(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ط الرسالة   (بدر الدين الزركشي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة

المؤلف: بدر الدين الزركشي (745 - 794 هـ)

حققه عن أصلين خطيين وقدّم له: د (مُحَمّد) بنيامين أَرُولْ

(الأستاذ المساعد في قسم الحديث بجامعة أنقرة)

راجعه وقدم له: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 283

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الآخرة 1445

সাহাবীদের ওপর আয়েশা (রা.) যেসব বিষয়ে সংশোধন দিয়েছেন তার সংকলন - আর-রিসালাহ সংস্করণ   (বদরুদ্দীন আল-যারকাশী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সাহাবীদের ওপর আয়েশা (রা.) যেসব বিষয়ে সংশোধন দিয়েছেন তার সংকলন

লেখক: বদরুদ্দীন আল-যারকাশী (৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি)

দুটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পাদনা ও ভূমিকা: ড. (মুহাম্মদ) বিনয়ামিন আরুল

(আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

পর্যালোচনা ও ভূমিকা: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
- أ -

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحدث شعيب الأرنؤوط:

الحمدُ للهِ ربِّ العالمين، وصلَّى الله على سيدنا محمدٍ المبعوثِ رحمةً للعالمين، وعلى آلهِ وأصحابهِ أجمعين، ومَنْ تَبِعَهُمْ بإحسانٍ إلى يومِ الدين، وبعد.

فقد كنتُ إبَّانَ طلبِ العلمِ في الخامس والأربعين مِن القرن العشرين وما بعدها أعاني كثيرًا مِن التنقيب والبحث في حديثٍ من الأحاديثِ النبوية للتأكدِ مِن صِحته، إذ كانتِ المكتباتُ مقفِرَةً مِن كتب السُّنة، وكان التقليدُ الذي هو ظاهِرَةُ تِلْكَ الفترةِ يحولُ بَيْنَ الطالبِ وبَيْنَ القراءَةِ في كتب الحديث، والإفادةِ منها والتفقه بها، لأن الأساتذة الذين كانوا يَتَصدَّرُونَ للتدريس كانُوا يعتمدُون في ذاك العصر على الكتب الفقهيةِ المتأخرَةِ، العريَّة عن الدليلِ، أو فيها الأدلة، ولكن لا يَعْرفُ المتفقه الصحيحَ منها والضعيفَ والموضوعَ، وقد نقلوا ذلك عن شيوخهم، وكانوا شديدي التمسكِ بما فيها مِن آراء بحكم التقليد الذي نَشؤوا عليه، وتمكَّنَ مِنْ عقولِهِمْ، وقد انتقلَ هذا إليَّ، فلم يَكُنْ إذْ ذاكَ في مكتبتي إلا كتبُ الفِقه والعَربية، وما يمُتُّ إليهما بِسَبَبٍ، وكانت تخلو تمامًا مِن كُتُب الحديث حتى رياض الصَّالحين، وهو الكتابُ المتداول بَيْنَ الناسِ اليوم، ولا يكاد يخلو منهُ بيت، وكان هذا شأنَ طلبةِ العلم في جميعِ بلاد الشام إلا ما نَدَرَ.

وكان الأساتِذة يُحَذِّرونَ النبَغة والنابهين مِن تلامذتهم أن يَنْظُروا في كُتُبِ الخلاف التي تُسَمَّى اليومَ بالفقه المقارَن، وكانوا يُؤَصِّلُون في ذِهن الطالب فكرةَ التقليد إلى الأبدِ مهما كان هذا الطالب مستكملًا لأدواتِ النظر والبحث، بحيثُ يبقى عقلُه مُقْفَلًا يُشَاهِدُ الخطأَ، فلا يجرؤُ على بيانه، أو التنبيهِ إليه، أو مخالفته، مع أن الأئمة المتبوعين الذين هم على
- অ -

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌মুহাদ্দিস শুআইব আল-আরনাউতের ভূমিকা:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে জগতসমূহের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর। অতঃপর:

বিশ শতকের পঁয়তাল্লিশের দশকে এবং তার পরবর্তী সময়ে যখন আমি ইলম অন্বেষণ করছিলাম, তখন কোনো একটি হাদিসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য সেটি খুঁজে বের করা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আমাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হতো। কারণ তখনকার লাইব্রেরিগুলো সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে শূন্য ছিল। সেই সময়ের প্রচলিত বৈশিষ্ট্য ‘তাকলীদ’ বা অন্ধ অনুসরণ ছাত্র ও হাদিসের কিতাব পাঠ করার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে হাদিস থেকে উপকৃত হওয়া এবং হাদিসের বুঝ অর্জন করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ তৎকালীন সময়ে পাঠদানের দায়িত্বে নিয়োজিত উস্তাদগণ এমন সব পরবর্তীকালের ফিকহী কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করতেন যা দলিল-প্রমাণ বিহীন ছিল অথবা তাতে দলিল থাকলেও একজন শিক্ষার্থী জানত না যে তার মধ্যে কোনটি সহীহ, কোনটি যয়ীফ আর কোনটি জাল। তারা এসব তাদের শায়খদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন এবং তারা নিজেদের লালিত ও গড়ে ওঠা সেই তাকলীদের প্রভাবে ঐ কিতাবগুলোর মতামতের ওপর কঠোরভাবে অবিচল ছিলেন, যা তাদের মস্তিষ্কে গেঁথে গিয়েছিল। এটি আমার মধ্যেও স্থানান্তরিত হয়েছিল। তাই সে সময়ে আমার পাঠাগারে ফিকহ ও আরবির কিতাব এবং এ সংক্রান্ত কিতাব ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। এমনকি তা হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে সম্পূর্ণ খালি ছিল, এমনকি ‘রিয়াদুস সালেহীন’ থেকেও, যা বর্তমানে মানুষের মাঝে অত্যন্ত প্রচলিত এবং এমন কোনো ঘর পাওয়া দুষ্কর যেখানে এই কিতাবটি নেই। গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া পুরো শাম ভূখণ্ডের ইলম অন্বেষণকারীদের অবস্থা এমনই ছিল।

উস্তাদগণ তাদের মেধাবী ও সচেতন ছাত্রদের মতপার্থক্যমূলক কিতাবসমূহ দেখার ব্যাপারে সতর্ক করতেন, যেগুলোকে বর্তমানে ‘তুলনামূলক ফিকহ’ বলা হয়। ছাত্রের বিচার-বিশ্লেষণ ও গবেষণার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের মনে আজীবনের জন্য তাকলীদের ধারণা বদ্ধমূল করে দিতেন, যার ফলে তাদের বিবেক রুদ্ধ হয়ে থাকত। তারা ভুল দেখতে পেলেও তা বর্ণনা করার, সে সম্পর্কে সতর্ক করার বা তার বিরোধিতা করার সাহস পেত না, যদিও অনুসরণীয় ইমামগণ যারা...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২)
- ب -

 

هدىً من ربهم قد عدُّوا التقليد حلة انتقالية ينبغي أن يعيشَ فيها طالبُ العلمِ المتخصصُ الذي انتدب نفسه للتفقهِ في دينِ الله وخِدمة شريعته، ثم ينتقلَ منها إلى مرحلة الاتِّباعِ التي يكونُ فيها قد بلغ مرتبةً تؤهّله، بل توجِبُ عليه أن ينظرَ في أدِلَّةِ المسائل الخلافية، ويُوازنَ بينها، ويختارَ منها ما هو الصوابُ، ولا يجوزُ له أن يفتيَ في مسائلِ الخلاف إلا بما انتهى إليه أنه الصوابُ.

أما العامَّة فإنَّهم يقلِّدُونَ، لأنهم لا يتمتعون بما يُؤهِّلُهم للاجتهادِ، ولكن ينبغي عليهم أن يتخيَّروا التقيّ العالِم الذي يُوثق بعلمه وكفايته، فيسألونَه، ويَصْدُرُونَ عن رأيه، ويعملون بمقتضى ما يُفتيهم به.

هذا، ولم يكن أحدٌ من أهل العلم في تلكَ الفترةِ يُعْرَفُ بعلمِ الحديث روايةً ودِرَايةً لِيُرْجَعَ إليه، ويُؤخَذَ عنه، ويُستَفَادَ منه، وكنا نَجِدُ أحيانًا بعض الأحاديث في الكتب التي نقرؤُها، ولم نكن ندري أصحيحة هي أَمْ ضعيفة، وكنا نأخذها بطريقِ التسليم، وكان يتردَّدُ على ألسنة الخطباء والوُعّاظ أحاديثُ كثيرة يَغْلِبُ عليها الضعفُ والوضعُ، وكان مصدرُها - فيما تبيّن لنا بعدُ - الكتبَ التي لا تتحرّى الصحةَ، والتي يكثر فيها الضَّعيفُ والموضوعُ.

وأذْكُرُ على سبيلِ المثالِ هُنا ما وقع لي مِن ذلك، فقد حضرتُ خطبةَ الجمعةِ في أحدِ مساجدِ دمشق آنذاك، وكان الخطيبُ قد أَسْهَبَ في خطبته عن الجوعِ، وأن الإسلام يدعو إليه، ويُرغبُ فيه، ويحُثُّ عليه وأورد من الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي نقلها من كتب الوعظ، وكان مِن جملة ما أورده في خطبته الحديثَ الصحيح الذي أخرجه البخاري، واختصره وزاد فيه، فأفسد معناه، فقال: "إن الشيطانَ يجري مِن ابن آدم مجرى الدَّمِ" (فضيّقوا مجاريه بالجوع) فلما انتهى من الصلاة دنوتُ منه
- ব -

 

তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হিদায়েত; তারা তাকলীদকে (অন্ধ অনুসরণ) একটি অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থা হিসেবে গণ্য করতেন, যেখানে সেই বিশেষজ্ঞ ইলম অন্বেষণকারীর অবস্থান করা উচিত যে নিজেকে আল্লাহর দ্বীন বোঝা এবং তাঁর শরীয়তের খিদমতের জন্য নিয়োজিত করেছে। অতঃপর সেখান থেকে সে ইত্তিবা'র (দলিলভিত্তিক অনুসরণ) স্তরে উন্নীত হবে, যখন সে এমন এক মর্যাদায় পৌঁছাবে যা তাকে যোগ্য করবে, বরং তার জন্য আবশ্যিক করে দেবে যে, সে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর দলিলের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সেগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং সেখান থেকে যা সঠিক তা নির্বাচন করবে। তার জন্য মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে বিষয়ে যা সঠিক বলে তার নিকট সাব্যস্ত হয়।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বিধান হলো তারা তাকলীদ করবে, কারণ ইজতিহাদ করার মতো যোগ্যতা তাদের নেই। তবে তাদের উচিত এমন একজন মুত্তাকী আলেমকে নির্বাচন করা যার জ্ঞান ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখা যায়; অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, তার মত গ্রহণ করবে এবং তিনি যে ফতোয়া দেবেন সেই অনুযায়ী আমল করবে।

উল্লেখ্য যে, সেই সময়ে ইলমে হাদীসের রিওয়ায়াত (বর্ণনা) ও দিরায়াত (তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ) উভয় ক্ষেত্রে পারদর্শী এমন কোনো আলেম পরিচিত ছিলেন না, যার নিকট প্রত্যাবর্তন করা যায়, যার থেকে ইলম গ্রহণ করা যায় অথবা যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। আমরা যে সমস্ত কিতাব পাঠ করতাম, তাতে মাঝেমধ্যে কিছু হাদীস পেতাম কিন্তু সেগুলো সহীহ নাকি যয়ীফ (দুর্বল) তা জানতাম না; আমরা সেগুলো কেবল মেনে নেওয়ার ভিত্তিতেই গ্রহণ করতাম। খতীব ও ওয়ায়েজদের (বক্তাদের) মুখে এমন অনেক হাদীস প্রচলিত ছিল যেগুলোর অধিকাংশ ছিল যয়ীফ ও মাওযূ' (বানোয়াট)। পরবর্তীতে আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, এগুলোর উৎস ছিল এমন সব কিতাব যা বিশুদ্ধতা যাচাই করে না এবং যেগুলোতে যয়ীফ ও মাওযূ' বর্ণনার ছড়াছড়ি।

উদাহরণস্বরূপ আমার সাথে যা ঘটেছিল তা এখানে উল্লেখ করছি। সেই সময় আমি দামেস্কের একটি মসজিদে জুমার খুতবায় উপস্থিত ছিলাম। খতীব সাহেব তার খুতবায় ক্ষুধা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করছিলেন এবং বলছিলেন যে ইসলাম ক্ষুধার দিকে আহ্বান করে, এতে উৎসাহিত করে এবং এর প্রতি তাকিদ দেয়। তিনি ওয়াজের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করে কিছু যয়ীফ ও মাওযূ' হাদীস পেশ করেছিলেন। তিনি তার খুতবায় যে হাদীসগুলো উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে ইমাম বুখারী বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসও ছিল, যেটিকে তিনি সংক্ষেপিত করেছিলেন এবং তাতে কিছু অংশ বৃদ্ধি করেছিলেন, ফলে এর অর্থ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে" (অতএব ক্ষুধার মাধ্যমে তার পথকে সংকীর্ণ করো)। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমি তার নিকটবর্তী হলাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
- جـ -

 

وسلّمتُ عليه، وكلَّمتُه برفقٍ بأنَّ الإسلامَ لا يدعو إلى الجوع، ولا يُرَغِّبُ فيه، بل إن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قد استعاذ منه، وأوردتُ له الحديثَ الذي رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه وصححه ابن حبان (1029) من حديث أبي هريرة بسند قويٍ، قال: كانَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ: "اللَّهُمَّ إني أعوذُ بك مِن الجوع، فإنَّه بئسَ الضجيعُ"، وذكرتُ له أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يستعيذُ بالله مِن الكُفْرِ والفَقْرِ، وعذابِ القبر، كما في الحديث الصحيح الذي رواه أحمد (20381)، وصححه ابن حبان (1028)، وقلتُ له: إن الأحاديثَ التي أَوْرَدْتَها في خُطبتك لا تَصِحُّ، وبعضُها موضوعٌ، والحديثُ الصحيحُ الذي أوردتَه منها أَفْسَدْتَه بإضافة زيادة ليست منه، وأخرجتَه عن المعنى الذي وَرَدَ من أجله، فالحديثُ أخرجه البخاري (2035) و (2037)، ومسلم (2174) و (2175) دُون قوله: "فضيَّقوا مجاريه بالجوع"، وأوردتُ له الحديثَ بتمامه وهو أن صَفِيَّةَ زوجَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم أتتِ النبيَّ صلى الله عليه وسلم ليلًا تزورُهُ في مُعْتَكفِهِ، فلما قامَتْ تَنْصَرِفُ، قام مَعَها يَقْلِبُها (أي: يَرْجِعُها ذاهبًا معها) فمرَّ عليه رجلانِ مِنَ الأنصارِ، فَسَلَّما على رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، فقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: "على رِسْلِكُمَا، إنما هي صَفِيَّةُ بنتُ حُيَيّ"، فقالا: سُبْحانَ اللهِ يا رسولَ الله، قال: "إنَّ الشيطانَ يَجْرِي مِن الإِنْسانِ مَجْرى الدَّمِ، وإني خشيتُ أن يُلقيَ في أَنْفُسِكُما شيئًا"، فقال لي: أنا نقلتُه مِن كتاب "إحياءِ علوم الدين" للغزالي هكذا، فقلتُ له: لا عُذْرَ لك في ذلك، فإنَّ أهلَ العلم يجزِمون أن الإمامَ الغزالي بضَاعَتُهُ في الحَدِيثِ مُزْجاةٌ كما صَرَّح هو بذلك، والحافِظُ العراقي الذي تولى تخريجَ أحاديثِ الإحياء قد قال: متفق عليه دون قوله: "فضيَّقوا مجاريه بالجوع"، فكان جوابه: هَل الحافظُ العراقي أعلمُ مِن الغزالي؟! ثم ازورَّ عني، ومضى لسبيله.

