(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: -)
صحيح السيرة النبوية - إبراهيم العلي   (إبراهيم العلي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: صحيح السيرة النبوية

المؤلف: إبراهيم العلي [ت 1425 هـ]

تقديم: د. عمر سليمان الأشقر

راجعه: د. همام سعيد

الناشر: دار النفائس للنشر والتوزيع، الأردن

الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 588

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 رجب 1436

সহীহ সীরাত আন-নববীয়্যাহ - ইবরাহিম আল-আলী   (ইবরাহিম আল-আলী)

বিভাগ: সীরাত আন-নববীয়্যাহ


বই: সহীহ সীরাত আন-নববীয়্যাহ

লেখক: ইবরাহিম আল-আলী [মৃ. ১৪২৫ হিজরী]

উপস্থাপনা: ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার

পর্যালোচক: ড. হাম্মাম সাঈদ

প্রকাশক: দারুন নাফাইস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮৮

[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রজব ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: -)
صحيح السيرة النبوية

«مؤلف جامع للسيرة النبوية المشرفة، مرتب حسب الوقائع والأحداث اقتصر فيه مؤلفه على الأحاديث الصحيحة، مذيل بفارس سهلة»

 

تأليف

إبراهيم العلي

 

تقديم

د. عمر سليمان الأشقر

 

راجعه

د. همام سعيد

 

دار النفائس
সহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ

«সম্মানিত সীরাতুন্নবীর একটি সংকলন গ্রন্থ, যা ঘটনাপ্রবাহ ও ঘটনাবলী অনুযায়ী বিন্যস্ত। এর লেখক এতে কেবল সহীহ হাদীসসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং শেষে সহজ নির্ঘণ্ট যুক্ত করা হয়েছে»

 

গ্রন্থনায়

ইবরাহীম আল-আলী

 

উপস্থাপনায়

ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার

 

পরিমার্জন করেছেন

ড. হাম্মাম সাঈদ

 

দারুন নাফায়িস
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৩)
صحيح السيرة النبوية
বিশুদ্ধ সীরাতুন নবী
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى

1415 هـ - 1995 م

 

حقوق الطبع محفوظة

دار النفائس للنشر والتوزيع

العبدلي - مقابل عمارة جوهرة القدس

هاتف: 693940 - فاكس: 693941

ص. ب: 211511 عمان 11121 الأردن
প্রথম সংস্করণ

১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দারুন নাফায়েস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

আল-আবদালি - জাওহারাতুল কুদস ভবনের বিপরীতে

ফোন: ৬৯৩৯৪০ - ফ্যাক্স: ৬৯৩৯৪১

পি.ও. বক্স: ২১১৫১১ আম্মান ১১১২১ জর্ডান
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كلمة مقدم الكتاب

د. عمر سليمان الأشقر

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، وعلى من سار على دربه واتبع هداه، وبعد:

فقد فاجأني الشيخ إبراهيم العلي كثيرًا وسرني كثيرًا عندما أخبرني أنّه أنهى مشروعه في جمع صحيح السيرة النبوية من كتب السنة النبوية.

وكان عظم المفاجأة وعظيم السرور لأن إتمام مشروع صحيح السيرة كان أملًا لطلبة العلم والعلماء، فإن السيرة النبوية الينبوع الثرّ الذي تستقي منه الأجيال، وتتربى عليه، وتستلهم منه الهداية والرشد، ويعتمد عليه العلماء والدعاة والوعاظ.

وطالما هششنا وفرحنا عندما كان يبلغنا أن فلانًا من أهل العلم عازم على إخراج هذا العمل والقيام به، أو أن فلانًا بدأ هذا العمل ومضى فيه، ولكن مضى وقت طويل قبل أن يتحقق الأمل، ويخرج هذا العمل إلى حيز الوجود، وفي حدود علمي فإن باحثًا واحدًا من المعاصرين سبق الشيخ إبراهيم العلي إلى مثل عمله الذي تقدم له.

إن كتب السنة النبوية تحوي كمًّا هائلًا من سيرة المصطفى، والمعلومات المبثوثة في كتب السنة تمتاز بالدقة والوضوح، وقد استطاع الباحث في هذا المؤلف أن يجمع شتات هذا الكم الكبير من مرويات السيرة النبوية، كما نجح في التأليف بين هذه المرويات بتقسيمها إلى موضوعات متناسقة، والميزة الكبرى لهذا المؤلف أنه
বইটির ভূমিকা লেখকের কথা

ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরবৃন্দের ওপর এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন, যারা তাঁর পথে চলেছেন এবং তাঁর হেদায়াতের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতপর:

শাইখ ইব্রাহিম আল-আলি আমাকে যারপরনাই বিস্মিত ও আনন্দিত করেছেন যখন তিনি আমাকে অবহিত করলেন যে, তিনি সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে সহীহ সিরাতে নববী সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

এই বিস্ময় ও আনন্দের মাহাত্ম্য ছিল এই কারণে যে, সহীহ সিরাহ প্রকল্পের পূর্ণতা দান ছিল তালিবে ইলম ও উলামায়ে কিরামের একটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। কেননা সিরাতে নববী হলো সেই প্রবহমান ঝর্ণাধারা যেখান থেকে প্রজন্মসমূহ সুধা পান করে, যার আলোকে তারা গড়ে ওঠে এবং যেখান থেকে তারা সঠিক পথ ও সুপথের দিশা লাভ করে। আর উলামা, দাঈ এবং ওয়ায়েজগণ এর ওপরই নির্ভর করে থাকেন।

আমরা দীর্ঘকাল আহ্লাদিত ও আনন্দিত হয়েছি যখনই আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আহলে ইলমদের মধ্য থেকে অমুক ব্যক্তি এই কাজটির আঞ্জাম দেওয়ার সংকল্প করেছেন, কিংবা অমুক ব্যক্তি এই কাজ শুরু করে তাতে অগ্রসর হয়েছেন। কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হওয়া এবং এই কাজটির আলোর মুখ দেখার আগে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমার জানামতে, সমকালীন গবেষকদের মধ্যে মাত্র একজন গবেষক শাইখ ইব্রাহিম আল-আলি যে ধরনের কাজ পেশ করেছেন তার অনুরূপ কাজে তাঁর অগ্রবর্তী হয়েছেন।

নিশ্চয়ই সুন্নাহর কিতাবসমূহ মুস্তফা (সা.)-এর সীরাতের এক বিশাল ভাণ্ডার ধারণ করে আছে। আর সুন্নাহর কিতাবসমূহে ছড়িয়ে থাকা তথ্যাবলি সূক্ষ্মতা ও স্পষ্টতার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। গবেষক এই গ্রন্থে সিরাতে নববীর বর্ণনাসমূহের এই বিশাল সমাহারকে সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বর্ণনাসমূহকে সুসমন্বিত বিষয়ভিত্তিতে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে এগুলোর মধ্যে সংগতি স্থাপনেও সফল হয়েছেন। আর এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি যে,
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৬)
اقتصر فيه على الصحيح من الروايات، وابتعد عن الأحاديث الضعيفة والموضوعة، التي جعلت بعض أحداث السيرة شبيهة بالخرافة والأسطورة.

إن تنقية السيرة مما شابها واجب كفائي مناط بالعلماء، فالمسلمون كانوا وما يزالون يرجعون إلى كتب السير، وفيها الصحيح والضعيف والموضوع، ويأخذون تلك الروايات أخذ المصدق بها المذعن لها، ونتج عن هذا أن ينسب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يقله ولم يفعله، ولم يحدث في زمانه.

وانتشرت روايات السيرة التي ضمتها كتب السيرة صحيحة وضعيفة في مؤلفات العلماء، وحدث بها الدعاة والوعاظ، واستدل بها العوام وطلبة العلم، وكل هذا أحدث خللًا كبيرًا عند هؤلاء جميعًا، ومن هنا كانت الحاجة كبيرة وملحة لتنقية السيرة مما شابها، تصحيحًا للمسار، ونصحًا لله ولرسوله والمؤمنين، وإعانة للعلماء وطلبة العلم والدعاة والوعاظ، فجزى الله المؤلف خير جزائه، وأثابه على حسن صنيعه، ووفقه في طبعات قادمة إلى أن يستكمل ما فاته من صحيح الروايات، وتسديد ما لم يصب فيه، فالنقص من طبيعة البشر، وسعي المرء إلى بلوغ الكمال هو المقدور المستطاع.

وقد أذن لي المؤلف جزاه الله خيرًا في إجراء ما أراه مناسبًا، فقسمت موضوعات الكتاب إلى أواب وفصول ومباحث وعدلت في العناوين التي وضعها المؤلف وصوبت الأخطاء التي وقعت عليها العين وأدركها العقل، خدمة لكتاب يبحث في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. ولا يفوتني في هذه المقدمة أن أنوه بباعث الفكرة وغارسها وراعيها حتى أينعت وأثمرت، فضيلة الشيخ الدكتور همام سعيد، فالدال على الخير كفاعله.

نفع الله بهذا السفر عباده في كل مكان، والحمد لله رب العالمين.

د. عمر سليمان الأشقر

كلية الشريعة- الجامعة الأردنية

عمان- الأردن
এতে কেবল সহিহ বর্ণনাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে এবং এমন সব দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস থেকে দূরে থাকা হয়েছে, যা সিরতের কিছু ঘটনাকে রূপকথা ও অলীক কাহিনীর মতো করে তুলেছিল।

সিরতের সাথে মিশে যাওয়া আবিলতা থেকে একে পরিশুদ্ধ করা আলেমদের ওপর অর্পিত একটি ফরজে কিফায়া। কারণ মুসলমানরা আগে যেমন সিরতের কিতাবগুলোর দিকে ফিরে যেত, এখনও তেমনই যায়; অথচ সেগুলোতে সহিহ, যঈফ ও মাওজু (বানোয়াট) সব ধরনের বর্ণনা রয়েছে। তারা সেই বর্ণনাগুলোকে এমনভাবে গ্রহণ করে যেন সেগুলো সত্য ও অকাট্য। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এমন সব কথা ও কাজ নিসবত করা হয়, যা তিনি বলেননি, করেননি এবং যা তাঁর সময়ে ঘটেনি।

সিরতের কিতাবগুলোতে থাকা সহিহ ও যঈফ বর্ণনাগুলো আলেমদের রচনাবলীতে ছড়িয়ে পড়েছে, দায়ী ও ওয়ায়েজগণ তা বর্ণনা করেছেন এবং সাধারণ মানুষ ও ইলম অন্বেষণকারীরা তা থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন। এই সবকিছু তাদের সবার মধ্যে একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এ কারণেই সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের প্রতি কল্যাণকামিতার খাতিরে এবং আলেম, ইলম অন্বেষণকারী, দায়ী ও ওয়ায়েজদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সিরতকে কলুষতা মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম ও জরুরি। আল্লাহ তাআলা লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর এই উত্তম কাজের জন্য তাঁকে সওয়াব দান করুন। আল্লাহ তাঁকে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে না পাওয়া সহিহ রেওয়ায়েতগুলো অন্তর্ভুক্ত করার এবং ভুলগুলো সংশোধনের তাওফিক দিন। কারণ অপূর্ণতা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, আর পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করাই হলো সাধ্যের মধ্যে থাকা কাজ।

লেখক—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—আমাকে উপযুক্ত মনে হওয়া পরিবর্তনগুলো করার অনুমতি দিয়েছেন। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরত নিয়ে রচিত এই কিতাবটির খিদমতের খাতিরে আমি এর বিষয়বস্তুগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি, লেখকের দেওয়া শিরোনামগুলোতে পরিবর্তন এনেছি এবং চোখে পড়া ও বুদ্ধিতে ধরা পড়া ভুলগুলো সংশোধন করেছি। এই ভূমিকায় সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা আমি ভুলব না যিনি এই চিন্তার উদ্যোক্তা, রোপণকারী এবং এর লালনকারী—যতক্ষণ না তা পরিপক্ব হয়েছে ও ফল দিয়েছে—তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় শায়খ ড. হুম্মাম সাঈদ। নিশ্চয়ই ভালো কাজের পথপ্রদর্শক সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পান।

আল্লাহ এই গ্রন্থের মাধ্যমে সব জায়গার বান্দাদের উপকৃত করুন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার

শরীয়াহ অনুষদ- জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়

আম্মান- জর্ডান
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كلمة مراجع الكتاب

إن الحمد لله، نحمده تعالى، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم صلِّ على محمد، وعلى آله وصحبه، وسلم تسليمًا كثيرًا، وبعد:

فقد جاء كتاب صحيح السيرة النبوية ثمرة معاناة يشعر بها دارس السيرة النبوية ومدرسها عندما يرواح بين منهجين: منهج المؤرخين ورواة السير، ومنهج المحدثين.

فقد عرف عن المؤرخين وأصحاب السير التساهل في الرواية حيث يذكرون الأخبار الضعيفة والمنقطعة، مراعاة لإكمال الصورة التاريخية المتصلة الأحداث، بينما اتبع المحدثون منهج النقد الذي يميز الروايات الصحيحة من غيرها، ولو أدى الأمر إلى بتر الصورة التاريخية، وإن سلم منها أجزاء غير مكتملة.

وكنت أتمنى أن أجد الوقت لاستقراء كتب الحديث وجمع مرويات السيرة فيها، وترتيبها على نسق كتب السير وفق التتابع الزمني.

ولقد نقلت هذه الفكرة إلى تلميذي وأخي الشيخ إبراهيم العلي، الذي صحبني سنوات عديدة صحبة الباحث الشغوف بطلب العلم، وكان يعرض عليّ إنجازه في
গ্রন্থের পর্যালোচনাকারীর বক্তব্য

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

'সহীহ সীরাতুন নবী' গ্রন্থটি সেই কষ্টের ফসল যা সীরাত অধ্যয়নকারী ও শিক্ষকগণ অনুভব করেন যখন তারা দুটি পদ্ধতির মাঝে দোদুল্যমান থাকেন: ঐতিহাসিক ও সীরাত বর্ণনাকারীদের পদ্ধতি এবং মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি।

ঐতিহাসিক ও সীরাত রচয়িতাদের ক্ষেত্রে বর্ণনার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনের বিষয়টি সুবিদিত, যেখানে তারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা রক্ষার খাতিরে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মুহাদ্দিসগণ পর্যালোচনার এমন পদ্ধতি অনুসরণ করেন যা অন্যান্য বর্ণনা থেকে সহীহ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করে, যদিও এর ফলে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট খণ্ডিত হয়ে পড়ে এবং এর কিছু অসম্পূর্ণ অংশই কেবল অবশিষ্ট থাকে।

আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, আমি যদি হাদীসের কিতাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাঠ করার এবং সেগুলোতে বিদ্যমান সীরাত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করার এবং কালানুক্রমিক ধারা অনুযায়ী সীরাতের কিতাবগুলোর বিন্যাসে সেগুলো সাজানোর সময় পেতাম।

আমি এই চিন্তাটি আমার ছাত্র ও ভ্রাতা শায়খ ইব্রাহিম আল-আলীর কাছে ব্যক্ত করেছিলাম, যিনি জ্ঞান অন্বেষণে একজন অতি আগ্রহী গবেষক হিসেবে দীর্ঘ বছর আমার সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তার সম্পাদিত কাজগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করতেন...
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৮)
هذا المضمار، وكان حفظه الله يستجيب للملاحظات والإضافات، فجاء هذا الجهد بعد سنوات طوال من العمل والجهد والمثابرة، فجمع الشوارد من أخبار السيرة مع ذكر الأحكام الحديثية على كثير من هذه الأحاديث، وبيان غريبها، ويمكنني القول بأن هذا الجهد سيكون إحدى البدايات المهمة في كتابة السيرة من وجهة نظر المحدثين.

أسأل الله تعالى أن يجعل هذا الجهد جهدًا خالصًا لوجهه، وأن يكون نافعًا لطلاب العلم، وأن ينفع صاحبه وقارئه.

والحمد لله رب العالمين

الدكتور همام عبد الرحيم سعيد

أستاذ الحديث في كلية الشريعة بالجامعة الأردنية سابقًا
এই অঙ্গন, এবং তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সংযোজন গ্রহণ করতেন। দীর্ঘ বছরের কাজ, প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের পর এই শ্রমটি সম্পন্ন হয়েছে; এতে তিনি সিরাতের বিক্ষিপ্ত সংবাদগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং এ সকল হাদিসের অধিকাংশের ওপর হাদিসশাস্ত্রীয় বিধান উল্লেখ করেছেন ও সেগুলোর দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আমি বলতে পারি যে, মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিকোণ থেকে সিরাত রচনার ক্ষেত্রে এই প্রয়াসটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিকা হিসেবে গণ্য হবে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই প্রচেষ্টাকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং এটি যেন জ্ঞানান্বেষণকারীদের জন্য ফলপ্রসূ হয় এবং এর লেখক ও পাঠক উভয়কে উপকৃত করে।

আর যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ডক্টর হুমাম আবদুর রহিম সাঈদ

জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের হাদিস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة المحقق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أما بعد؛

فالتاريخ الإسلامي يتميز بميزة خاصة عن بقية تاريخ الأمم، إذ أن كل شيء مهما بلغ من شأن يظل دائما مرتبطا بنقطة البداية التي انطلق منها أولًا.

