(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سنن الترمذي - ط الرسالة القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع الكبير «سنن الترمذي»
المؤلف: أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي (209 - 279 هـ)
حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: شعيب الأرنؤوط (جميع الأجزاء)، عبد اللطيف حرز الله (جـ 1)، أحمد برهوم (جـ 2)، محمد كامل قرة بللي (جـ 3)، هيثم عبد الغفور (جـ 4)، جمال عبد اللطيف (جـ 5)، سعيد اللحام (جـ 6)
الناشر: دار الرسالة العالمية
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 6
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1445
সুনান আত-তিরমিযী - আর-রিসালাহ সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-জামেউল কাবীর «সুনান আত-তিরমিযী»
লেখক: আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিযী (২০৯ - ২৭৯ হিজরি)
তাহকীক, তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন: শুয়াইব আল-আরনাউত (সকল খণ্ড), আব্দুল লতিফ হিরজুল্লাহ (১ম খণ্ড), আহমাদ বারহুম (২য় খণ্ড), মুহাম্মাদ কামিল কুররাহ বাললি (৩য় খণ্ড), হাইসাম আব্দুল গাফুর (৪র্থ খণ্ড), জামাল আব্দুল লতিফ (৫ম খণ্ড), সাঈদ আল-লাহহাম (৬ষ্ঠ খণ্ড)
প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بين يدي سنن الترمذي نقل القاسمي في قواعد التحديث عن الإمام أبي حنيفة رحمه الله أنه قال: لولا السنة ما فهم أحد منا القرآن.
ولقد هيأ الله تعالى لحفظها كما حفظ كتابه، حيث نهض الصحابة ومن بعدهم من التابعين وأتباعهم بتبليغها وإذاعتها وروايتها وحفظها وتدوينها، واستفرغوا الوسع في ذلك، وتشهد تراجمهم بعظيم الجهد الذي بذلوه، فمن راحل لسماعها، ومنتصب لروايتها، وعاكف على تدوينها والتصنيف فيها.
وكان أصحاب الكتب الستة في مقدمة هؤلاء الرجال، الذين تقدموا لخدمة السنة النبوية الشريفة، فكان منهم الإمام الترمذي، حيث جمع كتابًا جامعًا، واختصر طرق الحديث اختصارًا لطيفًا، فذكر منها واحدًا، وأومأ إلى ما عداه، وبين أمر كل حديث من إنه صحيح أو حسن أو ضعيف أو منكر، وبين وجه الضعف، فكان كتابه كافٍ للمجتهد، مُغن للمقلد.
ونحن إذ نقدمه اليوم بعد أن استفضنا في تتبع الرواة والحفاظ مما تقتضيه العدالة في نقل الحديث وروايته، بأن يكونوا أمناء في أنفسهم، علماء بدينهم، أهل ورع وتقوى وحفظ للحديث، وإتقان به، وتثبت فيه، وأن يكونوا أهل تميز وتحصيل، وهؤلاء هم أهل العدالة.
إن الحرص على نشر "وما أتاكم الرسول فخذوه، وما نهاكم عنه فانتهوا"، و"لقد كانت لكم في رسول الله أسوة حسنة" دين نؤكده اليوم بنشرنا اليوم أحد كتب "الموسوعة الحديثية"، والذي هو من أهمها، توفرت فيه النصوص الصحيحة والحسنة من السنة النبوية المطهرة، تم تحقيقه تحقيقًا علميًا يطمئن إليه الباحث، ويرضى عنه القارئ. ضمن المنهج الذى يحقق الغاية التي نتوخاها، والأمل الذي يرضي ربنا.
فلكل من ساهم وبادر إلى العمل في هذا الكتاب أجمل الشكر وأعذبه، وعلى رأسهم فضيلة الشيخ شعيب الأرنؤوط، وفضيلة الشيخ محمد بن ناصر العجمي والأبناء البررة الذين أرجو أن يوفقهم الله على العمل على خدمة هذا الدين بنشر العلوم النافعة من خلال (شركة مؤسسة
সুনানুত তিরমিযীর পরিচিতিআল-কাসিমী ‘কাওয়াইদুত তাহদীস’ গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যদি সুন্নাহ না থাকত, তবে আমাদের কেউ কুরআন বুঝতে পারত না।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য সেরূপ ব্যবস্থা করেছেন যেরূপ তিনি তাঁর কিতাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। ফলে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ ও তাবি-তাবিঈগণ এটি পৌঁছানো, প্রচার করা, বর্ণনা করা, মুখস্থ করা ও সংকলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের সর্বাত্মক শক্তি ব্যয় করেছিলেন। তাঁদের জীবনীসমূহ তাঁদের এই মহান প্রচেষ্টার সাক্ষ্য দেয়; তাঁদের কেউ সুন্নাহ শ্রবণের উদ্দেশ্যে দেশান্তর হয়েছেন, কেউ বর্ণনার কাজে নিবিষ্ট হয়েছেন, আবার কেউ এর সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় নিমগ্ন ছিলেন।
এই সকল মহান ব্যক্তিবর্গের অগ্রভাগে ছিলেন কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ, যারা পবিত্র নববী সুন্নাহর খিদমতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন ইমাম তিরমিযী। তিনি একটি ‘জামি’ গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং হাদীসের সূত্রগুলোকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সংক্ষেপ করেছেন; তিনি একটি সূত্র উল্লেখ করে অন্যান্য সূত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রতিটি হাদীস সহীহ, হাসান, যঈফ নাকি মুনকার—তা তিনি স্পষ্ট করেছেন এবং দুর্বলতার কারণও বর্ণনা করেছেন। ফলে তাঁর এই কিতাব মুজতাহিদের জন্য পর্যাপ্ত এবং মুকাল্লিদের জন্য এক অনন্য অবলম্বন হয়েছে।
রাবী ও হাফিযদের অনুসরণের ক্ষেত্রে হাদীস বর্ণনা ও স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যায়পরায়ণতার (আদালাত) শর্তাবলি—যেমন তাঁদের বিশ্বস্ত হওয়া, দ্বীন সম্পর্কে বিজ্ঞ হওয়া, তাকওয়া ও পরহেযগারির অধিকারী হওয়া এবং হাদীস মুখস্থ রাখা ও তা যাচাইয়ে দক্ষ ও পারদর্শী হওয়া—এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর আজ আমরা এটি পেশ করছি। তাঁরা ছিলেন অনন্য ও প্রজ্ঞাবান, আর এরাই হলেন ‘আহলে আদালাত’ বা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ।
“রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো” এবং “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ”—এই বাণীগুলো প্রচারের আগ্রহ একটি দ্বীনি আমল, যা আজ আমরা ‘হাদীস বিশ্বকোষ’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব প্রকাশের মাধ্যমে নিশ্চিত করছি। এতে পবিত্র সুন্নাহর সহীহ ও হাসান পাঠ্যসমূহ সংগৃহীত হয়েছে এবং এটি এমন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পাদিত (তাহকীক) হয়েছে যা গবেষককে আশ্বস্ত করবে এবং পাঠককে সন্তুষ্ট করবে। এটি এমন এক মানহাজের (পদ্ধতি) ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে যা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করে এবং আমাদের রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশা যোগায়।
যারা এই কিতাবের কাজে অবদান রেখেছেন এবং উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আন্তরিক ও সুমধুর কৃতজ্ঞতা। তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন ফযীলাতুশ শায়খ শুআইব আল-আরনাউত, ফযীলাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী এবং সেই সকল সুসন্তান, যাদের জন্য আমি আল্লাহর নিকট দুআ করি যেন তিনি তাঁদের উপকারী ইলম প্রচারের মাধ্যমে এই দ্বীনের খিদমত করার তাওফীক দান করেন (মুয়াসসাসাহ কোম্পানির...
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الرسالة العالمية) التي قامت لتكمل مسيرة مؤسسة الرسالة بإذن الله تعالى.
والحمد لله في البدء والختام، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
رضوان دعبول
(আর-রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ) যা আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে মুআসসাসাতুর রিসালাহর পথচলা পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
রিদওয়ান দাবুল
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدّمة النّاشرهذا الكتاب هو باكورة إنتاج (شركة دار مؤسّسة الرّسالة العالمية)، وهي شركة تأسّست على أركان (مؤسّسة الرّسالة للطّباعة والنّشر والتّوزيع) التي أسّسها الوالد المبجّل الأستاذ رضوان إبراهيم دعبول منذ أربعين عامًا.
وأركان المؤسّسة التي نشير إليها ثلاثة: -
الرّكن الأوّل: الكتب والمؤلّفات التي سبق أن قامت المؤسّسة الأمّ بنشرها، وهي منشورات كثيرة انتفع بها الجمّ الغفير من المسلمين، والشّركة الجديدة عازمة على تجديد هاتيك المنشورات للاستفادة من التطوّر الّذي لَحِقَ بأصول صناعة الطّباعة، بما قد يجعل الاستفادة من هذه الكتب أيسر على طَلَبَة العلم.
الرّكن الثّاني: المنهج الّذي اتبعتّه المؤسّسة الأمّ منذ تأسيسها فى خدمة كتب التّراث المهمّة، من خلال مراكز التّحقيق والبحث العلميّ التّابعة لها، وهذا منهج صعب جدًا، وتحفه الكثير من المتاعب الماديّة، ولكنّا نرجو الله أن يرزقنا الإخلاص فى النيّة ليكون ما سنتنكّبه من تلك المصاعب في ميزان أعمالنا يوم الحساب.
الرّكن الثّالث: روح الكفاح والجدّ والمثابرة التي يتمتّع بها والدنا المؤسِّس، فهو لا يضن في سبيل نشر الكتب بأيّ جهد أو مال، وبالرّغم من المصاعب الجمّة التي جابهته خلال سنوات حياته، إلّا أنّه لم يتوقف لحظةً عن خدمة رسالته التي استودعها في مؤسّسته: مؤسّسة الرّسالة، ومن عجيب هذا الأمر
প্রকাশকের ভূমিকাএই বইটি হলো (শারিকাহ দার মুআসসাসাতুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ)-এর প্রথম প্রকাশনা। এটি এমন একটি কোম্পানি যা (মুআসসাসাতুর রিসালাহ লিত-তিবাআতি ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাউযী)-এর স্তম্ভসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা সম্মানিত পিতা উস্তাদ রেদওয়ান ইব্রাহিম দাবুল আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
আমরা যে প্রতিষ্ঠানের স্তম্ভগুলোর কথা উল্লেখ করছি তা হলো তিনটি: -
প্রথম স্তম্ভ: মূল প্রতিষ্ঠান (প্যারেন্ট অর্গানাইজেশন) ইতিপূর্বে যেসব বই ও গ্রন্থসমূহ প্রকাশ করেছে। এগুলো এমন বহু প্রকাশনা যা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম উপকৃত হয়েছেন। নতুন কোম্পানিটি সেই প্রকাশনাগুলোকে নতুনভাবে মুদ্রণ করার দৃঢ় সংকল্প করেছে যাতে মুদ্রণ শিল্পের মূলনীতিতে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, যার ফলে এই বইগুলো থেকে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য উপকৃত হওয়া আরও সহজ হবে।
দ্বিতীয় স্তম্ভ: মূল প্রতিষ্ঠানটি তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী (তুরাস) বইগুলোর খিদমতে যে পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে, তার অধীনে থাকা তাহকীক (সম্পাদনা) ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে। এটি একটি অত্যন্ত কঠিন পথ এবং অনেক আর্থিক প্রতিকূলতা এতে বিদ্যমান। তবে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের নিয়তে ইখলাস দান করেন, যাতে আমরা যে সব কষ্টের সম্মুখীন হব তা যেন বিচার দিবসে আমাদের আমলনামার পাল্লায় ভারী হয়।
তৃতীয় স্তম্ভ: সংগ্রাম, প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের সেই চেতনা যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতার মধ্যে বিদ্যমান। তিনি বই প্রকাশের পথে কোনো শ্রম বা অর্থ ব্যয়ে কার্পণ্য করেন না। তাঁর জীবনের বছরগুলোতে অসংখ্য প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘মুআসসাসাতুর রিসালাহ’-এর মাধ্যমে যে মিশন আমানত হিসেবে রেখে গেছেন, তার খিদমত থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিরত হননি। আর এই বিষয়ের এক বিস্ময়কর ব্যাপার হলো...
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أنّك تراه لا يحفل بأيّ أمرٍ من أمور الدّنيا، ولا ترى الفرح والبشر على محيّاه إلّا عندما يرى كتابًا جديدًا قد صدر عن مؤسّسته، وكأنّه رُزِق مولودًا أو حقّق نصرًا مؤزرًا، فلله درّه، قد أتعب بروحه هذه من بعده، ولم يترك لنا عذرًا في متابعة المسيرة على نفس النّهج ونفس الإصرار، فالله نسأل أن يثيبه عنّا وعن المسلمين خير الثّواب، ويلهمنا الإخلاص والثّبات.