وبقيت هذه الظاهرة زمنًا ليس بالقصير، وفي أثناءِ دِراستي على الشيوخ كنتُ دائمًا أفكّر في المسائل الخلافية القائمةِ بَيْنَ الحنفية والشافعية فأدرسها
- জ -

 

আমি তাকে সালাম দিলাম এবং নম্রভাবে কথা বললাম যে, ইসলাম ক্ষুধার দিকে আহ্বান করে না এবং এর প্রতি উৎসাহিতও করে না। বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আমি তাকে আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত এবং ইবনে হিব্বান (১০২৯) কর্তৃক সহীহ সাব্যস্ত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি শক্তিশালী সনদের হাদীস উল্লেখ করলাম, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি ক্ষুধার হাত থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, কারণ এটি অতি নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী।" আমি তাকে আরও উল্লেখ করলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুফর, দারিদ্র্য এবং কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ (২০৩৮১) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান (১০২৮) সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। আমি তাকে বললাম: আপনি আপনার খুতবায় যে হাদীসগুলো উল্লেখ করেছেন তা সহীহ নয় এবং তার কিছু অংশ বানোয়াট। আর এর মধ্য থেকে আপনি যে সহীহ হাদীসটি এনেছেন, তাতে এমন অতিরিক্ত অংশ যোগ করে আপনি তা বিকৃত করে ফেলেছেন যা হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং একে এমন অর্থে নিয়ে গেছেন যে উদ্দেশ্যে এটি বর্ণিত হয়নি। হাদীসটি ইমাম বুখারী (২০৩৫ ও ২০৩৭) এবং ইমাম মুসলিম (২১৭৪ ও ২১৭৫) বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে "সুতরাং তোমরা ক্ষুধার মাধ্যমে তার পথগুলো সংকীর্ণ করো" কথাটুকু নেই। আমি তাকে পূর্ণ হাদীসটি শুনালাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইতিকাফ অবস্থায় রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন। এরপর তিনি যখন ফিরে যাওয়ার জন্য উঠলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য (অর্থাৎ তার সাথে ফিরে যাওয়ার জন্য) উঠলেন। তখন আনসারদের দুজন লোক তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা স্থির হও, এটি তো সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই।" তাঁরা বললেন: "সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে, আর আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে সে তোমাদের মনে কোনো কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে দেয় কি না।" তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি এটি ইমাম গাযালীর "ইহয়াউ উলূমিদ্দীন" কিতাব থেকে এভাবেই নকল করেছি। আমি তাকে বললাম: এ বিষয়ে আপনার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ আলেমগণ এ বিষয়ে সুনিশ্চিত যে, হাদীস শাস্ত্রে ইমাম গাযালীর পুঁজি ছিল যৎসামান্য, যেমনটি তিনি নিজেও স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। আর হাফেয ইরাকী, যিনি ইহয়া-এর হাদীসসমূহের উৎস অনুসন্ধান করেছেন, তিনি বলেছেন: এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম সম্মত), তবে "সুতরাং তোমরা ক্ষুধার মাধ্যমে তার পথগুলো সংকীর্ণ করো" কথাটুকু ছাড়া। তখন তার জবাব ছিল: হাফেয ইরাকী কি ইমাম গাযালীর চেয়েও বেশি জ্ঞানী?! এরপর তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং নিজের পথে চলে গেলেন।

এই অবস্থা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় ছিল। শাইখদের নিকট আমার পড়াশোনা চলাকালে আমি সর্বদা হানাফী ও শাফেঈ মাযহাবের মধ্যকার বিদ্যমান মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতাম এবং সেগুলো অধ্যয়ন করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
- د -

 

وأتتبعها من مَظانّها، وأحاول ما استطعت أن أظفرَ بالدليل الأقوى لأنتهي إليه وآخذ به، وأشجع مَن حَوْلِي مِن الطلبة أن يفعلوا مِثلي.

وقد كان يدفعني ذلك إلى البحثِ عن كُتُبِ الحديثِ للاطلاعِ عليها، والاحتجاج بما صح من الحديث فيها والتفقه فيها، وبدأ هذا التوجه يزدادُ يومًا بَعْدَ يومٍ حَتَّى أصبحتُ أُعرَفُ بَيْنَ الطلبة بذلك، وكانوا لِعَراقتهم في التقليد يتقدمون بالشكوى إلى أُستاذي ويقولون له: إنه يُخالِفُ المَذْهَبَ في عدَّةِ مسائل، وكان اللومُ والعتْب مِن أستاذي يُوجَّهُ إليَّ بأسلوبٍ قاسٍ وتهكُّمٍ بالغٍ، وتحذيرٍ شديد، وإخواني الطلبة، كانوا يتَّهِمُونني بالتَّهورِ، والخروج عن جادة الصواب، وكم عانَيتُ من ذلك، ولحقني من الأذى ما اللهُ بهِ عليم، ولكنني - وللهِ الحمد - لم أُبالِ بِكُلِّ ذلك، ليقيني بأنَّ المنهجَ الذي انتهيتُ إليه هو المنهجُ الذي كان عليه السَّلفُ الصالحُ مِنْ هذه الأُمَّةِ - ومنهم الأئمةُ الأربعةُ - المشهودِ لها بالخيريَّة على لِسانِ خيرِ البرية.

وقد كنتُ في هذهِ الفترة لا أستطيع أن أتبيّن صحيحَ الحديثِ مِن ضعيفه بنفسي، وإنما كُنْتُ أرْجِعُ إلى الحفاظِ الأثباتِ مِن أهلِ العِلْمِ المتخصّصين في الحديث، فأنقلُ عنهم، وأعْتَمِدُ عليهم، بالرغم مِنْ أنني درستُ كُتُبَ المصطلح على الشيوخ، ووعَيتُ ما فيها، إلا أنني لم أتأهَّلْ بعدُ إلى الاستفادةِ منه، ولكن الله سبحانه إذا أراد شيئًا هيأ أسبابَه، فقد أتاح لي أن أنْتَقِلَ مِن هذا العلم النظري إلى العلم التطبيقي، وبدأت أُمارِسُ ذلك، وكان مِن فضل الله وتوفيقه أنني قُمْتُ بخدمةِ كُتُبِ السُّنة النبوية تحقيقًا وضبطًا، وتخريجًا وشرحًا، وأبَنْتُ عن درجةِ كُلِّ حديث من الأحاديث التي فيها مِن حيثُ الصحةُ أو الضعفُ في مدى أربعينَ سنة وإلى ما شاء الله، وقد وفِّقتُ في ذلك أيَّما توفيقٍ، وأعدلُ شاهد على ذلك هو المجلداتُ الضخمة التي تزيد على المئةِ والخمسينَ مجلدًا في هذا العلم، وهي متداولةٌ بين طلبة العلم والأساتذة، ينتفعون بها ويعتمدون
- দ -

 

আমি সেগুলো সেগুলোর উৎসস্থল থেকে অনুসন্ধান করি এবং আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করি যেন সবচেয়ে শক্তিশালী দলিলটি অর্জন করতে পারি, যাতে আমি সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি এবং তা গ্রহণ করতে পারি; আর আমার আশেপাশে থাকা ছাত্রদেরও আমার মতো করতে উৎসাহিত করি।

আর এটিই আমাকে হাদিসের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করত যেন আমি সেগুলো দেখতে পারি এবং সেখানে থাকা সহিহ হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করতে পারি ও সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভ করতে পারি। এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি ছাত্রদের মাঝে আমি এ জন্য পরিচিত হয়ে উঠি। তারা তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের প্রতি তাদের বদ্ধমূল অভ্যাসের কারণে আমার উস্তাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে যেত এবং তাঁকে বলত: সে বেশ কিছু মাসআলায় মাযহাবের বিরোধিতা করছে। ফলে আমার উস্তাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায়, চরম উপহাস ও কঠোর সতর্কবার্তার মাধ্যমে আমার ওপর নিন্দা ও তিরস্কার বর্ষিত হতো। আর আমার সহপাঠী ছাত্ররা আমার বিরুদ্ধে হঠকারিতা এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ আনত। আমি এ কারণে কত যে কষ্ট সহ্য করেছি এবং আমাকে কত যে যাতনা পোহাতে হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—আমি এসবে কোনো ভ্রুক্ষেপ করিনি; কারণ আমার এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি যে মানহাজ বা কর্মপন্থা গ্রহণ করেছি, তা-ই হলো এই উম্মতের সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের পথ—যাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন চার ইমাম—যাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার পবিত্র জবানিতে প্রমাণিত হয়েছে।

আমি এই সময়ে হাদিসের সহিহ ও যয়িফের মধ্যে পার্থক্য নিজে নিজে নিরূপণ করতে সক্ষম ছিলাম না; বরং আমি হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য হাফেজগণের শরণাপন্ন হতাম, তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করতাম এবং তাঁদের ওপরই নির্ভর করতাম। যদিও আমি শায়খদের কাছে হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষা বা উসুলুল হাদিসের কিতাবসমূহ পড়েছিলাম এবং তাতে যা আছে তা হৃদয়ঙ্গম করেছিলাম, তবুও আমি তখনও তা প্রয়োগ করার মতো যোগ্যতা অর্জন করিনি। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার উপায়-উপকরণ সহজ করে দেন। তিনি আমাকে এই তাত্ত্বিক জ্ঞান থেকে ফলিত বা প্রায়োগিক জ্ঞানে পদার্পণ করার সুযোগ করে দিলেন এবং আমি তা চর্চা করতে শুরু করলাম। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তৌফিক ছিল যে, আমি তাহকিক (সম্পাদনা), দাবত (নির্ভুল বিন্যাস), তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) ও শারহ (ব্যাখ্যা)-এর মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর কিতাবসমূহের খিদমত আঞ্জাম দিয়েছি। আমি গত চল্লিশ বছর ধরে এবং আল্লাহ যতদিন চেয়েছেন ততদিন পর্যন্ত কিতাবসমূহে বিদ্যমান প্রতিটি হাদিসের মান—সহিহ বা যয়িফ হওয়ার দিক থেকে—স্পষ্ট করেছি। এ কাজে আমি অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছি এবং এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো এই ইলম বা শাস্ত্রের ওপর রচিত বিশাল বিশাল খণ্ডসমূহ যা সংখ্যায় দেড়শ খণ্ডেরও বেশি। এগুলো ইলম অন্বেষী ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে, তাঁরা এ থেকে উপকৃত হচ্ছেন এবং এর ওপর নির্ভর করছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
- هـ -

 

عليها وينوِّهون بشأنِ الذي تولى خدمَتها وتحقيقَها، وقد تخرّج بي في هذه الفترة بهذا الفن غيرُ واحد من طلاب العلم النُّبَهاء، الذين تتلمذوا عليّ عشرات السنين، وأصبح لهم شأن يُذْكَر في هذا الفنّ، ودَرَجُوا فيه، وصَدَرَتْ لهم تحقيقاتٌ مُميزة.

وقد كنتُ اطلعتُ في هذه الحِقبة على كتابِ "مستدركات عائشة على الصحابة" هذا، وقد جَمَع فيه مؤلفُه الإمامُ بدرُ الدين الزركشيُّ أحاديثَ السيدة عائشةَ رضي الله عنها التي انتَقدتْ فيها غيرَ واحد من الصحابة بعضَ مروياتهم التي أخطؤوا فيها - في نظرها - وقد فرحتُ بهذا الكتاب فرحًا شديدًا، لأنَّه يُصادِفُ هوىً في نفسي، ورغبةً أكيدةً في معرفة النقد النصّي الذي لم يُعْنَ به إلا القِلَّةُ القليلة مِن الحفاظ، لكن هالَني ما رأيتُ في لهذه الطبعة من كثرة التحريفاتِ والأخطاءِ التي وَقَعَتْ لِمحققه الأستاذُ سعيد الأفغاني رحمه الله، ولم أكن أتوقعُ صدورَ مثلِ ذلك منه، لِما أَعْلَمُهُ فِيهِ مِن تَمَكُّنٍ بالعربيةِ، وخِبرة بأساليبها، فأخذتُ أُدَوِّنُ على هوامش نسختي الأخطاءَ التي وقعتْ له فيه، وكانت تزيدُ يومًا بعدَ يوم، ثم رجعتُ إلى النسخةِ التي طُبعَ عنها الكتابُ، وهي مِن مخطوطات المكتبةِ الظاهريةِ بدمشق - حَرَسَها اللهُ - فقابلتُ المطبوعَ بالأصل الخطِّي، فكانت الأخطاء التي استدركتُها عليه تأتي على الصَّواب في الأصل الخطّي الذي اعتمده، واتجهتْ نيتي إذ ذاك أن أقومَ بإعادة تحقيقهِ ونشره، ولكنْ حالَ دون ذلك ما أعاقني عن متابعة عملي فيه.

ومذ سنةٍ مِن تاريخ هذه الكتابة علمتُ أن أستاذًا في جامعة أنقرة في كلية الإلهيات في قسم الحديثِ وهو الدكتورُ محمد بنيامين أرول قد ظَفِرَ بنسخةٍ خطيةٍ أخرى للكتاب في إستنبول، وكان قد نَشَر الكِتابَ باللغة التركية، فشجعتُه عَنْ طريقِ المراسلَةِ على تحقيقهِ ونشرِه بالعربية،
- হ -

 

এর ওপর এবং তারা সেই ব্যক্তির গুরুত্ব বর্ণনা করেন যিনি এর সেবা ও সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে আমার কাছে এই বিদ্যায় একাধিক মেধাবী জ্ঞানান্বেষী ছাত্র শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যারা কয়েক দশক ধরে আমার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। এই বিদ্যায় তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি হয়েছে, তারা এতে পারদর্শী হয়েছেন এবং তাদের বিশিষ্ট কিছু সম্পাদিত কর্ম প্রকাশিত হয়েছে।

এই সময়কালে আমি 'মুস্তাদরাকাতু আয়েশা আলাস সাহাবা' নামক এই গ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাই। এর গ্রন্থকার ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশি এতে সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সেই হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন, যেগুলোতে তিনি একাধিক সাহাবীর এমন কিছু বর্ণনার সমালোচনা করেছেন যা তাঁর দৃষ্টিতে ভুল ছিল। এই গ্রন্থটি দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম, কারণ এটি আমার মনের আগ্রহ এবং পাঠ্য-সমালোচনা সংক্রান্ত প্রগাঢ় আকাঙ্ক্ষার সাথে মিলে গিয়েছিল, যে বিষয়ে খুব অল্প সংখ্যক হাফেজ (হাদিস বিশারদ) গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু এই সংস্করণে সম্পাদক উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কর্তৃক সংঘটিত প্রচুর বিকৃতি ও ভুল দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। তাঁর থেকে এমনটি আমি প্রত্যাশা করিনি, কারণ আরবি ভাষার ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং এর শৈলী সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা আমার জানা ছিল। তাই আমি আমার কপির মার্জিনে তাঁর কৃত ভুলগুলো টুকে রাখতে শুরু করি এবং দিন দিন তা বাড়তে থাকে। এরপর আমি সেই পাণ্ডুলিপির দিকে ফিরে যাই যা থেকে বইটি মুদ্রিত হয়েছিল—এটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত (আল্লাহ একে রক্ষা করুন)। আমি মুদ্রিত কপিটির সাথে মূল পাণ্ডুলিপির তুলনা করলাম এবং দেখলাম যে ভুলগুলো আমি চিহ্নিত করেছিলাম, সেগুলো তাঁর ব্যবহৃত মূল পাণ্ডুলিপিতে সঠিকভাবে বিদ্যমান ছিল। তখন আমার ইচ্ছা হয়েছিল এটি পুনরায় সম্পাদনা ও প্রকাশ করার, কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আমাকে সেই কাজ চালিয়ে নিতে বাধা প্রদান করে।

এই লেখাটি লিখবার এক বছর আগে আমি জানতে পারি যে, আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের হাদিস বিভাগের একজন অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ বানিয়ামিন এরুল ইস্তাম্বুলে এই কিতাবটির আরেকটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছেন। তিনি তুর্কি ভাষায় বইটি প্রকাশ করেছিলেন, তাই আমি পত্রলাপের মাধ্যমে তাঁকে এটি আরবিতে সম্পাদনা ও প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করি,
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
- و -

 

وأخبرته بما عندي مِن ملاحظات وتحقيقات على هذا الكتاب، وأبديتُ له أننى مستعدٌّ أن أُزَوِّدَه بها، فرغب في ذلك ورَحَلَ مِن أنقرة إلى عمان، فقمتُ أنا وإيَّاه بمقابلة المطبوعِ بالأصلين الخطيين، وتصحيحه من التحريفات والأخطاءِ، وقد تَمَّ ذلك في غضون خمسة أيام متوالية، وقد أشرتُ عليه أن يُعَلِّقَ على المواطن التي تحتاج إلى تعليق، ويستعينَ بنسختي التي علّقْتُ عليها، وأن يكتُبَ مقدمة تشمَل دراسةَ الكتاب ووصفَ الأصلين الخطيين، وعملَه في الكتاب، وانصرف إلى بلده مصطحبًا نسختي التي فيها تعليقاتي وتصحيحاتي وتعقُّباتي مع الأصل المصوّر من الظاهرية، على أن يُرْسلَ إلي الكتاب مبيّضًا كما اتّفقنا عليه بَعْدَ سِتَّةِ أشهُرٍ، وقد وَفَّى بذلِكَ، فأرسله في المدة المُحَدَّدَةِ، فعاودتُ قراءته مع التعليقات والمقدمة مُجدَّدًا، وضبطتُ نصوصه، وعدّلتُ بعض التعديلات في التعليقات، ثم دفعتُه إلى المطبعة، وحضر الدكتور في منتصف الشهر الثامن من هذا العام وقَرَأَهُ هو أيضًا بعد التنضيدِ، وصحح تجارب الطبع، فخرج الكِتابُ كما ترى.

وإنني إذ أقولُ ذلك، لأشهدُ شهادةَ حقٍ بأن صاحبي الدكتورَ محمد بنيامين أرول قد وُفِّقَ غايةَ التوفيق في إصدارِ هذا الكتاب محققًا على الوجهِ الذي سينال - إن شاء الله - إعجابَ المختصين في هذا الفن وطلبةِ العلم، وأشهدُ أنه قد أحيا سنة الأقدمين في تجشُّم الأسفار، والرحلة في طلب العلم، والمذاكرة والانتفاع بآراء أهل العلم الذين بَعُدُوا عنه، وهم متفرقون في العالم الإسلامي، وهذا شأنُ طالبِ العلم المُجِدّ المُخلِصِ الحريصِ على نيلِ العلم مِن أصوله، وأخذه عن أهله، وإن بَعُدَتْ عليه الشُّقَّة.

