(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: -)
نهج الرشاد في نظم الاعتقاد   (السرمري)

القسم: العقيدة


الكتاب: نهج الرشاد في نظم الاعتقاد

المؤلف: يوسف بن محمد بن مسعود بن محمد العبادي العقيلي، جمال الدين السرمري (ت 776هـ)

المحقق: أبو المنذر المنياوي

الناشر: أرسله محققه للمكتبة الشاملة

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 128

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو الحجة 1435

নাহজুল রাশাদ ফি নাজমিল ই'তিকাদ   (আস-সারমারী)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: নাহজুল রাশাদ ফি নাজমিল ই'তিকাদ

লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন মাসউদ বিন মুহাম্মদ আল-আব্বাদি আল-উকায়লি, জামালুদ্দিন আস-সারমারী (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)

সম্পাদক: আবু আল-মুনজির আল-মিনইয়াউই

প্রকাশক: এর সম্পাদক এটি মাকতাবাতুশ শামিলার কাছে পাঠিয়েছেন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}

أما بعد ..

فإنه مما يمتن به المولى عز وجل على الإنسان أن ييسر له طرقَ الخير، فأحمد الله للعلي الكبير أن يسر لي الوقوف على هذا المخطوط ضمن مجموعة أخرى من المخطوطات التي قام بتصويرها عن طريق الحاسب الآلي، ونشرها بين طلاب العلم بعض الإخوة المحبين لنشر العلم - فجزاهم الله خيراً- وكان هذا المخطوط هو أول ما لفت نظري من بينهم، فأخذت في قراءته، فألفيته رائعة من روائع السلف، ينم على غزارة علم ناظمها، فاستعنت بالله عز وجل متطفلاً على موائد المحققين، وأخذت في بذل الوسع لتحقيقه، والتعليق عليه، لإخراجه في أفضل صورة أستطيعها، فلله الفضل، والمنة.

 

‌‌سبب اختيار هذا المخطوط:

1 - تعلقه بأشرف العلوم، وهو علم العقيدة.

2 - تضمين الناظم فيه لبعض القضايا الفقهية الهامة كبيان: تحريم المسكرات، والمعازف والغناء، وربا الفضل، والحيل المذمومة، وبذلك تحققت فيه شمولية، وتنوع مواده.

3 - اشتمال المنظومة على بيان عقيدة السلف، والرد على المخالفين، وبيان زيف منهجهم بأسلوب رائع، وحجة قوية.

4 - تعريف الناس بهذا العلم الجهبذ، فإنه مع كثرة تصانيفه، وسلامة منهجه، وثناء العلماء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথপ্রদর্শক হতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}

অতঃপর ..

নিশ্চয় মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি যে অনুগ্রহগুলো করেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার জন্য কল্যাণের পথসমূহ সহজ করে দেওয়া। তাই আমি সেই সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন সেই পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্য থেকে যা ইলম প্রচারে আগ্রহী কিছু ভাই কম্পিউটারের মাধ্যমে ছবি তুলেছেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন - আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। এই পাণ্ডুলিপিসমূহর মধ্যে এটিই সর্বপ্রথম আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাই আমি এটি পড়া শুরু করি এবং আমি একে সালাফদের অনন্য রত্নসমূহের একটি হিসেবে দেখতে পাই, যা এর রচয়িতার জ্ঞানের গভীরতাকে নির্দেশ করে। এরপর আমি মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে গবেষকদের মজলিসের একজন নগণ্য ব্যক্তি হিসেবে এর তাহকীক ও টীকা প্রদানের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা শুরু করি, যেন একে আমার সাধ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম রূপে প্রকাশ করতে পারি। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই জন্য।

 

‌‌এই পাণ্ডুলিপিটি নির্বাচনের কারণ:

১ - এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইলম বা বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো আকীদা শাস্ত্র।

২ - কাব্য রচয়িতা এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন: মাদকদ্রব্য, বাদ্যযন্ত্র ও গান, রিবাল ফজল এবং নিন্দনীয় কৌশলের নিষিদ্ধতার বর্ণনা। এর ফলে এর মধ্যে ব্যাপকতা ও বিষয়ের বৈচিত্র্য অর্জিত হয়েছে।

৩ - এই কাব্যগ্রন্থে সালাফদের আকীদার বর্ণনা, বিরোধীদের খণ্ডন এবং চমৎকার শৈলী ও জোরালো প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মানহাজের অসারতা ফুটে উঠেছে।

৪ - মানুষকে এই বিজ্ঞ পণ্ডিতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, কেননা তাঁর অসংখ্য রচনা, মানহাজের বিশুদ্ধতা এবং আলেমদের উচ্চ প্রশংসা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
عليه، إلا أنه لم يطبع له رحمه الله سوى نظم: "الحمية الإسلامية للانتصار لمذهب ابن تيمية" - وهو غير مشهور -.

 

‌‌عملي في المخطوط:

1 - قمت بنسخه، وتصحيحه.

2 - قمت بإثبات ما وجدته من تصويبات على هامش المخطوط، وأشرت في هامش التحقيق إلى الفروق بين الأصل، والتصويب.

3 - قمت بوضع عناوين، وتقاسيم للمنظومة لتقريبها للقارئ، وتيسيراً للإفادة منها.

4 - ضبط، وشكل ألفاظه (1)، مع ترقيم الأبيات؛ ليسهل تناولها على القارئ.

5 - التعليق، والتوضيح لما أشكل، أو استغلق من ألفاظه، وذلك بإتباع ما يلي:

أ - ذكر الأدلة الشرعية التي تعضد ما ذهب إليه الناظم.

ب - شرح غريب الألفاظ بالرجوع إلى كتب المعاجم، والغريب.

ج - تقريب المعنى الذي يقصده الناظم فيما أشكل من أبيات، مع البعد عن التكلف، والغلو.

د - التعليق على ما يظهر أن الناظم قد جانبه فيه الصواب، مع محاولة تحميل كلام الناظم على أفضل محامله، على أن يكون ذلك مدعوماً بالأدلة الشرعية، ومشفوعاً بكلام أهل العلم.

هـ - وقد راعيت أثناء كتابتي للتعليقات عدم الإسهاب الممل، وعدم التعليق إلا عند

الحاجة؛ حتى لا يطول الكتاب بما لا فائدة فيه، أو بما يستغنى عنه.

--------------------------------------------

(1) وقد عاونني في ذلك بعض الإخوة الذين لهم دراية أكثر مني بعلم العروض، فجزاهم الله خيراً، كما أن بعضهم قد ذكر لي أن هذه المنظومة من البحر الطويل، ثم أخذ يتكلم عن صوره، وعن الضرورات الشعرية في المنظومة، إلا أنني أعرضت عن ذكر كل هذا، لأنني لست أهلاً للكتابة في هذا العلم، ولا أستطيع تمييز الصواب من الخطأ فيه، وقد رأيت أن ذكره لا يفيد الغالبية من طلاب العلم. ولعل بعض البلاغيين يسد هذا الخلل فيما بعد. فهذا جهد المقل، فيما ظنَّ أنه يحسنه، وكما قيل: ما لا يدرك كله، لا يترك جله، والله المستعان.
তাঁর উপরে, তবে তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-হামিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ লিল-ইনতিসার লি-মাযহাবি ইবনু তাইমিয়্যাহ' কাব্যটি ছাড়া আর কিছুই মুদ্রিত হয়নি -যা তেমন প্রসিদ্ধ নয়-।

 

‌‌পাণ্ডুলিপিতে আমার কাজ:

১ - আমি এটি অনুলিপি এবং সংশোধন করেছি।

২ - পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় আমি যে সংশোধনগুলো পেয়েছি তা মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং সম্পাদনার টীকায় মূল ও সংশোধিত পাঠের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছি।

৩ - আমি কাব্যটিকে পাঠকের নিকট সহজবোধ্য করার জন্য এবং তা থেকে উপকার গ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে এর শিরোনাম ও বিভাজন নির্ধারণ করেছি।

৪ - পংক্তিগুলোর নম্বর প্রদানের পাশাপাশি শব্দসমূহে হরকত ও সঠিক রূপ (১) প্রদান করেছি, যাতে পাঠকের জন্য তা পাঠ করা সহজ হয়।

৫ - জটিল বা অস্পষ্ট শব্দগুলোর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছি, আর তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণের মাধ্যমে:

ক - কাব্য রচয়িতা যে মত গ্রহণ করেছেন তার সমর্থনে শরয়ী দলীলসমূহ উল্লেখ করা।

খ - অভিধান ও দুষ্পাপ্য শব্দকোষের কিতাবসমূহের সহায়তায় কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান।

গ - জটিল পংক্তিগুলোতে রচয়িতা যা বুঝাতে চেয়েছেন তা সহজবোধ্য করা, সাথে সাথে কৃত্রিমতা ও অতিরঞ্জন থেকে দূরে থাকা।

ঘ - রচয়িতা যেখানে সঠিক মত থেকে বিচ্যুত হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে সেখানে টীকা প্রদান করা, পাশাপাশি রচয়িতার বক্তব্যকে যথাসম্ভব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করা, যা শরয়ী দলীল এবং বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত হবে।

ঙ - টীকা লেখার সময় আমি বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করেছি এবং প্রয়োজন ছাড়া কোনো টীকা দিইনি; যাতে অপ্রয়োজনীয় বা গুরুত্বহীন কথার কারণে বইটি দীর্ঘ না হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) এ কাজে আমাকে এমন কিছু ভাই সাহায্য করেছেন যাঁদের ছন্দশাস্ত্রে (ইলমুল আরূয) আমার চেয়ে বেশি দখল রয়েছে, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তাঁদের কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন যে, এই কাব্যটি 'বাহরে ত্ববীল' ছন্দে রচিত, এরপর তিনি এর বিভিন্ন রূপ এবং কাব্যিক সংক্ষেপণ (জরুরত) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আমি এ সকল বিষয় উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, কারণ আমি এই শাস্ত্রে লেখার যোগ্য নই এবং এর সঠিক-ভুলের পার্থক্য করতে আমি সক্ষম নই। আমি মনে করেছি যে, এর উল্লেখ অধিকাংশ ইলম অন্বেষণকারীর জন্য বিশেষ কোনো উপকারে আসবে না। সম্ভবত পরবর্তীতে কোনো অলংকারশাস্ত্রবিদ এই অপূর্ণতা পূরণ করবেন। এটি এক স্বল্প সামর্থ্যের ব্যক্তির প্রচেষ্টা যা সে তার সাধ্যের মধ্যে উত্তম মনে করেছে। আর যেমনটা বলা হয়: যা সম্পূর্ণ হাসিল করা যায় না, তা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
6 - قمت بالترجمة للمؤلف رحمه الله.

7 - قمت بإعداد فهرس شامل لموضوعات ومسائل المنظومة والتعليق.

وصف النسخة الخطية:

ذكرت فيما سبق أنني حصلت على هذه المخطوطة مصورة عن طريق الحاسب الآلي، وقد وجدت على الصفحة الصفحة الأولى منها:

أصل رقم = 154

عدد الأوراق = 9 ق

رقم المصورة = 952

وعلى الأخيرة من المخطوطة: خاتم دار الكتب الأهلية.

والمخطوطة مكتوبة بخط جيد ومقروء، وعليها تصويبات قراءة على الناظم، وسماعات.

صورة الصفحة الأولى من المخطوط
৬ - আমি লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) জীবনী প্রস্তুত করেছি।

৭ - আমি এই কাব্য এবং এর টীকার বিষয়বস্তু ও মাসআলাসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।

পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আমি কম্পিউটারের মাধ্যমে এই পাণ্ডুলিপিটির একটি চিত্রায়িত কপি লাভ করেছি এবং এর প্রথম পৃষ্ঠায় আমি যা পেয়েছি:

মূল নম্বর = ১৫৪

পত্র সংখ্যা = ৯টি পাতা

চিত্র নম্বর = ৯৫২

এবং পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠায় রয়েছে: দারুল কুতুব আল-আহলিইয়ার সিলমোহর।

পাণ্ডুলিপিটি সুন্দর এবং পাঠযোগ্য হস্তাক্ষরে লিখিত, আর এতে মূল রচয়িতার নিকট পাঠ করার সংশোধনী এবং শ্রবণের প্রমাণপত্রাদি (সামা‘আত) রয়েছে।

পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
صورة الصفحة الثانية من المخطوط

 

صورة الصفحة قبل الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ছবি

 

পাণ্ডুলিপির শেষ পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوط

 

‌‌توثيق اسم المنظومة:

اسم المنظومة: نهج الرشاد في نظم الاعتقاد - كما هو مذكور على الصفحة الأولى منها.

وأيضاً قال الناظم في آخرها:

142 - وَسَمَّيْتُهَا نَهْجَ الرَّشَادِ لِكَوْنِهَا … تَفُوقُ بِنَظْمِ الْاِعْتِقَادِ عِلِى الدُّرِّ

بالإضافة إلى أن كل من ذكرها من أهل العلم، سماها بهذا الاسم.

 

‌‌توثيق نسبتها للناظم:

ناظمها هو: جمال الدين أبي المظفر يوسف بن محمد بن مسعود بن محمد بن علي بن إبراهيم العبادي السرمري - كما هو مذكور على الصفحة الأولى منها، وفي بدايتها.

وأيضاً قال الناظم في آخرها:

151 - مُؤَلِّفُهَا نَجْلُ الْعَبادِيِّ يُوسُفُ … وَخَاتِمُهَا بِالْحَمْدِ لِلَّهِ وَالشُّكْرِ

بالإضافة إلى أن كل من ترجم للناظم ذكرها ضمن مؤلفاته.
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র

 

‌‌মানজুমার নামের প্রামাণিকতা:

মানজুমার নাম: নাহজুল রাশাদ ফি নাযমিল ই'তিকাদ - যেমনটি এর প্রথম পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও নাযিম (কাব্যকার) এর শেষে বলেছেন:

১৪২ - আর আমি এর নামকরণ করেছি নাহজুল রাশাদ, যেহেতু এটি … আকিদাহর বিন্যাসে মুক্তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

অধিকন্তু ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা এটি উল্লেখ করেছেন, তারা সকলেই একে এই নামেই অভিহিত করেছেন।

 

‌‌নাযিমের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা:

এর নাযিম হলেন: জামালুদ্দিন আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন মাসউদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ইবরাহিম আল-আব্বাদী আল-সারমারী - যেমনটি এর প্রথম পৃষ্ঠায় এবং এর শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও নাযিম এর শেষে বলেছেন:

১৫১ - এর রচয়িতা আল-আব্বাদীর পুত্র ইউসুফ … আর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়ার মাধ্যমে তিনি এটি সমাপ্ত করেছেন।

পাশাপাশি যারা নাযিমের জীবনী লিখেছেন, তারা সকলেই এটি তাঁর গ্রন্থাবলীর অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة الناظم (1):

‌‌اسمه، ونسبه، وكنيته:

هو: جمال الدين أبو المظفر يوسف بن محمد بن مسعود بن محمد بن علي بن إبراهيم العبادي - بالتخفيف - ثم العقيلي السرمري نزيل دمشق الحنبلي.

 

‌‌مولده:

قال ابن ناصر الدين الدمشقي في الرد الوافر: (مولده فيما وجدته بخطه في سابع عشر رجب من سنة ست وتسعين وستمائة بسر من رأى).

وسر من رأى هي مدينة سامراء، قال الحموي في معجم البلدان (3/ 173): [سامراء لغة في سر من رأى، مدينة كانت بين بغداد، وتكريت على شرقي دجلة، وقد خربت، وفيها لغات: سامراء ممدود، وسامرا مقصور، وسر من رأ مهموز الآخر، وسر من را مقصور الآخر … وبها السرداب المعروف في جامعها الذي تزعم الشيعة أن مهديهم يخرج منه، وقد ينسبون إليها بالسرمري … وذكر محمد بن أحمد البشاري نكتة حسنة فيها قال: لما عمرت سامراء، وكملت، واتسق خيرها، واحتفلت سميت: سرور من رأى، ثم اختصرت فقيل: سر من رأى، فلما خربت، وتشوهت خلقتها، واستوحشت سميت: ساء من رأى، ثم اختصرت فقيل: سامراء …].

 

‌‌طلبه للعلم، ورحلاته، وشيوخه:

أخذ الناظم رحمه الله العلم عن الأئمة، والمسندين من شيوخ العراق كالصفي عبد المؤمن بن عبد الحق، وأبي الثناء محمود بن علي الدقوقي، وغيرهما، ورحل إلى دمشق فسمع من أصحاب ابن

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: الأعلام للزركلي (8/ 250 - 251)، وإنباء الغمر لابن حجر (1/ 35)، وإيضاح المكنون للبغدادي (1/ 543)، (2/ 49)، وبغية الوعاة للسيوطي (423، 424)، والدرر الكامنة لابن حجر (4/ 473 - 474)، والرد الوافر لابن ناصر الدين الدمشقي (1/ 130: 133)، وذيل تذكرة الحفاظ لأبي المحاسن الحسيني (1/ 160 - 162)، وشذرات الذهب لابن العماد (6/ 249)، وكشف الظنون لحاجي خليفة (56، 131، 524، 1070، 1125، 1157)، ومعجم المؤلفين لكحالة (13/ 332)، والمقصد الأرشد لبرهان الدين إبراهيم بن مفلح (1/ 349)، وهدية العارفين للبغدادي (2/ 558).
নাযিমের জীবনী (১):

‌‌তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং উপনাম:

তিনি হলেন: জামালুদ্দিন আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইব্রাহিম আল-আবাদি —লঘূচ্চারণে— অতঃপর আল-উকাইলি আস-সারমারি, দামেশকের অধিবাসী, হাম্বলি।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি 'আর-রাদ্দুল ওয়াফির' গ্রন্থে বলেছেন: (তাঁর নিজের হস্তাক্ষরে আমি যা পেয়েছি সে অনুযায়ী তাঁর জন্ম ৬৯৬ হিজরির ১৭ই রজব 'সুররা মান রাআ' নামক স্থানে)।

আর 'সুররা মান রাআ' হলো সামাররা শহর। আল-হামাউয়ি 'মুজামুল বুলদান' (৩/১৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: [সামাররা হলো 'সুররা মান রাআ' এর ভাষাগত রূপ। এটি দজলা নদীর পূর্ব তীরে বাগদাদ ও তিকরিতের মধ্যবর্তী একটি শহর ছিল, যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। এর উচ্চারণে বিভিন্ন রূপ রয়েছে: সামাররা (দীর্ঘায়িত), সামারা (সংক্ষিপ্ত), সুররা মান রা' (হামযা সহকারে), এবং সুররা মান রা (হামযা ছাড়া) ... সেখানে তাঁর জামে মসজিদে একটি সুপরিচিত সুড়ঙ্গপথ (সারদাব) রয়েছে, যেখান থেকে শিয়ারা দাবি করে যে তাদের মাহদি বের হবে। কখনও কখনও এই শহরের সাথে সম্পৃক্ত করে 'আস-সারমারি' বলা হয় ... মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বাশারি এতে একটি চমৎকার কৌতুকপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন সামাররা আবাদ করা হলো, পূর্ণতা পেল, সেখানকার মঙ্গলধারা সুশৃঙ্খল হলো এবং জমকালো রূপ নিল, তখন এর নাম দেওয়া হলো: 'সুরূরা মান রাআ' (যে এটি দেখবে সে আনন্দিত হবে), অতঃপর তা সংক্ষিপ্ত করে বলা হলো: 'সুররা মান রাআ'। আর যখন এটি ধ্বংস হয়ে গেল, এর চেহারা কদর্য হয়ে গেল এবং এটি নির্জন হয়ে পড়ল, তখন এর নাম দেওয়া হলো: 'সাআ মান রাআ' (যে এটি দেখবে সে ব্যথিত হবে), অতঃপর তা সংক্ষিপ্ত করে বলা হলো: 'সামাররা' ...]।

 

‌‌তাঁর ইলম অর্জন, সফরসমূহ এবং উস্তাদগণ:

নাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) ইরাকের শায়খদের মধ্য থেকে ইমামগণ এবং মুসনিদদের (সনদধারী আলেম) নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমন আস-সাফি আব্দুল মুমিন ইবনে আব্দুল হক, আবুল সানা মাহমুদ ইবনে আলি আদ-দাকুকি এবং আরও অনেকে। তিনি দামেশকে সফর করেন এবং ইবনে (এর সঙ্গীদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন)...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আজ-যিরিকলি রচিত 'আল-আ'লাম' (৮/২৫০-২৫১), ইবনে হাজার রচিত 'ইনবাউল গুমর' (১/৩৫), আল-বাগদাদি রচিত 'ঈজাহুল মাকনুন' (১/৫৪৩), (২/৪৯), আস-সুয়ুতি রচিত 'বুগইয়াতুল উয়াত' (৪২৩, ৪২৪), ইবনে হাজার রচিত 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৪/৪৭৩-৪৭৪), ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি রচিত 'আর-রাদ্দুল ওয়াফির' (১/১৩০:১৩৩), আবুল মাহাসিন আল-হুসাইনি রচিত 'যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ' (১/১৬০-১৬২), ইবনে আল-ইমাদ রচিত 'শাযারাতুয যাহাব' (৬/২৪৯), হাজি খলিফা রচিত 'কাশফুজ জুনুন' (৫৬, ১৩১, ৫২৪, ১০৭০, ১১২৫, ১১৫৭), কাহহালা রচিত 'মুজামুল মুয়াল্লিফিন' (১৩/৩৩২), বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ রচিত 'আল-মাকসাদুল আরশাদ' (১/৩৪৯), আল-বাগদাদি রচিত 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (২/৫৫৮)।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
عبد الدائم، وجماعة غيرهم، وأجاز له أبو العباس أحمد بن أبي طالب الحجار وعدة سواه.

وأخذ الفقه عن سراج الدين حسين بن يوسف بن أبي السري التستري، ثم انتقل إلى بغداد سنة تسع وعشرين، وأجاز له ابن الشحنة، وابن الدواليبي، وغيرهما.

برع الناظم في علوم كثيرة منها: العربية، والفرائض. ونظم، وخرج، وحدث، واقعد بأخرة، وقد جاز الثمانين.

وقد ذكره أيضاً الذهبي في المعجم المختص فقال: قدم علينا سنة ست وأربعين وقرأ عليَّ.

