(খণ্ড: ১) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
صحيح فقه السنة وأدلته وتوضيح مذاهب الأئمة   (كمال ابن السيد سالم)

القسم: الفقه العام


الكتاب: صحيح فقه السنة وأدلته وتوضيح مذاهب الأئمة

المؤلف: أبو مالك كمال بن السيد سالم

مع تعليقات فقهية معاصرة:

فضيلة الشيخ/ ناصر الدين الألباني

فضيلة الشيخ/ عبد العزيز بن باز

فضيلة الشيخ/ محمد بن صالح العثيمين

الناشر: المكتبة التوفيقية، القاهرة - مصر

عام النشر: 2003 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رمضان 1435

সুন্নাহর বিশুদ্ধ ফিকহ, এর দলীলসমূহ এবং ইমামদের মাযহাবসমূহের স্পষ্টীকরণ   (কামাল ইবনে আস-সাইয়্যিদ সালিম)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সুন্নাহর বিশুদ্ধ ফিকহ, এর দলীলসমূহ এবং ইমামদের মাযহাবসমূহের স্পষ্টীকরণ

লেখক: আবু মালিক কামাল ইবনে আস-সাইয়্যিদ সালিম

সমসাময়িক ফিকহী টীকা সহ:

ফযীলাতুশ শাইখ/ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

ফযীলাতুশ শাইখ/ আব্দুল আযীয বিন বায

ফযীলাতুশ শাইখ/ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ, কায়রো - মিশর

প্রকাশকাল: ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৩ রমজান ১৪৩৫

(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١)
صحيح فقه السنة وأدلته وتوضيح مذاهب الأئمة

أعده أبو مالك كمال بن السيد سالم

مع تعليقات فقهية معاصرة

فضيلة الشيخ/ ناصر الدين الألباني

فضيلة الشيخ/ عبد العزيز بن باز فضيلة الشيخ/ محمد بن صالح العثيمين

الجزء الأول
সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ও এর দলীলসমূহ এবং ইমামগণের মাযহাবসমূহের বিশ্লেষণ

প্রস্তুত করেছেন আবু মালিক কামাল ইবনুল সাইয়্যিদ সালিম

সমসাময়িক ফিকহী টীকা-সহ

শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী

শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বায, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমীন

প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
قال تعالى:

{فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [سورة التوبة: 122]

وقال صلى الله عليه وسلم:

«من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين» [متفق عليه].
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{অতঃপর তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হতে পারে।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১২২]

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

«আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর সম্যক জ্ঞান দান করেন» [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة فضيلة الشيخ/ فؤاد سراج عبد الغفار - حفظه الله-

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد المبعوث رحمة للعالمين، ومعلمًا ومرشدًا للخلق أجمعين.

وبعد:

لقد تصفحت كتاب [صحيح فقه السنة] لأخي الفاضل/ أبى مالك كمال بن السيد، حفظه الله تعالى ورعاه، ورزقه العلم النافع والعمل الصالح، فوجدته جمع فيه من الأدلة الصحيحة ما لا يوجد في غيره من كتب الفقه التي حوت الضعيف والصحيح، فهو كتاب يستحق شد الرحال إليه لكل من أراد التفقه في الدين، وأنصح كل مسلم ومسلمة أن يقتني هذا الكتاب لما فيه من علم جم أخذ من المؤلف جهدًا ذهنيًا وجسديًا وسهر الليالي لتتبع الأدلة الصحيحة في مسائل الخلاف ويخرجها لك سهلة ميسرة، والأخ كمال قد تربى بيننا صغيرًا ومنذ نعومة أظفاره كان يسأل أسئلة فقهية سابقة لسنه، فتوقعت له خيرًا كثيرًا بالتفقه في الدين، وأصبح توقعي حقيقة فقد رزقه الله الفقه في الدين، وهذا الكتاب الذي بين يديك أكبر شاهد على ذلك.

والمؤلف يستحق التقدير والشكر والدعاء على هذا التأليف النافع والجمع النفيس القيِّم في الثقة.

و «من يرد الله بن خيرًا يفقهه في الدين» [متفق عليه].

فهنيئًا لك هذا الخير الذي يستحق الشكر لله حتى يأتيك اليقين، وأسأل الله تعالى أن ينفع بهذا الكتاب مؤلفه وقارئه، إنه سميع مجيب.

والحمد لله أولاً وأخيرًا، وصلى الله على نبينا محمد وعلى أله وصحبه وسلم.

وكتبه

أبو عبد الرحمن/ فؤاد بن سراج عبد الغفار
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্মানিত শায়খ ফুয়াদ সিরাজ আব্দুল গাফফার (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকা-

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে এবং সমস্ত সৃষ্টির জন্য শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

অতঃপর:

আমি আমার সম্মানিত ভাই আবু মালিক কামাল বিন আস-সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন এবং তাকে উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করুন)-এর লিখিত [সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ] গ্রন্থটি পাঠ করেছি। আমি এতে দেখেছি যে, তিনি এমন সব সহীহ দলিল একত্রিত করেছেন যা ফিকহের অন্যান্য বইগুলোতে পাওয়া যায় না যেখানে সহীহ ও যঈফ উভয়ই বিদ্যমান থাকে। সুতরাং এটি এমন একটি কিতাব যা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে ইচ্ছুক যে কারো জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদানের দাবি রাখে। আমি প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীকে এই কিতাবটি সংগ্রহ করার পরামর্শ দিচ্ছি, কারণ এতে রয়েছে প্রভূত জ্ঞান যার জন্য লেখক তার মানসিক ও শারীরিক শ্রম ব্যয় করেছেন এবং মতভেদের মাসআলাগুলোতে সহীহ দলিলসমূহ অনুসন্ধানের জন্য রাত জেগেছেন, যাতে তিনি তা আপনার কাছে সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ভাই কামাল আমাদের মাঝেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন এবং একদম শৈশব থেকেই তিনি তার বয়সের তুলনায় অনেক উচ্চতর ফিকহী প্রশ্ন করতেন। তাই আমি তার দ্বীনের গভীর সমঝদার হওয়ার ব্যাপারে অনেক কল্যাণের আশা করেছিলাম এবং আমার সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিয়েছে, আল্লাহ তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেছেন। আপনার হাতে থাকা এই কিতাবটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এই উপকারী রচনা এবং নির্ভরযোগ্য ও মূল্যবান সংকলনের জন্য লেখক প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা এবং দোয়ার যোগ্য।

আর (হাদিসে এসেছে:) “আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।

সুতরাং আপনার এই কল্যাণের জন্য মোবারকবাদ, যা মৃত্যু আসা পর্যন্ত আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের দাবি রাখে। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে এর লেখক এবং পাঠক উভয়কেই উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও উত্তরদানকারী।

শুরুতে এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

আবু আব্দুর রহমান/ ফুয়াদ বিন সিরাজ আব্দুল গাফফার
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله على آلائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في أرضه وسمائه، وأشهد أن محمدً عبده ورسوله وخاتم أنبيائه، صلى الله عليه وعلى وآله وأصحابه صلاة دائمة إلى يوم لقائه وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فقد تتابعت كلمة عامة علماء الإسلام في فواتح مؤلفاتهم، وكريم مدوناتهم لجملة من علوم الشريعة الموقرة، وفنونها المشرَّفة، على أن شرف العلم تابع لشرف معلومه، وكرامة عرقه مؤثرة على مولوده.

وقد حصل بالتتبع والاستقراء اتفاق كلمتهم على أن من أشرف العلوم جميعًا، وأعظمها خيرًا ونفعًا: علم أحكام أفعال العبيد، المشتهر بعد باسم «الفقه الإسلامي» المشمول في عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيرًا يفقهه بالدين» (1). وقد خص بالدعوة بالفقه في الدين: ربيب بيت النبوة عبد الله بن عباس رضي الله عنهما في قوله صلى الله عليه وسلم: «اللهم فقهه في الدين، وعلمه التأويل».

فصار ببركة دعاء النبي صلى الله عليه وسلم: ترجمان القرآن وحبر الأمة وبحرها الذي لا ينزف.

وعظمة هذا العلم وشرفه تَجل عن الوصف والإحاطة؛ ذلك أنها أحكام تساير المسلم وتلازمه في عموم مسالك حياته فيما بينه وبين ربه؛ وفيما بينه وبين عباده.

فيها يشد حبل الاتصال بعبادة ربه في علانيته وسره؛ من طهارة وصلاة، وزكاة وصيام وحج ونسائك.

وبها ينشر راية الإسلام، ويرفع منار القرآن وذلك في فقه الجهاد، والمغازي، والسير، والأمان، والعهد ونحو ذلك.

وبها يتطلب الرِّزق المباح، ويبتعد عن مواطن الإثم والجناح، وذلك في فقه

--------------------------------------------

(1) متفق عليه. من حديث معاوية رضي الله عنه.
লেখকের ভূমিকা

তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর জমিন ও আসমানে তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা, তাঁর রাসুল এবং তাঁর নবীদের সিলমোহর (শেষ নবী)। তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক, যা তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন থাকে।

অতঃপর:

ইসলামের সাধারণ আলেমগণ তাদের সম্মানিত শরীয়তের বিভিন্ন ইলম ও মর্যাদাপূর্ণ শাখাগুলোর গ্রন্থ ও সংকলনের প্রারম্ভে একমত হয়েছেন যে, কোনো বিদ্যার মর্যাদা নির্ভর করে ওই বিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদার ওপর এবং উৎসের শ্রেষ্ঠত্ব তার ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁদের ঐক্যমত অর্জিত হয়েছে যে, সমস্ত বিদ্যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং কল্যাণ ও উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে মহৎ হলো: বান্দার আমল সংক্রান্ত বিধিবিধানের জ্ঞান, যা পরবর্তীতে «ইসলামি ফিকহ» নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সম্যক জ্ঞান দান করেন» (১)। আর নবুওয়াতের ঘরে লালিত-পালিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বিশেষভাবে দ্বীনের গভীর জ্ঞানের দুআ দ্বারা বিশিষ্ট করা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে: «হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যার জ্ঞান শিক্ষা দিন»।

ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর বরকতে তিনি কুরআনের ভাষ্যকার, উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং এমন এক অগাধ সমুদ্রে পরিণত হলেন যা কখনও শুকিয়ে যায় না।

এই ইলমের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে; কারণ এগুলো এমন সব বিধান যা একজন মুসলিমের জীবনের সাধারণ পথচলায় তার রবের সাথে এবং তাঁর বান্দাদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বদা তার সাথী ও অবিচ্ছেদ্য হয়ে থাকে।

এর মাধ্যমেই তার রবের ইবাদতের সাথে প্রকাশ্য ও গোপনে সম্পর্কের রজ্জু মজবুত হয়; যথা: পবিত্রতা, সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ এবং অন্যান্য ইবাদত।

আর এর মাধ্যমেই ইসলামের ঝাণ্ডা উড্ডীন করা হয় এবং কুরআনের আলোকবর্তিকা সমুন্নত করা হয়, যা জিহাদ, যুদ্ধাভিযান, জীবনচরিত, নিরাপত্তা, চুক্তি এবং এই জাতীয় বিষয়ের বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত।

আর এর মাধ্যমেই বৈধ জীবিকা অন্বেষণ করা হয় এবং পাপ ও অপরাধের স্থানসমূহ থেকে দূরে থাকা যায়, যা নিম্নোক্ত বিষয়ের বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত...

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি। মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
المعاملات من بيع وشراء، وخيار، وربا، وصرف، وما جرى مجرى ذلك لا يرتبط بمعاملات الخلق المالية لبعضهم مع بعض.

وبها يُجرى الأموال في وظائفها الشرعية من وقف ووصية ونحوهما من أحكام التصرفات المالية.

وبها يقف على فقه الفرائض المحكمة فيسعد بنصف العلم، وتستقر أموال في يد أربابها على أعدل قسمة وأتم نظام.

وبفقهها ينعم بالحياة الزوجية الشرعية، وما يلحق بها من الأحكام، وما يتعلق بها من طلاق ونحوه.

ويحيط بمدى محافظة الإسلام على ضروريات الحياة المشمولة باسم: الجنايات والدِّيات والحدود والتعزيزات؛ فيعيش في أمن وأمان، وراحة بال واستقرار.

وهكذا في أحكام الأطعمة والنحائر والأيمان، وفى مباحث التقاضي وقواعده وطرقه وأحكامه موطن تحقق العدالة وفصل الخصام؛ فتقر الحقوق في أنصبائها وتعاد الظلامات إلى أهلها.

ولجلائل هذه النعم تسابق العلماء في تدوين الفقه الإسلامي، فقعدوا القواعد، وأصلوا الأصول، واستنبطوا الأُلوف المؤلفة من الفروع في آلاف المجلدات.

وهؤلاء الأجلة من العلماء على تنوع مؤلفاتهم الفقهية وتزاحم هممهم العليَّة تختلف مدوناتهم باختلاف مشاربهم واتجاه فقههم.

فمنهم من ألف في دائرة مذهبه وما زاد.

ومنهم من ألف في دائرة المذاهب الفقهية المنتشرة في الأمصار.

ومنهم من كان كذلك مبينًا أدلة الخلاف ووجوه الاستدلال.

ومنهم رعيلٌ ألف على سبيل الاجتهاد والتحقيق، والنظر العميق؛ فحرر الوقائع وبين النوازل، وساق لها صنوف الأدلة من مشكاة النبوة، سائرًا مع السنن حيث سارت ركائبها، متجها معها حيث كانت مضاربها، فأخرجوا بذلك للناس علمًا جمًا، وفكرًا خصبًا جاريًا على أسعد القواعد وأرشدها.
ক্রয়-বিক্রয়, খিয়ার (ইখতিয়ার), সুদ, মুদ্রা বিনিময় এবং এই জাতীয় লেনদেনসমূহ কেবল মানুষের পারস্পরিক আর্থিক মুআমালাতের সাথেই সংশ্লিষ্ট নয়।

এর মাধ্যমেই সম্পদকে তার শরয়ী খাতসমূহ যেমন ওয়াকফ, ওসীয়ত এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার অনুরূপ বিধিবিধানগুলোতে পরিচালিত করা হয়।

এর মাধ্যমেই সুনিপুণ ফরায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়, যার ফলে ব্যক্তি ‘অর্ধেক ইলম’ অর্জন করে সৌভাগ্যবান হয় এবং সম্পদ তার প্রকৃত মালিকদের হাতে অত্যন্ত ইনসাফপূর্ণ বণ্টন ও সুশৃঙ্খল নিয়মে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

এই ফিকহ বা বিধিবদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমেই শরয়ী দাম্পত্য জীবনের নেয়ামত লাভ করা যায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিধানাবলী যেমন তালাক ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানা যায়।

এটি জীবনের সেই মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো রক্ষায় ইসলামের ব্যাপ্তিকেও পরিবেষ্টন করে যা জিনায়াত (অপরাধ), দিয়াত (রক্তপণ), হুদূদ (নির্ধারিত দণ্ডবিধি) এবং তাযীর (বিবেচনামূলক দণ্ডবিধি) নামে পরিচিত; যার ফলে মানুষ নিরাপত্তা, শান্তি, মানসিক স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে বসবাস করতে পারে।

একইভাবে এটি খাদ্যদ্রব্য, কুরবানি ও শপথের বিধানাবলীতে এবং বিচারিক কার্যক্রমের আলোচনা, এর মূলনীতি, পদ্ধতি ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রেও পরিব্যাপ্ত, যা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধ মীমাংসার মূল কেন্দ্র; ফলে অধিকারগুলো তার যথোপযুক্ত প্রাপকদের নিকট পৌঁছে এবং মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই সকল মহান নেয়ামতের কারণেই ওলামায়ে কেরাম ইসলামী ফিকহ সংকলনে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। তারা মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, উসূলে ফিকহ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং হাজার হাজার খণ্ডে লক্ষ লক্ষ শাখা-প্রশাখা (ফুরু) উদ্ঘাটন করেছেন।

এই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী আলেমগণ তাদের ফিকহী রচনাবলীর বৈচিত্র্য এবং উচ্চতর হিম্মত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সংকলনগুলো তাঁদের রুচি ও ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু নিজ মাযহাবের গণ্ডির ভেতরেই কিতাব রচনা করেছেন এবং এর অতিরিক্ত কিছু করেননি।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন জনপদে প্রচলিত ফিকহী মাযহাবসমূহের পরিমণ্ডলে কিতাব রচনা করেছেন।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মতভেদের দলীলসমূহ এবং ইস্তিদলাল বা দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁদের মধ্যে এমন একদল অগ্রগামী আলেম ছিলেন যারা ইজতিহাদ, তাহকীক এবং গভীর পর্যালোচনার ভিত্তিতে কিতাব রচনা করেছেন; তারা বাস্তব ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করেছেন এবং সমসাময়িক নবজাত সমস্যাসমূহ (নাওয়াযিল) বর্ণনা করেছেন। তারা নবুওয়তের আলোকবর্তিকা থেকে সেগুলোর নানাবিধ দলীল উপস্থাপন করেছেন। সুন্নাহর কাফেলা যেদিকেই ধাবিত হয়েছে, তারা সেদিকেই চলেছেন এবং সুন্নাহ যেখানেই তাবু গেড়েছে, তারা সেদিকেই অগ্রসর হয়েছেন। এভাবে তারা মানুষের জন্য এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার এবং উর্বর চিন্তাধারা উপহার দিয়েছেন, যা অত্যন্ত সৌভাগ্যপ্রসূ ও সঠিক মূলনীতির ওপর পরিচালিত।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
وهذا النوع من الفقه هو أصلاً حظ أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ألقوه إلى التابعين لهم بإحسان، وهكذا تلقفه من تبعهم بالحسنى فدونوه على هذا النمط الكريم والمنهج السليم (1).

وهدا النوع من الفقه في الدين هو ما عناه ابن القيم- رحمه الله تعالى- في فاتحة «تهذيب السنن» بقوله (2):

«فإن أولى ما صرفت إليه العناية، وجرى المتسابقون في ميدانه إلى أفضل غاية تتنافس فيه المتنافسون، وشمَّر إليه العاملون: العلم الموروث عن خاتم المرسلين، ورسول رب العالمين، الذي لا نجاة لأحد إلا به، ولا فلاح له في داريه إلا بالتعلق بسببه، الذي من ظفر به فقد فاز وغنم، ومن صرف عنه فقد خسر وحُرم؛ لأنه قطب السعادة الذي مدارها عليه، وآخيَّة الإيمان الذي مرجعه إليه، فالوصول إلى الله وإلى رضوانه بدونه محال، وطلب الهدى من غير هو عين الضلال، وكيف يوصل إلى الله من غير الطريق التي جعلها هو سبحانه موصلة إليه، ودالة لمن سلك فيها عليه، بعث رسوله بها مناديًا، وأقامه على أعلامها داعيًا، وإليها هاديًا؛ فالباب عن السالك في غيرها مسدود، وهو عن طريق هداه وسعادته مصدود، بل كلما ازداد كدحًا واجتهادًا، ازداد من الله طردًا وإبعادًا، ذلك بأنه صدف عن الصراط المستقيم، وأعرض عن المنهج القويم، ووقف مع آراء الرجال، ورضى لنفسه بكثرة القيل والقال، وأخلد إلى الأرض التقليد، وقنع أن يكون عيالاً على أمثاله من العبيد، لم يسلك من سبل العلوم مناهجها، ولم يرتق في درجاته معارجها، ولا تألقت في خلده أنوار بوارقه، ولا بات قلبه يتقلب بين رياضه وحدائقه، لكنه ارتضع من ثدي من لم تطهر بالعصمة لبانه، وورد مشربًا آجنًا طالما كدره قلب الوارد ولسانه، تضح منه الفروج والدماء والأموال، إلى من حلَّل الحلال وحرم الحرام، وتعج منه الحقوق، إلى منزِّل الشرائع والأحكام، فحق

--------------------------------------------

(1) في كشف هذا الطور الفقهى البناء انظر: «إعلام الموقعين» (1/ 5 - 6 وما بعدها). وكتاب «الفكر السامي في تاريخه الفقه الإسلامى» للحجوى.