ونقطة البداية في التاريخ الإِسلامي مرتبطة بحياة نبي الإسلام وسيرته، فسيرة النبي صلى الله عليه وسلم هي المدخل الطبيعي لدراسة تاريخ الاسلام، وبقدر ما يحيط الدارس علمًا بهذه السيرة، ويفهم أسرارها وأخبارها بقدر ما يستطيع أن يفهم التاريخ الإسلامي في جميع مراحله في كل زمان ومكان.

وأضرب مثلًا لتوضيح هذا الأمر: فشخصية النبي محمد صلى الله عليه وسلم الفذة لا تقاس بالإنجازات التي تمت في عصره فقط، ولكن بما نتج عن هذه الإنجازات وما تحقق بعده، بقيام الفتوحات الكبرى التي تمت في عهد الخلفاء، وتأسيس دولة الإسلام العظمى الممتدة من حدود الصين شرقا إلى جبال فرنسا غربا.

ولقد كان أثر هذا وما زال كبيرًا للغاية على البشر وحضاراتهم وثقافاتهم وأوضاعهم الاجتماعية والعقدية والسياسية والحربية.

ولقد بنى النبي محمد صلى الله عليه وسلم أمة جديدة، فتربية محمد صلى الله عليه وسلم تظهر جلية واضحة في أستاذيته حين أخرج العرب الممزقين الغارقين في ظلام الجهل، وعبادة غير الله، إلى نور التوحيد الذي جمعهم به بعد تمزق، ووحدهم به بعد تفرق، وأخرج من هذه الأمة قادة عظامًا، وجعل من الإنسان المسلم متحضرًا بعقله وإيمانه وحسن أخلاقه ومثله وأمانته، لقد صبر النبي صلى الله عليه وسلم على تربية أصحابه حتى هيأ
সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর;

অন্যান্য জাতির ইতিহাসের তুলনায় ইসলামি ইতিহাস এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে অনন্য; কেননা প্রতিটি বিষয়, তার গুরুত্ব যত বেশিই হোক না কেন, সর্বদা তার সেই প্রারম্ভিক বিন্দুর সাথে সম্পৃক্ত থাকে যেখান থেকে তার প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল।

আর ইসলামি ইতিহাসের প্রারম্ভিক বিন্দুটি ইসলামের নবীর জীবন ও তাঁর সীরাতের সাথে সম্পৃক্ত। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত হলো ইসলামি ইতিহাস অধ্যয়নের স্বাভাবিক প্রবেশদ্বার। একজন শিক্ষার্থী এই সীরাত সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করবে এবং এর রহস্য ও ঘটনাবলী অনুধাবন করবে, সে ততটুকুই সব সময়ের এবং সব স্থানের ইসলামি ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়কে বুঝতে সক্ষম হবে।

বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি: নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনন্য ব্যক্তিত্বকে কেবল তাঁর যুগে অর্জিত সাফল্যের মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না; বরং এই সাফল্যের ফলে যা উদ্ভূত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে যা অর্জিত হয়েছে—অর্থাৎ খলিফাদের যুগে সংঘটিত মহান বিজয়সমূহ এবং পূর্বে চীনের সীমান্ত থেকে পশ্চিমে ফ্রান্সের পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত মহান ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা—তা দিয়ে বিচার করতে হবে।

মানবজাতি, তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং তাদের সামাজিক, আকিদাগত, রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থার ওপর এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং তা এখনো বিদ্যমান।

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নতুন জাতি গঠন করেছিলেন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যখন তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকার এবং গায়রুল্লাহর ইবাদতে নিমজ্জিত ও বিচ্ছিন্ন আরবদের তাওহীদের আলোর দিকে নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদের অনৈক্যের পর ঐক্যবদ্ধ করেন এবং বিচ্ছিন্নতার পর সংহতি দান করেন। তিনি এই উম্মত থেকে মহান নেতাদের জন্ম দিয়েছেন এবং একজন মুসলিমকে তার বিবেক, ঈমান, উন্নত চরিত্র, আদর্শ ও আমানতদারির মাধ্যমে সভ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদের প্রস্তুত করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১০)
مجموعة من الناس عندهم القدرة على إدارة الدولة الكبرى التي ستقام بعد وفاته.

إن الدارس والمتعرف على الإسلام وتاريخه وحضارته، بشكل علمي ونزيه، سيلاحظ بكل إكبار وإعجاب التأثير البالغ لمحمد عليه الصلاة والسلام في كل خلجة وحركة تمت في تاريخ المسلمين، وسيسلم بداهة -مع الأخذ بعين الاعتبار والتقدير تفاوت الأزمان والنوايا والإخلاص مع درجة الفهم- أن المحرض الأساس المسبب لكل حادث في هذا التاريخ هو الإسلام، وأن كل شيء قام بعد قيام الإسلام، إنما قام باسمه وبسببه.

وما دامت سيرة محمد صلى الله عليه وسلم مفتاحا للتاريخ الإسلامي فهي أجدر العلوم بالاهتمام والتوثيق لتقديمها في أنصع صورة وأجملها، في وقت كثرت فيه الدعوات الأرضية، واشتد فيه الظلام وظهر الباطل على الحق ظهورا آنيا، وسيطرت المادية على الإنسان فغيرت كثيرا من قيمه وجعلته لا يستقر على حال، وحتى يجد الإنسان في سيرة هذا النبي السلوك المثالي الذي تتساقط عنده دعاوى المغرضين والزائفين، ولعله يجد فيها الصورة المشرقة الحية للإنسانية الحقة، وليجد فيها الصورة المشرقة للإنسان الذي يمارس إنسانيته بكل أبعادها، ويتفاعل مع الواقع بكل معطياته، وليدرك الإنسان أيضًا إن محمدا صلى الله عليه وسلم الذي وصل إلى قمة الكمال الإنساني كان في كل أحواله غير بعيد عن بشريته، بل عاش مشاعر هذه البشرية، شابًّا مستقيمًا في سلوكه، داعيا إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، وأبا حانيًا، وزوجًا مثاليًا، وقائدًا حربيًّا، فقيرًا وغنيًّا، إمامًا وحكمًا مسلمًا جامعًا بين العبادة والتبتل لربه، والمعاشرة لأهله وأصحابه.

وإذا كانت هذه الدراسة للسيرة ضرورية للإنسان بشكل عام، فإنها اشتد ضرورة للإنسان المسلم المعذب الحائر بين القيم التي تغزو عقله وفكره ومجتمعه، لأن السيرة إنما هي تجسيد حي لتعاليم الإسلام كما أرادها الله أن تطبق في عالم الواقع، لأن تعاليم الإسلام إنما أنزلت لتطبق في واقع الإنسان ومجتمعه، هذه الأوامر والتعاليم هي التي ينشأ الإنسان في ظلها في بحبوحة من العيش، واعتراف كامل بإنسانيته حيث تهديه هذه التعاليم في كل جانب من جوانب حياته وترشده إلى ما فيه خيره وصلاحه.

ومحمد صلى الله عليه وسلم هو الذي كان يجسد تعاليم الإسلام في كل حادثة وظرف في شخصه حتى يكون قدوة لأصحابه ولمن يأتون بعده {لقد كان لكم في رسول الله
একদল মানুষ যাদের তাঁর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া মহান রাষ্ট্র পরিচালনা করার ক্ষমতা ছিল।

যে ব্যক্তি বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষভাবে ইসলাম এবং এর ইতিহাস ও সভ্যতা সম্পর্কে অধ্যয়ন করে ও জানে, সে পরম শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ের সাথে মুসলিম ইতিহাসের প্রতিটি স্পন্দন ও প্রতিটি পদক্ষেপে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুগভীর প্রভাব লক্ষ্য করবে। এবং সে স্বতস্ফূর্তভাবে স্বীকার করবে—যুগবিভাগ, নিয়ত ও ইখলাসের ভিন্নতা এবং অনুধাবনের স্তরকে বিবেচনায় নিয়ে—যে এই ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনার মূল প্ররোচক ও কারণ হলো ইসলাম, এবং ইসলামের উত্থানের পর যা কিছু গড়ে উঠেছে, তা মূলত এর নামেই এবং এর কারণেই গড়ে উঠেছে।

যতক্ষণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিত ইসলামি ইতিহাসের চাবিকাঠি হিসেবে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সুন্দর রূপে উপস্থাপন করার জন্য যত্ন ও প্রামাণিককরণের সবচেয়ে উপযুক্ত শাস্ত্র। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন পার্থিব আহ্বানগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্ধকার ঘনীভূত হয়েছে এবং সত্যের ওপর মিথ্যার সাময়িক জয় পরিলক্ষিত হচ্ছে, আর জড়বাদ মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে তার অনেক মূল্যবোধকে পরিবর্তন করে দিয়েছে এবং তাকে অস্থির করে তুলেছে। যাতে মানুষ এই নবীর সীরাতের মধ্যে সেই আদর্শিক আচরণ খুঁজে পায় যার কাছে সংকীর্ণমনা ও প্রতারকদের দাবিগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সম্ভবত সে এর মধ্যে প্রকৃত মানবতার এক উজ্জ্বল ও জীবন্ত প্রতিকৃতি খুঁজে পাবে, এবং এমন এক মানুষের উজ্জ্বল প্রতিকৃতি পাবে যিনি তাঁর মানবিকতাকে তার সকল মাত্রাসহ চর্চা করেন এবং বাস্তবতার সকল উপাদানের সাথে মিথস্ক্রিয়া করেন। এবং মানুষ যেন এটাও উপলব্ধি করতে পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যিনি মানবিক পূর্ণতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন—তিনি তাঁর সকল অবস্থায় তাঁর মানবীয় বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে ছিলেন না। বরং তিনি এই মানবতার অনুভূতিগুলো লালন করেছেন; একজন যুবক হিসেবে স্বীয় আচরণে ছিলেন অবিচল, প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, এক দয়ালু পিতা, এক আদর্শ স্বামী, এক সমরনেতা, দরিদ্র অবস্থায় এবং সচ্ছল অবস্থায়, একজন ইমাম ও মুসলিম বিচারক যিনি তাঁর রবের ইবাদত ও ঐকান্তিকতা এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের সাথে মেলামেশার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।

যদি সীরাতের এই অধ্যয়ন সাধারণভাবে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে, তবে সেই যন্ত্রণাকাতর ও বিভ্রান্ত মুসলিমের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র, যে তার মস্তিষ্ক, চিন্তা ও সমাজকে আক্রমণকারী মূল্যবোধের গোলকধাঁধায় পড়ে আছে। কারণ সীরাত হলো ইসলামের শিক্ষার এক জীবন্ত রূপায়ন, যেমনটি আল্লাহ চেয়েছিলেন বাস্তব জগতে বাস্তবায়িত হোক। কেননা ইসলামের শিক্ষা অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের বাস্তবতা ও তার সমাজে বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য। এই আদেশ ও শিক্ষাগুলোর ছায়াতলেই মানুষ প্রাচুর্যময় জীবনে বেড়ে ওঠে এবং তার মানবিকতার পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে, যেখানে এই শিক্ষাগুলো তাকে তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পথ দেখায় এবং যা কিছু তার জন্য কল্যাণকর ও সংশোধনমূলক সেদিকে তাকে পরিচালিত করে।

আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনিই ছিলেন যিনি প্রতিটি ঘটনা ও পরিস্থিতিতে তাঁর নিজের ব্যক্তিত্বে ইসলামের শিক্ষাগুলোকে মূর্ত করে তুলতেন, যাতে তিনি তাঁর সাহাবীদের জন্য এবং যারা তাঁর পরে আসবে তাদের জন্য আদর্শ হতে পারেন। {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে...
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيرا}.

من أجل كل ما سبق ذكره كانت هذه الدراسة التوثيقية عن سيرته صلى الله عليه وسلم من خلال مصدر رئيسي من مصادر السيرة، هذا المصدر هو كتب الحديث ومصنفاته التي عرضت جوانب كبيرة من سيرته العطرة صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌مصادر السيرة النبوية المطهرة:

إن كل من كتب في السيرة النبوية اعتمد في كتابته على مصدر أو أكثر من المصادر التالية:

1 - القرآن الكريم.

2 - كتب الحديث ومصنفاته.

3 - كتب المغازي والسير والدلائل والشمائل.

4 - كتب الأدب واللغة والشعر.

ولقد أعتمدتُ في جمع هذه الدراسة على المصدر الثاني كمصدر رئيسي وأصيل في كل الأحداث. وعلى المصدر الثالث حين يتعذر عليّ أن أجد في كتب الحديث ومصنفاته ما يسد ثغرة الحديث الذي أبحث عنه.

قاعدة: ما جاء في كتب الحديث الصحيحة من روايات للسيرة مقدمٌ على ما جاءَ في كتب المغازي:

إن المطلوب هو اعتماد الروايات الصحيحة وتقديمها في بناء الصورة الناصعة لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، ثم الروايات الحسنة، ثم ما يعضدها من الضعيف، وعند التعارض يقدم الأقوى دائما، أما الروايات الضعيفة فيمكن الاعتماد عليها في إثبات حوادث تاريخية لا ينبني عليها أي حكم شرعي أو أمر في جانب العقيدة، لأن الأحكام الشرعية والأمور العقدية لا تثبت إلا بالأحاديث الصحيحة.

إن السيرة النبوية مليئة بالأحكام الشرعية والتي يستفاد منها في كثير من جوانب الحياة، ولذا فيجب أن تكون ثابته بالأحاديث الصحيحة حتى يعتمد عليها، وكتب الحديث تحتوي على مادة السيرة الموثقة حسب منهج المحدثين، فلذلك يجب الاعتماد عليها وتقديمها على روايات كتب المغازي والسير والتواريخ العامة،
...যারা আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।}.

ইতিপূর্বে উল্লিখিত সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত বা জীবনচরিত সম্পর্কে এই প্রামাণিক গবেষণাটি সীরাতের অন্যতম প্রধান উৎসের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সেই উৎসটি হলো হাদীসের কিতাবসমূহ ও সংকলনগুলো, যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুগন্ধিময় সীরাতের বিশাল দিকসমূহ তুলে ধরেছে।

 

‌‌পবিত্র সীরাতে নববীর উৎসসমূহ:

যারা সীরাতে নববী লিখেছেন, তারা প্রত্যেকেই তাদের রচনায় নিম্নোক্ত এক বা একাধিক উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন:

১ - পবিত্র কুরআন।

২ - হাদীসের কিতাবসমূহ ও সংকলনসমূহ।

৩ - মাগাযী (যুদ্ধাভিযান), সীরাত (জীবনচরিত), দালায়েল (প্রমাণাদি) ও শামায়েল (বৈশিষ্ট্যাবলি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

৪ - সাহিত্য, ভাষা ও কবিতার কিতাবসমূহ।

আমি এই গবেষণাটি সংকলনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনার বর্ণনায় দ্বিতীয় উৎসটিকে প্রধান ও মৌলিক উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি। আর তৃতীয় উৎসের ওপর তখন নির্ভর করেছি যখন হাদীসের কিতাব ও সংকলনসমূহে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া আমার জন্য দুষ্কর হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে।

মূলনীতি: হাদীসের সহীহ গ্রন্থসমূহে সীরাত বিষয়ক যে সকল বর্ণনা এসেছে, তা মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক কিতাবসমূহের বর্ণনার ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সীরাতের একটি উজ্জ্বল চিত্র বিনির্মাণে কাম্য হলো সহীহ বর্ণনাগুলোর ওপর নির্ভর করা এবং সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এরপর হাসান বর্ণনা এবং তারপর যা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত। আর বিরোধ দেখা দিলে সর্বদা অধিক শক্তিশালী বর্ণনাটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে দুর্বল বর্ণনাগুলোর ওপর এমন সব ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণের ক্ষেত্রে নির্ভর করা যেতে পারে যেগুলোর ওপর কোনো শরয়ী বিধান বা আকীদা সংক্রান্ত বিষয় নির্ভর করে না। কারণ শরয়ী বিধান ও আকীদা সংক্রান্ত বিষয়াদি সহীহ হাদীস ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।

সীরাতে নববী শরয়ী বিধানে ভরপুর যা জীবনের বহু ক্ষেত্রে উপকারে আসে। অতএব, নির্ভরতার জন্য এগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক। আর হাদীসের গ্রন্থগুলো মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী সীরাতের প্রামাণিক উপাদান ধারণ করে। তাই এগুলোর ওপর নির্ভর করা এবং মাগাযী, সীরাত ও সাধারণ ইতিহাসের বর্ণনার ওপর এগুলোর অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১২)
وخاصة إذا أوردتها كتب الحديث الصحيحة، لأنها ثمرة جهود جبارة قدمها المحدثون عند تمحيص الحديث ونقده سندًا ومتنا، هذا النقد والتدقيق الذي حظي به الحديث لم تحظ به الكتب التاريخية، والمعلوم أن للمحدثين مناهج وطرقًا في نقد الأحاديث ومعرفة الصحيح من الضعيف من حيث التدقيق في عدالة الرواة الذين رووا الأحاديث أو أي حادثة من الحوادث التي يعتمدونها، ويشترطون في الرواة شروطا محددة لابد من توفرها حتى تثبت عدالة الرواة فتصح روايتهم.