لقد عانت مؤسّسة الرّسالة خلال العقد الماضي من أزمة حادّة نتيجة التّقلبات التي أصابت منطقتنا، بالإضافة إلى ظروف خاصّة، ولكن خلال تلك الفترة أكرم الله هذه المؤسّسة فحفظ لها قلبها النّابض الذي استمرّ يخفق بالرّغم من صعوبة الظّرف، وإذ نعتذر اليوم من محبّي المؤسّسة عن القصور الّذي أصابها خلال الفترة الماضيّة، ليسعدنا أن نزفّ إليهم البشرى بأنّنا قد قمنا بإعداد الكثير من الكتب النّافعة والتي ستصدر تباعًا خلال الأيّام القادمة بإذن الله، وعلى رأسها كتب السنّة الستة - وكتابنا هذا أحدها -، لتكون بمثابة عنوان المرحلة القادمة، والرّاية التي سنكمل تحتها المسيرة المباركة لهذه المؤسّسة بإذن الله تعالى.
ختامًا، وإذ نكرّر الشّكر لوالدنا الكريم على ما بذله من صبر وحلم عظيمين حتّى استطاع أن يغرس في أنفسنا حبّ هذه المهنة المباركة، لنعدّه بأن نبذل قُصارى جهدنا في متابعة المسيرة على المنهج الذي اختطه وارتضاه، لتكون ثمار هذا الغرس صدقة جارية يجني ثمارها إلى ما شاء الله.
نسأل الله جلّ في علاه أن يتقبّل منه، وأن يطيل في عمره على الخير، وأن يرزقنا وإياه الإخلاص في القول والعمل، إنّه سميع مجيب، وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.
معاذ رضوان دعبول
المدير العام
আপনি তাকে দেখবেন যে তিনি পার্থিব জগতের কোনো বিষয়েই ভ্রুক্ষেপ করেন না, এবং তাঁর চেহারায় আনন্দ ও প্রফুল্লতা কেবল তখনই দেখা যায় যখন তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত কোনো নতুন বই দেখেন, যেন তিনি কোনো সন্তান লাভ করেছেন অথবা কোনো সুনিশ্চিত বিজয় অর্জন করেছেন। আল্লাহর জন্য তাঁর মহত্ত্ব, তিনি তাঁর এই প্রাণের মাধ্যমে উত্তরসূরীদের জন্য এক কঠিন মানদণ্ড রেখে গেছেন, এবং আমাদের জন্য একই পথে ও একই দৃঢ়তার সাথে এই যাত্রা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বাকি রাখেননি। অতএব আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের ইখলাস (নিষ্ঠা) ও দৃঢ়তা দান করেন।
গত এক দশকে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ আমাদের অঞ্চলে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা এবং বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তীব্র সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ে আল্লাহ এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং এর স্পন্দিত হৃদয়কে রক্ষা করেছেন, যা পরিস্থিতির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্পন্দিত হতে থাকে। আজ আমরা প্রতিষ্ঠানের অনুরাগীদের কাছে গত সময়ের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আনন্দের সাথে এই সুসংবাদ দিচ্ছি যে, আমরা অনেক উপকারী গ্রন্থ প্রস্তুত করেছি যা আগামী দিনগুলোতে ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। এর শীর্ষে রয়েছে সুন্নাহর ছয়টি কিতাব — এবং আমাদের এই কিতাবটি তারই একটি — যা আগামী দিনের যাত্রার শিরোনাম এবং সেই পতাকা হবে যার অধীনে আমরা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই প্রতিষ্ঠানের বরকতময় পথচলা পূর্ণ করব।
পরিশেষে, আমরা আমাদের সম্মানিত পিতার প্রতি আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর মহান ধৈর্য ও সহনশীলতার জন্য, যার মাধ্যমে তিনি আমাদের অন্তরে এই বরকতময় পেশার প্রতি ভালোবাসা বপন করতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তিনি যে পথ ও পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন এবং পছন্দ করেছেন, সেই অনুযায়ী এই পথচলা অব্যাহত রাখতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করব, যাতে এই বৃক্ষের ফলসমূহ সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হয় এবং আল্লাহ যতদিন ইচ্ছা করেন এর সুফল মানুষ ভোগ করতে পারে।
আমরা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন, কল্যাণের সাথে তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করেন এবং আমাদের ও তাঁকে কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুয়াজ রিদওয়ান দাবুল
মহাপরিচালক
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مُقَدِمَة تَشْتمِل عَلى المنْهَجِ المتَّبَعِ في تَحقِيق السُّنن الأربَعَةإنّ الحمدَ لله نحمَدُه ونستعينُه ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا، ومِنْ سيئاتِ أعمالنا، من يَهْدِهِ الله، فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلل فلا هادِيَ له، ونشهد أن لا إله إلا الله، ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
وبعد:
فإن مِن المتفق عليه عندَ علماء الإسلام أن السنةَ النبوية الشريفة إنما هي المصدر الثاني مِن مصادر التشريع الإسلامي بعدَ القرآن الكريم، وعليها المعوّلُ في بسط الأحكام الشرعية، وبيان التوجيهات القرآنية، فهي التفسيرُ العمليُّ للقرآن، والتطبيقُ الواقعي للإسلام،
সুনানে আরবাআ (চারটি সুনান গ্রন্থ) এর তাহকীকে অনুসৃত মানহাজ সংবলিত ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
ইসলামী স্কলারদের নিকট এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, পবিত্র কুরআনের পর সুন্নাতে নববীই হলো ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। শরীয়তের বিধানাবলির বিস্তারিত বর্ণনা এবং কুরআনের নির্দেশনাসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সুন্নাহর ওপরই নির্ভর করা হয়। কেননা এটি হলো কুরআনের ব্যবহারিক তাফসীর এবং ইসলামের বাস্তব প্রয়োগ।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذه هي المهمةُ التي أناطها اللهُ بالنبي عليه الصلاة والسلام، حيث جعلَه اللهُ تعالى موضعَ الإبانةِ عن كتابه، فقال: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44]، وقال: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ} [النحل: 64]، فكان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم هو المُبَيِّنَ عن اللهِ عز وجل أمرَه، وعن كتابه معاني ما خُوطب به الناسُ وما أراد اللهُ عز وجل به، وعنى فيه، وما شَرَعَ مِن معاني دينه وأحكامهِ وفرائضِه وموجباتهِ وآدابهِ ومندوبه، وسُنَنهِ التي سنَّها، وأحكامهِ التي حكم بها، وآثارِه التي بثَّها، فلبث صلى الله عليه وسلم بمكةَ والمدينة ثلاثًا وعشرين سنة يُقيمُ للناسِ معالم الدين، يَفْرِضُ الفرائض، ويسُنُّ السنَنَ، ويُمضي الأحكامَ، ويُحرم الحرامَ، ويُحِلُّ الحلالَ، ويُقيمُ الناسَ على منهاجِ الحق بالقول والفعل
(1).
فكانت أحاديثُه القوليةُ منها والفعلية والتقريرية تفصيلًا لمجمل القرآن، وتفسيرًا لمتشابهه، وبسطًا لمختصره، وتقييدًا لمطلقه، وتخصيصًا لعامِّه، وشرحًا لأحكامه، وكان هذا كُلُّه هو الحكمةَ التي نصَّ عليها الله سبحانه وتعالى حين وصفَ رسالةَ نبيه صلى الله عليه وسلم بقوله عز وجل: {وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [البقرة: 129].
وقد أشار إلى ذلك الإمامُ الشافعي رحمه الله تعالى، فقال
(2): فذكر اللهُ الكتابَ وهو القرآنُ، وذكر الحكمةَ، فسمعتُ مَنْ أرضى
--------------------------------------------
আর এটিই সেই দায়িত্ব যা আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অর্পণ করেছেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর কিতাব সুস্পষ্টকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" [আন-নাহল: ৪৪]। এবং তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করিনি কিন্তু একারণেই যে, আপনি তাদের জন্য সেই বিষয়টিকে সুস্পষ্ট করবেন যাতে তারা মতভেদ করেছে" [আন-নাহল: ৬৪]। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশের বর্ণনাকারী এবং তাঁর কিতাব থেকে সেই সকল অর্থের ব্যাখ্যাকারী যার মাধ্যমে মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে এবং মহান আল্লাহ যা উদ্দেশ্য করেছেন ও বুঝিয়েছেন। আর দ্বীনের অর্থসমূহ, এর বিধানাবলি, ফরযসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, আদব বা শিষ্টাচারসমূহ, মুস্তাহাবসমূহ, তিনি প্রবর্তিত সুন্নাহসমূহ, তিনি প্রদত্ত ফয়সালাসমূহ এবং তিনি যেসব নিদর্শন বা আছার প্রচার করেছেন—সবই তিনি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় এবং মদীনায় তেইশ বছর অবস্থান করেন, মানুষের জন্য দ্বীনের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন, ফরযসমূহ নির্ধারিত করেন, সুন্নাহসমূহ প্রবর্তন করেন, বিধানাবলি বাস্তবায়ন করেন, হারামকে হারাম ঘোষণা করেন, হালালকে হালাল করেন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন
(১).
ফলে তাঁর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতিমূলক হাদীসসমূহ কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, এর অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয়ের তাফসীর, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিশদ বিবরণ, এর শর্তহীন (মুতলাক) বিষয়ের সীমাবদ্ধকরণ, এর সাধারণ (আম্ম) বিধানের নির্দিষ্টকরণ এবং এর বিধানাবলির ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করেছে। আর এ সমস্তই ছিল সেই হিকমত (প্রজ্ঞা), যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যখন তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "এবং তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন" [আল-বাকারা: ১২৯]।
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) এ বিষয়ের দিকেই ইশারা করেছেন, তিনি বলেন
(২): অতঃপর আল্লাহ কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি এমন এক ব্যক্তির থেকে শুনেছি যাকে আমি পছন্দ করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مِن أَهْلِ العلمِ بالقرآن يقولُ: الحكمةُ سنةُ رسولِ الله. وهذا يُشبه ما قال، والله أعلم، لأنّ القرآن ذُكِرَ، وأُتبِعَتْه الحِكْمَةُ، وذكر اللهُ مَنَّهُ على خلقه بتعليمهم الكتابَ والحكمة، فلم - يَجُز والله أعلم - أن يُقال الحكمةُ ها هنا إلا سُنَّةُ رسول الله، وذلك أنها مقرونة معَ كتاب الله، وأنَّ الله افترض طاعةَ رسوله، وحتَّم على الناس اتباعَ أمره، فلا يجوزُ أن يُقال لقولٍ: فَرْضٌ إلا لكتابِ الله، ثم سنةِ رسوله، لما وصفنا من أنَّ الله جعل الإيمانَ برسوله مقرونًا بالإيمان به، وسنةُ رسول الله مُبيِّنةٌ عن الله معنى ما أراد دليلًا على خاصِّه وعامِّه، ثم قرنَ الحكمةَ بها بكتابه، فأتبعها إياه، ولم يجعل هذا لأحدٍ من خلقه غيرِ رسوله. اهـ.
قلنا: ولهذا فقد فرض اللهُ تعالى على عباده طاعةَ رسوله، لأنها من طاعته سبحانه وتعالى، وبيَّن اللهُ ذلك في مواضعَ عديدةٍ من كتابه أنَّ العملَ بما جاء به رسولُ الله هو عملٌ بما جاء من عند الله، فقال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [النساء: 59].
وقال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80].
وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7].
কুরআনের জ্ঞানীদের মধ্য থেকে কেউ বলেন: হিকমাহ হলো আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ। এটি তিনি যা বলেছেন তার অনুরূপ—আল্লাহই ভালো জানেন—কারণ এখানে কুরআনের উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার পরপরই হিকমাহর অনুসরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যে অনুগ্রহ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। ফলে এখানে হিকমাহ বলতে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছু বলা—আল্লাহই ভালো জানেন—বৈধ নয়। এর কারণ হলো এটি আল্লাহর কিতাবের সাথে যুক্ত এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে ফরজ করেছেন এবং মানুষের ওপর তাঁর আদেশ অনুসরণ করাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং আল্লাহর কিতাব এবং পরবর্তীতে তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো কথাকে 'ফরজ' বলা বৈধ নয়; যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানকে তাঁর নিজের প্রতি ঈমানের সাথে যুক্ত করেছেন। আর আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায়ের ব্যাখ্যাকারী এবং তাঁর বিশেষ ও সাধারণ বিধানসমূহের প্রমাণ। অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবে হিকমাহকে এর সাথে যুক্ত করেছেন এবং একে কিতাবের অনুগামী করেছেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতের মধ্যে রাসূল ব্যতীত অন্য কাউকে এই মর্যাদা দান করেননি। (সমাপ্ত)।
আমরা বলছি: এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর রাসূলের আনুগত্য ফরজ করেছেন, কারণ তা মহান আল্লাহরই আনুগত্য। আল্লাহ তাঁর কিতাবের বহু স্থানে এটি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তদানুযায়ী আমল করা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তারই আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো।} [আন-নিসা: ৫৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি।} [আন-নিসা: ৮০]।
তিনি আরও বলেন: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115]، وقال: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65].
وعن هذا الفهم العميق صَدَرَ الصحابةُ رضي الله عنهم والتابعون لهم بإحسان في أقوالهم وأفعالهم وجميعِ أحوالهم، فقد رُوي أن امرأةً مِن بني أسدٍ يُقال لها: أم يعقوب أتت عبدَ اللهِ بنَ مسعود، فقالت: ما حديثٌ بلغني عنك أنَّك لعنتَ الواشماتِ والمُستوشماتِ والمتنمِّصاتِ والمتفلِّجاتِ للحسن، المُغَيِّرات خلقَ الله؟ فقال عبد الله: وما لي لا ألْعَنُ مَنْ لَعَنَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم، وهو في كتاب الله.
