(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصواعق الشديدة على اتباع الهيئة الجديدة (حمود بن عبد الله التويجري)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: الصواعق الشديدة على اتباع الهيئة الجديدة
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: بدون
الطبعة: الأولى، 1388 هـ
عدد الصفحات: 190
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের ওপর তীব্র বজ্রপাত (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী)
বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের ওপর তীব্র বজ্রপাত
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: উল্লিখিত নেই
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصواعق الشديدة على اتباع الهيئة الجديدة تأليفالفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجريغفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের ওপর তীব্র বজ্রপাত প্রণয়নেমহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজিরীআল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. الحمد لله وحده. قرئ عليَّ هذا الكتاب الموسوم بالصواعق الشديدة على أتباع الهيئة الجديدة فوجدت ما أبداه مؤلفه فضيلة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري من الرد على من زعم أن الأرض تدور وأن الشمس لا تجري هو عين الصواب.قاله الفقير إلى عفو الله محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف مفتي الديار السعودية ورئيس القضاةوصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.في 20/ 8 سنة 1387.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। 'আস-সাওয়াআকুল শাদিদাহ আলা আতবাউল হায়আতিল জাদিদাহ' (আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের ওপর কঠোর বজ্রপাত) নামক এই বইটি আমার নিকট পাঠ করা হয়েছে। আমি দেখতে পেয়েছি যে, এর লেখক ফাদিলাতুশ শাইখ হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরি সেই ব্যক্তির খণ্ডনে যা ব্যক্ত করেছেন—যে দাবি করে যে পৃথিবী আবর্তন করে এবং সূর্য গতিশীল নয়—তা-ই সঠিক ও যথার্থ।এটি বলেছেন আল্লাহর ক্ষমার ভিখারি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুল লতিফ, সৌদি আরবের মুফতি ও প্রধান বিচারপতি।আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।২০/০৮/১৩৮৭ হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله رب العالمين. والعاقبة للمتقين. ولا عدوان إلا على الظالمين. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الملك الحق المبين. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الصادق الأمين. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وسلم تسليماً كثيراً ..أما بعد فقد رأيت مقالاً لمحمد محمود الصواف. نشر في ثلاثة أعداد من جريدة الدعوة. عدد 54 و 55 و 56 العدد الأول في 10 صفر سنة 1386 هـ والثاني في 17 منه. والثالث في 24 منه. وقد عارض الصواف بمقاله هذا ما قرره الشيخ الفاضل عبد العزيز بن عبد الله بن باز من جريان الشمس وسكون الأرض وثباتها. وما قاله الشيخ عبد العزيز بن باز هو الحق والصواب. وما قاله الصواف هو الباطل والضلال البعيد. وليس تعقب الصواف مقصوراً على الشيخ عبد العزيز بن باز فحسب. بل هو والعياذ بالله معارضة للآيات المحكمات والأحاديث الصحيحة الدالة على جريان الشمس وعدم استقرارها كما سأذكره إن شاء الله تعالى وقد رأيت أن أكتب على كلامه ما تيسر تحقيقاً للحق ونصحاً للخلق. سائلاً من المولى جل جلاله أن ينصر دينه ويعلي كلمته ويحق الحق ويبطل الباطل ولو كره المجرمون. فصلوأول من قال إن الشمس هي المركز الثابت الذي تدور عليه السيارات من الكواكب وإن الأرض من جملة الكواكب السيارة التي تدور على الشمس هو فيثاغورس الفيلسوف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত কারো ওপর শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি সত্য ও সুস্পষ্ট মালিক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।অতঃপর, আমি মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সাওয়াফের একটি নিবন্ধ দেখেছি যা 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকার তিনটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সংখ্যা ৫৪, ৫৫ ও ৫৬; প্রথমটি ১৩৮৬ হিজরীর ১০ই সফর, দ্বিতীয়টি ১৭ই সফর এবং তৃতীয়টি ২৪শে সফর প্রকাশিত হয়েছে। আস-সাওয়াফ তার এই নিবন্ধের মাধ্যমে সূর্য গতিশীল হওয়া এবং পৃথিবীর স্থিরতা ও অটলতা নিয়ে শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। অথচ শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায যা বলেছেন তাই সত্য ও সঠিক; আর আস-সাওয়াফ যা বলেছেন তা বাতিল ও চরম বিভ্রান্তি। আস-সাওয়াফের এই প্রতিবাদ কেবল শায়খ আব্দুল আযীয বিন বাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং সহীহ হাদীসসমূহেরও বিরোধিতা, যা সূর্যের গতিশীলতা এবং এর স্থির না থাকার প্রমাণ দেয়, যেমনটি আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব। সত্য প্রতিষ্ঠা এবং সৃষ্টির উপকারের জন্য তাঁর বক্তব্যের ওপর যতটুকু সম্ভব কিছু লেখার প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করেছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন, তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাতিলকে বিলুপ্ত করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে। পরিচ্ছেদসর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন যে সূর্যই হলো সেই স্থির কেন্দ্র যাকে ঘিরে গ্রহসমূহ আবর্তিত হয় এবং পৃথিবী হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তনকারী গ্রহসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রহ—তিনি হলেন দার্শনিক পিথাগোরাস।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
اليوناني وكان زمانه قبل زمان المسيح بنحو من خمسمائة سنة. وقيل ستمائة. وذهب كبير الفلاسفة ومقدمهم بطليموس - وكان زمانه قبل المسيح بنحو مائة وخمسين سنة - إلى أن الأرض هي المركز الثابت وإن الشمس والقمر وسائر الكواكب تدور على الأرض. وأهل الهيئة القديمة يقولون بهذا القول وهو الحق الذي تدل عليه الآيات والأحاديث الصحيحة وأقوال المفسرين من الصحابة والتابعين وأئمة العلم والهدى من بعدهم كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى. وأما قول فيثاغورس فكان مهجوراً نحو من ألف وثمانمائة سنة حتى ظهر الفلكي البولوني «كوبرنيك» في القرن العاشر من الهجرة فقرر رأي فيثاغورس وأيده بالأدلة الرياضية. ولما كان في أثناء القرن الثاني عشر من الهجرة ظهر هرشل الإنكليزي وأتباعه من فلاسفة الإفرنج أصحاب الرصد والزيج الجديد فنصروا قول فيثاغورس وردوا ما خالفه وشاع قولهم منذ زمانهم إلى زماننا هذا وتلقاه كثير من المسلمين بالقبول تقليداً لأعداء الله تعالى. وذلك بسبب سيطرة الإنجليز وبعض الدول الأوربية على كثير من بلاد الإسلام في آخر القرن الثالث عشر من الهجرة وأكثر القرن الرابع عشر. فامتزج أهل تلك البلاد بأعداء الله تعالى امتزاجاً تاماً.وظهر النشء منهم متثقفين بالثقافة الإفرنجية يحذون حذو أعداء الله تعالى في هيئاتهم وأنظمتهم وقوانينهم ويسارعون إلى قبول آرائهم وظنونهم وتخرصاتهم. ويتمسكون بها أعظم مما يتمسكون بنصوص الكتاب والسنة. وكثير منهم كانوا يسافرون إلى الجامعات الأوربية ويتروون من تعاليمها الآجنة المسمومة عللاً بعد نهل حتى فشت فيهم الزندقة والإلحاد والاستخفاف بشأن القرآن العظيم فكان كثير منهم يحملونه على ما يوافق آراء الإفرنج وأقوالهم الباطلة كما هو موجود في كثير من مصنفاتهم فأدخلوا بذلك على المسلمين شراً كثيراً فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. وهؤلاء الذين ذكرنا من فلاسفة الإفرنج وهم كوبرنيك وهرشل وأتباعهما يقال لهم أهل الهيئة الجديدة.قال محمود شكري الألوسي في مقدمة كتابه الذي سماه «ما دل عليه القرآن. مما يعضد الهيئة الجديدة» قد شاع في عصرنا قول فيثاغورس الفيلسوف الشهير في هيئة الأفلاك ونصره الفلاسفة المتأخرون بعد أن كان عاطلاً مهجوراً وهو القول بحركة الأرض اليومية والسنوية على الشمس وأنها هي مركز نظامها وأن الأرض إحدى الكواكب
গ্রিক (দার্শনিক), এবং তাঁর সময়কাল ছিল মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে। কেউ কেউ বলেন ছয়শ বছর। আর দার্শনিকদের প্রধান ও অগ্রগণ্য ব্যক্তি টলেমি—তাঁর সময়কাল ছিল মসীহের প্রায় একশ পঞ্চাশ বছর পূর্বে—এই মত পোষণ করতেন যে, পৃথিবী হলো স্থির কেন্দ্র এবং সূর্য, চন্দ্র ও অন্যান্য সকল গ্রহ-নক্ষত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে। প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই কথাটিই বলেন এবং এটিই হলো সেই সত্য যা আয়াতসমূহ, সহিহ হাদিসসমূহ এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও তাঁদের পরবর্তী ইলম ও হেদায়াতের ইমামগণের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে। পক্ষান্তরে পিথাগোরাসের মতটি প্রায় এক হাজার আটশ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না হিজরি দশম শতাব্দীতে পোলিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ‘কোপার্নিকাস’ আবির্ভূত হন। তিনি পিথাগোরাসের মতটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং গাণিতিক প্রমাণের মাধ্যমে তা সমর্থন করেন। আর যখন হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ চলছিলো, তখন ইংরেজ হার্শেল ও ইউরোপীয় দার্শনিকদের মধ্য থেকে তাঁর অনুসারীরা, যারা মানমন্দির ও নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধিকারী ছিল, তারা আত্মপ্রকাশ করে। তারা পিথাগোরাসের মতকে সমর্থন দেয় এবং এর বিরুদ্ধ মতকে প্রত্যাখ্যান করে। তাঁদের এই মতবাদ তাঁদের সময় থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক মুসলিম আল্লাহর শত্রুদের অন্ধ অনুকরণের বশবর্তী হয়ে এটি গ্রহণ করে নিয়েছে। এর কারণ ছিল হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষে এবং চতুর্দশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে অনেকগুলো মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর ইংরেজ ও কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্রের আধিপত্য। ফলে সেসব দেশের মানুষ আল্লাহর শত্রুদের সাথে পুরোপুরি মিশে যায়।এবং তাদের মধ্য থেকে এমন এক নতুন প্রজন্মের উদ্ভব হয় যারা ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে শিক্ষিত এবং তারা আল্লাহর শত্রুদের চালচলন, নিয়ম-নীতি ও আইন-কানুন হুবহু অনুসরণ করে। তারা তাদের মতবাদ, ধারণা ও মনগড়া তত্ত্বগুলো গ্রহণ করতে তড়িঘড়ি করে। আর তারা এগুলোতে কিতাব ও সুন্নাহর নস (স্পষ্ট বিধান) অপেক্ষা অধিকতর মজবুতভাবে আঁকড়ে থাকে। তাদের অনেকেই ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াত করত এবং সেখানকার বিষাক্ত ও পঙ্কিল শিক্ষা বারবার পান করে তৃপ্ত হতো, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে জিন্দিকি (ধর্মহীনতা), নাস্তিকতা এবং মহান কুরআনের মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের অনেকেই কুরআনকে ইউরোপীয়দের মতবাদ ও তাদের বাতিল কথাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করত, যেমনটি তাদের অনেক রচনায় বিদ্যমান রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের মধ্যে অনেক অনিষ্ট প্রবেশ করিয়েছে। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই। ইউরোপীয় দার্শনিকদের মধ্য থেকে আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ কোপার্নিকাস, হার্শেল ও তাদের অনুসারীরা—তাদেরকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলা হয়।মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি তাঁর 'মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হাইআতুল জাদিদাহ' নামক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: আমাদের যুগে মহাকাশ মণ্ডল সম্পর্কে প্রখ্যাত দার্শনিক পিথাগোরাসের মতটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরবর্তী যুগের দার্শনিকরা এটিকে সমর্থন করেছেন—দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত থাকার পর। সেটি হলো সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর দৈনিক ও বার্ষিক গতির কথা এবং সূর্যই হলো এর ব্যবস্থার কেন্দ্র এবং পৃথিবী গ্রহগুলোর মধ্যে একটি গ্রহ।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
السيارة وأنها سابحة في الجو معلقة بسلاسل الجاذبية وقائمة بها كسائر الكواكب. لا أنها كما ذهب إليه بطليموس في الأفلاك كالمسامير في الباب. قال وقد سماها الفلاسفة المتأخرون الهيئة الجديدة لكونها شاعت في العصر المتأخر وإلا فالقول بها متقدم جداً.وذكر الألوسي أيضاً في صفحة 23 أن المتأخرين ممن انتظم في سلك الفلاسفة كهرشل وأتباعه أصحاب الرصد والزيج الجديد تخيلوا خلاف ما ذهب إليه الأولون في أمر الهيئة وقالوا بأن الشمس مركز. والأرض وكذا النجوم دائرة حولها. وذكر الألوسي أيضاً في صفحة 29 ما ذهب إليه أصحاب الزيج الجديد من أن الشمس ساكنة لا تتحرك أصلاً وأنها مركز العالم وأن الأرض وكذا سائر السيارات والثوابت تتحرك عليها.وقال أيضاً في صفحة 33 والمنجمون يقسمون النجوم إلى ثوابت وسيارات والسيارات عند المتقدمين سبع بإجماعهم. وعند المنجمين اليوم وهم أهل الهيئة الجديدة أن الشمس في وسط الكواكب التي تدور حولها وأنها أعظم من الأرض بألف ألف مرة وثلثمائة وثمانية وعشرين ألف مرة وأن لها حركة على نفسها. وقد استنبط بعض علمائهم من تحول كلفها الذي يظهر على ظهرها ورجوعه في أزمنة مخصوصة أنها تدور على نفسها في خمسة وعشرين يوماً واثنتي عشرة ساعة. وجزموا بأن ليس لها حركة حول الأرض بل للأرض حركة حولها وأن الأرض إحدى السيارات وهي عندهم عطارد والزهرة والأرض والمريخ ووسنة وقد كشفها رجل منهم يقال له «اولبوس» في حدود سنة ثلاث وعشرين ومئتين وألف للهجرة (ونبتون) وقد كشفها رجل منهم يقال له «هاردنق» في حدود سنة عشرين ومئتين وألف للهجرة (وسيرس) وقد كشفها رجل منهم يقال له «بياظي» في حدود سنة ست عشرة ومئتين وألف للهجرة (وبلاس) وقد كشفها «اولبوس» أيضاً في حدود سنة سبع عشرة ومئتين وألف. والمشتري وزحل (وأورانوس) وقد كشفها رجل منهم يقال له «هرشل» في حدود سنة سبع وتسعين ومائة وألف للهجرة. ولم يعدوا القمر من السيارات بل من سيارات السيارات لأنه يدور حول الأرض ودورانها حول الشمس. وهو عندهم دون عظم الأرض بتسع وأربعين مرة. وزعموا أن بُعد الشمس عن الأرض أربعة وثلاثون ألف ألف فرسخ فرنسي وهو المقدر بمسافة ساعة وخمسمائة ألف فرسخ ومع هذا يصل نورها إلينا في مدة ثمان دقائق وثلاث عشرة ثانية. وأن البعد الأبعد للقمر عنها أحد وتسعون
গ্রহসমূহ এবং সেগুলো মহাকাশে ভাসমান, অন্যান্য নক্ষত্রের মতো মাধ্যাকর্ষণ শিকল দ্বারা ঝুলে আছে এবং তার মাধ্যমেই বিদ্যমান। এটি এমন নয় যেমনটি টলেমি জ্যোতিষ্ক মণ্ডলীর ক্ষেত্রে মনে করতেন যে, এগুলো দরজায় পেরেকের মতো গেঁথে আছে। তিনি বলেন, পরবর্তী যুগের দার্শনিকগণ একে 'আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান' নামে অভিহিত করেছেন কারণ এটি পরবর্তী যুগে প্রচলিত হয়েছে, নতুবা এই মতটি অত্যন্ত প্রাচীন।আলূসী ২৩ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত পরবর্তীকালের ব্যক্তিবর্গ যেমন হার্শেল ও তাঁর অনুসারীগণ—যারা পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক পঞ্জিকার প্রণেতা—জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়ে পূর্ববর্তীদের মতের বিপরীতে ধারণা পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, সূর্য হলো কেন্দ্র; আর পৃথিবী ও নক্ষত্ররাজি এর চারপাশে আবর্তন করে। আলূসী ২৯ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ করেছেন আধুনিক পঞ্জিকাকারীদের এই মত যে, সূর্য স্থির, এটি মোটেও গতিশীল নয় এবং এটিই জগতের কেন্দ্র। আর পৃথিবী ও অন্যান্য সকল গ্রহ ও স্থির নক্ষত্রসমূহ এর চারদিকে পরিভ্রমণ করে।তিনি ৩৩ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন, জ্যোতির্বিদগণ নক্ষত্রসমূহকে স্থির ও পরিভ্রমণকারী—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন। পূর্ববর্তীদের সর্বসম্মত মতে পরিভ্রমণকারী গ্রহ ছিল সাতটি। কিন্তু বর্তমান যুগের জ্যোতির্বিদদের নিকট—যারা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারী—সূর্য হলো সেই গ্রহসমূহের কেন্দ্রে যা তার চারপাশে আবর্তন করে। আর সূর্য পৃথিবীর চেয়ে তেরো লক্ষ আটাশ হাজার গুণ বড় এবং এর নিজ অক্ষের ওপর গতি রয়েছে। তাদের জনৈক বিজ্ঞানী সূর্যের উপরিভাগে দৃশ্যমান কলঙ্কচিহ্নের পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেটির পুনরাবৃত্তি থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, সূর্য পঁচিশ দিন বারো ঘণ্টায় নিজ অক্ষের ওপর একবার আবর্তন করে। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, সূর্যের পৃথিবীর চারদিকে কোনো গতি নেই, বরং পৃথিবীরই সূর্যের চারদিকে গতি রয়েছে। আর পৃথিবী গ্রহসমূহের মধ্যে অন্যতম। তাদের মতে গ্রহগুলো হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল এবং ভ্যাসটা—যা তাদের মধ্য থেকে 'ওলবার্স' নামক এক ব্যক্তি ১২২৩ হিজরি সনের দিকে আবিষ্কার করেছেন; নেপচুন—যা তাদের মধ্য থেকে 'হার্ডিং' নামক এক ব্যক্তি ১২২০ হিজরি সনের দিকে আবিষ্কার করেছেন; সেরেস—যা তাদের মধ্য থেকে 'পিয়াজ্জি' নামক এক ব্যক্তি ১২১৬ হিজরি সনের দিকে আবিষ্কার করেছেন; এবং প্যালাস—যা 'ওলবার্স' পুনরায় ১২১৭ হিজরি সনের দিকে আবিষ্কার করেছেন। আরও রয়েছে বৃহস্পতি, শনি এবং ইউরেনাস—যা তাদের মধ্য থেকে 'হার্শেল' নামক এক ব্যক্তি ১১৯৭ হিজরি সনের দিকে আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা চাঁদকে গ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং একে উপগ্রহ হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এটি পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে আর পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। তাদের মতে এটি পৃথিবীর আয়তনের চেয়ে উনপঞ্চাশ গুণ ছোট। তাঁরা দাবি করেছেন যে, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব তিন কোটি চল্লিশ লক্ষ ফরাসি ফারসাখ, যা আনুমানিক এক ঘণ্টা ও পাঁচ লক্ষ ফারসাখের দূরত্বের সমান। এতদসত্ত্বেও সূর্যের আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে আট মিনিট তেরো সেকেন্ড সময় লাগে। আর চাঁদ থেকে এর সর্বাধিক দূরত্ব হলো একানব্বই...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ألفاً وأربع مائة وخمسون فرسخاً. والبعد الأقرب له ثمانون ألفاً ومائة وخمسة فراسخ فيكون البعد الأوسط نحو ستة وثمانين ألف فرسخ.وكانوا يزعمون من قبل أن ليس للشمس حركة على كوكب آخر وإنما لها حركة على نفسها فقط ثم أدركوا أن لها حركة على كوكب من كواكب الثريا وجوزوا أن يكون لذلك الكوكب حركة على كوكب آخر أبعد منه وهكذا إلى ما لا يعلمه إلا الله تعالى فإن سعة الجو غير متناهية عندهم وفيه من الكواكب ما لا يتناهى أيضاً - إلى أن قال - ولهم تقسيمات أخر باعتبارات أُخر بنوا عليها ما بنوا ولا يكاد يسلم لهم إلا ما لم يلزم منه محذور في الدين انتهى.وإذا علم ما ذكرنا ههنا عن أهل الهيئة الجديدة الذين من أولهم كوبرنيك البولوني في القرن العاشر وهرشل الإنكليزي وأتباعه في القرن الثاني عشر والقرن الثالث عشر من الهجرة وأن أصله مأخوذ عن فيثاغورس اليوناني فليعلم أيضاً أن قولهم في سكون الشمس ودوران الأرض عليها قول باطل معلوم البطلان عند كل من نور الله قلبه بنور العلم والإيمان. والأدلة على بطلانه كثيرة جداً. وأنا أذكر ههنا ما تيسر من ذلك وبالله المستعان.فأما الأدلة من القرآن ففي اثنين وعشرين موضعاً منه وقد قال الله تعالى (ولا ينبئك مثل خبير) قال قتادة يعني نفسه تبارك وتعالى:الدليل الأول قول الله تعالى (والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم) قال الراغب الأصفهاني الجري المر السريع. وقال الجوهري الجارية الشمس والجارية السفينة. وقال ابن منظور في لسان العرب جرت الشمس وسائر النجوم سارت من المشرق إلى المغرب. والجارية الشمس سميت بذلك لجريها من القطر إلى القطر.ثم ذكر عن صاحب التهذيب أنه قال الجارية عين الشمس في السماء قال الله عز وجل (والشمس تجري لمستقر لها) والجارية الريح قال الشاعر: …فيوماً تراني في الفريق معقلاً … ويوماً أباري في الرياح الجوارياوقوله تعالى (فلا أقسم بالخنس. الجوار الكنس) يعني النجوم. وجرت السفينة جرياً كذلك. والجارية السفينة صفة غالبة. وفي التنزيل (حملناكم في الجارية) وفيه (وله الجوار المنشئات في البحر) وقوله عز وجل (بسم الله مجراها ومرساها)
