(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة - الضياء المقدسي - المسندة - جـ 3   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 634 هـ)

المحقق: أ. د. محمد بن تركي التركي

(أستاذ الحديث بقسم الثقافة الإسلامية - كلية التربية، جامعة الملك سعود)

الناشر: جامعة الملك سعود، الرياض

عام النشر: 1423 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 98

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445

জান্নাতের বৈশিষ্ট্য - দিয়া আল-মাকদিসি - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩   (দিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: জান্নাতের বৈশিষ্ট্য কিতাবের তৃতীয় খণ্ড

গ্রন্থকার: দিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃ. ৬৩৪ হিজরি)

মুহাক্কিক: প্রফেসর . ড. মুহাম্মাদ বিন তুর্কি আল-তুর্কি

(হাদিসের অধ্যাপক, ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ - শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি)

প্রকাশক: কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ

প্রকাশের বছর: ১৪২৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ٣) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد، عليه وعلى آله أفضل الصلاة وأتم التسليم.

أما بعد:

فهذا هو الجزء الثالث من كتاب «صفة الجنة» للضياء المقدسي رحمه الله، وهو الجزء الوحيد الذي وقفت عليه من أجزاء الكتاب، ولم أقف على بقيته، أحببت التعليق عليه وخدمته، وإخراجه إلى عالم المطبوعات، نظراً لعلو منزلة مؤلفه، وأهمية موضوعه، وقلة المؤلفات المسندة فيه.

وقد حرصت على ضبط النص قدر الإمكان، والتعليق على أحاديثه وتخريجها، ولم أر التوسع في الترجمة لجميع رجال الإسناد، وإنما أكتفي بذكر الحكم بإيجاز على من يدور عليه الإسناد.

وقد قدمت لعملي بترجمة موجزة للمؤلف، والتعريف بالكتاب، وإثبات نسبته لمؤلفه، ومدى اعتماد العلماء عليه والاستفادة منه، ونحو ذلك مما يتعلق بدراسة الكتاب.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী-রাসূলদের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

অতঃপর:

এটি হলো জিয়া আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত ‘সিফাতুল জান্নাহ’ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড। এই গ্রন্থের খণ্ডগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র খণ্ড যা আমি পেয়েছি এবং এর অবশিষ্ট অংশ আমার হস্তগত হয়নি। আমি এর ওপর টীকা প্রদান, এর খেদমত করা এবং একে প্রকাশনার জগতে নিয়ে আসতে পছন্দ করেছি; কারণ এর লেখকের উচ্চ মর্যাদা, এর বিষয়ের গুরুত্ব এবং এই বিষয়ে সনদযুক্ত রচনার স্বল্পতা।

আমি যথাসম্ভব মূল পাঠটি (টেক্সট) সঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে এবং এর হাদীসগুলোর ওপর টীকা প্রদান ও সেগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) করতে সচেষ্ট হয়েছি। আমি সনদের সকল বর্ণনাকারীর বিস্তারিত জীবনী প্রদান করা সমীচীন মনে করিনি; বরং আমি কেবল সনদের মূল বর্ণনাকারীর ওপর সংক্ষেপে হুকুম (মন্তব্য) উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

আমি আমার এই কাজের শুরুতে লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, গ্রন্থের পরিচিতি, লেখকের প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধের প্রমাণ এবং আলেমগণ এর ওপর কতটা নির্ভর করেছেন ও এ থেকে উপকৃত হয়েছেন—এই সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং গ্রন্থটি অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি উপস্থাপন করেছি।
(খণ্ড: ٣) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٦)
وفي الختام فهذا جهد بشري، ولن يخلو من النقص والخلل، كما هي طبيعة البشر، ولكن حسبي أني بذلت فيه وسعي وطاقتي، فما كان فيه من صواب فبتوفيق من الله وحده، وما كان فيه من خلل وخطأ فمني ومن الشيطان، وأسأل الله عز وجل أن يعفو ذلك عني.

كما أسأله عز وجل أن يكون هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله من العلم الذي يُنتفع به، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

وكتب

محمد بن تركي التركي

alturki@ksu.edu.sa
পরিশেষে এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা এবং মানবপ্রকৃতি অনুযায়ী এটি ত্রুটি ও বিচ্যুতিমুক্ত নয়। তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, আমি এতে আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা কেবল আল্লাহর তাওফিকে হয়েছে, আর যা কিছু ত্রুটি ও ভুল হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তা আমাকে ক্ষমা করেন।

সেই সাথে আমি মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই আমলটি কেবল তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং তিনি একে এমন ইলম বানান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

লিখেছেন

মুহাম্মদ বিন তুর্কি আত-তুর্কি

alturki@ksu.edu.sa
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة - الضياء المقدسي - المسندة - جـ 3   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 634 هـ)

المحقق: أ. د. محمد بن تركي التركي

(أستاذ الحديث بقسم الثقافة الإسلامية - كلية التربية، جامعة الملك سعود)

الناشر: جامعة الملك سعود، الرياض

عام النشر: 1423 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 98

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445

জান্নাতের বৈশিষ্ট্য - আদ-দিয়া আল-মাকদিসি - আল-মুসনাদাহ - ৩য় খণ্ড   (জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: সিফাতুল জান্নাহ (জান্নাতের বর্ণনা) গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড

লেখক: জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত ৬৩৪ হিজরি)

সম্পাদক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন তুর্কি আত-তুর্কি

(হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক, ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ - শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ

প্রকাশকাল: ১৪২৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌ترجمة موجزة(1) للمؤلف (2)

هو الحافظ ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد المقدسي الجَمّاعيلي الصالحي الدمشقي الحنبلي.

ولد سنة سبع وستين وخمسمائة بقاسيون.

وسمع من أبي جعفر الصيدلاني، وزاهر الثقفي، وأبي المظفر السمعاني، وأبي الفرج ابن الجوزي، والحافظ عبد الغني المقدسي، وخلق كثير غيرهم من الأئمة المشهورين.

وروى عنه: ابن نقطة، وابن النجار، وزكي الدين البرزالي، وشرف الدين ابن النابلسي، والحافظ أبو العباس ابن الظاهري، وغيرهم.

أثنى عليه جميع من ترجم له، ومما قيل فيه:

قال الحافظ محب الدين ابن النجار في تاريخه: «كتب أبو عبد الله بخطه، وحصّل الأصول وسمعنا منه، وبقراءته كثيراً … وكتب الكتب الكبار بخطه، وحصل النسخ ببعضها بهمة عالية، وجدٍ واجتهاد، وتحقيق وإتقان، كتبت عنه ببغداد ونيسابور ودمشق، وهو حافظ متقن ثبت صدوق نبيل حجة، عالم بالحديث

--------------------------------------------

(1) لم أر التوسع في ترجمته، لوجود دراسات مفصلة ومطولة عنه، ومن آخرها الدراسة القيمة التي كتبها د. محمد مطيع الحافظ: «التنويه والتبيين في سيرة محدث الشام الحافظ ضياء الدين».

(2) انظر سير أعلام النبلاء 23/ 126، وانظر بقية مصادر ترجمته في هامشه.

লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী(১)(২)

তিনি হলেন হাফেজ জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসি আল-জাম্মাইলি আস-সালিহি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি।

তিনি পাঁচশ সাতষট্টি হিজরি সনে কাসিউনে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আবু জাফর আস-সায়দালানি, জাহির আস-সাকাফি, আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি, আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি, হাফেজ আবদুল গনি আল-মাকদিসি এবং তাঁদের মতো আরও বহু প্রখ্যাত ইমামদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে নুকতাহ, ইবনুন নাজ্জার, জাকিউদ্দীন আল-বারজালি, শারাফুদ্দীন ইবনুন নাবুলুসি, হাফেজ আবুল আব্বাস ইবনুজ জাহিরি এবং আরও অনেকে।

যাঁরাই তাঁর জীবনী লিখেছেন তাঁরা সকলেই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

হাফেজ মুহিব্বুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: «আবু আবদুল্লাহ নিজ হাতে লিখেছেন, মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে এবং তাঁর পাঠের মাধ্যমে প্রচুর শ্রবণ করেছি … তিনি নিজ হাতে বড় বড় কিতাব লিখেছেন, আর সুউচ্চ হিম্মত, প্রচেষ্টা, সাধনা, গবেষণা ও নিপুণতার সাথে সেগুলোর অনুলিপি তৈরি করেছেন। আমি তাঁর নিকট থেকে বাগদাদ, নিশাপুর ও দামেশকে হাদীস লিখেছি। তিনি একজন অতি সূক্ষ্ম হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী, মহৎ ও শক্তিশালী দলীল এবং হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ পণ্ডিত।»

--------------------------------------------

(১) আমি তাঁর জীবনীর বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজন মনে করিনি, কারণ তাঁর সম্পর্কে বিশদ ও দীর্ঘ গবেষণা বিদ্যমান। এর মধ্যে সর্বশেষ হলো ডক্টর মুহাম্মদ মুতি আল-হাফেজ রচিত মূল্যবান গবেষণাগ্রন্থ: «আত-তানউইহ ওয়াত-তাবয়িন ফি সিরাতে মুহাদ্দিসিশ শামিল হাফেজ জিয়াউদ্দীন»।

(২) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১২৬; এবং এর টীকায় তাঁর জীবনীর অন্যান্য উৎসসমূহ দেখুন।

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢)
وأحوال الرجال، له مجموعات وتخريجات، وهو ورع تقي زاهد عابد، محتاط في أكل الحلال، مجاهد في سبيل الله، ولعمري ما رأت عيناي مثله في نزاهته وعفته وحسن طريقته في طلب العلم»(1)

وقال الشيخ عز الدين عبد الرحمن ابن العز: «ما جاء بعد الدارقطني مثل شيخنا الضياء»(2).

وقال الحافظ شرف الدين يوسف بن بدر: «رحم الله شيخنا ابن عبد الواحد؛ كان عظيم الشأن في الحفظ ومعرفة الرجال، هو كان المشار إليه في علم صحيح الحديث وسقيمه، ما رأت عيني مثله»(3).

وقال عمر بن الحاجب: «شيخنا الضياء شيخ وقته ونسيج وحده علماً وحفظاً وثقة وديناً من العلماء الربانيين، وهو أكبر من أن يدل عليه مثلي»(4).

وقال الإمام الذهبي: «الشيخ الإمام الحافظ القدوة المُحقق المجوّد الحجة بقية السلف … صاحب التصانيف والرحلة الواسعة … ولم يزل ملازماً للعلم والرواية والتأليف إلى أن مات، وتصانيفه نافعة مهذبة، أنشأ مدرسة إلى جانب الجامع المظفري، وكان يبني فيها بيده، ويتقنع باليسير، ويجتهد في فعل الخير ونشر السنة، وفيه تعبد وانجماع عن الناس، وكان كثير البر والمواساة، دائم التهجد أمّاراً بالمعروف، بهي المنظر، مليح الشيبة، محبباً إلى الموافق والمخالف، مشتغلاً بنفسه رضي الله عنه»(5).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 23/ 129، 130.

(2) سير أعلام النبلاء 23/ 128.

(3) سير أعلام النبلاء 23/ 128، 129.

(4) سير أعلام النبلاء 23/ 129.

(5) سير أعلام النبلاء 23/ 128.

এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (ইলমুর রিজাল); তাঁর বহু সংকলন ও তাখরিজ (হাদিস বিশ্লেষণ) রয়েছে। তিনি ছিলেন পরহেজগার, মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ ইবাদতগুজার, হালাল রিযিক অন্বেষণে অত্যন্ত সতর্ক এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী। আমার জীবনের কসম! জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা এবং উত্তম পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমার দুই চোখ তাঁর মতো আর কাউকে দেখেনি»(১)

এবং শায়খ ইজ্জুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনুল ইজ্জ বলেন: «দারাকুতনীর পরে আমাদের শায়খ যিয়া (আদ-দিন)-এর মতো আর কেউ আসেনি»(২)।

এবং হাফেজ শরাফুদ্দীন ইউসুফ ইবনে বদর বলেন: «আল্লাহ আমাদের শায়খ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদের প্রতি রহম করুন; তিনি হিফজ (স্মৃতিশক্তি) এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সহিহ এবং জইফ হাদিসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই ইশারা করা হতো। আমার চোখ তাঁর মতো আর কাউকে দেখেনি»(৩)।

এবং ওমর ইবনুল হাজিব বলেন: «আমাদের শায়খ যিয়া (আদ-দিন) ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ এবং ইলম, হিফজ, বিশ্বস্ততা ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য সাধারণ এক রব্বানী আলেম। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমার মতো ব্যক্তি অত্যন্ত নগণ্য»(৪)।

এবং ইমাম যাহাবি বলেন: «তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, গবেষক, সুদক্ষ মুহাক্কিক, হুজ্জাত (দলিল) এবং সালফে সালেহীনের উত্তরসূরি … বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং সুদূরপ্রসারী সফরের অধিকারী … মৃত্যু অবধি তিনি ইলম চর্চা, হাদিস বর্ণনা এবং গ্রন্থ রচনার কাজে নিবিষ্ট ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত উপকারী ও পরিমার্জিত। তিনি জামে মুজাফফরীর পাশে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং সেখানে তিনি নিজ হাতে নির্মাণ কাজ করতেন। তিনি অল্পে তুষ্ট থাকতেন এবং কল্যাণমূলক কাজে ও সুন্নাহর প্রসারে আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। তাঁর মধ্যে গভীর ইবাদতগুজারী ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার প্রবণতা ছিল। তিনি অত্যন্ত নেককার ও সহমর্মী ছিলেন, সর্বদা তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং সৎ কাজের আদেশ দিতেন। তিনি ছিলেন সুদর্শন ও সুন্দর শুভ্র দাড়িবিশিষ্ট এবং বন্ধু-বিরোধী নির্বিশেষে সকলের কাছেই ছিলেন প্রিয়। তিনি সর্বদা নিজেকে নিয়ে (অর্থাৎ আত্মশুদ্ধিতে) মগ্ন থাকতেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন»(৫)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৯, ১৩০।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৮।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৮, ১২৯।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৯।

(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৮।

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٣)
وقد ألف رحمه الله عدداً كبيراً من المؤلفات، من أشهر ما طبع منها: كتاب الأحاديث المختارة(1)، وفضائل الأعمال(2)، وفضائل القرآن(3)، والنهي عن سب الأصحاب(4)، وغيرها(5).

توفي رحمه الله سنة (643)، بعد أن عاش (74) سنة.

--------------------------------------------

(1) طبع الموجود منه بتحقيق د. عبد الملك بن دهيش، مكتبة النهضة الحديثة، مكة المكرمة، 1410 هـ.

(2) طبع عدة طبعات، وحقق كرسائل علمية في جامعة أم القرى.

(3) طبع بتحقيق صلاح الشلاحي، دار ابن حزم، 1421 هـ.

(4) طبع بتحقيق محيي الدين نجيب، مكتبة دار العروبة بالكويت، دار ابن العماد ببيروت، 1413 هـ. ثم صدر له أكثر من تحقيق.

(5) انظر للتوسع: التنويه والتبيين ص 312، ومقدمة النهي عن سب الأصحاب.

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: কিতাবুল আহাদিস আল-মুখতারাহ(১), ফাদায়িলুল আমাল(২), ফাদায়িলুল কুরআন(৩), আন-নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব(৪) এবং অন্যান্য গ্রন্থাবলি(৫)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৭৪ বছর বেঁচে থাকার পর ৬৪৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) এর বিদ্যমান অংশটি ড. আব্দুল মালিক বিন দাহিশের তাহকীকসহ মক্কাতুল মুকাররমার মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-হাদিসাহ থেকে ১৪১০ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাপত্র হিসেবে তাহকীক করা হয়েছে।

(৩) এটি সালাহ আশ-শালাহীর তাহকীকসহ দারু ইবনি হাযম থেকে ১৪২১ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) এটি মুহিউদ্দীন নাজীবের তাহকীকসহ কুয়েতের মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ এবং বৈরুতের দারু ইবনিল ইমাদ থেকে ১৪১৩ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছে। পরবর্তীতে এর একাধিক তাহকীক প্রকাশিত হয়েছে।

(৫) বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আত-তানবীহ ওয়াত তাবিঈন, পৃষ্ঠা ৩১২ এবং আন-নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব-এর ভূমিকা।

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌التعريف بالكتاب

‌‌اسم الكتاب، و إثبات نسبته لمؤلفه:

لا خلاف في تسمية الكتاب وثبوت نسبته لمؤلفه الضياء المقدسي، وذلك لعدة أمور، منها:

1 - وجود هذه النسبة والتسمية في عنوان الكتاب، وفي السماعات الموجودة في النسخة الخطية.

2 - ذكر عدد من العلماء الكتاب منسوباً إلى الضياء، ومن هؤلاء: الإمام ابن كثير(1)، والذهبي(2)، وابن القيم(3)، وغيرهم(4).

