(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة - الضياء المقدسي - المسندة - جـ 3 القسم: كتب السنة
الكتاب: الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة
المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 634 هـ)
المحقق: أ. د. محمد بن تركي التركي
(أستاذ الحديث بقسم الثقافة الإسلامية - كلية التربية، جامعة الملك سعود)
الناشر: جامعة الملك سعود، الرياض
عام النشر: 1423 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 98
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445
জান্নাতের বৈশিষ্ট্য - দিয়া আল-মাকদিসি - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জান্নাতের বৈশিষ্ট্য কিতাবের তৃতীয় খণ্ড
গ্রন্থকার: দিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃ. ৬৩৪ হিজরি)
মুহাক্কিক: প্রফেসর . ড. মুহাম্মাদ বিন তুর্কি আল-তুর্কি
(হাদিসের অধ্যাপক, ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ - শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি)
প্রকাশক: কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ
প্রকাশের বছর: ১৪২৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫
(খণ্ড: ٣)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد، عليه وعلى آله أفضل الصلاة وأتم التسليم.
أما بعد:
فهذا هو الجزء الثالث من كتاب «صفة الجنة» للضياء المقدسي رحمه الله، وهو الجزء الوحيد الذي وقفت عليه من أجزاء الكتاب، ولم أقف على بقيته، أحببت التعليق عليه وخدمته، وإخراجه إلى عالم المطبوعات، نظراً لعلو منزلة مؤلفه، وأهمية موضوعه، وقلة المؤلفات المسندة فيه.
وقد حرصت على ضبط النص قدر الإمكان، والتعليق على أحاديثه وتخريجها، ولم أر التوسع في الترجمة لجميع رجال الإسناد، وإنما أكتفي بذكر الحكم بإيجاز على من يدور عليه الإسناد.
وقد قدمت لعملي بترجمة موجزة للمؤلف، والتعريف بالكتاب، وإثبات نسبته لمؤلفه، ومدى اعتماد العلماء عليه والاستفادة منه، ونحو ذلك مما يتعلق بدراسة الكتاب.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী-রাসূলদের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।
অতঃপর:
এটি হলো জিয়া আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত ‘সিফাতুল জান্নাহ’ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড। এই গ্রন্থের খণ্ডগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র খণ্ড যা আমি পেয়েছি এবং এর অবশিষ্ট অংশ আমার হস্তগত হয়নি। আমি এর ওপর টীকা প্রদান, এর খেদমত করা এবং একে প্রকাশনার জগতে নিয়ে আসতে পছন্দ করেছি; কারণ এর লেখকের উচ্চ মর্যাদা, এর বিষয়ের গুরুত্ব এবং এই বিষয়ে সনদযুক্ত রচনার স্বল্পতা।
আমি যথাসম্ভব মূল পাঠটি (টেক্সট) সঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে এবং এর হাদীসগুলোর ওপর টীকা প্রদান ও সেগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) করতে সচেষ্ট হয়েছি। আমি সনদের সকল বর্ণনাকারীর বিস্তারিত জীবনী প্রদান করা সমীচীন মনে করিনি; বরং আমি কেবল সনদের মূল বর্ণনাকারীর ওপর সংক্ষেপে হুকুম (মন্তব্য) উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
আমি আমার এই কাজের শুরুতে লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, গ্রন্থের পরিচিতি, লেখকের প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধের প্রমাণ এবং আলেমগণ এর ওপর কতটা নির্ভর করেছেন ও এ থেকে উপকৃত হয়েছেন—এই সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং গ্রন্থটি অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি উপস্থাপন করেছি।
(খণ্ড: ٣)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٦)
وفي الختام فهذا جهد بشري، ولن يخلو من النقص والخلل، كما هي طبيعة البشر، ولكن حسبي أني بذلت فيه وسعي وطاقتي، فما كان فيه من صواب فبتوفيق من الله وحده، وما كان فيه من خلل وخطأ فمني ومن الشيطان، وأسأل الله عز وجل أن يعفو ذلك عني.
كما أسأله عز وجل أن يكون هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله من العلم الذي يُنتفع به، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتب
محمد بن تركي التركي
alturki@ksu.edu.sa
পরিশেষে এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা এবং মানবপ্রকৃতি অনুযায়ী এটি ত্রুটি ও বিচ্যুতিমুক্ত নয়। তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, আমি এতে আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা কেবল আল্লাহর তাওফিকে হয়েছে, আর যা কিছু ত্রুটি ও ভুল হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তা আমাকে ক্ষমা করেন।
সেই সাথে আমি মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই আমলটি কেবল তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং তিনি একে এমন ইলম বানান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
লিখেছেন
মুহাম্মদ বিন তুর্কি আত-তুর্কি
alturki@ksu.edu.sa
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة - الضياء المقدسي - المسندة - جـ 3 القسم: كتب السنة
الكتاب: الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة
المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 634 هـ)
المحقق: أ. د. محمد بن تركي التركي
(أستاذ الحديث بقسم الثقافة الإسلامية - كلية التربية، جامعة الملك سعود)
الناشر: جامعة الملك سعود، الرياض
عام النشر: 1423 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 98
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445
জান্নাতের বৈশিষ্ট্য - আদ-দিয়া আল-মাকদিসি - আল-মুসনাদাহ - ৩য় খণ্ড বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সিফাতুল জান্নাহ (জান্নাতের বর্ণনা) গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড
লেখক: জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত ৬৩৪ হিজরি)
সম্পাদক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন তুর্কি আত-তুর্কি
(হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক, ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ - শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশক: কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ
প্রকাশকাল: ১৪২৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١)
ترجمة موجزة(1) للمؤلف (2)هو الحافظ ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد المقدسي الجَمّاعيلي الصالحي الدمشقي الحنبلي.
ولد سنة سبع وستين وخمسمائة بقاسيون.
وسمع من أبي جعفر الصيدلاني، وزاهر الثقفي، وأبي المظفر السمعاني، وأبي الفرج ابن الجوزي، والحافظ عبد الغني المقدسي، وخلق كثير غيرهم من الأئمة المشهورين.
وروى عنه: ابن نقطة، وابن النجار، وزكي الدين البرزالي، وشرف الدين ابن النابلسي، والحافظ أبو العباس ابن الظاهري، وغيرهم.
أثنى عليه جميع من ترجم له، ومما قيل فيه:
قال الحافظ محب الدين ابن النجار في تاريخه: «كتب أبو عبد الله بخطه، وحصّل الأصول وسمعنا منه، وبقراءته كثيراً
… وكتب الكتب الكبار بخطه، وحصل النسخ ببعضها بهمة عالية، وجدٍ واجتهاد، وتحقيق وإتقان، كتبت عنه ببغداد ونيسابور ودمشق، وهو حافظ متقن ثبت صدوق نبيل حجة، عالم بالحديث
--------------------------------------------
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী(১)(২)তিনি হলেন হাফেজ জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসি আল-জাম্মাইলি আস-সালিহি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি।
তিনি পাঁচশ সাতষট্টি হিজরি সনে কাসিউনে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি আবু জাফর আস-সায়দালানি, জাহির আস-সাকাফি, আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি, আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি, হাফেজ আবদুল গনি আল-মাকদিসি এবং তাঁদের মতো আরও বহু প্রখ্যাত ইমামদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে নুকতাহ, ইবনুন নাজ্জার, জাকিউদ্দীন আল-বারজালি, শারাফুদ্দীন ইবনুন নাবুলুসি, হাফেজ আবুল আব্বাস ইবনুজ জাহিরি এবং আরও অনেকে।
যাঁরাই তাঁর জীবনী লিখেছেন তাঁরা সকলেই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
হাফেজ মুহিব্বুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: «আবু আবদুল্লাহ নিজ হাতে লিখেছেন, মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে এবং তাঁর পাঠের মাধ্যমে প্রচুর শ্রবণ করেছি … তিনি নিজ হাতে বড় বড় কিতাব লিখেছেন, আর সুউচ্চ হিম্মত, প্রচেষ্টা, সাধনা, গবেষণা ও নিপুণতার সাথে সেগুলোর অনুলিপি তৈরি করেছেন। আমি তাঁর নিকট থেকে বাগদাদ, নিশাপুর ও দামেশকে হাদীস লিখেছি। তিনি একজন অতি সূক্ষ্ম হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী, মহৎ ও শক্তিশালী দলীল এবং হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ পণ্ডিত।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢)
وأحوال الرجال، له مجموعات وتخريجات، وهو ورع تقي زاهد عابد، محتاط في أكل الحلال، مجاهد في سبيل الله، ولعمري ما رأت عيناي مثله في نزاهته وعفته وحسن طريقته في طلب العلم»
(1)وقال الشيخ عز الدين عبد الرحمن ابن العز: «ما جاء بعد الدارقطني مثل شيخنا الضياء»
(2).