ومن شيوخهم (1) الذين أثنى عليهم، وامتدحهم كثيراً: الشيخ حسان حيث قال عنه في منظومتنا هذه:

8 - فَلَوْلَا مَكَانُ الشَّيخِ حَسَّانِ أَصْبَحَتْ … مَدِينَةُ سَامَّرَاءَ فِي غَايَةِ الضُّرِ

9 - وَلَوْلَا خِلَالٌ شَدَّهَا لَتَعَطَّلَتْ … رُسُومُ الْهُدَى وَاسْتَوْسَقَتْ دَوْلَةُ الشِّرِ

10 - هَوُ الْعَالِمُ الْمَرْضِيُّ وَالقُثَمُ الذي … يَفَتِّحُ أَقْفَالَ الْمَسَائِلِ بِالسَّبْرِ

11 - إِذَا سَأَلُوهُ عَنْ دَلِيلِ مَقَالِةِ … أَجَابَ بِقَوْلِ اللهِ فِي مُحْكَمِ الذِّكْرِ

12 - وَإِنْ يَسْتَزِيدُوا قَالَ قَالَ مُحَمَّدٌ … وَإِن يَسْتَزِيدُوا قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرِ

13 - كَفَانِي أَنِّي أَنْتَمِي بِعَقِيَدتيِ … إِلَيْهِ وَإِنِّي فِي طَرِيقَتَهِ أَجْرِي

 

‌‌تقدير الناظم لتقي الدين ابن تيمية ووصفه بأنه شيخ الإسلام:

قال ابن ناصر الدين الدمشقي في الرد الوافر: [وترجم - أي الناظمُ - الشيخ تقي الدين بشيخ الإسلام فيما كتبه بخطه، وجمع في شمائله اللطيفة ترجمة مونقة منيفة إعلاما بقدره، وتنبيها قال فيما وجدته بخطه فيها: حدثني غير واحد من العلماء الفضلاء، والأئمة النبلاء، الممعنين في الخوض في أقاويل المتكلمين، لإصابة الصواب، وتمييز القشر من اللباب: أن كلا منهم لم يزل حائرا في تجاذب أقوال الأصوليين، ومعقولاتهم، وأنه لم يستقر في قلبه منها قول، ولم يبن له من مضمونها حق بل رآها كلها موقعة في الحيرة، والتضليل، وجلها ممعن يتكلف الأدلة، والتعليل، وأنه كان خائفا على نفسه من الوقوع بسببها في التشكيك، والتعطيل، حتى مَنَّ الله سبحانه، وتعالى عليه بمطالعة مؤلفات هذا الإمام ابن تيمية، شيخ الإسلام، مما أورده من النقليات، والعقليات في هذا النظام، فما هو إلا أن

--------------------------------------------

(1) وسوف يأتي احتمال عند شرح هذه الأبيات أنه ليس من شيوخه، فالله أعلم بالصواب.
عبد الدائم এবং তাদের আরও একদল; আর তাকে অনুমতি (ইজাজাহ) দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবি তালিব আল-হাজ্জার এবং তিনি ছাড়া আরও অনেকে।

তিনি সিরাজুদ্দীন হুসাইন ইবনে ইউসুফ ইবনে আবিস সানি আত-তুস্তারি থেকে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। এরপর তিনি সাতশ উনত্রিশ হিজরি সনে বাগদাদে চলে যান। সেখানে তাকে ইবনে আশ-শুহনা, ইবনে আদ-দাওয়ালিবি এবং আরও অনেকে ইজাজাহ প্রদান করেন।

নাজিম (কাব্য রচয়িতা) অনেক বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে: আরবি ভাষা এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন)। তিনি কবিতা রচনা করেছেন, হাদিস সংকলন করেছেন, বর্ণনা করেছেন এবং শেষ জীবনে তিনি বার্ধক্যের কারণে আসীন অবস্থায় পাঠদান করতেন; তিনি আশি বছর বয়স অতিক্রম করেছিলেন।

ইমাম যাহাবিও 'আল-মুজামুল মুখতাস' গ্রন্থে তার উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি সাতশ ছেচল্লিশ হিজরি সনে আমাদের নিকট আসেন এবং আমার কাছে পাঠ গ্রহণ করেন।

আর তাদের উস্তাদদের (১) মধ্যে একজন, যাঁর তিনি প্রশংসা করেছেন এবং অনেক গুণগান করেছেন: শায়খ হাসসান। তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাদের এই কাব্যে বলেছেন:

৮ - শায়খ হাসসানের মর্যাদা না থাকলে … সামাররা শহর চরম দুর্দশার মধ্যে নিপতিত হতো।

৯ - যদি তাঁর সংস্কারসমূহ না থাকত, তবে … হেদায়াতের চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হতো এবং অকল্যাণের রাজত্ব সুসংহত হতো।

১০ - তিনি সেই সন্তোষভাজন আলিম এবং উদারমনা ব্যক্তি যিনি … গভীর গবেষণার মাধ্যমে কঠিন মাসআলাসমূহের তালা উন্মুক্ত করেন।

১১ - যখন তারা তাঁকে কোনো বক্তব্যের দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে … তিনি পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বাণীর মাধ্যমে উত্তর দেন।

১২ - তারা যদি আরও দলিলের আকাঙ্ক্ষা করে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন … আর যদি আরও আকাঙ্ক্ষা করে, তবে তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) বলেছেন।

১৩ - আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমি আমার আকিদায় … তাঁরই অনুসারী এবং আমি তাঁর দেখানো পথেই চলি।

 

‌‌তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার প্রতি নাজিমের শ্রদ্ধা এবং তাঁকে শাইখুল ইসলাম হিসেবে অভিহিত করা:

ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকি 'আর-রাদ্দ আল-ওয়াফির' গ্রন্থে বলেছেন: [আর নাজিম—অর্থাৎ কবিতা রচয়িতা—শায়খ তাকিউদ্দীনকে তাঁর নিজ হাতে লিখিত লিপিতে 'শাইখুল ইসলাম' হিসেবে জীবনী উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর মর্যাদাকে তুলে ধরতে এবং মানুষকে সচেতন করতে তাঁর সুন্দর গুণাবলি নিয়ে একটি চমৎকার ও উচ্চাঙ্গের জীবনী সংকলন করেছেন। তিনি তাঁর নিজ হাতে যা লিখেছেন তার মধ্যে বলেছেন: আমাকে অনেক বিদগ্ধ আলিম এবং প্রাজ্ঞ ইমামগণ বর্ণনা করেছেন, যারা সত্যের সন্ধান পেতে এবং অসার থেকে সারবস্তুকে পৃথক করার জন্য মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) বক্তব্যের গভীর অনুসন্ধানে নিমগ্ন ছিলেন: তাদের প্রত্যেকেই উসুলবিদদের বক্তব্যের পারস্পরিক বিরোধ এবং তাদের যুক্তিসমূহ নিয়ে সব সময় বিভ্রান্তিতে থাকতেন। তাদের কারও মনেই কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের ওপর স্থিরতা আসত না এবং তাদের কাছে কোনো হক বা সত্য প্রকাশিত হতো না। বরং তারা সেগুলোর সবটুকুই বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে দেখতেন। তাদের অধিকাংশই কষ্টসাধ্য দলিল এবং ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতেন। তারা ভয় পেতেন যে, এর কারণে হয়তো তারা সন্দেহবাদ এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার (তাতিল) মধ্যে নিপতিত হবেন। অবশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই ইমাম ইবনে তাইমিয়া, শাইখুল ইসলাম-এর রচিত গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করেন। যেখানে তিনি বর্ণনামূলক (নকলিয়া) এবং যৌক্তিক (আকলিয়া) বিষয়সমূহকে এই সুশৃঙ্খল ধারায় উপস্থাপন করেছেন। আর ফলাফল এই যে...

--------------------------------------------

(১) এই পঙক্তিগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় একটি সম্ভাবনা আসবে যে, তিনি তাঁর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত নন; সত্য আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وقف عليها، وفهمها فرآها موافقة للعقل السليم، وعلمها حتى انجلى ما كان قد غشيه في أقوال المتكلمين من الظلام، وزال عنه ما خاف أن يقع فيه من الشك، وظفر بالمرام.

ومن أراد اختبار صحة ما قلته فليقف بعين الإنصاف العرية عن الحسد، والانحراف أن شاء على مختصراته في هذا الشأن كـ: شرح العقيدة الاصبهانية، ونحوها، وإن شاء على مطولاته كـ: تخليص التلبيس من تأسيس التقديس، والموافقة بين العقل والنقل، ومنهاج الاستقامة والاعتدال، فإنه - والله - يظفر بالحق، والبيان، ويستمسك بأوضح برهان، ويزن حينئذ في ذلك بأصح ميزان …].

 

‌‌تلاميذه:

وقد أخذ عن الناظم - رجمه الله - ابن رافع مع تقدمه، وذكره في معجمه، وحدث عنه، ومات قبله.

وروى عن أيضاً جماعة منهم ابنه إبراهيم.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال ابن ناصر الدين في الرد الوافر: الشيخ الامام العلامة الحافظ البركة القدوة ذو الفنون البديعة والمصنفات النافعة … وكان إماما ثقة عمدة زاهدا عابدا محسنا جهده، صنف في أنواع كثيرة نثرا ونظما وخرج وأفاد وأملى رواية وعلما … وكان عمدة في نقد رجال الحديث وضبطه.

وقال الذهبي: وله معرفة بالمذهب، ونظم جيد في علوم الحديث، وغيرها.

وقال ابن العماد في شذرات الذهب: الشيخ العالم المفنن الحافظ.

وقال أبو المحاسن الحسيني في ذيل تذكرة الحفاظ: الإمام العلامة الحافظ جمال الدين أبو المظفر … وكان عمدة ثقة ذا فنون إماما علامة له مصنفات عدة في أنواع كثيرة نثراً، ونظماً خرج، وأفاد، وأملي رواية، وعلما.

وقال كحالة في معجم المؤلفين: محدث، حافظ، فقيه، فرضي، نحوي، ناظم، مشارك في غير ذلك.

وقال الزركلي في الأعلام: حافظ للحديث، من علماء الحنابلة.

 

‌‌مصنفاته (1):

--------------------------------------------

(1) وكل مصنفاته مخطوطه - على حسب علمي - ولم يطبع له سوى نظم: (الحمية الإسلامية في الانتصار لمذهب ابن تيمية) فقد قام بطبعه: مجمع البحوث العلمية الإسلامية بالهند، وقدَّم له، وعلق عليه: صلاح الدين مقبول أحمد، مع رسالة: قصيدة في الرد على التقي السبكي والدفاع عن بن تيمية لأبي عبد الله بن يوسف الشافعي. ولكنه غير مشهور، ولم أقف عليه.
তিনি এগুলোর ওপর নিবিষ্ট হলেন এবং এগুলো অনুধাবন করলেন, ফলে তিনি এগুলোকে সুস্থ বিবেকের অনুকূল পেলেন। তিনি এগুলো অধ্যয়ন করলেন, এমনকি মুতাকাল্লিমদের বক্তব্যের যে অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করেছিল তা দূরীভূত হলো, সংশয়ে পড়ার যে ভয় তাঁর ছিল তা দূর হয়ে গেল এবং তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হলেন।

আর যে ব্যক্তি আমি যা বলেছি তার সত্যতা পরীক্ষা করতে চায়, সে যেন হিংসা ও বিচ্যুতিমুক্ত নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এই বিষয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলো দেখে—যেমন: শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ এবং অনুরূপ গ্রন্থগুলো। আর চাইলে তাঁর দীর্ঘ গ্রন্থগুলোও দেখতে পারে—যেমন: তাখলিসুত তালবিস মিন তাসিসিত তাকদিস, আল-মুয়াফাকাতু বাইনাল আকলি ওয়ান নাকলি, এবং মিনহাজুল ইস্তিকামাতি ওয়াল ইতিদাল। আল্লাহর কসম, তবে সে সত্য ও সুস্পষ্ট বর্ণনা লাভ করবে, অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণের ওপর সুদৃঢ় হবে এবং তখন এই বিষয়ে সঠিক দাঁড়িপাল্লায় পরিমাপ করতে পারবে …]।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ:

কাব্য রচয়িতার—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন—নিকট থেকে ইবন রাফে ইলম অর্জন করেছেন, যদিও তিনি বয়সে বড় ছিলেন। তিনি তাঁর ‘মু’জাম’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন, তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

এছাড়াও তাঁর থেকে একদল ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম তাঁর পুত্র ইব্রাহিম।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

ইবন নাসিরুদ্দিন ‘আর-রাদ্দ আল-ওয়াফির’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, বরকতময় শাইখ, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, চমৎকার বহু শাস্ত্রের অধিকারী এবং উপকারী রচনাবলির প্রণেতা … তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, প্রধান অবলম্বন, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার এবং যথাসাধ্য সৎকর্মশীল। তিনি গদ্য ও পদ্যে বহু বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, হাদিস চয়ন করেছেন, উপকৃত করেছেন এবং বর্ণনা ও ইলম হিসেবে তা লিখে দিয়েছেন … তিনি হাদিসের রাবিদের সমালোচনা ও তা নিখুঁতভাবে সংরক্ষণে প্রধান ব্যক্তি ছিলেন।

আয-যাহাবি বলেছেন: মাজহাব সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল এবং হাদিসশাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর চমৎকার কাব্য রয়েছে।

ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে বলেছেন: বিজ্ঞ আলেম, বহুশাস্ত্রে পণ্ডিত শাইখ ও হাফিজ।

আবু মহসিন আল-হুসাইনি ‘যাইলু তাযকিরাতিল হাফফায’ গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, হাফিজ জামালুদ্দিন আবু মুজাফফর … তিনি ছিলেন প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, বহু শাস্ত্রে অভিজ্ঞ, ইমাম ও আল্লামা। গদ্য ও পদ্যে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি হাদিস চয়ন করেছেন, জ্ঞান দান করেছেন এবং বর্ণনা ও ইলম হিসেবে তা লিখে দিয়েছেন।

কাহহালা ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন’ গ্রন্থে বলেছেন: মুহাদ্দিস, হাফিজ, ফকিহ, ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ, ব্যাকরণবিদ, কবি এবং আরও অন্যান্য শাস্ত্রেও তাঁর পদচারণা ছিল।

যিরিকলি ‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থে বলেছেন: হাদিসের হাফিজ, হাম্বলি আলেমদের অন্যতম।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি (১):

--------------------------------------------

(১) আমার জানামতে তাঁর সমস্ত রচনাই পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং ‘আল-হামিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ ফি আল-ইনতিসার লি-মাযহাবি ইবন তাইমিয়্যাহ’ নামক কাব্যটি ছাড়া তাঁর আর কোনো গ্রন্থ মুদ্রিত হয়নি। ভারতের মজমাউল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ এটি প্রকাশ করেছে এবং এর ভূমিকা ও টীকা লিখেছেন সালাহউদ্দিন মাকবুল আহমদ। এর সাথে আবু আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আশ-শাফেয়ীর একটি রিসালা—তাকি আস-সুবকির খণ্ডনে এবং ইবন তাইমিয়্যাহর সমর্থনে একটি কাসিদা—সংযুক্ত রয়েছে। তবে এটি খুব একটা পরিচিত নয় এবং আমি এটি দেখিনি।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
قال ابن حجي رأيت بخطه ما صورته: مؤلفاتي تزيد على مائة مصنف كبار، وصغار في بضعة، وعشرين علماً، ذكرتها على حرف المعجم في "الروضة المورقة في الترجمة المونقة".

ومن مصنفاته:

1 - إحكام الذريعة، إلى أحكام الشريعة.

2 - الأربعين الصحيحة في الحديث.

3 - الأربعين الصحيحة فيما دون أجر المنيحة.

4 - الأرجوزة الجلية في الفرائد الحنبلية.

5 - الإفادات المنظومة في العبادات المختومة.

6 - تخريج الأحاديث الثمانيات.

7 - الثمانيات.

8 - الحمية الإسلامية في الانتصار لمذهب ابن تيمية (نظم).

9 - الخصائص والمفاخر لمعرفة الأوائل والأواخر.

10 - ذكر القلب الميت بفضائل أهل البيت.

11 - رسالة الجراد وما في شانه من الصلاح والفساد.

12 - شرح اللؤلؤة في علم العربية.

13 - شفاء الآلام في طب أهل الإسلام.

14 - صحاح الأحكام وسلاح الحكام. قال حاجي خليفة في كشف الظنون: قد … جمعه: في قوله عليه الصلاة والسلام: (بني الإسلام على خمس … الخ).

15 - عجائب الاتفاق وغرائب ما وقع في الآفاق.

16 - عجايب الآفاق (1).

17 - عقود (2) اللآلي في الأمالي.

--------------------------------------------

(1) ولعله والذي قبله كتاب واحد، والله أعلم بالصواب.

(2) وسماه بعضهم: عقد، وبعضهم: عنقود.
ইবনে হাজ্জি বলেছেন, আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত বর্ণনায় যা দেখেছি তার অনুলিপি হলো: আমার বড় ও ছোট গ্রন্থ মিলিয়ে রচনার সংখ্যা একশরও বেশি যা বিশটিরও বেশি জ্ঞানশাখায় বিস্তৃত, আমি সেগুলোকে 'আর-রওজাতুল মুরিকাহ ফিত তারজামাতিল মুনকাহ' গ্রন্থে বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেছি।

এবং তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - ইহকামুজ যারীআ ইলা আহকামিশ শারীআ (শারীআতের বিধানাবলির মাধ্যমসমূহের সুদৃঢ়করণ)।

২ - আল-আরবাঈন আস-সহীহা ফিল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রের চল্লিশটি সহীহ হাদীস)।

৩ - আল-আরবাঈন আস-সহীহা ফীমা দুনা আজরিল মানীহা (উপহারের সওয়াবের চেয়ে কম সওয়াব সংক্রান্ত চল্লিশটি সহীহ হাদীস)।

৪ - আল-উরজুযাতুল জালিইয়াহ ফিল ফারায়েদিল হাম্বলিইয়াহ (হাম্বলী মাযহাবের অনন্য মাসআলাসমূহ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট কবিতা)।

৫ - আল-ইফাদাতুল মানযুমাহ ফিল ইবাদাতিল মাখতুমা (মোহরাঙ্কিত ইবাদতসমূহ সংক্রান্ত কাব্যিক উপকারিতা)।

৬ - তাখরীজুল আহাদীস আস-সুমানিইয়াত (আটজন রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহের তাখরীজ)।

৭ - আস-সুমানিইয়াত (আটজন রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ)।

৮ - আল-হামিইয়াতুল ইসলামিইয়াহ ফিল ইনতিসার লি-মাযহাবি ইবনে তাইমিয়্যাহ (ইবনে তাইমিয়্যাহর মাযহাবের সমর্থনে ইসলামী আত্মমর্যাদাবোধ - কাব্য)।

৯ - আল-খাসায়িস ওয়াল মাফাখির লি-মা'রিফাতিল আওয়াইল ওয়াল আওয়াখির (আদি ও অন্ত জানার জন্য বৈশিষ্ট্য ও গৌরবসমূহ)।

১০ - যিকরুল কালবিল মাইয়্যিত বি-ফাযায়িল আহলিল বাইত (আহলে বাইতের ফযীলতের মাধ্যমে মৃত হৃদয়ের স্মরণ)।

১১ - রিসালাতুল জারাদ ওয়া মা ফী শানিহি মিনাস সালাহি ওয়াল ফাসাদ (পঙ্গপাল এবং এর কল্যাণ ও অকল্যাণ সংক্রান্ত পুস্তিকা)।

১২ - শারহুল লু'লুয়াহ ফী ইলমিল আরাবিইয়াহ (আরবী ভাষা শিক্ষায় আল-লু'লুয়াহ নামক গ্রন্থের ব্যাখ্যা)।

১৩ - শিফাউল আলাম ফী তিব্বি আহলিল ইসলাম (ইসলামের অনুসারীদের চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যথার উপশম)।

১৪ - সিহাহুল আহকাম ওয়া সিলাহুল হুক্কাম (বিধিবিধানের বিশুদ্ধতা এবং বিচারকদের হাতিয়ার)। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি তাঁর সংকলনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীতে একত্রিত করেছেন: (ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত... ইত্যাদি)।

১৫ - আজায়িবুল ইত্তিফাক ওয়া গারায়িবু মা ওয়াকাআ ফিল আফাক (দৈবক্রমে মিলে যাওয়া বিস্ময়কর বিষয় এবং দিগন্তজুড়ে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনাবলি)।

১৬ - আজায়িবুল আফাক (১) (দিগন্তের বিস্ময়সমূহ)।

১৭ - উকুদ (২) আল-লাআলী ফিল আমালী (মজলিসের আলোচনা সমূহের মুক্তামালা)।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এটি এবং এর পূর্বেরটি একই বই, আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

(২) কেউ কেউ একে 'ইকদ' (হার) নামকরণ করেছেন এবং কেউ কেউ 'উনকুদ' (স্তবক) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
18 - عمدة الدين في فضل الخلفاء الراشدين.

19 - غيث السحابة في فضل الصحابة.

20 - الفوائد السرمرية.

21 - نشر القلب الميت بنشر فضل أهل البيت.

22 - نظم الغريب في علوم الحديث لأبيه نحو من ألف بيت.

23 - نظم مختصر ابن رزين في الفقه.

24 - نهج الرشاد في نظم الاعتقاد. وهو النظم الذي بين أيدينا موضوع التحقيق.

وغير ذلك.

 

‌‌وفاته:

وتوفي يوم السبت الحادي والعشرين من جمادى الأولى سنة ست وسبعين وسبعمائة، بدمشق وقد جاوز الثمانين، ودفن بمقبرة الصوفية جوار تربة الشيخ تقي الدين ابن تيمية - رحمهما الله -.

وبعد …

ولا يسعني في ختام هذه المقدمة، وقبل أن أبدأ في عرض منظومتنا موضوع التحقيق، إلا أن أقول كما قال الناظم رحمه الله:

147 - فَيَا نَاظِرَاً فِيهَا تَدَارَكْ لِمَا عَسَى … يَكُونُ بِهَا مِنْ خَافِيَ الْوَهْنِ بِالْجَبْرِ

148 - فَقَدْ خُلِقَ التَّقْصِيرُ وَالنَّقْصُ فِي الْوَرَى … لِيَنْفَرِدَ الْبَارِي عَلَا بِاسْمِهِ الْوِتْرِ

149 - وَقُلْ رَبِّ سَامِحْ مَنْ تَكَلَّفَ نَظْمِهَا … وَقَارِئَهَا وَالسَّامِعِيَن وَمَنْ يُقْرِى

والله عز وجل أسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله في ميزان حسناتي، وميزان حسنات كل من شارك فيه بنصح ومشورة، أو مراجعة.

وهذا أوان الشروع في المقصود، والله المستعان، وعليه البلاغ، ولا حول، ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي

غفر الله له، ولوالديه .. أمين
১৮ - খুলাফায়ে রাশেদীনের ফযীলত বর্ণনায় উমদাতুদ্দীন।

১৯ - সাহাবায়ে কেরামের ফযীলত বর্ণনায় গাইসুস সাহাবাহ।

২০ - আল-ফাওয়ায়িদুস সারমারিয়্যাহ।

২১ - আহলে বায়তের ফযীলত প্রচারের মাধ্যমে মৃত অন্তরকে সঞ্জীবিত করা।

২২ - তাঁর পিতার রচিত উলূমুল হাদীসের ওপর 'আল-গারীব' এর কাব্যিক রূপ, যা প্রায় এক হাজার পঙক্তি বিশিষ্ট।

২৩ - ফিকহ শাস্ত্রে মুখতাসার ইবনু রাযীনের কাব্যিক রূপ।

২৪ - নাহজুল রাশাদ ফী নাযমিল ই'তিকাদ (আকীদাহর পদ্যরূপ)। এটিই সেই পদ্য যা বর্তমানে আমাদের এই সম্পাদনার বিষয়বস্তু।

এবং এ ছাড়াও অন্যান্য।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৭৭৬ হিজরী সনের ২১শে জুমাদাল উলা, রোজ শনিবার দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স আশি বছর অতিক্রম করেছিল। তাঁকে সুফিয়া কবরস্থানে শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) কবরের পাশে দাফন করা হয়।

অত:পর …

এই ভূমিকার শেষে এবং আমাদের সম্পাদনার বিষয়বস্তু এই পদ্যটি উপস্থাপনের পূর্বে নাযিম (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) যা বলেছেন, আমি তাই বলা ছাড়া আর কিছু করার সামর্থ্য রাখি না:

১৪৭ - হে পাঠক! এতে যে দুর্বলতা বা ত্রুটি আপনার চোখে পড়বে, মেহেরবানী করে সংশোধনের মাধ্যমে তা পূর্ণ করে দেবেন।

১৪৮ - কেননা সৃষ্টিজগতে অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিই করা হয়েছে যেন মহান স্রষ্টা তাঁর একক নামে অদ্বিতীয় ও অনন্য থাকতে পারেন।

১৪৯ - আর আপনি বলুন: হে রব! ক্ষমা করুন তাকে যে এই পদ্য রচনার শ্রম স্বীকার করেছে এবং এর পাঠককে, শ্রবণকারীকে ও যে এটি পাঠ করায় তাকে।

আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং একে আমার নেক আমলের পাল্লায় এবং যারা উপদেশ, পরামর্শ বা পর্যালোচনার মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন।

আর এটাই মূল বিষয়ে শুরু করার উপযুক্ত সময়। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি, সফল পরিণাম তাঁরই হাতে, আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আবু আল-মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াউয়ী

আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন.. আমীন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الفقير إلى الله - تعالى -: يوسف بن محمد بن مسعود بن محمد السرمري، عفا الله - تعالى - عنه:

 

‌‌المقدمة (1)

1 - بَدَاتُ اعْتِقَادِي بِاسْمِ ذِي الْعَفْوِ وَالْغُفْرِ (2) … . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) وهذه العناوين، والتقاسيم ليست من صلب المنظومة، وإنما هي من عمل المحقق.

