(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: -)
بر الوالدين - البخاري - ت مكي   (البخاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: بر الوالدين

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري (194 - 256 هـ)

رواية: أبي بكر محمد بن أحمد بن دِلُّوَية الدقاق عنه، رواية أبي يعلى حمزة بن عبد العزيز المُهَلَّبي عنه

المحقق: عبد العزيز بن حلمى مكي

(طبعة مصححة محررة مضبوطة على نسخة الحافظ السيد عبد الحي الكتاني)

الناشر: دار الذخائر - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 291

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার - আল-বুখারী - তাহকীক মাক্কী   (আল-বুখারী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-বুখারী (১৯৪ - ২৫৬ হিজরি)

বর্ণনা: তাঁর থেকে আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন দিলওয়াইহ আদ-দাক্কাক-এর বর্ণনা, এবং তাঁর থেকে আবু ইয়ালা হামজা বিন আব্দুল আজিজ আল-মুহাল্লাবীর বর্ণনা

তাহকীককারী: আব্দুল আজিজ বিন হিলমী মাক্কী

(হাফেজ সাইয়্যেদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানীর পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সংশোধিত, সম্পাদিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ)

প্রকাশক: দারুজ জাখায়ের - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

إنَّ الحَمْدَ للَّهِ تَعَالَى، نَحْمَدُهُ، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ تَعَالَى مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ تَعَالَى اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم.

أَمَّا بَعْدُ،

فَإنَّ بِرَّ الوَالِدَيْنِ يُجْلِسُ صَاحِبَهُ عَلَى أَرِيكَةِ العِزِّ، وَيُرَقِّى صَاحِبَهُ فِي مَرَاتِبِ الشُّرَفَاءِ، وَيُبَوِّئ صَاحِبَهُ عَرْشَ المَجِدِ.

وَلَيْسَ البِرُّ مَقْصُورًا وَلَا مَحْصُورًا فِي أَفْرَادٍ مِنَ النَّاسِ، بَلْ إِنَّ اللهَ عز وجل جَعَلَهُ سَهْمًا شَائِعًا، وَغَرَضًا مَنْصُوبًا لِكُلِّ طَالِبٍ، إِلَّا مَنْ قَدَّرَ اللهُ عز وجل عَلَيهِ غَيْرَ ذَلِكَ، فَالبِرُّ عَطِيِّةٌ يَضَعُهَا اللهُ تَعَالَى حَيْثُ شَاءَ.

وَإِنَّ الَّذِي يَسْلُكُ سَبِيلَ البِرِّ، ويَطَأُ فَرْشَهُ الطَّيْبَ، فَلَا شَكَّ أَنَّهُ سَيُدْرِكُ أَمَلَهُ وَيَنَالُ غَرَضَهُ، فَإِنَّ الفَضَائِلَ قَطُّ لَمْ يَكُنْ لَهَا فِي يَوْمٍ مِنَ الأَيَّامِ حِجَّابٌ، وَلَمْ يَكُنْ لَهَا عَلَى مَرَّ الدُّهُورِ أَبَوَابٌ، وَأَسْعَدُ النَّاسِ الَّذِي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। মহান আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর,

নিশ্চয়ই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ তার সম্পাদনকারীকে সম্মানের আসনে বসায়, তাকে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্তরে উন্নীত করে এবং তাকে মহত্ত্বের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে।

আর এই সদাচরণ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ বা গণ্ডিবদ্ধ নয়; বরং মহান আল্লাহ একে একটি সাধারণ অংশ এবং প্রত্যেক অন্বেষণকারীর জন্য এক নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তবে মহান আল্লাহ যার ভাগ্যে অন্য কিছু লিখে রেখেছেন সে ব্যতীত। সুতরাং এই সদাচরণ একটি দান, যা মহান আল্লাহ যেখানে ইচ্ছা সেখানেই অর্পণ করেন।

আর যে ব্যক্তি এই সদাচরণের পথে চলে এবং এর পবিত্র শয্যায় পদার্পণ করে, তবে নিঃসন্দেহে সে তার আশা পূরণ করবে এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। কেননা সদ্গুণাবলির জন্য কোনো দিনই কোনো অন্তরায় ছিল না এবং যুগে যুগে এর কোনো রুদ্ধ কপাটও ছিল না। আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে
(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٦)
يَجْعَلُ اللهَ تَعَالَى غَايَتَهُ، وَالمَجْدَ وَالسُّؤْدَدَ مَطِيَّتَهُ، وَالشَّرَفَ وَالعِزَّ غَرَضَهُ وَحِيلَتَهُ.

فَيَنْبَغِي لِلْعَبْدِ أَنْ يَتَحَلَّى بِالبِرِّ، وَأَنْ يَمْتَطِيَهُ لِكَيْ تُثْنِىَ عَلَيْهِ أَفْوَاهُ الأَنَامِ وَمِدَادُ الأَقْلَامِ(1)، إِذَا أَرَدَ الرِّفْعَةَ فِي الدُّنْيَا وَالفِرْدَوْسَ فِي الآخِرةِ،

--------------------------------------------

(1) مِمَّا يُؤَيِّدُ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ فِي «جَامِعِهِ» (بِرَقَمْ 20119)، وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوْيَهْ فِي «مُسْنَدِهِ» (بِرَقَمْ 1005)، وَأَحْمَدُ فِي «مُسْنَدِهِ» (بِرَقَمْ 25182) عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نِمْتُ فَرَأَيْتُنِي فِي الجَنَّةِ، فَسَمِعْتُ صَوْتَ قَارِئٍ فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: حَارِثَةُ بْنُ النُّعْمَانِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: كَذَلِكَ البِرُّ، قَالَ: وَكَانَ أَبَرَّ النَّاسِ بِأُمِّهِ».

وَمَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي «صَحِيحِهِ» (بِرَقَمْ 225/ 2542) عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: (كَانَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ إِذَا أَتَى عَلَيْهِ أَمْدَادُ أَهْلِ اليَمَنِ، سَأَلَهُمْ: أَفِيكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ؟ حَتَّى أَتَى عَلَى أُوَيْسٍ فَقَالَ: أَنْتَ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَكَانَ بِكَ بَرَصٌ فَبَرَأْتَ مِنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ دِرْهَمٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: لَكَ وَالِدَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ اليَمَنِ، مِنْ مُرَادٍ، ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ، كَانَ بِهِ بَرَصٌ فَبَرَأَ مِنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ دِرْهَمٍ، لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَلْ»).

তিনি আল্লাহ তাআলাকে তাঁর লক্ষ্য সাব্যস্ত করেন, এবং মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে করেন তাঁর বাহন, আর মর্যাদা ও সম্মানকে করেন তাঁর উদ্দেশ্য ও কৌশল।

অতএব বান্দার জন্য উচিত হলো সদাচার দ্বারা সুশোভিত হওয়া এবং একে বাহন হিসেবে গ্রহণ করা, যাতে সৃষ্টির মুখ এবং কলমের কালি তার প্রশংসা করে(১), যদি সে দুনিয়াতে উচ্চ মর্যাদা এবং আখিরাতে ফিরদাউস কামনা করে।

--------------------------------------------

(১) এর সমর্থনে যা মা'মার ইবনে রাশিদ তাঁর ‘জামে’ গ্রন্থে (নং ২০১১৯), ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (নং ১০০৫), এবং আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (নং ২৫১৮২) যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি ঘুমালাম এবং নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম, সেখানে আমি একজন কুরআন পাঠকারীর কণ্ঠ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইনি কে? তারা বলল: হারিসাহ ইবনে নুমান। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সদাচার এমনই হয়। বর্ণনাকারী বলেন: আর তিনি ছিলেন তাঁর মায়ের প্রতি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি সদাচারী।»

এবং যা ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (নং ২২৫/ ২৫৪২) কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি উসাইর ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর নিকট যখন ইয়ামেনবাসীদের সাহায্যকারী দল আসত, তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করতেন: তোমাদের মধ্যে কি উওয়াইস ইবনে আমির আছে? অবশেষে তিনি উওয়াইসের দেখা পেলেন এবং বললেন: তুমিই কি উওয়াইস ইবনে আমির? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমর বললেন: মুরাদ গোত্র থেকে, তারপর ক্বারান থেকে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমর বললেন: তোমার কি শ্বেতী রোগ ছিল যা থেকে তুমি এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ব্যতীত আরোগ্য লাভ করেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমর বললেন: তোমার কি মা আছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীদের সাহায্যকারী দলের সাথে উওয়াইস ইবনে আমির আসবে, যে মুরাদ এবং পরে ক্বারান গোত্রের। তার শ্বেতী রোগ ছিল যা থেকে সে এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ব্যতীত আরোগ্য লাভ করেছে। তার একজন মা আছেন যার প্রতি সে অত্যন্ত সদাচারী। সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেবেন। অতএব তুমি যদি পারো যে সে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তবে তা করো।»)

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٧)
فَلْيَحْرِصْ السَّعِيدُ عَلَى تَحْصِيلِ البِرِّ مَا أَمْكَنَ لَهُ ذَلِكَ، فَبِرُّ الوَالِدَيْنِ يَرْفَعُ صَاحِبَهُ فِي الدَّارَيْنِ ويُجْلِسَهُ عَلَى مِنَصَّةِ المَحَامِدِ.

وَبِرُّ الوَالِدَيْنِ قَلَائِدُ، مَنْ تَجَمَّلَ بِهَا تَبْقَى مَحَبَّتَهُ عَلَى مَرِّ الدُّهُورِ، وَتَقَرُّ لِرُؤْيَتِهِ العُيُونُ، كَيْفَ لَا؟ وَقَدْ حَصَّلَ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ تَعَالَى، وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيُوطِّدَ أَوَاصِرَهُ، وَيُرَسِّخَ قَوَاعِدَهُ، ذَلِكَ الأَصْلُ الطَّيْبُ الَّذِي سُقِيَ بِالوَابِلِ الصَّيِّبِ.

وَالَّذِي يَجْبُ عَلَى المُؤْمِنِ: أَنْ يُصَوِّبَ سِهَامَهُ نَحْوَ البِرِّ، حَتَّى يُصِيبَ غَرَضَهُ المَنْشُودَ، فَهُوَ الَّذِي يُعْلِي مَنَارَ صَاحِبِهِ فِي ذَلِكَ الأوْجِ، فَمَنْ حَسُنَ بِرَّهُ طَابَ عَيْشُهُ، وَتَأَكَّدَتْ فِي النُّفُوسِ مَحَبَّتَهُ.

وَبِرُّ الوَالِدَيْنِ يُؤدِّي إِلَى السَّلَامَةِ، وَيُؤَمِّنُ مِنَ النَّدَامَةِ، وَتَسْهُلُ عَلَيْهِ كُلُّ الأُمُورِ الصِّعَابِ، وَتَلِينُ لَهُ القُلُوبُ الغِضَابُ.

قَالَ ابْنُ عُمَرَ رضي الله عنهما: (البِرُّ شَيْءٌ هَيِّنٌ، وَجْهٌ طَلِيقٌ، وَكَلَامٌ لَيِّنٌ)(1).

--------------------------------------------

(1) رَوَاهُ الخَرَائِطِيُّ فِي «مَكَارِمَ الأَخْلَاقِ» (بِرَقَمْ 148)، وَالبَيْهَقِيُّ في «شُعَبِ الإِيمَانِ» (بِرَقَمْ 7702) مِنْ طُرُقٍ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ.

অতএব সৌভাগ্যবান ব্যক্তির উচিত সাধ্যমতো পুণ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া; কেননা পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ ইহকাল ও পরকালে তার অধিকারীকে সমুন্নত করে এবং তাকে প্রশংসার উচ্চাসনে উপবিষ্ট করায়।

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ হলো এমন এক কণ্ঠহার, যা দিয়ে কেউ নিজেকে সজ্জিত করলে যুগ-যুগান্তর ধরে তার প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকে এবং তাকে দর্শনে চক্ষু শীতল হয়। কেনই বা হবে না? অথচ সে আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল অর্জন করেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং এর ভিত্তিকে মজবুত করতে আগমন করেছেন; এটি সেই পবিত্র মূল, যা কল্যাণকর মুষলধারে সিক্ত হয়েছে।

আর মুমিনের ওপর যা আবশ্যক তা হলো: পুণ্যের দিকে নিজের লক্ষ্য স্থির করা, যেন সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। কারণ এটিই সেই উচ্চ শিখরে তার অধিকারীর মর্যদার মিনারকে সমুন্নত করে। সুতরাং যার সদাচরণ সুন্দর হবে, তার জীবন সুখময় হবে এবং মানুষের অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা সুদৃঢ় হবে।

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ নিরাপত্তার দিকে পরিচালিত করে এবং অনুশোচনা থেকে মুক্তি দেয়। এর ফলে ব্যক্তির জন্য সমস্ত কঠিন বিষয় সহজ হয়ে যায় এবং ক্রুদ্ধ অন্তরসমূহ তার প্রতি কোমল হয়ে যায়।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: "পুণ্য একটি সহজ বিষয়: হাসোজ্জ্বল চেহারা এবং কোমল কথা"(১)।

--------------------------------------------

(১) খারাইতি ‘মাকারিমুল আখলাক’ গ্রন্থে (হাদিস নং ১৪৮) এবং বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে (হাদিস নং ৭৭০২) হুমাইদ আত-তবিলের সূত্রে ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٨)
وَ «جُزْءُ بِرِّ الوَالِدَيْنِ» لِلإِمَامِ البُخَارِيِّ رحمه الله هُوَ مِنْ أَوَائِلِ مَا صُنِّفَ فِي هَذَا المِضْمَارِ، مِنْ أَجِلِ ذَلِكَ شَمَّرْتُ عَنْ سَاعِدِ الجِدِ، وَخُضْتُ تِلَكَ الغِمَارَ، مُسْتَعِينًا بِاللهِ عز وجل عَلَى ذَلِكَ، وَهَذَا مِنْ تَوَاصُلِ النِّعَمِ مِنَ اللهِ تَعَالَى عَلَى عَبْدِهِ الضَّعِيِّفِ، أَنْ وَفَّقَهُ لِخِدْمَةِ هَذَا الجُزْءِ النَّفِيْسِ، وَتَجْلِيَّةِ مَا فِيِهِ مِنْ مَنَاقِبَ، وَالتَّعْلِيقِ عَلَى مَا وَرَدَ فِيهِ مِنْ أَحَادِيثَ وَآثارٍ، وَعَرْضِهِ بِالصُّورَةِ اللَّائِقَةِ بِهِ(1).

فَـ للهِ وَحْدَّهُ الحَمْدُ وَالمِنَّةُ عَلَى العَوْنِ وَالتَّوْفِيقِ.

وَقَدْ قَدَّمْتُ بَيْنَ يَدي عَمَلِي هَذَا، مُقْدِّمَةً مُفِيدَةً لِمُطَالِعِهِ.

وَذَلِكَ فِي عِدَّةِ فُصُولٍ:

الأَوَّلُ: لَمْحَةٌ مُوْجَزَةٌ عَنِ الإِمَامِ البُخَارِيِّ رحمه الله.

الثَّانِي: تَعْرِيفُ الأَجْزَاءِ الحَدِيثِيَّةِ.

الثَّالِثُ: ذِكْرُ أَشْهَرِ المُؤَلَّفَاتِ فِي البِرِّ وَالصِّلَةِ.

الرَّابِعُ: كِتَابُ بِرِّ الوَالِدَيْنِ، لِلإِمَامِ البُخَارِيِّ.

