুল মুনতাহা, উসমান বিন আহমাদ বিন সাঈদ আন-নাজদি, যিনি ইবনু কায়িদ নামে পরিচিত (মৃত্যু ১০৯৭ হিজরি) [এটি শামেলাতে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে]

গবেষক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[সতর্কবার্তা]: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত "আল-মুনতাহা" এর মূল পাঠ (মাতন) ড. আত-তুর্কি কর্তৃক সম্পাদিত নয়, বরং পৃষ্ঠাগুলো কেবল এই মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিন্যাস করা হয়েছে

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাব্বিতাতুন নুসসাখ দল, সৌজন্যে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলহজ ১৪৩৫

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه ثقتي

قال شيخنا واستاذنا بل عينُ اساتيذنا الشيخ الامام العالم العلامة الحبر البحر الفهامة عمدة المحققين وبغية المدققين تقي الدين مفتي المسلمين وعالمهم ابو البقاء محمد بن سيدنا ومولانا قاضي القضاة شيخ الاسلام محيي السنة خير الانام شهاب الدين أوحد المجتهدين ابي العباس احمد بن عبدالعزيز بن عبدالله ابن النجار المصري الفتوحي الحنبلي تغمدهما الله تعالى برحمته وادام النفع بعلومهما وبركاتهما وأحيى بهما سنة الامام المبجل ابي عبدالله وصالح احمد بن حنبل رضي الله عنه وأرضاه ومتعه بالنظر الى وجهه الكريم آمين.

أحمدُ الله وحق لي أن أحمد. واصلي واسلم على خير خلقه أحمد وعلى اله وصحبه وتابعيهم على المذهب الاحمد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা।

আমাদের শায়খ ও উস্তাদ, বরং আমাদের উস্তাদগণের নয়নমণি, শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, সমুদ্রসম জ্ঞানের আধার, সত্যনিষ্ঠ গবেষকদের প্রধান স্তম্ভ এবং সূক্ষ্মদর্শীদের পরম লক্ষ্য, তাকিউদ্দীন, মুসলিমদের মুফতি ও তাঁদের প্রধান আলেম, আবু আল-বাকা মুহাম্মাদ; যিনি আমাদের সাইয়্যিদ ও মাওলা, কাযী আল-কুযাত, শাইখুল ইসলাম, সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব, শিহাবুদ্দীন, মুজতাহিদগণের মধ্যে অনন্য, আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আন-নাজ্জার আল-মিসরী আল-ফুতুহী আল-হাম্বলীর পুত্র—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে স্বীয় রহমতের চাদরে আবৃত করুন, তাঁদের ইলম ও বরকতের ধারা জারি রেখে নিরাময় দান করুন এবং তাঁদের মাধ্যমে সম্মানিত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ, পুণ্যবান আহমাদ ইবন হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সুন্নাহকে পুনর্জীবিত রাখুন; আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং তাঁকে আল্লাহর মহান চেহারার দিকে দৃষ্টিপাতের নেয়ামত দান করুন। আমীন।

আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং প্রশংসা করাই আমার জন্য সমীচীন। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা অত্যন্ত প্রশংসনীয় মাযহাবের ওপর তাঁদের অনুসারী হয়েছেন, তাঁদের সকলের ওপর।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٥)
وبعد فالتنقيح المشبع
অতঃপর এটি হলো একটি পরিপূর্ণ পরিমার্জন।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٦)
في تحرير احكام المقنع في الفقه على مذهب الامام المبجل ابي عبدالله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله تعالى عنه قد كان المذهب محتاجاً الى مثله الا أنه غير مستغنٍ عن اصله. فاستخرت الله تعالى أن أجمع مسائلهما في واحد مع ضم ما تيسر عقله من الفوائد الشوارد. ولا أحذف منهما الاالمستغنى عنه والمرجوح وما بني عليه ولا اذكر قولاً غير ماقدم او صحح في التنقيح الا اذا كان عليه العمل او شهر او قوي الخلاف. فربما أشير اليه.

শ্রদ্ধেয় ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-মুকনি'র বিধানসমূহ পরিমার্জনের ক্ষেত্রে; মাজহাবটি এ ধরনের একটি গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল, যদিও এটি তার মূল উৎস থেকে অমুখাপেক্ষী নয়। তাই আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি যাতে আমি এই দুই গ্রন্থের মাসয়ালাসমূহকে একটি গ্রন্থে সংকলিত করতে পারি এবং সেই সাথে লব্ধ বিক্ষিপ্ত জ্ঞানগর্ভ তথ্যসমূহও এতে যুক্ত করতে পারি। আমি এই দুই গ্রন্থ থেকে কেবল অপ্রয়োজনীয় বিষয়, মারজুহ (অধিকতর দুর্বল) মত এবং যার ওপর ভিত্তি করে সেই মতটি প্রদান করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু বর্জন করিনি। এছাড়া 'আত-তানকিহ' গ্রন্থে যা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বা যা বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা ব্যতীত অন্য কোনো মত আমি উল্লেখ করিনি; তবে যদি সেই মতের ওপর আমল চালু থাকে অথবা তা প্রসিদ্ধ হয় কিংবা মতভেদ অত্যন্ত জোরালো হয়, তবে সম্ভবত আমি সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করব।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٧)
وحيث قلت: قيل وقيل. ويندر ذلك فلعدم الوقوف على تصحيح وان كانا لواحد فلاطلاق احتماليه.

وسميته منتهى الارادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات.

واسأل الله سبحانه وتعالى العصمة والنفع به. وان يرحمني وسائر الامة.
এবং যেখানে আমি বলেছি: 'বলা হয়েছে' এবং 'বলা হয়েছে'। এমনটি ঘটা বিরল, আর তা সঠিক মতটি নিশ্চিতভাবে অবগত না হওয়ার কারণে হয়েছে। আর যদি উভয়টি একই ব্যক্তির মত হয়ে থাকে, তবে তা উভয়টির সম্ভাবনা অবারিত রাখার জন্য।

আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি: 'মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানক্বীহ ওয়া যিয়াদাত'।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট এর মাধ্যমে সুরক্ষা এবং এর দ্বারা উপকার প্রার্থনা করছি। আর তিনি যেন আমার ও সমগ্র উম্মতের প্রতি রহম করেন।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌كِتَابُ الطهارة

الطَّهَارَةِ ارتفاع حدث وَمَا فِي مَعْنَاهُ بِمَاءٍ طَهُورٍ مُبَاحٍ
পবিত্রতা অধ্যায়