وقال الحافظ شرف الدين يوسف بن بدر: «رحم الله شيخنا ابن عبد الواحد؛ كان عظيم الشأن في الحفظ ومعرفة الرجال، هو كان المشار إليه في علم صحيح الحديث وسقيمه، ما رأت عيني مثله»
(3).
وقال عمر بن الحاجب: «شيخنا الضياء شيخ وقته ونسيج وحده علماً وحفظاً وثقة وديناً من العلماء الربانيين، وهو أكبر من أن يدل عليه مثلي»
(4).
وقال الإمام الذهبي: «الشيخ الإمام الحافظ القدوة المُحقق المجوّد الحجة بقية السلف
… صاحب التصانيف والرحلة الواسعة
… ولم يزل ملازماً للعلم والرواية والتأليف إلى أن مات، وتصانيفه نافعة مهذبة، أنشأ مدرسة إلى جانب الجامع المظفري، وكان يبني فيها بيده، ويتقنع باليسير، ويجتهد في فعل الخير ونشر السنة، وفيه تعبد وانجماع عن الناس، وكان كثير البر والمواساة، دائم التهجد أمّاراً بالمعروف، بهي المنظر، مليح الشيبة، محبباً إلى الموافق والمخالف، مشتغلاً بنفسه رضي الله عنه»
(5).
--------------------------------------------
এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (ইলমুর রিজাল); তাঁর বহু সংকলন ও তাখরিজ (হাদিস বিশ্লেষণ) রয়েছে। তিনি ছিলেন পরহেজগার, মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ ইবাদতগুজার, হালাল রিযিক অন্বেষণে অত্যন্ত সতর্ক এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী। আমার জীবনের কসম! জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা এবং উত্তম পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমার দুই চোখ তাঁর মতো আর কাউকে দেখেনি»
(১)এবং শায়খ ইজ্জুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনুল ইজ্জ বলেন: «দারাকুতনীর পরে আমাদের শায়খ যিয়া (আদ-দিন)-এর মতো আর কেউ আসেনি»
(২)।
এবং হাফেজ শরাফুদ্দীন ইউসুফ ইবনে বদর বলেন: «আল্লাহ আমাদের শায়খ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদের প্রতি রহম করুন; তিনি হিফজ (স্মৃতিশক্তি) এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সহিহ এবং জইফ হাদিসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই ইশারা করা হতো। আমার চোখ তাঁর মতো আর কাউকে দেখেনি»
(৩)।
এবং ওমর ইবনুল হাজিব বলেন: «আমাদের শায়খ যিয়া (আদ-দিন) ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ এবং ইলম, হিফজ, বিশ্বস্ততা ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য সাধারণ এক রব্বানী আলেম। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমার মতো ব্যক্তি অত্যন্ত নগণ্য»
(৪)।
এবং ইমাম যাহাবি বলেন: «তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, গবেষক, সুদক্ষ মুহাক্কিক, হুজ্জাত (দলিল) এবং সালফে সালেহীনের উত্তরসূরি
… বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং সুদূরপ্রসারী সফরের অধিকারী
… মৃত্যু অবধি তিনি ইলম চর্চা, হাদিস বর্ণনা এবং গ্রন্থ রচনার কাজে নিবিষ্ট ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত উপকারী ও পরিমার্জিত। তিনি জামে মুজাফফরীর পাশে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং সেখানে তিনি নিজ হাতে নির্মাণ কাজ করতেন। তিনি অল্পে তুষ্ট থাকতেন এবং কল্যাণমূলক কাজে ও সুন্নাহর প্রসারে আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। তাঁর মধ্যে গভীর ইবাদতগুজারী ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার প্রবণতা ছিল। তিনি অত্যন্ত নেককার ও সহমর্মী ছিলেন, সর্বদা তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং সৎ কাজের আদেশ দিতেন। তিনি ছিলেন সুদর্শন ও সুন্দর শুভ্র দাড়িবিশিষ্ট এবং বন্ধু-বিরোধী নির্বিশেষে সকলের কাছেই ছিলেন প্রিয়। তিনি সর্বদা নিজেকে নিয়ে (অর্থাৎ আত্মশুদ্ধিতে) মগ্ন থাকতেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٣)
وقد ألف رحمه الله عدداً كبيراً من المؤلفات، من أشهر ما طبع منها: كتاب الأحاديث المختارة
(1)، وفضائل الأعمال
(2)، وفضائل القرآن
(3)، والنهي عن سب الأصحاب
(4)، وغيرها
(5).
توفي رحمه الله سنة (643)، بعد أن عاش (74) سنة.
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: কিতাবুল আহাদিস আল-মুখতারাহ
(১), ফাদায়িলুল আমাল
(২), ফাদায়িলুল কুরআন
(৩), আন-নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব
(৪) এবং অন্যান্য গ্রন্থাবলি
(৫)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৭৪ বছর বেঁচে থাকার পর ৬৪৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٥)
التعريف بالكتاب
اسم الكتاب، و إثبات نسبته لمؤلفه:لا خلاف في تسمية الكتاب وثبوت نسبته لمؤلفه الضياء المقدسي، وذلك لعدة أمور، منها:
1 - وجود هذه النسبة والتسمية في عنوان الكتاب، وفي السماعات الموجودة في النسخة الخطية.
2 - ذكر عدد من العلماء الكتاب منسوباً إلى الضياء، ومن هؤلاء: الإمام ابن كثير
(1)، والذهبي
(2)، وابن القيم
(3)، وغيرهم
(4).
3 - وجود أحاديث في هذا الكتاب أخرجها الضياء بنفس الإسناد في كتبه الأخرى، وخاصة «الأحاديث المختارة» كما سيأتي في التخريج.
--------------------------------------------
গ্রন্থের পরিচিতিগ্রন্থের নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রমাণ:গ্রন্থটির নামকরণ এবং এর লেখক যিয়া আল-মাকদিসীর প্রতি এর সম্পৃক্ততা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এর কারণগুলো হলো:
১ - গ্রন্থের শিরোনামে এবং পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান শ্রবণ-লিপিসমূহে (সামা'আত) এই নাম ও সম্পৃক্ততার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
২ - বহু আলেম গ্রন্থটিকে যিয়া আল-মাকদিসীর প্রতি সম্পৃক্ত করে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম ইবনে কাসীর
(১), আয-যাহাবী
(২), ইবনুল কায়্যিম
(৩) এবং অন্যান্যরা
(৪)।
৩ - এই গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা যিয়া আল-মাকদিসী তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও একই সনদে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে «আল-আহাদিসুল মুখতারা» গ্রন্থে, যা তখরিজ (উৎস নির্দেশ) অংশে বিস্তারিত আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٦)
4. أن الشيوخ المذكورين في هذا الجزء هم شيوخ الضياء المقدسي.
5 - أن غير واحد من العلماء نقل عن الضياء أحاديث وعزوها إليه في «صفة الجنة»، وهي موجودة في هذا الجزء الذي بين أيدينا، كما سيأتي في التخريج.
أهمية الكتاب:تتجلى أهمية هذا الكتاب في عدة أمور:
1 - أهمية مؤلفه وإجماع العلماء على الثناء عليه وعلى تصانيفه، كما تقدم.
2 - أن الكتاب مروي بالأسانيد، وهذه ميزة كبرى للكتاب.
3 - أن المؤلف كان يتكلم على تصحيح هذه الأحاديث وتضعيفها، أو ما قيل فيها من تفرد أو إعلال، ونحو هذا، بعد الحديث مباشرة.