(2) بدأ المصنفون كتبهم بالبسملة لأمور: منها - التأسي بفعل الصحابة رضي الله عنهم في افتتاحهم المصحف الإمام بالتسمية وتبعهم جميع من كتب المصحف بعدهم في جميع الأمصار، سواء من يقول بأن البسملة آية من الفاتحة، ومن لا يقول ذلك.

ومنها - الإقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم في مكاتباته إلى الملوك وغيرهم، كما في رسالته صلى الله عليه وسلم إلى هرقل، في الحديث المتفق عليه.

ومنها - العمل بحديث: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر)، أي ذاهب البركة، والحديث لا يثبت فقد رواه الخطيب في " الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع " (1210) (2/ 69)، ومن طريقه السمعاني في " آداب الإملاء والاستملاء" (ص/52)، ورواه السبكي في "طبقات الشافعية" (1/ 6) - كلهم - من طريق أحمد بن محمد بن عمران - وأسقطه السمعاني - عن محمد بن صالح البصري عن عبيد بن عبدالواحد بن شريك عن يعقوب بن كعب الأنطاكي عن مبشر بن إسماعيل عن الأوزاعي عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا به. وأحمد بن محمد بن عمران، هو المعروف بالجنيدي، قال عنه الخطيب في "تاريخه": كان يضعف في روايته.، وقال الزهري: ليس بشيء. وقد أفرد العلماء هذا الحديث بالتصنيف، وقد حكم عليه الشيخ الألباني رحمه الله في الإرواء (1) (1/ 29) بأنه ضعيف جداً، وقد اختلف العلماء في جواز العمل بالحديث الضعيف في باب فضائل الأعمال، والراجح المنع، وانظر " القول البديع في الصلاة على الحبيب الشفيع" للحافظ السخاوي، ومقدمة " صحيح الترغيب والترهيب " للشيخ الألباني، وبحث "تحقيق القول بالعمل بالحديث الضعيف" للدكتور: عبد العزيز عبدالرحمن بن محمد العثيم.

فائدة: قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري (1/ 9): [وقد استقر عمل الأئمة المصنفين على افتتاح كتب العلم بالبسملة، وكذا معظم كتب الرسائل، واختلف القدماء فيما إذا كان الكتاب كله شعرا، فجاء عن الشعبي منع ذلك، وعن الزهري قال: مضت السنة أن لا يكتب في الشعر بسم الله الرحمن الرحيم، وعن سعيد بن جبير جواز ذلك، وتابعه على ذلك الجمهور، وقال الخطيب: هو المختار].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন মাসউদ বিন মুহাম্মদ আস-সারমারী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেছেন:

 

‌‌ভূমিকা (১)

১ - আমি আমার আকিদা বর্ণনা শুরু করছি ক্ষমা ও মার্জনার অধিকারীর নামে (২) … . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) এই শিরোনাম ও বিভাজনগুলো মূল কাব্যের অংশ নয়, বরং এগুলো মুহাক্কিকের (সম্পাদক) পক্ষ থেকে সংযোজিত।

(২) গ্রন্থকারগণ বেশ কিছু কারণে তাঁদের গ্রন্থসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেন: তার মধ্যে রয়েছে - সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমলের অনুসরণ করা, যেহেতু তাঁরা 'মুসহাফ ইমাম' (মূল কুরআন) বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী সকল অঞ্চলের কুরআন সংকলকগণ তাঁদের অনুসরণ করেছেন, চাই তাঁরা বিসমিল্লাহকে সূরা ফাতিহার আয়াত মনে করুন বা না করুন।

আরও রয়েছে - রাজা-বাদশাহ ও অন্যদের কাছে পত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি অনুসরণ করা, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের মুত্তাফাক আলাইহি হাদিসে হিরাক্লিয়াসের কাছে প্রেরিত তাঁর পত্রে বর্ণিত হয়েছে।

আরও রয়েছে - এই হাদিসের ওপর আমল করা: (যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা/বিচ্ছিন্ন), অর্থাৎ বরকতহীন। তবে হাদিসটি সাব্যস্ত নয়; খতিব এটি 'আল-জামি লি-আখলাকির রাবি ওয়া আদাবিস সামি' (১২২০) (২/৬৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে সামআনী 'আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা' (পৃ. ৫২) গ্রন্থে এবং সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' (১/৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—তাঁরা সবাই আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমরান-এর সূত্রে—আর সামআনী একে বাদ দিয়েছেন—তিনি মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-বাসরি থেকে, তিনি উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারিক থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন কাব আল-আন্তাকি থেকে, তিনি মুবাশশির বিন ইসমাইল থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমরান 'আল-জুনাঈদী' নামে পরিচিত; খতিব তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি তাঁর বর্ণনায় দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছেন। যুহরী বলেছেন: তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন। ওলামায়ে কেরাম এই হাদিসটির ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) 'ইরওয়াউল গালিল' (১/২৯) গ্রন্থে একে অত্যন্ত দুর্বল বলে হুকুম দিয়েছেন। ফাদায়িলে আমলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা জায়েজ কি না সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে অগ্রগণ্য মত হলো এটি নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাফিজ সাখাবীর 'আল-কাওলুল বাদি ফিস সালাতি আলাল হাবিবিন শাফি', শাইখ আলবানীর 'সহীহুত তারগিব ওয়াত তারহিব'-এর ভূমিকা এবং ড. আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমের গবেষণা 'তাহকিকুল কাওলি বিল আমালি বিল হাদিসিদ দাঈফ' দ্রষ্টব্য।

ফায়দা: হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' (১/৯) গ্রন্থে বলেছেন: [বিখ্যাত ইমাম ও গ্রন্থকারদের আমল ইলমি কিতাবসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার ওপর স্থির হয়েছে। একইভাবে অধিকাংশ পত্রাবলির ক্ষেত্রেও এটিই অনুসৃত। তবে পুরো কিতাব যদি কবিতা হয়, তবে সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শাবি এটি নিষেধ করেছেন। যুহরী বলেছেন: সুন্নাত হলো কবিতায় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' না লেখা। পক্ষান্তরে সাঈদ বিন জুবাইর এটি জায়েজ বলেছেন এবং জমহুর (অধিকাংশ আলেম) তাঁর অনুসরণ করেছেন। খতিব বলেছেন: এটিই পছন্দনীয় মত।]
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . … وثَنَّيْتُ أَنَّ الْحَمْدَ لِلْوَاحِدِ الْبَرِّ (1)

2 - وَأَنْ لَاِ إِلَهَ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَالْخَفَا … سَوَى بِارِئِ خَلْقِهِ مُنَزِّلِ الْقَطْرِ (2)

3 - وَأَهْدَيْتُ مِنّيِ لِلْحَبِيبِ مُحَمَّدٍ … صَلَاةً كَمَا مَرَّ النَّسِيمُ (3) عَلَى الزَّهْرِ (4)

4 - وَعِتْرَتِهِ (5). . . . . . . . . . … . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) البدء بالحمدلة فيها نحو الوجوه الثلاث السابقة فقد ابتداء الصحابة كتابة المصحف الإمام بالفاتحة، وهي تبدأ بالحمد بعد البسملة، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يبدأ خطبته بالحمد، وأيضاً قد ورد في ذلك حديث مرسل لا يثبت، رواه أبو داود (4840) (4/ 262) وقال: (رواه يونس، وعقيل، وشعيب وسعيد بن عبدالعزيز عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً)، وكذا صوب الدارقطني الإرسال في الحديث في سننه (1/ 229) ولفظه: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع)، وقد اشتهر الكلام على هذا الحديث وانظر الإرواء (2) (1/ 32).

فائدة: ظاهر صنيع الناظم هنا من البدء بالبسملة، ثم التثنية بالحمدلة، يحتاج لتوجيه للجمع بين الحديثين - على فرض ثبوتهما، أو اختيار العمل بالحديث الضعيف في الفضائل - ووجه الجمع: أن الأولية في البدء بالبسملة أولية حقيقية مطلقة، وأما الأولية في البدء بالحمدلة فهي أولية نسبية، أي بالنسبة لما يأتي بعدها.

(2) أي المطر.

(3) قال الثعالبي في فقه اللغة: (النَّسِيمُ حَرَكَةُ الرِّيحِ في لِينٍ وضُعْفٍ).

(4) ووجه الشبه هنا قد يكون فيه تكلف وبعد، ولولا خشية إفساد عروض البيت لقلت: الأولى في هذا البيت: إبدال كلمة (كما) بـ (كلما).

(5) روى الترمذي (5/ 663) (3788)، وغيره عن أبي سعيد، وزيد بن أرقم رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: [إني تارك فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي أحدهما أعظم من
. . . . . . . . . . . . . . . . … আমি দ্বিতীয়ত প্রশংসা নিবেদন করছি সেই এক ও মহানুভব সত্তার প্রতি (১)

২ - এবং আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি প্রকাশ্য ও গোপন সব পরিজ্ঞাত … তিনি ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির কোনো স্রষ্টা নেই এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণকারী (২)

৩ - এবং আমি আমার পক্ষ থেকে প্রিয় মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি উপহার দিচ্ছি … দরুদ, যেমন মৃদু বাতাস প্রবাহিত হয় (৩) ফুলের ওপর (৪)

৪ - এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে (৫). . . . . . . . . . … . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু করার ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত তিনটি দিক বিদ্যমান। সাহাবীগণ 'মুসহাফে ইমাম' (মূল কুরআন) সংকলনের কাজ সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু করেছিলেন, যা বিসমিল্লাহর পর প্রশংসা দ্বারা শুরু হয়েছে। নবী (সা.) তাঁর খুতবা হামদ বা প্রশংসা দ্বারা শুরু করতেন। এ বিষয়ে একটি মুরসাল হাদিসও বর্ণিত হয়েছে যা সাব্যস্ত নয়; আবু দাউদ (৪৮৪০) (৪/ ২৬২) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (ইউনুস, উকাইল, শুয়াইব ও সাঈদ বিন আবদুল আজিজ এটি যুহরি থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন)। একইভাবে দারা কুতনি তাঁর সুনানে (১/ ২২৯) হাদিসটির মুরসাল হওয়াকেই সঠিক বলেছেন এবং এর পাঠ হলো: (এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা বরকতহীন)। এই হাদিসটি নিয়ে আলোচনা সুপ্রসিদ্ধ, দেখুন: আল-ইরওয়া (২) (১/ ৩২)।

ফায়দা: গ্রন্থকার এখানে প্রথমে বিসমিল্লাহ এবং দ্বিতীয়ত প্রশংসা (হামদ) দ্বারা যেভাবে শুরু করেছেন, তা দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয়ের দাবি রাখে—যদি হাদিস দুটিকে সাব্যস্ত ধরে নেওয়া হয় অথবা ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করার নীতি গ্রহণ করা হয়। সেই সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো: বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হলো প্রকৃত ও নিরঙ্কুশ প্রারম্ভিকতা, আর হামদ দ্বারা শুরু করা হলো আপেক্ষিক প্রারম্ভিকতা, অর্থাৎ যা পরবর্তীতে আসবে তার সাপেক্ষে তা শুরু।

(২) অর্থাৎ বৃষ্টি।

(৩) আস-সাআলাবি 'ফিকহুল লুগাহ' গ্রন্থে বলেছেন: (নাসিম হলো বাতাসের মৃদু ও কোমল গতি)।

(৪) এখানে সাদৃশ্য দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা কষ্টকল্পিত ও দূরবর্তী হতে পারে। যদি চরণের ছন্দ নষ্ট হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমি বলতাম: এই চরণে 'কামা' (যেমন) শব্দের পরিবর্তে 'কুল্লামা' (যখনই) শব্দটির ব্যবহার অধিক উত্তম ছিল।

(৫) তিরমিজি (৫/ ৬৬৩) (৩৭৮৮) এবং অন্যান্যরা আবু সাঈদ ও যায়িদ বিন আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: [আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না, যার একটি অন্যটির চেয়ে বড়]
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الآخر، كتاب الله حبل ممدود من السماء إلى الأرض، وعترتي أهل بيتي، ولن يتفرقا حتى يردا علي الحوض، فانظروا كيف تخلفوني فيهما] وقال: وهذا حديث حسن غريب.

وقد اختلف العلماء في بيان درجة هذا الحديث، وفقهه اختلافاً كثيراً، فقد ضعفه الإمام أحمد، وغيره. قال شيخ الإسلام في منهاج السنة (7/ 394): [أما قوله: [وعترتي أهل بيتي وأنهما لن يفترقا حتى يردا على الحوض] فهذا رواه الترمذي وقد سئل عنه احمد بن حنبل، فضعفه، وضعفه غير واحد من أهل العلم، وقالوا: لا يصح، وقد أجاب عنه طائفة بما يدل على أن أهل بيته كلهم لا يجتمعون على ضلالة، قالوا: ونحن نقول بذلك كما ذكر القاضي أبو يعلي، وغيره. ولكن أهل البيت لم يتفقوا، ولله الحمد على شيء من خصائص مذهب الرافضة، بل هم المبرؤون المنزهون عن التدنس بشيء منه].

وهذا الحديث قد ورد من طرق أخرى كثيرة عن جابر بن عبد الله، أبي هريرة، وابن عباس، وعلي، وزيد بن ثابت، وغيرهم، وقد تتبع الشيخ الألباني طرق الحديث، وصححه بالشواهد، وكذا فعل الشيخ الأرناؤوط في تحقيق المسند حيث صححه بالشواهد، ما عدا قوله: [ولن يتفرقا حتى يردا علي الحوض].

وسوف أنقل هنا ما وجه به الشيخ الألباني الحديث بعد تصحيحه، وما ردَّ به على الشيعة في تفسيرهم المنحرف له، قال رحمه الله في "السلسلة الصحيحة" (4/ 359): [من المعروف أن الحديث مما يحتج به الشيعة ، ويلهجون بذلك كثيرا، حتى يتوهم أهل السنة أنهم مصيبون في ذلك ، وهم جميعا واهمون في ذلك ، وبيانه من وجهين: الأول: أن المراد من الحديث في قوله صلى الله عليه وسلم: " عترتي " أكثر مما يريده الشيعة ، ولا يَرُدَّه أهل السنة بل هم مستمسكون به ، ألا وهو أن: العترة فيهم هم أهل بيته صلى الله عليه وسلم وقد جاء ذلك موضحا في بعض طرقه كحديث الترجمة: " عترتي أهل بيتي " وأهل بيته في الأصل هم: نساؤه صلى الله عليه وسلم وفيهن الصديقة عائشة رضي الله عنهن جميعا - كما هو صريح قوله تعالى في (الأحزاب): (إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرا) بدليل الآية التي قبلها والتي بعدها: (يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلاً مَعْرُوفاً. وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً. وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفاً خَبِيراً) ، وتخصيص الشيعة (أهل البيت) في الآية بعلي، وفاطمة، والحسن، والحسين رضي الله عنهم دون نسائه صلى الله عليه وسلم من تحريفهم لآيات الله تعالى انتصاراً لأهوائهم كما هو مشروح في موضعه، وحديث الكساء، وما في معناه غاية ما فيه: توسيع دلالة الآية، ودخول علي وأهله فيها، كما بينه الحافظ ابن كثير وغيره،
অপরটি হলো আল্লাহর কিতাব, যা আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত প্রলম্বিত একটি রশি, এবং আমার বংশধর আমার আহলে বাইত। তারা হাউজে আমার কাছে আসার আগ পর্যন্ত একে অপর থেকে পৃথক হবে না। সুতরাং দেখো, তোমরা আমার পরে তাদের সাথে কেমন আচরণ করো। এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস।

এই হাদিসের মান এবং এর মর্মার্থ বর্ণনায় ওলামায়ে কেরামের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা একে জয়িফ বা দুর্বল বলেছেন। শাইখুল ইসলাম মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৭/৩৯৪) বলেছেন: [আর তাঁর এই উক্তি: "এবং আমার বংশধর আমার আহলে বাইত, তারা হাউজে আমার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবে না"—এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বলকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি একে দুর্বল বলেছেন এবং একাধিক আলেম একে দুর্বল বলেছেন। তারা বলেছেন: এটি সহিহ নয়। একদল আলেম এর এমন জবাব দিয়েছেন যা নির্দেশ করে যে, তাঁর আহলে বাইত সম্মিলিতভাবে পথভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না। তারা বলেছেন: আমরাও তাই বলি, যেমনটি কাজী আবু ইয়ালা এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আহলে বাইত—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—রাফেজি মাযহাবের কোনো বৈশিষ্ট্যের ওপর একমত হননি, বরং তারা এই সবের কলুষতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র।]

এই হাদিসটি জাবির বিন আবদুল্লাহ, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, আলী, যায়েদ বিন সাবিত এবং অন্যান্যদের থেকে আরও অনেক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। শাইখ আলবানী হাদিসটির সূত্রগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং সমর্থক বর্ণনার ভিত্তিতে একে সহিহ বলেছেন। শাইখ আরনাউতও মুসনাদে আহমাদ-এর তাহকিকে অনুরূপ করেছেন; তিনি সমর্থক বর্ণনার ভিত্তিতে একে সহিহ বলেছেন, তবে কেবল "তারা হাউজে আমার কাছে আসার আগ পর্যন্ত পৃথক হবে না" অংশটুকু ব্যতীত।

শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলার পর এর যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং শিয়াদের বিকৃত ব্যাখ্যার যে জবাব দিয়েছেন, তা আমি এখানে উদ্ধৃত করব। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) "সিলসিলাতুস সহিহাহ" (৪/৩৫৯) গ্রন্থে বলেছেন: [এটি সুপরিচিত যে, এই হাদিসটি শিয়ারা দলিল হিসেবে পেশ করে এবং তারা এ নিয়ে এতো বেশি চর্চা করে যে, আহলে সুন্নাতের অনেকেও ধারণা করে বসে যে তারা হয়তো এ ক্ষেত্রে সঠিক; অথচ তারা সকলেই ভুলের মধ্যে রয়েছে। এর ব্যাখ্যা দুটি দিক থেকে: প্রথমত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "আমার বংশধর" দ্বারা যা উদ্দেশ্য, তা শিয়ারা যা বোঝাতে চায় তার চেয়েও ব্যাপক। আহলে সুন্নাত একে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং তারা একে আঁকড়ে ধরে। আর তা হলো: বংশধরদের মধ্যে তাঁর আহলে বাইতও অন্তর্ভুক্ত। কিছু সূত্রে এটি স্পষ্টভাবে এসেছে, যেমন আলোচিত হাদিসটিতে আছে: "আমার বংশধর আমার আহলে বাইত"। আর মূলত তাঁর আহলে বাইত হলেন তাঁর স্ত্রীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাদের মধ্যে সিদ্দিকা আয়েশাও (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না জামিআন) অন্তর্ভুক্ত—যেমনটি সূরা আহজাবে মহান আল্লাহর বাণীর সুস্পষ্ট ভাষ্য: (হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে) এর প্রমাণ হলো এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতসমূহ: (হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলো। আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না। তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো। হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে অবহিত।)। শিয়াদের পক্ষ থেকে এই আয়াতে "আহলে বাইত"-কে কেবল আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের বাদ দেওয়া হলো তাদের নিজেদের প্রবৃত্তির সমর্থনে আল্লাহর আয়াতসমূহের বিকৃতি সাধন, যা সংশ্লিষ্ট স্থানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর চাদরের হাদিস এবং এ জাতীয় হাদিসগুলোর সর্বোচ্চ অর্থ হলো আয়াতের মর্মার্থকে সম্প্রসারিত করা এবং এতে আলী ও তাঁর পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা, যেমনটি হাফেজ ইবনে কাসির এবং অন্যান্যরা স্পষ্ট করেছেন।]
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكذلك حديث " العترة " قد بيَّن النبي صلى الله عليه وسلم أن المقصود أهل بيته صلى الله عليه وسلم بالمعنى الشامل لزوجاته - قلت: أي بطريق التبعية، لا الأصالة -، وعلي، وأهله. ولذلك قال التوربشتي - كما في " المرقاة " (5/ 600): " عترة الرجل: أهل بيته، ورهطه الأدنون، ولاستعمالهم " العترة " على أنحاء كثيرة بينها رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: " أهل بيتي " ليعلم أنه أراد بذلك نسله، وعصابته الأدنين، وأزواجه ".

والوجه الآخر: أن المقصود من " أهل البيت ": إنما هم العلماء الصالحون منهم، والمتمسكون بالكتاب، والسنة ، قال الإمام أبو جعفر الطحاوي رحمه الله تعالى: " (العترة) هم أهل بيته صلى الله عليه وسلم الذين هم على دينه، وعلى التمسك بأمره ". وذكر نحوه الشيخ علي القاريء في الموضع المشار إليه آنفا. ثم استظهر أن الوجه في تخصيص أهل البيت بالذكر ما أفاده بقوله: " إن أهل البيت غالبا يكونون أعرف بصاحب البيت، وأحواله ، فالمراد بهم أهل العلم منهم المطلعون على سيرته، الواقفون على طريقته، العارفون بحكمه، وحكمته. وبهذا يصلح أن يكون مقابلا لكتاب الله سبحانه كما قال: (وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَة). قلت: ومثله قوله تعالى في خطاب أزواجه صلى الله عليه وسلم في آية التطهير المتقدمة: (وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ). فتبين أن المراد بـ (أهل البيت) المتمسكين منهم بسنته صلى الله عليه وسلم فتكون هي المقصود بالذات في الحديث ولذلك جعلها أحد (الثقلين) في حديث زيد بن أرقم المقابل للثقل الأول وهو القرآن ، وهو ما يشير إليه قول ابن الأثير في " النهاية ": " سماهما (ثقلين) لأن الآخذ بهما (يعني الكتاب والسنة) والعمل بهما ثقيل ، ويقال لكل خطير نفيس (ثقل) ، فسماهما (ثقلين) إعظاما لقدرهما وتفخيما لشأنهما ".

قلت: والحاصل أن ذكر أهل البيت في مقابل القرآن في هذا الحديث كذكر سنة الخلفاء الراشدين مع سنته صلى الله عليه وسلم في قوله: " فعليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين … ". قال الشيخ القاريء (1/ 199): " فإنهم لم يعملوا إلا بسنتي، فالإضافة إليهم، إما لعملهم بها، أو لاستنباطهم واختيارهم إياها ". إذا عرفت ما تقدم فالحديث شاهد قوي لحديث " الموطأ " بلفظ: " تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما ، كتاب الله وسنة رسوله ". وهو في "المشكاة" (186). وقد خفي وجه هذا الشاهد على بعض من سود صفحات من إخواننا الناشئين اليوم في تضعيف حديث الموطأ. والله المستعان …].

