(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: -)
الطراز المرقوم للجمزوري القسم: الفقه العام
الكتاب: الطراز المرقوم الطراز المرقوم بشرح الدر المنظوم
المؤلف: سليمان بن حسين بن محمد بن شلبي الجمزورى الشهير بالأفندى (ت بعد 1208هـ)
المحقق: بهاء أنور - أبو المنذر المنياوي
عدد الأجزاء: 1
[الكتاب مخطوط أرسله محققه للمكتبة الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1435
আত-তিরাজ আল-মারকুম লিল জামজুরি বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আত-তিরাজ আল-মারকুম বিশারহি আদ-দুররুল মানজুম
লেখক: সুলাইমান বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন শালবি আল-জামজুরি, যিনি আল-আফান্দি নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২০৮ হিজরির পর)
সম্পাদক: বাহা আনোয়ার - আবু আল-মুনজির আল-মিনিয়াউই
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি যা এর সম্পাদক মাকতাবা শামিলার জন্য পাঠিয়েছেন]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলহজ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২)
الطراز المرقوم
بشرح
الدر المنظوم
للشيخ العالم العلامة سليمان بن حسين بن محمد الجمزوري
الشهير بالأفندي
حققه
بهاء أنور
… أبو المنذر المنياوي
আল-তিরাজ আল-মারকুম
ব্যাখ্যা (شرح)
আদ-দুররুল মানজুম
শাইখ, প্রাজ্ঞ ও প্রথিতযশা আলিম সুলাইমান বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-জামজুরি-এর
যিনি আল-আফান্দি নামে সুপরিচিত
সম্পাদনা ও পরীক্ষণ (تحقيق)
বাহাউ আনোয়ার
… আবু আল-মুনজির আল-মিনিয়াওয়ী
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد، ..
فهذه رسالة تتعلق بمسائل المأموم المعذور على المذهب الشافعي كتب على طرتها: "رسالة في مسائل المأموم والمسبوق" ونسبت خطأ للعلامة السمهودي رحمه الله وقد شرعت في تحقيقها وبيان نسبتها مستعينا بالله العلي العظيم.
حول عنوان ومؤلف الرسالة:
كتب على طرتها بخط حديث وهو غالبا خط مفهرس المخطوطات: رسالة في مسائل المأموم والمسبوق للشيخ علي بن عبد الله بن أحمد الحسني الشافعي السمهودي.
وهو نفس العنوان الموجود في فهرس الكتب الموجودة في المكتبة الأزهرية (2/ 535) وزاد: "أولها: الحمد لله الذي وفق للطاعة من شاء من الأنام إلخ - نسخة ضمن مجموعة من مجلد بخطوط مختلفة آخرها سنة 1283 هـ في 231 ورقة، ومسطرتها مختلفة - 24 سم (من ورقة 183 - 206) [2903] أمبابي 48382".
وعند البدء في نسخ المخطوطة تبين بما لا يدع مجالا للشك أنها ليست للسمهودي (844: 911) هـ فقد ذكر في بداية الشرح أنه أسمع شيخه وأستاذه الشيخ نور الدين علي الميهي (توفي 1204 هـ) نظمه الذي يقوم بشرحه، ومع تقدم النسخ نجد أنه ينقل عن علماء شافعيين ماتوا بعد وفاة السمهودي كـ: الجمل توفي 1204 هـ، والبرماوي توفي 1106 هـ، والشبراملسي توفي 1087 هـ وغيرهم.
ثم بالبحث فيما وقفت عليه من فهارس للمخطوطات لم أقف على رسالة يناسب عنوانها محتوى الرسالة سوى لرسالة: الطراز المرقوم بشرح الدر المنظوم للجمزري، الشهير بالأفندي، وهي شرح لنظمه الموسوم بالدر المنظوم في عذر المأموم.
وقد ترجح عندي أنها هي رسالتنا موضوع التحقيق لأمور منها:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}
অতঃপর, ..
এটি শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী অপারগ অনুগামীর মাসায়েল সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা, যার প্রচ্ছদে লেখা আছে: "অনুগামী ও মাসবুক সংক্রান্ত মাসায়েল" এবং এটি ভুলবশত আল্লামাহ সামহুদী (রহ.)-এর প্রতি নেসবত করা হয়েছে। আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এর সম্পাদনা এবং এর সঠিক লেখকের পরিচয় স্পষ্ট করার কাজ শুরু করেছি।
রিসালাটির শিরোনাম এবং লেখক প্রসঙ্গে:
এর প্রচ্ছদে আধুনিক হস্তাক্ষরে—যা সাধারণত পাণ্ডুলিপি সূচিকারকদের হস্তাক্ষর হয়ে থাকে—লেখা আছে: শায়খ আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হাসানী আল-শাফেয়ী আল-সামহুদীর রচিত অনুগামী ও মাসবুক সংক্রান্ত মাসায়েলের রিসালাহ।
আজহারিয়া লাইব্রেরির ক্যাটালগেও (২/৫৩৫) একই শিরোনাম পাওয়া যায় এবং সেখানে আরও যুক্ত করা হয়েছে: "এর শুরু: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আনুগত্যের তাওফিক দিয়েছেন ইত্যাদি—এটি একটি পাণ্ডুলিপি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত অংশ যা একটি খণ্ডে বিভিন্ন হস্তাক্ষরে লিখিত, যার শেষ অংশটি ১২৮৩ হিজরির। এটি ২৩১ পৃষ্ঠার একটি সংকলন, যার পংক্তি বিন্যাস বিভিন্ন প্রকার—২৪ সে.মি. (১৮৩ থেকে ২০৬ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত) [২৯০৩] ইমবাবি ৪৮৩৮২।"
পাণ্ডুলিপিটি প্রতিলিপি করা শুরু করার পর এটি কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এটি সামহুদীর (৮৪৪-৯১১ হি.) রচনা নয়। কারণ লেখক ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর শায়খ ও উস্তাদ শায়খ নূরুদ্দীন আলী আল-মিহী (মৃত্যু ১২০৪ হি.)-কে তাঁর সেই কাব্যটি শুনিয়েছেন যার তিনি ব্যাখ্যা করছেন। প্রতিলিপি করার কাজ যত এগোতে থাকে, আমরা দেখতে পাই যে তিনি এমন সব শাফেয়ী আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন যারা সামহুদীর ইন্তেকালের অনেক পরে মৃত্যুবরণ করেছেন; যেমন: আল-জামাল (মৃত্যু ১২০৪ হি.), আল-বারমাওয়ী (মৃত্যু ১১০৬ হি.), আল-শুবরামালসী (মৃত্যু ১০৮৭ হি.) এবং অন্যান্য।
অতঃপর পাণ্ডুলিপির যেসব ক্যাটালগ আমার নজরে এসেছে সেগুলো অনুসন্ধান করে আমি এমন কোনো রিসালাহ পাইনি যার শিরোনামের সাথে এই পুস্তিকার বিষয়বস্তুর মিল আছে, কেবল জামজুরীর (যিনি আল-আফান্দি নামে প্রসিদ্ধ) "আত-তিরাজুল মারকুম বি শারহিদ দুররিল মানজুম" নামক গ্রন্থটি ব্যতীত। এটি মূলত তাঁরই রচিত "আদ-দুররুল মানজুম ফি উজরিল মামুম" নামক কাব্যের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
কতিপয় কারণে আমার নিকট এটিই প্রবলভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটিই আমাদের সম্পাদিত গবেষণার মূল রিসালাহ:
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৪)
- أن النظم والشرح لمؤلف واحد كما هو الحال في رسالتنا حيث قال في مقدمتها: "فلما كانت مسائل المأموم المعذور كثيرة الحصول عسيرة الوصول خصوصا على مثلي ممن ليس له معقول أحببت إفرادها بنظم عجيب، وشرح عليه غريب؛ ليقرب علي بعض ذلك، ويسهل علي ما هنالك، وقد شرعت الآن في الشرح بعد أن سمعت النظم المذكور وسمعه شيخي وأستاذي الذي هو بالفضل مشهور سيدي الشيخ نور الدين علي الميهي
… "
- أن ذكر أن شيخه هو الميهي كما ذكر في تحفة الأطفال حيث قال هناك:
سميته بتحفة الأطفال
… عن شيخنا الميهى ذي الكمال
- أن مؤلف الرسالة شافعي كالشيخ الجمزوري.
- أنه ينقل عن علماء شافعيين معاصرين له، أو ماتوا قبله.
- أن الفراغ من تأليف هذه الرسالة كان قريبا من الفراغ من تحفة الأطفال، حيث ذكر أنه انتهي من تحفة الأطفال 1198 هـ، ومن رسالتنا 1201 هـ وكلاهما قبل وفات شيخه الميهي.
- أنه استخدم نفس طريقة الحساب - وسوف يأتي شرحها في محلها بإذن الله - في حساب أبيات التحفة، والدر المنظوم في عذر المأموم، حيث قال في التحفة
أبياته ند بدا لذى النهى
… تاريخه بشرى لمن يتقنها
وقال في منظومتنا:
أبياته لب فبادر واحفظن
… فلحافظه أرخت رضي الله عنه
- أن المؤلف كان متصوفا يتبع الطريقة الشاذلية كما سيأتي في ترجمته، وقد ظهر تأثره بذلك حيث قال في رسالتنا موضوع التحقيق:" نسأل الله حسن القبول وبلوغ المأمول، بجاه أشرف نبي ورسول".
- إبراز المؤلف لمحتوى الرسالة وبيان وجه المناسبة بينها وبين عنوانها حيث قال: " فلما كانت مسائل المأموم المعذور" ورسالتنا كما سبق هي شرح لنظمه: الدر المنظوم في عذر المأموم.
عملي في المخطوط:
1 - قمت بنسخ المخطوط، وتصحيح نسبتها.
2 - شرح غريب بعض الألفاظ بالرجوع إلى كتب المعاجم والغريب.
3 - قمت بالترجمة لغير المشهورين من العلماء ممن ورد ذكرهم في الرسالة.
4 - التعريف ببعض الكتب التي ينقل عنها المؤلف.
5 - بالنسبة لتخريج الأحاديث والآثار فلم أجد بالرسالة إلا حديثا واحدا بمعناه في الصحيحين.
- মূল কবিতা (نظم) এবং এর ব্যাখ্যা (شرح) একই লেখকের; যেমনটি আমাদের এই রিসালার ক্ষেত্রে দেখা যায়। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "যেহেতু ওজরগ্রস্ত মুক্তাদীর (المأموم المعذور) মাসআলাগুলো অত্যন্ত ব্যাপক কিন্তু সেগুলোর সমাধান লাভ করা কঠিন, বিশেষ করে আমার মতো ব্যক্তির জন্য যার বিচারবুদ্ধি সামান্য; তাই আমি এই বিষয়গুলোকে একটি চমৎকার কবিতা (نظم) এবং এক অনন্য ব্যাখ্যার (شرح) মাধ্যমে স্বতন্ত্র করতে চেয়েছি; যাতে আমার জন্য বিষয়টি সহজসাধ্য হয়। আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি লিখতে শুরু করেছি যখন আমি উল্লিখিত কবিতাটি পাঠ করেছি এবং আমার শায়খ ও উস্তাদ, যিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুপরিচিত, সাইয়্যিদি শায়খ নূরুদ্দীন আলী আল-মীহী তা শুনেছেন
… "
- তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর শায়খ হলেন আল-মীহী, যেমনটি তিনি তুহফাতুল আতফাল-এ উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন:
আমি একে 'তুহফাতুল আতফাল' নামে নামকরণ করেছি
… আমাদের শায়খ আল-মীহী থেকে, যিনি পূর্ণতার অধিকারী।
- এই রিসালার রচয়িতা শাফিঈ (شافعي) মাযহাবের অনুসারী, যেমনটি শায়খ আল-জামজুরী ছিলেন।
- তিনি তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন এমন শাফিঈ (شافعي) আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
- এই রিসালাটির রচনা সমাপ্ত হওয়ার সময়কাল তুহফাতুল আতফাল সমাপ্ত হওয়ার সময়ের কাছাকাছি ছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ১১৯৮ হিজরিতে তুহফাতুল আতফাল এবং ১২০১ হিজরিতে আমাদের এই রিসালাটি সমাপ্ত হয়েছে; উভয়টিই তাঁর শায়খ আল-মীহীর মৃত্যুর পূর্বে।
- তিনি তুহফাতুল আতফাল এবং ‘আদ-দুররুল মানজুম ফী উধরিল মামুম’ এর শ্লোক সংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে একই হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন—যা যথাযোগ্য স্থানে আল্লাহর ইচ্ছায় ব্যাখ্যা করা হবে। তুহফাতুল আতফাল-এ তিনি বলেছেন:
এর শ্লোক সংখ্যা 'নাদুন বাদা' (ند بدا) বুদ্ধিমানদের জন্য
… এর তারিখ হচ্ছে 'বুশরা' (بشرى) তাদের জন্য যারা এতে পারদর্শী।
এবং আমাদের এই কবিতায় তিনি বলেছেন:
এর শ্লোক সংখ্যা 'লুব্বুন' (لب), সুতরাং দ্রুত মুখস্থ করে নাও
… মুখস্থকারীর জন্য এর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।
- লেখক তাসাউফপন্থী ছিলেন এবং শাযিলী (الشاذلية) তরীকা অনুসরণ করতেন, যা তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় ফুটে উঠবে। তাঁর এই রিসালাতেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা আল্লাহর কাছে উত্তম কবুলিয়ত এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রার্থনা করছি, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের সম্মানে।"
- লেখক এই রিসালার বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং এর শিরোনামের সাথে সংগতি স্পষ্ট করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "যেহেতু ওজরগ্রস্ত মুক্তাদীর (المأموم المعذور) মাসআলাগুলো..."। আর আমাদের এই রিসালাটি ইতিপূর্বে যেমন বলা হয়েছে, তা হলো তাঁর স্বরচিত কবিতা ‘আদ-দুররুল মানজুম ফী উধরিল মামুম’ এর ব্যাখ্যা।
পাণ্ডুলিপিতে আমার কাজ:
1 - আমি পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি এবং এর লেখক সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।
2 - অভিধান এবং অপরিচিত (غريب) শব্দের গ্রন্থসমূহের সহায়তায় কিছু কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
3 - রিসালায় উল্লিখিত স্বল্প পরিচিত আলেমদের জীবনী (ترجمة) লিখেছি।
4 - লেখক যে সকল কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।
5 - হাদিস এবং বর্ণনাগুলোর (أثر) উৎস যাচাই (تخريج) করার ক্ষেত্রে আমি এই রিসালায় কেবল একটি হাদিস পেয়েছি যার মর্মার্থ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المؤلف (1):
اسمه ونسبه:هو سليمان بن حسين بن محمد بن شلبي الجمزورى الشهير بالأفندى.
والجمزورى نسبة إلى جمزور بالميم قريبة من طنطا على بعد 4 أميال وهى بلدة أبيه من إقليم المنوفية بجمهورية مصر العربية.
مولده:ولد بطنتدا (طنطا) فى ربيع الأول سنة بضع وستين بعد المائة والألف من الهجرة النبوية.
صفاته:كان معظما لشيخه الميهي، متواضعا في نفسه، لين الجانب مع قرنائه.
شيوخهكان الجمزورى شافعى المذهب تفقه على كثير من مشايخ كثيرين من طنطا، أحمدي الخرقة، شاذلي الطريقة كما ذكر الضباع والمرصفي.
وأشهر شيوخه في القرآن نور الدين علي بن عمر بن حمد بن عمر ناجي بن فُنيْش الميهي (المتوفى سنة 1204هـ) وعنه تلقى التجويد وأخذ القراءات العشر من طريق الشاطبية والدرة
وكان تلميذا لسيدي مجاهد الأحمدي وهو شيخه الذي لقبه بالأفندي، وهي كلمة تركية يشار بها للتعظيم والإجلال. وغيرهما من الشيوخ.
مؤلفاته:1 - تحفة الأطفال في تجويد القرآن نظم.
2 - فتح الإقفال بشرح تحفة الأطفال.
3 - نظم كنز المعانى بتحرير حرز الأمانى بتحقيق الشيخ عبد الرزاق بن علي موسى عضو لجنة مراجعة المصحف بالمدينة.
4 - الفتح الرحمانى بشرح كنز المعانى فى القراءات السبع بعناية المحقق السابق نفسه.
5 - جامع المسرة فى شواهد الشاطبية والدرة.
6 - منظومة في رواية الإمام ورش.
7 - الدر المنظوم في عذر المأموم.
--------------------------------------------
লেখকের পরিচিতি (১):
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন সুলাইমান বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন শালবি আল-জামজুরি, যিনি ‘আল-আফান্দী’ নামে প্রসিদ্ধ।
‘আল-জামজুরি’ নামটি তান্তার নিকটবর্তী প্রায় ৪ মাইল দূরে অবস্থিত ‘জামজুর’ (মীম সহযোগে) গ্রামের দিকে সম্পর্কিত। এটি মিসর প্রজাতন্ত্রের আল-মিনুফিয়া প্রদেশের অন্তর্গত তাঁর পিতার গ্রাম।
তাঁর জন্ম:তিনি হিজরি এগারো শত ষাটের দশকের (১১৬০ হিজরি পরবর্তী) কোনো এক বছর রবিউল আউয়াল মাসে তান্তাদায় (তান্তা) জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর গুণাবলি:তিনি তাঁর শিক্ষক আল-মিহী-র প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং তাঁর সমসাময়িকদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও কোমল স্বভাবের।
তাঁর শিক্ষকগণআল-জামজুরি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তান্তার বহু বিশিষ্ট মাশায়েখের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। আদ-দাব্বা এবং আল-মারসাফি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি আহমাদিয়া খিরকা এবং শাযিলিয়া তরীকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কুরআন শাস্ত্রে তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শিক্ষক হলেন নূরুদ্দীন আলী বিন উমর বিন হামাদ বিন উমর নাজি বিন ফুনাইশ আল-মিহী (মৃত্যু ১২০৪ হিজরি)। তাঁর নিকট থেকেই তিনি তাজবিদ শিক্ষা করেন এবং শাতবিয়্যাহ ও আদ-দুররাহ-এর মাধ্যমে দশ কিরাত (القراءات العشر) আয়ত্ত করেন।
তিনি সিদি মুজাহিদ আল-আহমাদির ছাত্র ছিলেন এবং তিনিই তাঁকে ‘আল-আফান্দী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন; এটি একটি তুর্কি শব্দ যা সম্মান ও মর্যাদা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও তিনি আরও অনেক শিক্ষকের সান্নিধ্য লাভ করেন।
তাঁর রচনাবলি:১ - তুহফাতুল আতফাল ফি তাজবিদিল কুরআন (কাব্য)।
২ - ফাতহুল ইকফাল বিশরহ তুহফাতুল আতফাল।
৩ - নাজম কানজুল মাআনি বিতাহরির হিরযুল আমানি; এটি মদিনার মুসহাফ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য শাইখ আব্দুর রাজ্জাক বিন আলী মুসা কর্তৃক সম্পাদিত (تحقيق)।
৪ - আল-ফাতহুর রাহমানি বিশরহ কানজুল মাআনি ফি কিরাতিল সাবআ; এটিও পূর্বোক্ত একই গবেষকের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত (تحقيق)।
৫ - জামিউল মাসাররাহ ফি সাওয়াহিদিশ শাতবিয়্যাহ ওয়াদ দুররাহ।
৬ - ইমাম ওয়ারশ-এর বর্ণনা (رواية) সম্পর্কিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
৭ - আদ-দুররুল মানযুম ফি উযরিল মামুম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
8 - الطراز المرقوم بشرح الدر المنظوم، وهما موضوع التحقيق.
وفاته:لا يعرف بالتحديد سنة وفاته لكن آخر ما عُرف أنه كان حيا سنة 1208 هـ، وهي سنة التي أتم فيها كتاب الفتح
الرحماني.
وصف النسخة الخطية:يوجد هذا المخطوط ضمن مخطوطات الأزهر الشريف، ضمن مجموعة في مجلد مكون من 231 ورقة ومسطرتها مختلفة - 24 سم، 2903 أمبابي [48384].
ورسالتنا موضوع التحقيق تقع ما بين ورقة 183: 206 في 24 ورقة.
الوجه الثاني من الورقة الأولى به عنوان الرسالة على وجه الخطأ كما سبق.
وكل ورقة صفحتان، في كل صفحة حوالي 19 سطر، في كل سطر ما بين 8: 10 كلمات، ما عدا الوجه الأخير من الصفحة الأخيرة ففيه خاتمة الرسالة.
صورة الصفحة الأولى وبها العنوان على وجه الخطأ:
صورة الوجه الأول من الصفحة الثانية:
:
৮ - আত-তিরাজুল মারকুম বি-শারহিদ দুররিল মানজুম; আর এ দুটিই বর্তমান তাহকিকের (تحقيق) বিষয়বস্তু।
তাঁর মৃত্যু:তাঁর মৃত্যুসন সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না, তবে সর্বশেষ যা জানা গেছে তা হলো তিনি ১২০৮ হিজরি সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন; এটি সেই বছর যখন তিনি আল-ফাতহুর রাহমানি কিতাবটি সমাপ্ত করেছিলেন।
হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) বিবরণ:এই পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) আল-আজহার আল-শরীফের পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) অন্তর্ভুক্ত একটি সংগ্রহে রয়েছে, যা ২৩১টি পত্র (ورقة) বিশিষ্ট একটি খণ্ডে সংরক্ষিত এবং এর পরিমাপ ভিন্ন ভিন্ন - ২৪ সেন্টিমিটার, ২৯০৩ ইম্বাবি [৪৮৩৮৪]।
আমাদের তাহকিকের (تحقيق) বিষয়ীভূত রিসালাটি (رسالة) ১৮৩ থেকে ২০৬ নম্বর পত্রের (ورقة) মধ্যবর্তী মোট ২৪টি পত্রের (ورقة) মধ্যে অবস্থিত।
প্রথম পত্রের (ورقة) দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ইতিপূর্বের ন্যায় ভুলবশত রিসালাটির (رسالة) শিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিটি পত্র (ورقة) দুটি পৃষ্ঠা সমন্বিত, প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ১৯টি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে ৮ থেকে ১০টি শব্দ রয়েছে; তবে শেষ পৃষ্ঠার শেষাংশে রিসালাটির (رسالة) উপসংহার (خاتمة) রয়েছে।
প্রথম পৃষ্ঠার ছবি, যেখানে ভুল শিরোনামটি রয়েছে:
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রথম পৃষ্ঠের ছবি:
:
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
صورة الوجه الثاني من الصفحة الأخيرة
সর্বশেষ পৃষ্ঠার দ্বিতীয় পার্শ্বের প্রতিচ্ছবি
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد الله الذي وفق من شاء من الأنام، والصلاة والسلام على سيدنا محمد إمام كل إمام وآله وأصحابه الأئمة الأعلام، وعلى أتباعه (1) المقتدين به في جميع الأحكام، صلاة وسلاما دائمين متلازمين إلى يوم القيامة.
وبعد ..