3 - وجود أحاديث في هذا الكتاب أخرجها الضياء بنفس الإسناد في كتبه الأخرى، وخاصة «الأحاديث المختارة» كما سيأتي في التخريج.

--------------------------------------------

(1) ذكره في عدة مواضع من تفسيره، وفي البداية والنهاية، وسأذكر هذه المواضع أثناء البحث.

(2) سير أعلام النبلاء 23/ 128.

(3) نقل عنه في عدة مواضع في كتاب حادي الأرواح، وفي كتب أخرى، وسيأتي الإشارة إليها بالتفصيل في التعليق على الأحاديث.

(4) وهم معظم من ترجم له، فيذكرون هذا الكتاب من مصنفاته.

গ্রন্থের পরিচিতি

গ্রন্থের নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রমাণ:

গ্রন্থটির নামকরণ এবং এর লেখক যিয়া আল-মাকদিসীর প্রতি এর সম্পৃক্ততা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এর কারণগুলো হলো:

১ - গ্রন্থের শিরোনামে এবং পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান শ্রবণ-লিপিসমূহে (সামা'আত) এই নাম ও সম্পৃক্ততার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

২ - বহু আলেম গ্রন্থটিকে যিয়া আল-মাকদিসীর প্রতি সম্পৃক্ত করে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম ইবনে কাসীর(১), আয-যাহাবী(২), ইবনুল কায়্যিম(৩) এবং অন্যান্যরা(৪)।

৩ - এই গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা যিয়া আল-মাকদিসী তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও একই সনদে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে «আল-আহাদিসুল মুখতারা» গ্রন্থে, যা তখরিজ (উৎস নির্দেশ) অংশে বিস্তারিত আসবে।

--------------------------------------------

(১) তিনি তাঁর তাফসীরের বিভিন্ন স্থানে এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আলোচনার মধ্যে আমি এই স্থানগুলো উল্লেখ করব।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১২৮।

(৩) তিনি 'হাদিউল আরওয়াহ' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এবং অন্যান্য গ্রন্থেও এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। হাদিসসমূহের টীকা প্রদানের সময় বিস্তারিতভাবে এর উল্লেখ করা হবে।

(৪) তাঁরা হলেন তাঁদের অধিকাংশ যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁরা এই গ্রন্থটিকে তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٦)
4. أن الشيوخ المذكورين في هذا الجزء هم شيوخ الضياء المقدسي.

5 - أن غير واحد من العلماء نقل عن الضياء أحاديث وعزوها إليه في «صفة الجنة»، وهي موجودة في هذا الجزء الذي بين أيدينا، كما سيأتي في التخريج.

 

‌‌أهمية الكتاب:

تتجلى أهمية هذا الكتاب في عدة أمور:

1 - أهمية مؤلفه وإجماع العلماء على الثناء عليه وعلى تصانيفه، كما تقدم.

2 - أن الكتاب مروي بالأسانيد، وهذه ميزة كبرى للكتاب.

3 - أن المؤلف كان يتكلم على تصحيح هذه الأحاديث وتضعيفها، أو ما قيل فيها من تفرد أو إعلال، ونحو هذا، بعد الحديث مباشرة.

4 - اعتماد بعض الأئمة ممن جاء بعده على أقواله في هذا الكتاب، ونقلها عنه، وعدم تعقبهم عليه، كما في كثير من النقول التي نقلها عنه ابن كثير، وابن القيم، وقد أشرت إليها في أماكنها.

5 - أنه أحد الكتب القليلة المروية بالإسناد في هذا الموضوع، حيث لم يطبع قبله إلا كتاب «صفة الجنة» لابن أبي الدنيا، و «صفة الجنة» لأبي نعيم الأصبهاني.

6 - أنه كان يروي بعض الأحاديث من طريق مؤلفين فقدت كتبهم أو بعضها، كروايته من طريق ابن مردويه في تفسيره، والطبراني في القسم المفقود من «المعجم الكبير»، مما سيأتي بيانه في التخريج.
৪. এই অংশে উল্লিখিত শাইখগণ হলেন জিয়া আল-মাকদিসীর শাইখবৃন্দ।

৫ - একাধিক আলিম জিয়া (আল-মাকদিসী) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ‘সিফাতুল জান্নাহ’ গ্রন্থের দিকে সেগুলো সম্বন্ধ করেছেন, আর তা আমাদের সামনে থাকা এই অংশেই বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি সামনে তাখরিজে আসবে।

 

‌‌গ্রন্থের গুরুত্ব:

এই গ্রন্থের গুরুত্ব কয়েকটি বিষয়ে পরিলক্ষিত হয়:

১ - এর লেখকের গুরুত্ব এবং তাঁর ও তাঁর রচনাবলির প্রশংসার ব্যাপারে আলিমদের ঐকমত্য, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - গ্রন্থটি সনদসহ বর্ণিত হয়েছে, আর এটি এই কিতাবের একটি বড় বৈশিষ্ট্য।

৩ - লেখক হাদিসের পরপরই সরাসরি সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে অথবা সেগুলোর একক বর্ণনা কিংবা দোষত্রুটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

৪ - তাঁর পরবর্তী বহু ইমামের এই কিতাবে বর্ণিত তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা, তাঁর থেকে সেগুলো উদ্ধৃত করা এবং সেগুলোর ওপর কোনো আপত্তি না করা; যেমনটি ইবনে কাসির ও ইবনুল কায়্যিম কর্তৃক তাঁর থেকে উদ্ধৃত অনেক বর্ণনায় দেখা যায়, যা আমি স্ব-স্ব স্থানে নির্দেশ করেছি।

৫ - এই বিষয়ে সনদসহ বর্ণিত হাতেগোনা কয়েকটি কিতাবের মধ্যে এটি একটি; কেননা এর পূর্বে ইবনে আবিদ দুনিয়ার ‘সিফাতুল জান্নাহ’ এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানীর ‘সিফাতুল জান্নাহ’ ছাড়া অন্য কিছু মুদ্রিত হয়নি।

৬ - তিনি এমন কিছু লেখকের সূত্রেও হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের কিতাবসমূহ বা কিতাবের কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছে; যেমন তাঁর ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসির থেকে এবং তাবারানির ‘আল-মু’জামুল কাবির’-এর হারিয়ে যাওয়া অংশ থেকে বর্ণনা করা, যার বিবরণ তাখরিজে সামনে আসবে।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مصادره في الكتاب:

من خلال عملي في الكتاب تبين لي أن المؤلف اعتمد على بعض مؤلفات من سبقه، ومن المؤلفات التي تبين لي أنه استفاد منها، ونقل عنها:

1 - مسند الإمام أحمد.

2 - معاجم الطبراني الثلاثة.

3 - كتاب البعث لابن أبي داود.

4 - الترغيب والترهيب لقوام السنة الأصبهاني.

5 - صفة الجنة، لابن أبي الدنيا.

6 - صفة الجنة، لأبي نعيم الصبهاني.

7 - فوائد تمام الرازي.

8 - مسند أبي يعلى الموصلي.

9 - الغيلانيات، لأبي بكر الشافعي.

وقد أشرت في بداية تخريج كل حديث إلى المصدر الذي استفاد منه المؤلف، وموضعه فيه.

 

‌‌منهج المؤلف في الكتاب:

من خلال هذا الجزء الذي وقفت عليه من الكتاب تتضح بعض الملامح العامة لمنهج المؤلف فيه، ويمكن إجمالها فيما يلي:

1 - أنه يسوق جميع الأحاديث بإسناده، إلا أن تكون قد تقدمت عنده من قبل، فهنا يذكر الرواية ويحيل إلى إخراجه لها فيما سبق، كما فعل في الأحاديث رقم (10، 11).

2 - أنه قد جعل عناوين للأبواب، وأورد تحتها ما يدخل تحت هذا العنوان.
‌গ্রন্থে তাঁর ব্যবহৃত উৎসসমূহ:

গ্রন্থটি সম্পাদনার মাধ্যমে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, লেখক তাঁর পূর্ববর্তী কিছু রচনার ওপর নির্ভর করেছেন। যেসব রচনা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন এবং উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - মুসনাদে ইমাম আহমাদ।

২ - তাবারানীর তিনটি মু'জাম।

৩ - ইবনে আবি দাউদের 'কিতাবুল বা’স'।

৪ - কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানীর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব'।

৫ - ইবনে আবিদ দুনিয়ার 'সিফাতুল জান্নাহ'।

৬ - আবু নুয়াইম আল-আসবাহানীর 'সিফাতুল জান্নাহ'।

৭ - তাম্মাম আর-রাজীর 'ফাওয়াইদ'।

৮ - আবু ইয়া’লা আল-মাওসিলীর 'মুসনাদ'।

৯ - আবু বকর আশ-শাফি’য়ীর 'আল-গাইলানিইয়াত'।

আমি প্রতিটি হাদিসের তাখরিজের শুরুতে লেখক যে উৎস থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেখানে তার অবস্থান উল্লেখ করেছি।

 

‌‌গ্রন্থে লেখকের কর্মপদ্ধতি:

গ্রন্থের এই অংশটি পর্যালোচনার মাধ্যমে লেখকের কর্মপদ্ধতির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়েছে, যা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:

১ - তিনি প্রতিটি হাদিসই স্বীয় সনদসহ বর্ণনা করেছেন, তবে যদি কোনো হাদিস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং পূর্বে বর্ণিত স্থানের দিকে নির্দেশ করেন; যেমনটি তিনি ১০ ও ১১ নম্বর হাদিসের ক্ষেত্রে করেছেন।

২ - তিনি অধ্যায়ের শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন এবং সেই শিরোনামের অধীনে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٨)
3. أنه غالباً يخرج الحديث، فيذكر من أخرجه من الأئمة، ويذكر مداره عندهم.

4 - أنه غالباً يتكلم على الأحاديث من حيث الصحة والضعف، أو بيان علل الحديث، أو الكلام على رجاله، ونحو ذلك من الفوائد، ما جعل غير واحد ممن جاء بعده يعتمد كلامه هذا، كما تقدم.

5 - أنه غالباً ينقل عن بعض الأئمة كلامهم على الأحاديث، ومن أكثر من نقل عنه الإمام الترمذي، والإمام الطبراني رحمهما الله.

 

‌‌وصف النسخة الخطية:

لم أقف لهذا الكتاب إلا على جزء منه، وهو الجزء الثالث، ونسخته محفوظة في المكتبة الظاهرية ضمن مجموع رقم (103) (77، 91).

وعنها مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية رقم 2088/ م.

وتقع في 15 ورقة.

وكتبت بخط واضح في الغالب.

وجاء في صفحة العنوان: «الجزء الثالث من كتاب صفة الجنة، تأليف الشيخ الإمام العالم الحافظ أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن عبد الرحمن المقدسي».

وجاء في نهايتها: «آخر الجزء الثالث من صفة الجنة، ويتلوه: ذكر الزيادة في الجنة، والحمد لله وحده، وصلواته على محمد النبي وآله»

وقد كتب بعدها بعض السماعات، وهي قليلة، وفي أحدها أنها قرئت على المؤلف سنة 626 هـ.

وجاء في أحد السماعات أن الكتاب يقع في خمسة أجزاء.
৩. তিনি প্রায়শই হাদিস তাখরিজ করেন, অতঃপর ইমামগণের মধ্যে কে তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেন এবং তাদের নিকট এর মাদার (কেন্দ্রীয় বর্ণনাকারী) উল্লেখ করেন।

৪ - তিনি সাধারণত হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা, অথবা হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা, অথবা এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে আলোচনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য ফায়দা নিয়ে আলোচনা করেন, যা তাঁর পরবর্তী একাধিক আলেমকে তাঁর এই বক্তব্যের ওপর নির্ভর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৫ - তিনি প্রায়শই হাদিসের ব্যাপারে কিছু ইমামের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন; যাদের থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন তাঁরা হলেন ইমাম তিরমিজি এবং ইমাম তাবারানি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)।

 

‌পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

আমি এই কিতাবের কেবল একটি অংশই পেয়েছি, যা হলো তৃতীয় খণ্ড। এর পাণ্ডুলিপি মাকতাবাতুত জাহিরিয়্যায় মাজমু' নম্বর (১০৩) (৭৭, ৯১) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এবং এর একটি অনুলিপি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ২০৮৮/ ম নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

এটি ১৫টি পাতায় বিন্যস্ত।

এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে।

শিরোনামের পাতায় বর্ণিত হয়েছে: «সিফাতুল জান্নাহ কিতাবের তৃতীয় খণ্ড, লেখক শায়খ ইমাম আলেম হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি»।

এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: «সিফাতুল জান্নাহ-এর তৃতীয় খণ্ডের সমাপ্তি, এরপরে আসবে: জান্নাতে বৃদ্ধির আলোচনা। সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, আর তাঁর সালাত বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর»

এর পরে কিছু শ্রবণের নোট (সামাআত) লেখা হয়েছে, যা সংখ্যায় অল্প। তার একটিতে উল্লেখ রয়েছে যে, এটি ৬২৬ হিজরি সনে লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছে।

শ্রবণের নোটগুলোর একটিতে এসেছে যে, কিতাবটি পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٩)
كما وقفت على نسخة مختصرة للكتاب كاملاً، وهي مجردة من الأسانيد، وقد طبعت بتحقيق الأخ الفاضل صبري سلامة شاهين، وصدرت عن مكتبة بلنسية، في الرياض، عام 1423 هـ.

وتبين لي سقوط بعض الأحاديث من هذه النسخة المختصرة، وهي الأحاديث بعد رقم (139)، حيث يلاحظ عدم ملائمة العنوان للحديث الذي بعده برقم (140).

ويقابلها في هذا الجزء الأحاديث التي بعد الحديث رقم (34)، فجميع الأحاديث التي بعده، حتى نهاية الجزء ليست في النسخة المختصرة المطبوعة.

وقد استفدت من هذه النسخة المطبوعة في تصحيح بعض الكلمات، وأشرت إلى ذلك في الهامش.

وأشار د. محمد الحافظ إلى وجود نسخة في المتحف البريطاني، والفاتيكان فيدا (5/ 1459)(1)، ولم أتمكن من الحصول عليها.

 

‌‌منهج التحقيق:

1 - نسخت المخطوط مراعياً قواعد الإملاء الحديثة.

2 - صححت ما وقع في النص من خطأ بين أو سقط، مستفيداً من النسخة المختصرة للكتاب، ومن مصادر التخريج.

3 - قمت بعزو الآيات القرآنية في الهامش.

4 - اجتهدت في معرفة مصادر المصنف في كل حديث أخرجه، وذكرت ذلك في بداية التخريج.

--------------------------------------------

(1) التنويه والتبيين (ص 337).

আমি সম্পূর্ণ বইটির একটি সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা সনদসমূহ থেকে মুক্ত। এটি শ্রদ্ধেয় ভাই সাবরি সালামাহ শাহীনের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৪২৩ হিজরি সনে রিয়াদের মাকতাবাতু বালানসিয়াহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি থেকে কিছু হাদিস বাদ পড়েছে, আর সেগুলো হলো ১৩৯ নম্বর হাদিসের পরবর্তী হাদিসসমূহ। কারণ দেখা যায় যে, শিরোনামটি তার পরবর্তী ১৪০ নম্বর হাদিসের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

এই খণ্ডে এর বিপরীতে রয়েছে ৩৪ নম্বর হাদিসের পরবর্তী হাদিসসমূহ। সুতরাং এর পরবর্তী থেকে খণ্ডের শেষ পর্যন্ত সমস্ত হাদিস উক্ত মুদ্রিত সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নেই।

আমি কিছু শব্দের সংশোধনের ক্ষেত্রে এই মুদ্রিত সংস্করণটি থেকে উপকৃত হয়েছি এবং আমি পাদটীকায় তা উল্লেখ করেছি।

ড. মুহাম্মাদ আল-হাফিজ ব্রিটিশ মিউজিয়াম এবং ভ্যাটিকান ফিডায় (৫/১৪৫৯)(১) একটি পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি।

 

‌‌সম্পাদনা পদ্ধতি:

১ - আমি আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করে পাণ্ডুলিপিটি প্রতিলিপি করেছি।

২ - আমি মূল পাঠে ঘটে যাওয়া সুস্পষ্ট ভুল বা বাদ পড়া অংশ সংশোধন করেছি, এক্ষেত্রে আমি গ্রন্থটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ এবং তাখরিজের উৎসসমূহ থেকে সাহায্য নিয়েছি।

৩ - আমি পাদটীকায় কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

৪ - গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত প্রতিটি হাদিসের উৎস নির্ধারণে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং তাখরিজের শুরুতেই তা উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(১) আত-তানবিহ ওয়াত তাবিইন (পৃ. ৩৩৭)।

(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٠)
5. قمت بتخريج الأحاديث الواردة في الكتاب والحكم عليها، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بهما، وإن لم يكن فيهما حاولت التوسع في التخريج بما يخدم الحكم على الحديث.

وقد أحيل في الهامش إلى مصادر توسعت في التخريج، ليرجع إليها من أراد التوسع، وخاصة إذا كان الحديث في الصحيحين، أو كان له طرق أخرى كثيرة غير الطريق التي أخرجها المؤلف.