وهذه الشروط لا تتوفر في مناهج المؤرخين في رواياتهم التاريخية فهم يتساهلون في تعاملهم مع الروايات التاريخية، ولذلك نجدهم يروون عن رواة لم تثبت عدالتهم عند المحدثين من أمثال الكلبي، وسيف بن عمر التميمي والواقدي وغيرهم من الضعفاء عند المحدثين.

لذلك فقد اعتمدت هذه الدراسة على أصح الروايات، ومصنفات الحديث تحتوي على ثروة كبيرة من الأحاديث الصحيحة تكوِّن عند قارئها صورة كاملة من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، لذلك كنت أقدم الرواية الموجودة في كتب الحديث على الرواية الموجودة في كتب المغازي والسير وما في الصحيح أصح.

 

‌‌ضرورة الإسناد في قبول الرواية التاريخية وخاصة في روايات السيرة النبوية:

الإسناد لا بد منه في كل أمر من أمور الدين، وعليه الاعتماد في الأحاديث النبوية وفي الأحكام الشرعية وفي المناقب والفضائل والمغازي والسير، وغير ذلك من أمور الدين المتين والشرع المبين، فشيء من هذه الأمور لا ينبغي عليه الاعتماد، ما لم يتأكد بالإسناد لا سيما بعد القرون المشهود لها بالخير.

والإسناد: -هو سلسلة الرواة إلى المتن، والمتن: ما ينتهى إليه من الكلام.

وقد شدد سلفنا الصالح رضوان الله عليهم، على ضرورة الإسناد، وأنه مطلوب في الدين، وأنه من خصائص أمة الإسلام.

أخرج مسلم في مقدمة صحيحه "1/ 87" عن عبد الله بن المبارك قوله: "الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء".

وعن ابن المبارك أيضًا قال: "مثل الذي يطلب أمر دينه بلا إسناد كمثل الذي يرتقي السطح بلا سلم" ذكره الخطيب البغدادي في كتابه الكفاية ص "393".
বিশেষত যদি তা সহীহ হাদীস গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়; কেননা তা হাদীস বিশারদদের সেই বিশাল প্রচেষ্টার ফসল যা তাঁরা হাদীসের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন। হাদীসের ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্ম যাচাই ও অনুসন্ধান করা হয়েছে, ইতিহাস গ্রন্থসমূহ তা লাভ করেনি। এটা সুবিদিত যে, হাদীস বিশারদদের নিকট হাদীস সমালোচনা এবং সহীহ ও যয়ীফ (দুর্বল) নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পদ্ধতি রয়েছে; যা তাঁরা হাদীস বা তাঁদের নিকট নির্ভরযোগ্য কোনো ঘটনার বর্ণনাকারীদের সততা ও ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তাঁরা এমন কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তারোপ করেন যা পূরণ হওয়া আবশ্যক, যাতে বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততা প্রমাণিত হয় এবং তাদের বর্ণনা সহীহ হিসেবে গণ্য হয়।

আর ঐতিহাসিকদের ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতিতে এই শর্তগুলো পাওয়া যায় না; ফলে তাঁরা ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন। এ কারণেই আমরা দেখি যে, তাঁরা এমন সব বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের বিশ্বস্ততা হাদীস বিশারদদের নিকট প্রমাণিত নয়; যেমন কালবী, সাইফ ইবনে উমর আত-তামিমী, ওয়াকিদী এবং হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল হিসেবে পরিচিত অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ।

তাই বর্তমান এই গবেষণাটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছে। হাদীস গ্রন্থসমূহে সহীহ হাদীসের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে যা পাঠকের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এই কারণে আমি সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বর্ণনার তুলনায় হাদীস গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান বর্ণনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি; আর যা সহীহ গ্রন্থে রয়েছে তা-ই অধিকতর বিশুদ্ধ।

 

‌‌ঐতিহাসিক বর্ণনা গ্রহণে ইসনাদ বা সূত্রের অপরিহার্যতা, বিশেষত সীরাতুন্নবীর বর্ণনাসমূহের ক্ষেত্রে:

দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ের জন্য ইসনাদ (সূত্র) অপরিহার্য। আর হাদীসে নববী, শরয়ী বিধান, গুণাবলী ও মর্যাদা (মানাকিব ও ফাযায়েল), যুদ্ধাভিযান (মাগাযী) এবং সীরাতসহ এই সুদৃঢ় দ্বীন ও সুস্পষ্ট শরীয়তের অন্যান্য সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হয়। তাই এ জাতীয় কোনো বিষয়ের ওপরই ততক্ষণ পর্যন্ত নির্ভর করা উচিত নয়, যতক্ষণ না তা ইসনাদ দ্বারা নিশ্চিত করা হয়; বিশেষত কল্যাণময় হিসেবে সাক্ষ্যপ্রাপ্ত যুগসমূহের (খায়রুল কুরুন) পরবর্তী সময়ে।

আর ইসনাদ হলো: মতন বা মূল পাঠ পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক পরম্পরা। আর মতন হলো: যেখানে গিয়ে কথাটি শেষ হয়।

আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ইসনাদের অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একে দ্বীনের অংশ ও উম্মতে ইসলামিয়ার অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (১/৮৭) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।”

ইবনুল মুবারক থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইসনাদ ব্যতীত তার দ্বীনের বিষয় তালাশ করে, তার উদাহরণ হলো ঐ ব্যক্তির মতো যে মই ছাড়াই ছাদে উঠতে চায়।” খতীব বাগদাদী তাঁর ‘আল-কিফায়া’ গ্রন্থের ৩৯৩ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولهذا وصف الإمام الشافعي الذي يطلب الحديث بلا إسناد كمثل حاطب الليل" يقول رحمه الله:

"مثل الذي يطلب الحديث بلا إسناد كمثل حاطب الليل" جاء هذا في شرح المواهب اللدنية "5/ 453".

وحاطب الليل لا يعمل على بصيرة من أمره، وإنما يسير على غير هدى، فلا يدري ما الذي يجمعه، وهذا الأمر كان موجودا في رواة الأمم السابقة الذين كانوا يفتقدون الأمانة في النقل، وينقلون الأحداث بلا إسناد، وإذا كان هذا الأمر مقبولا عند الأمم السابقة، فإنه لا يقبل في تاريخ أمتنا التي ميزها الله عز وجل بميزة نقل الثقات عن الثقات، حتى الوصول إلى تاريخ الحدث والذين شاهدوه مشاهدة عيانية.

جاء في خلاصة الطيبي "ص 55": "الإسناد خصيصة هذه الأمة، وسنة من السنن البالغة، وطلب العلو فيه سنة أيضًا ولذلك استحبت فيه الرحلة".

ولو قايسنا تاريخ أمة الإسلام بتاريخ الأمم الأخرى مثل اليهود والنصارى في النقل عن أنبيائهم لوجدنا فرقا واضحا وجليًّا، يقول ابن حزم الظاهري في كتابه "الفصل في الملل والأهواء والنحل" "2/ 81 - 82":

"نقل الثقة عن الثقة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم مع الاتصال، خص الله به المسلمين دون سائر الملل، وأما مع الإرسال والإعضال فيوجد في كثير من اليهود، ولكن لا يقربون فيه من موسى قربنا من محمد صلى الله عليه وسلم، بل يقفون بحيث يكون بينهم وبين موسى أكثر من ثلاثين عصرًا، وإنما يبلغون إلى شمعون ونحوه" ثم يقول: "وأما أقوال الصحابة والتابعين فلا يمكن أن يبلغ اليهود إلى صاحب نبي أصلًا، ولا إلى تابع له، ولا يمكن النصارى أن يصلوا إلى أعلى من شمعون وبولص".

فإذا كان هذا الامر مقبولا عند الأمم السابقة في نقلهم للأحداث التاريخية دون ذكر أسانيدها، أو مجرد التأكد من صحة الحدث أو كذبه، فإن هذا الأمر لا يقبل البتة في أمة الإسلام، وإن الإنسان أو الكاتب الذي يقبل الأحداث التاريخية دون التأكد من وجود أسانيد لها يدخل عند المحدثين في طائفة الزمنى "المرضى" على حد تعبير عبد الله بن طاهر.
এ কারণেই ইমাম শাফিঈ সেই ব্যক্তিকে—যে সনদ বা সূত্র ছাড়া হাদীস অন্বেষণ করে—'রাতের কাষ্ঠ সংগ্রহকারী'-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:

"যে ব্যক্তি সনদ ছাড়া হাদীস অন্বেষণ করে, তার উদাহরণ হলো রাতের কাষ্ঠ সংগ্রহকারীর মতো।" এটি 'শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়া' (৫/৪৫৩)-তে এসেছে।

আর রাতের কাষ্ঠ সংগ্রহকারী নিজের কাজের ব্যাপারে কোনো সুনিশ্চিত জ্ঞান রাখে না; বরং সে সঠিক পথ ছাড়াই চলতে থাকে এবং জানে না সে কী সংগ্রহ করছে। এই বিষয়টি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের বর্ণনাকারীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল, যাদের মাঝে বর্ণনা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আমানতদারিতার অভাব ছিল এবং তারা সনদ ছাড়াই ঘটনাবলি বর্ণনা করত। যদি এই বিষয়টি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে, তবে এটি আমাদের উম্মতের ইতিহাসের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ আমাদের উম্মতকে এক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা হস্তান্তরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত ঘটনার সময়কাল এবং যারা ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছেন তাদের পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

খুলাসাতুত তিবি (পৃষ্ঠা ৫৫)-তে এসেছে: "সনদ হলো এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। এতে উচ্চ পর্যায়ের সনদ অনুসন্ধান করাও একটি সুন্নাত, আর এ কারণেই এই উদ্দেশ্যে সফরের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।"

আমরা যদি তাদের নবীদের থেকে বর্ণনা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামি উম্মতের ইতিহাসকে অন্যান্য জাতিসমূহ যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ইতিহাসের সাথে তুলনা করি, তবে একটি স্পষ্ট ও সুনিশ্চিত পার্থক্য দেখতে পাব। ইবনে হাজম আল-জাহিরি তাঁর 'আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল' (২/৮১-৮২) গ্রন্থে বলেন:

"একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে অপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্নভাবে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত বর্ণনার পরম্পরা পৌঁছানো—আল্লাহ কেবল মুসলিমদেরই এটি দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যা অন্য কোনো জাতি পায়নি। আর 'ইরসাল' ও 'ইদ্বল' সম্বলিত বর্ণনা অনেক ইহুদির মাঝে পাওয়া যায়, কিন্তু মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে তাদের নৈকট্য মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আমাদের নৈকট্যের সমতুল্য নয়। বরং তারা এমন এক অবস্থায় থেমে যায় যেখানে তাদের এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাঝে ত্রিশটিরও বেশি প্রজন্মের ব্যবধান থাকে এবং তারা কেবল শামউন বা এই জাতীয় ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।" এরপর তিনি বলেন: "আর সাহাবি ও তাবেয়িদের বাণীর ক্ষেত্রে তো ইহুদিরা কোনোভাবেই কোনো নবীর সঙ্গী বা কোনো অনুসারী (তাবেয়ি) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তেমনিভাবে খ্রিস্টানরাও শামউন ও পল-এর ওপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়।"

সুতরাং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদের উল্লেখ না করা অথবা ঘটনার সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া যাচাই না করা যদি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েও থাকে, তবে ইসলামি উম্মতের ক্ষেত্রে এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তি বা লেখক যদি সনদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়াই ঐতিহাসিক ঘটনাবলি গ্রহণ করে নেয়, তবে সে মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'যামনা' বা 'অসুস্থ' দলের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে তাহির উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৪)
جاء عن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي قال: "كان عبد الله بن طاهر إذا سألني عن حديث فذكرته له بلا إسناد، سألني عن إسناده وقال: رواية الحديث بلا إسناد من عمل الزمنى، فإن إسناد الحديث كرامة من الله تعالى لأمة محمد صلى الله عليه وسلم" شرح المواهب اللدنية للزرقاني "5/ 453".

والإسناد فرض من فروض الكفاية التي لا بد منها كما يقول الشيخ علي القاري في شرحه على شرح النخبة "194": "أصل الإسناد خصيصة فاضلة من خصائص هذه الأمة، وسنة بالغة من السنن المؤكدة، بل من فروض الكفاية وطلب العلو فيه أمر مطلوب وشأن مرغوب".

وقد اهتمت كتب ومصنفات الحديث عظيم الاهتمام بالأسانيد واتصالها وعدالة رجالها، وجاءت مادة السيرة من مضمون هذه الكتب والمصنفات الحديثية بنفس الطرق والأسانيد الموثقة التي جاءت بها الأحكام الشرعية في الفقه والعبادات والمعاملات وغيرها من محتوى كتب الحديث.

إن أهمية الإسناد في نقل الروايات التاريخية وخاصة السيرة النبوية عظيمة، لا ينكرها إلا غر جاهل، فلولاه لما تميز الصادق المستقيم عن الأفاك الأثيم، وإذا كان الإسناد مجموعة من الرجال، والرجال يعتريهم الخطأ والنسيان والغلط، وأحيانا تعمد الكذب والاختلاق والتزوير والافتراء، فإن علم الجرح والتعديل قد عرض لكل ما يخطر في البال من هذه الأمور التي تتعلق بأحوال الرواة، والتي يمكن أن تقدح في صحة الرواية أو الإسناد، وكما وضع علماء الجرح والتعديل شروطا لصحة وعدالة الرواة في أسانيدهم، فقد وضعوا شروطا يسبرون من خلالها صحة المتون وعدم شذوذها، فقد يصح الإسناد إلا أن المتن يكون ضعيفا، فلا تعتبر الرواية، فنشأ من كل هذه الأمور ومجموعها ما يسمى بنقد المتن.

إن الإسناد الصحيح وموازينه الدقيقة يعتبر من المرتكزات الأساسية لتصحيح الخبر والرواية التاريخية، وليس هناك خبر جاء بإسناد صحيح غير معلول، لا يقبله أو يرفضه الواقع، اللهم إلا عقول أولئك الذين أغلقوها ووضعوا مفاتيحها في صناديق يملكها آخرون.
ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে তাহের যখন আমাকে কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং আমি সনদ (সূত্র) ছাড়াই তা তার কাছে উল্লেখ করতাম, তখন তিনি আমাকে এর সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং বলতেন: সনদ ছাড়া হাদিস বর্ণনা করা পঙ্গু বা অক্ষম ব্যক্তিদের কাজ। কেননা হাদিসের সনদ প্রদান করা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য একটি বিশেষ সম্মান।" যারকানির শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়া "৫/ ৪৫৩"।

আর সনদ রক্ষা করা ফরজে কিফায়া সমূহের অন্যতম যা অপরিহার্য, যেমনটি শায়খ আলী আল-কারী শারহুন নুখবাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১৯৪) বলেছেন: "সনদের মূল ভিত্তি এই উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য, এবং একটি সুদৃঢ় সুন্নতে মুয়াক্কাদা, বরং এটি ফরজে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত। আর এতে উচ্চমানের সনদ অন্বেষণ করা একটি কাম্য ও বাঞ্ছনীয় বিষয়।"

হাদিসের কিতাব ও সংকলনসমূহ সনদ, সনদের ধারাবাহিকতা এবং বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। সিরাত বা জীবনীর উপাদানসমূহ এই হাদিস গ্রন্থ ও সংকলনগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে একই নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি ও সনদে বর্ণিত হয়েছে, যেভাবে ফিকহ, ইবাদত, লেনদেন এবং হাদিস গ্রন্থের অন্যান্য বিষয়বস্তুর শরয়ী বিধানসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং বিশেষ করে সিরাতে নববী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সনদের গুরুত্ব অপরিসীম, যা কেবল কোনো নির্বোধ অজ্ঞ ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে। এটি না থাকলে সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদী থেকে আলাদা করা যেত না। আর যেহেতু সনদ একদল মানুষের সমষ্টি, এবং মানুষের ভুল, বিস্মৃতি ও ত্রুটি হতে পারে, এমনকি কখনও কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলা, জালিয়াতি ও অপবাদের সম্ভাবনা থাকে, তাই 'ইলমুল জারহ ওয়াত তাদিল' (বর্ণনাকারী যাচাই বিদ্যা) বর্ণনাকারীদের অবস্থা সংক্রান্ত এমন প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে যা মনে আসতে পারে এবং যা বর্ণনার বা সনদের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। জারহ ও তাদিলের ইমামগণ যেমন তাদের সনদে বর্ণনাকারীদের বিশুদ্ধতা ও ন্যায়পরায়ণতার শর্ত নির্ধারণ করেছেন, তেমনি তারা এমন শর্তও নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে তারা মূল পাঠ বা মতনের বিশুদ্ধতা এবং তার অসংগতিহীনতা যাচাই করেন। কারণ কখনও সনদ সহিহ হতে পারে কিন্তু মতনটি দুর্বল হতে পারে, ফলে বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য হয় না। এই সবকিছুর সমন্বয় থেকেই 'নকদুল মতন' বা পাঠ সমালোচনা নামক শাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে।

সহিহ সনদ এবং এর সূক্ষ্ম মানদণ্ডসমূহ সংবাদ ও ঐতিহাসিক বর্ণনা বিশুদ্ধ করার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এমন কোনো সংবাদ নেই যা ত্রুটিমুক্ত সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে অথচ বাস্তবতা তা গ্রহণ করে না বা প্রত্যাখ্যান করে—কেবল তাদের বুদ্ধি ভিন্ন কথা, যারা তা বন্ধ করে রেখেছে এবং এর চাবিকাঠি অন্যদের মালিকানাধীন সিন্দুকে সোপর্দ করেছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أهمية كتب المغازي والسير:

ومع كل الاهتمام بمصادر الحديث ومصنفاته وما تحتويه من ثروة عظيمة من أحاديث السيرة فإنه لا ينبغي التقليل من دور كتب المغازي والسير، فإنها تلي القرآن الكريم والحديث الشريف، مما يعطيها قيمة علمية كبيرة، إن أوائل مصنفات السيرة قد كتب في عصر مبكر، الصحابة لا زال الكثير منهم على قيد الحياة، والصحابة على علم دقيق وواسع بالسيرة النبوية، لأنهم عاشوا أحداثها وشاركوا فيها، هذا التبكير في الكتابة قلل -إلى حد كبير- من احتمال تعرضها للتحريف أو المبالغة والتهويل أو الضياع.