الخَامِسُ: التَّعْرِيفُ بِأَصْلِ الكِتَابِ.
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'জুযউ বিররিল ওয়ালিদাইন' এই বিষয়ে সংকলিত প্রথমদিকের গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সেই কারণে আমি পূর্ণ গুরুত্বের সাথে সচেষ্ট হয়েছি এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাহায্য প্রার্থনা করে এই কর্মযজ্ঞে অবতীর্ণ হয়েছি। আর এটি তাঁর দুর্বল বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিয়ামতের ধারাবাহিকতা যে, তিনি তাকে এই অমূল্য পান্ডুলিপিটির খিদমত করার, এতে বর্ণিত ফযীলতসমূহ সুস্পষ্ট করার, এতে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের ওপর টীকা প্রদান করার এবং একে এর উপযুক্ত রূপে উপস্থাপন করার তাওফিক দান করেছেন(১)।

অতএব, সাহায্য ও তাওফিক প্রদানের জন্য সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল এককভাবে আল্লাহরই প্রাপ্য।

আমি আমার এই কর্মের প্রারম্ভে পাঠকের জন্য একটি উপকারী ভূমিকা পেশ করেছি।

যা কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম: ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।

দ্বিতীয়: হাদিস শাস্ত্রের 'জুযউ' (ক্ষুদ্র সংকলন) সমূহের পরিচিতি।

তৃতীয়: সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির উল্লেখ।

চতুর্থ: ইমাম বুখারীর 'বিররুল ওয়ালিদাইন' কিতাবটি।

পঞ্চম: কিতাবটির মূল উৎসের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٩)
هَذَا وَقَدْ أَلحَقْتُ فِي نِهَايَةِ الجُزْءِ الأَحَادِيثِ الَّتِي رَوَاهَا الإِمَامُ البُخَارِيُّ فِي بِرِّ الْوَالِدَيْنِ خَارِج جُزْئِهِ[*]، إِتْمَامًا لِلفَائِدَةِ.

وَأَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى أَنْ يَنْفَعَ بِهَذَا الكِتَابِ مُطَالِعَهُ، وَأَنْ يَغْفِرَ اللهُ تَعَالَى لَنَا الزَّلَّاتِ وَالأَخْطَاءَ، وَأَنْ يَجْعَلَ هَذَا العَمَلَ مَبْرُورًا، وَيَتَقْبَلَهُ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ، وَأَنْ يَعُمَّنَا بِثَوَابِهِ وَمَغْفِرَتهِ مَعَ المُؤَلِّفِ رحمه الله، وَكَذَا مَنْ قَرَأَهُ وَاسْتَفَادَ مِنْهُ.

 

وَأَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَهُ فِي المَعَادِ مِنْ خَيْرِ العَوَائِدِ،

فَهُوَ حَسْبُنَا فِيمَا أَمَلْنَاهُ لَا شَرِيكَ لَهُ

وَالحَمْدُ للهِ أَوَّلًا وَآخِرًا ظَاهِرًا وَبَاطِنًا

 

عبد العزيز بن حلمي مكي

حَامِدًا شَاكِرًا الله تَعَالَى،

وَمُصَلِيًا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

[*] تعليق الشاملة: ولم نورد الملحق في هذه النسخة الإلكترونية؛ اقتصرنا على «جزء بر الوالدين».

তদুপরি, আমি এই খণ্ডের শেষে সেই হাদিসগুলো যুক্ত করেছি যা ইমাম বুখারী তাঁর স্বতন্ত্র রচনার বাইরে পিতামাতার প্রতি সদাচরণ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন[*], যেন বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ ও আরও অধিক উপকারী হয়।

আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা এর পাঠকদের উপকৃত করেন, এবং মহান আল্লাহ যেন আমাদের পদস্খলন ও ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন, আর তিনি যেন এই আমলকে কবুলযোগ্য করেন এবং তাঁর করুণা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে গ্রহণ করেন, এবং তিনি যেন মূল লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) সহ আমাদের এবং যারা এটি পড়বে ও এর দ্বারা উপকৃত হবে, তাদের সকলকে তাঁর পুরস্কার ও ক্ষমা দ্বারা আবৃত করেন।

 

আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে পরকালের সর্বোত্তম পাথেয় হিসেবে কবুল করেন,

আমাদের আশার ক্ষেত্রে তিনিই যথেষ্ট, তাঁর কোনো শরিক নেই।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্য ও গোপনে।

 

আব্দুল আজিজ বিন হিলমি মক্কি

মহান আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি,

এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করছি।

--------------------------------------------

[*] শামিলা-র টীকা: আমরা এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে পরিশিষ্টটি উল্লেখ করিনি; আমরা কেবল 'জুযউ বিররিল ওয়ালিদাইন' (পিতামাতার প্রতি সদাচরণ বিষয়ক খণ্ড) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌الفَصْلُ الأَوَّلُ

لَمْحَةٌ مُوْجَزَةٌ عَنِ الإِمَامِ البُخَارِيِّ
رحمه الله(1).

وَتَشْتَمِلُ عَلَى:

* ذِكْرِ اسْمِهِ وَنَسَبِهِ.

* ذِكْرِ مَوْلِدِهِ وَصِفَتِهِ.

--------------------------------------------

(1) تَرْجَمَتُهُ فِي: «الجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ» لِابْنِ أَبِي حَاتِمٍ (7/ 19)، وَ «الثِّقَاتِ» لِابْنِ حِبَّانَ (9/ 113)، وَ «الإِرْشَادِ فِي مَعْرِفَةِ عُلَمَاءِ الحَدِيثِ» لِلخَلِيلِيِّ (3/ 958)، وَ «تَارِيخُ بَغْدَادَ» لِلْخَطِيبِ البَغْدَادِيِّ (2/ 4)، وَ «طَبَقَاتِ الحَنَابِلَةِ» لأَبِي يَعْلَى (1/ 271)، وَ «الأَنْسَابِ» لِلسَّمْعَانِيِّ (1/ 293)، وَ «تَهْذِيبِ الأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ» للنَّوَوِيِّ (1/ 67)، وَ «وَفَيَاتِ الأَعْيَانِ» لِابْنِ خَلِّكَانَ (4/ 188)، وَ «تَهْذِيبِ الكَمَالِ» للْمِزِّيِّ (24/ 430)، وَ «تَارِيخِ الإِسْلَامِ» (19/ 238)، وَ «سِيَرِ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 391)، وَ «تَذْكِرَةِ الحُفَّاظِ» لِلذَّهَبِيِّ (2/ 555)، وَ «طَبَقَاتِ الشَّافِعِيَّةِ الكُبْرَى» لِلسُّبْكِيِّ (2/ 212)، وَ «البِدَايَةِ وَالنِّهَايَةِ» لِابْنِ كَثِيرٍ (14/ 526)، وَ «هُدَي السَّارِي» (477)، وَ «تَهْذِيبِ التَّهْذِيبِ» لِابْنِ حَجَرٍ (9/ 47)، وَ «النُّجُومِ الزَّاهِرَةِ» لِابْنِ تَغَرِي بَرْدِي (3/ 25)، وَ «شَذَرَاتِ الذَّهَبِ» لِابْنِ العِمَادِ (2/ 134)، وَ «الرِّسَالَةِ المُسْتَطْرَفَةِ لِبَيَانِ مَشْهُورِ كُتُبِ السُّنَّةِ المُشَرَّفَةِ» لِلكَتَّانِيِّ (10).

প্রথম পরিচ্ছেদ

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত
(১).

যা অন্তর্ভুক্ত করে:

* তাঁর নাম ও বংশের বর্ণনা।

* তাঁর জন্ম ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে আবি হাতিমের «আল-জারহু ওয়াত-তাদিল» (৭/১৯), ইবনে হিব্বানের «আস-সিকাত» (৯/১১৩), আল-খালিলীর «আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি উলামাউল হাদিস» (৩/৯৫৮), খতিব আল-বাগদাদীর «তারিখে বাগদাদ» (২/৪), আবু ইয়া'লার «তাবাকাতুল হানাবিলা» (১/২৭১), আস-সামআনীর «আল-আনসাব» (১/২৯৩), আন-নববীর «তহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত» (১/৬৭), ইবনে খাল্লিকানের «ওয়াফায়াতুল আইয়ান» (৪/১৮৮), আল-মিজ্জীর «তহজীবুল কামাল» (২৪/৪৩০), «তারিখুল ইসলাম» (১৯/২৩৮), «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৩৯১), আয-যাহাবীর «তাযকিরাতুল হুফফাজ» (২/৫৫৫), আস-সুবকীর «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা» (২/২১২), ইবনে কাসীরের «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (১৪/৫২৬), «হুদায়ুস সারি» (৪৭৭), ইবনে হাজারের «তহজীবুত তহজীব» (৯/৪৭), ইবনে তাগরি বরদীর «আন-নুজুমুজ জাহেরা» (৩/২৫), ইবনুল ইমাদের «শাযারাতুয যাহাব» (২/১৩৪), এবং আল-কাত্তানীর «আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা লি-বায়ানি মাশহুরি কুতুবিল সুন্নাতিল মুশাররাফা» (১০)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٤)
* ذِكْرِ نَشْأَتِهِ.

* ذِكْرِ رِحْلتِهِ وَطَلَبِهِ.

* ذِكْرِ شُيوخِهِ.

* ذِكْرِ تَلَامِذَتِهِ.

* ذِكْرِ عِبَادَتِهِ وَفَضْلِهِ وَوَرَعِهِ وَصَلَاحِهِ.

* ذِكْرِ كَرَمِهِ وَسَمَاحَتِهِ.

* ذِكْرِ وَرَعِهِ وَاحْتِيَاطِهِ فِي جَرْحِ الرُّوَاةِ.

* ذِكْرِ حِفْظِهِ وَسِعَةِ عِلْمِهِ وَذَكَائِهِ.

* ذِكْرِ ثَنَاءِ الأَئِمَّةِ عَلَيْهِ.

* ذِكْرِ وَفَاتِهِ.

* ذِكْرِ مُصَنَّفَاتِهِ.
* তাঁর বেড়ে ওঠার বিবরণ।

* তাঁর সফর ও জ্ঞানান্বেষণের বিবরণ।

* তাঁর শিক্ষকবৃন্দের বিবরণ।

* তাঁর ছাত্রবৃন্দের বিবরণ।

* তাঁর ইবাদত, শ্রেষ্ঠত্ব, পরহেজগারী ও নেককারিতার বিবরণ।

* তাঁর দানশীলতা ও উদারতার বিবরণ।

* বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় (জারহ) তাঁর পরহেজগারী ও সতর্কতার বিবরণ।

* তাঁর মুখস্থশক্তি, জ্ঞানের প্রশস্ততা ও মেধার বিবরণ।

* তাঁর বিষয়ে ইমামগণের প্রশংসার বিবরণ।

* তাঁর ইন্তেকালের বিবরণ।

* তাঁর রচনাবলির বিবরণ।
(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٥)
*‌‌ ذِكْرُ اسْمِهِ وَنَسَبِهِ.

الإِمَامُ الكَبِيْرُ، الحَافِظُ، المُجَوِّدُ، الحُجَّةُ، الصَّادِقُ، النَّقَّادُ، القُدْوَةُ، شَيْخُ الإِسْلَامِ، إِمَامُ الدُّنْيَا، أَمِيرُ المُؤْمِنِينَ فِي الحَدِيثِ.

أَبُو عَبْدِ اللهِ بنُ أَبِي الحَسَنِ، مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ المُغِيْرَةِ بْنِ بَرْدِزْبَه(1)، الجُعْفِيُّ مَوْلَاهُمْ، البُخَارِيُّ.

فَأَمَّا الجُعْفِيُّ: فَنِسْبَةً إِلى يَمَانِ الجُعْفِيِّ الَّذِي أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ المُغِيْرَةُ جَدُّ البُخَارِيُّ، وَكَانَ قَبْلُ مَجُوسِيًّا، فَنُسِبَ إِلَيْهِ نِسْبَةَ وَلَاءِ إِسْلَامٍ(2).

وَأَمَّا البُخَارِيُّ: فَنِسْبَةً إِلَى مَدِينَةِ بُخَارَى الوَاقِعَةِ فِي بِلَادِ مَا وَرَاءَ النَّهْرِ، وَهِيَ الآنَ تَقَعُ فِي الجُزْءِ الغَرْبِيِّ مِنْ جُمْهُوْرِيةِ أُوْزبَكِسْتَانَ(3).

--------------------------------------------

(1) هَذَا لَفْظُهُ بِالبُخَارِيَةِ، وَمَعْنَاهُ فِي العَرَبِيَّةِ الزُّرَّاعُ.

وَاخْتُلِفَ فِي ضَبْطِهِ وَالمَشْهُورُ: فَتْحُ البَاءِ المُوَحَّدَةِ، وَسُكُونُ الرَّاءِ، وَكَسْرُ الدَّالِ المُهْمَلَةِ، وَسُكُونُ الزَّايِ المُعْجَمَةِ، وَفَتْحُ البَاءِ المُوَحَّدَةِ، بَعْدَهَا هَاءٌ: (بَرْدِزْبَه). وَقِيْلَ فِي ضَبْطِهِ: فَتْحُ اليَاءِ المُثَنَّاةِ مِنْ تَحْتِهَا، وَسُكُونُ الزَّايِ، وَكَسْرُ الذَّالِ المُعْجَمَةِ، بَعْدَهَا بَاءٌ مُوَحَّدَةٌ، ثُمَّ هَاءٌ سَاكِنَةٌ: (يَزْذِبَه). «الإِكْمَالُ» (1/ 259)، وَ «الأَنْسَابُ» (2/ 67)، وَ «طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ الكُبْرَى» (2/ 212)، وَ «هُدَي السَّارِي» (478).

(2) إِذْ كَانَ العُرفُ السَّائِدُ آنَذَاكَ أنَّ الإِنْسَانَ إِذَا أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ شَخْصٌ نُسِبَ إِلَى قَبِيلَتِهِ، وَكَانَتْ تُسَمَّى هَذِهِ النِّسْبَةُ نِسْبَةَ الوَلَاءِ فِي الإِسْلَامِ. «تَهْذِيبُ الأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ» (1/ 67)، وَ «هُدَي السَّارِي» (478).

(3) افتُتِحَتْ عَلَى يَدِ قُتَيْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، سَنَةَ سَبْعٍ وَثَمَانِينَ مِنَ الهِجْرَةِ. «مُعْجَمُ البُلْدَانِ» ليَاقُوتِ الحَمَوِيِّ (1/ 419).

তাঁর নাম ও বংশপরিচয় উল্লেখ।

মহান ইমাম, হাফেজ, সুনিপুণ বর্ণনাকারী, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, পরম সত্যবাদী, বিশেষজ্ঞ সমালোচক, অনুসরণীয় আদর্শ, শাইখুল ইসলাম, জগদ্বরেণ্য ইমাম এবং হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন।

আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হাসান, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগিরা বিন বারদিজবাহ(১), জু'ফি (তাদের আযাদকৃত), বুখারি।

জু'ফি-এর ব্যাখ্যা: এটি ইয়ামান আল-জু'ফির প্রতি সম্পৃক্ততা, যাঁর হাতে বুখারির পিতামহ আল-মুগিরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; তিনি এর আগে অগ্নিউপাসক ছিলেন। ফলে ইসলামের আনুগত্যের (ওয়ালা) সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁর প্রতি এই নিসবত বা সম্পৃক্ততা করা হয়েছে(২)।

আর বুখারি-এর ব্যাখ্যা: এটি মা ওয়ারাউন নাহার (নদীতীরবর্তী) অঞ্চলে অবস্থিত বুখারা শহরের প্রতি সম্পৃক্ততা; যা বর্তমানে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত(৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি ভাষার শব্দ, আরবিতে যার অর্থ হলো কৃষক।

এর উচ্চারণরীতিতে ভিন্নতা রয়েছে, তবে প্রসিদ্ধ হলো: বা-এর ওপর জবর, র-এর ওপর সুকুন, দাল-এর নিচে যের, যা-এর ওপর সুকুন এবং বা-এর ওপর জবর, এরপর হা: (বারদিজবাহ)। এর উচ্চারণের ক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে: ইয়া-এর ওপর জবর, যা-এর ওপর সুকুন, যাল-এর নিচে যের, এরপর বা এবং সাকিন হা: (ইয়াযদিবাহ)। «আল-ইকমাল» (১/ ২৫৯), «আল-আনসাব» (২/ ৬৭), «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা» (২/ ২১২) এবং «হুদায়ুস সারি» (৪৭৮)।

(২) যেহেতু তৎকালীন সময়ে প্রচলিত প্রথা ছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কারোর হাতে ইসলাম গ্রহণ করত, তবে তাকে সেই ব্যক্তির গোত্রের প্রতি সম্পৃক্ত করা হতো; আর এই সম্পৃক্ততাকে ইসলামে 'ওয়ালা' (আনুগত্যের সম্পর্ক) বলা হতো। «তাজহিবুল আসমা ওয়াল লুগাত» (১/ ৬৭) এবং «হুদায়ুস সারি» (৪৭৮)।

(৩) এটি হিজরি ৮৭ সনে কুতাইবা বিন মুসলিমের হাতে বিজিত হয়েছিল। ইয়াকুত আল-হামাভির «মু'জামুল বুলদান» (১/ ৪১৯)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٦)
*‌‌ ذِكْرُ مَوْلِدِهِ وَصِفَتِهِ.

