(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: -)
الإعلام في إيضاح ما خفي على الإمام   (فهد السنيد)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الإعلام في إيضاح ما خفي على الإمام، تعقبات حديثية على الشيخ محمد ناصر الدين الألباني مع نقولات في الرجال لسماحة العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز

المؤلف: أبو عبد الله، فهد بن عبد الله بن إبراهيم السنيد

الناشر: مكتبة السنة، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 83

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1435

ইমামের নিকট যা অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ঘোষণা   (ফাহদ আস-সুনাইদ)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ


বই: ইমামের নিকট যা অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ঘোষণা, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর ওপর হাদিস বিষয়ক পর্যালোচনামূলক টীকা এবং মহীয়ান আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজের রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের উদ্ধৃতিসহ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, ফাহদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আস-সুনাইদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১)
أبو عبد الله فهد بن عبد الله السنيد

 

الإعلام

في إيضاح ما خفي على الإمام

تعقبات حديثية

على

الشيخ محمد ناصر الدين الألباني

 

مع نقولات في الرجال

 

لسماحة العلامة

عبد العزيز بن عبد الله بن باز
আবু আবদুল্লাহ ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ আস-সুনাইদ

 

আল-ইলাম

ইমামের নিকট যা অস্পষ্ট ছিল তার স্পষ্টীকরণে

হাদীস বিষয়ক পর্যালোচনাসমূহ

উপরে

শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

 

বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়ক উদ্ধৃতিসহ

 

পরম শ্রদ্ধেয় আল্লামা

আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليمًا.

أما بعد: فإن الله عز وجل ابتعث محمدًا رسوله صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة، وأنزل عليه الكتاب تبيانًا لكل شيء، وجعله موضع الإبانة عنه، فقال تعالى: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم} [النحل: 44]، وقال تعالى: {وما أنزلنا عليك الكتاب إلا لتبين لهم الذي اختلفوا فيه} [النحل: 64]، فقام بذلك صلوات الله وسلامه عليه خير قيام، فما قبضه الله تعالى إليه حتى جعل أمته على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، ولم يزل الحديث النبوي صافيًا نقيًا لا يعتريه الكذب، ولا يتناوله التحريف والتلفيق، حتى وقع ما وقع من الفتن والبدع والجهل، فألصقت بالسنة أحاديث ليست منها، ولكن -ولله الحمد والمنة- قد تكفل الله عز وجل بحفظ دينه وشريعته بقوله تعالى: {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون} [الحجر: 9] فقيض الله سبحانه وتعالى الصحابة والتابعين ومن بعدهم من السلف الصالح بحفظ السنة ; تارة بالتثبت في
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের নিকট রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন যা সকল বিষয়ের বিশদ বিবরণ। তিনি তাঁকে সেই কিতাবের বিধানসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার দায়িত্ব প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এ জন্যই নাযিল করেছি যাতে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে তা আপনি তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন} [আন-নাহল: ৬৪]। অতঃপর আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তিনি সর্বোত্তমভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে তুলে নেওয়ার পূর্বেই তিনি তাঁর উম্মতকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। নববী হাদীস সর্বদা স্বচ্ছ ও নির্মল ছিল, যাতে কোনো মিথ্যা প্রবেশ করতে পারেনি এবং কোনো বিকৃতি বা জালিয়াতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। অবশেষে যখন বিভিন্ন ফিতনা, বিদআত ও মূর্খতার উদ্ভব ঘটল, তখন সুন্নাহর সাথে এমন কিছু হাদীস যুক্ত করে দেওয়া হলো যা সুন্নাহর অংশ নয়। কিন্তু—সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য—আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আমিই যিকর নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাঁদের পরবর্তী সালফে সালেহীনদের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য নিয়োজিত করেছেন; কখনো তা করেছেন বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৪)
الرواية كما جاء عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وغيره من الصحابة، وتارة بالسؤال عن الإسناد، وتارة بذكر أحوال الرواة وبيان من يؤخذ عنه الدين ومن لا يؤخذ عنه، وتارة بوضع ضوابط عامة يعرف بها الحديث الموضوع وغيره.

روى ابن أبي حاتم في تقدمة الجرح والتعديل (1/ 3) عن أبيه قال أخبرني عبدة بن سليمان قال: قيل لابن المبارك هذه الأحاديث المصنوعة؟ قال: يعيش لها الجهابذة.

وروى مسلم في مقدمة صحيحه (1/ 84 نووي) عن ابن سيرين قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة قالوا: سمُّوا لنا رجالكم فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، ويُنظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم.

وروى (1/ 84) من طريق أيوب وهشام هو ابن حسان عن محمد بن سيرين قال: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم، وروى (1/ 87) عن عبد الله بن المبارك قوله: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء. وقوله (1/ 88): بيننا وبين القوم القوائم - يعني الإسناد.

وقال علي بن شقيق سمعت عبد الله بن المبارك يقول على رءوس الناس: دعوا حديث عمرو بن ثابت فإنه كان يسب السلف.

وقال مسلم أيضًا في مقدمة صحيحه (1/ 11) حدثني عبيد الله بن معاذ العنبري حدثنا أبي قال كتبت إلى شعبة أسأله عن أبي شيبة قاضي واسط فكتب إلىّ لا تكتب عنه شيئًا ومَزِّقْ كتابي. ومن هؤلاء
বর্ণনাগুলো যেভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যান্য সাহাবীদের থেকে এসেছে; কখনো ইসনাদ বা সূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে, কখনো বর্ণনাকারীদের অবস্থা উল্লেখ করার মাধ্যমে এবং কার থেকে দ্বীন গ্রহণ করা হবে আর কার থেকে গ্রহণ করা হবে না তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে, আবার কখনো কিছু সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণের মাধ্যমে যার মাধ্যমে জাল হাদিস ও অন্যান্য হাদিস শনাক্ত করা যায়।

ইবনু আবি হাতিম 'তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল' (১/৩) গ্রন্থে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ ইবনু সুলাইমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞেস করা হলো, এই বানোয়াট হাদিসগুলোর ব্যাপারে কী হবে? তিনি বললেন: এগুলো (তদন্ত ও প্রত্যাখ্যান করার) জন্য বিশেষজ্ঞগণ জীবিত আছেন।

ইমাম মুসলিম তার 'সহিহ' গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (১/৮৪ নববী) ইবনু সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা (আগে) ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।

তিনি আরও (১/৮৪) আইয়ুব এবং হিশাম (যিনি ইবনু হাসান) এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো। এবং তিনি (১/৮৭) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে তার এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যদি ইসনাদ না থাকতো তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতো। এবং তার উক্তি (১/৮৮): আমাদের এবং সেই সম্প্রদায়ের মাঝে খুঁটিসমূহ বিদ্যমান—অর্থাৎ ইসনাদ।

আলী ইবনু শাকিক বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে জনসমক্ষে বলতে শুনেছি: তোমরা আমর ইবনু সাবিতের হাদিস ত্যাগ করো, কারণ সে সালফদের গালি দিত।

ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (১/১১) আরও বর্ণনা করেন: উবাইদুল্লাহ ইবনু মুয়াজ আল-আনবারি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বার কাছে ওয়াসিতের কাজি আবু শাইবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে লিখেছিলাম। তিনি আমার কাছে লিখে পাঠালেন: তার থেকে কিছুই লিখো না এবং আমার চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলো। আর এদের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৫)
الذين قيضهم الله لحفظ سنة صلى الله عليه وسلم في هذا العصر المحدِّث العلامة الشيخ ناصر الدين الألباني حفظه الله فإني لا أعلم أحدًا خدم السنة في هذا العصر مثل ما خدمها هذا الشيخ الجليل؛ فقد ألف الكتب في تمييز صحيح السنة من سقيمها، وحقق مؤلفات لغيره، فأقبل الناس على اقتنائها وقراءتها، فانتفعوا بها. فجزاه الله عن الإسلام خير الجزاء وجعل ذلك في ميزان حسناته.

وإنني أحد هؤلاء الذين انتفعوا بكتبه، وكان الفضل الأول لشيخنا العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز حفظه الله، فقد كان له معرفة بالرجال، وعناية بالأسانيد، وحسبك أن تعلم أن الكتب الستة ومسند الإمام أحمد وسنن الدارمي وصحيح ابن حبان، وغيرها من الكتب التي تعتني بذكر الأسانيد كتفسير ابن كثير تُقرأ على شيخنا حفظه الله في أثناء الدروس ; فأصبحت أحب سماع الأسانيد، ولا أمل من تكرارها - ولله الحمد؛ مما ساعدني على فهم الكتب التي تعتني بالأسانيد، والكلام عليها ومنها كتب الشيخ ناصر حفظه الله.

وبما أن الشيخ أكثر من الكلام على الأحاديث تصحيحًا وتضعيفًا كان من الطبيعي أن يقع منه الخطأ، قال عبد الله بن المبارك: من ذا سلم من الوهم. وقال ابن معين: لست أعجب ممن يحدث فيخطئ إنما أعجب ممن يحدث فيصيب (لسان الميزان 1/ 17) وأختم هذه المقدمة بكلمة قالها الحافظ ابن رجب في كتابة القواعد في مقدمته- قال رحمه الله: "ويأبى الله العصمة لكتاب
এই যুগে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য নিয়োজিত করেছেন, তারা হলেন মুহাদ্দিস, আল্লামা শাইখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)। আমি জানি না এই যুগে এই মহান শাইখ সুন্নাহর যেভাবে খিদমত করেছেন, অন্য কেউ সেভাবে খিদমত করেছেন কি না। তিনি সুন্নাহর সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনা পৃথক করার জন্য গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অন্যদের রচিত গ্রন্থসমূহ তাহকীক করেছেন। ফলে মানুষ তা সংগ্রহ ও পাঠ করার প্রতি মনোযোগী হয়েছে এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইসলামের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার আমলনামায় নেকীর পাল্লায় তা যুক্ত করুন।

আর আমি তাদেরই একজন যারা তার কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম কৃতিত্ব আমাদের শাইখ আল্লামা আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)। রাবীদের সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং সনদের প্রতি বিশেষ যত্ন ছিল। আপনার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, কুতুবে সিত্তা, ইমাম আহমদের মুসনাদ, সুনানে দারেমী, সহীহ ইবনে হিব্বান এবং সনদ বর্ণনার প্রতি যত্নশীল অন্যান্য কিতাব যেমন তাফসীরে ইবনে কাসীর—এগুলো দরস চলাকালীন আমাদের শাইখের (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) নিকট পাঠ করা হতো। ফলে আমি সনদ শ্রবণ করতে পছন্দ করতে শুরু করি এবং বারবার তা শুনলেও আমি ক্লান্ত হই না—সকল প্রশংসা আল্লাহর। এটি আমাকে সেই কিতাবগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে যা সনদের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং যেগুলোতে সনদের মান নিয়ে আলোচনা থাকে, যার মধ্যে শাইখ নাসিরের (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) কিতাবসমূহ অন্যতম।

যেহেতু শাইখ হাদীসের সহীহ ও যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে প্রচুর আলোচনা করেছেন, তাই তার থেকে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেছেন: "ভ্রান্তি থেকে কে মুক্ত থাকতে পেরেছে?" ইবনে মাঈন বলেছেন: "আমি তার জন্য অবাক হই না যে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করে, বরং আমি তার জন্য অবাক হই যে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে সঠিকটি তুলে ধরে" (লিসানুল মীযান ১/১৭)। আমি এই ভূমিকাটি হাফেয ইবনে রজব তার আল-কাওয়ায়িদ কিতাবের ভূমিকায় যে কথাটি বলেছেন তা দিয়ে শেষ করছি—তিনি (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা [নিজের কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো] কিতাবকে নির্ভুল রাখতে অস্বীকার করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৬)
غير كتابه والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه".

ولقد كان يمر بي أثناء قراءتي لكتب الشيخ حفظه الله بعض الأحاديث التي يصححها وهي ضعيفة أو يكون الحديث صحيحًا ولكن فيه بعض التعقبات، ولعل الشيخ حفظه الله عندما يقرأ البحث يتعقبه كله أو أكثره وسميته "الإعلام في إيضاح ما خفي على الإمام"

وضمنتها نقولات لسماحة المفتي العام الشيخ عبد العزيز بن عبد الله ابن باز -حفظه الله-.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يغفر لي ولوالدي ولمشايخي ولجميع المسلمين إنه سميع قريب.

وهذا أوان الشروع في المقصود والله المستعان.

كتبه

أبو عبد الله فهد بن عبد الله السنيد

الرياض في: 16/ 9/1414هـ
...তাঁর কিতাব ব্যতীত (অন্য কোনো কিতাব ত্রুটিমুক্ত নয়) এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তিনিই যিনি কোনো মানুষের প্রচুর শুদ্ধ বিষয়ের মাঝে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেন।"

শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এর গ্রন্থসমূহ পাঠ করার সময় আমার সামনে এমন কিছু হাদীস আসত যেগুলোকে তিনি সহীহ বলেছেন অথচ সেগুলো যঈফ, অথবা হাদীসটি সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তাতে কিছু পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সম্ভবত শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) যখন এই গবেষণাটি পাঠ করবেন, তখন তিনি এর পুরোটা বা অধিকাংশের ওপর পুনরায় আলোকপাত করবেন। আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি "ইমামের নিকট যা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অবগতি"

এবং আমি এতে মাননীয় মুফতিয়ে আযম শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ ইবন বায (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর কিছু উদ্ধৃতি সংযোজন করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমার শিক্ষকগণকে ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী।

আর এটাই মূল আলোচনায় প্রবেশের উপযুক্ত সময় এবং আল্লাহই সাহায্যকারী।

এটি লিখেছেন

আবু আব্দুল্লাহ ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সুনাইদ

রিয়াদ, ১৬/৯/১৪১৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

1 - قال الشيخ ناصر حفظه الله في الصحيحة (772) على حديث: ‌‌«اتركوا الحبشة ما تركوكم فإنه لا يستخرج كنز الكعبة إلا ذو السويقتين من الحبشة»، رواه أبو داود وعنه الخطيب في التاريخ والحاكم وأحمد من طريق زهير بن محمد عن موسى بن جبير عن أبي أمامة بن سهل بن حنيف عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره، وقال الحاكم: صحيح الإسناد ووافقه الذهبي.