فلما كانت مسائل المأموم المعذور كثيرة الحصول عسيرة الوصول خصوصا على مثلي ممن ليس له معقول (2) أحببت إفرادها بنظم عجيب، وشرح عليه غريب؛ ليقرب علي بعض ذلك، ويسهل علي ما هنالك، وقد شرعت الآن في الشرح بعد أن سمعت النظم المذكور وسمعه شيخي وأستاذي الذي هو بالفضل مشهور سيدي الشيخ نور الدين علي الميهي (3) نظر الله إلينا واليه (4)، وجعلنا وإياه من المقربين لديه، واقرني بعد ذلك عليه، ودعا له بالنفع
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাওফিক দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সকল ইমামের ইমাম, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও প্রখ্যাত ইমাম সাহাবীগণের ওপর, আর তাঁর সেই অনুসারীদের (১) ওপর যারা সকল বিধান পালনে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন; এমন দরুদ ও সালাম যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন থাকবে।
অতঃপর...
যেহেতু ওযরপ্রাপ্ত মুক্তাদীর মাসআলাসমূহ সচরাচর অধিক সংঘটিত হয় কিন্তু সেগুলোর সমাধান লাভ করা দুষ্কর, বিশেষ করে আমার মতো ব্যক্তির জন্য যার বিচারবুদ্ধি (২) প্রখর নয়; তাই আমি এই বিষয়গুলোকে একটি চমৎকার কাব্য এবং তার ওপর একটি অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থে পৃথকভাবে সংকলন করা পছন্দ করেছি, যাতে করে এর কিছু অংশ আমার আয়ত্তে আসে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমার জন্য সহজসাধ্য হয়। উল্লিখিত কাব্যটি শ্রবণ করার পর আমি এখন এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেছি। কাব্যটি আমার শাইখ ও উস্তাদও শ্রবণ করেছেন (سمع - শ্রবণ করা), যিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুপরিচিত—আমার সাইয়্যেদ শাইখ নূরুদ্দীন আলী আল-মীহী (৩)। আল্লাহ আমাদের ও তাঁর (৪) প্রতি করুণার দৃষ্টি দান করুন এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এরপর তিনি আমাকে এই বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন এবং এর দ্বারা উপকারের জন্য দোয়া করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
العام، والقبول التام، نسأل الله حسن القبول وبلوغ المأمول، بجاه أشرف نبي ورسول (1)،فقلت مستعينا بالقادر السميع العليم:
(بسم الله الرحمن الرحيم) (2) أي انظم الأشياء الآتية مستعينا على سبيل البركة ببسم الله الرحمن الرحيم أي بالله واجب الوجود (3) لذاته المنعم بجلائل النعم ودقائقها.
--------------------------------------------
সাধারণ এবং পূর্ণ কবুলিয়াত; আমরা আল্লাহর নিকট উত্তম কবুলিয়াত এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রার্থনা করি, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের সম্মানে (১)। অতঃপর আমি সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা (আল্লাহর) সাহায্য প্রার্থনা করে বললাম:
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) (২) অর্থাৎ বরকত লাভের উদ্দেশ্যে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে পরবর্তী বিষয়সমূহ বিন্যস্ত করছি; যিনি স্বীয় সত্তাগতভাবে ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ব) (৩), যিনি মহান ও সূক্ষ্ম সকল নিয়ামত দানকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
(حمدا لربي) (1) أي احمد ربي حمدا فحمدا مصدر [ق184/ب] نائب عن التلفظ بالفعل أي اثني عليه بجميل صفاته نائب عن التلفظ بالفعل أي اثني عليه بجميل صفاته والرب يطلق على الخالق والمالك وغيرهما (2) وهو تعالى مستحق لجميع المحامد وجمعت كغيري بين البسملة والحمدلة إشارة إلى عدم التعارض بين روايتهما على ما
--------------------------------------------
(আমার রবের প্রশংসা করছি) (১) অর্থাৎ আমি আমার রবের প্রশংসা করি। এখানে 'হামদান' (حمدا) শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) [পৃষ্ঠা ১৮৪/খ] যা মূল ক্রিয়া উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আমি তাঁর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর স্তুতি বর্ণনা করছি। 'রব' (الرب) শব্দটি স্রষ্টা, মালিক এবং অন্যান্য অর্থেও ব্যবহৃত হয় (২)। তিনি মহান এবং সকল প্রশংসার দাবিদার। অন্যদের মতো আমি এখানে বিসমিল্লাহ ও হামদালার সমন্বয় করেছি যাতে এই সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য না থাকে সেই সংকেত দিতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
هو مبين في محله (1).
(والصلاة) أي وأطلب من الله زيادة رحمته (2) المقرونة بالتعظيم الشاملة للسلام (سرمدا) أي دائما (على) سيدنا (محمد) المحمود في السموات والأرضين (و) على (من به اقتدى) أي تبعه نسبا وحسبا وأقوالا وأفعالا فيعم الآل والصحب والقرابة وكل مؤمن.
وفي البيت براعة الاستهلال (3).
(وبعد) يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر والإتيان بها أوائل الكتب سنة (4) كأصلها وهي هنا ظرف مبني على الضم لحذف المضاف إليه ونية معناه (5)، أي بعد ما تقدم من الثناء على الله وعلى رسوله (هذا) أي فأقول هذا المستحضر في الذهن استحضارا قويا حتى صار كالمحسوس، وحذف الفاء هنا ليس ضرورة لحذفها كما هو مبسوط في محله، (ضبط) أي حفظ وحصر عدد (مأموم عذر) أي حصل له عذر (6) يوجب تخلفه عن إمامه لقراءة
--------------------------------------------
তা তার যথাস্থানে বর্ণিত হয়েছে (১)।
(সালাত) অর্থাৎ আমি আল্লাহর কাছে তাঁর রহমতের আধিক্য প্রার্থনা করি (২) যা সম্মানের সাথে যুক্ত এবং যা সালামকে (শান্তি) অন্তর্ভুক্ত করে, (সর্বদা) অর্থাৎ চিরন্তনভাবে, আমাদের নেতা (মুহাম্মদ) এর (ওপর), যিনি আসমান ও জমিনে প্রশংসিত, (এবং) তাঁর ওপর (যিনি তাকে অনুসরণ করেছেন) অর্থাৎ বংশগতভাবে, মর্যাদাগতভাবে, কথায় ও কাজে তাঁর অনুসারী হয়েছেন, ফলে এটি পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, নিকটাত্মীয় এবং সকল মুমিনকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই চরণের মধ্যে চমৎকার প্রারম্ভিকতা (৩) রয়েছে।
(অতঃপর) এটি এক আলোচনা থেকে অন্য আলোচনায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বইয়ের শুরুতে এটি নিয়ে আসা সুন্নাহ (৪) এর মূল ভিত্তির ন্যায়। এখানে এটি 'যম্মাহ'র ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি সময়বাচক অব্যয়, কারণ এর পরবর্তী সম্বন্ধপদটি উহ্য রাখা হয়েছে এবং তার অর্থটিই উদ্দেশ্য (৫)। অর্থাৎ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রশংসার পর যা অতিবাহিত হয়েছে (এটি), অর্থাৎ আমি বলছি যে বিষয়টি মনে প্রবলভাবে উপস্থিত রয়েছে এমনকি তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর মতো হয়ে গেছে। এখানে 'ফা' বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়া বিলুপ্তির কোনো আবশ্যকতা নয় যেমনটি তার যথাস্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। (নির্ণয়) অর্থাৎ মুখস্থ রাখা এবং সংখ্যা নির্দিষ্ট করা (এমন মুক্তাদি যার ওজর রয়েছে) অর্থাৎ যার এমন ওজর বা অপারগতা দেখা দিয়েছে (৬) যা কিরাআতের কারণে ইমামের থেকে পিছিয়ে থাকাকে আবশ্যক করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفاتحة (حتى له ثلاث أركان (1) اغتفر) بترك تنوين أركان للوزن أي احتمل التخلف [ق185/أ] بها عن إمامه بسبب عذره (عدته) أي المذكور (عشر) وواحد كما اقتصر عليه بعضهم، أو عشر (مع اثنين أتت) أي العدة كما اقتصر عليه بعض أخر، أو عشر (وثلاث) كما اقتصر عليه العلامة العزيزي (2) في نظمه، (أو) عشر (وأربع) كذلك، أو عشر وخمسة كل هذا (ثبت) بالاستقراء (3) من كلام العلماء رضي الله عنهم (4) - وسيأتي توضيحه إن شاء الله تعالى وقد أخذت في بيانها فقلت:
(فالأول) المأموم (البطيء في القراءة للعجز) الخلقي كثقل لسانه وسيأتي ضابط البطيء (والترتيل) أي وللترتيل أي تجويد القراءة وإحكامها بحيث لا يسمى فاعل ذلك مسرعا (لا) لأجل (الوسوسة) الظاهرة التي
--------------------------------------------
আল-ফাতিহা (এমনকি তার জন্য তিনটি স্তম্ভ (أركان) (১) পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে); ছন্দের খাতিরে ‘আারকান’ শব্দের তানভীন বর্জন করা হয়েছে; অর্থাৎ ওজরের (عذر) কারণে ইমামের পেছনে থেকে [পৃষ্ঠা ১৮৫/ক] পিছিয়ে পড়াকে সহ্য করা হয়েছে। তার (গণনা) অর্থাৎ উল্লিখিত সংখ্যা কারো মতে এগারো (দশ ও এক) যেমনটি কেউ কেউ সীমাবদ্ধ করেছেন, অথবা বারো (দশ এর সাথে দুই এসেছে) যেমনটি অন্য কেউ সীমাবদ্ধ করেছেন, অথবা আল্লামা আজিজি (২) তার কাব্যগ্রন্থে তেরো (দশ ও তিন) উল্লেখ করেছেন, অথবা চৌদ্দ (দশ ও চার), অথবা পনেরো। এই সবকিছুই আলেমদের (رضي الله عنهم) (৪) বক্তব্য পর্যালোচনার (استقراء) (৩) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সামনে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে। আমি এর বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়ে বলেছি:
(প্রথমত) এমন মুক্তাদি যে (জন্মগত অক্ষমতার (عجز) কারণে কিরাত পাঠে ধীরগতির) যেমন জিহ্বার জড়তা; আর ধীরগতির হওয়ার মাপকাঠি সামনে আসবে। (এবং তারতীল)-এর কারণেও, অর্থাৎ কিরাত সুন্দরভাবে ও বিশুদ্ধভাবে পড়ার কারণে, যাতে পাঠকারীকে দ্রুত পাঠকারী বলা না হয়। স্পষ্ট (ওয়াসওয়াসার) কারণে নয় যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
طال زمنها عرفا (1) وسيأتي ضابطها بخلاف الوسوسة الخفية (2) وقدرها بعضهم بأن لا تكون قدر ما يسع ركنا قصيرا وقال بعضهم الخفيفة هي التي لا يكون زمنها يسع ركنين فعليين ولو طويلا وقصيرا من الوسط المعتدل والثقيلة ما يسع زمنها ذلك (3) ذكره الحلبي (4) في حواشي المنهج والمعتمد ما ذكره الشبراملسي (5) في حاشيته على الرملي أن الخفيفة هي التي لا يمضي فيها زمن يسع القيام أو معظمه فإن مضى فيها ذلك فثقيلة (6) (وهو) أي (7) والحالة أنه أي المأموم موافق لإمامه وسيأتي ضابط الموافقة (وكان أسرعا (8)) [ق185/ب] بألف الإطلاق (9) (إمامه قراءة وركعا) بألف الإطلاق أي الإمام قبل إتمام الموافق فاتحته فهو معذور فيتخلف و (يتمها) أي يتم المأموم فاتحته (حتما) أي وجوبا على الأصح في الروضة (10) وغيرها؛ لأنه أدرك زمنا يسع فلم يكن لتحملها عنه موجب ولأنا لو قلنا يقطع ويركع كما هو مقابل الأصح لأدى إلى أنه يترك الفاتحة في صلاته كلها لبطئ قراءته
--------------------------------------------
প্রথাগতভাবে (عرفا) এর সময় দীর্ঘ হওয়া (১) এবং এর মানদণ্ড সামনে আসবে; এটি সামান্য ধীরগতির (الخفيفة) (২) বিপরীত। কেউ কেউ এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন যে, তা একটি সংক্ষিপ্ত রুকন (ركن) সম্পন্ন করার সমপরিমাণ সময় হবে না। আবার কেউ বলেছেন, সামান্য ধীরগতি হলো সেটি যার সময়কাল দুটি কর্মগত রুকন (ركنين فعليين) —তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত হোক— মধ্যম গতিতে সম্পন্ন করার সমপরিমাণ হবে না। আর দীর্ঘ ধীরগতি (الثقيلة) হলো সেই সময়কাল যা উক্ত পরিমাণ সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে। (৩) আল-হালাবি (৪) এটি 'হাশিয়াতুল মানহাজ'-এ উল্লেখ করেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত সেটিই যা আশ-শিবরামালসি (৫) আর-রামলির ওপর তাঁর হাশিয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, সামান্য ধীরগতি হলো সেটি যাতে দণ্ডায়মান হওয়ার (কিয়াম) সময়কাল বা তার অধিকাংশ সময়ের সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত হয় না। যদি ততটুকু সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে তা দীর্ঘ ধীরগতি (ثقيلة) হিসেবে গণ্য হবে। (৬) এবং অবস্থা (وهو) এই যে, (৭) সে অর্থাৎ মুক্তাদি তার ইমামের সাথে সংগতিপূর্ণ (موافق)। সংগতিপূর্ণ (الموافقة) হওয়ার মানদণ্ড সামনে আসবে। আর যদি তার (৮) [১৮৫/খ] ইমাম কিরাআতে ও রুকুতে দ্রুত হয় (৯), অর্থাৎ সংগতিপূর্ণ (الموافق) মুক্তাদি তার ফাতিহা শেষ করার আগেই ইমাম রুকুতে চলে যান, তবে মুক্তাদি ওজরগ্রস্ত (معذور) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় সে ইমামের অনুসরণ থেকে পিছিয়ে থাকবে এবং (يتمها) অর্থাৎ মুক্তাদি তার ফাতিহা সম্পন্ন করবে। রওদাহ (১০) ও অন্যান্য কিতাবের অধিকতর সঠিক (الأصح) মতানুসারে এটি আবশ্যিকভাবে (حتما/وجوبا) করতে হবে; কারণ সে ফাতিহা পড়ার মতো যথেষ্ট সময় পেয়েছিল, তাই ইমামের সেটি বহন করার কোনো কারণ নেই। আর যদি আমরা অধিকতর সঠিক (الأصح) মতের বিপরীতে বলি যে, সে কিরাআত ছেড়ে দিয়ে রুকুতে চলে যাবে, তবে তার কিরাআতের ধীরগতির কারণে পুরো সালাতেই তার ফাতিহা বাদ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وسرعة قراءة الإمام (و) بعد أن يتمها (يسعى خلفه) أي خلف إمامه على ترتيب نفسه (ما لم يزد على ثلاث) من الأركان (خُلْفُه) بضم الخاء المعجمة والفاء وسكون اللام أي تخلفه عن إمامه أي ما لم يسبقه إمامه بأكثر من ثلاثة أركان طويلة وهي الركوع والسجود الأول والسجود الثاني فلا يحسب منها الاعتدال ولا الجلوس بين السجدتين.
وهل يلزمه حينئذ أن يقتصر على أقل واجب الأركان أو يفعل مندوباتها فيه نظر والأقرب الثاني كما يندب التخلف لجلسة الاستراحة فلو سعى خلفه وقام من السجود فوجد إمامه راكعا وأدرك معه الركوع حسبت ركعته وسقطت عنه الفاتحة أو بعضها كالمسبوق (1) وإن أدركه بعد الركوع وافقه فيما هو فيه وفاتت هذه الركعة دون التي أتى بها [ق186/أ] على ترتيب صلاة نفسه (2) فإذا فرغ المأموم من الفاتحة والإمام في السجدة الأخيرة فرفع رأسه بعد شروع المأموم في الركوع أتم المأموم ركعته وحده ثم قام وأدرك الإمام في الركعة الثانية فإذا أسرع الإمام في القراءة وسجد قبل سجود المأموم في الأولى وجب عليه موافقته في هذا السجود وحصلت له ركعة ملفقة (3) وفاتت الثانية فإذا قام المأموم للثانية بعد إن سعى خلف إمامه وأدرك زمنا يسع الفاتحة فركع الإمام قبل إتمامه لبطئه فعل كما فعل في الأولى كذلك حكم الثالثة والرابعة وعلى هذا فقدوته في سائر الأركان قدوة حكمية (4) وفي الإحرام والسلام وبعض القيام قدوة حيثية (5).
تنبيه إنما سمي بطيئا؛ لأنه في مقابلة إسراع الإمام كما أن الإمام سمي مسرعا؛ لأنه في مقابل بطء المأموم فالمراد بإسراعه اعتداله أما لو أسرع حقيقة بأن لم يدرك المأموم معه زمنا يسع الفاتحة للمعتدل فإنه يجب على المأموم ولو بطيء القراءة أن يركع معه وتحسب له الركعة ولو وقع له ذلك في جميع الركعات فلو تخلف لإتمام الفاتحة حتى رفع الإمام رأسه من الركوع أو ركع معه ولم يطمئن قبل ارتفاعه عن أقل الركوع (6) [ق186/ب] فاتته الركعة فيتبع الإمام فيما هو فيه ويأتي بالركعة بعد سلام الإمام.
أما الوسوسة الظاهرة وهي ما تؤدي إلى التخلف بركنين فعليين وبما يسع القيام أو معظمه على ما مر فليست عذرا فله أن يخل لإتمام الفاتحة ما لم يقرب من فراغ الركن الثاني ولا يسقط عنه شيء منها كتعمده تركها وإلا تعينت عليه المفارقة حيث بقي عليه شيء منها لبطلان صلاته بشروع الإمام فيما بعد الركن الثاني والأوجه عدم الفرق بين استمرار الوسوسة بعد ركوع إمامه أو تركه لها بعده إذ تفويت إكمالها قبل ركوع إمامه نشأ عن تقصيره بترديده الكلمات من غير بطء خلقي في لسانه سواء نشأ ذلك من تقصيره في التعليم أم في شكه في إتمام الحروف أي بعد فراغه من الفاتحة فلا يفيده تركها بعد ركوع إمامه رفع ذلك التقصير خلافا لبعضهم حيث بحث أنه لو ترك الوسوسة بعد ركوع إمامه أغتفر له التخلف لإتمامها ما لم يسبق بأكثر من ثلاثة أركان طويلة؛ لأنه لا تقصير منه الآن أي فهو معذور ذكره الحلبي، بل نقل القمولي (7) في الجواهر عن النووي أنه يتخلف للوسوسة الظاهرة مطلقا وكل أحكامه كمن تخلف لعذر ولكن لم يرتضه ابن العماد (8).
[ق187/أ] تنبيه ما تقرر في الترتيل هو ما جرى عليه ابن العماد في كتابه القول التام (9) وأما غيره فجعل حكمه كالوسوسة الظاهرة (10) فليراجع.
وأما لو زاد خلفه على ثلاثة أركان طويلة والمراد أن يكون السبق بثلاثة والإمام في الرابع أو ما هو على صورته كأن تخلف بالركوع والسجدتين والإمام في القيام أو في التشهد بأن لم يفرغ من الفاتحة إلا والإمام قائم عن السجود أي متلبس بالقيام بأن وصل إلى محل مجزي فيه القراءة وإن تقدمه جلسة الاستراحة أو جالس للتشهد الأخير وكذا الأول؛ لأنه على صورته فإنه يتبعه فيما هو فيه من قيام أو جلوس للتشهد وفاتت ركعته فيتدارك بعد سلام إمامه ما فاته كمسبوق على المعتمد وقيل يفارقه بالنية وجوبا لتعذر الموافقة انتهى (11).
