(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: -)
الإقناع في مسائل الإجماع ت الصعيدي   (ابن القطان)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإقناع في مسائل الإجماع

المؤلف: علي بن محمد بن عبد الملك الكتامي الحميري الفاسي، أبو الحسن ابن القطان (ت 628 هـ)

المحقق: حسن فوزي الصعيدي

الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 رمضان 1435

আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা তাহকিক আস-সাইদি   (ইবনুল কাত্তান)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা

লেখক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-কুতামি আল-হিময়ারি আল-ফাসি, আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান (মৃত্যু ৬২৮ হিজরি)

সম্পাদক/গবেষক: হাসান ফাওজি আস-সাইদি

প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসাহ লিত-তিবাআহ ওয়ান নাশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ১)
الإقناع في مسائل الإجماع

[المجلد الأول]

 

تأليف

الإمام الحافظ أبي الحسن ابن القطان

(562 - 628هـ)

يطبع لأول مرة على نسخة خطية فريدة

 

تحقيق

حسن فوزي الصعيدي

 

الناشر

الفاروق الحديثة للطباعة والنشر
আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা (ঐক্যমত্যের মাসআলাসমূহে পর্যাপ্ত প্রমাণ)

[প্রথম খণ্ড]

 

রচনা করেছেন

ইমাম আল-হাফিয আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান

(৫৬২ - ৬২৮ হিজরি)

একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত

 

সম্পাদনা

হাসান ফাউজি আস-সাইদি

 

প্রকাশক

আল-ফারুক আল-হাদিসাহ লিত-তিবাআতি ওয়ান-নাশর
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الناشر
প্রকাশকের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المحقق
সম্পাদকের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم تسليما

 

‌‌كتاب الإيمان

باسمك اللهم استفتحت وبالصلاة على نبيك استنجحت، وبحمد جلالك ابتدائي ما بدأت، وبشكر أفضالك اختتام ما ختمت.

 

‌‌أبواب الإجماع في الإيمان

‌‌ذكر الإيمان ما هو

1 - وأجمع أهل السنة من السلف والخلف أن جبريل عليه السلام جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم بحضرة أصحابه فقال له: ما الإسلام؟ فقال عليه السلام: «أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، وتقيم الصلاة، وتحج البيت - في الحديث الطويل - فقال صدقت. قال: فما الإيمان؟ قال: أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والقدر خيره وشره وغير ذلك، فقال: صدقت. قال: فما الإحسان؟ قال: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تره فهو يراك. ثم انصرف ونحن نعجب من تصديقه عليه السلام فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم بعد أمره لهم بطلبه بعد انصرافه فلم يجدوه: «هذا جبريل جاءكم يعلمكم أمر دينكم».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌ঈমান অধ্যায়

হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি শুরু করছি এবং আপনার নবীর ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে আমি সফলতা কামনা করছি। আপনার মাহাত্ম্যের প্রশংসার মাধ্যমেই আমি যা কিছু শুরু করি তা আরম্ভ করি এবং আপনার অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমেই যা শেষ করি তা সমাপ্ত করি।

 

‌‌ঈমান বিষয়ে ইজমার পরিচ্ছেদসমূহ

‌‌ঈমান কী, তার বর্ণনা

১ - সালাফ ও খালাফদের অন্তর্ভুক্ত আহলুস সুন্নাহ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সাহাবীদের উপস্থিতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: ইসলাম কী? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: «তুমি এই সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, বাইতুল্লাহর হজ করবে - দীর্ঘ হাদীসটিতে যা বর্ণিত হয়েছে - তখন তিনি (জিবরাঈল) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: «তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলদের ওপর এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের ওপর।» তখন তিনি (জিবরাঈল) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: ইহসান কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।» এরপর তিনি চলে গেলেন এবং তাঁর সত্যায়ন দেখে আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম। তাঁর প্রস্থানের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে তাঁকে খুঁজে দেখার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি তাঁদের বললেন: «ইনি জিবরাঈল, তোমাদের দ্বীনের বিষয় শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
2 - وأجمعوا أن الإيمان: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله، وما جاءت به رسله، وكتبه فريضة واجبة على المكلفين من عباده.

3 - وأجمعوا أن الإيمان قول وعمل ونية مع إصابة السنة.

4 - والمؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله وبكل ما جاءت به الرسل ثبت له عقد الإيمان باتفاق الجميع.

5 - وأجمعوا أن المؤمن بالله تعالى وسائر ما دعاه النبي صلى الله عليه وسلم إلى الإيمان به لا يخرجه عن إيمانه شيء، ولا يحبط إيمانه إلا الكفر.

 

‌‌ذكر صفة كمال الإيمان

6 - وأجمع كل من أحفظ عنه من أهل العلم على أن الكافر إذا قال: أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وأن كل ما جاء به محمد حق، وأتبرأ من كل دين خالف الإسلام. وهو بالغ صحيح العقل أنه مسلم، فإن رجع بعد ذلك فأظهر الكفر كان مرتدًا.

واختلفوا فيمن شهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله، ولم يزد على ذلك.

 

‌‌ذكر الإيمان يزيد وينقص ومن ارتكب كبيرة

7 - وأجمعوا على أن الإيمان يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية.

8 - وأجمعوا على أن الإيمان يزيد، ومما هو إجماع أو كالإجماع أن الإيمان ينقص، وهو قول القدوة من أئمة أهل السنة. ومن مذاهبهم أن زيادته بالطاعة ونقصانه بالمعصية، وأنه يقوى بالعلم، ويضعف بالجهل.
২ - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ঈমান হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং তাঁর রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা; এবং তাঁর কিতাবসমূহ (মান্য করা) তাঁর বান্দাদের মধ্যে মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর একটি অবধারিত ফরজ কাজ।

৩ - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ঈমান হলো কথা, কাজ ও নিয়তের সমষ্টি যা সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে।

৪ - আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর ওপর ঈমান আনবে, সকলের ঐকমত্যে তার ঈমানের চুক্তি সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

৫ - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, মহান আল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছুর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনয়নকারীকে কোনো কিছুই তার ঈমান থেকে বের করে দেয় না এবং কুফরি ব্যতীত কোনো কিছুই তার ঈমানকে বাতিল করে দেয় না।

 

‌‌ঈমানের পূর্ণতার গুণাবলির বিবরণ

৬ - আমি ইলমের অধিকারীদের মধ্য থেকে যাদের নিকট থেকে ইলম সংরক্ষণ করেছি, তারা সকলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কোনো কাফের যদি বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর মুহাম্মদ যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য, এবং আমি ইসলামবিরোধী সকল দ্বীন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম'—এমতাবস্থায় যে সে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, তবে সে একজন মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। এরপর যদি সে ফিরে যায় এবং কুফরি প্রকাশ করে, তবে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হিসেবে গণ্য হবে।

আর তারা ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে কেবল এই সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল', কিন্তু এর অতিরিক্ত কিছু বলেনি।

 

‌‌ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া এবং কবিরা গুনাহকারীর বিবরণ

৭ - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে তা হ্রাস পায়।

৮ - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে ঈমান বৃদ্ধি পায়; আর যা ইজমা বা ইজমার সমতুল্য তা হলো ঈমান হ্রাসও পায়, আর এটিই আহলুস সুন্নাহর অনুকরণীয় ইমামদের বক্তব্য। তাঁদের মতাদর্শ হলো যে, আনুগত্যের দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে তা হ্রাস পায়, আর ইলমের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হয় এবং মূর্খতার কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
9 - وأجمع المسلمون من أهل السنة أن مؤمني أهل القبلة الذين آمنوا بالله وملائكته وكتبه ورسله وبجميع ما أمر الله تعالى ورسوله بالإيمان به، غير خارجين من الإسلام بكبائرهم، ولا مكفرين بها.

10 - وأجمعوا أن أحكام الإسلام جارية على القاتل والزاني وشارب الخمر وسائر الكبائر، مخاطبون باسم الإيمان مشتملة عليهم أحكامه.

11 - وأجمع الجميع من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من الخالفين الدارجين من المسلمين أن المؤمن مؤمن بإيمانه، فاسق بكبيرته، غير كافر بها.

12 - وأجمعوا على جواز الصلاة على كل من مات من أهل القبلة، وإن أذنب أي ذنب كان، ولا يحجب الاستغفار ولا الدعاء عن أحد من المسلمين من أهل الكبائر غير المبتدعين الملحدين.

13 - وأجمعوا أنه لا يقطع على أحد من عصاة القبلة في غير البدع بالنار، ولا على أحد من أهل الطاعة بالجنة إلا من قطع عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك.

14 - وأجمعوا أن العصاة من أهل القبلة مأمورون بسائر الشرائع غير خارجين عن الإيمان بمعاصيهم.

 

‌‌ذكر الإيمان بالله سبحانه وصحيح الاعتقاد

15 - وأجمع السلف والخلف من أهل السنة أن العالم بما فيه من أجسامه وأعراضه محدث لم يكن ثم كان.

16 - وأجمعوا أن لجميعه محدثا واحدًا اخترع أعيانه وأحدث جواهره وأعراضه.

17 - وأجمعوا أنه تعالى لم يزل قبل أن يخلقه واحدًا حيًا عالمًا قادرًا مريدًا سميعًا بصيرًا، له الأسماء الحسنى والصفات العلى.

18 - وأجمعوا أنهم عرفوا ذلك بما نبههم الله عليه وبين لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وجه الدلالة فيه.
9 - আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মুসলিমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, কিবলাপন্থী মুমিনগণ—যারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল যে সকল বিষয়ে ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন তার সবকিছুর প্রতি ঈমান এনেছে—তারা তাদের কবিরা গুনাহের কারণে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হবে না এবং এর কারণে তাদেরকে কাফিরও গণ্য করা যাবে না।

10 - তারা একমত হয়েছেন যে, হত্যাকারী, ব্যভিচারী, মদ্যপায়ী এবং অন্যান্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের ওপর ইসলামের বিধানসমূহ কার্যকর থাকবে; তারা ঈমান নামেই সম্বোধিত হবে এবং তাদের ওপর ঈমানের বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

11 - সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরী মুসলিমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, মুমিন ব্যক্তি তার ঈমানের কারণে মুমিন এবং তার কবিরা গুনাহের কারণে ফাসিক, তবে এর কারণে সে কাফির নয়।

12 - তারা আহলে কিবলার মধ্য থেকে মৃত্যুবরণকারী প্রত্যেকের জানাজার সালাত বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, চাই সে যে কোনো গুনাহই করুক না কেন। আর বিদআতি নাস্তিক ব্যতীত অন্য কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত মুসলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা দোয়া করা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

13 - তারা একমত হয়েছেন যে, বিদআত ব্যতীত কিবলাপন্থী অবাধ্যদের কারো ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা দেওয়া যাবে না, আর অনুগতদের কারো ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জান্নাতী হওয়ার ফয়সালা দেওয়া যাবে না; তবে যাদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা ব্যতীত।

14 - তারা একমত হয়েছেন যে, কিবলাপন্থীদের মধ্যে যারা অবাধ্য, তারা শরীয়তের সকল বিধান পালনে আদিষ্ট এবং তাদের পাপাচারের কারণে তারা ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে না।

 

‌‌মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং সঠিক আকিদাহর বর্ণনা

15 - আহলে সুন্নাহর সালাফ ও খালাফগণ একমত হয়েছেন যে, এই জগত এবং এতে বিদ্যমান দেহ ও গুণাবলি (আরায) নব্যসৃষ্ট; যা আগে ছিল না, অতঃপর অস্তিত্ব লাভ করেছে।

16 - তারা একমত হয়েছেন যে, এই সবকিছুর একজন একক সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন, যিনি এগুলোর বস্তুগত সত্তা উদ্ভাবন করেছেন এবং এর সারবত্তা ও গুণাবলি সৃষ্টি করেছেন।

17 - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনি মহান, জগত সৃষ্টির পূর্ব থেকেই অনাদি কাল ধরে একক, চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা; তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি।

18 - তারা একমত হয়েছেন যে, তারা এসব বিষয় জানতে পেরেছেন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যে বিষয়ে সচেতন করেছেন তার মাধ্যমে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলোর প্রমাণের পদ্ধতি যেভাবে স্পষ্ট করেছেন তার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
19 - وأجمعوا أنه تعالى غير مشبه به من العالم.

20 - وأجمعوا أنه تعالى لم يزل موجودًا، قادرًا عالمًا، مريدًا سميعًا، بصيرًا، متكلمًا على ما وصف به نفسه في كتابه وأخبرهم به رسوله، ودلت عليه أفعاله.

21 - وأجمعوا أن وصف بذلك […] شبهه بمن وصف به من خلقه.

22 - والأمة مجمعة على وجوب معرفة الله سبحانه.

23 - واتفق المسلمون على أن (اعتوار) الحوادث وتعاقبها على العالم دليل حدثها، وأنها لما كانت زائلة كان ذلك أمارة على حدوثها، ولا ينكر هذا مسلم.

 

‌‌ذكر أسمائه الحسنى وصفاته العلى

24 - وأجمع أهل السنة وجمهور المعتزلة أن أسماء الله تعالى لا تؤخذ قياسًا ولا لغة، بل يتبع فيها الإذن، والإطلاق من قبل الله سبحانه، لا يجوز على ذلك الزيادة ولا النقصان أصلاً، وأهل اللغة لا يفرقون بين الرحيم والرحمن، كما لا يفرقون بين النديم والندمان، ثم قيل لله سبحانه: رحم رحمن مع وجود الرحمة في غير حقيقة وصحة، وصفة على المبالغة.

25 - وأجمعت الأمة من تخصيص هذا الوصف لله سبحانه يعلم أن الأمر فيه يجري على ما ذكرنا، ويقولون في اللغة: فلان جواد وفلان سخي، ولا يفرقون بينهما، وكل من قالوا فيه أنه سخي قالوا فيه أنه جواد.

26 - وأجمعوا على وصف الله سبحانه بأنه جواد.