(2) انظر: «تهذيب سنن أبى داود» (1/ 5 - 7) طبع سنة 1367 هـ بمطبعة أنصار السنة المحمدية بمصر، بتحقيق الشيخين أحمد شاكر، ومحمد الفقهى. وانظر في هذا المعنى: كتاب «الأحكام» لابن حزم: (6/ 103، 125).
এই ধরণের ফিকহ মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অংশ ছিল, যা তারা নিষ্ঠার সাথে তাদের পরবর্তী অনুসারী তাবেঈদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবেই যারা উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন তারা তা গ্রহণ করেছেন এবং এই মহৎ শৈলী ও সঠিক পদ্ধতিতে তা লিপিবদ্ধ করেছেন (১)।

দ্বীনের এই ধরণের ফিকহ বলতে ইবনুল কাইয়্যিম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তার 'তাহজীবুস সুনান' এর ভূমিকায় যা বুঝিয়েছেন তা হলো (২):

«নিশ্চয়ই যে বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং প্রতিযোগীরা যার ময়দানে শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে দৌড়ায়, যা লাভের জন্য প্রতিযোগীরা একে অপরের সাথে পাল্লা দেয় এবং আমলকারীরা যার জন্য কটিবদ্ধ হয়, তা হলো: সর্বশেষ রাসূল ও বিশ্বজগতের রবের প্রেরিত দূতের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইলম। তা ব্যতীত কারো নাজাত নেই এবং তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া উভয় জগতে কারো কল্যাণ নেই। যে ব্যক্তি তা লাভ করল সে সফল হলো ও গনীমত পেল, আর যাকে তা থেকে সরিয়ে রাখা হলো সে ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হলো; কারণ এটিই হলো সৌভাগ্যের কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে সবকিছু আবর্তিত হয় এবং এটিই ঈমানের মজবুত রশি যার দিকে সবকিছু প্রত্যাবর্তন করে। সুতরাং তা ব্যতীত আল্লাহ ও তাঁর সন্তুষ্টির নিকট পৌঁছানো অসম্ভব, আর তা ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খোঁজা স্পষ্ট গোমরাহি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে পথটিকে তাঁর নিকট পৌঁছানোর মাধ্যম এবং তাঁর দিকে পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, সেই পথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কীভাবে আল্লাহর কাছে পৌঁছানো সম্ভব? তিনি তাঁর রাসূলকে এর মাধ্যমেই ঘোষণাকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং এর নিশানাসমূহ প্রতিষ্ঠাকারী আহ্বানকারী ও হিদায়াতকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। সুতরাং অন্য পথে বিচরণকারীর জন্য দরজা রুদ্ধ এবং সে হিদায়াত ও সৌভাগ্যের পথ থেকে বঞ্চিত। বরং সে যতই কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা করবে, ততই আল্লাহ থেকে দূরে ও বিতাড়িত হবে। কারণ সে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সঠিক পথ বর্জন করেছে এবং মানুষের মতামতের ওপর নির্ভর করেছে। সে নিজের জন্য অধিক বাদানুবাদ ও তর্ক-বিতর্ক পছন্দ করেছে, তাকলীদের মাটির সাথে মিশে গেছে এবং নিজের মতো অন্য বান্দাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে। সে ইলমের সঠিক পদ্ধতিসমূহ অবলম্বন করেনি এবং এর উচ্চতর সোপানসমূহে আরোহণ করেনি। তার অন্তরে এর নূরের চমক উদ্ভাসিত হয়নি এবং তার অন্তর এর বাগিচা ও উদ্যানসমূহের মাঝে বিচরণ করেনি। বরং সে এমন স্তন্য থেকে দুধ পান করেছে যা নিষ্পাপত্বের দ্বারা পবিত্র নয় এবং এমন ঘোলাটে পানির ঘাটে উপস্থিত হয়েছে যা অনেক আগে থেকেই আগন্তুকের অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা কলুষিত হয়েছে। সেখান থেকে লজ্জাস্থান, রক্ত এবং সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সেই সত্তার দিকে ফরিয়াদ করে যিনি হালালকে হালাল করেছেন এবং হারামকে হারাম করেছেন। এবং অধিকারসমূহ শরীয়ত ও বিধান অবতীর্ণকারীর কাছে আর্জি পেশ করে। সুতরাং এটিই যথাযথ»

--------------------------------------------

(১) এই গঠনমূলক ফিকহি পর্যায়টি উন্মোচনের জন্য দেখুন: 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (১/ ৫-৬ এবং পরবর্তী অংশ)। এবং হুজভীর রচিত 'আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি' গ্রন্থ।

(২) দেখুন: 'তাহজিবু সুনানি আবি দাউদ' (১/ ৫-৭), ১৩৬৭ হিজরিতে মিশরের আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত, শায়খ আহমাদ শাকির এবং মুহাম্মাদ আল-ফিক্বীর তাহকীকসহ। এই একই অর্থে দেখুন: ইবনে হাজমের 'আল-আহকাম' গ্রন্থ (৬/ ১০৩, ১২৫)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
على من كان في سعادة نفسه ساعيًا، وكان قلبه حيًا واعيًا بنفسه عن أن يجعل كده وسعيه في نصرة من لا يملك له ضرًا ولا نفعًا، وأن ينزلها في منازل الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعًا، فإن لله يومًا يخسر فيه المبطلون، ويربح فيه المحققون {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً} (1)، {يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُوْلَئِكَ يَقْرَؤُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلاً} (2)،

فما ظن من اتخذ غير الرسول إمامه، ونبذ سنته وراء ظهره، جعل خواطر الرجال وآراءها بين عينه وأمامه، فسيعلم يوم العرض أي بضاعة أضاع، وعند الوزن ماذا أحضر من الجواهر أو خرثى المتاع» اهـ (3).

ومن هنا اشتدت العزيمة، ويممت قبلة القصد إلى جمع كتاب في أبواب الفقه على نسق استحسنته (4)، رجاء أن أنال الخيرية من الفقه في الدين.

وقد دفعني إلى جمعه على هذا النسق وتلك الطريقة ثلاثة أمور:

الأول: بعض السلبيات في الكتب الفقهية القديمة، سواء من حيث الشكل أو من حيث المضمون والمحتوى (5):

(أ) فمن حيث الشكل وطريقة الترتيب والتبويب، فإن الموضوعات في بعض هذه الكتب تتداخل تداخلاً يصعب معه -أحيانًا- العثور على المسألة المطلوبة حتى على بعض المختصين، لا سيما مع عدم وجود الفهارس الموضوعية التي تُيسِّر على الباحث مهمته، في أكثرها.

ومن حيث الأسلوب، فأسلوبها -وإن ناسب العصر الذي كتبت فيه- إلا أنه مما يعسر فهمه على المعاصرين وما يلحظ فيه: ضغط العبارة وحصر المعنى الواسع في لفظ قليل موجز، يصل إلى التعقيد والركاكة، وهذا يوجد في المتون والمختصرات التي كثرت في المتأخرين وصارت عمدة الدارسين والمتفقهين.

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية: 27.

(2) سورة الإسراء، الآية: 71 ..

(3) مقتبس من مقدمة العلامة بكر أبي زيد -حفظه الله- في «تقريب علوم ابن القيم» ص 10 - 14.

(4) سأبين مسلكي في هذا الكتاب قريبًا إن شاء الله.

(5) «ضوابط للدراسات الفقهية» للشيخ سلمان حفظه الله (ص: 33 - 38) بتصرف يسير.
যিনি নিজের আত্মার সুখ অন্বেষণে সচেষ্ট, এবং যার হৃদয় সজাগ ও সচেতন যে সে তার পরিশ্রম ও প্রচেষ্টাকে এমন কারো সাহায্যে ব্যয় করবে না যে তার কোনো অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না, এবং সে নিজেকে তাদের স্তরে নামিয়ে দেবে না যাদের পার্থিব জীবনের প্রচেষ্টা বিফলে গেছে অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে; কারণ আল্লাহর কাছে এমন এক দিন রয়েছে যেদিন বাতিলপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সত্যপন্থীরা লাভবান হবে। "আর সেদিন জালেম তার দুই হাত দংশন করবে এবং বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।" (১), "যেদিন আমরা প্রত্যেক মানবগোষ্ঠীকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব, অতঃপর যাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে প্রদান করা হবে, তারা তাদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের উপর সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না।" (২),

তবে তার ব্যাপারে কী ধারণা করা যায় যে রাসূল ছাড়া অন্য কাউকে নিজের ইমাম হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর সুন্নাহকে নিজের পেছনে ছুড়ে ফেলেছে, মানুষের খেয়ালখুশি ও মতামতকে নিজের চোখের সামনে ও সম্মুখে স্থান দিয়েছে? বিচারের দিনে সে জানতে পারবে সে কোন সম্পদ ধ্বংস করেছে এবং পরিমাপের সময় সে মণি-মুক্তা নাকি তুচ্ছ আসবাবপত্র কী নিয়ে হাজির হয়েছে। (৩)।

আর এখান থেকেই সংকল্প সুদৃঢ় হয়েছে এবং ফিকহের অধ্যায়সমূহকে আমার পছন্দনীয় একটি বিন্যাসে একটি কিতাবে সংকলন করার লক্ষ্য স্থির করেছি (৪), এই আশায় যেন আমি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে কল্যাণপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।

এই বিন্যাস ও পদ্ধতিতে এটি সংকলন করতে আমাকে তিনটি বিষয় উদ্বুদ্ধ করেছে:

প্রথমত: প্রাচীন ফিকহী গ্রন্থসমূহের কিছু নেতিবাচক দিক, যা আঙ্গিক গঠন বা বিষয়বস্তু ও সারসংক্ষেপ উভয় দিক থেকেই দৃশ্যমান (৫):

(ক) আঙ্গিক গঠন এবং বিন্যাস ও পরিচ্ছেদ বিন্যাসের দিক থেকে; কিছু কিতাবে বিষয়বস্তুগুলো এমনভাবে একে অপরের ভেতরে ঢুকে গেছে যে, কখনো কখনো কাঙ্ক্ষিত মাসআলাটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে, এমনকি কিছু বিশেষজ্ঞের জন্যও। বিশেষ করে অধিকাংশ কিতাবে বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র না থাকায় গবেষকের জন্য কাজ সহজ হয় না।

আর শৈলীর দিক থেকে, সেগুলোর বর্ণনাভঙ্গি—যদিও তা যে যুগে লেখা হয়েছে তার জন্য উপযুক্ত ছিল—কিন্তু বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য তা বোঝা বেশ কঠিন। যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো: বাক্যের সংকোচন এবং বিশাল অর্থকে অতি সংক্ষিপ্ত শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, যা অনেক সময় জটিলতা ও দুর্বলতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এটি সেইসব মূলপাঠ ও সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপগুলোতে পাওয়া যায় যা পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে অধিক প্রচলিত এবং শিক্ষার্থী ও ফিকহ অন্বেষণকারীদের প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৭।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭১।

(৩) আল্লামা বকর আবু যায়েদ (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন) এর 'তাকরিব উলুম ইবনিল কাইয়্যিম' গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত, পৃষ্ঠা ১০-১৪।

(৪) আমি শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ এই কিতাবে আমার অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করব।

(৫) শায়খ সালমান (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন) রচিত 'দাওয়াবিত লিদ দিরাসাতিল ফিকহিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ৩৩-৩৮) থেকে সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
وكثرة استعمال العبارات الاصطلاحية ذات الدلالة التاريخية التي لا يفهمها إلا من عاصر مدلولها.

(ب) ومن حيث المضمون والمحتوى: فمن هذه الكتب ما ألف في عصر له ظروف خاصَّة، فكانت تعنى بدراسة مشكلات ذلك العصر، وتأتى العصور التالية لها بمشكلات جديدة.

كما أن من هذه الكتب- وخاصة المتأخرة- ما يكون تركيزه على تحرير المذهب الذي ألفت فيه، دون أن يُعطى الاستدلال حقه، ودون مقارنة أو ترجيح.

هذا فضلاً عن أن عددًا كبيرًا من الكتب المذهبية غلب عليها داء التعصب المذهبي المقيت، والالتزام المطلق بالمذهب، سواء ما كان منه من نص الإمام ذاته، أو من زيادات أصحابه وتلاميذه، أو من اختيارات البارزين فيه، أو ما كان مخرَّجًا على أحد هذه المصادر!! هذا فضلاً عما يكثر في هذه الكتب من إيراد الأحاديث الضعيفة والموضوعة، ودون الإشارة إلى ضعفها.

الثاني: وجود كثير من السلبيات في كتب الفقه المعاصرة، فهذه الكتب وإن تميزت بجودة الترتيب والتبويب وملاءمة روح العصر، وقرب تناولها من الباحث وأحيانًا من القارئ العادي، وإن كان بعضها لم تسيطر عليها روح العصبية المذهبية؛ فإنها يشوبها سلبيات كثيرة- بل وخطيرة أحيانًا- فيما يتعلق بالمضمون والمحتوى والنتائج التي يتوصل إليها البحث خاصة وأنها قد تطرق مسائل جديدة وقضايا نازلة، ومن ذلك:

1 - الضعف العلمي وعدم هضم التراث الفقهي والحديثي الذي يعتبر قاعدة للانطلاق في الدراسة والفتوى والتأليف، فنرى من يخالف ما أجمع عليه المسلمون خلفًا عن سلف، أو يؤيد رأيًا شاذًا منبوذًا تجاوزه الزمن، أو يُنقِّب في فقه الرافضة أو من شاكلهم على بعض الآراء تروق له، ويقدمها للمسلمين على أنها فقه الإسلام، ورأي علماء المسلمين!! (1).

2 - أن بعضها مشحون بأقوال العلماء دون العناية بالاستدلال لهذه الأقوال وترجيح الراجح منها، فيظل الباحث والقارئ في حيرة من أمره، وربما نوَّه إليه

--------------------------------------------

(1) «ضوابط للدراسات الفقهية» (ص: 45).
ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এমন অনেক পারিভাষিক শব্দের অধিক ব্যবহার, যার মর্মার্থ কেবল সমসাময়িক ব্যক্তিরাই বুঝতে সক্ষম।

(খ) বিষয়বস্তু ও উপজীব্যের দিক থেকে: এসব কিতাবের মধ্যে কিছু এমন যুগে রচিত হয়েছে যার বিশেষ প্রেক্ষাপট ছিল। ফলে সেগুলো ওই যুগের সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করত, কিন্তু পরবর্তী যুগগুলোতে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে।

অনুরূপভাবে এসব কিতাবের মধ্যে—বিশেষ করে পরবর্তীকালের কিতাবসমূহে—মনোযোগ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মাযহাবের সিদ্ধান্তসমূহ পরিমার্জনের দিকে, যেখানে দলীল-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি এবং কোনো তুলনা বা অগ্রাধিকারও (তারজীহ) প্রদান করা হয়নি।

এর বাইরে মাযহাব-কেন্দ্রিক কিতাবগুলোর একটি বড় অংশের ওপর ঘৃণিত মাযহাবী গোঁড়ামির ব্যাধি এবং মাযহাবের প্রতি অন্ধ আনুগত্য চেপে বসেছে। তা ইমামের নিজস্ব বক্তব্য হোক, অথবা তাঁর অনুসারী ও ছাত্রদের সংযোজন হোক, কিংবা মাযহাবের বিশিষ্ট আলেমদের পছন্দ করা বিষয় হোক অথবা এসব উৎসের ওপর ভিত্তি করে বের করা কোনো সিদ্ধান্তই হোক!! এর সাথে যুক্ত হয়েছে এসব কিতাবে প্রচুর পরিমাণে যঈফ (দুর্বল) ও জাল হাদিসের অবতারণা, যেখানে সেগুলোর দুর্বলতার প্রতি কোনো ইঙ্গিতও করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত: সমসাময়িক ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে অনেক নেতিবাচক দিকের উপস্থিতি। যদিও এসব কিতাব বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের উৎকর্ষতা, আধুনিক যুগের সাথে সামঞ্জস্যতা এবং গবেষক ও সাধারণ পাঠকের নিকট সহজবোধ্য হওয়ার দিক দিয়ে অনন্য; এমনকি এগুলোর কোনো কোনোটি মাযহাবী গোঁড়ামিমুক্তও বটে; তথাপি এগুলোতে বিষয়বস্তু, উপজীব্য এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক নেতিবাচক—এমনকি কখনও কখনও বিপজ্জনক—দিকও পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে যেহেতু এগুলো নতুন নতুন মাসআলা ও সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে:

১ - ইলমি দুর্বলতা এবং ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে আত্মস্থ না করা, যা মূলত পড়াশোনা, ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই আমরা কাউকে দেখি পূর্বসূরীদের সময় থেকে চলে আসা মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করতে, অথবা কোনো সময়োত্তীর্ণ বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যাখ্যাত মতকে সমর্থন করতে, কিংবা রাফেযী বা তাদের মতো দলগুলোর ফিকহী কিতাব ঘেঁটে এমন কিছু মত খুঁজে বের করতে যা তার কাছে ভালো লেগেছে এবং সেগুলো মুসলিমদের সামনে ইসলামের ফিকহ ও মুসলিম আলেমদের রায় হিসেবে উপস্থাপন করতে!! (১)।

২ - এগুলোর কোনো কোনোটি আলেমদের বক্তব্যে পরিপূর্ণ থাকলেও সেসব বক্তব্যের সপক্ষে দলীল উপস্থাপনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে শক্তিশালী মতটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ফলে গবেষক ও পাঠক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যান, আর সম্ভবত তিনি এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন

--------------------------------------------

(১) 'যাওয়াবিতু লিদ দিরাসাতিল ফিকহিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ৪৫)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
المؤلف بأن يختار من هذه الأقوال ما شاء، بحجة أن الكل مما قال به بعض العلماء (1).

3 - عدم اهتمام أكثر مؤلفيها بصحة الدليل، ولا بالترجيح- إن رجَّح- على مقتضى أصول أهل العلم في ذلك.

4 - افتقار بعضها إلى الأسلوب العلمي الفقهي، حتى أن بعضها قد كتب بطريقة خطابية لا ترى عليها مسحة العلم!!.

5 - تأثر هذه الكتب- أحيانا- بالأقاويل والشبهات التي يطلقها أعداء الإسلام، وأصبحت بعض القضايا كالسلم والحرب والجزية والعلاقات الدولية ومعاملة الذميين والمشركين، وقضايا الحكم والرق وتعدد الزوجات وغيرها لا تطرق إلا من خلال منطق ضعيف، لأنه في موقف «الدفاع» الذي يجرُّه الحرص على تبرئة ساحة الإسلام إلى نفس بعض الحقائق الثابتة، أو نسبة بعض الآراء الغريبة إلى الإسلام (2).

6 - كما تتأثر هذه الكتب بواقع الأمة الشاردة- في الجملة- عن هدى ربنا وسنة نبيها صلى الله عليه وسلم، فتلتمس للناس المعاذير والمسوِّغات التي تهوِّن شأن المنكرات والمحرمات، وتستجيب لضغط الواقع وثقله على النفس البشرية، فتؤول النصوص الصريحة، وتضعِّف الآثار الصحيحة!! (3).

7 - وحين تدرس الكتب المعاصرة القضايا الجديدة النازلة، يبلغ بها الشطط مبلغه باعتبار أن هذه القضايا لم يسبق أن تحدث فيها العلماء، وأنها مما يمس الواقع، وقد يلتبس في هذه القضايا الحق بالباطل، مع كون حاجة الناس إليها قائمة في غيبة المنهج الإسلامي الصحيح، وإذا نظرنا إلى ما كتب في موضوع التأمين أو المعاملات المصرفية الجديدة، أو طفل الأنبوب، أو سواه، لوجدنا العجب العجاب (4).

هذا على معظم الكتب المعاصرة إنما هي دراسات متخصصة تتناول

--------------------------------------------

(1) سيأتي قريبًا التنبيه على هذه المسألة.

(2) «ضوابط للدراسات الفقهية» (ص: 41، 42).

(3) «السابق» (ص: 42).

(4) «السابق» (ص: 47).
লেখক এই সকল উক্তির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা বেছে নেন, এই অজুহাতে যে, এর সবগুলোই কোনো না কোনো আলেম বলেছেন (১)।

৩ - এদের অধিকাংশ লেখকের দলিলের বিশুদ্ধতার প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, এবং সঠিক জ্ঞানীদের মূলনীতি অনুযায়ী—যদি কোনো মতকে প্রাধান্য দেনও—তার তারজীহ বা প্রাধান্য নিরূপণে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়া।

৪ - এগুলোর কোনো কোনোটিতে ইলমী-ফেকহী পদ্ধতির অভাব রয়েছে, এমনকি কিছু কিতাব এমন আলঙ্কারিক বা খুতবার ঢঙে লেখা হয়েছে যাতে ইলমের কোনো ছাপই পরিলক্ষিত হয় না!!

৫ - এসকল কিতাব কখনো কখনো ইসলামের শত্রুদের ছড়ানো বিভিন্ন কথা ও সংশয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে শান্তি, যুদ্ধ, জিযিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যিম্মী ও মুশরিকদের সাথে আচরণ, শাসনব্যবস্থা, দাসপ্রথা, বহুবিবাহ ও অন্যান্য বিষয়গুলো কেবল দুর্বল যুক্তির মাধ্যমেই আলোচিত হয়। কারণ লেখক ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থানে থাকেন, যেখানে ইসলামকে নির্দোষ প্রমাণ করার অতি আগ্রহ তাকে কখনো কখনো কিছু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে অস্বীকার করতে অথবা ইসলামের দিকে কিছু অদ্ভুত মতকে সম্বন্ধযুক্ত করতে প্ররোচিত করে (২)।

৬ - তেমনিভাবে এসকল কিতাব উম্মাহর সামগ্রিক বাস্তব অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত, যারা আমাদের রবের হেদায়েত এবং তাঁর নবীর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ হতে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। ফলে এই কিতাবসমূহ মানুষের জন্য এমন সব অজুহাত ও যৌক্তিকতা তালাশ করে যা মন্দ ও হারাম বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। এগুলো বাস্তবতার চাপ ও মানবাত্মার ওপর তার বোঝার কাছে নতি স্বীকার করে, ফলে তারা স্পষ্ট পাঠ বা নসসমূহের অপব্যাখ্যা করে এবং সহীহ আছারসমূহকে দুর্বল সাব্যস্ত করে!! (৩)।

৭ - সমসাময়িক কিতাবসমূহ যখন নতুন উদ্ভূত মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের বাড়াবাড়ি চরম সীমায় পৌঁছে যায় এই অজুহাতে যে, এসকল বিষয়ে ইতিপূর্বে আলেমগণ আলোচনা করেননি এবং এগুলো বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সরাসরি জড়িত। ফলে এসকল বিষয়ে সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথচ সঠিক ইসলামী মানহাজের অনুপস্থিতিতে এগুলোর প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান। বীমা, নতুন ব্যাংকিং লেনদেন, টেস্ট-টিউব বেবি অথবা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে যা লেখা হয়েছে তার দিকে তাকালে আমরা চরম বিস্ময় লক্ষ্য করব (৪)।

এটি অধিকাংশ সমসাময়িক কিতাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা মূলত বিশেষায়িত গবেষণা এবং আলোচনা করে...

--------------------------------------------

(১) শীঘ্রই এই বিষয়ে সতর্ক করা হবে।

(২) «যাওয়া বিতুল দিরাসাতিল ফিকহিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা: ৪১, ৪২)।

(৩) «পূর্বোক্ত» (পৃষ্ঠা: ৪২)।

(৪) «পূর্বোক্ত» (পৃষ্ঠা: ৪৭)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
أغبلها موضوعًا واحدًا، وأما العمل الفقهي المتكامل فهو وإن وجد فلا يخلو من معظم السلبيات المتقدمة.