--------------------------------------------
ইমামের দ্রুত কিরাআত পাঠের কারণে (এবং) মুক্তাদি তা শেষ করার পর (তার পেছনে দ্রুত অগ্রসর হবে), অর্থাৎ নিজের সালাতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তার ইমামের পেছনে চলবে (যতক্ষণ না তিনটির বেশি) রোকন (أركان) (পার্থক্য হয়)। এখানে 'খুলফুন' (خُلْفُه) শব্দটি খ-এ পেশ, ল-এ সাকিন এবং ফ-এর সমন্বয়ে গঠিত, যার অর্থ ইমামের থেকে পিছিয়ে পড়া। অর্থাৎ যতক্ষণ না ইমাম তার চেয়ে তিনটি দীর্ঘ রোকন (أركان) বেশি অগ্রসর হন। দীর্ঘ রোকনগুলো হলো— রুকু, প্রথম সিজদা এবং দ্বিতীয় সিজদা; এর মধ্যে 'ইতিদাল' (اعتِدال) এবং দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠক গণ্য হবে না।
এমতাবস্থায় তার জন্য কি রোকনসমূহের (أركان) ন্যূনতম ওয়াজিব পালনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক, নাকি মুস্তাহাবগুলোও পালন করবে? এ বিষয়ে পর্যালোচনা রয়েছে। অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো দ্বিতীয়টি (অর্থাৎ মুস্তাহাবসহ পালন করা), যেমনটি জিলসায়ে ইস্তিরাহাতের (বিশ্রামের বৈঠক) জন্য পিছিয়ে পড়াকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। যদি মুক্তাদি তার ইমামের পেছনে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং সিজদা থেকে উঠে ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় এবং তার সাথে রুকু পায়, তবে তার সেই রাকাআত গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার ওপর থেকে সুরা ফাতিহা বা তার অংশবিশেষের দায়িত্ব রহিত হয়ে যাবে, যেমনটি মাসবুকের ক্ষেত্রে হয় (১)। আর যদি রুকুর পরে ইমামকে পায়, তবে ইমাম যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় তার সাথে শামিল হবে এবং তার এই রাকাআতটি ফউত বা হাতছাড়া হয়ে যাবে; তবে সে নিজের সালাতের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী যা আদায় করেছে তা বাতিল হবে না (২)। অতএব, মুক্তাদি যখন ফাতিহা শেষ করল এমতাবস্থায় ইমাম শেষ সিজদায় আছেন, অতঃপর মুক্তাদি রুকু শুরু করার পর ইমাম মাথা তুললেন, তবে মুক্তাদি একাকী তার রুকু পূর্ণ করবে এবং এরপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতে ইমামকে ধরবে। ইমাম যদি কিরাআতে দ্রুততা করেন এবং মুক্তাদির প্রথম রাকাআতের সিজদার আগেই নিজে সিজদা করে ফেলেন, তবে মুক্তাদির ওপর এই সিজদায় ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং এর মাধ্যমে সে একটি জোড়াতালি দেওয়া রাকাআত (৩) লাভ করবে। তবে তার দ্বিতীয় রাকাআতটি ফউত হয়ে যাবে। এরপর মুক্তাদি যখন ইমামের পেছনে দ্রুত অগ্রসর হয়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবে এবং ফাতিহা পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পাবে, কিন্তু মুক্তাদির ধীরগতির কারণে ইমাম তার (মুক্তাদির) ফাতিহা শেষ করার আগেই রুকুতে চলে যান, তবে সে প্রথম রাকাআতের ন্যায় আচরণ করবে। একইভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাআতের বিধানও প্রযোজ্য হবে। এই নিয়ম অনুযায়ী, অন্যান্য রোকনসমূহে (أركان) তার অনুসরণ হবে হুকমি বা পরোক্ষ অনুসরণ (৪)। আর ইহরাম (তাকবিরে তাহরিমা), সালাম এবং কিয়ামের কিছু অংশে তার অনুসরণ হবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা প্রত্যক্ষ অনুসরণ (৫)।
সতর্কীকরণ: এখানে মুক্তাদিকে ধীরগতিসম্পন্ন বলা হয়েছে কারণ এটি ইমামের দ্রুততার বিপরীতে; একইভাবে ইমামকে দ্রুতগতিসম্পন্ন বলা হয়েছে কারণ এটি মুক্তাদির ধীরগতির বিপরীতে। সুতরাং ইমামের দ্রুততার অর্থ হলো তার পরিমিত গতি। কিন্তু ইমাম যদি প্রকৃতপক্ষে এত দ্রুত হন যে, একজন স্বাভাবিক গতির মুক্তাদি ফাতিহা পড়ার মতো সময় না পায়, তবে মুক্তাদির কিরাআত ধীরগতির হলেও ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাওয়া ওয়াজিব এবং তার রাকাআতটি গণ্য হবে; এমনকি সব রাকাআতে এমনটি ঘটলেও একই বিধান। কিন্তু যদি সে ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পিছিয়ে থাকে এবং ইমাম রুকু থেকে মাথা তুলে ফেলেন, অথবা সে ইমামের সাথে রুকু করল কিন্তু ইমাম রুকুর ন্যূনতম সীমা থেকে উঠে যাওয়ার আগে সে স্থিরতা (তম্যানিনাহ) অর্জন করতে পারল না (৬), তবে তার রাকাআতটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সে ইমাম যে অবস্থায় আছেন তাতে তার অনুসরণ করবে এবং ইমামের সালামের পর রাকাআতটি আদায় করবে।
আর প্রকট ওয়াসওয়াসা (وسوسة ظاهرة)—যা দুটি কর্মগত রোকন (أركان) পিছিয়ে পড়ার দিকে নিয়ে যায় এবং যা কিয়াম বা কিয়ামের অধিকাংশ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়—তা গ্রহণযোগ্য ওজর (عذر) নয়। সুতরাং ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য সে পিছিয়ে থাকতে পারবে যতক্ষণ না ইমাম দ্বিতীয় রোকন (أركান) শেষ করার নিকটবর্তী হন। এমতাবস্থায় তার থেকে ফাতিহার কোনো অংশই রহিত হবে না, যেমনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ফাতিহা বর্জনকারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অন্যথায় তাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (মুফারাকাত) নিয়ত করতে হবে, যদি ফাতিহার কিছু অংশ বাকি থাকে; কারণ ইমাম দ্বিতীয় রোকন (أركان) পরবর্তী রোকনে (ركن) প্রবেশ করলে মুক্তাদির সালাত বাতিল হয়ে যাবে। ইমাম রুকুতে যাওয়ার পর ওয়াসওয়াসা অব্যাহত থাকা অথবা রুকুর পর তা ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকাই যুক্তিযুক্ত; কারণ ইমামের রুকুর আগে ফাতিহা পূর্ণ করতে না পারাটা তার অবহেলার কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যেহেতু সে জিহ্বার কোনো সৃষ্টিগত জড়তা ছাড়াই শব্দগুলো বারবার উচ্চারণ করছিল। এই অবহেলা কিরাআত শিখতে অবহেলার কারণে হোক অথবা ফাতিহা শেষ করার পর অক্ষরগুলো পূর্ণ হয়েছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহের কারণে হোক। সুতরাং ইমামের রুকুর পর ওয়াসওয়াসা ছেড়ে দিলেও সেই অবহেলার দায় মুক্তি হবে না। যদিও কেউ কেউ গবেষণা করে বলেছেন যে, ইমাম রুকু করার পর যদি সে ওয়াসওয়াসা ছেড়ে দেয়, তবে ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য তার পিছিয়ে পড়াকে ক্ষমা করা হবে যতক্ষণ না ইমাম তিনটির বেশি দীর্ঘ রোকন (أركان) অগ্রসর হন; কারণ বর্তমানে তার মাঝে কোনো অবহেলা নেই এবং সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হিসেবে গণ্য। এটি আল-হালাবি উল্লেখ করেছেন। বরং আল-কামুলি (৭) 'আল-জাওয়াহির' গ্রন্থে নববী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, প্রকট ওয়াসওয়াসার (وسوسة ظاهرة) জন্য সে নিঃশর্তভাবে পিছিয়ে থাকতে পারবে এবং তার সমস্ত হুকুম ওজরপ্রাপ্ত (معذور) ব্যক্তির ন্যায় হবে। তবে ইবনুল ইমাদ (৮) এটি গ্রহণ করেননি।
সতর্কীকরণ: তারতিলের ক্ষেত্রে যা স্থির হয়েছে তা ইবনুল ইমাদ তার 'আল-কাওলুত তাম' (৯) গ্রন্থে অনুসরণ করেছেন। তবে অন্যগণ একে প্রকট ওয়াসওয়াসার (وسوسة ظاهرة) (১০) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সুতরাং বিষয়টি পর্যালোচনা সাপেক্ষ।
আর যদি মুক্তাদি ইমামের পেছনে তিনটির বেশি দীর্ঘ রোকন (أركان) পিছিয়ে পড়ে—যার অর্থ ইমাম তিন রোকন (أركান) অতিক্রম করে চতুর্থ রোকনে (ركن) চলে গেছেন অথবা তার সমপর্যায়ে পৌঁছেছেন। যেমন—মুক্তাদি রুকু ও দুই সিজদায় পিছিয়ে আছে আর ইমাম কিয়ামে বা তাশাহহুদে পৌঁছে গেছেন। অর্থাৎ ইমাম সিজদা থেকে উঠে কিয়ামে রত হয়েছেন এবং কিরাআতের জন্য যথেষ্ট স্থানে পৌঁছে গেছেন (যদিও তার আগে জিলসায়ে ইস্তিরাহাত থাকে), অথবা ইমাম শেষ তাশাহহুদে বসেছেন—একইভাবে প্রথম তাশাহহুদও, কারণ তা শেষ তাশাহহুদের অনুরূপ। এমতাবস্থায় মুক্তাদি ইমামকে কিয়াম বা তাশাহহুদ যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায় তার অনুসরণ করবে এবং তার ওই রাকাআতটি ফউত হয়ে যাবে। নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত অনুযায়ী মাসবুকের ন্যায় ইমামের সালামের পর সে ফউত হওয়া রাকাআতটি আদায় করবে। কেউ কেউ বলেছেন, অনুসরণ করা অসম্ভব হওয়ায় এমতাবস্থায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিয়ত করা ওয়াজিব। সমাপ্ত (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فإن مشي على نظم صلاة نفسه بطل إن تعمد، وعلم التحريم، وإلا فلا لكن لا اعتداد بما أتى به، ولا يعيد القراءة إن وافقه في القيام، أما إذا جلس الإمام للتشهد ولم يتم المأموم الفاتحة، أو أتمها فجلس معه كما هو الواجب عليه ثم قام الإمام إلى الركعة الأخرى فهل يبني المأموم في الأولى على ما قرأه من الفاتحة في الركعة السابقة وبعدها في الثانية الوجه أنه [ق187/ب] لا يجوز البناء؛ لانقطاع قراءته بمفارقة ذلك القيام إلى قيام آخر من ركعة أخرى ويعيدها في الثانية بخلاف ما إذا سجد لتلاوة في أثناء الفاتحة كان تابع إمامه فيها برجوعه بعد السجود معه إلى قيام تلك الركعة بعينه.
وأما لو قام الإمام والمأموم في القيام فلا يبعد حينئذ بناؤه على قراءته لعدم مفارقته حينئذ قيامه (1) نبه على ذلك ابن قاسم (2) في حواشي ابن حجر (3)، واعتمد البناء في المسألتين، ونقله عن ابن العماد في القول التمام (4) قال الشبراملسي بعد نقله ذلك: أقول وهذا هو الأقرب والقلب إليه أميل.
وفي القليوبي (5) على الجلال (6): وهل يبدئ لها أي لقيام الثانية قراءة أو يكتفي بقراءة الأولى عنها اعتمد شيخنا الثاني إذا لم يجلس وعليه لو فرغ مما لزمه قبل الركوع ركع معه، وفي شرح شيخنا ترجيح الأول وتبعه جماعه وعليه فيترك ما بقي مما لزمه ويشرع في قراءة جديدة للثانية ويأتي فيها ما وقع له في الأولى وهكذا على الثاني أيضا لو لم يفرغ مما لزمه إلا في الرابعة تبعه ويغتفر له في كل ركعة ثلاثة أركان؛ لأنه بموافقة الإمام في أول القيام تجدد له حكم مستقل وإن لم يقصد موافقته بل وإن قصد [ق188/أ] مخالفته. أهـ (7)
وعبارة ابن قاسم: واعلم أنه هل يشترط التبعية أو يشترط أن لا يقصد البقاء على نظم صلاة نفسه أو لا يشترط شئ من ذلك الذي يظهر الثالث فلا يشترط قد (8) التبعية ولا عدم قصد البقاء على نظم صلاته بل يكفي وجود التبعية بالفعل (9) (10) بأن يستمر معه ولا يمشي على نظم صلاته بل لو قصد بعد تلبس الإمام بالقيام المشي على نظم صلاته ينبغي ألا تبطل صلاته بمجرد هذا القصد؛ لأن مجرد القصد المبطل لا يبطل كما لو قصد أن يخطو ثلاث خطوات متوالية (11) لم تبطل صلاته قبل الشروع. بقي أنه إذا كان ركع الإمام ورفع قبل إتمام ما عليه فأتمه وركع هل يكون مدركا للركعة؛ لأن الركعتين في حقه كالركعة الواحدة وقد كان موافقا أو له حكم المسبوق فيه نظر. وقد يتجه الأول سيما وقد أدرك هذه الركعة مع الإمام من ابتداءها ومن أدرك مع الإمام الركعة من ابتداءها لا يكون إلا موافقا فليحرر. وكذا لو أسرع الإمام قراءته وركع قبل إتمام ما عليه هل يتخلف كبطيء القراءة فيه نظر فليحرر قاله ابن قاسم (12) ومقتضى قول الرملي فيما سبق: ما لم يسبق بالأكثر أيضا يقتضي أنه في الركعة الثانية
--------------------------------------------
যদি কেউ স্বেচ্ছায় নিজের নামাজের রীতি অনুযায়ী চলে, তবে তার নামাজ বাতিল (بطل) হয়ে যাবে যদি সে তা ইচ্ছাকৃতভাবে (تعمد) করে এবং এর নিষিদ্ধতা (تحريم) সম্পর্কে অবগত থাকে। অন্যথায় বাতিল হবে না, তবে সে যা আদায় করেছে তা গণ্য হবে না এবং যদি কিয়াম (قيام) অবস্থায় সে ইমামের অনুকূলে থাকে তবে তাকে পুনরায় কিরাত পড়তে হবে না। কিন্তু ইমাম যদি তাশাহহুদের জন্য বসেন অথচ মুকতাদি (مأموم) তখনও সূরা ফাতিহা শেষ করেনি, অথবা শেষ করার পর ইমামের সাথে বসেছে যা তার জন্য ওয়াজিব (واجب), এরপর ইমাম অন্য রাকাতের (ركعة) জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন— এমতাবস্থায় মুকতাদি কি পূর্ববর্তী রাকাতে পঠিত ফাতিহার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী রাকাতে বাকি অংশ পূর্ণ করবে? এক্ষেত্রে অভিমত হলো যে, [পৃষ্ঠা ১৮৭/খ] এরূপ ভিত্তি করা জায়েজ (يجوز) নয়; কারণ সেই কিয়াম (قيام) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য রাকাতের কিয়ামে চলে যাওয়ার কারণে তার কিরাতের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাই তাকে দ্বিতীয় রাকাতে পুনরায় ফাতিহা পড়তে হবে। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যেখানে কেউ সূরা ফাতিহা পাঠকালীন তিলাওয়াতে সিজদাহ (سجود) করে, কারণ সেক্ষেত্রে সে সিজদাহ শেষে পুনরায় সেই রাকাতের কিয়ামেই ফিরে আসে এবং ইমামের অনুসরণ করে।
পক্ষান্তরে, ইমাম ও মুকতাদি উভয়েই যদি কিয়াম (قيام) অবস্থায় থাকে, তবে তখন তার পূর্বের কিরাতের ওপর ভিত্তি করা অবান্তর নয়, কারণ তখন সে কিয়াম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি (১)। ইবনে কাসিম (২) ইবনে হাজারের (৩) হাশিয়াতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং উভয় মাসআলাতেই পূর্বের কিরাতের ওপর ভিত্তি করাকে নির্ভরযোগ্য (اعتمد) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি এটি ইবনুল ইমাদের 'আল-কাওলুত তামাম' (৪) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। শিবরামাল্লিসি এটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: আমি বলি, এটিই অধিকতর নিকটবর্তী এবং মন এক দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে।
আল-জালাল (৬)-এর ওপর আল-কালইউবি (৫)-তে বর্ণিত হয়েছে: দ্বিতীয় রাকাতের কিয়ামের জন্য সে কি নতুন করে কিরাত শুরু করবে নাকি প্রথম রাকাতের কিরাত তার জন্য যথেষ্ট হবে? আমাদের শায়খ দ্বিতীয় মতটিকে নির্ভরযোগ্য (اعتمد) বলেছেন যদি সে না বসে থাকে। এর ভিত্তিতে, রুকুর (ركوع) আগে যদি সে তার আবশ্যকীয় পাঠ শেষ করে ফেলে তবে সে ইমামের সাথে রুকু করবে। আর আমাদের শায়খের শারহ-এ প্রথম মতটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হয়েছে এবং একদল আলেম তার অনুসরণ করেছেন। এর ভিত্তিতে, তার যা বাকি ছিল তা ছেড়ে দেবে এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য নতুন কিরাত শুরু করবে। প্রথম রাকাতে তার যা ঘটেছিল, এখানেও তাই ঘটবে। একইভাবে দ্বিতীয় মতানুযায়ীও, যদি সে চতুর্থ রাকাত ছাড়া তার আবশ্যকীয় পাঠ শেষ করতে না পারে, তবে সে ইমামের অনুসরণ করবে এবং প্রতি রাকাতে তার জন্য তিনটি রুকন (أركان) পর্যন্ত দেরি করা ক্ষমাযোগ্য হবে; কারণ কিয়ামের শুরুতে ইমামের সাথে একাত্ম হওয়ার মাধ্যমে তার জন্য একটি স্বতন্ত্র হুকুম (حكم) তৈরি হয়েছে, যদিও সে অনুকরণের নিয়ত না করে, এমনকি যদি সে বিরোধিতার (مخالفة) নিয়তও করে থাকে। [পৃষ্ঠা ১৮৮/ক] (৭)
ইবনে কাসিমের বক্তব্য হলো: জেনে রাখুন, এক্ষেত্রে কি অনুসরণ (تبعية) করা শর্ত (يشترط), নাকি নিজের নামাজের রীতি অনুযায়ী না চলার সংকল্প করা শর্ত, নাকি কোনোটিই শর্ত নয়? যা প্রকাশ পায় তা হলো তৃতীয়টি। অর্থাৎ অনুসরণ করার শর্ত নেই এবং নিজের নামাজের রীতির ওপর না থাকার সংকল্প করাও শর্ত নয়; বরং বাস্তবে অনুসরণ (تبعية) বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট (৯) (১০), আর তা হলো ইমামের সাথেই চলা এবং নিজের নামাজের রীতি অনুযায়ী না আগানো। এমনকি ইমাম কিয়ামে যাওয়ার পর যদি মুকতাদি নিজের নামাজের রীতি অনুযায়ী চলার সংকল্পও করে, তবুও কেবল এই সংকল্পের কারণে নামাজ বাতিল হওয়া উচিত নয়; কারণ নামাজ বাতিলকারী (مبطل) কোনো কাজের নিছক সংকল্প নামাজ বাতিল করে না, যেমন কেউ যদি টানা তিন কদম হাঁটার সংকল্প করে (১১), তবে সেই কাজ শুরু করার আগে তার নামাজ বাতিল হয় না। অবশিষ্ট কথা হলো, ইমাম যদি রুকুতে যান এবং মুকতাদি তার ওপর যা আবশ্যক তা শেষ করার আগেই ইমাম মাথা উঠিয়ে ফেলেন, অতঃপর মুকতাদি তা শেষ করে রুকু করে, তবে কি সে রাকাতটি পেয়েছে বলে গণ্য হবে? কারণ তার ক্ষেত্রে দুটি রাকাত যেন একটি রাকাতের মতো এবং সে ইমামের অনুকূলেই ছিল; নাকি তার ক্ষেত্রে মাসবুক (مسبوق) হওয়ার হুকুম (حكم) প্রযোজ্য হবে— এ বিষয়ে গবেষণার অবকাশ রয়েছে। প্রথম মতটিই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়, বিশেষ করে যেহেতু সে এই রাকাতটি শুরু থেকেই ইমামের সাথে পেয়েছে। আর যে ব্যক্তি শুরু থেকেই ইমামের সাথে রাকাত পায়, সে মুওয়াফিক (موافق) ছাড়া আর কিছু হয় না। সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। অনুরূপভাবে, ইমাম যদি দ্রুত কিরাত পড়েন এবং মুকতাদির পাঠ শেষ হওয়ার আগেই রুকুতে চলে যান, তবে সে কি ধীরস্থিরভাবে কিরাত পাঠকারীর মতো পিছিয়ে থাকতে পারবে? এ বিষয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে, যা ইবনে কাসিম (১২) বলেছেন। পূর্বে বর্ণিত রামলির বক্তব্য অনুযায়ী যতক্ষণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অগ্রগামী না হয়, ততক্ষণ এটি দ্বিতীয় রাকাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[ق188/ب] للإمام يباح له التخلف بثلاثة أركان طويلة فيكون في الثانية معذورا كما عذر في الأولى ويحتمل خلافه انتهى (1).
فلو كان السبق بأربعة أركان طويلة والإمام في الخامسة (2) كأن تخلف بالركوع والسجدتين والقيام والإمام حينئذ في الركوع بطلت صلاته قاله البلقيني (3) وأقره الرملي.
وهل يعد في صلاة الكسوف الركوعان شيئين أو شيئا واحدا الوجه هو الأول؛ لأنهما ركنان ولو سلم فهما فعلان طويلان والفعل كالركن بدليل أنه لو تخلف بلا عذر عن سجود الإمام بطلت بهوي الإمام للسجدة الثانية وحينئذ فإذا تخلف عن القيام لبطئ قراءته مثلا لزمه موافقة الإمام إذا رفع من السجدة الأولى قبل إتيانه بما عليه كذا في حواشي التحفة انتهى (4).
والثاني من يشك بضم الشين أي الشاك قبل ركوع إمامه في أنه هل قرا بإبدال الهمزة ألفا بعد سكونها لنية الوقف أو بتخفيفها ساكنة كذلك فاتحته أم لا فإنه معذور فيجب تخلفه لقراءتها لبقاء محلها ويسعى خلفه ما لم يسبق بأكثر من ثلاثة أركان طويلة كما مر في بطئ القراءة ومثل الشك العلم بالترك بالأولى وكذا لو شك بعد ركوعه وقبل ركوع إمامه فإنه يلزمه العود لقراءتها [ق189/ 1] ويوجه بأن ركوعه هنا يسن أو يجوز له تركه والعود للإمام فكان ذلك بمنزلة شكه قبل أن يركع بالكلية صرح به الزيادي (5) نقلا عن ابن حجر (6) فلو كان الشك أو العلم بعد ركوعهما لم يعد إليها لفوات بل يتبع إمامه وتفوت الركعة فيتداركها بعد سلام الإمام (7) لكنه يسجد للسهو وإنما سجد في هذه؛ لأن ما فعله مع التردد بعد سلام الإمام محتمل للزيادة بخلاف التذكر فلم
--------------------------------------------
[১৮৮/খ] ইমামের পেছনে থাকাকালীন মুক্তাদির জন্য তিনটি দীর্ঘ রুকন পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা বৈধ, ফলে সে দ্বিতীয় রুকনেও ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে যেমনটি সে প্রথমটিতে ওজরগ্রস্ত ছিল। এর বিপরীত সম্ভাবনাও রয়েছে— সমাপ্ত। (১)
যদি ইমামের চেয়ে পিছিয়ে থাকা চারটি দীর্ঘ রুকন দ্বারা হয় এবং ইমাম পঞ্চম রুকনে থাকেন (২), যেমন মুক্তাদি যদি রুকু, দুই সিজদা ও কিয়ামে পিছিয়ে থাকে আর ইমাম তখন রুকুতে থাকেন, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। আল-বুলকিনি (৩) এটি বলেছেন এবং আর-রামলি একে সমর্থন করেছেন।
সূর্যগ্রহণের নামাজে দুই রুকু কি দুটি পৃথক বিষয় নাকি একটি? সঠিক অভিমত হলো প্রথমটি; কারণ তারা দুটি রুকন। যদি মেনেও নেওয়া হয় (যে তা একটি), তবুও সেগুলো দুটি দীর্ঘ কাজ, আর কাজও রুকনের সমতুল্য। এর প্রমাণ হলো, যদি কেউ কোনো ওজর ছাড়া ইমামের সিজদা থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে ইমাম দ্বিতীয় সিজদার জন্য অবনত হওয়ার সাথে সাথেই তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। এমতাবস্থায়, যদি কিরাআত ধীর হওয়ার কারণে কিয়াম থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে সে তার পঠিতব্য অংশ শেষ করার আগেই ইমাম যদি প্রথম সিজদা থেকে উঠে যান, তবে তার জন্য ইমামের অনুবর্তিতা আবশ্যক। তুহফার হাশিয়াতে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে— সমাপ্ত। (৪)
দ্বিতীয় প্রকার ব্যক্তি হলো সেই যে সন্দেহ করে—এখানে 'ইয়াসশাক্কু' (يشك) শব্দটি শিন বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হবে অর্থাৎ সন্দেহকারী—যে সে কি ইমামের রুকুতে যাওয়ার আগে ওয়াকফ করার নিয়তে হামজাকে সাকিন করে তারপর আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে সুরা ফাতিহা পাঠ করেছে নাকি তা ছাড়াই পাঠ করেছে? সে এক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত, তাই ফাতিহা পাঠ করার জন্য তার পিছিয়ে থাকা আবশ্যক যেহেতু কিরাআতের স্থানটি এখনো অবশিষ্ট আছে। সে ইমামের পেছনে দ্রুত অগ্রসর হবে যতক্ষণ না তিনটি দীর্ঘ রুকনের বেশি ব্যবধান হয়ে যায়, যেমনটি কিরাআত ধীর হওয়ার মাসআলায় অতিবাহিত হয়েছে। সন্দেহের মতো রুকন ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানার (ইলম) বিধানও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একই। তদ্রূপ সে যদি নিজের রুকুর পরে কিন্তু ইমামের রুকুর আগে সন্দেহ করে, তবে ফাতিহা পড়ার জন্য তার ফিরে আসা আবশ্যক। [১৮৯/১] এর ব্যাখ্যা হলো, এখানে তার রুকু করা সুন্নাত অথবা তার জন্য রুকু ত্যাগ করে ইমামের কাছে ফিরে আসা বৈধ, ফলে এটি রুকু করার আগে পুরোপুরি সন্দেহ করার মতোই হলো। আল-জিয়াদি (৫) ইবনে হাজার (৬) থেকে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে যদি সন্দেহ বা নিশ্চিত হওয়া উভয়ের রুকুর পরে ঘটে, তবে সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে সে আর ফিরে আসবে না; বরং ইমামের অনুসরণ করবে এবং ওই রাকাতটি তার হাতছাড়া হয়ে যাবে, যা সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর পূর্ণ করবে (৭)। তবে এক্ষেত্রে সে সাহু সিজদা করবে। সে এই নামাজে সিজদা করবে কারণ সালামের পর সন্দেহের সাথে সে যা আদায় করেছে তাতে রাকাত বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্মরণ হওয়ার বিষয়ের বিপরীত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يفعل معه محتملا للزيادة بعد سلام الإمام وإنما هو جبر لما وقع مع الإمام (1) فإن عاد عامدا عالما بطلت صلاته ويأتي ذلك في كل ركن علم المأموم تركه أو شك فيه بعد تلبسه بركن بعده يقينا أي وكان في التخلف له فحش مخالفة فيوافق إمامه ويأتي بدله بركعة بعد سلامه (2) وإذا تبعه ثم تذكر بعد قيامه للثانية أنه قرأ الفاتحة في الأولى حسب سجوده وتمت به ركعته، وإن كان فعله على قصد المتابعة وهذا بخلاف ما لو شك الإمام أو المنفرد بعد الركوع ولم يعودا للقيام بل سعيا على نظم صلاتهما فإن صلاتهما تبطل بذلك إن كانا عالمين بالحكم فإذا تذكرا القراءة بعد ذلك لا ينفعهما التذكر لبطلان صلاتهما بفعلهما السابق فلو كان ذلك سهوا أو جهلا [ق189/ب] حسب وتمت صلاتهما بذلك (3) صرح به في شرح الروض.