4 - اعتماد بعض الأئمة ممن جاء بعده على أقواله في هذا الكتاب، ونقلها عنه، وعدم تعقبهم عليه، كما في كثير من النقول التي نقلها عنه ابن كثير، وابن القيم، وقد أشرت إليها في أماكنها.
5 - أنه أحد الكتب القليلة المروية بالإسناد في هذا الموضوع، حيث لم يطبع قبله إلا كتاب «صفة الجنة» لابن أبي الدنيا، و «صفة الجنة» لأبي نعيم الأصبهاني.
6 - أنه كان يروي بعض الأحاديث من طريق مؤلفين فقدت كتبهم أو بعضها، كروايته من طريق ابن مردويه في تفسيره، والطبراني في القسم المفقود من «المعجم الكبير»، مما سيأتي بيانه في التخريج.
৪. এই অংশে উল্লিখিত শাইখগণ হলেন জিয়া আল-মাকদিসীর শাইখবৃন্দ।
৫ - একাধিক আলিম জিয়া (আল-মাকদিসী) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ‘সিফাতুল জান্নাহ’ গ্রন্থের দিকে সেগুলো সম্বন্ধ করেছেন, আর তা আমাদের সামনে থাকা এই অংশেই বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি সামনে তাখরিজে আসবে।
গ্রন্থের গুরুত্ব:এই গ্রন্থের গুরুত্ব কয়েকটি বিষয়ে পরিলক্ষিত হয়:
১ - এর লেখকের গুরুত্ব এবং তাঁর ও তাঁর রচনাবলির প্রশংসার ব্যাপারে আলিমদের ঐকমত্য, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
২ - গ্রন্থটি সনদসহ বর্ণিত হয়েছে, আর এটি এই কিতাবের একটি বড় বৈশিষ্ট্য।
৩ - লেখক হাদিসের পরপরই সরাসরি সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে অথবা সেগুলোর একক বর্ণনা কিংবা দোষত্রুটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
৪ - তাঁর পরবর্তী বহু ইমামের এই কিতাবে বর্ণিত তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা, তাঁর থেকে সেগুলো উদ্ধৃত করা এবং সেগুলোর ওপর কোনো আপত্তি না করা; যেমনটি ইবনে কাসির ও ইবনুল কায়্যিম কর্তৃক তাঁর থেকে উদ্ধৃত অনেক বর্ণনায় দেখা যায়, যা আমি স্ব-স্ব স্থানে নির্দেশ করেছি।
৫ - এই বিষয়ে সনদসহ বর্ণিত হাতেগোনা কয়েকটি কিতাবের মধ্যে এটি একটি; কেননা এর পূর্বে ইবনে আবিদ দুনিয়ার ‘সিফাতুল জান্নাহ’ এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানীর ‘সিফাতুল জান্নাহ’ ছাড়া অন্য কিছু মুদ্রিত হয়নি।
৬ - তিনি এমন কিছু লেখকের সূত্রেও হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের কিতাবসমূহ বা কিতাবের কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছে; যেমন তাঁর ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসির থেকে এবং তাবারানির ‘আল-মু’জামুল কাবির’-এর হারিয়ে যাওয়া অংশ থেকে বর্ণনা করা, যার বিবরণ তাখরিজে সামনে আসবে।
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٧)
مصادره في الكتاب:من خلال عملي في الكتاب تبين لي أن المؤلف اعتمد على بعض مؤلفات من سبقه، ومن المؤلفات التي تبين لي أنه استفاد منها، ونقل عنها:
1 - مسند الإمام أحمد.
2 - معاجم الطبراني الثلاثة.
3 - كتاب البعث لابن أبي داود.
4 - الترغيب والترهيب لقوام السنة الأصبهاني.
5 - صفة الجنة، لابن أبي الدنيا.
6 - صفة الجنة، لأبي نعيم الصبهاني.
7 - فوائد تمام الرازي.
8 - مسند أبي يعلى الموصلي.
9 - الغيلانيات، لأبي بكر الشافعي.
وقد أشرت في بداية تخريج كل حديث إلى المصدر الذي استفاد منه المؤلف، وموضعه فيه.
منهج المؤلف في الكتاب:من خلال هذا الجزء الذي وقفت عليه من الكتاب تتضح بعض الملامح العامة لمنهج المؤلف فيه، ويمكن إجمالها فيما يلي:
1 - أنه يسوق جميع الأحاديث بإسناده، إلا أن تكون قد تقدمت عنده من قبل، فهنا يذكر الرواية ويحيل إلى إخراجه لها فيما سبق، كما فعل في الأحاديث رقم (10، 11).
2 - أنه قد جعل عناوين للأبواب، وأورد تحتها ما يدخل تحت هذا العنوان.
গ্রন্থে তাঁর ব্যবহৃত উৎসসমূহ:গ্রন্থটি সম্পাদনার মাধ্যমে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, লেখক তাঁর পূর্ববর্তী কিছু রচনার ওপর নির্ভর করেছেন। যেসব রচনা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন এবং উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - মুসনাদে ইমাম আহমাদ।
২ - তাবারানীর তিনটি মু'জাম।
৩ - ইবনে আবি দাউদের 'কিতাবুল বা’স'।
৪ - কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানীর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব'।
৫ - ইবনে আবিদ দুনিয়ার 'সিফাতুল জান্নাহ'।
৬ - আবু নুয়াইম আল-আসবাহানীর 'সিফাতুল জান্নাহ'।
৭ - তাম্মাম আর-রাজীর 'ফাওয়াইদ'।
৮ - আবু ইয়া’লা আল-মাওসিলীর 'মুসনাদ'।
৯ - আবু বকর আশ-শাফি’য়ীর 'আল-গাইলানিইয়াত'।
আমি প্রতিটি হাদিসের তাখরিজের শুরুতে লেখক যে উৎস থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেখানে তার অবস্থান উল্লেখ করেছি।
গ্রন্থে লেখকের কর্মপদ্ধতি:গ্রন্থের এই অংশটি পর্যালোচনার মাধ্যমে লেখকের কর্মপদ্ধতির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়েছে, যা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
১ - তিনি প্রতিটি হাদিসই স্বীয় সনদসহ বর্ণনা করেছেন, তবে যদি কোনো হাদিস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং পূর্বে বর্ণিত স্থানের দিকে নির্দেশ করেন; যেমনটি তিনি ১০ ও ১১ নম্বর হাদিসের ক্ষেত্রে করেছেন।
২ - তিনি অধ্যায়ের শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন এবং সেই শিরোনামের অধীনে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٨)
3. أنه غالباً يخرج الحديث، فيذكر من أخرجه من الأئمة، ويذكر مداره عندهم.
4 - أنه غالباً يتكلم على الأحاديث من حيث الصحة والضعف، أو بيان علل الحديث، أو الكلام على رجاله، ونحو ذلك من الفوائد، ما جعل غير واحد ممن جاء بعده يعتمد كلامه هذا، كما تقدم.
5 - أنه غالباً ينقل عن بعض الأئمة كلامهم على الأحاديث، ومن أكثر من نقل عنه الإمام الترمذي، والإمام الطبراني رحمهما الله.
وصف النسخة الخطية:لم أقف لهذا الكتاب إلا على جزء منه، وهو الجزء الثالث، ونسخته محفوظة في المكتبة الظاهرية ضمن مجموع رقم (103) (77، 91).
وعنها مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية رقم 2088/ م.
وتقع في 15 ورقة.
وكتبت بخط واضح في الغالب.
وجاء في صفحة العنوان: «الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة، تأليف الشيخ الإمام العالم الحافظ أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن عبد الرحمن المقدسي».
وجاء في نهايتها: «آخر الجزء الثالث من صفة الجنة، ويتلوه: ذكر الزيادة في الجنة، والحمد لله وحده، وصلواته على محمد النبي وآله»
وقد كتب بعدها بعض السماعات، وهي قليلة، وفي أحدها أنها قرئت على المؤلف سنة 626 هـ.
وجاء في أحد السماعات أن الكتاب يقع في خمسة أجزاء.