6 - قدمت للكتاب بدراسة موجزة عن المؤلف، ودراسة عن الكتاب.

7 - صنعت فهارس للأحاديث والمراجع.
৫. আমি কিতাবটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) করেছি এবং সেগুলোর মান নিরূপণ করেছি। যদি হাদিসটি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এ দুটির কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি। আর যদি সেগুলোতে না থাকে, তবে হাদিসটির মান নিরূপণের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন তাখরিজের পরিধি ততটুকু বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছি।

যিনি বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তিনি যেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, সেজন্য টীকায় এমন সব উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে যেখানে বিস্তারিত তাখরিজ করা হয়েছে; বিশেষ করে যখন হাদিসটি সহীহাইনে থাকে অথবা লেখক যে সূত্রটি উল্লেখ করেছেন তা ছাড়াও হাদিসটির আরও অনেক সূত্র থাকে।

৬ - আমি গ্রন্থটির শুরুতে লেখক ও গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করেছি।

৭ - আমি হাদিস এবং তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

والحمد لله وصلى الله على محمد النبي وآله

قرأت على شيخنا الإمام العالم الحافظ الثقة الناقد بقية الحفاظ أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد المقدسي، في صفر من سنة تسع وثلاثين وستمائة:

 

‌‌ذكر فرش أهل الجنة

نسأل الله من فضله بفضله

 

1 - أخبرنا زاهر بن أحمد بن حامد الضرير رحمه الله بأصبهان، أن سعيد بن أبي الرجاء أخبرهم، أخبرنا منصور بن الحسين بن علي بن القاسم، أخبرنا أبو بكر بن المقرئ، أخبرنا محمد بن الحسن بن قتيبة العسقلاني، حدثنا حرّملة بن يحيى التّجيبي، أخبرنا ابن وهب، أخبرنا عمرو، أن دراجاً حدثه عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ}(1)

--------------------------------------------

(1) الواقعة (34).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।

আমি আমাদের শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য, পর্যালোচক এবং হাফিজদের উত্তরসূরি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসির নিকট ৬৩৯ হিজরি সনের সফর মাসে পাঠ করেছি:

 

‌‌জান্নাতবাসীদের বিছানার বর্ণনা

আমরা তাঁর অনুগ্রহে তাঁরই নিকট প্রার্থনা করছি।

 

১ - ইসফাহানে জাহির বিন আহমদ বিন হামিদ আদ-দাবির (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ বিন আবিল রাজা তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, মানসুর বিন হুসাইন বিন আলি বিন আল-কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন কুতাইবা আল-আসকালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারমালা বিন ইয়াহইয়া আত-তুজিবি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, দাররাজ তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {এবং সুউচ্চ শয্যাসমূহ}(১)

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াকিআ (৩৪)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٦)
قال: «والذي نفسي بيده وإن ارتفاعها(1) لكما بين السماء والأرض، وإن ما بين السماء والأرض مسيرة خمسمائة عام»(2).

رواه الترمذي(3) بنحوه عن أبي كريب، عن رُشدين، عن عمرو وهو ابن الحارث.

وقال: «هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث رشدين بن سعد».

وروايتنا من غير رواية رشدين.

وقال الترمذي: «و قال بعض أهل العلم في تفسير هذا الحديث: إن معناه الفُرُش في الدرجات، وبين الدرجات كما بين السماء والأرض»(4).

--------------------------------------------

(1) وقع في المخطوط (وارتفاعها) وضبب عليها، ولم يظهر تصحيحها في هامش المصورة التي عندي، وما أثبته من المختصر، ومصادر التخريج.

(2) عزاه إلى المؤلف في صفة الجنة ابن كثير في تفسيره 7/ 531.

وأخرجه ابن حبان 16/ 418 (7405)، من طريق حرملة بن يحيى به.

وأخرجه الطبري 22/ 319، وابن أبي حاتم في تفسيره (كما في تفسير ابن كثير 7/ 531)، وأبو الشيخ في العظمة 2/ 678 (272)، والبيهقي في البعث والنشور (342) من طرق أخرى عن ابن وهب به.

وأخرجه الترمذي 4/ 302 (2540)، وفي 5/ 323 (3294)، والطبري 22/ 319، وأبو الشيخ في العظمة 3/ 1096 (593)، والبغوي في تفسيره 4/ 283، من طريق أبي كريب عن رشدين، عن عمرو به.

وأخرجه أحمد 18/ 247 (11719)، وابن أبي الدنيا في صفة الجنة (155)، وأبو يعلى 2/ 528 (1395)، وأبو نعيم في صفة الجنة 3/ 202 (357)، من طريق ابن لهيعة، عن دراج به.

وإسناده ضعيف؛ فيه دراج وهو ضعيف في روايته عن أبي الهيثم عن أبي سعيد كما ذكر الإمام أحمد وغيره (تهذيب الكمال 8/ 479).

(3) جامع الترمذي (2540، 3294).

(4) هذا النقل من المؤلف عن الترمذي في الموضع الأول، وقال الترمذي في الموضع الثاني: (و قال بعض أهل العلم: معنى هذا الحديث: وارتفاعها كما بين السماء والأرض، قال: ارتفاع الفرش المرفوعة في الدرجات والدرجات ما بين كل درجتين كما بين السماء والأرض).
তিনি বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই এটির উচ্চতা(১) আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়, আর আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশত বছরের পথ»(২)।

তিরমিযী(৩) এটি আবু কুরাইব থেকে, তিনি রুশদীন থেকে, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং তিনি বলেছেন: «এটি একটি গরীব হাদীস, রুশদীন বিন সা’দ-এর বর্ণনা ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই»।

আর আমাদের বর্ণনাটি রুশদীনের বর্ণনা ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে।

এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন: «কোন কোন আলিম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এর অর্থ হলো বিভিন্ন স্তরের বিছানা বা আসনসমূহ, আর এক স্তর থেকে অন্য স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়»(৪)।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে (وارتفاعها) শব্দটির উপর অস্পষ্টতার চিহ্ন রয়েছে এবং আমার কাছে থাকা ফটোকপির পার্শ্বটীকায় এর কোনো সংশোধন পাওয়া যায়নি। আমি এটি আল-মুখতাসার এবং তখরীজের উৎসসমূহ থেকে নিশ্চিত করেছি।

(২) ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে ৭/৫৩১ অংশে 'সিফাতুল জান্নাত'-এর লেখকের বরাতে এটি উল্লেখ করেছেন।

ইবনে হিব্বান ১৬/৪১৮ (৭৪০৫) হারমালাহ বিন ইয়াহইয়ার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাবারী ২২/৩১৯, ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসীরে (যেমনটি ইবনে কাসীরের তাফসীরে ৭/৫৩১ বর্ণিত হয়েছে), আবুশ শাইখ ‘আল-আযামাহ’ ২/৬৭৮ (২৭২) এবং বায়হাকী ‘আল-বাস ওয়া আন-নুশুর’ (৩৪২) গ্রন্থে ইবনে ওয়াহাব থেকে অন্যান্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী ৪/৩০২ (২৫৪০) এবং ৫/৩২৩ (৩২৯৪), তাবারী ২২/৩১৯, আবুশ শাইখ ‘আল-আযামাহ’ ৩/১০৯৬ (৫৯৩) এবং বাগভী তাঁর তাফসীরে ৪/২৮৩ অংশে আবু কুরাইবের সূত্রে রুশদীন থেকে, তিনি আমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ১৮/২৪৭ (১১৭১৯), ইবনে আবিদ দুনইয়া ‘সিফাতুল জান্নাহ’ (১৫৫), আবু ইয়া’লা ২/৫২৮ (১৩৯৫) এবং আবু নুয়াইম ‘সিফাতুল জান্নাহ’ ৩/২০২ (৩৫৭) গ্রন্থে ইবনে লাহীআহ-এর সূত্রে দাররাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর সনদটি যঈফ বা দুর্বল; এতে দাররাজ রয়েছেন এবং আবু হাইসাম থেকে তাঁর বর্ণনা দুর্বল, যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন (তাহযীবুল কামাল ৮/৪৭৯)।

(৩) জামে তিরমিযী (২৫৪০, ৩২৯৪)।

(৪) লেখকের এই উদ্ধৃতিটি তিরমিযীর প্রথম স্থান থেকে নেওয়া হয়েছে। আর তিরমিযী দ্বিতীয় স্থানে বলেছেন: (কোন কোন আলিম বলেছেন: এই হাদীসের অর্থ হলো: ‘এবং তার উচ্চতা যেমন আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব’। তিনি বলেছেন: উচ্চতা হলো স্তরে স্তরে উন্নীত বিছানাগুলোর উচ্চতা, আর প্রতি দুই স্তরের মাঝে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় ব্যবধান রয়েছে)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌ذكر صفة أهل الجنة وصفة كلامهم

نسأل الله الجنة بفضل رحمته

 

2 - أخبرنا الإمام الزاهد أبو عليّ عمر بن علي بن عمر الواعظ قراءة عليه بالجزيرة، قال: أخبركم أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد قراءة عليه فأقرّ به، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي بن المذهّب، أخبرنا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان القَطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، عن همّام، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته(1)، طوله ستون ذراعاً، فلما خلقه قال له: اذهب فسلم على أولئك النّفر وهم نَفر من الملائكة جلوس فاستمع ما يحيونك، فإنها تحيتك وتحية ذريتك. قال: فذهب، فقال: السلام عليكم. فقالوا: السلام عليك ورحمة الله. فزادوه: ورحمة الله. قال: فكل من يدخل الجنة على صورة آدم، وطوله ستون ذراعاً، فلم يزل ينقص الخلق بعد حتى الآن»(2).

صحيح من حديث همّام بن مُنبّه بن كامل الصَنعاني، من أبناء الفرس، يُكنى بأبي عقبة، أخي وهب بن منبه.

أخرجه البخاري في الاستئذان(3)، عن يحيى بن جعفر.

--------------------------------------------

(1) انظر للكلام بتوسع حول الحديث كتاب الشيخ حمود التويجري رحمه الله عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن.

(2) أخرجه المؤلف من طريق الإمام أحمد، وهو عنده في مسنده 13/ 504 (8171)، وانظر تمام تخريجه في هامشه.

(3) صحيح البخاري (6227)، وأخرجه أيضاً في كتاب أحاديث الأنبياء (3326).
জান্নাতবাসীদের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের কথোপকথনের বর্ণনা

আমরা আল্লাহর করুণার উসিলায় তাঁর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করি।

 

২ - ইমাম যাহেদ আবু আলী উমর বিন আলী বিন উমর আল-ওয়ায়েজ জাযিরাতে আমাদের নিকট পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, আবু আলী হাসান বিন আলী বিন আল-মুযাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন(১), তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে বললেন: যাও এবং ওই দলটিকে সালাম দাও—তারা ছিল ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল—অতঃপর তারা তোমাকে কী সম্ভাষণ জানায় তা মন দিয়ে শোনো; কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন। তিনি (আদম) গিয়ে বললেন: আস-সালামু আলাইকুম (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তারা বললেন: আস-সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ (আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। তারা 'ওয়া রাহমাতুল্লাহ' (আল্লাহর রহমত) অংশটুকু বৃদ্ধি করে বললেন। সুতরাং যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের আকৃতিতে এবং ষাট হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট হয়েই প্রবেশ করবে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সৃষ্টির (আকার) ক্রমাগতভাবে ছোট হয়ে আসছে»(২)।

এটি পারস্য বংশোদ্ভূত হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ বিন কামিল আস-সানআনী-এর বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস, যাঁর উপনাম আবু উকবা এবং তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ-এর ভাই।

বুখারি এটি ইয়াহইয়া বিন জাফর থেকে 'আল-ইস্তিযান' (অনুমতি গ্রহণ) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসের বিস্তারিত আলোচনার জন্য শেখ হামুদ আত-তুয়াইজিরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আকীদাতু আহলিল ঈমান ফী খালকি আদামা আলা সুরাতির রহমান' (রহমানের আকৃতিতে আদম সৃষ্টির বিষয়ে মুমিনদের আকিদা) গ্রন্থটি দেখুন।

(২) লেখক এটি ইমাম আহমদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর মুসনাদে (১৩/৫০৪, হাদিস নং ৮১৭১) বর্ণিত হয়েছে; এর পূর্ণ তাহরিকের জন্য পাদটীকা দেখুন।

(৩) সহিহ বুখারি (৬২২৭), এছাড়াও তিনি এটি 'কিতাব আহাদিসিল আম্বিয়া' (নবীদের হাদিসসমূহ অধ্যায়) তে বর্ণনা করেছেন (৩৩২৬)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٨)
ورواه مسلم في صفة الجنة(1)، عن محمد بن رافع.

كلاهما عن عبد الرزاق بنحوه.

واتفقا على ذكر الصورة.

 

3 - قُرئ على أبي القاسم عبد الواحد بن القاسم بن الفضل بن عبد الواحد الصّيدلاني، ونحن نسمع بأصبهان، أخبرتكم فاطمة بنت عبد الله الجوزذانية، فأقرّ به، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن ريذة، أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني، حدثنا محمد بن طاهر بن خالد بن أبي الدّميك البغدادي، حدثنا عبيد الله بن محمد بن عائشة التّيمي، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد بن جدعان، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل أهل الجنة الجنة جُرْداً(2) مُرداً بيضاً جِعَاداً(3) مُكحلين، أبناء ثلاث وثلاثين، وهم على خَلق آدم: ستون ذراعاً في عرض سبعة أذرع»(4).

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم (2841).

(2) الأجرد: الذي ليس على بدنه شعر، ويعني: أنهم مشرقي الجسد (النهاية 1/ 256).

(3) الجعد من الشعر: خلاف السبط، أو القصير منه (القاموس المحيط (ص 348).

(4) أخرجه المؤلف من طريق الطبراني، وهو عنده في المعجم الأوسط 6/ 201 (5418)، وفي الصغير 2/ 75 (808).

وأخرجه ابن عدي 5/ 1842 ومن طريقه البيهقي في البعث والنشور (464).

وأبو الشيخ في العظمة 3/ 1096 (594).

كلاهما عن محمد بن طاهر به.

وأخرجه أبو نعيم في صفة الجنة 2/ 102 (255)، من طريق أبي مسلم الكشي عن ابن عائشة.

وابن أبي شيبة 13/ 114 (15853) ومن طريقه البغوي في تفسيره 4/ 284، ورواه أحمد 13/ 315 (7933) ومن طريقه ابن بشران في أماليه 1/ 40 (44)، ورواه ابن أبي الدنيا في صفة الجنة (15)، وابن أبي داود في البعث (63)، من طريق يزيد بن هارون.

وأحمد 14/ 210 (8524)، و 15/ 220 (9375)، عن عفان.

وأحمد 16/ 532 (10913)، عن روح.

وأبو نعيم في صفة الجنة 2/ 102 (255)، والبيهقي في البعث والنشور (463)، من طريق هدبة بن خالد.

وتابعهم آدم بن أبي إياس، كما في علل ابن أبي حاتم (2138).

كلهم عن حماد بن سلمة به نحوه.

وخالفهم يحيى بن السكن، وأبو سلمة؛ فروياه عن حماد عن علي عن سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً:

أخرجه ابن سعد في الطبقات 1/ 32، عن يحيى بن السكن.

وذكره ابن أبي حاتم في العلل (2138)، من رواية أبي سلمة.

كلاهما عن حماد به.

وقال أبو حاتم عن رواية أبي سلمة وآدم: «جميعاً صحيحين، قصّر أبو سلمة».

قلت: ومداره في الوجهين على علي بن زيد، وهو ضعيف، فلعله اضطرب فيه فكان يحدث بالوجهين معاُ، وقد تفرد بزبادة لم ترد في الأحاديث الأخرى، وهي قوله: (في سبع أذرع).

