(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإعلام بقواطع الإسلام القسم: العقيدة
الكتاب: الإعلام بقواطع الإسلام
الكتاب: الإعلام بقواطع الإسلام من قول أو فعل أو نية أو تعليق مكفر
المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (ت 974هـ)
تحقيق: محمد عواد العواد
الناشر: دار التقوى/ سوريا
الطبعة: الأولى، 1428هـ/ 2008م
عدد الصفحات: 268
أعده للشاملة: د. مناف مريان - معاذ قدورة - عبد الرحمن أبو يابس.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 رمضان 1435
ইসলামের বিচ্ছিন্নকারী বিষয়সমূহের ঘোষণা বিভাগ: আকিদা
বই: ইসলামের বিচ্ছিন্নকারী বিষয়সমূহের ঘোষণা
বই: কুফরি কথা, কাজ, নিয়ত বা কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ইসলামের বিচ্ছিন্নকারী বিষয়সমূহের ঘোষণা
লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাজার আল-হাইতামী আস-সাদী আল-আনসারী, শিহাবুদ্দিন শাইখুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)
তাহকিক: মুহাম্মাদ আওয়াদ আল-আওয়াদ
প্রকাশক: দারুত তাকওয়া/ সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি/ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ড. মানাফ মারইয়ান - মুআয কাদ্দুরা - আব্দুর রহমান আবু ইয়াবিস.
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রমজান ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
مقدمة المؤلفنحمدك أن أطلعت لعلم الفتوى في سماء التحقيق شموساً وبدوراً، وجعلت علماء علم الشريعة الغراء أرفع الناس في الدارين مكانة وحبوراً
লেখকের ভূমিকাআমরা আপনার প্রশংসা করি যে, আপনি তাহকিকের (গবেষণার) আকাশে ফতোয়া শাস্ত্রের জন্য বহু সূর্য ও পূর্ণিমার চাঁদ উদিত করেছেন এবং উজ্জ্বল শরীয়ত শাস্ত্রের আলিমগণকে উভয় জগতে মর্যাদা ও আনন্দের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وسروراً، واخترتهم لحفظ فرائض الإسلام وسننه، وأقمتهم نجوماً يُهتدى بها في ظلمات الجهالات إلى منهجك القويم وسننه. ونشهد أن لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك شهادة يلوح عليها أمائر الإخلاص، وينجو مدخرها من أهوال قبائح المفترين عليك حين لا مناص، ونشهد أن سيدنا محمداً عبدك ونبيك أفضل من أوذي فيك فصبر، وأجلّ من ابتليته فرضي وشكر، وأرسلته لخير أمة أخرجت للناس، فهديت به كل حائر، وأرديت به كل جائر، ومحوت به ظلم البدع والكفر لا سيما من بلدك الحرام، وقصمت ببراهين دينه الطغاة من الطغام، وأمرته بأن يورثها من بعده من الأئمة الأعلام حتى يردّوا بها على من عاندهم في واقعة من وقائع الأحكام، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه الذين نصروا الحق وأشادوا فخره، ودمغوا الباطل وأهله الكثيرين وأماتوا ذكره، صلاة وسلاماً دائمين ما قام بنصرة دينه القويم بعض وارثيه، وبذل نفسه في الله تعالى رجاء لما أعده لعارفيه.
أما بعد: فهذا تأليف جامع، ومجموع إن شاء الله نافع، دعاني إليه وقوع غلط فاحش في مسألة أفتيت بها فأحببت بيانها مع ما يتعلق بها؛ لأن الحاجة ماسة إلى جميع ذلك. سيما وقد توعرت هذه المسالك حتى صار الغلط في الواضحات فضلاً عن المشكلات أقرب إلى المنسوبين إلى العلم من حبل الوريد، ولسان حالهم يعلن أنه ليس لهم عنها من محيد، لما جبلوا عليه من مخالفة سنن الماضين، والخلود إلى أرض الشهوات والطمع فيما بأيدي
এবং আনন্দের সাথে; আপনি তাদেরকে ইসলামের ফরজ ও সুন্নাতসমূহ সংরক্ষণের জন্য মনোনীত করেছেন এবং অজ্ঞতার অন্ধকারে আপনার সুদৃঢ় মানহাজ ও বিধানের দিকে হেদায়াত লাভের জন্য তাদেরকে নক্ষত্র হিসেবে স্থাপন করেছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার ওপর ইখলাসের চিহ্নসমূহ দেদীপ্যমান, এবং যা সংরক্ষণকারী ব্যক্তি আপনার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপকারীদের কুৎসিত কাজের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাবে যখন কোনো পলায়নস্থল থাকবে না। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সর্দার মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও নবী; আপনার পথে যাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীল, আর আপনি যাদেরকে পরীক্ষায় ফেলেছেন তাদের মধ্যে তিনি মহানুভব এবং সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ। আপনি তাঁকে মানুষের জন্য বের করা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের নিকট পাঠিয়েছেন। ফলে আপনি তাঁর মাধ্যমে প্রত্যেক বিভ্রান্তকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং প্রত্যেক অত্যাচারীকে ধ্বংস করেছেন। তাঁর মাধ্যমে আপনি বিদআত ও কুফরের অন্ধকার দূরীভূত করেছেন, বিশেষ করে আপনার হারাম শহর থেকে। আর তাঁর দ্বীনের প্রমাণাদি দিয়ে আপনি অধম বিদ্রোহীদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন। এবং আপনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি তাঁর পরে প্রখ্যাত ইমামদের নিকট এই দ্বীনকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান, যাতে তাঁরা বিধান সংক্রান্ত কোনো ঘটনায় বিরোধীদের জবাব দিতে পারেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর সর্বদাই দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—যাঁরা সত্যকে সাহায্য করেছেন এবং এর গৌরব প্রচার করেছেন, আর বাতিল ও এর অসংখ্য অনুসারীদের পরাস্ত করেছেন এবং তাদের নামনিশানা মিটিয়ে দিয়েছেন। এই দরুদ ও সালাম ততক্ষণ জারি থাকুক যতক্ষণ তাঁর ওয়ারিশদের কেউ তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনকে সাহায্য করতে সচেষ্ট থাকবেন এবং আল্লাহ তাআলার মারেফত লাভকারীদের জন্য তিনি যা প্রস্তুত রেখেছেন তার আশায় আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
অতঃপর: এটি একটি সমৃদ্ধ রচনা এবং আল্লাহর ইচ্ছায় একটি উপকারী সংকলন। একটি মাসআলায় আমি যে ফতোয়া দিয়েছিলাম, তাতে একটি জঘন্য ভুল সংঘটিত হওয়ায় আমি এটি লিখতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। তাই আমি সেই মাসআলা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বর্ণনা করতে চেয়েছি; কারণ এসবের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে যখন এই পথগুলো দুর্গম হয়ে পড়েছে, এমনকি জটিল বিষয় তো দূরের কথা, স্পষ্ট বিষয়গুলোতেও ভুল করা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জন্য ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও নিকটতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অবস্থার ভাষা ঘোষণা করছে যে, তাদের এর থেকে কোনো পরিত্রাণ নেই; কারণ তারা পূর্ববর্তীদের নীতিমালার বিরোধিতা করা এবং পার্থিব লালসা ও অন্যের হাতে থাকা জিনিসের প্রতি লোভের ওপর নিজেদের স্বভাব গঠন করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الظلمة والمتمردين، نسأل الله تعالى أن يعافينا من ذلك، وأن ينجينا من ظلم هذه المهالك، وأن يوفقنا إلى ما كان عليه أئمتنا من صالح العمل، وأن يجنبنا الزلل، إنه أكرم مسؤول وأرجى مأمول.
هذا، وقد لوّحت لك ب
القضية الحاملة على هذا التأليف، وبيانها: أني لما كنت بمكة في مجاورتي الثالثة سنة اثنتين وأربعين وتسعمائة، رفعت إليّ فتوى صورتها: ما قولكم رضي الله عنكم في من تزوج غير بالغة ثم أشهد عليها أنه أقبضها حالّ صداقها، فهل يصح هذا الإشهاد؟ وهل للوصي مطالبته بالمهر، والدعوى به عليه؟ وهل له ولو حاكما أن يقول له: يا كلب يا عديم الدين أم لا؟ فماذا يلزمه في ذلك؟
فأجبت بما صورته: إن بلغت مصلحة لدينها ومالها صح قبضها والإشهاد عليها، ولم يكن للوصي مطالبته ولا الدعوى عليه، وقوله له ما ذكر محرم التحريم الشديد، بل ربما يكون قوله: يا عديم الدين كفراً، فيعزر التعزير الشديد اللائق به والزاجر له ولأمثاله، والله سبحانه وتعالى أعلم بالصواب، وكتبه فلان.
ثم دفعتها إلى صاحبها، فوقعت في أيدي جماعة أصدقاء للصادر منه ذلك، فقصدوا التقرب إليه بالكذب على الله (وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ) الشعراء/227، فاعترضوا ما كتبته وشنعوا به عند العوام وموّهوا عليهم حتى
অন্ধকার ও বিদ্রোহীগণ; আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এ থেকে রক্ষা করেন, এই ধ্বংসাত্মক পথসমূহের জুলুম থেকে আমাদের মুক্তি দেন, আমাদের পূর্বসূরি ইমামগণ যে নেক আমলের ওপর ছিলেন তাতে আমাদের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের বিচ্যুতি থেকে দূরে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যপ্রার্থনাস্থল এবং সর্বোত্তম আশার স্থল।
এটি হচ্ছে সেই বিষয়, আমি আপনাকে
এই গ্রন্থ রচনার মূল কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছি, আর তার ব্যাখ্যা হলো: আমি যখন মক্কায় আমার তৃতীয় অবস্থানের সময় ৯৪২ হিজরি সনে ছিলাম, তখন আমার কাছে একটি ফতোয়া পেশ করা হয়েছিল যার সারসংক্ষেপ হলো: আপনারা (আল্লাহ আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে জনৈক অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিবাহ করেছে এবং অতঃপর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে সে তাকে মোহরের নগদাংশ পরিশোধ করেছে; তবে কি এই সাক্ষ্য প্রদান সঠিক হবে? আর অভিভাবকের কি মোহর দাবি করার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার আছে? আর তার জন্য কি—এমনকি সে যদি বিচারকও হয়—তাকে ‘হে কুকুর, হে ধর্মহীন’ বলার অধিকার আছে কি না? এমতাবস্থায় তার ওপর কী অপরিহার্য হবে?
অতঃপর আমি এর জবাবে যা লিখেছি তা হলো: যদি সে (অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি) তার দ্বীন ও সম্পদের বিষয়ে বিচক্ষণতা অর্জনের স্তরে পৌঁছে থাকে, তবে তার গ্রহণ করা এবং তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা সঠিক হবে। সেক্ষেত্রে অভিভাবকের জন্য মোহর দাবি করা বা তার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার থাকবে না। আর তাকে যা বলা হয়েছে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এমনকি তার ‘হে ধর্মহীন’ বলাটা কুফরিও হতে পারে। ফলে তাকে তার উপযুক্ত কঠোর দণ্ড প্রদান করা হবে, যা তাকে এবং তার মতো অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। এটি অমুক ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত।
অতঃপর আমি তা আবেদনকারীর নিকট হস্তান্তর করলাম। এরপর এটি এমন একদল লোকের হাতে পড়ল যারা উক্ত কটূক্তিকারীর বন্ধু ছিল। তারা আল্লাহর নামে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তার সান্নিধ্য লাভের সংকল্প করল (আর যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে তারা কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরে যাবে - আশ-শুয়ারা/২২৭)। ফলে তারা আমার লেখার ওপর আপত্তি তুলল এবং সাধারণ মানুষের কাছে এর নিন্দা জ্ঞাপন করল এবং তাদের সামনে বিষয়টিকে এমনভাবে বিকৃত করল যাতে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قال بعض مجازفيهم لعوامه: هذا الإفتاء كفر، وعلله بأنه يقتضي أنّ قائل هذا اللفظ يكفر مطلقاً وليس كذلك، ومن كفّر مسلماً فقد كفر، ثم اعترضوه بأمور أخرى، منها: كيف يُفرع التعزير على الحكم بأنه كفر، ومنها: كيف يكتب المفتي التعزير الشديد، والتعزير راجع إلى رأي الإمام في الشدة والضعف.
ومنها أن من صدر منه ذلك مثله لا يفتى عليه، ومنها أن الجواب غير مطابق للسؤال، هذا ما نُقل إلي، وسمعته من اعتراضاتهم، وهي لدلالتها على غباوة قائلها غنية عن التعرض لها بردّ أو إبطال، لكن أحببت في هذا التأليف تحرير الألفاظ المكفرة التي ذكرها أصحابنا وغيرهم، فإن هذا باب منتشر جداً، وقد اضطربت فيه أفكار الأئمة وعباراتهم، وزلت فيه أقدام كثيرين، ولخطر أمره وحكمه كان حقيقاً بالإفراد بالتأليف، ولم أر أحداً عرج على ذلك، فقصدت تسهيل جمعه وبيان ما وقع للناس فيه بحسب ما اطلعت عليه، وضممت إلى ذلك فوائد عثر عليها فكري الفاتر، واستنتجها نظري القاصر.
أسأل الله أن يجعلني ممن هداه، وهدى به، وأن يصيّرني ممن وصل الخير لهذه الأمة بسببه، إنه جواد كريم رؤوف رحيم، غافر الزلات وراحم العثرات، فعليه التكلان ومنه التأييد والامتنان، وإليه المفزع في المهمات، ومن فيض فضله يغترف أسباب السداد والعصمة في الملمات.