وُلِدَ فِي بُخَارَى يَوْمَ الجُمُعَةِ بَعْدَ صَلَاةِ الجُمُعَةِ لِثَلاثَ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ(1). قَالَ أَبُو حَسَّانَ مُهِيبُ بْنُ سُلَيْمٍ: «سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيَّ يَقُولُ: وُلِدَتُ يَوْمَ الجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ لِثِنْتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَوَّالٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ، وَكَانَ عُمُرهُ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ سَنَةً إِلَّا اثْنَتَيْ عَشَرَ يَوْمًا»(2).

قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَدِيٍّ: «سَمِعْتُ الحَسَنَ بْنَ الحُسَيْنِ البَزَّازَ، يَقُوْلُ: رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيْلَ شَيْخًا نَحِيْفَ الجِسْمِ، لَيْسَ بِالطَّوِيْلِ وَلَا بِالقَصِيْرِ»(3).

 

*‌‌ ذِكْرُ نَشْأَتِهِ.

مَاتَ أَبُوهُ وَهُوَ صَغِيرٌ، فَنَشَأَ فِي حِجْرِ أُمِّهِ، فَأَلهَمَهُ اللَّهُ حِفْظَ الحَدِيثِ، وَكَانَ أَبُوهُ قَدْ تَرَكَ مَالًا أَعَانَ أُمَّهُ عَلَى تَنشِئتِهِ وَتَرْبِيتِهِ. قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ: «دَخَلْتُ عَلَى أَبِي الحَسَنِ يَعْنِي: إِسْمَاعِيْلَ وَالِدِ أَبِي عَبْدِ اللهِ عِنْدَ مَوْتِهِ، فَقَالَ: لَا أَعْلَمُ مِنْ مَالِي دِرْهَمًا مِنْ حَرَامٍ، وَلَا دِرْهَمًا مِنْ شُبْهَةٍ»(4).

وَقَدْ ذَهبَتْ عَيْنَا مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ فِي صِغَرِهِ، فَرَأَتْ وَالِدتُهُ فِي المَنَامِ إِبْرَاهِيْمَ الخَلِيْلَ عليه السلام، فَقَالَ لَهَا: «يَا هَذِهِ، قَدْ رَدَّ اللهُ عَلَى

--------------------------------------------

(1) «الكَامِلُ» لِابْنِ عَدِيٍّ (1/ 227).

(2) «الإِرْشَادُ فِي مَعْرِفَةِ عُلَمَاءِ الحَدِيثِ» (3/ 959).

(3) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 6)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 452).

(4) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 447)، وَتَرجَمَ لَهُ ابْنُهُ مُحَمَّدٌ فِي «التَّارِيخِ الكَبِيرِ» (1/ 342)، فَقَالَ: «إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ المُغِيْرةِ الجُعْفِيُّ أَبُو الحَسَنِ، رَأَى حَمَّادَ بْنَ زَيْدٍ، وَصَافحَ ابْنَ المُبَارَكِ بِكِلتَا يَدَيْهِ، وَسَمِعَ مَالِكًا».

*‌‌ তাঁর জন্ম ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।

তিনি ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর দিন জুমুআর সালাতের পর বুখারাতে জন্মগ্রহণ করেন(১)। আবু হাসান মুহীব ইবনে সুলাইম বলেন: «আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি: আমি ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর দিন সালাতের পরে জন্মগ্রহণ করেছি। আর তাঁর বয়স হয়েছিল বারো দিন কম বাষট্টি বছর»(২)।

আবদুল্লাহ ইবনে আদি বলেন: «আমি হাসান ইবনে হুসাইন আল-বাযযারকে বলতে শুনেছি: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে একজন কৃশকায় শরীরের শাইখ হিসেবে দেখেছি, যিনি অতি দীর্ঘও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না»(৩)।

 

*‌‌ তাঁর লালন-পালনের বর্ণনা।

শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। আল্লাহ তাঁর অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার প্রেরণা দান করেন। তাঁর পিতা এমন কিছু সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন যা তাঁর মাকে তাঁর লালন-পালন ও সুশিক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিল। আহমাদ ইবনে হাফস বলেন: «আমি আবুল হাসান অর্থাৎ আবু আবদুল্লাহর পিতা ইসমাইলের নিকট তাঁর মৃত্যুশয্যায় প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন: আমি আমার সম্পদের মধ্যে এক দিরহাম হারাম কিংবা এক দিরহাম সন্দেহযুক্ত সম্পদ থাকার বিষয়েও জানি না»(৪)।

শৈশবে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের দুই চোখ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। তখন তাঁর মা স্বপ্নে ইবরাহিম আল-খালিল আলাইহিস সালামকে দেখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: «হে নারী, আল্লাহ আপনার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন আপনার...»

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আদির «আল-কামিল» (১/২২৭)।

(২) «আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি উলামাইল হাদিস» (৩/৯৫৯)।

(৩) «তারিখু বাগদাদ» (২/৬), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৪৫২)।

(৪) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৪৪৭); এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ «আত-তারিখুল কাবির» (১/৩৪২)-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: «ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুগিরা আল-জুফি আবুল হাসান, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে দেখেছেন, ইবনুল মুবারকের সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করেছেন এবং ইমাম মালিকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন»।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٧)
ابْنِكِ بَصَرَهُ»(1).

 

*‌‌ ذِكْرُ رِحْلتِهِ وَطَلَبِهِ.

ظَهَرَ نُبوغُهُ العِلْمِيُّ فِي سِنٍّ مُبَكِرةٍ، فَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَاتِمٍ، قَالَ: «قُلْتُ لِأَبِي عَبْدِ اللهِ: كَيْفَ كَانَ بَدْءُ أَمرِكَ؟ قَالَ: أُلهِمْتُ حِفْظَ الحَدِيثِ وَأَنَا فِي الكُتَّابِ. فَقُلْتُ: كَمْ كَانَ سِنُّكَ؟ فَقَالَ: عَشْرُ سِنِيْنَ، أَوْ أَقَلَّ، ثُمَّ خَرَجْتُ مِنَ الكُتَّابِ بَعْدَ العَشْرِ، فَجَعَلْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى الدَّاخِلِيِّ وَغَيْرِهِ، فَقَالَ يَوْمًا فِيْمَا كَانَ يَقْرَأُ لِلنَّاسِ: سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ إِبْرَاهِيْمَ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ لَمْ يَرْوِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ. فَانْتَهَرنِي، فَقُلْتُ لَهُ: ارْجِعْ إِلَى الأَصْلِ فَدَخَلَ فَنَظَرَ فِيْهِ، ثُمَّ خَرَجَ، فَقَالَ لِي: كَيْفَ هُوَ يَا غُلَامُ؟ قُلْتُ: هُوَ الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيْمَ، فَأَخَذَ القَلَمَ مِنِّي، وَأَحْكَمَ كِتَابَهُ، وَقَالَ: صَدَقْتَ. فَقِيْلَ لِلْبُخَارِيِّ: ابْنُ كَمْ كُنْتَ حِيْنَ رَدَدْتَ عَلَيْهِ؟ قَالَ: ابْنُ إِحْدَى عَشْرَةَ سَنَةً، فَلَمَّا طَعَنْتُ فِي سِتَّ عَشْرَةَ سَنَةً، كُنْتُ قَدْ حَفِظْتُ كُتُبَ ابْنِ المُبَارَكِ

--------------------------------------------

(1) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 6)، وَ «تَهْذِيبُ الكَمَالِ» (24/ 438).

আপনার পুত্রের দৃষ্টিশক্তি [ফিরিয়ে দিয়েছেন]»(১).

 

*‌‌ তাঁর সফর এবং ইলম অন্বেষণের আলোচনা।

অল্প বয়সেই তাঁর ইলমি প্রতিভা প্রকাশ পায়। মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আবু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনার এই পথচলার সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বললেন: মক্তবে থাকাকালীনই আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার প্রেরণা (ইলহাম) দেওয়া হয়েছিল। আমি বললাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: দশ বছর বা তার কম। অতঃপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হই এবং দাখিলি ও অন্যান্যদের নিকট যাতায়াত শুরু করি। একদিন তিনি লোকজনের সামনে পাঠদানকালে বললেন: সুফিয়ান, আবু জুবায়ের থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে। আমি তাঁকে বললাম: আবু জুবায়ের তো ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাঁকে বললাম: আপনি মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখে নিন। তখন তিনি ভেতরে গিয়ে সেটি দেখলেন এবং বাইরে এলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: হে বালক, সঠিকটি আসলে কী? আমি বললাম: এটি হবে জুবায়ের ইবনে আদি, ইবরাহিম থেকে। তখন তিনি আমার থেকে কলম নিলেন এবং নিজের কিতাবটি সংশোধন করলেন এবং বললেন: তুমি ঠিক বলেছ। বুখারিকে জিজ্ঞেস করা হলো: যখন আপনি তাঁকে সংশোধন করে দিয়েছিলেন, তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর। এরপর যখন আমি ষোলো বছর বয়সে উপনীত হলাম, তখন আমি ইবনুল মুবারকের কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলেছিলাম।

--------------------------------------------

(১) «তারিখু বাগদাদ» (২/ ৬), এবং «তাহজিবুল কামাল» (২৪/ ৪৩৮)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَوَكِيْعٍ، وَعَرَفْتُ كَلَامَ هَؤُلَاءِ(1)، ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَ أُمِّي وَأَخِي أَحْمَدَ إِلَى مَكَّةَ، فَلَمَّا حَجَجْتُ رَجَعَ أَخِي بِهَا! وَتخلَّفْتُ فِي طَلَبِ الحَدِيثِ»(2).

فَكَانَ هَذَا أَوَّلُ ارْتِحَالِهِ فِي طَلَبِ العِلْمِ، وَكَانَ ذَلِكَ حَوَالَيِ سَنَةَ عَشْرٍ وَمِائَتَيْنِ، ثمَّ رَحَلَ إِلَى المَدِينَةِ، وَالشَّامِ، وَمِصْرَ، ونَيْسَابُورَ، وَالجَزِيرَةِ، وَالبَصْرَةِ، وَالكُوفَةِ، وَبَغْدَادَ، وَوَاسِطَ، وَمَرْوَ، وَالرَّيِّ، وَبَلْخٍ، وَغَيْرِهَا.

قَالَ الخَطِيبُ: «رَحَلَ فِي طَلَبِ العِلْمِ إِلَى سَائِرِ مُحَدِّثِي الأَمْصَارِ»(3).

وَقَدْ كَانَ البُخَارِيُّ يَسْتَيْقِظُ فِي اللَّيْلَةِ الوَاحِدَةِ مِنْ نَوْمِهِ فَيُورِي السِّرَاجَ، وَيَكْتُبُ الفَائِدَةَ تَمُرُّ بِخَاطِرِهِ ثُمَّ يُطْفِئُ سِرَاجَهُ، ثُمَّ يَقُومُ مَرَّةً أُخْرَى حَتَّى كَانَ يَتَعَدَّدُ ذَلِكَ مِنْهُ قَرِيبًا مِنْ عِشْرِينَ مَرَّةً.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الوَرَّاقُ: «كَانَ أَبُو عَبْدِ اللهِ، إِذَا كُنْتُ مَعَهُ فِي سَفَرٍ، يَجْمَعُنَا بَيْتٌ وَاحِدٌ، فَكُنْتُ أَرَاهُ يَقُومُ فِي لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً إِلَى عِشْرِيْنَ مرَّةً، فِي كُلِّ ذَلِكَ يَأْخُذُ القَدَّاحَةَ، فيُورِي نَارًا، وَيُسْرِجُ، ثُمَّ يُخْرِجُ أَحَادِيثَ، فيُعلِّمُ عَلَيْهَا»(4).

--------------------------------------------

(1) قَالَ الحافظ: «يَعْنِي: أَصْحَابَ الرَّأْيِ». «هُدَي السَّارِي» (478).

(2) «طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ» (2/ 212)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 393).

(3) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 4)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 394).

(4) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 13)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 404).

...এবং ওয়াকী, আর আমি তাঁদের কথা অবগত হলাম(১)। অতঃপর আমি আমার মাতা এবং ভাই আহমদের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম। যখন আমি হজ সম্পাদন করলাম, তখন আমার ভাই তাঁকে (মাতাকে) নিয়ে ফিরে গেলেন! আর আমি হাদিস অন্বেষণের জন্য থেকে গেলাম।(২)

এটিই ছিল জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর প্রথম সফর, আর তা ছিল আনুমানিক ২১০ হিজরি সালের দিকে। এরপর তিনি মদিনা, শাম, মিসর, নিশাপুর, জাজিরা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, ওয়াসিত, মার্ভ, রায়, বলখ এবং অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেন।

আল-খতিব বলেন: «তিনি জ্ঞান অন্বেষণে বিভিন্ন জনপদের মুহাদ্দিসগণের কাছে সফর করেছেন»(৩)।

ইমাম বুখারি এক রাতেই অনেকবার ঘুম থেকে জেগে উঠতেন এবং প্রদীপ জ্বালাতেন। মনে কোনো শিক্ষণীয় বিষয় আসলে তিনি তা লিখে রাখতেন, তারপর প্রদীপ নিভিয়ে দিতেন। এরপর তিনি পুনরায় উঠতেন, এমনকি এটি তাঁর পক্ষ থেকে প্রায় বিশবার পর্যন্ত পুনরাবৃত্ত হতো।

মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম আল-ওয়াররাক বলেন: «আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারি) যখন সফরে থাকতেন এবং আমি তাঁর সাথে থাকতাম, আমাদের থাকার জায়গা এক ঘরই হতো; তখন আমি দেখতাম তিনি এক রাতে পনেরো থেকে বিশবার উঠতেন। প্রতিবারই তিনি চকমকি পাথর নিয়ে আগুন জ্বালাতেন এবং প্রদীপ প্রস্তুত করতেন। অতঃপর তিনি হাদিসগুলো বের করতেন এবং তাতে চিহ্ন দিতেন»(৪)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: «অর্থাৎ আসহাবে রায় বা যুক্তিপন্থীরা»। «হুদায়ুস সারি» (৪৭৮)।

(২) «তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ» (২/ ২১২), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৩৯৩)।

(৩) «তারিখে বাগদাদ» (২/ ৪), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৩৯৪)।

(৪) «তারিখে বাগদাদ» (২/ ১৩), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪০৪)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَقَالَ إِبْرَاهِيْمُ الخَوَّاصُ: «رَأَيْتُ أَبَا زُرْعَةَ كَالصَّبيِّ جَالِسًا بَيْنَ يَدِي مُحَمَّدِ ابْنِ إِسْمَاعِيْلَ، يَسْأَلُهُ عَنْ عِلَلِ الحَدِيثِ»(1).

وَقَالَ العَبَّاسُ الدُّوْرِيُّ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا يُحْسِنُ طَلَبَ الحَدِيثِ مِثْلَ مُحَمَّدِ ابْنِ إِسْمَاعِيْلَ، كَانَ لَا يَدَعُ أَصْلًا وَلَا فَرْعًا إِلَّا قَلَعَهُ. ثُمَّ قَالَ لَنَا: لَا تَدَعُوا مِنْ كَلَامِهِ شَيْئًا إِلَّا كَتَبْتُمُوهُ»(2).