27 - ثم أجمعوا على منع وصفه بأنه سخي، فعلم أنهما يفترقان، لا من جهة المعنى بل من جهة اللفظ، وأن أحدهما مما أطلقته الأمة وأجمعت عليه دون الآخر، فلذلك ساغ هذا دون ذلك، ولا يمكن الفصل بين الأمرين، إلا أن
১৯ - তারা একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহ জগতের কোনো কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নন।

২০ - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা অনাদি কাল থেকেই বিদ্যমান, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞাতা, ইচ্ছাকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং বাকশক্তির অধিকারী, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল তাদেরকে অবহিত করেছেন এবং তাঁর কার্যাবলী যা নির্দেশ করে।

২১ - তারা একমত হয়েছেন যে, তাঁকে এগুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত করা [...] তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাদের এই গুণাবলী দেওয়া হয়েছে তাদের সাথে তাঁর সাদৃশ্য করা নয়।

২২ - আর উম্মত মহান আল্লাহকে জানা আবশ্যক (ওয়াজিব) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

২৩ - আর মুসলমানরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জগতের ওপর আপতিত পরিবর্তনসমূহ এবং একের পর এক ঘটনা ঘটা এর নশ্বরতার প্রমাণ, আর যেহেতু এগুলো ধ্বংসশীল, তাই তা এর নবসৃষ্টির নিদর্শন; কোনো মুসলমানই একে অস্বীকার করে না।

 

‌‌তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং উচ্চতর গুণাবলীর আলোচনা

২৪ - আহলে সুন্নাত এবং অধিকাংশ মুতাযিলা এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ তাআলার নামসমূহ অনুমান বা কেবল আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না, বরং এক্ষেত্রে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি এবং প্রয়োগকে অনুসরণ করতে হবে। এতে কোনোভাবেই বাড়ানো বা কমানো মোটেও জায়েজ নয়। আর ভাষা বিশেষজ্ঞগণ 'রাহীম' এবং 'রাহমান'-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না, যেমন তারা 'নাদীম' ও 'নাদমান'-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। অতঃপর মহান আল্লাহকে 'রাহমান' বলা হয়েছে যাঁর রহমত বা দয়া বাস্তবতা ও বিশুদ্ধতার সাথে বিদ্যমান এবং যা আধিক্য বুঝানোর গুণ।

২৫ - আর উম্মত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য এই গুণটি নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যা থেকে জানা যায় যে বিষয়টি আমরা যা উল্লেখ করেছি সেভাবেই পরিচালিত হয়। তারা ভাষার ক্ষেত্রে বলেন: অমুক ব্যক্তি দানশীল (জাওয়াদ) এবং অমুক ব্যক্তি উদার (সাখী), এবং তারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন না। তারা যাকে 'সাখী' বলেন তাকেই 'জাওয়াদ' বলেন।

২৬ - তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'জাওয়াদ' (দানশীল) হিসেবে বিশেষায়িত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

২৭ - অতঃপর তারা তাঁকে 'সাখী' (উদার) হিসেবে বিশেষায়িত করা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ফলে জানা গেল যে, শব্দ দুটি পৃথক, অর্থের দিক থেকে নয় বরং শব্দের প্রয়োগের দিক থেকে। আর উম্মত একটির প্রয়োগের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে কিন্তু অপরটির ওপর নয়। একারণেই এটি বৈধ হয়েছে এবং অন্যটি হয়নি। আর এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়, কেবল তখনই যদি...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أحدهما مما أجمعت عليه الأمة دون الآخر، وأن أحدهما قد استأثر الله بتسميته نفسه بذلك دون صاحبه، فعلم بهذا أن أسماء الله وأوصافه مأخوذة من طريق التوقيف الوارد بالكتاب والسنة والإجماع.

28 - فإن قيل: ألستم تقولون: إنه قديم؟! فهل ورد بذلك توقيف؟ قيل: هذا إجماع. فإن قيل: أليس جهم يخالف في ذلك؟ قيل: إن جهمًا مسبوق بالإجماع، وعد قوله هذا بدعة؛ لأنه خالف الإجماع.

29 - وأجمعوا على أن اشتقاق الأسامي والأوصاف من كل أفعاله غير حاصل.

30 - وأجمعوا على أن اشتقاق بعضها من بعض حاصل، والتمييز بينها مقصور على التوقيف الوارد في الكتاب والسنة.

 

‌‌ذكر انقسام الأسماء والصفات

وأسماء الله تعالى وصفاته تنقسم أقسامًا فمنها ما أجمعوا عليه أنها من صفات الذات، ومنها ما أجمعوا عليه أنها من صفات الفعل عند القائلين بها، ومنها ما اختلفوا فيه؛ فمن قائل أنها من صفات الذات، ومن قائل أنها من صفات الفعل.

31 - فأما ما أجمعوا عليه أنها من صفات الذات فنحو وصفنا له أنه قديم إله واحد.

32 - وما أجمعوا عليه أنه من صفات الفعل فنحو وصفنا أنه خالق الخلق ورازقهم، المنعم عليهم والمفضل المجمل.

وأما الذي اختلفوا فيه: هل هو من صفات الذات أو من صفات الفعل، فنحو وصفنا بأنه عالم، وكذلك وصفه بأنه متكلم مريد، وكذلك الرحمة والرضا.

 

‌‌ذكر قسمة أخرى باعتبار آخر

وأسماء الله تعالى وصفاته تنقسم أيضًا أقسامًا؛ فمنها ما أجمع أهل الملة على تسميته بذلك من المطلقين له الأسماء، ومنها ما أجمعوا على نفيه مما هي أسماء
এর মধ্যে একটি হলো এমন যা উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে অপরটি ছাড়াই, এবং এর একটি এমন যা আল্লাহ নিজের নামকরণে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন তাঁর সঙ্গীর জন্য নয়, সুতরাং এর মাধ্যমে জানা গেল যে আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমার মাধ্যমে প্রাপ্ত তাওকিফ (কর্তৃত্বশীল বর্ণনা) থেকে গৃহীত।

২৮ - যদি বলা হয়: আপনারা কি বলেন না যে: তিনি কদীম (অনাদি)? তাহলে এ ব্যাপারে কি কোনো বর্ণনা এসেছে? বলা হলো: এটি ইজমা। যদি বলা হয়: জাহম কি এতে দ্বিমত করেননি? বলা হলো: জাহমের পূর্বেই ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং তার এই বক্তব্যকে বিদআত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; কারণ সে ইজমার বিরোধিতা করেছে।

২৯ - আর তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তাঁর সকল কাজ থেকে নাম ও গুণাবলী উদ্ভূত হওয়া সাব্যস্ত নয়।

৩০ - আর তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এগুলোর একটি থেকে অন্যটি উদ্ভূত হওয়া সাব্যস্ত, এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত দলিলের ওপর সীমাবদ্ধ।

 

‌‌নাম ও গুণাবলীর প্রকারভেদের আলোচনা

আল্লাহ তাআলার নামসমূহ ও গুণাবলী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত; তার মধ্যে কিছু রয়েছে যেগুলোকে তাঁরা সত্তাগত গুণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আবার কিছু রয়েছে যেগুলোকে তাঁরা কর্মগত গুণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তাদের নিকট যারা এগুলো স্বীকার করেন, এবং কিছু গুণ এমন রয়েছে যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন এগুলো সত্তাগত গুণ, আবার কেউ বলেছেন এগুলো কর্মগত গুণ।

৩১ - আর তাঁরা যে গুণগুলো সত্তাগত গুণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা হলো আমাদের এই বর্ণনা যে, তিনি কদীম (অনাদি) এবং এক ইলাহ।

৩২ - আর যে বিষয়গুলো কর্মগত গুণ হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা হলো আমাদের এই বর্ণনা যে, তিনি সৃষ্টির স্রষ্টা ও তাদের রিযিকদাতা, তাদের ওপর অনুগ্রহকারী, শ্রেষ্ঠত্বদানকারী এবং কল্যাণকারী।

আর যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, তা সত্তাগত গুণ নাকি কর্মগত গুণ, তা হলো আমাদের এই বর্ণনা যে, তিনি আলিম (সর্বজ্ঞ), তেমনিভাবে তাঁর কথা বলা ও ইচ্ছা করার গুণ, এবং তেমনিভাবে রহমত ও সন্তুষ্টি।

 

‌‌অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে আরও একটি বিভাজনের আলোচনা

আল্লাহ তাআলার নামসমূহ ও গুণাবলী আরও কয়েকটি ভাগে বিভক্ত; এর মধ্যে কিছু রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে মিল্লাতের অনুসারীরা যারা আল্লাহর নাম ঘোষণা করেন তারা তাঁকে সে নামে অভিহিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, এবং কিছু এমন রয়েছে যেগুলো নাম হিসেবে গণ্য হওয়া থেকে নাকচ করার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যা হলো নামসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
المخلوقات، ومنها ما اختلفوا فيه.

33 - فأما الذي أجمعوا على تسميته رب، اختلفوا في معانيه ضروبًا من الاختلاف مبتاينة.

ثم بعد ذلك فمن أسماء الله تعالى ما ورد به توقيف الكتاب، ومنها ما وردت به السنة، ومنها ما أجمعت عليه الأمة، فأما الذي ثبت من ذلك من جهة السنة فعلى ضروب منها ما يمكن القطع به، ومنها ما لا يمكن القطع به من طريق السند، ولكن الأمة أجمعت عليه أو على معناه، ومنها ما ورد في جهة الأحاد، فلا يمكن القطع به، وإن كان مجوزًا.

فإن قيل: هل تعتمدون على ما رواه أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في أسماء الرب وصفاته؟ - وهو ما رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن لله تسعة وتسعين اسمًا، من أحصاها دخل الجنة» - قيل: هذا خبر مروي مشهور عند النقلة، وإليه يرجعون في أسماء الرب، فما […] فيه الكتاب أو متواتر السنة أو إجماع الأمة فهو مقطوع به وما لم يكن كذلك فإنه مجوز على المعنى الصحيح في وصف، غير مقطوع به أنه من أوصافه وأسمائه، وكذلك سائر ما ورد به الخبر على هذا الحد.

 

‌‌ذكر ما أجمع عليه منها

وقوله تعالى: {هل تعلم له سميا}، قال أهل التفسير: لم يتسم بالله سواه، وهو اسم موضوع غير مشتق.

34 - قالوا: لو كان مشتقا لسمي به من كان موصوفًا بتلك الصفة أو بعضها. قالوا: والدليل على أنه اسم موضوع إجماعهم على أنه أشرف الأسامي وأعظمها.
সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, এবং এর মধ্যে কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করেছেন।

৩৩ - অতঃপর যাকে 'রব' হিসেবে নামকরণের ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার অর্থের ব্যাপারে তারা বিভিন্ন ধরনের সুস্পষ্ট মতবিরোধ করেছেন।

এরপর মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে কিছু এসেছে কিতাবের (কুরআনের) বর্ণনার মাধ্যমে, কিছু সুন্নাহর মাধ্যমে এবং কিছু এমন যার ওপর উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে। অতঃপর সুন্নাহর মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা কয়েক প্রকার; তার মধ্যে কিছু এমন যা নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা যায়, আর কিছু এমন যা সনদের দিক থেকে নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু উম্মাহ সেটির ওপর বা তার অর্থের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। আর কিছু একক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়, যদিও তা হওয়া সম্ভব।

যদি বলা হয়: আপনারা কি রবের নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভর করেন? — আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" — উত্তরে বলা হবে: এটি বর্ণনাকারীদের নিকট একটি প্রসিদ্ধ বর্ণিত হাদিস এবং রবের নামসমূহের ক্ষেত্রে তারা এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন। সুতরাং কিতাব, মুতাওয়াতির সুন্নাহ বা উম্মাহর ইজমা দ্বারা যা [...] হয়েছে তা নিশ্চিত। আর যা এমন নয়, তা সঠিক অর্থের ভিত্তিতে গুণ হিসেবে বর্ণনা করা বৈধ, তবে তা যে তাঁর গুণাবলি বা নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত—সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। একইভাবে এই পর্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য সংবাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

 

‌‌সেগুলোর উল্লেখ যেগুলোর ওপর ঐকমত্য হয়েছে

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?", তাফসিরবিদগণ বলেছেন: তিনি ব্যতীত অন্য কেউ 'আল্লাহ' নামে নামাঙ্কিত হয়নি এবং এটি একটি মৌলিক নাম, যা কোনো শব্দমূল থেকে উদ্ভূত নয়।

৩৪ - তারা বলেছেন: যদি এটি উদ্ভূত হতো, তবে সেই গুণে বা তার আংশিক গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকেও এই নামে ডাকা হতো। তারা আরও বলেন: এটি যে একটি মৌলিক নাম তার প্রমাণ হলো, এটি যে সমস্ত নামের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও মহান—সে ব্যাপারে তাদের ঐকমত্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
35 - وأجمعوا أنه لا يسمى به غيره.

36 - وأجمعوا أنه سبحانه لم يزل إلهًا ولا يزال إلهًا، ولم يكن إلهًا لفعل فعله ولا لفعل فعله غيره، ولا لوصف من أوصاف فعله الرحمن الرحيم […].

37 - ووجدنا الله سبحانه قد سمى نفسه شيئًا في نص كتابه حيث يقول: {قل أي أكبر شهادة}، فدل بذلك على أنه شي، وهو إجماع الأمة. ولما خالف فيهم جهم بعد مضي عصرين من الإسلام، وأهل كل عصر مجمعون عليه، فجهم محجوج بإجماعهم.

38 - وأجمعوا على أنه قديم لم يزل.

39 - وأما وصفه سبحانه بالنفس، فإنه مما ورد به نص الكتاب؛ قال الله تعالى: {كتب على نفسه الرحمة}، والمراد بالنفس الذات والوجود، وهو نفس موجود عين ذات، ولا يعرف في ذلك خلافًا.

40 - فإن قيل: فهل ورد لفظ التوقيف بأنه موجود في الكتاب أو السنة، قيل: هو إجماع الأمة، وإجماع الأمة إحدى الطرق في إثبات أسمائه، فإن قيل: أليس جهم والباطنية يمنعون من ذلك، قيل: إن قولهما بدعة، والإجماع قد سبقهما، وقد أنكر أهل العلم على جهم ذلك عند إظهاره له، والإجماع قد سبقه في عصر المتقدمين قبله.

41 - ولما أجمعوا على وصفه بأنه قديم، لا ابتداء لوجوده، كان ذلك منهم إجماعًا على أنه موجود؛ لأنه لا يصح وصفه بالقدم إلا ما سبق وصفه بالوجود. ووصفنا له سبحانه بأنه قديم أجرى هذا الوصف عليه عندنا ما خرجه من الإجماع. ومعناه عند أصحابنا فيه خلاف.