ولنتكلم أولاً على
الحكم الذي أبديناه في "يا عديم الدين" مقدمين عليه الكلام على من قال لمسلم: "يا كافر" فإنه الأصل الذي أخذت منه ما أشرت إليه في الجواب من التفصيل، ثم نعقبه برد ما ذكروه من الشُبه، ثم بتحرير بقية الألفاظ التي تقع بين الناس مما اتفق على أنها كفر أو اختلف فيه، فنقول: عبارة
তাদের কিছু হঠকারী লোক তাদের সাধারণ অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেছে: এই ফতোয়াটি কুফর। তারা এর কারণ দর্শিয়েছে যে, এটি দাবি করে যে এই শব্দ উচ্চারণকারী নিরঙ্কুশভাবে কাফির হয়ে যাবে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কাফির বলে, সে নিজেই কাফির হয়ে যায়। এরপর তারা আরও কিছু বিষয়ে আপত্তি তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে: কুফর হওয়ার বিধানের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে শাস্তির শাখা নির্ধারণ করা যায়? আরেকটি হলো: মুফতি কীভাবে কঠোর শাস্তির কথা লিখতে পারেন, যেখানে শাস্তির কঠোরতা বা শিথিলতা ইমাম বা শাসকের মতামতের ওপর নির্ভরশীল।
আরও একটি আপত্তি হলো, যার থেকে এই কাজ প্রকাশ পেয়েছে তার মতো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়া যায় না। আরেকটি হলো যে, উত্তরটি প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এগুলিই তাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে বর্ণিত এবং শ্রুত আপত্তি। এই আপত্তিগুলো তাদের প্রবক্তার মূর্খতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট বিধায় এগুলোর খণ্ডন বা বাতিলের প্রচেষ্টার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আমি এই গ্রন্থে আমাদের আলেমগণ এবং অন্যান্যদের বর্ণিত কুফরি শব্দাবলি বিন্যস্ত ও বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি। কারণ এটি অত্যন্ত বিস্তৃত একটি অধ্যায়, যাতে ইমামদের চিন্তাভাবনা ও অভিব্যক্তিগুলোতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং অনেকের পা পিছলে গেছে। এই বিষয়ের গুরুত্ব ও এর বিধানের ভয়াবহতার কারণে এটিকে স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলন করা যুক্তিযুক্ত ছিল। আমি কাউকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে দেখিনি, তাই আমি এর সংকলন সহজ করা এবং আমার জানামতে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে যা ঘটে থাকে তা স্পষ্ট করার সংকল্প করেছি। এর সাথে আমি এমন কিছু বিষয়ও যুক্ত করেছি যা আমার দুর্বল চিন্তাশক্তি খুঁজে পেয়েছে এবং আমার সীমিত দৃষ্টি আহরণ করেছে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের তিনি হেদায়েত দান করেছেন এবং যাদের মাধ্যমে অন্যদের হেদায়েত দিয়েছেন। তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের মাধ্যমে এই উম্মতের কাছে কল্যাণ পৌঁছেছে। নিশ্চয়ই তিনি অতি দানশীল, মহানুভব, অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু। তিনি ভুলত্রুটি ক্ষমাকারী এবং পদস্খলনের প্রতি করুণাশীল। তাঁর ওপরই ভরসা এবং তাঁর পক্ষ থেকেই সাহায্য ও অনুগ্রহ প্রাপ্তি। গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়, আর তাঁর অসীম করুণার ফল্গুধারা থেকেই সঠিক পথ লাভ এবং বিপদে সুরক্ষার উপায়সমূহ আহরণ করা হয়।
আমরা প্রথমে
"হে ধর্মহীন" বলা প্রসঙ্গে আমাদের ব্যক্ত করা বিধান নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে আমরা এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করব যে কোনো মুসলিমকে বলে: "হে কাফির"। কারণ এটিই সেই মূল উৎস যেখান থেকে আমি উত্তরে উল্লিখিত বিস্তারিত বিবরণগুলো গ্রহণ করেছি। এরপর আমরা তাদের বর্ণিত সংশয়গুলোর জবাব দেব। অতঃপর মানুষের মধ্যে প্রচলিত অন্যান্য শব্দাবলি বিশ্লেষণ করব যা কুফর হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত কিংবা মতভেদপূর্ণ। সুতরাং আমরা বলছি: বাক্যটি হলো-
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الرافعي في العزيز نقلاً عن التتمة: أنه إذا قال لمسلم: "يا كافر" بلا تأويل كفر؛ لأنه سمى الإسلام كفراً، وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم: (إذا قال الرجل لِأَخِيهِ: يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا)، والذي رماه به مسلم فيكون هو كافراً. انتهى.
وتبعه النووي في الروضة وعبارته: قال المتولي: ولو قال لمسلم: يا كافر بلا تأويل كفر؛ لأنه سمى الإسلام كفراً. انتهى.
আর-রাফেয়ী 'আল-আজিজ' গ্রন্থে 'আত-তাতিম্মাহ' থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন: নিশ্চয়ই কেউ যখন কোনো মুসলিমকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই "হে কাফির" বলে সম্বোধন করে, তখন সে কুফরি করল; কারণ সে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করেছে। আর তাঁর (আল্লাহর রাসুলের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: (যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: "হে কাফির", তখন তাদের দুজনের মধ্যে একজন এর দ্বারা আক্রান্ত হয়)। আর যাকে সে এই অপবাদ দিয়েছে সে তো একজন মুসলিম, ফলে সে (বক্তা) নিজেই কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত।
এবং আন-নওয়াবী 'আর-রওদাহ' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য হলো: আল-মুতাওয়াল্লী বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বলে: "হে কাফির", তবে সে কুফরি করল; কারণ সে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করেছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
واعتمد ذلك المتأخرون: كابن الرفعة والقمولي، والتتائي والإسنوي
এবং পরবর্তী যুগের আলিমগণ এর ওপরই নির্ভর করেছেন: যেমন ইবনুর রিফ’আহ, আল-কামুলি, আত-তাতাঈ এবং আল-ইসনাবি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
والأذرعي وأبي زرعة وصاحب الأنوار وشارح الأنوار، بل كثير منهم كالتتائي والقمولي وصاحب الأنوار وغيرهم جزموا به من غير عزو، ولم ينفرد المتولي بذلك، بل سبقه إلى ذلك ووافقه عليه جمع من أكابر الأصحاب، منهم الأستاذ أبو إسحاق الإسفراييني
এবং আযরুয়ী, আবু যুরআহ, আল-আনোয়ার গ্রন্থের রচয়িতা ও আল-আনোয়ারের ব্যাখ্যাকারী, বরং তাঁদের অনেকেই যেমন তাতাঈ, কামুলী, আল-আনোয়ারের রচয়িতা এবং অন্যান্যরা কোনো উদ্ধৃতি প্রদান ছাড়াই এ বিষয়ে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন। আর মুতাওয়াল্লী একাই এই মত পোষণ করেননি, বরং তাঁর পূর্বে আরও অনেকে এই মত ব্যক্ত করেছেন এবং মাযহাবের বিশিষ্ট একদল ইমাম তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে উস্তায আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫০)
والحليمي والشيخ نصر المقدسي، وكذا الغزالي وابن دقيق العيد، بل
এবং আল-হালীমী ও শায়খ নাসর আল-মাকদিসী, এবং একইভাবে আল-গাযালী ও ইবনুল দাকীক আল-ঈদ, বরং
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قضية كلام هؤلاء: أنه لا فرق بين أن يؤول أو لا، كما سيتضح لك من كلامهم الذي أذكره عنهم.
فإن قلت: قد خالف ذلك النووي نفسه في الأذكار، فقال: يحرم تحريماً غليظاً.
قلت: لا مخالفة، فإن إطلاق التحريم في لفظ لا يقتضي أنه لا يكون كفراً في بعض حالاته، فعبارة الأذكار لا تنافي عبارة الروضة وغيرها، على أن الكفر يحرم تحريماً غليظاً فتكون عبارة الأذكار شاملة للكفر أيضاً، ونكتة التعبير بالتحريم الغليظ قصد الشمول للحالة التي يكون فيها كفراً وغيرها.
وإذا تأملت هذا التقرير ظهر لك حسن ما فعلته في الجواب المذكور من قولي: فيعزر إلى آخره
… ، حيث فرّعت على التحريم ولم أفرّع على الكفر، لأن التحريم هو الأمر المحقق، وأما الكفر فقد يوجد عند عدم التأويل، وقد لا يوجد، ولم نعلم أن قائل ذلك لم يؤول، فتعيّن التفريع على الأمر المحقق، وطرح الأمر المشكوك فيه، وبهذا اندفع الاعتراض السابق، وهو: كيف يفرع التعزير على الحكم بالكفر؟ وسيأتي لذلك مزيد.
فإن قلت: يؤيد ما في الأذكار قول ابن المنذر في الإشراف في باب
এদের বক্তব্যের সারকথা হলো: ব্যাখ্যা করা বা না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যা আমি তাদের থেকে যে বক্তব্য উদ্ধৃত করব তা থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে।
যদি আপনি বলেন: স্বয়ং ইমাম নববী 'আল-আজকার' গ্রন্থে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন: এটি কঠোরভাবে হারাম।
আমি বলি: এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ কোনো শব্দে সাধারণভাবে হারামের প্রয়োগ কিছু ক্ষেত্রে সেটি কুফর না হওয়ার দাবি করে না। সুতরাং 'আল-আজকার'-এর বর্ণনা 'আর-রাওদাহ' ও অন্যান্য গ্রন্থের বর্ণনার পরিপন্থী নয়। এছাড়া কুফরিও তো কঠোরভাবে হারাম, তাই 'আল-আজকার'-এর বর্ণনা কুফরিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'কঠোর হারাম' শব্দ ব্যবহারের সূক্ষ্ম রহস্য হলো, যেখানে কুফরি হয় এবং যেখানে হয় না—উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করা।
আপনি যদি এই বর্ণনার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে উল্লিখিত উত্তরে আমার এই উক্তির যৌক্তিকতা আপনার কাছে স্পষ্ট হবে: "তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে" শেষ পর্যন্ত
... , যেখানে আমি বিষয়টিকে হারামের ওপর ভিত্তি করেছি এবং কুফরির ওপর ভিত্তি করিনি। কারণ হারাম হওয়া বিষয়টি নিশ্চিত, আর কুফরি ব্যাখ্যা না থাকলে থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে। আমরা তো জানি না যে বক্তা এর কোনো ব্যাখ্যা করেনি। তাই নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয়কে পরিহার করা আবশ্যক। এর মাধ্যমেই পূর্বোক্ত আপত্তিটি নিরসন হয়ে গেল, আর তা হলো: কুফরির হুকুমের ওপর কীভাবে শাস্তির বিধানকে ভিত্তি করা যায়? এ বিষয়ে সামনে আরও বিস্তারিত আসবে।
যদি আপনি বলেন: 'আল-আজকার'-এর বিষয়টিকে ইবনে মুনজিরের 'আল-ইশরাফ' গ্রন্থের ওই অধ্যায়ের বক্তব্য সমর্থন করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
القذف: وأجمع كل من أحفظ عنه من أهل العلم على أن الرجل إذا قال لرجل من المسلمين: يا يهودي، يا نصراني، عليه التعزير ولا حد عليه. ثم قال: ويشبه ذلك مذهب الإمام الشافعي.
قلت: قد علمت مما تقرر في عبارة الأذكار أن عبارته كهذه العبارة مطلقة، وعبارة الشيخين وغيرهما السابقة عن المتولي مفصلة، والمطلق لا ينافي المفصل. ثم رأيت الأذرعي ذكر ما هو صريح في ذلك حيث قال عقب كلام ابن المنذر: وقياس ما تقدم أي: عن المتولي أنه إذا قاله بلا تأويل أنه يكفر، لأنه جعل الإسلام يهودية أو نصرانية، فتأمله. انتهى، فجعله مطلقا وجعل كلام الشيخين عن المتولي مفصلا، وحمل هذا الإطلاق على هذا التفصيل أخذاً بالقاعدة الأصولية الشهيرة.
فإن قلت: عبارة النووي في شرح مسلم قد تنافي ما تقرر
অপবাদ: আমি যাদের থেকে ইলম সংরক্ষণ করেছি এমন সকল আলেম এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে বলে: "হে ইহুদি", "হে খ্রিষ্টান", তবে তার ওপর তা’যীর (বিবেচনামূলক শাস্তি) প্রযোজ্য হবে এবং তার ওপর কোনো হদ্দ (নির্ধারিত দণ্ড) নেই। অতঃপর তিনি বলেন: ইমাম শাফেঈর মাযহাবও এর সদৃশ।
আমি বলছি: ‘আল-আযকার’-এর ভাষ্য থেকে যা স্থির হয়েছে তা থেকে আপনি জেনেছেন যে, তাঁর এই বক্তব্যটি নিঃশর্ত, আর আল-মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণিত শাইখাইন (ইমাম রাফেঈ ও ইমাম নববী) এবং অন্যদের পূর্বোক্ত ভাষ্যটি সবিস্তার; আর নিঃশর্ত বক্তব্য সবিস্তার বক্তব্যের পরিপন্থী নয়। অতঃপর আমি দেখেছি যে, আল-আযরায়ী এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ইবনুল মুনযিরের বক্তব্যের পর বলেছেন: পূর্বোক্ত বিষয়ের কিয়াস তথা আল-মুতাওয়াল্লী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—যদি সে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এটি বলে তবে সে কাফির হয়ে যাবে, কারণ সে ইসলামকে ইহুদি ধর্ম বা খ্রিষ্টধর্ম সাব্যস্ত করেছে; সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করুন। (সমাপ্ত)। অতঃপর তিনি এটিকে নিঃশর্ত করেছেন এবং মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণিত শাইখাইনের বক্তব্যকে সবিস্তার করেছেন, আর প্রসিদ্ধ উসূলী নীতি অনুযায়ী এই নিঃশর্ত বক্তব্যকে সবিস্তার বক্তব্যের ওপর প্রয়োগ করেছেন।
যদি আপনি বলেন: ‘শারহু মুসলিম’-এ ইমাম নববীর ভাষ্য সম্ভবত যা সাব্যস্ত হয়েছে তার পরিপন্থী...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وحاصلها: أن هذا الحديث مما عده العلماء من المشكلات من حيث إن ظاهره غير مراد، فإن مذهب أهل الحق أنه لا يكفر المسلم بالمعاصي كالقتل والزنا وكذا قوله لأخيه: يا كافر. من غير اعتقاد بطلان دين الإسلام، ثم حكى في تأويل الحديث وجوهاً:
أحدها: أنه محمول على المستحل "ومعنى باء بها أحدهما": بكلمة الكفر، وكذا "حار عليه" في رواية أي: رجعت عليه كلمة الكفر، فباء وحار ورجع بمعنىً.