وقد بيَّن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث أن المراد بعترته: أهل بيته، وسوف يأتي في التعليق التالي - بمشيئة الله - زيادة بيان للمراد بالأهل.
একইভাবে "ইতরাহ" সম্পর্কিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর আহলে বায়ত বা পরিবারবর্গ, যা তাঁর স্ত্রীদেরও সামগ্রিক অর্থে অন্তর্ভুক্ত করে—আমি বলছি: অর্থাৎ অনুগামী হিসেবে, মূল সত্তা হিসেবে নয়—এবং আলী ও তাঁর পরিবার। এই কারণেই আত-তুরবাশতী বলেছেন—যেমনটি "আল-মিরকাত" (৫/৬০০)-এ বর্ণিত হয়েছে: "একজন ব্যক্তির 'ইতরাহ' হলো তার পরিবারের সদস্য এবং তার নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন। যেহেতু তারা 'ইতরাহ' শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করত, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন: 'আমার আহলে বায়ত', যাতে এটি জানা যায় যে তিনি এর দ্বারা তাঁর বংশধর, নিকটবর্তী আত্মীয় এবং তাঁর স্ত্রীদের বুঝিয়েছেন।"

আর দ্বিতীয় দিকটি হলো: "আহলে বায়ত" দ্বারা মূলত তাঁদের মধ্য থেকে ঐসব আলেম ও সৎকর্মশীলদের বোঝানো হয়েছে, যারা কিতাব ও সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকেন। ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "(ইতরাহ) হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের ঐসব সদস্য যারা তাঁর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁর আদেশ পালনে অবিচল।" শায়খ আলী আল-কারীও পূর্বে উল্লিখিত স্থানে অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এই মত প্রকাশ করেছেন যে, আহলে বায়তকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো তাঁর এই বক্তব্য: "নিশ্চয়ই ঘরের অধিবাসীরা সাধারণত ঘরের মালিক এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁদের মধ্যকার আলেম সমাজ, যারা তাঁর জীবনী সম্পর্কে অবগত, তাঁর পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁর বিধান ও হিকমত সম্পর্কে অভিজ্ঞ। এই অর্থেই তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাবের সমান্তরাল হওয়ার যোগ্য, যেমনটি তিনি বলেছেন: (এবং তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন)।" আমি বলছি: এর অনুরূপ হলো পবিত্রতার আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের সম্বোধন করে মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয় তা স্মরণ করো)। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, 'আহলে বায়ত' দ্বারা তাঁদের মধ্য থেকে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসারী তাঁদেরই বোঝানো হয়েছে। ফলে এই হাদীসে সুন্নাহই মূলত উদ্দেশ্য। এই কারণেই জায়েদ ইবনে আরকাম বর্ণিত হাদীসে সুন্নাহকে 'দুটি ভারী বস্তুর' (সাকলাইন) একটি সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা প্রথম ভারী বস্তু অর্থাৎ কুরআনের সমান্তরাল। ইবনুল আসীর 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে একথারই ইঙ্গিত দিয়েছেন: "তিনি এ দুটিকে 'সাকলাইন' (দুটি ভারী বস্তু) নামকরণ করেছেন কারণ এ দুটিকে আঁকড়ে ধরা (অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ) এবং তদনুসারে আমল করা বেশ কঠিন। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান বস্তুকে 'সাকল' (ভারী বস্তু) বলা হয়। অতএব তিনি এ দুটির মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে এদের 'সাকলাইন' নামকরণ করেছেন।"

আমি বলছি: সারকথা হলো, এই হাদীসে কুরআনের বিপরীতে আহলে বায়তের উল্লেখ করা ঠিক তেমনি, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাজ্জামের নিজের সুন্নাহর সাথে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর এই বাণীতে: "সুতরাং তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা … "। শায়খ আল-কারী বলেছেন (১/১৯৯): "কেননা তাঁরা আমার সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর আমল করেননি। সুতরাং তাঁদের দিকে যে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা হয় তাঁদের সেই অনুযায়ী আমল করার কারণে, অথবা তা থেকে বিধান আহরণ ও সেটি গ্রহণ করার কারণে।" আপনি যদি পূর্বোক্ত বিষয়গুলো বুঝে থাকেন, তবে এই হাদীসটি 'আল-মুয়াত্তা' এর সেই হাদীসের জন্য একটি শক্তিশালী সমর্থক যা এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।" আর এটি 'আল-মিশকাত' (১৮৬)-এ রয়েছে। আমাদের বর্তমান সময়ের কিছু নবীন ভাইয়েরা যারা মুয়াত্তার হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করতে গিয়ে অনেক পাতা কালো করেছেন, তাঁদের কাছে এই সমর্থক প্রমাণের দিকটি অস্পষ্ট থেকে গেছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি …]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদীসে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর ইতরাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর আহলে বায়ত বা পরিবারবর্গ। আর 'আহল' দ্বারা কী উদ্দেশ্য, সে সম্পর্কে পরবর্তী টীকায়—ইনশাআল্লাহ—বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وِالْأَهْلِ (1) وَالصَّحْب والذي … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) فرَّق أبو هلال العسكري في "معجم الفروق اللغوية" بين معنى العترة، والآل، والأهل حيث قال: [الفرق بين العترة والآل: أن العترة على ما قال المبرد: " النصاب، ومنه عترة فلان أي منصبه "، وقال بعضهم: " العترة أصل الشجرة الباقي بعد قطعها قالوا فعترة الرجل أصله "، وقال غيره: " عترة الرجل أهله وبنو أعمامه الأدنون " واحتجوا بقول أبي بكر رضي الله عنه عن عترة رسول الله - صلى الله عليه [وآله] وسلم - يعني قريشا فهي مفارقة للآل على كل قول لان الآل هم: الأهل والأتباع، والعترة هم: الأصل في قول والأهل وبنو الأعمام في قول آخر].

وقال أيضاً: [الفرق بين الأهل والآل: أن الأهل يكون من جهة النسب والاختصاص، فمن جهة النسب قولك: أهل الرجل لقرابته الأدنين، ومن جهة الاختصاص قولك أهل البصرة، وأهل العلم، والآل خاصة الرجل من جهة القرابة، أو الصحبة تقول: آل الرجل لأهله وأصحابه، ولا تقول آل البصرة وآل العلم، وقالوا: آل فرعون أتباعه، وكذلك آل لوط، وقال المبرد: إذا صغرت العرب الآل قالت أهل، فيدل على أن أصل الآل الأهل، وقال بعضهم: الآل عيدان الخيمة وأعمدتها، وآل الرجل مشبهون بذلك لأنهم معتمده، والذي يرفع في الصحارى آل لأنه يرتفع كما ترفع عيدان الخيمة، والشخص آل لأنه كذلك.] وانظر أيضاً جلاء الأفهام لابن القيم (ص/203: 209) لبيان وجوه التفريق بين: الآل، والأهل.

إلا أن ظاهر صنيع ما وقفت عليه من كلام العلماء التسوية بين المعاني الاصطلاحية لـ: العترة، وأهل البيت، وآل النبي.

وقد اختلف العلماء في المراد بالآل على أقوال كثيرة ذكرها ابن القيم في جلاء الأفهام (ص/210)، وما بعدها، وغيره، وأقوى الأقوال عندى ما رحجه الشيخ: عبد المحسن بن حمد العباد البدر في رسالته: "فضلُ أهل البيت وعلوُّ مكانتِهم عند أهل السُّنَّة والجماعة"حيث قال: [القولُ الصحيحُ في المرادِ بآل بيت النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هم مَن تَحرُم عليهم الصَّدقةُ، وهم أزواجُه وذريَّتُه، وكلُّ مسلمٍ ومسلمةٍ من نَسْل عبدالمطلب، وهم بنُو هاشِم بن عبد مَناف؛ قال ابن حزم في جمهرة أنساب العرب (ص:14): (وُلِد لهاشم بن عبد مناف: شيبةُ، وهو عبدالمطلب، وفيه العمود والشَّرف، ولَم يبْقَ لهاشم عَقِبٌ إلَاّ مِن عبدالمطلب فقط).
এবং পরিবার (১) ও সঙ্গীগণ এবং যিনি … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) আবু হিলাল আল-আসকারি তার "মু'জামুল ফুরুক আল-লুগাউইয়্যাহ" গ্রন্থে 'ইতরাহ' (বংশ), 'আল' (পরিবার/অনুসারী) এবং 'আহল' (পরিবার)-এর অর্থের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন: ['ইতরাহ' এবং 'আল'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: মুবাররাদের ভাষ্যমতে 'ইতরাহ' হলো 'নিসাব' (মূল ভিত্তি); এ থেকেই বলা হয় অমুকের ইতরাহ অর্থাৎ তার মর্যাদা বা মূল। কেউ কেউ বলেছেন: "ইতরাহ হলো গাছের সেই মূল অংশ যা কাটার পর অবশিষ্ট থাকে। তারা বলেন, ব্যক্তির ইতরাহ হলো তার মূল।" অন্যরা বলেছেন: "ব্যক্তির ইতরাহ হলো তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয় চাচাতো ভাইয়েরা।" তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি [ওয়া আলিহি] ওয়াসাল্লাম-এর 'ইতরাহ' সম্পর্কে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন—যাতে তিনি কুরাইশদের বুঝিয়েছেন। সুতরাং এটি প্রতিটি মতেই 'আল' থেকে ভিন্ন; কারণ 'আল' হলো পরিবার এবং অনুসারীগণ, আর 'ইতরাহ' এক মতে মূল এবং অন্য মতে পরিবার ও নিকটাত্মীয় চাচাতো ভাইয়েরা।]

তিনি আরও বলেন: ['আহল' এবং 'আল'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: 'আহল' বংশ ও বিশেষত্বের দিক থেকে ব্যবহৃত হয়। বংশের দিক থেকে যেমন আপনার উক্তি: ব্যক্তির 'আহল' বলতে তার নিকটাত্মীয়দের বোঝায়। আর বিশেষত্বের দিক থেকে আপনার উক্তি: বসরার অধিবাসী (আহলুল বাসরা), ইলমের অধিকারী (আহলুল ইলম)। আর 'আল' হলো আত্মীয়তা বা সাহচর্যের দিক থেকে ব্যক্তির বিশেষ ব্যক্তিবর্গ। আপনি ব্যক্তির 'আল' তার পরিবার ও সঙ্গীদের ক্ষেত্রে বলতে পারেন, কিন্তু 'বসরার আল' বা 'ইলমের আল' বলতে পারেন না। তারা বলেছেন: ফেরাউনের 'আল' হলো তার অনুসারীরা, অনুরূপভাবে লুতের 'আল'। মুবাররাদ বলেছেন: আরবরা যখন 'আল' শব্দটিকে তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক) করে তখন 'উহাইল' বলে, যা প্রমাণ করে যে 'আল'-এর মূল হলো 'আহল'। কেউ কেউ বলেছেন: 'আল' হলো তাঁবুর কাঠি ও খুঁটিসমূহ। ব্যক্তির পরিবার বা পরিজনকেও এর সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ তারা তার নির্ভরশীলতার স্থল। মরুভূমিতে যা উঁচুতে দেখা যায় (মরীচিকা) তাকেও 'আল' বলা হয় কারণ এটি তাঁবুর কাঠির মতো উঁচুতে ওঠে। ব্যক্তিকেও 'আল' বলা হয় কারণ সেও তদ্রূপ।] 'আল' এবং 'আহল'-এর মধ্যে পার্থক্যের দিকগুলো জানতে ইবনুল কায়্যিমের জালাউল আফহাম (পৃষ্ঠা: ২০৩-২০৯) দেখুন।

তবে আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে আমি যা অবগত হয়েছি তার বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, 'ইতরাহ', 'আহলে বাইত' এবং 'নবীর আল'-এর পারিভাষিক অর্থের মধ্যে তারা সমতা বজায় রেখেছেন (অর্থাৎ এগুলোকে সমার্থক গণ্য করেছেন)।

নবীর 'আল' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে যা ইবনুল কায়্যিম জালাউল আফহাম (পৃষ্ঠা: ২১০) এবং তার পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। আমার মতে সবচেয়ে শক্তিশালী মত হলো সেটি যা শেখ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর তার "ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ" নামক রিসালায় প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর 'আহলে বাইত' বা পরিবার হিসেবে সঠিক মত হলো তারা, যাদের ওপর সদকা হারাম। তারা হলেন তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর বংশধরগণ এবং আব্দুল মুত্তালিবের বংশোদ্ভূত প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী; আর তারা হলেন হাশিম বিন আব্দু মানাফের বংশধর। ইবনে হাযম 'জামহারাতু আনসাবিল আরব' (পৃষ্ঠা: ১৪) গ্রন্থে বলেছেন: (হাশিম বিন আব্দু মানাফের ঘরে শায়বাহ জন্মগ্রহণ করেন, যিনি হলেন আব্দুল মুত্তালিব। তার মধ্যেই বংশধারা ও মর্যাদা নিহিত। আব্দুল মুত্তালিব ছাড়া হাশিমের আর কোনো উত্তরসূরি অবশিষ্ট নেই)।]
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

وانظر عَقِبَ عبدالمطلب في: جمهرة أنساب العرب لابن حزم (ص:14 ـ 15)، والتبيين في أنساب القرشيِّين لابن قدامة (ص:76)، ومنهاج السنة لابن تيمية (7/ 304 ـ 305)، وفتح الباري لابن حجر (7/ 78 ـ 79).

ويدلُّ لدخول بنِي أعمامه في أهل بيته ما أخرجه مسلم في صحيحه (1072) عن عبدالمطلب بن ربيعة بن الحارث بن عبدالمطلب أنَّه ذهب هو والفضل بن عباس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يطلبان منه أن يُولِّيهما على الصَّدقةِ ليُصيبَا مِن المال ما يتزوَّجان به، فقال لهما صلى الله عليه وسلم: ((إنَّ الصَّدقة لا تنبغي لآل محمد؛ إنَّما هي أوساخُ الناس))، ثمَّ أمر بتزويجهما وإصداقهما من الخمس.

وقد ألْحَق بعضُ أهل العلم منهم الشافعي وأحمد بنِي المطلب بن عبد مَناف ببَنِي هاشم في تحريم الصَّدقة عليهم؛ لمشاركتِهم إيَّاهم في إعطائهم من خمس الخُمس؛ وذلك للحديث الذي رواه البخاري في صحيحه (3140) عن جُبير بن مُطعم، الذي فيه أنَّ إعطاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لبَنِي هاشم وبنِي المطلب دون إخوانِهم من بنِي عبد شمس ونوفل؛ لكون بنِي هاشم وبَنِي المطلب شيئاً واحداً.

فأمَّا دخول أزواجه رضي الله عنهن في آلِه صلى الله عليه وسلم، فيدلُّ لذلك قول الله عز وجل: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الجَاهِلِيَّةِ الأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنءَايَاتِ اللهِ وَالحِكْمَةِ إِنَّ اللهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا}، فإنَّ هذه الآيةَ تدلُّ على دخولِهنَّ حتماً؛ لأنَّ سياقَ الآيات قبلها وبعدها خطابٌ لهنَّ، ولا يُنافي ذلك ما جاء في صحيح مسلم (2424) عن عائشة رضي الله عنها أنَّها قالت: ((خرج النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غداةً وعليه مِرْطٌ مُرَحَّل من شَعر أسود، فجاء الحسن بن علي فأدخله، ثمَّ جاء الحُسين فدخل معه، ثم جاءت فاطمةُ فأدخلها، ثمَّ جاء عليٌّ فأدخله، ثمَّ قال: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا}))؛ لأنَّ الآيةَ دالَّةٌ على دخولِهنَّ؛ لكون الخطابِ في الآيات لهنَّ، ودخولُ عليٍّ وفاطمة والحسن والحسين رضي الله عنهم في الآيةِ دلَّت عليه السُّنَّةُ في هذا الحديث، وتخصيصُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لهؤلاء الأربعة رضي الله عنهم في هذا الحديث لا يدلُّ على قَصْرِ أهل بيته عليهم دون القرابات الأخرى، وإنَّما يدلُّ على أنَّهم مِن أخصِّ أقاربه …

وزوجاتُه صلى الله عليه وسلم داخلاتٌ تحت لفظ ((الآل))؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنَّ الصَّدقةَ لا تَحلُّ لمحمَّدٍ ولا لآل محمَّد))، ويدلُّ لذلك أنَّهنَّ يُعطَيْن من الخُمس، وأيضاً ما رواه ابن أبي شيبة في مصنّفه (3/ 214) بإسنادٍ صحيح عن ابن أبي مُلَيكة: ((أنَّ خالد بنَ سعيد بعث إلى عائشةَ ببقرةٍ من الصَّدقةِ فردَّتْها، وقالت: إنَّا آلَ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لا تَحلُّ لنا الصَّدقة)).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

এবং আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের সম্পর্কে দেখুন: ইবনে হাজম-এর জামহারাতু আনসাবিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৪-১৫), ইবনে কুদামাহ-এর আত-তাবয়ীন ফী আনসাবিল কুরাশিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৭৬), ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মিনহাজুস সুন্নাহ (৭/ ৩০৪-৩০৫), এবং ইবনে হাজার-এর ফাতহুল বারী (৭/ ৭৮-৭৯)।

তাঁর চাচাতো ভাইদের তাঁর আহলে বাইতের (পরিবারবর্গ) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণ হলো যা মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১০৭২) আব্দুল মুত্তালিব বিন রাবিয়াহ বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এবং ফজল বিন আব্বাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়েছিলেন এই অনুরোধ করতে যেন তিনি তাঁদের সদকা আদায়ের কাজে নিয়োজিত করেন যাতে তাঁরা এর মাধ্যমে সম্পদ লাভ করে বিবাহ করতে পারেন। তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বলেছিলেন: ((নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সদকা শোভনীয় নয়; এটি মানুষের ময়লা মাত্র।)) এরপর তিনি তাঁদের বিবাহের এবং খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) থেকে তাঁদের মোহরানা আদায়ের নির্দেশ দিলেন।

শাফিয়ী এবং আহমদ সহ কিছু আলিম বনু মুত্তালিব বিন আব্দ মানাফকেও সদকা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে বনু হাশিমের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেহেতু তাঁরা খুমুসের এক-পঞ্চমাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে অংশীদার। আর এটি সেই হাদীসের কারণে যা বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩১৪০) জুবায়ের বিন মুতয়িম থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে (খুমুস থেকে) প্রদান করেছিলেন কিন্তু তাঁদের ভাই বনু আব্দ শামস ও নাওফালকে দেননি; কারণ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব একই সত্তা।

আর তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে তাঁর স্ত্রীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ দেয়: {আর তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করবে না। তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে আহলে বাইত! আল্লাহ তো কেবল তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয় তা তোমরা স্মরণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ।}। নিশ্চয়ই এই আয়াতটি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ দেয়; কারণ এর আগের ও পরের আয়াতসমূহের বর্ণনাভঙ্গি তাঁদের প্রতি সম্বোধন। এটি সহীহ মুসলিমের (২৪২৪) সেই হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সকালে বের হলেন এবং তাঁর গায়ে কালো পশমের তৈরি একটি চিত্রিত চাদর ছিল। এরপর হাসান বিন আলী এলেন এবং তিনি তাকে চাদরের ভেতরে নিলেন। এরপর হুসাইন এলেন এবং তাঁর সাথে প্রবেশ করলেন। এরপর ফাতিমা এলেন এবং তিনি তাকে চাদরে প্রবেশ করালেন। এরপর আলী এলেন এবং তিনি তাকেও প্রবেশ করালেন। এরপর তিনি বললেন: {হে আহলে বাইত! আল্লাহ তো কেবল তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান}))। কারণ এই আয়াতটি তাঁদের (স্ত্রীদের) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে যেহেতু আয়াতের সম্বোধন তাঁদের প্রতি, আর আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই হাদীসের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। আর এই হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই চারজনকে সুনির্দিষ্ট করার অর্থ এই নয় যে, আহলে বাইত কেবল তাঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং অন্য আত্মীয়রা বাদ, বরং এটি প্রমাণ করে যে তাঁরা তাঁর নিকটতম আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত …

আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ 'আল' (পরিবার) শব্দের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((নিশ্চয়ই সদকা মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য হালাল নয়))। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে তাঁদেরকেও খুমুস থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়াও ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৩/ ২১৪) সহীহ সনদে ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: ((খালিদ বিন সাঈদ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট সদকার একটি গরু পাঠালেন, তখন তিনি তা ফেরত দিলেন এবং বললেন: আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার, আমাদের জন্য সদকা হালাল নয়))।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

ومِمَّا ذكره ابن القيِّم في كتابه ((جلاء الأفهام)) (ص:331 ـ 333) للاحتجاج للقائلِين بدخول أزواجه صلى الله عليه وسلم في آل بيته قوله: ((قال هؤلاء: وإنَّما دخل الأزواجُ في الآل وخصوصاً أزواجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تشبيهاً لذلك بالنَّسَب؛ لأنَّ اتِّصالَهُنَّ بالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غيرُ مرتفع، وهنَّ محرَّماتٌ على غيرِه في حياتِه وبعد مَمَاتِه، وهنَّ زوجاتُه في الدنيا والآخرة، فالسَّببُ الذي لهنَّ بالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قائمٌ مقامَ النَّسَب، وقد نصَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم على الصلاةِ عليهنَّ، ولهذا كان القولُ الصحيح ـ وهو منصوص الإمام أحمد رحمه الله أنَّ الصَّدقةَ تحرُمُ عليهنَّ؛ لأنَّها أوساخُ الناسِ، وقد صان اللهُ سبحانه ذلك الجَنَابَ الرَّفيع، وآلَه مِن كلِّ أوساخِ بَنِي آدَم.

ويا لله العجب! كيف يدخلُ أزواجُه في قوله صلى الله عليه وسلم: (اللَّهمَّ اجعل رزقَ آل محمَّد قوتاً)، وقوله في الأضحية: (اللَّهمَّ هذا عن محمد وآل محمد)، وفي قول عائشة رضي الله عنه: (ما شبع آلُ رسول الله صلى الله عليه وسلم من خُبز بُرٍّ)، وفي قول المصلِّي: (اللَّهمَّ صلِّ على محمد وعلى آل محمد)، ولا يَدخُلْنَ في قوله: (إنَّ الصَّدقة لا تَحلُّ لمحمَّد ولا لآل محمَّد)، مع كونِها من أوساخِ الناس، فأزواجُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم أولى بالصِّيانةِ عنها والبُعدِ منها؟!

فإن قيل: لو كانت الصَّدقةُ حراماً عليهنَّ لَحَرُمت على مواليهنَّ، كما أنَّها لَمَّا حرُمت على بَنِي هاشِم حرُمَت على موالِيهم، وقد ثبت في الصحيح أنَّ بريرةَ تُصُدِّق عليها بلَحمٍ فأكلته، ولَم يُحرِّمه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وهي مولاةٌ لعائشة رضي الله عنها.

قيل: هذا هو شبهةُ مَن أباحَها لأزواج النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

وجوابُ هذه الشُّبهةِ أنَّ تحريمَ الصَّدقةِ على أزواجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليس بطريق الأصالةِ، وإنَّما هو تَبَعٌ لتَحريمها عليه صلى الله عليه وسلم، وإلَاّ فالصَّدقةُ حلالٌ لهنَّ قبل اتِّصالِهنَّ به، فهنَّ فرعٌ في هذا التحريمِ، والتحريمُ على المولَى فرعُ التَّحريمِ على سيِّدِه، فلمَّا كان التَّحريمُ على بَنِي هاشِم أصلاً استتبَع ذلك مواليهم، ولَمَّا كان التَّحريمُ على أزواجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَبَعاً لَم يَقْوَ ذلك على استِتْبَاعِ مواليهنَّ؛ لأنَّه فرعٌ عن فرعٍ.

قالوا: وقد قال الله تعالى: {يَا نِسَآءَ النَّبِيِّ مَن يَاتِ مِنكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ} وساق الآيات إلى قوله تعالى: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنءَايَاتِ اللهِ وَالحِكْمَةِ}، ثم قال: فدخَلْنَ في أهل البيت؛ لأنَّ هذا الخطابَ كلَّه في سياق ذِكرهنَّ، فلا يجوز إخراجُهنَّ مِن شيءٍ منه، والله أعلم)).