وأما لو شك الإمام في الفاتحة بعد ركوعهما وعلم المأموم أنه شاك فيها فيلزمه الرجوع إلى القيام يقصده لأجل قراءة الفاتحة؛ لأن الأصل عدم قراءتها قال الشيخ سلطان (4) ويجب على المأموم انتظاره في الركوع إن لم يرجع معه وإلا انتظره في السجود (5) وقال ع ش (6) وأما حكم المأمومين الذين تلبسوا بالاعتدال مع الإمام فهل ينتظرونه في الاعتدال ويغتفر تطويله للضرورة ولا يركعون معه إذا ركع بعد القراءة أم يحكم عليهم بأنهم في القيام معه حتى يلزمهم أن يركعوا معه إذا ركع ثانيا لأجل المتابعة أو يسجدوا وينتظرونه فيه ولا يضر سبقهم له بركنين لأجل الضرورة أم كيف الحال قال شيخنا الرملي بالأول ويغتفر التطويل في الاعتدال ثم رجع ذلك واعتمدوا أنهم ينتظرونه في السجود؛ لأنه ركن طويل ويغتفر سبقهم بركنين للضرورة (7) وبذلك قال ابن حجر أقول وهذا مفروض كما تري فيما إذا لم يعلموا من حال الإمام شيئا لبعدهم عنه، أو لكونها سرية أما لو علموا منه ترك الفاتحة فينتظرونه في السجود انتهى.
--------------------------------------------
ইমামের সালামের পর অতিরিক্ত (زيادة) হওয়ার সম্ভাবনা বজায় রেখে তিনি এটি করবেন, বরং এটি ইমামের সাথে থাকাকালীন যা ঘটেছে তার ক্ষতিপূরণ মাত্র (১)। যদি তিনি জেনে-বুঝে সচেতনভাবে ফিরে আসেন, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। এই নিয়মটি প্রতিটি রুকনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যা মুক্তাদি নিশ্চিতভাবে পরবর্তী রুকনে প্রবেশের পর পূর্ববর্তী রুকনটি ছেড়ে দিয়েছে বলে জানে বা তাতে সন্দেহ করে; অর্থাৎ যদি তার পিছিয়ে থাকার ক্ষেত্রে চরম পর্যায়ের ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে সে তার ইমামের অনুসরণ (متابعة) করবে এবং ইমামের সালামের পর ওই রাকাতের পরিবর্তে এক রাকাত আদায় করবে (২)। পক্ষান্তরে যখন সে তাকে অনুসরণ করবে, অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর পর যদি তার স্মরণে আসে যে সে প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করেছিল, তবে তার সিজদা গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে তার রাকাত পূর্ণ হয়ে যাবে, যদিও তার সেই কাজটি ছিল অনুসরণের (متابعة) উদ্দেশ্যে। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যখন ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী রুকুর পর সন্দেহ পোষণ করেন এবং দাঁড়ানোর দিকে ফিরে না গিয়ে বরং নামাজের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন; এমতাবস্থায় যদি তারা হুকুম সম্পর্কে অবগত থাকেন তবে তাদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে। এরপর যদি তাদের কিরাতের কথা স্মরণেও আসে, তবে পূর্ববর্তী কাজের কারণে সালাত বাতিল হয়ে যাওয়ায় সেই স্মরণ কোনো উপকারে আসবে না। তবে যদি তা ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত [পৃষ্ঠা ১৮৯/খ] হয়, তবে তা গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে তাদের সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে (৩)। শারহুর রওজ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
পক্ষান্তরে যদি ইমাম রুকু করার পর সুরা ফাতিহা পাঠের ব্যাপারে সন্দেহ করেন এবং মুক্তাদি জানে যে তিনি এতে সন্দেহ পোষণ করছেন, তবে ইমামের জন্য দাঁড়ানোর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, যাতে তিনি সুরা ফাতিহা পাঠের উদ্দেশ্য করতে পারেন; কারণ মূল নীতি হলো পাঠ না করা। শায়খ সুলতান (৪) বলেন, যদি মুক্তাদি ইমামের সাথে ফিরে না যায়, তবে রুকুতে তার জন্য অপেক্ষা করা ওয়াজিব, অন্যথায় সিজদাতে তার জন্য অপেক্ষা করবে (৫)। (৬) আলি আশ-শুবরামাল্লিসি বলেন: আর সেই সব মুক্তাদির বিধান কী যারা ইমামের সাথে ই’তিদালের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে? তারা কি ই’তিদালে তার জন্য অপেক্ষা করবে—যেখানে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা দীর্ঘ করা ক্ষমাযোগ্য—এবং তিনি কিরাতের পর রুকু করলে তারা কি তার সাথে রুকু করবে না? নাকি তাদের ওপর এই হুকুম প্রযোজ্য হবে যে তারা তার সাথে কিয়ামে আছে, ফলে অনুসরণের (متابعة) খাতিরে তিনি দ্বিতীয়বার রুকু করলে তাদের ওপরও রুকু করা আবশ্যক হবে? অথবা তারা কি সিজদা করবে এবং সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করবে, আর প্রয়োজনের কারণে দুই রুকন পরিমাণ অগ্রগামী হওয়া কি তাদের কোনো ক্ষতি করবে না? নাকি বিষয়টি অন্যরূপ হবে? আমাদের শায়খ আর-রামলি প্রথম মতটি ব্যক্ত করেছেন যে, ই’তিদালে দীর্ঘ করা ক্ষমাযোগ্য হবে। অতঃপর তিনি এ থেকে ফিরে এসেছেন এবং ওলামাগণ এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, তারা সিজদাতে তার জন্য অপেক্ষা করবে; কারণ এটি একটি দীর্ঘ রুকন এবং প্রয়োজনে দুই রুকন অগ্রগামী হওয়া ক্ষমাযোগ্য (৭)। ইবনে হাজারও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আমি বলছি: এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেমনটি আপনি দেখছেন যখন তারা ইমামের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না তার থেকে দূরে থাকার কারণে অথবা কিরাত নিঃশব্দে হওয়ার কারণে। তবে যদি তারা জানতে পারে যে তিনি সুরা ফাতিহা ছেড়ে দিয়েছেন, তবে তারা সিজদাতে তার জন্য অপেক্ষা করবে। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فرع
أحرم مقتد بإمام ثم شرع في الفاتحة إلى نصفها [ق190/أ] ثم شك فكررها مرة أخرى بحيث أنه لو استمر في شروعه الأول لوسعها وزيادة ثم إنه لم يركع حتى ركع إمامه واعتدل حسبت ركعته بلا شك.
والثالث ما أشرت إليه بقولي (أو) أي ومن (نسي الصلاة) فأو للتقسيم وكذا يقال فيما يأتي أي نسي أنه متلبس بها حتى ركع إمامه فيتخلف لقراءتها ويغتفر له ثلاثة أركان طويلة على ما مر في بطئ القراءة (1).
والرابع ما أشرت إليه بقولي (أو) نسي قراءته للفاتحة أي ذهل عنها حتى ركع إمامه فانه يتخلف لقراءتها ويجري على نظم نفسه ويغتفر له ثلاثة أركان طويلة كبطئ القراءة على المعتمد خلافا للزركشي (2) حيث قال بسقوطها عنه (3) وخلافا لمن قال بعدم عذره في ذلك لتقصيره بالنسيان.
وعبارة الرملي في شرحه: وفي معنى المسبوق كل متخلف بعذر كزوجة (4) ونسيان للصلاة لا لقراءة الفاتحة انتهت وكتب عليه ع ش قوله لا لقراءة الفاتحة محترز للصلاة أي فلا يكون متخلفا بعذر بل إذا تذكر الفاتحة وجب أن يتخلف ويقرأها فإن فرغ منها قبل إتمام ركنين فعليين من الإمام فذاك وإلا وجبت المفارقة فإن لم يفعل حتى هوي الإمام للسجود بطلت صلاته كما هو شأن [ق190/ب] كل متخلف بغير عذر لكن نقل عن الزيادي أن نسيان القراءة كنسيان الصلاة كما ذكره الشمس الرملي في فضل المتابعة خلافا لما وقع له هنا وفي بعض النسخ إسقاط: لا لقراءة، وعليه فلا مخالفة بين كلاميه وعلى تسليمها يمكن الفرق بأن نسيان الصلاة يكثر بخلاف نسيان القراءة فإنه يندر انتهى (5). فلو لم يتذكر المأموم إنه تركها حتى ركع مع الإمام لم يجز أن يعود إلى القيام لقراءتها بل يوافق الإمام وتفوته الركعة ويتداركها بعد السلام وفيه ما مر من مسألة الشك وهذا كله معنى قولي إن كان هذا الشك والنسيان لما ذكر قبل ركوعه وبعد ركوع إمامه أو بالعكس أو قبلهما لا إن كان بعد ركوع
--------------------------------------------
অনুচ্ছেদ
জনৈক মুক্তাদী ইমামের সাথে ইহরাম (তাকবীরে তাহরীমা) বাঁধল, অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ শুরু করে তার অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাল [পৃষ্ঠা ১৯০/ক], এরপর সে সন্দেহে পতিত হলো এবং পুনরায় তা পাঠ করল; এমতাবস্থায় যে সে যদি প্রথম পাঠই চালিয়ে যেত তবে তা শেষ করে আরও অতিরিক্ত সময় থাকত। এরপর সে রুকু করল না যতক্ষণ না তার ইমাম রুকু এবং ই'তিদাল (রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো) সম্পন্ন করলেন; তবে নিঃসন্দেহে তার এই রাকাতটি গণ্য হবে।
তৃতীয় বিষয়টি হলো যা আমি আমার বক্তব্যে '(অথবা)' শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করেছি, অর্থাৎ যে ব্যক্তি '(সালাতের কথা ভুলে গেল)' এখানে 'অথবা' শব্দটি প্রকারভেদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, এবং পরবর্তী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ, সে যে সালাতরত আছে তা ভুলে গেল যতক্ষণ না তার ইমাম রুকুতে গেলেন। ফলে সে কিরাত পাঠের জন্য পিছিয়ে থাকবে এবং ধীরগতিতে পাঠ করার মাসআলায় ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে সেই অনুযায়ী তার জন্য তিনটি দীর্ঘ রুকন পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা মার্জনীয় হবে (১)।
চতুর্থ বিষয়টি হলো যা আমি আমার বক্তব্যে '(অথবা)' শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করেছি, অর্থাৎ সে '(সূরা ফাতিহা পাঠ করতে ভুলে গেল)' অর্থাৎ, সে সূরা ফাতিহার কথা বিস্মৃত হলো যতক্ষণ না তার ইমাম রুকুতে গেলেন। এমতাবস্থায় সে তা পাঠ করার জন্য পিছিয়ে থাকবে এবং নিজের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে। নির্ভরযোগ্য (معتمد) মতানুযায়ী তার জন্য ধীরগতিতে পাঠকারীর ন্যায় তিনটি দীর্ঘ রুকন পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা মার্জনীয়। তবে আল-যারকাশী (২) এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেখানে তিনি এটি (পাঠ করা) রহিত হওয়ার কথা বলেছেন (৩); এবং তাদেরও ভিন্নমত যারা বলেছেন যে, ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে তাকে এক্ষেত্রে অপারগ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
আল-রামলী তাঁর শারহ-এ উল্লেখ করেছেন: "মাসবূক-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যে ওজরের কারণে পিছিয়ে পড়েছে, যেমন ভিড়ের (৪) কারণে কিংবা সালাতের কথা ভুলে যাওয়ার কারণে, সূরা ফাতিহা পাঠ ভুলে যাওয়ার কারণে নয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এর ওপর আলী শাবরামাল্লিসী (ع ش) টীকা লিখেছেন: তাঁর উক্তি 'সূরা ফাতিহা পাঠ ভুলে যাওয়ার কারণে নয়'—এটি সালাত থেকে সতর্কতা স্বরূপ (محترز); অর্থাৎ সে ওজরপ্রাপ্ত হিসেবে পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি বলে গণ্য হবে না। বরং যখনই তার ফাতিহার কথা মনে পড়বে, তখনই তার জন্য পিছিয়ে থাকা এবং তা পাঠ করা ওয়াজিব হবে। যদি ইমাম দুটি শারীরিক রুকন শেষ করার আগেই সে ফাতিহা শেষ করে ফেলে তবে তো হলোই, অন্যথায় (ইমামের থেকে) আলাদা হয়ে যাওয়া ওয়াজিব হবে। অন্যথায় যদি সে তা না করে যতক্ষণ না ইমাম সিজদার জন্য ঝুঁকে পড়েন, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে, যেমনটি [পৃষ্ঠা ১৯০/খ] বিনা ওজরে পিছিয়ে পড়া প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে আল-যিয়াদী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কিরাত ভুলে যাওয়া সালাত ভুলে যাওয়ার মতোই, যেমনটি শামস আল-রামলী 'ফাদলুল মুতাবাআত'-এ উল্লেখ করেছেন, যা এখানে তাঁর বক্তব্যের বিপরীত। কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'ফাতিহা পাঠের জন্য নয়' অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে, এমতাবস্থায় তাঁর দুই বক্তব্যের মাঝে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। আর যদি বৈপরীত্য মেনে নেওয়া হয়, তবে পার্থক্য এভাবে করা সম্ভব যে, সালাত ভুলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে, পক্ষান্তরে কিরাত ভুলে যাওয়া বিরল। (৫)। যদি মুক্তাদী ইমামের সাথে রুকুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মনে করতে না পারে যে সে ফাতিহা ছেড়ে দিয়েছে, তবে কিরাত পাঠের জন্য পুনরায় কিয়ামে ফিরে আসা জায়েজ হবে না; বরং সে ইমামের অনুসরণ করবে এবং তার এই রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে, যা সালামের পর পুনরায় আদায় করে নিতে হবে। এ বিষয়ে সন্দেহের মাসআলায় ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই প্রযোজ্য। আর এ সবই আমার এই উক্তির মর্ম যে: যদি এই সন্দেহ ও বিস্মৃতি রুকুর পূর্বে এবং ইমামের রুকুর পরে ঘটে, অথবা এর বিপরীত হয়, অথবা উভয়ের রুকুর পূর্বে হয়; কিন্তু যদি রুকুর পরে হয় তবে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
منهما أي الإمام والمأموم تحصلا بألف (1) الإطلاق أي وجد كل منهما كما مر توضيحه وخرج بالنسيان العمد بأن أحرم موافق وسكت فلم يشتغل بشيء فليس بعذر؛ لأنه ممنوع من الاستماع لقراءة غير الإمام كما قاله النووي والمراد بالمنع هنا الكراهة فالأوجه أنه يتخلف ويشتغل بقراءتها إلى أن يخاف التخلف بمقدار ركنين فعليين بأن يشرع في هوي السجود بحيث يخرج به عن حد القيام فيتعين عليه مفارقته [ق191/أ] بالنية إن بقي عليه شيء منها لإتمامه لبطلان صلاته بشروع الإمام فيما بعده وهذا هو المعتمد.
وقال ابن الرفعة (2): يفارق ويقرأ وبحث شيخ الإسلام (3) في شرح الروض: أنه يقرأ وتجب المفارقة وقت خوفه من السبق والتخلف واعتمده البرماوي (4).
فرع:
لو اشتغل عن القراءة باستماع قراءة إمامه فهو معذور؛ لأنها عباده تتعلق بمصلحة الصلاة ولهذا جرى خلاف في أن الفاتحة لا تجب في الصلاة الجهرية على المأموم، أو غير معذور إلحاقا بمن يشتغل بذكر أو تسبيح عقب دعاء الافتتاح كل محتمل.
--------------------------------------------
তাদের উভয়ের থেকে, অর্থাৎ ইমাম ও মুক্তাদি, 'আলিফ' (১) এর ব্যাপকতা দ্বারা বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে; অর্থাৎ যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে তাদের প্রত্যেকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর ভুলে যাওয়ার বিপরীতে ইচ্ছাকৃতভাবে করার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত নয়; যেমন—মুক্তাদি ইমামের সাথে তাল মিলিয়ে ইহরাম বাঁধল এবং চুপ থাকল কিন্তু কোনো কিছু পাঠে লিপ্ত হলো না, তবে এটি ওজর হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ ইমামের কিরাত চলাকালীন অন্য কিছু শোনা তার জন্য নিষিদ্ধ, যেমনটি ইমাম নববী বলেছেন। আর এখানে নিষেধাজ্ঞা বলতে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) উদ্দেশ্য। তাই অধিকতর সঠিক মত হচ্ছে যে, সে পেছনে থাকবে এবং কিরাত পাঠে লিপ্ত হবে যতক্ষণ না দুটি শারীরিক রুকন পিছিয়ে পড়ার ভয় হয়। যেমন—ইমাম সেজদাহর জন্য ঝুঁকে পড়লেন যার ফলে মুক্তাদি কিয়ামের (দাঁড়ানো) সীমা থেকে বের হয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় যদি কিরাতের কিছু অংশ বাকি থাকে তবে তা পূর্ণ করার জন্য নিয়তের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া তার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা ইমাম পরবর্তী রুকন শুরু করলে মুক্তাদির সালাত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটিই নির্ভরযোগ্য মত।
ইবনে আল-রিফআহ (২) বলেছেন: সে বিচ্ছিন্ন হবে এবং পাঠ করবে। শায়খুল ইসলাম (৩) শারহুর রওজ-এর ব্যাখ্যায় গবেষণা করেছেন যে: সে পাঠ করবে এবং ইমামের থেকে অগ্রগামী হওয়া বা পিছিয়ে পড়ার ভয়ের সময় বিচ্ছিন্ন হওয়া ওয়াজিব। আর আল-বারমাওয়ী (৪) এটিকে নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন।
শাখা মাসআলা:
যদি সে নিজের কিরাত বাদ দিয়ে ইমামের কিরাত শোনার কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে; কারণ এটি সালাতের কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ইবাদত। এই কারণেই এই মতভেদ দেখা দেয় যে, উচ্চস্বরে কিরাত বিশিষ্ট সালাতে মুক্তাদির ওপর সুরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব নয়। অথবা সে ওজরপ্রাপ্ত নয়, সেই ব্যক্তির সাথে সাদৃশ্য রেখে যে দোয়ায়ে ইস্তেফতাহর পরে জিকির বা তাসবিহ পাঠে লিপ্ত হয়; প্রতিটি সম্ভাবনাই বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
فائدة:قال في المصباح: نسيت الشيء أنسيه نسيانا مشترك بين معنيين أحدهما ترك الشيء على ذهول وغفلة وذلك خلاف الذكر له، والثاني الترك على تعمد وعليه (1): {وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ} [البقرة: 237] أي لا تقصدوا الترك ولا الإهمال وتعدي إلى ثان بالهمزة والتضعيف ونسيت ركعة أهملتها (2) غفلة انتهى.