قلت: وقد وهما، فإن زهيرًا هذا فيه ضعف .... وموسى بن جبير فيه جهالة. قال: ابن القطان: لا تعرف حاله. وقال ابن حبان في الثقات: كان يخطئ ويخالف. وقال الحافظ: مستور. اهـ

كلام الشيخ.

قلت: هذا الكلام فيه ملاحظات:

الأولى: قوله وعنه الخطيب، الصواب: أن يُقال ومن طريقه الخطيب لأن الخطيب لم يدرك أبا داود.

الثانية: ظاهر كلام الشيخ أن الجميع صرحوا باسم صحابي الحديث وليس الأمر كذلك فقد رواه الإمام أحمد بإبهام اسم الصحابي.

الثالثة: إن زهير بن محمد ليس ضعيفًا مطلقًا، بل هو ضعيف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১ - শাইখ নাসির (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) আস-সহীহাহ (৭৭২)-এ হাদীসটির ওপর বলেছেন: ‌‌«তোমরা হাবশীদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে দেয়, কারণ হাবশার ছোট দুই নলাবিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ কাবার ধনভাণ্ডার বের করবে না», এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ এবং তাঁর থেকে আল-খাতীব আত-তারীখ-এ, আল-হাকিম এবং আহমাদ; জুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ-এর সূত্রে, তিনি মুসা ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আল-হাকিম বলেছেন: এর সানাদ সহীহ এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

আমি বলছি: তাঁরা দুজনেই ভুল করেছেন, কারণ এই জুহাইর-এর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে... এবং মুসা ইবনে জুবাইর-এর পরিচয় অজ্ঞাত। ইবনুল কাত্তান বলেছেন: তার অবস্থা জানা যায় না। ইবনে হিব্বান ‘আস-সিকাত’-এ বলেছেন: সে ভুল করত এবং বিরোধিতা করত। হাফিজ বলেছেন: মাসতুর (তার বিশ্বস্ততা অপ্রকাশিত)। শাইখের কথা এখানেই শেষ।

আমি বলছি: এই বক্তব্যের ব্যাপারে কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে:

প্রথমত: তাঁর কথা "এবং তাঁর থেকে আল-খাতীব", সঠিক হচ্ছে এটি বলা যে "এবং তাঁর সূত্রে আল-খাতীব", কারণ আল-খাতীব আবু দাউদকে পাননি।

দ্বিতীয়ত: শাইখের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় যে সবাই হাদীসটির সাহাবীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; ইমাম আহমাদ সাহাবীর নাম অস্পষ্ট রেখে এটি বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়ত: জুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ ঢালাওভাবে দুর্বল নন, বরং তিনি দুর্বল
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৮)
إذا روى عنه أهل الشام فقط. قال الأثرم عن أحمد: في رواية الشاميين عن زهير يروون عنه مناكير. ثم قال: أما رواية أصحابنا فمستقيمة عبد الرحمن بن مهدي وأبي عامر، وأما أحاديث أبي حفص ذاك التنيسي عنه فتلك بواطيل موضوعه أو نحو هذا. فأما بواطيل فقد قاله، وقال البخاري: ما روى عنه أهل الشام فإنه مناكير وما روى عنه أهل البصرة فإنه صحيح. وقال النسائي: ليس به بأس، وعند عمرو بن أبي سلمة التنيسي عنه مناكير. فما قاله هؤلاء الأئمة هو خلاصة القول في زهير، وهنا روى عنه من نص عليهما الإمام أحمد فقد رواه أحمد عن عبد الرحمن بن مهدي عن زهير به ورواه الباقون من طريق أبي عامر العقدي فانحصرت العلة في جهالة موسى بن جبير على ما قاله ابن القطان وتابعه الحافظ.

أما الذهبي فقال في الكاشف: ثقة. ثم ذكر الشيخ ناصر له شاهدًا بلفظ: «دعوا الحبشة ما ودعوكم واتركوا الترك ما تركوكم» وقال: أخرجه أبو داود من طريق السيباني عن أبي سكينة رجل من المحررين عن رجل من أصحاب النبي صلي الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال فذكره، وأخرجه النسائي في حديث طويل.

قلت: وهذا إسناد لا بأس به في الشواهد رجاله كلهم ثقات غير أبي سكينة هذا، قال الحافظ في التقريب: قيل اسمه محلم مختلف في صحبته. قلت: إذا لم تثبت صحبته فهو تابعي مستور روى عنه ثلاثة فالحديث شاهد حسن للشطر الأول من حديث الترجمة. اهـ كلام الشيخ.
যখন কেবল শামের অধিবাসীগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করে। আহমদ থেকে আল-আছরাম বর্ণনা করেছেন: যুহাইর থেকে শামবাসীদের বর্ণনায় তারা তাঁর থেকে মুনকার হাদীস বর্ণনা করে। অতঃপর তিনি বলেন: আমাদের সাথীদের বর্ণনা—যেমন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী ও আবু আমের—তা সঠিক। কিন্তু তাঁর থেকে আবু হাফস সেই তিন্নীসী-এর হাদীসগুলো বাতিল ও বানোয়াট অথবা এই জাতীয় কিছু। “বাতিল” শব্দটি তিনিই বলেছেন। বুখারী বলেছেন: শামের অধিবাসীরা তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছে তা মুনকার, আর বসরার অধিবাসীরা যা বর্ণনা করেছে তা সহীহ। নাসায়ী বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই; তবে আমর ইবনে আবু সালামা তিন্নীসী-এর সূত্রে তাঁর থেকে মুনকার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এই ইমামগণ যা বলেছেন তা-ই যুহাইর সম্পর্কে বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। আর এখানে তাঁর থেকে এমন বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন যাদের ব্যাপারে ইমাম আহমদ সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। আহমদ এটি আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি যুহাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর অবশিষ্টরা এটি আবু আমের আল-আকাদী-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে হাদীসের ত্রুটি কেবল মূসা ইবনে জুবায়ের-এর পরিচয়হীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল, যেমনটি ইবনুল কাত্তান বলেছেন এবং আল-হাফেয তাঁর অনুসরণ করেছেন।

পক্ষান্তরে আয-যাহাবী ‘আল-কাশিফ’ গ্রন্থে বলেছেন: নির্ভরযোগ্য। অতঃপর শায়খ নাসির তাঁর একটি সমর্থক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যার শব্দাবলী হলো: “হাবশীদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে রাখে, আর তুর্কীদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে রাখে।” তিনি বলেন: আবু দাউদ আস-সাইবানী-এর সূত্রে আবু সাকীনাহ—যিনি মুক্ত দাসেদের একজন—তাঁর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি এটি বলেছেন। নাসায়ী এটি একটি দীর্ঘ হাদীসে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: সমর্থক বর্ণনার ক্ষেত্রে এই সনদটি মন্দ নয়। এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য, কেবল এই আবু সাকীনাহ ব্যতীত। আল-হাফেয ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয় তাঁর নাম মুহাল্লিম, তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আমি বলছি: যদি তাঁর সাহাবী হওয়া প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি একজন ‘মাস্তুর’ তাবেয়ী যাঁর থেকে তিনজন বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদীসটি আলোচ্য হাদীসের প্রথম অর্ধাংশের জন্য একটি ‘হাসান’ পর্যায়ের সমর্থক বর্ণনা। শায়খের বক্তব্য সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৯)
قلت: روى أبو داود هذا الحديث عن عيسى بن محمد الرملي أخبرنا ضمرة عن السيباني به (11/ 409 عون) ورواه النسائي (6/ 43) عن عيسى بن يونس حدثنا ضمرة به فمدار الحديث على ضمرة به، وضمرة هو ابن ربيعة الفلسطيني ثقة إنما أُنكر عليه حديث رواه عن الثوري عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر مرفوعًا: «من ملك ذا رحم محرم فهو عتيق» أنكره الإمام أحمد ورده ردًا شديدًا وقال: لو قال إن هذا كذب لما كان مخطئًا. وقال الذهبي في الميزان: مشهور ما فيه مغمز … تفرد ضمرة عن الثوري عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمرو مرفوعًا: «من ملك ذا رحم محرم عتق». أخرجه النسائي.

فالحديث بهذا الشاهد حسن كما قال الشيخ حفظه الله، أما تخريب الكعبة فهو ثابت في الصحيحين من حديث أبي هريرة مرفوعًا: «يخرب الكعبة ذو السويقتين من الحبشة»، وقد ذكر ذلك الشيخ حفظه الله في آخر كلامه على الحديث.

تنبيه أول: السيباني بالسين المهملة هو يحيى بن أبي عمرو وهو ثقة، بل قال أحمد: ثقة ثقة. ووقع في ترجمة أبي سكينة وكذا في ترجمة ضمرة من التهذيب بالشين المعجمة وهو تصحيف.

تنبيه ثان: أبو سكينة قال الحافظ في الإصابة: مصغر، وقيل بفتح أوله.

***
আমি বলি: আবু দাউদ এই হাদিসটি ঈসা বিন মুহাম্মদ আর-রামলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে যামরা আস-সাইবানী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (আউনুল মাবুদ ১১/৪০৯)। নাসায়ী (৬/৪৩) এটি ঈসা বিন ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে যামরা আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদিসটির ভিত্তি যামরার ওপর। আর যামরা হলেন ইবনে রাবিআ আল-ফিলিস্তিনি, তিনি বিশ্বস্ত (সিক্বাহ)। তবে তার একটি হাদিস যা তিনি সাওরি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন—"যে ব্যক্তি কোনো নিকটাত্মীয়ের (মাহরাম) মালিক হবে, সে মুক্ত"—তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ইমাম আহমাদ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং কঠোরভাবে খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন: যদি কেউ একে মিথ্যা বলে, তবে সে ভুল করবে না। আর যাহাবি আল-মিজানে বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ, তার মধ্যে কোনো খুঁত নেই … যামরা সাওরি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে মারফু হিসেবে এককভাবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো নিকটাত্মীয়ের (মাহরাম) মালিক হবে, সে মুক্ত হবে"। এটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং এই সাক্ষ্যপ্রমাণের (শাহেদ) ভিত্তিতে হাদিসটি হাসান, যেমনটি শাইখ (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) বলেছেন। আর কাবা ধ্বংস করার বিষয়টি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ আবু হুরাইরা বর্ণিত মারফু হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে: "হাবশার চিকন দুই পা বিশিষ্ট ব্যক্তি কাবা ধ্বংস করবে"। শাইখ (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) হাদিসটির ওপর তার আলোচনার শেষে এটি উল্লেখ করেছেন।

প্রথম সতর্কতা: আস-সাইবানী হলো সিন অক্ষর দিয়ে, তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন আবি আমর এবং তিনি বিশ্বস্ত (সিক্বাহ), বরং আহমাদ বলেছেন: অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তবে আবু সাকিনাহর জীবনীতে এবং আত-তাহযীব গ্রন্থে যামরার জীবনীতে এটি শিন অক্ষর দিয়ে এসেছে, যা একটি লিখনগত ভুল।

দ্বিতীয় সতর্কতা: আবু সাকিনাহ সম্পর্কে হাফিজ আল-ইসাবাহ গ্রন্থে বলেছেন: এটি ক্ষুদ্রতাবোধক নাম (তাসগির), এবং বলা হয়েছে যে এর প্রথম অক্ষরে ফাতহা হবে।

***
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১০)
2 - وقال الشيخ أيضًا في الصحيحة (773) على حديث ‌‌«اتخذوا الغنم فإن فيها بركة»، رواه أبو بكر المقرئ في الفوائد والخطيب من طريقين عن هشام بن عروة عن عروة عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأم هانئ فذكره، وهذا سند صحيح على شرط الشيخين، ورواه ابن ماجه من طريق ثالثة عن هشام بن عروة عن أبيه عن أم هانئ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها: «اتخذي غنمًا فإن فيها بركة». اهـ كلام الشيخ.

قلت: إنما رواه الخطيب عن أم هانئ فقد رواه من طريق أبي معاوية عن هشام بن عروة عن أبيه عن أم هانئ، وتابعه وكيع عن هشام به عند ابن ماجه كما تقدم في كلام الشيخ. ولم أقف على رواية أبي بكر المقرئ لأنظر هل هو من مسند عائشة، أو أم هانئ؛ فإن كان من مسند عائشة كما هو صريح كلام الشيخ فلعل الراوي وهم فسلك الجادة لأن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة سند مشهور ويكون الصحيح أن الحديث من مسند أم هانئ لاجتماع وكيع وأبي معاوية على ذلك، وقد روى أحمد في مسنده (6/ 342): ثنا إبراهيم بن خالد حدثني رباح عن معمر عن أبي عثمان الجحشي عن موسى أو فلان بن عبد الرحمن ابن أبي ربيعة عن أم هانئ قال لها النبي صلى الله عليه وسلم: «اتخذي غنمًا يا أم هانئ فإنها تروح بخير وتغدو بخير»، فهذه الطريق وقد ذكرها الشيخ وإن كان فيها مجهولان وهما أبو عثمان وشيخه إلا أنها تؤيد في الجملة أن الحديث من مسند أم هانئ.