الثاني: رجعت عليه نقيصته لأخيه ومعصية تكفيره.
الثالث: أنه محمول على الخوارج المكفرين للمؤمنين، وهذا نقله القاضي عياض عن مالك
এর সারসংক্ষেপ হলো: আলেমগণ এই হাদিসটিকে এমন জটিল বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়। কারণ সত্যপন্থীদের (আহলে হক) মাযহাব হলো, হত্যা ও যিনার মতো পাপাচারের কারণে কোনো মুসলিম কাফির হয়ে যায় না; অনুরূপভাবে ইসলাম ধর্ম বাতিল হওয়ার বিশ্বাস পোষণ না করে নিজের কোনো ভাইকে 'হে কাফির' বললেও সে কাফির হয় না। অতঃপর তিনি এই হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি মতামত উল্লেখ করেছেন:
প্রথমটি: এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে একে হালাল মনে করে। আর "তাদের একজনের দিকে তা প্রত্যাবর্তন করল" এর অর্থ হলো কুফরি বাক্যটি। অনুরূপভাবে এক বর্ণনায় এসেছে "তার দিকে ফিরে এল", অর্থাৎ কুফরি বাক্যটি তার নিজের ওপরই ফিরে এল। সুতরাং 'বাআ', 'হ্বারা' এবং 'রাজাআ'—সবগুলোই একই অর্থে ব্যবহৃত।
দ্বিতীয়টি: তার ভাইয়ের প্রতি করা অবজ্ঞা এবং তাকে কাফির বলার পাপাচার তার নিজের ওপরই ফিরে এল।
তৃতীয়টি: এটি ঐসব খারিজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মুমিনদের কাফির সাব্যস্ত করে। আর এটি ইমাম মালিকের সূত্র ধরে কাজী আয়াজ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وهو ضعيف؛ لأن المذهب الصحيح المختار الذي قاله الأكثرون والمحققون أن الخوارج لا يكفرون كسائر أهل البدع.
الرابع: معناه أنه يؤول إلى الكفر فإن المعاصي -كما قالوا- بريد الكفر، ويخاف على المكثر منها أن يكون عاقبة شؤمها المصير إلى الكفر، ويؤيده رواية أبي عوانة في مستخرجه على مسلم: (فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَه وَإِلَّا فَقَدْ بَاءَ بِالْكُفْرِ) وفي رواية: (إِذَا قَالَ لأخيه: يَا كَافِرُ فَقَدْ وَجَبَ الْكُفْرُ عَلَى أَحَدِهِمَا).
الخامس: معناه فقد رجع عليه تكفيره، فليس الراجع حقيقة الكفر، بل التكفير لكونه جعل أخاه المؤمن كافراً فكأنه كفر نفسه، إما لأنه كفر من هو مثله، وإما لأنه كفر من لا يكفره إلا كافر يعتقد بطلان دين الإسلام انتهى.
ومنازعة السبكي في بعض فتاويه، مبنية على رأي انتحله مذهبا واعترف
এটি দুর্বল; কারণ অধিকাংশ আলিম ও মুহাক্কিকগণের ভাষ্য অনুযায়ী সঠিক ও মনোনীত মাযহাব হলো, অন্যান্য বিদআতিদের ন্যায় খারেজীরাও কাফির নয়।
চতুর্থ: এর অর্থ হলো এটি কুফরের দিকে ধাবিত করে। কেননা পাপ—যেমনটি তারা বলেছেন—হলো কুফরের বার্তাবাহক। যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে পাপে লিপ্ত হয়, তার পাপাচারের অশুভ পরিণাম কুফরের দিকে পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সহীহ মুসলিমের ওপর আবু আওয়ানার ‘মুস্তাখরাজ’-এ বর্ণিত বর্ণনা একে সমর্থন করে: (যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমন সে বলেছে, নতুবা সে কুফরের বোঝা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করল)। অন্য একটি বর্ণনায় আছে: (যখন সে তার ভাইকে বলে: হে কাফির, তখন তাদের একজনের ওপর কুফর অবধারিত হয়ে গেল)।
পঞ্চম: এর অর্থ হলো তার কৃত তাকফির তার ওপরই ফিরে এসেছে। সুতরাং যা ফিরে এসেছে তা কুফরের প্রকৃত বাস্তবতা নয়, বরং তাকফির করার বিষয়টিই ফিরে এসেছে; যেহেতু সে তার মুমিন ভাইকে কাফির বানিয়েছে, তাই সে যেন নিজেকেই কাফির সাব্যস্ত করল। হয় একারণে যে, সে তার নিজের মতো একজনকে কাফির বলেছে, নতুবা একারণে যে, সে এমন ব্যক্তিকে কাফির বলেছে যাকে কেবল এমন কাফিরই কাফির বলতে পারে যে ইসলাম ধর্ম বাতিল হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে। সমাপ্ত।
আর সুবকী-র তাঁর কিছু ফতোয়ায় যে ভিন্নমত রয়েছে, তা তাঁরই অনুসৃত একটি মতের ওপর ভিত্তি করে যা তিনি স্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
بأنه خارج عن قواعد الشافعي وهو أن من كفر أحداً من العشرة المشهود لهم بالجنة كفر، وإن كان مؤولا، وقد بسطت الكلام على ذلك في كتابي [الصواعق المحرقة] في الرد على الروافض وغيرهم.
قلت: لا تنافي عبارته المذكورة ما مرّ؛ لأن قوله من غير اعتقاده بطلان دين الإسلام هو من التأويل الذي مرّ عن المتولي أنه إذا سلكه لا يكفر.
نعم في الوجه الأول تقييد لما قاله المتولي بالمستحل، كذا قيل. وأقول: إن أريد أنه تقييد للمفهوم فظاهر أو للمنطوق فليس كذلك، وبيانه: إذا قيل: يا كافر، مؤولا بكفر النعمة أو نحوه كان مع ذلك حراماً إجماعاً أخذاً مما مرّ عن ابن المنذر، فإن اعتقد حله حينئذ انبنى القول بكفره على الخلاف الآتي في مستحل الحرام المجمع عليه.
فإن قلنا باشتراط أن يكون معلوما من الدين بالضرورة احتمل أن نقول بالكفر هنا، وندعي أن حرمة ذلك معلومة من الدين بالضرورة؛ لأن أحداً لا يجهل تحريم إيذاء المسلم، سيما بهذا اللفظ القبيح، وإن قلنا بعدم اشتراط ذلك فالكفر بهذا اللفظ واضح.
وإن ذكر هذا اللفظ من غير تأويل، فإن قصد مع ذلك أن دينه الذي هو متلبس به وهو الإسلام كفر، فلا نزاع بين أحد في أنه يكفر بذلك، وإن أطلق فلم يؤول
এটি শাফেয়ী মাযহাবের মূলনীতির বহির্ভূত, আর তা হলো: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর কাউকে যে ব্যক্তি কাফির সাব্যস্ত করবে সে কাফির হয়ে যাবে, যদিও সে ব্যাখ্যাকারী হয়। আমি এ বিষয়ে আমার গ্রন্থ [আস-সাওয়ায়িকুল মুহরিকা]-তে রাফেযি ও অন্যদের খণ্ডনে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
আমি বলছি: তাঁর উল্লিখিত বক্তব্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত প্রসঙ্গের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ ইসলাম ধর্ম বাতিল হওয়ার বিশ্বাস পোষণ না করে তাঁর উক্তিটি সেই ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত যা আল-মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কেউ যদি এই পথ অবলম্বন করে তবে সে কাফির হবে না।
হ্যাঁ, প্রথম পদ্ধতিতে আল-মুতাওয়াল্লীর বক্তব্যকে ওই ব্যক্তির সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যে একে হালাল মনে করে; এভাবেই বলা হয়েছে। আমি বলছি: যদি এর দ্বারা 'মাফহুম' (উহ্য অর্থ)-কে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য হয় তবে তা স্পষ্ট, আর যদি 'মানতুক' (প্রকাশ্য অর্থ)-কে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য হয় তবে বিষয়টি তেমন নয়। এর ব্যাখ্যা হলো: যখন কাউকে 'হে কাফির' বলা হয় এবং এর দ্বারা 'নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা' বা অনুরূপ কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়, তবুও ইবনুল মুনযির থেকে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী এটি সর্বসম্মতভাবে হারাম। এমতাবস্থায় সে যদি একে হালাল মনে করে, তবে তার কাফির হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে হারাম কোনো বিষয়কে হালাল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে যে মতভেদ সামনে আসছে, তার ওপর ভিত্তি করবে।
যদি আমরা এটি দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত বিষয় হওয়ার শর্তারোপ করি, তবে এখানে কাফির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা দাবি করতে পারি যে এর নিষিদ্ধতা দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; কারণ কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া যে হারাম তা কারো অজানা নয়, বিশেষ করে এই কুৎসিত শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে। আর যদি আমরা সেই শর্তারোপ না করি, তবে এই শব্দের প্রয়োগে কাফির হওয়া সুস্পষ্ট।
আর যদি সে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এই শব্দ উচ্চারণ করে এবং এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য নেয় যে—সে যে ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ ইসলাম, তা কুফর; তবে সে যে এর দ্বারা কাফির হয়ে যাবে এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। আর যদি সে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ করে এবং কোনো ব্যাখ্যা না দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
ولا قصد ذلك اتجه ما أفاده كلام شرح مسلم من أنه إن استحل ذلك كفر وإلا فلا.
وإذا تأملت هذا التقرير علمت أن كلام شرح مسلم لا ينافي كلام الشيخين عن المتولي إلا من حيث أن قضية كلامهما التكفير مطلقا في حال الإطلاق، وهو وإن كان له وجه لكن التفصيل بين الاستحلال وغيره أوجه، هذا ما يتعلق بالوجه الأول من الوجوه التي ذكرها في شرح مسلم، وأما الوجه الثاني: فهو لا ينافي ما مر عن المتولي؛ لأن رجوع نقيصته إليه صادقة بالكفر في بعض الحالات.
وأما الثالث: فاعترضه الزركشي بأن ما حكاه عن الأكثرين من عدم تكفير الخوارج ممنوع. قال: بل هو الحق لما سنذكره في كتاب "الشهادات" وينبغي حمل كلامه على ما إذا لم يصدر منهم سبب مكفر كما إذا لم يحصل إلا مجرد الخروج والقتال ونحوه، أما مع تكفير منهم لمن تحقق إيمانه من الصحابة المشهود لهم بالجنة فلا. انتهى.
وأقول: الخوارج لم يكفروا غيرهم إلا بتأويل، ولم يسموا الإسلام كفراً وحينئذٍ فالمعتمد ما في شرح مسلم وغيره من عدم تكفيرهم، نعم إن أنكروا صحبة أبي بكر رضي الله تعالى عنه، أو كفروا الصحابة أو ضللوا الأمة
যদি তিনি তা উদ্দেশ্য না করেন, তবে শারহে মুসলিমের বক্তব্যের অর্থ এটিই হবে যে, যদি তিনি একে হালাল মনে করেন তবে তিনি কাফির হবেন, অন্যথায় নয়।
আপনি যদি এই বিশ্লেষণটি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে জানতে পারবেন যে শারহে মুসলিমের বক্তব্য মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণিত শাইখাইনের বক্তব্যের পরিপন্থী নয়, কেবল এই দিকটি ব্যতীত যে তাঁদের বক্তব্যের দাবি হলো সাধারণ অবস্থায় সাধারণভাবে কাফির সাব্যস্ত করা। যদিও এর একটি যৌক্তিক ভিত্তি আছে, তবে হালাল মনে করা এবং না করার মধ্যে পার্থক্য করা অধিকতর সঠিক। শারহে মুসলিমে বর্ণিত দিকগুলোর মধ্যে এটি প্রথম দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর দ্বিতীয় দিকের ক্ষেত্রে, তা মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত বক্তব্যের বিরোধী নয়; কারণ তাঁর ত্রুটি তাঁর দিকে ফিরে আসা কিছু অবস্থায় কুফর হিসেবে গণ্য হওয়া সঠিক।
তৃতীয় দিকের ক্ষেত্রে যারকাশী আপত্তি জানিয়ে বলেছেন যে, অধিকাংশ আলিমের পক্ষ থেকে খাওয়ারিজদের কাফির না বলার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেছেন: বরং এটিই সত্য যা আমরা "কিতাবুশ শাহাদাত"-এ উল্লেখ করব। তাঁর বক্তব্যকে সেই অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা উচিত যখন তাদের পক্ষ থেকে কুফরের কোনো কারণ প্রকাশ পাবে না, যেমন যদি কেবল বিদ্রোহ ও যুদ্ধ বা এই জাতীয় কিছু ঘটে থাকে। তবে তারা যদি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীগণ—যাদের ঈমান নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত—তাদের কাফির সাব্যস্ত করে, তবে তাদের কাফির না বলার বিষয়টি আর খাটে না। সমাপ্ত।
আমি বলব: খাওয়ারিজরা অন্যদের কাফির সাব্যস্ত করেছিল কেবল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে, এবং তারা ইসলামকে কুফর আখ্যা দেয়নি। এমতাবস্থায় নির্ভরযোগ্য মত হলো যা শারহে মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের কাফির বলা যাবে না। তবে হ্যাঁ, যদি তারা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সাহাবিত্ব অস্বীকার করে, অথবা সাহাবীগণকে কাফির বলে অথবা উম্মতকে পথভ্রষ্ট আখ্যা দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
فسيأتي مع ما شاكله. وأما الرابع والخامس فلا ينافيان ما مر أيضا نظير ما سبق من أنهما محمولان على من أوّل، ووقع في الحديث روايات لا بأس بالإشارة إليها فروى مسلم: (إِذَا كَفَّرَ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا). وفي رواية له: (أَيُّمَا رجل قَالَ لِأَخِيهِ: يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ).