والخامس ما أشرت له بقولي أو أي ومن عن قراءة للفاتحة بسنة كتعوذ ودعاء افتتاح شغل أي اشتغل والحال أنه موافق ظن إدراكا لها أي لقراءة الفاتحة بعد السنة مع الإمام كما نقل عن العلماء وقد ركع إمامه فالأصح من ثلاثة [ق191/ب] أوجه ذكرها ابن العماد في القول التمام أنه معذور كبطيء القراءة فيأتي فيه ما مر فيختلف (3) لقراءتها أو إتمامها ويلحق إمامه فيما هو فيه فإن خالف ولم يتمها بل ركع عامدا عالما بطلت صلاته؛ لتركه القراءة عمدا كما أشار إليه في شرح المهذب (4) وأورد على أن تعبيرهم بسنة أنه يقتضي أنه إذا لم يندب له دعاء الافتتاح لا يكون معذورا إذا اشتغل به وليس كذلك بل هو معذور وعبارة الرملي وابن حجر واللفظ للثاني: وظاهر (5) كلامهم هنا عذره وإن لم يندب له دعاء الافتتاح لو اشتغل به كما هو المعتمد وحينئذ يشكل بما مر في تارك الفاتحة متعمدا إلا أن يُفَرَّقَ بأن له هنا نوع شبهة لاشتغاله بصورة سنة بخلافه فيما مر وأيضا فالتخلف لإتمام الفاتحة أفحش منه هنا ويشكل أيضا بما يأتي في المسبوق مع أن سبب عدم عذره كونه اشتغل بالسنة عن الفرض إلا أن يفرق بأن المسبوق يتحمل عنه الإمام فاحتيط له بأن لا يكون صرف شيئا لغير الفرض والموافق لا يتحمل عنه فعذر للتخلف لإكمال الفاتحة وإن قصر بصرفه بعض الزمن لغيرها لأن تقصيره باعتبار ظنه دون الواقع والحاصل [ق192/أ] من كلامهم أننا بالنسبة للعذر وعدمه ندير الأمر على الواقع وبالنسبة لندب الإتيان بنحو التعوذ ندير الأمر على ظنه انتهى. (6) فإن تحقق فوت الفاتحة إذا اشتغل بالسنة فلا عذر له في التخلف كالبطيء؛ لأنه مقصر بل إن أتم الفاتحة وأدرك الإمام في الركوع وإلا فاتت الركعة وفي بطلان صلاته وجهان أصحهما لا تبطل إن أدركه في الاعتدال فأن لم يدرك معه الاعتدال بطلت صلاته. انتهى والوجه الثاني من الأوجه الثلاثة أن يركع مع الإمام وتسقط عنه القراءة وتحسب له الركعة وهو نصه في الإملاء (7) كما أفاده البندبيجي (8) وعليه فلو اشتغل
--------------------------------------------
উপযোগিতা:‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আমি বিষয়টি ভুলে গিয়েছি’ (نسيت الشيء) শব্দটির দুটি অর্থ হতে পারে। প্রথমটি হলো, অমনোযোগিতা ও অসতর্কতাবশত কোনো কিছু ত্যাগ করা, যা স্মরণে রাখার বিপরীত। দ্বিতীয়টি হলো, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কিছু ত্যাগ করা; আর এই অর্থেই আল্লাহ তাআলার বাণী (১): {তোমরা নিজেদের মধ্যে সৌজন্যবোধ ভুলে যেও না} [বাকারা: ২৩৭], অর্থাৎ তোমরা এটি ত্যাগ করার বা উপেক্ষা করার ইচ্ছা করো না। এটি ‘হামজাহ’ এবং ‘তাসদিদ’ যোগে দ্বিকর্মক ক্রিয়া হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ‘আমি এক রাকাত ভুলে গেছি’ (نسيت ركعة) মানে হলো অসতর্কতাবশত আমি তা ত্যাগ করেছি (২)। ইতি।
পঞ্চম বিষয়টি হলো, যা আমি আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি: ‘অথবা যে ব্যক্তি সুন্নাহ (سنة) পালনের কারণে সূরা ফাতিহা পড়া থেকে বিরত থাকে’। যেমন—তাআউউয (আউযুবিল্লাহ পড়া) এবং সানা বা প্রারম্ভিক দোয়ার মাধ্যমে ব্যস্ত থাকা। এমতাবস্থায় সে এমন এক ব্যক্তি যে ইমামের সাথে শুরু থেকে নামাজে শরিক হয়েছে অর্থাৎ মুওয়াফিক (موافق), যে ধারণা করেছিল যে সুন্নাহ (سنة) পালনের পর সে ইমামের সাথে ফাতিহা পড়ার সময় পাবে, যেমনটি উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে তার ইমাম রুকুতে চলে গেছেন। এমতাবস্থায় ইবনুল ইমাদ ‘আল-কওলুত তামাম’ গ্রন্থে বর্ণিত তিনটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) [পৃষ্ঠা ১৯১/খ] মতটি হলো—সে ব্যক্তি ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হিসেবে গণ্য হবে, যেমন ধীরগতিতে কিরাত পাঠকারী ব্যক্তি ওজরপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। সুতরাং এক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত নিয়মটি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সে ফাতিহা পড়া বা তা পূর্ণ করার জন্য ইমামের থেকে পেছনে থেকে যাবে (৩) এবং এরপর ইমাম যে অবস্থায় থাকবেন, সেই অবস্থায় তাঁর সাথে মিলিত হবে। তবে সে যদি এই নিয়মের ব্যতিক্রম করে ফাতিহা পূর্ণ না করেই জেনেশুনে ইচ্ছা করে রুকুতে চলে যায়, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ সে ইচ্ছাকৃতভাবে কিরাত বর্জন করেছে, যেমনটি ‘শারহুল মুহাযযাব’ (৪) গ্রন্থে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাদের ‘সুন্নাহ (سنة)’ পরিভাষাটি ব্যবহারের ওপর এই আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে যে, এটি দাবি করে যে যদি তার জন্য সানা পড়া মুস্তাহাব না হয়, তবে সে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হবে না। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়, বরং সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হিসেবেই গণ্য হবে। আল-রামলি এবং ইবনে হাজারের ইবারত বা ভাষ্য হলো—আর শব্দগুলো দ্বিতীয়জনের: আমাদের ফকিহগণের কথার প্রকাশ্য (ظاهر) (৫) অর্থ এই যে, সে ব্যক্তি এখানে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হবে যদিও তার জন্য সানা পড়া মুস্তাহাব না হয়ে থাকে এবং সে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে; আর এটিই নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত। এমতাবস্থায় ইতিপূর্বে বর্ণিত ইচ্ছাকৃত ফাতিহা বর্জনকারীর মাসআলার সাথে এটি সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে। তবে পার্থক্য এই যে, এখানে তার ক্ষেত্রে এক প্রকার সংশয় বা অস্পষ্টতা (Shubha) রয়েছে, যেহেতু সে সুন্নাহ (سنة)-র অনুরূপ একটি কাজে ব্যস্ত ছিল, যা পূর্বের মাসআলায় ছিল না। অধিকন্তু, ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পেছনে থেকে যাওয়া এখানে পূর্বের তুলনায় অধিক যুক্তিযুক্ত। এটি মাসবুক (مسبوق) সংক্রান্ত মাসআলার সাথেও জটিলতা তৈরি করতে পারে, যদিও সেখানে ওজরপ্রাপ্ত না হওয়ার কারণ হলো সে ফরজের (فرض) পরিবর্তে সুন্নাহ (سنة) নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তবে পার্থক্য এই যে, মাসবুক (مسبوق)-এর কিরাতের দায়িত্ব ইমাম বহন করেন, তাই সেখানে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যাতে সে ফরজের (فرض) পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে সময় ব্যয় না করে। কিন্তু মুওয়াফিক (موافق)-এর কিরাতের দায়িত্ব ইমাম বহন করেন না, তাই ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য তাকে পেছনে থাকার অনুমতি বা ওজর (عذر) দেওয়া হয়েছে, যদিও সে সময়ের কিছু অংশ অন্য কাজে ব্যয় করার মাধ্যমে কিছুটা ত্রুটি করেছে; কারণ তার এই ত্রুটি তার ধারণার প্রেক্ষিতে, বাস্তবের প্রেক্ষিতে নয়। ফকিহগণের আলোচনা থেকে যা অর্জিত হয় [পৃষ্ঠা ১৯২/ক] তা হলো—ওজর থাকা বা না থাকার ক্ষেত্রে আমরা বিষয়টিকে বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করি, আর তাআউউয এর মতো সুন্নাহগুলো পাঠ করা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি ব্যক্তির ধারণার ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করি। ইতি (৬)। সুতরাং যদি বিষয়টি নিশ্চিত হয় যে, সুন্নাহ (سنة) পালনে ব্যস্ত থাকলে ফাতিহা ছুটে যাবে, তবে পেছনে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হবে না, যেমনটি ধীরগতিতে পাঠকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ সে ত্রুটি করেছে। বরং সে ফাতিহা পূর্ণ করবে এবং ইমামকে রুকুতে পেলে পাবে, অন্যথায় তার ওই রাকাতটি ছুটে যাবে। তার নামাজ বাতিল হওয়া সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) হলো—যদি সে ইমামকে ই’তিদালের (রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো) মধ্যে পায় তবে নামাজ বাতিল হবে না। আর যদি সে তাকে ই’তিদালের মধ্যে না পায়, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। ইতি। আর তিনটি মতের মধ্যে দ্বিতীয় মতটি হলো—সে ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাবে এবং তার কিরাত পড়ার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যাবে এবং রাকাতটি তার জন্য গণ্য হবে। এটি ‘আল-ইমলা’ (৭) গ্রন্থে ইমাম শাফিঈর নিজস্ব বক্তব্য, যেমনটি আল-বানদানজি (৮) উল্লেখ করেছেন। সেই অনুযায়ী, সে যদি ব্যস্ত থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بإتمام الفاتحة كان متخلفا بلا عذر، فإن سبقه الإمام في الركوع وقرأ هذا المسبوق الفاتحة ثم لحقه في الاعتدال لم يكن مدركا للركعة؛ لأنه لم يتابعه في معظمها صرح به إمام الحرمين والأصحاب (1)، والوجه الثالث أنه يلزمه أن يقرأ من الفاتحة بقدر ما قرأ من الافتتاح لتقصيره بالتشاغل (2) قال ابن العماد وهو الأصح وقول الشيخ أبي زيد المروزي (3) وصححه القفال (4) انتهى.
قال ابن العماد: والقياس أنه لو اشتغل عن الفاتحة بالتأمين والفتح على الإمام [ق192/ب] مجيء الأوجه في الاشتغال بالافتتاح وأولي؛ لأنه اشتغل بسنة خاصة متعلقة بمصلحة الصلاة بخلاف دعاء الافتتاح والتعوذ ثم قال قلت: ليس من المصالح الخاصة بالصلاة انتهى.
…
والسادس ما أشرت إليه بقولي أو أي ومن انتظاره أي لسكتة الإمام بين الفاتحة والسورة ليقرأ فاتحته فيها حصل أي وجد أو حصل انتظاره لسورة بأن غلب على ظنه أنه يقرأ السورة وما الإمام قد فعل شيئا منها بل ركع عقب
--------------------------------------------
সুরা ফাতিহা পূর্ণ করার কারণে সে ওজর ব্যতীত পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হলো। যদি ইমাম তাকে রুকুতে ছাড়িয়ে যান এবং এই মাসবুক ব্যক্তি ফাতিহা পাঠ করে পরে ইমামের সাথে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় মিলিত হয়, তবে সে রাকাতটি লাভকারী হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ সে রাকাতের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ করেনি। ইমামুল হারামাইন এবং আসহাব (মাজহাবের ইমামগণ) এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন (১)। আর তৃতীয় মতটি হলো, ইফতিতাহ (শুরু করার দোয়া) পড়ার কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে তার শিথিলতার জন্য ইফতিতাহ যতটুকু পড়েছে ফাতিহার ততটুকু পড়া তার জন্য আবশ্যক (২)। ইবনুল ইমাদ বলেন, এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح) মত এবং এটিই শায়খ আবু যায়েদ আল-মারওয়াজির বক্তব্য (৩) এবং কাফফাল (৪) একে সহিহ বলেছেন (صححه)। সমাপ্ত।
ইবনুল ইমাদ বলেন: কিয়াস (القياس) বা যুক্তি হলো, যদি সে ফাতিহা ছেড়ে ‘আমীন’ বলা এবং ইমামকে কিরাত মনে করিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে [পৃষ্ঠা ১৯২/খ], তবে ইফতিতাহর ক্ষেত্রে লিপ্ত হওয়ার যে মতগুলো এসেছে তা এখানেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত, বরং এটি অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ সে নামাজের কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সুন্নাত (سنة) পালনে লিপ্ত হয়েছে, যা ইফতিতাহর দোয়া এবং আউযুবিল্লাহ পাঠের মতো নয়। এরপর তিনি বললেন, আমি বলছি: এটি নামাজের সাথে খাস বা বিশেষ কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়। সমাপ্ত।
…
আর ষষ্ঠ বিষয়টি হলো যা আমি আমার বক্তব্যে ‘বা’ অথবা ‘তার অপেক্ষা করা’ শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করেছি, অর্থাৎ ইমামের নীরবতার জন্য অপেক্ষা করা যাতে সে তাতে তার ফাতিহা পড়তে পারে, এমতাবস্থায় সে সুরার জন্য অপেক্ষা করল অর্থাৎ সে পেল বা তার এই প্রবল ধারণা হলো যে ইমাম সুরা পড়বেন, অথচ ইমাম সুরার কিছুই পাঠ করেননি বরং এরপরই রুকুতে চলে গেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفاتحة فإنه يلزمه التخلف ويغتفر له ما مر وهو الأقرب كما ذكره الرملي خلافا للزركشي في قوله بسقوط الفاتحة (1).
تنبيه ما تقرر من عد الانتظار للسكتة والسورة قسما واحدا هو المشهور وبعضهم يجعلها قسمين وحينئذ فيبلغ العدد المذكور خمسة عشر وجها والأمر واضح.
فرع قال الشهاب بن حجر (2) يسن للمأموم ولو في أولى السرية تأخير جميع فاتحته عن جميع فاتحة الإمام إن ظن أنه يقرأ السورة فلو علم أن إمامه يقتصر على الفاتحة أو سورة قصيرة لزمه إن أراد البقاء على متابعته وعلم أنه بعد ركوعه لا يمكنه قراءتها إلا وقد سبق بأكثر من ركنين أن يقرأ الفاتحة مع إمامه فلو لم يقرأ [ق193/أ] حتى ركع الإمام لزمه التخلف لفواتها فإن فرغ منها قبل أن يتم الإمام ركنين فعليين بأن ابتدي هوي السجود وزال عن حد القائم فذاك والأقوى المفارقة جزما على المعتمد.
وقال ابن الرفعة ينوي المفارقة قبل أن يقرأ بمجرد خوفه التخلف بهما (3) فعلم أن محل ندب تأخير فاتحته إن رجي أن إمامه يقرأ السورة أو يسكت بعد الفاتحة قدرا يسعها ومحل ندب سكوت الإمام إذا لم يعلم أن المأموم قرأها معه أو لا يرى قراءتها ذكره العلامة الشيخ سلطان (4).
والسابع ما أشرت له بقولي أو أسرع الإمام في التشهد الأول وقام فكمل المأموم أي فتخلف عن إمامه وأتمه وهو أي والحال أنه أي المأموم ومقتدي به أي لم ينو المفارقة منه حينئذ وقام فوجد الإمام راكعا فإنه يجب عليه أن يتخلف لفاتحته كبطيء القراءة والفرق بين التشهد والسورة حيث لا يتخلف لإتمامها أن السورة لا ضابط لها ويحصل المقصود بآية أو أقل أو أكثر والتشهد مضبوط محدود نقله ابن قاسم عن الرملي (5) وخرج بالتكميل ما لو كان الإمام سريع القراءة وأتي به قبل رفع المأموم رأسه من السجود وقام فينبغي للمأموم متابعته وعدم إتيانه [ق193/ب] بالتشهد في الحالة المذكورة فلو كان تخلف له، كان متخلفا لغير عذر قاله الشبرامسلي (6).
فرع
اشتغل المأموم عن التشهد الأول بالسجود الذي قبله فلما فرغ من السجود وجد الإمام قد تشهد وقام فهل يتشهد ثم يقوم أو يترك التشهد ثم يقوم الذي تحرر أن له ثلاثة أحوال:
--------------------------------------------
সুরা আল-ফাতিহা; সেক্ষেত্রে তার জন্য পেছনে থাকা (التخلف) আবশ্যক এবং যা অতিবাহিত হয়েছে তা তার জন্য মার্জনাযোগ্য। ইমাম রামলি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটিই অধিকতর সঠিক মত, যা ইমাম যারকাশির ফাতিহা রহিত হওয়ার মতের পরিপন্থী (১)।
সতর্কীকরণ: সাকতা (বিরতি) ও সুরার জন্য অপেক্ষা করাকে একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করার যে বিষয়টি স্থির হয়েছে, তা-ই প্রসিদ্ধ (مشهور) মত। কেউ কেউ এগুলোকে দুটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন, আর সেক্ষেত্রে উল্লিখিত সংখ্যা পনেরটি অবস্থায় পৌঁছায়; বিষয়টি সুস্পষ্ট।
শাখা মাসআলা শিহাব বিন হাজার (২) বলেছেন, মুক্তাদির জন্য সুন্নাত হলো—এমনকি সিররি (নিভৃত) নামাজের প্রথম রাকাতেও—তার সম্পূর্ণ ফাতিহা পাঠকে ইমামের সম্পূর্ণ ফাতিহা পাঠের পরে করা, যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে ইমাম সুরা পাঠ করবেন। যদি সে জানে যে তার ইমাম কেবল ফাতিহা বা কোনো ছোট সুরার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন এবং সে যদি ইমামের ইত্তিবা (অনুসরণ) বজায় রাখতে চায় এবং জানে যে ইমাম রুকুতে যাওয়ার পর দুই রুকনের বেশি অতিবাহিত হওয়া ছাড়া তার পক্ষে ফাতিহা পাঠ করা সম্ভব হবে না, তবে তার জন্য ইমামের সাথেই ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। যদি সে [পৃষ্ঠা ১৯৩/ক] ইমাম রুকুতে যাওয়া পর্যন্ত পাঠ না করে, তবে ফাতিহা ছুটে যাওয়ার কারণে তার জন্য পেছনে থাকা (التخلف) আবশ্যক। যদি ইমাম দুটি শারীরিক রুকন পূর্ণ করার আগেই—অর্থাৎ ইমাম সেজদার উদ্দেশ্যে অবনত হওয়া শুরু করা এবং দণ্ডায়মান অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়ার আগেই—সে তা শেষ করতে পারে, তবে তা বৈধ। তবে নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া (مفارقة) অধিক শক্তিশালী মত।
ইবনুল রিফআহ বলেন, দুই রুকন পেছনে পড়ার কারণে সে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (مفارقة) নিয়ত করবে পাঠ শুরু করার আগেই যখনই তার পেছনে পড়ার ভয় হবে (৩)। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মুক্তাদির ফাতিহা পাঠে বিলম্ব করা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্র হলো তখন, যখন আশা করা যায় যে ইমাম সুরা পাঠ করবেন অথবা ফাতিহার পর তার পড়ার উপযোগী সময় পর্যন্ত নীরব থাকবেন। আর ইমামের নীরব থাকা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্র হলো তখন, যখন ইমামের জানা না থাকে যে মুক্তাদি তার সাথে ফাতিহা পড়ছে কি না অথবা মুক্তাদির কিরাত পড়ার আবশ্যকতা ইমামের নিকট স্বীকৃত নয়। আল্লামা শায়খ সুলতান (৪) এটি উল্লেখ করেছেন।
সপ্তম বিষয়টি হলো সেটি যা আমি আমার এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি: "অথবা ইমাম প্রথম তাশাহহুদে দ্রুত করলেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন, আর মুক্তাদি তা সম্পন্ন করল।" অর্থাৎ সে তার ইমামের পেছনে থেকে গেল (التخلف) এবং তাশাহহুদ পূর্ণ করল; আর অবস্থা এই যে সে মুক্তাদি হিসেবেই বহাল ছিল, অর্থাৎ সে তখন ইমাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (مفارقة) নিয়ত করেনি। এরপর সে যখন দাঁড়াল এবং ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, তখন ধীরগতির পাঠকের ন্যায় তার নিজের ফাতিহা পাঠের জন্য পেছনে থাকা (التخلف) ওয়াজিব। তাশাহহুদ ও সুরার মধ্যে পার্থক্য হলো—যেখানে সুরা পূর্ণ করার জন্য পেছনে থাকা (التخلف) যায় না—সুরার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই এবং এক আয়াত বা তার কম-বেশি পড়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়; কিন্তু তাশাহহুদ সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ। ইবনে কাসেম ইমাম রামলি (৫) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। 'পূর্ণ করা'র বিষয়টি থেকে ওই অবস্থাটি বাদ যাবে, যখন ইমাম দ্রুত কিরাত সম্পন্নকারী হন এবং মুক্তাদি সেজদা থেকে মাথা তোলার আগেই ইমাম তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যান; সেক্ষেত্রে মুক্তাদির জন্য ইমামের অনুসরণ করা এবং উল্লিখিত অবস্থায় তাশাহহুদ পাঠ না করাই সমীচীন [পৃষ্ঠা ১৯৩/খ]। এমতাবস্থায় যদি সে তার জন্য পেছনে থাকে (التخلف), তবে সে ওজর ব্যতীত পেছনে থাকা ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে। এটি শাবরামানাল্লিসি (৬) বলেছেন।
শাখা মাসআলা
মুক্তাদি তার পূর্ববর্তী সেজদার কারণে প্রথম তাশাহহুদ থেকে বিরত থাকল। যখন সে সেজদা শেষ করল, তখন দেখল যে ইমাম তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়িয়ে গেছেন। এখন সে কি তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়াবে নাকি তাশাহহুদ ছেড়ে দিয়ে দাঁড়াবে? এ বিষয়ে যা যাচাইকৃত (تحرر) হয়েছে তা হলো, তার জন্য তিনটি অবস্থা রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأول: أن يكون البطؤ للقراءة فتأخر لإتمام الفاتحة وفرغ منها قبل مضي الأركان المعتبرة وأخذ في الركوع وما بعده فلما فرغ من السجود قام الإمام عن هذا التشهد وهذا حكمه واضح في التخلف للتشهد وسقوط الفاتحة عنه إذا قام وركع الإمام.
الثاني: أن يكون إطالة السجود سهوا وغفلة فالأوجه أنه يجلس جلوسا قصيرا ولا يستوعب التشهد؛ لأنه لا يلزمه لحق المتابعة إلا الجلوس دون ألفاظه بدليل أنه لو جلس مع الإمام ساكتا كفاه وإن قام وقد ركع الإمام فهو
كما لو نسي الإقتداء في السجود مثلا وسيأتي أنه كبطيء القراءة المار.
الثالث: أن يكون أطال السجود عمدا وهذا أولى من الحال الثاني بقصر الجلوس وأما سقوط القراءة فلا سبيل إليه جزما؛ لأنه غير معذور بل يبطل تخلفه بركنين فعليين لفحشه [ق194/أ] ويجري فيه ما لو تخلف لقراءة الفاتحة بعد ركوع إمامه (1).
والثامن: ما أشرت إليه بقولي أو نام أي المأموم فيه أي في التشهد الأول متمكنا فأفاق أي استيقظ من نومه فوجدا بألف الإطلاق أي رأى المأموم إمامه يركع فالعذر أي فعذره بدا أي ظهر وثبت فيقوم ويقرأ ويجري على نظم صلاة نفسه كالناسي (2)، كما نقله الرملي عن إفتاء والده، قال: ولا يقال أنه يركع مع الإمام ويتحمل عنه الفاتحة؛ لأنه ليس بمسبوق ولا في حكمه والفرق بينه وبين المزحوم (3) حيث يركع مع إمامه إذا رفع رأسه من السجدة فوجده راكعا إلزامه بما فاته به محل القراءة بخلاف هذا انتهى (4).
…
والتاسع: ما أشرت إليه بقولي أو كان ظن أي المأموم أنه أي أن التشهد الأول أتى به الإمام حالة كون المأموم مختلطا عليه تكبير القيام أي قيام الإمام من الركعة الثانية فظنه المأموم تكبير التشهد فجلس يتشهد ظانا أن الإمام يتشهد فإذا هو في الركعة الثالثة فكبر الإمام للركوع فظنه لقيامها فقام فوجده راكعا فإنه يتخلف ويجري على نظم صلاة نفسه كبطيء القراءة (5).