42 - واتفق أرباب الحقائق على أن القديم سبحانه لا يحول ولا يزول عن وصف القدم إذًا، وحكم القديم أنه يجب له الوجود ويستحيل عليه العدم،
৩৫ - তারা একমত হয়েছেন যে, এই নামে অন্য কাউকে অভিহিত করা যাবে না।

৩৬ - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনি সুবহানাহু অনাদিকাল থেকে ইলাহ ছিলেন এবং অনন্তকাল ইলাহ থাকবেন; তিনি নিজের কোনো কার্যের কারণে ইলাহ হননি, আর না অন্য কারও কার্যের কারণে, আর না তাঁর কর্মের কোনো গুণের কারণে, তিনি পরম দয়ালু, অতি দয়ালু [...]।

৩৭ - আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর কিতাবের পাঠে নিজেকে 'সত্তা' (কিছু) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {বলুন, সাক্ষ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সত্তা কোনটি?}, এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি একটি সত্তা, আর এটি উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত্য)। ইসলামের দুই যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর যখন জাহম এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিল, তখন প্রতিটি যুগের অধিবাসীগণ এ বিষয়ে একমত ছিলেন, ফলে জাহম তাদের ইজমার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়েছে।

৩৮ - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনি অনাদি, সর্বদা বিদ্যমান।

৩৯ - আর তাঁর সুবহানাহুর ক্ষেত্রে 'নফস' (সত্তা) গুণের প্রয়োগের বিষয়টি কিতাবের পাঠ দ্বারা প্রমাণিত; আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন}। এখানে নফস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সত্তা ও অস্তিত্ব; তিনি বিদ্যমান এক সত্তা, খোদ সত্তা এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই।

৪০ - যদি বলা হয়: কিতাব বা সুন্নাহতে কি 'বিদ্যমান' (মাওজুদ) শব্দটি প্রয়োগ করার কোনো অকাট্য দলীল এসেছে? বলা হবে: এটি উম্মতের ইজমা, আর উম্মতের ইজমা আল্লাহর নামসমূহ সাব্যস্ত করার অন্যতম একটি পথ। যদি বলা হয়: জাহম এবং বাতেনিয়ারা কি এটি অস্বীকার করে না? বলা হবে: তাদের কথা হলো বিদআত, আর ইজমা তাদের পূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছে। আলেমগণ জাহমের ওপর তখনই আপত্তি জানিয়েছিলেন যখন সে এটি প্রকাশ করেছিল, আর তার পূর্ববর্তী সালাফদের যুগে ইজমা তার আগেই সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।

৪১ - আর যখন তারা তাঁকে অনাদি হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই, এটি তাঁদের পক্ষ থেকে তিনি 'বিদ্যমান' হওয়ার ওপর ইজমা হিসেবে গণ্য; কারণ কোনো সত্তার অস্তিত্ব সাব্যস্ত হওয়া ছাড়া তাঁকে অনাদি বলা সঠিক নয়। আমাদের নিকট তাঁর সুবহানাহুর ক্ষেত্রে অনাদি গুণের প্রয়োগ সেই ইজমার মাধ্যমেই এসেছে। তবে আমাদের সাথীদের নিকট এর অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

৪২ - তত্ত্ববিদগণ একমত হয়েছেন যে, অনাদি সত্তা সুবহানাহু তাঁর অনাদি বৈশিষ্ট্য থেকে পরিবর্তিত হন না এবং বিচ্যুত হন না। আর অনাদি সত্তার বিধান হলো এই যে, তাঁর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক এবং তাঁর ক্ষেত্রে অনস্তিত্ব অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪০)
وزوال الواجب محال.

43 - وأجمع العقلاء ممن أثبت الصانع ومن نفاه أن ما وجب له القدم استحال عليه العدم.

44 - وأجمعت الأمة على أنه قديم أزلي.

45 - فإن قيل: هل يجيزون وصفه بأنه دهري أو عادي، قيل: لا يجوز وصفه بشيء من ذلك، إلا بما وصف به نفسه أو أجمعت عليه الأمة.

46 - ووصفنا له سبحانه أنه قائم بنفسه، هذا اللفظ في أوصافه سبحانه يجب أن يكون مأخوذًا من طريق الإجماع؛ لأن الكل قد أجمعوا على وصفه بأنه قائم بنفسه.

47 - ووصفنا له بأنه باقٍ مما أجمعت عليه الأمة وتواتر به نقل السنة، وهو معنى وصفنا له بأنه دائم الوجود.

48 - ووصف الله سبحانه بأنه عالم أجمع المسلمون ومن يعد خلافه معهم بأسرهم على أن الله سبحانه عالم عليم، أعلم من كل عالم، وبه ورد نص الكتاب والسنة، وأجمعت عليه الأمة.

49 - وأجمعوا على وصفه بأنه متين، ووصفه سبحانه بأنه مريد.

الأصل في ذلك الشرع الوارد بإطلاقه في الكتاب والسنة وإجماع الأمة.

50 - ووصف الله سبحانه بأنه سميع بصير، قد صح بإجماع الأمة.

51 - ووصفه بذلك ورد به الكتاب، وجاءت به السنة، وإنما اختلفوا في تأويله ومعناه، والفرق بين السامع والمبصر.

52 - ووصفنا الله سبحانه بأنه متكلم، قائل، مكلم، آخر، ناه، مخبر، مستخبر، لا نعرف خلافًا بين المتكلمين والفقهاء في وجوب وصف الله سبحانه الآن بأنه متكلم، آمر، ناهٍ، مكلم، قائل، مخبر، مستخبر، إلا ما يحكى عن الإسكافي أنه كان يأبى لفظ متكلم، ويقول: إنه على وزن متفعل.

 

‌‌ذكر كلامه تعالى وما يقرأ منه ويتلى

53 - وأجمعوا على أن كلام الله عز وجل مكتوب في الدفتر ليس بحال فيه.
এবং অবধারিত সত্তার বিলুপ্তি অসম্ভব।

৪৩ - স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকারকারী এবং অস্বীকারকারী সকল বিবেকবান ব্যক্তি একমত হয়েছেন যে, যার অনাদিত্ব সাব্যস্ত হয়েছে তার বিলুপ্তি অসম্ভব।

৪৪ - উম্মত একমত হয়েছে যে, তিনি অনাদি ও অনন্ত।

৪৫ - যদি প্রশ্ন করা হয়: তারা কি তাঁকে 'দাহরি' (কালিক) বা 'আদি' (প্রাচীন) হিসেবে গুণান্বিত করা বৈধ মনে করেন? বলা হবে: এর কোনোটি দ্বারাই তাঁকে গুণান্বিত করা বৈধ নয়, কেবল তা ব্যতীত যা দ্বারা তিনি নিজেই নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা উম্মত যার ওপর একমত হয়েছে।

৪৬ - সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রে আমাদের এই বর্ণনা যে তিনি স্বয়ম্ভূ (ক্বায়েম বি-নাফসিহি), তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে এই শব্দটি অবশ্যই ইজমার (ঐকমত্য) পথ থেকে গ্রহণ করতে হবে; কারণ সকলে তাঁকে স্বয়ম্ভূ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

৪৭ - আমরা তাঁকে 'চিরস্থায়ী' (বাক্বি) হিসেবে বর্ণনা করি যা উম্মতের ঐকমত্য এবং সুন্নাহর মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত, আর এটিই হলো তাঁকে 'চির-বিদ্যমান' (দায়েমুল উজুদ) হিসেবে বর্ণনা করার অর্থ।

৪৮ - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আলিম' (জ্ঞানী) হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়ে সমস্ত মুসলিম এবং তাঁদের বিরোধী হিসেবে গণ্য হওয়া সকলে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞাতা, তিনি প্রত্যেক জ্ঞানীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী। কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বর্ণনা এভাবেই এসেছে এবং উম্মত এর ওপর একমত হয়েছে।

৪৯ - তারা তাঁকে 'সুদৃঢ়' (মাতিন) হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, এবং তাঁকে 'ইচ্ছাকারী' (মুরিদ) হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়েও।

এর মূল ভিত্তি হলো শরিয়ত, যা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে।

৫০ - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'সর্বশ্রোতা' (সামি) ও 'সর্বদ্রষ্টা' (বাসির) হিসেবে বর্ণনা করা উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।

৫১ - কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁকে এই গুণে গুণান্বিত করার বিষয়টি এসেছে, তবে তারা কেবল এর ব্যাখ্যা, অর্থ এবং শ্রবণকারী ও দর্শনকারীর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

৫২ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে কথা বলাকারী (মুতাকাল্লিম), বক্তা, কথোপকথনকারী, আদেশদাতা, নিষেধকর্তা, সংবাদদাতা ও জিজ্ঞাসাকারী হিসেবে বর্ণনা করি। মুতাকাল্লিম ও ফকিহগণের মধ্যে বর্তমানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে কথা বলাকারী, আদেশদাতা, নিষেধকর্তা, কথোপকথনকারী, বক্তা, সংবাদদাতা ও জিজ্ঞাসাকারী হিসেবে গুণান্বিত করার আবশ্যকতা বিষয়ে কোনো মতভেদ আমাদের জানা নেই; কেবল ইসকাফি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত যে, তিনি 'মুতাকাল্লিম' শব্দটি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং বলতেন: এটি 'মুতাফায়িল' ছন্দের শব্দ।

 

‌‌মহান আল্লাহর কালাম এবং যা তা থেকে পাঠ ও তিলাওয়াত করা হয় তার আলোচনা

৫৩ - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কালাম পাণ্ডুলিপিতে লিখিত, তবে তা এতে অবস্থানকারী হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪১)
54 - وكذلك قالوا في كل كلام أنه يكتب ويحفظ ويسمع، إلا أن كلام الله باقٍ، وكلام غيره عرض لا يبقى.

55 - وأجمعوا على أن كلام الله عز وجل ليس بحروف ولا أصوات، وأنه يقرأ بالحروف، ويسمع بالعبارات على أنه شيء قرئ بهذه العبارة المخصوصة على لغة مخصوصة، وقع الفهم به للسامع، فقيل له: عربي، ومنزل على لغة العرب.

واختلف في الطريقة التي يعلم بها بأنه سبحانه متكلم، فمن قائل: طريق ذلك العقل، ومن قائل: طريقه الخبر، فمن قال طريقه الخبر يقول: أجمع المسلمون على ذلك، ووردت أخبار الرسل في الكتب بمثله، ومن يقول طريقه العقل قال: لما كان وصفه بالسكوت والخرس والآفة محالاً؛ علم أنه إنما استعمال ذلك لوجوب وصفه بالكلام.

56 - وأجمعت الأمة على أن من قرأ القرآن وتلاه أن الأصوات المسموعة أصوات القارئ التالي.

57 - والأمة مجمعة على أن القراءة من فعل القارئ وكسبه، وأنها طاعة في بعض الأحوال، معصية في بعضها، مثاب أو معاقب.

58 - وأجمعت الأمة على ندب القارئ في الصلاة الجهرية إلى رفع صوته بقراءته على الوجه المعلوم.

59 - واتفق العقلاء على استحالة بقاء الأصوات مع اختلافهم في بقاء سائر الأعراض، فلا يتقرر إثبات صوت قديم أصلاً.

60 - واتفق أهل الحق على قدم كلام الله تعالى.

61 - واتفقت الأمة على وحدانيته تعالى، فلو قامت به أصوات متضادة لكان ذلك اجتماع المتضادات في الموجود الواحد.

62 - وجميع المسلمين صائرون إلى وجوب العلم بأن القرآن كلام الله تعالى.

63 - واتفق المسلمون أن القرآن من كلام الله.

64 - وأجمع أهل الحق والسنة والجماعة أن أمره الذي هو قوله وكلامه غير
54 - একইভাবে তাঁরা সকল কথার ব্যাপারে বলেছেন যে, তা লেখা হয়, মুখস্থ করা হয় এবং শোনা হয়; তবে আল্লাহর কালাম চিরস্থায়ী, আর অন্যদের কথা হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী গুণ যা স্থায়ী থাকে না।

55 - তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহর কালাম কোনো অক্ষর বা শব্দ (ধ্বনি) নয়। তবে তা অক্ষরের মাধ্যমে পাঠ করা হয় এবং বাক্যের মাধ্যমে শোনা যায় এই অর্থে যে, এটি এমন একটি বিষয় যা একটি বিশেষ ভাষায় নির্দিষ্ট বাক্যে পঠিত হয়েছে, যা শ্রোতার কাছে বোধগম্য হয়েছে। তাই একে আরবি বলা হয় এবং তা আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে কথা বলেন (মুতাকাল্লিম), তা জানার পদ্ধতির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: এর মাধ্যম হলো বিবেক, আবার কেউ বলেন: এর মাধ্যম হলো বর্ণনা। যারা বলেন এর মাধ্যম বর্ণনা, তারা বলেন: সকল মুসলিম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং কিতাবসমূহে রাসুলগণের বর্ণনাও অনুরূপ এসেছে। আর যারা বলেন এর মাধ্যম বিবেক, তারা বলেন: যেহেতু তাঁর ক্ষেত্রে মৌনতা, বাকহীনতা ও ত্রুটি দ্বারা বিশেষিত হওয়া অসম্ভব; তাই জানা গেল যে, কথা বলার গুণে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক হওয়ার কারণেই তা সাব্যস্ত হয়েছে।

56 - উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে বা তিলাওয়াত করে, তখন যে শব্দ শোনা যায় তা তিলাওয়াতকারী পাঠকেরই কণ্ঠস্বর।

57 - উম্মত এ বিষয়েও একমত যে, তিলাওয়াত করা পাঠকেরই একটি কাজ এবং অর্জন, আর এটি কোনো কোনো অবস্থায় আনুগত্য এবং কোনো কোনো অবস্থায় অবাধ্যতা, যার ভিত্তিতে সওয়াব বা শাস্তি প্রদান করা হয়।

58 - উম্মত একমত হয়েছে যে, উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতের নামাজে তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপরিচিত পদ্ধতিতে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।

59 - জ্ঞানীরা শব্দের স্থায়িত্ব অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যদিও অন্যান্য ক্ষণস্থায়ী গুণের স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং কোনো অনাদি শব্দের অস্তিত্ব সাব্যস্ত হওয়া একেবারেই সম্ভব নয়।

60 - আহলে হক আল্লাহ তাআলার কালাম অনাদি হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

61 - উম্মত আল্লাহ তাআলার একত্বের ওপর একমত হয়েছে। সুতরাং যদি তাঁর সত্তায় পরস্পরবিরোধী শব্দাবলি বিদ্যমান থাকত, তবে তা একক সত্তার মধ্যে পরস্পরবিরোধী জিনিসের একত্র হওয়াকে আবশ্যক করত।

62 - সকল মুসলিম এ বিষয়ে একমত যে, কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম—এ কথা জানা আবশ্যক।

63 - মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম।

64 - আহলে হক ও সুন্নাত ওয়াল জামাআত একমত হয়েছে যে, তাঁর নির্দেশ—যা মূলত তাঁর কথা ও কালাম—তা (সৃষ্ট) নয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪২)
محدث ولا مخلوق.