وقد ورد لبعض الحديث دون هذه الزيادة شواهد تقدم أحدها وسيأتي بعضها الآخر، فهو حسن بطرقه وشواهده دون هذه الزيادة، والله أعلم.
এবং ইমাম মুসলিম এটি জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়ে(১) মুহাম্মদ ইবনে রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন।

তারা উভয়েই আব্দুর রাজ্জাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং তারা উভয়েই (সুরাত বা অবয়ব) উল্লেখ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

 

৩ - আবুল কাসেম আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল কাসেম ইবনুল ফাদল ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাইদালানির কাছে পাঠ করা হয়েছে, আর আমরা ইস্পাহানে তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়া আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিযাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে খালিদ ইবনে আবুদ দামিক আল-বাগদাদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইশাহ আত-তাইমি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে লোমহীন দেহে, দাড়িহীন অবস্থায়, শ্বেতশুভ্র বর্ণে, কোঁকড়ানো চুলে এবং সুরমা মাখা চোখে। তাদের বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তারা আদমের আকৃতিতে হবে: লম্বায় ষাট হাত এবং প্রস্থে সাত হাত»(৪)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম (২৮৪১)।

(২) আল-আজরাদ: যার শরীরে কোনো লোম নেই, এর অর্থ হলো: তাদের শরীর হবে উজ্জ্বল (আন-নিহায়াহ ১/ ২৫৬)।

(৩) আল-জা'দ (চুলের ক্ষেত্রে): সোজা চুলের বিপরীত, অথবা ছোট কোঁকড়ানো চুল (আল-কামুস আল-মুহিত, পৃষ্ঠা ৩৪৮)।

(৪) লেখক এটি তাবারানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি তার আল-মুজামুল আওসাত ৬/ ২০১ (৫৪১৮) এবং আস-সাগীর ২/ ৭৫ (৮০৮) গ্রন্থে রয়েছে।

ইবনে আদি ৫/ ১৮৪২ এবং তার সূত্রে আল-বাইহাকি আল-বাস ওয়ান নুশুর (৪৬৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আবুশ শাইখ আল-আজামাহ ৩/ ১০৯৬ (৫৯৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তারা উভয়েই মুহাম্মদ ইবনে তাহির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু নুআইম সিফাতুল জান্নাহ ২/ ১০২ (২৫৫) গ্রন্থে আবু মুসলিম আল-কাশশি-এর সূত্রে ইবনে আইশাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শায়বাহ ১৩/ ১১৪ (১৫৮৫৩) এবং তার সূত্রে আল-বাগাওয়ি তার তাফসিরে ৪/ ২৮৪ বর্ণনা করেছেন। আহমদ এটি ১৩/ ৩১৫ (৭৯৩৩) এবং তার সূত্রে ইবনে বিশরান তার আমালিতে ১/ ৪০ (৪৪) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবিদ দুনিয়া সিফাতুল জান্নাহ (১৫) এবং ইবনে আবি দাউদ আল-বাস (৬৩) গ্রন্থে ইয়াযিদ ইবনে হারুনের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আহমদ ১৪/ ২১০ (৮৫২৪) এবং ১৫/ ২২০ (৯৩৭৫) আফফানের সূত্রে।

আহমদ ১৬/ ৫৩২ (১০৯১৩) রুহ এর সূত্রে।

আবু নুআইম সিফাতুল জান্নাহ ২/ ১০২ (২৫৫) এবং বাইহাকি আল-বাস ওয়ান নুশুর (৪৬৩) গ্রন্থে হুদবাহ ইবনে খালিদের সূত্রে।

আদম ইবনে আবি ইয়াস তাদের অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইবনে আবি হাতিমের 'ইলাল' (২১৩৮) গ্রন্থে রয়েছে।

তারা সবাই হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে আস-সাকান এবং আবু সালামাহ তাদের বিরোধিতা করেছেন; তারা হাম্মাদ থেকে, তিনি আলি থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

ইবনে সাদ আত-তাবাকাত ১/ ৩২ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে আস-সাকান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম আল-ইলাল (২১৩৮) গ্রন্থে আবু সালামাহর বর্ণনা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

উভয়েই হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম আবু সালামাহ ও আদমের বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন: «উভয়ই সহীহ, তবে আবু সালামাহ সংক্ষিপ্ত করেছেন»।

আমি বলছি: উভয় বর্ণনার মূল কেন্দ্র হলো আলি ইবনে যাইদ, এবং তিনি দুর্বল। সম্ভবত তিনি এতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তাই তিনি উভয়ভাবেই বর্ণনা করতেন। তিনি এমন একটি বর্ধিত অংশ এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা অন্য হাদীসগুলোতে আসেনি, আর তা হলো তার কথা: (প্রস্থে সাত হাত)।

এই হাদীসের কিছু অংশের জন্য এই বর্ধিত অংশটি ব্যতীত অন্য সাক্ষী (শাওয়াহিদ) বিদ্যমান রয়েছে যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনে আরও কিছু আসবে। সুতরাং এটি এর বিভিন্ন সূত্র ও সাক্ষীর মাধ্যমে 'হাসান' পর্যায়ের, তবে এই বর্ধিত অংশটুকু ছাড়া। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ١٩)
رواه الإمام أحمد في مسنده، عن يزيد بن هارون(1)، وعفّان بن مُسلم(2)، عن حماد بن سلمة.

قيل: تفرّد به حماد بن سلمة عن علي بن زيد بن جدعان، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) المسند 13/ 315 (7933)،

(2) المسند 14/ 210 (8524)، و 15/ 220 (9375).
ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে ইয়াযীদ ইবনে হারুন(১) এবং আফফান ইবনে মুসলিম(২) থেকে, তাঁরা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

বলা হয়েছে: আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন থেকে এটি বর্ণনায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ একক হয়েছেন, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ ১৩/ ৩১৫ (৭৯৩৩),

(২) মুসনাদ ১৪/ ২১০ (৮৫২৪) এবং ১৫/ ২২০ (৯৩৭৫)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
4 - أخبرنا أبو جعفر محمد بن أحمد بن نصر الصيدلاني بأصبهان، أن فاطمة بنت عبد الله أخبرتهم، أخبرنا محمد بن ريذة، أخبرنا الطبراني، حدثنا أحمد بن إسماعيل العدوي، حدثنا عمرو بن مرزوق، أخبرنا عمران القطان، عن قتادة، عن شهر بن حَوشب، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ بن جبل، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يدخل أهل الجنة جُرْداً مُرْداً مُكحلين، بني ثلاث وثلاثين»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه المصنف من طريق الطبراني، وهو عنده في المعجم الكبير 20/ 64 (118).

وأخرجه الشاشي في مسنده 3/ 243 (1342)، والخرائطي في إعتلال القلوب 1/ 130 (256)، من طريق عمرو بن مرزوق.

والترمذي 4/ 305 (2545)، وابن أبي الدنيا في صفة الجنة (21)، وأحمد 36/ 420 (22106)، والبزار 7/ 90 (2644)، وأبو نعيم في صفة الجنة 2/ 105 (257)، من طريق أبي داود الطيالسي: سليمان بن داود.

كلاهما عن عمران القطان، عن قتادة به.

وقال الترمذي: «هذا حديث حسن غريب، وبعض أصحاب قتادة رووا هذا عن قتادة مرسلاً ولم يسندوه».

وخالف عمران غير واحد؛ فرووه عن قتادة عن شهر عن معاذ:

أخرجه أحمد 36/ 352 (22024)، من طريق شيبان.

وأحمد أيضاً 36/ 400 (22081، من طريق سعيد بن أبي عروبة.

كلاهما عن قتادة عن شهر عن معاذ.

ورواه شيبان مرة أخرى، عن قتادة، عن شهر، عن معاذ موقوفاً عليه:

أخرجه البيهقي في البعث والنشور (467)، من طريق يونس بن محمد عن شيبان به.

قلت: والوجه الثاني أرجح هذه الأوجه، لأنه من رواية ثقتين، في حين خالفهما عمران في الوجه الأول، وهو ضعيف، وأما الوجه الثالث، فمحتمل، لأنه من رواية شيبان، وهو ثقة، والحمل في هذا الاختلاف على شهر، وهو ضعيف، فلعله كان يحدث بالوجهين معاً.

ولكن خولف سعيد وشيبان، خالفهما معمر؛ فرواه عن قتادة موقوفاً عليه:

أخرجه نعيم بن حماد في روايته للزهد عن ابن المبارك (423).

وعبد الرزاق في روايته للجامع 11/ 416 (20872).

كلاهما (ابن المبارك، عبد الرزاق)، عن معمر، عن قتادة من قوله.

قلت: ولعل راوايتهما أرجح، فهما ثقتان، في مقابل واحد، ومعمر، وإن كان ثقة، إلا أنه ضعيف في رواياته عن قتادة، قال الدارقطني: سيء الحفظ لحديث قتادة والأعمش (موسوعة أقوال الدارقطني 2/ 658).

وإسناده من هذا الوجه الراجح ضعيف، فيه شهر بن حوشب: ضعيف، ولم يلق معاذاً، ولكن ورد له شواهد ترقى به إلى الحسن، كما تقدم، والله أعلم.
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আস-সাইদালানি ইস্পাহানে, যে ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে রিযাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আদাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মারযুক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমরান আল-কাত্তান, কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানাম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে লোমহীন দেহে, দাড়িবিহীন অবস্থায়, চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায়, তেত্রিশ বছর বয়সে»(১)।

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থকার এটি আত-তাবারানির সূত্র থেকে বের করেছেন, এবং এটি তার নিকট 'আল-মু'জামুল কাবীর' ২০/ ৬৪ (১১৮) এ রয়েছে।

এবং এটি বের করেছেন আশ-শাশি তার 'মুসনাদ' ৩/ ২৪৩ (১৩৪২) এ, আল-খারায়েতি 'ই'তিলালুল কুলুব' ১/ ১৩০ (২৫৬) এ, আমর ইবনে মারযুকের সূত্র থেকে।

এবং আত-তিরমিজি ৪/ ৩০৫ (২৫৪৫), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'সিফাতুল জান্নাহ' (২১) এ, আহমাদ ৩৬/ ৪২০ (২২১০৬), আল-বাযযার ৭/ ৯০ (২৬৪৪), আবু নুয়াইম 'সিফাতুল জান্নাহ' ২/ ১০৫ (২৫৭) এ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি: সুলাইমান ইবনে দাউদের সূত্র থেকে।

তারা উভয়ই ইমরান আল-কাত্তান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এই সূত্রে।

আত-তিরমিজি বলেছেন: «এই হাদিসটি হাসান গারীব, এবং কাতাদাহর কিছু ছাত্র এটি কাতাদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটিকে মুসনাদ (সংযুক্ত) করেননি»।

এবং ইমরান অনেকের বিরোধিতা করেছেন; ফলে তারা এটি কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন:

এটি বের করেছেন আহমাদ ৩৬/ ৩৫২ (২২০২৪), শায়বানের সূত্র থেকে।

এবং আহমাদ আরও বের করেছেন ৩৬/ ৪০০ (২২০৮১), সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর সূত্র থেকে।

তারা উভয়ই কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে।

শায়বান এটি আরেকবার বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর থেকে, তিনি মুয়াজের কথা (মাওকুফ) হিসেবে:

এটি বের করেছেন আল-বাইহাকি 'আল-বাস ওয়া আন-নুশুর' (৪৬৭) এ, ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ এর সূত্র থেকে, তিনি শায়বান থেকে।

আমি বলি: দ্বিতীয় দিকটি (সূত্রটি) এসব দিকগুলোর মধ্যে অধিকতর অগ্রগণ্য, কারণ এটি দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনা, যেখানে ইমরান প্রথম দিকটিতে তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি দুর্বল, আর তৃতীয় দিকটি সম্ভাব্য, কারণ এটি শায়বানের বর্ণনা এবং তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে এই পার্থক্যের দায়ভার শাহরের ওপর বর্তায়, এবং তিনি দুর্বল, সম্ভবত তিনি উভয় পদ্ধতিতেই বর্ণনা করতেন।

কিন্তু সাঈদ ও শায়বানের বিরোধিতা করা হয়েছে, তাদের বিরোধিতা করেছেন মা’মার; তিনি এটি কাতাদাহ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

এটি বের করেছেন নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ 'আয-যুহদ' এর বর্ণনায় ইবনুল মুবারক থেকে (৪২৩) এ।

এবং আব্দুর রাজ্জাক তার 'আল-জামি' ১১/ ৪১৬ (২০৮৭২) এ।

তারা উভয়ই (ইবনুল মুবারক, আব্দুর রাজ্জাক), মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহর নিজস্ব উক্তি হিসেবে।

আমি বলি: সম্ভবত তাদের বর্ণনাটিই অধিকতর অগ্রগণ্য, কারণ তারা দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী একজনের বিপরীতে, আর মা’মার যদিও নির্ভরযোগ্য, তবুও কাতাদাহ থেকে তার বর্ণনায় তিনি দুর্বল। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: কাতাদাহ ও আমাশের হাদিসের ক্ষেত্রে তার মুখস্থ শক্তি দুর্বল (মাওসুআতু আকওয়াল আদ-দারাকুতনি ২/ ৬৫৮)।

এবং এই অগ্রগণ্য দিক থেকে এর সনদ দুর্বল, এতে শাহর ইবনে হাওশাব রয়েছেন যিনি দুর্বল, এবং তিনি মুয়াজের সাথে সাক্ষাৎ পাননি, কিন্তু এর জন্য এমন কিছু সাক্ষী বর্ণিত হয়েছে যা একে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢١)
رواه الترمذي(1) في صفة الجنة عن أبي هريرة: محمد بن فِراس البصري، عن أبي داود، عن عمران. وقال: «حديث حسن غريب».

 

5 - أخبرنا يوسف بن هبة الله بن محمود بن الطفيل بالقاهرة، أن محمد بن عمرو بن يوسف أخبرهم، أخبرنا أبو نصر محمد بن محمد بن علي الهاشمي، قال: قرئ على أبي بكر محمد بن عمر بن علي، حدثنا أبو بكر عبد الله بن أبي داود، حدثنا محمود بن خالد، وعباس بن الوليد، قالا: حدثنا عمر، عن الأوزاعي، عن هارون بن رئاب، عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يُبعثُ أهل الجنة على صورة آدم: في ميلاد ثلاث(2) وثلاثين سنة، جُرداً مُرداً مُكحلين، ثم يُذهب بهم إلى شجرة في الجنة فيُكسون منها، لا تبلى ثيابهم، ولا يفنى شبابهم»(3).

--------------------------------------------

(1) الجامع 4/ 305 (2545).

(2) وقع في المخطوط (ثلاثة).

(3) أخرجه المصنف في الأحاديث المختارة 7/ 265 (2717) بنفس إسناده هنا.

وقد أخرجه من طريق ابن أبي داود، وهو عنده في كتاب البعث (64).

كما أخرجه من طريق ابن أبي داود: أبو الشيخ في العظمة 3/ 1079 (584)، وأبو نعيم في صفة الجنة 2/ 104 (255)، وفي الحلية 3/ 56.

وأخرجه الطبراني في الصغير 2/ 278 (1164)، ومن طريقه المصنف في الأحاديث المختارة 7/ 265 (2716)، وأبو نعيم في الحلية 3/ 56، من طريق محمود بن خالد.

وأبو الفضل الزهري في حديثه 1/ 113 (46) ومن طريقه البيهقي في البعث (462)، من طريق صفوان بن صالح.

كلهم (عباس، محمود، صفوان) عن عمر بن عبد الواحد.

وأخرجه البخاري في التاريخ الكبير 8/ 219، من طريق الوليد بن مسلم.

وتمام في فوائده (الروض البسام 5/ 219) ومن طريقه ابن عساكر في تاريخ دمشق 62/ 29، من طريق نصر بن حجاج.

كلهم (عمر، الوليد، نصر) عن الأوزاعي به.

وخالفهم روّاد بن الجرّاح في متنه فقال فيه: «يدخل أهل الجنة على صورة آدم ستين ذراعاً بذراع الملك، على حسن يوسف، وعلى ميلاد عيسى، ثلاث وثلاثين، وعلى لسان محمد، جرد مرد مكحلين».

وهو وجه مرجوح، وسيأتي تخريجه عند المصنف بعد قليل.