 

*‌‌ ذِكْرُ شُيوخِهِ.

بَعْدَ هَذِهِ الرِّحَلَاتِ الوَاسِعَةِ لَا يُسْتَغْربُ قَوْلُ البُخَارِيِّ رحمه الله: «كَتَبْتُ عَنْ أَلفِ شَيْخٍ وَأَكْثَرَ، عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ عَشْرَةُ آلَافٍ وَأَكْثَرُ، مَا عِنْدِي حَدِيْثٌ إِلَّا أَذكُرُ إِسْنَادَهُ»(3).

وَقَولُهُ رحمه الله: «كَتَبْتُ عَنْ أَلفٍ وَثَمَانِيْنَ رَجُلًا، لَيْسَ فِيْهِمْ إِلَّا صَاحِبُ حَدِيثٍ»(4).

--------------------------------------------

(1) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 407)، وَ «طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ» (2/ 222).

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 406).

(3) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 10)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 407).

(4) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 395)، وَ «هُدَي السَّارِي» (44).

এবং ইব্রাহিম আল-খাওওয়াস বলেন: «আমি আবু যুরআহকে মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইলের সামনে একজন বালকের মতো বসে থাকতে দেখেছি, তিনি তাঁকে হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইলাল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন»(১).

এবং আব্বাস আদ-দুরি বলেন: «আমি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইলের মতো কাউকে হাদিস অন্বেষণে এতোটা পারদর্শী দেখিনি; তিনি কোনো মূলনীতি বা শাখা বাদ দিতেন না যতক্ষণ না তা সমূলে উপড়ে আনতেন (অর্থাৎ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আয়ত্ত করতেন)। অতঃপর তিনি আমাদের বললেন: তোমরা তাঁর কথা থেকে কোনো কিছুই বাদ দিও না, বরং তা লিখে রাখো»(২).

 

*‌‌ তাঁর উস্তাদগণের আলোচনা।

এই সুদূরপ্রসারী ভ্রমণের পর ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কথাটি বিস্ময়কর নয়: «আমি এক হাজার ও তারও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে দশ হাজার বা তারও বেশি হাদিস লিখেছি। আমার নিকট এমন কোনো হাদিস নেই যার সনদ আমার স্মরণে নেই»(৩).

এবং তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) উক্তি: «আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তির নিকট থেকে লিখেছি, যাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ (সাহিবুল হাদিস)»(৪).

--------------------------------------------

(১) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৪০৭), এবং «তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ» (২/২২২)।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৪০৬)।

(৩) «তারিখু বাগদাদ» (২/১০), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৪০৭)।

(৪) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৩৯৫), এবং «হুদায়ুস সারি» (৪৪)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ: «سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيْلَ يَقُوْلُ: دَخَلْتُ بَلْخَ، فَسَأَلونِي أَنْ أُمْلِيَ عَلَيْهِمْ لِكُلِّ مَنْ كَتَبْتُ عَنْهُ حَدِيْثًا، فَأَمْلَيْتُ أَلفَ حَدِيثٍ لِأَلفِ رَجُلٍ ممَّن كَتَبْتُ عَنْهُمْ(1).

 

فَابْتَدَأَ السَّمَاعَ مِنْ شُيُوخِ بَلَدِهِ فسَمِعَ بِبُخَارَى قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ مِنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ اليَمَانِ الجُعْفِيِّ المُسْنِدِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ سَلَامٍ البِيْكَنْدِيِّ، وَجَمَاعَةٍ، لَيْسُوا مِنْ كِبَارِ شُيُوْخِهِ.

 

وَقَدْ قَسَّمَ الحَافِظُ ابنُ حَجَرٍ شُيُوخَ البُخَارِيِّ إِلَى خَمْسِ طَبقَاَتٍ:

الأُولَى: مَنْ حَدَّثَهُ عَنِ التَّابِعِينَ، وَهُمْ أَتْبَاعُ التَّابِعِينَ، وَهُمْ: أَبُو عَاصِمٍ، وَمكِيُّ بنُ إِبْرَاهِيْمَ، وَعُبَيْدُ اللهِ بنُ مُوْسَى، وَأَبُو المُغِيْرَةِ، وَنحوُهُمْ.

 

الثَّانِيَةُ: مَنْ كَانَ فِي عَصْرِ هَؤلَاِءِ لَكِنَّهُ لَمْ يَسْمَعَ مِنْ ثِقَاتِ التَّابِعِينَ، كَآدَمِ بْنِ أَبِي إِيَاسٍ، وَسَعِيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، وَأَيُّوْبَ بْنِ سُلَيْمَانَ، وَأَمْثَالِهِمْ.

 

الثَّالِثَةُ: وَهِيَ الوُسْطَى مِنْ مَشَايِخهِ، وَهُمْ مَنْ لَمْ يَلْقَ التَّابِعِينَ، بَلْ أَخَذَ عَنْ كِبَارِ تَبَعِ الأَتبَاعِ، كَسُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ، وَقُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، وَابْنِ المَدِينِيِّ، وَابْنِ مَعِينٍ، وَابْنِ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقَ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَمثَالِهِمْ، وَهَذِهِ الطَّبَقَةُ قَدْ شَاركَهُ مُسْلِمٌ فِي الأَخْذِ عَنْهُمْ.

--------------------------------------------

(1) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 395).

মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: «আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে বলতে শুনেছি: আমি বলখ শহরে প্রবেশ করলাম, তখন তারা আমাকে অনুরোধ করল যেন আমি যাদের কাছ থেকে হাদিস লিখেছি, তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করে হাদিস তাদের শ্রুতলিপি প্রদান করি। তাই আমি যাদের কাছ থেকে হাদিস লিখেছি এমন এক হাজার ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক হাজার হাদিস তাদের শ্রুতলিপি প্রদান করলাম(১)।

 

অতঃপর তিনি নিজ শহরের শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন। তিনি দেশভ্রমণে বের হওয়ার আগে বুখারায় আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল ইয়ামান আল-জুফি আল-মুসনিদি, মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-বিকান্দি এবং একদল শায়খের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন, যারা তার বড় শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

 

হাফেজ ইবনে হাজার ইমাম বুখারির শায়খদের পাঁচটি স্তরে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম স্তর: যারা তার কাছে তাবেয়িদের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর তারা হলেন তাবে-তাবেয়িগণ। তারা হলেন: আবু আসিম, মক্কি ইবনে ইবরাহিম, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা, আবু আল-মুগিরা এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

 

দ্বিতীয় স্তর: যারা প্রথম স্তরের ব্যক্তিদের সমসাময়িক ছিলেন, কিন্তু তারা নির্ভরযোগ্য তাবেয়িদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি। যেমন: আদম ইবনে আবি ইয়াস, সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম, আইয়ুব ইবনে সুলাইমান এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

 

তৃতীয় স্তর: এটি তার শায়খদের মধ্যবর্তী স্তর। তারা তাবেয়িদের সাক্ষাৎ পাননি, বরং বড় বড় তাবে-তাবেয়িদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। যেমন: সুলাইমান ইবনে হারব, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, ইবনুল মাদিনি, ইবনে মাইন, ইবনে হাম্বল, ইসহাক, আবু বকর ইবনে আবি শায়বা এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। এই স্তরের শায়খদের থেকে হাদিস গ্রহণে ইমাম মুসলিমও তার সাথে শরিক ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১২/ ৩৯৫)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢١)
الرَّابِعَةُ: رُفَقْاؤهُ فِي الطَّلَبِ، وَمَنْ سَمِعَ قَبْلَهُ، كَمُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الذُّهْلِيِّ، وَعَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ، وَأَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ المُخَرِّمِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيْمِ صَاعِقَةَ، وَجَمَاعَةٍ مِنْ نُظَرَائِهِمْ، وَإِنَّما يُخَرِّجُ عَنْ هَؤلَاءِ مَا فَاتَهُ عَنْ مَشَايِخهِ، أَوْ مَا لَمْ يَجِدْهُ عِنْدَ غَيْرِهِمْ.

 

الخَامِسَةُ: وَهُمْ فِي عِدَادِ طَلَبَتهِ فِي السِّنِّ وَالإِسْنَادِ، وَقَدْ سَمِعَ مِنْهُمْ لِلفَائِدةِ، كَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَمَّادٍ الآمُلِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي العَاصِ الخُوَارِزْمِيِّ، وَحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ القَبَّانِيِّ، وَغَيْرِهِمْ. وَقَدْ رَوى عَنْهُمْ أَشْيَاءَ يَسِيرَةً، وَعَمِلَ فِي الرُّوَايَةِ عَنْهُمْ لِمَا قَالَهُ وكيع: لَا يَكُونُ الرَّجُلُ عَالِمًا حَتَّى يُحدِّثَ عَمَّنْ هُوَ فَوْقَهُ، وَعَمَّنْ هُوَ مِثْلُهُ، وَعَمَّنْ هُوَ دُونَهُ(1).

 

*‌‌ ذِكْرُ تَلَامِذَتِهِ.

أَخَذَ عَنْهُ خَلْقٌ كَثيرٌ لَا يُحْصَونَ، قَالَ الَحافِظُ صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ «جَزَرَةَ»: «كَانَ يَجْتَمِعُ لَهُ فِي بَغْدَادَ وَحْدَهَا أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ أَلفًا يَكْتُبُونَ عَنْهُ. وَكَانَ لَهُ ثَلَاثَةُ مُسْتَمْلِيْنَ، وَسَمِعَ مِنْهُ الصَّحِيحَ مَا يَقْرُبُ مِنْ تِسْعِينَ أَلفًا»(2).

--------------------------------------------

(1) «هُدَي السَّارِي» (479).

(2) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 9)، وَ «تَهْذِيبُ الأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ» (1/ 88 - 90) وَفِيهَا: «سَبْعِينَ»، وَ «وَفَيَاتُ الأَعْيَانِ» (4/ 190)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 398).

চতুর্থ (স্তর): ইলম অন্বেষণে তাঁর সঙ্গীগণ এবং যারা তাঁর পূর্বে শ্রবণ করেছেন; যেমন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী, আবদ ইবনে হুমাইদ, আবু হাতিম আর-রাযী, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুখাররামী, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম সা’য়িকা এবং তাঁদের সমপর্যায়ের একদল লোক। মূলত তিনি তাঁদের থেকে কেবল সেই অংশটুকুই গ্রহণ করেছেন যা তাঁর শায়খদের নিকট থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল অথবা যা তিনি অন্য কারো কাছে পাননি।

 

পঞ্চম (স্তর): তাঁরা বয়স এবং সনদের বিচারে তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি উপকারের জন্য তাঁদের থেকেও শ্রবণ করেছেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ আল-আমুলী, আবদুল্লাহ ইবনে আবিল আস আল-খাওয়ারিযমী, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-কাব্বানী এবং অন্যান্যরা। তিনি তাঁদের থেকে সামান্য কিছু বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে রেওয়ায়াত করার ক্ষেত্রে ওয়াকী‘ যা বলেছেন তা অনুসরণ করেছেন: “কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার চেয়ে উচ্চমর্যাদার ব্যক্তি থেকে, তার সমপর্যায়ের ব্যক্তি থেকে এবং তার চেয়ে নিম্নপর্যায়ের ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করে।”(১)

 

*‌‌ তাঁর ছাত্রদের বিবরণ।

অগণিত মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। হাফেজ সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ‘জাযারাহ’ বলেন: “কেবল বাগদাদেই তাঁর মজলিসে বিশ হাজারের বেশি মানুষ একত্রিত হতো যারা তাঁর থেকে হাদিস লিখে নিত। তাঁর তিনজন মুস্তামলী (উচ্চস্বরে পাঠ পৌঁছানোর সহকারী) ছিল এবং প্রায় নব্বই হাজার লোক তাঁর থেকে ‘সহীহ’ গ্রন্থটি শ্রবণ করেছে।”(২)

--------------------------------------------

(১) ‘হুদাস সারী’ (৪৭৯)।

(২) ‘তারিখে বাগদাদ’ (২/৯), এবং ‘তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত’ (১/৮৮-৯০) আর এতে রয়েছে: ‘সত্তর (হাজার)’, এবং ‘ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান’ (৪/১৯০), এবং ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ (১২/৩৯৮)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ الفِرَبْرِيُّ: «سَمِعَ كِتَابَ «الصَّحِيْحِ» لِمُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ تِسْعُوْنَ أَلفَ رَجُلٍ، فَمَا بَقِيَ أَحَدٌ يَرْوِيْهِ غَيْرِي(1).

 

رَوَى عَنْهُ خَلْقٌ كَثِيْرٌ، مِنْهُمْ:

مُسْلِمٌ فِي غَيْرِ «صَحِيْحهِ»، وَأَبُو عِيْسَى التِّرْمِذِيُّ، وَأَبُو حَاتِمٍ، وَأَبُو زُرعَةَ الرَّازِيَّانِ، وَإِبْرَاهِيْمُ بْنُ إِسْحَاقَ الحَرْبِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ ابْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَاصِمٍ، وَصَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ جَزَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الحَضْرَمِيُّ، وَإِبْرَاهِيْمُ بْنُ مَعْقِلٍ النَّسَفيُّ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ نَاجِيَةَ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ ابْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ، وَأَبُو قُرَيْشٍ مُحَمَّدُ بْنُ جُمْعَةَ، وَيَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ الفِرَبْرِيُّ رَاوِي «الصَّحِيْحِ»، وَمَنْصُوْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ مِزْبَزْدَةَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، وَالحُسَيْنُ، وَالقَاسِمُ ابْنَا المَحَامِلِيِّ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْقَرِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ ابْنِ فَارِسٍ، وَمَحْمُوْدُ بْنُ عَنْبَرٍ النَّسَفيُّ، وَأُمَمٌ لَا يُحْصَوْنَ(2).

 

*‌‌ ذِكْرُ عِبَادَتِهِ وَفَضْلِهِ وَوَرَعِهِ وَصَلَاحِهِ.

وَقَدْ كَانَ البُخَارِيُّ رحمه الله فِي غَايَةِ الحَيَاءِ وَالشَّجَاعَةِ وَالسَّخَاءِ وَالوَرَعِ وَالزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا دَارِ الفَنَاءِ، وَالرَّغْبَةِ فِي الآخِرَةِ دَارِ البَقَاءِ.

--------------------------------------------

(1) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 9)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 398 - 469).

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 397).

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের 'সহীহ' গ্রন্থটি নব্বই হাজার লোক শ্রবণ করেছেন, তবে বর্তমানে আমি ছাড়া এটি বর্ণনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট নেই।"(১)

 

তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য সৃষ্টি (মানুষ) বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

মুসলিম (তাঁর 'সহীহ' ব্যতীত অন্য গ্রন্থে), আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু হাতিম ও আবু যুরআ আল-রাজিদ্বয়, ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-হারবি, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া, আবু বকর আহমদ ইবনে আমর ইবনে আবি আসিম, সালিহ ইবনে মুহাম্মদ জাযারাহ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, ইব্রাহিম ইবনে মাকিল আন-নাসাফি, আব্দুল্লাহ ইবনে নাজিয়াহ, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা, উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুজাইর, আবু কুরাইশ মুহাম্মদ ইবনে জুমআ, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ, 'সহীহ' গ্রন্থের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি, মানসুর ইবনে মুহাম্মদ মিযবাযদাহ, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, আল-হুসাইন ও আল-কাসিম—আল-মাহামিলির দুই পুত্র, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আশকার, মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ফারিস, মাহমুদ ইবনে আম্বর আন-নাসাফি এবং অগণিত মানুষ।(২)

 

*‌‌ তাঁর ইবাদত, শ্রেষ্ঠত্ব, পরহেজগারি ও নেককারির বর্ণনা।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত লজ্জা, বীরত্ব, দানশীলতা, পরহেজগারি এবং এই নশ্বর পৃথিবীর প্রতি অনীহা ও পরকালীন চিরস্থায়ী আবাসের প্রতি অনুরাগের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) «তারিখে বাগদাদ» (২/৯), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৩৯৮ - ৪৬৯)।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/৩৯৭)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَكَانَ فِي غَايَةِ الفَضْلِ، لمَا تَحَلَّى بِهِ مِنْ كَرِيمِ الخِصَالِ وَجَمِيلِ الصِّفَاتِ: فَكَانَ سَخِيَّ النَّفْسِ، عَالِمًا عَابِدًا وَرِعًا تَالِيًا لِكِتَابِ اللهِ تَعَالَى، عَفِّ اللِّسَانَ عَنِ الكَلَامِ فِي النَّاسِ، عَدْلًا فِي قَوْلِهِ وَفِعْلِهِ، لَا يُمَيِّزُ بَيْنَ غَنيٍّ وَفَقِيرٍ، أَوْ قَويٍّ أَوْ ضَعِيفٍ، أَوْ ذِي مَنْصِبٍ وَجَاهٍ، وَرِعٌ فِي مُعَامَلَاتِهِ، يَتَّقِي أَدْنَى شُبْهَةٍ، شَدِيدَ الِاحَتَّياطِ فِي حُقُوقِ العِبَادِ.