وفي رواية له أيضا: (لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلَّا كَفَرَ. وَمَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ: عَدُوُّ اللهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلَّا حَارَ عَلَيْهِ). ومرّ في رواية أبي عوانة: (فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإِلَّا فَقَدْ بَاءَ بِالْكُفْرِ). وفي رواية: إِذَا قَالَ لأخيه: يَا كَافِرُ فَقَدْ وَجَبَ الْكُفْرُ عَلَى أَحَدِهِمَا). ومعنى كفّر الرجل أخاه: نسبته إياه إلى الكفر بصيغة الخبر نحو أنت كافر، أو بصيغة النداء نحو: يا كافر، أو اعتقد فيه ذلك كاعتقاد الخوارج تكفير المؤمنين بالذنوب، وليس من ذلك تكفير جماعة من أهل السنة أهل الأهواء، لما قام عندهم من الدليل على ذلك، ومعنى: (باء بها أحدهما) أي: رجع بكلمة الكفر كما مر، والجزم بأنه لا بدّ أن يبوء بها أحدهما، بيّنه قوله في الرواية الأخرى: (إن كان كما قال وإلا رجعت
শীঘ্রই এর অনুরূপ বিষয়গুলোর সাথে এটি আসবে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বিষয়টিও পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার পরিপন্থী নয়, ঠিক আগেরটির মতোই যে, এই দুটিকে ব্যাখ্যা দানকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরা হবে। হাদিসে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যার প্রতি ইঙ্গিত করায় কোনো অসুবিধা নেই। মুসলিম বর্ণনা করেছেন: (যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কাফের বলে, তখন তা তাদের যেকোনো একজনের ওপর পতিত হয়)। তাঁর অপর এক বর্ণনায় আছে: (যে কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলল: হে কাফের, তখন তা তাদের কোনো একজনের দিকে ফিরে আসে; যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমন সে বলেছে, নতুবা তা তার দিকেই ফিরে আসে)।
তাঁর অপর এক বর্ণনায় আরও আছে: (এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে জেনেবুঝে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করে, সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে কুফরি দিয়ে ডাকল অথবা বলল: আল্লাহর শত্রু, অথচ সে তেমন নয়, তবে তা তার দিকেই ফিরে আসবে)। আবু আওয়ানার বর্ণনায় অতিক্রান্ত হয়েছে: (যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমন সে বলেছে, নতুবা সে কুফর নিয়ে ফিরে এল)। এবং এক বর্ণনায় আছে: (যখন সে তার ভাইকে বলল: হে কাফের, তখন তাদের কোনো একজনের ওপর কুফর অবধারিত হয়ে গেল)। আর কোনো ব্যক্তির তার ভাইকে কাফের বলার অর্থ হলো: তাকে কুফরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, সংবাদ প্রদানের ভঙ্গিতে যেমন 'তুমি কাফের', অথবা সম্বোধনের ভঙ্গিতে যেমন 'হে কাফের', অথবা তার ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করা যেমনটি খারিজিরা পাপের কারণে মুমিনদের কাফের মনে করার বিশ্বাস পোষণ করে। আর আহলে সুন্নাতের একদলের পক্ষ থেকে প্রবৃত্তিপূজারীদের কাফের বলা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তাদের নিকট এর সপক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর "তাদের যেকোনো একজন তা নিয়ে ফিরে এল" এর অর্থ হলো: অর্থাৎ সে কুফরের কালিমা নিয়ে ফিরে এল যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং তাদের কোনো একজনের ওপর অবশ্যই তা পতিত হবে—এই সুনিশ্চিত বিষয়টি অপর বর্ণনার এই কথাটি দ্বারা স্পষ্ট হয়: (যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমন সে বলেছে, অন্যথায় তা ফিরে আসবে)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
عليه). ومن ثم كانت هذه الرواية في قوة قضية منفصلة أقيم البرهان على صدقها بخلاف الأولى، إذ معناها كل مكفر أخاه: فدائماً إما أن يكفر القائل أو المقول له، وبرهن على صدق ذلك في الرواية الثانية، بأنه إن كان كما قال وإلا كفر القائل أي: بالمعنى السابق بيانه. وقوله: (أو قال: عدو الله) نص كما قاله بعض الشارحين في أن نسبة الرجل غيره إلى عداوة الله تعالى تكفير له، وكذا نسبة نفسه إلى ذلك، ويوافقه قوله تعالى: (مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ) الآية. البقرة/98، وسيأتي آخر الكتاب ما لو قال: إنه عدو للنبي صلى الله عليه وسلم، ومر أن معنى (حار): رجع، والاستثناء قيل: معنوي، أي: لا يدعوه أحد إلا حار عليه؛ لأن القصد الإثبات ولو لم يقدر النفي لم يثبت ذلك، ويحتمل عطفه على ليس من رجل فيكون جارياً على اللفظ.
وقد فسر الحليمي في المنهاج الحديث بما يوافق كلام المتولي فقال: إن أراد به أن الدين الذي يعتقده كفرٌ كفرَ هو دون أخيه إن كان أخوه مسلماً حقيقياً، وإن كان يُبطن الكفر ولا يظهره فذلك غير مراد بالحديث إذ لا يبوء واحد منهما بالكفر، وحينئذٍ يعذر القائل. انتهى. فتأمله تجده صريحا فيما مر عن المتولي وأن التعزير إنما يجب عند كون المقول له ذلك كافراً باطناً.
فإن قلت: كيف يكون كافراً باطناً ويبقى؟
قلت: يمكن بقاؤه لاستتابته إن قلنا: إن المرتد يمهل ثلاثة أيام، أو لإزالة شبهة أو تغلب أو غير ذلك.
فان قلت: قضيته أن من قال لمرتد: يا كافر يعزر.
তার উপর)। এর ফলে এই বর্ণনাটি একটি বিচ্ছিন্ন বিষয়ের শক্তিতে পরিণত হয়েছে যার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, যা প্রথম বর্ণনার বিপরীত। কেননা এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে: সর্বদা হয় বক্তা কাফির হবে অথবা যাকে বলা হয়েছে সে। আর দ্বিতীয় বর্ণনায় এর সত্যতা এভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, যদি বিষয়টি সেরকমই হয় যা সে বলেছে (তবে তো হলোই), অন্যথায় বক্তাই কাফির হয়ে যাবে; অর্থাৎ ইতিপূর্বে বর্ণিত অর্থের ভিত্তিতে। এবং তাঁর বাণী: (অথবা বলল: আল্লাহর শত্রু) এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য—যেমনটি কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন—যে কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে মহান আল্লাহর শত্রু বলে অভিহিত করা তাকে কাফির সাব্যস্ত করার শামিল। একইভাবে নিজের ক্ষেত্রে তা দাবি করাও। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ: (যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের শত্রু...) আয়াত। বাকারা/৯৮। গ্রন্থের শেষে আলোচিত হবে যদি কেউ বলে যে সে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শত্রু। আর ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, 'হাড়া' (ফিরে আসা) এর অর্থ হলো: ফিরে আসা। বলা হয়েছে যে, এই ব্যতিরেকটি অর্থগত, অর্থাৎ: কেউ তাকে তা বলে ডাকে না তবে তা তার ওপরই ফিরে আসে; কারণ উদ্দেশ্য হলো বিষয়টি সাব্যস্ত করা, আর যদি নেতিবাচক অর্থ উদ্দেশ্য না হতো তবে তা সাব্যস্ত হতো না। এটিও সম্ভাবনা রাখে যে এটি 'লাইসা মিন রাজুল' (কোনো ব্যক্তি নয়)-এর ওপর সংযোজিত, ফলে এটি শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী হবে।
হালিমী তাঁর 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে হাদীসটির এমন ব্যাখ্যা করেছেন যা মুতাওয়াল্লীর বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। তিনি বলেছেন: যদি এর দ্বারা সে উদ্দেশ্য করে যে, তার ভাই যে দ্বীন বিশ্বাস করে তা কুফর, তবে তার ভাই প্রকৃত মুসলিম হলে সে নিজেই কাফির হয়ে যাবে, তার ভাই নয়। আর যদি যাকে বলা হয়েছে সে অন্তরে কুফর গোপন রাখে এবং তা প্রকাশ না করে, তবে হাদীসে সেটি উদ্দেশ্য নয়; কেননা তাদের কেউ কুফর নিয়ে ফিরে আসে না, এমতাবস্থায় বক্তা ওযরপ্রাপ্ত হবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি নিয়ে চিন্তা করলে আপনি একে মুতাওয়াল্লীর পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পাবেন, এবং এটিও যে শাস্তি (তা'যীর) তখনই ওয়াজিব হয় যখন যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে সে গোপনে কাফির হয়।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: সে কীভাবে গোপনে কাফির হওয়া সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে?
আমি বলব: তাকে তাওবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তার টিকে থাকা সম্ভব, যদি আমরা বলি যে মুরতাদকে তিন দিন সময় দেওয়া হয়, অথবা কোনো সংশয় দূর করার জন্য কিংবা কারো আধিপত্যের কারণে অথবা অন্য কোনো কারণে।
যদি আপনি বলেন: এর সারকথা হলো, যে ব্যক্তি কোনো মুরতাদকে বলবে: 'হে কাফির', তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
قلت: قد يلزمه ذلك لأنه إيذاء، وإيذاؤه إنما يجوز للإمام بالقتل إن لم يتب، ويمكن الفرق بأن المرتد لم يُظهر الإسلام فلم يكن له احترام أصلاً بخلاف من أظهر الإسلام، وإن كان كافراً باطناً، ومع ذلك فالموافق للقواعد أنه حيث ثبت كفره باطناً كان حكمه حكم المرتد، ولا تعزير على من قال له: يا كافر.
وفسر الغزالي في الإحياء الحديث بما يوافق كلام المتولي أيضا حيث قال: معناه أنه يكفره وهو يعلم أنه مسلم، أي: فيكفر بدليل قوله، فإن ظن أنه كافر ببدعة أو غيرها كان مخطئاً لا كافراً انتهى.
وقد يؤخذ من كلامه حمل كلام الحليمي السابق على غير ما مرّ، بأن يقال: معنى قوله: إن كان أخوه مسلماً حقيقياً أي: في اعتقاده، وقوله: وإن كان يُبطن الكفر ولا يُظهره أي: في اعتقاده وحينئذٍ فاتضح قوله: وحينئذٍ يعزر القائل، وهذا التأويل متعين لا ينبغي العدول عنه.
وقد فسر ابن رشد من أكابر أئمة المالكية الحديث بما يوافق كلام المتولي أيضا، حيث قال: حُمِل الحديث على أن من قال ذلك كفر حقيقة، لكن فيمن كفر أخاه حقيقة؛ لأنه إن كان المقول له كافراً فقد صدق، وإلا كفر القائل؛ لأنه اعتقد ما عليه المؤمن من الإيمان كفراً، واعتقاد الإيمان كفراً كفر، قال الله تعالى: (وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ) المائدة/5. وقال غيره من أئمتهم: لا يبعد حمل الحديث على ظاهره من تكفير القائل على القول بأن الدعاء على غيره بالكفر كفر. واعترضه بعضهم بأن الداعي إنما كفر على
আমি বলছি: তার জন্য এটি আবশ্যক হতে পারে কারণ এটি কষ্টদায়ক, আর তাকে কষ্ট দেওয়া ইমামের জন্য কেবল হত্যার মাধ্যমেই বৈধ হয় যদি সে তওবা না করে। এবং মুরতাদ যে ইসলাম প্রকাশ করেনি তার সাথে যে ইসলাম প্রকাশ করে যদিও সে গোপনে কাফির হয়—তাদের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব এই ভিত্তিতে যে, মুরতাদের মূলত কোনো সম্মান নেই। তা সত্ত্বেও, মূলনীতিসমূহের অনুকূল কথা হলো, যেখানে তার অভ্যন্তরীণ কুফর প্রমাণিত হবে সেখানে তার বিধান মুরতাদের বিধানের অনুরূপ হবে এবং যে ব্যক্তি তাকে বলবে: ‘হে কাফির’, তার ওপর কোনো শাস্তি বা তাজির নেই।
ইমাম গাজালী ইহয়া গ্রন্থে হাদিসটির এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা মুতাওয়াল্লীর বক্তব্যের সাথেও সংগতিপূর্ণ। তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো সে তাকে কাফির বলছে অথচ সে জানে যে ব্যক্তিটি মুসলিম। অর্থাৎ, সে তার উক্তির কারণেই কাফির হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সে মনে করে যে ব্যক্তিটি কোনো বিদআত বা অন্য কিছুর কারণে কাফির, তবে সে ভুলকারী হিসেবে গণ্য হবে, কাফির হিসেবে নয়। সমাপ্ত।
তাঁর কথা থেকে হালিমীর পূর্বোক্ত বক্তব্যকে ইতিপূর্বে বর্ণিত অর্থ থেকে ভিন্ন অর্থে গ্রহণ করা যেতে পারে। তা এভাবে যে, তাঁর কথা: “যদি তার ভাই প্রকৃত মুসলিম হয়” অর্থাৎ: তার বিশ্বাসের দৃষ্টিতে; এবং তাঁর কথা: “যদি সে কুফর গোপন রাখে এবং তা প্রকাশ না করে” অর্থাৎ: তার বিশ্বাসের দৃষ্টিতে। এমতাবস্থায় তাঁর এই কথাটি স্পষ্ট হয় যে: “তখন বক্তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।” এই ব্যাখ্যাটিই সুনির্ধারিত এবং এটি বর্জন করা উচিত নয়।
মালিকী মাযহাবের অন্যতম মহান ইমাম ইবনে রুশদ হাদিসটিকে মুতাওয়াল্লীর বক্তব্যের অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: হাদিসটিকে এই অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এরূপ বলবে সে প্রকৃতপক্ষে কাফির হয়ে যাবে। তবে এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে তার ভাইকে প্রকৃতপক্ষেই কাফির মনে করেছে; কারণ যাকে বলা হয়েছে সে যদি কাফির হয় তবে সে সত্য বলেছে। অন্যথায় বক্তাই কাফির হবে; কারণ সে মুমিনের ঈমানকে কুফর হিসেবে বিশ্বাস করেছে। আর ঈমানকে কুফর মনে করা কুফরী। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করবে, অবশ্যই তার আমল বিফল হবে) সূরা আল-মায়িদাহ: ৫। তাঁদের অন্য ইমামগণ বলেছেন: হাদিসটিকে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখা এবং বক্তাকে কাফির গণ্য করা অসম্ভব নয়—এই মতের ভিত্তিতে যে অন্য কারো জন্য কুফরের দোয়া করা কুফরী। তাঁদের কেউ কেউ এর ওপর এই আপত্তি তুলেছেন যে, দোয়াকারী তো কেবল কুফরের ওপর...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
القول بذلك من جهة أنه لما دعا بالكفر كأنه رضيه، والرضا بالكفر كفر بخلاف هذا.