قلت: وإسناده من الوجه الراجح رجاله ثقات، إلا أن هارون مختلف في سماعه من أنس، وخاصة أنه قد روي هذا الحديث بواسطة بينهما، فقد قال أبو نعيم بعد تخريجه للحديث: «رواه غيره (يعني عمر بن عبد الواحد) عن الأوزاعي عن هارون، فقال: حدثني من سمع أنساً يذكره».
তিরমিযী(১) এটি জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়ে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন ফিরাাস আল-বাসরি, আবু দাউদ থেকে, তিনি ইমরান থেকে। তিনি বলেছেন: «হাদিসটি হাসান গারিব»।

 

৫ - কায়রোতে ইউসুফ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন আত-তুফাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন আমর বিন ইউসুফ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন উমর বিন আলির নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে, আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আবি দাউদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মাহমুদ বিন খালিদ ও আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: উমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আওযায়ি থেকে, হারুন বিন রিআব থেকে, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতিদেরকে আদমের আকৃতিতে পুনরুত্থিত করা হবে: তেত্রিশ বছর বয়সে, লোমহীন দেহে, দাড়িবিহীন অবস্থায় এবং চোখে সুরমা পরা অবস্থায়। এরপর তাদের জান্নাতের একটি গাছের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে তাদের পোশাক পরানো হবে; তাদের কাপড় পুরাতন হবে না এবং তাদের যৌবনও শেষ হবে না»(৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি ৪/ ৩০৫ (২৫৪৫)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে (তিন) শব্দটি এসেছে।

(৩) গ্রন্থকার এটি 'আল-আহাদিস আল-মুখতারা' ৭/ ২৬৫ (২৭১৭) গ্রন্থে এখানকার একই সনদসহ বের করেছেন।

তিনি এটি ইবনে আবি দাউদের সূত্রেও বের করেছেন এবং এটি তাঁর নিকট 'কিতাবুল বা’স' (৬৪) গ্রন্থে রয়েছে।

এছাড়া ইবনে আবি দাউদের সূত্রে এটি বের করেছেন: আবুশ শায়খ 'আল-আজামাহ' ৩/ ১০৭৯ (৫৮৪) গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'সিফাতুল জান্নাহ' ২/ ১০৪ (২৫৫) ও 'আল-হিলয়াহ' ৩/ ৫৬ গ্রন্থে।

তাবারানি এটি 'আস-সাগির' ২/ ২৭৮ (১১৬৪) গ্রন্থে বের করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে গ্রন্থকার এটি 'আল-আহাদিস আল-মুখতারা' ৭/ ২৬৫ (২৭১৬) গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' ৩/ ৫৬ গ্রন্থে মাহমুদ বিন খালিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর আবুল ফজল আজ-জুহরি তাঁর সংকলিত হাদিসে ১/ ১১৩ (৪৬) এবং তাঁর সূত্র ধরে বাইহাকি 'আল-বা’স' (৪৬২) গ্রন্থে সাফওয়ান বিন সালেহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা সবাই (আব্বাস, মাহমুদ, সাফওয়ান) উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারি এটি 'আত-তারিখুল কবির' ৮/ ২১৯ গ্রন্থে ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাম্মাম তাঁর 'ফাওয়াইদ' (আর-রাওদ আল-বাসসাম ৫/ ২১৯) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্র ধরে ইবনে আসাকির 'তারিখু দিমাস্ক' ৬২/ ২৯ গ্রন্থে নাসর বিন হাজ্জাজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা সবাই (উমর, ওয়ালিদ, নাসর) আওযায়ি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তবে রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ তাঁদের বিরোধিতা করে মূল পাঠে বলেছেন: «জান্নাতিরা আদমের আকৃতিতে প্রবেশ করবে, যা ফেরেশতার হাতের মাপে ষাট হাত দীর্ঘ, ইউসুফের সৌন্দর্যে, ঈসার বয়সে অর্থাৎ তেত্রিশ বছরে এবং মুহাম্মদের ভাষায়; তারা হবে লোমহীন, দাড়িবিহীন এবং সুরমা পরা»।

এটি একটি অগ্রাহ্য মত, যার সূত্র বিশ্লেষণ গ্রন্থকার কিছু পরেই উল্লেখ করবেন।

আমি বলি: অধিকতর সঠিক সূত্রের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে হারুনের আনাস থেকে শোনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বিশেষ করে এই হাদিসটি তাঁদের উভয়ের মাঝে এক ব্যক্তির মাধ্যম হয়ে বর্ণিত হয়েছে। আবু নুআইম হাদিসটি বের করার পর বলেছেন: «এটি অন্যজন (অর্থাৎ উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ ছাড়া) আওযায়ি থেকে হারুনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন: 'আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন যিনি আনাসকে এটি উল্লেখ করতে শুনেছেন'»।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
هكذا ورد(1) في غالب الروايات سوى ما روي عن أبي سعيد، وهو ما:

 

6 - أخبرنا يحيى بن محمود الثقفي، أن جدّه الحافظ إسماعيل بن محمد بن الفضل أخبرهم، أخبرنا الشريف أبو نصر الزينبي، حدثنا محمد بن عمر الوراق، حدثنا عبد الله بن أبي داود، حدثنا سليمان بن داود، حدثنا ابن وهب، حدثنا عمرو بن الحارث، أن دراجاً أبا السمح حدثه عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من مات من أهل

--------------------------------------------

(1) وقع في الأصل (روي) وضبب عليها وصححت في الهامش.
অধিকাংশ বর্ণনায় এভাবেই এসেছে(১) আবু সাঈদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত, আর তা হলো:

 

৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফী, তাঁর দাদা হাফেজ ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ আবু নাসর আজ-জায়নাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হারিস, যে দাররাজ আবু সামহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আহলে

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে (বর্ণিত হয়েছে) শব্দটি এসেছে এবং এর ওপর সংশয়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়েছে আর পার্শ্বটীকায় তা সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الجنة من صغير أو كبير، يُرَدون بني ثلاثين سنة في الجنة، لا يزيدون عليها أبداً، وكذلك أهل النار»(1).

رواه الترمذي في صفة الجنة، عن سويد بن نصر، عن عبد الله بن المبارك، عن رُشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث.

 

7 - أخبرنا عمر بن محمد بن مُعمّر، أن أحمد بن الحسن بن عبد الله أخبرهم، أخبرنا جابر بن ياسين، أخبرنا الحسن بن عثمان بن بكران، أخبرنا أبو بكر أحمد بن سلمان النجاد، حدثنا عبد الله بن محمد بن أبى الدنيا، حدثنا القاسم بن هاشم، حدثنا صفوان بن صالح، حدثنى روّاد بن الجراح العسقلاني، حدثنا الأوزاعى، عن هارون بن رئاب، عن انس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل

--------------------------------------------

(1) أخرجه المصنف من طريق قوام السنة: إسماعيل بن محمد الأصبهاني، وهو عنده في الترغيب والترهيب 1/ 417 (982).

وكلاهما أخرجاه من طريق ابن أبي داود، وهو عنده في كتاب البعث (78).

وأخرجه أبو نعيم في صفة الجنة 2/ 107 - 109 (259، 260)، من طريق حرملة بن يحيى، ويونس بن عبد الأعلى، عن ابن وهب.

وأخرجه ابن المبارك في مسنده (127)، وفي الزهد من رواية نعيم بن حماد (422) ومن طريقه الترمذي 4/ 322 (2562)، وابن أبي الدنيا في صفة الجنة (17)، والبغوي في شرح السنة 15/ 218 (4381)، وفي تفسيره 4/ 284 كلهم من طريق ابن المبارك، عن رشدين بن سعد.

كلاهما (ابن وهب، رشدين) عن عمرو بن الحارث به نحوه.

وتابعه ابن لهيعة، ولكنه قال في متنه: «يردون إلى ستين سنة»:

أخرجه أبو يعلى في مسنده 2/ 532 (1405)، من طريق الحسن بن موسى، عن ابن لهيعة عن دراج به.

وقال الترمذي: «هذا حديث غريب».

قلت: إسناده ضعيف؛ فيه دراج، وهو ضعيف في روايته عن أبي الهيثم عن أبي سعيد (انظر تهذيب الكمال 8/ 479).
জান্নাতবাসীদের মধ্যে ছোট বা বড় যে-ই হোক না কেন, তাদের জান্নাতে ত্রিশ বছর বয়সীদের অবয়বে ফিরিয়ে আনা হবে, যা থেকে তারা কখনও বৃদ্ধি পাবে না; এবং জাহান্নামবাসীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হবে।(১)

তিরমিযী এটি 'জান্নাতের বর্ণনা' অধ্যায়ে সুয়াইদ ইবন নাসর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি রুশদীন ইবন সাদ থেকে এবং তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন মুয়াম্মার, যে আহমদ ইবনুল হাসান ইবন আবদুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাবির ইবন ইয়াসীন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবন উসমান ইবন বাকরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন সালমান আন-নাজ্জাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবিদ দুনইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবন সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ আল-আসকালানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ী, হারুন ইবন রিয়াব থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রবেশ করবে

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থকার এটি কাওয়ামুস সুন্নাহ ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আল-আসবাহানীর সূত্রে বের করেছেন, এবং এটি তার 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' গ্রন্থে (১/৪১৭, হাদিস নং ৯৮২) রয়েছে।

এবং তারা উভয়েই এটি ইবন আবি দাউদের সূত্রে বের করেছেন এবং এটি তার 'কিতাবুল বা’স' (৭৮) গ্রন্থে রয়েছে।

আবু নুআইম এটি 'সিফাতুল জান্নাহ' (২/১০৭-১০৯, হাদিস নং ২৫৯, ২৬০) গ্রন্থে হারমালা ইবন ইয়াহইয়া এবং ইউনুস ইবন আবদুল আ’লা-এর সূত্রে ইবন ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল মুবারক তার 'মুসনাদ' (১২৭) গ্রন্থে এবং 'আয-যুহদ' গ্রন্থে নুআইম ইবন হাম্মাদের বর্ণনায় (৪২২) এটি বের করেছেন। আর তিরমিযী (৪/৩২২, হাদিস নং ২৫৬২), ইবন আবিদ দুনইয়া 'সিফাতুল জান্নাহ' (১৭) গ্রন্থে এবং বাগাবী 'শারহুস সুন্নাহ' (১৫/২১৮, হাদিস নং ৪৩৮১) ও তার তাফসীরে (৪/২৮৪) - তারা সকলে ইবনুল মুবারকের সূত্রে রুশদীন ইবন সাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তারা উভয়েই (ইবন ওয়াহাব ও রুশদীন) আমর ইবনুল হারিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবন লাহিয়া এর অনুসরণ করেছেন, কিন্তু তিনি মূল পাঠে বলেছেন: "তাদেরকে ষাট বছর বয়সীদের মতো করে ফিরিয়ে আনা হবে":

আবু ইয়া’লা এটি তার 'মুসনাদ' (২/৫৩২, হাদিস নং ১৪০৫) গ্রন্থে হাসান ইবন মুসা-এর সূত্রে ইবন লাহিয়া থেকে, তিনি দাররাজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেছেন: "এই হাদিসটি গরীব" (অপ্রসিদ্ধ)।

আমি বলছি: এর সনদ দুর্বল; এতে দাররাজ রয়েছেন, আর তিনি আবুল হাইসাম থেকে ও তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল (দেখুন: তাহযীবুল কামাল ৮/৪৭৯)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أهل الجنة الجنة على طول آدم: ستين ذراعاً بذراع الملك، على حُسن يوسف، وعلى ميلاد عيسى؛ ثلاث وثلاثين سنة، وعلى لسان محمد، جُرد، مُرد، مكحلون»(1).

 

8 - قُرئ على أبي طاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر الخشوعي ونحن نسمع، أخبركم عبد الكريم بن حمزة بن الخضر السلمي، أخبرنا عبد العزيز بن محمد الكناني الحافظ، أخبرنا تمّام بن محمد بن عبد الله الرازي، حدثنا أبو الخير زهير بن محمد بن يعقوب الموصلي، حدثنا أبو عبد الله الحسين بن عمر بن أبي الأحوص الكوفي، حدثنا العلاء بن عمرو الحنفي، حدثنا يحيى بن بُريد الأشعري، عن ابن جريج، عن عطاء، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحِبّوا العرب لثلاث: لأني عربي، والقرآن عربي، وكلام أهل الجنة عربي»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه من طريق المؤلف ابن طولون في الأحاديث المائة (94).

وقد أخرجه المصنف من طريق ابن أبي الدنيا، وهو عنده في صفة الجنة (218).

وقد خولف رواد في متنه، كما تقدم في الحديث رقم (5) خالفه غير واحد من أصحاب الأوزاعي.

ورواد: صدوق اختلط بأخرة فترك (التقريب 1958)، فروايته منكرة، والله أعلم.

(2) أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق 19/ 115، والعراقي في محجة القرب إلى محبة العرب (12)، من طريق عبد الكريم بن حمزة به.

وقد أخرجه المؤلف من طريق تمام الرازي، وهو عنده في فوائده (الروض البسام 4/ 372 (1546)).

وأخرجه العقيلي في الضعفاء 3/ 348 ومن طريقه ابن الجوزي في الموضوعات 2/ 292 (859)، وابن الأنباري في إيضاح الوقف والابتداء 1/ 21 ومن طريقه ابن عساكر في تاريخ دمشق 20/ 140، والطبراني في الكبير 11/ 185 (11441)، وفي الأوسط 6/ 271 (5579) ومن طريقه العراقي في محجة القرب إلى محبة العرب (12)، والحاكم في المستدرك 4/ 87، وفي معرفة علوم الحديث (ص 161)، والبيهقي في شعب الإيمان 2/ 159 (1433)، وفي مناقب الشافعي 1/ 32، من طريق مُطَين: محمد بن عبد الله الحضرمي.

وأخرجه البيهقي في شعب الإيمان 2/ 230 (1610)، والواحدي في الوسيط 2/ 599، من طريق محمد بن الحسن السراج.

والمعافى بن زكريا النهرواني في الجليس الصالح 3/ 348، من طريق أبي حصين الكوفي.

كلهم عن العلاء بن عمرو، عن يحيى بن بُريد به.

وقال العقيلي: «منكر لا أصل له».

وقال أبو حاتم في العلل لابنه 2/ 376: «هذا حديث كذب».

وقال الذهبي في الميزان 3/ 103: «هذا موضوع».

قلت: ومداره على العلاء بن عمرو الحنفي، وهو متروك (الميزان 3/ 103).

وقد توبع العلاء، ولكنها متابعة لا تثبت:

فقد أخرجه الحاكم 4/ 87، وأبو نعيم في صفة الجنة 2/ 116 (268)، من طريق محمد بن الفضل، عن ابن جريج، به نحوه.

وقال الذهبي متعقباً الحاكم: «وأما أبو الفضل فمتهم، وأظن الحديث موضوعاً»

وقال العراقي في محجة القرب (ص 91): «وحديث محمد بن الفضل لا يصلح للمتابعة، ولا يُعتبر بحديثه، ومحمد بن الفضل بن عطية متفق على ضعفه، متهم بالكذب».

قلت: وهو كما قال، فمحمد بن الفضل متهم بالكذب (تهذيب التهذيب 9/ 401).

وللحديث شواهد كلها ضعيفة، انظرها في صفة الجنة لأبي نعيم 2/ 117، والروض البسام 4/ 373، 374.
জান্নাতবাসীরা আদমের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী হবে: ফেরেশতার হাতের মাপে ষাট হাত, ইউসুফের সৌন্দর্যের ন্যায় সুন্দর এবং ঈসার জন্মের (বয়সের) ন্যায় তেত্রিশ বছর বয়সের হবে; আর তারা হবে মুহাম্মদের ভাষার ন্যায় কথা সম্পন্ন, লোমহীন দেহবিশিষ্ট, দাড়িহীন এবং সুরমা লাগানো চোখের অধিকারী।(১).

 

৮ - আবু তাহের বারাকাত ইবনে ইব্রাহিম ইবনে তাহের আল-খুশুয়ি-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আব্দুল কারিম ইবনে হামজাহ ইবনে আল-খিদর আস-সুলামি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল খায়ের জুহাইর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-মাওসিলি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে উমর ইবনে আবিল আহওয়াস আল-কুফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুরিদ আল-আশআরি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো: কারণ আমি আরবি, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি»(২).

--------------------------------------------

(১) এটি গ্রন্থকারের সূত্রে ইবনে তুলুন তাঁর 'আল-আহাদিস আল-মিআহ' (৯৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

গ্রন্থকার এটি ইবনে আবিদ দুনিয়ার সূত্রেও বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর নিকট 'সিফাতুল জান্নাহ' (২১৮) গ্রন্থে বিদ্যমান।

রওয়াদ-এর বর্ণনায় এর মতন (মূল পাঠ)-এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা পাওয়া গেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে ৫ নম্বর হাদিসে অতিবাহিত হয়েছে; আওজায়ির একাধিক সাথী তাঁর বিরোধিতা করেছেন।

আর রওয়াদ: সত্যবাদী কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল বিধায় তাঁকে পরিত্যাগ করা হয়েছে (আত-তাকরিব ১৯৫৮), সুতরাং তাঁর বর্ণনাটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(২) এটি ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক' ১৯/১১৫ এবং ইরাকি 'মাহাজ্জাতুল কুরব ইলা মুহাব্বাতিল আরব' (১২) গ্রন্থে আব্দুল কারিম ইবনে হামজাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

গ্রন্থকার তাম্মাম আর-রাজির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর নিকট 'ফাওয়াইদ' (আর-রাওদ আল-বাসসাম ৪/৩৭২ (১৫৪৬)) গ্রন্থে রয়েছে।

উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' ৩/৩৪৮ গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আল-জাওজি 'আল-মাওদুআত' ২/২৯২ (৮৫৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-আনবারি 'ইদাহুল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা' ১/২১ গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক' ২০/১৪০ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তাবারানি 'আল-কাবির' ১১/১৮৫ (১1৪৪১) এবং 'আল-অওসাত' ৬/২৭১ (৫৫৭৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ইরাকি 'মাহাজ্জাতুল কুরব' (১২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকিম 'আল-মুসতাদরাক' ৪/৮৭ এবং 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' (পৃ. ১৬১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' ২/১৫৯ (১৪৩৩) এবং 'মানাকিবুশ শাফেয়ি' ১/৩২ গ্রন্থে মুতাইন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' ২/২৩০ (১৬১০) এবং ওয়াহিদি 'আল-ওয়াসিত' ২/৫৯৯ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আস-সাররাজ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আল-মুআফা ইবনে জাকারিয়া আন-নাহরাওয়ানি 'আল-জালিস আস-সালিহ' ৩/৩৪৮ গ্রন্থে আবু হাসিন আল-কুফির সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা সবাই আল-আলা ইবনে আমর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে বুরিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

উকাইলি বলেছেন: «এটি মুনকার (পরিত্যক্ত), এর কোনো ভিত্তি নেই»।

আবু হাতিম 'আল-ইলাল' গ্রন্থে তাঁর পুত্রের জন্য বলেছেন ২/৩৭৬: «এটি একটি মিথ্যা হাদিস»।

যাহাবি 'আল-মিজান' ৩/১০৩ গ্রন্থে বলেছেন: «এটি বানোয়াট»।

আমি (সম্পাদক) বলছি: এই হাদিসের কেন্দ্রবিন্দু হলো আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি, এবং সে পরিত্যক্ত রাবী (আল-মিজান ৩/১০৩)।

আল-আলার অনুসরণ (মুতাবায়াত) করা হয়েছে, কিন্তু তা প্রমাণিত নয়:

হাকিম ৪/৮৭ এবং আবু নুয়াইম 'সিফাতুল জান্নাহ' ২/১১৬ (২৬৮) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে এই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যাহাবি হাকিমের মন্তব্যের বিপরীতে বলেছেন: «আর আবু ফাদল তো অভিযুক্ত, আমি মনে করি হাদিসটি বানোয়াট»

ইরাকি 'মাহাজ্জাতুল কুরব' (পৃ. ৯১) গ্রন্থে বলেছেন: «মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদলের হাদিস অনুসরণের (মুতাবায়াত) যোগ্য নয় এবং তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল ইবনে আতিয়্যাহর দুর্বলতার ব্যাপারে সবাই একমত এবং সে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত»।

আমি বলছি: বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন, কারণ মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (তাহজিবুত তাহজিব ৯/৪০১)।

এই হাদিসের আরও কিছু সাক্ষী (শাওয়াহিদ) রয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল, দেখুন: আবু নুয়াইমের 'সিফাতুল জান্নাহ' ২/১১৭ এবং 'আর-রাওদ আল-বাসসাম' ৪/৩৭৩, ৩৭৪।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
العلاء بن عمرو الحنفي(1)، ويحيى بن بُريد(2) تُكلم فيهما.