এক হাজার চারশত পঞ্চাশ ফারসাখ। এবং এর নিকটতম দূরত্ব হলো আশি হাজার একশত পাঁচ ফারসাখ, ফলে এর গড় দূরত্ব হয় প্রায় ছিয়াশি হাজার ফারসাখ।তারা পূর্বে দাবি করত যে অন্য কোনো নক্ষত্রের সাপেক্ষে সূর্যের কোনো গতি নেই, বরং এর কেবল নিজস্ব অক্ষের ওপর গতি রয়েছে। অতঃপর তারা উপলব্ধি করল যে সুরাইয়া (প্লাইয়াডেস) নক্ষত্রমন্ডলীর কোনো একটি নক্ষত্রের সাপেক্ষে এর গতি রয়েছে এবং তারা এই সম্ভাবনাও ব্যক্ত করেছে যে সেই নক্ষত্রটিরও তার চেয়ে দূরবর্তী অন্য কোনো নক্ষত্রের সাপেক্ষে গতি থাকতে পারে। এভাবে এমন পর্যায় পর্যন্ত যা আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কেউ জানেন না। কেননা তাদের মতে মহাকাশের বিশালতা অসীম এবং তাতে নক্ষত্রের সংখ্যাও অগণিত - তিনি (লেখক) আরও বলেন - তাদের আরও অন্যান্য বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের মতবাদসমূহ দাঁড় করিয়েছে। তবে তাদের সেসব বক্তব্যই কেবল গ্রহণযোগ্য হতে পারে যাতে দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তির কারণ নেই। (সমাপ্ত)।এখানে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যখন জানা গেল—যাদের মধ্যে প্রথম সারির হলেন দশম হিজরি শতকের পোল্যান্ডের কোপার্নিকাস এবং দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ হিজরি শতকের ইংরেজ হার্শেল ও তাঁর অনুসারীরা—এবং এর মূল ভিত্তি যে গ্রীক পিথাগোরাস থেকে নেওয়া হয়েছে, তবে এটাও জেনে রাখা উচিত যে, সূর্যের স্থিরতা এবং এর চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য একটি বাতিল কথা। যার অসারতা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট সুস্পষ্ট যার অন্তরকে আল্লাহ ইলম ও ঈমানের নূর দ্বারা আলোকিত করেছেন। এর অসারতার সপক্ষে প্রমাণাদি অনেক। আমি এখানে তার মধ্য থেকে যা সহজসাধ্য তা উল্লেখ করছি এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।আর কুরআন থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি এর মধ্যে বাইশটি স্থানে রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন (পরম জ্ঞাত সত্তার ন্যায় কেউ তোমাকে অবহিত করবে না)। কাতাদাহ বলেন, এর দ্বারা তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ নিজের সত্তাকেই বুঝিয়েছেন:প্রথম প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী (এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ)। রাغب আসফাহানি বলেন, 'জারয়ু' (চলা) হলো দ্রুত অতিক্রান্ত হওয়া। জওহারি বলেন, 'জারিয়া' মানে সূর্য এবং 'জারিয়া' মানে নৌকা। ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব'-এ বলেন, সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র ভ্রমণ করে অর্থাৎ পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে। আর সূর্যকে 'জারিয়া' বলা হয় দিগন্ত থেকে দিগন্তে এর ভ্রমণের কারণে।অতঃপর তিনি 'তাহযীব' প্রণেতা থেকে উল্লেখ করেন যে তিনি বলেছেন, 'জারিয়া' হলো আকাশের চাক্ষুষ সূর্য। মহান আল্লাহ বলেছেন (এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে)। আর 'জারিয়া' বায়ু অর্থেও ব্যবহৃত হয়, কবি বলেছেন: …কোনো একদিন তুমি আমাকে একদলের মাঝে আবদ্ধ দেখবে … আবার অন্যদিন আমি বেগবান বাতাসের সাথে প্রতিযোগিতা করব।এবং আল্লাহ তাআলার বাণী (আমি শপথ করছি পশ্চাদপসরণকারী নক্ষত্ররাজির, যা অদৃশ্য হয়) অর্থাৎ নক্ষত্রসমূহ। একইভাবে নৌকাও চলাচল করে। আর 'জারিয়া' নৌকা অর্থে একটি বিশেষ গুণবাচক নাম। পবিত্র কুরআনে এসেছে (আমি তোমাদেরকে নৌযানে আরোহণ করিয়েছি) এবং এতে আরও আছে (সমুদ্রে বিচরণশীল পাহাড় সদৃশ নৌযানসমূহ তাঁরই) এবং মহান আল্লাহর বাণী (আল্লাহর নামেই এর চলা ও থামা)।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم ذكر عن الليث أنه قال الخيل تجري والرياح تجري والشمس تجري جرياً إلا الماء فإنه يجري جريه أي بكسر الجيم والجراء للخيل خاصة وأنشد:غمر الجراء إذا قصرت عنانه … . . . . . . . . . . .وفرس ذو أجاري أي ذو فنون في الجري انتهى وقد ذكر الله تعالى عن السفن والرياح نظير ما ذكره عن الشمس من المر السريع فقال تعالى (الله الذي سخر لكم البحر لتجري الفلك فيه بأمره) وقال تعالى (وقال اركبوا فيها بسم الله مجراها ومرساها إن ربي لغفور رحيم. وهي تجري بهم في موج كالجبال) الآية. وقال تعالى (وحملناه على ذات ألواح ودسر. تجري بأعيننا) الآية. وقال تعالى (ولسليمان الريح عاصفة تجري بأمره إلى الأرض التي باركنا فيها) الآية وقال تعالى (فالجاريات يسراً) إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة في هذا المعنى. وقرأ ابن مسعود وابن عباس رضي الله عنهم (والشمس تجري لا مستقر لها) قال البغوي أي لا قرار لها ولا وقوف فهي جارية أبداً. وقال القرطبي أي أنها تجري في الليل والنهار لا وقوف لها ولا قرار إلى أن يكورها الله يوم القيامة. وقال ابن كثير أي لا قرار لها ولا سكون بل هي سائرة ليلاً ونهاراً لا تفتر ولا تقف كما قال تبارك وتعالى (وسخر لكم الشمس والقمر دائبين) أي لا يفتران ولا يقفان إلى يوم القيامة انتهى. وكفى بهذه الآية حجة على إبطال ما يزعمه كوبرنيك وهرشل وأتباعهما من أهل الهيئة الجديدة ومن يقلدهم ويأخذ بأقوالهم من المسلمين.الدليل الثاني قوله تعالى في سورة الرعد (الله الذي رفع السموات بغير عمد ترونها ثم استوى على العرش وسخر الشمس والقمر كل يجري لأجل مسمى) الآية.الدليل الثالث قوله تعالى في سورة لقمان (ألم تر أن الله يولج الليل في النهار ويولج النهار في الليل وسخر الشمس والقمر كل يجري إلى أجل مسمى وأن الله بما تعملون خبير).الدليل الرابع قوله تعالى في سورة فاطر (يولج الليل في النهار ويولج النهار في الليل وسخر الشمس والقمر كل يجري لأجل مسمى ذلكم الله ربكم له الملك) الآية.
অতঃপর লায়স থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ঘোড়া চলে, বাতাস চলে এবং সূর্য দ্রুতগতিতে চলে, তবে পানি ছাড়া; কেননা পানি তার নিজস্ব গতিতে (জিরয়াহ - অর্থাৎ জিম অক্ষরে কাসরা বা জের সহকারে) প্রবাহিত হয়। আর 'জিরা' শব্দটি বিশেষ করে ঘোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তিনি আবৃত্তি করেছেন:দ্রুত গতিসম্পন্ন ঘোড়া, যখন তুমি তার লাগাম টেনে ধরবে … . . . . . . . . . . .এবং 'জু আজারি' ঘোড়া অর্থাৎ যার দৌড়ানোর বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল্লাহ তাআলা সূর্য সম্পর্কে যেমন দ্রুত গতির কথা উল্লেখ করেছেন, জাহাজ ও বাতাসের ক্ষেত্রেও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: (আল্লাহ তিনিই, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের জন্য বশীভূত করেছেন যাতে তাঁর আদেশে তাতে জাহাজ চলাচল করে)। তিনি আরও বলেছেন: (এবং তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো, আল্লাহর নামেই এর চলা ও এর থামা। নিশ্চয়ই আমার রব পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তা তাদের নিয়ে পাহাড়সম ঢেউয়ের মধ্যে চলতে লাগল) - আয়াত। তিনি আরও বলেছেন: (এবং আমি তাকে বহন করলাম কাঠ ও পেরেক নির্মিত এক নৌযানে, যা আমার চোখের সামনে চলছিল) - আয়াত। তিনি আরও বলেছেন: (আর আমি সুলাইমানের জন্য প্রবল বাতাসকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার আদেশে সেই ভূখণ্ডের দিকে চলত যেখানে আমি বরকত দিয়েছি) - আয়াত। তিনি আরও বলেছেন: (অতঃপর যারা স্বাচ্ছন্দ্যে দ্রুত চলে) - এ মর্মে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পাঠ করেছেন: (আর সূর্য চলে, এর কোনো বিশ্রামস্থল নেই)। বাগাবী বলেছেন, অর্থাৎ এর কোনো স্থিরতা নেই এবং কোনো বিরতি নেই, বরং তা সর্বদা চলন্ত। কুরতুবী বলেছেন, অর্থাৎ এটি দিন ও রাতে চলতে থাকে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ একে গুটিয়ে ফেলা পর্যন্ত এর কোনো বিরতি বা স্থিরতা নেই। ইবনে কাসীর বলেছেন, অর্থাৎ এর কোনো স্থিতি বা বিশ্রাম নেই, বরং এটি দিন-রাত চলতে থাকে, শিথিল হয় না এবং থামেও না। যেমন বরকতময় আল্লাহ বলেছেন: (এবং তিনি তোমাদের জন্য সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন যা সর্বদা গতিশীল) অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত এই দুটি শিথিল হবে না এবং থামবে না। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। কোপার্নিকাস ও হার্শেল এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারী ও তাদের অনুকরণকারী এবং তাদের মতবাদ গ্রহণকারী মুসলমানদের দাবি বাতিল করার জন্য এই আয়াতটিই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।দ্বিতীয় দলীল: সূরা আর-রা'দ-এ মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ তিনিই, যিনি আকাশমন্ডলীকে কোনো খুঁটি ছাড়াই উপরে তুলেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ; অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করছে) - আয়াত।তৃতীয় দলীল: সূরা লুকমান-এ মহান আল্লাহর বাণী: (তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান? তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করছে। আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত)।চতুর্থ দলীল: সূরা ফাতির-এ মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করছে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সার্বভৌমত্ব তাঁরই) - আয়াত।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الخامس قوله تعالى في سورة الزمر (خلق السموات والأرض بالحق يكور الليل على النهار ويكور النهار على الليل وسخر الشمس والقمر كل يجري لأجل مسمى ألا هو العزيز الغفار).ففي هذه الآيات كلها النص على جريان الشمس والقمر والرد على من قال أن الشمس ساكنة لا تتحرك أصلاً وأنها مركز العالم.قال الراغب الأصفهاني قوله يكور الليل إشارة إلى جريان الشمس في مطالعها وانتقاص الليل والنهار وازديادهما انتهى.الدليل السادس قوله تعالى (وهو الذي خلق الليل والنهار والشمس والقمر كل في فلك يسبحون).الدليل السابع قوله تعالى (لا الشمس ينبغي لها أن تدرك القمر ولا الليل سابق النهار وكل في فلك يسبحون).قال الراغب الأصفهاني السبح المر السريع في الماء وفي الهواء يقال سبح سبحاً وسباحة واستعير لمر النجوم في الفلك نحو (وكل في فلك يسبحون) ولجري الفرس نحو (فالسابحات سبحا) ولسرعة الذهاب في العمل نحو (إن لك في النهار سبحاً طويلا) انتهى.وقال ابن كثير رحمه الله تعالى قوله (وكل في فلك يسبحون) يعني الليل والنهار والشمس والقمر كلهم يسبحون أي يدورون في فلك السماء. قاله ابن عباس وعكرمة والضحاك والحسن وقتادة وعطاء الخراساني.قال ابن عباس رضي الله عنهما وغير واحد من السلف في فلكة كفلكة المغزل. وقال مجاهد الفلك كحديدة الرحى أو كفلكة المغزل لا يدور المغزل إلا بها ولا تدور إلا به انتهى.وروى ابن أبي حاتم من طريق سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله (وكل في فلك يسبحون) قال في فلكة مثل فلكة المغزل.وروى أيضاً من طريق عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله (يسبحون) قال يدورون في أبواب السماء كما يدور المغزل في الفلكة.
পঞ্চম দলীল হলো সূরা আয-যুমারে মহান আল্লাহর বাণী (তিনি যথাযথভাবে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; তিনি রাতকে দিনের ওপর জড়িয়ে দেন এবং দিনকে রাতের ওপর জড়িয়ে দেন এবং তিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করছে। জেনে রেখো, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।)।এই সমস্ত আয়াতে সূর্য ও চন্দ্রের গতির স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এবং তাদের বক্তব্যের খণ্ডন রয়েছে যারা বলে যে, সূর্য স্থির, এটি মোটেও নড়ে না এবং এটিই মহাবিশ্বের কেন্দ্র।রাগিব আল-ইসফাহানী বলেছেন, তাঁর বাণী "রাতকে জড়িয়ে দেন" এর অর্থ হলো সূর্যের নিজ উদয়স্থলসমূহে আবর্তন এবং রাত ও দিনের হ্রাস-বৃদ্ধির প্রতি ইঙ্গিত। সমাপ্ত।ষষ্ঠ দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী (আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।)।সপ্তম দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী (সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।)।রাগিব আল-ইসফাহানী বলেছেন, 'সাব্হ' অর্থ হলো পানি বা বাতাসে দ্রুত চলাচল করা; বলা হয় 'সাবাহা সাব্হান' এবং 'সিবাহাহ' (সাঁতার কাটা)। এটি কক্ষপথে নক্ষত্ররাজির চলাচলের ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন (প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে) এবং ঘোড়ার দৌড়ানোর ক্ষেত্রে, যেমন (শপথ তাদের, যারা দ্রুত ধাবমান) এবং কাজে দ্রুততার সাথে ব্যস্ত থাকার ক্ষেত্রে, যেমন (নিশ্চয় দিনে তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ ব্যস্ততা)। সমাপ্ত।ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তাঁর বাণী (প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে) অর্থাৎ রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদ সবাই বিচরণ করছে অর্থাৎ আসমানের কক্ষপথে আবর্তন করছে। ইবনে আব্বাস, ইকরিমা, দাহহাক, হাসান, কাতাদাহ এবং আতা আল-খুরাসানী এই কথা বলেছেন।ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং সালফে সালেহীনের একাধিক ব্যক্তি বলেছেন: এটি চরকির চাকার মতো। মুজাহিদ বলেছেন: কক্ষপথ হলো যাঁতাকলের লোহার মতো অথবা চরকির চাকার মতো; চাকা ছাড়া যেমন চরকি ঘোরে না, তেমনি চরকি ছাড়াও চাকা ঘোরে না। সমাপ্ত।ইবনে আবী হাতিম সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণী (প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি চরকির চাকার মতো একটি কক্ষপথে (আবর্তনশীল)।তিনি ইকরিমার সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, (বিচরণ করছে) কথাটির অর্থ হলো: তারা আসমানের দরজাসমূহে সেভাবেই আবর্তন করে যেভাবে চরকির চাকা তার অক্ষদণ্ডে ঘোরে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى أيضاً من طريق علي بن أبي طلحة عن ابن عباس رضي الله عنهما قوله (في فلك) يقول دوران. وقوله يسبحون يعني يجرون.وروى أيضاً من طريق عبد الله بن كثير أنه سمع مجاهداً يقول (وكل في فلك يسبحون) قال النجوم والشمس والقمر فلك كفلكة المغزل. وقال مثل ذلك الحسبان يعني حسبان الرحى وهو سفودها القائم الذي تدور عليه وكان مجاهد يفسر قوله تعالى (الشمس والقمر بحسبان) بهذا. قال مجاهد ولا يدور المغزل إلا بالفلكة ولا تدور الفلكة إلا بالمغزل ولا يدور الحسبان إلا بالرحى ولا تدور الرحى إلا بالحسبان. قال فكذلك النجوم والشمس والقمر هي في فلك لا يدمن إلا به ولا يدوم إلا بهن قال فنقر لي بإصبعه قال فقال مجاهد يد من كذلك كما نقر قال فالحسبان والفلك يصيران إلى شيء واحد غير أن الحسبان في الرحى والفلك في المغزل.قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى قوله لا تدوم إلا به أي لا تدور إلا به ومنه الدوامة بالضم والتشديد وهي فلكة يرميها الصبي بخيط فتدوم على الأرض أي تدور ومنه تدويم الطير وهو تحليقه ودورانه في طيرانه ليرتفع إلى السماء. وقوله نقر بإصبعه يعني نقر بها في الأرض وأدارها ليشبه بذلك دوران الفلك انتهى.وروى ابن أبي حاتم عن الحسن البصري في قوله (وكل في فلك يسبحون) قال يعني استدارتهم.وروى أيضاً عن الضحاك في قوله (وكل في فلك يسبحون) قال يدور ويذهب.وروى أيضاً عنه قال الفلك السرعة والجري في الاستدارة ويسبحون يعملون.وقال البغوي في تفسيره (كل في فلك يسبحون) يجرون ويسيرون بسرعة كالسابح في الماء. وإنما قال يسبحون ولم يقل تسبح على ما يقال لما لا يعقل لأنه ذكر عنها فعل العقلاء من الجري والسبح فذكر على ما يعقل.والفلك مدار النجوم الذي يضمها، والفلك في كلام العرب كل شيء مستدير وجمعه أفلاك ومنه فلكة المغزل. وقال الحسن الفلك طاحونة كهيئة فلكة المغزل.يريد أن الذي تجري فيه النجوم مستدير كاستدارة الطاحونة. قال الضحاك فلكها مجراها وسرعة سيرها. قال مجاهد كهيئة حديد الرحى. وقال بعضهم الفلك السماء الذي فيه
আলী ইবনে আবি তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, (আয়াতের অংশ) 'কক্ষপথে' সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ঘূর্ণন। আর 'সাঁতার কাটছে' অর্থ হলো তারা দ্রুত চলছে।আবদুল্লাহ ইবনে কাসীরের সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মুজাহিদকে (আয়াতের অংশ) 'প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কাটছে' সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্রের কক্ষপথ হলো সুতা কাটার টেকুর চাকার মতো। তিনি 'হুসবান' সম্পর্কেও অনুরুপ কথা বলেছেন, অর্থাৎ যাঁতার কীলক, যার ওপর ভিত্তি করে সেটি ঘোরে। মুজাহিদ মহান আল্লাহর বাণী 'সূর্য ও চন্দ্র আবর্তিত হয় এক সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে' এর ব্যাখ্যা এভাবেই করতেন। মুজাহিদ বলেন: টেকুর দণ্ডটি তার চাকা ছাড়া ঘোরে না এবং চাকাটিও দণ্ড ছাড়া ঘোরে না; তেমনি যাঁতার কীলকটি যাঁতা ছাড়া ঘোরে না এবং যাঁতাটিও কীলক ছাড়া ঘোরে না। তিনি বলেন: একইভাবে নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্র কক্ষপথের মধ্যে রয়েছে, যা এগুলো ছাড়া আবর্তিত হয় না এবং এগুলোও সেটি ছাড়া আবর্তিত হয় না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আমাকে নিজের আঙুল দিয়ে টোকা দিয়ে দেখালেন। তিনি বলেন: মুজাহিদ বললেন, সেগুলো সেভাবেই ঘুরছে যেভাবে টোকা দেওয়া হলো। তিনি আরও বলেন: 'হুসবান' ও 'কক্ষপথ' অভিন্ন অর্থে পর্যবসিত হয়, কেবল পার্থক্য হলো 'হুসবান' যাঁতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় আর 'কক্ষপথ' টেকুর ক্ষেত্রে।শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর কথা 'তা এগুলো ছাড়া আবর্তিত হয় না' এর অর্থ হলো তা এগুলো ছাড়া ঘোরে না। 'দাউয়ামাহ' শব্দটি এখান থেকেই এসেছে, যা হলো লাটিম যা শিশুরা সুতা দিয়ে মাটিতে ঘুরিয়ে দেয় এবং তা ঘুরতে থাকে। পাখির 'তাদউইম' বা ডানা ঝাপটিয়ে শূন্যে ঘোরাও এর অন্তর্ভুক্ত, যা পাখি আকাশে ওড়ার সময় চক্রাকারে ঘোরার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। আর বর্ণনাকারীর বক্তব্য 'তিনি আঙুল দিয়ে টোকা দিলেন' এর অর্থ হলো, তিনি মাটিতে আঙুল দিয়ে টোকা দিয়ে সেটি ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন যেন এর মাধ্যমে কক্ষপথের ঘূর্ণনের সাদৃশ্য প্রকাশ পায়। সমাপ্ত।ইবনে আবি হাতিম হাসান বসরী থেকে আল্লাহর বাণী 'প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কাটছে' প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো তাদের বৃত্তাকার গতি।যহহাক থেকেও আল্লাহর বাণী 'প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কাটছে' সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তা আবর্তিত হচ্ছে এবং চলছে।তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, 'কক্ষপথ' হলো গোলাকার পথে গতি ও দ্রুত ধাবমান হওয়া, আর 'সাঁতার কাটছে' হলো তারা কাজ করছে।ইমাম বগভী তাঁর তাফসিরে 'প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কাটছে' সম্পর্কে বলেছেন: তারা পানির সাঁতারুর ন্যায় দ্রুতবেগে ধাবিত ও বিচরণ করছে। এখানে জড় পদার্থের জন্য ব্যবহৃত শব্দের পরিবর্তে বিবেকসম্পন্নদের জন্য ব্যবহৃত শব্দ 'তারা সাঁতার কাটছে' ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ এখানে তাদের দ্রুত চলা ও সাঁতার কাটার মতো বিবেকসম্পন্নদের ক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তাদের বিবেকসম্পন্ন সত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।আর কক্ষপথ হলো নক্ষত্ররাজির আবর্তনের পথ যা সেগুলোকে বেষ্টন করে রাখে। আরবদের ভাষায় কক্ষপথ হলো প্রতিটি গোলাকার বস্তু, এর বহুবচন হলো 'আফলাক'। টেকুর চাকা এখান থেকেই এসেছে। হাসান বসরী বলেছেন: কক্ষপথ হলো যাঁতার মতো গোলাকার বস্তু, যা দেখতে টেকুর চাকার মতো।এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, নক্ষত্ররাজি যে পথে চলে তা যাঁতার ঘূর্ণনের মতো গোলাকার। যহহাক বলেন: কক্ষপথ হলো তাদের চলার পথ ও গতির দ্রুততা। মুজাহিদ বলেন: এটি যাঁতার লোহার মতো। আর কেউ কেউ বলেছেন: কক্ষপথ হলো সেই আকাশ যাতে তারা অবস্থান করছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ذلك الكوكب فكل كوكب يجري في السماء الذي قدر فيه وهو معنى قول قتادة. وقال الكلبي الفلك استدارة السماء انتهى.وفي الآيتين اللتين ذكرنا من سورة الأنبياء وسورة يس رد على أهل الهيئة الجديدة الذين ينكرون جريان الشمس ويزعمون أنها ثابتة لا تتحرك.الدليل الثامن قوله تعالى (وسخر لكم الشمس والقمر دائبين وسخر لكم الليل والنهار).قال الراغب الأصفهاني الدأب إدامة السير دأب في السير دأباً. قال (وسخر لكم الشمس والقمر دائبين).وقال ابن منظور في لسان العرب الدؤب المبالغة في السير وأدأب الرجل الدابة إدآباً إذا أتعبها.وقال ابن كثير في تفسيره (وسخر لكم الشمس والقمر دائبين) أي يسيران لا يفتران ليلاً ولا نهاراً. وقال في موضع آخر أي لا يفتران ولا يقفان إلى يوم القيامة انتهى.وقال القرطبي: الدؤوب مرور الشيء في العمل على عادة جارية. وقيل دائبين في السير امتثالاً لأمر الله والمعنى يجريان إلى يوم القيامة لا يفتران انتهى؟وكفى بهذه الآية حجة على من أنكر جريان الشمس من فلاسفة الإفرنج ومن يقلدهم من جهال المسلمين.وفي قوله تعالى (وسخر لكم) دليل على أن الشمس والقمر يجريان ويدوران على الأرض لقيام معايش العباد ومصالحهم ولهذا امتن الله عليهم بذلك في هذه الآية وفي غيرها من الآيات التي سيأتي ذكرها. وكذلك امتن عليهم بذلك في قوله تعالى (قل أرأيتم إن جعل الله عليكم الليل سرمداً إلى يوم القيامة من إله غير الله يأتيكم بضياء أفلا تسمعون. قل أرأيتم إن جعل الله عليكم النهار سرمداً إلى يوم القيامة من إله غير الله يأتيكم بليل تسكنون فيه أفلا تبصرون. ومن رحمته جعل لكم الليل والنهار لتسكنوا فيه ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون).الدليل التاسع قوله تعالى (إن ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش يغشي الليل النهار يطلبه حثيثاً والشمس والقمر والنجوم مسخرات بأمره ألا له الخلق والأمر تبارك الله رب العالمين).