পবিত্রতা হলো পবিত্র ও বৈধ পানির মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর হওয়া এবং যা এর অর্থ বহন করে (তার সম্পাদন)।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٠)
وَزَوَالُ خَبَثٍ بِهِ وَلَوْ لَمْ يُبَحْ أَوْمَعَ تُرَابٍ طَهُورٍ أَوْ نَحْوِهِ أَوْ بِنَفْسِهِ أَوْ ارْتِفَاعِ حُكْمِهِمَا بِمَا يَقُومُ مَقَامَهُ.
এবং এর দ্বারা অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া, যদিও তা বৈধ না হয়; অথবা পবিত্র মাটি কিংবা তার সদৃশ বস্তুর সাথে হওয়া; অথবা তা আপনা-আপনি দূর হওয়া; কিংবা এমন বিষয়ের মাধ্যমে উভয়ের বিধান দূরীভূত হওয়া যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌باب الْمِيَاهُ

الْمِيَاهُ ثَلَاثَةٌ طَهُور ٌيَرْفَعُ الْحَدَثَ وَهُوَ مَا أَوْجَبَ وُضُوءًا أَوْ إلَّا حَدَثَ رَجُلٍ وَخُنْثَى بقَلِيلٍ خَلَتْ بِهِ امْرَأَةٌ وَلَوْ كَانَتْ كَافِرَةً لِطَهَارَةٍ كَامِلَةٍ عَنْ حَدَثٍ كَخَلْوَةِ نِكَاحٍ تَعَبُّدًا «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ.» وَيُزِيلُ الْخَبَثَ الطَّارِئَ وَهُوَ الْبَاقِي عَلَى خِلْقَتِهِ وَلَوْ تَصَاعَدَ ثُمَّ قَطَرَ كَبُخَارِ
পানির পরিচ্ছেদ

পানি তিন প্রকার। প্রথম প্রকার হলো পবিত্রকারী পানি, যা হাদাস (শরয়ী অপবিত্রতা) দূর করে; আর তা হলো যা ওজু অথবা (গোসল) আবশ্যক করে। তবে পুরুষ ও হিজড়ার হাদাস দূর করা ব্যতীত যদি তা এমন অল্প পানির মাধ্যমে হয় যা কোনো নারী—এমনকি সে কাফেরা হলেও—ইবাদত হিসেবে পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছে, যেমন বিবাহের নির্জনতার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষকে নারীর পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতে নিষেধ করেছেন।» এবং এটি আপতিত নাপাকি দূর করে। আর এটি হলো সেই পানি যা তার আদি প্রকৃতির ওপর বহাল আছে, যদিও তা বাষ্পের ন্যায় উপরে উঠে পরে ফোঁটা হিসেবে ঝরে পড়ে।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٢)
الْحَمَّامَاتِ أَوْ اُسْتُهْلِكَ فِيهِ يَسِيرٌ مُسْتَعْمَلٌ، أَوْمَائِعٌ طَاهِرٌ وَلَوْ لِعَدَمِ كِفَايَةِ وَلَمْ يُغَيِّرْهُ أَوْ اُسْتُعْمِلَ
গোসলখানাগুলোর পানি, অথবা যাতে সামান্য পরিমাণ ব্যবহৃত পানি বিলীন হয়ে গেছে, কিংবা কোনো পবিত্র তরল পদার্থ মিশেছে—যদিও পানির অপর্যাপ্ততার কারণে এমনটি ঘটে থাকে—এবং তা পানির গুণাগুণ পরিবর্তন করেনি, অথবা তা ব্যবহার করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٣)
فِي طَهَارَةٍ لَمْ تَجِبْ أَوْغُسْلِ كَافِرٍ أَوْ غُسِلَ بِهِ رَأْسٌ بَدَلًا عَنْ مَسْحٍ وَالْمُتَغَيِّرُ بِمَحَلِّ تَطْهِيرٍ وَبِمَا يَأْتِي فِيمَا كُرِهَ وَمَا لَا يُكْرَهُ. وَكُرِهَ مِنْهُ مَاءُ زَمْزَمَ فِي إزَالَةِ خَبَثٍ وَمَاءُ بِئْرٍ بِمَقْبَرَةٍ وَمَا اشْتَدَّ
এমন পবিত্রতা অর্জনে যা ওয়াজিব ছিল না, অথবা কাফিরের গোসলে, অথবা মাসেহ করার পরিবর্তে যার দ্বারা মাথা ধৌত করা হয়েছে, এবং যা পবিত্র করার স্থানে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং যা মাকরুহ ও মাকরুহ নয়—এমন বিষয়াদি যা সামনে আসবে। আর অপবিত্রতা দূরীকরণে যমযমের পানি ব্যবহার করা, কবরস্থানের কুয়োর পানি এবং যা অত্যন্ত (তীব্র উত্তপ্ত বা শীতল) তা মাকরুহ।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٤)
حَرُّهُ أَوْ بَرْدُهُ وَمُسَخَّنٌ بِنَجَاسَةٍ إنْ لَمْ يَحْتَجْ إلَيْهِ أَوْبِمَغْصُوبٍ وَمُتَغَيِّرٌ بِمَا لَا يُخَالِطُهُ مِنْ عُودٍ قَمَارِيٍّ أَوْ قِطَعِ كَافُورٍ أَوْ دُهْنٍ أَوْبِمُخَالِطٍ أَصْلُهُ الْمَاءُ لَابِمَا يَشُقُّ صَوْنُهُ عَنْهُ، كَطُحْلُبٍ وَوَرَقِ شَجَرٍ وَمُكْثٍ وَرِيحٍ وَلَا مَاءُ الْبَحْرِ.
এর প্রচণ্ড উষ্ণতা বা শীতলতা, এবং অপবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি যদি সেটির প্রয়োজন না থাকে, অথবা জবরদখলকৃত জ্বালানি দ্বারা (উত্তপ্ত করা পানি); এবং এমন বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কামারি আগরকাঠ, কপূরের টুকরো কিংবা তেল; অথবা এমন মিশ্রিত বস্তু দ্বারা যার মূল উৎস পানি। তবে ঐ সকল বস্তু দ্বারা (পরিবর্তন) নয় যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন, যেমন শেওলা, গাছের পাতা, দীর্ঘকাল অবস্থান এবং গন্ধ; আর সমুদ্রের পানিও (মাকরূহ) নয়।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَالْحَمَّامِ لَامُسَخَّنٌ بِشَمْسٍ أَوْبِطَاهِرٍ وَلَا يُبَاحُ غَيْرُ بِئْرِ النَّاقَةِ مِنْ ثَمُودَ الثَّانِي طَاهِرٌ كَمَاءِ وَرْدٍ وَطَهُورٍ تَغَيَّرَ كَثِيرٌ مِنْ لَوْنِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ رِيحِهِ فِي غَيْرِ مَحَلِّ التَّطْهِيرِ. وَلَوْ بِوَضْعِ مَا يَشُقُّ صَوْنُهُ عَنْهُ أَوْ بِخَلْطِ مَا لَا يَشُقُّ غَيْرَ تُرَابٍ وَلَوْ قَصْدًا. وَمَا مَرَّ وَقَلِيلٌ اُسْتُعْمِلَ فِي رَفْعِ حَدَثٍ وَلَوْ بِغَمْسِ بَعْضِ عُضْوِ مَنْ عَلَيْهِ حَدَثٌ أَكْبَرُ بَعْدَ نِيَّةِ رَفْعِهِ وَلَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا إلَّا بِانْفِصَالِهِ أَوْإزَالَةِ خَبَثٍ وَانْفَصَلَ غَيْرَ مُتَغَيِّرٍ