 

‌‌ذكر بقية الأسماء والصفات

65 - ووصفنا له سبحانه بأنه على عظيم، وأنه أعلى وأعظم، وأنه متعالي، وأنه كبير، وأكبر، ومتكبر، ورد به نص القرآن، وثبت بالإجماع أن الوصف لله سبحانه بأنه علي، والأعلى، والمتعالي، وأنه عظيم، والأعظم واجب، وكذلك الكبير، والأكبر، والمتكبر، وأكبر.

66 - ووصفنا له سبحانه بأنه الملك المالك لا خلاف بين المسلمين في إطلاق هذه الأوصاف عليه، وقد ورد بذلك الكتاب.

واختلفوا بعد ذلك، فمنهم من قال: إنه من صفات الفعل، ومنهم من قال بأنه من صفات الذات.

67 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الأول والآخر والظاهر والباطن، هذه الأوصاف ورد بها نص القرآن وأجمعت عليها الأمة، واختلفوا في معنى ذلك.

68 - ووصفنا لله سبحانه بأنه العدل البر، هذه التسمية مما قد أجمعت عليه الأمة. وقد ورد نص القرآن بأنه البر الرحيم.

69 - ووصفنا له سبحانه بأنه النور الحق المبين، قد ورد به نص الكتاب، وأجمعت عليه الأمة.

70 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الشهيد الرقيب، هذان الوصفان ورد بهما نص القرآن، وأجمع المسلمون كلهم على وصفه بذلك.

71 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الوكيل الحسيب، هذا الوصفان ورد بهما نص القرآن، وأجمعت الأمة عليهما.

وحكي عن القرظي أنه كان يأبى ذلك ويقول: إن إطلاق ذلك يوهم الخطأ، وأنه كوكيل القوي والحوائج، وذلك لا يليق بوصفه.

72 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الهادي والرشيد، فأما وصفه بأنه الرشيد فقد وردت به السنة، وجاء بهما جميعًا نص القرآن، وأجمعت عليهما الأمة.
সৃষ্ট বা নব্য নয়।

 

‌‌বাকি নাম ও গুণাবলির আলোচনা

৬৫ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে সুউচ্চ, সর্বোচ্চ, উন্নত, মহান, মহাসম্মানিত, বড়, সবচেয়ে বড় এবং গর্বিত হিসেবে বর্ণনা করি। কুরআনের বর্ণনা (নস) দ্বারা তা প্রমাণিত এবং ঐকমত্যের (ইজমা) ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহুকে আলী, আলা, মুতাআলি, আযীম, আযাম, কাবীর, আকবার ও মুতাকাব্বির হিসেবে বর্ণনা করা ওয়াজিব।

৬৬ - আমরা তাঁকে সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে রাজাধিরাজ ও অধিপতি হিসেবে বর্ণনা করি। তাঁর প্রতি এই বর্ণনাগুলো প্রয়োগ করার বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই এবং কুরআনে তা বর্ণিত হয়েছে।

এরপর তাঁরা এটি নিয়ে মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি কার্যগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।

৬৭ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে আদি, অন্ত, প্রকাশ্য ও গোপন হিসেবে বর্ণনা করি। কুরআনের নস দ্বারা এই বর্ণনাগুলো প্রমাণিত এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে; তবে তাঁরা এর অর্থের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

৬৮ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে ন্যায়পরায়ণ ও সদাশয় হিসেবে বর্ণনা করি। এই নামকরণটি এমন বিষয় যা উম্মত ঐকমত্যের সাথে গ্রহণ করেছে। কুরআনের নস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি সদাশয় ও পরম দয়ালু।

৬৯ - আমরা তাঁকে সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে সুস্পষ্ট সত্য জ্যোতি হিসেবে বর্ণনা করি। কিতাবের নস দ্বারা এটি বর্ণিত হয়েছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

৭০ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে প্রত্যক্ষদর্শী ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বর্ণনা করি। এই দুটি বর্ণনা কুরআনের নস দ্বারা প্রমাণিত এবং সকল মুসলিম তাঁকে এগুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

৭১ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে কর্মবিধায়ক ও হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে বর্ণনা করি। এই দুটি বর্ণনা কুরআনের নস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মত এ দুটির বিষয়ে একমত হয়েছে।

কুরাযী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এটি করতে অস্বীকার করতেন এবং বলতেন: এই শব্দের প্রয়োগ ভ্রান্তির উদ্রেক করে; কেননা এটি জাগতিক শক্তিশালী ও প্রয়োজন পূরণের প্রতিনিধির সদৃশ মনে হয়, যা আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনার জন্য সমীচীন নয়।

৭২ - আমরা আল্লাহ সুবহানাহুকে পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে বর্ণনা করি। সঠিক পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে তাঁর বর্ণনার বিষয়টি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং কুরআনের নস দ্বারা এই উভয়টিই সাব্যস্ত হয়েছে এবং উম্মত এ দুটির বিষয়ে একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
73 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الديان مما ورد به الخبر، وأجمعت عليه الأمة.

74 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الداعي المجيب المستجيب مما ورد به القرآن وأجمعت عليه الأمة.

75 - ووصفه سبحانه بأنه الخافض الرافع، قد وردت الأخبار بأن الله تعالى يخفض ويرفع، وأجمعوا على إطلاق القول بأنه خافض رافع، معناهما يقارب معنى المعز والمذل.

76 - ووصف الله سبحانه بأنه المقدم والمؤخر، وهذا مما أجمع المسلمون على جواز وصفه بذلك.

77 - ووصف الله سبحانه بأنه الرازق والرزاق ورد بذلك نص القرآن، وهو إجماع أيضًا.

78 - ووصف الله جل ذكره بأنه الوهاب والواهب وأنه المعطي والمغني والمانع والمبقي والمغني، كل هذه الأوصاف مما ورد في الخبر، ومنها ما ورد به نص القرآن، وعلى ذلك أجمعت الأمة.

79 - ووصفنا لله سبحانه بأنه الباعث الوارث ورد بذلك نص القرآن، وهو إجماع الأمة، لا نعرف فيه خلافًا.

80 - ووصف الله سبحانه بأنه القاضي ورد بذلك نص القرآن، وأجمعت عليه الأمة.

81 - ووصف الله جل ذكره بأنه المقدر، وصف نفسه بذلك في كتابه، وهو إجماع أيضا من كل المذاهب على اختلافها.

82 - ووصفنا له سبحانه بأنه الجامع، وصف نفسه بذلك في كتابه، وأجمع عليه المسلمون.

83 - ووصف الله جل ذكره بأنه الممتحن، أجمع الجميع على أنه تعالى امتحن عبيده بأمره ونهيه.

84 - وأجمعوا أن صافته تعالى لا تشبه صفات المحدثين، كما أن نفسه لا تشبه نفس المخلوقين.
73 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আদ-দাইয়ান' (প্রতিদানকারী) হিসেবে আমাদের গুণান্বিত করা এমন একটি বিষয় যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

74 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আদ-দায়ী' (আহ্বানকারী), 'আল-মাজীব' (সাড়াদানকারী) এবং 'আল-মুস্তাজীব' (প্রার্থনা কবুলকারী) হিসেবে আমাদের গুণান্বিত করা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

75 - মহান আল্লাহকে 'আল-খাফিদ' (অবনতকারী) ও 'আর-রাফি' (উন্নতকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা; কেননা হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ তাআলা অবনত করেন ও উন্নত করেন। আর তারা (উলামায়ে কেরাম) তাঁকে শর্তহীনভাবে 'খাফিদ' ও 'রাফি' বলার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; এই দুটির অর্থ 'আল-মুইয' (সম্মানদানকারী) ও 'আল-মুযিল' (অপমানকারী)-এর অর্থের কাছাকাছি।

76 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আল-মুকাদ্দিম' (অগ্রবর্তীকারী) ও 'আল-মুয়াখখির' (পশ্চাদবর্তীকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা; এটি এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহকে গুণান্বিত করার বৈধতার ওপর মুসলিমগণ একমত হয়েছেন।

77 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আর-রাজিক' ও 'আর-রাজজাক' (রিযিকদাতা) হিসেবে গুণান্বিত করা পবিত্র কুরআনের অকাট্য দলীলে বর্ণিত হয়েছে এবং এটিও একটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়।

78 - আল্লাহ জাল্লা যিকরুহুকে 'আল-ওয়াহহাব' ও 'আল-ওয়াহিব' (দানকারী), এবং তিনি যে 'আল-মু'তী' (প্রদানকারী), 'আল-মুগনী' (অভাবমুক্তকারী), 'আল-মানি' (প্রতিরোধকারী/বঞ্চিতকারী) ও 'আল-মুবকী' (অবশিষ্টকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা; এই সমস্ত গুণাবলী হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে কিছু পবিত্র কুরআনের অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত, আর এর ওপর উম্মত একমত হয়েছে।

79 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আল-বায়িস' (পুনরুত্থানকারী) ও 'আল-ওয়ারিস' (উত্তরাধিকারী) হিসেবে আমাদের গুণান্বিত করা পবিত্র কুরআনের অকাট্য দলীলে বর্ণিত হয়েছে। এটি উম্মতের ঐকমত্য এবং এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই।

80 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আল-কাদী' (বিচারক/ফয়সালাকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা পবিত্র কুরআনের অকাট্য দলীলে বর্ণিত হয়েছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

81 - আল্লাহ জাল্লা যিকরুহুকে 'আল-মুকাদ্দির' (তাকদীর নির্ধারণকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা; তিনি তাঁর কিতাবে নিজেকে এই গুণে গুণান্বিত করেছেন। এটি সকল মাযহাবের (মতভেদ থাকা সত্ত্বেও) অভিন্ন ঐকমত্য।

82 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আল-জামি' (একত্রকারী) হিসেবে আমাদের গুণান্বিত করা; তিনি তাঁর কিতাবে নিজেকে এই গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং মুসলিমগণ এর ওপর একমত হয়েছেন।

83 - আল্লাহ জাল্লা যিকরুহুকে 'আল-মুমতাহিন' (পরীক্ষাকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা; সকলে এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেছেন।

84 - আর তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহর গুণাবলী সৃষ্টবস্তুর গুণাবলীর সদৃশ নয়, যেমন তাঁর সত্তা মাখলুকের সত্তার সদৃশ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌ذكر أحكام بعض الصفات

85 - وأجمعوا على إثبات حياة لله تعالى لم يزل بها حيًا، وعلم لم يزل به عالمًا، وقدرة لم يزل بها قادرًا، وكلام لم يزل به متكلمًا، وإرادة لم يزل بها مريدًا، وسمع وبصر لم يزل بهما سميعًا بصيرًا.

86 - وأجمعوا أن شيئا من هذه الصفات لا يصح أن يكون محدثًا.

87 - وأجمعوا على أن أمره تعالى وقوله غير محدث ولا مخلوق.

88 - وأجمعوا أنه تعالى يسمع ويرى.

89 - وأجمعوا أن لله يدين مبسوطتين.

90 - وأجمعوا أن الأرض جميعًا قبضته يوم القيامة والسماوات مطويات بيمينه من غير أن تكون جوارح.

91 - وأجمعوا أن يديه تعالى غير نعمتيه.

92 - وأجمعوا أنه تعالى يجيء يوم القيامة والملك صفا صفا، لعرض الأمم وحسابها وعقابها وثوابها، فيغفر لمن يشاء من المؤمنين، ويعذب منهم من يشاء كما قال، وليس مجيئه بحركة ولا انتقال.

93 - وأجمعوا أنه تعالى يرضى من الطائعين له، وأن رضاه عنهم إرادته لنعيمهم.

94 - وأجمعوا أنه يحب التوابين، ويسخط على الكافرين ويغضب عليهم، وأن غضبه إرادته لعذابهم، وأنه لا يقوم لغضبه شيء.

95 - وأجمعوا أنه تعالى فوق سمواته.

96 - وأجمعوا على وصف الله تعالى بجميع ما وصف نفسه ووصفه به نبيه من غير اعتراض فيه، ولا تكييف له، وأن الإيمان به واجب وترك التكييف له لازم.

97 - وأجمعوا على أن الواحد منا يستحيل أن يتصف بصفة الله تعالى، ومن
কিছু গুণাবলির (সিফাত) বিধানের আলোচনা

৮৫ - তারা (সালাফগণ) আল্লাহ তাআলার জন্য এমন জীবন (হায়াত) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি অনাদিকাল থেকে জীবিত, এবং এমন জ্ঞান (ইলম) যার দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে সর্বজ্ঞ, এবং এমন ক্ষমতা (কুদরত) যার দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে সর্বশক্তিমান, এবং এমন কথা (কালাম) যার দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে কথা বলেন, এবং এমন ইচ্ছা (ইরাদা) যার দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে ইচ্ছাকারী, এবং শোনা ও দেখা যার দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

৮৬ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এই গুণাবলির কোনোটিই নবোদ্ভূত (সৃষ্ট) হওয়া সঠিক নয়।

৮৭ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নির্দেশ এবং তাঁর কথা নবোদ্ভূত নয় এবং সৃষ্টিও (মাখলুক) নয়।

৮৮ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা শোনেন এবং দেখেন।

৮৯ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে যা প্রসারিত।

৯০ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে আল্লাহর হাতের মুঠোয় এবং আকাশসমূহ ভাঁজ করা থাকবে আল্লাহর ডান হাতে, তবে এগুলো নশ্বর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিসেবে নয়।

৯১ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার হাত দুটি তাঁর দুটি নেয়ামত (অনুগ্রহ) নয়।

৯২ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আগমন করবেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে, জাতিসমূহকে পেশ করা এবং তাদের হিসাব-নিকাশ, শাস্তি ও পুরস্কার প্রদানের জন্য; অতঃপর তিনি মুমিনদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন যেমনটি তিনি বলেছেন; আর তাঁর এই আগমন কোনো নড়াচড়া বা স্থানান্তরের মাধ্যমে নয়।

৯৩ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগত বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, আর তাদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি হলো তাদের নেয়ামত প্রদানের ইচ্ছা করা।

৯৪ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনি তওবাকারীদের ভালোবাসেন, এবং কাফিরদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন ও তাদের ওপর রাগান্বিত হন; আর তাঁর রাগ হলো তাদের শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা করা, এবং তাঁর রাগের সামনে কোনো কিছুই দাঁড়াতে পারে না।

৯৫ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে।

৯৬ - তারা আল্লাহ তাআলাকে সেই সমস্ত গুণে গুণান্বিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর নবী তাঁকে গুণান্বিত করেছেন—এতে কোনো প্রকার আপত্তি বা ধরন (তাকিয়িফ) নির্ধারণ করা ব্যতিরেকেই; এবং এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব ও এর ধরন নির্ধারণ বর্জন করা আবশ্যক।

৯৭ - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আমাদের মধ্য থেকে কারো পক্ষে আল্লাহ তাআলার গুণে গুণান্বিত হওয়া অসম্ভব...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
زعم ذلك فقد خرق الإجماع.