وأسأل الله سبحانه أن يُسبِغَ عليه نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وباطِنَةً وأن يُوفِّقه لِخدمة الحديثِ النبويِّ الشريف، الذي هو المصدرُ الثاني بَعْدَ القرآن،
- ও -

 

এবং আমি তাঁকে এই বইটির ওপর আমার নিকট থাকা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করলাম এবং আমি তাঁকে তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলে জানালাম। তিনি এতে আগ্রহী হলেন এবং আঙ্কারা থেকে আম্মানে আসলেন। এরপর আমি এবং তিনি মিলে মুদ্রিত কপির সাথে পাণ্ডুলিপি দুটির মূল পাঠের তুলনা করলাম এবং একে বিকৃতি ও ভুলত্রুটি থেকে সংশোধন করলাম। এটি টানা পাঁচ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হলো। আমি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলাম যাতে তিনি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে টীকা প্রদান করেন এবং আমার টীকাযুক্ত কপিটির সাহায্য নেন। এছাড়া আমি তাঁকে বইটির ওপর একটি গবেষণা, পাণ্ডুলিপি দুটির বর্ণনা এবং বইটির ওপর তাঁর কাজের বিবরণ সম্বলিত একটি ভূমিকা লেখার পরামর্শ দিলাম। এরপর তিনি আমার টীকা, সংশোধন ও পর্যবেক্ষণ সম্বলিত কপিটি এবং জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র সাথে নিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেলেন; এই চুক্তিতে যে, তিনি ছয় মাস পর পরিমার্জিত চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপিটি আমার কাছে পাঠাবেন। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা পাঠিয়েছেন। এরপর আমি পুনরায় টীকা ও ভূমিকা সহ তা পাঠ করলাম, এর মূল পাঠসমূহ সুবিন্যস্ত করলাম এবং টীকাগুলোতে কিছু পরিমার্জন করলাম। অতঃপর আমি এটি ছাপাখানায় পাঠালাম। চলতি বছরের অষ্টম মাসের মাঝামাঝিতে ডক্টর উপস্থিত হলেন এবং কম্পিউটার কম্পোজের পর তিনিও এটি পাঠ করলেন এবং প্রুফ সংশোধন করলেন। ফলে বইটি এখন আপনার সম্মুখে এভাবেই প্রকাশিত হলো।

আমি যখন এ কথাগুলো বলছি, তখন এ সত্য সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার সঙ্গী ডক্টর মুহাম্মদ বিনিয়ামিন এরুল এই কিতাবটি এমনভাবে সম্পাদনা করে প্রকাশে চূড়ান্ত সফল হয়েছেন, যা ইনশাআল্লাহ এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানান্বেষীদের প্রশংসা অর্জন করবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ভ্রমণের কষ্ট সহ্য করা, ইলম অর্জনে দেশ ভ্রমণ, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দূরবর্তী আলেমদের মতামত থেকে উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে পূর্বসূরিদের সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আর এটিই হলো একজন কঠোর পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান এবং উৎস থেকে ইলম হাসিল করতে ও এর যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করতে আগ্রহী জ্ঞানান্বেষীর বৈশিষ্ট্য, যদিও পথ অনেক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ হয়।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ তাঁর ওপর পূর্ণ করে দেন এবং তাঁকে পবিত্র নববী হাদিসের খেদমত করার তাওফিক দান করেন, যা কুরআনের পর দ্বীনের দ্বিতীয় উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
- ز -

 

يفصِّلُ مُجْمَلَهُ، ويُقَيِّدُ مُطْلَقَهُ ويُخصِّصُ عامَّه، ويَنْفَرِدُ بأحكامٍ مُستنبَطة من المعاني الكلِّية التي فيه، يُحقِّقُ نُصوصَها، ويُجلِّي كُنُوزَهَا، وَيُيَسِّرُ الانتفاعَ بها، ويَنْفِي عنها تَحْرِيفَ الغَالِيْنَ، وانتحالَ المُبْطِلِينَ، وتأويلَ الجاهِليْنَ.

وبعد، فإن ما انتهتْ إليه السيدةُ عائشةُ مِن استدراكاتها على مرويات بعضِ الصحابة، وتخطئتهم فيما قالوه، معتمدةً على المنهجِ الذي فَصَّلَ فيه القولَ صاحبُنا الدكتورُ محمد بنيامين في مقدمته لا يُعَدُّ القَوْلَ النِّهائيَّ في نقدِ المرويات من جهة النص، بل هو النموذجُ الأمثل الذي يَصْلُح أن يُحتذَى، ويُعتمد عليه في نقدِ المتن يُتيحُ للنبغةِ مِن أهلِ الاختصاصِ الذين عَمَرَتْ قلوبُهم بالتقوى، وإخلاصِ النية، والتجرُّدِ مِن الهوى والعصبية على مَدَى العُصُورِ، وإن كانوا قِلَّة، أن يستدرِكُوا عددًا مِن الأحاديث كما صَنَعَتْ عائشة رضي الله عنها ينتقدونَها ويَحْكُمُون عليها بمقتضى المقاييس المعتبرة، فيجزِمون بنفي صُدُورها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكم أبقى المتقدمُ للمتأخرِ، والسابقُ لللاحقِ، والسلفُ للخَلَفِ.

ولا ينبغي للمحدِّث المتخصِّصِ أن يكتفيَ بظاهرِ سلامةِ الإسنادِ دُونَ أن يُمْعِنَ النظر في متن الحديث، أو يغفلَه كُلَّ الإغفال، فقد صرَّحَ أَهْلُ العِلْم بأنه ليس كُلُّ حديثٍ صَحَّ سندُه، صحَّ متنه، فإذا حكم المحدِّثُ على إسنادِ حديثٍ قد استوفى شُروطَ الصِّحة، فلا يعني أن مَتْنَهُ صحيحٌ، بل قد يكونُ صحيحًا، وقد يكُونُ غيرَ صحيح، فإِنَّ الراويَ الثقةَ غَيْرَ المعصومِ مهما بَلَغَ مِن الحفظِ والإتقانِ والضبط، لا يَبْعُد وقوعُه في الخطأِ والوَهْمِ، فيرفعَ الموقوفَ، أو يصِلَ المقطوع، أو يقعَ له الوهمُ والنَّسيان مما يجعل بعض حديثه مناقضًا للأصولِ القطعيةِ المعتدِّ بها عندَ الأئمة، فيُحْكَمُ عليه بالبُطلانِ، ومن هذه الأحاديثِ المنتقَدةِ التي وصِفَت أسانيدُها بالصِّحَّةِ وحَكَمَ عليها الأئمةُ بالبُطلانِ:
- জ -

 

(এটি) তার সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিশদ করে, এর নিঃশর্ত বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করে এবং এর সাধারণ বিষয়গুলোকে বিশেষায়িত করে। এটি তার মধ্যকার সামগ্রিক অর্থসমূহ হতে উদ্ভাবিত বিধানাবলির ক্ষেত্রে অনন্য। এটি এর ভাষ্যসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করে, এর জ্ঞানভাণ্ডারকে উন্মোচিত করে এবং এর থেকে উপকার গ্রহণ করাকে সহজসাধ্য করে। এটি তার থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যাকে দূর করে।

অতঃপর, সায়্যিদাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কিছু সাহাবীর বর্ণনার ওপর যে সকল সংশোধনমূলক টীকা প্রদান করেছেন এবং তাদের বর্ণনায় যে ভুল ধরেছেন—যে ক্ষেত্রে তিনি এমন একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন যা আমাদের বন্ধু ড. মুহাম্মদ বিনিয়ামীন তাঁর ভূমিকায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন—তা মতন বা পাঠ্য সমালোচনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য নয়। বরং এটি একটি সর্বোত্তম আদর্শ যা অনুসরণ করার যোগ্য এবং মতনের সমালোচনার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা যায়। এটি যুগে যুগে সেই সমস্ত বিশেষজ্ঞ প্রতিভাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয় যাদের অন্তর তাকওয়া, নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হওয়ার গুণে সমৃদ্ধ হয়েছে—যদিও তারা সংখ্যায় অল্প—যাতে তারা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর ন্যায় বেশ কিছু হাদিস পর্যালোচনা করতে পারেন, সেগুলোর সমালোচনা করতে পারেন এবং সুনিশ্চিত মানদণ্ডের আলোকে সেগুলোর বিষয়ে হুকুম দিতে পারেন। এর ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিতভাবে নাকচ করতে পারেন। কারণ পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য, অগ্রবর্তীরা অনুবর্তীদের জন্য এবং সালাফগণ খালাফদের জন্য অনেক কিছুই অবশিষ্ট রেখে গেছেন।

একজন বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, তিনি হাদিসের মতনের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত না করে কেবল সনদের আপাত বিশুদ্ধতার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন, অথবা মতনকে সম্পূর্ণ অবহেলা করবেন। কেননা বিজ্ঞ আলিমগণ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, প্রতিটি হাদিস যার সনদ সহীহ, তার মতন সহীহ হওয়া আবশ্যক নয়। সুতরাং মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদিসের সনদের ওপর—তা সহীহ হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করার কারণে—সহীহ হওয়ার হুকুম প্রদান করেন, তখন তার অর্থ এই নয় যে তার মতনটিও সহীহ। বরং তা সহীহ হতেও পারে, আবার সহীহ নাও হতে পারে। কেননা একজন বিশ্বস্ত (সিকাহ) বর্ণনাকারী তো আর নিষ্পাপ (মাসুম) নন; তিনি মুখস্থশক্তি, পাণ্ডিত্য ও নির্ভুলতার যত উচ্চস্তরেই পৌঁছান না কেন, তার পক্ষ থেকে ভুল বা বিভ্রম ঘটা অসম্ভব নয়। যার ফলে তিনি ‘মাওকুফ’ হাদিসকে ‘মারফু’ করতে পারেন, অথবা ‘মাকতু’ হাদিসকে যুক্ত করে দিতে পারেন। কিংবা তার মধ্যে এমন কোনো বিভ্রম বা বিস্মৃতি ঘটতে পারে যা তার বর্ণিত হাদিসকে ইমামগণের নিকট গ্রহণযোগ্য অকাট্য মূলনীতিসমূহের সরাসরি বিরোধী করে তোলে, ফলে সেই হাদিসটি বাতিল বলে গণ্য হয়। এমনি কিছু সমালোচিত হাদিস—যাদের সনদসমূহকে সহীহ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কিন্তু ইমামগণ সেগুলোকে বাতিল বলে হুকুম দিয়েছেন—নিম্নে দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
-ح -

 

حديثُ أبي هريرة في صحيح مسلم (2789) قال: أَخَذَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بيدي، فقال: "خلق الله عز وجل التُّربَةَ يومَ السبت. ." الحديث. وحديثُ سلمةَ بن يزيد الجُعفي عند أحمد (15923)، والنسائي في "الكبرى" (11585) "الوائدة والموؤودة في النار".

وحديثُ أبي سفيانَ في "صحيح مسلم" (2501) أنه قال للنبيِّ صلى الله عليه وسلم: ثلاثٌ أعطنيهن ..

وحديثُ الإسراء مِن رواية شَريك بن عبد الله بن أبي نَمِر عن أنس عند البخاري برقم (7517).

وقد قال العلامة ابن القيم رحمه الله في هذا: وقد عُلِمَ أن صحةَ الإِسنادِ شَرْطٌ مِن شروطِ صحةِ الحديث، وليست موجبةً لِصحة الحديث، فإن الحديثَ إنما يَصِحُّ بمجموع أمورٍ، منها: صحةُ سنده، وانتفاءُ علته، وعدمُ شذوذه ونكارته.

وإنّ تحقُّقَ الانتفاعِ بكتاب المستدركات والتأهلَ لتسوُّرِ مرتبة النقدِ التي انتهت إليها السيدة عائشة رضي الله عنها إنما هو خاصٌّ بطالبِ العلمِ التقيِّ المتمرِّسِ الذي تضلَّع في معرفة السننِ الصحيحةِ، واختلطت بلحمه ودمه، وصار له فيها مَلَكَةٌ، وصار له اختصاصٌ شديد بمعرفةِ السننِ والآثارِ، ومعرفةِ سيرةِ رسول الله صلى الله عليه وسلم وهَدْيهِ فيما يأمُرُ به، وينهى عنه ويُخبر عنه، ويدعو إليه، ويُحبه ويكرهه، ويَشْرعُهُ للأمة بحيث كأنه مخالِطٌ لِلرسول صلى الله عليه وسلم كواحد من أصحابه.

فمثلُ هذا يَعْرِفُ مِن أحوال الرسولِ صلى الله عليه وسلم وهَدْيهِ وكلامِه وما يجوز أن يُخْبِرَ به وما لا يَجُوزُ، ما لا يعرفه غيرُه، فهذا شأنُ كُلِّ مُتَّبعٍ مع متبوعه، فإن للأخصِّ به الحريصِ على تتبعِ أقوالهِ وأفعاله مِن العِلْمِ
-হ -

 

সহীহ মুসলিমে (২৭৮৯) বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: "মহান আল্লাহ শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেছেন..." হাদীসটি। এবং আহমাদ (১৫৯২৩) ও নাসায়ীর 'আল-কুবরা'-তে (১১৫৮৫) বর্ণিত সালামাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-জু'ফী-এর হাদীস: "সন্তান জীবন্ত প্রোথিতকারী নারী এবং যাকে জীবন্ত প্রোথিত করা হয়েছে—উভয়েই জাহান্নামে।"

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ (২৫০১) বর্ণিত আবু সুফিয়ান (রা.)-এর হাদীস, যেখানে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: তিনটি বিষয় আপনি আমাকে দান করুন...

এবং বুখারীতে (৭৫১৭) বর্ণিত আনাস (রা.) থেকে শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী নামিরের বর্ণনায় ইসরা-সংক্রান্ত হাদীসটি।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি সুবিদিত যে, সনদের বিশুদ্ধতা হাদীস বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত, তবে তা অনিবার্যভাবে হাদীসটি বিশুদ্ধ হওয়ার প্রমাণ নয়। কেননা হাদীস কেবল কতগুলো বিষয়ের সমষ্টির মাধ্যমেই বিশুদ্ধ হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সনদের বিশুদ্ধতা, সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত) মুক্ত হওয়া এবং হাদীসটি শায (বিচ্ছিন্ন) ও মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) না হওয়া।"

নিশ্চয়ই 'মুস্তাদরাকাত' (সংশোধনমূলক) গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া এবং সমালোচনার সেই সুউচ্চ স্তরে আরোহণের যোগ্যতা অর্জন করা—যে পর্যায়ে সায়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) পৌঁছেছিলেন—তা কেবল সেই পরহেযগার ও অভিজ্ঞ ইলম অন্বেষীর জন্যই বিশেষায়িত, যিনি সহীহ সুন্নাহর জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেছেন এবং তা যার রক্ত-মাংসের সাথে মিশে গেছে। সুন্নাহর ক্ষেত্রে যার গভীর সহজাত দক্ষতা তৈরি হয়েছে এবং যিনি সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বর্ণনা), রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত এবং তাঁর আদর্শ সম্পর্কে প্রগাঢ় জ্ঞান অর্জন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন, যা সংবাদ দিয়েছেন, যার দিকে আহ্বান করেছেন, যা তিনি পছন্দ বা অপছন্দ করেছেন এবং উম্মতের জন্য যা শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন—সে সম্পর্কে তিনি এমন প্রাজ্ঞতা লাভ করেছেন যে, মনে হয় তিনি যেন সাহাবীদের মতোই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মেলামেশা করেছেন।

এই স্তরের ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থা, তাঁর আদর্শ, তাঁর বক্তব্য এবং তিনি কী সংবাদ দিতে পারেন আর কী পারেন না—সে সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখেন যা অন্য কেউ জানে না। আর এটিই হলো প্রত্যেক অনুসারীর অবস্থা তার অনুসৃত ব্যক্তির সাথে; কেননা সেই ব্যক্তির কথা ও কাজের অনুসরণে যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী এবং ঘনিষ্ঠ, তার জ্ঞান সেই বিষয়ে অত্যন্ত বিশেষ পর্যায়ের হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
- ط -

 

بها، والتمييزِ بين ما يَصِحُّ أن يُنْسَبَ إليه وما لا يَصِحُّ، ما ليسَ لمن لا يكونُ كذلك(1).

ونسأل الله المبتدئَ لَنا بنعَمِه قبلَ استحقاقِها، المديمَها علينا، مع تقصيرِنا في الإتيانِ على ما أوجبَ به من شكره بها، الجاعلَنا في خير أمة أُخرجت للناس، أن يَرْزُقَنا فَهْمًا في كتابه، ثم سنةِ نبيه، وقولًا وعملًا يؤدِّي بها عنا حقّه، ويوجب لنا نافلةَ مَزيدِهِ.

ونسأل المولى سبحانه أن يسدّد خُطانا، ويُنجح مَسعانا، وينوّلنا رضاه، إنه خير مسؤول، وأفضل مجيب.

 

عمان

21/ 7/ 1423 هـ

28/ 9/ 2002 م

شعَيّب الأرنؤوْط

--------------------------------------------

(1) "المنار المنيف" ص 44.