وظاهر كلام الحليمي والغزالي الذي ذكرته عنهما أن القائل حيث اعتقد أن المقول له مسلم كفر مطلقا وإن أوّل، لكن ما مر عن المتولي أوجه.
قال ابن دقيق العيد في قوله عليه الصلاة والسلام: (وَمَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلَّا حَارَ عَلَيْهِ). أي: رجع. وهذا وعيد عظيم لمن كفر أحداً من المسلمين وليس هو كذلك، وهي ورطة عظيمة وقع فيها خلق من العلماء اختلفوا
বিষয়টি এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে যে, যেহেতু সে কুফরি দ্বারা আহ্বান করেছে, তাই সে যেন এতে সন্তুষ্ট হয়েছে; আর কুফরিতে সন্তুষ্ট হওয়া কুফরি, যা এর ব্যতিক্রম।
হালিমী ও গাযালী থেকে আমি যে বক্তব্য উল্লেখ করেছি তার বাহ্যিক দিক হলো, বক্তা যখন বিশ্বাস করে যে যাকে সম্বোধন করা হয়েছে সে একজন মুসলিম, তখন সে (বক্তা) নিঃশর্তভাবে কাফের হয়ে যাবে, যদিও সে ব্যাখ্যা প্রদান করে; তবে মুতাওয়াল্লী থেকে যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে তা-ই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
ইবনে দাকীকুল ঈদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী—“এবং যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে কুফরি দ্বারা আহ্বান করল অথচ সে তেমন নয়, তবে তা তার ওপরই প্রত্যাবর্তন করবে”—এর ব্যাপারে বলেছেন: অর্থাৎ ফিরে আসা। এটি ওই ব্যক্তির জন্য এক মহা হুঁশিয়ারি যে কোনো মুসলিমকে কাফের সাব্যস্ত করে অথচ সে তেমন নয়; এটি একটি বড় সংকট যাতে বহু আলেম নিপতিত হয়েছেন যারা মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
في العقائد وحكموا بكفر بعضهم بعضاً، وخرق حجاب الهيبة في ذلك جماعة من الحشوية وهذا الوعيد لاحقٌ بهم، ثم نقل عن الأستاذ أبي إسحاق الإسفراييني من أكابر أصحابنا أنه قال: لا أكفر إلا من كفرني، قال: وربما خفي هذا القول على بعض الناس وحمله على غير محمله الصحيح، والذي ينبغي أن يحمل عليه أنه لمح هذا الحديث الذي يقتضي أن من دعا رجلاً بالكفر وليس كذلك رجع عليه الكفر، وكذا قوله عليه الصلاة والسلام: (من قَالَ لِأَخِيهِ: يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا) وكان الأستاذ أبو إسحاق يقول: الحديث دلّ على أنه يحصل الكفر لأحد الشخصين إما المُكَفِّر أو المُكَفَّر، فإذا كفرني بعض الناس فالكفر واقع بأحدنا، وأنا قاطع بأني لست بكافر، فالكفر راجع إليه، انتهى.
فتأمله تجده صريحاً فيما مرّ عن المتولي، وفي أن ابن دقيق العيد موافقه على ذلك، وفي أنه لا فرق بين التأويل وعدمه.
وكلام الشيخ نصر المقدسي في تهذيبه في كتاب الصلاة صريح في ذلك، فإنه لم يقيد التكفير إلا بما إذا كان المقول له ظاهر العدالة، لكن الأوجه ما مرّ عن المتولي من التفصيل.
وفي كافية الخوارزمي لو قال: لست من أُمة محمد أو لا أعرف الله
আকিদার বিষয়ে তারা একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন এবং এ বিষয়ে হাশবিয়াদের একটি দল গাম্ভীর্যের পর্দা লঙ্ঘন করেছে, আর এই হুমকি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তারপর আমাদের উলামাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কেবল তাকেই কাফির বলি যে আমাকে কাফির বলে।" তিনি বলেন: সম্ভবত এই উক্তিটি কিছু মানুষের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং তারা একে এর সঠিক অর্থের বাইরে প্রয়োগ করেছে। একে যেভাবে গ্রহণ করা উচিত তা হলো, তিনি সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা নির্দেশ করে যে, যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে কাফির বলে ডাকল অথচ সে তেমন নয়, তবে সেই কুফর তার নিজের দিকেই ফিরে আসে। অনুরূপভাবে তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বাণী: "যে ব্যক্তি তার ভাইকে বলল: হে কাফির, তবে তাদের দুইজনের একজনের ওপর তা আপতিত হবে।" উস্তাদ আবু ইসহাক বলতেন: হাদিসটি প্রমাণ করে যে, দুই ব্যক্তির একজনের ক্ষেত্রে কুফর ঘটবে—হয় যে কাফির সাব্যস্তকারী অথবা যাকে কাফির সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং যখন কিছু লোক আমাকে কাফির সাব্যস্ত করে, তখন কুফর আমাদের দুইজনের একজনের ওপর আপতিত হবে। আর আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে আমি কাফির নই, তাই কুফর তার দিকেই ফিরে যাবে। সমাপ্ত।
আপনি এতে নিবিষ্ট মনে চিন্তা করলে একে আল-মুতাওয়াল্লির পূর্বোক্ত বক্তব্যের ব্যাপারে স্পষ্ট পাবেন এবং এতে ইবন দাকীক আল-ঈদও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আর এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া বা না নেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আর শায়খ নাসর আল-মাকদিসির বক্তব্য তাঁর 'তাহজিব' গ্রন্থের 'সালাত' অধ্যায়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট; কারণ তিনি কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি কেবল তখনই শর্তযুক্ত করেছেন যখন যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে সে প্রকাশ্য ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী হয়। তবে আল-মুতাওয়াল্লির বর্ণিত বিস্তারিত বিশ্লেষণই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
এবং খাওয়ারিজমির 'কাফিয়া' গ্রন্থে আছে, যদি কেউ বলে: "আমি মুহাম্মদের উম্মতভুক্ত নই" অথবা "আমি আল্লাহকে চিনি না"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
ورسوله أو أنا كافر، أو بريء من الإسلام كفر. انتهى. والحكم فيه ظاهر إلا أن يزعم أنه أراد أنه ليس منهم قطعاً بل ظناً وأنه لا يعرف الله ورسوله على طريقة أهل الأصول ونحو ذلك فيما يظهر.
وللفتى تلميذ ابن المقري اعتراض على الروضة أحببت ذكره مع التنبيه على رده، وعبارته: قال في الروضة: قال المتولي: لو قال للمسلم: يا كافر بلا تأويل كفر لأنه سمى الإسلام كفراً. انتهى. ذكر القمولي مثله ولم يعلله ولم يعزه إلى أحد، قال: فإن أراد كفر النعمة والإحسان فلا. انتهى.
ولا نسلم قول الروضة: لأنه سمى الإسلام كفراً، فإن هذا المعنى لا يفهم من لفظه ولا هو مراده، ومعنى لفظه: أنك لست على دين الإسلام الذي هو حق، وإنما أنت كافر، دينك غير الإسلام وأنا على دين الإسلام، هذا مراده بلا شك؛ لأنه إنما وصف بالكفر الشخصَ، لا دين الإسلام، فنفى عنه كونه على دين الإسلام فلا يكفر بهذا القول، وإنما يعزز بهذا السبّ الفاحش بما يليق به، ويلزم على ما قاله أن من قال لعابد: يا فاسق كفر؛ لأنه سمى العبادة فسقاً، ولا
...এবং তাঁর রাসূল, অথবা "আমি কাফির", অথবা "আমি ইসলাম থেকে সম্পর্কহীন", তবে সে কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত। এর বিধানটি সুস্পষ্ট, তবে যদি সে এমন দাবি করে যে সে নিশ্চিতভাবে নয় বরং ধারণাপ্রসূতভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বুঝাতে চেয়েছে, এবং সে উসূলবিদগণের পদ্ধতিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে চেনে না—এই জাতীয় যা কিছু প্রকাশ পায় সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।
ইবনুল মুকরির ছাত্র আল-ফাতা-এর 'আর-রাওদাহ'-এর ওপর একটি আপত্তি রয়েছে যা আমি এর খণ্ডনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণসহ উল্লেখ করতে পছন্দ করছি। তাঁর বক্তব্য হলো: 'আর-রাওদাহ'-তে বর্ণিত হয়েছে: আল-মুতাওয়াল্লি বলেছেন: যদি কেউ কোনো মুসলিমকে কোনো ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে বলে: "হে কাফির", তবে সে কাফির হয়ে যাবে; কারণ সে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করেছে। সমাপ্ত। আল-কামুলিও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন তবে তিনি এর কোনো কারণ দর্শাননি এবং এটি কারো দিকে সম্বন্ধও করেননি। তিনি বলেন: যদি সে এর দ্বারা নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা ও সদাচরণের অকৃতজ্ঞতা বুঝাতে চায়, তবে সে কাফির হবে না। সমাপ্ত।
আর আমরা 'আর-রাওদাহ'-এর এই বক্তব্যটি মেনে নিচ্ছি না যে: "কারণ সে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করেছে"; কেননা এই অর্থটি তার প্রযুক্ত শব্দ থেকে বোঝা যায় না এবং এটি তার উদ্দেশ্যও নয়। বরং তার শব্দের অর্থ হলো: "তুমি সত্য ধর্ম ইসলামের ওপর নেই, বরং তুমি কাফির, তোমার ধর্ম ইসলাম ভিন্ন অন্য কিছু এবং আমি ইসলাম ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত"। নিঃসন্দেহে এটিই তার উদ্দেশ্য; কারণ সে মূলত ওই ব্যক্তিকে কুফরের বিশেষণে বিশেষায়িত করেছে, ইসলাম ধর্মকে নয়। সে কেবল তার ইসলাম ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সুতরাং এই বক্তব্যের কারণে সে কাফির হবে না, তবে এই জঘন্য গালিগালাজের কারণে তাকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে। আর তাঁর (আর-রাওদাহ-এর লেখকের) বক্তব্য অনুযায়ী এটিও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতকারীকে বলবে: "হে ফাসিক", সে কাফির হয়ে যাবে; কারণ সে ইবাদতকে ফিসক হিসেবে অভিহিত করেছে। অথচ এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
أحسب أحداً يقوله، وإنما يريد أنك تَفْسق وتفعل مع عبادتك ما هو فسق، لا أن عبادتك فسق، وأيضاً فكيف يحكم عليه بالكفر بإطلاق هذه الكلمة المحتملة للكفر واحتمال غيره أكثر وأظهر؟ وإنما يصح المعنى الذي ذكره لو قال يهودي أو نصراني لمسلم: "يا كافر" فهذا بلا شك لا يريد إلا أن دينك وهو دين الإسلام كفر، وأما المسلم فلا يريد هذا أصلاً. انتهى كلام الفتى.