 

‌‌ذكر الملائكة المقربين الحفظة الكرام الكاتبين

98 - واتفقوا أن الملائكة حق.

99 - واتفقوا أن جبريل وميكائيل ملكان رسولان لله عز وجل، مقربان عظيمان عند الله تعالى.

100 - واتفقوا أن الملائكة كلهم مؤمنون فضلاً.

101 - وأجمع المسلمون أن الملائكة مجبولون على طاعة الله عز وجل، معصومون من الغلط والخلاف على الله.

102 - وأجمعوا على أن للعباد حفظة يكتبون أعمالهم.

 

‌‌ذكر الإيمان بالجن

103 - وأجمع المسلمون من أهل السنة على الإيمان بالجن، وعلى أن لهم ثوابًا وعليهم عقاب، وعلى أنهم مأمورون مكلفون.

104 - وأجمعوا على أن الشياطين أمكنهم الله تعالى من أن يتحول أحدهم وينتقل من حال إلى حال، فيتمثل مرة في صورة، ثم مرة في أخرى، ومرة يصل إلى السماء فيسترق السمع، ومرة يصل إلى قلب ابن آدم يوسوس، ومرة يجري من ابن آدم مجرى الدم.

107 - وأجمعوا على أن الإيمان بأن الشياطين تتخبط من بني آدم من سلطها الله عليه و […] كما شاء وكيف شاء.
যে ব্যক্তি এটি দাবি করল, সে ঐকমত্য (ইজমা) লঙ্ঘন করল।

 

‌‌নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ এবং সম্মানিত রক্ষণাবেক্ষণকারী ও লেখক ফেরেশতাগণের আলোচনা

৯৮ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ফেরেশতাগণের অস্তিত্ব সত্য।

৯৯ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, জিবরাঈল ও মিকাঈল মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দুইজন বার্তাবাহক ফেরেশতা, যাঁরা মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত নৈকট্যশীল ও মর্যাদাবান।

১০০ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, সকল ফেরেশতা মর্তবা ও মর্যাদার দিক থেকে মুমিন।

১০১ - মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, ফেরেশতাগণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আনুগত্যের ওপর সৃষ্টিগতভাবে প্রতিষ্ঠিত; তাঁরা ভুলভ্রান্তি এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে নিষ্পাপ।

১০২ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, বান্দাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, যাঁরা তাদের আমলসমূহ লিখে রাখেন।

 

‌‌জিনের প্রতি ঈমান আনার আলোচনা

১০৩ - আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত মুসলিমগণ জিনের প্রতি ঈমান আনার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; আর এটিও যে, তাদের জন্য প্রতিদান ও শাস্তি রয়েছে এবং তারা আল্লাহর নির্দেশিত ও শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ।

১০৪ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহ শয়তানদের এই ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তাদের কেউ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত ও স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে সে কখনো কোনো রূপ ধারণ করে, আবার কখনো অন্য রূপ; কখনো সে আকাশে আরোহণ করে সংবাদ চুরি করে শোনে, কখনো সে আদমসন্তানের অন্তরে পৌঁছে কুমন্ত্রণা দেয়, আবার কখনো সে আদমসন্তানের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে।

১০৭ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, এ কথার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক যে, শয়তানরা আদমসন্তানদের মধ্যে যাদের ওপর আল্লাহ তাকে আধিপত্য দিয়েছেন, তাদের স্পর্শের মাধ্যমে অপ্রকৃতিস্থ বা বিভ্রান্ত করতে পারে এবং […] যেভাবে আল্লাহ চান এবং যেমনভাবে তিনি চান।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌ذكر القرآن العظيم والذكر الحكيم

108 - واتفقوا أن القرآن المتلو الذي هو في المصحف [بأيدي النسا في] شرق الأرض وغربها من أول {الحمد لله رب العالمين} إلى آخر {قل أعوذ برب الناس}، هو كلام الله عز وجل ووحيه الذي أنزله على نبيه صلى الله عليه وسلم مختارًا له من الناس.

109 - واتفقوا على أن كل ما في القرآن حق، وأن من زاد فيه حرفًا من غير القراءات المروية المحفوظة المنقولة [نقل الكافة] أو نقص منه حرفًا أو بدل منه حرفًا مكان حرف [وقد قامت عليه الحجة أنه من القرآن فتمادى] متعمدًا لذلك عالمًا بأنه خلاف ما فصل؛ فإنه كافر.

110 - واتفقوا ألا يكتب في المصحف متصلا بالقرآن ما ليس من القرآن.

111 - واتفقوا أن {بسم الله الرحمن الرحيم} آية من القرآن في سورة النمل.

112 - واتفقوا أنها [ليست في أول براءة] وأنها لا تكتب هناك.

113 - واتفقوا أن النبي عليه السلام [دعا] العرب قاطبة إلى أن يأتوا بمثل هذا القرآن، فعجزوا عنه كلهم.
মহান কুরআন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকিরের বর্ণনা

১০৮ - তারা একমত হয়েছেন যে, পঠিত কুরআন যা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে মানুষের হাতে থাকা মুসহাফে (লিপিবদ্ধ অবস্থায়) রয়েছে—'সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য' থেকে শুরু করে 'বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের নিকট' পর্যন্ত—তা মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর ওহী, যা তিনি মানুষের মধ্য থেকে মনোনীত তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ করেছেন।

১০৯ - তারা একমত হয়েছেন যে, কুরআনে যা কিছু আছে তা সত্য। আর সংরক্ষিত ও সর্বজনীনভাবে বর্ণিত কিরাতসমূহ ব্যতীত কেউ যদি এতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করে, অথবা একটি অক্ষর কমিয়ে দেয়, কিংবা একটি অক্ষরের স্থলে অন্য একটি অক্ষর পরিবর্তন করে দেয়—অথচ তার নিকট এটি যে কুরআনের অংশ তার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও সে হঠকারিতা করে এবং এটি যে মূল পাঠের বিপরীত তা জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে করে—তবে সে কাফির।

১১০ - তারা একমত হয়েছেন যে, যা কুরআনের অংশ নয় তা মুসহাফে কুরআনের সাথে যুক্ত করে লেখা যাবে না।

১১১ - তারা একমত হয়েছেন যে, 'পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে' সূরা আন-নামলের অন্তর্ভুক্ত কুরআনের একটি আয়াত।

১১২ - তারা একমত হয়েছেন যে, এটি সূরা বারায়াতের (সূরা তাওবার) শুরুতে নেই এবং সেখানে এটি লেখা হবে না।

১১৩ - তারা একমত হয়েছেন যে, নবী (আলাইহিস সালাম) সমগ্র আরব জাতিকে এই কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সকলেই তা করতে অক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌ذكر النبيين […]

114 - واتفقوا أن كل نبي ذكر في القرآن فهو حق، كآدم وإدريس، وموسى ونوح، وهود وصالح، وشعيب ويونس، و [إبراهيم] وإسماعيل، وإسحاق ويعقوب، ويوسف وهارون، وداود وسليمان، وإلياس واليسع، ولوط وزكريا ويحيى وعيسى، وأيوب وذا الكفل.

واختلفوا في نبوة مريم وأم موسى وأم إسحاق.

115 - واتفقوا أن عيسى عبد الله مخلوق من غير ذكر، لكن في بطن مريم [وهي بكر].

116 - وأجمع المسلمون على أن الله تعالى خص آدم عليه السلام بأن خلقه بيده وأسجد له ملائكته وجعله أبًا […] وكذلك خص إبراهيم عليه السلام بأن اتخذه خليلاً من بين أهل الأرض فأخله - أي: اقتطعه واختصه من بينهم بالمحبة - وكذلك موسى صلى الله عليه وسلم بأنه أسمعه جل وعز كلامه الذي هو من صفات ذاته، وأنه بغير واسطة، وكذلك خص عيسى عليه السلام […] من غير أب وأنطقه في المهد، وجعله يبرئ الأكمه والأبرص ويحيي الموت بإذن الله. وكذلك اختص محمدًا صلى الله عليه وسلم بأي القرآن العظيم والذكر الحكيم، المعجز الذي ليس في قدر المخلوقين الإتيان بمثله، ولو تظاهر على ذلك الإنس والجن، وبأن جعله خاتم […] للمذنبين من الأولين والآخرين، وبأن أرسله إلى الخلق أجمعين، وخصه بالحوض المورود، والكوثر الممدود.
‌‌নবীদের আলোচনা […]

১১৪ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, কুরআনে উল্লিখিত প্রত্যেক নবীই সত্য, যেমন আদম, ইদরিস, মুসা, নূহ, হুদ, সালেহ, শুআইব, ইউনুস, [ইবরাহিম], ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, ইউসুফ, হারুন, দাউদ, সুলাইমান, ইলিয়াস, আল-ইয়াসা, লুত, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, আইয়ুব এবং যুল-কিফল।

আর তাঁরা মারইয়াম, মুসার মা এবং ইসহাকের মায়ের নবুওয়াতের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

১১৫ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ঈসা আল্লাহর বান্দা, যাকে কোনো পুরুষ ছাড়াই সৃষ্টি করা হয়েছে, তবে তা মারইয়ামের গর্ভে [যিনি কুমারী ছিলেন]।

১১৬ - মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে এই বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন যে, তিনি তাঁকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সামনে ফেরেশতাদের সিজদাহ করিয়েছেন এবং তাঁকে পিতা বানিয়েছেন […] অনুরূপভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে এই বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যে, তিনি তাঁকে পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁকে 'আখালাহু' করেছেন—অর্থাৎ তাঁর মহব্বতের জন্য তাঁকে অন্যদের থেকে পৃথক ও বিশিষ্ট করেছেন। তদ্রূপ মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই বিশেষত্ব দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর মহান বাণী শুনিয়েছেন, যা তাঁর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত এবং তা কোনো মাধ্যম ছাড়াই হয়েছে। অনুরূপভাবে ঈসা আলাইহিস সালামকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন কোনো পিতা ছাড়াই […] সৃষ্টি করার মাধ্যমে এবং দোলনায় কথা বলানোর মাধ্যমে, আর তাঁকে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করার এবং আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা দান করেছেন। তেমনিভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান কুরআন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (যিকির) দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, যা এমন এক মুজিযা যা আনয়ন করা সৃষ্টিজীবের সাধ্যাতীত, যদিও মানুষ ও জিন সকলে মিলে এর জন্য পরস্পরকে সাহায্য করে। এবং তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহগারদের জন্য সুপারিশকারী ও নবীদের মোহর […] করেছেন, এবং তাঁকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে হাউযে মাওরুদ ও প্রবহমান কাউসার দ্বারা বিশেষিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
117 - وأجمع المحققون […] الأمة وخلفها قاطبة على ثبوت عصمة النبيين عن جملة الكبائر.

118 - واختلفوا في جواز بدور الصغائر منهم، والجمهور ذاهب إلى أنهم معصومون عن الصغائر، كما عصموا عن الكبائر.

119 - وأجمع المسلمون أن العصمة لا تجب للصحابة.

 

‌‌ذكر محمد صلى الله عليه وسلم

120 - واتفقوا أن محمد بن عبد الله القرشي الهاشمي المبعوث بمكة المهاجر إلى المدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى جميع الجن والإنس إلى يوم القيامة.

121 - واتفقوا أنه لا نبي بعده عليه السلام.

122 - واتفقوا أنه صلى الله عليه وسلم مات بيثرب وأن قبره بها، وأنه نكح النساء [وأولد] وأنه كان عبدًا لله تعالى مخلوقًا من ذكر وأنثى، ويأكل ويجوع، ويصح ويمرض، وأنه عليه السلام بقي بالمدينة عشر سنين نبيًا [ورسولاً] وبمكة مثلها نبيًا رسولاً.

واختلفوا هل بقي بمكة أكثر أم لا.

123 - واتفقوا أنه مذ مات عليه السلام وانقطع الوحي، وكمل الدين [واستقر، و] لا يحل لأحد أن يزيد في الدين شيئًا من رأيه بغير استدلال منه، ولا أن ينقص منه شيئًا ولا أن يبدل شيئًا مكان شيء، ولا أن يحدث
১১৭ - এবং উম্মতের বিজ্ঞ গবেষকগণ ও তাঁদের উত্তরসূরিগণ সামগ্রিকভাবে সকল নবীগণের কবিরা গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

১১৮ - নবীগণের মাধ্যমে সগিরা গুনাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন; তবে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের অভিমত হলো, নবীগণ যেমন কবিরা গুনাহ থেকে নিষ্পাপ, তেমনি তাঁরা সগিরা গুনাহ থেকেও নিষ্পাপ।

১১৯ - আর মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সাহাবীগণের জন্য 'ইসমা' বা নিষ্পাপ হওয়া অপরিহার্য নয়।

 

‌‌মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা

১২০ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ কুরাইশী হাশেমী, যিনি মক্কায় প্রেরিত হয়েছেন এবং মদিনায় হিজরত করেছেন, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত জিন ও মানবজাতির প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

১২১ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, তাঁর (আলাইহিস সালাম) পর আর কোনো নবী নেই।

১২২ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াছরিবে (মদিনায়) ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর কবর সেখানেই অবস্থিত। তিনি নারীগণকে বিবাহ করেছেন [এবং তাঁর সন্তানাদি হয়েছে] এবং তিনি মহান আল্লাহর একজন বান্দা ছিলেন, যিনি একজন পুরুষ ও একজন নারীর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছেন; তিনি আহার করতেন ও ক্ষুধার্ত হতেন, সুস্থ হতেন ও অসুস্থ হতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) মদিনায় দশ বছর নবী [ও রাসূল] হিসেবে অবস্থান করেছেন এবং মক্কায় অনুরূপ সময় নবী ও রাসূল হিসেবে অবস্থান করেছেন।

তবে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, তিনি মক্কায় এর চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন কি না।

১২৩ - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, তাঁর (আলাইহিস সালাম) ইন্তেকালের পর থেকে ওহী বন্ধ হয়ে গেছে এবং দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়েছে [ও স্থিতি লাভ করেছে]। এখন কারো জন্য বৈধ নয় যে সে দ্বীনের মধ্যে নিজ থেকে কোনো দলিল ছাড়া নিজের মতামতের ভিত্তিতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করবে, অথবা তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করবে, অথবা কোনো বিষয়ের স্থলে অন্য কিছু পরিবর্তন করবে, অথবা কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
شريعة [وأن من فعل] ذلك كافر.