وَقَدْ كَانَ رحمه الله يُصَلِّي فِي كُلِّ لَيْلَةٍ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَكَانَ يَخْتِمُ القُرْآنَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ خَتْمَةً، وَكَانَتْ لَهُ جِدَةٌ وَمَالٌ جَيِّدٌ يُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا، وَكَانَ يُكْثِرُ الصَّدَقَةَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً، وَكَانَ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، مُسَدَّدَ الرَّمْيَةِ، شَرِيفَ النَّفْسِ.

 

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ: «دُعِيَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ إِلَى بُسْتَانِ بَعْضِ أَصْحَابِهِ، فَلَمَّا صَلَّى بِالقَوْمِ الظُّهْرَ، قَامَ يَتَطَوَّعُ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، رَفَعَ ذَيْلَ قمِيصِهِ، فَقَالَ لبَعْضِ مَنْ مَعَهُ: انظُرْ هَلْ تَرَى تَحْتَ قَمِيصِي شَيْئًا؟ فَإِذَا زُنْبُورٌ قَدْ أَبَرَهُ فِي سِتِّةِ عَشَرَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ مَوْضِعًا، وَقَدْ تَوَرَّمَ مِنْ ذَلِكَ جَسَدُهُ. فَقَالَ لَهُ بَعْضُ القَوْمِ: كَيْفَ لَمْ تَخْرُجْ مِنَ الصَّلَاةِ أَوَّلَ مَا أَبَرَكَ؟ قَالَ: كُنْتُ فِي سُوْرَةٍ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُتِمَّهَا»(1).

--------------------------------------------

(7) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 12 - 13)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 442).

তিনি অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ছিলেন, কারণ তিনি মহৎ গুণাবলি ও সুন্দর বৈশিষ্ট্যে ভূষিত ছিলেন। তিনি ছিলেন দানশীল, প্রাজ্ঞ আলেম, একনিষ্ঠ ইবাদতকারী, পরহেজগার এবং মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকারী। লোকজনের সমালোচনা ও পরনিন্দা থেকে তিনি নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখতেন। নিজ কথা ও কাজে তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ। তিনি ধনী ও দরিদ্র, সবল ও দুর্বল কিংবা পদমর্যাদা ও প্রভাবশালীদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করতেন না। তিনি নিজের লেনদেনে ছিলেন অত্যন্ত মুত্তাকী ও সতর্ক, সামান্যতম সন্দেহ থেকেও বেঁচে চলতেন এবং বান্দার হকের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত সাবধানী।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি প্রতি রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন। রমজানের প্রতি রাতে তিনি একবার কুরআন খতম করতেন। তাঁর সচ্ছলতা ও উত্তম সম্পদ ছিল, যা থেকে তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যয় করতেন। তিনি দিবা-রাত্রিতে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রচুর দান-সদকা করতেন। তিনি ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দুআ কবুল হয়), তাঁর লক্ষ্যভেদ ছিল অব্যর্থ এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত মহানুভব ও আত্মমর্যাদাশীল।

 

মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলকে তাঁর জনৈক বন্ধুর বাগানে দাওয়াত দেওয়া হলো। যখন তিনি লোকজনকে নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি নফল সালাত পড়তে দাঁড়ালেন। সালাত শেষ করার পর তিনি তাঁর জামার নিচের অংশ উঠালেন এবং তাঁর সাথে থাকা একজনকে বললেন: 'দেখুন তো, আমার জামার নিচে কি কিছু আছে?' দেখা গেল যে, একটি ভিমরুল তাঁকে ষোলো বা সতেরোটি স্থানে হুল ফুটিয়েছে এবং এর ফলে তাঁর শরীর ফুলে গিয়েছিল। তখন উপস্থিত লোকজনের কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: 'যখন সে আপনাকে প্রথম হুল ফুটিয়েছিল, তখনই কেন আপনি সালাত ত্যাগ করলেন না?' তিনি বললেন: 'আমি একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম, তাই আমি সেটি পূর্ণ করতে চেয়েছিলাম'।"(১).

--------------------------------------------

(৭) «তারিখে বাগদাদ» (২/ ১২ - ১৩), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৪২)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ: «كُنَّا فِي مَجْلِسِ أَبِي عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، فَرَفَعَ إِنْسَانٌ مِنْ لِحْيَتِهِ قَذَاةً، فَطَرَحَهَا عَلَى الأَرْضِ. قَالَ: فَرَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَإِلَى النَّاسِ، فَلَمَّا غَفَلَ النَّاسُ رَأَيْتُهُ مَدَّ يَدَهُ فَرَفَعَ القَذَاةَ مِنَ الأَرْضِ، فَأَدْخَلَهَا فِي كُمِّهِ فَلَمَّا خَرَجَ مِنَ المَسْجِدِ، رَأَيْتُهُ أَخْرَجَهَا فَطَرحَهَا عَلَى الأَرْضِ»(1).

 

وَقَالَ الحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّمَرْقَنْديُّ: «كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ مَخْصُوصًا بِثَلَاثِ خِصَالٍ مَعَ مَا كَانَ فِيْهِ مِنَ الخِصَالِ المحْمُودَةِ: كَانَ قَلِيْلَ الكَلَامِ، وَكَانَ لَا يَطْمَعُ فِيْمَا عِنْدَ النَّاسِ، وَكَانَ لَا يَشْتَغِلُ بِأُمُورِ النَّاسِ، كُلُّ شُغْلِهِ كَانَ فِي العِلْمِ»(2).

 

*‌‌ ذِكْرُ كَرَمِهِ وَسَمَاحَتِهِ.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الوَرَّاقُ: «وَكَانَ يَتَصَدَّقُ بِالكَثِيْرِ، يَأْخُذُ بِيَدِهِ صَاحِبَ الحَاجَةِ مِنْ أَهْلِ الحَدِيثِ، فَيُنَاوِلُهُ مَا بَيْنَ العِشْرِيْنَ إِلَى الثَّلَاثِيْنَ، وَأَقَلَّ وَأَكْثَرَ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَشْعُرَ بِذَلِكَ أَحَدٌ. وَكَانَ لَا يُفَارِقُهُ كِيْسُهُ. وَرَأَيْتُهُ نَاوَلَ رَجُلًا مِرَارًا صُرَّةً فِيْهَا ثَلَاثُ مِائَةِ دِرْهَمٍ وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ

--------------------------------------------

(1) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 331).

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 448 - 449).

মুহাম্মদ ইবনে মনসুর বলেন: «আমরা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মজলিসে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তার দাড়ি থেকে একটি ময়লা পরিষ্কার করে তা মাটিতে ফেলে দিলেন। তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে দেখলাম তিনি সেটির দিকে এবং লোকজনের দিকে তাকাচ্ছেন। অতঃপর যখন মানুষ অন্যমনস্ক হলো, আমি তাঁকে দেখলাম তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে মাটি থেকে ময়লাটি উঠালেন এবং তা নিজের আস্তিনের ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হলেন, আমি তাঁকে দেখলাম তিনি তা বের করে মাটিতে ফেলে দিলেন»(১).

 

হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আস-সামারকান্দি বলেন: «মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণাবলীর পাশাপাশি তিনটি বিশেষ গুণের অধিকারী ছিলেন: তিনি অল্প কথা বলতেন, মানুষের কাছে যা আছে তার প্রতি তিনি আকাঙ্ক্ষা করতেন না এবং তিনি মানুষের (ব্যক্তিগত) বিষয়ে নিজেকে লিপ্ত করতেন না, তাঁর সকল ব্যস্ততা ছিল ইলম নিয়ে»(২).

 

*‌‌ তাঁর দানশীলতা ও উদারতার বর্ণনা।

মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আল-ওয়াররাক বলেন: «তিনি প্রচুর সদকা করতেন। তিনি আহলুল হাদিসের অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির হাত ধরতেন এবং তাঁকে বিশ থেকে ত্রিশ বা তার কম-বেশি (দিরহাম) প্রদান করতেন, অথচ কেউ তা টের পেত না। তাঁর টাকার থলিটি কখনো তাঁর থেকে পৃথক হতো না। আমি তাঁকে দেখেছি তিনি এক ব্যক্তিকে কয়েকবার একটি থলি প্রদান করেছেন যাতে তিনশত দিরহাম ছিল, আর তা এই কারণে যে লোকটি...

--------------------------------------------

(১) «তারিখে বাগদাদ» (২/ ৩৩১)।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৪৮ - ৪৪৯)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أَخْبَرَنِي بِعَدَدِ مَا كَانَ فِيْهَا مِنْ بَعْدُ فَأَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ، فَقَالَ لَهُ أَبُو عَبْدِ اللهِ: ارْفُقْ، وَاشْتَغِلْ بِحَدِيثٍ آخَرَ كَيْلَا يَعْلَمَ بِذَلِكَ أَحَدٌ»(1).

وَمِنْ وَفَائهِ وَرِقَّةِ عَاطِفَتِهِ وَصِدْقِ أُخُوَّتِهِ مَا ذَكَرَهُ إِسْحَاقُ بنُ أَحْمَدَ بْنِ خَلَفٍ: قَالَ: «كُنَّا عِنْدَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ البُخَارِيِّ، فَوَرَدَ عَلَيْهِ كِتَابٌ فِيْهِ نَعْيُّ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيِّ، فَنَكَّسَ رَأْسَهُ، ثُمَّ رَفَعَ، وَاسْتَرْجَعَ، وَجَعَلَ تَسِيْلُ دُمُوْعُهُ عَلَى خَدَّيْهِ، ثُمَّ أَنْشَأَ يَقُوْلُ:

إِنْ تَبْقَ تُفْجَعْ بِالأَحِبَّةِ كُلِّهِم … وَفَنَاءُ نَفْسِكَ لَا أَبَا لَكَ أَفْجَعُ

ثُمَّ قَالَ إِسْحَاقُ: مَا سَمِعنَاهُ يُنْشِدُ إِلَّا يَجِيْءُ فِي الحَدِيثِ»(2).

 

*‌‌ ذِكْرُ وَرَعِهِ وَاحْتِيَاطِهِ فِي جَرْحِ الرُّوَاةِ.

قَالَ البُخَارِيُّ: «أَرْجُو أَنْ أَلقَى اللهَ وَلَا يُحَاسِبْنِي أَنِّي اغْتَبْتُ أَحَدًا»(3).

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الوَرَّاقُ: «سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ: مَا اغْتَبْتُ أَحَدًا قَطُّ مُنْذُ عَلِمْتُ أَنَّ الغِيبَةَ تَضُرُّ أَهْلَهَا»(4).

--------------------------------------------

(1) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 450).

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 228 - 229).

(3) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 13)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 439).

(4) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 443).

قَالَ الذَّهَبِيُّ: مُعلِّقًا عَلَى كَلَامِ البُخَارِيِّ هَذَا: «قُلْتُ: صَدَقَ رحمه الله وَمَنْ نَظَرَ فَى كَلَامِهِ فِي الجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ عَلِمَ وَرَعَهُ فِي الكَلَامِ فِي النَّاسِ، وَإِنصَافَهُ فِيْمَنْ يُضَعِّفُهُ، فَإِنَّهُ أَكْثَرُ مَا يَقُوْلُ: مُنْكَرُ الحَدِيثِ، سَكَتُوا عَنْهُ، فِيْهِ نَظَرٌ، وَنَحْوُ هَذَا. وَقَلَّ أَنْ يَقُوْلَ: فُلَانٌ كَذَّابٌ، أَوْ كَانَ يَضَعُ الحَدِيثَ. حَتَّى إِنَّهُ قَالَ: إِذَا قُلْتُ: فُلَانٌ فِي حَدِيْثِهِ نَظَرٌ، فَهُوَ مُتَّهَمٌ وَاهٍ. وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِ: لَا يُحَاسِبْنِي اللهُ أَنِّي اغْتَبْتُ أَحَدًا، وَهَذَا هُوَ وَاللهِ غَايَةُ الوَرَعِ»

পরবর্তীতে তাতে কত ছিল সে আমাকে জানাল। অতঃপর সে দুআ করতে চাইল, তখন আবু আব্দুল্লাহ তাকে বললেন: «নম্রতা অবলম্বন করো এবং অন্য কোনো হাদিসে নিমগ্ন হও, যাতে কেউ বিষয়টি জানতে না পারে»(১)।

তাঁর বিশ্বস্ততা, কোমল অনুভূতি এবং অকৃত্রিম ভ্রাতৃত্ববোধের অন্যতম উদাহরণ হলো যা ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে খালাফ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «আমরা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর কাছে একটি পত্র আসল যাতে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমীর মৃত্যুর সংবাদ ছিল। তখন তিনি মাথা নিচু করলেন, এরপর মাথা তুললেন এবং ‘ইন্নালিল্লাহ’ পড়লেন, আর তাঁর দুই গণ্ডদেশ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। এরপর তিনি আবৃত্তি করতে লাগলেন:

যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে সকল প্রিয়জনকে হারানোর শোকে তুমি ব্যথিত হবে … আর তোমার নিজের বিনাশই—হে বন্ধু—সবচেয়ে বড় শোকের কারণ।

অতঃপর ইসহাক বলেন: হাদিসের প্রসঙ্গে আসা ছাড়া আমরা তাঁকে কখনো কবিতা আবৃত্তি করতে শুনিনি»(২)।

 

*‌‌ বর্ণনাকারীদের দোষত্রুটি বর্ণনার (জারহ) ক্ষেত্রে তাঁর তাকওয়া ও সতর্কতার বিবরণ।

আল-বুখারী বলেন: «আমি আল্লাহর সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করার আশা রাখি যে, তিনি যেন কারও গীবত করার ব্যাপারে আমার হিসাব না নেন»(৩)।

মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল-ওয়াররাক বলেন: «আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: যখন থেকে আমি জেনেছি যে গীবত গীবতকারীর ক্ষতি করে, তখন থেকে আমি কখনো কারও গীবত করিনি»(৪)।

--------------------------------------------

(১) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৫০)।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ২২৮ - ২২৯)।

(৩) «তারিখু বাগদাদ» (২/ ১৩), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৩৯)।

(৪) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৪৩)।

ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আল-বুখারীর এই কথার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: «আমি বলছি: তিনি সত্য বলেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং যে ব্যক্তি জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করবে, সে মানুষের ব্যাপারে কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর তাকওয়া এবং যাকে তিনি দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন তার প্রতি তাঁর ইনসাফের পরিচয় জানতে পারবে। কেননা তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলেন: ‘মুনকারুল হাদিস’ (হাদিসটি অগ্রহণযোগ্য), ‘তাঁরা তাঁর ব্যাপারে নীরব থেকেছেন’, ‘তাঁর ব্যাপারে গবেষণার অবকাশ আছে’ এবং অনুরূপ শব্দাবলী। তিনি খুব কমই বলেন যে: ‘অমুক বড় মিথ্যাবাদী’ অথবা ‘সে হাদিস জাল করত’। এমনকি তিনি বলেছেন: যখন আমি বলি: ‘অমুকের হাদিসের ব্যাপারে গবেষণার অবকাশ আছে’, তখন সে অভিযুক্ত ও অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে গণ্য। আর এটাই তাঁর এ কথার অর্থ যে: ‘আল্লাহ যেন কারও গীবত করার ব্যাপারে আমার হিসাব না নেন’। আল্লাহর কসম, এটাই হলো তাকওয়ার চরম পরাকাষ্ঠা’»

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
*‌‌ ذِكْرُ حِفْظِهِ وَسِعَةِ عِلْمِهِ وَذَكَائِهِ.