সেই গ্রহ বা নক্ষত্র, অতএব প্রতিটি গ্রহ বা নক্ষত্র আসমানে প্রবাহিত হয় যা তার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, আর এটিই কাতাদাহর বক্তব্যের মর্ম। কালবি বলেন, 'ফালাক' (কক্ষপথ) হলো আসমানের আবর্তন। সমাপ্ত।সূরা আল-আম্বিয়া ও সূরা ইয়াসিন থেকে আমরা যে দুটি আয়াত উল্লেখ করেছি, তাতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের খণ্ডন করা হয়েছে, যারা সূর্যের গতিশীলতাকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে এটি স্থির, নড়াচড়া করে না।অষ্টম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী (আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা সর্বদা প্রবহমান এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে)।রাগিব আল-আসফাহানি বলেন, 'আদ-দাব' হলো অবিরাম চলা। সে অবিরাম পথ চলেছে। তিনি বলেন, (আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা সর্বদা প্রবহমান)।ইবনে মানজুর 'লিসানুল আরব'-এ বলেছেন, 'আদ-দুউব' হলো চলার ক্ষেত্রে ঐকান্তিকতা বা তীব্রতা। আর ব্যক্তি তার বাহনটিকে ক্লান্ত করে ফেলল যখন সে একে অবিরাম চালালো।ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে বলেছেন, (আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা সর্বদা প্রবহমান) অর্থাৎ তারা রাত-দিন ক্লান্তহীনভাবে চলে। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন, অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত তারা ক্লান্ত হবে না এবং থামবে না। সমাপ্ত।আল-কুরতুবি বলেন: 'আদ-দুউব' হলো চলমান অভ্যাস অনুযায়ী কোনো কাজের ধারাবাহিকতা। বলা হয়েছে যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তারা চলার ক্ষেত্রে অবিরাম। আর এর অর্থ হলো তারা কিয়ামত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। সমাপ্ত।ইউরোপীয় দার্শনিক এবং তাদের অনুকরণকারী জাহেল মুসলিমদের মধ্যে যারা সূর্যের গতিশীলতাকে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে এই আয়াতটিই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।আল্লাহ তাআলার বাণী (তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন)-এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, বান্দাদের জীবনযাত্রা ও স্বার্থ রক্ষার্থে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে পরিভ্রমণ ও আবর্তন করে। এই কারণেই আল্লাহ এই আয়াতে এবং অন্যান্য আয়াতে তাদের প্রতি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন যা সামনে আসবে। তদ্রূপ তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে (বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ যদি রাতকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন ইলাহ আছে যে তোমাদের আলোকোজ্জ্বল দিন এনে দিত? তোমরা কি তবুও শুনবে না? বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন ইলাহ আছে যে তোমাদের জন্য রাত এনে দিত যাতে তোমরা বিশ্রাম নিতে পারতে? তোমরা কি তবুও দেখবে না? তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পার এবং তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পার এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর)।নবম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী (নিশ্চয়ই তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন, যা তাকে দ্রুত অনুসরণ করে। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই। জগতসমূহের রব আল্লাহ বরকতময়)।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ووجه الاستدلال بهذه الآية على سير الشمس أنه سبحانه وتعالى أخبر أن الليل يطلب النهار طلباً حثيثاً أي سريعاً. والنهار هو ضوء الشمس وهو تابع لها يسير بسيرها فدل على أنها تسير دائماً ولا تستقر.وفي الآية دليل آخر على سير الشمس وهو قوله تعالى (والشمس والقمر والنجوم مسخرات بأمره) فإن التسخير المذكور ههنا هو تسخيرها تجري لمصالح العباد كما نص الله تبارك وتعالى على ذلك في قوله (وسخر لكم الشمس والقمر دائبين) وقوله تعالى في الآيات الأربع التي تقدم ذكرها (وسخر الشمس والقمر كل يجري لأجل مسمى).الدليل العاشر قوله تعالى (وسخر لكم الليل والنهار والشمس والقمر والنجوم مسخرات بأمره إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون).الدليل الحادي عشر قوله تعالى (ولئن سألتهم من خلق السموات والأرض وسخر الشمس والقمر ليقولن الله فأنى يؤفكون) والمعنى في هذه الآيات الثلاث واحد وهو أن الله سبحانه وتعالى سخر الشمس والقمر والنجوم والليل والنهار وجعلها تجري دائماً على الأرض لقيام معايش العباد ومصالحهم فتبارك الله رب العالمين الذي سخر لعباده ما في السموات وما في الأرض جميعاً منه.الدليل الثاني عشر قوله تعالى (قال إبراهيم فإن الله يأتي بالشمس من المشرق فأت بها من المغرب فبهت الذي كفر والله لا يهدي القوم الظالمين).وهذه الآية من أوضح الأدلة على سير الشمس ودورانها على الأرض وأن الله تعالى سخرها تأتي من المشرق كل يوم وتذهب نحو المغرب. ولو كانت قارة لا تزول عن مكانها كما يزعمه أهل الهيئة الجديدة لكان الإخبار عن الإتيان بها من المشرق لغواً لا معنى له ولا فائدة في ذكره ولكان ينبغي أن يقول إبراهيم عليه الصلاة والسلام لخصمه إن الله يأتي بالأرض من المغرب فأت بها من المشرق. فقاتل الله أهل الهيئة الجديدة الذين قلبوا الحقيقة وعكسوا القضية بلا برهان بل بمجرد الظن والحسبان. وإنه لينطبق عليهم قول الله تعالى في أشباههم من المتخرصين (وما لهم به من علم إن يتبعون إلا الظن وإن الظن لا يغني من الحق شيئاً. فأعرض عمن تولى عن ذكرنا ولم يرد إلا الحياة
এই আয়াত দ্বারা সূর্যের গতির ওপর প্রমাণের দিকটি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে রাত দিনকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অন্বেষণ করে। আর দিন হলো সূর্যের আলো যা সূর্যের অনুগামী এবং তার গতির সাথেই গতিশীল হয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সূর্য সর্বদা পরিভ্রমণ করে এবং তা কখনও স্থির থাকে না।আয়াতে সূর্যের গতির ওপর আরেকটি প্রমাণ রয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী (এবং সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশে নিয়োজিত)। এখানে উল্লিখিত 'নিয়োজিত করা'র অর্থ হলো সেগুলোকে বান্দাদের কল্যাণে প্রবহমান রাখা, যেমনটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীতে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন (এবং তিনি তোমাদের জন্য সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন যারা সর্বদা গতিশীল) এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত চারটি আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করে)।দশম প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে; আর নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশে নিয়োজিত। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে)।একাদশ প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী (আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যে, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে 'আল্লাহ'। তাহলে তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?)। এই তিনটি আয়াতের মর্মার্থ এক, আর তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি এবং রাত ও দিনকে নিয়োজিত করেছেন এবং সেগুলোকে পৃথিবীর ওপর সর্বদা প্রবহমান রেখেছেন বান্দাদের জীবনোপকরণ ও তাদের কল্যাণের স্বার্থে। সুতরাং বরকতময় আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রব, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে তাঁর পক্ষ থেকে নিয়োজিত করেছেন।দ্বাদশ প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী (ইবরাহীম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে আনয়ন করেন, তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে নিয়ে এসো। তখন সেই কাফির ব্যক্তি হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না)।এই আয়াতটি সূর্যের গতি এবং পৃথিবীর চারদিকে তার আবর্তনের অন্যতম স্পষ্ট দলিল। আল্লাহ তাআলা সূর্যকে এমনভাবে নিয়োজিত করেছেন যে তা প্রতিদিন পূর্ব দিক থেকে আসে এবং পশ্চিম দিকে চলে যায়। যদি এটি স্থির থাকতো এবং নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত না হতো যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করে, তবে একে পূর্ব দিক থেকে নিয়ে আসার সংবাদটি হতো অসার এবং তা উল্লেখ করার কোনো অর্থ বা ফায়দা থাকতো না। বরং এমতাবস্থায় ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের জন্য তাঁর প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে এমনটি বলা উচিত ছিল যে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ পৃথিবীকে পশ্চিম দিক থেকে নিয়ে আসেন, তুমি একে পূর্ব দিক থেকে নিয়ে আসো'। সুতরাং আল্লাহ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধ্বংস করুন যারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই সত্যকে উল্টে দিয়েছে এবং বিষয়টিকে বিপরীত করে ফেলেছে, বরং তারা তা করেছে কেবল ধারণা ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে। আর তাদের ওপর মহান আল্লাহর সেই বাণীই প্রযোজ্য হয় যা তাদের মতো মিথ্যাচারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে (এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণারই অনুসরণ করে। আর সত্যের মোকাবিলায় ধারণার কোনো মূল্য নেই। অতএব তার থেকে বিমুখ হও যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করেছে)।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الدنيا. ذلك مبلغهم من العلم إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بمن اهتدى).الدليل الثالث عشر قوله تعالى (فلما رأى الشمس بازغة قال هذا ربي هذا أكبر فلما أفلت قال يا قوم إني بريء مما تشركون) والبزوغ الطلوع والأفول الغيبوبة.وهذه الآية من أوضح الأدلة على سير الشمس ودورانها على الأرض. وقد ذكر الله تعالى عن القمر من البزوغ والأفول نظير ما ذكر عن الشمس. وذكر أيضاً عن الكوكب من الأفول نظير ما ذكره عن الشمس والقمر فأثبت المسلمون ما أثبته الله للكل من السير والدوران حول الأرض وأثبت ذلك أيضاً أهل الهيئة القديمة. وخالف في بعض ذلك كوبرنيك وهرشل وأتباعهما من فلاسفة الإفرنج ومن يقلدهم ويحذو حذوهم من المسلمين فأثبتوا للقمر السير والدوران على الأرض وأثبتوا للكواكب السيارة السير والدوران على الشمس ونفوا عن الشمس السير بالكلية ولازم ذلك نفي ما أثبته الله تعالى لها من البزوغ والأفول وذلك كفر لا شك فيه لما فيه من تكذيب ما أخبر الله به في كتابه.ومن أثبت السير والبزوغ والأفول للقمر لزمه أن يثبت ذلك للشمس وإن لم يفعل فقد فرق بين متماثلين وآمن ببعض الكتاب وكفر ببعض. وقد قال الله تعالى (أفتؤمنون ببعض الكتاب وتكفرون ببعض فما جزاء من يفعل ذلك منكم إلا خزي في الحياة الدنيا ويوم القيامة يردون إلى أشد العذاب وما الله بغافل عما تعملون. أولئك الذين اشتروا الحياة الدنيا بالآخرة فلا يخفف عنهم العذاب ولا هم ينصرون).الدليل الرابع عشر قوله تعالى (أقم الصلاة لدلوك الشمس إلى غسق الليل) الآية.وقد فسر الدلوك بزوال الشمس عن وسط السماء وفسر بغروبها وكلاهما يدل على سير الشمس.قال البغوي أصل الدلوك الميل والشمس تميل إذا زالت وغربت انتهى.الدليل الخامس عشر قوله تعالى (وترى الشمس إذا طلعت تزاور عن كهفهم ذات اليمين وإذا غربت تقرضهم ذات الشمال) الآية.قال ابن عباس رضي الله عنهما وسعيد بن جبير وقتادة وزيد بن أسلم تزاور أي تميل.الدليل السادس عشر قوله تعالى (حتى إذا بلغ مغرب الشمس وجدها تغرب في عين حمئة) الآية.