والعاشر: ما أشرت له بقولي أو كان سمع المأموم تكبير أو وقع أي حصل سواء [ق194/ب] كان إحراما أو غيره وإن قيده بعضهم بالإحرام فظنه أي المأموم وقع من الإمام للركوع فركع أي المأموم والحال أنه لم يكن مكملا لما قرأ أي لقراءة الفاتحة فبان غيره أي فظهر للمأموم أن التكبير لم يكن من الإمام وأنه لم يركع فعاد المأموم للقيام ثانيا وقرأ الفاتحة فإنه يكون معذورا ويجري على نظم صلاة نفسه ويغتفر له ما تقدم (6) لكن هل يعد
--------------------------------------------
প্রথমত: যদি ধীরগতিতে কিরাআত পড়ার কারণে হয়, ফলে সে সুরা ফাতিহা সম্পন্ন করার জন্য দেরি করে এবং গণ্য হওয়ার মতো রুকনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই তা শেষ করে এবং রুকু ও পরবর্তী রুকনগুলোতে লিপ্ত হয়; অতঃপর যখন সে সিজদা থেকে অবসর হয়, তখন ইমাম এই তাশাহহুদ থেকে দাঁড়িয়ে যান। এর বিধান (حكم) তাশাহহুদের জন্য ইমামের থেকে পিছিয়ে পড়া এবং ইমাম দাঁড়িয়ে রুকু করার পর তার থেকে সুরা ফাতিহা রহিত হওয়ার বিধানের মতোই স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ত: সিজদাহ দীর্ঘ করা যদি ভুলবশত (سهو) বা অসাবধানতাবশত (غفلة) হয়; তবে বিশুদ্ধ অভিমত হলো সে অল্প সময় বসবে এবং পূর্ণ তাশাহহুদ পড়বে না। কারণ, অনুসরণের (متابعة) হকের খাতিরে তার জন্য কেবল বসা আবশ্যক, তাশাহহুদের শব্দগুলো উচ্চারণ করা নয়। এর প্রমাণ হলো, সে যদি ইমামের সাথে কেবল চুপচাপ বসে থাকে তবে তাই যথেষ্ট। আর যদি সে দাঁড়িয়ে যায় এবং ইমাম ইতোমধ্যে রুকুতে চলে যান, তবে বিষয়টি এমন হবে
যেমন কেউ যদি সিজদার ক্ষেত্রে অনুকরণ (إقتداء) করতে ভুলে যায়। সামনে আলোচনা আসবে যে, তার হুকুমও ইতিপূর্বে বর্ণিত ধীরগতিতে কিরাআত পাঠকারীর মতোই।
তৃতীয়ত: যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে (عمد) সিজদাহ দীর্ঘ করে; এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থার তুলনায় বসা সংক্ষিপ্ত করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। আর কিরাআত রহিত হওয়ার তো কোনো অবকাশই নেই; কারণ সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) নয়। বরং ফাহেশ বা গুরুতর ত্রুটির কারণে দুটি কর্মগত রুকন (ركن فعلي) পিছিয়ে পড়ার দরুন তার নামাজ বাতিল (يبطل) হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির হুকুম প্রযোজ্য হবে যে তার ইমামের রুকুর পর সুরা ফাতিহা পাঠের জন্য পিছিয়ে থাকে (১)।
অষ্টম: যা আমি আমার এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি: "অথবা ঘুমিয়ে পড়ল", অর্থাৎ মأمূম (مأموم) প্রথম তাশাহহুদের সময় দৃঢ়ভাবে উপবিষ্ট অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ল। অতঃপর সে সজাগ হলো, অর্থাৎ তার ঘুম থেকে জাগল। অতঃপর দেখল (আলিফটি ছন্দের জন্য), অর্থাৎ মأمূম দেখল তার ইমাম রুকু করছেন। এমতাবস্থায় তার ওজর (عذر) প্রকাশিত ও সাব্যস্ত হলো। সুতরাং সে দাঁড়াবে এবং কিরাআত পড়বে এবং ভুলকারীর (ناسي) মতোই নিজের নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে (২)। যেমনটি রামলি তার পিতার ফতোয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এমনটি বলা যাবে না যে সে ইমামের সাথে রুকু করবে এবং ইমাম তার পক্ষ থেকে সুরা ফাতিহার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন; কারণ সে মাসবূক (مسبوق) নয় এবং তার বিধানের অন্তর্ভুক্তও নয়। তার এবং ভিড়ের (৩) কারণে আটকে পড়া ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য হলো—ভিড়ের কারণে আটকে পড়া ব্যক্তি যখন সিজদা থেকে মাথা তোলে এবং দেখে যে ইমাম রুকুতে আছেন, তখন সে ইমামের সাথেই রুকু করে। এর কারণ হলো, কিরাআতের স্থানে যা তার থেকে ছুটে গেছে তা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক করা হয়েছে, কিন্তু আলোচ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন (৪)।
নবম: যা আমি আমার এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি: "অথবা ধারণা করল", অর্থাৎ মأمূম ধারণা করল যে ইমাম প্রথম তাশাহহুদ সম্পন্ন করেছেন। অথচ মأمূম ইমামের দ্বিতীয় রাকাতের দাঁড়ানোর তাকবিরের (تكبير) ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে ছিল। অর্থাৎ ইমামের দাঁড়ানোকে সে তাশাহহুদের তাকবির মনে করেছিল, ফলে সে তাশাহহুদের জন্য বসল এই ধারণায় যে ইমামও তাশাহহুদ পড়ছেন। অথচ ইমাম তখন তৃতীয় রাকাতে। এরপর ইমাম রুকুর জন্য তাকবির দিলেন, তখন মأمূম সেটাকে দাঁড়ানোর তাকবির মনে করে দাঁড়াল এবং দেখল ইমাম রুকুতে আছেন। এমতাবস্থায় সে পিছিয়ে থাকবে এবং ধীরগতিতে কিরাআত পাঠকারীর মতোই নিজের নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে (৫)।
দশম: যা আমি আমার এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি: "অথবা মأمূম কোনো তাকবির শুনল বা ঘটল", অর্থাৎ কোনো ঘটনা ঘটল, চাই তা ইহরাম (إحرام) বাঁধার তাকবির হোক বা অন্য কিছু, যদিও কেউ কেউ এটাকে ইহরামের সাথেই নির্দিষ্ট করেছেন। মأمূম ধারণা করল যে এটি ইমামের রুকুর তাকবির, ফলে সে রুকু করল। এমতাবস্থায় সে যা পড়ছিল অর্থাৎ সুরা ফাতিহা সম্পন্ন করেনি। এরপর তার কাছে ভিন্ন কিছু প্রকাশ পেল, অর্থাৎ মأمূমের নিকট স্পষ্ট হলো যে তাকবিরটি ইমামের ছিল না এবং ইমাম রুকু করেননি। ফলে মأمূম পুনরায় কিয়ামের (قيام) দিকে ফিরে এল এবং সুরা ফাতিহা পাঠ করল। এমতাবস্থায় সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) বলে গণ্য হবে এবং নিজের নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ক্ষমাযোগ্য হবে (৬)। তবে কি তাকে গণনা করা হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الركوع المذكور قاطعا للموالاة فيستأنف قراءة الفاتحة أو لا وإن طال فيبني عليه فيه نظر والأقرب الثاني لأن ركوعه معذور فيه فأشبه السكوت الطويل سهوا وهو لا يقطع الموالاة (1) نبه على ذلك الشبرامسلي وبقي أيضا ما لو كان مسبوقا أو لا بل يتخلف ويقرأ الفاتحة بقدر ما فاته في ركوعه لتقصيره فيه نظر، والأقرب الثاني أيضا للعلة المذكورة، ولأن العلة في العذر بما في الواقع لا بما في ظنه كما يأتي قاله ع ش (2)، وحينئذ فإن أدرك الركوع أدرك الركعة وإلا فلا ولا تبطل صلاته إلا إن تخلف بركنين فعليين ما لم ينو المفارقة (3).
… [ق195/أ]
والحادي عشر: ما أشرت إليه بقولي أو أي ومن نسي إقتداء بالإمام في سجدته الأولى والأخيرة فركع الإمام قبل يقظته من غفلته ثم لما تذكر وجده راكعا فإنه معذور فيقوم ويتخلف عن إمامه وجوبا ويقرأ الفاتحة كبطيء القراءة وما قيل عن سقوط الفاتحة عنه مفرع على ما اختاره الزركشي من سقوط الفاتحة عن الناسي والأرجح خلافه (4)
والثاني [عشر] (5) ما أشرت إليه بقولي ومن يشك في الزمان الذي أدركه مع الإمام بعد الإحرام هل يسع فاتحة فيكون موافقا فيتخلف ويجري على ترتيب نفسه ما لم يسبق بأكثر من ثلاثة أركان طويلة أو لا يسع ذلك فيكون مسبوقا مع الإمام ويتحمل عنه ما بقي به أي فيه الخلف أي الخلاف بين العلماء وقع أي حصل استظهر ابن حجر أنه يحتاط فيتخلف لإتمامها ولا يدرك الركعة ما لم يدرك الركوع؛ لأنه تعارض في حقه أصلان عدم إدراكها وعدم تحمل الإمام عنه فألزمناه إتمامها رعاية للثاني وفاتته الركعة بعدم إدراك ركوعها رعاية للأول احتياطا فيهما انتهى. وقضية كلام بعضهم أن محل هذا إن لم يحرم عقب إحرام الإمام أو عقب قيامه من ركعته وإلا لم يؤثر شكه وهو [ق195/ب] إنما يأتي على أن العبرة في الموافق بإدراك قدر الفاتحة من قراءة الإمام والمعتمد خلافه كما يأتي والحاصل إن الذي اعتمده م ر (6) في شرحه نقلا عن إفتاء والده: الشاك في الموافقة والسبق وهو في أثناء فاتحته كالموافق يقينا فيتخلف لإتمام الفاتحة ويغتفر له ثلاثة أركان طويلة إلى آخر ما في الموافق وهو المعتمد؛ لأن تحمل الإمام لا يصار إليها إلا بيقين، لأنا علمنا وجوب الفاتحة عليه وشككنا في تحمل الإمام عنه لكونه مسبوقا والأصل عدم علمه وعبارته (7) وهل يلحق به أي بالموافق في سائر أحكامه من شك هل أدرك زمنا يسع الفاتحة
--------------------------------------------
উল্লিখিত রুকু (ركوع) কি মুওয়ালাত বা ধারাবাহিকতা (موالاة) ছিন্নকারী হবে, যার ফলে তিনি পুনরায় সূরা ফাতিহা পাঠ শুরু করবেন নাকি করবেন না? যদিও তা দীর্ঘ হয়, তবে তিনি এর ওপর ভিত্তি করবেন—এ বিষয়ে তাত্ত্বিক অবকাশ রয়েছে। তবে অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো দ্বিতীয়টি; কারণ তাঁর এই রুকু (ركوع) ওজর বা ক্ষমারযোগ্য হিসেবে গণ্য, তাই এটি বিস্মৃতিবশত দীর্ঘ নীরবতার সদৃশ, যা ধারাবাহিকতা (موالاة) ছিন্ন করে না (১)। বিষয়টি আল-শুবরামাল্লিসি স্পষ্ট করেছেন। আরও একটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে যে, যদি সে মাসবুক (مسبوق) হয় অথবা না হয়, বরং সে ইমামের পিছনে থেকে যায় এবং রুকুতে (ركوع) তার ত্রুটির কারণে যতটুকু সময় সে অতিবাহিত করেছে, ততটুকু পরিমাণ ফাতিহা পাঠ করে; তবে এ বিষয়েও তাত্ত্বিক অবকাশ রয়েছে। এক্ষেত্রেও অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো দ্বিতীয়টি, যা উল্লিখিত কারণে। কারণ ওজরের বিষয়টি বাস্তব অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, ব্যক্তির ধারণার ওপর নয়, যেমনটি সামনে আসবে; এটি আলী আল-শুবরামাল্লিসি (২) বলেছেন। এমতাবস্থায়, যদি সে রুকু (ركوع) পায় তবে সে রাকাতটি পেল, অন্যথায় নয়। আর তার নামাজ বাতিল হবে না, যদি না সে ইমাম থেকে পৃথক হওয়ার নিয়ত ব্যতিরেকে দুইটির বেশি সক্রিয় রোকন (ركن) পিছিয়ে পড়ে (৩)।
… [পৃ১৯৫/ক]
এবং একাদশতম: যা আমি আমার এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি ‘অথবা’ অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রথম বা শেষ সিজদায় (سجدة) ইমামের অনুসরণের কথা ভুলে গেল, ফলে তার এই গাফিলতি (غفلة) থেকে জাগ্রত হওয়ার পূর্বেই ইমাম রুকুতে (ركوع) চলে গেলেন, এরপর যখন তার স্মরণ হলো তখন সে ইমামকে রুকু (ركوع) অবস্থায় পেল; এমতাবস্থায় সে ওজরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং সে দাঁড়াবে এবং আবশ্যিকভাবে তার ইমাম থেকে পিছিয়ে থেকে ধীরগতিতে পাঠকারীর ন্যায় সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। আর তার থেকে সূরা ফাতিহা পড়ার আবশ্যকতা রহিত হওয়ার বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তা আল-যারকাশি কর্তৃক নির্বাচিত এই মতের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত যে, বিস্মৃত ব্যক্তির ওপর থেকে ফাতিহা রহিত হয়ে যায়; তবে এর বিপরীত মতটিই অধিকতর সঠিক (أرجح) (৪)।
এবং দ্বাদশতম (৫): যা আমি আমার এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি এবং যে ব্যক্তি ইহরাম বাঁধার পর ইমামের সাথে পাওয়া সময়ের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে যে, তা কি সূরা ফাতিহা পড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল? ফলে সে মুয়াফিক (موافق) হিসেবে গণ্য হয়ে ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পিছিয়ে থাকবে এবং নিজের নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে যতক্ষণ না তিনটি দীর্ঘ রোকন (ركن) দ্বারা ইমাম তাকে ছাড়িয়ে যান। অথবা সেই সময় কি পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে সে ইমামের সাথে মাসবুক (مسبوق) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার অবশিষ্ট কিরাতের ভার ইমাম বহন করবেন? এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ (خلاف) সংঘটিত হয়েছে। ইবনে হাজার স্পষ্ট করেছেন যে, সে সতর্কতামূলকভাবে সূরা ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পিছিয়ে থাকবে এবং রুকু (ركوع) না পাওয়া পর্যন্ত সে রাকাতটি পাবে না। কারণ তার ক্ষেত্রে দুটি মূল নীতি (أصل) এর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে: রাকাতটি না পাওয়া এবং ইমাম তার পক্ষ থেকে ভার বহন না করা। অতএব, দ্বিতীয়টির বিবেচণায় আমরা তাকে ফাতিহা পূর্ণ করা আবশ্যক করেছি এবং প্রথমটির বিবেচনায় রুকু (ركوع) না পাওয়ার কারণে তার রাকাতটি হাতছাড়া হয়েছে; উভয় ক্ষেত্রে এটি সতর্কতা অবলম্বন স্বরূপ করা হয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। কারো কারো বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এর ক্ষেত্র হলো যদি সে ইমামের ইহরামের পরপরই বা রুকু (ركوع) থেকে দাঁড়ানোর পরপরই ইহরাম না বাঁধে। অন্যথায় তার সন্দেহ কোনো প্রভাব ফেলবে না। এবং এটি [পৃ১৯৫/খ] তখনই প্রযোজ্য হবে যখন মুয়াফিকের (موافق) ক্ষেত্রে ইমামের কিরাত থেকে ফাতিহার সমপরিমাণ সময় পাওয়াকে মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মতটি এর বিপরীত, যেমনটি সামনে আসবে। মূলকথা হলো, শামসুদ্দিন আল-রামলি (৬) তাঁর শারহ-এ তাঁর পিতার ফতোয়া থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন: মুয়াফিক (موافق) নাকি মাসবুক (مسبوق) হওয়ার ব্যাপারে যে ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করে এবং সে তখন ফাতিহা পাঠের মাঝপথে রয়েছে, সে নিশ্চিত মুয়াফিকের (موافق) ন্যায় গণ্য হবে। সুতরাং সে ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পিছিয়ে থাকবে এবং মুয়াফিকের (موافق) বিধান অনুযায়ী তার জন্য তিনটি দীর্ঘ রোকন (ركن) পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে এবং এটিই নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত; কারণ নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত ইমামের দায়িত্ব গ্রহণের ওপর নির্ভর করা যাবে না। যেহেতু আমরা তার ওপর ফাতিহা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি জানি এবং সে মাসবুক (مسبوق) হওয়ার কারণে ইমাম তার পক্ষ থেকে তা বহন করবেন কি না সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান, আর মূল নীতি (أصل) হলো উক্ত দায়মুক্তির বিষয়টি সাব্যস্ত না হওয়া। তাঁর ইবারত হলো (৭): আর তাকে অর্থাৎ মুয়াফিককে (موافق) কি তার অন্যান্য আহকামের ক্ষেত্রে তার অন্তর্ভুক্ত করা হবে যে সন্দেহ করে সে কি ফাতিহার সমপরিমাণ সময় পেয়েছে কি না?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لأن الأصل وجوبها في كل ركعة حتى يتحقق سقطها وعدم تحمل الإمام بشيء منها، ولأن إدراك المسبوق الركعة رخصة، وفي معناها فلا تحصل مع الشك في السبب المقتضي له؛ لأن التخلف لقراءتها أقرب إلى الاحتياط من ترك إكمالها وحينئذ فيتأخر ويتم الفاتحة ويدرك الركعة ما لم يسبق بأكثر من ثلاثة أركان طويلة فإن سبق به تابعه فيما هو فيها ثم يأتي بركعة بعد سلامه في ذلك تردد للمتأخرين والمعتمد كما أفتى به الوالد - رحمه الله تعالى-: نعم لما مر وسواء في ذلك أن كان إحرامه عقب إحرام إمامه أو عقب قيامه من ركعة أم لا قاله بعض [ق196/أ] المتأخرين انتهت (1).
فرعان:أحدهما: لو أحرم منفردا جاز له قبل قراءة الفاتحة في أي ركعة الإقتداء بمن في الركوع فتسقط عنه الفاتحة، لكن هذا ظاهر إذا اقتدى به عقب أحرامه، أما لو مضى بعده ما يسع الفاتحة، أو بعضها من غير قراءة فهل تسقط عنه، أو تجب عليه قراءتها في الأول وبعضها في الثاني، وعلى هذا هو في الأولى كالموافق وفي الثانية كالمسبوق، أو كيف الحال فيه نظر انتهى كلام ابن قاسم على ابن حجر.
أقول الأقرب أنه كالمسبوق؛ لأنه لم يدرك معه بعد اقتداءه به ما يسع الفاتحة، ولا نظر لما مضى قبل الإقتداء بعد الإحرام؛ لأنه كان منفردا فيه حقيقة ذكره ع ش (2).
ثانيهما: لو ركع المأموم قبل إتمامه الفاتحة ثم شك هل كان إدراك زمنا يسع الفاتحة فيكون واجب التخلف فتكون الركعة قد فاتته أولا قال شيخنا الطبلاوي (3): فاتت الركعة؛ لأن الأصل وجوب الفاتحة وعدم تحمل الإمام حتى يعلم سبب التحمل؛ لأن ذلك رخصة وهو موافق لإفتاء شيخنا الرملي قاله ابن قاسم (4).
والثالث عشر: ما أشرت إلي بقولي أو أي ومن نذر على نفسه السورة أي قراءة سورة في الصلاة عقب الفاتحة فركع الإمام قبل قراءتها وهو أي والحال أنه [ق196/ب] أي المأموم متخلف يأتي بها فإنه يعذر في هذا التخلف ما لم يسبق بأكثر مما مر نقله (5) الشوبري (6) عن الرملي.
--------------------------------------------
কেননা মূল বিধান (الأصل) হলো প্রত্যেক রাকাতে এর আবশ্যকতা (وجوب), যতক্ষণ না এটি রহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং ইমামের এর কোনো অংশ বহনের দায়িত্ব না থাকা প্রমাণিত হয়। আর মাসবুক (مسبوق) ব্যক্তির রাকাত পাওয়া একটি অবকাশ (رخصة) স্বরূপ; আর অবকাশের হুকুম সেই কারণের উপস্থিতিতে সন্দেহ থাকলে অর্জিত হয় না যা এটি দাবি করে। কেননা ফাতিহা পড়ার জন্য ইমামের অনুসরণ থেকে পিছিয়ে থাকা এটি পূর্ণ না করে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে সতর্কতামূলক আমলের অধিক নিকটবর্তী। এমতাবস্থায় সে বিলম্ব করবে এবং ফাতিহা সম্পন্ন করবে এবং রাকাতটি পাবে, যতক্ষণ না সে ইমামের চেয়ে তিনটি দীর্ঘ রুকনের বেশি পিছিয়ে পড়ে। যদি সে এর চেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ে, তবে ইমাম বর্তমানে সালাতের যে অবস্থায় আছেন তাতে তার অনুসরণ করবে এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর এক রাকাত আদায় করবে। এ বিষয়ে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত হলো যা (আমার) পিতা —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— ফতোয়া দিয়েছেন: হ্যাঁ, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে। আর এ ক্ষেত্রে সে ইমামের ইহরামের পরপরই ইহরাম বাঁধুক কিংবা ইমাম রাকাত থেকে দাঁড়ানোর পর বাঁধুক বা না বাঁধুক—তা সমান; পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম [ক১৯৬/আ] এটিই বলেছেন। সমাপ্ত (১)।
দুটি আনুষঙ্গিক মাসয়ালা:প্রথমটি: যদি কেউ একাকী সালাতের ইহরাম বাঁধে, তবে যেকোনো রাকাতে ফাতিহা পড়ার আগে তার জন্য রুকুতে থাকা ইমামের অনুসরণ করা বৈধ, ফলে তার থেকে ফাতিহা পাঠের বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু এটি তখনই স্পষ্ট যখন সে ইহরাম বাঁধার পরপরই ইমামের অনুসরণ করবে। তবে যদি ইহরামের পর ফাতিহা বা তার কিয়দাংশ পড়ার মতো সময় অতিবাহিত হয় অথচ সে কিছু না পড়ে, তবে কি তা তার থেকে রহিত হবে, নাকি প্রথম অবস্থায় পুরো ফাতিহা এবং দ্বিতীয় অবস্থায় তার কিয়দাংশ পড়া তার জন্য আবশ্যক (واجب) হবে? এ ভিত্তিতে সে প্রথম অবস্থায় মুয়াফিক (موافق) এবং দ্বিতীয় অবস্থায় মাসবুক (مسبوق)-এর ন্যায় গণ্য হবে কি না, অথবা বিষয়টি কেমন হবে—তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। ইবনে হাজার-এর ওপর ইবনে কাসিমের আলোচনা এখানেই শেষ।
আমি বলি, অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো সে মাসবুক (مسبوق)-এর মতো; কারণ সে ইমামের অনুসরণের পর ফাতিহা পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পায়নি। আর অনুসরণের আগে ইহরাম বাঁধার পর যে সময় অতিবাহিত হয়েছে তার কোনো ধর্তব্য নেই; কারণ সে সময় সে প্রকৃতপক্ষে একাকী নামাজি ছিল। এটি আজ-জিয়াদি (ع ش) উল্লেখ করেছেন (২)।
দ্বিতীয়টি: যদি মুক্তাদি ফাতিহা সম্পন্ন করার আগেই রুকুতে চলে যায়, অতপর সন্দেহ করে যে সে কি ফাতিহা পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল যার ফলে পিছিয়ে থাকা আবশ্যক (واجب) হতো এবং রাকাতটি তার থেকে ছুটে যেত কি না? আমাদের শায়খ তাবলাওয়ি (৩) বলেছেন: রাকাতটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। কারণ মূল বিধান (الأصل) হলো ফাতিহার আবশ্যকতা (وجوب) এবং ইমামের পক্ষ থেকে তা বহন না করা, যতক্ষণ না বহন করার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়; কারণ এটি একটি অবকাশ (رخصة)। এটি আমাদের শায়খ রামলির ফতোয়ার সাথে সংগতিপূর্ণ, যা ইবনে কাসিম (৪) বলেছেন।
ত্রয়োদশ: যা আমি আমার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি— অথবা যে ব্যক্তি নিজের ওপর ফাতিহার পর কোনো সূরা পাঠের মানত করেছে, এমতাবস্থায় সে সূরা পড়ার আগেই ইমাম রুকুতে চলে গেলেন। এমতাবস্থায় সে অর্থাৎ মুক্তাদি [ক১৯৬/ই] পিছিয়ে থেকে তা আদায় করবে। কেননা তার এই পিছিয়ে থাকা ওজর হিসেবে গণ্য হবে, যতক্ষণ না সে পূর্বে বর্ণিত সীমার চেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ে। শুবরি (৬) এটি রামলি থেকে বর্ণনা (نقل) (৫) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والرابع عشر: ما أشرت إليه بقولي أو من شك في ترك بعض حروف الفاتحة، أو بعض كلماتها أثنائها أي وهو في أثنائها أي قبل فراغها بأن أنه أتى بجميع الحروف، أو الكلمات، أو بعضها، فإنه يجب أن يرجع إليه ويأتي به وهو معذور، فيغتفر له ما مر ثم إن كان في الكلمة الأخيرة أعادها وإن كان فيما قبلها وجب استئنافها؛ لأن تخلل الذكر يقطع الموالاة، فإن شك بعد الفراغ منها لم يجب عليه إعادتها كما نقله في شرح المهذب عن الشيخ أبي محمد (1)؛ لأن الظاهر مضيها تامة، ولأن حروفها تكثر فيعسر على القارئ ضبطها واستحضارها فاكتفي فيه بغلبة الظن بخلاف بقية الأركان، وقياس التشهد على الفاتحة في ذلك واضح (2) وفي حاشية أستاذنا العجيلي (3) على المنهج: "فرع لو شك بعد فراغ الفاتحة في بعضها لم يفرق مثلها في ذلك التشهد قاله الزركشي، قال شيخنا ابن حجر في شرح الإرشاد (4)، وكذا سائر الأركان فيما يظهر، وكذا سائر الأركان فيما يظهر، فلو شك في السجود مثلا من أصله لزمه الإتيان به، أو بعده في نحو وضع اليد لم يلزمه شيء للعلة [ق197/أ] المذكورة أي وهو أن الظاهر مضيها تامة واعتمد م ر أنه لا يضر في الفاتحة ومثلها التشهد بخلاف ما عدا ذلك من الأركان القولية كالتكبير والسلام والأفعال؛ لأنه علل بأن القول الكثير متفاصل الأجزاء الكثيرة فيكثر الشك فيه فيخفف فيه انتهى. (5) سم (6) بالحرف.