 

‌‌ذكر نساء أهل الجنة

9 - أخبرنا أبو عبد الله محمد بن علي بدمشق، أخبرنا محمد بن الفضل الصاعدي، أخبرنا عبد الغافر الفارسي، أخبرنا محمد بن عمرويه الجلودي، أخبرنا إبراهيم بن محمد بن سفيان، حدثنا مسلم بن الحجاج، حدثني عمرو الناقد، ويعقوب بن

--------------------------------------------

(1) لسان الميزان 4/ 186.

(2) لسان الميزان 6/ 242.
আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি(১) এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুরাইদ(২); তাঁদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে।

 

‌‌জান্নাতবাসীদের নারীদের বিবরণ

৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী দামেস্কে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ফজল আল-সাঈদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমরওয়াইহ আল-জুলুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমর আন-নাকিদ এবং ইয়াকুব বিন

--------------------------------------------

(১) লিসানুল মিজান ৪/ ১৮৬।

(২) লিসানুল মিজান ৬/ ২৪২।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
إبراهيم الدورقي، جميعاً عن ابن علية واللفظ ليعقوب: حدثنا إسماعيل بن علية، أخبرنا أيوب، عن محمد، قال: إما تفاخروا وإما تذاكروا: الرجال أكثر في الجنة أم النساء. فقال أبو هريرة: أوَ لم يقُل أبا القاسم صلى الله عليه وسلم: «إن أول زمرة تدخل الجنة على صورة القمر ليلة البدر، والتي تليها على أضوإ كوكب دُرّي في السماء، لكل منهم زوجتان اثنتان، يرى مُخّ سُوقِهما من وراء اللحم، وما في الجنة أعزب(1)».

هكذا رواه مسلم في صحيحه(2).

 

10 - وقد تقدم من رواية همام بن منبه عن أبي هريرة نحو هذا(3)، وهو في الصحيحين(4).

 

11 - وتقدم أيضاً من رواية أبي زرعة عن أبي هريرة(5): «وأزواجهم الحور العين»(6).

--------------------------------------------

(1) قال النووي في شرح مسلم 17/ 171: «هكذا فى جميع نسخ بلادنا (أعزب) بالألف وهى لغة، والمشهور فى اللغة (عزب) بغير ألف، ونقل القاضي أن جميع رواتهم رووه: (وما فى الجنة عزب) بغير ألف إلا العذري فرواه بالألف: قال القاضي: وليس بشيء».

(2) صحيح مسلم (2834).

(3) يعني المؤلف بقوله: وقد تقدم، أي في أول الكتاب، وليس في القطعة الموجودة التي بين أيدينا، وانظره في المختصر من الكتاب برقم 15.

(4) انظر البخاري (3245)، ومسلم 2834).

(5) ليس في هذه القطعة، وانظره في المختصر برقم 16.

(6) أخرجه البخاري (3327)، ومسلم (2834، 3324).
ইব্রাহীম আদ-দাওরাকী, তারা সকলেই ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে এবং শব্দাবলী ইয়াকুবের সূত্রে বর্ণিত: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন উলাইয়্যাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আইয়ুব, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বলেন: তারা হয় গৌরব করছিলেন অথবা আলোচনা করছিলেন যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে নাকি নারীর। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেননি: «জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আকৃতিতে প্রবেশ করবে, আর তাদের পরবর্তী দলটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দ্যুতিময় হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুইজন করে স্ত্রী থাকবে, গোশতের পেছন থেকে তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। আর জান্নাতে কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি থাকবে না(১)»।

এভাবেই ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন(২)।

 

১০ - আর আবু হুরায়রা থেকে হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর বর্ণনায় এর অনুরূপ বিষয় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে(৩), এবং তা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বিদ্যমান(৪)।

 

১১ - আর আবু হুরায়রা থেকে আবু জুরআহ-এর বর্ণনায়ও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে(৫): «এবং তাদের স্ত্রীরা হবে ডাগর চোখের হূর»(৬)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী ‘শরহ মুসলিম’ ১৭/১৭১-এ বলেন: «আমাদের দেশের সকল পাণ্ডুলিপিতে আলিফ যোগে ‘আ’যাব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি একটি ভাষাভঙ্গি। তবে ভাষাগতভাবে আলিফ ছাড়া ‘আযাব’ শব্দটি অধিক প্রসিদ্ধ। কাযী বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সকল বর্ণনাকারীই এটি আলিফ ছাড়া ‘আযাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কেবল উযরী একে আলিফ সহ বর্ণনা করেছেন। কাযী বলেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।»

(২) সহীহ মুসলিম (২৮৩৪)।

(৩) লেখক তার ‘ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে’ কথাটি দ্বারা কিতাবের শুরুর অংশ বুঝিয়েছেন, যা বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা এই পাণ্ডুলিপিতে নেই। এটি উক্ত কিতাবের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ১৫ নং ক্রমিকে দেখুন।

(৪) দেখুন বুখারী (৩২৪৫), মুসলিম (২৮৩৪)।

(৫) এটি এই পাণ্ডুলিপিতে নেই, এটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ১৬ নং ক্রমিকে দেখুন।

(৬) এটি বুখারী (৩৩২৭) এবং মুসলিম (২৮৩৪, ৩৩২৪) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
12 - أخبرنا عبد الله بن أحمد بن أبي المجد الحربي بها(1)، أن هبة الله بن محمد أخبرهم، أخبرنا أبو علي بن المذهب، أخبرنا أبو بكر القطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا أبو النضر، حدثنا محمد بن طلحة، عن حميد، عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لغدوة في سبيل الله أو روحة خيرٌ من الدنيا وما فيها، و لقَاب قوس أحدكم أو موضع قَدِّه يعني سوطه من الجنة خير من الدنيا وما فيها، ولو اطَّلعت امرأة من نساء أهل الجنة إلى الأرض لملأت ما بينهما ريحاً، ولطاب ما بينهما، ولنَصيفُها على رأسها خيرٌ من الدنيا وما فيها»(2).

رواه البخاري في الجهاد(3)، عن عبد الله بن محمد، عن معاوية بن عمرو، عن أبي إسحاق، عن حميد بنحوه.

 

13 - أخبرنا أبو طاهر بن المعطوش رحمه الله بقراءتي عليه بالجانب الغربي من بغداد، قلت له: أخبركم هبة الله بن محمد، أخبرنا أبو علي بن المذهب، أخبرنا أبو بكر القطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، أخبرنا يونس، عن محمد بن سيرين، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم: «للرجل من أهل الجنة زوجتان من حورِ العين، على كل واحدة سبعون حُلّة، يرى مُخّ ساقها من وراء الثياب».

--------------------------------------------

(1) يعني في بلد شيخه (الحربية).

(2) أخرجه المؤلف من طريق الإمام أحمد، وهو في مسنده 19/ 424 (12436)، وانظر تمام تخريجه في هامشه.

(3) صحيح البخاري (2643).

كما أخرجه البخاري من طرق أخرى، انظر (2792، 2796، 6568).
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবিল মাজদ আল-হারবী সেখানে(১), যে হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আল-মুজাহহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাজর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন তালহা, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর পথে একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গা অথবা তার চাবুক রাখার জায়গা দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর যদি জান্নাতী নারীদের মধ্য হতে কোনো নারী জমিনের দিকে উঁকি দিত, তবে তা (আকাশ ও জমিনের) মধ্যবর্তী স্থানকে সুগন্ধে পরিপূর্ণ করে দিত এবং তার মধ্যকার সবকিছু সুবাসিত হয়ে যেত। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম»(২)।

বুখারী এটি জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন(৩), আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন আমর থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে এই মর্মে।

 

১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বিন আল-মাতুশ (রহিমাহুল্লাহ), বাগদাদের পশ্চিম প্রান্তে তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাকে বলেছি: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আল-মুজাহহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামা, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: «জান্নাতবাসীদের প্রত্যেকের জন্য হুরুল ঈনদের মধ্য হতে দুইজন করে স্ত্রী থাকবে। তাদের প্রত্যেকের গায়ে সত্তরটি করে পোশাক থাকবে, যার ফলে পোশাকের ভেতর দিয়েই তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে»।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তার শাইখের শহর (আল-হারবিয়্যাহ)-তে।

(২) লেখক এটি ইমাম আহমাদের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি তার মুসনাদ ১৯/৪২৪ (১২৪৩৬)-এ রয়েছে। এর পূর্ণ তাহকীক তার টীকা দ্রষ্টব্য।

(৩) সহীহ বুখারী (২৬৪৩)।

অনুরূপভাবে বুখারী এটি অন্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন, দেখুন (২৭৯২, ২৭৯৬, ৬৫৬৮)।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
كذا أخرجه الإمام أحمد(1).

 

14 - أخبرنا أبو جعفر الصيدلاني بأصبهان، أن فاطمة بنت عبد الله أخبرتهم، أخبرنا محمد بن عبد الله، أخبرنا سليمان بن أحمد، حدثنا بكر بن سهل الدمياطي، حدثنا عمرو بن هاشم البيروتي، حدثنا سليمان بن أبي كريمة، عن هشام بن حسان، عن الحسن، عن أمه، عن أم سلمة قالت: قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قول الله عز وجل: {وَحُورٌ عِينٌ}(2).

قال: «حور: بيض. عين: ضخام العيون، شُفْرُ(3) الحوراء بمنزلة جناح النسر».

قلت: أخبرني عن قوله عز وجل: {كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَكْنُونٌ}(4).

قال: «صفاؤهن صفاء الدر الذي في الأصداف، الذي لم تمسه الأيدي».

قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قوله: {فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ}(5).

قال: «خيرات الأخلاق، حسان الوجوه».

قلت: يا رسول الله أخبرني، عن قوله: {كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ}(6).

قال: «رِقّتهن كرِقّة الجلد الذي رأيت في داخل البيضة مما يلي القشر، وهو الغِرْقِئ(7)».

--------------------------------------------

(1) أخرجه المؤلف من طريق الإمام أحمد، وهو في مسنده 14/ 220 (8542)، وانظر تمام تخريجه في هامشه، وفي 12/ 64 (7152). وإسناده صحيح.

وهو جزء من الحديث المتقدم عند المؤلف برقم 9.

(2) الواقعة (22).

(3) قال في القاموس المحيط: (الشُفرُ، بالضم: أصل منبت الشعر في الجفن).

(4) كذا في المخطوط والمختصر، وهذه الآية في غلمان أهل الجنة، وليس في نساءها، كما يدل عليه سياق الكلام بعدها، ولعل الصواب أنها {كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ}، فهي الموافقة للآية التي قبلها، وهي التي يدل عليها سياق الكلام، والله أعلم.

(5) الرحمن (70).

(6) الصافات (49).

(7) قال في القاموس المحيط: «القشرة الملتزمة ببياض البيض».
ইমাম আহমাদ একে এভাবেই বর্ণনা করেছেন(১)।

 

১৪ - ইস্পাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আস-সাইদালানি, ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বকর বিন সাহল আদ-দামিয়াতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর বিন হাশিম আল-বুরূতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আবি কারিমা, হিশাম বিন হাসসান থেকে, হাসান থেকে, তার মায়ের থেকে, উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুর}(২)।

তিনি বললেন: «হুর হলো শ্বেতশুভ্র। আইন হলো ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা, হুরদের চোখের পাপড়ি ঈগল পাখির ডানার মতো (দীর্ঘ ও ঘন)»।

আমি বললাম: মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা}(৪)।

তিনি বললেন: «তাদের স্বচ্ছতা হলো ঝিনুকের মধ্যে থাকা সেই মুক্তার স্বচ্ছতার মতো, যাকে কোনো হাত স্পর্শ করেনি»।

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তাঁর এই বাণী সম্পর্কে আমাকে বলুন: {তাদের মধ্যে রয়েছে সচ্চরিত্রা ও সুন্দরীগণ}(৫)।

তিনি বললেন: «খাইরাত বা সচ্চরিত্রা হলো চরিত্রগতভাবে উত্তম, আর হিসান বা সুন্দরী হলো চেহারাগতভাবে রূপবতী»।

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে বলুন আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {তারা যেন সুরক্ষিত ডিম্ব}(৬)।

তিনি বললেন: «তাদের কোমলতা হলো সেই পাতলা চামড়ার মতো যা তুমি ডিমের খোসার ঠিক নিচে ভেতরের দিকে দেখে থাকো, যাকে ‘গিরকি’ বলা হয়»(৭)।

--------------------------------------------

(১) লেখক এটি ইমাম আহমাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এটি তাঁর মুসনাদে ১৪/২২০ (৮৫৪২) নম্বরে আছে; এর পূর্ণ তাখরিজ টীকায় দেখুন, এবং ১২/৬৪ (৭১৫২) নম্বরে। এর সনদ সহীহ। এটি লেখকের কাছে পূর্বে উল্লিখিত ৯ নম্বর হাদীসের অংশ।

(২) আল-ওয়াকিআ (২২)।

(৩) আল-কামুসুল মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: (শুফরু—পেশ যোগে: চোখের পাতার পশম গজানোর গোঁড়া)।

(৪) পাণ্ডুলিপি ও সংক্ষেপে এভাবেই এসেছে, তবে এই আয়াতটি জান্নাতের কিশোরদের (গিলমান) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নারীদের ক্ষেত্রে নয়; যা পরবর্তী প্রসঙ্গের দ্বারা বোঝা যায়। সম্ভবত সঠিকটি হলো {সুরক্ষিত মুক্তার সদৃশ}, কারণ এটি পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রসঙ্গের অনুকূল। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৫) আর-রহমান (৭০)।

(৬) আস-সাফফাত (৪৯)।

(৭) আল-কামুসুল মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: «ডিমের সাদা অংশের সাথে লেগে থাকা পাতলা পর্দা»।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
قلت: يا رسول الله، أخبرني عن قوله: {عُرُبًا أَتْرَابًا}(1).

قال: «هن اللواتي قُبضن في دار الدنيا عجائز رُمْصاً(2) شُمطاً(3)، خلقهن الله بعد الكبر فجعلهن عذارى. عرباً: مُتعشقات مُحببات. أتراباً: على ميلاد واحد».

قلت يا رسول الله، نساء الدنيا أفضل أم الحور العين؟

قال: «بل نساء الدنيا أفضل من الحور العين، كفضل الظهارة على البطانة».

قلت: يا رسول الله، وبمَ ذلك؟

قال: «بصلواتهن وصيامهن وعبادتهن الله، ألبس الله وجوههن النور، وأجسادهن الحرير، بيض الألوان، خضر الثياب، صفر الحلي، مجامرهن(4) الدر، وأمشاطهن الذهب، يقلن: نحن الخالدات فلا نموت، ونحن الناعمات فلا نبأس أبداً، ونحن المقيمات فلا نظعن أبداً، ألا ونحن الراضيات فلا نسخط أبداً، طوبى لمن كنا له وكان لنا».