- ত -

 

তদদ্বারা, এবং যা তাঁর প্রতি আরোপ করা সঠিক এবং যা সঠিক নয় তার মধ্যে পার্থক্য করা; যা এমন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয় যে এই গুণের অধিকারী নয়(১)।

এবং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যিনি আমাদের কোনো যোগ্যতা বা পাওনা হওয়ার পূর্বেই নেয়ামত দান শুরু করেছেন, যিনি আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও আমাদের ওপর তা অবিরাম রেখেছেন, এবং যিনি আমাদের সর্বোত্তম উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন যা মানবজাতির কল্যাণে বের করা হয়েছে—তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাব এবং অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহর সঠিক বুঝ দান করেন, এবং এমন কথা ও কাজের তাওফিক দেন যার মাধ্যমে আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর হক আদায় হয় এবং যা আমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অনুগ্রহ লাভের কারণ হয়।

এবং আমরা মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পদক্ষেপগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাদের প্রচেষ্টাকে সফল করেন এবং আমাদের তাঁর সন্তুষ্টি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম সাড়াদানকারী।

 

আম্মান

২১/ ০৭/ ১৪২৩ হিজরি

২৮/ ০৯/ ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

শুআইব আল-আরনাউত

--------------------------------------------

(১) "আল-মানার আল-মুনিফ" পৃষ্ঠা ৪৪।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ط الرسالة   (بدر الدين الزركشي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة

المؤلف: بدر الدين الزركشي (745 - 794 هـ)

حققه عن أصلين خطيين وقدّم له: د (مُحَمّد) بنيامين أَرُولْ

(الأستاذ المساعد في قسم الحديث بجامعة أنقرة)

راجعه وقدم له: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 283

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الآخرة 1445

সাহাবীদের ওপর আয়িশা (রা.)-এর সংশোধনমূলক আপত্তিসমূহ উপস্থাপনের প্রতিত্তোর - আর-রিসালাহ সংস্করণ   (বদর উদ্দিন আজ-জারকাশি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সাহাবীদের ওপর আয়িশা (রা.)-এর সংশোধনমূলক আপত্তিসমূহ উপস্থাপনের প্রতিত্তোর

লেখক: বদর উদ্দিন আজ-জারকাশি (৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি)

দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন: ড. (মুহাম্মদ) বিনইয়ামিন আরুল

(আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন: শুআইব আল-আরনাউত [মৃ. ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

الحمدُ لله الذي جعلنا مِن خَدَمَةِ سُنة خاتَمِ النبيين، والصلاة والسلامُ على رسولنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فخلالَ إعداد رسالةِ الدكتوراه "فهم السنة عند الصحابة"(1) راجعتُ كتابَ "الإجابة" للزركشي عِدَّة مرات، لأن هذا الكتابَ له مزيتانِ:

الأولى: أنه يُقدِّمُ لنا أمثلةَ نقد متن الحديث في عهدِ الصحابة، خاصةً في فهم السيدة عائشة رضي الله عنها.

الثانية: أن هذا الكتاب يُعد أنموذجًا أصيلًا في نقد الحديث النبوي من جهة المتن، لأن الزركشي قد ألّفه في القرن الثامن الهجري.

ولكني أثناء هذه المراجعات، رأيتُ في النسخة المطبوعة التي نشرها الأستاذُ سعيد الأفغاني رحمه الله (1939) أخطاءَ كثيرةً في الأسانيد والمتون، كما وجدتُ فيها بياضات ومشكلات متروكة دون حلٍّ. وقد طبع مرات فيما بعد، وها هي ذي الطبعة الرابعة المصورة في سنة 1985 مليئة بالأخطاء نفسها الواردة في الطبعة الأولى. وكانت النسخةُ المطبوعة بحالتها هذه تحتاج إلى خدمة علمية، ولكنها كانت نشرت عن نسخةٍ وحيدةٍ موجودة في المكتبة الظاهرية بدمشق الشام فقط.

ولهذا نويتُ أن أكونَ خادِمَ هذا الكتاب القيم، فبدأت بتدريسه

--------------------------------------------

(1) طبع في أنقرة سنة 1999، وط. الثانية سنة 2000 باللغة التركية، 494 ص.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গবেষকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের শেষ নবীর সুন্নাহর খাদেম বানিয়েছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: আমার পিএইচডি থিসিস "সাহাবীদের নিকট সুন্নাহর অনুধাবন"(১) প্রস্তুত করার সময় আমি যারকাশির 'আল-ইজাবাহ' কিতাবটি বহুবার পর্যালোচনা করেছি; কারণ এই কিতাবটির দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

প্রথমত: এটি আমাদের সামনে সাহাবীদের যুগে হাদিসের মতনের (মূল পাঠের) সমালোচনার উদাহরণসমূহ পেশ করে, বিশেষ করে সায়্যিদা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার অনুধাবনের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়ত: এই কিতাবটি হাদিসের মতনের দিক থেকে হাদিস সমালোচনার এক অনন্য ও মৌলিক নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়, কারণ ইমাম যারকাশি এটি অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে রচনা করেছেন।

কিন্তু এই পর্যালোচনার সময় আমি উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক প্রকাশিত (১৯৩৯) মুদ্রিত সংস্করণে সনদ ও মতনের অসংখ্য ভুল লক্ষ্য করেছি। পাশাপাশি তাতে অনেক শূন্যস্থান এবং অমীমাংসিত সমস্যাও খুঁজে পেয়েছি। এটি পরবর্তীতে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৯৮৫ সালের চতুর্থ মুদ্রিত সংস্করণটি প্রথম সংস্করণের ভুলগুলোতেই পরিপূর্ণ। মুদ্রিত কপিটি এমন অবস্থায় ছিল যা একটি বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক খিদমতের দাবি রাখছিল। তবে এটি শুধুমাত্র সিরিয়ার দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়াতে সংরক্ষিত একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছিল।

এ কারণেই আমি এই মূল্যবান কিতাবটির খিদমত করার নিয়ত করি এবং এটি পাঠদান শুরু করি।

--------------------------------------------

(১) ১৯৯৯ সালে আঙ্কারায় মুদ্রিত এবং দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০০ সালে তুর্কি ভাষায়, ৪৯৪ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وترجمته إلى اللغة التركية، وبحثتُ عن نصوص الأحاديث وما يلزمها مِن تخريج لأصولها، وراجعتُ مصادر الزركشي المطبوعة الممكنة لأحقق اقتباساته وأُقارنها لحلِّ مشكلاتها، فصححتُ جُلَّ هذه الأخطاء، ثم رتبت استدراكات عائشة رضي الله عنها ترتيبًا منهجيًا وفقًا لمقاييس النقد من قِبَلِ أم المؤمنين. ولما فرغت من عملي هذا راجعت مركز المعلومات الحاسوبية للمكتبات في تركيا لأفتش عن تصانيف الزركشي المخطوطة أو المطبوعة فيها، وأخذتُ قائمةً بهذه الكتب من الحاسوب وقرأتُها فورًا، ولما عثرت في مكتبة الدولة - بيازيد باستانبول على نسخة من كتاب "الإجابة" للزركشي، لم أصدق عينيّ، لأننا كنا نجمع على أن هذا الكتابَ لا تُوجد منه نسخة إلا في المكتبة الظاهرية بدمشق على أنها هي الوحيدة المعلومة في العالم حتى الآن. فاتصلتُ بصديق لي في استانبول هاتفيًا، وطلبتُ منه أن يأخذ عنها صورةً كاملة أو بالميكروفيلم، لأتأكد منها هل هي الكتابُ ذاته أم لا، فاستجابَ - جزاه الله خير الجزاء - وأرسل إليَّ صورةً كاملةً بالميكروفيلم وكانت - والشكر لله تعالى - هي نسخة ثانية للإجابة واضحة. وعلى أثر ذلك تمكنتُ من حل المشكلات التي كانت قائمة أمامنا بنسخة الظاهرية بمعونة هذه النسخة الموجودة في إستانبول، ووضعت أهمَّ الاختلافات الواردة بين نسختي المطبوعة والمخطوطة في هامش عملي قبل نشره باللغة التركية فنشرتها(1) بحمده تعالى.

ثم قررتُ أن أُحقق هذا الكتابَ مقابَلًا بين نسخة إستانبول والنسخة المطبوعة وأنشرها مبتغيًا بذلك وجه العلم ورضوان الله وتوسعة النفع بما لدينا من تراث ثمين. ثم استشرت أستاذي الفاضل الكريم المحدث المحقق الشيخ شعيب الأرنؤوط في الأردن، فأجابني بالتشجيع، ووعدني

--------------------------------------------

(1) طبع في أنقرة سنة 2000، وط. الثانية سنة 2002، 232 ص.

এবং আমি এটি তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেছি, হাদিসগুলোর মূল পাঠ এবং সেগুলোর মূল উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) করেছি। আমি আল-যারাকাশির মুদ্রিত সম্ভাব্য সকল উৎসসমূহ পর্যালোচনা করেছি যাতে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো যাচাই করা যায় এবং সেগুলোর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তুলনা করা যায়। ফলে আমি এই ভুলগুলোর অধিকাংশ সংশোধন করেছি। এরপর আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সংশোধনসমূহকে (ইস্তিদরাক) তাঁর নিজস্ব সমালোচনামূলক মানদণ্ড অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে বিন্যস্ত করেছি। এই কাজ সমাপ্ত করার পর আমি তুরস্কের পাঠাগারগুলোতে আল-যারাকাশির পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত রচনাবলি খোঁজার জন্য কম্পিউটারাইজড তথ্য কেন্দ্রে অনুসন্ধান করি। আমি কম্পিউটার থেকে এই বইগুলোর একটি তালিকা সংগ্রহ করি এবং তৎক্ষণাৎ তা পাঠ করি। যখন আমি ইস্তাম্বুলের বায়েজিদ স্টেট লাইব্রেরিতে আল-যারাকাশির 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের একটি অনুলিপি পেলাম, তখন আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না; কারণ আমরা এই বিষয়ে একমত ছিলাম যে, এখন পর্যন্ত বিশ্বে দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে থাকা পাণ্ডুলিপিটিই এই বইয়ের একমাত্র পরিচিত অনুলিপি। তাই আমি ইস্তাম্বুলে আমার এক বন্ধুর সাথে ফোনে যোগাযোগ করি এবং তাঁকে এর একটি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বা মাইক্রোফিল্ম সংগ্রহ করতে অনুরোধ করি, যাতে আমি নিশ্চিত হতে পারি যে এটি সেই একই কিতাব কি না। তিনি সাড়া দিলেন—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—এবং আমাকে মাইক্রোফিল্মের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাঠালেন। মহান আল্লাহর শুকরিয়া যে, এটি ছিল 'আল-ইজাবাহ' কিতাবের একটি দ্বিতীয় এবং স্পষ্ট পাণ্ডুলিপি। এর ফলে আমি ইস্তাম্বুলের এই পাণ্ডুলিপির সহায়তায় জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হই। তুর্কি ভাষায় প্রকাশের পূর্বে আমি আমার কাজের পাদটীকায় মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদগুলো উল্লেখ করি; অতঃপর আল্লাহর প্রশংসায় তা প্রকাশিত হয়(১)।

এরপর আমি ইস্তাম্বুলের পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যে তুলনা করে এই কিতাবটি সম্পাদনা (তাহকিক) করার এবং তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই, যার মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য ছিল ইলমের খিদমত, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আমাদের কাছে থাকা মূল্যবান ঐতিহ্যের উপকারিতাকে বিস্তৃত করা। এরপর আমি জর্ডানে আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও মুহাক্কিক শায়খ শুআইব আল-আরনাউতের সাথে পরামর্শ করি। তিনি আমাকে উৎসাহিত করেন এবং আমাকে প্রতিশ্রুতি দেন...

--------------------------------------------

(১) ২০০০ সালে আঙ্কারায় মুদ্রিত হয়েছে, ২য় সংস্করণ ২০০২ সালে, ২৩২ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بمساعدتي في نشرها فور إنجازها. فلما فرغت من عملي سافرت إلى الأردن في بداية شهر آب / أغسطس 2001 لأقدمه إلى فضيلة الأستاذ، داعيًا الله تعالى أن يجعل سفري هذا رحلةً من رحلات العلم، فجزاه الله خير الجزاء فقد لقيني بالقبولِ وضيفني وأكرمني - فأكرمه الله من نعيم الجنة - وترك أعماله العلمية لأجلي، وخصص لي خمسة مجالس عمل لِعرض العمل عليه ومقابلته. وكان بين يديه النسخة المصورة عن المكتبة الظاهرية والنسخة المطبوعة التي قرأها ووضع إشارات عليها للأخطاء كما كتب عليها التصحيحات والتعليقات المفيدة، وانتهت هذه المقابلة بين النسخ في خمسة أيام وأوصاني أن أعيد النظر فيها وأكتب تعليقاتي عليها على الطريقة المتداولة في العالم الإسلامي، لأنني كنت قد استعملت الرموز للمراجع والزيادات والسقطات بقصد الاختصار.

ولما عُدْت إلى بلدي راجعتُ عملي من جديد، وأفدت من أقراص الحديث المضغوطة، وبحثت عن بعض الروايات والمشكلات الباقية، فوجدتها في هذه الأقراص، وهكذا استطعتُ الوقوف على بعض المشكلات الواردة في التحقيق ومن ثم حلّها بحمده تعالى.

ثم كتبت مقدمة لعملي، وكلمة عن منهج السيدة عائشة في نقدِ الحديث وقيمة نهجها، لتوسعة النفع من هذا الكتاب والموضوع. وأرسلته إلى الشيخ لإعادة النظرِ فيها مرة أخرى ومساعدتي في طبعها وشكر الله له على ما قدمه إليَّ من عون وإلى هذا الكتاب القيم من خدمة، وأدعو الله أن يُطيل عمره حتى نستفيد منه طول حياته كما استفدنا إلى الآن.

وها هو ذا تحقيقي حاولت أن أتقنه حسب طاقتي وأُقدِّمَه إلى الباحثين الأعزاء والقراء الكرام، وأعترف بأنني كم أفدت من تجربة الشيخ شعيب
এটি সম্পন্ন হওয়ার পর তা প্রকাশে আমাকে সহায়তা করবেন। যখন আমি আমার কাজ শেষ করলাম, তখন ২০০১ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে তা শ্রদ্ধেয় উস্তাদের নিকট পেশ করার জন্য জর্ডান সফর করলাম। মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করলাম যে, তিনি যেন আমার এই সফরকে ইলমী সফরসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তিনি অত্যন্ত সমাদরের সাথে আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, আমাকে আতিথেয়তা প্রদান করলেন এবং সম্মানিত করলেন—আল্লাহ তাকে জান্নাতের নিয়ামত দ্বারা সম্মানিত করুন—তিনি আমার খাতিরে তার ইলমী কাজসমূহ স্থগিত রাখলেন এবং কাজটি তার সামনে পেশ ও যাচাই-বাছাই করার জন্য পাঁচটি বৈঠকের ব্যবস্থা করলেন। তার কাছে জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি এবং একটি মুদ্রিত কপি ছিল, যা তিনি পাঠ করেছিলেন এবং তাতে ভুলগুলো চিহ্নিত করে রেখেছিলেন, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উপকারী টীকা লিখে রেখেছিলেন। পাণ্ডুলিপিগুলোর এই তুলনামূলক যাচাই পাঁচ দিনে সম্পন্ন হলো। তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি পুনরায় বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করি এবং মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত পদ্ধতিতে টীকাগুলো লিখি; কারণ সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি ইতিপূর্বে তথ্যসূত্র, সংযোজন ও বিয়োজন চিহ্নিত করতে বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেছিলাম।

আমি যখন আমার দেশে ফিরে এলাম, তখন পুনরায় আমার কাজগুলো পর্যালোচনা করলাম এবং হাদীসের ডিজিটাল সংগ্রহ (সিডি) থেকে উপকৃত হলাম। আমি অবশিষ্ট কিছু বর্ণনা এবং সমস্যার সমাধান খুঁজলাম এবং সেই সংগ্রহগুলোতে তা পেয়ে গেলাম। এভাবে আমি তাহকীক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা সমাধান করতে সক্ষম হলাম।

এরপর আমি আমার কাজের জন্য একটি ভূমিকা এবং হাদীস সমালোচনায় সায়্যিদা আয়েশার কর্মপদ্ধতি ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা লিখলাম, যাতে এই কিতাব ও বিষয়টি থেকে উপকারিতা আরও বিস্তৃত হয়। পুনরায় দেখার জন্য এবং মুদ্রণে সহায়তা করার জন্য আমি সেটি শায়খের নিকট পাঠালাম। আল্লাহ তাকে সেই সাহায্যের জন্য উত্তম প্রতিদান দিন যা তিনি আমার প্রতি এবং এই মূল্যবান কিতাবটির খিদমতে প্রদান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তার হায়াত দীর্ঘ করেন, যাতে আমরা সারা জীবন তার থেকে উপকৃত হতে পারি যেমনটি এখন পর্যন্ত হয়ে আসছি।

এই হলো আমার তাহকীক বা সম্পাদিত কাজ, যা আমি আমার সাধ্যমতো নিখুঁত করার চেষ্টা করেছি এবং প্রিয় গবেষক ও সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করছি। আমি স্বীকার করছি যে, শায়খ শুয়াইবের অভিজ্ঞতা থেকে আমি কতটা উপকৃত হয়েছি-
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الأرنؤوط - حفظه الله - كما استفدت من تعليقاته وتحقيقاته القيمة ولا سيما من تلك التي على "مسند الإمام أحمد" و "الإحسان" و "سير أعلام النبلاء" واكتفيت أحيانًا بالإحالة على تلك المراجع خشية الإطناب، لأن الشيخ قد أفاد فيها وأجاد.

وأرجو الله أن أكون قد وُفقت عملي في هذا - وهو أول تجربة لي في التحقيق - وأن يكون علمًا ينتفع به إلى قيام الساعة.

وأشكر الأستاذ المحدث شيخنا شعيب الأرنؤوط - متعنا الله بطول حياته وعم المسلمين بنفعه - كما وأشكر تلاميذ الشيخ والإخوة الأتراك بعمان الذين لم يألوا جهدًا في سبيل إنجاح هذا العمل.

وجزى الله عني خيرًا كل من أسهم في ذلك من أساتذتي وأصحابي وأهلي

وما توفيقي إلا بالله.

الدكتور بنيامين أرُولْ.