ويدلُّ على تحريم الصَّدقة على موالِي بَنِي هاشِم ما رواه أبو داود في سننه (1650)، والترمذي (657)، والنسائي (2611) بإسنادٍ صحيح ـ واللفظ لأبي داود ـ عن أبي رافع: ((أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بعث رجلاً على الصَّدقة مِن بَنِي مخزوم، فقال لأبي رافع: اصْحَبنِي فإنَّك تُصيبُ منها، قال: حتى آتِي رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأسأله، فأتاه فسأله، فقال: مولَى القوم مِن أنفسِهم، وإنَّا لا تَحِلُّ لنا الصَّدقة)).]. وانظر أيضاً جلاء الأفهام (ص/210) وما بعدها، ومقالة: " آلُ البَيْتِ" للشيخ: عثمان الخميس.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘জালাউল আফহাম’ (পৃষ্ঠা: ৩৩১-৩৩৩) গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের তাঁর পরিবারভুক্ত (আলে বাইত) হওয়ার সপক্ষে প্রবক্তাদের দলিল হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: “তারা বলেন: নিশ্চয়ই স্ত্রীগণ ‘আল’ বা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ, কারণ একে বংশধারার (নসব) সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নয়। তাঁরা তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর অন্যের জন্য হারাম। তাঁরা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরই স্ত্রী। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের যে সম্পর্ক বিদ্যমান, তা বংশীয় সম্পর্কের স্থলাভিষিক্ত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের প্রতি দরুদ পাঠের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। একারণেই সঠিক মত হলো—যা ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন—যে তাঁদের জন্য সদকা হারাম; কারণ তা হলো মানুষের (মালের) ময়লা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই মহান ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর পরিবারকে বনী আদমের যাবতীয় ময়লা থেকে পবিত্র রেখেছেন।

বড়ই আশ্চর্যের বিষয়! কীভাবে তাঁর স্ত্রীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত হবেন: (হে আল্লাহ, মুহাম্মদ-এর পরিবারের রিজিককে জীবনধারণের উপকরণ বানিয়ে দাও), এবং কুরবানির ক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীতে: (হে আল্লাহ, এটি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে), এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এই কথায়: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার গমের রুটি খেয়ে কখনো পেট ভরেননি), এবং মুসল্লির এই দোয়ায়: (হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ-এর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করো)—অথচ তাঁরা তাঁর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত হবেন না: (নিশ্চয়ই সদকা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের জন্য হালাল নয়)? যদিও তা মানুষের (মালের) ময়লা, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ তা থেকে পবিত্র থাকা এবং দূরে থাকার অধিক হকদার।

যদি বলা হয়: যদি সদকা তাঁদের জন্য হারাম হতো, তবে তাঁদের আজাদ করা গোলামদের (মাওয়ালি) জন্যও তা হারাম হতো; যেমন বনী হাশিমের জন্য তা হারাম হওয়ায় তাঁদের মাওয়ালিদের জন্যও তা হারাম হয়েছে। অথচ সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, বারীরাহ-কে গোশত সদকা করা হয়েছিল এবং তিনি তা খেয়েছিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিষেধ করেননি, অথচ তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মাওলা (আজাদ করা দাসী) ছিলেন।

উত্তরে বলা হয়: এটিই তাদের সংশয় যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য সদকা বৈধ মনে করেন।

এই সংশয়ের জবাব হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ওপর সদকা হারাম হওয়াটা মৌলিকভাবে নয়, বরং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর হারাম হওয়ার অনুগামী (তাবে) হিসেবে। অন্যথায় তাঁর সাথে যুক্ত হওয়ার আগে সদকা তাঁদের জন্য হালাল ছিল। সুতরাং এই হারামের ক্ষেত্রে তাঁরা একটি শাখা (ফার)। আর মাওলার (আজাদ করা গোলাম) ওপর হারাম হওয়াটা তার মনিবের ওপর হারাম হওয়ার একটি শাখা। তাই বনী হাশিমের ওপর এই হারাম হওয়া যখন মূল বিষয় ছিল, তখন তা তাঁদের মাওয়ালিদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ওপর হারাম হওয়া যখন কেবল অনুগামী (তাবে) হিসেবে, তখন তা তাঁদের মাওয়ালিদের অন্তর্ভুক্ত করার মতো শক্তিশালী ছিল না; কারণ তা একটি শাখারও শাখা।

তারা বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে নবী-পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করবে, তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে} এবং তিনি আয়াতসমূহ বর্ণনা করতে করতে আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত পৌঁছেছেন: {এবং তোমাদের ঘরে আল্লাহর আয়াত ও হিকমত যা পঠিত হয় তা স্মরণ রেখো}। এরপর তিনি বলেন: সুতরাং তাঁরা আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন; কারণ এই পুরো সম্বোধনই তাঁদের বর্ণনার প্রাসঙ্গিকতায় এসেছে, তাই এর কোনো অংশ থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া জায়েজ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।”

বনী হাশিমের মাওয়ালিদের (আজাদ করা গোলাম) জন্য সদকা হারাম হওয়ার বিষয়টি আবু দাউদ তাঁর সুনান (১৬৫০), তিরমিজি (৬৫৭) এবং নাসাঈ (২৬১১) তে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন—শব্দগুলো আবু দাউদ থেকে নেওয়া—আবু রাফে থেকে বর্ণিত: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী মাখজুম গোত্রের একজনকে সদকা আদায়ের জন্য পাঠালেন। সে ব্যক্তি আবু রাফেকে বলল: আমার সাথে চলো, তুমিও এর থেকে কিছু পাবে। তিনি বললেন: দাঁড়াও, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করি। এরপর তিনি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: কোনো কওমের মাওলা বা আজাদ করা গোলাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, আর আমাদের জন্য সদকা হালাল নয়।”]। আরও দেখুন জালাউল আফহাম (পৃষ্ঠা ২১০) এবং পরবর্তী অংশ, এবং শেখ উসমান আল-খামিসের ‘আলে বাইত’ প্রবন্ধটি।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . … تَلَاهُمْ بِإِحْسَانٍ (1) إِلَى آَخِرِ الدَّهْرِ

 

‌‌دواعي تأليف المنظومة

5 - وَبَعْدُ فَدَاعِ النَّظْمِ أَشْيَاءُ غَادَرَتْ … سَوَامِ الْكَرَى (2) فِي مُقْلَتَيَّ عَلَى ذُعْرِ (3)

--------------------------------------------

(1) هذا البيت معطوف على سابقه، والمعنى أنه صلى على النبي صلى الله عليه وسلم، وعلى من ذكر من العترة، والأهل، والصحب، ومن تلاهم من المؤمنين، وقد اختلف العلماء في الصلاة على غير الأنبياء استقلالاً، ومن أجمع من تكلم في هذه المسألة الإمام ابن القيم فقد قال في جلاء الأفهام (ص/ 481 - 482) بعد أن عرض الخلاف في أفراد هذه المسألة: [وفصل الخطاب في هذه المسألة أن الصلاة على غير النبي إما أن يكون آله - وذكر أيضاً: أنه إذا أبدل لفظ الآل بالأهل، ففي الإجزاء وجهان -، وأزواجه، وذريته، أو غيرهم، فان كان الأول فالصلاة عليهم مشروعة مع الصلاة على النبي، وجائزة مفردة.

وأما الثاني: فإن كان الملائكة، وأهل الطاعة عموما الذين يدخل فيهم الأنبياء، وغيرهم جاز ذلك أيضا، فيقال: اللهم صل على ملائكتك المقربين، وأهل طاعتك أجمعين، وإن كان شخصا معينا، أو طائفة معينة كره أن يتخذ الصلاة عليه شعارا لا يخل به، ولو قيل بتحريمه لكان له وجه، ولا سيما إذا جعلها شعارا له، ومنع منها نظيره، أو من هو خير منه، وهذا كما تفعل الرافضة بعلي رضي الله عنه فإنهم حيث ذكروه قالوا: عليه الصلاة، والسلام، ولا يقولون ذلك فيمن هو خير منه، فهذا ممنوع لا سيما إذا اتخذ شعارا لا يخل به، فتركه حينئذ متعين، وأما أن صلى عليه أحيانا بحيث لا يجعل ذلك شعارا، كما صلي على دافع الزكاة، وكما قال ابن عمر للميت صلى الله عليه، وكما صلى النبي على المرأة، وزوجها، وكما روي عن علي من صلاته على عمر، فهذا لا بأس به، وبهذا التفصيل تتفق الأدلة، وينكشف وجه الصواب، والله الموفق].

(2) أي النعاس، وانظر مختار الصحاح مادة (كرى)، وقال الثعالبي في فقه اللغة: [اَلكَرَى والغُمْضُ وهُوَ أنْ يَكُونَ الإنسانُ بين النَّائِمِ واليَقْظَان].

(3) والمعنى الإجمالي لهذا البيت أن الناظم بدأ في ذكر الأشياء التي دعته إلى كتابة هذا النظم، فذكر منها في هذا البيت: أنه كان مشغولاً لكتابة هذا النظم، وهذا الانشغال منع مرور لذيذ النوم على عينه، وبيَّن أيضا أن هذا الانشغال جعله خائفاً فزعاً. فهنا ظهر أنه لم يطلب منه أحد تأليف هذا النظم، وإنما هو الذي أنشأ هذه النية من تلقاء نفسه لما رأى من الفتنة التي أنشأها بعض الأوباش كما سيأتي.
. . . . . . . . . . . . . . … যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে (১) শেষ কাল পর্যন্ত।

 

‌‌মনযূমাহ (কাব্যগ্রন্থ) রচনার প্রেক্ষাপট

৫ - অতঃপর, কাব্য রচনার কারণসমূহ এমন কিছু যা অবশিষ্ট রেখেছে … আমার দুই চোখে ভয়ের সাথে তন্দ্রার বিচরণকে (২) (৩)

--------------------------------------------

(১) এই পঙ্ক্তিটি পূর্ববর্তী পঙ্ক্তির সাথে সংযুক্ত। এর অর্থ হলো, তিনি (রচয়িতা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—যেমন বংশধর, পরিবার ও সাহাবীগণ এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছেন এমন মুমিনদের ওপর দরুদ পাঠ করেছেন। নবীদের ব্যতীত অন্যদের ওপর স্বতন্ত্রভাবে দরুদ পাঠ করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এই বিষয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম ইবনুল কায়্যিম। তিনি 'জালাউল আফহাম' (পৃষ্ঠা: ৪৮১ - ৪৮২) গ্রন্থে এই বিষয়ের শাখা-প্রশাখার ভিন্নমত উপস্থাপনের পর বলেছেন: [এই বিষয়ে চূড়ান্ত কথা হলো, নবী ব্যতীত অন্য কারও ওপর দরুদ পাঠ করা হয় তাঁর পরিবারের (আলে) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে—তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যদি 'আল' শব্দের পরিবর্তে 'আহল' শব্দ ব্যবহার করা হয় তবে তা বৈধ হওয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে—এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর, অথবা অন্যদের ওপর। যদি প্রথমটি হয় (অর্থাৎ পরিবার ও বংশধর), তবে নবীদের ওপর দরুদ পাঠ করার সাথে সাথে তাদের ওপরও দরুদ পাঠ করা শরিয়তসম্মত এবং এককভাবেও জায়েজ।

আর দ্বিতীয়টি হলো: যদি তারা ফেরেশতা এবং সাধারণভাবে সকল অনুগত বান্দা হন—যাদের মধ্যে নবীগণ ও অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত—তবে তাও জায়েজ। তখন বলা হবে: হে আল্লাহ! আপনার নিকটতম ফেরেশতাদের ওপর এবং আপনার সকল অনুগত বান্দাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। কিন্তু যদি তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দল হন, তবে তাকে এমনভাবে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা মাকরূহ যাতে তা কখনও বাদ না পড়ে। এমনকি যদি কেউ একে হারাম বলেন তবে তারও ভিত্তি রয়েছে; বিশেষ করে যদি তা নিজের জন্য একটি রীতিতে পরিণত করা হয় এবং তার সমতুল্য বা তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা করা না হয়। যেমনটি রাফেজীরা আলী (রা.)-এর ক্ষেত্রে করে থাকে; তারা যখনই তাঁর নাম উল্লেখ করে তখনই বলে: 'আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম', কিন্তু তারা তাঁর চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের জন্য এমনটি বলে না। এটি নিষিদ্ধ, বিশেষ করে যখন একে এমন এক রীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যা কখনও বর্জন করা হয় না। এমতাবস্থায় তা বর্জন করা আবশ্যক। তবে যদি কখনও কখনও দরুদ পাঠ করা হয় এবং একে নিয়মিত রীতিতে পরিণত না করা হয়—যেমন যাকাত প্রদানকারীর ওপর দরুদ পাঠ করা হয়েছিল, কিংবা ইবনে উমর (রা.) যেভাবে মৃত ব্যক্তির ওপর দরুদ পড়েছিলেন, অথবা নবী (সা.) যেভাবে জনৈক নারী ও তার স্বামীর ওপর দরুদ পড়েছিলেন, কিংবা আলী (রা.) থেকে উমর (রা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের যে বর্ণনা পাওয়া যায়—তবে তাতে কোনো দোষ নেই। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমেই দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় ঘটে এবং সঠিক দিকটি উন্মোচিত হয়। আল্লাহই তৌফিকদাতা।]

(২) অর্থাৎ তন্দ্রা বা ঝিমুনি। দেখুন 'মুখতারুস সিহাহ' (কারা) মূলশব্দ। আল-সাআলাবী 'ফিকহুল লুগাহ' গ্রন্থে বলেছেন: [আল-কারা এবং আল-গুমদ অর্থ হলো মানুষের ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থা]।

(৩) এই পঙ্ক্তির সামগ্রিক অর্থ হলো, রচয়িতা সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করতে শুরু করেছেন যা তাঁকে এই কাব্যগ্রন্থ লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এই পঙ্ক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই কাব্যগ্রন্থটি লিখতে এতই মগ্ন ছিলেন যে, এই ব্যস্ততা তাঁর চোখে সুমিষ্ট ঘুমের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যস্ততা তাঁকে ভীত ও বিচলিত করে তুলেছিল। এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, কেউ তাঁকে এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার অনুরোধ করেনি, বরং তিনি নিজেই এই নিয়্যাত করেছেন যখন তিনি একদল উশৃঙ্খল লোকের দ্বারা সৃষ্ট ফিতনা দেখেছিলেন, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
6 - وَرُبَّ حَدِيثٍ أَذْهَلَ الْقَلْبَ ذِكْرُهُ … عَنِ الْبِحْثِ وَالّتِكَرارِ وَالدَّرْسِ لِلّذِكْرِ (1)

7 - وَأَوْبَاشُ (2) نَاسٍ أَضْرَمُوا نَارَ بِدْعَةٍ … يُؤَجِّجُهَا ذُو الطَّعْنِ مِنْهُمْ وُذُو الْغِمْرِ (3)

 

‌‌الباب الأول

محاربة شيخه للبدع بالاعتماد على الأدلة الشرعية

8 - فَلَوْلَا مَكَانُ الشَّيخِ حَسَّانِ (4) أَصْبَحَتْ … . . . . . . . . . . . . .. . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) وهذا سبب آخر وهو أن التذكر والتفكير في النظم، وموضوعه أذهل قلبه عن البحث، والتكرار، والدرس.

(2) الأوباش، جمع الوَبْشُ، وهم: الأخْلاطِ والسَّفِلَةِ. وانظر القاموس المحيط: باب الشين، فصل الواو.

(3) قال ابن سلام في غريب الحديث (2/ 154): [الغمر: الشحناء، والعداوة، وكذلك الإحنة، والغِمْر أيضاً: الحقد وزناً ومعنى، وانظر المغرب (باب: الغين مع الميم، والمصباح المنير، مادة: الغمر).

(4) لم أقف له على ترجمة بعد طول بحث، وقد ذكر الناظم أشياء كثيرة من أوصافه، وتمسكه بالسنة، ستأتي في الأبيات التالية، وقد أشار بعض إخواننا احتمالا أن يكون الفقيه الشاعر الفحل أبي زكرياء يحيى بن يوسف بن يحيى بن منصور الصرصري الأنصاري الحنبلي المتوفى رحمه الله شهيدا على أيدي التتار سنة656هـ والملقب بحسان السنة كما ذكر ابن القيم في اجتماع الجيوش الإسلامية (ص/200)، وقال عنه الحافظ ابن رجب في ذيل طبقات الحنابلة: وكان حسان وقته.

قال ابن كثير في البداية والنهاية (13/ 211) في ترجمته (يحيى بن يوسف بن يحيى بن منصور بن المعرم عبد السلام الشيخ الإمام العلامة البارع الفاضل في أنواع من العلوم جمال الدين أبو زكريا الصرصري الفاضل المادح الحنبلي الضرير البغدادي معظم شعره في مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم وديوانه في ذلك مشهور معروف غير منكر ويقال إنه كان يحفظ صحاح الجوهري بتمامه في اللغة وصحب الشيخ علي بن إدريس تلميذ الشيخ عبد القادر وكان ذكيا يتوقد نورا وكان ينظم على البديهة سريعا أشياء حسنة فصيحة بليغة وقد نظم الكافي الذي ألفه موفق الدين بن قدامة ومختصر الخرقي وأما مدائحه في رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقال إنها تبلغ عشرين مجلدا وما اشتهر عنه أنه مدح أحدا من المخلوقين من بني آدم إلا الأنبياء ولما دخل التتار إلى بغداد دعي إلى ذارئها كرمون بن هلاكو فأبى أن يجيب إليه وأعد في =
৬ - অনেক কথাই এমন রয়েছে যার স্মরণ হৃদয়কে উদাসীন করে দেয় … সেই স্মরণের নিমিত্তে গবেষণা, পুনরাবৃত্তি এবং পাঠ করা হতে (১)

৭ - আর একদল নিচ ও হীন লোক বিদআতের আগুন প্রজ্বলিত করেছে … যা তাদের মধ্যকার নিন্দুক ও বিদ্বেষ পোষণকারীরা উসকে দিচ্ছে (৩)

 

‌‌প্রথম অধ্যায়

শরয়ি দলিলের ওপর ভিত্তি করে তার শাইখ কর্তৃক বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

৮ - যদি শাইখ হাসানের (৪) মর্যাদা না থাকত, তবে তা হয়ে যেত … . . . . . . . . . . . . .. . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) এটি অপর একটি কারণ, আর তা হলো কবিতার ছন্দ এবং এর বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা ও স্মরণ করা তার হৃদয়কে গবেষণা, পুনরাবৃত্তি ও পাঠ হতে বিমুখ করে দিয়েছে।

(২) আল-আওবাশ, 'ওয়াবশ' শব্দের বহুবচন, তারা হলো: মিশ্র জনতা ও নিচুতলার মানুষ। দেখুন আল-কামুস আল-মুহিত: শিন অধ্যায়, ওয়াও পরিচ্ছেদ।

(৩) ইবনুল সালাম 'গারিব আল-হাদিস' (২/১৫৪)-এ বলেছেন: [গিমর: শত্রুতা ও বৈরিতা, একইভাবে ইহনাহ-ও। গিমর অর্থও হলো ঘৃণা, ওজনে ও অর্থে। দেখুন আল-মুগরিব (অধ্যায়: গাইন ও মিম) এবং আল-মিসবাহুল মুনির, মূলধাতু: গিমর]।

(৪) দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, তবে কবি তার অনেক গুণাবলী এবং সুন্নাহর প্রতি তার অবিচলতার কথা উল্লেখ করেছেন যা পরবর্তী পঙক্তিগুলোতে আসবে। আমাদের কোনো কোনো ভাই সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে তিনি হতে পারেন ফকিহ, শক্তিশালী কবি আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া বিন মানসুর আস-সরসরি আল-আনসারি আল-হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ), যিনি ৬৫৬ হিজরিতে তাতারীদের হাতে শহীদ হন এবং তাকে 'সুন্নাহর হাসসান' উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম 'ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়া' (পৃ. ২০০)-তে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে রাজাব 'জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা'-তে তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন তার সময়ের হাসসান।

ইবনে কাসির 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৩/২১১)-এ তার জীবনীতে বলেছেন: (ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া বিন মানসুর বিন আল-মুয়াররাম আব্দুস সালাম, শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আল্লামা, বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী, জামালুদ্দিন আবু জাকারিয়া আস-সরসরি, গুণী প্রশংসাকারী হাম্বলি, বাগদাদী অন্ধ ব্যক্তি; তার অধিকাংশ কবিতাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় এবং এ বিষয়ে তার কাব্যগ্রন্থ অত্যন্ত সুপরিচিত ও অবিসংবাদিত। বলা হয় যে, তিনি অভিধান শাস্ত্রের জওহরীর 'সিহাহ' গ্রন্থটি সম্পূর্ণ মুখস্থ রাখতেন। তিনি শাইখ আব্দুল কাদিরের ছাত্র শাইখ আলী বিন ইদ্রিসের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও জ্যোতির্ময় ছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত সুন্দর, প্রাঞ্জল ও সাবলীল কবিতা রচনা করতে পারতেন। তিনি মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা রচিত 'আল-কাফি' এবং 'মুখতাসার আল-খিরাকি' কাব্যাকারে বিন্যস্ত করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় তার রচিত কবিতা বিশ খণ্ড হবে বলে বলা হয়। তার সম্পর্কে সুপ্রসিদ্ধ যে, তিনি নবীগণ ব্যতীত আদম সন্তানদের অন্য কারোর প্রশংসা করেননি। যখন তাতারীরা বাগদাদে প্রবেশ করল, তখন তাকে তাদের নেতা হালাকু খানের কাছে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হলো, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তিনি প্রস্তুতি নিলেন...)
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . … مَدِينَةُ سَامَّرَاءَ (1) فِي غَايَةِ الضُّرِ

9 - وَلَوْلَا خِلَالٌ شَدَّهَا (2) لَتَعَطَّلَتْ … رُسُومُ الْهُدَى وَاسْتَوْسَقَتْ (3) دَوْلَةُ الشِّرِ

10 - هَوُ الْعَالِمُ الْمَرْضِيُّ وَالقُثَمُ (4) الذي … يَفَتِّحُ أَقْفَالَ الْمَسَائِلِ بِالسَّبْرِ (5)

--------------------------------------------

داره حجارة فحين دخل عليه التتار رماهم بتلك الاحجار فهشم منهم جماعة فلما خلصوا إليه قتل بعكازه أحدهم ثم قتلوه شهيدا رحمه الله تعالى وله من العمر ثمان وستون سنة.

وقد أورد له قطب الدين اليونيني من ديوانه قطعة صالحة في ترجمته في الذيل استوعب حروف المعجم وذكر غير ذلك قصائد طوالا كثيرة حسنة).

وانظر أيضا: المقصد الأرشد (3/ 114)، وفوات الوفيات (2/ 618)، وذيل طبقات الحنابلة (1/ 283)، وشذرات الذهب (5/ 286)، تاريخ الإسلام (48/ 303)، الأعلام (8/ 177)، ومعجم الكؤلفين (13/ 237).

وعلى هذا فهو ليس من شيوخه؛ لأنه قتل شهيدا قبل ولادته بأربعين عاما.

(1) سبق التعريف بها في المقدمة عند الكلام على مولد الناظم في ترجمته.

(2) أي خصال حسنة أرساها عند الناس، وهذا يدل على علو قدر هذا الرجل عند الله - عزوجل - لقيامه مقام الأنبياء بإرساء الخصال الحسنة عند الناس بالدعوة، والتعليم والقدوة الحسنة. وعند الناس لتقبلهم منه هذه الخصال حتى رسخت عندهم، وقاوموا بها دولة الشر.

(3) أي اجتمعت والمراد استتباب الأمر لها، قال الخطابي في غريب الحديث (1/ 113): [وقوله استوسقوا معناه اجتمعوا وانضموا يسومهم الانقياد والاستسلام].

(4) القُثَمُ من معنيين أحدهما: من القثم وهو الإعطاء، يقال: قثم له من العطاء يقثم إذا أعطاه، والثاني: من القثم الذي هو الجمع، يقال للرجل الجموع للخير: قثوم وقثم. قال ابن الأثير في النهاية (4/ 27): [القُثَم: المجْتَمِع الخَلْقِ، وقيل: الجامِع الكامِل، وقيل: الجَمُوع للخير، وبه سُمِّي الرجُل قُثَم. وقيل: قُثَم مَعْدُول عن قائِم، وهو: الكثير العَطاء - ومنه حديث المبعث [أنتَ قُثَمُ أنت المُقَفّى أنت الحاشِر] هذه أسماء للنبي صلى الله عليه وسلم].