দুনিয়ার জীবন। এটাই তাদের জ্ঞানের পরিধি। নিশ্চয়ই আপনার রব ভালোভাবেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভালোভাবেই জানেন কে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে।ত্রয়োদশ দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, এটিই আমার রব, এটিই সর্ববৃহৎ। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো, তিনি বললেন, হে আমার কওম! তোমরা যা শরিক করছ, আমি তা থেকে মুক্ত)। আর 'বুজুঘ' অর্থ উদিত হওয়া এবং 'উফুল' অর্থ অদৃশ্য হওয়া বা অস্ত যাওয়া।আর এই আয়াতটি সূর্যের গতিশীলতা এবং পৃথিবীর চারপাশে তার আবর্তনের অন্যতম স্পষ্ট দলিল। আল্লাহ তাআলা চাঁদের উদিত হওয়া এবং অস্ত যাওয়া সম্পর্কেও সূর্যের অনুরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি নক্ষত্রের অস্ত যাওয়া সম্পর্কেও সূর্য ও চাঁদের ন্যায় উল্লেখ করেছেন। ফলে মুসলমানগণ সেই বিষয়কেই সাব্যস্ত করেছেন যা আল্লাহ সবার জন্য সাব্যস্ত করেছেন, আর তা হলো পৃথিবীর চারপাশে গতিশীলতা ও আবর্তন। প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণও এটি সাব্যস্ত করেছেন। তবে কোপার্নিকাস, হারশেল এবং ইউরোপীয় দার্শনিকদের মধ্যে তাদের অনুসারীরা এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা তাদের অন্ধ অনুকরণ করে, তারা এর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। তারা চাঁদের জন্য পৃথিবীর চারপাশে গতিশীলতা ও আবর্তন সাব্যস্ত করেছে এবং গ্রহগুলোর জন্য সূর্যের চারপাশে গতিশীলতা ও আবর্তন সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু তারা সূর্যের গতিশীলতাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে। আর এর অনিবার্য ফলাফল হলো আল্লাহ তাআলা সূর্যের জন্য যে উদিত হওয়া ও অস্ত যাওয়া সাব্যস্ত করেছেন, তা অস্বীকার করা। আর এটি নিঃসন্দেহে কুফরি, কারণ এতে আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত সংবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়।যে ব্যক্তি চাঁদের গতিশীলতা, উদয় এবং অস্ত যাওয়াকে সাব্যস্ত করে, তার জন্য সূর্যের ক্ষেত্রেও তা সাব্যস্ত করা আবশ্যক। যদি সে তা না করে, তবে সে দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করল এবং কিতাবের একাংশের ওপর ঈমান আনল ও একাংশকে অস্বীকার করল। মহান আল্লাহ বলেছেন: (তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনছ আর কিছু অংশকে অস্বীকার করছ? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন। এরাই তারা যারা আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না)।চতুর্দশ দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন) - আয়াত।আর ‘দুলুক’-এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্যের ঢলে পড়া দ্বারা এবং সূর্যের অস্ত যাওয়া দ্বারাও এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই উভয় ব্যাখ্যাই সূর্যের গতিশীলতার প্রমাণ দেয়।আল-বাগাভী বলেছেন, দুলুক এর মূল অর্থ হলো হেলে পড়া; আর সূর্য যখন ঢলে পড়ে এবং অস্ত যায় তখন তা হেলে পড়ে। সমাপ্ত।পঞ্চদশ দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (আপনি সূর্যকে দেখবেন, যখন তা উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে যায় এবং যখন তা অস্ত যায়, তাদের বাম দিকে অতিক্রম করে যায়) - আয়াত।ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, সাঈদ বিন জুবায়ের, কাতাদাহ এবং জায়েদ বিন আসলাম বলেছেন: ‘তাযাওয়ারু’ অর্থ হলো হেলে পড়া।ষোড়শ দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (অবশেষে যখন তিনি সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি সেটাকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন) - আয়াত।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الدليل السابع عشر قوله تعالى (حتى إذا بلغ مطلع الشمس وجدها تطلع على قوم لم نجعل لهم من دونها ستراً).الدليل الثامن عشر قوله تعالى (فاصبر على ما يقولون وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها) الآية.الدليل التاسع عشر قوله تعالى (فاصبر على ما يقولون وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب).ووجه الاستدلال بهذه الآية والآيات الست قبلها أن الله سبحانه وتعالى أضاف الطلوع والغروب والدلوك والتزاور إلى الشمس فدل على أنها هي التي تسير وتدور على الأرض فتطلع عليها من ناحية المشرق وتزول إذا توسطت السماء وتغرب من الناحية الأخرى.ولو كانت الشمس قارة ساكنة كما يزعمه أهل الهيئة الجديدة ومن يقلدهم ويحذو حذوهم لكانت إضافة هذه الأشياء إليها لغواً لا معنى له ولا فائدة في ذكره. ولا يخفى أن هذا من لوازم القول باستقرار الشمس وثباتها وهو قول وخيم لا يصدر من أحد يؤمن بالله وكتابه.الدليل العشرون قوله تعالى (والشمس وضحاها. والقمر إذا تلاها) وفي هذه الآية دليل على أن الشمس تسير والقمر يتلوها تابعاً لها. قال ابن عباس رضي الله عنهما تلاها تبعها رواه ابن أبي حاتم والحاكم في مستدركه وقال صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه. وكذا قال مجاهد تلاها تبعها.وعن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال يتلو النهار. وقال قتادة إذا تلاها ليلة الهلال إذا سقطت الشمس رؤي الهلال. وقال ابن زيد هو يتلوها في النصف الأول من الشهر ثم هي تتلوه وهو يتقدمها في النصف الأخير من الشهر.الدليل الحادي والعشرون قوله تعالى (الشمس والقمر بحسبان).الدليل الثاني والعشرون قوله تعالى (فالق الإصباح وجعل الليل سكناً والشمس والقمر حسباناً ذلك تقدير العزيز العليم) وقد تقدم قريباً قول مجاهد إن ذلك كحسبان الرحى وهو سفودها القائم الذي تدور عليه. قال ولا يدور الحسبان إلا بالرحى ولا تدور الرحى إلا بالحسبان. قال فكذلك النجوم والشمس والقمر هي في فلك لا يدمن إلا به ولا
সপ্তদশ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (শেষ পর্যন্ত যখন সে সূর্যের উদয়স্থলে পৌঁছাল, তখন সে দেখল তা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্য থেকে কোনো অন্তরাল রাখিনি)।অষ্টাদশ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (অতএব তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও তার সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন) - আয়াত শেষ পর্যন্ত।ঊনবিংশ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (অতএব তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন)।এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী ছয়টি আয়াতের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উদয় হওয়া, অস্ত যাওয়া, ঢলে পড়া এবং হেলে পড়াকে সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সূর্যই পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর চারদিকে আবর্তিত হয়; ফলে তা পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়, আকাশ মধ্যভাগে পৌঁছালে ঢলে পড়ে এবং অন্য দিক দিয়ে অস্ত যায়।সূর্য যদি স্থির ও নিশ্চল হতো যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ এবং তাদের অন্ধ অনুসারী ও অনুগামীরা দাবি করে থাকে, তবে এই বিষয়গুলোকে সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত করা নিরর্থক হতো, যার কোনো অর্থ বা উপযোগিতা থাকত না। এটি স্পষ্ট যে, এটি সূর্য স্থির ও অচল হওয়ার মতবাদেরই অনিবার্য ফলাফল, যা একটি মারাত্মক দাবি; আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কথা প্রকাশ পেতে পারে না।বিংশতম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (শপথ সূর্যের ও তার কিরণের। শপথ চন্দ্রের যখন তা তার অনুগমন করে)। এই আয়াতে দলিল রয়েছে যে সূর্য পরিভ্রমণ করে এবং চন্দ্র তার অনুগামী হয়ে তার পিছু পিছু চলে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, 'তাবাহা' অর্থ সেটির অনুসরণ করে। এটি ইবনে আবি হাতিম এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুসারে সহিহ বলেছেন যদিও তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, আর যাহাবি তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। মুজাহিদও একই কথা বলেছেন যে, চন্দ্র সূর্যের অনুসরণ করে।ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, এটি দিনের অনুসরণ করে। কাতাদাহ বলেছেন, যখন চন্দ্র সূর্যের পিছু নেয় অর্থাৎ হেলালের রাতে যখন সূর্য অস্ত যায় তখন হেলাল (নতুন চাঁদ) দেখা যায়। ইবনে যায়িদ বলেছেন, চন্দ্র মাসের প্রথম অর্ধেকের সূর্যের অনুসরণ করে, তারপর সূর্য চন্দ্রের অনুসরণ করে এবং মাসের শেষার্ধে চন্দ্র সূর্যের অগ্রগামী হয়।একবিংশতম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত কক্ষপথে আবর্তিত হয়)।দ্বাবিংশতম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী (তিনিই প্রভাতরশ্মির উন্মেষক, তিনি প্রশান্তির জন্য রাত এবং গণনার জন্য সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিরূপিত বিধান)। অচিরেই মুজাহিদের এই উক্তিটি গত হয়েছে যে, এটি যাঁতার গতির ন্যায়, আর তা হলো তার সেই দণ্ড যার ওপর ভিত্তি করে সেটি ঘোরে। তিনি বলেছেন, দণ্ড ব্যতীত যাঁতা ঘোরে না এবং যাঁতা ব্যতীত দণ্ড ঘোরে না। তিনি আরও বলেছেন, নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্রও অনুরূপভাবে এক একটি কক্ষপথে রয়েছে যা কেবল তার মাধ্যমেই আবর্তিত হয় এবং...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يدوم إلا بهن. قال والحسبان والفلك يصيران إلى شيء واحد غير أن الحسبان في الرحى والفلك في المغزل رواه ابن أبي حاتم. وذكره البخاري في صحيحه مختصراً فقال وقال مجاهد بحسبان كحسبان الرحى. قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري مراده أنهما يجريان على حسب الحركة الرحوية الدورية وعلى وضعها.وقيل الحسبان مصدر كالحساب أي جعل الشمس والقمر يجريان بحساب مقدر معلوم لا يجاوزانه في منازل لا يعدوانها. قال ابن عباس رضي الله عنهما (الشمس والقمر بحسبان) قال بحساب ومنازل رواه الحاكم في مستدركه وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه. ولا منافاة بين القولين فإن الشمس والقمر يجريان بحساب ومنازل في فلك مستدير كاستدارة الرحى والله أعلم.وقد قرن الله تبارك وتعالى وهو العليم الخبير - بين الشمس والقمر في أكثر هذه المواضع التي ذكرنا وأخبر أن كلاً منهما يجري ويسبح في الفلك فاعترف أهل الهيئة الجديدة بذلك في القمر وأنكروه في الشمس فكان مثلهم في ذلك مثل اليهود يؤمنون ببعض الكتاب ويكفرون ببعض، وليس لهم على التفريق دليل أبداً إلا أن يكون من التخرصات الكاذبة والتوهمات الفاسدة. ونقول لهم ما أمر الله نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم أن يقوله لسلفهم (قل أأنتم أعلم أم الله). فصلوأما دلالة السنة على جريان الشمس ففي أحاديث كثيرة نذكر منها ما تيسر إن شاء الله تعالى.الحديث الأول عن أبي ذر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأبي ذر حين غربت الشمس «تدري أين تذهب» قلت الله ورسوله أعلم قال «فإنها تذهب حتى تسجد تحت العرش فتستأذن فيؤذن لها ويوشك أن تسجد فلا يقبل منها وتستأذن فلا يؤذن لها يقال لها ارجعي من حيث جئت فتطلع من مغربها» فذلك قول الله تعالى (والشمس
...তাঁরা এগুলো ছাড়া স্থায়ী হয় না। তিনি বলেছেন, ‘হুসবান’ এবং ‘ফালাক’ একই বিষয়ের দিকে ফিরে যায়, তবে পার্থক্য এই যে, ‘হুসবান’ যাঁতার ক্ষেত্রে আর ‘ফালাক’ চরকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, মুজাহিদ বলেছেন: ‘হিসাব অনুযায়ী’ বলতে যাঁতার ঘূর্ণনের মতো বুঝিয়েছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’তে বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য হলো এই যে, তারা উভয়ে যাঁতার মতো বৃত্তাকার গতি ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়।আরও বলা হয়েছে যে, ‘হুসবান’ শব্দটি ‘হিসাব’-এর ন্যায় একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। অর্থাৎ সূর্য ও চাঁদকে একটি নির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত হিসাবের অধীনে চালিত করা হয়েছে, যা তারা অতিক্রম করে না এবং এমন সব মনজিলে (গন্তব্যে) আবর্তিত হয় যেখান থেকে তারা বিচ্যুত হয় না। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: (সূর্য ও চন্দ্র হিসাব অনুযায়ী চলে) অর্থাৎ সুনির্ধারিত হিসাব ও মনজিল অনুযায়ী। এটি হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহিহ, যদিও বুখারি ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি। হাফেজ যাহাবি তাঁর ‘তালখিস’-এ এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। এই দুটি মতের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ সূর্য ও চন্দ্র যাঁতার আবর্তনের ন্যায় একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে সুনির্ধারিত হিসাব ও মনজিল অনুযায়ী আবর্তিত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা—যিনি সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত—আমরা উল্লেখ করেছি এমন অধিকাংশ স্থানে সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রে যুক্ত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের প্রত্যেকেই কক্ষপথে বিচরণ ও সন্তরণ করে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চাঁদের ক্ষেত্রে এটি স্বীকার করলেও সূর্যের ক্ষেত্রে তা অস্বীকার করেছে। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টান্ত হলো ইহুদিদের মতো, যারা কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এই পার্থক্যের সপক্ষে তাদের কাছে কোনো দলিল নেই, বরং এটি কেবল মিথ্যা অনুমান ও ভ্রান্ত কল্পনামাত্র। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে তাই বলব যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের পূর্বসূরিদের লক্ষ্য করে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন: (বলুন, তোমরাই কি বেশি জানো নাকি আল্লাহ?)। পরিচ্ছেদসূর্যের আবর্তনের ওপর সুন্নাহর দলিলের ক্ষেত্রে অনেক হাদিস রয়েছে, যেখান থেকে আল্লাহ চাহেন তো আমরা সহজসাধ্য কিছু উল্লেখ করব।প্রথম হাদিস: আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য যখন অস্ত গেল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু যরকে বললেন: «তুমি কি জানো এটি কোথায় যায়?» আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এটি যায় এবং আরশের নিচে সিজদা করে, অতঃপর অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। অচিরেই এমন সময় আসবে যখন সে সিজদা করবে কিন্তু তার থেকে তা কবুল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানেই ফিরে যাও। ফলে সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে» এটিই আল্লাহ তায়ালার বাণীর মর্ম (আর সূর্য...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم) متفق عليه واللفظ للبخاري ورواه الإمام أحمد وأبو داود الطيالسي والترمذي بنحوه وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح.قال وفي الباب عن صفوان بن عسال وحذيفة بن أسيد وأنس وأبي موسى انتهى وفي رواية لمسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يوماً «أتدرون أين تذهب هذه الشمس» قالوا الله ورسوله أعلم قال «إن هذه تجري حتى تنتهي إلى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة فلا تزال كذلك حتى يقال لها ارتفعي ارجعي من حيث جئت فترجع فتصبح طالعة من مطلعها ثم تجري حتى تنتهي إلى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة فلا تزال كذلك حتى يقال لها ارتفعي ارجعي من حيث جئت فترجع تصبح طالعة من مطلعها ثم تجري لا يستنكر الناس منها شيئاً حتى تنتهي إلى مستقرها ذاك تحت العرش فيقال لها ارجعي ارتفعي أصبحي طالعة من مغربك فتصبح طالعة من مغربها» فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أتدرون متى ذاكم. ذاك حين لا ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيراً».وفي هذا الحديث الصحيح أوضح دليل على أن الشمس تجري وتدور على الأرض، وفيه رد على أهل الهيئة الجديدة الذين يزعمون أن الشمس ثابتة لا تجري ولا تتحرك.الحديث الثاني عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «غزا نبي من الأنبياء فقال لقومه لا يتبعني رجل ملك بضع امرأة وهو يريد أن يبني بها ولما يبن بها ولا أحد بنى بيوتاً ولم يرفع سقوفها ولا أحد اشترى غنماً أو خلفات وهو ينتظر ولادها فغزا فدنا من القرية صلاة العصر أو قريباً من ذلك فقال للشمس إنك مأمورة وأنا مأمور اللهم احبسها علينا فحبست حتى فتح الله عليه» الحديث رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم.الحديث الثالث عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الشمس لم تحبس لبشر إلا ليوشع بن نون ليالي سار إلى بيت المقدس» رواه الإمام أحمد وإسناده صحيح على شرط البخاري.وهذا الحديث والذي قبله من أقوى الأدلة على سير الشمس ولهذا قال لها يوشع بن
(নিজ গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে, এটি মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ।) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত) এবং এর শব্দগুলো বুখারীর। ইমাম আহমদ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং তিরমিযীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।তিনি বলেন, এই বিষয়ে সাফওয়ান বিন আসসাল, হুযাইফা বিন আসীদ, আনাস এবং আবু মুসা থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, “তোমরা কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়?” তারা বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এটি চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায় এবং সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়, ‘ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও’। তখন সে ফিরে আসে এবং তার উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। তারপর সে চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায় এবং সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়, ‘ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও’। তখন সে ফিরে আসে এবং তার উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। তারপর সে চলতে থাকে আর মানুষ তার মাঝে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পায় না, যতক্ষণ না সে আরশের নিচের সেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। তখন তাকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও, ওঠো এবং তোমার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হও’। তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা কি জানো সেটি কখন হবে? সেটি তখন হবে যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে আগে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।”এই সহীহ হাদীসে সূর্য যে চলমান এবং পৃথিবীর চারদিকে আবর্তন করে তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতের খণ্ডন রয়েছে যারা দাবি করে যে সূর্য স্থির, এটি চলে না এবং নড়াচড়াও করে না।দ্বিতীয় হাদীস আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। তিনি তাঁর কওমকে বললেন, ‘আমার অনুসরণ যেন এমন কোনো ব্যক্তি না করে যে কোনো মহিলার সাথে বিয়ের চুক্তি করেছে এবং তার সাথে বাসর করার ইচ্ছা রাখে কিন্তু এখনও তা করেনি; আর এমন ব্যক্তিও নয় যে ঘর নির্মাণ করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি; আর এমন ব্যক্তিও নয় যে বকরী বা গর্ভবতী উটনী ক্রয় করেছে এবং সেগুলোর বাচ্চার অপেক্ষায় রয়েছে।’ অতঃপর তিনি যুদ্ধে গেলেন এবং আসরের নামাজের সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে জনপদটির নিকটবর্তী হলেন। তখন তিনি সূর্যকে বললেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। হে আল্লাহ! সূর্যকে আমাদের জন্য আটকে দিন।’ ফলে সূর্যকে আটকে দেওয়া হলো যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে বিজয় দান করলেন।” হাদীসটি ইমাম আহমদ, বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।তৃতীয় হাদীস আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইউশা বিন নূন ছাড়া অন্য কোনো মানুষের জন্য সূর্যকে কখনো আটকে দেওয়া হয়নি, সেই রাতগুলোতে যখন তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে পদযাত্রা করছিলেন।” এটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।এই হাদীস এবং এর পূর্ববর্তী হাদীসটি সূর্যের পরিক্রমণের ব্যাপারে অন্যতম শক্তিশালী দলিল। এ কারণেই ইউশা বিন