৩. তিনি প্রায়শই হাদিস তাখরিজ করেন, অতঃপর ইমামগণের মধ্যে কে তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেন এবং তাদের নিকট এর মাদার (কেন্দ্রীয় বর্ণনাকারী) উল্লেখ করেন।
৪ - তিনি সাধারণত হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা, অথবা হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা, অথবা এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে আলোচনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য ফায়দা নিয়ে আলোচনা করেন, যা তাঁর পরবর্তী একাধিক আলেমকে তাঁর এই বক্তব্যের ওপর নির্ভর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
৫ - তিনি প্রায়শই হাদিসের ব্যাপারে কিছু ইমামের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন; যাদের থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন তাঁরা হলেন ইমাম তিরমিজি এবং ইমাম তাবারানি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)।
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:আমি এই কিতাবের কেবল একটি অংশই পেয়েছি, যা হলো তৃতীয় খণ্ড। এর পাণ্ডুলিপি মাকতাবাতুত জাহিরিয়্যায় মাজমু' নম্বর (১০৩) (৭৭, ৯১) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এবং এর একটি অনুলিপি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ২০৮৮/ ম নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এটি ১৫টি পাতায় বিন্যস্ত।
এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে।
শিরোনামের পাতায় বর্ণিত হয়েছে: «সিফাতুল জান্নাহ কিতাবের তৃতীয় খণ্ড, লেখক শায়খ ইমাম আলেম হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি»।
এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: «সিফাতুল জান্নাহ-এর তৃতীয় খণ্ডের সমাপ্তি, এরপরে আসবে: জান্নাতে বৃদ্ধির আলোচনা। সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, আর তাঁর সালাত বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর»
এর পরে কিছু শ্রবণের নোট (সামাআত) লেখা হয়েছে, যা সংখ্যায় অল্প। তার একটিতে উল্লেখ রয়েছে যে, এটি ৬২৬ হিজরি সনে লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছে।
শ্রবণের নোটগুলোর একটিতে এসেছে যে, কিতাবটি পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٩)
كما وقفت على نسخة مختصرة للكتاب كاملاً، وهي مجردة من الأسانيد، وقد طبعت بتحقيق الأخ الفاضل صبري سلامة شاهين، وصدرت عن مكتبة بلنسية، في الرياض، عام 1423 هـ.
وتبين لي سقوط بعض الأحاديث من هذه النسخة المختصرة، وهي الأحاديث بعد رقم (139)، حيث يلاحظ عدم ملائمة العنوان للحديث الذي بعده برقم (140).
ويقابلها في هذا الجزء الأحاديث التي بعد الحديث رقم (34)، فجميع الأحاديث التي بعده، حتى نهاية الجزء ليست في النسخة المختصرة المطبوعة.
وقد استفدت من هذه النسخة المطبوعة في تصحيح بعض الكلمات، وأشرت إلى ذلك في الهامش.
وأشار د. محمد الحافظ إلى وجود نسخة في المتحف البريطاني، والفاتيكان فيدا (5/ 1459)
(1)، ولم أتمكن من الحصول عليها.
منهج التحقيق:1 - نسخت المخطوط مراعياً قواعد الإملاء الحديثة.
2 - صححت ما وقع في النص من خطأ بين أو سقط، مستفيداً من النسخة المختصرة للكتاب، ومن مصادر التخريج.
3 - قمت بعزو الآيات القرآنية في الهامش.
4 - اجتهدت في معرفة مصادر المصنف في كل حديث أخرجه، وذكرت ذلك في بداية التخريج.
--------------------------------------------
আমি সম্পূর্ণ বইটির একটি সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা সনদসমূহ থেকে মুক্ত। এটি শ্রদ্ধেয় ভাই সাবরি সালামাহ শাহীনের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৪২৩ হিজরি সনে রিয়াদের মাকতাবাতু বালানসিয়াহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি থেকে কিছু হাদিস বাদ পড়েছে, আর সেগুলো হলো ১৩৯ নম্বর হাদিসের পরবর্তী হাদিসসমূহ। কারণ দেখা যায় যে, শিরোনামটি তার পরবর্তী ১৪০ নম্বর হাদিসের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
এই খণ্ডে এর বিপরীতে রয়েছে ৩৪ নম্বর হাদিসের পরবর্তী হাদিসসমূহ। সুতরাং এর পরবর্তী থেকে খণ্ডের শেষ পর্যন্ত সমস্ত হাদিস উক্ত মুদ্রিত সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নেই।
আমি কিছু শব্দের সংশোধনের ক্ষেত্রে এই মুদ্রিত সংস্করণটি থেকে উপকৃত হয়েছি এবং আমি পাদটীকায় তা উল্লেখ করেছি।
ড. মুহাম্মাদ আল-হাফিজ ব্রিটিশ মিউজিয়াম এবং ভ্যাটিকান ফিডায় (৫/১৪৫৯)
(১) একটি পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি।
সম্পাদনা পদ্ধতি:১ - আমি আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করে পাণ্ডুলিপিটি প্রতিলিপি করেছি।
২ - আমি মূল পাঠে ঘটে যাওয়া সুস্পষ্ট ভুল বা বাদ পড়া অংশ সংশোধন করেছি, এক্ষেত্রে আমি গ্রন্থটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ এবং তাখরিজের উৎসসমূহ থেকে সাহায্য নিয়েছি।
৩ - আমি পাদটীকায় কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
৪ - গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত প্রতিটি হাদিসের উৎস নির্ধারণে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং তাখরিজের শুরুতেই তা উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٠)
5. قمت بتخريج الأحاديث الواردة في الكتاب والحكم عليها، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بهما، وإن لم يكن فيهما حاولت التوسع في التخريج بما يخدم الحكم على الحديث.
وقد أحيل في الهامش إلى مصادر توسعت في التخريج، ليرجع إليها من أراد التوسع، وخاصة إذا كان الحديث في الصحيحين، أو كان له طرق أخرى كثيرة غير الطريق التي أخرجها المؤلف.
6 - قدمت للكتاب بدراسة موجزة عن المؤلف، ودراسة عن الكتاب.
7 - صنعت فهارس للأحاديث والمراجع.
৫. আমি কিতাবটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) করেছি এবং সেগুলোর মান নিরূপণ করেছি। যদি হাদিসটি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এ দুটির কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি। আর যদি সেগুলোতে না থাকে, তবে হাদিসটির মান নিরূপণের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন তাখরিজের পরিধি ততটুকু বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছি।
যিনি বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তিনি যেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, সেজন্য টীকায় এমন সব উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে যেখানে বিস্তারিত তাখরিজ করা হয়েছে; বিশেষ করে যখন হাদিসটি সহীহাইনে থাকে অথবা লেখক যে সূত্রটি উল্লেখ করেছেন তা ছাড়াও হাদিসটির আরও অনেক সূত্র থাকে।
৬ - আমি গ্রন্থটির শুরুতে লেখক ও গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করেছি।
৭ - আমি হাদিস এবং তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
والحمد لله وصلى الله على محمد النبي وآله
قرأت على شيخنا الإمام العالم الحافظ الثقة الناقد بقية الحفاظ أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد المقدسي، في صفر من سنة تسع وثلاثين وستمائة:
ذكر فرش أهل الجنةنسأل الله من فضله بفضله
1 - أخبرنا زاهر بن أحمد بن حامد الضرير رحمه الله بأصبهان، أن سعيد بن أبي الرجاء أخبرهم، أخبرنا منصور بن الحسين بن علي بن القاسم، أخبرنا أبو بكر بن المقرئ، أخبرنا محمد بن الحسن بن قتيبة العسقلاني، حدثنا حرّملة بن يحيى التّجيبي، أخبرنا ابن وهب، أخبرنا عمرو، أن دراجاً حدثه عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ}
(1)--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।
আমি আমাদের শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য, পর্যালোচক এবং হাফিজদের উত্তরসূরি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসির নিকট ৬৩৯ হিজরি সনের সফর মাসে পাঠ করেছি:
জান্নাতবাসীদের বিছানার বর্ণনাআমরা তাঁর অনুগ্রহে তাঁরই নিকট প্রার্থনা করছি।
১ - ইসফাহানে জাহির বিন আহমদ বিন হামিদ আদ-দাবির (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ বিন আবিল রাজা তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, মানসুর বিন হুসাইন বিন আলি বিন আল-কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন কুতাইবা আল-আসকালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারমালা বিন ইয়াহইয়া আত-তুজিবি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, দাররাজ তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {এবং সুউচ্চ শয্যাসমূহ}
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٦)
قال: «والذي نفسي بيده وإن ارتفاعها
(1) لكما بين السماء والأرض، وإن ما بين السماء والأرض مسيرة خمسمائة عام»
(2).