فسيرة موسى بن عقبة الذي توفي في عام "140" هـ وهو محدث ثقة من تلاميذ الزهري أثنى الإمام مالك رحمه الله تعالى على كتابة السيرة النبوية واعتبره أصح كتاب في المغازي يقول رحمه الله "عليكم بمغازي الرجل الصالح موسى بن عقبة فإنها أصح المغازي"، "سير أعلام النبلاء: 6/ 115" ويقول أيضًا: "عليكم بمغازي موسى، فإنه رجل ثقة طلبها على كبر السنن، ليقيد من شهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يكثر كما أكثر غيره".

ويقول الذهبي رحمه الله في سير أعلام النبلاء" 6/ 116": "وأما مغازي موسى بن عقبة، فهي في مجلد ليس بالكبير، سمعناها وغالبها صحيح، ومرسل جيد، لكنها مختصرة تحتاج إلى زيادة وتتمة".

وقال يحيى بن معين: "كتاب موسى بن عقبة عن الزهري أصح هذه الكتب" يعني في المغازي، انظر سير أعلام النبلاء "6/ 117".

إضافة إلى أهميتها التي ذكرنا، يضاف إليها ميزة أخرى، وهي أنها أوردت الكثير من الأحداث والروايات يتقدمها الأسانيد، ومعظم رواة السيرة هم من الرواة والمحدثين الذين نجد تراجم لهم في كتب الرجال، وأوضحت هذه الكتب أحوالهم، وبينت ما قيل فيهم من جرح وتعديل مما يسهل على الباحث معرفة قوة الرواية أو الحدث التاريخي أو ضعف هذا الحدث، ولذلك جاء اعتمادي على هذه الكتب في الدرجة الثانية، حين لا أجد الحدث التاريخي في كتب الحديث ومصنفاته.
মাগাযী এবং সীরাত গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব:

হাদীসের উৎস ও সংকলনসমূহের প্রতি সর্বাত্মক গুরুত্বারোপ এবং সীরাত বিষয়ক হাদীসসমূহের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার সেখানে থাকা সত্ত্বেও মাগাযী ও সীরাত গ্রন্থসমূহের ভূমিকাকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। কেননা, এগুলোর অবস্থান পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফের পরেই, যা এগুলোকে এক সুমহান ইলমী মর্যাদা প্রদান করে। সীরাতের প্রাথমিক গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত শুরুর যুগে রচিত হয়েছে, যখন অনেক সাহাবী তখনও জীবিত ছিলেন। আর সাহাবায়ে কেরাম সীরাতুন নবী সম্পর্কে সূক্ষ্ম ও ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, কারণ তাঁরা সীরাতের ঘটনাবলীতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং অংশগ্রহণ করেছিলেন। রচনার এই দ্রুততা অনেকাংশেই বিকৃতি, অতিরঞ্জন, অতিশয়োক্তি কিংবা তথ্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।

যেমন মুসা ইবনে উকবা (মৃত্যু ১৪০ হি.)-এর সীরাত গ্রন্থ। তিনি যুহরী (রহ.)-এর একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছাত্র ও মুহাদ্দিস ছিলেন। ইমাম মালিক (রহ.) সীরাতুন নবীর এই লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং একে মাগাযী বিষয়ক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেন: "তোমরা এই পুণ্যবান ব্যক্তি মুসা ইবনে উকবার মাগাযী অনুসরণ করো, কারণ এটি মাগাযী বিষয়ক সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ।" (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ৬/১১৫)। তিনি আরও বলেন: "তোমরা মুসার মাগাযী অনুসরণ করো, কেননা তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে এ ইলম অন্বেষণ করেছেন যাতে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন তাদের বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে পারেন; তিনি অন্যদের মতো অতিরঞ্জন করেননি।"

হাফেজ যাহাবী (রহ.) সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (৬/১১৬) গ্রন্থে বলেন: "আর মুসা ইবনে উকবার মাগাযীর কথা যদি বলি, তবে তা খুব বড় নয় বরং এক খণ্ডের একটি গ্রন্থ। আমরা এটি শ্রবণ করেছি; এর অধিকাংশ বর্ণনা সহীহ এবং মুরসালগুলোও উন্নত মানের। তবে এটি সংক্ষিপ্ত, যাতে আরও সংযোজন ও পূর্ণতা প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে।"

ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন বলেন: "যুহরীর সূত্রে বর্ণিত মুসা ইবনে উকবার কিতাবটি এই শ্রেণীর গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ।" অর্থাৎ মাগাযী বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে। দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (৬/১১৭)।

উল্লিখিত গুরুত্বের পাশাপাশি এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এতে অনেক ঘটনা ও বর্ণনা সনদের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। সীরাতের অধিকাংশ বর্ণনাকারীই হলেন সেই সকল রাবী ও মুহাদ্দিস, যাদের জীবনী আমরা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে পাই। এই গ্রন্থসমূহ তাদের অবস্থা স্পষ্ট করেছে এবং তাদের সম্পর্কে 'জারহ ও তা'দীল' (সমালোচনা ও প্রশংসা) বিষয়ক বক্তব্য তুলে ধরেছে, যা একজন গবেষকের পক্ষে বর্ণনার সক্ষমতা কিংবা ঐতিহাসিক ঘটনার সবলতা-দুর্বলতা নিরূপণ সহজ করে দেয়। এ কারণেই যখন আমি হাদীস গ্রন্থ ও সংকলনগুলোতে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা খুঁজে পাইনি, তখন এই গ্রন্থগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের উৎস হিসেবে নির্ভর করেছি।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌منهجي في جمع وتصنيف هذه الدراسة:

وضعت لنفسي خطة في أثناء جمعي لهذه الدراسة ألخصها في النقاط التالية:

1 - ترتيب الأحداث التاريخية للسيرة النبوية: اعتمدت في ترتيب الأحداث التاريخية للسيرة النبوية على ترتيب إمام المغازي ابن إسحاق لها في مغازيه، كما أورد ذلك ابن هشام في اختصاره لها كمصدر رئيسي، إلا إنني قد أخالف ابن إسحاق في ترتيب الأحداث التاريخية حين يثبت لي ما يخالف هذا الترتيب في مصنفات الحديث، ولتوضيح هذا الأمر أضرب مثلًا على ذلك:

غزوة ذات الرقاع جاء في سيرة ابن إسحاق وجماعة من أهل المغازي أنها كانت في جمادى الأولى بعد غزوة بني النضير بشهرين، وذلك في السنة الرابعة للهجرة كما جاء في سيرة ابن هشام "3/ 151"، إلا أنني رجحت ما جاء في صحيح البخاري أن غزوة ذات الرقاع كانت بعد غزوة خيبر كما في فتح الباري 7/ 416 كتاب المغازي، باب غزوة ذات الرقاع، وأيده في ذلك ابن كثير في سيرته "3/ 161"، وابن حجر كما في الفتح "7/ 418"، وابن القيم في زاد المعاد "3/ 253".

2 - رتبت الأحداث التاريخية تحت عناوين جانبية تسهل على القارئ الوصول إلى ما يريد بسرعة وسهولة.

3 - اعتمدت في نقل نص الحدث التاريخي لفظ الحديث الأكثر فائدة والأجمع للمعاني الغزيرة من خلال انتقاء هذا اللفظ من روايات الحديث الكثيرة، فبعض هذه الروايات قد يكون مختصرًا، وبعضها مطولا حسب مراد المصنف الذي أورد ذلك اللفظ.

وكنت إذا وجدت هذا اللفظ في صحيح البخاري لم أتعداه إلى غيره من المصنفات، وإلا فمسلم وأصحاب السنن.

4 - خرَّجت كل الأحاديث التي ذكرتها في هذه الدراسة، وهي تزيد على التسعمائة حديث، فما كان في الصحيحين أكتفي بتخريج الحديث منهما، وقد أزيد في التخريج إذا وجدت سعة من الوقت، فأخرج الحديث من غيرهما من المصادر.
এই গবেষণা সংগ্রহ ও বিন্যাসে আমার কর্মপদ্ধতি:

এই গবেষণার উপাদান সংগ্রহের সময় আমি নিজের জন্য একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছি, যা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

১ - সীরাত-এ-নববীর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বিন্যাস: সীরাত-এ-নববীর ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি মাগাজি শাস্ত্রের ইমাম ইবনে ইসহাকের 'আল-মাগাজি'-তে বর্ণিত বিন্যাসের ওপর নির্ভর করেছি, যা ইবনে হিশাম তার সংক্ষেপিত গ্রন্থে প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে যখন হাদীসগ্রন্থগুলোতে এই বিন্যাসের বিপরীত কোনো কিছু প্রমাণিত হয়েছে, তখন আমি ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বিন্যাসে ইবনে ইসহাকের বিরোধিতা করেছি। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি:

'জাতুর রিকা' যুদ্ধ সম্পর্কে ইবনে ইসহাক এবং একদল মাগাজি বিশেষজ্ঞের সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে, এটি চতুর্থ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে বনু নাযীর যুদ্ধের দুই মাস পর সংঘটিত হয়েছিল, যেমনটি ইবনে হিশামের সীরাত গ্রন্থে "৩/ ১৫১" উল্লেখ আছে। তবে আমি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছি যে, জাতুর রিকা যুদ্ধ খয়বর যুদ্ধের পর হয়েছিল; যেমনটি ফাতহুল বারী ৭/ ৪১৬, মাগাজি অধ্যায়, জাতুর রিকা যুদ্ধ পরিচ্ছেদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে কাসীর তার সীরাত গ্রন্থে "৩/ ১৬১", ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে "৭/ ৪১৮" এবং ইবনে কায়্যিম জাদুল মা'আদ গ্রন্থে "৩/ ২৫৩" একে সমর্থন করেছেন।

২ - আমি ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে এমন সব পার্শ্ব-শিরোনামের অধীনে বিন্যস্ত করেছি, যা পাঠকের জন্য তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি দ্রুত ও সহজে খুঁজে পেতে সহায়ক হবে।

৩ - ঐতিহাসিক ঘটনার মূল পাঠ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি অসংখ্য হাদীসের বর্ণনার মধ্য থেকে এমন একটি শব্দ বা পাঠ নির্বাচন করেছি যা অধিক উপকারী এবং ব্যাপক অর্থবোধক। কারণ, গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এসব বর্ণনার কোনোটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে আবার কোনোটি বিস্তারিত হতে পারে।

আমি যখন কোনো পাঠ সহীহ বুখারীতে পেয়েছি, তখন তা বাদ দিয়ে অন্য কোনো গ্রন্থের দিকে যাইনি; অন্যথায় সহীহ মুসলিম ও সুনান গ্রন্থকারদের অনুসরণ করেছি।

৪ - এই গবেষণায় আমি যে সকল হাদীস উল্লেখ করেছি, তার সবগুলোরই উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি, যার সংখ্যা নয় শতাধিক হাদীস। যা কিছু সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রয়েছে, আমি শুধুমাত্র সেই দুটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেই ক্ষান্ত হয়েছি। তবে সময়ের পর্যাপ্ততা থাকলে আমি অন্যান্য উৎস থেকেও হাদীসটির উৎস নির্দেশ করে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৭)
5 - ما لم يكن من هذه الروايات في الصحيحين فإني أخرجه من المصنفات الحديثية الأخرى، وأحكم عليه صحة أو ضعفا بناء على قواعد المحدثين، هذا إن لم أجد حكما على هذا الحديث لأحد من الأئمة السابقين، فإذا وجدت ذلك الحكم فإنني أكتفي به، ولا اتعداه مخالفا له إلا إذا تبين لي غير ذلك الحكم.

6 - إذا لم أجد الحدث التاريخي في مصادر السنة، فإني أبحث عنه في كتب المغازي والسير وأبين صحته بناء على قواعد المحدثين.

7 - في بعض الأحداث التاريخية التي لا يثبت بها حكم شرعي والتي لم أجد فيها إلا مرسل تابعي كنت أثبت ذلك النص المرسل، وأحكم عليه صحة وضعفا إلى التابعي.

8 - كنت أذكر الفوائد المستنبطة من بعض الأحاديث كما ذكرها العلماء في شروحاتهم على المصنفات الحديثية.

9 - كنت أشرح الغريب من الألفاظ الصعبة مما يسهل فهمها على القارئ في غالب الأحيان.
5 - এই বর্ণনাসমূহ যা সহীহায়নের (বুখারী ও মুসলিম) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা আমি অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং মুহাদ্দিসগণের মূলনীতির আলোকে আমি এর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার বিষয়ে রায় প্রদান করেছি; এটি তখনই করেছি যখন আমি এই হাদীসের ওপর পূর্ববর্তী ইমামগণের কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে আমি যদি পূর্ববর্তী কোনো ইমামের সিদ্ধান্ত পেয়ে থাকি, তবে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি এবং তার বিপরীত কোনো অবস্থান গ্রহণ করিনি, যদি না আমার নিকট ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত সুস্পষ্ট হয়।

6 - আমি যদি সুন্নাহর উৎসসমূহে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না পেয়ে থাকি, তবে আমি মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) ও সীরাত (জীবনী) গ্রন্থসমূহে তা অনুসন্ধান করেছি এবং মুহাদ্দিসগণের মূলনীতির ভিত্তিতে তার বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করেছি।

7 - এমন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে যেগুলোর দ্বারা কোনো শরয়ী বিধান প্রমাণিত হয় না এবং যেখানে আমি কেবল তাবিঈর মুরসাল বর্ণনা পেয়েছি, সেখানে আমি উক্ত মুরসাল পাঠটি উল্লেখ করেছি এবং তাবিঈ পর্যন্ত তার বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার বিষয়ে রায় প্রদান করেছি।

8 - আমি হাদীস গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থে আলেমদের উল্লিখিত আলোচনার আলোকে কতিপয় হাদীস থেকে চয়নকৃত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ (ফাওয়ায়েদ) বর্ণনা করেছি।

9 - আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কঠিন ও দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি যা পাঠকের জন্য অর্থ অনুধাবন করা সহজ করবে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌شكر وتقدير

جاء من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت أبا القاسم يقول: (لا يشكُرُ الله من لا يشكُرُ الناسَ)(1).

ولذلك أنبه على أن نواة هذه الدراسة كانت فكرة من أفكار أستاذي وشيخي الدكتور همام عبد الرحيم سعيد حفظه الله ونفع بعلمه، فقمت بتنفيذها، وأعلمت أستاذي بعزمي على القيام بهذا العمل، فشجعني على الاستمرار، وما بخل علي بنصحه وتوجيهاته ومكتبته العامرة بالمصادر، فجزاه الله عني خير الجزاء.