الأمر الثالث: المعركة المشتعلة، والنفرة المصطنعة بين المحدثين والفقهاء:

فقد رأيت كثيرًا من إخواننا من طلاب الحدث ينصرفون عن تلقي علم الفقه، مقبلين على علم السنة المطَّهرة رواية دون دراية، ورأيت جُلَّ طلاب الفقه معرضين عن تلقي علم الحديث ومعرفة أسانيده، وحفظ متونه، مع انكبابهم على كتب المذاهب الفقهية وحفظ مختصراتها، وهذه النفرة كانت واقعة منذ قدم العهد يثيرها كتبةُ الحديث وصغار المتفقهة، لقصر نظرهم، فيتبادلون الغمز واللمز، قال الخطابي (1) رحمه الله المتوفى سنة (388 هـ): «ورأيت أهل زماننا قد حصلوا حزبين، وانقسموا إلى فرقتين: أصحاب حديث وأثر، وأهل فقه ونظر، وكل واحدة منهما لا تتميز عن أختها في الحاجة، ولا تستغني عنها في درك ما تنحوه من البغية والإرادة، لأن الحديث بمنزلة الأساس الذي هو الأصل، والفقه بمنزلة البناء الذي هو له كالفرع، وكل بناء لم يوضع على قاعدة وأساس فهو منهار، وكل أساس خلا من بناء وعمارة فهو قفر وخراب، ووجدت هذين الفريقين على ما بينهم من التداني من المحلين، والتقارب في المنزلين، وعموم الحاجة من بعضهم إلى بعض، وشمول الفاقة اللازمة لكل منهم إلى صاحبه - إخوانًا متهاجرين، وعلى سبيل الحق بلزوم التناصر والتعاون غير متظاهرين، فأما هذه الطبقة الذين هم أهل الأثر والحديث، فإن الأكثرين منهم إنما كدهم الروايات وجمع الطرق، وطلب الغريب والشاذ من الحديث الذي أكثره موضوع أو مقلوب، لا يراعون المتون، ولا يفقهون المعاني، ولا يستنبطون سيرها، ولا يستخرجون ركازها وفقهها، وربما عابوا الفقهاء وتناولوهم بالطعن، وادعوا عليهم مخالفة السنن، ولا يعلمون أنهم عن مبلغ ما أوتوه من العلم قاصرون، وبسوء القول فيهم آثمون.

وأما الطبقة الأخرى، وهم أهل الفقه والنظر، فإن أكثرهم لا يعرجون من الحديث إلا على أقلِّه، ولا يكادون يميزون صحيحه من سقيمه، ولا يعرفون جيِّده من رديئه، ولا يعبأون بما بلغهم منه أن يحتجوا به على خصومهم إذا وافق

--------------------------------------------

(1) «معالم السنن» (1/ 75).
এর অধিকাংশই একটি একক বিষয় কেন্দ্রিক, আর পূর্ণাঙ্গ ফিকহী কাজ যদি পাওয়াও যায়, তবে তা উপরে উল্লিখিত অধিকাংশ নেতিবাচক দিক থেকে মুক্ত নয়।

তৃতীয় বিষয়: মুহাদ্দিস ও ফকীহদের মধ্যে প্রজ্বলিত লড়াই এবং কৃত্রিম দূরত্ব:

আমি আমাদের অনেক হাদীস শিক্ষার্থী ভাইদের দেখেছি যে তারা ফিকহ শাস্ত্র অর্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছেন, এবং বুঝ ও প্রজ্ঞা (দিরায়াহ) ছাড়াই পবিত্র সুন্নাহর শাস্ত্রের কেবল বর্ণনা (রিওয়ায়াহ) গ্রহণে মনোনিবেশ করেছেন। আবার আমি অধিকাংশ ফিকহ শিক্ষার্থীকে দেখেছি হাদীস শাস্ত্র গ্রহণ, এর সনদসমূহের পরিচয় এবং মতনসমূহ মুখস্থ করা থেকে বিমুখ থাকতে, অথচ তারা ফিকহী মাযহাবসমূহের কিতাব এবং সেগুলোর সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার) মুখস্থ করার প্রতি অতিশয় ঝুঁকে আছেন। এই বিমুখতা বা দূরত্ব প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল, যা হাদীস অনুলিপিকারক এবং স্বল্পজ্ঞাত ফকীহগণ তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উসকে দিতেন, যার ফলে তারা একে অপরকে বিদ্রূপ ও দোষারোপ করতেন। ইমাম খাত্তাবী (১) রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরী) বলেছেন: «আমি আমার সময়ের লোকদের দুই দলে বিভক্ত হতে দেখেছি এবং তারা দুই ফিরকায় ভাগ হয়ে গেছে: আসহাবে হাদীস ও আসার (হাদীস ও আসার অনুসারী) এবং আহলে ফিকহ ও নাযার (ফিকহ ও গবেষণা)। এদের প্রত্যেকটি দলই প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র নয় এবং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনে একটি অন্যটি থেকে অমুখাপেক্ষী নয়। কারণ হাদীস হলো ভিত্তিমূলের মতো যা আসল (মূল), আর ফিকহ হলো দালানের মতো যা তার জন্য ফার' (শাখা)। আর যে দালান কোনো ভিত্তি ও মূলের ওপর স্থাপিত নয় তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, এবং যে ভিত্তি দালান ও নির্মাণ থেকে শূন্য থাকে তা জনশূন্য ও বিরান পড়ে থাকে। আমি এই দুই দলকে দেখেছি যে, তাদের উভয়ের অবস্থান ও মর্যাদা পরস্পরের খুব নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও, এবং একে অপরের প্রতি সাধারণ প্রয়োজনীয়তা ও মুখাপেক্ষিতা থাকা সত্ত্বেও—তারা যেন একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী ভাই, এবং সত্যের পথে একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ নয়। অতঃপর এই শ্রেণী যারা আসার ও হাদীসের অনুসারী, তাদের অধিকাংশের পরিশ্রম কেবল হাদীস বর্ণনা এবং এর বিভিন্ন সূত্র সংগ্রহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা গরীব এবং শায (বিরল ও বিচ্ছিন্ন) হাদীস অন্বেষণ করে থাকে যার অধিকাংশই জাল অথবা উল্টানো। তারা মতনসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখে না, এর অর্থ অনুধাবন করে না, এর গূঢ় রহস্য উদঘাটন করে না এবং এর মধ্য থেকে সারবস্তু ও ফিকহ বের করে আনে না। অনেক সময় তারা ফকীহদের দোষারোপ করে এবং তাদের প্রতি নিন্দার তীর নিক্ষেপ করে, আর তাদের বিরুদ্ধে সুন্নাহর বিরোধিতার দাবি তোলে। তারা জানে না যে ফকীহগণ যে পরিমাণ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছেন সে সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত এবং তাদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তারা গুনাহগার হচ্ছে।

আর অন্য শ্রেণী যারা ফিকহ ও সূক্ষ্ম চিন্তার অনুসারী, তাদের অধিকাংশ হাদীসের দিকে অতি সামান্য পরিমাণ ছাড়া মনোযোগ দেয় না। তারা সহীহ ও অসুস্থ (যঈফ) হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং এর ভালো-মন্দের তফাত জানে না। তারা তাদের কাছে পৌঁছানো হাদীসের তোয়াক্কা করে না এবং কেবল তখনই তা দ্বারা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করে যখন তা তাদের অনুকূলে থাকে—

--------------------------------------------

(১) «মাআলিমুস সুনান» (১/ ৭৫)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
مذاهبهم التي ينتحلونها، ووافق آراءهم التي يعتقدونها، وقد اصطلحوا على مواضعة بينهم في قبول الخبر الضعيف والحديث المنقطع إذا كان ذلك قد اشتهر عندهم، وتعاورته الألسن فيما بينهم من غير تثبت فيه أو يقين علم به، فكان ذلك زلة من الراوي أو عيًّا فيه …» اهـ.

والحق أن الحديث والفقه أخوا صفاء، وقرينا وفاء، ولذلك قال ابن المديني رحمه الله: «التفقه في معاني الحديث نصف العلم، ومعرفة الرجال نصف العلم» (1) فهما للعالم كالجناحين للطائر.

قال الشوكاني (2): «والمتصدر للتصنيف في كتب الفقه -وإن بلغ في إتقانه وإتقان علم الأصول وسائر الفنون الآلية إلى حدٍّ يتقاصر عنه الوصف- إذا لم يتقن علم السنة، ويعرف صحيحه من سقيمه، ويُعوِّل على أهله في إصداره وإيراده، كانت مصنفاته مبنية على غير أساس، لأن علم الفقه هو مأخوذ من علم السنة إلا القليل منه، وهو ما صرَّح بحكمه القرآن الكريم، فما يصنع ذو الفنون بفنونه إذا لم يكن عالمًا بعلم الحديث، متقنًا له، معولاً على المصنفات فيه؟!» اهـ.

ولهذا كان أعدل المذاهب وأقواها في دقائق الفقه ومسائله مذهب المحدثين، لأنهم نهلوا من معين النبوة، واقتبسوا من مشكاة الرسالة، فعليها وردوا، وعنها صدروا (3).

«وأقبح بمحدِّث يُسأل عن حادثة فلا يدري، وقد شغله عنها جمع طرق الأحاديث، وقبيح بالفقيه أن يقال: ما معنى قول رسول الله كذا، فلا يدري صحة الحديث ولا معناه» (4).

وقد كان دأب السلف وطريقتهم أن يضموا إلى الرواية الدراية، وإلى الدراية الرواية، وبهذا أوصوا، فعن مصعب الزبيري قال: سمعت مالك بن أنس قال لابني أخته، أبي بكر وإسماعيل ابني أبي أويس: «أراكما تحبان هذا الشأن وتطلبانه

--------------------------------------------

(1) «الجامع لأخلاق الراوي والسامع» للخطيب (2/ 211).

(2) «أدب الطلب» (ص 45 - 46).

(3) «تذكرة الحديثي والمتفقِّه» لصالح العصيمي (ص: 6).

(4) «صيد الخاطر» لابن الجوزي (ص: 399 - 400).
তাদের গৃহীত মাযহাবসমূহ এবং তাদের বিশ্বাসকৃত মতামতসমূহের অনুকূলে হয়। তারা তাদের মধ্যে দুর্বল খবর এবং বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘) হাদিস গ্রহণের ব্যাপারে একটি পরিভাষায় ঐকমত্য পোষণ করেছে, যখন তা তাদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াই তাদের মুখে মুখে তা আবর্তিত হয়। ফলে এটি বর্ণনাকারীর পদস্খলন বা তার অক্ষমতা হিসেবে গণ্য হয় …» সমাপ্ত।

সত্য এই যে, হাদিস ও ফিকহ হলো দুই সহোদর এবং বিশ্বস্ত সঙ্গী। এজন্যই ইবনুল মাদিনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «হাদিসের মর্ম অনুধাবন করা হলো অর্ধেক ইলম, আর বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা হলো অর্ধেক ইলম» (১) সুতরাং এ দুটি একজন আলেমের জন্য পাখির দুটি ডানার মতো।

শাওকানি (২) বলেন: «ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনায় ব্রতী ব্যক্তি—যদিও সে এই শাস্ত্রে, উসূলে ফিকহে এবং অন্যান্য সহায়ক বিদ্যায় বর্ণনাতীত পারদর্শিতা অর্জন করে—যদি সে সুন্নাহর বিদ্যায় পারদর্শী না হয়, এবং এর সহিহ ও জয়িফ সম্পর্কে অবগত না থাকে এবং এর গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে, তবে তার রচনাবলী ভিত্তিহীন বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ ফিকহ শাস্ত্রের অতি সামান্য অংশ ব্যতীত বাকি সবটুকুই সুন্নাহ থেকে গৃহীত। আর সেই সামান্য অংশটি হলো যা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তি তার সেই জ্ঞান দিয়ে কী করবে, যদি সে হাদিস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও পারদর্শী না হয় এবং এই বিষয়ের মৌলিক গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর না করে?!» সমাপ্ত।

এই কারণেই ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয় ও মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মাযহাবই হলো সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও শক্তিশালী। কারণ তারা নবুওয়াতের ঝরনাধারা থেকে পান করেছেন এবং রিসালাতের প্রদীপ থেকে আলো গ্রহণ করেছেন। এর ওপরই তারা তাদের জ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং এখান থেকেই তারা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন (৩)।

«কতই না কুৎসিত সেই মুহাদ্দিস, যাকে কোনো উদ্ভূত সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে উত্তর দিতে পারে না, কারণ সে হাদিসের সনদ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল। আবার কতই না কুৎসিত সেই ফকিহ, যাকে যখন বলা হয়: রাসূলুল্লাহর এই বাণীর অর্থ কী? তখন সে হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কেও জানে না এবং এর অর্থও বোঝে না» (৪)।

সালাফদের চিরাচরিত নিয়ম ও পদ্ধতি ছিল বর্ণনার সাথে অনুধাবনকে এবং অনুধাবনের সাথে বর্ণনাকে যুক্ত করা। তারা এরই উপদেশ দিতেন। মুসআব ইবনুয যুবাইরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনু আনাসকে তাঁর দুই ভাগ্নে আবু বকর ও ইসমাইল ইবনু আবি উয়াইসকে বলতে শুনেছি: «আমি দেখছি তোমরা এই ইলমকে পছন্দ করছো এবং তা অন্বেষণ করছো

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদি কৃত «আল-জামি লি-আখলাকির রাউয়ি ওয়াস সামি» (২/২১১)।

(২) «আদাবুত তলাব» (পৃ. ৪৫ - ৪৬)।

(৩) সালিহ আল-উসাইমি কৃত «তাযকিরাতুল হাদিসি ওয়াল মুতাফাক্কিহ» (পৃ. ৬)।

(৪) ইবনুল জাওযি কৃত «সাইদুল খাতির» (পৃ. ৩৯৯ - ৪০০)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
-يعني: سماع الحديث- قالا: نعم، قال: «إن أجبتما أن تنتفعا به، وينفع الله بكما، فأقلا منه وتفقَّها» (1).

قلت: فما أحوجنا إلى فقه مأخوذ من صحيح السنة والأثر، بفهم سلف الأمة وفقهائها، جاريًا على أصول أهل العلم.

 

‌‌[المسلك في هذا الكتاب]

وبعد:

فكانت هذه الأمور الثلاثة مما دفعني إلى الإقدام على تأليف هذا الكتاب الذي أسأل الله أن ينفع به الإسلام والمسلمين، وأن يجعله خطوة على طريق الفقه في دينه، وأن يجنبني فيه ما انتقدتُ من سلبيات رأيتها في غيره، والتي لا أدعي لنفسي العصمة من نظائرها.

وقد سلكتُ في هذا الكتاب ما يلي:

1 - رتَّبتُ كتبه وأبوابه على نمط قريب من معظم كتب الفقه، مع شيء يسير من الاختلاف، حيث بدأتُ بقسم العبادات والذي يحتوي على كتاب الطهارة، والصلاة والجنائز والزكاة والصيام والحج، وألحقت بها ما يتصل بالعبادات: ككتاب الأيمان والنذور، والأطعمة والأشربة، والصيد والذبائح ونحوها.

ثم أتبعتُه بقسم أحكام الأسرة (الأحوال الشخصية) وما يتعلق بها، ككتاب اللباس والزينة وأحكام النظر، والمواريث.

ثم كتاب الحدود، والجنايات والديات، ثم البيوع … وهكذا.

2 - وقد مهَّدت لهذه الكتب بمقدمة في نشأة المذاهب وأسباب اختلاف العلماء ومسائل تتعلق بالتقليد ونحو ذلك، مما ينبغي لطالب العلم معرفته قبل الشروع في دراسة الفقه.

3 - وقد اجتهدت في ترتيب مواضيعه، وصياغتها بأسلوب سهل واضح، يناسب الباحث والقارئ العادي، ومع هذا راعيت قدر الإمكان أن تكون عباراته

--------------------------------------------

(1) «المحدث الفاضل» للرامهرمزي (ص 241)، و «نصيحة أهل الحديث» للخطيب (ص 37) عن «تذكرة الحديثي والمتفقه» (ص: 28).
-অর্থাৎ: হাদিস শোনা- তারা দুজনেই বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন: «যদি তোমরা দুজনে এর মাধ্যমে উপকৃত হতে চাও এবং আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করেন, তবে তোমরা বর্ণনা করা কমিয়ে দাও এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করো» (১)।

আমি বলি: সহিহ সুন্নাহ ও আসার থেকে গৃহীত এমন ফিকহের প্রতি আমাদের কতই না মুখাপেক্ষিতা রয়েছে, যা উম্মতের সালাফ ও ফকিহদের বুঝ অনুযায়ী এবং ইলমের অধিকারীদের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।

 

‌‌[এই কিতাবের কর্মপন্থা]

অতঃপর:

এই তিনটি বিষয়ই আমাকে এই কিতাবটি রচনার পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং এটিকে তাঁর দ্বীনের ফিকহ (গভীর জ্ঞান) অর্জনের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করেন। আর তিনি যেন আমাকে সেই নেতিবাচক বিষয়গুলো থেকে দূরে রাখেন যা আমি অন্যান্য কিতাবে দেখেছি এবং সমালোচনা করেছি; যদিও আমি নিজেকে এই জাতীয় ভুল থেকে মুক্ত থাকার দাবি করছি না।

আর আমি এই কিতাবে নিম্নোক্ত কর্মপন্থা অনুসরণ করেছি:

১ - আমি এর পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়গুলোকে অধিকাংশ ফিকহ গ্রন্থের কাছাকাছি একটি পদ্ধতিতে সাজিয়েছি, তবে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমি ইবাদত অংশ দিয়ে শুরু করেছি, যার মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা, সালাত, জানাজা, জাকাত, সিয়াম ও হজ পরিচ্ছেদ। আর ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে এর সাথে যুক্ত করেছি, যেমন: শপথ ও মানত, খাদ্য ও পানীয়, শিকার ও জবাই এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

এরপর আমি পারিবারিক বিধান (ব্যক্তিগত আইন) এবং এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যুক্ত করেছি, যেমন: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সৌন্দর্যচর্চা, দৃষ্টির বিধান এবং উত্তরাধিকার।

এরপর দণ্ডবিধি, অপরাধ ও রক্তপণ, অতঃপর ক্রয়-বিক্রয় … এভাবে।

২ - আমি এই পরিচ্ছেদগুলোর শুরুতে মাযহাবের উদ্ভব, আলেমদের মতভেদের কারণ এবং তাকলিদ সংক্রান্ত মাসআলা ও এই জাতীয় বিষয়গুলোর ওপর একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, যা ফিকহ চর্চা শুরু করার আগে একজন ইলম অন্বেষীর জন্য জানা আবশ্যক।

৩ - আমি এর বিষয়বস্তুগুলো সাজাতে এবং সেগুলো সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করতে সচেষ্ট হয়েছি, যা গবেষক ও সাধারণ পাঠক উভয়ের জন্য উপযোগী। এর পাশাপাশি আমি যথাসম্ভব লক্ষ্য রেখেছি যেন এর বর্ণনাগুলো

--------------------------------------------

(১) রামাহুরমুজি রচিত «আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল» (পৃষ্ঠা ২৪১), এবং খতিব রচিত «নাসিহাতু আহলিল হাদিস» (পৃষ্ঠা ৩৭); «তাযকিরাতুল হাদিসি ওয়াল মুতাফাক্কিহ» (পৃষ্ঠা ২৮) থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
قريبة من عبارات الفقهاء في دقتها ودلالتها على المقصود وربما أختار العبارة المُثلى مما أقف عليه في المراجع الفقهية المختلفة.

4 - وقد رتبتُ مسائله ترتيبًا مستلسلاً منطقيًّا، حسب تواردها على ذهن القارئ، لتكون أقرب متناولاً، وأيسر مأخذًا.

5 - وقد عنيت بوضع العناوين التفصيلية التي تدل على المراد بوضوح، إضافة إلى العناوين الكلية التي تحدد موضوع الأبحاث، وتفرز الموضوعات بعضها عن بعض، وترتب الأفكار داخل الموضوع الواحد.

6 - وقد بذلت وسعى في الاستدلال لكل مسألة بكتاب الله -إن أمكن- وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم الثابتة عنه، بعد جمع الأدلة فيها وتنقيحها والحكم على أحاديثها بما تستحقه صحة وضعفًا، مع إثبات ذلك في الحاشية مختصرًا بقدر الإمكان، وإن كان في المسألة إجماع ذكرته معزوًّا إلى ناقله.

7 - وإن كانت المسألة خلافية -وهو الغالب على مسائل الفقه- فإنني أورد الخلاف ولا أهمله، وكيف لا أفعل، وقد قال قتادة: «من لم يعرف الاختلاف، لم يشم الفقه بأنفه» (1).

وذلك أن الجهل بالخلاف قد يؤدي إلى رد بعض الحق الذي لا يعلمه، إذ الحق غير منحصر في قول فرد من العلماء كائنًا من كان، ولذا روى عثمان بن عطاء عن أبيه قوله: «لا ينبغي لأحد أن يفتي الناس حتى يكون عالمًا باختلاف الناس، فإنه إن لم يكن كذلك ردَّ من العلم ما هو أوثق من الذي في يديه» (2).

فإن كان الخلاف في المسألة معتبرًا قويًا، كانت طريقتي في عرضه: أن أذكر كل قول، والقائلين به من أهل العلم معتمدًا في نقل آرائهم على كتب الإمام نفسه -إن أمكن- وإلا فعلى كتب المذهب المعتمدة لدى علمائه، مع إثبات توثيق هذه الآراء في الحاشية.

ثم أسوق ما وقفتُ عليه من حُجج لهذا القول، مع إبداء وجه الدلالة من الدليل -إن لم يكن ظاهرًا- وأحيانًا أُتبع كل دليل بما اعترض عليه وأُجيبَ عنه به من الفريق الآخر إتمامًا للفائدة.

--------------------------------------------

(1) «جامع بيان العلم وفضله» (2/ 46).