رواه الترمذي
(3) بنحوه عن أبي كريب، عن رُشدين، عن عمرو وهو ابن الحارث.
وقال: «هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث رشدين بن سعد».
وروايتنا من غير رواية رشدين.
وقال الترمذي: «و قال بعض أهل العلم في تفسير هذا الحديث: إن معناه الفُرُش في الدرجات، وبين الدرجات كما بين السماء والأرض»
(4).
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই এটির উচ্চতা
(১) আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়, আর আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশত বছরের পথ»
(২)।
তিরমিযী
(৩) এটি আবু কুরাইব থেকে, তিনি রুশদীন থেকে, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি বলেছেন: «এটি একটি গরীব হাদীস, রুশদীন বিন সা’দ-এর বর্ণনা ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই»।
আর আমাদের বর্ণনাটি রুশদীনের বর্ণনা ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে।
এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন: «কোন কোন আলিম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এর অর্থ হলো বিভিন্ন স্তরের বিছানা বা আসনসমূহ, আর এক স্তর থেকে অন্য স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ذكر صفة أهل الجنة وصفة كلامهمنسأل الله الجنة بفضل رحمته
2 - أخبرنا الإمام الزاهد أبو عليّ عمر بن علي بن عمر الواعظ قراءة عليه بالجزيرة، قال: أخبركم أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد قراءة عليه فأقرّ به، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي بن المذهّب، أخبرنا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان القَطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، عن همّام، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته
(1)، طوله ستون ذراعاً، فلما خلقه قال له: اذهب فسلم على أولئك النّفر وهم نَفر من الملائكة جلوس فاستمع ما يحيونك، فإنها تحيتك وتحية ذريتك. قال: فذهب، فقال: السلام عليكم. فقالوا: السلام عليك ورحمة الله. فزادوه: ورحمة الله. قال: فكل من يدخل الجنة على صورة آدم، وطوله ستون ذراعاً، فلم يزل ينقص الخلق بعد حتى الآن»
(2).
صحيح من حديث همّام بن مُنبّه بن كامل الصَنعاني، من أبناء الفرس، يُكنى بأبي عقبة، أخي وهب بن منبه.
أخرجه البخاري في الاستئذان
(3)، عن يحيى بن جعفر.
--------------------------------------------
জান্নাতবাসীদের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের কথোপকথনের বর্ণনাআমরা আল্লাহর করুণার উসিলায় তাঁর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করি।
২ - ইমাম যাহেদ আবু আলী উমর বিন আলী বিন উমর আল-ওয়ায়েজ জাযিরাতে আমাদের নিকট পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, আবু আলী হাসান বিন আলী বিন আল-মুযাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন
(১), তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে বললেন: যাও এবং ওই দলটিকে সালাম দাও—তারা ছিল ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল—অতঃপর তারা তোমাকে কী সম্ভাষণ জানায় তা মন দিয়ে শোনো; কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন। তিনি (আদম) গিয়ে বললেন: আস-সালামু আলাইকুম (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তারা বললেন: আস-সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ (আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। তারা 'ওয়া রাহমাতুল্লাহ' (আল্লাহর রহমত) অংশটুকু বৃদ্ধি করে বললেন। সুতরাং যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের আকৃতিতে এবং ষাট হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট হয়েই প্রবেশ করবে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সৃষ্টির (আকার) ক্রমাগতভাবে ছোট হয়ে আসছে»
(২)।
এটি পারস্য বংশোদ্ভূত হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ বিন কামিল আস-সানআনী-এর বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস, যাঁর উপনাম আবু উকবা এবং তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ-এর ভাই।
বুখারি এটি ইয়াহইয়া বিন জাফর থেকে 'আল-ইস্তিযান' (অনুমতি গ্রহণ) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ورواه مسلم في صفة الجنة
(1)، عن محمد بن رافع.
كلاهما عن عبد الرزاق بنحوه.
واتفقا على ذكر الصورة.
3 - قُرئ على أبي القاسم عبد الواحد بن القاسم بن الفضل بن عبد الواحد الصّيدلاني، ونحن نسمع بأصبهان، أخبرتكم فاطمة بنت عبد الله الجوزذانية، فأقرّ به، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن ريذة، أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني، حدثنا محمد بن طاهر بن خالد بن أبي الدّميك البغدادي، حدثنا عبيد الله بن محمد بن عائشة التّيمي، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد بن جدعان، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل أهل الجنة الجنة جُرْداً
(2) مُرداً بيضاً جِعَاداً
(3) مُكحلين، أبناء ثلاث وثلاثين، وهم على خَلق آدم: ستون ذراعاً في عرض سبعة أذرع»
(4).
--------------------------------------------
এবং ইমাম মুসলিম এটি জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়ে
(১) মুহাম্মদ ইবনে রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন।
তারা উভয়েই আব্দুর রাজ্জাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং তারা উভয়েই (সুরাত বা অবয়ব) উল্লেখ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
৩ - আবুল কাসেম আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল কাসেম ইবনুল ফাদল ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাইদালানির কাছে পাঠ করা হয়েছে, আর আমরা ইস্পাহানে তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়া আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিযাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে খালিদ ইবনে আবুদ দামিক আল-বাগদাদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইশাহ আত-তাইমি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে লোমহীন দেহে, দাড়িহীন অবস্থায়, শ্বেতশুভ্র বর্ণে, কোঁকড়ানো চুলে এবং সুরমা মাখা চোখে। তাদের বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তারা আদমের আকৃতিতে হবে: লম্বায় ষাট হাত এবং প্রস্থে সাত হাত»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ١٩)
رواه الإمام أحمد في مسنده، عن يزيد بن هارون
(1)، وعفّان بن مُسلم
(2)، عن حماد بن سلمة.
قيل: تفرّد به حماد بن سلمة عن علي بن زيد بن جدعان، والله أعلم.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে ইয়াযীদ ইবনে হারুন
(১) এবং আফফান ইবনে মুসলিম
(২) থেকে, তাঁরা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
বলা হয়েছে: আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন থেকে এটি বর্ণনায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ একক হয়েছেন, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
4 - أخبرنا أبو جعفر محمد بن أحمد بن نصر الصيدلاني بأصبهان، أن فاطمة بنت عبد الله أخبرتهم، أخبرنا محمد بن ريذة، أخبرنا الطبراني، حدثنا أحمد بن إسماعيل العدوي، حدثنا عمرو بن مرزوق، أخبرنا عمران القطان، عن قتادة، عن شهر بن حَوشب، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ بن جبل، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يدخل أهل الجنة جُرْداً مُرْداً مُكحلين، بني ثلاث وثلاثين»
(1).
--------------------------------------------
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আস-সাইদালানি ইস্পাহানে, যে ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে রিযাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আদাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মারযুক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমরান আল-কাত্তান, কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানাম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে লোমহীন দেহে, দাড়িবিহীন অবস্থায়, চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায়, তেত্রিশ বছর বয়সে»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢١)
رواه الترمذي
(1) في صفة الجنة عن أبي هريرة: محمد بن فِراس البصري، عن أبي داود، عن عمران. وقال: «حديث حسن غريب».
5 - أخبرنا يوسف بن هبة الله بن محمود بن الطفيل بالقاهرة، أن محمد بن عمرو بن يوسف أخبرهم، أخبرنا أبو نصر محمد بن محمد بن علي الهاشمي، قال: قرئ على أبي بكر محمد بن عمر بن علي، حدثنا أبو بكر عبد الله بن أبي داود، حدثنا محمود بن خالد، وعباس بن الوليد، قالا: حدثنا عمر، عن الأوزاعي، عن هارون بن رئاب، عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يُبعثُ أهل الجنة على صورة آدم: في ميلاد ثلاث
(2) وثلاثين سنة، جُرداً مُرداً مُكحلين، ثم يُذهب بهم إلى شجرة في الجنة فيُكسون منها، لا تبلى ثيابهم، ولا يفنى شبابهم»
(3).