فقالت المرأةُ: لقد قرأتُ ما بين لوحي المصحف، فما وجدتُه، فقال: لئن كنتِ قرأتيه، لقد وجدتيه، قال الله عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}
(1).
وقيل لمطَرِّفِ بن عبد الله بن الشِّخِّير: لا تُحدثونا إلا بالقرآن، فقال له مُطَرِّف: والله ما نُريدُ بالقرآن بدلًا، ولكن نريدُ من هو أعلم بالقرآن منا
(2).
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস} [আন-নিসা: ১১৫], এবং তিনি বলেছেন: {অতএব আপনার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]।
আর এই গভীর উপলব্ধির ভিত্তিতেই সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হয়েছেন, তাঁদের কথা, কাজ এবং সমস্ত অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বর্ণিত আছে যে, বনু আসাদ গোত্রের এক মহিলা—যাকে উম্মু ইয়াকুব বলা হতো—আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কাছে এসে বলল: "আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে এমন কী কথা পৌঁছেছে যে, আপনি ওইসব নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা উল্কি অঙ্কন করে ও যারা করায়, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁত ফাঁকা করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে?" আবদুল্লাহ বললেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকে অভিশাপ দিয়েছেন তাকে অভিশাপ দিতে আমার কী বাধা থাকতে পারে? অথচ তা আল্লাহর কিতাবেও বিদ্যমান।"
মহিলাটি বলল: "আমি তো কুরআনের দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছুই পড়েছি, কিন্তু আমি সেখানে এটি পাইনি।" তিনি বললেন: "যদি তুমি তা পড়তে, তবে অবশ্যই তা পেতে; মহান আল্লাহ বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}"
(১)।
আর মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীরকে বলা হলো: "আপনি আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না।" তখন মুতাররিফ তাকে বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন কাউকে চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال الشافعي
(1): أخبرني أبو حنيفة بنُ سماك بن الفضل الشهابي، قال: أخبرني ابنُ أبي ذئب، عن المَقْبُري، عن أبي شُريح الكعبي، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال عامَ الفتح: "من قُتِلَ له قتيلٌ، فهو بخير النَّظَرين، إنْ أحبَّ أخذَ العَقْلَ، وإن أحبَّ فله القَوَدُ"، قال أبو حنيفة: فقلتُ لابن أبي ذئب: أتأخذُ بهذا يا أبا الحارث؟ فضرب صدري، وصاح عليَّ صياحًا كثيرًا، ونال مني، وقال: أحدَّثُك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولُ: تأخذُ به! نعم، آخذُ به، وذلك الفَرْضُ عليَّ وعلى مَنْ سمعه، إن الله اختارَ محمدًا مِن الناس، فهداهم به وعلى يديه، واختارَ لهم ما اختارَ له وعلى لسانه، فعلى الخلقِ أن يتَّبِعُوه طائعين أو داخرين، لا مخرجَ لِمسلم من ذلك.
وقال الشافعي أيضًا
(2): أخبرنا مسلمٌ وعبد المجيد، عن ابن جُريج، أن طاووسًا أخبره أنه سأل ابنَ عباس عن الركعتين بعدَ العصر، فنهاه عنهما، قال طاووس: فقلتُ له: ما أدعُهُما. فقال ابنُ عباس: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36]. ثم قال الشافعي: فرأى ابنُ عباس الحُجَّةَ قائمةً على طاووس بخبرِه عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم، ودلَّه بتلاوة كتاب الله على أن فَرْضًا عليه ألا تكون له الخِيَرَةُ إذا قضى اللهُ ورسولُه أمرًا.
--------------------------------------------
এবং শাফেয়ী
(১) বলেন: আমাকে আবু হানিফা ইবনে সিমাক ইবনে ফাদল আশ-শিহাবী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইবনে আবি যিব সংবাদ দিয়েছেন মাকবুরীর সূত্রে, তিনি আবু শুরাইহ আল-কাবীর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর বলেছেন: "যার কোনো আত্মীয় নিহত হয়, তার জন্য দুটি বিষয়ের মধ্যে উত্তমটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; সে চাইলে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে, আর যদি চায় তবে তার জন্য প্রতিশোধ (কিসাস) নেওয়ার অধিকার রয়েছে।" আবু হানিফা বলেন: তখন আমি ইবনে আবি যিবকে বললাম: হে আবু আল-হারিস, আপনি কি এটি গ্রহণ করেন? তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং আমার ওপর অনেক চিৎকার করলেন ও আমাকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন: "আমি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি আর তুমি বলছো: আপনি কি এটি গ্রহণ করেন! হ্যাঁ, আমি এটি গ্রহণ করি, আর এটি আমার ওপর এবং যে তা শুনেছে তার ওপর ফরজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে মুহাম্মদকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর হাতে তাদের হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা পছন্দ করেছেন ও তাঁর জবানে যা ব্যক্ত করেছেন তা-ই তাদের জন্য মনোনীত করেছেন। সুতরাং সৃষ্টির কর্তব্য হলো স্বেচ্ছায় হোক বা বাধ্য হয়ে, তাঁর অনুসরণ করা; এ থেকে কোনো মুসলিমের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই।"
শাফেয়ী আরও বলেন
(২): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম এবং আব্দুল মাজীদ ইবনে জুরাইজের সূত্রে যে, তাউস তাকে জানিয়েছেন যে তিনি ইবনে আব্বাসকে আসরের পরের দুই রাকাত নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি তাকে তা থেকে নিষেধ করেন। তাউস বলেন: আমি তাঁকে বললাম: আমি এ দুই রাকাত ছাড়ব না। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পথ হারাল} [আল-আহযাব: ৩৬]। অতঃপর শাফেয়ী বলেন: ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের মাধ্যমে তাউসের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করলেন এবং আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাকে এই নির্দেশনা দিলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো পছন্দের অবকাশ না রাখা তার ওপর ফরজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ونقل القاسمي
(1) عن الإمام أبي حنيفة رحمه الله أنه دخل عليه مرةً رجلٌ مِنْ أهل الكوفة، والحديثُ يُقرأ عنده، فقال الرجل: دعونا مِن هذه الأحاديث، فزجره الإمامُ أشدً الزجر، وقال له: لولا السنةُ ما فَهِمَ أحدٌ منا القرآن. ثم قال للرجل: ما تقولُ في لحمِ القِردِ وأين دليلُه من القرآن؟ فأُفحم الرجل.
ولما كانت السنةُ للقرآن بهذه المرتبة، فقد هيأ الله تعالى لحِفظها كما حفظ كتابه، حيث نهض الصحابةُ ومَن بعدهم من التابعين وأتباعهم بتبليغها وإذاعتها، وروايتها وحفظها وتدوينها، واستفرغوا الوُسْعَ في ذلك، وتشهدُ تراجمُهُم بعظيمِ الجُهد الذي بذلوه، فَمِنْ راحلٍ لسماعِها، ومنتصبٍ لروايتها، وعاكفٍ على تدوينها والتصنيفِ فيها، حتى استطاعوا استيعابَها، ولمَّ شملِها، وجمْعَ شتاتها، والإحاطةَ بها، حتى إنه ليصحُّ لنا القولُ: إنهم لم يَفُتْهُم من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثٌ واحد.
وقد ذهبوا في مرحلهِ تدوينها وتصنيفها مذاهبَ شتى، كُلٌّ حسبَ الغاية التي تَغَيَّاها منها، فمنهم من رتَّبها حسبَ المسانيد، وذلك بذكر أحاديثِ كلِّ صحابي على حِدَة، وأشهرُ هذه المسانيد "مسندُ" الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، الذي شرَّفنا الله تعالى بخدمته وتحقيقه، وبسطْنا القولَ في هذا النوع من التأليف في مقدِّمتنا له.
--------------------------------------------
কাসেমী
(১) ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তাঁর কাছে কুফার এক ব্যক্তি প্রবেশ করল, যখন তাঁর সামনে হাদিস পাঠ করা হচ্ছিল। তখন লোকটি বলল: "এইসব হাদিস আমাদের থেকে দূরে রাখুন।" ইমাম তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে ধমক দিলেন এবং তাকে বললেন: "সুন্নাহ না থাকলে আমাদের কেউই কুরআন বুঝতে পারত না।" এরপর তিনি লোকটিকে বললেন: "বানরের গোশত সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কী এবং কুরআনে এর দলিল কোথায়?" তখন লোকটি নির্বাক হয়ে গেল।
আর যেহেতু কুরআনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর মর্যাদা এরূপ, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব সংরক্ষণের মতো সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্যও ব্যবস্থা করেছেন। ফলে সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ ও তাবি-তাবিঈগণ এটি প্রচার ও প্রসারে, বর্ণনা ও সংরক্ষণে এবং সংকলনে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তাঁরা এ কাজে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং তাঁদের জীবনচরিত তাঁদের এই মহান শ্রমের সাক্ষ্য দেয়। তাঁদের কেউ এটি শোনার জন্য সফরে বের হতেন, কেউ বর্ণনার কাজে নিয়োজিত হতেন, আর কেউ এর সংকলন ও বিন্যাসের কাজে নিমগ্ন থাকতেন। এভাবে তাঁরা একে আয়ত্ত করতে, এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করতে এবং একে আয়ত্তে আনতে সক্ষম হন; এমনকি আমাদের জন্য এ কথা বলা সঠিক হবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের একটি হাদিসও তাঁদের অগোচরে থাকেনি।
আর এর সংকলন ও বিন্যাসের স্তরে তাঁরা নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, প্রত্যেকেই স্বীয় লক্ষ্য অনুযায়ী তা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ একে 'মুসনাদ' (মাসাানিদ) অনুযায়ী সাজিয়েছেন, আর তা হলো প্রতিটি সাহাবীর হাদিস পৃথকভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে। এই মুসনাদ গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "মুসনাদ", যার সেবা ও তাহকিক করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং এই ধরণের রচনাশৈলী সম্পর্কে আমরা এর ভূমিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنهم من جعلها مُرَتَّبة حسب موضوعاتها وأبوابها، كما فعل الإمامُ مالكُ بن أنس في "موطئه"، وجاء بعده من حذا حَذْوَه، ونحا نحوه مِن كبار الحفاظ والمحدثين، وفي مقدمتهم إمامُ الصنعةِ أميرُ المؤمنين في الحديث البخاريُّ، وتلميذُه الإمام مسلم صاحبا "الصحيحين"، ثم أصحابُ السنن: أبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه
(1).
وقد اشتملت هذه الكتبُ الستة على أحكام الإسلامِ وآدابه وشرائعه وتوجيهاته، وهذا ما يُفَسِّر لنا العنايةَ الكبرى، والحفاوةَ البالغةَ التي لقيتْها هذه الكتبُ، فقد تلقاها العلماءُ بالقبول، واعتنى بها المحدثون والفقهاءُ طبقةً بعدَ طبقة، واشتهرت فيما بينَ الناس، وتعلَّق بها القومُ شرحًا لِغريبها، وفحصًا عن رجالها، واستنباطًا لفقهها، وجمعًا لمتونها، وتهذيبًا لها.
على أن للصحيحين مِن المزايا ما ليسَ لِغيرِهما من السنن الأربعة، فالبخاري ومسلم لم يُثْبتا في كتابيهما من الأحاديث إلا ما جزما بصحته، وثبت عندهما نقلُهُ، ولم يشترط ذلك أصحابُ السنن، وإن كانوا في الأغلب - عدا ابن ماجه - قد أشارُوا إلى كثير مِن العِلَلِ التي اعتوَرت بعضَ الأسانيدِ عندهم، وكلُّ واحدٍ من هؤلاء الأئمة كان له مقصدٌ في تصنيفه، ومنهجٌ في تأليفه، وغرضٌ
--------------------------------------------
আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেগুলোকে তাদের বিষয়বস্তু এবং অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, যেমনটি ইমাম মালিক বিন আনাস তাঁর "মুয়াত্তা"-তে করেছেন। আর তাঁর পরে বড় বড় হাফেজ এবং মুহাদ্দিসগণের মধ্য থেকে এমন অনেকে এসেছেন যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর পথ অবলম্বন করেছেন। আর তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন হাদিস শিল্পের ইমাম, হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনীন আল-বুখারি এবং তাঁর ছাত্র ইমাম মুসলিম, যারা "সহীহাইন"-এর সংকলক। তারপর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ: আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ
(১)।
আর এই ছয়টি কিতাব ইসলামের বিধি-বিধান, আদব-কায়দা, শরিয়ত এবং দিকনির্দেশনাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এটিই আমাদের কাছে সেই বিশেষ যত্ন এবং গভীর সমাদরের কারণ ব্যাখ্যা করে যা এই কিতাবগুলো লাভ করেছে। আলেম সমাজ এগুলোকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ এগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। এগুলো মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং লোকেরা এগুলোর দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা, বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই, এগুলোর ফিকহ উদ্ভাবন, মূল পাঠসমূহ (মতন) সংগ্রহ এবং এগুলোর পরিমার্জনে লিপ্ত হয়েছেন।
তবে সহীহাইন-এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য চারটি সুনান গ্রন্থের নেই। বুখারি এবং মুসলিম তাঁদের কিতাবদ্বয়ে শুধুমাত্র সেই হাদিসগুলোই লিপিবদ্ধ করেছেন যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন এবং যেগুলোর বর্ণনা তাঁদের নিকট প্রমাণিত হয়েছে। আর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এই শর্তারোপ করেননি, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে—ইবনে মাজাহ ব্যতীত—তাঁরা তাঁদের নিকট থাকা কিছু সনদে পরিলক্ষিত অনেক ত্রুটির (ইল্লত) দিকে ইশারা করেছেন। আর এই ইমামদের প্রত্যেকেরই স্বীয় সংকলনে একটি উদ্দেশ্য, রচনার একটি পদ্ধতি এবং একটি লক্ষ্য ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
توخّاه، يتميز به عمن سواه، ويُمكن أن نذكرَ باختصار شديد ما يُميز كلَّ كتاب من هذه الكتب الستة وما قصد إليه مؤلفُه، على أن نبسط الحديث عن كل كتاب في المقدمة الخاصة به.