***
২ - এবং শায়খ আরও বলেছেন আস-সহীহাহ (৭৭৩) গ্রন্থে এই হাদীসের আলোচনায়: «তোমরা বকরি পালন করো, কারণ এতে বরকত রয়েছে», এটি আবু বকর আল-মুকরি আল-ফাওয়ায়েদ গ্রন্থে এবং আল-খাতীব দুটি সূত্রে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মে হানিকে এটি বলেছিলেন... এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এই সনদটি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ। ইবনে মাজাহ এটি তৃতীয় একটি সূত্রে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেন: «তুমি বকরি পালন করো, কারণ এতে বরকত রয়েছে»। - শায়খের বক্তব্য সমাপ্ত।

আমি বলছি: আল-খাতীব মূলত এটি উম্মে হানি থেকেই বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মে হানি থেকে। ইবনে মাজাহর নিকট ওয়াকীও হিশাম থেকে একইভাবে তাঁর অনুসরণ করেছেন, যেমনটি শায়খের বক্তব্যে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আমি আবু বকর আল-মুকরির বর্ণনাটি হস্তগত করতে পারিনি যাতে দেখতে পারতাম যে এটি আয়েশার মুসনাদ থেকে নাকি উম্মে হানির; যদি এটি আয়েশার মুসনাদ থেকে হয়ে থাকে যেমনটি শায়খের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে এসেছে, তবে সম্ভবত বর্ণনাকারী বিভ্রমে পড়ে পরিচিত সনদের পথ অনুসরণ করেছেন, কারণ হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে—এটি একটি অতি পরিচিত সনদ। এমতাবস্থায় সঠিক কথা হলো হাদীসটি উম্মে হানির মুসনাদভুক্ত, কারণ ওয়াকী ও আবু মুয়াবিয়া এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আর আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৬/৩৪২) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইব্রাহীম ইবনে খালিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট রাবাহ বর্ণনা করেছেন মামার থেকে, তিনি আবু উসমান আল-জাহশী থেকে, তিনি মুসা অথবা অমুক ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি রাবিয়াহ থেকে, তিনি উম্মে হানি থেকে; তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: «হে উম্মে হানি, তুমি বকরি পালন করো, কারণ তা কল্যাণ নিয়ে ফিরে আসে এবং কল্যাণ নিয়ে যাত্রা করে»। এই সূত্রটি শায়খ উল্লেখ করেছেন; যদিও এতে দুইজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন—যথা আবু উসমান ও তাঁর উস্তাদ—তথাপি এটি সামগ্রিকভাবে একথাই সমর্থন করে যে হাদীসটি উম্মে হানির মুসনাদভুক্ত।

***
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১১)
تنبيه: - طريق أبي معاوية أخرجها الإمام أحمد في مسنده (6/ 424) فقال: حدثنا أبو معاوية حدثنا هشام بن عروة به بلفظه الترجمة.

قال الشيخ حفظه الله: وله طريق رابعة عند الخطيب عن حفص بن عمر ويعرف بالكَفْر حدثنا هشام بن عروة ولفظه: «يا أم هانئ اتخذي غنمًا فإنها تغدو وتروح بخير» أورده في ترجمة حفص هذا ولم يذكر فيه جرحًا ولا تعديلاً اهـ. كلام الشيخ.

قلت: بل قال الخطيب أنبأنا الماليني -وكتبته من أصله- أنبأنا عبد الله بن عدي قال: حفص بن عمر بن حكيم لقبه الكَبْر حديث عن عمرو بن قيس الملائي عن عطاء عن ابن عباس أحاديث بواطيل قلت: وهو في الكامل لابن عدي (2/ 387) في أول ترجمة حفص المذكور، وقال في آخر ترجمته بعد أن ساق له ثلاثة أحاديث رواها عن عمرو بن قيس عن عطاء عن ابن عباس قال: وهذه الأحاديث بهذا الإسناد مناكير لا يرويها إلا حفص بن عمر بن حكيم هذا وهو مجهول ولا أعلم أحدًا عنه غير علي بن حرب ولا أعرف له أحاديث غير هذا. اهـ. وقلت: ونستفيد من ترجمته في تاريخ بغداد (8/ 202) راويًا آخر وهو محمد بن غالب التمتام ونستفيد أيضًا حديثًا رابعًا وهو هذا الحديث الذي نحن بصدده والله أعلم.

تنبيه أول: طريق حفص بن عمر هذه من مسند عائشة لا أم هانئ.

***
সতর্কবার্তা: - আবু মুআবিয়ার বর্ণনাটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৬/৪২৪) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবু মুআবিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন একই শব্দে।

শায়খ (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন: খতীবের নিকট হাফস ইবনে উমর হতে এর একটি চতুর্থ বর্ণনাপথ রয়েছে, যিনি আল-কাফর নামে পরিচিত; তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দগুলো হলো: "হে উম্মে হানি, তুমি বকরি পালন করো, কারণ এটি কল্যাণের সাথে সকালে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসে।" তিনি এটি হাফসের এই জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং এতে কোনো জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। শায়খের কথা এখানেই শেষ।

আমি বলছি: বরং খতীব বলেছেন যে আল-মালীনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং আমি তা তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে লিখেছি—যে আবদুল্লাহ ইবনে আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাফস ইবনে উমর ইবনে হাকীম যার উপাধি হলো আল-কাবর, সে আমর ইবনে কায়স আল-মুলাইয়ি হতে, তিনি আতা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে এমন কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন যা বাতিল। আমি বলছি: এটি ইবনে আদির আল-কামিল (২/৩৮৭) গ্রন্থে উক্ত হাফসের জীবনীর শুরুতে রয়েছে। আর তিনি তাঁর জীবনীর শেষে আমর ইবনে কায়স থেকে আতা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে তিনটি হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন: এই সনদে বর্ণিত এই হাদীসগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), যা এই হাফস ইবনে উমর ইবনে হাকীম ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেনি; সে অজ্ঞাত (মাজহুল) এবং আলী ইবনে হারব ব্যতীত তার থেকে অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই, আর এগুলো ছাড়া তার অন্য কোনো হাদীস সম্পর্কেও আমি জানি না। সমাপ্ত। আর আমি বলছি: তারিখ বাগদাদের (৮/২০২) জীবনী থেকে আমরা অন্য একজন বর্ণনাকারীর সন্ধান পাই যিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আত-তামতাম এবং আমরা একটি চতুর্থ হাদীসও পাই যা মূলত এই হাদীসটিই যা আমরা আলোচনা করছি। আল্লাহই ভালো জানেন।

প্রথম সতর্কবার্তা: হাফস ইবনে উমরের এই বর্ণনাটি আয়েশার মুসনাদ হতে বর্ণিত, উম্মে হানির নয়।

***
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১২)
تنبيه ثان: قوله الكفر ويقال الكبر بالباء كذا في التاريخ.

وقال الحافظ ابن حجر في كتابه " نزهة الألباب في الألقاب " (2/ 113): الكبر حفص بن عمر بن حكيم بن هشام بن عروة ويقال له الكفر بالفاء، وكافة مفتوحة. وقال في تبصير المنتبه (3/ 1182): كبر بالفتح وسكون الموحدة لقب حفص بن عمر شيخ لتمتام حدثه عن هشام بن عروة. اهـ

****

 

3 - وقال أيضًا حفظه الله (906) بعد أن ذكر حديث ‌‌«أحب الناس إلى الله تعالى أنفعهم للناس، وأحب الأعمال إلى الله عز وجل سرور يدخله على مسلم أو يكشف عنه كربة أو يقضي عنه دينًا، أو تطرد عنه جوعًا، ولأن أمشي مع أخ في حاجة أحب إلي من أن أعتكف في هذا المسجد (يعني مسجد المدينة) شهرًا، ومن كف غضبة ستر الله عورته، ومن كظم غيظه ولو شاء أن يمضيه أمضاه ملأ الله قلبه رجاءً يوم القيامة، ومن مشى مع أخيه في حاجة حتى تتهيأ له أثبت الله قدمه يوم تزول الأقدام [وإن سوء الخلق يفسد العمل كما يفسد الخل العسل]» أخرجه الطبراني … إلى أن قال لكن قد جاء بإسناد خير من هذا فرواه ابن أبي الدنيا في قضاء الحوائج وأبو إسحاق المزكي في الفوائد المنتخبة ببعضه وابن عساكر من طرق عن بكر بن خنيس عن عبد الله بن دينار عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: (كذا قال ابن أبي الدنيا وقال الآخران عن عبد الله بن عمر قال قيل يا رسول الله من أحب الناس
দ্বিতীয় সতর্কতা: তাঁর বক্তব্য 'আল-কুফর' (আল-কাফ্-র), এবং বলা হয় 'আল-কিবর' (আল-কিব্-র) 'বা' বর্ণের সাথে, ইতিহাসের কিতাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর "নুযহাতুল আলবাব ফিল আলকাব" (২/১১৩) গ্রন্থে বলেন: 'আল-কিবর' হলেন হাফস বিন উমর বিন হাকিম বিন হিশাম বিন উরওয়াহ, তাকে 'ফা' বর্ণ যোগে 'আল-কুফর'ও বলা হয়, আর কাফ বর্ণটি যবরযুক্ত। তিনি 'তাবসিরুল মুনতাব্বিহ' (৩/১১৮২) গ্রন্থে বলেন: 'কিবর' শব্দটি কাফ বর্ণে যবর এবং 'বা' বর্ণে সাকিন যোগে হাফস বিন উমরের উপাধি, যিনি তামতাম-এর উস্তাদ ছিলেন এবং হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

****

 

৩ - এবং তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) (৯০৬) নম্বর পৃষ্ঠায় এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর আরও বলেন: ‌‌«আল্লাহ তাআলার নিকট মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় সেই ব্যক্তি যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী, আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোনো মুসলমানের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো, অথবা তার কোনো বিপদ দূর করা, কিংবা তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, অথবা তার ক্ষুধা দূর করা। আর আমি যদি আমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে যাই, তা আমার নিকট এই মসজিদে (অর্থাৎ মদিনার মসজিদে) এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও বেশি প্রিয়। আর যে ব্যক্তি নিজের রাগকে সংবরণ করবে আল্লাহ তার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি নিজের ক্ষোভকে দমন করবে, যদিও সে তা কার্যকর করতে সক্ষম ছিল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে আশা ও প্রত্যাশা দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে চলবে যতক্ষণ না তা তার জন্য সুসম্পন্ন হয়, আল্লাহ তার পা-কে সেই দিন অটল রাখবেন যেদিন পা-সমূহ পিছলে যাবে। [আর নিশ্চয়ই অসদাচরণ আমলকে নষ্ট করে দেয় যেমন সিরকা মধুকে নষ্ট করে দেয়]» তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন … তিনি বলেন: তবে এটি এর চেয়েও উত্তম সূত্রে বর্ণিত হয়েছে; ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কাদাউল হাওয়াইজ' গ্রন্থে, আবু ইসহাক আল-মুযাক্কি 'আল-ফাওয়াইদুল মুনতাখাবাহ' গ্রন্থে এর একাংশ এবং ইবনে আসাকির বিভিন্ন সূত্রে বকর বিন খুনাইস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন: (ইবনে আবিদ দুনিয়া এভাবেই বলেছেন, আর অন্য দুজন বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্যে কে সর্বাধিক প্রিয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى الله … . . "وفيه الزيادة " أي قوله: وإن سوء الخلق إلخ " قلت: وهذا إسناد حسن فإن بكر بن خنيس صدوق له أغلاط كما قال الحافظ، وعبد الله بن دينار ثقة من رجال الشيخين فثبت الحديث والحمد لله تعالى. اهـ.

قلت: ليس إسناده بحسن؛ فإن بكر بن خنيس ضعفه جمهور الأئمة كأبي حاتم والنسائي والفلاس ويعقوب بن شيبة، بل قال الدارقطني وغيره: متروك، واقتصر الذهبي في ديوان الضعفاء والمتروكين على قول الدارقطني. وقال في الكاشف: واهٍ. (1)

ويشهد لبعضه ما رواه مسلم في صحيحه (16/ 134 نووي) ثنا قتيبة ابن سعيد ثنا ليث عن عقيل عن الزهري عن سالم عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «المسلم أخو المسلم لا يظلمه ولا يسلمه، من كان في حاجة أخيه كان الله في حاجته، ومن فرج عن مسلم كربة فرج الله عنه بها كربة من كرب يوم القيامة، ومن ستر مسلمًا ستره الله يوم القيامة» وثبت في الصحيحين من حديث أبي موسى الأشعري: أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «اشفعوا فلتؤجروا» والنصوص في هذا المعنى كثرة وانظر مجمع الزوائد (8/ 190).

…

 

4 - وقال أيضًا (564) على حديث: ‌‌«إن الحسن والحسين هما ريحانتاي من الدنيا» أخرجه البخاري والترمذي وأحمد عن محمد بن

--------------------------------------------

(1) ثم رأيت الشيخ حفظه الله قد ضعفه ونقل قولي الذهبي فانظر الضعيفة (14745 (.
আল্লাহর কাছে … . . "এবং এতে অতিরিক্ত রয়েছে" অর্থাৎ তাঁর কথা: এবং নিশ্চয়ই দুশ্চরিত্র ইত্যাদি। আমি বলছি: এবং এটি একটি হাসান সনদ, কেননা বকর ইবনে খুনায়েস সত্যবাদী কিন্তু তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে যেমন হাফেজ বলেছেন, এবং আবদুল্লাহ ইবনে দিনার শাইখাইন-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সুতরাং হাদিসটি সাব্যস্ত হলো এবং সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। সমাপ্ত।

আমি বলছি: এর সনদ হাসান নয়; কারণ বকর ইবনে খুনায়েসকে জমহুর ইমামগণ দুর্বল বলেছেন, যেমন আবু হাতিম, নাসায়ী, ফাল্লাস এবং ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ। বরং দারা কুতনী ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত, আর যাহাবি 'দিওয়ানুয যুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন' গ্রন্থে দারা কুতনীর উক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এবং তিনি 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে বলেছেন: অত্যন্ত দুর্বল। (১)

এর কিছু অংশের সাক্ষ্য দেয় সেই হাদিস যা মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১৬/ ১৩৪ নববী), আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস, উকাইল থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই, সে তার ওপর জুলুম করে না এবং তাকে বিপদে সঁপে দেয় না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের মধ্য থেকে একটি বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।» এবং সহিহাইন-এ আবু মুসা আশআরির হাদিস থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সুপারিশ করো, তবে তোমরা সওয়াব পাবে।» এবং এই অর্থে বর্ণিত দলিলসমূহ অনেক। দেখুন: মাজমাউজ জাওয়াইদ (৮/ ১৯০)।

…

 

৪ - এবং তিনি আরও বলেছেন (৫৬৪) এই হাদিসের প্রেক্ষিতে: ‌‌«নিশ্চয়ই হাসান ও হুসাইন হলো দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, তিরমিজি ও আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে

--------------------------------------------

(১) পরবর্তীতে আমি দেখেছি যে শাইখ (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) একে দুর্বল বলেছেন এবং যাহাবির দুটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং দেখুন: আদ-দাইফাহ (১৪৭৪৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أبي يعقوب عن عبد الرحمن بن أبي نُعم أن رجلاً سأل ابن عمر [وأنا جالس] عن دم البعوض يصيب الثوب؟ [فقال له: ممن أنت؟ قال من أهل العراق] فقال ابن عمر: [ها] انظروا إلى هذا يسأل عن دم البعوض وقد قتلوا ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول - فذكره. والزيادات لأحمد والسياق للترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح. اهـ. قلت: قال البخاري في صحيحه (10/ 426 فتح) ثنا موسى بن إسماعيل ثنا مهدي ثنا ابن أبي يعقوب عن ابن أبي نُعم قال: "كنت شاهدًا لابن عمر وسأله رجل عن دم البعوض فقال: ممن أنت؟ قال من أهل العراق قال: انظروا إلى هذا يسألني عن دم البعوض وقد قتلوا ابن النبي صلى الله عليه وسلم وسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «هما ريحانتاي من الدنيا». فأنت ترى أن الزيادة الأولى والثانية في البخاري إلا أن الأولى بمعناها.