(5) قال العلامة الشنقيطي رحمه الله في المذكرة (ص/257): [والسبر بالفتح لغة: الاختبار، ومنه

يسمى ما يعرف به طول الجرح وعرضه سباراً ومسباراً، وأصل هذا الدليل من حيث هو مبني على أمرين: أحدهما: حصر أوصاف المحل، وهو المعبر عنه بالتقسيم. ثانيهما: إبطال ما ليس صالحاً للتعليل بطريق من طرق الأبطال الآتية .. فيتعين الوصف الباقي وهو المعبر عنه بالسبر.] والمعنى أن الناظم رحمه الله يشير إلى تمكن شيخه من العلم، وقوة قدرته على فهم، وحل المسائل المشكلة.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . … সামাররা শহর (১) চরম দুর্দশার মধ্যে

৯ - আর যদি এমন কিছু গুণাবলি না থাকত যা তিনি সুদৃঢ় করেছেন (২), তবে হেদায়াতের নিদর্শনগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং মন্দের (৩) রাজত্ব সুসংহত হতো।

১০ - তিনি হলেন সেই পছন্দনীয় আলেম এবং গুণাবলির আধার (৪) যিনি … সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (৫) মাধ্যমে মাসআলাসমূহের তালাগুলো উন্মুক্ত করেন।

--------------------------------------------

তার ঘরে পাথর ছিল, যখন তাতাররা তার নিকট প্রবেশ করল, তিনি তাদের লক্ষ্য করে সেই পাথরগুলো ছুড়ে মারলেন এবং তাদের একটি দলকে আহত করলেন। তারা যখন তার নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি তার লাঠি দিয়ে তাদের একজনকে হত্যা করলেন। এরপর তারা তাকে শহীদ করে দিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। সে সময় তার বয়স ছিল আটষট্টি বছর।

কুতুবুদ্দিন আল-ইউনিনি তার ‘যাইল’ গ্রন্থে এই কবির জীবনীতে তার ‘দিওয়ান’ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেছেন, যা বর্ণমালার অক্ষর অনুযায়ী বিন্যস্ত। এছাড়াও তিনি অন্যান্য অনেক দীর্ঘ ও সুন্দর কবিতার কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ (৩/ ১১৪), ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত (২/ ৬১৮), যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১/ ২৮৩), শাযারাতুয যাহাব (৫/ ২৮৬), তারিখুল ইসলাম (৪৮/ ৩০৩), আল-আলাম (৮/ ১৭৭), এবং মুজামুল মুআল্লিফিন (১৩/ ২৩৭)।

এর ভিত্তিতে, তিনি তার উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত নন; কারণ তিনি লেখকের জন্মের চল্লিশ বছর আগে শহীদ হয়েছিলেন।

(১) উপক্রমণিকায় লেখকের জীবনীতে তার জন্মস্থান আলোচনার সময় এর পরিচয় প্রদান করা হয়েছে।

(২) অর্থাৎ তিনি মানুষের মাঝে যে উত্তম গুণাবলি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি আল্লাহর নিকট এই ব্যক্তির উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে; কারণ তিনি দাওয়াত, শিক্ষা এবং উত্তম আদর্শের মাধ্যমে মানুষের মাঝে মহৎ গুণাবলি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবীদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আর মানুষের মাঝেও (তার উচ্চ মর্যাদা লক্ষণীয়) কারণ তারা তার কাছ থেকে এই গুণাবলি গ্রহণ করেছে যা তাদের মধ্যে সুদৃঢ় হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা মন্দের রাজত্বকে প্রতিহত করেছে।

(৩) অর্থাৎ একত্রিত হয়েছে, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া। খাত্তাবি ‘গারিবুল হাদিস’ (১/ ১১৩) গ্রন্থে বলেন: [তার উক্তি ‘ইস্তাওসাকু’ এর অর্থ হলো তারা সমবেত হয়েছে এবং একত্র হয়েছে, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে]।

(৪) ‘আল-কুসাম’ শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে—প্রথমটি: ‘আল-কাসম’ থেকে যার অর্থ দান করা। বলা হয়: তাকে দান করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি: ‘আল-কাসম’ থেকে যার অর্থ একত্রিত করা। যে ব্যক্তি কল্যাণের সংগ্রাহক তাকে ‘কুসুম’ বা ‘কুসাম’ বলা হয়। ইবনুল আসির ‘আন-নিহায়াহ’ (৪/ ২৭) গ্রন্থে বলেন: [আল-কুসাম: সুঠাম দৈহিক গঠনসম্পন্ন, আবার বলা হয়েছে: পূর্ণতা দানকারী ও একত্রকারী, আবার বলা হয়েছে: কল্যাণের সংগ্রাহক। আর এই নামেই একজন মানুষের নাম রাখা হয়েছে ‘কুসাম’। আরও বলা হয়েছে যে, ‘কুসাম’ শব্দটি ‘কায়িম’ থেকে রূপান্তরিত শব্দ, যার অর্থ অধিক দানকারী। এর থেকেই নবুয়তের হাদিসে এসেছে: ‘তুমি হলে কুসাম, তুমি হলে মুকাফফা, তুমি হলে হাশির’। এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত]।

(৫) আল্লামা শানকিতি (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘আল-মুযাক্কিরাহ’ (পৃ. ২৫৭) গ্রন্থে বলেছেন: [‘সাবার’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরীক্ষা বা যাচাই করা। এর থেকেই সেই যন্ত্রকে ‘সিবার’ বা ‘মিসবার’ বলা হয় যা দিয়ে ক্ষতের গভীরতা ও বিস্তৃতি পরিমাপ করা হয়। এই প্রমাণের ভিত্তি মূলত দুটি বিষয়ের ওপর: প্রথমটি—ক্ষেত্রটির সকল বৈশিষ্ট্যকে সীমাবদ্ধ করা, যাকে ‘তাকসিম’ (বিভাগ) বলা হয়। দ্বিতীয়টি—যেসব বৈশিষ্ট্য ইল্লত বা কারণ হওয়ার যোগ্য নয় সেগুলোকে বাতিল করা... ফলে অবশিষ্ট বৈশিষ্ট্যটিই নির্ধারিত হয় এবং একেই ‘সাবার’ (বিশ্লেষণ) বলা হয়।] এর অর্থ হলো, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তার উস্তাদের জ্ঞানের গভীরতা এবং জটিল মাসআলাসমূহ অনুধাবন ও সমাধানের সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
11 - إِذَا سَأَلُوهُ عَنْ دَلِيلِ مَقَالِةِ … أَجَابَ بِقَوْلِ اللهِ فِي مُحْكَمِ الذِّكْرِ

12 - وَإِنْ يَسْتَزِيدُوا قَالَ قَالَ مُحَمَّدٌ … وَإِن يَسْتَزِيدُوا قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرِ (1)

13 - كَفَانِي أَنِّي أَنْتَمِي بِعَقِيَدتيِ … إِلَيْهِ وَإِنِّي فِي طَرِيقَتَهِ أَجْرِي (2)

 

‌‌الباب الثاني

منهج الفرق الضالة في الاستدلال

14 - وَيَكْفِي سِوَايَ أَنَّهُ مُتَمَسِّكٌ … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) وخصَّ الناظم سيدنا أبا بكر بالذكر؛ لبيان فضله، وللرد على الشيعة - أخزاهم الله -، الذين قدموا علياً على الشيخين رضي الله عنهم أجمعين - وأيضاً لما ورد من الأمر بالإقتداء به، وبسيدنا عمر رضي الله عنهما فقد روى الترمذي (5/ 610) (3663) عن حذيفة رضي الله عنه قال: [كنا جلوسا عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني لا أدري ما بقائي فيكم، فاقتدوا باللذين من بعدي، وأشار إلى أبي بكر وعمر]. والحديث له شواهد عن عبد الله بن مسعود، وأنس بن مالك، وعبد الله بن عمر رضي الله عنهم، وقد صححه الشيخ الألباني وانظر الصحيحة (1233)، وحسنه الأرناوؤط بالشواهد في هامش المسند. ولعل الناظم هنا يشير بالبعض إلى الكل، وخص سيدنا أبا بكر بالذكر لما ذكرت، فهو يشير إلى رسوخ قدم شيخه في الاستدلال، وعلمه بكثير من الأدلة من القرآن، والسنة، وأقوال الصحابة. وهنا تلميح من الناظم للرد على العقلانيين الذين يقدمون العقل على النقل.

(2) وذلك لأن عقيدته مستمدة من عقيدة النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابته الكرام، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.
১১ - যখন তারা তাঁকে তাঁর বক্তব্যের দলীল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে … তিনি মহাগ্রন্থের (কুরআনের) সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে তার উত্তর দেন।

১২ - আর যদি তারা আরও বেশি জানতে চায়, তবে তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন … আর যদি তারা আরও চায়, তবে তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন (১)।

১৩ - আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি আমার আকীদার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হই … এবং আমি তাঁরই পদ্ধতিতে পরিচালিত হই (২)।

 

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

পথভ্রষ্ট দলসমূহের দলীল গ্রহণের পদ্ধতি

১৪ - আর আমার ব্যতিরেকে অন্যের জন্য এটিই যথেষ্ট যে সে আঁকড়ে ধরে আছে … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) নাযিম (কবিতা রচয়িতা) আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর মর্যাদা বর্ণনার জন্য এবং শিয়াদের—আল্লাহ তাদের অপদস্থ করুন—প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য, যারা শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর ওপর আলীকে প্রাধান্য দেয়। আর এ কারণেও যে, আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে অনুসরণের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (৫/৬১০) (৩৬৬৩) হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: আমি জানি না তোমাদের মাঝে আমি আর কতকাল থাকব, সুতরাং তোমরা আমার পরবর্তী দুজনের অনুসরণ করো, এবং তিনি আবু বকর ও উমরের দিকে ইশারা করলেন]। এই হাদীসটির স্বপক্ষে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, আনাস বিন মালিক এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে আরও বর্ণনা রয়েছে। শায়খ আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, দেখুন ‘আস-সহীহাহ’ (১২৩৩), এবং আরনাউত অন্যান্য বর্ণনার ভিত্তিতে একে ‘হাসান’ বলেছেন ‘আল-মুসনাদ’-এর টিকায়। সম্ভবত নাযিম এখানে আংশিক উল্লেখের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ দিকের ইঙ্গিত করেছেন, আর আবু বকরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ তা-ই যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। তিনি এর মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনে তাঁর শায়খের সুদৃঢ় অবস্থান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের বাণী সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এখানে নাযিমের পক্ষ থেকে সেই সব যুক্তিবাদীদের প্রতিও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যারা ওহীর ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়।

(২) আর তা এই কারণে যে, তাঁর আকীদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সম্মানিত সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের আকীদা থেকে উৎসারিত।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . … بِتَعْلِيمِ عِلْم الْمَنْطِقِ (1) السَّيئِ النَّشْرِ (2)

15 - عَقِيدَتُهُ أَنَّ الْكِتَابَ وَسُنَّةَ الْـ … نَبِيِّ مَعَاً لَيْسَا دَلِيلَاً عَلَى أَمْرِ

16 - وَلَكِنْ دَلِيلُ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ عِنْدَهُ … نَتَائِجُ (3) أَفْكَارٍ عَلَى عَقْلِهِ تَجْرِي

17 - وَذَاكَ دَلِيلٌ فِي الشَّرِيعَةِ بَاطِلٌ (4) … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) المنطق علم يقصد به ضبط التفكير، وتقرير منهج عقلي للتفكير، والنظر، والبحث، واستخراج النتائج.

جاء في الموسوعة العربية العالمية: [المنطق فرع من فروع الفلسفة يعنى بقواعد التفكير السليم. ويشتَغِل معظم الدّارسين في مجال المنطق بشكل من التفكير يُسمَّى القضية المنطقيّة. وتتكون القضية المنطقية من مجموعة من العبارات تُسمَّى المقدمات تتبعها عبارة أخرى يطلق عليها اسم النتيجة. فإذا كانت المقدمات تُؤَيِّد النتيجة، كانت القضية المنطقية صحيحة. وإذا كانت المقدمات لا تُؤيِّد النتيجة، كانت القضية المنطقية خاطئة …].

(2) قال ابن منظور في اللسان مادة (نشر): [قال أَبو عبيدة نَشْر الأَرض بالسكون: ما خرج من نباتها، وقيل: هو في الأَصل الكَلأُ إِذا يَبِسَ ثم أَصابه مطر في آخر الصَّيف فاخضرّ، وهو رديء للرّاعية …]، ومقصود الناظم بيان فساد مخرج هذا العلم، وأن منشأه من فلاسفة اليونان.

(3) بالأصل: نتيجة، وفي الهامش تصحيحها إلى: نتائج.

(4) وقد ألف شيخ الإسلام ابن تيمية بعض الكتب في الرد على أهل المنطق ومنها: نقض المنطق، والرد على المنطقيين، نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان، وقد لخصه السيوطي في: (صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام).

وقال الشيخ العثيمين رحمه الله في خاتمة شرحه للسفارينية (ص/630): [العلماء اختلفوا فيه: فمنهم من حرمه، ومنهم قال: ينبغي أن يُعلم، ومنهم من فصَّل قال: الإنسان الذي عنده منعة لا يؤثر على عقيدته فإنه ينبغي أن يتعلمه ليحاج به قومه أي قوم المنطق ومن لم يكن كذلك فلا يتعلمه لأنه ضلالة، والصحيح: أنه لا يتعلمه مطلقاً؛ لأنه مضيعة وقت لكن إن اضطُّر إلى شيءٍ منه فليراجع ما اضطُّر إليه منه فقط ليكون تعلمه إياه كأكل الميتة متى يحل؟ عند الضرورة، وبقدر الضرورة، فإن كان هناك اضطرار أخذ من علم المنطق ما يضطر إليه فقط أما أن يدرسه ويضيع وقته فيه فلا …].
. . . . . . . . . . . . . . . . … তর্কশাস্ত্র শিক্ষার মাধ্যমে (১), যার উৎস অত্যন্ত মন্দ (২)

১৫ - তার আকিদা হলো যে, কিতাব ও নবীর সুন্নাহ একত্রে কোনো বিষয়ের ওপর দলিল নয়

১৬ - বরং তার নিকট আদেশ ও নিষেধের দলিল হলো তার বিবেকের ওপর প্রবাহিত চিন্তাধারার ফলাফলসমূহ (৩)

১৭ - আর শরিয়তের দৃষ্টিতে তা এক বাতিল দলিল (৪) . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) তর্কশাস্ত্র (মানতিক) এমন এক জ্ঞান যার উদ্দেশ্য হলো চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং চিন্তা, পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও ফলাফল বের করার জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা।

আল-মাওসুআ আল-আরাবিয়া আল-আলামিয়া-তে এসেছে: [তর্কশাস্ত্র হলো দর্শনের একটি শাখা যা সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে। তর্কশাস্ত্রের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই 'লজিক্যাল প্রপোজিশন' নামক এক ধরনের চিন্তা নিয়ে কাজ করে। একটি লজিক্যাল প্রপোজিশন একগুচ্ছ বিবৃতির সমন্বয়ে গঠিত হয় যাকে 'ভূমিকা' বলা হয় এবং এর পরে একটি বক্তব্য আসে যাকে 'ফলাফল' বলা হয়। যদি ভূমিকাগুলো ফলাফলকে সমর্থন করে, তবে লজিক্যাল প্রপোজিশনটি সঠিক হয়। আর যদি ভূমিকাগুলো ফলাফলকে সমর্থন না করে, তবে লজিক্যাল প্রপোজিশনটি ভুল হয় ...]।

(২) ইবন মঞ্জুর লিসানুল আরব গ্রন্থে 'নশর' ধাতুর অধীনে বলেছেন: [আবু উবাইদাহ বলেছেন, জমিনের 'নশর' (সুstatic দিয়ে) অর্থ হলো সেখান থেকে উৎপাদিত উদ্ভিদ। কেউ কেউ বলেছেন: এর মূল অর্থ হলো ঘাস যখন শুকিয়ে যায় এবং তারপর গ্রীষ্মের শেষ দিকে বৃষ্টি পেয়ে পুনরায় সবুজ হয়ে ওঠে; আর তা চতুষ্পদ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর ...]। আর এখানে কবির উদ্দেশ্য হলো এই শাস্ত্রের উৎসের মন্দ অবস্থা বর্ণনা করা এবং এটি যে গ্রীক দার্শনিকদের নিকট থেকে উদ্ভূত হয়েছে তা স্পষ্ট করা।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: 'ফলাফল' (একবচন), আর পার্শ্বটীকায় তা সংশোধন করে 'ফলাফলসমূহ' (বহুবচন) করা হয়েছে।

(৪) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তর্কশাস্ত্রবিদদের খণ্ডনে কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: নাকদুল মানতিক, আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিইয়িন, নাসিহাতু আহলিল ঈমান ফি আর-রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান। সুয়ূতী একে সংক্ষেপ করেছেন 'সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থে।

শায়খ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) সাফারিনিয়া-এর শরহের শেষে (পৃষ্ঠা: ৬৩০) বলেছেন: [উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে হারাম বলেছেন, কেউ কেউ বলেছেন: এটি শেখা উচিত, আবার কেউ কেউ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন: যার মধ্যে এমন প্রতিরক্ষা শক্তি রয়েছে যে তা তার আকিদার ওপর প্রভাব ফেলবে না, তার জন্য এটি শেখা উচিত যাতে সে সেই দলের (তর্কশাস্ত্রবিদদের) সাথে বিতর্ক করতে পারে। আর যার অবস্থা এমন নয়, তার এটি শেখা উচিত নয় কারণ এটি একটি ভ্রষ্টতা। তবে সঠিক মত হলো: এটি একেবারেই শেখা উচিত নয়; কারণ এটি সময়ের অপচয়। তবে কেউ যদি এর কোনো বিষয়ের প্রতি বাধ্য হয়, তবে কেবল ততটুকুই দেখবে যতটুকু সে বাধ্য হয়েছে। এমতাবস্থায় তা শেখা হবে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করার মতো; যা কেবল নিরুপায় অবস্থায় বৈধ এবং কেবল প্রয়োজন অনুপাতে। সুতরাং যদি সেখানে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে তর্কশাস্ত্র থেকে কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুই গ্রহণ করবে। আর এতে পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করা কোনোভাবেই উচিত নয় ...]।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

إلا أن العلامة الشنقيطي رحمه الله حمل محل النزاع في هذا الخلاف، ونحوه على المنطق المشوب بعلم اليونان، وأما المنطق المصفى من شوائبهم فلابد من تعلمه فقال في مذكرة آداب البحث والمناظرة: [(.. ومن المعلوم أنّ المقدمات التي تتركب منها الأدلة التي يحتج بها كل واحدٍ من المتناظرين إنما توجه الحجة بها منتظمة على صورة (القياس المنطقي).

ومن أجل ذلك كان فن (آداب البحث والمناظرة) يتوقف فهمه كما ينبغي على فهم ما لابد منه من فن (المنطق)، لأنّ توجيه السائل المنع على المقدمة الصغرى أو الكبرى مثلاً أو القدح في الدليل بعدم تكرار الحد الأوسط أو باختلال شرط من شروط الإنتاج ونحو ذلك لا يفهمه من لا إلمام له بفن (المنطق).

وكانت الجامعة قد أسندت إلينا تدريس فن آداب البحث والمناظرة، وكان لا بد من وضع مذكرة تمكن طلاّب الفن من مقصودهم فوضعنا هذه المذكرة وبدأناها بإيضاح القواعد التي لا بد منها من فن (المنطق) لآداب البحث والمناظرة واقتصرنا فيها على المهم الذي لا بد منه للمناظرة، وجئنا بتلك (الأصول المنطقية) خالصة من شوائب الشبه الفلسفية؛ فيها النفع الذي لا يخالطه ضرر البتة لأنها من الذي خلّصه علماء الإسلام من شوائب الفلسفة كما قال العلاّمة شيخ مشايخنا وابن عمنا المختار بن بونة شارح الألفية والجامع معها ألفية أُخرى من نظمه تكميلاً للفائدة في نظمه في فن (المنطق):

{فإن تقل حرّمه النواوى … وابن الصلاح والسيوطي الراوي

قلتُ نرى الأقوال ذي المخالفة … محلّها ما صنف الفلاسفة

أمّا الذي خلّصه من أسلما … لا بد أن يُعلم عند العلماء}

وأ مّا قول الأخضري في (سلّمه):

(فابن الصلاح والنواوي حرما … وقال قوم ينبغي أن يعلما

والقولة المشهورة الصحيحة … جوازه لكامل القريحة

ممارس السنة والكتاب … ليهتدي به إلى الصواب)

فمحلّه: المنطق المشوب بكلام الفلاسفة الباطل ..

ومن المعلوم أنّ فن المنطق منذ ترجم من اللغة اليونانية إلى اللغة العربية في أيام المأمون كانت جميع المؤلفات توجد فيها عبارات واصطلاحات منطقية لا يفهمها إلاّ من له إلمام به، ولا يفهم الرد على المنطقيين في ما جاؤا به من الباطل إلاّ من له إلمام بفن المنطق. وقد يعين على رد الشبه آلتي جاء بها المتكلمون في أقيسة منطقية فزعموا أنّ العقل يمنع بسببها كثير من
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

তবে আল্লামা শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ) এই মতভেদের ক্ষেত্রটিকে এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোকে গ্রিক দর্শনের সাথে মিশ্রিত যুক্তিশাস্ত্রের ওপর প্রয়োগ করেছেন। আর তাদের আবর্জনা থেকে মুক্ত পরিচ্ছন্ন যুক্তিশাস্ত্র শেখা অপরিহার্য। তাই তিনি ‘আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা’র স্মারকলিপিতে বলেছেন: [(.. এটা সবারই জানা যে, বিতর্করত দুই পক্ষের প্রত্যেকের দলিল যে ভূমিকাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয়, তা ‘লজিক্যাল সিলোজিসম’ (যৌক্তিক কিয়াস) আকারে বিন্যস্ত থাকলেই কেবল সেই দলিলটি কার্যকর হয়।

এ কারণেই ‘আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা’ শাস্ত্রটি যথাযথভাবে বোঝার জন্য যুক্তিশাস্ত্রের (মানতিক) যে অংশটুকু অপরিহার্য তা বোঝার ওপর নির্ভর করে। কারণ, প্রশ্নকর্তা যখন কোনো দলিলে ‘মাইনর প্রেমিস’ (ক্ষুদ্র ভূমিকা) বা ‘মেজর প্রেমিস’ (বৃহৎ ভূমিকা) অস্বীকার করেন, অথবা ‘মিডল টার্ম’ (মধ্যপদ) এর পুনরাবৃত্তি না থাকা বা যুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘনের কারণে দলিলের ত্রুটি ধরেন, তখন যুক্তিশাস্ত্রে প্রাথমিক জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন না।

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ওপর ‘আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা’ শাস্ত্রটি পাঠদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাই এই শাস্ত্রের ছাত্রদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম একটি স্মারকলিপি প্রণয়ন করা আবশ্যক ছিল। এজন্য আমরা এই স্মারকলিপিটি তৈরি করেছি এবং এর শুরুতে ‘আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা’র জন্য অপরিহার্য যুক্তিশাস্ত্রের নীতিমালাসমূহ ব্যাখ্যা করেছি। আমরা এতে বিতর্কের জন্য যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আমরা সেই ‘যৌক্তিক মূলনীতিগুলো’ দার্শনিক সংশয়ের আবর্জনা থেকে মুক্ত ও খাঁটি করে উপস্থাপন করেছি; এতে কেবল উপকার রয়েছে, যা কোনো অপকারের সাথে আদপেই মিশ্রিত নয়। কারণ এটি মুসলিম আলেমদের দ্বারা দর্শন থেকে পরিশুদ্ধ করা অংশ, যেমনটি আমাদের শাইখদের শাইখ এবং আমাদের আপন চাচাতো ভাই আল্লামা মুখতার বিন বুনাহ্ বলেছেন। তিনি আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকার এবং এর সাথে স্বরচিত আরেকটি আলফিয়্যাহ যুক্ত করেছেন যা যুক্তিশাস্ত্র (মানতিক) বিষয়ক কবিতার উপকারিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে। তিনি তাঁর কবিতায় বলেছেন:

{যদি তুমি বলো যে আন-নওয়াবী এটি হারাম করেছেন … এবং ইবনুস সালাহ ও বর্ণনাকারী সুয়ূতী;

আমি বলব, আমরা মনে করি এই মতবিরোধপূর্ণ উক্তিগুলোর … ক্ষেত্র হলো দার্শনিকদের রচিত গ্রন্থাবলি।

কিন্তু যা মুসলিমরা পরিশুদ্ধ করেছেন … আলেমদের নিকট তা অবশ্যই শিখতে হবে।}

আর আল-আখদারী তাঁর ‘সুল্লাম’-এ যা বলেছেন:

(ইবনুস সালাহ এবং আন-নওয়াবী এটি হারাম করেছেন … আর একদল লোক বলেছেন এটি শেখা উচিত;

সুপরিচিত এবং সঠিক উক্তি হলো … এটি তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্নদের জন্য বৈধ,

যারা সুন্নাহ ও কিতাব চর্চা করেন … যাতে তারা এর মাধ্যমে সত্যের পথে পরিচালিত হতে পারেন।)

এর ক্ষেত্র হলো: দার্শনিকদের বাতিল কথার সাথে মিশ্রিত যুক্তিশাস্ত্র...