قلت: يا رسول الله، المرأة منا تتزوج زوجين، والثلاثة والأربعة، ثم تموت فتدخل الجنة ويدخلون معها، من يكون زوجها؟.

قال: «يا أم سلمة، إنها تُخَيّر فتختار أحسنهم خلقاً، فتقول: أي رب إن هذا كان أحسنهم معي خلقاً في دار الدنيا فزوجنيه. يا أم سلمة، ذهب حسن الخلق بخير الدنيا والآخرة»(5).

--------------------------------------------

(1) الواقعة (37).

(2) قال صاحب النهاية 2/ 263: (يقال غَمِصَت العَين ورَمِصَت، من الغَمَص والرمَص، وهو البياض الذي تَقْطَعه العين ويجتمع في زوايا الأجفان، والرمص: الرطْب منه، والغَمص: اليابس).

(3) الشّمط: الشيب (النهاية 2/ 501).

(4) قال الزبيدي: (والمِجْمَرُ كمِنْبَر: الذي يُوضَعُ فيه الجَمْرُ بالدُّخْنَةِ. وفي التَّهذِيب: قد يُؤَنَّثُ كالمِجْمَرَةِ. قال: مَنْ أَنَّثَه ذَهَب به إلى النار، ومَن ذَكَّرَه عنَى به المَوْضِعَ. جَمْعُهما مجامِرُ. قال أبو حنيفة: المِجْمَرُ: العُودُ نَفْسُه) (تاج العروس، مادة جمر).

(5) أخرجه المؤلف من طريق الطبراني، وهو عنده في المعجم الكبير 23/ 367 (870)، وفي المعجم الأوسط 4/ 109 (3165).

وقال في الأوسط: «لم يرو هذا الحديث عن هشام بن حسان إلا سليمان بن أبي كريمة، تفرد به عمرو بن هاشم».

وأخرجه العقيلي 2/ 138، وأبو العباس الأصم في الثالث من حديثه (209)، وابن عدي 3/ 1111، 1112، والثعلبي في تفسيره 9/ 205، وابن مردويه في تفسيره (كما في تخريج الأحاديث والآثار الواقعة في تفسير الكشاف 3/ 406)، من طريق بكر بن سهل.

والطبري 22/ 304، ببعضه، من طريق محمد بن الفرج الدمياطي.

كلاهما عن عمرو بن هاشم، به، نحوه.

وقال العقيلي: «لا يتابع (يعني سليمان) عليه، ولا يُعرف إلا به».

وقال ابن عدي: «وهذا الحديث منكر».

قلت: ومداره على سليمان بن أبي كريمة، وهو منكر الحديث.

قال العقيلي: «يحدث بمناكير، ولا يتابع على كثير من حديثه».

وقال ابن عدي: «عامة أحاديثه مناكير».
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে অবহিত করুন: {সোহাগিনী ও সমবয়স্কা}(১)।

তিনি বললেন: «এরা সেই সব নারী যারা দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় বৃদ্ধা, চোখের কোণে পিঁচুটি পড়া(২) এবং পাকা চুলে(৩) উপনীত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। বার্ধক্যের পর আল্লাহ তাদের পুনরায় সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের কুমারী বানিয়ে দিয়েছেন। সোহাগিনী অর্থ: যারা অত্যন্ত প্রেমময়ী ও প্রিয়পাত্রী। সমবয়স্কা অর্থ: একই বয়সে জন্মগ্রহণকারী বা সমবয়সী।»

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, দুনিয়ার নারীরা কি উত্তম নাকি ডাগরচোখা হুররা?

তিনি বললেন: «বরং দুনিয়ার নারীরা ডাগরচোখা হুরদের চেয়েও অধিক উত্তম, যেমন কোনো পোশাকের বাইরের দিক তার ভেতরের দিকের চেয়ে উত্তম হয়।»

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কিসের কারণে?

তিনি বললেন: «তাদের সালাত, সিয়াম এবং আল্লাহর প্রতি তাদের ইবাদতের কারণে। আল্লাহ তাদের চেহারাকে নূর (জ্যোতি) দিয়ে এবং তাদের দেহকে রেশম দিয়ে আবৃত করবেন। তাদের গায়ের রং হবে শুভ্র, পোশাক হবে সবুজ এবং অলংকার হবে পীত বর্ণের। তাদের ধুনুচিগুলো(৪) হবে মুক্তার এবং চিরুনি হবে স্বর্ণের। তারা বলবে: আমরা চিরস্থায়ী, তাই কখনো মারা যাব না; আমরা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকব, তাই কখনো অভাবগ্রস্ত হব না; আমরা স্থায়ীভাবে বসবাস করব, তাই কখনো প্রস্থান করব না। শোনো, আমরা চিরসন্তুষ্ট থাকব, তাই কখনো অসন্তুষ্ট হব না। সুসংবাদ তাদের জন্য যাদের জন্য আমরা হব এবং যারা আমাদের জন্য হবে।»

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্য থেকে কোনো নারী দুনিয়াতে দুই, তিন কিংবা চারজন স্বামী গ্রহণ করে, অতঃপর সে মারা যায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে এবং তার স্বামীরাও তার সাথে জান্নাতে যায়, তবে কে তার স্বামী হবে?

তিনি বললেন: «হে উম্মে সালামাহ, তাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া হবে, তখন সে তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারীকে বেছে নেবে। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক, এই ব্যক্তি দুনিয়াতে আমার সাথে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিল, তাই একে আমার সাথে বিবাহ দিন। হে উম্মে সালামাহ, উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ নিয়ে যায়»(৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ওয়াকিয়াহ (৩৭)।

(২) নিহায়াহ গ্রন্থের লেখক (২/২৬৩) বলেন: (বলা হয় চোখ পিঁচুটিগ্রস্ত হয়েছে, এটি চোখের কোণে জমা হওয়া সাদা পদার্থ যা চোখ নির্গত করে এবং চোখের পাতার কোণে জমা হয়। 'রমাছ' হলো যা আর্দ্র থাকে এবং 'গামাছ' হলো যা শুকিয়ে যায়)।

(৩) শামাত: চুলের শুভ্রতা বা পাকা চুল (নিহায়াহ ২/৫০১)।

(৪) যুবাইদী বলেন: (মিজমার হলো মিনবার এর ওজনে: যাতে সুগন্ধি ধোঁয়া দেওয়ার জন্য জ্বলন্ত কয়লা রাখা হয়। তাহযীব গ্রন্থে বলা হয়েছে: একে স্ত্রীলিঙ্গে মিজমারাহ-ও বলা হয়। তিনি বলেন: যারা একে স্ত্রীলিঙ্গ বলেছেন তারা এর দ্বারা আগুনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আর যারা পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেছেন তারা এর দ্বারা স্থান বা পাত্রকে বুঝিয়েছেন। এর বহুবচন হলো মাজামির। আবু হানিফা বলেন: মিজমার হলো স্বয়ং সুগন্ধি কাঠ) (তাজুল আরূস, জিম-মিম-রা অধ্যায়)।

(৫) লেখক এটি তাবারানির সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন। এটি তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর (২৩/৩৬৭, হাদিস নং ৮৭০) এবং আল-মু'জামুল আওসাত (৪/১০৯, হাদিস নং ৩১৬৫)-এ বর্ণিত হয়েছে।

আওসাত গ্রন্থে তিনি বলেন: «হিশাম বিন হাসসান থেকে সুলাইমান বিন আবি কারীমা ব্যতীত কেউ এটি বর্ণনা করেননি, এবং আমর বিন হাশিম এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।»

এটি বর্ণনা করেছেন উকাইলি (২/১৩৮), আবু আব্বাস আল-আসাম তাঁর হাদিসের তৃতীয় খণ্ডে (২০৯), ইবনু আদি (৩/১১১১, ১১১২), সালাবি তাঁর তাফসীরে (৯/২০৫) এবং ইবনু মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসীরে (যেমনটি তাখরিজুল আহাদিস ওয়াল আসার যা তাফসীরুল কাশশাফ-এ বর্ণিত হয়েছে, ৩/৪০৬), বকর বিন সাহলের সূত্র ধরে।

এবং তাবারী (২২/৩০৪) এর কিছু অংশ মুহাম্মাদ বিন ফারজ আদ-দামিয়াতির সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন।

তারা উভয়েই আমর বিন হাশিম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

উকাইলি বলেন: «সুলাইমান এই বর্ণনায় সমর্থিত নয় এবং সে ছাড়া আর কেউ এটি জানে না।»

イবনু আদি বলেন: «এই হাদিসটি মুনকার।»

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সুলাইমান বিন আবি কারীমা, আর সে মুনকারুল হাদিস।

উকাইলি বলেন: «সে মুনকার বর্ণনা পেশ করে এবং তার অধিকাংশ হাদিসেই সে সমর্থিত নয়।»

ইবনু আদি বলেন: «তার অধিকাংশ হাদিসই মুনকার।»
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
لا أعلمه روي إلا من طريق سليمان بن أبي كريمة، وفيه كلام(1).

 

15 - أخبرنا زاهر بن أحمد الثقفي بأصبهان، أن الحسين بن عبد الملك أخبرهم، أخبرنا إبراهيم بن منصور، أخبرنا أبو بكر بن المقرئ، أخبرنا أبو يعلى الموصلي، حدثنا عمرو بن الضحاك بن مخلد، حدثنا أبو عاصم الضحاك بن مخلد، حدثنا أبو رافع إسماعيل بن رافع، عن محمد بن زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة، قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في طائفة من أصحابه، فذكر حديثا طويلاً، وفيه: «فأقول: يا رب وعدتني الشفاعة فشفعني في أهل الجنة يدخلون الجنة، فيقول الله: قد شفعتك وأذنت لهم في دخول الجنة».

--------------------------------------------

(1) انظر لسان الميزان 3/ 102.
সুলাইমান বিন আবি কারিমার সূত্র ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই, এবং তাঁর সম্পর্কে আপত্তি রয়েছে(১).

 

১৫ - আসফাহানে যাহির বিন আহমাদ আস-সাকাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু রাফি ইসমাঈল বিন রাফি মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি আনসারের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে থাকা অবস্থায় আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করলেন, যার মধ্যে রয়েছে: «অতঃপর আমি বলব: হে আমার রব! আপনি আমাকে শাফাআতের (সুপারিশের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সুতরাং জান্নাতবাসীদের ব্যাপারে আমার শাফাআত কবুল করুন যাতে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার শাফাআত কবুল করলাম এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলাম।»

--------------------------------------------

(১) দেখুন লিসানুল মিজান ৩/ ১০২।
(খণ্ড: ٣١) সিফাতুল জান্নাহ - আয-যিয়াউল মাকদিসী - আল-মুসনাদাহ - খণ্ড ৩ (পৃষ্ঠা: ٣١)
فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «والذي بعثني بالحق ما أنتم في الدنيا بأعرف بأزواجكم ومساكنكم من أهل الجنة بأزواجهم ومساكنهم، فيدخل رجل منهم على ثنتين وسبعين زوجة مما ينشئ الله، وثنتين من ولد آدم، لهما فضل على من أنشأ الله؛ بعبادتهما الله في الدنيا، يدخل على الأولى منهما في غرفة من ياقوتة، على سرير من ذهب مكلل باللؤلؤ، عليه سبعون زوجاً من سندس وإستبرق، وإنه ليضع يده بين كتفيها ثم ينظر إلى يده من صدرها من وراء ثيابها وجلدها ولحمها، وإنه لينظر إلى مُخ ساقها كما ينظر أحدكم إلى السلك في قصبة الياقوت، كبده لها مرآة، يعني: وكبدها له مرآة، فبينما هو عندها لا يملها ولا تمله، ولا يأتيها من مرة إلا وجدها عذراء، ما يفتر ذكره، ولا تشتكي قُبلها، فبينا هو كذلك إذ نودي: إنا قد عرفنا أنك لا تَمل لا تُمل، إلا أنه لا مني ولا منية إلا أن يكون لك أزواج غيرها، فيخرج فيأتيهن واحدة واحدة، كلما جاء واحدة قالت: والله ما في الجنة شيء أحسن منك، ما في الجنة شيء أحب إلي منك»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق 8/ 397، من طريق إبراهيم بن منصور به.

وقد أخرجه المؤلف من طريق أبي يعلى، ولعله في مسنده الكبير، فقد عزاه إليه ابن القيم في حادي الأرواح (ص 297)، وساقه كما هو عند المؤلف.

وأخرجه أبو الشيخ في العظمة 3/ 838 (387)، من طريق أبي عاصم به.

قلت: وهذا جزء من حديث الصور المشهور، وقد أخرجه عدد من الأئمة مطولاً، ومفرقاً من طريق إسماعيل بن رافع، ولكنه اضطرب فيه جداً، ورواه على عدة أوجه:

1 - فمرة رواه عن محمد بن زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة:

وقد أخرج روايته هذه أبو يعلى ومن طريقه المؤلف، وابن عساكر، و أبو الشيخ كما تقدم.

2 - ورواه مرة أخرى عن محمد بن يزيد بن أبي زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة:

أخرجه ابن أبي الدنيا في الأهوال (55)، من طريق إبراهيم بن عيينة.

والمروزي في تعظيم قدر الصلاة 1/ 283 (273)، عن عبدة بن سليمان.

والبيهقي في البعث والنشور (669)، وفي شعب الإيمان 1/ 353، من طريق أبي عاصم.

والبيهقي في البعث والنشور (668)، من طريق مكي بن إبراهيم.

كلهم عن إسماعيل به.

3 - ورواه مرة ثالثة عن محمد بن زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن أبي هريرة:

أخرجه الطبراني في الأحاديث الطوال (84)، من طريق أبي عاصم، عن إسماعيل بن رافع به.

4 - ورواه عن محمد بن يزيد بن أبي زياد، عن رجل من الأنصار، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة:

أخرجه إسحاق بن راهويه في مسنده 1/ 84 (10)، عن عبدة بن سليمان، عن إسماعيل به.

5 - ورواه عن محمد بن يزيد، عن محمد بن كعب، عن أبي هريرة:

أخرجه أبو الشيخ في العظمة 3/ 821 (386)، من طريق عبدة بن سليمان، عن إسماعيل به.

6 - ورواه عن محمد بن يزيد، عن أبي هريرة:

أخرجه أبو الشيخ في العظمة 3/ 839 (388)، من طريق عبدة بن سليمان، عن إسماعيل به.

7 - ورواه عن يزيد بن زياد، عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة:

أخرجه الطبري في تفسيره 18/ 132، من طريق عبد الرحمن بن محمد المحاربي، عن إسماعيل به.

8 - ورواه عن يزيد بن زياد، عن رجل من الأنصار، عن محمد بن كعب القرضي، عن أبي هريرة:

أخرجه الطبري في تفسيره 3/ 611، وفي 20/ 33، من طريق عبد الرحمن بن محمد المحاربي، عن إسماعيل به.

9 - ورواه عن محمد بن يزيد بن أبي زياد، عن رجل من الأنصار، عن محمد بن كعب القرضي، عن أبي هريرة:

أخرجه العقيلي 4/ 147، والرافعي في التدوين 1/ 187، من طريق مكي بن إبراهيم.

وابن عدي 6/ 2270، من طريق الوليد بن مسلم.

كلاهما عن إسماعيل به.

10 - ورواه عن من ذكره، عن محمد بن كعب القرضي، عن أبي هريرة:

أخرجه الطبري في تفسيره 19/ 451، 452، من طريق عبد الرحمن بن محمد المحاربي، عن إسماعيل به.

11 - ورواه مرة عن محمد بن كعب القرضي، عن أبي هريرة:

أخرجه ابن أبي حاتم في تفسيره 9/ 2928 - 2932 (16621، و 16627 - 16629)، وأبو موسى المديني في الطوالات (كما في البداية والنهاية 19/ 313)، من طريق محمد بن شعيب، عن إسماعيل، به.

12 - وروا عن محمد بن كعب القرضي، عن رجل من الأنصار، عن أبي هريرة:

أخرجه الطبري في تفسيره 18/ 134، من طريق ابن جريج.

والثعلبي في تفسيره 7/ 227، من طريق أبي عاصم.

كلاهما عن إسماعيل به.

قلت: ومداره في هذه الأوجه على إسماعيل بن رافع، وهو ضعيف، وقد اضطرب فيه، كما تقدم مما يزيد الحديث ضعفاً، وإلى هذا أشار غير واحد من الأئمة، وحكموا على هذا الحديث بالضعف:

قال البخاري: «لا يصح» (التاريخ الكبير 1/ 260، الأوسط 2/ 63).

وقال ابن كثير في تفسيره 3/ 287: «هذا حديث مشهور، وهو غريب جداً، ولبعضه شواهد في الأحاديث المتفرقة، وفي بعض ألفاظه نكارة، تفرد به إسماعيل بن رافع قاصّ أهل المدينة، وقد اُختلف فيه؛ فمنهم من وثقه ومنهم من ضعفه، ونص على نكارة حديثه غير واحد من الأئمة، كأحمد بن حنبل، وأبي حاتم الرازي، وعمرو بن علي الفلاس، ومنهم من قال فيه: هو متروك، وقال ابن عدي: أحاديثه كلها فيها نظر، إلا أنه يكتب حديثه في جملة الضعفاء.