أ. المساعد بقسم الحديث النبوي

كلية الإلهيات - بجامعة أنقرة

2002/ 1422 - تركيا

عنوان الإنترنت

berul 65@hotmail.com
আল-আরনাউত - আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন - যেমন আমি তাঁর মূল্যবান টীকা ও তাহকিকসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি, বিশেষ করে ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’, ‘আল-ইহসান’ এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-তে থাকা তাঁর কাজগুলো থেকে। আমি অনেক সময় এই কিতাবগুলোর দিকে কেবল হাওয়ালা (রেফারেন্স) দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি যাতে দীর্ঘসূত্রতা না ঘটে, কারণ শায়খ সেগুলোতে অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুল আলোচনা করেছেন।

আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যেন তিনি আমাকে এই কাজে তাওফিক দান করেন - আর এটি তাহকিক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা - এবং এটি যেন এমন ইলম হয় যার দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত উপকার লাভ করা যায়।

আমি উস্তায মুহাদ্দিস আমাদের শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউত-এর শুকরিয়া আদায় করছি - আল্লাহ আমাদের তাঁর দীর্ঘ হায়াত দ্বারা উপকৃত করুন এবং তাঁর কল্যাণের মাধ্যমে মুসলিমদের ধন্য করুন - একইসাথে আমি শায়খের ছাত্রবৃন্দ এবং আম্মানে অবস্থানরত তুর্কি ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা এই কাজটিকে সফল করার লক্ষ্যে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি।

আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ যেন আমার সকল উস্তাদ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের উত্তম প্রতিদান দান করেন যারা এতে সহযোগিতা করেছেন।

আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

ডক্টর বুনইয়ামিন এরুল।

সহকারী অধ্যাপক, হাদিস বিভাগ

ইলাহিয়্যাত ফ্যাকাল্টি - আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়

২০০২/ ১৪২২ হিজরি - তুরস্ক

ইন্টারনেট ঠিকানা

berul 65@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القسم الأول

‌‌1 - استدراكات عائشة واهتمام العلماء بها

اشتهرت السيدةُ عائشة بردودها وانتقاداتها واستدراكاتِها على معاصريها من الصحابة والتابعين متى وجدت أيَّ خطأ أو وهم أو سهوٍ في رواياتهم مِن جهة الضبط، أو من جهة الفهم أو التأويل. وكانت تُصحح هذه الأخطاء معتمدةً على حفظها أو رأيها.

واستدراكاتُها هذه مبثوثة في كتب الحديث والسنة، وقد نبه إليها بعضُ العلماء، واهتموا بجمعها. وكما بيّن الحافظ ابن حجر، فإن أول من ألّف في هذا الموضوع هو: أبو منصور البغدادي المتوفى سنة 489 هـ، فأورد في مصنفه خمسة وعشرين حديثًا، اقتصرَ فيه على سوقِ الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه، دونَ أن يعزو التخريج إلى أحد، وسماها بـ "رد العقول الطائشة بذكر ما استدركته عائشة" كما هو مذكورٌ في ملحق على غلاف نسخة إستانبول للإجابة. والمخطوط هذا يوجد في مكتبة سعدية بحيدر آباد بقسم الحديث برقم 360(1).

وجاء الزركشيُّ فنقل عن أبي منصور البغدادي، وزاد عليه، وبَيَّنَ غامضه، واستعان بتخريجات السابقين لأحاديثه، وعزاها لأصحابها، كما صرح بذلك في مواضع متعددة من الإجابة، وفي بعضها سمَّى كتابه باختصار، فقال: قال أبو منصور البغدادي في استدراكه، ونراه أحيانًا ينقل ثم يرمج نقلَه ويثبتُ الحديث مِن طريق آخرَ غير طريقه كما سيمر بك.

--------------------------------------------

(1) قد نشرته الدار السلفية بالهند باسم "استدراك أم المؤمنين عائشة".

প্রথম পরিচ্ছেদ

১ - আয়েশার পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে আলেমদের আগ্রহ

সায়্যিদা আয়েশা তাঁর সমসাময়িক সাহাবী এবং তাবিঈদের বর্ণনায় যখনই হিফয (স্মৃতিশক্তি), উপলব্ধি অথবা ব্যাখ্যার দিক থেকে কোনো ভুল, সংশয় বা অসাবধানতা লক্ষ্য করতেন, তখনই তাঁর প্রত্যুত্তর, সমালোচনা ও পর্যালোচনার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি নিজের মুখস্থ জ্ঞান অথবা প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে এই ভুলগুলো সংশোধন করতেন।

তাঁর এই পর্যালোচনাগুলো হাদীস ও সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিছু আলেম এগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তা সংগ্রহ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। হাফেয ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন যে, এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন: আবু মনসুর আল-বাগদাদী, যিনি ৪৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর সংকলনে পঁচিশটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি কোনো উৎসের উদ্ধৃতি না দিয়ে কেবল নিজের শায়খদের পর্যন্ত তাঁর নিজস্ব সনদে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন "রাদ্দুল উকুলিত তায়িশাহ বি-যিকরি মাসতাদরাকাতহু আয়েশা", যা আল-ইজাবাহ-এর ইস্তাম্বুল পান্ডুলিপির প্রচ্ছদে একটি পরিশিষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি হায়দ্রাবাদের সাদিয়া লাইব্রেরির হাদীস বিভাগে ৩৬০ নম্বর সিরিয়ালে সংরক্ষিত আছে।(১)

অতঃপর আজ-যারকাশী এসে আবু মনসুর আল-বাগদাদী থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেন এবং তাতে পরিবর্ধন করেন। তিনি এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন এবং হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমদের করা তাখরীজের (উৎস নির্দেশ) সহায়তা নেন এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন। তিনি আল-ইজাবাহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো স্থানে তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে তাঁর কিতাবের নাম উল্লেখ করে বলেছেন: "আবু মনসুর আল-বাগদাদী তাঁর ইস্তিদরাকে (পর্যালোচনায়) বলেছেন।" আমরা অনেক সময় দেখি যে, তিনি উদ্ধৃতি প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে নিজের বর্ণনাকে একীভূত করেন এবং তাঁর সূত্রের পরিবর্তে অন্য কোনো সূত্র থেকে হাদীসটি সাব্যস্ত করেন, যা আপনার সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) এটি ভারতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ থেকে "ইস্তিদরাকু উম্মিল মুমিনিন আয়েশা" নামে প্রকাশিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم وقعت "الإجابة" في ملك العلامة أبو الأسباط الرملي المتوفى سنة 877 هـ فزاد عليها استداركًا للسيدة عائشة على مروان بن الحكم كما أشار إليه بعدَ الرواية.

ثم جاء السيوطي فاختصره - على عادته في كثير من مؤلفاته - وأسماه: "عين الإصابة في استدراك عائشة على الصحابة"(1) ورتبه على أبوابِ الفقه، بخلاف كتاب الإجابة للزركشي، الذي رتبه على أسماء الصحابة بطريقة المسند.

وتعقب عليه الدكتور السيد أحمد فرج محقق "زهر العريش" للزركشي في مقدمته وقال: "ولقد شوَّه السيوطي - بهذا التلخيص - العمل الذي أتقنه الزركشي، لأن السيوطي اقتصرَ على ذكرِ المتون، وتبويبها على أبواب الفقه، وحذف البيان الذي بيَّن فيه الزركشي كيف وقع الوهمُ عندَ بعض الصحابة، وتصحيحَ عائشة رضي الله عنها لهم باستدراكها عليهم. . وهي تحقيقاتٌ قيمة في التخريج، والغريب في الأمر أن السيوطي حذفها، معللًا ذلك في خطبة كتابه بأنها - بزعمه ليست من باب الاستدراك، ولهذا قام بحذفها، وكان مقصود الزركشي من إيرادها أن يُبيِّن بها الوهم، ويكشف غامِضَه، وفي ذلك تكمنُ القيمةُ العلمية لعمله(2).

قال السيوطي(3) بعد ما لخصها: هذا آخر ما أورده الزركشي، وقد حذفتُ مما ذكره أشياء، لأنها ليست مِن باب الاستدراك، وهذه زيادات لم يذكرها:

--------------------------------------------

(1) قد طبعت هذه الرسالة بدكن سنة 1886/ 1304، ثم نشرته دار الإيمان بدمشق وبيروت سنة 1983/ 1403، ثم نشرته مكتبة العلم بالقاهرة سنة 1988 بتحقيق عبد الله محمد الدرويش.

(2) من مقدمة "زهر العريش" ص 20 - 21.

(3) انظر: عين الإصابة للسيوطي بتحقيق عبد الله محمد الدرويش ص 76 - 78.

এরপর 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটি ৮৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল্লামা আবুল আসবাত আর-রামলির মালিকানাধীন হয়। তিনি এতে মারওয়ান ইবনুল হাকামের বর্ণনার ওপর সায়্যিদাহ আয়িশার একটি সংশোধন সংযোজন করেন, যেমনটি তিনি বর্ণনার পরে ইঙ্গিত করেছেন।

এরপর সুয়ূতী আসেন এবং তাঁর বহু রচনার অভ্যাসের মতোই তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত করেন এবং এর নাম দেন: "আইনুল ইসাবাহ ফী ইস্তিদরাকি আয়িশাহ আলাস সাহাবাহ"(১)। তিনি এটি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন, যারকাশীর "আল-ইজাবাহ" গ্রন্থের বিপরীতে, যা সাহাবীগণের নামের ওপর মুসনাদ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত ছিল।

যারকাশীর "যাহরুল আরিশ" গ্রন্থের সম্পাদক ডক্টর সাইয়্যেদ আহমদ ফারাজ তাঁর ভূমিকায় এর সমালোচনা করে বলেছেন: "সুয়ূতী এই সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে যারকাশীর নিখুঁত কাজটিকে বিকৃত করেছেন। কারণ সুয়ূতী কেবল মূল পাঠ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং তা ফিকহী অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি সেই বিবরণগুলো বাদ দিয়েছেন যেখানে যারকাশী স্পষ্ট করেছিলেন কীভাবে কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রে ভুল ধারণা (ওয়াহম) ঘটেছে এবং সায়্যিদাহ আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সংশোধনের মাধ্যমে তাঁদের ভুল কীভাবে সংশোধন করেছেন। অথচ এগুলো ছিল উৎস অনুসন্ধান (তাখরীজ) সংক্রান্ত মূল্যবান গবেষণা। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, সুয়ূতী এগুলো বাদ দিয়েছেন এবং তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এর কারণ হিসেবে দাবি করেছেন যে—তাঁর ধারণা অনুযায়ী এগুলো সংশোধন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। একারণেই তিনি তা বাদ দিয়েছেন। অথচ যারকাশীর উদ্দেশ্য ছিল এগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে ভুলটি স্পষ্ট করা এবং এর অস্পষ্টতা দূর করা। আর এখানেই তাঁর কাজের তাত্ত্বিক মান নিহিত ছিল(২)।

সুয়ূতী(৩) এটি সংক্ষেপ করার পর বলেছেন: এটিই যারকাশীর বর্ণিত বিষয়ের শেষ অংশ। তিনি যা উল্লেখ করেছেন আমি সেখান থেকে কিছু বিষয় বাদ দিয়েছি, কারণ সেগুলো সংশোধন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর এগুলো হলো সেই অতিরিক্ত অংশ যা তিনি উল্লেখ করেননি:

--------------------------------------------

(1) এই পুস্তিকাটি ১৮৮৬/১৩০৪ সালে দাক্ষিণাত্যে মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর ১৯৮৩/১৪০৩ সালে দামেস্ক ও বৈরুতের দারুল ঈমান থেকে এটি প্রকাশিত হয়। অতঃপর ১৯৮৮ সালে কায়রোর মাকতাবাতুল ইলম থেকে আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আদ-দারউইশের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়।

(2) "যাহরুল আরিশ" গ্রন্থের ভূমিকা থেকে, পৃষ্ঠা ২০ - ২১।

(3) দেখুন: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আদ-দারউইশের সম্পাদনায় সুয়ূতীর "আইনুল ইসাবাহ", পৃষ্ঠা ৭৬ - ৭৮।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أخرج الأئمة الستة إلا أبا داود، عن أبي هريرة، قال: أتي النبيُّ صلى الله عليه وسلم بلحم، فرفع إليه الذراع، وكانت تعجبه(1).

وأخرج الترمذي عن عائشة قالت: ما كان الذراعُ أحبَّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن كان لا يجد اللحم إلا غبًا، فكان يعجل إليه، لأنه أعجلُها نضجًا(2).

ثم ذكر روايتين عن ابن أبي شيبة وأبي رزين في نهيه عليه السلام عن المشي في نعل واحدة من جهة أبى هريرة واستدراك عائشة عليه، وقد أورده الزركشيُّ في الحديث الحادي عشر من استدراكها على أبي هريرة عن الشيخين وابن أبي شيبة أيضًا، ولذلك لا تُعد هذه زيادة على الإجابة. إذًا حديث الذراع هذا هو الزيادة الوحيدة من السيوطي على الإجابة فقط.

ثم زاد الأستاذ المرحوم سعيد الأفغاني على الإجابة ذيلًا، فيه خمس استدراكات من مسند الإمام أحمد بن حنبل فراجعه(3).

وكتب فضيلة الأستاذ الدكتور محمد سعيد خطيب أوغلي - محقق شرف أصحاب الحديث للخطيب - مقالة قيمة عن نقد الحديث عند السيدة عائشة ونشرها سنة 1973 م في مجلة كلية الإلهيات بجامعة أنقرة، كما ألّف الأستاذ الدكتور نَوْزَادْ عَاشِقَ كُتيبا عن السيدة عائشة كمحدِّثة ونشره سنة 1987 م في مدينة إزْمير، وكلاهما باللغة التركية وكلاهما قد استفاد من الإجابة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري برقم (3340) و (4712)، ومسلم (480)، والترمذي (1837) و (2434)، وابن ماجه (3307).

(2) أخرجه الترمذي في الأطعمة باب ما جاء في أي اللحم أحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم برقم (1838)، وقال الترمذي: هذا حديث حسن (غريب)، لا نعرفه إلا من هذا الوجه.

(3) الإجابة، ص 147 - 149.

আবু দাউদ ব্যতীত ছয় ইমাম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গোশত আনা হলো, এরপর তাঁর সামনে (পশুর) সামনের রানের অংশটি পেশ করা হলো, আর এটি তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিল(১)।

এবং তিরমিযী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সামনের রান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সবচেয়ে প্রিয় অংশ ছিল না, কিন্তু তিনি খুব কমই গোশত পেতেন, তাই তিনি এটি গ্রহণে তড়িঘড়ি করতেন, কারণ এটি সবচেয়ে দ্রুত রান্না হতো(২)।

এরপর তিনি ইবনে আবি শায়বা এবং আবু রাজিন থেকে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যেখানে আবু হুরায়রার পক্ষ থেকে এক জুতো পরে হাঁটার ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধের কথা এবং সে বিষয়ে আয়েশার সংশোধনের কথা এসেছে। যারকাশী এটি আবু হুরায়রার ওপর আয়েশার সংশোধনীসমূহের একাদশ হাদিস হিসেবে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং ইবনে আবি শায়বা থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাই এটিকে ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থের ওপর অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে গণ্য করা হবে না। সুতরাং, সামনের রানের এই হাদিসটিই সুয়ূতী কর্তৃক ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থের ওপর একমাত্র অতিরিক্ত সংযোজন।

এরপর মরহুম উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানী ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থের ওপর একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন, যাতে ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মুসনাদ থেকে পাঁচটি সংশোধনী (ইস্তিদরাক) রয়েছে; সুতরাং সেটি দেখে নিন(৩)।

এবং শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ খাতিব উগলি—খতিব আল-বাগদাদীর ‘শরাফ আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থের মুহাক্কিক—সায়্যিদাহ আয়েশার হাদিস পর্যালোচনার পদ্ধতির ওপর একটি মূল্যবান প্রবন্ধ লিখেছেন এবং এটি ১৯৭৩ সালে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলাহিয়াত অনুষদ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। একইভাবে উস্তাদ ডক্টর নওজাদ আশিক একজন মুহাদ্দিস হিসেবে সায়্যিদাহ আয়েশার ওপর একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং এটি ১৯৮৭ সালে ইজমির শহরে প্রকাশিত হয়েছে। এই উভয়টিই তুর্কি ভাষায় রচিত এবং উভয়টিই ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি ৩৩৪০ ও ৪৭১২ নম্বরে, মুসলিম ৪৮০ নম্বরে, তিরমিযী ১৮৩৭ ও ২৪৩৪ নম্বরে এবং ইবনে মাজাহ ৩৩০৭ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিরমিযী এটি ‘আহার’ অধ্যায়ের ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন গোশত বেশি প্রিয় ছিল’ অনুচ্ছেদে ১৮৩৮ নম্বরে বর্ণনা করেছেন। এবং তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (গরিব), আমরা কেবল এই সূত্রেই এটি জানি।

(৩) আল-ইজাবাহ, পৃষ্ঠা ১৪৭ - ১৪৯।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وعلَّق الأستاذ هشام الغَرَاوي المقيم بأنقرة على الإجابة وأتى بردود ومؤاخذات على الزركشي وكتب ملاحظاته حول استدراكات عائشة على الصحابة سنة 1997/ 1417 هـ بأنقرة بخط يده، باللغة العربية ولم يطبع. ووَصَفَ الغراوي عمله هذا بدراسة علمية قرآنية ناقدة لكتاب الزركشي واستدراكات عائشة رضي الله عنها.

وقد قمنا بترجمة الإجابة إلى اللغة التركية ونشرناها سنة 2000 م، والطبعة الثانية سنة 2002، ورتبناها بترتيب منهجي وفقًا لمقاييس السيدة في استدراكاتها كما يلي:

1 - عرضها الحديث على القرآن.

2 - عرضها الحديث على السنة.

3 - عرضها الحديث على الحديث.

4 - عرضها الحديث على رأيها وعقلها المنضبط بمقاصد الشريعة وأصولها.

5 - عرضها الحديث على الواقعة التاريخية.

6 - عرضها الحديث على اللغة.