ولكل من أعانني بكلمة تشجيع أو نصيحة علمية الشكر والتقدير، سائلًا المولى عز وجل أن يجزيهم عني أحسن الجزاء.

وبعد، فإنني أقدم هذ الدراسة جهدا متواضعا في خدمة السنة النبوية العطرة، وسيرة النبي محمد صلى الله عليه وسلم، مع علمي بقلة بضاعتي، ووعورة الطريق، وكثرة الصعاب، إلا أن الله أعانني ووفقني لإتمام هذه الدراسة بفضله وتوفيقه، مع رجائي لكل من قرأ وكان عنده ملاحظة أو نصيحة أو فائده علميه فاتتني أن يرسلها لي، وله مني كل الشكر، وأن لا يبخل عليّ بإرسالها.

وختامًا أسأل الله أن يجعل هذه الدراسة في ميزان أعمالي يوم القيامة يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

والحمد لله رب العالمن.

إبراهيم محمد العلي

عمان- الأردن

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الأدب المفرد رقم: (218) وأبو داود في الأدب، باب في شكر المعروف رقم: (4811)، والترمذي في البر والصلة، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك رقم: (1955)، والطيالسي رقم: (2491)، وأحمد (2/ 258، 303، 388، 461، 492)، البيهقي في السنن (6/ 182) والحديث صحيح.
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও স্বীকৃতি

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।"(১)

এই কারণে আমি উল্লেখ করছি যে, এই গবেষণার মূল ভাবনাটি ছিল আমার উস্তাদ ও শায়খ ডক্টর হাম্মাম আব্দুর রাহীম সাঈদ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন)-এর একটি চিন্তা। আমি এটি বাস্তবায়ন করেছি এবং আমার উস্তাদকে এই কাজ শুরু করার সংকল্পের কথা জানিয়েছি; তিনি আমাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি আমাকে তাঁর নসীহত, দিকনির্দেশনা এবং উৎসগ্রন্থে সমৃদ্ধ তাঁর লাইব্রেরি দিয়ে সহযোগিতা করতে কার্পণ্য করেননি। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর যাঁরা আমাকে একটি উৎসাহমূলক বাক্য অথবা ইলমী নসীহত দিয়ে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আমি মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

অতঃপর, আমি এই গবেষণাপত্রটি সুগন্ধিময় সুন্নাহ ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের খিদমতে একটি বিনীত প্রচেষ্টা হিসেবে পেশ করছি। যদিও আমি আমার ইলমী পুঁজির স্বল্পতা, পথের বন্ধুরতা এবং বহুবিধ কষ্টের কথা অবগত আছি, তবুও আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে তিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার সামর্থ্য দান করেছেন। আমার বিনীত আরয এই যে, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবেন এবং যদি কোনো পর্যবেক্ষণ, নসীহত বা ইলমী ফায়দা লক্ষ্য করেন যা আমার অগোচরে রয়ে গেছে, তিনি যেন তা আমাকে পাঠিয়ে দেন। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকব। আর তিনি যেন এটি আমাকে পাঠাতে কার্পণ্য না করেন।

সবশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই গবেষণাকে কিয়ামতের দিন আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন; যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, একমাত্র সে ব্যক্তি ব্যতিত যে আল্লাহর নিকট প্রশান্ত অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ইবরাহীম মুহাম্মদ আল-আলী

আম্মান- জর্ডান

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারী ‘আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে (নং: ২১৮), আবু দাউদ ‘আদাব’ অধ্যায়ের ‘উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার’ পরিচ্ছেদে (নং: ৪৮১১), তিরমিযী ‘বির ও সিলাহ’ অধ্যায়ের ‘উপকারকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা’ পরিচ্ছেদে (নং: ১৯৫৫), তায়ালিসী (নং: ২৪৯১), আহমাদ (২/ ২৫৮, ৩০৩, ৩৮৮, ৪৬১, ৪৯২), বায়হাকী ‘সুনান’ গ্রন্থে (৬/ ১৮২) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الأول أحداث ما قبل البعثة

‌‌الفصل الأول نسب الرسول صلى الله عليه وسلم ومكانته في قومه

قال الإمام البخاري رحمه الله: "هو أبو القاسم، محمد بن عبد الله، بن عبد المطلب، بن هاشم، بن عبد مناف، بن قصي، بن كلاب، بن مرة، بن كعب، بن لؤي، بن غالب، بن فهر، بن مالك بن النضر، بن كنانة، بن خزيمة، بن مدركة، بن إلياس، بن مضر، بن نزار، بن معد، بن عدنان"(1).

وقال البغوي في شرح السنة بعد ذكر النسب إلى عدنان: "ولا يصح النسب فوق عدنان"(2).

وقال ابن القيم: بعد ذكر النسب إلى عدنان أيضًا: "إلى هاهنا معلوم الصحة، متفق عليه بين النسابين، ولا خلاف ألبتة، وما فوق عدنان مختلف فيه، ولا خلاف بينهم أنَّ عدنان من ولد إسماعيل عليه السلام "(3).

وقد جاء عن ابن سعد في طبقاته: "الأمر عندنا الإمساك عما وراء عدنان إلى إِسماعيل"(4).

وعن عروة بن الزبير أنه قال: "ما وجدنا من يعرف ما وراء عدنان ولا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في كتاب مناقب الأنصار: باب مبعث النبي صلى الله عليه وسلم فتح الباري: 7/ 162، قبل رقم: 3851، شرح السنة: 13/ 193، الذهبي: السيرة النبوية: ص 1.

(2) شرح السنة: 13/ 193.

(3) زاد المعاد: 1/ 71.

(4) ابن سعد: 1/ 58.
প্রথম অধ্যায়: নবুওয়াত-পূর্ব ঘটনাবলি

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় এবং তাঁর কওমের মধ্যে তাঁর মর্যাদা

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি হলেন আবুল কাসিম, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, ইবনে আবদুল মুত্তালিব, ইবনে হাশিম, ইবনে আবদে মানাফ, ইবনে কুসাই, ইবনে কিলাব, ইবনে মুররাহ, ইবনে কাব, ইবনে লুওয়াই, ইবনে গালিব, ইবনে ফিহর, ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর, ইবনে কিনানাহ, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে মুদরিকাহ, ইবনে ইলিয়াস, ইবনে মুদার, ইবনে নিযার, ইবনে মা'আদ, ইবনে আদনান"(১)।

আল-বাগাবী 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে আদনান পর্যন্ত বংশপরম্পরা উল্লেখ করার পর বলেন: "আদনানের ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়"(২)।

ইবনুল কাইয়্যিম আদনান পর্যন্ত বংশপরম্পরা উল্লেখ করার পর আরও বলেন: "এই পর্যন্ত বংশপরম্পরা বিশুদ্ধ হওয়া সুনিশ্চিত এবং বংশবিদদের নিকট এটি সর্বসম্মত। এতে বিন্দুমাত্র কোনো মতপার্থক্য নেই। আদনানের ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতবিরোধ নেই যে, আদনান ছিলেন ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর"(৩)।

ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "আমাদের নিকট সিদ্ধান্ত হলো, আদনান থেকে ইসমাইল পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন বংশপরম্পরার বর্ণনা থেকে বিরত থাকা"(৪)।

উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমরা এমন কাউকে পাইনি যে আদনানের ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরা জানে, আর না..."

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি 'কিতাব মানাকিবুল আনসার' এর 'বাব মাব'আসিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন; ফাতহুল বারী: ৭/১৬২, ৩৮৫১ নং হাদীসের পূর্বে; শারহুস সুন্নাহ: ১৩/১৯৩; আয-যাহাবী: আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: পৃষ্ঠা ১।

(২) শারহুস সুন্নাহ: ১৩/১৯৩।

(৩) যাদুল মা'আদ: ১/৭১।

(৪) ইবনে সাদ: ১/৫৮।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২০)
قحطان إلا تخرصًا"(1).

قال الذهبي رحمه الله في كتابه السيرة النبوية: "وعدنان من ولد إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام بإجماع الناس، لكن اختلفوا فيما بين عدنان وإِسماعيل من الآباء"(2).

أما عن نسبه عليه السلام في قومه فقد كان في خيرهم قبيلة، وكان أشرَفهم أرومة كما جاء في الصحيح من حديثه عليه الصلاة والسلام:

 

1 - فعن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

(إن الله عز وجل اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل، واصطفى من بني إسماعيل كنانة، واصطفى من بني كنانة قريشًا، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم)(3).

 

2 - ومن حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (بعثتُ من خير قرون بني آدم قرنًا فقرنًا، حتى بعثت من القرن الذي كنت فيه)(4).

 

3 - ومن حديث عبد المطلب بن ربيعة بن الحارث بن عبد المطلب قال: أتى أناس من الأنصار إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: إنا لنسمع من قومك حتى يقول القائل منهم إنما مثل محمَّد مثل نخلة نبتت في كباء(5)، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أيها الناس من أنا؟ قالوا أنت رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: أنا محمَّد بن عبد الله بن عبد المطلب -قال فما سمعناه، قط ينتمي قبلها- إلا إن الله عز وجل خلق خلقه، فجعلني من خير خلقه، ثم فرقهم فرقتين، فجعلني من خير الفرقتين، ثم جعلهم قبائل، فجعلني من خيرهم قبيلة، ثم جعلهم بيوتًا، فجعلني من خيرهم بيتًا، وأنا

--------------------------------------------

(1) ابن سعد: 1/ 58.

(2) الذهبي في السيرة النبوية: ص1.

(3) أخرجه مسلم في صحيحه، كتاب الفضائل: باب فضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم، رقم: 2776، شرح السنة: 3613، والترمذي في سننه، أبواب المناقب: باب ما جاء في فضل النبي صلى الله عليه وسلم رقم: 3606 وقال حسن صحيح، انظر الفتح الرباني: 20/ 179، وانظر أحمد في المسند: 4/ 107، والخطيب في تاريخ بغداد: 13/ 64.

(4) أخرجه البخاري في المناقب، باب صفة النبي صلى الله عليه وسلم رقم: (3557)، وأحمد في المسند: 5/ 373، 417 وابن سعد: 1/ 25.

(5) الكباء: الكناسة.
কাহতান সম্পর্কে যা বলা হয় তা অনুমান ছাড়া আর কিছু নয়"(১)।

ইমাম আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: "সকল মানুষের ঐকমত্য অনুসারে আদনান হলেন ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর বংশধর। তবে আদনান ও ইসমাইলের মধ্যবর্তী পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন"(২)।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কওমের মধ্যে তাঁর বংশপরিচয়ের ব্যাপারে বলা যায়, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রের এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বংশীয় মূলের, যেমনটি তাঁর সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে:

 

১ - ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ইব্রাহিমের বংশধরদের থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, বনু ইসমাইল থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন)(৩)।

 

২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমি আদম সন্তানদের সর্বোত্তম যুগগুলোর একটির পর একটির মধ্য দিয়ে প্রেরিত হয়েছি, শেষ পর্যন্ত আমি সেই যুগে প্রেরিত হয়েছি যে যুগে আমি বর্তমানে রয়েছি)(৪)।

 

৩ - আব্দুল মুত্তালিব বিন রাবিয়াহ বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনসারদের কিছু লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমরা আপনার কওমের পক্ষ থেকে কিছু কথা শুনি, এমনকি তাদের কেউ কেউ বলে যে, মুহাম্মাদের উদাহরণ তো আবর্জনার স্তূপে জন্মানো একটি খেজুর গাছের মতো(৫), তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (হে লোকসকল, আমি কে? তারা বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি বললেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব - বর্ণনাকারী বলেন, এর আগে আমরা তাঁকে কখনও নিজের বংশপরিচয় দিতে শুনিনি - জেনে রেখো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম সৃষ্টিতে পরিণত করেছেন। তারপর তিনি তাদের দুটি দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম দলে রেখেছেন। এরপর তিনি তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। তারপর তিনি তাদের বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম পরিবারে রেখেছেন। আর আমি

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদ: ১/ ৫৮।

(২) আয-যাহাবী, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ: পৃষ্ঠা ১।

(৩) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ফাদায়িল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরিচয়ের মর্যাদা অধ্যায়, নম্বর: ২৭৭৬; শারহুস সুন্নাহ: ৩৬১৩; তিরমিযী তাঁর সুনানে, আবওয়াবুল মানাকিবে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা অধ্যায়, নম্বর: ৩৬০৬ এবং তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন। দেখুন ফাতহুর রাব্বানী: ২০/ ১৭৯, এবং আহমদ মুসনাদে: ৪/ ১০৭ এবং খতিব তারিখু বাগদাদে: ১৩/ ৬৪।

(৪) বুখারী এটি মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য পরিচ্ছেদ, নম্বর: (৩৫৫৭); এবং আহমদ মুসনাদে: ৫/ ৩৭৩, ৪১৭ এবং ইবনে সাদ: ১/ ২৫।

(৫) আল-কিবা: আবর্জনার স্তূপ।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২১)
خيركم بيتًا، وخيركم نفسًا)(1).

 

4 - ومن حديث الأشعث بن قيس رضي الله عنه قال: (أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في وفد، ولا يروني إلا أفضلهم، فقلت: يا رسول الله! ألستم منا؟ فقال: (نحن بنو النضر بن كنانة، لا نقفو أمنا، ولا ننتفي من أبينا) فكان الأشعث يقول: "لا أوتى برجل نفى قريشًا من النضر بن كنانة إلا جلدته الحد"(2).

 

5 - ومن حديث أبي سفيان رضي الله عنه حين سأله هرقل وقال له: "كيف نسبه فيكم، قلت: هو فينا ذو نسب".

وقول هرقل: "وسألتك عن نسبه، فذكرت أنه فيكم ذو نسب، فكذلك الرسل تبعث في نسب قومها"(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في أبواب المناقب: باب ما جاء في فضل النبي رقم 3607 - 3608، وأحمد في المسند: 4/ 166، من طريق عبد الله بن الحارث بن نوفل به، وقال الهيثمي في المجمع: 8/ 215 - 216: "رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح". والحديث صحيح.

(2) أخرجه ابن ماجه في الحدود: باب من نفى رجلًا من قبيلة: 2612، وأحمد في المسند: 5/ 211، 212 من طريق حماد بن سلمة، عن عقيل بن طلحة السلمي، عن مسلم بن هيضم، عن الأشعث بن قيس به، وقال البوصيري في الزوائد: إسناد صحيح، رجاله ثقات، لأن عقيل بن طلحة وثقه ابن معين والنسائي، وذكره ابن حبان في الثقات، وباقي رجال السند على شرط مسلم. قلت: وفي السند قوله: (لا يرون أني أفضلهم) من غير إلا وفيه تصحيف، والعبارة الصحيحة ما أثبتناه.

لا نقفو أمنا: أي لا نتهمها، ولا نقذفها

(3) أخرجه البخاري في كتاب بدء الوحي، حديث رقم: (7)، وسيأتي تخريجه في رسائل الرسول إلى الملوك والقياصرة.
(বংশমর্যাদায় তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তিগতভাবেও তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ)(১)।

 

৪ - আশআছ ইবনে কায়েস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: (আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তারা আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করত। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা কি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নন? তিনি বললেন: (আমরা নযর ইবনে কিনানার সন্তান; আমরা আমাদের মায়ের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেই না এবং আমাদের পিতার বংশ অস্বীকার করি না)। তাই আশআছ বলতেন: "যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয় যে কুরাইশদেরকে নযর ইবনে কিনানার বংশধারা থেকে পৃথক করে, তবে আমি তাকে নির্ধারিত দণ্ড (হদ্দ) হিসেবে বেত্রাঘাত করব")(২)।

 

৫ - আবু সুফিয়ান (রাদিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে, যখন হিরাক্লিয়াস তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন? আমি বললাম: তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়।"

আর হিরাক্লিয়াসের উক্তি: "আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, আর তুমি উল্লেখ করেছ যে তিনি তোমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়; আর রাসুলগণ এভাবেই তাঁদের জাতির উচ্চ বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন"(৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযী মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: নবী (সা.)-এর মর্যাদা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬০৭ - ৩৬০৮; এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে: ৪/ ১৬৬, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে নাওফালের সূত্রে। হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ (৮/ ২১৫ - ২১৬) বলেছেন: "এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী।" হাদিসটি সহিহ।

(২) এটি ইবনে মাজাহ হুদুদ (দণ্ডবিধি) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি কাউকে তার গোত্র থেকে অস্বীকার করে সেই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ: ২৬১২; এবং আহমাদ মুসনাদে: ৫/ ২১১, ২১২, হাম্মাদ ইবনে সালামার সূত্রে, তিনি আকিল ইবনে তালহা আস-সুলামি থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাইদাম থেকে, তিনি আশআছ ইবনে কায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন। বুসিরি 'আয-যাওয়ায়েদ'-এ বলেছেন: এর সনদ সহিহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; কারণ আকিল ইবনে তালহাকে ইবনে মায়ীন ও নাসায়ি নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আর সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী। আমি (লেখক) বলছি: মূল পাণ্ডুলিপির সনদে 'ইলা' শব্দ ব্যতীত একটি বাক্য ছিল যা ভুল পাঠ হতে পারে, সঠিক বাক্যটি আমরা এখানে স্থাপন করেছি।

'আমরা আমাদের মায়ের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেই না': অর্থাৎ আমরা তাঁদের অভিযুক্ত করি না বা তাঁদের ওপর অপবাদ দেই না।

(৩) এটি বুখারি ওহি শুরুর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: (৭)। বাদশাহ ও সম্রাটদের নিকট রাসূলের প্রেরিত পত্রাবলি অংশে এর বিস্তারিত সূত্র (তাখরিজ) সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الفصل الثاني البشارة بالرسول صلي الله عليه وسلم

‌‌المبحث الأول: صفته في التوراة وتبشير اليهود به

6 - عن عطاء بن يسار قال: لقيت عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، فقلت: "أخبرني عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة، فقال: أجل، والله إنه لموصوف في التوراة بصفته في القرآن: "يا أيها النبيّ إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا، وحرزًا للأميين، أنت عبدي ورسولي، سميتك المتوكل، ليس بِفظ، ولا غليظ، ولا سخاب في الأسواق، ولا يدفع بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويصفح، ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء بأن يقولوا: لا إله إلا الله، ويفتح به أعينًا عميًا، وآذانًا صمًّا، وقلوبًا غلفًا"(1).