(2) «جامع بيان العلم وفضله» (2/ 46).
ফকীহগণের পরিভাষার সূক্ষ্মতা ও উদ্দিষ্ট বিষয়ের অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি তাদেরই ব্যবহৃত বাচভঙ্গি ও শব্দের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি এবং সম্ভবত বিভিন্ন ফিকহী উৎস থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলির মধ্যে সবচেয়ে উত্তমটিই চয়ন করেছি।

৪ - আমি এর মাসআলাসমূহ পাঠকের মনে যেভাবে উদিত হতে পারে সেই অনুযায়ী একটি ধারাবাহিক ও যৌক্তিক বিন্যাসে সাজিয়েছি, যাতে তা সহজেই বোধগম্য ও আয়ত্তযোগ্য হয়।

৫ - গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণকারী এবং এক বিষয়কে অন্যটি থেকে পৃথককারী সামগ্রিক শিরোনামের পাশাপাশি আমি এমন বিস্তারিত শিরোনাম দেওয়ার ব্যাপারেও সবিশেষ যত্ন নিয়েছি, যা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে এবং প্রতিটি বিষয়ের অন্তর্গত চিন্তাধারাকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করে।

৬ - আমি প্রত্যেকটি মাসআলার স্বপক্ষে—সম্ভব হলে—আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সুন্নাহ দ্বারা দলীল প্রদানের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে প্রথমে দলীলসমূহ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং হাদীসগুলোর সহীহ ও যয়ীফ হওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করা হয়েছে। এই বিস্তারিত আলোচনা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তাকারে পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আর কোনো বিষয়ে যদি ইজমা (ঐক্যমত) থেকে থাকে, তবে তা বর্ণনাকারীর উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করেছি।

৭ - যদি বিষয়টি মতপার্থক্যপূর্ণ হয়—যা ফিকহী মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়েই হয়ে থাকে—তবে আমি সেই মতভেদ উল্লেখ করেছি এবং তা উপেক্ষা করিনি। আর তা করবই বা কেন, যেখানে কাতাদা রহ. বলেছেন: «যে ব্যক্তি মতপার্থক্য সম্পর্কে জানে না, সে ফিকহ-এর সুগন্ধও পায়নি» (১)।

এর কারণ হলো, মতভেদ সম্পর্কে অজ্ঞতা মানুষকে এমন সত্য প্রত্যাখ্যানের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা সে জানে না; কারণ সত্য কোনো নির্দিষ্ট আলেমের বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি যেই হোন না কেন। এ কারণেই উসমান ইবনে আতা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: «কারো পক্ষে মানুষকে ফতোয়া দেওয়া উচিত নয় যতক্ষণ না সে মানুষের মধ্যকার মতভেদ সম্পর্কে অবগত হয়। কারণ সে যদি এমন না হয়, তবে সে এমন জ্ঞানকেও প্রত্যাখ্যান করে বসতে পারে যা তার কাছে থাকা জ্ঞানের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য» (২)।

মাসআলাটিতে যদি মতভেদ গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী হয়, তবে তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো: প্রত্যেকটি মত এবং আহলে ইলমদের মধ্য থেকে সেই মতের প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করা। তাদের মতামত বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি—সম্ভব হলে—সংশ্লিষ্ট ইমামের নিজস্ব কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, নতুবা সেই মাযহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমগণের রচিত প্রামাণ্য কিতাবসমূহের সহায়তা নিয়েছি এবং পাদটীকায় এই মতামতগুলোর সূত্র নির্দেশ করেছি।

অতঃপর আমি সেই মতের স্বপক্ষে প্রাপ্ত দলীলসমূহ উপস্থাপনের পাশাপাশি দলীল থেকে সংশ্লিষ্ট বিধানটি গ্রহণের যৌক্তিক পদ্ধতিটিও বর্ণনা করেছি—যদি তা স্পষ্ট না থাকে। আর পূর্ণাঙ্গ ফায়দা অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষেত্রবিশেষে আমি প্রতিটি দলীলের সাথে এর ওপর উত্থাপিত আপত্তি এবং অপর পক্ষ থেকে তার উত্তরের বিষয়টিও উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(১) «জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি» (২/ ৪৬)।

(২) «জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি» (২/ ৪৬)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
ثم أفعل هذا مع كل قول من أقوال العلماء في المسألة.

8 - ولا أكتفي بمجرد نقل هذه الأقوال وسرد أدلتها، لأن مجرد عرضها دون ترجيح يوقع القارئ في الحيرة واضطراب، من جهة أن الباحث الذي جمع الأقوال ونقَّب عنها لم يُرجِّح، فالغالب أن غيره لا يملك ذلك من باب أولى، بل أحرص على تفهُّم الأقوال وتمحيصها سندًا ومتنًا، ودلالة وأقارن بعضها ببعض، وإجراء ذلك على أصول أهل العلم ما استطعت إلى ذلك سبيلاً، بغرض الوصول للقول الناجح مع غير تعصُّب لأحد كائنًا من كان، فالباحث المنصف، إنما يبحث عن الحق، وعن مراد الله تعالى، ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يعنيه بعد ذلك إن وافق قول فلان أو فلان، خاصة وأنه إنما يخرج من قول إمام إلى قول إمام آخر.

وقد التزمت في ذلك أن أكون وراء نصوص الشريعة، أسمع منها وأصغى إليها وأفهم مرادها، فلا أسبقها بالقول، ولا أقوِّلها ما لم تقل، ولا أحملها ما لا تحتمل، ولا أطوِّعا على ما تشتهي النفس أو يشتهي ألناس.

والمقصود أنني أحاول الترجيح بمقدار ما بلغت إليه الملكة إن ظهر لي وجه معتبر في الترجيح، فإذا لم يتبين لي وجه الصواب توقفتُ، إذ لا يجوز الترجيح بغير دليل ود برهان.

قال ابن عبد البر- رحمه الله: «والواجب عند اختلاف العلماء طلب الدليل من الكتاب والسنة والإجماع والقياس على الأصول منها وذلك لا يعدم، فإن استوت الأدلة وجب الميل مع الأشبه بما ذكرنا بالكتاب والسنة، فإذا لم يبن ذلك وجب التوقف، ولم يجز القطع إلا بيقين» (1).

وربما أختار قولين قويين من بين مجموع الأقوال، أو أضعِّف ما ظهر لي تضعيفه من الأقوال، فهدا ترجيح جزئي، وهو يقرب المسألة.

أما إذا كانت كفة أحد القوال راجحة بجلاء على غيرها، فإنني أذكر القول القوى بألته الدامغة، مع ذكر القائلين به، على النحو الذي تقدم، ثم أشير إلى الخلاف باختصار، وربما أهمله إذا كان قولاً ساقطًا متهالكًا لا ينبغي الاشتغال بنقله وحكايته إلا لفائدة.

--------------------------------------------

(1) «جامع بيان العلم» (1/ 80).
অতঃপর আমি মাসআলার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের প্রতিটি মতের সাথেই এটি করি।

৮ - আমি কেবল এই অভিমতগুলো উদ্ধৃত করা এবং সেগুলোর দলীলসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি। কারণ, কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়া ব্যতীত কেবল সেগুলো উপস্থাপন করা পাঠককে দ্বিধাদ্বন্দ ও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়। যেহেতু যে গবেষক অভিমতগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন, তিনিই যদি কোনোটিকে প্রাধান্য না দেন, তবে অন্য কেউ তা করতে না পারাটাই স্বাভাবিক। বরং আমি অভিমতগুলো অনুধাবন করার এবং সেগুলোর সনদ ও মতন (মূল পাঠ) ও দলীলগত অর্থের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি এবং সেগুলোর মাঝে পারস্পরিক তুলনা করেছি। আর সাধ্যানুযায়ী আলেমগণের মূলনীতির আলোকে তা পরিচালনা করেছি, যেন কারো প্রতি কোনো প্রকার গোঁড়ামি ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কেননা একজন ইনসাফপূর্ণ গবেষক কেবল সত্য এবং মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্যই অনুসন্ধান করেন। এরপর তা কারোর মতের সাথে মিলল কি মিলল না, তাতে তার কিছু আসে যায় না। বিশেষত যেহেতু তিনি এক ইমামের বক্তব্য ছেড়ে কেবল অন্য আরেক ইমামের বক্তব্যের দিকেই ধাবিত হচ্ছেন।

এক্ষেত্রে আমি শরীয়তের দলীলের অনুগামী থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি; আমি তা থেকে শ্রবণ করি, তার প্রতি কর্ণপাত করি এবং তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করার চেষ্টা করি। সুতরাং আমি তার আগে কোনো কথা বলি না, সে যা বলেনি তা তার ওপর চাপিয়ে দিই না, সে যা বহন করে না এমন বোঝা তার ওপর ন্যস্ত করি না এবং নফস বা মানুষের খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাকে বশীভূত করার চেষ্টা করি না।

সারকথা হলো, আমার কাছে যদি কোনো গ্রহণযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তবে আমি আমার যোগ্যতানুসারে কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু যদি সঠিক বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট না হয়, তবে আমি বিরতি (তাওয়াক্কুফ) অবলম্বন করি। কেননা দলীল ও প্রমাণ ছাড়া কোনো একটি পক্ষ অবলম্বন করা বৈধ নয়।

ইবনে আব্দুল বার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «আলেমদের মতভেদের সময় কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং সেগুলোর মূলনীতির ওপর কিয়াস করে দলীল অনুসন্ধান করা ওয়াজিব, আর তা কখনো দুষ্প্রাপ্য নয়। যদি দলীলসমূহ সমপর্যায়ের হয়, তবে কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হওয়ার ভিত্তিতে কোনো এক দিকে ঝুঁকা ওয়াজিব। আর যদি তাও স্পষ্ট না হয়, তবে বিরতি দেওয়া ওয়াজিব। নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া জায়েয নেই» (১)।

কখনো কখনো আমি সকল মতের মধ্য থেকে শক্তিশালী দুটি মত বেছে নেই অথবা কোনো মতের দুর্বলতা স্পষ্ট হলে তা বর্ণনা করি; এটি একটি আংশিক অগ্রাধিকার প্রদান, যা মাসআলাটিকে সহজ করে দেয়।

কিন্তু যদি কোনো একটি মতের পাল্লা অন্যগুলোর তুলনায় স্পষ্টভাবে ভারী হয়, তবে আমি সেই শক্তিশালী মতটি তার অকাট্য দলীলসহ এবং যারা এই মতটি ব্যক্ত করেছেন তাঁদের নামসহ উল্লেখ করি, যা পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে করা হয়েছে। এরপর সংক্ষেপে মতভেদটির দিকে ইঙ্গিত করি। আর যদি কোনো মত ভিত্তিহীন ও অত্যন্ত দুর্বল হয় তবে আমি তা এড়িয়ে চলি, কারণ কোনো বিশেষ ফায়দা না থাকলে তা উদ্ধৃত বা আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

--------------------------------------------

(১) «জামেউ বায়ানিল ইলম» (১/ ৮০)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وقد حرصت في اختياراتى ألا أخرج عن مجموع أقوال السلف، فلم آت بقول مبتكر مبتدع لم أسبق إليه، إذ أن اختصار السلف على هذه الأقوال يعتبر إجماعًا منهم على أن الحق محصور فيها لا يخرج عن جملتها، وإن اختلفوا في أيها وافق الحق، فلا يظن أن يخفى الحق على جميع الأمة في عصر من العصور.

ولا يفوتني أن أُنَبِّه على أن هذه الاختيارات لا تلزم أحداً غيري، وإن كان ربما يستفيد منها من لا ملكة له على الترجيح، وأما طالب العلم القادر على الترجيح فإنه يكفيه أنى جمعتُ له شتات المسألة، فله أن يرجِّح ما تبين له صوابه من غير حجر عليه، فإن وقف على كلامي ذكى لا يستقويه، فالأولى به أن ىخفض لي جناح الذل من الرحمة، وأن يشكر الله على ما فضَّله به عليَّ من الحكمة، وكلما ازداد فقه المرء في دين الله عز وجل، زاد رفقُه على المخالفين الذين ثم يكونوا يريدون غير الحق.

وقد درجت على هذا النسق وذلك المنوال في جل الكتاب، حتى إذا كنت في أوائل كتاب البيوع اضطررت للسفر، في حين يُلحُّ الناشر- جزاه الله خيرًا- على نشر الكتاب، فاستخرت الله تعالى أن أرفق بالكتاب بحثًا مختصرًا في «البيوع المحرمة» كان أعدَّه أخونا وحبيبنا الشيخ فؤاد سراج- حفظه الله- وليس هو جاريًا على شرطي في الكتاب من إيراد الخلاف والترجيح بين الأقوال؛ وما لا يدرك كلُّه لا يترك جُلُّه، وأما بحث هذه المسائل على شرطي فإنه يحتاج إلى جهد وفير ووقت طويل وعناية خاصة، لا سيما وفى مباحث هذا الكتاب كثير من المسائل الجديدة النازلة، وقد كنت شرعت في هذا فعلاً، لولا ما قدَّره الله من الاضطرار إلى السفر، فأرجو أن يقبل القارئ عذري، على أنى ماضٍ بمشيئة الله في إتمام ذلك، وإضافة أبواب أخرى في طبعة قادمة أن شاء الله تعالى.

هذا ولا يفوتني أن أقدم شكري وخالص دعائي لكل من أعاننى بشيء في إتمام هذا العمل وخروجه على هذه الهيئة، من إعداد مسألة أو إعارة كتاب، أو كتابة أو نسخ، أو جمع أو طباعة، أو مراجعة تجارب وأخصُّ منهم أخانا وشيخنا فؤاد سراج، بارك الله في علمه وعمله وذريته، وأخانا وحبيبنا الشيخ هاني الحاج رفع الله قدره، وأخويَّ المباركين: مصطفى الشامي وفيصل عبد الواحد، حفظهما الله،
আমি আমার চয়নসমূহে সলফদের (পূর্বসূরিদের) সামগ্রিক বক্তব্যের বাইরে না যেতে সচেষ্ট হয়েছি। ফলে আমি এমন কোনো উদ্ভাবিত বা নবসৃষ্ট মত আনিনি যা ইতিপূর্বে কেউ ব্যক্ত করেনি। কারণ, সলফদের এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা তাদের পক্ষ থেকে এ কথার ঐক্যমত (ইজমা) হিসেবে গণ্য হয় যে, সত্য (হক) এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর বাইরে নয়। যদিও তারা এর মধ্যে কোনটি সত্যের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে মতভেদ করেছেন, তবুও এমনটি ভাবা ঠিক হবে না যে, কোনো এক যুগে পুরো উম্মতের কাছে সত্য গোপন থেকে যাবে।

আমি এ বিষয়ে সতর্ক করতে ভুলে যাচ্ছি না যে, এই চয়নসমূহ আমি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আবশ্যকীয় নয়, যদিও তা থেকে হয়তো এমন ব্যক্তি উপকৃত হতে পারেন যার প্রাধান্য (তারজীহ) দেওয়ার যোগ্যতা নেই। আর প্রাধান্য দিতে সক্ষম জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তির জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি তার জন্য মাসআলার বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করে দিয়েছি। সুতরাং তার ওপর কোনো বিধি-নিষেধ ছাড়াই তার কাছে যা সঠিক বলে প্রতিভাত হবে সেটিকেই প্রাধান্য দেওয়ার অধিকার তার আছে। তবে যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি আমার বক্তব্যের মুখোমুখি হন যা তিনি শক্তিশালী মনে করেন না, তবে তার জন্য উচিত হবে যে তিনি যেন দয়াপরবশ হয়ে আমার প্রতি নম্র আচরণ করেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন যে তিনি তাকে হিকমতের ক্ষেত্রে আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহর মহান ও পরাক্রমশালীর দ্বীনে কোনো ব্যক্তির প্রজ্ঞা (ফেকহ) যত বৃদ্ধি পাবে, যারা সত্য ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে না এমন বিরোধীদের প্রতি তার কোমলতাও তত বৃদ্ধি পাবে।

আমি পুরো কিতাব জুড়েই এই পদ্ধতি ও ধারা বজায় রেখেছিলাম, কিন্তু যখন আমি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের শুরুতে পৌঁছলাম তখন আমাকে সফরের জন্য বাধ্য হতে হলো। অন্যদিকে প্রকাশক—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—কিতাবটি প্রকাশের ব্যাপারে তাকিদ দিচ্ছিলেন। তাই আমি আল্লাহ তাআলার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তেখারা) করলাম যেন কিতাবটির সাথে ‘নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা যুক্ত করে দেই, যা আমাদের ভাই ও প্রিয় শায়খ ফুয়াদ সিরাজ—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—প্রস্তুত করেছিলেন। এটি মতভেদ বর্ণনা করা এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাঝে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিতাবে আমার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী প্রণীত হয়নি। তবে যা পুরোটা অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশও ত্যাগ করা উচিত নয়। আর আমার শর্ত অনুযায়ী এই মাসআলাগুলো নিয়ে গবেষণা করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন ছিল, বিশেষ করে এই কিতাবের আলোচ্য বিষয়গুলোতে অনেক নতুন উদ্ভূত মাসআলা রয়েছে। আমি বাস্তবে এটি শুরুও করেছিলাম, যদি না আল্লাহ সফরের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতেন। তাই আমি আশা করি পাঠক আমার ওজর গ্রহণ করবেন, তবে আমি আল্লাহর ইচ্ছায় এটি সম্পন্ন করার এবং আগামী কোনো সংস্করণে আরও অধ্যায় যুক্ত করার কাজে সচেষ্ট থাকব, ইনশাআল্লাহু তাআলা।

পরিশেষে, যারা এই কাজটি সম্পন্ন করতে এবং বর্তমান রূপে এটি প্রকাশ করতে মাসআলা তৈরি করা, বই ধার দেওয়া, লেখা বা অনুলিপি করা, সংকলন বা মুদ্রণ করা কিংবা পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক দোয়া জানাতে আমি ভুলে যাচ্ছি না। তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমাদের ভাই ও শায়খ ফুয়াদ সিরাজকে, আল্লাহ তার জ্ঞান, কর্ম এবং বংশধরের মাঝে বরকত দান করুন; এবং আমাদের ভাই ও প্রিয় শায়খ হানি আল-হাজ্জকে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন; এবং আমার দুই বরকতময় ভাই: মুস্তফা আশ-শামী ও ফয়সাল আব্দুল ওয়াহিদকে, আল্লাহ তাদের উভয়কে হিফাযত করুন।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
والأخ الفاضل سيد فتحي، سائلاً الله تعالى أن يجزل لهم المثوبة والعطاء، وأن يجمعنا بهم في الجنة دار البقاء.

وقد سميت هذا الكتاب «صحيح فقه السنة وتوضيح مذاهب الأئمة» وليس يضرني وقوف أهل المعرفة على ما لي من التقصير، ومعرفتهم أن باعي في هذا الميدان قصير، فلئن أخطئ فمن الذي عُصِم؟! ولئن أُخَطَّا فمن الذي وُصِمَ؟!

وأعلمُ أن الخطأ والزلل، هما الغالبان على من خلق الله من عجل، فإن أصبتُ فمن الله وحده، وإن أخطأت فمن نفسي ومن الشيطان، والله ورسوله منه براء، وأتمثل قول الشاعر:

لقد مضيت وراء الركب ذا عَرَجِ … مؤمِّلاً جبر ما لاقيتُ من عَرَج

فإن لحقتُ بهم من بعد ما سبقوا … فكم لرب الورى في الناس من فرِجِ

وإن ضللتُ بقفر الأرض منقطعًا … فما على أعرج في الناس من حَرَجِ

وأسأل أل الله تعالى أن ينفعني وإخواني من طلاب العلم بهذا العمل، وأن يخلص نيتي فيه لوجهه، فإن القلوب بيده وأن لا يجعل لأحد من خلقه فيه نصيبًا وأن ينفعني به يوم ألقاه {يَوْمَ لا يَنفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ (88) إِلَاّ مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} (1).

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى أله وصحبه أجمعين.

وكتبه

الفقير إلى عفو ربه المالك

كمال بن السيد سالم … أبو مالك

--------------------------------------------

(1) سورة الشعراء، الآيتان: 88، 89.
এবং সম্মানিত ভাই সাইয়্যিদ ফাতহি; আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাদেরকে ভরপুর প্রতিদান ও অনুগ্রহ দান করেন এবং জান্নাতে—যা চিরস্থায়ী নিবাস—আমাদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করেন।

আর আমি এই কিতাবটির নাম রেখেছি ‘সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া তাওদীহু মাযাহিবিল আইম্মাহ’। বিজ্ঞজনরা যদি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে অবগত হন এবং এই ময়দানে আমার দৌড় যে সীমিত তা জানতে পারেন, তবে তাতে আমার কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, আমি যদি ভুল করি তবে কে ভুলমুক্ত?! আর আমাকে যদি ভুল সাব্যস্ত করা হয়, তবে কেইবা দোষারোপ থেকে মুক্ত?!

আমি জানি যে, ভুল এবং পদস্খলনই সেই সত্তার ওপর প্রবল হয় যাকে আল্লাহ তাআলা তাড়াহুড়ো প্রবণ করে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আমি যদি সঠিক কিছু বলে থাকি তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করি তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আমি জনৈক কবির কবিতার অনুরূপ বলতে চাই:

আমি কাফেলার পেছনে ল্যাংড়া অবস্থায় পথ চলেছি … পথে আমি যে খুঁড়িয়ে চলা বা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছি তা কাটিয়ে ওঠার আশা নিয়ে

যদি তারা এগিয়ে যাওয়ার পর আমি তাদের নাগাল পেয়ে যাই … তবে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য কতই না প্রশস্ততা রয়েছে!

আর যদি আমি নির্জন মরুপ্রান্তরে পথ হারিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি … তবে মানুষের মাঝে ল্যাংড়া ব্যক্তির ওপর কোনো দোষ নেই।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আমলের মাধ্যমে আমাকে এবং আমার ইলম অন্বেষী ভাইদেরকে উপকৃত করেন। তিনি যেন এই কাজে আমার নিয়তকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালেস করে দেন; কেননা অন্তরসমূহ আল্লাহর হাতে। তিনি যেন এতে তাঁর কোনো সৃষ্টির জন্য সামান্যতম অংশ না রাখেন এবং যেদিন তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে সেদিন যেন এটি আমার উপকারে আসে— {সেদিন কোনো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কাজে আসবে না (৮৮) কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া, যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে} (১)।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

তাঁর প্রতিপালক ও মালিকের ক্ষমার ভিখারি

কামাল বিন আস-সাইয়্যিদ সালিম … আবু মালিক

--------------------------------------------

(১) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ৮৮, ৮৯।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌تمهيد

نشأة علم الفقه
(1)

‌‌[الفقه في عهد النبي صلى الله عليه وسلم]

اعلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن الفقه في زمانه الشريف مدونًّا، ولم يكن البحث في الأحكام يومئذ مثل بحث هؤلاء الفقهاء، حيث يبينون بأقصى جهدهم الأركان والشروط والآداب، كل شيء ممتازًا عن الأخر بدليله، ويفرضون الصور من صنائعهم، ويتكلمون على تلك الصور المفروضة، ويحدون ما يقبل الحد، ويحرصون ما يقبل الحصر، إلى غير ذلك وإنما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضأ فيرى الصحابة وضوءه فيأخذون به من غير أن يبين: هذا ركن وذلك أدب، وكان يصلي فيرون صلاته، فيصلون كما رأوه يصلى، وحج فرمق الناس حجَّه، ففعلوا كما فعل.

وهذا كان غالب حاله صلى الله عليه وسلم، ولم يبين أن فروض الوضوء ستة أو أربعة، ولم يفرض أنه يحتمل أن يتوضأ إنسان بغير موالاة حتى يحكم عليه بالصحة أو الفساد، إلا ما شاء الله، وقلما كانوا يسألونه عن هذه الأشياء.