ولك ردّه بأنه مبني على ما زعمه من أن معنى لفظه ما ذكره، وليس معناه ما زعم، بل معناه: يا متصفاً بالكفر، وهذا كما ترى صادق بأن ما اتصفت به من الإسلام يسمى كفراً، وبأنك لم تتصف بالإسلام من أصله، وهو الذي زعمه، ولا أثر لكون هذا الثاني هو الذي يغلب قصده بهذه الكلمة؛ لأن وصفه له بالكفر مع مشاهدة الإسلام منه وعدم تأويله قرينة ظاهرة على تسمية الإسلام كفراً، فعلمنا بما دل عليه لفظه صريحاً بواسطة القرينة المذكورة، وألغينا النظر إلى ما يُقصد بهذه الكلمة بين الناس؛ لأن هذا لا تعويل عليه في هذا الباب. وقلنا له: أنت حيث أطلقت هذا اللفظ ولم تؤول كنت كافراً لتضمن لفظك تسمية الإسلام كفراً، وإن كنت لم تقصد ذلك لأنا إنما نحكم بالكفر باعتبار الظاهر، وقصدك
আমি মনে করি না যে কেউ এমন কথা বলে; বরং সে বুঝাতে চায় যে আপনি পাপাচার করছেন এবং আপনার ইবাদতের সাথে এমন সব কাজ করছেন যা পাপাচার, এমন নয় যে আপনার ইবাদত নিজেই পাপাচার। তাছাড়া, কুফরির সম্ভাবনাযুক্ত এই শব্দের নিঃশর্ত প্রয়োগের কারণে কীভাবে তাকে কাফির বলে রায় দেওয়া যায়, যেখানে অন্য কোনো অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অধিকতর এবং সুস্পষ্ট? তার উল্লিখিত অর্থটি কেবল তখনই সঠিক হতো যদি কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান কোনো মুসলিমকে বলত: "হে কাফির"; তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সে এর দ্বারা এটাই বুঝাতে চায় যে আপনার দ্বীন তথা ইসলামই কুফর। কিন্তু একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে তা একেবারেই অসম্ভব। যুবকের কথা এখানেই শেষ।
কিন্তু আপনি তার এই বক্তব্যকে এভাবে খণ্ডন করতে পারেন যে, এটি তার সেই অলীক ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা সে শব্দের অর্থ হিসেবে দাবি করেছে। অথচ এর অর্থ সেটি নয় যা সে দাবি করেছে, বরং এর অর্থ হলো: "হে কুফরিতে বিশেষিত ব্যক্তি"। আর এটি যেমনটি আপনি দেখছেন, তা এই কথার ওপর সত্য হয় যে আপনার মধ্যকার ইসলামকে কুফর বলা হচ্ছে, অথবা এর অর্থ হলো আপনি মূলে ইসলামের গুণেই গুণান্বিত নন—যা সে দাবি করেছে। এই শব্দটির দ্বারা এই দ্বিতীয় অর্থটিই সাধারণত উদ্দেশ্য হওয়া এখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না; কারণ তার মাঝে ইসলাম প্রত্যক্ষ করা সত্ত্বেও কোনো ব্যাখ্যা প্রদান ছাড়াই তাকে কুফরের বিশেষণে বিশেষিত করা ইসলামকে কুফর হিসেবে নামকরণ করার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। ফলে উল্লিখিত প্রমাণের মাধ্যমে তার শব্দের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য থেকে আমরা যা বুঝেছি তা-ই গ্রহণ করেছি এবং এই শব্দ দ্বারা মানুষের মধ্যকার সাধারণ উদ্দেশ্যের বিষয়টি বর্জন করেছি; কারণ এই অধ্যায়ে এর ওপর নির্ভর করা যায় না। আমরা তাকে বলেছি: আপনি যেহেতু এই শব্দটি প্রয়োগ করেছেন এবং কোনো ব্যাখ্যা দেননি, তাই আপনি কাফির সাব্যস্ত হয়েছেন; কারণ আপনার শব্দটি ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও আপনি তা উদ্দেশ্য করেননি। কেননা আমরা বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই কুফরির বিধান প্রদান করি এবং আপনার উদ্দেশ্য...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وعدمه إنما ترتبط به الأحكام باعتبار الباطن لا الظاهر، فاندفع زعمه أن هذا المعنى لا يُفهم من لفظه، وقوله: إنما مراده ومعنى لفظه إلى آخره، بل ذكره المراد لا وجه له هنا البتة، لما قررناه بأن حكمنا إنما هو باعتبار الظاهر، فلا يبحث عن المراد ولا ندير عليه حكماً ظاهراً، واندفع حصره بقوله: إنما وصف بالكفر الشخص لا دين الإسلام.
وأما ما زعمه من اللزوم المذكور فغير صحيح، بل لا يلزم عليه ذلك؛ لأن العبادة لا تنافي الفسق لإمكان اجتماعهما في آن واحد؛ إذ من ارتكب كبيرة فاسق، وإن كان أعبد الناس، بخلاف الكفر والإسلام فإنه لا يمكن اجتماعهما في شخص واحد في حالة من الأحوال، فلا يلزم من القول لعابد: يا فاسق تسمية العبادة فسقاً، بخلاف القول لمسلم: يا كافر فإنه ظاهر في الوصف بالكفر، ولو مع ما هو عليه من الإسلام، فلزم تسمية الإسلام كفراً، وما تعجب منه يُردّ بأن اللفظ إذا كان محتملاً لمعانٍ فإن كان في بعضها أظهر حمل عليه، وكذا إن استوت ووجد لأحدها مرجح وهو هنا ما مرّ من وصفه بالكفر مع علمه بما هو عليه من الإسلام، فقوله: "واحتمال غيره أكثر" ظاهر، وقوله: "وأظهر" ليس في محله كما تقرر، وقوله: وإنما يصح المعنى الذي ذكره إلى آخره، يُرد بما علمته مما هو غني عن الإعادة.
وقوله: "وأما المسلم فلا يريد هذا أصلاً" ليس في محله أيضاً؛ لأن الإرادة وعدمها لا شغل لنا بها.
এবং এর অনুপস্থিতি মূলত অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে, বাহ্যিক বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়। ফলে তার এই দাবি খণ্ডিত হয়েছে যে, এই অর্থ তার শব্দ থেকে বোঝা যায় না। আর তার উক্তি: "মূলত তার উদ্দেশ্য এবং শব্দের অর্থ..." ইত্যাদি, বরং এখানে উদ্দেশ্য উল্লেখ করার কোনো ভিত্তিই নেই। কারণ আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, আমাদের বিধান কেবল বাহ্যিক দিক বিবেচনায়। সুতরাং উদ্দেশ্য নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে না এবং এর ওপর আমরা কোনো বাহ্যিক বিধানও দেব না। আর তার এই সীমাবদ্ধকরণও খণ্ডিত হয়েছে যেখানে সে বলেছিল: "মূলত ব্যক্তিকেই কুফরির বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে, ইসলাম ধর্মকে নয়।"
আর উল্লিখিত অনিবার্যতার বিষয়ে তার দাবি সঠিক নয়, বরং এটি সেটি অনিবার্য করে না। কারণ ইবাদত ফাসেকির পরিপন্থী নয়, যেহেতু একই সময়ে উভয়ের একত্র হওয়া সম্ভব। কারণ কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি ফাসেক, যদিও সে সর্বাধিক ইবাদতকারী হয়। পক্ষান্তরে কুফর এবং ইসলাম এমন যে, কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তির মধ্যে এ দুটির একত্র হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং কোনো ইবাদতকারীকে "হে ফাসেক" বললে ইবাদতকে ফাসেকী নামকরণ করা অনিবার্য হয় না। পক্ষান্তরে কোনো মুসলিমকে "হে কাফের" বলা স্পষ্টতই তাকে কুফরির গুণে বিশেষিত করা, যদিও সে ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে; ফলে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর সে যে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে তার উত্তর হলো, যদি কোনো শব্দের একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে এবং তার মধ্যে কোনো একটি অর্থ অধিকতর স্পষ্ট হয়, তবে সেটির ওপরই তা প্রয়োগ করা হবে। একইভাবে যদি অর্থগুলো সমান পর্যায়ের হয় এবং কোনো একটির পক্ষে অগ্রাধিকার প্রদানকারী কারণ পাওয়া যায়—আর এখানে অগ্রাধিকার প্রদানকারী বিষয়টি হলো তার ইসলাম সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও তাকে কুফরির বিশেষণে বিশেষিত করা—এমতাবস্থায় তার কথা: "অন্য অর্থের সম্ভাবনা অধিকতর"—তা স্পষ্ট। কিন্তু তার উক্তি: "এবং অধিকতর স্পষ্ট"—তা সাব্যস্তকৃত নিয়ম অনুযায়ী যথাস্থানে নেই। আর তার উক্তি: "তার উল্লেখিত অর্থটিই কেবল সঠিক..." ইত্যাদি, এর উত্তর আপনি যা অবগত হয়েছেন তার মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে, যা পুনরাবৃত্তির অবকাশ রাখে না।
এবং তার উক্তি: "আর মুসলিম তো মোটেও এমন ইচ্ছা করে না"—তাও যথাস্থানে নেই; কারণ ইচ্ছা থাকা বা না থাকা নিয়ে আমাদের কোনো কারবার নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وإذا تقرر لك حكم: يا كافر بما لم تجده في كتاب، وعلمت أن ما ذكره الشيخان فيه نقلاً عن المتولي هو الحق الذي لا محيد عنه، وأن كلام جمع من الأصحاب صريح في كفر قائله مطلقاً، وأن ما مرّ من عبارة الأذكار وشرح مسلم وغيرهما لا يخالفه، وظهر لك أن ما أفتيت به في: يا عديم الدين حق ظاهر لا يسع أحداً إنكاره، وأن من أنكره فقد أنكر على هؤلاء الأئمة الذين هم آباؤنا في الدين، لكِنْ المعترضون عليّ لا يحترمون أحداً من المتأخرين ولا من المتقدمين، فلي بهم أسوة ولله الحمد على ذلك.
فمن قال لآخر: يا عديم الدين، نقول له: ما الذي أردته بذلك؟ فإن قال: أردت أن ما هو عليه من الدين لا يسمى ديناً، قلنا له: قد كفرت، فإن لم تسلم، وإلا ضربنا عنقك، وإن قال: أردت أنه لا دين له في المعاملات ونحوها، قلنا: لا كفر عليك، لكن عليك التعزير الشديد اللائق بك، وإن قال: لا نية لي، قلنا له: فهل تعتقد أنه يحل لك أن تقول له ذلك؟ فإن قال: نعم، قلنا له: كفرت إن كان ذلك مما لا يخفى عليك بناء على ما مرّ، وإن قال: لا أستحل ذلك أو كان ممن تخفى عليه ذلك قلنا: عليك التعزير لأنك ارتكبت معصية ليست كفراً، وإلى هذا التفصيل كله المستفاد مما قررته في يا كافر أشرت بقولي في الجواب السابق: بل ربما يكون قوله: يا عديم الدين كفراً.
وإذا تمهّدت حقيقة ما أجبت به، فلترجع إلى
رد كلام المعترضين، وهو لركاكته وكونه بالخيال أشبه غَنِيٌّ عن الرد، لكن في ضمن رده فوائد، فأما قول من قال: هذا الإفتاء كفر لاقتضائه أن قائل هذا اللفظ يكفر مطلقاً وليس كذلك، ومن كفَّر مسلماً فقد كفر، فيُردّ عليه بأمور:
منها: أن دعواه اقتضاء قولي: ربما إلى آخره الكفر مطلقاً مجازفة وجهل بمدلولات الألفاظ، فإن مدلول "ربما" أنه له حالة يكون فيها كفراً، وحالة لا تكون
যখন আপনার কাছে এই হুকুমটি স্থির হলো যে: ‘হে কাফির’—এমন বিষয় নিয়ে যা কিতাবে পাওয়া যায় না, এবং আপনি অবগত হলেন যে শায়খাইন (ইমাম নববী ও রাফিঈ) আল-মুতাওয়াল্লি থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা-ই হলো অনস্বীকার্য সত্য, এবং একদল ফকীহর বক্তব্য স্পষ্টভাবে এর প্রবক্তাকে সাধারণভাবে কাফির হওয়ার কথা বলে, এবং ইতিপূর্বে ‘আল-আযকার’ ও ‘শারহু মুসলিম’ এবং অন্যান্য কিতাবের যে বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে তা এর পরিপন্থী নয়, তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আমি ‘হে দ্বীনহীন’ বলার ব্যাপারে যে ফতোয়া দিয়েছি তা সুস্পষ্ট সত্য যা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করল, সে মূলত এই সকল ইমামগণকেই অস্বীকার করল যারা দ্বীনের বিষয়ে আমাদের পিতৃপুরুষ সদৃশ। কিন্তু যারা আমার বিরোধিতা করে তারা পরবর্তীকালীন কিংবা পূর্ববর্তীকালীন কোনো আলেমকেই সম্মান করে না; সুতরাং তাদের দ্বারা আমার আক্রান্ত হওয়া একটি আদর্শগত বিষয় এবং এর জন্য আল্লাহরই সকল প্রশংসা।
সুতরাং কেউ যদি অন্যকে বলে: ‘হে দ্বীনহীন’, তবে আমরা তাকে বলব: তুমি এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছ? যদি সে বলে: আমার উদ্দেশ্য হলো সে যে দ্বীনের ওপর আছে তাকে দ্বীন বলা যায় না, তবে আমরা তাকে বলব: তুমি কাফির হয়ে গেছ, যদি তুমি পুনরায় ইসলাম গ্রহণ না করো, তবে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে। আর যদি সে বলে: আমার উদ্দেশ্য হলো লেনদেন ও এই জাতীয় বিষয়ে তার কোনো দ্বীনদারি নেই, তবে আমরা বলব: তোমার ওপর কুফরের বিধান বর্তাবে না, তবে তোমার ওপর উপযুক্ত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তা’যীর) গ্রহণ করা হবে। আর যদি সে বলে: আমার কোনো নিয়ত ছিল না, তখন আমরা তাকে বলব: তুমি কি বিশ্বাস করো যে তাকে এমনটি বলা তোমার জন্য বৈধ? যদি সে বলে: হ্যাঁ, তবে আমরা তাকে বলব: তুমি কাফির হয়ে গেছ—যদি তা এমন বিষয় হয় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তোমার কাছে অস্পষ্ট থাকার কথা নয়। আর যদি সে বলে: আমি একে বৈধ মনে করি না অথবা সে যদি এমন ব্যক্তি হয় যার কাছে এ বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে আমরা বলব: তোমার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে কারণ তুমি এমন এক পাপ করেছ যা কুফর নয়। আর এই বিস্তারিত বর্ণনা—যা আমি ‘হে কাফির’ বলা সংক্রান্ত আলোচনায় স্থির করেছি—তা থেকেই গৃহীত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী জবাবে আমার এই কথার দ্বারা আমি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছি যে: বরং কখনও কখনও ‘হে দ্বীনহীন’ বলাটা কুফর হতে পারে।
যখন আমার প্রদত্ত উত্তরের বাস্তবতা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আপনি বিরোধিতাকারীদের বক্তব্যের খণ্ডনের দিকে মনোনিবেশ করুন; যা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার কারণে এবং কল্পনার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার দরুন খণ্ডন করার প্রয়োজনীয়তাও রাখে না। তবে এর খণ্ডনের মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে। সুতরাং যে বলেছে: “এই ফতোয়াটি নিজেই কুফর কারণ এটি দাবি করে যে এই শব্দ প্রয়োগকারী ব্যক্তি ঢালাওভাবে কাফির হয়ে যায়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; আর যে কোনো মুসলিমকে কাফির বলল সে নিজেই কাফির হয়ে গেল”—তার এই দাবিটি কয়েকটি বিষয় দ্বারা খণ্ডন করা হবে:
তার মধ্যে একটি হলো: আমার বক্তব্য—‘কখনও কখনও’ হতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত—ঢালাওভাবে কুফরের দাবি রাখে বলাটা একটি হঠকারিতা এবং শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ সম্পর্কে অজ্ঞতা। কারণ ‘রুব্বামা’ (কখনও কখনও) শব্দের অর্থই হলো এমন একটি অবস্থা থাকতে পারে যেখানে সেটি কুফর হবে, আবার এমন অবস্থাও থাকতে পারে যেখানে তা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
فيها كفراً، وهذا جلي واضح فلا نطيل فيه؛ لأن الكلام فيه لا يليق بهذا المصنَّف المبني على غاية من الإتقان والتحرير.