…

 

5ــ وقال أيضًا (1088) في الصحيحة على حديث: ‌‌«أشقى الأولين عاقر الناقة، وأشقى الآخرين الذي يطعنك يا عليّ وأشار إلى حيث يطعن». . . وأما حديث عمار فيرويه محمد بن إسحاق حدثني يزيد بن محمد بن خُثيم المحاربي عن محمد بن كعب القرظي عن محمد بن خُثيم أبي يزيد عنه مرفوعًا به، أخرجه أحمد والحاكم وقال: صحيح على شرط مسلم. ووافقه الذهبي. وهو من أوهامهما؛ فإن محمد بن خثيم وابنه يزيد لم يخرج مسلم عنهما
আবু ইয়াকুব থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি নু'ম থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করল [এমতাবস্থায় আমি বসা ছিলাম] কাপড়ে মশার রক্ত লাগা সম্পর্কে? [তিনি তাকে বললেন: তুমি কোন দেশের? সে বলল: ইরাকের অধিবাসী।] তখন ইবনে উমর বললেন: [দেখো] তোমরা এর দিকে তাকাও, সে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্রকে হত্যা করেছে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করলেন। অতিরিক্ত অংশগুলো আহমাদ থেকে এবং বর্ণনাধারা তিরমিযী থেকে। তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস। সমাপ্ত। আমি বলছি: বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেছেন (১০/ ৪২৬ ফাতহ), আমাদের কাছে মূসা ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মাহদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনে আবি ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি নু'ম থেকে, তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমরের কাছে উপস্থিত ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: তুমি কোন দেশের? সে বলল: ইরাকের অধিবাসী। তিনি বললেন: এর দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তারা নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুত্রকে হত্যা করেছে এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'তারা দুজন দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল'।" সুতরাং আপনি দেখছেন যে, প্রথম ও দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটি বুখারীতে রয়েছে, তবে প্রথমটি বর্ণিত হয়েছে অর্থের মাধ্যমে।

…

 

৫— তিনি তাঁর আস-সহীহাহ (১০৮৮) গ্রন্থে এই হাদিসের উপর আরও বলেছেন: "পূর্ববর্তীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি হচ্ছে সেই যে উষ্ট্রীকে হত্যা করেছিল, আর পরবর্তীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে তোমাকে আঘাত করবে হে আলী! এবং তিনি ইশারা করলেন যেখানে তাকে আঘাত করা হবে"। আর আম্মারের হাদিসটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খুসাইম আল-মুহারিবি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে খুসাইম আবু ইয়াজিদ থেকে, তিনি তার থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন। তবে এটি তাদের দুজনের ভুল; কারণ মুহাম্মদ ইবনে খুসাইম এবং তার পুত্র ইয়াজিদ থেকে ইমাম মুসলিম কোনো বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
شيئًا، ثم إنهما في عداد المجهولين: وثقهما ابن حبان، وقال ابن معين في يزيد: ليس به بأس. وأما إعلاله بالانقطاع بين أبي يزيد وعمار فلا وجه له خلافًا لقول الهيثمي رواه أحمد والطبراني والبزار باختصار ورجال الجميع موثقون إلا أن التابعي لم يسمع من عمار. اهـ.

قلت: قول الشيخ وثقهما ابن حبان عندي أن العبارة غير محررة فإن ابن حبان يذكر الراوي في كتابه الثقات فأحيانًا يصرح بتوثيقه كأن يقول مستقيم الحديث أو كان متقنًا وأحيانًا -وهو الأغلب- يكتفي بمجرد ذكره في ثقاته ويزيد بن محمد بن خيثم وأبوه اقتصر على مجرد ذكرهما في ثقاته فلو قلنا فيهما وثقهما ابن حبان لم يكن هناك فرق بين من ينص على توثيقه وبين من يقتصر على مجرد ذكره في كتابه الثقات. وابن حبان إذا نص على توثيق راوٍ فإن توثيقه لا يقل عن توثيق غيره من الأئمة، وأما إذا اقتصر على مجرد ذكره في كتابه الثقات ففيه خلل. وانظر لذلك كتاب" التنكيل" للعلامة الشيخ عبد الرحمن بن يحيى المعلمي صفحة 669.

وقول الشيخ: وأما إعلاله بالانقطاع إلى آخر كلامه فإن الهيثمي تبع في ذلك الإمام البخاري رحمه الله فقد قال في التاريخ الكبير (1/ 71) بعد أن ذكر سند الحديث: وهذا إسناد لا يعرف سماع يزيد بن محمد ولا محمد بن كعب من ابن خثيم ولا ابن خثيم من عمار. قلت: وكونه وُلد (أي محمد بن خثيم) على عهد النبي صلى الله عليه وسلم -
কিছুই না, অধিকন্তু তারা উভয়েই অজ্ঞাত পরিচয়দের অন্তর্ভুক্ত: ইবনে হিব্বান তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মাঈন ইয়াজিদ সম্পর্কে বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আর আবু ইয়াজিদ এবং আম্মারের মাঝে রাবীর বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার কোনো ভিত্তি নেই; যা হাইসামীর বক্তব্যের পরিপন্থী। হাইসামী বলেছিলেন: আহমদ, তাবারানি এবং বাজ্জার সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সকলের বর্ণনাকারীগণই নির্ভরযোগ্য, তবে তাবিঈ আম্মার থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: শাইখের উক্তি—‘ইবনে হিব্বান তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন’—আমার মতে এই অভিব্যক্তিটি সুসংহত নয়। কেননা ইবনে হিব্বান তার ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেন; কখনো তিনি তাদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যেমন তিনি বলেন ‘হাদিসে সঠিক’ অথবা ‘তিনি সুনিপুণ ছিলেন’। আবার কখনো—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে—তিনি কেবল তার ‘সিকাত’ গ্রন্থে তাদের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন। ইয়াজিদ বিন মুহাম্মাদ বিন খাইসাম এবং তার পিতা সম্পর্কে তিনি কেবল তার ‘সিকাত’ গ্রন্থে তাদের নাম উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। সুতরাং আমরা যদি তাদের সম্পর্কে বলি যে ‘ইবনে হিব্বান তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন’, তবে যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে তিনি সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন এবং যাকে তিনি কেবল তার ‘সিকাত’ গ্রন্থে নাম উল্লেখ করেছেন—এ দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আর ইবনে হিব্বান যখন কোনো বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তার সেই সত্যায়ন অন্য ইমামদের সত্যায়নের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তবে তিনি যদি কেবল তার ‘সিকাত’ গ্রন্থে নাম উল্লেখ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে তাতে দুর্বলতা রয়েছে। এ বিষয়ে আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী-এর ‘আত-তানকিল’ গ্রন্থের ৬৬৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

এবং শাইখের উক্তি: ‘আর একে বিচ্ছিন্নতার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা...’ শেষ পর্যন্ত। মূলত হাইসামী এ বিষয়ে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে অনুসরণ করেছেন। কেননা তিনি ‘আত-তারিখুল কাবীর’ (১/৭১) গ্রন্থে হাদিসের সনদ উল্লেখ করার পর বলেছেন: “এটি এমন এক সনদ যেখানে ইবনে খাইসাম থেকে ইয়াজিদ বিন মুহাম্মাদ কিংবা মুহাম্মাদ বিন কাব-এর সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি জানা যায় না, আর না ইবনে খাইসাম-এর আম্মার থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি জানা যায়।” আমি বলছি: আর তার (অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন খাইসাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে জন্ম নেওয়ার বিষয়টি—
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
كما ذكره البخاري والبغوي وغيرهما لا يلزم من ذلك أن يكون سمع من عمار فالإدراك شيء والسماع شيء آخر. قال ابن أبي حاتم في كتابه المراسيل في ترجمة أبي وائل: قلت لأبي: أبو وائل سمع من أبي الدرداء؟ قال: أدركه ولا يحكى سماع شيء، أبو الدرداء كان بالشام وأبو وائل كان بالكوفة.

ومن شواهد حديث الترجمة ما رواه الإمام أحمد في مسنده (23/ 163 الفتح الرباني): ثنا وكيع ثنا الأعمش عن سالم بن أبي الجعد عن عبد الله بن سَبُع قال: سمعت عليًا رضي الله عنه يقول: لتخضبن هذه من هذا فما ينتظر بي الأشقى! قالوا: يا أمير المؤمنين فأخبرنا به نبير. . . . . . (16). قال إذًا تالله تقتلون بي غير قاتلي. قالوا: فاستخلف علينا. . الحديث. وهذا سند رجاله كلهم ثقات رجال الصحيح إلا عبد الله بن سَبُع، وهو بفتح المهملة وضم الموحدة، ويقال سبيع مصغر، تفرد بالرواية عنه سالم بن أبي الجعد كما قال الذهبي في الميزان، وذكره ابن حبان في الثقات. وقال الحافظ: مقبول. وذكر الدارقطني في العلل (3/ 264) الاختلاف فيه على الأعمش وقال: الصواب قول عبد الله بن داود (وهو الخُريبي) ومن تابعه عن الأعمش عن سلمة بن كهيل عن سالم بن أبي الجعد عن عبد الله بن سَبُع وقوله رضي الله عنه إن صح عنه: إذًا تالله تقتلون بي غير قاتلي من كمال تصديقه بخبر النبي صلى الله عليه وسلم إذْ قاتل عليّ لا يُقتل أو يموت حتى يقتل عليًا - رضي الله
যেমনটি বুখারি, বাগাওয়ি এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন, তার থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে তিনি আম্মার থেকে শুনেছেন, কারণ যুগ পাওয়া বা সাক্ষাৎ হওয়া এক বিষয় এবং শ্রবণ করা ভিন্ন বিষয়। ইবনে আবি হাতিম তার আল-মারাসিল গ্রন্থে আবু ওয়ায়েলের জীবনীতে বলেছেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আবু ওয়ায়েল কি আবু দারদা থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: তিনি তার যুগ পেয়েছেন কিন্তু কোনো কিছু শোনার কথা বর্ণিত হয়নি। আবু দারদা ছিলেন শামে এবং আবু ওয়ায়েল ছিলেন কুফায়।

আর আলোচ্য হাদিসের অন্যতম একটি সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (শাহিদ) হলো যা ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে (২৩/১৬৩, আল-ফাতহুর রব্বানি) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জা'দ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন সাবু' থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, "অবশ্যই এটি (দাড়ি) এ থেকে (রক্তে) রঞ্জিত হবে, তবে সেই পরম হতভাগ্য ব্যক্তিটি আমার জন্য কিসের অপেক্ষা করছে!" তারা বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের তার সংবাদ দিন যাতে আমরা তাকে নির্মূল করে দিই..." (১৬)। তিনি বললেন: "তাহলে তো আল্লাহর কসম, তোমরা আমার বদলে এমন কাউকে হত্যা করবে যে আমার প্রকৃত হত্যাকারী নয়।" তারা বলল: "তবে আমাদের জন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যান..." (হাদিস)। আর এই সনদের বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য এবং সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে আবদুল্লাহ বিন সাবু' ব্যতীত। তার নাম (সাবু') 'সিন' বর্ণে ফাতহা এবং 'বা' বর্ণে যম্মাহ যোগে গঠিত, আবার তাকে 'সুবাই' (ক্ষুদ্রার্থে) ও বলা হয়। তার থেকে এককভাবে সালিম বিন আবিল জা'দ বর্ণনা করেছেন যেমনটি যাহাবি আল-মিজান গ্রন্থে বলেছেন, আর ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি মাকবুল (গ্রহণযোগ্য)। দারা কুতনি আল-ইলাল (৩/২৬৪) গ্রন্থে আ'মাশের সূত্রের বর্ণনায় মতভেদ উল্লেখ করে বলেছেন: সঠিক হলো আবদুল্লাহ বিন দাউদ (যিনি আল-খুরায়বি) এবং তার অনুসারীদের বক্তব্য; যারা আ'মাশ থেকে, তিনি সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জা'দ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন সাবু' থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথাটি যদি তার থেকে প্রমাণিত হয় যে— "তাহলে তো আল্লাহর কসম, তোমরা আমার বদলে এমন কাউকে হত্যা করবে যে আমার প্রকৃত হত্যাকারী নয়"— তবে এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রতি তার পূর্ণ বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। কেননা আলীর হত্যাকারী ততক্ষণ মরবে না বা তাকে হত্যা করা হবে না যতক্ষণ না সে আলীকে হত্যা করছে— রাযিয়াল্লাহু আনহু।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
عنه -، ومن ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم لعمر رضي الله عنه لما استأذنه في قتل ابن صياد: «دعه فإن يكن الذي تخاف لن تستطيع قتله» رواه مسلم عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، ورواه البخاري ومسلم عن ابن عمر بلفظ: «إن يكن هو لا تسلط عليه، وإن لم يكن هو فلا خير لك في قتله»، وفي مسلم «يكنه» في الموضعين.