وكان صلى الله عليه وسلم يستفتيه الناس في الوقائع فيفتيهم، وترفع إليه القضايا فيقضى فيها، ويرى الناس يفعلون معروفًا فيمدحه، أو منكرًا فينكر عليهم، وما كل ما أفتى به مستفتيًا عنه وقضى به في قضية أو أنكره على فاعله كان في الاجتماعات، فرأى كل صحابي ما يسَّره الله له من عباداته وفتاواه وأقضيته، فحفظها وعقلها، وعرف لكل شيء وجهًا من قبل حفوف القرائن به، فحمل بعضها على الإباحة، وبعضها على الاستحباب، وبعضها على النسخ لأمارات وقرائن كانت كافية عنده. ولم يكن العمدة عندهم إلا وجدان الاطمئنان والثلج، من غير التفات إلى طرق الاستدلال، فانقضى عصره صلى الله عليه وسلم وهم على ذلك.

--------------------------------------------

(1) هذا المبحث اختصرته من كتاب «الإنصاف» للدهلوى، مع شيء يسير.
‌‌ভূমিকা

ইলমে ফিকহের উদ্ভব
(১)

‌‌[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফিকহ]

জেনে রাখুন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত যুগে ফিকহ সংকলিত ছিল না। সে সময় বিধানাবলি নিয়ে গবেষণা বর্তমান যুগের ফকীহদের গবেষণার ন্যায় ছিল না, যেখানে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় রুকন, শর্ত ও আদবসমূহ বর্ণনা করেন এবং প্রতিটি বিষয়কে দলীলের মাধ্যমে অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র করে দেখান। এছাড়া তাঁরা অনুমাননির্ভর বিভিন্ন মাসআলার চিত্র পেশ করেন এবং সেই অনুমিত চিত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, সংজ্ঞায়নযোগ্য বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করেন এবং যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব তা সীমাবদ্ধ করার প্রয়াস পান ইত্যাদি। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল ওযু করতেন এবং সাহাবীগণ তাঁর ওযু প্রত্যক্ষ করতেন; ফলে তাঁরা তা গ্রহণ করতেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি রুকন আর ওটি আদব, এভাবে আলাদা করে বর্ণনা না করেই। তিনি সালাত আদায় করতেন এবং তাঁরা তাঁর সালাত দেখতেন, ফলে তিনি যেভাবে সালাত আদায় করতেন তাঁরাও সেভাবেই সালাত আদায় করতেন। তিনি হজ পালন করলেন এবং মানুষ তাঁর হজের খুঁটিনাটি লক্ষ্য করল, অতঃপর তিনি যেভাবে করলেন তাঁরাও সেভাবে সম্পন্ন করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ অবস্থা এমনই ছিল। তিনি ওযুর ফরয ছয়টি বা চারটি—এমনভাবে বর্ণনা করতেন না। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তা ব্যতীত তিনি এমন কোনো সম্ভাবনাও কল্পনা করতেন না যে, কোনো ব্যক্তি হয়তো বিরতিহীনতা ব্যতিরেকে ওযু করবে যার ফলে তার ওপর ওযু শুদ্ধ বা অশুদ্ধ হওয়ার হুকুম প্রদান করা হবে। আর সাহাবীগণও খুব কমই তাঁকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতেন।

মানুষ বিভিন্ন ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করত এবং তিনি তাদের ফতোয়া প্রদান করতেন। তাঁর কাছে বিচার্য বিষয়সমূহ পেশ করা হতো এবং তিনি সেগুলোর ফয়সালা করতেন। তিনি মানুষকে ভালো কাজ করতে দেখলে তার প্রশংসা করতেন, অথবা মন্দ কাজ দেখলে তাদের বারণ করতেন। তিনি কোনো ফতোয়া প্রার্থীকে যে ফতোয়া দিয়েছেন, কোনো মামলায় যে ফয়সালা করেছেন কিংবা কোনো আমলকারীর কাজে যে নিষেধ করেছেন—তার সবকিছুই জনসমাবেশে হতো না। ফলে প্রত্যেক সাহাবী নবীজীর ইবাদত, ফতোয়া ও বিচারকার্য থেকে আল্লাহ তাঁর জন্য যা সহজ করেছেন তা প্রত্যক্ষ করেছিলেন; অতঃপর তিনি তা সংরক্ষণ ও অনুধাবন করেছিলেন। পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃত দিক সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন। ফলে তিনি কোনোটিকে বৈধতা, কোনোটিকে মুস্তাহাব এবং কোনোটিকে রহিত হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছিলেন এমন সব আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে যা তাঁর নিকট যথেষ্ট ছিল। তাঁদের নিকট দলীলের পদ্ধতিসমূহের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা ছাড়াই হৃদয়ের প্রশান্তি ও স্থিরতাই ছিল মূল ভিত্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকাল এভাবেই অতিবাহিত হলো এবং তাঁরা এই রীতির ওপরই অটল ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) এই আলোচনাটি আমি সামান্য পরিমার্জনসহ দেহলভী (রহ.)-এর 'আল-ইনসাফ' কিতাব থেকে সংক্ষেপ করেছি।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌[عهد الصحابة رضي الله عنهم]

ثم إنهم تفرقوا في البلاد، وصار كل واحد مقتدى ناحية من النواحي، فكثرت الوقائع، ودارت المسائل، فاستفتوا فيها، فأجاب كل واحد حسب ما حفظه أو استنبطه، وإن لم يجد فيما حفظه أو استنبطه ما يصلح للجواب، اجتهد برأيه وعرف العلة التي أدار سول الله صلى الله عليه وسلم عليها الحكم في منصوصاته، فطرد الحكم حيثما وجدها، لا يألو جهدًا في موافقة غرضه صلى الله عليه وسلم.

[أسباب اختلاف الصحابة وصوره]

فعندئذ وقع الاختلاف بينهم على ضروب منها:

1 - أن يسمع صحابي حكمًا في قضية أو فتوى، ولم يسمعه الآخر، فيجتهد برأيه في ذلك، ويكون هذا على وجوه:

(أ) أن يقع اجتهاده موافقًا للحديث، ومثاله: ما جاء عن ابن مسعود أنه سئل عن امرأة مات عنها زوجها ولم يفرض لها، فقال: لم أر رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضى في ذلك، فاختلفوا عليه شهرًا وألحوا، فاجتهد برأيه، وقضي بأن لها مهر نسائها: لا وَكَسَ ولا شطط، وعليها العدة، ولها الميراث، فقام معقل بن يسار فشهد بأنه صلى الله عليه وسلم قضى بمثل ذلك في امرأة منهم، ففرح بذلك ابن مسعود فرحة لم يفرح مثلها قط بعد الإسلام.

(ب) أن يقع بينهما المناظرة، ويظهر الحديث بالوجه الذي يقع به غالب الظن فيرجع عن اجتهاده إلى المسموع، ومثاله: أن أبا هريرة كان من مذهبه أنه من أصبح جنبًا فلا صوم له، حتى أخبرته بعض أزواج النبى صلى الله عليه وسلم بخلاف مذهبه فرجع.

(جـ) أن يبلغه الحديث لكن لا على الوجه الذي يقع به غالب الظن، فلم يترك اجتهاده بل طعن في الحديث، ومثاله: أن فاطمة بنت قيس رضي الله عنها شهدت عند عمر بن الخطاب بأنها كانت مطلقة ثلاثًا، فلم يجعل لها رسول الله صلى الله عليه وسلم نفقة ولا سكنى، فردَّ شهادتها وقال: لا نترك كتاب الله بقول امرأة ندري أصدقت أم كذبت.
‌[সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ]

অতঃপর তাঁরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো অঞ্চলের অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে উঠলেন। এর ফলে নতুন নতুন ঘটনার উদ্ভব হলো এবং বিভিন্ন মাসআলা সামনে আসতে লাগল। এ সকল বিষয়ে তাঁদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হতে লাগল। তখন প্রত্যেকেই তাঁর মুখস্থকৃত হাদিস অথবা উদ্ঘাটিত জ্ঞানের আলোকে উত্তর প্রদান করলেন। যদি কেউ তাঁর মুখস্থ রাখা বা উদ্ঘাটন করা বিষয়ের মধ্যে উত্তরের উপযোগী কিছু না পেতেন, তবে তিনি নিজস্ব রায়ের মাধ্যমে ইজতিহাদ করতেন এবং সেই কারণ (ইল্লত) খুঁজে বের করতেন যার ওপর ভিত্তি করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সুস্পষ্ট পাঠসমূহে (নস) বিধান কার্যকর করেছিলেন। ফলে যেখানেই তিনি সেই কারণ খুঁজে পেতেন, সেখানেই সেই বিধান প্রয়োগ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে মিল রাখার ক্ষেত্রে তিনি বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টার ত্রুটি করতেন না।

[সাহাবীগণের মতপার্থক্যের কারণ ও তার বিভিন্ন রূপ]

সেই সময় তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - কোনো একজন সাহাবী কোনো বিষয়ের বিধান বা ফতোয়া সম্পর্কে হাদিস শুনেছেন, কিন্তু অন্যজন তা শোনেননি। ফলে দ্বিতীয় জন সে বিষয়ে নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছেন। এটি কয়েকভাবে হতে পারে:

(ক) তাঁর ইজতিহাদ হাদিসের সাথে মিলে যাওয়া। এর উদাহরণ হলো: ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার স্বামী তাকে কোনো মোহর নির্ধারণ না করে দিয়ে মারা গেছেন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে কোনো ফয়সালা করতে দেখিনি। লোকেরা এক মাস ধরে তাঁর কাছে বারবার যাতায়াত করে পিড়াপিড়ি করতে লাগল। অতঃপর তিনি স্বীয় রায়ের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করলেন এবং ফয়সালা দিলেন যে, সেই নারী তার সমপর্যায়ের নারীদের ন্যায় মোহর পাবে—যাতে কোনো কমতি হবে না এবং অতিশয়োক্তিও থাকবে না। আর তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। তখন মা’কিল ইবনে ইয়াসার দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের মধ্য থেকেই এক নারীর ক্ষেত্রে অনুরূপ ফয়সালাই দিয়েছিলেন। এতে ইবনে মাসউদ এত বেশি খুশি হলেন যে, ইসলাম গ্রহণের পর অন্য কোনো বিষয়ে তাঁকে কখনো এমন আনন্দিত হতে দেখা যায়নি।

(খ) তাঁদের মধ্যে বিতর্ক হওয়া এবং প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হাদিসটি সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়া। ফলে তিনি নিজ ইজতিহাদ ছেড়ে শ্রুত হাদিসের দিকে ফিরে আসা। এর উদাহরণ হলো: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অভিমত ছিল যে, যার জানাবাত বা নাপাক অবস্থায় ভোর হয়েছে, তার সিয়াম হবে না। অবশেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রী যখন তাঁকে তাঁর অভিমতের বিপরীত সংবাদ দিলেন, তখন তিনি তা থেকে ফিরে আসলেন।

(গ) তাঁর কাছে হাদিসটি পৌঁছেছে ঠিকই, কিন্তু তা এমনভাবে পৌঁছেনি যা প্রবল ধারণা সৃষ্টি করে। ফলে তিনি নিজ ইজতিহাদ বর্জন করেননি বরং হাদিসটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর উদাহরণ হলো: ফাতিমা বিনতে কাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তাঁকে তিন তালাক দেওয়া হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য কোনো ভরণপোষণ বা বাসস্থানের ব্যবস্থা রাখেননি। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: আমরা একজন নারীর কথার ভিত্তিতে আল্লাহর কিতাব ছেড়ে দিতে পারি না, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقالت عائشة: يا فاطمة اتقي الله! تعني في قولها: لا سكنى ولا نفقة.

(ر) أن لا يصل إليه الحديث أصلاً، ومثاله: أن ابن عَمْرو وكان يأمر النساء إذا اغتسلن أن ينقضن رؤوسهن، فسمعت عائشة رضي الله عنها بذلك فقالت: يا عجبًا لابن عمرو هذا، يأمر النساء أن ينقضن رؤوسهن، أفلا يأمرهن أن يحلقن رؤوسهن؟! فقد كنت أغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء واحد، وما أزيد على أن أفرغ على رأسي ثلاث إفراغات.

2 - أن يروا رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل فعلاً، فيحمله بعضهم على القربة وبعضهم على الإباحة:

ومثاله: أنهم رأوا النبي صلى الله عليه وسلم يرمل في الطواف، فذهب جمهورهم إلى أن الرمل في الطواف سنة، وحمله ابن عباس على أنه إنما فعله صلى الله عليه وسلم على سبيل الاتفاق لعارض عرض- وهو قول المشركين: حطمتهم حمى يثرب- وليس سنة.

3 - اختلاف الوهم: ومثاله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حجَّ فرآه الناس، فذهب بعضهم إلى أنه كان متمتعًا، وبعضهم إلى أنه كان قارنًا، وبعضهم إلى أنه كان مفردًا.

4 - اختلاف السهو والنسيان: ومثاله ما رُوي: أن ابن عمر كان يقول: أعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم عمرة في رجب، فسمعت عائشة بذلك فقضت عليه بالسهو.

5 - اختلاف الضبط: ومثاله أن ابن عمر روى عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الميت يعذب ببكاء أهله عليه» فقضت عائشة عليه بأنه وهم بأخذ الحديث على وجه: مرَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم على يهودية يبكى عليها أهلها فقال: إنهم يبكون عليها وإنها تعذب في قبرها، فظن أن العذاب معلول للبكاء، وظن الحكم عامًا على كل ميت.

6 - الاختلاف في علة الحكم: مثاله: القيام للجنازة فقال قائل: لتعظيم الملائكة فيعم المؤمن والكافر، وقال قائل: لهول الموت فيعمهما، وقال قائل: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بجنازة يهودي فقام لها كراهة أن تعلو فوق رأسه، فيخص بالكافر.

7 - الاختلاف في الجمع بين المختلفين: ومثاله: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن
আয়েশা (রা.) বললেন: হে ফাতিমা, আল্লাহকে ভয় করো! তিনি তার এই কথা দ্বারা বুঝিয়েছেন: (তালাকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য) কোনো বাসস্থান এবং কোনো খোরপোশ নেই।

(র) হাদিসটি তার কাছে একেবারেই না পৌঁছানো। এর উদাহরণ হলো: ইবনে আমর (রা.) নারীদের গোসলের সময় তাদের মাথার চুল (বেণি) খোলার আদেশ দিতেন। আয়েশা (রা.) যখন এটি শুনলেন, তখন বললেন: ইবনে আমরের বিষয়ে বিস্ময় লাগে! তিনি নারীদের মাথার চুল খোলার আদেশ দিচ্ছেন, তিনি কি তাদের মাথা মুণ্ডন করার আদেশ দেবেন না?! অথচ আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম এবং আমি আমার মাথায় তিনবার পানি ঢালার বেশি কিছু করতাম না।

২ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোনো কাজ করতে দেখা, তবে তাদের কেউ কেউ সেটাকে ইবাদত (নৈকট্য লাভের মাধ্যম) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং কেউ কেউ সেটাকে নিছক বৈধ কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছেন:

এর উদাহরণ হলো: তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাওয়াফের সময় 'রমল' (দ্রুত পদে চলা) করতে দেখেছেন। ফলে তাদের অধিকাংশের মত হলো তাওয়াফে রমল করা সুন্নাত। তবে ইবনে আব্বাস (রা.) এর মত হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি কেবল একটি বিশেষ পরিস্থিতির কারণে করেছিলেন—আর তা হলো মুশরিকদের এই উক্তি যে: 'ইয়াসরিবের জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে'—এটি সুন্নাত নয়।

৩ - ধারণার পার্থক্য: এর উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হজ করেন, তখন মানুষ তাঁকে দেখেছিলেন। ফলে তাদের কেউ কেউ মনে করেছেন তিনি 'মুতামাত্তি' (তামাত্তু হজকারী) ছিলেন, কেউ কেউ মনে করেছেন তিনি 'কারিন' (কিরান হজকারী) ছিলেন এবং কেউ কেউ মনে করেছেন তিনি 'মুফরিদ' (ইফরাদ হজকারী) ছিলেন।

৪ - ভুল এবং বিস্মৃতিজনিত পার্থক্য: এর উদাহরণ হলো যা বর্ণিত হয়েছে: ইবনে উমর (রা.) বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজব মাসে উমরাহ পালন করেছিলেন। আয়েশা (রা.) যখন এটি শুনলেন তখন তিনি এটিকে তাঁর ভুল হিসেবে চিহ্নিত করলেন।

৫ - স্মৃতির যথার্থতার পার্থক্য: এর উদাহরণ হলো ইবনে উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়»। আয়েশা (রা.) এটিকে তাঁর ভুল সাব্যস্ত করেছেন এই মর্মে যে তিনি হাদিসটি একপাক্ষিকভাবে গ্রহণ করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ইহুদি মহিলার লাশের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার জন্য তার পরিবার কাঁদছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: তারা তার জন্য কাঁদছে অথচ তাকে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি (ইবনে উমর) মনে করেছিলেন যে এই শাস্তি কান্নাকাটির কারণে হচ্ছে এবং তিনি এই বিধানকে সকল মৃত ব্যক্তির জন্য সাধারণ বলে মনে করেছিলেন।

৬ - বিধানের কারণ বা হিকমতের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য: এর উদাহরণ হলো: জানাজার জন্য দাঁড়ানো। কেউ বলেছেন: এটি ফেরেশতাদের সম্মানের জন্য, তাই এটি মুমিন ও কাফির উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কেউ বলেছেন: মৃত্যুর ভয়াবহতার জন্য, তাই এটি উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আবার কেউ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ইহুদির জানাজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দাঁড়িয়েছিলেন যাতে লাশটি তার মাথার ওপর দিয়ে চলে না যায় (তাকে অতিক্রম না করে); তাই এটি কেবল কাফিরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৭ - আপাতবিরোধী বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য: এর উদাহরণ হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন...
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
استقبال القبلة في قضاء الحاجة فذهب قوم إلى عموم هذا الحكم وأنه غير منسوخ، ورآه جابر يبول قبل أن يتوفى بعام مستقبل القبلة فذهب إلى أنه نسخ للنهى المتقدم، ورآه ابن عمر قضى حاجته مستدبر القبلة فرَّد به قولهم إلى غير ذلك.

[الفقه في عهد التابعين]

وبالجملة فاختلفت مذاهب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وأخذ عنهم التابعون كل واحد ما تيسر له، فحفظ ما سمع من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ومذاهب الصحابة وعقلها، وجمع المختلف على ما تيسر له، ورجح بعض الأقوال على بعض، واضمحل في نظرهم بعض الأقوال وإن كان مأثورًا عن كبار الصحابة، كما استفاض عندهم عن النبي صلى الله عليه وسلم على خلافه.

فصار لكل عالم من التابعين مذهب على حياله، فانتصب في كل بلد إمام، مثل: سعيد بن المسيب وسالم بن عبد الله بن عمر في المدينة، وبعدها: الزهري ويحيى بن سعيد وربيعة بن عبد الرحمن فيها.

وعطاء بن أبى رباح بمكة، وإبراهيم النخعي والشعبي بالكوفة، والحسن بالبصرة، وطاووس بن كيسان باليمن ومكحول بالشام، فأظمأ الله أكبادًا إلى علومهم فرغبوا فيها، وأخذوا عنهم الحيث وفتاوى الصحابة وأقاويلهم، ومذاهب هؤلاء العلماء وتحقيقاتهم، واستفتى منهم المفتون، ودارت المسائل بينهم ورفعت إليهم الأقضية.

وكان ابن المسيب وإبراهيم النخعي وأمثالهما قد جمعوا أبواب الفقه أجمعها، وكان سعيد بن المسيب وأصحابه يذهبون إلى أن أهم الحرمين أثبت الناس في الفقه، وأصل مذهبهم فتاوى عمر وعثمان وقضاياهما، وابن عمر وعائشة وابن عباس وقضايا قضاة المدينة.

وكاد النخعي وأصحابه يرون أن عبد الله بن مسعود وأصحابه أثبت الناس في الفقه، فأصل مذهبهم فتاوى ابن مسعود وقضايا علي رضي الله عنه وفتاواه، وقضايا شريح وغيره من قضاة الكوفة.