এটা সুবিদিত যে, আল-মামুনের সময়ে যখন থেকে যুক্তিশাস্ত্র গ্রিক ভাষা থেকে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, তখন থেকেই সমস্ত রচনায় এমন কিছু যৌক্তিক পরিভাষা ও শব্দ ব্যবহৃত হতে থাকে যা যুক্তিশাস্ত্রে প্রাথমিক জ্ঞান নেই এমন কেউ বুঝতে পারে না। একইভাবে, যুক্তিশাস্ত্রবিদরা যে বাতিল মতগুলো নিয়ে এসেছেন, সেগুলোর খণ্ডনও যুক্তিশাস্ত্রে প্রাথমিক জ্ঞান ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। এটি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের আনা সংশয় নিরসনেও সাহায্য করে, যা তারা যৌক্তিক কিয়াসের (আকইয়িসাহ) মাধ্যমে পেশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি এর কারণে অনেক কিছুকে বাধা দেয়...
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . … لَأَنَّا عَرَفْنَا اللهَ بِالنَّقْلِ لَا الْفِكْرِ (1)

18 - وَمَعْرِفَةُ الرَّحَمَنِ بِالْعَقْلِ فِرْيَةٌ … عَلَيْهِ وَلَيْسَ الْعُرْفُ بِالشَّيءِ كَالنّكْرِ

19 - وَلَا خَيْرَ فِي عِلْمِ الْكَلَامِ (2) لَأَنَّهُ … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

صفات الله الثابتة في الكتاب والسنة؛ لأنّ أكبر سبب لإفحام المبطل أن تكون الحجة عليه من جنس ما يحتج به وأن تكون مركبة من مقدمات على الهيئة التي يعترف الخصم المبطل بصحة إنتاجها.

ولا شك أنّ (المنطق) لو لم يُترجم إلى العربية ولم يتعلمه المسلمون لكان دينهم وعقيدتهم في غنى عنه كما استغنى عنه سلفهم الصالح؛ ولكنه لمّا تُرجم وتُعلم وصارت أقيسته هي الطريقة الوحيدة لنفي بعض صفات الله الثابتة في الوحيين، كان ينبغي لعلماء المسلمين أن يتعلموه وينظروا فيه ليردوا حجج المبطلين بجنس ما استدلوا به على نفيهم لبعض الصفات؛ لأنّ إفحامهم بنفس أدلتهم أدعى لانقطاعهم وإلزامهم الحق.

واعلم أنّ نفس (القياس المنطقي) في حد ذاته صحيح النتائج إنْ ركبت مقدماته على الوجه الصحيح صورة ومادة، مع شروط إنتاجه فهو قطعي الصحة وإنما يعتريه الخلل من جهة الناظر فيه، فيغلط، فيظن هذا الأمر لازماً لهذا مثلاً، فيستدل بنفي ذلك اللازم في زعمه على نفي ذلك الملزوم مع أنه لا ملازمة بينهما في نفس الأمر البتة.

ومن أجل غلطه في ذلك تخرج النتيجة مخالفة للوحي الصحيح لغلط المستدل. ولو كان استعماله للقياس المنطقي على الوجه الصحيح لكانت نتيجته مطابقة للوحي بلا شك، لأنّ العقل الصحيح لا يخالف النقل الصريح …) أ. هـ]

(1) الأصل في معرفة الله سبحانه وتعالى أنها فطرية لا تحتاج إلى نظر، واستدلال، وهذه المعرفة تتم بالوحي، ومن طرق معرفة الله تعالى التي لا تتناقض مع الفطرة، والوحي دليل العقل، غير أنه قليل الجدوى صعب المنال، وعليه فإنكار القول بأن الله تعالى يعرف بالعقل فيه نظر، وأيضاً قصر المعرفة علي العقل، والنظر، والاستدلال قول باطل، والحق واسطة بينهما كما سبق.

(2) جاء في الموسوعة العربية العالمية: [عِلْمُ الكَلَام الإسلامي علم يهتم بدراسة العقيدة الإسلامية ويدافع عنها، ويرد الشبهات التي تثار حولها بالأدلة العقلية، والبراهين الجدلية، مستحدثا في ذلك مصطلحات استمدها من الفلسفة وطرقاً استنبطها منها.

وسُمي هذا العلم علم الكلام ـ كما يقول الشهرستاتي ـ لسببين: أولهما أن أخطر مسألة خاض فيها المتكلمون هي مسألة كلام الله التي تجاوز الأمر فيها حدّ المناظرة وتبادل الرأي إلى الفتنة والقتل والسجن، كما هو معروف في فتنة خلق القرآن ومواقف رجال كالإمام أحمد بن حنبل منها. وثانيهما سبب منهجي يتمثل في أن المتكلمين أرادوا أن يميزوا مناهج أبحاثهم عن المنطق الذي تبناه الفلاسفة واستخدموه في مباحثهم الفلسفية. فسمَّى المتكلمون طريقتهم في البحث: الكلام …].
. . . . . . . . . . . . . . . . . … কারণ আমরা আল্লাহকে চিনেছি দলিলের (নকল) মাধ্যমে, চিন্তার (ফিকর) মাধ্যমে নয় (১)

১৮ - আর বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে দয়াময়কে চেনা তাঁর ওপর একটি অপবাদ … আর কোনো বিষয় সম্পর্কে পরিচিতি তার অপরিচিত হওয়ার মতো নয়

১৯ - আর ইলমুল কালামের (২) মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, কারণ এটি … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত আল্লাহর গুণাবলি; কেননা বাতিলপন্থীদের স্তব্ধ করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো তাদের বিরুদ্ধে সেই জাতীয় দলিল পেশ করা যা দিয়ে তারা দলিল দেয় এবং এমন মুখবন্ধ বা প্রস্তাবনা দ্বারা তা গঠিত হওয়া যেগুলোর সঠিক হওয়ার বিষয়টি বাতিলপন্থী প্রতিপক্ষও স্বীকার করে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, (যুক্তিবিদ্যা বা মানতিক) যদি আরবিতে অনূদিত না হতো এবং মুসলমানরা তা না শিখত, তবে তাদের দ্বীন ও আকিদা এ থেকে অভাবমুক্ত থাকত, যেভাবে তাদের সালাফে সালেহীন এ থেকে অভাবমুক্ত ছিলেন। কিন্তু যখন এটি অনূদিত হলো এবং শেখা হলো, আর এর যুক্তিগুলোই ওহী দ্বারা সাব্যস্ত আল্লাহর কিছু গুণাবলিকে অস্বীকার করার একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াল, তখন মুসলিম আলেমদের জন্য এটি শেখা এবং এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল, যাতে তারা বাতিলপন্থীদের যুক্তিগুলোকে সেই জাতীয় যুক্তি দিয়েই খণ্ডন করতে পারেন যা দিয়ে তারা কিছু গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছে। কেননা তাদের নিজস্ব দলিলের মাধ্যমেই তাদের যুক্তি খণ্ডন করা তাদের নিরুত্তর করতে এবং সত্য মেনে নিতে বাধ্য করতে অধিকতর কার্যকর।

জেনে রাখুন যে, (যৌক্তিক অনুমান বা কিয়াস) নিজেই সঠিক ফলাফল দান করে যদি তার প্রস্তাবনাগুলো সঠিক পদ্ধতিতে পদ্ধতিগত ও বিষয়গতভাবে গঠন করা হয় এবং এর শর্তাবলি বজায় থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবে সঠিক। এর মধ্যে ত্রুটি দেখা দেয় কেবল এটি পর্যবেক্ষণকারীর দিক থেকে; ফলে তিনি ভুল করেন এবং মনে করেন যে অমুক বিষয়টি অমুক বিষয়ের জন্য অনিবার্য, এরপর তিনি নিজের ধারণামতে সেই অনিবার্য বিষয়টি অস্বীকার করার মাধ্যমে মূল বিষয়টি অস্বীকার করার দলিল দেন, অথচ বাস্তবপক্ষে তাদের মধ্যে কোনোই অনিবার্যতা নেই।

তার এই ভুলের কারণে দলিল প্রদানকারীর ভুলের দরুন ফলাফলটি সহীহ ওহীর বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। যদি যৌক্তিক অনুমানের ব্যবহার সঠিক পদ্ধতিতে হতো, তবে তার ফলাফল নিসন্দেহে ওহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, কারণ সুস্থ বিবেক কখনোই স্পষ্ট দলিলের (নকল) বিরোধী হয় না …] সমাপ্ত।

(১) মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে চেনার মূল ভিত্তি হলো এটি একটি ফিতরাত বা স্বভাবজাত বিষয় যা চিন্তা-ভাবনা বা যুক্তি-তর্কের মুখাপেক্ষী নয়। আর এই পরিচিতি ওহীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আল্লাহ তাআলাকে চেনার এমন কিছু পথ রয়েছে যা ফিতরাত ও ওহীর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, যেমন বিবেকের দলিল; তবে তা খুব একটা কার্যকর নয় এবং অর্জন করাও কঠিন। তাই আল্লাহ তাআলা কেবল বিবেকের মাধ্যমে পরিচিত হন- এই কথা অস্বীকার করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। আবার আল্লাহকে চেনার বিষয়টিকে কেবল বিবেক, চিন্তা ও যুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাও একটি বাতিল কথা। আর সত্য হলো এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটি অবস্থান, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(২) 'আল-মাওসুআ আল-আরাবিয়্যাহ আল-আলামিয়্যাহ'-তে এসেছে: [ইসলামী ইলমুল কালাম এমন একটি বিদ্যা যা ইসলামী আকিদা নিয়ে আলোচনা করে এবং একে রক্ষা করে। এটি আকিদা সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহকে বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল ও তর্কমূলক প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করে এবং এ ক্ষেত্রে দর্শন থেকে সংগৃহীত পারিভাষিক শব্দ ও তা থেকে উদ্ভূত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহার করে।

শাহরাস্তানি যেমনটি বলেছেন, এই বিদ্যাকে ইলমুল কালাম বলার দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমটি হলো, কালামশাস্ত্রবিদরা যে সবচেয়ে বিপদজনক মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করেছেন তা হলো আল্লাহর কথা বা কালামের মাসয়ালা; যে বিষয়টি বিতর্ক ও মতামত বিনিময়ের সীমা ছাড়িয়ে ফিতনা, হত্যা ও জেল-জুলুম পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যেমনটি কুরআন সৃষ্টির ফিতনা এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো ব্যক্তিদের অবস্থানের ক্ষেত্রে সুপরিচিত। দ্বিতীয় কারণটি হলো পদ্ধতিগত; যা হলো কালামশাস্ত্রবিদরা তাদের গবেষণার পদ্ধতিকে দার্শনিকদের গ্রহণ করা যুক্তিবিদ্যা থেকে আলাদা করতে চেয়েছিলেন, যা দার্শনিকরা তাদের দার্শনিক আলোচনায় ব্যবহার করত। তাই কালামশাস্ত্রবিদরা তাদের গবেষণার পদ্ধতির নাম দিয়েছেন: কালাম …]।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . … خِلَافُ كَلَامِ الْمُصْطَفَى الطَّاهِرِ الطُّهرِ

20 - أَدِلَّتُهُ لَا مِنْ كِتَابٍ وَسُنَّةٍ … بَلَى (1) مِنْ كَلَامِ الْأَخْطَلِ (2) الْفَاجِرِ الْعِرِّ (3)

--------------------------------------------

(1) بلى: حرف يستخدم جواباً لاستفهام مقترن بنفي خاصة، وهو هنا ليس من مقصود الناظم، وإنما ذكره مراعاةً للوزن، ومقصوده استخدام حرف الإضراب الإبطالي (بل) كقوله تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ} (الأنبياء:26) أي: بل هم عباد.

(2) هو غياث بن غوث بن الصلت بن طارقة بن عمرو التغلبي، الملقب بالأخطل (أبو مالك) شاعر، نشأ على المسيحية في أطراف الحيرة بالعراق ولد سنة 19هـ، وتوفي سنة 90 هـ، قال عنه الحافظ ابن كثير رحمه الله في البداية والنهاية (9/ 261): [كان الأخطل من نصارى العرب المتنصرة قبحه الله وابعد مثواه وهو الذي انشد بشر ابن مروان قصيدته التي يقول فيها:

قد استوى بشر على العراق … من غير سيف ودم مهرا

وهذا البيت تستدل به الجهمية على آن الاستواء على العرش بمعنى الاستيلاء، وهذا من تحريف الكلم عن مواضعه، وليس في بيت هذا النصراني حجة، ولا دليل على ذلك، ولا أراد الله عز وجل باستوائه على عرشه استيلاءه عليه تعالى الله عن قول الجهمية علوا كبيرا، فانه إنما يقال استولى على الشيء إذا كان ذلك الشيء عاصيا عليه قبل استيلائه عليه، كاستيلاء بشر على العراق، واستيلاء الملك على المدينة بعد عصيانها عليه، وعرش الرب لم يكن ممتنعا عليه نفسا واحدا حتى يقال استوى عليه أو معنى الاستواء الاستيلاء ولا تجد أضعف من حجج الجهمية حتى أداهم الإفلاس من الحجج إلى بيت هذا النصراني المقبوح وليس فيه حجة والله اعلم] وانظر ترجمته في: الأغاني للأصفهاني (8: 280 - 319)،الموشح للمرزباني (132 - 142)، نقائض جرير والأخطل لأبي تمام، المرزباني، طبقات الشعراء لابن سلام (107 - 117).

(3) كذا بالأصل العِرِ - بكسر المهملة -، ولم أهتدِ لمعناها، والذي وجدته في كتب الغريب، والمعاجم معان

لهذه الكلمة بفتح المهملة، وضمها، ومن هذه المعاني ما قاله ابن منظور في لسان العرب مادة (عرر): [والمَعَرَّةُ الإِثم … والمَعَرَّةُ الأَمر القبيح المكروه والأَذى وهي مَفْعلة من العَرّ … قال ابن الأَعرابي عُرَّ فلانٌ إِذا لُقِّبَ بلقب يعُرُّه وعَرَّه يعُرُّهُ إِذا لَقَّبه بما يَشِينُه وعَرَّهم يعُرُّهم شانَهُم وفلان عُرّةُ أَهله أَي يَشِينُهم … ابن الأَعرابي العَرَّةُ الخَلّةُ القبيحة وعُرّةُ الجربِ وعُرّةُ النساء فَضيحَتُهنّ وسُوءُ عشْرتهنّ وعُرّةُ الرجال شرُّهم …]. وما قاله الجوهري في الصحاح في مادة (عرر) فقال ما ملخصه: [العَرّ، بالفتح: الجَرَب … والعُرَّةُ أيضاً: البَعر والسِرْجينُ وسَلح الطَيْر. تقول: فلان عُرَّةٌ وعَارورٌ وعَارورةٌ، أي قَذِر. وهو يّعُرُّ قومه، أي يدخل عليهم مكروهاً يلطخهم به. والمَعَرَّةُ: الإثم. والعَرارَةُ بالفتح: سوء الخُلق … وعَرَّهُ، أي ساءه]. وكل هذه المعاني محتملة، والله أعلم.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . … যা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীত।

২০ - তার দলিলসমূহ কিতাব ও সুন্নাহ থেকে নয় … বরং (১) পাপাচারী ও দুষ্ট আখতালের (২) কথা থেকে। (৩)

--------------------------------------------

(১) 'বালা' (হ্যাঁ/কেন নয়): এটি মূলত এমন নেতিবাচক শব্দের সাথে আসা প্রশ্নের উত্তরে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে এটি কবির মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং তিনি এটি ছন্দ রক্ষার জন্য উল্লেখ করেছেন। তার উদ্দেশ্য হলো 'বাল' (বরং) নামক শব্দটি ব্যবহার করা, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "তারা বলে, দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন; তিনি পবিত্র, বরং তারা তো সম্মানিত বান্দা।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ২৬)। অর্থাৎ, বরং তারা বান্দা।

(২) তিনি হলেন গিয়াস ইবন গাওস ইবনুস সালত ইবনু তারিকা ইবনু আমর আত-তাগলিবি, যার উপাধি আখতাল (আবু মালিক)। তিনি একজন কবি ছিলেন এবং ইরাকের হিরার প্রান্তে খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি ১৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। হাফেজ ইবন কাসির (রহ.) 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (৯/২৬১) গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: [আখতাল ছিল আরবের খ্রিস্টান কবিদের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন এবং তার স্থানকে দূরবর্তী করুন। সে-ই বিশর ইবনু মারওয়ানের সামনে তার সেই কাসিদা পাঠ করেছিল যাতে সে বলেছিল:

বিশর ইরাকের ওপর উঠেছে … কোনো তলোয়ার বা রক্তপাত ছাড়াই।

আর এই পঙ্ক্তিটি দিয়ে জাহমিয়্যাহরা দলিল পেশ করে যে, আরশের ওপর উঠার (ইস্তিওয়া) অর্থ হলো আরশ দখল করা বা আয়ত্তে আনা। এটি হলো শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন (তাহরিফ) করা। এই খ্রিস্টানের কবিতায় কোনো দলিল নেই এবং এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণও নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের ওপর উঠার মাধ্যমে আরশ দখল করা বা আয়ত্তে আনা উদ্দেশ্য করেননি, জাহমিয়্যাহরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও মহান। কেননা কোনো কিছুর ওপর 'দখল করা' তখনই বলা হয় যখন সেই জিনিসটি দখল করার আগে অবাধ্য বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে; যেমন বিশর কর্তৃক ইরাক দখল করা বা কোনো অবাধ্য শহর রাজা কর্তৃক দখল করা। অথচ আল্লাহর আরশ এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল না যে বলা হবে তিনি তা দখল করেছেন বা উঠার অর্থ হলো দখল করা। আপনি জাহমিয়্যাহদের দলিলের চেয়ে দুর্বল আর কোনো দলিল পাবেন না, এমনকি দলিলের অভাবে তারা এই ঘৃণিত খ্রিস্টানের কবিতার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। আর এতে কোনো দলিল নেই, আল্লাহই ভালো জানেন।] দেখুন তার জীবনী: আসফাহানির 'আল-আগানি' (৮: ২৮০-৩১৯), মারজুবানির 'আল-মুওয়াশশাহ' (১৩২-১৪২), আবু তামাম ও মারজুবানি কর্তৃক সংকলিত 'নাকাইদ জারির ওয়াল আখতাল', ইবনু সালামের 'তাবাকাতুশ শুয়ারা' (১০৭-১১৭)।

(৩) মূল কপিতে শব্দটি 'আল-ইররি' - যার নিচের হরফটি জেরযুক্ত। আমি এর সঠিক অর্থ খুঁজে পাইনি। তবে অভিধান ও গরিবুল হাদিসের কিতাবগুলোতে এই শব্দের জবর ও পেশযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি অর্থ পেয়েছি। ইবন মঞ্জুর 'লিসানুল আরব'-এর 'আইন-রা-রা' পরিচ্ছেদে বলেছেন: ['আল-মাআরাহ' মানে পাপ … 'আল-মাআরাহ' মানে কদর্য ও অপছন্দনীয় বিষয় এবং কষ্টদায়ক বস্তু। ইবনুল আরাবি বলেন, কাউকে এমন উপাধি দেওয়া যা তাকে কলঙ্কিত করে ... সে তার পরিবারের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। ইবনুল আরাবি আরও বলেন, 'আল-আররাহ' হলো কুৎসিত স্বভাব, আর নারীদের ক্ষেত্রে তাদের কেলেঙ্কারি বা দুর্ব্যবহার এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি …]। জওহরি 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: [জবর যোগে 'আল-আর' অর্থ চুলকানি বা খোসপাঁচড়া … 'আল-আররাহ' মানে পশুর গোবর বা বিষ্ঠা এবং পাখির মল। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি হলো নোংরা বা কদর্য। সে তার কওমকে কলঙ্কিত করে অর্থাৎ তাদের ওপর এমন অপছন্দনীয় কিছু চাপিয়ে দেয় যা তাদের কলঙ্কিত করে। 'আল-মাআরাহ' মানে পাপ। জবর যোগে 'আল-আরারাহ' মানে দুশ্চরিত্র … তাকে কষ্ট দিয়েছে]। এই সবকটি অর্থই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
21 - بِدَوْرٍ عَلَى التَّعْطِيلِ (1) لَا دَرَّ دَرَّهُ (2) … بِتَمْوِيهِ (3) قَوْلٍ فِي الْمَخَارِجِ مُزَوَّرِ (4)

22 - وَمَا قَصْدُهُ نَفْيُ الْمَخَارِجِ وَيْلَهُ (5) … بَلَى قَصْدُهُ نُفْيُ الْكَلَامِ مِنَ السِّفْرِ (6)

23 - فَنْيَاً (7) لِهَذا الْمَذْهَبِ الْمُذْهِبِ الَّذِي … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ العثيمين رحمه الله في شرح الواسطية (ص/54): [التعطيل بمعنى التخلية والترك، كقوله تعالى: {وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ}، أي: مخلاة متروكة. والمراد بالتعطيل: إنكار ما أثبت الله لنفسه من الأسماء والصفات، سواء كان كلياً أو جزئياً، وسواء كان ذلك بتحريف أو بجحود، هذا كله يسمى تعطيلاً.].

(2) الدَّرُّ: العمل من خير، أَو شر. فإذا ذم عمله، قيل: لا دَرَّ دَرُّهُ أَي لا كثر خيره، ولا زكا عمله. والمقصود هنا الدعاء بذلك على القائل بالتعطيل. انظر جمهرة اللغة، واللسان، والصحاح مادة (درر).

(3) التَّمْوِيهُ: هو التلبيسُ، ومنه قيل للمُخادِع: مُمَوِّه. وقد مَوَّهَ فلانٌ باطِلَه إذا زَيَّنه وأَراه في صورةِ الحقّ. وانظر اللسان مادة (موه).

(4) قال الزبيدي في تاج العروس مادة (زور): [وزَوَّرَ تَزْوِيراً: زَيَّنَ الكَذِبَ وكَلامٌ مُزَوَّرٌ: مُمَوَّهٌ بالكَذِب …].

(5) بالأصل: ويحه، وفي الهامش تصحيحها إلى: ويله.

(6) أي الكتاب، والمقصود هنا القرآن، والمعنى أن حقيقة مذهب التعطيل نقي، وتكذيب للقرآن والسنة بلا قرائن.