--------------------------------------------
তিরমিযী
(১) এটি জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়ে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন ফিরাাস আল-বাসরি, আবু দাউদ থেকে, তিনি ইমরান থেকে। তিনি বলেছেন: «হাদিসটি হাসান গারিব»।
৫ - কায়রোতে ইউসুফ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন আত-তুফাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন আমর বিন ইউসুফ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন উমর বিন আলির নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে, আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আবি দাউদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মাহমুদ বিন খালিদ ও আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: উমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আওযায়ি থেকে, হারুন বিন রিআব থেকে, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতিদেরকে আদমের আকৃতিতে পুনরুত্থিত করা হবে: তেত্রিশ বছর বয়সে, লোমহীন দেহে, দাড়িবিহীন অবস্থায় এবং চোখে সুরমা পরা অবস্থায়। এরপর তাদের জান্নাতের একটি গাছের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে তাদের পোশাক পরানো হবে; তাদের কাপড় পুরাতন হবে না এবং তাদের যৌবনও শেষ হবে না»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
هكذا ورد
(1) في غالب الروايات سوى ما روي عن أبي سعيد، وهو ما:
6 - أخبرنا يحيى بن محمود الثقفي، أن جدّه الحافظ إسماعيل بن محمد بن الفضل أخبرهم، أخبرنا الشريف أبو نصر الزينبي، حدثنا محمد بن عمر الوراق، حدثنا عبد الله بن أبي داود، حدثنا سليمان بن داود، حدثنا ابن وهب، حدثنا عمرو بن الحارث، أن دراجاً أبا السمح حدثه عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من مات من أهل
--------------------------------------------
অধিকাংশ বর্ণনায় এভাবেই এসেছে
(১) আবু সাঈদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত, আর তা হলো:
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফী, তাঁর দাদা হাফেজ ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ আবু নাসর আজ-জায়নাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হারিস, যে দাররাজ আবু সামহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আহলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الجنة من صغير أو كبير، يُرَدون بني ثلاثين سنة في الجنة، لا يزيدون عليها أبداً، وكذلك أهل النار»
(1).
رواه الترمذي في صفة الجنة، عن سويد بن نصر، عن عبد الله بن المبارك، عن رُشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث.
7 - أخبرنا عمر بن محمد بن مُعمّر، أن أحمد بن الحسن بن عبد الله أخبرهم، أخبرنا جابر بن ياسين، أخبرنا الحسن بن عثمان بن بكران، أخبرنا أبو بكر أحمد بن سلمان النجاد، حدثنا عبد الله بن محمد بن أبى الدنيا، حدثنا القاسم بن هاشم، حدثنا صفوان بن صالح، حدثنى روّاد بن الجراح العسقلاني، حدثنا الأوزاعى، عن هارون بن رئاب، عن انس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل
--------------------------------------------
জান্নাতবাসীদের মধ্যে ছোট বা বড় যে-ই হোক না কেন, তাদের জান্নাতে ত্রিশ বছর বয়সীদের অবয়বে ফিরিয়ে আনা হবে, যা থেকে তারা কখনও বৃদ্ধি পাবে না; এবং জাহান্নামবাসীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হবে।
(১)তিরমিযী এটি 'জান্নাতের বর্ণনা' অধ্যায়ে সুয়াইদ ইবন নাসর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি রুশদীন ইবন সাদ থেকে এবং তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন মুয়াম্মার, যে আহমদ ইবনুল হাসান ইবন আবদুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাবির ইবন ইয়াসীন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবন উসমান ইবন বাকরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন সালমান আন-নাজ্জাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবিদ দুনইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবন সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ আল-আসকালানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ী, হারুন ইবন রিয়াব থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রবেশ করবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أهل الجنة الجنة على طول آدم: ستين ذراعاً بذراع الملك، على حُسن يوسف، وعلى ميلاد عيسى؛ ثلاث وثلاثين سنة، وعلى لسان محمد، جُرد، مُرد، مكحلون»
(1).
8 - قُرئ على أبي طاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر الخشوعي ونحن نسمع، أخبركم عبد الكريم بن حمزة بن الخضر السلمي، أخبرنا عبد العزيز بن محمد الكناني الحافظ، أخبرنا تمّام بن محمد بن عبد الله الرازي، حدثنا أبو الخير زهير بن محمد بن يعقوب الموصلي، حدثنا أبو عبد الله الحسين بن عمر بن أبي الأحوص الكوفي، حدثنا العلاء بن عمرو الحنفي، حدثنا يحيى بن بُريد الأشعري، عن ابن جريج، عن عطاء، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحِبّوا العرب لثلاث: لأني عربي، والقرآن عربي، وكلام أهل الجنة عربي»
(2).
--------------------------------------------
জান্নাতবাসীরা আদমের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী হবে: ফেরেশতার হাতের মাপে ষাট হাত, ইউসুফের সৌন্দর্যের ন্যায় সুন্দর এবং ঈসার জন্মের (বয়সের) ন্যায় তেত্রিশ বছর বয়সের হবে; আর তারা হবে মুহাম্মদের ভাষার ন্যায় কথা সম্পন্ন, লোমহীন দেহবিশিষ্ট, দাড়িহীন এবং সুরমা লাগানো চোখের অধিকারী।
(১).
৮ - আবু তাহের বারাকাত ইবনে ইব্রাহিম ইবনে তাহের আল-খুশুয়ি-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আব্দুল কারিম ইবনে হামজাহ ইবনে আল-খিদর আস-সুলামি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল খায়ের জুহাইর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-মাওসিলি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে উমর ইবনে আবিল আহওয়াস আল-কুফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুরিদ আল-আশআরি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো: কারণ আমি আরবি, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
العلاء بن عمرو الحنفي
(1)، ويحيى بن بُريد
(2) تُكلم فيهما.
ذكر نساء أهل الجنة9 - أخبرنا أبو عبد الله محمد بن علي بدمشق، أخبرنا محمد بن الفضل الصاعدي، أخبرنا عبد الغافر الفارسي، أخبرنا محمد بن عمرويه الجلودي، أخبرنا إبراهيم بن محمد بن سفيان، حدثنا مسلم بن الحجاج، حدثني عمرو الناقد، ويعقوب بن
--------------------------------------------
আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি
(১) এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুরাইদ
(২); তাঁদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে।
জান্নাতবাসীদের নারীদের বিবরণ৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী দামেস্কে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ফজল আল-সাঈদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমরওয়াইহ আল-জুলুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমর আন-নাকিদ এবং ইয়াকুব বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
إبراهيم الدورقي، جميعاً عن ابن علية واللفظ ليعقوب: حدثنا إسماعيل بن علية، أخبرنا أيوب، عن محمد، قال: إما تفاخروا وإما تذاكروا: الرجال أكثر في الجنة أم النساء. فقال أبو هريرة: أوَ لم يقُل أبا القاسم صلى الله عليه وسلم: «إن أول زمرة تدخل الجنة على صورة القمر ليلة البدر، والتي تليها على أضوإ كوكب دُرّي في السماء، لكل منهم زوجتان اثنتان، يرى مُخّ سُوقِهما من وراء اللحم، وما في الجنة أعزب
(1)».
هكذا رواه مسلم في صحيحه
(2).
10 - وقد تقدم من رواية همام بن منبه عن أبي هريرة نحو هذا
(3)، وهو في الصحيحين
(4).
11 - وتقدم أيضاً من رواية أبي زرعة عن أبي هريرة
(5): «وأزواجهم الحور العين»
(6).