ونظر كل فريق فيما اجتمع لديه نظر اعتبار وتفتيش، فما كان منها مجتمعًا عليه بين العلماء فإنهم يأخذون عليه بنواجذهم، وما كان فيه أن اختلاف عندهم
প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণকালে কিবলার দিকে মুখ করা: একদল লোক এই বিধানের ব্যাপকতার প্রবক্তা এবং তারা মনে করেন এটি রহিত হয়নি। জাবির (রা.) তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের এক বছর আগে কিবলার দিকে মুখ করে প্রস্রাব করতে দেখেছেন, তাই তিনি মনে করেন এটি পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার রহিতকারী। ইবনে উমর (রা.) তাঁকে কিবলাকে পেছনে রেখে হাজত পূরণ করতে দেখেছেন, ফলে তিনি তাদের অভিমতকে খণ্ডন করেছেন এবং এ ছাড়া আরও অনেক মত রয়েছে।

[তাবেয়ীদের যুগে ফিকহ]

মোটকথা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মাযহাব বা মতাদর্শে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল এবং তাবেয়িগণ তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে যা সহজলভ্য ছিল তা গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস এবং সাহাবীগণের মাযহাব থেকে যা শুনেছিলেন তা মুখস্থ করেছিলেন ও অনুধাবন করেছিলেন। তাঁরা মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সংকলন করেছিলেন এবং কিছু মতকে অন্যগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাঁদের দৃষ্টিতে কিছু মত বিলীন হয়ে গিয়েছিল যদিও সেগুলো প্রবীণ সাহাবীগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত ছিল, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে তার বিপরীত শক্তিশালী বর্ণনা তাঁদের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল।

ফলে প্রত্যেক তাবেয়ী আলেমের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাযহাব তৈরি হয়েছিল। প্রতিটি শহরে একজন করে ইমাম নিযুক্ত হলেন, যেমন: মদিনায় সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর; এবং পরবর্তীতে সেখানে যুহরী, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও রাবিআ বিন আব্দুর রহমান।

মক্কায় আতা বিন আবি রাবাহ, কুফায় ইবরাহীম নাখয়ী ও শাবী, বসরায় হাসান বসরী, ইয়ামেনে তাউস বিন কায়সান এবং সিরিয়ায় মাকহুল। আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরকে তাঁদের ইলমের প্রতি পিপাসার্ত করে দিয়েছিলেন, ফলে তারা সেদিকে ধাবিত হয়েছিল। তারা তাঁদের কাছ থেকে হাদীস, সাহাবীগণের ফতোয়া ও উক্তি এবং এই সকল আলেমদের মাযহাব ও বিশ্লেষণ গ্রহণ করেছিল। মুফতিগণ তাঁদের কাছ থেকে ফতোয়া নিতেন এবং তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা চলত ও বিচারিক বিষয়গুলো তাঁদের নিকট পেশ করা হতো।

ইবনুল মুসাইয়িব, ইবরাহীম নাখয়ী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ ফিকহশাস্ত্রের সকল অধ্যায় সংকলন করেছিলেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও তাঁর সাথীগণ মনে করতেন যে, দুই হারামের অধিবাসীরাই ফিকহশাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ়। তাঁদের মাযহাবের মূল ভিত্তি ছিল উমর ও উসমান (রা.)-এর ফতোয়া ও বিচারসমূহ এবং ইবনে উমর, আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ফতোয়া ও মদিনার বিচারকদের বিচারসমূহ।

প্রায় একইভাবে নাখয়ী ও তাঁর সাথীগণ মনে করতেন যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও তাঁর সাথীগণই ফিকহশাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ়। ফলে তাঁদের মাযহাবের মূল ভিত্তি ছিল ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ফতোয়া, আলী (রা.)-এর বিচার ও ফতোয়া এবং শুরাইহ ও কুফার অন্যান্য বিচারকদের বিচারসমূহ।

প্রত্যেক দল তাঁদের কাছে সংগৃহীত বিষয়গুলোতে বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানমূলক দৃষ্টিপাত করতেন। আলেমদের মধ্যে যে বিষয়গুলোতে ঐক্যমত ছিল, সেগুলো তাঁরা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতেন। আর যে বিষয়গুলোতে তাঁদের মধ্যে মতভেদ ছিল...
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فإنهم يأخذون بأقواها وأرجحها، وإذا لم يجدوا فيما حفظوه جواب المسألة خرجوا من كلامهم وتتبعوا الإيماء والاقتضاء، فحصل لهم مسائل كثيرة في كل باب.

[الفقه بعد عهد التابعين]

ثم أنشأ الله تعالى بعد عصر التابعين نشأً من حملة العلم، فأخذوا العلم عنهم، ونسجوا على منوال شيوخهم، فتمسكوا بالمسند من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم واستدلوا بأقوال الصحابة والتابعين، علمًا منهم أنها إما أحاديث منقولة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم اختصروها فجعلوها موقوفة، أو يكون استنباطًا منهم من المنصوص واجتهادًا منهم بآرائهم، وهم أحسن صنيعًا في كل ذلك ممن يجيء بعدهم، وأكثر إصابة، وأقدم زمانًا وأوعى علمًا، فتعين العمل بها إلا إذا اختلفوا وكان حديث رسول الله يخالف قولهم مخالفة ظاهرة.

وقد أُلهموا في هذه الطبقة التدوين، فدون مالك، ومحمد بن عبد الرحمن ابن أبى ذئب بالمدينة، وابن جرير وابن عيينة بمكة، والثوري بالكوفة، والربيع بن صبيح بالبصرة.

وكان مالك أثبتهم في حديث المدنيين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأوثقهم إسناداً، وأعلمهم بقضايا عمر، وأقاويل عبد الله في عمر وعائشة وأصحابهم من الفقهاء السبعة، وبه وبأمثاله قام علم الرواية والفتوى، ولما وسد إليه الأمر حدَّث وأفتى وأفاد وأجاد.

وكان أبو حنيفة- رحمه الله ألزمهم بمذهب إبراهيم النخعى وأقرانه، لا يجاوزه إلا ما شاء الله، وكان عظيم الشأن في التخريج على مذهبه، دقيق النظر في وجوه التخريجات، مقبلاً على الفروع أتمَّ إقبال.

وكان أشهر أصحابه ذكرًا أبو يوسف- رحمه الله وكان أحسنهم تصنيفًا وألزمهم درسًا محمد بن الحسن، وكان من خبره أنه تفقَّه على أبي حنيفة وأبي يوسف، ثم خرج إلى المدينة فقرأ «الموطأ» على مالك، ثم رجع إلى بلده فطبق مذهب أصحابه على «الموطأ» مسألة مسألة، فإن وافق منها وإلا فإن طائفة من الصحابة والتابعين ذاهبين إلى مذهب أصحابه فكذلك، وإن وجد قياسًا ضعيفًا أو تخريجًا يخالفه حديث صحيح مما عمل به الفقهاء ويخالفه عمل أكثر العلماء تركه
তারা সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য বিষয়গুলোকে গ্রহণ করতেন। তারা যা মুখস্থ করেছিলেন তার মধ্যে যদি কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে না পেতেন, তবে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের উক্তিগুলো থেকে সূত্র গ্রহণ করতেন এবং ইঙ্গিত ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের অনুসরণ করতেন। ফলে প্রতিটি অধ্যায়ে তাদের কাছে অনেক মাসআলা সাব্যস্ত হয়েছে।

[তাবেয়ী যুগের পরবর্তী ফিকহ]

অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাবেয়ী যুগের পর একদল ইলম বহনকারী তৈরি করলেন। তারা তাদের থেকে ইলম গ্রহণ করলেন এবং তাদের উস্তাদদের পথ অনুসরণ করলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুসনাদ হাদিসসমূহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করলেন। তারা জানতেন যে, এগুলো হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস যা তারা সংক্ষেপ করার কারণে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথবা এগুলো মূল পাঠ থেকে তাদের উদ্ভাবন এবং তাদের নিজস্ব মতের ইজতিহাদ। তারা তাদের পরবর্তী লোকদের তুলনায় এই সব ক্ষেত্রে অধিকতর উত্তম কর্ম সম্পাদনকারী, অধিক সঠিক পথের অনুসারী, অগ্রজ এবং ইলমের ক্ষেত্রে অধিক সচেতন ছিলেন। তাই সেগুলোর ওপর আমল করা আবশ্যক হলো, তবে যদি তারা নিজেরা মতভেদ করেন এবং রাসূলুল্লাহর হাদিস তাদের বক্তব্যের স্পষ্ট বিরোধী হয় (তখন হাদিসই প্রাধান্য পাবে)।

এই স্তরের ব্যক্তিদের সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার প্রেরণা দান করা হয়েছিল। ফলে মদিনায় মালিক ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু জিব, মক্কায় ইবনে জারীর ও ইবনে উইয়াইনাহ, কুফায় সাওরী এবং বসরায় রাবী ইবনে সাবিহ ইলম সংকলন করলেন।

মদিনাবাসীদের বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে মালিক তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং সনদের দিক থেকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি উমরের ফয়সালাসমূহ, উমর ও আয়েশার বর্ণনায় আবদুল্লাহর উক্তি এবং সাতজন ফকিহসহ তাদের সহচরদের বিষয়ে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। তাঁর এবং তাঁর সমতুল্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেই বর্ণনা ও ফতোয়ার ইলম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যখন তাঁর ওপর দায়িত্ব অর্পিত হলো, তখন তিনি হাদিস বর্ণনা করলেন, ফতোয়া দিলেন, মানুষকে উপকৃত করলেন এবং অত্যন্ত নিপুণতা প্রদর্শন করলেন।

আর আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইব্রাহিম নাখয়ী ও তাঁর সমসাময়িকদের মাজহাবের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত ছিলেন; আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তিনি তা অতিক্রম করতেন না। তিনি তাঁর মাজহাবের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবনে সুমহান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রগুলোতে তাঁর দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং তিনি শাখাগত মাসআলাগুলোর প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে মনোনিবেশ করতেন।

তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং মুহাম্মদ বিন হাসান গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিপুণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিয়মিত ছিলেন। তাঁর অবস্থা এই ছিল যে, তিনি আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, অতঃপর মদিনায় গমন করে মালিকের নিকট 'মুওয়াত্তা' পাঠ করেন। এরপর তিনি নিজ শহরে ফিরে আসেন এবং তাঁর সঙ্গীদের মাজহাবকে 'মুওয়াত্তা'র প্রতিটি মাসআলার সাথে মিলিয়ে দেখেন। যদি তা মিলে যেত (তবে তা গ্রহণ করতেন), অন্যথায় যদি সাহাবী ও তাবেয়ীদের কোনো দল তাঁর সঙ্গীদের মাজহাবের অনুকূলে থাকতেন তবে তাও গ্রহণ করতেন। আর যদি তিনি এমন কোনো দুর্বল কিয়াস বা উদ্ভাবন পেতেন যা ফকিহদের আমলকৃত কোনো সহিহ হাদিসের বিরোধী এবং অধিকাংশ আলেমের কর্মপন্থার পরিপন্থী, তবে তিনি তা বর্জন করতেন।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
إلى مذهب السلف مما يراه أرجح ما هناك، وهما لا يزالان على محجة النخعي ما أمكن لهما كما كان أبو حنيفة- رحمه الله يفعل، ولذا عُدَّ مذهبًا مع مذهب أبى حنيفة واحدًا- مع أنهما مجتهدان مطلقان مخالفتهما له غير قليلة في الأصول والفروع- لتوافقهم في هذا الأصل.

ونشأ الشافعي- رحمه الله في أوائل ظهور المذهبين وترتيب أصولهما وفروعهما، فنظر في صنيع الأوائل فوجد فيه أموراً كَبَحت عنانه عن الجريان في طريقهم، منها: أنه وجدهم يأخذون بالمرسل والمنقطع فيدخل فيهما الخلل، ومنها أنه لم تكن قواعد الجمع بين المختلفات مضبوطة عندهم فتطرَّق بذلك خلل في مجتهداتهم، فوضع لها أصولاً ودوَّنها في كتاب، وهذا أول تدوين كان في أصول الفقه، ومنها أن أقوال الصحابة جمعت في عصر الشافعي فكثرت واختلفت وتشعبت، ورأى كثيرًا منها يخالف الحديث الصحيح حيث لم يبلغهم، ورأى السلف لم يزالوا يرجعون في مثل ذالك إلى الحديث، فترك التمسك بأقوالهم ما لم يتفقوا، وقال: هم رجال ونحن رجال.

ومنها أنه رأى قومًا من الفقهاء يخلطون الرأي الذي لم يسوغه الشرع بالقياس الذي أثبته، فلا يميزون واحداً منها عن الآخر.

وبالجملة فإنه رحمه الله لما رأى هذه الأمور أخذ الفقه من الرأس فأسس الأصول وفرع الفروع ونف الكتب فأجاد وأفاد، واجتمع عليه الفقهاء، ثم تفرقوا في البلدان فكان هذا مذهب الشافعي.

[أسباب الاختلاف بين أهل الحديث وأهل الرأي]

واعلم أنه كان من العلماء من عصر التابعين فما بعدهم قوم يكرهون الخوض بالرأي ويهابون الفتيا والاستنباط إلا لضرورة لا يجدون منها بُدًا، وكان أكبر همهم رواية حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، فوقع شيوع تدوين الحديث والأثر في بلدان الإسلام، وكتابة الصحف والنسخ، فطاف من أدرك من عظمائهم ذلك الزمان بلاد الحجاز والشام والعراق ومصر واليمن وخراسان وجمعوا الكتب وتتبعوا النسخ حتى اجتمع لهم من الحديث والآثار ما لم يجتمع لأحد قبلهم، واجتمع عندهم ما كان خافيًا على أهل الفتوى من آثار فقهاء كل بلد من الصحابة والتابعين، بعد أن
সালাফদের মাযহাবের প্রতি যা তিনি সেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করেন। তাঁরা উভয়েই ইব্রাহিম আন-নাখায়ীর পথ যথাসম্ভব আঁকড়ে ধরেছিলেন, যেমনটি আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) করতেন। এই কারণেই তাঁদের মাযহাবকে আবু হানিফার মাযহাবের সাথে এক হিসেবে গণ্য করা হয়—যদিও তাঁরা দুজনই নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ছিলেন এবং উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু’র (শাখা বিষয়) ক্ষেত্রে তাঁদের ইমামের সাথে তাঁদের মতপার্থক্য সামান্য ছিল না—মূলত এই মূলনীতিতে তাঁদের ঐকমত্যের কারণে।

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) এই দুই মাযহাবের আত্মপ্রকাশ এবং তাদের উসুল ও ফুরু’ বিন্যাস করার প্রাথমিক সময়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাতে এমন কিছু বিষয় পান যা তাঁকে তাঁদের পথে চলতে বাধা দেয়। তার মধ্যে একটি হলো: তিনি দেখেন যে তাঁরা মুরসাল ও মুনকাতি হাদিস গ্রহণ করেন, যার ফলে ত্রুটির সৃষ্টি হয়। আরেকটি বিষয় হলো, তাঁদের কাছে পরস্পর বিরোধী দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নিয়মগুলো সুশৃঙ্খল ছিল না, ফলে তাঁদের ইজতিহাদগুলোতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তাই তিনি এগুলোর জন্য উসুল বা মূলনীতি প্রণয়ন করেন এবং তা কিতাবে লিপিবদ্ধ করেন। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে এটিই ছিল প্রথম গ্রন্থায়ন। আরেকটি বিষয় হলো, শাফিঈর যুগে সাহাবীগণের বক্তব্যসমূহ সংকলিত হয়েছিল, ফলে সেগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং তাতে বিভিন্নতা ও শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়। তিনি দেখলেন যে, এগুলোর অনেকগুলোই সহীহ হাদিসের পরিপন্থী, কারণ সেই হাদিসগুলো হয়তো তাঁদের নিকট পৌঁছেনি। তিনি আরও দেখলেন যে, সালাফগণ এই জাতীয় ক্ষেত্রে সর্বদা হাদিসের দিকেই ফিরে যেতেন। ফলে সাহাবীদের বক্তব্য যখন সর্বসম্মত হতো না, তখন তিনি তা আঁকড়ে ধরা ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: "তাঁরাও মানুষ, আমরাও মানুষ।"

আরেকটি কারণ হলো, তিনি একদল ফকিহকে দেখেছিলেন যারা শরীয়ত কর্তৃক অননুমোদিত ব্যক্তিগত মতামতের সাথে শরীয়ত সমর্থিত কিয়াসকে মিশ্রিত করে ফেলছিলেন, ফলে তাঁরা একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করতে পারছিলেন না।

সারকথা হলো, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করলেন, তখন ফিকহ শাস্ত্রকে নতুনভাবে গ্রহণ করলেন। তিনি উসুল বা মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করলেন, ফুরু’ বা শাখা মাসআলাগুলো বের করলেন এবং কিতাবসমূহ রচনা করলেন; ফলে তিনি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে কাজ সম্পন্ন করলেন ও জ্ঞান দান করলেন। ফকিহগণ তাঁর কাছে সমবেত হলেন, অতঃপর তাঁরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেন এবং এভাবেই শাফিঈ মাযহাবের বিস্তার ঘটল।

[আহলে হাদিস ও আহলে রায়ের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির কারণসমূহ]

জেনে রাখুন যে, তাবেয়ীগণের যুগ এবং তাঁদের পরবর্তী যুগে এমন একদল আলেম ছিলেন যারা ব্যক্তিগত মতামতের গভীরে প্রবেশ করা অপছন্দ করতেন এবং ফতোয়া প্রদান ও মাসআলা উদ্ভাবন করতে ভয় পেতেন, কেবল একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেখান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় ছিল না। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করা। ফলে ইসলামী দেশগুলোতে হাদিস ও আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা) সংকলন এবং সহীফা ও পাণ্ডুলিপি লেখার ব্যাপক প্রচলন ঘটে। সেই সময়ের মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হিজাজ, সিরিয়া, ইরাক, মিশর, ইয়েমেন ও খোরাসান ভ্রমণ করেন। তাঁরা কিতাবসমূহ সংগ্রহ করেন এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর অনুসন্ধান করেন, যার ফলে তাঁদের কাছে এমন বিপুল পরিমাণ হাদিস ও আসার জমা হয় যা তাঁদের পূর্ববর্তী আর কারও কাছে হয়নি। তাঁদের কাছে সেই সব আসার বা ফকিহদের বর্ণনা একত্রিত হয়েছিল যা প্রতিটি অঞ্চলের সাহাবী ও তাবেয়ী ফকিহদের বর্ণনার মধ্য থেকে ফতোয়া প্রদানকারীদের নিকট অজানা ছিল, এরপর...
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
كان الرجل فيما قبلهم لا يتمكن إلا من جمع حديث بلده وأصحابه، كما انكشف لهم بهذا التدوين والبحث والمناظرة ما كان خافيًا من حال أسانيد هذه الأحاديث.

فرجع المحققون منهم- بعد إحكام فن الرواية ومعرفة الأحاديث- إلى الفقه، فلم يكن عندهم من الرأي أن يُجمع على تقليد رجل ممن مضى مع ما يروون من الأحاديث والآثار المناهضة لكل مذهب من تلك المذاهب، ولم تكن مسالة من المسائل التي تكلم فيها من قبلهم والتي وقت في زمانهم إلا وجدوا فيها حديثًا مرفوعًا متصلاً أو مرسلاً أو موقوفًا، أو وجدوا أثرًا من آثار الشيخين أو سائر الخلفاء وقضاة الأمصار وفقهاء البلدان، فيسَّر الله لهم العمل بالسنة على هذا الوجه، وكان أعظمهم شأنًا وأوسعهم رواية، وأعرفهم للحديث مرتبة وأعمقهم فقهًا، أحمد بن حنبل ثم إسحاق ابن راهويه- رحمهما الله تعالى- قال الشافعي لأحمد: «أنتم أعلم بالأخبار الصحيحة منا، فإذا كان خبر صحيح فأعلمونى حتى أذهب إليه، كوفيًا كان أو بصريًا أو شاميًا» اهـ.

وقد خلف هؤلاء قوم رأوا أن أصحابهم قد كفوهم مؤنة جمع الأحاديث، وتمهيد الفقه على هذا الأصل، فتفرغوا لفنون أخرى، كتمييز الحديث الصحيح المجمع عليه من كبراء أهل الحديث كيزيد بن هارون ويحيى القطان وأحمد وإسحاق وأضرابهم، وكجمع أحاديث الفقه التي بنى عليها فقهاء الأمصار وعلماء البلدان مذاهبهم، وكالحكم على كل حديث بما يستحقه، وكالشاذَّة والفاذَّة من الأحاديث التي لم يرووها، أو طرقها التي لم تخرج من جهتها الأوائل، وغير ذلك، ومن هؤلاء: البخاري ومسلم وأبو داود وعبد بن حميد والدارمي وابن ماجه وأبو يعلى والترمذي والنسائي والدارقطني والحاكم والبيهقي وغيرهم.

وكان بإزاء هؤلاء في عصر مالك وسفيان وبعدهم قوة لا يكرهون المسائل، ولا يهابون الفتيا، وإنما يهابون رواية حديث النبي صلى الله عليه وسلم والرفع إليه، حتى قال الشعبي: «على من دون النبي صلى الله عليه وسلم أحب إلينا، فإن كان فيه زيادة أو نقصان؛ كان على من دون النبي صلى الله عليه وسلم».

فوقع تدوين الحديث والفقه والمسائل من حاجتهم بموقع من وجه آخر، وذلك أنه لم يكن عندهم من الأحاديث والآثار ما يقدرون به على استنباط الفقه على الأصول التي اختارها أهل الحديث، ولم تنشرح صدورهم للنظر في أقوال علماء
তাদের পূর্ববর্তী সময়ে একজন ব্যক্তির পক্ষে কেবল তার নিজ শহর ও সঙ্গীদের হাদিস সংগ্রহ করা ছাড়া আর কিছু সম্ভব ছিল না। তেমনিভাবে এই সংকলন, গবেষণা ও বিতর্কের মাধ্যমে তাদের নিকট এই হাদিসগুলোর সনদের এমন সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উন্মোচিত হলো যা আগে গোপন ছিল।

অতঃপর তাদের মধ্য থেকে গবেষকগণ—বর্ণনা শাস্ত্র আয়ত্ত করার এবং হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পর—ফিকহ শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করলেন। এমতাবস্থায় তাদের নিকট এমন কোনো অভিমত ছিল না যে, পূর্ববর্তী কোনো একজন ব্যক্তির তাকলিদের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অথচ তারা এমন সব হাদিস ও আছার বর্ণনা করছিলেন যা সেই সব মাযহাবের বিরোধী ছিল। তাদের পূর্বসূরিরা যেসব মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন কিংবা তাদের সময়ে যেসব নতুন মাসআলা উদ্ভূত হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই তারা কোনো না কোনো মারফু মুত্তাসিল, মুরসাল বা মাওকুফ হাদিস খুঁজে পেয়েছেন; অথবা শাইখাইন (আবু বকর ও উমর), অন্য সব খলিফা, বিভিন্ন শহরের বিচারক ও ফকিহদের আছার খুঁজে পেয়েছেন। এভাবে আল্লাহ তাদের জন্য সুন্নাহর ওপর আমল করা সহজ করে দিলেন। তাদের মধ্যে সম্মানের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ, বর্ণনার দিক থেকে সর্বাধিক প্রশস্ত, হাদিসের স্তরের বিচারে সর্বাধিক অভিজ্ঞ এবং ফিকহ শাস্ত্রে সর্বাধিক গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন আহমদ ইবনে হাম্বল এবং এরপর ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। ইমাম শাফেয়ি ইমাম আহমদকে বলেছিলেন: "আপনারা আমাদের চেয়ে সহিহ হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। সুতরাং যখন কোনো হাদিস সহিহ প্রমাণিত হয়, তখন আমাকে অবহিত করবেন যাতে আমি তা গ্রহণ করি, চাই সেটি কুফা, বসরা কিংবা শামের হোক না কেন।"

অতঃপর তাঁদের পরে এমন এক দল আসলেন যাঁরা দেখলেন যে, তাঁদের পূর্বসূরিরা হাদিস সংগ্রহ এবং এই মূলনীতির ওপর ফিকহ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের কষ্ট লাঘব করে দিয়েছেন। ফলে তাঁরা অন্যান্য বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করলেন, যেমন—আহলে হাদিসের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ যেমন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আহমদ, ইসহাক এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে সর্বসম্মত সহিহ হাদিসসমূহ পৃথক করা; ফিকহি হাদিসসমূহ সংগ্রহ করা যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শহরের ফকিহ ও আলেমরা তাঁদের মাযহাব গড়ে তুলেছিলেন; প্রত্যেক হাদিসের মান অনুযায়ী সেটির ওপর হুকুম প্রদান করা; এবং যে সব শায ও বিরল হাদিস যা তাঁরা বর্ণনা করেননি বা এমন সব সনদ যা পূর্ববর্তীদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি তা নিয়ে কাজ করা ইত্যাদি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আবদ ইবনে হুমাইদ, দারিমি, ইবনে মাজাহ, আবু ইয়ালা, তিরমিজি, নাসায়ি, দারা কুতনি, হাকেম, বায়হাকি এবং আরও অনেকে।

ইমাম মালিক ও সুফিয়ানের যুগে এবং তাঁদের পরে তাঁদের বিপরীতে এক শক্তিশালী গোষ্ঠী ছিল যাঁরা মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা অপছন্দ করতেন না এবং ফতোয়া দিতেও ভয় পেতেন না। বরং তাঁরা ভয় পেতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনা করতে এবং তা তাঁর দিকে নিসবত করতে। এমনকি শাবি বলেছিলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারও বাণী বর্ণনা করা আমাদের কাছে অধিক পছন্দনীয়। কারণ তাতে যদি কোনো কমবেশি হয়, তবে তার দায়ভার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর না পড়ে সেই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে।"

ফলে হাদিস, ফিকহ ও মাসআলা সংকলনের প্রয়োজনীয়তা তাদের নিকট ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা দিল। আর তা হলো এই যে, আহলে হাদিসগণ যে মূলনীতির ভিত্তিতে ফিকহ উদ্ভাবন করেছিলেন, সেই পর্যায়ে উপনীত হওয়ার মতো যথেষ্ট হাদিস ও আছার তাদের নিকট ছিল না। আর আলেমদের অভিমতসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও তাদের অন্তর প্রশস্ত ছিল না...
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
البلدان وجمعها والبحث عنها، واتهموا أنفسهم في ذلك، وكانوا اعتقدوا في أئمتهم أنهم في الدرجة العليا من التحقيق، وكانت قلوبهم أميل شيء إلى أصحابهم، كما قال أبو حنيفة: «إبراهيم - يعني: النخعي- أفقه من سالم، ولولا فضل الصحبة لقلت: علقمة أفقه من ابن عمر!!».