قلت القائل ابن كثير: وقد اختلف عليه في إسناد هذا الحديث على وجوه كثيرة قد أفردتها في جزء على حدة، وأما سياقه فغريب جداً، ويقال إنه جمعه من أحاديث كثيرة وجعله سياقاً واحداً، فأنكر عليه بسبب ذلك. وسمعت شيخنا الحافظ أبا الحجاج المزي يقول: إنه رأى للوليد بن مسلم مصنفاً قد جمع فيه كل الشواهد لبعض مفردات هذا الحديث، فالله أعلم».

وتكلم عليه بنحو هذا الكلام في البداية والنهاية 19/ 310، وما بعدها.

وقال ابن القيم في حادي الأرواح (ص 173): «هذا قطعة من حديث الصور الطويل، ولا يعرف إلا من حديث إسماعيل بن رافع، وقد ضعفه أحمد ويحيى وجماعة، وقال الدارقطني وغيره: متروك الحديث، وقال ابن عدي: أحاديثه كلها مما فيه نظر، وأما البخاري فقال فيه ما حكاه الترمذي عنه قال: سمعت محمدا يقول فيه: هو ثقة مقارب الحديث.

قلت: ولكن إذا روى مثل هذا ما يخالف الأحاديث الصحيحة لم يلتفت إلى روايته وأيضاً فالرجل الذي روى عنه القرظي لا يدري من هو».

و قال في موضع آخر (ص 298): «وقال لي شيخنا أبو الحجاج الحافظ: هذا الحديث مجموع من عدة أحاديث، ساقه إسماعيل أو غيره هذه السياقة، و شرحه الوليد بن مسلم في كتاب مفرد، و ما تضمنه معروف في الأحاديث و الله اعلم».

وقال الحافظ ابن حجر في الفتح 11/ 376 (6518): «ومداره على إسماعيل بن رافع واضطرب في سنده مع ضعفه؛ فرواه عن محمد بن كعب القرظي تارة بلا واسطة، وتارة بواسطة رجل مبهم، ومحمد عن أبي هريرة تارة بلا واسطة، وتارة بواسطة رجل من الأنصار مبهم أيضا، وأخرجه إسماعيل بن أبي زياد الشامي أحد الضعفاء أيضاً في تفسيره عن محمد بن عجلان عن محمد بن كعب القرظي، واعترض مغلطاي على عبد الحق في تضعيفه الحديث بإسماعيل بن رافع، وخفي عليه أن الشامي أضعف منه، ولعله سرقه منه فألصقه بابن عجلان، وقد قال الدارقطني إنه متروك يضع الحديث، وقال الخليلي: شيخ ضعيف شحن تفسيره بما لا يتابع عليه، وقال الحافظ عماد الدين ابن كثير في حديث الصور: جمعه إسماعيل بن رافع من عدة آثار وأصله عنده عن أبي هريرة فساقه كله مساقاً واحداً وقد صحح الحديث من طريق إسماعيل بن رافع القاضي أبو بكر بن العربي في سراجه، وتبعه القرطبي في التذكرة، وقول عبد الحق في تضعيفه أولى، وضعفه قبله البيهقي».

وقال الحافظ ابن حجر أيضاً في المطالب 3/ 300: «هذا إسناد ضعيف».

وقال السيوطي في الإتقان 2/ 539: «ومداره على إسماعيل بن رافع قاص المدينة، وقد تكلم فيه بسببه، وفي بعض سياقه نكارة».
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, দুনিয়াতে তোমরা তোমাদের স্ত্রী ও আবাসস্থল সম্পর্কে যতটা না জানো, জান্নাতবাসীরা তাদের স্ত্রী ও আবাসস্থল সম্পর্কে তার চেয়েও বেশি অবগত হবে। তাদের একজন আল্লাহ কর্তৃক নবসৃষ্ট বাহাত্তরজন স্ত্রী এবং আদম সন্তানদের মধ্য থেকে দুইজন স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করবে। আল্লাহর ইবাদত করার কারণে আদম সন্তানদের ওই দুইজন স্ত্রীর মর্যাদা আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট অন্যান্য স্ত্রীদের চেয়ে বেশি হবে। সে তাদের প্রথমজনের কাছে ইয়াকুত পাথরের তৈরি একটি কক্ষে প্রবেশ করবে, যা মুক্তাখচিত স্বর্ণের পালঙ্কের উপর অবস্থিত হবে। তার ওপর সত্তর জোড়া রেশমি ও মখমলের কাপড় থাকবে। সে তার (স্ত্রীর) দুই কাঁধের মাঝখানে তার হাত রাখবে, অতঃপর তার কাপড়ের ওপর দিয়েই তার বক্ষদেশ দিয়ে নিজের হাতের প্রতি তাকাবে, এমনকি সে তার চামড়া ও মাংস ভেদ করে তার নলার মজ্জা পর্যন্ত দেখতে পাবে; যেমন তোমাদের কেউ ইয়াকুত পাথরের নলের ভেতর দিয়ে সুতো দেখতে পায়। তার কলিজা হবে তার (স্ত্রীর) জন্য আয়নার মতো, অর্থাৎ তার (স্ত্রীর) কলিজাও হবে তার জন্য আয়নার মতো। সে তার কাছে অবস্থানকালে না সে তাকে বিরক্ত করবে, না স্ত্রী তাকে বিরক্ত করবে। সে যতবারই তার কাছে আসবে, ততবারই তাকে কুমারী হিসেবে পাবে। তার অঙ্গ শিথিল হবে না এবং স্ত্রীও কোনো যোনি-পীড়া অনুভব করবে না। সে যখন এ অবস্থায় থাকবে, তখন তাকে ডেকে বলা হবে: 'আমরা অবশ্যই জেনেছি যে আপনিও ক্লান্ত হবেন না এবং আপনার প্রতিও ক্লান্তি আসবে না; তবে আপনার জন্য তিনি (প্রথম স্ত্রী) ব্যতীত আরও স্ত্রী রয়েছে।' অতঃপর সে বের হয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছে একে একে যাবে। যখনই সে কোনো একজনের কাছে যাবে, সে বলবে: 'আল্লাহর কসম, জান্নাতে আপনার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই এবং জান্নাতে আমার কাছে আপনার চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই'।"(১).

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৮/৩৯৭) গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন মানসুরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

লেখক এটি আবু ইয়া'লার সূত্রেও বর্ণনা করেছেন, সম্ভবত এটি তাঁর 'মুসনাদে কবির'-এ রয়েছে। ইবনুল কায়্যিম এটি 'হাদিল আরওয়াহ' (পৃ. ২৯৭) গ্রন্থে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন এবং লেখকের কাছে যেভাবে আছে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন।

আবুশ শাইখ এটি 'আল-আযামাহ' (৩/৮৩৮, হাদিস ৩৮৭) গ্রন্থে আবু আসিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আমি (টীকা লেখক) বলছি: এটি প্রসিদ্ধ 'সুওয়াব' (শিঙায় ফুঁৎকার) সংক্রান্ত হাদিসের একটি অংশ। অনেক ইমাম ইসমাঈল বিন রাফির সূত্রে এটি বিস্তারিত এবং খণ্ড খণ্ডভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি বর্ণনায় অত্যন্ত অস্থিরতা (ইযতিরাব) দেখিয়েছেন এবং একে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন:

১ - একবার তিনি এটি মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আনসারদের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু ইয়া'লা এবং তাঁর সূত্রে লেখক, ইবনে আসাকির ও আবুশ শাইখ ইতিপূর্বে এ বর্ণনাটিই উল্লেখ করেছেন।

২ - অন্যবার তিনি এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আনসারদের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি 'আল-আহওয়াল' (৫৫) গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন উয়াইনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

মারওয়াযি এটি 'তাযিমু কদরি সালাত' (১/২৮৩, হাদিস ২৭৩) গ্রন্থে আবদাহ বিন সুলাইমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

বাইহাকি এটি 'আল-বা'সু ওয়ান নুশুর' (৬৬৯) গ্রন্থে এবং 'শুআবুল ঈমান' (১/৩৫৩) গ্রন্থে আবু আসিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

বাইহাকি এটি 'আল-বা'সু ওয়ান নুশুর' (৬৬৮) গ্রন্থে মাক্কি বিন ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা সবাই ইসমাঈলের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ - তৃতীয়বার তিনি এটি মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারানি এটি 'আল-আহাদিসুত তুওয়াল' (৮৪) গ্রন্থে আবু আসিমের সূত্রে ইসমাঈল বিন রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন।

৪ - তিনি এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক বিন রাহওয়াইহ এটি তাঁর মুসনাদে (১/৮৪, হাদিস ১০) আবদাহ বিন সুলাইমানের সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৫ - তিনি এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবুশ শাইখ এটি 'আল-আযামাহ' (৩/৮২১, হাদিস ৩৮৬) গ্রন্থে আবদাহ বিন সুলাইমানের সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৬ - তিনি এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবুশ শাইখ এটি 'আল-আযামাহ' (৩/৮৩৯, হাদিস ৩৮৮) গ্রন্থে আবদাহ বিন সুলাইমানের সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৭ - তিনি এটি ইয়াজিদ বিন জিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারী তাঁর তাফসিরে (১৮/১৩২) আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মুহারিবির সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৮ - তিনি এটি ইয়াজিদ বিন জিয়াদ থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারী তাঁর তাফসিরে (৩/৬১১ এবং ২০/৩৩) আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মুহারিবির সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

৯ - তিনি এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

উকাইলি (৪/১৪৭) এবং রাফেয়ি 'আত-তাদউইন' (১/১৮৭) গ্রন্থে মাক্কি বিন ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আদি (৬/২২৭০) এটি ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা উভয়ে ইসমাঈল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

১০ - তিনি এটি যার নাম উল্লেখ করেছেন তার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারী তাঁর তাফসিরে (১৯/৪৫১, ৪৫২) আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মুহারিবির সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন।

১১ - তিনি এটি একবার মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসিরে (৯/২৯২৮ - ২৯৩২, হাদিস ১৬৬২১ এবং ১৬৬২৭ - ১৬৬২৯) এবং আবু মুসা আল-মাদিনি 'আত-তুওয়ালাত' গ্রন্থে (যেমনটি আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৯/৩১৩ গ্রন্থে আছে) মুহাম্মদ বিন শুআইবের সূত্রে ইসমাঈল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

১২ - তিনি এটি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে, তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারী তাঁর তাফসিরে (১৮/১৩৪) ইবনে জুরাইজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

সা'লাবি তাঁর তাফসিরে (৭/২২৭) আবু আসিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা উভয়ে ইসমাঈল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি (টীকা লেখক) বলছি: এই সকল সূত্রের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসমাঈল বিন রাফি, যিনি একজন দুর্বল (যয়ীফ) রাবী। ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লিখিত হয়েছে, তিনি এটি বর্ণনায় অত্যন্ত অস্থিরতা প্রদর্শন করেছেন যা হাদিসটির দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক ইমামই এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং হাদিসটিকে দুর্বল বলে হুকুম দিয়েছেন:

বুখারি বলেছেন: "এটি সহীহ নয়" (আত-তারিখুল কবির ১/২৬০, আল-আওসাত ২/৬৩)।

ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে (৩/২৮৭) বলেছেন: "এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিস, তবে এটি অত্যন্ত গরিব (অস্বাভাবিক)। এর কিছু অংশের সপক্ষে বিভিন্ন হাদিসে শাহিদ বা সমর্থনমূলক বর্ণনা থাকলেও এর কিছু শব্দে নাকারাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে। মদিনার কাস (গল্পকার) ইসমাঈল বিন রাফি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আবার কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, আবু হাতিম আল-রাযি ও আমর বিন আলী আল-ফাললাস এর মতো অনেক ইমাম তাঁর হাদিসকে 'মুনকার' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত) বলেছেন। ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর সকল হাদিসই প্রশ্নবিদ্ধ, তবে দুর্বলদের তালিকায় তাঁর হাদিস লেখা যায়।

আমি (ইবনে কাসির) বলছি: এই হাদিসের সনদে তাঁর পক্ষ থেকে অনেক ধরনের মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে যা আমি একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে সংকলন করেছি। এর বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত অদ্ভুত। বলা হয় যে, তিনি অনেকগুলো হাদিস একত্রিত করে সেটিকে একটি একক বর্ণনায় রূপ দিয়েছেন, যার ফলে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। আমি আমাদের শাইখ হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযিকে বলতে শুনেছি যে, তিনি ওয়ালিদ বিন মুসলিমের একটি কিতাব দেখেছেন যেখানে তিনি এই হাদিসের প্রতিটি অংশের জন্য সকল শাহিদ বা সমর্থনমূলক বর্ণনা একত্রিত করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।"

তিনি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৯/৩১০ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা) গ্রন্থেও অনুরূপ কথা বলেছেন।

ইবনুল কায়্যিম 'হাদিল আরওয়াহ' (পৃ. ১৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: "এটি দীর্ঘ 'সুওয়াব' হাদিসের একটি অংশ। ইসমাঈল বিন রাফির হাদিস ছাড়া এটি পরিচিত নয়। আহমাদ, ইয়াহইয়া এবং একদল বিশেষজ্ঞ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। দারা কুতনি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি মাতরুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত)। ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর সকল হাদিসই প্রশ্নবিদ্ধ। আর ইমাম বুখারি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তা তিরমিজি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদকে (বুখারি) তাঁর সম্পর্কে বলতে শুনেছি: তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাদিস বর্ণনায় কাছাকাছি।"

আমি (ইবনুল কায়্যিম) বলছি: কিন্তু যখন এ ধরনের রাবী সহীহ হাদিসের পরিপন্থী কোনো কিছু বর্ণনা করেন, তখন তাঁর বর্ণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। তাছাড়া কুরযি যার থেকে বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তিটি কে তা জানা যায় না।

তিনি অন্য এক স্থানে (পৃ. ২৯৮) বলেছেন: "আমাদের শাইখ আবুল হাজ্জাজ আল-হাফেজ আমাকে বলেছেন: এই হাদিসটি বেশ কিছু হাদিসের সমষ্টি। ইসমাঈল বা অন্য কেউ একে এভাবে সাজিয়েছেন। ওয়ালিদ বিন মুসলিম এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন। এর ভেতরে যা রয়েছে তা অন্যান্য হাদিসে পরিচিত। আল্লাহই ভালো জানেন।"

হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (১১/৩৭৬, হাদিস ৬৫১৮) গ্রন্থে বলেছেন: "এর কেন্দ্রবিন্দু ইসমাঈল বিন রাফি এবং তিনি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও এর সনদে অস্থিরতা দেখিয়েছেন; তিনি কখনো এটি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে সরাসরি বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো একজন অস্পষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে। আবার মুহাম্মদ কখনো সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে, আবার কখনো জনৈক অস্পষ্ট আনসারী ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। জনৈক দুর্বল রাবী ইসমাঈল বিন আবি যিয়াদ আশ-শামিও তাঁর তাফসিরে এটি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কুরযি থেকে বর্ণনা করেছেন। মোগলতাই এই হাদিসটিকে ইসমাঈল বিন রাফির কারণে দুর্বল বলার জন্য আব্দুল হকের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কাছে এটি গোপন ছিল যে শামি তাঁর চেয়েও বেশি দুর্বল; সম্ভবত তিনি এটি তাঁর কাছ থেকে চুরি করে ইবনে আজলানের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। দারা কুতনি বলেছেন যে তিনি মাতরুক এবং হাদিস জাল করেন। খলিলি বলেছেন: তিনি একজন দুর্বল শাইখ যিনি তাঁর তাফসিরকে এমন সব বিষয়ে পূর্ণ করেছেন যেগুলোর কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না। হাফেজ ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির 'সুওয়াব'-এর হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: ইসমাঈল বিন রাফি একে অনেকগুলো আছার (বর্ণনা) থেকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁর কাছে এর মূল আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত ছিল, তাই তিনি পুরোটিকে একটি দীর্ঘ বর্ণনায় রূপ দিয়েছেন। আবু বকর বিন আল-আরাবি তাঁর 'সিরাজ' গ্রন্থে ইসমাঈল বিন রাফির সূত্রে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন এবং কুরতুবী 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। তবে আব্দুল হক একে দুর্বল বলে যে মত দিয়েছেন তাই অগ্রগণ্য এবং ইতিপূর্বে বাইহাকিও একে দুর্বল বলেছেন।"

হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-মাতালিব' (৩/৩০০) গ্রন্থেও বলেছেন: "এই সনদটি দুর্বল।"

সুয়ূতী 'আল-ইতকান' (২/৫৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: "এর কেন্দ্রবিন্দু হলো মদিনার কাস (গল্পকার) ইসমাঈল বিন রাফি। তাঁর কারণে এটি সমালোচিত হয়েছে এবং এর কিছু বর্ণনাভঙ্গিতে নাকারাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে।"