…

 

6 - ذكر الشيخ حفظه الله في الصحيحة (1181) حديث: ‌‌«أدخل الله عز وجل الجنة رجلاً كان سهلاً مشتريًا وبائعًا وقاضيًا ومقتضيًا» وذكر لفظًا آخر: «غفر الله لرجل ممن كان قبلكم كان سهلاً إذا باع سهلاً إذا اشترى سهلاً إذا اقتضى» وعزاهما لأحمد وغيره.

وفات الشيخ حفظه الله أن البخاري أخرجه في صحيحه (4/ 306 فتح) فقال: ثنا علي بن عياش ثنا أبو غسان محمد بن مطرف قال: حدثني محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «رحم الله رجلاً سمحًا إذا باع وإذا اشترى وإذا اقتضى» (1).

…

 

7 - وذكر الشيخ حديث رقم (1016): ‌‌«لا تصلوا إلى قبر ولا تصلوا على قبر» من طريقين عن عكرمة عن ابن عباس وحسنه،

--------------------------------------------

(1) ولقد استدرك ذلك الشيخ -حفظه الله- في الطبعة الثانية على نفسه ذلك. انظر استدراك رقم (178/ 7).
তার থেকে -, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি উক্তি, যখন তিনি ইবনে সাইয়্যাদকে হত্যা করার জন্য তাঁর অনুমতি চেয়েছিলেন: «তাকে ছেড়ে দাও, কারণ সে যদি সেই ব্যক্তি হয় যাকে তুমি ভয় পাচ্ছ, তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না» এটি মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, আর বুখারি ও মুসলিম ইবনে উমর থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যদি সে-ই হয় তবে তুমি তার ওপর বিজয়ী হতে পারবে না, আর যদি সে সে না হয় তবে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোনো কল্যাণ নেই», এবং মুসলিমে উভয় স্থানে «হলে সে-ই» শব্দ এসেছে।

…

 

৬ - শায়খ হাফিজাহুল্লাহ আস-সহিহাহ (১১৮১) গ্রন্থে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: ‌‌«আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এমন একজন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন যে ক্রয়-বিক্রয়, বিচার এবং পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে সহজ ও নম্র ছিল» এবং তিনি অন্য একটি শব্দে উল্লেখ করেছেন: «আল্লাহ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন যে বিক্রয়কালে সহজ ছিল, ক্রয়কালে সহজ ছিল এবং পাওনা আদায়ের সময়ও সহজ ছিল» এবং তিনি উভয়টি আহমাদ ও অন্যদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

শায়খ হাফিজাহুল্লাহর এটি নজর এড়িয়ে গেছে যে, বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪/৩০৬ ফাতহ) উদ্ধৃত করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আলি ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে মুতাররিফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির আমার নিকট জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে বিক্রয়কালে, ক্রয়কালে এবং পাওনা আদায়ের সময় উদার» (১)।

…

 

৭ - শায়খ ১০১৬ নম্বর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: ‌‌«তোমরা কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না এবং কবরের ওপর সালাত আদায় করো না» ইকরিমা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে দুটি পথে এবং তিনি একে হাসান বলেছেন,

--------------------------------------------

(১) আর শায়খ হাফিজাহুল্লাহ দ্বিতীয় মুদ্রণে নিজেই এটি সংশোধন করে নিয়েছেন। দেখুন সংশোধন নম্বর (১৭৮/ ৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال للحديث شاهدان من حديث أبي سعيد وأنس، وهما مخرجان في كتابي تحذير الساجد فالحديث صحيح والحمد لله على توفيقه.

قلت: فات الشيخ حفظه الله ما رواه مسلم في صحيحه عن أبي مرثد الغنوي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تجلسوا على القبور ولا تصلوا إليها» (1).

8 - وقال الشيخ (1258) على حديث «إذا اشتكيت فضع يدك حيث تشتكي وقل: بسم الله وبالله أعوذ بعزة الله وقدرته من شر ما أجد من وجعي هذا ثم ارفع يدك ثم أعر ذلك وترًا».

أخرجه الترمذي والحاكم والضياء في المختارة عن محمد بن سالم ثنا ثابت البناني قال: قال لي يا محمد (فذكره) فإن أنس بن مالك حدثني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثه بذلك. وقال الترمذي: حديث حسن غريب، ومحمد بن سالم شيخ مصري. قلت: وقال الضياء: "سئل أبو حاتم عنه فقال لا بأس به". وذكره ابن حبان في الثقات فالحديث صحيح الإسناد، وكذلك قال الحاكم ووافقه الذهبي. اهـ.

قلت: ما نقله عن أبي حاتم ثابت في الجرح والتعديل لابن أبي حاتم 7/ 273 وأما بالنسبة للحديث فروى مسلم في

--------------------------------------------

(1) بالرجوع إلى تحذير الساجد ص/31 تبين أن الشيخ -حفظه الله- ذكر حديث أبي مرثد الغنوي شاهدًا لحديثي أبي سعيد وأنس في شطره الأول فقط.
আর তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির জন্য আবু সাঈদ এবং আনাস বর্ণিত হাদিস থেকে দুটি সাক্ষী রয়েছে, এবং সেই দুটি আমার 'তাহযীরুস সাজিদ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। সুতরাং হাদিসটি সহিহ এবং আল্লাহর তাওফীকের জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য।

আমি বলছি: শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু মারসাদ আল-গানাবী থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কবরের উপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না» (১)।

৮ - আর শায়খ (১২৫৮) এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: «যখন তুমি ব্যথিত হবে, তখন তোমার হাত ব্যথার স্থানে রাখো এবং বলো: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সাহায্য নিয়ে, আমি আল্লাহর মহিমা ও তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে আমি যা অনুভব করছি সেই ব্যথার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তারপর তোমার হাত তোলো এবং এভাবে বিজোড় সংখ্যক বার করো»।

এটি তিরমিযী, হাকেম এবং যিয়া 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাবিত আল-বুনানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বললেন: হে মুহাম্মাদ (অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করলেন), কেননা আনাস বিন মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস, এবং মুহাম্মাদ বিন সালিম একজন মিসরীয় শায়খ। আমি বলছি: যিয়া বলেছেন: "আবু হাতিমকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই।" এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আল-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সুতরাং হাদিসটির সনদ সহিহ, আর হাকেমও অনুরূপ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। সমাপ্ত।

আমি বলছি: তিনি আবু হাতিম থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা ইবনে আবু হাতিম রচিত 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' গ্রন্থের ৭/২৭৩ পৃষ্ঠায় সাব্যস্ত আছে। আর হাদিসটির ব্যাপারে বলতে গেলে, মুসলিম বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) 'তাহযীরুস সাজিদ' গ্রন্থের ৩১ পৃষ্ঠায় ফিরে গেলে এটি স্পষ্ট হয় যে, শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) আবু মারসাদ আল-গানাবীর হাদিসটিকে আবু সাঈদ এবং আনাসের হাদিসদ্বয়ের সাক্ষী হিসেবে শুধুমাত্র এর প্রথমাংশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
صحيحة (14/ 189 نووي) عن عثمان بن أبي العاص الثقفي أنه شكا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجعًا يجده في جسده منذ أسلم فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ضع يدك على الذي تألم من جسدك وقل: بسم الله ثلاثًا وقل سبع مرات: أعوذ بالله وقدرته من شر ما أجد وأحاذر».

…

 

9 - وقال الشيخ في تحقيقه الكلم الطيب (صفحة: 34) بعد أن ضَعَّف حديث أنس مرفوعًا: ‌‌«من قال حين يصبح أو يمسي اللهم إني أصبحت أشهدك وأشهد حملة عرشك - الحديث»، ثم رأيت هذا الدعاء في المستدرك عن أبي هريرة نحوه غير مقيد بالصباح والمساء وسنده جيد. اهـ.

قلت: هذا الحديث الذي قال فيه الشيخ إن سنده جيد كلفني شيخنا الفاضل عبد العزيز بن باز أن أحضر سنده لينظر فيه فأحضرت سنده وتكلمت عليه وقُرأ على شيخنا حفظه الله وإليك هذا البحث مع بعض التعديل: -

قال الحاكم في المستدرك (1/ 523): ثنا أبو العباس محمد بن يعقوب ثنا أبو عبد الله أحمد بن يحيى الحجري ثنا زيد بن الحباب ثنا حميد بن مهران ثنا عطاء عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ثنا سليمان الفارسي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قال اللهم إني أشهدك وأشهد ملائكتك وحملة عرشك وأشهد من في
সহিহ (১৪/ ১৮৯ নববী) উসমান বিন আবি আল-আস আস-সাকাফি থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার শরীরে অনুভব করা একটি ব্যথার বিষয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তোমার শরীরের যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে তোমার হাত রাখো এবং তিনবার বলো: বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে), আর সাতবার বলো: আমি আল্লাহর কাছে এবং তাঁর কুদরতের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই অনিষ্ট থেকে যা আমি অনুভব করছি এবং যে বিষয়ে আমি ভীত।»

…

 

৯ - এবং শায়খ তার আল-কালিম আত-তাইয়্যিব কিতাবের তাহকিকে (পৃষ্ঠা: ৩৪) আনাস থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসটিকে দুর্বল বলার পর বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় বলে: হে আল্লাহ, আমি সকালে উপনীত হয়েছি আপনাকে সাক্ষ্য মেনে এবং আপনার আরশ বহনকারীদের সাক্ষ্য মেনে - হাদিসটি শেষ পর্যন্ত», এরপর আমি মুস্তাদরাক-এ আবু হুরায়রা থেকে এই দোয়াটির অনুরূপ একটি বর্ণনা দেখেছি যা সকাল ও সন্ধ্যার সাথে সীমাবদ্ধ নয় এবং এর সনদটি ভালো। সমাপ্ত।

আমি বলছি: এই হাদিসটি যার সনদ সম্পর্কে শায়খ বলেছেন যে এটি ভালো, সেটি আমাদের সম্মানিত শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ আমাকে সেটির সনদ উপস্থিত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে তিনি তা পর্যালোচনা করতে পারেন। ফলে আমি এর সনদটি উপস্থিত করি এবং এর ওপর আলোচনা করি এবং তা আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাকে হিফজ করুন) এর সামনে পাঠ করা হয়। এখানে সেই গবেষণাটি কিছু পরিমার্জনসহ পেশ করা হলো: -

হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/ ৫২৩) বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাজরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ বিন আল-হুবাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ বিন মিহরান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনাকে সাক্ষ্য মানছি এবং আপনার ফেরেশতাগণ ও আপনার আরশ বহনকারীদের সাক্ষ্য মানছি এবং তাদের সাক্ষ্য মানছি যারা...»
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২০)
السموات ومن في الأرض أنك أنت الله لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك وأشهد أن محمدًا عبدك ورسولك من قالها مرة أعتق الله ثلثه من النار ومن قالها مرتين أعتق الله ثلثيه من النار ومن قالها ثلاثًا أعتق الله كله من النار»، وقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه. ووافقه الذهبي، ورواه ابن عدي في الكامل 2/ 274 من طريق أحمد بن يحيى الصوفي ثنا زيد بن الحباب حدثني حميد المكي به.

قلت: عطاء هو ابن أبي رباح، وحميد هو المكي كما وقع عند ابن عدي، وهو مولى ابن علقمة، قال البخاري: روى عنه زيد بن الحباب ثلاثة أحاديث زعم أنه سمع عطاء عن أبي هريرة عن سلمان عن النبي صلى الله عليه وسلم، وحديثين آخرين لا يتابع فيهما. قال المزي في تهذيب الكمال: يعني حديث سلمان في الدعاء: «من قال اللهم إني أشهدك وأشهد ملائكتك. .» الحديث. وقال ابن عدي بعد أن خرج الحديث: وحميد المكي لم ينسب ولم يذكر أبوه، وحديثه هذا المقدار الذي ذكره البخاري لا يتابع عليه كما قال. وقال الذهبي في الكاشف: لين. وقال الحافظ في التقريب: مجهول. فقول الشيخ ناصر إن سنده جيد إنما هو بالنظر إلى ما وقع عند الحاكم بأن حميد هو ابن مهران وهو ثقة، وثقة ابن معين، وقال أبو داود والنسائي: ليس به بأس. وقال مسلم بن إبراهيم: كان صدوقًا.

وقال الحافظ في التقريب: ثقة.

إلا أن ما وقع عند الحاكم خطأ من وجهين: -
আসমানসমূহ এবং জমিনে যারা আছে (তাদেরকে সাক্ষী রাখছি) যে, নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসুল। যে ব্যক্তি এটি একবার বলবে, আল্লাহ তার এক-তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। যে ব্যক্তি এটি দুইবার বলবে, আল্লাহ তার দুই-তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। আর যে ব্যক্তি এটি তিনবার বলবে, আল্লাহ তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।" তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির সানাদ সহিহ, তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আয-যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। ইবনু আদি এটি আল-কামিল (২/২৭৪) গ্রন্থে আহমাদ ইবনু ইয়াহইয়া আস-সুফি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (যিনি বলেছেন) আমাদের কাছে যায়েদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেছেন) হুমাইদ আল-মাক্কি আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: আতা হলেন ইবনু আবি রাবাহ। আর হুমাইদ হলেন আল-মাক্কি, যেমনটি ইবনু আদি-র বর্ণনায় এসেছে, তিনি ইবনু আলকামার আযাদকৃত দাস। ইমাম বুখারি বলেছেন: যায়েদ ইবনুল হুবাব তার থেকে তিনটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি সালমান থেকে এবং তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন; এছাড়া আরও দুটি হাদিস রয়েছে যেগুলোতে তাকে অনুসরণ করা হয় না। আল-মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ দোয়ার ক্ষেত্রে সালমানের হাদিস: "যে ব্যক্তি বলবে: হে আল্লাহ! আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি এবং আপনার ফেরেশতাদের সাক্ষী রাখছি..." হাদিসটি। ইবনু আদি হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: হুমাইদ আল-মাক্কির বংশপরিচয় দেওয়া হয়নি এবং তার পিতার নামও উল্লেখ করা হয়নি। আর তার হাদিসের এই পরিমাণ যা বুখারি উল্লেখ করেছেন, তাতে তাকে অনুসরণ করা হয় না যেমনটি তিনি বলেছেন। আয-যাহাবি 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুর্বল। হাফেজ (ইবনু হাজার) 'আত-তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি অপরিচিত। সুতরাং শায়খ নাসিরের বক্তব্য যে, এর সানাদ 'জায়্যিদ' (উত্তম), তা মূলত হাকেমের বর্ণনায় যা এসেছে সেই বিবেচনায়, সেখানে হুমাইদ হলেন ইবনু মিহরান এবং তিনি নির্ভরযোগ্য। ইবনু মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু দাউদ ও আন-নাসায়ি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। মুসলিম ইবনু ইবরাহিম বলেছেন: তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন।

এবং হাফেজ (ইবনু হাজার) 'আত-তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।

তবে হাকেমের বর্ণনায় যা এসেছে তা দুই দিক থেকে ভুল: -
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২১)
الأول: - ليس لحميد بن مهران رواية عن عطاء، ولا لزيد بن الحباب رواية عنه.