এবং গোসলখানা, (তবে) সূর্যালোকে বা কোনো পবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি নয় এবং সামুদ জাতির এলাকার মধ্যে উষ্ট্রীর কূয় ব্যতীত অন্য কোনো কূয় (ব্যবহার করা) বৈধ নয়। দ্বিতীয় প্রকার হলো পবিত্র (কিন্তু পবিত্রকারী নয়), যেমন গোলাপ জল এবং এমন পবিত্র ও পবিত্রকারী পানি যার রঙ, স্বাদ বা ঘ্রাণ পবিত্রকরণের স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে অধিকমাত্রায় পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যদিও এমন বস্তু পড়ার কারণে হয় যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন, অথবা এমন কিছু মিশ্রিত হওয়ার কারণে হয় যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন নয়, মাটি ব্যতীত, যদিও তা ইচ্ছাকৃতভাবে মেশানো হয়। এবং যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং অল্প পরিমাণ পানি যা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করতে ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও তা বড় অপবিত্রতায় থাকা ব্যক্তির কোনো অঙ্গের কিছু অংশ অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করার পর ডুবানোর মাধ্যমে হয়। আর পানি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে তা 'ব্যবহৃত' (মুস্তামাল) বলে গণ্য হবে না, অথবা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানি যা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পৃথক হয়েছে।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٦)
مَعَ زَوَالِهِ عَنْ مَحَلٍّ، طَهُرَ أَوْغَسَلَ بِهِ ذَكَرَهُ وَأُنْثَيَيْهِ لِخُرُوجِ مَذْيٍ دُونَهُ أَوْغُمِسَ فِيهِ كُلُّ يَدِ مُسْلِمٍ مُكَلَّفٍ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ نَاقِضٌ لِوُضُوءٍ أَوْ حَصَلَ فِي كُلِّهَا وَلَوْ بَاتَتْ مَكْتُوفَةً أَوْ بِجِرَابٍ وَنَحْوَهُ قَبْلَ غَسْلِهَا ثَلَاثًا نَوَاهُ بِذَلِكَ أَوْ لَا وَيُسْتَعْمَلُ ذَا إنْ لَمْ يُوجَدْ غَيْرُهُ

অঙ্গ থেকে পৃথক হওয়ার সাথে সাথে যা পবিত্র হয়েছে; অথবা যা দ্বারা মাযী নির্গত হওয়ার কারণে লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ ধৌত করা হয়েছে; অথবা ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত কোনো মুকাল্লাফ মুসলিমের পুরো হাত তিনবার ধৌত করার পূর্বে তাতে ডুবানো হয়েছে—কিংবা হাতের পুরো অংশ তাতে প্রবেশ করেছে—যদিও হাতটি সারা রাত বাঁধা অবস্থায় বা থলে বা অনুরূপ কিছুর ভেতরে ছিল, সে ব্যক্তি নিয়ত করুক বা না করুক। আর অন্য কোনো পানি পাওয়া না গেলে এটিই ব্যবহার করা হবে।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٧)
مَعَ تَيَمُّمٍ وَطَهُورٍ مُنِعَ مِنْهُ لِخَلْوَةِ الْمَرْأَةِ أَوْلَى أَوْخُلِطَ بِمُسْتَعْمَلٍ لَوْ
তয়ম্মুমের সাথে ঐ পবিত্র পানি যা মহিলার নির্জনে ব্যবহারের কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা ব্যবহার করা অধিকতর শ্রেয়, অথবা যা ব্যবহৃত পানির সাথে মিশ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٨)
خَالَفَهُ صِفَةً غَيْرَهُ وَلَوْ بَلَغَا قُلَّتَيْنِ الثَّالِثُ نَجِسٌ وَهُوَ مَا تَغَيَّرَ نَجَاسَةٍ لَا بِمَحَلِّ تَطْهِيرٍ وَكَذَا قَلِيلٌ لَاقَاهَا وَلَوْ جَارِيًا، أَوْ لَمْ يُدْرِكْهَا طَرْفٌ أَوْ يَمْضِ زَمَنٌ تَسْرِي فِيهِ كَمَائِعٍ وَطَاهِرٌ
তার কোনো গুণ ভিন্ন কিছুর কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়, যদিও তা দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছে। তৃতীয় প্রকার হলো নাপাক পানি; আর তা হলো সেই পানি যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়েছে—তবে নাপাকি দূর করার স্থানে থাকাকালীন নয়। অনুরূপভাবে সেই অল্প পরিমাণ পানিও (নাপাক), যা নাপাকির সংস্পর্শে এসেছে, যদিও তা প্রবাহমান হয়; অথবা যা দৃষ্টিগোচর হয় না, অথবা এমন সময় অতিবাহিত হয় যাতে নাপাকি তাতে সঞ্চারিত হয়, যেমন তরল পদার্থের ক্ষেত্রে ঘটে। এবং পবিত্র...
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَلَوْ كَثُرَا وَالْوَارِدُ بِمَحَلِّ تَطْهِيرٍ طَهُورٌ كَمَا لَمْ يَتَغَيَّرْ مِنْهُ إنْ كَثُرَ وَعَنْهُ كُلُّ جَرْيَةٍ مِنْ جَارٍ كمُنْفَرِدٍ فَمَتَى امْتَدَّتْ نَجَاسَةٌ بجَارٍ فَكُلُّ جَرْيَةٌ نَجَاسَةٌ مُفْرَدَةٌ وَالْجَرْيَةُ مَا أَحَاطَ بِالنَّجَاسَةِ سِوَى مَا وَرَاءَهَا وَأَمَامَهَا وَإِنْ لَمْ يَتَغَيَّرْ الْكَثِيرِ لَمْ يَنْجُسْ إلَّا بِبَوْلِ آدَمِيٍّ أَوْ عَذِرَةٍ رَطْبَةٍ أَوْ يَابِسَةٍ ذَابَتْ عِنْدَ أَكْثَر الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتَوَسِّطِينَ إلَّا أَنْ تَعْظُمَ مَشَقَّةُ نَزْحِهِ كَمَصَانِعِ مَكَّةَ فَمَا تَنَجَّسَ بِمَا ذُكِرَ وَلَمْ يَتَغَيَّرْ فَتَطْهِيرُهُ بِإِضَافَةِ مَا يَشُقُّ نَزْحُهُ
যদিও উভয়ই অধিক হয়। আর পবিত্র করার স্থানে আগত পানি পবিত্র, ঠিক যেমন পরিমাণে অধিক পানি যদি পরিবর্তিত না হয় তবে তা অপবিত্র হয় না। আর তাঁর থেকে বর্ণিত এক বর্ণনা মতে, প্রবহমান পানির প্রতিটি প্রবাহ পৃথক পানির ন্যায়। সুতরাং যখন নাপাকি প্রবহমান পানির সাথে দীর্ঘায়িত হয়, তখন প্রতিটি প্রবাহ একটি পৃথক নাপাকি হিসেবে গণ্য হয়। আর প্রবাহ বলতে ওই পানিকে বোঝায় যা নাপাকির চারপাশকে বেষ্টন করে আছে, তার অগ্র ও পশ্চাৎ অংশ ব্যতীত। আর অধিক পরিমাণ পানি যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে অধিকাংশ পূর্ববর্তী ও মধ্যবর্তী ফকীহগণের মতে তা অপবিত্র হবে না, কেবল মানুষের প্রস্রাব অথবা মানুষের আর্দ্র মল কিংবা এমন শুষ্ক মল যা গলে মিশে গেছে—তার দ্বারা অপবিত্র হওয়া ব্যতিরেকে। তবে যদি তা সেচে ফেলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়, যেমন মক্কার পানির আধারসমূহ, তবে তা অপবিত্র হবে না। সুতরাং উল্লিখিত বস্তুসমূহের মাধ্যমে যা অপবিত্র হয়েছে কিন্তু গুণগত পরিবর্তন হয়নি, তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো তাতে এমন পরিমাণ পানি যোগ করা যা সেচে ফেলা কষ্টসাধ্য।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
بِحَسَبِ الْإِمْكَانِ وَإِنْ تَغَيَّرَ فَإِنْ شَقَّ نَزْحُهُ فَبِزَوَالِ تَغَيُّرِهِ بِنَفْسِهِ، أَوْ بِإِضَافَةِ مَا يَشُقُّ نَزْحُهُ أَوْ بِنَزْحٍ يَبْقَى بَعْدَهُ مَا يَشُقُّ نَزْحُهُ وَإِنْ لَمْ يَشُقَّ فَبِإِضَافَةِ مَا يَشُقُّ نَزْحُهُ مَعَ زَوَالِ تَغَيُّرِهِ وَمَا تَنَجَّسَ بِغَيْرِهِ وَلَمْ يَتَغَيَّرْ فَبِإِضَافَةِ كَثِيرٍ وَإِنْ تَغَيَّرَ فَإِنْ كَثُرَ فبِزَوَالِ تَغَيُّرِهِ بِنَفْسِهِ أَوْ بِإِضَافَةِ كَثِيرٍ أَوْ بِنَزْحٍ يَبْقَى بَعْدَهُ كَثِيرٌ وَالْمَنْزُوحُ طَهُورٌ بِشَرْطِهِ وَإِلَّا أَوْ كَانَ كَثِيرًا مُجْتَمِعًا مِنْ مُتَنَجِّسٍ