قَالَ البُخَارِيُّ: «أَحفَظُ مِائَةَ أَلفِ حَدِيثٍ صَحِيْحٍ، وَأَحْفَظُ مِائَتَي أَلفِ حَدِيثٍ غَيْرِ صَحِيْحٍ»(1).

وَقَالَ: «كَتَبْتُ عَنْ أَلفِ شَيْخٍ وَأَكْثَر، عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ عَشْرَةُ آلَافٍ وَأَكْثَرَ، مَا عِنْدِي حَدِيْثٌ إِلَّا أَذكُرُ إِسْنَادَهُ»(2).

وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَدِيٍّ الحَافِظُ: «سَمِعْتُ عِدَّةَ مَشَايِخٍ يَحْكُوْنَ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيْلَ البُخَارِيَّ قَدِمَ بَغْدَادَ، فَسَمِعَ بِهِ أَصْحَابُ الحَدِيثِ، فَاجْتَمَعُوا وَعَمَدُوا إِلَى مِائَةِ حَدِيثٍ، فَقلبُوا مُتُونِهَا وَأَسَانِيْدَهَا، وَجَعَلُوا

--------------------------------------------

(5) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 24)، وَ «تَهْذِيبُ الأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ» (1/ 68)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 415)، وَ «هُدَي السَّارِي» (488).

(6) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 10)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 407)، وَ «طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ» (2/ 222).

তাঁর মুখস্থশক্তি, ইলমের ব্যাপকতা এবং প্রখর মেধার আলোচনা।

বুখারী বলেন: «আমি এক লক্ষ সহীহ হাদীস মুখস্থ করেছি এবং দুই লক্ষ অ-সহীহ হাদীস মুখস্থ করেছি»(১)。

তিনি বলেন: «আমি এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদীস লিখেছি, তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে দশ হাজার বা তারও বেশি। আমার কাছে এমন কোনো হাদীস নেই যার সনদ আমার স্মরণে নেই»(২)。

আবু আহমদ আব্দুল্লাহ ইবন আদী আল-হাফিয বলেন: «আমি বেশ কয়েকজন শায়খকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী যখন বাগদাদে আসলেন, তখন হাদীস বিশারদগণ তাঁর আগমনের কথা শুনতে পেলেন। ফলে তাঁরা একত্রিত হলেন এবং একশটি হাদীস নির্বাচন করলেন। অতঃপর তাঁরা সেগুলোর মতন (মূল পাঠ) ও সনদগুলো (সূত্র) ওলটপালট করে দিলেন এবং সেগুলোকে...

--------------------------------------------

(৫) «তারীখে বাগদাদ» (২/ ২৪), «তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত» (১/ ৬৮), «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪১৫) এবং «হাদিউস সারী» (৪৮৮)।

(৬) «তারীখে বাগদাদ» (২/ ১০), «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪০৭) এবং «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ২২২)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مَتْنَ هَذَا الإِسْنَادِ هَذَا، وَإِسْنَادَ هَذَا المَتْنِ هَذَا، وَدَفَعُوا إِلَى كُلِّ وَاحِدٍ عَشْرَةَ أَحَادِيثَ ليُلْقُوهَا عَلَى البُخَارِيِّ فِي المَجْلِسِ، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ، وَانْتَدَبَ أَحَدُهُمْ، فَسَأَلَ البُخَارِيَّ عَنْ حَدِيثٍ مِنْ عَشَرتِهِ، فَقَالَ: لَا أَعْرِفُهُ. وَسَأَلَهُ عَنْ آخَرَ، فَقَالَ: لَا أَعْرِفُهُ. وَكَذَلِكَ حَتَّى فَرغَ مِنْ عَشَرتِهِ. فَكَانَ الفُقَهَاءُ يَلْتَفِتُ بَعْضهُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَيَقُوْلُوْنَ: الرَّجُلَ فَهِمَ. وَمَنْ كَانَ لَا يَدْرِي قَضَى عَلَى البُخَارِيِّ بِالعَجْزِ، ثُمَّ انْتَدَبَ آخَرُ، فَفَعَلَ كَمَا فَعَلَ الأَوَّلُ. وَالبُخَارِيُّ يَقُوْلُ: لَا أَعْرِفُهُ. ثُمَّ الثَّالِثَ وَإِلَى تَمَامِ العَشَرَةِ أَنْفُسٍ، وَهُوَ لَا يَزِيدُهُمْ عَلَى: لَا أَعْرِفُهُ. فَلَمَّا عَلِمَ أَنَّهُمْ قَدْ فَرَغُوا، التفَتَ إِلَى الأَوَّلِ مِنْهُمْ، فَقَالَ: أَمَّا حَدِيْثُكَ الأَوَّلُ فَكَذَا، وَالثَّانِي كَذَا، وَالثَّالِثُ كَذَا إِلَى العَشرَةِ، فردَّ كُلَّ مَتْنٍ إِلَى إِسْنَادِهِ. وَفعلَ بِالآخَرِينَ مِثْلَ ذَلِكَ. فَأَقَرَّ لَهُ النَّاسُ بِالحِفْظِ»(1).

وَدَخَلَ مَرَّةً إِلَى سَمَرْقَنْدَ فَاجْتَمَعَ بِهِ أَرْبَعُمِائَةٍ مِنْ عُلَمَاءِ الحَدِيثِ بِهَا، فَرَكَّبُوا لَهُ أَسَانِيدَ وَأَدْخَلُوا إِسْنَادَ الشَّامِ فِي إِسْنَادِ العِرَاقِ، وَخَلَطُوا الرِّجَالَ فِي الأَسَانِيدِ، وَجَعَلُوا مُتُونَ الأَحَادِيثِ عَلَى غَيْرِ أَسَانِيدِهَا، ثُمَّ قَرَءُوهَا عَلَى البُخَارِيِّ، فَرَدَّ كُلَّ حَدِيثٍ إِلَى إِسْنَادِهِ وَقَوَّمَ تِلْكَ الأَحَادِيثَ

--------------------------------------------

(1) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 20)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 408 - 409)

এই সনদের মতনকে ওই সনদে এবং ওই মতনের সনদকে এই সনদে জুড়ে দিল। তারা দশজন ব্যক্তির প্রত্যেককে দশটি করে হাদিস অর্পণ করল যাতে তারা মজলিসে বুখারীর সামনে সেগুলো উপস্থাপন করে। অতঃপর মানুষ সমবেত হলো এবং তাদের মধ্য থেকে একজন উঠে দাঁড়াল। সে তার দশটি হাদিসের মধ্যে একটি সম্পর্কে বুখারীকে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।" সে তাকে অন্য একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।" এভাবে সে তার দশটি হাদিস শেষ করল। তখন ফকিহগণ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "ব্যক্তিটি (বিষয়টি) বুঝতে পেরেছে।" আর যারা (বিষয়টি) জানত না, তারা বুখারীর অক্ষমতার ব্যাপারে রায় দিচ্ছিল। এরপর অন্য একজন উঠে দাঁড়াল এবং প্রথম ব্যক্তির মতো কাজ করল। আর বুখারী বলছিলেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তৃতীয় ব্যক্তি, এভাবে দশজন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত; আর তিনি "আমি এটি জানি না" এর অতিরিক্ত কিছু বলছিলেন না। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা শেষ করেছে, তখন তিনি তাদের প্রথম জনের দিকে ফিরলেন এবং বললেন: "তোমার প্রথম হাদিসটি ছিল এমন, দ্বিতীয়টি এমন এবং তৃতীয়টি এমন..." এভাবে দশটি পর্যন্ত। তিনি প্রতিটি মতনকে তার সঠিক সনদে ফিরিয়ে দিলেন। বাকিদের সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন। ফলে মানুষ তাঁর মুখস্থ শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিল।(1)

তিনি একবার সমরকন্দে প্রবেশ করলেন, সেখানে হাদিসের চারশত আলেম তাঁর কাছে সমবেত হলেন। তারা তাঁর জন্য সনদগুলো ওলটপালট করে দিলেন এবং শামের (সিরিয়ার) সনদকে ইরাকের সনদের সাথে যুক্ত করে দিলেন। তারা সনদের বর্ণনাকারীদের মিশ্রিত করে ফেললেন এবং হাদিসের মতনগুলোকে অন্য সনদের ওপর স্থাপন করলেন। এরপর তারা সেগুলো বুখারীর সামনে পাঠ করলেন। তিনি প্রতিটি হাদিসকে তার সঠিক সনদে ফিরিয়ে দিলেন এবং সেই হাদিসগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন।

--------------------------------------------

(1) ‘তারিখু বাগদাদ’ (২/ ২০), এবং ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ (১২/ ৪০৮-৪০৯)

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَالأَسَانِيدَ كُلَّهَا، وَمَا تَعَلَّقُوا عَلَيْهِ بِسَقْطَةٍ فِي إِسْنَادٍ وَلَا فِي مَتْنٍ»(1).

وَقَدْ ذَكَرُوا أَنَّهُ كَانَ يَنْظُرُ فِي الكِتَابِ مَرَّةً وَاحِدَةً فَيَحْفَظُ مَا فِيْهِ مِنْ نَظْرَةٍ وَاحِدَةٍ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ الكَلْواذَانِيُّ: «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ، كَانَ يَأْخُذُ الكِتَابَ مِنَ العُلَمَاءِ، فَيَطَّلِعُ عَلَيْهِ اطِّلَاعَةً، فَيَحْفَظُ عَامَّةَ أَطرَافِ الأَحَادِيثِ بِمَرَّةٍ»(2).

 

*‌‌ ذِكْرُ ثَنَاءِ الأَئِمَّةِ عَلَيْهِ.

وَقَدْ أَثْنَى عَلَيْهِ عُلَمَاءُ زَمَانِهِ مِنْ شُيُوخِهِ وَأَقْرَانِهِ.

وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ: قَالَ: «ذَكَرْنَا قَوْلَ البُخَارِيِّ لِعَلِيِّ بْنِ المَدِيْنِيِّ يَعْنِي: مَا اسْتَصْغَرتُ نَفْسِي إِلَّا بَيْنَ يَدِي عَلِيِّ بْنِ المَدِيْنِيِّ فَقَالَ عَلِيٌّ: دعُوا هَذَا، فَإِنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيْلَ لَمْ يَرَ مِثْلَ نَفْسِهِ».

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتمٍ الوَرَّاقُ: «سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ قُتَيْبَةَ، قَرِيِبَ أَبِي عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، يَقُولُ: كُنْتُ عِنْدَ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلِ، فَرَأَيْتُ عِنْدَهُ غُلَامًا، فَقُلْتُ لَهُ: مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ بُخَارَى. قُلْتُ: ابْنُ مَنْ؟ فَقَالَ: ابْنُ إِسْمَاعِيلَ. فَقُلْتُ لَهُ: أَنْتَ مِنْ قَرَابَتِي، فَعَانَقْتُهُ، فَقَالَ لِي رَجُلٌ

--------------------------------------------

(1) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 411)، وَ «هُدَي السَّارِي» (479).

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 416)، وَ «هُدَي السَّارِي» (487).

এবং সকল সনদসমূহ, তারা এর কোনো সনদ বা মতনে কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পায়নি।(1).

তারা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কিতাবের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করতেন এবং এক নজরেই এর ভেতরের সব মুখস্থ করে ফেলতেন।

আবু বকর আল-কালওয়াজানি বলেন: «আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে দেখিনি; তিনি আলেমদের থেকে কিতাব নিতেন, তাতে একবার চোখ বুলাতেন এবং একবারেই হাদিসগুলোর অধিকাংশ সূত্র ও সারবস্তু মুখস্থ করে ফেলতেন»(2).

 

*‌‌ তাঁর প্রতি ইমামগণের প্রশংসার বর্ণনা।

তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ, তাঁর শিক্ষকবৃন্দ এবং সমমনা ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রশংসা করেছেন।

আহমদ ইবনে আবদুস সালাম বলেন: «আমরা আলী ইবনুল মাদিনীর নিকট বুখারীর একটি উক্তি উল্লেখ করলাম, তা হলো: 'আলী ইবনুল মাদিনীর সামনে ছাড়া আমি কখনো নিজেকে ছোট মনে করিনি।' তখন আলী বললেন: 'এই কথা বাদ দিন, কারণ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল নিজের মতো কাউকে দেখেননি'»।

মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল-ওয়াররাক বলেন: «আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের আত্মীয় মুহাম্মদ ইবনে কুতায়বাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি আবু আসিম আন-নাবিলের নিকট ছিলাম। সেখানে এক কিশোরকে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তোমার বাড়ি কোথায়? সে বলল: বুখারা। আমি বললাম: কার ছেলে? সে বলল: ইসমাইলের ছেলে। তখন আমি তাকে বললাম: তুমি তো আমার আত্মীয়! এরপর আমি তাকে আলিঙ্গন করলাম। তখন এক ব্যক্তি আমাকে বললেন...»

--------------------------------------------

(1) «সিয়ারু আ'লামিন নুবালা» (১২/ ৪১১), এবং «হুদাস সারি» (৪৭৯)।

(2) «সিয়ারু আ'লামিন নুবালা» (১২/ ৪১৬), এবং «হুদাস সারি» (৪৮৭)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فِي مَجْلِسِ أَبِي عَاصِمٍ: هَذَا الغُلَامُ يُنَاطِحُ الكِبَاشَ»(1).

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ بُنْدَارُ: «حُفَّاظُ الدُّنْيَا أَرْبَعَةٌ: أَبُو زُرْعَةَ بِالرَّيِّ، وَمُسْلِمٌ بِنَيْسَابُوْرَ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ بِسَمَرْقَنْدَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ بِبُخَارَى».

 

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ: «لَمَّا دَخَلْتُ البَصْرَةَ صِرتُ إِلَى بُنْدَارٍ، فَقَالَ لِي: مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ خُرَاسَانَ. قَالَ: مِنْ أَيُّهَا؟ قُلْتُ: مِنْ بُخَارَى. قَالَ: تَعْرِفُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيْلَ؟ قُلْتُ: أَنَا مِنْ قَرَابَتِهِ. فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ يَرْفَعُنِي فَوْقَ النَّاسِ».

وَقَالَ البُخَارِيُّ: «لَمَّا دَخَلْتُ البَصْرَةَ صِرْتُ إِلَى مَجْلِسِ بُنْدَارٍ، فَلَمَّا وَقَعَ بَصَرُهُ عَلَيَّ، قَالَ: مِنْ أَيْنَ الفَتَى؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ بُخَارَى. فَقَالَ لِي: كَيْفَ تَرَكْتَ أَبَا عَبْدِ اللهِ؟ فَأَمْسَكتُ، فَقَالُوا لَهُ: يَرْحمُكَ اللهُ هُوَ أَبُو عَبْدِ اللهِ، فَقَامَ، وَأَخَذَ بِيَدِي، وَعَانَقَنِي، وَقَالَ: مَرْحَبًا بِمَنْ أَفْتَخِرُ بِهِ مُنْذُ سِنِيْنَ».

وَقَالَ حَاشِدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ: «كُنْتُ بِالبَصْرَةِ، فَسَمِعْتُ قُدُومَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ، فَلَمَّا قَدِمَ، قَالَ بُنْدَارٌ: اليَوْمَ دَخَلَ سَيِّدُ الفُقَهَاءِ».

وَقَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ: «مَا أَخْرَجَتْ خُرَاسَانُ مِثْلَهُ».