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
نون إنك مأمورة وأنا مأمور ثم دعا الله تعالى أن يحبسها عليه فحبست فهذا نص صريح في أن الشمس هي التي تسير وتدور على الأرض.ولو كان الأمر على ما يزعمه أهل الهيئة الجديدة لكان ينبغي ليوشع بن نون أن يخاطب الأرض ويدعو الله تعالى أن يحبسها عليه. وعلى قولهم يكون خطاب يوشع للشمس خطأ ودعاؤه بأن تحبس عليه لغواً، وإخبار النبي صلى الله عليه وسلم بذلك مقرراً له خلاف الصواب. هذا مقتضى قولهم الباطل وهو مما ينزه عنه آحاد العقلاء فضلاً عن أنبياء الله المعصومين فقاتل الله أهل الهيئة الجديدة أنى يؤفكون.الحديث الرابع عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «أمر الشمس فتأخرت ساعة من نهار». رواه الطبراني في الأوسط. قال الهيثمي وإسناده حسن. وفيه دليل على جريان الشمس. وفيه أيضاً الرد على أهل الهيئة الجديدة الذين يزعمون أن الشمس لا تجري ولا تتحرك.الحديث الخامس عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم صدق أمية في شيء من شعره فقال:رجل وثور تحت رجل يمينه … والنسر للأخرى وليث مرصدفقال النبي صلى الله عليه وسلم «صدق» وقال:والشمس تطلع كل آخر ليلة … حمراء يصبح لونها يتوردتأبى فما تطلع لنا في رسلها … إلا معذبة وإلا تُجْلَد فقال النبي صلى الله عليه وسلم «صدق» رواه الإمام أحمد وابنه عبد الله في زوائد المسند وفي كتاب السنة وابن خزيمة في كتاب التوحيد وأبو يعلى والطبراني ورواته ثقات.وفي بعض طرقه عند ابن خزيمة تصريح محمد بن إسحاق أن شيخه حدثه بذلك فزال ما يخشى من تدليسه.قال ابن خزيمة قوله وإلا تجلد معناه اطلعي كما قال ابن عباس رضي الله عنهما.قلت قول ابن عباس رضي الله عنهما الذي أشار إليه ابن خزيمة هو ما رواه أبو بكر ابن الأنباري في كتاب المصاحف بإسناده عن عكرمة قال قلت لابن عباس رضي الله عنهما أرأيت ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم في أمية بن أبي الصلت آمن شعره وكفر
নূন, নিশ্চয়ই তুমি আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তার জন্য সূর্যকে থামিয়ে দেন, ফলে সেটি থেমে গেল। এটি একটি স্পষ্ট বক্তব্য যে সূর্যই পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে।আর বিষয়টি যদি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে ইউশা বিন নূনের জন্য উচিত ছিল পৃথিবীকে সম্বোধন করা এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেন তিনি তার জন্য পৃথিবীকে থামিয়ে দেন। তাদের মতানুসারে, সূর্যের প্রতি ইউশার সম্বোধন ভুল এবং সূর্যকে থামিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা হবে অসার কাজ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এটি বর্ণনা করা এবং সমর্থন করা সঠিকের বিপরীত হবে। এটি তাদের বাতিল বক্তব্যের আবশ্যিক পরিণতি, যা সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরাও এড়িয়ে চলেন, নিষ্পাপ নবীগণের তো প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধ্বংস করুন, তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে।চতুর্থ হাদীস: জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সেটি দিনের এক ঘণ্টা বিলম্বিত হলো। এটি তাবারানী 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। হায়সামি বলেছেন, এর সানাদ হাসান। এর মধ্যে সূর্যের চলমান থাকার প্রমাণ রয়েছে। এতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রতিবাদও রয়েছে যারা দাবি করে যে সূর্য চলে না এবং নড়াচড়া করে না।পঞ্চম হাদীস: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমাইয়া ইবনে আবি সালতের কবিতার কিছু অংশকে সত্য বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বললেন:এক ব্যক্তি এবং একটি ষাঁড় তার ডান পায়ের নিচে … এবং অন্যটির জন্য একটি ঈগল এবং ওত পেতে থাকা একটি সিংহতখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে সত্য বলেছে।" এবং তিনি বললেন:আর সূর্য প্রতি রাতের শেষে উদিত হয় … লাল বর্ণে, যার রঙ গোলাপী হয়ে যায়সে অস্বীকার করে, তাই সে আমাদের কাছে তার আপন গতিতে উদিত হয় না … শাস্তিপ্রাপ্ত ও প্রহৃত হওয়া ছাড়া অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে সত্য বলেছে।" এটি ইমাম আহমাদ, তার পুত্র আবদুল্লাহ 'যাওয়ায়িদুল মুসনাদ'-এ এবং 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে, ইবনে খুযাইমা 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ এবং আবু ইয়া'লা ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।ইবনে খুযাইমার নিকট এর কিছু সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের স্পষ্ট উক্তি রয়েছে যে তার উস্তাদ তাকে এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে তার 'তাদলিস' (সূত্র গোপন করার) যে আশঙ্কা ছিল তা দূর হয়ে গেছে।ইবনে খুযাইমা বলেন, "নচেৎ তাকে প্রহার করা হয়" কথাটির অর্থ হলো "তুমি উদিত হও", যেমনটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন।আমি বলছি, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর যে বক্তব্যের দিকে ইবনে খুযাইমা ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো সেটি যা আবু বকর ইবনুল আনবারী 'কিতাবুল মাসাহিফ'-এ ইকরিমাহ থেকে তার সানাদসহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললাম, উমাইয়া ইবনে আবি সালতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা এসেছে সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তার কবিতা ঈমান এনেছে কিন্তু সে কুফরি করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قلبه فقال هو حق فما أنكرتم من ذلك قلت قوله في الشمس إلا معذبة وإلا تجلد فقال والذي نفسي بيده ما طلعت الشمس قط حتى ينخسها سبعون ألف ملك فيقولون لها اطلعي فتقول لا أطلع على قوم يعبدونني من دون الله فيأتيها ملك عن الله عز وجل يأمرها بالطلوع فتشتعل لضياء بني آدم فيأتيها شيطان يريد أن يصدها عن الطلوع فتطلع بين قرنيه فيحرقه الله تحتها.وروى أبو نعيم في الحلية من طريق الأوزاعي عن عبدة - يعني ابن أبي لبابة - قال ما ظهرت الشمس قط حتى تضرب مرة أو مرتين حتى تجذب جذباً تقول إني أعبد من دون الله.الحديث السادس عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إذا طلع حاجب الشمس فأخروا الصلاة حتى ترتفع وإذا غاب حاجب الشمس فأخروا الصلاة حتى تغيب» متفق عليه.الحديث السابع عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «لا صلاة بعد الصبح حتى ترتفع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس» متفق عليه.الحديث الثامن عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «لا صلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس ولا صلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس» رواه أبو داود الطيالسي في مسنده وإسناده صحيح.الحديث التاسع عن عبد الله الصنابحي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إن الشمس تطلع ومعها قرن الشيطان فإذا ارتفعت فارقها ثم إذا استوت قارنها فإذا زالت فارقها فإذا دنت للغروب قارنها فإذا غربت فارقها» رواه مالك والشافعي وأحمد والنسائي بأسانيد صحيحة على شرط الشيخين.الحديث العاشر عن عمرو بن عبسة السلمي رضي الله عنه قال قلت يا رسول الله أي الليل أسمع قال «جوف الليل الآخر فصل ما شئت فإن الصلاة مشهودة مكتوبة حتى تصلي الصبح ثم أقصر حتى تطلع الشمس فترتفع قيد رمح أو رمحين فإنها تطلع بين قرني شيطان ويصلي لها الكفار ثم صل ما شئت فإن الصلاة مشهودة مكتوبة حتى يعدل
তাঁর অন্তর তা উপলব্ধি করল এবং তিনি বললেন, এটি সত্য। তবে তোমরা এর মধ্য থেকে কোন বিষয়টিকে অস্বীকার করছ? আমি বললাম, সূর্য সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি যে, ‘একে শাস্তি দেওয়া হয় এবং চাবুক মারা হয়’। তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সূর্য কখনোই উদিত হয় না যতক্ষণ না সত্তর হাজার ফেরেশতা তাকে খোঁচা দেয় এবং তারা তাকে বলে, ‘তুমি উদিত হও’। সে বলে, ‘আমি এমন এক জাতির ওপর উদিত হব না যারা আল্লাহকে ছেড়ে আমার ইবাদত করে’। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা এসে তাকে উদিত হওয়ার নির্দেশ দেন, ফলে সে আদম সন্তানদের আলো দেওয়ার জন্য প্রজ্বলিত হয়। এরপর এক শয়তান আসে যে তাকে উদিত হতে বাধা দিতে চায়, তখন সে শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং আল্লাহ সূর্যের নিচে তাকে জ্বালিয়ে দেন।আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে আওযায়ী-এর সূত্রে আবদাহ—অর্থাৎ ইবনে আবি লুবাবাহ—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূর্য কখনোই উদিত হয় না যতক্ষণ না তাকে একবার বা দুইবার আঘাত করা হয় এবং সজোরে টেনে আনা হয়, এমতাবস্থায় সে বলতে থাকে যে আল্লাহ ছাড়া আমার ইবাদত করা হয়।ষষ্ঠ হাদীস: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন সূর্যের কিনারা উদিত হয়, তখন নামায বিলম্ব করো যতক্ষণ না তা উপরে উঠে যায়; আর যখন সূর্যের কিনারা অস্ত যায়, তখন নামায বিলম্ব করো যতক্ষণ না তা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।” এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।সপ্তম হাদীস: আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “ফজরের পর সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত কোনো নামায নেই এবং আসরের পর সূর্য অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত কোনো নামায নেই।” এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।অষ্টম হাদীস: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আসরের পর সূর্য না ডুবা পর্যন্ত কোনো নামায নেই এবং ফজরের পর সূর্য না উঠা পর্যন্ত কোনো নামায নেই।” আবু দাউদ তায়ালিসী তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ।নবম হাদীস: আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তার সাথে শয়তানের শিং থাকে। যখন তা উপরে উঠে যায়, তখন শয়তান তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর যখন তা মাঝ আকাশে স্থির হয়, তখন শয়তান আবার তার সাথে যুক্ত হয়। যখন তা ঢলে পড়ে, তখন শয়তান তাকে ছেড়ে দেয়। যখন তা অস্ত যাওয়ার নিকটবর্তী হয়, তখন শয়তান পুনরায় তার সাথে যুক্ত হয়। এরপর যখন তা অস্ত যায়, তখন শয়তান তাকে ছেড়ে দেয়।” মালেক, শাফেয়ী, আহমদ ও নাসাঈ সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, যা বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী।দশম হাদীস: আমর বিন আবাসা আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের কোন সময়ের ইবাদত অধিক শ্রুত হয়? তিনি বললেন: “রাতের শেষাংশের মধ্যভাগ। অতএব তুমি যত ইচ্ছা নামায পড়ো, কারণ সেই নামাযে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করা হয়; যতক্ষণ না তুমি ফজরের নামায পড়ো। এরপর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত নামায থেকে বিরত থাকো যতক্ষণ না তা এক বা দুই বল্লম পরিমাণ উপরে উঠে। কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে উদিত হয় এবং সেই সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। এরপর তুমি যত ইচ্ছা নামায পড়ো, কেননা সেই নামাযে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করা হয়, যতক্ষণ না সূর্য মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছায়...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الرمح ظله ثم أقصر فإن جهنم تسجر وتفتح أبوابها فإذا زاغت الشمس فصل ما شئت فإن الصلاة مشهودة مكتوبة حتى تصلي العصر ثم أقصر حتى تغرب الشمس فإنها تغرب بين قرني شيطان ويصلي لها الكفار» الحديث رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو داود وهذا لفظه والنسائي والترمذي مختصراً وقال هذا حديث حسن صحيح غريب.وفي إضافة الطلوع والارتفاع والزوال والدنو والغروب إلى الشمس دليل على أنها تجري وتدور على الأرض. ولو كانت ثابتة في موضعها كما يزعمه أهل الهيئة الجديدة لكان ينبغي أن تجعل هذه الأفعال للأرض وهذا لا يقوله عاقل.والأحاديث التي فيها ذكر طلوع الشمس وزوالها وغروبها وطلوعها في آخر الزمان من مغربها كثيرة جداً وفيما ذكرته ههنا كفاية لمن أراد الله هدايته. ومن لم يجعل الله له نوراً فما له من نور.وقد روى ابن أبي حاتم بإسناد صحيح عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال الشمس بمنزلة الساقية تجري بالنهار في السماء في فلكها فإذا غربت جرت بالليل في فلكها تحت الأرض حتى تطلع من مشرقها قال وكذلك القمر. فصلوإذا علم أن جريان الشمس ثابت بالدلائل القطعية من نصوص الكتاب والسنة فليعلم أيضاً أنه ثابت بالمشاهدة من سيرها في البروج والمنازل كما يسير القمر وسائر الكواكب السيارة فيها ففي أول برج الحمل تكون الشمس سائرة في خط الاستواء وحينئذ يكون بينها وبين كل من القطبين تسعون درجة، ثم تميل بعد ذلك شيئاً فشيئاً إلى جهة القطب الشمالي وينتهي بعدها عن خط الاستواء في أول برج السرطان وذلك نحو من ثلاث وعشرين درجة وحينئذ يكون بينها وبين القطب الشمالي سبع وستون درجة وبينها وبين القطب الجنوبي مائة وثلاث عشرة درجة، ثم ترجع شيئاً فشيئاً حتى تصل إلى خط الاستواء في أول برج الميزان وحينئذ يكون بينها وبين كل من القطبين تسعون درجة.ثم تميل بعد ذلك شيئاً فشيئاً إلى جهة القطب الجنوبي وينتهي بعدها عن خط الاستواء في
বর্শার ছায়া (ক্ষুদ্রতম অবস্থায় পৌঁছায়), তখন বিরত থাকো। কেননা তখন জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় এবং এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন তোমার ইচ্ছানুযায়ী সালাত আদায় করো। কারণ, আসর পর্যন্ত সালাত ফেরেশতাদের উপস্থিতিতে পেশ করা হয় এবং লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্ত যায় এবং কাফেররা তার পূজা করে। এই হাদিসটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দমালা; আর নাসাঈ এবং তিরমিযী সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ গরীব।উদয় হওয়া, উপরে উঠা, হেলে পড়া, নিকটবর্তী হওয়া এবং অস্ত যাওয়ার মতো কাজগুলো সূর্যের দিকে সম্বন্ধ করা প্রমাণ করে যে, সূর্য জমিনের ওপর দিয়ে চলমান এবং আবর্তনশীল। সূর্য যদি নিজ স্থানে স্থির থাকত, যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, তবে এই কাজগুলো জমিনের দিকে সম্বন্ধ করা উচিত ছিল। অথচ কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এমনটি বলে না।সূর্যের উদয় হওয়া, হেলে পড়া এবং অস্ত যাওয়া, এমনকি শেষ যামানায় তার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার বর্ণনায় প্রচুর হাদিস রয়েছে। আল্লাহ যাকে হেদায়েত করতে চান, তার জন্য আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট। আর আল্লাহ যার জন্য কোনো নূর বা আলো রাখেননি, তার জন্য কোনো আলো নেই।ইবনে আবি হাতিম সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সূর্য একটি জলসেচনকারী চাকার মতো। দিনে তা আকাশের নিজ কক্ষপথে চলতে থাকে, আর যখন তা অস্ত যায়, রাতে জমিনের নিচে নিজ কক্ষপথে চলতে থাকে যতক্ষণ না তা পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়। তিনি বলেন, চাঁদের বিষয়টিও তদ্রূপ। পরিচ্ছেদযখন জানা গেল যে সূর্যের পরিভ্রমণ কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত, তখন এটাও জেনে রাখা উচিত যে, তা রাশিচক্র ও মনজিলসমূহের মধ্য দিয়ে তার গতিপথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও প্রমাণিত। যেমনটি চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহসমূহ সেগুলোর মধ্য দিয়ে পরিভ্রমণ করে। মেষ রাশির শুরুতে সূর্য বিষুবরেখায় পরিভ্রমণ করে। সেই সময় উভয় মেরুর সাথে এর দূরত্ব হয় নব্বই ডিগ্রি। এরপর তা ধীরে ধীরে উত্তর মেরুর দিকে ঝুঁকতে থাকে এবং কর্কট রাশির শুরুতে বিষুবরেখা থেকে এর দূরত্ব শেষ সীমায় পৌঁছায়, যা প্রায় তেইশ ডিগ্রি। তখন উত্তর মেরুর সাথে এর দূরত্ব থাকে সাতষট্টি ডিগ্রি এবং দক্ষিণ মেরুর সাথে এর দূরত্ব হয় একশ তেরো ডিগ্রি। এরপর তা ধীরে ধীরে ফিরে আসে যতক্ষণ না তুলা রাশির শুরুতে বিষুবরেখায় পৌঁছায় এবং তখন উভয় মেরু থেকে এর দূরত্ব পুনরায় নব্বই ডিগ্রি হয়।এরপর তা ধীরে ধীরে দক্ষিণ মেরুর দিকে ঝুঁকতে থাকে এবং বিষুবরেখা থেকে এর দূরত্ব শেষ সীমায় পৌঁছায়...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أول برج الجدي وذلك نحو من ثلاث وعشرين درجة وحينئذ يكون بينها وبين القطب الجنوبي سبع وستون درجة وبينها وبين القطب الشمالي مائة وثلاث عشرة درجة. ثم ترجع شيئاً فشيئاً حتى تصل إلى خط الاستواء في أول برج الحمل. وهكذا هي سائرة على الدوام. ولها في كل ثلاثة عشر يوماً منزلة من المنازل الثمان والعشرين تقارنها في مسيرها ثم تتخلف عنها وتقارن التي تليها وهكذا هي على الدوام. وأما القمر فله في كل يوم وليلة منزلة من المنازل يقارنها في مسيره.ولو كانت الشمس ساكنة ثابتة كما يزعمه أهل الهيئة الجديدة لما كانت تدور على البروج والمنازل وتكون في خط الاستواء تارة وتميل نحو الشمال تارة ونحو الجنوب تارة وتقرب من القطب الشمالي في الصيف وتبعد عنه في الشتاء وتقرب من القطب الجنوبي في الشتاء وتبعد عنه في الصيف وتتوسط بين القطبين في فصلي الربيع والخريف.وسيرها في البروج والمنازل وميلها نحو الجنوب في الشتاء ونحو الشمال في الصيف ورجوعها إلى خط الاستواء في فصلي الربيع والخريف معلوم عند كل عاقل ولا ينكره إلا من هو ذاهب العقل أو معاند يكابر في المحسوسات ويباهت في الضروريات.وقد تقدم قول ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى (بحسبان) قال بحساب ومنازل رواه الحاكم وصححه ووافقه الذهبي في تلخيصه. فصلفي ذكر الأدلة على ثبات الأرض واستقرارها. فأما الأدلة من القرآن ففي عدة آيات.الآية الأولى قوله تعالى (إن الله يمسك السموات والأرض أن تزولا. ولئن زالتا إن أمسكهما من أحد من بعده إنه كان حليماً غفوراً).وهذه الآية من أوضح الأدلة على ثبات الأرض واستقرارها ولو كانت تجري وتدور على الشمس كما زعمه أهل الهيئة الجديدة لكانت تزول من مكان إلى مكان وهذا خلاف نص الآية الكريمة.الآية الثانية قوله تعالى (ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره).