সাধ্যানুযায়ী; আর যদি (পানি) পরিবর্তিত হয় এবং তা ছেঁচে ফেলা কষ্টসাধ্য হয়, তবে তা নিজে নিজেই পরিবর্তন দূরীভূত হওয়ার মাধ্যমে, অথবা এমন পরিমাণ পানি যোগ করার মাধ্যমে যা ছেঁচে ফেলা কঠিন, অথবা এমন পরিমাণ পানি ছেঁচে ফেলার মাধ্যমে যার পর এমন পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে যা ছেঁচে ফেলা কঠিন (পবিত্র হবে)। আর যদি (ছেঁচে ফেলা) কঠিন না হয়, তবে তার সাথে এমন পরিমাণ পানি যোগ করার মাধ্যমে যা ছেঁচে ফেলা কঠিন এবং সেই সাথে তার পরিবর্তন দূরীভূত হতে হবে। আর যা অন্য কিছুর দ্বারা অপবিত্র হয়েছে কিন্তু পরিবর্তিত হয়নি, তা প্রচুর পানি যোগ করার মাধ্যমে পবিত্র হবে। আর যদি তা পরিবর্তিত হয়ে থাকে এবং পরিমাণে বেশি হয়, তবে তা নিজে নিজে পরিবর্তন দূরীভূত হওয়ার মাধ্যমে অথবা প্রচুর পানি যোগ করার মাধ্যমে অথবা পানি ছেঁচে ফেলার পর প্রচুর পরিমাণ অবশিষ্ট থাকার মাধ্যমে পবিত্র হবে। আর উত্তোলিত (ছেঁচে ফেলা) পানি তার শর্তানুসারে পবিত্র, অন্যথায় নয়; অথবা যদি তা অপবিত্র পানি থেকে একত্রিত হওয়া প্রচুর পরিমাণ (পানি) হয়।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢١)
يَسِيرٍ فَبِإِضَافَةِ كَثِير مَعَ زَوَالِ تَغَيُّرِهِ وَلَا يَجِبُ غَسْلُ جَوَانِبِ بِئْرٍ نُزِحَتْ وَالْكَثِيرُ قُلَّتَانِ فَصَاعِدًا. وَالْيَسِيرُ وَالْقَلِيلُ مَا دُونَهُمَا وَهُمَا خَمْسُمِائَةِ رَطْلٍ عِرَاقِيٌّ وَأَرْبَعُمِائَةُ رِطْلٍ وَسِتَّةٌ وَأَرْبَعُونَ وَثَلَاثَةُ أَسْبَاعِ رِطْلٍ مِصْرِيٍّ وَمَا وَافَقَهُ ومِائَةُ وَسَبْعَةُ وَسُبْعُ رِطْلٍ دِمَشْقِيٍّ وَمَا وَافَقَهُ وَتِسْعَةٌ وَثَمَانُونَ وَسُبْعَا رِطْلٍ حَلَبِيٍّ. وَمَا وَافَقَهُ وَثَمَانُونَ وَسُبْعَانِ وَنِصْفُ سُبْعِ رِطْلٍ قُدْسِيٍّ وَمَا وَافَقَهُ وَأَحَدٌ وَسَبْعُونَ رِطْلًا وَثَلَاثَةُ أَسْبَاعِ رِطْلٍ بَعْلِيٍّ، وَمَا وَافَقَهُ. تَقْرِيبًا فَلَا يَضُرُّ نَقْصٌ يَسِيرٌوَمِسَاحَتُهُمَا أَيْ الْقُلَّتَيْنِ. أَيْ مِسَاحَةُ مَا يَسَعُهُمَا مُرَبَّعًا: ذِرَاعٌ وَرُبُعٌ طُولًا وَعَرْضًا. وَعُمْقًا بِذِرَاعِ الْيَدِ
সামান্য পানি (পবিত্র হয়) প্রচুর পানি যোগ করার মাধ্যমে, সাথে তার পরিবর্তন দূরীভূত হওয়ার শর্তে। এবং যে কূপের পানি সেচে খালি করা হয়েছে, তার পার্শ্বদেশ ধৌত করা ওয়াজিব নয়। আর প্রচুর পানি হলো দুই কুল্লা বা তার বেশি। সামান্য ও অল্প পানি হলো যা তার চেয়ে কম। আর তা (দুই কুল্লা) হলো পাঁচশত ইরাকি রতল; এবং চারশত ছিচল্লিশ ও সাত ভাগের তিন ভাগ মিশরীয় রতল ও এর সমপর্যায়ের; এবং একশত সাত ও সাত ভাগের এক ভাগ দামেস্কি রতল ও এর সমপর্যায়ের; এবং ঊননব্বই ও সাত ভাগের দুই ভাগ হালাবি রতল ও এর সমপর্যায়ের; এবং আশি, সাত ভাগের দুই ভাগ এবং সাত ভাগের এক ভাগের অর্ধেক কুদসি রতল ও এর সমপর্যায়ের; এবং একাত্তর রতল ও সাত ভাগের তিন ভাগ বাল্লাবাকি রতল ও এর সমপর্যায়ের। এটি একটি আনুমানিক হিসাব, তাই সামান্য ঘাটতি কোনো ক্ষতি করবে না। আর এই দুই কুল্লার পরিমাপ—অর্থাৎ যা তাদের ধারণ করবে এমন চতুর্ভুজাকার স্থানের পরিমাপ হলো: দৈর্ঘ্যে, প্রস্থে এবং গভীরতায় এক ও এক চতুর্থাংশ হাত, যা মানুষের হাতের মাপে নির্ধারিত।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَمُدَوَّرًا ذِرَاعٌ طُولًا وَذِرَاعَانِ الْمُنَقِّحُ: وَالصَّوَابُ وَنِصْفُ ذِرَاعٍ عُمْقًا حَرَّرَتْ ذَلِكَ فَيَسَعُ كُلُّ قِيرَاطٍ عَشَرَةَ أَرْطَالٍ وَثُلُثَيْ رِطْلٍ عِرَاقِيٍّ
এবং বৃত্তাকার পাত্রের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্যে এক হাত এবং গভীরতায় দুই হাত। পরিমার্জনকারী বলেন: সঠিক হলো আড়াই হাত গভীরতা। আমি এটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছি; ফলে প্রতিটি কিরাতে দশ রতল এবং এক ইরাকি রতলের দুই-তৃতীয়াংশ পরিমাণ সংকুলান হয়।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَالْعِرَاقِيُّ مِائَةٌ وَثَمَانِيَةٌ وَعِشْرُونَ وَأَرْبَعَةُ أَسْبَاعِ دِرْهَمٍ وَتِسْعُونَ مِثْقَالًا سُبْعِ الْقُدْسِيِّ وَثُمُنُ سُبْعِهِ وَسُبْعُ الْحَلَبِيِّ وَرُبُعُ سُبْعِهِ وَسُبْعُ الدِّمَشْقِيِّ وَنِصْفُ سُبْعِهِ وَنِصْفُ الْمِصْرِيِّ وَرُبْعُهُ وَسُبْعُهُ
এবং ইরাকি পরিমাপ হলো একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ; আর নব্বই মিছকাল হলো কুদসি পরিমাপের সাত ভাগের এক ভাগ এবং তার সাত ভাগের এক ভাগের আট ভাগের এক ভাগ, এবং হালাবি পরিমাপের সাত ভাগের এক ভাগ এবং তার সাত ভাগের এক ভাগের চার ভাগের এক ভাগ, এবং দিমাশকি পরিমাপের সাত ভাগের এক ভাগ এবং তার সাত ভাগের এক ভাগের অর্ধেক, এবং মিসরি পরিমাপের অর্ধেক, তার এক-চতুর্থাংশ এবং তার এক-সপ্তমাংশ।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَلَهُ اسْتِعْمَالُ مَا لَا يَنْجُسُ إلَّا بِالتَّغَيُّرِ وَلَوْ مَعَ قِيَامِ النَّجَاسَةِ فِيهِ وَبَيْنَهُ وَبَيْنَهَا قَلِيلٌ وَمَا اُنْتُضِحَ مِنْ قَلِيلٍ لِسُقُوطِهَا فِيهِ: نَجُسَ
এবং তাঁর জন্য এমন কিছু ব্যবহার করা বৈধ যা পরিবর্তন ব্যতীত অপবিত্র হয় না, যদিও তাতে অপবিত্রতা বিদ্যমান থাকে এবং তাঁর ও সেই অপবিত্রতার মাঝে সামান্য (ব্যবধান) থাকে। আর অল্প (পানি) হতে যা ছিটকে পড়ে তাতে অপবিত্রতা পড়ার কারণে, তা অপবিত্র।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَيُعْمَلُ بِيَقِينٍ فِي كَثْرَة مَاءٍ وَطَهَارَتِهِ وَنَجَاسَتِهِ وَلَوْ مَعَ سُقُوطِ عَظْمٍ وَرَوْثٍ شُكَّ فِي نَجَاسَتِهِمَا أَوْطَاهِرٍ وَنَجِسٍ وَتَغَيَّرَ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُعْلَمْ وَإِنْ أَخْبَرَهُ عَدْلٌ وَعَيَّنَ السَّبَبَ قُبِلَ
পানির আধিক্য, এর পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর আমল করা হবে; এমনকি যদি তাতে এমন হাড় ও গোবর পতিত হয় যে দুটির অপবিত্রতার বিষয়ে সন্দেহ থাকে। অথবা (তাতে) একটি পবিত্র ও একটি অপবিত্র বস্তু পতিত হয় এবং সে দুটির কোনো একটির কারণে পানির পরিবর্তন ঘটে অথচ কোনটি (তা ঘটিয়েছে) তা জানা না যায়। তবে যদি কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তাকে সংবাদ দেয় এবং কারণটি সুনির্দিষ্ট করে দেয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَإِنْ اشْتَبَهَ طَهُورٌ مُبَاحٌ بِمُحَرَّمٍ أَوْنَجِسٍ لَمْ يَكُنْ تَطْهِيرُهُ بِهِ وَلَا طَهُورٌ مُبَاحٌ بِيَقِينٍ لَمْ يَتَحَرَّ وَلَوْ زَادَ عَدَدُ الطَّهُورِ الْمُبَاحِ وَيَتَيَمَّمُ بِلَا إعْدَامٍ وَلَا يُعِيدُ الصَّلَاةَ وَلَوْ عَلِمَهُ بَعْدَ وَيَلْزَمُ مَنْ عَلِمَ النَّجَسَ إعْلَامُ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْتَعْمِلَهُ لَا تُخْبِرْنَا وَيَلْزَمُهُ التَّحَرِّي لِحَاجَةِ شُرْبٍ أَوْ أَكْلٍ غَسْلُ فَمِهِ