فأما البخاري
(1): فكان غرضُه تجريدَ الأحاديث الصحاح المتصلة مِن غيرها، واستنباطَ الفقه والسيرة والتفسير منها، وقد وفَّى بما شرط، ونال كتابُهُ من الشهرة والقبول درجة لا يُرام فوقَها.
وأما مسلم: فقد توخَّى تجريدَ الصحاح المُجمع عليها بين المحدثين، المتصلة المرفوعة مما يُستنبط منه السنة، وأراد تقريبَها إلى الأذهان، وتسهيلَ الاستنباط منها، فرتَّب ترتيبًا جيدًا، وجمع طرق كل حديث في موضع واحد، ليتَّضح اختلافُ المتون، وتشعّبُ الأسانيد أصرحَ ما يكون، وجمع بين المختلفات، فلم يَدَعْ لمن له معرفةٌ بلسان العرب عُذرًا في الإعراض عن السنة إلى غيرها.
وأما أبو داود: فكانت هِمّتُه جمعَ الأحاديث التي استدلَّ بها الفقهاءُ، ودارت فيهم، وبَنَى عليها الأحكامَ علماءُ الأمصار، فصنَّف سُنَنَه، وجمع فيها الصحيحَ والحسنَ والليِّن والصالح للعمل عنده، قال أبو داود: ما ذكرتُ في كتابي حديثًا أجمع الناسُ على تركه.
وما كان منها ضعيفًا صرَّح بضعفه، وما كان فيه علَّةٌ بيَّنها بوجهٍ
--------------------------------------------
তিনি তা লক্ষ্য করেছেন, যার মাধ্যমে এটি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। এই ছয়টি কিতাবের প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য এবং এর লেখকদের উদ্দেশ্য অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা সম্ভব, তবে প্রতিটি কিতাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আমরা সেগুলোর নিজস্ব ভূমিকায় প্রদান করব।
ইমাম বুখারি
(১) প্রসঙ্গে: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অন্য সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল মুত্তাসিল সহিহ হাদিসসমূহ সংকলন করা এবং সেগুলো থেকে ফিকহ, সিরাত ও তাফসির উদ্ভাবন করা। তিনি নিজের শর্ত পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর কিতাব প্রসিদ্ধি ও গ্রহণযোগ্যতার এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যার ঊর্ধ্বে আর কিছু কামনা করা যায় না।
ইমাম মুসলিম প্রসঙ্গে: তিনি মুহাদ্দিসগণের মাঝে ঐকমত্যপূর্ণ মুত্তাসিল মারফু সহিহ হাদিসসমূহ নির্বাচন করার সংকল্প করেছিলেন, যা থেকে সুন্নাহ উদ্ভাবন করা যায়। তিনি এগুলোকে সাধারণের বোধগম্য করতে এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবন সহজতর করতে চেয়েছিলেন। ফলে তিনি একটি চমৎকার বিন্যাস অনুসরণ করেন এবং প্রতিটি হাদিসের সকল সূত্র এক স্থানে একত্রিত করেন, যাতে মতনসমূহের পার্থক্য এবং সনদসমূহের বৈচিত্র্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তিনি বিভিন্ন বর্ণনাকে একত্রিত করেছেন, ফলে আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কারো জন্য সুন্নাহ ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো অজুহাত আর রাখেননি।
ইমাম আবু দাউদ প্রসঙ্গে: তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ঐসব হাদিস সংগ্রহ করা যা ফকিহগণ দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা তাঁদের মাঝে প্রচলিত ছিল এবং যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলের ওলামায়ে কেরাম আহকাম প্রণয়ন করেছেন। সে অনুযায়ী তিনি তাঁর 'সুনান' সংকলন করেন এবং তাতে সহিহ, হাসান, লাইয়্যিন এবং তাঁর নিকট আমলযোগ্য হাদিসসমূহ সংকলন করেন। আবু দাউদ বলেন: "আমি আমার কিতাবে এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করিনি যার পরিত্যাগের ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন।"
আর এর মধ্যে যা কিছু দুর্বল ছিল, তিনি স্পষ্টভাবে তার দুর্বলতা বর্ণনা করেছেন এবং যাতে কোনো ত্রুটি ছিল, তা কোনো না কোনোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يعرفهُ الخائضُ في هذا الشأن، وترجم على كل حديثٍ بما قد استنبط منه عالم، وذهب إليه ذاهب، ولذلك صرَّح الغزالي وغيره بأن كتابه كافٍ للمجتهد.
وأما الترمذي: فكأنَّه استحسنَ طريقة الشيخين حيث بَيَّنا، وما أبهما، وطريقةَ أبي داود حيث جمع كلَّ ما ذهب إليه ذاهب، فجمع كلتا الطريقتين، وزاد عليهما بيانَ مذاهب الصحابة والتابعين وفقهاء الأمصار، فجمع كتابًا جامعًا، واختصر طرقَ الحديث اختصارًا لطيفًا، فذكر منها واحدًا، وأومأ إلى ما عداه، وبيَّن أمر كل حديث مِن أنه صحيح أو حسن أو ضعيف أو منكر، وبيَّنَ وجهَ الضعف، ليكون الطالبُ على بصيرةٍ من أمره، فيعرفَ ما يَصْلُحُ للاعتبار وما لا يصلح، وذكَر أنه مستفيضٌ أو غريبٌ، وذكَر مذاهبَ الصحابة وفقهاءِ الأمصار، وسمَّى من يحتاج إلى التسمية، وكنَّى من يحتاج إلى الكنية، ولم يَدَع خفاءً لمن هو من رجال العلم، ولذلك يُقال: إنه كافٍ للمجتهد، مُغْنٍ للمقلِّد.
وأما النسائي: فقد اعتنى بكثرة الطرق، واختلاف الناقلين، قال فيه أبو عبد الله بن رُشَيد
(1): كتابُ النسائي أبدعُ الكتب المصنفة في
--------------------------------------------
যারা এই বিষয়ে গভীরভাবে নিবিষ্ট তারা এটি জানেন। তিনি প্রতিটি হাদিসের ওপর এমন শিরোনাম দিয়েছেন যা কোনো আলেম তা থেকে উদ্ভাবন করেছেন অথবা কোনো বিশেষজ্ঞ যে মত গ্রহণ করেছেন। আর এই কারণেই আল-গাযালী ও অন্যান্যরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তাঁর কিতাব একজন মুজতাহিদের জন্য যথেষ্ট।
আর ইমাম তিরমিযীর কথা হলো: তিনি যেন শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) পদ্ধতিকে পছন্দ করেছেন যেখানে তাঁরা বর্ণনা করেছেন এবং কোনো অস্পষ্টতা রাখেননি; আবার আবু দাউদের পদ্ধতিকেও গ্রহণ করেছেন যেখানে তিনি সকল মতভেদকে একত্রিত করেছেন। ফলে তিনি উভয় পদ্ধতিকে সমন্বয় করেছেন এবং তার সাথে সাহাবী, তাবিঈ ও বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণের মাযহাবসমূহের বর্ণনা যুক্ত করেছেন। এভাবে তিনি একটি সংকলন গ্রন্থ তৈরি করেছেন এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে হাদিসের সূত্রগুলোকে সংক্ষেপ করেছেন। তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে একটি উল্লেখ করেছেন এবং বাকিগুলোর দিকে ইশারা করেছেন। প্রতিটি হাদিস সহীহ, হাসান, যয়ীফ নাকি মুনকার—তা তিনি স্পষ্ট করেছেন এবং দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করেছেন, যাতে শিক্ষার্থী বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে এবং কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয় তা জানতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে হাদিসটি মুস্তাফীয নাকি গরীব। তিনি সাহাবী ও বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণের মাযহাবসমূহ উল্লেখ করেছেন। যার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং যাকে উপনামে (কুনিয়া) ডাকা প্রয়োজন তাকে উপনামে উল্লেখ করেছেন। ইলমের ধারক-বাহকদের ব্যাপারে তিনি কোনো অস্পষ্টতা রাখেননি। আর এই কারণেই বলা হয়: এটি একজন মুজতাহিদের জন্য যথেষ্ট এবং একজন মুকাল্লিদের (অনুসারীর) জন্য অমুখাপেক্ষীকারী।
আর ইমাম নাসাঈর কথা হলো: তিনি হাদিসের আধিক্য এবং বর্ণনাকারীদের ভিন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে রুশাইদ
(১) বলেছেন: নাসাঈর কিতাবটি সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
السنن تصنيفًا، وأحسنُها ترصيفًا، وكأنَّ كتابه جامعٌ بين طريقتي البخاري ومسلم مع حظ كبير من بيان العلل، وفي الجملة فكتابُ النسائي أقلُّ الكتب بعد الصحيحين حديثًا ضعيفًا، ورجلًا مجروحًا.
وقال ابن خلدون في تاريخه 1/ 793: قد استدرك الناسُ على البخاري ومسلم، ثم كَتَبَ أبو داود السِّجستانيُّ وأبو عيسى الترمذيُّ وأبو عبد الرحمن النسائيُّ في السنن بأوسعَ من الصحيح، وقصدوا ما توفرت فيه شروطُ العمل، إما مِن الرتبةِ العالية فىِ الأسانيد وهو الصحيح كما هو معروف، وإما من الذي هو دونَه من الحَسَنِ وغيرِه، ليكون ذلك إمامًا للسنةِ والعمل، وهذه هي الأسانيدُ المشهورة في المِلَّة، وهي أمهاتُ كُتُبِ الحديث في السنة، فإنها وإن تعددت ترجِعُ إلى هذه في الأغلب.
وقال أبو جعفر بن الزبير
(1) في المقارنة بين هذه الكتب الخمسة: أولى ما أُرْشِدُ إليه ما اتَّفَقَ المسلمون على اعتماده، وذلك الكتبُ الخمسة، و"الموطأ" الذي تقدَّمَها وضْعًا، ولم يتأخر عنها رُتبةً، وقد اختلفت مقاصِدُهُم فيها، وللصحيحين فيها شُفُوف، وللبخاري لمن أراد التفقُّه مقاصدُ جميلةٌ، ولأبي داود في حصر أحاديثِ الأحكام واستيعابِها ما ليسَ لغيره، وللترمذي في فنون الصناعة الحديثية ما لم يُشارِكْه غيره، وقد سلك النسائي أغمضَ تلك المسائل وأجلَّها.