মকর রাশির শুরু যা প্রায় তেইশ ডিগ্রির মতো এবং তখন তার ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যে সাতষট্টি ডিগ্রি এবং তার ও উত্তর মেরুর মধ্যে একশ তেরো ডিগ্রি ব্যবধান থাকে। তারপর তা ধীরে ধীরে ফিরে আসে যতক্ষণ না মেষ রাশির শুরুতে বিষুবরেখায় পৌঁছে। এভাবেই তা সর্বদা চলমান থাকে। আর প্রতি তেরো দিনে তার জন্য আটাশটি মঞ্জিলের মধ্যে একটি মঞ্জিল রয়েছে যার সাথে তার গতির সমান্তরাল ঘটে, এরপর তা থেকে পিছিয়ে পড়ে এবং পরবর্তীটির সাথে মিলিত হয়, আর এভাবেই তা সর্বদা চলতে থাকে। আর চাঁদের ক্ষেত্রে, তার জন্য প্রতিদিন ও রাতে একটি করে মঞ্জিল রয়েছে যা তার পরিক্রমায় সে অতিক্রম করে।যদি সূর্য স্থির ও অটল থাকত—যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করেন—তবে তা রাশিচক্র ও মঞ্জিলসমূহের ওপর দিয়ে আবর্তিত হতো না এবং কখনও বিষুবরেখায় থাকত না, কখনও উত্তরের দিকে এবং কখনও দক্ষিণের দিকে হেলে যেত না, আর গ্রীষ্মকালে উত্তর মেরুর নিকটবর্তী হতো না এবং শীতকালে তা থেকে দূরে সরে যেত না, তেমনি শীতকালে দক্ষিণ মেরুর নিকটবর্তী হতো না এবং গ্রীষ্মকালে তা থেকে দূরে সরে যেত না, আর বসন্ত ও শরৎকালে দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করত না।রাশিচক্র ও মঞ্জিলসমূহে সূর্যের পরিক্রমণ, শীতকালে দক্ষিণের দিকে এবং গ্রীষ্মকালে উত্তরের দিকে তার ঝোঁক, এবং বসন্ত ও শরৎকালে বিষুবরেখায় ফিরে আসা প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে সুপরিজ্ঞাত। এটি কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে যার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে অথবা যে সত্য বিমুখ ও হঠকারী, যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে মিথ্যাচার করে।মহান আল্লাহর বাণী (হিসাব অনুযায়ী) সম্পর্কে ইতিপূর্বে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর উক্তি বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: ‘হিসাব ও মঞ্জিলসমূহ অনুযায়ী’। এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সমর্থন করেছেন। পরিচ্ছেদপৃথিবীর স্থিরতা ও অটলতার প্রমাণাদি বর্ণনায়। কুরআন থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি বেশ কয়েকটি আয়াতে বিদ্যমান।প্রথম আয়াত, মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও পৃথিবীকে ধরে রাখেন যাতে তারা বিচ্যুত না হয়। আর যদি তারা বিচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া আর কেউ তাদের ধরে রাখতে পারবে না। নিশ্চয় তিনি পরম সহিষ্ণু, অতি ক্ষমাশীল)।এই আয়াতটি পৃথিবীর স্থিরতা ও অটলতার অন্যতম স্পষ্ট প্রমাণ। পৃথিবী যদি চলত এবং সূর্যের চারদিকে ঘুরত—যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করেন—তবে তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিচ্যুত হতো, আর এটি পবিত্র আয়াতের পাঠের সরাসরি বিরোধী।দ্বিতীয় আয়াত, মহান আল্লাহর বাণী: (আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো এই যে, আসমান ও পৃথিবী তাঁরই আদেশে দাঁড়িয়ে থাকে)।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال البغوي قال ابن مسعود رضي الله عنه قامتا على غير عمد بأمره. وقال ابن كثير على قوله تعالى (ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره) كقوله تعالى (ويمسك السماء أن تقع على الأرض إلا بإذنه) وقوله (إن الله يمسك السموات والأرض أن تزولا) وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه إذا اجتهد في اليمين قال والذي تقوم السماء والأرض بأمره. أي هي قائمة ثابتة بأمره لها وتسخيره إياها.وقال ابن منظور في لسان العرب ويجيء القيام بمعنى الوقوف والثبات يقال للماشي قف لي أي تحبس مكانك حتى آتيك وكذلك قم لي بمعنى قف لي وعليه فسروا قوله سبحانه (وإذا أظلم عليهم قاموا) قال أهل اللغة والتفسير قاموا هنا بمعنى وقفوا وثبتوا في مكانهم غير متقدمين ولا متأخرين. ومنه التوقف في الأمر وهو الوقوف عنده من غير مجاوزة له، قال ومنه قامت الدابة إذا وقفت عن السير وقام عندهم الحق أي ثبت ولم يبرح ومنه قولهم أقام بالمكان هو بمعنى الثبات، ويقال قام الماء إذا ثبت متحيراً لا يجد منفذاً وإذا جمد أيضاً.قلت ومنه قوله تعالى (ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره) فمعناه الوقوف والثبات وعدم الحركة والدوران والله أعلم.الآية الثالثة قوله تعالى في سورة المؤمن (الله الذي جعل لكم الأرض قراراً والسماء بناء) الآية. قال ابن كثير رحمه الله تعالى أي جعلها لكم مستقراً بساطاً مهاداً تعيشون عليها وتتصرفون فيها وتمشون في مناكبها وأرساها بالجبال لئلا تميد بكم (والسماء بناء) أي سقفاً للعالم محفوظاً.الآية الرابعة قوله تعالى في سورة النمل (أم من جعل الأرض قراراً وجعل خلالها أنهاراً وجعل لها رواسي) الآية. قال ابن كثير رحمه الله تعالى يقول (أم من جعل الأرض قراراً) أي قارة ساكنة ثابتة لا تميد ولا تتحرك بأهلها وترجف بهم فإنها لو كانت كذلك لما طاب عليها العيش والحياة بل جعلها من فضله ورحمته مهاداً بساطاً ثابتة لا تتزلزل ولا تتحرك كما قال تعالى في الآية الأخرى (الله الذي جعل لكم الأرض قراراً والسماء بناء) وقال البغوي قراراً لا تميد بأهلها قلت والقرار معناه في لغة العرب الثبات والسكون قال في القاموس وشرحه قر بالمكان يقر بالكسر والفتح قراراً وقروراً وقرا وتقرة ثبت
ইমাম বাগাবী বলেছেন, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: আল্লাহর নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী খুঁটি ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে। ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলেছেন: (এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম এই যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁরই আদেশে দাঁড়িয়ে থাকে)—এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: (এবং তিনি আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পৃথিবীর ওপর না পড়ে তাঁর অনুমতি ছাড়া) এবং তাঁর এই বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিনকে বিচ্যুত হওয়া থেকে ধরে রাখেন)। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন দৃঢ়ভাবে শপথ করতেন তখন বলতেন: "সেই সত্তার কসম, যাঁর নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী দাঁড়িয়ে থাকে।" অর্থাৎ, আকাশ ও পৃথিবী তাঁর নির্দেশে এবং তাঁর বশীভূতকরণের কারণে দাঁড়িয়ে ও স্থির আছে।ইবনে মানজুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেছেন: কিয়াম (দাঁড়ানো) শব্দটি থামা এবং স্থির হওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন কোনো পথচারীকে বলা হয় "আমার জন্য থামুন," অর্থাৎ আপনার স্থানে অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না আমি আপনার কাছে আসি। একইভাবে "আমার জন্য দাঁড়ান" মানে হলো "আমার জন্য থামুন।" এরই ভিত্তিতে তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন: (এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার হয়ে যায় তখন তারা দাঁড়িয়ে পড়ে)। ভাষা ও তাফসিরবিদগণ বলেছেন, এখানে 'দাঁড়িয়ে পড়ে' অর্থ হলো তারা তাদের জায়গায় থমকে গেল এবং স্থির হয়ে রইল, না সামনে এগুলো আর না পেছনে কমল। এর থেকেই এসেছে কোনো বিষয়ে 'তাওয়াক্কুফ' করা, যার অর্থ হলো সেটির কোনো সীমা অতিক্রম না করে সেখানে থেমে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, এরই অন্তর্ভুক্ত হলো পশুর থেমে যাওয়া (যখন সে চলা বন্ধ করে দেয়)। আর বলা হয় "তাদের কাছে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে" অর্থাৎ তা স্থির হয়েছে এবং বিচ্যুত হয়নি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো "তিনি স্থানে অবস্থান করেছেন" অর্থাৎ সেখানে স্থির হয়েছেন। আর বলা হয় "পানি স্থির হয়েছে" যখন তা নির্গমন পথ খুঁজে না পেয়ে আবদ্ধ হয়ে থেমে যায়, অথবা যখন তা জমে যায়।আমি বলি, মহান আল্লাহর এই বাণীও এরই অন্তর্ভুক্ত: (এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম এই যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁরই আদেশে দাঁড়িয়ে থাকে)। এর অর্থ হলো থামা, স্থির হওয়া এবং গতি ও ঘূর্ণনহীনতা। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।তৃতীয় আয়াত: সূরা আল-মু'মিনে মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহই তোমাদের জন্য জমিনকে করেছেন স্থির আবাস এবং আসমানকে করেছেন ছাদ)। ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: অর্থাৎ তিনি একে তোমাদের জন্য বসবাসের স্থান, বিছানা ও শয্যা হিসেবে তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা এর ওপর জীবন যাপন করতে পারো, বিচরণ করতে পারো এবং এর বিভিন্ন প্রান্তে চলাফেরা করতে পারো। আর তিনি একে পাহাড়ের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন যাতে এটি তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে। (এবং আসমানকে করেছেন ছাদ) অর্থাৎ বিশ্বজগতের জন্য একটি সংরক্ষিত ছাদ।চতুর্থ আয়াত: সূরা আন-নামলে মহান আল্লাহর বাণী: (অথবা কে সেই সত্তা, যিনি জমিনকে করেছেন স্থির এবং তার মাঝে প্রবাহিত করেছেন নদ-নদী এবং তার জন্য স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়)। ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন (অথবা কে সেই সত্তা, যিনি জমিনকে করেছেন স্থির), অর্থাৎ এটি একটি স্থির, শান্ত ও অটল স্থান যা তার অধিবাসীদের নিয়ে হেলে পড়ে না বা নড়াচড়া করে না এবং তাদের নিয়ে কম্পিত হয় না। কেননা এটি যদি এমন হতো, তবে এর ওপর জীবন ও বসবাস সুখকর হতো না। বরং তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায় একে করেছেন শয্যা ও বিছানা স্বরূপ, যা অটল—কাঁপে না এবং নড়ে না। যেমনটি মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন: (আল্লাহই তোমাদের জন্য জমিনকে করেছেন স্থির আবাস এবং আসমানকে করেছেন ছাদ)। বাগাবী বলেছেন, 'কারার' অর্থ এটি তার অধিবাসীদের নিয়ে হেলে পড়ে না। আমি বলি, আরবি ভাষায় 'কারার' অর্থ হলো স্থিরতা ও প্রশান্তি। 'আল-কামুস' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে, কোনো স্থানে স্থির হওয়া—এটি স্থিরতা ও স্থায়িত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وسكن فهو قار كاستقر وتقار وهو مستقر انتهى.ثم قال ابن كثير على قوله تعالى (وجعل لها رواسي) أي جبالا شامخة ترسي الأرض وتثبتها لئلا تميد بكم.وقال القرطبي على قوله تعالى (وجعل لها رواسي) يعني جبالاً ثوابت تمسكها وتمنعها من الحركة.الآية الخامسة قوله تعالى في سورة النحل (وألقى في الأرض رواسي أن تميد بكم وأنهاراً وسبلا لعلكم تهتدون).الآية السادسة قوله تعالى في سورة الأنبياء (وجعلنا في الأرض رواسي أن تميد بهم الآية).الآية السابعة قوله تعالى في سورة لقمان (خلق السموات بغير عمد ترونها وألقى في الأرض رواسي أن تميد بكم) الآية. وفي كل من هذه الآيات دليل على استقرار الأرض وسكونها.قال الراغب الأصفهاني الميد اضطراب الشيء العظيم كاضطراب الأرض قال (أن تميد بكم).وقال ابن الجوزي في تفسير سورة النحل. قوله تعالى (وألقى في الأرض رواسي) أي نصب فيها جبالاً ثوابت (أن تميد) أي لئلا تميد، وقال الزجاج كراهة أن تميد يقال ماد الرجل يميد ميداً إذا أدير به، وقال ابن قتيبة الميد الحركة والميل يقال فلان يميد في مشيته أي يتكفأ.وقال البغوي قوله تعالى (وألقى في الأرض رواسي أن تميد بكم) أي لئلا تميد بكم أي تتحرك وتميل والميد هو الاضطراب والتكفؤ ومنه قيل للدوار الذي يعتري راكب البحر ميد.قال وهب لما خلق الله الأرض جعلت تمور فقالت الملائكة إن هذه غير مقرة أحداً على ظهرها فأصبحت وقد أرسيت بالجبال فلم تدر الملائكة مم خلقت الجبال.قلت وقد روى عبد الرزاق عن معمر عن قتادة عن الحسن نحوه. وروى سعيد عن قتادة عن الحسن عن قيس بن عباد نحو ذلك أيضاً.
এবং তিনি স্থির হলেন, ফলে তিনি স্থির বা সুপ্রতিষ্ঠিত হলেন, যেমন বলা হয় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং সুস্থিত হওয়া, আর তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। (সমাপ্ত)।এরপর ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি এতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা) এর ব্যাখ্যায় বলেন— অর্থাৎ সুউচ্চ পর্বতসমূহ যা জমিনকে গেঁথে দেয় এবং একে সুদৃঢ় করে যাতে তা তোমাদের নিয়ে দুলে না ওঠে।এবং কুরতুবী মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি এতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা) এর ব্যাখ্যায় বলেন— অর্থাৎ অবিচল পর্বতসমূহ যা একে ধরে রাখে এবং একে নড়াচড়া থেকে বিরত রাখে।পঞ্চম আয়াত হলো সূরা আন-নাহলে মহান আল্লাহর বাণী— (এবং তিনি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং নদ-নদী ও পথসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও)।ষষ্ঠ আয়াত হলো সূরা আল-আম্বিয়ায় মহান আল্লাহর বাণী— (এবং আমি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছি যাতে তা তাদের নিয়ে দুলে না ওঠে— শেষ পর্যন্ত)।সপ্তম আয়াত হলো সূরা লুক্বমানে মহান আল্লাহর বাণী— (তিনি আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন খুঁটি ছাড়া যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ এবং জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয়— শেষ পর্যন্ত)। এই আয়াতগুলোর প্রতিটিতে জমিনের স্থিরতা ও শান্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।রাগিব আল-ইসফাহানি বলেন, 'মায়দ' হলো বিশাল কোনো বস্তুর প্রকম্পিত হওয়া, যেমন জমিনের প্রকম্পিত হওয়া। তিনি বলেছেন— (যাতে তা তোমাদের নিয়ে প্রকম্পিত না হয়)।এবং ইবনুল জাওযী সূরা আন-নাহলের তাফসীরে বলেন— মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন) অর্থাৎ তাতে অবিচল পর্বতসমূহ গেঁথে দিয়েছেন। (যাতে তা দুলে না ওঠে) অর্থাৎ যাতে তা প্রকম্পিত না হয়। আর আজ-যাজ্জাজ বলেন, এটি দোলার অপছন্দনীয়তা বুঝাতে ব্যবহৃত। বলা হয় কোনো ব্যক্তি মাথাঘোরায় আক্রান্ত হলে তাকে 'মাদা' বলা হয়। আর ইবনে কুতাইবা বলেন, 'মায়দ' অর্থ হলো নড়াচড়া ও ঝুঁকে পড়া। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি তার হাঁটার সময় হেলেদুলে পড়ছে।এবং আল-বাগভী মহান আল্লাহর বাণী (এবং তিনি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে প্রকম্পিত না হয়) এর ব্যাখ্যায় বলেন— অর্থাৎ যাতে তা তোমাদের নিয়ে নড়াচড়া না করে এবং হেলে না পড়ে। আর 'মায়দ' হলো প্রকম্পিত হওয়া ও টালমাটাল হওয়া। এ থেকেই সমুদ্রের আরোহীর যে মাথাঘোরা হয় তাকে 'মায়দ' বলা হয়।ওয়াহাব বলেন, আল্লাহ যখন জমিন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে শুরু করল। ফেরেশতারা বললেন, এটি তার পিঠে কাউকে স্থির রাখতে পারবে না। অতঃপর সকাল বেলা দেখা গেল একে পাহাড় দিয়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে, তখন ফেরেশতারা জানতেন না পাহাড় কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে।আমি বলছি, আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে, তিনি কাতাদা থেকে এবং তিনি হাসান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি কায়েস ইবনে আব্বাদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وروى ابن جرير عن علي رضي الله عنه قال لما خلق الله الأرض قمصت وقالت تخلق علي آدم وذريته يلقون علي نتنهم ويعملون علي بالخطايا فأرساها الله بالجبال فمنها ما ترون ومنها ما لا ترون وكان أول قرار الأرض كلحم الجزور إذا نحر يختلج لحمه.ويشهد لهذه الآثار ما رواه الإمام أحمد والترمذي عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال «لما خلق الله الأرض جعلت تميد فخلق الجبال فألقاها عليها فاستقرت». الحديث.وقال ابن كثير في تفسير سورة النحل. ذكر تعالى الأرض وما ألقى فيها من الرواسي الشامخات والجبال الراسيات لتقر الأرض ولا تميد أي تضطرب بما عليها من الحيوانات فلا يهنأ لهم عيش بسبب ذلك.وقال أيضاً في تفسير سورة الأنبياء. قوله (وجعلنا في الأرض رواسي) أي جبالا أرسى الأرض بها وقررها وثقلها لئلا تميد بالناس أي تضطرب وتتحرك فلا يحصل لهم قرار عليها وقال أيضاً في تفسير سورة لقمان على قوله تعالى (وألقى في الأرض رواسي) يعني الجبال أرست الأرض وثقلتها لئلا تضطرب بأهلها على وجه الماء ولهذا قال (أن تميد بكم) أي لئلا تميد بكم. وقال القرطبي في تفسير سورة الأنبياء. وقوله تعالى (وجعلنا في الأرض رواسي) أي جبالا ثوابت (أن تميد بهم) أي لئلا تميد بهم ولا تتحرك ليتم القرار عليها قاله الكوفيون. وقال البصريون المعني كراهية أن تميد والميد التحرك والدوران يقال ماد رأسه أي دار.وقال الشوكاني في تفسير قوله تعالى (وجعلنا في الأرض رواسي أن تميد بهم) الميد التحرك والدوران أي لئلا تتحرك وتدور بهم.الآية الثامنة قوله تعالى في سورة الرعد (وهو الذي مد الأرض وجعل فيها رواسي وأنهاراً) الآية قال ابن كثير أي جعلها متسعة ممتدة في الطول والعرض وأرساها بجبال راسيات شامخات.وقال البغوي عند قوله تعالى (وجعل فيها رواسي) جبالا ثابتة واحدتها راسية.وقال القرطبي عند قوله تعالى (وجعل فيها رواسي) أي جبالا ثوابت واحدها راسية لأن الأرض ترسو بها أي تثبت والإرساء الثبوت.
ইবনে জারির আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যখন আল্লাহ জমিন সৃষ্টি করলেন, তখন তা অস্থির হয়ে উঠল এবং বলল, "আপনি কি আমার ওপর আদম ও তার বংশধরদের সৃষ্টি করবেন, যারা আমার ওপর তাদের অপবিত্রতা নিক্ষেপ করবে এবং আমার ওপর পাপাচার করবে?" তখন আল্লাহ পাহাড়ের মাধ্যমে একে স্থিতিশীল করলেন; যার কিছু তোমরা দেখতে পাও আর কিছু দেখতে পাও না। জমিনের প্রথম স্থির হওয়া ছিল নহর করা উটের গোশতের মতো, যখন এর গোশত স্পন্দিত হয়।এই বর্ণনাগুলোর সাক্ষ্য দেয় ইমাম আহমদ ও তিরমিযী কর্তৃক আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসটি, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন আল্লাহ জমিন সৃষ্টি করলেন, তখন তা দুলতে শুরু করল। তখন তিনি পাহাড় সৃষ্টি করে এর ওপর স্থাপন করলেন, ফলে তা স্থির হলো।" হাদীস।ইবনে কাসীর সূরা আন-নাহলের তাফসীরে বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জমিন এবং তাতে স্থাপিত সুউচ্চ ও সুদৃঢ় পাহাড়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যাতে জমিন স্থির থাকে এবং দুলতে না থাকে, অর্থাৎ তার ওপর বিদ্যমান প্রাণীদের নিয়ে যেন আন্দোলিত না হয়, অন্যথায় তাদের জীবন সুখকর হতো না।তিনি সূরা আল-আম্বিয়ার তাফসীরে আল্লাহর বাণী "এবং আমি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি" প্রসঙ্গে আরও বলেন: অর্থাৎ এমন পাহাড় যার মাধ্যমে তিনি জমিনকে স্থিতিশীল করেছেন, স্থির করেছেন এবং ভারী করেছেন যাতে তা মানুষকে নিয়ে দুলতে না থাকে, অর্থাৎ আন্দোলিত ও বিচলিত না হয়, ফলে তার ওপর তাদের কোনো স্থিরতা অর্জিত হতো না। তিনি সূরা লুকমানের তাফসীরে আল্লাহর বাণী "এবং তিনি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন" এর ব্যাখ্যায় আরও বলেন: অর্থাৎ পাহাড়সমূহ জমিনকে গেঁথে দিয়েছে এবং ভারী করেছে যাতে পানির ওপর তার বাসিন্দাদের নিয়ে তা আন্দোলিত না হয়, আর একারণেই তিনি বলেছেন "যাতে তোমাদের নিয়ে দুলতে না থাকে" অর্থাৎ যাতে তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয়। আল-কুরতুবী সূরা আল-আম্বিয়ার তাফসীরে বলেছেন: আল্লাহর বাণী "এবং আমি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি" অর্থাৎ অটল পাহাড়সমূহ। "যাতে তাদের নিয়ে দুলতে না থাকে" অর্থাৎ যাতে তাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং বিচলিত না হয় যাতে এর ওপর অবস্থান পূর্ণতা পায়; একথা কুফাবাসীরা বলেছেন। আর বসরাবাসীরা বলেছেন, এর অর্থ হলো দুলতে থাকাকে অপছন্দ করা। 'মাইদ' অর্থ হলো নড়াচড়া ও ঘোরা। বলা হয়, তার মাথা 'মাদা' হয়েছে অর্থাৎ ঘুরেছে।আশ-শাওকানী আল্লাহর বাণী "এবং আমি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি যাতে তাদের নিয়ে দুলতে না থাকে" এর তাফসীরে বলেন: 'মাইদ' হলো নড়াচড়া ও ঘোরা, অর্থাৎ যাতে তাদের নিয়ে নড়াচড়া না করে এবং না ঘোরে।অষ্টম আয়াত, সূরা আর-রা'দে আল্লাহর বাণী: "এবং তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন।" ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ তিনি একে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে প্রশস্ত ও বিস্তৃত করেছেন এবং একে সুউচ্চ ও সুদৃঢ় পাহাড়ের মাধ্যমে স্থিতিশীল করেছেন।আল-বাগভী আল্লাহর বাণী "এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন" প্রসঙ্গে বলেন: স্থির পাহাড়সমূহ, যার একবচন হলো 'রাসিয়াহ'।আল-কুরতুবী আল্লাহর বাণী "এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন" প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ অটল পাহাড়সমূহ, যার একবচন 'রাসিয়াহ'। কারণ জমিন এর মাধ্যমে স্থির হয়, আর ইদসা অর্থ হলো স্থির হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الآية التاسعة قوله تعالى في سورة الحجر (والأرض مددناها وألقينا فيها رواسي) الآية. قال البغوي على قوله (والأرض مددناها) بسطناها على وجه الماء (وألقينا فيها رواسي) جبالا ثوابت وقد كانت الأرض تميد إلى أن أرساها الله بالجبال.الآية العاشرة قوله تعالى في سورة فصلت (وجعل فيها رواسي من فوقها وبارك فيها) الآية. قال البغوي (وجعل فيها) أي في الأرض (رواسي) جبالا ثوابت قال القرطبي واحدها راسية لأن الأرض ترسو بها أي تثبت والإرساء الثبوت.الآية الحادية عشرة قوله تعالى في سورة ق (والأرض مددناها وألقينا فيها رواسي) الآية قال البغوي على قوله (والأرض مددناها) بسطناها على وجه الماء (وألقينا فيها رواسي) جبالا شوامخ.وقال ابن كثير على قوله (والأرض مددناها) أي وسعناها وفرشناها (وألقينا فيها رواسي) وهي الجبال لئلا تميد بأهلها وتضطرب فإنها مقرة على تيار الماء المحيط بها من جميع جوانبها.الآية الثانية عشرة قوله تعالى في سورة المرسلات (ألم نجعل الأرض كفاتا. أحياء وأمواتاً. وجعلنا فيها رواسي شامخات وأسقيناكم ماء فراتا) قال ابن كثير على قوله تعالى (وجعلنا فيها رواسي شامخات) يعني الجبال رسَّى بها الأرض لئلا تميد وتضطرب.الآية الثالثة عشرة قوله تعالى في سورة النازعات (والأرض بعد ذلك دحاها. أخرج منها ماءها ومرعاها. والجبال أرساها. متاعاً لكم ولأنعامكم) قال ابن كثير على قوله (والجبال أرساها) أي قررها وأثبتها وأكدها في أماكنها وهو الحكيم العليم. وقوله (متاعا لكم ولأنعامكم) أي دحا الأرض فأنبع عيونها وأظهر مكنونها وأجرى أنهارها وأنبت زروعها وأشجارها وثمارها وثبت جبالها لتستقر بأهلها ويقر قرارها كل ذلك متاعاً لخلقه ولما يحتاجون إليه من الأنعام التي يأكلونها ويركبونها مدة احتياجهم إليها في هذه الدار إلى أن ينتهي الأمد وينقضي الأجل.الآية الرابعة عشرة قوله تعالى في سورة النبأ (ألم نجعل الأرض مهادا. والجبال أوتادا) قال ابن كثير رحمه الله تعالى على قوله (ألم نجعل الأرض مهادا) أي ممهدة للخلائق ذلولا لهم قارة ساكنة ثابتة (والجبال أوتادا) أي جعلها لها أوتادا أرساها