124 - واتفقوا أنه صلى الله عليه وسلم وأصحابه لا يرجعون إلى الدنيا إلى حين البعث مع جميع الناس.

125 - وأجمعوا أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا جميع الخلق إلى معرفة الله، وإلى نبوته، ونهاهم عن الجهل بالله تعالى، وعن تكذيبه.

126 - وأجمعوا أنه عليه السلام بين لهم […] دعاهم إليه من الأحكام والإيمان، وما رغبهم فيه من منازل الإحسان، وأنه عليه السلام لم يؤخر عنهم بيان شيء مما دعاهم إليه […] تكليفهم فعله بما يوجبه تأخير ذلك عنهم عن سقوط تكليفهم له، وإنما جوزت فرقة تأخير البيان فيما أجمله الله من الأحكام قبل […] لهم فأما تأخير ذلك عن وقت فعله فغير جائز عند كافتهم.

127 - وأجمعوا على الإيمان بأن النبي صلى الله عليه وسلم أسرى به من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، وعرج به إلى السموات العلى، وعلى أن الله عز وجل فرض عليه الصلوات هنالك، وعلى أنه لقي آدم وإبراهيم […] وعيسى وإدريس عليهم السلام، على ما أتى في الأثر لا يعارض ذلك بفعل ولا يطعن فيه برد، قال عليه السلام: «فعرج بي حتى ظهرت [لمستوى أسمع] فيه صريف الأقلام».

128 - وأجمعوا على أن الإسراء الذي فرضت فيه الصلاة كان بمكة، ومما هو إجماع أو كالإجماع أن النبي صلى الله عليه وسلم […] بجسمه وروحه لا
শরীয়াহ [এবং যে ব্যক্তি তা করবে] সে কাফির।

124 - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত সকল মানুষের সাথে দুনিয়াতে ফিরে আসবেন না।

125 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত সৃষ্টিকে আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর নবুওয়াতের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাদেরকে মহান আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও তাঁকে অস্বীকার করা হতে নিষেধ করেছেন।

126 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন […] যা কিছুর প্রতি তিনি তাদের আহ্বান করেছেন বিধানাবলি ও ঈমান থেকে, এবং ইহসানের যে স্তরের প্রতি তিনি তাদের উৎসাহিত করেছেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের নিকট কোনো কিছুর বর্ণনা বিলম্বিত করেননি যার প্রতি তিনি তাদের আহ্বান করেছেন […] তাদের সেই আমল করার বাধ্যবাধকতা যা সেই বিলম্বিতকরণের ফলে তাদের থেকে রহিত হয়ে যাওয়ার কারণ হত। তবে একটি দল কেবল সেই সব বিধানের ক্ষেত্রে বর্ণনা বিলম্বিত করা বৈধ বলেছেন যা আল্লাহ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছিলেন […] তাদের নিকট; তবে আমল করার সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা তাদের সকলের মতেই জায়েয নয়।

127 - তারা এই ঈমান পোষণের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসায় নৈশ ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছে এবং তাঁকে উচ্চাকাশে আরোহণ (মিরাজ) করানো হয়েছে। আর মহান আল্লাহ সেখানে তাঁর ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তিনি আদম, ইবরাহীম, […] ঈসা ও ইদরীস (আলাইহিমুস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যেমনটি বর্ণনায় এসেছে। কোনো কর্ম দ্বারা এর বিরোধিতা করা যাবে না এবং প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে এতে কোনো দোষারোপ করা যাবে না। তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "অতঃপর আমাকে উপরে নিয়ে যাওয়া হলো, এমনকি আমি এমন এক স্তরে উপনীত হলাম যেখানে আমি কলমসমূহের ঘর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।"

128 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ইসরা-তে সালাত ফরজ করা হয়েছিল তা মক্কায় হয়েছিল। এবং যা ইজমা বা ইজমার সমতুল্য তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) […] তাঁর দেহ ও রূহ সহকারে, না...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫০)
بروحه دون جسمه.

 

‌‌ذكر ما جاء به عليه السلام وبلغه عن ربه

129 - وأجمعوا على التصديق بما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتاب الله تعالى، وما ثبت به النقل من سائر سننه، ووجوب العمل بمحكمه، والإقرار بنص مشكله ومتشابهه، ورد كل ما لم نحط به علمًا بتفسيره إلى الله تعالى مع الإيمان بنصه.

130 - وأجمعوا أن ذلك لا يكون إلا فيما كلفوا الإيمان بجملته دون تفصيله.

131 - وأجمعوا على أن الإيمان بما جاء من خبر الإسراء بالنبي صلى الله عليه وسلم إلى السموات واجب، وكذلك ما روي من خبر الدجال، ونزول عيسى ابن مريم وقتله الدجال وغير ذلك من سائر الآيات التي تواترت الروايات بكونها بين يدي الساعة من طلوع الشمس من مغربها، وخروج الدابة، مما نقله إلينا الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعرفونا صحته.

 

‌‌ذكر عذاب القبر والنفخ في الصور والحشر بعد النشر

132 - وأجمعوا أن عذاب القبر حق، وعلى أن الناس يفتنون في قبورهم بعد أن يحيوا فيها، فيثبت الله من أحب تثبيته.

133 - وأجمعوا أنهم لا يذوقون ألم الموت بعد ذلك.

134 - وأجمع أهل الإسلام من أهل السنة على أن عذاب القبر حق، وعلى أن منكرًا ونكيرًا ملكي القبر حق، وعلى أن الناس يفتنون في قبورهم بعدما
তাঁর রূহ দ্বারা, তাঁর শরীর ছাড়াই।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিয়েছেন তার বর্ণনা

129 - তাঁরা (উলামায়ে কেরাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবে যা কিছু নিয়ে এসেছেন এবং তাঁর অপরাপর সুন্নাহর বর্ণনার মাধ্যমে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে, তার সত্যতা স্বীকার করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তেমনিভাবে এর দ্ব্যর্থহীন (মুহকাম) বিধান অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া এবং এর অস্পষ্ট (মুশকাল) ও রূপক (মুতাশাবিহ) বিষয়ের পাঠকে (নস) স্বীকার করা এবং যেগুলোর ব্যাখ্যার জ্ঞান আমাদের আয়ত্তে নেই, সেই বিষয়গুলো এর মূল পাঠের ওপর ঈমান রাখাসহ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।

130 - তাঁরা আরও একমত হয়েছেন যে, এটি কেবল সেই সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে তাঁদেরকে বিস্তারিতভাবে নয় বরং সামগ্রিকভাবে ঈমান আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

131 - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসমানসমূহে ভ্রমণের ইসরা-সংক্রান্ত সংবাদে যা এসেছে তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে দাজ্জালের সংবাদ, ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ ও তাঁর দাজ্জালকে হত্যা করা এবং কিয়ামতের পূর্বের অন্যান্য নিদর্শনাবলি যা সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে মুতাওয়াতির বর্ণনা এসেছে—যেমন পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় এবং ভূগর্ভস্থ প্রাণীর (দাব্বাতুল আরদ) নির্গমন—যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং যার বিশুদ্ধতা আমাদের জানিয়েছেন, সেগুলোর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব।

 

‌‌কবরের আযাব, সূরে ফুঁৎকার এবং পুনরুত্থানের পর হাশরের বর্ণনা

132 - তাঁরা একমত হয়েছেন যে কবরের আযাব সত্য, এবং মানুষ কবরে জীবিত হওয়ার পর সেখানে তাদের পরীক্ষা করা হবে। অতঃপর আল্লাহ যাকে সুদৃঢ় রাখা পছন্দ করেন তাকে তিনি অবিচল রাখবেন।

133 - তাঁরা একমত হয়েছেন যে, এরপর তারা আর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না।

134 - আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ইসলামের অনুসারীগণ একমত হয়েছেন যে কবরের আযাব সত্য, কবরের দুই ফেরেশতা মুনকার ও নাকির সত্য এবং মানুষ তাদের কবরে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে—যখন তাদের...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫১)
يحيون فيها، فيقال له: من ربك؟ وما دينك؟ ومن نبيك؟ فيثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت في الحياة الدنيا وفي الآخرة، ويضل الله الظالمين ويفعل الله ما يشاء.

135 - وأجمعوا على الإيمان بالصور، وعلى أنه ينفخ فيه.

136 - وأجمعوا على أنه ينفخ في الصور قبل يوم القيامة فيصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من شاء الله، ثم ينفخ فيه أخرى، فإذا هم قيام ينظرون.

137 - وأجمعوا على أن الله تعالى يعيدهم كما بدأهم حفاة عراة (غرلاً).

138 - وأجمعوا على أن الأجساد التي أطاعت وعصت هي التي تبعث يوم القيامة، وكذلك الجلود التي كانت في الدنيا والألسنة والأيدي والأرجل هي التي تشهد عليهم يوم القيامة.

139 - وأجمعوا على أن الله يعيد الخلق كما بدأهم؛ فريقا هدى وفريقًا حق عليهم الضلالة.

 

‌‌ذكر الحساب والميزان والصراط

140 - وأجمعوا أن الخلق يؤتون صحف أعمالهم فمن أوتي كتابه بيمينه حوسب حسابا يسيرًا، ومن أوتي كتابه بشماله فأولئك يصلون سعيرًا.

141 - وأجمعوا على الإيمان والإقرار والتصديق بالميزان الذي توزن به أعمال العباد، فمن ثقلت موازينه أفلح ونجا، ومن خفت موازينه خاب وخسر.
তারা সেখানে জীবনপ্রাপ্ত হয়, তারপর তাকে বলা হয়: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? অতঃপর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে ও পরকালে শাশ্বত বাণীর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং আল্লাহ জালিমদের বিভ্রান্ত করেন আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।

১৩৫ - আর তাঁরা 'সূর' (শিংগা)-এর ওপর ঈমান রাখার ব্যাপারে এবং তাতে ফুঁৎকার দেওয়া হবে—এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

১৩৬ - আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কিয়ামত দিবসের পূর্বে সূরে ফুঁৎকার দেওয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত। অতঃপর পুনরায় তাতে ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে।

১৩৭ - আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন যেভাবে তিনি তাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন—খালি পায়ে, নগ্ন গায়ে এবং খতনাবিহীন অবস্থায়।

১৩৮ - আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সেই দেহসমূহ যা আনুগত্য করেছিল এবং নাফরমানি করেছিল, সেগুলোই কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হবে। অনুরূপভাবে দুনিয়াতে যে চামড়া, জিহ্বা, হাত ও পা ছিল, সেগুলোই কিয়ামত দিবসে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।

১৩৯ - আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে তিনি তাদের সূচনা করেছিলেন; একদল হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে এবং অন্য দলের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হবে।

 

‌‌হিসাব, মীযান (পাল্লা) এবং সিরাত (পুল) সংক্রান্ত আলোচনা

১৪০ - আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মাখলুকাতকে তাদের আমলনামা প্রদান করা হবে। অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব অত্যন্ত সহজ হবে। আর যাকে তার আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে, তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।

১৪১ - আর তাঁরা 'মীযান' বা পাল্লার ওপর ঈমান রাখা, স্বীকৃতি দেওয়া এবং সত্য বলে বিশ্বাস করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যার মাধ্যমে বান্দাদের আমলসমূহ ওজন করা হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম ও নাজাতপ্রাপ্ত হবে, আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫২)
142 - وأجمعوا أن كفة السيئات تهوي إلى جهنم وأن كفة الحسنات تهوي عند زيادتها إلى الجنة.

143 - وأجمعوا أن الصراط جسر ممدود على جهنم يجوز عليه العباد بقدر أعمالهم، وأنهم يتفاوتون بالإبطاء والسرعة على قدر ذلك.

 

‌‌ذكر الحوض والشفاعة

144 - وأجمعوا على أن للنبي صلى الله عليه وسلم حوضًا ترده أمته يوم القيامة، لا يظمأ من شرب منه (ويذاد) عنه من بدل وغير بعده.

145 - وأجمعوا على أن الإيمان مع القول بشفاعة النبي عليه السلام لأهل الكبائر من أمته.

146 - وأجمعوا على أن الله تعالى يخرج من في قلبه شيء من الإيمان بعد الانتقام.

147 - وأجمعوا على أنه يخرج من النار قومًا من أمته صلى الله عليه وسلم بعد ما صاروا (حممًا) فيطرحون في نهر الحياة فينبتون كما تنبت الحبة في (حميل) السيل.

 

‌‌ذكر الجنة والنار

148 - وأجمع المسلمون من أهل السنة على أن الجنة والنار مخلوقتان بعد، وعلى أن الله قد أعدهما لأهلهما، وعلى أن علمه قد أحاط بمن يسكنهما.

149 - وأجمعوا على أنهما لا يبيدان، ولا يفنيان.
142 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, পাপের পাল্লা জাহান্নামের দিকে ঝুঁকে পড়বে এবং পুণ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সময় পুণ্যের পাল্লা জান্নাতের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

143 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সিরাত হলো জাহান্নামের ওপর বিছানো একটি সেতু, যা বান্দারা তাদের আমল অনুযায়ী পার হবে। আর তারা তাদের আমল অনুযায়ী মন্থর গতি বা দ্রুত গতির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হবে।

 

‌‌হাউজ ও শাফায়াত (সুপারিশ) প্রসঙ্গ

144 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাউজ রয়েছে, যেখানে কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মত উপস্থিত হবে। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না এবং যারা তাঁর পরে (দীনের মাঝে) পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেছে তাদেরকে তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

145 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নবী আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য শাফায়াতের (সুপারিশের) প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

146 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা শাস্তির পর যার হৃদয়ে সামান্যতম ঈমান থাকবে তাকে (জাহান্নাম থেকে) বের করবেন।

147 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন যখন তারা কয়লায় পরিণত হবে; অতঃপর তাদেরকে জীবন-নদীতে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তারা সেভাবে অঙ্কুরিত হবে যেভাবে স্রোতের পলিমাটিতে বীজ অঙ্কুরিত হয়।

 

‌‌জান্নাত ও জাহান্নাম প্রসঙ্গ

148 - আহলে সুন্নাহর মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে সৃষ্টি করা অবস্থায় আছে, আর আল্লাহ সে দুটিকে তাদের অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং যারা সেখানে বসবাস করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান পরিবেষ্টন করে আছে।

149 - তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এ দুটি কখনো বিলুপ্ত হবে না এবং ধ্বংস হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
150 - وأجمعوا على أن أهل الجنة خالدون فيهما أبدًا، خلودًا لا انقطاع له ولا انقضاء.