--------------------------------------------
এবং চতুর্দশ: আমি যা আমার উক্তিতে ইশারা করেছি যে, অথবা যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহার কিছু অক্ষর বা কিছু শব্দ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে এর তিলাওয়াতের মাঝখানে সন্দিহান হয়, অর্থাৎ সে যখন এর মাঝখানে রয়েছে তথা তা শেষ করার পূর্বে, এই মর্মে যে—সে কি সমস্ত অক্ষর বা শব্দ আদায় করেছে নাকি এর কিছু অংশ? সেক্ষেত্রে তার জন্য (সন্দিহান অংশে) ফিরে যাওয়া এবং তা আদায় করা আবশ্যক। সে এক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে, ফলে যা অতিবাহিত হয়েছে তা ক্ষমাযোগ্য। অতঃপর যদি সন্দেহটি শেষ শব্দের ক্ষেত্রে হয়, তবে সে তা পুনরায় পাঠ করবে; আর যদি তার পূর্বের কোনো শব্দের ক্ষেত্রে হয়, তবে (সেখান থেকে) নতুন করে শুরু করা ওয়াজিব; কারণ অন্য জিকিরের অনুপ্রবেশ ধারাবাহিকতাকে (الموالاة) বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যদি সুরা ফাতিহা শেষ করার পর সন্দেহ হয়, তবে তা পুনরায় পাঠ করা তার জন্য ওয়াজিব নয়, যেমনটি শারহুল মুহাজ্জাব-এ শেখ আবু মুহাম্মাদ (১) থেকে বর্ণনা (نقله) করা হয়েছে; কারণ বাহ্যত তা পূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আর যেহেতু এর অক্ষরসমূহ অনেক বেশি, তাই পাঠকের জন্য তা সঠিকভাবে আয়ত্ত করা ও স্মরণ রাখা কষ্টসাধ্য; তাই এক্ষেত্রে প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা নামাজের অন্যান্য রুকনসমূহের (الأركان) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এবং এ ক্ষেত্রে তাশাহহুদকে সুরা ফাতিহার ওপর কিয়াস (قياس) করা সুস্পষ্ট (২)। আল-মানহাজ-এর ওপর আমাদের উস্তাদ আল-উজাইলি (৩)-এর হাশিয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "একটি শাখা মাসয়ালা: যদি সুরা ফাতিহা শেষ করার পর এর কোনো অংশের ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে অনুরূপ ক্ষেত্রে তাশাহহুদ ও এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হবে না—এ কথা ইমাম যারকাশি বলেছেন। আমাদের শেখ ইবনে হাজার শারহুল ইরশাদ (৪)-এ বলেছেন যে, বাহ্যত অন্যান্য রুকনসমূহও (الأركان) একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কেউ যদি সিজদার মূল অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়, তবে তা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক। কিন্তু সিজদার পরবর্তী কোনো কার্যে যেমন হাত রাখার মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে উল্লিখিত কারণে কিছুই আবশ্যক হবে না [পৃষ্ঠা ১৯৭/ক]। অর্থাৎ বাহ্যত তা পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। ইমাম ম. র. (م ر) এই মতের ওপর নির্ভর করেছেন যে, সুরা ফাতিহা এবং অনুরূপভাবে তাশাহহুদের ক্ষেত্রে (পরবর্তী সন্দেহ) কোনো ক্ষতি করে না। তবে অন্যান্য বাচনিক রুকনসমূহ (الأركان القولية) যেমন তকবীরে তাহরিমা, সালাম এবং শারীরিক রুকনগুলোর বিষয়টি ভিন্ন। কারণ তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ উক্তি যা অনেকগুলো অংশে বিভক্ত, তাতে সন্দেহের উদ্রেক বেশি হয়, তাই এতে শিথিলতা প্রদান করা হয়েছে। সমাপ্ত। (৫) সিম (৬) দ্বারা ইবনে কাসিমকে বোঝানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولو شك قبل فراغ الكلمة في أنه أتى بحروفها على الوجه المطلوب فيها من نحو الهمس والرخاوة فأعادها ليأتي بها على الوجه المطلوب فإنه من الوسوسة الظاهرة فيما يظهر وقد تقدم حكمها (1).
خذ أيها الطالب لهذه المسائل أي افهم أو حصل مسائل عدة بكسر العين المهملة أي محدودة ثلاثة عشر أو أكثر أو أقل على ما مر ذكرتها لك واضحة أي ظاهرة عددا وحكما كما مر وفي نسخة راجحة أي مائلة إلى (2) الصحة والوضوح.
واعلم أن الخلاف المذكور في عدها إنما هو بحسب الإطلاع وعدمه أو بحسب ما أريد الاقتصار عليه لا لكون من اقتصر على عدد نظما أو نثرا حكم بتضعيف ما سواه لما مر أنها كلها معتمدة فلا منافاة بين هذه الأعداد الأحد عشر والأكثر والله أعلم.
هذا أي افهم هذا الذي ذكرته لك وأقول لك [ق197/ب] أيضا أنه في تعريف الموافق لإمامه الخلف أي
الاختلاف وقع أي حصل بين العلماء على قولين فقيل: أي فقال بعضهم هو من أدرك بعد إحرامه مع إمامه مدة من الزمان تسع فاتحة (3) أي قراءتها لكن بالوسط المعتدل أي بالنسبة للقراءة المعتدلة لغالب الناس في العرف
وقولي مع الإمام متعلق بإدراك وهو أي المذكور من القول بأن الموافق هو من أدرك ما ذكر والقول بأن قراءته بالوسط المعتدل راجح أي مائل إلى الصواب عن مقابله جلي أي ظاهر الرجحان كما بينه ابن حجر في شرح الإرشاد.
ومقابل الثاني أعني القول بالوسط المعتدل قولان:
أحدهما أنه بالنسبة لقراءة الشخص نفسه ورجحه الزركشي وهو مرجوح لما يلزم على كلامه أن بطيء القراءة إذا لم يشتغل بغير الفاتحة وأدرك زمنا يسعها بالنظر للوسط المعتدل يكون مسبوقا لا موافقا لأنه لم يدرك زمنا يسعها من قراءة نفسه وكيف يتصور تخلفه لإتمام الفاتحة حتى يغتفر له ثلاثة أركان طويلة مع أنه لم يشتغل بغير الفاتحة ومع كونه أدرك زمنا يسعها وتخلفه لإتمامها [ق198/أ]؛ لأن الوسع لم يغتفر فيه قراءة نفسه فظهر أن الأوجه الأول انتهى.
وثانيهما أنه بالنسبة لقراءة إمامه وهو مرجوح أيضا لما يلزم عليه أن الشاك في السبق والموافقة يلزمه الاحتياط فيتخلف لإتمام الفاتحة لكن لإدراك الركعة (4) كما استوجهه ابن حجر قال: لأنه تعارض في حقه أصلان عدم
--------------------------------------------
যদি কেউ শব্দ শেষ করার আগেই এই মর্মে সন্দেহে পতিত হন যে, তিনি এর অক্ষরগুলো যথাযথ পদ্ধতিতে (যেমন: হামস ও রাখাওয়াহ্) আদায় করেছেন কি না, অতঃপর যথাযথভাবে আদায়ের লক্ষ্যে তা পুনরায় পাঠ করেন, তবে তা স্পষ্ট ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) হিসেবে গণ্য হবে বলে প্রতীয়মান হয় এবং এর বিধান পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (১)।
হে এই মাসআলাসমূহের অন্বেষী, তুমি গ্রহণ করো—অর্থাৎ বুঝে নাও বা অর্জন করো—‘ইদ্দাহ’ (عدة - ‘আইন’ বর্ণে কাসরা বা যের সহযোগে) অর্থাৎ নির্ধারিত তেরটি বা তার বেশি অথবা কম কিছু মাসআলা, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি সেগুলো তোমার নিকট সংখ্যা ও বিধানের দিক থেকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, যেমনটি আগে গত হয়েছে। আর একটি অগ্রগণ্য (راجحة) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে—অর্থাৎ যা বিশুদ্ধতা ও স্পষ্টতার দিকে ধাবিত (২)।
জেনে রাখুন যে, এই মাসআলাগুলোর গণনার ক্ষেত্রে যে মতভেদ উল্লেখ করা হয়েছে, তা কেবল অবগত হওয়া বা না হওয়ার ভিত্তিতে, অথবা যতটুকু সীমাবদ্ধ রাখার ইচ্ছা করা হয়েছে সেই অনুযায়ী। বিষয়টি এমন নয় যে, যারা পদ্যে বা গদ্যে কোনো একটি সংখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, তারা অবশিষ্টগুলোকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করেছেন; কারণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এর সবগুলোই নির্ভরযোগ্য। সুতরাং এই এগারো বা তার অধিক সংখ্যার বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
এটি অর্থাৎ আমি তোমাকে যা বর্ণনা করেছি তা বুঝে নাও। আমি তোমাকে আরও বলছি যে [পৃষ্ঠা ১৯৭/খ], ইমামের অনুগামী (মুওয়াফিক) ব্যক্তির সংজ্ঞায় ‘খালাফ’ অর্থাৎ আলেমদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যা দুটি মতের (قولين) ওপর ভিত্তি করে। বলা হয়েছে—অর্থাৎ তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইমামের সাথে ইহরাম বাঁধার পর এমন পরিমাণ সময় পেয়েছেন যাতে ফাতিহা (৩) অর্থাৎ তার কিরাত পাঠ করা সম্ভব হয়, তবে তা হতে হবে মধ্যম মানের গতিতে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত কিরাতের গড় গতির হিসেবে।
এবং আমার বক্তব্য ‘ইমামের সাথে’ শব্দটি ‘পাওয়া’ বা অনুধাবন করার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটি—অর্থাৎ উল্লিখিত মত যে, অনুগামী (মুওয়াফিক) হলেন তিনি যিনি উক্ত সময়টুকু পেয়েছেন এবং কিরাত মধ্যম মানের হওয়ার বিষয়টি—অধিক সঠিকের দিকে ধাবিত বা অগ্রগণ্য (راجح), যা এর বিপরীত মতের তুলনায় সুস্পষ্টভাবে শ্রেষ্ঠত্ব রাখে; যেমনটি ইবনে হাজার ‘শারহুল ইরশাদ’-এ বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় মতটির বিপরীতে—অর্থাৎ মধ্যম মানের কিরাতের প্রবক্তাদের বিপরীতে—দুটি মত রয়েছে:
তার একটি হলো, এটি স্বয়ং ব্যক্তির কিরাতের গতির ওপর নির্ভর করে এবং একেই যারকাশী প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে এই মতটি দুর্বল (مرجوح); কারণ তার এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে যা আবশ্যক হয় তা হলো—ধীর গতির কিরাত পাঠকারী ব্যক্তি যদি ফাতিহা ছাড়া অন্য কোনো আমলে লিপ্ত না হন এবং মধ্যম মানের কিরাত অনুযায়ী ফাতিহা পাঠের পর্যাপ্ত সময় পান, তবে তিনি ‘মাসবুক’ (পিছিয়ে পড়া) হিসেবে গণ্য হবেন, ‘মুওয়াফিক’ (অনুগামী) হিসেবে নয়। কারণ তিনি নিজের কিরাতের গতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সময় পাননি। এমতাবস্থায় ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য তার ইমামের থেকে পিছিয়ে থাকা কীভাবে কল্পনা করা যায় যে তার জন্য দীর্ঘ তিনটি রুকন পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে? অথচ তিনি ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছুতে লিপ্ত হননি এবং তিনি এমন সময় পেয়েছেন যা (মধ্যম গতিতে) পর্যাপ্ত ছিল, তবুও তার নিজের কিরাতের গতির হিসেবে তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে তাকে ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে [পৃষ্ঠা ১৯৮/ক]; যেহেতু পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব কিরাতের গতি বিবেচনা করা হয়নি। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়টি হলো, এটি তার ইমামের কিরাতের গতির ওপর নির্ভরশীল এবং এটিও দুর্বল (مرجوح)। কারণ এর ফলে যা আবশ্যক হয় তা হলো—যে ব্যক্তি মাসবুক না কি মুওয়াফিক এ বিষয়ে সন্দেহে পতিত হন, তার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, ফলে তিনি ফাতিহা পূর্ণ করার জন্য ইমামের থেকে পিছিয়ে থাকেন কিন্তু তা কেবল রাকাত পাওয়ার (৪) উদ্দেশ্যে; যেমনটি ইবনে হাজার সমীচীন মনে করেছেন। তিনি বলেছেন: কারণ তার ক্ষেত্রে দুটি মূলনীতির মাঝে বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে—অনুপস্থিতি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إدراكهما وعدم تحمل الإمام عنه فألزمناه إتمامها رعاية للثاني وفاتته الركعة بعدم إدراك ركوعها رعاية للأول احتياطا فيهما وقد تقدم أن المعتمد خلافه (1).
ومقابل الأوجه أعني أن الموافق ما ذكر أيضا قولان: قيل أي قال بعض شراح المنهاج الموافق هو من أي الذي بعد تحرم الإمام أحرما بألف الإطلاق أي أتى بتكبيرة الإحرام وهذا قول أول أو هو من أحرم بعد أن قام أي الإمام من ركعته وهذا قول ثان وضعفوهما أي ضعف العلماء هذين القولين أي القول بأنه من أحرم بعد قيامه؛ لما يلزم على الأول أن أحكام الموافق والمسبوق لا تكون إلا في الركعة الأولى وهو خلاف ما صرحوا من تأتيها في كل الركعات، ألا ترى أن الساعي على [ق198/ب] ترتيب نفسه كبطيء النهضة إذا فرغ من سعيه على ترتيب نفسه فإن أدرك مع الإمام زمنا يسع الفاتحة فموافق وإلا فمسبوق (2)، وعلى الثاني من أنه لم يدرك الركعة من أولها لا يكون موافقا، وإن أدرك زمنا يسع الفاتحة وهو فاسد.
فائدة التعبير بقيل في جانب القول الثاني على بابه أي من أن صيغة قيل للتضعيف كما عرفت، وفي جانب القول الأول ليس على بابه بل بمعنى القول، وقد ذكر بعض شراح الشفا أن كلمة قيل قد يؤتى بها عند اتفاق العلماء على القول.
وضده أي وضد الموافق المسبوق في أي على القولين السابقين أي القول بأن الموافق هو من أدرك مدة إلخ، والقول بأنه من أحرم مع الإمام إلخ، فعلى الأول المسبوق من لم يدرك مدة مع الإمام تسع الفاتحة بالوسط المعتدل ولو كان في الركعة الأولي وعلى الثاني هو من لم يدرك الإحرام مع إمامه أو بعد قيامه من ركعته.
وقد وقع في اليقين أي في اشتراط التيقين (3) وعدمه الخلف أي الاختلاف في تعريف هذين أي الموافق والمسبوق فعند الرملي: من أدرك ما مضى ولو احتمالا وعند ابن حجر هو من أدرك ذلك يقينا ويترتب عليه مسألة الشك [ق199/أ] في السبق والموافقة المتقدم ذكرها وكذا يقال في تعريف المسبوق.
ثم شرعت في أحكام تتعلق بالمسبوق مناسبة لما مر فقلت وسن بالبناء للمجهول للمسبوق والمراد به هنا من لم يدرك أول الصلاة مع الإمام كما صرح بذلك الشهاب بن قاسم، لا من لم يدرك زمنا يسع الفاتحة، بدليل أنهم جعلوا من أقسامه من أدرك ذلك كما سيشير إليه قولي: ما لم يظن بعده إدراكها، أن لا يشتغل بعد تحرمه بسنة كدعاء الافتتاح وتعوذ عن أم قران وهي الفاتحة سميت بذلك؛ لأنها مفتتحه ومبدؤه فكأنها أصله ومنشاؤه؛ لأنها جمعت معانيه كلها فكأنها نسخة مختصرة، وكأن القرآن كله بعدها تفصيل لها وذلك؛ لأنها جمعت الإلهيات في: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 2، 3]، والدار الآخرة في: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة:4]
--------------------------------------------
إدراكهما وعدم تحمل الإمام عنه فألزمناه إتمامها رعاية للثاني وفاتته الركعة بعدم إدراك ركوعها رعاية للأول احتياطا فيهما وقد تقدم أن المعتمد خلافه (1).
তাদের উভয়কে পাওয়া এবং ইমামের পক্ষ থেকে তা বহন না করা; তাই দ্বিতীয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা তাকে তা পূর্ণ করতে বাধ্য করেছি, আর প্রথমটির প্রতি সতর্কতাস্বরূপ রুকূ’ না পাওয়ার কারণে তার রাকাতটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। আর ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য (معتمد) মতটি এর পরিপন্থী (১)।
ومقابل الأوجه أعني أن الموافق ما ذكر أيضا قولان: قيل أي قال بعض شراح المنهاج الموافق هو من أي الذي بعد تحرم الإمام أحرما بألف الإطلاق أي أتى بتكبيرة الإحرام وهذا قول أول أو هو من أحرم بعد أن قام أي الإمام من ركعته وهذا قول ثان وضعفوهما أي ضعف العلماء هذين القولين أي القول بأنه من أحرم بعد قيامه؛ لما يلزم على الأول أن أحكام الموافق والمسبوق لا تكون إلا في الركعة الأولى وهو خلاف ما صرحوا من تأتيها في كل الركعات، ألا ترى أن الساعي على [ق198/ب] ترتيب نفسه كبطيء النهضة إذا فرغ من سعيه على ترتيب نفسه فإن أدرك مع الإمام زمنا يسع الفاتحة فموافق وإلا فمسبوق (2)، وعلى الثاني من أنه لم يدرك الركعة من أولها لا يكون موافقا، وإن أدرك زمنا يسع الفاتحة وهو فاسد.
বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে—অর্থাৎ 'অনুগামী (موافق)' কে—এ বিষয়েও দুটি অভিমত রয়েছে: বলা হয়েছে যে, অর্থাৎ মিনহাজ-এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার বলেছেন, অনুগামী (موافق) হলো সেই ব্যক্তি যে ইমামের তাহরিম বা তাকবীরে তাহরিমার পরপরই ইহরাম বেঁধেছে, অর্থাৎ সে তাকবীরে তাহরিমা আদায় করেছে—এটি প্রথম অভিমত। অথবা সে ওই ব্যক্তি যে ইমাম তার রাকাত থেকে দাঁড়ানোর পর ইহরাম বেঁধেছে—এটি দ্বিতীয় অভিমত। আলেমগণ এই অভিমত দুটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন; অর্থাৎ ইমামের দাঁড়ানোর পর ইহরাম বাঁধার বিষয়টি। কারণ প্রথম অভিমত গ্রহণ করলে এ কথা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, অনুগামী (موافق) এবং মসবুক (مسبوق)-এর বিধান কেবল প্রথম রাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, অথচ আলেমগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে এটি সকল রাকাতেই প্রযোজ্য হতে পারে। আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি স্বীয় ক্রম অনুযায়ী সালাত আদায় করে [ফোলিও ১৯৮/খ], যেমন ধীরগতিতে ওঠা ব্যক্তি; সে যখন নিজের ক্রম অনুযায়ী কাজ শেষ করে এবং ইমামের সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ করার মতো সময় পায়, তবে সে অনুগামী (موافق); অন্যথায় সে মসবুক (مسبوق) (২)। আর দ্বিতীয় অভিমত অনুযায়ী, যে ব্যক্তি রাকাতের শুরু থেকে পায়নি সে অনুগামী (موافق) হবে না, যদিও সে সূরা ফাতিহা পাঠ করার মতো পর্যাপ্ত সময় পায়; আর এই ধারণাটি অসার।
فائدة التعبير بقيل في جانب القول الثاني على بابه أي من أن صيغة قيل للتضعيف كما عرفت، وفي جانب القول الأول ليس على بابه بل بمعنى القول، وقد ذكر بعض شراح الشفا أن كلمة قيل قد يؤتى بها عند اتفاق العلماء على القول.
দ্বিতীয় অভিমতের ক্ষেত্রে 'ক্বিলা' (বলা হয়েছে) শব্দ ব্যবহারের সার্থকতা হলো এর ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী, অর্থাৎ 'ক্বিলা' শব্দটি দুর্বল (تضعيف) করার জন্য ব্যবহৃত হয় যেমনটি আপনি জানেন। আর প্রথম অভিমতের ক্ষেত্রে এটি তার বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, বরং কেবল 'অভিমত' অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। শিফা-এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বিষয়ে আলেমদের ঐক্যমত (اتفاق) থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে 'ক্বিলা' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
وضده أي وضد الموافق المسبوق في أي على القولين السابقين أي القول بأن الموافق هو من أدرك مدة إلخ، والقول بأنه من أحرم مع الإمام إلخ، فعلى الأول المسبوق من لم يدرك مدة مع الإمام تسع الفاتحة بالوسط المعتدل ولو كان في الركعة الأولي وعلى الثاني هو من لم يدرك الإحرام مع إمامه أو بعد قيامه من ركعته.
এর বিপরীত হলো—অর্থাৎ অনুগামী (موافق)-এর বিপরীত হলো—মসবুক (مسبوق); যা পূর্বোক্ত দুই অভিমত অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত হয়। অর্থাৎ প্রথম অভিমত অনুসারে, অনুগামী (موافق) হলো সেই ব্যক্তি যে নির্দিষ্ট সময়টুকু পেয়েছে ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় অভিমত অনুযায়ী যে ইমামের সাথে ইহরাম বেঁধেছে ইত্যাদি। সুতরাং প্রথম অভিমত অনুযায়ী, মসবুক (مسبوق) হলো সেই ব্যক্তি যে ইমামের সাথে স্বাভাবিক মধ্যম গতিতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার মতো সময় পায়নি, যদিও তা প্রথম রাকাতে হয়। আর দ্বিতীয় অভিমত অনুযায়ী, সে ওই ব্যক্তি যে তার ইমামের সাথে অথবা ইমামের রাকাত থেকে দাঁড়ানোর পর ইহরাম পায়নি।
وقد وقع في اليقين أي في اشتراط التيقين (3) وعدمه الخلف أي الاختلاف في تعريف هذين أي الموافق والمسبوق فعند الرملي: من أدرك ما مضى ولو احتمالا وعند ابن حجر هو من أدرك ذلك يقينا ويترتب عليه مسألة الشك [ق199/أ] في السبق والموافقة المتقدم ذكرها وكذا يقال في تعريف المسبوق.