 

7 - ومن حديث كعب الأحبار قال: "إني أجد في التوراة مكتوبًا: محمَّد رسول الله، لا فظ ولا غليظ، ولا سَخَّاب في الأسواق، ولا يجزي السيئة بالسيئة، ولكن يعفو ويصفح، أمته الحمادون، يحمدون الله في كل منزلة، ويكبِّرونه على كل نجد، يأتزرون إلى أنصافهم، ويوضئون أطرافهم، صفُّهم في الصلاة، وصفُّهم في القتال سواء، مناديهم ينادي في جو السماء، لهم في جوف الليل دوي كدوي النحل، مولده بمكة، ومهاجره بطابة، وملكه بالشام"(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب البيوع في الأسواق: 2125، وفي التفسير حديث: 4838، وأخرجه أيضًا في كتاب الأدب المفرد حديث: 246، 247، والبيهقي في دلائل النبوة: 1/ 374 - 375، من طريق هلال بن علي، عن عطاء بن يسار.

حرزًا للأميين: حافظًا لهم، والسخاب: رفع الصوت بالخصام. حتى يقيم به الملة العوجاء: ملة إبراهيم التي غيرتها العرب عن استقامتها.

(2) أخرجه الدارمي في المقدمة: 1/ 4 - 5 من طريق الأعمش عن أبي صالح قال: قال كعب: ورجاله ثقات، وجاء في دلائل النبوة للبيهقي: 1/ 377، عن أم الدرداء قالت: قلت لكعب الأحبار -وذكر شبيهًا بهذا البيهقي وقد جاء عند الدارمي: 1/ 6، من طريق معاوية بن صالح عن أبي فروة، عن ابن عباس، أنه سأل كعب الأحبار.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সুসংবাদ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তাওরাতে তাঁর গুণাবলি এবং ইহুদিদের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ

৬ - আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, "তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ, তাওরাতে তাঁর এমন গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে যা কুরআনে বর্ণিত তাঁর গুণাবলির অনুরূপ: 'হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে, আর উম্মিদের (নিরক্ষরদের) জন্য সুরক্ষাকারী হিসেবে। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী)। তিনি কঠোর স্বভাবের নন, রূঢ় হৃদয়ের নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের জবাবে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যু দান করবেন না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র ধর্মাদর্শকে এই স্বীকৃতির দ্বারা সোজা করেন যে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; এবং এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ খুলে দেবেন'।"(১).

 

৭ - কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "আমি তাওরাতে লিখিত পাই: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; তিনি কঠোর নন, রূঢ় নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অধিক প্রশংসাকারী, তারা প্রত্যেক অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং প্রতিটি উচ্চ স্থানে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা (তাকবীর পাঠ) করবে। তারা তাদের অর্ধ-পা পর্যন্ত লুঙ্গি পরিধান করবে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত (ওজু) করবে। সালাতে তাদের কাতার এবং যুদ্ধে তাদের কাতার হবে একই সমান। তাদের আহ্বানকারী (মুয়াযযিন) আকাশের দিগন্তে আহ্বান করবে। গভীর রাতে তাদের গুঞ্জন হবে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। তাঁর জন্মস্থান মক্কায়, তাঁর হিজরতস্থল তাবাহ (মদিনা) এবং তাঁর রাজত্ব হবে সিরিয়ায়।"(২).

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি 'ক্রয়-বিক্রয়' অধ্যায়ে (হাদিস: ২১২৫) এবং 'তাফসীর' অধ্যায়ে (হাদিস: ৪৮৩৮) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তিনি এটি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে (হাদিস: ২৪৬, ২৪৭) এবং বায়হাকি 'দালাইলুন নবুওয়াহ' গ্রন্থে (১/৩৭৪-৩৭৫) হিলাল বিন আলীর সূত্রে আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন।

'উম্মিদের জন্য সুরক্ষা' অর্থ: তাদের রক্ষাকারী। 'সাখাব' অর্থ: বিবাদের সময় উচ্চস্বরে চিৎকার করা। 'যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র ধর্মাদর্শকে সোজা করেন' অর্থ: ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর ধর্মাদর্শ যা আরবরা তার সঠিক পথ থেকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

(২) ইমাম দারেমি তাঁর 'মুকাদ্দিমা'য় (১/৪-৫) আমাশের সূত্রে আবু সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: কাব বলেছেন... এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। বায়হাকির 'দালাইলুন নবুওয়াহ' (১/৩৭৭) গ্রন্থে উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি কাব আল-আহবারকে বললাম—এবং বায়হাকি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। দারেমি ১/৬ পৃষ্ঠায় মুয়াবিয়া বিন সালেহ-এর সূত্রে আবু ফারওয়া থেকে ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি কাব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৩)
8 - ومن حديث سلمة بن سلامة بن وقش رضي الله عنه: وكان من أصحاب بدر قال: "كان لنا جار من يهود في بني عبد الأشهل قال: فخرج علينا يومًا من بيته قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم بيسير، فوقف على مجلس عبد الأشهل، قال سلمة: وأنا يومئذ أحدث من فيه سنًّا عليَّ بردة مضطجعًا فيها بفناء أهلي فذكر البعث والقيامة والحساب والميزان والجنة والنار، فقال ذلك لقوم أهل شرك أصحاب أوثان، لا يرون أن بعثًا كائن بعد الموت.

فقالوا له: ويحك يا فلان، ترى هذا كائنًا أنَّ الناس يبعثون بعد موتهم إلى دار فيها جنة ونار، ويجزون فيها بأعمالهم؟ قال: نعم، والذي يحلف به، وَلوَدَّ أن له بحظه من تلك النار أعظم تنور في الدنيا يحمونه، ثم يدخلونه إياه، فيطبق به عليه، وأن ينجو من تلك النار غدًا.

قالوا له: ويحك، وما آية ذلك؟ قال: نبي يبعث من نحو هذه البلاد، وأشار بيده نحو مكة واليمن.

قالوا: ومتى تراه؟ قال: فنظر إليَّ -وأنا من أحدثهم سنًّا- فقال: إن يستنفذ هذا الغلام عمره يدركه".

قال سلمة: "فوالله ما ذهب الليل والنهار، حتى بعث الله تعالى رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو حيٌّ بين أظهرنا، فآمنا به، وكفر به بغيًا وحسدًا، فقلنا: ويلك يا فلان، ألست بالذي قلت لنا فيه ما قلت؟ قال: بلى: وليس به"(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن هشام في السيرة: 1/ 212 من طريق ابن إسحاق، قال: حدثني صالح بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عرف، عن محمود بن لبيد، عن سلمة به، فصرح ابن إسحاق بالتحديث فانتفت شبهة التدليس".

ومن طريق ابن إسحاق أخرجه أحمد في المسند: 3/ 467، والطبراني في الكبير حديث: 6327، والبخاري في التاريخ الكبير: 2/ 2 / 68 - 69، وأبو نعيم في الدلائل:191، والحاكم في المستدرك: 3/ 417 - 418، والبيهقي في الدلائل: 2/ 78 - 79 وصححه الحاكم، ووافقه الذهبي. وقال الهيثمي في المجمع: 8/ 230. رواه أحمد والطبراني، ورجال أحمد رجال الصحيح غير ابن إسحاق، وقد صرح بالسماع". فالحديث صحيح.

يأسها من بعد إنكاسها: يأسها من الاستماع في السماع، أو استراق السمع بعد أن كانت قد ألفته، فانقلبت عن الاستراق، وقد يئست من السماع.

القلاص: جمع قلوص: وهي الفيتة من النياق.

جليح: الوقح المكافح بالعداوة.
৮ - সালামা ইবনে সালামা ইবনে ওয়াকশ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে। তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন: "বনু আবদিল আশহাল গোত্রে আমাদের এক ইহুদি প্রতিবেশী ছিল। সে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নবুওয়াত লাভের কিছুদিন আগে একদিন তার ঘর থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে এলো এবং বনু আবদিল আশহাল গোত্রের মজলিসে দাঁড়াল। সালামা বলেন: সেদিন আমি ছিলাম মজলিসে উপস্থিতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। আমি একটি চাদর গায়ে দিয়ে আমার পরিবারের আঙিনায় শুয়ে ছিলাম। তখন সে পুনরুত্থান, কিয়ামত, হিসাব, মিযান, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা উল্লেখ করল। সে এই কথাগুলো মূর্তিপূজারী মুশরিকদের এক সম্প্রদায়ের কাছে বলছিল, যারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হবে বলে বিশ্বাস করত না।

তারা তাকে বলল: তোমার জন্য আফসোস হে অমুক! তুমি কি মনে করো যে সত্যিই এমনটি ঘটবে যে, মানুষ তাদের মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে এমন এক আবাসে যেখানে জান্নাত ও জাহান্নাম রয়েছে এবং সেখানে তাদের কর্মফল প্রদান করা হবে? সে বলল: হ্যাঁ, যাঁর নামে শপথ করা হয় তাঁর কসম। সে (ব্যক্তি) এই কামনা করে যে, সেই আগুনের বিনিময়ে যদি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চুলা উত্তপ্ত করে তাকে তার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হতো এবং তা তার উপর বন্ধ করে দেয়া হতো, তবুও যেন সে পরকালে ওই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেত।

তারা তাকে বলল: তোমার জন্য আফসোস, এর নিদর্শন কী? সে বলল: একজন নবী এই জনপদ থেকেই প্রেরিত হবেন, আর সে তার হাত দিয়ে মক্কা ও ইয়েমেনের দিকে ইশারা করল।

তারা বলল: তুমি তাকে কখন (আসতে) দেখছ? সালামা বলেন: তখন সে আমার দিকে তাকাল—আর আমি ছিলাম তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট—এবং বলল: যদি এই বালকটি তার পূর্ণ জীবন লাভ করে, তবে সে তাঁকে পেয়ে যাবে।"

সালামা বলেন: "আল্লাহর কসম, দিন-রাত খুব বেশি অতিবাহিত হয়নি, এরই মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে প্রেরণ করলেন। তিনি (ইহুদি ব্যক্তিটি) তখনও আমাদের মাঝে জীবিত ছিল। আমরা তাঁর ওপর ঈমান আনলাম, কিন্তু সে বিদ্বেষ ও হিংসাবশত তাঁকে অস্বীকার করল। আমরা তাকে বললাম: তোমার জন্য আফসোস হে অমুক! তুমিই কি সেই ব্যক্তি নও যে আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে এই এই কথা বলেছিলে? সে বলল: হ্যাঁ, তবে তিনি সেই ব্যক্তি নন"(১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম এটি সীরাত গ্রন্থে (১/২১২) ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'সালেহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমার কাছে মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে, তিনি সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন।' ইবনে ইসহাক সরাসরি শোনার কথা (তাদ্দিস) স্পষ্ট করেছেন, ফলে তাদলীসের সংশয় দূর হয়েছে।

ইবনে ইসহাকের সূত্রে এটি ইমাম আহমদ মুসনাদে (৩/৪৬৭), তাবারানী আল-কাবীরে (হাদীস নং ৬৩২৭), বুখারী আত-তারিখুল কাবীরে (২/২/৬৮-৬৯), আবু নুয়াইম আদ-দালাইলে (১৯১), হাকেম আল-মুস্তাদরাকে (৩/৪১৭-৪১৮) এবং বাইহাকী আদ-দালাইলে (২/৭৮-৭৯) বর্ণনা করেছেন। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাইসামী আল-মাজমায়ে (৮/২৩০) বলেছেন: 'এটি আহমদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং আহমদের বর্ণনাকারীগণ ইবনে ইসহাক ব্যতীত সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর ইবনে ইসহাক সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্ট করেছেন।' অতএব হাদীসটি সহীহ।

ইয়াসুহা মিন বাদি ইনকাসিহা: শোনা বা আড়ি পেতে শোনার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া, যা আগে তাদের অভ্যাস ছিল, কিন্তু পরে তারা তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং শোনা থেকে নিরাশ হয়েছে।

আল-কিলাস: কালুস শব্দের বহুবচন, যা তরুণ উষ্ট্রীকে বোঝায়।

জালিহ: যে ব্যক্তি নির্লজ্জভাবে শত্রুতা পোষণ করে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثاني: أخبار الكهان عن بعثته

9 - من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: "ما سمعت عمر بشيء قط يقول: إني لأظنه كذا، إلا كان كما يظنُّ.

بينما عمر جالس إذ مر به رجل جميل، فقال عمر: "لقد أخطأ ظني أو إن هذا على دينه في الجاهلية، أو لقد كان كاهنهم، عليَّ الرجل، فدعي، له، فقال له ذلك.

فقال: ما رأيت كاليوم استقبل به رجل مسلم. قال: فإني أعزم عليك إلا ما أخبرتني. قال: كنت كاهنهم في الجاهلية. قال: فما أعجب ما جاءتك به جنيتك؟ قال: بينما أنا يومًا في السوق، جاءتني أعرف منها الفزع، فقالت:

ألم تر الجن وإبلاسها … ويأسها من بعد إنكاسها

ولحوقها بالقلاص وأحلاسها

قال: صدق، بينما أنا نائم عند آلهتهم، إذ جاء رجل بعجل فذبحه، فصرخ به صارخ لم أسمع صارخًا قط أشد صوتًا منه يقول: يا جليح، أمر نجيح، رجل فصيح يقول: لا إله إلا الله فوثب القوم، قلت: لا أبرح حتى أعلم ما وراء هذا، ثم نادى: يا جليح، أمر نجيح، رجل فصيح، يقول: لا إله إلا الله.

فقمت، فما نشبنًا أن قيل: هذا نبي"(1).

 

10 - ومن حديث جابر رضي الله عنه قال: "أن أول خبر قدم علينا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن امرأة كان لها تابع قال: فأتاها في صورة طير، فوقع على جذع لهم، قال: فقالت: ألا تنزل فنخبرك وتخبرنا، قال: إنه قد خرج رجل بمكة حرم علينا الزنا، ومنع منا القرار"(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في فضائل الصحابة، باب إسلام عمر: 3653، ومناقب الأنصار: 3866 والبيهقي في الدلائل: 2/ 248. وابن أبي خثيمة في تاريخه، والروياني في مسنده، كما عزاه إليهما ابن حجر في الإصابة: (2/ 95).

(2) أخرجه أحمد في المسند: 3/ 356، عن طريق إبراهيم بن أبي العباس أبو المليح، حدثنا عبد الله بن محمَّد بن عقيل به، وأبو نعيم في الدلائل: 1/ 107 حديث: 56، وابن سعد في الطبقات: 1/ 189، وقال الهيثمي في المجمع: 8/ 243: رواه أحمد والطبراني في الأوسط، ورجاله وثقوا.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি সম্পর্কে গণকদের সংবাদ

৯ - আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি উমরকে কখনো কোনো বিষয়ে 'আমার মনে হয় এটা এমন হবে' বলতে শুনিনি, যা শেষ পর্যন্ত ঠিক তেমনই হতো যেমনটি তিনি ধারণা করতেন।

একদা উমর বসে ছিলেন, তখন তাঁর পাশ দিয়ে এক সুশ্রী ব্যক্তি অতিক্রম করলেন। উমর বললেন: 'হয় আমার ধারণা ভুল হয়েছে, অথবা এই ব্যক্তি জাহেলিয়াত যুগে তার (পূর্বের) দ্বীনের ওপর অটল আছে, নতুবা সে তাদের গণক ছিল। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' তাকে ডাকা হলো এবং তিনি তাকে বিষয়টি বললেন।

সে বলল: 'আজকের মতো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আমি কোনো মুসলমানকে হতে দেখিনি।' উমর বললেন: 'আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি যে, তুমি আমাকে অবশ্যই (সত্য) সংবাদ দিবে।' সে বলল: 'আমি জাহেলিয়াত যুগে তাদের গণক ছিলাম।' উমর বললেন: 'তোমার জিননি (নারী জিন) তোমার কাছে নিয়ে আসা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক সংবাদ কী ছিল?' সে বলল: 'একদিন আমি বাজারে ছিলাম, সে আমার কাছে আসলো, আমি তার মধ্যে আতঙ্ক লক্ষ্য করলাম। সে বলল:

তুমি কি জিনদের এবং তাদের নিরাশা দেখনি... এবং তাদের বিতাড়িত হওয়ার পর তাদের হতাশা,

এবং তাদের দ্রুতগামী উটের পিঠে গদির সাথে লেপ্টে থাকা?'