(7) دعاء بالفناء، وهو انتهاء الوجود.
২১ - তা'তীলের (গুণাবলী অস্বীকারের) আবর্তে (১), তার কল্যাণ না হোক (২) … উচ্চারণস্থলের ব্যাপারে মিথ্যাচারপূর্ণ (৪) বিভ্রান্তিকর (৩) কথার মাধ্যমে।

২২ - তার উদ্দেশ্য উচ্চারণস্থল অস্বীকার করা নয়, তার দুর্ভোগ হোক (৫) … বরং তার উদ্দেশ্য হলো আসমানী কিতাব থেকে (আল্লাহর) কালামকে অস্বীকার করা (৬)।

২৩ - ধ্বংস আসুক (৭) সেই ধ্বংসাত্মক মতবাদের জন্য যা … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) শাইখ উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)-তে বলেছেন: [তা'তীল অর্থ খালি করা ও ছেড়ে দেওয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং পরিত্যক্ত কূপ}, অর্থাৎ: যা খালি ও পরিত্যক্ত। আর তা'তীল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করা, চাই তা পূর্ণাঙ্গভাবে হোক বা আংশিকভাবে, আর তা বিকৃতির মাধ্যমে হোক বা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে; এই সব কিছুকেই তা'তীল বলা হয়।]।

(২) আদ-দাররু: ভালো বা মন্দ কাজ। যখন কারো কাজের নিন্দা করা হয়, তখন বলা হয়: 'লা দাররা দাররুহু' অর্থাৎ তার কল্যাণ বৃদ্ধি না হোক এবং তার আমল বরকতময় না হোক। এখানে উদ্দেশ্য হলো তা'তীলের প্রবক্তার বিরুদ্ধে এমন বদদোয়া করা। দেখুন: জামহারাতুল লুগাহ, আল-লিসান এবং আস-সিহাহ (দাল-রা-রা মূলধাতু)।

(৩) আত-তামউইহ: এর অর্থ হলো সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে ফেলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। এখান থেকেই প্রতারককে 'মুমাহউইহ' বলা হয়। যখন কেউ তার মিথ্যাকে সুশোভিত করে এবং সত্যের রূপে প্রকাশ করে, তখন বলা হয় সে 'তামউইহ' করেছে। দেখুন: লিসানুল আরব (মিম-ওয়াও-হা মূলধাতু)।

(৪) যুবাইদী 'তাজুল আরুস' গ্রন্থে (যাই-ওয়াও-রা মূলধাতু) বলেছেন: [তাজউয়ীর হলো: মিথ্যাকে সুশোভিত করা। আর 'কালামুন মুযাওওয়ার' অর্থ: মিথ্যা দ্বারা রঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর কথা ...]।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল 'ওয়াইহাহু', পার্শ্বটীকায় এর সংশোধন করা হয়েছে 'ওয়াইলাহু' (তার দুর্ভোগ হোক) হিসেবে।

(৬) অর্থাৎ কিতাব; আর এখানে উদ্দেশ্য হলো কুরআন। এর অর্থ হলো তা'তীল মতবাদের হাকীকত বা বাস্তবতা হলো কোনো প্রমাণ ছাড়াই কুরআন ও সুন্নাহকে অস্বীকার করা ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।

(৭) বিলুপ্ত হওয়ার জন্য বদদোয়া, আর ফানা হলো অস্তিত্বের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . … أَقَلُّ أَذَىً فِيهِ بِصَاحِبِهِ يُزْرِي (1)

 

‌‌الباب الثالث

منزلة السنة

24 - رَعَى السُّنَّةَ الْبَيْضَاءَ رَبِّي لَأَنَّهَا … كَشَمْسِ الضُّحَى أَوْ فِي الدُّجَنَّةِ (2) كَالْبَدْرِ

25 - وَمَا السُّنَّةُ الْبَيْضَاءُ (3) إِلَّا الَّتِي قُضِى … عَلَيْهَا (4) رَسُولُ اللهِ مَعْ صَحْبِهِ الْغُرِّ (5)

26 - وَتَابَعَهُمْ فِيهَا بِإِحَسَانٍ الْأُولَى (6) … رَضُوا فَرَضِي (7) عَنْهُمْ بِهَا عَالِمُ السِّرِ

--------------------------------------------

(1) أي يعيب، ويُحَقِر. وانظر القاموس (باب: الياء، فصل: الزاي)

(2) أي الظلمة، وانظر مختار الصحاح (مادة دجن).

(3) أي الملة والحجة الواضحة التي لا تقبل الشبه أصلاً.

(4) يحتمل أن يكون المعنى المراد هنا: من قول الناظم: (قُضِى عليها)، أي: مات عليها، فهو يشير إلى قوله صلى الله عليه وسلم: (قد تركتكم على البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك) رواه ابن ماجه (1/ 16) (43)، وأحمد (4/ 126) من حديث العرباض رضي الله عنه مطولاً به، والحديث صححه الألباني، والأرناؤوط. ويحتمل أن يكون معنى: (قَضَى عليها) حكم بها، فتكون على بمعنى الباء، كنحو قوله تعالى: {حَقِيقٌ عَلَى أَنْ لا أَقُول} أي: بأن، كما قرأ أبي رضي الله عنه. (الإتقان، للسيوطي (2/ 202)) فيكون مقصوده بالسنة هنا المحكمة لا المنسوخة، والمعنى الأول أولى.

(5) أي أصحاب السبق المُقَدَّمين، وأصل الغُرَّةُ بالضم: بياضٌ في جبهة الفرس فوق الدِرهم، ويقال: فلان غُرَّةُ قومه، أي سيدهم، وهم غُرَرُ قومهم. وغُرَّةُ كل شيء: أوَّله وأكرمه. (وانظر الصحاح للجوهري مادة (غرر)).

(6) يشير إلى القرون الثلاثة المفضلة التي وصفها النبي صلى الله عليه وسلم بأنها خير القرون، فقد روى البخاري (2/ 938) (2509)، ومسلم (4/ 1962) (2533) من حديث عبد الله رضي الله عنه مرفوعاً: (خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم).

(7) بالأصل: ورضي، وفي الهامش تصحيحها إلى: فرضي.
. . . . . . . . . . . . … সামান্যতম ক্ষতিও তার সঙ্গীকে অপদস্থ ও তুচ্ছ করে তোলে (১)

 

‌‌তৃতীয় অধ্যায়

সুন্নাহর মর্যাদা

২৪ - আমার প্রতিপালক এই উজ্জ্বল সুন্নাহর হিফাযত করেছেন, কারণ এটি … পূর্বাহ্নের সূর্যের ন্যায় অথবা অন্ধকারের মাঝে (২) পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়

২৫ - আর এই উজ্জ্বল সুন্নাহ (৩) তো কেবল সেটিই, যার ওপর অটল থেকে জীবন অতিবাহিত করেছেন (৪) … আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ ও উজ্জ্বল সাহাবীগণ (৫)

২৬ - আর তাঁদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করেছেন প্রথম যুগের সেই সকল লোক (৬) … তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন, ফলে গোপন বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত (আল্লাহ) তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন (৭)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ দোষারোপ করে এবং তুচ্ছ জ্ঞান করে। দেখুন: আল-কামুস (অধ্যায়: আল-ইয়া, পরিচ্ছেদ: আয-যায়)।

(২) অর্থাৎ অন্ধকার। দেখুন: মুখতারুস সিহাহ (মাদ্দাহ: দাজান)।

(৩) অর্থাৎ এমন স্বচ্ছ দ্বীন ও সুস্পষ্ট দলিল যা মূলত কোনো সংশয় গ্রহণ করে না।

(৪) সম্ভবত এখানে গ্রন্থকারের বক্তব্য ‘কুদিয়া আলাইহা’-এর উদ্দেশ্য হলো: এর ওপর তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করছেন: "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত লোক ছাড়া অন্য কেউ এ থেকে বিচ্যুত হবে না।" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১/১৬) (৪৩), এবং আহমাদ (৪/১২৬) ইরবায রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে। হাদিসটিকে আলবানী ও আরনাউত সহিহ বলেছেন। আবার এটিও সম্ভব যে ‘কাদা আলাইহা’ এর অর্থ হলো এর দ্বারা ফয়সালা করেছেন। সেক্ষেত্রে ‘আলা’ বর্ণটি ‘বা’ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হাকীকুন আলা আন লা আকুলা" অর্থাৎ "আমি না বলার ওপর সুদৃঢ়", যেমনটি উবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করেছেন (আল-ইতকান, সুয়ূতী ২/২০২)। এমতাবস্থায় এখানে সুন্নাহ দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হবে মুহকাম (সুস্পষ্ট ও অকাট্য বিধান), মানসুখ (রহিত বিধান) নয়। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক যুক্তিযুক্ত।

(৫) অর্থাৎ অগ্রগামী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ। ‘আল-গুররাহ’ শব্দের মূল আভিধানিক অর্থ হলো ঘোড়ার কপালে দিরহামের চেয়ে বড় সাদা চিহ্ন। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি তার কওমের ‘গুররাহ’ অর্থাৎ তাদের নেতা, এবং তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। আর যেকোনো বস্তুর ‘গুররাহ’ হলো তার প্রথম ও সর্বোৎকৃষ্ট অংশ। (দেখুন: আস-সিহাহ লিল জাওহারী, মাদ্দাহ: গারারা)।

(৬) এটি সেই তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দিকে ইঙ্গিত করছে যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বুখারী (২/৯৩৮) (২৫০৯) এবং মুসলিম (৪/১৯৬২) (২৫৩৩) আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো আমার প্রজন্মের মানুষ, এরপর যারা আসবে তারা, এরপর যারা আসবে তারা।"

(৭) মূল পাঠে ছিল: "ওয়া রাযিয়া", তবে পার্শ্বটীকায় একে সংশোধন করে "ফা রাযিয়া" করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الباب الرابع

عقيدة الناظم

27 - وَإِنِّي عَلَى مَا مَاتَ عَنْهُ مُحَمَّدٌ … وَأَصْحَابُهُ وَالتَّابِعُونَ إِلَى حَشْرِي

 

‌‌الفصل الأول

الأسماء والصفات

28 - أُقِرُّ بِأَنَّ اللهَ جل جلاله … تَعَالَى عَنِ التَّشْبِيهِ (1). . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) التشبيه هو التسوية بين المشبه، والمشبه به في أكثر الصفات، والتمثيل: التسوية في كل الصفات، وكان الأولى بالناظم التعبير بنفي التمثيل لا التشبيه لوجوه، قال الشيخ العثيمين رحمه الله في شرح السفارينية (ص/86): [قوله: (ولا تشبيه): يعني: أنهم لا يشبهون الله بخلقه، ومراد المؤلف بالتشبيه (التمثيل) ولهذا لو عبّر به لكان أولى من وجوه ثلاثة:

الوجه الأول: أن الذي جاء به القرآن والسنة نفي التمثيل لا نفي التشبيه، كما قال الله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ}، {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} …

الوجه الثاني: أن نفي التشبيه فيه إجمال؛ لأنه إن أراد نفي التشبيه من كل وجه فهذا غلط، وإن أراد نفي التشبيه في كل الصفات فهذا هو التمثيل … فنفي التشبيه من كل وجه من الوجوه هذا خطأ، لأن هناك تشابه واشتراك في بعض المعاني، فمثلاً: الحياة، يتصف بها الخالق ويتصف بها المخلوق، فبينهما تشابه من حيث أصل الصفة وهي الحياة، ولولا هذا التشابه المشترك بين صفات الله وصفات المخلوق ما عرفنا معاني صفات الله، فلا بد أن يكون هناك اشتراك وتشابه من بعض الوجوه؟

لله علم وللمخلوق علم بين علم الله وعلم المخلوق تشابه من حيث أصل المعنى، المخلوق يدرك ما يعلمه والخالق عز وجل كذلك، فهناك اشتراك في أصل المعنى، للمخلوق بصر وللخالق بصر، البصر للخالق والمخلوق مشتركان في أصل الرؤية، فبينهما تشابه من هذا الوجه، لكنهما لا يتماثلان، لأن المماثلة: (التساوي من كل وجه)، والمشابهة: (الاشتراك ولو في بعض الوجوه).

الوجه الثالث: أن نفي التشبيه صار عند كثير من الناس يساوي نفي الصفات مطلقاً. وذلك عند من يقول: كل من اثبت لله صفة فهو مشبه، فإذا قلنا: (من غير تشبيه): صار معنى هذا الكلام عندهم أي من غير إثبات صفة، فيوهم هذا بأن مذهب أهل السنة والجماعة هو مذهب أهل التعطيل، لأنهم يرون أن معنى (نفي التشبيه) يعني نفي الصفات، حيث يزعمون أن كل من أثبت لله صفة فهو مشبِّه].
চতুর্থ অধ্যায়

কাব্যকারের আকিদা

২৭ - মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি আমার পুনরুত্থান পর্যন্ত সেই আকিদার ওপর এবং তাঁর সাহাবী ও তাবিঈগণের আকিদার ওপর অটল থাকব।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ

নামসমূহ ও গুণাবলী

২৮ - আমি স্বীকৃতি দিচ্ছি যে, আল্লাহ সুমহান... তিনি সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান থেকে পবিত্র (১)। . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) 'তশবীহ' (সাদৃশ্য প্রদান) হলো অধিকাংশ গুণাবলীতে যাকে তুলনা করা হচ্ছে এবং যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে—এই উভয়ের মধ্যে সমতা করা। আর 'তামসীল' (দৃষ্টান্ত প্রদান) হলো সকল গুণাবলীতে সমতা করা। কাব্যকারের জন্য কয়েকটি কারণে 'তশবীহ' অস্বীকার না করে 'তামসীল' অস্বীকার করার অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করা অধিকতর উত্তম ছিল। শায়খ উসাইমীন রহ. শারহুস সাফারিইয়াহ-তে (পৃষ্ঠা ৮৬) বলেন: [তাঁর উক্তি: (এবং কোনো সাদৃশ্য নেই): অর্থাৎ তাঁরা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করেন না। লেখক তশবীহ দ্বারা তামসীল উদ্দেশ্য নিয়েছেন। একারণেই সেটি ব্যবহার করা তিনটি কারণে উত্তম ছিল:

প্রথম কারণ: কুরআন ও সুন্নাহতে তামসীল (দৃষ্টান্ত) অস্বীকার করা হয়েছে, তশবীহ (সাদৃশ্য) নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" এবং "সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না।"...

দ্বিতীয় কারণ: তশবীহ অস্বীকার করার মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। কারণ তিনি যদি সব দিক থেকে সাদৃশ্য অস্বীকার করা বুঝিয়ে থাকেন তবে তা ভুল। আর যদি সব গুণাবলীতে সাদৃশ্য অস্বীকার করা বুঝিয়ে থাকেন তবে সেটাই হলো তামসীল... সুতরাং সব দিক থেকে সাদৃশ্য অস্বীকার করা ভুল, কারণ স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কিছু অর্থের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য ও অংশীদারিত্ব বিদ্যমান থাকে। উদাহরণস্বরূপ: 'জীবন' (হায়াত) গুণটি স্রষ্টারও আছে আবার সৃষ্টিরও আছে। গুণের মূল অর্থের দিক থেকে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, আর তা হলো 'জীবন'। যদি আল্লাহর গুণাবলী এবং সৃষ্টির গুণাবলীর মধ্যে এই ন্যূনতম সাধারণ সাদৃশ্য না থাকত, তবে আমরা আল্লাহর গুণাবলীর অর্থ বুঝতাম না। সুতরাং কিছু দিক থেকে অংশীদারিত্ব বা সাদৃশ্য থাকা অনিবার্য।

আল্লাহর 'ইলম' (জ্ঞান) আছে এবং সৃষ্টিরও 'ইলম' (জ্ঞান) আছে। আল্লাহর জ্ঞান এবং সৃষ্টির জ্ঞানের মাঝে মূল অর্থের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। সৃষ্টি তার জানা বিষয়গুলো অনুধাবন করে এবং মহান আল্লাহও তদ্রূপ। সুতরাং মূল অর্থে সেখানে অংশীদারিত্ব রয়েছে। সৃষ্টির 'বসর' (দৃষ্টি) আছে এবং স্রষ্টারও 'বসর' (দৃষ্টি) আছে। স্রষ্টা ও সৃষ্টির দৃষ্টি দেখার মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে অংশীদার। এই দিক থেকে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, তবে তারা পরস্পর একই রকম (সদৃশ) নয়। কারণ মুমাসালাহ বা সমতা হলো: (সকল দিক থেকে সমান হওয়া), আর মুশাবাহাহ বা সাদৃশ্য হলো: (অন্তত কিছু দিক থেকে অংশীদার হওয়া)।

তৃতীয় কারণ: অনেকের নিকট তশবীহ (সাদৃশ্য) অস্বীকার করা মানেই হলো ঢালাওভাবে আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করা। এটি তাদের নিকট প্রযোজ্য যারা বলে: যে ব্যক্তিই আল্লাহর জন্য কোনো গুণ সাব্যস্ত করে সে-ই 'মুশাব্বিহ' (সাদৃশ্য প্রদানকারী)। সুতরাং যখন আমরা বলি: (সাদৃশ্য ছাড়াই), তখন তাদের নিকট এর অর্থ দাঁড়ায়—কোনো গুণ সাব্যস্ত করা ছাড়াই। এটি এক প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব বুঝি 'আহলুত তাতীল' (গুণাবলী অস্বীকারকারী)-দের মাযহাব। কারণ তারা মনে করে যে (তশবীহ অস্বীকার) করার অর্থ হলো গুণাবলী অস্বীকার করা। যেহেতু তারা দাবি করে যে, আল্লাহর জন্য গুণ সাব্যস্তকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই হলো মুশাব্বিহ বা সাদৃশ্য প্রদানকারী।]
(খণ্ড: ১) নাহজুর রাশাদ ফি নাযমিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
. . . . . . . . . . وَالْوَصْفِ (1) وَالْحَصْرِ (2)

29 - سَمِيعٌ بَصِيرٌ لَّيْسَ شَيءٌ كَمِثْلِهِ … كَمَا جَاءَ فِي الْقُرآَنِ إِنْ كَنْتَ مَنْ تَدْرِي

30 - فَسُبْحَانَهُ مِنْ مَالِكٍ مُتَكَبِّرٍ … تَفَرَّدَ دُونَ الْخَلْقِ بِالْعِزِّ وَالْقَهْرِ

31 - وَيَنْزِلُ لَا تَكْيِيفَ لِي فِي نُزُولِهِ (3) … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(1) مذهب أهل السنة والجماعة: أننا نصف الله عز وجل بما وصف به نفسه في كتابه، أو وصفه به نبيه صلى الله عليه وسلم في السنة الثابتة، لا نتجاوز القرآن والسنة، كما قال الإمام أحمد رحمه الله وأيضاً من مذهب أهل السنة، مع إثبات هذه الصفات لله عز وجل: إثبات كيف لها، ولكنه مجهول بالنسبة لنا (تفويض الكيف). وهذا الكلام مبسوط في محله من كتب العقيدة.

(2) قال تعالى: {لا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ}، وقال: {وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْماً} فذاته سبحانه وتعالى غير محصورة في مكان، بل هو سبحانه وتعالى مستوٍ على عرشه بائن من خلقه. وكما أن ذاته سبحانه غير محصورة في مكان فإننا لا نستطيع أن نحيط بها أو ندركها.

وكذلك أسمائه، وصفاته، لا نستطيع أيضاً أن نحيط بها من حيث الكيفية والكُنْهْ التي هي عليه، وكذلك لا نستطيع أن نحصر عددها؛ لأن من الأسماء ما أستأثر الله بعلمه، وكل اسم يدل على الذات، والصفة عن طريق المطابقة، والتضمن، واللزوم.

(3) القول في النزول، وسائر الصفات كقول الإمام مالك رحمه الله في الاستواء: [الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة] والكلام في الكيف، والسؤال عنه محرم؛ لأنه يجر إلى التأويل وتكذيب ظاهر القرآن والسنة، فلا يقال: كيف ينزل؟ هل يخلو من عرشه؟ هل ينتقل؟ وهل يحل في السماء؟ وكل هذه الأسئلة وأشباهها باطلة وقد جرت أقوام إلى تكذيب القرآن، والسنة، فقالوا: لا ينزل؛ هروباً من لوازم الإجابة على هذه الأسئلة المحرمة، وقالوا: بل تنزل الرحمة، أو ينزل أمره تعالى، أو ينزل ملك، وكل هذا تعطيل لظاهر القرآن والسنة بلا قرينة صحيحة، إلا شبهاً في عقولهم الفاسدة، مبدؤها السؤال عن الكيف، وما أحسن قال علماؤنا: إذا قال لك الجهمى: كيف استوى؟ أو كيف ينزل إلى سماء الدنيا؟ أو كيف يداه؟ ونحو ذلك، فقل له: كيف هو في ذاته؟ فإذا قال لك: لا يعلم ما هو إلا هو، وكنّه الباري تعالى غير معلوم للبشر. فقل له: فالعلم بكيفية الصفة مستلزم للعلم بكيفية الموصوف فكيف يمكن أن تعلم كيفية صفة لموصوف لم تعلم كيفيته.
. . . . . . . . . . এবং গুণাবলী (১) এবং সীমাবদ্ধতা (২)

২৯ - তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই … যেমনটি কুরআনে এসেছে যদি তুমি তা অনুধাবন করতে পারো।

৩০ - সুতরাং তিনি মহাপবিত্র, এমন এক মালিক যিনি অতীব মহান … সৃষ্টিজগত ব্যতিরেকে তিনি একাই প্রতাপ ও ক্ষমতার অধিকারী।

৩১ - এবং তিনি অবতরণ করেন, তাঁর অবতরণের ধরন বর্ণনায় আমার কোনো সাধ্য নেই (৩) … . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

(১) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো: আমরা আল্লাহ তাআলার সেই গুণাবলী বর্ণনা করি যা তিনি তাঁর কিতাবে নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন, অথবা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাব্যস্ত সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁর জন্য বর্ণনা করেছেন। আমরা কুরআন ও সুন্নাহকে অতিক্রম করি না, যেমনটি ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন। এছাড়া আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত হলো, আল্লাহ তাআলার জন্য এই গুণাবলী সাব্যস্ত করার সাথে সাথে এগুলোর ধরন বা 'কাইফিয়াত' সাব্যস্ত করা, কিন্তু সেই ধরনটি আমাদের কাছে অজ্ঞাত (ধরনের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করা)। এই বিষয়ে আকিদাহর কিতাবসমূহে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

(২) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না}, এবং তিনি বলেছেন: {তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না}। সুতরাং মহান আল্লাহর সত্তা কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে আলাদা। আর যেভাবে মহান আল্লাহর সত্তা কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ নয়, তেমনি আমরা তা পরিবেষ্টন করতে বা আয়ত্ত করতে সক্ষম নই।

তদ্রূপ তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলীও আমরা ধরন এবং প্রকৃত অবস্থার দিক থেকে পরিবেষ্টন করতে পারি না। একইভাবে আমরা তাঁর নামসমূহের সংখ্যাও গণনা করতে পারি না; কারণ এমন কিছু নাম আছে যা আল্লাহ তাঁর নিজস্ব জ্ঞানের জন্য রেখে দিয়েছেন। প্রত্যেকটি নামই সামঞ্জস্য, অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং অপরিহার্যতার মাধ্যমে আল্লাহর সত্তা ও গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে।

(৩) অবতরণ এবং অন্যান্য গুণাবলীর ক্ষেত্রে বক্তব্য ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহির আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) সংক্রান্ত বক্তব্যের মতোই: [আরশের উপর উঠা বিষয়টি অজ্ঞাত নয়, এর ধরন বিবেকগ্রাহ্য নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত]। ধরন বা কাইফিয়াত নিয়ে কথা বলা এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হারাম; কারণ এটি অপব্যাখ্যা এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থকে অস্বীকার করার দিকে ধাবিত করে। সুতরাং বলা যাবে না যে: তিনি কীভাবে অবতরণ করেন? তিনি কি আরশ থেকে খালি হয়ে যান? তিনি কি স্থানান্তরিত হন? তিনি কি আসমানে প্রবেশ করেন? এই জাতীয় সকল প্রশ্নই বাতিল এবং এগুলো একদল মানুষকে কুরআনের ও সুন্নাহকে অস্বীকার করার দিকে ধাবিত করেছে। ফলে তারা বলেছে: তিনি অবতরণ করেন না; মূলত এই নিষিদ্ধ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে বাঁচার জন্য তারা এমনটি বলেছে। তারা আরও বলেছে: বরং আল্লাহর রহমত অবতরণ করে, অথবা তাঁর আদেশ অবতরণ করে, অথবা কোনো ফেরেশতা অবতরণ করে। এই সব কিছুই কোনো সঠিক দলিল ছাড়াই কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থের বিকৃতি, যা কেবল তাদের কলুষিত মস্তিষ্কের সন্দেহের ফসল, যার শুরু হয়েছিল ধরন নিয়ে প্রশ্ন করার মাধ্যমে। আমাদের উলামায়ে কেরাম কতই না সুন্দর কথা বলেছেন: যখন কোনো জাহমি তোমাকে বলবে: তিনি কীভাবে আরশের উপর উঠেছেন? অথবা তিনি কীভাবে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন? অথবা আল্লাহর হাত কেমন? এই জাতীয় প্রশ্ন করলে তুমি তাকে বলো: আল্লাহ তাঁর সত্তাগতভাবে কেমন? সে যদি তোমাকে বলে: তিনি কেমন তা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না এবং তাঁর প্রকৃত অবস্থা মানুষের অজ্ঞাত। তখন তুমি তাকে বলো: গুণের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা গুণান্বিত সত্তার ধরন সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং তুমি যার সত্তার ধরন জানো না, তার গুণের ধরন কীভাবে জানা সম্ভব?