নবম আয়াত: সূরা আল-হিজরে আল্লাহ তাআলার বাণী (আর আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি)। ইমাম বাগাবী (আর আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি) এর ব্যাখ্যায় বলেন: আমি একে পানির উপরিভাগে বিছিয়ে দিয়েছি। (এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি) অর্থাৎ অটল পর্বতমালা। পৃথিবী দুলছিল যতক্ষণ না আল্লাহ পাহাড়ের মাধ্যমে একে স্থির করেছেন।দশম আয়াত: সূরা ফুসসিলাতে আল্লাহ তাআলার বাণী (আর তিনি তাতে পাহাড় স্থাপন করেছেন এর উপরিভাগ থেকে এবং তাতে বরকত দান করেছেন)। ইমাম বাগাবী বলেন: (আর তিনি তাতে স্থাপন করেছেন) অর্থাৎ ভূমিতে। (পাহাড়) অর্থাৎ অটল পর্বতমালা। ইমাম কুরতুবী বলেন: এর একবচন হলো ‘রাসিয়াহ’, কারণ পৃথিবী এর দ্বারা ‘তারসু’ বা স্থির হয়; আর ‘ইরসা’ অর্থ হলো স্থির হওয়া।একাদশ আয়াত: সূরা ক্বাফ-এ আল্লাহ তাআলার বাণী (আর আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি)। ইমাম বাগাবী (আর আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি) এর ব্যাখ্যায় বলেন: আমি একে পানির উপরিভাগে বিছিয়ে দিয়েছি। (এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি) অর্থাৎ সুউচ্চ পর্বতমালা।এবং ইবনে কাসীর (আর আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি) এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ আমি একে প্রশস্ত করেছি এবং বিছিয়ে দিয়েছি। (এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি) আর তা হলো পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তার অধিবাসীদের নিয়ে নড়াচড়া না করে এবং দুলতে না থাকে। কেননা পৃথিবী এর চারপাশ থেকে পরিবেষ্টিত পানির প্রবল স্রোতের উপর অবস্থান করছে।দ্বাদশ আয়াত: সূরা আল-মুরসালাতে আল্লাহ তাআলার বাণী (আমি কি ভূমিকে সমাবেশকারী বানাইনি? জীবিত ও মৃতদের জন্য। আর তাতে স্থাপন করেছি সুউচ্চ সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ এবং তোমাদের পান করিয়েছি সুপেয় পানি)। ইবনে কাসীর আল্লাহ তাআলার বাণী (আর আমি তাতে স্থাপন করেছি সুউচ্চ সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ পর্বতমালা, যার দ্বারা তিনি পৃথিবীকে স্থির করেছেন যাতে তা নড়াচড়া না করে ও দুলতে না থাকে।ত্রয়োদশ আয়াত: সূরা আন-নাযিআতে আল্লাহ তাআলার বাণী (এবং এর পরে তিনি ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন। তিনি তা থেকে নির্গত করেছেন এর পানি ও চারণভূমি। আর পাহাড়সমূহকে তিনি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন। তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য)। ইবনে কাসীর (আর পাহাড়সমূহকে তিনি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন) এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে নিজ নিজ স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত, স্থির এবং সুদৃঢ় করেছেন; আর তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। এবং তাঁর বাণী (তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য) এর অর্থ হলো তিনি ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন, এর ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত করেছেন, এর লুকায়িত সম্পদ প্রকাশ করেছেন, এর নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং এর ফসল, বৃক্ষ ও ফলমূল উৎপন্ন করেছেন। আর তিনি এর পাহাড়সমূহকে স্থির করেছেন যাতে তা এর অধিবাসীদের নিয়ে স্থির থাকে এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। এই সব কিছুই তাঁর সৃষ্টির ভোগের জন্য এবং তাদের চতুষ্পদ জন্তুদের প্রয়োজনীয়তার জন্য যা তারা আহার করে এবং যার ওপর তারা আরোহণ করে—যতক্ষণ তারা এই পৃথিবীতে এগুলোর মুখাপেক্ষী থাকবে, যতক্ষণ না নির্দিষ্ট সময় শেষ হয় এবং আয়ু ফুরিয়ে যায়।চতুর্দশ আয়াত: সূরা আন-নাবায় আল্লাহ তাআলার বাণী (আমি কি ভূমিকে শয্যা সদৃশ করিনি? এবং পাহাড়সমূহকে পেরেক স্বরূপ?) ইবনে কাসীর (রহ.) (আমি কি ভূমিকে শয্যা সদৃশ করিনি?) এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ সৃষ্টির জন্য বিছানো, তাদের জন্য অনুগত, অবস্থানযোগ্য, শান্ত ও স্থির। (আর পাহাড়সমূহকে পেরেক স্বরূপ) অর্থাৎ তিনি পাহাড়সমূহকে পৃথিবীর জন্য পেরেক স্বরূপ বানিয়েছেন যা একে স্থির রাখে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بها وثبتها وقررها حتى سكنت ولم تضطرب بمن عليها.وقال القرطبي على قوله (والجبال أوتاداً) أي لتسكن ولا تتكفأ بأهلها.وقال ابن منظور في لسان العرب وأوتاد الأرض الجبال لأنها تثبتها.الآية الخامسة عشرة قوله تعالى في سورة الزخرف (الذي جعل لكم الأرض مهدا وجعل لكم فيها سبلا لعلكم تهتدون) قال ابن كثير على قوله (الذي جعل لكم الأرض مهدا) أي فراشا قرارا ثابتة تسيرون عليها وتقومون وتنامون وتتصرفون مع أنها مخلوقة على تيار الماء لكنه أرساها بالجبال لئلا تميد هكذا ولا هكذا.الآية السادسة عشرة قوله تعالى في سورة الذاريات (والأرض فرشناها فنعم الماهدون) قال ابن كثير أي جعلناها فراشاً للمخلوقات (فنعم الماهدون) أي وجعلناها مهداً لأهلها. وقال في البداية والنهاية. وقوله (والأرض فرشناها) أي بسطناها وجعلناها مهدا أي قارة ساكنة غير مضطربة ولا مائدة بكم وقال البغوي على قوله (والأرض فرشناها) بسطناها ومهدناها لكم (فنعم الماهدون) الباسطون نحن. قال ابن عباس رضي الله عنهما نعم ما وطأت لعبادي.الآية السابعة عشرة قوله تعالى في سورة البقرة (يا أيها الناس اعبدوا ربكم الذي خلقكم والذين من قبلكم لعلكم تتقون. الذي جعل لكم الأرض فراشاً والسماء بناء) الآية.قال ابن كثير رحمه الله تعالى شرع تبارك وتعالى في بيان وحدانية ألوهيته بأنه تعالى هو المنعم على عبيده بإخراجهم من العدم إلى الوجود وإسباغه عليهم النعم الظاهرة والباطنة بأن جعل لهم الأرض فراشاً أي مهدا كالفراش مقررة موطأة مثبتة بالرواسي الشامخات. والسماء بناء وهو السقف. قال ومن أشبه آية بهذه الآية قوله تعالى (الله الذي جعل لكم الأرض قراراً والسماء بناء وصوركم فأحسن صوركم) الآية. قال ومضمونه أنه الخالق الرازق مالك الدار وساكنيها ورازقهم فبهذا يستحق أن يعبد وحده ولا يشرك به غيره ولهذا قال (فلا تجعلوا لله أندادا وأنتم تعلمون).قلت وقد استدل الرازي بهذه الآية على سكون الأرض وثباتها وسيأتي كلامه مع الأدلة العقلية على ثبات الأرض إن شاء الله تعالى.الآية الثامنة عشرة قوله تعالى في سورة نوح (والله جعل لكم الأرض بساطاً.
তিনি এর মাধ্যমে একে (জমিনকে) স্থির করেছেন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে তা শান্ত থাকে এবং এর উপর বসবাসকারীদের নিয়ে দুলতে না থাকে।এবং ইমাম কুরতুবী (আল্লাহর) এই বাণী—(এবং পাহাড়সমূহকে পেরেকরূপী)—সম্পর্কে বলেন যে, অর্থাৎ তা যেন শান্ত থাকে এবং তার অধিবাসীদের নিয়ে হেলে না পড়ে।এবং ইবনে মানজুর 'লিসানুল আরব'-এ বলেছেন, জমিনের পেরেক হলো পাহাড়সমূহ, কারণ তা একে সুদৃঢ় করে।পনেরোতম আয়াত: সূরা আয-যুখরুফে মহান আল্লাহর বাণী—(যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ করেছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য পথসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও)। ইবনে কাসীর (আল্লাহর) এই বাণী—(যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ করেছেন)—সম্পর্কে বলেন, অর্থাৎ তা একটি স্থির ও সুদৃঢ় বিছানা যার উপর তোমরা চলাফেরা করো, দাঁড়াও, ঘুমাও এবং কাজকর্ম সম্পাদন করো। যদিও তা পানির প্রবাহের উপর সৃষ্টি করা হয়েছে, কিন্তু তিনি পাহাড়ের মাধ্যমে একে স্থিতিশীল করেছেন যাতে তা এদিক-ওদিক দুলতে না পারে।ষোলোতম আয়াত: সূরা আয-যারিয়াতে মহান আল্লাহর বাণী—(এবং আমি জমিনকে বিছিয়েছি, সুতরাং আমি কতই না উত্তম সমতলকারী)। ইবনে কাসীর বলেন, অর্থাৎ আমি একে সৃষ্টিজীবের জন্য বিছানা বানিয়েছি, (সুতরাং আমি কতই না উত্তম সমতলকারী) অর্থাৎ আমি একে এর অধিবাসীদের জন্য আরামদায়ক বিছানা বানিয়েছি। এবং তিনি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে বলেছেন: এবং তাঁর বাণী (এবং আমি জমিনকে বিছিয়েছি) অর্থাৎ আমি একে প্রসারিত করেছি এবং একে একটি দোলনা সদৃশ স্থির ও শান্ত করেছি যা তোমাদের নিয়ে কম্পিত বা আন্দোলিত হয় না। এবং ইমাম বাগাভী (আল্লাহর) এই বাণী—(এবং আমি জমিনকে বিছিয়েছি)—সম্পর্কে বলেন, আমি তোমাদের জন্য একে প্রসারিত ও সুগম করেছি, (সুতরাং আমি কতই না উত্তম সমতলকারী) অর্থাৎ আমিই তা বিস্তারকারী। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি আমার বান্দাদের জন্য একে কতই না চমৎকারভাবে বসবাসযোগ্য করেছি।সতেরোতম আয়াত: সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী—(হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ করেছেন) আয়াত।ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর উলুহিয়্যাতের একত্ব বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন এই মর্মে যে, তিনিই তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহকারী, যিনি তাদের অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং তাদের উপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন এই মাধ্যমে যে, তিনি তাদের জন্য জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন অর্থাৎ বিছানার মতো একটি দোলনা যা সুউচ্চ পাহাড়সমূহ দ্বারা স্থির, সুগম ও সুদৃঢ় করা হয়েছে। এবং আকাশকে ছাদ করেছেন যা একটি উপরিভাগ। তিনি বলেন, এই আয়াতের সদৃশ অন্য আয়াত হলো আল্লাহর বাণী—(আল্লাহ তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে স্থির করেছেন এবং আকাশকে ছাদ করেছেন এবং তোমাদের আকৃতি দান করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিসমূহকে সুন্দর করেছেন) আয়াত। তিনি বলেন, এর সারমর্ম হলো এই যে, তিনিই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, গৃহ ও তার অধিবাসীদের মালিক এবং তাদের রিযিক প্রদানকারী; সুতরাং এই কারণেই তিনি এককভাবে ইবাদতের যোগ্য এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। আর একারণেই তিনি বলেছেন—(সুতরাং তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না)।আমি বলছি, ইমাম রাযী এই আয়াত দ্বারা জমিনের স্থৈর্য ও অটলতার দলিল পেশ করেছেন এবং জমিনের স্থির থাকার পক্ষে তাঁর বক্তব্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।আঠারোতম আয়াত: সূরা নূহে মহান আল্লাহর বাণী—(এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে কার্পেট বা বিছানা সদৃশ করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لتسلكوا منها سبلا فجاجا) قال البغوي على قوله (والله جعل لكم الأرض بساطاً) فرشها وبسطها لكم وقال ابن كثير أي بسطها ومهدها وقررها وثبتها بالجبال الراسيات الشم الشامخات (لتسلكوا منها سبلا فجاجا) أي خلقها لكم لتستقروا عليها وتسلكوا فيها أين شئتم من نواحيها وأرجائها وأقطارها.الآية التاسعة عشرة قوله تعالى في سورة الملك (هو الذي جعل لكم الأرض ذلولا فامشوا في مناكبها وكلوا من رزقه وإليه النشور) قال ابن كثير رحمه الله تعالى ذكر نعمته على خلقه في تسخيره لهم الأرض وتذليله إياها لهم بأن جعلها قارة ساكنة لا تميد ولا تضطرب بما جعل فيها من الجبال.وقال القرطبي في تفسيره وقيل أي ثبتها بالجبال لئلا تزول بأهلها ولو كانت تتكفأ متمايلة لما كانت منقادة لنا.قلت قد زعم أهل الهيئة الجديدة ومن يقلدهم ويحذو حذوهم من المسلمين أن الأرض تسير في الثانية أكثر من ثلاثين كيلومتراً وأنها تقطع في اليوم الواحد أكثر من خمسمائة ألف فرسخ. ولو كان الأمر على ما زعموه من سير الأرض بهذه السرعة الهائلة لما كانت ذلولا للخلائق ولا فراشاً ولا مهداً ولما استقر على ظهرها شيء من البناء والشجر فضلا عن الحيوانات وذلك لشدة مخرها للهواء وشدة صدم الهواء لوجهها.واعتبر ذلك بالطائرة النفاثة التي لا تبلغ في سرعة سيرها عشر عشر العشر مما زعموه في سرعة سير الأرض. هل يقول عاقل أنه يمكن أن يستقر حيوان على ظهر الطائرة النفاثة وهي سائرة. كلّا لا يقول ذلك عاقل أبداً. وإذا كان استقرار الحيوانات على ظهر الطائرة في حال سيرها مستحيلا فكذلك الاستقرار على ظهر الأرض لو كانت تسير بالسرعة الهائلة التي زعموها بطريق الأولى ولما كانت الأرض ذلولا للخلائق وفراشاً ومهداً لهم دل ذلك على أنها ثابت ساكنة.فهذه الآية والآيات الخمس قبلها من أوضح الأدلة على سكون الأرض وثباتها.الآية العشرون قوله تعالى في سورة الملك (أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض فإذا هي تمور) قال ابن كثير أي تذهب وتجيء وتضطرب.وقال البغوي قال الحسن تتحرك بأهلها وقيل تهوي بهم وقال الراغب الأصفهاني
(যাতে তোমরা তাতে প্রশস্ত পথে চলাচল করতে পারো) আল্লাহ তাআলার বাণী (আর আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন) এর ব্যাখ্যায় আল-বাগাবী বলেন, তিনি তোমাদের জন্য তা বিছিয়েছেন ও প্রশস্ত করেছেন। আর ইবনে কাসীর বলেন, অর্থাৎ তিনি তা প্রসারিত করেছেন, সুগম করেছেন, স্থির করেছেন এবং সুউচ্চ ও অটল পাহাড়সমূহের মাধ্যমে একে দৃঢ় করেছেন। (যাতে তোমরা তাতে প্রশস্ত পথে চলাচল করতে পারো) অর্থাৎ তিনি তা তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা এর উপর অবস্থান করতে পারো এবং এর বিভিন্ন দিক, প্রান্ত ও অঞ্চলে যেখানে ইচ্ছা চলাচল করতে পারো।উনিশতম আয়াত: সূরা মুলক-এ আল্লাহ তাআলার বাণী (তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে অনুগত করে দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা এর দিক-বিদিক বিচরণ করো এবং তাঁর দেয়া রিযিক থেকে আহার করো, আর তাঁর কাছেই হবে পুনরুত্থান)। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি তাঁর মাখলুকের প্রতি তাঁর নেয়ামত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জমিনকে তাদের অধীনস্থ ও অনুগত করে দিয়েছেন; আর তা এভাবে যে, তিনি একে স্থির ও শান্ত করেছেন, যা হেলে পড়ে না বা আন্দোলিত হয় না, কারণ তিনি এতে পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন।আল-কুরতুবী তাঁর তাফসীরে বলেন, বলা হয়েছে অর্থাৎ তিনি একে পাহাড় দিয়ে স্থির করেছেন যাতে এটি তার বাসিন্দাদের নিয়ে বিচ্যুত না হয়; যদি এটি কাঁপতে থাকত বা দুলতে থাকত, তবে তা আমাদের জন্য অনুগত হতো না।আমি বলছি, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীরা এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা তাদের অন্ধ অনুকরণ করে, তারা দাবি করেছে যে জমিন প্রতি সেকেন্ডে ত্রিশ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলে এবং একদিনে তা পাঁচ লক্ষ ফরসাখের বেশি পথ অতিক্রম করে। যদি বিষয়টি জমিনের ভ্রমণের এই ভয়াবহ গতির ক্ষেত্রে তাদের দাবির মতো হতো, তবে তা সৃষ্টিজগতের জন্য অনুগত হতো না, বিছানাও হতো না, দোলনাও হতো না। আর এর পিঠের উপর কোনো দালানকোঠা বা গাছপালাই স্থির থাকত না, পশুপাখির কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এটি হতো বাতাসের মধ্য দিয়ে এর তীব্র গতির কারণে এবং এর সম্মুখভাগে বাতাসের প্রচণ্ড আঘাতের কারণে।বিষয়টি একটি জেট বিমানের সাথে তুলনা করে দেখুন, যার গতি জমিনের গতির ব্যাপারে তাদের দাবির হাজার ভাগের এক ভাগও নয়। কোনো বিবেকবান কি বলবে যে, একটি জেট বিমান উড়ন্ত অবস্থায় তার পিঠের উপর কোনো প্রাণী স্থির থাকতে পারে? না, কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কখনোই তা বলবে না। যদি উড়ন্ত অবস্থায় বিমানের পিঠে প্রাণীদের স্থির থাকা অসম্ভব হয়, তবে জমিন যদি তাদের দাবি করা সেই ভয়াবহ গতিতে চলত, তবে তাতে স্থির থাকা আরও বেশি অসম্ভব হতো। যেহেতু জমিন সৃষ্টিজগতের জন্য অনুগত, বিছানা ও দোলনা স্বরূপ, তাই এটি প্রমাণ করে যে জমিন স্থির ও অটল।সুতরাং এই আয়াত এবং এর আগের পাঁচটি আয়াত জমিনের স্থিরতা ও অটলতার ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট দলিল।বিশতম আয়াত: সূরা মুলক-এ আল্লাহ তাআলার বাণী (যিনি আকাশে আছেন, তাঁর ব্যাপারে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ যে তিনি তোমাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় তা কাঁপতে থাকবে)। ইবনে কাসীর বলেন, অর্থাৎ তা এদিক-সেদিক নড়বে ও আন্দোলিত হবে।আল-বাগাবী বলেন, হাসান বলেছেন এটি তার অধিবাসীদের নিয়ে নড়াচড়া করবে, আর কেউ কেউ বলেছেন এটি তাদের নিয়ে নিচে ধসে যাবে। আর রাগেব আল-আসফাহানি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المور الجريان السريع يقال مار يمور موراً. قال (يوم تمور السماء موراً) ومار الدم على وجهه. والمور التراب المتردد بالريح وناقة تمور في سيرها فهي موارة.وقال الجوهري والهروي وغيرهما من أئمة اللغة مار الشيء يمور موراً إذا جاء وذهب.وقال ابن الأثير وفي حديث قس ونجوم تمور أي تذهب وتجيء قلت والمعنى في قوله تعالى (فإذا هي تمور) كالمعنى في قوله تعالى (يوم تمور السماء موراً) قال مجاهد في تفسير هذه الآية تدور دورا. وقال الضحاك استدارتها وتحركها لأمر الله وموج بعضها في بعض. قال ابن كثير وهذا اختيار ابن جرير أنه التحرك في استدارة. قال وأنشد أبو عبيدة معمر بن المثنى بيت الأعشى فقال: …كان مشيتها من بيت جارتها … مور السحابة لا ريث ولا عجل قلت ومثل ذلك قول كعب بن زهير في الريح.عفته رياح الصيف بعدي بمورها … وأبرته الجوزاء بالوبل والديم وقال البغوي في تفسيره (يوم تمور السماء موراً) أي تدور كدوران الرحى وتتكفأ بأهلها تكفؤ السفينة. قال قتادة تتحرك. وقال عطاء الخراساني تختلف أجزاؤها بعضها في بعض وقيل تضطرب. والمور يجمع هذه المعاني فهو في اللغة الذهاب والمجيء والتردد والدوران والاضطراب انتهى.إذا علم هذا فآية سورة الملك دالة على أن الأرض قارة ساكنة لا تدور فتذهب وتجيء ولهذا امتن الله تبارك وتعالى على عباده بتذليلها لهم وحذرهم من عقوبته بأن يخسف بهم الأرض ويجعلها تمور بهم. ولو كان الأمر على ما يزعمه أهل الهيئة الجديدة ومن يقلدهم من العصريين لكانت الأرض تمور دائماً كما تمور النجوم والسحاب والريح ولم يبق للتخويف بمورها فائدة.الآية الحادية والعشرون قوله تعالى (ويمسك السماء أن تقع على الأرض إلا بإذنه إن الله بالناس لرؤوف رحيم).الآية الثانية والعشرون قوله تعالى (أفلم يروا إلى ما بين أيديهم وما خلفهم من السماء والأرض إن نشأ نخسف بهم الأرض أو نسقط عليهم كسفاً من السماء) الكسف القطع.