--------------------------------------------
বিন্যাসের দিক থেকে তা শ্রেষ্ঠ এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি অত্যন্ত চমৎকার। মনে হয় তাঁর এই কিতাবটি ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনার বিশাল অংশসহ বুখারি ও মুসলিমের পদ্ধতির এক অপূর্ব সমন্বয়। সামগ্রিকভাবে, সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর পর নাসায়ির কিতাবেই দুর্বল হাদিস এবং সমালোচিত বর্ণনাকারী সবচেয়ে কম রয়েছে।
ইবনে খালদুন তাঁর 'তারিখ'-এ (১/৭৯৩) বলেছেন: মানুষ বুখারি ও মুসলিমের ওপর পর্যালোচনা করেছেন। অতঃপর আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি এবং আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ি 'সুনান' কিতাবসমূহ লিখেছেন যা 'সহীহ' (বুখারি ও মুসলিম)-এর তুলনায় অধিকতর বিস্তৃত। তাঁরা এমন সব হাদিস সংকলনের সংকল্প করেছেন যেখানে আমল করার শর্তাবলি বিদ্যমান; তা সনদ বা সূত্রের উচ্চ মর্যাদার কারণেই হোক—যাকে সুপরিচিত পরিভাষায় 'সহীহ' বলা হয়—কিংবা এর চেয়ে নিম্নস্তরের 'হাসান' বা অন্য কোনো প্রকারের হাদিসই হোক না কেন, যাতে এটি সুন্নাহ ও আমলের জন্য আদর্শ হতে পারে। উম্মাহর মধ্যে এগুলোই সুপ্রসিদ্ধ সনদ এবং এগুলোই সুন্নাহর ক্ষেত্রে হাদিসের মূল কিতাবসমূহ। কেননা কিতাব সংখ্যায় অধিক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
আবু জাফর বিন আল-জুবায়ের
(১) এই পাঁচটি কিতাবের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনায় বলেছেন: আমি সর্বাগ্রে সেই কিতাবগুলোর দিকেই দিকনির্দেশনা দিই যার নির্ভরযোগ্যতার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন; আর তা হলো এই পাঁচটি কিতাব এবং 'মুয়াত্তা', যা রচনার দিক থেকে অগ্রবর্তী হলেও মর্যাদার দিক থেকে মোটেও পিছিয়ে নেই। এসকল কিতাবে লেখকদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন ছিল। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। বুখারিতে ফিকহ অন্বেষণকারীদের জন্য অতি চমৎকার উদ্দেশ্যসমূহ নিহিত রয়েছে। আবু দাউদ আহকাম বা বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ যেভাবে সীমাবদ্ধ ও বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছেন তা অন্য কারও ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তিরমিজির হাদিস শাস্ত্রের কারিগরি শিল্পশৈলীতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে অন্য কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়। আর নাসায়ি অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম মাসআলাগুলো এবং তার মহান দিকগুলো অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما ابنُ ماجه: فكتابُه مفيد قويُّ النفع في الفقه، فيما ذكر ابنُ الأثير
(1)، لكن فيه أحاديثُ ضعيفة بالغة الضعف بل منكرة، وقال أبو عبد الله ابن رُشَيد
(2): كتابُ ابن ماجه تفرَّد فيه بإخراجِ أحاديثَ عن رجال متَّهمين بالكذبِ وسرقةِ الأحاديث، وبعضُ تلك الأحاديث لا تُعرف إلا مِن جهتهم مثلِ حبيب بن أبي حبيب كاتب مالك، والعلاء بن زيد، وداود بن المُحبَّر، وعبد الوهَّاب بن الضحاك، وإسماعيل بن زياد السَّكوني، وعبد السلام بن أبي الجَنُوب وغيرهم
… وقد حكم أبو زرعة على أحاديثَ كثيرةٍ منه بكونها باطلةً أو ساقطةً أو منكرة، وذلك محكيٌّ في كتاب "العلل" لابن أبي حاتم.
قلنا: ولأجل ما تَفَرَّد به من الضعف لم يُضِفْهُ غيرُ واحد إلى الكتب الخمسة السالف ذكرُها، فقد قال الحافظ صلاح الدين العلائي
(3): ينبغي أن يُعَدَّ كتابُ الدارمي سادسًا للكتب الخمسة بدلَ كتابِ ابنِ ماجه، فإنه قليلُ الرجال الضعفاء، نادرُ الأحاديث المنكرة والشاذة، وإن كانت فيه أحاديثُ مرسلةٌ موقوفةٌ، فهو مع ذلك أولى من كتاب ابن ماجه.
--------------------------------------------
আর ইবনে মাজাহ-এর কথা বলতে গেলে, ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর কিতাবটি অত্যন্ত উপকারী ও শক্তিশালী, যেমনটি ইবনুল আসীর উল্লেখ করেছেন
(১); তবে এতে এমন কিছু দুর্বল হাদিস রয়েছে যা অত্যন্ত দুর্বল, এমনকি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। আবু আবদুল্লাহ ইবনে রুশাইদ
(২) বলেন: ইবনে মাজাহ-এর কিতাবটি এমন কিছু হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে একক হয়ে পড়েছে যা এমন সব ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত যারা মিথ্যাচার এবং হাদিস চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত। এবং সেই হাদিসগুলোর কিছু কেবল তাদের মাধ্যমেই জানা যায়, যেমন: মালিকের লেখক হাবিব ইবনে আবু হাবিব, আল-আলা ইবনে যাইদ, দাউদ ইবনুল মুহাব্বার, আবদুল ওয়াহাব ইদ-দাহহাক, ইসমাইল ইবনে জিয়াদ আস-সাকুনি, আবদুস সালাম ইবনে আবিল জানুব এবং আরও অনেকে
… আবু জুরআ এর অনেক হাদিসের উপর বাতিল, ভিত্তিহীন কিংবা মুনকার হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, যা ইবনে আবি হাতিমের "আল-ইলাল" কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
আমরা বলি: তাঁর কিতাবে বিদ্যমান এসব একক পর্যায়ের দুর্বল বর্ণনার কারণেই একাধিক আলেম একে পূর্বে বর্ণিত পাঁচটি কিতাবের সাথে যুক্ত করেননি। হাফেজ সালাহউদ্দীন আল-আলাই
(৩) বলেন: ইবনে মাজাহ-এর কিতাবের পরিবর্তে দারেমীর কিতাবটিকে পাঁচটি কিতাবের ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করা উচিত; কেননা এতে দুর্বল বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম এবং মুনকার ও শায (বিচ্ছিন্ন) হাদিস বিরল। যদিও এতে কিছু মুরসাল ও মাওকুফ হাদিস রয়েছে, তবুও এটি ইবনে মাজাহ-এর কিতাবের চেয়ে অগ্রগণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال الحافظ: وبعضُ أهل العلم لا يَعُدُّ السادسَ إلا "الموطأ" كما صنع رَزين السَّرَقُسْطِيُّ، وتبعه المجدُ ابنُ الأثير في "جامع الأصول".
قلنا: ولم يَعُدَّ ابنُ الصلاح ولا النووي كتابَ ابن ماجه من أصول الإسلام، فقد قال النووي
(1): قال الأئمة: أصولُ الإسلام من كتب الحديث خمسة: الصحيحان، وهذه الثلاثة.
وذكر الحافظ
(2) أن أول من أضافَ كتابَ ابن ماجه إلى الأصول أبو الفضل ابن طاهر حيث أدرجه في "أطرافه"، وكذا في "شروط الأئمة الستة"، ثم الحافظُ عبد الغني في كتاب "الكمال في أسماء الرجال" الذي هذبه الحافظ المزي، فذكره فيهم.
قال الحافظ: وإنما عدل ابنُ طاهر ومن تبعه عن عدِّ "الموطأ" إلى عَدِّ ابن ماجه لكون زيادات "الموطأ" على الكتب الخمسة من الأحاديث المرفوعة يسيرة جدًا، بخلاف ابن ماجه، فإن زياداته أضعافُ زياداتِ "الموطأ"، فأرادوا بضم كتاب ابن ماجه إلى الخمسة تكثيرَ الأحاديث المرفوعة. والله أعلم.
وهذه السننُ دَرَجَ بعضُ الناس على تسميتها بالصحاح، ونُوزعوا في ذلك، فذكر ابنُ الصلاح أن الخطيبَ أطلق اسم الصحيح على كتابي الترمذي والنسائي، وأن الحاكم سَمَّى كتابَ
--------------------------------------------
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: কোনো কোনো আলেম 'আল-মুওয়াত্তাকে' ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি রাজিন আল-সারাউসতি করেছেন এবং 'জামি আল-উসুল' গ্রন্থে মাজদুদ্দীন ইবনুল আসির তাকে অনুসরণ করেছেন।
আমরা বলি: ইবনুস সালাহ এবং আন-নববী ইবনে মাজাহ-এর কিতাবকে ইসলামের মূল উৎস গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেননি। আন-নববী বলেছেন
(১): ইমামগণ বলেছেন: হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে ইসলামের মূল গ্রন্থ পাঁচটি: সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং এই তিনটি (সুনান গ্রন্থত্রয়)।
হাফেজ উল্লেখ করেছেন
(২) যে, সর্বপ্রথম আবুল ফজল ইবনে তাহির ইবনে মাজাহ-এর কিতাবকে মূল গ্রন্থগুলোর সাথে যুক্ত করেন, যখন তিনি এটিকে তার 'আতরাফ' এবং 'শুরুতুল আইম্মতিস সিত্তাহ' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর হাফেজ আব্দুল গনি 'আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল' গ্রন্থে একে অন্তর্ভুক্ত করেন, যা হাফেজ আল-মিযযি পরিমার্জন করেছেন; তিনি সেখানে একে উল্লেখ করেছেন।
হাফেজ বলেন: ইবনে তাহির এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছেন তারা 'মুওয়াত্তা'র পরিবর্তে ইবনে মাজাহকে গণ্য করার কারণ হলো—অন্য পাঁচটি কিতাবের অতিরিক্ত 'মারফু' হাদিসের সংখ্যা মুওয়াত্তাতে খুবই সামান্য, কিন্তু ইবনে মাজাহ-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ ইবনে মাজাহ-এর অতিরিক্ত হাদিসের সংখ্যা মুওয়াত্তা অপেক্ষা কয়েকগুণ বেশি। তাই তারা ইবনে মাজাহ-এর কিতাবকে পাঁচটি কিতাবের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে মারফু হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চেয়েছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর এই সুনান গ্রন্থগুলোকে কিছু মানুষ 'সিহাহ' (সহিহ গ্রন্থসমূহ) নামে নামকরণ করে আসছেন, যদিও এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। ইবনুস সালাহ উল্লেখ করেছেন যে, আল-খাতিব (আল-বাগদাদি) তিরমিজি এবং নাসায়ি-র কিতাবদ্বয়কে 'সহিহ' নামে অভিহিত করেছেন এবং আল-হাকিম কিতাবকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الترمذي "الجامع الصحيح"
(1)، وأن أبا طاهر السِّلَفي قال في الكتب الخمسة: اتفق على صحتها علماءُ الشرق والغرب، فقال ابنُ الصلاح: وهذا تساهلٌ، لأنَّ فيها ما صرحوا بكونه ضعيفًا أو منكرًا أو نحو ذلك من أوصاف الضعيف.
ووافق ابنَ الصلاح على ذلك العراقيُّ حيث قال في "ألفيته":
ومَنْ عَليها أطْلَق الصَّحِيحَا
… فقد أتى تساهلًا صَرِيحًا
وقد قام بعضُهم بتوجيه إطلاق الصحاح عليها أنها باعتبار الأغلب، فقال الزركشي في نكته على ابن الصلاح
(2): تسميةُ الكتب الثلاثة صحاحًا باعتبار الأغلب، لأن غالبها الصحاح والحسان وهي ملحقةٌ بالصحاح، والضعيفُ منها ربما التحق بالحسن، فإطلاقُ الصحةِ عليها مِن باب التغليب.
وقال الحافظ
(3) في توجيه كلام الحاكم: حكم للجميع بالصحة بمقتضى الغلبة.
وكذا وجَّهه النووي، فقال بإثر كلام السِّلَفي
(4): مرادُه أن معظم
--------------------------------------------
তিরমিযী "আল-জামি আস-সহীহ"
(১), এবং আবু তাহের আস-সিলাফি পাঁচটি কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: পূর্ব ও পশ্চিমের আলেমগণ এগুলোর বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তখন ইবনুস সালাহ বললেন: এটি একটি শিথিলতা, কারণ এগুলোর মধ্যে এমন বর্ণনা রয়েছে যা তারা যয়ীফ (দুর্বল) অথবা মুনকার (অস্বীকৃত) অথবা দুর্বলতার অনুরূপ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন।
আল-ইরাকী এ বিষয়ে ইবনুস সালাহের সাথে একমত পোষণ করেছেন, যেখানে তিনি তার "আলফিয়্যাহ"-তে বলেছেন:
এবং যারা সেগুলোর ওপর 'সহীহ' নাম প্রয়োগ করেছেন
... তারা মূলত স্পষ্ট শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।
তাদের কেউ কেউ এই কিতাবগুলোর ওপর 'সহীহ' শব্দের প্রয়োগকে অধিকাংশের আধিক্যের বিবেচনার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন। তাই যারকাশী ইবনুস সালাহের ওপর তার টীকাগ্রন্থে
(২) বলেছেন: এই তিনটি কিতাবকে সহীহ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে অধিকাংশের বিবেচনার ভিত্তিতে। কারণ এগুলোর অধিকাংশ বর্ণনা হলো সহীহ এবং হাসান এবং সেগুলো সহীহ বর্ণনার সাথে সংযুক্ত। আর এগুলোর মধ্যকার যয়ীফ বর্ণনাগুলো সম্ভবত হাসান বর্ণনার সাথে সংযুক্ত হয়েছে। সুতরাং এগুলোর ক্ষেত্রে সহীহ শব্দের প্রয়োগ করা হয়েছে অধিকাংশের প্রাধান্য দেওয়ার (তাগলীব) দৃষ্টিকোণ থেকে।
হাফেজ (ইবনে হাজার)
(৩) আল-হাকিমের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন: তিনি আধিক্যের বা প্রাবল্যের বিচারে সবগুলোর ওপর বিশুদ্ধতার বিধান দিয়েছেন।
একইভাবে আন-নববীও এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তিনি আস-সিলাফির বক্তব্যের অনুসরণে
(৪) বলেছেন: তার উদ্দেশ্য হলো যে সেগুলোর অধিকাংশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكُتُبِ الثلاثة يُحْتَجُّ به. قال الحافظ
(1): أي صالح لأن يُحتج به، لئلا يرِدَ على إطلاق عبارته المنسوخُ أو المرجوحُ عند المعارضة. والله أعلم.
قلنا: وقد أنكر ابنُ الصلاح والنووي
(2) ما ذهب إليه البغوي في كتابه "المصابيح" من تسمية "السنن" بالحِسان، وأن هذا اصطلاح لا يُعرف عند أهلِ هذا الفن، وأن السنن فيها الصحيحُ والحسنُ والضعيفُ، فإطلاق اسمِ الحسان عليها ليسَ بصواب.