ومنها: أن احتجاجه بما ذكر مكفر له صريحاً، فإنه كفّر مسلماً من غير تأويل؛ لأن المفتي إذا أفتى بحكم فلا يخلو إما أن يكون حقاً أو خطأً، فإن كان حقاً فلا كلام في تكفير مكفره، وإن كان خطأ فكذلك، وإن تعمد الخطأ؛ لأنه لم يتعمد تكفير أحد بعينه، إذ المفتي لا يفتي على أحد معين. والعجب من جرأته كيف يكفر غيره، ويستدل بما يكفر به نفسه؟
فإن قلت: فلمَ ذكرتَ هذه الإشارةَ الخفية ولم تفصل في الجواب، كما فصّلت هنا، ولا أطلقت القول بالحرمة كما في الأذكار؟
قلت: إيثاراً للاختصار، وحذراً من الوقوع في ورطة الإطلاق، فإنه قال في آداب المفتي من الروضة: وإذا كان في المسألة تفصيل لم يطلق الجواب فإنه خطأ بالاتفاق، وليس له أن يكتب الجواب على ما يعلمه من صورة الواقعة إذا لم يكن في الواقعة تعرّض له. انتهى.
وليس الإطلاق في المصنفات كالإطلاق في الفتاوى، فإن الناظر في المصنفات لا يقتصر على مصنف واحد وإلا كان مقصّراً، بخلاف المستفتي، فإنه لا أهلية له في النظر في المصنفات حتى يعلم حكم الواقعة، وإنما الواجب عليه دفعها للمفتي، فمتى أفتاه وأطلق له في محل التفصيل ألجأه إلى الوقوع في الخطأ، فكان المفتي مخطئاً اتفاقاً.
وأيضاً فالمصنفات تكثر مسائلها، فلو كلف المصنفون إلى استيعاب سائر التفاصيل في كل مسألة لشق عليهم، بل عجزت عن ذلك قدرتهم، فساغ لهم ذكر أصول المسائل، والإطلاق في بعض الأبواب اتِّكالاً على فهم التفصيل من محل آخر، وغير ذلك مما لا يخفى على ناظر في كتبهم.
وأيضاً فإنما لم أفصّل في الجواب تفصيلاً واضحاً قصداً لستر المعنى المكفر عن العامة حتى لا تتطرق إليه أفهامهم، فإن غالب فطرهم سليمة، ولا يقصدون بقولهم لبعضهم: يا كافر يا عديم الدين إلا كفر النعمة، أو: يا من فعله كفعل
এতে কুফর রয়েছে, এবং এটি অতি স্পষ্ট ও পরিষ্কার, তাই আমরা এটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব না; কেননা এর ওপর আলোচনা করা এই গ্রন্থের উপযুক্ত নয়, যা অত্যন্ত নিপুণতা ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
এবং এর মধ্যে একটি হলো: সে যা উল্লেখ করেছে তা দিয়ে তার দলিল পেশ করা তাকে স্পষ্টভাবে কাফিরে পরিণত করে। কারণ সে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন মুসলিমকে কাফির বলেছে; কেননা মুফতি যখন কোনো বিধানের ফতোয়া দেন, তখন তা হয় সঠিক হবে অথবা ভুল হবে। যদি তা সঠিক হয়, তবে তাকে যে কাফির বলবে তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আর যদি তা ভুল হয়, তবুও তাই (অর্থাৎ তাকে কাফির বলা যাবে না), যদিও সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে থাকে; কারণ সে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলার সংকল্প করেনি, কেননা মুফতি নির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন না। তার ধৃষ্টতা দেখে অবাক হতে হয় যে, সে কীভাবে অন্যকে কাফির বলছে এবং এমন দলিল পেশ করছে যার দ্বারা সে নিজেই কাফির হয়ে যাচ্ছে?
যদি আপনি বলেন: তবে কেন আপনি এই সূক্ষ্ম ইঙ্গিতটি উল্লেখ করেছেন এবং উত্তরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি, যেমনটি এখানে বিস্তারিত করেছেন, আর কেনই বা আপনি 'আল-আজকার' (গ্রন্থের) মতো সরাসরি হারামের কথা স্পষ্টভাবে বলেননি?
আমি বলব: সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং নিরঙ্কুশ বা সাধারণ বক্তব্যের বিপদে পড়া থেকে বাঁচার জন্য। কারণ তিনি 'রাওযা' গ্রন্থের 'আদাবুল মুফতি' অধ্যায়ে বলেছেন: যখন কোনো মাসআলায় বিস্তারিত ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে, তখন সাধারণ বা অস্পষ্ট উত্তর দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি সর্বসম্মতিক্রমে ভুল। আর মুফতির জন্য বাস্তব ঘটনার যে চিত্র তিনি জানেন তার ওপর ভিত্তি করে উত্তর লেখা জায়েজ নেই, যদি সেই বাস্তব ঘটনায় তা সরাসরি উল্লেখ না থাকে। সমাপ্ত।
আর গ্রন্থসমূহে সাধারণ বা ঢালাও আলোচনা ফতোয়ার সাধারণ আলোচনার মতো নয়। কারণ যে ব্যক্তি গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করে সে একটিমাত্র গ্রন্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, অন্যথা সে ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে ফতোয়া প্রার্থী ব্যক্তির অবস্থা ভিন্ন, কারণ তার গ্রন্থসমূহ দেখে ঘটনার বিধান জানার যোগ্যতা নেই। তার ওপর কেবল দায়িত্ব হলো বিষয়টি মুফতির কাছে পেশ করা। সুতরাং যখন মুফতি তাকে ফতোয়া দেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার স্থলে সাধারণ বা অস্পষ্ট উত্তর দেন, তখন তিনি তাকে ভুলের মধ্যে নিপতিত করেন। এমতাবস্থায় মুফতি সর্বসম্মতিক্রমে ভুলকারী হিসেবে গণ্য হন।
এছাড়াও গ্রন্থসমূহে মাসআলার সংখ্যা অনেক বেশি। যদি লেখকদের প্রতিটি মাসআলার সকল খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ করতে বাধ্য করা হতো, তবে তা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত, বরং তাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যেত। তাই তাদের জন্য মাসআলার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা এবং কিছু অধ্যায়ে সাধারণ আলোচনা করা বৈধ করা হয়েছে, এই ভরসায় যে অন্য স্থান থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বুঝে নেওয়া হবে। এছাড়াও অন্যান্য কারণ রয়েছে যা তাদের কিতাবসমূহ অধ্যয়নকারীদের কাছে গোপন নয়।
এছাড়াও আমি উত্তরের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিইনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কুফরি অর্থ গোপন রাখার উদ্দেশ্যে, যাতে তাদের বোধগম্যতায় এটি না পৌঁছায়। কারণ অধিকাংশ মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি নির্মল, এবং তারা যখন একে অপরকে বলে: "ওরে কাফির" বা "ওরে ধর্মহীন", তখন তারা এর দ্বারা অকৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু বোঝায় না, অথবা বলে: "ওরে যার কাজ (কাফিরের কাজের মতো)..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
الكافر ونحو ذلك مما لا يقتضي الكفر، فأبرزت لهم أن هذا اللفظ قد يكون كفراً ليحذروه ويبعدوا عنه، ولم أبين لهم الوجه المكفر ستراً له عليهم لئلا يسمعه أحدهم فيكون سبباً له في أنه ربما يقصده، فكان ما فعلته من الإشارة إلى التفصيل به بـ: "ربما"، ومن ترهيبهم بأن ذلك كفر أبلغ وأولى، والله سبحانه وتعالى يوفق من شاء لما يشاء.
وأما الاعتراض على التفريع بالفاء بما مرّ فسببه الجهل بالأحكام وبمدلولات الألفاظ أيضاً؛ لأن الحكم المحقق هو الحرمة، وأما التكفير فأمر أخص يشترط له ما مرّ، فكيف يعدل عن الأمر المحقق وهو الحرمة ولا يفرّع عليه، ويفرّع على الأمر الذي لم يعلم وجوده لإناطته بقصد المتكلم ولم يطلع عليه، بل ويندر وقوع المعنى المكفر من أحد من المسلمين كما مرّ، وذِكْر الفقهاء له إنما هو خشية من وقوعه، وإذا كان وقوعه في غاية الندور، فعلم أن التفريع على الحرمة هو الصواب الذي لا مرية فيه.
وأما الاعتراض بأن المفتي كيف يكتب التعزير الشديد، والتعزير راجع إلى رأي الحاكم في الشدة والضعف.
فجوابه وإن كان لا يستحق جواباً لولا ما في جوابه من الفوائد التي لا تخفى على ذي لب: أن الحكام والقضاة أسرى المفتين لغلبة الجهل عليهم، وعدم معرفتهم بظواهر الأحكام فضلاً عن دقائقها.
وقد قال الأذرعي عن قضاة زمنه: ولا تغتر بقضاة زماننا فإنهم كقريبي عهد بالإسلام، هذا في قضاة زمنه، فما بالك بغيرهم، وقد أشار إلى ذلك الفارقي أيضا في قضاة زمنه مع تقدمه على زمن الأذرعي بكثير.
কাফির এবং অনুরূপ এমন বিষয় যা কুফরি দাবি করে না; ফলে আমি তাদের সামনে এটা স্পষ্ট করেছি যে, এই শব্দটির ব্যবহার কুফরি হতে পারে যাতে তারা এটি থেকে সতর্ক থাকে এবং দূরে থাকে। আর আমি তাদের কাছে কুফরির দিকটি স্পষ্ট করিনি তাদের থেকে এটি গোপন রাখার উদ্দেশ্যে, পাছে তাদের কেউ তা শুনে ফেলে এবং তা তার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা বলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং 'সম্ভবত' শব্দের মাধ্যমে এর বিস্তারিত বিবরণের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এটি কুফরি হওয়ার ব্যাপারে তাদের ভীত করা অধিকতর কার্যকর ও উত্তম ছিল। আর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'য়ালা যাকে ইচ্ছা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তাওফিক দান করেন।
আর ইতঃপূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে সে অনুযায়ী 'ফা' অব্যয়ের মাধ্যমে উপ-মাসআলা বের করার ওপর যে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, তার কারণ হলো বিধানসমূহ এবং শব্দসমূহের অর্থ সম্পর্কেও অজ্ঞতা। কারণ নিশ্চিত বিধান হলো হারাম হওয়া; আর তাকফীর (কাফির সাব্যস্ত করা) একটি বিশেষ বিষয় যার জন্য পূর্বোল্লিখিত শর্তাবলি প্রযোজ্য। সুতরাং নিশ্চিত বিষয় অর্থাৎ হারাম হওয়াকে বাদ দিয়ে কেন তার ওপর ভিত্তি করা হবে না? বরং এমন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা হচ্ছে যার অস্তিত্ব নিশ্চিত নয় কারণ তা বক্তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল যা জানা সম্ভব নয়। অধিকন্তু, কোনো মুসলিমের পক্ষ থেকে কুফরি অর্থ প্রকাশিত হওয়া অত্যন্ত বিরল যেমনটি আগে বলা হয়েছে। ফকিহগণ এটি উল্লেখ করেছেন কেবল তা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কায়। আর যেহেতু এর প্রকাশ অত্যন্ত বিরল, সেহেতু এটি নিশ্চিত যে হারামের ওপর ভিত্তি করে উপ-মাসআলা বের করাই সঠিক পথ যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আর এই আপত্তির ব্যাপারে যে, মুফতি কীভাবে কঠোর শাস্তির কথা লিখবেন, অথচ শাস্তির কঠোরতা বা শিথিলতার বিষয়টি শাসকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এর উত্তর হলো—যদিও বুদ্ধিমানদের কাছে স্পষ্ট নয় এমন কিছু উপকারিতা না থাকলে এটি উত্তর দেওয়ার যোগ্য ছিল না—শাসক ও বিচারকগণ মুফতিদের মুখাপেক্ষী, কারণ তাদের ওপর অজ্ঞতা প্রবল এবং বিধানসমূহের সূক্ষ্ম বিষয় তো দূরের কথা, প্রকাশ্য বিষয়গুলো সম্পর্কেও তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে।
আল-আযরাঈ তাঁর সময়ের বিচারকদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমাদের যুগের বিচারকদের দ্বারা প্রতারিত হইয়ো না, কারণ তারা যেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী।" এটি ছিল তাঁর সময়ের বিচারকদের অবস্থা, তাহলে অন্যদের অবস্থা কী হবে! আল-ফারিক্বীও তাঁর সময়ের বিচারকদের সম্পর্কে অনুরূপ ইঙ্গিত দিয়েছেন, অথচ তিনি আল-আযরাঈ-এর অনেক আগের মানুষ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
ولما أن كان غالب قضاة زماننا بلغوا إلى ما لم يبلغه غيرهم، صنفت كتاباً في قبائحهم، وصدرته بأربعين حديثاً فيه مزيد الذم وشديد الوعيد على أكثر القضاة، وسميته: "جمر الغضا لمن تولى القضا" ولئن سلمنا أن القضاة فيهم المفتون، فللمفتي أن يكتب أن التعزير شديد أو غير شديد، ولا مانع من ذلك عند من له أدنى بصيرة.