উমর বললেন: 'সে সত্য বলেছে। একদা আমি তাদের উপাস্যদের নিকট ঘুমাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি একটি বাছুর নিয়ে আসলো এবং তা জবেহ করল। তখন এক চিৎকারকারী এমন বিকট চিৎকার করে উঠল যা আমি আগে কখনো শুনিনি। সে বলছিল: হে জালিহ! এক সফল ব্যাপার, এক বাগ্মী ব্যক্তি বলছেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তখন উপস্থিত সবাই লাফিয়ে উঠল। আমি বললাম: এর পেছনে কী রহস্য আছে তা না জানা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না। এরপর সে পুনরায় চিৎকার করল: হে জালিহ! এক সফল ব্যাপার, এক বাগ্মী ব্যক্তি বলছেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং অল্পকাল পরেই বলা হলো: ইনি একজন নবী'।"(১)।

 

১০ - জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম সংবাদ ছিল যে, এক মহিলার একজন জিন অনুসারী ছিল। সে এক পাখির বেশে তার কাছে এলো এবং তাদের একটি কাষ্ঠখণ্ডের ওপর বসল। সে (মহিলা) বলল: 'তুমি কি নিচে নামবে না যাতে আমরা একে অপরের সাথে কথা বলতে পারি?' সে বলল: 'নিশ্চয়ই মক্কায় এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি আমাদের ওপর ব্যভিচার হারাম করেছেন এবং আমাদের স্থির থাকা (আসমানি সংবাদ শোনা) বন্ধ করে দিয়েছেন'।"(২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'সাহাবীদের ফযিলত' অধ্যায়ে, 'উমরের ইসলাম গ্রহণ' অনুচ্ছেদ: ৩৬৫৩, এবং 'আনসারদের মর্যাদা' অনুচ্ছেদ: ৩৮৬৬; বায়হাকী 'আদ-দালায়েল' গ্রন্থে: ২/২৪৮; ইবনে আবি খাইসামা তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এবং রুয়ানি তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে, যেমনটি ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে (২/৯৫) তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

(২) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: ৩/৩৫৬, ইব্রাহিম ইবনুল আব্বাস আবু মালিহ এর সূত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে; আবু নুআয়ম 'আদ-দালায়েল' গ্রন্থে: ১/১০৭, হাদিস নম্বর: ৫৬; ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে: ১/১৮৯; এবং হাইসামী 'আল-মাজমা' গ্রন্থে (৮/২৪৩) বলেছেন: এটি আহমাদ ও তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثالث تبشير النبيين به وكيف كان أول أمره

11 - من حديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: "قلت يا نبي الله ما كان أول بدء أمرك؟ " قال: (دعوة أبي إبراهيم، وبشرى عيسى، ورأت أمي نورًا أضاءت منه قصور الشام)(1).

 

12 - ومن حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إني عند الله في أم الكتاب لخاتم النبيين، وإنَّ آدم لمنجدل في طينته، وسأنبئكم بتأويل ذلك، دعوة أبي إبراهيم، وبشارة عيسى قومه، ورؤيا أمي التي رأت أنه خرج منها نور أضاءت له قصور الشام، وكذلك ترى أمهات النبيين صلوات الله عليهم)(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند: 5/ 262. والطبراني في المعجم الكبير: 7729. والبيهقي في الدلائل: 1/ 84 وابن سعد في الطبقات: 1/ 102 من طريق فرج بن فضالة، عن لقمان بن عامر، عن أبي أمامة. وقال الهيثمي في المجمع: 8/ 222 وإسناد أحمد حسن، وله شواهد تقويه". قلت: ومن هذه الشواهد الحديث الذي يليه عن العرباض بن سارية رقم: 12، وحديث عتبه بن عبد السلمي برقم: 24 ومن حديث خالد بن معدان، عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر شبيهًا بهذا بزيادة، أخرجه الحاكم: 2/ 600، والبيهقي في الدلائل: 1/ 84، وقال الحاكم: صحيح الإسناد، ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي. وقال ابن كثير في البداية: 2/ 256 صرح ابن إسحاق بالتحديث فيها، وهذا إسناد جيد قوي. قلت: فالحديث حسن لشواهده.

(2) أخرجه أحمد: 4/ 127، 128، والطبراني في الكبير: 18/ 252، والبيهقي في الدلائل: 1/ 80، والبزار كما في كشف الأستار: 3/ 112 - 113. حديث: 2365 من طريق سعيد بن سويد، عن عبد الأعلى بن هلال، عن العرباض به.

وأخرجه الحاكم: 2/ 600 من طريق سعيد بن سويد، وعنده رجل ضعيف هو ابن أبي مريم. وقال الهيثمي في المجمع: 8/ 223 رواه أحمد، والطبراني نحوه، والبزار وأحد أسانيد أحمد رجاله رجال الصحيح غير سعيد بن سويد، ووثقه ابن حبان.

وللحديث شواهد انظرها في الحديث الذي قبله، ومن حديث ميسرة: أخرجه أحمد: 5/ 59، والحاكم: 2/ 608 - 609، والبيهقي في الدلائل: 1/ 84 - 85.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে নবীদের সুসংবাদ এবং তাঁর সূচনালগ্নের বিবরণ

১১ - আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনার নবুওয়াতের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?" তিনি বললেন: (আমার পিতা ইবরাহীমের দুআ, ঈসার সুসংবাদ, আর আমার মায়ের দেখা সেই নূর, যার মাধ্যমে শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল)(১)।

 

১২ - এবং ইরবায বিন সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট ‘উম্মুল কিতাব’-এ সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম, যখন আদম তাঁর কাদার মধ্যে লুণ্ঠিত অবস্থায় ছিলেন। আমি তোমাদের এর তাৎপর্য সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি—তা হলো আমার পিতা ইবরাহীমের দুআ, তাঁর জাতির কাছে ঈসার দেওয়া সুসংবাদ, এবং আমার মায়ের সেই স্বপ্ন যা তিনি দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার দ্বারা শামের প্রাসাদসমূহ তাঁর জন্য আলোকিত হয়েছিল। আর এভাবেই নবীদের মায়েরা স্বপ্ন দেখে থাকেন—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)(২)।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ইমাম আহমাদ ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে: ৫/২৬২; তাবারানী ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে: ৭৭২৯; বাইহাকী ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে: ১/৮৪ এবং ইবনে সাদ ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে: ১/১০২-এ ফারাজ বিন ফযালাহ, লোকমান বিন আমের ও আবু উমামা-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাইসামী ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থে (৮/২২২) বলেছেন: "আহমাদের সনদ হাসান এবং এর শক্তিশালী করার মতো সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে।" আমি (লেখক) বলছি: এর একটি সমর্থক বর্ণনা হলো পরবর্তী ১২ নম্বর হাদীসটি যা ইরবায বিন সারিয়াহ থেকে বর্ণিত, এবং ২৪ নম্বর হাদীসটি যা উতবাহ বিন আবদ আস-সুলামী থেকে বর্ণিত। এছাড়া খালিদ বিন মাদানের সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এর অনুরূপ কিছু বর্ধিত অংশসহ উল্লেখ করেছেন। হাকিম (২/৬০০) এবং বাইহাকী ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (১/৮৪) তা বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন: ‘এর সনদ সহীহ, কিন্তু বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি’ এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। ইবনে কাসীর ‘আল-বিদায়া’ গ্রন্থে (২/২৫৬) বলেছেন: "ইবনে ইসহাক এতে স্পষ্টভাবে শ্রবণের (তাহদীস) কথা উল্লেখ করেছেন, ফলে এই সনদটি উত্তম ও শক্তিশালী।" আমি (লেখক) বলছি: সুতরাং হাদীসটি তার সমর্থক বর্ণনাসমূহ (শাওয়াহিদ) থাকার কারণে হাসান।

(২) হাদীসটি ইমাম আহমাদ (৪/১২৭, ১২৮), তাবারানী ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে (১৮/২৫২), বাইহাকী ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (১/৮০) এবং বাযযার ‘কাশফুল আস্তার’ গ্রন্থে (৩/১১২-১১৩, হাদীস নং ২৩৬৫) সাঈদ বিন সুওয়াইদ-এর সূত্রে আব্দুল আলা বিন হিলাল ও ইরবায থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাকিম (২/৬০০) সাঈদ বিন সুওয়াইদ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সনদে ইবনে আবি মারিয়াম নামক একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। হাইসামী ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থে (৮/২২৩) বলেছেন: "আহমাদ ও তাবারানী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এছাড়া বাযযারও বর্ণনা করেছেন। আহমাদের একটি সনদের বর্ণনাকারীরা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে সাঈদ বিন সুওয়াইদ ব্যতীত; যদিও ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।"

হাদীসটির অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার জন্য এর পূর্ববর্তী হাদীসটি দেখুন। এছাড়া মায়সারাহ থেকে বর্ণিত হাদীসটি ইমাম আহমাদ (৫/৫৯), হাকিম (২/৬০৮-৬০৯) এবং বাইহাকী ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (১/৮৪-৮৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الفصل الثالث حالة المجتمع الجاهلي قبل البعثة النبوية

13 - حديث أم سلمة رضي الله عنها في قصة الهجرة إلى الحبشة ومحاورة جعفر رضي الله عنه للنجاشي وقوله:

"أيها الملك كنا قومًا أهل جاهلية نعبد الأصنام، ونأكل الميتة، ونأتي الفواحش، ونقطع الأرحام، ونسيء الجوار، يأكل القوي منا الضعيف، فكنَّا على ذلك حتى بعث الله إلينا رسولًا منا نعرف نسبه وصدقه وأمانته وعفافه، فدعانا إلى الله تعالى لنوحده ونعبده، ونخلع ما كنا نعبد نحن وآباؤنا من دونه من الحجارة والأوثان. وأمر بصدق الحديث، وأداء الأمانة، وصلة الرحم، وحسن الجوار، والكف عن المحارم والدماء، ونهانا عن الفواحش، وقول الزور، وأكل مال اليتيم، وقذف المحصنة"(1).

 

14 - حديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركونهن، الفخر في الأحساب، والطعن في الأنساب، والاستسقاء بالنجوم، والنياحة"(2).

 

15 - من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: "إن النكاح في الجاهلية كان على أربع أنحاء: فنكاح منها نكاح اليوم: يخطب الرجل إلى الرجل وليته أو ابنته، فيصدقها ثم ينكحها.

ونكاح آخر: كان الرجل يقول لامرأته إذا طهرت من طمثها: أرسلي إلى فلان فاستبضعي منه، ويعتزلها زوجها ولا يمسها أبدًا، حتى يتبين حملها من ذلك الرجل الذي تستبضع منه، فإذا تبين حملها أصابها زوجها إذا أحب، وإنما يفعل

--------------------------------------------

(1) الحديث صحيح انظر حديث رقم: 94.

(2) أخرجه مسلم في الجنائز، باب التشديد في النياحة، حديث: 934. وأحمد: 5/ 342، 343، 344، والبيهقي في السنن: 4/ 63، والحاكم في المستدرك: 1/ 383، وقد جاء من حديث أبي هريرة شبيهًا بهذا الحديث، وأخرجه الترمذي: 1004، والطيالسي: 2395، وأحمد: 2/ 291، 414، 415، 455، 526، 531، والبزار، وقال الهيثمي في المجمع: 3/ 13، رواه البزار، وإسناده حسن.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াত লাভের আগে জাহেলি সমাজের অবস্থা

১৩ - উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত আবিসিনিয়ায় হিজরতের কাহিনী এবং জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও নাজ্জাশীর কথোপকথন সংক্রান্ত হাদীস এবং তাঁর বক্তব্য:

"হে বাদশাহ! আমরা ছিলাম এক জাহেলি জাতি; আমরা মূর্তিপূজা করতাম, মৃত প্রাণীর গোশত খেতাম, অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতাম, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতাম, প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ করতাম এবং আমাদের মধ্যকার শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত। আমরা এই অবস্থাতেই ছিলাম যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের নিকট আমাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন, যাঁর বংশপরিচয়, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও চারিত্রিক পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত। তিনি আমাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন যেন আমরা তাঁকে এক বলে জানি এবং তাঁর ইবাদত করি, আর আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা তাঁর পরিবর্তে যেসব পাথর ও মূর্তির পূজা করতাম তা বর্জন করি। তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে, আমানত রক্ষা করতে, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে, প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ করতে এবং হারাম কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদের অশ্লীল কাজ, মিথ্যা বলা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ এবং সচ্চরিত্রা নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন"(১).

 

১৪ - আবু মালেক আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলিয়াতের চারটি বিষয় রয়েছে যা তারা বর্জন করবে না: আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা, বংশমর্যাদা নিয়ে খোটা দেওয়া, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করা"(২).

 

১৫ - আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীস থেকে, তিনি বলেন: "জাহেলি যুগে বিবাহ ছিল চার প্রকার: এর মধ্যে এক প্রকার হলো বর্তমান সময়ের বিবাহ; যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নিকট তার অভিভাবকত্বে থাকা নারী বা তার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিত, অতঃপর সে তাকে মোহরানা প্রদান করত এবং তাকে বিবাহ করত।

আরেক প্রকার বিবাহ ছিল: স্বামী তার স্ত্রীকে বলত যখন সে তার ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হতো: ‘অমুকের কাছে সংবাদ পাঠাও এবং তার থেকে সহবাসের মাধ্যমে সন্তান গ্রহণ করো।’ এমতাবস্থায় স্বামী তার থেকে পৃথক থাকত এবং তাকে কখনো স্পর্শ করত না, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তার গর্ভধারণ স্পষ্ট হতো। যখন তার গর্ভধারণ স্পষ্ট হতো, তখন স্বামী চাইলে তার সাথে সহবাস করত। সে মূলত এটি করত—

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি সহীহ, দেখুন হাদীস নং: ৯৪।

(২) মুসলিম এটি জানাজা পর্বে বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: উচ্চস্বরে বিলাপ করার ব্যাপারে কঠোরতা, হাদীস: ৯৩৪। এবং আহমাদ: ৫/ ৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৪; বায়হাকী আস-সুনান গ্রন্থে: ৪/ ৬৩; হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে: ১/ ৩৮৩; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা এসেছে; তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন: ১০০৪; তায়ালিসি: ২৩৯৫; আহমাদ: ২/ ২৯১, ৪১৪, ৪১৫, ৪৫৫, ৫২৬, ৫৩১; এবং বাজ্জার; হাইসামী আল-মাজমা গ্রন্থে (৩/ ১৩) বলেন: এটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ذلك رغبة في نجابة الولد، فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع.

ونكاح آخر: يجتمع الرهط ما دون العشرة، فيدخلون على المرأة كلهم يصيبها، فإذا حملت، ووضعت، ومر ليال بعد أن تضع حملها أرسلت إليهم، فلم يستطع رجل منهم أن يمتنع حتى يجتمعوا عندها، تقول لهم: قد عرفتم الذي كان من أمركم، وقد ولدت، فهو ابنك يا فلان، تسمي من أحبت باسمه، فيلحق به ولدها لا يستطيع أن يمتنع به الرجل.