--------------------------------------------

(1) قَالَ الحَافِظُ: «يَعْنِي يُقَاوِمُ الشُّيُوخَ. «هُدَي السَّارِي» (482).

আবু আসিমের মজলিসে [বলা হয়েছে]: «এই কিশোরটি বড় বড়দের (বিদ্বানদের) সাথে টক্কর দিচ্ছে»(১)।

এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার বুন্দার বলেছেন: «দুনিয়ার হাফেজ হলেন চারজন: রাই নগরের আবু যুরআ, নিশাপুরের মুসলিম, সমরকন্দের আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ-দারিমি এবং বুখারার মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল»।

 

এবং মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ বলেছেন: «যখন আমি বসরায় প্রবেশ করলাম, আমি বুন্দারের নিকট গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কোত্থেকে এসেছ? আমি বললাম: খুরাসান থেকে। তিনি বললেন: খুরাসানের কোন জায়গা থেকে? আমি বললাম: বুখারা থেকে। তিনি বললেন: তুমি কি মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলকে চেন? আমি বললাম: আমি তাঁর আত্মীয়। এরপর থেকে তিনি আমাকে অন্য মানুষের উপরে মর্যাদা দিতেন»।

এবং ইমাম বুখারি বলেছেন: «আমি যখন বসরায় প্রবেশ করলাম, বুন্দারের মজলিসে উপস্থিত হলাম। যখন তাঁর দৃষ্টি আমার ওপর পড়ল, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এই যুবকটি কোত্থেকে এসেছে? আমি বললাম: বুখারার অধিবাসী। তিনি আমাকে বললেন: আবু আবদুল্লাহকে কেমন রেখে এলে? আমি চুপ করে রইলাম। তখন উপস্থিত লোকজন তাঁকে বলল: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, ইনিই তো আবু আবদুল্লাহ। তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন। তিনি বললেন: স্বাগতম তাঁকে, যাঁকে নিয়ে আমি বহু বছর ধরে গর্ব করি»।

এবং হাশেদ ইবন ইসমাইল বলেছেন: «আমি বসরায় ছিলাম, তখন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলের আগমনের সংবাদ শুনলাম। যখন তিনি আসলেন, বুন্দার বললেন: আজ ফকিহদের সরদার প্রবেশ করেছেন»।

এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন: «খুরাসান তাঁর মতো কাউকে বের (তৈরি) করেনি»।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (ইবন হাজার) বলেন: «অর্থাৎ তিনি প্রবীণ শায়খদের মোকাবিলা করছেন (বা তাঁদের সমকক্ষতা করছেন)»। «হাদি আস-সারি» (৪৮২)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَمْدُونَ القَصَّارُ: «رَأَيْتُ مُسْلِمَ بْنَ الحَجَّاجِ جَاءَ إِلَى البُخَارِيِّ فَقَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَقَالَ: دَعْنِي حَتَّى أُقَبِّلَ رِجْلَيْكَ يَا أُسْتَاذَ الأُسْتَاذِينَ، وَسَيِّدَ المُحَدِّثِينَ، وَطَبِيبَ الحَدِيثِ فِي عِلَلِهِ. ثُمَّ سَأَلَهُ عَنْ حَدِيثِ كَفَّارَةِ المَجْلِسِ، فَذَكَرَ لَهُ عِلَّتَهُ، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ مُسْلِمٌ: لَا يُبْغِضُكَ إِلَّا حَاسِدٌ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَيْسَ فِي الدُّنْيَا مِثْلُكَ».

 

وَقَالَ ابْنُ خُزَيْمَةَ: «مَا رَأَيْتُ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ أَعْلَمَ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ ? وَأَحْفَظَ لَهُ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيِّ».

 

وَكَانَ ابْنُ صَاعِدٍ إِذَا ذكرَهُ يَقُوْلُ: «الكَبْشُ النَّطَّاحُ».

 

وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: «لَمْ أَرَ بِالعِرَاقِ وَلَا بِخُرَاسَانَ فِي مَعْنَى العِلَلِ وَالتَّارِيخِ وَمَعْرِفَةِ الأَسَانِيدِ أَعْلَمَ مِنَ البُخَارِيِّ. وَكُنَّا يَوْمًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُنِيرٍ، فَقَالَ لِلبُخَارِيِّ: جَعَلَكَ اللَّهُ زَيْنَ هَذِهِ الأُمَّةِ. قَالَ التِّرْمِذِيُّ: فَاسْتُجِيبَ لَهُ فِيهِ».

 

وَقَالَ أَبُو العَبَّاسِ الدَّغُولِيُّ: «كَتَبَ أَهْلُ بَغْدَادَ إِلَى البُخَارِيِّ: المُسْلِمُونَ بِخَيْرٍ مَا حَيِيتَ لَهُمْ، وَلَيْسَ بَعْدَكَ خَيْرٌ حِينَ تُفْتَقَدُ».

 

وَقَالَ الفَلَّاسُ: «كُلُّ حَدِيثٍ لَا يَعْرِفُهُ البُخَارِيُّ فَلَيْسَ بِحَدِيثٍ».

 

وَقَالَ نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ: «هُوَ فَقِيهُ هَذِهِ الأُمَّةِ».
আহমদ ইবনে হামদুন আল-কাসসার বলেন: “আমি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজকে দেখেছি আল-বুখারীর নিকট আসতে; অতঃপর তিনি তাঁর দুই চোখের মধ্যস্থলে চুম্বন করলেন এবং বললেন: ‘হে উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসদের নেতা এবং হাদীসের ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নির্ণয়ের চিকিৎসক! আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি আপনার পা দুটিতে চুম্বন করতে পারি।’ এরপর তিনি তাঁকে ‘কাফফারাতুল মজলিস’-এর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাঁকে সেটির ইল্লাত বর্ণনা করে দিলেন। যখন তিনি আলোচনা শেষ করলেন, তখন মুসলিম বললেন: ‘কেবল হিংসুক ব্যক্তিই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে পৃথিবীতে আপনার সমতুল্য আর কেউ নেই’।”

 

ইবনে খুযাইমাহ বলেন: “আমি আসমানের নিচে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও অধিক হিফযকারী (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) আর কাউকে দেখিনি।”

 

ইবনে সায়িদ যখনই তাঁর কথা উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: “তিনি হলেন শিং দিয়ে আঘাতকারী শক্তিশালী মেষ (অদম্য বীর)।”

 

আত-তিরমিযী বলেন: “আমি ইরাক কিংবা খুরাসানে হাদীসের ইল্লাত, ইতিহাস এবং সনদ চেনার বিষয়ে আল-বুখারীর চেয়ে বড় কোনো আলিম দেখিনি। একদিন আমরা আবদুল্লাহ ইবনে মুনীরের নিকট ছিলাম, তিনি আল-বুখারীকে বললেন: ‘আল্লাহ আপনাকে এই উম্মতের সৌন্দর্য বানিয়ে দিন’। আত-তিরমিযী বলেন: ‘তাঁর সেই দুআ তাঁর (আল-বুখারীর) হক্বে কবুল করা হয়েছিল’।”

 

আবুল আব্বাস আদ-দাগুলি বলেন: “বাগদাদবাসীরা আল-বুখারীর নিকট লিখেছিলেন: ‘যতদিন আপনি তাদের জন্য জীবিত আছেন, ততদিন মুসলিমরা কল্যাণের ওপর থাকবে; আর আপনি যখন হারিয়ে যাবেন (মারা যাবেন), তখন আপনার পরে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না’।”

 

আল-ফাল্লাস বলেন: “যে হাদীস আল-বুখারী জানেন না, তা কোনো হাদীসই নয়।”

 

নুআইম ইবনে হাম্মাদ বলেন: “তিনি এই উম্মতের ফকীহ।”
(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣١)
وَقَالَ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ: «رُحِلَ إِلَيَّ مِنْ شَرْقِ الأَرْضِ وَغَرْبِهَا، فَمَا رَحَلَ إِلَيَّ مِثْلُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيِّ».

وَقَالَ رَجَاءُ بْنُ مُرَجَّى: «هُوَ آيَةٌ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ يَمْشِي عَلَى الأَرْضِ».

وَقَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّرَامِيُّ: «مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيُّ أَفْقَهُنَا وَأَعْلَمُنَا وَأَغْوَصُنَا وَأَكْثَرُنَا طَلَبًا».

وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوْيَهْ: «هُوَ أَبْصَرُ مِنِّي».

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ: «مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَعْلَمُ مَنْ دَخَلَ العِرَاقَ».

وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيْدِ بْنِ جَعْفَرٍ: «سَمِعْتُ العُلَمَاءَ بِالبَصْرَةِ يَقُوْلُوْنَ: مَا فِي الدُّنْيَا مِثْلُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيْلَ فِي المَعْرِفَةِ وَالصَّلَاحِ»(1).

وَلَوْ ذَهَبْنَا نُسَطِّرُ مَا أَثْنَى عَلَيْهِ الأَئِمَّةُ فِي حِفْظِهِ وَإِتْقَانِهِ وَعِلْمِهِ وَفِقْهِهِ وَوَرَعِهِ وَزُهْدِهِ وَتَبَحُّرِهِ لَطَالَ عَلَيْنَا ذَلِكَ، واللهُ المُسْتَعَانُ.

--------------------------------------------

(1) رَاجِعْ هَذِهِ الأَقْوَالِ وَغَيْرِهَا فِي «سِيَرِ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 416 - 438)، وَ «البِدَايَةِ وَالنِّهَايَةِ» لِابْنِ كَثِيرٍ (14/ 526 - 531).

কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বলেছেন: “পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত থেকে আমার নিকট সফর করে আসা হয়েছে, তবে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর মতো কেউ আমার কাছে সফর করে আসেনি।”

রাজা ইবনে মুরজিয়া বলেছেন: “তিনি জমিনের উপর বিচরণকারী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন।”

আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি বলেছেন: “মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ, সবচেয়ে জ্ঞানী, সবচেয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং ইলম অন্বেষণে আমাদের চেয়ে অধিক অগ্রগামী।”

ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহি বলেছেন: “তিনি আমার চেয়েও অধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন।”

আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: “মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইরাকে প্রবেশকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী।”

আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে জাফর বলেছেন: “আমি বসরার উলামাদের বলতে শুনেছি: ‘জ্ঞান এবং সততার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো আর কেউ নেই’।”(১).

ইমামগণ তাঁর মুখস্থশক্তি, নিখুঁত জ্ঞান, ইলম, ফিকহ, তাকওয়া, যুহদ এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের বিষয়ে যে প্রশংসা করেছেন তা যদি আমরা লিপিবদ্ধ করতে যাই, তবে তা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

(১) এই উক্তিগুলো এবং অন্যান্য বক্তব্য দেখুন ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১২/ ৪১৬ - ৪৩৮) এবং ইবনে কাসিরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৪/ ৫২৬ - ৫৩১) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
*‌‌ ذِكْرُ وَفَاتِهِ.

بِهَذَا الجُهْدِ العِلَمِيِّ فِي خِدْمَةِ الحَدِيِثِ النَّبَويِّ كَانَتْ حَياةُ البُخَارِيِّ كُلُّهَا جِهَادًا وَعَمَلًا وَتَحَمُّلًا لِلمَصَاعِبِ وَصَبْرًا عَلَى المَشَاقِّ، وَبَعْدَ نَفْيِهِ اسْتَقرَّ بِإحْدَى قُرى سَمَرْقَنْدَ تُدْعَى: خَرْتَنْك(1).

قَالَ عَبْدُ القدُّوسِ بْنُ عَبْدِ الجبَّارِ السَّمَرْقنديُّ: «جَاءَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ إِلَى خَرْتَنْك قَرْيَةٌ عَلَى فَرْسَخيْنِ مِنْ سَمَرْقَنْد وَكَانَ لَهُ بِهَا أَقْرُبَاءُ، فَنَزَلَ عِنْدَهُمْ، فَسَمِعْتُهُ لَيْلَةً يَدْعُو وَقَدْ فَرَغَ مِنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ: اللَّهُمَّ إِنَّهُ قَدْ ضَاقَتْ عَلَيَّ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ، فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ، فَمَا تَمَّ الشَّهْرُ حَتَّى مَاتَ، وَقَبْرُهُ بِخَرْتَنْك»(2).

وَتُوُفِّيَ البُخَارِيُّ لَيْلَةَ السَّبْتِ، عِنْدَ صَلَاةِ العِشَاءِ، وَدُفِنَ يَوْمَ الفِطْرِ بَعْدَ صَلَاةِ الظُّهْرِ بِخَرْتَنْك، سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِيْنَ وَمائَتَيْنِ، وَعَاشَ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّيْنَ سَنَةً إِلَّا ثَلَاثَةَ عَشَرَ يَوْمًا، رضي الله عنه وَأَجْزَلَ مَثُوبَتَهُ(3).

--------------------------------------------

(1) قَرْيَةٌ مِنْ قُرَى سَمَرْقَنْدَ.

(2) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 466)، وَ «طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ» (2/ 232)

(3) «تَارِيخُ بَغْدَادَ» (2/ 6 - 34)، وَ «تَهْذِيبُ الأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ» للنَّوَوِيِّ (1/ 68)، وَ «وَفَيَاتِ الأَعْيَانِ» (4/ 190)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 468).

তাঁর ওফাতের বিবরণ।

নববী হাদীসের খিদমতে এই ইলমী প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইমাম বুখারীর পুরো জীবনই ছিল জিহাদ, আমল, বিপদ-আপদ সহ্য করা এবং প্রতিকূলতার ওপর ধৈর্য ধারণের এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁকে নির্বাসিত করার পর তিনি সমরকন্দের একটি গ্রামে স্থিতি গ্রহণ করেন, যার নাম ছিল: খারতাঙ্ক(১)।

আবদুল কুদ্দুস ইবনে আবদুল জব্বার সমরকন্দী বলেন: «মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল খারতাঙ্কে আগমন করেন, যা সমরকন্দ থেকে দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। সেখানে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ছিল এবং তিনি তাঁদের নিকট অবস্থান করেন। এক রাতে আমি তাঁকে তাহাজ্জুদ নামায শেষ করে এই দুআ করতে শুনলাম: হে আল্লাহ! পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তা আমার নিকট সংকীর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন। সেই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কবর খারতাঙ্কেই অবস্থিত»(২)।

ইমাম বুখারী ২৫৬ হিজরী সনের শনিবার রাতে ইশার নামাযের সময় ইন্তেকাল করেন এবং ঈদুল ফিতরের দিন যোহরের নামাযের পর খারতাঙ্কে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি তেরো দিন কম বাষট্টি বছর জীবিত ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর সওয়াবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন(৩)।

--------------------------------------------

(১) সমরকন্দের গ্রামগুলোর মধ্য থেকে একটি গ্রাম।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৬৬), এবং «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ২৩২)

(৩) «তারিখু বাগদাদ» (২/ ৬ - ৩৪), নববীর «তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত» (১/ ৬৮), «ওয়াফায়াতুল আইয়ান» (৪/ ১৯০), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৪৬৮)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
*‌‌ ذِكْرُ مُصَنَّفَاتِهِ.

صَنَّفَ الإِمَامُ البُخَارِيُّ كُتُبًا كَثِيرَةً، وَقَدْ هَيِّأَهُ لِلتَّأْلِيفِ وَالكِتَابَةِ وَأَعَانَهُ عَلَيْهَا ذَكَاؤْهُ الحَادُّ، وَسِعَةُ حِفْظِهِ، وَذَاكِرَتُهُ القَوِيَّةُ، وَمَعْرِفَتُهُ الواسِعَةُ بِالحَدِيثِ النَّبَويِّ وَأَحْوَالِ رِجَالِهِ مِنْ تَعْدِيلٍ وَتَجْرِيحَ، وَكَانَ لَهُ فَضْلُهُ الَّذِي لَا يُنْكَرُ عَلَى الحَدِيثِ وَأَهْلِهِ، فَقَدْ أَسْهَمَ فِي حَرَكةِ النَّهْضَةِ الحَدِيثِيَّةِ بِسَهْمٍ وَافِرٍ، فَوَضَعَ فِي الحَدِيثِ وَعِلَلِهِ وَرِجَالِهِ مُؤَلَّفَاتٍ كَثِيرَةً، وَبَلَغَ بِهَا الغَايَةَ، وَكَانتْ عُمْدَةً لِمَنْ جَاءَ بَعْدُ، وَلَهُ مُؤَلَّفَاتٌ أَشْهَرُهَا.