الثاني: - أن حميد بن مهران ليس مكيًا، وصرح ابن عدي في حديثه أنه المكي، وذكر البخاري في التاريخ الصغير 2/ 123 هذا الحديث في ترجمة المكي مولى ابن علقمة وتبعه صاحب تهذيب الكمال وغيره. فالسند ضعيف، وقول الشيخ عن أبي هريرة وهم آخر لأن أبا هريرة يرويه عن سلمان رضي الله عنه فالحديث من مسند سلمان لا من مسند أبي هريرة، والله أعلم.

هذا ما قُرئ على شيخنا حفظه الله، ثم رأيت الطبراني رواه في الكبير 6/ 220 من طريق الساجي ثنا أحمد بن يحيى الصوفي به، ورواه أيضًا من طريق أخرى فقال: ثنا محمد بن راشد الأصبهاني ثنا إبراهيم بن عبد الله بن خالد المصيصي ثنا حجاج بن محمد عن ابن جريج عن عطاء بن أبي رباح عن أبي هريرة قال: حدثني سلمان مرفوعًا به نحوه، وفيه: «وأكفر من أبى ذلك من الأولين والآخرين»، وهذا سند لا يصح؛ إبراهيم بن عبد الله بن خالد قال ابن حبان: يسرق الحديث، ويروي عن الثقات ما ليس من حديثهم. وقال الحاكم: أحاديثه موضوعة. وقال الذهبي: هذا رجل كذاب. كذا في الميزان. وقال في ديوان الضعفاء والمتروكين: متروك متهم. قلت: فقول البخاري المتقدم في حميد المكي أنه روى ما لا يتابع عليه لأن هذه المتابعة لا يفرح
প্রথমত: - আতা থেকে হুমাইদ বিন মেহরানের কোনো বর্ণনা নেই, এবং যাইদ বিন হুবাব থেকেও তার কোনো বর্ণনা নেই।

দ্বিতীয়ত: - হুমাইদ বিন মেহরান মক্কী নন, অথচ ইবনে আদি তার বর্ণনায় তাকে মক্কী বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী 'আত-তারিখুস সগির' ২/১২৩-এ ইবনে আলকামার আযাদকৃত দাস মক্কীর জীবনীতে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং 'তাহযিবুল কামাল'-এর লেখক ও অন্যান্যরা তাকে অনুসরণ করেছেন। সুতরাং সনদটি দুর্বল, আর শায়খের আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত বলার বিষয়টি আরেকটি ভুল; কারণ আবু হুরায়রা এটি সালমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাই হাদীসটি সালমানের মুসনাদভুক্ত, আবু হুরায়রার মুসনাদভুক্ত নয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এটি আমাদের শায়খের (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) সামনে পঠিত হয়েছে। এরপর আমি দেখেছি যে, তাবারানী এটি 'আল-মু'জামুল কাবীর' ৬/২২০-এ সাজির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুফি আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি অন্য আরেকটি সূত্রেও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন রাশিদ আল-আসবাহানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-মিসসিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ আমাদের কাছে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা বলেছেন: সালমান আমাকে মারফু হিসেবে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে: "আর পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে যে এটি অস্বীকার করবে, সে সবচেয়ে বড় কাফির।" এই সনদটি সহীহ নয়; ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি হাদীস চুরি করতেন এবং নির্ভরযোগ্য রাবীদের নামে এমন হাদীস বর্ণনা করতেন যা তাদের নয়। ইমাম হাকিম বলেছেন: তার বর্ণিত হাদীসগুলো জাল। ইমাম যাহাবী বলেছেন: এই ব্যক্তি একজন চরম মিথ্যাবাদী। 'আল-মিযান'-এ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। 'দিওয়ানুল দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন'-এ তিনি বলেছেন: সে পরিত্যক্ত ও অভিযুক্ত। আমি বলি: হুমাইদ আল-মক্কী সম্পর্কে বুখারীর পূর্বোক্ত বক্তব্য যে, তিনি এমন হাদীস বর্ণনা করেন যা সমর্থিত নয়—এটি সঠিক, কারণ এই সমর্থনযোগ্যতা (মুতাবায়াত) সন্তোষজনক নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২২)
بها؛ لأن في سندها كذابًا يسرق الحديث، والله أعلم.

…

 

10 - صحح الشيخ‌‌ حديث: «إذا عطس أحدكم فليقل الحمد لله رب العالمين، وليقل له: يرحمك الله، وليقل هو: يغفر الله لنا ولكم» كما في تخريج المشكاة برقم (4741) وكذا في صحيح الجامع (686) من رواية ابن مسعود وسالم بن عبيد الأشجعي رضي الله عنهما.

وقد حققت هذا الحديث وقرئ على شيخنا الفاضل عبد العزيز ابن باز حفظه الله وإليك هذا التحقيق بلفظه مع بعض الزيادة: -

قال أبو داود (13/ 372 عون): حدثنا عثمان بن أبي شيبة نا جرير عن منصور عن هلال بن يساف قال: كنا مع سالم بن عبيد فعطس رجل من القوم فقال: السلام عليكم. فقال سالم: وعليك وعلى أمك. ثم قال بعد: لعلك وجدت مما قلت لك؟ قال: لوددت أنك لم تذكر أمي بخير ولا بشر. قال: إنما قلت لك كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنا بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ عطس رجل من القوم فقال: السلام عليكم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وعليك وعلى أمك». ثم قال: «إذ عطس أحدكم فليحمد الله، قال: فذكر بعض المحامد، وليقل له من عنده: يرحمك الله، وليرد -يعني عليهم- يغفر الله لنا ولكم»، ورواه النسائي في عمل اليوم والليلة (225) عن محمد بن قدامة عن جرير به، ورواه أيضًا (227) والترمذي
এর দ্বারা; কারণ এর সনদে একজন মিথ্যাবাদী রয়েছে যে হাদীস চুরি করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

…

 

১০ - শাইখ এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর তাকে যেন বলা হয়: আল্লাহ তোমার ওপর দয়া করুন, আর সে যেন বলে: আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের ক্ষমা করুন।” যেমনটি মিশকাতের তাহকীকে ৪৭৪১ নম্বরে এবং সহীহুল জামে’ (৬৮৬) গ্রন্থে ইবনে মাসউদ ও সালিম বিন উবাইদ আল-আশজাঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আমি এই হাদীসটি তাহকীক করেছি এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায (হাফিযাহুল্লাহ)-এর সামনে তা পাঠ করা হয়েছে। নিচে সেই তাহকীকটিই কিছু বর্ধিত অংশসহ শব্দে শব্দে উল্লেখ করা হলো: -

আবু দাউদ (১৩/ ৩৭২ ‘আওন) বলেন: উসমান বিন আবু শাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর থেকে, তিনি মানসূর থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা সালিম বিন উবাইদের সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে বলল: আসসালামু আলাইকুম। সালিম বললেন: তোমার ওপর এবং তোমার মায়ের ওপর (সালাম)। এরপর তিনি বললেন: সম্ভবত আমি যা বলেছি তাতে তুমি কিছু মনে করেছ? সে বলল: আমি কামনা করতাম যে আপনি আমার মাকে ভালো বা মন্দ কোনোভাবেই উল্লেখ না করতেন। তিনি বললেন: আমি তোমাকে ঠিক তা-ই বলেছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন; একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে বলল: আসসালামু আলাইকুম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার ওপর এবং তোমার মায়ের ওপর (সালাম)।” এরপর তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে —বর্ণনাকারী বলেন: তিনি কিছু প্রশংসাসূচক বাক্য উল্লেখ করলেন— এবং তার নিকটস্থ ব্যক্তি যেন তাকে বলে: আল্লাহ তোমার ওপর দয়া করুন। আর সে (হাঁচিদাতা) যেন তাদের উত্তরে বলে: আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের ক্ষমা করুন।” ইমাম নাসাঈ এটি ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ (২২৫) গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন কুদামা থেকে, তিনি জারীর থেকে — এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি পুনরায় (২২৭) নম্বরে এবং ইমাম তিরমিযীও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
(8/ 12 - تحفة) كلاهما عن محمود بن غيلان نا أبو أحمد نا سفيان عن منصور به، ورواه النسائي أيضًا (226) وكذا ابن حبان (2/ 361) من طريق إسرائيل عن منصور به، وقال الترمذي بعد روايته للحديث: " هذا حديث اختلفوا في روايته عن منصور وقد أدخلوا بين هلال بن يساف وبين سالم رجلاً ". اهـ.

قلت: وهذا الرجل الذي بين هلال وسالم أبهمه بعضهم وصرح به بعضهم وبعضهم زاد رجلاً آخر، فروى النسائي في عمل اليوم والليلة (228) عن أحمد بن حرب ثنا قاسم ثنا سفيان عن منصور عن هلال عن رجل عن سالم به نحوه، ورواه زائدة عن منصور عن هلال عن رجل عن سالم به، ورواه أبو داود الطياليسي (صفحة: 167) وأبو داود في سننه والنسائي في عمل اليوم والليلة (231) كلهم من طريق ورقاء عن منصور عن هلال عن خالد بن عرفجة عن سالم به، ورواه الإمام أحمد في مسنده (6/ 7 - 8) عن يحيى بن سعيد حدثني سفيان حدثنا منصور عن هلال بن يساف عن رجل من آل خالد بن عرفطة عن آخر قال: كنت مع سالم به. ورواه النسائي في عمل اليوم الليلة (229) عن محمد بن بشار قال: حدثنا يحيى عن سفيان عن منصور عن هلال بن يساف عن رجل عن آخر قال: كنا مع سالم به، ثم قال النسائي: وهذا الصواب عندنا والأول خطأ. وقال الحاكم (4/ 267) بعد أن ذكر الاختلاف: الوهم في رواية جرير هذه ظاهر فإن هلال بن يساف لم يدرك سالم بن عبيد
(৮/ ১২ - তুহফাহ) উভয়ই মাহমুদ ইবনে গায়লান থেকে, তিনি আবু আহমাদ থেকে, তিনি সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে একই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। নাসায়ীও এটি বর্ণনা করেছেন (২২৬) এবং অনুরূপভাবে ইবনে হিব্বানও (২/ ৩৬১) ইসরাঈলের সূত্র ধরে মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন: "এটি এমন একটি হাদিস যার বর্ণনায় বর্ণনাকারীগণ মানসুরের সূত্রে মতভেদ করেছেন; তারা হিলাল ইবনে ইয়াসাফ এবং সালিমের মাঝে একজন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" ইতি।

আমি বলছি: হিলাল ও সালিমের মাঝে বিদ্যমান এই লোকটিকে কেউ কেউ অস্পষ্ট রেখেছেন, কেউ কেউ তাকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ অন্য একজন ব্যক্তিকে বৃদ্ধি করেছেন। নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (২২৮) গ্রন্থে আহমাদ ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসেম থেকে, তিনি সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি সালিম থেকে একই সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। যায়িদাহ এটি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি সালিম থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (পৃষ্ঠা: ১৬৭), আবু দাউদ তার সুনানে এবং নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (২৩১) গ্রন্থে—তারা সকলেই ওয়ারকা-এর সূত্র ধরে মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আরফাজা থেকে, তিনি সালিম থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে (৬/ ৭ - ৮) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মানসুর বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আরফাতাহর পরিবারের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি অন্য একজনের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি সালিমের সাথে ছিলাম... একই সূত্রে। নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (২২৯) গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি অন্য একজনের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা সালিমের সাথে ছিলাম... একই সূত্রে। অতঃপর নাসায়ী বলেন: "আমাদের নিকট এটিই সঠিক এবং প্রথমটি ভুল।" হাকীম (৪/ ২৬৭) মতভেদের বিষয়টি উল্লেখ করার পর বলেন: "জারীরের এই বর্ণনায় ভুলটি স্পষ্ট, কেননা হিলাল ইবনে ইয়াসাফ সালিম ইবনে উবাইদকে পাননি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولم يره وبينهما رجل مجهول. اهـ. فثبت بهذه الطرق جهالة الواسطة بين هلال وسالم، بل إن أصح الأسانيد المتقدمة سند الإمام أحمد حيث رواه عن القطان عن الثوري، ورواه النسائي عن محمد بن بشار عن القطان به وفيه إثبات رجلين مجهولين بين هلال وسالم، وقول النسائي عقب هذه الطريق: وهذا الصواب عندنا والأول خطأ. وتابع القطان معاويةُ بن هشام في إثبات الرجلين المجهولين إلا أنه سمى واحدًا منهما فروى النسائي (230) في عمل اليوم والليلة من طريقه عن سفيان عن منصور عن هلال عن رجل عن خالد بن عرفطة عن سالم بن عبيد نحوه. وسماه بعضهم كما تقدم خالد بن عرفجة. قال الحافظ في التقريب: (خالد بن عرفجة صوابه ابن عرفطه يروي عن سالم بن عبيد مقبول من الثالثة). وانظر تحفة الأشراف (3/ 252).