والنكاح الرابع: يجتمع الناس الكثير، فيدخلون على المرأة لا تمنع من جاءها، وهنَّ البغايا كن ينصبن علي أبوابهن رايات تكون علمًا، فمن أرادهنَّ دخل عليهن، فإذا حملت إحداهن ووضعت حملها جمعوا لها، ودعوا لهم القافة، ثم ألحقوا ولدها بالذي يرون، فالتاطه به، ودعي ابنه، لا يمتنع من ذلك. فلما بُعث محمد بالحق هدم نكاح الجاهلية كله إلا نكاح الناس اليوم"(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في النكاح، باب من قال لا نكاح إلا بولي: رقم: 5127، وأبو داود في الطلاق، باب في وجوه النكاح التي كان يتناكح بها أهل الجاهلية: 2272، والبيهقي في سننه: 7/ 110، 190.
সন্তান যেন গুণী ও উচ্চবংশীয় হয় সেই আকাঙ্ক্ষায় এটি করা হতো; এই বিবাহকে ‘নিকাহুল ইস্তিবদা’ বলা হতো।

অন্য এক প্রকার বিবাহ ছিল: দশজনের কম একদল পুরুষ একত্রিত হয়ে একজন মহিলার নিকট গমন করত এবং তারা সবাই তার সাথে মিলিত হতো। যখন সে গর্ভবতী হতো এবং সন্তান প্রসব করত, তখন প্রসবের কয়েক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সে তাদের ডেকে পাঠাত। তাদের কেউ উপস্থিত হতে অস্বীকার করতে পারত না। তারা সবাই যখন তার কাছে একত্রিত হতো, সে তখন তাদের বলত: "তোমরা তো তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানো, আর আমি সন্তান প্রসব করেছি। হে অমুক! এটি তোমার সন্তান।" সে যাকে পছন্দ করত তার নাম বলত। ফলে সেই সন্তান তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যেত এবং সেই ব্যক্তি তা অস্বীকার করতে পারত না।

চতুর্থ প্রকার বিবাহ: বহু মানুষ একত্রিত হতো এবং একজন মহিলার নিকট প্রবেশ করত, যে কাউকেই বাধা দিত না। তারা ছিল ব্যভিচারিণী নারী, যারা তাদের দরজায় নিশান বা ঝাণ্ডা টাঙিয়ে রাখত, যা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যে চাইত সে-ই তাদের নিকট প্রবেশ করতে পারত। যখন তাদের কেউ গর্ভবতী হতো এবং সন্তান প্রসব করত, তখন তারা তার জন্য পুরুষদের একত্রিত করত এবং বিশেষজ্ঞ বংশ নির্ণয়কারীদের ডাকত। এরপর তারা সেই সন্তানকে যার সদৃশ মনে করত তার সাথে যুক্ত করে দিত। ফলে সন্তানটি তার সাথেই যুক্ত হয়ে যেত এবং তাকে তার সন্তান বলে ডাকা হতো। সে তা অস্বীকার করতে পারত না। যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্যসহ প্রেরণ করা হলো, তখন তিনি জাহেলিয়াত যুগের এই সমস্ত বিবাহরীতি বিলুপ্ত করে দিলেন, কেবল বর্তমানে প্রচলিত মানুষের বিবাহরীতিটি ছাড়া।(১)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী বিবাহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বলে যে অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই: হাদিস নং ৫১২৭; আবু দাউদ তালাক অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে প্রচলিত বিবাহরীতিসমূহ প্রসঙ্গে: হাদিস নং ২২৭২; এবং বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে: ৭/১১০, ১৯০।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الباحثون عن الدين الحق في الجاهلية

زيد بن عمرو بن نُفيل

 

43 - من حديث ابن عمر رضي الله عنهما: "أن زيد بن عمرو بن نفيل خرج إلى الشام يسأل عن الدين ويتبعه، فلقي عالمًا من اليهود فسأله عن دينهم فقال: إني لعليّ أن أدين دينكم فأخبرني، فقال: لا تكون على ديننا حتى تأخذ بنصيبك من غضب الله.

قال زيد: ما أفرُّ إلا من غضب الله، ولا أحمل من غضب الله شيئًا، وأنَّى أستطيعه؛ فهل تدلني على غيره؟

قال ما أعلمه إلا أن يكون حنيفًا. قال زيد: وما الحنيف؟ قال: دين إبراهيم، لم يكن يهوديًّا ولا نصرانيًّا، ولا يعبد إلا الله.

فخرج زيد فلقي عالمًا من النصارى فذكر مثله، فقال: لن تكون على ديننا حتى تأخذ بنصيبك من لعنة الله. قال: ما أفرُّ إلا من لعنة الله، ولا أحمل من لعنة الله ولا من غضبه شيئًا أبدًا، وأنَّى أستطيع؟ فهل تدلني على غيره؟

قال: ما أعلمه إلا أن يكون حنيفًا. قال: وما الحنيف؟ قال: دين إبراهيم، لم يكن يهوديًّا ولا نصرانيًّا، ولا يعبد إلا الله، فلما رأى زيد قولهم في إبراهيم عليه السلام خرج، فلما برز رفع يديه، فقال: اللهم إني أشهد أني على دين إبراهيم"(1).

 

44 - من حديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها قالت: "رأيت زيد بن عمرو بن نفيل قائمًا مسندًا ظهره إلى الكعبة يقول: يا معشر قريش، والله ما منكم على دين إبراهيم غيري، وكان يحيي الموؤودة، يقول للرجل إذا أراد أن يقتل ابنته: لا تقتلها، أنا أكفيك مؤونتها، فيأخذها، فإذا ترعرعت قال لأبيها: إن شئت دفعتها إليك، وإن شئت كفيتك مؤنتها"(2).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في مناقب الأنصار، باب حديث زيد بن عمرو بن نفيل، رقم: 3827، فتح الباري: 7/ 142.

(2) رواه البخاري في مناقب الأنصار، باب حديث زيد بن عمرو بن نفيل رقم: 3828 فتح الباري: 7/ 143 معلقًا، ووصله الحاكم في المستدرك: 3/ 440، وقال: صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه، بل أخرجاه كما سبق ذكر.، وقال الحافظ: وصله جماعة ذكرهم في الفتن.
জাহিলিয়াত যুগে সত্য দ্বীনের অন্বেষণকারীগণ

যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল

 

৪৩ - ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস থেকে: "যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল দ্বীনের সন্ধানে এবং তার অনুসরণের উদ্দেশ্যে সিরিয়ার দিকে বের হলেন। সেখানে তিনি ইহুদিদের একজন পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি সম্ভবত আপনাদের দ্বীন গ্রহণ করব, তাই আমাকে এ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি আল্লাহর রাগের একটি অংশ গ্রহণ করো।

যায়েদ বললেন: আমি তো আল্লাহর রাগ থেকেই পলায়ন করছি এবং আমি আল্লাহর রাগের বিন্দুমাত্রও বহন করতে পারব না, আর আমার পক্ষে তা সম্ভবও নয়; আপনি কি আমাকে এটি ছাড়া অন্য কোনো পথের সন্ধান দেবেন?

তিনি বললেন: আমি 'হানিফ' হওয়া ছাড়া অন্য কিছু জানি না। যায়েদ বললেন: হানিফ কী? তিনি বললেন: ইব্রাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদি ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করতেন না।

অতঃপর যায়েদ বের হলেন এবং একজন খ্রিস্টান পণ্ডিতের সাথে দেখা করলেন এবং অনুরূপ কথা আলোচনা করলেন। তিনি (পণ্ডিত) বললেন: তুমি আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি আল্লাহর অভিশাপের একটি অংশ গ্রহণ করো। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর অভিশাপ থেকেই পলায়ন করছি এবং আমি আল্লাহর অভিশাপ কিংবা তাঁর রাগের বিন্দুমাত্রও কখনো বহন করব না, আর আমার পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? আপনি কি আমাকে অন্য কোনো দ্বীনের সন্ধান দেবেন?

তিনি বললেন: আমি 'হানিফ' হওয়া ছাড়া অন্য কিছু জানি না। যায়েদ বললেন: হানিফ কী? তিনি বললেন: ইব্রাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদি ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করতেন না। যায়েদ যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাদের কথা শুনলেন, তখন তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসলেন। অতঃপর যখন তিনি বাইরে আসলেন, তখন তাঁর হাত তুললেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ইব্রাহিমের দ্বীনের ওপর রয়েছি"(১)।

 

৪৪ - আসমা বিনতে আবি বকর রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীস থেকে তিনি বলেন: "আমি যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলকে কাবার সাথে তাঁর পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তিনি বলতেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আল্লাহর কসম, আমি ছাড়া তোমাদের মাঝে আর কেউ ইব্রাহিমের দ্বীনের ওপর নেই। তিনি জীবন্ত দাফনকৃত কন্যাদের জীবন রক্ষা করতেন। তিনি কোনো ব্যক্তিকে তার কন্যাকে হত্যা করতে দেখলে বলতেন: তাকে হত্যা করো না, তার ভরণপোষণের ভার আমিই নিচ্ছি। অতঃপর তিনি তাকে গ্রহণ করতেন এবং যখন মেয়েটি বড় হতো, তখন তিনি তার পিতাকে বলতেন: তুমি চাইলে তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি, আর চাইলে আমিই তার ভরণপোষণের ভার বহন করতে পারি"(২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী বর্ণনা করেছেন 'মানাকিবুল আনসার' অধ্যায়ে, 'যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলের হাদীস' পরিচ্ছেদ, নম্বর: ৩৮২৭; ফাতহুল বারী: ৭/১৪২।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন 'মানাকিবুল আনসার' অধ্যায়ে, 'যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলের হাদীস' পরিচ্ছেদ, নম্বর: ৩৮২৮; ফাতহুল বারী: ৭/১৪৩ (মুয়াল্লাক হিসেবে)। আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি সনদসহ বর্ণনা করেছেন: ৩/৪৪০ এবং বলেছেন: এটি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্ত অনুযায়ী সহীহ, তবে তাঁরা (তাঁদের কিতাবে) এটি এভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে আনেননি, বরং পূর্বোক্ত বর্ণনার মতো এনেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: একদল বর্ণনাকারী এটি পূর্ণাঙ্গ সনদে বর্ণনা করেছেন যাদের কথা তিনি 'ফিতান' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সিরাতিন নাবাউইয়্যাহ - ইবরাহীম আল-আলী (পৃষ্ঠা: ২৯)
45 - أ - ومن حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: "إن النبي صلى الله عليه وسلم لقي زيد ابن عمرو بن نفيل بأسفل بَلدح قبل أن ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم الوحي، فَقُدِّمت إلى النبي صلى الله عليه وسلم سفرة، فأبى أن يأكل منها، ثم قال زيد: إني لست آكل ما تذبحون على أنصابكم، ولا آكل إلا ما ذكر اسم الله عليه.

وإن زيد بن عمرو بن نفيل كان يعيب على قريش ذبائحهم، ويقول: الشاة خلقها الله، وأنزل لها من السماء الماء، وأنبت لها من الأرض، ثم تذبحونها على غير اسم الله، إنكارًا لذلك وإعظامًا له"(1).

 

45 - ب - من حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: حدثني سلمان الفارسي رضي الله عنه قال: "كنت من أهل فارس من أهل أصبهان، من قرية يقال لها جَيٌّ، وكان أبي دِهْقَان أرضه، وكان يحبني حبًّا شديدًا لم يحبه شيئًا من ماله ولا ولده، فما زال به حبُّه إيّايَ حتى حبسني في البيت كما تحبس الجارية.

واجتهدت في المجُوسِيَّة حتى كنت قطن النَّار (الذي يُوقدُهَا) ولا يَتْرُكُها تَخْبُو ساعة، فكنت كذلك لا أعلم من أمر الناس شيئًا إلا ما أنا فيه، حتَّى بنى أبي بنيانًا له، وكانت له ضيعة فيها بعض العمل، فدعاني فقال: أي بني، إنه قد شغلني ما ترى من بنياني عن ضيعتي هذه، ولا بدَّ لي من إطلاعها، فانطلق إليها فأمرهم بكذا وكذا ولا تحتبسنَّ عنِّي، فإنك إن احتبست عنِّي شغلتني عن كلِّ شيءٍ. فخرجت أريد ضَيعته، فمررت بكنيسة النصارى، فسمعت أصواتهم فيها، فقلت: ما هذا؟ فقالوا: هؤلاء النصارى يصلون. فدخلت أنظر فأعجبني ما رأيت من حالهم. فوالله ما زلت جالسًا عندهم حتى غربت الشمس.

وبعث أبي في طلبي في كل وجهة حتى جئته حين أمسيت ولم أذهب إلى ضيعته، فقال أبي: أين كنت؟ ألم أكن قلت لك؟ فقلت: يا أبتاه مررت بناس يقال لهم النَّصارى، فأعجبني صلواتهم ودعاؤهم، فجلست أنظر كيف يفعلون. فقال: أيْ بُنَي دينك ودين آبائك خيرٌ من دينهم. فقلت: لا والله ما هو بخير من دينهم، هؤلاء قومٌ يعبدون الله ويدعونه ويصلون له، ونحن إنما نعبد نارًا نوقدها بأيدينا، إذا تركناها ماتت. فخافني، فجعل في رجْليَّ حديدًا، وحبسني في بيت عندَهُ، فبعثتُ إلى النصارى، فقلت لهم: أين أصْلُ هذا الدين الذي أراكم

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في مناقب الأنصار، باب حديث زيد بن عمرو بن نفيل رقم: 3826، فتح الباري: 7/ 142.
৪৫ - ক - ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে বালদাহ-এর নিম্নভূমিতে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইলের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে খাবারের একটি দস্তরখান পেশ করা হলো, কিন্তু তিনি তা থেকে খেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর যায়েদ বললেন: আমি তা খাই না যা তোমরা তোমাদের মূর্তির বেদীতে যবেহ করো, আর আমি কেবল তা-ই খাই যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে।

যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল কুরাইশদের যবেহ করা পশুর সমালোচনা করতেন এবং বলতেন: ছাগলটি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তার জন্য জমিন থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছেন, অথচ তোমরা তা আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করো—এটি তিনি তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য এবং আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে বলতেন"(১)।

 

৪৫ - খ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: সালমান আল-ফারিসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি পারস্যের ইস্পাহান অঞ্চলের জাই নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলাম। আমার পিতা ছিলেন তাঁর ভূখণ্ডের প্রধান (দেহকান)। তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তাঁর সম্পদ বা অন্য কোনো সন্তানের চেয়েও বেশি। আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে, তিনি আমাকে ঘরে বন্দী করে রাখতেন যেভাবে কিশোরী মেয়েদের বন্দী করে রাখা হয়।

আমি অগ্নিপূজায় (মাজুসিয়্যাত) এতটাই শ্রম দিয়েছিলাম যে, আমি আগুনের খাদেম হয়ে গিয়েছিলাম (যে ব্যক্তি তা প্রজ্বলিত রাখে) এবং তা এক মুহূর্তের জন্যও নিভতে দিতাম না। আমি এই অবস্থাতেই ছিলাম এবং মানুষের কোনো বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। একদা আমার পিতা একটি ভবন নির্মাণ করছিলেন এবং তাঁর একটি খামার ছিল যেখানে কিছু কাজ বাকি ছিল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: হে বৎস, এই যে ভবন নির্মাণে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, এর ফলে খামারে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, আর সেখানে খোঁজ নেওয়া আমার জন্য জরুরি। সুতরাং তুমি সেখানে যাও এবং তাদের এই এই নির্দেশ দাও, আর ফিরতে দেরি করো না; কারণ তুমি দেরি করলে আমি সব কাজ ফেলে তোমার চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়ব। আমি খামারের উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং পথিমধ্যে খ্রিস্টানদের একটি গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম এবং বললাম: এটা কী? তারা বলল: এরা খ্রিস্টান, তারা প্রার্থনা (সালাত) করছে। আমি ভেতরে ঢুকে দেখতে লাগলাম এবং তাদের অবস্থা দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। আল্লাহর কসম, সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত আমি তাদের কাছে বসে রইলাম।

আমার পিতা সব দিকে লোক পাঠিয়ে আমার খোঁজ নিলেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় আমি তাঁর কাছে ফিরে আসলাম এবং তাঁর খামারে যাইনি। আমার পিতা বললেন: তুমি কোথায় ছিলে? আমি কি তোমাকে বলিনি? আমি বললাম: হে পিতা, আমি এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যাদের খ্রিস্টান বলা হয়। তাদের প্রার্থনা ও দুআ দেখে আমি মুগ্ধ হলাম এবং তারা কী করছে তা দেখতে বসে গেলাম। তিনি বললেন: হে বৎস, তোমার ও তোমার পূর্বপুরুষদের ধর্ম তাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম। আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম, তা তাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম নয়। তারা আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর কাছে দুআ করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে। আর আমরা তো কেবল আগুনের ইবাদত করি যা আমরা নিজ হাতে প্রজ্বলিত করি, যদি তা ছেড়ে দিই তবে তা নিভে যায়। তিনি আমাকে নিয়ে ভীত হলেন এবং আমার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে দিলেন এবং তাঁর ঘরে আমাকে বন্দী করে রাখলেন। আমি খ্রিস্টানদের কাছে লোক পাঠালাম এবং তাদের বললাম: এই ধর্মের মূল উৎস কোথায় যেখানে আমি তোমাদের দেখছি..."

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি 'মানাকিবুল আনসার' (আনসারদের মর্যাদা) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইলের হাদীস অনুচ্ছেদ, নম্বর: ৩৮২৬; ফাতহুল বারী: ৭/১৪২।