যদি পবিত্র ও বৈধ পানি নিষিদ্ধ বা অপবিত্র পানির সাথে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। আর যদি নিশ্চিতভাবে কোনো পবিত্র ও বৈধ পানি না থাকে, তবে সে অনুসন্ধান করবে না, যদিও পবিত্র ও বৈধ পানির সংখ্যা অধিক হয়। সে পানি নষ্ট না করেই তায়াম্মুম করবে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পারলেও সালাত পুনরায় আদায় করবে না। যে ব্যক্তি নাপাকি সম্পর্কে জানে, যে ব্যক্তি তা ব্যবহার করতে চায় তাকে অবহিত করা তার জন্য আবশ্যক, এমনকি সে যদি বলে: "আমাদের জানাবেন না"। তবে পান করা বা খাওয়ার প্রয়োজনে অনুসন্ধান করা এবং মুখ ধৌত করা তার জন্য আবশ্যক।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَبِطَاهِرٍ أَمْكَنَ جَعْلُهُ طَهُورًا بِهِ أَوْ لَايَتَوَضَّأُ مَرَّةً مِنْ ذَا غَرْفَةً، وَمِنْ ذَا غَرْفَةً وَيُصَلِّي صَلَاةً وَاحِدَةً وَيَصِحُّ ذَلِكَ وَلَوْ مَعَ طَهُورٍ بِيَقِينٍ وَإِنْ اشْتَبَهَتْ ثِيَابٌ طَاهِرَةٌ بنَجِسَةٍ أَوْمُحَرَّمَةٍ، وَلَاطَاهِرَ مُبَاحَ بِيَقِينٍ فَإِنْ عَلِمَ عَدَدَ نَجِسَةٍ أَوْ مُحَرَّمَةٍ، صَلَّى فِي كُلِّ ثَوْبٍ صَلَاةً وَزَادَ صَلَاةً وَإِلَّا فَحَتَّى يَتَيَقَّنَ صِحَّتَهَا وَكَذَا أَمْكِنَةٌ ضَيِّقَةٌ
এবং এমন পবিত্র পানি দ্বারা যাকে পবিত্রকারী করা সম্ভব। অথবা সে একবার এই পাত্র থেকে এক আজলা এবং ঐ পাত্র থেকে এক আজলা নিয়ে অজু করবে এবং একটি সালাত আদায় করবে। আর এটি শুদ্ধ হবে যদিও নিশ্চিতভাবে পবিত্রকারী পানি বিদ্যমান থাকে। আর যদি পবিত্র পোশাক অপবিত্র বা হারাম পোশাকের সাথে মিশে যায় এবং নিশ্চিতভাবে কোনো পবিত্র ও বৈধ পোশাক না থাকে, তবে যদি সে অপবিত্র বা হারাম পোশাকের সংখ্যা জানে, তবে সে প্রত্যেকটি পোশাকে একটি করে সালাত পড়বে এবং অতিরিক্ত আরও একটি সালাত আদায় করবে। অন্যথায় সে ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত পড়বে যতক্ষণ না তার শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। সংকীর্ণ স্থানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌باب الانية

الانية: الاوعية ويَحْرُمُ اتِّخَاذُهَا وَاسْتِعْمَالُهَا مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ وَعَظْمِ آدَمِيٍّ وَجِلْدِهِ حَتَّى الْمِيلُ وَنَحْوُهُ وَعَلَى أُنْثَى وَتَصِحُّ الطَّهَارَةُ مِنْ إنَاءٍ مِنْ ذَلِكَ وَمَغْصُوبٍ أَوْثَمَنُهُ مُحَرَّمٌ وَفِيهِ وَإلَيْهِ وَمُمَوَّهٌ وَمَطْلِيٌّ وَمُطَعَّمٌ وَمُكَفَّتٌ كَمُصْمَتٍ وَكَذَا مُضَبَّبٌ
পাত্রাদির অধ্যায়

আল-আনিয়া (পাত্রাদি) হলো আধারসমূহ। স্বর্ণ বা রৌপ্য এবং মানুষের হাড় ও চামড়া দ্বারা তৈরি পাত্র সংগ্রহে রাখা এবং ব্যবহার করা হারাম; এমনকি সুরমা লাগানোর শলাকা এবং অনুরূপ বস্তুও, এবং তা নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসকল পাত্র এবং জবরদখলকৃত অথবা যার মূল্য হারাম এমন পাত্র থেকে, তার ভেতরে বা তাতে পানি নিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বিশুদ্ধ হবে। স্বর্ণ-রৌপ্যের প্রলেপযুক্ত, গিল্ট করা, খচিত এবং কারুকাজ করা পাত্রসমূহ নিরেট ধাতুর তৈরি পাত্রের মতোই; এবং অনুরূপভাবে পাত দিয়ে জোড়া লাগানো পাত্রের বিধানও একই।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
لَا بيَسِيرَةٍ عُرْفًا مِنْ فِضَّةٍ لِحَاجَةٍ وَهِيَ أَنْ يَتَعَلَّقَ بِهَا غَرَضٌ غَيْرُ زِينَةٍ وَلَوْ وَجَدَ غَيْرَهَا وَتُكْرَهُ مُبَاشَرَتُهَا بِلَا حَاجَةٍ وَكُلُّ طَاهِرٍ مِنْ غَيْرِ ذَلِكَ مُبَاحٌ وَلَوْ ثَمِينًا وَمَا لَمْ تُعْلَمْ نَجَاسَتُهُ مِنْ آنِيَةِ كُفَّارٍ وَلَوْ لَمْ تَحِلَّ ذَبِيحَتُهُمْ وَثِيَابِهِمْ وَلَوْ وَلِيَتْ عَوْرَاتِهِمْ وَكَذَا مَنْ لَابَسَ النَّجَاسَةَ كَثِيرًا طَاهِرٌ مُبَاحٌ وَيُبَاحُ دَبْغُ جِلْدِ نُجِّسَ بِمَوْتٍ وَاسْتِعْمَالُهُ بَعْدُ وَمُنْخُلٍ مِنْ شَعْرٍ نَجِسٍ فِي يَابِسٍ وَلَا يَطْهُرُ بِهِ وَلَا جِلْدٌ غَيْرُ مَأْكُولٍ بِذَكَاةٍ