وقد تعقبهما العلامةُ تاج الدين التبريزي فيما نقل عنه الحافظ
(3)، فذكر أن البغوي إنما أراد بإطلاقِ اسمِ الحسان على "السنن" اصطلاحًا خاصًا له، لا الاصطلاح العام، لأنه (أي البغوي) قال: وأعني بالحسان ما أورده أبو داود والترمذي وغيرهما من الأئمة، ثم قال: وما كان من ضعيفٍ أو غريب أشرتُ إليه، وأعرضتُ عما كان منكرًا أو موضوعًا. فقال الحافظُ بإثر ذلك: ومما يشهدُ لصحة كونه أراد بقوله الحسان اصطلاحًا خاصًا له، أنه يقول في مواضع من قسم الحسان: هذا صحيح، تارة، وهذا ضعيف، تارة، بحسب ما يظهرُ له من ذلك.
--------------------------------------------
তিনটি কিতাবই দলিল হিসেবে গ্রহণীয়। হাফিজ
(১) বলেছেন: অর্থাৎ তা দলিল হিসেবে উপস্থাপনের উপযোগী, যাতে তাঁর ঢালাও উক্তির ওপর রহিত (মানসুখ) বা বৈপরীত্যের সময় মারজুহ (অধিকতর দুর্বল) কোনো বিষয় আপতিত না হয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আমরা বলি: ইবনুল সালাহ এবং আন-নওয়াবী
(২) ইমাম বগভী তাঁর 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থে 'সুনান' কিতাবসমূহকে 'হিসান' হিসেবে নাম দেওয়ার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, এই পরিভাষাটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে পরিচিত নয়; আর সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে সহিহ, হাসান এবং জয়িফও রয়েছে, তাই সেগুলোর ওপর ঢালাওভাবে 'হিসান' নাম প্রয়োগ করা সঠিক নয়।
আল্লামা তাজউদ্দীন আত-তাবরিজী তাঁদের উভয়ের সমালোচনা করেছেন যা হাফিজ
(৩) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বগভী 'সুনান' কিতাবগুলোর ওপর 'হিসান' নাম প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর নিজস্ব এক বিশেষ পরিভাষা উদ্দেশ্য নিয়েছেন, প্রচলিত সাধারণ পরিভাষা নয়। কেননা তিনি (অর্থাৎ বগভী) বলেছেন: "আর হিসান দ্বারা আমি তা-ই বুঝিয়েছি যা আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর তিনি বলেছেন: "আর যা জয়িফ (দুর্বল) বা গরিব ছিল আমি সেদিকে ইঙ্গিত দিয়েছি এবং যা মুনকার বা মওজু (জাল) ছিল তা বর্জন করেছি।" হাফিজ এর পরপরই বলেছেন: তিনি যে তাঁর উক্তি 'হিসান' দ্বারা বিশেষ পরিভাষা উদ্দেশ্য নিয়েছেন তার সত্যতার অন্যতম প্রমাণ হলো, তিনি 'হিসান' অংশের বিভিন্ন স্থানে কখনও বলেন 'এটি সহিহ' এবং কখনও বলেন 'এটি জয়িফ'—তাঁর কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে সেই অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
البَاعِثُ على تَحْقِيْق السُّنن الأربَعَةلما كانت السننُ الأربعة - كما سلف - لم يشترط فيها مؤلفوها الصحة، وكانت تجمعُ مع الصحيح الضعيفَ والمنكرَ، فقد وجب تمييزُ صحيحها مِن سقيمها، وتبيينُ ما يُحتج به مما لا يحتج به منها، وقد دعا إلى ذلك غيرُ واحد من الأئمة، لتنقية دين الله مما قد يشوبُه مما ليس منه، فقال ابنُ أبي حاتم
(1): ولما كان الدينُ هو الذي جاءنا عن الله عز وجل، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم بنقلِ الرواة، حقَّ علينا معرفتُهم، ووجبَ الفحصُ عن الناقلة، والبحثُ عن أحوالهم، وإثباتُ الذين عرفناهم بشرائط العدالةِ والثبتِ في الرواية مما يقتضيه حكمُ العدالة في نقل الحديث وروايته، بأن يكونوا أمناءَ في أنفسهم، علماءَ بدينهم، أهلَ ورع وتقوى وحفظ للحديث، وإتقان به، وتَثَبُّتٍ فيه، وأن يكونوا أهلَ تمييزٍ وتحصيل لا يشوبُهم كثيرٌ من الغَفَلات، ولا تغلبُ عليهم الأوهامُ فيما قد حفظوه وَوَعَوْه، ولا يُشَبَّهُ عليهم بالأُغلوطاتِ، وأن يُعْزَلَ عنهم الذين جَرَحَهُمْ أهلُ العدالة، وكشفوا لنا عن عَوراتهم في كذبهم وما كان يَعتريهم مِن غالب الغفلة، وسُوءِ الحفظ، وكثرةِ الغلط والسهو والاشتباه، ليُعرف به أدلةُ هذا الدين وأعلامُه، وأمناءُ الله في أرضه على كتابه
--------------------------------------------
সুনান আরবা’আর তাহকীক বা সত্যতা নিরূপণের অনুপ্রেরণাযেহেতু সুনান আরবা’আ-তে (চারটি সুনান গ্রন্থ) — যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে — এর সংকলকগণ কেবল সহীহ হওয়ার শর্তারোপ করেননি এবং সেখানে সহীহর পাশাপাশি যঈফ ও মুনকার বর্ণনাও সংগৃহীত হয়েছে, তাই এর সহীহ ও সাকীম (ত্রুটিযুক্ত)-এর মধ্যে পার্থক্য করা এবং যা দ্বারা দলিল পেশ করা যায় আর যা দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না তা স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আল্লাহর দ্বীনকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র করার জন্য যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় অথচ তাতে মিশ্রিত হতে পারে, একাধিক ইমাম এই কাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনে আবি হাতেম বলেন: “যেহেতু এই দ্বীন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে বর্ণনাকারীদের সূত্রের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তাই আমাদের জন্য তাঁদের চেনা অনিবার্য হয়ে পড়েছে এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই-বাছাই করা ও তাঁদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাদিস স্থানান্তর ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার বিধান যা দাবি করে, সেই অনুযায়ী যেসব বর্ণনাকারীকে আমরা ন্যায়পরায়ণতা ও বর্ণনায় সুদৃঢ় হওয়ার শর্তাবলীসহ চিনেছি, তাঁদের সাব্যস্ত করা আবশ্যক। আর তা এভাবে যে, তাঁরা যেন ব্যক্তিগতভাবে আমানতদার হন, স্বীয় দ্বীন সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলিম হন, পরহেজগার, খোদাভীরু ও হাদিস সংরক্ষণকারী হন এবং হাদিসে সুদক্ষ ও এতে সুদৃঢ় হন। তাঁরা যেন বিচক্ষণতা ও ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন হন, যাদের মধ্যে অধিক অসতর্কতা থাকবে না এবং যা তাঁরা মুখস্থ ও আত্মস্থ করেছেন তাতে যেন ভুল-ভ্রান্তি তাঁদের ওপর প্রবল না হয়। জটিল ও বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো যেন তাঁদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে। আর যাদেরকে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ দোষারোপ করেছেন এবং যাদের মিথ্যাচার, অত্যধিক অসতর্কতা, মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা, অধিক ভুল, বিচ্যুতি ও সন্দেহের মতো ত্রুটিগুলো আমাদের নিকট উন্মোচন করে দিয়েছেন, তাঁদের যেন বর্জন করা হয়। এর ফলে যেন এই দ্বীনের প্রমাণাদি ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং আল্লাহর কিতাবের সংরক্ষণে এই জমিনে তাঁর আমানতদারদের চেনা সম্ভব হয়।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وهؤلاء هم أهلُ العدالة، فيُتمسك بالذي رَوَوْهُ، ويُعْتَمَد عليه، ويُحكم به، وتجري أمورُ الدين عليه، وليُعرفَ أهلُ الكذب تَخَرُّصًا، وأهلُ الكذب وهمًا، وأهلُ الغفلة والنسيان والغلط ورداءةِ الحفظ، فيكشف عن حالهم، ويُنَبَّأ عن الوجوه التي كان مجرى روايتهم عليها، إن كَذِبٌ فكَذِبٌ، وإن وَهْمٌ فوهم، وإن غلطٌ فغلط، وهؤلاء هم أهلُ الجرح، فيسقط حديثُ من وجب منهم أن يسقط حديثُه، ولا يُعبأ به، ولا يُعمل عليه، ويكتب حديثُ من وجب كتْبُ حديثه منهم على معنى الاعتبار.
وذكر النووي
(1) أنه ينبغي لكل أحد للتخلُّق بأخلاقِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم والاقتداءِ بأقواله وأفعاله وتقريره في الأحكام والآداب وسائرِ معالم الإسلام أن يَعْتمِدَ في ذلك ما صَحَّ، ويَجْتنِبَ ما ضعُف، ثم قال: ولا يغترَّ بمخالفي السنن الصحيحة، ولا يقلد مُعتمدِي الأحاديث الضعيفة، فإن الله سبحانه وتعالى قال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]، وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] وقال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران: 31] ففي هذه الآيات وما في معناهن حثَّ على اتباعه صلى الله عليه وسلم، ونهانا عن الابتداع والاختراع، وأمرنا اللهُ سبحانه وتعالى عندَ التنازعِ بالرجوعِ إلى الله والرسول، أي الكتاب والسنة، وهذا كلُّه في سُنَّةٍ صحَّت،
--------------------------------------------
এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এরাই হলেন ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী (আহলুল আদালত); সুতরাং তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা হবে, তার ওপর নির্ভর করা হবে, তার মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান করা হবে এবং এর মাধ্যমেই দ্বীনের যাবতীয় বিষয় পরিচালিত হবে। আর যেন মিথ্যাচারীদের চেনা যায়—চাই তা ইচ্ছাকৃত মিথ্যার মাধ্যমে হোক, কিংবা কল্পনার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা বলা হোক; একইভাবে অসতর্ক, বিস্মৃতিপ্রবণ, ভুলকারী এবং মুখস্থশক্তিতে দুর্বল ব্যক্তিদেরও যেন চেনা যায়। ফলে তাদের অবস্থা উন্মোচিত হবে এবং তাদের বর্ণনার গতিপ্রকৃতি যে ধরনের ছিল সে সম্পর্কে অবহিত করা হবে—যদি তা মিথ্যা হয় তবে মিথ্যা হিসেবে, যদি তা কল্পনাপ্রসূত হয় তবে তা হিসেবে, আর যদি তা ভুল হয় তবে ভুল হিসেবে (বিবেচিত হবে)। এরাই হলেন সমালোচিত ব্যক্তি (আহলুল জারহ); ফলে তাদের মধ্য থেকে যাদের হাদিস বর্জন করা ওয়াজিব তাদের হাদিস বর্জন করা হবে, সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না এবং তার ওপর আমল করা হবে না। আর তাদের মধ্য থেকে যাদের হাদিস লিখে রাখা আবশ্যক, তাদের হাদিস পর্যালোচনার (ই'তিবার) উদ্দেশ্যে লিখে রাখা হবে।
ইমাম নববী
(১) উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রে চরিত্রবান হতে চাওয়া এবং বিধান, আদব ও ইসলামের অন্যান্য নিদর্শনে তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতির অনুসরণ করা প্রত্যেকের জন্য সমীচীন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির উচিত সহিহ বর্ণনার ওপর নির্ভর করা এবং যয়িফ বা দুর্বল বর্ণনা পরিহার করা। এরপর তিনি বলেন: সহিহ সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের দ্বারা কেউ যেন প্রতারিত না হয় এবং যারা যয়িফ হাদিসের ওপর নির্ভর করে তাদের অন্ধ অনুসরণ না করে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহজাব: ২১]। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন} [আলে ইমরান: ৩১]। এই আয়াতগুলো এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং আমাদের নতুন কিছু উদ্ভাবন ও মনগড়া আবিষ্কার (বিদআত) থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের আদেশ করেছেন যে, মতপার্থক্যের সময় আমরা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যাই, অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে। আর এর সবকিছুই কেবল সেই সুন্নাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা সহিহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما ما لم تصح، فكيف تكون سنة، وكيف يُحكم على رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قاله أو فعله من غير مُسَوِّغٍ لذلك، ولا تغترَّنَّ بكثرة المتساهلين في العمل والاحتجاج في الأحكام بالأحاديث الضعيفة، وإن كانوا مصنفين وأئمةً في الفقه وغيره.
وكذا الحافظ ابنُ حجر ذكر
(1) أن في "السنن" شيئًا كثيرًا لا يصلحُ للاحتجاج به، وأن فيها ما لا يصلحُ للاستشهاد به من حديث المتروكين، ثم قال: وإذا تقرر هذا فسبيلُ من أراد أن يحتجَّ بحديثٍ من السنن أو بأحاديث من المسانيد وَاحِدٌ، إذ جميعُ ذلك لم يشترطْ مَن جَمَعَه الصحة ولا الحُسْن خاصةً، فهذا المحتجُّ إن كان متأهِّلًا لِمعرفة الصحيح من غيره، فليس له أن يحتج بحديثٍ من "السنن" من غير أن ينظُر في اتصالِ إسناده، وحالِ رواته، كما أنه ليس له أن يحتج بحديثِ من المسانيدِ حتى يُحيطَ علمًا بذلك، وإن كان غيرَ متأهِّل لدَرْكِ ذلك، فسبيلُه أن ينظُرَ في الحديث إن كان في "الصحيحين" أو صرَّح أحدٌ من الأئمة بصحته، فله أن يُقلِّد في ذلك، وإن لم يجد أحدًا صححه ولا حسَّنه فما له أن يُقْدِمَ على الاحتجاج به، فيكونَ كحاطبِ ليل، فلعلَّه يحتجُّ بالباطل وهو لا يشعر.