1 - «الجَامِعُ الصَّحِيحُ». المَعْرُوفُ بِصَحِيحِ البُخَارِيِّ.

2 - «الأَدَبُ المُفْردُ». مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

3 - «القِرَاءَةُ خَلْفَ الإِمَامِ». مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

4 - «خَلْقُ أَفْعَالِ العِبَادِ». مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

5 - «بِرُّ الوَالِدَيْنِ». وَسَيَأْتِي الكَلَامُ عَلَيْهِ.

6 - كُتبُ التَّوَارِيخِ الثَّلَاثَةُ، «الكَبِيرُ»، وَ «الأَوْسَطُ»، وَ «الصَّغِيرُ».

7 - «أَسَامِي الصَّحَابَةِ». وَيُسَمَّى أَيْضًا «كِتَابَ الصَّحَابَةِ»، وَ «تَارِيخَ الصَّحَابَةِ». قَالَ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ: «أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي ذَلِكَ يَعْنِي فِي الصَّحَابَةِ البُخَارِيُّ. أَفْرَدَ فِي ذَلِكَ تَصْنِيفًا، فَنَقَل مِنْهُ أَبُو القَاسِمِ
তাঁর রচনাবলির বিবরণ।

ইমাম বুখারী অনেক কিতাব রচনা করেছেন। তাঁর প্রখর মেধা, বিশাল মুখস্থ শক্তি, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি এবং নববী হাদীস ও রাবীদের অবস্থা অর্থাৎ তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি (তাদীল ও তাজরীহ) সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক জ্ঞান তাঁকে গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছিল এবং এতে তাঁকে সাহায্য করেছিল। হাদীস এবং হাদীসবেত্তাদের ওপর তাঁর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। তিনি হাদীস শাস্ত্রের পুনর্জাগরণ আন্দোলনে বিপুল অবদান রেখেছেন। তিনি হাদীস, হাদীসের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং রাবীদের বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোকে চূড়ান্ত মানে পৌঁছিয়েছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাঁর প্রসিদ্ধ কিছু গ্রন্থ হলো:

১ - «আল-জামি আস-সহীহ»। যা সহীহ বুখারী নামে পরিচিত।

২ - «আল-আদাবুল মুফরাদ»। এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

৩ - «আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম»। এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

৪ - «খালকু আফআলিল ইবাদ»। এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

৫ - «বিররুল ওয়ালিদাইন»। এর আলোচনা সামনে আসবে।

৬ - ইতিহাসের তিনটি কিতাব: «আল-কাবীর», «আল-আওসাত» এবং «আস-সাগীর»।

৭ - «আসামীউস সাহাবা»। একে «কিতাবুস সাহাবা» এবং «তারিখুস সাহাবা»-ও বলা হয়। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «এ বিষয়ে অর্থাৎ সাহাবীগণের বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন বুখারী। তিনি এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন, যেখান থেকে আবুল কাসেম বর্ণনা করেছেন...»
(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
البَغَوِيُّ، وَغَيْرُهُ». وَقَالَ البُخَارِيُّ فِي تَرْجمَةِ «أَبْيَضَ» بَيَّنَاهُ فِي «كِتَابِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم»(1).

8 - «الأَشْرِبَةُ». ذَكَرَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ(2) وَنَقَلَ مِنْهُ حَدِيثًا مَوقُوفًا فِي النَّهْيَ عَنِ الِاسْتِشْفَاءِ بِالخَمْرِ، وَأَشَارَ إِلَى ذَلِكَ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ(3).

9 - «التَّفْسِيرُ الكَبِيرُ». ذَكَرَهُ ابْنُ عَسَاكِرَ، وَالذَّهَبِيُّ، وَابْنُ حَجَرٍ(4).

10 - «الجَامِعُ الكَبِيرُ». ذَكَرَهُ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ، وَالكَتَّانِيُّ(5).

11 - «رَفْعُ اليَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ». وَهُوَ مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

12 - «الضُّعَفَاءُ الكَبِيرُ». ذَكَرَهُ الذَّهَبِيُّ، وَابْنُ حَجَرٍ(6).

13 - «الضُّعَفَاءُ الصَّغِيرُ»، وَهُوَ مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

14 - «العِلَلُ». ذَكَرَهُ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ، وَالكَتَّانِيُّ(7).

--------------------------------------------

(1) «التَّارِيخُ الكَبِيرِ» (2/ 60)، و «الإِصَابَةُ» لِابْنِ حَجَرٍ (1/ 3).

(2) «المُؤْتَلِفُ وَالمُخْتَلِفِ» (4/ 1973).

(3) «هُدَي السَّارِي» (492).

(4) «تَارِيخُ دِمَشْقَ» لِابْنِ عَسَاكِرَ (52/ 71)، وَ «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 444).

(5) «هُدَي السَّارِي» (492)، وَ «الرِّسَالَةُ المُسْتَطْرَفَةِ» (41).

(6) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (9/ 211)، وَ «هُدَي السَّارِي» (492).

(7) «هُدَي السَّارِي» (492)، وَ «الرِّسَالَةُ المُسْتَطْرَفَةِ» (147).

বাগাওয়ী এবং অন্যান্যরা। এবং বুখারী ‘আবইয়াদ’-এর জীবনীতে বলেছেন: “আমরা তা ‘কিতাব আসহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’-এ বর্ণনা করেছি”(১)।

৮ - ‘আল-আশরিবা’। আদ-দারা কুতনী এটি উল্লেখ করেছেন(২) এবং তা থেকে মদের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে একটি মাওকুফ হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, আর হাফেজ ইবনে হাজার সেই দিকে ইঙ্গিত করেছেন(৩)।

৯ - ‘আত-তাফসিরুল কাবির’। এটি ইবনে আসাকির, আয-যাহাবি এবং ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন(৪)।

১০ - ‘আল-জামি উল কাবির’। এটি হাফেজ ইবনে হাজার এবং আল-কাত্তানি উল্লেখ করেছেন(৫)।

১১ - ‘রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাত’। এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

১২ - ‘আদ-দুয়াফাউল কাবির’। আয-যাহাবি এবং ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেছেন(৬)।

১৩ - ‘আদ-দুয়াফাউস সাগির’, এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

১৪ - ‘আল-ইলাল’। হাফেজ ইবনে হাজার এবং আল-কাত্তানি এটি উল্লেখ করেছেন(৭)।

--------------------------------------------

(১) ‘আত-তারিখুল কাবির’ (২/ ৬০), এবং ইবনে হাজারের ‘আল-ইসাবাহ’ (১/ ৩)।

(২) ‘আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ (৪/ ১৯৭৩)।

(৩) ‘হাদয়ুস সারি’ (৪৯২)।

(৪) ইবনে আসাকিরের ‘তারিখে দিমাশক’ (৫২/ ৭১), এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১২/ ৪৪৪)।

(৫) ‘হাদয়ুস সারি’ (৪৯২) এবং ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’ (৪১)।

(৬) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (৯/ ২১১) এবং ‘হাদয়ুস সারি’ (৪৯২)।

(৭) ‘হাদয়ুস সারি’ (৪৯২) এবং ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’ (১৪৭)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
15 - «الفَوَائِدُ». ذَكَرَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي «جَامِعِهِ» بَعْدَ رِوَايَتِهِ لِلحَدِيثِ (رَقَمْ 3742) قَالَ: «وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ، يُحَدِّثُ بِهَذَا عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ، وَوَضَعَهُ فِي «كِتَابِ الفَوَائِدِ». وَأَشَارَ إِلَيهِ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ(1).

16 - «الكُنَى». وَهُوَ مَطبُوعٌ مُتَدَاوَلٌ.

17 - «المَبْسُوطُ». قَالَ الخَلِيلِيُّ فِي تَرْجَمَةِ أَبِي حَسَّانَ مَهِيبَ بْنِ سُلَيْمٍ. «بُخَارِيُّ، ثِقَةٌ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، مُكْثِرٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيِّ، رَوَى عَنْهُ «المَبْسُوطَ»، وَكُتُبًا أُخْرَى لَمْ يَرْوِهَا غَيْرُهُ». وَأَشَارَ إِلَيْهِ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ(2).

18 - «المُسْنَدُ الكَبِيرُ». قَالَ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ: «المُسْنَدُ الكَبِيرُ»: ذَكَرَهُ الفِرَبْرِيُّ». وَقَالَ الإِمَامُ البُخَارِيُّ فِي تَرْجَمَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ: «بَيَّنَاهُ فِي «المُسْنَدِ»(3).

19 - «الهِبَةُ». وَهُوَ مِنْ رِوَايةِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَاتِمٍ الوَرَّاقِ، وَنَقَلَ الذَّهَبِيُّ عَنْهُ أَنهُ قَالَ: «قَرَأَ عَلَيْنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ كِتَابَ «الهِبَةِ»، فَقَالَ: «لَيْسَ فِي هِبَةِ

--------------------------------------------

(1) «جَامِعُ التِّرْمِذِيِّ» (5/ 645)، وَ «هُدَي السَّارِي» (492).

(2) «الإِرْشَادُ» للخَلِيلِيِّ (3/ 973)، وَ «هُدَي السَّارِي» لِابْنِ حَجَرٍ (492).

(3) «التَّارِيخُ الكَبِيرِ» (5/ 2)، وَ «هُدَي السَّارِي» (492).

১৫ - «আল-ফাওয়ায়িদ»। তিরমিজি তাঁর «জামি» গ্রন্থে হাদিস বর্ণনার (নম্বর ৩৭৪২) পর এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে আবু কুরাইব থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি, এবং তিনি এটি তাঁর «কিতাবুল ফাওয়ায়িদ»-এ স্থান দিয়েছেন। হাফেজ ইবনে হাজারও এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন(১)।

১৬ - «আল-কুনা»। এটি মুদ্রিত এবং প্রচলিত।

১৭ - «আল-মাবসুত»। খালিলি আবু হাসসান মাহিব বিন সুলাইমের জীবনীতে বলেছেন: «তিনি বুখারি (শহর নিবাসী), নির্ভরযোগ্য, তাঁর ব্যাপারে সকলে একমত, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁর থেকে «আল-মাবসুত» এবং অন্যান্য কিছু কিতাব বর্ণনা করেছেন যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। হাফেজ ইবনে হাজারও এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন(২)।

১৮ - «আল-মুসনাদ আল-কাবির»। হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: ««আল-মুসনাদ আল-কাবির»: এটি ফিরাবরি উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক-এর জীবনীতে বলেছেন: «আমরা এটি «আল-মুসনাদ»-এ স্পষ্ট করেছি(৩)।

১৯ - «আল-হিবা»। এটি মুহাম্মদ বিন আবু হাতিম আল-ওয়াররাকের বর্ণনা হতে প্রাপ্ত। যাহাবি তাঁর থেকে নকল করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আবু আবদুল্লাহ আমাদের সামনে «কিতাবুল হিবা» পাঠ করেছেন, এরপর বলেছেন: «হিবা বা দান সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো...

--------------------------------------------

(১) «জামি আত-তিরমিজি» (৫/ ৬৪৫), এবং «হুদাস সারি» (৪৯২)।

(২) খালিলির «আল-ইরশাদ» (৩/ ৯৭৩), এবং ইবনে হাজারের «হুদাস সারি» (৪৯২)।

(৩) «আত-তারিখুল কাবির» (৫/ ২), এবং «হুদাস সারি» (৪৯২)।

(খণ্ড: ১) বিররুল ওয়ালিদাইন - আল-বুখারী - ত মক্কী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَكِيْعٍ إِلَّا حَدِيْثَانِ مُسْنَدَانِ أَوْ ثَلَاثَةٌ. وَفِي كِتَابِ عَبْدِ اللهِ بْنِ المُبَارَكِ خَمْسَةٌ أَوْ نَحْوهُ. وَفِي كِتَابِي هَذَا خَمْسُ مَائَةِ حَدِيثٍ أَوْ أَكْثَرُ»(1).

20 - «الوِحْدَانُ». وَهُوَ مَنْ لَيْسَ لَهُ إِلَّا حَدِيثٌ وَاحِدٌ مِنَ الصَّحَابَةِ، قَالَ ذَلِكَ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ، وَذَكَرَ أَنَّ الحَافِظَ ابْنِ مَنْدَه قَدْ نَقَلَ مِنْهُ فِي «كِتَابِ المَعْرِفَةِ»، وَقَدْ اسْتَفَادَ مِنْهُ أَيْضًا أَبُو نُعَيْمٍ، وَابْنُ كَثيرٍ(2).

21 - «جُزْءٌ فِي الِاعْتِقَادِ». أَمْلَاهُ فِي آخِرِ حَياتِهِ، ذَكَرَهُ اللَّالَكَائِيُّ بِنَصَّهِ فِي «شَرْحِ أُصُولِ الِاعْتِقَادِ».

 

وَقَدْ تَرَكَ رحمه الله بَعْدَهُ عِلْمًا نَافِعًا لِجَمِيعِ المُسْلِمِينَ، فَعَمَلُهُ فِيهِ لَمْ يَنْقَطِعْ بَلْ هُوَ مَوْصُولٌ بِمَا أَسْدَاهُ مِنَ الصَّالِحَاتِ فِي الحَيَاةِ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»(3).

--------------------------------------------

(1) «سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ» (12/ 410 - 411.

(2) «هُدَي السَّارِي» (488)، وَ «مَعْرِفَةُ الصَّحَابَةِ» لأَبِي نُعَيْمٍ (2/ 124)، وَ «جَامِعُ المَسَانِيدِ وَالسُّنَنِ» (1/ 44).

(3) رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي «صَحِيحِهِ» (بِرَقَمْ 14/ 1631) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

ওয়াকী’র (কিতাবে) মাত্র দুটি বা তিনটি মুসনাদ হাদিস রয়েছে। আর আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের কিতাবে রয়েছে পাঁচটি বা তদ্রূপ। আর আমার এই কিতাবে পাঁচশত বা তার চেয়েও বেশি হাদিস রয়েছে»(১).

২০ - «আল-উহদান»। এটি তাদের ক্ষেত্রে (ব্যবহৃত হয়) যাদের সাহাবীদের থেকে মাত্র একটি হাদিস বর্ণিত আছে। হাফেজ ইবনে হাজার এ কথা বলেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, হাফেজ ইবনে মান্দাহ তাঁর «কিতাবুল মা’রিফাহ» গ্রন্থে এটি থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এছাড়া আবু নুয়াইম এবং ইবনে কাসিরও এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন(২).

২১ - «জুযউন ফিল ই’তিকাদ»। তিনি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে এটি ইমলা (শ্রুতিলিপি) করিয়েছিলেন। লালকায়ী তাঁর «শারহু উসূলিল ই’তিকাদ» গ্রন্থে এটি হুবহু উল্লেখ করেছেন।

 

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি তাঁর পরে সকল মুসলিমের জন্য উপকারী জ্ঞান রেখে গেছেন। ফলে তাঁর আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি, বরং জীবনে তিনি যে সকল নেক আমল পেশ করেছেন তার মাধ্যমে তা অব্যাহত রয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়াহ, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে»(৩).

--------------------------------------------

(১) «সিয়ারু আ’লামিন নুবালা» (১২/ ৪১০ - ৪১১)।

(২) «হুদাস সারী» (৪৮৮), আবু নুয়াইমের «মা’রিফাতুস সাহাবাহ» (২/ ১২৪), এবং «জামি’উল মাসানিদ ওয়াস সুনান» (১/ ৪৪)।

(৩) মুসলিম এটি তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে (নং ১৪/ ১৬৩১) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।