151 - وأجمعوا على أن من خلده الله في النار من الكافرين والمشركين والمنافقين ومن شاء من خلقه، بعد من يخرجه منها بالتوحيد والشفاعة مخلدون فيها أبدًا خلودًا لا انقطاع له ولا انقضاء.

152 - واتفقوا على أن ما وصف الله في الجنة - من أكل وشرب وأرواح مقدسات ولباس ولذات - حق صحيح.

153 - واتفقوا أنه ليس شيء من ذلك معاني لنار، وأنه لا ذبح فيها ولا موت، وأن كل ذلك بخلاف ما به الدنيا، لكن أمر من أمره لا يعلم كيفيته غيره.

154 - واتفقوا أن الأجساد تدخل مع أنفسها الفاضلة الجنة بعد أن تصفي الأجساد من كل كدر، والأنفس من كل غل.

155 - واتفقوا أن أجساد العصاة تدخل مع أنفسهم في النار وأن الأنفس لا تنتقل بعد خروجها من الأجسام إلى أجسام أخرى البتة، لكنها تستقر حيث شاء الله تعالى، واختلفوا في موضع استقرارها، وفي فنائها ثم عودتها، أو لا فناء لها.

 

‌‌ذكر […]

156 - وأجمع المسلمون من أهل السنة على أن وعد الله تبارك وتعالى لأهل طاعته حتم لا خلف فيه ولا استثناء.

157 - وأجمعوا أن وعيده الذي توعد به الموحدين من أهل الكبائر، له فيه
150 - তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জান্নাতবাসীরা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে; এমন এক চিরস্থায়িত্ব যার কোনো ছেদ বা সমাপ্তি নেই।

151 - তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে কাফির, মুশরিক, মুনাফিক এবং যাদেরকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী করতে চেয়েছেন—তাওহীদ ও শাফায়াতের মাধ্যমে যাদেরকে তিনি বের করবেন তাদের বাদে—তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে; এমন এক চিরস্থায়িত্ব যার কোনো ছেদ বা সমাপ্তি নেই।

152 - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ জান্নাত সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন—যেমন পানাহার, পবিত্র আত্মা (বা সত্তা), পোশাক-পরিচ্ছদ ও আনন্দ-ভোগ—তা সত্য ও সঠিক।

153 - তারা একমত হয়েছেন যে, জান্নাতের এই বিষয়গুলোর কোনটিই আগুনের রূপক অর্থবোধক নয়; সেখানে কোনো মৃত্যু বা যবেহ নেই; এবং জান্নাতের এই সবকিছুই দুনিয়ার বিষয়ের বিপরীত, তবে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক বিষয় যার ধরণ বা পদ্ধতি তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।

154 - তারা একমত হয়েছেন যে, দেহসমূহ তাদের শ্রেষ্ঠ আত্মাসহ জান্নাতে প্রবেশ করবে, দেহগুলোকে সকল পঙ্কিলতা থেকে এবং আত্মাগুলোকে সকল প্রকার বিদ্বেষ থেকে পবিত্র করার পর।

155 - তারা একমত হয়েছেন যে, অবাধ্যদের দেহসমূহ তাদের আত্মাসহ জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আত্মাগুলো দেহ থেকে বের হওয়ার পর অন্য কোনো দেহে কখনোই স্থানান্তরিত হয় না। বরং আত্মা আল্লাহ তাআলা যেখানে ইচ্ছা করেন সেখানেই অবস্থান করে। তবে তারা আত্মার অবস্থানের স্থান নিয়ে এবং এর বিনাশ ও পুনরায় ফিরে আসা, অথবা এর আদৌ বিনাশ না হওয়া সম্পর্কে মতবিরোধ করেছেন।

 

‌‌উল্লেখ […]

156 - আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, অনুগতদের জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রতিশ্রুতি অবধারিত, যাতে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা ব্যতিক্রম নেই।

157 - তারা একমত হয়েছেন যে, কবীরা গুনাহে লিপ্ত তাওহীদবাদীদের জন্য তাঁর যে শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে, তাতে তাঁর...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الخيار؛ إن شاء عذبهم بذنوبهم فعدل، وإن شاء غفر لهم.

158 - وأجمعوا أن الكبائر ليست بشرك، ولا كفر، وأن صاحب الكبيرة فاسق بكبيرته مؤمن بإيمانه.

159 - وأجمعوا أن من دخل النار من أهل الجرائم فأنفذ الله عليه وعيده، وكان سليم التوحيد مؤمنا بالله وبرسله، وبجميع ما أمر بالإيمان به، يخرج من النار غير مخلد فيها بالشفاعة وبرحمة الله.

160 - وأجمعوا على أن من لم يجز على الله المغفرة لمن شاء من أهل الوعيد، أو كفر أهل الكبائر بكبائرهم أو أهل الذنوب بذنوبهم، فمبتدع.

 

‌‌ذكر القدر والإيمان به وباللوح المحفوظ

161 - وأجمعوا على أن الإقرار بالقدر مع الإيمان به واجب.

162 - وأجمعوا على أن الله أضل من شاء من خلقه فعدل عليه وتركه من توفيقه، فلم يمنعه حقا هو له، وخذله فتركه من […]، فلم يحل بينه وبين واجب له؛ لأنه تبارك وتعالى ما فعل من ذلك فله فعله، وله أن يتفضل على من شاء، وله أن لا يتفضل؛ لأن الأمر أمره، والخلق خلقه.

163 - وأجمعوا على أن الله هدى من شاء وتفضل عليه وشرح صدره.

164 - وأجمعوا على أنه يعز من يشاء ويذل من يشاء، ويغني من يشاء، ويفقر من يشاء، وعلى أن أفعاله لا اعتراض عليها، ولا تقاس أفعاله بأفعال خلقه، وأنه لا علة لأفعاله، خلقه لها بإرادته التي هي من ذاته.

165 - وأجمعوا على أن الله تعالى عادل في جميع أفعاله وأحكامه ساءنا ذلك أم سرنا أم ضرنا.

166 - وأجمعوا على أن الله تعالى لو شاء أن يخلق عباده كلهم مؤمنين مطيعين له الفعل، كما شاء أن يخلق بعضهم كافرين به جاحدين لرسله.
(তাঁর) ইখতিয়ার (ইচ্ছা); তিনি চাইলে তাদের গুনাহের কারণে শাস্তি দেবেন এবং সেটিই হবে ন্যায়বিচার, আর চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেবেন।

১৫৮ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কবিরা গুনাহসমূহ শিরক নয় এবং কুফরও নয়। আর কবিরা গুনাহকারী তার কবিরা গুনাহের কারণে ফাসেক, কিন্তু তার ঈমানের কারণে সে মুমিন।

১৫৯ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, অপরাধীদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাদের ওপর তাঁর শাস্তির প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবেন, অথচ সে বিশুদ্ধ তাওহিদের অধিকারী ছিল এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও যা কিছুর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার সবকিছুর প্রতি বিশ্বাসী ছিল, সে শাফায়াত ও আল্লাহর রহমতে জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং সেখানে চিরস্থায়ী হবে না।

১৬০ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যারা শাস্তির যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে আল্লাহর ইখতিয়ারকে স্বীকার করে না, অথবা কবিরা গুনাহকারীদের তাদের গুনাহের কারণে কাফের বলে, অথবা পাপীদের তাদের পাপের কারণে কাফের বলে, সে বিদআতি।

 

‌‌তাকদীর, এর প্রতি ঈমান এবং লাওহে মাহফুজ-এর আলোচনা

১৬১ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তাকদীরের স্বীকৃতি দেওয়ার সাথে সাথে এর প্রতি ঈমান রাখা ওয়াজিব।

১৬২ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে চান তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং এটিই তার প্রতি ইনসাফ, আর তিনি তাকে স্বীয় তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেন। তিনি তার কোনো পাওনা অধিকার তাকে দিতে অস্বীকার করেননি। তিনি তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে […] অবস্থায় ছেড়ে দেন; তবে তিনি তার এবং তার ওপর অর্পিত কোনো ওয়াজিবের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করেন না। কেননা মহান আল্লাহ যা করেন, তা করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। তিনি যাকে চান তার ওপর অনুগ্রহ করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন; কেননা সমস্ত আদেশ তাঁরই এবং সমস্ত সৃষ্টিও তাঁরই।

১৬৩ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন, তার ওপর অনুগ্রহ করেন এবং তার বক্ষ উন্মোচন করে দেন।

১৬৪ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তিনি যাকে চান সম্মানিত করেন এবং যাকে চান লাঞ্ছিত করেন। তিনি যাকে চান অভাবমুক্ত করেন এবং যাকে চান অভাবী করেন। আর তাঁর কার্যাবলীর ওপর কোনো আপত্তি করা চলে না এবং তাঁর কার্যাবলীকে তাঁর সৃষ্টির কার্যাবলীর সাথে তুলনা করা যায় না। আর তাঁর কার্যাবলীর কোনো বাহ্যিক কারণ (ইল্লত) নেই; তিনি তাঁর স্বীয় সত্তার অন্তর্ভুক্ত ইচ্ছার মাধ্যমেই সৃষ্টিসমূহকে সৃষ্টি করেছেন।

১৬৫ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত কাজ ও ফয়সালায় ন্যায়পরায়ণ; সেটি আমাদের কাছে খারাপ লাগুক বা ভালো লাগুক, কিংবা আমাদের কোনো ক্ষতি করুক।

১৬৬ - আর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তাঁর সকল বান্দাকেই মুমিন ও আনুগত্যকারী হিসেবে সৃষ্টি করতে পারতেন, ঠিক যেমন তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে তাদের কাউকে কাউকে তাঁর প্রতি কুফরি পোষণকারী ও তাঁর রাসূলদের অস্বীকারকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
167 - وأجمع المسلمون على قول: لا (حول) ولا قوة إلا بالله، وعلى قول: ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن.

168 - وأجمعوا على أن طاعة الله تعالى واجبة، وإن كان السابق من علمه فيهم وإرادته لهم أنهم لا يطيعونه، وأن ترك معصيته لازم، وإن كان السابق في علمه وإرادته أنهم يعصونه، وأنه تعالى يطالبهم بالأمر والنهي، ويمدحهم على الطاعة فيما أمرهم به، وهو الشارح لصدورهم والمتولي لتوفيقهم والهادي، ويذمهم على المعصية فيما نهوا عنه، وهو الخاذل لهم، والتارك لتوفيقهم، وأن جميع ذلك عدل، وأنه يفعل من ذلك ما يشاء كيف يشاء.

169 - وأجمعوا على أنه ليس لأحد من الخلق الاعتراض على الله في شيء من أفعاله، ولا لأحد التغلب عليه في حكمه، ولا تدبيره، ولا لأحد الإنكار عليه في شيء من أقداره وأحكامه في خلقه؛ لأنه مالك غير مملك، وآمر غير مأمور.

170 - وأجمعوا على أنه كان في الأزل حكيمًا قبل أن يخلق شيئًا من المخلوقات مستحقا لاسم الحكمة في سائر الأفعال، وأن جميع ما فعله بخلقه من خير أو شر أو طاعة أو معصية، أو غنى أو فقر، أو صحة أو مرض، أو عافية أو بلاء، أو هدى أو ضلال غير مخرج له من الحكمة، وأن من اعترض عليه في شيء من أقداره، أو تعقب شيئًا من أفعاله، فإنه متبع لإبليس ومقتدٍ به ومتأس به، حين امتنع من السجود لآدم عليه السلام، إذ زعم أن ذلك فساد في التقدير وخروج من الحكمة فقال: {لم أكن لأسجد لبشر خلقته من صلصال من حمأ مسنون}، وقال: {أنا خير منه خلقتني من نار وخلقته من طين}.
167 - আর মুসলিমগণ এই কথার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই, এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা হয়েছে আর যা তিনি চাননি তা হয়নি।

168 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মহান আল্লাহর আনুগত্য করা ওয়াজিব, যদিও তাঁর পূর্বজ্ঞান ও ইচ্ছায় এমন থাকে যে তারা তাঁর আনুগত্য করবে না; এবং তাঁর নাফরমানি ত্যাগ করা আবশ্যক, যদিও তাঁর পূর্বজ্ঞান ও ইচ্ছায় থাকে যে তারা তাঁর নাফরমানি করবে। মহান আল্লাহ তাদের নিকট আদেশ ও নিষেধের দাবি করেন, এবং তাদের যে সকল কাজের আদেশ দিয়েছেন সেগুলোতে আনুগত্যের জন্য তিনি তাদের প্রশংসা করেন; আর তিনিই তাদের বক্ষ উন্মোচনকারী, তাওফিক দানকারী ও পথপ্রদর্শক। আবার যে সকল কাজ থেকে তিনি নিষেধ করেছেন সেগুলোতে অবাধ্যতার জন্য তিনি তাদের নিন্দা করেন; আর তিনিই তাদের সাহায্য থেকে বিরত থাকেন এবং তাওফিক প্রদান বর্জন করেন। এই সব কিছুই ইনসাফ বা ন্যায়বিচার, এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন এবং যেভাবে ইচ্ছা করেন তা সম্পাদন করেন।

169 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সৃষ্টির কোনো একজনেরও আল্লাহর কোনো কার্যের ব্যাপারে আপত্তি করার অধিকার নেই, আর কারো পক্ষে তাঁর ফয়সালা বা ব্যবস্থাপনার ওপর প্রবল হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর কোনো তকদির বা বিধানকে অস্বীকার করারও কারো অধিকার নেই; কারণ তিনি এমন এক মালিক যাকে কেউ মালিকানা দান করেনি, আর এমন এক আদেশদাতা যাকে কেউ আদেশ প্রদান করে না।

170 - তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনি অনাদিকাল থেকেই প্রজ্ঞাময় ছিলেন কোনো সৃষ্টি সৃষ্টির পূর্বেই, এবং তাঁর সকল কার্যের ক্ষেত্রে তিনি প্রজ্ঞা গুণের অধিকারী। তাঁর সৃষ্টির প্রতি তিনি যা কিছু করেছেন—তা কল্যাণ বা অকল্যাণ, আনুগত্য বা অবাধ্যতা, সচ্ছলতা বা দারিদ্র্য, সুস্থতা বা অসুস্থতা, নিরাপত্তা বা বিপদ, হিদায়াত বা পথভ্রষ্টতা যাই হোক না কেন—তা তাঁকে প্রজ্ঞার বহির্ভূত করে না। আর যে ব্যক্তি তাঁর তকদিরের কোনো বিষয়ে আপত্তি করবে অথবা তাঁর কার্যাবলীর কোনো ভুল ধরবে, সে মূলত ইবলিসের অনুসারী, তার অনুকরণকারী এবং তার আদর্শ গ্রহণকারী। কারণ ইবলিস যখন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল, তখন সে দাবি করেছিল যে এটি তকদিরের ত্রুটি এবং প্রজ্ঞার পরিপন্থী। ফলে সে বলেছিল: "আমি এমন কোনো মানুষকে সিজদা করার নই যাকে আপনি পচা কাদা হতে তৈরি শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।" সে আরও বলেছিল: "আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
171 - وأجمعوا أنه تعالى قدر أفعال جميع الخلق وآجالهم وأرزاقهم قبل خلقه لهم، وأثبت في اللوح المحفوظ جميع ما هو كائن منهم.