وأما حديث ابن مسعود رضي الله عنه فرواه الطبراني في الكبير (10326): ثنا محمد بن عبد الله الحضرمي ثنا أحمد بن يونس ثنا أبيض بن أبان عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن عن عبد الله بن مسعود قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا إذا عطس أحدكم فليقل: الحمد لله رب العالمين، فإذا قال ذلك فليقل من عنده يرحمك الله فإذا قال فليقل يغفر الله لي ولكم" ورواه الحاكم (4/ 266) من طريق جعفر بن سليمان وأبيض كلاهما عن عطاء به مرفوعًا.

وخالفهما سفيان الثوري فرواه عن عطاء به موقوفًا رواه البخاري
এবং তিনি তাকে দেখেননি, আর তাদের উভয়ের মাঝে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন। (সমাপ্ত)। সুতরাং এই সূত্রগুলোর মাধ্যমে হিলাল ও সালিমের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলো। বরং ইতিপূর্বে বর্ণিত সনদগুলোর মধ্যে ইমাম আহমাদের সনদটিই অধিক বিশুদ্ধ, যেখানে তিনি আল-কাত্তান থেকে এবং তিনি আস-সাওরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে এবং তিনি আল-কাত্তান সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর এতে হিলাল ও সালিমের মাঝে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তির অস্তিত্ব সাব্যস্ত হয়েছে। এই সূত্রের পর ইমাম নাসাঈর মন্তব্য হলো: "আমাদের নিকট এটিই সঠিক এবং প্রথমটি ভুল।" আল-কাত্তানের অনুসরণে মুয়াবিয়া ইবনে হিশামও দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তাদের একজনের নাম উল্লেখ করেছেন। নাসাঈ (২৩০) 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে তার সূত্রে সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আরফাতাহ থেকে এবং তিনি সালিম ইবনে উবাইদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ তার নাম 'খালিদ ইবনে আরফাজাহ' বলেছেন, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "খালিদ ইবনে আরফাজাহ—যার সঠিক নাম হলো ইবনে আরফাতাহ—তিনি সালিম ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তৃতীয় স্তরের একজন গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী।" দেখুন: তুহফাতুল আশরাফ (৩/২৫২)।

আর ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীসটি তাবারানী 'আল-মুজামুল কাবীর' গ্রন্থে (১০৩২৬) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামী, তিনি আহমাদ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আবইয়াদ ইবনে আবান থেকে, তিনি আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের শিক্ষা দিতেন যে, "তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, সে যেন বলে: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যখন সে এটি বলবে, তখন তার নিকটস্থ ব্যক্তি যেন বলে: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। যখন সে এটি বলবে, তখন হাঁচিদাতা যেন বলে: আল্লাহ আমাকে ও আপনাদের ক্ষমা করুন।" ইমাম হাকীম এটি (৪/২৬৬) জাফর ইবনে সুলাইমান ও আবইয়াদ—উভয়ের সূত্রে আতা থেকে 'মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সুফিয়ান আস-সাওরী তাদের উভয়ের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি আতা থেকে এটি 'মাওকূফ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যা ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
في الأدب المفرد (934) عن أبي نعيم عن سفيان به. وكذا رواه الحاكم وقال: هذا حديث لم يرفعه عن أبي عبد الرحمن عن عبد الله بن مسعود غير عطاء بن السائب، تفرد بروايته عنه جعفر ابن سليمان الضُّبعي وأبيض بن أبان القرشي، والصحيح فيه رواية الإمام الحافظ المتقن سفيان بن سعيد الثوري عن عطاء بن السائب. ثم ساقه من أربعة طرق عن سفيان موقوفًا ثم قال: هذا المحفوظ من كلام عبد الله إذا (1) لم يسنده من يُعتمد روايته. ووافقه الذهبي. ورواه النسائي في عمل اليوم والليلة (224) من طريق جعفر بن سليمان عن عطاء بن السائب مرفوعًا ثم قال: وهذا حديث منكر ولا أرى جعفر بن سليمان إلا سمعه من عطاء بن السائب بعد الاختلاط، ودخل عطاء البصرة مرتين فمن سمع منه أول مرة فحديثه صحيح ومن سمعه منه آخر مرة ففي حديثه شيء، وحماد بن زيد حديثه عنه صحيح. ورواه ابن السنِّي (259) عن النسائي به، ورواه البيهقي في شعب الإيمان (7/ 30) من طريق أبيض بن أبان وجعفر بن سليمان عن عطاء بن السائب مرفوعًا ثم قال: والصحيح رواية الثوري. قلت: ساقه من طريق عبد الرزاق عن سفيان عطاء موقوفًا ثم قال: هذا موقوف وهو الصحيح، وسُئل عنه أبو حاتم كما في العلل لابنه (2/ 243). فقال: هذا خطأ الناسُ يروونه عن عبد الله موقوف (2) منهم جعفر بن سليمان

--------------------------------------------

(1) كذا في "المستدرك" ولعل الصواب "إذ" والله أعلم.

(2) كذا في " العلل".
'আল-আদাবুল মুফরাদ' (৯৩৪)-এ আবু নুআইম থেকে সুফিয়ানের সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি আতা ইবনুল সাইব ব্যতীত অন্য কেউ আবু আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেননি। জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ী এবং আবইয়াদ ইবনে আবান আল-কুরাশী এটি তাঁর থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। আর এ ব্যাপারে সঠিক হলো ইমাম হাফিজ মুতকিন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী থেকে আতা ইবনুল সাইবের বর্ণনা। অতঃপর তিনি এটি সুফিয়ান থেকে চারটি সূত্রে মাওকুফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি আবদুল্লাহর উক্তি হিসেবে সংরক্ষিত, যেহেতু (১) নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনাকারী একে মারফূ করেননি। যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। নাসাঈ 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (২২৪)-এ জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আতা ইবনুল সাইব থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি একটি মুনকার হাদিস এবং আমার মনে হয় জাফর ইবনে সুলাইমান এটি আতা ইবনুল সাইব থেকে তাঁর স্মৃতিবিভ্রাটের পরে শুনেছেন। আতা বসরায় দুইবার প্রবেশ করেছিলেন; যারা প্রথমবার তাঁর থেকে শুনেছেন তাঁদের হাদিস সহিহ, আর যারা শেষবার তাঁর থেকে শুনেছেন তাঁদের হাদিসে ত্রুটি আছে। তবে হাম্মাদ ইবনে যাইদের বর্ণিত হাদিস সহিহ। ইবনুস সুন্নী (২৫৯)-তে নাসাঈর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী 'শুআবুল ঈমান' (৭/৩০)-এ আবইয়াদ ইবনে আবান এবং জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে, তাঁরা আতা ইবনুল সাইব থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: সাওরীর বর্ণনাটিই সঠিক। আমি বলি: তিনি এটি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আতা থেকে মাওকুফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি মাওকুফ এবং এটিই সঠিক। আবু হাতেমকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা তাঁর ছেলের 'আল-ইলাল' (২/২৪৩)-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন: এটি ভুল, বর্ণনাকারীরা এটি আবদুল্লাহ থেকে মাওকুফ (২) হিসেবে বর্ণনা করেন, তাঁদের মধ্যে জাফর ইবনে সুলাইমানও রয়েছেন।

--------------------------------------------

(1) 'আল-মুস্তাদরাক'-এ এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক শব্দ হবে "ইয" (যেহেতু), আল্লাহু আলাম।

(2) 'আল-ইলাল'-এ এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وغيره، وأبيض شيخ، وعطاء بن السائب اختلط بآخره. وسئل الدارقطني عن هذا الحديث فقال (5/ 334): يرويه عطاء بن السائب، واختلف عنه فرفعه أبيض بن أبان وجعفر بن سليمان عن عطاء ووقفه جرير وعلي بن عاصم، والموقوف أشهر.

تنبيه: جعل أبو حاتم جعفر بن سليمان من الذين رووا الحديث عن ابن مسعود موقوفًا وتقدم أن النسائي والحاكم والبيقهي رووه من طريقه مرفوعًا وكذا قال الدارقطني كما تقدم نقل كلامه فلعله اختلف عليه في رفعه ووقفه أو يكون هذا مما وهم فيه أبو حاتم، والله أعلم.

وجاء عن عمر وابنه رضي الله عنهما موقوفًا عليهما: فروى عبد الرزاق (19677) عن معمر عن بديل العقيلي عن أبي العلاء ابن عبد الله بن شخير قال عطس رجل عند عمر بن الخطاب قال: السلام عليك. فقال عمر: وعليك وعلى أمك، أما يعلم أحدكم ما يقول إذا عطس؟ إذا عطس أحدكم فليقل الحمد لله وليقل القوم يرحمك الله وليقل يغفر الله لكم. ورجاله ثقات ولكن ينظر في سماع أبي العلاء من عمر فإنه توفي على ما قاله ابن حبان سنة إحدى عشرة ومائة، وقال غيره سنة ثمان ومائة. وقال الحافظ في التقريب: كان مولده في خلافة عمر. وقال الذهبي في سير أعلام النبلاء (4/ 494) بعد قول أبي العلاء: أنا أكبر من الحسن البصري بعشر سنين قال: على هذا يكون مولده في خلافة الصديق.
এবং অন্যান্যরা, আর আবইয়াদ একজন শায়খ; এবং আতা বিন আস-সাইব তার জীবনের শেষ দিকে স্মৃতিবিভ্রম ঘটিয়েছিলেন। আদ-দারাকুতনিকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন (৫/৩৩৪): এটি আতা বিন আস-সাইব বর্ণনা করেছেন, এবং তার সূত্রে বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে; আবইয়াদ বিন আবান এবং জাফর বিন সুলাইমান আতা থেকে একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর জারীর ও আলী বিন আসিম একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মাওকুফ বর্ণনাটিই অধিক প্রসিদ্ধ।

সতর্কতা: আবু হাতিম জাফর বিন সুলাইমানকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা ইবনে মাসউদ থেকে হাদিসটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন-নাসায়ী, আল-হাকিম এবং আল-বাইহাকী তাঁর সূত্র থেকে একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আদ-দারাকুতনিও বলেছেন যেমনটি পূর্বে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে। সম্ভবত তাঁর সূত্রে এটি মারফু ও মাওকুফ উভয়ভাবে বর্ণিত হওয়ার কারণে মতভেদ হয়েছে অথবা এটি আবু হাতিমের কোনো ভ্রম হতে পারে, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আর উমর ও তাঁর পুত্র (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে এটি তাঁদের নিজস্ব উক্তি (মাওকুফ) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: আব্দুর রাজ্জাক (১৯৬৭৭) মা'মার থেকে, তিনি বুদাইল আল-উকাইলি থেকে এবং তিনি আবুল আলা ইবনে আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট হাঁচি দিল এবং বলল: আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন উমর বললেন: তোমার উপর এবং তোমার মায়ের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক! তোমাদের কেউ কি জানে না হাঁচি দিলে কী বলতে হয়? যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয়, সে যেন বলে 'সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য', আর উপস্থিত লোকরা যেন তাকে বলে 'আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন', এবং সে (হাঁচিদাতা) যেন বলে 'আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন'। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে উমর থেকে আবুল আলার সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা ইবনে হিব্বানের মতানুসারে তিনি একশত এগারো হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আর অন্যরা বলেছেন একশত আট হিজরীতে। আল-হাফিয তাকরীব গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর জন্ম উমরের খিলাফতকালে হয়েছিল। আর আয-যাহাবী সিয়ারু আলামিন নুবালা (৪/৪৯৪) গ্রন্থে আবুল আলার এই উক্তির পর—"আমি হাসান বসরীর চেয়ে দশ বছরের বড়"—বলেছেন: এই হিসাব অনুযায়ী তাঁর জন্ম সিদ্দীকের খিলাফতকালে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت: فعلى مذهب من يكتفي بالمعاصرة يصحح سماعه من عمر، وأما على مذهب من يشترط اللقاء فلا والله اعلم.

وروى البخاري في الأدب المفرد (933) عن إسماعيل عن مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أنه كان إذا عطس فقيل له يرحمك الله فقال: يرحمنا وإياكم ويغفر لنا ولكم. اهـ. ما قرئ على شيخنا حفظه الله وذهب إلى تضعيف الحديث وسألته عما جاء عن الصحابة فقال: حفظه الله: لا تعارض بها السنة.

ثم رأيت الشيخ ناصرًا حفظه الله ذكر حديث سالم بن عبيد في الإرواء (3/ 246) وضعفه بقوله: فالإسناد ضعيف لانقطاعه أو لجهالة الواسطة بينهما. بينما قال في المشكاة: إسناد صحيح فكأنه مشى مع ظاهر الإسناد، وذكر الهيثمي في مجمع الزوائد (8/ 57) لهذا الحديث شاهدًا من حديث ابن عمر رضي الله عنهما ولفظه مرفوعًا: «إذا عطس أحدكم فليقل الحمد لله -أحسبه قال- على كل حال وليقل له يرحمك الله وليقل يغفر الله لنا ولكم» وقال: رواه البزار وفيه أسباط بن عزرة ولم أعرفه وبقية رجاله ثقات.