মওর অর্থ দ্রুত প্রবাহ বা গতি। বলা হয় 'মারা ইয়ামুরু মওরান'। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যেদিন আসমান প্রবলভাবে আন্দোলিত হবে)। এছাড়া চেহারার ওপর রক্ত প্রবাহিত হওয়াকেও 'মারা' বলা হয়। 'মওর' হলো সেই ধূলিকণা যা বাতাসের ঝাপটায় ইতস্তত উড়তে থাকে এবং দ্রুতগামী উটনীকে 'মওয়ারা' বলা হয়।জওহারী, হারাবী এবং অন্যান্য ভাষাবিদ ইমামগণ বলেছেন যে, কোনো বস্তু যখন যাতায়াত করে (আসে এবং যায়), তখন বলা হয় 'মারা আল-শাইউ ইয়ামুরু মওরান'।ইবনুল আসীর কুস-এর হাদীসে নক্ষত্ররাজির 'তামুরু' হওয়ার অর্থ বর্ণনা করেছেন যে, সেগুলো আসে এবং যায়। আমি বলি, আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর তা হঠাৎ আন্দোলিত হতে থাকবে)-এর অর্থ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতোই: (যেদিন আসমান প্রবলভাবে আন্দোলিত হবে)। মুজাহিদ এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: এটি চক্রাকারে ঘুরবে। দাহহাক বলেছেন: আল্লাহর নির্দেশে এর ঘূর্ণন ও নড়াচড়া এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে ধাক্কা খাওয়া। ইবনে কাসীর বলেন, ইবনে জারীর এই মতটিই পছন্দ করেছেন যে, এটি হলো চক্রাকার গতিবিধি। তিনি বলেন, আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না আল-আ'শা-র এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করেছেন: ...তার প্রতিবেশীর ঘর থেকে তার চলন ছিল ... মেঘের গতির মতো, যাতে কোনো মন্থরতা নেই আবার কোনো দ্রুততাও নেই। আমি বলি, বাতাস সম্পর্কে কাব ইবনে যুহাইরের উক্তিটিও অনুরূপ:গ্রীষ্মের বাতাস আমার প্রস্থানের পর ধূলিকণা উড়িয়ে একে মুছে দিয়েছে ... আর জাওযা নক্ষত্র প্রবল ও অবিরাম বৃষ্টির মাধ্যমে একে সজীব করেছে। বাগভী তাঁর তাফসীরে (যেদিন আসমান প্রবলভাবে আন্দোলিত হবে) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ জাঁতার মতো ঘুরবে এবং এর বাসিন্দাদের নিয়ে এটি জাহাজের মতো দুলতে থাকবে। কাতাদাহ বলেছেন: এটি নড়াচড়া করবে। আতা আল-খুরাসানী বলেছেন: এর অংশগুলো একটি অন্যটির সাথে এলোমেলো হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি অস্থিরভাবে আলোড়িত হবে। 'মওর' শব্দটি এই সমস্ত অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে; সুতরাং অভিধানে এর অর্থ হলো আসা-যাওয়া করা, বারবার ফিরে আসা, ঘূর্ণন এবং অস্থিরতা—সমাপ্ত।যখন এটি জানা গেল, তখন সূরা আল-মুলকের আয়াতটি প্রমাণ করে যে পৃথিবী স্থির ও শান্ত, এটি ঘোরে না যে আসা-যাওয়া করবে। এই কারণেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এটিকে তাদের জন্য অনুগত ও ব্যবহারের উপযোগী করে দিয়ে এবং তাঁর শাস্তির মাধ্যমে তাদের সতর্ক করেছেন যে তিনি তাদেরসহ পৃথিবীকে ধসিয়ে দেবেন এবং এটিকে তাদের সাথে আন্দোলিত করে দেবেন। যদি বিষয়টি আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যাবিদ এবং তাদের অনুসরণকারী আধুনিকতাবাদীদের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে পৃথিবী নক্ষত্র, মেঘ ও বাতাসের মতো সর্বদা আন্দোলিত হতো, ফলে এর আন্দোলনের মাধ্যমে ভয় দেখানোর আর কোনো সার্থকতা থাকতো না।একুশতম আয়াত, আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তিনি আসমানকে ধরে রাখেন যাতে তা তাঁর অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর ওপর পড়ে না যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, দয়ালু)।বাইশতম আয়াত, আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা কি তাদের সামনে ও পেছনে আসমান ও জমিনের যা কিছু আছে তার দিকে লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরসহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে কোনো খণ্ড তাদের ওপর ফেলে দেব)। 'কিসাফ' অর্থ হলো টুকরো বা খণ্ড।
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الآية الثالثة والعشرون قوله تعالى إخبارا عن مشركي قريش أنهم قالوا (أو تسقط السماء كما زعمت علينا كسفاً).الآية الرابعة والعشرون قوله تعالى إخبارا عن قوم شعيب أنهم قالوا (فأسقط علينا كسفاً من السماء إن كنت من الصادقين).الآية الخامسة والعشرون قوله تعالى (وإذ قالوا اللهم إن كان هذا هو الحق من عندك فأمطر علينا حجارة من السماء أو ائتنا بعذاب أليم).ووجه الاستدلال بهذه الآيات الخمس على استقرار الأرض وسكونها أن الله سبحانه وتعالى جعل الأرض مركزاً للأثقال ومستقراً لما ينزل من السماء فلو سقطت السماء لوقعت على الأرض ولو سقط منها شيء لم يستقر إلا في الأرض. ولو كانت الأرض تجري وتدور على الشمس كما زعمه أهل الهيئة الجديدة لكانت الشمس هي المركز والمستقر للأثقال وهذا تكذيب للقرآن.وقد قال الله تعالى (إذا الشمس كورت. وإذا النجوم انكدرت).وقال تعالى (إذا السماء انفطرت. وإذا الكواكب انتثرت).قال البغوي وغيره في قوله تعالى (وإذا النجوم انكدرت) أي تناثرت من السماء وتساقطت على الأرض كما قال تعالى (وإذا الكواكب انتثرت).وروى ابن أبي حاتم بإسناد ضعيف عن ابن عباس رضي الله عنهما قال «يكور الله الشمس والقمر والنجوم يوم القيامة في البحر ويبعث الله ريحاً دبورا فيضرمها ناراً».وكذا ذكر البغوي في تفسيره عن ابن عباس رضي الله عنهما. قال ابن كثير وكذا قال عامر الشعبي قلت ويشهد لهذا الأثر ما رواه البخاري في صحيحه حدثنا مسدد حدثنا عبد العزيز بن المختار حدثنا عبد الله الداناج قال حدثني أبو سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «الشمس والقمر مكوران يوم القيامة».ورواه البزار عن إبراهيم بن زياد البغدادي عن يونس بن محمد عن عبد العزيز بن المختار عن عبد الله الداناج قال سمعت أبا سلمة بن عبد الرحمن زمن خالد بن عبد الله القسري في هذا المسجد مسجد الكوفة وجاء الحسن فجلس إليه فحدث قال حدثنا
তেইশতম আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী, যাতে কুরাইশ মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা বলেছিল: (অথবা আপনি আকাশকে টুকরো টুকরো করে আমাদের ওপর ফেলে দিন, যেমনটি আপনি দাবি করেছেন)।চব্বিশতম আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা বলেছিল: (অতএব আমাদের ওপর আকাশের একটি টুকরো ফেলে দিন, যদি আপনি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হন)।পঁচিশতম আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (এবং স্মরণ করুন, যখন তারা বলেছিল: হে আল্লাহ, যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের কাছে কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসুন)।এই পাঁচটি আয়াত দ্বারা পৃথিবীর স্থিরতা ও গতিরহিত হওয়ার স্বপক্ষে দালিলিক দিক হলো—মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পৃথিবীকে ভারী বস্তুসমূহের কেন্দ্র এবং আকাশ থেকে যা কিছু নাজিল হয় তার স্থিতিস্থল বানিয়েছেন। সুতরাং আকাশ যদি ধসে পড়ত তবে তা পৃথিবীর ওপরই পড়ত এবং আকাশ থেকে কোনো কিছু খসে পড়লে তা পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোথাও স্থির হয় না। আর পৃথিবী যদি সূর্যের চারদিকে চলত ও আবর্তন করত যেমনটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করে থাকে, তবে সূর্যই হতো ভারী বস্তুসমূহের কেন্দ্র ও স্থিতিস্থল; আর এটি কুরআনের সরাসরি অস্বীকার করা।মহান আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে। এবং যখন নক্ষত্ররাজি নিষ্প্রভ হয়ে ঝরে পড়বে)।তিনি আরও বলেছেন: (যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে। এবং যখন নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে)।বাগাভী ও অন্যান্যরা মহান আল্লাহর বাণী "যখন নক্ষত্ররাজি নিষ্প্রভ হয়ে ঝরে পড়বে" এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এর অর্থ হলো আকাশ থেকে বিক্ষিপ্ত হওয়া এবং পৃথিবীর ওপর ঝরে পড়া, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে"।ইবনে আবি হাতিম একটি দুর্বল সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহ সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রসমূহকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবেন এবং আল্লাহ একটি পশ্চিমী বায়ু পাঠাবেন যা সেগুলোকে আগুনে প্রজ্বলিত করবে।"বাগাভীও তাঁর তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। ইবনে কাসির বলেছেন, আমির আশ-শাবিও তেমনই বলেছেন। আমি (লেখক) বলছি, বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা এই বর্ণনার সাক্ষ্য দেয়। মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল আজিজ বিন আল-মুখতার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আদ-দানাজ থেকে, তিনি বলেন যে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে নেওয়া হবে।"আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন যিয়াদ আল-বাগদাদি থেকে, তিনি ইউনুস বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন আল-মুখতার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আদ-দানাজ থেকে, যিনি বলেছেন: আমি খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরির সময়ে কুফার এই মসজিদে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি— এমতাবস্থায় হাসান আসলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন— এরপর তিনি বর্ণনা করলেন যে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أبو هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إن الشمس والقمر ثوران في النار عقيران يوم القيامة» فقال الحسن وما ذنبهما فقال أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول وما ذنبهما. إسناده صحيح على شرط مسلم.وروى الحافظ أبو يعلى عن أنس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «الشمس والقمر ثوران عقيران في النار» قال الهيثمي فيه ضعفاء قد وثقوا.قلت وحديث أبي هريرة رضي الله عنه يشهد له ويقويه.وروى ابن أبي حاتم عن الشعبي أنه سمع ابن عباس رضي الله عنهما يقول (وإن جهنم لمحيطة بالكافرين) (وجهنم هو هذا البحر الأخضر تنتثر الكواكب فيه وتكور فيه الشمس والقمر ثم يوقد فيكون هو جهنم).وروى الإمام أحمد وابن جرير والحاكم في مستدركه عن يعلي بن أمية رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «البحر هو جهنم» قال الحاكم صحيح الإسناد ووافقه الذهبي في تلخيصه. وفي الآيات من سورتي التكوير والانفطار مع هذه الأحاديث دليل على أن الأرض هي المركز والمستقر للأثقال وذلك يدل على سكونها وثباتها كما تقدم تقريره وفيها رد على أهل الهيئة الجديدة القائلين بحركة الأرض ودورانها وعلى من يقلدهم ويحذو حذوهم من المسلمين. فصلوأما الأحاديث الدالة على استقرار الأرض وسكونها.فالأول منها حديث أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «لما خلق الله الأرض جعلت تميد فخلق الجبال فألقاها عليها فاستقرت» الحديث رواه الإمام أحمد والترمذي.وهذا الحديث نص في استقرار الأرض وسكونها.الحديث الثاني عن صفوان بن عسال المرادي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم "ذكر باباً من قبل المغرب مسيرة عرضه أو يسير الراكب في عرضه أربعين
আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কিয়ামতের দিন জাহান্নামে দুটি কর্তিত (পা বিহীন বা জবাইকৃত) বলদ হিসেবে থাকবে।” তখন হাসান বললেন, “তাদের অপরাধ কী?” তিনি বললেন, “আমি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করছি আর তুমি বলছো তাদের অপরাধ কী?” এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।হাফেজ আবু ইয়ালা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সূর্য ও চন্দ্র জাহান্নামে দুটি কর্তিত বলদ।” হাইসামী বলেছেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বলতা থাকলেও তারা নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।আমি বলি, আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি এর সাক্ষ্য দেয় এবং একে শক্তিশালী করে।ইবনে আবি হাতিম শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, “(আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফেরদের পরিবেষ্টন করে আছে) এবং জাহান্নাম হলো এই সবুজ সমুদ্র, যাতে নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্ত হবে এবং সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে এর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে, এরপর এতে আগুন জ্বালানো হবে এবং তাই জাহান্নাম হবে।”ইমাম আহমদ, ইবনে জারীর এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে ইয়ালা ইবনে উমাইয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সমুদ্রই হলো জাহান্নাম।” হাকেম বলেছেন, এর সনদ সহীহ এবং যাহাবী তাঁর তালখীস-এ এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। সূরা আত-তাকভীর এবং আল-ইনফিতারের আয়াতসমূহ এবং এই হাদীসগুলোর মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, পৃথিবী হলো সকল ভারী বস্তুর কেন্দ্র এবং স্থিতিস্থল, যা এর স্থিরতা ও অটলতার প্রমাণ দেয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারী যারা পৃথিবীর গতি ও ঘূর্ণনের কথা বলে এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা তাদের অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণ করে, তাদের খণ্ডন রয়েছে। পরিচ্ছেদআর পৃথিবীর স্থায়িত্ব ও স্থিরতা প্রমাণকারী হাদীসসমূহ:তার মধ্যে প্রথমটি হলো আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “যখন আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন তা কাঁপতে শুরু করল। তখন তিনি পাহাড় সৃষ্টি করে এর উপর স্থাপন করলেন, ফলে তা স্থির হয়ে গেল।” হাদীসটি ইমাম আহমদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।এই হাদীসটি পৃথিবীর স্থায়িত্ব ও স্থিরতার ব্যাপারে একটি অকাট্য দলীল।দ্বিতীয় হাদীসটি সাফওয়ান বিন আসসাল আল-মুরাদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পশ্চিম দিকে অবস্থিত একটি দরজার কথা উল্লেখ করেছেন, যার প্রস্থের দূরত্ব হলো চল্লিশ বছরের পথ অথবা আরোহী তার প্রস্থ অতিক্রম করতে চল্লিশ বছর সময় নিবে—
(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াউইকুশ শাদীদাহ আলা ইত্তিবাউল হাইয়াতিল জাদীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أو سبعين عاماً خلقه الله يوم خلق السموات والأرض مفتوحاً يعني للتوبة لا يغلق حتى تطلع الشمس منه» رواه الإمام أحمد والترمذي وقال هذا حديث حسن صحيح.وفي رواية لهما «إن الله عز وجل جعل بالمغرب باباً عرضه مسيرة سبعين عاماً للتوبة لا يغلق حتى تطلع الشمس من قبله وذلك قول الله تبارك وتعالى (يوم يأتي بعض آيات ربك لا ينفع نفساً إيمانها) الآية» قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح.وقد رواه ابن ماجه في سننه بإسناد صحيح ولفظه «إن من قبل مغرب الشمس باباً مفتوحاً عرضه سبعون سنة فلا يزال ذلك الباب مفتوحاً للتوبة حتى تطلع الشمس من نحوه فإذا طلعت من نحوه لم ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيراً».وهذا الحديث الصحيح من أقوى الأدلة على أن الأرض قارة ساكنة لا تدور ولا تفارق موضعها أبداً. وهذا مستفاد من النص على أن باب التوبة ثابت في ناحية المغرب لا يزايله ولا يغلق حتى تطلع الشمس من قبله. ولو كان الأمر على ما يزعمه أهل الهيئة الجديدة لكانت وجهة ذلك الباب تختلف بحسب دوران الأرض فتكون من ناحية المغرب تارة ومن ناحية المشرق أخرى وعلى مسامتة الرأس تارة وفي الجهة المقابلة لذلك أخرى وفيما بين هذه الجهات تارات بحسب دوران الأرض وسيرها على حد زعمهم الكاذب وهذا إبطال للنص بغير دليل شرعي بل بمجرد الظنون الكاذبة والتوهمات الخاطئة.الحديث الثالث. قال أبو الوليد محمد بن عبد الله بن أحمد الأزرقي في أخبار مكة حدثني جدي عن سعيد بن سالم قال أخبرني ابن جريج عن صفوان بن سليم عن كريب مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «البيت الذي في السماء يقال له الضراح وهو مثل بناء هذا البيت الحرام ولو سقط لسقط عليه يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون فيه أبداً».ورواه الطبراني فقال أنبأنا الحسن بن علوية القطان حدثنا إسماعيل بن عيسى العطار حدثنا إسحاق بن بشر أبو حذيفة حدثنا ابن جريج عن صفوان بن سليم عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «البيت المعمور في السماء يقال له الضراح وهو على مثل البيت الحرام بحياله لو سقط لسقط عليه يدخله
অথবা সত্তর বছর। আল্লাহ যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই তিনি এটি খোলা রেখেছেন অর্থাৎ তওবার জন্য, যা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হবে না।" এটি ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ।তাঁদের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পশ্চিম দিকে একটি দরজা রেখেছেন যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ; এটি তওবার জন্য, যা সেই দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ হবে না। আর এটিই মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার বাণী: (যেদিন তোমার রবের কিছু নিদর্শন আসবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না...) আয়াত।" তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস।ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দগুলো হলো: "নিশ্চয়ই সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যাওয়ার স্থান থেকে একটি উন্মুক্ত দরজা রয়েছে যার প্রশস্ততা সত্তর বছর। তওবার জন্য সেই দরজাটি সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে যতক্ষণ না সূর্য সেদিক থেকে উদিত হয়। যখন সূর্য সেদিক থেকে উদিত হবে, তখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।"এই সহীহ হাদিসটি পৃথিবী স্থির ও নিশ্চল হওয়ার এবং এটি কখনও তার স্থান ত্যাগ করে না বা ঘোরে না হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী দলিল। এটি এই পাঠ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তওবার দরজাটি পশ্চিম দিকে স্থির, যা কখনও স্থানচ্যুত হয় না এবং সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বন্ধ হয় না। যদি বিষয়টি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দাবির মতো হতো, তবে পৃথিবীর ঘূর্ণন অনুযায়ী সেই দরজার দিক পরিবর্তিত হয়ে যেত; ফলে তা কখনো পশ্চিম দিকে থাকত, কখনো পূর্ব দিকে থাকত, কখনো মাথার উপরে থাকত, কখনো তার বিপরীত দিকে থাকত এবং পৃথিবীর ঘূর্ণন ও গতির কারণে তাদের মিথ্যা দাবি অনুযায়ী এই দিকগুলোর মাঝে বিভিন্ন অবস্থায় থাকত। এটি মূলত কোনো শারয়ী দলিল ছাড়াই অহি-র পাঠ্যকে বাতিল করা, বরং নিছক মিথ্যা ধারণা ও ভুল কল্পনার উপর ভিত্তি করে।তৃতীয় হাদিস। আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আযরাকী 'আখবারু মক্কাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমার দাদা সাঈদ বিন সালিম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাকে সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস কুরাইব থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আসমানের ঘরটিকে আদ-দিরাহ বলা হয়, যা এই বায়তুল হারামের সদৃশ। যদি এটি উপর থেকে পড়ত তবে এর (কা'বার) উপরই পড়ত। প্রতিদিন এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন যারা সেখানে দ্বিতীয়বার আর কখনও ফিরে আসেন না।"তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান বিন আলাউইয়্যাহ আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল বিন ঈসা আল-আত্তার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন বিশর আবু হুযাইফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে, তিনি কুরাইব থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আসমানের বাইতুল মামুরকে আদ-দিরাহ বলা হয়। এটি বায়তুল হারামের সমান্তরালে ঠিক উপরে অবস্থিত, যদি এটি পড়ত তবে তার উপরই পড়ত। এতে প্রবেশ করে..."