على أن لأصحابنا وجهاً أن القاضي ليس له أن يفتي في الأحكام، فعليه: صار المفتي من القضاة كغيره، والاستدلالُ للاعتراض المذكور بأن التعزير راجع إلى أمر الحاكم في الشدة والضعف ناشئٌ عن الجهل بكلام الفقهاء وقواعدهم؛ لأنه ليس راجعاً إليه في الشدة والضعف، بل يجب عليه أن يفعل بالمُعَزَّر ما يناسب معصيته من التغليظ والتخفيف، وإنما الراجع إليه تعيين نوع من الأنواع التي يحصل بها ذلك، فتأمل هذا الإبهام الذي أوقع المعترضين في الاعتراض بذلك عليّ، إن للمفتي أن يغلظ في الجواب ولو بغير الواقع، حيث لا مفسده. ففي المجموع والروضة وأصلها: للمفتي أن يشدد في الجواب بلفظ متأوَّل عنده زجراً وتهديداً في مواضع الحاجة. زاد في الروضة: قلت: المراد ما ذكره الصيمري وغيره قالوا: إذا رأى المفتي المصلحة أن يقول للعامي ما فيه تغليظ وهو لا يعتقد ظاهره وله فيه تأويل جاز زجراً، كما روي عن ابن عباس
যেহেতু আমাদের যুগের অধিকাংশ বিচারক এমন স্তরে পৌঁছেছেন যেখানে অন্য কেউ পৌঁছায়নি, তাই আমি তাদের কুৎসিত স্বভাবসমূহ সম্পর্কে একটি কিতাব রচনা করেছি এবং এর শুরুতে চল্লিশটি হাদিস যুক্ত করেছি যাতে অধিকাংশ বিচারকের জন্য অতিরিক্ত নিন্দা ও কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি: "জামরুল গাদা লিমান তাওয়াল্লাল কাদা" (বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের জন্য জ্বলন্ত অঙ্গার)। আর আমরা যদি মেনেও নেই যে বিচারকদের মধ্যে মুফতি হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন লোক রয়েছেন, তবুও মুফতির জন্য এটি লেখার অধিকার রয়েছে যে, তা'যীর (শাস্তি) কঠোর হবে নাকি শিথিল হবে; সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তির নিকট এতে কোনো বাধা নেই।
তাছাড়া আমাদের (মাযহাবের) আলিমগণের একটি অভিমত এই যে, বিচারকের জন্য বিধানের বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই হিসেবে, বিচারকদের মধ্য থেকে যারা মুফতি হবেন, তারা অন্য সাধারণ মানুষের মতোই গণ্য হবেন। আর উল্লিখিত আপত্তির পক্ষে এই যুক্তি দেওয়া যে, তা'যীরের কঠোরতা বা শিথিলতা বিচারকের মর্জির ওপর নির্ভরশীল—এটি ফকীহগণের বক্তব্য এবং তাদের মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রসূত। কারণ কঠোরতা ও শিথিলতার বিষয়টি বিচারকের ইচ্ছাধীন নয়, বরং যাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তার অপরাধের ধরন অনুযায়ী কঠোরতা বা শিথিলতার মধ্য থেকে যা উপযুক্ত, তা প্রয়োগ করা বিচারকের ওপর ওয়াজিব। বিচারকের ইখতিয়ার কেবল সেই পদ্ধতিটি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে যার মাধ্যমে ওই উদ্দেশ্য অর্জিত হবে। অতএব, এই অস্পষ্টতা লক্ষ্য করুন যা আপত্তিকারীদের আমার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলতে প্ররোচিত করেছে। অথচ কোনো ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে মুফতির জন্য জায়েজ আছে যে তিনি উত্তরে কঠোরতা অবলম্বন করবেন, যদিও তা আপাতদৃষ্টিতে বাস্তবের পরিপন্থী মনে হয়। "আল-মাজমু", "আর-রাওদাহ" এবং এর মূলে বর্ণিত হয়েছে যে: মুফতি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ধমক ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এমন শব্দ ব্যবহার করে কঠোরতা অবলম্বন করতে পারেন যা তাঁর নিকট ব্যাখাসাপেক্ষ। "আর-রাওদাহ" গ্রন্থে অতিরিক্ত বলা হয়েছে: আমি বলছি, এর উদ্দেশ্য হলো যা আস-সায়মারী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: মুফতি যখন জনকল্যাণ মনে করেন তখন কোনো সাধারণ মানুষকে শাসানোর জন্য এমন কঠোর কথা বলতে পারেন যার বাহ্যিক অর্থ তিনি নিজে পোষণ করেন না এবং তাঁর কাছে এর একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে, তবে সতর্ক করার জন্য তা জায়েজ। যেমনটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
رضي الله تعالى عنهما أنه سئل عن توبة القاتل؟ فقال: لا توبة له. وسأله آخر فقال: له توبة، ثم قال: أما الأول فرأيت عليه إرادة القتل فمنعته، وأما الثاني فجاء مسكيناً قد قتل فلم أقنطه، قال الصيمري: وكذا إن سأله فقال: إن قتلتُ عبدي فهل عليَّ قصاص؟ فواسع أن يقول: إن قتلته قتلناك، فعن النبي صلى الله عليه وسلم: (مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ)، ولأن القتل له معنيان وهذا كله إذا لم يترتب على الإطلاق مفسدة والله أعلم. انتهى كلام الروضة، وهو حريّ أن يتأمله المعترضون ويفهموه، فإنهم بمكان سحيق عنه وعن غيره من كلام الأئمة وإلا لما صدرت منهم هذه الخرافات.
وأما الاعتراض بأن القاضي لا يُفْتَى عليه فقد مرّ ما يتكفل برده، بل لا يصدر ذلك إلا ممن ترك الشريعة الغراء وراءه ظِهرياً ونسياً منسياً؛ لأن القاضي إما أن يكون محقا فالإفتاء يؤيده وينصره، وإما أن يكون مُبطلاً فهو ليس بقاضٍ، فإن فُرض أنه قاضٍ ضرورةً وجب رفعه إلى مُستنيبه ليقيم عليه الأحكام الشرعية، فإن فرض أنه لا يفعل، فوض الأمر إلى الله تعالى حتى يحكم الله وهو خير
আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন যে, তাকে হত্যাকারীর তওবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তার জন্য কোনো তওবা নেই। অন্য একজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তার জন্য তওবা আছে। এরপর তিনি বললেন: প্রথম ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমি তার মধ্যে হত্যার ইচ্ছা লক্ষ্য করেছিলাম, তাই তাকে (পাপ থেকে) বিরত রেখেছি। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি এসেছিল অসহায় অবস্থায় যে ইতিপূর্বেই হত্যা করে ফেলেছিল, তাই আমি তাকে নিরাশ করিনি। সাইমারি বলেন: অনুরূপভাবে যদি কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করে: আমি যদি আমার গোলামকে হত্যা করি, তবে কি আমার ওপর কিসাস (প্রতিশোধ) হবে? তবে এমন বলা প্রশস্ত যে: তুমি যদি তাকে হত্যা করো তবে আমরা তোমাকে হত্যা করব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: (যে ব্যক্তি তার গোলামকে হত্যা করবে, আমরা তাকে হত্যা করব)। কারণ হত্যার দুটি অর্থ রয়েছে। আর এই সবই তখন, যখন নিঃশর্তভাবে বলার দ্বারা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। রওযা-এর বক্তব্য এখানে শেষ হলো। এটি এমন একটি বিষয় যা বিরোধিতাকারীদের গভীরভাবে চিন্তা করা ও বোঝা উচিত; কেননা তারা ইমামদের এই বক্তব্য এবং অন্যান্য বক্তব্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, অন্যথায় তাদের থেকে এই ভিত্তিহীন কথাগুলো প্রকাশ পেত না।
আর এই আপত্তি যে, কাজির বিপক্ষে ফতোয়া দেওয়া যাবে না—তা খণ্ডন করার জন্য যা অতিবাহিত হয়েছে তাই যথেষ্ট। বরং এমন কথা কেবল সেই ব্যক্তি থেকেই প্রকাশ পেতে পারে যে দীপ্তমান শরিয়তকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং তাকে সম্পূর্ণরূপে ভুলে গিয়েছে। কারণ কাজি হয় সত্যের ওপর থাকবেন, সে ক্ষেত্রে ফতোয়া তাকে সমর্থন ও সহায়তা করবে; অথবা তিনি বাতিলের ওপর থাকবেন, এমতাবস্থায় তিনি কাজিই নন। যদি ধরে নেওয়া হয় যে তিনি অনিবার্য প্রয়োজনে কাজি হিসেবে আছেন, তবে বিষয়টি তার নিয়োগদাতার নিকট উত্থাপন করা ওয়াজিব যাতে তিনি তার ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর করেন। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে তিনি তা করবেন না, তবে বিষয়টি আল্লাহ তাআলার ওপর সোপর্দ করতে হবে যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الحاكمين، على أن القاضي في صورة السؤال خصم مدعٍ على آخر ما يتعلق بالوصاية التي ذكر أنها فوضت إليه، فليس متحاكماً إليه حتى يكون له أدنى شبهة في نوع من الشتم أو السب، وإنما الحامل على ذلك استطالته على أعراض المسلمين وشتمهم بالألفاظ القبيحة التي لا تصدر من أدنى العوام.
وأما الاعتراض بأن الجواب ليس مطابقاً للسؤال فكلام مهمل لا معنى له بوجه حتى يتكلم عليه، ومزيد المقت والغضب من الله سبحانه يُلجئ الشخص إلى أن يقول ما لا يعقله ولا يفهمه نعوذ بالله من ذلك، ونسأله العفو عما اقترفنا من الزلات والجهالة إنه جواد كريم، رؤوف رحيم.
বিচারকদের মাঝে। আর বিষয়টি এই যে, প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বিচারক নিজেই একজন বিবাদী ও দাবিদার হিসেবে সেই অসিয়ত বা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে অন্যের বিপক্ষে লিপ্ত হয়েছেন, যা তাঁর নিকট অর্পণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাঁর নিকট কোনো ফয়সালা চাওয়া হয়নি যে সেখানে গালিগালাজ বা মন্দ বাক্যের ন্যূনতম কোনো সংশয় থাকবে। বরং এর মূল কারণ হলো মুসলমানদের সম্মানের ওপর তাঁর এই সীমালঙ্ঘন এবং তাদের এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেওয়া যা নিম্নস্তরের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও প্রকাশ পায় না।
আর এই আপত্তি যে—উত্তরটি প্রশ্নের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তা একটি অসার কথা যার কোনো অর্থ নেই যে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। বস্তুত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে চরম ঘৃণা ও ক্রোধ ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে বাধ্য করে যা সে অনুধাবন করে না এবং বোঝেও না। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই এবং আমাদের কৃত বিচ্যুতি ও মূর্খতা থেকে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وإذ قد أنهينا الكلام على هذه القضية فلننتقل إلى
الكلام على بقية الألفاظ والأفعال التي توقع في الكفر عندنا أو عند غيرنا اعتناءً بهذا الباب لخطره، وفي الحقيقة هذا هو المقصود بالكتاب، وما مرّ كالمقدمة له أو السبب الباعث عليه، فنقول: هذا باب واسع وأكثر من اعتنى به الحنفية، ثم أصحابنا كما ستعلمه.
فمن ذلك العزم على الكفر في زمن بعيد أو قريب، أو تعليقه باللسان أو القلب على شيء ولو محالاً عقلياً فيما يظهر، فيكون ذلك كفراً في الحال، كما نقله الشيخان عن التتمة، وجزم به البغوي وغيره كالحليمي وصححه الروياني، وقول الشافعي رضي الله تعالى عنه في الأم: كل ما لم يحرك به لسانه هو حديث النفس الموضوع عن بني آدم لا يخالف ذلك، خلافاً لمن وهم فيه؛ لأنه محمول على الخاطر الذي لا يستقر كما حمل الأئمة الحديث عليه، وقول أبي نصر القشيري: عندنا لا يتصور العزم على الكفر الذي هو
যেহেতু আমরা এই প্রসঙ্গের আলোচনা সমাপ্ত করেছি, তাই এখন আমরা আমাদের নিকট অথবা অন্যদের নিকট
কুফরি সংঘটিত করে এমন অবশিষ্ট শব্দাবলী ও কার্যাবলীর আলোচনায় প্রবেশ করব; এই অধ্যায়টির গুরুত্ব ও ঝুঁকির কারণে আমরা এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে, এটিই এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য, আর যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা এর ভূমিকা স্বরূপ অথবা এর প্রেক্ষাপট হিসেবে ছিল। আমরা বলছি: এটি একটি প্রশস্ত অধ্যায় এবং হানাফিগণ এর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন, এরপর আমাদের সাথীগণ (শাফিঈগণ), যেমনটি আপনি জানতে পারবেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো—দূরবর্তী বা নিকটবর্তী কোনো সময়ে কুফরি করার সংকল্প করা, কিংবা মুখে বা অন্তরে কোনো বিষয়ের ওপর তা শর্তযুক্ত করা, বাহ্যত তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্ভব হলেও। এমতাবস্থায় তা তাৎক্ষণিকভাবেই কুফরি বলে গণ্য হবে, যেমনটি শায়খাইন 'আত-তাতিনম্মাহ' থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং বাগাভি ও হালিমির ন্যায় অন্যান্যগণ এ বিষয়ে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন এবং রুয়ানি একে বিশুদ্ধ বলেছেন। আর 'আল-উম্ম' গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর উক্তি: "মানুষ তার জিহ্বা দ্বারা যা উচ্চারণ করে না, তা নফসের কুমন্ত্রণা যা আদম সন্তানদের জন্য ক্ষমাযোগ্য"—এটি উক্ত বিষয়ের পরিপন্থী নয়, তাদের ধারণার বিপরীতে যারা এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেননা, এই উক্তিটি এমন অস্থিতিশীল চিন্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা মনে স্থির হয় না, যেমনটি ইমামগণ সংশ্লিষ্ট হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। আর আবু নাসর আল-কুশাইরির উক্তি: আমাদের নিকট কুফরির সংকল্প করা অসম্ভব বলে মনে হয়, যা হলো...