172 - وأجمعوا على أنه الخالق لجميع أفعال العباد وأرزاقهم والمنشئ لجميع الحوادث وحده، لا خالق لشيء منها سواه.

173 - وأجمع أهل السنة على أنه تعالى أراد من الخلق ما سبق في علمه من طاعة أو معصية تكون منهم، فالطاعة يرضاها، والمعصية لا يرضاها، وأراد أن تكون مذمومة منهم، ويكونون مذمومين بها.

174 - وأجمعوا على أنه تفضل على بعض خلقه بالتوفيق والهدى، وحبب إليهم الإيمان، وشرح صدورهم، وكره إليهم الكفر والفسوق والعصيان، وجعلهم مهتدين.

175 - وأجمعوا على أنه تعالى لم يتفضل على بعض خلقه ولا تولى توفيقهم، ولا خصهم بذلك؛ بل حال بينهم وبين عصمته، وتركهم من توفيقه وأضلهم.

176 - وأجمعوا على أنه تعالى لا يجب عليه أن يساوي بين عبيده فيما ينعم به عليهم من الهداية إلى الإيمان، وغير ذلك من نعمه وسوابغ فضله، وعلى أن له تعالى أن يخص منهم من يشاء بما يشاء من نعمه.

177 - وأجمعوا على أن القبيح من أفعال خلق الله ما نهاهم عنه وزجرهم عن فعله، وأن الحسن ما أمرهم به وندبهم إلى فعله.

178 - وأجمعوا على أنه تعالى قسم خلقه فرقتين؛ فرقة خلقهم للجنة، وكتبهم بأسمائهم وأسماء آبائهم، وفرقة خلقهم للسعير، ذكرهم بأسمائهم وأسماء آبائهم.

179 - وأجمعوا على أن الخلق لا يقدرون على الخروج مما سبق به علم الله فيهم وإرادته لهم.
171 - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টির কর্মকাণ্ড, তাদের আয়ু এবং তাদের রিজিক তাদের সৃষ্টির পূর্বেই নির্ধারণ করেছেন, এবং তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু ঘটবে তার সবকিছু লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করেছেন।

172 - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনিই বান্দাদের সকল কাজ ও তাদের রিজিকের একমাত্র স্রষ্টা এবং সমস্ত ঘটনার একমাত্র উদ্ভবকারী, তিনি ব্যতীত এগুলোর কোনো কিছুরই অন্য কোনো স্রষ্টা নেই।

173 - আহলে সুন্নাত একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা মাখলুকের নিকট থেকে সেই আনুগত্য বা পাপাচারই চেয়েছেন যা তাঁর ইলমে পূর্বেই সাব্যস্ত ছিল; সুতরাং তিনি আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং নাফরমানিতে অসন্তুষ্ট হন, আর তিনি চেয়েছেন যে তা তাদের পক্ষ থেকে নিন্দনীয় হোক এবং তারা এর কারণে নিন্দিত হোক।

174 - তারা একমত হয়েছেন যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির কারো কারো প্রতি তাওফিক ও হিদায়াত প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, তাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন, তাদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন, তাদের নিকট কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করেছেন এবং তাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত করেছেন।

175 - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কারো কারো ওপর অনুগ্রহ করেননি এবং তাদের তাওফিক প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, আর তাদেরকে এর মাধ্যমে বিশিষ্ট করেননি; বরং তিনি তাদের এবং তাঁর সংরক্ষণের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকে তাঁর তাওফিক থেকে বঞ্চিত রেখেছেন এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন।

176 - তারা একমত হয়েছেন যে, ঈমানের হিদায়াত এবং অন্যান্য নেয়ামত ও সুপ্রচুর অনুগ্রহ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা আল্লাহ তাআলার ওপর আবশ্যক নয়; বরং আল্লাহ তাআলার এই অধিকার রয়েছে যে, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাঁর নেয়ামতরাজির যা ইচ্ছা তা দিয়ে বিশিষ্ট করবেন।

177 - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর সৃষ্টির কর্মসমূহের মধ্যে মন্দ তা-ই যা থেকে তিনি তাদের নিষেধ করেছেন এবং তা করতে বারণ করেছেন, আর উত্তম তা-ই যার নির্দেশ তিনি তাদের দিয়েছেন এবং যা করার প্রতি তাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

178 - তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন; একদলকে তিনি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের নাম ও তাদের পিতৃপরিচয়সহ লিখে রেখেছেন, আর একদলকে তিনি জাহান্নামের আগুনের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের নাম ও পিতৃপরিচয়সহ উল্লেখ করেছেন।

179 - তারা একমত হয়েছেন যে, সৃষ্টিজগত তাদের ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান এবং তাদের প্রতি তাঁর ইচ্ছা থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
180 - وأجمعوا أن طاعته تعالى واجبة عليهم فيما أمرهم به، وإن كان السابق من علمه فيهم، وإرادته لهم أنهم يعصونه.

181 - وأجمعوا أن الله تعالى يطالبهم بالأمر والنهي، ويحمدهم على الطاعة فيما أمروا به، ويذمهم على المعصية فيما نهو عنه.

182 - وأجمعوا أن جميع ذلك عدل منه تعالى عليهم، كما أنه تعالى عادل على من خلقه منهم، مع علمه أن يكفر إذا أمره، وأعطاه القدر التي تصيره إلى معصية.

183 - وأجمعوا أنه عدل في تبقية المؤمنين إلى الوقت الذي يعلم أنهم يكفرون فيه، ويرتدون عما كانوا عليه من إيمانهم وتعذيبه لهم على الجرم المنقطع بالعذاب الدائم.

184 - وأجمعوا على أنه تعالى خالق لجميع الحوادث وحده، لا خالق لشيء منها سواه.

185 - وأجمعوا على أن الإنسان غير غني عن ربه تعالى في سائر أوقاته على ما أمر به.

186 - وأجمعوا أنهم يستحقون الذم بإعراضهم وتشاغلهم بما نهوا عنه من التشاغل.

187 - وأجمعوا على أن لله لوحًا محفوظًا كتب فيه كل شيء قبل أن يخلق العالم.

 

‌‌ذكر الاستطاعة والقدر

188 - وأجمعوا أنه لا يصح تكليف الإنسان الطاعة ونهيه عن المعصية إلا مع صحة بدنه، وسلامه آلات فعله، وإن كان لكل فعل يكتسبه قوة تخصه غير القوة على تركه وغير الفعل المقدور بها.

189 - وأجمعوا أن جميع ما عليه سائر الخلق من تصرفهم قد قدره الله تعالى قبل خلقه لهم، وأحصاه في اللوح المحفوظ، وأحاط علمه به وبهم، فأخبر
১৮০ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা তাঁদের ওপর ওয়াজিব, যদিও তাঁদের সম্পর্কে তাঁর পূর্বজ্ঞান ও তাঁদের প্রতি তাঁর ইচ্ছা এই ছিল যে তাঁরা তাঁর অবাধ্য হবে।

১৮১ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তাঁদের নিকট দাবি জানান, এবং যা আদেশ করা হয়েছে তাতে আনুগত্য করার জন্য তিনি তাঁদের প্রশংসা করেন, আর যা নিষেধ করা হয়েছে তাতে অবাধ্য হওয়ার জন্য তিনি তাঁদের নিন্দা করেন।

১৮২ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এই সব কিছুই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর ন্যায়বিচার, যেমন তিনি তাঁর সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের ওপর ন্যায়বিচারক; যদিও তিনি জানেন যে তাকে আদেশ করা হলে সে কুফরি করবে এবং তিনি তাকে এমন শক্তি দান করেছেন যা তাকে অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যায়।

১৮৩ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মুমিনদেরকে সেই সময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখাতে তিনি ন্যায়বিচারক যে সময় পর্যন্ত তিনি জানেন যে তারা কুফরি করবে এবং তারা যে ঈমানের ওপর ছিল তা থেকে মুরতাদ হয়ে যাবে; আর তাঁদের সেই সাময়িক অপরাধের জন্য চিরস্থায়ী আজাব দ্বারা শাস্তি দেওয়াতেও তিনি ন্যায়বিচারক।

১৮৪ - এবং তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা একাই সমস্ত ঘটনার স্রষ্টা, তিনি ছাড়া এগুলোর কোনো কিছুরই অন্য কোনো স্রষ্টা নেই।

১৮৫ - এবং তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মানুষ তার সব সময়েই তার প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী, সে যা আদিষ্ট হয়েছে সে বিষয়েও।

১৮৬ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তারা তাঁদের বিমুখতা এবং যা থেকে তাঁদের নিষেধ করা হয়েছে তাতে লিপ্ত হওয়ার কারণে নিন্দার পাত্র।

১৮৭ - এবং তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর একটি লাওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক) রয়েছে যাতে তিনি জগত সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু লিখে রেখেছেন।

 

‌সক্ষমতা ও তাকদিরের আলোচনা

১৮৮ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মানুষের শরীরের সুস্থতা এবং তার কর্ম সম্পাদনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সঠিক থাকা ব্যতীত তাকে আনুগত্যের দায়িত্ব প্রদান করা এবং অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করা সঠিক নয়; যদিও তার অর্জিত প্রতিটি কাজের জন্য একটি বিশেষ শক্তি থাকে যা কাজটি বর্জন করার শক্তি এবং সেই শক্তির দ্বারা নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য কিছু থেকে ভিন্ন।

১৮৯ - এবং তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সৃষ্টির যাবতীয় কর্মকাণ্ড আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সৃষ্টির পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন, এবং তিনি লাওহে মাহফুজে তা সংরক্ষণ করেছেন, আর তাঁর জ্ঞান তা এবং তাঁদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে। অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা ত আস-সাইদী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
بما يكون منهم.

190 - وأجمعوا أن أحدًا لا يقدر على تغيير شيء من ذلك ولا الخروج عما قدره الله تعالى وسبق علمه به وبما يتصرفون في علمه، وينتهون إلى مقاديره، فمنهم شقي وسعيد.

191 - وأجمعوا على أن الإنسان لا يكسب شيئًا من تصرفه إلا بقدرة تخصه في حال وجوده.

192 - وأجمعوا على أن الإنسان لا يقدر بقدرة واحدة على مقدورين، كما أنه لا يعلم بعلم واحد معلومين.

193 - وأجمعوا على أن الكافرين غير قادرين على العلم بما دعوا إليه مع تشاغلهم بالإعراض عنه، وإيثارهم للجهل عليه، مع كونهم غير عاجزين عن ذلك، ولا ممنوعين عنه؛ لصحة أبدانهم وقدرتهم على ما تشاغلوا به من الإعراض عنه، وآثروه من الجهل عليه.

 

‌‌ذكر التصديق بالرؤيا والإيمان بالسحر

194 - ولا أعلم بين أئمة الجماعة أهل الفقه والأثر في جميع الأمصار خلافًا في أن التصديق بالرؤيا حق وأن الرؤيا من الله، وأنها من النبوة، وأن الإيمان بها واجب، ولو كانت جزءًا من عدد النجوم كان كثيرًا.

195 - وأجمعوا على أن الإيمان واقع على أن السحرة لا يضرون به أحدًا إلا بإذن الله.

 

‌‌ذكر الصحابة رضوان عليهم

196 - وأجمعوا على أن خير القرون: قرن الصحابة ثم الذين يلونهم على ما قال صلى الله عليه وسلم: «خيركم قرني».
তাদের কর্মকাণ্ড থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় সে সম্পর্কে।

১৯০ - তারা একমত হয়েছেন যে, এর কোনো কিছুই পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারও নেই এবং আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর যে জ্ঞান এ বিষয়ে ও তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পূর্বেই স্থির হয়ে আছে, তা থেকে বের হওয়ার সাধ্য কারও নেই। তারা তাঁর নির্ধারিত গন্তব্যেই উপনীত হয়; ফলস্বরূপ তাদের মধ্যে কেউ দুর্ভাগা আর কেউ সৌভাগ্যবান।

১৯১ - তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে কোনো কিছুই অর্জন করে না কেবল তার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার জন্য নির্দিষ্ট করা ক্ষমতার মাধ্যমে।

১৯২ - তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মানুষ একটি ক্ষমতার মাধ্যমে দুটি কার্য সম্পাদন করতে সক্ষম নয়, যেমনটি সে একটি জ্ঞানের মাধ্যমে দুটি জ্ঞাত বিষয় জানতে পারে না।

১৯৩ - তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কাফিররা যে বিষয়ের দিকে তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে তা জানতে সক্ষম হয় না যতক্ষণ তারা তা থেকে বিমুখ হওয়া নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকে এবং জ্ঞানের পরিবর্তে মূর্খতাকে প্রাধান্য দেয়; অথচ তারা এ বিষয়ে অক্ষম নয় এবং তাদের বাধাও দেওয়া হয়নি। কারণ তাদের শরীর সুস্থ এবং তারা যে বিমুখতা ও মূর্খতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেই কর্মে লিপ্ত হওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

 

‌‌স্বপ্নকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং জাদু সম্পর্কে বিশ্বাসের আলোচনা

১৯৪ - আমি সকল অঞ্চলের জামাআতের ইমামগণ—অর্থাৎ ফিকহ ও আসার (রেওয়ায়েত) বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এমন কোনো মতভেদ জানি না যে, স্বপ্নকে সত্য বলে স্বীকার করা একটি বাস্তবতা এবং স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আর তা নবুওয়াতের একটি অংশ এবং এতে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। এটি যদি নক্ষত্রপুঞ্জের সংখ্যার সমপরিমাণ অংশও হতো, তবে তা অনেক হতো।

১৯৫ - তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ঈমানের অন্যতম দাবি হলো—জাদুকররা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত জাদুর মাধ্যমে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

 

‌‌সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আলোচনা

১৯৬ - তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সর্বোত্তম যুগ হলো সাহাবীগণের যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ—যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ।"