وكان عندهم من الفطانة والحدس وسرعة انتقال الذهن من شيء إلى شيء ما يقدرون به على تخريج جواب المسألة على أقوال أصحابهم، فمهدوا الفقه على قاعدة التخريج، فوقع التخريج في كل مذهب فكثر، وأي مذهب كان أصحابه مشهورين وسُدِّ إليهم القضاء والإفتاء، فاشتهرت تصانيفهم في الناس، وانتشرت في أقطار الأرض.

ومن هنا نشأت مدرستا الحديث والفقه، وقد صدَّر الإمام الخطابي رحمه الله كتاب «معالم السنن» (1) بالكلام عليهما فقال: رأيت أهل العلم في زماننا قد حصلوا أمرين، وانقسموا إلى فرقتين: أصحاب حديث وأثر، وأهل فقه ونظر، وكل واحدة منهما لا تتميز عن أختها في الحاجة، ولا تستغني عنها في درك ما نحوه من البغية والإرادة، لأن الحديث بمنزلة الأساس الذي هو الأصل، والفقه بمنزلة البناء الذي هو له كالفرع، وكل بناء لم يوضع على قاعدة أساس فهو منهار، وكل أساس خلا عن بناء وعمارة فهو قفر وخراب. ووجدت هذين الفريقين على ما بينهم من التداني في المحلين، والتقارب في المنزلين، وعموم الحاجة من بعضهم إلى بعض، وشمول الفاقة اللازمة لكل منهم إلى صاحبه، إخوانًا متهاجرين، وعلى سبيل الحق بلزوم التناصر غير متظاهرين.

فأما هذه الطبقة الذين هم أهل الحديث والأثر فإن الأكثرين إنما كدهم الروايات، وجمع الطرق، وطلب الغريب والشاذ من الحديث الذي أكثره موضوع أو مقلوب، لا يراعون المتون، ولا يتفهمون المعاني، ولا يستنبطون سرها، ولا يستخرجون ركازها وفقهها وربما عابوا الفقهاء وتناولوهم بالطعن، وادعوا عليهم مخالفة السنن، ولا يعلمون أنهم عن مبلغ ما أوتوه من العلم قاصرون، وبسوء القول فيهم آثمون، وأما الطبقة الأخرى -وهم أهل الفقه والنظر- فإن أكثرهم لا يعرجون من الحديث إلا على أقله، ولا يكادون يميزون صحيحه من سقيمه، ولا يعرفون جيده من رديئه، ولا يعبأون بما

--------------------------------------------

(1) «معالم السنن» للخطابي (1/ 75 - 76).
দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ, ইলম সংগ্রহ এবং সেই ইলম অনুসন্ধানের কাজে তারা নিয়োজিত ছিলেন এবং এই প্রচেষ্টায় তারা নিজেদেরকে সর্বদা ত্রুটিপূর্ণ মনে করতেন। তারা তাদের ইমামদের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখতেন যে, গবেষণার ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ স্তরে আসীন। তাদের অন্তর তাদের ইমামদের অনুসারীদের প্রতিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকত, যেমনটি আবু হানিফা বলেছেন: «ইবরাহিম—অর্থাৎ আন-নাখায়ি—সালিমের চেয়ে বড় ফকিহ। আর সাহাবি হওয়ার মর্যাদা না থাকলে আমি বলতাম: আলকামাহ ইবনে উমরের চেয়ে বড় ফকিহ!!»।

তাদের মধ্যে এমন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, অন্তর্দৃষ্টি এবং দ্রুত চিন্তাশক্তি ছিল যার দ্বারা তারা তাদের ইমামদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে মাসআলার উত্তর বের (তাখরিজ) করতে পারতেন। ফলে তারা 'তাখরিজ'-এর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ফিকহ শাস্ত্রকে বিন্যস্ত করেন এবং প্রতিটি মাযহাবেই এই তাখরিজের আধিক্য দেখা দেয়। যে মাযহাবের অনুসারীরা বেশি প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং যাদের হাতে বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, মানুষের মাঝে তাদের রচিত গ্রন্থসমূহ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়েছিল।

এখান থেকেই হাদিস ও ফিকহের দুটি স্বতন্ত্র ধারার উদ্ভব ঘটে। ইমাম খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর «মাআলিমুস সুনান» (১) কিতাবের শুরুতে এই দুই ধারা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "আমি আমাদের সময়ের আহলে ইলমদের দেখেছি যে তারা দুটি বিষয় অর্জন করেছেন এবং দুটি দলে বিভক্ত হয়েছেন: আসহাবে হাদিস ওয়া আছার (হাদিস ও ঐতিহ্যের অনুসারী) এবং আহলে ফিকহ ও নজর (ফিকহ ও গবেষণার অনুসারী)। প্রয়োজনের দিক থেকে এই দুই দলের কেউই তার অপরটি থেকে ভিন্ন নয় এবং তারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করতে চায়, তার জন্য একে অপরের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। কেননা হাদিস হলো ভিত্তিস্বরূপ যা মূল বিষয়, আর ফিকহ হলো অট্টালিকাস্বরূপ যা তার শাখা। যে অট্টালিকা ভিত্তির ওপর স্থাপিত নয় তা ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর যে ভিত্তি অট্টালিকা ও নির্মাণহীন তা জনমানবশূন্য মরুভূমি ও ধ্বংসস্তূপ। আমি এই দুই দলকে দেখেছি যে, তাদের উভয়ের কর্মক্ষেত্র ও মর্যাদাগত অবস্থান অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও এবং একে অপরের প্রতি মুখাপেক্ষিতা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ভাইয়ের মতো আচরণ করছে। সত্যের পথে একে অপরকে সাহায্য করার যে আবশ্যকতা রয়েছে, তার ক্ষেত্রে তারা পরস্পর সহযোগী নয়।"

তবে এই শ্রেণী যারা হাদিস ও আছারের অনুসারী, তাদের অধিকাংশের পরিশ্রম কেবল বর্ণনা সংগ্রহ, সনদের আধিক্য খোঁজা এবং এমন সব দুর্লভ ও বিরল হাদিস অন্বেষণ করা যার অধিকাংশই বানোয়াট কিংবা ওলটপালট। তারা মূল পাঠের (মতন) প্রতি লক্ষ্য রাখে না, এর অর্থগুলো অনুধাবন করে না, এর রহস্য উদঘাটন করে না এবং এর অন্তর্নিহিত তত্ত্ব ও ফিকহ আহরণ করে না। কখনো কখনো তারা ফকিহদের দোষারোপ করে এবং তাদের প্রতি বিষোদ্গার করে, আর দাবি করে যে তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করছেন। অথচ তারা জানে না যে তাদের দেওয়া ইলমের নাগাল পেতে তারা নিজেরাই অক্ষম এবং তাদের প্রতি কটু কথা বলার কারণে তারা পাপে লিপ্ত হচ্ছে। আর অন্য দলটি—যারা ফিকহ ও গবেষণার অনুসারী—তাদের অধিকাংশ হাদিসের খুব সামান্য অংশ ছাড়া মনোযোগ দেয় না। তারা হাদিসের সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত হওয়ার পার্থক্য করতে পারে না, ভালো ও মন্দের তফাৎ বোঝে না এবং তারা গুরুত্ব দেয় না যা

--------------------------------------------

(১) খাত্তাবি রচিত «মাআলিমুস সুনান» (১/ ৭৫ - ৭৬)।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
بلغهم منه أن يحتجوا به على خصومهم إذا وافق مذاهبهم التي ينتحلونها، ووافق آراءهم التي يعتقدونها، وقد اصطلحوا على مواضعة بينهم في قبول الخبر الضعيف والحديث المنقطع إذا كان ذلك قد اشتهر عندهم، وتعاورته الألسن فيما بينهم، من غير تثبت فيه أو يقين علم به، فكان ذلك زلة من الراوي أو عيًّا فيه، وهؤلاء- وفقنا الله وإياهم- لو حكى لهم عن واحد من رؤساء مذاهبهم وزعماء نحلهم قول يقوله باجتهاده من قبل نفسه، طلبوا فيه الثقة، واستبرءوا له العهدة: فنجد أصحاب مالك لا يعتمدون في مذهبه إلا ما كان من رواية ابن القاسم وأشهب وأضرابهما من نبلاء أصحابه، فإذا جاءت رواية عبد الله بن عبد الحكم وأضرابه لم يكن عندهم طائلاً، وترى أصحاب أبي حنيفة- رحمه الله تعالى- لا يقبلون من الرواية عنه إلا ما حكاه أبو يوسف ومحمد بن الحسن والعلية من أصحابه والأجلة من تلامذته، فإن جاءهم عن الحسن بن زياد اللؤلؤي وذوي روايته قول بخلافه لم يقبلوه ولم يعتمدوه. وكذلك تجد أصحاب الشافعي إنما يعولون في مذهبه على رواية المزني والربيع بن سليمان المرادي، فإذا جاءت رواية خزيمة والجرمى وأمثالهما لم يلتفتوا إليها ولم يعتدُّوا بها في أقاويله، وعلى هذا عادة كل فرقة من العلماء في أحكام مذاهب أئمتهم وأساتذتهم.

فإذا كان هذا دأبهم، وكانوا لا يقتنعون في أمر هذه الفروع والرواية عن هؤلاء الشيوخ إلا بالوثيقة والتثبت، فكيف يجوز لهم أن يتساهلوا في الأمر الأهم والخطب الأعظم، وأن يتواكلوا الرواية والنقل عن إمام الأئمة ورسول رب العزة، الواجب حكمه، اللازمة طاعته، الذي يجب علينا التسليم لحكمه والانقياد لأمره من حيث لا نجد في أنفسنا حرجًا مما قضاه، ولا في صدورنا غلاً من شيء أبرمه وأمضاه، أرأيتكم إذا كان الرجل يتساهل في أمر نفسه ويسامح غرماءه في حقه، فأخذ منهم الزيف ويغضي لهم عن العيب، هل يجوز له أن يفعل ذلك في حق غيره إذا كان نائبًا عنه، كولي الضعيف ووصى اليتيم ووكيل الغائب؟ وهل يكون ذلك منه إذا فعله إلا خيانة للعهد وإخفارًا للذمة؟ فهذا هو ذلك إما عيان خمس وإما عيان مثل، ولكن أقوامًا عساهم استوعروا طريق الحق، واسطابوا الدعة في ذلك الحظ، وأحبوا عجالة النيل، فاختصروا طريق العلم، واقتصروا على نتف وحروف منتزعة من معاني أصول الفقه سموها عللاً، وجعلوها شعارًا لأنفسهم في الترسم برسم العلم، وأخذوها جنة عند لقاء
তাদের অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে একে ব্যবহার করে যখন এটি তাদের গ্রহণ করা মাযহাবের অনুকূলে হয় এবং তাদের বিশ্বাস করা মতামতের সাথে মিলে যায়। তারা নিজেদের মধ্যে দুর্বল সংবাদ এবং বিচ্ছিন্ন হাদিস কবুল করার ব্যাপারে একটি রীতিতে ঐক্যমত পোষণ করেছে, যদি তা তাদের নিকট প্রসিদ্ধি পায় এবং মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত থাকে, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াই। ফলে এটি বর্ণনাকারীর একটি বিচ্যুতি বা তার ভেতরের কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়। আর এই সব লোক—আল্লাহ আমাদের এবং তাদেরকে সঠিক পথ দান করুন—যদি তাদের নিকট তাদের মাযহাবের কোনো প্রধান বা তাদের দলের কোনো নেতার পক্ষ থেকে এমন কোনো উক্তি বর্ণনা করা হয় যা তিনি নিজের ইজতিহাদ থেকে বলেছেন, তবে তারা সেটির ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা অনুসন্ধান করে এবং তার দায়মুক্তির প্রমাণ চায়। আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম মালিকের অনুসারীরা তার মাযহাবের ক্ষেত্রে ইবনুল কাসিম, আশহাব এবং তাদের সমপর্যায়ের মর্যাদাবান ছাত্রদের বর্ণনা ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করে না। সুতরাং যখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম এবং তার মতো অন্যদের বর্ণনা আসে, তখন তাদের নিকট তার কোনো গুরুত্ব থাকে না। আর আপনি ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর অনুসারীদের দেখবেন যে, তারা তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো রেওয়ায়াত গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তা আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং তাঁর সঙ্গীদের মধ্য থেকে উচ্চমর্যাদার ব্যক্তিগণ ও তাঁর ছাত্রদের মধ্য থেকে সম্মানিত ব্যক্তিগণ বর্ণনা করেন। ফলে যদি হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লুলুয়ি এবং তার পর্যায়ের বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে এর বিপরীত কোনো কথা আসে, তবে তারা তা গ্রহণ করে না এবং তার ওপর নির্ভরও করে না। অনুরূপভাবে আপনি ইমাম শাফিঈর অনুসারীদের দেখবেন যে, তারা তাঁর মাযহাবের ক্ষেত্রে কেবল মুযানী এবং রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদী-এর বর্ণনার ওপরই নির্ভর করে। সুতরাং যখন খুযাইমা, আল-জারমী এবং তাদের মতো অন্যদের বর্ণনা আসে, তখন তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না এবং তাঁর বক্তব্যের ক্ষেত্রে সেগুলোকে ধর্তব্য মনে করে না। আর এভাবেই আলেমদের প্রত্যেকটি দলের অভ্যাস হলো তাদের ইমাম ও উস্তাদদের মাযহাবের আহকামসমূহের ক্ষেত্রে।

যদি এটিই তাদের কর্মপন্থা হয় এবং তারা যদি এই সব শাখা-প্রশাখা এবং এই সব শায়খদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ও যাচাই-বাছাই ছাড়া সন্তুষ্ট না হয়, তবে তাদের জন্য কীভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মহানতর ঘটনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা বৈধ হতে পারে? আর তারা কীভাবে ইমামদের ইমাম এবং মহান রবের রাসূলের পক্ষ থেকে বর্ণনা ও নকল করার ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর ছেড়ে দিয়ে গাফিলতি করতে পারে? যাঁর হুকুম পালন করা ওয়াজিব, যাঁর আনুগত্য করা অপরিহার্য, যাঁর ফয়সালার সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং যাঁর নির্দেশের অনুগত হওয়া আমাদের ওপর আবশ্যক; এমনভাবে যে, তিনি যা ফয়সালা করেন তাতে আমরা আমাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করব না এবং তিনি যা সাব্যস্ত ও কার্যকর করেন তাতে আমাদের হৃদয়ে কোনো ক্ষোভ থাকবে না। আপনারা কি মনে করেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার নিজের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং তার পাওনাদারদের প্রতি তার হকের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়, ফলে সে তাদের থেকে খুঁতযুক্ত মুদ্রা গ্রহণ করে এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে, তবে কি তার জন্য অন্যের হকের ক্ষেত্রে এমন করা জায়েয হবে যখন সে তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে; যেমন দুর্বলের অভিভাবক, এতিমের অসি বা অনুপস্থিত ব্যক্তির উকিল? আর সে যদি এমনটি করে, তবে কি তা অঙ্গীকারের খেয়ানত এবং জিম্মাদারি নষ্ট করা ছাড়া অন্য কিছু হবে? সুতরাং এটিও ঠিক সেরকমই, হয় তা অবিকল বাস্তব চিত্র অথবা তার অনুরূপ দৃষ্টান্ত। কিন্তু একদল লোক সম্ভবত সত্যের পথকে কঠিন মনে করেছে এবং সেই সুযোগে আরাম-আয়েশকেই উত্তম জ্ঞান করেছে। তারা দ্রুত ফল লাভ করাকে পছন্দ করেছে, ফলে তারা ইলমের পথকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছে এবং উসূলে ফিকহের অর্থসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশ ও বর্ণমালার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে যেগুলোকে তারা 'ইল্লত' (কারণ) বলে নামকরণ করেছে এবং ইলমের বাহ্যিক লেবাস ধারণের জন্য সেগুলোকে নিজেদের প্রতীকে পরিণত করেছে, এবং (বিতর্কের সময়) মুকাবিলা করার জন্য এগুলোকে তারা ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
خصومهم، ونصبوها ذريعة للخوض والجدال يتناظرون بها، ويتلاطمون عليها، وعند التصادر عنها قد حكم الغالب بالحذق والتبريز فهو الفقيه المذكور في عصره، والرئيس المعظم في بلده ومصره. هذا وقد وسوس لهم الشيطان حيلة لطيفة، وبلغ منهم مكيدة بليغة فقال لهم: هذا الذي في أيديكم علم قصير وبضاعة مزجاة فإن تفي بمبلغ الحاجة والكفاية، فاستعينوا عليه بالكلام، وصلوه بمقطعات منه، واستظهروا بأصول المتكلمين يتسع للمرء مذهب الخوض ومجال النظر، فصدق عليهم إبليس ظنه، وأطاعه كثير منهم واتبعوه، إلا فريقًا من المؤمنين، فيا للرجال والعقول أين يذهب بهم، وأنى يخدعهم الشيطان عن حظهم وموضع رشدهم، والله المستعان، انتهى كلام الخطابي.

 

‌‌[أحوال الناس في المائة الأولى والثانية]

اعلم أن الناس كانوا في المائة الأولى والثانية غير مجمعين على التقليد لمذهب واحد بعينه، قال أبو طالب المكي في «قوت القلوب»: «إن الكتب والمجموعات محدثة، والقول بمقالات الناس والفتيا بمذهب الواحد من الناس، واتخاذ قوله، والحكاية له في كل شيء، والتفقه على مذهبه، لم يكن الناس على ذلك في القرنين الأول والثاني» اهـ.

وقال ابن الهمام في «التحرير»: «وكانوا يستفتون مرة واحدًا، ومرة غيره، غير ملتزمين بفتيا واحد» اهـ.

وأما العلماء فكانوا على مرتبتين: منهم من أمعن في تتبع الكتاب والسنة والآثار حتى حصل له ملكة إفتاء الناس وإجابتهم في غالب الوقائع بحيث يكون جوابه أكثر مما يتوقف فيه، ويُخص باسم «المجتهد».