--------------------------------------------
ইব্রাহীম আদ-দাওরাকী, তারা সকলেই ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে এবং শব্দাবলী ইয়াকুবের সূত্রে বর্ণিত: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন উলাইয়্যাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আইয়ুব, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বলেন: তারা হয় গৌরব করছিলেন অথবা আলোচনা করছিলেন যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে নাকি নারীর। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেননি: «জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আকৃতিতে প্রবেশ করবে, আর তাদের পরবর্তী দলটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দ্যুতিময় হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুইজন করে স্ত্রী থাকবে, গোশতের পেছন থেকে তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। আর জান্নাতে কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি থাকবে না
(১)»।
এভাবেই ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
১০ - আর আবু হুরায়রা থেকে হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর বর্ণনায় এর অনুরূপ বিষয় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে
(৩), এবং তা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বিদ্যমান
(৪)।
১১ - আর আবু হুরায়রা থেকে আবু জুরআহ-এর বর্ণনায়ও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে
(৫): «এবং তাদের স্ত্রীরা হবে ডাগর চোখের হূর»
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
12 - أخبرنا عبد الله بن أحمد بن أبي المجد الحربي بها
(1)، أن هبة الله بن محمد أخبرهم، أخبرنا أبو علي بن المذهب، أخبرنا أبو بكر القطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا أبو النضر، حدثنا محمد بن طلحة، عن حميد، عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لغدوة في سبيل الله أو روحة خيرٌ من الدنيا وما فيها، و لقَاب قوس أحدكم أو موضع قَدِّه يعني سوطه من الجنة خير من الدنيا وما فيها، ولو اطَّلعت امرأة من نساء أهل الجنة إلى الأرض لملأت ما بينهما ريحاً، ولطاب ما بينهما، ولنَصيفُها على رأسها خيرٌ من الدنيا وما فيها»
(2).
رواه البخاري في الجهاد
(3)، عن عبد الله بن محمد، عن معاوية بن عمرو، عن أبي إسحاق، عن حميد بنحوه.
13 - أخبرنا أبو طاهر بن المعطوش رحمه الله بقراءتي عليه بالجانب الغربي من بغداد، قلت له: أخبركم هبة الله بن محمد، أخبرنا أبو علي بن المذهب، أخبرنا أبو بكر القطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، أخبرنا يونس، عن محمد بن سيرين، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم: «للرجل من أهل الجنة زوجتان من حورِ العين، على كل واحدة سبعون حُلّة، يرى مُخّ ساقها من وراء الثياب».
--------------------------------------------
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবিল মাজদ আল-হারবী সেখানে
(১), যে হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আল-মুজাহহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাজর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন তালহা, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর পথে একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গা অথবা তার চাবুক রাখার জায়গা দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর যদি জান্নাতী নারীদের মধ্য হতে কোনো নারী জমিনের দিকে উঁকি দিত, তবে তা (আকাশ ও জমিনের) মধ্যবর্তী স্থানকে সুগন্ধে পরিপূর্ণ করে দিত এবং তার মধ্যকার সবকিছু সুবাসিত হয়ে যেত। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম»
(২)।
বুখারী এটি জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন
(৩), আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন আমর থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে এই মর্মে।
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বিন আল-মাতুশ (রহিমাহুল্লাহ), বাগদাদের পশ্চিম প্রান্তে তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাকে বলেছি: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আল-মুজাহহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামা, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: «জান্নাতবাসীদের প্রত্যেকের জন্য হুরুল ঈনদের মধ্য হতে দুইজন করে স্ত্রী থাকবে। তাদের প্রত্যেকের গায়ে সত্তরটি করে পোশাক থাকবে, যার ফলে পোশাকের ভেতর দিয়েই তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
كذا أخرجه الإمام أحمد
(1).
14 - أخبرنا أبو جعفر الصيدلاني بأصبهان، أن فاطمة بنت عبد الله أخبرتهم، أخبرنا محمد بن عبد الله، أخبرنا سليمان بن أحمد، حدثنا بكر بن سهل الدمياطي، حدثنا عمرو بن هاشم البيروتي، حدثنا سليمان بن أبي كريمة، عن هشام بن حسان، عن الحسن، عن أمه، عن أم سلمة قالت: قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قول الله عز وجل: {وَحُورٌ عِينٌ}
(2).
قال: «حور: بيض. عين: ضخام العيون، شُفْرُ
(3) الحوراء بمنزلة جناح النسر».
قلت: أخبرني عن قوله عز وجل: {كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَكْنُونٌ}
(4).
قال: «صفاؤهن صفاء الدر الذي في الأصداف، الذي لم تمسه الأيدي».
قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قوله: {فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ}
(5).
قال: «خيرات الأخلاق، حسان الوجوه».
قلت: يا رسول الله أخبرني، عن قوله: {كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ}
(6).
قال: «رِقّتهن كرِقّة الجلد الذي رأيت في داخل البيضة مما يلي القشر، وهو الغِرْقِئ
(7)».
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ একে এভাবেই বর্ণনা করেছেন
(১)।
১৪ - ইস্পাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আস-সাইদালানি, ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বকর বিন সাহল আদ-দামিয়াতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর বিন হাশিম আল-বুরূতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আবি কারিমা, হিশাম বিন হাসসান থেকে, হাসান থেকে, তার মায়ের থেকে, উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুর}
(২)।
তিনি বললেন: «হুর হলো শ্বেতশুভ্র। আইন হলো ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা, হুরদের চোখের পাপড়ি ঈগল পাখির ডানার মতো (দীর্ঘ ও ঘন)»।
আমি বললাম: মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা}
(৪)।
তিনি বললেন: «তাদের স্বচ্ছতা হলো ঝিনুকের মধ্যে থাকা সেই মুক্তার স্বচ্ছতার মতো, যাকে কোনো হাত স্পর্শ করেনি»।
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তাঁর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {তাদের মধ্যে রয়েছে সচ্চরিত্রা ও সুন্দরীগণ}
(৫)।
তিনি বললেন: «খাইরাত বা সচ্চরিত্রা হলো চরিত্রগতভাবে উত্তম, আর হিসান বা সুন্দরী হলো চেহারাগতভাবে রূপবতী»।
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে বলুন আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {তারা যেন সুরক্ষিত ডিম্ব}
(৬)।
তিনি বললেন: «তাদের কোমলতা হলো সেই পাতলা চামড়ার মতো যা তুমি ডিমের খোসার ঠিক নিচে ভেতরের দিকে দেখে থাকো, যাকে ‘গিরকি’ বলা হয়»
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قوله: {عُرُبًا أَتْرَابًا}
(1).
قال: «هن اللواتي قُبضن في دار الدنيا عجائز رُمْصاً
(2) شُمطاً
(3)، خلقهن الله بعد الكبر فجعلهن عذارى. عرباً: مُتعشقات مُحببات. أتراباً: على ميلاد واحد».
قلت يا رسول الله، نساء الدنيا أفضل أم الحور العين؟
قال: «بل نساء الدنيا أفضل من الحور العين، كفضل الظهارة على البطانة».
قلت: يا رسول الله، وبمَ ذلك؟
قال: «بصلواتهن وصيامهن وعبادتهن الله، ألبس الله وجوههن النور، وأجسادهن الحرير، بيض الألوان، خضر الثياب، صفر الحلي، مجامرهن
(4) الدر، وأمشاطهن الذهب، يقلن: نحن الخالدات فلا نموت، ونحن الناعمات فلا نبأس أبداً، ونحن المقيمات فلا نظعن أبداً، ألا ونحن الراضيات فلا نسخط أبداً، طوبى لمن كنا له وكان لنا».
قلت: يا رسول الله، المرأة منا تتزوج زوجين، والثلاثة والأربعة، ثم تموت فتدخل الجنة ويدخلون معها، من يكون زوجها؟.
قال: «يا أم سلمة، إنها تُخَيّر فتختار أحسنهم خلقاً، فتقول: أي رب إن هذا كان أحسنهم معي خلقاً في دار الدنيا فزوجنيه. يا أم سلمة، ذهب حسن الخلق بخير الدنيا والآخرة»
(5).
--------------------------------------------
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে অবহিত করুন: {সোহাগিনী ও সমবয়স্কা}
(১)।
তিনি বললেন: «এরা সেই সব নারী যারা দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় বৃদ্ধা, চোখের কোণে পিঁচুটি পড়া
(২) এবং পাকা চুলে
(৩) উপনীত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। বার্ধক্যের পর আল্লাহ তাদের পুনরায় সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের কুমারী বানিয়ে দিয়েছেন। সোহাগিনী অর্থ: যারা অত্যন্ত প্রেমময়ী ও প্রিয়পাত্রী। সমবয়স্কা অর্থ: একই বয়সে জন্মগ্রহণকারী বা সমবয়সী।»
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, দুনিয়ার নারীরা কি উত্তম নাকি ডাগরচোখা হুররা?