قلنا: فوضح مما ذكره هؤلاء الأئمةُ الأعلام أنَّ النصيحة لله ورسوله تقتضي من الناظر في هذه السنن وغيرها من المسانيد
--------------------------------------------
আর যা সহিহ নয়, তা কীভাবে সুন্নাহ হতে পারে? আর কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি বলেছেন বা করেছেন বলে কীভাবে ফয়সালা দেওয়া যেতে পারে? দুর্বল হাদিসের ভিত্তিতে আমল করা এবং বিধানের ক্ষেত্রে তা দিয়ে দলিল প্রদানের ব্যাপারে যারা শিথিলতা প্রদর্শন করেন তাদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হবেন না, যদিও তারা ফিকহ বা অন্য শাস্ত্রের গ্রন্থকার ও ইমাম হয়ে থাকেন।
তদ্রূপ হাফেজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন
(১) যে, 'সুনান' গ্রন্থসমূহে এমন অনেক কিছু রয়েছে যা দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত নয়, এবং এতে পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের এমন হাদিসও রয়েছে যা সাক্ষ্য (ইস্তিশহাদ) হিসেবে পেশ করারও যোগ্য নয়। অতঃপর তিনি বলেন: এটি যখন সাব্যস্ত হলো, তখন যে ব্যক্তি সুনান বা মুসনাদ গ্রন্থসমূহের কোনো হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করতে চায়, তার পথ একটাই; কারণ যারা এগুলো সংকলন করেছেন তারা এতে কেবল সহিহ বা হাসান হাদিসই আনার শর্ত করেননি। সুতরাং এই দলিল প্রদানকারী ব্যক্তি যদি সহিহ ও অন্যান্য হাদিসের পার্থক্য নিরূপণে যোগ্য হন, তবে সনদের ধারাবাহিকতা ও বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে 'সুনান'-এর কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা তার জন্য বৈধ নয়। ঠিক তেমনিভাবে মুসনাদ গ্রন্থসমূহের হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করাও তার জন্য সংগত নয়, যতক্ষণ না তিনি এ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। আর যদি তিনি তা অনুধাবনের যোগ্য না হন, তবে তার জন্য করণীয় হলো হাদিসটির দিকে লক্ষ করা; যদি তা 'সহিহাইন'-এ (বুখারি ও মুসলিম) থাকে অথবা কোনো ইমাম স্পষ্টভাবে এর বিশুদ্ধতা বর্ণনা করেন, তবে তিনি এক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি এমন কাউকে না পান যিনি একে সহিহ বা হাসান বলেছেন, তবে সেটি দিয়ে দলিল প্রদানের দুঃসাহস দেখানো তার উচিত নয়; অন্যথায় তিনি 'রাতের অন্ধকারে কাঠ সংগ্রহকারীর' মতো হয়ে যাবেন, ফলে সম্ভবত তিনি ভিত্তিহীন বিষয় দিয়ে দলিল পেশ করবেন অথচ তিনি তা উপলব্ধিও করতে পারবেন না।
আমরা বলি: এই বরেণ্য ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি একনিষ্ঠতা এই দাবি করে যে, এই সুনান ও অন্যান্য মুসনাদ গ্রন্থসমূহের পর্যবেক্ষক যেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والمعاجم والأجزاء أن يَتثبَّتَ من صحة أحاديثها، ويُمَيِّزَ منها ضعيفَها وسقيمها، وذلك ليتبعَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم على علم، ويَعْبُدَ اللهَ على بصيرة، وهذا ما قصدْنا إليه إن شاء الله في إخراج هذه "السنن".
والباعثُ الآخر على عملنا هذا هو إخراجُ نصوص ومتون هذه "السنن" بريئةً من شوائب التصحيف والتحريف، سالمةً من غوائل السقط والتلفيق، كما وقع في الطبعات السالفة مما سنُشير إليه.
وكنا نرمي من وراء ذلك أيضًا، إلى إخراج الموسوعة الحديثية، التي تُوَفِّر النصوصَ الصحيحة والحسنة من السنة النبوية المطهرة، وهذا لا يتأتى إلا إذا قمنا بمسح شامل للمصادر الأولى التي أُلفت في السنة، وذلك أولًا بالحصول على أصولها الخطية الموثقة التي شهد على صحتها أهلُ العلم، ليُصار إلى إخراجِ نصوصِها على الوجه الذي ذكرنا، ثم الحكم عليها بما تقتضيه قواعد علم الحديث، مستهدين في ذلك بأقوال أئمة هذا الشأن وجهابذة هذا الفن، مترسّمين خطاهم فيما ذهبوا إليه واتفقوا عليه.
وإن تأكيدنا على ضرورة الاعتماد على الأصول الخطية الموثقة والحكم على أحاديث السنن، إنما كان، لأن كثيرًا من كتب السنة إما أنها لم تحقق تحقيقًا علميًا يطمئن إليه الباحثُ، ويرضى عنه القارئُ، أو لم يُحْكَمْ على أحاديثها بما يليق بها من صحة أو ضعف، فلم يتميز للقارئ ما يُحتجُّ به منها في الأحكام الشرعية،
এবং অভিধান ও অংশসমূহের (আদজাজা) হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত হাদীসগুলোকে পৃথক করা, যাতে জ্ঞানের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা যায় এবং অন্তর্দৃষ্টির সাথে আল্লাহর ইবাদত করা যায়; আর এই "সুনান" গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ এটিই আমাদের উদ্দেশ্য।
আমাদের এই কাজের অন্য আরেকটি উদ্দেশ্য হলো এই "সুনান"-এর মূল পাঠ ও বিষয়বস্তুসমূহকে বর্ণবিকৃতি ও পরিবর্তনের কালিমা থেকে মুক্ত রেখে এবং বাদ পড়া ও সংমিশ্রণের আপদ থেকে নিরাপদ করে প্রকাশ করা, যেমনটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে ঘটেছে যা আমরা ইঙ্গিত করব।
এর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি হাদীস বিশ্বকোষ প্রকাশ করা, যা পবিত্র সুন্নাহে নববী থেকে সহীহ ও হাসান পাঠসমূহ সরবরাহ করবে; আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যদি আমরা সুন্নাহ বিষয়ে রচিত মৌলিক উৎসগুলোর উপর একটি ব্যাপক জরিপ পরিচালনা করি। আর তা হবে প্রথমত, আলেমদের নিকট বিশুদ্ধ বলে স্বীকৃত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে, যাতে এগুলোর পাঠসমূহ উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে প্রকাশ করা যায়। অতঃপর হাদীস শাস্ত্রের নীতিমালার দাবি অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করা হবে, যেখানে এই শাস্ত্রের ইমাম ও বিজ্ঞ পণ্ডিতদের বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা পথনির্দেশনা গ্রহণ করব এবং তাদের গৃহীত মতামত ও ঐকমত্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করব।
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা এবং সুনান-এর হাদীসগুলোর মান নির্ধারণের বিষয়ে আমাদের এই গুরুত্বারোপের কারণ হলো, সুন্নাহর বহু কিতাব হয় এমন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয়নি যা একজন গবেষকের নিকট নির্ভরযোগ্য এবং পাঠকের নিকট সন্তোষজনক মনে হয়, অথবা সেগুলোর হাদীসগুলোর ওপর সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার যথাযথ হুকুম প্রদান করা হয়নি। ফলে পাঠকের নিকট এটা স্পষ্ট হয়নি যে, শরীয়তের বিধানের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্য থেকে কোনটি দলিল হিসেবে গ্রহণীয়।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد عرفت عظيمَ الأهمية في ذلك.
وخيرُ دليل على ضرورة ما ذهبنا إليه ما وجدناه أثناء خدمتنا لمسند الإمام أحمد في الطبعة الميمنية المتداولة من فشو التحريف والتصحيف وما وقع فيها من سقط غيرِ قليل استدركناه من الأصول الخطية.
وهذه "السنن الكبرى" للنسائي قد طُبعت
(1) بتحقيق أناسٍ ليست لهم دراية بهذا العلم، ففشا في طبعتهم ما أفسد الكتابَ من الخطأ والتصحيف، حتى إنه وقع فيها سقط يزيد على ثلاث مئة حديث.
وأما عن خطة العمل في هذه الكتب، فإننا سنضعُ لكل كتاب منها المنهجَ الذي يحقق الغاية التي نتوخّاها، والتي يُمكن اختصارُها في هذين الأمرين: توثيق المتون، والحكم عليها، ولذا سيجد القارئ أننا اخترنا طريقةً في التحقيق تلبي حاجته، وتفي بالغرض دون بسطٍ ولا تفصيل، وإنما يُحال على الكتب التي توسعنا فيها، كمسند الإمام أحمد، وصحيح ابن حبان، وشرح مشكل الآثار وغيرها، لمن أراد البسط والتفصيل والتوسع، وذلك حتى لا يتكرر الجهدُ، ولا نطيل الصفحات بما هو موجودٌ في مظانه
--------------------------------------------
আপনি এতে মহৎ গুরুত্বের বিষয়ে অবগত হয়েছেন।
আমরা যে পথ অবলম্বন করেছি তার প্রয়োজনীয়তার সর্বোত্তম প্রমাণ হলো ইমাম আহমদের মুসনাদ নিয়ে কাজ করার সময় প্রচলিত মাইমানিয়্যাহ সংস্করণে আমরা যা পেয়েছি; অর্থাৎ বিকৃতি ও লিপিপমাদ ছড়িয়ে থাকা এবং এতে ঘটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিলুপ্তি, যা আমরা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পুনরুদ্ধার করেছি।
আর নাসাঈর এই "আস-সুনান আল-কুবরা" এমন ব্যক্তিদের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে
(১) যাদের এই শাস্ত্রে কোনো জ্ঞান নেই। ফলে তাদের মুদ্রিত সংস্করণে এমন ভুল ও লিপিপমাদ ছড়িয়ে পড়েছে যা বইটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এমনকি এতে তিনশরও বেশি হাদিস বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আর এই বইগুলোর কাজের পরিকল্পনার বিষয়ে বক্তব্য হলো, আমরা প্রতিটি বইয়ের জন্য এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করব যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে, যাকে সংক্ষেপে এই দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা যায়: মূল পাঠের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর ওপর হুকুম (মান) প্রদান করা। এ কারণে পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আমরা সম্পাদনার ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিয়েছি যা তার প্রয়োজন পূরণ করে এবং দীর্ঘ আলোচনা বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই উদ্দেশ্য সফল করে। বরং যারা দীর্ঘ আলোচনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার আগ্রহী, তাদের জন্য সেই বইগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে যাতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি; যেমন: ইমাম আহমদের মুসনাদ, সহিহ ইবনে হিব্বান, শারহু মুশকিলিল আসার ইত্যাদি। এটি করা হয়েছে যাতে একই শ্রমের পুনরাবৃত্তি না হয় এবং যা সংশ্লিষ্ট মূল স্থানে বিদ্যমান রয়েছে তা দিয়ে পৃষ্ঠা দীর্ঘায়িত না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
من الكتب التي أصدرتها المؤسسة، ولتجنب زيادة حجم الكتاب في غير ضرورة، ومما قد ينوء به القارئ ثمنًا واستيعابًا.
4/ 1/ 2002
شعيب الأرنؤوط
محمد نعيم عرقسوسي
إبراهيم الزيبق
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থাবলির অন্তর্ভুক্ত, এবং অনর্থক গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে, যা হয়তো মূল্য ও অনুধাবনের দিক থেকে পাঠকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াত।
৪/ ১/ ২০০২
শুআইব আল-আরনাউত
মুহাম্মাদ নাঈম আল-আরকাসুসি
ইবরাহীম আল-যাইবাক
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مُقَدِمَة تَشتَمل على تَرجَمةِ الإمَامِ الترمِذي وَالتَّعرِيفِ بكتابِهِ الجَامِع وَوَصفِ الأصُول المعتمدة في تحقيقه
اسْمُهُ ونَسَبُه وكُنْيَتُه:هو الإمام الحافظُ، الناقد المُبرِّزُ في عِلَلِ الحديثِ وفقهه، محمد بن عيسى بن سَوْرَةَ بن موسى بن الضحاك، أبو عيسى
(1) السُّلَمي، البُوغي، الترمذي، الضرير، صاحب التصانيف النافعة في علمِ الحديث كـ "الجامع"، و"العلل"، و"الشمائل" وغيرها.