প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সামান্য পরিমাণ রূপার তালি বা জোড়া যদি প্রয়োজনে লাগানো হয় তবে তা নিষিদ্ধ নয়; আর প্রয়োজন বলতে অলংকরণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকাকে বোঝায়, যদিও সে এর বিকল্প কোনো কিছু পায়। তবে প্রয়োজন ছাড়া উক্ত রূপার অংশটি সরাসরি স্পর্শ করা বা ব্যবহার করা মাকরুহ। এগুলো ব্যতীত অন্য সকল পবিত্র বস্তু ব্যবহার করা বৈধ, যদিও তা মূল্যবান হয়। কাফেরদের পাত্রসমূহ যতক্ষণ না সেগুলোর অপবিত্রতা নিশ্চিত হওয়া যায় ততক্ষণ তা পবিত্র, যদিও তারা এমন হয় যাদের জবাইকৃত পশু হালাল নয়। তাদের পোশাকসমূহও পবিত্র, যদিও তা তাদের লজ্জাস্থানের সংলগ্ন থাকে। একইভাবে যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে অপবিত্রতার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, তার ব্যবহৃত বস্তুও পবিত্র ও বৈধ। মৃত্যুর কারণে অপবিত্র হওয়া চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা এবং এরপর তা ব্যবহার করা বৈধ। অপবিত্র পশম দ্বারা তৈরি চালনি শুষ্ক বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চামড়া পবিত্র হয় না এবং অখাদ্য প্রাণীর চামড়া শরয়ী জবেহ করার মাধ্যমেও পবিত্র হয় না।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَلَبَنٌ وَإِنْفَحَّةٌ وَجِلْدَتُهَا وَعَظْمٍ وَقَرْنٍ وَظُفْرٍ وَعَصَبٍ وَحَافِرٍ مِنْ مَيْتَةٍ نَجِسٌ لَاصُوفٌ وَشَعْرٌ وَرِيشٌ وَوَبَرٌ مِنْ طَاهِرٍ فِي حَيَاةٍ وَلَابَاطِنُ بَيْضَةِ مَأْكُولٍ صُلْبٌ قِشْرُهَا وَمَا أُبِينَ مِنْ حَيٍّ فَكَمَيْتَتِهِ تَتِمَّةٌ وَسُنَّ تَخْمِيرُ آنِيَةٍ وَإِيكَاءُ أَسْقِيَةٍ

মৃত প্রাণীর দুধ, রেননেট, এর পর্দা, হাড়, শিং, নখ, স্নায়ু এবং খুর অপবিত্র; তবে জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল এমন প্রাণীর পশম, চুল, পালক এবং লোম অপবিত্র নয়। এবং ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর ডিমের ভেতরের অংশও অপবিত্র নয় যার খোসা শক্ত হয়ে গেছে। আর জীবিত প্রাণী থেকে যা বিচ্ছিন্ন করা হয়, তা তার মৃতদেহের অনুরূপ। পরিশিষ্ট: পাত্র ঢেকে রাখা এবং পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখা সুন্নাত।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
‌‌باب الاستنجاء

الاستنجاء: إزَالَةُ خَارِجٍ مِنْ سَبِيلٍ بِمَاءٍ أَوْحَجَرٍ وَنَحْوه يُسَنُّ لِدَاخِلِ خَلَاءٍ وَنَحْوِهِ قَوْلُ: بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِاَللَّهِ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثَ الرَّجِسُ النَّجَسُ الشَّيْطَانُ الرَّجِيمُ وَانْتِعَالُهُ وَتَغْطِيَةُ رَأْسِهِ وَتَقْدِيمُ يُسْرَاهُ دُخُولًا وَاعْتِمَادُهُ عَلَيْهَا جَالِسًا وَيُمْنَاهُ خُرُوجًا كَخَلْعٍ وَعَكْسِهِ مَسْجِدٌ وَانْتِعَالٌ وَبِفَضَاءٍ بَعُدَ وَطَلَبُ مَكَانٍ رَخْوٍ وَلَصْقُ ذَكَرِهِ بِصُلْبٍ
শৌচকর্মের অধ্যায়

শৌচকর্ম (ইস্তিনজা) হলো: পানি, পাথর অথবা এই জাতীয় কোনো বস্তুর মাধ্যমে মল-মূত্র ত্যাগের পথ দিয়ে নির্গত বস্তুকে দূরীভূত করা। শৌচাগার বা এই জাতীয় স্থানে প্রবেশকারীর জন্য সুন্নাত হলো বলা: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপবিত্রতা ও অপবিত্র জিনদের থেকে, যিনি ঘৃণ্য, নাপাক এবং বিতাড়িত শয়তান। আরও সুন্নাত হলো—জুতো পরিধান করা, মাথা ঢাকা, প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং বসা অবস্থায় তার (বাম পায়ের) ওপর ভর দেওয়া। বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া; যেমনটি পোশাক খোলার ক্ষেত্রে করা হয়, আর এর বিপরীত (অর্থাৎ ডান পা আগে দেওয়া) হলো মসজিদে প্রবেশ এবং জুতো পরিধান করার ক্ষেত্রে। আর উন্মুক্ত স্থানে শৌচকার্য সম্পাদন করলে দূরে যাওয়া, প্রস্রাবের জন্য নরম স্থান তালাশ করা এবং (অবশিষ্টাংশ নিংড়ানোর জন্য) পুরুষাঙ্গকে শক্ত বিষয়ের সাথে ঠেকানো সুন্নাত।
(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَكُرِهَ رَفْعُ ثَوْبِهِ قَبْلَ دُنُوِّهِ مِنْ الْأَرْضِ وَأَنْ يَصْحَبَ مَا فِيهِ اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ بِلَا حَاجَةٍ لَادَرَاهِمَ وَنَحْوَهَا لَكِنْ يَجْعَلُ فَصَّ خَاتَمٍ بِبَاطِنِ كَفِّ يُمْنَى وَاسْتِقْبَالُ شَمْسٍ وَقَمَرٍ وَمَهَبِّ الرِّيحِ وَمَسُّ فَرْجِهِ وَاسْتِجْمَارُهُ بِيَمِينِهِ بِلَا حَاجَةٍ لِصِغَرِ حَجَرٍ تَعَذَّرَ وَضْعُهُ بَيْنَ عَقِبَيْهِ أَوْإصْبَعَيْهِ فَيَأْخُذُهُ بِهَا وَيَمْسَحُ بِشِمَالِهِ وَبَوْلُهُ فِي شَقٍّ وَسَرَبٍ وَإنَاءٍ بِلَا حَاجَةٍ وَمُسْتَحَمٍّ غَيْرِ مُقَيَّرٍ أَوْ مُبَلَّطٍ وَفِي مَاءٍ رَاكِدٍ وَقَلِيلٍ جَارٍ وَاسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ فِي فَضَاءٍ بِاسْتِنْجَاءٍ أَوْ اسْتِجْمَارٍ