তিনি বললেন: «বরং দুনিয়ার নারীরা ডাগরচোখা হুরদের চেয়েও অধিক উত্তম, যেমন কোনো পোশাকের বাইরের দিক তার ভেতরের দিকের চেয়ে উত্তম হয়।»
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কিসের কারণে?
তিনি বললেন: «তাদের সালাত, সিয়াম এবং আল্লাহর প্রতি তাদের ইবাদতের কারণে। আল্লাহ তাদের চেহারাকে নূর (জ্যোতি) দিয়ে এবং তাদের দেহকে রেশম দিয়ে আবৃত করবেন। তাদের গায়ের রং হবে শুভ্র, পোশাক হবে সবুজ এবং অলংকার হবে পীত বর্ণের। তাদের ধুনুচিগুলো
(৪) হবে মুক্তার এবং চিরুনি হবে স্বর্ণের। তারা বলবে: আমরা চিরস্থায়ী, তাই কখনো মারা যাব না; আমরা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকব, তাই কখনো অভাবগ্রস্ত হব না; আমরা স্থায়ীভাবে বসবাস করব, তাই কখনো প্রস্থান করব না। শোনো, আমরা চিরসন্তুষ্ট থাকব, তাই কখনো অসন্তুষ্ট হব না। সুসংবাদ তাদের জন্য যাদের জন্য আমরা হব এবং যারা আমাদের জন্য হবে।»
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্য থেকে কোনো নারী দুনিয়াতে দুই, তিন কিংবা চারজন স্বামী গ্রহণ করে, অতঃপর সে মারা যায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে এবং তার স্বামীরাও তার সাথে জান্নাতে যায়, তবে কে তার স্বামী হবে?
তিনি বললেন: «হে উম্মে সালামাহ, তাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া হবে, তখন সে তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারীকে বেছে নেবে। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক, এই ব্যক্তি দুনিয়াতে আমার সাথে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিল, তাই একে আমার সাথে বিবাহ দিন। হে উম্মে সালামাহ, উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ নিয়ে যায়»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
لا أعلمه روي إلا من طريق سليمان بن أبي كريمة، وفيه كلام
(1).
15 - أخبرنا زاهر بن أحمد الثقفي بأصبهان، أن الحسين بن عبد الملك أخبرهم، أخبرنا إبراهيم بن منصور، أخبرنا أبو بكر بن المقرئ، أخبرنا أبو يعلى الموصلي، حدثنا عمرو بن الضحاك بن مخلد، حدثنا أبو عاصم الضحاك بن مخلد، حدثنا أبو رافع إسماعيل بن رافع، عن محمد بن زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة، قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في طائفة من أصحابه، فذكر حديثا طويلاً، وفيه: «فأقول: يا رب وعدتني الشفاعة فشفعني في أهل الجنة يدخلون الجنة، فيقول الله: قد شفعتك وأذنت لهم في دخول الجنة».
--------------------------------------------
সুলাইমান বিন আবি কারিমার সূত্র ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই, এবং তাঁর সম্পর্কে আপত্তি রয়েছে
(১).
১৫ - আসফাহানে যাহির বিন আহমাদ আস-সাকাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু রাফি ইসমাঈল বিন রাফি মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি আনসারের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে থাকা অবস্থায় আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করলেন, যার মধ্যে রয়েছে: «অতঃপর আমি বলব: হে আমার রব! আপনি আমাকে শাফাআতের (সুপারিশের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সুতরাং জান্নাতবাসীদের ব্যাপারে আমার শাফাআত কবুল করুন যাতে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার শাফাআত কবুল করলাম এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলাম।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣١)
সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩
(পৃষ্ঠা: ٣١)
فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «والذي بعثني بالحق ما أنتم في الدنيا بأعرف بأزواجكم ومساكنكم من أهل الجنة بأزواجهم ومساكنهم، فيدخل رجل منهم على ثنتين وسبعين زوجة مما ينشئ الله، وثنتين من ولد آدم، لهما فضل على من أنشأ الله؛ بعبادتهما الله في الدنيا، يدخل على الأولى منهما في غرفة من ياقوتة، على سرير من ذهب مكلل باللؤلؤ، عليه سبعون زوجاً من سندس وإستبرق، وإنه ليضع يده بين كتفيها ثم ينظر إلى يده من صدرها من وراء ثيابها وجلدها ولحمها، وإنه لينظر إلى مُخ ساقها كما ينظر أحدكم إلى السلك في قصبة الياقوت، كبده لها مرآة، يعني: وكبدها له مرآة، فبينما هو عندها لا يملها ولا تمله، ولا يأتيها من مرة إلا وجدها عذراء، ما يفتر ذكره، ولا تشتكي قُبلها، فبينا هو كذلك إذ نودي: إنا قد عرفنا أنك لا تَمل لا تُمل، إلا أنه لا مني ولا منية إلا أن يكون لك أزواج غيرها، فيخرج فيأتيهن واحدة واحدة، كلما جاء واحدة قالت: والله ما في الجنة شيء أحسن منك، ما في الجنة شيء أحب إلي منك»
(1).
--------------------------------------------
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, দুনিয়াতে তোমরা তোমাদের স্ত্রী ও আবাসস্থল সম্পর্কে যতটা না জানো, জান্নাতবাসীরা তাদের স্ত্রী ও আবাসস্থল সম্পর্কে তার চেয়েও বেশি অবগত হবে। তাদের একজন আল্লাহ কর্তৃক নবসৃষ্ট বাহাত্তরজন স্ত্রী এবং আদম সন্তানদের মধ্য থেকে দুইজন স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করবে। আল্লাহর ইবাদত করার কারণে আদম সন্তানদের ওই দুইজন স্ত্রীর মর্যাদা আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট অন্যান্য স্ত্রীদের চেয়ে বেশি হবে। সে তাদের প্রথমজনের কাছে ইয়াকুত পাথরের তৈরি একটি কক্ষে প্রবেশ করবে, যা মুক্তাখচিত স্বর্ণের পালঙ্কের উপর অবস্থিত হবে। তার ওপর সত্তর জোড়া রেশমি ও মখমলের কাপড় থাকবে। সে তার (স্ত্রীর) দুই কাঁধের মাঝখানে তার হাত রাখবে, অতঃপর তার কাপড়ের ওপর দিয়েই তার বক্ষদেশ দিয়ে নিজের হাতের প্রতি তাকাবে, এমনকি সে তার চামড়া ও মাংস ভেদ করে তার নলার মজ্জা পর্যন্ত দেখতে পাবে; যেমন তোমাদের কেউ ইয়াকুত পাথরের নলের ভেতর দিয়ে সুতো দেখতে পায়। তার কলিজা হবে তার (স্ত্রীর) জন্য আয়নার মতো, অর্থাৎ তার (স্ত্রীর) কলিজাও হবে তার জন্য আয়নার মতো। সে তার কাছে অবস্থানকালে না সে তাকে বিরক্ত করবে, না স্ত্রী তাকে বিরক্ত করবে। সে যতবারই তার কাছে আসবে, ততবারই তাকে কুমারী হিসেবে পাবে। তার অঙ্গ শিথিল হবে না এবং স্ত্রীও কোনো যোনি-পীড়া অনুভব করবে না। সে যখন এ অবস্থায় থাকবে, তখন তাকে ডেকে বলা হবে: 'আমরা অবশ্যই জেনেছি যে আপনিও ক্লান্ত হবেন না এবং আপনার প্রতিও ক্লান্তি আসবে না; তবে আপনার জন্য তিনি (প্রথম স্ত্রী) ব্যতীত আরও স্ত্রী রয়েছে।' অতঃপর সে বের হয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছে একে একে যাবে। যখনই সে কোনো একজনের কাছে যাবে, সে বলবে: 'আল্লাহর কসম, জান্নাতে আপনার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই এবং জান্নাতে আমার কাছে আপনার চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই'।"
(১).
--------------------------------------------