--------------------------------------------
ইমাম তিরমিযীর জীবনী, তাঁর কিতাব 'আল-জামি'-এর পরিচিতি এবং এর তাহকীকে (সম্পাদনায়) নির্ভর করা মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ সম্বলিত ভূমিকাতাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম:তিনি হলেন ইমাম, হাফিয, হাদীসের ইল্লত (নিগূঢ় ত্রুটি) ও এর ফিকহে (মর্মার্থ অনুধাবনে) শ্রেষ্ঠ পারদর্শী সমালোচক; মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ বিন মূসা বিন আদ-দাহহাক, আবু ঈসা
(১) আস-সুলামী, আল-বুগী, আত-তিরমিযী, আদ-দালীর (দৃষ্টিহীন)। তিনি হাদীস শাস্ত্রে অনেক উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা, যেমন: 'আল-জামি', 'আল-ইলাল', 'আশ-শামায়েল' ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وهذا هو المشهورُ في اسمه، وكذا سماه ونسبه تلميذُه أشهرُ رواة "الجامع" عنه أبو العباس محمد بن أحمد المحبوبي
(1)، والحافظُ أبو سعد عبدُ الرحمن بن محمد الإدريسي
(2)، والحافظُ غنجار محمدُ بنُ أحمد في "تاريخ بُخارى"
(3)، والحافظ ابنُ الأثير في "جامع الأصول"
(4).
وقيل في اسمه: محمدُ بنُ عيسى بن يزيد بن سَورة بن السكن
(5)، وقيل: محمد بن عيسى بن سَورة بن شدّاد
(6).
والسُّلَمي، بضم السين وفتح اللام، نسبة إلى بني سُلَيم - بالتصغير - بن منصور قبيلة من قيس عَيلان
(7).
وسَورة، بفتح السين وسكون الواو بعدها راء مهملة، اسم جد الترمذي
(8).
--------------------------------------------
এবং এটিই তাঁর নামের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ, আর এভাবেই তাঁর নাম ও বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন তাঁর ছাত্র, তাঁর থেকে "আল-জামি" এর প্রসিদ্ধতম বর্ণনাকারী আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-মাহবুবি
(১), এবং হাফেজ আবু সা'দ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ইদরিসি
(২), এবং হাফেজ গুনজার মুহাম্মদ বিন আহমাদ তাঁর "তারিখে বুখারা" গ্রন্থে
(৩) এবং হাফেজ ইবনুল আসির "জামিউল উসুল" গ্রন্থে
(৪)।
এবং তাঁর নামের ব্যাপারে (অন্যমতে) বলা হয়েছে: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন ইয়াজিদ বিন সাওরাহ বিন আস-সাকান
(৫), এবং বলা হয়েছে: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ বিন শাদ্দাদ
(৬)।
আর আস-সুলামি—সীন বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণে জবরসহ—এটি কাইস আয়লান গোত্রের একটি শাখা বনু সুলাইম (তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে) বিন মানসুর-এর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত
(৭)।
আর সাওরাহ—সীন বর্ণে জবর এবং ওয়াও বর্ণে সুকুন ও এরপর নুকতাহীন রা বর্ণসহ—এটি তিরমিযীর দাদার নাম
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والبوغي، نسبة إلى بُوغ، بضم الباء الموحدة وسكون الواو بعدها غين معجمة: وهي قرية من قرى ترْمِذ على ستة فراسخ
(1).
والترمذي، نسبة إلى تِرمذ، قال الذهبيُّ: قال أبو الفتح القشيريُّ (ابن دقيق العيد): ترمذ بالكسر، وهو المستفيضُ على الألسنةِ حتى يكونَ كالمتواتر، وقال المُؤْتَمَنُ الساجيُّ: سمعتُ عبدَ الله بن محمد الأنصاري (أبو إسماعيل الهَرَوي) يقول: هو بضم التاء، ونقل الحافظ أبو الفتح اليَعْمَري (ابن سيّد الناس) أنه يقال فيه: ترمذ، بالفتح
(2).
قلنا: على الكسر اقتصر أبو بكر الحازمي، وابن منظور
(3)، وترمذ مدينة قديمة في إقليم خراسانَ على الضفةِ الشرقيةِ من نهر جيحونَ، وهو يضرب سُوْرَها، لها رَبَضٌ كبير يُحيط بها
(4). وبالمقاييس الجغرافية المعاصرة تقع ترمذ على خط عرض 37 شمالًا تقريبًا، وخط طول 67 شرق غرينتش، وهي في شمال إيران، وتُعرف الآن باسم ترمز - بالزاي -، دخلت في الإسلام عام (70) هـ، فتحها موسى بنُ عبد الله بن خازم الذي خرجَ عن طاعة
--------------------------------------------
এবং বুগি, বুগ-এর সাথে সম্পর্কিত; বা বর্ণে পেশ (দাম্মা) এবং ওয়াও বর্ণে সুকুন ও এরপর নুক্তাযুক্ত গাইন বর্ণের সংযোগে গঠিত। এটি তিরমিজের গ্রামগুলোর একটি, যা ছয় ফারসাখ দূরে অবস্থিত
(১)।
এবং তিরমিজি, তিরমিজের সাথে সম্পর্কিত। যাহাবি বলেছেন: আবুল ফাতহ আল-কুশায়রি (ইবনে দাকীক আল-ঈদ) বলেছেন: তিরমিজ (প্রথম বর্ণে) কাসরা বা যের দিয়ে, আর এটি মানুষের মুখে এতই প্রচলিত যে তা মুতাওয়াতির পর্যায়ের। মুতামান আস-সাজি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারিকে (আবু ইসমাইল আল-হারাবি) বলতে শুনেছি: এটি তা বর্ণে পেশ দিয়ে। হাফেজ আবুল ফাতহ আল-ইয়্যামারি (ইবনে সাইয়্যিদুন নাস) বর্ণনা করেছেন যে একে তিরমিজ—তা বর্ণে ফাতহা বা যবর দিয়েও বলা হয়
(২)।
আমরা বলি: আবু বকর আল-হাজমি এবং ইবনে মানজুর শুধু কাসরা (যের) ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিরমিজ খোরাসান প্রদেশের একটি প্রাচীন শহর, যা জাইহুন নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং নদীর স্রোত এর শহরপ্রাচীরে আঘাত করে। এর চারপাশে একটি বড় শহরতলি রয়েছে
(৩)। সমসাময়িক ভৌগোলিক পরিমাপে তিরমিজ প্রায় ৩৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং গ্রিনিচের পূর্বে ৬৭ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এটি উত্তর ইরানে অবস্থিত এবং বর্তমানে এটি 'তিরমিজ' (যাই বর্ণ দিয়ে) নামে পরিচিত। এটি ৭০ হিজরিতে ইসলামি ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়। মুসা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খাযিম এটি জয় করেন, যিনি আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الخليفة، فاستقلَّ بحُكمها خمسةَ عشر عامًا، وأفلح عثمانُ بنُ مسعود في استرداد المدينةِ للخلافة في نهاية عام (85) هـ
(1).
وقد أخبر أبو عيسى أن جَدَّهُ كان مِن مرو، أشهر مدن خراسان، وانتقل منها أيام الليثِ بنِ سيّار إلى ترمذ، ومرو هذه أنجبت من المحدثين والفقهاء ما لم تُنجب مدينة من المدن الإسلامية مثلهم، منهم الإمام أحمد بن حنبل، وسفيان الثوري، وعبد الله بن المبارك، وإسحاق بن راهويه وغيرهم
(2).
مولده وعصره:أرّخ الذهبيُّ في "السير" مولدَ الترمذي، فقال: وُلِدَ في حدود سنة عشر ومئتين، بينما أرّخه في "تاريخ الإسلام" بأنه وُلِدَ سنة بضع ومئتين، وجزم صاحبُ "جامع الأصول" أنه وُلِدَ سنة تسع ومئتين
(3)، وعلى أية حال فالتواريخ متقاربة.
وتُعد الفترةُ التي عاش فيها الإمام الترمذي مِن أخصبِ الفتراتِ بالنسبة لتدوين الحديث، وأسعدِها بخدمةِ السنةِ المطهرة، ففيها ظَهَرَ كبارُ المحدثين والحفاظ، وجهابذةُ المؤلفين، وحُذَّاق النقد،
--------------------------------------------
খলীফা, অতঃপর তিনি পনের বছর ধরে এটি স্বাধীনভাবে শাসন করেন এবং উসমান ইবনে মাসউদ ৮৫ হিজরি সালের শেষের দিকে শহরটি খিলাফতের অধীনে পুনরুদ্ধার করতে সফল হন
(১)।
আবু ঈসা জানিয়েছেন যে, তাঁর দাদা খুরাসানের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর মার্ভ-এর অধিবাসী ছিলেন এবং লাইস ইবনে সাইয়ারের শাসনামলে সেখান থেকে তিরমিয শহরে স্থানান্তরিত হন। এই মার্ভ শহরটি এমন সব মুহাদ্দিস ও ফকীহ তৈরি করেছে যা অন্য কোনো ইসলামী শহর তাদের মতো করতে পারেনি; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, সুফিয়ান আস-সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ এবং আরও অনেকে
(২)।
তাঁর জন্ম ও সমকাল:আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে তিরমিযীর জন্মের তারিখ উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ২১০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দুই শত হিজরির কয়েক বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। আর 'জামেউল উসুল' গ্রন্থের লেখক নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তিনি ২০৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)। যাই হোক, তারিখগুলো একে অপরের কাছাকাছি।
ইমাম তিরমিযী যে যুগে বসবাস করেছিলেন, হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে তাকে অন্যতম সমৃদ্ধ সময় এবং পবিত্র সুন্নাহর সেবার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যময় যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময়েই বড় বড় মুহাদ্দিস, হাফেয, শ্রেষ্ঠ লেখক এবং দক্ষ হাদীস সমালোচকগণ আবির্ভূত হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত আর-রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفيها انتشر علمُ الحديث في مختلفِ الأقطارِ الإسلامية، وتعددت رحَلاتُ العلماء لِتلقيه عن الشيوخ والحفاظ، وفيها دُوِّنتِ السنةُ النبوية الشريفة في مؤلفات رائعة أشهرها: "مسند الإمام أحمد"، و"الجامع الصحيح" للبخاري، و"صحيح مسلم"، و"سنن سعيد بن منصور"، و"المصنف" لابن أبي شيبة، و"مسند الحميدي"، و"سنن الدارمي"، و"سنن أبي داود"، و"جامع الإمام الترمذي"، فكأن ذلك العصر كان خلاصةَ العصورِ في تحصيل هذا العلمِ الشريفِ، وما أحسنَ ما قاله الذهبي حين قال: ولقد كان في هذا العصرِ وما قارَبَهُ مِن أئمة الحديث النبوي خلقٌ كثير، وما ذكرنا عُشرَهُم هنا، وأكثرُهم مذكورون في "تاريخي"، وكذلك كان في هذا الوقت خَلْقٌ مِنْ أئمة أهلِ الرأي والفروع، وعددٌ من أساطين المعتزلة والشيعة وأصحابِ الكلام الذين مشَوا وراء المعقول
(1).
هل وُلِدَ الإمامُ الترمذي أكْمَهَ أم أنه أضرَّ بأخرة؟
الذي انتهى إليه حُذّاقُ الأئمة وحفاظُها أنه وُلِدَ مبصرًا، ثم أضرَّ بأَخَرَة.
قال الإمامُ الذهبي: اختلف فيه، فقيلَ: وُلِدَ أعمى، والصحيحُ أنه أضر في كِبَرِه بعدَ رحلته وكتابته العلم
(2).
--------------------------------------------
এবং এই যুগে ইলমে হাদিস বিভিন্ন ইসলামি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শাইখ ও হাফেজদের নিকট থেকে তা গ্রহণের জন্য আলেমদের সফর বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই সময়েই সুন্নাহে নববী চমৎকার সব গ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো: "মুসনাদে ইমাম আহমাদ", বুখারীর "আল-জামেউস সহিহ", "সহিহ মুসলিম", "সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর", ইবনে আবি শায়বার "আল-মুসান্নাফ", "মুসনাদে হুমাইদি", "সুনানে দারিমি", "সুনানে আবু দাউদ" এবং "জামে ইমাম তিরমিজি"। সুতরাং মনে হয় যেন এই যুগটি ছিল এই মহান জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সকল যুগের নির্যাস। ইমাম যাহাবি কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই যুগে এবং এর কাছাকাছি সময়ে হাদিসে নববীর অসংখ্য ইমাম বিদ্যমান ছিলেন, আমরা এখানে তাদের দশভাগের একভাগও উল্লেখ করিনি এবং তাদের অধিকাংশ আমার 'তারিখ' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। তেমনিভাবে এই সময়ে আহলে রায় ও ফুরু-এর অনেক ইমাম এবং মুতাজিলা, শিয়া ও কালাম শাস্ত্রের একদল মহারথী বিদ্যমান ছিলেন যারা যুক্তিনির্ভর দর্শনের পথে চলেছিলেন"
(১).
ইমাম তিরমিজি কি জন্মান্ধ ছিলেন নাকি জীবনের শেষভাগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন?
পারদর্শী ইমাম ও হাফেজগণ যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা হলো, তিনি দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, অতঃপর জীবনের শেষভাগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।
ইমাম যাহাবি বলেন: এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: তিনি অন্ধ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে সঠিক মত হলো তিনি তার সফর এবং ইলম লিপিবদ্ধ করার পর বার্ধক্যে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন
(২).
--------------------------------------------