মাটির নিকটবর্তী হওয়ার পূর্বে কাপড় তোলা মাকরূহ। এবং প্রয়োজন ব্যতীত মহান আল্লাহর নাম সম্বলিত কোনো কিছু সাথে রাখা মাকরূহ, যেমন "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল", তবে দিরহাম বা অনুরূপ বস্তু (মুদ্রা) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সে আংটির পাথর ডান হাতের তালুর ভেতরের দিকে রাখবে। সূর্য, চন্দ্র এবং বাতাসের প্রবাহের দিকের সম্মুখীন হওয়া এবং প্রয়োজন ব্যতীত ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ও কুলুখ ব্যবহার করা মাকরূহ। তবে পাথরের ক্ষুদ্রতার কারণে যদি তা দুই গোড়ালি বা দুই আঙুলের মাঝে রাখা অসম্ভব হয়, তবে সে তা ডান হাত দিয়ে ধরবে এবং বাম হাত দিয়ে মুছবে। এবং প্রয়োজন ব্যতীত ছিদ্র, গর্ত ও পাত্রে প্রস্রাব করা এবং আলকাতরা দিয়ে লেপা বা পাকা করা নয় এমন গোসলখানায় এবং স্থির পানিতে ও অল্প প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব করা মাকরূহ। এবং খোলা ময়দানে ইস্তিনজা বা কুলুখ ব্যবহারের সময় কিবলার সম্মুখীন হওয়া মাকরূহ।

(খণ্ড: ١) মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত - ত আত-তুর্কী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَكَلَامٌ فِيهِ مُطْلَقًا وَيَحْرُمُ لُبْثُهُ فَوْقَ حَاجَتِهِ وَتَغَوُّطُهُ بِمَاءٍ وَبَوْلُهُ وَتَغَوُّطُهُ بِمَوْرِدٍ وَطَرِيقٍ مَسْلُوكٍ وَظِلٍّ نَافِعٍ وَتَحْتَ شَجَرَةٍ عَلَيْهَا ثَمَرٌ وَعَلَى مَا نُهِيَ عَنْ اسْتِجْمَارٍ بِهِ لِحُرْمَتِهِ وَفِي فَضَاءٍ اسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ وَاسْتِدْبَارُهَا وَيَكْفِي انْحِرَافُهُ وَحَائِلٌ وَلَوْ كَمُؤْخِرَةِ رَحْلٍ وَيُسَنُّ إذَا فَرَغَ مَسْحُ ذَكَرِهِ مِنْ حَلْقَةِ دُبُرِهِ إلَى رَأْسِهِ ثَلَاثًا وَنَتْرُهُ ثَلَاثًا وَبَدْءُ ذَكَرٍ بِقُبُلٍ وَبِكْرٍ بِقُبُلٍ وَتُخَيَّرُ ثَيِّبٌ وَتَحَوُّلُ مَنْ يَخْشَى تَلَوُّثًا وَقَوْلُ خَارِجٍ غُفْرَانَكَ. وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي وَاسْتِجْمَارٌ بِحَجَرٍ ثُمَّ مَاءٍ فَإِنْ عَكَسَ كُرِهَ وَيُجْزِيهِ أَحَدُهُمَا وَالْمَاءُ أَفَضْلُ كجَمْعَهُمَا وَلَا يُجْزِي فِيمَا تَعَدَّى مَوْضِعِ عَادَةٍ إلَّا الْمَاءُ كقُبُلَيْ خُنْثَى مُشْكِلٍ وَمَخْرَجٍ غَيْرِ فَرْجٍ وَتَنَجُّسِ مَخْرَجٍ بِغَيْرِ خَارِجٍ وَاسْتِجْمَارٍ بِمَنْهِيٍّ عَنْهُ

এবং সেখানে সাধারণভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ। সেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা, পানিতে মলত্যাগ করা এবং পানির ঘাটে, চলাচলের রাস্তায়, উপকারী ছায়ায়, ফলবান বৃক্ষের নিচে এবং যার মাধ্যমে ইস্তিজমার করা তার মর্যাদার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন বস্তুর উপরে প্রস্রাব ও মলত্যাগ করা হারাম। আর খোলা ময়দানে কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা হারাম; তবে কিবলার দিক থেকে কিছুটা বিচ্যুত হওয়া কিংবা জিনের পেছনের অংশের মতো কোনো আড়াল থাকা যথেষ্ট। শৌচকার্য শেষ করার পর পুরুষের লিঙ্গের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত তিনবার মোছা এবং তিনবার ঝাড়া সুন্নাত। পুরুষের ক্ষেত্রে সামনের দিক থেকে এবং কুমারী নারীর ক্ষেত্রেও সামনের দিক থেকে শৌচকার্য শুরু করা সুন্নাত। তবে অকুমারী নারীর ক্ষেত্রে পছন্দমতো করার স্বাধীনতা রয়েছে। যার শরীরে নাপাকি লেগে যাওয়ার ভয় থাকে তার স্থান পরিবর্তন করা এবং বের হওয়ার সময় বলা সুন্নাত: আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন। পাথর ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা উত্তম; তবে কেউ যদি এর উল্টোটা করে তবে তা মাকরূহ হবে। তবে দুটির যে কোনো একটি ব্যবহার করলেই যথেষ্ট হবে, যদিও পানি ব্যবহার করা অধিক উত্তম যেমন উভয়টি একত্রিত করা উত্তম। আর নাপাকি যদি স্বাভাবিক নির্গমন স্থান অতিক্রম করে যায় তবে পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না; যেমন খুনসা মুশকিলের (জটিল উভয়লিঙ্গ) উভয় পথ, গোপনাঙ্গ ব্যতীত অন্য কোনো নির্গমন পথ, নির্গত বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কারণে নির্গমন পথ নাপাক হওয়া এবং নিষিদ্ধ বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার করা।