وذكرنا في كل باب استدراكاتها على روايات الصحابة، ثم فتاويهم، ثم على ما قاموا به من أعمال، ثم تأويلاتهم للنصوص ثم أجوبتها على الأسئلة. وعزونا الأحاديث أو الروايات إلى المصادر الأصلية، كما راجعنا مراجع الزركشي وتثبتنا منها مع تعليقات عليها عند الحاجة، ووضعنا عنوانًا لِكل حديث، وكتبنا مقدمة عن منهج السيدة عائشة في نقد الحديث وأردفناها بذيل ذكرنا فيه بعض استدراكات الصحابة على السيدة عائشة حفظًا للإنصاف والعدالة بحمد الله ومنّه تعالى.
আঙ্কারায় বসবাসরত অধ্যাপক হিশাম আল-গারাউয়ি উত্তরটির ওপর মন্তব্য করেছেন এবং আল-যারকাশির ওপর আপত্তি ও সমালোচনা পেশ করেছেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে (১৪১৭ হিজরি) আঙ্কারায় তিনি সাহাবীদের বর্ণনার ওপর আয়িশার সংশোধনীসমূহ (ইস্তিদরাক) সম্পর্কে স্বহস্তে আরবি ভাষায় তাঁর পর্যবেক্ষণসমূহ লিখেছেন, যা মুদ্রিত হয়নি। আল-গারাউয়ি তাঁর এই কাজটিকে আল-যারকাশির কিতাব এবং আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সংশোধনীর একটি তাত্ত্বিক ও কুরআন-ভিত্তিক সমালোচনামূলক গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমরা উত্তরটি তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেছি এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দে তা প্রকাশ করেছি, আর এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সালে। আমরা একে এই মহীয়সী নারীর সংশোধনীর মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পদ্ধতিগত বিন্যাসে সাজিয়েছি, যা নিম্নরূপ:

১ - কুরআনের নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

২ - সুন্নাহর নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

৩ - হাদীসের নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

৪ - শরীয়তের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত তাঁর নিজস্ব অভিমত ও বিবেকের নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

৫ - ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

৬ - ভাষার নিরিখে হাদীসকে যাচাই করা।

আমরা প্রতিটি অধ্যায়ে সাহাবীদের বর্ণনার ওপর তাঁর সংশোধনীসমূহ, এরপর তাঁদের ফতোয়াসমূহ, এরপর তাঁদের কৃত কার্যাবলী, এরপর মূল পাঠের (নস) ওপর তাঁদের ব্যাখ্যাসমূহ এবং সবশেষে প্রশ্নের উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছি। আমরা হাদীস বা বর্ণনাগুলোকে মূল উৎসসমূহের দিকে সম্পৃক্ত করেছি, সেই সাথে আল-যারকাশির তথ্যসূত্রসমূহ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী টীকা প্রদানপূর্বক তা নিশ্চিত করেছি। আমরা প্রতিটি হাদীসের জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং হাদীস সমালোচনায় আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর পদ্ধতি সম্পর্কে একটি ভূমিকা লিখেছি। অবশেষে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার রক্ষার খাতিরে আমরা একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি যেখানে আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ওপর সাহাবীদের কিছু সংশোধনী উল্লেখ করা হয়েছে। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ মহান আল্লাহর।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌2 - قيمة كتاب الإجابة للزركشي

قد ألّف الزركشي كتابَه هذا في آخرِ حياته، وأهداه إلى القاضي برهان الدين بن جَماعة المتوفَّى سنة (790 هـ) يبدو أنه سوَّده قبل بضع سنوات من وفاته، إلا أننا نراه في لوحة السماع في آخر كتاب الإجابة أن ابنه محمدًا قرأه على والده وشيخه في سنة (794 هـ) أي في السنة التي تُوفي فيها الزركشي رحمه الله. ولا نُبالغُ إذا قلنا: إن هذا الكتاب هو حصيلة الزركشي العلامة المصنف الفقيه الأصولي العلمية، ولبّ ما رزقه الله مِن لدنه طولَ حياته.

واعترف العلامةُ ابن حجر بقيمة الإجابة للزركشي بعدما ذكر الأصلَ لأبي منصور البغدادي فقال: "نعم، لمصنف الإجابة حسنُ الترتيب والزيادات البينة، والعزو إلى التصانيف الكبار الأُوَل"(1). وقد أفاد الحافظُ منها كما أفاد مِن تأليفات أخرى للزركشي - بدليل أنه ذكرها في شرحه فقال: "وجزم البدرُ الزركشي فيما استدركته عائشة على الصحابة. ."(2).

قال الدكتور السيد أحمد فرج في مقدمة تحقيقه لكتاب "زهر العريش" للزركشي: ". . والذي يقرأ كتاب الإجابة يجد مستوى عاليًا من التحقيق، بيَّنه الزركشي في تحقيقه لاستدراكاتِ عائشة على الصحابة رضي الله عنهم أجمعين؛ فهو يُعَدُّ بحق مِن أهم كتب تحقيق السنة على صغره"(3).

--------------------------------------------

(1) من مقدمة الإجابة للأفغاني ص 17.

(2) فتح الباري لابن حجر، 8/ (4750).

(3) من مقدمة زهر العريش، ص 17 - 18.

২ - যারকাশির 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের গুরুত্ব ও মূল্য

আল্লামা যারকাশি তাঁর জীবনের শেষভাগে এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং এটি তিনি ৭৯০ হিজরি সালে ইন্তেকালকারী বিচারক (কাযী) বুরহানুদ্দীন ইবনে জামাআহকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর ইন্তেকালের কয়েক বছর পূর্বে এর খসড়া তৈরি করেছিলেন; তবে আমরা 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের শেষে শ্রবণলিপিতে (সামা' নোট) দেখতে পাই যে, তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ৭৯৪ হিজরি সালে তাঁর পিতা ও শায়খের (যারকাশি) নিকট এটি পাঠ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এই বছরেই আল্লামা যারকাশি (রহ.) ইন্তেকাল করেন। আমরা যদি বলি যে, এই গ্রন্থটি আল্লামা, গ্রন্থকার, ফকিহ এবং উসুলিবিদ যারকাশির সারাজীবনের অর্জিত ইলমের ফসল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাঁর সারা জীবনের জ্ঞান-সাধনার নির্যাস, তবে তাতে কোনো অতিশয়োক্তি হবে না।

আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) আবু মনসুর আল-বাগদাদীর মূল কিতাবটির কথা উল্লেখ করার পর যারকাশির 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেছেন: "হ্যাঁ, 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থকারের চমৎকার বিন্যাস, সুস্পষ্ট সংযোজন এবং পূর্ববর্তী বড় বড় কিতাবের রেফারেন্স প্রদানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।" হাফেজ ইবনে হাজার যারকাশির অন্যান্য রচনার মতো এই গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হয়েছেন—এর প্রমাণ হলো তিনি তাঁর শরাহ গ্রন্থে বলেছেন: "সাহাবায়ে কেরামের ওপর আয়েশা (রাযি.)-এর আপত্তি বা সংশোধনের বিষয়ে বদরুদ্দীন যারকাশি যা লিখেছেন তাতে তিনি এটি নিশ্চিতভাবে বলেছেন..."।

ডক্টর আস-সাইয়্যিদ আহমদ ফারাজ যারকাশি রচিত "যাহরুল আরিশ" গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায় বলেছেন: "...যে ব্যক্তি 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটি পাঠ করবে, সে সেখানে উচ্চমানের তাহকিক বা গবেষণার প্রতিফলন দেখতে পাবে, যা সাহাবায়ে কেরামের (রাযি.) ওপর আয়েশা (রাযি.)-এর বিভিন্ন আপত্তি বা সংশোধনের পর্যালোচনায় যারকাশি ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই ছোট আয়তনের হওয়া সত্ত্বেও এটি সুন্নাহর গবেষণাধর্মী পর্যালোচনার (তাহকিকুস সুন্নাহ) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব হিসেবে যথাযথভাবেই গণ্য হয়।"

--------------------------------------------

(১) আফগানির 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের ভূমিকা থেকে, পৃষ্ঠা ১৭।

(২) ইবনে হাজরের ফাতহুল বারী, ৮/ (৪৭৫০)।

(৩) 'যাহরুল আরিশ'-এর ভূমিকা থেকে, পৃষ্ঠা ১৭ - ১৮।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
نعم، نرى في الإجابة ذروة علم الزركشي في العلوم المختلفةِ مِن الفقه إلى أصوله، ومن الحديث إلى الجرح والتعديل، والدِّراية من الأسانيد إلى المتون، وتظهر في هذا الكتاب قوة الزركشي في التوجيه والتأويل بين الأحاديث المختلفة سندًا ومتنًا، ويتبلورُ مِن هذا الكتاب أيضًا كثرة المصادر التي اطلع عليها الزركشي وإفادته من كتب المتقدمين والمتأخرين وبخاصة من كان ينتحل مذهب الشافعي منهم. وقد جاوز عدد المراجع المذكورة في الإجابة مئة بالإحصاء الدقيق وهذا يدل على سعة مطالعته، وغنى مكتبته، وقوةِ ذاكرته.

واشتهر هذا الكتابُ بين الباحثين والأساتذة في علم الحديث ولا سيما الذين يهتمون بنقد الحديث، فقد رجعوا إليه وأفادوا منه كثيرًا كما رأينا في "منهج نقد المتن عند علماء الحديث النبوي" للإدلبي، و "مقاييس نقد متون السنة" للدميني و"منهج النقد عند المحدثين" للأعظمي، إلا أن هذا الأخير قد أخذ على الزركشي في هذا الكتاب قائلًا:

"أما الأحاديثُ التي أوردها الإمامُ بدر الدين الزركشي، فالبعضُ منها غيرُ ثابت سندًا، والبعض الآخر كان في الواقع فتاوى بعض الصحابة خالفوا فيها الأحاديثَ النبوية لعدم معرفتهم بها، فصححت فتواهم، وبعد هذا وذاك أيضًا، تصفو عدةُ أحاديث، رواها الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم فأنكرت عليهم إما معارضة بالقرآن الكريم، أو مبينة الخطأ في الرواية حسب نظرتها، أو استعملت الآيات القرآنية وأضافت إليها الرواية التي كانت ترى أنها صحيحة"(1).

--------------------------------------------

(1) منهج النقد عند المحدثين للأعظمي، ص 77. (ط. الثالثة، سنة 1990، مكتبة الكوثر بالمملكة).

হ্যাঁ, 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থে ফিকহ থেকে শুরু করে উসুলুল ফিকহ এবং হাদিস থেকে শুরু করে আল-জারহ ওয়াত-তাদিল পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্ত্রে ইমাম যারকাশির জ্ঞানের চরম শিখর লক্ষ্য করা যায়। সনদ থেকে মতন পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর প্রজ্ঞা এতে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এই কিতাবে সনদ ও মতনের বিচারে বিভিন্ন হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যারকাশির পারদর্শিতা ফুটে উঠেছে। এছাড়া এই কিতাব থেকে তাঁর অধীত বিপুল সংখ্যক উৎসের পরিচয় এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের কিতাবসমূহ থেকে—বিশেষ করে যারা শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন—উপকৃত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সূক্ষ্ম পরিসংখ্যান অনুযায়ী 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থে উল্লিখিত তথ্যসূত্রের সংখ্যা শতাধিক, যা তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির প্রমাণ দেয়।

এই কিতাবটি হাদিস শাস্ত্রের গবেষক ও অধ্যাপকদের মধ্যে, বিশেষ করে যারা হাদিস সমালোচনা নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাঁরা এই কিতাবের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং এ থেকে প্রভূত উপকার লাভ করেছেন, যেমনটি আমরা ইদলিবির 'মানহাজু নাকদিল মাতনি ইনদা উলামাইল হাদিসিন নাবাবি', দুমাইনির 'মাকায়িসু নাকদি মুতুনিস সুন্নাহ' এবং আজমির 'মানহাজুন নাকদি ইনদাল মুহাদ্দিসিন' কিতাবসমূহে দেখতে পাই। তবে শেষোক্ত লেখক এই কিতাবে যারকাশির সমালোচনা করে বলেছেন:

"ইমাম বদরুদ্দিন যারকাশি যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর কিছু সনদগতভাবে প্রমাণিত নয়। আর কিছু ছিল প্রকৃতপক্ষে কয়েকজন সাহাবির ফতোয়া, যেখানে তাঁরা হাদিস সম্পর্কে অবগত না থাকায় নববি হাদিসের বিরোধিতা করেছিলেন, ফলে তাঁদের ফতোয়া সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসবের বাইরেও বেশ কিছু হাদিস অবশিষ্ট থাকে যা সাহাবিগণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি (আয়েশা রা.) সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; হয় পবিত্র কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে, অথবা তাঁর দৃষ্টিতে বর্ণনার ভুল স্পষ্ট করার জন্য, কিংবা তিনি কুরআনের আয়াত ব্যবহার করেছেন এবং তার সাথে সেই বর্ণনাটি যুক্ত করেছেন যা তাঁর নিকট সঠিক মনে হয়েছে"(১)।

--------------------------------------------

(১) আজমির 'মানহাজুন নাকদি ইনদাল মুহাদ্দিসিন', পৃষ্ঠা ৭৭। (৩য় সংস্করণ, ১৯৯০ সাল, মাকতাবাতুল কাওসার, সৌদি আরব)।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد يعتذر عن الزركشي بأنه أراد أن يجمعَ كُلَّ ما اطلع على رواية فيها تصحيح السيدة عائشة لخطأ الراوي في روايته، أو فتواه، أو تأويله، أو عمله وإن كانت ضعيفة سندًا. على أنه كثيرًا ما ذكر ضعف الحديث بعدما ساقه وذكر الضعفاء من الرواة، أو سبب ضعفهم كما سيرى القارئ الكريم. وشيء آخر أن الزركشي أكثرَ الروايةَ عن الصحاح ولا سيما من "الصحيحين" و"السنن" والمصنفات، فعدد الأحاديث الضعيفة قليلة بالنسبة للأحاديث الصحيحة. وأما فتاوى بعض الصحابة فأكثرها مستندة إلى الحديث أو السنة وإن لم يصرحوا بأنه قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم أو فعله، وقد عدَّ بعض العلماء بعض هذه الفتاوى في حكم المرفوع، كما ورد بعضها في الكتب موقوفًا بسند ومرفوعًا بسند آخر.

ثم إن الزركشي لم يشترط في هذا الكتاب بأنه يجمع الأحاديثَ الصحيحة المرفوعة فقط، بل قال في مقدمته:

"وبعد، فهذا كتاب أجمعُ فيه ما تفردت به الصِّديقةُ رضي الله عنها، أو خالفت فيه سواها برأي منها أو كان عندها فيه سنة بينة، أو زيادة علم متقنة، أو أنكرت فيه على علماء زمانها، أو رجع فيه إليها أجلة من أعيان أوانها، أو حررته من فتوى، أو اجتهدت فيه من رأي رأته أقوى. موردًا ما وقع إليَّ من اختياراتها، ذاكرًا من الأخبار في ذلك ما وصل إليَّ عن رواتها، غير مدَّع في تمهيدها للاستيعاب، وأن الطاقة أحاطت بجمعِ ما في هذا الباب"(1).

ولا بُدَّ هنا أن نعترِف بأن الزركشي حاول أن يَعُدَّ أربعين خصيصةً مِن خصائص السيدة عائشة في أول كتابه واستدلّ فيها ببعض الرواياتِ

--------------------------------------------

(1) من مقدمة الزركشي للإجابة، ص 27 - 28.