قلت: سنده عند البزار هكذا (2011): حدثنا محمد بن عبيد الله المخزمي ثنا أسود بن عامر ثنا إسرائيل عن أسباط بن عزرة عن جعفر بن أبي وحشية عن مجاهد عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. وهذا سند رجاله ثقات معروفون إلا أسباط بن عزرة فلم أجد من ترجمه، فهو علة الحديث وتكلم شعبة في سماع
আমি বলছি: যারা কেবল সমসাময়িক হওয়াকে যথেষ্ট মনে করেন, তাদের মতানুসারে ওমরের নিকট থেকে তার শ্রবণ করা বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হবে। আর যারা সরাসরি সাক্ষাতের শর্ত আরোপ করেন, তাদের মতে তা বিশুদ্ধ হবে না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদ (৯৩৩) গ্রন্থে ইসমাইল থেকে, তিনি মালেক থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন হাঁচি দিতেন এবং তাকে 'আল্লাহ তোমার ওপর রহমত করুন' বলা হতো, তখন তিনি বলতেন: 'আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের ওপর রহমত করুন এবং আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন।' সমাপ্ত। এটি আমাদের শাইখের (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার দিকে মত দিয়েছেন। আমি তাকে সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) বললেন: এগুলোর মাধ্যমে সুন্নাহর বিরোধিতা করা যাবে না।

অতঃপর আমি দেখলাম শাইখ নাসির (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) ইরওয়াউল গালীল (৩/২৪৬) গ্রন্থে সালেম বিন উবায়েদের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং সেটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করে বলেছেন: সনদটি দুর্বল, কারণ এতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে অথবা উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী বর্ণনাকারী অজ্ঞাত। অন্যদিকে তিনি মিশকাতে বলেছেন: সনদটি সহিহ; সম্ভবত তিনি সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এটি বলেছেন। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ (৮/৫৭) গ্রন্থে এই হাদিসের একটি সমর্থক বর্ণনা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে উল্লেখ করেছেন: "তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় সে যেন বলে 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য'—আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন—'সর্বাবস্থায়', এবং তাকে যেন বলা হয় 'আল্লাহ তোমার ওপর রহমত করুন', আর সে যেন বলে 'আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের ক্ষমা করুন'।" তিনি বলেছেন: এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং এতে আসবাত বিন আযরাহ রয়েছেন যাকে আমি চিনি না, আর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।

আমি বলছি: বাযযারের নিকট এর সনদটি এরূপ (২০১১): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-মাখযূমী, তিনি বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ বিন আমির থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি আসবাত বিন আযরাহ থেকে, তিনি জাফর বিন আবি ওয়াহশিয়াহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন)। এই সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচিত, কেবল আসবাত বিন আযরাহ ব্যতীত; আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। সুতরাং তিনিই এই হাদিসের ত্রুটি, আর শু'বা শ্রবণ করার বিষয়ে কথা বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
جعفر من مجاهد. قال أحمد: كان شعبة يضعف حديث أبي بشر عن مجاهد قال: لم يسمع منه شيئًا، وقال ابن معين: طعن عليه شعبة في حديثه عن مجاهد قال: من صحيفة. انظر تهذيب الكمال للمزي (5/ 7) ولهذا قال الحافظ في التقريب: ثقة من أثبت الناس في سعيد بن جبير، وضعفه شعبة في حبيب بن سالم وفي مجاهد.

تنبيه: وقع في كشف الأستار كما تقدم محمد بن عبيد الله مصغر وهو تصحيف صوابه عبد الله مكبر وهو ثقة متقن. وروى البيهقي في الشعب (9352) حديث ابن عمر من طريق عبد الله بن عبد العزيز حدثني أبي عن نافع عن ابن عمر قال: اجتمع المسلمون واليهود عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فشمته الفريقان جميعًا فقال للمسلمين: «يغفر الله لكم ويرحمنا الله وإياكم، وقال لليهود: يهديكم الله ويصلح بالكم». وقال: تفرد به عبد الله بن عبد العزيز بن أبي رواد عن أبيه وهو ضعيف. قلت: تساهل فيه البيهقي. قال أبو حاتم وغيره: أحاديثه منكره. وقال ابن الجنيد: لا يساوي فلسًا (كذا في الميزان) وفي اللسان شيئًا (1)، يحدث بأحاديث كذب. وقال ابن عدي: روى أحاديث عن أبيه لا يتابع عليها. وقال ابن حبان: يعتبر حديثه إذا روي عن غير أبيه، وفي روايته عن إبراهيم بن طهمان مناكير. وقال العقيلي: له أحاديث مناكير ليس ممن يقيم الحديث. كذا في الميزان واللسان والله أعلم. فتبين مما سبق أن

--------------------------------------------

(1) رواه ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (5/ 104) ووقع عنده فلسًا.
জাফর থেকে মুজাহিদ। আহমাদ বলেছেন: শু'বাহ মুজাহিদ থেকে আবু বিশরের বর্ণিত হাদিসকে দুর্বল গণ্য করতেন। তিনি বলেছেন: তিনি (আবু বিশর) মুজাহিদ থেকে কিছুই শুনেননি। এবং ইবনে মাঈন বলেছেন: শু'বাহ মুজাহিদ থেকে বর্ণিত তার হাদিসের ব্যাপারে আপত্তি করেছেন এবং বলেছেন: (এগুলো) পাণ্ডুলিপি থেকে (বর্ণিত)। দেখুন আল-মিজ্জি রচিত তাহযীবুল কামাল (৫/৭)। একারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরীবে বলেছেন: বিশ্বস্ত, সাঈদ ইবনে জুবায়েরের বর্ণনায় মানুষের মধ্যে অন্যতম সুদৃঢ় ব্যক্তি; তবে শু'বাহ তাকে হাবিব ইবনে সালিম এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল গণ্য করেছেন।

সতর্কতা: পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে কাশফুল আসতারে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদিল্লাহ (ক্ষুদ্রার্থে) এসেছে, যা একটি লিখনশুদ্ধি (তাসহিফ)। এর সঠিক রূপ হলো আব্দুল্লাহ (বৃহদার্থে), যিনি একজন বিশ্বস্ত ও পারদর্শী বর্ণনাকারী। এবং বাইহাকী আশ-শুয়াব-এ (৯৩৫২) ইবনে উমরের হাদিসটি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম এবং ইহুদিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একত্রিত হলো। তখন উভয় দলই তাঁর হাঁচির উত্তর (তাশমীত) প্রদান করল। তখন তিনি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বললেন: "আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের প্রতি দয়া করুন।" আর ইহুদিদের উদ্দেশ্যে বললেন: "আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।" এবং তিনি (বাইহাকী) বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ এটি তার পিতা থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল। আমি (লেখক) বলছি: বাইহাকী এ ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। আবু হাতিম ও অন্যান্যরা বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। ইবনুল জুনাইদ বলেছেন: তিনি এক পয়সা (ফিলস) সমতুল্যও নন (মিজানে এমনটিই রয়েছে), আর আল-লিসানে রয়েছে 'কিছুই' (১), তিনি মিথ্যে হাদিস বর্ণনা করতেন। ইবনে আদি বলেছেন: তিনি তার পিতা থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তার হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে যখন তিনি তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো থেকে বর্ণনা করবেন; আর ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে তার বর্ণনায় মুনকার হাদিস রয়েছে। আল-উকাইলি বলেছেন: তার অনেক মুনকার হাদিস রয়েছে এবং তিনি হাদিস যথাযথভাবে সংরক্ষণকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন। মিজান এবং লিসানে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। সুতরাং পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হলো যে...

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৫/১০৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে তার নিকট 'পয়সা' (ফিলস) শব্দটি এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
الحديث لا يصح من جميع طرقه، فحديث سالم بن عبيد ضعيف لجهالة بعض رواته، وحديث ابن مسعود الراجح وقفه عليه، وحديث ابن عمر له طريقان طريق البزار فيه علتان، وطريق البيهقي فيه عبد الله بن عبد العزيز بن أبي رواد وقد سبق نقل كلام الأئمة فيه والله أعلم.

فإن قيل: فهل يصح الحديث بمجموع طرقه؟ فأقول: لا يصح؛ لأن حديث سالم بن عبيد فيه راويان مجهولان كما رواه أحمد وغيره، وحديث ابن مسعود موقوف، وطريق حديث ابن عمر عند البزار فيه علتان والطريق الأخرى ضعيفة جدًا فلا يصل الحديث بمجموع طرقه إلى الصحة بل ولا إلى الحسن، والله أعلم.

تنبيه: قوله في حديث ابن عمر: «اجتمع المسلمون واليهود عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فشمته الفريقان. .»، كذا وقع في الشعب، وساقه الحافظ في الفتح (10/ 609) بلفظ: «اجتمع اليهود والمسلمون فعطس النبي صلى الله عليه وسلم. . .» فلعله سقط من النسخة المطبوعة، أو كتبه الحافظ من حفظه فأثبت المحذوف المقدر، والله أعلم.

…

 

11 - وقال حفظه الله في تخريج المشكاة (1051) على حديث أبي ذر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ‌‌«لا صلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس ولا بعد العصر حتى تغرب الشمس إلا بمكة إلا بمكة إلا بمكة»، رواه أحمد، ورزين. إسناده
হাদিসটি এর সকল সূত্রের বিবেচনায় সহিহ নয়। সালিম ইবনে উবাইদের হাদিসটি এর কিছু বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়ার কারণে দুর্বল। ইবনে মাসউদের হাদিসটি মাওকুফ হওয়াই অধিকতর সঠিক। ইবনে উমরের হাদিসটির দুটি সূত্র রয়েছে: আল-বাযযারের সূত্রে দুটি ত্রুটি রয়েছে এবং আল-বাইহাকির সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ রয়েছেন, আর তার ব্যাপারে ইমামগণের বক্তব্য ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়: হাদিসটি কি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত শক্তিতে সহিহ হতে পারে? আমি বলব: এটি সহিহ হবে না; কারণ ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের বর্ণিত সালিম ইবনে উবাইদের হাদিসে দুজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। ইবনে মাসউদের হাদিসটি মাওকুফ। আল-বাযযারের নিকট ইবনে উমরের হাদিসের সূত্রে দুটি ত্রুটি রয়েছে এবং অন্য সূত্রটি অত্যন্ত দুর্বল। সুতরাং হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিবেচনায় সহিহ পর্যায়ে পৌঁছে না, এমনকি হাসান পর্যায়েও নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

সতর্কতা: ইবনে উমরের হাদিসে তাঁর উক্তি: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মুসলিম ও ইহুদিরা সমবেত হলো এবং উভয় পক্ষ তাঁর হাঁচির উত্তর প্রদান করল...», শুয়াবুল ইমানে বিষয়টি এভাবেই এসেছে। হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (১০/৬০৯) তা এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ইহুদি ও মুসলিমরা সমবেত হলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দিলেন...»। সম্ভবত এটি মুদ্রিত কপি থেকে বাদ পড়েছে অথবা হাফিজ এটি নিজের স্মৃতি থেকে লিখেছেন এবং উহ্য অংশটি সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

...

 

১১ - এবং তিনি (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন) মিশকাতের তাখরিজে (১০৫১) আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‌‌«সুবহে সাদিকের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই, তবে মক্কা ব্যতীত, তবে মক্কা ব্যতীত, তবে মক্কা ব্যতীত», এটি আহমদ ও রাযীন বর্ণনা করেছেন। এর সনদ...
(খণ্ড: ১) আল-ইলাম ফি ইদাহি মা খাফিয়া আলাল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
ضعيف لكن يشهد له الحديث المتقدم (1041).

قلت: يشير حفظه الله إلى حديث أبي سعيد المتفق على صحته بلفظ: «لا صلاة بعد الصبح حتى ترتفع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس».

قلت: ليس في حديث أبي سعيد ما يشهد للاستثناء الواقع في حديث أبي ذر وهو قوله إلا بمكة، وهو استثناء ضعيف سندًا ومتنًا، والصحيح القول بالعموم، والله أعلم وانظر نضب الراية (1/ 254) والبيهقي (2/ 461).

ويستثنى من قوله: «لا صلاة» الصلاة ذات السبب لأدلة أخرى وردت في ذلك اختاره شيخنا حفظه الله.

…

 

12 - وقال حفظه الله على حديث أبي ذر رضي الله عنه: ‌‌«إن الله وضع الحق على لسان عمر يقول به»، وفي سنده عنعنة ابن إسحاق كما في تخريج المشكاة (6034).

قلت: هذا الحديث رواه أحمد في مسنده (5/ 165): ثنا يزيد ثنا محمد بن إسحاق عن مكحول عن غضيف بن الحارث رجل من أيلة قال: مررت بعمر بن الخطاب، فقال: نعم الغلام. فاتبعني رجل ممن كان عنده، فقال: يا ابن أخي ادع الله لي بخير. قال: قلت: ومَنْ أنت يرحمك الله؟ قال: أنا أبو ذر صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقلت: غفر الله لك أنت أحق أن تدعوا لي مني
এটি দুর্বল, তবে পূর্ববর্তী হাদিস (১০৪১) এর জন্য সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান।

আমি বলছি: তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে, যার শব্দমালা হলো: «সুবহে সাদেকের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই»।

আমি বলছি: আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসের মধ্যে এমন কিছু নেই যা আবু যর (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত ব্যতিক্রমটির সাক্ষী হয়, আর তা হলো তাঁর উক্তি "মক্কা ব্যতীত"; এটি সনদ ও মতন (সূত্র ও পাঠ) উভয় দিক থেকেই একটি দুর্বল ব্যতিক্রম। সঠিক অভিমত হলো সাধারণ হুকুম বা ব্যাপকতা বজায় রাখা। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন: নাসবুর রায়াহ (১/২৫৪) এবং বাইহাকী (২/৪৬১)।

এবং তাঁর উক্তি: «কোনো সালাত নেই» থেকে কারণবিশিষ্ট সালাতসমূহ (সালাত যাতুস সাবাব) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে, এ বিষয়ে বর্ণিত অন্যান্য দলিলের কারণে। আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

…

 

১২ - আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যকে উমরের জবানে স্থাপন করেছেন, যা দিয়ে তিনি কথা বলেন», এবং এর সনদে ইবনে ইসহাকের 'আনআনা' (অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা) রয়েছে, যেমনটি মিশকাতের তাখরিজে (৬০৩৪) উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি বলছি: এই হাদিসটি ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (৫/১৬৫) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আয়লাহ্ শহরের জনৈক ব্যক্তি গুদাইফ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন: কতই না উত্তম এই যুবক! তারপর তাঁর কাছে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন লোক আমার অনুসরণ করলেন এবং বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমার জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণের দোয়া করো। তিনি বলেন, আমি বললাম: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি কে? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী আবু যর। তখন আমি বললাম: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আমার চেয়ে আপনিই দোয়া করার জন্য বেশি উপযুক্ত।