নিশ্চয়তা অর্থাৎ নিশ্চিত হওয়া (৩) এবং নিশ্চিত না হওয়ার শর্তারোপের ক্ষেত্রে এই দুইয়ের অর্থাৎ অনুগামী (موافق) ও মসবুক (مسبوق)-এর সংজ্ঞায় মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইমাম রামলির নিকট: যে ব্যক্তি ইমামের অতিক্রান্ত অংশ পেয়েছে যদিও তা সম্ভাব্য হয় (সে অনুগামী)। আর ইবনে হাজারের নিকট সে ওই ব্যক্তি যে তা নিশ্চিতভাবে পেয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে ওই সন্দেহপূর্ণ মাসআলার সমাধান হয় [ফোলিও ১৯৯/ক] যা বিলম্বে যোগদান এবং অনুগামী হওয়ার বিষয়ে পূর্বে আলোচিত হয়েছে। মসবুক (مسبوق)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা বলা হবে।
ثم شرعت في أحكام تتعلق بالمسبوق مناسبة لما مر فقلت وسن بالبناء للمجهول للمسبوق والمراد به هنا من لم يدرك أول الصلاة مع الإمام كما صرح بذلك الشهاب بن قاسم، لا من لم يدرك زمنا يسع الفاتحة، بدليل أنهم جعلوا من أقسامه من أدرك ذلك كما سيشير إليه قولي: ما لم يظن بعده إدراكها، أن لا يشتغل بعد تحرمه بسنة كدعاء الافتتاح وتعوذ عن أم قران وهي الفاتحة سميت بذلك؛ لأنها مفتتحه ومبدؤه فكأنها أصله ومنشاؤه؛ لأنها جمعت معانيه كلها فكأنها نسخة مختصرة، وكأن القرآن كله بعدها تفصيل لها وذلك؛ لأنها جمعت الإلهيات في: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 2، 3]، والدار الآخرة في: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة:4]
এরপর আমি মসবুক (مسبوق) সংক্রান্ত বিধানাবলী আলোচনা শুরু করেছি যা পূর্বের প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি বলেছি যে, মসবুক (مسبوق)-এর জন্য সুন্নাত (কর্মবাচ্য)—আর এখানে মসবুক (مسبوق) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যে ইমামের সাথে সালাতের প্রথম অংশ পায়নি, যেমনটি শিহাব ইবনে কাসিম স্পষ্টভাবে বলেছেন; কেবল ওই ব্যক্তি নয় যে সূরা ফাতিহা পড়ার মতো সময় পায়নি। এর প্রমাণ হলো, তারা এর প্রকারভেদের মধ্যে ওই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন যে ফাতিহা পড়ার সময় পেয়েছে, যেমনটি আমার পরবর্তী বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে: 'যতক্ষণ না সে এরপর ফাতিহা পাওয়ার প্রবল ধারণা করে'। তাহরিম বা ইহরামের পর সে যেন কোনো সুন্নাহ কাজে লিপ্ত না হয়, যেমন ছানা (দাওআউল ইফতিতাহ) এবং 'উম্মুল কুরআন' অর্থাৎ ফাতিহা পড়ার আগে আউযুবিল্লাহ পাঠ করা। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি সালাতের প্রারম্ভ ও সূচনা; যেন এটি এর মূল ও উৎপত্তিস্থল। কারণ এটি কুরআনের সমস্ত অর্থকে একত্রিত করেছে, যেন এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। আর এর পরের সম্পূর্ণ কুরআন যেন এরই বিস্তারিত বর্ণনা। কারণ এটি 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির পালনকর্তা, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু' আয়াতাংশের মাধ্যমে ইলাহিয়াত বা প্রভুত্ব সংক্রান্ত বিষয়সমূহ এবং 'বিচার দিবসের মালিক' আয়াতাংশের মাধ্যমে পরকালকে একত্রিত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والعبادات كلها من الاعتقادات والأحكام التي تقتضيها الأوامر والنواهي في: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} [الفاتحة: 5] والشريعة كلها في: {الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6] والأنبياء وغيرهم كالشهداء والصالحين والصديقين في قوله: {الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7] و، ذكر طوائف الكفر في: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] [ق199/ب] ولا الضالين (1).
وقال الخليل (2) كل شيء ضم إليه ما يليه يسمى أمّا انتهى.
وقولي: كفل بضم الكاف وكسر الفاء نعت لقرآن أي تكفل الله بحفظه عن أن يتطرق له خلل بنحو تغيير، أو تبديل، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]، بل يشتغل بالفاتحة فقط إذ الاهتمام بشأن الفرض أولى، ويخففها حذرا من فوتها ما لم يظن أي المسبوق بعده أي بعد الاشتغال المذكور إدراكها أي الفاتحة بحسب حاله وحال إمامه فإن يظنه أتى قبل أي قبل الفاتحة بها أي بالسنة استحبابا ثم بالفاتحة بخلاف ما إذا جهل حاله، أو ظن الإسراع منه، وأنه لا يدركها معه فيبدي بالفاتحة فإن تخلف ظنه لزمه التخلف لقراءتها كبطيء القراءة، قال الشهاب بن القاسم: ولهذا المسبوق أحوال أحدها أن يتحقق الإدراك ولا شبهة أنه يشتغل يعني بالسنة الثاني أن يتحقق عدم الإدراك وهذا مقصر فإن ركع أمامه جاز له التخلف بركنين فتجب المفارقة وإلا بطلت الثالث أن يظن الإدراك وحكمه أنه يسن له الاشتغال بالسنة فلو اختلف ظنه فركع قبل الإمام [ق200/أ] فظاهر أنه كبطيء القراءة لعذره وفيه نزاع في شرح العباب الرابع بما إذا اعتقد وهو ظاهر كلام المصنف وغيره يعني بالمصنف شيخ الإسلام ويحتمل أن يقيد ذلك بما إذا اعتقد أنه يطلب منه والحالة هذه الاشتغال بالسنة أو شك في ذلك أما لو شك أنه يطلب منه ذلك فقد يقال أنه مقصر فلا يكون كبطيء القراءة ولعل هذا الاحتمال أقرب والخامس أنه يشك في الإدراك والظاهر أنه كبطيء القراءة لعذره والاشتغال بمندوب في الجملة مع قيام الاحتمال ولا يخفى عليك أن هذا كله فيمن أدرك زمنا يسع الفاتحة انتهى ملخصا وبعضه بالمعنى فإن يكن المسبوق المذكور هنا بها أي بالسنة لم يشتغل بل قرأ الفاتحة عقب تحرمه وركع الإمام أثناء قراءته فإنه يقطع قراءته ويركع مع إمامه وإن كان بطيء القراءة حتما أي وجوبا لأجل تحصيل الركعة لأنه لم يدرك سوى ما قرأه وحسبت ركعته وإن أدركه قبل قيامه عن اقل الركوع ويتحمل عنه الإمام ما بقي من الفاتحة كما يتحمل عنه جميعها لو أدركه راكعا [ق200/ب] أو ركع عقب تحرمه إذلا فرق بين تحمل البعض والكل لكن يشترط أن
--------------------------------------------
সমস্ত ইবাদতই হলো সেই সব বিশ্বাস ও বিধানের অন্তর্ভুক্ত যা {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি} [ফাতেহা: ৫]-এর অন্তর্গত আদেশ ও নিষেধসমূহ দাবি করে। আর সমগ্র শরীয়ত {সরল পথ} [ফাতেহা: ৬]-এর মধ্যে নিহিত। আর নবীগণ এবং অন্যান্যরা যেমন শহীদ, নেককার ও সত্যনিষ্ঠগণ রয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ} [ফাতেহা: ৭]। আর কুফরি দলগুলোর উল্লেখ রয়েছে: {যাদের ওপর তোমার ক্রোধ বর্ষিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} [ফাতেহা: ৭] [পৃ ১৯৯/খ] যারা পথভ্রষ্ট নয় (১)।
আল-খলীল (২) বলেছেন, কোনো জিনিসের সাথে তার পরবর্তী অংশকে যুক্ত করা হলে তাকে ‘উম্ম’ (মূল/মা) বলা হয়। সমাপ্ত।
আমার উক্তি: ‘কাফুলা’ (كفل) কাফ বর্ণে পেশ এবং ফা বর্ণে যের যোগে—এটি কুরআনের বিশেষণ। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা একে যেকোনো ধরণের বিকৃতি বা পরিবর্তনের ত্রুটি থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯]। বরং সে কেবল সূরা ফাতেহা পাঠেই ব্যস্ত থাকবে, কারণ ফরজ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অধিক অগ্রগণ্য। আর তা ছুটে যাওয়ার ভয়ে সেটিকে সংক্ষিপ্ত করবে—যতক্ষণ না সেই মসবুক (দেরিতে নামাজে যোগদানকারী) ব্যক্তি তার নিজের অবস্থা এবং তার ইমামের অবস্থা বিবেচনা করে উক্ত ব্যস্ততার পর ফাতেহা পাওয়ার প্রবল ধারণা পোষণ করে। যদি সে ফাতেহার পূর্বে সুন্নত (سنة) পড়ার মাধ্যমে সেটি পাওয়ার ধারণা পোষণ করে, তবে মুস্তাহাব (استحباباً) হিসেবে প্রথমে সুন্নত এবং তারপর ফাতেহা পড়বে। কিন্তু যদি তার অবস্থা অজানা থাকে বা ইমাম দ্রুত পড়বেন বলে ধারণা হয় এবং ইমামের সাথে ফাতেহা না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সে ফাতেহা দিয়েই শুরু করবে। যদি তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে চলে যান), তবে ফাতেহা পড়ার জন্য তাকে পিছিয়ে থাকা আবশ্যক, যেমনটি ধীরগতিতে পাঠকারীর ক্ষেত্রে হয়। শিহাব বিন আল-কাসিম বলেন: এই মসবুক ব্যক্তির কয়েকটি অবস্থা রয়েছে। প্রথম: ফাতেহা পাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত হওয়া; এক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে সে সুন্নত (سنة) পালনে ব্যস্ত হবে। দ্বিতীয়: ফাতেহা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া; এই ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ। এমতাবস্থায় তার ইমাম যদি রুকুতে চলে যান, তবে তার জন্য দুটি রুকন পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা জায়েজ, অন্যথায় পৃথক হয়ে যাওয়া ওয়াজিব, অন্যথায় নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তৃতীয়: ফাতেহা পাওয়ার প্রবল ধারণা থাকা; এক্ষেত্রে বিধান হলো তার জন্য সুন্নত (سنة) পালনে ব্যস্ত হওয়া মুস্তাহাব। যদি তার ধারণা বদলে যায় এবং ইমামের আগে রুকু করে ফেলে [পৃ ২০০/ক], তবে স্পষ্টত সে তার ওজরের কারণে ধীরগতিতে পাঠকারীর ন্যায় গণ্য হবে। এ বিষয়ে শারহুল উবাব-এ মতভেদ রয়েছে। চতুর্থ: যখন সে বিশ্বাস করে—এবং এটিই গ্রন্থকার ও অন্যদের কথার স্পষ্ট মর্ম, এখানে গ্রন্থকার বলতে শাইখুল ইসলামকে বোঝানো হয়েছে—সম্ভবত এটি সেই বিষয়ের সাথে শর্তযুক্ত যখন সে বিশ্বাস করে যে এই অবস্থায় তার নিকট সুন্নত (سنة) পালনে লিপ্ত হওয়া কাম্য, অথবা এ বিষয়ে তার সন্দেহ থাকে। কিন্তু যদি তার এই সন্দেহ থাকে যে তার নিকট এটি আদৌ কাম্য কি না, তবে বলা যেতে পারে সে ত্রুটিপূর্ণ, তাই সে ধীরগতিতে পাঠকারীর ন্যায় গণ্য হবে না। সম্ভবত এই সম্ভাবনাটিই অধিক নিকটতর। পঞ্চম: ফাতেহা পাওয়ার বিষয়ে তার সন্দেহ হওয়া; এবং স্পষ্টত সে তার ওজরের কারণে এবং সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে পছন্দনীয় (مندوب) কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে ধীরগতিতে পাঠকারীর ন্যায় গণ্য হবে। আপনার নিকট এটি স্পষ্ট যে, এই সব কিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে সূরা ফাতেহা পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। সংক্ষিপ্ত সারমর্ম সমাপ্ত, যার কিছু অংশ ভাবার্থ অনুযায়ী। যদি এখানে উল্লিখিত মসবুক ব্যক্তি সুন্নত (سنة) পালনে লিপ্ত না হয়ে ইহরাম বাঁধার পরপরই ফাতেহা পড়তে শুরু করে এবং তার কিরাআত চলাকালীন ইমাম রুকুতে চলে যান, তবে সে তার কিরাআত বন্ধ করে ইমামের সাথে রুকুতে যাবে। যদিও সে ধীরগতিতে পাঠকারী হয়, তবুও রাকাত পাওয়ার উদ্দেশ্যে এটি করা তার জন্য আবশ্যক (وجوباً); কারণ সে যা পড়েছে তার অতিরিক্ত পড়ার সুযোগ পায়নি এবং তার রাকাতটি গণ্য হবে। যদি সে ইমামকে রুকু থেকে মাথা তোলার আগে পায়, তবে ইমাম তার ফাতেহার অবশিষ্টাংশ বহন করবেন, যেমনটি ইমাম পুরো ফাতেহা বহন করেন যখন মসবুক ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় [পৃ ২০০/খ] অথবা ইহরাম বাঁধার পরপরই রুকুতে চলে যায়। কারণ আংশিক বা পূর্ণ কিরাআত বহন করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে শর্ত হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তিরাযুল মারকুম লিল জামযূরী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يطمئن يقينا قبل رفع الإمام رأسه عن أقل الركوع ولا يلزمه البطء أن يتخلف بعد ركوع إمامه ويقرأ من الفاتحة قدر ما يقرأه لو اعتدلت قراءته لما مر بخلاف البطيء الموافق كما مر لا إنه أدرك مع الإمام محل قراءة الفاتحة فيتخلف لإتمامها وهو معذور كما تقدم وإلا فاتت ركعته إن منع نفسه من الركوع بأن تخلف عن إمامه بعد قراءة ما أدركه من الفاتحة لإتمامها حتى رفع رأسه من أقل الركوع لعدم متابعته في معظمها فيوافق الإمام فيما هو فيه ولو ركع في هذه الحالة عامدا عالما بالتحريم فالظاهر البطلان لزيادة ركوع غير محسوب ولا متابعة (1) وهو كذلك وتبطل الصلاة أي صلاة المسبوق الممتنع من الركوع إن تخلفا بألف الإطلاق عنه أي عن إمامه بركنين فعليين متواليين عامدا عالما كان هوي إمامه للسجود وهو قائم بعد القراءة الواجبة إن العذر انتفى عنه أي إن كان تخلفه بغير عذر مما مر. لتقصيره (2) بخلاف تخلفه بهما ناسيا أو جاهلا [ق201/أ] أو يفعل فقط فلا تبطل ولا تفوته الركعة
تنبيه مثل المتخلف بما ذكر السابق لإمامه به فلو سبق إمامه بركنين فعليين عامدا عالما بالتحريم كان هو للسجود والإمام قائم بطلت صلاته بخلاف سبقه بهما ناسيا أو جاهلا، لكن لا يقيد بتلك الركعة فيأتي بعد سلام إمامه بركعة حيث استمر ناسيا أو جاهلا حتى أتى الإمام بهما، فلو تذكر أو علم الحال قبل إتيان الإمام بهما وجبت عليه العود ولا شيء عليه؛ لإتيانه بهما في محلهما.
فرع لو أحرم المأموم فركع الإمام عقب إحرامه، ليس له أن يشتغل بالفاتحة قائما، وإن علم أنه يدركها ويدرك الإمام في الركوع ويطمئن معه، بل يهوي للركوع مكبرا؛ لأن متابعة الإمام واجبة والفاتحة في هذه الحالة غير واجبة ولا مستحبة، وكذلك لو أحرم والإمام في حد أقل الركوع ومن عادته تطويل الركوع بحيث يمكن المأموم قراءة الفاتحة وإدراك الطمأنينة معه في الركوع فإنه لا يتخلف لقراءتها قاله في القول التام، وكذا لو أحرم منفرد أو مضى بعد إحرامه زمنا يسع الفاتحة ثم اقتدى بإمام راكع، أو ركع عقب اقتدائه فإنه يركع [ق201/ب] معه حتما وتسقط عنه القراءة ويدرك الركعة بهذا الركوع كما استقر به (ع ش) وإن استقر بـ (ش ب) (3) أنه يتخلف ويقرأ ويكون معذورا كالموافق؛ لاستقرار الفاتحة عليه (4).
--------------------------------------------
ইমাম রুকুর ন্যূনতম পর্যায় থেকে মাথা তোলার পূর্বে মুক্তাদি নিশ্চিতভাবে স্থিরতা (তমানিনাহ) অবলম্বন করবে। ধীরগতিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক নয় যে, সে তার ইমামের রুকুর পর পেছনে থাকবে এবং ফাতিহা থেকে ততটুকু পড়বে যা সে তার স্বাভাবিক কিরাআত অনুযায়ী পড়ত, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি সেই ধীরগতিসম্পন্ন মুয়াফিকের বিপরীত যার কথা আগে বলা হয়েছে। এমন নয় যে, সে ইমামের সাথে ফাতিহা পড়ার স্থানটি পেয়েছে, এমতাবস্থায় সে তা পূর্ণ করার জন্য পেছনে থাকবে এবং সে ওজরের অধিকারী বলে গণ্য হবে যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যথায় তার রাকাতটি হাতছাড়া হয়ে যাবে যদি সে নিজেকে রুকু করা থেকে বিরত রাখে; অর্থাৎ ইমামের রুকুতে যাওয়ার পর সে যা ফাতিহা পেয়েছে তা পূর্ণ করার জন্য পেছনে থাকে যতক্ষণ না ইমাম রুকুর ন্যূনতম পর্যায় থেকে মাথা উঠিয়ে ফেলেন। কারণ এতে নামাজের অধিকাংশ অংশে অনুসরণ (মুতাবায়াত) রক্ষিত হয়নি। সুতরাং সে ইমাম বর্তমানে যে অবস্থায় আছেন তাতে তার সাথে একমত হবে। আর যদি সে এই অবস্থায় নিষিদ্ধ হওয়ার কথা জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে রুকু করে, তবে প্রকাশ্য অভিমত হলো নামাজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ এটি একটি অতিরিক্ত রুকু যা গণনাযোগ্য নয় এবং এতে অনুসরণও নেই (১)। বিষয়টি তেমনই। আর সেই মাসবুকের নামাজ বাতিল হয়ে যাবে যে রুকু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে ও জেনে-বুঝে ইমামের থেকে পরপর দুটি শারীরিক রুকন পিছিয়ে থাকে। যেমন ইমাম ওয়াজিব কিরাআতের পর দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদাহর জন্য ঝুঁকে পড়লেন এবং এক্ষেত্রে মুক্তাদির ওজরটি বিদ্যমান নেই, অর্থাৎ সে কোনো ওজর ছাড়াই পেছনে থেকেছে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তার অবহেলার কারণে (২)। তবে যদি সে বিস্মৃতিবশত বা অজ্ঞতাবশত দুটি রুকন পিছিয়ে থাকে [পৃষ্ঠা ২০১/ক] অথবা কেবল একটি রুকন আদায় করে, তবে নামাজ বাতিল হবে না এবং রাকাতটিও হাতছাড়া হবে না।
সতর্কীকরণ: যে ব্যক্তি উল্লিখিত রুকনগুলোতে ইমামের পেছনে থাকে, সে ওই ব্যক্তির মতো যে ইমামের আগে চলে যায়। সুতরাং যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ও নিষিদ্ধ হওয়ার কথা জেনে পরপর দুটি শারীরিক রুকনে ইমামের আগে চলে যায়, যেমন ইমাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সে সিজদায় চলে গেল, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিস্মৃতিবশত বা অজ্ঞতাবশত আগে চলে গেলে নামাজ বাতিল হবে না। কিন্তু সেই রাকাতটি তার জন্য গণ্য হবে না; ফলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর তাকে এক রাকাত আদায় করতে হবে, যদি সে বিস্মৃতি বা অজ্ঞতার ওপর বজায় থাকে যতক্ষণ না ইমাম ওই রুকন দুটি আদায় করেন। আর যদি ইমাম রুকন দুটি আদায় করার আগেই তার স্মরণ হয় বা সে বিষয়টি জানতে পারে, তবে তার জন্য (পূর্বের রুকনে) ফিরে আসা ওয়াজিব এবং তার ওপর কোনো দায় নেই; কারণ সে রুকন দুটি তার যথাস্থানে আদায় করেছে।
শাখা: যদি মুক্তাদি ইহরাম বাঁধার পরপরই ইমাম রুকুতে চলে যান, তবে মুক্তাদির জন্য দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠে ব্যস্ত হওয়া বৈধ নয়, যদিও সে জানে যে সে ফাতিহা শেষ করতে পারবে এবং ইমামকে রুকুতে পেয়ে তার সাথে স্থিরতা অর্জন করতে পারবে। বরং সে তাকবির বলে রুকুর জন্য ঝুঁকে পড়বে; কারণ ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব আর এই অবস্থায় ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব বা মুস্তাহাব কোনটিই নয়। অনুরূপভাবে, যদি মুক্তাদি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধে যখন ইমাম রুকুর ন্যূনতম সীমায় আছেন এবং ইমামের অভ্যাস হলো রুকু দীর্ঘ করা, যার ফলে মুক্তাদির পক্ষে ফাতিহা পড়ে ইমামের সাথে রুকুতে স্থিরতা অর্জন করা সম্ভব হয়, তবুও সে ফাতিহা পড়ার জন্য পেছনে থাকবে না—একথা আল-কাওলুত তাম গ্রন্থে বলা হয়েছে। একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তি একাকী নামাজ শুরু করে অথবা ইহরামের পর ফাতিহা পড়ার মতো সময় অতিবাহিত করার পর রুকু অবস্থায় থাকা ইমামের ইক্তিদা করে, অথবা ইক্তিদা করার পরপরই ইমাম রুকুতে চলে যান, তবে মুক্তাদি অবশ্যই ইমামের সাথে রুকুতে যাবে [পৃষ্ঠা ২০১/খ] এবং তার কিরাআত মাফ হয়ে যাবে। এই রুকুর মাধ্যমেই সে রাকাতটি পেয়েছে বলে গণ্য হবে, যেমনটি আলি শুবরামাল্লিসি নিশ্চিত করেছেন। যদিও জনৈক শুবরি (৩) এর মতে, সে পেছনে থাকবে এবং কিরাআত সম্পন্ন করবে এবং এক্ষেত্রে মুয়াফিকের মতো সে ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে; কারণ ফাতিহা তার ওপর অবধারিত হয়ে গিয়েছিল (৪)।
--------------------------------------------