আল-যারকাশীর পক্ষ থেকে এই ওজর পেশ করা যেতে পারে যে, তিনি সেই সকল বর্ণনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন যেখানে সায়্যিদা আয়েশা কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা, ফতোয়া, ব্যাখ্যা বা কর্মের ভুল সংশোধন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন, যদিও সেগুলোর সনদ বা সূত্র দুর্বল ছিল। তাছাড়া তিনি প্রায়শই হাদিসটি উল্লেখ করার পর সেটির দুর্বলতা বর্ণনা করেছেন এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের নাম অথবা তাদের দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করেছেন, যেমনটি সম্মানিত পাঠক দেখতে পাবেন। অন্য একটি বিষয় হলো, আল-যারকাশী বেশিরভাগ বর্ণনা 'সহীহ' গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে "সহীহাইন", "সুনান" এবং মুসান্নাফ গ্রন্থসমূহ থেকে অধিক পরিমাণে গ্রহণ করেছেন; তাই সহীহ হাদিসগুলোর তুলনায় দুর্বল হাদিসের সংখ্যা নগণ্য। আর কিছু সাহাবীর ফতোয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশেরই ভিত্তি হলো হাদিস বা সুন্নাহ, যদিও তারা স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেননি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেছেন বা করেছেন। কোনো কোনো আলেম এই ফতোয়াগুলোর কয়েকটিকে 'মারফূ' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস হিসেবে গণ্য) বিধানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি কোনো কোনো কিতাবে এক সনদে 'মাওকূফ' এবং অন্য সনদে 'মারফূ' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তাছাড়া আল-যারকাশী এই কিতাবে কেবল সহীহ মারফূ হাদিসগুলোই সংগ্রহ করার শর্তারোপ করেননি, বরং তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন:

"অতঃপর, এটি এমন একটি কিতাব যাতে আমি সেই সমস্ত বিষয় সংকলন করছি যেগুলোতে সিদ্দীকা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) অনন্য ছিলেন, অথবা যেগুলোতে তিনি নিজের মতের ভিত্তিতে অন্যদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কিংবা যে ক্ষেত্রে তাঁর নিকট কোনো স্পষ্ট সুন্নাহ অথবা সুনিপুণ অতিরিক্ত জ্ঞান ছিল, অথবা যে বিষয়ে তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের প্রতিবাদ করেছেন, অথবা যে বিষয়ে তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ তাঁর শরণাপন্ন হয়েছেন, অথবা যে ফতোয়া তিনি সংশোধন করেছেন, কিংবা যে বিষয়ে তিনি তাঁর কাছে শক্তিশালী মনে হওয়া মতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছেন। তাঁর যে সকল সিদ্ধান্ত বা চয়নকৃত বিষয় আমার কাছে পৌঁছেছে আমি তা উল্লেখ করেছি, এবং বর্ণনাকারীদের সূত্রে আমার কাছে পৌঁছেছে এমন সংবাদগুলোও এতে বর্ণনা করেছি; তবে এটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি সবটুকু অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছি না, কিংবা আমার সামর্থ্য এই বিষয়ের সব কিছু সংগ্রহে বেষ্টন করতে পেরেছে এমনটিও বলছি না"(১)。

এখানে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, আল-যারকাশী তাঁর কিতাবের শুরুতে সায়্যিদা আয়েশার বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্য থেকে চল্লিশটি বৈশিষ্ট্য গণনা করার চেষ্টা করেছেন এবং সেগুলোতে কিছু বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন

--------------------------------------------

(১) আল-ইজাবাহ কিতাবে আল-যারকাশীর ভূমিকা থেকে, পৃষ্ঠা ২৭ - ২৮।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الضعيفة، وبأقوال المتقدمين، واستنبط منها بعضَ الفوائد والنتائج، فيها شيءٌ مِن التكلف، وفيها نظر على ما رأينا كما وقع في خصائصها رقم (11، 12، 13، 25، 38، 40). ونظن أن الزركشي إنما عدها مدافعًا عن شأن السيدة ضدَّ الروافض الذين نالوا منها ونسبوها إلى ما برأها الله، وهم ليسوا بمقتنعين بهذه الاستدلالات الضعيفة، لأنهم لم يقتنعوا بما أنزل الله تعالى ببراءتها في القرآن الكريم. نعم، هي أم المؤمنين، أمُّنا العفيفة البريئة المبرَّأة مِن السماء، ويكفي لإثبات فضلها تلك الآياتُ المتواليات في سورة النور [النور: 11 - 26]، كما تكشف عن مدى علمها تلك الاستدراكات الحكيمة، إذًا لا حاجة إلى ذكر الروايات الضعيفة والأقوال المتكلفة بعدَ الكتاب والسنة الصحيحة، وأيُّ دليل أقوى من كتاب الله وسنة رسول الله؟! والذي يقرأ قسم الاستدراكات يطمئن اطمئنانًا كاملًا إلى درجة علم أمِّ المؤمنين وفضلها.

وأما قسم الاستدراكات، فقد اعترف بقيمته كل الباحثين المتخصصين ونحن نكتفي بأن نقول: لقد مرت على هذه الأمة ثمانمئة سنة تقريبًا وهي تحتاج إلى من يقوم بتأليف كتاب في نقد متن الحديث فقيض الله لها الإمام الزركشي حيث ألّف كتابه الإجابة، ثم مرت عليها ستمئة سنة أخرى حتى نشره لأول مرة الأستاذ سعيد الأفغاني، وأخيرًا مرت عليها أكثر من ستين سنة حتى وفقنا الله تعالى إلى تحقيقه تحقيقًا علميًّا تَقَرَّ به عيون أهل العلم بعد أن عثرنا على نسخة ثانية لأول مرة بحفظه وعنايته.
...দুর্বল বর্ণনা এবং পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের মাধ্যমে এবং তা থেকে কিছু ফায়দা ও ফলাফল বের করেছেন, যার মধ্যে কিছুটা কষ্টকল্পনা রয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে তাতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে, যেমনটি তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলির ১১, ১২, ১৩, ২৫, ৩৮, ৪০ নম্বরগুলোতে ঘটেছে। আমরা মনে করি যে, যারকাশী এগুলো কেবল সাইয়্যিদার (আয়েশা রা.) মর্যাদার পক্ষে প্রতিরক্ষা স্বরূপ উল্লেখ করেছেন সেই রাফেযীদের বিরুদ্ধে যারা তাঁকে অবমাননা করেছে এবং তাঁকে এমন বিষয়ের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছে যা থেকে আল্লাহ তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তারা এই দুর্বল দলীলগুলোর মাধ্যমে সন্তুষ্ট হবে না, কারণ তারা স্বয়ং মহান আল্লাহ কুরআনে কারীমে তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে যা নাযিল করেছেন তাতেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি। হ্যাঁ, তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন, আমাদের পবিত্রা ও নিষ্পাপ জননী যাকে আসমান থেকে পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মর্যাদা প্রমাণের জন্য সূরা আন-নূরের এই ধারাবাহিক আয়াতসমূহ [আন-নূর: ১১-২৬] যথেষ্ট। একইভাবে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ সংশোধনসমূহ (ইস্তিদরাকাত) তাঁর ইলমের গভীরতা উন্মোচন করে। সুতরাং কিতাবুল্লাহ এবং সহীহ সুন্নাহর পরে দুর্বল বর্ণনা এবং কষ্টকল্পিত উক্তি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর চেয়ে শক্তিশালী দলীল আর কী হতে পারে?! আর যে ব্যক্তি সংশোধন (ইস্তিদরাকাত) অধ্যায়টি পাঠ করবে, সে উম্মুল মুমিনীনের ইলমের মর্যাদা ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে পূর্ণরূপে আশ্বস্ত হবে।

আর সংশোধন (ইস্তিদরাকাত) অংশের ব্যাপারে সকল বিশেষজ্ঞ গবেষকই এর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। আমরা কেবল এটুকু বলাই যথেষ্ট মনে করি যে: এই উম্মতের ওপর প্রায় আটশ বছর এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যখন তারা হাদীসের মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল। অতঃপর আল্লাহ এই উম্মতের জন্য ইমাম যারকাশীকে নির্ধারিত করলেন এবং তিনি তাঁর 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটি রচনা করলেন। এরপর আরও ছয়শ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানী প্রথমবার এটি প্রকাশ করেন। পরিশেষে আরও ষাট বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা তাঁরই বিশেষ হেফাযত ও যত্নে আমাদের একটি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি লাভের এবং একে একটি উচ্চতর ইলমী তাহকীকের মাধ্যমে সম্পাদনা করার তাওফীক দান করেছেন, যা দেখে আহলে ইলমদের চক্ষু শীতল হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌3 - الإمام الزركشي في سطور على الترتيب الزمني

سنة

745 - ولد محمد بن بَهَادِر، بدر الدين الزركشي في مصر.

- وكان أبوه من الأتراك وكان مملوكًا لبعض الأكابر.

(755) - اشتغل في صغره بخدمةِ أحدِ المماليك، وتعلم صنعة الزركشة (التطريز بالذهب)، فمهر بها حتى لقب بـ "الزركشي".

- ثم ترك هذه الصنعة فعُنِيَ بالاشتغالِ بتحصيل العلم منذ صغره، وبدأ يتردد بين المشايخ، والعلماء في مصر.

- لازم الشيخين: جمالَ الدين الإسنوي حتى توفاه الله سنة 772 هـ، وسراجَ الدين البُلقيني حتى وَلِيَ قضاءَ الشام سنة (769 هـ).

- حفظ "منهاج الطالبين" للنووي عند البُلقيني وهو صغير فَلُقِّب بـ "المنهاجي". ثم حفظ كتبًا كثيرة من المختصرات والمتون.

قبل 762 - تخرج بِمُغُلْطَاي المتوفى سنة (762 هـ) في الحديث.

763 - رحل إلى حلب وهو في الثامنة عشرة من عمره، فالتقى بالشيخ الشهاب الأذرعي (ت / 783) ولازمه.

764 - ألّف كتابه "عقود الجمان".

- ثم رحل إلى الشيخ الصلاح بن أبي عمر (ت / 780)، والإمام ابن أميلة (ت / 778) فلازمهما.

- ثم تتلمذ على غير هؤلاءِ رحمهم الله، وسَمِعَ الحديثَ بدمشق وغيرها من الشيخ ابن كثير (ت / 774) وابن الحنبلي الشافعي (ت/ 774).

769 - استقل عن شيخه البلقيني لما وَلِيَ قضاء الشام.
‌‌৩ - কালানুক্রম অনুসারে সংক্ষেপে ইমাম যারকাশী

সন

৭৪৫ - মুহাম্মাদ ইবনে বাহাদুর, বদরুদ্দীন যারকাশী মিশরে জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর পিতা তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তির ক্রীতদাস ছিলেন।

(৭৫৫) - শৈশবে তিনি জনৈক মামলুকের খিদমতে নিযুক্ত ছিলেন এবং যারকাশা (স্বর্ণখচিত সূচিকর্ম) শিল্প শিক্ষা করেন। তিনি এতে এতটাই পারদর্শিতা অর্জন করেন যে, তিনি "যারকাশী" উপাধিতে ভূষিত হন।

- অতঃপর তিনি এই পেশা পরিত্যাগ করে শৈশব থেকেই জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং মিশরের শাইখ ও ওলামাদের নিকট যাতায়াত শুরু করেন।

- তিনি দুইজন শাইখের সান্নিধ্যে থাকেন: জামালুদ্দীন আল-ইসনাভী—যতক্ষণ না ৭৭২ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়, এবং সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী—যতক্ষণ না তিনি (৭৬৯ হিজরীতে) শামের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।

- তিনি ছোটবেলাতেই আল-বুলকিনীর নিকট ইমাম নববীর "মিনহাজুত তালিবীন" মুখস্থ করেন, যার ফলে তাঁকে "মিনহাজী" উপাধি দেওয়া হয়। এরপর তিনি বহু সংক্ষিপ্তসার ও মূলপাঠ (মতন) মুখস্থ করেন।

৭৬২-এর পূর্বে - তিনি হাদীসশাস্ত্রে মুগুলতাই (ওফাত ৭৬২ হিজরী)-এর নিকট শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

৭৬৩ - আঠারো বছর বয়সে তিনি আলেপ্পোতে গমন করেন এবং সেখানে শাইখ শিহাব আল-আজরুঈ (ওফাত ৭৮৩)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন।

৭৬৪ - তিনি তাঁর "উকূদুল জুমান" গ্রন্থটি রচনা করেন।

- অতঃপর তিনি শাইখ সালাহ ইবনে আবী উমর (ওফাত ৭৮০) এবং ইমাম ইবনে উমাইলা (ওফাত ৭৭৮)-এর নিকট সফর করেন এবং তাঁদের সান্নিধ্যে থাকেন।

- অতঃপর তিনি তাঁদের ছাড়াও অন্যান্যদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন), এবং দামেস্ক ও অন্যান্য স্থানে শাইখ ইবনে কাসীর (ওফাত ৭৭৪) ও ইবনুল হানবালী আশ-শাফিঈ (ওফাত ৭৭৪)-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।

৭৬৯ - যখন তাঁর শাইখ আল-বুলকিনী শামের বিচারক নিযুক্ত হন, তখন তিনি তাঁর থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
- جمع حواشي "الروضة" للبلقيني - وهو المسمى بـ "الزركشية" - وهو في الرابعة والعشرين من عمره.

772 - أكمل شرح كتاب المنهاج، الذي كان قد بدأ شرحه شيخه الإسنوي ومات قبل أن يكمله، فأكمله الزركشي وهو في السابعة والعشرين من عمره.

- رزقه الله بالبنات والبنين: عائشة وفاطمة ومحمد وعلي وأحمد.

- تفرغ للعلم تفرغًا كاملًا، فلم يشغله عن ذلك شاغل، وكان له أقاربُ يكفونه أمر دنياه، ويكفونه مؤنةَ عياله، فتوفر له الوقتُ، وبارك اللهُ له فيه، فأنتج التصانيفَ الكثيرة المتنوعة في العلوم.

- تولى إمامة أيوان الشافعية بالمدرسة الظاهرية فدرَّس وأفتى.

789 - تتلمذ عليه ابن حِجي بعدَ قدومه إلى مصر سنة (789).

- وولي مشيخة خانقاه كريم الدين بالقَرافة الصغرى.

قبل 790 - ألّف كتابه "الإجابة" وأهداه إلى القاضي برهان الدين بن جَماعة المتوفى سنة (790 هـ).

792 - رزق بابنه الصغير أحمد.

794 - قرأ عليه "الإجابة" ابنُه محمد مع حضورِ إخوانه وأخواته وأجاز الزركشيُّ لهم بجميع مؤلفاته.

794 - توفي الزركشي في يوم الأحد الثالث من شهر رجب بمصر ودفن بالقرافة الصغرى بالقرب من تربة بكتمر الساقي(1). أدخله الله جنانه برحمته الواسعة.

--------------------------------------------

(1) عن الدرر الكامنة لابن حجر، وشذرات الذهب لابن العماد الحنبلي، وطبقات المفسرين للداودي، وذيل طبقات الحفاظ للسيوطي، وطبقات الشافعية لابن قاضي، ومقدمات للإجابة وزهر العريش وخبايا الزوايا بتصرف يسير.

- চব্বিশ বছর বয়সে তিনি আল-বুলকিনির 'আর-রাওদাহ'-এর টীকাগুলো (হাশিয়া) সংগ্রহ করেন - যা 'আয-যারকাশিয়্যাহ' নামে পরিচিত।

৭৭২ - তিনি 'কিতাবুল মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করেন, যা তাঁর উস্তাদ আল-ইসনাভি শুরু করেছিলেন কিন্তু তা শেষ করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। ফলে আয-যারকাশি সাতাইশ বছর বয়সে এটি সম্পন্ন করেন।

- আল্লাহ তাকে কন্যা ও পুত্র সন্তান দান করেন: আয়েশা, ফাতিমা, মুহাম্মাদ, আলী এবং আহমাদ।

- তিনি ইলম অর্জনে নিজেকে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন, কোনো ব্যস্ততাই তাকে এর থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তাঁর এমন কিছু আত্মীয় ছিল যারা তাঁর পার্থিব বিষয়াবলি ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। ফলে তিনি পর্যাপ্ত সময় পান এবং আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন, যার ফলে তিনি বিভিন্ন ইলমের ওপর অনেক বিচিত্র কিতাব রচনা করেন।

- তিনি আল-মাদরাসাতুজ জাহিরিয়্যাহ-তে শাফেয়ি আইওয়ানের ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের কাজ সম্পন্ন করেন।

৭৮৯ - ইবনে হিজজি ৭৮৯ হিজরিতে মিসরে আসার পর তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন।

- তিনি আল-কারাফাতুস সুগরা-তে কারীমুদ্দিন খানকাহ-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৭৯০ হিজরির পূর্বে - তিনি তাঁর 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং তা ৭৯০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী কাজী বুরহানুদ্দিন ইবনে জামাআহ-কে উপহার দেন।

৭৯২ - তিনি তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আহমাদকে লাভ করেন।

৭৯৪ - তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ভাই-বোনদের উপস্থিতিতে তাঁর নিকট 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটি পাঠ করেন এবং আয-যারকাশি তাঁদের সকলকে তাঁর সমস্ত রচনার ইজাজত প্রদান করেন।

৭৯৪ - আয-যারকাশি রজম মাসের তিন তারিখ রবিবার মিসরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে আল-কারাফাতুস সুগরা-তে বাক্তামুর আস-সাকির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়(১)। আল্লাহ তাঁর প্রশস্ত রহমতে তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ', ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলির 'শাযারাতুয যাহাব', আদ-দাউদীর 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন', আস-সুয়ুতির 'যাইলু তাবাকাতিল হাফিজ', ইবনে কাজি শুহবার 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ' এবং 'আল-ইজাবাহ', 'যাহরুল আরিশ' ও 'খাবায়াল যাওয়ায়া' এর ভূমিকা থেকে সামান্য পরিবর্তনসহ গৃহীত।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌4 - مكانة الزركشي العلمية

هو الشيخُ بدرُ الدين الزركشي محمدُ بنُ بهادر بن عبد الله التركيُّ الأصل، المصريُّ المَوْطِن. وكان الزركشي مثالَ الطالب المجتهد، ثم مثالَ العالم المتفرغِ للعلم، لا يشغلُه عنه غيره، التزم شيوخه أثناءَ الطلب والتزم دارَه أثناء التأليف، وكان يتردد على المكتبات الأميرية، والمكتبات الخاصة مثل مكتبة القاضي برهان الدين بن جماعة، أو إلى سوق الكتب، يُطالع في حانوت الكتبي طولَ نهاره، ومعه ظهورُ أوراق يُعلق فيها ما يُعجبه، ثم يرجع، فينقله إلى تصانيفه.

بعدَ رحيلهِ إلى الشام، وأخذه عن الأذرعي، وابن كثير، وهُمْ مِن جيل العلماء الذين خَلَفُوا الفحولَ أمثال النووي وابنِ تيمية وابنِ القيم وابنِ الصلاح فاتصل عِلمُه - عن طريق شيوخه - بعلمهم، تأثر الزركشيُّ بشيوخه الذين تَلْمَذَ لهم، كما تبيَّن تأثُّره بطريقتهم في التأليف وسلوكِهم في حياتهم العامة.

ولقد استقلَّ بالتأليف في وقت مبكر، وأخذ من الذين سبقوه، وانتفع بهم خاصة شيوخ المذهب الذين انتشرت أسماؤهم وأسماء كتبهم في مصنفاته، ولكنه كان يعزو ما يأخذه إلى أصحابه، وإلى كتبهم. ولكن الزركشي - مع هذا - لم يكن مجردَ ناقل أو مقتبس، وإنما هو مؤلفٌ يعتمدُ على طرق البحث العلمي ومناهجه. نعم هو يأخذ من السابقين، ولكنه يُؤلف بين الآراء، ويُقرر مذهبه، وقد لاحظ العلماءُ والفقهاء الذين قرؤوا مؤلفاتهِ ذلك، وعلقوا عليه.