ومنهم من حصل له من معرفة القرآن والسنن ما يتمكن به من معرفة رءوس الفقه وأمهات مسائله بأدلتها التفصيلية، وحصل له غالب الرأي ببعض المسائل الأخرى من أدلتها، وتوقف في بعضها، واحتاج في ذلك إلى مشاورة العلماء لأنه لم تتكامل له الأدوات كما تتكامل للمجتهد المطلق، فهو مجتهد في العبض غير متجهد في البعض، وقد تواتر عن الصحابة والتابعين أنهم كانوا إذا بلغهم الحديث يعلمون به من غير أن يلاحظوا شرطًا.
তাদের প্রতিপক্ষগণ, এবং তারা এটাকে গভীর আলোচনা ও ঝগড়ার একটি অসিলা বানিয়ে নিয়েছে যাতে তারা তা নিয়ে বিতর্ক করে এবং এর মাধ্যমে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। আর যখন তারা সেখান থেকে প্রস্থান করে, তখন বিজয়ীকে অত্যন্ত দক্ষ ও শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়; ফলে সে তার যুগের উল্লেখযোগ্য ফকিহ এবং নিজ শহর ও জনপদের সম্মানিত নেতা হিসেবে বিবেচিত হয়। উপরন্তু, শয়তান তাদের মনে এক সূক্ষ্ম কৌশলের কুমন্ত্রণা দিয়েছে এবং তাদের সাথে এক গভীর চক্রান্ত সফল করেছে। সে তাদের বলেছে: "তোমাদের হাতে যে জ্ঞান আছে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং তুচ্ছ পুঁজি। যদি এটি প্রয়োজন ও পর্যাপ্ততার পরিমাণে না পৌঁছায়, তবে তোমরা এর জন্য ইলমে কালামের সাহায্য নাও এবং এর সাথে কালামের অংশবিশেষ যুক্ত করো। তোমরা মুতাকাল্লিমদের মূলনীতিগুলোর সাহায্য নাও, তবেই মানুষের জন্য গভীরে প্রবেশের পথ এবং গবেষণার ক্ষেত্র প্রশস্ত হবে।" সুতরাং ইবলিস তাদের প্রতি তার ধারণা সত্য বলে প্রমাণ করল এবং তাদের অনেকেই তার আনুগত্য ও অনুসরণ করল, কেবল মুমিনদের একটি দল ব্যতীত। হায় আফসোস সেই সব ব্যক্তিদের জন্য এবং তাদের বিবেকের জন্য! শয়তান তাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এবং কীভাবে সে তাদের নিজ সৌভাগ্য ও হিদায়াতের সঠিক পথ থেকে প্রতারিত করছে। আল্লাহই সাহায্যকারী। খাত্তাবীর কথা সমাপ্ত।

 

‌‌[প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে মানুষের অবস্থা]

জেনে রাখুন যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে মানুষ কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের তাকলীদ করার ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিল না। আবু তালিব আল-মাক্কী তার 'কূত আল-কুলুব' গ্রন্থে বলেন: "নিশ্চয়ই গ্রন্থাবলি ও সংকলনসমূহ নব উদ্ভাবিত বিষয়। মানুষের বিভিন্ন মতামতের অনুসারী হওয়া, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া, তার বক্তব্য গ্রহণ করা, প্রতিটি বিষয়ে তার উদ্ধৃতি দেওয়া এবং তার মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চা করা—প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর মানুষ এসবের ওপর ছিল না।" সমাপ্ত।

ইবনুল হুমাম তার 'আত-তাহরীর' গ্রন্থে বলেন: "তারা কখনও একজনকে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করতেন, আবার কখনও অন্য কাউকে। তারা কোনো একজনের ফতোয়া মেনে চলতে দায়বদ্ধ ছিলেন না।" সমাপ্ত।

আর আলেমগণ দুই স্তরে বিভক্ত ছিলেন: তাদের মধ্যে যারা কুরআন, সুন্নাহ ও আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) অনুসন্ধানে অত্যন্ত গভীরভাবে নিমগ্ন ছিলেন, এমনকি তাদের মধ্যে মানুষকে ফতোয়া দেওয়ার এবং অধিকাংশ ঘটনায় উত্তর প্রদানের এক বিশেষ যোগ্যতা অর্জিত হয়েছিল, যার ফলে তাদের উত্তরগুলো সংশয়মুক্ত হতো। তাদের বিশেষভাবে 'মুজতাহিদ' নামে অভিহিত করা হতো।

আর তাদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা কুরআন ও সুন্নাহর এমন জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যার মাধ্যমে তারা ফিকহশাস্ত্রের মূল বিষয়সমূহ এবং প্রধান মাসআলাগুলো বিস্তারিত দলিলসহ জানতে সক্ষম হতেন। অন্যান্য অধিকাংশ মাসআলায় দলিল থেকে তাদের প্রবল ধারণা অর্জিত হতো, কিন্তু কিছু মাসআলায় তারা বিরত থাকতেন এবং সেসব ক্ষেত্রে আলেমদের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন অনুভব করতেন। কারণ তাদের মধ্যে সকল উপকরণ পূর্ণতা পায়নি, যা একজন মুজতাহিদ মুতলাক বা পূর্ণাঙ্গ মুজতাহিদের জন্য প্রয়োজন হয়। সুতরাং তিনি কিছু বিষয়ে মুজতাহিদ এবং অন্য কিছু বিষয়ে মুজতাহিদ নন। আর সাহাবী এবং তাবেঈগণের থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত আছে যে, যখনই তাদের কাছে কোনো হাদিস পৌঁছাত, তারা কোনো প্রকার শর্তারোপ ছাড়াই সে অনুযায়ী আমল করতেন।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
[ظهور التمذهب للمجتهدين بعد المائة الثانية]

وبعد المائتين ظهر فيهم التمذهب للمجتهدين بأعيانهم، وقلَّ من كان لا يعتمد على مذهب مجتهد بعينه، وقد كان المشتغل بالفقه لا يخلو عن حالتين:

1 - إما أن يكون أكبر همه معرفة المسائل التي أجاب فيها المجتهدون من قبل من أدلتها التفصيلية ونقدها وتنقيحها وترجيح بعضها على بعض، ولابد له من أن يستحسن شيئًا مما سبق إليه إمامه ويستدرك عليه شيئًا، فإن كان استدراكه أقل من موافقته عُدَّ من أصحاب الوجوه في المذهب، وإن كان أكثر لم يُعدَّ تفرُّده وجهًا في المذهب، وكان مع ذلك منتسبًا إلى صاحب المذهب في الجملة، ممتازًا عمن يأسى بإمام آخر في كثير من أصول مذهبه وفروعه، ويوجد لمثل هذا بعض مجتهدات لم يسبق بالجواب فيها، إذ الوقائع متتالية، والباب مفتوح، فيأخذها من الكتاب والسنة وآثار السلف من غير اعتماد على إمامه، ولكنها قليلة بالنسبة إلى ما سبق بالجواب فيه، وهذا هو المجتهد المطلق المنتسب.

2 - وإما أن يكون أكبر همه معرفة المسائل التي يستفته فيها المستفتون مما لم يتكلم فيه المتقدمون، وهذا حاجته إلى إمام يتأسى به في الأصول الممهدة في كل باب أشد من حاجة الأول، لأن مسائل الفقه متعانقة متشابكة، فروعها تتعلق بإمامتها، فلو ابتدأ هذا بنقد مذاهبهم وتنقيح أقوالهم لكان ملتزمًا لما لا يطيقه، ولا يتفرغ منه طول عمره، فلا سبيل إلا أن يحمل النظر فيما سبق فيه ويتفرغ للتفاريع، وقد يوجد لمثل هذا استدراكات على إمامه بالكتاب والسنة وآثار السلف والقياس لكنها قليلة بالنسبة إلى موافقاته، وهذا هو «المجتهد في المذهب».

[ما حدث في الناس بعد المائة الرابعة]

ثم بعد هذه القرون كان ناس آخرون ذهبوا يمينًا وشمالاً، وحدث فيهم أمور منها:

- الجدل والخلاف في علم الفقه وتفصيله على ما ذكره الغزالي: أنه لما انقرض عهد الخُلفاء الراشدين المهديين أفضت الخلافة إلى قوم تولوها بغير استحقاق ولا استقلال بعلم الفتاوى والأحكام، فاضطر إلى الاستعانة بالفقهاء وإلى استصحابهم في جميع أحوالهم، وقد كان بقي من العلماء من هو مستمر على الطراز الأول، وملازم صف الدين، فكانوا إذا طُلبوا هربوا وأعرضوا، فرأى
[দ্বিতীয় শতাব্দীর পর নির্দিষ্ট মুজতাহিদদের মাযহাব অনুসরণের আবির্ভাব]

এবং দুইশত হিজরীর পর তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট মুজতাহিদদের মাযহাব অনুসরণের প্রবণতা প্রকাশ পায় এবং খুব কম লোকই এমন ছিলেন যারা কোনো নির্দিষ্ট মুজতাহিদের মাযহাবের ওপর নির্ভর করতেন না। আর যারা ফিকহ চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন, তারা দুটি অবস্থার বাইরে ছিলেন না:

১ - হয় তার প্রধান লক্ষ্য হবে ঐ সকল মাসআলা সম্পর্কে জানা যেগুলোর উত্তর পূর্ববর্তী মুজতাহিদগণ তাঁদের বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে প্রদান করেছেন এবং সেগুলোর সমালোচনা, পরিমার্জন ও একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য প্রদান করা। আর তাঁর জন্য এটি আবশ্যক যে, তাঁর ইমাম যা আগে বলে গেছেন তার মধ্য থেকে কোনো কিছুকে তিনি উত্তম মনে করবেন এবং কোনো বিষয়ে তাঁর ভুল ধরবেন। যদি তাঁর সংশোধন তাঁর ঐকমত্যের চেয়ে কম হয়, তবে তিনি মাযহাবের 'আসহাবুল অজুহ' হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি তা বেশি হয়, তবে তাঁর একক মতটি মাযহাবের ‘অজুহ’ হিসেবে গণ্য হবে না; তবে তা সত্ত্বেও তিনি সামগ্রিকভাবে মাযহাবের ইমামের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত থাকবেন। তিনি সেই ব্যক্তি থেকে পৃথক হবেন যিনি তাঁর মাযহাবের অনেক মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় অন্য ইমামের অনুসরণ করেন। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমন কিছু ইজতিহাদ পাওয়া যায় যেগুলোর উত্তর আগে দেওয়া হয়নি; যেহেতু ঘটনাবলি নিরন্তর এবং (ইজতিহাদের) দরজা উন্মুক্ত। ফলে তিনি তাঁর ইমামের ওপর নির্ভর না করেই কিতাব, সুন্নাহ ও সালাফদের আসার থেকে সেগুলো গ্রহণ করেন, কিন্তু তা পূর্বের প্রদত্ত উত্তরগুলোর তুলনায় নগণ্য। আর ইনিই হলেন ‘মুজতাহিদ মুতলাক মুনতাসিব’।

২ - অথবা তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে ঐ সকল মাসআলা সম্পর্কে জানা যে বিষয়ে ফতোয়া প্রার্থীরা ফতোয়া চায়, যেগুলোর ব্যাপারে পূর্ববর্তীরা কোনো কথা বলেননি। আর প্রত্যেক অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত মূলনীতিসমূহে কোনো ইমামের অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজনীয়তা প্রথম ব্যক্তির চেয়েও বেশি। কারণ ফিকহী মাসআলাসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এর শাখাগুলো এর মূলের সাথে সংশ্লিষ্ট। যদি এই ব্যক্তি তাঁদের মাযহাবের সমালোচনা এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহের পরিমার্জন শুরু করতেন, তবে তিনি এমন এক বোঝা নিজের ওপর চাপিয়ে নিতেন যা বহন করার ক্ষমতা তাঁর নেই এবং সারা জীবনেও তিনি তা থেকে অবসর পেতেন না। সুতরাং যে বিষয়ে পূর্বে আলোচনা হয়ে গেছে তাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং নতুন শাখা-প্রশাখাগুলোর জন্য সময় বের করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কিতাব, সুন্নাহ, সালাফদের আসার ও কিয়াসের ভিত্তিতে তাঁর ইমামের ওপর কিছু সংশোধনী থাকতে পারে, তবে তা তাঁর ঐকমত্যের তুলনায় অতি সামান্য। আর ইনিই হলেন ‘মুজতাহিদে ফিল মাযহাব’।

[চতুর্থ শতাব্দীর পর মানুষের মধ্যে যা উদ্ভাবিত হয়েছে]

এরপর এই শতাব্দীগুলোর পর আরও কিছু লোক আসলেন যারা ডানে ও বামে বিচ্যুত হলেন এবং তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ের উদ্ভব ঘটল, যার মধ্যে রয়েছে:

- ইলমে ফিকহ ও এর বিস্তারিত বিবরণে বিতর্ক ও মতভেদ, যেমনটি গাজালী উল্লেখ করেছেন: যখন হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগের অবসান হলো, তখন খিলাফত এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে চলে গেল যারা এর যোগ্য ছিল না এবং ফতোয়া ও আহকাম সংক্রান্ত জ্ঞানেও তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না। ফলে তারা ফকীহদের সাহায্য নিতে এবং সব অবস্থায় তাঁদেরকে সাথে রাখতে বাধ্য হলো। তখন আলেমদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশিষ্ট ছিলেন যারা প্রথম যুগের রীতির ওপর অটল ছিলেন এবং দ্বীনের পথে অবিচল ছিলেন। তাঁদের যখন ডাকা হতো, তাঁরা পালিয়ে যেতেন এবং বিমুখ থাকতেন। অতঃপর তিনি দেখলেন...
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أهل تلك الأعصار غير العلماء وإقبال الأئمة عليهم مع إعراضهم، فانبروا لطلب العلم توصلاً إلى نيل العز ودرك الجاه.

وقد كان من قبلهم قد صنَّف ناس في علم الكلام وأكثر القيل والقال، والإيراد والجواب، وتمهيد طريق الجدال، ووقع منهم ذلك بموقع.

- ومنها أنهم اطمأنوا بالتقليد، ودب في صدورهم دبيب النمل وهم لا يشعرون، وكان سبب ذلك تزاحم الفقهاء وتجادلهم فيما بينهم، فقد كان كل من أفتى بشيء نوقض في فتواه ورد عليه، فلم ينقطع الكلام إلا بالمصير إلى تصريح رجل من المتقدمين في المسألة، وأيضًا فإنه لما جاء أكثر القضاة ولم يكونوا أُمناء لم يقبل منهم إلا ما لا يرتب العامة فيه، ويكون شيئًا قد قيل من قبل.

وقد اختصر هؤلاء كلام أئمتهم في الدعوة إلى نبذ التقليد والعمل بالكتاب والسنة وتأوَّلوا الخلاف، وثبتوا على مختار أئمتهم، فنشأ بعدهم قرون على التقليد الصرف لا يميزون الحق من الباطل ولا الجدل من الاستنباط، وشاع فيهم التعصُّب للمذاهب والتي نشأ عنها افتراق الكلمة، وتضليل بعضهم البعض حتى كان بعضهم ليرى خروج الإنسان من مذهب من قلَّده- ولو في مسألة- كالخروج من الملة، كأنه نبي بُعث إليه، وافترضت طاعته عليه!!، فظهر من يُفتي بعدم جواز اقتداء الحنفي بإمام شافعي!! بل وبعدم تزوُّج الحنفي من الشافعية!! ويجوز ذلك آخرون قياسًا على الكتابية!!.

فحدثت من هذه البدع هذه المقامات الأربعة في المسجد الحرام (1)، فتعددت الجماعة وانتصر كل متمذهب لجماعة مذهبه، فبأمثال هذه البدع حصل إبليس مقصدًا من مقاصده، ألا وهو تقرير المسلمين وتشتيت شملهم، نعوذ بالله من ذلك.

ولم يأت قرن بعد ذلك إلا وهو أكثر فتنة وأوفر تقليدًا وأشد انتزاعًا للأمانة من صدور الناس، حتى اطمأنوا بترك الخوض في أمر الدين، وبأ، يقولوا: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ} (2) وإلى الله المشتكى وهو المستعان، وبه الثقة وعليه التكلان.

--------------------------------------------

(1) هذا ذكره المعصومي في «هدية السلطان» ص (48).

(2) سورة الزخرف، الآية: 23.
সেই যুগের আলেম ব্যতীত সাধারণ মানুষ এবং ইমামগণের তাদের প্রতি মনোযোগ দান—যদিও তারা পূর্বে বিমুখ ছিলেন—ফলে তারা মর্যাদা লাভ ও পদমর্যাদা অন্বেষণের উপায় হিসেবে ইলম অর্জনে ব্রতী হলো।

আর তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কিছু লোক ইলমে কালামে কিতাব রচনা করেছিলেন এবং বাদানুবাদ, আপত্তি ও উত্তর এবং তর্কের পথ প্রশস্তকরণকে বৃদ্ধি করেছিলেন; তাদের পক্ষ থেকে তা একটি প্রভাবশালী অবস্থানে উপনীত হয়েছিল।

- এর মধ্যে একটি হলো যে, তারা তাকলীদের ওপর নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের অন্তরে তা পিঁপড়ার চলার মতো ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছিল অথচ তারা তা টেরও পায়নি। এর কারণ ছিল ফকীহদের ভিড় এবং তাদের নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ। কেননা যে কেউ কোনো বিষয়ে ফতোয়া দিত, তার ফতোয়াকে খণ্ডন করা হতো এবং তার প্রতিবাদ করা হতো। ফলে পূর্ববর্তী কোনো ব্যক্তির সুস্পষ্ট বক্তব্যের আশ্রয় গ্রহণ ব্যতীত কথা শেষ হতো না। তদুপরি, যখন অধিকাংশ বিচারক আগমন করলেন এবং তারা আমানতদার ছিলেন না, তখন তাদের থেকে এমন বিষয় ছাড়া গ্রহণ করা হতো না যাতে সাধারণ মানুষ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এই লোকেরা তাকলীদ বর্জন এবং কিতাব ও সুন্নাহর ওপর আমল করার ব্যাপারে তাদের ইমামদের বক্তব্যকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছে এবং মতভেদগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে। তারা তাদের ইমামদের পছন্দের বিষয়ের ওপর অটল থেকেছে। ফলে তাদের পরে এমন সব প্রজন্মের উদ্ভব ঘটেছে যারা খাঁটি তাকলীদের ওপর গড়ে উঠেছে; তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে এবং বিতর্ক ও ইস্তিম্বাতের (তত্ত্ব উদ্ঘাটন) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তাদের মধ্যে মাযহাবী গোঁড়ামি ছড়িয়ে পড়েছিল যার ফলে ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং একে অপরকে পথভ্রষ্ট আখ্যা দিতে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ মনে করত যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার অনুসরণকৃত মাযহাব থেকে বের হয়ে যায়—যদিও তা একটি মাসআলাতেও হয়—তবে তা ধর্ম থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো; যেন তিনি (ইমাম) এমন এক নবী যাকে তার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তার আনুগত্য করা তার ওপর ফরজ করা হয়েছে!! ফলে এমন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটল যে ফতোয়া দেয় যে, শাফেয়ী ইমামের পেছনে হানাফী ব্যক্তির ইক্তিদা করা জায়েয নয়!! এমনকি শাফেয়ী নারীকে হানাফী পুরুষের বিয়ে করাও জায়েয নয়!! অন্যরা আহলে কিতাব নারীদের ওপর কিয়াস করে তা জায়েয বলেছিল!!

এই বিদআতগুলো থেকেই মসজিদে হারামে এই চারটি মাকাম (সালাতের স্থান) তৈরি হয়েছিল (১), ফলে জামাত একাধিক হয়ে যায় এবং প্রত্যেক মাযহাব অনুসারী নিজ মাযহাবের জামাতকে বিজয়ী করতে সচেষ্ট হয়। এই জাতীয় বিদআতের মাধ্যমেই ইবলিস তার অন্যতম উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হয়েছে, আর তা হলো মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের ঐক্য তছনছ করে দেওয়া; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

এরপর এমন কোনো শতাব্দী আসেনি যা পূর্বের চেয়ে অধিক ফিতনাপূর্ণ, অধিক তাকলীদ নির্ভর এবং মানুষের অন্তর থেকে আমানতদারিতা অধিক মাত্রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। এমনকি তারা দ্বীনের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান ত্যাগ করার বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিল এবং বলতে শুরু করেছিল: {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক পথের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্কই অনুসরণ করছি} (২)। আল্লাহর কাছেই সকল অভিযোগ এবং তাঁরই সাহায্য কাম্য; তাঁরই ওপর ভরসা এবং তাঁরই ওপর নির্ভরতা।

--------------------------------------------

(১) এটি আল-মাসূমী তাঁর ‘হাদিয়্যাতুল সুলতান’ পৃষ্ঠায় (৪৮) উল্লেখ করেছেন।

(২) সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ২৩।
(খণ্ড: ١) সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতুহু ওয়া তাওদীহ মাজাহিবিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ومع ذلك فإن لله طائفة من عباده لا يضرهم من خذلهم، وهم حجة الله في أرضه وإن قلُّوا، نسأل الله أن يجعلنا منهم.

وبعد هذا العرض لنشأة المذاهب الفقهية واختلافها، أُنَبِّه تنبيهات لعله أن ينفع الله بها من شاء من عباده.

[الأول: وجوب العمل بالكتاب والسنة] (1)

اعلم أن نصوص الكتاب والسنة التي لا تحصى قد تضافرت بإلزام جميع المكلفين بالعمل بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

قال الله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ} (2) والمراد بما أنزل إليكم هو القرآن والسنة المبينة له لا آراء الرجال.

وقال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُوداً} (3).

فدلت هذه الآية الكريمة أن من دُعي إلى العمل بالقرآن والسنة وصد عن ذلك، أنه من جملة المنافقين، لأن العبرة بعموم الألفاظ فإن بخصوص الأسباب.

وقال تعالى: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (4) الآية، والرد إلى الله والرسول هو الرد إلى كتابه والرد إلى الرسول بعد وفاته صلى الله عليه وسلم هو الرد إلى سنته

وتعليقه الإيمان في قوله: {إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (5) على رد التنازع إلى كتاب الله وسنة رسوله، يفهم منه أن من يرد التنازع إلى غيرهما لم يكن يؤمن بالله.

وقال تعالى: {وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَاتِيَكُمُ العَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لا تَشْعُرُونَ} (6).

--------------------------------------------

(1) «أضواء البيان» (7/ 479 - 485).

(2) سورة الأعراف، الآية: 3.

(3) سورة النساء، الآية: 61.

(4) سورة النساء، الآية: 59.

(5) سورة النساء، الآية: 59.

(6) سورة الزمر، الآية: 55.
তা সত্ত্বেও আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে, যাদেরকে যারা পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা সংখ্যায় কম হলেও জমিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণস্বরূপ। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

ফিকহি মাযহাবের উদ্ভব ও তাদের মধ্যকার মতভেদের এই বর্ণনার পর, আমি কিছু সতর্কবার্তা প্রদান করছি, সম্ভবত আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা উপকৃত করবেন।

[প্রথম: কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া] (১)

জেনে রাখুন যে, কিতাব ও সুন্নাহর অসংখ্য দলিল সমস্ত শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করতে বাধ্য করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।} (২) আর 'তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে' বলতে উদ্দেশ্য হলো কুরআন এবং এর ব্যাখ্যাকারী সুন্নাহ, মানুষের মতামত নয়।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে আসো, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে যে, তারা তোমার থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।} (৩)।

এই সম্মানিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, যাকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আহ্বান জানানো হয় এবং সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ বিধান গ্রহণের ভিত্তি হলো শব্দের ব্যাপকতা, বিশেষ কোনো কারণ নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো।} (৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া মানে হলো তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর রাসূলের ইন্তেকালের পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া মানে হলো তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া।

আর তাঁর কথা: {যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো} (৫)-এ ঈমানকে বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করার দ্বারা বোঝা যায় যে, যে ব্যক্তি বিবাদ অন্য কিছুর দিকে ফিরিয়ে দেয়, সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বোত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো, তোমাদের কাছে অতর্কিতে আযাব আসার আগে, যা তোমরা টেরও পাবে না।} (৬)।

--------------------------------------------

(১) «আদওয়াউল বায়ান» (৭/ ৪৭৯ - ৪৮৫)।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬১।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯।

(৫) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯।

(৬) সূরা আজ-যুমার, আয়াত: ৫৫।