لم يشتهر الزركشي - مع عُلو قدره - إلا بعدَ موته، ويرجع ذلك إلى عزلته وعزوفه عن الحياة الاجتماعية، وحجبه نفسَه عن الناس لِميله
৪ - যারকাশির ইলমি মর্যাদা

তিনি হলেন শায়খ বদরুদ্দীন যারকাশি মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি বংশগতভাবে তুর্কি এবং আবাসস্থলে মিশরীয়। যারকাশি ছিলেন একজন পরিশ্রমী ছাত্রের দৃষ্টান্ত, অতঃপর ইলমের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন আলেমের উদাহরণ, যাকে জ্ঞানার্জন ব্যতীত অন্য কোনো কিছু ব্যস্ত রাখত না। তিনি জ্ঞানার্জনের সময় তাঁর শায়খদের সান্নিধ্যে থাকতেন এবং গ্রন্থ রচনার সময় নিজ ঘরে অবস্থান করতেন। তিনি আমীরি (রাজকীয়) লাইব্রেরি এবং ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোতে যাতায়াত করতেন, যেমন কাযী বুরহানুদ্দীন ইবনে জামা’আহর লাইব্রেরি; অথবা বইয়ের বাজারে যেতেন। তিনি সারাদিন বই বিক্রেতার দোকানে পড়াশোনা করতেন এবং তাঁর সাথে কাগজের পৃষ্ঠা থাকত যাতে তিনি তাঁর পছন্দনীয় বিষয়গুলো টুকে রাখতেন। এরপর ফিরে এসে সেগুলো তাঁর গ্রন্থসমূহে সংকলন করতেন।

সিরিয়া ভ্রমণের পর তিনি আযরাঈ এবং ইবনে কাসীরের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁরা ছিলেন সেই প্রজন্মের আলেম যারা নববী, ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনে কাইয়্যিম এবং ইবনে সালাহর মতো মহীরুহদের উত্তরসূরি ছিলেন। ফলে তাঁর শায়খদের মাধ্যমে তাঁদের ইলমের সাথে তাঁর ইলমের সংযোগ স্থাপিত হয়। যারকাশি তাঁর সেই শায়খদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন যাদের নিকট তিনি ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি তাঁর গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি এবং তাঁদের সাধারণ জীবনযাত্রার অনুসরণে তাঁর মধ্যে প্রকাশ পায়।

তিনি অল্প বয়সেই স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন এবং পূর্বসূরিদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও উপকৃত হন, বিশেষ করে মাযহাবের সেই শায়খদের থেকে যাঁদের নাম এবং যাঁদের কিতাবের নাম তাঁর কিতাবসমূহে ব্যাপকভাবে এসেছে। তবে তিনি যা কিছু গ্রহণ করতেন তা তার মূল প্রবক্তা এবং তাঁদের কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করতেন। তা সত্ত্বেও যারকাশি কেবল একজন নকলকারী বা উদ্ধৃতি প্রদানকারী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একজন লেখক যিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি ও তার নীতিমালার ওপর নির্ভর করতেন। হ্যাঁ, তিনি পূর্বসূরিদের থেকে গ্রহণ করতেন, কিন্তু তিনি বিভিন্ন মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন। যে সকল আলেম ও ফকিহ তাঁর গ্রন্থগুলো পড়েছেন তাঁরা বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন এবং এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

যারকাশি তাঁর উচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কেবল মৃত্যুর পরেই খ্যাতি লাভ করেন। এর কারণ ছিল তাঁর নির্জনতা প্রিয়তা এবং সামাজিক জীবন থেকে বিমুখতা, এবং মানুষের থেকে নিজেকে আড়ালে রাখা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الطبيعي إلى العزلة وضيق ذات يده، والزهد في الحياة، والإقبال على التحصيل والتصنيف، في عزلته بعيدًا عن أضواء المجتمع.

ومع هذا فلم يجهل قدرَ علمه العلماء الذين عاصروه، والذين جاؤوا بعده، كالحافظ ابن حجر الذي ترجم له ترجمة حسنةً وافية في "الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة"، فقد عرف ابن حجر قدرَه، إذ وقف على مؤلفاته في الحديث، وأفاد منها، كذلك أفاد منه في علوم الحديث، من نكته الجيدة على كتاب المصطلح في علومِ الحديثِ لابنِ الصلاح، كما أفاد من شرحه على صحيح البخاري في "فتح الباري".

يُعَدُّ الإمامُ السيوطي أكثَر العلماء انتفاعًا بالزركشي، سار على الدرب الذي رسمه، ونقل كثيرًا من فصوله، مرة معزوة إليه، ومرةً بدون عزو. أفاد منه في جوانبَ كثيرة من تأليفه، وقد انتفع بالزركشي غير ابن حجر والسيوطي، علماءُ كثيرون.

ولم يقتصر الانتفاع بالزركشي في مجال تحقيق السنة وعلوم القرآن فحسب، بل انتفع العلماء بعلمه في مجال الفقه وعلوم الحديث وغيرها. نعم انتفع به الفقهاء خاصة فقهاء الشافعية الذين جاؤوا من بعده. وقد قال العلامة ابن حجر عن "تكملة شرح المنهاج" للزركشي: هو أنفع شروح المنهاج على كثرتها(1).

وقد راجعنا قرص "المكتبة الألفية للسنة النبوية" لنبحث عن اسم "الزركشي" في المصارد المختلفة فوجدناه قد تكرر اسم "الزركشي" أكثر من ثلاثمئة مرة كما يلي بعضها:

--------------------------------------------

(1) لخصناه من مقدمة الدكتور السيد أحمد فرج على "زهر العريش" للزركشي، ص 5 - 24 بتصرفات قليلة.

নির্জনতা ও আর্থিক অনটন, পার্থিব জীবনের প্রতি অনাগ্রহ এবং সমাজ থেকে দূরে নির্জনে জ্ঞান অর্জন ও গ্রন্থ রচনার প্রতি স্বভাবজাত প্রবণতা।

তা সত্ত্বেও সমসাময়িক এবং পরবর্তী আলেমগণ তাঁর ইলমের মর্যাদা বিস্মৃত হননি। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার, যিনি 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আয়ানিল মায়াতিত ছামিনাহ' গ্রন্থে তাঁর একটি উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনী বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার তাঁর গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁর হাদিস বিষয়ক গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করেছেন এবং সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন। একইভাবে তিনি হাদিস শাস্ত্রের ইলমেও তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদিস বিষয়ক কিতাবের ওপর তাঁর চমৎকার মন্তব্যসমূহ থেকে। তদ্রূপ 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে সহীহ বুখারীর শরহেও তিনি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন।

ইমাম সুয়ূতীকে আলেমদের মধ্যে যারকাশীর দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়া ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি যারকাশীর অঙ্কিত পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর গ্রন্থ থেকে অনেক পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন; কখনো তাঁর নাম উল্লেখ করে, আবার কখনো উল্লেখ না করে। তিনি তাঁর রচনার অনেক ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। ইবনে হাজার ও সুয়ূতী ছাড়াও আরও অনেক আলেম যারকাশীর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।

যারকাশীর দ্বারা উপকৃত হওয়া কেবল সুন্নাহর তাহকীক এবং কুরআনুল কারীমের ইলমের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আলেমগণ ফিকহ, হাদিস শাস্ত্র এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর পরবর্তী শাফেয়ী ফকীহগণ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। আল্লামা ইবনে হাজার যারকাশীর 'তাকমিলাতু শারহিল মিনহাজ' সম্পর্কে বলেছেন: মিনহাজের অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি উপকারী(১)।

আমরা বিভিন্ন উৎসে 'যারকাশী' নামটি অনুসন্ধান করার জন্য 'আল-মাকতাবাতুল আলফিয়্যাহ লিস-সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ' ডিস্কটি পর্যালোচনা করেছি এবং সেখানে 'যারকাশী' নামটি তিনশতেরও বেশি বার পেয়েছি, যার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো:

--------------------------------------------

(১) এটি আমরা যারকাশী রচিত 'যাহরুল আরীশ' গ্রন্থের ওপর ডক্টর সাইয়্যেদ আহমদ ফরাজের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৫-২৪) থেকে সামান্য পরিমার্জনসহ সংক্ষেপ করেছি।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
في "فيض القدير" لعبد الرؤوف المناوي … 107 … مرة

في "كشف الخفاء" للعجلوني … 37 … مرة

في "فتح الباري" لابن حجر العسقلاني … 25 … مرة

في "شرح السيوطي لسنن النسائي" … 22 … مرة

في "كشف الظنون" لحاجي خليفة … 19 … مرة

في "تدريب الراوي" للسيوطي … 17 … مرة

في "المصنوع" لعلي القاري … 11 … مرة

في "عون المعبود" لعظيم آبادي … 11 … مرة

نظن أن هذا الإحصاء البسيط يكفي للتدليل على اعتماد أصحاب التصانيف على الزركشي وعلمه وتأليفاته رحمه الله تعالى.
আবদুর রউফ আল-মুনাবির "ফয়জুল কাদির"-এ … ১০৭ … বার

আল-আজলুনির "কাশফুল খাফা"-এ … ৩৭ … বার

ইবনে হাজার আল-আসকালানির "ফাতহুল বারি"-তে … ২৫ … বার

"সুনানে নাসায়ি-র শরহ সুয়ূতি"-তে … ২২ … বার

হাজি খলিফার "কাশফুজ জুনুন"-এ … ১৯ … বার

আস-সুয়ূতির "তাদরীবুর রাবি"-তে … ১৭ … বার

আলি আল-কারির "আল-মাসনু"-এ … ১১ … বার

আজিম আবাদির "আউনুল মাবুদ"-এ … ১১ … বার

আমরা মনে করি যে, গ্রন্থকারগণ আজ-জারকাশি, তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর রচনাবলির ওপর যে নির্ভর করেছেন, তা প্রমাণ করার জন্য এই সাধারণ পরিসংখ্যানটিই যথেষ্ট, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌5 - مؤلفات الزركشي

ألّف الإمامُ الزركشيُّ في الفقه والأصولِ والحديثِ والتفسيرِ والتاريخِ والبلاغةِ والأدبِ مما يدل على مكانته الفائقةِ ورسوخهِ في العلم، ولُقِّبَ بالمصنف لكثرة تصانيفه. وسنذكر هنا تلك المؤلفات في ثلاثة أقسام: المطبوعة والمخطوطة والمنسوبة إليه، مراعين في ذلك ترتيبها على حروف المعجم.

 

‌‌أ - مؤلفاته المطبوعة:

1 - الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة.

نشره الأستاذ سعيد الأفغاني عن المكتب الإسلامي دمشق - بيروت سنة 1939 م، ط الرابعة سنة 1985 م. ونشره أيضًا أ. د. رفعت فوزي عبد المطلب عن مكتبة الخانجي بالقاهرة سنة 2001 م، بعدما انتهينا من تحقيق الكتاب قبيل طبعه.

2 - إعلام الساجد في أحكام المساجد.

نشره المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية (مصر) بتحقيق الشيخ أبو الوفا المراغي سنة 1977 م، ومطابع الأهرام التجارية بالقاهرة سنة 1982 م، ودار الكتب العلمية ببيروت سنة 1995 م.

3 - البحر المحيط (في أصول الفقه).

نشرته وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية في دولة الكويت، ويقع في ست مجلدات اعتنى بها أربعة من الأساتذة الفضلاء.

4 - البرهان في علوم القرآن.

حققه الأستاذ محمد أبو الفضل إبراهيم ونشر بمصر سنة 1957 م، وله طبعات مختلفة أيضًا.
৫ - আল-যরকাশীর রচনাবলি

ইমাম আল-যরকাশী ফিকহ, উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র), হাদিস, তাফসির, ইতিহাস, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাহিত্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং ইলমের গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। তাঁর প্রচুর রচনার কারণে তাঁকে ‘আল-মুসান্নিফ’ (বিপুল গ্রন্থকার) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। আমরা এখানে তাঁর সেই রচনাবলিকে তিনটি ভাগে উল্লেখ করব: মুদ্রিত, পাণ্ডুলিপি এবং তাঁর প্রতি নিসবতকৃত (আরোপিত) গ্রন্থাবলি; এক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুসরণ করা হয়েছে।

 

‌ক - তাঁর মুদ্রিত রচনাবলি:

১ - আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবা (সাহাবাগণের ওপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রদত্ত সংশোধনীসমূহের উপস্থাপনা)।

এটি উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি দামেস্ক ও বৈরুতের আল-মাকতাবুল ইসলামি থেকে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন, যার চতুর্থ সংস্করণ ১৯৮৫ সালে বের হয়। এছাড়াও অধ্যাপক ড. রিফআত ফাউজি আব্দুল মুত্তালিব কায়রোর মাকতাবাতুল খানজি থেকে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রকাশ করেন, যা বইটির মুদ্রণের অব্যবহিত পূর্বে আমাদের তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজ শেষ হওয়ার পর সম্পন্ন হয়।

২ - ইলামুস সাজিদ ফি আহকামিল মাসাজিদ (মসজিদসমূহের বিধানাবলীতে মুসল্লিদের জন্য নির্দেশনা)।

মিশরের ‘মাজলিসুল আলা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামি বিষয়ক উচ্চ পরিষদ) শেখ আবু আল-ওয়াফা আল-মারাগির সম্পাদনায় ১৯৭৭ সালে এটি প্রকাশ করে। এছাড়াও কায়রোর আল-আহরাম কমার্শিয়াল প্রেস ১৯৮২ সালে এবং বৈরুতের দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ ১৯৯৫ সালে এটি প্রকাশ করে।

৩ - আল-বাহরুল মুহিত (উসুলে ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ে)।

এটি কুয়েত রাষ্ট্রের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। এটি ছয় খণ্ডে বিভক্ত এবং চারজন বিশিষ্ট অধ্যাপক এর সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৪ - আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (কুরআনের জ্ঞানসমূহের অকাট্য প্রমাণ)।

উস্তাদ মুহাম্মাদ আবু আল-ফজল ইবরাহিম এটি সম্পাদনা করেছেন এবং ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে মিশরে এটি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও এর বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা স্তাদরাকাতহু আইশাহ আলাস সাহাবাহ - ত আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
5 - التذكرة في الأحاديث المشتهرة.

نشرته دار الكتب العلمية ودار الكتب العالمية ببيروت سنة 1986 م.

6 - تشنيف المسامع بجمع الجوامع.

طبع في مجموع شروح جمع الجوامع بالقاهرة سنة 1322 هـ.

7 - التنقيح لألفاظ الجامع الصحيح (للإمام البخاري).

طبع بالمطبعة العصرية بمصر سنة 1933 م.

8 - خبايا الزوايا (في الفروع).

حققه عبد القادر عبد الله العاني وطبعته وزارة الأوقاف بالكويت سنة 1982 م.

9 - الديباج في توضيح المنهاج.

مطبوع في المطبعة العثمانية بمصر سنة 1306 هـ.

10 - زهر العريش في تحريم الحشيش.

حققه الدكتور السيد أحمد فرج وطبعته دار الوفاء بالمنصورة سنة 1987 م.

11 - سلاسل الذهب في الأصول.

نشرته مكتبة ابن تيمية بالقاهرة سنة 1990 م.

12 - الغرر السوافر فيما يحتاج إليه المسافر.

طبعه المكتب الإسلامي ببيروت، سنة 1989 م.

13 - اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة.

نشره المكتب الإسلامي ببيروت، سنة 1996 م.

14 - لقطة العجلان وبلة الظمآن.
৫ - প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের স্মারক গ্রন্থ।

এটি ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বৈরুতের দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ এবং দারুল কুতুব আল-আলামিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৬ - জামউল জাওয়ামি’-এর মাধ্যমে কর্ণকুহরের তৃপ্তিসাধন।

এটি ১৩২২ হিজরি সনে কায়রোতে মুদ্রিত জামউল জাওয়ামি’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

৭ - আল-জামি’ আস-সহিহ (ইমাম বুখারি কৃত)-এর শব্দাবলির পরিমার্জন।

এটি ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের আল-মাতবাআ আল-আসরিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

৮ - শাখা-প্রশাখার নিগূঢ় রহস্যসমূহ (ফروع বা ব্যবহারিক ফিকহ শাস্ত্রে)।

এটি আব্দুল কাদির আব্দুল্লাহ আল-আনি সম্পাদনা করেছেন এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে কুয়েতের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (আওকাফ) থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

৯ - মিনহাজ-এর ব্যাখ্যায় রেশমি বস্ত্র।

এটি ১৩০৬ হিজরি সনে মিশরের আল-মাতবাআ আল-উসমানিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

১০ - গাঁজা হারাম হওয়ার বর্ণনায় উদ্যানের ফুল।

এটি ডক্টর সাইয়্যেদ আহমদ ফারাজ সম্পাদনা করেছেন এবং ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে মানসুরার দারুল ওয়াফা থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

১১ - মূলনীতিশাস্ত্রের স্বর্ণশৃঙ্খল।

এটি ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোর মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

১২ - মুসাফিরের প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সংক্রান্ত উজ্জ্বল নিদর্শন।

এটি ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বৈরুতের আল-মাকতাব আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

১৩ - প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ নিয়ে বিচ্ছুরিত মুক্তামালা।

এটি ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে বৈরুতের আল-মাকতাব আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

১৪ - ত্বরিতগামী ব্যক্তির প্রাপ্ত বস্তু ও তৃষ্ণার্তের পিপাসা নিবারক।